Wednesday, November 25, 2015

পথশিশুদের জন্য পুরো খেলনার দোকান

যুদ্ধ, সন্ত্রাস, হানাহানির পৃথিবীতে ভাল মানুষ খুঁজে পাওয়াটাই যেন হয়ে গেছে দারুণ কঠিন। কিন্তু একেবারে মানুষশূণ্য যে হয়নি পৃথিবী, তার প্রমাণ ক্যারল শুখম্যান। নিউইয়র্কের বাসিন্দা এই নারী পেশায় একজন ব্যবসায়ী। শিশুদের জন্য, বিশেষত পথের ঘরহীন শিশুদের জন্য, তার দরদী মন অনেক কিছুই করতে চায়। এবার তিনি তারই প্রমাণ দিলেন।
ঘরহীন পথের সব শিশুকে ঘর দিতে না পারলেও এদের হাতে তিনি আপাতত তুলে দিতে চান খেলনা। যাতে ওদের দুঃখী মনে কিছুটা আনন্দের ছোঁয়া অন্তত লাগে। এই ভাবনা থেকে তিনি এবার গোটা একটা খেলনার দোকান কিনে ফেলেছেন। দোকানভর্তি সব খেলনা তিনি তুলে দেবেন সুখবঞ্চিত এসব শিশুর হাতে।
প্রতিবছরই হলিডে সিজনে তিনি পথশিশুদের আনন্দ দিতে খেলনা উপহার দিয়ে থাকেন। এবারও খেলনা কেনার জন্য বেরিয়ে পড়ার পর ম্যানহাটান ওয়েস্ট ভিলেজ দিয়ে যাবার সময় তার নজরে পড়ে শাটারবদ্ধ হাডসন পার্টিস্টোরটি। ওটারর গায়ে ‘ফর রেন্ট’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছিল। তখন তিনি ভাবলেন এবার আর অন্যবারের মতো ছোট আকারে কিছু করবেন না। পুরো দোকানটাই কিনে ফেলবেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ।
তার নিজের ভাষায়, ‘যখন আমি এই খেলনার দোকানটি দেখলাম তখন আমার মনে হলো এবার আমি বড় আকারের কিছু করতে পারি।’ অবশেষে সেটাই করলেন তিনি।

অন্য মামলাগুলোর কী হবে?

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে শনিবার দিবাগত রাতে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেও মুজাহিদের বিরুদ্ধে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাসহ বেশ কিছু মামলা বিচারাধীন। এসব ঘটনায় মুজাহিদ জড়িত ছিলেন কি ছিলেন না- সে প্রশ্ন এখন রয়েই যাবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, ফৌজদারি আইন অনুযায়ী কারও বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলে কোন মামলায় মৃত্যুদণ্ড রায় হলে এবং তা কার্যকর হলে তার ক্ষেত্রে অন্য মামলাগুলো অকার্যকর হয়ে যায়। কারণ মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ধরনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও রায় ঘোষণা করা হয় না।
মুজাহিদের আইনজীবী ও পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, ৫ বছরের বেশি সময় ধরে মুজাহিদের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাসহ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, গাড়ি পোড়ানো, পুলিশের কাজে বাধাদানসহ ১৩টি মামলা করা হয়। রাজধানীর বিভিন্ন থানাসহ ফরিদপুরের বিভিন্ন থানায় মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। মুজাহিদের আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, সব মামলাই বর্তমান সরকারের আমলে করা। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত-সংক্রান্ত এমনি একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯শে জুন গ্রেপ্তার হন জামায়াত নেতা মুজাহিদ। একই বছরের ২রা আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। চলতি বছরের ১৬ই জুন মুজাহিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত ৪ সদস্যের আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ। মুজাহিদের আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই দিনই ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে হাজির করা হয় রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে স্থাপিত বিশেষ আদালতে। এমনকি আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার রায় ঘোষণার পর ৯ ও ১০ই নভেম্বর এ মামলায় অন্যদের সঙ্গে তাকেও হাজিরা দিতে হয়। ২৩শে নভেম্বর সোমবারও ২১শে আগস্ট মামলায় তার হাজিরার কথা ছিল।
মুজাহিদের মৃত্যুদ  কার্যকরের কয়েক ঘন্টা আগে ২১শে নভেম্বর দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে মুজাহিদের পরিবারের পক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদের স্ত্রী তামান্না-ই-জাহান বলেন, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আগে যে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) ছিল সেখানে মুজাহিদের নাম ছিল না। ২০১০ সালে তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাগারে থাকাবস্থায় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলমান থাকাবস্থায় ২০১১ সালে এ মামলায় সম্পূরক চার্জশিটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং নিয়মিতভাবে তাকে এ মামলায় হাজির করা হয়।  তিনি বলেন, ২১শে আগস্ট মামলায় এখন সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। সম্পূরক চার্জশিটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জাতির সামনে তিনি একজন হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন। তাই বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে এই মামলায় নিজের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অধিকার রাখেন তিনি। মুজাহিদের উদ্ধৃতি দিয়ে তার স্ত্রী বলেন, ১৯শে নভেম্বর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি বলেছেন, ২১শে আগস্টে গ্রেনেড হামলা মামলায় তার অবস্থান কী হবে তা তিনি লিখিতভাবে প্রেসিডেন্টের কাছে জানতে চাইবেন।
জানতে চাইলে মুজাহিদের ছেলে আলী আহমেদ মাবরুর মানবজমিনকে বলেন, ওনার (মুজাহিদ) বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ছাড়াও আরও ১২টি মামলা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২১শে আগস্ট মামলায় নিয়মিতই তিনি হাজিরা দিয়েছেন। এখন আমাদের প্রশ্ন- মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর ২১শে আগস্টের মামলাসহ ওনার বিরুদ্ধে দাখিলকৃত মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে? কিন্তু এ প্রশ্ন কার কাছে করবো? তিনি বলেন, আইনজীবীরা বলছেন, আব্বার মৃত্যু হওয়ায় এসব মামলার কার্যকারিতা এমনিতেই শেষ হয়ে যাবে। আদালত হয়তো এটি করবেন। কিন্তু মামলার কার্যকারিতা নষ্ট হওয়া মানে তো তিনি এসব মামলায় দোষী না নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া নয়। মাবরুর আরও বলেন, ২১শে আগস্ট মামলায় এখন পর্যন্ত ১৭৫ জনের বেশি সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। কিন্তু কোন সাক্ষী এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার কথা বলেননি। এখন ২১শে আগস্ট মামলায় তিনি দোষী না নির্দোষী- সেটা যেমন তিনিও জানতে পারেননি, তেমনি আমরাও জানতে পারলাম না।
এদিকে মুজাহিদের পরিবারের সদস্যদের এমন দাবির বিষয়ে শনিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, মুজাহিদের পরিবার এসব কথা বলে জনমনে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা দাবি করেন, ফৌজদারি আইনে বলা আছে, যদি কারও বিরুদ্ধে ৫টি মামলাও থাকে এবং একটিতে যদি তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, তাহলে অন্য মামলাগুলো এমনিতেই অকার্যকর হয়ে যাবে। কারণ মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত কোন সাক্ষ্য গ্রহণ করেন না এবং রায়ও দেবেন না। মাহবুবে আলম আরও বলেন, তার (মুজাহিদ) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ অন্যান্য মামলায় তার আর কোন দায় থাকবে না। জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার পূর্ব কথার পুনরাবৃত্তি করে মানবজমিনকে বলেন, ক্রিমিনাল জুরিসপ্রুডেন্স অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেমন কোন সাক্ষ্য গ্রহণ হয় না, তেমনি কোন রায়ও ঘোষণা করা যায় না। মুজাহিদের পরিবার যা বলছে তা অযথাই বলছে।
২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় মুজাহিদের আইনজীবী পারভেজ হোসেন মানবজমিনকে বলেন, সংবিধানের ৪৯ ধারা অনুযায়ী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড রহিত করার জন্য সংবাদ সম্মেলন করে আমরা আবেদন জানিয়েছিলাম। যাতে তিনি ২১শে আগস্ট মামলায় দোষী না নির্দোষ তা প্রমাণ করার সুযোগ পান। কিন্তু সে সুযোগ তিনি পাননি। তিনি বলেন, গত সোমবার এ মামলায় মুজাহিদের হাজির হওয়ার কথা ছিল। আদালতের বিচারক আসামি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুর বিষয়সংক্রান্ত নথিপত্র দাখিলের জন্য প্রসিকিউশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। আইনানুযায়ী এ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হবে। মৃত্যুবরণ করায় শুধু এ মামলা নয়, অন্যান্য মামলা থেকেও মৃত ব্যক্তি হিসেবে তিনি অব্যাহতি পাবেন।
২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান এ বিষয়ে মানবজমিনকে বলেন, আদালত মুজাহিদের মৃত্যু সংক্রান্ত নথিপত্র দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কারাগার থেকে তা এসে পৌঁছলেই আমরা আদালতে তা দাখিল করবো। ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়ায় এই মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পাবেন। তিনি বলেন, যেহেতু মুজাহিদ মৃত্যুবরণ করেছেন তাই আইন অনুযায়ী এ মামলায় ওনার বিচার আর হবে না। উনি দোষী না নির্দোষ সেটিও রায়ে উল্লেখ থাকবে না।

তিনটে পৃথিবীর মাপের গ্রহ, পুরোটাই হিরের!

হিরে। শুধুই হিরে। তাল তাল হিরে। যেন হিরের পাহাড়! হিরের সমুদ্র! শুধুই হিরে ভরা আছে তার অন্তরে-অন্দরে। তার ‘সারফেস’ বা পিঠেও মুঠো মুঠো হিরে। এত বড় হিরের খনির হদিশ এর আগে মেলেনি মহাকাশে!
আলো ঠিকরে বেরচ্ছে। যেন কয়েক লক্ষ কোটি মেগাওয়াটের আলো! যার জাঁক-জৌলুস ছিঁড়েফুড়ে দিচ্ছে মহাকাশের অতল অন্ধকার!
হাত বাড়ালেই সেই হিরের খনি। আমাদের থেকে মাত্র ৪০ আলোকবর্ষ (এক সেকেন্ডে এক লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল গতিবেগে আলো এক বছরে যতটা দূরত্ব যায়, ততটা) দূরে। বলা যায়, আমাদের সৌরমণ্ডলের ‘পাশের বাড়ির বন্ধু’!
সেই হিরের খনি কত বড়, জানেন?
চমকে যাবেন না! তিন-তিনটি পৃথিবীকে পাশাপাশি রাখলে, তা যতটা জায়গা জুড়ে থাকে, ততটা জায়গা জুড়ে রয়েছে ওই হিরের খনি। রাতের আকাশে যাকে আমরা ছাদে উঠে খালি চোখেই দেখতে পারি। ‘ক্যান্সার’ নক্ষত্রপুঞ্জে। যে চক্কর মারছে ‘55Cancri’ নামে একটা অসম্ভব রকমের গরম তারা বা নক্ষত্রের চারপাশে। সেটাই তার ‘সূর্য’। সেই ‘সূর্য’কে চক্কর মারছে পাঁচটি গ্রহ। ‘Cancri-a’ থেকে ‘Cancri-e’। আমরা যে হিরের খনির কথা বলছি, সেই ‘Cancri-e’ গ্রহটি ওই ‘সৌরমণ্ডলে’র বাকি চারটি গ্রহের থেকে একেবারেই আলাদা। একেবারে ঝকঝকে হিরেয় মোড়া, প্রায় আদ্যোপান্তই!
২০১১-য় এই ‘হিরের গ্রহ’টি প্রথম যাঁর নজরে পড়েছিল, তিনি এক জন ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিক্কু মধুসূদন। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ কানানি লি’র সঙ্গে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোনমির অধ্যাপক নিক্কু মধুসূদনের সেই যৌথ গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয় ‘অ্যাস্টোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’-এ।
কতটা হিরে রয়েছে আমাদের সবচেয়ে কাছের ওই বৃহত্তম হিরের খনিতে?
জ্যোতির্বিজ্ঞানী মধুসূদন তাঁর ব্লগে জানিয়েছেন, ‘‘আমাদের সৌরমণ্ডলের বাইরে থাকা ওই ‘সুপার আর্থ’ গ্রহের এক-তৃতীয়াংশই হিরেয় মোড়া। তার পিঠটাও মোড়া রয়েছে হিরে আর গ্রাফাইটে। সেই গ্রাফাইট, যা দিয়ে বানানো হয় পেন্সিলের শিস। তিনটি পৃথিবীর ওজন যোগ করলে যা হয়, ততটাই। মানে, ১৭.৯১৬-এর পর ২৭টা শূ্ন্য বসালে যে সংখ্যাটা দাঁড়ায়, তত কিলোগ্রাম! এখন আমাদের এই গ্রহে এক ক্যারাট বা ০.২ গ্রাম ওজনের হিরের দাম কয়েক হাজার মার্কিন ডলার। তা হলে বুঝুন, আমাদের প্রায় নাগালেই থাকা ওই গ্রহের দাম কত হতে পারে!’’
কী ভাবে জন্মাল ওই ‘হিরের গ্রহ’?
বেঙ্গালুরু থেকে টেলিফোনে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর জোতির্বিজ্ঞানী সুজন সেনগুপ্ত জানাচ্ছেন, ‘‘এই সদ্য আবিষ্কৃত ‘Cancri-e’ গ্রহটি একটি পাথুরে গ্রহ। পৃথিবীর মতো পাথুরে গ্রহগুলিতে অক্সিজেন অণুর পরিমাণ কার্বন অণুর দ্বিগুণ। তাই ভূপৃষ্ঠে অক্সিজেনের যৌগ জল, কার্বন ডাই-অক্সাইড আর সিলিকেট অক্সাইড পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে। মঙ্গলও অনেকটা সে রকমই। আসলে আমাদের সৌরমণ্ডলে যে মেঘ থেকে বিভিন্ন গ্রহের জন্ম হয়েছিল, তাতে কার্বনের চেয়ে অক্সিজেন অণুর পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। কিন্তু, পরিস্থিতিটা যদি উল্টো হয়, যদি অন্য কোনও ‘সৌরমণ্ডলে’ কার্বনের পরিমাণ বেশি হয়ে যায় অক্সিজেনের চেয়ে কোনও তারা বা তার গ্রহে, তা হলে সেই ‘সূর্য’কে বলা হয় ‘কার্বন স্টার’। আর তার চার পাশে যে ‘গ্রহ’গুলি চক্কর মারে, তাদের বলা হয় ‘কার্বন প্ল্যানেট’। প্রচণ্ড তাপ আর চাপে ওই কার্বন পরমাণুগুলিই হিরের কেলাস তৈরি করে। সেই ভাবেই গড়ে ওঠে ‘হিরের গ্রহ’ বা ‘ডায়মণ্ড প্ল্যানেট’। তাপ ও চাপ অত্যন্ত বেশি বলে আমাদের পৃথিবীরও পিঠের ১৫০/২০০ কিলোমিটার নীচে হিরে জন্মায়। অগ্ন্যুৎপাতে নীচ থেকে সেই হিরে আমাদের ভূপৃষ্ঠের ওপরে উঠে আসে। এটাই আমাদের প্রাকৃতিক হিরে। কিন্তু তাপ ও চাপ দুই-ই পৃথিবীর চেয়ে অনেক বেশি বলে হিরের গ্রহ ‘Cancri-e’তে হিরের উজ্জ্বলতা অনেক বেশি। কাঠিন্যও বেশি। হিরের গ্রহের পিঠের তাপমাত্রা প্রায় ৩৯০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। সে তার ‘সূর্য’ ‘55Cancri’-র রয়েছে খুব কাছেই। মানে, তার গা জ্বলে-পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে।’’
আরও কি ‘হিরের গ্রহ’ থাকতে পারে মহাকাশে?
সুজনবাবু জানাচ্ছেন, ‘‘আরও অনেক হিরের গ্রহ রয়েছে। আর তা হয়তো রয়েছে অন্য কোনও সৌরমণ্ডলের ‘হ্যাবিটেব্‌ল জোন’ বা বাসযোগ্য এলাকায়!’’
তা হলে তো এমন সময়ও আসতে পারে, যে দিন অন্য সৌরমণ্ডলে পাওয়া যাবে দুর্মূল্য হিরের খনির মালিক!
যাকে বলে সোনায় সোহাগা! ভিন গ্রহে প্রাণও হল! উপরি পাওনা হল- হিরে!
সুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

