Friday, March 19, 2010

স্মৃতিতে অমর আবুল মনসুর আহমদ

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৮ মার্চ।
এ উপলক্ষে আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি সংসদ ঢাকা ও ময়মনসিংহের ধানীখোলায় তাঁর পৈতৃক বাসভবনে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্রুপাত্মক রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ ছিলেন একাধারে একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, আইনজ্ঞ ও সাংবাদিক। তিনি কৃষক ও নবযুগ পত্রিকায় কাজ করেছেন এবং ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলার কলকাতা থেকে প্রকাশিত ইত্তেহাদ-এর সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছিলেন আধুনিক ও প্রগতিশীল সাংবাদিকতার এক অগ্রপথিক।
অত্যন্ত সফল রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদ শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের যুক্তফ্রন্ট সরকারের প্রাদেশিক শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন এবং ১৯৫৭ সালে প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আওয়ামী লীগ সরকারের ছিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী। পূর্ব বাংলার স্বার্থের সপক্ষে শক্ত অবস্থান ও নানাবিধ উদ্যোগের জন্য, বিশেষ করে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে তাঁর সুনাম রয়েছে।
আবুল মনসুর আহমদের রচনাসম্ভারের মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক গ্রন্থাবলি—আয়না, আসমানী পর্দা, গালিভারের সফরনামা ও ফুড কনফারেন্স। আরও রয়েছে বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের ওপর বিখ্যাত রচনাবলি। তাঁর আত্মজীবনীমূলক দুটি গ্রন্থ হচ্ছে—আত্মকথা ও আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর।
আবুল মনসুর আহমদ চল্লিশ, পঞ্চাশ ও ষাটের দশকজুড়ে সব সময় ধর্মনিরপেক্ষতার সপক্ষে যে প্রচার চালিয়েছেন, তার তুলনা হয় না। পাকিস্তানের প্রথম দিকে বিরোধীদলীয় আন্দোলনে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রথম দিকের একজন নেতা।
চল্লিশের দশকের প্রথম থেকেই তিনি ভাষা বিষয়ে লিখে আসছিলেন এবং ইত্তেহাদ-এর সম্পাদক হিসেবে ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখেন। তিনি ছিলেন ১৯৫৪-এর নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের (আমাদের রাজনীতির তিন জাঁদরেল ব্যক্তিত্ব শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী ও শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মহাসমন্বয়) মেনিফেস্টো ‘একুশ দফা’র রচয়িতা, যে নির্বাচনে মুসলিম লীগকে ক্ষমতা থেকে উত্খাত করা হয়।
একুশ দফা ছিল তদানীন্তন পাকিস্তানের পূর্বাংশের বাঙালিদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দাবির প্রথম পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপন। রাজনৈতিক কার্যকারণে আবুল মনসুর আহমদকে পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে ও ষাটের দশকের প্রথম দিকে জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে বেশ কয়েকবার কারাবরণ করতে হয়।
বাংলা একাডেমী সম্প্রতি আবুল মনসুর আহমদ রচনাসমগ্র-এর তিন খণ্ড প্রকাশ করেছে। আরও তিন খণ্ড প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
বিচক্ষণ এই মনীষীর সাংবাদিক হওয়াবিষয়ক স্মৃতি তুলে ধরা হলো তাঁর আত্মকথা বই থেকে: “১৯৪১ সালের অক্টোবর মাসে হক সাহেব ‘নবযুগ’ বাহির করেন। আমি ইহার সম্পাদনার ভার গ্রহণ করি। কিন্তু উহাতে সম্পাদকরূপে আমার নাম দিতে রাযী হই নাই। ইহার একাধিক কারণ ছিল। প্রথমতঃ যদিও আমি সাংবাদিকতাকে প্রফেশন হিসাবে গ্রহণ করিয়া ব্যক্তিগত মতামত নিরপেক্ষভাবে যে কোন মতের কাগযে চাকুরি নিতে সাংবাদিক বন্ধুদেরে উপদেশ দিতাম। কিন্তু আমি নিজে তা করিতে রাযী ছিলাম না। কারণ আমার নিজের একটা রাজনীতিক জীবন ছিল। সেটা নষ্ট করিতে আমি প্রস্তুত ছিলাম না। দ্বিতীয়তঃ যে উদ্দেশ্য প্রচারের জন্য হক সাহেব ‘নবযুগ’ বাহির করিলেন, সে উদ্দেশ্যের সহিত আমার পূর্ণ সহানুভূতি থাকিলেও হক সাহেবের মতের স্থিরতায় আমার আস্থা ছিল না। মুসলিম লীগ নেতৃত্বের সাথে বিশেষতঃ জিন্নাহ সাহেবের সহিত হক সাহেবের বিরোধের মূল কথা আমি জানিতাম। মুসলিম বাংলার স্বার্থ জিন্নাহ নেতৃত্বের হাতে নিরাপদ নয় বলিয়াই হক সাহেব জিন্নাহ সাহেবের সাথে কলহ করিতেছেন, হক সাহেবের একথা আমি বিশ্বাস করিতাম। ‘নবযুগ’ বাহির হইবার মাসাধিক কাল আগে হইতেই হক সাহেব তাঁর উদ্দেশ্যের কথা আমাকে বলেন এবং আমার সহযোগিতা দাবি করেন। আমার কলমের উপর হক সাহেবের আস্থা ছিল। তিনি মুসলিম লীগে থাকিয়া মুসলিম লীগ প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই ‘নবযুগ’ বাহির করিতেছেন। অথচ শেষ পর্যন্ত মুসলিম লীগ হইতে তিনি বাহির হইয়া আসিবেন। এসব ব্যাপারে তাঁর ধারণা ছিল সুস্পষ্ট। এ অবস্থায় ‘নবযুগে’র সম্পাদকীয় নীতি পরিচালনার দায়িত্ব তিনি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে দিয়া বিশ্বাস পাইতেছেন না, হক সাহেবের এসব কথাও আমি বিশ্বাস করিয়াছিলাম। দাম্ভিকতা ও অহংকার না করিয়াও আমি বলিতে পারি, আমার মত উকিল-সম্পাদক ছাড়া আর কারও পক্ষে এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে হক সাহেবের পসন্দ-মত কাগয চালানো সম্ভব ছিল না। এ অবস্থায় আমি সর্বশক্তি দিয়া হক সাহেবকে সমর্থন করিতে প্রস্তুত ছিলাম। এর উপর আমার বিশেষ অন্তরংগ শ্রদ্ধেয় বন্ধু সৈয়দ বদরুদ্দোজা আমাকে বুঝাইলেন যে মুসলিম বাংলার স্বার্থে হক নেতৃত্বের পিছনে দাঁড়াইতে তাঁর মত বহু মুসলিম লীগার প্রস্তুত। আসল কারণ তাঁরাও বিশ্বাস করেন যে হক সাহেব জিন্নাহ সাহেবের নিকট পরাজিত হইলে অথবা হক সাহেবের রাজনৈতিক অপমৃত্যু ঘটিলে মুসলিম বাংলার ভবিষ্যত্ নাই। সুতরাং হক সাহেবের ‘নবযুগে’ যোগ দেওয়া সম্বন্ধে আমার মনে কোনো দ্বিধা থাকিল না।

