Friday, October 17, 2014
ঢাবি ভর্তিতে দ্বিতীয়বারের সুযোগ বহাল রাখার দাবি

তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, এ ধরণের আন্দোলন তারা করবে এবং সে অধিকার তাদের আছে। তবে সামগ্রিক স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে না। দ্বিতীয়বার ভর্তিচ্ছুদের কারণে প্রথমবারের শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
আন্দোলনে ভর্তিচ্ছু প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া কর্মসূচি দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলে। শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের বেশ কিছু অভিভাবকও অংশ নেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কর্মসূচি পালনকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরণের ব্যানার এবং ফেস্টুন বহন করেন।
ভর্তিচ্ছু ছাত্রের অভিভাবক শেখ নুরুল বলেন, সিদ্ধান্তটা অবশ্যই যৌক্তিক। তবে এটা অনেক আগে দেয়া উচিৎ ছিল। এমন সময়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে এবারের ভর্তিচ্ছুদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়া হয়েছে।
একজন ছাত্রীর মা নাজমা আক্তার বলেন, আগে থেকে জানিয়ে দিলে ছেলেমেয়েরা সেভাবে প্রস্তুতি নিতে পারতো। এটা এবারের শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই অন্যায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। আরো একবার শিক্ষার্থীদেরকে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে হবে।
ভর্তিচ্ছু মারজুবা তাবাসসুম বলেন, আরো অন্তত একবার দ্বিতীয়বার আমাদেরকে সুযোগ দেয়া উচিৎ। কারণ অন্যান্যবারের তুলনায় এবার অনেক কম সময় পেয়েছি। এটা অন্যায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আলামীন মামুন বলেন, তিনজনের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে এ ধরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেন ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তিনিও আরো অন্তত একবার সুযোগ দেয়ার দাবি জানান।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গণিকাপ্রণাম by রাশেদ রহমান
বিভাবতীর ঘরের সামনে মানকচুর পাতার মতো একচিলতে উঠোন। উঠোনের মাঝখানে একটা বকুলগাছ। গোড়া বাঁধানো। এখানে সবসময়ই দু-চারজন গণিকা বসে থাকে। খদ্দরের সঙ্গে গল্প-গুজব করে। ঘটনা যখন ঘটে, তখনও দুই গণিকা ছিল। ওরাই পাড়ায় রাষ্ট্র করেছে, কে এক পাগল এসেছে বকুলতলায়; এসেই প্রণাম করেছে বিভামাসীকে; মা-মা করে কী যেন বলছে লোকটি, ঠিকমতো বোঝা যায় না। তবে লোকটি পাগল হলে কী হবে, দেখতে ভারি সুন্দর; সুপুরুষ। লেখাপড়া জানা লোক...।
‘মা, এক বুড়ি বেশ্যা এই জারজ আধুনিক সভ্যতার মূল মাতামহী। জারজ, কারণ- অফিসিয়ালি এই সভ্যতার পিতামহ ঈশ্বর নন। আর এই পৌত্রটি ভারি ভণ্ড ও সেয়ানা, তার চোখে তার মাতামহী অতি নিন্দিত, ঘৃণিত, বর্জিত এক প্রাণী...।’
অরুণদা’র কথার অর্থ, এখানে কেউ ধরতে পারবে- কার সাধ্য। সত্যি কথা বলতে কী, আমিও অরুণদার সব কথার অর্থ বুঝতে পারি না। তার অনেক বন্ধু, তাকে না বুঝে এড়িয়ে চলে। অরুণদাকে বোঝে ভালো কমল; কবি অর্ঘ কমল। অরুণদার কত কবিতা যে কমলের মুখস্থ- তার কোনো লেখাজোখা নেই। ওর সঙ্গে দেখা হলেই, শোনা যাবে; ওর কণ্ঠ থেকে ভেসে আসছে- ‘জন্ম ও যোনির ঘাস ঢেকে দেয় নক্ষত্রের মুখ/শূন্যতাকে শুষে নেয় শেকড় ছড়িয়ে...।’ যাই হোক, এখন, উৎসুক গণিকারা অরুণদাকে ঘিরে আছে। তার কথা বুঝুক বা না-বুঝুক। লোকটি ফেরারি-টেরারি হতে পারে, বিভামাসীকে প্রণাম করে ভজাতে চাইছে, ভাবছে কেউ কেউ...।
বিভাবতী ধমক দিল গণিকাদের। ‘এই তরা এহন যা। বাবার আমার চোখ-মুখ কেমন শুকাইয়া গেছে। আগে জলটল কিছু মুখে দিক...।’
গণিকাদের আক্কেলগুড়–ম! বিভামাসী কখনও মাগি-ছাগী ছাড়া কথা বলে না। আজ হল কী? পাগল মার্কা লোকটাকে বাবা বলছে...।
- তুমি কুচবিহার থেকে পালালে কেন, মা? পৃথিবীর কত জায়গায় তোমাকে খুঁজেছি...।
কোথায় কান্দুপট্টি আর কোথায় কুচবিহার! তাছাড়া বিভাবতী কুচবিহার ছিলই বা কবে? আগন্ত জন্মে ছিল কিনা তা সে জানে না। সবাই পূর্বজন্মের কথা মনে করতে পারে না। বিভাবতীও পারছে না। কিন্তু লোকটিকে এখন কী বলবে সে! সে তো কোনোদিন কুচবিহারে ছিল না। পালানোর প্রশ্ন উঠছে কেন? লোকটি তাকে প্রণাম করেছে, মা ডাকছে...।
বিভাবতী প্রসঙ্গ এড়িয়ে বলল, ‘তুমি বসো বাবা। ঘরে বেল আছে। শরবত বানাইয়া দেই। বকুলতলা বইয়াই খাও। কারেন্ট নাই। ঘরে খুব গরম...।’
কবিতা আবৃত্তি শুরু করলেন অরুণদা। ‘হেমন্ত আর শীতে আমরা গ্রামের দিকে চলে যাই/গ্রীষ্ম আর বর্ষা আমরা শহরের গলিতে কাটাই/বসন্তে সারা অরণ্যে জ্বলে ওঠে আগুন আমাদের/মনে পড়ে না শহরে, অরণ্যে আর গ্রামে কীভাবে/বেড়ে উঠেছে আমাদের সন্তান,/ আমাদের মনে পড়ে না কী জন্য আমরা পৃথিবীতে এসেছিলাম...।’
একমনে কবিতা আবৃত্তি করছেন অরুণদা। কুচবিহার শহরের গণিকালয়ে প্রৌঢ়া গণিকা বিভাবতীর সামনে তরুণ বয়সে যে রকম করতেন! আজ এই বুড়ো বয়সে, বাংলাদেশে এসে যেন সেই হারিয়ে যাওয়া বিভাবতীকে খুঁজে পেয়েছেন। এখন আর অরুণদার অন্য কোনো খেয়াল নেই। আমি যে তাকে পথ দেখিয়ে এখানে নিয়ে এলাম, তার পাশেই বসে আছি- এখন, সে খেয়ালও নেই তার...।
দুপুর বেলা। বাইরে করাতের দাঁতের মতো ধারাল রোদ। কোথাও যাওয়ার জো নেই। আমি ঘরে শুয়ে-শুয়ে ‘শব ও সন্ন্যাসী’র কবিতা পড়ছিলাম। ‘জয়পুর থেকে আমার চিঠি যায়/তুমি ডাকপিয়নের কাছ থেকে হাত বাড়িয়ে নিয়েছ সেই চিঠি/আমি ভাবতে পারি, তোমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে.../আমার হাত ধরে সেই ছেলেবেলায় যেখানটায় এসেছিলে/সেইখানেই থেকে গেলে চিরটা দিন/আমি তো কত দেশ ঘুরে বেড়ালাম কত সরাইখানায়/আকণ্ঠ মদ্যপানের পর আমার স্বপ্নহীন ঘুম/শেষ হয়ে গেল/এক সরাইখানা থেকে আরেক সরাইখানায় হেঁটে যাওয়ার পথে/আমার সঙ্গে আলাপ হ’ল বেশ্যাদের.../মা আমার, চিঠি শুকে দেখো তুমি- সেই গন্ধ/সেই পুরনো গন্ধ- যা তোমারই, তোমার গর্ভের...।’
কবিতা পড়তে পড়তে একটু তন্দ্রার মতো এসেছিল। তখনই বাইরে গলার আওয়াজ। জলদগম্ভীরকণ্ঠ। ‘সুমিত বাড়ি আছ...?’
ডাক শুনে আমার তন্দ্রা কেটে গেল। এত রোদের মধ্যে কে এলো! আমি ঘরের বাইরে বেরিয়ে এলাম। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, কাঁধে খদ্দরের ব্যাগ; সৌম্যদর্শন এক প্রৌঢ় দাঁড়িয়ে আছেন। লোকটিকে কোথায় দেখেছি...?
- আপনি...?
- আমি অরুণেশ, অরুণেশ ঘোষ...।
- আপনি অরুণেশ ঘোষ? অরুণদা...!
পা ছুঁয়ে সালাম করলাম অরুণদাকে। দাদা আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন...।
- এখন কোত্থেকে এলেন...?
- জাঙ্গালিয়া...।
- কুচবিহার থেকে কবে এসেছেন...?
- দিন-তিনেক হল...।
- খবর দেননি কেন? কমলের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে...?
- তোমার বোধহয় ক’দিন ধরে কমলের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। ফোন-টোন করনি। এসেই ওকে ফোন করেছি। ওর ফোন বন্ধ। দেখ, এখনও ওর কোন বন্ধ। তোমার নম্বর জানা থাকলে তোমাকে ফোন করতাম...।
ফোন বন্ধ রেখে পানকৌড়ির মতো ডুব মারা কমলের স্বভাব। মাঝে মধ্যেই কোথায় যে ও ডুব মারে, কে জানে...!
- কাপড়-চোপড় পরে রেডি হও। জরুরি কাজে এসেছি। বিভাবতীকে খুঁজতে যাব, তোমাদের কান্দুপট্টিতে...।
- বিভাবতী...!
- তুমি চিনবে না। গণিকা। আমার তরুণ বয়সে কুচবিহার থেকে হারিয়ে গেছে...।
- বলেন কী? আপনার তরুণ বয়সে যে মহিলা নিখোঁজ হয়েছে, তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে? তাও আবার আমাদের কান্দুপট্টিতে...?
- আমার মন বলছে, মাসীমা তোমাদের এখানেই আছে...।
- থাকলে ভালো। আপনি এখন বিশ্রাম নিন। বিকালে যাওয়া যাবে। এই দুপুরবেলা...?
- গণিকালয়ে যাব, সময় বেছে-বেছে যেতে হবে...?
- কিন্তু...।
- বুঝেছি। তুমি ভয় পাচ্ছ। কেউ দেখে ফেলবে- কবি কথাকার সুমিত জহির বেশ্যাবাড়ি ঢুকল- সেই টেনশন করছ! ধিক তোমাকে। গল্প-কবিতা লিখছ, কিন্তু তুমি এখনও মানুষ চিনতে পারনি- পবিত্র মাটি তোমার অচেনা। পৃথিবীতে মুচি-মেথর-ডোম, মাতাল-পাগল-গণিকা; ওরাই প্রকৃত মানুষ- ওরা কোনো ভান করে না; কারও সঙ্গে প্রতারণা করে না। সমাজের ভদ্রবেশী টাকাওয়ালা মানুষগুলোই জোচ্চোর। শুনে রেখো সুমিত- গণিকালয়ের মাটির চে’ পবিত্র মাটি পৃথিবীতে আর কোথাও নেই...।
আমি বিমূঢ়ের মতো অরুণদার কথা শুনছি। জীবন-জগৎ যে এ রকম হতে পারে, কোনো মানুষ তথাকথিত নিচু স্তরের মানুষদের নিয়ে এভাবে ভাবতে পারে- তাদের সম্মান দেখিয়ে কথা বলতে পারে- এটা আমার কল্পনার মধ্যেও ছিল না...।
অরুণদা আবার বলতে শুরু করলেন- তোমার এখন বয়স কত? তিরিশ পার করেছ। এ বয়সেও তুমি বেশ্যাবাড়ি যেতে ভয় পাচ্ছ! তোমার তো লেখক-জীবনই বৃথা। পাঁচ বছর বয়সে আমার প্রথম গণিকাদর্শন ঘটে...।
- তাই নাকি? বলেন কী...!
- তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না? চল, হাঁটতে হাঁটতে সেই গল্প তোমাকে শোনাই...।
অরুণদার যে শৈশবেই গণিকাদর্শন ঘটে, তার মুখেই যে আমরা সেই গল্প শুনব- তা আমি আগেই বলেছি। পাঠক, চলুন, আমরা অরুণদার মুখেই তার গণিকাদর্শনের গল্প শুনি...।
শোনো সুমিত, তোমরা হয়তো কিছুটা জান। ছিটেফোঁটা পড়েছ কোথাও কোথাও। জাঙ্গালিয়ার জোতদার শ্রীকান্ত তরফদার ছিলেন আমার তালুই, মানে আমার মায়ের মাতামহ। গাঁয়ের সবচেয়ে ‘ধনাঢ্য’ ব্যক্তি। সেই আমলে বাড়িতে পাকা ঘর। বাড়ির সামনে ঘাট বাঁধা বিশাল পুকুর। পুকুরের ওপারে প্রাচীন কালীমন্দির। বাড়িতে পূজা-অর্চনা লেগেই থাকে...।
শ্রীকান্ত তরফদারের একটি মাত্র মেয়ে ছিল- সুহাসিনী, আমার দিদিমা। সুহাসিনীর বিয়ে হয়েছিল পাশের গ্রাম নন্দনপুর। অকালবৈধব্য ঘটে দিদিমার। তখন, স্বামীর বাড়ি আর তার থাকা হয়নি। আমার মাসহ দুটি মেয়ে নিয়ে দিদিমা বাবার বাড়ি চলে আসে, চিরতরে। আমার মামাবাড়ি বলতে শ্রীকান্ত তরফদারের বাড়িকেই বুঝতাম। কুচবিহার থেকে মা-বাবাসহ আমরা এসে উঠতাম দিদিমার ঘরে। আমার শৈশবের বহুদিন কেটেছে এ বাড়িতে...।
তরুণ বয়সে বিপত্নীক হন শ্রীকান্ত তরফদার। তখনকার দিনে ধনাঢ্য বিপত্নীকদের কোনো আত্মীয়া বা বাড়ির দাসী-বাদীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক থাকত। কিন্তু শ্রীকান্ত তরফদারের তা ছিল না। তার নৈতিকতাবোধ ছিল অত্যন্ত প্রখর। তবে, বাড়ির, গ্রামের সবাই বলত- গোপালপুর বাজারে তার একটি সুন্দরী রক্ষিতা আছে।
কথাটি আমিও শুনতাম। শ্রীকান্ত তরফদার আমার প্রৌঢ় বন্ধু বলে- নিজে নিজে বোঝার চেষ্টা করতাম, লোকে যে বলে; শ্রীকান্ত তরফদারের রক্ষিতা আছে; রক্ষিতা কী জিনিস? রক্ষিতা কাকে বলে?
রক্ষিতা কাকে বলে, অচিরেই যে টের পাব- তা আমার মাথায় ছিল না...।
একটা দুধ সাদা ঘোড়া ছিল শ্রীকান্ত তরফদারের। সেই ঘোড়ায় চেপে রোজ সন্ধ্যায় গোপালপুর বাজারে যেতেন তিনি। আমি যতদিন ওই বাড়িতে থাকতাম, ছিলাম তার নিত্যসঙ্গী। শ্রীকান্ত তরফদার কেন যে তার পুতিটিকে এতটা ভালোবসতেন, তা আমার জানা ছিল না। আমারও ভালো লাগত তাকে, তার সঙ্গ...।
গোপালপুর বাজার তখন পাটের ব্যবসার জন্য প্রসিদ্ধ। বৈরান নদীর তীরে বাজার। বাজারে লালমোহন সাহার বড়ো গদি। এখানেই শ্রীকান্ত তরফদারের আড্ডা...।
আড্ডার এক ফাঁকে শ্রীকান্ত তরফদার আমাকে গদির কর্মচারীদের জিম্মায় রেখে কেটে পড়তেন- আমি টেরই পেতাম না। এখানে খুঁজি, ওখানে খুঁজি। কোথাও নেই। কী কাণ্ড কোথায় গেলেন মিছা?
আমরা বাড়ির ছেলে-ছোকরারা শ্রীকান্ত তরফদারকে ‘মিছা’ বলে ডাকতাম। কেন তাকে মিছা ডাকতাম- এ গল্পে সে ব্যাখ্যা অপ্রয়োজনীয়। আমরা মূলগল্পে ফিরে যাই...
আমার ছটফটানি দেখে গদির কর্মচারীরা বলত, ‘খোকা বইসো। বড়োকত্তা এখনই আইবো। ধলাঘোষের চমচম আইনা দেই। চমচম খাও...।’
সুমিত, তোমাকে বলে রাখি- আমি তখনই অকালপক্ব ছিলাম, ৫ বছর বয়সেই। উদাহরণ দিলে অনেক দেয়া যাবে- সেদিকে যাচ্ছি না। একদিন আমি তক্কে-তক্কে থাকলাম, কোথায় যান মিছা?
লালমোহন সা’র গদি ছেড়ে পাশের গলিতে ঢুকলেন মিছা। সামান্য এগিয়ে, বাঁ দিকে মোড় নিয়ে আরও একটা গলি। চাপা, সরু। গলির দু’পাশে লাগালাগি সারি-সারি ঘর। কোনটা টিনের চৌয়ারী, কোনটা দো’চালা। সব ঘরের সামনে গুচ্ছগুচ্ছ মেয়ে- ফুলের মতো। মিছা ধুতির কোঁচা মুঠো করে দ্রুতপায়ে হাঁটছেন। গলায় গুনগুন গান। কী আশ্চর্য! তাকে তো কোনোদিন সুর ভাজতে দেখিনি...।
আমি নিঃশব্দ পায়ে তার পিছু নিয়েছি। অবশ্য এটাও বুঝে ফেলেছি, মিছা যেভাবে যাচ্ছেন- পেছন ফিরে তাকাবার ফুরসত তার নেই...।
গলিপথ পেছনে রেখে, গোলাপ-গাঁদা-স্থলপদ্মের ছোট্ট বাগানওয়ালা সুদৃশ্য একটি কাঠের বাড়ির সামনে দাঁড়ালেন মিছা। অদূরেই নদী। মিছা বাড়ির গেট খুলে ভেতরে ঢুকলেন। সিঁড়ি বেয়ে বারান্দায় উঠে ডাক দিলেন- অভয়, অভয়...।
ঘরের ভেতর থেকে রিনরিনে গলার আওয়াজ এলো- ‘দরজা খোলাই আছে। আইসেন...।’
মিছা স্বল্পালোকিত, সুসজ্জিত সেই ঘরে ঢুকলেন- তার পেছনে যে আমি সে সম্পর্কে তখনও তিনি অচেতন। কীসের মোহে যে ছোটে মানুষ...!
দেয়াল জোড়া আয়নার সামনে বসে প্রসাধনে ব্যস্ত এক পরমাসুন্দরী। এ মহিলাই তবে শ্রীকান্ত তরফদারের রক্ষিতা! আয়নার ভেতর দিয়েই সে এক ঘর্মাক্ত, বিস্মিত, হতচকিত বালককে দেখে। মুখ ফিরিয়ে বলে, ‘কারে সঙ্গে নিয়া আইছেন বড়কর্তা...?’