মাওলানা নিজামীর আপিলের যুক্তি উপস্থাপন ৩০ নভেম্বর

জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর খালাস চেয়ে দায়ের করা আপিল আবেদনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হবে আগামী ৩০ নভেম্বর। আগামী ৩০ নভেম্বর এবং ১ ও ২ ডিসেম্বর আপিলের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন মাওলানা নিজামীর আইনজীবীরা। এরপর ৭ ডিসেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেলকে তার বক্তব্য উপস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এরপর দিন ৮ ডিসেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করবেন মাওলানা দিবেন নিজামীর আইনজীবীরা।
আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
আজ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চারজন ডিফেন্স সাক্ষীর জবানবন্দী ও জেরা পড়া শেষ করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান। নিজামীর অপর দুই আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির ও ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন তাকে সহায়তা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্তি অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির।
অ্যাডভোকেট শিশির মনির জানান, ৩০ নভেম্বর, ১ ও ২ ডিসেম্বর আমাদের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য রাখা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল ৭ ডিসেম্বর এবং আমাদের ৮ ডিসেম্বর পাল্টা যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করে দেয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৭, ১৮, ২৩ ও ২৪ নভেম্বর মাওলানা নিজামীর আইনজীবী এস এম শাহজাহান মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দী ও জেরা পড়া শেষ করেন।
গত বছরের ২৩ নভেম্বর মাওলানা নিজামীর খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদন দায়ের করেন তার আইনজীবীরা। ১২১ পৃষ্টার মূল আপিল আবেদনে ১৬৮টি যুক্ত দেখিয়ে মাওলানা নিজামীর খালাস চাওয়া হয়। আবেদনে ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার দলিল দস্তাবেজ জমা দেয়া হয়।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দ্বায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ৮ টিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এর মধ্যে চারটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর চারটি অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া বাকি আটটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মাওলানা নিজামীকে অভিযোগগুলো থেকে অব্যাহিতি দেয়া হয়।

রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করল তুরস্ক

সিরিয়া সীমান্তে রাশিয়ার একটি যুদ্ধবিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে তুরস্ক। মঙ্গলবার আকাশসীমা লংঘন করায় বিমানটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে তুরস্কের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন। বিমানটি সিরিয়া ভূখণ্ডে লাটকিয়ার ইয়ামদি গ্রামের খুব নিচু দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। ১৯৫০-এর দশকের পর এই প্রথম ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশের সশস্ত্র বাহিনী রাশিয়ান কিংবা সোভিয়েত সামরিক বিমান ভূপাতিত করল। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের কয়েকটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, বিমানটি রাশিয়ার তৈরি সু-২৪ যুদ্ধবিমান। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও বলেছে, তাদের একটি এসইউ-২৪ বিমান সিরীয় এলাকায় ভূমি থেকে ছোড়া গুলির আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে।
পাইলটের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা জানার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক খবরে পাইলট বিমান থেকে বের হয়ে যেতে সক্ষম হন, মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে ইন্টারফ্যাক্স বার্তা সংস্থা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানের দু’জন পাইলটকে তারা ছিটকে পড়তে দেখেছিলেন। তুরস্কের সামরিক বাহিনী বলেছে, গুলি করার আগে তুর্কি জঙ্গিবিমানগুলো ৫ মিনিটের মধ্যে অন্তত ১০ বার বিমানটিকে আকাশসীমা লংঘনের বিষয়ে সতর্ক করেছিল। তবে মস্কো সিরিয়া সীমান্তে তুরস্কের আকাশসীমা লংঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং যুদ্ধবিমানটি যে সিরিয়ার আকাশে ছিল এর প্রমাণও আছে বলে দাবি করেছে। তুরস্কের বেসরকারি হ্যাবেরতুর্ক টিভির সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, জলন্ত একটি যুদ্ধবিমান বন এলাকায় পড়ে যাচ্ছে এবং বিমানটির পেছনে ধোঁয়ার দীর্ঘ কুণ্ডলি। তুরস্কের আরেকটি বার্তা সংস্থা আনাদলুর ফুটেজে দেখা গেছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে এর দুই পাইলট প্যারাসুটে করে বের হয়ে গেছেন। একজন পাইলট সিরিয়ার তুর্কমেন বাহিনীর হাতে পড়েছে এবং আরেকজনের খোঁজ চলছে বলে স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে সিএনএন তুর্ক সম্প্রচার মাধ্যম। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পক্ষ হয়ে রাশিয়া সিরিয়ার বিভিন্ন বিদ্রোহী পক্ষের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালাচ্ছে। এর আগে রাশিয়ার যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে সীমানা লংঘনের অভিযোগ করে একাধিকবার হুশিয়ারি দিয়েছিল তুরস্ক। এদিকে রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করায় তুরস্ককে চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুংকার দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন। তিনি এ ঘটনাকে মস্কোর ‘পিঠে ছুরি মারা’ বলে অভিহিত করেছেন।
মঙ্গলবার তিনি জর্ডানের বাদশাহর সঙ্গে এক টেলিভিশন বক্তব্যে বলেন, ‘আজকের মর্মান্তিক ঘটনা রুশ-তুর্কি সম্পর্কে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে। আমরা সবকিছু সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি।’ ভূপাতিত বিমানটি তুরস্কের নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পুতিন বলেন, তুরস্কের এফ-১৬ বিমান থেকে সিরিয়ার ভেতরেই গুলি করা হয়েছে। বিমানটি ভূপাতিত হয়ে সীমান্ত থেকে চার কিলোমিটার দূরে সিরিয়ার ভেতরে পড়েছে। বিমান ভূপাতনে মার্কিন বাহিনী জড়িত নয়- যুক্তরাষ্ট্র : রুশ বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় মার্কিন বাহিনী জড়িত নয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। নাম না প্রকাশ না করার শর্তে একজন পেন্টাগন কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের মিত্র তুরস্ক জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী সিরিয়া সীমান্তে রাশিয়ার একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। এ মুহূর্তে আমরা নিশ্চিত করতে পারি, এতে মার্কিন বাহিনী জড়িত নয়।’ তুরস্কে মার্কিন বাহিনীর শক্ত অবস্থান রয়েছে। তুর্কি বিমানঘাঁটি থেকে সিরিয়ায় আইএস অবস্থানে বিমান হামলা করে ওয়াশিংটন। জরুরি বৈঠক ডেকেছে ন্যাটো : তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠক ডেকেছে ইউরোপের সামরিক জোট ন্যাটো। ব্রাসেলসে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একজন কর্মকর্তা বলেন, ন্যাটো গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তুর্কি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলছি। এর আগে তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে সিরীয় সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলু সামরিক বাহিনীর প্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে বিবৃতিতে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। দাভুতোগলু সিরীয় সীমান্তের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে ন্যাটো, জাতিসংঘ ও এ সম্পর্কিত অন্য দেশেগুলোর সঙ্গে কথা বলার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

ভয়ে ভারত ছাড়তে চান আমির পত্নী

লেখকদের পর ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান। এবার মুখ খুললেন আরেক সুপারস্টার আমির খান। প্রতিবাদে শামিল হয়ে তিনিও যোগ দিয়েছেন এ কাতারে। সোমবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আয়োজিত সাংবাদিকতার এক পুরস্কার উৎসবে আমির বলেন, তিনি গত কয়েক মাসে অসহিষ্ণু কার্যকলাপ দেখে হুমকি বোধ করছেন। ইতিমধ্যে তার স্ত্রী কিরণ রাও সপরিবারে দেশ ছাড়ার বিষয়েও আলোচনা করেছেন বলে জানান আমির। ‘আমরা কাগজে পড়ছি কী ঘটছে। টিভিতে দেখছি কী ঘটছে এবং অবশ্যই আতংকিত হচ্ছি। কিরণের সঙ্গে যখন এ নিয়ে কথা বলি, ও জিজ্ঞাসা করে- আমাদের কি ভারত ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত? ও ওর বাচ্চার জন্য ভীত। আমাদের চারদিকের অবস্থা কী হবে, তা ভেবে ও ভীত। ও এখন খবরের কাগজ খুলতে ভয় পায়।’ তিনি বলেন, “কিরণ আর আমি দু’জনেই সারা জীবন ভারতে কাটিয়েছি। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে ভেবে ভয় পাচ্ছেন কিরণ।’’
আমির জানান, ‘যে কোনো অহিংস আন্দোলনেই তার সমর্থন রয়েছে। যতক্ষণ কেউ অহিংস পথে প্রতিবাদ জানান, ততক্ষণ তার প্রতিবাদ করার অধিকারও রয়েছে।’ এদিকে দিল্লির নিউ অশোকনগর থানায় বলিউডের এ মেগাস্টারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। দিল্লির রাস্তায় অভিনেতার পোস্টার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। অসহিষ্ণুতা প্রসঙ্গে বিজেপিকেও এক হাত নিয়েছেন আমির। তিনি বলেন, ‘টিভির ডিবেট শো-তে দেখি বর্তমান শাসক দল বিজেপি অসহিষ্ণুতার জন্য বিভিন্ন ঘটনাকে দায়ী করে। তারা বারবার ১৯৮৪ সালের কথা বলে। কিন্তু এটা কোনো কাজের কথা নয়।’ ধর্মের দোহাই দিয়ে যেভাবে সন্ত্রাসবাদ দানা বাঁধছে, তা নিয়েও কথা বলেন আমির খান। আমির মনে করেন, ধর্মের সঙ্গে আতংকবাদকে জুড়ে দেয়া উচিত নয়। আমিরের কথায়, ‘সন্ত্রাসবাদীদের কোনো ধর্ম নেই। তা সত্ত্বেও কোনো হিংসার ঘটনা ঘটলে,
তার সঙ্গে ধর্মকে জুড়ে দেয়া হচ্ছে। আমরা আগে খুঁজি সে ইসলামিক জঙ্গি নাকি হিন্দু জঙ্গি। আমিরের পাশে রাহুল, কেজরি : অসহিষ্ণু বিতর্কে আমির খানের পাশে দাঁড়ালেন কংগ্রেস সহসভাপতি রাহুল গান্ধী ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। টুইট বার্তায় রাহুল বলেছেন, ‘মোদি ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে যারা প্রশ্ন তুলছেন, তাদের দেশদ্রোহী ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলা উচিত নয়। তার বদলে সমালোচকদের সঙ্গে কথা বলুক কেন্দ্র। বোঝার চেষ্টা করুক কোন পরিস্থিতিতে এমন মন্তব্য করছেন তারা। এদেশে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হয়, গা জোয়ারি করে বা ভয় দেখিয়ে নয়।’ অন্যদিকে কেজরিওয়াল লিখেছেন, আমির খানের বলা প্রতিটি শব্দ ভীষণ সত্য। বলিউড পাড়ায় শোরগোল ঋষি কাপুর : ‘প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশে সংস্কারের প্রয়োজন হয়। এসব ক্ষেত্রে দেশ ছেড়ে না পালিয়ে সেই ভুলগুলো শুধরে দিন আমির খান এবং কিরণ রাও। এটাই হিরোইজম।
রবিনা টন্ডন : ‘যারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদিকে দেখতে চাননি, তারাই এখন সরকারকে ফেলার চেষ্টা করছেন। রাজনীতির জন্য আসলে তারা দেশকেই লজ্জিত করছেন।’
রামগোপাল বর্মা : ‘আমির, শাহরুখ, সালমান- তিন মুসলিম দেশের সব থেকে জনপ্রিয় তারকা। এর থেকে কি প্রমাণ হয় না, ভারত সহিষ্ণু!’
পরেশ রাওয়াল : ‘আমির তুমি একজন যোদ্ধা। দেশে থেকে খারাপ পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করা উচিত। জিনা ইঁহা, মরনা ইঁহা। একজন দেশপ্রেমিকের দেশ ছেড়ে যাওয়া উচিত নয়। এটাকে মাতৃভূমি ভাবলে কখনোই পালানোর কথা বলতাম না। তবে না ভাবলে অবশ্যই বলতাম।’
স্মৃতি ইরানি : ‘ভারত সহিষ্ণু বলেই আমির খান এত কথা বলতে পারছেন।’
শাহনওয়াজ হুসেন : ‘রাহুল গান্ধী এখন আমির খানের হয়ে কথা বলছেন। এর থেকেই স্পষ্ট, দেশকে কলংকিত করার ষড়যন্ত্র চলছে।’
বিজেপি নেতা মনোজ তিওয়ারি : ‘আমার মতো যারা এতদিন আমির খানের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, তা এ মন্তব্যের পর হারিয়ে যাবে।’

মুখোমুখি তুরস্ক-রাশিয়া, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আলামত

