Showing posts with label নয়া দিগন্ত. Show all posts
Showing posts with label নয়া দিগন্ত. Show all posts

Monday, September 14, 2026

গাজার জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলের নীরব অস্ত্র ক্ষুধা

গাজায় অবস্থিত ফিলিস্তিনি সরকারের তথ্য দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরাইল ‘নীরবে জনগণকে অনাহারে রাখার’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং এই অঞ্চলের প্রয়োজনীয় খাদ্যের ৬৫ শতাংশ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, গাজার ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ খাদ্য কেনার সামর্থ্য রাখে না এবং সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু ইসরাইল এই সাহায্য প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

গত তিন বছরে গাজার জনগণের বিরুদ্ধে নজিরবিহীনভাবে সব ধরনের অপরাধ সংঘটনকারী ইসরাইল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাত্মক সমর্থনের ছত্রছায়ায় এই অপরাধগুলো চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইল আপাতত গাজায় বোমা হামলা বন্ধ রেখেছে, এই ভূখণ্ডের জনগণের ওপর সম্মিলিত শাস্তি আরোপের পথ অনুসরণ করছে।

ইসরাইল গাজাকে সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ করে (পানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে এবং খাদ্য সরবরাহ কঠোরভাবে সীমিত করে) উদ্দেশ্যমূলকভাবে বেসামরিক নাগরিকদের জীবনের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে। এক্ষেত্রে ইসরাইল শুধু সাহায্য পৌঁছানোই বাধা দিচ্ছে না, বরং উৎপাদন পরিকাঠামো ধ্বংস করে এবং একইসাথে সাহায্যের আগমন রোধ করে একটি পরিকল্পিত মানবিক সঙ্কটও তৈরি করছে।

গাজার জনগণের বিরুদ্ধে অনাহার নীতি বাস্তবায়নে ইসরাইল দু’টি প্রধান লক্ষ্য অনুসরণ করছে। প্রথম লক্ষ্য হলো গাজায় বসবাসের অযোগ্য পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে মানুষ তাদের বাড়ি ও খামার ছেড়ে যেতে বাধ্য হয় অর্থাৎ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি। ইসরাইল এখন পর্যন্ত বোমা হামলা চালিয়ে এবং এই ভূখণ্ডকে বসবাসের অযোগ্য করে গাজার জনগণের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে, যাতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ঘটানো যায় এবং গাজা উপত্যকার সম্পূর্ণ দখলের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা যায়, কিন্তু তারা এখনো এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। তাই, তারা অতীতের চেয়ে আরো তীব্রভাবে গাজার জনগণকে অনাহারে রাখার নীতি অনুসরণ করছে।

এই নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো জনগণ ও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের মধ্যে একটি দূরত্ব তৈরি করা। অন্য কথায়, ইসরাইলি পরিবারগুলোর জীবিকার ওপর আঘাত হেনে অভ্যন্তরীণ সামাজিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, যাতে জনগণের ক্ষোভ দখলদারদের পরিবর্তে প্রতিরোধকারী গোষ্ঠীগুলোর দিকে পরিচালিত হয়। তবে তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায় যে বাস্তবে এই কৌশলের ফল হয়েছে বিপরীত।

আইনগতভাবে জেনেভা কনভেনশনের অতিরিক্ত প্রোটোকল অনুসারে, যুদ্ধের একটি উপায় হিসেবে বেসামরিক নাগরিকদের অনাহারে রাখা নিষিদ্ধ। সংঘাতের পক্ষগুলো বেসামরিক নাগরিকদের কাছে খাদ্য ও ওষুধের মতো মানবিক সহায়তা দ্রুত এবং নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর অনুমতি দিতেও বাধ্য।

তথাপি, ইসরাইল গাজার জনগণের বিরুদ্ধে এই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। কারণ আমেরিকার ভেটো ক্ষমতা এবং তেল আবিবের প্রতি ওয়াশিংটনের সর্বাত্মক সমর্থনের ছত্রছায়ায় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ইসরাইলের অপরাধ বন্ধ বা সীমিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে অক্ষম।

সূত্র : পার্সটুডে

খাবার সংগ্রহ করছে গাজার শিশুরা
খাবার সংগ্রহ করছে গাজার শিশুরা। সংগৃহীত

Thursday, September 10, 2026

গাজায় ইসরাইলি হামলায় একই পরিবারের ৪ সদস্য নিহত

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ফিলিস্তিনি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় একটি বাড়ি লক্ষ্য করে চালানো ইসরাইলি বিমান হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) উত্তর গাজা উপত্যকার বেইত লাহিয়ায় এ হামলা চালানো হয়।

জানা গেছে, আহমেদ পরিবারের একটি বাড়িতে হামলার পর নিহত চারজনের লাশ গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই হামলায় আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে বার্তাসংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্র ও তাঁবু লক্ষ্য করে ইসরাইলি সামরিক যান ও ড্রোন থেকে গুলি চালানো হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে আল-শিফা হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এক নৃশংস যুদ্ধে ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা এবং এক লাখ ৭৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে আহত করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

সূত্র : আনাদোলু অ্যাজেন্সি

ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাজা
ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাজা। ফাইল ছবি

ইরানের ‘কাসেম বাসির’ ক্ষেপণাস্ত্র যেভাবে সমুদ্রযুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিয়েছে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি সংঘাতের সমীকরণে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘কাসেম বাসির’-এর অন্তর্ভুক্তিকে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং আরব সাগরের উত্তরাঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য হুমকির ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

এক হাজার ২০০ কিলোমিটার পাল্লার ‘কাসেম বাসির’ ক্ষেপণাস্ত্রটি ৪ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো ইরানের ইসফাহান থেকে উত্তর আরব সাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত এড়াতে ওই রণতরীকে প্রতিরক্ষামূলক কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উচ্চ পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই এ বিষয়ে বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টা আগে আমরা প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর দিয়ে ইরানের অ্যান্টি-ডেস্ট্রয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটি আমেরিকানদের জন্য নরক তৈরি করেছিল এবং তারা পালিয়ে যায়।’

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্র্যান্ডন ওয়েইকার্ট এ বিষয়ে বলেন, ইরানিরা ‘কাসেম বাসির’ নিক্ষেপ করেছে, যা একটি মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।

তার ভাষায়, এটি ইরানের সর্বশেষ এবং সবচেয়ে উন্নত অ্যান্টি-শিপ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে এই ক্ষেপণাস্ত্রে গতিপথ পরিবর্তনের জন্য ম্যানুভারিং থ্রাস্টার রয়েছে।

ব্র্যান্ডন ওয়েইকার্ট বলেন, এটি বিমানবাহী রণতরী শিকারের জন্য তৈরি একটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং এটিকে ভূপাতিত করা অত্যন্ত কঠিন।

তার মতে, ইরানিদের পক্ষ থেকে এটি ছিল একটি সতর্কবার্তা—‘প্রণালি থেকে বেরিয়ে যাও, নইলে আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব; আর তোমরাও আমাদের ঠেকাতে পারবে না’।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘কাসেম বাসির’-এর গুরুত্ব কেবল এর পাল্লা বা গতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কঠিন জ্বালানিচালিত প্রপালশন, জিপিএস-নির্ভরতা ছাড়াই স্বতন্ত্র নির্দেশনা, চূড়ান্ত পর্যায়ে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা এবং তুলনামূলক বেশি নির্ভুলতার সমন্বয়—এসব সক্ষমতা যুদ্ধক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রমাণিত হলে মার্কিন নৌবহরের কার্যক্রমের হিসাবকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।

২০২৫ সালের মে মাসে ক্ষেপণাস্ত্রটি উন্মোচনের সময় নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্রে এর পাল্লা কমপক্ষে এক হাজার ২০০ কিলোমিটার বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। পাশাপাশি এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে উন্নত নির্দেশনা ব্যবস্থা এবং জিপিএসের ওপর নির্ভর না করেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতার কথা বলা হয়।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকের সংঘর্ষ নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ ইউনিট একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও একটি ডেস্ট্রয়ারের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সেন্টকম জানায়, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো কৌশলগতভাবে অবস্থান পরিবর্তন করে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত এড়াতে সক্ষম হয় এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। তবে সেন্টকম ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সঠিক ধরন প্রকাশ করেনি।

মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে ‘কাসেম বাসির’ ব্যবহারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো—এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা স্থলভাগের স্থির লক্ষ্যবস্তুতে হামলার প্রচলিত ভূমিকা থেকে বেরিয়ে জাহাজবিধ্বংসী বা অ্যান্টি-শিপ মিশনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

একটি বিমানবাহী রণতরীকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার প্রধান সমস্যা কেবল ক্ষেপণাস্ত্রকে নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে দেয়া নয়, বরং লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা, সেটিকে ট্র্যাক করা এবং ক্ষেপণাস্ত্রের চূড়ান্ত পর্যায়ে লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য হালনাগাদ করা। একটি বিমানবাহী রণতরী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মুহূর্ত থেকে সেটির ওয়ারহেড চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার দূরে সরে যেতে পারে। ফলে ব্যালিস্টিক অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ে একটি অনুসন্ধানী সিকার এবং লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান নির্ধারণের জন্য সেন্সরের একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে কাসেম বাসিরের সম্ভাব্য সুবিধা হলো চূড়ান্ত পর্যায়ে ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ও ইনফ্রারেড নির্দেশনা ব্যবস্থার ব্যবহার। জিপিএসনির্ভর নির্দেশনার বিপরীতে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রচলিত রেডিও জ্যামিংয়ের কারণে তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে গতিপথ সংশোধনে ব্যবহৃত হতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যই মার্কিন ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতার বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ওয়ারহেডের গতি ও ম্যানুভার করার সক্ষমতা। কাসেম বাসির সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য থেকে উচ্চ গতিতে পুনঃপ্রবেশ এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। একটি ম্যানুভারিং ওয়ারহেডের কারণে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেবল একটি নির্দিষ্ট ব্যালিস্টিক গতিপথের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে না।

এর ফলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় কমে যায় এবং ‘এজিস’-এর মতো ব্যবস্থা ও সমুদ্রভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরগুলোর জন্য কাজটি আরো কঠিন হয়ে ওঠে।

তবে কোনো ক্ষেপণাস্ত্রকে শনাক্ত ও প্রতিহত করা কঠিন হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেটিকে প্রতিহত করা অসম্ভব। মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপে রয়েছে বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—দূরপাল্লার রাডার, এজিস-সজ্জিত ডেস্ট্রয়ার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা, ডিকয় বা বিভ্রান্তিকর লক্ষ্যবস্তু এবং আগাম সতর্কতামূলক বিমান।

এ কারণেই একটি নির্ভুল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে নির্ভরযোগ্য ‘ডেস্ট্রয়ার-ধ্বংসকারী’ বা ‘বিমানবাহী রণতরী-বিধ্বংসী’ অস্ত্রে রূপান্তর করা একটি স্থির ঘাঁটিকে লক্ষ্য করার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন।

তবে কাসেম বাসিরের কৌশলগত প্রভাব সরাসরি আঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যদি একটি বিমানবাহী রণতরী ঝুঁকি কমানোর জন্য ইরানের উপকূল থেকে শত শত কিলোমিটার অতিরিক্ত দূরত্ব বজায় রাখতে বাধ্য হয়, তাহলে সেটিকে ডুবিয়ে না দিয়েও ইরান তার অপারেশনাল উদ্দেশ্যের একটি অংশ অর্জন করতে পারে।

দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে বিমানবাহী রণতরী থেকে উড্ডয়নকারী যুদ্ধবিমানগুলোর উড়ান সময় বাড়বে, আকাশে জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজন বাড়বে, সহায়ক বিমানগুলোর ওপর চাপ বৃদ্ধি পাবে এবং মার্কিন আক্রমণাত্মক অভিযান আরো জটিল হয়ে উঠবে।

সামরিক পরিভাষায় এটি ‘অ্যান্টি-অ্যাকসেস/এরিয়া ডিনায়াল’ বা প্রবেশাধিকার প্রতিরোধ ও নির্দিষ্ট অঞ্চলে কার্যক্রম সীমিত করার কৌশলের অংশ—অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় শত্রু বাহিনীর প্রবেশ ও অবস্থানকে আরো ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা।

কাসেম বাসিরের হুমকি আরো গুরুতর হয়ে ওঠে যখন এটিকে একটি বহুস্তরীয় সামরিক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, মনুষ্যবিহীন নৌযান এবং সমন্বিত একযোগে হামলার সংমিশ্রণ একটি নৌবহরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভিন্ন গতি, উচ্চতা ও গতিপথের একাধিক লক্ষ্যবস্তুর মুখোমুখি করতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে আক্রমণকারী অস্ত্রের একটি বড় অংশ প্রতিহত করা গেলেও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিরিক্ত লক্ষ্যবস্তুতে পরিপূর্ণ হয়ে পড়া এবং দ্রুত বিপুলসংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

চলতি বছরের বিভিন্ন প্রতিবেদনও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ম্যানুভারিং ওয়ারহেড ব্যবহারে ইরানের অগ্রগতি মার্কিন বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কাজকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।

তবে কাসেম বাসিরকে এমন কোনো অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়, যা একাই মার্কিন নৌ-শক্তির শ্রেষ্ঠত্বকে বিলুপ্ত করে দিতে পারে। কিন্তু ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক সংঘাতে এর আবির্ভাব যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌসম্পদ—বিমানবাহী রণতরী ও ডেস্ট্রয়ারগুলোর ওপর হুমকির মাত্রা বাড়াতে পারে।

এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রকৃত গুরুত্ব হলো—এটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ দূরত্ব বাড়াতে পারে, প্রতিরক্ষায় আরো বেশি সম্পদ নিয়োজিত করতে বাধ্য করতে পারে এবং ইরানের কাছাকাছি পানিসীমায় তাদের স্বাধীনভাবে পরিচালনার সুযোগ সীমিত করতে পারে।

যদি প্রকৃত যুদ্ধক্ষেত্রে চলমান লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এর চূড়ান্ত পর্যায়ের নির্দেশনা ও আঘাত হানার সক্ষমতা প্রমাণিত হয়, তাহলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগর মার্কিন বড় যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য আগের চেয়ে আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পরিণত হতে পারে—যেখানে উপস্থিত থাকার অর্থ হবে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ঝুঁকি ও ব্যয় মেনে নেয়া।

সূত্র : পার্সটুডে

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ‘কাসেম বাসির’
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ‘কাসেম বাসির’। সংগৃহীত

স্বঘোষিত ‘শান্তির দূত’ ট্রাম্প আটকে গেলেন ‘অনন্ত যুদ্ধে’?

ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, তখন তাঁর মূল সুরই ছিল—তিনি হবেন এক ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’। নতুন কোনো সংঘাত শুরু করা নয়, বরং বিদেশের মাটিতে মার্কিন যুদ্ধগুলো বন্ধ করাই হবে তাঁর প্রধান কাজ। কিন্তু ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সেই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার প্রায় সিকি শতাব্দী পর, আজ ট্রাম্প নিজেই এক অপ্রিয় ও নিজের তৈরি করা সংকটে জড়িয়ে পড়েছেন। বিশ্লেষকেরা এ সংকটকে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ‘অনন্ত যুদ্ধ’ (ফরেভার ওয়ার) বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ৯/১১ বার্ষিকী একদম দরজায় সজোরে কড়া নাড়ছে। ঠিক সে সময় ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নেয়া এই পদক্ষেপ বিদেশি নীতি বিশ্লেষকদের মনে করিয়ে দিচ্ছে আফগানিস্তান ও ইরাকের সেই দীর্ঘ ও বিতর্কিত যুদ্ধের স্মৃতি। প্রশ্ন উঠছে, আমেরিকা কি আবারও অতীতের ভুল থেকে কোনো শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হলো? নাকি এবারও তাদের কাছে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার কোনো স্পষ্ট কৌশল বা ‘এগজিট স্ট্র্যাটেজি’ নেই?

আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি’-র গবেষক সিনা তোসি বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনো অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধে না জড়ানোর যে নীতি ওয়াশিংটনে তৈরি হয়েছিল, ট্রাম্প তা ভেঙে ফেলেছেন। এর ফলে তাঁর উত্তরসূরিকে হয়তো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান এক দীর্ঘস্থায়ী সামরিক মুখোমুখি পরিস্থিতির দায়ভারের ভারি বোঝা বহন করতে হবে।'

অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধগুলোর সঙ্গে ইরানের এই অভিযানকে মেলানো ভুল। সে সময় ইরাক ও আফগানিস্তানে হাজার হাজার পদাতিক সৈন্য পাঠিয়ে সরকার উৎখাত এবং ভূমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এবার আমেরিকা মূলত বিমান ও নৌ শক্তির ওপর নির্ভর করছে। যদিও এতে ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু তেহরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি।

যুদ্ধের দীর্ঘ ছয় মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর মার্কিন সেনারা এখন এক ধরনের ক্ষয়িষ্ণু দ্বন্দ্বে বন্দি। এই সপ্তাহে তেলের ট্যাংকারে দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা সেই ইঙ্গিতই দেয়। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন, এই যুদ্ধ তত দিন গড়ালে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য ক্যাপিটল হিলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তেলের পথ বন্ধ হওয়ায় মার্কিন নাগরিকদেরও জ্বালানির অতিরিক্ত দাম মেটাতে হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি অবশ্য দাবি করেছেন, ট্রাম্প একাই সাহসিকতার সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক হুমকির মোকাবেলা করেছেন। পাশাপাশি কঠোর অবরোধের মাধ্যমে তাদের অর্থনীতি পঙ্গু করে দিয়েছেন। তবে ৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে এই সংঘাতের মিল নিয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি হোয়াইট হাউসের এ মুখপাত্র।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক ও আফগানিস্তানে বুশ প্রশাসন যেভাবে প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে খাটো করে দেখেছিল, ট্রাম্প ও তাঁর উপদেষ্টারাও ইরানের টিকিয়ে রাখার ক্ষমতা এবং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত করার শক্তিকে ভুল হিসাব করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ট্রাম্প যে অভিযান শুরু করে, তার পেছনে ৯/১১-এর মতো কোনো জাতীয় ট্রমা বা জরুরি কারণ ছিল না। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি ছিল ট্রাম্পের একান্ত নিজস্ব পছন্দের যুদ্ধ।

আফগানিস্তানের তালেবানের মতো ইরানও হয়তো সেই নীতিই অনুসরণ করছে, ধৈর্য ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমর্থন ক্ষয় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছে। তার ওপর বুশের সময় তাও কিছু কিছু মার্কিন মিত্র দেশ সাথে ছিল, কিন্তু গ্রিনল্যান্ড দখল, ন্যাটো নিয়ে প্রশ্ন ও শুল্কনীতির কারণে ট্রাম্পের এই যুদ্ধে ইউরোপীয় বা এশীয় মিত্রদের সহায়তা মিলছে না বললেই চলে।

ইরাক বা আফগানিস্তান যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় মার্কিন জনগণের সমর্থন ছিল, যা পরে কমে যায়। কিন্তু ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ শুরু থেকেই আমেরিকানদের কাছে অপ্রিয়। এমনকি তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ আন্দোলনের অনুসারীরাও এই তৎপরতার সমালোচনা করছেন।

তবে ট্রাম্পের সমর্থকেরাও পিছিয়ে নেই। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস’-এর প্রধান মার্ক ডুবোভিটজের দাবি, 'এ কোনো অনন্ত যুদ্ধ নয়। ট্রাম্প বরং ৪৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের চালানো যুদ্ধের উপযুক্ত জবাব দিচ্ছেন।'

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত

Sunday, August 16, 2026

ইসরাইলি কারাগারে ৪৭৬৯ ফিলিস্তিনি তরুণ-তরুণী বন্দী

ইসরাইলি কারাগারে চার হাজার ৭৬৯ ফিলিস্তিনি তরুণ-তরুণী বন্দী রয়েছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) ফিলিস্তিনের বন্দীবিষয়ক কমিশনের প্রধান রায়েদ আবু আল-হুম্মুস এ তথ্য জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। প্রতি বছর যুবকদের বিভিন্ন সমস্যা এবং সমাজ গঠনে তাদের ভূমিকা তুলে ধরতে ১২ আগস্ট এ দিবসটি পালন করা হয়।

আবু আল-হুম্মুস বলেন, ‘ইসরাইলি কারাগারে ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী পুরুষ বন্দীর সংখ্যা চার হাজার ৭১৩ জন এবং নারী বন্দীর সংখ্যা ৫৬ জন।’

তিনি জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি কারাগারে নিহত ৯১ ফিলিস্তিনি বন্দীর মধ্যে ৪১ জনই ছিলেন তরুণ।

আবু আল-হুম্মুস বলেন, ‘তাদের মধ্যে ৪০ জনের লাশ ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে এবং এর পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের আরো কয়েক ডজন বন্দীর লাশও সেখানে আছে।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় মার্কিন-সমর্থিত গণহত্যা যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইসরাইল ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর নির্যাতন বাড়িয়েছে।

আবু আল-হুম্মুস বলেন, ‘ফিলিস্তিনি যুবকরা ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামের মেরুদণ্ড এবং দখলদারিত্ব, অবিচার ও নিপীড়ন থেকে মুক্তির প্রকৃত যোদ্ধা।’

তিনি আরো বলেন, ‘যতক্ষণ না তাদের স্বাধীনতা ও মুক্তির আশা পূরণ হচ্ছে এবং তারা নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার মধ্যে একটি স্বাভাবিক জীবন লাভ করছে, ততক্ষণ তারা লড়াই চালিয়ে যাবে।’

ফিলিস্তিনি যুবকদের ওপর চলমান নির্যাতন বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা, বিশেষ করে যুববিষয়ক সংগঠনগুলোকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ইসরাইলি কারাগারে নয় হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দী রয়েছে, যাদের মধ্যে ৯২ জন নারী এবং ৩৭০ জনেরও বেশি শিশু। নির্যাতন, অনাহার এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার ফলে সেখানে কয়েক ডজন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে।

১৯৪৮ সালে সশস্ত্র জায়নবাদী গোষ্ঠী গণহত্যা চালিয়ে এবং সাত লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। পরবর্তীতে তারা বাকি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডও দখল করে নেয় এবং জাতিসঙ্ঘের প্রস্তাব অনুযায়ী সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার বা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি

ইসরাইলি কারাগার
ইসরাইলি কারাগার। সংগৃহীত

ফিলিস্তিনি বন্দিদের একে একে ফাঁসিতে ঝুলানোর হুঁশিয়ারি বেন-গভীরের

ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীর জানিয়েছেন, ইসরাইলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে তিনি তাঁর সর্বশক্তি প্রয়োগ করবেন। তিনি আরো আশা প্রকাশ করেন যে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের 'একে একে' ফাঁসিতে ঝুলানো হবে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা রোববার (১৬ আগস্ট) জানিয়েছে, সাবেক ইসরাইলি বন্দি রোম ব্রাসলাভস্কির সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন বেন-গভীর। তিনি স্পষ্ট করেন, যে মৃত্যুদণ্ডের আইন কার্যকরের জন্য তিনি জোর প্রচার চালিয়ে আসছেন, তার অধীনে ফাঁসি কার্যকর করাই হবে মৃত্যুদণ্ডের মূল পদ্ধতি।

কথোপকথনে বেন-গভীর বলেন, 'সময় এলে আমি অসম্ভবকেও সম্ভব করব। আপনাকে কথা দিচ্ছি, এটি বাস্তবায়ন করতে আমি আমার সবটুকু ক্ষমতা দিয়ে চেষ্টা করব এবং বিশ্বকে ওলটপালট করে দেব।'

ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইসরাইলি কারাগারে তাদের জন্য আগের চেয়ে আরো কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। বেন-গভীর সরাসরি বলেন যে, বন্দিরা এখন আরো বেশি কষ্টে আছেন জেনে তিনি 'আনন্দিত'।

ইসরাইলি আইনসভা সম্প্রতি ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে এ সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ পাস হওয়া এই আইন অনুযায়ী, যেসব ফিলিস্তিনি কোনো ইসরাইলিকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হবেন, সামরিক আদালত যদি ঘটনাটিকে 'সন্ত্রাসবাদ' কিংবা 'ইসরাইল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকারের' দ্বারা অনুপ্রাণিত বলে মনে করে, তবে তাদের ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে।

বেন-গভীরের এই মন্তব্য এবং নতুন আইনের কারণে মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি কঠোর অবস্থান ও মৃত্যুর সাজা কার্যকরের জন্য এই ইসরাইলি মন্ত্রীর ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীর জানিয়েছেন, ইসরাইলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে তিনি তাঁর সর্বশক্তি প্রয়োগ করবেন। তিনি আরো আশা প্রকাশ করেন যে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের 'একে একে' ফাঁসিতে ঝুলানো হবে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা রোববার (১৬ আগস্ট) জানিয়েছে, সাবেক ইসরাইলি বন্দি রোম ব্রাসলাভস্কির সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন বেন-গভীর। তিনি স্পষ্ট করেন, যে মৃত্যুদণ্ডের আইন কার্যকরের জন্য তিনি জোর প্রচার চালিয়ে আসছেন, তার অধীনে ফাঁসি কার্যকর করাই হবে মৃত্যুদণ্ডের মূল পদ্ধতি।

কথোপকথনে বেন-গভীর বলেন, 'সময় এলে আমি অসম্ভবকেও সম্ভব করব। আপনাকে কথা দিচ্ছি, এটি বাস্তবায়ন করতে আমি আমার সবটুকু ক্ষমতা দিয়ে চেষ্টা করব এবং বিশ্বকে ওলটপালট করে দেব।'

ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইসরাইলি কারাগারে তাদের জন্য আগের চেয়ে আরো কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। বেন-গভীর সরাসরি বলেন যে, বন্দিরা এখন আরো বেশি কষ্টে আছেন জেনে তিনি 'আনন্দিত'।

ইসরাইলি আইনসভা সম্প্রতি ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে এ সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ পাস হওয়া এই আইন অনুযায়ী, যেসব ফিলিস্তিনি কোনো ইসরাইলিকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হবেন, সামরিক আদালত যদি ঘটনাটিকে 'সন্ত্রাসবাদ' কিংবা 'ইসরাইল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকারের' দ্বারা অনুপ্রাণিত বলে মনে করে, তবে তাদের ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে।

বেন-গভীরের এই মন্তব্য এবং নতুন আইনের কারণে মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি কঠোর অবস্থান ও মৃত্যুর সাজা কার্যকরের জন্য এই ইসরাইলি মন্ত্রীর ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বেন-গভীর সরাসরি বলেন যে, বন্দিরা এখন আরো বেশি কষ্টে আছেন জেনে তিনি 'আনন্দিত'।
বেন-গভীর সরাসরি বলেন যে, বন্দিরা এখন আরো বেশি কষ্টে আছেন জেনে তিনি 'আনন্দিত'। আল জাজিরা

১৫ হাজার কিমি পাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ইরান : প্রযুক্তি দিচ্ছে কে?

সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম ১৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার দূরপাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরির পরিকল্পনা করছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতার এক প্রতিনিধির বক্তব্য থেকে এই তথ্য সামনে এসেছে। বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হলো 'খোররামশহর', যার সর্বোচ্চ পাল্লা ৪ হাজার কিলোমিটার। তবে হুট করে এই পাল্লা বাড়িয়ে ১৫ হাজার কিলোমিটারে উন্নীত করার উদ্দেশ্য মূলত মার্কিন ভূখণ্ডকে সরাসরি নিশানা করা।

ইউক্রেনের কিয়েভভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় স্বাধীন সামরিক মিডিয়া ও কনসালটিং কোম্পানি 'ডিফেন্স এক্সপ্রেস' সম্প্রতি এই খবরের বিস্তারিত সামরিক বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি মূলত সামরিক প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্প নীতি, অস্ত্রশস্ত্রের বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদ প্রকাশ করে থাকে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান অবস্থান থেকে ১৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে হামলা চালানো সম্ভব।

চলতি মাসের ৭ তারিখে জুম্মার খোতবায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির প্রতিনিধি, তেহরানের জুম্মার নায়েবে ইমাম আবদুল-নবী মুসাভি ফার্দ প্রথম এই ধরনের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে সরাসরি অসীম পাল্লার আইসিবিএম তৈরিতে হঠাৎ এই লাফ দেয়া স্বাভাবিক ও প্রচলিত কৌশলের সাথে ঠিক মেলে না। সাধারণত ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার অতিক্রম করে প্রথম ধাপের আইসিবিএম এবং এরপর মার্কিন ভূখণ্ডের ওয়াশিংটন বা নিউ ইয়র্কে আঘাত হানার জন্য ১০ হাজার থেকে ১৩ হাজার কিলোমিটার পাল্লার প্রযুক্তি তৈরি করা হয়। সেখান থেকে সরাসরি ১৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার কথা ঘোষণা ইঙ্গিত দেয় যে, তেহরান হয়তো আগের মতোই অন্য কোনো মিত্র দেশের তৈরি প্রযুক্তি হাতে পেতে যাচ্ছে।

প্রযুক্তি নেয়ার এই ইতিহাস ইরানের জন্য নতুন নয়। উদাহরণস্বরূপ, তাদের 'খোররামশহর' ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত উত্তর কোরিয়ার 'হুয়াসং-১০' (মুসুদান)-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এদিকে এ ক্ষেপণাস্ত্র আবার সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের 'আর-২৭' সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা থেকে নেয়া।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে যার পাল্লা ১৫ হাজার কিলোমিটার বা তার বেশি। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ১২ জুলাই উৎক্ষেপণ করা হয় 'হুয়াসং-১৮।' এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ছিল ১৫ হাজার কিলোমিটার। এছাড়া, আরো শক্তিশালী 'হুয়াসং-১৯' ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ১৭ হাজার কিলোমিটারের বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার 'হুয়াসং-১৮' তৈরিতে সরাসরি রাশিয়ার ভূমিকা ছিল পরিষ্কার। রাশিয়ার তিন স্তরের কঠিন জ্বালানিচালিত 'তোপোল-এম' আইসিবিএমের নকশা অনুকরণেই এটি তৈরি, ধারণা করা হয়। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার তরল জ্বালানিচালিত ১৫ হাজার কিমি পাল্লার 'হুয়াসং-১৭' ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি হয়েছে সোভিয়েত আমলের 'আর-৩৬' ক্ষেপণাস্ত্রের ভিত্তিতে। ন্যাটো এ ক্ষেপণাস্ত্রের নাম দিয়েছিল 'শয়তান।'