মিছাও তখন পেছনে তাকান। দেখেন, আমি। স্তম্ভিত। নির্বাক। ঘরের ভেতরে তখন এমনই নিস্তব্ধতা যে- সেই রূপবতীর হাত থেকে হাতির দাঁতের চিরুনি খসে পড়ে...।
আমার মতো অকালপক্ব, হাড়বজ্জাত পুতিটির ওপর মিছা কখনও ক্রোধ প্রকাশ করেননি- হাজার অন্যায় করার পরও। আজও করবেন না, এটা আমার বিশ্বাস ছিল। ফলে গেল আমার বিশ্বাস। অনেকক্ষণ পর মিছা হেসে বললেন, ‘আমার পুতি। মেজো নাতনির পোলা...।’
রমণী হাত বাড়িয়ে দিলেন। ‘আসো বাবা, কাছে আসো। আমি তোমার আর একটা মা...।’
বুঝলে সুমিত, এভাবেই আমার প্রথম গণিকাদর্শন। মিছার রক্ষিতা অভয়াকে আমি ‘ছোটমা’ ডাকতাম। সে কবিতা লিখত। তার একটা বাঁধানো কবিতার খাতা আমার কাছে এখনও আছে। শুনবে তার কবিতা?
‘আমি এক অভাগিনী মৃত্যু নাহি মোর/আমি এক বিষধর, বিষে জ্বর-জ্বর/এই বিষ বেঁটে দিই পুরুষে-পুরুষে/কী ছিলাম কী হইলাম কপালের দোষে...।’
কথক সুমিত আবার ঢুকল গল্পে...
এতক্ষণ মন্ত্রমুগ্ধের মতো অরুণদার প্রথম গণিকাদর্শনের গল্প শুনছিলাম।
আমরা হাঁটছিলাম আকুরটাকুরের ভেতরের রাস্তা দিয়ে। এ রাস্তায় প্রচুর গাছপালা। বকুলগাছ, নিমগাছ, বহেড়াগাছ...। রোদ কম। হাঁটতে হাঁটতে কখন কান্দাপট্টির সামনে, চৌরাস্তার মোড়ে এসে পড়েছি, টেরই পাইনি। গল্প শোনায় মগ্ন ছিলাম বলেই পথ এত দ্রুত সরেছে। টের পেলাম অরুণদার কথায়। দাদা বললেন, ‘সুমিত আমরা এসে পড়েছি...।’
- তাই তো! আপনি বুঝলেন কী করে...?
- পবিত্র মাটির গন্ধ পাচ্ছি। ‘এ যেন আমাদের ছোট শহরের বেঁটেখাটো আর দাড়িওয়ালা ঈশ্বরের সঠিক নির্দেশ/একগাঁ থেকে আরেক গাঁয়ে/পালিয়ে না-বেরিয়ে সোজা চলে আয় আমার এখানে।/এই ভাঙা বাড়ি, নেশুড়ে আর বেশ্যাদের আস্তানায়...।’ বুঝলে সুমিত, বেশ্যাবাড়ির কাছাকাছি গেলেই, আমি বুঝতে পারি- মা আমাকে ডাকছে, তাড়াতাড়ি যেতে হবে...।
আমরা, এখন, আবার বিভাবতীর ঘরের সামনে। বকুলগাছের বাঁধানো গোড়ায় বসে আছি। গল্প নিজে-নিজেই সৃজিত হোক...।
বিভাবতী একগ্লাস বেলের শরবত দিল অরুণদার হাতে। ‘খাও বাবা। শরবতটুক খাও। গা-গতর জুড়াইয়া যাবো...।’
শরবতের গ্লাস গাছের গোড়ায় রেখে দিয়ে অরুণদা চড়া মেজাজে বললেন, ‘আমি শরবত খাই না। শরবত খেতে এখানে আসিনি। আমাকে মদ দেন...।’ অরুণদা যখন কেবল হাফপ্যান্ট ছেড়ে পাজামা পরছেন, গোঁফের রেখা ফুটে উঠছে, সেই তখন থেকেই মদ ধরেছেন। সকালে খালি পেটেই তরল আগুন পেটে চালান করেন। চলে রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত। সেই লোকটি খাবেন শরবত! শরবতের গ্লাস দেখেই তার মেজাজ চড়ে গেছে। তিনি ভুলে গেছেন, এটা কুচবিহার না। এটা টাঙ্গাইল শহরের কান্দাপট্টি। তিনি এখানে বিভাবতীতে খুঁজতে এসেছেন, মেজাজ দেখানো ঠিক না...।
অরুণদার কথা শুনে বিভাবতীর শরীরে বিদ্যুৎ শক খাওয়ার মতো ঝাঁকুনি খেল। আর কী আশ্চর্য! শরীরে ঝাঁকুনি খাওয়ার পর থেকেই সে তার পূর্বজন্মের সব ঘটনা দেখতে লাগল চোখের সামনে...।
কুচবিহার শহরের বাঁ-পাশ ঘেঁষে গণিকাপল্লী। পল্লীর উল্টোদিকে রাস্তার ওপারে বিশাল এক পুকুর। পুকুরের ওপর বিভাবতীর দোকান। কাঠের পাটাতন পাতা। বিভাবতী আগে গণিকাবৃত্তি করেছে। এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ। গণিকাবৃত্তি করে না। দোকানে ভাত-রুটি-চা বিক্রি করে। রাতে বেচে মদ...।
একদিন, গা-ঝলসানো দুপুর; ১৬-১৭ বছর বয়সী অরুণেশ, কেবল গোঁফের রেখা উঠেছে- ঢুকল বিভাবতীর দোকানে। রোদে শরীর পুড়ে কালো হয়ে গেছে। অরুণেশকে দেখে মায়া হল বিভাবতীর। বলল, ‘বইসো বাবা, বইসো। শরবত বানাইয়া দেই, শরবত খাও...।’
অরুণেশ রাগী চোখে বলল, ‘আমি শরবত খাই না। মদ দেন...।’
অরুণেশের কথা শুনে বিভাবতী হতবাক। ছেলে বলে কী...?
- আমি বেশ্যা হইতে পারি বাবা, কিন্তু আমার একটা নীতি আছে। দিনে মদ বেচি না। ওই যে ভাটিখানা, ওইখানে যাও, মদ পাইবা। অরা দিনরাইত মদ বেচে...।
বিভাবতীর নীতিবাক্য শুনে অরুণেশের রাগ আরও চড়ে গেল। সে বলল, ‘আপনার আর কী-কী নীতি আছে, শুনি...?’
বিভাবতী শান্ত, ধীরস্থির। মুখে চিকচিকে হাসি। সে বলল, ‘সেসব শুইনা আর কী করবা? আমি যখন ঘরে লোক নিতাম। কিন্তু...।’
ততক্ষণে অরুণদারও স্থির বিশ্বাস জন্মেছে- এই রমণীই কুচবিহার থেকে হারিয়ে যাওয়া বিভাবতী। অরুণদা জিজ্ঞেস করলেন- আগে বলুন, আপনি কি কুচবিহারের বিভাবতী নন?
- হ্যাঁ বাবা, আমি সেই অভাগিনী...।
- পালালেন কেন?
- ছেলেকে একটার পর একটা চিঠি লেখতাম। তোমার মতোই এক ছেলে আমার হয়ে চিঠি লেইখা দিত। কিন্তু ছেলের উত্তর এলো না কোনোদিন। ছেলের চিঠি না-পাইয়া, দ্যাশটাই আমার কাছে নরক হইয়া উঠছিল, বাবা। কিন্তু, তুমি কে? তোমারে দেইখা যে আমার মনে হইতাছে- তোমারে আমি কতকাল ধইরা চিনি...।
- চিনবেন না কেন? আমি যে আপনার সেই ছেলে, অরুণেশ। আমিই আপনাকে চিঠি লিখে দিতাম...।
- অরুণেশ! বাবা, তুমি অরুণেশ...?
‘মা/ আমাদের আর কোনো দুঃ
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দ্য সার্চ ওয়ারেন্ট by আলী আহমদ
সমকালীন ফরাসি সাহিত্যে প্যাট্রিক মোদিয়ানোর অবস্থান একেবারে প্রথম সারিতে। গ্রন্থের সংখ্যা, পাঠকপ্রিয়তা, কিংবা শৈল্পিক উৎকর্ষ, যে কোনো বিবেচনাতেই তিনি বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। এ পর্যন্ত ত্রিশটিরও বেশি ভাষায় তার বই অনূদিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও, স্বদেশের বাইরে তিনি খুব একটা পরিচিত ছিলেন না। তাকে নিয়ে ইউরোপ-আমেরিকার পত্রপত্রিকায় আলোচনা-পর্যালোচনাও হয়েছে একেবারেই কম। সে কারণে সাহিত্যে নোবেলবিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষিত হওয়ার পর ফ্রান্সের বাইরের সচেতন এবং অতি-পাঠ-প্রবণ সাহিত্যপ্রেমিকরাও চোখ কুঞ্চিত করে বিস্মিত স্বরে প্রশ্ন করেছেন- ‘কে ইনি? এর নাম আগে তো কখনও শুনিনি! তাতে অবশ্য কিছু আসে-যায় না। মোদিয়ানো বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাবান নোবেল পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়েছেন, এবং এখন সবাই তার নাম জানছেন, তার বই কেনার হিড়িক পড়ে গেছে সারা বিশ্বে, সেটাই বড় কথা।
প্যাট্রিক মোদিয়ানো মূলত উপন্যাসই লিখেছেন, আর রয়েছে শিশুসাহিত্য ও কয়েকটি চিত্রনাট্য। কিন্তু তার নিজেরই মত হচ্ছে তিনি যেন ‘সব সময় একই বই লিখে চলেছেন।’ তার কারণ হচ্ছে তার সবগুলো উপন্যাসেরই বিষয় হচ্ছে স্মৃতি-বিস্মৃতির লুকোচুরি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে অধিকৃত ফ্রান্সে ইহুদি জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ। বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন দিক থেকে, এই একই বিষয়কে তিনি ছিঁড়ে-খুঁড়ে দেখেছেন বারবার। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, হারিয়ে-যাওয়া জিনিসের সন্ধানে ‘অতীতের দিকে ফিরে তাকানোর ম্যানিয়া’ দ্বারা আক্রান্ত তিনি। কিন্তু সময় তার বিষয় নয়, এমনকি মাধ্যমও নয়, বরং তিনি সময়ের সঙ্গে যেন নিজেও প্রবাহিত হয়েছেন, ডুবে থেকেছেন সময়ের অভ্যন্তরে। স্মৃতি ও সময় নিয়ে তার এ অবসেশনের জন্য তাকে ‘একালের প্র“স্তু’ও বলেন কেউ কেউ।
মোদিয়ানোর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ঊনত্রিশ। তবে তার এতসব সৃষ্টিকর্মের মধ্যে তিনটি রচনাকে মাইলস্টোন হিসেবে বিবেচনা করেন সাহিত্য সমালোচকরা। উপন্যাস তিনটি হচ্ছে- ‘মিসিং পারসন’, ‘আউট অফ দি ডার্ক’ এবং ‘ডোরা ব্র“ডার’। এই তালিকায় ‘হানিমুন’কেও যুক্ত করতে চান কেউ কেউ। এ উপন্যাসগুলো তার মূল প্রবণতার প্রতিনিধিস্থানীয়ও বটে। স্মৃতি ও সময় নিয়ে যে ‘ম্যানিয়া’র কথা তিনি বলেছেন এ উপন্যাসগুলোর প্রত্যেকটিতেই তার সন্ধান পাওয়া যাবে। তবে এর প্রয়োগ সবচেয়ে ব্যাপক ও গভীর হয়েছে ‘ডোরা ব্র“ডার’ উপন্যাসে। মোদিয়ানোর অন্যতম প্রধান ও বিখ্যাত এ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালে, ফ্রান্সে। এটির প্রথম ইংরেজি অনুবাদ করেন বার্কলি, সেটা ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয় আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া প্রেস থেকে। এরপর আরেকটি ইংলিশ অনুবাদ করেন জোয়ান্না কিলমার্টিন। এ অনুবাদটি ২০০০ সালে ‘দ্য সার্চ ওয়ারেন্ট’ নামে একই সঙ্গে প্রকাশিত হয় লন্ডনের র্যানডম হাউস এবং বস্টনের হারভিল প্রেস থেকে।
‘দ্য সার্চ ওয়ারেন্ট’ এমন একটি শঙ্কর জাতীয় রচনা যার মধ্যে অনেকগুলো প্রকরণ মিলে-মিশে-গলে একাকার হয়ে গেছে। এতে ইতিহাস, জীবনী, আত্মজৈবনিক রচনা, রহস্য উপন্যাস, প্রবন্ধ, সংবাদপত্রের রিপোর্ট, সবকিছুর সংমিশ্রণ ঘটেছে। তবে এর কেন্দ্রে রয়েছে মূল চরিত্র, ডোরা ব্রুডার। সবকিছু তাকে আবর্তিত করেই গতিমান হয়েছে। উদ্দেশ্য ডোরা ব্রুডারের পরিচয় অনুসন্ধান করা। সে ১৫ বছর বয়সী এক ইহুদি পরিবারের কন্যাসন্তান, কনভেন্টে পড়ে। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। ফ্রান্সের পতন হলে সেখানকার ইহুদি অধিবাসীদের ওপর নেমে আসে চরম নিপীড়ন। এ নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে যায় ডোরা ব্র“ডার। কিন্তু ধরা পড়ে। তারপর হারিয়ে যায় বিস্মৃতির অন্ধকারে।
জোয়ান্না কিলমার্টিন-কৃত অনুবাদ ‘দ্য সার্চ ওয়ারেন্ট’ উপন্যাসের শুরুর খানিকটা অংশ এখানে অনূদিত হল।
ডোরা ব্রুডার
আট বছর আগে, ১৯৪১ সালের ৩১ ডিসেম্বর তারিখের প্যারিস সয়েরের একটি পুরনো কপিতে চোখ বুলাতে গিয়ে তৃতীয় পৃষ্ঠার একটা হেডলাইনে আমার চোখ আটকে গেল :
প্যারিস :
এক তরুণী বালিকা নিখোঁজ। তার নাম ডোরা ব্র“ডার, বয়স ১৫ বছর, উচ্চতা ১.৫৫ মিটার, ডিম্বাকার মুখাবয়ব, হালকা-বাদামি চোখ, পরণে ছিল ধূসর স্পোর্টস জ্যাকেট, লাল পুলওভার, নেভি-ব্লু স্কার্ট ও হ্যাট, আর বাদামি রঙের ব্যায়ামের জুতা। ঠিকানা- সব যোগাযোগ- মিস্টার অ্যান্ড মিসেস এম্মি ব্রুডার, ৪১ বুলেভার্ড অরনানো, প্যারিস।
বুলেভার্ড অরনানোর আশপাশের এলাকাগুলোর সঙ্গে আমার পরিচয় দীর্ঘদিনের। আমার শৈশবে, যখন আমার মা সেইন্ট ওয়েন ফ্লি-মার্কেটে যেতেন তখন আমি তার সঙ্গ নিতাম। আমরা কখনও কখনও পোর্তা দ্য ক্লিগন্যানকুর্তে বাস থেকে নামতাম, কখনও বা, হঠাৎ-হঠাৎ, নামতাম ১৮নং অ্যারোন্ডিসেমেন্ট টাউন হলের বাইরে। সব সময়, দিনটা হতো শনিবার, নয়তো রোববার বিকাল।
আমি এ কথাগুলো লিখছি ১৯৯৬ সালের নভেম্বর মাসে। বৃষ্টি ঝরছে তো ঝরছেই, থামতেই চায় না। আগামীকাল ডিসেম্বর শুরু হবে, ডোরার পালিয়ে যাওয়ার পর ৫৫ বছর পেরিয়ে যাবে। আগে-ভাগেই অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে, আর যা হয় আরকি- রাত নেমে ঢেকে দিচ্ছে এসব বর্ষণমুখর দিনের ধূসরতা এবং একঘেয়েমিকে, তখন সত্যিই এটা দিনের সময় কিনা সে কথা ভেবে অবাক হয় মানুষ। আর যদি এর মধ্যে আর কিছু না ঘটে, তাহলে এক ধরনের বিষণ্ন অন্ধকার ব্যাপ্ত হয়ে থাকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। তারপর রাস্তার বাতিগুলো জ্বলে ওঠে, দোকানের জানালা এবং ক্যাফেগুলো আলোকোজ্জ্বল হয়। ঝরঝরে সান্ধ্য বাতাস, বর্ণালী নকশাগুলো তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে, রাস্তার মোড়গুলোতে গাড়ি-ঘোড়ার ভিড় জমে যায়, সড়কে লোকজন ছুটে চলে। আর এসব আলো আর শোরগোলের মাঝখানে, আমার সহজে বিশ্বাস হতে চায় না যে এই সেই মহানগরী যেখানে ডোরা বসবাস করত তার বাপ-মায়ের সঙ্গে, যেখানে আমার পিতা বাস করতেন যখন তার বয়স ছিল আমার এখনকার বয়সের চেয়ে ২৪ বছর কম। আমার অনুভব হচ্ছে যেন বা আমি একাকি তখনকার প্যারিসের সঙ্গে এখনকার প্যারিসের মধ্যে একটা সংযোগসূত্র নির্মাণ করছি, একা-একা এসব খুটিনাটি ব্যাপার বিস্তারিতভাবে স্মরণ করার মধ্য দিয়ে। কখনও কখনও এ সংযোগসূত্র ছিঁড়ে যাওয়ার মতো মাত্রায় সম্প্রসারিত হয়ে পড়ছে, সম্প্রসারিত হচ্ছে অন্যসব সন্ধ্যাগুলো পর্যন্ত, যখন আজকের নগরীর পেছনে ধাবমান ক্ষণস্থায়ী আলোয় আমার সামনে প্রতিভাত হয়ে উঠছে গতকালকের নগরী।
আমার পূর্ববর্তী অনেক লেখকের মতো আমিও কাকতালীয়তে বিশ্বাস করি, এবং কখনও কখনও, ঔপন্যাসিকের অলোকদৃষ্টির প্রতিভাতেও,- ‘প্রতিভা’ শব্দটা উপযুক্ত হল না, কারণ এতে এক ধরনের উত্তমর্ণ ভাব নিহিত আছে।
অলোকদৃষ্টি, অর্থাৎ অতিন্দ্রিয় দর্শনক্ষমতা, স্রেফ একটা পেশাগত জিনিস : কল্পনার দরকারী উল্লম্ফন, মনকে খুটিনাটির প্রতি নিবিষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা- বাস্তবে, অবচেতনার প্রতি- যাতে সূত্রটা হারিয়ে না যায় এবং যেন স্বাভাবিক আলস্যের কাছে পরাজয় না ঘটে। এসব উত্তেজনা, মস্তিষ্কক্রিয়ার এ অনুশীলন, শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় ‘অতীত ও ভবিষ্যতের ঘটনাবলী সংক্রান্ত সংজ্ঞার উচ্ছ্বাস’-এর দিকে, এরকমভাবেই ‘অলোকদৃষ্টি’ শব্দটার সংজ্ঞা দিয়েছেন লারুসি তার ডিকশনারিতে।
১৯৮৮-র ডিসেম্বরে, ১৯৪১ সালের ডিসেম্বরের প্যারিস সয়েরে প্রকাশিত ডোরার সন্ধান লাভের ঘোষণাটা পড়ার পর, আমি এটা নিয়ে অবিরাম ভেবেছি, মাসের পর মাস। কিছু কিছু খুটিনাটি বিষয়ের বিস্তৃত বিবরণ আমাকে সর্বদা তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে: ‘৪১ বুলেভার্ড অরনানো, উচ্চতা ১.৫৫ মিটার, ডিম্বাকার মুখাবয়ব, হালকা-বাদামি চোখ, ধূসর স্পোর্টস জ্যাকেট, তামাটে-লাল পুলওভার, নেভি-ব্লু স্কার্ট ও হ্যাট, আর বাদামি রঙের ব্যায়ামের জুতা।’ আর সবকিছু খামবদ্ধ হয়ে আছে অন্ধকার, অজ্ঞতা, বিস্মরণ আর বিস্মৃতির ভেতর। আমি ডোরা ব্র“ডার সম্পর্কে ক্ষীণতম ইঙ্গিতেরও সন্ধান পাব, সেটা অসম্ভব বলে প্রতীয়মান হয় আমার কাছে। সেই সময় যে শূন্যতা আমি অনুভব করি সেটা আমাকে ‘হানিমুন’ উপন্যাস লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে, ডোরা ব্রুডারের প্রতি আমার অব্যাহত মনোযোগ নিবদ্ধ রাখার উপায় হিসেবে এটা ভালো কাজ দিয়েছে, এবং সম্ভবত, আমি নিজেকে বলেছি, তার সম্পর্কে বিশদীকরণ বা তাকে চমৎকার করে চিত্রিত করতে,- কোথায় সে ছিল, তার জীবন সম্পর্কে বিস্তৃত বর্ণনা দিতে প্ররোচিত করেছে। আমি তার পিতা-মাতা সম্পর্কে কিছুই জানতাম না, অজানা ছিল তার পলায়ন-পরবর্তী পরিণতিও। আমার সম্বল ছিল কেবল এটুকু যে আমি তার নাম জানতে পেরেছি- ডোরা ব্রুডার- আর কিছু নয়, না কোনো তারিখ, বা না কোনো জন্মস্থান- আর জেনেছি তার পিতার নাম- আর্নেস্ট ব্র“ডার, ২১.৫.৯৯, ভিয়েনা, রাষ্ট্রহীন- এটা পাওয়া গিয়েছে সেই তালিকা থেকে যাতে ১৮ সেপ্টেম্বর অসউইচে পালিয়ে যাওয়া লোকদের নাম রয়েছে।
‘হানিমুন’ লেখার সময় কয়েকজন নারীর কথা আমার মনে ছিল, ১৯৬০-এর দশকে তাদের সঙ্গে আমার জানাশোনা ছিল- অ্যানি বি, বেলা ডি- ডোরার সমবয়সী এরা, একজনের ক্ষেত্রে তো এক মাসের মতো পার্থক্য। এরা হয়তো একই দুর্ভাগ্যের শিকার, দখলদারিত্বের সময় একই পরিস্থিতির কবলে পতিত হয়েছে, আর তাদের সঙ্গে তার সাদৃশ্য রয়েছে। আজ, আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, সত্যের অস্পষ্ট আলোকচ্ছটা অবচেতনভাবে আত্মীকরণ করার আগে আমাকে ২০০ পৃষ্ঠা লিখতে হতো।
ব্যাপারটা মাত্র কয়েক লাইনের : ‘ট্রেনটা নেশনে থেমেছে। লাইন আর যায়নি, শেষ এখানেই। রিগঁদ আর ইনগ্রিস গিয়েছে বাস্তিলের দিকে, সেখান থেকে নিশ্চয়ই দিক বদল করেছে পোর্টা দোরির উদ্দেশে। তারা মেট্রো থেকে বেরিয়ে পড়ল একটা বিশাল তুষারক্ষেত্রের ভেতর। [ ...] কয়েকটা ছোট ছোট সড়ক পেরিয়ে স্লেজ ফিরে গিয়েছিল বুলেভার্ড স্যুট-এ।’
পেছনের এ রাস্তাগুলো রিউ দ্য পিকাস এবং হলি হার্ট অফ মেরি-র আড়ালে পড়েছে, এ কনভেন্ট থেকেই ডোরা ব্র“ডার পালিয়েছিল। সেদিন ছিল ডিসেম্বরের এক সন্ধ্যা, যখন সম্ভবত প্যারিসে তুষারপাত হচ্ছিল। বইটিতে এটাই একমাত্র মুহূর্ত যখন, সেটা না জেনেই, আমি কাল ও স্থানগত দিক থেকে তার ঘনিষ্ঠ হয়েছিলাম।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অনিকেত মানসলোকের নিপুণ কারিগর by আলী আহমদ