সব মৌসুমে কাজের ব্যবস্থা করতে হবে by মোস্তফা কামাল মুজেরী ও মনসুর আহমেদ

গ্রামীণ বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষের জীবনযাত্রার মানের অবস্থা অনেকাংশে নির্ভর করে শ্রম মজুরির গতিধারার ওপর। তবে মজুরি ও কর্মসংস্থানের হালনাগাদ উপাত্ত একেবারেই পাওয়া যায় না। তাই গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটা বিরাট অংশের অর্থনৈতিক অবস্থার সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি অনুধাবন করা কষ্টকর। বাংলাদেশ খানাভিত্তিক আয় ও ব্যয় জরিপ ২০০৫-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রামীণ জনপদে কৃষি পেশায় নিয়োজিত মোট শ্রমশক্তির ৩৭ শতাংশই দিনমজুর হিসেবে কাজ করে। অকৃষি পেশায় এ ধরনের শ্রমজীবীর অনুপাত ৩৫ শতাংশ। এই অনুপাত চরম দরিদ্রদের ক্ষেত্রে আরও বেশি, প্রায় অর্ধেক। এটা থেকে পরিষ্কার যে মজুরির ওঠানামা দেশের জনগণের একটা বড় অংশের জীবনযাত্রার মানকে প্রভাবিত করে। এমতাবস্থায়, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামীণ মজুরির গতিপ্রকৃতি থেকে গ্রামীণ জনগণ বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থা সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশের অর্থনীতির সাম্প্রতিক অবস্থা বিশ্লেষণ করার জন্য বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) সারা দেশে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে। এই সমীক্ষায় অন্যান্য সূচকের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের মজুরি সম্পর্কেও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। এ থেকে মজুরির হারের ওঠানামার পাশাপাশি মজুরির আঞ্চলিক ভিন্নতা সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে। মজুরির আঞ্চলিক ভিন্নতা শ্রমিকের গতিশীলতা নিরূপণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিআইডিএসের সমীক্ষা থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে আর্থিক মজুরির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভিন্নতা রয়েছে। তা ছাড়া একই অঞ্চলে বছরের বিভিন্ন সময়ে আর্থিক মজুরির হার পরিবর্তন হয়।
সমীক্ষা অনুসারে, দেশের পূর্বাঞ্চলে জুলাই মাসের দিকে মজুরির হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম থাকে। এই অঞ্চলে একজন কৃষি শ্রমিক ডিসেম্বরে (২০০৯) গড় মজুরি পেয়েছিল প্রতিদিন ২২৩ টাকা। জুলাইয়ে (২০০৯) এ মজুরি ছিল মাত্র ১৪৮ টাকা। পূর্বাঞ্চলে এই সময়ে সাধারণত কৃষি শ্রমিকের চাহিদা তেমন থাকে না। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে এ ধরনের পরিবর্তনে ভিন্নতা দেখা যায়। দেশের মধ্যাঞ্চলে কৃষিতে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। যার ফলে জুলাই (২০০৯) মাসে কৃষি মজুরি ছিল দিনে ২৪৪ টাকা, যা কিছুটা কমে ডিসেম্বরে (২০০৯) ২১৯ টাকা হয়েছিল।
অপরদিকে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে গড় মজুরি জুলাই (২০০৯) মাসে ছিল ১৭১ টাকা, যা ডিসেম্বরে (২০০৯) হয় ১৫৩ টাকা।
তবে উত্তরাঞ্চলে মৌসুমভিত্তিক কৃষি মজুরির ভিন্নতা সবচেয়ে বেশি। জুলাই (২০০৯) মাসে গড় মজুরি ছিল মাত্র ১১৬ টাকা, যা ডিসেম্বরে (২০০৯) বেড়েছিল ১৬৪ টাকায়। এ থেকে দেখা যায় দেশের মধ্যাঞ্চলে কৃষি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশি। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলে দৈনিক মজুরির হার অনেক সময় মধ্যাঞ্চলের তুলনায় অর্ধেকেরও নিচে নেমে আসে। দক্ষিণাঞ্চলের মজুরির অবস্থা উত্তরাঞ্চলের তুলনায় ভালো হলেও পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের তুলনায় অনেক কম।
তবে অকৃষি পেশায় নিয়োজিত শ্রমিকের মজুরির হার কৃষি শ্রমিকের মজুরি থেকে বেশি থাকে সব অঞ্চলেই। মাসভিত্তিক মজুরির যে পরিবর্তন তাও অনেকটা কৃষি মজুরির মতোই। তবে আঞ্চলিক ভিন্নতা আরও বেশি। বিশেষ করে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে মজুরির হার বিশেষ করে মধ্যাঞ্চলের তুলনায় অনেক কম। যেমন ডিসেম্বরে (২০০৯) মধ্যাঞ্চলে দৈনিক অকৃষি মজুরি ছিল প্রতিদিন গড়ে ৩১৩ টাকা, যা দক্ষিণাঞ্চলে ছিল মাত্র ১৭৩ টাকা।
এ ক্ষেত্রে একটা বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। তা হচ্ছে, দেশের সব অঞ্চলে মজুরি হারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। এ প্রবণতা আবার যেসব অঞ্চলে (যেমন উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো) মজুরির হার কম সেসব এলাকায় বেশি। যেমন ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসের তুলনায় ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে উত্তরাঞ্চলে কৃষি মজুরি বেড়েছে ৩৪ শতাংশ এবং অকৃষি মজুরি বেড়েছে ১৭ শতাংশ। এই বৃদ্ধি দক্ষিণাঞ্চলে ছিল যথাক্রমে ১৩ ও ২৫ শতাংশ।
দেখা যাচ্ছে, মজুরির যে অঞ্চলভিত্তিক ভিন্নতা তা কমে আসার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, অতিরিক্ত কৃষি শ্রমিক কাজের সন্ধানে অকৃষি শ্রমবাজারে চলে আসছে। দ্বিতীয়ত, এক অঞ্চলের শ্রমিক অন্য অঞ্চলে বিশেষ করে যেসব এলাকায় মজুরির হার এবং কাজের সুযোগ বেশি, সেসব জায়গায় সাময়িকভাবে চলে যাচ্ছে।
শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরির পরিবর্তন বিশ্লেষণ করার জন্য আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের একজন শ্রমিক তার দৈনিক মজুরি দিয়ে গড়ে কত কেজি মোটা চাল ক্রয় করতে পারে তা বের করেছি। এ ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রকৃত মজুরির আঞ্চলিক ভিন্নতা ততটা প্রকট নয়, যতটা দেখা যায় আর্থিক মজুরির ক্ষেত্রে। ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে উত্তরাঞ্চলের একজন কৃষি শ্রমিক দৈনিক মজুরি দিয়ে কিনতে পারত প্রায় নয় কেজি মোটা চাল। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের একজন কৃষি শ্রমিক কিনতে পারত মাত্র সাড়ে ছয় কেজি মোটা চাল। পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে এই পরিমাণ ছিল যথাক্রমে সাড়ে আট কেজি এবং সাড়ে সাত কেজির কিছু বেশি। তবে একই সময়ে অকৃষি শ্রমিকের ক্ষেত্রে মধ্যাঞ্চলে একজন শ্রমিক তার দৈনিক মজুরি দিয়ে ১১ কেজি মোটা চাল কিনতে পারত, যা ছিল দক্ষিণাঞ্চলে মাত্র সাত কেজি।
বিআইডিএসের সমীক্ষা থেকে দেখা যায় যে ২০০৭ ও ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে দেশের সব অঞ্চলে প্রকৃত মজুরি বেড়েছে। এর কারণ একদিকে কৃষি এবং অকৃষি উভয় খাতে আর্থিক মজুরি বৃদ্ধি, অন্যদিকে মোটা চালের দাম কিছুটা কমে যাওয়া। ফলে একজন শ্রমিক এখন তার প্রাপ্ত আর্থিক মজুরি দিয়ে আগের তুলনায় বেশি চাল কিনতে পারছে।
এই অগ্রগতিটা বেশি লক্ষ করা গেছে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে। উত্তরাঞ্চলে একজন কৃষি শ্রমিক ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তার দৈনিক মজুরি দিয়ে চার কেজি চাল কিনতে পারত, সেখানে ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে এসে সে সাড়ে আট কেজি চাল কিনতে পারছে। দক্ষিণাঞ্চলেও একজন কৃষি শ্রমিক যেখানে ডিসেম্বর ২০০৮-এ সাড়ে চার কেজি চাল ক্রয় করতে পারত, সেখানে ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে সে ক্রয় করতে পারত সাড়ে ছয় কেজি চাল। অকৃষি শ্রমিকের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়।
সুতরাং, এটা বলা যায় যেতে পারে যে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের কৃষি ও অকৃষি শ্রমিকেরা তাদের দৈনিক মজুরি হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে নিজেদের কিছুটা মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। মূল্যস্ফীতি বিশেষ করে চালের মূল্যবৃদ্ধির প্রাথমিক শিকার যেহেতু এই গরিব জনগণ, সেহেতু তাদের প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি সার্বিক অর্থনীতির একটা ভালো দিক।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি মজুরির হার বেশ ওঠানামা করে। এক অঞ্চলে যখন কাজের সুযোগ থাকে না, তখন অন্য অঞ্চলে দেখা যায় অতিরিক্ত শ্রমিকের চাহিদা। তাই শ্রমিকের আঞ্চলিক গতিশীলতা লক্ষণীয়। যেমন: পূর্বাঞ্চলে সাধারণত জুলাই-অক্টোবর সময়কালে কৃষি শ্রমিকের তেমন কাজ থাকে না। তখন তারা বিভিন্ন অকৃষি পেশায় নিয়োজিত হয়। অনেকে রাজধানী বা আশপাশের শহরে কাজের সন্ধানে যায়। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলে যখন আমন ও বোরো মৌসুম, তখন কৃষি শ্রমিকের চাহিদা ব্যাপক ও এই সময়ে উত্তরাঞ্চলের শ্রমিকেরা পূর্বাঞ্চলে পাড়ি জমায় কাজের সন্ধানে।
দেশে মধ্যাঞ্চলে একটা দ্রুত কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটছে। এখানকার স্থানীয় শ্রমিকেরা বেশি হারে অকৃষি পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে, অন্যদিকে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল থেকে আগত শ্রমিকেরা কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের লোকজনের কর্মসংস্থানের মূল উৎস হচ্ছে কৃষি। সেখানে কৃষিতে কাজের সুযোগ রয়েছে মূলত কৃষি মৌসুমে। বছরের একটা বড় সময় কৃষিকাজ থাকে না এসব এলাকায়। তাই হয় তাদের বাধ্য হয়ে বেকার থাকতে হয় অথবা কাজের সন্ধানে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের দিকে পাড়ি জমাতে হয়। এসব শ্রমিককে সাধারণত কম মজুরিতে কাজ করতে হয়। কারণ, তাদের উপস্থিতি ওই অঞ্চলে শ্রমের জোগান বাড়িয়ে দেয়।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলেও বছরের যে মৌসুমে কৃষিকাজ থাকে না, তখন কৃষি শ্রমিকদের অকৃষি শ্রমিকের কাজে নিয়োজিত হতে হয়। অথবা তারা রাজধানী বা বড় শহরের দিকে যাত্রা করে কাজের সন্ধানে। দেশের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে অকৃষি কাজের সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে, ফলে এসব অঞ্চলে কৃষি এবং অকৃষি ক্ষেত্রে মজুরির বড় তারতম্য ঘটে না। শ্রমিকেরা তুলনামূলকভাবে কম হারে অন্য অঞ্চলে কাজের সন্ধানে যায়।
সুতরাং, বছরের সব মৌসুমে কৃষিকাজের সুযোগ না থাকা এবং অকৃষি কর্মকাণ্ডের অপ্রতুলতা মূলত দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের শ্রমিকদের রাজধানী ও অন্যান্য অঞ্চলমুখী করছে। এমতাবস্থায়, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর পাশাপাশি বছরের সব মৌসুমে চাষের ব্যবস্থা এবং অকৃষি খাতে ব্যাপক কর্মসৃজনের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে মজুরির এই আঞ্চলিক বৈষম্য থেকেই যাবে এবং আমাদের দারিদ্র্য নিরসন প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হবে।
মোস্তফা কামাল মুজেরী: মহাপরিচালক, বাংলাদেশে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস);
মনসুর আহমেদ: গবেষণা সহযোগী, বিআইডিএস।

