Sunday, March 11, 2018

ইতিহাসের অন্যতম সেরা জয় বাংলাদেশের: তামিম

২১৫ রানের হিমালয়তুল্য লক্ষ্য। বাংলাদেশ দলের পক্ষে বাজি ধরার লোক খুঁজে পাওয়াই ছিল কঠিন। কিন্তু ক্রিকেট দুনিয়া কাঁপিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে শ্রীলঙ্কার রানের পাহাড় টপকে গেছে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহীম, লিটন কুমার দাস ও তামিম ইকবালের দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্যে দুই বল ও ৫ উইকেট অক্ষত রেখে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই খুশি টাইগাররা। শনিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রাপ্ত জয়টাকে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম জয় বলে আখ্যা দিয়েছেন তামিম ইকবাল।
কলম্বোতে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাঁ-হাতি ড্যাশিং ওপেনার বলেন, এটা আমাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা জয়। তবে ঐতিহাসিক জয়ের উচ্ছ্বাসে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে না বাংলাদেশ দল। তামিম বলেন, একটা ম্যাচ জিতেছি। সবকিছু জয় করে ফেলিনি। প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ছয় উইকেটে হার। শনিবার লঙ্কাজয়ের পর নিদাহাস ট্রফিতে শিরোপা-স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলো বাংলাদেশ। এই জয়টাকে আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি হিসেবে দেখছেন সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা তামিম। ওয়ানডে ফরমেটে বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের এখনো হারিয়ে খুঁজছেন তামিমরা। তামিমের মতে সংক্ষিপ্ত এ ফরম্যাটে অনেক উন্নতি করতে হবে দলের। এই ফরম্যাটে আমাদের এখনো অনেক কিছু প্রমাণ করতে হবে।

সুইসাইড নোটে মৌমিতার আপসোস

শুক্রবার দক্ষিণ কলকাতার এক ফ্ল্যাট থেকে উঠতি অভিনেত্রী মৌমিতা সাহার (২৩) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৌমিতার নিথর দেহের পাশে পরে থাকা একটি সুইসাইড নোট মিলেছে। তাতে লেখা ছিল, আমার আর অভিনেত্রী হওয়া হল না। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মানসিক অবসাদের জেরেই ওই তরুণী আত্মহত্যা করেছেন।
টলিউডে মডেলিং ও অভিনয়ের সূত্রে বছর দুয়েক আগে থেকে রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকার অশোকনগরে ভাড়া বাড়িতে একাই থাকতেন মৌমিতা। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ অনেক ডাকাডাকির পরেও মৌমিতা দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের সাহায্যে বাড়িওয়ালা দরজা ভাঙেন। ভিতরে গলায় ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মৌমিতাকে দেখা যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে এম আর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবৈধভাবে কাজ: মুচলেকা নিয়ে ছাড়া হলো ৩৯ বিদেশীকে

ট্যুরিষ্ট ভিসা, অনারেবল ভিসা ও বিজনেস ভিসা নিয়ে উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে এনজিও সংস্থায় অবৈধভাবে কর্মরত ৩৯ জন বিদেশী নাগরিককে আটকের পর মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আজ উখিয়া থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা ডিএসবি’র সদস্যরা তাদের আটক করেছিলেন। রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়া প্রেসক্লাব সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অভিযান চলাকালীন সময়ে যে সমস্ত বিদেশী এনজিও কর্মী বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি তাদের মধ্যে ফ্রান্সের ৫ জন, কানাডার ২ জন, আমেরিকার ৬ জন, থাইল্যান্ডের ১ জন, তুরস্কের ৫ জন, মালয়েশিয়ার ৪ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৩ জন, জাপানের ২ জন, ডেনমার্কের ১ জন, ভারতের ১জন, কেনিয়ার ৩ জন ও গ্রীসের ১জন সহ ৩৯জন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) চাউ লাউ মার্মার নেতৃত্বে জেলা পুলিশ বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল হক, ডিএসবি’র ওসি মিজানুর রহমান, উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের, ডিএসবির এসআই বোরহান উদ্দিনসহ বেশ কিছু পুলিশ গোয়েন্দা ক্যাম্পে আসা-যাওয়ার সময় সন্দেহ জনক ভাবে তল্লাশী চালিয়ে অবৈধ ভাবে এনজিও সংস্থায় কাজ করার দায়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেন।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, এসব বিদেশীরা এমএসএফ, এসিপি, রিলিফ ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থায় উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করে আসছে ট্যুরিষ্ট ভিসা নিয়ে।
যা আইনগত ভাবে অবৈধ বলে বিবেচিত। বিদেশী নাগরিক হিসেবে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্খিত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার মুচলেকা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগেও কক্সবাজার র‌্যাব-৭ সড়কের গাড়ী তল্লাশী চালিয়ে ১৭জন বিদেশী নাগরিককে আটক করে থানায় সোপর্দ করলে থানা পুলিশ অনুরূপ মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।
এসব এনজিওদের সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক , ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, এত গুলো বিদেশী নাগরিক বিভিন্ন এনজিওতে কাজ করছে অবৈধ ভাবে। তা হয়তো কেউ জেনেও না জানার ভান করছে। অথচ তাদের স্থলে স্থানীয় উচ্চ শিক্ষিত বেকার ছেলে/মেয়েরা কাজ করলে উখিয়া-টেকনাফে আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে রোহিঙ্গার চাপে ক্ষতিগ্রস্থ ও মানসিক ভাবে বিপর্যস্থ পরিবার।

‘শ্রীদেবীর হাসির আড়ালে ছিল অনেক যন্ত্রণা’

অভিনেত্রী শ্রীদেবী ও স্বামী বনি কাপুর। ছবি: এএফপি
বলিউডের প্রথম সুপারস্টার অভিনেত্রী শ্রীদেবীর অকাল প্রয়াণে বিমর্ষ হয়েছিলেন তাঁর ভক্তরা। এমন কী, তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়েও প্রকাশিত হয়েছিলো ভিন্ন ভিন্ন খবর। সম্প্রতি, শ্রীদেবীর চাচা বেনুগোপাল রেড্ডি একটি তেলেগু নিউজ চ্যানেলকে জানান, এই মহাতারকার হাসির আড়ালে ছিলো অনেক কষ্ট; অনেক যন্ত্রণার মধ্যে তিনি দিন কাটিয়েছিলেন!
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৫৪ বছর বয়সে দুবাইয়ে একটি হোটেলের বাথটাবে ডুবে মারা যাওয়ার পর শ্রীদেবীর পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনেক কথা হলেও ভারত ও এর বাইরের সংবাদমাধ্যমগুলো গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করেছে বেনুগোপাল রেড্ডির এই সাক্ষাৎকারটি।
ইউটিউব চ্যানেল আইড্রিম নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারটিতে রেড্ডি দাবি করেন, শ্রীদেবী অনেক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটিয়েছিলেন। তাঁর মতে, এর জন্যে দায়ী অভিনেত্রীর স্বামী বনি কাপুর। ১৯৯৬ সালে চলচ্চিত্র প্রযোজক বনি কাপুরের সঙ্গে শ্রীদেবীর বিয়ের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে রেড্ডি বলেন, বনি-শ্রীদেবীর সন্তানদের যেন এমন ভাগ্য বরণ করতে না হয়।
“আমরা জানি যে কিছু চলচ্চিত্রে অর্থ খুইয়ে বনি কাপুর শ্রীদেবীর অনেক সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। শ্রীদেবীর মনে এ নিয়ে অনেক কষ্ট ছিল। তিনি শান্তিতে ছিলেন না। তিনি সবার সামনে মুখে হাসি ধরে রাখতেন কিন্তু, তাঁর ভেতরে অনেক যন্ত্রণা ছিল।”
রেড্ডির মতে, “বনি কাপুর এমন একটি ছবি প্রযোজনা করেছিলেন যা কোনদিনই দিনের আলো দেখেনি। ফলে তারা অর্থনৈতিকভাবে বেশ খারাপ সময়ের ভেতর দিয়ে যেতে থাকেন। এর লোকসান পূরণ করতে শ্রীদেবীকে আবার অভিনয়ে ফিরে আসতে হয়।”
সৎছেলে অর্জুন কাপুরের সঙ্গে শ্রীদেবীর দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গটিও টানেন রেড্ডি। তিনি আরও দাবি করেন, “আমাদের আত্মীয়-স্বজনরা যখন শ্রীদেবীর বাড়িতে বেড়াতে যেতো তখন আলোচনায় এ বিষয়গুলো উঠে আসতো।… শ্রীদেবী তাঁর দুই মেয়ে জাহ্নবী কাপুর এবং খুশি কাপুরের ভবিষ্যৎ নিয়েও বেশ উদ্বিগ্ন- সে কথাও তিনি বলতেন।”
উল্লেখ্য, বলিউডে অভিষেক হতে যাওয়া জাহ্নবী কাপুর গত ৬ মার্চ তাঁর ২১তম জন্মদিন পালন করেন।
thedailystar.net/bangla

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি এবং যৌক্তিকতা

বাংলাদেশের পোশাক কারখানার শ্রমিকদের জীবনমানসহ সবদিক ভেবে তাদের ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ)। এ নিয়ে (রোববার) (১১মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাঈমুল হাসান জুয়েল অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের শ্রমিকদের মজুরি পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে কম। মজুরির কথা তুললেই মালিকরা বলেন-বেতন বাড়ালে কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যাবে।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণের সরকার সম্প্রতি নিম্নতম মজুরি বোর্ড পূনর্গঠন করে দিয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে জি-স্কপ নেতারা বলেন, ‘বাংলাদেশের শ্রম আইনের ১৪১ ধারা অনুযায়ী ১০টি মানদণ্ডের কথা বলা আছে। সরকারি পে-স্কেল নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসব মানদণ্ড মেনে চলা হয়।সেই মানদণ্ড অনুযায়ী আমরা গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ১৮হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানাই।’
বক্তারা ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-র এক গবেষণা রিপোর্ট উদ্ধৃত করে বলেন, বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী একজন গার্মেন্ট শ্রমিকের কমপক্ষে ১৭হাজার ৮৩৭টাকা মাসিক আয় থাকা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অক্সফামের গবেষণা জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে শ্রমিকদের বেতন হতে হবে ২০হাজার ৬৬৬টাকা।
শ্রমিক নেতারা ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের কায়িক শ্রমের পরিমাণ অন্যান্য শ্রমিকদের তুলনায় কম নয়। শরীর ঠিক রেখে কাজ করতে গেলে সঠিক পুষ্টি গ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু বর্তমান বেতন দিয়ে তা একেবারেই সম্ভব নয়। খাদ্যদ্রব্য ছাড়াও বাড়িভাড়া, শিক্ষা-চিকিৎসা খরচ, বিদ্যুতের দামের উর্ধ্বগতি রয়েছে। এগুলো মেটাতে গেলে বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও আবশ্যক।’
পোশাক খাতের শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরী প্রসংগে বাংলাদেশ টেকস্টা‌ইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি আবুল হোসাইন রেডিও তেহরানকে বলেন, পূনর্গঠিত মজুরিবোর্ডের আগামী ১৯ শে মার্চের প্রথম বৈঠককে সামনে রেখে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন তাদের সুপারিশ তুলে ধরছেন। তবে তাদের প্রায় সকলেই নিম্নতম বেসিক বেতন দশ হাজার টাকা করার দাবী জানিয়েছে।
আবুল হোসাইন অরো বলেন, তাদের এ দাবী ন্যয্য এবং বর্তমান বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।  তাছাড়া, মালিকদেরও এ বেতন দেবার সামর্থ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে পাঁচসদস্যের একটি দল মজুরি নির্ধারণ বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে স্মারক লিপি প্রদান করেন। সংগঠনটির যুগ্মআহ্বায়ক কামরুল আহসানের নেতৃত্বে দলে আরও ছিলেন জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, আহসান হাবিব বুলবুল, শাহ মো.আবুজাফর, এম শাহাদাত হোসেন, অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

‘নাউজুবিল্লাহ’ বললেন কাদের সিদ্দিকী

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের ওপর গুলি চালিয়েছেন। নাউজুবিল্লাহ। এমন ডাহা মিথ্যা কথা বলেন কীভাবে? মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যদি জিয়াউর রহমানের অপমান হয়- এটা  মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করা হবে। তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জিয়াউর ছিলেন শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেন, ২৫শে মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের পক্ষে ছিল, তাই বলে বাঙালিদের ওপর গুলি চালায়নি। প্রকৃতপক্ষে গুলি চলেছিল জয়দেবপুরের টঙ্গীতে।
বঙ্গবন্ধুকে যখন খুন করা হয় সফিউল্লাহ সেনাপ্রধান ছিলেন। জিয়াউর রহমানকে খুনি বললে কেএম সফিউল্লাহকে খুনির বাপ বলতে হবে। গতকাল বিকালে নলুয়া বাছেদ খান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়ন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, হাসিনা বলে খালেদা জিয়া চোর আবার খালেদা জিয়া বলে হাসিনা চোর। তিনি জনসভায় প্রশ্ন রাখেন, তাহলে আমরা কি চোরের দেশে বাস করি। হাসানুল হক ইনুর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইনু যত মানুষ মেরেছে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিরাও তত মানুষ মারে নাই। শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, তার বাপকে যারা মেরেছে, তারাই এখন হাসিনার ঘাড়ে উঠেছে। ইউনিয়ন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি জহির উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতীক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় যুব আন্দোলন সভাপতি হাবিবুন্নবী সোহেল, নাটোর জেলা সভাপতি শহিদুল্লাহ মুন্সি, উপজেলা সভাপতি আতোয়ার রহমান, জুলফিকার শামীম প্রমুখ।

মানুষ আকৃতির শূকরছানা এবং...

অদ্ভুত এক কাণ্ড ঘটে গেছে আর্জেন্টিনায়। সেখানে একটি শূকর মা জন্ম দিয়েছে আটটি ছানা। কিন্তু তার মধ্যে একটি দৈহিক গড়ন নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ওই শূকরছানাটির মুখাবয়ব হুবহু মানুষের আকৃতির। তবে জন্ম নেয়ার কয়েক ঘন্টা পরেই মারা যায় সেটি। মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল শূকরছানাটির। এ নিয়ে চারদিকে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। সান্তিয়াগো ডেল এস্তেরো প্রদেশের এক গ্রামীণ জনপদে এ ঘটনা ঘটেছে। সেখানে বসবাস করেন ওয়াল্টার অস্কার ভেলেজ এবং তার স্ত্রী রোক্সানা নাওমি ভিল্লারিয়াল। তারা শূকর ও ছাগলের মধ্যে সংকরায়ণ করান। তাদের ফার্মেই জন্ম নেয় ওই শূকরছানা। আর্জেন্টিনায় পশুর ক্রস বা সঙ্করায়নের ভয়াবহ এমন আরো ঘটনা আছে। এটা সেখানে ঘটছে যেখানে কীটনাশক ব্যবহার করা হয় প্রচুর পরিমাণে। জেনেটিক উপায়ে তৈরি করা খাবার বেশি করে ব্যবহার করা হয়। এই প্রদেশেই দুই মাথাবিশিষ্ট একটি ছাগলছানা জন্ম নিয়েছিল। সম্প্রতি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এন্ট্রে রিওস-এ দুই মাথা ও ছয় পা বিশিষ্ট একটি বাছুর জন্ম নেয়। মানুষের মুখাকৃতির একটি ছাগল জন্ম নেয়। এল গ্যাপোন প্রদেশে জন্ম নেয় আট পা বিশিষ্ট একটি শূকরছানা। ফলে অনেক মানুষই বিশ্বাস করছেন পরিবেশ দূষণের কারণে এমন বিকৃত পশু জন্ম নিচ্ছে। তাদেরকে দেখতে উদ্ভট। জন্ম নেয়ার পর পরই এসব পশু মারা যাচ্ছে। ফার্মাকোলজিস্ট ও পুষ্টিবিদ ডা. মেডারদো আভিলা ভাসকুয়েজ বলেন, আর্জেন্টিনার প্রঅয় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ বসবাস করেন এমন সব এলাকায় যেখানে চাষ করা হয় সয়াবিন। এসব ক্ষেতে প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, ছাকো প্রদোশে সবচেয়ে বেশি সয়াবিন উৎপাদন করা হয়। ফলে সেখানে কীটনাশকের ব্যবহারও বেশি। এ জন্য ১০ বছর সময়ের মধ্যে সেখানে প্রচুর পরিমাণে বিকৃত পশু জন্ম নিতে দেখা গেছে। কারণ, ওই ছাকো প্রদেশে সয়াবিন উৎপাদন সাত গুন বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি যে ক্লিনিকে কাজ করি সেখানে সব সময়ই দেখতে পাই শিশুরা মারা যাচ্ছে।

