Sunday, June 11, 2017

কাতার সঙ্কট সমাধানে আরব দেশগুলোর সাড়া নেই

মানিবক বিপর্যয়ের আশঙ্কার বিষয়ে সতর্ক করে কাতার সঙ্কট সমাধানের জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে আহ্বান জানিয়েছেন তাতে কার্যত সাড়া দেয়নি উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো। বরং সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ তুলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর এবং বাহরাইন কাতারের সাথে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর এই পদক্ষেপের সমর্থনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে দেশগুলো। আরব আমিরাত ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে। কিন্তু তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন কাতারের ওপর এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে মানবিক বিপর্যয়ের ফলাফল সৃষ্টি হতে পারে বলে অবরোধ শিথিলের যে আহ্বান জানিয়েছেন সে বিষয়ে নিশ্চুপ মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলো। টিলারসেন বলেন, একদিকে এটা মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করবে অন্যদিকে তা সন্ত্রাস প্রতিরোধে আঞ্চলিক সহাবস্থানের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে। তিনি আরো বলেন, এই ধরনের অবরোধ এই অঞ্চলে মার্কিন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করবে। অন্যদিকে কাতারকে উদ্দেশ্য করে শুক্রবার ট্রাম্প বলে, "মানুষের দ্বারা অন্য মানুষকে হত্যার শিক্ষাদান থেকে বিরত থাকুন।"  তিনি বলেন, "আমি রেক্স টিলারসনের সাথে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, সন্ত্রাসী মতাদর্শে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া বন্ধ করার জন্য কাতারকে চাপ প্রয়োগের সময় এসেছে। এক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ দেশগুলোর সাথে কাতারও ফিরে আসবে তিনি এমনটা মনে করেন বলেও উল্লেখ করেন।" ট্রাম্পের এই বক্তব্য তার প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিপরীত। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বানের পর এখন পর্যন্ত সৌদি আরব, বাহরাইন এবং আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য আসেনি। সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ তুলে সোমবার কাতারের সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ। তবে এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে আসছে কাতার। সূত্র : বিবিসি

লন্ডনগামী বিমানে বোমা! জরুরি অবতরণ

বিমানের মধ্যে সন্দেহজনক কথাবার্তা। নাশকতার সম্ভাবনা আঁচ করে লন্ডনগামী বিমান ঘুরিয়ে জার্মানির কোলোনে নিয়ে যাওয়া হলো। সন্দেহভাজন ৩ যাত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৫১ জন যাত্রী নিয়ে শনিবার স্লোভেনিয়ার রাজধানী লুবলিয়ানা থেকে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ইজিজেটের এ–৩১৯ বিমানটি। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর তিন যাত্রীকে নাশকতা চালানো নিয়ে আলোচনা করতে শোনেন বাকিরা। বিমানসেবিকাকে সেকথা জানালে পাইলটকে খবর দেন তিনি। তড়িঘড়ি বিমান ঘুরিয়ে নেন তিনি। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছ’‌টা নাগাদ জার্মানির কোলোন বিমানবন্দরে অবতরণ করলে, বিমানটি ঘিরে ধরেন পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা। জরুরি অবস্থায় ব্যবহৃত স্লাইড দিয়ে ১৫১ যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়। বিমান ও ব্যাগপত্রে তল্লাশি চালিয়ে একে একে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁদের বয়ান শুনে সন্দেহভাজন ওই তিনজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজনের কাছ থেকে একটি ব্যাগ উদ্ধার হয়। রানওয়ের কাছে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটিকে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তবে ব্যাগের মধ্যে কী ছিল তা এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। সন্দেহভাজনদের নাম–পরিচয়ও প্রকাশ করেনি পুলিশ। এই ঘটনায় বিমানবন্দরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার খাতিরে প্রায় তিন ঘণ্টা বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। কোলনগামী ১০টি বিমান অন্য বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। আরো একডজন বিমানের সময়সূচি বদল করা হয়। ইজিজেটের এ–৩১৯ বিমানটি ভাল করে পরীক্ষা করে দেখে সেখানকার পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী। শনিবার আর লন্ডন যাওয়া হয়নি বিমান যাত্রীদের। তাদের জন্য হোটেলের ব্যবস্থা করে কোলোন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। রোববার সকালে অন্য একটি বিমানে চড়ে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেন তারা। সন্দেহভাজন ওই তিনজন কোলোন পুলিশের জিম্মায় রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ইউরোপীয় দেশগুলিতে একের পর এক নাশকতার ঘটনায় জার্মানিতে উচ্চ সতর্কতা জারি হয়েছে। শুক্রবার থেকে সেখানে তিন দিনব্যাপী ‘‌রক অ্যাম রিং ফেস্টিভ্যাল’‌ শুরু হয়। কিন্তু সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় স্টেডিয়াম খালি করে দেয় স্থানীয় পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে অবশ্য সন্দেহজনক কিছু মেলেনি।

মস্কোর কাছে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৫

মস্কোর দক্ষিণাঞ্চলে এক বন্দুকধারীর হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। পরে পুলিশের অভিযানে ওই হামলাকারীও নিহত হন। শনিবার এ ঘটনা ঘটে। আজ রোববার রুশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলোকোলৎসেভ একথা বলেন। শনিবার ওই বন্দুকধারী তার বাড়ি থেকে একটি রাইফেলের সাহায্যে এলোপাথাড়ি গুলি ছোঁড়ে। তিনি মস্কোর রামেনস্কি জেলার ক্রাতোভো গ্রামের বাসিন্দা। পরে রুশ পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের অভিযানে হামলাকারী নিহত হন। রুশ ন্যাশনাল গার্ডের প্রায় ২শ’ যোদ্ধা ও রুশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা হামলাকারীকে নিরস্ত্র করার এই অভিযানে অংশ নেয়। কোলোকোলৎসেভের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, এই অভিযানে বিশেষ বাহিনীর চার সদস্য আহত হয়েছেন। লোকটির হামলার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত করা হচ্ছে।

দেশে বর্তমানে ২৮ শতাধিক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, ত্রৈ-মাসিক, ষান্মাষিক মিলে বর্তমানে দেশে ২৮ শতাধিক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি’র এক প্রশ্নের জবাবে আরও বলেন, ‘সরকারের গণমাধ্যম বান্ধব বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বর্তমানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। বর্তমানে উভয় গণমাধ্যম মুখর খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’ হাসানুল হক ইনু বলেন, বর্তমান সরকারের গত ৭ বছরে ৭ শতাধিক পত্রিকার নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারি ৩টি টেলিভিশন চ্যানেলের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৬টি টেলিভিশন চ্যানেল, ২১টি এফ. এম বেতার এবং ১৭টি কমিউনিটি রেডিও সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মন্ত্রী বলেন, সংবাদপত্রে কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট বর্তমান সরকারের গত ৭ বছরের অধিক সময়ে ১৬ হাজার ১ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। তিনি বলেন, এদিকে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট একই সময়ে ২ হাজার ২৫৫ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জন্য একটি দায়বদ্ধ ‘সম্প্রচার কমিশন’ গঠনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘সম্প্রচার আইন, ২০১৬’ এর খসড়ার চূড়ান্ত পরিমার্জন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাসস

সারোয়ার-তামিম গ্রুপের দুই সদস্য গ্রেফতার : র‍্যাব

নব্য জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের দুই সদস্যকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে র‍্যাব। আজ রোববার সকালে র‍্যাবের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো মোবাইল ফোনের খুদে বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। খুদে বার্তায় বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে ওই দুই ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন সারোয়ার-তামিম গ্রুপের শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর পশ্চিমের দাওয়াতি আমির ইমরান আহমেদ ও তাঁর এক সহযোগী। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি র‍্যাব। বিস্তারিত তথ্য জানাতে আজ বেলা ১১টায় র‍্যাবের ব্রিফিং করার কথা।

একটি ‘ভাগ্যবান’ ব্যাংকের কাহিনী!

এটিকে ‘ভাগ্যবান’ ব্যাংক না বললে আর কী বলা যাবে? দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মে হাজার হাজার কোটি টাকা ‘লুট’ করা হয়েছে এই ব্যাংক থেকে। এই লুটে জড়িত ছিলেন ব্যাংকটির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতারা। তাদের যোগসাজশে ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে তুলে নেয়া হয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। এমনকি রাতের আঁধারে বস্তায় বস্তায় টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই অর্থের পরিমাণ বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুসারে কম করে হলেও সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। এর সবই জানত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে কিছুটা সতর্ক করা হয়েছিল। বিষয়টি জানতেন তৎকালীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব। অর্থমন্ত্রীকেও বিষয়টি একসময় অবহিত করা হয়। কিন্তু সব কিছু জানানোর পরেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। ততক্ষণে ব্যাংকটি থেকে লুটে নেয়া হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। কিন্তু যারা এই অনিয়ম ও টাকা আত্মসাতে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। গত পাঁচ বছরে শুধু ব্যাংকটির কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অথচ অনিয়মের বিষয়ে যার নাম সব সময়ই সামনে চলে এসেছে সেই ব্যাংকেরই সাবেক এমডির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। কারণ তার ‘খুঁটির’ জোর নাকি অ-নে-ক লম্বা। অনিয়ম ও আত্মসাতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব না হলেও জনগণের কাছ থেকে আদায় করা করের টাকা প্রতি বছর এই ব্যাংকটিকে দেয়া হচ্ছে। মূলধন সংরক্ষণের নামে দেয়া এ টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। দেখেশুনে মনে হয় ব্যাংকটি যেন সরকারের চোখের মণি! এই ব্যাংকটির নাম বেসিক ব্যাংক। পুুরোপুরি সরকারি মালিকানাধীন এই ব্যাংক কয়েক বছর ধরে খুব দুঃসময় অতিক্রম করছে। লুটপাটের কারণে এটি এখন বিপুল মূলধন ঘাটতির মুখে। আর খেলাপি ঋণও তো আকাশ ছোঁয়ার অতিক্রম। গত তিন বছরে এই মূলধন ঘাটতি পূরণে সরকারের পক্ষ থেকে দুই হাজার ৩৯০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এখন আবার নতুন করে ব্যাংকটিকে দেয়া হচ্ছে আরো এক হাজার কোটি টাকা।
এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে একটি সারসংক্ষেপ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এটি অনুমোদন পেতে পারে বলে জানা গেছে। অনুমোদন পেলে বেসিক ব্যাংককে এক হাজার কোটি টাকা চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে রক্ষিত মূলধন পুনর্গঠন খাতে রাখা ২০০০ কোটি টাকা থেকে এই অর্থ দেয়া হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো: ইউনুসুর রহমানের পাঠানো এই সারসংক্ষেপে বেসিক ব্যাংককে এক হাজার কোটি টাকা ছাড়াও অপর কয়েকটি সরকারি ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানকে অর্থ দেয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংককে ৩০০ কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংককে ১০০ কোটি টাকা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে ১৬৪ কোটি টাকা রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে ১০০ কোটি টাকা দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি ব্যাংক আইএফআইসিতে রক্ষিত সরকারি শেয়ারের (রাইট শেয়ার ইস্যু) জন্য ১৮৫ কোটি এবং সরকারি গৃহঋণ দানকারী সংস্থা হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনকে ১৮৫ কোটি টাকা দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত বেসিক ব্যাংককে অর্থ দেয়ার জন্য বরাবরই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক শ্রেণীর কর্মকর্তার অতি উৎসাহ লক্ষ করা গেছে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। সামর্থ্য থাকলে এই বিভাগ তো আজই বেসিককে পুরো অর্থ দিয়ে দেয়। কিন্তু বেসিক ব্যাংকে যখন ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছিল তখন কিন্তু এই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। এসব জালিয়াতি ঠেকানোর বিষয়ে তিনি কোনো ভূমিকা পালন করেছিলেন কি না তা আজ পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। তিনি এ ধরনের অনিয়মের ব্যাপারে দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। এখন বেসিককে তারা টাকা দিতে উঠেপড়ে লেগেছেন। এর আগেও বেসিক ব্যাংকের আর্থিক সঙ্কট কমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তিন দফায় দুই হাজার ৩৯০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছিল। প্রথমবার ২০১৪ সালে দুই দফায় যথাক্রমে ৭৯০ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ৪০০ কোটি টাকা দেয়া হয়। পরে গত বছর দেয়া হয়েছিল আরো ১২ শ’ কোটি টাকা। এ সম্পর্কিত অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ‘অর্থ বিভাগের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠনে বিনিয়োগ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ১২০০ কোটি টাকা বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের অনুকূলে মূলধন পুনর্ভরণ খাতে প্রদান করা হলো। প্রসঙ্গত, সরকারি মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক ২০০৯ সাল পর্যন্ত লাভজনক ছিল। কিন্তু এরপর যখন রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুকে নিয়োগ দেয়া হয় তখন থেকেই ব্যাংকটির আর্থিক অনিয়মের সূত্রপাত ঘটে। চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যক্ষ মদদে বেসিক ব্যাংকে একে একে ঘটে যায় অনেকগুলো আর্থিক কেলেঙ্কারি। এতে আত্মসাৎ করা হয় প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকাÑ যা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে এই চিত্র ফুটে উঠেছে। ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রধান কার্যালয়ের ঋণ যাচাই কমিটি বিরোধিতা করলেও বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সেই ঋণ অনুমোদন করে। ৪০টি দেশীয় তফসিলি ব্যাংকের কোনোটির েেত্রই পর্ষদ কর্তৃক এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কার্যক্রম পরিলতি হয় না। পর্ষদের ১১টি সভায় ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে তিন হাজার ৪৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। যার অধিকাংশ ঋণই গুরুতর অনিয়মের মাধ্যমে করা হয়েছে। এই ঋণ পরিশোধ বা আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেও মতামত দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ওয়ান ইলেভেনের সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে সারাদেশ কারারুদ্ধ করতে চেয়েছিল

গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে ওয়ান ইলেভেনের অগণতান্ত্রিক সরকার মূলত সারাদেশ কারারুদ্ধ করতে চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আজ সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা এ কথা বলেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বেগম তারানা হালিম পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সূত্রপাত করলে এ বিষয়ে অনির্ধারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি দলের সদস্য আব্দুল মতিন খসরু, পঙ্কজ নাথ, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পী, সাবিনা আক্তার তুহিন, বেগম নুরজাহান বেগম ও উম্মে রাজিয়া কাজল বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, ২০০৮ সালের ১১ জুন শেখ হাসিনার কারামুক্তির মধ্য দিয়ে এদেশের অবরুদ্ধ গণতন্ত্রের মুক্তির পথ প্রসারিত হয়েছিল। তিনি মুক্ত না হলে দেশে আজ যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চলমান তা কখনোই সম্ভব হতো না। সংসদ সদস্যরা বলেন, দুর্নীতিতে আপাদমস্তক নিমজ্জিত বেগম খালেদা জিয়াকে তখন গ্রেফতার না করে একটি সুগভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গণতন্ত্রের মানস কন্যা শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। তার ওপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। এমনকি ওই সময় স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রও করা হয়। তারা এ সময় ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ রেজওয়ান সিদ্দিক, রুশনারা আলী ও রুপা হকের বিজয়ে অভিনন্দন জানান। ওয়ান ইলেভেনের অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিভিন্ন মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা গ্রেফতার হন। কারাগারে থাকাকালে শেখ হাসিনা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় চিকিৎসার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তার মুক্তির জোর দাবি ওঠে। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠন ও দেশবাসীর আন্দোলন এবং আপোষহীন মনোভাবের কারণে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। সূত্র : বাসস

সাভারে ৩৫ ভাগ ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর করা হয়েছে : শিল্পমন্ত্রী