তুরস্কের হাতে রাশিয়ার যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করায় মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধের দামামা বাজছে। এ যুদ্ধ হতে পারে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে। তবে তাতে তুরস্কের সঙ্গে যোগ দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র সহ ন্যাটোভুক্ত আরও কিছু দেশ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনও ক্ষেপেছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার যুদ্ধবিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করায় তার ‘পিঠে ছুরিকাঘাত’ করা হয়েছে। তবে কি তিনি এর বদলা নেবেন? পারমাণবিক শক্তিধর রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কথায় তারই প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। যদি তিনি বদলা নেন তাহলে সেটা হতে পারে পারমাণবিক যুদ্ধ। এ যুদ্ধই রূপ নিতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে। মস্কোর প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক পাভেল ফেলজেঙ্গুর এমন এক সংঘাতের মুখে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা ছাড়া আর কোন সুযোগ নেই বলেই মনে করেন। তিনি রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক বিশ্লেষক। তার মতে, রাশিয়া-তুরস্ক সংঘাত যদি যুদ্ধের পর্যায়ে যায়, তাতে জড়িয়ে পড়বে ন্যাটো। এতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি আলামত পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে রাশিয়া যখন সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় তখন পশ্চিমা নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আভাষ দিয়েছিলেন মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই শুরু হতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। কারণ, সিরিয়ার আকাশে যেভাবে রাশিয়ার যুদ্ধবিমান, মার্কিন যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য দেশের যুুদ্ধবিমানের উড়াউড়ি তাতে যেকোন সময় তাদের মধ্যে টক্কর লেগে যাওয়া খুবই সম্ভব। এমনটা হলেই ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে লাগতে পারে বিশ্বযুদ্ধ। এমন যুদ্ধ হলে একদিকের জোটে থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, কাতার, বেলজিয়াম, কানাডা, জর্ডান, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক ও তুরস্ক। অন্যদিকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পক্ষ নিয়ে একজোট হতে পারে রাশিয়া, সিরিয়া, ইরান, চীন, লেবানন ও ইরাক। তৃতীয় একটি শক্তি হিসেবে থাকতে পারে ইসলামিক স্টেট বা আইএস। রাশিয়ান বিশ্লেষক পাভেল বলেছেন, মঙ্গলবার তুরস্ক রাশিয়ার যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। এর ফলে হয়তো মস্কোকে ওই জোন মেনে নিতে হবে না হয় তুরস্কের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। তবে সে যুদ্ধে জয় আসবে যদি তা হয় পারমাণবিক যুদ্ধ। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে যুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। যদি আমাদের  বোমারুদের নিরাপত্তা দিতে হয় তাহলে তুরস্কের যুদ্ধবিমানে হামলা চালাতে হবে। এতে লড়াই আরও জোরালো হবে। রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে নৌপথেও যুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে তুরস্ক হয়তো বোসফোরাস প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে। এই প্রণালী বা খাল দিয়েই রাশিয়ার ব্লাক সি ফ্লিটগুলো যায় ভূমধ্যসাগরে। এ ছাড়া তাদের ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার আর কোন পথ নেই। এক্ষেত্রে তুরস্কের সঙ্গে যোগ দিতে পারে ন্যাটোর অন্য দেশগুলো। যদি তা-ই হয় তাহলে রাশিয়ার সামনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই বললেই চলে। এভাবে যুদ্ধ শুরু হলে তা হবে দীর্ঘস্থায়ী। এরই মধ্যে ভøাদিমির পুতিন ‘করুণ পরিণতি’র হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের পাইলট বা আমাদের যুদ্ধবিমান তুরস্কের সীমানায় প্রবেশ করেনি। যার জন্য তুরস্কের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়েছে। এটা সন্ত্রাসী হামলা। একে অন্য কোনভাবে বর্ণনা করা যায় না। তিনি দাবি করেন, রাশিয়ার যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে সিরিয়ার ৪ কিলোমিটার ভিতরে। মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট নিয়ে যখন ক্রমেই উত্তেজনা বাড়ছে তখন রাশিয়া ও তুরস্কের ঘটনা সেই উত্তেজনাকে আরেক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে তুরস্কের প্রতি এরই মধ্যে সমর্থন দিয়েছেন ন্যাটোর মহাসচিব ইয়ান্স স্টল্টেনবার্র্গ। রাশিয়ার বিমান তুরস্কের অভ্যন্তরে ভূপাতিত হয়েছে বলে তার দাবি। ওদিকে দু’পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।
ওদিকে বিবিসি জানায়, সিরিয়া-তুরস্কে সীমান্তে ভূপাতিত জেট বিমানের ক্রুদের উদ্ধার করতে গিয়ে রাশিয়ার একজন মেরিন সেনা নিহত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযানে যাওয়া দুইটি হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা গুলি করলে এই ঘটনা ঘটে। জরুরি অবতরণের পর একটি হেলিকপ্টারে মর্টার হামলায় আগুন লেগে যায় বলেও রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ভূপাতিত জেট বিমানটির দুই পাইলটকেও গুলি করে হত্যার দাবি করেছে বিদ্রোহীরা। তবে বাকি ক্রুদের ভাগ্যে কি ঘটেছে, তা জানা যায়নি। এদিকে ন্যাটোর মহাসচিব ইয়ান্স স্টল্টেনবার্গ বলেছেন, তুরস্ক সিরিয়া সীমান্তে একটি রুশ বিমানকে ভূপাতিত করার পর ন্যাটো জোট তুরস্কের সাথেই আছে। তুরস্কের ডাকে ন্যাটো জোটের একটি জরুরি বৈঠক শেষে স্টল্টেনবার্গ বলেন, ন্যাটোর মূল্যায়নে রুশ যুদ্ধবিমান তুর্কী আকাশসীমায় আসলেই প্রবেশ করেছিল। তুর্কী প্রেসিডেন্ট রিচেপ তায়েপ এরদোয়ান বলেছেন, তার দেশের সীমান্ত রক্ষার অধিকার সবাইকে সম্মান করতে হবে। তাকেকে টেলিফোন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, তুরস্কের সার্বভৌমত্বের অধিকার রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র পাশেই থাকবে।

দ্য হিন্দুর সম্পাদকীয় : মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে দুর্বল হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার

ভারতের প্রভাবশালী হিন্দু পত্রিকার এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর করে আওয়ামী লীগ সরকার আরো দুর্বল হয়ে পড়ছে। ১৯৭১ সালের ওই বিয়োগান্তক ঘটনায় সরকার ফাঁসি না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে এ অধ্যায়ের সমাপ্তি টানতে পারে বলেও সম্পাদকীয়তে বলা হয়।
জামায়াতে ইসলামী নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর নিয়ে বুধবার ‘ক্রাইম অ্যান্ড পেনাল্টি ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে সম্পাদকীয়টি ছাপা হয়।
এতে বলা হয়, ‘যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি দিতে আওয়ামী লীগ সরকার যা সম্ভব করার ব্যাপারে যে অঙ্গীকারবদ্ধ তাতে তেমন কোনো সন্দেহ নেই। তবে বিচারে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে এ অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। নৈতিক দিক থেকে দেখলে মুত্যুদণ্ড দিয়ে বাংলাদেশ সরকার চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে তার লড়াইয়ে প্রকৃতপক্ষে দুর্বল হয়ে পড়ছে।
বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পরিবর্তে প্রতিশোধ নেয়ার রঙ ছড়াচ্ছে, যা (ন্যায়বিচার) হওয়া উচিত রাষ্ট্রীয় আইনি কাঠামোর ভিত্তি।
অন্যদিকে এমন সময় এসব ফাঁসি কার্যকরের ঘটনা ঘটছে যখন বাংলাদেশ ইসলামী মৌলবাদের সমস্যায় জর্জরিত। শেখ হাসিনার সরকার যদি মনে করে যে এসব ফাঁসির মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতি দুর্বল হয়ে পড়বে, ভবিষ্যতে তা ভুলই প্রমাণিত হতে পারে।
সরকার বিরোধীদের ব্যাপারে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তাতে বিরোধীদের প্রতি সহানুভূতিশীলদের মধ্য থেকে উগ্রপন্থীরা সদস্য নিয়োগ দিতে পারে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে মনে হচ্ছে এটা ইতোমধ্যেই ঘটছে।
সরকারের কঠোর অবস্থান এবং নেতাদের ফাঁসির ঝোলানো সত্ত্বেও দেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী এখনো সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী এবং বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠাকে তাদের ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।
অধিকন্তু যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর আরম্ভ হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশে যে সেক্যুলার লেখক ও তাদের প্রকাশকদের ওপর হামলা বেড়েছে, তা কাকতালীয় নাও হতে পারে।
অন্যকথায় সরকার যে বর্তমানের পরিবর্তে অতীতের বিচারের ব্যাপারে মনোযোগী সেই বৈপরীত্যও প্রকট হয়ে উঠেছে।
ঢাকার সামনে এখন বিরাট চ্যালেঞ্জ। তাকে নিশ্চিত করতে হবে যে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার যেমন করতে হবে, পাশাপাশি ইসলামী শক্তি যেন এই প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে লাভবান হতে না পারে তা তাও রোধ করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে তারা এই বিয়োগান্তক ঘটনার সমাপ্তি টনাতে পারে। মুত্যদণ্ডের ওপর নির্ভরশীলতা কাম্য নয়।’

নারী বৈষম্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে এক হও by সালমা খান

সৃষ্টির আদিকাল থেকে নারী-পুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগ, ত্যাগ ও অবদানের ভিত্তিতে পরিবার, সমাজব্যবস্থা ও সভ্যতা বিকাশ লাভ করলেও কালের পরিক্রমায় গৃহে ও বহিঃসমাজে নারী ও পুরুষের লিঙ্গ-বিভাজিত ভূমিকাকে কেন্দ্র করে ক্রমেই পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থার প্রচলন এবং সেই ধারাবাহিকতায় সূচিত হয় নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা, যা আজ বিশ্বজুড়ে প্রকট আকার ধারণ করছে। যদিও সময়ের বিবর্তনে সর্বজনীন মানবতা, সামাজিক সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা নিরসন তথা নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আবশ্যকতা প্রমাণিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও একবিংশ শতাব্দীর দ্বারপ্রান্তে এসেও পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশে মাত্রাভেদে নারী বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে।
জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্রে তত্ত্বগতভাবে নারীর সম-অধিকারের স্বীকৃতি এবং নারীর প্রতি সহিংসতা দণ্ডনীয় অপরাধরূপে চিহ্নিত হলেও নারীর প্রতি সহিংসতা একাকী সর্বজনীন রূপ ধারণ করেছে এবং সেই পরিপ্রেক্ষিতে নারী-পুরুষের সমতা অর্জন ও নারীর প্রতি সহিংসতা নিরসন আজ একটি বৈশ্বিক সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের উইমেন্স গ্লোবাল লিডারশিপ ইনস্টিটিউট ২৫ নভেম্বরকে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৩ সালে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব মানবাধিকার সম্মেলনে এই দিবসটিকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং বিশ্বজুড়ে নারী নির্যাতন নিরসনের উদ্দেশ্যে জাতিসংঘের সব সদস্যরাষ্ট্রকে আন্তরিক অঙ্গীকার, দৃশ্যমান উদ্যোগ ও ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে পালনের আহ্বান জানানো হয়। জাতিসংঘের মহাসচিব এ বছর আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন দিবস পালনের প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে নির্বাচন করেছেন ‘অরেঞ্জ দ্য ওয়ার্ল্ড: ইউনাইট টু অ্যান্ড ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন অ্যান্ড গার্লস’। বাংলায় বলা যায়, ‘বিশ্বকে কমলায় রাঙাও: নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে এক হও।’
নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পদের বিরাট অসমতা নারীর অধস্তনতাও পুরুষের নিয়ন্ত্রকের ভূমিকাকে সুদৃঢ় করছে। যদিও নারী জিডিপিতে বিরাট অবদান রাখছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ নারী ভূমিজ এবং আর্থিক সম্পদবঞ্চিত এ বছরের কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এ জন্য তিনটি কারণে। প্রথমত, এ বছর বেইজিং কার্যক্রমের (পিএফএ) ২০ বছর পূর্তি। বেইজিং এজেন্ডার ১২টি চিহ্নিত সমস্যা ও করণীয়র মধ্যে নারীর প্রতি সহিংসতা নিরসন লক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও তা ছিল সবচেয়ে দুর্বল বাস্তবায়ন। দ্বিতীয়ত, এমডিজির সমাপ্তি এবং তৃতীয়ত, বিগত সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের সব রাষ্ট্রের সম্মতিক্রমে গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, যা বাস্তবায়নের মূল ভিত্তি হবে লিঙ্গবৈষম্য নির্মূল করে নারী-পুরুষের সক্ষমতার পূর্ণ বিকাশ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ। এই উদ্দেশ্য সামনে রেখে এ বছর আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসের কার্যক্রমকে ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর (বিশ্ব মানবাধিকার দিবস)—এই ১৬ দিনব্যাপী বিস্তৃত করা হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে নারী নির্যাতন নির্মূলকল্পে রাষ্ট্র, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ, মিডিয়া ও ব্যক্তি নাগরিক পর্যায়ে অঙ্গীকার ও কার্যক্রমকে দৃশ্যমান এবং সক্রিয় করতে আহ্বান জানানো হয়, যাতে এ ব্যাপারে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়াজাগানো প্রচারণা ও সচেতনতা সৃষ্টি হয়। গত বছর ৭০টি দেশে এ কর্মসূচি পালিত হয় কমলা রঙের প্রতীক ব্যবহার করে—নিউইয়র্কের জাতিসংঘ ভবন, বিভিন্ন রাষ্ট্রদূত ভবন, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, পানামা খালের প্রশাসন ভবন, মিসরের পিরামিড ইত্যাদি বিশ্বখ্যাত স্থাপনায় বিরাট আকারের কমলা রঙের পতাকা উত্তোলন করা হয়। কমলা রঙের প্রতীকের মাধ্যমে নারী নির্যাতনে জিরো টলারেন্স ব্যক্ত করা হয়। এবারও তাই বিশ্বজুড়ে কমলা রঙের প্রতীকের মাধ্যমে নারী নির্যাতনের বিপক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে।
স্বাধীনতার চার দশকে অর্থনৈতিক ও মানবিক উন্নয়নে বাংলাদেশের অর্জন একটি বৈশ্বিক উদাহরণ (ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০১৫)। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ও অতিসম্প্রতি ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের উন্নয়নকে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক রূপান্তরে নারীর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। বিশেষ করে মানব উন্নয়ন সূচকে যথা নারীশিক্ষার প্রসার, প্রজনন হার ও শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস, ডায়রিয়া নির্মূল, পুরুষের তুলনায় নারীর গড় আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি ইত্যাদিতে নারীরাই নেতৃত্ব দিয়েছে। উপরন্তু ক্ষুদ্রঋণ সুচারুরূপে ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবারের দারিদ্র্য হ্রাস এবং রপ্তানিমুখী শ্রমবাজারে বিপুলসংখ্যক নারীর অংশগ্রহণ অর্থনীতিতে নারীর অবদানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। চার দশকে দেশের খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে তিন গুণ—কৃষক হিসেবে স্বীকৃত না হয়েও প্রায় ৯০ লাখ ১১ হাজার নারী (বিবিএস) কৃষি খাতে কাজ করছে, যার অধিকাংশই মজুরিবিহীন শ্রমিক।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর অ-অর্থনৈতিক ও স্বীকৃতিহীন অবদান নিরূপণে সিপিডির গবেষণায় (ড. ফাহমিদা খাতুন) প্রতীয়মান হয়, নারীর সম্পন্ন করা কাজ, যা জাতীয় আয়ের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয় না, তা জিডিপির প্রায় ৭৬.৮ শতাংশের সমপরিমাণ। বাংলাদেশের নারী আজ আর অবরোধবাসিনী, কর্মহীন ও পরনির্ভর নয়। তা সত্ত্বেও পুরুষশাসিত সমাজের বিধিবিধান অনুযায়ী সম্পদে ও সুযোগে নারীর প্রবেশগম্যতা সীমিত হওয়ায় নারীর অধস্তন অবস্থান ও পুরুষের নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা সুদৃঢ় হয়, যা নারী নির্যাতনের প্রবণতা সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতনের আর একটি প্রধান কারণ হলো বাল্যবিবাহের রীতি। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের পথে বিরাট একটি বাধা বাল্যবিবাহ। প্রায় ৬৪ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে আইনসম্মত বয়স ১৮ বছরের আগেই, যা মেয়েটির সক্ষমতা অর্জনের ও আত্মবিকাশের পথ রুদ্ধ করে তার অসহায়ত্ব বৃদ্ধি করে। ইউনিসেফ প্রতিবেদন (২০১৪) অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় কিশোরী নির্যাতনের শীর্ষে বাংলাদেশ। বিবিএস জরিপে (২০১২) দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ নারী তাদের স্বামী কর্তৃক মানসিক বা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন।
গৃহ পরিধির বাইরে পাবলিক স্পেসে শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রেও কন্যাশিশু ও নারী উত্ত্যক্তকরণ, যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা বা আত্মহত্যায় প্ররোচনার শিকার হচ্ছে। দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে যথাযথ আইন প্রণীত হওয়া সত্ত্বেও নারীর প্রতি পারিবারিক ও সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও সুশাসনের অভাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারী নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা লাভে বঞ্চিত হয়।
বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ দিবস পালনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আমাদের সংবিধান প্রদত্ত (ধারা ১০) সর্বস্তরে ‘নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভের নিশ্চয়তা’ বাস্তবায়নের সুদৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া। নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পদের বিরাট অসমতা নারীর অধস্তনতাও পুরুষের নিয়ন্ত্রকের ভূমিকাকে সুদৃঢ় করছে। যদিও নারী জিডিপিতে বিরাট অবদান রাখছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ নারী ভূমিজ এবং আর্থিক সম্পদবঞ্চিত (প্রথম আলো)। অন্যদিকে নারীর ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে ক্ষমতায়িত ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আদায়ের সুযোগ সংকুচিত।
এই প্রেক্ষাপটে ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর ১৬ দিনব্যাপী দেশজুড়ে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসের দৃশ্যমান কর্মসূচি পালন করে সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে হবে। জাতিসংঘের মহাসচিবের আহ্বান অনুযায়ী দেশের বিশেষ স্থাপনাসমূহে কমলা রঙের পতাকা উত্তোলন, সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ ও ব্যক্তি নাগরিক পর্যায়ে, বিশেষত মিডিয়ার পক্ষ থেকে নারীর প্রতি সহিংসতা নিরসনের পক্ষে জন–উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
সরকারের পুনঃ অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে হবে সব লিঙ্গবৈষম্যমূলক আইনের সংস্কার, সিডও সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন, নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে বিদ্যমান আইনসমূহের যথাযথ প্রয়োগ ও দ্রুত বাস্তবায়নের পক্ষে সুশীল সমাজ ও নারী আন্দোলন কর্তৃক আলোচনা, বিতর্ক ও প্রচারণার মাধ্যমে তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে দেশে নারী নির্যাতনের প্রতি জিরো টলারেন্সের মনোভাব সৃষ্টি করতে।
সালমা খান: অর্থনীতিবিদ, নারীনেত্রী।

মিথ্যার কাছে সত্য পরাজিত হচ্ছে? by তৈমূর আলম খন্দকার

বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিয়ে যখন বেশি বেশি প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে এবং যে সময়ে দেশে-বিদেশে মাননীয় প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে বক্তব্যের পর বক্তব্য রাখছেন, এমনই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক এ কে এম ফজলুল হক ছেলে দীপনের লাশ কাঁধে নিয়েই বলেছেন, ‘আমি পুত্রহত্যার বিচার চাই না ...’। তার এ বক্তব্য কি সমগ্র জাতির বক্তব্য না দেশের বিচারব্যবস্থার ওপর একটি অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ?
দীপনের বাবা তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো সান্ত্বনা তো পানইনি, বরং সরকারি মুখপাত্র তাকে নিয়ে উপহাস করেছেন, যা একজন মার্জিত মানুষ করতে পারেন না। ক্ষমতায় থাকলে মানুষ ধরাকে সরাজ্ঞান করে। ক্ষমতার কালো চশমা তাদের আড়াল করার পূর্বেই জনগণ থেকে নিজেরাই আড়াল হয়ে যান বলে জনতার বুকের আর্তনাদ বোঝা তো দূরের কথা বরং টিপ্পনী ও নোংরা উপহাস করতেও দ্বিধা বোধ করেন না। ক্ষমতাসীনদের এ উপহাস কি জাতির প্রাপ্য ছিল?
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি বলেছে, ‘বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে সরকার বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে।’ সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি খোন্দকার মাহবুব হোসেন স্পষ্টই যে কথা বলেছেন- এ কথার প্রতিবাদ বা বিরূপ মন্তব্য সুশীল বা সরকার পক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে তো আসেইনি; এমনকি প্রধান বিচারপতির দফতর থেকেও কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ঠিক এমনই সময়ে ‘দেখেশুনে অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে জামিন দেয়ার জন্য’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার জনসভায় আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বান কি আদেশ না নির্দেশ না হুমকি, তা মূল্যায়িত হওয়ার আগে এ কথাটি উঠে আসে যে- রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শুধু হয়রানির উদ্দেশ্যে একের পর এক মিথ্যা মোকদ্দমায় না জড়ানোর জন্য তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিতেন, তবে প্রধানমন্ত্রী বিচারক বা বিচারপতিদের প্রতি কী বার্তা দিতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট হতো। প্রধানমন্ত্রীর একতরফা (জামিনের প্রশ্নে) বক্তব্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কতটুকু রক্ষা পেয়েছে, তা অবশ্যই প্রধান বিচারপতি বিবেচনায় নিয়ে তার পরবর্তী বক্তব্য পেশ করবেন, যা শোনার অপেক্ষায় (রাজনৈতিক কারণে) দুর্দশাগ্রস্ত জনগণ।
বিচার বিভাগ বা এর নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলা খুবই দুরূহ ব্যাপার। তবুও বলতে হয়, কারণ দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। ফলে গণমানুষের শেষ আশ্রয় হিসেবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সমুন্নত রাখতে না পারলে আমও গেল, ছালাও গেল। অর্থাৎ বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশ করার স্বাধীনতার প্রশ্নে মহান স্বাধীনতার আগেও যা ছিল বর্তমানেও তা-ই আছে; বরং প্রতিহিংসার পরিমাণটা একটু বেশি।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন, এর সত্যতা ও বাস্তবতা (মাননীয় প্রধান বিচারপতি) তার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতার বিষয়টি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারছেন নাকি আরো জোরগলায় ব্যর্থতাকে ঢাকা দেয়ার একটি প্রয়াস খুঁজবেন?
আন্দোলনের সময় বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার দায় (দেশনেত্রেী) খালেদা জিয়া এড়িয়ে যেতে পারেন নাÑ এমন মন্তব্য প্রধান বিচারপতি প্রকাশ্যেই করেছেন, যার অনুরূপ বক্তব্য আগেই মাহবুবউল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ সরকারদলীয় এমপি-মন্ত্রী ও নেতারা দিয়েছেন। আন্দোলনের জন্য বাস পুড়িয়ে মানুষ হত্যা একটি জঘন্যতম অপরাধ বলে আমি মনে করি। বিএনপি সরকার আমলে ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত শুধু বিআরটিসির ৫৩টি বাসে অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে। এর দায়দায়িত্ব প্রধান বিচারপতি মহোদয় কার ওপরে বর্তাবেন? প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করাসহ মিথ্যা মামলায় জড়ানোর জন্য সরকারি লোকেরা বাস পুড়িয়েছে, এমন সংবাদও সংবাদপত্রে ও টিভিতে দেখা গেছে। একজন পুলিশ অফিসারের ভয়েস রেফারেন্স দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বাস পোড়ানো সরকারি দলের কারসাজি বলে দায়িত্ব নিয়েই মন্তব্য করেছেন। সোয়েম্যুটো রুল দিয়ে বিষয়টি কি দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট করা যায় না?
ন্যায়বিচার ও আইন যদি সাংঘর্ষিক হয়, তবে বিচারপতি মহোদয় বিবেচনা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনটার অগ্রাধিকার দেবেন? যে আইন শুধু শাসকদলকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রাখার জন্য প্রণীত হয়, সে আইনের রক্ষাকবচ হিসেবে বিচার বিভাগ ব্যবহৃত হতে পারে না। স্মরণ রাখতে হবে যে, আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কার হাতে? অবশ্যই তা পার্লামেন্টের হাতে। পার্লামেন্ট কার নিয়ন্ত্রণে? অবশ্যই তা ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে? ক্ষমতাসীনেরা কার নিয়ন্ত্রণে? অবশ্যই তা প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে। ফলে প্রধানমন্ত্রী ও তার বহরকে হেফাজত ও ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রাখার লক্ষ্যেই প্রণীত হচ্ছে বিরোধী দলকে দমন-নিপীড়ন করার আইন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেছিলেন যে, আমাদের দেশের আইন জনপ্রতিনিধিগণ নয় বরং কেরানীগণ প্রণয়ন করেন; এমপিরা শুধু হাততালি দিয়ে তা পাস করে দেন। বিচারপতি চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিবাদে তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রী পরে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বিচারপতি চৌধুরীর বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ আনার হুমকি দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে কেন মন্ত্রী চুপসে গেলেন, তা বোঝা না গেলেও থলের বিড়াল প্রকাশ হওয়ার আশঙ্কায় তাকে চুপ করানো হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
যে আইন জনগণের অধিকার রক্ষার পরিবর্তে শুধু ক্ষমতাসীনদের রক্ষার জন্য প্রণীত হয়, ন্যায়বিচারের স্বার্থে সে আইন গ্রহণযোগ্য নয়। সে আইনের হেফাজত করার জন্য যদি বিচারপতিদের বাধ্য করা হয়; তবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা স্বাভাবিকভাবে জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য এবং বর্তমানে তাই হচ্ছে। বিচার বিভাগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে নিপীড়ন-নির্যাতনে সরকারের বিরুদ্ধে খোন্দকার মাহবুব হোসেন যে অভিযোগ এনেছেন, সময় একদিন আসবে যে দিন তাদেরকেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে, যারা ব্যবহৃত হয়েছেন এবং হচ্ছেন।
প্রশ্ন আসে- গণতন্ত্র রক্ষায় বিচার বিভাগ কতটুকু সোচ্চার। প্রধান বিচারপতিকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, এ নজির বাংলাদেশেই আছে। সামরিক জান্তাদের প্রধান বিচারপতিই শপথবাক্য পাঠ করিয়ে বঙ্গভবনে বসিয়েছেন। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। ১৯৭১ সালের ৯ মার্চ বিচারপতি বি এ সিদ্দিকী জেনারেল টিক্কা খানকে শপথবাক্য পাঠ না করানোর জন্যই কিন্তু হানাদার পাকিস্তান সরকার নড়েচড়ে বসেছিল এবং স্বাধীনতা আন্দোলন ত্বরান্বিত হয়, যা থেকে জন্ম লাভ করে লাল-সবুজ পতাকা।
বিচারপতি এনায়েতুর রহিম তার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘বিচার অন্ধ হতে পারে, তবে বিচারপতি কিন্তু অন্ধ নন’; জাতি সেটাই চায়। সরকার ও বিরোধী দল পরস্পরবিরোধী হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়; বিচারপতি কিন্তু নিরপেক্ষ দৃষ্টি নিয়েই গণতন্ত্রকে রক্ষার স্বার্থে বিরোধী দলের ওপর অযাচিত নির্যাতনের প্রশ্নে আইনের দোহাই দিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন না। তাই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট বারের যে অভিযোগ, তা খণ্ডানোর ও জবাবদিহিতার দায়িত্বও বিচার বিভাগের অবশ্যই রয়েছে। কারণ তারাও জনগণের অর্থে লালিত-পালিত।
ছেলেহত্যার বিচার চাই না বলে একজন পণ্ডিত বাবার যে আর্তনাদ, এ আর্তনাদ সমগ্র জাতির আর্তনাদ। এ করুণ চিত্র শুধু বিচারব্যবস্থার প্রতি নয়, বরং গোটা সভ্যতার ওপর চপেটাঘাত। এ আর্তনাদ দায়িত্বশীলদের কর্ণকুহরে কতটুকু পৌঁছেছে, তা বোঝা না গেলেও এ আর্তনাদ আকাশে-বাতাসে ইথারে ভাসছে, যা থেকে আরো কোনো বেদনাদায়ক চিত্রের জন্ম নিতে পারে; বিগত ইতিহাস যা সাক্ষ্য দেয়। গণতন্ত্র নির্বাসিত হলে জঙ্গিবাদের উত্থান হবে- এ কথাও রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ বারবার বলে আসছেন।
রাষ্ট্র পরিচালনা করার দায়িত্ব যেমন সরকারের। অন্য দিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো স্বেচ্ছাচারিতা হচ্ছে কি না এবং শাসকদল ভিন্ন পন্থায় নিগৃহীত হচ্ছে কি না, এটা দেখার দায়িত্ব বিচার বিভাগের। শুধু দারোগার ফরোয়ার্ডিং ও চার্জশিটের ওপর ভিত্তি করে শাস্তি দেয়া বা জামিন না দেয়া বিচার বিভাগের দায়িত্ব নয়। এ বিভাগের যিনি প্রধান তিনি সুপ্রিম কোর্টের নন, বরং সংবিধানের ৯৪(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি সমগ্র বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি। তাই টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সব নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিকারের এবং আইনের ছদ্মাবরণে রাষ্ট্রীয় জুলুমের প্রটেকশন দেয়ার দায়িত্ব প্রধান বিচারপতির।
বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গত ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত গত ১৫ দিনে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া গোটা দেশে আট হাজার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এখনো তা অব্যাহত আছে। প্রতিনিয়তই কোন জেলায় কতজন বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী গ্রেফতার হচ্ছে ইলেকট্রনিক মিডিয়া খুললেই নিয়মিত স্ক্রলে ভেসে আসে। গণগ্রেফতার আর তা নিয়ে বাণিজ্য এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। বিএনপি ও ২০ দলীয় ঐক্যজোটের কোনো নেতাকর্মী এখন বাড়িতে থাকতে পারেন না। কোনো অভিযোগ না থাকার পরও এ গণগ্রেফতার হওয়া নিরীহ মানুষগুলোর আইনগত অধিকার দেখা তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব কার? গণগ্রেফতার সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গত ১৬ নভেম্বর পুলিশ প্রধান এ কে এম শহিদুল ইসলাম বলেছেন, রাজনৈতিক কারণে বা যাদের ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই তাদের আটক করা হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, ‘যারা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যারা বিভিন্ন নাশকতার পরিকল্পনায় ষড়যন্ত্রকারী ও মদদদাতা ছিল এবং নাশকতার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল, পরে জামিন নিয়ে আবারো একই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদেরকেই আটক করা হচ্ছে।’ পুলিশ প্রধানের এ বক্তব্য কি সত্য? বাস্তবতা কী বলে?
পুলিশনির্ভর এ রাষ্ট্রে পুলিশ প্রধানের বক্তব্যই শেষ কথা; কিন্তু বিচার বিভাগ কি পুলিশের বক্তব্য যথার্থ মনে করছে? নতুবা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের কপালে এত বড় দুর্দশা কেন? স্মরণ করা দরকার যে, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে জব্বার, সালাম, বরকত, রফিক- তাদের বুকে গুলি, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বসুনিয়ার বুকে গুলি, ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, সৈরাচার নিপাত যাক’- এ স্লোগান বুকে ধারণকারী নূর হোসেনের বুকে গুলি পাকিস্তান বা চাঁদের দেশ থেকে এসে কেউ করেনি; বরং বাঙালি পুলিশই গুলি চালিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে ভাড়াটিয়া খুনি (নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেখানে তাদের ওপর বিচার বিভাগের এতটা নির্ভরশীল হওয়া কি নিরাপদ বা যুক্তিসঙ্গত? জাতি বিষয়টি কোন বিবেচনায় নেবে? মিথ্যার কাছে সত্য কি পরাজিত হয়ে যাচ্ছে? বিবেচনার দায় সমগ্র জাতির, কিন্তু জাতিকে শেল্টার দেয়ার দায়িত্ব কার?
লেখক : প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিআরটিসি ও
সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল
E-mail: taimuralamkhandaker@gmail.com

উত্তরায় জাপানি নাগরিক হত্যা নানা রহস্য

এবার রাজধানীর উত্তরায় এক জাপানি নাগরিক নিখোঁজ হওয়ার পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫ জনকে নেয়া হয়েছে ৪ দিনের রিমান্ডে। হিরোয়ি মিয়েতা নামের এই জাপানি নারী প্রায় একমাস আগে নিখোঁজ হন। ঢাকায় তিনি একটি বায়িং হাউজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার নিখোঁজ, ‘হত্যা’ এবং লাশ গুমের চেষ্টায় তৈরি হয়েছে রহস্য। এর আগে গত ৩রা অক্টোবর রংপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও। ২৮শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় একই কায়দায় গুলিতে মারা যান ইতালিয়ান নাগরিক সিজার তাভেলা। এই দুই বিদেশী হত্যাকাণ্ডের পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এদিকে রাজধানীতে জাপানি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে নিহত ওই জাপানি নাগরিকের কথিত ব্যবসায়িক পার্টনারদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। নিহত জাপানি নাগরিকের কথিত ব্যবসায়িক অংশীদারসহ গ্রেপ্তার ৫ জনকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়। তাদেরকে ১০ দিনের রিমান্ডে চাইলে আদালত চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। যাদের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে তারা হলো মারুফুল ইসলাম (৩০), রাশেদুল হক বাপ্পি (৪২), ফখরুল ইসলাম (২৭), ডা. বিমল চন্দ্র শীল (৪০) ও জাহাঙ্গীর (২৮)। রিমান্ড আবেদনের বরাত দিয়ে আদালত পুলিশের এস আই উজির আলী  সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, গত ২৯শে অক্টোবর জাপানি নারী মিয়েতাকে হত্যা করা হয়। আসামিদের কাছ থেকে ওই জাপানি নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ ও পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য দশদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। এদিকে, গতাকল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনও করা হয়েছিল। কিন্তু  ‘অনিবার্য কারণে’ সেই সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়। বলা হচ্ছে, জাপানি দূতাবাস সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি পছন্দ করছে না। এ কারণে সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী ওই জাপানি নাগরিককে হালিমা খাতুন পরিচয়ে উত্তরার ১২নং সেক্টরের সিটি কর্পোরেশনের একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৯শে নভেম্বর উত্তরা পূর্ব থানায় জাপান দূতাবাসের ভাইস কনসাল কোসিউকি মাৎসুনাগা বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি নম্বর ৯৩৫। ওই জিডিতে বলা হয়েছে ৪ঠা নভেম্বর জাপানি নাগরিক মাকিকো হিরাবায়্যাসি ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাসে ফোন করেন। তিনি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের বলেন, তার কন্যার নাম হিরোয়ি মিয়েতা। তার পাসপোর্ট নম্বর টিজি-০৪৪৫৭৭৮। জন্ম তারিখ ১৬ই আগস্ট ১৯৫৫। হিরোয়ি মিয়েতা বেশ কিছুদিন ধরে উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের ১৩/বি সড়কের ৪ নম্বর বাসার সিটি হোমস নামের ডরমিটরিতে থাকতেন। প্রতি সপ্তাহেই তিনি মেয়ের সঙ্গে কথা বলতেন। কিন্তু ২৬শে অক্টোবর থেকে তিনি মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি মেয়েকে খুঁজে পাওয়া এবং নিরাপত্তা বিধানের জন্য দূতাবাসকে অনুরোধ করেন। দূতাবাস সেই অনুরোধে ১৯শে নভেম্বর উত্তরা পূর্ব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই জিডি’র তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারেন জাপানি ওই নারী সিটি হোমস হোটেলে বেশ কয়েক বছর ধরে অবস্থান করছিলেন। তার কথিত ব্যবসায়িক পার্টনার জাকির পাটোয়ারী রতন ও মারুফুল ইসলাম তাকে দেখভাল করতেন। এছাড়া রাশেদুল হক বাপ্পী নামে আরেক ব্যবসায়িক পার্টনারও মাঝে-মধ্যে ওই হোটেলে গিয়ে জাপানি নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে, গত ২৬শে আগস্ট বিকাল ৫টার দিকে রাশেদুল হক বাপ্পী কৌশলে জাপানি ওই নারীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে জাকির পাটোয়ারী রতন, মারুফুল ইসলাম ও রাশেদুল হক বাপ্পী পরস্পর যোগসাজশে ফখরুল ইসলাম নামে তাদের আরেক ব্যবসায়িক পার্টনারের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এ-ব্লকের ১২ নম্বর সড়কের ২৮৮ নম্বর প্লটের কৃষ্ণচূড়া-৬ অ্যাপার্টমেন্টের চতুর্থ তলায় নিয়ে আটকে রাখে। পরে তারা জাপানি নাগরিকের আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে ২৯শে অক্টোবর ভোর ৪টার দিকে কথিত এই ব্যবসায়িক পার্টনাররা তাদের পূর্ব পরিচিত এক চিকিৎসক ডা. বিমল চন্দ্র শীলসহ কৌশলে জাপানি নাগরিককে হত্যা করে এবং লাশ গুমের সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারবাহিকতায় জাকির পাটোয়ারী প্রাইভেটকারযোগে নিহত জাপানি নারীর লাশ মারুফুলের উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর সড়কের ৩৩ নম্বর বাসায় নিয়ে যায়। তারা অপর এক সহযোগী জাহাঙ্গীর ও অজ্ঞাত কয়েকজনের সহযোগিতায় জাপানি নাগরিকের প্রকৃত নাম-ঠিকানা ও নাগরিকত্ব গোপন করে হালিমা খাতুন, স্বামী মৃত বাবুল মৃধা, সাং পোতাপাড়া, থানা অভয়নগর জেলা যশোর পরিচয়ে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের সিটি করপোরেশনের কবরস্থানে ওইদিন বিকালেই দাফন করে। তারা ভিকটিম হিরোয়ি মিয়েতার ব্যবহৃত ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে যায়। পরে পুলিশ রাশেদুল হক বাপ্পীর অফিস থেকে এসব মালামাল উদ্ধার করে।
উত্তরা পূর্ব থানার পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান বাদী হয়ে দায়েরকৃত মামলায় বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে জাপানি নাগরিককে অপহরণের পর হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তারা বিষয়টি জাপানি দূতাবাসকে অবহিত করে একটি মামলা দায়ের করার অনুরোধ করেন। কিন্তু জাপানি দূতাবাস মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করলে পুলিশই বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর যাবৎ বাংলাদেশে বাস করছেন মিয়েতা। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার যে বাসায় তাকে নিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ করছে পুলিশ বলেছে, ওই বাসাটি গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলামের। পাঁচ তলা ওই বাড়ির চতুর্থ তলার বি-৩ নম্বর ফ্ল্যাটে রাখা হয়েছিল মিয়েতাকে। গতকাল ওই ফ্ল্যাটে গেলে দরজা বন্ধ পাওয়া যায়। ফ্ল্যাটটির মালিক রামপুরার বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ সালেকিন জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলাম। উত্তরায় তার একটি বায়িং হাউজ রয়েছে বলে জানেন সালেকিন। তিনি বলেন, পাঁচ কক্ষের ওই বাসায় ফখরুলের পরিবারের সদস্যরা থাকতেন। কোন বিদেশী থাকতেন কি-না তা জানা নেই তার। তবে বাড়ির নিরাপত্তা কর্মী উজ্জ্বল জানান, প্রায় এক মাস আগে এক বিদেশী নারীকে নিয়ে বাসায় উঠেন ফখরুল। এসময় ওই নারীর সঙ্গে কয়েকটি ব্যাগ ছিল বলে জানান তিনি। ব্যাগগুলো গাড়ির চালক ওপরে নিয়ে যায়। পরবর্তীকালে ওই নারীকে আর দেখেননি তিনি। পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা তুহিন খন্দকার ও তার স্ত্রী পাখি খন্দকার জানান, গত মাসে ওই বাসা ভাড়া নেন তারা। ফখরুলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কখনও তাদের পরিচয় হয়নি। একইভাবে ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা নাশাররুল নাইস সুইটি জানান, ফখরুল ইসলামের বাসায় কোন বিদেশী থাকতেন তা জানা নেই তাদের।
এদিকে সরজমিনে গতকাল উত্তরা ১২নং সেক্টরের সিটি করপোরেশনের ওই কবরস্থানে গেলে কথা হয় দায়িত্বে থাকা মোহরার আবদুল কুদ্দুস ও মনিরুল ইসলামের সঙ্গে। কবরস্থানের পশ্চিম দিকে শেফালী হাবীব ও আহমদ আলীর কবরস্থানের মধ্যের কবরে ইসলাম ধর্মের নিয়মে দাফন করা হয়েছে মিয়েতাকে। আব্দুল কুদ্দুস ও মনিরুল ইসলাম জানান, ওই দিন দুপুরের পর একজন নারীকে দাফন করার জন্য ১০-১২ জন ব্যক্তি কবরস্থানে যান। তার কয়েক ঘণ্টা আগে নিহতের দাফনের ব্যাপারে তাদের অবগত করেন। কাফন পরিয়ে লাশটি আনা হয় সেখানে। কবরস্থানের রেজিস্ট্রি খাতায় ওই নারীর নাম লেখা হয়েছে  হালিমা খাতুন। পিতার নাম শাহজাহান আলী মৃধা। মাতা হাজেরা বেগম। স্বামী মৃত বাবুল মৃধা। বয়স ৭৪ বছর। মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়েছে বার্ধ্যকজনিত। ঠিাকানা ১২ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর সড়কের ৪১ নম্বর বাড়ি। গ্রামের বাড়ি পোতপাড়া, অভয়নগর, যশোর। ফি দাতার নাম লেখা রয়েছে মারুফ। সঙ্গে মারুফুল ইসলামের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানানুসারে মারুফের বাসায় গেলেও সেখানে তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। ওই বাড়ির বাসিন্দা ১৩ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ সড়কের ৩৬ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা আবদুল্লাহ জানান, মারুফ নামে কেউ সেখানে থাকে না। হিরোয়ি মিয়েতা দীর্ঘদিন থেকেছেন উত্তরার ছয় নম্বর সেক্টরের ১৩/বি সড়কের চার নম্বর সিটি হোমস নামক আবাসিক হোটেলে। ওই হোটেলের নিরাপত্তাকর্মী থেকে শুরু করে পরিচালক কেউ এ বিষয়ে তেমন কোন তথ্য দিতে পারেননি। এমনকি এই হিরোয়ি মিয়েতা নামে কেউ সেখানে ছিলেন কি-না তাও নিশ্চিত করতে পারেননি তারা। নিরাপত্তাকর্মী জসিম উদ্দিন, অভ্যর্থনার দায়িত্বে থাকা রত্না, আরাফাত চৌধুরী জানান, তারা এই মাসের শুরুর দিকে কাজে যোগ দিয়েছেন। যে কারণে এ বিষয়ে তাদের কিছুই জানা নেই। সিটি হোমসের খাতায় হিরোয়ি মিয়েতার নাম আছে কি-না জানতে চাইলে রত্না জানান, কয়েক দিন আগে এসব খাতা পুলিশ নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে হোটেলের পরিচালক আইয়ুব আহমেদের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, নভেম্বরের শুরু থেকে হোটেলের মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। আগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নেই। তিনজন পরিচালকের মধ্যে শাহাদাত ফিরোজ শিকদার পুরনো হলেও তার সঙ্গে কোন কথা বলা যায়নি। আইয়ুব হোসেন জানান, তিনি অসুস্থ। তার ফোনও বন্ধ রয়েছে। বাসার ঠিাকানাও জানা নেই তার। তবে ওই হোটেলের পাশের চা-বিক্রেতা আলমগীর হোসেন জানান, কয়েক মাস আগে একজন জাপানি নারীকে নিয়মিত ওই হোটেলে আসা-যাওয়া করতে দেখেছেন তিনি। গত সোমবার পুলিশের কাছ থেকে জেনেছেন তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। আলমগীর বলেন, সন্ধ্যার আগে হেঁটে হেঁটে হোটেলে ফিরতে দেখতেন ওই নারীকে। সন্ধ্যার দিকে হোটেল থেকে বের হয়ে হাঁটতেন। মাঝে মাঝে তার দোকানে চা পান করতেন হিরোয়ি মিয়েতা। আধো আধো বাংলায় কথা বলতেন তিনি।
এ বিষয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় গেলে কথা হয় এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক কাজী সাহান হকের সঙ্গে। এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। একপর্যায়ে সাহান হক বলেন, এটি তাভেলা সিজার  বা হোশিও কুনি হত্যার মতো কোন ঘটনা নয়। এমনকি এটি হত্যাকাণ্ড কি-না এ বিষয়েও নিশ্চিত নন তারা। তাহলে হত্যা মামলা করা হলো কেন এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
লাশ উত্তোলনের শুনানি কাল: এদিকে পুলিশ গত সোমবার নিহত জাপানি নাগরিকের হিরোয়ি মিয়েতার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করেছে। আদালত আগামীকাল বৃহস্পতিবার এই আবেদনের শুনানীর দিন ধার্য করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, লাশ ময়নাতদন্ত করা হলে বোঝা যাবে তাকে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের আগেই পুলিশের হত্যা মামলা দায়ের নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে পুলিশ আগে ময়নাতদন্ত করে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই হত্যা মামলা করা হয়। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে জাপানি নাগরিক হত্যার বিষয়টি রাখা হয়েছিল।
গ্রেপ্তারকৃত ৫ জন ৪ দিনের রিমান্ডে: এদিকে জাপানি নাগরিক হিরোই মিয়েতা হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ৫ আসামিকে ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল উত্তরা পূর্ব থানার পরিদর্শক আবু বকর মিয়া গ্রেপ্তারকৃতদের ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট স্নিগ্ধা রানী সাহার আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। আদালতে আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জাপানি নারীর লাশ দাফনঃ পাঁচ সন্দেহভাজন রিমান্ডে

জাপানি নাগরিক হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার ৫ জনকে
গতকাল সিএমএম আদালতে হাজির করা হয় : নয়া দিগন্ত
রাজধানীর উত্তরায় এক জাপানি নারীকে হত্যার পর গোপনে তার লাশ দাফন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওই নারীর নাম হিরোয়ি মিয়েতা (৭৪)। এ ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে রিমান্ডে নিয়েছে। তারা হলো : মো: মারুফুল ইসলাম, রাশেদুল হক বাপ্পী, ফখরুল ইসলাম, ডা: বিমল চন্দ্র শীল ও মো: জাহাঙ্গীর। পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ দিকে ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে না তিনি অসুস্থজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন, তা নিয়ে খ্দো পুলিশের মধ্যে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করলেও বর্তমানে অসুস্থজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে তদন্ত করছে পুলিশ। ওই নারীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) একটি সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করলেও পরে তা স্থগিত করা হয়। ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয় ঢাকার জাপান দূতাবাসের অনুরোধে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, জাপানি ওই নারী ঢাকায় বাংলাদেশী কয়েকজন অংশীদারকে নিয়ে একটি বাইং হাউজ চালাতেন। পাশপাশি তিনি উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টর, সড়ক ১৩/বি এর ৮ নম্বর হোল্ডিংয়ের সিটি হোমস নামক একটি হোটেলে একাই থাকতেন। কিন্তু গত আগস্ট মাসে তার ব্যবসায়িক পার্টনাররা তাকে সেখান থেকে ভাটারা থানার বসুন্ধরা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ওঠান। পুলিশ সূত্র জানায়, হিরোয়ি মিয়েতা কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে প্রতি রাতে জাপানে থাকা তার মাকে ফোন করতেন। এরপর কুশল বিনিময়সহ বিভিন্ন কথা বলে তিনি ঘুমাতেন। গত ২৬ অক্টোবর থেকে তার মাকে আর ফোন করেননি। তার মা নিজেও ফোন করে মেয়েকে পাননি। এরপর থেকে প্রতিদিন জাপান থেকে তিনি মেয়েকে ফোন করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু মেয়েকে না পেয়ে তিনি বাংলাদেশে থাকা জাপান দূতাবাসে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানান। এরপর দূতাবাসের ভাইস কাউন্সিলর কুসুকি মাতসুনা প্রথমে মৌখিকভাবে উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর তিনি ১৯ নভেম্বর হিরোয়ি নিখোঁজ থাকার বিষয় উল্লেখ করে একই থানায় একটি সাধারন ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর ৯৩৫। ওই জিডির পরই পুলিশ বিষয়টি তদন্তে তৎপর হয়ে ওঠে।
পুলিশ জানায়, অনুসন্ধান করে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পাওয়া যায়। তারা জানতে পারেন কিছুদিনের মধ্যে একজন বিদেশী নারীকে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের খালপাড় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। কবরস্থানে রেজিস্ট্রার খাতা অনুযায়ী জাপানি ওই নারীকে হালিমা খাতুন পরিচয়ে গত ২৯ অক্টোবর জোহরের নামাজের পর দাফন সম্পন্ন করা হয়। তার স্বামীর নাম দেয়া হয় বাবুল মৃধা। বাবার নাম শাজাহান আলী মৃধা, মার নাম হাজেরা বেগম। বয়স দেয়া হয় ৭৪। তিনি উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে থাকলেও ১২ নম্বর সেক্টরের ১২ রোডের ৪১ নম্বর বাসার ঠিকানা দেয়া হয়। গ্রামের বাড়ি যশোরের অভয়নগরের পোতপাড়া গ্রামে। মৃত্যুর কারণ দেখানো হয় বার্ধক্যজনিত। বাসায় তার মৃত্যু হয় বলে জানান, মো: মারুফুল ইসলাম। তার কবর নম্বর ১২২৬৭ (৬৭)। ওই সময় মারুফুল ইসলাম কবরস্থানের মহরারকে জানায়, ওই নারী সম্পর্কে তার নানী হয়। পুরো বিষয়টি পুলিশের অগোচরেই করা হয়।
গত রোববার রাতে পুলিশ বাদি হয়ে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার নম্বর ১১। ওই মামলার বাদি হন উত্তরা পূর্ব থানার অপারেশন অফিসার মিজানুর রহমান। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করে ওই নারীকে হত্যার পর লাশ গুম করে গোপনে দাফন করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ মিয়েতার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে ট্রাক করে নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। এরপর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আটজনকে আটক করে।
ঘটনাটি গত রোববার রাতে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে পারলে তথ্য নেয়ার জন্য পুলিশের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে পুলিশ প্রথমে বিষয়টি চেপে যাওয়ার পর চেষ্টা করে। কিন্তু গণমাধ্যমকর্মীরা একের পর এক যোগাযোগ করলে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে সব তথ্য জানানো হবে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মিন্টু রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। জাপানি নারীর মৃত্যু নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পুলিশের উত্তরা জোনের ডিসি বিধান ত্রিপুরাও উপস্থিত হন। কিন্তু কিছু সময় পর উপস্থিত সাংবাদিকদের জানানো হয় হিরোয়ি মিয়েতা নিহত সম্পর্কে তথ্য জানাতে ডাকা সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। জানতে চাইলে পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, জাপানি দূতাবাসের অনুরোধে এই সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। ওই সূত্র জানায়, সংবাদ সম্মেলন স্থগিত চেয়ে জাপান দূতাবাস থেকে আইজিপি বরাবর একটি আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হলো।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে ওই নারীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে সিটি হোমসেই থাকছিলেন তিনি। হোটেলে প্রায় পাঁচ-ছয় লাখ টাকা বিল জমা পড়ে যাওয়ায় আড়াই মাস আগে বন্ধুরা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় মিয়েতার থাকার ব্যবস্থা করে দেন। সেখানেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২৯ অক্টোবর হিরোয়ি মিয়েতার মৃত্যু হয়।
উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর জানান, গত ২৬ অক্টোবর থেকে ওই নারী নিখোঁজ ছিলেন। ২৯ অক্টোবর তার মৃত্যু হয় বলে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে পুলিশ। তিনি জানান, ওই নারী ১০ বছর ধরে ‘অবৈধভাবে’ বাংলাদেশে বসবাস করছিলেন। তিনি এ দেশে বায়িং হাউজের ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। জাপান দূতাবাসের প থেকে সাধারণ ডায়েরির পর ঘটনা অনুসন্ধানে তৎপর হয় পুলিশ। এরপর উত্তরা পূর্ব থানার অপারেশন অফিসার মিজানুর রহমান বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, অপহরণের পর মিয়েতার লাশ গুম করা হয়েছে। মামলার তদন্তে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই নারীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যু ও তাকে সমাহিত করার বিষয়টি কেন গোপন করা হলো, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অপর দিকে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা জানিয়েছে, জাপানি ওই নারী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ওই দিন ডায়রিয়া হওয়ার কারণে মিয়েতার মৃত্যু হয়। মিয়েতাকে তার বন্ধুরা ডা: বিমল চন্দ্র শীলকে দিয়ে চিকিৎসা করান। পরে তার মৃত্যু হলে লাশ উত্তরায় নিয়ে আসা হয়। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে গোপনে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেন। ওই কর্মকর্তা জানান, মিয়াতার লাশের ময়নাতদন্ত করার জন্য উত্তোলনের অনুমতির জন্য আদালতে পিটিশন দেয়া হয়েছে। আদালত আজ বুধবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন। লাশের ময়নাতদন্ত শেষ হলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

আমিরকে ভারত ছাড়ার কথা বলেন কিরণ!

আমির খান
মৌচাকে এবার ঢিল ছুড়লেন আমির খান, নতুন করে জাগিয়ে তুললেন অসহিষ্ণুতা-বিতর্ক। গত সোমবার এক অনুষ্ঠানে বলিউডের এই অভিনেতা দেশজোড়া ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে মুখ খুলে বলেছিলেন, খবরের কাগজ পড়লে বা টিভি দেখলে তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সাত-আট মাস ধরে অসহিষ্ণুতা যেভাবে মাথাচাড়া দিচ্ছে তাতে ভীত তাঁর স্ত্রী কিরণও। আমির বলেন, ‘নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিরণ এতটাই আশঙ্কিত যে আমাকে একদিন জিজ্ঞেস করেছিল আমাদের কি ভারত ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত?’
আশঙ্কার ব্যাখ্যা দিয়ে আমির বলেছিলেন, সাত-আট মাস ধরে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়ে চলেছে। মানুষ সুবিচার চায়। আশঙ্কার অবসানে খুব স্পষ্ট ভাষায় যে বার্তা আসা দরকার, দুঃখের বিষয় তা আসছে না।
আমিরের এই মন্তব্যের পর নতুন করে শুরু হয়েছে অসহিষ্ণুতা নিয়ে বিতর্ক। কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধী এই মন্তব্যকে সমর্থন করে গতকাল বলেন, আমির বা তাঁর মতো যাঁরা প্রশ্ন তুলছেন তাঁদের দেশদ্রোহী বা দেশবিরোধী আখ্যা না দিয়ে বরং সরকারের দেখা উচিত, কেন মানুষ এমন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে।
অসহিষ্ণুতার প্রশ্নে কয়েক মাস ধরেই ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে হিংসা ছড়িয়েছে। যুক্তিবাদী লেখকেরা খুন হয়েছেন, গো-মাংস খাওয়া বা গরু পাচারের গুজব ছড়িয়ে পিটিয়ে মারা হয়েছে নিরীহ মানুষকে। নৈতিকতা ও অশ্লীলতার ধুয়ো তুলে বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন কোথাও কোথাও ভয়ের বাতাবরণ সৃষ্টি করেছে। প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজ্যের লেখক, শিল্পী, বিজ্ঞানী, অধ্যাপকেরা পুরস্কার বা খেতাব ফেরত দিয়েছেন।
বিনোদন জগতের দিকপালেরাও এর আগে এ নিয়ে সরব হয়েছেন। মুখ খুলেছিলেন শর্মিলা ঠাকুর, শাহরুখ খান, সালমান খানেরা। টিপু সুলতানের নামে বেঙ্গালুরুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নামকরণের প্রস্তাব দেওয়ায় বিশিষ্ট নাট্যকার ও অভিনেতা গিরিশ কারনাডকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এই ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে কথা বলে আমির খান সেই পুরোনো বিতর্কটাই নতুনভাবে খুঁচিয়ে তুললেন। এর ফলে মুম্বাইয়ে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু সেনা গতকাল মঙ্গলবার আমিরের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখায়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে। আমিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানো হয় বিহারের রাজধানী পাটনা ও মধ্যপ্রদেশের ভোপালেও। মুম্বাই পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, আমিরের বাড়ির সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আমিরের মন্তব্য ঘিরে দেশের রাজনীতিও সরগরম হয়ে উঠেছে। শুরু হয়েছে সরকারের তরফে প্রতিবাদও। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেছেন, বিজেপির আমলে সারা দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা কম হয়েছে। এই ধরনের কথার আসল উদ্দেশ্য দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা। আর এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভি বলেন, যে দেশের মানুষ আমির খানকে এত কিছু দিয়েছে, এই ধরনের কথা তাদের কাছে অসম্মানজনক। তিনি বলেন, ‘আমির এ দেশে নিরাপদ। আমরা ওঁকে দেশ ছাড়তে দেব না।’ বিজেপি মুখপাত্র শাহনওয়াজ হুসেন বলেছেন, ‘আমির আসলে দেশের মানুষকে ভয় দেখাতে চাইছেন।’
আমিরের মন্তব্য বলিউডকেও বিভাজিত করে দিয়েছে। অনুপম খের প্রশ্ন করেছেন, এর চেয়েও খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে দেশ গিয়েছে। তখন কি তিনি দেশ ছাড়ার কথা ভেবেছেন? ঋষি কাপুর বলেছেন, সমাজে ঘুণ ধরলে তার মেরামতি দরকার। সমস্যা থেকে মুখ ফেরানো কাজের কাজ নয়। একই মন্তব্য বিজেপি সাংসদ অভিনেতা পরেশ রাওয়ালেরও। তবে দিয়া মির্জা টুইট করে বলেছেন, প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে একটা সংগঠিত মিছিল দেখতে পাচ্ছি। রাভিনা ট্যান্ডন কটাক্ষ করে বলেছেন, দেশ থেকে এত পেয়েও আমির দেশ ছাড়বেন? রণবীর কাপুর আবার আমিরের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর মন্তব্য, আমির এই দেশের ভালো-মন্দ নিয়ে অনেক ভাবনাচিন্তা করেন। চিত্র পরিচালক মহেশ ভাট বলেছেন, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমাদের দরকার এমন একজন নেতা যিনি কড়া হাতে পরিস্থিতির মোকাবিলা করবেন।

সৌরঝড় বিনাশ ঘটতে পারে সভ্যতা

সাত বছরের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে পৃথিবীর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। শেষ হতে পারে আধুনিক এই সভ্যতা। অচল হয়ে যেতে পারে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ব্যবস্থা। এমন অবস্থা চলতে পারে মাসের পর মাস। এমন ভয়াবহ এক ধ্বংসলীলার আশঙ্কায় এরই মধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়, মহাশূন্যের আবহাওয়া বিষয়ক বিজ্ঞানী জন কেপেনম্যান বলেছেন, ২০২২ সালের মধ্যে আসতে পারে একটি সৌরঝড়। সেই সৌরঝড়ে সূর্য থেকে পৃথিবীর দিকে প্রচণ্ড বেগে ছুটে আসতে পারে অতি শক্তিশালী তেজস্ক্রিয়তা। এর প্রভাবে পৃথিবীতে ঘটে যেতে পারে বিরাট এক বিবর্তন। আবহাওয়ায় দেখা দেবে ভয়াবহ এক বিপর্যয়। শুধু তা-ই নয় সমস্ত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। সর্বশেষ এমন এক সৌরঝড় পৃথিবীতে আঘাত করেছিল ১৮৫৯ সালে। তখন ইউরোপজুড়ে ও উত্তর আমেরিকায় ভয়াবহ এক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল। সৌরঝড়ের অতি শক্তিশালী ভূ-চৌম্বকীয় শক্তির ফলে টেলিগ্রাফ লাইনগুলো বিস্ফোরিত হয়েছিল। কিছু টেলিগ্রাফ অফিসে আগুন ধরে গিয়েছিল। বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছিল। কিন্তু আধুনিক পৃথিবীতে যদি এমন একটি সৌরঝড় আঘাত করে তাহলে এর চেয়ে অনেক বেশি ধ্বংসলীলা সাধিত হবে। কারণ, এখনকার পৃথিবী সেই ১৮৫৯ সালের তুলনায় বহুগুণ উন্নত। বিশেষ করে প্রযুুক্তিগত দিক দিয়ে তার অগ্রগতি অকল্পনীয়। ফলে যদি সৌরঝড় পৃথিবীকে আঘাত করে প্রথমেই এসব বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় সৃষ্টি হবে বিপর্যয়। সূর্য থেকে সৌরঝড় আকারে ছুটে আসা তেজস্ক্রিয় কণা থাকে অতি শক্তিশালী আয়নিত অবস্থায়। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও আয়নিত। ফলে এ দুটির মধ্যে বিক্রিয়া ঘটবে সহজেই। ভবিষ্যৎবাণীতে বলা হচ্ছে, সৌর ঝড়ের ম্যাসিভ ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক পালস (ইএমপি) সব পাওয়ার গ্রিডকে উড়িয়ে দিতে পারে। ধ্বংস করে দিতে পারে আধুনিক সভ্যতা। মোবাইল ফোন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। ইন্টারনেট হয়ে পড়তে পারে অব্যবহার অনুপযোগী। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এমন একটি সৌরঝড় যদি আঘাত করে পৃথিবীতে তাতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ক্ষতি হতে পারে ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলার। এর আগে এমন একটি সৌরঝড় পৃথিবীকে আঘাত করার কথা ছিল ২০১২ সালে। তবে পৃথিবীর মানুষের সৌভাগ্য। তখন সৌরঝড়টি পৃথিবীর বাইরে দিয়ে সরে যায়। বিজ্ঞানী জন কেপেনম্যান বলেন, খোলাখুলি বলছি- এবার যে সৌরঝড়টি আসতে পারে তা হবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। তাতে আক্রান্ত হতে পারে পৃথিবীর বেশির ভাগ অংশ। এমন একটি সৌরঝড় বড় রকমের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে এমনটা স্বীকার করেছেন অফিস অব দ্য সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পলিসির সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ডাইরেক্টর-এর প্রেসিডেন্টের সহকারী জন পি হোলড্রেন। তিনি বলেন, মহাশূন্যে যা ঘটছে তা প্রাকৃতিক। তা থেকে যে প্রভাব পড়ে তা অর্থনীতি ও সামাজিক জীবের ওপর বড় আঘাত হতে পারে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের সহকারী পরিচালক বিল মার্টাঘ বলেন, এটা একটি বাস্তব ভীতি। এটা ঘটতেই পারে। এ জন্য ওই সম্ভাব্য দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নেয়া হয়েছে ছয় দফা পরিকল্পনা। এর মধ্যে একটি বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে হুমকির পরিমাণ যথাযথভাবে পরিমাপ করার জন্য। যেমনটা ভূমিকম্প মাপার জন্য রিখটার স্কেল ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে পূর্বাভাষ দেয় যেসব প্রযুক্তি তার মান উন্নয়নের দিকে দৃষ্টি দেয়া হয়েছে। তবে মহাশূন্যের সৌর ঝড়ের বা মহাশূন্য থেকে আসা কোন বিপদের যথাযথ পূর্বাভাষ করা কঠিন। কারণ, ১৫ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে তা আঘাত করে বসতে পারে। তাই মহাকাশের আবহাওয়ার দিকে লক্ষ্য রাখার জন্য অত্যাধুনিক নতুন স্যাটেলাইট বসানোর পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে। পৃথিবীকে প্রযুক্তির মান উন্নয়ন করা হতে পারে, যাতে এগুলো দিয়ে বিপর্যয়ের পূর্বাভাষ দেয়া যায়। এ জন্য পুরনো স্যাটেলাইটগুলো সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন সরকার।

ফাঁসি বন্ধে শেখ হাসিনাকে চিঠি লিখেছিলেন ইমরান

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ক্ষমা করে দিয়ে তাদের ফাঁসি স্থগিতের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি লিখেছিলেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান ইমরান খান। গত ২২শে নভেম্বর তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় পাকিস্তানে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে উদ্বেগ জানানো হয়। কিন্তু তার আগেই ২১শে নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী বরাবরে ওই চিঠি লেখেন ইমরান খান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, ডেইলি টাইমস। এতে বলা হয়, ওই চিঠিতে ইমরান খান লিখেছেন- যদি এই ফাঁসি বন্ধ করা হয় তাহলে তা শুধু এ অঞ্চলের বৃহত্তর স্বার্থের জন্যই ভালো হবে না, পাশাপাশি তা বিশ্বের শান্তি ও ন্যায়বিচারের জন্য ভালো হবে। ওই চিঠিতে, যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ সরবরাহ করতে বলা হয় বাংলাদেশকে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, শান্তিকে অগ্রাধিকার দিতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের উচিত একসঙ্গে কাজ করা।

স্বামীর মোবাইলে ফুটেজ, অতঃপর... by ওয়েছ খছরু

শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে নামলেন সিলেটের স্কুল শিক্ষিকা জাকিয়া আক্তার। প্রথমদিকে কিছুটা মানসিক সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ চিকিৎসা নিয়ে এখন সুস্থ। এরপর নিজের চাকরি ফিরে পেতে নামলেন আইনি লড়াইয়ে। শিক্ষিকার অধিকার ফিরে পেতে সাংবাদিকদের কাছেও জানালেন আকুতি। ওই স্কুল শিক্ষিকার পুরো নাম জাকিয়া আক্তার ভূঁইয়া। স্বামী জহিরুল ইসলাম, পেশায় পাথর ব্যবসায়ী। ব্যবসার সুবাদে সিলেটের গোয়াইনঘাটেই তাদের  আবাস। একযুগ আগে গোয়াইনঘাট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা হিসেবে জাকিয়া আক্তার ভূঁইয়া নিয়োগ পেয়েছিলেন। ওই স্কুলের এখন সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে তিনি পরিচিত। এছাড়া ‘ভালো’ শিক্ষিকা হিসেবেও বেশ পরিচিত এলাকায়। কিন্তু ওই শিক্ষিকাকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে সই নিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আর জোরপূর্বক সই নিয়ে চাকরিচ্যুত করার কোন সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে পারছেন না স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে, চাকরিচ্যুত করার পর্দার আড়ালের কারণ আছে। আর সেই বিষয়টি অবশেষে গোয়াইনঘাটের সাংবাদিকদের কাছে খুলে বলেছেন শিক্ষিকা জাকিয়া আক্তার। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু তার স্বামী জহিরুল ইসলামকে ঘিরে। জহিরুল ইসলাম পাথর ব্যবসায়ী হলেও স্থানীয় প্রশাসনে তার প্রভাব বেশি। থানা পুলিশের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক। এ কারণে তিনি গোয়াইনঘাটে ‘প্রভাবশালী’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। ২০১৩ সাল থেকে জাকিয়া আক্তার গোয়াইনঘাট মডেল স্কুলে শিক্ষিকা। এখন তাদের সন্তানও ওই স্কুলের ছাত্র। সেই সুবাদে জাকিয়া আক্তারের স্বামী জহুরুলও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ছিলেন। গেল বছরের শেষদিকে গোয়াইনঘাটের এক স্কুল শিক্ষিকার ভিডিও ফুটেজ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ওই শিক্ষিকার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে সবার মোবাইলে মোবাইলে। একপর্যায়ে ওই ভিডিও ফুটেজটি সংগ্রহ করেন জহিরুল ইসলাম। রেখে দেন তার মোবাইলের মেমোরিকার্ডে। বিষয়টি নিয়ে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মধ্যেও ফিসফাস শুরু হয়। তবে, ওই শিক্ষিকা ও স্কুলের সম্মান বিবেচনা করে কেউ-ই এ ব্যাপারে মুখ খুলেননি। বরং বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান। এদিকে,  মোবাইলে নিজের তোলা কয়েকটি ছবি লোড করতে একটি ইন্টারনেটে দোকানে মেমোরিকার্ড দেন জহিরুল ইসলাম। আর এই মেমোরিকার্ড থেকে শিক্ষিকার ফুটেজও ডাউনলোড করে রাখেন দোকানি। পরবর্তীতে ওই দোকানি টাকার বিনিময়ে মোবাইলে মোবাইলে ভিডিও ফুটেজটি আরেক দফা প্রচারের চেষ্টা চালালে তোলপাড় শুরু হয়। এ নিয়ে ওই দোকানি পড়েন ছাত্রদের তোপের মুখে। পরবর্তীতে ইন্টারনেট দোকানি স্বীকার করেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জহিরুলের কাছ থেকে ওই ভিডিও ফুটেজটি সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির কানে যাওয়ার পরও এ নিয়ে কেউ কোন কথা বাড়াননি। শিক্ষিকা জাকিয়া আক্তারের স্বামী জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিক্ষিকার ভিডিও ফুটেজ নিয়ে যখন তোলপাড় শুরু হয় তখন ম্যানেজিং কমিটির দু’-একজন সদস্যের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি সেটি ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করেন। ওই ভিডিও’র সঙ্গে তার কোন সংশ্লিষ্টতা ছিল না। সেটি জানতো বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিও। কিন্তু পরবর্তীতে দোকানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার উপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলে। এদিকে, ৬ মিনিটের ভিডিও ফুটেজটি নিয়ে যখন তোলপাড় চলছিল তখন ২০১৪ সালের ৩রা নভেম্বর আকস্মিকভাবে গোয়াইনঘাট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভা আহ্বান করা হয়। ওই সভায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা তাদের লিখিত একটি পদত্যাগপত্রে শিক্ষিকা জাকিয়া আক্তারের সই নেন। এ সময় জাকিয়া আক্তারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। সমপ্রতি সিলেটের গোয়াইনঘাটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শিক্ষিকা জাকিয়া আক্তার জানিয়েছেন, কথিত অপরাধে স্বামী জড়িত থাকায় এ ঘটনা ঘটানোর পাশপাশি স্থানীয় কতিপয় সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছ। এ কারণে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে তারা গোয়াইনঘাট ছাড়া হয়েছেন। তিনি জানান, বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছেলেকে বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি। তার বেতন বোনাস আটকে রাখা হয়েছে। এদিকে, কোন উপায় না পেয়ে অবশেষে সিলেটে আদালতে চাকরি ফিরে পেতে মামলা করেছেন শিক্ষিকা জাকিয়া আক্তার ভূঁইয়া। আদালত তার অভিযোগ আমলে নিয়ে ইতিমধ্যে চাকরিচ্যুত করার কারণ জানতে চেয়েছে। একই সঙ্গে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জীববিজ্ঞান বিভাগে কোন শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেছেন। জাকিয়ার স্বামী জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তার স্ত্রী জাকিয়াকে চাকরিচ্যুতকালে মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এতে করে তিনি প্রথমদিকে কিছুটা মানসিক সমস্যায় পড়েছিলেন। এখন চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি সুস্থ হয়ে মামলা করেছেন। এদিকে, গোয়াইনঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সচিব ও প্র্রধান শিক্ষক সেলিম উল্লাহ জানিয়েছেন, চাকরিকালীন সময়ে জাকিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির কোন অভিযোগ ছিল না। কী কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে সেটি তার জানা নেই। বলেন, আদালতে মামলা বিচারাধীন আছে। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা সঠিক নয়।

'সপ্তাহে একজন মুসলমানকে হত্যা করব'

'প্রতি সপ্তাহে একজন মুসলমানকে হত্যা করব।' এমন-ই হুমকি দিয়ে মঙ্গলবার ইউটিউবে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে কানাডার এক ব্যক্তি। মন্ট্রিলের পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল। কিন্তু সে জোকার সেজে থাকায় তার পরিচয় জানা এবং আটক করতে সময় লাগছিল। অবশেষে মন্ট্রিল পুলিশ তাকে আটক করেছে। তবে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। ডেইলি সাবাহ এ খবর জানিয়েছে।
সম্প্রতি প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই কানাডায় মুসলমানদের উপর নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছিল। এর ধারাবাহিকতায় এ হুমকি দেয় ওই ব্যক্তি।
বন্দুক উচিয়ে মুসলমানদের হত্যার হুমকি দেয় মন্ট্রিলের এই ব্যক্তি
গত সোমবার টরেন্টোতে একজন মুসলমান নারী মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে যাওয়ার সময় দু'জন পুরুষের হাতে নির্যাতনের শিকার হন।
মুসলমান-বিদ্বেষপূর্ণ ভিডিওটি পোস্টের পর থেকেই ইউটিউব ইউজাররা তাকে আটকের জন্য মন্ট্রিল পুলিশকে জানায়। অনেকে কুইবেক পুলিশকে কঠিন পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করে।
ভিডিওতে সে ফ্রেঞ্চ ভাষায় বলতে থাকে, 'সরকার এদের কিছু করতে পারবে না। তাই আমি এবং আমার মতো কিছু লোক প্রতি সপ্তাহে একজন করে মুসলমানকে হত্যা করব।'
সে হুঙ্কার দিয়ে বলতে থাকে, 'আগামী সপ্তাহ থেকেই আমরা কাজ শুরু করব। পুরো কুইবেক জুড়ে আমরা হত্যাকাণ্ড চালাব। এক এক করে এদের সবাইকে শেষ করে ফেলব।'
এ সময় তার হাতে একটি বন্দুকও ছিল। সেটি উচিয়ে হুমকি দিতে থাকে সে।
কানাডায় সম্প্রতি মুসলমানবিদ্বেষের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন দেশটির নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জাস্টিন ট্রুডো। তিনি বলেছেন, এ ধরণের নিষ্ঠুর ও নির্বোধ লোকদের এ দেশে কোনো জায়গা নেই।