অপরা উইনফ্রেকে পরাজিত করার প্রত্যয় ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দল থেকে অপরা উইনফ্রে মনোনয়ন পেলে তাকে ভয়াবহভাবে পরাজিত হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, অপরা উইনফ্রে’র দুর্বলতা কোথায় তা আমি জানি। পেনসিলভ্যানিয়াতে কংগ্রেসম্যান রিক স্যাকোনি’র নির্বাচনি র‌্যালিতে বক্তব্য রাখছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন এক্সপ্রেস। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ আলোচনায় উঠে এসেছে সেলিব্রেটি, যুক্তরাষ্ট্রে ভীষণ জনপ্রিয় অপরা উইনফ্রের নাম। বলা হচ্ছে, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এক অনুষ্ঠানে এমন সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেন নি তিনি। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অপরা উইনফ্রেকে ভীষণভাবে চাইছেন রিপাবলিকান দল থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, মিস উইনফ্রের বিরুদ্ধে তিনি বিজয়ী হবেন এবং সেই বিজয় অপরা’র জন্য হবে অত্যন্ত বেদনাদায়ক এক অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, আমি অপরা’কে পরাজিত করতে ভালবাসি। আমি জানি তার দুর্বলতা কোথায়। এ সময় আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের স্লোগান কি হবে তাও তিনি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার স্লোগান হবে ‘কিপ আমেরিকা গ্রেট’। গত নির্বাচনে তার স্লোগান ছিল ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’। তা পাল্টে দিয়ে নতুন স্লোগান নির্ধারণ করেছেন ট্রাম্প। এ সময় ট্রাম্প বলেন, তিনি যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাতে সবাই খুব খুশি। তিনি পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকিকে থামিয়ে দিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে মুখোমুখি আলোচনায় বসতে রাজি করিয়েছেন। তাই ট্রাম্প বলেন, এখন তারা আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র মারবে বলে মনে হয় না। তার পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, এই কাজটি ৩০ বছর আগেই করা যেত। এই কাজটি বারাক ওবামা করেন নি। বুশ করেন নি। এমনকি ক্লিনটনও করেন নি।

‘যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে থাকতে পারে ইহুদি ও সংখ্যালঘুরা’

যুক্তরাষ্ট্রে গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের দায় এবার ইহুদি ও রাশিয়ায় অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ঘাড়ে চাপিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ান নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে থাকতে পারে রাশিয়ায় তাতার, ইউক্রেনিয়ান সহ অন্যান্য সংখ্যালঘু ও ইহুদিরা। এনবিসি নিউজকে তিনি এ বিষয়ে এক সাক্ষাতকার দেন। বলেন, হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপকারীরা ইউক্রেনিয়ান, তাতার, ইহুদি। তবে তাদের রয়েছে রাশিয়ান নাগরিকত্ব। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এ পত্রিকাটির পক্ষ থেকে বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায় নি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ নির্বাচনের পর থেকেই। এ বিষয়ে তদন্ত করেছে সিআইএ। তদন্ত করছে এফবিআই। সিআইএ বলেছে, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে মস্কো। তারা ডেমোক্রেটিক দলের যোগাযোগ বিষয়ক তথ্য হ্যাক করে ফাঁস করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া খবর ছড়িয়ে দিয়েছে বন্যার পানির মতো। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবুর্গ শহর থেকে সাইবার যুদ্ধ ঘোষণার অভিযোগে ১৩ জন রাশিয়ান ও তিনটি কোম্পানিকে গত মাসে অভিযুক্ত করেছে এফবিআই। পুতিন বলেছেন, তারা রাশিয়া রাষ্ট্রের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে না। হয়তো অভিযুক্ত ওইসব ব্যক্তির দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে। অথবা তাদের একটি গ্রিন কার্ড থাকতে পারে। হতে পারে তাদেরকে এসব কাজ করার জন্য অর্থ দিয়েছে মার্কিনিরা। ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, যদি এফবিআইয়ের তদন্তে দেখা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের জন্য রাশিয়ার কোনো নাগরিক বা কোম্পানি দায়ী তাহলে সেই কাজটিকে রাশিয়ায় অপরাধ হিসেবে দেখা হবে না। তার ভাষায়, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন রাশিয়ান রাশিয়ার আইন লঙ্ঘন না করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আইন দিয়ে একজন রাশিয়ানকে বিচার করা যাবে না। এক্ষেত্রে তিনি বলেন, আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করুন। তারপরই আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো। ওদিকে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের কথা অস্বীকার করে আসছেন ভ্লাদিমির পুতিন।

ভারতের শ্রেষ্ঠ সন্ত্রাসবাদী ছিলেন নাথুরাম গডসে: আসাদউদ্দিন ওয়াইসি

ভারতে গান্ধীজির হত্যাকারী নাথুরাম গডসে একনম্বর সন্ত্রাসী ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি।
আজ (রোববার) গণমাধ্যমে প্রকাশ তিনি গতকাল (শনিবার) বিজেপিশাসিত মহারাষ্ট্রের পুনেতে এক জনসমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন।
আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, এ কথা বলার জন্য পুলিশ যদি তাকে নোটিশ পাঠায় তাতে কিছু যায় আসে না। তিনি বলেন, ‘পুলিশ কী আমাকে এজন্য নোটিশ দেবে? আমি গডসের বিরুদ্ধে বলবো। ভারতের সবচেয়ে বড় একনম্বর সন্ত্রাসী ছিলেন নাথুরাম গডসে। মহাত্মা গান্ধীকে কে হত্যা করেছিল?’
ওয়াইসি বলেন, ‘বিগত ৭০ বছর ধরে আমদের ভয় দেখানো হচ্ছে। কিন্তু আমরা ভয় পাওয়ার নই। আপনারা বেশি বেশি করে কী করতে পারেন, আপনারা জীবনে মেরে ফেলতে পারেন, তো মেরে দিন। কিন্তু আমরা যদি বেঁচে থাকি এখানেই বাঁচব এবং যদি মারা যাই তো এখানেই মরবো।’
আসাদউদ্দিন ওয়াসি বলেন, ‘ভারতীয় মুসলিমরা সিরিয়ায় যাবে না, বা পাকিস্তানেও যাবে না। যারা পাকিস্তানে যেতে চেয়েছিলেন তারা আগেই সেখানে চলে গেছেন। আমাদের পূর্বপুরুষরা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে লড়াই করেছেন, শহীদ হয়েছেন। তারা কখনো মুচলেকা দিয়ে ব্রিটিশদের সামনে বশ্যতা স্বীকার করেননি।’
তিনি ওই সমাবেশে কেন্দ্রীয় সরকারের আনা তাৎক্ষণিক তালাক বিল ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তীব্র সমালোচনা তাকে শত্রু বলে অভিহিত করেন।ওয়াইসি বলেন, ‘মিস্টার মোদি, চোখ খুলে দেখুন এবং মনের পর্দা সরিয়ে ফেলুন। মুসলিম নারীদের উপরে আপনার কোনো সহানুভূতি নেই। আপনি আমাদের দুশমন এবং আমাদের না-ইনসাফির (অবিচারের) ব্যবস্থাপনা করছেন।
তিনি বলেন, আমাদের মা ও বোনেরা মিছিলে অংশ নিয়ে অত্যাচারী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বার্তা দিয়েছেন। এবং আমাদের তরুণ ও বুজুর্গদের বার্তা দিয়েছেন যে আপনাদেরও শরীয়া রক্ষার জন্য দাঁড়াতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ও কোলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হকের বক্তব্য:
নাথুরাম গডসে সম্পর্কে মন্তব্য করে পশ্চিমবঙ্গের ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ও কোলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক আজ (রোববার) রেডিও তেহরানকে বলেন, "ভারতের প্রথম সন্ত্রাসবাদী হলেন নাথুরাম গডসে। এবং ভারতসহ পৃথিবীর অন্যতম বড় সন্ত্রাসী সংগঠন হল আরএসএস। তাদের মতাদর্শ হল পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের সেবা করা। এখন তারা কর্পোরেট সাম্রাজ্যবাদের সেবা করতে লেগেছেন। এজন্য তারা মূল বিষয়গুলোকে আড়াল করতে নানা ঘটনা ঘটাচ্ছেন ও অন্যদেরও বদনাম দিচ্ছেন।
এই কাজটা প্রথম গডসে শুরু করেছিলেন গান্ধীকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে। যাকে সুভাষ চন্দ্র বসু বলেছিলেন ‘জাতির জনক’ (গান্ধী)। আজকের দিনে নাথুরাম গডসের পক্ষের লোকেদের শক্তি বেড়ে গেছে। তার পক্ষে মন্দির হচ্ছে, এটা হল আমাদের জাতীয় লজ্জা! অবিলম্বে বিশ্বের শান্তির স্বার্থে আইসিসকে যেমন নিষিদ্ধ করা উচিত তেমনি ভারতের স্বার্থে আরএসএসকেও নিষিদ্ধ করা উচিত।"

আমি যদি মোহাম্মদ বিন সালমান হতাম... by রবার্ট ফিস্ক

ঈশ্বরকে ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে উষ্ণ অভিবাদনই দিয়েছেন। কারণ, এটিই যথোপযুক্ত। মহামান্য ক্রাউন প্রিন্স একজন সাহসী আরব সংস্কারক। তিনি তার ধনাঢ্য দেশকে একুশ শতকে পদার্পণ করাতে ভীষণ আগ্রহী। নারী অধিকার, ব্যাপক অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, মধ্যপন্থী ইসলাম, পাশ্চাত্যের জন্য আরও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও ‘সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধে’ আরও ঘনিষ্ঠভাবে অংশগ্রহণের মতো একগাদা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
ঈশ্বরকে আবারও ধন্যবাদ।
মুন্ডু শিরশেদকারী আক্রমণাত্মক এক আরব ক্রাউন প্রিন্স, যার সাংঘাতিক যুদ্ধ কিনা হাজার হাজার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ইয়েমেনে; ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে তেরেসা মের কাছ থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র কিনে যেই প্রিন্স কিনা যুক্তরাজ্যকে তার দুর্নামের ভাগীদার করেছেন; যিনি কিনা তার ধনবান কাতারি ভাইদের ধ্বংস করতে চান; যেই প্রিন্স কিনা মধ্যপ্রাচ্যের শিয়াদের বিরুদ্ধে সৌদি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কতিপয় পশ্চিমা দেশকে সম্পৃক্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন, সেই ক্রাউন প্রিন্সকে অভ্যর্থনা জানিয়ে অযথা নিজের সময় নষ্ট না করে তেরেসা মে অগাধ প্রজ্ঞার স্বাক্ষর রেখেছেন।
সমস্যাটা ধরতে পেরেছেন? অর্থ, অস্ত্র ও ক্ষমতার প্রশ্ন যখন এসে হাজির হয়, তখন আমরা যেকোনো আরব স্বৈরাচারের সঙ্গে দহরম মহরম করবো। বিশেষ করে যখন ওয়াশিংটনে আমাদের সর্দারও ওই স্বৈরাচারের ব্যাপারে একই মনোভাব পোষণ করে, তখন তো কথাই নেই। আর যদি বা যখন ওই স্বৈরাচারের কোনো মূল্য থাকবে না, আমাদের সমরাস্ত্র কিনবে না, কিংবা যখন তার অর্থ ফুরিয়ে যাবে বা ক্ষমতাচ্যুত হবে, তখন আমরা স্রেফ আমাদের হাত ধুয়ে মুছে ফেলবো। এ কারণে যুবক মোহাম্মদের জন্য আমি সামান্য করুণা অনুভব করি।
আরেকটু যোগ করে বলি, মানবাধিকার প্রশ্নে তেরেসা মের ‘আসুন পুরাতন ভুলে নতুন করে শুরু করি’ ধাঁচের বক্তব্য যদি কারও কয়েক মিনিটের বেশি শুনতে ইচ্ছে হয়, তাদের প্রতিও আমার করুণা রইলো। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইর খুবই ঝানু একজন কূটনীতিক। বৃটিশ কর্তাদের সুস্পষ্ট অসৎ ও অসংলগ্ন কথাবার্তা শোনার সময় তিনিও নিশ্চয়ই অধৈর্য বোধ করছিলেন। ১২ মাসের বিরতিতে বেলফোর ঘোষণাপত্রের প্রতি অবজ্ঞা থেকে ভালোবাসা জন্ম নিয়েছে বরিস জনসনের। আরব বিশ্বে একে নিকৃষ্ট হেঁয়ালিপনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই সপ্তাহে অ্যামনেস্টি ও অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। একই কাজ করছে বিক্ষোভকারীরা। কেউ এই বিক্ষোভে বাধা দিলে তারা সৌদির কাজই করবে, আমরা নিশ্চিত। কিন্তু আমার আশঙ্কা হলো, ক্রাউন প্রিন্সের উচিৎ ওই দেশের সরকারকে নিয়ে বেশি চিন্তিত হওয়া যারা এখন তার নেতৃত্বের প্রতি মাথা নত করছে। কারণ, তিনি একটি পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে লেনদেন করছেন, তার বেলায় সেই শক্তি হলো বৃটেন। তাকে এখন একটাই উপদেশ দেওয়া উচিৎ। সেটা হলো: নিজের পেছনটার দিকে খেয়াল রাখুন।
প্রয়াত মুয়াম্মার গাদ্দাফি যখন বাদশাহ ইদরিসকে উৎখাত করলেন, বৃটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুশি হলো। তেলসমৃদ্ধ দেশের নেতৃত্বে নতুন চালক, নতুন একজোড়া হাত। আমরা এই দেশের সম্পদের কিছু অংশ ভোগ করতে চাই। তাই আমরা ভেবেছি গাদ্দাফিই হতে পারে আমাদের লোক। আমেরিকানরা এমনকি তাকে এক পাল্টা-অভ্যুত্থান সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়। আমরাও পরে তার ভিন্নমতালম্বীদের নির্যাতনের জন্য বন্দী করতে তাকে সহায়তা করি। এরপর হুট করে গাদ্দাফি উপনিবেশ-বিরোধী জাতীয়তাবাদীতে পরিণত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। এক পর্যায়ে সে আইআরএ’র সঙ্গে জড়িত হলো। পশ্চিম বার্লিনের একটি নাইটক্লাবে বোমা হামলায় তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেল। আর তাতেই সে হঠাৎ করে সন্ত্রাসী হয়ে গেল! এরপর যখন ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ শুরু হলো, দখল হলো ইরাক, তখন পরম পূজনীয় ব্লেয়ার পারলে গাদ্দাফিকে চুমু খান, এই অবস্থা! গাদ্দাফি তখন আবার মহান রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হলো। ২০১১ সালের বিপ্লবের আগে আগে, গাদ্দাফি ফের সন্ত্রাসী হয়ে যান। এবার তাকে বোমা মেরে উৎখাত করে ন্যাটো। তাকে হত্যা করে তার নিজের লোকেরা।
ইরাকের প্রসঙ্গ যেহেতু উঠলো, সেহেতু বলতে হয়, সাদ্দামেরও একই পরিণতি হয়েছিল। প্রথমে আমরা তাকে পছন্দ করেছিলাম। আমেরিকানরা তাকে তার কম্যুনিস্ট প্রতিপক্ষদের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছিল। নিশ্চিতভাবে বলা যায়, সেও ছিল মস্তক বিদীর্ণকারী। কিন্তু যতদিন সাদ্দাম পশ্চিমা পছন্দসই রাষ্ট্র দখল করেছিল, ততদিন সে ছিল মহান রাষ্ট্রনায়ক। এ কারণেই ১৯৮০ সালে আমরা তার ইরান দখল অভিযানে সহায়তা দিয়েছিলাম। কিন্তু ১৯৯০ সালে যখন সাদ্দাম ভুল রাষ্ট্র অর্থাৎ কুয়েত দখলে নেন, তখন আমরা তাকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী আখ্যা দিলাম। গাদ্দাফির মতো সাদ্দামকেও হত্যা করে তার নিজ দেশের মানুষ, যদিও আমেরিকানদের ঠিক করে দেওয়া আদালতই তাকে ফাঁসি দেওয়ার রায় দেয়।
ইয়াসির আরাফাতের কথা আমরা এখন অত মনেও করি না। তাকেও একসময় ভাবা হতো বৈরুতের ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসী। আইজাক রবিন ও বিল ক্লিনটনের সঙ্গে করমর্দন করার আগে আরাফাত ছিলেন বিশ্ব সন্ত্রাসের কেন্দ্রবিন্দু। করমর্দন করার পর তিনি হয়ে যান মহান রাষ্ট্রনেতা। কিন্তু আরাফাত যখন অসলো চুক্তি থেকে দূরে গিয়ে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি একাধিপত্য মানতে অস্বীকার করলেন, তখন তিনি ফের হয়ে যান কুখ্যাত সন্ত্রাসী। রামাল্লায় তাকে চারদিক থেকে ঘিরে রাখা হতো। বোমা হামলাও হয়েছে সেখানে। জীবনের শেষ মুহূর্তে তাকে বিমানে করে প্যারিসের এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানেই তিনি মারা যান। ইসরাইলিরা তাকে ‘আমাদের বিন লাদেন’ হিসেবে আখ্যা দিত। আরাফাতের উত্তরসূরি মাহমুদ আব্বাসকেও এই উপাধি দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু মাহমুদ আব্বাসের অত সৌভাগ্য ছিল না। তিনি ভয়াবহ সন্ত্রাসী বা মহান রাষ্ট্রনায়ক কোনটাই নন। তিনি ছিলেন আরও খারাপ কিছু। একজন ব্যর্থ নেতা।
নাসের উৎখাত করেছিলেন দুর্নীতিগ্রস্ত বাদশাহ ফারুককে। সুয়েজ খাল জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি পশ্চিমের চোখে হয়ে যান সন্ত্রাসী। তৎকালীন বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি এডেন তাকে ‘নীল নদের মুসোলিনি’ আখ্যা দিয়েছিলেন। মনে করে দেখুন, সাদ্দামকেও ‘টাইগ্রিস নদের হিটলার’ আখ্যা দেওয়া হয়েছিল ১৯৯০ সালে। প্যারিসে নির্বাসিত থাকাকালে খোমেনিও ছিলেন সম্ভাব্য রাষ্ট্রনায়ক। কিন্তু যখন তিনি শাহকে হটিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেন ইরানে, তিনি হয়ে গেলেন সুপার টেরোরিস্ট-ইন-চীফ। ফরাসি বামপন্থীরা ভেবেছিল হাফেজ আল আসাদ হয়তো হবে মহান রাষ্ট্রনায়ক। কিন্তু তার ছেলে বাশার আল আসাদ, যিনি হৃষ্টপুষ্ট হন ফ্রান্সে, তিনি যখন তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গেলেন, তখন তিনি তো ‘সুপার টেরোরিস্ট’ হলেনই, নিজের পিতাকেও ‘সন্ত্রাসী’ বানিয়ে ছাড়লেন। ওমানে ও কাতারের বাদশাহর বিরুদ্ধে তাদের ছেলেরা যখন অভ্যুত্থান করলো তখন আনুগত্য পরিবর্তনে একটুও সময় নেয়নি বৃটেন।
এ কারণে আদেল আল জুবেইরের উচিৎ হবে মোহাম্মদ বিন সালমানকে ‘মেমেন্টো হোমো’ শব্দদ্বয় মনে করিয়ে দেওয়া। মেমেন্টো হোমো - এই কথা গ্ল্যাডিয়েটরদের মনে করিয়ে দেওয়া হতো। এর মানে হলো তিনিই ‘একমাত্র মানুষ’। নিজে বৈ কেউ গ্ল্যাডিয়েটরদের সঙ্গে নেই। ইয়েমেন যুদ্ধ যদি আরও রক্তাক্ত হয়ে উঠে, সৌদি সামরিক বাহিনীর যদি যুদ্ধ থেকে মোহমুক্তি ঘটে, তাহলে কী হতে পারে? ক্রাউন প্রিন্সের ভিশন ২০৩০ যদি স্রেফ সাউথ সি বাবলের সৌদি সংস্করণ বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে কী ঘটবে? কী ঘটবে, যদি অপমানিত বিলিয়নিয়াররা, যাদেরকে ক্রাউন প্রিন্স রিয়াদের রিটয হোটেলে বন্দী করেছিলেন, তারা প্রতিশোধ নিতে আসে? কী হবে যদি ভবিষ্যৎ বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী আল ইয়ামামাহ অস্ত্র চুক্তি নিয়ে স্পেশাল ব্রাঞ্চের তদন্ত পুনরায় শুরু করেন? আর কী হবে, যদি কেউ আমেরিকার সমরাস্ত্র কীভাবে ২০১৪ সালের পর আইসিসের হাতে পৌঁছেছিল সেই পথ আবিষ্কার করে ফেলে? কিংবা যদি ইরানের সঙ্গে সত্যি সত্যি যুদ্ধ শুরু হয়?
সত্য হলো, আপনি কিছুতেই বলতে পারবেন না যে, কে আপনার বন্ধু। এই বৃটিশরাই কী সৌদি রাজবংশকে আরব সাম্রাজ্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফিলিস্তিন, টান্স-জর্দান ও ইরাক তাদের দখলে রেখে দেয়নি? এই বৃটিশরাই কি বেলফোর ঘোষণাপত্র প্রকাশ করার পর ইহুদীদের ও আরবদের সঙ্গে প্রতারণা করার চেষ্টা করেনি? ইহুদীদেরকে বৃটিশরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তাদেরকে একটি দেশ পাইয়ে দেওয়ার। আর আরবদের ভূখ- রক্ষার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল বৃটিশরা।
এই বৃটিশরাই কি রোমানিয়ার একনায়ক চচেসকুকে সম্মানসূচক নাইটহুড দিয়ে আবার তার উৎখাতের পর তা প্রত্যাহার করেনি? আমরা মুগাবেকেও একই সম্মাননা দিয়েছিলাম, পরে আবার ফেরত নিয়েছিলাম। আমরা মুসোলিনিকেও সম্মাননা দিয়েছিলাম! হ্যাঁ, আমরা ১৯৪০ সালে তা ফেরত নিই।
তাই, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ, সতর্ক হোন। বিশ্বাসঘাতক বৃটিশদের বিশ্বাস করবেন না। দেশে থাকুন, আর বিদেশে। অস্ত্র কিনেছেন, সেজন্য ধন্যবাদ। ধন্যবাদ আপনাকে ওয়াহাবি বিশ্বাসে ব্রেইনওয়াশড হওয়া ছেলেপেলেগুলোর পদচিহ্ন অনুসরণের কাজে আমাদেরকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তার জন্য। কিন্তু যা-ই করুন না কেন, আমাদের সম্মানসূচক নাইটহুড নিয়ে উচ্ছ্বসিত হবেন না।
(রবার্ট ফিস্ক বৃটিশ পত্রিকা দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি। ইন্ডিপেনডেন্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তার এই কলাম অনুবাদ করেছেন মাহমুদ ফেরদৌস।)

