Sunday, June 12, 2011

এইডস প্রতিরোধে বাংলাদেশের সাফল্য by আ ফ ম রুহুল হক

৮-১০ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এইডসবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে মিলিত হন বিশ্বনেতারা। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী, গবেষক, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের এই মিলনমেলা প্রকৃত অর্থেই বিশ্বব্যাপী এইডস প্রতিরোধবিষয়ক কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি পর্যালোচনা, বিভিন্ন শিক্ষণীয় বিষয়ে পারস্পরিক মতবিনিময় ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনার একটি সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
এইডস রোগের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ বছর আগে ১৯৮১ সালের এই জুন মাসেই আমেরিকার চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো একজন রোগীকে শনাক্ত করেন, যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই রোগেরই নামকরণ করা হয় এইডস। ১০ বছর আগে জাতিসংঘের এইডসবিষয়ক বিশেষ অধিবেশনে বিশ্বনেতারা এইডসকে একটি ‘গ্লোবাল ইমারজেন্সি’ হিসেবে ঘোষণা দেন এবং এই মহামারি প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে একটি সমন্বিত ও টেকসই কার্যক্রম হাতে নেওয়া আহ্বান জানান।
তিন দশক পর আজ সময় এসেছে এইডস প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী গৃহীত সেই সমন্বিত কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়নের। জাতিসংঘ মহাসচিবের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের শেষদিকে সারা বিশ্বের নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ বাঁচাতে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ট্রিটমেন্ট (এইডস প্রতিরোধে চিকিৎসা) নিয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০০৩ সালেও এ সংখ্যা ছিল মাত্র চার লাখ। এইডস মহামারির এত সব জটিল সমীকরণ সত্ত্বেও গত এক দশকে নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো ৫০ শতাংশেরও বেশি গর্ভবতী মা এইচআইভিমুক্ত সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছেন।
জাতিসংঘের সেই প্রতিবেদনে অবশ্য এসব অর্জনকে দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এইচআইভি মহামারি। এ রোগ প্রতিরোধে গৃহীত কার্যক্রম ছাপিয়ে গেছে এবং এখনো যাচ্ছে। কারণ এখনো একজন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি যে সময় চিকিৎসা শুরু করছে, সে সময় আরও দুজন ব্যক্তি নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী এইডস কার্যক্রমের জন্য অর্থের জোগানেও পড়েছে ভাটা, তা ছাড়া কৌশলগত নেতৃত্ব ও জবাবদিহির বিষয়টি এখনো অধরাই রয়ে গেছে।
এইচআইভি প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদারের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব বিশ্বনেতাদের প্রতি ২০১৫ সালের জন্য ছয়টি লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। লক্ষ্যমাত্রাগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
* যৌনকর্মের মাধ্যমে এইচআইভি সংক্রমণের হার বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী যেমন—তরুণ-তরুণী, সমকামী ও যৌনকর্মী এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক নেওয়ায় নতুন করে এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধ।
* এক কোটি ৩০ লাখ লোকের জন্য এইচআইভি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
* এইচআইভি-আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে টিবি মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ হ্রাস করা।
* মা থেকে সন্তানের দেহে এইচআইভি সংক্রমণ নির্মূল করা, মায়েদের বাঁচিয়ে রাখা এবং নারী, শিশু ও পরিবারের স্বাস্থ্য উন্নয়ন।
* এইডসের কারণে এতিম ও অসহায় শিশুদের শিক্ষায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
* এইচআইভির কারণে প্রবেশ, অবস্থান ও বসবাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশের সংখ্যা ৫০ শতাংশ হ্রাস করা।
বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে ওপরের লক্ষ্যসমূহ অর্জনে যথেষ্ট অগ্রগতি সাধন করেছে। দেশে এইচআইভি-আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার অনেক আগেই রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত এইচআইভি সংক্রমণের হার নিম্ন পর্যায়ে রাখার ক্ষেত্রে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সুনির্দিষ্ট প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও সেবার মানসম্পন্ন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে আমরা এইচআইভি কার্যক্রম শুরু করেছি। পাশাপাশি এনজিও ও নাগরিক সমাজ এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি মানবাধিকারভিত্তিক প্রস্তাবনা গ্রহণ করেছে। আর এসব কার্যক্রম দেশে ২০ বছর ধরে এইচআইভি সংক্রমণের হার নিম্নপর্যায়ে রাখতে আমাদের যথেষ্ট সাহায্য করেছে।
যাদের এইচআইভি চিকিৎসার ওষুধ (অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ট্রিটমেন্ট) প্রয়োজন, তারা যেন তা পায় এবং স্কুলের পাঠ্যবইতে সব শিশুর জন্য এইচআইভি তথা জীবনমুখী শিক্ষার (লাইফ স্কিল) অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করেছি।
এসব অর্জন সত্ত্বেও আমাদের সন্তুষ্টির সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশে রয়েছে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী এবং তাদের এইচআইভিবিষয়ক সচেতনতা বেশ কম। তা ছাড়া দেশে অভিবাসী জনগোষ্ঠীসহ অনেকে ঝুঁকির মধ্যে আছে। এইচআইভির ঝুঁকি নারীদের মধ্যে আরও বেড়ে যায়, যখন তারা তাদের পূর্ণ অধিকার না পায় অথবা তারা যখন নারী হিসেবে বৈষম্যের শিকার হয়। আমরা এসব তরুণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সর্বজনীন সুযোগ ও সেবা নিশ্চিত করার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।
একটি কার্যকর এইডস কার্যক্রম পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির প্রয়োজন আর এ জন্য আমাদের প্রয়োজন জ্ঞাত ও টেকসই অর্থের উৎস। বাংলাদেশ সরকার দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য এইচআইভি প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও সেবার সর্বজনীন সুযোগ নিশ্চিত করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তথ্যনির্ভর ও মানবাধিকারভিত্তিক কৌশল বিনির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশে এইচআইভি মহামারি প্রেক্ষাপট পরিবর্তন আমাদের কাম্য। জাতীয় এইডস কর্মসূচি দেশের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অংশ। সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারী ও পুরুষ এ কর্মসূচিতে যাতে অগ্রাধিকার পায়, সে বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করব। সরকার গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে এইডস সেবা কার্যক্রম পৌঁছে দিতে পর্যায়ক্রমে কমিউনিটি ক্লিনিকের সার্ভিস ডেলিভারি প্রক্রিয়ায় তা অন্তর্ভুক্ত করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, আমরা এইচআইভি-আক্রান্ত ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামাজিক অপবাদ ও বৈষম্য হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
ডা. আ ফ ম রুহুল হক: মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

তদারকি ও বাস্তবায়ন শক্তিশালী করার তাগিদ এমসিসিআইয়ের

২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটের বিভিন্ন ইতিবাচক দিককে স্বাগত জানালেও বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। সংগঠনটি বলছে, বাজেট তদারকি ও বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা প্রয়োজন, প্রয়োজন অর্থনীতির উচ্চাভিলাষী প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বার্থে সম্প্রসারণ করা।
এমসিসিআইর সহসভাপতি নিহাদ কবির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এমসিসিআই বাজেটের ওপর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এসব কথা বলেছে।
এমসিসিআই মনে করে, আগামী বাজেটে অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন দুটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বাজেটের ঘাটতি অর্থায়নের প্রধান অংশই আসবে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে—এই তথ্য উল্লেখ করে এমসিসিআই বলেছে, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ সীমিত থাকা উচিত।’ এর পরিবর্তে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উন্নয়নশীল দেশগুলো যে আর্থিক সহায়তা পাবে, তার একটা ভালো অংশ পাওয়ার লক্ষ্যে সরকারকে চেষ্টা করতে হবে বলে এমসিসিআই মনে করে।
এমসিসিআই এই বলে সতর্ক করে দিয়েছে যে সরকার যদি ব্যাংক খাত থেকে অধিক ঋণ গ্রহণ করে, তাহলে দেশের ব্যবসা ও শিল্প খাতে ঋণ গ্রহণের সুযোগ কমে যাবে। এমসিসিআই আরও বলেছে, যদি বাজেটে প্রদর্শিত প্রবৃদ্ধি অনুযায়ী অধিক ঋণ গ্রহণে বেসরকারি খাতের সুযোগ বৃদ্ধি পায়, তাহলে কর্মসংস্থান ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে এই খাতের অবদান বাড়বে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ করের আওতা বাড়াতে হবে। তা হলে করদাতাদের ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণ করের চাপ পড়বে না।
এমসিসিআই মনে করে, বাজেটে দেশের অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করা গেছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার পটভূমিতে তৈরি করা এই বাজেট দেশের চাহিদা উদ্দীপ্ত করবে, দেশীয় শিল্পকে যথাযথ সুরক্ষা দেবে এবং মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি ব্যাপক সামাজিক নিরাপত্তাবলয় সৃষ্টির জন্য সহায়ক হবে।
বাজেটে কৃষি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং যোগাযোগ খাতে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করে এমসিসিআই। এমসিসিআই আরও মনে করে, রেল যোগাযোগের জন্য একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় থাকা বাঞ্ছনীয়। একটি শক্তিশালী রেলপথব্যবস্থা সড়কের ওপর চাপ কমিয়ে আনবে এবং যাত্রী ও দ্রব্য পরিবহনের ক্ষেত্রে খরচ কমাবে এবং দক্ষতা বাড়াবে।
এমসিসিআই বলেছে, তিন হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) ব্যবহার করার লক্ষ্যে দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজন। এই বরাদ্দের দ্রুত ব্যবহার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এডিপিতে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে এমসিসিআই।
সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অধিকতর গুরুত্বারোপ করায় সন্তোষ প্রকাশ করে এমসিসিআই বলেছে, কয়লানীতি অবিলম্বে ঘোষণা করতে হবে। দেশের বিদ্যমান কয়লা সম্পদ আহরণে উন্মুক্ত আহরণ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পুনর্বাসন এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব কমিয়ে আনতে যথোপযুক্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
গ্যাসস্বল্পতায় অনেক শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে এমসিসিআই নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপের পরামর্শ দিয়েছে। বলেছে, যে হারে জ্বালানি খরচ বাড়ছে, তার জন্য দেশের সম্পদ যথাযথভাবে আহরণ করতে হবে। অন্যথায় জ্বালানি খরচ দেশের অর্থনীতির ওপর বিরূপ এবং সম্ভবত অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করবে।
এমসিসিআই ব্যাংক খাত বা অন্য কোনো খাত থেকে হোক, শিল্পঋণ পাওয়া সহজতর করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সেই অর্থ বা তহবিল যে শিল্প খাতেই থাকছে ও কোনো অনুৎপাদনশীল খাতে যাচ্ছে না, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
এমসিসিআই মনে করে, খামার ও মৎস্য খাতের ওপর পাঁচ শতাংশ আয়কর আরোপ খাদ্যমূল্য বাড়িয়ে দেবে। অথচ এই খাত কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আবার করপোরেট বা প্রাতিষ্ঠানিক আয়কর না কমিয়ে এবং কোম্পানির লাভ-লোকসানের বিবেচনা না করে টার্নওভারের ওপর ন্যূনতম ০.৫ শতাংশ করারোপ যৌক্তিক নয় বলে মনে করে এমসিসিআই।
রপ্তানি আয়ের ওপর উৎসে আয়কর ০.৪-০.৫ শতাংশ থেকে ১.৫ শতাংশে বাড়ানোয় এমসিসিআই হতাশা ব্যক্ত করে বলেছে, এটি রপ্তানিতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ দেওয়ায় এমসিসিআই হতাশা প্রকাশ করে বলেছে, এই ধরনের ব্যবস্থা প্রকৃত ও নিয়মিত করদাতাদের জন্য বৈষম্যমূলক।
পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা এবং লেনদেনে শৃঙ্খলা আনার স্বার্থে বিও হিসাবধারীদের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেও মনে করে এমসিসিআই।
এমসিসিআই সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারীদের ওপর করারোপ সমতা আনয়ন, বিনিয়োগসীমা সুবিধা এক কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়ানো ও ব্যবসার সামাজিক দায়বদ্ধতার ছাড় আট কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়ানোকে স্বাগত জানিয়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করমুক্ত আয়সীমা দুই লাখ টাকা করা উচিত বলে মনে করে এমসিসিআই।

রপ্তানিতে উৎসে করহার অপরিবর্তিত রাখার দাবি

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) প্রস্তাবিত ‘শিল্পপার্ক’ গড়ে তোলার জন্য নতুন বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটি দেশের ৭৮ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পোশাকশিল্পকে কর অবকাশসুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেছে, এতে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি-আয় বাড়বে এবং অর্থনীতি উপকৃত হবে।
বিজিএমইএ বাজেটে পোশাকশিল্প তথা রপ্তানির ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কর্তনের হার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ২৭৫ গুণ বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ করার সমালোচনা করে বলেছে, এতে এই শিল্পের অবস্থা আরও সঙ্গিন হবে। সে জন্য সংগঠনটি উৎসে আয়কর কর্তনের হার আগের অবস্থায় রাখার দাবি জানিয়েছে।
পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিজিএমইএ নতুন বাজেটে আরও কিছু নীতি-সহায়তা দাবি করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের বাড়িভাড়ার ওপর আরোপিত ৯ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার, সরকারের দেওয়া সব ধরনের নগদ সহায়তার ওপর করারোপ না করা, এই শিল্পের ল্যাব টেস্টের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার।
বিজিএমইএ গতকাল শুক্রবার বাজেট-প্রতিক্রিয়ায় এসব দাবি জানিয়েছে। তবে সংগঠনটি এও বলেছে, তাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে বাজেট-প্রস্তাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সার্বিক যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা উৎপাদন ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে।
গত বৃহস্পতিবার সংসদে অর্থমন্ত্রীর পেশ করা ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে বিজিএমইএ এটাকে উৎপাদন ও বিনিয়োগবান্ধব এবং জনকল্যাণমুখী বলে আখ্যায়িত করেছে। বিজিএমইএ বাজেটে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি পরিচালনায় প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পণ্য আমদানির ওপর প্রযোজ্য ৩ শতাংশের অতিরিক্ত সব শুল্ক-কর মওকুফের প্রস্তাব থাকায় এর প্রশংসা করেছে।

অপ্রদর্শিত অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দিন: শাকিল রিজভী

অপ্রদর্শিত অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রাখার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি মো. শাকিল রিজভী। একই সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের লেনদেনের ওপর কর আগের মতো দশমিক ০৫ শতাংশে রাখারও দাবি জানান তিনি।
২০১১-১২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ডিএসইর প্রতিক্রিয়া জানাতে আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএসই সভাপতি পুঁজিবাজার নিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটের কিছু বিষয়কে স্বাগত জানালেও বাজারের উন্নয়নে ১০ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেন।
শাকিল রিজভী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি বন্ডে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। তিনি এর পাশাপাশি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতেও অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবি করেন। এতে বাজারে স্থিতিশীলতাও আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে ডিএসই সভাপতি বাংলাদেশ সরকারি ট্রেজারি বিলে ১০ শতাংশ হারে কর প্রদান করে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ রাখার পাশাপাশি একই হারে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রাখার দাবি জানান।
শাকিল রিজভী প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগকরীদের জন্য টিআইএন প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা না করা এবং বিনিয়োগকারীদের শেয়ার মুনাফা থেকে কর অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তবে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের নিকট থেকে কর সংগ্রহের হার দশমিক ১০ শতাংশে উন্নীত না করে আগের অবস্থায় অর্থাত্ দশমিক ০৫ শতাংশে রাখার দাবি জানান।
শাকিল রিজভী বলেন, লেনদেনের ওপর কর বাড়ালে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচা ব্যয়বহুল হবে এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ডিএসই সভাপতি বলেন, এর আগে কোনো করদাতা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার এবং ঋণপত্র ক্রয় করলে বিনিয়োগ হিসেবে কর রেয়াতের সুবিধা পেত। কিন্তু অর্থ আইন-২০১১ এ দুটি বিষয় বিলুপ্ত ঘোষণা করা করেছে। এ দুটি বিষয় আগের অবস্থায় বহাল রাখার দাবি জানান তিনি।
ডিএসই কার্যালয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ডিএসইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহসানুল ইসলাম ও পরিচালক আহমেদ রশীদ লালী উপস্থিত ছিলেন।

স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের লেনদেনে ওপর কর পুনর্বিবেচনার অনুরোধ সিএসইর

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ২০১১-১২ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের লেনদেনের ওপর শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ কর আরোপের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে সিএসই শেয়ার সরবরাহ, তারল্য বৃদ্ধি ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে ছাড়ার দাবি জানিয়েছে।
আজ শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে সিএসই কার্যালয়ে প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিএসইর সভাপতি ফখরউদ্দিন আলী আহমেদ এসব দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে সিএসই সভাপতি বলেন, আগে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের লেনদেনের ওপর কর ছিল দশমিক ০২৫ শতাংশ। পরে তা বাড়িয়ে দশমিক ০৫ শতাংশ করা হয়। সর্বশেষ প্রস্তাবিত বাজেটে সদস্যদের লেনদেনের ওপর কর দশমিক ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়। গত দুই বছরে এ হার দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ফখরউদ্দিন আলী আহমেদ আরও বলেন, সম্প্রতি বাজার ধসের পর সদস্যদের ব্যবসার আকার অনেক ছোট হয়ে এসেছে। এতে তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে কর বৃদ্ধি পাওয়ায় এর ভার বিনিয়োগকারীদের বহন করতে হবে। তাই এই কর দশমিক ০২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানায়।
সিএসই সভাপতি বলেন, ইতিমধ্যে সরকার সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) পুনর্গঠন করেছে। এ অবস্থায় শেয়ার সরবরাহ ও তারল্য বৃদ্ধি পুঁজিবাজারের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারে শেয়ার সরবরাহ এবং তারল্য বৃদ্ধির কোনো প্রস্তাবনা নেই। তাই সরকারকে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের তারল্যের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ফখরউদ্দিন আলী আহমেদ পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সরকারের হাতে থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে ছাড়ার ব্যাপারে একটি সময়সীমা ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

পশ্চিমবঙ্গে এবার ‘স্বাস্থ্য জেলা’