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, সাভারে ৩৫ ভাগ ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর করা হয়েছে, বাকি ৬৫ ভাগ ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি আজ সংসদে জাতীয় পার্টির নূরুল ইসলাম মিলনের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগস্থ ট্যানারি শিল্প কারখানাগুলো সাভারস্থ চামড়া শিল্পনগরীতে পুরোপুরি স্থানান্তরিত না হলেও বরাদ্দপ্রাপ্ত ১৫৪টি ট্যানারীর মধ্যে এ পর্যন্ত অর্থাৎ চলতি বছর ৩১ মে পর্যন্ত ৫৫টি ট্যানারী শিল্প প্রতিষ্ঠান সাভারস্থ চামড়া শিল্পনগরীতে ওয়েট ব্লু উৎপান কার্যক্রম আরম্ভ করেছে।
শিগগিরই আরো কিছু ট্যানারি শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন কার্যক্রম আরম্ভ করবে। আমু বলেন, সাভারস্থ চামড়া শিল্পনগরীতে পরিবেশ সম্মতভাবে চামড়া প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশে এই প্রথম ‘কমন এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি)’ স্থাপন করা হয়েছে এবং এর সাথে সুওয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান (এসটিপি) ইনটিগ্রেটেড’ করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, চারটি মডিউলের মধ্যে ইতোমধ্যে দুটি মডিউলের মাধ্যমে ট্যানারি এ্যাফুলয়েন্ট পরিশোধনের কাজ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি তিনটি ‘কমন ক্রোম রিকভারি ইউনিট (সিসিআরইউ)’-এর মাধ্যমে এফ্লুয়েন্ট থেকে ক্রোম আলাদা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ভৌত অবকাঠামোর মধ্যে যেমন রাস্তা, ড্রেন, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস লাইন স্থাপন করা হয়েছে। শিল্পমন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ থেকে স্থানান্তর কার্যক্রমের জন্য কিছু সংখ্যক ট্যানারি শিল্পে কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও সাভারে স্থানান্তরিত ট্যানারি শিল্প প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন এখন আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাবে এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানির হার বৃদ্ধি পাবে।

এটি বেপরোয়া অর্থ সংগ্রহের বাজেট : ফখরুল

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বিএনপি বলেছে, এই বাজেট বেপরোয়া অর্থ সংগ্রহের বাজেট। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা বলেতে পারি এই বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়। কেবলমাত্র অলীক স্বপ্ন-কল্পনাই এই প্রস্তাবিত বাজেটের ভিত্তি। কেননা রাজস্ব আদায় ছাড়াও বাজেটের বেশ কিছু কল্যাণমুখী লক্ষ্য থাকে। কিন্তু এই বাজেট দেখে মনে হচ্ছে কল্যাণমুখী লক্ষ্যগুলো অর্থমন্ত্রীর বিবেচনায় আসেনি। এসব কারণে আমরা আশাহত এবং ক্ষুব্ধ। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ রোববার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বাজেটের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, জনগণের প্রতিনিধিত্বহীন পার্লামেন্টে যেখানে কোনো জবাবদিহিতা নেই, সেই পার্লামেন্টে এই বাজেট পেশ করা হয়েছে। এখানে সরকারের দায় কোথায়? জনগণের কাছে সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই বলেই এই বঞ্চনার বাজেট জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লক্ষ ২৬৬ কোটি টাকার ব্যয় সম্বলিত একটি বাজেট পেশ করেছেন। যা টাকার অঙ্কের দিক থেকে বাংলাদেশের জন্য সর্বকালের বৃহত্তম বাজেট। এই বাজেট বিশ্লেষণ করে আমরা যুগপৎ বিস্মিত, ক্ষুব্ধ এবং হতাশ হয়েছি। বর্তমান সরকার যেসব মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সেগুলোর কাজ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করাই সরকারের অঘোষিত লক্ষ্য। এর জন্য প্রয়োজন হবে প্রচুর অর্থের। সেই অর্থের যোগান দেখানোর জন্যই জনগণের ওপরে করের বোঝা চাপিয়ে একটি গাণিতিক হিসেবের বাজেট হিসেবে এই বাজেট পেশ করা হয়েছে।
পরবর্তী নির্বাচনের পূর্বে সরকার এইসব প্রকল্পকে নির্বাচনী প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। তারা বলতে চাইবে দেশের একমাত্র সার্থক উন্নয়নকারী তারাই। বিএনপি মহাসচিব বাজেটের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেট ব্যয়ের লক্ষ্য ছিল ৩ লক্ষ ৪০ হাজার ৬ শত ৫ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এই ব্যয়ের মাত্রা নি¤œমুখী সংশোধন করে স্থির করা হয়েছে ৩ লক্ষ ১৭ হাজার ১ শত ৭৪ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মার্চ ২০১৭ পর্যন্ত প্রকৃত ব্যয়ের পরিমান ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৩ শত ৩৩ কোটি টাকা। এনবিআর-ট্যাক্স রাজস্ব এর লক্ষ্য ছিল ২ লক্ষ ২ হাজার ১ শত ৫২ কোটি টাকা। পরে এই অংককে সংশোধন করে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কাক্সিক্ষত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ওই বাজেটে বহিঃস¤পদ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৭ হাজার ৩ শত ৫ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এই লক্ষ্যমাত্রা ২৮ হাজার ৭ শত ৭১ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু এই সূত্র থেকে এসেছে মাত্র ২ হাজার ৫ শত ৫১ কোটি টাকা। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং বৈদেশিক সূত্র থেকে স¤পদ আহরণ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম হয়েছে। তাই আমরা সন্দিহান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য বাজেটের যে আকার প্রস্তাব করা হয়েছে সেটি অর্থায়নের জন্য দেশি এবং বিদেশি সূত্র থেকে কাক্সিক্ষত মাত্রায় স¤পদ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না। অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক মির্জা ফখরুল বলেন, গেল অর্থবছরের অনুন্নয়ন খাত ও উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে সংশোধিত বাজেটের অনুন্নয়ন ব্যয় জিডিপির ৯.১% এবং উন্নয়ন ব্যয় জিডিপির ৫.৯%। অর্থাৎ জিডিপির অংশ হিসেবে উন্নয়ন ব্যয় অনুন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় ৩.২% কম। অথচ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অনুন্নয়ন ব্যয় উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় কম থাকাই কাক্সিক্ষত। বাজেটের উন্নয়ন ব্যয়ের হিস্যা বাড়ানো সম্ভব হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অধিকতর ত্বরান্বিত করা সম্ভব। একটি জাতীয় দৈনিকের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৭ সনের মে মাস পর্যন্ত ১১ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের মাত্র ৬৫% বাস্তবায়িত হয়েছে।
অর্থবছরের শেষ ১ মাসে উন্নয়ন বাজেটের অবশিষ্ট অর্থ ব্যয় দেখাতে হলে সেই ব্যয় দুর্নীতি আর অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের স¤পদ সীমিত। সীমিত স¤পদের যথাযথ ব্যবহার দেশের প্রতিটি করদাতা নাগরিকের কাম্য। তিনি বলেন, ¯পষ্টতই প্রতীয়মাণ হয় প্রস্তাবিত বাজেটে অতীতের ধারায় অনুন্নয়ন ব্যয়ের প্রাধান্য অব্যাহত থাকছে। এত বিশাল আকারের বাজেটেও এই ধারা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব হল না, এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এমনকি একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান মন্তব্য করেছে, অর্থায়নের সব উৎস দেখার পর যখন ব্যয়ের হিসাব মিলছে না, তখন পুরোটাই বৈদেশিক সাহায্য থেকে আসবে বলে ধরে নিয়ে যোগ করে দেয়া হয়েছে। যে লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে সেটা ৪ বছরেও বাংলাদেশ করতে পারেনি। ২০১৫-১৬ সালে সর্বোচ্চ ২৭০ কোটি ডলার বৈদেশিক সাহায্য এসেছিল, আর প্রস্তাবিত বাজেটে সেটাকে ৭৬০ কোটি ডলার দেখানো হয়েছে যা ১৮১% বেশি, যা মোটেই অর্জন করা সম্ভব না। এটা জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা মাত্র। প্রস্তাবিত বাজেটেও ঘাটতি অর্থায়নের জন্য বৈদেশিক সূত্র থেকে বড় ধরনের প্রাপ্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীকে এই অর্থবছরেও এক্ষেত্রে নিরাশ হতে হবে। অর্থনীতি শাস্ত্রের বিচারে ঘাটতি অর্থায়ন অবাঞ্ছিত কিছু নয়। কিন্তু এর ফলে জাতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঋণ পরিশোধের বোঝা চেপে বসে। মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ঘাটতি অর্থায়নের মাধ্যমে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বিশেষ করে মেগা-উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চলেছে সরকার। বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এগুলো বাস্তবায়িত করতে না পারার অজুহাতে উদ্দেশ্যপ্রণেদিতভাবে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বাস্তবায়নাধীন অনেক মেগা প্রকল্পের ইউনিট প্রতি ব্যয় স¤পর্কে দায়িত্বশীল মিডিয়া কিছু মারাত্মক প্রশ্ন তুলেছে। পৃথিবীর অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায়, বিশেষ করে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে প্রকল্পগুলোর ব্যয় ৫ থেকে ৯ গুন বেশি। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির। এসব বিষয়ে মিডিয়াতে প্রশ্ন উঠলেও সরকার আজ পর্যন্ত খোলামেলা ভাবে হিসাব কষে দেখাননি কেন প্রকল্প ব্যয় এত বেশি। এ সকল মেগা প্রকল্পে যে মেগা চুরি হচ্ছে তা এখন সর্বজনবিদিত। বলা বাহুল্য, সরকার ঘনিষ্ট কিছু সুবিধাভোগীরাই কেবল এ সকল প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত। বিএনপি মহাসচিব বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্দ্ধগতি সম্পর্কে বলেন, ইতোমধ্যে বাজারে চালের দাম, বিশেষ করে মোটা চালের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। যা কেজি প্রতি ১০ টাকার কম নয়। এখনো এ দেশের অর্থনীতিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতির প্রভাব সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ১০ টাকা কেজিতে চাল নিশ্চিত করা। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী ৬ জুন ২০১৭ স্বর্ণা/চায়না ইরি মোটা চালের দাম ছিল ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা। এক মাসে এই বৃদ্ধির হার ৪.৬%। এক বছর পূর্বে জুন মাসের ৬ তারিখে মোটা চালের দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৪ টাকা। বাৎসরিক মুল্যবৃদ্ধির হার ৪২.১৯%। একই তারিখে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৮৪ থেকে ৮৬ টাকা। এর এক বছর আগে একই ধরনের তেলের দাম ছিল ৭৯ থেকে ৮৪ টাকা। গত ২৮ মে প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদ অনুযায়ী প্রতি কেজি মোটা চালের দাম বাংলাদেশে ৪৮ টাকা, ভারতে ৩৪.৩৩ টাকা, পাকিস্তানে ৩৮.৫৪ টাকা, থাইল্যান্ডে ৩৭.৮১ টাকা এবং ভিয়েতনামে ৩৩.৬২ টাকা। এই হিসেবে সারা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে চাল বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের মানুষের গড়ে ৬৫% ক্যলোরি আসে চাল বা ভাত থেকে। প্রতিদিন তারা খাবারের পেছনে যে অর্থ ব্যয় করে, তার ২৭ শতাংশ যায় চাল কিনতে। চালের দাম বাড়লে গরীব মানুষ ভাত খাওয়া কমিয়ে দেয়। চালের দাম ৪৮ টাকা হয়ে যাওয়ায় প্রায় ২ কোটি নি¤œবিত্ত পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। কয়েক বছর ধরে সরকার চাল ও অন্যান্য খাদ্য বিষয়ে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় আজ চালের দাম জনগণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গিয়ে তাদের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। জিডিপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিসংখ্যানের তেলেসমতি ঘটিয়ে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের চমক দেখানো হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী উভয়ই বলেছেন বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭.২৪%। এদিকে পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী শিল্পখাতে ৬.২৬% প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যার মধ্যে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে স্থির মুল্যে উৎপাদন বেড়েছে ১০.৯৬%। সার্বিক শিল্পখাত থেকে এখন জাতীয় অর্থনীতিতে ৩২.৫% অবদান আসে। এর মধ্যে ম্যানুফ্যাকচারিং খাত থেকে আসে ২১.৭৫%। এবার ম্যানুফ্যাকচারিং এ ১০.৯৬% প্রবৃদ্ধি হিসাব করা হয়েছে। বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বাজারে শিল্প পণ্যের চাহিদার তুলনায় রপ্তানি বাজারের চাহিদা বেশি। অথচ যে সময়ে শিল্পের উৎপাদন ১০.৯% বেড়েছে বলা হয়েছে সে সময়ে রপ্তানি বেড়েছে ৩% এর কিছু বেশি। শিল্পের কাঁচামালের আমদানি এলসি বেড়েছে ১.৫% এর মত। এই বিশ্লেষণে এটি ¯পষ্ট যে গত অর্থবছরে ৭.২৪% প্রবৃদ্ধির বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। যেখানে বিশ্ব ব্যাংক তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদন 'গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস'এ চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবিদ্ধির হার ৬.৮% প্রাক্কলন করেছে। এক্ষেত্রে সরকারের হিসাবের চেয়ে বিশ্ব ব্যাংকের প্রাক্কলন ও পূর্বাভাসকেই নির্ভরযোগ্য ও বাস্তবসম্মত বলে বিবেচনা করেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা। তারা বলছেন, রফতানি আয় ও রেমিটেন্স প্রবাহে মন্দা, বেকারত্ব বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসল হানি বিবেচনা করলে প্রবৃদ্ধি আরো কম হওয়ার কথা। বর্তমানে রেমিটেন্স প্রবাহে মন্দা থাকায় উদ্বেগ কিছুটা বাড়ছেই। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর মন্দা ঝুঁকি তৈরি করেছে। প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের ধ্বস দেখা দিলে বাংলাদেশের সামষ্টিক ভোগ ও বিনিয়োগেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৬.৪% নামতে পারে বলে বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে। সরকার পরিসংখ্যান জনিত বিভ্রাট ঘটিয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বাড়িয়ে দেখানোর সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। প্রশ্নবিদ্ধ জিডিপি প্রবৃদ্ধি দেখিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকরা এক ধরনের আত্মতুষ্টিজনিত রোগে ভুগছেন। বাজেটে প্রস্তাবিত ১৫% ভ্যাট প্রসঙ্গে বিভিন্ন দেশের পরিসংখ্যা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, অর্থমন্ত্রী মানুষকে বোকা বানানোর লক্ষ্যে অপ্রয়োজনীয় পণ্যের লম্বা তালিকা যোগ করে বাহাবা কুড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
এগুলোর মধ্যে আছে জীবন্ত ঘোড়া, গাধা, খচ্ছর ও ঘোটক, নানা ধরনের শুকরের মাংশ, টার্কি এবং বিভিন্ন জীবন্ত পক্ষী সহ বেশকিছু পণ্য সামগ্রী। এই তালিকায় বেশ কিছু পণ্য রয়েছে যেগুলো বাংলাদেশের সাধারন মানুষ আদৌ ব্যবহার করে না এবং এদেশের অনেক মানুষের জীবদ্দশায় একবারও দরকার পড়ে না। এভাবে শুন্য ভ্যাট তালিকাকে প্রহসণে পরিণত করা হয়েছে। উচ্চহারে ভ্যাট আহরণের ফলে দ্রব্যমূল্য বাড়বে, মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে, জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়বে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, নি¤œবিত্ত, ও দরিদ্র মানুষ ভয়ানক দুর্ভোগের মধ্যে পড়বে। আমরা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর আরোপিত ১৫% ভ্যাটের হার ভোক্তাদের সহনীয় পর্যায়ে হ্রাস করার দাবি জানাচ্ছি। বিএনপি মহাসচিব অর্থমন্ত্রী ব্যাংকে আমানতকারীদের জমানো আমানতের ওপর বিভিন্ন ¯¬্যাবে শুল্ক বাড়ানোর সমালোচনা করে বলেন, এরইমধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এর ফলে আমানতকারীরা ব্যাংক এ টাকা রাখার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বে। দেশে যেভাবে ব্যাংকিং অভ্যাস বাড়ছিল তা বাধাগ্রস্ত হবে, এমনকি ব্যাংক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হবে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে লেনদেন না হয়ে অনানুষ্ঠানিক খাতে লেনদেন বাড়বে। মানুষ সিন্দুকে টাকা রাখবে; না হয় বিদেশে পাচার করবে। এমনিতেই আমাদের অর্থনীতিতে অনানুষ্ঠানিক খাত বিশাল অংশ দখল করে আছে। এর ফলে সামাজিক অস্থিরতা বেড়ে যাবে, দুর্নীতি করার সুযোগ বাড়বে, স্বচ্ছতা হ্রাস পাওয়ার ফলে সরকারের রাজস্ব আহরণ কমে যাবে এবং সঞ্চয় প্রবনতা বাধাগ্রস্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা ব্যাংক আমানতের ওপর এহেন অন্যায় ও অনৈতিক বর্ধিত শুল্ক আরোপ বাতিল এবং ব্যাংক ব্যবস্থার পরিপূর্ণ সংস্কার দাবি করছি।