অমিতাভের একটি কলমের দাম ৯ লাখ টাকারও বেশি

৯ লাখ টাকার চেয়েও বেশি দামি একটি কলম ব্যবহার করেন বিগ অমিতাভ বচ্চন। কলকাতার একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য। প্রতিবেদনটি থেকে আরও জানা যায়, শুক্রবার সমাজবাদী পার্টির হয়ে রাজ্যসভার মনোনয়ন জমা দেন অমিতাভপত্নী জয়া বচ্চন। সেখানে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তিনি জানান, তার পরিবারের সম্পত্তির মোট পরিমাণ ১০০০ কোটি টাকা। ২০১২ সালে অমিতাভ এবং জয়ার বিষয় সম্পত্তি ৫০০ কোটি টাকা ছিল। মাত্র ছয় বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০১২ থেকে ২০১৮-এর মধ্যে বচ্চন দম্পতির সম্পত্তি দ্বিগুণ হয়েছে। এদিকে ৯ লাখ টাকারও বেশি দামের কলমের পাশাপাশি অমিতাভের রয়েছে ৩৬ কোটি টাকার গয়না। আর জয়ার কাছে গয়না আছে প্রায় ২৬ কোটি টাকার। এছাড়া তাদের কাছে যতগুলি গাড়ি রয়েছে তার মিলিত দাম প্রায় ১৩ কোটি টাকা। মুম্বইয়ে ‘প্রতীক্ষা’, ‘জনক’, ‘জলসা’ নামে একাধিক বাংলোও রয়েছে  তাদের। এছাড়া নয়ডা, পুনে, আহমেদাবাদ, গান্ধীনগরেও তাদের একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে অমিতাভ জানিয়েছিলেন, ‘আমার মৃত্যুর পর, আমাদের সমস্ত সম্পত্তি দুই ছেলে-মেয়ের মধ্যে সমান ভাবে ভাগ হবে।’ প্রায় তিন দশক ধরে বলিউড কাঁপিয়েছেন অমিতাভ। আজও বি-টাউনের ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’-এর দাপট কিছু কম নয়। তাই তার ব্যক্তিগত জীবন এমনকী, বিষয় সম্পত্তি নিয়েও ভক্তদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ কাজ করে।

উভয় সংকটে সাদ হারিরি (পর্ব-২) by অরিয়ের দাহেল

লেবাননের পরিস্থিতি মোটেই সৌদি আরবের অনুকূলে নেই। সাদ হারিরির সঙ্গে মিটমাট করলেই সৌদি আরব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে, তা নয়। আসছে মে মাসে লেবাননের আইনসভা নির্বাচন। কিন্তু জনমত জরিপে ভালো ফল করছে না রিয়াদের মিত্র দলগুলো।
প্রথমত, হারিরি এখন পর্যন্ত লেবাননে সৌদি আরবের খ্রিস্টান মিত্র দলগুলোকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। সামির গিগিয়ার নেতৃত্বাধীন লেবানিজ ফোর্সেস ও সামি গিমায়েলের নেতৃত্বাধীন কাতায়েব দল অতীতে হারিরির দল ফিউচার কারেন্ট’র প্রধান মিত্র ছিল। কিন্তু এবার হারিরি চান, এই দল দুইটির প্রার্থীরা তার জোট থেকে নির্বাচন না করুক। নভেম্বরে বন্দিত্ব কাটিয়ে হারিরি যখন দেশে ফেরেন, তখন তিনি জানতে পারেন যে, গিগিয়া ও গিমায়েল উভয়েই তাকে পদত্যাগে বাধ্য করতে সৌদি আরবকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। এ দু’জন সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব সফর করেছিলেন। তারা সৌদি আরবকে গোপনে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, হারিরিকে সরিয়ে আরো আক্রমণাত্মক কাউকে ক্ষমতায় বসাতে, যিনি কিনা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কথা বলবেন। এই দুই জনের ভূমিকা নিয়ে তাই হারিরি ক্ষুব্ধ। তাই তাদেরকে জোটে চান না তিনি। শুধু তাই নয়, এই দু’জনের প্রধান খ্রিস্টান প্রতিদ্বন্দ্বী ও হিজবুল্লাহর মিত্র প্রেসিডেন্ট আয়োনের দল ফ্রি প্যাট্রিয়টিক মুভমেন্টের সঙ্গে জোট গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছেন হারিরি। রিয়াদ যদি এখন গিগিয়া ও গিমায়েলের পক্ষে না নামে ও হারিরির মত পরিবর্তনে সক্ষম না হয়, তাহলে সৌদিপন্থি খ্রিস্টান দলগুলোর আসনে এবার ধস নামবে।
অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, হারিরির নিজের অবস্থাও অত ভালো নয়। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের কারণে হারিরি এখন রাজনৈতিকভাবে আরো ভালো অবস্থায় রয়েছেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।
প্রথমত, সংকট চলাকালে লেবাননের সুন্নি সম্প্রদায় হারিরির পক্ষে ছিল। তারা দাবি জানান, হারিরিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত আসতে হবে। এক্ষেত্রে তারা মনে করেছিলেন, হারিরির বন্দিত্ব লেবাননের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। কিন্তু ২০০৯ সালের দিকেও ব্যাপক সমর্থন ভোগ করা সাদ হারিরি এখন দুর্বল হয়ে গেছেন। তার চারিত্রিক দুর্বলতা, বিভ্রান্তিকর রাজনীতি ও দেশের প্রতিটি বড় সংকটে দেশত্যাগের প্রবণতা তার ভক্তদেরও বিরক্ত করেছে। অপরদিকে, সিরিয়ার যুদ্ধে কিছু জিহাদি গ্রুপকে সৌদি আরবের সমর্থন লেবাননের অনেক সুন্নিকে ক্ষুব্ধ করেছে। আর শেষ কথা হলো, গত কয়েক বছর ধরে হারিরি নিজেও আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত। রিয়াদ এই সমস্যার জন্য অনেকখানি দায়ী। অবস্থা এত বাজে ছিল যে, হারিরি নিজের কর্মচারিদের বেতন ও রাজনৈতিক কর্মীদের অর্থ দিতে পারেননি।
হারিরি নিজের দুর্বল অবস্থান সম্পর্কে জানেন। এবার তিনি নিজের শহর সাইদা থেকে না লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০০৫ সালে পিতা রফিক হারিরি হত্যার পর থেকে, বৈরুতে তিনি সহজেই জয় পেতেন। সেখানেও এবার লড়বেন না। গুজব জোরালো হয়েছে যে, তিনি হাসবায়া-মার্জিয়োন জেলা থেকে লড়বেন। এখানকার বাসিন্দারা শিয়া ও ড্রুজ অঞ্চল দিয়ে ঘেরাও হয়ে আছেন। তাদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে এখান থেকে জয় ঘরে তুলতে চান সাদ হারিরি। কিন্তু বেকা অঞ্চলের সুন্নিরা বলছেন, হারিরিকে নয়, তারা আয়োনের দলের সুন্নি প্রার্থীদের ভোট দেবেন।
সৌদি আরব এই উত্তাল পরিস্থিতিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চায়। ১৪ই ফেব্রুয়ারি হারিরি পরোক্ষ কিন্তু স্পষ্টভাবে রিয়াদের প্রতি কিছু ইতিবাচক বার্তা দেন। নিজের পিতা রফিক হারিরি হত্যার বার্ষিকীতে দেয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, আমাদের দল হিজবুল্লাহর সঙ্গে কোনো ধরনের নির্বাচনী সমঝোতায় যেতে নারাজ। উল্লেখ্য, রফিক হারিরির হত্যার পেছনে হিজবুল্লাহ দায়ী বলে ভাবা হয়।
ওই বক্তব্যের পরদিন সাদ হারিরি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। টিলারসনকে তিনি প্রকাশ্যে বলেন, আঞ্চলিক সংঘাতে জড়ানো থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে লেবানন অঙ্গীকারাবদ্ধ। এটি সৌদি আরবের বড় একটি দাবি। সিরিয়ার সংঘাতে লেবাননের হিজবুল্লাহর সম্পৃক্ততা নিয়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ সৌদি আরব।
ফলে সৌদি আরবের প্রতি সাদ হারিরির ইতিবাচক বার্তা সেখানে ভালোভাবেই গৃহীত হয়েছে। নিজের বক্তব্যে সাদ হারিরি বলেন, এই বছরের নির্বাচনে টাকার ছড়াছড়ি থাকবে না। এ কথা বলে হয়তো তিনি স্বীকার করে নিলেন, অতীতে তার দলের বিরুদ্ধে টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনার যে অভিযোগ ছিল তা একেবারে অসত্য নয়। কিন্তু তার এই বক্তব্যের আরেকটা মানে হতে পারে এই যে, সৌদির প্রতি তিনি অনেকটা হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, ‘তোমাদের কারণে আমার এখন অর্থ নেই। যদি আমি হারি, দোষটা কিন্তু তোমাদের।’ উল্লেখ্য, কিছুকাল আগে সৌদি আরব হারিরিকে আর্থিক সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে। এমনকি সৌদি ওগারসহ হারিরির বেশ কয়েকটি প্রধান কোম্পানি সৌদি সরকার নিয়ে নিয়েছে।
তাই আগামী নির্বাচনে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে না চাইলে, সৌদি সাহায্য দরকার হারিরির। কিন্তু সৌদি সহায়তা পাওয়ার জন্য কিছুটা মূল্যও চুকাতে হবে তাকে। হিজবুল্লাহর সঙ্গে যেকোনো ধরনের জোট গঠন বা আপসরফা প্রত্যাখ্যান করতে হবে তাকে। তার মানে হলো, নিজের প্রণীত তীব্র জনপ্রিয় জাতীয় ঐক্যমতের ফর্মুলা হারিরি নিজেই ধ্বংস করবেন। কারণ, ওই ঐক্যমতের ভিত্তিতেই ২০১৬ সালে মতপার্থক্য সত্ত্বেও সরকার গঠন সম্ভব হয়েছিল। কয়েক বছরব্যাপী চলা অচলাবস্থার অবসান হয়েছিল। কিন্তু সৌদি দাবি মেনে নিলে, হারিরিকে এখন ফের আক্রমণাত্মক রূপে চলে যেতে হবে। হিজবুল্লাহর সমালোচনা করতে হবে। যার দরুন দেশে আন্তঃসম্প্রদায় বিদ্বেষ ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।
আবার নিজের দলের শক্তি অক্ষুণ্ন রেখে আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভালো ফল করতে গেলেও, আরেক সমস্যা আছে। হারিরি যদি হিজবুল্লাহর সমালোচনা করে সৌদি সহায়তা নিয়ে নির্বাচনে ভালো করেনও, তাকে হয়তো প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়তে হবে। প্রধানমন্ত্রী পদ যদি না থাকে, সাদ হারিরির রাজনৈতিক গুরুত্ব লেবাননে অনেকখানি হ্রাস পাবে।
লেবাননে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট পদে কে বসবেন, তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে হিজবুল্লাহ। তার মানে, হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতে জড়ালে হারিরি নিজের রাজনৈতিক মৃত্যুই ডেকে আনবেন। বিকল্প প্রার্থীর অভাব নেই। আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি। ইতিমধ্যেই উত্তরাঞ্চলীয় সুন্নি রাজধানী ত্রিপোলির নির্বাচনে তিনিই বেশিসংখ্যক আসন পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আছেন নুহাদ আল-মাশনুক। হারিরির দলের হলেও আল-মাশনুক আবার হিজবুল্লাহর সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক চান না।
লেবাননের সুন্নিরা নভেম্বরেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হারিরি বা সৌদি আরবের জন্য তারা শিয়াদের সঙ্গে বিবাদে যেতে চান না। অপরদিকে হিজবুল্লাহও স্পষ্ট করেছে যে, দেশের সুন্নি আংশীদারদের সঙ্গে করা অঙ্গীকার রক্ষা করতে প্রস্তুত তারা। এমনকি রিয়াদ যখন হারিরিকে পদত্যাগে বাধ্য করে, তখন হিজবুল্লাহই তার প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বহালের জন্য লেবাননে তৎপরতা বৃদ্ধি করে। খোদ সাদ হারিরির চাচি, সাবেক এমপি ও হারিরির ফিউচার কারেন্ট দলের মন্ত্রী যেমনটা বলছিলেন যে, নাসরাল্লাহ (হিজবুল্লাহর প্রধান) না থাকলে, সাদকে হয়তো মুক্তি দেয়া হতো না।
এখন প্রশ্ন হলো, হারিরি কী করবেন। তিনি কি সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেবেন? নাকি, সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক শিথিল করে আগামী নির্বাচন শেষে হিজবুল্লাহর নীরব সমর্থন নিয়ে প্রধানমন্ত্রিত্ব অক্ষুণ্ন রাখবেন? বোঝাই যাচ্ছে, ভীষণ জটিল পরিস্থিতি হারিরির সামনে।
(অরিয়ের দাহেল ফ্রান্সের প্যারিস-ডফাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট-ডক্টোরাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ছিলেন। তিনি শিয়াবাদ, হিজবুল্লাহ, লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে বিশেষজ্ঞ। তার এই নিবন্ধ মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট লোবলগ-এ প্রকাশিত হয়েছে।)