একটি বিষয় অবশ্য প্রথমেই পরিষ্কার করে নেয়া উচিত। বিশ্বসাহিত্যের মোটামুটি খোঁজখবর যারা রাখেন এবং (মূলত অনুবাদের মাধ্যমে হলেও) বড় মাপের সাহিত্যিকদের লেখার সঙ্গে পরিচিত থাকেন, তাদের প্রত্যেকেরই মনে হয় নিজ নিজ ভালোবাসার লেখক কিংবা কবিদের নিয়ে একটি নিজস্ব তালিকা তৈরি করা থাকে। যে কোনো বছরের সাহিত্যে নোবেল ঘোষণার পর যদি নিজ তালিকার কেউ থাকেন তাহলে তারা বেশ খুশি হন; আর না থাকলে হতাশ, এমনকি কখনও কখনও বিষন্নতাও বোধ করেন। এ অনুভূতিটা স্বাভাবিক বলেই ধরে নেয়া যেতে পারে। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় অন্যদিক দিয়ে। পৃথিবীর বৃহত্তম এবং উন্নততর ভাষাগুলোর মধ্যে বাংলা অন্যতম এবং সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তনের একেবারে গোড়ার দিকে (১৯১৩ সালে) এ ভাষার একজন কবি (রবীন্দ্রনাথ) সে পুরস্কার অর্জনের কারণে আমরা যথার্থই গর্বিত। কিন্তু নানাবিধ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণে জাতি হিসেবে বাঙালিরা শতাধিক বছরের আগের অবস্থানে আটকে আছি মনে হয়। একথা আমাদের মধ্যে সহজে প্রায় কেউই স্বীকার করতে চাইবেন বলে আমার মনে হয় না। শতাধিক বছর আগে পাওয়া নোবেল পুরস্কারের বর্তমান সময়ের যে অবস্থান, রবীন্দ্রনাথের পর থেকে আমাদের সাহিত্যের মানে আমরা কি তার ধারে-কাছে এখনও পর্যন্ত যেতে পেরেছি? পৃথিবীর অন্যান্য প্রধান ভাষার সাহিত্যকর্ম যেমন দেদারসে অনূদিত হয়ে সমস্ত বিশ্বের সাহিত্যামোদি মহলে পঠিত এবং আলোচিত-সমালোচিত হয়, বাংলাসাহিত্য কি তেমন হয়? নোবেলবিজয়ী আমাদের একমাত্র লেখক-কবিও এখন বাইরের জগতে আর তেমন একটা পরিচিত নন; পঠিতও নন। আর ক্ষীয়মাণ কুলীনদের মতো আমরা বাঙালিরা নতুন কিছু সৃষ্টিতে ক্রমাগত ব্যর্থ হতে হতে রবীন্দ্রনাথকে আরও বেশি বেশি করে আঁকড়ে ধরছি। রবীন্দ্রনাথকে কিংবা তার সুবিশাল ও মহৎ সৃষ্টিকে আমি মোটেই খাটো করে দেখছি না। কিন্তু এখন থেকে দেড় শতাধিক বছর আগের রবীন্দ্রনাথই আমাদের সুখ-দুঃখ-আনন্দ-বেদনার একমাত্র কাণ্ডারি হয়ে রইলেন, জাতীয় সাহিত্যের বিষয়ে বাংলার ও বাঙালির জন্য এটা মোটেই কোনো সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়। আমি জানি শেকসপিয়ারের কথা, গ্যোয়েটের কথা, তলস্তয়ের কথা কিংবা তাদের চেয়েও পুরনো অথচ আজো খ্যাতিতে অম্লান সাহিত্যিকদের কথা টেনে রবীন্দ্রনাথকে তাদের পাশে বসাবেন কেউ কেউ। আমাদের তাতে আপত্তি থাকার কোনো কারণ নেই; এমনকি আমরা একমতও হবো হয়তো অনেক দিক দিয়ে। কিন্তু ওইসব খ্যাতিমানদের পায়ে পায়ে আরও অনেকে যে তাদের নিজের নিজের তথা পৃথিবীর সাহিত্য ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন, রবীন্দ্র-পরবর্তী কোনো বাঙালি লেখক-সাহিত্যিক তা’ কি করতে পেরেছেন? দোষ কোনোক্রমেই রবীন্দ্রনাথের নয়। এ হচ্ছে জাতি হিসেবে আমাদের অক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা, দীনতা, এবং আমার বলতে ইচ্ছে করছে, ভগ্ন কুলীনদের মতো আমাদের ক্ষয়িষ্ণুতা।
আরেকটি বিষয় এ প্রসঙ্গে না বললেই নয়। সমস্ত পৃথিবীর সাহিত্য পাঠকরা যেমন আমাদের খোঁজ রাখেন না, তার প্রতিশোধ হিসেবেই যেন আমরাও বিশ্বসাহিত্যের তেমন একটা খবর রাখি বলে মনে হয় না। তাই প্রতি বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষিত হলে আমরা সবাই-ই প্রায় চমকে উঠি। কারণ দু-একটি ব্যতিক্রমী বছর বাদ দিলে, প্রায় সব নামই পুরস্কার ঘোষণার পর আমরা প্রথমবারের মতো শুনতে পাই। তার কারণ ইংরেজিতেও এখন আমরা আর পড়তে পারি না এবং সে কারণেই সম্ভবত, পৃথিবীর খ্যাতনামা লেখক-সাহিত্যিকদের লেখা আমাদের এখানে আসেও না। অন্যদিকে ওই লেখকদের অনেকেই হয়তো নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আগেই বিশ-তিরিশটি ভাষায় অনূদিত হয়ে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পান, কিন্তু জনসংখ্যার গণনায় পৃথিবীর পঞ্চম নাকি অষ্টম (?) বৃহত্তম ভাষা বাংলায় তাদের প্রায় কেউই অনূদিত হন না, এমনকি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরও! সাহিত্য-সংস্কৃতিতে আমাদের দীনতা কতখানি প্রকট এ একটি বিষয়ই দগদগে ঘায়ের মতো আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। পহেলা বৈশাখে ঢাকা উজাড় করা জনতা বকুলতলার সুললিত রবীন্দ্রসঙ্গীত, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের দু-তিন দিনব্যাপী নিয়মিত বর্ষবরণ, একুশে ফেব্র“য়ারির বাংলা-প্রীতির আদিখ্যেতা, বইমেলার উপচেপড়া ভিড়, রবীন্দ্র-সরোবরে অসংখ্য মানুষের গাদাগাদিতে উদাত্ত কণ্ঠের কবিতা আবৃত্তি, নাটকপাড়ার ক্রমশ ঝিমিয়ে আসা উৎসাহ, সেনা স্টেডিয়ামের বছরান্তিক সপ্তাহব্যাপী উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের আসরে হাজারও সঙ্গীত রসিকদের রাত-ভোর করে দেয়া উপস্থিতি-এসবই কি তাহলে খুব ওপরের হালকা একটি প্রলেপ মাত্র! একটু আঁচড় কাটলেই যার ভেতরের নিরেট সংস্কৃতিহীনতার অসুন্দর, খসখসে উপরিতল সবার চোখের ওপর নিজেকে উদাম করে দেবে? একি ফাঁপা বেলুনের পাতলা আবরণ, ছোট্ট একটি আলপিনের আলতো ছোঁয়ায় যার অনস্তিত্বে বিলীন হয়ে যাবে?
দুয়েকবার বেকায়দায় ধাক্কা খেয়ে আমাদের ‘বুদ্ধিজীবীদের’ কেউ আর এখন নোবেলপ্রাপ্ত লেখককে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেন বলে মনে হয় না, করলে নিশ্চয়ই চোখে পড়ত। সাহিত্যে এবারের নোবেলজয়ী ফরাসি ঔপন্যাসিক জ্যঁ প্যাত্রিক মোদিয়ানোকে (Jean Patrick Modiano) নিয়ে এবারে অবশ্য নির্ভয়ে অমন মন্তব্য করা যেত। কারণ খোদ পশ্চিমা দুনিয়ার বাঘা বাঘা সব সংবাদপত্র আর সাময়িকী ‘প্যাত্রিক মোদিয়ানোকে?’ এবং সমজাতীয় আরও সব প্রশ্ন করে বসেছে। দুর্ভাগ্যক্রমে, এ বাঘা বাঘা কাগজ বলতে এখন ইংরেজি ভাষার প্রধান প্রধান কাগজগুলোকেই বোঝায়। সতের শতকীয় পৃথিবীতে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-কূটনীতি ইত্যাদি প্রায় সবক্ষেত্রে ফরাসি ভাষার একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। সে স্থান আঠারো শতকের প্রায় মাঝামাঝি শুরু হওয়া ইংল্যান্ডের শিল্পবিপ্লব, তখনকার ইউরোপীয় কয়েকটি ঔপনিবেশি শক্তির চেয়ে বেশ খানিকটা দেরিতে শুরু করেও যুক্তরাজ্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। উনিশ শতকের শেষার্ধ্ব থেকেই ইংরেজি ফরাসি ভাষাকে একটু একটু করে হটাতে হটাতে এখন একেবারেই কোণঠাসা করে ফেলেছে। ইংরেজদের সাম্রাজ্যের সূর্য এখন অস্তাচলগামী, অবস্থান, আঠারো শতকের শেষভাগ থেকে শুরু করে উনিশ শতকের তিন-চতুর্থাংশ সময় পর্যন্ত পৃথিবীর এক নম্বর অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি ছিল যে যুক্তরাজ্য, আগামী দু-চার বছরের মধ্যেই সে অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে দশ নম্বরেরও নিচে নেমে যাবে। কিন্তু ইংরেজি ভাষা এখনও সমস্ত পৃথিবীতেই অপরিহার্য। ইংরেজি ছাড়া আর সব ভাষাই বস্তুতপক্ষে এখন নিজ নিজ গৃহকোণে ঠাঁই নিতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে হয়। এক সময়ের অভিজাত ফরাসি ভাষাও এ অবমাননা থেকে রেহাই পায়নি।
মূলত এ কারণেই এবারের নোবেলজয়ী প্যাত্রিক মোদিয়ানো ফ্রান্সের বাইরে প্রায় অপরিচিতই ছিলেন। খোদ নোবেল কমিটির স্থায়ী সচিব পিটার ইংলুন্ড (Peter Englund) পুরস্কার ঘোষণার পর বলেছেন যে, ‘প্যাত্রিক মোদিয়ানো ফ্রান্সে সুপরিচিত নাম, কিন্তু অন্য কোথাও নয়।’ পুরস্কার ঘোষণার দিন, ৯ অক্টোবর, যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সাময়িকী The New Yorker এ নিবন্ধ লিখে Alexandra Schwartz বলেছেন, ‘ তিনি (মোদিয়ানো) ফ্রান্সে খুব বিখ্যাত কিন্তু এখানে বস্তুতপক্ষে কেউ তাকে চেনেন না।’ যুক্তরাজ্য ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান প্রায় সব পত্রিকা ও সাময়িকীর ওই একই সুর লক্ষ্য করা গেছে এবারের সাহিত্যে নোবেলজয়ীর ব্যাপারে। এর কারণ আছে নিশ্চয়ই। ফরাসি ভাষার কোণঠাসা হয়ে পড়ার কথা আগেই বলেছি। তার সঙ্গে অবশ্যই যোগ হয়েছে প্যাত্রিক মোদিয়ানোর প্রচারবিমুখতা। গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেয়া তিনি সযত্নে এড়িয়ে চলেন। তা’ না হলে তিনি কিন্তু ফরাসি দেশের বাইরে বৃহত্তর সাহিত্য বিশ্বে এতটা অপরিচিত থাকতেন না। ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত তার প্রথম ও অন্যতম প্রধান উপন্যাসের জন্য তিনি অস্ট্রিয়া থেকে ২০১২ সালে ইউরোপের অন্যতম প্রধান সাহিত্য পুরস্কার ‘ইউরোপীয় সাহিত্যের জন্য অস্ট্রীয় রাষ্ট্রীয় পুরস্কার’ লাভ করেন। ইংরেজি সাহিত্য বিশ্বের ম্যান বুকার সাহিত্য পুরস্কারের সমমর্যাদার ফরাসি সাহিত্য পুরস্কার চৎরী এড়হপড়ঁৎঃ ও তিনি জিতেছেন তার সাহিত্যকর্মের জন্য তারও আগে, ১৯৭৮ সালে। কাজেই, ইংরেজি প্রচার মাধ্যম তার ব্যাপারে যতটা নাক সিঁটকাক, তিনি ততটা অখ্যাত কেউ নন, যদিও বাইরের ইংরেজি প্রভাব বলয়ের সুবিশাল জগতে পুরস্কার পাওয়ার আগ পর্যন্ত অপরিচিত থেকে গিয়েছিলেন। এবার তারও অবসান ঘটল।
এ প্রসঙ্গে আরেকটি কথা এখানে বলে নেই। ইংরেজি ফরাসিকে কোণঠাসা করেছে ঠিকই, এবং সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তিতে এ যাবৎ তিরিশটি পুরস্কার জিতে ইংরেজির স্থান শীর্ষে, এবং ষোলোটি পুরস্কার জিতে ফরাসি বেশ পিছিয়ে পড়া দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। কিন্তু একক দেশ হিসেবে বিবেচনায় ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১৫টি সাহিত্য পুরস্কার জিতে ফ্রান্সের অবস্থান শীর্ষে, ১১টি জিতে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় স্থানে এবং ৯টি জিতে ইংল্যান্ডের অবস্থান তৃতীয়। সুতরাং ফরাসি ভাষা ও সাহিত্য এখনও দাপটের সঙ্গেই বিশ্বসাহিত্যের অঙ্গনে অবস্থান করছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
ইংরেজি সাহিত্য বিশ্বে প্যাত্রিক মোদিয়ানো তুলনামূলকভাবে কম খ্যাত হলেও একেবারে অপরিচিত নন। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আগ পর্যন্ত তার দশটির মতো বই ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। একথা সত্য সেগুলোর কোনোটিই তেমন পাঠকপ্রিয়তা না পাওয়ার কারণে মোদিয়ানোর পরিচিতিও তেমন হয়নি।
মোদিয়ানোর সাহিত্যের মূল বিষয় অবশ্য সমকালীন সাহিত্যের পরিচিত ধারায়ই এগিয়েছে। নিরুদ্দেশ, পরিচয়হীনতা, বিচ্ছিন্নতা ইত্যাদি তার উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলোর পরিচিতি চিহ্ন। এর পেছনে তার নিজের জীবনের পটভূমি অবশ্যই কাজ করেছে। তার জন্ম ১৯৪৫ সালের ৩০ জুলাই প্যারিসের পশ্চিম শহরতলিতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র মাস দুয়েক পরে। তার বাবা আলবেয়ার মোদিয়ানো (১৯১২-১৯৭৭) জন্মগ্রহণ করেন প্যারিসে, কিন্তু তাদের শিকড় অন্যত্র। গ্রিসের স্যালোনিকা শহরের সেফার্ডিক ইহুদি বংশোদ্ভূত এ আলবেয়ারের সঙ্গে বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে পরিচয় ঘটে বেলজীয় (ফ্লেমিশ) বংশোদ্ভূত লুইসা কল্পা (Louisa Colpin)। নাৎসি অধিকৃত প্যারিসের বিভিন্ন স্থানে তারা লুকিয়ে-ছাপিয়ে দেখাশোনা করতে থাকেন। নাৎসি নিয়ম অনুযায়ী ইহুদি আলবেয়ার মোদিয়ানোর পোশাকের ওপর লক্ষ্যযোগ্যভাবে ‘ডেভিডের তারকা’ প্রদর্শন করার কথা থাকলেও, তিনি তা’ না করেই চলাফেরা করতেন এবং প্যারিসের দখলদার জার্মান বাহিনীর গুপ্তচর (estapo) সদর দফতরে প্রায়ই যেতেন আড্ডা মারতে। দখলদার নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে সুতরাং তার সম্পর্ক সহজেই অনুমেয়। এ সুযোগে আলবেয়ার কালোবাজারেও ব্যবসা করেন। বাবার প্রায় সার্বক্ষণিক অনুপস্থিতি আর অভিনেত্রী মায়ের ঘন ঘন সফরের কারণে প্যাত্রিক মোদিয়ানো নানা-নানির কাছেই বড় হয়ে ওঠেন। তার প্রথম ভাষাও তাই হয়ে ওঠে ফ্লেমিশ, ফরাসি নয়। যা হোক, রাষ্ট্রীয় সহায়তায় তিনি মাধ্যমিক স্তর পাস করার পর আর উচ্চশিক্ষা লাভ করার সুযোগ পাননি। তার ছোটভাই রুদি তার খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে, কিন্তু মাত্র দশ বছর বয়সের সময় ওই ভাইটি মারা গেলে মোদিয়ানো খুব কষ্ট পান। ১৯৬৭ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তার সব লেখা তিনি তার মৃত এই ছোটো ভাইকেই উৎসর্গ করেন। তিনি বিয়ে করেন ১৯৭০ সালে দোমিনিক দেরফুসকে (Dominique Dehrfuss)। তাদের দুটো মেয়ে জিনা (১৯৭৪) ও মারি (১৯৭৬)।
বিখ্যাত ফরাসি লেখক কেনো (Queneau) এদিসিওঁ গলিমা (Editions Gallimard) নামক এক প্রকাশকের সঙ্গে তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার পর থেকে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে। ১৯৬৮ সালে এ প্রকাশকই প্রকাশ করেন তার প্রথম ও অন্যতম প্রধান উপন্যাস খধ চষধপব ফব ষ’বঃড়রষব. নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আগ পর্যন্ত তার যে দশ-বারোটি বই ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে তার মধ্যে এটি নেই। নাৎসি অধিকৃত প্যারিসের দখলদার বাহিনীর এক ইহুদি দালালের কর্মকাণ্ড হচ্ছে এ উপন্যাসের উপজীব্য। এ বই প্রকাশে তার বাবা এতটাই চটে যান যে তিনি এর সব কপি কিনে নিয়ে তা পাঠকের কাছ থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেন।
প্যারিসের রাস্তাঘাট, অলিগলি, সময়ের সঙ্গে তাদের বিবর্তন, এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন অধিকৃত প্যারিসের বাসিন্দাদের, বিশেষ করে ইহুদিদের, জীবনের যে অনিশ্চয়তা মূলত তা-ই হচ্ছে তার উপন্যাসের উপজীব্য। একথা ঠিক যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার দু’মাস পর জন্মগ্রহণ করে এগুলো জ্যঁ প্যাত্রিক মোদিয়ানোর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় নেই। কিন্তু ওই প্রজন্মের সবাই-ই তাদের মানসিক উত্তরাধিকারের মধ্যে আজও সেই বোঝা বহন করে চলেছেন। তারই রূপকার হয়েছেন তিনি। একটি সাক্ষাৎকারে মোদিয়ানো বলেছেন, ‘একেকটি উপন্যাস শেষ করে মনে হয় এ বোঝা এবার বুঝি সব নামানো গেল। কিন্তু আমি জানি আমি যা তারই ক্ষুদ্র-খণ্ড অংশ হিসেবে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বর্ণনার হাত ধরে ঘুরেফিরে বারবার এরা আসতেই থাকবে। যে সময়ে এবং যে স্থানে আমরা জন্মেছি শেষ পর্যন্ত তারাই আমরা কি তা নির্ধারণ করে দেয়।’ এ হচ্ছেন জ্যঁ প্যাত্রিক মোদিয়ানো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর অনিকেত মানসলোকের কারিগর। প্রায় তিরিশটির মতো বইয়ে তার উপন্যাসের পর উপন্যাসে, ক্রমাগত এ অবস্থাটি ধরারই প্রয়াস পেয়েছেন তিনি।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অনিকেত মানসলোকের নিপুণ কারিগর by আলী আহমদ