খাবারে ভেজাল-অভিযানে লাভ কতটুকু by আবুল হাসনাত

আবার ভেজালবিরোধী অভিযান। এসব অভিযান চলাকালে কিছুদিন দোকানমালিক বা কোম্পানিগুলো সতর্কতার সঙ্গে খাবারের আইটেমগুলো তৈরি করে মিডিয়া ও কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য, তারপর আবার সেই পুরোনো স্টাইল, খাদ্যে ভেজাল। কিন্তু এর একটা স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার।
বাংলাদেশে ভেজালের পরিমাণ এত বেশি যে যদি কেউ গভীরভাবে জানার চেষ্টা করে, তাহলে আমার ধারণা, তার পক্ষে ডাল-ভাত, শাক-সবজি ছাড়া আর কোনো খাবারই খাওয়া সম্ভব হবে না। যেমন, ফল পাকানোর জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করে, যা ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের সৃষ্টি করতে পারে। খাবারের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য বিরিয়ানি, জিলাপি, বেগুনি, পেঁয়াজু, মিষ্টি থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাবারে যে রং ব্যবহার করা হয়, তার অধিকাংশই মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অসাধু ব্যবসায়ীরা টেক্সটাইল ডাই ব্যবহার করে। এটি ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের জন্য এটা খুবই ক্ষতিকর। সাধারণত ফরমালিন ব্যবহূত হয় মৃত মানুষের শরীরে, যাতে কোনো পচন না ধরে। কিন্তু অনেকে এই বিপজ্জনক ফরমালিন ব্যবহার করে মাছ তরতাজা রাখা ও চকচকে ভাব দেওয়ার জন্য। এই ফরমালিন ক্যানসারসহ বিভিন্ন শ্বাসকষ্টজনিত রোগের জন্ম দিতে পারে। মুড়ি আরও সাদা ও ধবধবে করার জন্য কিছু লোক ইউরিয়া ব্যবহার করে, যা কিডনির জন্য ক্ষতিকর। মোটামুটিভাবে এগুলো আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের বিষ।
এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় কী? শুধুই ভেজালবিরোধী অভিযান? এভাবে বিশুদ্ধ খাবার, বিশুদ্ধ পানি মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তার জন্য প্রয়োজন কঠোর আইন। গতানুগতিক ১৯৫৯ সালের ‘পিওর ফুড অ্যাক্ট’ দিয়ে আজকের অসাধু ব্যবসায়ীদের ভেজাল রোধ করা যাবে না। যদিও ২০০৫ সালে এই অ্যাক্টের কিছু কিছু ধারা পরিবর্তন করা হয়েছে, কিন্তু তাতেও ভেজাল রোধ করার মতো যথেষ্ট শাস্তির বিধান রাখা হয়নি। এই ধারায় সর্বোচ্চ তিন বছর জেল ও তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আমরা মনে করি, বর্তমান সময়ের উন্নত প্রযুক্তির বিষ মিশ্রণজনিত ভেজাল রোধ করার জন্য তা মোটেও যথেষ্ট নয়। একটি প্রবাদ রয়েছে, একজন চিকিৎসকের ভুলের কারণে মারা যেতে পারে একজন রোগী, কিন্তু একজন ফার্মাসিস্ট ভুল করলে মারা যাবে শত শত রোগী। তেমনি একটি ভেজালের জন্য অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে হাজার হাজার মানুষ। তাই খাবারের বিভিন্ন আইটেম উত্পাদন, বাজারজাতকরণ ইত্যাদি পর্যবেক্ষণের জন্য বিএসটিআইয়ের পরিবর্তে আলাদা একটি পিওর ফুড কমিশন বা পিওর ফুড ডিরেক্টরেট করা যেতে পারে। এই বিভাগের অধীনে একটি অত্যাধুনিক টেস্টিং ল্যাবরেটরি থাকবে এবং মনিটরিংয়ের জন্য যথেষ্ট জনবল নিয়োগ দিয়ে তাকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে। আইন ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান থাকতে হবে। বিএসটিআইয়ের পক্ষে এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, বিএসটিআই শুধু খাবার আইটেম নয়, বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও কেমিক্যাল প্রডাক্টের পর্যবেক্ষণ এবং মান নিয়ন্ত্রণ দেখাশোনা করে থাকে। তা ছাড়া বিএসটিআইকে আরও ক্ষমতা দিতে হবে।
>>>ড. আবুল হাসনাত: অধ্যাপক, ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ahasnat99@yahoo.com

নৌযান ধর্মঘট

২২ দফা দাবিতে গত সোমবার রাত থেকে দেশের নৌযান শ্রমিক-কর্মচারীরা যে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছেন, তা দেশজুড়ে বিভিন্ন নৌরুটে বিপুল মানুষের চরম দুর্ভোগের কারণ হয়েছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক যে নৌযানের মালিক বা শ্রমিক-কর্মচারী কোনো পক্ষ থেকেই এই জনভোগান্তি সম্পর্কে সংবেদনশীলতার আভাস পাওয়া যায়নি।
বেতন-ভাতা বাড়ানো, নতুন বেতনকাঠানো ঘোষণা, নৌ-নিরাপত্তা বাড়ানো, নৌযানে মাস্টার-চালকদের সনদের মেয়াদীকরণ, মেরিন আইনের সঠিক বাস্তবায়নসহ মোট যে ২২ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মবিরতি চালাচ্ছেন, সেসবের মধ্যে বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিটি নিশ্চয়ই বিবেচনার যোগ্য। কারণ দ্রব্যমূল্য অনেক বেড়েছে। ধর্মঘট শুরুর আগেই উভয় তরফে দুপক্ষের আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। তা তো হয়ইনি, বুধবার পর্যন্তও তাদের মধ্যে সরাসরি কোনো যোগাযোগের খবর পাওয়া যায়নি। নৌমন্ত্রী মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের কাছে মন্তব্য করেছেন, আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষ সমঝোতায় যেতে পারে, কিন্তু তারা তা করছে না, ফলে দুর্ভোগ হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।
নৌযান মালিকদের পক্ষ থেকে ধর্মঘট পালনকারী শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি বলে শ্রমিকদের তরফে বলা হয়েছে। এটা যদি সত্য হয়, তাহলে কি বুঝতে হবে, মালিকেরা শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘটে মোটেই বিচলিত নন? কিন্তু এভাবে কি অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে? এদিকে খবরে বলা হচ্ছে, শ্রমিক-কর্মচারীদের একাংশ ধর্মঘটে যোগ দেয়নি। ধর্মঘট ডাকার প্রতিবাদে সদরঘাট নৌ-টার্মিনাল এলাকায় মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা হয়েছে সরকারপন্থী নৌযান শ্রমিক লীগের উদ্যোগে। এটা যেন কোনো সংঘাত-সংঘর্ষের দিকে না এগোয়, সেদিকেও লক্ষ রাখা দরকার।
নৌমন্ত্রী পৃথকভাবে নৌযান মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে খবরে প্রকাশ। এই মধ্যস্থতা দ্রুত ফলপ্রসূ হোক, এটাই কাম্য। উভয় পক্ষকে একসঙ্গে নিয়ে আলোচনায় বসতে পারলে ভালো হয়। একটা স্থায়ী সমঝোতার মধ্য দিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা দরকার। আর ভবিষ্যতে এ ধরনের ধর্মঘটে যাওয়ার আগে বিপুলসংখ্যক মানুষের দুর্ভোগের বিষয়গুলো যেন ভালোভাবে বিবেচনা করা হয়।

নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি

বর্তমান বিশ্বে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প-কৃষি, রাজনীতি-অর্থনীতি এবং সর্বোপরি কায়িক শ্রমের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা পুরুষের সমান। এর অতিরিক্ত ঘর-সংসারের যাবতীয় কাজ নারীই করে। সন্তান ধারণ ও প্রতিপালনের কাজও একান্তভাবে তাঁদেরই। নারীর এই ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি না দিয়ে কোনো দেশের পক্ষেই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সে জন্যই আজ নারীর সমানাধিকারের প্রশ্নে দ্বিমতের অবকাশ নেই। কিন্তু পশ্চাত্পদ চিন্তাভাবনার কিছু লোক নারীকে যথাযথ মর্যাদা দিতে চায় না। তারা প্রকৃতপক্ষে মধ্যযুগীয় ধ্যানধারণায় আচ্ছন্ন হয়ে পুরো সমাজকে পেছনে ঠেলে দিতে চায়।
ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী যে বলেছেন তাঁরা নারী-পুরুষের সমানাধিকার মানবেন না, সেটা আসলে সেই পশ্চাত্পদ ধ্যানধারণারই প্রকাশ। তাঁদের অচল কথা গ্রহণযোগ্য করার জন্য তিনি পবিত্র ধর্মের আশ্রয় নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করেছেন, যা এক ধরনের সামাজিক অপরাধ। যারা ধর্মের নামে মানুষের অধিকার হরণের চেষ্টা করে, তাদের এ দেশবাসী সেই একাত্তরেই বর্জন করেছে। সে সময় পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকেরা বাঙালিত্বকে হিন্দুয়ানি আখ্যায়িত করে বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রাম গণহত্যার মাধ্যমে দমন করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ করে মুক্তিসংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। ধর্মের অপব্যাখ্যা ও দোহাই দিয়ে রাজনীতির পরিণাম যে শুভ হয় না, সেটা সংশ্লিষ্ট সবার মনে রাখা দরকার।
তথাকথিত ‘দেশ ও ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে মুফতি আমিনী শুধু নারীর সমানাধিকারের বিরুদ্ধেই সোচ্চার ছিলেন না, তিনি এমনকি এ ব্যাপারে হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টের সম্ভাব্য রায় মেনে না নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি এই বিদ্বেষপূর্ণ উক্তি আইনের শাসনের পরিপন্থী। আদালত সেটা নিশ্চয়ই দেখবেন। শান্তিপূর্ণ নাগরিকদের উত্তেজিত করে হানাহানির দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ হিসেবে একে দেখা চলে।
ইসলামী ঐক্যজোট নারীর স্বাভাবিক চলাফেরার অধিকারও বন্ধ করতে চায়। তাদের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, ‘এই সরকার নারীদের অধিকারের নামে তাদের রাস্তায় নামাতে চায়, ঘরে বন্দী রাখতে চায় না।’ কী হাস্যকর কথা! পর্দাপ্রথার নামে নারীকে ঘরে বন্দী রাখার কোনো বিষয় যে ইসলামে নেই, সেটা শতবর্ষ আগেই বেগম রোকেয়া নারীশিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে প্রমাণ করে গেছেন। আজ সেই মীমাংসিত বিষয় নিয়ে এক ধরনের লোক মাঠে নামতে চায়। তাদের আসল উদ্দেশ্য হলো প্রস্তাবিত নারীনীতির বিরোধিতা করা।
বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে চায়। নারীর অবদান ছাড়া এটা সম্ভব নয়। এ জন্য নারীর সমানাধিকার ও ক্ষমতায়ন দরকার। কাজের সমান সুযোগ ও সমান কাজের জন্য নারী-পুরুষের সমান মজুরি প্রয়োজন। কোনো অজুহাতেই নারীকে সমাজে উপেক্ষিত রাখা যাবে না। আজ যৌতুকের জন্য, পারিবারিক সমস্যার জের ধরে অথবা প্রেম প্রত্যাখ্যানের জন্য এসিড ছুড়ে নারীর মুখ ঝলসে দেওয়া হয়। এর চেয়ে জঘন্য অপরাধ আর কী হতে পারে? নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। নইলে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।
নারী-পুরুষের সমানাধিকার ছাড়া গণতন্ত্র কার্যকর হতে পারে না। মুফতি আমিনীর কথাগুলো তাই গণতন্ত্রবিরোধী এবং সে কারণে অগ্রহণযোগ্য।

শ্রীলঙ্কার জন্য মানবাধিকার প্যানেল হবে: বান কি মুন

কলম্বোর আপত্তি সত্ত্বেও শ্রীলঙ্কার মানবাধিকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মানবাধিকার প্যানেল গড়ার পরিকল্পনা নাকচ করেননি জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। বরং অবিলম্বে তা গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে বান বলেন, তিনি তাঁর অধিকারবলেই মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ কমিশন নিয়োগ করতে চান। এ কমিশনের কাজ হবে, শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধের সময়কার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখা। যদিও চলতি মাসে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে এ পদক্ষেপ অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছিলেন।
মূলত মানবাধিকার সংস্থা ও পশ্চিমা দেশগুলোর চাপে মানবাধিকার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছেন বান। কারণ, তারা চায়, শ্রীলঙ্কায় ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসানে এলটিটিইর সঙ্গে সরকারি বাহিনীর লড়াইয়ে গত কয়েক মাস আগে যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, দুই পক্ষই তার কোনো না কোনো ধরনের কৈফিয়ত দিক।
গত বছর গৃহযুদ্ধের শেষ ধাপের লড়াই নিয়ে এলটিটিই ও সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তারা এ জন্য একটি নিরপেক্ষ মানবাধিকার কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে।
বান জানান, গত মে মাসে যুদ্ধ শেষে শ্রীলঙ্কা সফরের পর ইস্যু করা যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘ প্যানেল নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

সন্তান জন্মদানে উৎসাহিত করতে সুন্দর স্লোগান

তাইওয়ানের সরকার একটি সৃজনশীল স্লোগানের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। সে দেশের নাগরিকদের সন্তান জন্মদানে উৎসাহিত করতে এই স্লোগান ব্যবহার করা হবে। যিনি সবচেয়ে সুন্দর, কার্যকর ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন তৈরি করবেন, তাঁকে ৩১ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার পুরস্কার দেবে সরকার।
তাইওয়ানের জন্মহার দিন দিন কমছে। সন্তান জন্মদানে উৎসাহিত করতে এর আগে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। ২০০৯ সালে তাইওয়ানে নারীপ্রতি জন্মহার ছিল এক দশমিক শূন্য শতাংশ। গত বছর জন্মহার আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ পড়ে যায়।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আমরা এমন একটি স্লোগান চাই, যা দেশের মানুষকে সন্তান উত্পাদনে উৎসাহিত করবে।’
তাইওয়ানে যেসব দম্পতি আর্থিক সংকটের কারণে সন্তান নিচ্ছেন না, তাঁদের সাহায্য করার জন্য সরকার গত মাসে একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে।

রাজনৈতিক দল গড়লেন যোগগুরু রামদেব

নতুন একটি রাজনৈতিক দল গড়েছেন ভারতের যোগগুরু রামদেব। গত মঙ্গলবার তিনি এ ঘোষণা দেন। তাঁর দলের নাম ভারত স্বাভিমান পার্টি।
এ দল ভারতের আগামী লোকসভা নির্বাচনে ৫৪৪টি আসনেই প্রার্থী দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যোগগুরু। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে তিনি সাত থেকে ১০ লাখ দলীয় সদস্য নিয়োগ দেবেন। তবে রামদেব জানান, তিনি অবশ্য সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হবেন না। নির্বাচনেও অংশ নেবেন না।

এবার মায়াবতী পরলেন ১৮ লাখ রুপির মালা

ভারতের বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) প্রধান ও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী এবার ১৮ লাখ রুপির মালা পরলেন। গতকাল বুধবার লক্ষ্নৌতে তাঁর দল আয়োজিত এক সভার আগে মায়াবতীকে এ মালা পরানো হয়।
এর আগে গত সোমবার দলের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রমাবাই আম্বেদকর ময়দানে এক অনুষ্ঠানে মায়াবতীকে কোটি রুপির মালা পরানো হয়। এ নিয়ে ভারতে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।
বিএসপি সূত্রে জানা গেছে, এখন থেকে সব সময় দলীয় নেত্রী মায়াবতীকে অর্থ দিয়েই স্বাগত জানানো হবে। এটা দলের শত্রুদের প্রতি তাদের সমালোচনার জবাব। উত্তর প্রদেশের গণপূর্তমন্ত্রী নাসিমুদ্দিন সিদ্দিকী বলেন, ‘নেত্রীকে ১৮ লাখ রুপির মালা উপহার দেওয়া হয়েছে। দলের ১৮টি ইউনিট থেকে নেতা-কর্মীদের অনুদান হিসেবে এ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। ১০০, ৫০০ ও এক হাজার রুপির নোট দিয়ে এই মালা তৈরি করা হয়েছে।’
মায়াবতীর রুপির মালার অর্থের উৎস খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির আয়কর বিভাগ। এ জন্য তারা ছবি, ভিডিও ফুটেজ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো সংগ্রহ করছে।

উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র আছে

দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র আছে। এই সংখ্যা দুই বছর আগের আনুমানিক হিসাবের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি। গতকাল বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম তায়ে-ইয়ং এ কথা বলেছেন। এএফপি।
রাজধানী সিউলে আয়োজিত এক ফোরামে মন্ত্রী কিম তায়ে-ইয়ং আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু কর্মসূচি সমৃদ্ধ করেই চলছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে স্কাড, রোডংস ও আইআরবিএম (মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র) রয়েছে। দুই বছর আগে তাদের প্রায় ৮০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।
কর্মকর্তারা জানান, অনেক ক্ষেপণাস্ত্র আন্তকোরিয়া সীমান্তে মোতায়েন করা হয়েছে এবং তা সিউল ও দক্ষিণ কোরিয়ার অন্য স্থানের দিকে লক্ষ্য করা আছে।
ইয়োনহ্যাপ বার্তা সংস্থা জানায়, তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম আইআরবিএম ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনার জন্য উত্তর কোরিয়া গত সপ্তাহে নতুন সামরিক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র জাপানে ও গুয়ামে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম। উত্তর কোরিয়ার আন্তমহাদেশীয় তায়েপোডং ক্ষেপণাস্ত্র আলাস্কা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

মিয়ানমারে সহনশীলতার সংস্কৃতি জোরালো করতে চায় জান্তা সরকার!