সাংঘাতিক এক গুপ্তচর

বৃটেনে রাশিয়ার যে গুপ্তচরকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে তার কোডনাম ছিল ‘ফোর্থউইথ’। বৃটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬ এর কাছে তার মূল্য ছিল অপরিসীম। তিনি রাশিয়ার অনেক সামরিক গোপন তথ্য সরবরাহ করতেন বৃটিশ গোয়েন্দাদের। তিনি এখন বৃটেনের হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায়। রাশিয়ার এই গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপালকে নিয়ে বৃটেন ও রাশিয়ার মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নতুন করে উত্তেজনা। স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়াকে গত রোববার বৃটেনের সালিসবারিতে নার্ভ গ্যাস প্রয়োগ করা হয়। এর কারণ কি? কেন তাকে নার্ভ গ্যাস প্রয়োগ করা হলো? আর কেনইবা এ জন্য রাশিয়ার দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হচ্ছে? এমন অসংখ্য প্রশ্ন এখন দুনিয়ার গুপ্ত জগতে, গোয়েন্দাদের মধ্যে। বর্তমানে রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার নাম জিআরইউ। এ গোয়েন্দা সংস্থার অনেক মূল্যবান তথ্যভান্ডার হলেন এই ৬৬ বছর বয়সী গুপ্তচর স্ক্রিপাল। কমপক্ষে ১০ বছর ধরে তিনি ওইসব স্পর্শকাতর তথ্য সরবরাহ করে যাচ্ছিলেন বৃটেনের কাছে। এর মধ্যে জিআরইউ-এর পুরো টেলিফোন ডাইরেক্টরি তিনি সরবরাহ করেছেন বৃটেনের গোয়েন্দাদের কাছে। রাশিয়ান গোয়েন্দা তথ্য তিনি এমআই৬ এর কাছে প্রকাশ বা সরবরাহ করে যাচ্ছেন এটা জানার পর গুপ্তচর বিনিময়ের অধীনে ২০১০ সালে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বৃটেনে। প্রথমে স্প্যানিশ গোয়েন্দা নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথমে তাকে আবিস্কার করে বৃটেন। ওই স্প্যানিশ গোয়েন্দা সংস্থা পরিচালনা করতো বৃটিশ গোয়েন্দারা। মনে করা হয়েছিল, বৃটিশদের জন্য স্ক্রিপাল ভাল কাজ করতে পারবেন। ওই সময়ে স্পেনে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউয়ের কর্মকর্তা ছিলেন স্ক্রিপালন। তার সঙ্গে সাক্ষাত করলেন এমআই৬ এর একজন কর্মকর্তা। বৃটিশ ওই কর্মকর্তা নিজে স্প্যানিশ ব্যবসায়ী সেজে তার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। স্ক্রিপালের বয়স তখন ৪৪ বছর। সময়টা ১৯৯৬ সাল। সে সময়ে রাশিয়ান এই গুপ্তচর ও বৃটিশ গুপ্তচরের মধ্যে প্রথম সাক্ষাত হয়। এরপর রাশিয়ান গুপ্তচরের শরীরে ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। তিনি চলে যান মস্কোতে। তবে ঘন ঘন তিনি স্পেন যাওয়া আসা করতেন। এ সময় এমআই৬ এর সঙ্গে তার যোগাযোগ আরো বেড়ে যায়। তিনি হয়ে ওঠেন একজন ‘ফুলটাইম’ গুপ্তচর। রাশিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ থেকে তিনি অবসরে যান ২০০০ সালে। কিন্তু সাবেক একজন সেনা সহকর্মীর মাধ্যমে তিনি মস্কোর প্রাদেশিক সরকারে একটি চাকরি জুটিয়ে নিতে সক্ষত হন। আর গোপনে গোপনে তথ্য পাচার করতে থাকেন এমআই৬ এর কাছে। মালাগার কাছে তিনি কিনে ফেললেন একটি হলিডে হোম। সেখানে টানা তিনদিন তিনি গোপন তথ্য নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রতিটি বেঠকের জন্য, প্রতিটি ঘটনায় তিনি ৫০০০ থেকে ৬০০০ পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ পেতেন। সেই অর্থ জমা করতেন স্প্যানিশ একটি ব্যাংকের একাউন্টে। সূত্রগুলো বলেছেন, তার প্রথম দিককার লক্ষ্য ছিল আর্থিক। কিন্তু আস্তে আস্তে তিনি বৃটেনের প্রতি খুব বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তবে তাকে বৃটেনে আনার পক্ষে ছিল না এমআই৬। তারা মনে করতো এতে ‘ফোর্থউইথ’ ও গোয়েন্দা সার্ভিসের মধ্যে যোগসূত্রে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। একবার হঠাৎ করে স্পেনে এক জরুরি বৈঠক ডাকা হলো। এ জন্য তিনি নগদ ১০০০০ ডলার চেয়ে বসলেন। পরের দিন ওই অর্থ নিয়ে সেখানে হাজির হলেন এমআই৬ এর একজন কর্মকর্তা। এসব কারণেই গোয়েন্দা সূত্রগুলো বিশ্বাস করছে, বৃটেনে এই গুপ্তচরকে এ কারণেই টার্গেট করে থাকতে পারে রাশিয়া। কারণ, সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পর সব গোয়েন্দা তথ্য তিনি সরবরাহ করেছেন বৃটেনের কাছে। এই মুহূর্তে এমআই৬ এর কমপক্ষে এক ডজন সাবেক এজেন্ট বসবাস করছেন বৃটেনে। তাদেরকে দেয়া হচ্ছে উচ্চ মাত্রার নিরাপত্তা। তাদের নাম গোপন রাখা হয়েছে। কিন্তু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন নিজে ছিলেন সাবেক গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল। তার তো এসব গুপ্তচরের নাম, পরিচয় না জানার কথা নয়। ফলে তার শিকারে পরিণত হয়ে থাকতে পারেন স্ক্রিপাল। বলা হচ্ছে, সের্গেই স্ক্রিপাল রাশিয়ান গোয়েন্দাবৃত্তির বিশাল তথ্যভান্ডার সরবরাহ নাও করে থাকতে পারেন। কিন্তু এ কথা সত্য যে, রাশিয়ার সেনা গোয়েন্দা কাঠামোর সুনির্দিষ্ট তথ্য তার দখলে ছিল। বিশেষ করে শত শত কর্মকর্তার পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট বিষয়। তিনি এমআই৬ এর সঙ্গে যেসব তথ্য শেয়ার করতেন তা অন্য মিত্র গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও চলে যেতো। এমন গোয়েন্দা সংস্থা হলো যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ। সের্গেই স্ক্রিপাল জিআরইউ থেকে অবসরে যাওয়ার পরেও বৃটেশ গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এ বিষয়টি ধরা পড়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় ২০০৪ সালে। তাকে ১৩ বছরের জেল দেয়া হয় ২০০৬ সালে। কিন্তু রাশিয়ার গ্লামারাস নারী গোয়েন্দা আনা চ্যাপম্যানকে হস্তান্তরের বিনিময়ে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। আনা চ্যাপম্যানকে যুক্তরাষ্ট্রে আটক করা হয়েছিল গুপ্তচরবৃত্তির জন্য।

ট্রাম্প বনাম পর্নো তারকা: সেয়ানে সেয়ান

ঝড়ের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ঝড়ের নাম স্টর্মি ড্যানিয়েলস। এটি তাঁর পোশাকি নাম। তিনি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য নির্মিত চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পী, প্রকৃত নাম স্টেফানি ক্লিফোর্ড। জানা গেছে, এক দশক আগে ড্যানিয়েলস ও ট্রাম্প রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। সময়টা ছিল এমন, যখন ট্রাম্পের তৃতীয় স্ত্রী মেলানিয়া সদ্য পুত্রসন্তান প্রসব করেছেন। ট্রাম্পের নারী কেলেঙ্কারি গোপন কিছু নয়। তিনি ধর্মযাজক নন, এ কথা জেনেই রিপাবলিকান ভোটাররা তাঁকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন। সমস্যা বাধল এ বছরের গোড়ার দিকে, এ নিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এ এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর। এতে বলা হলো ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন ড্যানিয়েলসকে চুপ রাখতে ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার দিয়েছেন। তিনি নাকি টাকাটা দিয়েছেন নিজের পকেট থেকে। শুধু এই উদ্দেশ্যে তিনি এক ‘ফেক’ কোম্পানি খোলেন, যার মাধ্যমে অর্থের আদান-প্রদান হয়। কোহেন এক বিবৃতিতে স্বীকার করেন, টাকাটা তিনি দিয়েছেন, তবে এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিছু জানেন না। কোহেন কেন তাঁর মক্কেলকে না জানিয়ে এত টাকা একজন পর্নো তারকাকে দিয়েছেন, তার কোনো ব্যাখ্যা অবশ্য তিনি দেননি। মার্কিন আইনে মক্কেলের সম্মতি ছাড়া তাঁর পক্ষে কোনো অর্থ প্রদান করা অপরাধ বলে বিবেচিত। আরও জানা গেল, অর্থপ্রাপ্তির শর্ত হিসেবে গত বছরের অক্টোবরে ড্যানিয়েলস ট্রাম্পের সঙ্গে একটি ‘অপ্রকাশ’ বা নন-ডিসক্লোজার চুক্তি করেছেন। এই চুক্তি অনুসারে, দুজনের সম্পর্ক নিয়ে কোনো কথা বলতে পারবেন না তিনি। যদি বলেন, তাহলে যখন ও যতবার মুখ খুলবেন, তাঁকে ততবার এক মিলিয়ন ডলার করে জরিমানা দিতে হবে। এই চুক্তিতে অবশ্য ড্যানিয়েলস অথবা ট্রাম্প কেউই নিজের নাম ব্যবহার করেননি। ড্যানিয়েলসের নাম রাখা হয়েছিল পেগি প্যাটারসন, আর ট্রাম্পের নাম ছিল ডেনিস ডেনিসন। চুক্তিপত্রে পেগি প্যাটারসনের স্বাক্ষর থাকলেও ডেনিস ডেনিসন অর্থাৎ ট্রাম্পের কোনো স্বাক্ষর ছিল না। সম্ভবত ভবিষ্যতে বিপদে পড়লে অস্বীকার করতে পারেন, সে জন্যই ট্রাম্প নিজের নামের নিচে কোনো স্বাক্ষর করেননি, এই অভিমত নিরপেক্ষ আইনজীবীদের।জানুয়ারিতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এ এই নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হওয়ার পর বেঁকে বসলেন ড্যানিয়েলস। তাঁর দাবি, অর্থ আদান-প্রদানের কথা ফাঁস করে দিয়ে ট্রাম্পের আইনজীবী তাঁদের মধ্যকার চুক্তি ভঙ্গ করেছেন। অতএব এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলাতে তাঁর, অর্থাৎ ড্যানিয়েলসের এখন আর কোনো বাধা নেই। তিনি এখানে-সেখানে সাক্ষাৎকার দেওয়া শুরু করলেন। শোনা গেল, সঠিক দাম পেলে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর প্রণয়ের বিস্তারিত বিবরণ, এমনকি প্রমাণপত্র দিতেও প্রস্তুত আছেন।সম্ভবত এতে ভীত হয়েই ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার এক আদালতের শরণাপন্ন হলেন কোহেন। ‘অপ্রকাশ’ চুক্তি দেখিয়ে বললেন, এ নিয়ে কোনো কথা তিনি বলবেন না, ড্যানিয়েলস তেমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখন কথা বললে তাঁকে চুক্তিমতো জরিমানা দিতে হবে। তাঁর সঙ্গে একমত হয়ে আদালত ড্যানিয়েলসের নামে ‘নিরোধক নির্দেশ’ বা রেস্ট্রেইনিং অর্ডার দিয়েছেন।ড্যানিয়েলের আইনজীবীরা বলছেন, যে চুক্তিতে এক পক্ষের স্বাক্ষর নেই, তার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। অতএব ‘নীরব’ থাকার যে চুক্তির কথা ট্রাম্পের আইনজীবী দাবি করেছেন, তারও কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তাঁরা পাল্টা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন, যাতে এই চুক্তি বাতিল ঘোষণা করা হয়।এত দিন হোয়াইট হাউস ড্যানিয়েলসের বিষয়টি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। গত বুধবার এ নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা গেল। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, ‘নিরোধক চুক্তি’ নিয়ে রায়ের পর এ নিয়ে তাঁদের আর বলার কিছু নেই, আদালত এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের পক্ষে রায় দিয়েছেন। মুখ বন্ধ রাখার জন্য যে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার ড্যানিয়েলকে দেওয়া হয়েছে, সে ব্যাপারে ট্রাম্পের সম্মতি ছিল কি না, জানতে চাইলে সারাহ স্যান্ডার্স কিছু বলেননি।পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, নিরোধক চুক্তির কথা স্বীকার করার মাধ্যমে এই নারীর সঙ্গে ট্রাম্পের রোমান্টিক সম্পর্ক ছিল, সে কথা হোয়াইট হাউস কার্যত মেনে নিয়েছে। এটা নিয়ে এখন নানা মুখরোচক খবর বেরোচ্ছে। ট্রাম্প এর আগেও একাধিক নারী কেলেঙ্কারিতে নিজের মুখে কালি মাখিয়েছেন, মোটা টাকা দিয়ে তাঁদের মুখ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু এবার তিনি এমন একজনের হাতে পড়েছেন, যাঁর লক্ষ্য এক বা দুই লাখ ডলার নয়, আরও মোটা অঙ্ক। নিজে পর্নো ফিল্মের তারকা, নগ্ন হতে তাঁর কোনো দ্বিধা নেই। হয়তো ভবিষ্যতে তাঁদের দুজনকে নিয়ে কোনো ফিল্মের অথবা বই লেখার চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। এদিকে সবাই প্রশ্ন করা শুরু করেছেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্টের আসল নাম কী? ডোনাল্ড ট্রাম্প না ডেনিস ডেনিসন?
হাসান ফেরদৌস যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি

মিছিল থেকে যৌন নিপীড়ন



নিপীড়নের শিকার কলেজছাত্রী কর্তৃক ফেসবুক স্ট্যাটাস দেওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ‘রাজনৈতিক প্রচারে’ ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কায় সেটি তাঁর তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তটিও ভালো বিবেচনাপ্রসূত। তাঁর এই প্রতিবাদী মনোভাব ও পরিমিতিবোধের বিষয়টি অনুসরণীয়। তাঁর হৃদয়স্পর্শী ফেসবুক স্ট্যাটাস সত্যি অনেকেরই বিবেককে জাগ্রত করেছে। যৌন হয়রানির শিকার নারীর প্রতিবাদের নতুন হাতিয়ার হয়ে ওঠা সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার কারণে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল দুটোকেই নাড়িয়ে দিয়েছে। শ্মশ্রুমণ্ডিত পুলিশ, যিনি মেয়েটিকে ‘উদ্ধার’ করে বাসে তুলে দিয়েছিলেন, তাঁকে ধন্যবাদ! কিন্তু পুলিশের উচিত হবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিজেদের এই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো যে প্রকাশ্য রাজপথে যেখানে ৭ মার্চ উপলক্ষে তারা নিরাপত্তার চাদরে গোটা শহর ঢেকে দিয়েছিল, তাদের সম্ভাব্য উপস্থিতি কেন স্লোগানদানকারী ওই বিপথগামী তরুণদের যৌন হয়রানির অপরাধ সংঘটন করা থেকে নিবৃত্ত করেনি। সরকারি দলের বড় একটি জমায়েতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৃতিত্ব নিশ্চয়ই পুলিশের অথচ সেখানে নারীকেই প্রকাশ্যে সহিংসতার শিকার হতে হলো। স্পষ্টতই অভিযুক্ত নির্লজ্জ তরুণেরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা  সামাজিক প্রতিরোধ, কোনোটি থেকেই কোনো ধরনের বাধার আশঙ্কা করেনি। দেশ ও সমাজের এই পরিস্থিতি খুবই হতাশাজনক। নারীর বিরুদ্ধে ব্যাপকভিত্তিক সহিংসতা এবং তার বিচার করতে পিছিয়ে থাকা একটি দেশ হিসেবে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত লজ্জাজনক। নারীর সুরক্ষায় আমরা বাধ্যতামূলক মৃত্যুদণ্ড প্রথার মতো নানাবিধ কাগুজে আইনি রক্ষাকবচ সৃষ্টি করার পরে যেন ধরেই নিয়েছি যে নারীদের জন্য রাষ্ট্র যথেষ্ট করেছে। কিন্তু রূঢ় বাস্তবতা হলো পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি। বিদ্যমান ফৌজদারি ব্যবস্থা এমনিতেই রুগ্‌ণ, দ্রুত ন্যায়বিচার আশা করা দুরূহ। তদুপরি এটাও সত্য যে পুরুষের থেকে তুলনামূলকভাবে নারী বিচারপ্রার্থীরা উদ্বেগজনকভাবে পিছিয়ে আছেন। ধর্ষণ, হত্যা ও যৌন নিপীড়নের মতো অপরাধে ট্রাইব্যুনালগুলোতে ১৫ বছরে ৭ হাজার ৮৭৪টি মামলা হয়েছে; অভিযুক্তদের ৯৭ শতাংশের কোনো সাজা হয়নি। ওই পরিসংখ্যান সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করছে যে সমাজে নারীরা সবচেয়ে বেশি বিচারহীনতার শিকার। আবার এ কথাও সত্য যে নারীদের দায়ের করা উল্লেখযোগ্য মামলার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কিন্তু সেখানেও পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, যার অনুষঙ্গ হিসেবে রয়েছে একশ্রেণির অসাধু পুলিশ, আদালতের বারান্দায় ঘোরাফেরা করা টাউট এবং অসাধু আইনজীবীদের একটি চক্র। নারী বাস্তবে নিগ্রহ হওয়ার পর তার প্রতিকারের নামে চলে আরেক ধরনের পদ্ধতিগত নারী নিগ্রহ। এই প্রেক্ষাপটে দৃশ্যত ঐতিহাসিক ৭ মার্চের জনসভায় যোগ দিতে আসা একদল উচ্ছৃঙ্খল তরুণের হাতে কলেজছাত্রীর লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাটি হয়তো আরও এ রকম বহু ঘটনার একটি হিসেবে জানাজানির বাইরে থাকারই কথা। কিন্তু একটি সাহসী ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণে ঘটনাটি ভাইরাল (ছড়িয়ে পড়া) হয়ে যায়। তবে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ওই দিন উল্লিখিত ঘটনাটিই কেবল ঘটেনি, আরও কিছু নারী লাঞ্ছিত হয়েছেন, কিন্তু সেসব নিয়ে হইচই হয়নি বলে তার বিচার হবে না? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ‘সমাবেশের বাইরে রাস্তায় কী হয়েছে, তা দলের বিষয় নয়’ বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা দুর্ভাগ্যজনক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান অবশ্য জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে ওই ছাত্রীকে নিপীড়নের ভিডিও ফুটেজ ধরে নিপীড়কদের ধরার চেষ্টা চলছে। এর আগে বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপনে নারী নিগ্রহের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কেউ শাস্তি পায়নি। আমরা আশা করব এবার তার পুনরাবৃত্তি হবে না, বরং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করার মাধ্যমে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হবে।

ঢাকা বাইপাসের দুরবস্থা

ঢাকা বাইপাসের ১৮ কিলোমিটার সড়কের গাজীপুরের ভোগড়া মোড় থেকে ধীরাশ্রম পর্যন্ত সাড়ে ছয় কিলোমিটার সড়কের শোচনীয় দুরবস্থার চিত্র বৃহস্পতিবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে। সড়কের অনেক অংশের পিচ উঠে গেছে। স্থানে স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সর্বশেষ গত বুধবার ভোরে ওই সড়কে একটি কাভার্ড ভ্যান উল্টে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এতে ওই কাভার্ড ভ্যানের চালক ও তাঁর দুই সহযোগী আহত হন। রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে গাড়ি চলে ধীরগতিতে। এতে সড়কে যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। দুই থেকে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট সব সময় লেগেই থাকে। স্থানীয় ব্যক্তিদের আশঙ্কা, আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে সড়কটি সংস্কার করা না হলে সেখান দিয়ে চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়বে। কিন্তু যাদের এই সড়ক ঠিক করার কথা, সেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের এ নিয়ে যে কোনো মাথাব্যথা নেই, তা তো বোঝাই যাচ্ছে। থাকলে তো আর সড়কটির এই দশা হতো না। প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, সড়কের এই সাড়ে ছয় কিলোমিটার অংশ একাধিকবার সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু কোনোবারই তা এক মাসও টেকেনি। তার মানে, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক মেরামত করা হয়েছে, যার কারণে সংস্কার করা হলেও কদিন পরই সড়ক আগের অবস্থায় ফিরে আসছে। এটা শুধু গাজীপুরে নয়, সারা দেশের চিত্র প্রায় একই।
বলার অপেক্ষা রাখে না, এই খাতে বিদ্যমান দুর্নীতির কারণেই পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা ও অসাধু ঠিকাদারের যোগসাজশে অধিকাংশ রাস্তা নির্মাণে ব্যবহৃত হয় নিম্নমানের সামগ্রী। প্রায়ই দেখা যায়, সড়ক মেরামতে ভালো মানের খোয়ার সঙ্গে নিম্নমানের খোয়া মেশানো হচ্ছে। বিটুমিন পরিমাণে কম দিয়ে রাস্তা কার্পেটিং করা হচ্ছে। ফলে ভারী যানবাহন চলাচল করার সময় এগুলো ভেঙে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে যেমন বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হয়, তেমনি জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে। গাজীপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের ভোগড়া মোড় থেকে ধীরাশ্রম পর্যন্ত সাড়ে ছয় কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। যেকোনো দিন কাজ শুরু করা হবে। আমরা বলতে চাই, বর্ষা আসার আগেই এ কাজ শুরু করুন। ওই এলাকার জনগণের দুর্ভোগ দূর করুন।

পাটশিল্পের সম্ভাবনা

আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান দুটি খাত তৈরি পোশাকশিল্প ও প্রবাসী আয়। এ দুটি খাতকে বলা হয় প্রবৃদ্ধির প্রধান চালক। প্রায় তিন দশক ধরে প্রধানত এ দুটি চালকই বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক দিক থেকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। তবে সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নানা পরিস্থিতির কারণে এ দুটি খাতের আরও সাফল্যের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালক হিসেবে এ দুটি খাতের সম্ভাবনা এখন শেষের পথে। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের অর্থনীতিতে উন্নতি করতে হলে তৈরি পোশাকশিল্প আর প্রবাসী আয়ের ওপর অধিক নির্ভরশীলতা আমাদের আশাভঙ্গের কারণ হতে পারে। সে জন্য প্রবৃদ্ধির নতুন নতুন চালক অন্বেষণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সে রকম একটি চালক হতে পারে ‘সোনালি আঁশ’ হিসেবে এককালে সমাদৃত আমাদের কৃষিপণ্য পাট। এ রকম সম্ভাবনার কথা বেশ জোরের সঙ্গে উচ্চারিত হলো এবারের জাতীয় পাট দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনায়। আমাদের দেশেই পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত মানের পাট উৎপাদিত হয়। আমাদের অর্থনীতির ইতিহাসে এই ‘সোনালি আঁশের’ স্বর্ণযুগের কথা আমাদের স্মরণে আছে। গত শতকের প্রথম দু-তিন দশকে পূর্ববঙ্গের পাট কৃষির বাণিজ্যিকীকরণে বিরাট ভূমিকা রেখেছিল। উপনিবেশ মোচনের অব্যবহিত আগে এবং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপর বহুসংখ্যক পাটকল স্থাপনের ফলেও পাট অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান মনে করেন, বাংলাদেশ এখন পাটের ক্ষেত্রে আরেকটি সম্ভাবনাময় সময়ের মুখোমুখি। বিশ্বব্যাপী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার ফলে পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর শিল্প-রাসায়নিক দ্রব্যসামগ্রীর পরিবর্তে অর্গানিক বা পচনশীল ও নবায়নযোগ্য দ্রব্যসামগ্রীর চাহিদা বাড়ছে।
এদিক থেকে পাটের সামনে বিরাট সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গেছে। বিশ্ববাজারের দিকে তাকালেও পাট ও পাটজাতীয় পণ্যের উজ্জ্বল সম্ভাবনা লক্ষ করা যায়। ‘ন্যাচারাল ফাইবার ওয়ার্ল্ড ওয়াইড’ নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার ফেব্রুয়ারি মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের শুরুতে বিশ্ববাজারে প্রতি টন পাটের দাম ১০ থেকে ২৫ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। বিলাসবহুল মোটরগাড়ি নির্মাণ করে এমন পাঁচটি বড় কোম্পানি ঘোষণা দিয়েছে, তারা তাদের গাড়ির অভ্যন্তরীণ কাঠামোর একটা বড় অংশ তৈরি করবে পাটজাত পণ্য দিয়ে। পাট পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক তন্তু; জার্মানি, ফ্রান্স, পর্তুগাল প্রভৃতি পরিবেশসচেতন ইউরোপীয় দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা ও এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো প্রাকৃতিক তন্তুর ব্যবহার বাড়িয়েছে এবং বাড়াচ্ছে। শুধু পাটের আঁশ নয়, পাটকাঠি বা পাটের সোলাও আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন পণ্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পাটকাঠি থেকে জ্বালানি হিসেবে চারকোল ও এর গুঁড়া থেকে ফটোকপিয়ার মেশিনের কালি তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া পাট থেকে মণ্ড ও কাগজ তৈরির ক্ষেত্রেও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু পাটের এই উজ্জ্বল সম্ভাবনা সত্ত্বেও দেশের সরকারি পাটকলগুলো ধুঁকছে; বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) প্রতিবছর ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা লোকসান গুনছে। এই দুর্দশা কেটে যেতে পারে পাটকলগুলোর সেকেলে ও জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতি বদলে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার মান উন্নত করা হলে। বিশ্ববাজারে বহুমুখী পাটপণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা আমাদের পাটশিল্পের সামনে যে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে এবং সে জন্য এই খাতের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। পাট খাতকে জাতীয় প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালকে পরিণত করা সম্ভব—বিশেষজ্ঞদের এই প্রত্যয় বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। এ জন্য পাটশিল্পের সহায়ক নীতি প্রণয়ন করতে হবে এবং সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পাটপণ্যের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার ও রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে বহুমুখী উদ্যোগ নিতে হবে।

নিষ্ঠুর মহামারি ও মমতাময়ী রওশন by সোহরাব হাসান

আমপাতি মেঘালয়ের একটি গ্রাম। ১৯৭১ সালে এটি হয়ে উঠেছিল ‘মিনি বাংলাদেশ’। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোনার বহু মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নেয় ভারতের মেঘালয় রাজ্যে। ওপারের বাসিন্দাদের বেশির ভাগ ছিল গারো, খাসিয়া ও জৈন্তিয়া। তাদের অনেকে আবার পাকিস্তানি জমানায় এপার থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়, বাংলাদেশ থেকে আগত শরণার্থীদের জায়গা দিলে তারা আর ফিরে যাবে না। স্থায়ী হয়ে যাবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শরণার্থীরাও ছিল নিরুপায়। ফিরে গেলে পাকিস্তানি সেনারা মেরে ফেলবে। দুপক্ষের মধ্যে এ নিয়ে বাদানুবাদ চলছিল। খবর পেয়ে এগিয়ে এলেন রওশন আরা বেগম সাংমা নামের মহীয়সী এক নারী। তিনি ওই অঞ্চলের ভূস্বামী বিজয় সাংমার স্ত্রী। সবাই তাঁকে মান্য করে। তিনি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতাদের ডেকে বললেন, ‘কেউ আশ্রয় না দিলে শরণার্থীরা আমার জমিতে থাকবে।’ দনু নদের পাড়ে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তাঁর জমি। সেদিন থেকে আমপাতি হয়ে যায় বাংলাদেশের শরণার্থীদের নিরাপদ আশ্রয়। কয়েক মাসের মধ্যে শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৫ হাজার। রওশন আরা তাদের শুধু থাকার জায়গা দেননি, খাবারের ব্যবস্থাও করেন। প্রতিদিন ভোরে ছয় বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে তিনি শরণার্থীদের শিবিরে যেতেন। তাঁর সঙ্গে থাকত বিশাল বিশাল পাতিল-ডেকচিতে ভরা রান্না করা খাবার। তাঁর বাড়ির লোকজন শরণার্থীদের মধ্যে সেই খাবার পরিবেশন করতেন। রওশন আরা নিজেও ছেলেকে নিয়ে তাদের সঙ্গে খাবার খেতেন। গল্প করতেন। শরণার্থীদের কার কী অসুবিধা, খোঁজ নিতেন। সাধ্যমতো প্রতিকার করতেন। তারপর বাড়ি ফিরে যেতেন। রওশন আরার বাড়ির দরজা সব সময় শরণার্থীদের জন্য খোলা ছিল। কেউ অসুখ-বিসুখে পড়লে তাঁর কাছে ছুটে যেত। এভাবে কিছুদিনের মধ্যে রওশন আরা সাংমা হয়ে ওঠেন শরণার্থীদের আপনজন। তারা তাঁকে ‘মা-জি’ বলে ডাকত। স্থানীয় বাসিন্দারা যখন দেখলেন, শরণার্থীরা কোনো ঝামেলা করছে না, তখন তাঁরাও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও শরণার্থীদের মধ্যে গড়ে ওঠে সখ্য।
সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সাহায্য আসা শুরু হলে গ্রামবাসীর দায় কিছুটা কমে যায়। এরপরও মা-জি শরণার্থীদের খোঁজখবর নিতেন। এভাবে কয়েক মাস চলে যায়। জুন মাসে হঠাৎ শরণার্থী শিবিরে কলেরা ছড়িয়ে পড়ে মহামারি আকারে। রওশন আরা সাংমা তখন নিজের সব কাজ ফেলে অসুস্থ রোগীদের সেবা করেন। চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। গ্রামের বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সেবা-শুশ্রূষার কাজে লাগান। এসব সত্ত্বেও মহামারিতে শরণার্থী শিবিরের সাড়ে তিন হাজার লোক মারা যায়, যাদের একটি বড় অংশ ছিল শিশু। সমাজকর্মীরা ৮০০ জনের নাম উদ্ধার করতে পেরেছেন। বাকিদের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। রওশন আরা শরণার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতো। বাংলাদেশের বিজয়ের পর যখন শরণার্থীরা দেশে ফিরে আসে, এই মহীয়সী নারী ও গ্রামবাসী তাদের অশ্রুসিক্ত হয়ে বিদায় দেন। রক্ত ও অশ্রুতে মেশা মুক্তিযুদ্ধের এই মানবিক গল্প তাঁর লেখায় তুলে ধরেন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক লে. কর্নেল সাজ্জাদ আলী জহির বীর প্রতীক। লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে ইন কোয়েস্ট অব ফ্রিডম দি ওয়ার অব ১৯৭১ নামক একটি সংকলন বইতে। আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা ব্লুমসব্যারি থেকে প্রকাশিত বইটি সম্পাদনা করেছেন মেজর জেনারেল আয়ান কারডোজো। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে সাজ্জাদ আলী জহির বীর প্রতীক জানান, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি আমপাতির কাহিনিটি শোনেন। এরপর সিদ্ধান্ত নেন রওশন আরা সাংমার সঙ্গে দেখা করে একবার তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবেন। সেখানকার মানুষকে ধন্যবাদ দেবেন। সেই উদ্দেশ্যে তিনি ২০১০ সালে ঢাকা থেকে শিলং পর্যন্ত গিয়েছিলেন। আমপাতিতে তখন উগ্রপন্থীদের উপদ্রব। তাঁকে জানানো হয়, মেঘালয় সরকারের অনুমতি ছাড়া তিনি সেখানে যেতে পারবেন না।
কে অনুমতি দেবেন?
একমাত্র মুখ্যমন্ত্রীই অনুমতি দিতে পারেন। তখন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মুকুল সাংমা (এখনো তিনি সেই পদে অধিষ্ঠিত)। কিন্তু তখনো তাঁর সঙ্গে সাজ্জাদের পরিচয় ছিল না। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কথা বললেন। তাঁকে অভ্যর্থনাকক্ষে অপেক্ষা করতে বলা হলো। কিছুক্ষণ পর এক ভদ্রলোক সেখানে এসে তাঁর দেখা করার কারণ জানতে চাইলেন। সাজ্জাদ জবাব দিলেন, তিনি আমপাতি যেতে চান। ভদ্রলোকের পাল্টা প্রশ্ন, কেন তিনি আমপাতি যেতে চান? সাজ্জাদের জবাব, সেই মহীয়সী নারীকে একবার সালাম দিয়ে আসব; যিনি একাত্তরে আমাদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। ভদ্রলোক বললেন, আপনি যাঁকে দেখতে আমপাতি যেতে চান, তিনি আর বেঁচে নেই। ২০০৯ সালেই তিনি মারা গেছেন। এরপর দ্বিতীয়বার প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়ে ভদ্রলোক বললেন, আপনি যাঁর কথা বলছেন, তিনি আমার মা। আর ছয় বছরের যে শিশুর কথা বলছেন, তিনি এখন আপনার সামনে দাঁড়ানো। মুকুল সাংমার কথা শুনে সাজ্জাদের চোখে পানি চলে আসে। কৃতজ্ঞতায় তাঁকে জড়িয়ে ধরে বলেন, মাকে দেখতে না পেলেও সন্তানকে দেখেছি, এটাই কি কম পাওয়া? ২০১২ সালে আরও অনেকের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার রওশন আরা বেগম সাংমাকে মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা দেয়। সাজ্জাদ আলী জহির বীর প্রতীক লিখেছেন, ‘আমপাতির যে শরণার্থী শিবিরে সাড়ে তিন হাজার মানুষ মারা গেছে, সেই শিবিরের স্মৃতি সংরক্ষণ করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য। তারাও তো দেশের স্বাধীনতার জন্য সেখানে গিয়েছিল।’