পরমাণু শক্তি কমিশন বিল সংসদে উত্থাপন

বাংলাদেশে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, উন্নয়ন, প্রসার তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পাদনে বিদ্যমান আইন যুগোপযোগি করার বিধানের প্রস্তাব করে আজ সংসদে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন বিল-২০১৭ উত্থাপন করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বিলটি উত্থাপন করেন। বিলে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন আদেশ-১৯৭৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন প্রস্তাবিত বিলের বিধান অনুযায়ী একইভাবে বহাল রাখার বিধান করা হয়েছে। বিলে কমিশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থাপন ও প্রয়োজনে সরকারে অনুমোদনে দেশের যে কোন স্থানে একাধিক শাখা কার্যালয় স্থাপন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া বিলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ১ জন চেয়ারম্যান ও অনধিক ৪ জন সদস্য সমন্বয়ে কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়। বিলে কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের নিয়োগ, মেয়াদ ও পদত্যাগ, প্রধান নির্বাহী, কমিশনের সভা, কমিশনের কার্যাবলী, অর্থ উপদেষ্টা ও সচিব নিয়োগ, বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন, আবিস্কার, উদ্ভাবনসহ মেধাস্বত্ব, কোম্পানী গঠন, বাজেট প্রণয়ন, কমিশনের প্রতিবেদন, কমিশনের জনবল কাঠামো, তহবিল, হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা, গোপনীয়তা, জনসেবক, ক্ষমতা, বিধি-প্রবিধি প্রণয়নের ক্ষমতাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধানের প্রস্তাব করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১ মাসের মধ্যে সংসদে রিপোর্ট প্রদানের জন্য বিলটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয়। বাসস

বাঙ্গালি ছাত্র পরিষদের ডাকে রাঙ্গামাটিতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে

রাঙ্গামাটির লংগদুতে যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন হত্যা, অজ্ঞাত বাঙালি যুবকের লাশ উদ্ধার ও লংগদুতে বাঙ্গালীদের গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের ডাকে আজ রোববার রাঙ্গামাটি জেলায় সকাল সন্ধ্যা হরতাল পালিত হচ্ছে। হরতালের সমর্থনে রাঙ্গামাটি শহরের প্রবেশ মুখ মানিকছড়ি, ভেদেভেদী, কলেজ গেইট বনরূপায় পিকেটিং করেছে হরতাল সমর্থনকারীরা।
সকালে রাঙ্গামাটি বাস টার্মিনাল এলাকায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে ও শহরের পৌরসভা এলাকায় গাছের গুরি ফেলে বিক্ষোভ করে হরতাল আহবানকারীরা। হরতালের কারণে রাঙ্গামাটি অভ্যন্তরীণ ও দুরপাল্লার সকল রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া নৌ পথেও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেন : ঈদে ভোগান্তি কমাতে সংস্কার

আসন্ন ঈদুল ফিতরে মানুষের নির্বিগ্নে যাতায়াত করতে সংস্কার করা হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। সড়কের বিভিন্ন স্থানে দেবে যাওয়া অংশে ঈদের পূর্বে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করবেন কর্তৃপক্ষ। রমজান শুরু হবার আগ থেকেই ফোরলেনের বিভিন্ন অংশের সংস্কার কাজ চলতে দেখা যাচ্ছিল। এখন এই সংস্কার কাজের গতি আরো বেড়ে উঠেছে। রবিবার (১১ জুন) সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের মিরসরাই উপজেলার বাদামতলীয় এলাকায় সড়কের সংস্কার কাজ করছেন শ্রমিকরা। আবার কোথাও কোথাও সড়কের দেবে যাওয়া ও উঁচু নিচু অংশ কাটিং মেশিন দিয়ে কেটে সংস্কার চালাতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে মিরসরাই সদরের বালিকা বিদ্যালয়ের সামনের অংশ, মিঠাছরা বাজারের বাইপাসের বিভিন্ন অংশে, হাদিফকিরহাট, নিজামপুর, চিনকি আস্তানা, সোনাপাহাড়ের বিভিন্ন অংশে সড়কের কোথাও কোথাও উঁচু নিচু হয়ে গেছে, অনেকটা আলু ক্ষেতের আইলের মতো উঁচু নিচু লাইন হয়ে গেছে সড়কে। এতে যানবাহনগুলো অনেক সময় নিয়ন্ত্রন রাখতে না পেরে ঘটাচ্ছে দুর্ঘটনা। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ও ঘটে এইসব গর্ত আর উঁচু নিচু ডিবিতে। গত সপ্তাহে মিঠাছরা অংশে অতিরিক্ত দেবে যাওয়া অংশ সংস্কার করছিলেন। এসময় কর্মব্যস্ত শ্রমিক,
সুপারভাইজার, প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাইলে এভাবে এতো দ্রুত ঢাকা-চট্টগ্রাম চারলেনের মতো সড়ক কেন দেবে যাচ্ছে জানতে চাইলে রেজা কনষ্ট্রাকশন এর সহকারি প্রকৌশলী তারাপদ সরকার বলেন সড়কের ওভারলোডিং যতোক্ষন বন্ধ হবে না ততোক্ষন এই সড়ক বেশী সময় টেকসই রাখা সম্ভব নয়। একই মন্থব্য করলেন কর্মরত সড়কের সুপারভাইজার নীল কমল ও । তারা একমত যে এই রুটের বড়দারোগারহাট স্কেলটি নামে মাত্রই সক্রিয়। নিত্য ওভারলোড যানবাহন চলছেই । কমেনি বরং বেড়েছেই। অনেকে এই ওভারলোড়িং কন্ট্রোলকে সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় অথবা অধীনে পরিচালনার পরামর্শও দেন। এই সড়কের নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রী চৌধুরী বোরহান উদ্দিন জানান, আমি দুবছর আগে ও এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকালে অনিশ্চিত থাকতাম যে কখন পৌছুবো ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম। এখন অনেকটা আশ্বস্থ যে, বড় ধরনের কোন বিপত্তি না হলে একটা নির্ধারিত সময়ে পৌছাবো । তবে এখন সড়কটির দেবে যাওয়া ঝুকিপূর্ণ বিষয়গুলোর স্থায়ী সমাধান বিশেষ করে ওভারলোডিং কন্ট্রোল না করলে সড়ক বিভাগকে সারাবছরই সড়ক সংস্কার করতে হবে। আর এক্ষেত্রে একলেন বন্ধ করে আরেক লেন চালু রেখে সংস্কার করতে হয়। তাতে ফোর লেন করে আর লাভ কি হলো। অথবা সরকারে পরিকল্পনাধিন ছয়লেন শুধুমাত্র মালামাল পরিবহনকারী ওভারলোড় গাড়ীর জন্যই করার দাবী করেন তিনি। এই বিষয়ে চারলেন প্রকল্পের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও সওজ এর চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, আমরা এবারের ঈদের আগেই চারলেনের ঠিকাদার থেকে কাজ বুঝে নেব। তাই ওরা সংস্কার ও ফাইনাল লেয়ার দিয়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন আমরা আশা করছি এবারের ঈদ যাত্রা হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সকল যাত্রীদের জন্য দুর্ভোগহীন আনন্দময় যাত্রা।

মিরসরাইয়ে খালের মুখ ভরাট, আমন চাষ নিয়ে শঙ্কিত কৃষক

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে খালের মুখ ভরাট, খালের উপর অবৈধ স্থাপনা নির্মান করায় সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদী জলাবদ্ধতার কারণে আমন মৌসুমে চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কিত উপজেলার প্রায় ৭ হাজার কৃষক। গত মৌসুমেও আমন রোপার ঠিক আগে জলাবদ্ধতায় নষ্ট হয়ে যায় আমন বীজ তলা। আবার ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগে বৃষ্টি হলে জলবদ্ধতায় নষ্ট হয়ে যায় শতশত একর পাকা আমন ধান। সম্প্রতি বৃষ্টিতেও উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ মেয়াদী জলাবদ্ধতা। ফলে সামনের আমন চাষ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১২ নম্বর খৈইয়াছড়া ইউনিয়নের বুর্জরনগর, চৌধুরীপাড়া, পদ্দাবাজ, ছড়ারকুল, মসজদিয়া, মুহুরীপাড়া এলাকায় রয়েছে প্রায় ১০ হাজার একর ফসলি জমি। ওই জমিগুলোতে আউশ ও আমন চাষ করে স্থানীয় কৃষকরা। জমিগুলো থেকে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানি যাওয়ার একমাত্র পথ কামারীয়া খাল। কিন্তু খালের মুখ ভরাট করে গাছ লাগিয়েছে চৌধুরীপাড়ার রবিউল নামে একব্যক্তি। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলে এখন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। চলতি মৌসুমে আউশ চাষ করা ছরারকুল এলাকার কৃষক মো.নুর নবী বলেন, জমিতে আউশ রোপা লাগানোর একদিন পরই বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি বন্ধ হলে বৃষ্টি পানি ও পাহাড়ি ঢল নেমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। যে পানি এক দুই দিনের খালে নেমে যাওয়ার কথা সে পানি প্রায় ১০ দিনেও নামেনি। ফলে আউশ রোপার অধিকাংশ পানির নেচে থেকে পঁচে গেছে। আবার নতুন করে রোপা লাগিয়েছেন। মো. নুর নবী বলেন, বৃষ্টি পানি চলাচলে জায়গা না রেখে কামারীয়া খালের মুখ ভরাট করার গত দুই বছর ধরে এমন সমস্যা হচ্ছে। আবুল কালাম নামে আরেক কৃষক বলেন, গত আমন মৌসুমে পাকা ধান ঘরে তোলার ঠিক আগে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি খালে যাওয়ার জায়গা থাকলে এমন লোকসান গুনতে হতো না। বুর্জরনগর এলাকার কৃষক সামছুল অভিযোগ করেন, কামারীয়া খালে মুখ ভরাট করে ফেলায় গত দুই বছর ধরে একটু বেশি বৃষ্টি হলে বাড়ি ঘরে পানি উঠে যাচ্ছে। কৃষকরা চাষাবাদ করতে পারছেনা। সম্প্রতি বিষয়টি খৈইয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নন্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাহফুজুল হক জুনুকে অভিযোগ করেছে কৃষকরা। কিন্তু কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। খালের মুখ ভরাট, খাল দখল ছাড়াও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখে অপরিকল্পিত বাড়ি ঘর নির্মানের ফলেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ওই কৃষক। ১৩ নম্বর মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহম্মদ নিজামী অভিযোগ করেন, বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়ক হয়ে আবুতোবার বাজারের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সাহেরখালী-মঘাদিয়া খালটি বাজার অংশ প্রায় দখল হয়ে আছে। খালের উপর নির্মান করা হয়েছে পাকা-কাঁচা বিভিন্ন স্থাপনা। কযেক বছর আগে বিএডিসি থেকে খালটি খননেন প্রক্রিয়া করা হলেও দখলের কারণে বাজার অংশে খনন করা সম্ভব হয়নি। খালের সামনে ও পিছনে খনন করে মাঝখানের জায়গাটি রেখে দেয়ায় বাজারের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এছাড়া আবুতোরাব থেকে সাহেরখালী স্লুইচ গেইট পর্যন্ত গাছগাছালিতে জঙ্গল হয়ে যাওয়ায়ও পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হয়। সাহেরখালী-মঘাদিয়া খাল দিয়ে সৈয়দালী, পূর্ব মায়ানী, মধ্যম মায়ানী এলাকার বন্যার পানি নিষ্কাশন হয়। ওই এলাকায় কমপক্ষে ৫ হাজার একর জমিতে দুই ফসলী চাষাবাদসহ রবি শস্য ও শাক সবজির চাষ হয়। কিন্তু খাল দখল ও খাল অপরিষ্কারের কারণে জলাবদ্ধতায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পূর্ব মায়ানী এলাকার কৃষক জহিরুল হক জানান, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বাঁধা সৃষ্টি করার কারণে জলাবদ্ধতায় চাষাবাদে কৃষকের অনীহা দেখা দিয়েছে। কৃষক বারবার লোকসান দিয়ে চাষ করে। আবার ফসল ঘরে তোলার সময়ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
ফসল ঘরে তোলার পর বাজারে নিয়ে গেলে খরচ অনুপাতে ফসলের দাম পায় না। বন্যার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিক থাকলে লোকসান থেকে অনেকটা কৃষক বেঁচে যাবে। জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় এলাকায় বিএসআর নামে একটি শিল্প কারখানা স্থাপনের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে এলাকার পানি চলাচলের পথ। ফলে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষক। সম্প্রতি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে খিলমুরারী গ্রামে প্রায় ২ শতাধিক বাড়ি পানিতে ডুবে যায়। পানিতে ডুবে ধসে পড়ে প্রায় ৫০টি মাটির তৈরী বসতঘর। স্থানীয় কৃষক শফিউল বলেন, বিত্তশালীরা অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে তোলছে কল কারখানা। দুর্ভোগে পড়েত হচ্ছে এলাকার গরীব মানুষকে। খিলমুরারী গ্রামে জলাবদ্ধতায় যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তাতে সামনে জমিতে আমন চাষাবাদ দুরের কথা, বর্ষায় নিজেদের থাকাও দূরসাধ্য হয়ে যাবে। খৈইয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরী অভিযোগ করেন, সাহেরখালী-মঘাদিয়া খাল ও মঘাদিয়া খন্দাকাটা খাল দখলের কারণে সৈয়দালী, পশ্চিম খইয়াছড়া, ফেনাপুনী, গোভনীয়া এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষক চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। প্রশাসন থেকে খাল দখলকারীদের উচ্ছেদের কোন পদক্ষেপ না নেয়া তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খৈইয়াছড়া ইউনিয়নের কামারীয়া খালের মুখ ভরাট সম্পর্কে তিনি কৃষকদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান। মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ বুলবুল আহমেদ বলেন, এ উপজেলার ৬২ শতাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল । আর এদের অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা। খালগুলো দখল মুক্ত ও যথাযথ সংষ্কার করা গেলে জলাবদ্ধতা আর থাকবে না। কৃষকও লোকসানের হাত থেকে অনেকটা রক্ষা পাবে। মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহমেদ সুমন বলেন, যে সব খালের উপর স্থাপনা রয়েছে, খালের মুখ ভরাট করা হয়েছে সেসব জায়গায় শীঘ্রই আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালানো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বর্তমানে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা গড়ে ৯ হাজার মেগাওয়াট : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বর্তমানে দৈনিক চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে মোট ১১ হাজার ৩৬৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।
গতকাল রোববার সংসদে সরকারি দলের কামাল আহমেদ মজুমদারের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সংসদকে এ তথ্য জানান। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মোট ৪ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে মোট ৬ হাজার ৪১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনাধীন রয়েছে। এছাড়াও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি পরমাণু শক্তি নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ আমদানি কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