নিরীহ বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ওপর উত্পীড়ন চালানোর অভিযোগ থাকার পরও মিয়ামারের জান্তা সরকার সে দেশে শান্তি ও সহনশীলতার সংস্কৃতিকে জোরালো করতে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় সফররত মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়ান উইন গতকাল বুধবার এ দাবি করেন। এএফপি।
ফিলিপাইন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে নিয়ান উইন বলেন, শান্তি ও সমঝোতার সংস্কৃতিকে জোরালো করতে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, ভিন্নমতাবলম্বীদের বিশ্বাসের প্রতি তাঁরা শ্রদ্ধাশীল। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সহনশীলতাকে তাঁরা একটি মৌলিক উপাদান হিসেবে বিবেচনা করেন।
নিয়ান উইন এমন এক সময়ে এসব কথা বললেন, যখন তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভূরি ভূরি অভিযোগ এনেছে। ২০০৭ সালে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ করার সময় জান্তা সরকার বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গত মাসে এক নতুন আইন পাস করে গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করায় আন্তর্জাতিক বিশ্ব মিয়ানমারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

লস্করগাহের শরণার্থীদের দুর্দশা

লস্করগাহের নতুন অস্থায়ী বিমানবন্দরের পেছনে কাদামাটির তৈরি একটি দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন মোহাম্মদ খান। তাঁর কালো ময়লাযুক্ত হাত দেখেই বোঝা যায়, তিনি একজন মোটর মেকানিক। প্রায় এক মাস আগে আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের হেলমান্দ প্রদেশের কৃষিসমৃদ্ধ মারজাহ এলাকার বাড়ি ছেড়েছেন তিনি। কারণ, সেখানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর সঙ্গে তালেবান জঙ্গিদের যুদ্ধ চলছে। জীবন বাঁচাতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পালিয়ে হেলমান্দ প্রদেশের প্রাদেশিক রাজধানী লস্করগাহে এসেছেন। হয়েছেন শরণার্থী।
মোহাম্মদ খানের মতো একই অবস্থা লস্করগাহে থাকা মারজাহ এলাকার অন্য বাসিন্দাদের। লস্করগাহে তাদের জন্য কোনো পানি ও বিদ্যুত্ নেই, নেই কোনো খাবার ও গোসলের ব্যবস্থা। তাদের অবস্থা খুবই করুণ, বঞ্চিত সবকিছু থেকে। ময়লা আবর্জনাযুক্ত নোংরা পরিবেশে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে তারা।
মোহাম্মদ খান জানান, স্থানীয় সরকার বা আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার কেউই কোনো ধরনের সাহায্য নিয়ে আসেননি। খান বলেন, ‘আমি একজন খুব ভালো কারিগর। আমার পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। শিগগিরই আমার একটি কাজ প্রয়োজন।’
তবে লস্করগাহের প্রাদেশিক পুনর্গঠন দলের (পিআরটি) ব্রিটিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, মারজাহ থেকে আসা শরণার্থীরা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ছিল এবং তাদের বেশির ভাগই চলে গেছে।
কিন্তু এই সপ্তাহে লস্করগাহে গিয়ে মারজাহ থেকে আসা লোকজনকে খুঁজে পেতে কষ্ট হয়নি। শরণার্থীরা জানায়, শরণার্থী হিসেবে তাদের নিবন্ধন করা হয়নি। তারা কোনো সাহায্য পায়নি। স্বজনেরাও তাদের সঙ্গে নেই। গ্রামের বাড়িতে ফেরত যাওয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো পরিকল্পনা করেনি তারা।
মোহাম্মদ খান জানান, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মার্কিন নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন প্রায় ১৫ হাজার আন্তর্জাতিক ও ব্রিটিশ সেনা তালেবান নির্মূলে কৃষিসমৃদ্ধ মারজাহসহ আশপাশের ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় অভিযান চালায়। তখন তিনিও অন্যান্য পরিবারের মতো মারজাহ থেকে পালিয়ে আসেন।
খান বলেন, ‘তালেবান জঙ্গিরা আমাদের গ্রাম থেকে চলে যেতে মানা করেছিল। কারণ, আমরা নাকি তাদের উপকারে আসব। বোমাবর্ষণের সময় একবার তারা (তালেবান) আমাদের বাড়িতে লুকিয়ে ছিল। আমাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আমাদের বাড়ি থেকে তারা মার্কিন সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে।’ মোহাম্মদ খান জানান, হামলার সময় প্রচুর মানুষ মারজাহ থেকে পালিয়ে এখানে (লস্করগাহ) আসে। অনেকে নিমরোজ (প্রদেশ) ও অন্য জেলায় চলে গেছে।
মোহাম্মদ খান বলেন, ‘সন্তানদের খাবার দেওয়ার জন্য আমাদের কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই। আমরা এখানে থাকব, নাকি মারজাহে ফিরে যাব, বুঝতে পারছি না। আমরা এখানে থাকি বা চলে যাই না কেন, কারও কিছু আসে-যায় না।’
মারজাহ এলাকায় চলা যুদ্ধের নাম ‘অপারেশন মুশতারাক’। আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন নয় বছরের অভিযানের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অভিযান এটি। এ অভিযানের মাধ্যমে ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে হেলমান্দ ও প্রতিবেশী কান্দাহার প্রদেশ থেকে তালেবান জঙ্গি ও মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মূলত আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে চালানো এ অভিযানের জন্য গত আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো দেশটিতে তাদের সেনাসংখ্যা এক লাখ ২১ হাজার থেকে বাড়িয়ে দেড় লাখ করেছে।
প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র দাউদ আহমাদি বলেন, মুশতারাক অভিযানে তিন হাজার ৮৩৫টি পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে। তাদের সবাই লস্করগাহ ও এর পাশের এলাকায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে। বেশির ভাগ লোক জরুরি ত্রাণ-সহায়তা পেয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এখন প্রায় সব পরিবার নিজেদের উদ্যোগে তাদের বাড়ি ফিরে গেছে। তবে ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিওএস) এ সপ্তাহে জানিয়েছে, মারজাহে সংঘর্ষের কারণে বাড়িছাড়া প্রায় ১০০ পরিবার জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ এখনো শরণার্থী হিসেবে তাদের নিবন্ধন করেনি।
আইসিওএসের প্রেসিডেন্ট নরিন ম্যাকডোনাল্ড বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, সপ্তাহখানেক আগে ন্যাটো সামরিক হামলার কথা ব্যাপকভাবে প্রচার করলেও তাদের (শরণার্থী) উপস্থিতিই প্রমাণ করে, মারজাহর বাসিন্দাদের প্রস্তুতির অভাব ছিল। ম্যাকডোনাল্ড বলেন, এ অভিযানকে এগিয়ে নিতে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক পরিকল্পনা ও অর্থ খরচ করা হচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এ অভিযানের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর যে প্রচুর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে একই ধরনের পরিকল্পনা ও অর্থ খরচের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি।
লস্করগাহের একজন ত্রাণকর্মী বলেন, হামলা চালানোর আগের দিন পর্যন্ত মারজাহর বাসিন্দাদের কল্যাণে আন্তরিকতার সঙ্গে কোনো প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিমা একজন ত্রাণকর্মী বলেন, এটা একটি বিশৃঙ্খল অভিযান। তিনি বলেন, খুব উত্তেজনা বিরাজ করছে। দিনে তারা কয়েক দফা বৈঠক করছে এবং একে অপরকে দোষারোপ করছে। জাতিসংঘও সহযোগিতা করছে না। ত্রাণ নিয়ে আসতে অন্য সংস্থাকে চাপ দিচ্ছে তারা।
লস্করগাহের অস্থায়ী বিমানবন্দরের এক প্রান্তে মারজাহর আরেক বাসিন্দা নানজিয়ালাই বলেন, বোমা নিক্ষেপের পর তিনি তাঁর পরিবারকে নিয়ে পালিয়ে আসেন। নিরাপত্তার ব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি ফিরবেন না তাঁরা।
নানজিয়ালাই বলেন, মারজাহে মাদক ব্যবসায়ী ও তালেবান জঙ্গিদের থাকাটা দোষের কিছু ছিল না। মানুষ সেখানে সুখে ছিল, নিরাপদে ছিল। তিনি বলেন, আফগান কর্তৃপক্ষ যদি সেখানকার দায়িত্ব নিতে চায়, তবে তাদের অবশ্যই পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে লোকজনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা। যদি তা না করে, তাহলে তালেবান জঙ্গিরা ফেরত আসবে এবং আবার লড়াই শুরু হবে।