নারী লাঞ্ছনা ও রাজনীতি by কামাল আহমেদ

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এই প্রথমবারের মতো ২৪ ঘণ্টার একটি ধর্মঘট করেছেন স্পেনের নারীরা। নারী-পুরুষের বৈষম্য এবং যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই তাঁদের এই ধর্মঘট। তাঁদের স্লোগান ছিল, ‘আমরা যদি থেমে যাই, বিশ্ব থেমে যাবে’। নারী দিবস পালনের বিষয়ে ইউরোপ সব সময়ই অনেক এগিয়ে। তবে ইউরোপীয় কোনো দেশে দিবসটি পালনে ধর্মঘটের ঘটনা এই প্রথম। এমনিতেই এ বছরের নারী দিবসে পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল যৌন নির্যাতন ও শোষণের বিষয়টি। হলিউডের তারকাদের ‘আমিও নিপীড়নের শিকার’ বা ‘মি টু’ আন্দোলনের পটভূমিতে যৌন নির্যাতনবিরোধী আন্দোলন এসব দেশে এখন তুঙ্গে। পাশাপাশি এসেছে নারী-পুরুষের মজুরিবৈষম্যের বিষয়টিও। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের পর বছর মেয়েদের কম মজুরি দেওয়ায় পাওনা পরিশোধে এখন রীতিমতো নাকাল। আর সেই বিশ্ব নারী দিবসের দিনটিতে বাংলাদেশে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ছাত্রী লাঞ্ছনার ঘটনা। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পটভূমিতে দিনটি উদ্যাপনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ক্ষমতাসীন দলের সমাবেশের পথে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের হাতে কয়েকজন ছাত্রী-তরুণী নানাভাবে হেনস্তা হওয়ার অভিযোগ করেছেন। একজন ছাত্রী রাগ-ক্ষোভ ও দুঃখে দেশ ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। এঁদের অধিকাংশই তাঁদের লাঞ্ছনা ও কষ্টের কথা জানিয়েছেন ফেসবুকে। লাঞ্ছনার শিকার এসব কিশোরী বা তরুণী ন্যায়বিচার পেলে হয়তো তাঁরা কিছুটা সান্ত্বনা পাবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, এসব ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই যে রাজনীতি শুরু হয়েছে, তাতে সেই সম্ভাবনা লোপ পাওয়ার আশঙ্কাই প্রবল। আলোচিত ছাত্রীদের কেউ কেউ তাঁদের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তা সরিয়েও নিয়েছেন। তবে তা সরিয়ে ফেলার আগেই তার যে কতগুলো স্ক্রিনশট ছবি আকারে অন্যরা নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করেছেন, তার হিসাব পাওয়া দুষ্কর। রাজনীতির প্রসঙ্গ একটু পরে। তার আগে নারী নির্যাতন ও বিচারহীনতার সামগ্রিক চিত্রটা কত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তা একটু দেখে নেওয়া যাক। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিনেই জানা গেল যে শুধু ঢাকায় নারী ও শিশু অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৫ বছরে যত মামলা হয়েছে, তার ৯৭ শতাংশের আসামিরা কোনো না কোনোভাবে পার পেয়ে গেছে। এসব মামলার আসামিদের অধিকাংশই বিচার শুরুর আগেই অব্যাহতি পেয়েছে। এমনকি এ সময়ে ধর্ষণের মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের মতো নজিরও তৈরি হয়েছে। প্রথম আলো ঢাকার ছয়টি ট্রাইব্যুনালে ২০০২ থেকে ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আসা ৭ হাজার ৮৬৪টি মামলার প্রাথমিক তথ্য যাচাই করে দেখেছে, ওই সময়ে মাত্র তিন শতাংশ মামলায় অপরাধীর সাজা হয়েছে। ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণের জন্য হত্যা, যৌতুকের জন্য হত্যা, আত্মহত্যায় প্ররোচনা আর যৌন পীড়নের মতো ছয়টি অপরাধের বিচারের চিত্র হচ্ছে এটি। সারা দেশের চিত্র যে এর থেকে উন্নত কিছু হবে, এমনটি মনে করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বরং সংবাদমাধ্যমের নজরদারির বাইরে থাকায় সেসব জায়গার পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। নারী দিবসের আগের দিন জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানাল, বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার এখন ৫৯ শতাংশ, দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে এবং বিশ্বে চতুর্থ। ২০১১ সালের সরকারি জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে সে সময়ে বাল্যবিবাহের হার ছিল ৫২ শতাংশ। সরকার অবশ্য ইউনিসেফের পরিসংখ্যান গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছে, বাল্যবিবাহ আগের তুলনায় কমেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এখনো এই হার ৫০ শতাংশের ওপরে।
বাল্যবিবাহের শিকার মেয়েদের অধিকারের প্রশ্নে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ যে পিছিয়ে পড়েছে, সে বিষয়ে বিতর্কের তেমন অবকাশ আছে বলে মনে হয় না। সর্বব্যাপী বিরোধিতা সত্ত্বেও বাল্যবিবাহ নিরোধের আইনে যে সংশোধনী যুক্ত করা হয়েছে, তাতে কিশোরীদের ওপর যৌন অপরাধ সংঘটন এবং আপসরফার সুযোগ থাকায় বাল্যবিবাহ নিরোধের সামাজিক আন্দোলন যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার আলামত এখন স্পষ্ট। এই দুটি চিত্র যদি কারও মন খারাপের কারণ হয়ে থাকে, তাহলে তাঁকে আরও একটু শক্ত হতে বলব। কারণ, পরের পরিসংখ্যানগুলো মেনে নেওয়া আরও কঠিন। গত মঙ্গলবার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের প্রকাশিত এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, গণপরিবহনে চলাচলের সময় কোনো না কোনো সময়ে মৌখিক, শারীরিক এবং যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ৯৪ শতাংশ নারী। আবার এসব ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ৬৬ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ৪১ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষদের দ্বারা। যার মানে দাঁড়াচ্ছে নারীদের নিগৃহীত করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরাট একটি অংশেরই সম্ভবত পরিবার আছে, তারা অবিবাহিত তরুণ নয়। বছর তিনেক আগে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক পারিবারিক সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, দেশের ৮৭ শতাংশ নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে থাকেন। সাম্প্রতিক কালে গণমাধ্যমে পাবিরারিক সহিংসতার যেসব খবর প্রকাশিত হয়, তাতে নৃশংসতা ও নিষ্ঠুরতার মাত্রা আরও বেড়েছে বলেই আভাস পাওয়া যায়। নারী নির্যাতন ও নারীদের প্রতি অপরাধগুলোর বিচারের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি খুব সামান্যই। তনু হত্যার মতো বহুল আলোচিত অনেক হত্যাকাণ্ডেরই কোনো বিচার হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কর্মীদের হাতে ছাত্রী নিগ্রহের ঘটনাতেও প্রশাসন ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা লক্ষণীয়। আর শিক্ষাঙ্গনের বাইরে দুর্বৃত্তরা আইনকে যে অব্যাহতভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলেছে, সেটাও সম্ভব হচ্ছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে। যে দেশের রাজনীতির মূল নেতৃত্বে নারী, সেই দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌন নির্যাতন বাড়তে থাকা এবং অপরাধের বিচারহীনতার ব্যাখ্যা কী? সর্বসাম্প্রতিক বিতর্কে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সমাবেশের বাইরে ঢাকার রাস্তায় কোথায় কী হয়েছে, এটা আমাদের দলের বিষয় নয়। আর এটাতে অবশ্যই সরকারের দায় আছে।’ রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির সময়ে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের অপরাধের দায় দলের নয়, এমন তত্ত্ব হাজির করার সময় তাঁকে কেউ স্মরণ করিয়ে দিলে ভালো হতো যে ওই যুক্তি সঠিক হলে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় সংঘটিত অগ্নিসংযোগ ও মৃত্যুর জন্য তাদেরও দায়ী করা চলে না। তিনি সরকার ও দলের মধ্যে পার্থক্যের কথা বলেছেন, যে ফারাকটি তাঁরা অনেক আগেই মিলিয়ে ফেলেছেন। প্রশাসন ও পুলিশে যে মাত্রায় দলীয়করণ ঘটেছে, তাতে সরকারের আলাদা দলনিরপেক্ষ ভূমিকা আশা করার অবকাশ কোথায়? দীর্ঘ প্রায় দেড় দশকের সামরিক শাসনের অবসানের পর গণতন্ত্রের পথে যাত্রার সূচনায় নব্বইয়ের দশকে সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের চেতনা এবং ধারাটি ছিল বেশ চাঙা। সেই সময়ে দিনাজপুরে হতভাগ্য কিশোরী ইয়াসমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সারা দেশে যে প্রবল প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ডাক উঠেছিল, দেশের নারী অধিকার আন্দোলনে তা একটি গৌরবময় অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে। পরিস্থিতি এখন অবশ্য অনেকটাই আলাদা। একদিকে কার্যকর বিরোধী দলহীন সংসদ, অন্যদিকে রাজপথের বিরোধিতা দমনের পুলিশি দাপটে গণতন্ত্রের হাল নাজুক। সমাজে প্রতিবাদ যতটুকু আছে, তা মূলত শিক্ষিত মধ্যবিত্তের ঘরোয়া আড্ডা অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিবাদ রাজপথে নেমে আসার নজির যে একেবারে নেই, তা কিন্তু নয়। বিশ্বজুড়ে নারীবাদীরা এখন যে আন্দোলনে নেমেছেন, তার শুরু এবং প্রসার কিন্তু এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘিরেই।
কামাল আহমেদ: সাংবাদিক

কাবিখার চাল চুরি

কয়েকটি জেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প ছাড়া কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচি প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ। অনেকেই মনে করেন, খাদ্যশস্যের বাজারে এখন যে অস্থিরতা চলছে, এই কর্মসূচি সচল থাকলে তা থাকত না। কাবিখার কারণে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়ে। এতে দাম নাগালে থাকার সুযোগ তৈরি হয়। এ বছরই আবার এই কর্মসূচি চালু করার কথা। এর মধ্যে হঠাৎ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে গেল। সেখানকার ‘নবাব অটো রাইস মিল’ নামের একটি চাল প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা থেকে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ৯০ মেট্রিক টন কাবিখার চাল জব্দ করেছে র‍্যাব। সেখানকার শিবগঞ্জ উপজেলার একটি গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের জন্য চালগুলো বরাদ্দ ছিল। সরকারি গুদাম কর্মকর্তা, গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি ওয়ার্ডের দুজন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। মিলমালিক লাপাত্তা। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ছাপ মারা বস্তা থেকে ভারতীয় একটি ব্র্যান্ডের বস্তায় চালগুলো ভরা হচ্ছিল। আটক হওয়া সবাই দাবি করছেন, চাল কীভাবে এখানে এল তা তাঁদের জানা নেই। এটি ভয়ানক উদ্বেগের কথা। কারণ তাঁদের হেফাজতে চালগুলো ছিল। তাঁদের দাবি সত্য বলে ধরে নিলে এর পেছনে ‘ভূতপ্রেত’ ছাড়া আর কারও হাত আছে বলে ধারণা করা কঠিন।
এই ‘ভৌতিক’ চুরি কি শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জে হচ্ছে, নাকি দেশের অন্যান্য জায়গায়ও ‘ভূতগোষ্ঠী’ সক্রিয় আছে সেটা বের করা দরকার। সামাজিক নিরাপত্তায় বরাবরই কাবিখা ভূমিকা রেখে এসেছে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল পল্লি অঞ্চলের মানুষের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং একই সঙ্গে অভাবগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খাদ্যশস্যের সরবরাহ ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। এই কর্মসূচি চালুর পর থেকে নানা অনিয়মের খবর এসেছে। তারপরও বাজারে খাদ্যশস্যের দামের ভারসাম্য বজায় রাখায় এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধেই গ্রামীণ রাস্তাঘাট উন্নয়নে কাবিখার নতুন বরাদ্দ দেওয়া হবে। যেহেতু এই প্রকল্পের লক্ষ্য একই সঙ্গে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও অন্যান্য ছোটখাটো অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং খাদ্যশস্যের বাজারে ভারসাম্য রক্ষা, সেহেতু বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। প্রকল্পের সাফল্য অর্জনে খাদ্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি বাড়ানো দরকার। কাবিখার চাল বা অন্যান্য খাদ্যশস্য ঠিক মানুষের হাতে পৌঁছাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে স্থানীয় জনগণ সহজে যাতে বুঝতে পারে, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি এখন প্রায় প্রতিটি দপ্তরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যেভাবে ঢুকে গেছে, তাতে দুর্নীতি ঠেকাতে শুধু কর্মকর্তাদের নজরদারির ওপর আস্থা নিয়ে বসে থাকাটা বাস্তবসম্মত নয়। সবচেয়ে বড় নজরদারি করতে পারে জনগণ। কাবিখা কী, কোন প্রক্রিয়ায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হয় এবং কারা কারা এর সুবিধাভোগী—এসব বিষয় সম্পর্কে স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া দরকার। মোটামুটি ধারণা থাকলেই তারা কর্মসূচির অনিয়ম ও অসংগতির বিষয়ে সোচ্চার হতে পারে। এতে কর্মসূচি বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত লোকেরা সতর্ক হতে বাধ্য হবেন।