একটি বিষয় অবশ্য প্রথমেই পরিষ্কার করে নেয়া উচিত। বিশ্বসাহিত্যের মোটামুটি খোঁজখবর যারা রাখেন এবং (মূলত অনুবাদের মাধ্যমে হলেও) বড় মাপের সাহিত্যিকদের লেখার সঙ্গে পরিচিত থাকেন, তাদের প্রত্যেকেরই মনে হয় নিজ নিজ ভালোবাসার লেখক কিংবা কবিদের নিয়ে একটি নিজস্ব তালিকা তৈরি করা থাকে। যে কোনো বছরের সাহিত্যে নোবেল ঘোষণার পর যদি নিজ তালিকার কেউ থাকেন তাহলে তারা বেশ খুশি হন; আর না থাকলে হতাশ, এমনকি কখনও কখনও বিষন্নতাও বোধ করেন। এ অনুভূতিটা স্বাভাবিক বলেই ধরে নেয়া যেতে পারে। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় অন্যদিক দিয়ে। পৃথিবীর বৃহত্তম এবং উন্নততর ভাষাগুলোর মধ্যে বাংলা অন্যতম এবং সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তনের একেবারে গোড়ার দিকে (১৯১৩ সালে) এ ভাষার একজন কবি (রবীন্দ্রনাথ) সে পুরস্কার অর্জনের কারণে আমরা যথার্থই গর্বিত। কিন্তু নানাবিধ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণে জাতি হিসেবে বাঙালিরা শতাধিক বছরের আগের অবস্থানে আটকে আছি মনে হয়। একথা আমাদের মধ্যে সহজে প্রায় কেউই স্বীকার করতে চাইবেন বলে আমার মনে হয় না। শতাধিক বছর আগে পাওয়া নোবেল পুরস্কারের বর্তমান সময়ের যে অবস্থান, রবীন্দ্রনাথের পর থেকে আমাদের সাহিত্যের মানে আমরা কি তার ধারে-কাছে এখনও পর্যন্ত যেতে পেরেছি? পৃথিবীর অন্যান্য প্রধান ভাষার সাহিত্যকর্ম যেমন দেদারসে অনূদিত হয়ে সমস্ত বিশ্বের সাহিত্যামোদি মহলে পঠিত এবং আলোচিত-সমালোচিত হয়, বাংলাসাহিত্য কি তেমন হয়? নোবেলবিজয়ী আমাদের একমাত্র লেখক-কবিও এখন বাইরের জগতে আর তেমন একটা পরিচিত নন; পঠিতও নন। আর ক্ষীয়মাণ কুলীনদের মতো আমরা বাঙালিরা নতুন কিছু সৃষ্টিতে ক্রমাগত ব্যর্থ হতে হতে রবীন্দ্রনাথকে আরও বেশি বেশি করে আঁকড়ে ধরছি। রবীন্দ্রনাথকে কিংবা তার সুবিশাল ও মহৎ সৃষ্টিকে আমি মোটেই খাটো করে দেখছি না। কিন্তু এখন থেকে দেড় শতাধিক বছর আগের রবীন্দ্রনাথই আমাদের সুখ-দুঃখ-আনন্দ-বেদনার একমাত্র কাণ্ডারি হয়ে রইলেন, জাতীয় সাহিত্যের বিষয়ে বাংলার ও বাঙালির জন্য এটা মোটেই কোনো সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়। আমি জানি শেকসপিয়ারের কথা, গ্যোয়েটের কথা, তলস্তয়ের কথা কিংবা তাদের চেয়েও পুরনো অথচ আজো খ্যাতিতে অম্লান সাহিত্যিকদের কথা টেনে রবীন্দ্রনাথকে তাদের পাশে বসাবেন কেউ কেউ। আমাদের তাতে আপত্তি থাকার কোনো কারণ নেই; এমনকি আমরা একমতও হবো হয়তো অনেক দিক দিয়ে। কিন্তু ওইসব খ্যাতিমানদের পায়ে পায়ে আরও অনেকে যে তাদের নিজের নিজের তথা পৃথিবীর সাহিত্য ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন, রবীন্দ্র-পরবর্তী কোনো বাঙালি লেখক-সাহিত্যিক তা’ কি করতে পেরেছেন? দোষ কোনোক্রমেই রবীন্দ্রনাথের নয়। এ হচ্ছে জাতি হিসেবে আমাদের অক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা, দীনতা, এবং আমার বলতে ইচ্ছে করছে, ভগ্ন কুলীনদের মতো আমাদের ক্ষয়িষ্ণুতা।
আরেকটি বিষয় এ প্রসঙ্গে না বললেই নয়। সমস্ত পৃথিবীর সাহিত্য পাঠকরা যেমন আমাদের খোঁজ রাখেন না, তার প্রতিশোধ হিসেবেই যেন আমরাও বিশ্বসাহিত্যের তেমন একটা খবর রাখি বলে মনে হয় না। তাই প্রতি বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষিত হলে আমরা সবাই-ই প্রায় চমকে উঠি। কারণ দু-একটি ব্যতিক্রমী বছর বাদ দিলে, প্রায় সব নামই পুরস্কার ঘোষণার পর আমরা প্রথমবারের মতো শুনতে পাই। তার কারণ ইংরেজিতেও এখন আমরা আর পড়তে পারি না এবং সে কারণেই সম্ভবত, পৃথিবীর খ্যাতনামা লেখক-সাহিত্যিকদের লেখা আমাদের এখানে আসেও না। অন্যদিকে ওই লেখকদের অনেকেই হয়তো নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আগেই বিশ-তিরিশটি ভাষায় অনূদিত হয়ে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পান, কিন্তু জনসংখ্যার গণনায় পৃথিবীর পঞ্চম নাকি অষ্টম (?) বৃহত্তম ভাষা বাংলায় তাদের প্রায় কেউই অনূদিত হন না, এমনকি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরও! সাহিত্য-সংস্কৃতিতে আমাদের দীনতা কতখানি প্রকট এ একটি বিষয়ই দগদগে ঘায়ের মতো আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। পহেলা বৈশাখে ঢাকা উজাড় করা জনতা বকুলতলার সুললিত রবীন্দ্রসঙ্গীত, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের দু-তিন দিনব্যাপী নিয়মিত বর্ষবরণ, একুশে ফেব্র“য়ারির বাংলা-প্রীতির আদিখ্যেতা, বইমেলার উপচেপড়া ভিড়, রবীন্দ্র-সরোবরে অসংখ্য মানুষের গাদাগাদিতে উদাত্ত কণ্ঠের কবিতা আবৃত্তি, নাটকপাড়ার ক্রমশ ঝিমিয়ে আসা উৎসাহ, সেনা স্টেডিয়ামের বছরান্তিক সপ্তাহব্যাপী উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের আসরে হাজারও সঙ্গীত রসিকদের রাত-ভোর করে দেয়া উপস্থিতি-এসবই কি তাহলে খুব ওপরের হালকা একটি প্রলেপ মাত্র! একটু আঁচড় কাটলেই যার ভেতরের নিরেট সংস্কৃতিহীনতার অসুন্দর, খসখসে উপরিতল সবার চোখের ওপর নিজেকে উদাম করে দেবে? একি ফাঁপা বেলুনের পাতলা আবরণ, ছোট্ট একটি আলপিনের আলতো ছোঁয়ায় যার অনস্তিত্বে বিলীন হয়ে যাবে?
দুয়েকবার বেকায়দায় ধাক্কা খেয়ে আমাদের ‘বুদ্ধিজীবীদের’ কেউ আর এখন নোবেলপ্রাপ্ত লেখককে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেন বলে মনে হয় না, করলে নিশ্চয়ই চোখে পড়ত। সাহিত্যে এবারের নোবেলজয়ী ফরাসি ঔপন্যাসিক জ্যঁ প্যাত্রিক মোদিয়ানোকে (Jean Patrick Modiano) নিয়ে এবারে অবশ্য নির্ভয়ে অমন মন্তব্য করা যেত। কারণ খোদ পশ্চিমা দুনিয়ার বাঘা বাঘা সব সংবাদপত্র আর সাময়িকী ‘প্যাত্রিক মোদিয়ানোকে?’ এবং সমজাতীয় আরও সব প্রশ্ন করে বসেছে। দুর্ভাগ্যক্রমে, এ বাঘা বাঘা কাগজ বলতে এখন ইংরেজি ভাষার প্রধান প্রধান কাগজগুলোকেই বোঝায়। সতের শতকীয় পৃথিবীতে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-কূটনীতি ইত্যাদি প্রায় সবক্ষেত্রে ফরাসি ভাষার একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। সে স্থান আঠারো শতকের প্রায় মাঝামাঝি শুরু হওয়া ইংল্যান্ডের শিল্পবিপ্লব, তখনকার ইউরোপীয় কয়েকটি ঔপনিবেশি শক্তির চেয়ে বেশ খানিকটা দেরিতে শুরু করেও যুক্তরাজ্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। উনিশ শতকের শেষার্ধ্ব থেকেই ইংরেজি ফরাসি ভাষাকে একটু একটু করে হটাতে হটাতে এখন একেবারেই কোণঠাসা করে ফেলেছে। ইংরেজদের সাম্রাজ্যের সূর্য এখন অস্তাচলগামী, অবস্থান, আঠারো শতকের শেষভাগ থেকে শুরু করে উনিশ শতকের তিন-চতুর্থাংশ সময় পর্যন্ত পৃথিবীর এক নম্বর অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি ছিল যে যুক্তরাজ্য, আগামী দু-চার বছরের মধ্যেই সে অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে দশ নম্বরেরও নিচে নেমে যাবে। কিন্তু ইংরেজি ভাষা এখনও সমস্ত পৃথিবীতেই অপরিহার্য। ইংরেজি ছাড়া আর সব ভাষাই বস্তুতপক্ষে এখন নিজ নিজ গৃহকোণে ঠাঁই নিতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে হয়। এক সময়ের অভিজাত ফরাসি ভাষাও এ অবমাননা থেকে রেহাই পায়নি।
মূলত এ কারণেই এবারের নোবেলজয়ী প্যাত্রিক মোদিয়ানো ফ্রান্সের বাইরে প্রায় অপরিচিতই ছিলেন। খোদ নোবেল কমিটির স্থায়ী সচিব পিটার ইংলুন্ড (Peter Englund) পুরস্কার ঘোষণার পর বলেছেন যে, ‘প্যাত্রিক মোদিয়ানো ফ্রান্সে সুপরিচিত নাম, কিন্তু অন্য কোথাও নয়।’ পুরস্কার ঘোষণার দিন, ৯ অক্টোবর, যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সাময়িকী The New Yorker এ নিবন্ধ লিখে Alexandra Schwartz বলেছেন, ‘ তিনি (মোদিয়ানো) ফ্রান্সে খুব বিখ্যাত কিন্তু এখানে বস্তুতপক্ষে কেউ তাকে চেনেন না।’ যুক্তরাজ্য ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান প্রায় সব পত্রিকা ও সাময়িকীর ওই একই সুর লক্ষ্য করা গেছে এবারের সাহিত্যে নোবেলজয়ীর ব্যাপারে। এর কারণ আছে নিশ্চয়ই। ফরাসি ভাষার কোণঠাসা হয়ে পড়ার কথা আগেই বলেছি। তার সঙ্গে অবশ্যই যোগ হয়েছে প্যাত্রিক মোদিয়ানোর প্রচারবিমুখতা। গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেয়া তিনি সযত্নে এড়িয়ে চলেন। তা’ না হলে তিনি কিন্তু ফরাসি দেশের বাইরে বৃহত্তর সাহিত্য বিশ্বে এতটা অপরিচিত থাকতেন না। ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত তার প্রথম ও অন্যতম প্রধান উপন্যাসের জন্য তিনি অস্ট্রিয়া থেকে ২০১২ সালে ইউরোপের অন্যতম প্রধান সাহিত্য পুরস্কার ‘ইউরোপীয় সাহিত্যের জন্য অস্ট্রীয় রাষ্ট্রীয় পুরস্কার’ লাভ করেন। ইংরেজি সাহিত্য বিশ্বের ম্যান বুকার সাহিত্য পুরস্কারের সমমর্যাদার ফরাসি সাহিত্য পুরস্কার চৎরী এড়হপড়ঁৎঃ ও তিনি জিতেছেন তার সাহিত্যকর্মের জন্য তারও আগে, ১৯৭৮ সালে। কাজেই, ইংরেজি প্রচার মাধ্যম তার ব্যাপারে যতটা নাক সিঁটকাক, তিনি ততটা অখ্যাত কেউ নন, যদিও বাইরের ইংরেজি প্রভাব বলয়ের সুবিশাল জগতে পুরস্কার পাওয়ার আগ পর্যন্ত অপরিচিত থেকে গিয়েছিলেন। এবার তারও অবসান ঘটল।
এ প্রসঙ্গে আরেকটি কথা এখানে বলে নেই। ইংরেজি ফরাসিকে কোণঠাসা করেছে ঠিকই, এবং সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তিতে এ যাবৎ তিরিশটি পুরস্কার জিতে ইংরেজির স্থান শীর্ষে, এবং ষোলোটি পুরস্কার জিতে ফরাসি বেশ পিছিয়ে পড়া দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। কিন্তু একক দেশ হিসেবে বিবেচনায় ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১৫টি সাহিত্য পুরস্কার জিতে ফ্রান্সের অবস্থান শীর্ষে, ১১টি জিতে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় স্থানে এবং ৯টি জিতে ইংল্যান্ডের অবস্থান তৃতীয়। সুতরাং ফরাসি ভাষা ও সাহিত্য এখনও দাপটের সঙ্গেই বিশ্বসাহিত্যের অঙ্গনে অবস্থান করছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
ইংরেজি সাহিত্য বিশ্বে প্যাত্রিক মোদিয়ানো তুলনামূলকভাবে কম খ্যাত হলেও একেবারে অপরিচিত নন। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আগ পর্যন্ত তার দশটির মতো বই ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। একথা সত্য সেগুলোর কোনোটিই তেমন পাঠকপ্রিয়তা না পাওয়ার কারণে মোদিয়ানোর পরিচিতিও তেমন হয়নি।
মোদিয়ানোর সাহিত্যের মূল বিষয় অবশ্য সমকালীন সাহিত্যের পরিচিত ধারায়ই এগিয়েছে। নিরুদ্দেশ, পরিচয়হীনতা, বিচ্ছিন্নতা ইত্যাদি তার উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলোর পরিচিতি চিহ্ন। এর পেছনে তার নিজের জীবনের পটভূমি অবশ্যই কাজ করেছে। তার জন্ম ১৯৪৫ সালের ৩০ জুলাই প্যারিসের পশ্চিম শহরতলিতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র মাস দুয়েক পরে। তার বাবা আলবেয়ার মোদিয়ানো (১৯১২-১৯৭৭) জন্মগ্রহণ করেন প্যারিসে, কিন্তু তাদের শিকড় অন্যত্র। গ্রিসের স্যালোনিকা শহরের সেফার্ডিক ইহুদি বংশোদ্ভূত এ আলবেয়ারের সঙ্গে বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে পরিচয় ঘটে বেলজীয় (ফ্লেমিশ) বংশোদ্ভূত লুইসা কল্পা (Louisa Colpin)। নাৎসি অধিকৃত প্যারিসের বিভিন্ন স্থানে তারা লুকিয়ে-ছাপিয়ে দেখাশোনা করতে থাকেন। নাৎসি নিয়ম অনুযায়ী ইহুদি আলবেয়ার মোদিয়ানোর পোশাকের ওপর লক্ষ্যযোগ্যভাবে ‘ডেভিডের তারকা’ প্রদর্শন করার কথা থাকলেও, তিনি তা’ না করেই চলাফেরা করতেন এবং প্যারিসের দখলদার জার্মান বাহিনীর গুপ্তচর (estapo) সদর দফতরে প্রায়ই যেতেন আড্ডা মারতে। দখলদার নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে সুতরাং তার সম্পর্ক সহজেই অনুমেয়। এ সুযোগে আলবেয়ার কালোবাজারেও ব্যবসা করেন। বাবার প্রায় সার্বক্ষণিক অনুপস্থিতি আর অভিনেত্রী মায়ের ঘন ঘন সফরের কারণে প্যাত্রিক মোদিয়ানো নানা-নানির কাছেই বড় হয়ে ওঠেন। তার প্রথম ভাষাও তাই হয়ে ওঠে ফ্লেমিশ, ফরাসি নয়। যা হোক, রাষ্ট্রীয় সহায়তায় তিনি মাধ্যমিক স্তর পাস করার পর আর উচ্চশিক্ষা লাভ করার সুযোগ পাননি। তার ছোটভাই রুদি তার খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে, কিন্তু মাত্র দশ বছর বয়সের সময় ওই ভাইটি মারা গেলে মোদিয়ানো খুব কষ্ট পান। ১৯৬৭ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তার সব লেখা তিনি তার মৃত এই ছোটো ভাইকেই উৎসর্গ করেন। তিনি বিয়ে করেন ১৯৭০ সালে দোমিনিক দেরফুসকে (Dominique Dehrfuss)। তাদের দুটো মেয়ে জিনা (১৯৭৪) ও মারি (১৯৭৬)।
বিখ্যাত ফরাসি লেখক কেনো (Queneau) এদিসিওঁ গলিমা (Editions Gallimard) নামক এক প্রকাশকের সঙ্গে তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার পর থেকে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে। ১৯৬৮ সালে এ প্রকাশকই প্রকাশ করেন তার প্রথম ও অন্যতম প্রধান উপন্যাস খধ চষধপব ফব ষ’বঃড়রষব. নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আগ পর্যন্ত তার যে দশ-বারোটি বই ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে তার মধ্যে এটি নেই। নাৎসি অধিকৃত প্যারিসের দখলদার বাহিনীর এক ইহুদি দালালের কর্মকাণ্ড হচ্ছে এ উপন্যাসের উপজীব্য। এ বই প্রকাশে তার বাবা এতটাই চটে যান যে তিনি এর সব কপি কিনে নিয়ে তা পাঠকের কাছ থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেন।
প্যারিসের রাস্তাঘাট, অলিগলি, সময়ের সঙ্গে তাদের বিবর্তন, এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন অধিকৃত প্যারিসের বাসিন্দাদের, বিশেষ করে ইহুদিদের, জীবনের যে অনিশ্চয়তা মূলত তা-ই হচ্ছে তার উপন্যাসের উপজীব্য। একথা ঠিক যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার দু’মাস পর জন্মগ্রহণ করে এগুলো জ্যঁ প্যাত্রিক মোদিয়ানোর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় নেই। কিন্তু ওই প্রজন্মের সবাই-ই তাদের মানসিক উত্তরাধিকারের মধ্যে আজও সেই বোঝা বহন করে চলেছেন। তারই রূপকার হয়েছেন তিনি। একটি সাক্ষাৎকারে মোদিয়ানো বলেছেন, ‘একেকটি উপন্যাস শেষ করে মনে হয় এ বোঝা এবার বুঝি সব নামানো গেল। কিন্তু আমি জানি আমি যা তারই ক্ষুদ্র-খণ্ড অংশ হিসেবে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বর্ণনার হাত ধরে ঘুরেফিরে বারবার এরা আসতেই থাকবে। যে সময়ে এবং যে স্থানে আমরা জন্মেছি শেষ পর্যন্ত তারাই আমরা কি তা নির্ধারণ করে দেয়।’ এ হচ্ছেন জ্যঁ প্যাত্রিক মোদিয়ানো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর অনিকেত মানসলোকের কারিগর। প্রায় তিরিশটির মতো বইয়ে তার উপন্যাসের পর উপন্যাসে, ক্রমাগত এ অবস্থাটি ধরারই প্রয়াস পেয়েছেন তিনি।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সারারাত একসঙ্গে রণবীর ও প্রিয়াংকা চোপড়া

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে প্রতি বছর ৩০ লক্ষ শিশুকে যৌন ব্যবসায় নামতে বাধ্য করা হচ্ছে

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রক্তের গ্রুপ ‘এ’ না ‘বি’ by কাজল ঘোষ
সাংবাদিক সমাজ বিভক্ত থাকলে কোন ঘটনার কি ধরণের মর্মান্তিক পরিণতি হতে পারে তা নিকট অতীতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনের সলিল সমাধির দিকে তাকালে খুব সহজেই উপলব্ধি করা যাবে। বিচারের দাবিতে দল-মত-নির্বিশেষে একটি ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচির পরিণতিহীন ইতি ঘটলো অল্পদিনেই। এ দম্পতি হত্যার বিচার নিয়ে কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলনের কর্মসূচি মিইয়ে গেল দৃশ্যমান কিছু সভা-সমাবেশেই। সেখানে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছিল দলের বাইরে এসে পেশাগত পরিচয়কে বড় করে দেখার। কিন্তু না, তা বেলুনের মতোই চুপসে গেল অদৃশ্য হস্তক্ষেপে। আওয়ামী লীগ টেবিল আর বিএনপি টেবিলে বিভক্ত সাংবাদিক সমাজ এভাবেই থেমে গেল। নেতাদের এক গ্রুপ ছুটলেন বর্তমানের নগদ সুবিধার আশায় আর অন্য গ্রুপ থামলেন ভবিষ্যৎ প্রাপ্তির প্রত্যাশায়।