অপহরণের ৬ মাস পর চোখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার

লক্ষ্মীপুর শহরের পুরাতন আদালত এলাকায় থেকে অপহৃত রাকিবুল হাসান রকির খোঁজ মিলেছে ৬ মাস পর। রবিবার ভোর রাতের দিকে লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়কের বাগবাড়ী এলাকায় রাস্তার পাশে চোখ বাঁধা অবস্থায় রকিকে ফেলে রেখে যায় দূর্বত্তরা। পরে স্থানীয় লোকজন রাস্তার পাশে চোখ বাঁধা অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে তাঁর বাবা তোফায়েল আহমদকে খবর দেন। খবর পেয়ে রকির পরিবারের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে নিজ বাসায় নিয়ে যায়। রাকিবুল হাসান রকি জানান, অপহররে পর থেকে হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় একটি ছোট্ট ঘরে ফেলে রাখা হয়েছিল তাকে। গত ৬ মাস ৬দিন এ ভাবে রাখা হয়েছিল তাকে। চোখ বাঁধা অবস্থায় তাঁকে খাবার-দাবারও দেয়া হতো।
কোথায় রাখা হয়েছে এবং কারা নিয়ে গেছে সেটা বলতে পারছে না রাকিবুল হাসান রকি। তবে তাকে কোন নির্যাতন করা হয়নি বলেও জানান তিনি। রকিকে জীবিত পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্টমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তার বাবা-মা। লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন জানান, রাকিবুল হাসান রকি ফিরে আসার ব্যাপারে এখনও তিনি কিছুই জানেন না। তবে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর রাতে লক্ষ্মীপুর শহরের পুরাতন আদালত এলাকায় রাকিবুল হাসান রকি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট খেলছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবক তাকে অপহরন করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় রাকিবুল হাসান রকির বাবা পরের দিন সকালে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেন। রাকিবুল হাসান রকি স্থানীয় একটি মোটরসাইকেল শো-রুমে মার্কেটিংয়ে কাজ করতেন। তবে আইনশৃংখলা বাহিনী তাকে তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ ছিল।

লঞ্চের অগ্রিম টিকিট ১৫ জুন থেকে

আগামী ১৫ জুন থেকে লঞ্চের ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের কাউন্টারে এই টিকিট পাওয়া যাবে। রোববার ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনাল মিলনায়তনে নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগ আয়োজিত সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভায় জানানো হয়, ১৫ জুন সকাল থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের কাউন্টার থেকে ভিআইপি এবং প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কেবিনের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে ২০ জুন থেকে নিয়মিত লঞ্চের বাইরে বিশেষ লঞ্চ চলাচল শুরু হবে। অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে কোনো অতিরিক্ত অর্থ আদায় হবে না বলে সভায় জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের পরিচালক আবু জাফর হাওলাদার। প্রধান অতিথি ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর এম. মোজাম্মেল হক।

আতঙ্কে লাফ দেয়ার পর ভেঙে পড়ল কপ্টার

পাঁচ পর্যটক, দুই পাইলট ও এক ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে সবে উড়েছে হেলিকপ্টারটি। এর এত গতি ছিল যে উড়তে গিয়েই একটু বেসামাল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে উড়ন্ত হেলিকপ্টার থেকেই প্রাণভয়ে ঝাঁপ দেন ইঞ্জিনিয়ার। কপ্টারের রোটারে লেগে ছিটকে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। এই ঘটনার পরমুহূর্তেই পর্যটকদের নিয়ে ভেঙে পড়ে হেলিকপ্টারটি। ভারতের উত্তরাখণ্ডের বদ্রিনাথের ঘটনা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে জানায়, শনিবার সকাল পৌনে ৮টায় বদ্রিনাথ থেকে পর্যটকদের নিয়ে মুম্বাইয়ের ক্রেস্টাল অ্যাভিয়েশনের অগাস্টা ১১৯ কোয়ালা হেলিকপ্টার হরিদ্বারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। বাতাসের প্রচণ্ড গতির কারণে ওড়ার সময়ই হেলিকপ্টারটি একটু বেসামাল হয়ে পড়ে। তখনই প্রাণভয়ে হেলিকপ্টার থেকে ঝাঁপ দেন ইঞ্জিনিয়ার। ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ) সূত্রে জানানো হয়েছে, এই দুর্ঘটনায় ইঞ্জিনিয়ার মারা গিয়েছেন। অল্প আহত হয়েছেন পাইলটরা। তবে পর্যটকরা সুরক্ষিতই আছেন।

'শেখ হাসিনার কারামুক্তি গণতন্ত্রের মুক্তির পথ প্রসারিত করে'

গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে ওয়ান ইলেভেনের অগণতান্ত্রিক সরকার মুলত সারাদেশ কারারুদ্ধ করতে চেয়েছিল। ১১ জুন শেখ হাসিনার কারামুক্তির মাধ্যমে গণতন্ত্রের মুক্তির পথ প্রসারিত হয় বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে রোববার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা একথা বলেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সূত্রপাত করলে এ বিষয়ে অনির্ধারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি দলের সদস্য আব্দুল মতিন খসরু, পঙ্কজ নাথ, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পী, সাবিনা আক্তার তুহিন, বেগম নুরজাহান বেগম ও উম্মে রাজিয়া কাজল বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, ২০০৮ সালের ১১ জুন শেখ হাসিনার কারামুক্তির মধ্য দিয়ে এদেশের অবরুদ্ধ গণতন্ত্রের মুক্তির পথ প্রসারিত হয়েছিল।
তিনি মুক্ত না হলে দেশে আজ যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চলমান তা কখনোই সম্ভব হতো না। সংসদ সদস্যরা বলেন, দুর্নীতিতে আপাদমস্তক নিমজ্জিত বেগম খালেদা জিয়াকে তখন গ্রেফতার না করে একটি সুগভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। তার ওপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। এমনকি ওই সময় স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রও করা হয়। তারা এ সময় বৃটিশ পার্লামেন্টে সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ রেজওয়ান সিদ্দিকসহ রুশনারা আলী ও রুপা হকের বিজয়ে অভিনন্দন জানান। ওয়ান ইলেভেনের অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিভিন্ন মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা গ্রেফতার হন। কারাগারে থাকাকালে শেখ হাসিনা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় চিকিৎসার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তার মুক্তির জোর দাবি ওঠে। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠন ও দেশবাসীর আন্দোলন এবং আপোষহীন মনোভাবের কারণে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

আবগারি শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি বিএনপির

ব্যাংক আমানতের ওপর অন্যায় ও অনৈতিক বর্ধিত শুল্ক আরোপ বাতিল ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট ভোক্তাদের সহনীয় পর্যায়ে হ্রাস করার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। রোববার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী ব্যাংকে আমানতকারীদের জমানো আমানতের ওপর বিভিন্ন স্লাবে শুল্ক বাড়িয়েছেন। এক লাখ টাকার উপর এবার শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে ৮০০ টাকা। আবার সঞ্চয়কারীর আমানতের পরিমান ডেবিট-ক্রেডিট প্রক্রিয়ায় তার একাউন্টে বছরের যে কোনো সময় ১ লাখ টাকা থাকলেই ৮০০ টাকা কেটে রাখা হবে। একদিকে বর্তমানে আমানতের উপর সুদের হার হ্রাস করা হয়েছে। তার ওপর বর্ধিত হারের এই শুল্ক। ফখরুল বলেন, আমানতকারীরা এখন শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন, তারা কোথায় যাবে।
সুদ কমছে, মূল্যস্ফীতির ফলে প্রকৃত সুদের হার ঋণাত্মক হয়ে পড়ছে, এর ওপর বাড়ছে কর। এছাড়া রয়েছে ব্যাংকের লেনদেন জনিত কর্তন। এর ফলে ১ লাখ টাকার আমানতকারী দিনের শেষে টাকা উঠাতে গিয়ে দেখবে মুনাফা তো দূরের কথা, তার মূল আমানত ১ লাখ টাকাও পাচ্ছেন না।  আমরা ব্যাংক আমানতের ওপর এ অন্যায় ও অনৈতিক বর্ধিত শুল্ক আরোপ বাতিল এবং ব্যাংক ব্যবস্থার পরিপূর্ণ সংস্কার দাবি করছি। ভ্যাটের বিষয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, এ বাজেটে প্রস্তাবিত ১৫% ভ্যাট দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্বোচ্চ । ভারতে ভ্যাটের হার ১২.৫%, নেপালে ১৩%। মালদ্বীপে সব ক্ষেত্রে ৬% ও পর্যটন খাতে ১২%। তাছাড়া বাংলাদেশের প্রতিযোগী ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারে এর হার ১০%। উচ্চহারে ভ্যাট আহরণের ফলে দ্রব্যমূল্য বাড়বে, মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে, জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়বে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, ও দরিদ্র মানুষ ভয়ানক দুর্ভোগের মধ্যে পড়বে।  আমরা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের উপর আরোপিত ১৫% ভ্যাটের হার ভোক্তাদের সহনীয় পর্যায়ে হ্রাস করার দাবি জানাচ্ছি। মির্জা ফখরুল বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লক্ষ ২৬৬ কোটি টাকার এই বাজেট বাংলাদেশের জন্য সর্বকালের বৃহত্তম বাজেট। এই বাজেট বিশ্লেষণ করে আমরা যুগপৎ বিস্মিত, ক্ষুব্ধ এবং হতাশ হয়েছি। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা বলেতে পারি এই বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়। কেবলমাত্র অলীক স্বপ্ন-কল্পনাই এই প্রস্তাবিত বাজেটের ভিত্তি।

মসজিদ নির্মাণে বাধা দেয়ায় ৩২ লাখ ডলার জরিমানা

মসজিদ নির্মাণে বাধাপ্রদানের ঘটনায় পাঁচ বছর পর ৩২ লাখ ডলার জরিমানা গুনেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির বার্নাডস উপশহরের স্থানীয় ব্যবস্থাপনা পরিষদ। মসজিদ নির্মাণ করলে জন সমাগম ও যানবাহনের পরিমাণ বেড়ে যাবে ও জীবনযাত্রার মান বিঘ্নিত হবে জানিয়ে নির্মাণে বাধা দেয়া হয়েছিল।
এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যায় স্থানীয় ইসলামিক সোসাইটি। তাদের করা মামলায় শেষ পর্যন্ত হেরে মসজিদ নির্মাণে বাধা দেয়ায় ৩২ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে বার্নাডস উপশহরের স্থানীয় ব্যবস্থাপনা পরিষদ। আদালত তার রায়ে জানায়, মসজিদ নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কর্তৃপক্ষ বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে। এটা সম্পূর্ণভাবে মার্কিন শাসনতন্ত্রের পরিপন্থী।

হামাসকে 'বৈধ প্রতিরোধ সংগ্রাম' বললেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে একঘরে হয়ে পড়ার পরেও ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসকেই সমর্থন করেছে কাতার। কাতার কর্তৃপক্ষের দাবি, হামাস কোনও সন্ত্রাসী সংগঠন নয়। বরং সংগঠনটিকে 'বৈধ প্রতিরোধ সংগ্রাম' বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি। রোববার রাশিয়া টুডেতে প্রকাশিত এক স্বাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন থানি। তিনি বর্তমানে রাশিয়া সফরে রয়েছেন। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'হামাস একটি বৈধ প্রতিরোধ সংগ্রাম। যুক্তরাষ্ট্র হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে। কিন্তু সব আরব দেশই জানে এটা ফিলিস্তিনের মানুষের বৈধ প্রতিরোধ সংগ্রাম।'
তবে কাতারের বিরুদ্ধে হামাসকে সহযোগিতা করার যে অভিযোগ সৌদি আরব করছে তা অস্বীকার করেছেন থানি। তিনি বলেন, 'আমরা হামাসকে সমর্থন করি না। আমরা ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষকে সমর্থন করি।' মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুড ও ফিলিস্তিনের হামাসকে সাহায্য করা এবং ইরানের সঙ্গে গভীর সম্পর্কের অভিযোগ এনে সৌদি আরব ও তার তিন মিত্র কাতারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে। প্রথম দফায় সৌদি আরব, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন সম্পর্ক ছিন্ন করলেও পরের দফায় লিবিয়া এবং ইয়েমেনও কাতারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে। এছাড়া সেনেগাল ও মালদ্বীপও কাতারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে। আর জর্ডান সম্পর্কছিন্ন করলেও পরে তা শিথিল করে। তবে কুয়েত আমির উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

লিবিয়ায় গাদ্দাফির ছেলের মুক্তি

লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় ছেলে সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফিকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। সাইফের মুক্তিতে দেশটিতে আবারো অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্স। লিবিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, সাইফকে শুক্রবার মুক্তি দেয়া হয়েছে। তবে তাকে এখনো প্রকাশ্যে আনা হয়নি। সাইফ বর্তমানে দেশটির পূর্বাঞ্চলের বাইদা শহরে তার আত্মীয়দের সঙ্গে রয়েছেন বলে গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। সন্তানদের মধ্যে সাইফই গাদ্দাফির বেশি পছন্দের ছিলেন। তাকে গাদ্দাফির যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত ছয় বছর ধরে তিনি জিনতান শহরের একটি মিলিশিয়া দলের কাছে বন্দী ছিলেন। দেশের পূর্বাঞ্চলীয় সরকার ইতোমধ্যেই সাইফ আল আলমকে বিশেষ ক্ষমা প্রদান করেছে। তবে এর আগেও একবার সাইফের মুক্তির কথা বলা হয়েছিল।পরে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

ঈদুল ফিতরের জামায়াত সাড়ে ৮টায়

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে আটটায় অনুষ্ঠিত হবে। আর আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে প্রধান জামাত বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে। রোববার ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ অথবা ২৭ জুন পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে।

৬ মাস পর চোখ বাঁধা অবস্থায় ফিরল যুবক

লক্ষ্মীপুর থেকে অপহরণের ৬ মাস পর চোখ বাঁধা অবস্থায় রাকিবুল হাসান রকি নামে এক যুবককে ছেড়ে দিয়েছে অপহরণকারীরা। রোববার ভোর রাতে শহরের বাগবাড়ি এলাকায় একটি গাড়িতে করে এনে তাকে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরে স্থানীয় এক রিকশাচালক তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেন বলে জানান রকি। রাকিবুল হাসান রনি লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকার সোনালী কলোনীর বাসিন্দা তোফায়েল আহমেদের ছেলে। রাকিবুল বলেন, কারা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল তা তিনি জানেন না।
তাকে বেশিরভাগ সময় হাতকড়া পরিয়ে চোখ বেঁধে রাখা হত একটি ঘরে। শুধু খাওয়া বা টয়লেটে যাওয়ার সময় হাতকড়া খোলা হত। তাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি এবং কেউ তাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করেনি বলে জানান ওই যুবক। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর শহরের পুরাতন আদালত রোড থেকে রাত ১০টার দিকে ব্যাডমিন্টন খেলার মাঠ থেকে তাকে সাদা মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহরণের পরের দিন ৭ ডিসেম্বর তার বাবা তোফয়েল আহমেদ লক্ষ্মীপুর সদর থানায় জিডি করেন। রাকবুল হাসান রকি স্থানীয় একটি মোটরসাইকেল শো রুমের মার্কেটিং ম্যানেজার হিসাবে কাজ করতেন।