রক্ষা পাবে না যক্ষ্মা তহবিল! by সারফুদ্দিন আহমেদ

ফারাও বাদশাহ তুতেনখামেন থেকে ভেনেজুয়েলার বিপ্লবী সিমোন বলিভার; বিলেতের কবি কিটস থেকে বাংলার সুকান্ত; মুঘল-এ-আজম-এর নায়িকা মধুবালা থেকে জওহরলাল নেহরুর স্ত্রী কমলা নেহরু-এই রকম বিখ্যাত মানুষের পঞ্চপ্রাপ্তি ঘটেছিল যে রোগে, সে রোগ যারে তারে ধরে না। সে রাজরোগ। নাম তার যক্ষ্মা। কেউ বলে ক্ষয়রোগ; কেউ বলে টিবি। একসময় লোকে বলত, ‘যার হয় যক্ষ্মা, তার নাই রক্ষা’। ধনীরা মৃত্যুর তারিখটা পেছানোর আশায় যেতেন বিশুদ্ধ বাতাসের দেশ সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। সেখানে কমলা নেহরু চিকিৎসা নিয়েছিলেন। মারাও গেছেন জেনেভার কাছের শহর লুসানের এক স্যানাটোরিয়ামে। সেই সুইজারল্যান্ড, সেই জেনেভা এখনো যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে। বড় কষ্টের কথা, মহান জেনেভার একটি দাতা সংস্থা যক্ষ্মার নামে আমাদের মান-ইজ্জত সব শেষ করে দিয়েছে। একটি বিদেশি দাতা সংস্থা যে এত বড় ছোটলোক হতে পারে তা ৪ মার্চ প্রথম আলোয় ছাপা প্রতিবেদন না পড়লে বুঝতে পারতাম না। সংস্থাটির নাম গ্লোবাল ফান্ড। জানলাম, গরিব-গারাব মানুষ যাতে কাশতে কাশতে না মরে সে জন্য গ্লোবাল ফান্ড কিছু টাকাপয়সা দিয়েছিল। কথা ছিল স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় টাকাটার সদ্গতি করবে। মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি’র আওতায় ‘কাজ’ শুরু করল। দেখা গেল প্রকল্পটি ওই অর্থের সদ্গতি করতে গিয়ে সৎকার করে বসেছে। পয়সাপাতি খরচ হয়ে যাওয়ার পর গ্লোবাল ফান্ড গোয়েন্দাগিরি করে বের করেছে, আমাদের এখানকার ‘অফিসার’ এবং ‘কর্মকর্তারা’ একজোট হয়ে ভুয়া সই স্বাক্ষর দিয়ে ‘অরিজিনাল’ বিল ভাউচার-রসিদপত্র বানিয়েছেন। তারপর টুক করে ৮৮ লাখ ৪৩ হাজার ২১৫ টাকা ‘নাই’ করে দিয়েছেন। এই নিয়ে ২২ পৃষ্ঠার একটি রিপোর্ট গ্লোবাল ফান্ড তার ওয়েবসাইটে সেঁটে দিয়েছে।
সারা বিশ্বের ‘গ্রামে গ্রামে এই বার্তা রটে গেল ক্রমে’: বাংলাদেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা গরিব যক্ষ্মা রোগীর ক্ষয় কাশ ও শ্লেষ্মামাখা টাকা মেরে দিতেও এদিক-ওদিক চান না। মহাজনের মতো বিদেশিরা ঝাড়ি দিয়ে বলেছে, ৩০ জুনের মধ্যে ওই টাকা ভালোয় ভালোয় ফেরত না দিলে খবর আছে! স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সৎসাহস সোনা দিয়ে বাঁধিয়ে রাখার মতো। তারা গ্লোবাল ফান্ডকে মুখের ওপর বলে দিয়েছে, ‘ম্যান ইজ মরটাল, দ্যাট মিনস্ মানুষ মাত্রই চুরি করে। এইটা কোনো টাকার মধ্যে পড়ে? যা, তোর টাকা জুনের মধ্যে চান্দা উঠায়ে দিয়ে দেব!’ এশিয়া ও আফ্রিকায় যক্ষ্মা, এইচআইভি/এইডস ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিগুলোতে সবচেয়ে বড় দাতা সংস্থা হিসেবে কাজ করছে গ্লোবাল ফান্ড। এত বড় একটা হাতির মতো কলিজাওয়ালা তহবিলের এই রকমের পুঁটি মাছের পরান দেখে বড় কষ্ট পেলাম। আরে সাহেব, আপনি নিজেকে যখন ‘দাতা’ বলবেন, তখন আপনি যে টাকাটুকা দেবেন সেটাকে তো আমরা দানই ভাবব, নাকি? দান করার পর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সেই টাকার হিসাব নেওয়া কি কোনো বংশীয় ঘরের ভদ্দরলোকের কাজ? ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় একজন উপদেষ্টাকে সকালে বিকেলে বলতে শুনতাম, ‘ট্রাস্ট বাট ভেরিফাই’। গ্লোবাল ফান্ড দুনিয়ায় আর লোক পেল না, সেই উপদেষ্টার উপদেশ নিল। দান করেও দাবি ছাড়ল না। তাদের উপলব্ধির অন্তর্লোকে কবিগুরুর এই বাণী একটিবারের জন্যও উঁকি দিল না, ‘অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।’ আল্টিমেটলি এখন বিড়ম্বনার সীমা নেই। গ্লোবাল ফান্ড ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রশিক্ষণসংক্রান্ত খরচাপাতির হিসাব নিরীক্ষা করতে গিয়ে দেখে, প্রশিক্ষণের জন্য ব্যাগ, কলম ও প্যাড সরবরাহকারীদের জমা দেওয়া রসিদ আসলে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, কোষাধ্যক্ষ ও লাইন ডিরেক্টরের ব্যক্তিগত সহকারীর লেখা। ৮৬ শতাংশ রসিদ একজন কর্মকর্তার নিজের লেখা। ৪৩টি সন্দেহজনক রসিদ চিহ্নিত করেছিল নিরীক্ষক দল। প্রশিক্ষণসামগ্রী সরবরাহকারী তিনটি প্রতিষ্ঠান নিরীক্ষক দলকে জানিয়েছিল, রসিদের লেখা তাদের না। সইও তাদের প্রতিষ্ঠানের কারও না। এই রকমের কত সৃজনশীল কায়দায় যে টাকাগুলো সৎকার করা হয়েছে তা এক বিস্ময়কর ব্যাপার। খুব আমোদের বিষয় হলো নিরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই কর্মকর্তারা অনিয়ম স্বীকার করে নিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের বদলি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তের পর দোষী সাব্যস্ত হওয়া কর্মচারী ও কর্মকর্তারা কে কত টাকা ফেরত দেবেন তা ঠিক করা হবে। মন্ত্রণালয়ের এই বাণী থেকে আমরা বুঝতে পারি সরকারি চাকরি কী জিনিস। এর যেমন লিকার, তেমনি ফ্লেভার। একবার হাতিয়ে নিতে পারলেই হলো। চুরি ধরা পড়েছে। চোরও কে তাও জানা। এরপরও কমিটি বানিয়ে ‘তদন্ত’ হবে। সেই তদন্তের ময়নাতদন্তে আবার কমিটি হবে। সেই কমিটি বলবে, ‘এই এরা এরা চোর’। মন্ত্রণালয় তখন ঠিক করবে, এই টাকা ওনারা ভাগেযোগে, মানে ‘চান্দা’ তুলে ফেরত দেবেন। কে কত টাকা ফেরত দেবে তাও ঠিক করে দেওয়া হবে। কোনো জেল-ফাঁস নাই। টাকা ফেরত দেওয়ার পর সবাই আবার ধোয়া তুলসীপাতার মতো আয়ুর্বেদিক কর্মকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হবেন এবং বাইনোকুলার হাতে নতুন ফান্ডের অনুসন্ধান শুরু করবেন। এখানে লজ্জা-শরমের বিষয় নাই। কারসাজি করে টাকা চুরি আর রাতের বেলা পরের খোপের মুরগি চুরির মধ্যে যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নাই, তা বোঝার বোধ তাঁরা বহু আগেই হারিয়ে ফেলেছেন। ‘তাঁরা’ মানে কারা? ‘তাঁরা’ মানে ‘তুমি আমি সে’। আমরা সবাই। আমাদের হায়া গেছে। লজ্জা গেছে। শরম গেছে। আমি ৪০ হাজার টাকার বেশি মাইনে পাই না; এ কথা জেনেও আমার কোটি টাকার গাড়িতে উঠে বাবার মনে হয় না তিনি একজন চোরের বাপ। একই লজ্জায় যার মাথা কাটা যাওয়ার কথা ছিল সেই আমার মায়ের গলা দেখা যাচ্ছে ইয়া লম্বা! সমাজের অল্প কিছু মানুষ, যাঁদের কারণে এখনো সমাজটা কোনো রকমে টিকে আছে তারা বাদে আমরা সবাই ‘সিস্টেম’ নামক এক স্বরচিত কলের মধ্যে আটকা পড়ে গেছি। আমাদের বোধের ফুসফুসে যক্ষ্মা বাসা বেঁধেছে। এই রাজরোগ সারাতে পারে এমন স্যানাটোরিয়াম জেনেভাতেও নেই।
সারফুদ্দিন আহমেদ: প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক
sarfuddin2003@gmail.com

পৃথিবীর নিরাপত্তার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি অপরিহার্য

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, পৃথিবীর নিরাপত্তার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি অপরিহার্য। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানির চাহিদা মেটাতে সমন্বিত নীতিনির্ধারণ ও অর্থায়নে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। রোববার ভারতের নয়াদিল্লিতে বিশ্বের ১২১ দেশের সৌরবিদ্যুৎ সহযোগিতাবিষয়ক জোট ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্সের (আইএসএ) ‘ফাউন্ডিং কনফারেন্সে’ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবন কালচারাল সেন্টারে (আরবিসিসি) এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আবদুল হামিদ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন খুবই জরুরি। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ শুধু আন্তর্জাতিক বিষয় নয়, বরং প্রান্তিক মানুষের জ্বালানি সুবিধা নিশ্চিতের জন্য এ উদ্যোগ। পৃথিবীর নিরাপত্তার জন্যও এটি অপরিহার্য। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির চাহিদা মেটানোর জন্য সমন্বিতনীতি ও বড় ধরনের অর্থায়ন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিশ্ব সম্প্রদায়কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের ক্ষতির দিক তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির বিরূপ প্রভাব দেখা দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
বাংলাদেশ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে দায়ী না হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ প্রয়াস চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি। সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিদ্যমান জ্বালানিশক্তি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলো দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে। এর প্রযুক্তিগত ব্যয়ও দিন দিন কমে আসছে। ফলে বিশ্বব্যাপী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা সম্মেলনে তুলে ধরেন আবদুল হামিদ। এ সম্মেলনের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার, গবেষণা ও উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আইএসএর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। সবার জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক জ্বালানি নিশ্চিত করার জন্য পরস্পরকে সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলেও রাষ্ট্রপতি জানান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর যৌথ সভাপতিত্বে এ সম্মেলনের সূচনা পর্বে দুই কো-চেয়ার এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলংকা, ফ্রান্সসহ ২৩ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান/সরকারপ্রধান এবং ৯ দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা এ সম্মেলনে অংশ নেন।

শি জিনপিং চীনের আজীবন প্রেসিডেন্ট

শি জিনপিংকে চীনের আজীবন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে সংসদে বিল পাস করেছে কংগ্রেস। রোববার প্রায় তিন হাজার প্রতিনিধির মধ্যে দুই হাজার ৯৫৮ জন পক্ষে ভোট দেন। শি জিনপিং ২০১২ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
তিনি দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক। এর পরই তিনি দেশটির ইতিহাসে ধারাবাহিকভাবে আত্মপ্রত্যয়, জবরদস্তি ও কর্তৃত্ববাদের একটি যুগের সূচনা করেন। পাশাপাশি তার হাত ধরে চীন এক নতুন জাগরণ দেখতে পেয়েছে। পরাক্রমশালী দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে চীনের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে তিনিই এখন সামনে এবং কেন্দ্র থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি ভিন্নমতাবলম্বী ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড়ও শুরু করেন।

সৎকারের পর দিন ‘মৃত বাবা’ বাড়িতে হাজির!

আত্মহত্যার পর বাবার লাশ শনাক্ত করেন ছেলেরা। ময়নাতদন্ত শেষে তার সৎকারও করা হয়। কিন্তু পর দিনই ‘মৃত বাবা’ বাড়িতে এসে হাজির। পরিবারের সদস্যরা তাকে দেখে রীতিমতো হতভম্ব। ভারতের জলপাইগুঁড়ির মাল ব্লকের ক্রান্তিতে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
শুক্রবার গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মালবাজার মহকুমার ওদলাবাড়ি বাজার থেকে গিরেন রায় (৫৪) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতের দুই ছেলেসহ পরিবারের অন্যরা এসে তার লাশ শনাক্ত করেন। ছেলেরা জানান, বাবা গত চার বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। কখনও বাড়িতে থাকতেন, কখনও বাইরে চলে যেতেন। শুক্রবার জলপাইগুঁড়িতে ময়নাতদন্তের পর, কাঠামবাড়ি এলাকায় বাবার মৃতদেহ সৎকার করেন ছেলেরা। কিন্তু পর দিন শনিবার গিরেন রায়কে ক্রান্তি এলাকার বাজারে ঘুরে বেড়াতে দেখে হতবাক হয়ে যান এলাকার মানুষ। যে ব্যক্তিকে শুক্রবার রাতে শ্মশানঘাটে জ্বালিয়ে সৎকার করা হল, সেই ব্যক্তি আবার বাজারে কীভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন! মৃতের দুই ছেলে সঞ্জিত ও বিশ্বজিৎ জানান, যিনি জীবিত অবস্থায় বাড়িতে এসেছেন, তিনিই তাদের বাবা। এখন প্রশ্ন উঠেছে- তা হলে শনিবার রাতে যার সৎকার করা হল, তিনি কে? এদিকে রোববার সকাল থেকে গিরেন রায়কে দেখতে ভিড় করেছেন এলাকার মানুষ। ক্রান্তি ফাঁড়ির পুলিশও ঘটনার কোনো কুলকিনারা পাচ্ছে না।

কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি দুনিয়ার মোহে পড়তে পারে না

মানবতার কল্যাণ ও শান্তি কামনায় মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হল বরিশালের ঐতিহ্যবাহী চরমোনাইর বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল। শনিবার কীর্তনখোলা নদীর তীরে লাখো ভক্ত-মুরিদরা এ মোনাজাতে অংশ গ্রহণ করেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
এর আগে ফজরের নামাজের পর পীর চরমোনাই মাহফিলে অংশ গ্রহণকারী মুসল্লিদের উদ্দেশে হেদায়েতি বয়ান পেশ করেন। বয়ানে পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের প্রস্তুতির নসিহত করে বলেন, এ দুনিয়া থাকার জায়গা নয়। তাই কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি দুনিয়ার মোহে পড়তে পারে না। তিনি বলেন, দুনিয়া হল আখেরাতের কামাইয়ের জায়গা। এখান থেকে পরকালের জীবনকে সাজাতে যার চেষ্টা যত বেশি হবে, পরকালে সে ততই সফলতা লাভ করবে। পরে মোনাজাতে মহান আল্লাহর কাছে সব পাপ ও অন্যায় থেকে মুক্তির জন্য আকুতি জানান মুসল্লিরা। দেশ-জাতি ও মানবতার কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়। দোয়া করা হয় মিয়ানমারের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য।