সাম্প্রতিক বেশ ক’টি ঘটনা পর্যালোচনা করলেই বোঝা যাবে কোনদিকে যাচ্ছে দেশ। এখানে লাশ আর জানাজা নিয়ে চলছে নির্লজ্জ রাজনীতি। প্রয়াত সাংবাদিক এবিএম মূসা টকশোর সরব কণ্ঠ ছিলেন। সরকারের নানা জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের সমালোচনায় মুখর ছিলেন শেষ দিন তক। কিন্তু পরিণতি কি দেখলাম, যেহেতু সরকারের সমালোচনা করেছেন সুতরাং যেনতেনভাবে তাকে হেনস্তা করা হলো। জীবদ্দশায় সরকার সমর্থক এক সাংসদ এবিএম মূসাকে ঠ্যাং ভেঙে দেয়ার কথা বলেছিলেন। অনেকেই সিঁদেল চোর, জ্ঞানপাপী বলে মন্তব্য করেছিলেন। যা-ই হোক এ মানুষটি যখন প্রয়াত হলেন তখনও তাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা হয়েছে নানাভাবে। একজন এমপির জানাজা সংসদ প্লাজায় পাওয়ার বা হওয়ার হক রয়েছে। তার ব্যত্যয় ঘটেনি এবিএম মূসা ছাড়া অন্য কারও বেলাতেই। এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন মাননীয় স্পিকারও। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন। কারণ একটাই, সরকারের সমালোচনা করা ছিল মানুষটির অপরাধ। পত্র-পত্রিকাতে কলাম পর্যন্ত খুব একটা লেখা হয়নি। যদি আবার সরকার পক্ষের তালিকার সাংবাদিক থেকে নাম কাটা যায় এ ভয়ে। একই ধরনের বিতর্ক দেখা গেল ভাষাসেনাপতি আবদুল মতিনকে নিয়েও। তিনি প্রয়াত হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়ার দাবি ওঠে। কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুব সহজেই বলে দিলেন প্রটোকল সমস্যার কথা। কিন্তু এবিএম মূসার ক্ষেত্রে কোন প্রটোকল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সে জবাব ওনারাই ভাল দিতে পারবেন। এখন বিতর্ক চলছে ড. পিয়াস করিমকে নিয়ে। এক পক্ষ শহীদ মিনারে নেয়ার বিষয়ে একাট্টা, আরেকপক্ষ দাঁড়িয়ে গেছেন বাধা দেয়ার জন্য। একজন মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে এ ধরনের বিতর্ক ও সাংঘর্ষিক অবস্থান কোন সুস্থ সংস্কৃতির জন্যই কাম্য হতে পারে না। কিন্তু কে শোনে কার কথা?
গণতন্ত্রের শক্তি হচ্ছে পরমতসহিষ্ণুতা। অন্যের মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। অথচ আমাদের দেশ চলছে উল্টোপথে। এখানে কেউ আমার বিরুদ্ধে গেছে তো সে খারাপ। কেউ আমার সমালোচনা করছে তো সে মন্দ। একে অন্যের মতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে জীবন পর্যন্ত দিতে চেয়েছিলেন এমন ব্যক্তিও ছিলেন এককালে। কিন্তু আমাদের এখানে কেউ কোন নতুন মত হাজির করলে তার বিরুদ্ধে দলগতভাবে মিথ্যা প্রচারণা ও কুৎসা রচনার ডিজিটাল এক নতুন সংস্কৃতি চালু হয়েছে। সত্যমিথ্যা মিলিয়ে যা খুশি স্ট্যাটাস দিলেই হলো। এবিএম মূসা যখন প্রয়াত হলেন তার ক’দিন পর আবদুল গাফফার চৌধুরী এক কলামে লিখলেন, এবিএম মূসা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ক্ষমা চাইবেন বলেছিলেন। কথা হচ্ছে, তা মৃত্যুর পরই সবাইকে জানতে হলো। এবিএম মূসার এমন ঐকান্তিক ইচ্ছার খবর যারা দেশে কাছাকাছি ছিলেন তারা জানার সুযোগ পেলেন না। কিন্তু দূর প্রবাসে ইথারে-ইথারে সেই অন্তিম ইচ্ছার খবর জানলেন গাফফার চৌধুরী। গত মাসেই স্কটল্যান্ডে গণভোট হয়ে গেল। সেখানে বৃটেনের পক্ষে থাকার বিষয়েই রায় হয়েছে। ৪৫ ভাগ লোক সেখানে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিয়েছে। ঐতিহাসিক এ ভোটের পরে সেখানে স্বাধীনতার পক্ষে থাকা স্যামন্ড জনগণ আরও এক ধাপ এগিয়েছে স্বাধীনতা প্রশ্নে- এই বলে অপেক্ষা করতে বলেছেন। অথচ এখানেই স্বাধীনতা চেয়ে উইলিয়াম ওয়ালেসকে জীবন দিতে হয়েছিল। সংস্কৃতি বদলাচ্ছে। সেখানে এখন আর মতের বাইরে থাকা লোকদের নিশ্চয়ই রাজাকার বলা হচ্ছে না। ভাবুন তো বাংলাদেশে এমন ঘটনা ঘটলে চিত্রটা কি হতো। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরে হলেও এ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে উদ্যোগ নিয়েছে। অল্প পরিমাণে হলেও রায় বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে। কিন্তু এ বিচার নিয়ে যখন নানা কারসাজি আর আড়ালে সমঝোতার কথা শোনা যাচ্ছিল, ঠিক তখনই তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছিল। এটা সত্যিকার অর্থেই প্রশংসনীয়। কিন্তু এ আন্দোলন এমন এক পর্যায়ে গেল তখন গণজাগরণ মঞ্চের গঠনমূলক সমালোচনা করলেই যে কেউ তাদের রোষানলে পড়তো। মঞ্চ থেকেই তখন বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়া হতো। চামড়া তুলে নেয়ার আওয়াজ আসতো। দালালরা হুঁশিয়ার, সাবধান- স্লোগান হতো। কিন্তু সময় বদলেছে। পদ্মা-মেঘনায়ও অনেক জল গড়িয়েছে। আজ গণজাগরণ মঞ্চ হয়েছে তিন টুকরো। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দালাল ঠাউরাচ্ছে দিবারাত্রি। তাহলে সে সময় যাদের গঠনমূলক সমালোচনাকে দালাল-রাজাকার বলা হয়েছে তার কি হবে? এখনও যারা ট্রাইব্যুনালের সমালোচনা করছেন, বিচার প্রক্রিয়ার মন্থর গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারা কি তাহলে রাজাকার? শেষ করতে চাই বিবেকের কাছেই কিছু প্রশ্ন রেখে। কেউ সামান্য ব্যঙ্গ বিদ্রুপের জন্য যদি বিচারের আওতায় আসেন, জেল জরিমানা ভোগ করেন- তাহলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আমাদের রাজনীতিকরা যে ধরনের কুৎসা রটান, গালমন্দ করেন, মিথ্যাচার করেন, সংসদ অপবিত্র করেন তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা জরুরি নয় কি? যে কোন মানুষের মতকেই দলভুক্ত করে তাকে বিরুদ্ধ কাতারে ফেলে দেয়া কোন সুস্থ সংস্কৃতি হতে পারে না। এভাবে চলতে থাকলে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে তার খেসারত দিতে হবে। মনে রাখতে হবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতি বদলায়। পরিবর্তিত বাস্তবতায় নতুন নতুন ঘটনাপ্রবাহ ও অভিজ্ঞতা যুক্ত হয় কালের প্রবাহে। কিন্তু পরমতসহিষ্ণুতা; ভিন্নমত চলমান। যে কোন বিষয়েই সুস্থ বিতর্ক জরুরি। না হলে ভবিষ্যৎ যেদিকে যাচ্ছে তাহলে রোগীর চিকিৎসা দিতে ডাক্তাররা আবার রক্তের গ্রুপ মিলিয়ে চিকিৎসা দেবেন না তো। কার রক্তের গ্রুপ ‘এ’ আওয়ামী লীগ আর কার রক্তের গ্রুপ ‘বি’ বিএনপি- এই ভিত্তিতে যদি দেশ চলতে শুরু করে তবে কি ভয়ঙ্কর পরিণতি অপেক্ষা করছে- একটিবার ভাবুন তো ?
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র ও বিস্মৃত ১৯৭১ by শাহাদুজ্জামান
সম্প্রতি লন্ডনে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ধর্ষণ বন্ধের ডাক দিয়ে ব্রিটিশ সরকার একটি সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে, ওই সম্মেলনে পৃথিবীর নানা দেশের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধিত্ব ছিল না। অথচ যুদ্ধে ধর্ষণ বাংলাদেশে নেহাত কোনো অতীতের বিষয় নয়, এটা এই মুহূর্তেরও জীবন্ত এক প্রসঙ্গ। বাংলাদেশে যুদ্ধে ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া চলছে এই মুহূর্তে, অপরাধীদের সাজা হচ্ছে। কোনো কোনো সূত্রমতে, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধে যতসংখ্যক নারী ধর্ষিত হয়েছেন, তা ওপরে উল্লেখিত সব দেশের সংঘাতময় সময়ে ঘটিত ধর্ষণের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। কিন্তু বাংলাদশের সেই অভিজ্ঞতা শোনার কথা সম্মেলনের আয়োজনকারীদের মনে পড়েনি। মাঝে পৃথিবীর গণহত্যাবিষয়ক কিছু একাডেমিক বই দেখছিলাম, যেগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রদের পাঠ্য। যেমন মার্টিন শয়ের লেখা ওয়ার অ্যান্ড জেনোসাইড: অর্গানাইজড কিলিং ইন মডার্ন সোসাইটি, ডোনাল্ড ব্লকসহ্যাম ও ডির্ক মোজেসের লেখা দি অক্সফোর্ড হ্যান্ডবুক অব জেনোসাইড স্টাডিজ বা অ্যাডাম জোনসের জেনোসাইড: আ কমপ্রিহেনসিভ ইন্ট্রোডাকশন। এই বইগুলোয় নানা গণহত্যার কেস স্টাডি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে কোথাও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার কোনো উল্লেখ নেই। অথচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্যতম গণহত্যাটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ঘটেছে বলেই দাবি রয়েছে।
ব্যাপার হচ্ছে, যুদ্ধবিষয়ক আন্তর্জাতিক একাডেমিক বা অ্যাকটিভিস্ট আলোচনার ভেতর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কোনো উপস্থিতি নেই। ব্যাপারটা খুব আশ্চর্যের কিছু না। কারণ, খোদ বাংলাদেশেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়টিকে বিতর্কিত করার যে উৎসব, তাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গন এ ব্যাপারে তাদের আগ্রহ যে হারিয়ে ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য। তবে একটা জনপদের যৌথ স্মৃতিকে তো আর রাবার দিয়ে ঘষে মুছে ফেলা যায় না। তা নানাভাবে অঙ্কুরিত হতে থাকে। লন্ডনের সেই সম্মেলনেও স্বল্পসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশকে এই সম্মেলনে অন্তর্ভুক্ত না করার প্রতিবাদে মুখে কালো টেপ বেঁধে সম্মেলন চত্বরে প্রতিবাদ করেছেন। দ্য কনভারসেশন (২১ জুলাই, ২০১৪) পত্রিকায় এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছেন ব্রিটেনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নয়নিকা মুখার্জি, যিনি পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণা করেছেন বাংলাদেশের যুদ্ধে ধর্ষণের শিকার নারী ও যুদ্ধশিশুদের ওপর।
নয়নিকা তাঁর লেখায় একটা বিশেষ ব্যাপারে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি জানাচ্ছেন, যুদ্ধের পর পর ধর্ষিত নারীদের ব্যাপারে বাংলাদেশে যে ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছিল, তা পৃথিবীর আর কোনো দেশের যুদ্ধের ক্ষেত্রে ঘটেনি। যেমন প্রথমত, স্বাধীনতার পরপরই এই ধর্ষিত নারীদের ‘বীরাঙ্গনা’ খেতাব দেওয়া হয়েছিল। সেই নারীদের জীবনে এই খেতাবের প্রভাব কী হয়েছিল, সেটা নিয়ে পর্যালোচনা হতে পারে, কিন্তু এটা ছিল তাঁদের ব্যাপারে রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির একটা আনুষ্ঠানিক প্রকাশ। পৃথিবীর আর কোনো দেশে যুদ্ধে ধর্ষিত নারীদের এমন রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা হয়নি।
দ্বিতীয়ত, এই নারীদের জীবন ও স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘গর্ভপাত’কে তখন আইনসিদ্ধ করা হয়েছিল বাংলাদেশে। ১৯৭২ সালের সেই সময়টায় সারা পৃথিবীতেই তখনো গর্ভপাত একটি বিতর্কিত বিষয়। পৃথিবীর বহু উন্নত দেশের নারীরা তখন গর্ভপাতের অধিকারের জন্য আন্দোলন করছেন। জোরপূর্বক গর্ভধারণের ক্ষেত্রে গর্ভপাতের পক্ষে আন্তর্জাতিক আইন হয়েছে সবেমাত্র ১৯৯০ সালে। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ একটি বিরল উদাহরণ স্থাপন করেছিল। তৃতীয়ত, যেসব যুদ্ধশিশু ইতিমধ্যে জন্ম নিয়েছিল, তাদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পালক হিসেবে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
সবশেষে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ধর্ষিত নারীদের নার্সিং, কুটির শিল্প ইত্যাদি নানা পেশায় পুনর্বাসন করা হয়েছিল। যুদ্ধে লাঞ্ছিত নারীদের নিয়ে এমন সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের উদাহরণ আর কোথাও নেই। অবশ্য মধ্য সত্তরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মুক্তিযুদ্ধের অন্যান্য প্রসঙ্গের মতো বীরাঙ্গনা বিষয়টিও আড়ালে চলে যায়। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার বীরঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। নয়নিকা মুখার্জি তাঁর লেখায় উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধে ধর্ষিত নারীদের নিয়ে বাংলাদেশের এই অনন্যসাধারণ অভিজ্ঞতা পৃথিবীর সংঘাতপূর্ণ সব দেশ, যেখানে ধর্ষণকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, তাদের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারত। অথচ বাংলাদেশের এসব অর্জনকে আন্তর্জাতিক জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনায় যুক্ত করার কোনো উদ্যোগ নেই।
নয়নিকার অন্যান্য লেখা থেকে এবং ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় জানতে পারি, আমেরিকা নিবাসী জগদ্বিখ্যাত বাঙালি সমাজতাত্ত্বিক গায়ত্রী স্পিভাক, ১৯৭২ সালে তাঁর মাকেসহ বাংলাদেশে এসেছিলেন যুদ্ধে ধর্ষিত নারীদের পুনর্বাসনকেন্দ্রে কাজ করতে এবং গায়ত্রীর সংগ্রহে রয়েছে সেসব নারীর দুর্লভ ফটোগ্রাফ, যা হতে পারত গবেষণার দুর্লভ উপাত্ত। অথচ সেগুলো রয়ে গেছে বিস্মৃতির অতলে। নয়নিকার গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকর্মটি ‘দ্য স্পেকট্রাল ওন্ড: সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স অ্যান্ড পাবলিক মেমোরি অ্যান্ড দ্য বাংলাদেশ ওয়ার অব নাইনটিন সেভেনটি ওয়ান’ নামে প্রকাশিত হবে অচিরেই।
অনুতাপের ব্যাপার হচ্ছে, জ্ঞানকাণ্ডের নিয়ম মেনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর পদ্ধতিগতভাবে গভীর গবেষণাভিত্তিক চিন্তাশীল কাজের উদাহরণ এ দেশে দুর্লভ। ইদানীং আবার দেখা দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ও তার পূর্বাপর ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের শখের ইতিহাসচর্চা। সেসব প্রত্যক্ষদর্শী বই লিখে এমন দাবি করছেন, যেন ইতিহাসের আসল সত্য এত দিন তাঁরা তাঁদের আস্তিনের নিচে গুটিয়ে রেখেছিলেন। বলা বহুল্য, স্মৃতিচারণা আর ইতিহাসচর্চা এক ব্যাপার নয়। প্রত্যক্ষদর্শীরাই সঠিক ইতিহাস জানেন, এই সূত্র মানলে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সৈনিকেরাই হয়ে উঠতেন মহাযুদ্ধের প্রধান ইতিহাসবেত্তা। তথ্য নিজ থেকে ইতিহাস নয়। সঠিক পরম্পরা আর পরিপ্রেক্ষিতে সেই তথ্যকে স্থাপন করতে পারাই ইতিহাস।
স্মরণ রাখা দরকার যে স্মৃতি ব্যাপারটা অনেকটা সৈকতে ঘুরে বেড়ানো শিশুর মতো, সে বিশাল সৈকত থেকে সেই ঝিনুকটাই তুলে নেয়, যা তার কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়। যিনি স্মৃতিচারণা করছেন, আমাদের লক্ষ রাখতে হবে যে ইতিহাসের বিশাল সৈকত থেকে কোন তথ্য তিনি তুলে আনছেন। আমাদের এ–ও লক্ষ করতে হবে, কোন চিন্তা কাঠামোর কারণে ওই বিশেষ তথ্যগুলো তাঁর কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে ভিনদেশি যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের বেলায়ও কথাটা প্রযোজ্য। নয়নিকা মুখার্জির মতো সবাই যে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরার জন্য বই লিখছেন, তা নয়। এই গৌরবকে ভুলুণ্ঠিত করতেও গ্রন্থ রচিত হচ্ছে। যেমন ডেড রেকনিং: মেমোরিজ অব দ্য নাইনটিন সেভেনটি ওয়ান বাংলাদেশ ওয়ার নামে বই লিখে শর্মিলা বোস প্রমাণ করতে চেয়েছেন, বাংলাদেশে তেমন কোনো গণহত্যাই হয়নি। কিংবা এ দেশের যুদ্ধশিশু প্রসঙ্গকে পুঁজি করে অন্য এক দেশের স্বার্থ আর বাজারকে মাথায় রেখে মৃত্যুঞ্জয় দেবরাত বানিয়েছেন চিলড্রেন অব দ্য ওয়ার নামে মুক্তিযুদ্ধের এক উদ্ভট চলচ্চিত্র।
উত্তর ঔপনিবেশিক পৃথিবীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটা ঘটনা, এই ঘটনা নিয়ে যদি দেশের ভেতর শুধু আবেগ আর স্বার্থতাড়িত হয়ে অপেশাদার, আনাড়ি ইতিহাসচর্চা চলে, তাহলে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক উভয় অঙ্গনেই তা ক্রমেই একটা বিস্মৃত ঘটনাতেই পর্যবসিত হবে। তখন ফাটা ডিমে তা দিয়ে আর কাজ হবে না।
শাহাদুজ্জামান: কথাসাহিত্যিক।
zaman567@yaoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গদ্যকার্টুন- ফেসবুক ভালো না খারাপ? by আনিসুল হক

ইন্টারনেটের মাধ্যমে উড়ে এসে জুড়ে বসা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো নিয়েও একই প্রশ্ন উঠতে পারে! ফেসবুক ভালো না খারাপ। আমেরিকানরা খুব পছন্দ করে পরিসংখ্যান। সর্ববিষয়ে আমেরিকানদের জরিপ আছে। বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে প্রতিবছর আমেরিকায় মারা যায় ৪৫০ জন। তবে গাড়ি চালানোর সময় টেক্সট করার কারণে (মোবাইলে বা ধরা যাক ট্যাবে) অ্যাক্সিডেন্টে আমেরিকায় প্রতিবছর মারা যায় ছয় হাজার জন। অনেক বড় সংখ্যা। বাংলাদেশে অন্তত একজনকে জানি, যিনি রেলস্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে করতে ফোনে কথা বলছিলেন, বলতে বলতে চলে গিয়েছিলেন ট্রেনলাইনের ওপরে আর ট্রেন এসে পড়ায় মারা গিয়েছিলেন।
