Showing posts with label জনকণ্ঠ. Show all posts
Showing posts with label জনকণ্ঠ. Show all posts

Tuesday, May 19, 2020

গর্ভাবস্থায় শ্বাসকষ্ট হওয়া কি স্বাভাবিক?

শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়াটা অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয়। মনে করা হয় যে, তিন চতুর্থাংশ গর্ভবতী নারী যাদের আগে কখনই শ্বাস কষ্ট ছিল না তাদের এই সময়ে দম ফুরিয়ে আসে বলে মনে হয়। শ্বাসকষ্ট প্রথম বা দ্বিতীয় তিনমাস-কাল থেকে শুরু হতে পারে। এটি আপনার শরীরের প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণে ঘটে থাকে যেহেতু এই সময় আপনার শরীর শিশুকে ধারণ করার জন্য অভিযোজিত হয়।

আপনি হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন যে আপনার পাঁজরের খাঁচার চারপাশে আপনার আয়তন বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ গর্ভাবস্থায় আপনার পাঁজরের খাঁচা উর্ধমুখী ও বাইরের দিকে চলে আসে। আপনার ফুসফুসকে আরও বেশি ধারণ ক্ষমতা দেওয়ার জন্য এরকমটি হয়ে থাকে।

এছাড়াও গর্ভাবস্থার হরমোন প্রোজেস্টরেন ফুসফুসের মাধ্যমে রক্তের মধ্যে অক্সিজেনকে শোষণ করার পদ্ধতির সঙ্গে আপনার শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তৈরি করে তোলে। যার ফলে, আপনার শরীর আপনার সিস্টেমে উপস্থিত কার্বন ডাই-অক্সাইড (যে গ্যাসটি আপনি নিঃশ্বাসের সঙ্গে বের করে দেন) এর মাত্রার প্রতি অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

এই পরিবর্তনগুলোর মানে হলো অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড এর প্রক্রিয়াজাতকরণে আপনার শরীর ভালভাবে কাজ করছে। আপনি ঠিক একই হারে শ্বাস নিচ্ছেন যেমনটা আপনি গর্ভধারণের পূর্বে নিতেন। কিন্তু এখন প্রতিবার শ্বাস নেওয়ার সময় আপনি অনেক গভীরভাবে শ্বাস নিচ্ছেন। এটিকে আপনার শ্বাসকষ্টের অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হয়।

তিন মাস-কালের শেষের দিকে আপনার ক্রমবর্ধমান শিশুর আকার আপনার শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। এই পর্যায়ে, আপনার জরায়ু (গর্ভ) বাস্তবিকই উপরের দিকে মধ্যচ্ছদা (পেশীর পাতলা পর্দা যা পাঁজরের খাঁচার নিচে অবস্থিত) বরাবর ধাক্কা দেওয়া শুরু করে। পালাক্রমে আপনার মধ্যচ্ছদা ফুসফুসের ওপর চাপ দেয়। সামান্য সিঁড়ি বেয়ে যখন আপনি হাঁসফাঁস করতে থাকেন তখন যদিও আপনার নিজেকে কিছুটা ইঞ্জিনের মতো মনে হতে পারে, চিন্তা করবেন না। এই ধরনের শ্বাসকষ্ট হওয়াটা স্বাভাবিক ও ক্ষতিকর কিছু নয়।

গর্ভাবস্থায় উদ্বেগজনক উপসর্গ দেখা যায় সেক্ষেত্রে আপনার অবিলম্বে চিকিৎসকের উচিত, যেমন-

যদি মনে হয় যে আপনার হৃৎপিণ্ড দ্রুতগতিতে চলছে, অনিয়মিত ও হৃৎস্পন্দনের ছন্দ হারিয়ে ফেলছে, যা বুক ধড়ফড় করা নামে পরিচিত।

মারাত্মক শ্বাসকষ্ট বা কাজকর্ম আরম্ভ করার পরে নিস্তেজ অনুভব করা,

বুকে ব্যথা, বিশেষ করে আপনি কোন ভারি কাজ করার সময় এটি শুরু হলে,

শুয়ে থাকা অবস্থায় বা রাতের বেলায় শ্বাস নিতে কষ্ট হলে,

এছাড়া, আপনার রক্তে যে আয়রনের মাত্রা কম হলে (রক্তশূন্যতা) শ্বাসকষ্ট তার একটি লক্ষণও হতে পারে। যদি আপনার হাঁপানি থাকে তাহলে আপনার সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করুন। হাঁপানি নিয়ন্ত্রণ না করার কারণে আপনি এবং আপনার শিশু যে পরিমাণ ঝুঁকির মধ্যে পড়বেন তা গর্ভাবস্থায় হাঁপানির ওষুধ নেওয়ার ঝুঁকির চাইতে অনেক বেশি।

যদি আপনার অন্য কোন উদ্বেগজনক উপসর্গ না থাকে সেক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় শ্বাসকষ্ট অনুভব করাটা স্বাভাবিক এবং এতে আপনার শিশুর কোন ক্ষতি হবে না।

>>ডাঃ মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেশন সেন্টার, লালবাগ, ঢাকা।
০১৮৪২৩৫৬০৪৮

Friday, August 9, 2019

** লাথি by রুমান হাফিজ

বিয়ের প্রায় কুঁড়ি বছর পর সায়লার স্বামী মারা যায়। বিদেশে হেল্পারের কাজে ছিল। সেখানে যাওয়ার বছর তিনেকের মাথায় হঠাৎ একদিন দুঃসংবাদ আসে, বিল্ডিং থেকে পড়ে মারা গেছে তার স্বামী। সেদিন সংবাদটা শোনার পর সায়লার অবস্থা কিরকম ছিল সেটা ঠিক তার মনে নেই। করতেও পারে না।

----২.----

স্বামী মারা যাওয়ার প্রায় বছর দেড়েক পর একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেয়। বাপের বাড়ির সহযোগিতায় ভাল জায়গায় বিয়ে দিতে পেরে কিছুটা স্বস্তিবোধ করছিল সায়লা। কিন্তু সেটা আর হলো না। মেয়ে সঙ্গে থাকায় কারো কাছ থেকে কোন কথা শুনতে পায় নি। কেউ কোন কটুবাক্য উচ্চারণও করেনি। এখন তো নানাজন নানা কথা বলাবলি করতে শুরু করেছে। তাছাড়া এই প্রস্তাব সেই প্রস্তাবের হিড়িক তো লেগেই আছে। নিজের প্রতি খুব বেশি ঘৃণা জন্ম নিতে শুরু করল সায়লার। বড় অসহায় ভাবতে লাগলো। স্বজনেরা ভালো ঘরের প্রস্তাব নিয়ে এলেও কাজ হয়নি। মেয়েকে রেখে অন্য কিছু করতে নারাজ সায়লা।

এই মুহূর্তে ঠিক তার কি করা উচিত সেটা ভেবে যেন কূল-কিনারা পাচ্ছিল না।

----৩.----

বাড়ি থেকে মাইল দুয়েক দূরে একটা দোকানে কাপড় সেলাইয়ের কাজ করে সায়লা। সে অনেকদিন আগে থেকেই। স্বামী নেই বলে সংসার চালাতে কখনও তাকে বেগ পোহাতে হতো না। মা মেয়ের ছোট্ট সংসার বেশ ভালোই চলে যেত।

সেদিন কাজে যাওয়ার পথে মোড়ের দোকানি তাজুল পথ আগলে দাঁড়ায়। আগেও কয়েকবার নানাভাবে কথা বললেও এভাবে পথ আটকায়নি। বারবার এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় সায়লা। তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়।