সুখ, টাকা এবং ঝরে যাওয়া আইনস্টাইনরা by জাহেদ আহমদ

টাকায় সুখ মেলে? বহু পুরনো প্রশ্ন এটি। তবে আজ অবধি নিরর্থক হয়ে যায়নি। এ প্রশ্নের উত্তর সবার একইরকম হবে না; তথাপি বেশিরভাগ মানুষ একমত হবেন যে, ‘জগৎ এমনই ভয়ানক স্থান যে, টাকা না থাকিলে তাহার স্থান কোথাও নাই, সমাজে নাই, স্বজাতির নিকটে নাই, ভ্রাতা ভগ্নীর নিকট কথাটার প্রত্যাশা নাই’ (বিষাদ সিন্ধু, মীর মশাররফ হোসেন)।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়, সুখী হতে হলে ঠিক কত টাকা দরকার, মানে অঙ্কের হিসাবে পরিমাণটা কত? আমার ধারণা ছিল এ প্রশ্নের উত্তর কারও পক্ষেই জানা সম্ভব নয়; কিন্তু পত্রিকা পড়ে জানলাম আমার ধারণা ভুল। ২০১০ সালে আমেরিকায় এক গবেষণায় জানা গেছে, সুখী স্বছন্দ জীবন চালাতে বছরে আয় চাই ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার। এই পরিমাণের বেশি আয় হলে অবশ্যই কোনো ক্ষতি নেই, তবে এই পরিমাণের বাইরে সুখ-শান্তির সূচক টাকার সঙ্গে সঙ্গে ওভাবে ওঠানামা করে না। মানুষের স্বাভাবিক চাহিদাগুলো একবার পূরণ হয়ে গেলে বেশি টাকা মানেই কিন্তু বেশি সুখ নয়, বলেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনোবিদ ড্যানিয়েল গিল বার্ট। ২০১৫ সালের আরেক গবেষণায় প্রকাশ, অনেক টাকাকড়ি যে হারে দুঃখ কমাতে কাজে লাগে, সেই হারে সুখ বাড়াতে কাজে আসে না। খেয়াল রাখবেন, কেউই এ কথা বলছেন না যে, আপনার বেতন বা টাকার পরিমাণই সুখ-দুঃখ যাচাইয়ের একমাত্র নিয়ামক। টাকার বাইরে সুখের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে- সুস্বাস্থ্য, আপনজন, পরিবার, বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্কের কোয়ালিটি ইত্যাদি। এবার হালের সাড়া জাগানো সামাজিক অর্থনীতির একটি গবেষণার দিকে চোখ ঘুরানো যাক। ধরুন আপনি আমেরিকায় নিম্ন মধ্য আয়ের একজন পিতা বা মাতা। আপনার সন্তান একজন জিনিয়াস। গণিতে আপনার সন্তানের টেস্ট স্কোর সব সময় হান্ড্রেড পারসেন্ট। মনে করুন আপনার রয়েছে বিত্তশালী একজন বন্ধু যার সন্তান ও আপনার সন্তানের মতোই গণিতে জিনিয়াস। হালের আমেরিকায় আপনার সন্তানের চেয়ে আপনার বন্ধুর সন্তান সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। এর কারণ একটু পরে বোঝা যাবে।
২. রাজ শেঠি আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক। পাবলিক পলিসি নির্ধারণে তার গবেষণা ইতিমধ্যে পৃথিবীর অনেক দেশেই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। শেঠি এবং তার দল সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, মেধার তারতম্য না থাকা সত্ত্বেও দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া একজন শিশুর চেয়ে বিত্তশালী পরিবারের একজন শিশুর আমেরিকায় উদ্ভাবন বা রহহড়াধঃরড়হ ফিল্ডে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। উদ্ভাবনকে এ গবেষণায় গুরুত্ব দেয়ার কারণ হল আমেরিকার বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির অর্ধেক আসে ইনোভেশন বা উদ্ভাবন ফিল্ড থেকে (যেমন- বিজ্ঞানী, প্রযুক্তি গবেষক, ওষুধ আবিষ্কারক, এন্ট্রেপ্রিউনরের কাজের ক্ষেত্র)। আমেরিকায় কীভাবে আরও বেশি করে উদ্ভাবন ও মেধার ব্যাপ্তি বাড়ানো যায় এ প্রশ্নকে সামনে রেখে রাজ শেঠি এবং তার দল (এলেক্স বেল, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি; জেভিয়ার জেরাভেল, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স; নিভিয়ানা পেটকোভা, ইউএসএট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট; জন ভেন রিনেন, এমআইটি) ‘সুযোগের সমতা প্রজেক্ট’ ('Equality of Opportunity Project')-এর ব্যানারে কয়েক বছর ধরে গবেষণাটি সম্পন্ন করেছেন। তিন ধরনের উপাত্ত নিয়ে কাজ করেছে শেঠির দল :
এক. ১.২ মিলিয়ন আমেরিকান ইনভেন্টর যাদের প্রত্যেকের রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের প্যাটেন্ট।
দুই. উল্লিখিত ইনভেন্টরদের ফেডারেল ট্যাক্স এবং ইনকাম রেকর্ড।
তিন. থার্ড গ্রেড থেকে এইট গ্রেড পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটিপাবলিক স্কুলে পড়ুয়াদের স্ট্যান্ডারাইজড পরীক্ষার ম্যাথ স্কোর। এ ছাড়া সবার কলেজ এবং এডাল্ট জীবনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এ গবেষণায় নজর কাড়ার মতো কিছু বিষয় সামনে উঠে এসেছে-
* শিশুবেলা থেকে গণিতে অতি পারদর্শী ছেলেমেয়েদের ইনভেন্টর হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের চেয়ে বেশি। বলা বাহুল্য, ম্যাথ জিনিয়াস এসব শিশু এসে থাকে সব ধরনের ইনকাম ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে (অর্থাৎ মেধার ডিস্ট্রিবিউশন সাধারণত সসম)। কিন্তু টপ ম্যাথ স্কোরই যথেষ্ট নয়; টপ ম্যাথ স্কোরওয়ালাদের যারা টপ ইনকাম ফ্যামিলি থেকে এসেছে কেবল তাদের রয়েছে ইনভেন্টর হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা।
* নিু আয়ের পরিবারের ম্যাথ জিনিয়াস ছেলেমেয়েদের (যারা থার্ড গ্রেডের টপ ফাইভ পারসেন্টের মধ্যে) ইনভেন্টর হওয়ার সম্ভাবনা বিত্তশালী পরিবারের মেধায় সাধারণের নিচে থাকা ছেলেমেয়েদের চেয়ে বেশি নয়।
* মধ্য আয়ের পরিবারের মেধাবী ছেলেমেয়েদের উদ্ভাবন হার দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছেলেমেয়েদের উদ্ভাবন হারের কাছাকাছি।
* উদ্ভাবনে সবচেয়ে পিছিয়ে পড়ে আছে সাউদ ইস্টার্ন আমেরিকান স্টেটস, মধ্য ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা, নারীরা, হিস্পানিক এবং আফ্রিকান আমেরিকান বা কালোরা। যেমন- প্যাটেন্টের স্বত্বাধিকারী হওয়ার সম্ভাবনা একজন হোয়াইট শিশুর তিন গুণ বেশি একজন ব্ল্যাক শিশুর তুলনায় এবং প্যাটেন্ট হোল্ডারদের কেবল আঠারো শতাংশ নারী।
* উদ্ভাবন, প্রযুক্তি আর বিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার সুপ্ত সম্ভাবনা নিয়ে আমেরিকায় জন্ম নেয়া লাখ লাখ শিশু কেবল সুযোগ আর উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে অকালে হারিয়ে যাচ্ছে। এদের আমেরিকান মিডিয়ায় বলা হচ্ছে ঝরে যাওয়া আইনস্টাইন (Lost Einstein's)। তবে উদ্ভাবনে এই গ্যাপ বা অসমতার একমাত্র কারণ কেবল বিত্ত বা টাকা দিয়ে ব্যাখ্যা করলে তা হবে অতি সরলীকরণ। বিত্তের সঙ্গে সুযোগ এবং উপযুক্ত পরিবেশের রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। যেমন- এটা সম্ভব যে উদ্ভাবক এবং গবেষক-বিজ্ঞানীবেষ্টিত পরিবেশে বড় হওয়া ছেলেমেয়েরা ছোটবেলা থেকেই ওইসব ফিল্ডের প্রতি একটা আকর্ষণ ফিল করে। শেঠির গবেষণায় তাই এও ফুটে উঠেছে যে, কোনো এক বিশেষ ধরনের গবেষক বা গবেষণার আবহে বেড়ে ওঠা শিশুদের ওই ফিল্ডের দিকে ঝোঁকার চান্স বেশি। আবার নারী উদ্ভাবকের আধিক্য রয়েছে আমেরিকার এমন এলাকায় (যেমন- সেন্ট্রাল নিউ জার্সি, হনলুলু) বেড়ে ওঠা একজন মেয়ের ইনভেন্টর হওয়ার সম্ভাবনা আমেরিকার অন্য অঞ্চলের সমমেধার আরেকজন মেয়ের চেয়ে বেশি। উদ্ভাবনে মেয়েদের উপস্থিতি নগণ্য। এসব পর্যবেক্ষণ সমস্যার সমাধানে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যেমন- উদ্ভাবনে লিঙ্গবৈষম্য কমাতে অনেক পদক্ষেপের একটি হতে পারে গণিতে মেধাবী মেয়েদের শৈশবে আইডেন্টিফাইড করে নারী উদ্ভাবকের সাহচর্যে নিয়ে আসা। আমেরিকায় উদ্ভাবনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে যদি এ দারিদ্র্য, লিঙ্গবৈষম্য আর সুযোগের ঘাটতি কিছুটা হলেও কমানো যায়। উদ্ভাবনে নারী, সংখ্যালঘু শ্রেণী (যেমন- আফ্রিকান আমেরিকান, হিস্পানিক পপুলেশন) এবং লোয়ার ও মিডল ক্লাসের মেধাবী ছেলেমেয়েদের অংশগ্রহণ যদি বিত্তশালী হোয়াইট ছেলেমেয়েদের সমান করা যায়, তাহলে রাজ শেঠির হিসেবে আমেরিকায় উদ্ভাবকের সংখ্যা বর্তমানের চার গুণ হবে। শেঠি এক জায়গায় বলেছেন, ‘সুযোগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তা আপনি অসমতা বা সমাধিকার নিয়ে মাথা না ঘামালেও, নিম্ন আয়ের পরিবারের ছেলেমেয়েদের উত্তম প্রশিক্ষণ এবং আরও ভালো সুযোগের ব্যবস্থা করে দিতে পারলে তারা হয়তো অর্থনীতিতে শেষ অবধি আরও বেশি মাত্রায় অবদান রাখবে আর সেটা হবে সবার জন্য হিতকর।’ রাজ শেঠির কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা কঠিন, সে আপনি আমেরিকান হোন বা না হোন।
জাহেদ আহমদ : নিউইয়র্ক স্টেট গভর্নমেন্টে কর্মরত
humanistnyc@hotmail.com

মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই কৃতিত্ব শুরু হয়েছিল যার

বাংলাদেশের ইতিহাসে যে ঐতিহাসিক ঘটনা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে তা হচ্ছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ। স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর বুকে একটি স্বাধীন ভূখণ্ড এবং মানচিত্র পেয়েছি। বহু শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই স্বাধীনতা। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা ছিনিয়ে এনেছে এ স্বাধীনতা। আমাদের এই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অনেকেই চিরবিদায় নিয়ে এ পৃথিবী থেকে চলে গেছেন। জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যিনি তার লেখা, বক্তব্য এবং সাক্ষাৎকার দিয়ে আমাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে চিরজাগ্রত রাখতে সক্ষম হয়েছেন, তাদের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম। মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম ১৯৪৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলার শাহ্রাস্তি উপজেলার নাওড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নিজ গ্রামের নাওড়া স্কুল, পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায়, গোপালগঞ্জ মডেল স্কুল, পালং (বর্তমান শরীয়তপুর), কুমিল্লার চান্দিনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লেখাপড়া করেন এবং ১৯৫৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্নদা মডেল হাইস্কুল থেকে প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাস করেন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে আইএসসি পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে অনার্সে পড়াশোনা করেন। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায়ই তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ‘ইউপিপি’ সংবাদ সংস্থায় সাংবাদিকতা করেন। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান আর্মিতে যোগ দেয়ার পর ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান আর্মির ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন লাভ করেন। পরে তাকে আর্টিলারি কোরে নেয়া হয়।
১৯৬৮ সালে তিনি লাহোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে তার ইউনিট ‘২৪ ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্ট’সহ যশোর ক্যান্টনমেন্ট আসেন এবং রেজিমেন্টের অ্যাডজুট্যান্টের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ডেপুটেশনে দিনাজপুরে ৮ উইং ইপিআরের অ্যাসিস্ট্যান্ট উইং কমান্ডার নিযুক্ত হন। ১৯৭০ সালের প্রথম দিকে তিনি ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের চট্টগ্রাম হেডকোয়ার্টারে অ্যাডজুট্যান্ট পদে যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত ৮.৪০ মিনিটে তিনি তার অধীনস্থ ইপিআরের বাঙালি সৈনিক ও জেসিওদের নিয়ে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং রাত ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে পুরো চট্টগ্রাম শহর দখল করতে সক্ষম হন। স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি ১নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। ৫টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত ১নং সেক্টরটি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত ছিল। মেজর রফিক চট্টগ্রামের রেলওয়ে পাহাড়ে ‘ট্যাকটিক্যাল হেডকোয়ার্টার’ স্থাপন করেন এবং বীরত্বের সঙ্গে পুরো ১নং সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন। মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে চট্টগ্রাম এলাকার ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)-এর ১৩০০ জন বাঙালি সৈন্য নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে লিপ্ত হন। এদের প্রায় ৫০০ বাঙালি সৈনিক চট্টগ্রাম শহরের হালিশহর হেডকোয়ার্টারে এবং ৮০০ বাঙালি সৈনিক সীমান্ত এলাকাগুলোয় কর্মরত ছিল। যুদ্ধের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি চট্টগ্রামে বহুবার রাজনৈতিক ও সামরিক বাহিনীর কয়েকজন বাঙালি সদস্যের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করেন। হালিশহরে ইপিআর সৈনিকরা যুদ্ধ শুরুর এক মাস আগে চাইনিজ রাইফেল লাভ করে যা তাদেরকে পাকিস্তান সরকার দিয়েছিল বহু পুরনো ৩০৩ রাইফেল প্রতিস্থাপন করার জন্য। ফলে যুদ্ধ শুরু হলে ইপিআর সৈনিকদের হাতে ৩০৩ রাইফেল ও সমসংখ্যক চাইনিজ রাইফেল মিলে অস্ত্র ও গোলাবারুদে সংখ্যা ও পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। যুদ্ধকালীন তিনি চট্টগ্রাম কোর্ট বিল্ডিং, মেডিকেল কলেজ, নৌবাহিনী স্থাপনা, ভাটিয়ারি, ফৌজদারহাট, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রামগড় ও বেলুনিয়া এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন। তিনি ১০ জুলাই ১৯৭১ আগরতলা থেকে কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা করেন সেক্টর কমান্ডারদের সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য। সম্মেলন ১১-১৭ জুলাই পর্যন্ত চলে। সব সেক্টর কমান্ডার তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
সেই সম্মেলনে সম্মিলিত কাজের ধারা স্থির করা হয়। ১৫ জুলাই ১৯৭১ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে সব সেক্টর ও ফোর্স কমান্ডার দেখা করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। এ সময় কে ফোর্স, এস ফোর্স এবং জেড ফোর্স সংগঠিত করা হয় (তৎকালীন সামরিক বাহিনীতে বাঙালি সদস্যদের নিয়ে)। ওই সম্মেলনে সব সেক্টরের সীমানা নির্ধারণ, যুদ্ধের রণকৌশল এবং সব সেক্টরের মধ্যে সমন্বয়ের কৌশল নির্ধারণ করা হয়। ১০ আগস্ট ১৯৭১ তারিখে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম এলাকায়। ৬০ জন নৌ-কমান্ডো চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে কর্ণফুলী নদীর তীরে পাকিস্তানি জাহাজগুলোয় আক্রমণ পরিচালনা করে এবং ব্যাপক সফলতা অর্জিত হয়। মেজর রফিক তার সৈন্যদের দিয়ে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই একে একে এক নম্বর সেক্টরে পাকিস্তানি বাহিনীর শক্তিশালী নিরাপত্তা বেষ্টনী ক্রমান্বয়ে ভেঙে দিতে থাকেন। ১৩ এবং ১৪ ডিসেম্বর সীতাকুণ্ড ও কুমিরা এলাকা শত্র“মুক্ত করেন। ১৬ ডিসেম্বর যখন দেশ স্বাধীন হয়, তখনও চট্টগ্রাম ভাটিয়ারি এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মেজর রফিক এবং তার মুক্তিপাগল সৈনিকরা যুদ্ধে লিপ্ত থাকেন। তাদের সঙ্গে অবশ্য ডিসেম্বরের ৩ তারিখ থেকে ভারতের দুটি ব্রিগেড সমন্বয় করে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। এবং ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রামের পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও বীরত্বের জন্য তাকে জীবিত ব্যক্তিবর্গের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বীর উত্তম’-এ ভূষিত করা হয়। ১৯৭২ সালের ২৯ এপ্রিল সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর কিছুকাল তিনি চট্টগ্রামে সে সময়কার বহুল প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য পিপলস ভিউ’র সহযোগী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি ঢাকা ওয়াসার চেয়ারম্যান হয়ে ১৯৮১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ওই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তারপর হ্যান্ডলুম বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সর্বশেষ বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯৯০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশের প্রথম নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা (মন্ত্রীর পদমর্যাদা) হিসেবে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়- এই দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করার পর ১৯৯১ সালে চাকরি থেকে অবসরগ্রহণ করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ-শাহরাস্তি নির্বাচনী এলাকা-২৬৪, চাঁদপুর-৫ থেকে সপ্তম জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আবার চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ-শাহরাস্তি নির্বাচনী এলাকা-২৬৪, চাঁদপুর-৫ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং নবম জাতীয় সংসদে ‘মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হন এবং ‘নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়’ সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামের পিতা (মরহুম) আশরাফ উল্লাহ ঢাকা জেলার ‘ডিস্ট্রিক্ট এডুকেশন অফিসার’ ছিলেন। তিন ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম পিতামাতার জ্যেষ্ঠ সন্তান। মাতা (মরহুমা) রহিমা বেগম চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার সক্দি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রয়াত স্ত্রী রুবি ইসলাম চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার এক রক্ষণশীল ও সুপরিচিত পরিবারের সন্তান। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে রচিত তার মূল গ্রন্থ ‘এ টেল অব মিলিয়নস্’ বইটি ১৯৭৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯৮১ সালে ‘এ টেল অব মিলিয়নস্’ বইটি পরিবর্ধিত আকারে এবং বইটির বাংলা অনুবাদ ‘লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে’ একই সময় প্রকাশিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার করুণ ও বেদনাময় কাহিনী নিয়ে রচিত তার আরেকটি বই ‘মুক্তির সোপানতলে’ প্রকাশিত হয় ২০০১ সালের জুলাইয়ে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সমকালীন বিষয়াদির ওপর তার বেশকিছু লেখা প্রকাশিত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর রফিক শুধু আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নয়, পরবর্তীকালে সব সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অংশ নিয়ে দেশ এবং দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি তার দায়িত্ব ও কর্তব্য নিঃস্বার্থভাবে পালন করেন যা ছিল দৃষ্টান্তমূলক। দেশমাতৃকার জন্য যুদ্ধ করা একটি বিরাট গৌরব এবং প্রশান্তির ব্যাপার, যা মেজর রফিক তার যৌবনে বীরত্বের সঙ্গে পালন করেছেন। দেশের সেই ক্রান্তিলগ্নে সামরিক, আধা সামরিক এবং বেসামরিক মুক্তিপাগল মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে স্বাধীনতার যুদ্ধে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে দেশের জন্য বিজয় বয়ে আনতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশের মানুষ বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর রফিকের অবদান কোনোদিন ভুলবে না।
রায়হানুল ইসলাম : প্রাবন্ধিক