আর এটাও খুব পুরোনো খবর যে গবেষকেরা বলছেন, ফেসবুক বেশি ব্যবহারকারীরা নাসিসিজম রোগে ভোগেন। আর যাঁরা সেলফি তোলেন, তাঁরা তো বটেই।
১৯ বছর বয়সী একজন ব্রিটিশ তরুণ আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন একটা নিখুঁত সেলফি তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে। তিনি ১০ ঘণ্টা ধরে ২০০ বার চেষ্টা করলেন নিজের ছবি তোলার। যা উঠল, তা তাঁর কাছে যথেষ্ট সুন্দর বলে মনে হলো না। তিনি স্কুল ছাড়লেন। ছয় মাস নিজেকে বাড়ির মধ্যে আটকে রাখলেন। আর বের হন না। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই ১০টা স্ন্যাপ নেন। তাঁর ওজন কমে গেল ৩০ পাউন্ড। তবু তো একেবারে নিপাট সেলফিটা আসছে না। হতাশা থেকে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করলেন ডানি বাউমান নামের এই তরুণ। এরপর তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসা হলো। চিকিৎসকেরা জানেন, যেকোনো মনোরোগেরই চিকিৎসা আছে।
সেলফি রোগেরও চিকিৎসা আছে। আপনি প্রথমে দিনে ১০ মিনিটের জন্য আপনার কাছ থেকে তাঁর স্মার্টফোন সরিয়ে রাখুন। আস্তে আস্তে সময়টা বাড়াতে থাকুন। দেখুন কয় ঘণ্টা লাইক চেক না করে আপনি পারেন!
আমার অবশ্য আজকের আলোচ্যটা একটু ভিন্ন। বহুদিন আগে আমেরিকায় গিয়ে আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের নানা কার্যালয়—সিএনএন থেকে শুরু করে নিউইয়র্ক টাইমস পর্যন্ত ঘুরেফিরে দেখার সুযোগ হয়েছিল। সেই প্রোগ্রামের শেষে সমাপনী আলোচনা। আমি কী বলেছিলাম, জানি না; কী বলতে চেয়েছিলাম, তা জানি। বলতে চেয়েছিলাম, কোনো দেশ বা রাষ্ট্র স্বাধীন কি না, এটার চেয়েও বড় কথা, প্রতিটা ব্যক্তি স্বাধীন কি না। সংবাদমাধ্যম স্বাধীন কি না, তার চেয়েও বড় কথা, যেকোনো নাগরিকের কথা বলার সুযোগ আছে কি না। তোমাদের বড় বড় মিডিয়া হাউস, এর বাইরে একজন নাগরিক যদি কোনো কথা বলতে চায়, সে নিশ্চয়ই সেটা বলতে পারে, কিন্তু সেটা যথেষ্ট জোরে শোনা যায় কি? কারণ, বড় বড় হাউসের বড় বড় আওয়াজের নিচে ছোট কণ্ঠগুলো কি চাপা পড়ে যায় না?
আজকের পৃথিবীতে সেই বিচারে বলতে হবে গণতন্ত্রের যুগ। এখন যে কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে যেকোনো মত কিংবা খবর প্রচার করতে পারে। আগে ধরা যাক, জীবনানন্দ দাশ কবিতা লিখেছেন, বুদ্ধদেব বসু সেটা প্রকাশ করেছেন প্রগতি পত্রিকায়, লোকে জানতে পারল, জীবনানন্দ দাশ কবি। কিংবা ঢাকা থেকে শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, আল মাহমুদ কবিতা পাঠালেন কলকাতায়, বুদ্ধদেব বসুর কবিতা পত্রিকায়, ছাপা হলো, সেটার একটা মূল্য দাঁড়াল। এখন তো আমার কবিতা কোনো সম্পাদকের কাছেও পাঠাতে হয় না, ফেসবুকে পোস্ট করে দিলেই হলো। এভাবে বাংলাদেশের ৬০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর প্রত্যেকেই কবি ও সম্পাদক, প্রত্যেকেই সাংবাদিক ও সম্পাদক, প্রত্যেকেই টক শোজীবী ও প্রযোজক। ব্যক্তিমানুষের কণ্ঠস্বরকে তা মুক্ত করেছে। পৃথিবীর দেশে দেশে তা এনে দিয়েছে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা।
কিন্তু ৬০ লাখ লোক একসঙ্গে কথা বলে উঠলে মনে হয় কারোরটাই ঠিকভাবে শোনা হয়ে ওঠে না। ফলে এসবের সংবাদমূল্য, মতমূল্য, সাহিত্যমূল্য, শিল্পমূল্য প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
কিন্তু ক্ষতি করার ক্ষমতা মাঝেমধ্যে ভয়াবহই হয়ে উঠছে। ফেসবুক শান্তি আনতে পারে না, কিন্তু দাঙ্গা লাগাতে পারে। ফেসবুকে সুপ্রচার দিয়ে কারও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা যাবে কি না সন্দেহ, কিন্তু অপপ্রচার দিয়ে যেকোনো একজন মানুষকে একেবারে শেষ করে ফেলা যাবে। এ ক্ষেত্রে সত্য-মিথ্যা কোনো ব্যাপার নয়, তথ্য যাচাই-বাছাই করার কোনো বালাইই নেই। আপনি বললেন, মিস্টার এক্স যখন ইতালিতে ছিল, তখন সে হিটলারের সহযোগী ছিল। ব্যস, এর পরে সবাই বলতে থাকবে, মিস্টার এক্স হিটলারের সহযোগী! আর কোনো যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন নেই। যাকে নিয়ে কথা হচ্ছে, তার বক্তব্য নেওয়ার দরকার নেই। বলে ফেললেই হলো! ব্যাপারটা অনেকটাই কান নিয়েছে চিলের মতো!
গদ্যকার্টুন অবশ্য গুরুগম্ভীর বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য নয়। এটা আসলে কৌতুক পরিবেশনের জন্য।
আচ্ছা, ফেসবুকে একটা কৌতুক দিয়েছিলাম। কৌতুকটা আসলে পুরোনো, কিন্তু ফেসবুকে একটা কৌতুক দিলে তার নিচে কী ধরনের মন্তব্য পড়ে, তার একটা সম্ভাব্য তালিকা প্রণয়ন করেও দিয়েছিলাম। সেটাই হয়তো বেশি অভিনিবেশ দাবি করবে।
একটা কাক গাছের ডালে চুপচাপ বসে আছে। নিচে একটা মুরগি দৌড়াদৌড়ি করছে।
মুরগি বলল, আমাকে খাবার জোগাড় করার জন্য কত পরিশ্রম করতে হয়। আর তুমি তো আরামে বসে আছো।
কাক বলল, তোমার শখ হলে তুমিও বসে থাকো।
মুরগি চুপ করে বসে রইল। একটা শেয়াল এসে মুরগিটাকে খেয়ে ফেলল।
কাক বলল, কাজ না করে চুপচাপ বসে থাকতে হলে যথেষ্ট ওপরে বসতে হয়।
এই কৌতুক শোনার পরে যেসব কমেন্টস আসবে: ১. পুরোনো কৌতুক। উদাস হয়ে গেলাম।
২. নিচেরটা মুরগি নয়। ওটা খরগোশ ছিল।
৩. এই জোকস আপনি লেখেন নাই। আপনি তো মিয়া অন্যের লেখা নিজের বলে চালাইলেন।
৪. কাক কখনো কথা বলতে পারে না। মুরগিও পারে না।
৫. অ্যাড মি অ্যাড মি অ্যাড মি...
৬. ঘরে বসে টাকা আয় করুন...
৭. মুরগি কেন বললেন, মোরগও তো বলতে পারতেন।
৮. এইটা কোনো জোকস হইল?
৯. লুল... (এল ও এল নয়। লুল)
১০. ...মুদ্রণযোগ্য নয়
১১. ...মুদ্রণযোগ্য নয়...
ফেসবুক ভালো কি খারাপ, এটা বলার আমি কে? তবে পুরোনো কথাটাই আবার বলতে পারি, যেকোনো যন্ত্রই ভালো, যদি আমি তা ভালো কাজে ব্যবহার করি। যেকোনো যন্ত্রই আবার খারাপ হতে পারে, যদি সেটার আমি ভুল ব্যবহার করি।
বার্ন ইউনিটে একজন এসেছেন, তাঁর কান পুড়ে গেছে। ডাক্তার বললেন, কীভাবে পুড়ল?
ডাক্তার সাহেব, ফোন বাজল, আমি ফোনটা তুলে কানে নিলাম, তখনই পুড়ে গেল?
ফোন কানে দিতেই কান পুড়ে গেল!
ডাক্তার সাহেব, ভুল করে গরম ইস্তিরিটাকে কানে ধরেছিলাম।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রান্নার গ্যাসের সমাধান এলপিজি by ম. তামিম

গ্যাসের অর্থনীতি মূল্য ও বিকল্প জ্বালানি
যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থাটি গড়ে উঠেছে, এটাকে রাতারাতি বদলে দেওয়া যাবে না, কিন্তু বর্তমানের দুই চুলার জন্য ৪৫০ টাকায় বলতে গেলে বিনা পয়সায় সবচেয়ে সম্পদশালী জনগোষ্ঠীকে (শহরের) গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর থেকে উত্তরণের জন্য সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে ধীরে ধীরে এর দাম বাজারমূল্যের কাছে নিয়ে যাওয়া। ভারতে সরবরাহকৃত পিএনজি প্রতি ঘনমিটার দাম ধরলে (৪০ টাকা/৬০ টাকা) বর্তমানে বাংলাদেশের দুই চুলার মাসিক হিসাবের ভিত্তি ৮৮ ঘনমিটারের দাম আসে চার হাজার টাকা, অর্থাৎ বর্তমান দামের প্রায় ১০ গুণ। পাকিস্তানেও এর মূল্য আসে মাসিক তিন হাজার টাকা। আমদানিকৃত তরলীকৃত গ্যাস (এলএনজি) দিয়ে বর্তমানের দুই চুলার গ্যাস সরবরাহ দিতে গেলে শুধু গ্যাসের দাম আসবে ৩৭৩০ (প্রতি হাজার কিউবিক ফিট ১৫ ডলার দরে) থেকে ৪৯৭১ টাকা (প্রতি হাজার কিউবিক ফিট ২০ ডলার দরে)। মিটার ব্যবস্থার মাধ্যমে অবশ্য গ্রাহকেরা এই মূল্য তাদের ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারে।
গ্যাসের সমতুল্য রান্নার জ্বালানি হচ্ছে এলপিজি। বর্তমানে ১২ দশমিক ৮ কেজি একটি বোতল এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকায় বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে। পাঁচজনের একটি পরিবার মাসে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক শূন্যটি বোতল ব্যবহার করে শুধু রান্নার জন্য। অর্থাৎ পাইপ গ্যাসবঞ্চিত বিপুল জনগোষ্ঠী যদি গ্যাসের সুবিধা পেতে চায়, তাহলে তাদের মাসে দুই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ করতে হয়।
পাইপ গ্যাস সরবরাহের সীমাবদ্ধতা
এটা অত্যন্ত পরিষ্কার যে সবাইকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা অসম্ভব। গ্যাস সরবরাহের স্বল্পতা, সঞ্চালন ও বিতরণ পাইপলাইন স্থাপনে বিপুল ব্যয় এবং গৃহস্থালির চেয়ে শিল্প/বিদ্যুতে গ্যাসের অর্থনৈতিক লাভ কয়েক শ গুণ বিধায় অবিলম্বে সব ধরনের গৃহস্থালি গ্যাসের সংযোজন ও সম্প্রসারণ বন্ধ করা প্রয়োজন। বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিচে উল্লেখ করছি।
১) দেশের বর্তমান গ্যাস মজুত ১০-১২ টিসিএফ। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হলে বর্তমান ব্যবহারের হারে আগামী এক দশকের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে যাবে। এই অবস্থায় নতুন করে বাড়িতে বাড়িতে গ্যাস-সংযোগের প্রশ্নই ওঠে না বরং রান্নার গ্যাসের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ দ্রুততম সময়ে করা প্রয়োজন।
২) প্রতি কিলোমিটার-ইঞ্চি সঞ্চালন লাইনের জন্য বাংলাদেশে জমি অধিগ্রহণসহ খরচ পড়ে শূন্য দশমিক ৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ একটি ১০৴৴ ব্যাসের ৪০ কিলোমিটার লাইনের জন্য খরচ পড়ে ২০০ কোটি টাকা। বিতরণ লাইনের জন্য প্রতি কিলোমিটার সাত লাখ (১৴৴) থেকে এক কোটি (১২৴৴) টাকা খরচ হয়। ৪০ কিমি সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে ৪০ হাজার বাড়িতে গ্যাস সংযোজন দিতে গেলে রাইজার ও মিটারিং স্টেশন নির্মাণসহ খরচ পড়বে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা। ৪০ হাজার বাড়ি থেকে মাসিক ৪৫০ টাকায় বছরে মোট রাজস্ব আসবে ২১ কোটি টাকা। ১০ শতাংশ করে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার বাৎসরিক ব্যাংক সুদই আসবে ৩৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ কোনো অবস্থাতেই নতুন সংযোগ লাভজনক নয়।
৩) ১ গিগা ওয়াট আওয়ার বিদ্যুৎ শিল্প খাতে ব্যবহারে ৬ দশমিক ৪ কোটি টাকা জিডিপিতে যোগ হয়। এই হিসাবে এক হাজার মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র সারা বছর চললে জিডিপিতে শিল্প খাতে বছরে পাঁচ বিলিয়ন ডলার (৪০ হাজার কোটি টাকা) যুক্ত হয়। বর্তমানে গৃহস্থালি খাতে ব্যবহৃত গ্যাস দিয়ে অন্তত দুই হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। কিন্তু জনগণকে বিকল্প ব্যবস্থা না দিলে গৃহস্থালির রান্নার জন্য চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে।
এলপিজির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান
এলপিজি বোতলে ভর্তুকি দেওয়ার মাধ্যমে দেশের গ্যাসসম্পদের সীমিত ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে যথার্থ অর্থনৈতিক মূল্য নিয়ে এলপিজি ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিতরণ করলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী এর সুবিধা ভোগ করতে পারবে। প্রথম ধাপেই ৪৫০ টাকার দুই চুলার জন্য ট্যারিফ এক হাজার টাকায় বৃদ্ধি করে প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডারে ৫০০ টাকা হারে মাসে ২০ লাখ বোতলে এই ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব। এতে সরকার গ্যাসের সুবিধা সুষম বণ্টনে একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ভারতে প্রতিটি রেজিস্টার্ড ব্যবহারকারী পরিবার ভর্তুকিসহ বছরে ১২টি এলপিজি বোতল কিনতে পারে। বর্তমানে ভারতে ১৪ দশমিক ২ কেজির একটি বোতলের বাজারমূল্য এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ রুপি। আন্তর্জাতিক দামের ওপর নির্ভর করে প্রতি বোতলে সরকারি ভর্তুকির পরিমাণ ৪৫০ থেকে ৭০০ রুপি। এটি বাংলাদেশি টাকায় ৮০০ টাকা। থাইল্যান্ডে রান্নার জন্য বিক্রীত এলপিজির দাম ১৯ বাথ/কেজি অর্থাৎ টাকা ৫০/কেজি। ১২ দশমিক ৮ কেজি বোতলের দাম বাংলাদেশি টাকায় মাত্র ৬৪০ টাকা। থাইল্যান্ড সরকারও রান্নার এলপিজিতে বড় ধরনের ভর্তুকি দিয়ে থাকে। এখানে সরকারি ভর্তুকি এক হাজার টাকা। বাংলাদেশ শুরুতে ৫০ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি বোতলে ৮০০ টাকা ভর্তুকি দিয়ে শুরু করতে পারে। পরবর্তী সময়ে পিএনজির (বাসায় পাইপের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস) দাম ধীরে ধীরে আরও বাড়িয়ে বাণিজ্যিক দামের কাছে নিয়ে গেলে, এলপিজির ভর্তুকি ক্রমান্বয়ে উঠিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
যেসব দেশে অনেক আগে গ্যাস আবিষ্কৃত হয়েছে এবং গ্যাসের বাণিজ্যিক দাম না থাকায় (১৯৭৩ সালের আগে) সেখানে অনেক ক্ষেত্রেই পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (পিএনজি) সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এগুলোকে লিগ্যাসি কানেকশন বলা হয়। কিন্তু এর বাইরে বলতে গেলে সব দেশেই রান্নার জন্য এলপিজি ব্যবহৃত হয়।
কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারত, সৌদি আরবসহ উন্নত বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই রান্নার জন্য এলপিজি ব্যবহৃত হয়। নানাভাবে ব্যবহারের সুযোগ থাকায় এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় জ্বালানি। বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে ১০০ হাজার টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়। সঠিক সরকারি পরিকল্পনা, নীতিমালা ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে এর ব্যবহার আগামী পাঁচ বছরে ৩০০ হাজার টনে উন্নীত হবে। এলপিজি ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার পাইপলাইন সংযোগের রাজনৈতিক চাপমুক্ত থাকতে পারবে এবং গৃহস্থালি গ্যাস থেকে সঠিক অর্থনৈতিক ভাড়া আদায় করে এলপিজি বোতলে ভর্তুকি দিয়ে তা গ্যাসের সুবিধা সব জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে পারবে।
ম. তামিম: অধ্যাপক, পেট্রোলিয়াম প্রকৌশল বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জ্বালানিবিষয়ক বিশেষ সহকারী।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারত-পাকিস্তানঃ উত্তেজনা থামছে না by নাজাম শেঠি
এ ঘটনায় পাকিস্তানের যে মানুষটি সবচেয়ে দুঃখ পেয়েছেন, তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। তিনি ভারতের প্রতি নিঃশর্ত বন্ধুতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে শপথ নেওয়ার সময় নওয়াজ শরিফ ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি, মনমোহন সিং তাতে যোগ দেননি। এরপর ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার কথা ছিল, সেটিও তিনি ভারতের এ বছরের নির্বাচন পর্যন্ত স্থগিত করেন। আশা ছিল, নতুন সরকারের সঙ্গে এ চুক্তি সম্পাদন তাঁর তরফ থেকে ভারতের প্রতি একটি উপহার হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের চুক্তি দুই দেশের জন্যই লাভজনক, তবে বাস্তব কারণে ভারতই এ চুক্তি থেকে বেশি লাভবান হতো। এমনকি পাকিস্তানের সঙ্গে বিরাজমান অন্যান্য বিষয়ের সমাধানে চুক্তিটি শর্ত হিসেবেই আরোপ করেছিল ভারত। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের আপত্তি সত্ত্বেও নওয়াজ শরিফ নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন, সেখানে মোদির সঙ্গে একান্তে বৈঠকও করেন। এমনকি তিনি ভারতের অনুরোধে কাশ্মীরের হুরিয়াত নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করা থেকে বিরত থাকেন, যদিও ভারত সফররত পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর জন্য এটা এক বহুল প্রচলিত প্রথা। আর ঠিক একই সময়ে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর কাশ্মীরবিষয়ক ভারতের সেই পুরোনো অবস্থানই ব্যক্ত করেন। নওয়াজ শরিফ তাতেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। এ কারণে তিনি দেশে ফিরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।
কয়েক মাস হলো নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় এসেছেন, আর এর মধ্যেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক সেই আগের জায়গায় ফিরে গেছে। বন্ধুত্বের সব আবহ কেটে যায় গত আগস্টে। ভারতে পাকিস্তানের হাইকমিশনার হুরিয়াতের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক করার পর ভারত হঠাৎ করেই দুই দেশের মধ্যকার পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের আলোচনা বাতিল করে দেয়। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার সব বিষয়ে কাঠামোগত আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। অতীতে পাকিস্তানি কর্মকর্তা ও নেতারা হুরিয়াত নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসলে তাঁদের জিহাদের অনুপ্রেরণা দিতেন না, বরং নয়াদিল্লির সঙ্গে আপসের বৈঠকে বসার কথা বলতেন। আর ভারত মনে করত, হুরিয়াত নেতারা ভারতীয় বিধায় পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠকে বসার কোনো অধিকার তাঁদের নেই।
কিন্তু এবার ভারত তড়িঘড়ি করে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের এই আলোচনা বাতিল করায় নওয়াজ শরিফ পাকিস্তানে এক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। ফলে পাকিস্তানের সামরিক–বলয়ে ভারতের প্রতি ঘৃণা আরও বেড়েছে। তারপর ভারত আরও এক ধাপ এগিয়ে ঘোষণা দিয়ে বসে, গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের অধিবেশনের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে আলাদাভাবে কোনো বৈঠকে মিলিত হবেন না। আর এখন দুই দেশ কাশ্মীরে একে অপরের বিরুদ্ধে কামান দাগাচ্ছে।
পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, ভারত খুবই আক্রমণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। কাশ্মীরের ভারত অংশে এ বছরের শেষভাগে নির্বাচন হওয়ার কথা। নরেন্দ্র মোদি এ এলাকা সফল করেছেন, যথারীতি তিনি সেখানে মুসলিম কাশ্মীরি নেতা ও দলগুলোর বিরুদ্ধে হিন্দু অনুভূতি উসকে দিয়েছেন। এমনকি তিনি ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করার মনোভাবও পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যে অনুচ্ছেদের বলে কাশ্মীর ভারতে বিশেষ মর্যাদা ভোগ করে। এতে কাশ্মীরে আবারও ভারতবিরোধিতার আগুন জ্বলে উঠেছে, মিছিলে মিছিলে প্রকম্পিত হচ্ছে কাশ্মীর উপত্যকা। ওদিকে ভারতের সঙ্গে সৃষ্ট এই বিবাদ থেকে পাকিস্তান তেমন একটা লাভবান হতে পারবে না। কারণ, পাকিস্তানি সেনারা করাচি ও বেলুচিস্তানে জঙ্গিবাদ রুখতে গিয়েই গলদঘর্ম হচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা শিগগিরই প্রশমন হচ্ছে না। নরেন্দ্র মোদি ভালোই ফর্মে আছেন, আর পাকিস্তানের সামরিক–বলয়ের কাছে নওয়াজ শরিফের গ্রহণযোগ্যতা শূন্যের কোঠায় গিয়ে পৌঁছেছে।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন
দ্য ফ্রাইডে টাইমস থেকে নেওয়া
নাজাম শেঠি: পাকিস্তানের দ্য ফ্রাইডে টাইমসের সম্পাদক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশে সহিংসতার ঝুঁকির শঙ্কা রয়ে গেছে -যুক্তরাজ্য
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে সহিংসতার ঝুঁকির শঙ্কা রয়ে গেছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সহিংসতা কমে এলেও এনজিওগুলো নির্বাচনের পর থেকে বিচার-বহির্ভূত হত্যা এবং গুম ব্যাপকভাবে বাড়ার কথা জানিয়েছে। ২০১৪ সালে গৃহীত নতুন নীতি ও আইন নাগরিক সমাজের ব্যাপ্তি ও মিডিয়ার স্বাধীনতা খর্ব হওয়া নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে না হলে নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে না মনে করে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোট ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ওই নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না হওয়ার প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ উপর্যুপরি দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য জয়ী হয়। ওই নির্বাচনের দিন ২১ জনের মৃত্যু এবং শতাধিক স্কুলভিত্তিক নির্বাচনী কেন্দ্র পুড়িয়ে দেয়া হয়। নির্বাচনের পর থেকে বিএনপি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে, ২০১৩ সালের চেয়ে অনেক কমসংখ্যক হরতাল ও অবরোধ হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬ জানুয়ারি ওই সময়ের মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রী ব্যারোনেস ওয়ার্সি রাজনৈতিক জবাবদিহিতা সমাধানে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের প্রতি একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি সব দলের ভীতি প্রদর্শনমূলক কর্মকা- এবং অবৈধ সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং কোনো ধরনের ভীতি প্রদর্শন বা প্রতিহিংসার আশঙ্কা ছাড়াই ভবিষ্যতের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের আগ্রহ ও সক্ষমতা সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার বাংলাদেশের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী, যোগাযোগমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে সব প্রধান দল প্রার্থী দেয়। প্রথম দুই দফা নির্বাচনে বিএনপির চেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর শেষ তিন দফায় আওয়ামী লীগ অধিকাংশ আসনে জয়ী হয়। এনজিও ও মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী এটা ঘটেছিল ভীতি প্রদর্শন ও নির্বাচনীপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে।
ব্যারোনেস ওয়ার্সি বিষয়টি নিয়ে ১৩ মে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাথে আলোচনা করেছিলেন। তিনি এসব খবরের পূর্ণ ও স্বচ্ছ তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
মার্চে ওই সময়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগের প্রতিমন্ত্রী অ্যালেন ডানকান বাংলাদেশ সফর করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা, অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার সাথে বৈঠক করে আরো টেকসই রাজনৈতিক সমঝোতার প্রাথমিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, গণতন্ত্রে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।
এতে বলা হয়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০১৩ সালের রিপোর্টে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দায়মুক্তি মারাত্মক সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। এনজিওগুলো জানিয়েছে, ২০১৪ সালের প্রথম ছয় মাসে বিচার-বহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দৃশ্যত আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীগুলোর হাতে ক্রসফায়ারে বিপুলসংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জে প্রকাশ্য দিবালোকে সাতজনকে অপহরণ এবং পরে তাদের লাশ নদীতে পাওয়া যাওয়ার ঘটনায় দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এই হত্যার সাথে র্যাবের সম্পৃক্ততার অভিযোগের পর বাংলাদেশের সংসদ, হাইকোর্ট ও নাগরিক সমাজ বিষয়টির তদন্তের আহ্বান জানায়। সরকার প্রতিশ্রুতি দেয়, অপরাধীকে শাস্তি দেয়া হবে। এই মৃত্যুতে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দিয়েছে তিন র্যাব সদস্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দাখিল করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার নতুন আইন প্রণয়ন কিংবা বিদ্যমান আইনগুলোতে সংশোধন আনায় নাগরিক সমাজের ব্যাপ্তির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ডিজিটাল মিডিয়ার আশ্রয় নিয়ে যারা সরকারের সমালোচনা করছে, তাদের তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে আটক করা হচ্ছে। তাছাড়া প্রস্তাবিত ‘ফরেন ডোনেশনস অ্যাক্ট’টি নাগরিক সমাজের কার্যক্রম সীমিত করে দিতে পারে।
আরো দুটি ঘটনা নাগরিক সমাজের মধ্যে এই ধারণা জোরদার করেছে যে, বাংলাদেশ সরকার সমালোচনা ও ভিন্নমত প্রকাশের সম্ভাব্য চ্যানেলগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। সদ্য প্রণীত জাতীয় সম্প্রচার নীতি মিডিয়া স্বাধীনতার ওপর রাশ টেনে ধরবে বলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুটি টিভি চ্যানেল এবং একটি সংবাদপত্র পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নাগরিক সমাজের অনেক সংগঠন ক্রমবর্ধমান নজরদারি, হয়রানি ও ভীতিপ্রদর্শনের কথা বলেছে। আরো সম্প্রতি সরকারের নতুন সংবিধান সংশোধনের ফলে সংসদীয় কর্তৃপক্ষ বিচার বিভাগের সদস্যদের অভিসংশন করার ক্ষমতা ফিরে পেয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২২ জুলাই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বৈঠক করেন। ক্যামেরন নির্বাচন নিয়ে তার উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন। উভয়ে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং মিডিয়ার স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানায় এমন উন্মুক্ত সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপে একমত হন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্যাট্রিক মোদিয়ানো by আহমদ মতিউর রহমান

২.
তার পুরো নাম জ্যাঁ প্যাট্রিক মোদিয়ানো। জন্ম ১৯৪৫ সালের ৩০ জুলাই, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের পশ্চিম প্রান্তের উপশহর বলোনেতে। সময়টা তখন খুবই উত্তাল। মাত্র দুই মাস আগে শেষ হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। চার দিকে মৃত্যু ধ্বংস আর হাহাকার। মোদিয়ানোর বাবা আলবার্ট মোদিয়ানো ছিলেন ইতালীয় বংশোদ্ভূত ইহুদি। আর মা লুইজা কলপিন ছিলেন বেলজিয়ামের একজন অভিনেত্রী। নাৎসি দখলদারির সময় প্যারিসে কষ্টে জীবন কাটিয়েছেন তার বাবা-মা। তিনি বড় হয়ে এগুলো জানতে পারেন। তার লেখকজীবনে এই ঘটনা ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে। মোদিয়ানোর শৈশব কেটেছে তার নানা নানীর সাথে। সে সময়ে শিখতে হয়েছে বেলজীয় ফেমিশ ভাষা। তার বাবা-মা প্রায়ই কাজের প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। এ কারণে তাকে সরকারি সাহায্য নিয়ে মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়েছে। একাকিত্ব মোচনে এ সময়ে তার সাথে ছিল তার ভাই রুডি। সেই ভাইটিও মাত্র ১০ বছর বয়সে এক অসুখে মারা যায়। এই মৃত্যু তাকে খুবই বিচলিত করে তোলে। তার স্মৃতিকথায় একটি বিরাট অংশে রয়েছে এই বিবরণ। মোদিয়ানো ১৯৬৭ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত তার সব লেখা তার মৃত ভাইয়ের স্মৃতির প্রতি নিবেদন করেন। তার উচ্চমাধ্যমিক ও তৎপরবর্তী শিক্ষাজীবন কেটেছে প্যারিসের বিভিন্ন নামকরা প্রতিষ্ঠানে। লাইসি চতুর্থ হেনরি হাইস্কুলে পড়ার সময় তার জ্যামিতি শিক্ষক ছিলেন লেখক র্যামন্ড কুইনিউ। ফরাসি উচ্চারণ র্যামো কুনো। তার সংস্পর্শ মোদিয়ানোর লেখকজীবনকে প্রভাবিত করেছে। যুদ্ধপরবর্তী ডামাডোলে মোদিয়ানো তার শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারেননি। ১৯৭০ সালে মোদিয়ানো বিয়ে করেন দোমিনিক কারুফুসকে। সেই বিয়েও এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। তাদের রয়েছে দু’টি কন্যাÑ জিনা ও মেরি। মোদিয়ানো যতখানি সাহিত্যিক ততখানিই চলচ্চিত্রকর্র্র্মী। তিনি নানাভাবে চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার কয়েকটি উপন্যাসও চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে।
৩.
মোদিয়ানোর লেখকজীবনও শুরু হয় লেখক কুনোর সহযোগিতায়। বলতে গেলে তিনিই মোদিয়ানোকে সাহিত্য ও প্রকাশনা জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। র্যামো কুনো আমাদের বিদ্রোহী কবি নজরুলের সমবয়সী কবি ও ঔপন্যাসিক। ফরাসি সাহিত্যে তাঁর অবদান অনেক। বলা যায় কুনো লোক চিনতে ভুল করেননি। তার হাত ধরে মোদিয়ানো আজ খ্যাতির শীর্ষে।
১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয় মোদিয়ানোর প্রথম উপন্যাস ‘লা কোস দো লেতোয়াল’। এ সময় তার বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে একজন ইহুদি কোলাবোরেটরের জীবনকাহিনী। তবে এই উপন্যাসের প্রতি মোদিয়ানোর বাবা রুষ্ট হয়েছিলেন। তিনি এতটাই রুষ্ট হয়েছিলেন যে, এর সব কপি কেনার চেষ্টা করেছিলেনÑ যাতে এর প্রচার না হয়। মনে হয়, এতে বর্ণিত গল্প ও বর্ণনাভঙ্গি তার মনোপুত হয়নি। ২০১০ সালে এ বইয়ের জার্মান অনুবাদ প্রকাশিত হলে তা ‘সাউথ ওয়েস্ট রেডিও বেস্ট অব দ্য লিস্ট’ পুরস্কার পায়। এর ফলে এটি হয়ে ওঠে হলোকস্ট-পরবর্তী অন্যতম প্রধান উপন্যাস। তবে এখনো এটির ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হয়নি।
১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয় ‘লা রঁদে দো মুইট’। এর ইংরেজি অনুবাদ ‘নাইট রাউন্ডস’ প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালে। এরপর ১৯৭৭ পর্যন্ত নিয়মিত ব্যবধানে প্রকাশিত হয় রিং রোডস, ভিলা ট্রিস্ট, লিভরেট দো ফ্যামিলি। এ ছাড়া চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যও লেখেন মোদিয়ানো। পরে তিনি চলচ্চিত্রের সাথে আরো বেশি করে যুক্ত হন, করেন এই শিল্পের নানামাত্রিক কাজ। ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয় মোদিয়ানোর সেরা উপন্যাস ‘মিসিং পারসন’। ১৯৮০ সালে এটির ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
মিসিং পারসন একজন স্মৃতিভ্রষ্ট গোয়েন্দার কাহিনী। এই গোয়েন্দা তার শেষ কেস হিসেবে নেয় আত্ম-আবিষ্কারকে। সে খুঁজে ফেরে নিজের জীবনকাহিনীÑ তার মনে প্রশ্ন সে কে? ঘটমান ইতিহাসের পাতায় পাতায় তার পদক্ষেপগুলো কী, আর তা সঠিক না বেঠিক, তার হিসাব মেলানোর চেষ্টা।
মিসিং পারসন উপন্যাসের জন্য মোদিয়ানো ১৯৭৮ সালে মর্যাদাবান প্রিঁ গঁকুর পুরস্কারে ভূষিত হন। এটাই তার প্রথম পুরস্কার অর্জন। এরপর অনেক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। মোদিয়ানোর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছেÑ এ ট্রেস অব ম্যালিস, উনে জেনিস, ক্যাথারিন সার্টিচিউড, হানিমুন, আউট অব দ্য ডার্ক, ডোরা ব্রুডার ইত্যাদি। এ ছাড়া শিশু-কিশোরদের জন্যও লিখেছেন মোদিয়ানো। ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত তার বইয়ের সংখ্যা ৪০-এর বেশি। নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর বদলে গেছে তার বইয়ের জগৎ। দ্রুত তার লেখা বই প্যারিসের বইয়ের দোকানগুলোতে জায়গা করে নেয়। ইয়েল ইউনিভার্সিটি প্রেস তার তিনটি উপন্যাসিকার সঙ্কলন ‘সাসপেন্ডেন্ট সেনটেন্সেস’ প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে। এ ছাড়া তার প্রকাশক গোদিন তিনটি বই ক্যাথারিন সার্টিচিউড, হানিমুন ও মিসিং পারসন পুনর্মুদ্রণের আদেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিশ্বব্যাপী তার বইয়ের প্রতি পাঠকদের আগ্রহ নিবিষ্ট হয়েছে।
৪.