উত্তর কোরিয়ায় অত্যন্ত দ্রুত ও সফলভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বিকাশ প্রমাণ করে যে এতে পরীক্ষিত রুশ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারও একই পথ ধরে রাশিয়া থেকে উত্তর কোরিয়া হয়ে সেই ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ইরানের হাতে পৌঁছানোর প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অথবা আন্তর্জাতিক কোনো চাপ না মেনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে তেহরানকে দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অর্জনে এবার সরাসরি সহায়তা দিতে পারে মস্কো।

খোররমশাহর ক্ষেপণাস্ত্র
খোররমশাহর ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের প্রেসটিভি

Saturday, July 25, 2026

ইরানের জোড়া চমক: বদলে দিল যুদ্ধের সমীকরণ

মার্কিন সংবাদ ও বিশ্লেষণধর্মী ওয়েবসাইট 'ভক্স'-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—লড়াইয়ের ময়দানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুরুর দিকের সব হিসেবনিকেশ চরম প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তেহরান এখনও তাদের ড্রোন আর ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির বড় একটি অংশ অক্ষত রেখেছে। রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধ যত গড়াবে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন বাহিনীর বিপদ ততই বাড়বে।

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা শনিবার (২৫ জুলাই) জানিয়েছে, ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে পদাতিক সেনা পাঠাতে এখনও নারাজ। সেনা হতাহতের ঘটনা বাড়লে দেশে যে রাজনৈতিক ঝড় উঠবে, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত। কিন্তু এতে অঞ্চলে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর ঝুঁকির আঁচ বিন্দুমাত্র কমছে না। গত জুনের তথ্যমতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির বেশিরভাগই এখনও সুরক্ষিত আছে এবং যুদ্ধপূর্ব ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের প্রায় ৭০ শতাংশই তেহরানের হাতে রয়ে গেছে।

গত এপ্রিলের প্রথম অস্ত্রবিরতির পর থেকে সাম্প্রতিক দিনগুলো মার্কিন বাহিনীর জন্য সবচেয়ে মারাত্মক প্রমাণিত হয়েছে। জর্দান ও ইরাকে ইরান-সংশ্লিষ্ট হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭ মার্কিন সেনা প্রাণ হারায়। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও হামলা জোরদার করেছে; যার মধ্যে তাবরিজের সেই ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিও রয়েছে, যেখান থেকে জর্দানে হামলা চালানো হয়েছিল বলে ওয়াশিংটনের দাবি।

সাম্প্রতিক দিনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পাশাপাশি বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজেও আঘাত হানা হয়েছে, যার ফলে এই পথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গেছে।

হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল অচল করে দেওয়ার ইরানীয় সক্ষমতা যদি এই যুদ্ধের প্রথম চমক হয়, তবে পুরো অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও জ্বালানি স্থাপনায় অব্যাহতভাবে আঘাত হানার ক্ষমতা বজায় রাখাটা ছিল ওয়াশিংটনের জন্য দ্বিতীয় বড় চমক।

যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন বাহিনী তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার বাইরে থাকতে বাহরাইন, ইউএই ও কাতার থেকে কিছু সেনা ও সরঞ্জাম জর্দান এবং দখলকৃত ভূখণ্ডে সরিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু স্যাটেলাইট ছবি ও খবরে স্পষ্ট দেখা গেছে, ওই ঘাঁটিগুলোও ইরানীয় হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত কয়েকটি ঘাঁটিতে গাদাগাদি করে সেনা ও সরঞ্জাম রাখায় মার্কিন সেনাদের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।

খুব দ্রুতগতির এবং দিক পরিবর্তন করতে পারা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ইরান হয়তো এ কাজে রাশিয়া বা চীনের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা পাচ্ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন।

তবে ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ নিকোল গ্রাজুয়েস্কি মনে করেন, এই নিরবচ্ছিন্ন হামলা প্রমাণ করে যে ইরানের সামরিক শক্তি ওয়াশিংটনের কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক দাবির তোয়াক্কা না করে তেহরান তাদের শক্তি ধরে রেখেছে এবং বিমান হামলার তীব্রতা কিছুটা কমায় তারা সক্ষমতা পুনর্গঠনের সুযোগও পেয়ে গেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের প্রতিরোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতে টান পড়েছে। সেন্ট্রাল ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্যমতে, এপ্রিলের অস্ত্রবিরতির আগেই ওয়াশিংটন তাদের মোট ২,৩০০ প্যাট্রিওট ক্ষেপণাস্ত্রের ১,০০০টির বেশি এবং থাড ক্ষেপণাস্ত্রের ৫০ থেকে ৮০ শতাংশই খরচ করে ফেলেছে। এসব প্রতিরক্ষা সামগ্রীর ঘাটতি মেটাতে অনেক মাস সময় লাগবে। বিশেষ করে ইরানের তৈরি সস্তা আত্মঘাতী ড্রোনের আকাশজুড়ে আধিপত্য যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত আকাশসীমার শ্রেষ্ঠত্বকে খাদের কিনারে এনে দাঁড় করিয়েছে।

প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের নিজেদের মাটিতে গিয়ে সরাসরি যুদ্ধ বা দখল করার শক্তি ইরানের নেই; কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের বুকেই মার্কিন বাহিনীকে দূরপাল্লার অস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে রক্তাক্ত এবং কোণঠাসা করে রাখার মতো যথেষ্ট শক্তি তেহরানের অক্ষত রয়েছে।

ইরানি ড্রােন বহর
ইরানি ড্রােন বহর। সংগৃহীত

Sunday, July 19, 2026

কাশ্মিরের শহীদদের দোহাই দিয়ে বলছি by হামিদ মীর

জম্মু-কাশ্মিরের রাজনৈতিক সংগ্রামে তিনটি দিবস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি ২৩ মার্চ, দ্বিতীয়টি ১৩ জুলাই এবং তৃতীয়টি ১৪ আগস্ট। এই তিন দিবসের গুরুত্ব অনুধাবনে আসুন আমরা ১৯২৪ সালের ২১ জুলাই শ্রীনগরের রেশম কারখানায় কর্মরত হাজার হাজার কাশ্মিরি শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পটভূমি জেনে নিই। ওই কারখানাগুলোর মালিক ও কর্মকর্তা সবাই ছিলেন হিন্দু, যারা মোটা অঙ্কের বেতন পেতেন। অন্য দিকে মুসলিম শ্রমিকরা দৈনিক মাত্র সাড়ে চার আনা মজুরি পেতেন। এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কাশ্মিরি মুসলিম শ্রমিকরা তাদের সন্তান-সন্ততিদের নিয়ে মিছিল বের করেন। তারা মজুরি বাড়ানোর দাবি করেন। এ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের গ্রেফতার করা হয়। এ বিক্ষোভ কাশ্মিরি মুসলমানদের মধ্যে সেই রাজনৈতিক জাগরণের পরিচয় দেয়, যা ১৯২৩ সালে জম্মুতে ইয়ংমেনস মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। এরপরে ১৯২৯ সালে পুঞ্ছ অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় করের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়।

২৩ মার্চ, ১৯৩১ সালে লাহোরে ব্রিটিশ সরকার স্বাধীনতাকামী ভগত সিংকে ফাঁসি দিলে ওই দিন ইয়ংমেনস মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন ছাড়াও মীর ওয়ায়েজ মুহাম্মদ ইউসুফ শাহ এই ফাঁসির তীব্র নিন্দা জানান। পরের দিন প্রতিবাদী বিক্ষোভও করেন। এই ফাঁসির কয়েক দিন পর ২৯ এপ্রিল, ১৯৩১ সাল ছিল ঈদুল আজহার দিন। জম্মুর মুসলমানরা শালিমার বাগে ঈদের নামাজ আদায় করছিলেন। মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক তার খুতবায় ফেরাউন ও নমরুদের অত্যাচার ও নিপীড়নের কথা উল্লেখ করলে সেখানে উপস্থিত ডোগরা পুলিশের অন্যতম ইন্সপেক্টর লালা খেম চাঁদ এই খুতবা বন্ধ করে দেন। ওই দিন ইয়ংমেনস মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন জম্মুর জামে মসজিদে একটি সভা করে। লালা খেম চাঁদকে বরখাস্ত করার দাবি জানায়।

৪ জুন, ১৯৩১ সালে জম্মুর সেন্ট্রাল জেলে লম্বুরাম নামে এক হিন্দু ইন্সপেক্টর কুরআন অবমাননা করেন। ৬ জুন এ ঘটনার বিরুদ্ধে পুরো জম্মুতে হরতাল পালন করা হয়। প্রতিবাদের এ ধারা মোজাফফরাবাদ ও রাওলাকোট থেকে মিরপুর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ৫ জুন, ১৯৩১ সালে শ্রীনগরের খানকায়ে মুয়াল্লায় কুরআন অবমাননার বিরুদ্ধে একটি বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশে আবদুল কাদির নামে এক পাখতুন যুবক ডোগরা সরকারের বিরুদ্ধে এক অগ্নিঝরা বক্তব্য প্রদান করেন; যার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। আবদুল কাদিরের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি সাধারণ আদালতে করার পরিবর্তে শ্রীনগরের সেন্ট্রাল জেলে করা হয়। হাজার হাজার কাশ্মিরি মুসলমান শ্রীনগর সেন্ট্রাল জেলের বাইরে জড়ো হয়ে আবদুল কাদিরের পক্ষে সেøাগান দিতে থাকেন। দিনটি ছিল ১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই। নামাজের সময় হয়ে গেল। মুসলমানরা জেলের দেওয়ালে চড়ে আজান দেয়া শুরু করলে তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। গুলিবর্ষণে ২২ কাশ্মিরি মুসলমান শহীদ হন। পরবর্তীতে দিনটিকে কাশ্মিরি শহীদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনার পর শ্রীনগরে মার্শাল ল জারি করা হয়। চৌধুরী গোলাম আব্বাস ও শেখ আবদুল্লাহসহ সব শীর্ষস্থানীয় কাশ্মিরি নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। ৩ আগস্ট গ্রেফতারকৃত সব নেতাকে মুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু আবদুল কাদিরকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এসব ঘটনার প্রতিবাদে ১৯৩১ সালের ১৪ আগস্ট লাহোরের মোচি গেটের বাইরের বাগানে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আল্লামা ইকবাল কাশ্মিরের স্বাধীনতা আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এ দিনে অপর কিছু শহরেও কাশ্মির দিবস পালন করা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৩১ সালে মীর ওয়ায়েজ মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ শাহ ডোগরা সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদের ফতোয়া দেন। এসব কিছু মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ঘটেছিল। ২৩ মার্চ সমগ্র জম্মু-কাশ্মির রাজ্য ভগত সিংয়ের ফাঁসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। এরপর কুরআন অবমাননার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। ১৩ জুলাই ২২ কাশ্মিরি মুসলমান শহীদ হন। সেই সাথে ১৪ সেপ্টেম্বর শ্রীনগর থেকে ডোগরা সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদের ফতোয়া আসে। এই তারিখগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, তখন পর্যন্ত অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে একটি পৃথক স্বদেশের আনুষ্ঠানিক দাবি উত্থাপিত হয়নি। কিন্তু জম্মু-কাশ্মিরের স্বাধীনতা আন্দোলন ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছিল। চৌধুরী গোলাম আব্বাস ও সরদার ফতেহ কারেলবিসহ বেশ কয়েকজন কাশ্মিরি নেতা লাহোর এসে আল্লামা ইকবালের সাথে পরামর্শ করেন। একই সাথে ১৯৩২ সালে অল জম্মু-কাশ্মির মুসলিম কনফারেন্স নামে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৩৪ সালে জম্মু-কাশ্মির রাজ্যে প্রথমবারের মাতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মুসলিম কনফারেন্স সব ক’টি মুসলিম আসনে জয়লাভ করে। ১৯৩৯ সালে শেখ আবদুল্লাহ মুসলিম কনফারেন্স ভেঙে ন্যাশনাল কনফারেন্স গঠন করেন। ১৯৪৫ সালে শেখ আবদুল্লাহ পণ্ডিত জওয়াহের লাল নেহরুকে ন্যাশনাল কনফারেন্সের বার্ষিক অধিবেশনে বিশেষ অতিথি করেন। এভাবে ন্যাশনাল কনফারেন্স কংগ্রেসের সুরে সুর মেলানোর পথ অবলম্বন করে। অন্য দিকে ২৩ মার্চ, ১৯৪০ সালে লাহোরে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের অধিবেশনে মুসলিম কনফারেন্সের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। ওই দলে জম্মু, শ্রীনগর, মোজাফফরাবাদ, পুঞ্ছ ও মিরপুরের পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব ছিল। এভাবে মুসলিম কনফারেন্স প্রকাশ্যে মুসলিম লীগের পাশে এসে দাঁড়ায়।

১৯৪৪ সালে কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ শ্রীনগর সফর করেন। তিনি শেখ আবদুল্লাহকে পুনরায় মুসলিম কনফারেন্সে ফিরে আসার আমন্ত্রণ জানান। শেখ আবদুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করেন। ১৭ জুন, ১৯৪৪ সালে শ্রীনগরে মুসলিম কনফারেন্সের বার্ষিক অধিবেশনের বিশেষ অতিথি ছিলেন কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। এসব ঘটনার পটভূমিতে ১৯ জুলাই, ১৯৪৭ মুসলিম কনফারেন্স শ্রীনগরে তাদের অধিবেশনে পাকিস্তানের সাথে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব পাস করে।

প্রফেসর এম নাজির আহমদ তেশনার ‘তারিখে কাশ্মির (কাশ্মিরের ইতিহাস ৩২৪ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে ২০২১)’ গ্রন্থের তথ্যানুযায়ী, সরদার ইবরাহিম খানের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন চৌধুরী হামিদুল্লাহ খান। অন্য দিকে জম্মু থেকে চৌধুরী গোলাম আব্বাস, ডাক্তার গোলাম আহমদ জাররাহ, মিরপুরের কর্নেল আলি আহমদ শাহ ও চৌধুরী মুহাম্মদ রফিক, পুঞ্ছের হাজি মুহাম্মদ, মোজাফফরাবাদের মুহাম্মদ আলি কানওয়াল, শ্রীনগরের খাজা আহমদুল্লাহ রেজা, রাজৌরির মির্জা ফকির মুহাম্মদ, চৌধুরী নুর হোসাইন, প্রফেসর ইসহাক কুরাইশি, সোপুরের খাজা গোলাম মহিউদ্দিনসহ রাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলের মুসলমান প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের সাথে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব অনুমোদনকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