পকেটে গাঁজা দেয়ার চেষ্টায় জনরোষে পুলিশ

চলন্ত মোটরসাইকেল থামিয়ে যুবকের পকেটে গাঁজা দেয়ার চেষ্টা এবং মোবাইল ফোন ভেঙ্গে ফেলায় জনরোষে পড়েছেন যশোর কোতয়ালি থানার এক উপ-পরিদর্শক। ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহবুবুর রহমান। পরে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে যশোর শহরের সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে শহরের মাইকপট্টি এলাকার শরিফুল ইসলামের ছেলে শৈশব অভিযোগ করে বলেন, রাত পৌনে ১০টার দিকে বন্ধু সুব্রতকে সঙ্গে নিয়ে একটি মোটরসাইকেলে করে এমএসটিপি স্কুলের সামনে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার সামনে পৌঁছালে সাদা পোশাকের একজন পুলিশ তার মোটরসাইকেল থামান এবং পেছনে বসা সুব্রতর পকেট চেক করতে যান। সে সময় সুব্রত তার পকেট নিজে দেখান। এসময় পকেট থেকে একটি চাবি নিচে পড়ে গেলে সুব্রত সেটি উঠাতে যান। এসময় একটি কাগজে মোড়নো গাঁজা সুব্রতর পকেটে দেয়ার চেষ্টা করেন ওই পুলিশ সদস্য। সেটি দেখে ফেলায় ‘পকেটে কী দিচ্ছেন বলে প্রতিবাদ করেন সুব্রত।’ তখন ওই পুলিশ গালি দিলে তারা চিৎকার চেঁচামেচি করেন। এ সময় শৈশব তার মোবাইল ফোন পকেট থেকে বের করে ফোন দিতে গেলে ওই পুলিশ সদস্য তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং রাস্তার ওপর ফেলে ভেঙ্গে দেন। এতে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে এসআই মাহবুবকে ঘিরে ফেলেন এবং তাকে মারতে উদ্যত হয়। খবর পেয়ে কোতয়ালি থানা থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে এসে মাহবুবকে সরিয়ে নেন। পরে পুলিশ মোবাইল ফোনের ক্ষতিপূরণ বাবদ তিন হাজার টাকা দেয়ার অঙ্গীকার করেন। একইসঙ্গে এসআই মাহবুবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ওসি শামসুদ্দোহা। এ বিষয়ে শনিবার রাতে যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ওই ঘটনার জন্য এসআই মাহবুবকে দোষি সাব্যস্ত করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

মহাত্মা গান্ধী ‘ধুরন্ধর বেনিয়া’!

ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীকে ‘ধুরন্ধর বেনিয়া’ বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। ছত্তিশগড় সফরে গিয়ে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ গান্ধীজীর পাশাপাশি কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেন। রায়পুরে এক সভায় তিনি বলেন, কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিই নেই। কংগ্রেস কোনো একটি বিশেষ মতাদর্শ বা বিশেষ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গড়ে ওঠেনি। কংগ্রেস ছিল সে ফ দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য একটি প্লাটফর্ম। দক্ষিণপন্থী থেকে বামপন্থী, সমাজবাদী ও কমিউনিস্ট বিভিন্ন আদর্শে বিশ্বাসীরা কংগ্রেসে শামিল হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধীর দূরদৃষ্টি ছিল। ‘চতুর বেনিয়া’ মহাত্মা জানতেন কী হতে পারে।
স্বাধীনতার পরে তাই তিনি বলেছিলেন, কংগ্রেস ভেঙে দেয়া উচিত। মহাত্মা গান্ধী করেননি, কিন্তু এখন কিছু লোক ওই দল ভেঙে ফেলার কাজ সম্পন্ন করছেন। এজন্যই ওই কথা বলেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। কেননা কংগ্রেসের কোনো আদর্শ ছিল না। দেশ চালানো, সরকার চালানোর কোনো তত্ত্বই ছিল না।’ অমিত শাহের ওই মন্তব্যের পরেই কংগ্রেস নেতার ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কংগ্রেস দলের মুখপাত্র রণদীপ সূরজেওয়ালা বলেছেন, ‘মহাত্মা গান্ধীকে চরম অপমান করেছেন অমিত শাহ। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বহু মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। এমনকি অনেকে জীবন দান করতেও পিছপা হননি। তাদেরকে সুবিধাবাদী তকমা দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি।’ কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা দিগি¦জয় সিং বলেছেন, ‘অমিত শাহর মন্তব্যে অবাক হওয়ার কিছু নেই। গান্ধীজীকে নিয়ে তিনি আরএসএস এবং বিজেপির আসল ভাবনাই প্রকাশ করেছেন।’ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও অমিত শাহ’র মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, ‘মহাত্মা গান্ধী জাতির জনক। দেশবাসীর কাছে তিনি আদর্শ। তার সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য একেবারেই ঠিক নয়।’

গরুকে ভগবান বললেন ভারতের বিচারপতি

গরুকে ভগবান ও মায়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন ভারতের এক বিচারপতি। শুক্রবার গরু কেনাবেচা-সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করেন তিনি। খবর এএনআই’র। আদালতের এজলাসে বসে হায়দারাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি বি শিবশঙ্কর রাও বলেন, গরু ভারতের সম্পদ। এমনকি কোরবানির ঈদেও গরু জবাইয়ের অধিকার নেই মুসলিমদের। ভারতের মানুষের গরুর গুরুত্ব বোঝা উচিত। মুঘল সম্রাট বাবর পর্যন্ত গরুর গুরুত্ব বুঝে জবাই বন্ধ করেছিলেন। এমনকি সম্রাট আকবর, জাহাঙ্গীর আহমেদ শাহ তাদের সময় গরুর জবাই নিষিদ্ধ করেছিলেন। যারা গরু জবাই করেন এবং যারা তাদের প্রশ্রয় দেন তাদের ১১ বছর কারাদণ্ড হওয়া উচিত। এ সময় গরুকে ভগবান ও মায়ের সঙ্গেও তুলনা করেন তিনি।
ভারতের তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের একদল পশু চিকিৎসককে ভর্ৎসনা করে বিচারপতি রাও বলেন, ‘দুধ দিতে না পারার জন্য যারা গরুকে জবাইয়ের জন্য বিক্রি করার সার্টিফিকেট দেয় তাদের বিরুদ্ধেও কড়া আইন তৈরি প্রয়োজন এবং এই ধরনের মামলা জামিন অযোগ্য ধারায় হওয়া উচিত।’ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানা রাজ্যে গরু জবাই এখনও বৈধ। তবে সেখানে গরু জবাইয়ের ক্ষেত্রে গরুর ‘আনফিট এবং আনপ্রোডাক্টিভ’ সনদ থাকতে হয়। হায়দরাবাদ হাইকোর্টে বিচারপতি বি শিবশঙ্কর রাওয়ের এজলাসে রামভত হনুমান নামের এক গরু বিক্রেতার বিচার চলছিল। রামভত হনুমান নালগোন্ডার কাঞ্চনপল্লী থেকে অনৈতিকভাবে দখল করা ৬৫টি গরু জবাইয়ের জন্য সংগ্রহ করেছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়। এই বিচার চলাকালে এসব মন্তব্য করেন বি শিবশঙ্কর রাও।

কাতারিদের মসজিদ আল-হারামে ঢুকতে দিচ্ছে না সৌদি

সৌদি আরবে কাতারি হজ্বযাত্রীদের মক্কার মসজিদ আল-হারামে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। কাতারি পত্রিকা আল শারক এর বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে বিবিসি ও রয়টার্স। কাতারের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)শনিবার জানিয়েছে, তারা কাতারি নাগরিকদের থেকে মক্কায় মসজিদ আল-হারাম এ ঢুকতে না দেয়ার অভিযোগ পেয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের প্রধান আলী বিন স্মাইখ আল মারি এ ঘটনাকে সার্বজনিন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্ম পালনের অধিকার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আল শারক পত্রিকা। মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সাহায্য করা ও ইরানের সঙ্গে গভীর সম্পর্কের অভিযোগে কয়েক দিন আগে আকস্মিকভাবে কাতারের সঙ্গে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মিশর, ইয়েমেন ও মালদিভ সম্পর্ক ছেদ করে। এদকে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করার ফলে কাতারের প্রতি সহানুভূতি বা সমবেদনা প্রকাশ করলে আরব আমিরাত এবং বাহরাইন তাদের দেশের নাগরিকদের শাস্তির ঘোষণা দিয়েছে।

এক দিনেই আয় ২৫ হাজার কোটি টাকা!

চীনের ধনকুবের জ্যাক মা এক দিনেই তার সম্পত্তি বাড়িয়েছেন তিনশ’ কোটি ডলার। তার মালিকানাধীন কোম্পানি ‘আলিবাবা’র শেয়ারের দাম নিউইয়র্কের স্টক এক্সচেঞ্জে বাড়তে থাকায় এক দিনেই তার সম্পদ এতটা বেড়েছে। খবর বিবিসির। বাজার বিশ্লেষকরা যা আশা করেছিলেন, তার চেয়েও অনেক বেশি ভালো ব্যবসা করছে আলিবাবা।
ফলে শেয়ারবাজারে এই কোম্পানির শেয়ার এখন বেশ চাঙ্গা। আলিবাবাকে চীনের ই-বে বলে গণ্য করা হয়। সব কিছুই বিক্রি হয় তাদের ইন্টারনেট সাইটে। জ্যাক মা ১৯৯৯ সালে এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে তিনি ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। ষাট হাজার ডলার দিয়ে জ্যাক মা তার ব্যবসা শুরু করেন। শুরুর দিকে তিনি তার ব্যবসা পরিচালনা করতেন নিজের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে। ‘আলিবাবা’ এখন চীনের সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর একটি। এর বাজারমূল্য এখন চল্লিশ হাজার কোটি ডলার।

৮ মাসে ৫২ দেশ ভ্রমণ

বয়সকে হার মানিয়েছেন তারা। তাদের আটকাতে পারেনি ক্লান্তি কিংবা অসুস্থতা। কেননা ৮ মাসে তারা ভ্রমণ করেছেন ৫২টি দেশ। এরা হলেন পেশা জীবন থেকে অবসর নেয়া ভারতের মুম্বাইয়ের লুইস আর জেনেট ডি’সুজা দম্পতি। লুইসের বয়স এখন ৬১, স্ত্রী জেনেট ৫৫-এ পা দিয়েছেন। প্রথমদিকে ভারত থেকে ব্রিটেন পর্যন্ত ভ্রমণেই সমাপ্তি টানতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু যখন বেরিয়ে পড়লেন, তখন ঘুরে বেড়ানোর নেশা মাথাচাড়া দিল। বেরিয়ে পড়লেন গাড়ি নিয়ে। অভিজ্ঞতা কুড়াতে প্রথমে ভারতের দক্ষিণ অংশ দেখতে বের হন। পাড়ি দেন ৩ হাজার কিলোমিটার। আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। ভ্রমণকালে একটি দাতব্য সংস্থার জন্য তারা সংগ্রহ করেন বেশকিছু অর্থ।
ভ্রমণের এমন অনুপ্রেরণা তারা পেয়েছিলেন আরেক পরিবারের কাছ থেকে। ওই পরিবার ১১১ দিনে ১১টি দেশ ভ্রমণ করে ফেরেন। লুইস-জেনেট দম্পতি তাদের রোড ট্রিপের নাম দেন ‘দ্য লাইফটাইম জার্নি’। ২০১৬ সালের মে মাসে তাদের যাত্রা শুরু হয়। তারা যেসব দেশ ঘুরেছেন তার মধ্যে রয়েছে- চীন, রাশিয়া, নরওয়ে, জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ইতালি, গ্রিস, ইরান, মিয়ানমার, লাটভিয়া, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, পর্তুগাল, হাঙ্গেরি, মাল্টা, বুলগেরিয়া, তুরস্ক, জর্জিয়া, আর্মেনিয়া, কাজাখস্তান ও কিরগিস্তান। লুইসদের সন্তানরা প্রথমে মা-বাবার ভ্রমণ নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলেন। যদিও তারা সব শঙ্কা উড়িয়ে শেষমেশ প্রমাণ করে দেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে সবকিছু জয় করা যায়। ওয়েবসাইট।

তেরেসার খারাপ ফলের নেপথ্যেও ট্রাম্প?

ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র দল কনজারভেটিভ পার্টি ‘বিপর্যয়কর’ ফল করেছে। গতবারের মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারেনি দলটি বরং বেশ কিছু আসন হারিয়েছে, হারিয়েছে বহু ভোটারের সমর্থন। তেরেসার এ খারাপ ফলের কারণ কি তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এমন বাজে পারফরম্যান্সে দলে তার নেতৃত্বে নিয়েও ইতিমধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই অনেক কারণ দেখিয়েছেন এবং দেখাচ্ছেন। তবে সিএনএনের কলামিস্ট ফ্রিদা ঘিতিস বলছেন, তেরেসার এ বিপর্যয়কর ফলাফলের নেপথ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা। তিনি লিখেছেন, যুক্তরাজ্যে নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগে আইএস সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীগোষ্ঠী লন্ডনের প্রাণ কেন্দ্রে এক ভয়াবহ হামলা চালায়। এতে ৮ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন লোক আহত হন। এ সন্ত্রাসী হামলার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিক্রিয়া জানান। ব্রিটেনের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির একজন সদস্য ও লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের বিরুদ্ধে এক টুইটার বার্তায় কামান দাগেন তিনি। এটাই ছিল কনজারভেটিব পার্টির নেতা তেরেসার প্রতি অন্যতম বড় আঘাত। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর তেরেসাই ছিলেন প্রথম কোনো বিদেশি নেতা যিনি হোয়াইট হাইস সফর করেন। তার ওই সফর প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার দলের জন্য অবশ্যই আশীর্বাদস্বরূপ ছিল। ট্রাম্পের সঙ্গে তেরেসা সম্পর্ক ব্রিটেনের বহু ভোটারের উদ্বেগের কারণ। ফ্রিদা বলেন, দেশটির ভোটাররা বৃহস্পতিবার যখন ভোট কেন্দ্রে গেল, তেরেসার প্রতি আরেকটা তীব্র আঘাত দেয়ার সুযোগ তারা হাতছাড়া করেননি। ব্রেক্সিট ইস্যুকে সামনে রেখে তেরেসা মূলত জনগণের সঙ্গে একটা জুয়া খেলতে চেয়েছিলেন।
তিনি চেয়েছিলেন, ব্রিটিশ জনগণ ব্রেক্সিট ইস্যুতে তার হাত আরও শক্তিশালী করতে ও এক্ষেত্রে তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াতে ম্যানডেট দেবে। তবে তার চাওয়ার বিপরীতটাই ঘটেছে। সরকার গড়ার ক্ষেত্রে অল্পের জন্য ঝুলে গেলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে তেরেসার এ দুর্বল পারফরম্যান্সের প্রাথমিক কারণ হিসেবে তার নিস্তেজ নির্বাচনী প্রচারণাকেও দায়ী করা যায়। প্রচারণার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনেকটা নিরাসক্ত এবং তার মধ্যে ভোটারদের মুগ্ধ ও আকর্ষণ করার ক্ষমতার অভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে, রাজনীতির ক্ষেত্রে নিয়মিতই নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন তিনি। এর আগে বারবার করে তিনি আগাম নির্বাচন না ডাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেলেন। অথচ দুই বছর না পেরোতেই আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়ে নিজের সে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলেন। ফ্রিদার মতে, নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কয়েকটা প্রস্তাবের ব্যাপারে নিজের অবস্থান পুরোপুরি উল্টে নিলেও বাস্তাবে এটা কোনো কাজে দেয়নি। আর এটার অন্যতম কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দায়িত্ব নেয়ার পরপরই ‘বিশেষ সম্পর্কে’র প্রত্যাশা নিয়ে তিনি ছুটে গিয়েছিলেন ওয়াশিংটনে। লন্ডন-ওয়াশিংটন জোট আরও শক্তিশালী করার কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা ব্রিটেনের অনেকেই উপলব্ধি করেন। তবে দেশটির বেশিরভাগ জনগণই ট্রাম্পকে পছন্দ করেন না। নির্বাচনেই আগেই ট্রাম্পের সঙ্গে তেরেসার সম্পর্কের কারণে অসন্তোস অনেকটাই বেড়ে যায়। তবে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে ট্রাম্প যখন আমেরিকাকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিলেন, ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে যৌথ এক চিঠিতে স্বাক্ষর দিতে অস্বীকার করেন তেরেসা। তার এ অস্বীকৃতি ব্রিটেনে তাকে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের মুখে ফেলে দেয়।

সৌদি ভিখেরির সম্পত্তি ১৩ কোটি টাকা!

