Sunday, October 6, 2024
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে বেশ কয়েকজন অভিবাসীর মৃত্যু
নিহতদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর রয়েছে। মাত্র ১৪ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা গেছে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য যাত্রীদের উদ্ধারে খোঁজ চলছে বলেও জানানো হয়েছে।
ক্যালাইস উপকূলে একই দিনে আরেকটি নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে। নৌকাটির ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পর যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সমুদ্রের প্রবল স্রোতে যানটি পানিতে তলিয়ে যায়। কিছু অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পাস-ডি-ক্যালাইস প্রিফেক্ট জ্যাক বিলান্ট বলেছেন, দুই পুরুষ এবং এক মহিলাকে নৌকার নীচ থেকে অবচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের বয়স ৩০ এর কাছাকাছি বলে অনুমান করা হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বৃটেন উভয় ট্রাজেডির জন্য শোক প্রকাশ করেছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রিতেইলিউ এক্সের এক বাতায় বলেছেন, নৌকায় পদদলিত হয়ে এক শিশু মারা গেছে, এছাড়া ওই ট্রাজেডিতে আরও যারা মারা গেছে তাদের জন্য আমরা শোকাহত।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
'ধর্ষকদের সোজা গুলি করে মারা উচিত, যাতে একটা ভয় কাজ করে'
প্রসঙ্গত, এর আগে আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে সামিল হয়ে দেবের বক্তব্য ছিল, 'ধর্ষকদের ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট দেয়া এখনই শুরু করতে হবে!' আরজি কর কাণ্ডের পর ঠিক একই রকমভাবে ধর্ষকের এনকাউন্টারের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'এই ধরনের ঘটনা যারা ঘটায় তাদের সমাজে থাকার অধিকার নেই। আপনারা কি মনে করেন, যে এই ঘটনা ঘটালো তার বেঁচে থাকার অধিকার আছে? সাত দিনের মধ্যে আইন করে এনকাউন্টারে মারা উচিত দোষীকে।" শুধু তাই নয়, কড়া আইনের লক্ষ্যে রাজ্য বিধানসভায় ‘অপরাজিতা’ বিল পাস করে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার।
সূত্র: টেলিগ্রাফ

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বড় মানুষদের ভাঁড় চাটুকারগণ by শায়ের খান
ভাঁড় বা চাটুকার এই অঞ্চলের এক চমকপ্রদ চরিত্র। এদের দেখা যায় ধনবান বা ক্ষমতাবানদের আশপাশে। এই রাজা-বাদশাহ-সওদাগর কিংবা প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী এমন। এদের চারপাশেই নিজেদের সেট করে নেয় ভাঁড় চাটুকাররা। এরা ছলেবলে মূল ব্যক্তিকে প্রাচীরের মতো ঘিরে রাখে। একসময় ভাঁড় চাটুকার হয়ে ওঠে আসল ব্যক্তির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাঁশের চেয়ে যেমন কঞ্চি বড়।
এ অঞ্চলে আমরা এমন এক ভাঁড়ের নাম জানি- গোপাল ভাঁড়। সে ছিল রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পালিত ভাঁড়। নির্মম সত্য হচ্ছে, ইতিহাস রচিত হয়েছে গোপাল ভাঁড়কে নিয়ে। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র নিক্ষিপ্ত হয়েছেন ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে।
মোগল সম্রাট আকবরও ভাঁড় চাটুকার পছন্দ করতেন। কথিত আছে, সম্রাটের এক পরোটা ভাজা হতো এক কড়াই ঘি’য়ে আর এক বাটি শাহী হালুয়া রান্না হতো দশ কেজি ঘি’য়ে। এমন তেলে-ঘিয়ের মানুষ একটু তেলবাজি পছন্দ করবেন-এটাই স্বাভাবিক। তার সেনাপতি মানসিংহ ছিল শিখ ঘরানার। মানসিংহের ফুফুকে আকবর করলেন বিয়ে। মানে সেনাপতিকে বানিয়ে ফেললেন ভাতিজা। হয়তো আমাদের এই ঐতিহাসিক ফুফু বলিউডের সায়রা বানু বা শিল্পা শেঠীর চেয়ে কম সুন্দরী ছিলেন না।
সম্রাট আকবর ছিলেন বড় মাপের মোগল। যে বাংলা নববর্ষ পালনে ঢাকার ভং ধরা এলিটরা ২০০০ টাকা দিয়ে মাটির শানকিতে পান্তা ইলিশ খায়, তাদের বেশির ভাগেরই ধারণা এই নববর্ষ রবি ঠাকুরের শান্তিনিকেতন থেকে এসেছে। আসলে এই পহেলা বৈশাখ চালু করেছিলেন সম্রাট আকবর।
খাজনা দিতে অস্বীকার করায় ঢাকার ঈশা খাঁ-কে শায়েস্তা করতে আকবর দিল্লি থেকে ঢাকায় পাঠান ভাতিজা মানসিংহকে। ঈশা খাঁ’র সঙ্গে যুদ্ধে মানসিংহের তরবারি ভেঙে যায়, তিনি হেরে যান। যুদ্ধটা হয়েছিল আমাদের ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কাছে। কাঁচপুর ব্রিজ পার হলে যে জায়গাটা, সেখানে। মানসিংহের এই পরাজয় এই বার্তাই দেয় যে, আপনি যত বড় আর ক্ষমতাবানই হোন, স্বজনপ্রীতি আর চাটুকারিতাকে প্রশ্রয় দিলে আপনি ডুববেন ।
আকবরের নবরত্নের একজন ছিলেন বীরবল। উনাকে অনেকে ভাঁড় ভাবলেও আসলে ছিলেন একজন ফিলোসফার। তার ছিল সুতীক্ষ্ণ সেন্স অফ হিউমার আর পাণ্ডিত্য। তাকে সঠিক মূল্যায়িত করতে না পারাটা ছিল আকবরের আরেক ব্যর্থতা।
আমরা দিগ্বিজয়ী বীর আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট-এর কোনো চাটুকার খুঁজে পাইনি। তার ছিল বিশ্বস্ত সহচর যুদ্ধবাজ স্ট্যালিয়ন ঘোড়া ব্যুসেফেলোস। এই ব্যুসেফেলোসকে নিয়ে আলেকজান্ডার বহু যুদ্ধ জয় করেছেন। ব্যুসেফেলোস এশিয়ার এক দেশে যুদ্ধে আহত হয়ে মারা গিয়েছিল। তার স্মরণে আলেকজান্ডার জায়গাটার নাম রেখেছিলেন- ব্যুসেফেলা। ধারণা করা হয় পাকিস্তানের পাঞ্জাবের জেলোম শহর হচ্ছে সেই প্রাচীন ব্যুসেফেলা। চাটুকারের বদলে বিশ্বস্ত সাহসী ব্যুসেফেলোসকে নিয়ে আলেকজান্ডার জিতেছিলেন সব যুদ্ধ।
আরেক দিগ্বিজয়ী বীর নেপোলিয়ন বোনাপার্টও কোনো ভাঁড় চাটুকার পছন্দ করতেন না। একটা ছোট্ট ঘটনায় সেটা বোঝা যাবে।
নেপোলিয়ন দেখতে ছিলেন ছোটখাটো। একদিন তার বিশাল লাইব্রেরির উঁচু শেলফ থেকে একটা বই নিতে তার কষ্ট হচ্ছিলো। পাশে দাঁড়ানো এক জেনারেল বললো-‘স্যার, আমি পেড়ে দিচ্ছি, আমি আপনার চেয়ে বড়।’ নেপোলিয়ন ঠাণ্ডা চোখে জেনারেলের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘জেনারেল, আপনি আমার চেয়ে বড় না, আপনি আমার চেয়ে লম্বা।’
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভাঁড়ামি চাটুকারিতাকে সরকারি মর্যাদায় আসন দিয়েছিল স্বৈরশাসক এরশাদ। তার মন্ত্রী-এমপিদের জনসমক্ষে চাটুকারিতা ছিল কিংবদন্তি। একটা উদাহরণ দিলেই বাকিদেরটা জানা যাবে।
এরশাদের প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ এরশাদের সঙ্গে সঙ্গে রোবোটের মতো আচরণ করতেন। এরশাদ হাসলে তিনি হাসতেন, এরশাদ কাঁদলে তিনি কাঁদতেন, এরশাদ তালি দিলে তিনি তালি দিতেন। কখনো এরশাদ হাঁচি দিলে আড়চোখে দেখে নিতেন সেটা হাঁচি না কান্না। হাঁচি কনফার্ম হলে তিনিও একটা হাঁচি দিতেন।
ভাঁড় চাটুকারের বাম্পার ফলন হয়েছিল বিগত সাড়ে পনের বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়। অলিগলি-রাজপথে চাটুকার। দেশে গড়ে উঠলো চাটুকারের হাজার হাজার ফার্ম। কর্মী চাটুকার, নেতা চাটুকার। অভিনয়শিল্পী, কণ্ঠশিল্পী, যন্ত্রশিল্পী, মন্ত্রশিল্পী-টনকে টন চাটুকার। নির্লজ্জ চাটুকার, বেহায়া চাটুকার। সাংবাদিকতা আর সংবাদ সম্মেলনের নামে চলতে লাগলো চাটুকারিতার মহোৎসব। আর ভাঁড়ামি? এই ভাঁড়ের নাম শুনলে লেখক হুমায়ূন আহমেদ স্যার ফিরে এসে ‘উড়ে যায় বকপক্ষী’র মতো আরেক উপন্যাস লিখবেন- ‘উড়ে যায় কাকপক্ষী’। তবে এই ‘কাক’ উপন্যাস লিখে তিনি স্ত্রী শাওনের সঙ্গে দেখা করতেন কিনা সন্দেহ। হুমায়ূন স্যার নিশ্চয়ই চাটুকারিতাকে প্রশ্রয় দিতেন না।
বড় মানুষদের ভাঁড় চাটুকার নিয়ে চলতে নেই। তাতে বড় বড় ট্র্যাজিক উপন্যাস রচিত হতে পারে। কেউ হয়তো কাক ছাড়িয়ে লিখে ফেলতে পারে ‘উড়ে যায় চিলপক্ষী’।
মানুষ কি চিলপক্ষীর দিগন্তে উড়ে যাওয়াটা দেখেনি?