পশ্চিমবঙ্গের বেহাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার মানোন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘স্বাস্থ্য জেলা’ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে এ কথা জানা যায়।
স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, প্রশাসনিক জেলাভিত্তিক যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো রয়েছে, কাজের সুবিধার জন্য এটি পাল্টে ছোট ছোট অঞ্চল ধরে পৃথক স্বাস্থ্য জেলা গঠন করা হবে। এই জেলার জন্য আলাদা মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকর্তা যেমন থাকবেন, তেমনি প্রতিটি স্বাস্থ্য জেলায় থাকবে একটি প্রধান হাসপাতাল।

ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের ভূমি মাইনে ১০ পুলিশ নিহত

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে মাওবাদী বিদ্রোহীদের পুঁতে রাখা ভূমি মাইন বিস্ফোরণে পুলিশের ১০ সদস্য নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার পুলিশের কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
মাওবাদী বিদ্রোহীদের দমনে পরিচালিত অভিযানে ছত্তিশগড় রাজ্যের প্রধান রামনিয়াজ জানান, পুলিশের সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি গাড়িতে করে টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় ভূমি মাইন বিস্ফোরণে গাড়িটি বিধ্বস্ত হয়। এতে গাড়িতে থাকা পুলিশের ১০ সদস্য নিহত ও তিনজন আহত হন। ছত্তিশগড় রাজ্যের রাজধানী রায়পুর থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে দান্তেওয়াদা জেলার বনাঞ্চল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
দান্তেওয়াদার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা অঙ্কিত গার্গ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ভূমি মাইন বিস্ফোরণে গাড়িটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় অদূরে ওত পেতে থাকা মাওবাদী বিদ্রোহীরা বিধ্বস্ত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিও ছোড়ে। তিনি বলেন, মাওবাদীদের নারী ক্যাডাররা সক্রিয়ভাবে এই হামলায় অংশ নেয়। তাদের গ্রেপ্তার করতে ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী পাঠানো হয়েছে।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুর জেলায় সশস্ত্র বাহিনীর একটি শিবির লক্ষ্য করে গুলি চালায় মাওবাদীরা। এ ঘটনায় পুলিশের পাঁচ সদস্য নিহত হন।

অনশনরত রামদেবের অবস্থার অবনতি হাসপাতালে স্থানান্তর

অনশনরত ভারতীয় যোগগুরু রামদেবের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে গতকাল শুক্রবার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। যোগগুরুর মুখপাত্র ললিত মিশ্র এ কথা জানিয়েছেন। গতকাল এর আগেই চিকিৎসকেরা এক সংবাদ বিবৃতিতে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
মুখপাত্র ললিত জানান, গুরুর অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। তিনি বিছানা থেকে উঠতে ও কথা বলতে পারছেন না। অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে দেরাদুনের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, যোগগুরুকে জরুরি ভিত্তিতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া উচিত। অনশনও ভঙ্গ করা উচিত। রামদেবের কিডনি ঠিকভাবে কাজ করছে না। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া না হলে তাঁর স্থায়ী কোনো শারীরিক ক্ষতিও হয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা।
দেশে দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে যোগগুরু রামদেব রাজধানী দিল্লিতে ৫০ হাজার অনুসারীকে নিয়ে অনশন শুরু করেন। কিন্তু গত রোববার পুলিশের অভিযানে অনশনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এর পর থেকে হরিদ্বার কাছে নিজের আশ্রমে বসেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন রামদেব।

বিতর্কিত সমুদ্রসীমা নিয়েচীন-ভিয়েতনাম পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে চীন। তাদের দাবি, দক্ষিণ চীন সাগরের প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ বিতর্কিত জলসীমায় ভিয়েতনাম তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে চীনা নাবিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তারা অবিলম্বে এ তৎপরতা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। ভিয়েতনাম পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, চীন তাদের জরিপকাজে ব্যবহূত একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হং লেই জানান, গত বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামের একটি সশস্ত্র জাহাজ মাছ ধরার ওই চীনা নৌকাকে ধাওয়া করে। এ সময় নৌকার জাল ওই জাহাজের সঙ্গে আটকে যায়। এরপর ওই জাহাজ নৌকাটিকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর ওই নৌকাকে মুক্ত করা হয়।
সমুদ্রসীমা নিয়ে কয়েকটি দেশের সঙ্গে চীনের বিরোধরয়েছে। দক্ষিণচীন সাগরে জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ রয়েছে। এতে তেলও গ্যাস মজুদ রয়েছেবলেও ধারণা করা হয়।
ভিয়েতনাম অভিযোগ করেছে, তাদের জলসীমায় তেল অনুসন্ধানের কাজে ব্যবহূত একটি জাহাজের সঙ্গে চীনের একটি মাছ ধরার নৌকা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটকে গেছে। ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এনগুয়েন ফুং

লিবিয়ার বিদ্রোহীদের অর্থ দেওয়ার অঙ্গীকার

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বিদ্রোহীদের আরও অর্থ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে পশ্চিমা ও আরব বিশ্বের কয়েকটি দেশ। এর আগে লিবিয়ার বিদ্রোহীরা জানায়, আগামী চার মাসে তাদের ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস গতকাল শুক্রবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সামরিক জোট ন্যাটোর সব সদস্যরাষ্ট্র সামরিক সহায়তা না দেওয়ায় লিবিয়া অভিযান বিপদগ্রস্ত হয়ে উঠতে পারে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ গতকাল বলেছেন, লিবিয়া-সংকট সমাধানে প্রাথমিক ‘রূপরেখা’ নিয়ে ত্রিপোলি যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বৈঠকের পর লিবিয়ার বিদ্রোহীদের সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়। এ ছাড়া গাদ্দাফি-পরবর্তী লিবিয়ায় সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনসহ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, জর্ডান, কুয়েত ও কাতারের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
হিলারি বলেন, ‘সময় যত পার হচ্ছে, আমাদের ঐক্যের গুরুত্বও তত বেড়ে যাচ্ছে। এখন আমাদের সময়। গাদ্দাফির ওপর চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়টি আমাদের মনে রাখতে হবে।’
ইতালি লিবিয়ার বিদ্রোহীদের ৫৮ কোটি ৬০ লাখ, ফ্রান্স ৪২ কোটি ও কুয়েত ১৮ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী গেটস গতকাল ব্রাসেলসে বলেন, ন্যাটোর সব দেশ লিবিয়া অভিযানে অংশ নিচ্ছে না। কারণ তারা অংশ নিতে চায় না। তাই ন্যাটো লিবিয়া অভিযানে বিপদগ্রস্ত হতে পারে। ২৮টি সদস্যরাষ্ট্রের জোট ন্যাটোর অর্ধেকই এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে না।
লিবিয়ার বিদ্রোহীদের দখলে থাকা বেনগাজি সফর শেষে ত্রিপোলি যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভের বিশেষ দূত মিখাইল মার্গেলভ। তিনি জানান, একটি রূপরেখা নিয়ে ত্রিপোলিতে যাচ্ছেন। এই রূপরেখা দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার পথ তৈরির সুযোগ থাকছে।

ইরাকে হাজারো মানুষের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ

ইরাকের বিভিন্ন শহরে গতকাল শুক্রবার কয়েক হাজার মানুষ সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকির ঘোষিত সরকারের ১০০ দিনের উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রগতি না হওয়ায় ইরাকিরা এ বিক্ষোভ করে। তবে আটক ২৫ জন জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে তাহিরর স্কয়ারে কয়েক হাজার মানুষের আরেকটি বিক্ষোভ ওই এলাকায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে ছাপিয়ে যায়।
এদিকে চলতি বছরে প্রত্যাহারের কথা থাকলেও ইরাকে মার্কিন সেনারা আরও কিছুদিন অবস্থান করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিআইএর প্রধান লিওন প্যানেট্টা।
বাগদাদের তাহিরর স্কয়ার, হিল্লা ও বসরা নগরে গতকাল কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। তাহিরর স্কয়ারে প্রায় ৪০০ জন ইরাকি সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়। তারা আরও ভালো জনসেবা ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা মালিকি সরকারের বিরুদ্ধে ব্যানার বহন করে ও স্লোগান দেয়। কিন্তু ওই এলাকায় প্রায় তিন হাজার লোকের আরেকটি মিছিল সরকারবিরোধী মিছিলটিকে ছাপিয়ে যায়। সরকারের হাতে আটক ২৫ জন জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে দ্বিতীয় মিছিলটি বের হয়। ওই ২৫ জন জঙ্গির বিরুদ্ধে ২০০৬ সালে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এ সময় চত্বরটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এ সময় সড়কগুলোয় অবস্থান নেন।
তাহিরর স্কয়ার ছাড়াও দক্ষিণ বাগদাদের হিল্লা ও বসরা শহরেও গতকাল বিক্ষোভ হয়। এ ছাড়া তিকরিত শহর ও দিয়ালা প্রদেশেও বিক্ষোভের আশঙ্কায় যান চলাচলের ওপর সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
তাহিরর স্কয়ারের এক নারী বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা সরকারের মৌলিক সেবাব্যবস্থার আরও উন্নয়নের দাবি জানাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী মালিকির ঘোষিত উন্নয়ন কর্মসূচির ১০০ দিন পার হওয়ার পর প্রথম জুমার দিনই আন্দোলনকারীরা দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ডাক দেয়। গত মঙ্গলবার ওই কর্মসূচির ১০০ দিন পার হয়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ইরাকি প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ছাতলা পড়া ঘর শিশুর হাঁপানির ঝুঁকি বাড়ায়

স্যাঁতসেঁতে ছাতলা পড়া বাড়িতে বাস করলে শিশুদের হাঁপানি ও অ্যালার্জিতে ভোগার ঝুঁকি খুব বেশি থাকে। বিশেষ করে যে বাড়ির দেয়ালে ছাতলা দেখা যায়, ওই বাড়িতে বাস করার ঝুঁকি আরও বেশি। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষার ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল হেলথের বিজ্ঞানীরা এই সমীক্ষা চালান। এ বিষয়ক একটি নিবন্ধ ইউরোপিয়ান রেসপিরাটরি জার্নাল-এ প্রকাশিত হয়।
নিবন্ধের অন্যতম লেখক ক্রিশ্চিনা টিশার জানান, নব্বইয়ের দশক থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ৬১টি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা পর্যালোচনা করা হয়। তিনি বলেন, যেসব বাড়িতে ছাতলা জমে ও তা দৃশ্যমান থাকে, সেসব বাড়িতে বাস করলে শিশুদের শ্বাসপ্রশ্বাস-সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
টিশার বলেন, গবেষণায় শিশুদের হাঁপানি ও নানা ধরনের চুলকানি বা অ্যালার্জিতে ভোগার জন্য একমাত্র ছত্রাককেই দায়ী করা যায় না। এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, বসতঘরের ছত্রাক ও বাতাসে উড়তে থাকা ছত্রাকের কণিকা নাসারন্র্লে প্রদাহের সৃষ্টি করে। পরে তা শিশুর জন্য কষ্টদায়ক অ্যালার্জিতে পরিণত হয়।

জার্মানির খামার থেকেই ছড়িয়েছে ই. কোলাই

জার্মানি গতকাল শুক্রবার বলেছে, তাদের দেশের উত্তরাঞ্চলে একটি খামারে উৎপাদিত শিমজাতীয় সবজির অঙ্কুর থেকেই ঘাতক ব্যাকটেরিয়া ই. কোলাইর নতুন প্রজাতির বিস্তার ঘটেছে। এই ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে এ পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জার্মানির জাতীয় রোগনিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট রাইনহার্ড বারগার বলেন, ‘যেসব মানুষ শিমজাতীয় বীজের অঙ্কুর খেয়েছিল, তারা অন্যদের তুলনায় নয় গুণ বেশি ভয়াবহ রক্ত ডায়রিয়া বা অন্যান্য সমস্যায় পড়ে।’ একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খাওয়ার পর অসুস্থ হওয়া শতাধিক মানুষের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
বারগারের ভাষ্য, উত্তরাঞ্চরে লোয়ার স্যাক্সন প্রদেশের একটি খামার থেকে ই. কোলাই ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তিনি বলেন, ‘ওই খামার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেও কিছু ধরা পড়েনি। তার পরও সব আলামত থেকে মনে হচ্ছে, ই. কোলাই সেখানকার অঙ্কুর থেকেই ছড়িয়েছে।’
অঙ্কুর থেকে ই. কোলাইয়ের বিস্তার নিশ্চিত হওয়ার পর জার্মান কর্তৃপক্ষ টমেটো, লেটুস ও শসার ওপর থেকে সতর্কতা প্রত্যাহার করেছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে ই. কোলাই ছড়িয়ে পড়ার পর নিশ্চিত না হয়েই জার্মানির কর্মকর্তারা বলেন, স্পেন থেকে আমদানি করা শসার মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়েছে। এখন তাঁরা স্বীকার করলেন, ই. কোলাইয়ের বিস্তারের জন্য জার্মানির খামারজাত অঙ্কুরই দায়ী। তবে এর মধ্যে স্পেনের সবজির ব্যবসায় ধস নেমেছে।
জার্মানি গতকাল জানিয়েছে, ই. কোলাইজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে সর্বশেষ লোয়ার স্যাক্সন প্রদেশে ৭৫ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এতে করে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১। এর মধ্যে একজন বাদে অন্যরা জার্মান নাগরিক। ই. কোলাইজনিত রোগে শুধু জার্মানিতেই আক্রান্ত হয়েছে প্রায় দুই হাজার ৮০০ জন। ইউরোপের আরও প্রায় ১৫টি দেশের কিছু মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।

১০০ কোটি মানুষ প্রতিবন্ধী

বিশ্বে প্রতিবন্ধী মানুষ আছে প্রায় ১০০ কোটি। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ তারা। এর মধ্যে প্রতি পাঁচজনে একজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের সংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ও বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
এই প্রথমবারের মতো সারা বিশ্বের প্রতিবন্ধীদের নিয়ে এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো। ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, সত্তরের দশকে বিশ্বে প্রতিবন্ধীদের সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রস্তাবনায় ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক মার্গারেট চ্যান ও বিশ্বব্যাংকের প্রধান রবার্ট জোয়েলিক বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্বে প্রতিবন্ধীদের সংখ্যা বাড়বে। এটি আরও উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। তাঁরা বলেন, বয়স্ক মানুষ বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রতিবন্ধীদের সংখ্যা বাড়ছে। বয়স্ক মানুষ অক্ষম হয়ে পড়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস, হূদরোগ, ক্যানসার ও মানসিক ব্যাধি বাড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো কোনো দেশ অক্ষম নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করছে। সাধারণ ব্যক্তির চেয়ে প্রতিবন্ধীরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনগুণ ঝুঁকিতে থাকে। আবার তারা সমাজের মূলধারা থেকেও বিচ্ছিন্ন হতে পারে। এই বিচ্ছিন্নতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রে হতে পারে।
তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে বৈষম্য, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন সংস্থার অভাব, যানবাহনে যাওয়ার সমস্যা, তথ্যের অভাবসহ বিভিন্ন কারণে অক্ষম ব্যক্তিদের অবস্থা শোচনীয়। প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক টম শেকসপিয়ার বলেন, একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে এমন কোনো দেশ নেই যেখানে অক্ষম ব্যক্তিরা তাদের পূর্ণ অধিকার ভোগ করতে পারে।
ডব্লিউএইচওর পরিচালক এটিয়েন ক্রুগ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রে অক্ষম ব্যক্তিদের বিচ্ছিন্নতা নয়, গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে আমাদের কাজ করতে হবে। প্রতিটি দেশেই জাতীয় পরিকল্পনায় এটা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, অক্ষমদের মধ্যে সবচেয়ে অরক্ষিত হলো নারী, শিশু, বয়স্ক ও দরিদ্র ব্যক্তিরা। ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, বিশ্বে অক্ষম শিশুর সংখ্যা প্রায় সাড়ে নয় কোটি। এর মধ্যে এক কোটি ৩০ লাখ শিশুর অবস্থা গুরুতর।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চাকরির বাজারে সবচেয়ে বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা।

বালিকাবধূদের অজানা পৃথিবী

পুতুল খেলায় মেতে ওঠা হয় না ওদের। হয় না আপন কারও সঙ্গে খুনসুটি বা মমতার মিঠে স্বাদ নেওয়া। অঙিনায় ইচ্ছামতো ছোটাছুটি বা দাপাদাপির স্বাধীনতাও হারিয়ে গেছে। বিয়ে নামের যে বাঁধন অচিন এক ঘরে জনমের মতো শক্ত করে বেঁধে রেখেছে, এর যাতনা নিয়ে দিন কাটছে ওদের। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক থেকে সোয়া কোটি হবে এই বালিকাবধূদের সংখ্যা। অনেকেই জানে না তাদের কথা।
ভারত, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, ইথিওপিয়াসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশে চলছে এই বাল্যবিবাহ। এই শিশুদের অনেকের গোপন পৃথিবী থাকে যন্ত্রণা আর দীর্ঘশ্বাসে ভরা; কাটায় এক দুর্বিষহ জীবন।
দেখা যায়, পাঁচ-ছয় বছরের একটি মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হলো কোনো যুবকের সঙ্গে। কখনো বা কোনো মাঝবয়সী বিপত্নীক এসে বিয়ে করল চার বছরের কোনো শিশুকে। কখনো আবার মেয়েশিশুদের অপহরণ করা হয়। আটকে রেখে দিনের পর দিন তাদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। পরে একপর্যায়ে ওই নির্যাতকই ওই শিশুকে নিজের স্ত্রী বলে ঘোষণা দেয়।
ইয়েমেনের হাজ্জা এলাকার তাহানি নামের এক শিশুর বয়স ছয় বছর। ২৫ বছরের এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাহানি বলে, ‘তাঁকে দেখলেই আমি পালিয়ে যাই। কারণ, লোকটাকে আমি ঘৃণা করি।’
পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিরসনে কখনো এ ধরনের বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটে। কখনো বা ঋণগ্রস্ত বাবা দায়ে পড়ে তাঁর ছোট্ট শিশুটিকে তুলে দেন ৫০ বছর বয়সী কোনো ব্যক্তির হাতে।
বাল্যবিবাহের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেশের আইনকে তোয়াক্কা করা হয় না। ভারতে ১৮ বছর বয়সের আগে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া আইনবিরোধী। কিন্তু রাজস্থানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গোপনে বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটছে। এসব ক্ষেত্রে অনেক বিয়ে টেকে না। সুযোগ পেলে পালিয়ে যায় বালিকাবধূ।
বছর তিনেক আগে ইয়েমেনে ১০ বছরের এক মেয়ে স্বামীর ঘর থেকে পালিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসে। পরে আদালতে গিয়ে স্বামীকে তালাক দেয় সে। আবার ভর্তি হয় স্কুলে। এ ঘটনা সারা বিশ্বে আলোড়ন তোলে। সম্প্রতি এ ঘটনাকে উপজীব্য করে লেখা আই অ্যাম নাজুদ, এজ টেন অ্যান্ড ডিভোর্সড নামের একটি বই অন্তত ৩০টি ভাষায় অনূদিত হয়।
ইয়েমেনের আয়েশা (১০) নামের আরেকটি মেয়ের বিয়ে হয় ৫০ বছরের এক ব্যক্তির সঙ্গে, পরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। কিন্তু বাল্যবিবাহের শিকার বেশির ভাগ মেয়েই পালাতে বা বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে না। তাদের নীরবে সয়ে যেতে হয় নানা নিপীড়ন। অপরিণত বয়সে সন্তান ধারণ করতে হয়। পরিণামে কখনো বা বরণ করতে হয় মৃত্যু।

সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের দমনে ব্যাপক সেনা অভিযান

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিসার আল শুগহুরে বিদ্রোহীদের দমন করতে ট্যাংকসহ ভারী অস্ত্র নিয়ে অভিযান শুরু করেছে সে দেশের সেনাবাহিনী। এতে আতঙ্কিত হাজার হাজার মানুষ প্রতিবেশী দেশ তুরস্কে আশ্রয় নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ক্ষমতায় থাকার বৈধতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এ অভিযানের ব্যাপারে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে নিন্দা জানানোর প্রস্তাব দিয়েছে। রাশিয়া এর বিরোধিতা করেছে।
গত সপ্তাহের শুরুর দিকে জিসার আল শুগহুর শহরে চোরাগোপ্তা হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১২০ জন সদস্য নিহত হন। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হামলাকারীরা সরকারবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য। তবে বিভিন্ন সংস্থা বলেছে, বিদ্রোহী কোনো দল এসব নিরাপত্তাকর্মীকে হত্যা করেনি। সেনাবাহিনীর একটি পক্ষ বিদ্রোহ ঘোষণা করে ওই ১২০ জনকে হত্যা করে। এ ঘটনার পর সেখানে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বলেছে, জিসার আল শুগহুর শহরের বাসিন্দারা সেখানে সেনা অভিযান চালিয়ে বিদ্রোহীদের হটিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সে অনুযায়ী সেনাবাহিনী ওই শহরে ‘নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা’র লক্ষ্যে অভিযান শুরু করে। টেলিভিশনের ঘোষণায় বলা হয়, বিদ্রোহীরা সেনাবাহিনীকে প্রতিহত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেনাবাহিনী যাতে তাদের দিকে এগোতে না পারে, এ জন্য বিদ্রোহীরা মাঠের ফসল ও গাছগাছালিতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।
বিবিসি বলেছে, সিরিয়া সরকার সে দেশে বিদেশি সাংবাদিকদের ঢোকা নিষিদ্ধ করেছে। ফলে অভিযানের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযানে হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কেও কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তবে সেখানে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অনেক ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিবিসি জানায়, সেনা ও ট্যাংক মোতায়েন এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়ার পর জিসার আল শুগহুরের হাজার হাজার বাসিন্দা নিকটবর্তী তুরস্ক সীমান্তের দিকে ছুটছে। প্রাণভয়ে তারা সীমান্ত অতিক্রম করে তুরস্কে চলে যাচ্ছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলু বলেছেন, শুধু বৃহস্পতিবারই সিরিয়া থেকে অন্তত দুই হাজার ৪০০ লোক তুরস্কে চলে এসেছে। এসব মানুষের জন্য প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি বলেন, সিরিয়া সরকার সে দেশের বাসিন্দাদের ওপর উৎপীড়ন চালাচ্ছে। তিনি প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান।
পশ্চিমা দেশগুলো জাতিসংঘে প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে নিন্দাপ্রস্তাব তুলেছে। এ প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস বলেন, সিরিয়া সরকার যেভাবে নির্দোষ মানুষকে কচুকাটা করছে, তা সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসাদের দায়িত্ব পালন বৈধ কি না, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠেছে।
গত মার্চের মাঝামাঝি সময় সিরিয়ায় আসাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। তখন থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ২০০ লোক সেনাদের হাতে নিহত বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করছে।

উইন্ডিজকে দুর্বল ভাবছেন না রায়না

শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ, মহেন্দ্র সিং ধোনিসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র ভারতীয় ক্রিকেটারই নেই চলমান উইন্ডিজ সফরে। কিন্তু তার পরও স্বাগতিকদের বিপক্ষে বেশ সহজেই একের পর এক জয় তুলে আনছে তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটাররা। প্রথমে একমাত্র টি-টোয়েন্টিটা জেতার পর ওয়ানডে সিরিজেরও টানা দুটি ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ের দিকেও অনেকখানি এগিয়ে গেছে বিশ্বকাপজয়ী ভারত। তবে এখনই এ সাফল্য নিয়ে খুব বেশি মাতামাতি করতে চাচ্ছেন না সুরেশ রায়না। ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও কোনোভাবে দুর্বল ভাবতেও রাজি নন এ ভারতীয় অধিনায়ক।
গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রায়না বলেছেন, ‘প্রথমে বলা হয়েছিল, ভারত এখানে এসেছে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে। এখন অনেকেই বলছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ খুব দুর্বল। কিন্তু আমি সে রকম ভাবছি না। আসলে সবাই খুব ভালোই খেলছে। এখন পর্যন্ত প্রতি ম্যাচেই কেউ না কেউ খুব ভালো খেলেছে। আর তাতেই আমরা জয়ের দেখা পেয়েছি। কিন্তু উইন্ডিজকে দুর্বল ভাবাটা খুব বোকামি হবে। তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটা দল। তাদের এমন অনেক খেলোয়াড় আছে যারা যেকোনো সময় ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারে। অতীতেও আমরা এটা বেশ ভালো মতোই দেখেছি।’
আজ সন্ধ্যায় স্যার ভিভ রিচার্ডস স্টেডিয়ামে তৃতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে ভারত। এই ম্যাচটা জিততে পারলেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করে ফেলতে পারবে সফরকারীরা। অন্যদিকে লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে জয়ের কোনো বিকল্প নেই স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে।

আফগানিস্তানেও ভালো নেই লতিফ!

বিশ্ব ক্রিকেটে একেবারেই নতুন আফগানিস্তান। টেস্ট স্ট্যাটাস তো দূরের কথা ওয়ানডে স্ট্যাটাসও নেই দলটির। তবে গত নভেম্বরে গুয়াংজু এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে ফাইনালে উঠে দারুণ আলোড়ন তুলেছিল দলটি। সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে (মূল দল নয়) রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছিল তারা। ফাইনালে অবশ্য বাংলাদেশের কাছে হেরে স্বর্ণ স্বপ্নের সমাধি হয়েছে, তবে সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক রশিদ লতিফের কোচিংয়ে দলটি কিন্তু উন্নতির ছাপ রেখেছে ভালো মতোই।
পাকিস্তানিরা বিতর্ক পছন্দ করে। অন্তত, গত দুই দশকে বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের আচার-আচরণ তেমনটাই নির্দেশ করে। ক্রিকেটে অখ্যাত একটি দেশের কোচ হয়েও পাকিস্তানি রশিদ লতিফ কিন্তু বিতর্ককে পেছনে ফেলতে পারলেন না।
মূল ঘটনা হচ্ছে, রশিদ লতিফ এখন আফগানিস্তানের ক্রিকেটারদের বিশ্বাস করতে পারছেন না। গত মাসে পাকিস্তান সফরে আফগানিস্তান পাকিস্তান ‘এ’ দলের কাছে সিরিজ হেরেছে ৩-০ ব্যবধানে। ফলাফলটা মোটামুটি স্বাভাবিক হলেও, রশিদ লতিফ মনে করেন, আফগানিস্তানের অনেক সিনিয়র খেলোয়াড় তাঁকে তাড়ানোর জন্যই ইচ্ছে করে সিরিজে খারাপ খেলেছে। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে লতিফের চুক্তি শেষ হয়ে যাবে আগামী ৩১ জুলাই।
তবে লতিফের সঙ্গে আফগান ক্রিকেটারদের যে কোনো সমস্যা রয়েছে, এ কথা স্বীকার করতে নারাজ আফগানিস্তান দলের ম্যানেজার সাহিফ আসওয়াত। তিনি বলেছেন, ‘ড্রেসিং রুমের পরিবেশ খুবই বন্ধুভাবাপন্ন। কোনো সমস্যা হয়েছে বলে তো মনে হয় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আফগান ক্রিকেটাররা লতিফকে খুবই সম্মান করেন।’
তবে এ কথাতেও লতিফের সন্দেহ যাচ্ছে না। তিনি মনে করেন, আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা তাদের পুরোনো কোচ কবির খানকে ফেরাতে একাট্টা হয়েছেন।
জুলাইয়ের শেষ দিন লতিফের সঙ্গে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চুক্তি শেষ হয়ে গেলেও বিশেষ সূত্র জানাচ্ছে, তারা নাকি লতিফের চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে তত্পরতা শুরু করবে অচিরেই।

বোয়েটাংয়ের আগ্রহে বায়ার্ন

মাত্র এক বছর আগেই হামবুর্গ থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে এসেছিলেন জেরোমে বোয়েটাং। ইংলিশ এই ক্লাবের সঙ্গে তাঁর চুক্তি আছে পাঁচ বছরের। কিন্তু এখনই আবার জার্মানিতেই ফিরে যেতে চান এই ডিফেন্ডার। তবে এবার তিনি ফিরতে চান জার্মান লিগের অন্যতম সেরা ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে। ইতিমধ্যে এ ইচ্ছার কথা তিনি ম্যাচ সিটির কোচ রবার্তো মানচিনিকেও জানিয়ে দিয়েছেন।
জার্মানির হয়েও সচরাচর সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেই খেলতে দেখা যায় বোয়েটাংকে। এর আগে হামবুর্গের হয়েও তিনি এই অবস্থানেই খেলতেন। কিন্তু ম্যান সিটিতে আসার পর তাঁকে খেলতে হচ্ছে ফুল ব্যাক হিসেবে। যেটা একেবারেই পছন্দ হচ্ছে না বোয়েটাংয়ের। বায়ার্নে গেলে আবারও নিজের পছন্দসই জায়গায় খেলতে পারবেন বলেই মনে করছেন এই জার্মান ডিফেন্ডার। তিনি বলেছেন, ‘আমি ইতিমধ্যেই মানচিনিকে বলেছি যে, আমি সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে খেলতে চাই। ফুলব্যাক হিসেবে নয়। বায়ার্নে আমাকে ওই জায়গায় খেলানো হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ওইখানেই খেলাটা আমার জন্য খুব জরুরি। কারণ, এতে জাতীয় দলেও জায়গা করে নেওয়াটা আমার জন্য সহজ হবে। আর এ কারণেই আমি বায়ার্ন মিউনিখে যেতে চাই।’
কিন্তু পাঁচ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ থাকার কারণে সবকিছু যে ম্যান সিটি কর্তৃপক্ষের উপরই নির্ভর করছে এটাও স্বীকার করেছেন বোয়েটাং। তিনি বলেছেন, ‘আমাকে ছাড়া হবে কিনা এটা পুরোপুরিই তাদের সিদ্ধান্ত। তবে আশা করছি যে, আমাকে ইতিবাচক সিদ্ধান্তই জানানো হবে। বায়ার্ন মিউনিখ ইউরোপের প্রথম সারির ছয়টা দলের মধ্যে অন্যতম। তাদের হয়ে খেলতে পারাটা আমার জন্য হবে একটা বিরাট সম্মান।’

বর্ষসেরায় চোখ নেইমারের

ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলার হতে হলে কী করতে হবে? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, অবশ্যই চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স। সঙ্গে ইউরোপের কোনো শীর্ষ লিগে খেলাটাও জরুরি। ১৯৯১ সাল থেকে বর্ষসেরা পুরস্কার দিয়ে আসছে ফিফা, কিন্তু ইউরোপের বাইরের ক্লাবে খেলা কোনো ফুটবলার এখনো এটি জেতেননি। তবে এ বছরই এ ধারাটায় ইতি টানতে চান নেইমার। ১৯ বছর বয়সী স্ট্রাইকারের বিশ্বাস, সান্তোসে থেকেই জিতে নেবেন ফিফা বর্ষসেরার ট্রফি!
নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগছে, নেইমারের এত আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি কী? শুনুন তাঁর কণ্ঠেই, ‘অসম্ভব বলে কিছু নেই। সান্তোসে খেলেই তো পেলে শতাব্দী-সেরা ফুটবলার হয়েছেন! ভালো খেলে এবং শিরোপা জিতে আমিও পারি ফিফা-ব্যালন ডি’অর জিততে। পারব কি না সেটা সময়ই বলবে, তবে আমি স্বপ্ন দেখছি।’
বিশ্বকাপের বছর হলে তবু ভালো একটা সম্ভাবনা ছিল। বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স ফিফা বর্ষসেরায় বড় ভূমিকা রেখেছে সব সময়ই। কিন্তু অন্যান্য বছরে ব্রাজিলিয়ান লিগে খেলে নেইমারের স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন। এ বছর তো কাজটা আরও কঠিন করে দিয়েছেন মেসি-রোনালদো। এ মৌসুমে গোলের বন্যা ছুটিয়েছেন দুজনই। তবে এই ব্যবধান ঘুচিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেইমার পাচ্ছেন। তাঁর ক্লাব সান্তোস কোপা লিবার্তাদোরেসের ফাইনালে খেলবে উরুগুয়ের ক্লাব পেনারলের বিপক্ষে। শিরোপা জিতলে ডিসেম্বরে ক্লাব বিশ্বকাপে খেলবে বার্সেলোনার বিপক্ষে। আগামী মাসেই আছে আবার কোপা আমেরিকা। এই টুর্নামেন্টগুলোয় অভাবিত কিছু করলে নিশ্চয়ই ভোটদাতাদের নজর কাড়তে পারবেন নেইমার। পারবেন তিনি স্বপ্ন পূরণ করতে?

আমিরের বিপদ আরও বাড়ল

মোহাম্মদ আমিরের খেলা ম্যাচটি নিয়ে ধোঁয়াশা কেটেছে। এক বিবৃতিতে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলশ ক্রিকেট (ইসিবি) নিশ্চিত করেছে, সারে লিগের অ্যাডিংটন ১৭৪৩ সিসি ও সেন্ট লিউকের ম্যাচটি ছিল অফিশিয়াল। তার মানে এমনিতেই বিপদে থাকা আমিরের বিপদ আরও বাড়ল। স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে পাঁচ বছরের নিষিদ্ধ পাকিস্তানি পেসারের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বেড়ে যেতে পারে আরও।
আমির অবশ্য দাবি করেছিলেন, ম্যাচটি খেললে কোনো সমস্যা হবে না জেনেই তিনি খেলেছেন। ‘পাকপ্যাশনডটনেট’কে বাঁহাতি পেসার বলেছিলেন, ‘ক্লাবের প্রতিনিধিরা আমাকে বলেছিলেন ব্যক্তিমালিকানার ক্রিকেট মাঠে এটি একটি প্রীতি ম্যাচ। ক্লাবের প্রতিনিধিদের আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, ম্যাচটি ইসিবির স্বীকৃত কিনা। তারা আমাকে বলেছে, স্বীকৃত ম্যাচ নয়। বেশ কজন ক্লাব প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেছি, সবাই বলেছে এটি প্রীতি ম্যাচ। আইসিসির শর্ত ভঙ্গ করবে জানার পরও খেলার মতো বোকা আমি নই। আমি যেখানেই খেলি না কেন, পুরো বিশ্বই তা জানবে। জেনেশুনে আমি কেন ঝুঁকি নিতে চাইব!’
তদন্তে সহযোগিতার জন্য সারে ক্রিকেট বোর্ডকে অনুরোধ করেছে ইসিবি। আর আমিরকে খেলানো নিয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা চেয়েছে অ্যাডিংটনের কাছে। তবে আমিরের দাবি সত্যি হলেও শাস্তির মেয়াদ বাড়তে পারে। ওই ম্যাচটিতে ওপেনিংয়ে নেমে করেছিলেন ৬০ রান, বোলিংয়ে ৭ ওভারে ৯ রান দিয়ে পেয়েছিলেন ৪ উইকেট।

ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফিরছেন ক্যান্টোনা

আবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফিরছেন এরিক ক্যান্টোনা। খবরটা শোনার পর নব্বইয়ের দশকের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভক্তরা স্মৃতিকাতর হয়ে যেতে পারেন। ম্যানইউর সেই সাবেক তারকা ফিরছেন, তবে ৪৫ বছর বয়সে তো আর খেলোয়াড় হিসেবে ফেরা সম্ভব নয়, ফিরছেন কোচ হয়ে। না, গুরু অ্যালেক্স ফার্গুসনের আসন টলিয়ে দিয়ে নয়, ক্যান্টোনা ফিরছেন যুক্তরাষ্ট্রের দল নিউইয়র্ক কসমসের কোচ হিসেবে। তাঁর একসময়ের সতীর্থ পল স্কোলসের বিদায়ী ম্যাচ হবে আগস্টে। সেই ম্যাচে ম্যানইউর বিপক্ষে আগস্টে খেলবে কসমস।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফিরতে পেরে নিজের উচ্ছ্বাসটা লুকাননি ফরাসি এই সাবেক স্ট্রাইকার, ‘পলকে তার অবিশ্বাস্য ক্যারিয়ারটার জন্য অভিনন্দন জানাই। আর আমিও ওল্ড ট্রাফোর্ডে নিউইয়র্ক কসমসের হয়ে আমার নতুন ভূমিকায় ফেরার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।’
পেলের খেলে যাওয়া দলটা আবারও সুদিন ফেরাতে চায়। সেই লক্ষ্যেই ফরাসি এই সাবেক স্ট্রাইকারের কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে দায়িত্ব। আপাতত তাদের লক্ষ্য, মেজর লিগ সকারে ফেরা।

ভারতের আবারও ‘না’

আম্পায়ার রিভিউ সিস্টেম (ইউডিআরএস) ব্যবহারের পক্ষে গান গেয়েই যাচ্ছে বাকি দলগুলো। কিন্তু ইউডিআরএস বিষয়ে ভারত আগের অবস্থানেই। আসন্ন ইংল্যান্ড সফরেও ইউডিআরএস ব্যবহারে রাজি নয় তারা। ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর খবর, এই আপত্তির কথা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে চিঠি দিয়ে জানিয়েও দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। কোনো সিরিজে ইউডিআরএসের ব্যবহার হতে পারে তখনই, যখন দুটি বোর্ডেরই সম্মতি থাকে।
ইউডিআরএস ব্যবহারে ভারতের বিরাগটা ২০০৮ সালে ভারতের শ্রীলঙ্কা সফর থেকেই। ওই সিরিজে ভারতের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। ইউডিআরএসের বেশির ভাগ সিদ্ধান্তই তাদের বিরুদ্ধে যায়। তবে ভারতীয়দের দাবি, প্রযুক্তির এই পদ্ধতিটি সঠিক নয়। ভারতীয়দের এই দাবি যে ঠিক, এ বছর বিশ্বকাপে প্রমাণিতও হয়েছে। চমৎকার একটি টুর্নামেন্টের গায়ে একটু কলঙ্কের ফোঁটা এই ইউডিআরএসই।
শচীন টেন্ডুলকার, অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো ভারতের সিনিয়র ক্রিকেটাররা ইউডিআরএসের ঘোরতর বিরোধী। আসন্ন ইংল্যান্ড সফরে ইউডিআরএসের ব্যবহার নিয়ে ভারতের আরও বেশি করে বেঁকে বসার কারণ, এই সফরটি মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারত টেস্ট সিরিজ জিতেছে অনেকবারই। ২০০৭ সালে সর্বশেষ ইংল্যান্ড সফরেও টেস্ট সিরিজজয়ী ভারত। কিন্তু এবার তারা যাচ্ছে বিশ্বের এক নম্বর দলের তকমা পরে। শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের একটা দায় আছে না! এবারের ইংল্যান্ড তো ভারতের কাছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ পরপর দুটি অ্যাশেজ জিতেছে অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের দল। সামগ্রিক পারফরম্যান্সও ভালো।
এই চ্যালেঞ্জের পথে ইউডিআরএস নিয়ে ভারতীয়দের ঠিক বিপরীত অবস্থানে ইংলিশরা। দলের প্রধান স্পিন অস্ত্র গ্রায়েম সোয়ান ইউডিআরএস ব্যবহারের পক্ষে। ইংল্যান্ডের সাবেক অফ স্পিনার জন এমবুরি যেমন বলেই দিয়েছেন, ‘ভারত এটা না চাওয়ার কারণ, এটা আমাদের বোলারদের পক্ষে যাবে।’ উল্লেখ্য, চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ, একটি টি-টোয়েন্টি ও পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আগামী মাসে ইংল্যান্ডে যাবে ভারত।

মেসির আসা কি তাহলে অনিশ্চিত?