বছর তিনেক আগে মারা গেছেন সৌদি আরবের এক শতায়ু ভিখারিনী। নাম এইশা। বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। জীবনের শেষ অর্ধ শতক ধরে তিনি জেদ্দার পথে ভিক্ষা করতেন। মারা যাওয়ার পর দেখা গেল তার সম্পত্তির মোট পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি টাকা। রাশি রাশি রিয়েল ছাড়াও দৃষ্টিহীন এইশা মালকিন ছিলেন চারটি বহুতল ভবনের। প্রত্যেকটি জেদ্দার আল বালাদ জেলায়। যার দাম প্রায় ৪ কোটি ৮৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া গয়না এবং সোনার মুদ্রা মিলিয়ে এইশার সম্পত্তি ১ কোটি ৬২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এইশার পরিচিত এক ব্যক্তি আহমদ আল সাইদি জানিয়েছেন মা আর বোন ছাড়া এইশার কোনো পরিজন ছিলেন না। তারাও দুজনে ভিক্ষে করতেন। মা আর বোন মারা যাওয়ার পর তাদের সম্পত্তিও এইশার হাতে আসে। তারপরই তিনি কার্যত কুবেরের ভাণ্ডারের মালকিন হয়ে যান। এত সম্পত্তির মালকিন হওয়ার পরেও এইশা কিছুতেই ভিক্ষাজীবীর জীবন ছাড়তে রাজি হননি। পরিচিতদের বহু অনুরোধ সত্ত্বেও। এইশার উইলে দেখা যায় তিনি সব সম্পত্তি দরিদ্রদের সেবায় উৎসর্গ করে গেছেন।

তিন পাকিস্তানির ৯৬ সন্তান

তিন পাকিস্তানি প্রায় ১০০ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। দেশটিতে চলমান এক আদমশুমারিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ১৯ বছরের মধ্যে প্রথমবারের জন্য এটাই কোনো আদমশুমারি। দক্ষিণ এশীয় অনেক দেশের মতোই পাকিস্তানেও জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ঘটছে। খবর এএফপির। বিশেষজ্ঞরা হুশিয়ারি দিয়ে বলছেন, পাকিস্তান তার দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যার মৌলিক চাহিদা ও বিভিন্ন সামাজিক সেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে। জন্মহারের দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান শীর্ষে রয়েছে। দেশটিতে বেশি সন্তান গ্রহণের কারণে জনসংখ্যা ঊর্ধ্বগতিতে বাড়ছে। গত ১৯ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি হারে জনসংখ্যা বেড়েছে। ১৯৯৮ সালে পাকিস্তানের জনসংখ্যা সাড়ে ১৩ কোটি ছিল। এখন তা ২০ কোটি ছুঁইছুঁই। প্রায় ছয় কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। ৩৬ সন্তানের জনক ৫৭ বছর বয়সী গুলজার খান। আরও এক সন্তান আসন্ন। তবে এত সন্তান নিয়ে মোটেও বিচলিত নন তিনি। তিনি বলেন, আল্লাহ ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবেন। তা ছাড়া পারিবারিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার জন্য বেশি সন্তান প্রয়োজন। তার মতোই ভাবনা বড় ভাই ৭০ বছর বয়সী মাস্তান খান ওয়াজিরের। ছোট ভাইয়ের মতো তারও তিন স্ত্রী। তবে ভাইয়ের তুলনায় তার সন্তান কম। তাদের সংখ্যা মাত্র ২২ জন। তবে তার নাতি-নাতনির সংখ্যা এত বেশি যে সংখ্যায় ঠিক কত তা তিনি বলতে পারেন না। আর এ দু’জনের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই এমন আরেকজন হচ্ছেন জান মোহাম্মেদ।
তারও তিন স্ত্রী। সন্তান সংখ্যা ৩৮। তার লক্ষ্য আরেকটি বিয়ে করে সন্তানসংখ্যা ১০০-তে উন্নীত করা। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার দক্ষিণাঞ্চলের জেলা বানুর বাসিন্দা ৩৬ সন্তানের জনক গুলজার খান বলেন, ‘আল্লাহ এ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তাই কেন আমি শিশু জন্মের প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে বাধা দেব?’ ইসলাম জন্মনিয়ন্ত্রণ সমর্থন করে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শক্তিশালী হতে চেয়েছি।’ তিনি বলেন, তার এত সন্তান হওয়ায় সবাই মিলেই একটি পুরো ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে পারে। তাদের খেলার জন্য কোনো বন্ধুরও প্রয়োজন হয় না। তার তৃতীয় স্ত্রী এখন অন্তঃসত্ত্বা বলেও তিনি জানান। গুলজার খানের ১৫ ভাইবোনের একজন মাস্তান খান ওয়াজির বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের খাবার ও সম্পদ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু লোকজনের বিশ্বাস কম।’ ৩৮ সন্তানের জনক জান মোহাম্মেদ বাস করেন বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটায়। গত বছর এএফপির সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানিয়ে ছিলেন চতুর্থ বিয়ে করে সন্তানসংখ্যা ১০০-তে উন্নীত করা তার আকাক্সক্ষা। তিনি বলেন, তাকে বিয়ে করতে এখনও কেউ রাজি হয়নি। কিন্তু তিনি আশা ছেড়ে দেননি। তিনি বলেন, ‘যত মুসলিম জন্মাবে, তত শত্রুরা ভয় পাবে। মুসলিমদের বেশি বেশি সন্তান জন্ম দেয়া উচিত।’ নারীদের মতামত দেয়ার অধিকার থাকলে এ সমস্যা সমাধান করা সহজ হতো বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির নারী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী আয়েশা সারওয়ারি।

সংযমশক্তিতে ভরে উঠুক হৃদয়কাবা

সংযম একটি মহাশক্তি। সিয়াম সাধনায় মুমিন বান্দা যে আত্মতৃপ্তিদায়ক শক্তিলাভ করে, চলার পথের পাথেয় অর্জন করে- সে শক্তি সাধনাই হল সংযম। সমগ্র জীবনেই সংযম এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি হয়ে আত্মায় বিরাজ করে। সিয়াম মাসের সংযম আলোর কণা হয়ে পথ চলতে সহায়তা করে। কেউ বিপদে পড়লে, সমস্যায় পড়লে, সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে না পেলে সংযম সাধনা তখন আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠে। সংযমী মানুষ বেদনায় পড়ে পথ হারায় না। কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা বলেন, মহাকালের শপথ, মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত, কিন্তু তারা নয়, যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়। (সূরা আসর : আয়াত ১-৪)। সংযমশক্তিতে বলীয়ান হওয়াই মুমিনের সার্থকতা? আমাদের চলার পথে পাপ হয়ে যায়। পাপ থেকে বেঁচে থাকতেই মুমিনের সংযমশক্তি গ্রহণ করতে হয়। ইবাদতের জন্য কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকারে যেমন সহনশীলতা প্রয়োজন বিপদে বিচলিত না হয়ে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার এ চেষ্টা সংযমশক্তিতেই করতে হয়। এ জন্যই কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। (সূরা বাকারা : আয়াত ১৫৩)।
এরকম সহনশীল বান্দাই মুত্তাকি হয়ে উঠতে পারেন। আল্লাহর পছন্দের বান্দায় পরিণত হন সংযম সাধনা করে। মহান আল্লাহ তায়ালা রোজাদারের জন্য যে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন, যা তিনি নিজ হাতে দানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা তো ওই মুমিন-মুত্তাকির জন্যই। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি বেশি মর্যাদাসম্পন্ন, যে বেশি মুত্তাকি। (সূরা আল হুজুরাত : আয়াত ১৩) মূলত রোজা মুত্তাকির জন্য এক অফুরন্ত নেয়ামত। নবী কারিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মাহে রমজানের রোজা পালন করতে গিয়ে রোজার সীমারেখা বুঝে নেবে এবং যে কর্তব্য রোজার ভেতর পালন করা জরুরি, তা সুন্দরভাবে পালন করে চলবে, তার এসব রোজা তার বিগত গুনাহের ক্ষমার কাফ্ফারা হয়ে যাবে। (বায়হাকি) আর এই মুত্তাকিরাই সব ধরনের লোভ-লালসা, হারাম, পরনিন্দা ও মিথ্যা অপবাদ, অহংকার, মিথ্যা, খোদপছন্দী, শত্রুতাপোষণ, লোক দেখান আমল করা, কৃপণতা, পরশ্রীকাতরতা থেকে সংযত থাকতে পারে। নিজেকে পাপাচারের জগত থেকে দূরে রাখতে পারে। এই ১০টি বদগুণ বর্জন করতে জীবনভর ধৈর্য, সহনশীলতা আর সংযম সাধনার প্রয়োজন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সিয়ামে সংযমী সাধক হওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।
লেখক : বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও
ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম

মুন্সীগঞ্জে আ’লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে নিহত ১

মুন্সীগঞ্জের আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে নিহত এক এবং তিনজন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতের নাম মাসুদ, পিতা মোজাফফর বিন ঢালি। শনিবার সকালে চরকেওয়ার ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমশুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর পুরো দক্ষিণ চরমশুরার ঢালিরচরসহ আশপাশের এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে। এ সুযোগে হারুন সমর্থকরা সাধারণ মানুষের গোয়ালঘর থেকে প্রায় ১২টি বড় গরু ও দুধেল গাভী লুট ও ঘর ভাংচুর করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি সদস্য মন্টু দেওয়ান ও পরাজিত প্রার্থী হারুন ফকিরের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে হারুন, শাহীন, সাবেক ইউপি সদস্য রহিম, জয়নাল, হাশেম ও স্থানীয় প্রভাবশালী নান্নু হাজী একটি বাহিনী গঠন করে। এ বাহিনীর সঙ্গে মন্টু দেওয়ানের সমর্থকদের মধ্যে বেশ কয়েক মাস ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে হারুন ও নান্নু সমর্থকদের অনেকেই গ্রামের বাইরে চলে যান। শনিবার সকালে নান্নু বাহিনীর সদস্যরা সংগঠিত হয়ে দক্ষিণ চরমশুরা গ্রামবাসীর ওপর গুলিবর্ষণ করেন। এ সময় মাসুদ, তারিফ, সুমন দেওয়ান, ইফরান গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুদকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর গুলিবিদ্ধ তারিফকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বাকি আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্য আহতরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নেয় বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানায়, গত ইউপি নির্বাচনে হারুন ফকিরকে পরাজিত করে মন্টু দেওয়ান মেম্বার নির্বাচিত হয়। এরপর থেকে নান্নু হাজী ও হারুন ফকিরের মধ্যে বিরোধ চলতে থাকে। আর এ দুই গ্রুপের নেতৃত্ব দেন সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফসার উদ্দিন ভূঁইয়া ও চরকেওয়ার ইউপি চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান জীবন। চরকেওয়ার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফসার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, মূলত মন্টু মেম্বার ও হারুন মেম্বারের গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। আমি আওয়ামী লীগের সদর থানার সভাপতি হিসেবে হারুন মেম্বারকে সাপোর্ট করি।
কারণ সে আওয়ামী লীগ করে। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আক্তারুজ্জামান জীবন মন্টু মেম্বারকে সমর্থন করে। মন্টু মেম্বার বিএনপি করে। এ ব্যাপারে চরকেওয়ার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আক্তারুজ্জামান জীবন জানান, আমি অন্যায় মারামারিকে সমর্থন করি না। এখানে মূলত মারামারি করেছে মন্টু মেম্বার গ্রুপ ও শাহীন মাতব্বর গ্রুপ। আমি ঢাকায় থেকে শুনেছি শাহীন মাতব্বরের গ্রুপ প্রথমে মারামারি শুরু করে। এ ঘটনার পর সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, দক্ষিণ চরমশুরা গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য মন্টু দেওয়ানের সমর্থকরা ঢালিরচর গ্রামে গিয়ে অর্ধশতাধিক বসতবাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ সময় হারুন সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ১২টি গরু লুট করে নিয়ে যায়। পুরুষশূন্য গ্রামগুলোতে হামলা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। দক্ষিণ চরমশুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীর অভিযোগ, মন্টু দেওয়ানের লোকরা ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং তাদের গরুগুলো লুট করেছে। গৃহবধূ নাছিমা বলেন, বাড়িতে পুরুষ থাকে না। মন্টু দেওয়ানের লোকজন বাড়িতে এসে ভাংচুর করে। আমরা চরম আতঙ্কে আছি। অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বর্তমান ইউপি সদস্য মন্টু দেওয়ান বলেন, গরু লুটপাটের বিষয়টি আমার জানা নেই। নান্নু বাহিনীর লোকজন আমাদের লোকদের ওপর হামলা করে একজনকে গুলি করে হত্যা করেছে। নিজেদের গরু নিজেরা সরিয়ে এখন মিথ্যা অভিযোগ করেছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইউনুচ আলী জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শনিবার ভোরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দোষীদের ধরতে অভিযান চলছে।

পেশাজীবীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার

পেশাজীবীদের সঙ্গে ইফতার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার তার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত এ ইফতার অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার শীর্ষ ব্যক্তিদের পাশাপাশি শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, কৃষিবিদ, প্রকৌশলী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ক্রীড়াবিদ এবং ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে বসেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, প্রকৌশলী জামিলুর রেজা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দৈনিক জনকণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক তোয়াব খান, সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বিচারপতি মেজবাহ উদ্দিন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাফুফে সভাপতি সালাউদ্দিন, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন প্রমুখ। ইফতার অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কামরুল হাসান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হারুনুর রশীদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বাসস’র এমডি আবুল কালাম আজাদ, পিআইবির মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব ওমর ফারুক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শাবান মাহমুদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, মানবকণ্ঠের সম্পাদক আনিস আলমগীর, সেক্টর কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরী প্রমুখ। এছাড়া পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, আওয়ামী বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ ও সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের নেতারা ইফতারে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী ইফতার অনুষ্ঠান পৌঁছে অতিথিদের খোঁজখবর নেন এবং সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ইফতারের আগে দেশ ও জাতীর কল্যাণ কামনা করে দোয়া এবং মোনাজাত করা হয়।

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ৩ নম্বর সতর্কতা

বঙ্গোপসাগরে ফের লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ জন্য দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। শনিবার দুপুরে আবহাওয়া অধিদফতরের সতর্কবার্তায় এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, ভারতের উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের অদূরে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় এই লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ জন্য চট্টগ্রাম, মংলা, পায়রা ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে সতর্ক বার্তায়।

অজ্ঞান পার্টির ১১ সদস্য আটক

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে অজ্ঞান পার্টির ১১ সদস্য আটক হয়েছে। শনিবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। রোববার ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে এক খুদে বার্তায় গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানানো হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