পাকিস্তান ১৪ আগস্ট, ১৯৪৭ সালে আত্মপ্রকাশ করে। কিন্তু কাশ্মিরি মুসলমানরা ১৪ আগস্টের অনেক আগেই পাকিস্তানি হয়ে গিয়েছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে, ১৯ জুলাইয়ের প্রস্তাব অনুমোদনকারী নেতারা নিজেরাই স্বাধীন কাশ্মিরের সমর্থক হয়ে যান। তবে তারা পাকিস্তানের বিরোধী ছিলেন না। ঐতিহাসিক বাস্তবতা এটাই যে, কাশ্মিরিদের স্বাধীনতা ১৯৩১ সালের ১৪ আগস্ট শুরু হয়েছিল। আজো জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের সব অঞ্চলে ১৩ জুলাই কাশ্মিরি শহীদ দিবস পালন করা হয়। এরা সেই সব শহীদ, যারা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর আগে শ্রীনগরে শহীদ হয়েছিলেন। আফসোস, আজ পাকিস্তান সরকারের কিছু মুসলিম লীগ মন্ত্রী দাবি করেন যে, তারা আজাদ কাশ্মিরের অধিবাসীদের পুরোপুরি কাশ্মিরি মনে করেন না। কারণ তাদের সংগ্রাম অধিকৃত কাশ্মিরের মানুষের চেয়ে কম। তাদের ভাষাও ভিন্ন।

১৯ জুলাই, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের সাথে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব অনুমোদনকারীদের দীর্ঘ তালিকায় শ্রীনগর থেকে জম্মু এবং মিরপুর থেকে মোজাফফরাবাদ পর্যন্ত রাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের দিকে লক্ষ্য করুন, এতে প্রতিটি ভাষাভাষী মানুষ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ১৩ জুলাই কাশ্মিরি শহীদ দিবস শুধু শ্রীনগরেই নয়, রাওলাকোট ও বাগ থেকে শুরু করে নিলম উপত্যকা ও জম্মুতেও পালন করা হয়।

কাশ্মিরিদের ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ পাকিস্তানের অযোগ্য শাসকগোষ্ঠী যেন ভুলে না যায় যে, ১৯৮৭ সালে অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরের রাজ্য নির্বাচনে কারচুপিই ভারত সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের জন্ম দিয়েছিল। শ্রীনগর থেকে সৈয়দ ইউসুফ শাহ নামে একজন প্রার্থীর সাথে কারচুপি করা হলে, তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধকারীদের জন্য সৈয়দ সালাহুদ্দিনরূপে আবির্ভূত হন। ভারত সরকার অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরে যে ভুল করেছিল, সেই একই ভুল যেন আজাদ কাশ্মিরে করা না হয়। শক্তির ব্যবহার কাশ্মিরে আরো বেশি বিদ্রোহের জন্ম দেবে। বিশ্বাস না হলে সৈয়দ সালাহুদ্দিনকে জিজ্ঞাসা করুন। নির্বাচনে কারচুপি আরো বেশি প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। লাখ লাখ কাশ্মিরি শহীদের দোহাই দিয়ে বলছি, আজাদ কাশ্মিরে জোরজুলুম ও কারচুপির পথ বেছে নেবেন না।

লেখক: হামিদ মীর, পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট পাকিস্তানের উর্দু দৈনিক জং থেকে ভাষান্তর: ইমতিয়াজ বিন মাহতাব

কাশ্মীরে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং বিদ্রোহী তৎপরতা চলছে
কাশ্মীরে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং বিদ্রোহী তৎপরতা চলছে। ছবি: বিবিসি

Sunday, July 5, 2026

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ‘প্রজনন গণহত্যা’ : লক্ষ্য মা ও শিশু

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে অব্যাহতভাবে পরিকল্পিত ‘প্রজনন গণহত্যা’ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। ইসরাইলিরা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, মা ও শিশুদের হত্যা এবং পরিবেশকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে গেছে যা ফিলিস্তিনিদের বন্ধ্যাত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ফিলিস্তিনি নারীবাদী গোষ্ঠীর নতুন একটি প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইল এই বর্বরতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে, যার উদ্দেশ্য ফিলিস্তিন থেকে জীবনের চিহ্ন মুছে ফেলা।

জাতিসঙ্ঘের তদন্ত কমিটি নিশ্চিত করেছে, ইসরাইলি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের টার্গেট করছে। স্নাইপার ও ড্রোন দিয়ে নিখুঁত নিশানা, বন্দিশালায় নির্যাতন, প্রজনন সহিংসতা এবং স্কুল-হাসপাতাল ধ্বংসের মাধ্যমে শিশুদের ওপর চরম আঘাত হানা হচ্ছে।

ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত ২১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে এবং কমপক্ষে ১৫ হাজার শিশু তাদের মাকে হারিয়েছে। আল-নাসর শিশু হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় ইসরাইল। পরে হাসপাতালটির ইনকিউবেটরে থাকা চার শিশুর পচাগলা লাশ উদ্ধার করা হয়।

ফিলিস্তিনি নারীবাদী গোষ্ঠী ১৮৮ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যার শিরোনাম ‘একটি শিকারী রাষ্ট্র : ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের পদ্ধতিগত যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা’।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি নারীদের ওপর পদ্ধতিগত যৌন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা চালাচ্ছে ইসরাইল। পানি ও স্যানিটারি পণ্য আটকে দেয়ায় তীব্র সঙ্কটে পড়েছেন নারীরা। বোমাবর্ষণে ধ্বংস হওয়া হাসপাতালে জ্বালানি, বিদ্যুৎ বা চেতনানাশক কিছুই নেই।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অ্যানেস্থেশিয়া ছাড়াই সেখানে সিজারিয়ান অপারেশন করতে হচ্ছে। প্রসূতি মায়েরা ডায়াপার, খাবার ও পানি পাচ্ছেন না। আইভিএফ ক্লিনিক ধ্বংস এবং সাদা ফসফরাসের মতো বিষাক্ত অস্ত্রের ব্যবহার ফিলিস্তিনিদের প্রজনন ক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ‘ব্যাপক অনাহার, বাস্তুচ্যুতি ও মহামারীর মধ্যেও সন্তান জন্মদান এবং তাদের বাঁচিয়ে রাখার এক অসম্ভব লড়াই একা কাঁধে বয়ে বেড়াচ্ছেন ফিলিস্তিনি মায়েরা।’

রানিয়া আবু আনজা নামে এক নারী ১০ বছর চিকিৎসার পর যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। কিন্তু ইসরাইলি বিমান হামলায় তার স্বামী ও দুই সন্তানই নিহত হয়। জোমানা আরাফা নামে আরেক মা যমজ সন্তান জন্ম দেন। এর ঠিক দু’দিন পর তথাকথিত নিরাপদ অঞ্চলেই তিনি এবং তার দুই শিশু ও মা নিহত হন। সন্তানদের জন্মনিবন্ধন আনতে বাইরে যাওয়ায় বেঁচে যান তার স্বামী।

ইসরাইল মূলত ফিলিস্তিনিদের বংশবৃদ্ধিকে ভয় পায়। এর আগে ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ার বলেছিলেন যে, তার দুঃস্বপ্ন শুরু হয় যখন তিনি ভাবেন ‘আরেকটি ফিলিস্তিনি শিশু জন্ম নেবে’।

জাতিসঙ্ঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ বলেছেন, ‘এটি এমন এক ব্যবস্থার কলঙ্কজনক দলিল যা ফিলিস্তিনিদের জীবন, শরীর ও পরিবারকে দমনের হাতিয়ারে পরিণত করেছে।’

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

মায়ের কোলে এক ফিলিস্তিনি শিশু
মায়ের কোলে এক ফিলিস্তিনি শিশু। সংগৃহীত

Monday, June 22, 2026

ইসরাইলকে যুদ্ধের বিদেশী অর্থের বৃহত্তম যোগানদাতা জার্মান-মার্কিন কোম্পানি

জার্মান বীমা প্রতিষ্ঠান আলিয়াঞ্জ এবং তাদের সহযোগী মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান পিমকো ইসরাইলি সরকারি বন্ডে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে, যার ফলে তারা ইসরাইলের অন্যতম বৃহৎ বিদেশী বন্ডধারক হিসেবে উঠে এসেছে।

গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর সামরিক অভিযানের মধ্যে বিশ্বমঞ্চের এক করপোরেট জায়ান্ট ইসরাইলের সবচেয়ে বড় বিদেশী অর্থদাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই একটি কোম্পানি ইসরাইলি সরকারের কাছ থেকে যে পরিমাণ বন্ড বা ঋণপত্র কিনেছে, তা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ বিশ্বের অন্য সব দেশের মোট কেনার চেয়েও বেশি।

এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানটি জার্মানির বীমা ও আর্থিক পরিষেবা জায়ান্ট ‘আলিয়াঞ্জ’ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক এক সহযোগী বন্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ‘পিমকো’।

আমস্টারডাম-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা প্রফেন্দোর বরাতে জানা গেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ আলিয়াঞ্জ গ্রুপ ইসরাইলি সরকারের প্রায় ২৬৭ কোটি ডলারের বন্ড নিজেদের কবজায় নিয়েছে। সহজ ভাষায়, যুদ্ধকালীন ভয়াবহ মুহূর্তে ইসরাইলের মোট বিদেশী বন্ডের অর্ধেকের বেশি ছিল এই একটি মাত্র যৌথ কোম্পানির হাতে, যা বাকি গোটা বিশ্বের সম্মিলিত বিনিয়োগকেও হার মানায়।

একটি দেশের সরকার যখন আন্তর্জাতিক আদালত ও জাতিসঙ্ঘের তদন্তের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গণহত্যা চালায়, তখন সেই দেশের বন্ড কেনা আইনি ও নৈতিক ঝুঁকির বিষয়। কিন্তু রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধকে পুঁজি করে অধিক মুনাফার লোভ সামলাতে পারেনি এই পশ্চিমা কোম্পানি।

যুদ্ধের বাজারে নিজেদের বন্ডের সুদ এক লাফে ৫.৫৬ শতাংশে বাড়িয়ে দেয় ইসরাইল, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল মাত্র ১.৪ শতাংশ। এই বাড়তি মুনাফার লোভেই ঝাঁপিয়ে পড়েছে তারা।

মানবাধিকার সংস্থা ব্যাংকট্র্যাক-এর কর্মী ম্যাক্স হ্যামার বলছেন, গাজায় চলমান গণহত্যার মুখেও পিমকোর এই বিনিয়োগ প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। জাতিসঙ্ঘের কর্মকর্তারাও স্পষ্ট করেছেন, ইসরাইলকে অর্থ দেয়ার অর্থই হলো যুদ্ধাপরাধ ও ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনে সরাসরি অংশ নেয়া।

তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে ইসরাইলের যুদ্ধ চাঙ্গা করতে পশ্চিমা পুজির সরবরাহ বেড়েছে। এই সময়ে ইসরাইলি বন্ডে বিদেশী বিনিয়োগ ১১৬ কোটি ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৪৯১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। আর এই পুরো বিনিয়োগের ৯০.৭ শতাংশই এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির পকেট থেকে। ২০২৪ সালে আলিয়াঞ্জের বিনিয়োগ যেখানে ছিল মাত্র ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, এক বছরের মাথায় তা আকাশচুম্বী আকার নেয়। ফিলিস্তিনের গাজা, লেবানন কিংবা ইরানের ওপর আগ্রাসন চালাতে ইসরাইলের যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, তার বড় জোগানদার এই মার্কিন-জার্মান অক্ষ।

যদিও এই যুদ্ধের তহবিল জোগানোর ক্ষেত্রে ইউরোপের অনেক দেশ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আয়ারল্যান্ড, ডেনমার্ক ও নরওয়ের বেশ কিছু বড় ফান্ড ইসরাইলি বন্ড ও ব্যাংক থেকে নিজেদের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এমনকি মানবাধিকার কর্মীদের আন্দোলনের মুখে আলিয়াঞ্জ ব্রিটেনের মাটিতে ইসরাইলি অস্ত্র কোম্পানি এলবিট সিস্টেমসের বীমা সুবিধা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু পর্দার আড়ালে তারা ইসরাইলি সরকারের হাতে ঠিকই তুলে দিয়েছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার।

প্রকৃতপক্ষে, আলিয়াঞ্জ-পিমকোর আসল বিনিয়োগ ২৬৭ কোটি ডলারের চেয়েও অনেক বেশি, কারণ তারা বিভিন্ন বিদেশী ক্লায়েন্ট ও পেনসন ফান্ডের হয়েও গোপনে বিপুল পরিমাণ ইসরাইলি বন্ড কিনেছে। ফলে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা এই নির্মম যুদ্ধের পেছনে মার্কিন ও পশ্চিমা পুজিই যে মূল চালিকাশক্তি, তা আরো একবার বিশ্বমঞ্চে উন্মোচিত হলো।

সূত্র : মিডলইস্ট আই
ইসরাইলি সৈনিক
ইসরাইলি সৈনিক। সংগৃহীত

Wednesday, June 17, 2026

মাঝরাতে ঘুম ভাঙলে নানান চিন্তা আসে কেন?

রাতে স্বাভাবিকভাবে ঘুমিয়ে পড়ার পর ২টা থেকে ৩টা নাগাদ হঠাৎ আপনার ঘুম ভেঙে যায়? কিংবা নিদ্রায় ব্যাঘাত ঘটলে এই উদ্বেগে ভোগেন যে প্রয়োজনমতো ঘুম হচ্ছে না?