মেসি কি আসবেন? এই প্রশ্নটা উঠেই গেল। মেসির কারণেই ঢাকায় আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া প্রীতি ম্যাচটা সবার আগ্রহের কেন্দ্রে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বের সেরা তারকার ঢাকা আসা নিয়ে একটু সংশয়ই সৃষ্টি হয়েছে বার্তা সংস্থা এপির একটি খবরে।
ম্যাচটির আয়োজক বুয়েনস এইরেসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ইলেভেন জানাচ্ছে, আর্জেন্টিনার ৮০ শতাংশ প্রথম সারির খেলোয়াড়কে আনার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা থাকলেও মেসি আসবেনই এমন কথা চুক্তিতে নেই। প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র ফার্নান্ডো নুনেজকে বার্তা সংস্থা এপি উদ্ধৃত করেছে এভাবে, ‘মেসিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সব চেষ্টাই করা হবে। তবে তাকে অন্তর্ভুক্ত করতে আমরা বাধ্য নই।’
‘বাধ্য নই’ কথাটায় ফাঁক রয়েছে। এ ব্যাপারে কাল বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বললেন, ‘ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের চুক্তিই হয়েছে মেসিকে আনার শর্তে। মেসি না এলে চুক্তি বাতিল এবং উল্টো আমাদের ক্ষতিপূরণ দেবে তারা। ওয়ার্ল্ড ইলেভেনের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ নেই। আমাদের যোগাযোগ সেলিব্রিটি ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের সঙ্গে।’ সেলিব্রেটি ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করছে যে বাংলাদেশি সংস্থা, সেই শোবিজ দাবি করছে মেসি অবশ্যই আসবেন।
ধোঁয়াশা দেখা যাচ্ছে আরেকটা বিষয় নিয়েও। বাংলাদেশের এই ম্যাচের ফি চার মিলিয়ন ডলার—এমন খবরও নাকচ করে দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ইলেভেন। নুনেজের কথা, ‘এটা একটা অবাস্তব অঙ্ক।’ টাকার অঙ্ক আসলে কত? সালাউদ্দিনের উত্তর, ‘আমরা লেনদেন করছি সেলিব্রিটির ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে। তারা ওয়ার্ল্ড ইলেভেনকে কী অঙ্ক বলছে, আমাদের জানা নেই। এখানে কমিশনের ব্যাপার তো আছেই। তবে টাকার অঙ্ক ৩.৯ মিলিয়ন ডলার।’

ফ্রান্স জিতল আত্মঘাতী গোলে

প্রীতি ম্যাচ, তবু ফ্রান্স-পোল্যান্ড ম্যাচটি ছিল ফুটবল-বিশ্বের আলোচনায়। গত শুক্রবার ফ্রান্স ইউরো বাছাইয়ে বেলারুশের সঙ্গে ড্র করেছে। আর রোববার পোল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছে। ফ্রান্সের বিপক্ষে পোলিশরা কী করতে পারে, দেখতে চেয়েছে অনেকেই। দেখতে চেয়েছে ফ্রান্সের ‘নতুন জিদান’ তকমা যাওয়া মারভিন মার্টিনই বা কী করে। পোলিশরা পারেনি, পারেননি মার্টিনও। ফ্রান্স পোল্যান্ডকে হারিয়েছে ১-০ গোলে। ফ্রান্সের নতুন জিদানের কোনো অবদান এতে ছিল না।
পোলিশদের জালে যে গোলটি ঢুকেছে, সেটি ফ্রান্স দলের কারোরই নয়। ১২ মিনিটের গোলটি ছিল আত্মঘাতী। ফ্রান্সের মিডফিল্ডার চার্লস জগবিয়ার শট ঠেকাতে গিয়েছিলেন পোলিশ ডিফেন্ডার টমাস ইয়োদোভিচ। বল তাঁর গায়ে লেগে ঢুকে যায় জালে।
ম্যাচে কিন্তু ভালোই শুরু করেছিল ইউরো ২০১২-এর যৌথ স্বাগতিক পোল্যান্ড। ফরাসি বংশোদ্ভূত মিডফিল্ডার লুডোভিচ ওবরানিয়াকের নেতৃত্বে ম্যাচের প্রথম আক্রমণটাও করেছে তারাই। গোল খাওয়ার পরও প্রাণবন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলেছে পোলিশরা। তবে ফরাসি রক্ষণে ফাটল ধরাতে পারেনি। ফ্রান্স দলে নিষ্প্রভ ছিলেন গত সোমবার ইউক্রেনের বিপক্ষে অভিষেকেই জোড়া গোল করা মার্টিন।
তবে পরশু আরেক অভিষিক্ত গোলরক্ষক সেডরিক কারাসো ভালো করেছেন। গোলবারের নিচে দুর্দান্ত ছিলেন পোল্যান্ডের ভোইচেখ সেজনিও। ম্যাচটির নিষ্পত্তি হয়েছে ন্যূনতম ব্যবধানে, তাহলে বোঝাই যায় দুই গোলরক্ষকের লড়াইটাও কত তীব্র ছিল!

ক্যাটিচের ব্যাপারে নিস্পৃহ ক্লার্ক

ধারাবাহিক ভালো পারফরমেন্স থাকা সত্ত্বেও তাঁর কেন্দ্রীয় চুক্তি বাতিল করে দেওয়ায় অস্ট্রেলিয়ান নির্বাচকদের কড়া সমালোচনা করেছেন ওপেনার সাইমন ক্যাটিচ। অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের সঙ্গে মনোমালিন্য থাকাটাও এ চুক্তি বাতিলের পেছনে একটা বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে অনুমান করছেন অনেকেই। তবে এ ধরনের কথাবার্তা একেবারেই পাত্তা দিচ্ছেন না ক্লার্ক। ক্যাটিচের চুক্তি বাতিলের ব্যাপারে তাঁর কিছুই করার ছিল না বলে বেশ স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন এ অসি অধিনায়ক।
ডেইলি টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ক্লার্ক বলেছেন, ‘অধিনায়ক হওয়া মানে কিন্তু নির্বাচক হওয়া নয়। যে কারণে ক্যাটিচের চুক্তি বাতিলের ব্যাপারে আমার কিছুই করার ছিল না। এটা নির্বাচকদের দায়িত্ব। এটা জানার পর আমি সাইমনকে একটা বার্তা পাঠিয়েছিলাম। আর অবশ্যই আমি এ সিদ্ধান্তে দুঃখ পেয়েছি। সে খুবই ভালো খেলোয়াড়। শুধু নিউ সাউথ ওয়ালসের হয়েই না, অস্ট্রেলিয়ার পক্ষেও সে বেশ লম্বা সময় ধরে ভালো খেলছিল।’ তবে এবার দল থেকে বাদ পড়লেও আবারও তাঁর দলে ফেরার সুযোগ আছে বলে মন্তব্য করেছেন ক্লার্ক।
আগামী আগস্টে ক্লার্কের নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা সফরে যাবে অস্ট্রেলিয়া। রিকি পন্টিংয়ের কাছ থেকে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নেওয়ার পর এবারই পরিপূর্ণ একটা টেস্ট সিরিজে দলের নেতৃত্ব দেবেন ক্লার্ক। খুব তাড়াতাড়িই মাঠে ভালো পারফরমেন্স দেখিয়ে সতীর্থদের শ্রদ্ধা অর্জন করে নেওয়ার দিকেই এখন বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তিনি বলেছেন, ‘আমার জন্য এখন ভালো পারফরমেন্স দেখানোটা খুব জরুরি। আশা করছি খুব তাড়াতাড়িই আমি সতীর্থদের আস্থা অর্জন করতে পারব।’