মোদিয়ানো নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পঞ্চদশ ফরাসি লেখক। তাকে বিজয়ী ঘোষণার কারণ হিসেবে নোবেল কমিটি বলেছে, ‘১৯৪০ থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত জার্মান দখলদারীর সময় সাধারণ মানুষের জীবনের গল্প নিজের লেখায় নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন মোদিয়ানো। স্মৃতির শিল্প দিয়ে তিনি মানুষের ভাগ্যের সেই সব দিক বর্ণনা করেছেন যেগুলো মুঠোয় ধরা সবচেয়ে কঠিন।’
মোদিয়ানোর নিজের জবানিতেও এসেছে একই কথা। তার কথায়Ñ আমার সব বই যেন একই কাহিনীর প্রলম্বিত অংশ। যেন একটি বইই লিখে চলেছি। অর্থাৎ ঘুরেফিরে নাৎসি নির্যাতনবিরোধী বক্তব্য বন্দিজীবনের গুমোট স্মৃতি ভাস্বর হয়ে উঠেছে। ক্রমাগত লিখে গেছেন মোদিয়ানো। এ কারণে ফ্রান্সে তার সাহিত্যের পঠনপাঠন নিতান্ত কম নয়। ফরাসি পাঠকেরা তাকে গ্রহণ করেছেন ভালোভাবেই। নোবেল কমিটির সেক্রেটারি পিটার ইংলান্ড তাকে এ যুগের প্রুস্ত বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। মার্সেল প্রুস্ত ফরাসি সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। মোদিয়ানোকে তার সাথে তুলনা করে নোবেল কমিটি তাকে আরো মহিমান্বিত করে তুলেছেনÑ এ কথা বলতেই হবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর কঠিন সময়ে মোদিয়ানোর শৈশব-কৈশোর স্বাভাবিকভাবে কাটেনি। তাই স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারেননি তিনি। নিজ সাহিত্যজীবন সম্পর্কে তার অকপট বর্ণনাÑ ‘আসলে আমি কখনো অন্য কিছু করার কথা ভাবিনি। আমার কোনো ডিপ্লোমা ছিল না, অর্জনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যও ছিল না। তবে তরুণ লেখক হিসেবে শুরু করাটা কঠিন ছিল।
প্রথম জীবনে রচিত অনেক কাঁচা লেখা পরিণত লেখকজীবনে এসে ভালো লাগে না। মোদিয়ানোর জীবনেও এমনটা হয়েছে। তিনি যে সময়ের সাহিত্য সম্পর্কে বলছেনÑ ‘আমি আমার প্রথম দিককার বইগুলো না পড়তেই পছন্দ করি। তার মানে এই নয় যে, আমি এগুলো অপছন্দ করিÑ তবে এগুলোতে আমি নিজেকে খুঁজে পাই না...।’
এ বছর প্রকাশিত হয়েছে ‘সো দ্যাট ইউ ডোন্ট গেট লস্ট ইন দ্য নেইবার হুড’। এটির ইংরেজি অনুবাদও হয়েছে। এটা পারিপার্শ্বিক অবস্থায় দিশা হারিয়ে ফেলার বিষয় নিয়ে লেখা। তিনি নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পর প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে এই বইটির প্রতি তার দুর্বলতার কথা প্রকাশ করে পাঠককে এটা পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
ফরাসি সাহিত্য বিশ্বব্যাপী আদৃত নানা মাত্রিকতায়। আত্ম-আবিষ্কার, জীবনের সারৎসার আর মনোজগৎকে আবিষ্কারের নানা কাহিনী নিজস্ব ভাষা-ভঙ্গিমায় প্রকাশ করেছেন ফরাসি লেখক ও ঔপন্যাসিকেরা। ফরাসি সাহিত্যের সেই ধারায় যুক্ত হলো আরো একটি নামÑ মোদিয়ানো। এর আগে আরো ১৪ জন নোবেল বিজয়ী ফরাসি লেখক বিশ্বসাহিত্যে তাদের বিজয়গাথা গেয়ে গেছেন। মোদিয়ানোকেও হয়তো তারা গ্রহণ করবেন। শুধু ফ্রান্স কেন, নোবেল অঙ্গনে নেতৃত্বের আসনে আছে ইউরোপ। ২০১২ সালে চীনের মো ইয়ান আর গেল বছর কানাডার এলিস মুনরো এই শিরোপাকে নিয়ে গিয়েছিলেন অন্য ঠিকানায়। মোদিয়ানোর হাত ধরে এবার তা আবারো ফিরে এলো ইউরোপে। এশিয়া, আফ্রিকা আর আরব দুনিয়া কি বঞ্চিত হলো এর মধ্য দিয়ে? হবে হয়তো!
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফররুখ আহমদ- তার কবিতায় মানবতার জয়গান by ড. এম এ সবুর
আমি দেখি পথের দুধারে ুধিত শিশুর শব/ আমি দেখি পাশে পাশে উপচিয়ে পড়ে যার/ ধনিকের গর্বিত আসব/ আমি দেখি কৃষাণের দুয়ারে দুর্ভি বিভীষিকা/
আমি দেখি লাঞ্ছিতের ললাটে জ্বলিছে শুধু অপমান টিকা। (আউলাদ)
আমাদের প্রচলিত সমাজব্যবস্থার সর্বত্র হীনম্মন্য, অসাম্য-বৈষম্য, বঞ্চনা-গঞ্জনা, অমানবিকতার বিরুদ্ধে ফররুখ আহমদ ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। অত্যাচার-অন্যায় অমানবিকতার বিরুদ্ধে ফররুখ ছিলেন সদাজাগ্রত। যেখানেই তিনি মানবতার বিপর্যয় দেখেছেন সেখানেই কঠোর হয়ে মানবতা উদ্ধারের পথনির্দেশ দিয়েছেন।
আমাদের প্রচলিত সমাজব্যবস্থার সর্বত্র হীনম্মন্যতা, শঠতা, চাটুকারিতা, উচ্চমার্গীয় বুদ্ধিবৃত্তির আত্মগর্বী অন্তঃসারশূন্যতা দেখে ব্যথিত হয়েছেন তিনি। সমাজের এই কেদাক্ত বিবর্ণ প্রতিচ্ছবি তাঁর বিবেক ও সচেতন অনুভূতিকে আহত করেছে। তাই স্বাভাবিক কারণে এ অমানবিকতার বিরুদ্ধে আঘাত হানতে দ্বিধা করেননি তিনি। তিনি চেয়েছেন শোষকের ধ্বংস এবং শোষিতের উত্থান। যে সভ্যতায় মানবতা নেই, মনুষ্যত্ব নেই, সে সভ্যতাকে তিনি হীনসভ্যতা ও জড় সভ্যতা বলে উপহাস করেছেন। তার ভাষায়Ñ
হে জড় সভ্যতা!/ মৃত সভ্যতার দাস-স্ফীতমেদ শোষক সমাজ। / মানুষের অভিশাপ নিয়ে যাও আজ / তারপর আসিলে সময় / বিশ্বময় / তোমার শৃঙ্খলগত মাংসপিণ্ডে পদাঘাত হানি‘ / নিয়ে যাব জাহান্নামের দ্বারপ্রান্তে টানি‘ / আজ এই উৎপীড়িত মৃত্যু দীর্ণ-নিখিলের অভিশাপ বও / ধ্বংস হওÑ / তুমি ধ্বংস হও॥ (লাশ)
মূলত মানবতা বিপর্যয়ের শিকার অত্যাচারিত-নিপীড়িত ও দুর্ভিক্ষপীড়িত ক্ষুধাতুর মানুষের প্রতি কবিহৃদয়ের সহানুভূতি প্রকাশ পেয়েছে ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের ‘আউলাদ’, ‘লাশ’ ইত্যাদি কবিতায়। অন্য দিকে একই কবিতায় মানবতাবিরোধী শোষকসমাজ ও সভ্যতার বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভাষায় তাঁর অভিশাপও উচ্চারিত হয়েছে। আর শোষণ-শঠতা থেকে মানবতার মুক্তির জন্য তিনি পথনির্দেশনা দিয়েছেন ‘হেরার রাজ-তোরণের দিকে’।
ঐতিহ্যকে তিনি নতুন রূপে চিহ্নিত করেছেন। আদর্শের ব্যাপার তাঁর কাছে বাইরের কোনো বিষয় নয় এবং আদর্শ তাঁর কাব্যের কোনো বোঝা হয়ে দাঁড়ায়নি; বরং তা ‘সিন্দবাদ’ হয়ে সাগর পাড়ি দিয়েছে এবং ‘হাতেম তা‘য়ী’ হয়ে মানবতাকে উদ্ধার করেছে। তাঁর আদর্শই তাঁর মানবতাবোধকে জাগ্রত করেছে। এ জন্য তাঁকে কথিত অসাম্প্রদায়িকতার তকমা লাগাতে হয়নি। কবি ফররুখ আহমদ ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় হতাহত মানুষের করুণ দৃশ্য ও আর্তনাদকে মানবিক বিপর্যয় মনে করে লেখেন...
এবার দেখেছি নিজের রক্ত, দেখেছি আর/ রক্ত নেবার পাশবিক মত্ততা
এবার শুনেছি কোটি ফরিয়াদ, শুনেছি আর/ শত মুুমূর্ষু কণ্ঠের আকুলতা।
(নিজের রক্ত)

ফররুখ আহমদ মজলুম-সর্বহারাদের কণ্ঠস্বর। মজলুম-মানবতাকে পুনর্জীবিত করাই ছিল তাঁর সাহিত্য সাধনার মূল উদ্দেশ্য। জালিম অত্যাচারীকে তিনি শয়তানের মতোই ঘৃণা করেছেন। মানুষের চিরশত্রু শয়তান বর্তমান সমাজ ও বিশ্বব্যবস্থাতেও বিদ্যমান। আর এ শয়তান মানবতাকে ধ্বংস করে সভ্যতাকে কলুষিত করছে। এ জন্যই তিনি শয়তানের অমানবিক বিষয়ে মানুষদের সতর্ক থাকতে লিখেছেন...
ইবলিসের অনুগামী চলে আজও বিচিত্র মুখোশে
নর-রক্তপায়ী কিম্বা রক্ত-লোভাতুর। তবু জানি
বিকৃতির এ অধ্যায় বিভ্রান্তির প্রতিচ্ছায়া শুধু।
(ইবলিশ ও বনি আদম)
ভণ্ডামি-শঠতা, অত্যাচার-অবিচার, মিথ্যা-মুনাফেকির বিরুদ্ধে অনড় মনোভঙ্গিই মানবতাবাদের অপর নাম। আর তা বারবার ফিরে এসেছে ফররুখ আহমদের কবিতায়। ‘সাত সাগরের মাঝি’, ‘নৌফেল ও হাতেম’, ‘সিরাজাম মুনীরা’, সর্বশেষ ‘হাতেম তা‘য়ী’ কাব্যের মূল উপজীব্য মনুষ্যত্ব-মানবতা। যদিও সব কবিতার ভাষা-আঙ্গিক, উপমা-উৎপ্রো ভিন্ন ভিন্ন। তবে প্রকরণের ভিন্নতার মধ্যেও তাঁর কবিতাগুলোর ঐক্যসূত্রের মূল বন্ধন অভিন্ন, অর্থাৎ মানবতাবাদ। তাঁর কবিতায় পৌরাণিক আজদাহা-শ^াপদ, পশুদল-পিশাচ, মরুভূমি-বিয়াবান, হাবেদা মরুভূমির চিত্রকল্পের পৌনঃপুনিক ব্যবহারে এই জড় নি®প্রাণ-নিষ্ঠুর মনুষ্যত্বহীন পৃথিবীর ছবি ফুটে উঠেছে। আবার এই পৃথিবীর পথেই মনুষ্যত্বের তীর্থযাত্রার চিরপথিক ‘হাতেম তা‘য়ী’, যার দুঃসাহসে মরুভূমিতে ফুল ফোটে, অন্ধকার ফিরে পায় তার দৃষ্টিশক্তি। হাতেম তা‘য়ীকে কবি মানবতার প্রতীক হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। জালিম শোষকের অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহসী, সৎ ও কর্মঠ এক অনন্য প্রতিভূ হাতেম তা‘য়ী। ফররুখ আহমদ হাতেম তা‘য়ীকে মূলত মানবতার উদ্ধারকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি ‘সাত সাগরের মাঝি’র সিন্দবাদকেও মানবতাবাদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। নির্যাতিত-নিপীড়িত, দুর্ভিপীড়িত ুধাতুর মানুষকে উদ্ধার করাই সিন্দবাদের ল্য হিসেবে স্থির করেছেন তিনি। ফররুখের ‘সিন্দবাদ’ শুধু আরব্য উপন্যাসের চরিত্র নয় বরং এই সিন্দবাদ দুঃসাহসী, অকান্ত পরিশ্রমী, আশাবাদী ও অপরাজেয় এক মানবিক সত্তার প্রতীক। ‘নৌফেল ও হাতেম’ কাব্যখানি মূলত মানবতারই জয়গান। আর এ জয়গান উৎসারিত হয়েছে কবি-আত্মার গভীর থেকে এবং জীবনের স্বাভাবিক দাবিতে। ত্যাগী, সত্যব্রতী, মানবতাবাদী হাতেমের জীবনাদর্শের আলোকে মূলত ‘নৌফেল ও হাতেম’ কবির মনোগত মানবিক আদর্শের একটি বাস্তব ভাষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকৃতপে হাতেম ভৌগোলিক বা পৌরাণিক জগতের অধিবাসী নন; তিনি নৈতিক জগতের অধিবাসী। আর মানবতা তার ল্য, পরোপকার তার উদ্দেশ্য। কবি হাতেমকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন এভাবেÑ
কাব্য নয়, গান নয়, শিল্প নয়Ñ শুধু সে মানুষ
নিঃস্বার্থ ত্যাগী ও কর্মী, সেবাব্রতীÑ পারে যে জাগাতে
সমস্ত ঘুমন্ত প্রাণÑ ঘুমঘোরে যখন বেঁহুশ,
জ্বালাতে পারে যে আলো ঝড়ুব্ধ অন্ধকার রাতে।
তাঁর কবিতার মূল উপজীব্য মানবতাবাদ। ইসলামকে তিনি চেয়েছেন শোষণমুক্ত সমাজের নির্মাতা হিসেবে, মানবতার মুক্তির নিদের্শনা হিসেবে। এ জন্য তাঁর ইসলামি ভাবধারার সাহিত্য মানবতাবাদী সাহিত্যে পরিণত হয়েছে। ইসলাম যে মানবতার আদর্শ তা বারবার উল্লিখিত হয়েছে কবি ফররুখের কবিতায়। মানুষের তৈরী ইসলামের সঙ্কীর্ণতা ও মেকি রূপ ছিন্ন হয়ে ইসলামের প্রকৃত রূপ উদ্ভাসিত ও মানবতার জয়গান উচ্চারিত হয়েছে তাঁর সাহিত্যে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1421)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
October
(1240)
-
▼
Oct 17
(52)
- ঢাবি ভর্তিতে দ্বিতীয়বারের সুযোগ বহাল রাখার দাবি
- গণিকাপ্রণাম by রাশেদ রহমান
- দ্য সার্চ ওয়ারেন্ট by আলী আহমদ
- অনিকেত মানসলোকের নিপুণ কারিগর by আলী আহমদ
- অনিকেত মানসলোকের নিপুণ কারিগর by আলী আহমদ
- সারারাত একসঙ্গে রণবীর ও প্রিয়াংকা চোপড়া
- ভারতে প্রতি বছর ৩০ লক্ষ শিশুকে যৌন ব্যবসায় নামতে ব...
- রক্তের গ্রুপ ‘এ’ না ‘বি’ by কাজল ঘোষ
- ভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র ও বিস্মৃত ১৯৭১ by শাহাদুজ্জামান
- গদ্যকার্টুন- ফেসবুক ভালো না খারাপ? by আনিসুল হক
- রান্নার গ্যাসের সমাধান এলপিজি by ম. তামিম
- ভারত-পাকিস্তানঃ উত্তেজনা থামছে না by নাজাম শেঠি
- বাংলাদেশে সহিংসতার ঝুঁকির শঙ্কা রয়ে গেছে -যুক্তরাজ্য
- প্যাট্রিক মোদিয়ানো by আহমদ মতিউর রহমান
- ফররুখ আহমদ- তার কবিতায় মানবতার জয়গান by ড. এম এ সবুর
- গল্প- বিবর by আহমেদ আববাস
- শব্দলীলা ছন্দকলায় নিরীক্ষাপ্রবণ কবি হাসান হাফিজ by...
- বিবেকদংশনে আত্মাহুতি এবং বিবেককে কোরবানি by সিরাজু...
- মাছের অভয়াশ্রম এবং নিরাশ্রয় মানুষ by জয়নুল আবেদীন
- এস এম আলী : প্রখ্যাত সাংবাদিক by আহমদ-উজ-জামান
- ধর্ম-দর্শন- সুস্থ সমাজ গঠনের পদ্ধতি by শাহ্ আব্দুল...
- বছরে দু’বার এমন হয়! by আবদুর রহিম
- স্মরণ- লালন শাহ
- যার অস্তিত্ব নেই, মৃত্যুও নেই
- ২৫ ছক্কা ৩৫ চারে ৪৪ ওভারের ম্যাচেই ট্রিপল সেঞ্চুরি!
- ‘২০১৪ ব্যাচ কেন বঞ্চিত হবে?’
- লড়াইয়ের আহ্বান বিশ্বনেতাদের
- আসেম শীর্ষ সম্মেলন শুরু, আলোচনার কেন্দ্রে পুতিন
- আবারও অকেজো....
- ম্যান বুকার জিতলেন রিচার্ড ফ্ল্যানেগ্যান
- ইবোলা ভাইরাস নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ -লড়াইয়ের আহ্বান ব...
- আসেম শীর্ষ সম্মেলন শুরু, আলোচনার কেন্দ্রে পুতিন
- বিচারের অপেক্ষায় তাঁরা by শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
- পুলিশে সোপর্দের ৪ ঘণ্টা পরই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত
- মেরি অ্যান্ডারসন- আগুনে পুড়ল শত বছরের ঐতিহ্য by আ...
- অশ্লীল নৃত্য বেন্ধ উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ধেক শিক্ষার্থী টেকে দ্বিতী...
- বনভূমি দখলের পক্ষে পাঁচ মন্ত্রীর সুপারিশ -২৭ একর ব...
- গুল মাকাই থেকে মালালা হয়ে ওঠা by নাজেস আফরোজ
- পা হারানো ছেলেটির যুদ্ধজয় -নিষ্ঠুরতার বিচার চান ল...
- পিয়াস করিমের দাফন আজ -মৃত ব্যক্তির লাশ নিয়েও রাজনীতি
- মৌসুমী যখন ‘রাত্রির যাত্রী’
- নিয়ন্ত্রণহীন রংপুর আওয়ামী লীগ by জাভেদ ইকবাল
- বিয়ের আগে অপহৃত হয়েছিল চাঁদনী
- বরিশাল আওয়ামী লীগে সক্রিয় আবদুল্লাহ by জিয়া শাহীন
- ৫৮ লাখ টাকার ঘুষ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য by মহিউদ্দীন...
- স্ত্রী যখন ভয়ঙ্করী -স্ত্রীর হাতে নৃশংসভাবে স্বামী খুন
- ষড়যন্ত্রের জালে জিটুজি by মাসুদ করিম
- সত্যের জয় হলো by সাখাওয়াত হোসেন
- ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন হতাশাজনক -আনুষ্ঠানিক প্রতিক্...
- অপরাধী ফিরিয়ে না নিলে বাংলাদেশে বৃটিশ সহায়তা বন্ধ ...
- রাজনীতির বিভক্তি লাশেও by সাজেদুল হক
-
▼
Oct 17
(52)
-
▼
October
(1240)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