পাকিস্তান থেকে পরিবার সরিয়ে নিচ্ছেন দাউদ ইব্রাহিম

ভারতের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী দাউদ ইব্রাহিম ও তাঁর সঙ্গীরা পাকিস্তান থেকে তাঁদের পরিবার-পরিজন অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) ভয়েই তাঁদের এ উদ্যোগ। গত মাসে গ্রেপ্তার হওয়া দাউদের সহযোগী ফিরোজ আবদুর রশিদ খান ওরফে হামজা জিজ্ঞাসাবাদে ভারতীয় তদন্ত কর্মকর্তাদের এ তথ্য জানিয়েছেন। ভারতের অপরাধ তদন্ত বিভাগের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় পত্রিকা ডিএনএ।
পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, আইএসআইয়ের তরফ থেকে চাপ বেড়ে যাওয়ায় ‘মাফিয়া ডন’ হিসেবে পরিচিত দাউদ ইব্রাহিম ও তাঁর সঙ্গী-সাথিরা পরিবারের সদস্যদের পাকিস্তান থেকে সরিয়ে অন্য কোনো দেশ, সম্ভবত দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যাবেন। জিজ্ঞাসাবাদে তদন্ত কর্মকর্তাদের এ তথ্যই দিয়েছেন হামজা। ১৯৯৩ সালে মুম্বাইয়ে ধারাবাহিক বোমা হামলায় জড়িত অভিযোগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই তদন্ত কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেন, দাউদ, ছোট চেতন, আনিস ইব্রাহিম ও টাইগার মেননের মতো সন্ত্রাসী নেতারা এমন জায়গা খুঁজছেন, যেখানে তাঁদের পরিবার নিরাপত্তা বোধ করতে পারে। তাঁরা আইএসআইয়ের থাবা থেকে পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে আনতে চাইছেন।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে বোমা হামলা বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় এসব সন্ত্রাসী নেতার পরিবারের সদস্যদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এসব অপরাধীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। তা ছাড়া আইএসআইয়ের কর্মকর্তারাও সম্প্রতি তাঁদের অনেক বেশি বিরক্ত করতে শুরু করেছেন।
পুলিশের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওই খবরে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী নেতারা যখন অন্য কোনো দেশে থাকেন, তখন পরিবারের সদস্যদের পাকিস্তানে অবস্থান করতে হয়। আর পরিবারের সদস্যরা দেশের বাইরে থাকলে অপরাধীরা পাকিস্তানে থাকেন। তাই বলা যায়, পরিবারের সদস্যদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপের অর্থ, নেতারা পাকিস্তানে থাকবেন।
হামজা তদন্ত কর্মকর্তাদের বলেছেন, দাউদ সম্ভবত পশ্চিম এশিয়ার কোনো দেশে থাকতে রাজি নন। প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর হুমকি এর মূল কারণ। হামজা ১৯৯৬-৯৭ সালের মধ্যে তিনবার পাকিস্তান সফর করেন। ওই সময় তিনি দাউদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁর বড়িতে অবস্থান করেন। দাউদের ছেলের বিয়েতেও সম্ভবত হামজা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ স্বীকার করতে পারেন হেডলি

মুম্বাই হামলা ও ডেনমার্কের একজন কার্টুনিস্টের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পরিকল্পনার ঘটনায় অভিযুক্ত পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ডেভিড কোলম্যান হেডলি অভিযোগ স্বীকার করতে পারেন। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালত সূত্রে এ কথা জানা গেছে।
হেডলির আইনজীবীরা বলেন, ‘অভিযোগ স্বীকার করার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চলছে।’ তবে হেডলি কোন কোন অভিযোগ স্বীকার করবেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তাঁরা। হেডলির বিরুদ্ধে ১২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন। শুনানির জন্য আজ বৃহস্পতিবার হেডলিকে আদালতে তোলা হবে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবাকে সহযোগিতা করেন হেডলি। হামলার আগে তিনি মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করেন। তিনি ২০০২ সাল থেকে লস্করকে সাহায্য করছেন বলে দাবি করেন কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ছাপার জন্য ডেনিস পত্রিকা জিল্যান্ডস-পোস্টেনে ও ওই কার্টুনিস্টের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনার অভিযোগও আনা হয়েছে হেডলির বিরুদ্ধে।

শহুরে জীবন থেকে পালাতে চেয়েছিলেন তিনি

বয়স তাঁর ৮০ বছর। কিন্তু শারীরিক বাধা তোয়াক্কা না করে কোমরে রশি বেঁধে পাঁচতলা ভবন থেকে নিচে নামার চেষ্টা করলেন ওই বৃদ্ধা। উদ্দেশ্য, শহুরে জীবন থেকে পালিয়ে গ্রামে ফিরে যাওয়া। কিন্তু তিনি কোমরে যে রশি বেঁধেছিলেন, তা নিচে নামার মতো পর্যাপ্ত লম্বা ছিল না; ফলে মাঝপথে ঝুলতে থাকলেন তিনি। শেষে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাঁকে ওই বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনাটি ঘটেছে চীনে। হেনান বিজনেস ডেইলি এ খবর জানায়।
ঝাং ইয়ায়ফেং (৮০) হেনান প্রদেশের হুবেই শহরে ছেলে তিয়ান উইয়িটায়োর সঙ্গে তাঁর ফ্ল্যাটে থাকতেন। কিন্তু শহুরে জীবন তাঁর ভালো লাগছিল না। তিনি ফিরে যেতে চেয়েছিলেন গ্রামের বাড়িতে।
যেহেতু মাকে গ্রামের বাড়িতে যেতে দিতে চাইছিলেন না ছেলে, তাই বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ফ্ল্যাটের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে যেতেন। তিয়ান নিশ্চিত ছিলেন, তাঁর মা যদি তাঁদের সঙ্গে কিছু সময় থাকেন, তাহলে তিনি শহুরে জীবনের সুবিধা উপভোগ করতে শুরু করবেন।
কিন্তু আর এক মিনিটও শহরে না থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন ঝাং। শহর থেকে পালানোর এক দুঃসাহসিক পরিকল্পনা করলেন তিনি। কোমরে রশি বাঁধলেন এবং জানালা দিয়ে নিচে নামতে শুরু করলেন।
তবে ঝাংয়ের হিসাবে গরমিল হয়ে গিয়েছিল। রশির দৈর্ঘ্যের হিসাব করতে ভুল করে ফেলেছিলেন তিনি, তাই তিনি নিচ পর্যন্ত নামতে পারেননি। মাঝপথে ঝুলতে থাকলেন।
ভাগ্যক্রমে প্রতিবেশীরা তাঁকে দেখেছিলেন। তাঁরা জরুরি বিভাগে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং তাঁকে উদ্ধার করেন।

আফ্রিদি না হলে রাজ্জাক

আবদুল রাজ্জাকের নাম প্রস্তাব করেছেন তিনি নিজে, তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শহীদ আফ্রিদিই হয়তো শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের অধিনায়ক থাকবেন। অস্ট্রেলিয়া সফরে বল বিকৃত করার কলঙ্ক তাঁর গায়ে লাগাতেই অধিনায়ক হিসেবে তিনটি বিকল্প নাম এসেছে—আবদুল রাজ্জাক, মিসবাহ-উল হক ও সালমান বাট। তো আফ্রিদিকে অধিনায়ক না করা হলে যোগ্য প্রার্থী কে? প্রশ্নটা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি ইজাজ বাট করেছিলেন খোদ আফ্রিদিকেই। উত্তরে আফ্রিদিই রাজ্জাকের নাম বলেছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যারাডোনা-ঢাল

গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ শুরু হতে বাকি নেই আর তিন মাসও। কিন্তু ‘গ্রেটেস্ট শো’ এবার কেমন হবে—প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েই। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রস্তুতি নিয়ে সংশয়টাই যে কাটছে না। বিশ্বকাপের জন্য নতুনভাবে তৈরি এবং সংস্কার করা মিলিয়ে ১০টি স্টেডিয়ামের বেশির ভাগেরই কিছু কিছু কাজ এখনো বাকি রয়ে গেছে। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশের পাবলিক বাস চলাচলে নতুন যে নিয়ম করা হয়েছে, তার বিপক্ষে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন ট্যাক্সিচালকেরা। নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কাটাও কাটছে না। ২৯ লাখ টিকিটের ২৩ লাখ যদিও ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে, কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে বিশ্বকাপ উপলক্ষে যে সাড়ে চার লাখ পর্যটক আশা করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, শেষ পর্যন্ত আসবে আরও অনেক কম।
আয়োজকেরা অবশ্য এসব অভিযোগকে পাত্তা দিচ্ছে না, বরাবরের মতোই আশ্বাস দিয়েছে, সব কাজ শেষ হবে সময়মতোই। নিজেদের পক্ষে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে দেখাচ্ছে তারা গত জানুয়ারিতে দেওয়া ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রত্যয়নকে, ‘যার যা খুশি বলতে পারে, কিন্তু আমি বলছি আমরা একটা নিরাপদ দেশে আসছি।’ স্বাগতিকদের প্রস্তুতিতে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ইংল্যান্ড কোচ ফাবিও ক্যাপোলো।

পিসিএলে খেলতেও অনুমতি লাগবে পাকিস্তানিদের

এবারের আইপিএলটা দেখতে হচ্ছে টিভিতেই, পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা আশা করেছিলেন বাংলাদেশের পিসিএলে অন্তত খেলতে পারবেন। কাল সেই আশাতেও একটা ধাক্কামতো খেয়েছেন তাঁরা। খুব বড় কোনো বাধা অবশ্য নয়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, দেশের বাইরে যেকোনো জায়গায় খেলতে হলেই বোর্ডের অনুমতি নিতে হবে ক্রিকেটারদের। এবার শারজায় অনুষ্ঠেয় পিসিএলে খেলার অনুমতি তাঁরা পেতেই পারেন, তবে তারপরও পাকিস্তান ক্রিকেটের সাম্প্রতিক অবস্থা তাদের জন্য একটু শঙ্কার তো বটেই। ওয়েবসাইট।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে এসে একটি দলে স্বাক্ষর করেছেন রানা নাভেদ-উল হাসান এবং আবদুল রাজ্জাক। খেলার কথা শহীদ আফ্রিদি, ইমরান নাজির, শোয়েব মালিক, উমর আকমল, মোহাম্মদ হাফিজসহ আরও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের। কাল পিসিবির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘পিসিবি সুনিশ্চিতভাবে জানাতে চায়, কোনো ক্রিকেটার বোর্ডের বৈধ অনুমতি ছাড়া দেশের বাইরে কোথাও খেলতে যেতে পারবে না।’ সপ্তাহখানেক আগেই অস্ট্রেলিয়া সফরে ব্যর্থতার কারণে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশে ইউনুস খান এবং মোহাম্মদ ইউসুফকে অনির্দিষ্ট মেয়াদে এবং শোয়েব মালিক ও রানা নাভেদকে এক বছরের জন্য পাকিস্তান দলে নিষিদ্ধ করেছে পিসিবি। মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে শহীদ আফ্রিদি ও আকমল ভাইদের।

ফেদেরারের হার জিতলেন নাদাল

বিএনপি পারিবাস ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডেই হোঁচট খেলেন রজার ফেদেরার। পরশু মার্কোস বাগদাতিসের কাছে ৫-৭, ৭-৫, ৭-৬ (৭/৪) গেমে হেরে বিদায় নিয়েছেন এক নম্বর তারকা। ফেদেরারের বিদায়ের দিনে মেয়েদের এককে হেরে গেছেন টুর্নামেন্টের গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ভেরা জোনারেভা। পুরুষ এককের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রাফায়েল নাদাল অবশ্য উঠে গেছেন চতুর্থ রাউন্ডে। নাদালের সঙ্গী হয়েছেন অ্যান্ডি মারে, রবিন সোদারলিং, জো-উইলফ্রায়েড সোঙ্গা আর অ্যান্ডি রডিক।
গত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ১৬ নম্বর গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জেতার পর এটি ছিল ফেদেরারের প্রথম টুর্নামেন্ট। ২০০৪ সাল থেকে টানা তিনবার এখানে শিরোপা জেতার পর থেকেই খরা চলছে ফেদেরারের। এ নিয়ে টানা চতুর্থবার তিনি ব্যর্থ হলেন টুর্নামেন্টটির শিরোপা জিততে। ফেদেরার অবশ্য এই পরাজয়কে বড় কিছু করে দেখছেন না, ‘এমন নয় এটি আমার খেলা জঘন্যতম ম্যাচ। আজ রাতে আমার যেমন খুব ভালো সময় এসেছিল, তেমনি কিছু কিছু সময় আমি খুব বাজে খেলেছি।’
সেই বাজে খেলাটাই পুঁজি করে ফেদেরারের বিপক্ষে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিলেন বাগদাতিস। সাইপ্রাসের ২৭ নম্বর র্যাঙ্কিংধারী ২৭ নম্বর খেলোয়াড় জানালেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের এটাই সেরা জয়।’ তা তো হবেই। সাতবারের মুখোমুখি লড়াইয়ে এই প্রথম ফেদেরারের বিপক্ষে জিতলেন তিনি।

দলকে জিতিয়েই মাঠের বাইরে ধোনি

প্রথম ম্যাচে ২৯ বলে ৪২ করেও দলকে জেতাতে পারেননি। পরশু ৩৩ বলে অপরাজিত ৬৬ করে হলেন ম্যাচসেরা, দলও হারাল এর আগে টানা দুই ম্যাচ জেতা কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। তারপরও একটা দুঃসংবাদ শুনতে হলো মহেন্দ্র সিং ধোনিকে, কনুইয়ের ইনজুরিতে মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাঁকে ১০ দিন থেকে সপ্তাহ দুয়েক। ধোনির অনুপস্থিতিতে চেন্নাই সুপার কিংসকে নেতৃত্ব দেবেন সুরেশ রায়না।
ত্রয়োদশ ওভারে শেন বন্ডের বাড়তি লাফিয়ে ওঠা একটি বল এসে লাগে ধোনির বাহুতে। ব্যথা নিয়েই পরে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন, করেছেন কিপিংও। কিন্তু ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণীতে এসেছেন ডান হাতে আইসপ্যাক বেঁধে। চেন্নাই কোচ স্টিভেন ফ্লেমিং প্রথমে বলেছিলেন, ডিল্লি ডেয়ার ডেভিলসের বিপক্ষে পরের ম্যাচেই খেলবেন ধোনি। কিন্তু পরে এক্স-রের ফলাফলে জানা গেছে, এই ম্যাচসহ মিস করতে পারেন আরও চার-পাঁচ ম্যাচ।
পরশু ইডেনের গ্যালারি ঠাসা দর্শকের সামনে স্বাগতিক কেকেআরকে হারিয়েছে চেন্নাই ৫৫ রানে। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ১০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৯ রান করা চেন্নাই পরের ১০ ওভারে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে তোলে ১০৫ রান। চতুর্থ উইকেট সুব্রামনিয়াম বদ্রিনাথকে (৩৩ বলে অপরাজিত ৪৩) নিয়ে ৬৫ বলে ১০৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন ধোনি। ১৬৫ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা কেকেআর প্রথম দুই ওভারেই হারায় আগের ম্যাচের হাফ সেঞ্চুরিয়ান দুই ওপেনারকে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত করতে পারে তারা মাত্র ১০৯। ৩ উইকেট নিয়েছেন জাস্টিন কেম্প, দুটি লক্ষ্মীপতি বালাজি। ওয়েবসাইট।
দিল্লিতে টেন্ডুলকার-ঝড়
ম্যাচের আগে মজা করে বলেছিলেন, ‘শেবাগের উচিত আমাকে সম্মান করা।’ কাল কিন্তু শচীন টেন্ডুলকার নিজেই ‘সম্মান’ করলেন না শেবাগের দলের বোলারদের। অমিত মিশ্রর বলে আউট হওয়ার আগে ৩২ বলে করেছেন ৬৩। এই প্রতিবেদন লেখার সময় স্বাগতিক দিল্লি ডেয়ার ডেভিলসের বিপক্ষে ১৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান তুলেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। ৯ ওভারে ১০০ ছুঁয়েছে মুম্বাই, ১০ ওভার শেষে ১১২, দুটোই এবারের আইপিএলের রেকর্ড।

দুদলই বিশ্রামে কাটাল দিনটা

চট্টগ্রাম টেস্ট শেষে পরশু রাতেই ঢাকা ফিরেছে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড। প্রচণ্ড গরমে সাড়ে চার দিন লড়তে হয়েছে মাঠে। কাল তাই অনুশীলন ছিল না কোনো দলেরই। ইংলিশরা কাল সারা দিনই কাটিয়েছে বিশ্রামে, এমনকি জিমও করেনি তারা। সন্ধ্যায় কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার কোথায় যেন ছুটলেন একটা গাড়ি নিয়ে। কাল ছুটি কাটিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও। ঢাকায় ফিরেই কেউ কেউ গেছেন বাসায়, অন্যরা হোটেলেই কাটিয়েছেন অলস সময়। আজ অবশ্য অনুশীলন আছে দুদলেরই, মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী পরশু।
চট্টগ্রাম টেস্ট জয় দ্বিতীয় টেস্টে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে ইংল্যান্ডকে। তবে সাফল্যহীন বাংলাদেশকে চট্টগ্রামও কিন্তু একেবারে ‘খালি হাতে’ ফেরায়নি। বিশেষ করে জুনায়েদ-মুশফিকের ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানো সাকিবের দল দেখিয়েছে মানসিক দৃঢ়তা তৈরি হয়েছে তাদেরও। এটাই হয়তো মিরপুরে সাজিয়েছে আরেকটি জমজমাট টেস্টের প্রেক্ষাপট!