(লেখক: নাট্যকার- ফিল্মমেকার)

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৭ অক্টোবর হামাসের হাতে পতন হয় ইসরায়েলি ঘাঁটির, কী কী ঘটেছিল সেদিন
হামাসের হামলার বিষয়ে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে অবহিত করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। ফিলিস্তিনের গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে সেদিন কী ঘটেছিল, এসব পরিবারের বরাতে তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছে বিবিসি।
নাহাল ওজ নামের ওই ঘাঁটি ৭ অক্টোবর সকালে দখলে নিয়েছিলেন হামাসের বন্দুকধারীরা। ওই ঘাঁটির ৬০ ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। অন্যদের জিম্মি হিসেবে গাজায় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
ওই দিন কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে দাপ্তরিক তদন্তের প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো প্রকাশ করেনি ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। তবে তারা ইতিমধ্যে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের ঘটনার বিষয়ে অবহিত করেছে। তাঁদের কয়েকজন সে বিষয়ে বিবিসিকে বিস্তারিত বলেছেন।
বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে সাজানোর প্রচেষ্টা থেকে বিবিসি ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা বলেছে। মারা যাওয়ার আগে সেনাদের পাঠানো বার্তাগুলো দেখেছে। আর হামলার সময় ঊর্ধ্বতনদের করা রিপোর্টিংয়ের বক্তব্যগুলো শুনেছে। এর মাধ্যমে হামলার তীব্রতা ও ভয়াবহতার একটি চিত্র দাঁড় করানো গেছে।
সবকিছু মিলিয়ে বিবিসির পর্যালোচনায় যেসব বিষয় ধরা পড়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: ওই ঘাঁটির সেনাদের চোখে ৭ অক্টোবরের আগে কিছু সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড ধরা পড়েছে, শুধু সীমান্তের নজরদারি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা নারী সেনাদের চোখেই যে ধরা পড়েছে তা নয়। সেনারা দেখতে পান, হামলার কয়েক দিন আগে হঠাৎ করেই হামাসের কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যায়। হামলার সময় অনেক ইসরায়েলি সেনা ছিলেন নিরস্ত্র এবং দাপ্তরিক নিয়মের কারণে হামলার সময় সেনাদের সামনে অগ্রসর হওয়ার পরিবর্তে পিছু হটতে হয়েছে। এ ছাড়া কিছু নজরদারি ক্যামেরা হয় অকার্যকর ছিল কিংবা হামাস সহজেই ধ্বংস করতে সমর্থ হয়েছিল।
বিস্তারিত যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কেন সীমান্তের কাছের একটি ঘাঁটিতে এত কমসংখ্যক সেনা অস্ত্রসজ্জিত ছিল। কেন প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য ও সতর্কতাকে আমলে নিয়ে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আক্রান্তদের সাহায্যে অতিরিক্ত সেনা পৌঁছাতে কেন এত দেরি হয়েছিল। কেন ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এতটা অরক্ষিত রাখা হয়েছিল।
এসব বিষয়ে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বিবিসি। জবাবে তারা বলেছে, ৭ অক্টোবরের ঘটনাগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের মাঝপথে রয়েছে তারা। এ তদন্তের মধ্যে নাহাল ওজ ঘাঁটির ঘটনা এবং এর আগেকার পরিস্থিতিও রয়েছে।
নিরস্ত্র সেনা
নাহাল ওজ ঘাঁটি গাজার সীমান্তবেড়া থেকে এক কিলোমিটার দূরে ছিল। ৭ অক্টোবর ভোর চারটায় নিজের পালার দায়িত্ব পালন শুরু করেন নারী সেনাসদস্য শ্যারন (এটা তাঁর প্রকৃত নাম নয়)। ওই ঘাঁটির ‘তাৎজপিতানিয়ত’ শাখার সদস্য ছিলেন তিনি। এই শাখার সব সদস্যই নারী। সীমান্তবেড়ার সঙ্গে বসানো নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা ছিল তাঁদের কাজ।
এই নারী সেনা সদস্যরা পালা করে ‘হামাল’ নামে পরিচিত ঘাঁটির যুদ্ধকক্ষে বসে কাজ করতেন। সেখানে থাকা মনিটরের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা গাজার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতেন।
ওই ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, ওই দিন ঘাঁটিতে অনেক সামরিক সদস্য নিরস্ত্র ছিলেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অপারেশন ডিভিশনের সাবেক প্রধান জেনারেল ইসরায়েল জিভ বলেন, তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় সীমান্ত এলাকায় কখনো সেনারা নিরস্ত্র ছিলেন না।
নাহাল ওজ ঘাঁটির সশস্ত্র কর্মীদের মধ্যে ওই দিন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর গোলানি ব্রিগেডের এক ইউনিট পদাতিক সেনা ছিল।
সামনে না এগোনোর নির্দেশ
অন্যান্য দিনের মতো সকাল হওয়ার আগে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে সীমান্তের ইসরায়েলি অংশে গাড়িতে করে টহল দেওয়ার প্রস্তুতি নেন গোলানি ইউনিটের সদস্যরা। কিন্তু তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা টহল বিলম্বে শুরু করার এবং ট্যাংক–বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি থাকায় পিছু হটার নির্দেশনা দেন। ওই সেনাদলের তিনজন এমন কথা জানিয়েছেন।
একজন বলেন, ‘সতর্কতার বিষয় ছিল। সীমান্তের দিকের পথে অগ্রসর হতে নিষেধ করা হয়েছিল।’ গোলানি ইউনিটের আরেক সদস্য ২১ বছর বয়সী শিমন মালকা বলেন, এ ধরনের সতর্কতা ছিল অস্বাভাবিক, আগে কখনো এমনটা শোনা যায়নি। বিষয়টি কিছুটা চিন্তায় ফেলে দেয়।
জেনারেল জিভ বলেন, দাপ্তরিক নিয়মের কারণে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া এড়াতে এ ধরনের পিছু হটার নির্দেশনা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়মের মধ্যে পড়ে। তবে তিনি বলেন, হামাস বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল এবং এ সুযোগ কাজে লাগিয়েছিল।
গোলানি ইউনিটের সদস্যরা যখন সীমান্তে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, হামাস যোদ্ধাদের চলাফেরা শ্যারনের নজরে পড়ে। তবে বিষয়টি অন্য কয়েকটি দিনের চেয়ে আলাদা কিছু মনে হয়নি।
সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে রকেট ছুড়তে শুরু করে হামাস। কিন্তু শ্যারন আবারও বললেন, এটি তাৎক্ষণিক সতর্ক করার মতো কিছু মনে হয়নি। এ ধরনের রকেট হামলা দেখতে আগে থেকেই তিনি অভ্যস্ত এবং এসব রকেট থেকে ঘাঁটিটি ভালোভাবেই সুরক্ষিত।
শ্যারন বলেন, ‘সাধারণত পাঁচ মিনিট ধরে রকেট ছোড়া হয় এবং এরপর বিরতি দেওয়া হয়।’ এবার কিন্তু কোনো বিরতি দেওয়া হচ্ছিল না।
সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে শ্যারন দেখতে পান, হামাসের বাহিনী সীমান্তের কাছে আসতে শুরু করেছে। এ সময় স্থলবাহিনীকে সতর্ক করতে রেডিওতে বার্তা পাঠাতে শুরু করেন এই তাৎজপিতানিয়ত সদস্য।
সীমান্তের কথিত লোহার প্রাচীরটি দীর্ঘকাল ধরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও সাধারণ ইসরায়েলিরা দুর্ভেদ্য হিসেবে দেখেছিল। অথচ দেশটির ঘাঁটিগুলোই তখন সে প্রাচীর ভেঙে ফেলার খবর দিতে শুরু করেছিল। ওই পালায় নাহাল ওজ ঘাঁটিতে দায়িত্ব পালন করা প্রত্যেক তাৎজপিতানিয়ত সীমান্তবেড়ার দুটি থেকে পাঁচটি জায়গায় বেড়া ভেঙে ফেলতে দেখেন।
নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের দেওয়া ইসরায়েলি বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে রকেটের আঘাতে নাহাল ওজ ঘাঁটির একটি নজরদারি পোস্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামালের ওপর স্নাইপারদের অবস্থান নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। দূর থেকে বন্দুকধারীদের গুলি করার চেষ্টা করেন একজন কর্মকর্তা।
যুদ্ধকক্ষে তাৎজপিতানিয়তের সঙ্গে যোগ দেন পদাতিক কর্মকর্তারা। শ্যারনের যতদূর মনে পড়ে, একজন কমান্ডার সামরিক পোশাক পুরোপুরি না পরেই সেখানে যান। বন্দুকধারীরা একের পর এক নজরদারি ক্যামেরায় গুলি করতে থাকলে যুদ্ধকক্ষের মনিটরের স্ক্রিন কালো হয়ে যায়।
দরজায় হাজির হামাসের বন্দুকধারীরা
সকাল সাতটার কিছুক্ষণ পরে সেই ক্ষণ এসে হাজির। সবাই ভীতসন্ত্রস্ত। কী হতে যাচ্ছে, কেউই কল্পনা করতে পারছিল না। যুদ্ধ কক্ষের দরজায় এসে হাজির হামাসের বন্দুকধারীরা। তাৎজপিতানিয়ত শাখার সদস্যদের নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসে যুদ্ধকক্ষের ভেতরের একটি কার্যালয়ে যেতে বলা হয়।
সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে যুদ্ধকক্ষের বাইরের একটি বোম্ব শেল্টারে হামলা চালানো হয়। সেখানে অন্যদের মধ্যে দায়িত্বে না থাকা তাৎজপিতানিয়ত সদস্যরাও ছিলেন।
সকাল আটটার দিকে যুদ্ধকক্ষে হামলা শুরু হয়, ব্যাপক গুলি করা হয়। যাঁদের হাতে অস্ত্র ছিল, তাঁরা ভবনের দরজায় লড়ছিলেন, যাতে হামাস সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করতে না পারেন। প্রায় চার ঘণ্টা লড়াই চলতে থাকে।
শিমন বলেন, তিনি এবং অন্য সেনারা ঘাঁটিতে লড়তে থাকেন, সেখানে তাঁদের সংখ্যা খুবই কম। অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। সবকিছু ধোঁয়াশা ঠেকছিল। সকাল নয়টার দিকে খাবারের কক্ষের দিকে এগিয়ে আসেন গোলানি সদস্যরা। সেখানে বেশির ভাগ বন্দুকধারী লুকিয়ে ছিলেন।
নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছিল, ওই দিন নাহাল ওজ ঘাঁটিতে প্রতি ২৫ জন কমব্যাট সেনার বিপরীতে ১৫০ বন্দুকধারী প্রবেশ করেছিলেন।
জেনারেল জিভ বলেন, ‘সীমান্তবেড়ার ৭০টির বেশি জায়গা ভেঙে তিন হাজার সন্ত্রাসী ঢুকে পড়েছিল। তারা জানত, তাদের বেশি দক্ষতা নেই , তাই তারা সংখ্যায় জোর দিয়েছিল।’
সকাল নয়টার দিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে বন্দুকধারীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্যারনসহ সাতজন যুদ্ধকক্ষ থেকে টয়লেটের জানালা বেয়ে বের হওয়ার পথ খুঁজে পান। ঘাঁটির ওই পালায় দায়িত্বরত তাৎজপিতানিয়ত সদস্যদের মধ্যে শুধু শ্যারন বেঁচে ছিলেন। অন্যরা হয় নিহত হয়েছেন বা তাঁদের ধরে নিয়ে যায় হামাসের বন্দুকধারীরা।
ওই দিন ইসরায়েলে ৩০০ সেনাসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। ২৫১ জনকে গাজায় নিয়ে বন্দী করা হয়। ওই দিন থেকেই গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৪১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
![]() |
| নাহাল ওজ ঘাঁটিতে হামাসের হামলার একটি মুহূর্ত। ছবি: টেলিগ্রাম থেকে নেওয়া |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে ৩১ মাওবাদীকে হত্যা
এসব নেতা ওরচ্ছা এবং বারসুর পুলিশ স্টেশনের অধীনে থুলথুলি এবং নেন্দুর গ্রামের মধ্যে বিভিন্ন ঘন জঙ্গলে আত্মগোপন করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের সহযোগিতা নিয়ে ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড ও স্পেশাল টাস্কফোর্স যৌথ অভিযান চালায়। নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা জঙ্গলের ২৫ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। এতে বিস্মিত হয়ে পড়ে মাওবাদীরা। কয়েক ঘণ্টা ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হতে থাকে। কর্মকর্তা বলেছেন, এর ফলে কমপক্ষে ৩১টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে হালকা মেশিনগান, একে-৪৭, সেলফ-লোডেড রাইফেল, আইএনএসএএস রাইফেল এবং ০.৩০৩ ক্যালিবারের আগ্নেয়াস্ত্র।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাদারীপুর থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র পাচ্ছে রোহিঙ্গারা
অভিযোগ রয়েছে মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলি আহম্মদ এবং শিবচর উপজেলা নির্বাচন কর্মকতা এসএম কাদেরের জোগসাজশে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এই নারীকে ভোটার তালিকায় নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। প্রদান করা হয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, জমিলা খাতুন ও তার স্বামী মুক্তাবিজ ইসলাম পরিবারসহ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার জাদির মুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৩ নম্বর ব্লকে বসবাস করতেন। কয়েক বছর আগে মুক্তাবিজ ইসলাম বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বর্তমানে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। এরপর তার স্ত্রী জমিলা খাতুনকে সৌদি আরব নেয়ার জন্য বাংলাদেশের নাগরিক বানিয়ে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। অভিযোগ রয়েছে, মাদারীপুরের স্থানীয় ঠিকানা ব্যহার করে ভোটার হচ্ছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা একাধিক রোহিঙ্গা। টাকার বিনিময়ে এমনটা করছেন নির্বাচন অফিসের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত ১লা অক্টোবর মাদারীপুর সদর উপজেলায় এক নাগরিক ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে ভোটার হতে আসে। পরে তার জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে না পাওয়ায় তার ভোটার হওয়ার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।
রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) বানিয়ে পাসপোর্ট করে মধ্যপ্রাচ্যসহ নানা দেশে চলেও যাচ্ছে।
জানা যায়, রোহিঙ্গারা তাদের নাম-পরিচয় গোপন করে স্থানীয় কোনো পরিবারের স্বামী-স্ত্রীকে পিতা-মাতা বানিয়ে জনপ্রতিনিধি এবং নির্বাচন অফিসের কতিপয় কর্মচারীকে ম্যানেজ করে ভোটার আইডি কার্ড বানাচ্ছে। একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট কিছু অসাধু জনপ্রতিনিধিকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে এনআইডি তৈরি করছে। পাসপোর্ট বানিয়ে বাংলাদেশি সেজে বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিচ্ছে রোহিঙ্গারা। একটি এনআইডি তৈরি করতে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্র। অবৈধভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া প্রসঙ্গে জমিলা খাতুনের স্বামী সৌদি আরবে অবস্থানরত মুক্তাবিজ ইসলাম হোয়াটসঅ্যাপে দাবি করেন তিনি মিয়ানমারের নাগরিক হলেও তার স্ত্রী জমিলা খাতুন বাংলাদেশের নাগরিক। কীভাবে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেয়েছেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, আমি রোহিঙ্গা হয়েছি তাতে কি হয়েছে? রোহিঙ্গারা কি বাংলাদেশের পাসপোর্ট পাবে না?
স্থানীয়রা জানান, রোহিঙ্গারা নানা কৌশলে ভোটার হচ্ছেন। এ দায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচন অফিস এড়াতে পারে না। টাকার বিনিময় ছাড়া এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি এডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রাপ্তির প্রক্রিয়াটি খুব সহজ নয়। কমপক্ষে পাঁচটি ধাপ অতিক্রম করে এই কার্ড পাওয়া যায়। আবেদনপত্র জমা দেয়ার পর তথ্য সংগ্রহ, পরিচিতি যাচাই, উপজেলা সার্ভারে প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রভৃতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারীকে এনআইডি কার্ড দেয়া হয়। এজন্য বেশ সময়ও লাগে। উল্লিখিত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যদি কার্ড পেয়ে থাকে, তাহলেও বলতে হবে এক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা এসএম কাদের বর্তমানে ভোলা জেলা নির্বাচন অফিসে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলি আহম্মদ নিজের দায় অস্বীকার করে বলেন, শিবচর উপজেলায় এক রোহিঙ্গা নারী ভোটার হয়েছে, এমন ঘটনা জানার পর পুলিশ সুপারকে তদন্ত করার জন্য অনুরোধ করেছি। পরে পুলিশ সুপারের তদন্তে বিষয়টি সত্যতা পাওয়া যায়। পরে আমরা সেই রোহিঙ্গা নারীর নাম তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়ার জন্য সুপারিশ করেছি। এ ছাড়াও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের শৃঙ্খলা শাখা থেকে অভিযুক্ত আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। রোহিঙ্গারা ভোটার হচ্ছে কিনা জানা নেই। তবে গত ১লা অক্টোবর মাদারীপুর সদর উপজেলায় এক নাগরিক ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে ভোটার হতে আসে। পরে তার জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে না পাওয়ায় তার ভোটার হওয়ার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘মহিপালে গুলি চালাতে ৮ জনকে অস্ত্র দেয় যুবলীগ সভাপতি-সেক্রেটারি’
আইনজীবী মেসবাহ উদ্দিন ভূঞা জানান, শহীদ মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলায় ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা লোকমানের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি মুরাদ। শহীদ ওয়াকিল আহম্মদ শিহাব হত্যা মামলায় ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট সাইয়েদ মো. শাফায়াতের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি ওসমান।
আদালত ও মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জবানবন্দিতে ওসমান আদালতকে জানিয়েছে- ৪ঠা আগস্ট সকালে সে সহ ৮জন পৌরসভায় যায়। সেখানে আরও ৩শ’ থেকে ৪শ’ মানুষ উপস্থিত ছিল। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী ওইস্থানে উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বক্তব্যে রাখেন। তার বক্তব্যে যেকোনো মূল্যে ছাত্র-জনতাকে প্রতিহত করার জন্য উপস্থিত নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন। এ সময় তার পাশে ছিলেন- সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল ও পৌর সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী। এরপর মাস্টারপাড়া নিজাম হাজারীর বাড়ির এলাকা থেকে সাদা প্রাইভেটকারের মাধ্যমে ব্যাডমিন্টন ব্যাগে করে শর্টগান আনা হয়। পৌরসভার লিবার্টি সুপার মার্কেটের নিচতলায় কৃষকলীগের অফিস কক্ষে ওসমানসহ ৮জনকে ডেকে নিয়ে ৮টি শর্টগান ও ১০ রাউন্ড করে কার্তুজ (গুলি) দেয় পৌর যুবলীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম ভূঞা ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বাবলু। সূত্র আরও জানায়, মহিপালে হামলার সময় জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মজিবুল হক রিপন ও ফুলগাজী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হারুন মজুমদারকে অনুসরণ করতে অস্ত্রধারীদের নির্দেশ দেয়া হয়। হামলায় অংশ নিতে ৪০-৫০জন বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও ১শ’ থেকে ২শ’ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহিপালের দিকে যায়। ৫ ঘণ্টাব্যাপী জবানবন্দিতে অস্ত্রধারী ও অস্ত্র ছিল না এমন বেশ কয়েকজন ব্যক্তির নাম আদালতকে জানায় লিটন। মহিপালে ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি করার সময় চৌধুরীবাড়ীর মুখে অবস্থান করায় উপরের দিকে ৮ রাউন্ড গুলি ছোড়ে লিটন। সংঘর্ষ শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কৃষকলীগের অফিসে গিয়ে যুবলীগ নেতা রফিক-বাবলুর কাছে অস্ত্র জমা দেয় তারা। এ সময় ব্যবহার না হওয়া ২ রাউন্ড গুলিও ফেরত দেয় লিটন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোতাহের হোসেন জানান, গত ১লা অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে র?্যাব’র একটি দল লিটনকে গ্রেপ্তার করে। জবানবন্দিতে লিটনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী তদন্ত চলছে।
এদিকে ৪ঠা আগস্ট ফেনীর মহিপালে গণহত্যায় জড়িত বালিগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের অর্থ-বিষয়ক সম্পাদক মুরাদ হোসেন বাবু ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা লোকমান ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দিতে গণহত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন আসামি। এর আগে ৩রা অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকালে সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের মিয়ার বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭)। বাবু বালিগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের অর্থ সম্পাদক ও ওই এলাকার রসুল আমিনের ছেলে। মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ার পর থেকে সে পলাতক ছিল।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাদ পড়া ১৮ হাজার শ্রমিক মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পাবেন: আসিফ নজরুল
আসিফ নজরুল বলেন, আমি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারকে বলেছিলাম এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এই ১৮ হাজার বাংলাদেশিকে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ দেয়া হবে। এখন একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, প্রতিশ্রুতি মানেই কিন্তু নিশ্চিত না। আমরা মালয়েশিয়ায় আমাদের হাইকমিশন এবং আমাদের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই প্রতিশ্রুতি কার্যকর করতে যত দ্রুত সম্ভব প্রচেষ্টা চালাবো। রাতে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সঙ্গে মিটিং আছে, সেখানে আমি বিষয়টি নিয়ে আলাপ করবো। আমরা একটি রোডম্যাপ তৈরি করবো।
প্রবাসীদের জন্য বিমানবন্দরে স্পেশাল লাউঞ্জের ব্যবস্থা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যেসব শ্রমিক ভাই-বোন যাচ্ছেন তাদের জন্য বিমানবন্দরে আলাদা স্পেশাল লাউঞ্জের ব্যবস্থা করবো। আমরা জায়গা ঠিক করেছি। সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করি দুই সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যাবে। লাউঞ্জ হলে প্রবাসী শ্রমিক ভাই-বোনদের যন্ত্রণা অনেক লাঘব হবে। এর পাশাপাশি অন্যান্য যে ভিআইপি সুবিধা, সেগুলোও থাকবে। বিমানবন্দরে প্রবেশের মুহূর্ত থেকে প্লেনে ওঠার আগ পর্যন্ত যে লাউঞ্জ থাকে সেই পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে তাদের সঙ্গে একজন লোক থাকবে সহায়তার জন্য। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রুহুল আমিন, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক হামিদুর রহমান প্রমুখ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইউনূসের সংলাপ: নির্বাচন সংস্কারের রোডম্যাপ দাবি
দুপুর আড়াইটায় শুরু হওয়া সংলাপে অংশ নেয়া দলগুলো হলো- বিএনপি, জামায়াত, হেফাজতে ইসলাম, গণতান্ত্রিক মঞ্চ, বাম গণতান্ত্রিক জোট, এবি পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং গণঅধিকার পরিষদ। সংলাপে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হাসান আরিফ, আদিলুর রহমান খান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম ও প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বিএনপিকে দিয়ে সংলাপ শুরু করেন প্রধান উপদেষ্টা। সংলাপ শেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন স্থগিত করে প্রধান রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। আমরা একটা রোডম্যাপ দিতে বলেছি। নির্বাচন কমিশন কবে নির্বাচন করবে- সে ব্যাপারে একটা রোডম্যাপ দিতে বলেছি। তিনি বলেন, আমরা এনআইডি কার্ড যেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করতে আইন করা হয়েছিল, সেটাকে অর্ডিন্যান্স জারির মাধ্যমে বাতিল করতে বলেছি। এছাড়া বিতর্কিত কোনো ব্যক্তি যাতে নির্বাচন সংস্কার কমিশনে না যায় সে বিষয়ে বলেছি। ফ্যাসিস্ট সরকারের ভুয়া ভোটে নির্বাচিত সকল ইউনিয়ন পরিষদ বাতিল করতে বলেছি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে যেসব প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং কমিশনারসহ ছিল ভুয়া ও ব্যর্থ নির্বাচন, পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন করার অভিযোগে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার কথা বলেছি। উনি (প্রধান উপদেষ্টা) আমাদেরকে বলেছেন, নির্বাচন অনুষ্ঠান উনাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার।
বিএনপি’র দাবির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা কী বলেছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়গুলো অত্যন্ত সহযোগিতার সঙ্গে তারা দেখছেন। তারা মনে করেন আমাদের দাবিগুলো জনগণের দাবি, আমাদের দাবিগুলো তাদেরও দাবি। পাশাপাশি সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে সংবিধান ধ্বংস ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের ‘মূল হোতা’- অভিহিত করে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসনের ফ্যাসিবাদের অনেক দোসর কর্মরত আছেন তাদের অপসারণ, জেলা প্রশাসক নিয়োগে নতুন ফিট লিস্ট এবং যেসব জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদের নিয়োগ বাতিল, ফ্যাসিবাদের সময়ের চুক্তিভিত্তিক সব নিয়োগ বাতিলের কথা বলা হয়েছে বিএনপি’র পক্ষ থেকে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে দু’-একজন আছেন যারা বিপ্লব-গণঅভ্যুত্থানের যে মূল স্পিরিটকে ব্যাহত করছে তাদেরকে সরানোর কথা বলেছি। আমরা গত ১৫ বছর ধরে সরকারি কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বঞ্চিতদের ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি নিশ্চিত করার জন্য বলে এসেছি। বিচার বিভাগের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বলেছি বিচার বিভাগের হাইকোর্ট বিভাগে এখন পর্যন্ত পরিবর্তন হয়নি। হাইকোর্ট বিভাগে বেশির ভাগ নিয়োগই ছিল দলীয় ভিত্তিতে এবং প্রায় ৩০ জন বিচারক বহাল তবিয়তে আছেন। এদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি। দলকানা কিছু বিচারক আছেন তাদের অপসারণের কথা বলেছি। একই সঙ্গে অতিদ্রুত পিপি ও জিপি নতুনভাবে নিয়োগ দেয়ার কথা বলেছি।
তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি অথবা হত্যায় সুনির্দিষ্ট মামলায় যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে- তাদেরকে জামিন দেয়া হচ্ছে। এটা খুব উদ্বেগজনক। এই বিষয়টা আমরা দেখার জন্য বলেছি। ২০০৭ সালে থেকে শেখ হাসিনার শাসনামলে সকল মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলা প্রত্যাহারের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা ও প্রত্যাহারের ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছি। মির্জা ফখরুল বলেন, শুনতে পাই, কিছু জায়গায় সাবেক মন্ত্রীরা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। কীভাবে পালিয়ে যাচ্ছে, কার সহযোগিতায় পালাচ্ছে এই বিষয়গুলো দেখার জন্য বলেছি। আজকে পতিত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ভারতে আছেন। ভারতে থেকে তাকে কেন্দ্র করে সমস্ত ক্যাম্পেইন চলছে, যে সমস্ত অপপ্রচার চলছে সেই বিষয়গুলো নিয়ে ভারতের সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য এবং তাকে ওই অবস্থা থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য আমরা সরকারকে অনুরোধ করেছি, তারা যেন ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে। বিএনপি মহাসচিব পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিরতার সৃষ্টি পেছনে কারা আছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। বলেন, জাতিসংঘের একটি দল এসেছে বাংলাদেশে। সেই দলকে যারা বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে আছেন তারা সেইভাবে সহযোগিতা করছে না। তিনি বলেন, সমপ্রতি দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সনাতনী কিছু মানুষ, সবাই না তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে জনগণকে উস্কে দিচ্ছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। হিন্দু কমিউনিটির ওপর নির্যাতন হচ্ছে ইত্যাদি কথা বলছে- যা সর্বৈব মিথ্যা। এটা তাদের সুদূর পরিকল্পনা- বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আমরা বলেছি। এই কথাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বলেছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এদিকে বিএনপি’র বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধান উপদেষ্টার কাছে বিএনপি নেতারা জানতে চান- পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন এখনো কীভাবে বহাল তবিয়তে আছেন। অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান তারা।
বৈঠকে গুম-খুনের বিচার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন নেতারা। এছাড়াও গুম, খুনের মাস্টারমাইন্ড ও ঠাণ্ডা মাথার খুনি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না। রিমান্ডের নামে তাকে জামাই আদর করা হচ্ছে বলেও বৈঠকে অভিযোগ করে বিএনপি। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংস্কারে গঠিত কমিশনের দুই সদস্য ইসি’র সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী ও সাবেক সচিব আব্দুল আলীমের অতীত ভূমিকার কারণে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকীর বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়েছে দলটি। নেতারা জানিয়েছেন, আলী ইমাম মজুমদার ও আহসান কিবরিয়া প্রশাসনে আওয়ামীকরণ করছেন। এছাড়া জনপ্রশাসন সচিব ড. মোখলেস উর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের আগে তাকে তার পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছে দলটি। ছয় সদস্যের বিএনপি’র প্রতিনিধিদলে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।
এদিকে বিএনপি’র পর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপে বসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর প্রফেসর মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, আনম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, আব্দুল হালিম, সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ প্রমুখ। সংলাপ শেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দু’টি রোডম্যাপ চেয়েছি। দেশবাসীকে জানিয়েছি এবং সরকারকেও জানিয়েছি। একটা রোডম্যাপ হবে সংস্কারের এবং আরেকটা হবে নির্বাচনের। সংস্কারটা সফল হলে নির্বাচনটা সফল হবে। এজন্য দু’টি বিষয়ের উপর আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। তাদের (সরকার) সঙ্গে আমাদের আরও সংলাপ হবে। খুব অচিরেই তারা প্রকাশ করবেন এবং আমরাও প্রকাশ করবো। এটা খুব দেরি হবে না। আমরা বলেছি, জনগণের কাছে আপনাদের অনেক প্রত্যাশা। এই সময়টা টেনে আমরা লম্বা করবো না। যৌক্তিক সময়টা যাতে আমরা বহাল রাখতে পারি। উনারা কোনো দ্বিমত পোষণ করে নাই। আমরা আশা করি, এখানে কোনো সংকট তৈরি হবে না, ইনশাআল্লাহ। জামায়াত আমীর বলেন, আগামী ৯ই অক্টোবর আপনাদের মাধ্যমে জাতির সামনে আমাদের প্রস্তাবনাগুলো উন্মুক্ত করবো, ইনশাআল্লাহ। এটা প্রাথমিক তথ্য। অবিলম্বে আমাদের চিন্তা জাতির সামনে তুলে ধরবো যে, কী কী সংস্কার এই মুহূর্তে প্রয়োজন। কী কী সংস্কার আমাদের পরবর্তীতে লাগবে। তিনি বলেন, দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এখানে কথা হয়েছে। এক্ষেত্রে জনগণ এবং বর্তমান সরকার একসঙ্গে কীভাবে পারিপার্শ্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন সাধন করতে পারে এবং সকল ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারে- সে বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের এখানে কথাবার্তা হয়েছে। আমরা আশা করছি, বর্তমান যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আছে, তারা কোনো ধরনের পক্ষ-বিপক্ষের মানসিকতা না নিয়ে নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন থেকে দেশকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে সক্ষম হবেন। আশা করছি, সময়টা দীর্ঘ হবে না। আমরা শুরু থেকে বলেছি, সংস্কারের জন্য আমরা সরকারকে যৌক্তিক সময় দিতে চাই। সেই যৌক্তিক সময়টা কী হবে, সেটা নিয়ে আামরা অচিরেই কাজ করবো- সেটাও আপনাদের সামনে চলে আসবে। তিনি বলেন, এখানে একটা প্রশ্ন এসেছে, আসন্ন দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুন্দর রাখার জন্য করণীয় কী? আমরা সেগুলো আলোচনা করেছি। আমরা বলেছি, সরকারের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন হবে। শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সকলের সহযোগিতায় দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাক, সেই জায়গায় আমরা অবদান রাখতে চাচ্ছি। আমরা আজকে এসেছিলাম দেশ ও জাতির প্রয়োজনে। এই সরকার একটা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে যারা আহত হয়েছেন, তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য আমরা সরকাকে আহ্বান জানিয়েছি।
অন্যদিকে গণতন্ত্র মঞ্চের বৈঠক শেষে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সংস্কারের বিষয়ে আমরা মত দিয়েছি। সংস্কারের জন্য প্রয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতা করবো আমরা। আমরা প্রশাসনের কিছু দুর্বলতা দেখছি, ব্যর্থতা দেখছি, সীমাবদ্ধতা দেখছি। সিভিল পুলিশসহ প্রশাসনে এমন কিছু দেখছি যা উদ্বেগ প্রকাশ করার মতো। এই বিষয়গুলো লক্ষ্য করেছেন বলে জানিয়েছেন। সংস্কারের একটা শর্তই হচ্ছে সবাই সেটা গ্রহণ করবে। ন্যূনতম ঐক্যের প্রচেষ্টা সরকারকে করতে হবে। এ ব্যাপারে আমরাসহ সব রাজনৈতিক দল সরকারকে সহযোগিতা করবো। আমরা বলেছি, যতদূর পর্যন্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সংস্কার করতে পারবো, ততদূর পর্যন্ত আমরা সংস্কার করবো। বাকি যেসব সংস্কার দরকার, তা পরের নির্বাচিত সরকার এসে করবে। এ ছাড়াও গার্মেন্টস এলাকায় যে অসন্তোষ তৈরি করা হচ্ছে সে বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে সবাই কথা বলেছেন। মান্না ছাড়াও সংলাপে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমম্বয়ক এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন উপস্থিত ছিলেন।
এরপর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ সময় তারা আরও ৯টি সংস্কার কমিশন গঠনের প্রস্তাব বিবেচনার জন্য পেশ করে। দলের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে অন্যদের মধ্যে ছিলেন দলের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, প্রেসিডিয়াম প্রফেসর আশরাফ আলী আকন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম ও সিনিয়র সহকারী মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ফজলে বারী মাসউদ।
সংলাপ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি)। এ সময় দলটি ৬ দফা পর্যবেক্ষণ ও ১১ দফা প্রস্তাবনা পেশ করে। এ ছাড়া দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে এবি পার্টি। পার্টির আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার, সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও সহকারী সদস্য সচিব ব্যারিস্টার নাসরীন সুলতানা মিলি।
হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে সংলাপ শেষে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারে অনেকগুলো কমিশন গঠন হয়েছে। প্রতিটি কমিশন আলাদা আলাদা করে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবে, আলোচনার মাধ্যমে তারা তাদের সংস্কার প্রস্তাবনা তৈরি করবেন। সেই প্রস্তাবনা তৈরি হলে আবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবেন। তারপরেই সকলের মতামত নিয়ে সংস্কার প্রস্তাবনার কাজ শুরু করবে।
তিনি বলেন, আমরা বলেছি যে শিক্ষা কমিশন বাতিল করা হয়েছে এখন আরও একটি শিক্ষা কমিশন গত ৩০শে সেপ্টেম্বর গঠন করা হয়েছে প্রাথমিক ও উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষার বিষয়ে। সেক্ষেত্রে কিছু আপত্তির জায়গা রয়েছে। এই কমিশনে এমন ব্যক্তি রয়েছে যারা বিগত রেজিম সরকারের হয়ে কাজ করেছে।
তিনি বলেন, এ ছাড়া আমাদের পক্ষ থেকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে কথা বলেছি। বাজার মূল্য যাতে নিয়ন্ত্রণে আসে সেই বিষয়ে কথা বলেছি।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে ছিলেন মাওলানা শায়খ সাজেদুর রহমান, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা আবদুল বাসেত আজাদ, মাওলানা সরোয়ার কামাল আজিজি, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী, ড. আহমদ আবদুল কাদের, মাওলানা মামুনুল হক, মাও. মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, মাও. আজিজুল হক ইসলামাবাদী।
উল্লেখ, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলে গত ৮ই আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেন। এরপর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ নিয়ে তিন দফা প্রধান উপদেষ্টা সংলাপ করেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির ছায়া সংসদ: বিপ্লব ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘রাষ্ট্র সংস্কারের পর জাতীয় নির্বাচন গণতন্ত্রকে সুসংহত করবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকদের পরাজিত করে কবি নজরুল সরকারি কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়।
অনুষ্ঠানে মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীকে তার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে সাহসী, সততা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে ছিলেন ড. এস এম মোর্শেদ, অধ্যাপক শিরিনা বীথি, সাংবাদিক রাসেল আহমেদ, সাংবাদিক মো. হুমায়ুন কবীর ও সাংবাদিক আমেনা আক্তার হীরা। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
ছায়া সংসদের বিতর্ক চলাকালীন সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের পর জাতীয় নির্বাচন গণতন্ত্রকে সুসংহত করার পক্ষে সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা। একেকজন বক্তা চার মিনিটের বক্তব্যে সবার আগে রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা বলেন, ছয়টি সংস্কার কমিশন করা হয়েছে। এই সংস্কারের মধ্যদিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়া হবে। তারপরেই নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকারের হাতে ক্ষমতা দেয়া হবে। সরকারি দলের বক্তব্যে রাষ্ট্র সংস্কার না হলে ফ্যাসিস্টরা আবারো ফিরে আসবে বলে বক্তব্যে উঠে আসে। অপরদিকে বিরোধিতা করেন কবি নজরুল সরকারি কলেজের বিতার্কিকরা। তারাও সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দ্রুত নির্বাচন দেয়ার আহ্বান জানান। তারা সংসদে সরকারি দলকে প্রশ্ন করেন, কতোদিনে এই সংস্কার করা হবে। আর সংস্কার একটা চলমান প্রক্রিয়া। এটা যেকোনো সরকার ক্ষমতায় গেলে তা করতে পারবে বলে ছায়া সংসদের বিতর্কে উঠে আসে। সরকারি দলে শেকৃবি’র পক্ষে সংসদীয় নেতা হিসেবে বক্তব্য রাখেন মরিয়ম জামিলা মারিয়া। তার সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফাহমিদা হাসান দিশা ও সংসদ সদস্য ছিলেন সাইফ আল সুফিয়ান। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য দেন কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শাফায়াতুর রহমান। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় উপনেতা ছিলেন আসিফ আলমগীর ও বিরোধী সংসদ সদস্য ছিলেন শাহীন আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মতিউর রহমান চৌধুরী এক প্রশ্নের জবাবে দেশে সেনা শাসন আসার শঙ্কা নেই বলে জানান। তিনি বলেন, এখনকার যুগে সেনা শাসন সম্ভব নয়। সেনা শাসন হলে উন্নয়ন সহযোগীরা সহায়তা বন্ধ করে দেবে। আমেরিকা, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সেনা শাসনের বিপক্ষে। তবে বিপ্লব ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে। আর বাংলাদেশ ব্যর্থ হলে আমরা অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি হবো।
তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই জানেন তিউনিশিয়া ও মিশরে বিপ্লব হয়েছিল। তিউনিশিয়াতে এসেছে একটা দুর্বল গণতন্ত্র। আর মিশরে সেনাশাসন এসেছে। বিপ্লব ব্যর্থ হয়েছে। মানুষ হতাশ হয়েছে। আমাদের এখানে সেই আশঙ্কা যে নেই, তা কিন্তু বলা যাবে না। এ কারণে আমাদের সম্মিলিতভাবে রুখতে হবে। স্লোগান দিলেই সংস্কার হবে না। আর এই সরকারও শক্তিশালী হবে না। আপনি দেখেন, প্রতিদিন দাবি জানানো হচ্ছে। আগে এই দাবিগুলো কোথায় ছিল?
ড. ইউনূস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রফেসর ইউনূসকে আমরা পেয়েছি। প্রফেসর ইউনূসের সমস্যাটা কি? অবশ্যই সমস্যা আছে। একদিকে শান্তিতে তিনি নোবেল বিজয়ী। তিনি মানুষের উপর কঠোর হতে পারেন না। শেখ হাসিনার মতো গুলি চালাতে পারেন না। তার পুরস্কার তাকে বাধা দিচ্ছে। আরেকটা হচ্ছে তিনি সরকার প্রধান। এই দুইয়ের কন্ট্রাডিকশনের কারণে সরকার দুর্বল।
দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সংবিধানকে পুনর্লিখন না করে সংস্কার করা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, সংবিধান পুনর্লিখন নয়, সংস্কার করা যেতে পারে। পুনর্লিখন করলে বিপদ হবে।
মানবজমিন প্রধান সম্পাদক আরও বলেন, জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার বিলম্ব হলে ফ্যাসিস্টরা আবার ফিরে আসার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রাপ্তিতেও সংশয় তৈরি হবে।
দেশ নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে এখন। এই ষড়যন্ত্রের মধ্যদিয়ে আমি আগেই বলেছিলাম রাষ্ট্র গঠনের যে মূল চেতনা এই চেতনা যদি কোনো কারণে চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে তাহলে আমরা সবাই অপরাধী হবো। আমাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। আর জবাবদিহিতা নাই বলেই আজকে বাংলাদেশের এই সংকট।
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, আজকের এই ছায়া সংসদে যে বিতর্ক হলো এই বিতর্ক থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। আমি অনেক কিছু শিখেছি। আপনারা রাজনীতিবিদদের সামনে এই কথাগুলো যদি বলতে পারতেন, তাহলে তারা বুঝতেন কোথায় ভুল করছেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সীমাহীন অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম, হামলা-মামলা, গুম-খুন করার চরম পরিণতিতে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মুখে এক কাপড়ে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে পতিত সরকারের প্রধান সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে। বিগত সরকারের শাসনামলে অন্যায়, দুর্নীতি, দুঃশাসন প্রতিরোধের অংশ হিসেবে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ কতোদিন হওয়া উচিত তা নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। আমি মনে করি এক-দেড় বছরের আগে নির্বাচন হলে বিদ্যমান ব্যবস্থার খুব বেশি পরিবর্তন হবে না। জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য একটা যৌক্তিক সময় অন্তর্বর্তী সরকারকে দেয়া উচিত। তা না হলে ছাত্র-জনতা যে ম্যান্ডেট দিয়ে বর্তমান সরকারকে দায়িত্ব প্রদান করেছে, সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য সরকার অর্জন করতে পারবে না। তবে অবশ্যই যত দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্ভব রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দূরত্ব বাড়লে সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাবে। সকল রাজনৈতিক দলকে খেয়াল রাখতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা হলে স্বৈরাচারের পতনের সুফল বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, স্বৈরাচারের হাত থেকে দেশ মুক্তি পেলেও আমাদের মুক্তির আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। ডামি নির্বাচন যারা করেছে, দিনের ভোট রাতে নিয়েছে, শতভাগ ভোট কাস্ট করেছে, মৃত মানুষ ভোট দিয়েছে, নাবালক শিশুদের দিয়ে ভোট দেওয়ানো হয়েছে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। যারা দুর্নীতির লক্ষ্যে গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করেছে, আয়নাঘর সৃষ্টি করেছে, গুম-খুন ও হত্যার রাজনীতি করেছে তাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত মুক্তির আন্দোলন শেষ হবে না।


About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলা করা সেই খাস্তগীর এখন পোল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত
এই যখন অবস্থা তখন কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন ছাত্র-শিক্ষকদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে কাজাং থানায় রিপোর্ট করে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকরা নানামুখি হেনস্তার শিকার হন। এই মামলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খাস্তগীর। শুধু তাই নয়, খোরশেদ আলম খাস্তগীর দেশের আন্দোলনকারীদেরও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র ক্যাডারদের সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএসএ) হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের ফাঁস হওয়া চ্যাটে দেখা যায় খোরশেদ আলম খাস্তগীর মালয়েশিয়া প্রবাসী যারা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছিলেন তাদের পাসপোর্ট বাতিলের সুপারিশ করেছিলেন!
ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে আর পতিত স্বৈরশাসনের পক্ষে নগ্নভাবে অবস্থানগ্রহণকারী সেই খাস্তগীরকে পোল্যান্ডে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসাবে নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্র-জনতার রক্তের উত্তরাধিকার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিতর্কিত ওই কূটনীতিককে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পদায়নের ঘোষণায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের মধ্যে। তার নিয়োগ বাতিলের দাবি উঠেছে। স্মরণ করা যায়, বিদায়ী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে খোরশেদ আলম খাস্তগীরকে বাহরাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিলো। কিন্তু তার অতীত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে মানামা তাকে প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে ওয়ারশোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসাবে প্রস্তাব করে বিদায়ী সরকার, যা বহাল রাখে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকার!
মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খাস্তগীর বিসিএস (ফরেন অ্যাফেয়ার্স) ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের একজন কূটনীতিক। তিনি ২০০১ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইউরোপ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক সংস্থা অনুবিভাগের মহাপরিচালক ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে প্রথম সচিব ও ওমানের মাস্কাটে বাংলাদেশ দূতাবাসে কাউন্সেলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চট্টগ্রামে রাষ্ট্রায়ত্ত আরেকটি জাহাজে আগুন, নাশকতার শঙ্কা
শুক্রবার মধ্যরাত পৌনে একটায় জ্বলতে শুরু করে ‘এমটি বাংলার সৌরভ’। বহির্নোঙ্গরে অবস্থানরত বিএসসি’র এ অয়েল ট্যাংকারের আগুন নিয়ন্ত্রণে ও উদ্ধার অভিযানে কোস্টগার্ড টাগ শিপ বিসিজিটি প্রমত্ত, মেটাল শার্ক ৩টি ও ৪টি টিমে বিভক্ত হয়ে কাজ শুরু করে। রাত আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনায় পানিতে ডুবে সাদেক মিয়া (৫৯) নামে জাহাজের এক ক্রুর মৃত্যু হয়। সাদেকের বাড়ি নোয়াখালী। হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের পর নাবিকরা বঙ্গোপসাগরে লাফ দেয়। এরপর ৪৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে সাদেক মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিনার্স এসোসিয়েশনের একাধিক সূত্র জানায়, একটি জাহাজের আয়ুষ্কাল থাকে ২০ থেকে ২৫ বছর। এরপর তা আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করতে পারে না। কিন্তু এমটি বাংলার জ্যোতি ও এমটি বাংলার সৌরভ নামের ট্যাংকার দুইটি ১৯৮৭ সালে নির্মিত হয়েছিল ডেনমার্কে। ট্যাংকার দুটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ বড় ট্যাংকার থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে পতেঙ্গার বিভিন্ন ডিপোতে নিয়ে আসে। কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. শাকিব মেহবুব জানান, রাত ২টা ৩৫ মিনিটে কোস্টগার্ড টাগ শিপ বিসিজিটি প্রমত্ত এমটি বাংলার সৌরভের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এসময় কোস্টগার্ড জাহাজে থাকা মোট ৫০ জন ক্রু’র মধ্যে ৪৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। একজনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। বাকি একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
জানা যায়, কোনো ধরনের বিস্ফোরণ ছাড়াই জাহাজের চার স্থানে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। আবার আগুন লাগার সময় জাহাজের পাশ দিয়ে একটি স্পিডবোটও চলে যেতে দেখা যায়। সব মিলিয়ে এমটি ‘বাংলার সৌরভ’ জাহাজে অগ্নিকাণ্ড প্রাথমিকভাবে নাশকতা বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। যদিও প্রকৃত কারণ তদন্তসাপেক্ষে জানা যাবে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএসসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, যেহেতু গ্যাস ফর্ম কিংবা অন্য কোনো কারণে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেনি। তাই আমরা ধারণা করছি, এটি নাশকতামূলক অগ্নিকাণ্ড হতে পারে। কিন্তু সবকিছু তদন্তের পরেই জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলার সৌরভ জাহাজের সম্মুখ অংশ থেকে একসঙ্গে চার স্থানে আগুন লাগে। অথচ জাহাজে কোনো বিস্ফোরণ হয়নি। যখন জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে ঠিক এসময়ে পাশ দিয়ে একটি স্পিডবোটও যায়। কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, দুর্ঘটনার পর নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বন্দরের টাগবোট দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে ৪৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ট্যাংকারের যেখানে জ্বালানি তেল রয়েছে, সেখানে আগুন লাগেনি। এখন ট্যাংকারটি থেকে জ্বালানি তেল স্থানান্তর করে কীভাবে উদ্ধার করা যায়, সে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গোয়ালিয়রে ‘দুই গরমে’ পুড়ছে বাংলাদেশ by ইশতিয়াক পারভেজ
গোয়ালিয়র শহরে দিনের বেলা যেন বাইরে হাঁটাই যায় না। রোদের তাপটা যেন সুঁইয়ের মতো শরীরে বিঁধে। যদিও সন্ধ্যার পর ম্যাচ, তাই ধারণা করা হচ্ছে- গরম তখন হয়তো একটু কমেই আসবে। রাজা-বাদশাহদের শহর হিসেবে পরিচিত হলেও এখানে এখনো খুব একটা লাগেনি আধুনিকতার ছোঁয়া। শহর না বলে এটিকে বিশাল বড় একটি গ্রাম বললেও ভুল হবে না। যদিও এয়ারপোর্ট, পাঁচ তারকা হোটেল আছে। কিন্তু এখানকার মানুষের জীবনে তা বড় কোনো প্রভাব ফেলেছে বলে মনে হয় না। স্টেশন থেকে নেমে শহরের দিকে যতই প্রবেশ করেছি দেখা যাচ্ছিল বাড়তি নিরাপত্তা। মোড়ে মোড়ে যেমন পুলিশ আছে তেমনি দেখা মিলেছে হিন্দু মহাসভার কর্মদেরও। শ্রীমন্ত মাধব রাও সিন্ধিয়া স্টেডিয়ামে হতে যাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ। যার নামে স্টেডিয়াম তিনিও এখানকার রাজনীতি ও রাজা-বাদশাহদের বংশের একজন। শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে এই স্টেডিয়াম। কিন্তু পুরো পথ জুড়ে গতকাল থেকেই নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্টেডিয়ামের দুই কিলোমিটারের মধ্যে সবাইকেই পুলিশের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পরিচয়পত্র ছাড়া মাঠের কাছে কারও যাওয়ারও সুযোগ নেই। আজ ম্যাচের দিন সেই নিরাপত্তা আরও বাড়বে তা সহজেই অনুমেয়। এমন উত্তাপের মাঝেও হৃদয় বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের খুব ভালো সুযোগ আছে পারফর্ম করার। আমরা অবশ্যই জিততে চাইবো। এটাই, আর কিছু নয়।’
ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ আয়োজনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা। তাদের দাবি, গত ৫ই আগস্ট গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ‘নিপীড়ন’ করা হচ্ছে। সেটার প্রতিবাদে প্রথম টি-টোয়েন্টির দিন শহরটিতে ‘বন্ধ’ ডেকেছে ভারতের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলটি। এছাড়া, সমমনা আরও কয়েকটি সংগঠন বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। এতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। তবে স্থানীয় প্রশাসন নির্বিঘ্নে ম্যাচটি আয়োজন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গোয়ালিয়রের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ হচ্ছে, সীমানার মধ্যে কোনো ব্যক্তি যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে এই আন্তর্জাতিক ম্যাচে ব্যাঘাত ঘটায় বা ধর্মীয় উস্কানি দেয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই ধরনের সমস্ত ব্যানার, পোস্টার, কাটআউট, পতাকা ও অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, পাঁচ বা এর বেশি লোকের জমায়েত, আগ্নেয়াস্ত্র, তলোয়ার বা বর্শার মতো তীক্ষ্ণ ও ধারালো অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্টেডিয়ামের সমস্ত ভবনের ২০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কেরোসিন, পেট্রোল ও অ্যাসিডের মতো দাহ্য পদার্থের ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না দুই দলের ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষায় এমন উত্তেজনার কোনো ছাপ দেখা না গেলেও ভিতরে ভিতরে শঙ্কা নেই তা কে বলবে!

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রশাসনের মধ্যে স্বৈরাচারের ভূত বসে আছে
বিএনপি মহাসচিব বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এই যে ভূতগুলোকে নিয়ে যারা এতদিন জনগণের ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন চালিয়েছে, যারা দুর্নীতি করেছে, লুটপাট করেছে-সেই ভূতেরা কিন্তু এখনো প্রশাসনের মধ্যে আছে। এই ভূতগুলোকে দূর করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সাহেবের নেতৃত্বে বর্তমান যে সরকার এসেছে, আমরা সবাই মিলে এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছি-দেশকে সঠিক দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমরা তাদেরকে অবশ্যই সময় দিচ্ছি, সময় দেবো। কিন্তু বার বার প্রশ্ন আসে যে, কতোদিন সময় দেবেন? আমরা সেই পর্যন্ত সময় দেবো যে পর্যন্ত একটা যৌক্তিক সময়ে তারা (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) নির্বাচনের ব্যবস্থা তৈরি করতে পারেন। আমরা বিশ্বাস করি- রাজনীতি করি, আন্দোলন করেছি, জান দিয়েছি-প্রাণ দিয়েছি- একটা লক্ষ্যে যে আমরা জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই, আমরা গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা কোনো বিরাজনীতিকরণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আবার মাইনাস টু দেখতে চাই না। আমরা আবার মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ দেখতে চাই না। আমরা সত্যিকার অর্থে দেশে একটা সুস্থ উদারপন্থি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দেখতে চাই। এজন্য আমরা তাদের হাতেই (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) দায়িত্ব দিয়েছি। আমরা মনে করেছি যে, তারা যোগ্য মানুষ, তারা কাজ করছেন। তাদেরকে অতি দ্রুততার সঙ্গে কাজ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমরা কখনোই ব্যর্থ হয়নি, আমরা ’৫২ সালে জয়ী হয়েছি, ’৬৯-এ জয়ী হয়েছি, আমরা ’৭১-এ জয়ী হয়েছি, আমরা ’৯০-এ জয়ী হয়েছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে, আমাদের সেই আন্দোলন শুরু হয়েছিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে। আমরা ইনশাআল্লাহ এবারো জয়ী হবো।
ফখরুল ইসলাম বলেন, জাতীয়করণ হলেই আপনাদের সব সমস্যার সমাধান আসবে না। শিক্ষার মান বাড়াতে হবে, যোগ্য মানুষকে নিয়ে আসতে হবে। আমাকে একটা কাগজ তুলে দিয়েছেন আপনাদের নেতা সেলিম ভুঁইয়া সাহেব যে, ম্যাডামের একটা ঘোষণা ছিল চাকরি জাতীয়করণ করার জন্য। ম্যাডামের ঘোষণা তো সকলের জন্য শিরোধার্য আমাদের জন্য। সেজন্য সরকারে আসতে হবে তো। সরকারে কখন আসতে পারবেন? জনগণ যদি ভোট দিয়ে সরকারে পাঠায়। ভোট দেবে কখন? যখন আপনি জনগণের কাছে প্রমাণিত হবেন যে, আপনি যোগ্য, যে আপনি আগামী ৫ বছর তাদেরকে সুষ্ঠু ভাবে সেবা করতে পারবেন, কাজ করতে পারবেন। কিন্তু আমরা সব ক্ষেত্রে কী সেটা করতে পারছি।
তিনি বলেন, পত্র-পত্রিকায় বাইরে বিভিন্ন সমালোচনা হচ্ছে। এই সমালোচনা যাতে না হয় সেজন্য আমাদেরকে কাজ করতে হবে। যারা দুর্নীতি করে, যারা চাঁদাবাজি করে, জমি দখল করে তারা বিএনপি’র লোক নয়, তারা দুর্বৃত্ত। দল থেকে কিছু লোকের বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাহেব ব্যবস্থা নিয়েছেন। আমরা এটা নেবো।
মির্জা ফখরুল বলেন, আরেকটা কথা বলি, এটা আমার নিজের কথা, শিক্ষকদেরকে দলকানা হলে চলবে না। শিক্ষকদেরকে দলীয় রাজনীতি থেকে একটু দূরে থাকতে হবে। তা না হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকবে না। কথাটা আপনাদের ভালো লাগবে না, আমি জানি। আওয়ামী লীগ যে অবস্থা তৈরি করে দিয়ে গেছে, সেই পিয়ন থেকে গভর্নিং বডির প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগের লোক। এই অবস্থা থেকে আমাদের বের করে নিয়ে আসতে হবে, বের করে নিয়ে এসে ভালো সুস্থ পরিবেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যাদের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক আছে, যারা শিক্ষিত, যারা কাজ করতে পারবেন তাদেরকে নিয়ে আসতে হবে। এটা যদি আপনারা মন থেকে করতে পারেন তাহলে পরিবর্তন হবে, নইলে পরিবর্তন হবে না।
পরিবর্তনে দেশে নতুন সম্ভাবনার আশার কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি খুব আশাবাদী মানুষ। অনেকেই বলে যে কি হলো? বলি এই পর্যন্ত তো হলো, হাসিনা পালায়ে গেছে এই পর্যন্ত তো হলো। পার্লামেন্ট ভেঙে গেল এটা হলো না, ম্যাডাম মুক্তি পেলেন এটা হলো না! এখন পরিবর্তন আনতে হবে। এর জন্য কাজ করতে হবে। দরকার হলে আবার রাজপথে নামতে হবে, দরকার হলে আবার বুকের রক্ত দিতে হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে এ দেশের সত্যিকার অর্থে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করবো, ম্যাডামের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করবো, তারেক রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করবো।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক নুরুল হক নুরসহ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চৌধুরী মূগিস উদ্দিন মাহমুদ, জাকির হোসেনসহ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ: শেরপুর-ময়মনসিংহে ভয়াবহ বন্যা, নিহত ৩
এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলা দু’টির লাখ লাখ মানুষ। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, ফসলি জমি ও সবজি ক্ষেত। শেরপুরে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আরও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। এদিকে টানা বর্ষণে কুড়িগ্রামে ফের বাড়ছে নদ-নদীর পানি। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে রৌমারী, চিলমারী, রাজীবপুর ও রাজারহাটের নিম্নাঞ্চল। তলিয়ে গেছে এসব উপজেলার ফসলি জমি ও সবজি ক্ষেত। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে-
শেরপুর প্রতিনিধি জানান, শেরপুরে ৩ দিনের টানা ভারি বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরের পানি কিছুটা নেমে গেলেও নিম্নাঞ্চলের অন্তত দেড়শ’ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া শ্রীবরদী, শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলার আরও ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাটসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন আবাদ, মাছের ঘের ও সবজি আবাদ। পানিবন্দি হয়ে আছে ৩ উপজেলার প্রায় ১ লাখ মানুষ।
প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি ঢলে নালিতাবাড়ীতে এক বৃদ্ধ ও নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ হয়েছেন আরও ৩ জন। এ ছাড়া ঝিনাইগাতীতে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে উজান থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক ব্যক্তির লাশ ভেসে এসেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নালিতাবাড়ীতে নিহত ২ জন হলেন- বাঘবেড় গ্রামের মানিক মিয়ার স্ত্রী ওমিজা খাতুন (৪৫) ও আন্ধারুপাড়া গ্রামের ইদ্রিস মিয়া (৮০)। এ ছাড়া উপজেলার নন্নী অভয়পুর গ্রামের বছির উদ্দীনের ২ ছেলে আবু হাতেম (৩০) ও আলমগীর (১৭) এবং বাতকুচি গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের স্ত্রী জহুরা খাতুন (৪৫) নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার বিকালে উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের আন্ধারুপাড়া গ্রামে ঢলের পানিতে ডুবে থাকা সড়ক পার হওয়ার সময় ডুবে যান ইদ্রিস মিয়া। পরে স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজির পর তার লাশ উদ্ধার করে।
ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি এবং নালিতাবাড়ীর ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীর অন্তত ১০ জায়গায় বাঁধ ভেঙে ও নদীর পাড় উপচে প্লাবিত হওয়া গ্রামগুলোর বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও আবাদ তলিয়ে গেছে। জেলার অন্তত ১৮ হাজার হেক্টর জমির আমন আবাদ সম্পূর্ণ ও ১৭ হাজার হেক্টর জমির আমন আবাদ আংশিকসহ ১ হাজার হেক্টর সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি কার্যালয়। এতে অন্তত ৬৫ হাজার ৪০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীর বাঁধ ভেঙে ও নদীর পাড় উপচে পানি যাওয়ায় রামচন্দ্রকুড়া, কাকরকান্দি, নন্নী, পোড়াগাঁও, নয়াবিল, বাঘবেড়, কলসপাড়, মরিচপুরান, যোগানিয়া, রাজনগরসহ ১০টি ইউনিয়ন ও পৌর শহরের ৩টি স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে উপজেলার প্রায় ৬০০ পুকুর ও ১০ হাজার হেক্টর আমন আবাদ তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কৃষি ও মৎস্য অফিস। এ ছাড়া গতকাল শ্রীবরদী উপজেলার পাশাপাশি অপর ২ উপজেলা শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে জেলার সব সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করেছে প্রশাসন। শুক্রবার বিকাল থেকে বন্যাকবলিত বেশকিছু এলাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় রাতভর পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। গতকাল জেলা বিএনপি’র সভাপতি, সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঝিনাইগাতীর বিভিন্ন এলাকায় দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন।
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, অবিরাম বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে কয়েকটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের সরিয়ে আনা হচ্ছে।
বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, শেরপুরে পাহাড়ি ঢলের পানিতে হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়েছে। আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে নৌকা নিয়ে আসা হচ্ছে। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য শুকনো খাবার রেডি করা হচ্ছে। রাতের মধ্যেই সেগুলো পৌঁছে দেয়া হবে।
ময়মনসিংহে পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষ
স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ থেকে: গত ২৪ ঘণ্টায় টানা বর্ষণে ময়মনসিংহে ১৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ ছাড়া ভারত নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাট, ফুলপুর এবং ধোবাউড়ার বেশকিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। শুক্রবার দিনভর সারা দেশের মতো ময়মনসিংহ জেলাতেও টানা বৃষ্টিপাত হয়। এরপর বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট, ধোবাউড়ার বেশকিছু গ্রাম প্লাবিত হয়। বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত ফিশারি এবং কয়েক হাজার একর জমির ফসল।
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত শারমিন বলেন, উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ও ঘোষগাঁওসহ কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে গেছে বলে শুনেছি। নেতাই নদীর বাঁধ কিছু কিছু পয়েন্টে ভেঙে গেছে। এক থেকে দেড় হাজার লোক পানিবন্দি আছে, প্রায় তিনশত ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদুর রহমান বলেন, যেসব এলাকায় পানি আটকে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে সেখান থেকে মানুষকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহ আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তবে আগামীকাল আবহাওয়া কেমন থাকবে তা কেন্দ্রীয় আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হবে।
ফুলপুরে নিম্নাঞ্চল
ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ফুলপুরে গত দু’দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। এতে রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বেশির ভাগ আমন ক্ষেত অথৈ জলে তলিয়ে গেছে। যা দু’দিন আগেও ছিল সবুজ সমারোহ ও নির্মল প্রান্তর। এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে নতুন ধান ঘরে তোলার কথা থাকলেও এখন পাহাড়ি ঢলের পানিতে নিমজ্জিত হাজারো কৃষকের স্বপ্ন।
কুড়িগ্রামে ফের বাড়ছে নদ-নদীর পানি
স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম থেকে: ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে ফের বাড়ছে নদ-নদীর পানি। তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মুপুত্রের পানি ধীরগতিতে বাড়লেও তিস্তার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ভারি বৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রাম শহরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর, ফায়ার সার্ভিস চত্বর, টাপু ভেলাকোপা, চর হরিকেশ, তালতলা ও রৌমারীপাড়াহ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় ১০০ মিলিমিটারসহ জেলায় ১৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান।
পাহাড়ি ঢলে সীমান্তবর্তী জিঞ্জিরাম নদীর পানি দুকূল ছাপিয়ে রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার ১০টি গ্রামের নিচু এলাকার আমন ও বাদাম ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এরমধ্যে রৌমারী উপজেলার চর লাঠিয়াল, চান্দারচর, ভন্দুরচর, বড়াইবাড়ী এবং রাজীবপুর উপজেলার বালিয়ামারি, শিবেরডাঙি ও নয়ারচর রয়েছে। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তিস্তা ও ধরলার নিচু এলাকায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির আমন ক্ষেত তলিয়ে থাকায় ক্ষেত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিয়ন্ত্রণহীন বাজার নেপথ্যে কী by মো. আল-আমিন
তারা বলছেন, সরকার বদলালেও বাজারের দৃশ্যপট বদলায়নি। এখনো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কব্জায় রয়েছে বাজার। আমরা পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদাসীনতা দেখতে পাচ্ছি। আমাদের কষ্ট কমেনি।
গতকাল রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক মাসের ব্যবধানে পামঅয়েল সুপারের দাম লিটারে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রতিলিটার পামঅয়েলের দাম ছিল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। সেটি এখন বেড়ে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। এ ছাড়া বোতলজাত সয়াবিন তেল সরকার থেকে ১৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও তা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। আর খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলের পাশাপাশি আটার দামও বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরায় প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। খোলা ময়দার দাম ৬০ টাকা। আর দুই কেজির প্যাকেট আটার দাম ১১০ টাকা। আর গত মাসে আটার কেজি ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে আটার দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা। যদিও এই সময় বিশ্ববাজারে গমের দাম ছিল নিম্নমুখী। বিশ্বব্যাংকের পিঙ্কশিটের তথ্যমতে, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে গমের টনপ্রতি দাম উঠে যায় ৩৮১ ডলারে। পরে তা কমতে থাকে। গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে বিশ্ববাজারে টনপ্রতি গমের দাম ছিল ২৯৮ ডলার। আর চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে টনপ্রতি দাম কমে দাঁড়ায় ২৩৭ ডলার। জুলাইয়ে আরও ১৯ ডলার কমে হয় ২১৮। আর আগস্টে বিশ্ববাজারে টনপ্রতি গমের দাম ছিল ২০৫ ডলারের কিছু বেশি। অর্থাৎ গমের দাম ক্রমাগত কমেছে। দেশে আমদানি করা গম আসতে গড়ে দুই মাস সময় লাগে। সে হিসাবে আগস্টে বিশ্ববাজারে হ্রাস পাওয়া দামের প্রভাব অক্টোবরের শুরুতে বাজারে পড়ার কথা। কিন্তু বাজারে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
এদিকে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে ডিমের বাজারে। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে পণ্যটির দাম। বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায়। এক মাস আগে প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। অন্যদিকে বাজারে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৯০ টাকায়। যদিও সরকার ব্রয়লার মুরগির দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ১৭৯ টাকা ৫৯ পয়সা। অন্যদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে বাজারে চালের দাম ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে বাজারে সব ধরনের সবজির সরবরাহ থাকলেও দাম আগের মতোই চড়া। সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়- শিম, ফুলকপি, পাতাকপি, মুলা, ঢেঁড়স, বেগুন, পটোল, ঝিঙা, করলা, টমেটো, শসা, গাজরসহ সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। ৫০ টাকার নিচে প্রায় কোনো সবজিই মিলছে না। এ ছাড়া পিয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকা, দেশি আদা ৫০০ টাকা, দেশি রসুন ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
ডিমের দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে: ডিমের দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে বহুজাতিক কোম্পানি এবং রাজধানীর তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতিকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি এসোসিয়েশন (বিপিএ)। সংগঠনটির সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার বলেছেন, সারা দেশে ডিমের বাজারে অস্থিরতা চলছে। যার প্রেক্ষিতে ডিম-মুরগির দামও নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কোনো প্রান্তিক খামারিকে ডিম-মুরগির দাম নির্ধারণের ওয়ার্কিং গ্রুপ কমিটিতে রাখেনি। তারা শুধু কর্পোরেট গ্রুপদের পরামর্শে দাম নির্ধারণ করেছে। যার ফলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবার এর জন্য ফিড ও মুরগির বাচ্চার উৎপাদনকারী কোম্পানি, তাদের এসোসিয়েশন এবং তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতিসহ আরও অনেকের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের হাত রয়েছে। তিনি বলেন, ডিম আর মুরগির বাজারে স্বস্তি রাখতে পোল্ট্রি ফিড ও মুরগির বাচ্চার সিন্ডিকেট ভেঙে ডিম-মুরগির উৎপাদন খরচ কমাতে পারলে শিগগিরই বাজার সহনীয় পর্যায়ে আসবে।
বাজার বিশ্লেষকরা যা বলছেন: নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলে মনে করেন বাজার বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, অসৎ ব্যবসায়ী ও মধ্যস্থতাকারীদের কারসাজির জন্যই মূলত পণ্যমূল্য বাড়ছে। এ বিষয়ে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)’র ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন মানবজমিনকে বলেন, বিশ্ববাজারে বেশকিছু পণ্যের দাম কমেছে। কিন্তু বাংলাদেশে তার প্রভাব নেই। বরং উল্টো জিনিসের দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের কথায় পরিবহন চাঁদাবাজি কমেছে। তাহলে সেই প্রভাব বাজারে নেই কেন? এ ছাড়া ২৯টি পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো হলেও তার প্রভাবও বাজারে দেখা যাচ্ছে না। আগের কারবার এখনো চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে না। ট্যারিফ কমিশন ব্যবসায়ীদের পক্ষে কাজ করে জিনিসের দাম বাড়িয়ে থাকে। প্রতিযোগিতা কমিশন নামে থাকলেও কামে নেই। এ ছাড়া পুলিশ প্রটেকশন না পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও ঠিকঠাক কাজ করতে পারছে না। এজন্য আগের মতোই নিয়ন্ত্রণহীন বাজার। ভোক্তাদের জীবন চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো যা বলছেন: তবে বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর দাবি পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে তারা নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। বাজারে বিভিন্ন পণ্যের কেনাবেচায় সুস্থ প্রতিযোগিতা উৎসাহিত করতে ও অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সদস্য মো. হাফিজুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার থেকে আমাদের কার্যক্রম ঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পানির দাম বৃদ্ধির কারণে কিছুদিন আগেই আমরা একটি মামলা করেছি। এর প্রভাব বাজারে দেখা গিয়েছে। ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সঙ্গে আমাদের টিমও বাজারে কাজ করছে। দ্রব্যমূল্যের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসা হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে পণ্যের মূল্য বাড়াতে হলে তার যৌক্তিক কারণ অবহিত করার নিয়ম রয়েছে ট্যারিফ কমিশনকে। কোম্পানির পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির যুক্তি সঠিক মনে না হলে কোনো কোম্পানি তার পণ্যের দাম বাড়াতে পারে না। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ট্যারিফ কমিশনকে অবহিত না করে বাড়ানো হচ্ছে নানা প্রকার আমদানি পণ্যের দাম। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মইনুল খান মানবজমিনকে বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ে সরকার আমাদের থেকে পরামর্শ নিয়েছেন। কাজ চলছে। দ্রুতই আপনারা এর প্রতিফলন দেখতে পারবেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাজার তদারকি সংস্থা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছি। ব্যবসায়ীরা একেক সময় একেক অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়ায়। এবার জিনিসের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তারা বন্যার অজুহাত দেখিয়েছে। তিনি বলেন, পরিবহন খাতে বেপরোয়া চাঁদাবাজি এখনো বন্ধ হয়নি। তবে কিছুটা কমেছে। মধ্যস্বত্বভোগীরা জিনিসের সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যেতে তোড়জোড় মুজিব-সুমনের
তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া আমার ওয়ার্ডের বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক কাশেম মিয়াকে হত্যার মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে হয়রানি এবং মারধর করেছেন মুজিব এবং সুমন। তাদের অত্যাচারে তখন এলাকা ছাড়তেও বাধ্য হন তিনি। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে তারা এমন অনেকের সঙ্গেই হামলা, মামলা এবং চাঁদাবাজি করে বেড়াতেন। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেই মুজিব আর সুমন এখন বিএনপি সাজার তোড়জোড় চালাচ্ছেন। আমি একজন বিএনপিকর্মী হিসেবে দলের সিনিয়র নেতাদের কাছে অনুরোধ করবো- এই মুজিব এবং সুমনকে যেন কোনোভাবেই বিএনপিতে স্থান না দেয়া হয়। এই মুজিব এবং সুমনের বিরুদ্ধে অত্যাচারের বেশ কিছু অভিযোগ পান কালমা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. ফারুক মাল। ওইসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাইলে ফারুক মালকেও নানাভাবে হয়রানি করেন মুজিব এবং সুমন। ফারুক মাল জানান, মানুষের কাছে চাঁদাবাজি, সুদের কারবার ও ব্লাকমেইলিং ছিল তাদের পেশা। এসবের টাকায় মুজিব এবং সুমন এলাকায় লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে সুরম্য বাড়ি করেছেন। তাদের আইনের আওতায় নিয়ে কঠোর বিচার করার দাবি জানাচ্ছি। অভিযোগের ব্যাপারে মো. সুমন বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে আমার ওপর অনেক হামলা এবং অত্যাচার চালানো হয়েছে। যার জন্য একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছি। তবে আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে সবগুলোই ভিত্তিহীন। অন্যদিকে মুজিবের বিরুদ্ধে হামলা, চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, আমি কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতি করিনি। তবে আমার চলাফেরা ছিল সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গিয়াসউদ্দিনের সঙ্গে। কারণ তিনি আমাকে ভাই ডেকেছেন। তবে যেই রতন অভিযোগ করেছেন, তিনি এবং তার ছেলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শ্রীলঙ্কার চীনপন্থি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে জয়শঙ্করের যে আলোচনা হলো
২১শে সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকট ও গণরোষে সরকারের পতনের পর এটাই প্রথম নির্বাচন সেখানে। এতে চীনপন্থি অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তার এক পক্ষের মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীলঙ্কা সফরে গেলেন। দিশানায়েকের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মধ্যে বিরোধী দলীয় একজন এমপি হিসেবে এ বছর ফেব্রুয়ারিতে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। সেখানে প্রথমবার জয়শঙ্করের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। আর শুক্রবার দ্বিতীয় দফা তাদের বৈঠক হলো। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাতের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি।
বৈঠকের পর প্রেসিডেন্সিয়াল মিডিয়া ডিভিশন থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রীলংকার অর্থনৈতিক পুনর্বাসন, পর্যটন, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি সেবা এবং ডেইরি শিল্পে ভারতের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ড. জয়শঙ্কর। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা দেবে ভারতের বিশাল বাজার। এ সময় প্রায় ৪০০ কোটি ডলার সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে প্রশঙ্কা করেন প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকে। তার সঙ্গে বৈঠকের পর জয়শঙ্কর ভারত সমর্থিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালন, জ্বালানি ও এলএনজি সরবরাহ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর বিদ্যুতায়ন, সরকারি অবকাঠামোকে ডিজিটাল করা, স্বাস্থ্য ও ডেইরি প্রকল্পের কথা জোর দিয়ে তুলে ধরেন জয়শঙ্কর।
কিন্তু কোনো পক্ষই শ্রীলঙ্কার নর্দার্ন প্রদেশে বিতর্কিত আদানি পাওয়ার প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেনি। স্থানীয় জনতা ও পরিবেশবাদীদের ঘোর বিরোধিতায় আদালতের রায়ে এই প্রকল্পটি বর্তমানে বাধাগ্রস্ত।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আশুলিয়ায় শ্রমিকদের ওপর বহিরাগতদের হামলা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানাটির এক শ্রমিক জানান, কিছুদিন আগে শ্রমিকদের দাবির মুখে নানা অনিয়মের অভিযোগে কারখানার এইচআর ম্যানেজার রফিকুল ইসলামসহ চার কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মধ্যে থেকে ৮৮ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করেন। অপর এক শ্রমিক জানান, কারখানার শ্রমিকরা যাতে দাবি আদায়ে আন্দোলন করতে না পারে এজন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ এক হাজার টাকা হাজিরায় বহিরাগত তিন শত লোক নিয়োগ করেছে। তারা সাদা এবং কালো গেঞ্জি পরে প্রতিদিন কারখানার ভেতরে এবং বাইরে পাহারা দেয়। এদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ চাকরিচ্যুত করা চার কর্মকর্তাকে আবারো চাকরিতে পুনর্বহাল করলে শ্রমিকরা এর প্রতিবাদ করায় কনক, অনিক ও রফিকের নেতৃত্বে বহিরাগত লোক দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।
কারখানাটির সিকিউরিটি অফিসার আতিয়ার রহমান বলেন, কোম্পানি নিরাপত্তার জন্য হাজিরা ভিত্তিতে বহিরাগত লোক রেখেছিল। শ্রমিকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বাকবিতণ্ডা হলে বহিরাগত লোকজন শ্রমিকদের ওপর হামলা চালালে অনেকেই আহত হয়। পরবর্তীতে কারখানাটিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, স্টোর ম্যানেজার কনক ও সাব-কন্ট্রাকে কাজ করানো অনিক এলাকার প্রভাবশালীদের সঙ্গে মিলে কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের কাছে শ্রমিকরা অসহায়। কথায় কথায় তারা শ্রমিকদের মারধরসহ ছাঁটাইয়ের হুমকি দিয়ে থাকে। কারখানার শ্রমিকরা যাতে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে না পারে সেজন্য টাকা দিয়ে সন্ত্রাসী ভাড়া করে কারখানার ভেতরে ও বাইরে পাহারা বসিয়েছে। সেই ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরাই শ্রমিকদের ওপর হামলা করেছে। অন্যদিকে আশুলিয়ার জিরাবো পুকুরপাড় এলাকায় লুসাকা গ্রুপের শ্রমিকরা সকালে কারখানায় প্রবেশ করে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে কর্মবিরতী পালন করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করলে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে কারখানাটিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই এলাকার তাহারাত কম্পোজিট লিমিটেড কারখানায় গত বৃহস্পতিবার ১০ দফা দাবি আদায়ে শ্রমিকদের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় গতকাল থেকে শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩ (১) ধারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া নরসিংহপুর ইথিক্যাল গার্মেন্টস, জামগড়া এলাকার পলমল গ্রুপের আয়েশা ক্লথিং ও ইয়ারপুর এলাকার আঞ্জুমান গার্মেন্টসও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ইউসুফ মার্কেট এলাকার জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশের এএসপি আনোয়ার হোসেন বলেন, ডংলিয়ান ফ্যাশন লিমিটেড কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই ও চাকরিচ্যুত চার কর্মকর্তাকে পুনর্বহালের বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনায় বহিরাগতরা শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে। এ ঘটনায় আমরা ১৭ জনকে আটক করে যৌথ বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছি। বর্তমানে কারখানাটিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহীনুর কবির বলেন, দু/একটি কারখানায় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল থেকে কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩ (১) ধারায় ২৪টি কারখানা বন্ধ রয়েছে এবং কয়েকটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ, শিল্প পুলিশ, এপিবিএন, আর্মড পুলিশ, বিজিবিসহ যৌথ বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন কারখানায় অবস্থানের পাশাপাশি টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনৈতিক বিবেচনায় কর্মচ্যুত সামরিক কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল দাবি
সামরিক বাহিনীকে দেশের প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুনর্গঠন করা প্রয়োজন, যাতে এটি রাজনৈতিক স্বার্থ থেকে মুক্ত থাকে। সেমিনারে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সামরিক বাহিনীর ভেতরে বিদ্যমান বৈষম্যের শিকার হওয়া অফিসারদের ঘটনাসমূহ। বক্তাদের কথায় উঠে আসে কীভাবে মেধাবী কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক বরখাস্ত এবং তাদের পেশাদার জীবনে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। নারী কর্মকর্তারাও তাদের দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন, কিন্তু তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। আলোচকগণ ‘বাংলাদেশ ২.০’ বিনির্মাণে সামরিক বাহিনীর রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, সামরিক বাহিনীর মধ্যে চলমান বৈষম্য এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অবসান ঘটিয়ে একটি মেধাবী ও ন্যায়বিচারপূর্ণ বাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব যা শুধু দেশের নিরাপত্তার সেবা করবে না, বরং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে। বৈষম্যের শিকার হওয়া সামরিক বাহিনীর দক্ষ সদস্যদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে নতুন বাংলাদেশের অবকাঠামো, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে হবে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকারকে সামরিক আইন সংস্কারের জন্য এবং বঞ্চিত অফিসারদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কমিশন তৈরির আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়াও, বরখাস্ত ও নিপীড়িত সামরিক কর্মকর্তাদের চাকরিতে পুনর্বহালসহ একটি আর্থিক পুনর্বাসন প্যাকেজ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা যা বললেন-
সেমিনারে লেফটেন্যান্ট (অব.) সাইফুল্লাহ খান সেনাবাহিনী প্রধানের প্রশংসা করে বলেন, আমরা বিশ্বাস করি আমাদের সেনাবাহিনী প্রধান অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ এবং দয়ালু, উনি জুনিয়র অফিসারদের মনের ভাষা বুঝেন। সেনাপ্রধান এই সপ্তাহের মধ্যে আমাদের সঙ্গে দেখা করবেন এবং আমাদের কথা শুনে তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির বলেন, বিগত ১৫ বছরে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় চাকরিচ্যুত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে আমরা বৈঠক করি। সবার অভিযোগ আমরা একত্রিত করে চাকরি ফিরে পাবার দরখাস্ত দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেই। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১লা সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সার্ভিস হেডকোয়ার্টারে আমরা আবেদনগুলো জমা দেই। সার্ভিস হেডকোয়ার্টারের ভূমিকায় সন্তুষ্ট না হয়ে ৫ই সেপ্টেম্বর আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে এগুলো জমা দেই। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের বঞ্চনার সুরাহা পেলেও দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ও সৈনিকরা তাদের প্রতি ঘটা অবিচারের সুরাহা পাননি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো রিভিউ বোর্ড বা কোনো তদন্ত কমিটিও গঠন এখন পর্যন্ত করেনি। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জীবনবাজি রেখে এ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকেন। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ৪শ’র বেশি সদস্য বিগত ১৫ বছরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক বিবেচনায় ও মতাবলম্বী হওয়ার কারণে তাদের চাকরিচ্যুতি ছাড়াও মানসিক ও শারীরিক নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। এটা শুরু হয় বিডিআর বিদ্রোহের পর থেকে। কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়, এর মধ্যে আমিও একজন। হাসান নাসির আরও বলেন, বিডিআর বিদ্রোহে দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা হত্যা তৎকালীন পুলিশ, র্যাব, এনএসআই এবং ডিজিএফআইয়ের কতিপয় কর্মকর্তাদের মদত ছাড়া সম্ভব নয়। একইভাবে ৫ই মে শাপলা হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে ঘটা গুম-খুনের ঘটনায় তৎকালীন সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল না। তারেক সিদ্দিকী ও জিয়াউল আহসানের পাশাপাশি অনেক সেনা কর্মকর্তা এসব ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। অনুষ্ঠানে আয়নাঘরে বন্দির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে লে: কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বলেন, ২৮ বছর চাকরি জীবনে কোনো অপরাধ করিনি। জঙ্গি দমন থেকে শুরু করে নানা ধরনের অপরাধ কার্যক্রম বন্ধে ভূমিকা রেখেছি। নিজের কর্মস্থল থেকে হাত-পা বেঁধে গুম করা হয়। শহীদ আবু সাঈদের জন্য আজ এখানে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। আওয়ামী লীগ সরকার আমাকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে কাজ করতে বলেছিল। আমি রাজি হইনি। এরপর আমার প্রতি তারা অবিচার করেছে।
আওয়ামী লীগকে বিচারের সম্মুখীন না করে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেয়া হবে না বলে জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যতদিন পর্যন্ত মাফ না চায়, যতদিন পর্যন্ত তাদের অপকর্মের জন্য বিচারের সম্মুখীন না হয়, ততদিন তাদের রাজনীতিতে সুযোগ দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ৪ঠা আগস্ট এই রাওয়াতে সাবেক সেনা কর্মকর্তারা একটি অনুষ্ঠান করেন। সেখানে তারা আমাদের আন্দোলনের পক্ষে মতামত তুলে ধরেন। তখন আমরা আরও সাহস পাই। এ জন্য সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই। একটা বিপ্লবের মধ্যদিয়ে এই সরকার এসেছে। তাই তাদের কাছে যে প্রত্যাশা সেই প্রত্যাশা আমরা এখনো পাইনি। দুই মাস পার হয়েছে। এখন এই সরকারের কাছে প্রশ্ন করার সময় এসেছে পিলখানা হত্যা ঘটনায় তারা কী পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যমান সংবিধান আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না। তাই বিদ্যমান সংবিধান বাতিল করতে হবে। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ডিজিএফআই নিয়ে অনেক কথা উঠেছে। আমার মনে হয় তাদের ভেতর থেকে এসব নিয়ে বক্তব্য আসা উচিত। তা নাহলে যেসব ঘটনা ঘটেছে তার দায়ভার তাদের নিতে হবে। তাদের কাছ থেকে সংস্কার প্রস্তাব আসা উচিত। অতীতে আর্মি আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। জেনারেল তারেক সিদ্দিক ও জিয়াউল আহসান ‘র’-এর হয়ে কাজ করেছে। তারা ‘র’-এর এদেশের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করেছে। ক্যান্টনমেন্টে ‘র’-এর অফিস স্থাপন করেছিল। তিনি বলেন, আমরা কনস্টিটিউশনাল ও ইনস্টিটিউশনাল রিফর্ম চাই।
আওয়ামী লীগ সরকার দেশে গণতন্ত্র হত্যা করেছে। তাই তিনটি সংসদে যারা মন্ত্রী ও এমপি হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করতে হবে। রাষ্ট্র থেকে তারা যেসব সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন সেসব ফেরত দিতে হবে। তিনি বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনার পতন ঘটানো হয়েছে। ওটা ছিল সর্বজনীন আন্দোলন। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশ গঠন করতে হবে। তিনি বলেন, ৫ই আগস্টের আগে এক ধরনের আন্দোলন হয়েছে। আর এখন আরেক ধরনের আন্দোলন করতে হবে। এটা হবে দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলন। তাই বলতে চাই-আমাদের আন্দোলন শেষ হয়ে যায়নি। সেমিনারে ছাত্র-আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ফ্যাসিস্টদের দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে এই সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের শুধু চাকরিচ্যুত করলেই হবে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তা নাহলে ওইসব দোসররা পরবর্তীতে অন্য কোনো ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে জনগণের রক্তের উপর দিয়ে। তাই সিক্রেটগুলো ওপেন করতে হবে আর ওপেন সিক্রেটগুলোও এখন ওপেন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মারুফ জামান, প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান, বিপি বার (অব.),লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আজিজ (অব.), লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদ (অব.), লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এন শাহীর, বিপি (অব.), লেফটেন্যান্ট মো: ইমরান কাজল (অব.), মেজর আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (অব.), ক্যাপ্টেন শামস (অব.), ক্যাপ্টেন হেফাজ উদ্দিন (অব.), লেফটেন্যান্ট সাইফুল্লাহ খান (অব.), কমান্ডার মোহাম্মদ শাহরিয়ার আকন, বিএন (অব.), কমান্ডার নেসার আহমেদ জুলিয়াস, বিএন (অব.),ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মিথিলা রোয়াজা, (অব.) সহ দুই শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আন্দোলনে আহত: এখনো চিকিৎসাধীন ১৫৩ জন by সুদীপ অধিকারী
সরজমিন রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল), শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত দেড় শতাধিক রোগী এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী সেবা নিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহত হয়ে আমাদের হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ২৭শ’ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে হাসপাতালের ইমার্জেন্সি থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়ে অনেকেই বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। কাউকে অনান্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। আর গুরুতর ৮৯০ জনকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে এখনো ৩০ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এদিকে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে চোখে গুলিবিদ্ধ ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে সাড়ে ৭শ’ জন চিকিৎসা নিয়েছেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে। তাদের কেউ একচোখ হারিয়েছেন। কেউ আবার সারাজীবনের মতো নিজের দুই চোখেরই দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। এসব রোগীদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ডা. জাকিয়া সুলতানা বলেন, আন্দোলনে আহত হয়ে এ পর্যন্ত আমাদের এখানে সাড়ে ৭০০ মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়াও ৫৫০ জন আমাদের হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। ২২৫ জনকে সেকেন্ডারি অপারেশন করা হয়েছে। বর্তমানে এখনো হাসপাতালের ৪ তলার স্পেশালাইজড ডেডিকেটেড ইউনিটে ৩৭ জন ভর্তি রয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা এসব রোগীদের জন্য বাইরের দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে সেবা দিয়েছি এবং দিচ্ছি। আজকেও (শনিবার) নেপালের চিকৎসক দলের কাছে আন্দোলনে চোখে গুলিবিদ্ধ ও আঘাতপ্রাপ্ত অন্তত ৭০ জনের বেশি চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামের সমজান মিয়া একজন। এই নির্মাণ শ্রমিক বলেন, চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকায় একটি বহুতল ভবনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। গত ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। আমি অবস্থা বেগতিক দেখে বাসায় ফিরে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ পুলিশ রাস্তার মানুষদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া শুরু করে। সেই শটগানের ছররা গুলি এসে আমার চোখসহ শরীরে বিভিন্ন জায়গায় লাগে। আমি তখনো বুঝতে পারিনি আমার চোখের মধ্যে গুলি ঢুকে গেছে। গ্রেপ্তারের ভয়ে প্রথমে আমাকে তখন বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর একটি স্থানীয় হাসপাতালে যাই। সেখান থেকে কোনো চিকিৎসা দেয়া হয় না। এরপর ফৌজদারহাটের একটি মেডিকেলে যাই। সেখান থেকে সাধারণ চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর গত ৯ই আগস্ট আমি চট্টগ্রাম মেডিকেলে যাই। সেখানে একেকজন ডাক্তার একেকবার এসে আমার চোখের ছবি দেখে চলে। এর একদিন পর আমাকে জানানো হয় চট্টগ্রামে মেডিকেলে আমার চিকিৎসা হবে না। ঢাকায় যেতে হবে। পরে আমি ঢাকায় এসে এখানে ভর্তি হই। এখানে আসার পর আমার চোখে একবার অপারেশন হয়েছে কিন্তু এখনো গুলি বের হয়নি। ডাক্তার জানিয়েছেন, আমি কোনোদিন আর ডান চোখে দেখতে পারবো না।
শেরে বাংলা নগরের আরেক হাসপাতাল শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য ডেডিকেটেড ইউনিট খোলা হয়। সেখানকার ৪ তলার তিনটি ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিয়েছেন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহত অন্তত ৫ শতাধিক। তাদের কারও পায়ে গুলি লেগেছে, কারও হাতে, কারও পেটে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. শফিউর রহমান বলেন, আন্দোলনে আহত হয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে আমাদের হাসপাতালে ৫ শতাধিক মানুষ ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের বেশির ভাগই ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। তবে এখনো ৪২১ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অপরদিকে আন্দোলনে আহতদের মধ্যে হাড়ভাঙা রোগীরা চিকিৎসা নিয়েছেন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) বা পঙ্গু হাসপাতালে। সেখানকার ক্যাজুয়ালিটি-১, ক্যাজুয়ালিটি-২ সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিক্ষিপ্তভাবে আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা দেয়া হলেও বর্তমানে হাসপাতালটির তিনতলা ও চারতলায় এসব রোগীদের জন্য বিশেষায়িত ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। হাসপতালের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. বদিউজ্জামান বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহত হয়ে আমাদের হাসপাতালে ৮ শতাধিক মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ২১ জনের অঙ্গহানি হয়েছে। এখনো ৭৯ জন আমাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, আন্দোলনে আহতদের মধ্যে বেশির ভাগেরই মাল্টিপল ইঞ্জুরি রয়েছে। হাড় ভাঙার সঙ্গে তাদের শরীরের মাংসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। পঙ্গু হাসপাতালের ৩ তলার বি-ওয়ার্ডে চিকিৎসা নেয়াদের মধ্যে মাদ্রাসাছাত্র সাদ আব্দুল্লাহ একজন। গত ৭ই আগস্ট থেকে তিনি হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সাদ বলেন, গত ৫ই আগস্ট দুপুরে হাসিনা সরকারের পতনের খবরে সকলে যখন আনন্দ করছিলেন, সে সময় আমিও মিরপুর এলাকায় মিছিল দেখতে গিয়েছিলাম। মিছিলটি মিরপুর-১ থেকে ২ নম্বরের দিকে এগুতেই হঠাৎ পুলিশ আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া শুরু করে। তখন ভয়ে আমি ওভারব্রিজের উপর ওঠে পড়ি। পুলিশ তখন ওই ব্রিজের উপর উঠে আমার পায়ে গুলি করে। সেই গুলিতে আমার বাম পায়ের হাঁটুর হাড় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে কয়েকজন মিলে আমাকে পাশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে আমার পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে ইস্ট-ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নামে আরেক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে। দুইদিন থাকার পর সেখানকার চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে এই হাসপাতালে চলে আসি। তখন থেকে এখানেই ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। সাদ বলেন, পায়ে স্টিলের খাঁচা লাগানো। হাঁটতেও পারি না, চলতেও পারি না। বিছানায় খাওয়া, বিছানাতেই সব। কবে আমি এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবো তারও ঠিক নেই। তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা বলেছেন, বছরখানেক পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পায়ের রড খোলা হলেও আগের মতো স্বাভাবিকভাবে আর চলতে পারবো না। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আছি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
October
(563)
-
▼
Oct 06
(21)
- ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে বেশ কয়েকজন অভিবাসীর ম...
- 'ধর্ষকদের সোজা গুলি করে মারা উচিত, যাতে একটা ভয় ক...
- বড় মানুষদের ভাঁড় চাটুকারগণ by শায়ের খান
- ৭ অক্টোবর হামাসের হাতে পতন হয় ইসরায়েলি ঘাঁটির, কী ...
- ভারতে ৩১ মাওবাদীকে হত্যা
- মাদারীপুর থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র পাচ্ছে রোহিঙ্গারা
- ‘মহিপালে গুলি চালাতে ৮ জনকে অস্ত্র দেয় যুবলীগ সভাপ...
- বাদ পড়া ১৮ হাজার শ্রমিক মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পাব...
- রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইউনূসের সংলাপ: নির্বাচন সংস...
- ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির ছায়া সংসদ: বিপ্লব ব্যর্থ হলে ...
- ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলা করা সেই খাস্তগীর এখন পোল্য...
- চট্টগ্রামে রাষ্ট্রায়ত্ত আরেকটি জাহাজে আগুন, নাশকতা...
- গোয়ালিয়রে ‘দুই গরমে’ পুড়ছে বাংলাদেশ by ইশতিয়াক পারভেজ
- প্রশাসনের মধ্যে স্বৈরাচারের ভূত বসে আছে
- পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ: শেরপুর-ময়মনসিংহে ভয়াবহ বন...
- নিয়ন্ত্রণহীন বাজার নেপথ্যে কী by মো. আল-আমিন
- আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যেতে তোড়জোড় মুজিব-সুমনের
- শ্রীলঙ্কার চীনপন্থি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে জয়শঙ্করের ...
- আশুলিয়ায় শ্রমিকদের ওপর বহিরাগতদের হামলা
- রাজনৈতিক বিবেচনায় কর্মচ্যুত সামরিক কর্মকর্তাদের পু...
- আন্দোলনে আহত: এখনো চিকিৎসাধীন ১৫৩ জন by সুদীপ অধিকারী
-
▼
Oct 06
(21)
-
▼
October
(563)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