কলেজশিক্ষার বেহাল অবস্থা by আমিরুল আলম খান

বিশ্বাস করা কঠিন; তবু বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে সবচেয়ে অবহেলিত হলো কলেজশিক্ষা। সেখানে বিরাজ করছে নৈরাজ্য। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নে কিছু সুযোগ-সুবিধা থাকলেও সরকারি-বেসরকারি কলেজশিক্ষকদের বেলায় তা একেবারেই অনুপস্থিত। এমনকি এ ক্ষেত্রে আইনগত বাধ্যবাধকতাও নেই।
একজন শিক্ষকের দুটি বিষয়ে পারদর্শিতা অপরিহার্য: বিষয় জ্ঞান এবং শিক্ষণ ও গবেষণা দক্ষতা। শিক্ষণ দক্ষতা নির্ভর করে শিক্ষার মৌল ধারণাসমূহ, কারিকুলাম ও সিলেবাস সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান, শিক্ষার ইতিহাস, শিক্ষার্থীর মনোজগৎ, জ্ঞান বিতরণে বিভিন্ন পদ্ধতি ও কৌশল-সম্পর্কিত জ্ঞান, পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন, শিক্ষা-উপকরণ তৈরি ও ব্যবহার, শিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষার্থীর শিখনফল পরিমাপ ও মূল্যায়ন করার ক্ষমতা এবং নতুন নতুন শিক্ষণ কৌশল উদ্ভাবনের দক্ষতার ওপর। আধুনিক শিক্ষা হলো অংশগ্রহণমূলক এবং তা আবশ্যিকভাবেই শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক ও ব্যবহারিক। পঠন-পাঠনে সৃজনশীলতা ব্যতিরেকে আধুনিক কালে শিক্ষা দান ও গ্রহণ অসম্ভব। শিক্ষাবিজ্ঞানে উপযুক্ত শিক্ষা/প্রশিক্ষণ, গবেষণার মাধ্যমে একজন শিক্ষক নিজেকে সৃষ্টিশীল শিক্ষক হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। বর্তমান পৃথিবীতে তাই শিক্ষা বিষয়ে উপযুক্ত ডিগ্রি/ডিপ্লোমা ছাড়া শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হওয়া যায় না।
বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি কলেজশিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা আছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকসহ (সম্মান) মাস্টার ডিগ্রি। সেখানে প্রার্থীকে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়। সকল পর্যায়ে দ্বিতীয় শ্রেণি/সমমানের গ্রেড থাকতে হয়।
সরকারি কর্মকমিশনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি কলেজশিক্ষক নিয়োগ হয়। হালে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে কর্মকমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বেসরকারি কলেজের জন্য শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই নিবন্ধন পরীক্ষা প্রায় এক দশকেও কোনো বিশ্বাসযোগ্য মান অর্জন করতে পারেনি। বর্তমান শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় বিষয় জ্ঞান ছাড়া পেডাগজি ও শিক্ষণ-দক্ষতার কিছুই যাচাই করা হয় না। তা করতে হলে হবু শিক্ষককের শিক্ষায় প্রি-সার্ভিস ডিগ্রি আবশ্যিক করতে হবে। কিন্তু সেটিই করা হয়নি।
বেসরকারি কলেজশিক্ষকদের পদোন্নতির ব্যবস্থা তামাশার চূড়ান্ত। মোট শিক্ষকসংখ্যার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ সিনিয়র শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক হতে পারেন। অন্যদের প্রভাষক হিসেবেই জীবনপাত করতে হয়। ফলে মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধা থেকে বেসরকারি কলেজশিক্ষকেরা আমৃত্যু বঞ্চিত থাকেন। তাঁরা হতাশার শিকার হন, কর্মদক্ষতা হারিয়ে ফেলেন। আখেরে বঞ্চিত হয় শিক্ষার্থীরা। পদোন্নতিহীন এমন অমানবিক ব্যবস্থা কেবল বাংলাদেশেই সম্ভব। অথচ বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ কলেজই বেসরকারি এবং এই বেসরকারি কলেজগুলোই বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক থেকে স্নাতক, স্নাতক (সম্মান), এমনকি মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষার চাকা সচল রেখেছে।
শিক্ষকতা আর পাঁচটা চাকরির মতো নয়। তার কোনো স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ৯০ ভাগ কলেজশিক্ষকের ধারণা নেতিবাচক। জ্ঞান অর্জন ও জ্ঞান বিতরণ যে দুটি আলাদা বিজ্ঞান, সে সম্পর্কে তাঁদের ধারণা পর্যন্ত নেই সরকারি কলেজশিক্ষকদের পদোন্নতির শর্ত হচ্ছে চার মাসের বুনিয়াদি ট্রেনিং আর বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। পদ শূন্য সাপেক্ষে বিষয়ভিত্তিক পদোন্নতি হয়। পেশাগত নতুন, উন্নত জ্ঞান যাচাই বা পেশাগত ট্রেনিং বা গবেষণাপত্র প্রকাশ পদোন্নতির কোনো মানদণ্ড নয়। পদোন্নতির কোনো স্তরেই এসবের প্রয়োজন হয় না। পদায়নেও নেই কোনো শৃঙ্খলা। সেখানে দলবাজি, তদবিরের প্রাধান্য। এমনকি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে শেখার সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত। তা হলে একজন শিক্ষক জ্ঞান-বিজ্ঞানের নিত্য প্রসারমাণ ভুবনের সঙ্গে পরিচিত হবেন কীভাবে? কীভাবে তিনি নিজেকে একজন আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন শিক্ষক হিসেবে গড়ে তুলবেন? দাসত্বের এক চরম দৃষ্টান্ত হলো এ দেশের সরকারি শিক্ষকেরা। তাঁদের স্বাধীন চিন্তার পথে পথে হাজারো কাঁটা বিছানো। সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রণীত একই আইনে শিক্ষকদের স্বাধীন চিন্তার দরজা চিররুদ্ধ। অথচ চিন্তার স্বাধীনতা ও নির্ভাবনায় প্রকাশ হলো শিক্ষকতার মৌলিক অধিকার। এমন বন্দিদশায় কীভাবে শিক্ষক সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন? কীভাবে তিনি নিজেকে আরও যোগ্য শিক্ষক হিসেবে গড়ে তুলবেন? শিক্ষকতা যে অনুগত দাসের কাজ নয়, এ কথা বুঝতেও অক্ষম আমরা।
কেন কলেজশিক্ষকতায় পেডাগজি (শিক্ষাবিজ্ঞান) জানা আবশ্যকীয় করা হবে না, এ প্রশ্নের কোনো জবাব নেই। শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণে বিএড/এমএড বা সমমানের ডিগ্রিকে অগ্রাধিকার দেওয়া, বিশেষ ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে তা বিবেচনা করা উচিত। শিক্ষকতায় প্রবেশের আগেই শিক্ষা বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন বাধ্যতামূলক করা সময়ের দাবি। তাতে শিক্ষার মান যেমন উন্নত হবে, তেমনি বাঁচবে সরকারি অর্থ। যাঁরা ইতিমধ্যে এ পেশায় প্রবেশ করেছেন, তাঁদের প্রথম দুই বছরের মধ্যে শিক্ষাবিষয়ক ডিগ্রি/ডিপ্লোমা অর্জন/প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা জরুরি।
আশ্চর্যের বিষয়, প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা চাকরিজীবনে কমপক্ষে ১৫ বার বিদেশে শিক্ষা ভ্রমণের সুযোগ পান। অথচ ৯৯ শতাংশ শিক্ষকই সারা জীবনে মাত্র একবারও সে সুযোগ পান না! কূপমণ্ডূকের জীবন কাটে আমাদের কলেজশিক্ষকদের। এ দেশে একজন চৌকিদারেরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে, নেই কোনো কলেজশিক্ষকের পেশাগত মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষা/প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা!
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ হলো পঠন-পাঠনের পাশাপাশি গবেষণা ও উত্তম শিক্ষক তৈরি। বাংলাদেশে তা বলতে গেলে সম্পূর্ণ উপেক্ষিত। বাংলাদেশে সে জন্য কোনো প্রস্তুতিও নেই। ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, হালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ছাড়া দেশে মাত্র ১৪টি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে এই ডিগ্রি প্রদানের মানসম্মত ব্যবস্থা আছে। দেশে বেসরকারি প্রায় দেড় শ প্রতিষ্ঠান বিএড কোর্স করালেও তার মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবাই ডিগ্রি বিক্রির বাণিজ্যে মেতেছে বলে অভিযোগ আছে। অন্যদিকে নায়েম, পাঁচটি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখে না। নায়েমে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ মূলত শিক্ষকদের কেরানি ও অনুগত ভৃত্য বানানোর কারখানা; পেডাগজি সেখানে অস্পৃশ্য।
বাংলাদেশে কোনো পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার চিন্তা করা হয়নি। বিশ্বের বহু উন্নত ও বিকাশশীল দেশে এখন শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষকদের পেশাগত উৎকর্ষের জন্য পঠন-পাঠন, গবেষণা চলে। কারিকুলাম প্রণয়ন থেকে নিয়মিত সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ আয়োজন, দেশের শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নের যাবতীয় বিষয় দেখভাল এবং দেশীয় বাস্তবতা ও বৈশ্বিক চাহিদার নিরিখে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা–বিষয়ক গবেষণা, গবেষণা জার্নাল প্রকাশ, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ দায়িত্ব। অর্থাৎ দেশে আধুনিক শিক্ষা বিস্তারের কেন্দ্রভূমি হলো শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশে কলেজশিক্ষকদের ৯০ শতাংশই শিক্ষাবিজ্ঞানে ডিগ্রি একান্তই অপ্রয়োজনীয় মনে করেন। কোনো প্রশিক্ষণ ও অনুশীলন ছাড়া শুধু মাঠে বা টেলিভিশনে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা জার্মানির খেলা দেখেই ভালো খেলোয়াড় হওয়া যেমন হাস্যকর, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুধু বিষয় জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়েই ভালো শিক্ষক হওয়াও তেমনি অসম্ভব।
শিক্ষকতা আর পাঁচটা চাকরির মতো নয়। তার কোনো স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ৯০ শতাংশ কলেজশিক্ষকের ধারণা নেতিবাচক। জ্ঞান অর্জন ও জ্ঞান বিতরণ যে দুটি আলাদা বিজ্ঞান, সে সম্পর্কে তাঁদের ধারণা পর্যন্ত নেই। ফলে শেখানোর আধুনিক কলাকৌশলের সঙ্গে আমাদের কলেজশিক্ষকেরা পরিচিত হওয়ারই সুযোগ পান না। বিভিন্ন স্তরে পদোন্নতির জন্য শিক্ষা–বিষয়ক প্রশিক্ষণ, উচ্চতর ডিগ্রি/ডিপ্লোমা, নির্দিষ্টসংখ্যক গবেষণাপত্র প্রকাশে বাধ্যবাধকতা না থাকায় সেদিকে কারও আগ্রহ নেই। দেশে-বিদেশে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণেরও সুযোগ নেই। চাকরির দৈর্ঘ্য (লেন্থ অব সার্ভিস) হিসেবে পদোন্নতি মেলে। তাই উপরিউক্ত বিষয়গুলো তাঁদের চিন্তায়ও আসে না। উচ্চতর ডিগ্রি, নির্দিষ্টসংখ্যক গবেষণাপত্র প্রকাশ, পদোন্নতি পরীক্ষা ছাড়া পদোন্নতি বন্ধ করার সময় এসেছে।
কলেজশিক্ষার বর্তমান ধারা পরিবর্তন করে তা আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত করার বিকল্প নেই। সে জন্য ঢেলে সাজাতে হবে বর্তমান কলেজশিক্ষাব্যবস্থা। নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়নের বিদ্যমান আইনের ব্যাপক সংশোধন জরুরি হয়ে উঠেছে। এ জন্য দরকার জাতীয় সংলাপ শুরু করা।
আমিরুল আলম খান: শিক্ষাবিদ।
amirulkhan7@gmail.com

ফ্রিল্যান্সিংয়ে মাসে আয় ২৪০০০ ডলার

এশিয়ায় ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা অনেক। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইনে এ সম্প্রদায় এখন অন্য দেশের তুলনায় সংখ্যাগুরু। নিয়মিত চাকরি করে যে অর্থ আয় করা যায় তাদের অনেকেই তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আয় করছেন ফ্রিল্যান্সিং করে। তাদেরই একজন পাকিস্তানের দানিয়েল সালিম। কঠোর পরিশ্রম আর ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে তিনি এখন অনলাইনে এক পরিচিত মুখ। অনলাইনে গ্রাফিক ডিজাইন করে তিনি মাসে আয় করেন গড়ে ২০ হাজার ডলার। গত কয়েক মাস ধরে তার আয় এমনই। দানিয়েল বলেছেন, এই সফলতা রাতারাতি তার কাছে ধরা দেয় নি। তিনি বলেন, ২০১২ সালে আমার এক নিকট আত্মীয় আমাকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে পরিচিত করায়। কিন্তু শুরুতে ক্লায়েন্টরা খুব কম পারিশ্রমিক দিতো। ওই সময় আমি কলেজে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছিলাম। এক পর্যায়ে দেখি চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা। তাই আমি সেই প্রতিযোগিতা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। ২০১৩ সালের মে মাসে তিনি চূড়ান্তভাবে ফ্রিল্যান্সিং প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন। এ সংক্রান্ত অনেক সাইটের মধ্যে একটিতে তিনি সাইন ইন করেন। সেখানে ছোটখাটো কাজ দেয়া হয়। যেমন একটি লোগোর ডিজাইন অথবা একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে দেয়া। এরই মধ্যে কলেজের শিক্ষার খরচ চালিয়ে নিতে তিনি শুরু করে দেন একটি ছোটখাট ব্যবসা। সিদ্ধান্ত নেন ফ্রিল্যান্সিংয়ে দুই বা তিন মাস দেখবেন যদি সফলতা না পান তাহলে ব্যবসায় ফিরবেন। প্রথম মাসে তিনি ফিভার (Fiverr)-এর সঙ্গে কাজ করেন। এখানে বেশির ভাগই লোগো ডিজাইনের কাজ। তবে এ কাজটি খুব সহজ ছিল না। দু’তিন সপ্তাহ তিনি কোন ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কোন সাড়া পেলেন না। দানিয়েল বলেন, আমি বুঝতে চেষ্টা করলাম কি করলে সাড়া পাওয়া যাবে। তাই আমি ব্লগ পড়া শুরু করলাম। ফোরামে যোগ দিলাম। যারা সফল ফ্রিল্যান্সার তাদের কাজের ধারা বিশ্লেষণ করলাম। দেখলাম এটা এক কঠিন লড়াই। তবে তাই বলে আমাকে এ কাজ ছেড়ে দিলে চলবে না। তিনি বুঝলেন কোন ক্লায়েন্ট সহজে কোন নতুন ফ্রিল্যান্সারকে কাজ দিতে চায় না। কারণ সেখানে বিশ্বাসের বিষয় রয়েছে। তারা চায় পেশাদার। প্রতিষ্ঠিত ফ্রিল্যান্সার। এক্ষেত্রে একজন ফ্রিল্যান্সারের জীবনী থাকতে হয় বর্ণিল, শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তেমন করে তিনি  প্রোফাইল আপডেট করলেন। আস্তে আস্তে কাজ আসা শুরু হলো। কয়েক মাসের মধ্যে গড়ে প্রতি মাসে তিনি এক প্রজেক্ট হাতে পাওয়া শুরু করলেন। পেশাগত কাজের পরিধি বাড়িয়ে দিলেন। এবার লোগো ডিজাইন থেকে বিজনেস কার্ড, ব্যানার, ফেসবুক কভার পেজ, লেটারহেড ও স্টেশনারি কাজের অর্ডার পেতে লাগলেন। যেসব ক্লায়েন্ট এসব কাজে সন্তুষ্ট হলেন তারা সংশ্লিষ্ট আরও কাজ তাকে দেয়া শুরু করলেন। এতে তার আয় বাড়তে থাকে। এ বছরের মে পর্যন্ত তার সামনে কাজের স্তূপ পড়ে যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে ইন্টারনেট বড় সমস্যা হয়ে গেল তার জন্য। তার বাড়ি যেখানে সেখানে একটানা দুদিন পর্যন্ত কোন কোন সময় ইন্টারনেট সংযোগ থাকে না। এ অবস্থায় তিনি জরুরি প্রয়োজনে ছুটে যান বন্ধুদের বাসায়। যারা ফ্রিল্যান্সিং করতে চান তাদের প্রতি তার পরামর্শ কি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাড়তি কিছুকে সব সময়ই ছাড় দিতে হয়। ক্লায়েন্টের চাওয়ার প্রতি সম্মান দেখিয়ে সে মতো কাজ করুন। তারাই আপনাকে সামনে টেনে নেবেন। অনেক ফ্রিল্যান্সার আছেন যারা প্রতিদিন কয়েক শত প্রজেক্টে বিড করেন কিন্তু হতাশ হন। একটি প্রজেক্টও পান না। তার পরামর্শ হচ্ছে, আপনি যে বিষয়ে দক্ষ এমন প্রজেক্টগুলোতেই বিড করা ভাল। যেসব ফ্রিল্যান্সার অন্যের প্রজেক্ট থেকে কপি করে তা দিয়ে প্রজেক্ট বানান তারা বেশিদূর যেতে পারেন না। দানিয়েল একাই নন, অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন ৭০ জনকে। তাদের সবাই এখন প্রতি মাসে কয়েক হাজার ডলার আয় করছেন। দানিয়েল বলেন, শুধু দক্ষতা অর্জনই যথেষ্ট নয়। আপনাকে জানতে হবে কিভাবে নিজেকে যথাযথভাবে ব্যবহার করবেন।