তবু ইন্দো-বাংলায় বাংলাদেশ

আগামী ২৫-২৭ মার্চ কলকাতায় তৃতীয় ইন্দো-বাংলা গেমসের জন্য সরকারের কাছে ৭০ লাখ টাকা চেয়েছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। কিন্তু গত পরশু ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এ মুহূর্তে টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। টাকা ক্রীড়া মন্ত্রণালয় দেবে না, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ছাড় হয়ে আসতে হবে। প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতা ও নতুন বাজেট সামনে রেখে অর্থ মন্ত্রণালয় আপাতত টাকা দিতে পারছে না বলে জানা গেছে।
২০০৮ সালে কলকাতায় প্রথম ইন্দো-বাংলা গেমসে সরকার ৫০ লাখ টাকার ওপরে দিয়েছিল। এবার না দেওয়ায় বিওএ হতাশ। তাই বলে গেমসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। আপাতত বিওএর নিজস্ব খরচেই গেমসে দল পাঠানো হবে।
বিওএর সহসভাপতি মিজানুর রহমান (মানু) বলছেন, সরকার টাকা না দিলেও শেষ সময়ে এসে আয়োজকদের ‘না’ বলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, ‘এখন কলকাতা যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে আমাদের। এই সময়ে ‘যাব না’ বলা যায় কী করে? তবে সরকার আপাতত টাকা দিতে না পারলেও পরে হয়তো দেবে। বিওএ এখন টাকার ব্যবস্থা করে দল পাঠাবে।’
গত মাসেই দক্ষিণ এশীয় গেমস হয়েছে বাংলাদেশে। ওই গেমসের মোট বাজেট ছিল ১৭০ কোটি টাকা। যার মধ্যে স্পনসর বাবদ ৩০-৩৫ কোটি টাকা বাদে বাকি টাকা সরকার দিয়েছে। তবে দক্ষিণ এশীয় গেমসের খরচের হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিভিন্ন সাব-কমিটি হিসাব বুঝিয়ে দিলে তবেই চূড়ান্ত খরচ জানা যাবে।
ইন্দো-বাংলা গেমস নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নানা মত চালু থাকলেও (একটা দেশের প্রদেশের সঙ্গে স্বাধীন দেশের খেলা কতটা মর্যাদাপূর্ণ?) এটা সত্য, এই গেমসে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের কাছে ‘খেলার সুযোগ’ হয়েই আসছে। আর এই সুযোগ কাজে লাগাতে আগামী ২২ মার্চ সড়কপথে দল কলকাতা রওনা হবে বাংলাদেশ দল।
বাংলাদেশ জাতীয় দল আর পশ্চিমবঙ্গের এই গেমসে এবার ১০টি খেলায় সোনা ৬১টি। নতুন ইভেন্ট তিনটি—জিমন্যাস্টিকস, ব্যাডমিন্টন, জুডো। থাকছে অ্যাথলেটিকস (পুরুষ-মহিলা), সাঁতার (পুরুষ-মহিলা), শ্যুটিং (পুরুষ-মহিলা), খো খো (পুরুষ), কাবাডি (পুরুষ), মহিলা ফুটবল, বাস্কেটবল (পুরুষ)। ২৪ মার্চ সল্ট লেকে গেমসের উদ্বোধন।

সালাউদ্দিনের দ্বিতীয় পরিকল্পনা

নতুন একটা ‘প্যাকেজ’ নিয়ে এবার হাজির হতে চান কাজী সালাউদ্দিন। সারা দেশের ফুটবলে আরেকটা জাগরণ আনতে জেলার ফুটবল লিগ, টুর্নামেন্ট, স্কুল ফুটবলসহ আরও কিছু আয়োজন নিয়ে সাজাচ্ছেন এই গুচ্ছ কর্মসূচি।
বাফুফে সভাপতির ভাষায়, ‘এবার আমি সারা দেশের ফুটবলে মনোযোগ দিচ্ছি। এত দিন ছিলাম প্ল্যান “এ” নিয়ে। এখন হাতে নিয়েছি প্ল্যান “বি”।’ পরিকল্পনা ‘এ’ বলতে সাবেক তারকা ফুটবলার বুঝিয়েছেন ঢাকার ফুটবলকে। ‘বি’ হচ্ছে ঢাকার বাইরের ফুটবল।
‘আমি প্রথমে চেয়েছি ঢাকায় নিয়মিত খেলাটা আয়োজন করতে। প্ল্যান “এ”-তে সেটাই আমার প্রথম দায়িত্ব ছিল। এখন প্ল্যান “বি” সাজিয়েছি জেলা লিগ, জেলার ফুটবল, স্কুল টুর্নামেন্ট...নিয়ে। সারা দেশের ফুটবল চাঙা করার একটা একটা প্যাকেজ’—কাল বলছিলেন বাফুফে সভাপতি।
নোয়াখালীতে ২০ মার্চ একটা ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে প্রধান অতিথি থাকছেন। এই উদাহরণ দিয়ে কাল বললেন, ‘আমি এখন ঢাকার বাইরে যাওয়া শুরু করছি। নিয়মিত ঢাকার বাইরে যাব। এতেই বুঝতে পারেন, ঢাকার বাইরের ফুটবলে উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে আমি তৎপর।’
সালাউদ্দিন যুগে বাফুফে দুটি পেশাদার লিগ, কোটি টাকার সুপার কাপ করেছে। সারা দেশে একটি ক্লাব টুর্নামেন্ট আছে উল্লেখযোগ্য আয়োজনের তালিকায়। ঢাকায় সাফ ফুটবল, এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নস লিগ (ক্লাব টুর্নামেন্ট) আয়োজন করতে চান, যেটিকে তিনি তাঁর স্বপ্ন বলছেন।
কিন্তু সালাউদ্দিনের চার বছরের মেয়াদকালের প্রায় দুই বছর হলেও ঢাকার জুনিয়র ডিভিশনগুলো বন্ধ হয়ে আছে। পাইওনিয়ার লিগ, দ্বিতীয়-তৃতীয় বিভাগ নেই দুই বছর হতে চলল। পেশাদার লিগের বাইরে থাকা ঢাকার বাকি ক্লাবগুলোকে নিয়ে সিনিয়র ডিভিশন লিগও হচ্ছে না বাফুফের বর্তমান কমিটির সময়ে। বলতে গেলে, তৃণমূল ফুটবলে একটা স্থবিরতা চলছে।
শুধু তো আর পেশাদার লিগই সব নয়। ঢাকার জুনিয়র লিগ দুই বছর ধরে না হওয়ায় নতুন খেলোয়াড় উঠে আসার রাস্তাটা বন্ধই হয়ে গেছে। এই লিগগুলো আয়োজনের জন্য গঠিত ঢাকা মহানগর লিগ কমিটি নিয়ে গোলমাল থাকায় সেটি কাজ করতে পারেনি। অবশেষে নতুন কমিটি করা হয়েছে। আগামী মাসে সিনিয়র ডিভিশন লিগ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেই কমিটি।
জুনিয়র ডিভিশন মাঠে না থাকায় সালাউদ্দিনকে অনেক প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে জুনিয়র ডিভিশন মাঠে নামাতে তিনি সহযোগিতা পাননি ঠিকমতো, এমন কথাও চালু আছে ফুটবল অঙ্গনে। সবাই পরামর্শ দেয়, কিন্তু কাজের বেলায় সাহায্য পাওয়া যায় না—পরোক্ষে এমন কথাই বলছেন বাফুফে সভাপতি। ‘বলা অনেক সহজ। কিন্তু করা কঠিন। সবাই তো বলেই খালাস’—উপলব্ধি সালাউদ্দিনের।
বাইরে থেকেও অনেকের ধারণা, সালাউদ্দিন সহযোগিতা পান না ঠিকমতো। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আলফাজ আহমেদ বলছেন, ‘এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে সবকিছুই একা করতে হচ্ছে সালাউদ্দিন ভাইকে। তিনি একা কিছু করতে পারবে না। সেটা সম্ভব নয়।’
সম্ভব-অসম্ভব যা-ই হোক, এই সময়ে সারা দেশে সীমিত আকারে স্কুল ফুটবল হয়েছে, হয়েছে ঢাকা মহানগর স্কুল টুর্নামেন্টও। কিন্তু একাডেমির অভাবে প্রতিভাবানদের দীর্ঘ মেয়াদে প্রশিক্ষণ ও বাছাই করা কিশোরদের বৃত্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও এখনো সেসব বাস্তবায়ন করা যায়নি।
সালাউদ্দিন তাই শিগগিরই সারা দেশে বড় পরিসরে স্কুল টুর্নামেন্ট করতে চান, ‘উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ধাপে ধাপে স্কুল টুর্নামেন্ট হবে। সম্ভাব্য খরচ ১২-১৩ কোটি টাকা। এটা করতে পারলে অনেক প্রতিভাবান কিশোর পাব আমরা।’ এটি শেষ পর্যন্ত তিনি করতে পারবেন? সালাউদ্দিনের দৃঢ় জবাব, ‘করবই। করতেই হবে।’
এসব পরিকল্পনাকে স্বাগত জানালেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জুয়েল রানা, ‘এগুলো ভালো পরিকল্পনা। তবে কথা হচ্ছে স্কুল টুর্নামেন্টে খেলার পর ওই ছেলেরা কোথায় খেলবে। জুনিয়র ডিভিশনগুলো বন্ধ। এগুলো চালু করতে হবে। সালাউদ্দিন ভাই একা কিছু পারবে না, সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’