সায়লা কোন কথা বলে না। ওড়না দিয়ে নিজেকে আরেকটু ঢাকার চেষ্টা চালায়। সায়লার উত্তরের অপেক্ষা করে তাজুল। খুব সুখে রাখবে, জায়গা-জমি লিখে দেবে এরকম অনেক অফার করে। সায়লার আর সহ্য হচ্ছে না। তাজুলকে একটু ধাক্কা দিয়ে পথ বের করে সেদিন চলে আসে। ঘরে এসে খুব কান্নাকাটি করে সায়লা। এঘর ওঘর থেকে এসে অনেকেই জিজ্ঞেস করে। কোন কথা বলে না।

মেয়ে-মেয়ের জামাই এসে তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করে। বাপের বাড়ি থেকেও কম চেষ্টা করা হয়নি।

কিন্তু সায়লার কথা একটাই সে তার স্বামীর রেখে যাওয়া ঘর ছেড়ে কোত্থাও যাবে না। বাঁচলে এখানেই বাঁচবে। মরলে এখানেই মরবে। তবু ছেড়ে যেতে রাজি নয়।

বেশ কিছুদিন হলো কাজেও যাচ্ছে না সায়লা।

ঘরে মধ্যেই শুয়ে বসে সময় কাটছে তার। এদিকে তাজুল দোকানি খবর পাঠিয়েছে সায়লার উত্তর জানার জন্য। সায়লা সাফ জানিয়ে দেয় সে বিয়ে একবারই করেছে আর না। প্রয়োজনে যা যা করা লাগে তাই করতে রাজি আছে।

সায়লার অবস্থা শোনে তাজুল দোকানিও বুঝে গেছে। এভাবে রাজি করানো সম্ভব না। সে ভিন্নভাবে ফন্দি ফিকিরে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

----৪.----

প্রতিদিনের মতো সকাল সকাল শুয়ে পড়ে সায়লা। দ্রুত সময়ে ঘুমও চলে আসে। কিন্তু আজ তার কেন জানি ঘুম তো আসতেছেই না সঙ্গে অস্বস্তি বোধ করেছে। এপাশ ওপাশ করছিল। বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়। পানির জগ নিয়ে আসে। কিছু সময় পর পর গ্লাসে ঢেলে পানির ঢুক গিলতে থাকে।

এভাবে অনেকক্ষণ পার হয়।

হঠাৎ সায়লা কানে কি যেন একটা শব্দ টের পায়। বিছানার নিচ থেকে বের করে কিরোসিনের বাতিটা জ্বালায়। ডান-বাম সব দিকে চোখ দেয়। না, কিছুই দেখতে পেলো না। অন্যকিছু হবে ভেবে বাতিটা বন্ধ না করেই বিছানায় গা এলিয়ে দেয়। ঘুম চলে আসে। ঝুলিয়ে রাখা পায়ে আচমকা কারো স্পর্শ অনুভব করে সায়লা। পা টা গুটিয়ে বিছানায় তুলে। পরক্ষণে আবারও স্পর্শ টের পায়। এবার ভয়ে ভয়ে চোখ খুলে সায়লা। বাতির হালকা আলোয় একজন মানুষের ছায়া দেখতে পায়। কে কে? কে এখানে?

প্রশ্ন করতে না করতেই পা দুটো ঝাপটে ধরে ছায়া মানবটা। ‘আমি তোর তাজুল, তোরে নিতে আয়েছি, চল আমার সঙ্গে।’

সায়লার বুঝতে আর বাকি নেই ঘটনাটা কী ঘটতে যাচ্ছে। পা দুটো ছাড়িয়ে নিতে প্রাণপণ চেষ্টা করে। ‘ছেড়ে দে হারামজাদা, নইলে কিন্তু লাত্তি মেরে বের করে দেবো। ছেড়ে দে।’

তাজুল আরও শক্ত করে চেপে ধরে। এবার নিজের গায়ের সমস্ত শক্তি একত্রিত করে পা দুটো বের করতে সমর্থ হয় সায়লা। তাজুল আবারো ধরতে যায়। সায়লা তার পা ছুড়ে দেয় তাজুলের দিকে। পায়ের লাত্তি খেয়ে তাজুল নিচে পড়ে যায়। তাজুলের সাথে জ্বালিয়ে রাখা কূপিটাও আলোবিহীন পড়ে রয় ঘরের মেঝেতে..

Thursday, August 8, 2019

বই: বাংলাদেশের আকাশ; কবিতায় প্রিয় বঙ্গবন্ধু by শিউল মনজুর

শোকাচ্ছন্ন আগস্ট মাস। ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসের ১৫ তারিখ বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের একটি রক্তাক্ত দিন। বাংলাদেশের মহানায়ক শতাব্দীর শ্রেষ্ট বাঙালী শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হাজারো বুলেটের আঘাতে একদল খুনী হত্যা করে। যদিও ভাগ্যগুণে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ওই সময় বিদেশ থাকায় বেঁচে যান। এই মহানায়কের নিকট বাংলাদেশের মানুষ আজীবন ঋণী। তাঁর আহ্বানেই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সমগ্র বাঙালী জাতি সশস্ত্র পাকবাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নয় মাসের অক্লান্ত সংগ্রামের পর পাক বাহিনী পরাজয় স্বীকার করে নেয়। অতঃপর বাঙালী জাতির সবচেয়ে প্রিয় স্বাধীন দেশের পতাকা বিশ্বদরবারে উড্ডীন হয়। বিশ্বমানচিত্রে জন্মলাভ করে নতুন দেশ বাংলাদেশ। মুক্ত স্বাধীনতার দেশ বাংলাদেশ। আর এই স্বাধীন দেশের রূপকারই হচ্ছেন আমাদের সকলের মহানায়ক প্রিয় নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। যে কারণে এই মহানায়ককে বাঙালী জাতি নানাভাবে স্মরণ করে। বিশেষ করে কবিতায় গানে চিত্রকলায় এই মহানায়ককে আমরা স্মরণ করি। হৃদয়ের অফুরন্ত ভালবাসায় তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চেষ্টা করি। এ দেশের নবীন প্রবীণ কবি সাহিত্যিকরাও এই মহানব্যক্তিত্বকে তাদের কবিতার ভেতরে দিয়ে তার মুখচ্ছবিকে তাঁর অমূল্য কর্মকে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। বাংলাদেশের স্থপতি মুজিবকে স্মরণ করে বা তাঁকে কেন্দ্র করে বহু রচনা বা সাহিত্য লেখকরা উপহার দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে বেরিয়েছে প্রবন্ধের বই, গল্প ও উপন্যাসের বই। তবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি বেরিয়েছে সম্পাদিত কবিতার বই। আর কোন রাজনৈতিক নেতাকে কেন্দ্র করে এত কবিতা আমার মনে হয় লেখা হয়নি। এসব সম্পাদিত বইগুলোতে শামসুর রহমান, আল মাহমুদ, সৈয়দ শামসুল হক, নির্মলেন্দু গুণসহ দেশের খ্যাতিমান কবিরা তাঁকে নিয়ে স্মরণীয় পঙ্্ক্তি রচনা করেছেন। এসব পঙ্্ক্তি আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। পাঠককে আবেগাপ্লুত করে। মনে হয় যেন জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের মাঝে আজও উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জেগে আছেন। এই মহানব্যক্তিত্বকে নিয়ে প্রবাস থেকেও বই বেরিয়েছে। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য কবিতার সঙ্কলন কবি কাজল রশীদ সম্পাদিত বাংলাদেশের আকাশ। এই গ্রন্থে দেশে ও প্রবাসে অবস্থানরত অসংখ্য কবিরা জাতির জনককে শ্রদ্ধায় ভালবাসায় কবিতার মধ্য দিয়ে স্মরণ করেছেন। লন্ডনের প্রবাস প্রকাশনীর এই সঙ্কলনে অন্তর্ভুক্ত বেশকিছু কবিতা মনে রাখার মতো। গ্রন্থটির ছাপা বাঁধাই অত্যন্ত উন্নতমানের। বইটি থেকে দেশের সুপরিচিত কয়েকজন কবির কবিতার অংশ বিশেষ নিম্নে উপস্থাপন করা হলো :

----এক.-----

এ মাটির সোঁদা গন্ধে

বাতাসের উদ্দাম বেগে

নদীর ঢেউয়ে ঢেউয়ে

আপনি তো কোন পৃথক সত্তা নন; আমাদের সকলের

প্রাণের গভীরে অবিরাম ধ্বনিত একটি নাম- শেখ মুজিব।

(দশ বছর পর- সোহরাব হাসান, পৃষ্ঠা-১২৩)

----দুই.-----

পিতা নয়; পুত্র হিসেবে তোমাকে চাই-

যেন পুত্র হিসেবে পাই।

আমাদের বিসন্ন ব্যর্থতাগুলো, ঘৃণিত গ্লানিগুলো

শোকার্ত শূন্যতাগুলো মুছে দিয়ে-

অসমাপ্ত স্বপ্নগুলো

আলোকিত করবে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল।

(স্থলাভিষিক্ত-সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, পৃষ্ঠা-১১৩)

----তিন.-----

প্রতিবার ঝড়ের শেষে ভাঙ্গনের পর একটি সূর্য ওঠে

রক্তের সাগর উথাল পাতাল, দাঁড়ায় একটি সূর্য

আঁধার আচ্ছন্ন কাল থেকে নিশিলাগা কাল থেকে

একটি সূর্য দাঁড়ায় এসে আমাদের শিয়রের পাশে

বত্রিশের সিঁড়িতে এক সাগর রক্তের মাঝে ফুটে ওঠে এক সূর্য

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, আলো দিয়ে যায় সে সূর্য।

(একটি সূর্যের গল্প-রবীন্দ্র গোপ, পৃষ্ঠা-৯৬)

-----চার.----

যেহেতু তিনি হিমালয়ের চেয়েও উঁচু ছিলেন

তাই দুর্বৃত্তরা কিছুতেই তার নাগাল না পেয়ে

তারা পিঁপড়ের ঢিবির চেয়েও অতি খাটো রয়ে গেল।

(যেহেতু তিনি খুব বড় ধরনের মানুষ ছিলেন- রবিউল হুসাইন, পৃষ্ঠা-৯৫)

-----পাঁচ.-----

হঠাৎ জানতে চাইলেম

‘খোকা’

লোকটির বসবাস

এখন কোথায়!

প্রথম জন

দ্বিতীয় জন

শেষ জন

এক বাক্যে উচ্চারণ করলেন,

লোকটির বসবাস

বাঙালীর হৃদপুরে।

(হৃদপুরে-মাকিদ হায়দার, পৃষ্ঠা-৭৫)

এই সব কবিতার ভেতর দিয়ে মনে হয় যেন আমাদের প্রিয়নেতা বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান যেন জীবন্ত, আমাদের সম্মুখে দ-ায়মান। কবিরা অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী পঙ্্ক্তির ছোঁয়া দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনালি মুখ অঙ্কন করেছেন, এক একটি কবিতা যেন এক একজন বঙ্গবন্ধু। তাই ঘাতকরা তাঁর প্রাণ কেড়ে নিলেও তিনি বাংলার ঘরে ঘরে তুমুল সজীবতা নিয়েই আমাদের মাঝে জেগে আছেন। কবি কাজল রশীদ সম্পাদিত বাংলাদেশের আকাশ শিরোনামের এই মূল্যবান গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর মুখকে সোনালি অক্ষরে চিত্রিত করেছেন আরও অসংখ্য কবি। তাদের মধ্যে সৈয়দ শামসুল হক, বেলাল চোধুরী, নাসির আহমেদ, মাহমুদ কামাল, কামাল চৌধুরী, মুহম্মদ নূরুল হুদা, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, অসীম সাহা, আনোয়ারা সৈয়দ হক, আসলাম সানী, তপন বাগচী, তিতাশ চৌধুরী, ইকবাল আজিজ, ইকবাল হাসান, আতাউর রহমান মিলাদ, হালিম আজাদ, শিহাব শাহরিয়ার, শামীম রেজা, আনজীর লিটন, শিউল মনজুর, মুজিব মেহদী, মাহবুব বারী, গোলাম কিবরিয়া পিনু প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। গ্রন্থের চমৎকার প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিহাব শাহরিয়ার। এক কথায় বাংলাদেশের আকাশ ও প্রিয় বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে এক হয়ে আছেন। বইটি হৃদয়ে হৃদয়ে পৌঁছে দেবে জাতির জনকের অমূল্য স্মৃতি। ধন্যবাদ প্রবাস প্রকাশনীকে।

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে তীব্রগতির উল্কাপিণ্ড

এক সপ্তাহের ব্যবধানে পৃথিবীর দিকে আবারও ধেয়ে আসছে তীব্রগতির প্রকাণ্ড একটি উল্কাপিণ্ড। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছে, আগামী ১০ আগস্ট, ঘণ্টায় ১৬,৭৪০ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসতে চলেছে উল্কাপিন্ড 2006 QQ23।

তবে এ উল্কাপিণ্ড নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই বলে উল্লেখ করেছেন নাসার দুই বিজ্ঞানী। যারা পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা উল্কা বা স্যাটেলাইট ধেয়ে আসার বিষয়ে নজর রাখছেন দিনরাত। তাদের মতে, পৃথিবী থেকে ৭.৪ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে থাকা এ উল্কাটি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এলেও, অনেকটা দূর দিয়ে বেরিয়ে যাবে।

প্রতিবছরই ৬টি করে ছোটবড় উল্কা ধেয়ে আসে পৃথিবীর দিকে। সেগুলো কোনোটা পৃথিবীকে মারাত্মকভাবে ক্ষতি করতে পারে, এমন উল্কাপিণ্ডও হতে পারে। তবে এটাই স্বস্তির আগামী দিনে যেটি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে, সেটি মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারবে না।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে চলে যায় একটি বিশাল উল্কাখণ্ড। বার বার উল্কাপিণ্ড ধেয়ে এলেও অল্পের জন্য রক্ষা পাচ্ছে আমাদের এ পৃথিবী।

নাসার রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে পৃথিবীর সঙ্গে একটি বিশাল উল্কাখণ্ডের সংঘর্ষ হতে গিয়েও হয়নি। বিশাল ওই উল্কাখণ্ডটি প্রায় ১৮১ বর্গ ফুটের। উল্কাখণ্ডটির নাম দেয়া হয় ‘২০১৯ অন’।

নাসা জানায়, এ সুবিশাল উল্কাখণ্ডটি পৃথিবী লক্ষ্যে বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ৭টা ২৩ মিনিটে ঘণ্টায় প্রায় ১০ হাজার ৪০০ মাইল বেগে ছুটে আসে। গত ৬ জুলাই এ বিশালাকার উল্কাপিণ্ডের হদিস পায় নাসা। তবে যেভাবেই হোক, এ বিশাল উল্কার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়নি পৃথিবীর।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মধ্যাকর্ষণ শক্তির জেরে বার বার পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে উল্কাখণ্ড। তবে পৃথিবীর ভাগ্যটা এতই ভালো যে, বার বার ধেয়ে এলেও বেঁচে যাচ্ছে এই নীল গ্রহ। কিন্তু সেই ভাগ্য কতবার সহায় হবে, তা বলা মুশকিল।

Wednesday, August 7, 2019

সুষমার সম্পদের মালিক কে হচ্ছেন?

৬৭ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দসহ দলীয় এবং বিরোধী দলীয় নেতারা।

সামাজিক মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষ তাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সুষমা স্বরাজের উদ্দেশ্যে এক টুইট বার্তায় বলেন, ভারতীয় রাজনীতিতে একটি গৌরবময় অধ্যায় শেষ হয়ে গেল। ভারত একজন অসাধারণ নেতাকে হারাল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন বহু মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন তিনি। অনেক পাকিস্তানি নাগরিক তার সহযোগিতায় ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পেরেছেন। ২০১৮ সালের শেষ এফিডেবিট অনুযায়ী, সুষমা স্বরাজ ও তার স্বামীর কাছে প্রায় ৩২ কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি রয়েছে।

তাদের দু'জনের প্রায় ১৯ কোটি টাকার সেভিংস রয়েছে। এর মধ্যে ১৭ কোটির এফডিআর রয়েছে। এছাড়া তাদের সেভিংস অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৩০ লাখ টাকা। সুষমা স্বরাজের স্বামীর কাছে একটি মার্সিডিজ গাড়ি রয়েছে যার দাম প্রায় ৩৬ লাখ টাকা।

২০১৮ সালে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য সুষমা তার ইনকাম এফিডেবিট দিয়েছিলেন। ওই এফিডেবিট অনুযায়ী, তার কাছে ২৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকার গহনা ছিল। তবে তার নিজের কোন গাড়ি ছিল না।

তাদের হরিয়ানার কাছে প্রায় ৯৮ লাখ টাকার কৃষিজমি আছে। এছাড়া দিল্লিতে তার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার দাম প্রায় ২ কোটি টাকা। মুম্বাই ও দিল্লিতে তার স্বামীর নামে ফ্ল্যাট রয়েছে। মুম্বাইয়ের ফ্ল্যাটের দাম ৬ কোটি ও দিল্লির ফ্ল্যাটের দাম প্রায় ২ কোটি টাকা। সুষমা স্বরাজের পর তার সব সম্পদের মালিক হতে চলেছেন তার স্বামী।

মশা নিধন সারাবছরঃ উত্তর সিটির ১০ বছরের বিশেষ পরিকল্পনা by মশিউর রহমান খান

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে শহরের প্রতিটি অলিগলি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ১০ বছর মেয়াদী এক বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃপক্ষ। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কলকাতার পৌর সংস্থার ডেপুটি মেয়রের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পরই ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম কলকাতার মতো তিন স্তরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচী ঢেলে সাজাতে ১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে। ভিডিও কনফারেন্সে কলকাতার ডেপুটি মেয়র ডেঙ্গু প্রতিরোধে ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ১০ বছরে তা অনেকটা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানান। তাই ডিএনসিসি মেয়র এখন থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে মনোযোগ দিতে চান বলে জানা গেছে। ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী সারাবছরই সব অলিগলি ও ফাঁকা কিংবা জনবহুল সব স্থানে নিয়মিতই পরিচালিত হবে মশক নিধন কর্মসূচী। শহরের প্রতিটি অলিগলি প্রতিনিয়তই পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে করা হবে ঝকঝকে তকতকে। শহরের কোথাও কোন ময়লা আবর্জনা পচা কোন বস্তুই জমে থাকতে দেয়া হবে না। ডেঙ্গুও চিকুনগুনিয়া, টাইফয়েড থেকে শুরু করে পানিবাহিত ধূলিবাহিত বা ময়লা আবর্জনা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ সৃষ্টির কারণে কোন ধরনের ছোঁয়াছে রোগ যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্য নেয়া হবে নানা ব্যবস্থা। অতি গুরুত্বের সঙ্গে এসব কার্যক্রম অতি গুরুত্বের সঙ্গে কঠোর হস্তে তা মনিটরিংয়ের জন্য থাকবে বিশেষ জনবল। প্রতি ওয়ার্ডে গঠন করা হবে বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন কমিটি। যাদের কাজ নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে স্বাস্থ্য বিভাগ।

পরিকল্পনায় ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়াসহ সব প্রকার মশার হাত থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় ও কোনক্রমেই যেন মশাবাহিত রোগদ্বারা নাগরিকদের আক্রান্ত হতে না হয় তার বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কর্মী থেকে শুরু করে মনিটরিংয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত সব পর্যায়ের জনবল কাঠামোই পরিবর্তন করা হবে বলে জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মোঃ আতিকুল ইসলাম।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, মশক নিধন কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে ও কিভাবে ডেঙ্গু মশাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে কলকাতা পৌর সংস্থা তা সরজমিনে দেখতে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে অতি দ্রুতই একটি কমিটিকে কলকাতা পাঠানো হবে। কমিটিতে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, মশখ নিধন সংক্রান্ত কমিটির সদস্যরা, বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের রাখা হবে। এই কমিটি সরজমিনে পরিদর্শন শেষে তারা তাদের লিখিত মতামত প্রদান করবেন মেয়রের কাছে। মেয়র তাদের মতামত ও রাজধানী থেকে মশা নিধনে ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে কিভাবে শতভাগ বাস্তবায়ন করা যায় তা বিশেষভাবে বিবেচনা করবে। মশার সঙ্গে যেহেতু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিশেষ সংযোগ রয়েছে তাই ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে মশা নিধন ও পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, বর্তমানে ডিএনসিসিতে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতি ওয়ার্ডে গড়ে মাত্র ৫ জন কর্মী কাজ করে। এসব কর্মী রাস্তায় হেঁটে হেঁটে সকালে ও সন্ধ্যায় বিভিন্ন এলাকায় মশার ওষুধ ছিঁটানোর কাজ করে। তবে কোন কোন এলাকায় মশক নিধনের কর্মীরা বছরেও একবার যান না বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে যা বহু পুরনো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মশক নিধন কর্মীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী এখন থেকে হেঁটে হেঁটে মশার ওষুধ ছিঁটানোর পরিবর্তে প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলে করে মশার ওষুধ ছিঁটাবেন। এতে করে অতি অল্প সময়ে অধিক পরিমাণ স্থানে মশার ওষুধ ছিঁটানো সম্ভব হবে। একইসঙ্গে প্রতিটি মশক নিধন কর্মীর সঙ্গে একটি করে ট্র্যাকার লাগানো হবে। ফলে মশক নিধনের কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে কি না তা ইন্টারনেটের মাধ্যমেই মনিটরিং করা হবে। ফলে কোন এলাকায় না গিয়ে কোন মশক নিধন কর্মী বসে থাকতে পারবেন না। এছাড়া নতুন পরিকল্পনায় মশক নিধনের বর্তমান ওষুধ পরিবর্তন করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আইসিসিডিআরবি বা জাতীয় উদরাময় কেন্দ্রের মতো গ্রহণযোগ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মশার ওষুধ পরীক্ষার মাধ্যমে দেয়া সনদ প্রাপ্তি সাপেক্ষেই এসব ওষুধ মশা মারতে ব্যবহার করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী বর্ষাকাল বা কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয় সারাবছরই মশক নিধন কর্মীদের নিয়মিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সমাজের সুশীলদের নিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। উক্ত কমিটিতে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতা, বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার প্রধানরা, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সরকারী উর্ধতন আমলা ও সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গকে রাখা হবে। কমিটিতে সাত সদস্যের একটি বোর্ড থাকবে। এর মধ্যে অন্তত ৪ সদস্য মশক নিধন কর্মী এলাকায় সঠিকভাবে সময়মতো কাজ করেছে তা নিশ্চিত করার পর স্বাক্ষর প্রদান করলেই উক্ত মশক নিধন কর্মীর বেতন প্রদান করবে সিটি কর্পোরেশন।

এর বাইরে সিটি কর্পোরেশনের নির্দিষ্ট কর্মীরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না বা কোন ওয়ার্ডের কোন স্থানে মশার উৎপত্তিস্থল রয়েছে বা ঠিকমতো মশা নিধন হচ্ছে কি না তাও সরজমিনে প্রতিদিনই পরিদর্শন করবে। একইসঙ্গে উক্ত কাজে দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রতিদিন সন্ধ্যার মধ্যেই তাদের বিস্তারিত রিপোর্ট সিটি কর্পোরেশনের কাছে জমা দেবেন। উক্ত রিপোর্ট দেখেই স্বাস্থ্য শাখা বিস্তারিত বিষয় বিবেচনায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। একইসঙ্গে মশক নিধনে বা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করতে গিয়ে দায়িত্ব পালনে কোন প্রকার অবহেলা করলে বা কোন বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে মেয়রের কাছে পরামর্শ গ্রহণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য শাখা। এর বাইরে কেন্দ্রীয়ভাবে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি তাদের ওয়ার্ডে বিভিন্ন সময় নতুন কোন পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন হলে বিভিন্ন সুপারিশ করবে। যা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব কেন্দ্রীয় কমিটির।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য চলমান জনবল সঙ্কট পুরোপুরি দূর করা হবে। বর্তমানে ওয়ার্ড প্রতি পাঁচজন মশক নিধন কর্মীর পরিবর্তে দ্বিগুণ তিনগুণ বা কোন কোন ক্ষেত্রে ওয়ার্ডের আয়তন ও চাহিদা বুঝে পাঁচগুণ পর্যন্ত জনবল বাড়ানো হবে। এ জন্য সিটি কর্পোরেশনের অর্গানোগ্রাম বদলাতে সরকারের সঙ্গে জরুরী ভিত্তিতে কাজ শুরু করবে বলে জানা গেছে। এছাড়া মশক নিধন কর্মী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, আবাসস্থল নির্মাণ, বেতন ভাতাসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করবে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। ১০ বছর মেয়াদী এ পরিকল্পনা গ্রহণ করে সরকারের সর্বোচ্চ সহায়তায় সিটি কর্পোরেশন কিভাবে অতি দ্রুতই তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে তার জন্য মেয়র সরকারের সব স্তরে এর অতি প্রয়োজনীয়তা বুঝাতে আলোচনা সভা করবে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, নগরকে শতভাগ পরিচ্ছন্ন রাখতে ময়লার ট্রাককে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। একইসাথে প্রতিটি ট্রাকে একটি করে ট্র্যাকার লাগানো হবে। নগর ভবন থেকে পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম সকাল-বিকেল ও রাতে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এমনকি মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রতিটি ওয়ার্ড অফিস ও তাদের সুপারভাইজারদের শতভাগ ডিজিটাল হাজিরার আওতায় আনারও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যেখানেই ময়লা আবর্জনা সেখানেই সঙ্গে সঙ্গেই কিভাবে পরিষ্কার করা যায় তার জন্য বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি জনবল প্রয়োজন হবে।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী অতি দ্রুততার সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে ম্যানুয়াল পদ্ধতি থেকে ম্যাকানিক্যাল পদ্ধতিতে নিয়ে যাওয়া হবে। ক্রমান্বয়ে এ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সঠিকভাবে কম সময়ে ও কম খরচে বাস্তবায়ন করতে হাতের শলার ঝাড়ুর পরিবর্তে মেশিনের ঝাড়ু আনা হবে। এসব মেশিনে শলা লাগানো থাকবে বলে কম সময়েই রাস্তা পরিষ্কার করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে মেশিন দিয়ে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ করলে জনবল কম লাগার পাশপাশি অর্থিকভাবেও সাশ্রয় হবে। এছাড়া উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে চলমান ভ্যাকুয়াম ক্লিনার বা রোড সুইপারের সংখ্যা অতি দ্রুততার সঙ্গে কিভাবে বাড়ানো যায় তার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর বাইরে ড্রেন পরিষ্কারের জন্য উন্নতমানের যন্ত্র সংযোজন করা হবে। সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে আবর্জনা সংগ্রহ করতে ও নির্দিষ্ট স্থানে তা জমা করতে উন্নতমানের ভ্যাহিকেল আনা হবে। এসব ভ্যাহিকেল দিয়ে কোন প্রকার দুর্গন্ধ ছড়াবে না। একইসঙ্গে ময়লাকে সম্পদে রূপান্তর করতে নেয়া হবে নানা বিশেষ উদ্যোগ। ডিএনসিসির মতে, কোন বর্জ্যইে আর যেন পচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি না হয় তাই এসব বর্জ্য উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে কাজে লাগিয়ে সম্পদে পরিণত করা হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশক নিধনের মাধ্যমে চলা কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় পরিবেশবিদ, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন দেশের এ বিষয়ে অভিজ্ঞদের সবসময়ই পরামর্শ নেয়া হবে। সময়োপযোগী করতে সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য শাখার কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের উন্নতমানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও পরিদর্শনের জন্য দেশ-বিদেশে পাঠানো হবে। তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সফলভাবে প্রয়োগের মাধ্যমেই রাজধানী ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও শঙ্কামুক্ত স্বাস্থ্যকর ঢাকা গড়তে কাজ করবে ডিএনসিসি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়াসহ সব প্রকার মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ করতে ও শহরের প্রতিটি অলিগলি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ১০ বছর মেয়াদী এক বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। এ বিশেষ পরিকল্পনা স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। তৃণমূল পর্যায়ে ওয়ার্ড লেভেল, ব্যুরো লেভেল বা জোন এবং সিটি কর্পোরেশনের কেন্দ্রীয় লেভেল এই তিন স্তর থেকে মনিটরিং করা হবে। ২৪ ঘণ্টাই এর কার্যক্রম চলমান থাকবে। ঢাকা উত্তর সিটি মশকমুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বর্তমানের তুলনায় জনবল বৃদ্ধি করা হবে। দৈনন্দিন কার্যক্রম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনার জন্য ক্রমান্বয়ে আমরা বর্তমানের ম্যানুয়াল পদ্ধতি থেকে মেকানিক্যাল পদ্ধতিতে পরিচালিত করব। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আনা হবে উন্নতমানের পরিবেশবান্ধব যন্ত্রপাতি। আশা করি বর্তমান চলমান অনেক কিছুই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা কম সময়ে পাল্টে দিতে সক্ষম হব।

মেয়র বলেন, মশক নিধন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে আমরা স্থানীয়দের অন্তর্ভুক্ত করে কাজ করব। স্থানীয়দের পরামর্শ গ্রহণ ও আমাদের কর্মীরা ঠিকমতো কাজ করছে কি না তার দায়িত্ব দেয়া হবে। তাদের দেয়া রিপোর্টরে মাধ্যমেই কেবল তাদের বেতন দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। হেঁটে হেঁটে মশা মারার পরিবর্তে কম সময়ে অধিক স্থানে ওষুধ ছিঁটাতে মোটরসাইকেলে ওষুধ ছিটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহিতার তবে অতি দ্রুতই কিভাবে পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়নের সুফল মেলে তার উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে ডিএনসিসি। ভিডিও কনফারেন্সে কলকাতা পৌর সংস্থার পরামর্শ ও মতামত অনুযায়ী কলকাতার মেয়র ডেঙ্গু প্রতিরোধে ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ১০ বছরে তা অনেকটা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে আমাদের মশক নিধনের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বিশাল সম্পর্ক রয়েছে তাই আমরা মশক নিধনের পাশপাশি নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কার ও মনিটরিংয়ের জন্য প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে সুপারভাইজার নিয়োগ করব। যিনি প্রতিদিনই অফিসে এসে তার রিপোর্ট প্রদান করবেন। কেন্দ্রীয়ভাবে তা সংরক্ষণের পর দৈনন্দিনই সে অনুযায়ী স্বাস্থ্য শাখা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া রোড সুইপার, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে নগরকে ঝকঝকে তকতকে রাখতে প্রয়োজনে বর্তমান সিটি কর্পোরেমনের অগ্রানোগ্রামও পরিবর্তন করা হবে। মূলথ আমরা চাই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন যার মাধ্যমে চলমান ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়া বা টাইফয়েডসহ কোন প্রকার মশাবাহিত রোগের প্রার্দুভাব না ঘটে। সারাবছরই মশক নিয়ে কার্যক্রম চলমান রাখতে চাই। সবার সহযোগিতা ও সচেতনা সৃষ্টির মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটিকে গড়তে চাই পরিবেশবান্ধব স্বাস্থ্যকর সুন্দর পরিচ্ছন্ন নগরী। এজন্য তিনি সবার আগে সকলের আগ্রহ সৃষ্টির মাধ্যমে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

Thursday, July 25, 2019

ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ চিকিৎসা ও প্রতিরোধে করণীয়?

ডেঙ্গুজ্বর সাধারণত একটি সংক্রামক রোগ যা ডেঙ্গু ভাইরাসের (A.Aegyti ভাইরাস) কারণে হয়। এডিস নামক এক ধরনের মশার কামড়ে এ রোগ হয়। ভাইরাসটির ৪টি ভিন্ন ভিন্ন প্রকার আছে যার একটি প্রকারের সংক্রমণ সাধারণত সেই প্রকারের বিরুদ্ধে জীবনভর প্রতিরোধ ক্ষমতা দেয়, কিন্তু অন্য প্রকারগুলোতে স্বল্পমেয়াদে প্রতিরোধ ক্ষমতা দেয়। পরবর্তীতে অন্য প্রকারের সংক্রমণ হলে সেটি প্রবল জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণুবাহী মশা কোন ব্যক্তিকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি ৪ থেকে ৬ দিনের মধ্যে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়। আবার, আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোন জীবাণুবিহীন এডিস মশা কামড়ালে সেই মশাটিও ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এভাবেই এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণুবাহী এডিস মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে। মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস, বিশেষ করে গরম ও বর্ষার (বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী) সময় ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ অনেক বেশি থাকে। অপরদিকে শীতকালে সাধারণত এই জ্বর হয় না বললেই চলে।

ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ

ডেঙ্গু প্রধানত দুই ধরনের হয়, যেমন- ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু, ফিভার ও হেমোরেজিক ফিভার।

১. ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গুজ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর এবং সেইসঙ্গে শরীরে প্রচন্ড ব্যথা হয়ে থাকে।

২. জ্বর ১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে।

৩. শরীরের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে মাথায়, চোখের পেছনে, হাড়, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।

৪. জ্বর হওয়ার ৪ থেকে ৫ দিন পর সারা শরীরে লালচে দানা দেখা যায়, সঙ্গে বমি বমি ভাব বা বমি, রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তবোধ করে, রুচি কমে যায় ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যেতে পারে।

৫. কিছু কিছু ক্ষেত্রে, ২ বা ৩ দিন পর আবার জ্বর আসে।

ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বরে ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গের পাশাপাশি আরও কিছু সমস্যা দেখা যায় যেমন-

১. শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পড়া,

২. পায়খানার সঙ্গে তাজা রক্ত বা কালো পায়খানা,

৩. মেয়েদের বেলায় অসময়ে ঋতুস্রাব বা রক্তক্ষরণ, বুকে বা পেটে পানি আসা ইত্যাদি।

৪. আবার, লিভার আক্রান্ত হয়ে রোগীর জন্ডিস, কিডনিতে আক্রান্ত হয়ে রেনাল ফেইলিউর ইত্যাদি জটিলতা দেখা দিতে পারে।

৫. ডেঙ্গুজ্বরের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ হলো ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের সঙ্গে সার্কুলেটরি ফেলিউর যোগ হয়ে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হয়।

ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ

৬. এ ছাড়াও মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হতে পারে। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ৪ থেকে ৫ দিনের মাথায় সারা শরীরে লালচে দানা দেখা যায়, যাকে স্কিনর্যাশ বলে। এটা অনেকটা এ্যালার্জি বা ঘামাচির মতো। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব এমনকি বমিও হতে পারে।

৭. ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে এবং খাবারে রুচি কমে যায়। এই অবস্থাটা অত্যন্ত জটিল হতে পারে, যেমন- অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পড়া শুরু হতে পারে, যেমন- মাড়ি ও দাঁত থেকে, কফের সঙ্গে, রক্ত বমি, চামড়ার নিচে, নাক ও মুখ দিয়ে, পায়খানার সঙ্গে তাজা রক্ত বা কালো পায়খানা, চোখের মধ্যে ও চোখের বাইরে রক্ত ক্ষরণ ইত্যাদি।

৮. মেয়েদের ক্ষেত্রে, অসময়ে ঋতুস্রাব অথবা রক্ত ক্ষরণ শুরু হলে অনেকদিন পর্যন্ত রক্ত পড়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এই রোগে অনেক ক্ষেত্রে বুকে বা পেটে পানি আসা, লিভার আক্রান্ত হয়ে রোগীর জন্ডিস, কিডনিতে আক্রান্ত হয়ে রেনাল ফেইলিউর ইত্যাদি জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যেহেতু ডেঙ্গুজ্বরের নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই এবং এই জ্বর সাধারণত নিজে নিজেই ভাল হয়ে যায়, তাই উপসর্গ অনুযায়ী সাধারণ চিকিৎসাই যথেষ্ট। তবে কিছু কিছু জতিলতার ক্ষেত্রে যেমন- শ্বাসকষ্ট হলে, পেট ফুলে পানি এলে, শরীরের কোন অংশে রক্তপাত হলে, প্লাটিলেটের মাত্রা কমে গেলে, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা দেখা দিলে, প্রচুর পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি হলে, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে, জন্ডিস দেখা দিলে ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা দেয়া উচিত।

কী কী পরীক্ষা করা উচিত?

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডেঙ্গুজ্বর হলে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রয়োজন, এতে অযথা অর্থের অপচয় হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হবে। জ্বরের ৪ থেকে ৫ দিন পর সিবিসি এবং প্লাটিলেট টেস্ট করতে হবে। এর আগে টেস্ট করলে রিপোর্টে ডেঙ্গু রোগের জীবাণু ধরা নাও পরতে পারে। সাধারণত প্লাটিলেট কাউন্ট এক লাখের কম ডেঙ্গু হলে ভাইরাসের কথা মাথায় রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া উচিত। ডেঙ্গু এ্যান্টিবডির পরীক্ষা ৫ থেকে ৬ দিন পর করা যেতে পারে। এটি রোগ শনাক্তকরণে সাহায্য করে। যেহেতু রোগের চিকিৎসায় এর কোন ভূমিকা নেই, তাই এই পরীক্ষা না করলেও কোন সমস্যা নেই। প্রয়োজনে ব্লাড সুগার, লিভারের পরীক্ষা যেমন- এসজিওটি, এসজিপিটি, এলকালাইন ফসফাটেজ ইত্যাদি করাতে হতে পারে। আবার চিকিৎসক যদি মনে করেন রোগী ডিআইসি জাতীয় জটিল কোন সমস্যায় আক্রান্ত সে ক্ষেত্রে প্রোথ্রোম্বিন টাইম, এপিটিটি, ডি-ডাইমার ইত্যাদি পরীক্ষা করাতে হতে পারে।

ডেঙ্গুজ্বরের চিকিৎসা

ডেঙ্গুজ্বরের চিকিৎসা সাধারণ জ্বরের মতোই। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগীই সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই ভাল হয়ে যায়। এমনকি কোন চিকিৎসা না করালেও। তবে রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চলতে হবে যাতে ডেঙ্গুজনিত কোন মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি না হয়। নিম্নে ডেঙ্গুজ্বরের চিকিৎসায় করণীয় কিছু বিষয় উল্লেখ করা হলÑ

১. জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল সেবন করতে হবে, দিনে সর্বোচ্চ ৪ বার।

২. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।

৩. জ্বর কমানোর জন্য বার বার শরীর মুছে দিতে হবে।

৪. জ্বরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। তাই প্রচুর পানি ও তরল জাতীয় খাবার, যেমনÑ ওরাল স্যালাইন, ফলের জুস, শরবত ইত্যাদি পান করতে হবে।

৫. বমির কারণে যদি কোন রোগী পানি পান করতে না পারেন সেক্ষেত্রে স্যালাইন দিতে হবে।

৬. এ্যান্টিবায়োটিক, এ্যাসপিরিন বা অন্য কোন ব্যথানাশক ওষুধ একেবারেই সেবন করা যাবে না।

৭. ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত হলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করাতে হবে।

সাধারণত ডেঙ্গু আক্রান্ত সব রোগীকেই রক্ত দেয়ার প্রয়োজন হয় না। রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ ১০ হাজারের কম হলে অথবা শরীরে রক্তক্ষরণ হলে প্লাটিলেট কনসেন্ট্রেশন দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সিরাম এ্যালবুমিন ২ গ্রাম/ডেসিলিটারের কম হলে অথবা আক্রান্ত ব্যক্তি শকে গেলে প্লাজমা বা প্লাজমা সাবস্টিটিউ দিতে হয়। যদি রক্তে প্লাটিলেট কাউন্ট ৫০ হাজারের নিচে নেমে যায় তবে জরুরী ভিত্তিতে রক্ত সংগ্রহ করে রাখতে হবে।

ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধে করণীয়

ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধের জন্য এডিস মশা রোধ করা এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সাধারণত স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত অথবা ড্রেনের পানিতে এরা ডিম পারে না। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানসমূহকে পরিষ্কার করতে হবে এবং পাশাপাশি মশা নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১. বাড়ির আশপাশের জলাশয়, ঝোপঝাড়, জঙ্গল ইত্যাদি থাকলে তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

২. ঘরের বাথরুমে বা অন্য কোথাও জমানো পানি যেন ৫ দিনের বেশি না থাকে। আবার ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশনার বা এ্যাকুয়ারিয়ামের নিচেও যেন পানি জমে না থাকে।

৩. যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন স্থানে ডিম পাড়ে, যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে। তাই ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, ডাবের খোলা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি থাকলে তা সরিয়ে ফেলতে হবে।

৪. দিনের বেলায় ঘুমালে অবশ্যই মশারি টানিয়ে অথবা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাবেন।

৫. এডিস মশা সাধারণত সকালে বা সন্ধ্যায় কামড়ায় যদিও অন্য যে কোন সময়ও কামড়াতে পারে। তাই দিনের বেলা শরীর ভালভাবে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, প্রয়োজনে মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করতে হবে এবং অবশ্যই ঘরের দরজা এবং জানালায় নেট লাগাতে হবে।

৬. ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সব সময় মশারির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে কোন মশা তাকে কামড়াতে না পারে।

৭. মশা নিধনের জন্য স্প্রে, কয়েল, ম্যাট ইত্যাদি ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে মশার কামড় থেকে বাঁচতে দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়?

ডেঙ্গু অথবা ভাইরাল জ্বরে এ্যান্টিবায়োটিক দরকার নেই

বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ অনেক বেড়ে যায়। কখনও মুষলধারে বৃষ্টি আবার কখনও উজ্জ্বল রোদ কিংবা ভ্যাপসা গরম এরকম অস্বস্তিকর পরিবেশে মূলত আবহাওয়ার তারতম্য এবং বাতাসে আর্দ্রতার পার্থক্যের কারণে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাল জ্বর হয়ে থাকে। আবার থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে পানি জমে ডেঙ্গু মশার প্রজনন বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় ডেঙ্গু মশার বিস্তার লাভ সহজ হয়। এ সময়ে জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং আক্রান্ত রোগীর বিশেষ যত্নের ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারণত ডেঙ্গু সংক্রমণের নিরানব্বই শতাংশ সংক্রমণই ঘটে বর্ষাকালে আর বর্ষা পরবর্তী সময়ে যখন পানি জমা অবস্থায় থাকে। জ্বর বা ব্যথা হলেই সাধারণত রোগীরা ব্যথানাশক ওষুধ খায় কিন্তু ডেঙ্গু হলে ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না এমনকি ডেঙ্গু রোগীদের জন্য কোন এ্যান্টিবায়োটিক ওষুধেরও প্রয়োজন নেই।

সবশেষে

ডেঙ্গুজ্বর সাধারণত এমনিতেই ভাল হয়ে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি শরীরে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। সাধারণভাবে এই জ্বরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে সঠিকভাবে চললে কয়েক দিনেই ডেঙ্গু রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। যেহেতু এ রোগের কোন ভ্যাকসিন নেই, তাই মশার সংখ্যা বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ নষ্ট করা, মশার সংখ্যাবৃদ্ধি হ্রাস এবং মশার কামড় থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমে ডেঙ্গুজ্বরের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

>>>ডাঃ অমর বিশ্বাস, সহযোগী অধ্যাপক, রেসপেরিটরি মেডিসিন বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। মোবাইল- ০১৭১২৮৮৬২১৬