প্রবৃদ্ধি নিয়ে একটি সাম্প্রতিক বিতর্ক

বিশেষভাবে এ বছরের প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাড়তি সংশয় জানানোর কোনো কারণ নেই। এ নিয়ে অবশ্য সিপিডিসহ প্রকাশ্যে সংশয় ব্যক্ত করেছেন কেউ কেউ। সবকিছুই বলা হচ্ছে প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে। বাস্তবতা হলো, যাঁরা বলছেন প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৭, আর যাঁরা বলছেন ৬ দশমিক ৩ বা তারও কম—উভয়ের কাছেই পূর্ণাঙ্গ উপাত্ত নেই। সে উপাত্ত আসবে আরও কয়েক মাস পর, তখন পূর্ণ অর্থবছরের হিসাব পাওয়া যাবে। প্রবৃদ্ধির চূড়ান্ত হিসাব বর্তমানের প্রাক্কলিত হিসাবের চেয়ে তখন বাড়তেও পারে, একই থাকতে পারে, আবার কমতেও পারে। যেমন, ২০০৯-১০-এর প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধির হারের তুলনায় প্রকৃত প্রবৃদ্ধির হার বেশি ছিল। তা ছাড়া কেবল এ বছরেই ৬-এর অধিক প্রবৃদ্ধির হার হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, তা তো নয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৫-০৬-এ প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৬, ২০০৬-০৭-এ ৬ দশমিক ৪, এমনকি ২০০৭-০৮-এ বিশ্বমন্দার মুখেও প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ২। সে হিসাবে যে বছরে রপ্তানি বেড়েছে ৪১ শতাংশ, আমদানির বড় অংশ হচ্ছে কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি, কৃষিতে বোরো ধানে বাম্পার ফলন, আমনও খারাপ হয়নি, ক্ষুদ্র ঋণ ও বাণিজ্য ঋণের সম্প্রসারণশীল প্রবাহ ব্যক্তি খাতে গিয়েছে, সেখানে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ প্রাক্কলিত হয়ে থাকলে এত সংশয়াপন্ন হওয়ার কোনো কারণ ঘটে কি? যা-ই হোক, আবারও বলছি, প্রবৃদ্ধির হার প্রসঙ্গে চূড়ান্ত মীমাংসা করার জন্য আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা বৃক্ষকে দেখতে চেয়ে অরণ্যকে যেন দেখতে ভুলে না যাই। আমাদের দেশের গ্রাম ও শহরের অর্থনীতিতে, বিশেষত প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যক্তি খাতে গত এক দশকে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, বরং তা নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে ‘রাজনীতি হচ্ছে’ (যা কেউ কেউ বলছেন) এ রকম অভিযোগ তাই ব্যক্ত করা আমার বিচারে সংগত নয়। এতে করে বিবিএসকেও খাটো করা হয়। অথচ ভারতে সিএসও বা পাকিস্তানের এফবিএসের তুলনায় বিবিএস কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই, যাঁরাই ভারতের বা পাকিস্তানের স্টেট জিডিপি বা প্রভিন্সিয়াল জিডিপি উপাত্ত নিয়ে কাজ করেছেন, তাঁরা জানেন। সর্বোপরি পূর্ববর্তী বছরগুলোয় (বিশেষত সুতীব্র বিশ্বমন্দার ২০০৮-০৯ ও ২০০৯-১০-এ) অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ছিল শ্লথতর, অর্থনীতিতে তখন অব্যবহূত ক্যাপাসিটির সৃষ্টি হয়েছিল, এ বছরে এসে তা ব্যবহূত হয়েছে (যে জন্য কাঁচামাল আমদানিও বেড়েছে লক্ষণীয়ভাবে ২০১০-১১তে) সে কারণেও প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে।
প্রবৃদ্ধির হার বাড়ছে কেন যেখানে বিনিয়োগের অনুপাত তেমন একটা বাড়েনি, সেটা শুধু এ বছরের জন্যই ‘বিশেষভাবে’ বাধা হতে যাবে কেন? বিনিয়োগের অনুপাত তো ২০০২-০৩ সাল থেকেই ২৪ শতাংশের মধ্যে আটকে আছে। সুতরাং এই ধাঁধার রহস্য উন্মোচন করতে গেলে কার্যত ২০০২-০৩ সাল থেকেই প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে যে উপাত্ত আমরা পাই, তা নিয়ে প্রশ্ন করতে হবে এবং সম্যক আলোচনা করতে হবে। শুধু সংশয় প্রকাশ করে ছেড়ে দিলে চলবে না। তা ছাড়া বিনিয়োগের হিসাবও অবমূল্যায়িত হতে পারে, কেননা, এক দশক আগের তুলনায় এখন বিনিয়োগের সিংহভাগ হচ্ছে বেসরকারি খাতে। এবং এই খাতে বিনিয়োগে গত এক দশকে যে পরিমাণগত ও কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে, তা এখনো পরিসংখ্যানে যথাযথভাবে ধরা পড়ছে না।
বিনিয়োগ মোটামুটি একই পর্যায়ে থাকার পরও প্রবৃদ্ধি কেন ২০০২-০৩ সালের ৫ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ২০১০-১১ সালের ৬ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হতে পারে, তার অনেকগুলো ব্যাখ্যা হতে পারে। যদি আমরা হ্যারড-ডোমার সরলীকৃত দুনিয়ার মধ্যেই থাকি (যেখানে সঞ্চয় ও ভৌত বিনিয়োগই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালক), সেই নিরিখেও বলা যেতে পারে যে বিনিয়োগের উৎপাদনশীলতা ২০০২-২০১১ কালপর্বে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়ে থাকবে। বিনিয়োগের উৎপাদনশীলতা বেড়ে যাওয়ার প্রধান উৎস ছিল দুটি। প্রথমত, গ্রাম থেকে শহরে দ্রুত হারে স্থানান্তরিত হয়েছে শ্রমশক্তি (২০০১ সালের ২৫ শতাংশের তুলনায় বর্তমানে নগর জনসংখ্যা ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে)। এই রি-লোকেশন অ্যাফেক্টের কারণে সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বৃ িদ্ধ পাওয়ার কথা। গ্রাম ও শহরের মধ্যে আয়বৈষম্য বৃদ্ধির পেছনে একটা বড় কারণ হলো, গ্রামের তুলনায় শহরে শ্রমের উৎপাদনশীলতা বেশি। শুধু মাত্রায় বেশি নয়, আমার অনুমান, শহরে শ্রমের উৎপাদনশীলতা গ্রামের তুলনায় আরও দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। না হলে এক উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী গত এক দশকে শহরে পাড়ি জমানো সত্ত্বেও নগর-দারিদ্র্য দ্রুত হারে কমে যেত না। কেউ কেউ বলতে পারেন যে গ্রাম থেকে যারা শহরে জড়ো হয়েছে, তারা অধিকাংশই এসেছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে, সুতরাং এখানে শ্রমের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে সেই ধারণা কতটা যুক্তিযুক্ত? এ পরিপ্রেক্ষিতে বলতে হয়, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শহরে কর্মকাণ্ডে আগের চেয়ে অনেক গতিশীলতা এসেছে, আয় বেড়েছে এবং লক্ষণীয়ভাবে দারিদ্র্য কমেছে। নগর অর্থনীতির ‘আকর্ষণীয় ক্ষমতা’ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরালো।
দ্বিতীয়ত, গ্রামীণ অর্থনীতির ভেতরেও বেশ কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে। আরও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। সেটা যেমন ঘটেছে কৃষি অর্থনীতির ভেতরে (যেমন, বাণিজ্যিক কৃষির বিস্তারে), তেমনি ঘটেছে গ্রামীণ অকৃষি অর্থনীতির ভেতরেও। এই শেষোক্ত ধারার বড় প্রমাণ হচ্ছে, গ্রামীণ অকৃষি অর্থনীতিতে পুঁজির চাহিদা প্রতিবছরই বাড়ছে। এর পরোক্ষ সমর্থন মেলে মাইক্রো-ফাইন্যান্স খাতে পুঁজির বর্ধিত জোগানের জন্য একই ব্যক্তির নানা প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ (মাল্টিপল লোন) নেওয়ার প্রবণতায়। এ ধরনের ঋণের ৮০ শতাংশই নেওয়া হয়েছে আরও বেশি করে পুঁজি সংগ্রহের জন্য। তার মানে, গ্রামে মাথাপিছু পুঁজির পরিমাণ বেড়েছে এবং তা বেড়েছে আরও বেশি করে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যাওয়ার কারণে। গ্রামে এখন মজুরি-শ্রমভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে এবং এক হিসাবে এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত মজুরি-শ্রমিকের সংখ্যা গ্রামের মোট শ্রমশক্তির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। পারিবারিক শ্রমভিত্তিক প্রতিষ্ঠান থেকে মজুরি-শ্রমভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার কারণে গ্রামের শ্রমের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। এতে করে প্রবৃদ্ধিও বাড়ার কথা বিনিয়োগের সামগ্রিক অনুপাত একরূপ থাকা সত্ত্বেও।
২০০২-২০১১ কালপর্বে প্রবৃদ্ধির উত্তরোত্তর বাড়ার পেছনে শ্রমশক্তির বর্ধিত নিয়োজনও অনেকাংশে কাজ করে থাকবে। উদাহরণস্বরূপ, শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। যেসব নারী আগে ‘ঘর-গৃহস্থালির’ অর্থনীতিতে আটকে থাকতেন, তাঁদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন সরাসরি শ্রমের বাজারে অংশ নিচ্ছেন। এক দশক আগেও শ্রমের বাজারে নারীদের অংশগ্রহণের হার ছিল ১৫-২০ শতাংশ, এ হার এখন ৩০-৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। কৃষিতে ও অকৃষিতে, ক্ষুদ্র ঋণের (ও কিছুটা বাণিজ্যিক ঋণের) সম্প্রসারণে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে এটা হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশই শ্রমঘন কাজে নিয়োজিত, ফলে বিনিয়োগের অনুপাত একই থাকলেও শুধু নারীর বর্ধিত অংশগ্রহণের কারণেই প্রবৃদ্ধি বেশ কিছুটা বাড়ার কথা। এ ধারা আরও বেগবান করা গেলে (পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় এ হার ৭০-৮০ শতাংশ) এ দেশের প্রবৃদ্ধির হার ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে ঋণ নিয়ে পুঁজি সঞ্চয়ের বর্ধমান প্রবণতা, শ্রমবাজারে নারীর উত্তরোত্তর অংশগ্রহণ এসব প্রবৃদ্ধির ‘সরবরাহগত’ দিককে নির্দেশ করে। কিন্তু প্রবৃদ্ধি বাড়ার ক্ষেত্রে ‘চাহিদাগত’ দিকও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যেটা আলোচনায় প্রায়ই আসে না সেটা হলো, এক দশক ধরে দ্রুত হারে দারিদ্র্য কমে যাওয়ার ধারা এ সময়ে প্রবৃদ্ধির হারকেও বাড়িয়ে থাকবে। গোড়ার পর্বের দারিদ্র্য অবস্থা নিরসনের সঙ্গে পরবর্তী প্রবৃদ্ধির প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে এটা সুস্পষ্ট। আমাদের দেশে দুই দশক ধরেই দারিদ্র্য কমছে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি উভয় আমলেই কমেছে। কিন্তু দারিদ্র্য বিশেষভাবে কমেছে ২০০০-২০১০ কালপর্বে (সেটা ২০০০, ২০০৫, ২০১০ সালের দারিদ্র্য-উপাত্ত বিচার করলেই দেখা যায়)। দারিদ্র্য অব্যাহতভাবে কমার অর্থ গ্রামীণ বড় একটি জনগোষ্ঠীর কাছে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ক্রয়ক্ষমতা এসেছে। এই ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে কৃষি, কৃষিজাত শিল্প, অকৃষি পণ্য ও সেবা খাতগুলোর সম্প্রসারণ ঘটেছে সুদূর গ্রামাঞ্চলেও। ফলে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উত্তরোত্তর বর্ধমান ‘অভ্যন্তরীণ ভোগ’ (ডমেস্টিক কনসাম্পশন) প্রবৃদ্ধির এক নতুন নিয়ামকে পরিণত হচ্ছে। এ কথা এক দশক আগেও অতটা খাটত না। অর্থাৎ এই নিরিখেও আমরা দেখছি যে বিনিয়োগের অনুপাত একই থাকলেও বর্ধিত ভোগের কারণেও প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে রপ্তানি ও প্রবাসী-আয়ের পাশাপাশি ‘স্থানীয় বাজার’-এর সম্প্রসারণ আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
কিন্তু আমরা কেবল হ্যারড-ডোমার দুনিয়াতেই আবদ্ধ নেই এবং শুধু সরলীকৃত হ্যারড-ডোমার সমীকরণের নিরিখেই প্রবৃদ্ধিকে বিচার করলে চলবে কেন। ভৌত বিনিয়োগ ছাড়াও প্রবৃদ্ধির আরও দুটো প্রধান নিয়ামক হলো মানব-পুঁজির (হিউম্যান ক্যাপিটাল) গঠন ও প্রযুক্তিগত বিকাশ। মানব-পুঁজি গঠনে (শিক্ষার বিস্তারে যেমন) ১৯৯০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে যে বিনিয়োগ হয়েছে, তার সুফল আমাদের এখন পেতে শুরু করার কথা। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বেসরকারি খাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। দুই দশক আগে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাসের হার যেখানে ছিল ৪০-৫০ শতাংশ, এখন তা ৭০-৮০ শতাংশ। গত কয়েক বছরে শিক্ষার্থীদের পাসের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও গুণগত মানকে আগের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই শ্রমশক্তির শিক্ষাগত মাত্রা বেড়েছে, আধাদক্ষ ও দক্ষ শ্রমশক্তির অনুপাত বেড়েছে, যার শুভ প্রভাব পড়তে বাধ্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও সেই সূত্রে প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধির ওপরও।
ধীরলয়ে হলেও প্রযুক্তিগত উন্নতির বিশিষ্ট অবদান (যা ধরা পড়ে ‘টোটাল ফ্যাক্টর প্রডাক্টিভিটির পরিসংখ্যানে) বিভিন্ন খাতওয়ারি প্রবৃদ্ধির মধ্যে উত্তরোত্তর বেড়ে চলেছে। কৃষকেরা উন্নত বীজ ব্যবহার করছেন (শুধু উফশী ধান নয়, অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রেও); শিল্প ও নির্মাণ খাতে উন্নততর প্রযুক্তি ব্যবহূত হচ্ছে; সুদূর গ্রামেও মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যে তথা বিনিয়োগ সহজতর হচ্ছে। সুতরাং প্রবৃদ্ধির হার বিচারের ক্ষেত্রে একপেশেভাবে শুধু বিনিয়োগের অনুপাতের দিকে তাকানো অসংগত।
সন্দেহ নেই, বাংলাদেশ উচ্চ প্রবৃদ্ধির যুগে প্রবেশ করছে। এর প্রস্তুতি কয়েক বছর ধরেই (২০০৪-০৫ সালের পর থেকেই) চলছিল। এই কৃতিত্ব যেমন বিএনপির, তেমনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ বর্তমান সরকারের অংশেও কিছুটা বর্তায়। প্রবৃদ্ধির হার বেগবান হলে দারিদ্র্য আরও দ্রুত হারে কমে আসবে, এ নিয়েও বিতর্ক নেই। কিন্তু যে প্রশ্ন এখানে তোলা যায় সেটা হলো, প্রবৃদ্ধির চরিত্র নিয়ে। যেকোনো প্রবৃদ্ধিই সমান হারে দারিদ্র্য কমায় না। না হলে গ্রোথ কমিশনের মতো এত র্যাডিক্যাল নয় এমন কমিশনও ‘ইনক্লুসিভ গ্রোথ’ আর ‘কনভেনশনাল গ্রোথ’-এর মধ্যে পার্থক্য টানত না। বাংলাদেশের জন্য উচ্চ প্রবৃদ্ধির কৌশল রচনায় একটা বাড়তি উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, প্রবৃদ্ধি আমাদের পরিবেশ ধ্বংস করছে কি না। আমাদের আয় বাড়ছে, কিন্তু আমাদের জীবনযাত্রার মান কমে যাচ্ছে কি না পরিবেশদূষণ, পাবলিক স্পেসের (যেমন—নদী, জলাশয়, পার্ক, উন্মুক্ত ময়দান) ক্রমবিলুপ্তি এবং তীব্র যানজটের কারণে। তাই আমাদের জন্য শুধু জিডিপির প্রবৃদ্ধি নয়, আরও জানা প্রয়োজন ‘গ্রিন জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি কতটা হচ্ছে। পরিবেশ-বিধ্বংসী প্রবৃদ্ধি কেবল পরিবেশের জন্যই ক্ষতিকর তা নয়, অর্থনৈতিক সাম্যের জন্যও ক্ষতিকর। পরিবেশ ধ্বংস করে যাঁরা নতুন প্রবৃদ্ধির জন্ম দিচ্ছেন (তুরাগ নদ বা বুড়িগঙ্গা ভরাট করে নির্মাণ প্রকল্প করলে তা এক হিসেবে ‘নতুন প্রবৃদ্ধি’, অন্য হিসেবে পরিবেশের সর্বনাশ), এসব বিনিয়োগকারীকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না সুশাসনের দুর্বলতার জন্য। এসব বিনিয়োগকারীর মুনাফার একটা বড় অংশ কর ফাঁকি দেওয়া অর্থ, যা সমাজে বৈষম্য বাড়াচ্ছে। এসব বিনিয়োগকারীর ওপর পরিবেশের ক্ষতি করার জন্য নিদেনপক্ষে বাড়তি কর (এনভায়রনমেন্টাল ট্যাক্স) আরোপ করা উচিত। কেননা, পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতির ভুক্তভোগী সবাই—ধনী, মধ্যবিত্ত, গরিব-নির্বিশেষে। পরিবেশ-সহনশীল বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য আলাদা নীতিমালা প্রয়োজন। বর্তমান বাজেটের ক্ষেত্রে আমি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করব ‘জনগণতান্ত্রিক’ সমন্বিত পাবলিক র্যাপিড ও মাস ট্রানজিটের গুরুত্বের কথা। আমাদের বিদ্যমান রেলপথ, জলপথ ও সড়কপথ (যা আছে তাকে ব্যবহার করে বা এর কিছুটা পরিমার্জনা করে) আমাদের নতুন করে এ বিষয়ে ভাবতে হবে। যেসব ভাবনা ইতিমধ্যেই পরিবহন-অর্থনীতিবিদেরা করেছেন বৃহৎ ও মাঝারি আকারের শহরগুলোর জন্য, তা এখনই বাস্তবায়নে নিয়ে আসতে হবে। এদিকে বাজেট কিছুটা হলেও দৃষ্টি দেবে, এ আশা করছি।
ড. বিনায়ক সেন: অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা পরিচালক, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

বিএনপির ‘না’

সবকিছুতেই বিএনপির ‘না’। সর্বশেষটি হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত। নির্বাচনী আইন সংস্কার ও নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ চলছে নির্বাচন কমিশনের। এরই মধ্যে কিছু রাজনৈতিক দল এই সংলাপে যোগ দিয়ে তাদের মতামত জানিয়েছে। দেশের প্রধান বিরোধী দল এই সংলাপে যোগ দেবে, এটাই ছিল স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত।
বিএনপি সংসদে যাচ্ছে না। আদালতের রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখা না-রাখা নিয়ে যখন আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে, তখন বিএনপি ঘোষণা করল, তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল মানবে না, নতুন কোনো প্রস্তাবও দেবে না, এ নিয়ে সংসদে বা সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনাও নয়। এখন নির্বাচন কমিশনের সংলাপের ব্যাপারেও বিএনপির ‘না’। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এমন কোনো দলের সব ক্ষেত্রে এ ধরনের নেতিবাচক অবস্থান গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সেই পথটিই বেছে নিয়েছে।
গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সরকারের যেকোনো কাজকর্মের সমালোচনা ও বিরোধিতা করার জায়গা সংসদ। গণতন্ত্রকে রাজনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে মেনে নিয়েও বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে এর উল্টো সংস্কৃতি, বিরোধী দল মানেই সংসদে না যাওয়া। সংসদ বাদ দিয়ে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচির ওপর ভর করা। বিএনপির পক্ষ থেকে বুধবার একটি বাজেট-প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়েছে। দেশের প্রধান বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিকল্প প্রস্তাব উত্থাপনের বিষয়টি নিশ্চয়ই ইতিবাচক; কিন্তু সংসদে গিয়ে এ প্রস্তাব দিলে সমস্যা ছিল কি? বিএনপি যদি মনে করে সংসদে এই প্রস্তাব দিয়ে কোনো লাভ হতো না, তবে আমাদের জবাব হচ্ছে, যদি সংসদে প্রস্তাব দিয়ে কাজ না হয়, তবে বাইরে দেওয়া প্রস্তাব কি কোনো কাজে আসবে? সংসদে গিয়ে দিলে অন্তত বাজেট নিয়ে কার্যকর আলাপ-আলোচনার সংস্কৃতি গড়ে উঠত।
নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী আইন সংস্কার বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোটদানের যে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে বিএনপি যদি তাদের মতামত নির্বাচন কমিশনের কাছে না জানায়, তবে তারা কার কাছে জানাতে চায়? বিএনপির পক্ষ থেকে এরই মধ্যে বলা হয়েছে যে ইলেকট্রনিক ভোটিং পদ্ধতি তারা মানবে না। আমাদের কথা হচ্ছে, তাদের এই বিরোধিতার যদি কোনো যৌক্তিক দিক থাকে, তবে তা তারা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জানিয়ে আসছে না কেন? গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও গণতন্ত্রের কথা বলে সব ধরনের আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতা।
প্রধান বিরোধী দলের প্রতি আবারও সেই পুরোনো আহ্বান, সবকিছুতেই ‘না’—এই অবস্থান থেকে সরে আসুন। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে সংসদে যেতে হবে, সেখানে গিয়ে তর্ক-বিতর্ক করতে হবে। যেকোনো রাজনৈতিক বিরোধের ক্ষেত্রে আলাপ-আলোচনাকেই সমাধানের পথ মানতে হবে। গণতন্ত্রে এর বিকল্প পথ নেওয়া মানেই গণতন্ত্রের পথ থেকে সরে আসা। একই সঙ্গে সরকারেরও নীতি হওয়া উচিত বিরোধী দলের ন্যায়সংগত দাবিদাওয়া আমলে নেওয়া। সবকিছু সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে চাপিয়ে দেওয়াও সমীচীন নয়।

বৃক্ষরোপণ সাদকায়ে জারিয়া by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলামে বৃক্ষরোপণ ও ফসল ফলানোকে সবিশেষ সওয়াবের কাজ হিসেবে ‘সাদকায়ে জারিয়া’ বা অবিরত দানরূপে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মানুষ মৃত্যুর পরও সাদকায়ে জারিয়ার সওয়াব অব্যাহতভাবে পেতে থাকবে। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যখন কোনো মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সমস্ত আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়, শুধু তিনটি ব্যতীত। ১. যদি সে কোনো সাদকায়ে জারিয়া রেখে যায়, ২. অথবা এমন জ্ঞান রেখে যায়, যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, ৩. অথবা কোনো সৎ সন্তান রেখে যায়, যে তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করে। এ তিনটি ভালো কাজের ফল সে পেতে থাকে।’
সুতরাং, কোনো ব্যক্তি যদি একটি বৃক্ষ রোপণ ও পরিচর্যা করেন, তাহলে ওই বৃক্ষ যত দিন বেঁচে থাকবে এবং মানুষ ও জীবজন্তু যত দিন এর ফল বা উপকার ভোগ করতে থাকবে, তত দিন ওই ব্যক্তির আমলনামায় পুণ্যের সওয়াব লেখা হতে থাকবে। এমনকি বৃক্ষরোপণকারী যদি মারা যান, তাহলেও তাঁর আমলনামায় সওয়াব লেখা হতে থাকবে, যত দিন বৃক্ষটি বেঁচে থাকবে। কোনো মানুষ যদি ওই বৃক্ষ থেকে কোনো উপকার বা ফল ভোগ নাও করে, তা হলেও সংশ্লিষ্ট বৃক্ষরোপণকারীর আমলনামায় সওয়াব লেখা হতে থাকবে। ইসলামে বৃক্ষরোপণের ওপর কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা অনুধাবন করার জন্য নবী করিম (সা.)-এর মুখনিঃসৃত বাণীটিই যথেষ্ট। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো মুসলিম গাছ লাগায় বা শস্য বোনে এবং এ থেকে মানুষ, পাখি বা পশু তাদের আহার গ্রহণ করে, তখন তা তার (রোপণকারীর) পক্ষে একটি সাদকা (দান) হিসেবে পরিগণিত হয়।’ (বুখারি ও মুসলিম) অন্য হাদিসে আছে, ‘গাছ থেকে যা চুরি হয়ে যায়, তা-ও তার পক্ষে একটি সাদকারূপে গণ্য হয়।’ (মুসলিম)
সৃষ্টিজগতের অপরূপ সৌন্দর্যলীলার মধ্যে বৃক্ষ অন্যতম। গাছপালা ছাড়া মানুষের বেঁচে থাকার কোনো উপায় নেই। মানুষ না থাকলে বৃক্ষের কোনো অসুবিধা হতো না, কিন্তু বৃক্ষ না থাকলে এ পৃথিবীতে আদম সন্তানের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যেত। বৃক্ষ যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিকারক, তেমনি আবার পরিবেশ সংরক্ষণেরও সজীব প্রতীক। আল্লাহ তাআলা মানুষ সৃষ্টি করে ভূপৃষ্ঠের প্রয়োজনীয় জীবনোপকরণ হিসেবে ফলবান বৃক্ষরাজি ও সবুজ বনভূমি দ্বারা একে সুশোভিত করেছেন। ধরণিতে মানুষকে বেঁচে থাকতে হলে চিরকাল বৃক্ষের ওপর নির্ভর করতে হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনিই আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা দ্বারা আমি সর্বপ্রকার উদ্ভিদের চারা উদ্গম করি, অনন্তর তা হতে সবুজ পাতা উদ্গত করি, পরে তা হতে ঘন সন্নিবিষ্ট শস্য-দানা উৎপাদন করি এবং খেজুরগাছের মাথি হতে ঝুলন্ত কাঁদি নির্গত করি আর আঙুরের উদ্যান সৃষ্টি করি এবং জলপাই ও দাড়িম্বও; এরা একে অন্যের সদৃশ এবং বিসদৃশও; লক্ষ করো! এর ফলের প্রতি, যখন তা ফলবান হয় এবং এর পরিপক্বতা প্রাপ্তির প্রতি। বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।’ (সূরা আল-আনআম, আয়াত-৯৯)
ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে মানবজাতি ও সৃষ্টিকুলের সঙ্গে বৃক্ষ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বৃক্ষের মধ্যে নিহিত রয়েছে পৃথিবীতে মানুষের বেঁচে থাকার উপকরণ অক্সিজেন। আল্লাহ তাআলা বৃক্ষের অক্সিজেনের মাধ্যমে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখেন। মানুষ বৃক্ষ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে, আর বৃক্ষ মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে পৃথিবীতে দূষণমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। তাই বৃক্ষ মানুষের বেঁচে থাকার নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। জন্মের পর মানুষের মুখে মধু দেওয়া হয়, সেই মধু বৃক্ষ থেকেই আসে। সুতরাং, গাছপালা মানবজাতির পরিচিত প্রতিবেশী ও সবচেয়ে বড় সাহায্যকারী। গাছপালা মানুষের রান্নাবান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহূত হয়। জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনে বেশি করে বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন করার জন্য আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন। দারিদ্র্য বিমোচনের জন্যও বৃক্ষ রোপণ করা দরকার। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য সবুজ বৃক্ষ থেকে আগুন উৎপাদন করেন এবং তোমরা তা থেকে আগুন প্রজ্বলিত করো।’ (সূরা ইয়াছিন, আয়াত: ৮০)
ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরের একটি বিশেষ অঞ্চলকে সংরক্ষিত এলাকা বলে ঘোষণা করেন। ওইসব এলাকার গাছপালা কাটা এবং সেখানে বন্য পশুপাখি শিকার করা আজও নিষিদ্ধ। রাসুলে করিম (সা.) জনগণকে পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণ ও বনায়নে বিশেষভাবে উৎসাহ জুগিয়েছেন। তিনি নিজ হাতে বৃক্ষ রোপণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও এর পরিচর্যা করেছেন। বৃক্ষরোপণের প্রতি অত্যধিক গুরুত্বারোপ করে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যদি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার আগ মুহূর্তে তোমাদের কারও হাতে একটি চারা গাছ থাকে, তাহলে তা রোপণ করে যাও।’ (আদাবুল মুফরাদ)
আল্লাহ তাআলা বন-জঙ্গল ও বৃক্ষরাজির মাধ্যমেই বায়ু সঞ্চালন করেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা কমানোর জন্য ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন এবং জীবজগৎকে বাঁচিয়ে রাখেন। মানবজাতির জীবনধারণের জন্য সর্বাবস্থাতেই বৃক্ষরাজির বিশেষ প্রয়োজন। ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক বনায়ন না করে কেবল কেটে কেটে কাজে ব্যবহার করায় ধরণিতে বৃষ্টির অভাব, পৃথিবীর তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। যেহেতু পারিবারিক, সামাজিক ও আন্তর্জাতিকভাবে দৈনন্দিন কাজে এবং আসবাবপত্রের জন্য গাছপালা ব্যবহূত হয়ে থাকে, সেহেতু একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ইসলাম কাউকে ফলবান বৃক্ষ নিধন বা কর্তনের অনুমতি দেয় না। কারণ, এতে অন্যরা বৃক্ষের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হবে। তাই অকারণে বৃক্ষ ছেদন বা কর্তন করা যাবে না। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অকারণে একটি কুলগাছ কর্তন করবে, আল্লাহ তাকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’
ইসলামে বৃক্ষরোপণের বিষয়ে পরিষ্কার দিকনির্দেশনা রয়েছে। তাই দেশের ধর্মীয় নেতা, মসজিদের ইমাম-খতিব, বিশেষ করে, আলেম-ওলামারা সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের আগে এ বিষয়ে জোরালো বক্তব্য রাখতে পারেন। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে ‘সাদকায়ে জারিয়া’ বা অবিরত দানরূপে বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা সবার সামনে তুলে ধরে বৃক্ষের পরিচর্যায় গণসচেতনতা সৃষ্টি সামাজিক বনায়নের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

ব্রাজিলের জেল থেকে মুক্তি পেলেন বাতিস্তি

ব্রাজিলের কারাগারে বন্দী থাকা ইতালির সাবেক জঙ্গি নেতা সিজার বাতিস্তিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাতিস্তিকে ইতালির হাতে তুলে না দেওয়ার জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ইতালি সরকার এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, বাতিস্তিকে ফিরে পেতে তারা আন্তর্জাতিক আদালতের দারস্থ হবে।
বাতিস্তি (৫৬) ইতালির সশস্ত্র সংগঠন আর্মড প্রোলেতারিয়ানস ফর কমিউনিজমের নেতা ছিলেন। বেসামরিক লোক হত্যার অভিযোগে ইতালি সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করলেও ১৯৮১ সালে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে মেক্সিকো ও ফ্রান্সে আশ্রয় নেন। ব্রাজিলে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ট্রাক উঠে গেল ঘুমন্ত মানুষের ওপর

ভারতের গুজরাট রাজ্যের রাজধানী আহমদাবাদে দ্রুতগামী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ঘুমন্ত পুণ্যার্থীদের ওপর উঠে গেলে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়। গত বুধবার রাতে ধোলকা-বাগোদারা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এসব পুণ্যার্থী ধোলকার বৈদ্য গ্রামে একটি ওরসে যোগ দিতে যাচ্ছিল। পথে রাত হয়ে গেলে মহাসড়কটির পাশেই তারা ঘুমিয়ে পড়ে। পুলিশ জানায়, ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই সব ঘুমন্ত মানুষের ওপর উঠে পড়ে। ঘটনাস্থলেই ১৬ জন এবং পরে গুরুতর আহত আরও দুজন মারা যায়।

নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে রাজকীয় স্যুইটে সালেহ

সৌদি আরবে চিকিৎসাধীন ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) থেকে বের করে রাজকীয় স্যুইটে আনা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবা এ কথা জানায়। বিদ্রোহীদের বোমা হামলায় আহত হয়ে তিনি রিয়াদের একটি সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেছেন।
নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে সালেহকে বের করে আনার খবরে ইয়েমেনে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইয়ে যায়। বুধবার এ উপলক্ষে সালেহর সমর্থকেরা রাজধানী সানায় বাজি পুড়িয়ে ও গুলি ছুড়ে উল্লাসে মেতে ওঠে। এ সময় অনেকে আহত হয়।
বার্তা সংস্থা সাবার খবরে বলা হয়, সালেহর সফল অস্ত্রোপচার ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে রাজকীয় স্যুইটে আসার খবরে তাঁর সমর্থকেরা বুধবার রাতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। এ সময় তারা বাজি পোড়ায় ও গুলি ছোড়ে। এতে কেবল রাজধানীতেই প্রায় ৮০ জন আহত হয়। প্রাদেশিক শহরগুলোতেও অনেকে আহত হয়।
গত শুক্রবার সানায় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে বোমা হামলায় আহত হন সালেহ। পরদিন শনিবার চিকিৎসা নিতে তিনি রিয়াদ যান।

২০২০ সালের মধ্যে এইডস নির্মূলে কাজ করুন

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ২০২০ সালের মধ্যে এইডস নির্মূলে কাজ করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য নতুন করে কেউ যাতে এইডসে আক্রান্ত না হয় বা এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আর কারও যেন মৃত্যু না হয়।’
নিউইয়র্কে এইডস বিষয়ে জাতিসংঘের তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গত বুধবার এ কথা বলেন বান কি মুন। এইডসের জন্য দায়ী ভাইরাস এইচআইভির সন্ধান পাওয়ার ৩০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বে তিন কোটি ৪০ লাখ মানুষ এইডসে আক্রান্ত। তবে আক্রান্তদের অর্ধেকই জানেন না তিনি এইডসে আক্রান্ত।
বান কি মুন বলেন, ‘বিশ্ব থেকে এইডস নির্মূল করতে আমরা আজ এখানে সমবেত হয়েছি। এইডস নির্মূল করে ইতিহাসের পাতায় পাঠাতে হলে আমাদের কাজ করতে হবে। তার মানে হলো, আমাদের সমকামী ব্যক্তি, মাদকসেবী ও যৌন ব্যবসার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ের মুখোমুখি হতে হবে। কাজ করতে হবে এসব বিষয়ে।’
জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, ২০০১ সাল থেকে এইডসে নতুন করে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা শতকরা ২০ ভাগ কমে গেছে। ওই বছর বিশ্বনেতারা প্রথমবারের মতো এইডসের বিস্তার রোধে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। বান কি মুন ২০১৫ সালের মধ্যে এইডসের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। এ জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে একাত্ম হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
তিন দিনব্যাপী ওই সম্মেলনে বিশ্বের ৩০টি দেশের প্রেসিডেন্ট ও সরকারপ্রধানেরা যোগ দেন। আফ্রিকার নেতারা এইডসের বিরুদ্ধে কাজ করতে জরুরি তহবিল প্রয়োজন বলে সম্মেলনে উল্লেখ করেন।
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাথন বলেন, পর্যাপ্ত তহবিল ছাড়া এইডসের বিরুদ্ধে সফলতা পাওয়া কঠিন। আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার পরে নাইজেরিয়াতেই এইডস আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।
বিশ্বে এইডস আক্রান্ত ৯০ লাখেরও বেশি মানুষ চিকিৎসা-সুবিধা পায় না। এইডসের কারণে প্রতিবছর ১৮ লাখ মানুষ মারা যায়।

ওয়াজিরিস্তানে নিরাপত্তাচৌকিতে জঙ্গি হামলা, ২০ জন নিহত

পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানের একটি নিরাপত্তাচৌকিতে জঙ্গি হামলায় কমপক্ষে আট সেনাসহ ২০ জন নিহত হয়েছে। গত বুধবার মধ্যরাতে এ হামলা চালায় জঙ্গিরা। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আফগান সীমান্তসংলগ্ন ওয়াজিরিস্তানের মাকেন শহরের একটি নিরাপত্তাচৌকিতে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো ভারী অস্ত্রে সজ্জিত প্রায় দেড় শ জঙ্গি এ হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে আট সেনা নিহত হয়। এ সময় সেনাদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার বন্দুকযুদ্ধে ১২ জঙ্গিও নিহত হয়। তালেবান জঙ্গিরা হামলাটি চালায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওয়াজিরিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই চালকবিহীন বিমান হামলা চালাচ্ছে। মার্কিন হামলায় আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন ও ইলিয়াস কাশ্মীরি নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানে জঙ্গিরা প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এ হুমকির পর থেকেই ওয়াজিরিস্তানে মার্কিন হামলা বেড়ে গেছে। ধারণা করা হয়, উপজাতি অধ্যশিত উত্তর ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে বহু জঙ্গি আত্মগোপন করে আছে।

সিরিয়া ছেড়ে পালাচ্ছে মানুষ

আরও সহিংসতার আশঙ্কায় সিরিয়া ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে মানুষ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গতকাল বৃহস্পতিবার জানান, এ পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ২০০ জন সিরীয় নাগরিক তুরস্কে পাড়ি জমিয়েছে।
এদিকে সিরিয়ায় সরকারবিরোধীদের ওপর দমন-পীড়নের নিন্দা জানাতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য।
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর জিসর আল শুগুরে গত সোমবার সরকারবিরোধীরা পুলিশের ১২০ জন সদস্যকে হত্যা করে। সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী ট্যাংক ও সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে জিসর আল শুগুরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে—এই খবরে আতঙ্কিত লোকজন শহর থেকে পালানো শুরু করে। এই শহর থেকেই বেশি মানুষ পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
জিসর আল শুগুর ছেড়ে পালিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী যুবক মোহাম্মদ। তিনি জানান, একটি ট্রাকে করে অনেক লোকের সঙ্গে তুরস্ক সীমান্তে পৌঁছান তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যেন এই পৃথিবীর বাইরের মানুষ। তারা মানুষকে হত্যা করছে। আমাদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলবে তারা।’ তুরস্ক সীমান্তে আসা আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘যখন আমি জিসর আল শুগুর শহর থেকে পালাই, তখন পর্যন্ত সরকারি বাহিনী সেখানে পৌঁছায়নি। সেখানে কী ঘটবে জানি না।’
তুরস্ক বলেছে, সিরিয়া থেকে শত শত মানুষ এলেও তারা সীমান্ত বন্ধ করবে না। রাজধানী আঙ্কারায় এক সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান বলেন, তাঁরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ছেড়ে গেছেন এমন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সরকারবিরোধীদের ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানোর জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ী করেছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর নৃশংসতায় হতাহতের মোট সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে এই প্রথমবারের মতো স্বীকার করা হয়েছে, বাশার সরকার দেশটির বেশ কিছু অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। সরকারপন্থী একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ আর সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেই।
জানা যায়, সিরিয়া সেনাবাহিনীর কুখ্যাত ফোর্থ ডিভিশনের নেতৃত্ব দেন প্রেসিডেন্ট বাশারের ছোট ভাই মাহার। এই বাহিনী জিসর আল শুগুরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দারায় এই বাহিনীই রক্তাক্ত অভিযান চালায়।
সিরিয়ার বিরুদ্ধে গত বুধবার নিরাপত্তা পরিষদে তোলা যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নিন্দা প্রস্তাবকে দেশটিতে সামরিক অভিযান চালানোর প্রথম ধাপ বলে আশঙ্কা করছে কোনো কোনো দেশ। তবে জার্মানি ও পর্তুগাল ওই নিন্দা প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে।
১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে ওই নিন্দা প্রস্তাব পাস করতে নয় সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। তবে ভেটো ক্ষমতার অধিকারী নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যরা প্রস্তাবের বিরোধিতা করলে তা পাস করা সম্ভব হবে না।

গাদ্দাফির বিরুদ্ধে ধর্ষণের নির্দেশ দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি সরকারবিরোধী বিদ্রোহ দমনের লক্ষ্যে বিদ্রোহীদের পক্ষের নারীদের ধর্ষণ করার জন্য তাঁর সেনাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ জন্য যৌন উত্তেজক ভায়াগ্রা-জাতীয় ওষুধ সেনাদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তদন্তকারীরা এই প্রমাণ পেয়েছেন। গতকাল বুধবার নিউইয়র্কে এসব কথা বলেন আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি লুইস মোরেনো ওকাম্পো।
ওকাম্পো জানান, নতুন এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গাদ্দাফি, তাঁর ছেলে ও গোয়েন্দাপ্রধানের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ গঠন করা হতে পারে। আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি আরও বলেন, তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছেন, লিবিয়া সরকার ভায়াগ্রা-জাতীয় যৌন উত্তেজক ওষুধের কয়েকটি কনটেইনার কিনেছে। ধর্ষণ বাড়ানোই ছিল এর লক্ষ্য।
ওকাম্পো বলেন, ‘গাদ্দাফি নিজে তাঁর সেনাদের ধর্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা এমন কিছু তথ্য পেয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ষণকে গাদ্দাফি নিপীড়নের নতুন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। শুরুর দিকে আমরা এটা সন্দেহ করেছিলাম। তবে এখন আমরা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি যে গাদ্দাফি সত্যিই ধর্ষণকে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আমি বলব, এটা সত্যিই জঘন্য, সীমার বাইরে।’
গাদ্দাফি ও তাঁর সেনাদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের ব্যাপারে লিবিয়ার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
লিবিয়ার নাগরিক ইমান আল ওবেইদি গত মার্চে ত্রিপোলির একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, গাদ্দাফির অনুগত সেনারা তাঁকে ধর্ষণ করেছে। পরে ওবেইদিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তিনি লিবিয়া থেকে পালিয়ে কাতারে যেতে সক্ষম হন। কাতার কর্তৃপক্ষ তাঁকে লিবিয়ায় বিদ্রোহীদের দখলে থাকা শহর বেনগাজিতে পাঠায়। এখন তিনি রোমানিয়ায় একটি শরণার্থী শিবিরে রয়েছেন।
লিবিয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের অভিযোগে গাদ্দাফি, তাঁর ছেলে সাইফ আল ইসলাম ও গোয়েন্দাপ্রধান আবদুল্লাহ আল সানুসির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য গত মাসে আইসিসির কাছে আবেদন করেন ওকাম্পো।
ওকাম্পো জানিয়েছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের অভিযোগে আইসিসি তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে তিনি লিবিয়ার নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনবেন।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হতাশা: লিবিয়া অভিযানে তেমন কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াম ফক্স। গত বুধবার ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে তিনি এই হতাশা ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে ন্যাটো জানায়, ত্রিপোলিতে গাদ্দাফির বাসভবন চত্বরসহ বেশ কিছু সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। প্রতিদিন বিমান হামলা চলছে। বুধবারও হামলা চালানো হয়েছে।

সিঙ্গুরের জমির দখল নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার

পশ্চিমবঙ্গ সরকার অধ্যাদেশ জারি করে সিঙ্গুরের বিতর্কিত ৯৯৭ একর জমির দখল নিয়েছে। গভর্নর এম কে নারায়ণন গতকাল এই অধ্যাদেশে সই করেছেন।
গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এই জমির মধ্য থেকে ৪০০ একর জমি অনিচ্ছুক চাষিদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বাকি ৫৯৭ একর জমিতে শিল্প হবে। টাটারা সেখানে শিল্প গড়তে চাইলে রাজ্য সরকার স্বাগত জানাবে।
মমতা ক্ষমতায় এসেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সিঙ্গুরের ৪০০ একর জমি চাষিদের ফিরিয়ে দিয়ে বাকি জমিতে শিল্প গড়া হবে। গতকাল অধ্যাদেশের মাধ্যমে রাজ্য সরকার জমি নিয়ে নেওয়ায় সবাই অবাক হয়েছেন।

হূিপণ্ড নিজেই করবে নিজের মেরামত

এটা এমন এক ওষুধ, যা ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হূৎপিণ্ড নিজের প্রয়োজনীয় মেরামত নিজেই করে নেবে। গবেষণায় ইঁদুরের শরীরে এই ওষুধ প্রয়োগ করে সুফল পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক পরীক্ষাগারে ‘থাইমোসিন বিটা ফোর’ নামের ওষুধটি নিয়ে এ পরীক্ষা চালান। নেচার সাময়িকীতে এই গবেষণাবিষয়ক একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা এই গবেষণা চালান। তাঁদের ভাষ্য, ‘থাইমোসিন বিটা ফোর’ ওষুধটি যদি হূদেরাগে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আগাম ব্যবহার করা যায়, তাহলে এটি হূৎপিণ্ডের ক্ষতি সারিয়ে তোলার জন্য তৈরি থাকবে। ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন এটিকে হূৎপিণ্ডের গবেষণায় একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলে অভিহিত করেছে। তবে মানুষের চিকিৎসায় এই ওষুধ প্রয়োগের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে আরও কয়েক বছর লাগবে বলে জানায় তারা। বর্তমানে প্রচলিত যে ধারণা তা হলো, হূদেরাগে আক্রান্ত হলে হূৎপিণ্ডের যে ক্ষতি হয়, তা স্থায়ী।
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন জানায়, স্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতির ফলে হূদেরাগে মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কিন্তু জটিল হূদেরাগে ভোগা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। কেবল যুক্তরাজ্যেই এমন রোগী সাড়ে সাত লাখের বেশি।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা লক্ষ করেছেন, ভ্রূণ থাকা অবস্থায় যেসব কোষ হূৎপিণ্ডের বিভিন্ন ধরনের টিস্যুতে রূপান্তরিত হয়, কিন্তু পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় এই এপিকার্ডিয়াম-ডিরাইভড প্রোজেনিটর কোষ হূৎপিণ্ডে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। এসব কোষকে সক্রিয় করে তুলতে গবেষকেরা থাইমোসিন বিটা ফোর নামের একটি রাসায়নিক উপাদান প্রয়োগ করেন।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক পল রিলে বলেন, পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় যে এপিকার্ডিয়াম কোষ থাকে, থাইমোসিন বিটা ফোরের মাধ্যমে তাদেরকে সক্রিয় করা যেতে পারে। এতে এসব কোষ হূৎপিন্ডের নতুন পেশি তৈরির ক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
পল রিলে বলেন, পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ওষুধের মাধ্যমে হূৎপিণ্ডের রক্ত পাম্প করার ক্ষমতাও বাড়ে। শুধু তা-ই নয়, টিস্যুর ক্ষত সেরে গিয়ে হূৎপিণ্ডের দেয়ালও পুরু হয়।

সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীতে সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা

আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন খাতে মোট ২২ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এই বরাদ্দ প্রস্তাব উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন বাজেটের প্রায় ১৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরে এই বরাদ্দ ১৯ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা, যা উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন বাজেটের ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীকে চারটি স্তরে বিন্যস্ত করে দারিদ্র্য নিরসনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা বলা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার বাজেট প্রস্তাবে বলেন, বয়স্ক-ভাতা কার্যক্রমের আওতায় ২০১১-১২ অর্থবছরে ২৪ লাখ ৭৫ হাজার সুবিধাভোগীকে আর্থিক সহায়তা করা হবে। এই বাবদ ৮৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন তিনি।
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রথমবারের মতো ‘সার্বজনীন পেনশন ইন্স্যুরেন্স স্কিম’ চালুর ঘোষণা করা হয়েছে। এ বাবদ ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া মহানগর ও জেলা শহরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসনের জন্য প্রথমবারের মতো ১০ কোটি টাকা বরাদ্দেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরে বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীর জন্য দুস্থ-ভাতা বাবদ ৩৩১ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুবিধাভোগীর সংখ্যা নয় লাখ ২০ হাজার। অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ১০২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে দুই লাখ ৮৬ হাজার অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আর্থিক সহায়তা পাবে।
চলতি অর্থবছরে ‘দরিদ্র মায়ের মাতৃত্বকালীন ভাতা’ বাবদ বরাদ্দ ছিল ৪৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগামী অর্থবছরে এ বাবদ ৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে সুবিধাভোগী মানুষের সংখ্যা ৮০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৯২ হাজার করা হয়েছে।
শহর অঞ্চলে কর্মজীবী দরিদ্র মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতা বাবদ ৩২ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে এ কার্যক্রমে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বর্তমানের ৬৭ হাজার থেকে বেড়ে ৭৭ হাজার ৬০০ হবে। এ ছাড়া মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়নে আগামী অর্থবছরে ২৭১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সার্বিক কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে আগামী অর্থবছরে ২১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
চলতি বাজেটে ‘এসিডদগ্ধ মহিলা ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন এবং মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান’ তহবিল প্রথমবারের মতো গঠন করা হয়। এই খাতে বরাদ্দ ছিল পাঁচ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে তা ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সুবিধাবঞ্চিত, পথশিশু, এতিম ও অসহায় শিশুদের কল্যাণে সরকারি এতিমখানার জন্য ২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং বেসরকারি এতিমখানার জন্য ৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া পথশিশুদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে স্থাপিত শিশু বিকাশকেন্দ্রের জন্য আগামী অর্থবছরে তিন কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ভিক্ষাবৃত্তি অবসানের জন্য নেওয়া কর্মসূচিকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য আগামী অর্থবছরে সাত কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান’ কর্মসূচির আওতায় আগামী অর্থবছরে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, গত দুই বছরে এ কর্মসূচির অর্জন আশাব্যঞ্জক। এর ফলে পল্লি এলাকার প্রায় ১৫ লাখ মানুষের সাময়িক কর্মসংস্থান করা সম্ভব হবে।
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গৃহীত প্রকল্পের অংশ হিসেবে পল্লি অঞ্চলে কর্মস্থানমূলক গ্রামীণ রাস্তাঘাট মেরামত প্রকল্পে ১৩৪ কোটি টাকা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি সম্পদ সংরক্ষণ প্রকল্পে ৩৮ কোটি, মঙ্গাপীড়িত হতদরিদ্র মানুষের জন্য কর্মসংস্থান প্রকল্প এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রকল্পের জন্য ১১৫ কোটি ৭০ লাখ টাকাসহ দারিদ্র্য বিমোচনমূলক বিভিন্ন প্রকল্পে চার হাজার ২৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া খোলা বাজারে কম মূল্যে খাদ্য বিক্রি, কাজের বিনিময়ে খাদ্য, ভিজিএফ, ভিজিডি, টিআর (খাদ্য), জিআর (খাদ্য) এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে খাদ্য-সহায়তার আদলে খাদ্যনিরাপত্তামূলক কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন পরিমাণ খাদ্য বিতরণের বিপরীতে মোট সাত হাজার ১০২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সিএসআরের পরিধি পুনর্বিন্যাস

আগামী ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে করপোরেট সামাজিক দায়িত্বশীলতা (সিএসআর) কার্যক্রমের পরিধি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। দাতা প্রতিষ্ঠানের আয়ের সর্বোচ্চ আট কোটি টাকা কিংবা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বা অনুদানের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর রেয়াত প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সিএসআর কার্যক্রমে ব্যক্তি বিনিয়োগকেও উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি মোট আয়ের সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা বা ২০ শতাংশ সামাজিক দায়বদ্ধতার কার্যক্রমে বিনিয়োগ করলে তাঁর আয়ের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর রেয়াত পাবেন।
এ ছাড়া নতুন বেশ কিছু খাত সিএসআর কার্যক্রমে বিনিয়োগের আওতায় আনা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত জাতীয় পর্যায়ের জাদুঘর, জাতির জনকের স্মৃতি রক্ষার্থে নিয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান, প্রধানমন্ত্রীর উচ্চশিক্ষা তহবিলে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বিনিয়োগ করলেও সিএসআর দায়িত্ব পালনের আওতাভুক্ত হবে।
তবে কোন কোন খাতে সিএসআর কার্যক্রম সংকুচিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেননি।

২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেট কাঠামো

খাত ২০১১-১২ (প্রস্তাবিত বাজেট)
কোটি টাকায় জিডিপির শতকরা হার
রাজস্ব আয় ১,১৮,৩৮৫ ১৩.২
এনবিআর কর রাজস্ব ৯১,৮৭০ ১০.২
এনবিআর-বহির্ভূত কর রাজস্ব ৩,৯১৫ ০.৪
করবহির্ভূত রাজস্ব ২২,৬০০ ২.৫
সরকারি ব্যয় ১,৬৩,৫৮৯ ১৮.২
অনুন্নয়ন ব্যয়সহ অন্যান্য ব্যয় ১,১৭,৫৮৯ ১৩.১
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ৪৬,০০০ ৫.১
বাজেট ঘাটতি ৪৫,২০৪ ৫.০
ঘাটতি অর্থায়ন:
অভ্যন্তরীণ উৎস ২৭,২০৮ ৩.০
বৈদেশিক উৎস ১৭,৯৯৬ ২.০

রাজস্ব আয় প্রাক্কলন
 ২০১১-১২ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩.২ শতাংশ।
# এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে ৯১ হাজার ৮৭০ কোটি টাকার কর রাজস্ব প্রাক্কলন করা হয়েছে (জিডিপির ১০.২ শতাংশ)।
# এনবিআর-বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা (জিডিপির ০.৪ শতাংশ)।
করবহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আহরিত হবে ২২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা (জিডিপির ২.৫ শতাংশ)।
ব্যয় প্রাক্কলন
 ২০১১-১২ অর্থবছরে বাজেটের মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা।
# এবারের বাজেটে অনুন্নয়নসহ অন্যান্য খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা (জিডিপির ১৩.১ শতাংশ)।
# বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৫.১ শতাংশ)।
বাজেট ঘাটতি
 সার্বিকভাবে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে ৪৫ হাজার ২০৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫.০ শতাংশ।
# ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে ১৭ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা (জিডিপির ২.০ শতাংশ)।
# অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে ২৭ হাজার ২০৮ কোটি টাকা (জিডিপির ৩.০ শতাংশ) নির্বাহ করা হবে।
# অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সংগৃহীত হবে ১৮ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা (জিডিপির ২.১ শতাংশ)
ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে নির্বাহ করা হবে ৮ হাজার ২৫১ কোটি টাকা (জিডিপির ০.৯ শতাংশ)।

শেয়ারবাজারে বাড়তি কিছু নেই

পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মুনাফাকে আগামী বাজেটেও করমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। একই সঙ্গে বিও (বেনিফিশারি ওনার্স) হিসাবধারীদের জন্য কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
তবে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকে করের আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন।
এ ছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে সরাসরি কালো টাকা বিনিয়োগের কোনো সুযোগ রাখা না হলেও তালিকাভুক্ত সরকারি ট্রেজারি বন্ড এবং বাংলাদেশ অবকাঠামো অর্থায়ন তহবিল লিমিটেডে (বিআইএফএফএল) এই সুযোগ রাখা হয়েছে।
১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরাই কালো টাকা সাদা করার বিশেষ এই সুবিধা নিতে পারবেন।
বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ২১২টি সরকারি ট্রেজারি বন্ড তালিকাভুক্ত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব বন্ডের কোনো লেনদেন হয় না।
পাশাপাশি আগামী অর্থবছর থেকে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের লেনদেন থেকে পাওয়া কমিশনের ওপর ধার্য করা উৎসে আয়করের হার শূন্য দশমিক শূন্য ৫ (০.০৫%) শতাংশ থেকে বাড়িয়ে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ (০.১০%) করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য বেশ কিছু সংস্কার কার্যক্রমেরও ঘোষণা দেওয়া হয়।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত প্রস্তাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি শাকিল রিজভী তাঁর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের মুনাফাকে করমুক্ত রাখা এবং বিও হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক না করার ঘোষণা উৎসাহব্যঞ্জক। কিন্তু স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের উৎসে আয়করের হার বাড়ানোর ফলে তা প্রতিদিনের লেনদেনে কিছুটা হলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ, এই করের বোঝা বিনিয়োগকারীদের ওপরই বর্তাবে।’
সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি আহসানুল ইসলাম বলেন, ‘উৎসে আয়করের হার বাড়ানোর ফলে যেসব বিনিয়োগকারী প্রতিদিন শেয়ার কেনাবেচা করেন, তাঁরা কিছুটা হলেও নিরুৎসাহিত হবেন। কারণ, তাঁদের লেনদেনের কমিশন বা খরচ বেড়ে যাবে। এমনকি প্রতিদিনের লেনদেনে কোনো বিনিয়োগকারী লোকসান করলেও তাঁকে বাড়তি এই খরচ দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি ট্রেজারি বন্ডে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়াতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা টাকার একটি অংশ ওই খাতে চলে যেতে পারে।’
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিমত, স্বল্প সময়ের লেনদেনকে কিছুটা নিরুৎসাহিত করতে সরকার এমন প্রস্তাব করেছে। সরকারের এই প্রস্তাবনার ফলে শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
আগামী অর্থবছরে পুুঁজিবাজারের জন্য যেসব সংস্কার-প্রস্তাবনা রয়েছে সেগুলো হচ্ছে: দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা, ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করা (ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন), বাজারের অনিয়ম রোধে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যার স্থাপন, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন প্রণয়ন ও ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল গঠন, স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য আলাদা কোম্পানি করা, সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান সংশোধন।

পুরোনো গাড়ি আমদানি নিরুৎসাহিত হলো

আগামী ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুরোনো গাড়ির আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এ জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে চার বছরের পরিবর্তে তিন বছরের পুরোনো গাড়ির আমদানির সুবিধা রাখা হয়েছে। তবে এসব গাড়ি শুল্কায়নের ক্ষেত্রে আগের অর্থবছরের শুল্কহার ও ডিলার কমিশন অব্যাহত রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের পুরোনো গাড়ি আমদানি কমে যাবে এবং দাম বেড়ে যাবে বলে এ খাতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তা ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন।
অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ‘পুরোনো বা পুনঃসংস্কারকৃত মোটরগাড়ির শুল্কায়নের ক্ষেত্রে ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটে প্রবর্তিত ২৫ শতাংশ হারে অবচয় সুবিধা ও ১০ শতাংশ ডিলার কমিশন অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে পুরোনো গাড়ির আমদানি নিরুৎসাহিত করতে এ সুবিধা চার বছরের পরিবর্তে তিন বছরের পুরোনো গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সে সঙ্গে নতুন গাড়ির মূল্যের বিষয়ে অপঘোষণারোধে একই ব্র্যান্ড ও সামর্থ্যের নতুন গাড়ির দাম কোনোমতেই পুরোনো গাড়ির দামের চেয়ে কম হতে পারবে না। শুধু প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইস্যু করা ইনভয়েসের বিপরীতে নতুন গাড়ির শুল্কায়নের বিধান প্রবর্তনের প্রস্তাব করছি।’
যোগাযোগ করা হলে দেশের পুরোনো গাড়ির আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সংগঠন বারভিডার সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইর পরিচালক আবদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের ফলে পুরোনো গাড়ির আমদানি নিরুৎসাহিত হবে। কারণ, চার বছরের পরিবর্তে তিন বছরের পুরোনো গাড়ির আমদানিসুবিধা রাখায় এ ধরনের গাড়ির প্রাপ্যতা কমে যাবে। ফলে দাম অনেক বেড়ে যাবে।
তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত বাজেটের এ সুবিধা বহাল রাখা হলে অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। তা ছাড়া বর্তমানে যে গাড়ি সাড়ে ১৬ লাখ থেকে ১৭ লাখ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, সেটির দাম কমপক্ষে ২৫ লাখ হয়ে যাবে।
তা ছাড়া পিকআপকে বিলাসবহুল গাড়ি হিসেবে শুল্কায়ন করলে এর দামও অনেক বেড়ে যাবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবহন-ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। যা দ্রব্যমূল্য বাড়াতে সহায়তা করবে।

পিপিপিতে এবারও বরাদ্দ তিন হাজার কোটি টাকা

২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) জন্য তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় বাজেটে তৃতীয়বারের মতো এ ধরনের প্রস্তাব করা হলো।
পিপিপি বাবদ আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাব করা তিন হাজার কোটি টাকার মধ্যে দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা হলো বাংলাদেশ অবকাঠামো অর্থায়ন তহবিলের (বিআইএফএফ) জন্য। ৪০০ কোটি টাকা থাকবে বাণিজ্যিকভাবে আপাতত অলাভজনক কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনসেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পিপিপি প্রকল্পগুলোতে ‘ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ড’ হিসেবে। আর ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে পিপিপি প্রকল্পের কারিগরি সহায়তার জন্য।
আগামী অর্থবছরের জন্য পিপিপির আওতায় ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত আয় সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বলেননি অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘সরকারি বন্ড মার্কেট জনপ্রিয় করতে বিভিন্ন সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের ওপর ১০ শতাংশ কর প্রদান সাপেক্ষে বিনিয়োগ বিবেচনার প্রস্তাব করছি।’
বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে না এলেও এই প্রস্তাবটি মূলত অপ্রদর্শিত আয় বা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া। অর্থবিল ঘেঁটেও দেখা যায়, এই বন্ডে বিনিয়োগ করলে অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করা হবে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তাঁর বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ‘পিপিপির কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে এবং এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আমরা বিআইএফএফ গঠন করেছিলাম। এ তহবিলটিকে একটি কোম্পানি হিসেবে রূপান্তর করেছি এবং আগামী অর্থবছর থেকেই এ কোম্পানি বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।’
পিপিপিতে ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রথমবার দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও কোনো টাকা খরচ হয়নি ওই বছর। দ্বিতীয়বার ২০১০-১১ অর্থবছরে আবারও বরাদ্দ রাখা হয় তিন হাজার কোটি টাকা। কিন্তু টাকা খরচে এবারও ব্যর্থতা।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘পিপিপি আমাদের দেশের জন্য একটি নতুন ধারণা এবং অবকাঠামো খাতে পিপিপি চুক্তিগুলো সাধারণত বেশ দীর্ঘমেয়াদি হয়ে থাকে। এ জন্য সফলভাবে পিপিপি বাস্তবায়ন করতে হলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত।’
তবে বাজেট বক্তৃতায় আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘পিপিপির ভিত্তিতে ৪১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে দরপত্র ডাকা হয়েছে। কালিয়াকৈরে একটি হাইটেক পার্ক, কারওয়ান বাজারে সফটওয়্যার প্রযুক্তি পার্ক এবং টেলিযোগাযোগ খাতে দুটি ও স্যানিটেশন খাতে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র ডাকার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এ ছাড়া ঢাকার চারপাশে স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করছি।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে পিপিপি প্রকল্পের জন্য কারিগরি সহায়তা ও ভায়াবিলিটি গ্যাপের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব আসতে শুরু করেছে।
পিপিপির আওতায় এযাবৎ সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হয়েছে এবং আটটি স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং মেয়র হানিফ উড়ালসেতু পিপিপির আওতায় নির্মিত হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মংলা বন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দরে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা এবং ভূমি নিবন্ধনব্যবস্থা ডিজিটাইজ করার কাজ পিপিপির মাধ্যমে করার উদ্যোগ নিয়েছি।’
অর্থমন্ত্রী গতবারও মংলা, চট্টগ্রাম বন্দরে নিউমুরিং টার্মিনাল এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে তৈরির বিষয়ে একই বক্তব্য দিয়েছিলেন।
জানা গেছে, পিপিপির উদ্যোগে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্মাণ, মালিকানা, পরিচালনা ও হস্তান্তর (বিওওটি); নির্মাণ, পরিচালনা ও হস্তান্তর (বিওটি) এবং নির্মাণ, মালিকানা ও পরিচালনা (বিওও)—এ তিনটি পদ্ধতি রয়েছে।
পিপিপিতে অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন বাংলাদেশ অবকাঠামো অর্থায়ন তহবিল লিমিটেড (বিআইএফএফএল) নামের যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে, তার পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা, আর অনুমোদিত মূলধন ১০ হাজার কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘পিপিপির উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিনিয়োগের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এ তহবিলে এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।’
যোগাযোগ করা হলে বিআইএফএফএলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ড ব্যবহারের মাধ্যমে এবার বেসরকারি খাতকে আকৃষ্ট করা যাবে বলে তাঁরা আশা করছেন। অর্থাৎ যেসব প্রকল্প থেকে এই মুহূর্তে ততটা মুনাফা পাওয়া যাবে না, অথচ প্রকল্পগুলো জনগুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোতে ভর্তুকির মতো দেওয়া হবে এই ফান্ড থেকে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ছয় বছর ধরে ৩০০ কোটি টাকা খরচ করা হবে এই গ্যাপ ফান্ড থেকে।’
যোগাযোগ করা হলে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা আকবর আলি খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের পিপিপি দরকার হলো মূলত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সড়ক খাতে। কিন্তু তিনটি খাতেই কিছু সমস্যা রয়েছে। যেমন, বিদ্যুতে বিনিয়োগ করতে গেলে গ্যাসের নিশ্চয়তা দরকার। কিন্তু সরকারের পক্ষে এ নিশ্চয়তা দেওয়া প্রায় মুশকিল। আবার সড়ক খাতে বিনিয়োগ করতে গেলে দরকার জমি অধিগ্রহণ। এতেও জটিলতা দেখা দেয়। ভালো বিনিয়োগকারীরা সংগত কারণেই এতে আকৃষ্ট হন না।’
সরকারের নীতি ঠিক না থাকা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাও বেসরকারি খাতকে আকৃষ্ট করতে না পারার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন আকবর আলি খান।
আকবর আলি খান আরও বলেন, ‘পিপিপিতে বেসরকারি খাতকে আকৃষ্ট করতে হলে আগে পিপিপির উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তার পরও যদি কেউ না আসে, পিপিপির জন্য বসে থাকলে চলবে না। উল্লিখিত খাতগুলোতে বিনিয়োগ করতে হবে সরকারকেই।’

রুবচিচের পাকিস্তান-ভীতি

গত ১ জুন ভোরে হঠাৎই ঢাকা ছাড়েন রবার্ট রুবচিচ। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ক্রোয়েশিয়ান কোচ কি তাহলে চলে গেলেন? ঢাকায় থাকা বাফুফের কোনো কর্মকর্তা এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারেননি। গুঞ্জনটা তাই ডালপালা ছড়ায়।
ফিফার নির্বাচন উপলক্ষে সে সময় জুরিখে ছিলেন বাফুফের জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায়। তখন ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘রুবচিচ কয়েক দিন আগে তাঁকে বলেছিলেন, পারিবারিক প্রয়োজনে দেশে যেতে পারেন। প্রয়োজন শেষে কয়েক দিনের মধ্যেই ঢাকা ফিরবেন।’
সপ্তাহ গড়িয়ে গেল। রুবচিচ বাফুফের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি। কবে ফিরবেন কেউ জানে না। আদৌ ফিরবেন কি না, সংশয় দানা বাঁধছে। রুবচিচের কোনো ফোন নম্বর নেই বাফুফের কাছে। এমনকি ই-মেইল ঠিকানাও নাকি নেই!
উপায়ান্তর না দেখে রুবচিচের এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বাফুফে। বাদল কাল জানালেন, ‘কোচের এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এজেন্ট বলেছেন, রুবচিচ এখন পারিবারিক ঝামেলায় ক্রোয়েশিয়াতেই আছেন। দু-একদিনের মধ্যে বাফুফের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। এ পর্যন্তই জানি।’
বাফুফের এই সহসভাপতি কাল অবশ্য নতুন একটা তথ্য দিয়েছেন, ‘রুবচিচ আমাদের জানিয়েছিল, বিশ্বকাপ প্রাকবাছাই ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ দল নিয়ে তিনি পাকিস্তান যেতে চান না। পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার ব্যাপারে তাঁর ভয় আছে। তবে রুবচিচের মতো একজন ভদ্রলোক এই কারণ দেখিয়ে কর্মস্থল ছাড়বেন এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।’
পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২৯ জুন ঢাকায়, ৩ জুলাই লাহোরে ফিরতি ম্যাচ। নিরাপত্তাকে কারণ দেখিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে অনেক দিন ধরেই পশ্চিমা দলগুলো পাকিস্তান যাচ্ছে না। বাংলাদেশ কেন যাচ্ছে এমন প্রশ্নে বাদলের উত্তর, ‘আমরা পাকিস্তানকে ফিরতি ম্যাচটাও ঢাকায় খেলতে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা নিরাপত্তার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিয়েছে বলেই যেতে রাজি হয়েছি।’
ঠিকমতো বেতন না পাওয়ায় রুবচিচ চলে যেতে পারেন—এমন সম্ভাবনার কথাও অনেকের মুখে। সেটি নাকচ করে দিয়েছেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, ‘কোচ একবারে ৩-৪ মাসের বেতন নিতেন। তাঁর বেতন বাকি থাকলে তা বাফুফের হিসাব বিভাগেই আছে। চাইলে যেকোনো সময়ই নিতে পারেন।’
রুবচিচ ফিরলে হয়তো আসল ঘটনা জানা যাবে। তবে এক সপ্তাহ পর্যন্ত তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকাটা একটু রহস্যজনক তো মনে হয়ই।

১২ মার্চ থেকে এশিয়া কাপ

২০১২ সালের এশিয়া কাপ বাংলাদেশে হবে, খবরটা পুরোনো। নতুন খবর হলো, টুর্নামেন্ট শুরু আর শেষের দিন-তারিখও এখন চূড়ান্ত। এশিয়া কাপ ঢাকায় আগামী বছরের ১২ মার্চ শুরু হয়ে শেষ হবে ২২ মার্চ। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুর আহমেদ জানিয়েছেন, শুরুতে ১ মার্চ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অংশগ্রহণকারী চার দলের সঙ্গে কথা বলে তারিখটা ১২ মার্চ চূড়ান্ত করেছে এসিসি। এ মাসের শেষে এসিসির বার্ষিক সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর কথা এশিয়া কাপের তারিখ। বাংলাদেশ ছাড়াও এতে খেলবে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।

সুপার কাপ হচ্ছেই আগামী মাসে

বাংলাদেশ লিগ শেষ হওয়ার পর পরই মাঠে নামবে প্রায় দুই কোটি টাকার দ্বিতীয় সুপার কাপ—এতদিন বলে আসছিলেন বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। বাংলাদেশ লিগ শেষ হওয়ার কথা ২২ জুন। সুপার কাপ হলে অংশ নেওয়া দলের সংখ্যা এবং ফরম্যাট ঠিক হয়ে যাওয়াই উচিত ছিল এত দিনে। কিন্তু কিছুই এখনো ঠিক হয়নি!
কাল সালাউদ্দিন বলছিলেন, ‘সুপার কাপ হবে এবং লিগ কমিটির আজকের (কাল) সভাতেই সবকিছু চূড়ান্ত হবে।’ কিন্তু সভা শেষে কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদীর কথায় সুপার কাপ আয়োজনের নিশ্চয়তা পাওয়া গেল না। বললেন, ‘ক্লাবগুলোকে আমরা চিঠি দেব। তারা খেলতে চায় কি না, জানতে চাইব...।’
সালাউদ্দিন পরে বললেন, ‘গ্রামীণফোনের পৃষ্ঠপোষকতায় এবার সুপার কাপ হবেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে জাতীয় দলের দুটি ম্যাচ শেষে জুলাইয়ের ১০-১২ তারিখে শুরু করব টুর্নামেন্টটা। আগেরবারের মতোই প্রাইজমানি থাকবে।’ কিন্তু কয়টি দল অংশ নেবে?
তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, চলমান বাংলাদেশ লিগে ঢাকা মোহামেডানের অবস্থান দেখার পরই সিদ্ধান্ত হবে। মোহামেডান রয়েছে পঞ্চম স্থানে। অবস্থা বুঝে ছয়টি কিংবা আটটি দলকে সুযোগ দেওয়া হবে।
বিজেএমসির আবেদনে সাড়া: আগামী বাংলাদেশ লিগে খেলার সুযোগ চেয়ে বিজেএমসির করা আবেদন কাল গ্রহণ করে লিগ কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পাঠিয়েছে বাফুফের নির্বাহী কমিটির কাছে।
বাংলাদেশ লিগের দ্বিতীয় স্তর: প্রথমবারের মতো ৮ দল নিয়ে দ্বিতীয় স্তর শুরু হবে ডিসেম্বর নাগাদ। ৩০ জুনের মধ্যে আগ্রহী দলগুলোকে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

‘বড় তারকারা সবাই আসবে’

দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দিন কয়েক আগেই রেকর্ড জয় পেয়েছে নাইজেরিয়া। নাইজেরিয়ার আবুজায় হওয়া প্রীতি ম্যাচে নাইজেরিয়া জেতে ৪-১ গোলে। দুই দেশের জাতীয় দলের লড়াইয়ে এটিই নাইজেরিয়ার প্রথম জয়।
তাই ঢাকায় আগামী ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় দুই দলের আরেকটি প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা নিশ্চয়ই ওই পরাজয়ের শোধ তুলতে চাইবে। কাল লাগোস থেকে সংবাদ সংস্থা এএফপির দেওয়া খবরে নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুসা আমাদুকে উদ্ধৃত করা হয়েছে এভাবে, ‘হ্যাঁ, সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে খেলতে আমরা সম্মত হয়েছি। এই ম্যাচের কাগজে-কলমে যা করার দরকার, তার সবই করেছি এবং আমরা একটা বড় ম্যাচের অপেক্ষাতেই আছি।’
মুসা আমাদু বলেছেন, দুই দলই ঢাকা যাবে তাদের প্রথম দলটি নিয়ে এবং সেরা সব তারকাই থাকবেন। নাইজেরিয়া এই ম্যাচের তিন দিন আগেই আনতানানারিভোতে আফ্রিকান নেশনস কাপের বাছাই পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্বাগতিক মাদাগাস্কারের মুখোমুখি হবে।
নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশনের এ ঘোষণার পর মেসিদের ফুটবল দেখার জন্য সারা বাংলাদেশ অপেক্ষার উত্তেজনায় ফুটছে টগবগ করে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এরই মধ্যে বড় একটা শর্ত পূরণ করে ফেলেছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরপরই বিপণন প্রতিষ্ঠান ভারতের সেলিব্রেটি ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের হাতে ২০ লাখ ডলার (১৫ কোটি টাকা) তুলে দিয়েছে। ঐতিহাসিক এই সফর নিয়ে আগামীকাল সংবাদ সম্মেলন করতে পারে বাফুফে। সর্বশেষ অগ্রগতি জানানোই উদ্দেশ্য। বিশেষ করে, টিকিটের ব্যাপারে ঘোষণা দেওয়া। টিকিটের দাম পশ্চিম গ্যালারি ১০ হাজার, পূর্ব গ্যালারি সাড়ে সাত হাজার এবং মশালের নিচে আন্তর্জাতিক গ্যালারিতে পাঁচ হাজার টাকা।
সালাউদ্দিন কাল জানিয়েছেন, বাফুফের অনুমোদিত সব ক্লাব এবং ডিএফএগুলোর কাছে আগে টিকিট বিক্রি করা হবে। কার কী চাহিদা, সেটি জানতে শিগগির সবার কাছে চিঠি পাঠানো হবে। এরপর তিনটি ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থাকে টিকিট কেনার সুযোগ দেওয়া হবে। তৃতীয় ধাপে এসে টিকিট কিনতে পারবে করপোরেট হাউস ও সাধারণ দর্শক।
এদিকে মাঠের ব্যাপারে সালাউদ্দিন বরাবরই আশাবাদী। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠ মেসিদের মতো তারকার খেলার জন্য উপযুক্ত কি না, সেটি নিয়ে যতই প্রশ্ন থাকুক, সালাউদ্দিন কাল জোর দিয়েই বললেন, ‘আগামী মাসে সুপার কাপের পর এ মাঠে আর কোনো খেলা হবে না। মাস দেড়েক সময় পেলেই সব ঠিক করে ফেলা হবে। প্রয়োজনে বিদেশি বিশেষজ্ঞ আনব। অন্তত মাঠের কারণে ম্যাচটা বাতিল হবে না—এমন নিশ্চয়তা আমি দিতেই পারি।’

তৃতীয় ওয়ানডেতে থাকছেন না ব্রাভো, রামপল

পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ হেরে অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থায় পড়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজ হার এড়াতে পরবর্তী ম্যাচে জয়ের কোনই বিকল্প নেই স্বাগতিকদের সামনে। আগামীকাল তৃতীয় ওয়ানডেতে ডোয়াইন ব্রাভো ও রবি রামপলকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উইন্ডিজ নির্বাচকেরা। আর বরাবরের মতো আবারও উপেক্ষিত হয়েছেন বিধ্বংসী ওপেনার ক্রিস গেইল।
বিশ্বকাপের পর থেকেই হাঁটুর ইনজুরির সমস্যায় ভুগছিলেন ব্রাভো। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ফর্মটাও খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। ভারতের বিপক্ষে শেষ দুই ওয়ানডেতে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৩০ রান। আগামীকালের ম্যাচে তাঁর জায়গায় অভিষেক হতে পারে জ্যামাইকান অলরাউন্ডার ডানজা হাটের। রবি রামপলের জায়গায় মাঠে নামতে পারেন ফাস্ট বোলার কোমার রোচ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল: ড্যারেন স্যামি, কার্লটন বাফ, দেবেন্দ্র বিশু, ড্যারেন ব্রাভো, কির্ক এডওয়ার্ড, ডানজা হাট, অ্যান্থনি মার্টিন, কাইরন পোলার্ড, কেমার রোচ, অ্যান্ড্রে রাসেল, মারলন স্যামুয়েলস, রামনরেশ সারওয়ান ও লেন্ডি সিমন্স।

মেসিকে ভয় পান ক্যাসিয়াস

এ সময়ের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে বিবেচনা করা হয় ইকার ক্যাসিয়াসকে। গোলপোস্টের নিজে তিনি যেন এক দুর্ভেদ্য দেয়াল হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাঁকে ফাঁকি দিয়ে জালে বল জড়াতে প্রায়ই বেগ পেতে হয় ফুটবল দুনিয়ার সেরা স্ট্রাইকারদেরও। সেই ক্যাসিয়াসও যে লিওনেল মেসির সামনে বিচলিত হয়ে পড়েন সেটা নিজেই স্বীকার করলেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক।
রিয়াল মাদ্রিদের ওয়েবসাইটে ক্যাসিয়াস বলেছেন, ‘মেসির মতো খেলোয়াড়ের মুখোমুখি হলে যেকোনো গোলরক্ষকই বিচলিত হয়ে পড়বে। কারণ, সে খুবই মেধাবী ফুটবলার। তাঁর বিপক্ষে খেলাটা সব সময়ই খুব চাপের ব্যাপার।’
এবারের মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনার ধ্রুপদি লড়াইয়ে পাঁচবার মেসির মুখোমুখি হতে হয়েছে ক্যাসিয়াসকে। এই পাঁচ ম্যাচে তিনবার ক্যাসিয়াসকে ফাঁকি দিয়ে রিয়ালের জালে বল জড়িয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর। বার্সেলোনা জয় পেয়েছে দুটি ম্যাচে। শুধু কিংস কাপের ফাইনালেই বার্সাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

ইন্টার মিলানেই থাকবেন স্নাইডার

ওয়েসলি স্নাইডারকে আগামী মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দেখা যেতে পারে এমন গুজব বেশ জোরেশোরেই শোনা যাচ্ছিল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি এই ডাচ স্ট্রাইকারকে দলে ভেড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে আছে। তবে এত তাড়াতাড়ি ইতালি ছেড়ে যাবেন না বলে স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন স্নাইডার।
ইতালিয়ান একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, ‘ইন্টার মিলানের পরিবেশ অনেকটা পরিবারের মতো। এখানে অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশের সুযোগ আছে। আমি এই জায়গাটাকে অনেক ভালোবাসি। এ মুহূর্তে আমি মিলানে অনেক খুশি। ইতালি ছেড়ে যাওয়ার কোন কারণই আমি দেখছি না।’
২০০৯ সালে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ইন্টার মিলানে যোগ দিয়েছিলেন স্নাইডার। এরপর ২০১০ সালে ঐতিহাসিক ট্রেবল জয়ের পেছনেও বেশ ভালো অবদান রেখেছেন এই ডাচ তারকা।

এবার ঝরে পড়লেন জহির-শ্রীশান্ত

পরিবারকে সময় দিতে স্বেচ্ছায় নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন শচীন টেন্ডুলকার। ইনজুরিতে থাকায় ঘোষিত টেস্ট দলে ছিলেন না বীরেন্দর শেবাগ ও গৌতম গম্ভীর। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের প্রায় তারকাশূন্য ভারতীয় টেস্ট দল থেকে আজ শুক্রবার ঝরে পড়লেন দুই ফাস্ট মিডিয়াম বোলার জহির খান ও শ্রীশান্ত।
জহির-শ্রীশান্তের বাদ পড়ার কারণ—ইনজুরি। জহিরের চোট ডান পায়ের গোড়ালিতে, আর শ্রীশান্তের চোট ডান হাতের কনুইয়ে। এ দুজন বাদ পড়ায় নির্বাচকেরা দলে এনেছেন অভিমন্যু মিঠুন ও প্রাভিন কুমারকে।
২০ জুন মাঠে গড়াবে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। ওয়ানডেতে না থাকলেও টেস্ট সিরিজে যথারীতি ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ওয়েবসাইট।
টেস্ট দল: মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক), ভিভিএস লক্ষ্মণ, মুরালি বিজয়, অভিনব মুকুন্দ, রাহুল দ্রাবিড়, বিরাট কোহলি, সুরেশ বদ্রিনাথ, হরভজন সিং, ইশান্ত শর্মা, প্রাভিন কুমার, অমিত মিশ্র, প্রজ্ঞান ওঝা, অভিমন্যু মিঠুন, মুনাফ প্যাটেল, সুরেশ রায়না ও পার্থিব প্যাটেল।