কারো কারো মতে স্ট্রেস বা মানসিক চাপের কারণে এমনটা হতে পারে। আবার কারো ক্ষেত্রে এটা একটা গুরুতর সমস্যা। তবে এটা ঠিক যে হঠাৎ ঘুম কমে যাওয়া বিভিন্ন সমস্যার ইঙ্গিত বহন করে।

ঘুম গভীর ও পর্যাপ্ত হওয়া এবং স্ট্রেসের পরিমাণ যতটা সম্ভব কম রাখা নয়া উদ্যমে পরের দিন শুরুর জন্যই শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও এটা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকরাও ভালো এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম ও বিশ্রামের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ঘুম একটা নিরবিচ্ছিন্ন অবস্থা নয়। এর বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে, যেমন লাইট স্লিপ বা পাতলা ঘুম, অর্থাৎ যে অবস্থায় ঘুমিয়ে থাকলেও আমরা সতর্ক থাকি।

তাছাড়া রয়েছে- গভীর ঘুম এবং স্বপ্ন (র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ বা আরইএম স্লিপ) দেখার পর্যায়।

এ চক্রটি প্রতি ৯০ মিনিট অন্তর পরিবর্তিত হয়। আরইএম পর্যায় বলতে বোঝায় ‘র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ’। অর্থাৎ যে সময় চোখের তারার ঘোরাফেরা লক্ষ্য করা যায়। এই পর্যায়ের সাথে আমাদের স্বপ্ন দেখার সম্পর্ক রয়েছে। স্মৃতির প্রক্রিয়াকরণ ও একত্রিত করার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে।

সাধারণত, রাতের প্রথম দিকে গভীর ঘুম হয়, আর ভোরের দিকে ঘুমের মাঝেও আমরা সতর্ক অবস্থায় থাকি। ২টা থেকে ৩টা নাগাদ মূলত হাল্কা ঘুম হয় এবং ছোটখাটো কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা থাকে।

অনেক সময় মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন, লাইফস্টাইল বা জীবনযাত্রায় বদল কিংবা স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণে ঘুম কমে যেতে পারে। অনেক সময় একবার ঘুম ভেঙে গেলে তারপর ঘুমানোও কঠিন হয়ে পড়ে।

এর কারণ কী, বিষয়টা কতটা উদ্বেগের এবং চিকিৎসকরা সে সম্পর্কে কী বলছেন জেনে নেয়া যাক।

২টা থেকে ৩টা নাগাদ ঘুম হারানোর কারণ

রাত ২টা থেকে ভোর ৩টার মধ্যে ঘুম হারানোর নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবিক ঘড়ি।

সার্কাডিয়ান ছন্দ বলতে শরীরের এমন এক প্রাকৃতিক ও অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে বোঝায়, যা ২৪ ঘণ্টায় আমাদের ঘুম ও সজাগ থাকার চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে।

ভোরের দিক থেকে আমাদের শরীর ধীরে ধীরে পরের দিনের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। কর্টিসল নামক যে হরমোন রয়েছে, সেটা আমাদের জেগে উঠতে সাহায্য করে।

অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন হওয়া কর্টিসল এক প্রকার অত্যাবশ্যকীয় স্টেরয়েড হরমোন যা আমাদের মানসিক চাপ-সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়া, বিপাক, রক্তচাপ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। এটা শরীরের সার্কাডিয়ান ছন্দ মেনে চলে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কর্টিসলের মাত্রা এত ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় যে আমরা সেটা বুঝতে পারি না।

কিন্তু যদি আপনি ক্রমাগত মানসিক চাপের সম্মুখীন হন, উদ্বিগ্ন থাকেন বা ঘুমের সমস্যা দেখা দেয় তাহলে হতে পারে যে আপনার শরীরে কর্টিসলের মাত্রা ইতোমধ্যে বেশি।

কর্টিসলের মাত্রা বাড়লে সতর্ক হওয়ার জন্য মস্তিষ্কে একটা সঙ্কেত যায় যা ঘুমকে ব্যাহত করে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাতে হঠাৎ ঘুম থেকে ওঠাটাই কিন্তু একমাত্র সমস্যা নয়। একবার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটার পর আবার ঘুমিয়ে পড়তে না পারাটাও সমস্যার।

এর নেপথ্যে ক্রমাগত দুশ্চিন্তা, কাজ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হওয়া বা ‘ঘুম না পাওয়া’ সম্পর্কে উদ্বেগের মতো বিষয়গুলো কাজ করতে পারে।

মুম্বাই লাগোয়া পানভেলের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: ঋষভ ভার্মার বলেন, ‘এটা আপনার শরীরের জৈবিক ঘড়ির ওপর নির্ভর করে। আপনি যদি সাধারণত রাত ১০ থেকে ১১টায় ঘুমাতে যান, তবে ভোর ৩টা আপনার শরীরের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। কারণ ততক্ষণে ঘুমের বেশিভাগটাই সম্পন্ন হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাত ২টা থেকে ৩টা নাগাদ আপনার শরীর ধীরে ধীরে পরের দিনের জন্য প্রস্তুত হতে শুরু করে। দেহের তাপমাত্রা সর্বনিম্ন স্তরে চলে যায়, ঘুম পাতলা হয়ে আসে এবং একইসাথে শরীরের অভ্যন্তরীণ সিস্টেম ধীরে ধীরে আবার সক্রিয় হতে থাকে। তাই সেই সময় আপনার পাশে শুয়ে থাকা ব্যক্তির একটু নড়াচড়া বা সামান্য শব্দ কিংবা আপনার মাথায় যে চিন্তা চলছে তা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।’

ঘুমে এরকম ব্যাঘাত স্বাভাবিক কি-না, এই প্রশ্নের জবাবে ডা: ভার্মা বলেন, ‘এটা খুবই স্বাভাবিক। লাখ লাখ বছর আগে, রাতে কয়েক ঘণ্টা জেগে থাকা আমাদের পূর্বপুরুষদের আশপাশের বিপদ সম্পর্কে সচেতন হতে সাহায্য করত। ঘুম নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি রাতে দুই থেকে চারবার জাগেন।’

জেগে থাকার এই চক্র সাধারণত কয়েক সেকেন্ডের হয় এবং তারপর আবার আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। পরদিন সকালে এটা মনে পড়ে না। কিন্তু যখন রাতে আমরা সম্পূর্ণ সজাগ থাকি, মস্তিষ্ক কাজ করে তখন আবার ঘুমিয়ে পড়া প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। সমস্যার সূত্রপাত এখান থেকেই।

সার্কাডিয়ান ছন্দ ও ঘুমের চক্র

মস্তিষ্কের সুপ্রাকিয়াসম্যাটিক নিউক্লিয়াস নামক অংশ সার্কাডিয়ান ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে। এটা আমাদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে অবস্থিত একটা ক্ষুদ্র অংশ। শরীরের এই অংশটা দিন-রাত চক্রের সাথে আমাদের বিভিন্ন কার্যকলাপের একটা সমন্বয় তৈরি করে।

ভোরের দিকে আমাদের শরীর ঘুম থেকে ওঠার প্রস্তুতি নেয়। সেই সময় কর্টিসলের মাত্রা কম থাকলেও ঘুম থেকে ওঠার কয়েক ঘণ্টা আগে তা বাড়তে থাকে।

এই সময় গভীর ঘুমের পরিমাণ কমে যায় এবং আরইএম স্লিপ বেড়ে যায়। আরইএম স্লিপ মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ বৃদ্ধি করে। তাই এই পর্যায়ে জেগে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

ঘুমের চক্র এবং জেগে ওঠার সাথে এর সম্পর্কের বিষয়ে ডা: ভার্মা বলেছেন, ‘আমাদের ঘুমের চক্র রয়েছে এবং প্রতিটা চক্র প্রায় ৯০ মিনিট দীর্ঘ। তবে রাত বাড়ার সাথে সাথে ঘুমের প্রকৃতি বদলায়।’

রাতের প্রথমার্ধে অর্থাৎ রাত ২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সাধারণত পাতলা ঘুম হয় এবং আরইএম স্লিপ দেখা যায়। ভোর ৩টার কাছাকাছি সময়টা হালকা ঘুম হয় বা আমরা স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখার কারণে মস্তিষ্ক ইতোমধ্যে বেশ সক্রিয় থাকে। তাই সামান্যতম ব্যাঘাতও ঘুম কাড়তে পারে।

রাতে ঘুমানোর ক্ষেত্রে হরমোন ও মস্তিষ্কের ভূমিকা কী?

কর্টিসলের পাশাপাশি অন্যান্য হরমোনগুলোর ভূমিকাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে আমরা মুম্বাইয়ের ওখার্ড হাসপাতালের কনসালট্যান্ট নিউরোলজিস্ট ডা: প্রশান্ত মাখিজার কাছে জানতে চেয়েছিলাম।

কর্টিসল ছাড়া অন্য কোনো হরমোন এর জন্য দায়ী জিজ্ঞেস করায় তিনি বলেছিলেন, ‘ঘুম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটা হরমোনের সম্মিলিত প্রভাব দেখা যায়। মেলাটোনিন, যা ঘুমের হরমোন হিসেবে পরিচিত, সেটা রাতের দিকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নিঃসরণ হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা ধীরে ধীরে কমে। মেলাটোনিনের মাত্রা কমলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।’

অন্যান্য হরমোনের ভূমিকা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘কর্টিসল একটা হরমোন যা অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন হয়। ঘুম থেকে ওঠার কয়েক ঘণ্টা আগে এর মাত্রা বেড়ে যায় এবং সেটা শরীরকে সজাগ রাখতে সাহায্য করে। অ্যাড্রেনালিন ও নোরড্রেনালিন হরমোন তীব্র সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে উদ্বেগ, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, প্যানিক ডিসঅর্ডার বা হঠাৎ জেগে ওঠার জন্য দায়ী হতে পারে।’

এছাড়া গ্রোথ হরমোন, ইনসুলিন ও প্রজনন হরমোনগুলোও ঘুমের গুণমানের ওপর পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলে।

ভোর ৩টায় ঘুম ভাঙার পর চিন্তা আসে কেন?

এই প্রশ্নের জবাবে ডা: প্রশান্ত মাখিজা বলেছেন, এর পেছনে একাধিক মনস্তাত্ত্বিক ও স্নায়বিক কারণ রয়েছে।

রাতের বেলা আমাদের আশপাশে কোলাহল কম, মন বিভ্রান্ত হওয়ার উপাদানও কম থাকে। তাই হঠাৎ ঘুম পাতলা হয়ে এলে আমাদের মস্তিষ্ক অসমাপ্ত কাজ, আর্থিক সমস্যা, কাজের চাপ বা ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তার দিকে বেশি মনোনিবেশ করতে শুরু করে।

ডা: মাখিজা বলেন, ‘আরইএম স্লিপের সময় আমাদের মস্তিষ্কের যে অংশটা সংবেদনশীল বিষয়গুলোর সাথে থাকে, সেটা সক্রিয় হয়ে ওঠে। তুলনামূলকভাবে যুক্তি এবং সমস্যা সমাধানের সাথে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের অংশ কম সক্রিয় থাকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই কারণে উদ্বেগ ও সমস্যাগুলো দিনের চেয়ে রাতে আরো বেশি গুরুতর বলে মনে হতে পারে। উদ্বেগজনিত ব্যাধি, ডিপ্রেশন, দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস ও বার্নআউটের সাথে যুঝছেন, এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এরকম হওয়াটা স্বাভাবিক।’

মাঝরাতে ঘুম ভেঙে আবার না ঘুমোতে পারার বিষয়টা ব্যক্তি বিশেষে আলাদা। এই প্রসঙ্গে ডা: মাখিজা জানিয়েছেন, এসব ক্ষেত্রে কেউ কেউ যেমন তৎক্ষণাৎ ঘুমিয়ে পড়েন, কেউ আবার এই অবস্থায় কয়েক ঘণ্টা জেগে থাকেন।

তিনি বলেন, ‘এটা মূলত আমাদের মানসিক ও শারীরিক উদ্দীপনার স্তরের ওপর নির্ভর করে। যারা ঘুম ভাঙার পর শান্ত থাকেন, তারা সহজেই আবার ঘুমিয়ে পড়তে সক্ষম হন। তবে যারা ভাবেন- আমাকে ঘুমাতে হবে বা আগামীকাল হয়ত খারাপ কাটতে পারে, তাদের মানসিক চাপ বেড়ে যায়। পুনরায় ঘুম আসতে তাদের সময় লাগে।’

ডা: মাখিজা আরো বলেন, ‘উদ্বেগ, বিষণ্নতা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, স্লিপ অ্যাপনিয়া, রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম, থাইরয়েড, অন্যান্য শারীরিক সমস্যা বা নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণেও কেউ কেউ পুরো রাত জেগে থাকেন।’

রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম এক জাতীয় স্নায়ুজনিত সমস্যা যেখানে পায়ে অস্বস্তি বা যন্ত্রণা অনুভব হতে পারে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি ক্রমাগত পা ক্রমশ নাড়ান।

এ ক্ষেত্রে বয়স ও ঘুমের অভ্যাস কতটা প্রভাব ফেলে জানতে চাওয়ায় ওই বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ‘হ্যাঁ, এরা একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। আমাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে পাতলা ঘুমের পর্যায় আরো বিক্ষিপ্ত হতে থাকে। গভীর ঘুমের পরিমাণ কমে যাওয়ায় বয়স্ক ব্যক্তিদের রাতে ঘুম থেকে ওঠার সম্ভাবনা বেশি থাকে।’

ডা: মাখিজা বলেন, ‘কারো কারো অভ্যাস তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া। আবার অনেকের দেরি করে ওঠার অভ্যাস। তাদের দেহের প্রাকৃতিক জৈবিক ঘড়ির ওপর নির্ভর করে ঘুম এবং জেগে থাকার সময় পরিবর্তিত হতে পারে। অনিয়মিত কাজের সময়, শিফট ডিউটি বা অবিচ্ছিন্ন ভ্রমণ আমাদের সার্কাডিয়ান ছন্দের ব্যাঘাত ঘটাতে এবং রাতে ঘুমের ব্যাঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।’

যে সময় আমরা খাবার খাচ্ছি তা ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে কি-না জানতে চাওয়ায় তিনি বলেছেন, ‘ঘুমের সাথে এর কিছু সম্পর্ক রয়েছে। তাড়াতাড়ি খাবার খেলে মাঝরাতে খিদে পেতে পারে এবং রক্তে সুগারের মাত্রা কমে যাওয়ায় ঘুমও ভাঙতে পারে।’

ডা: মাখিজা আরো বলেন, ‘ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভারী খাবার খেলে বদহজম, অ্যাসিডিটি, পেটে ফাঁপাভাব বা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটা ঘুমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। অত্যাধিক অ্যালকোহল সেবন করলে রাতের প্রথম দিকে ঘুম হলেও পরে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া বিকেল বা সন্ধ্যায় অতিরিক্ত ক্যাফিন খাওয়াও ঘুমে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।’

হাইড্রেশন ও শরীরের তাপমাত্রা এই ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তাও জানতে চাওয়া হয়েছিল। জবাবে ডা: মাখিজা বলেছেন, ‘শরীরে পানির অভাব হলে ড্রাই মাউথ (মুখের ভেতর শুষ্ক অনুভব করা) হতে পারে। তৃষ্ণা, মাথা ব্যথা বা অস্থিরতাও অনুভূত হতে পারে। ঘুমের সময় স্বাভাবিকভাবেই শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়। ঘর খুব গরম, আর্দ্র বা পরিবেশ অস্বস্তিকর হলেও ঘুম ব্যাহত হতে পারে। শব্দ হওয়া, আরামদায়ক গদি না হওয়া বা ঘরে ভালোভাবে বায়ু চলাচল না করলেও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘একজন চিকিৎসকের পক্ষেই স্বাভাবিক ঘুম আর অনিদ্রার মধ্যে পার্থক্য বোঝা সম্ভব। রাতে কিছু সময় ঘুম ভাঙা স্বাভাবিক এবং তাতে চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে যদি কোনো ব্যক্তি টানা জেগে থাকেন বা আবার ঘুমিয়ে পড়তে সমস্যা হয়, তাহলে তাকে মেইন্টেনেন্স ইনসোমিয়া বলে।’

স্ক্রিন টাইমের প্রভাব

ডা: ঋষভ ভার্মার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে স্ক্রিন টাইম, দেরি করে খাওয়া এবং অ্যালকোহল পান ঘুমের ধরণ বদলাতে পারে কি-না।

তিনি জানিয়েছেন যে এ তিনটি বিষয়ই ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে।

কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, ‘ভোর ৩টায় ঘুম ভাঙার একটা বড় কারণ অ্যালকোহল হতে পারে। অ্যালকোহল পান করলে প্রাথমিকভাবে ঘুম পেতে পারে, কিন্তু পরের তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে যখন যকৃৎ সেটাকে বিপাক করে, তখন তা উত্তেজক হিসেবে কাজ করতে শুরু করে। এটা আপনার ঘুমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে, বিশেষত যখন ভোরের দিকে লাইট স্লিপ সাইকেল চলে।’

বেশি রাতে খাওয়া বা ঘুমানোর আগে ভারী খাবার বা মিষ্টি জাতীয় কিছু খেলে তা হজম করার জন্য শরীরকে কাজ চালিয়ে যেতে হয়। তাছাড়া উচ্চ মাত্রায় চিনি আছে এমন খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তার কয়েক ঘণ্টা পর হঠাৎ সেই মাত্রা কমে যায়। রক্তে শর্করার মাত্রা কম থাকলে শরীরকে স্থিতিশীল রাখতে স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ হয়।

অন্যদিকে, গভীর রাতে ফোন বা ট্যাব ব্যবহার করলে চোখের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে। কারণ ফোনের স্ক্রিন থেকে নীল আলো বের হয়। ফলে মস্তিষ্ক ভাবতে থাকে এটা দিন এবং ঘুমের সাথে সম্পর্কিত যে প্রাকৃতিক সঙ্কেত রয়েছে সেখানেও এর প্রভাব পড়ে। সব মিলিয়ে ঘুমে বিঘ্ন ঘটে।

ভালো ঘুমের জন্য কী করতে পারি?

রাতে মস্তিষ্ক ক্রমাগত জেগে না থেকে যাতে ঘুমিয়ে পড়ে তার জন্য আমরা মগজকে প্রশিক্ষণ দিতে পারি। এক্ষেত্রে সন্ধ্যা থেকে প্রস্তুতি নেয়া, নিজেকে শান্ত করা এবং মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়া সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা দরকার। এক্ষেত্রে আমরা যা করতে পারি-

১. ঘুমাতে যাওয়ার এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে মোবাইল ও টিভি ইত্যাদির স্ক্রিন থেকে দূরে থাকতে হবে।

২. ঘুমানোর কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে ফোন, ট্যাব ও কম্পিউটার বন্ধ করে দিতে পারি। তার পরিবর্তে খুব বেশি আলো নেই এমন ঘরে গিয়ে আমরা বই পড়তে বা মন ছুঁয়ে যায় এমন গান শুনতে পারি। এতে আমাদের মস্তিষ্কে এই সঙ্কেত যাবে যে দিন শেষ হয়ে গিয়েছে।

৩. ঘুমানোর তিন ঘণ্টা আগে কী খাচ্ছি, সেদিকে মনোযোগ দেয়াও দরকার।

৪. ঘুমানোর আগে অ্যালকোহল পান করা এবং গভীর রাতে ভারী বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। খিদে পেলে রক্তে শর্করাকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে এমন খাবার যেমন-প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া দরকার। যদি রাত ২টা থেকে ৩টার সময় ঘুম ভেঙে যায়, তাহলে ২০ মিনিটের এই নিয়ম মেনে চলা যেতে পারে।

৫. সেই সময় ফোন ঘাঁটা চলবে না। কারণ যখনই দেখবেন যে ভোর সাড়ে ৩টা বা সোয়া ৩টা বাজে, তখনই মগজ হিসেব করবে আর কত ঘণ্টা ঘুম বাকি। এটা স্ট্রেস বাড়িয়ে তোলে। ওই সময় ঘুম ভাঙার পর যদি ২০ মিনিটের মতো বিছানায় শুয়েও ঘুম না আসে- তাহলে উঠে বসা এবং নিজেকে ধীরে ধীরে শান্ত করা দরকার।

৬. অন্য ঘরে গিয়ে বা আবছা আলোতে আরামদায়ক চেয়ারে বসা যেতে পারে, যাতে মনে শান্তি এবং স্বাচ্ছন্দ্য আসে। একটা সহজ কিছু যেমন ম্যাগাজিন পড়া বা ধীরে শ্বাস-প্রশ্বাস ফেলার ব্যায়াম করা যায়। চোখের পাতা ভারী না হওয়া পর্যন্ত বিছানায় ফিরে যাওয়া চলবে না। এটা মনকে জানান দেবে যে, বিছানাটা আসলে আরামে ঘুমের জন্য, চিন্তা করার জন্য নয়।

৭. জীবনযাত্রায় বড়-সড় পরিবর্তন আনতে, ডায়েট পরিবর্তন করতে, ওষুধ খেতে বা ব্যায়াম করতে হলে চিকিৎসক বা যোগ্য প্রশিক্ষকের পরামর্শ নেয়া দরকার।

৮. প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে শারীরিক পরীক্ষা করাতে হবে। যে লক্ষণ চোখে পড়েছে সে বিষয়ে ডাক্তারকে জানানো দরকার এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাত্রায় বদল আনতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই নিজে নিজে ওষুধ খেলে তা বিপদ ডেকে আনতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

ঘুমে ব্যাঘাতের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে
ঘুমে ব্যাঘাতের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সংগৃহীত

সময় বদলালেও যে খাবার এখনো হারিয়ে যায়নি

‘গরুর গোশতের শুঁটকি’- একসময় যে খাবারটি মূলত গ্রামের ঘরোয়া সংরক্ষণ পদ্ধতির অংশ ছিল, এখন সেটিই ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে অনলাইন ব্যবসা, ফুড ভ্লগ আর শহুরে খাবারের তালিকায়।

বিশেষ করে ঈদুল আজহার সময় কোরবানির গোশত সংরক্ষণের উপায় হিসেবে অনেক পরিবার গরুর গোশতের শুঁটকি তৈরি করতো।

আগেকার দিনে আজকের মতো ধনী-গরীব নির্বিশেষে ঘরে ঘরে রেফ্রিজারেটর ছিল না। তাই, মানুষ তখন গোশতে লবণ, হলুদ ও বিভিন্ন মসলা মাখিয়ে রোদে শুকাতো। এতে গোশত দীর্ঘদিন ভালো থাকতো এবং পরে রান্না করেও খাওয়া যেত।

উত্তরাঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চল ও কিছু গ্রামীণ এলাকায় যুগ যুগ ধরে এভাবেই মাছের পাশাপাশি গোশতের শুঁটকিও করা হতো এবং কোথাও কোথাও এখনো তা টিকে আছে।

শুধু বাংলাদেশেই নয়, এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রচলন আছে এবং রোদে বা কৃত্রিম উপায়ে শুকানো গোশতের বেশ কদরও রয়েছে বিশ্বজুড়ে।

রোদ, ধোঁয়া আর স্মৃতিতে টিকে থাকা এক খাবার

সময় বদলেছে। রেফ্রিজারেটরের বদৌলতে বদলেছে খাবার সংরক্ষণের পদ্ধতিও। কোরবানির ঈদে গোশত রান্না ও বিতরণ করার পর এখন আর মানুষকে সেগুলো সংরক্ষণ করা নিয়ে ভাবতে হয় না।

কিন্তু কেউ কেউ আছেন, যাদের গরুর গোশতের শুঁটকির প্রতি আগ্রহ কমেনি। সেকারণেই এই রেফ্রিজারেটরের যুগেও তারা নিজেদের খাওয়ার জন্য গরুর গোশতের শুঁটকি তৈরি করেন।

আর এটি বোঝা যায় অনলাইনে গরুর গোশতের শুঁটকি বিক্রির হিড়িক দেখে। এটি এখন হলফ করে বলা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন ব্যবসার কারণেও এটি নতুন করে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। অনেকেই এখন এটিকে ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবেও তুলে ধরছেন।

বর্তমানে যশোরের বেনাপোলে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা মো: কাউসার আহমেদ, যার জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর জেলায়। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, ছোটবেলায় তিনি কোরবানির ঈদে তাদের গ্রামের প্রত্যেক ঘরে ঘরেই গরুর গোশতের শুঁটকি বানাতে দেখতেন। কারণ তখন ফ্রিজ ছিল না।

গরুর গোশতের শুঁটকি তৈরির জন্য সাধারণত গোশত পাতলা বা ছোট টুকরো করে কাটা হয়। এরপর লবণ, মরিচ, হলুদসহ বিভিন্ন মসলা মাখিয়ে কয়েকদিন রোদে শুকানো হয়।

কাউসার আহমেদ নিজেও নানা ধরনের খাবার রান্না করতে বা নতুন নতুন খাবার নিয়ে পড়াশোনা করতে পছন্দ করেন। তিনি তার স্মৃতি থেকে বলছিলেন, ‘সবসময় যে হলুদ-মরিচ মাখানো হতো, তা না। শুধু লবণ দিয়েও মেটালের চিকন তারের মাঝে ঝুলিয়ে কড়া রোদে দেয়া হতো।’

কোথাও কোথাও ধোঁয়ায় শুকানোর পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়। এতে গোশত বা মাছ সরাসরি আগুনে পোড়ানো হয় না। বরং, আগুনের একটু ওপরে বা পাশে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে আগুনের ধোঁয়া ও তাপে পানি কমে গিয়ে ধীরে ধীরে গোশত বা মাছ শুকিয়ে যায়।

বাংলাদেশের কিছু গ্রামীণ এলাকায়, বিশেষ করে যেখানে দীর্ঘদিন খাবার সংরক্ষণের প্রয়োজন হতো, সেখানে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। এতে এক ধরনের আলাদা ধোঁয়ার স্বাদও যোগ হয়।

কাউসার আহমেদ এই প্রক্রিয়ায়ও শুঁটকি করতে দেখেছেন জানিয়ে বলেন, ‘গ্রামের মাটির চুলায় যখন রান্না হতো, সেই চুলার উপরে একইভাবে গোশত ঝুলিয়ে রাখা হতো। রান্নার যে তাপ, তাতে সেই রোদের কাজ হয়ে যেত। যারা স্মোকি ফ্লেভার চান, তারা এভাবে করতো।’

তিনি জানান, এভাবে গরুর গোশতের শুঁটকি করতে অনেক সময় দিতে হয় এবং সেই সময়টা দেয়া অনেকের জন্য এখন কঠিন।

তিনি হাসতে হাসতে বলেন, আগে এই শুঁটকি খেতে হলে এত কষ্ট করে সব নিজেরই করা লাগতো। এখন যেকোনো ঐতিহ্যবাহী খাবার অনলাইনে পাওয়া যায়।

চাঁদপুরের স্থানীয় সাংবাদিক কাদের পলাশ, যিনি সেখানকার ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে কাজও করেছেন, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন যে তিনিও তার মা-চাচিদের কোরবানি এলেই গোশতের শুঁটকি তৈরি করতে দেখেছেন। কিন্তু গত ২০ বছর ধরে তার পরিবারের আর কেউ তা বানান না।

প্রয়োজন ফুরিয়েছে, টিকে আছে স্বাদ ও ঐতিহ্য

এটি স্পষ্ট যে গরুর গোশত সংরক্ষণের পুরোনো পদ্ধতি ‘শুঁটকি’ অনেকের কাছে শুধু একটি খাবার না; বরং, পারিবারিক ও আঞ্চলিক ঐতিহ্যের অংশ।

দিনের পর দিন রোদে-ধোঁয়ায় গোশত শুকিয়ে আসছে দিনের জন্য সংরক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তা এখন ফুরিয়েছে। তবুও এটি টিকে রয়েছে এর স্বাদ ও ঐতিহ্যের কারণে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো: নিজামুল হক ভূঁইয়া এ নিয়ে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে ফ্রিজ অপ্রতুল ছিল। অনেক পরিবারের কেনার সামর্থ্যও ছিল না। তখন মানুষ মাছ-গোশত শুঁটকি করে রেখে দিতো।

তিনি বলেন, ‘অনেকে এখনো সেই আগের প্রসেসটাই ফলো করছে বা ওই খাদ্যসংস্কৃতিকে রক্ষা করছে, তা মূলত এর (গরুর গোশতের শুঁটকির) স্বাদের কারণে।’

তবে তিনি মনে করেন, যেকোনো খাবার আসলে মানুষের অভ্যাসের ব্যাপার।

‘বরিশাল অঞ্চলে সেভাবে শুঁটকি খায় না, চরাঞ্চলগুলোতে অনেকে খায়। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, নেত্রকোনা– এই বেল্টে শুঁটকি খায়। চট্টগ্রাম মানেই শুঁটকি। এর মূল কারণ, হয়তো তাদের পূর্ব-পুরুষরা শুঁটকি খেত। অথচ সেখানেও কিন্তু সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়, সেখানকার মাছ রফতানি করা হচ্ছে। অর্থাৎ, যেখানে সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, সেখানেই মানুষ খায়।’

গরুর গোশতের শুঁটকি কিভাবে এসেছে, এর ‘আভিধানিক কোনো ব্যাপার নেই’।

তবে আগে মানুষ ‘গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গেলে প্রসেস করে শুঁটকি নিয়ে যেত। শুধু গরুর গোশত না, মুরগির গোশত, মহিষের গোশতও নিয়ে যেত,’ যোগ করেন এই অধ্যাপক।

শুঁটকির পশ্চিমা সংস্করণ 'জার্কি'

এই অঞ্চলের পরিচিত গরুর গোশতের শুঁটকির সাথে মিল রয়েছে পশ্চিমা বিশ্বের জনপ্রিয় খাবার বিফ জার্কির। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এটি বেশ পরিচিত একটি খাবার।

বিফ জার্কি বলতে সাধারণত এমন শুকনো গরুর গোশতকে বোঝানো হয়, যা পাতলা করে কেটে মসলা বা সস মাখিয়ে মেরিনেট করে পরে শুকানো হয়, যাতে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়।

এটি সাধারণত স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়া হয়। তবে এই খাবারের ধারণা অনেক পুরোনো।

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি প্রকাশনায় বলা হয়েছে, ‘জার্কি’ (শুকনো গোশত) মূলত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার আদিবাসীদের গোশত সংরক্ষণের ঐতিহ্য থেকে এসেছে। তারা স্থায়ীভাবে এক জায়গায় থাকতো না।

কখনো খাবারের সন্ধানে বা ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে তারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতো। সেসময় তাদের খাদ্যের বড় উৎস ছিল মহিষ, এল্ক ও হরিণের মতো প্রাণী।

এসব প্রাণী শিকার করে তারা গোশত খেত। এক সাথে এত গোশত খেয়ে শেষ করতে পারতো না, কিংবা শীতকাল বা দীর্ঘ ভ্রমণের প্রস্তুতি নিতো, তখন তারা সেই গোশত সংরক্ষণ করতো।

রেফ্রিজারেশন বা ফ্রিজিং পদ্ধতি আবিষ্কারের আগে গোশত সংরক্ষণের উপায়ই ছিল সেটি শুকিয়ে ফেলা।

সেখানেও গোশত পাতলা করে কেটে উঁচুতে বেঁধে ঝুলিয়ে রোদে শুকানো হতো। কখনো মাছি তাড়াতে ও ধোঁয়ার স্বাদ যোগ করতে সেগুলো ধোঁয়ার ওপরেও রাখা হতো।

মূলত, গোশত শুকানো ও স্বাদ তৈরির নিজস্ব পদ্ধতি প্রতিটি পরিবারেরই আলাদা ছিল।

তবে বর্তমানের এই ‘জার্কি’ শব্দটি এসেছে দক্ষিণ আমেরিকার কেচুয়া ভাষার “চ’আর্কি” শব্দ থেকে, যার অর্থ শুকনো গোশত, যেটিকে স্প্যানিশরা ‘চারকি’ হিসেবে উচ্চারণ করতো।

কেচুয়া ছিল ইনকা সভ্যতার ইনকাসহ বহু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা। ঐতিহ্যগতভাবে চ’আর্কি তৈরি হতো লামা বা গরুর গোশতের পাতলা টুকরো রোদে শুকিয়ে ও ঠাণ্ডা রাতে জমিয়ে।

পরে স্প্যানিশরা যখন দক্ষিণ আমেরিকায় আসে, তখন সেখানকার আদিবাসীদের কাছ থেকে এই পদ্ধতি সম্পর্কে জানে এবং পরে আমেরিকাসহ নানা জায়গায় এটি ছড়িয়ে যায়।

একসময় এই জার্কি কাউবয় (যারা গরু বা অন্যান্য গবাদিপশু চরানো, দেখাশোনা করা ও এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কাজ করে) ও ভ্রমণকারীদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কারণ খাবারটি সহজে বহন করা যেত এবং দ্রুত নষ্ট হতো না।

সুতরাং, মূল ধারণার দিক থেকে বিফ জার্কি আর বাংলাদেশের গরুর গোশতের শুঁটকি অনেকটাই একই ধরনের খাবার। দু’টিতেই গোশত শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়, যাতে দীর্ঘদিন খাওয়া যায়।

তবে প্রস্তুত প্রণালী ও খাওয়ার ধরনে অঞ্চল ও সংস্কৃতিভেদে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

গরুর গোশতের শুঁটকিতে পুষ্টিগুণ একই থাকে?

পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, গরুর গোশতে রয়েছে আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিনস, মিনারেলস বা খনিজ উপাদান। যেমন- জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ফসফরাস, আয়রন। আবার ভিটামিনের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি২ বি৩, বি৬, এবং বি১২।

আর এই পুষ্টিকর উপাদানগুলো-

১) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

২) পেশি, দাঁত ও হাড়ের গঠনে ভূমিকা রাখে।

৩) ত্বক, চুল ও নখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

৪) শরীরের বৃদ্ধি ও বুদ্ধি বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

৫) ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে।

৬) দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে।

৭) অতিরিক্ত আলসেমি বা ক্লান্তি বা শরীরের অসাড়তা দূর করে কর্মোদ্যম রাখে।

৮) ডায়রিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৯) রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করে।

১০) খাবার থেকে দেহে শক্তি যোগান দেয়।

১১) স্মৃতিশক্তি বাড়ায়

১২) অবসাদ, মানসিক বিভ্রান্তি ও হতাশা দূর করে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক মো: নিজামুল হক ভূঁইয়া বলছিলেন, ‘গরুর গোশতের শুঁটকিতেও প্রোটিন গুণাবলী প্রায় একইরকম থাকে, খুব একটা নষ্ট হয় না। কিন্তু এর সাথে আবার বিভিন্ন ফুড অ্যাডিটিভস (খাবারে ব্যবহৃত সংযোজক উপাদান) যোগ করা হয়, যেজন্য এটা সুস্বাদু হয়। যেমন- টেস্টিং সল্ট। নরমাল গোশতের স্বাদ একরকম, শুঁটকির স্বাদও ভিন্নরকম। এজন্যই অনেক মানুষ শুঁটকি খেতে পছন্দ করেন।’

এ প্রসঙ্গে পুষ্টিবিদ সামিয়া তাসনিম বলেন, গরুর গোশতের শুঁটকি করা হলে সেখান থেকে পানির পরিমাণ বের হয়ে যায়। অর্থাৎ, ‘একই ওজনের গরুর গোশতে যে ৬৫ শতাংশ পানি, সেটা বের হয়ে ওজন কমে যাচ্ছে এবং সাধারণ গোশতের তুলনায় পুষ্টিও তুলনামূলক বেড়ে যাচ্ছে।’

শুঁটকি করার সময় অতিরিক্ত লবণ দেয়া হলে সোডিয়ামের পরিমাণ তাতে বাড়বে। তাই, রান্নায় করার সময় বাড়তি লবণ ব্যবহার না করাটাই ভালো বলে জানান তিনি।

কারণ গরুর গোশতে এমনিতেই প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম থাকে, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। আর উচ্চ রক্তচাপ থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি জটিলতা দেখা দিতে পারে।

আর গোশত ঠিকভাবে শুকানো বা সংরক্ষণ না হলে ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস জন্মাতে পারে।

সূত্র : বিবিসি

রোদে শুকিয়ে গোশত সংরক্ষণের পদ্ধতি বিভিন্ন দেশেই প্রচলিত আছে
রোদে শুকিয়ে গোশত সংরক্ষণের পদ্ধতি বিভিন্ন দেশেই প্রচলিত আছে। বিবিসি

কাঁচা কাঁঠাল শরীরের জন্য এত উপকারী!

অনেকের কাছেই খুব পছন্দের ফল কাঁঠাল। তবে তা পাকা অবস্থায়। মিষ্টি স্বাদ আর রসালো এ ফলে রয়েছে নানা পুষ্টি। তবে কাঁচা কাঁঠালেও কমতি নেই পুষ্টিগুণের। যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এ কাঁচা কাঁঠালে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি, বি-১, বি-২, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ নানা রকমের পুষ্টি ও খনিজ উপাদান। যা শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি পূরণ করে ভিটামিনের চাহিদাও।

জানা যায়, প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে খাদ্য-আঁশ থাকে দু’ গ্রাম, শর্করা ২৪ গ্রাম, চর্বি দশমিক তিন মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৪ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ৩৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩০৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-এ ২৯৭ আইইউ ও ভিটামিন-সি ছয় দশমিক সাত মিলিগ্রাম।

জেনে নেয়া যাক কাঁচা কাঁঠালে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-

হজমশক্তি বাড়ায় : পেটের নানা রকম সমস্যা কমাতে পারে কাঁচা কাঁঠাল। এ ফল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং অন্ত্রের সক্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে যে আঁশ থাকে, তা কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। পেটের অম্লতা ও আলসার ঠেকাতে কাঁচা কাঁঠাল খেতে পারেন। ফাইবারসমৃদ্ধ ফল হওয়ায় হজমশক্তি বাড়ায় এবং পেট পরিষ্কার রাখে কাঁচা কাঁঠাল।

বয়সের ছাপ দূর করে : কাঁচা কাঁঠাল বয়স ধরে রাখতে সাহায্য করবে। মুখে বলিরেখা পড়তে বাধা দেয় এটি, যা ত্বকের জন্য ভালো। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ সৃষ্টিকারী মুক্ত উপাদানের (ফ্রি র‍্যাডিক্যালস) বিরুদ্ধে লড়াই করে। প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকায় হাড়ের ক্ষয় ঠেকাতে পারে কাঁঠাল। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে ও বলিরেখাও কমে।

ওজন কমায় : এতে চর্বির পরিমাণ খুব কম। তাই বেশি খেলেও ওজন বাড়ার শঙ্কা নেই বরং পেট ভরে রেখে ওজন কমাতে সাহায্য করে কাঁচা কাঁঠাল।

চোখ ভালো রাখে : কাঁচা কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ ও বিটা ক্যারোটিন, যা চোখ ভালো রাখে।

ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী রাখে : কাঁচা কাঁঠাল অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টসমৃদ্ধ। এতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া ক্যান্সার ও টিউমারের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। এতে থাকা সোডিয়াম ও পটাশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্সকে ঠিক রাখে, যা উচ্চরক্তচাপ ও হার্টও ভালো রাখে। পাইলস ও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ বাড়ায় : কাঁচা কাঁঠালে প্রায় কোনো কোলেস্টরল নাই বললেই চলে। তাই কাঁচা কাঁঠাল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। যেকোনো বয়সের মানুষ এটা খেতে পারেন। এটি শক্তির ভালো উৎস। এতে আয়রন থাকায় রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ বাড়ায়। রক্তাল্পতায় রোগীদের জন্য কাঁচা কাঁঠাল খুবই উপকারী।

হাড় শক্ত করে : কাঁচা কাঠালে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত রাখে।

কাঁঠালের বিচির প্রোটিন

কাঁঠালের বিচি গুঁড়ো করে সকালের জুস হিসেবে খেতে পারেন। কাঁঠালের বিচি ফেলনা নয়। এটি চাইলে খেতে পারবেন হালকা নাশতায়, সালাদ, তরকারি, হালুয়া বা ভর্তা হিসেবে। কাঁঠালের বিচিতে থাকা প্রোটিন মাংসপেশি গঠনে ভূমিকা রাখে।

এদিকে ডায়াবেটিস রোগীদের কাঁঠাল খাওয়ায় কিছুটা বিধি-নিষেধ রয়েছে। এছাড়া কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি তাদেরও কাঁঠাল না খাওয়াই ভালো বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কাঁচা কাঁঠাল
কাঁচা কাঁঠাল। সংগৃহীত

মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসন মাড়িয়ে মহাকাশে ইরানের নতুন ‘ছক্কা’

সব বাধা আর যুদ্ধ পরিস্থিতি মাড়িয়ে মহাকাশ গবেষণায় একের পর এক বড় সাফল্য পাচ্ছে ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনকে অবজ্ঞা করে দেশটি এবার কক্ষপথে পাঠাচ্ছে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক ইমেজিং স্যাটেলাইট ‘পার্স-টু’। একইসাথে চলতি বছরের মধ্যেই মহাকাশে স্থাপন করা হচ্ছে ‘শহীদ সোলেইমানি’ স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন বা কৃত্রিম উপগ্রহের জোট।

বুধবার (১৭ জুন) ইরানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী সাত্তার হাশেমি এই ঘোষণা দিয়েছেন। আর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি।

ইরানি মহাকাশ গবেষণা সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে এক বৈঠকে মন্ত্রী সাত্তার হাশেমি জানান, শত্রুদের চাপিয়ে দেয়া কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তাদের মহাকাশ কর্মসূচি এক মুহূর্তের জন্যও থমকে যায়নি। দেশের বিশেষজ্ঞদের দিনরাত পরিশ্রমের ফলেই এই অভাবনীয় অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

উন্নত প্রযুক্তির ‘পার্স-টু’ স্যাটেলাইটটি মূলত নিখুঁতভাবে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, রিমোট সেন্সিং ও পরিবেশগত নজরদারির কাজ করবে। এটি ইরানের স্মার্ট কৃষি, পানিসম্পদ ও ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং তথ্যভিত্তিক শাসনব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করবে।

মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের পর তৈরি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠে ইরান এখন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নতুন প্রযুক্তিগত কৌশল নিয়ে পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে।

ইরানি মহাকাশ সংস্থার প্রধান হাসান সালারিয়েহ শত্রুপক্ষের সব অপপ্রচার উড়িয়ে দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে ইরানের মহাকাশ খাতের কোনো ক্ষতি হয়নি। কারণ, তাদের মহাকাশ অবকাঠামো কোনো একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল নয় যে একটা জায়গায় আঘাত করলেই সব বন্ধ হয়ে যাবে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও স্যাটেলাইট যোগাযোগ, তথ্য গ্রহণ এবং ছবি তোলার মতো সব সেবা পুরোপুরি সচল ছিল।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাদের সব বড় প্রকল্প দারুণ গতিতে এগিয়ে চলছে। আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই ‘শহীদ সোলেইমানি’ স্যাটেলাইট জোট উৎক্ষেপণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে। স্বনির্ভরতার এই নতুন মাইলফলক বিশ্বমঞ্চে ইরানের মহাকাশ সক্ষমতারই এক বড় প্রমাণ।

সূত্র : প্রেসটিভি

ইরান এবার কক্ষপথে পাঠাচ্ছে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক ইমেজিং স্যাটেলাইট ‘পার্স-টু’
ইরান এবার কক্ষপথে পাঠাচ্ছে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক ইমেজিং স্যাটেলাইট ‘পার্স-টু’। সংগৃহীত

ইসরাইলের চুক্তি পর্যালোচনার দাবি পাত্তাই দিলো না যুক্তরাষ্ট্র

ইসরাইল তেহরান-ওয়াশিংটনের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনার অনুরোধ করলেও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে ইসরাইলি কর্মকর্তারা চুক্তির পূর্ণ বিবরণ জানতে পারেননি এবং তারা এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তেহরানের সাথে ওয়াশিংটনের সদ্য ঘোষিত সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ পর্যালোচনা করে দেখার ইসরাইলের একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি বুধবার এ খবর নিশ্চিত করেছে।

ইসরাইলি চ্যানেল ১২-এর সংবাদদাতা ইয়ারন আব্রাহাম জানিয়েছেন, ইসরাইল সরকার এই সমঝোতা স্মারকটি পর্যালোচনার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছিল। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তা নাকচ করে দেয়ায় ইসরাইলি কর্মকর্তারা এই চুক্তির ভেতরের খুঁটিনাটি বিস্তারিত তথ্য এখনো পুরোপুরি জানতে পারেননি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রত্যাখ্যানের ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটলো যখন ইসরাইলি কর্মকর্তারা এই সমঝোতা স্মারকের তীব্র সমালোচনা করছেন। তারা জনসমক্ষে এই চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং বলছেন যে এটি তেহরানের প্রতি তেল আবিবের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনবে না।

এমনকি সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি এই সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে নিশ্চিত নন।

হিব্রু গণমাধ্যমগুলোও জানিয়েছে, এই সমঝোতা নিয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের মধ্যে গভীর হতাশা এবং তীব্র বিরোধিতা তৈরি হয়েছে।

ইসরাইলের আই২৪ টেলিভিশন চ্যানেলের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি কর্মকর্তারা এই চুক্তিকে বেশ নেতিবাচকভাবে দেখছেন, বিশেষ করে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে হামলা বন্ধ করার শর্তগুলো তারা মেনে নিতে পারছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র আই২৪ চ্যানেলকে বলেছে, এই চুক্তিটি ইসরাইলের জন্য ভয়াবহ এক লজ্জার বিষয়।

এদিকে, ইসরাইলি কর্মকর্তারা নাকি ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা নিজেদের এই চুক্তির শর্তে দায়বদ্ধ মনে করেন না। নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সাথে এই চুক্তিটি ট্রাম্প করেছেন এবং এটি তার সিদ্ধান্ত, আমাদের নিজেদের আলাদা স্বার্থ রয়েছে।

এর আগে গত ৭ এপ্রিল ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি উস্কানিমূলক আগ্রাসনের সর্বশেষ দফায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন।

অঞ্চলজুড়ে আগ্রাসী শক্তির স্বার্থের ওপর ইরানের চূড়ান্ত ও সিদ্ধান্তমূলক পাল্টা আঘাত এবং শত্রুদের ও তাদের মিত্রদের জন্য ইরানের কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ার পরই মূলত এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছিল।

এই পাল্টা হামলা ছাড়াও লেবাননে যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধেও কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। ইরান সবসময়ই জোর দিয়ে বলে আসছে যে আগ্রাসন বন্ধের প্রক্রিয়াটি লেবাননসহ সব ফ্রন্টেই কার্যকর হতে হবে। তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে লেবাননে ভবিষ্যতের যেকোনো ইসরাইলি হামলা কিংবা দেশটির সদ্য দখল করা অঞ্চলগুলোতে অবৈধ দখলদারিত্ব বজায় রাখা হবে এই সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন।

সূত্র : প্রেসটিভি

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালী খোলার ঘোষণা : ২০২৭ সালে বিশ্ব বাজারে ‘তেলবন্যা’র আভাস

হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাপকভাবে বাড়বে এবং ২০২৭ সাল নাগাদ বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের এক বিশাল উদ্বৃত্ত দেখা দেবে।

বুধবার (১৭ জুন) রয়টার্স জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের মাসিক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী ইরান তার কৌশলগত হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে তাদের নৌ অবরোধ তুলে নেবে। এর মাধ্যমে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ সঙ্কটের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

আইইএ-এর হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন অবরোধ ও যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদিন ১৪ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল উৎপাদন আটকে ছিল।

সংস্থাটি জানিয়েছে, চুক্তিটি টিকে থাকলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল উৎপাদন ধাপে ধাপে আগের অবস্থায় ফিরবে। বিশেষ করে মার্কিন নৌ অবরোধ উঠে গেলে ইরানের তেল রফতানি আবারো পুরোদমে শুরু হতে পারবে।

২০২৭ সালে বাজারে ‘তেলের বন্যা’ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, সরবরাহ বাড়বে প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ব্যারেল, অথচ চাহিদা বাড়বে মাত্র ২ মিলিয়ন ব্যারেল।

ইতোমধ্যে জুনের শুরুর দিকেই ওমান সাগরে জাহাজে তেল যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের প্রবাহ মে মাসের দৈনিক ৯.৬ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে বেড়ে ১২ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।

অবশ্য, মাইন অপসারণের দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও কিছু রাজনৈতিক বাধার কারণে এই উত্তরণের পথে এখনো ঝুঁকি রয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স

Tuesday, June 9, 2026

পাশ্চাত্যের সামরিক বাজারে তুরস্কের আধিপত্য

দুই দশকের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের ফলে তুরস্ক বিদেশী অস্ত্রনির্ভর দেশ থেকে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও ড্রোন রফতানিকারকে পরিণত হয়েছে। ইউরোপ ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বাড়তি নিরাপত্তা চাহিদার সুযোগ নিয়ে তুরস্ক এখন প্রতিরক্ষা বাজারে নিজেদের অবস্থান আরো শক্ত করছে।

একসময় বিদেশী অস্ত্র নির্মাতাদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল তুরস্ক দু’দশকের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের ড্রোনসহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের একটি প্রধান রফতানিকারক দেশে রূপান্তর করেছে।

বর্তমানে দেশটি উপসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপের কিছু অংশসহ প্রায় ৪০টি দেশে অস্ত্র সরবরাহ করছে। বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত সশস্ত্র ড্রোনের প্রায় ৬৫ শতাংশই এখন জোগান দিচ্ছে দেশটি।

পাশ্চাত্যের দেশগুলো এখন নতুন করে নিজেদের সামরিক শক্তি সাজাচ্ছে। নিরাপত্তা জোটগুলো পুনর্গঠিত হচ্ছে। ন্যাটো সদস্য তুরস্ক এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছে, পাশ্চাত্যের প্রতিরক্ষা বাজারে তুরস্ক নিজের অবস্থান আরো দৃঢ় করতে চাইছে।

ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের পর তাদের নিরাপত্তা নির্ভরতা পুনর্বিবেচনা করছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। পরিবর্তিত এমন পরিস্থিতিতে অনেক ন্যাটো মিত্র তুরস্ককে কেবল তাদের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের একটি সামরিক দুর্গ হিসেবেই দেখছে না, বরং একটি সম্ভাব্য শিল্প অংশীদার হিসেবেও বিবেচনা করছে।

ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যবহৃত উচ্চ-প্রোফাইল সশস্ত্র ড্রোনসহ তুর্কি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি ২০২১ সাল থেকে তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। গত বছর এই রফতানির পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আর তুরস্কের মোট রফতানির প্রায় ৩ দশমিক৭ শতাংশই হলো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি।

পাশাপাশি, এই একই সময়ে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি প্রায় চার গুণ বেড়ে ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি বাইকার, টার্কিশ অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ এবং আরকা ডিফেন্স ও কালের মতো ছোট সংস্থাগুলোর পরিপক্বতা প্রকাশ করে। টেকসই রাষ্ট্রীয় সমর্থন, নমনীয় সরবরাহ চেইন এবং ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থা পরিবর্তনের ইচ্ছার কারণে তুর্কি প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত বাজারে প্রবেশ করতে পেরেছে। এর তুলনায় পাশ্চাত্যের সরবরাহকারীরা সক্ষমতার ঘাটতির সাথে দীর্ঘ ক্রয় প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয় ক্রেতাদের।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, আগামী দু’বছরে তারা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা তাদের ঋণ পরিশোধ এবং আরো উন্নয়নের জন্য অর্থ জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব তৈরি করবে।

উত্তরে ইউক্রেন এবং দক্ষিণ-পূর্বে ইরানের মতো দুটি বড় সঙ্ঘাতের মাঝখানে থাকা তুরস্কের নিজস্ব নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িয়ে আছে। তাদের বিমান প্রতিরক্ষা, জেট এবং ট্যাংকের ইঞ্জিনের ঘাটতিগুলো বাণিজ্য ও প্রযুক্তি চুক্তির মাধ্যমে পূরণ করা যেতে পারে।

সূত্র : জেরুসালেম পোস্ট

তুরস্কে তৈরি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইলদিরিমহানের পাশে দেশটির পরিবহন ও অবকাঠামো মন্ত্রী আবদুলকাদির উরালোগলু
তুরস্কে তৈরি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইলদিরিমহানের পাশে দেশটির পরিবহন ও অবকাঠামো মন্ত্রী আবদুলকাদির উরালোগলু। সংগৃহীত

Wednesday, June 25, 2025

চিকিৎসাশাস্ত্রে রসুন by ডা: জ্যোৎস্না মাহবুব খান

রসুন কেবল একটি মসলাই নয়, এর একাধিক ওষুধিগুণ রয়েছে, এ কথা কম বেশি সবারই জানা। আয়ুর্বেদ ও হেকিমিশাস্ত্রে অনেক আগে থেকেই ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ ছাড়াও রসুনে জীবাণু ও কীটনাশক গুণও রয়েছে। মূলত মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হলেও রসুনের পুষ্টিমূল্যও কম নয়। উচ্চ রক্তচাপে রসুন খুবই উপকারী এ কথা গবেষণায় প্রমাণ করেছেন জার্মান চিকিৎসকেরা। রক্তে কোলস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে রসুনের ভূমিকা কার্যকরী। সেজন্য তারা উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত রসুন খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
বাতের ব্যথায় বা কোনো আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে সরিষার তেলে রসুন গরম করে ম্যাসাজ করলে ব্যথা লাঘব হয়। দাঁতের ব্যথায় রসুন ব্যবহারে ব্যথা কমে যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা রসুনের গুণাগুণ নিয়ে গবেষণা করে দেখেছেন যে, রসুনের রোগ প্রতিরোধ ও রোগ নিরাময় দুটো গুণই রয়েছে। সম্প্রতি গবেষণায় জানা গেছে, রসুন একাধারে ভাইরাসরোধী, ছত্রাকরোধী এবং ব্যাকটেরিয়ারোধী পেনিসিলিনের মতো জীবাণুনাশক।
ইকোলাই এবং টাইফয়েড জীবাণু ধ্বংস করার মতো ক্ষমতা রাখে রসুন। রসুন খেলে অন্ত্রে পাচক রস নিঃসরণ বেশি হয় যা হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। আমাশয় রোগে রসুন খেলে অন্ত্রের জীবাণু ধ্বংস হয়ে পেটের সমস্যা নিরাময় হয়। চামড়ায় আক্রান্ত ক্ষতস্থানে কাঁচা রসুনের রস ব্যবহার করলে ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস হয়ে দ্রুত নিরাময় করে। পুরনো কাশি বা ব্রঙ্কাইটিসে নিয়মিতভাবে কাঁচা রসুন খেলে শ্বাসতন্ত্রে জমে থাকা কফ বের করে দিয়ে দ্রুত আরোগ্য করে। যারা নিয়মিত রসুন খান তাদের খাবারে রুচি বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রসূতি মাদের নিয়মিত রসুন খাওয়ার ফলে শিশুর দুধপান করার আগ্রহ অনেক বেড়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় দুধপান করে থাকে। পায়ের তলায় কড়া নিরাময়ে রসুনের আছে অসাধারণ ক্ষমতা। কাঁচা রসুনের কোয়া কুচি করে কড়ার ওপর বসিয়ে আটকে দিলে এক সপ্তাহ পর দেখা যাবে কড়া অনেকটা নরম হয় ও ব্যথা লাঘব হয়।
রসুনের গুণের শেষ নেই। প্রতিদিন কয়েক কোয়া রসুন খাওয়ার অভ্যাস করুন, কাঁচা খেলেই ভালো। অগোচরে অনেক শারীরিক সমস্যা এমনি সেরে যাবে।

Wednesday, April 23, 2025

স্বাস্থ্য রক্ষায় মধু by ডা: রুমানা চৌধুরী

প্রাচীনকাল থেকেই মধু খাবার হিসেবে বেশ জনপ্রিয় এবং কখনো কখনো রোমান্টিকও বটে। প্রাকৃতজনেরা সকালের নাশতায় মধু খেয়ে তারপর কাজ করতে যেতেন। মৌমাছি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে। এই মধুর রয়েছে হরেক রকমফের। বিভিন্ন গন্ধ ও রঙের মধু পাওয়া যায়। সাদা, কালো, হাল্কা বেগুনি অথবা সবুজ রঙের মধু রয়েছে।
কী কী কাজে লাগে
লোককাহিনীতে মধুকে জাদুকরী এক খাবার হিসেবে বলা হয়েছে। এটাকে সর্বরোগ নিবারক ওষুধও বলা হয়ে থাকে।
কণ্ঠ পরিষ্কার রাখতে, আলসার প্রতিরোধে, ঘুম আনতে, ডায়রিয়া সারাতে এমনি আরো অনেক কাজে মধু ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
গৃহিণীদের ভোজনশালায় প্রাকৃতিক মিষ্টি হিসেবে এটা ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি খাবার, পায়েস, কেক তৈরিতে এটি ব্যবহার করা যায়। আবার সরাসরি ওষুধ হিসেবে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে ব্যবহার করা হয়। ক্ষত সারাতে এটি ব্যবহৃত হয়।
পুষ্টিমান কেমন
এতে দু-ধরনের সুগার থাকে, গ্লুকোজ ও ফ্রকটোজ। অবশ্য সুক্রোজ ও মালটোজ খুব অল্প পরিমাণে থাকে। মধু হচ্ছে ফ্যাটবিহীন, কোলেস্টেরোল বিহীন একটি খাদ্য। সত্য কথা বলতে এতে কেমন প্রোটিন থাকে না। অন্যান্য নিউট্রিয়েন্টও খুব বেশি থাকে না। যেটা থাকে সেটা হলো শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট। শরীরের প্রতিদিনের চাহিদার শতকরা পাঁচ শতাংশ ভিটামিন ও মিনারেল এখান থেকে পাওয়া যায়।
প্রতি এক শ’ গ্রাম মধুতে কার্বোহাইড্রেট থাকে ৭৯.৫ গ্রাম (শতকরা), প্রোটিন থাকে ০.৩ গ্রাম, লৌহ থাকে ০.৭ মি: গ্রাম।
ওষুধে মধু ব্যবহার
সাউথ আফ্রিকার মেডিক্যাল গবেষকেরা দেখিয়েছেন, পোড়া ও ক্ষত পরিষ্কার করতে মধু ব্যবহার করা যায়। এতে সংক্রমণের আশঙ্কা কমে এমনকি অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না।
ব্রিটিশ গবেষকেরা টেস্ট টিউবের মধ্যে বেশ কিছু জীবাণু নিয়ে তাতে মধু রেখে দেখিয়েছেন, সব জীবাণুকে মধু নষ্ট করে দিতে পারে। সাউথ আফ্রিকার গবেষকেরা আরো দেখিয়েছেন, মধু ডায়রিয়ার জীবাণু নষ্ট করতে সাহায্য করে। ইউনিভার্সিটি অব নাটালের এক দল বিশেষজ্ঞ পেটের পীড়ায় আক্রান্ত দুই গ্রুপ শিশুর এক গ্রুপকে মধুমিশ্রিত তরল এবং অন্য গ্রুপকে চিনি ও তরল দিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, প্রথমোক্ত গ্রুপের সদস্যরা ব্যাকটেরিয়াজনিত (ভাইরাস নয়) ডায়রিয়ার হাত থেকে ৪০ শতাংশ দ্রুত হারে আরোগ্য হয়েছে।
যদিও কিভাবে মধু ব্যাকটেরিয়াকে পরস্ত করে সে সম্পর্কে পুরোপুরি জানা যায়নি। তবুও ধারণা করা হয়, মধুর সুগার অংশটুকু ব্যাকটেরিয়ার শরীর থেকে পানি শুষে নিয়ে তাকে মেরে ফেলে। কিন্তু সুগারহীন মধুও কম শক্তিশালী নয়, অনেকটা স্ট্রেপটোমাইসিন নামক ব্যাকটেরিয়াঘাতী অ্যান্টিবায়োটিকের মতো কাজ করে। তা ছাড়া এতে রেজিস্টেন্স গড়ে ওঠার ভয়ও থাকে না। গলা ব্যথা ও গলায় ক্ষত চিকিৎসায় মধু অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত। ক্ষয়ে যাওয়া গলার ভেতরের অংশে এটা একটি জেলির মতো আবরণ দিয়ে ঢেকে দেয়।
ওয়াল স্যালাইনে চিনি বা গুড়ের পরিবর্তে মধু ব্যবহার করা যায়। শিশুদের এভাবে মধুপান করানতে ডায়রিয়া প্রতিরোধ করা যায়। প্রতি লিটার পানিতে ৫৪০ মি: লিটার মধু ব্যবহার করা হয়।
খেয়াল রাখবেন
এক বছরের নিচের শিশুদের কাঁচা মধু খেতে দেবেন না। এতে বোটুলিজম নামক গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে থাকে। বয়স্ক শিশুদের বেলায় এ ভয় নেই। কেননা তাদের অন্ত্র তখন যথেষ্ট মজবুত থাকে।
সুগারের মতো মধুও দাঁতের ক্ষতি করতে পারে। তাই সুগার বা অন্য কোনো মিষ্ট খেলে যেমন দাঁত পরিষ্কার করতে হয়, মধুর বেলাও তাই। ডায়াবেটিস রোগীদের মধু খাওয়া উচিত নয়।