Sunday, December 10, 2017

জেরুজালেম ইস্যুতে একঘরে যুক্তরাষ্ট্র!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা এবং তেলআভিভ থেকে দূতাবাস সেখানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আজ জরুরি বৈঠক ডেকেছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। বৈঠক চলাকালীন ১৫ সদস্যের পরিষদে মার্কিন প্রতিনিধি নিকি হ্যালি একাই দেশের প্রেসিডেন্টের হয়ে সরব হলেন। বাকি কোন দেশই সমর্থন জানাল না যুক্তরাষ্ট্রকে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ফ্রান্স, ব্রিটেনও কড়া সমালোচনা করল ট্রাম্পের। ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি ও সুইডেন একটি যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে— যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে আমরা মানি না। এটি নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব-বিরোধী এবং বিশ্বের ওই অংশের শান্তি রক্ষার ক্ষেত্রে খুবই অস্বস্তিকর।
তাদের বক্তব্য, জেরুজালেমের পরিচয় ঠিক কী হবে, সেটা ইসরায়েল ও প্যালেস্তাইনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে, চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করে স্থির করা উচিত। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব দেশের অবস্থান বরাবরই এক— জেরুজালেমকে ইসরায়েল ও প্যালেস্তাইন, দুই দেশেরই রাজধানী ঘোষণা করা হোক। সেটা না করলে আখেরে জেরুজালেমের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়। দিন দুয়েক আগে ইইউ-এর বিদেশনীতি বিষয়ক দফতরের প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনিও এ কথা জানিয়েছিলেন।
এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি নিকি হ্যালির বক্তব্য, ওই দু’দেশের সীমান্ত নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি ট্রাম্প।
আর জেরুজালেমের সার্বভৌমত্ব যে ইসরায়েল ও প্যালেস্তাইনকে আলোচনার মাধ্যমে বজায় রাখতে হবে, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। হ্যালির কথায়, আমরা জানতাম, প্রশ্ন উঠবেই। কিন্তু আমাদের এই সিদ্ধান্ত শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ভয়ে পিছিয়ে গিয়ে তো কোন লাভ নেই। বাস্তবে যে পরিস্থিতি, আমাদের সিদ্ধান্তে সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে।
কিন্তু হ্যালির কোন কথাতেই কোন কাজ হয়নি। এই প্রথম কোন আন্তর্জাতিক সংগঠনের বৈঠকে এভাবে একঘরে হয়ে যেতে দেখা গেল যুক্তরাষ্ট্রকে। আনন্দবাজার।

যুদ্ধ এড়াতে উত্তর কোরিয়াকে প্রস্তাব জাতিসংঘের

যুদ্ধ এড়াতে উত্তর কোরিয়াকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সব রকম যোগাযোগ চালুর প্রস্তাব জানিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর কোরিয়া সফরকালে দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা জেফরি ফেল্টম্যান। জবাবে উত্তর কোরিয়াও জাতিসংঘের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপনে সম্মত হয়েছে।
ফেল্টম্যান বলেন, যুদ্ধ এড়াতে নিয়মিত যোগাযোগ চালু করার কোনো বিকল্প নেই। সাম্প্রতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। সবাই এর শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।
গত ৫ ডিসেম্বর শুরু হওয়া চারদিনের এ সফরে ফেল্টম্যান উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী রি ইয়ংসহ উচ্চপর্যায়ের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে বেশ কিছু বৈঠক করেন। জানা গেছে, সফর শেষে ফেল্টম্যান চীনের সঙ্গেও আলোচনা করেন।
পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিরোধ চলছে।
সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার ৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার কৌণিক দূরত্বে উড়ানো ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার পর এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

Thursday, June 27, 2013

বাজেট ২০১৩-১৪ ॥ প্রতিক্রিয়া ও সুপারিশ by ড. আবুল বারকাত ও ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী

(শেষাংশ)

রাজস্ব আয় বৃদ্ধি আর একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের নেয়া চলমান সংস্কার পদক্ষেপসমূহ সময়-নির্দিষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়। বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে অবশ্যই বেগ পেতে হবে।

বাজেট ২০১৩-১৪ ॥ প্রতিক্রিয়া ও সুপারিশ by ড. আবুল বারকাত ও ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী

(শেষাংশ)

রাজস্ব আয় বৃদ্ধি আর একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের নেয়া চলমান সংস্কার পদক্ষেপসমূহ সময়-নির্দিষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়। বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে অবশ্যই বেগ পেতে হবে।

বাজেট ২০১৩-১৪ ॥ প্রতিক্রিয়া ও সুপারিশ by ড. আবুল বারকাত ও ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী

(শেষাংশ)

রাজস্ব আয় বৃদ্ধি আর একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের নেয়া চলমান সংস্কার পদক্ষেপসমূহ সময়-নির্দিষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়। বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে অবশ্যই বেগ পেতে হবে।

বাজেট ২০১৩-১৪ ॥ প্রতিক্রিয়া ও সুপারিশ by ড. আবুল বারকাত ও ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী

(শেষাংশ)

রাজস্ব আয় বৃদ্ধি আর একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের নেয়া চলমান সংস্কার পদক্ষেপসমূহ সময়-নির্দিষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়। বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে অবশ্যই বেগ পেতে হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দুই সরকারের দুই ভিন্ন অবস্থান by মমতাজ পাটোয়ারী

আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির দলীয় অবস্থান মোটেও এক রকম নয়, দুই দলের সরকারের ভূমিকা কখনও এক রকম ছিল না বা নেই। নিকট অতীতের আয়নায় তাকিয়ে এই পার্থক্যের ছবিটা ভাল করে দেখে নিতে পারি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দুই সরকারের দুই ভিন্ন অবস্থান by মমতাজ পাটোয়ারী

আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির দলীয় অবস্থান মোটেও এক রকম নয়, দুই দলের সরকারের ভূমিকা কখনও এক রকম ছিল না বা নেই। নিকট অতীতের আয়নায় তাকিয়ে এই পার্থক্যের ছবিটা ভাল করে দেখে নিতে পারি।

ছাত্রী ধর্ষণ ॥ লক্ষ্মীপুরে দুই যুবদল নেতা বহিষ্কার

 লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর সাইচা গ্রামের এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তোলা বিবস্ত্র ও অশ্লীল ছবি প্রচার করার অভিযোগে দুই যুবদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শিক্ষকদের পৃথক বেতন কাঠামোর জন্য শীঘ্রই কমিশন

শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো নির্ধারণের জন্য শীঘ্রই বেতন কমিশন গঠন করা হচ্ছে। বুধবার জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমী (নায়েম) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমাবেশে এ কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

সাভারে রাজ্জাক প্লাজায় ॥ ফাটলের খবরে ভবন খালি ॥ বিক্ষোভ সড়ক অবরোধ

 একটি বেসরকারী টেলিভিশনে সাভারে রানা প্লাজার অদূরে অবস্থিত একটি বহুতল ভবনে ফাটলের খবরে সকল দোকান ও পোশাক কারখানা বন্ধ করে দেয়ার পর বিক্ষোভ করে দোকান মালিক ও কর্মচারীরা।

অন্তহীন যাত্রা- চারুকলায় মানবেন্দ্র ঘোষের একক ভাস্কর্য প্রদর্শনী- সংস্কৃতি সংবাদ

 গতানুগতিক মাধ্যমের বাইরে চারপাশের জীবন প্রবাহের মাঝে ছড়িয়ে থাকা নানান মাধ্যমের দ্বারা তৈরি মানুষের মূর্তি প্রাণবন্ত শিল্প হয়ে ধরা দিয়েছে ভাষ্কর মানবেন্দ্র ঘোষের ভাষ্কর্যে।

যুদ্ধাপরাধী বিচার ॥ সাকার আবেদন খারিজ অসুস্থ থাকলে দ্বিতীয় সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য

 একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর তিনটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।