'আগামী নির্বাচনেও মানুষ নৌকাতে ভোট দেবে'

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানমর্যাদা বৃদ্ধি পায় বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১১ জুন শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে রোববার সকালে গণভবনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নিজেদের জন্য ক্ষমতায় বসতে চায়, তাদের ওপর মানুষের আস্থা নেই। উন্নয়নের সুফল ধরে রাখতে আগামী নির্বাচনেও মানুষ নৌকাতে ভোট দেবে। তিনি বলেন, একটা সরকারের যে ধারাবাহিকতা প্রয়োজন আজ তা প্রমাণিত। আওয়ামী লীগ অনেক ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের তৃণমূল কখনও ভুল সিদ্ধান্ত নেয় না।

আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ফের তদন্ত

গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গঠিত সত্য ও জবাবদিহি কমিশনে (ট্রুথ কমিশন) মার্জনা পাওয়া আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ফের তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ করা হয়েছে। এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে দুদক থেকে ট্রু–থ কমিশনে পাঠানো ৩৯ জনের নাম। আর দ্বিতীয় ধাপে আছে কমিশন থেকে অনুকম্পা বা মার্জনা পাওয়া ৪৫২ জনের দুর্নীতির বিষয়। দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ট্রুথ কমিশনে মার্জনা পাওয়া আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু হয়েছে। কিছু কিছু মামলাও হচ্ছে। কত জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে জানতে চাইলে সচিব বলেন, যারা ট্রুথ কমিশন থেকে অনুকম্পা পেয়েছিল, তাদের সবার বিরুদ্ধেই অনুসন্ধান বা তদন্তে আইনগত বাধা নেই। আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজদের কাউকে ছাড় দেয়ার জন্য নতুন করে তদন্ত হচ্ছে কিনা বা কাউকে দুদক অব্যাহতি দিয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে দুদক সচিব বলেন, অনুসন্ধান বা তদন্তের ফল কী, তা জেনে বলতে হবে। তবে কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দুদক থেকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি। দুদকের লিগ্যাল শাখার মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, আইনের মারপ্যাঁচে অনুকম্পা পেয়েছে এমন কারও রক্ষা পাওয়ার সুযোগ নেই। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ট্রুথ কমিশন অবৈধ হয়ে যাওয়ার পর দায়মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজদের জন্য ট্রুথ কমিশনে মার্জনা নেয়ার আইন করা হয়েছিল, অনেকেই মার্জনা নিয়েছিলেন। কিন্তু ওই মার্জনা বৈধ নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে তাদের আবার বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ওই সময় দুর্নীতিবিরোধী ট্রাস্কফোর্সের তালিকাভুক্ত দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদসহ ৫ শতাধিক ব্যক্তিকে ট্রু–থ কমিশনে পাঠানো হয়েছিল। এ কমিশন থেকে ৪৫২ জনকে শর্তসাপেক্ষে মার্জনাপত্র দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ডেসা, নিবন্ধন পরিদফতর, ওয়াসা, টিঅ্যান্ডটি, এলজিইডি, পোস্টাল, তিতাস গ্যাস, বন বিভাগ, গৃহায়ন অধিদফতর, সওজ, বিটিসিএল, ঢাকা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম আছে। অনুকম্পাপ্রাপ্তদের মধ্যে ২৬৫ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ২৮ জন তাদের স্ত্রী। তারা ৩৩ কোটি ৮০ লাখ ২১ হাজার ৬৬৮ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন। কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ওই ট্রুথ কমিশন গঠন ও অনুকম্পা পাওয়ার বিষয়টি অবৈধ হয়ে যায়। ফলে অনুকম্পাপ্রাপ্তদের দুর্নীতির বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।
দুদক অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাদের বিষয়টি নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেয়। দুদক সূত্রে জানা গেছে, ট্রু–থ কমিশন থেকে অনুকম্পা পাওয়া গুলশানের একাধিক বাসিন্দা, একটি জেলার সাবরেজিস্ট্রার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ শতাধিক ব্যক্তির সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ করেছে দুদক। তবে তাদের কয়েকজন দুদকের নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে তা গৃহীত হয়। তবে দুদক হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। সেই সঙ্গে ট্রুথ কমিশন থেকে অনুকম্পা পাওয়া অন্যদের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দিয়ে অনুসন্ধান কাজ করছে বলে জানা গেছে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা টিআইবির ট্রাস্টি এম. হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, যেসব সরকারি চাকরিজীবী ট্রু–থ কমিশনের কাছ থেকে অনুকম্পা নিয়েছেন তাদের অপরাধ মোচন হয়নি। অপরাধের বিচার হতে হবে। তিনি বলেন, ট্রু–থ কমিশন গঠন আইনসিদ্ধভাবে ছিল না। তাই সেটা বাতিল হয়ে গেছে। যারা দুর্নীতির কথা স্বীকার করেছেন কমিশনের কাছে প্রমাণ রয়েছে। সেই প্রমাণ নিয়েই দুদক কাজ করতে পারে। দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, আইনানুগভাবেই আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম সচল করেছে দুদক। অভিযোগ তদন্তে যারা দুর্নীতিপরায়ণ হিসেবে প্রমাণিত হবেন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া যাবে। ২০০৮ সালের ৮ জুন তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ‘স্বতঃপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ অধ্যাদেশ-২০০৮’ জারি করে। দোষ স্বীকার করলে লঘু দণ্ড দিয়ে দায়মুক্তি দেয়ার জন্য এর আলোকে গঠিত ট্রু–থ কমিশন ওই বছরের ৩ আগস্ট থেকে কার্যক্রম শুরু করে। কমিশন থেকে ৪৫২ জন মার্জনার সনদ পান। ২০০৯ সালের ২ জানুয়ারি কমিশন বিলুপ্ত হয়। তবে ওই অধ্যাদেশ ও কমিশন গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৮ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আদিলুর রহমান খান, বেসরকারি সংস্থা উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আক্তার, দীপুমনি (বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেত্রী) ও মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নাসির উদ্দিন এলান যৌথভাবে হাইকোর্টে রিট করেন। তাদের রিটের ফলে সত্য ও জবাবদিহিতা কমিশনকে (ট্রু–থ কমিশন) অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট রায় দেন। পরে আপিল বিভাগও হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন।

১০০ টন অবৈধ স্বর্ণ জব্দ হবে কবে?

সরকারের কাছ থেকে ‘আশ্বাস পেয়ে’ ধর্মঘটসহ সব ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছে জুয়েলার্স সমিতি। বলা হচ্ছে শুল্ক গোয়েন্দারা তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো অভিযান পরিচালনা করবে না। সরকারের তরফ থেকে স্বর্ণ আমদানির বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা না দেয়া পর্যন্ত তাদের কোনো প্রকার হয়রানি করা হবে না। কিন্তু প্রশ্ন হল- তাহলে ১১ জন শীর্ষ স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দখলে থাকা ১০০ টন অবৈধ স্বর্ণের কী হবে? ৪৫ হাজার কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কী আড়ালে থেকে যাবে? উচ্চ পর্যায়ের সবুজ সংকেত কী আর পাওয়া যাবে না? এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে শনিবার যুগান্তরের কাছে অনেকে এমন মন্তব্য করেন। তারা বলেন, যেখানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ স্বর্ণের দখলদার ও এর অবস্থান সম্পর্কে শুল্ক গোয়েন্দা শতভাগ নিশ্চিত হয়েছে সেখানে গোপন রাখার হেতু কী? তাদের মতে, আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। কোনো কাগজপত্র না থাকলে যদি আপন জুয়েলার্সের সাড়ে ১৫ মণ স্বর্ণ জব্দ করে মামলা হতে পারে, তাহলে এর বাইরে থাকা একইভাবে আনা বাকি সব স্বর্ণ জব্দ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান শনিবার যুগান্তরকে বলেন, দেশে স্বর্ণ চোরাচালানানের যে পুঞ্জীভূত অনিয়ম চলছিল আপন জুয়েলার্সে শুল্ক গোয়েন্দাদের অভিযানের মধ্য দিয়ে তা সামনে চলে এসেছে। তবে শুধু আপন জুয়েলার্স এককভাবে নয়, আইনের প্রয়োগ সমভাবে হতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুগান্তরে প্রকাশিত একশ’ টন স্বর্ণ মজুদ সংক্রান্ত রিপোর্টসহ গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো টিআইবির দৃষ্টিতে এসেছে। তারা আশা করছেন, বৈধ স্বর্ণ ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি ও এই সেক্টরের জন্য একটি সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়নে এসব প্রতিবেদন সহায়ক হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একশ’ টন কেন যদি এক তোলা স্বর্ণ কারও কাছে অবৈধভাবে থাকে তাহলে সেখানে অভিযান চালাতে হবে। এদিকে হাতেগোনা কয়েকজন স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে মজুদ একশ’ টন স্বর্ণ জব্দ করার বিষয়ে জানতে চাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া অবৈধ স্বর্ণ ব্যবসার ওপর একটি বিশদ অনুসন্ধান এখনও চলমান। অনুসন্ধানে যাদের বিরুদ্ধে অবৈধ ব্যবসার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কয়েকজন স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ব্যাংকিং লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য তারা পেয়েছেন। এগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। এছাড়া আনুষঙ্গিক আরও কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। এগুলো শেষ করে তা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হবে। সূত্র জানায়, শুল্ক গোয়েন্দা শীর্ষ পর্যায়ের ১১ জন স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে থাকা ১০০ টন অবৈধ স্বর্ণের বিষয়টি গত সপ্তাহে নিশ্চিত হয়। বার আকারে এসব স্বর্ণ কোথায় মজুদ আছে তা তারা রেকি করে। এরপর এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু উচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত রাখা হয়। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠক থেকে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব এবং বর্তমানে এসডিজি (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল) বিষয়ক সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এদিকে গতকাল দুপুরে এ বিষয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। সাংবাদিকদের প্রায় দু’ঘণ্টা বসিয়ে রেখে বেলা আড়াইটায় ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হয়। এ সময় এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ আশ্বস্ত করেছেন- ‘আপনারা কমিউনিটিকে বলতে পারেন, তারা যেন ধর্মঘটে না যায়। তাদের দাবির ব্যাপারে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’ প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’ছাত্রীকে ধর্ষণ ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের ছেলে সাফাত আহমেদের সম্পৃক্ততা। বিষয়টি এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। এ ঘটনার সূত্র ধরে আপন জুয়েলার্সের প্রতিটি শোরুমে শুল্ক গোয়েন্দা অভিযান চালায় এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ স্বর্ণালংকার জব্দ করে। এর পরিপ্রক্ষিতে জুয়েলারি সমিতি দু’দফা ধর্মঘট ডেকে প্রত্যাহার করে নেয়। রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়। দাবি ছিল আপন জুয়েলার্সের স্বর্ণ ফেরতসহ হয়রানি বন্ধ ও স্বর্ণ আমদানি নীতিমালা প্রণয়ন। সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালকের অপসারণ দাবি।

কুমিল্লায় ডাকাত-পুলিশ গুলি বিনিময়, আটক ৭

কুমিল্লায় সড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের সঙ্গে ডাকাত দলের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে।এসময় গুলিবিদ্ধ ৫ ডাকাতসহ ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে এলজিসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জেলা মুরাদনগর -ঢাকা রোডের ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের বোরার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মুরাদনগর থানার ওসি এস. এম বদিউজ্জামান জানান, গভীর রাতে বোরার চর ব্রিজের কাছে একদল ডাকাত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন খবর পেয়ে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ডাকাত দলের সঙ্গে পুলিশের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে ৫ ডাকাত গুলিবিদ্ধ হয় এবং ২ পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরে পুলিশ গুলিবিদ্ধসহ ৭ ডাকাতকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২ এলজি, চাইনিজ কুড়ালসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ডাকাতদের মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

১০ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

১০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ইঞ্জিনসহ দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। পরে রোববার সকাল ৮টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার ফয়জুর রহমান জানান, রাত ১০টার দিকে আখাউড়া থেকে আসা ডেমু ট্রেনটি লাউয়াছড়া এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় রেললাইনের ওপর একটি গাছ উপড়ে পড়ে। এসময় গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ট্রেনের ইঞ্জিনসহ  একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনার পর সিলেট-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট পথে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে রাত থেকে শ্রীমঙ্গল ও ভানুগাছ স্টেশনে চট্টগ্রামগামী উদয়ন, ঢাকাগামী উপবন, লোকাল ট্রেন সুরমা ও জালালাবাদ ট্রেন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে কুলাউড়া ও আখাউড়া থেকে দুটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। পরে সকাল ৮টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানান ওই স্টেশন মাস্টার।

নব্য জেএমবির শুরা সদস্যসহ গ্রেফতার ২

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে নব্য জেএমবির শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর পশ্চিমের দাওয়াতী আমির ইমরান আহমেদ ও তার সহযোগীকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক ক্ষুদে বার্তায় র‌্যাব এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়,শনিবার দিনগত রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক সহযোগীসহ ইমরান আহমেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বেলা ১১টায় কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।

রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে হরতাল চলছে

রাঙ্গামাটির লংগদুতে যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন হত্যার প্রতিবাদে জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে। এছাড়া এ ঘটনায় বান্দরবানে আধাবেলা হরতাল চলছে। হরতালে রোববার সকাল থেকে রাঙ্গামাটি জেলায় সড়ক ও নৌপথে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব ধরনের যান চলাচল এবং দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। হরতালে আটকা পড়েছেন পর্যটকসহ যাত্রী সাধারণ। সরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক বীমা খোলা থাকলেও লোকজনের উপস্থিতি কম। বৃষ্টি উপেক্ষা করে পায়ে হেঁটে চলাচল করছেন লোকজন। হরতালে এ পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে হরতালের সমর্থনে শহরের রিজার্ভবাজার, বনরূপা, তবলছড়ি, ভেদভেদীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পিকেটিং লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্পর্শকাতর স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ টহল জোরদার রাখা হয়েছে। সকাল ৬টা হতে শুরু হরতাল বিকাল ৫টায় শেষ হবে বলে জানান, হরতালকারীরা।
নয়ন হত্যার প্রতিবাদ ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং লংগদুতে পাহাড়িদের বাড়িঘরে আগুন দেয়ার ঘটনায় করা মামলায় গণগ্রেফতার বন্ধের দাবিতে শনিবার এ হরতাল ডাকে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ। তবে হরতাল রাঙ্গামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় আহবান করা হলেও খাগড়াছড়িতে প্রত্যাহার করা হয় বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ৭ জুন লংগদুর মাইনি খাল হতে অজ্ঞাত পরিচয় এক বাঙালির লাশ উদ্ধারে তার প্রতিবাদে পূর্ব ঘোষিত হরতাল পূর্ণ দিবস করা হয় বলে জানান, হরতাল আহবানকারী পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতারা। প্রসঙ্গত গত ১ জুন শুক্রবার রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পেশায় মোটরসাইকেল চালক নুরুল ইসলাম নয়ন যাত্রী নিয়ে লংগদু থেকে দীঘিনালায় যায়। ওই দিনে দুপুরে দীঘিনালার চারমাইল এলাকায় তার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। এই হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুদ্ধ বাঙালীদের মিছিল থেকে ২ জুন উপজেলার তিনটিলা, বাইট্টাপাড়া ও মানিকজোড়ছড়া এলাকায় পাহাড়ীদের ২১৩টি পরিবারের বসত, ৮টি দোকান ও একটি পাড়াকেন্দ্র পুড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় এই পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করে জেলহাজাতে পাঠানো হয়েছে।

ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু

সাতক্ষীরায় ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতে সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাবা আকবর আলি (৬০) একজন কাঠমিস্ত্রি। তার ছেলে আবদুস সালামও একই পেশায় জড়িত। সদর থানার ওসি মারুফ আহমেদ জানান, বাবা ও ছেলের মধ্যে টাকা লেনদেনের বিষয় ছিল। বাবার কাছে পাওনা টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সালাম তার বাবার মাথায় লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করে। এতে বাবা গুরুতর আহত হন। পরে তাকে বাড়িতে রেখে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। রোববার ভোরে আকবর আলি মারা যান। ওসি জানান ঘটনাস্থলে পুলিশের এসআই মোমিনকে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক পুত্রকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।  ময়নাতদন্তের জন্য  আকবর আলির লাশ সাতক্ষীরায় আনা হচ্ছে।

নির্দেশনা মানছে না ব্যাংকগুলো

গত মাসে ক্রেডিট কার্ডে সুদহার বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু কোনো ব্যাংক তা আমলে নিচ্ছে না। বিষয়টি কিছুতেই মানতে চাইছে না ব্যাংকগুলো। সার্কুলারটি পুনর্বিবেচনার দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে ব্যাংক নির্বাহীদের শীর্ষ সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। একই দাবিতে চিঠি দিয়েছে ক্রেডিট কার্ড সেবার শীর্ষে থাকা দ্য সিটি ব্যাংকও। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোক্তা ঋণের যে সুদহার রয়েছে, তার চেয়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বেশি হতে পারবে এসব কার্ডের সুদহার। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে ভোক্তা ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ১১ শতাংশ, ফলে ক্রেডিট কার্ডে নতুন সুদহার হবে সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ। এটি অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বৃহস্পতিবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, যে কোনো গাইডলাইন বা সার্কুলার জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর হওয়ার কথা। এ ক্ষেত্রে কারও কোনো আপত্তি থাকলে সবকিছু পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিভিন্ন ব্যাংক সূত্র জানায়, বর্তমানে ক্রেডিট কার্ডে ২৭ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ কাটা হয়। এ প্রসঙ্গে দ্য সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন যুগান্তরকে বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, নীতিমালাটি পুনর্বিবেচনার দাবিতে এবিবি এবং সিটি ব্যাংক দুটি চিঠি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠিয়েছে। চলতি সপ্তাহে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ১১ মে ক্রেডিট কার্ড সেবাসংক্রান্ত এক নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক বলে দিয়েছে, শর্তগুলো অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। এর ফলে ক্রেডিট কার্ডের যেসব ব্যবহারকারী সুদহার নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন, তা কিছুটা কেটেছে। বর্তমানে দেশে ৯ লাখ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী রয়েছেন। তবে ব্যাংকগুলো এখনও এ নীতিমালা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়নি বলে জানা গেছে। এমনকি নীতিমালা নিয়ে আপত্তির কথাও জানিয়েছে। ক্রেডিট কার্ড সেবার শীর্ষে রয়েছে দ্য সিটি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক। এ ছাড়া মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক সেবাটি দিয়ে থাকে।
সূত্র জানায়, দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার। গত জানুয়ারি মাসেই গ্রাহকরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ৭৩৫ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন। ডিসেম্বরে ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকরা ৭০৫ কোটি টাকার লেনদেন করেন। গত জানুয়ারিতে প্রায় ৮ লাখ ৭৭ হাজার ক্রেডিট কার্ড চালু ছিল। এর মধ্যে দ্য সিটি ব্যাংকের ২ লাখ ৮ হাজার, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের ১ লাখ ৫০ হাজার, ইস্টার্ন ব্যাংকের ১ লাখ ৫০ হাজার ও ব্র্যাক ব্যাংকের ১ লাখ ৩ হাজার। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ব্যাংক গ্রাহককে ক্রেডিট কার্ডের যে সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, তার ৫০ ভাগ নগদ উত্তোলন করতে পারবেন। কার্ডধারীদের আকৃষ্ট করতে ব্যবহারের ওপর কোনো ধরনের পুরস্কার, বোনাস, কুপন, টিকিটের অফার দেয়া যাবে না। একজন কার্ডধারীকে যে সৌজন্য বা অতিরিক্ত কার্ড দেয়া হয়, ওই কার্ড কোনো ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ পাবে না। ক্রেডিট কার্ড পেতে হলে কোনো ধরনের ঋণখেলাপি হওয়া যাবে না, পাশাপাশি গ্রাহকের ই-টিআইএন থাকতে হবে। কার্ডে যে ঋণ হবে, তা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পরিশোধ না করলে গ্রাহক খেলাপি হয়ে পড়বেন। তার নামে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোতে (সিআইবি) প্রতিবেদন পাঠাতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে। সুদ হিসাবের পদ্ধতি, বকেয়া পরিশোধের শেষ সময়সীমা গ্রাহককে সুস্পষ্টভাবে অবহিত করতে হবে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে ক্রেডিট কার্ড দেয়া যাবে না। তবে যদি কোনো শিক্ষার্থীর পড়ালেখা কার্ডের লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে ইস্যু করা যাবে। তা ছাড়া ক্রেডিট কার্ডে কোনো সংশোধনী আনতে হলে কার্যকরের ৩০ দিনের আগে গ্রাহককে অবহিত করতে হবে।

দেশে আইন অমান্যতার ঢেউ

যে কোনো সমাজেই সমাজকে সচল রাখার জন্য কিছু আইন-কানুন থাকে। যারা কোনো নির্দিষ্ট সমাজের পরিবর্তন চান তারাও এসব সাধারণ নিয়ম মেনে চলেন। সেটা না হলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং তা নৈরাজ্যের শর্ত তৈরি করে। বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থার দিকে তাকালে এদিক দিয়ে বড় বিপদ ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। কারণ আইন অমান্যতা বাংলাদেশে শুধু যে সাধারণ অর্থে ক্রিমিনালরাই করছে তা নয়, সরকারি লোকজন এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থাও নানাভাবে আইন অমান্য করে পরিস্থিতি প্রতিদিন খারাপ থেকে আরও খারাপ করছে। প্রতিক্রিয়াশীল সরকারের এমন অনেক নিয়ম-কানুন আছে, নীতি আছে যা পরিবর্তন করা দরকার। কারণ সেগুলো গণবিরোধী। কিন্তু এমন অনেক আইন ও নিয়ম আছে যা সবারই মান্য করা দরকার সাধারণ-স্বাভাবিক জীবন সচল রাখার জন্য, পরিবেশ রক্ষার জন্য, লোকজনের মধ্যে দায়িত্বহীনতা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য। এই দ্বিতীয় ধরনের আইন অমান্যতা এখন বাংলাদেশে বৃদ্ধি পেতে পেতে এমন অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে যে, মানুষের জীবনে নানা নতুন নতুন সংকট তো তৈরি হচ্ছেই, উপরন্তু সমগ্র সমাজই বেশি করে নৈরাজ্যের দ্বারা বিপর্যস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে সমাজের সাধারণ ও স্বাভাবিক নিয়ম-কানুনের মান্যতা আছে, অর্থাৎ এখন সব ক্ষেত্রেই অমান্যতা পরিণত হয়েছে এক স্বাভাবিক ব্যাপারে।
অর্থনীতি, রাজনীতি, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবেশ থেকে নিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রেই আজ আইন অমান্যতার এমন দাপট দেখা যাচ্ছে যে, সাধারণভাবে সমাজে কারও কোনো নিরাপত্তা নেই। এই পরিস্থিতিতে মানুষের পারিবারিক জীবনেও নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা এমনভাবে এবং এত বেশি দেখা যাচ্ছে, যা আগে কল্পনাও করা যেত না। সব জাতীয় দৈনিকেই প্রায় প্রতিদিন সচিত্র রিপোর্টে দেখা যায় আইন অমান্যতার টুকরো সংবাদ। কিছু কিছু বিষয়ে সংবাদ এভাবে প্রকাশিত হলেও সেগুলো হল এ ধরনের অরাধের সামান্য অংশ। কাজেই সংবাদপত্রে যা পাওয়া যায় সেটা ভয়ের ব্যাপার হলেও আসল পরিস্থিতি এদিক দিয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ। শহরে চলাচল করতে হলে রাস্তার কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। কিন্তু দেখা যায় সরকারি লোকজন ও কর্তাব্যক্তির, এমনকি পুলিশের গাড়িও উল্টো দিকে চলাচল করছে। আজ এক সচিত্র রিপোর্টে দেখা গেল, মাঠের ধারে কোনো এক রাস্তায় আওয়ামী লীগের এক লোকের ইটের ভাটার ইটসহ অন্যান্য জিনিস স্তূপীকৃত করে রাখা! রাস্তার ধারে গাছ কাটার ব্যাপার তো চলছেই। রাস্তার ধারের গাছকে সরকারি লোকেরা মনে করে তাদের সম্পত্তি। কাজেই গাছ কেটে তারা শেষ করছে। সরকারি বন বিভাগের লোকদের চোখের সামনে ও তাদের সহায়তায় পার্বত্য চট্টগ্রাম, মধুপুর ও সুন্দরবনের গাছ উজাড় হচ্ছে। এই অপরাধের মাধ্যমে চোরাই কাঠ ব্যবসায়ীরা জমজমাট ব্যবসা করছে! বাংলাদেশে এখন এমন কোনো নদী নাই যা ভরাট করে দখল করা হচ্ছে না এবং এগুলো করছে সরকারের লোকজন, তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত লোকেরা। কাজেই তাদের বাধা দেয়ার কেউ নেই।
ঢাকার চারপাশের নদীগুলো দখল ও শিল্প-কারখানার মালিকদের দ্বারা দূষিত হতে হতে এখন প্রায় মৃত অবস্থায়। এর ফলে ঢাকায় এখন পানির সংকট ব্যাপক ও তীব্র হয়েছে। তিস্তা এবং অন্য অনেক নদীর পানির ন্যায্য অংশ ভারত দিচ্ছে না এবং তা নিয়ে অনেক কথাবার্তা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ যে নিজের দেশের নদীগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এ নিয়ে সরকারি মহলে কোনো উদ্বেগ নেই! কারণ তাদের লোকরাই এই অপরাধ করছে!! যে বিশৃঙ্খলা, আইন অমান্যতা এবং অপরাধ এসব ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে তার সঙ্গে তাল রেখে অন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে একই অবস্থা। চুরি আইন অমান্যতার একটা বড় দৃষ্টান্ত। এই আইন অমান্যতা এখন বাংলাদেশে সরকার, সরকারি প্রশাসন, আর্থিক সংস্থা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রে লাগামহীনভাবে দেখা যাচ্ছে। সরকারি ব্যাংকগুলোতে এখন ডাকাতি পরিণত হয়েছে নিয়মিত ব্যাপারে। সরকারি লোকেরাই এর সঙ্গে জড়িত। এজন্য এই ব্যাংক ডাকাতদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তির ব্যবস্থা নেই। তারা চুরির টাকা নিরাপদে সরিয়ে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই টাকা চুরি সরকারি ব্যাংকগুলোতে যে পুঁজি সংকট তৈরি করেছে, তা মোকাবেলার জন্য সরকার তার বাজেটে সাধারণ আমানতকারীদের ক্ষুদ্র আমানতের ওপর কর ধার্য করে সেটা সরকারি ব্যাংকে চালান দেয়ার ব্যবস্থা করছে! অন্য দেশ হলে এ ধরনের কারবার যারা করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা থাকত অথবা তাদের মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হতো। কিন্তু বাংলাদেশে তা হওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। কারণ সুযোগ পেলে অর্থনীতি ক্ষেত্রে আইন অমান্য বা চুরি করছে না এমন লোকের সন্ধান লাভের জন্য এখন গবেষণার প্রয়োজন।
এক্ষেত্রে সব থেকে বিপজ্জনক ব্যাপার হল, এ ধরনের আইন অমান্যতার একটা সামাজিক স্বীকৃতিও এদেশে তৈরি হয়েছে। আগে একটা চোরের প্রতি সমাজের যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, যে ঘৃণা ছিল, আজ আর সেটা নেই। চুরি করে, ডাকাতি করে, ভূমিদস্যুতা করে, ঘুষসহ নানা দুর্নীতি করে বিপুল ধনসম্পদের মালিকরা এখন বাংলাদেশে সমাজের অধিপতি। এই অধিপতিদের গায়ে হাত পুলিশ দেয় না, দিতে পারে না এবং তাদের হুকুম মতোই দেশ চলে। এ পরিস্থিতিতে মিথ্যা যে ব্যাপকভাবে তার সাম্রাজ্য বিস্তার করে রাখবে এটাই স্বাভাবিক। কাজেই দৈনন্দিন ব্যবহারিক জীবন, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে সম্পর্ক, পারিবারিক সম্পর্ক, রাজনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস থেকে নিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে এখন মিথ্যার রাজত্ব চলছে। মিথ্যার শাসনেই সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এসবই হচ্ছে কোনো না কোনোভাবে নিয়ম-কানুন ভঙ্গ এবং আইন অমান্যতার উদাহরণ। এই আইন অমান্যতা সব ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে নৈরাজ্য তৈরি এবং তা গভীর থেকে গভীরতর করছে। সরকারের হাতেই সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ থাকে। যে কোনো গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার গঠিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশে যে নির্বাচন হয় তাতে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয় না, তার কোনো সুযোগ থাকে না। কারণ এই নির্বাচনে নির্বাচনী আইন মেনে চলার কোনো ব্যাপার থাকে না। নির্বাচনের ফলাফল জনগণের ভোটের দ্বারা নির্ণীত হয় না। সেটা হয় খোদ নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশের নির্বাচনী আইন অমান্যতার মাধ্যমে। অবাধ কারচুপির মাধ্যমে।
বাংলাদেশে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি যেভাবে সংসদ নির্বাচন হয়েছে, এত বড় নির্বাচনী আইন অমান্যতার দৃষ্টান্ত শুধু বাংলাদেশে নয়, দুনিয়ার কোথাও ইতিপূর্বে দেখা যায়নি। এই আইন অমান্যতার ফলে এমন ম্যাজিক দেখা গেছে যেখানে জনগণের কোনো ভোট ছাড়াই ক্ষমতাসীন সরকার ১৫৩টি আসনে জয়লাভ করে আবার ক্ষমতাসীন হওয়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে! এভাবে যে সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে, তারা রাজনীতি, প্রশাসন, অর্থনীতি, উন্নয়ন ইত্যাদি কোনো ক্ষেত্রে যে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে এবং আইন মান্যতার পরোয়া করবে এটা স্বাভাবিক নয়। আইন অমান্য তাদের নিজেদেরও নানাভাবে এবং সর্বক্ষেত্রে করতে হবে। বাংলাদেশে এখন তা-ই হচ্ছে। কাজেই এর ফলে সমাজে প্রতিটি ক্ষেত্রে, শিক্ষা থেকে নিয়ে ব্যাংক পরিচালনা পর্যন্ত প্রত্যেক ক্ষেত্রে, বিশৃঙ্খলা হয়ে দাঁড়িয়েছে এক সাধারণ ব্যাপার। এর ফলে দেশে নৈরাজ্যিক পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। নৈরাজ্য সমগ্র সমাজকে ভয়াবহভাবে গ্রাস করছে। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে একটা মোটা দাগের ধারণা জনগণের থাকলেও এর বিপদের মাত্রা সম্পর্কে তাদের ধারণা নেই। শুধু তাদের কেন, এদেশের বুদ্ধিজীবীদেরও নেই। সেটা থকলে তাদের মধ্যে এ নিয়ে যে উদ্বেগ দেখা যেত তার কিছুমাত্র নেই। এর কঠোর সমালোচনা এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চিন্তা কোথাও নেই। এর থেকে বিপজ্জনক পরিস্থিতি একটি দেশের জন্য আর কী হতে পারে?
১০.০৬.২০১৭
বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল