Saturday, April 29, 2017

বাংলাদেশের হাওরে জলজপ্রাণীর মৃত্যুর কারণ ইউরেনিয়াম! by রিয়াজ আহমেদ ও পিনাকী রায়

প্রতিবছর আকস্মিক বন্যা বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। এতে ফসলহানীও কৃষকদের খুব একটা ব্যাকুল করে না। কিন্তু আকস্মিক বন্যা যখন মাছ, ব্যাঙ ও জলচর পাখির মতো অসংখ্য প্রাণীর প্রাণ হরণ করে তখন অবাক না হয়ে পারা যায় না। সম্প্রতি এমন আকস্মিক বন্যার পর সিলেট অঞ্চলের হাওরগুলোতে জলপ্রাণীর ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা সবাইকে অবাক করার পাশাপাশি শংকিতও করে তুলেছে।
ভারতের একটি ‘ওপেন পিট’ ইউরেনিয়াম খনির সঙ্গে একটি নদীর সংযোগের কারণে সেখানে নদীর মাছ মারা যাচ্ছে বলে সীমান্তের ওপারে বেশ হৈচৈ চলছে। তাই এর সঙ্গে হাওড়ে জলজপ্রাণী মৃত্যুর সংযোগ থাকতে পারে বলে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা আশংকা প্রকাশ করেছেন। এই প্রাণী মৃত্যুর সঙ্গে যদি ইউরেনিয়ামের সত্যিই সংযোগ পাওয়া যায় তাহলে তা হবে বাংলাদেশের জলাশয় ও নদী ব্যবস্থার ওপর এটি গুরুতর আঘাত। মানুষসহ জল ও স্থল নির্বিশেষে সর্বত্র প্রাণীকুল এর শিকার হবে বলে বিশেষজ্ঞরা হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা সুনামগঞ্জের ঠিক ওপাশে ভারতে রাণীকর নদীর অববাহিকায় মূলত খাসি জনগোষ্ঠীর বাস। সম্প্রতি সেখানকার নদীনালায় মাছসহ বিভিন্ন জলজপ্রাণী ব্যাপক হারে মারা যাচ্ছে। এ নিয়ে সেখানে হৈচৈ চলছে। স্থানীয়দের ধারণা কাছাকাছি এলাকায় থাকা ইউরেনিয়াম খনি থেকে সৃষ্ট দূষণের ফলে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইউরেনিয়াম উত্তোলনের জন্য যেসব কূপ খোঁড়া হয় সেগুলো উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে। ফলে আশপাশের বস্তু সহজেই ইউরেনিয়াম দূষণের শিকার হতে পারে।
মার্চ মাসের শেষ দিকে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা তলিয়ে যায়। হাওর ও জলাভূমিগুলো প্লাবিত হয়।
এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও অন্যান্য হাওর এলাকা এমনকি আরো ভাটিতে মৌলভীবাজারের মানুষ অগনিত মাছ, ব্যাঙ এমনকি হাঁস পর্যন্ত মৃত অবস্থায় হাওরের পানিতে ভাসতে দেখে। এই মৃত্যুর পেছেনে ইউরোনিয়াম দূষণের সংযোগ থাকতে পারে এমন আশংকায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। আশংকা সত্যি হলে এশিয়ার সর্ববৃহৎ দুই হাওর হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার-এ জলজপ্রাণীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।
মেঘালয়ের পশ্চিম কাশি পার্বত্য এলাকার অধিবাসীরা সম্প্রতি রাণীকর নদীর পানির রং বদলে যাওয়া লক্ষ্য করেছেন। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তে প্রবাহিত যদুকাটা নদী থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার ভাটিতে রাণীকর নদী প্রবাহিত।
এ ব্যাপারে ঢাকায় বাংলাদেশ এটমিক এনার্জি সেন্টার’র রসায়ন বিভাগের প্রধান ড. বিলকিস আরা বেগম জানান যে কাশি পর্বত এলাকায় খনি থেকে ভারতের ইউরেনিয়াম উত্তোলনের বিষয়টি তারা অবগত। তার মতে, আমাদের হাওর এলাকায় উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ইউরেনিয়াম মিশে যাওয়ার আশঙ্কা অত্যন্ত প্রবল। আর এমনটা ঘটলে বাংলাদেশের জন্য তা বিপর্যয় ডেকে আনবে।
তিনি আরো জানান যে নদীর পানির রং পরিবর্তনের জন্য ইউরেনিয়াম সরাসরি দায়ি না হলেও এর পরোক্ষ সংযোগ থাকতে পারে। তবে, কারণ নির্ণয়ের আগে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
মৎস্য বিভাগের একটি দল বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) হাওর এলাকা পরিদর্শন করে দেখতে পায় হাওরের পানি অত্যন্ত বিষাক্ত। এতে জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু পানি বিষাক্ত হওয়ার কারণ তারা এখনো নির্ণয় করতে পারেনি।
প্রাণীসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা হাওরা এলাকা থেকে মৃত হাঁস সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন সিলেট অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, হাওরে মাছ ও হাঁসের এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর সঙ্গে ইউরেনিয়াম দূষণের সংযোগ থাকার সম্ভাবনা খুবই বেশি। যদি উজান থেকে ইউরেনিয়াম মিশ্রিত পানি এসে আমাদের হাওরগুলো প্লাবিত করে তাহলে তার সবার জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।
সীমান্তের ওপারে কাশি শিক্ষার্থীরা ইউরেনিয়াম খনিগুলোর কুপ খোলা রাখার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। ওই অঞ্চলে নদীগুলো ব্যাপকহারে মাছের মৃত্যুর সঙ্গে ইউরেনিয়াম কূপগুলোর সংযোগ রয়েছে বলে তাদের সন্দেহ প্রবল।
কাশি ছাত্ররা বাংলাদেশে হাওরের পরিস্থিতি জানতে যোগাযোগ করেছে বলে করিম জানিয়েছেন।
অবশ্য মেঘালয় রাজ্য সরকার মাছের মৃত্যুর সঙ্গে ইউরেনিয়াম দূষণের সংযোগ থাকার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। খনিজ বিভাগের দায়িত্বে থাকা রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিন্দো এম লানং বলেন, যদি ইউরেনিয়ামের সংযোগ থাকতো তাহলে শুধু মাছ নয় অন্য জলজ প্রাণীও মারা যেতো।
সুনামগঞ্জের কৃষক সোনাই মিয়া জানান, শুধু মাছ নয়, হাওরে ব্যাঙ, জোঁকসহ আরো অনেক প্রাণী মারা গেছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, পানিতে তলিয়ে যাওয়া ফসল পচে গেলে তাতে জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটে না। আগে কখনোই বন্যায় এমনটা হয়নি।
মৎস্য ও পশুসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা দেখেন হাকালুকি হাওরের পানিতে অম্লতা (এসিড) বেড়ে গেছে এবং অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
পশ্চিম কাশি পর্বতে যে খনি রয়েছে সেগুলো থেকে উন্মুক্ত কূপ পদ্ধতিতে ইউরেনিয়াম তোলা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় জনগণের প্রবল প্রতিবাদের মুখে ইউরেনিয়াম কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লি. ১৯৯২ সালে একটি পাইলট ইউরেনিয়াম খনি থেকে উত্তোলন বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
রাণীকর নদীর পানির রং পরিবর্তনের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মেঘালয়ের কাশি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (কেএসইউ) এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। নদীতে হাজার হাজার মাছ মারা গেছে বলেও তারা অভিযোগ করে। বর্তমানে রাণীকর একটি মৃত নদীতে পরিণত হয়েছে। এতে মাছ ও জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব নেই বলে কেএসইউ জানায়।
সুনামগঞ্জ জেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের পাশে তাহিরপুরের মতিয়ান হাওরে ভেসে ওঠা মরা মাছ

আসন্ন যুদ্ধের জন্য ‘তৈরি থাকতে’ ১০ দেশকে চিঠি উ. কোরিয়ার

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি রাষ্ট্রকে চিঠি দিয়ে আসন্ন পরমাণু হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সতর্ক করলেন উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উন। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আমেরিকার সামরিক মহড়ার জেরে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ান-এর সাধারণ সম্পাদককে এ কথা জানিয়ে চিঠি পাঠালেন উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং-হো। তিনি জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে ১০টি আশিয়ান রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আসন্ন পরমাণু গণহত্যা সম্পর্কে সতর্ক করা হোক। সেই সঙ্গে ওই দশ সদস্য রাষ্ট্রকে আমেরিকার বিরুদ্ধে একজোট হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানও জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। সম্প্রতি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উত্‍‌ক্ষেপণ ঘিরে আমেরিকার হুমকির জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পিয়ংইয়ংয়ের ষষ্ঠ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সম্ভাবনা আঁচ করে কোরিয়া উপদ্বীপের উদ্দেশে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে গড়া যুদ্ধবিমানবাহী রণতরি ইউএসএস কার্ল ভিনসন-সহ বিশাল নৌবহর পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। বর্তমানে তার অবস্থান ওকিনাওয়ার পূর্বে ফিলিপাইন সাগরে। ইউএস প্যাসিফিক কম্যান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল হ্যারি হ্যারিস জানিয়েচেন, ‘মার্কিন নৌবহরের বর্তমান অবস্থান উত্তর কোরিয়ায় আঘাত হানার জন্য আদর্শ।
এখন শুধুমাত্র নির্দেশের অপেক্ষা।’ প্রসঙ্গত, চলতি সপ্তাহে ম্যানিলায় আশিয়ান রাষ্ট্রজোটের বৈঠকে কোরিয়া উপদ্বীপের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনায় বসবেন সদস্যরা। মনে করা হচ্ছে, সেই বৈঠক নিশানা করেই আসিয়ান-এর সাধারণ সম্পাদককে চিঠি পাঠিয়েছে পিয়ংইয়ং। যদিও, আসিয়ান বৈঠক সম্ভাব্য আলোচনার বিষয় সম্পর্কে চলতি সপ্তাহে যে খসড়া পাওয়া গিয়েছে, তাতে কোরিয়া উপদ্বীপ সম্পর্কে আলোচনার জায়গাটি এখনও শূন্য রয়েছে। অর্থাৎ এ সম্পর্কে কী বক্তব্য পেশ করা হবে, তা এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট করা হয়নি। উল্লেখ্য, লাওস ও কম্বোডিয়ার মতো একাধিক আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে কুয়ালালামপুরে কিম জং-উনের সৎভাই কিম জং-নামের হত্যার পরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কে চিড় ধরেছে। আসিয়ান সাধারণ সম্পাদককে লেখা চিঠিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, ‘সকলেই জানে, পরমাণু আঘাত হানার ব্যবস্থা করার মানে যে কোনও সময় কোরিয়া উপদ্বীপে পরমাণু যুদ্ধ শুরু হতে পারে। এই ধরনের সামরিক মহড়া কোনও মতেই নিরাপত্তার জন্য হতে পারে না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতে হবে শুনে চমকে গিয়েছিলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতে হবে তাকে, শুনে নিজেই চমকে গিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হিসাবে ক্ষমতায় বসার ১০০ দিন উদযাপনের আগে এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করলেন নিজেই। বললেন, প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগের জীবন তার অনেক সহজ ছিল। জীবনে অনেক সুখের ছিল। এখন তো গাড়িও চালানোর সুযোগ নেই। সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে বললেন, তাঁর আগের জীবনই অনেক ভালো ছিল। এখন হোয়াইট হাউজের বাইরে পা দিলেই সামনে হাজির লিমুজিন কিংবা অত্যাধুনিক এসইউভি। এদিকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার ১০০ দিনেই জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে একেবারে তলানিতে পৌঁছেছেন ট্রাম্প। সিএনএন/ওআরসি’র নতুন এক সমীক্ষায় এমনটিই দেখা গিয়েছে। ট্রাম্প যেভাবে কাজ চালাচ্ছেন, তা সমর্থন করেছেন মাত্র ৪৪ শতাংশ মানুষ। আর ৫৪ শতাংশই এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন।
ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পরপরই সিএনএন/ওআরসি পরিচালিত দু’টি জনমত সমীক্ষায় যে ফল এসেছিল এখনকার সমীক্ষা দু’টিও প্রায় একই। এর আগের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জনপ্রিয়তা ছিল ৬৩ শতাংশ, জর্জ ডব্লু বুশের ছিল ৬২ শতাংশ এবং বিল ক্লিনটনের ছিল ৫৫ শতাংশ। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধসের কারণ হিসাবে দুটো বিষয় সমীক্ষায় উঠে এসেছে। আর তা হলো স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অভিবাসন। ট্রাম্প এ দু’টি বিষয় যেভাবে সামাল দেয়ার চেষ্টা করেছেন তা সমর্থন করেনি ১০ জনের মধ্যে ৬ জন আমেরিকান। অনেকেই বলেছে, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দেননি ট্রাম্প। এমন বলছেন, ৫৫ শতাংশ মার্কিনি। তিনি কঠোর পরিশ্রম করছেন না বলে মত দিয়েছেন ৫১ শতাংশ মার্কিনি। হোয়াইট হাউজে শীর্ষ উপদেষ্টাদের নিয়োগের বিষয়টি ট্রাম্প ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারেননি বলে মত দিয়েছেন ৫৬ শতাংশ মানুষ। প্রতিশ্রুতিও ট্রাম্প ঠিকমত পালন করতে পারেননি বলে মত দিয়েছেন ৫২ শতাংশ মানুষ। ৬১ শতাংশ মানুষ বলেছেন, বিশ্ব নেতারা ট্রাম্পকে বেশি শ্রদ্ধা করেন না। আর ৫২ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি দেশকে অযথাই বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ব্যর্থতা প্রমাণের ভয়ে হাওর অঞ্চলকে সরকার দুর্গত ঘোষণা করছে না : দুদু

সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ হয়ে যাবে এই ভয়েই তারা তারা এখনো হাওর অঞ্চলকে দুর্গত ঘোষণা করছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামস্জ্জুামান দুদু। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা টেন্ডার নিয়ে ওই সমস্ত এলাকায় কাজ করেছেন। তাদের দুর্নীতি প্রমাণ হওয়ার ভয়েই সরকার এখনো হাওর অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করছে না। সরকার হাওরবাসীকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে দুদু বলেন, হাওর অঞ্চলের দুর্গতি সরকারের দুর্নীতির অংশ, ব্যর্থতার নগ্ন ইতিহাস। হাওরবাসী সরকারের এই ব্যর্থতা তাদেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। তারপরও সরকার অসহায় হাওরবাসীকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘হাওরের মহাবিপর্যয়কে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা এবং হাওরবাসীকে রক্ষায় দ্রুত রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে” বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগর আয়োজিত নাগরিক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ন্যাপ ঢাকা মহানগর সদস্য সচিব মোঃ শহীদুননবী ডাবলুর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনপিপি মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, বিএনপি নেতা খালিদ সাইফুল্লাহ সোহেল,
কল্যাণ পার্টি ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান তামান্না, এনডিপি প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিনের সহসভাপতি মোহাম্মদ ফরিদউদ্দিন, জিনাফ সভাপতি মিয়া মোঃ আনোয়ার, ন্যাপ ভাইস চেয়ারম্যান কাজী ফারুক হোসেন প্রমুখ। শামসুজ্জামান দুদু সরকারের প্রতি হাওর অঞ্চলগুলোকে অনতিবিলম্বে দুর্গত এলাকা ঘোষণার জোর দাবি জানিয়ে বলেন, এখন বিভেদের সময় নয়। কেনো আপনারা বিরোধীদলকে ত্রাণ তৎপরতায় সহযোগিতা না করে প্রধানমন্ত্রী যাবেন বলে বাধা দিচ্ছেন? বাধা না দিয়ে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে বিরোধীদলগুলোর ত্রাণ তৎপরতায় সহযোগিতা করুন। হাওর অঞ্চলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া না যাওয়ায় প্রশ্ন তোলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে দুদু বলেন, সর্ব প্রথম হাওর অঞ্চলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গিয়েছিলেন। তার আগে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা ছাড়া কেউ যায়নি। তিনি ওবায়দুল কাদের আমাদের অগ্রজ বড় ভাই একটু বেশি কথা বলেন, কিন্তু বেশি কথা বললে যে বেশি ভুল হয় তিনি মাঝে মধ্যে ভুলে যান। আমরা তার কাছে জ্ঞান সমৃদ্ধ দায়িত্বশীল কথা আশা করি।

ইবি শিক্ষক অপহরণ : এক ঘণ্টা পর উদ্ধার

অপহরণের এক ঘন্টা পর উদ্ধার হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসির উদ্দিন খান। শুক্রবার কুষ্টিয়া শহর থেকে অপহরণ করে কুমারখালী নিয়ে মারধরের একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বুঝতে পেরে তাকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। উদ্ধার হওয়ার পর অপহরণকৃত শিক্ষক কুষ্টিয়া সদর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। অপহরনণকৃত শিক্ষক নাসির উদ্দিন খান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থ ইলেক্ট্রনিক্স এ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। তার ভাষ্য মতে, শুক্রবার রাত পৌনে আটটায় কুষ্টিয়া শহরের নিশান মোড় থেকে কটাইখানা যাচ্ছিলেন তিনি। এসময় একটি মটরসাইকেল তার গতি রোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পেছন থেকে আরো তিনজন এসে তাকে জোরপূর্বক মটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। কথা বললে সমস্যা হবে বলে নাসির উদ্দিনকে শাসায় অপহরণকারীরা। এর কিছুক্ষণ পর মটরসাইকেল থেকে নামিয়ে পায়ে হেঁটে তারপর সিএনজিতে করে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ডাকবাংলা পুকুর পাড়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সুযোগ বুঝে নাসির উদ্দিন তার স্ত্রীকে ফোন করেন। ফোন রিসিভ করে কিছু বলার আগেই অপহরণকারীরা গালাগাল করতে করতে ফোনটি কেড়ে নেয়। এর কিছুক্ষণ পর ফোন খুলে লাউস্পিকার দিয়ে নাসির উদ্দিনের সামনে ধরে।
নাসির উদ্দিন ‘আামর সাথে তিনজন আছে’ এই কথা বলতেই অপহরণকারীরা ফোন কেটে দেয়। সাথে সাথে বিষয়টি আশপাশের পরিচিত শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানান অধ্যাপক নাসির উদ্দিনের স্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষক অপহরণের বিষয়টি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে তারা সাথে সাথে তাদের তৎপরতা শুরু করে। এদিকে অপহরণকারীরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বুঝতে পেরে নাসির উদ্দিনকে মারধর করে ‘তোর বিভিন্ন লিংক আছে’ বলে ছেড়ে দেয়। নাসির উদ্দিন কুমারখালীর ডাকবাংলার পুকুর পাড় থেকে দৌড় দিয়ে রাস্তায় এসে একটি সিএনজি নিয়ে দ্রুত কুষ্টিয়া চলে আসেন। নাসির উদ্দিন কুষ্টিয়া পৌছে কুষ্টিয়া সদর থানায় গিয়ে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। ঘটনা জানার সাথে সাথে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রোভিসি এবং ট্রেজারার নাসির উদ্দিনের সাথে সাক্ষ্যাতের জন্য তাৎক্ষণিক কুষ্টিয়ায় যান। নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি অপহরণকারীদের কাউকে চিনতে পারি নাই। বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসার পর তারা আমাকে মারধর করে ছেড়ে দেয়। পরে আমি সিএনজি করে কুষ্টিয়া আসি। আমি নিজে বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছি।’ কুষ্টিয়া সদর থানার ওসি শাহাবুদ্দিন চৌধুরী বলেন, আহরণের পর উদ্ধার হওয়া শিক্ষক নাসির উদ্দিন নিজে বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চার জনের বিরুদ্ধে একিট অপহরণ মামলা দায়ের করেছে (মামলা নং- ৪৬)। মামলার কার্যক্রম যথারীতি পরিচালিত হবে।’

'উ. কোরিয়াকে একা সামলাতে পারবে না চীন'

চীন বলেছে, কোরিয় উপদ্বীপে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসন করা বেইজিংয়ের একার পক্ষে সম্ভব নয়। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এক বৈঠকে এ মন্তব্য করেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি বলেছেন, “কার অবস্থান সঠিক আর কে ভুল পথে রয়েছে সে বিতর্ক বাদ দিয়ে এখন আমাদের উচিত কে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য প্রথম পদক্ষেপ নেবে তা নিয়ে আলোচনা শুরু করা।” ওয়াং বলেন, “উত্তর কোরিয়ার সাথে আলোচনা আবার শুরু করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত।” চীনের একার পক্ষে উত্তর কোরিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন চীনকে ‘তার মিত্র’ উত্তর কোরিয়াকে নিয়ন্ত্রণের জন্য নিজের প্রভাব খাটানোর আহ্বান জানানোর পর এ মন্তব্য করলেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠকে টিলারসন উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য পরমাণু হুমকির মোকাবিলায় ‘সব ধরনের ব্যবস্থা’ নেয়ার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানান। বেইজিং ‘আগে আলোচনা পরে ব্যবস্থা’ গ্রহণের নীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু ওয়াশিংটন আলোচনা শুরু করার আগে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে চায়। অন্যদিকে কোরিয় উপদ্বীপের উত্তেজনা প্রশমনে যেকোনো সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার কঠোর বিরোধিতা করেছে রাশিয়া। দেশটি বলেছেন, এ ধরনের ব্যবস্থা ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ এবং তা ‘বিপর্যয়কর ফলাফল’ বয়ে আনবে। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের শুক্রবারের বৈঠকে রুশ উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী গেন্নাদি গাতিলভ বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের সাথে আলোচনা শুরু করার যে প্রস্তাব চীন দিয়েছে তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত। তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কোনো ফল পাওয়া যাবে না। সূত্র : ওয়েবসাইট

হুমকি মোকাবেলায় দ. কোরিয়ায় মার্কিন বোমারু বিমান মোতায়েন

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশটিতে নিয়মিত মার্কিন ‘কৌশলগত সম্পদ’ মোতায়েনের বিষয়ে তাদের সাথে আমেরিকার চুক্তি হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবেলার অংশ হিসেবে এ চুক্তি করার কথা উল্লেখ করা হয়। ‘কৌশলগত সম্পদ’ বলতে পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম মার্কিন বি-৫২, বি-২, এবং বি-১বি বোমারু বিমান, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং দক্ষিণ কোরিয়া,
জাপান এবং গুয়ামের মার্কিন ঘাঁটিতে মোতায়েন বিমানবাহী রণতরিকে বোঝান হয়। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত দেশ দুটির দ্বিবার্ষিক প্রতিরক্ষা সংলাপ বা কেআইডিডি সম্পর্কে মিডিয়া ব্রিফিং দেয়ার সময়ে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এ ছাড়া, সিউল এবং ওয়াশিংটন এ সময়ে দাবি করে, নিছক প্রতিরক্ষার প্রয়োজনেই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘থাড’ দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা হয়েছে। অবশ্য ‘থাড’ মোতায়েনের বিরোধিতা করে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং বলেছেন, এতে আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্য বিনষ্ট হবে। সূত্র : ওয়েবসাইট

গোহত্যা! অপরাধী বানর

ভয়ে অস্থির ভারতের ঝাড়খণ্ডের ১৩টি গ্রামের বাসিন্দা। একদল বানর যখন তখন রাজগঞ্জ পঞ্চায়েতের এ গ্রামে ও গ্রামে ঢুকে তাণ্ডব চালাচ্ছে। গত সপ্তাহে তাদের কামড়ে প্রাণ হারিয়েছে রাজগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা রাজু আগরওয়ালের পোষা গরু। বিজেপি রাজত্বে মানুষ গোহত্যা করলে তুলকালাম হয়ে যেত। কিন্তু যেহেতু অপরাধী বানরের দল, তাই তাদের কীভাবে শাস্তি দেয়া সম্ভব, তা গ্রামবাসীরা ভেবে পাচ্ছেন না। তা ছাড়া বানরও যে সে নয়, রামচন্দ্রের আজ্ঞাকারী ভক্ত হনুমানের বংশে তার জন্ম। তাই কিচ্ছু করতে না পেরে হাত কামড়াচ্ছেন স্থানীয় মানুষ। এদিকে গোমাতা, অন্যদিকে দেবতা - কার বিরাগভাজন হওয়া অপেক্ষাকৃত নিরাপদ বুঝে উঠতে পারছেন না। বছরদুয়েক ধরে ৩০-৩৫টি বানর ধানবাদের বাঘমারা ব্লকে চূড়ান্ত অশান্তি করছে। যখন তখন মানুষকে ধরে কামড়ে দিচ্ছে তারা, কামড়াচ্ছে গরু, ছাগল, কুকুর, বেড়ালদের। খাবার- কেড়ে নিচ্ছে, শুকোতে দেয়া জামাকাপড় নিয়ে চম্পট দিচ্ছে,
বাড়িতে ঢুকে জিনিসপত্র ভাঙচুর করছে, দাপাদাপি করে ক্ষতি করছে টালির চালের। যেই শোনা যাচ্ছে, কোনো গ্রামে তাদের পদার্পণ ঘটেছে, বাসিন্দারা বাড়িতে ঢুকে দরজা জানালা বন্ধ করে দিচ্ছেন, আটকে ফেলছেন ছেলেমেয়েদের। এই প্রচণ্ড গরমেও দরজা জানালা খুলতে না পেরে ভেতরে বসে বসে ঘেমে অস্থির হচ্ছে তারা। এমনকী গ্রামে বানর ঢুকেছে জানতে পারলে ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়াও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে বিপদ সবথেকে বেশি যখন কেউ বাজার থেকে ফিরছেন। বানরদলের চোখে পড়লে আর রক্ষে নেই। তক্ষুনি হাত থেকে তরিতরকারি ভরা ব্যাগ ছিনতাই করছে তারা। ভালয় ভালয় মুখ বুজে মেনে নিলে ভালো। না হলে জুটছে দাঁত খিচুনি, চড় থাপ্পড়। সাধারণ মানুষ এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর গ্রিভ্যান্স সেলেও অভিযোগ করেছেন। কিন্তু অত্যাচার বন্ধ হওয়ার নাম নেই।

ভারতে প্রধান বিচারপতির দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা

ভারতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিসহ সাত বিচারপতির উড্ডয়নের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন বিচারপতি সি এস কারনান। শুক্রবার এয়ার কন্ট্রোল অথরিটিকে এমনই নির্দেশিকা জারি করেছেন তিনি। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলার রায় না বেরোনো পর্যন্ত তারা দেশ ছাড়তে পারবেন না। কলকাতার নিউটাউনে নিজের বাড়িতেই আদালত বসিয়ে এই নির্দেশিকা জারি করেন কারনান। ১৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহর এবং আরো ৬ বিচারপতি দীপক মিশ্র, জে চেলামেশ্বর,
রঞ্জন গগৈ, মদন বি লকুড়, পিণাকীচন্দ্র ঘোষ এবং ক্যুরিয়ান জেসপের বিরুদ্ধে তপশিলি জাতি ও উপজাতি আইনের ধারায় মামলা দায়ের করেন। এই সাত বিচারপতিকেই ২৮ এপ্রিলের মধ্যে তার বাড়িতে বসানো বিশেষ আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিলেন কারনান। এই সাত বিচারপতিই দুর্নীতির কারনানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। চার সপ্তাহের মধ্যে তার জবাবও তলব করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। এবং ১ মে তাকে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তার প্রেক্ষিতেই পাল্টা মামলা করেন কারনান। সেই মামলায় এই নির্দেশিকা জারি করেন তিনি।

আবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহবানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আবারো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি। তবে দক্ষিণ কোরিয়া আর আমেরিকান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিক্ষেপের কয়েক সেকেন্ড পরেই ক্ষেপণাস্ত্রটি বিস্ফোরিত হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক কর্মসূচীর বিষয়ে বিশ্ব সঠিক পদক্ষেপ নিতে না পারলে তার গুরুতর ফলাফলের বিষয়ে মাত্রই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করে দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আবারো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ পিয়ংইয়ংয়ের একটি এলাকা থেকে স্থানীয় সময়ে ভোরের দিকে পরীক্ষাটি চালানো হয়।
এটি কী ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র বা এর ক্ষমতা কতটুকু, তা জানা যায়নি। তবে মার্কিন আর উত্তর কোরিয়ান কর্মকর্তারা বলছেন, ওই পরীক্ষা ব্যর্থ হয়েছে, কারণ নিক্ষেপের পরপরই ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস হয়ে যায়। এ সপ্তাহেই এরকম আরেকটি পরীক্ষা চালিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। এরপর দক্ষিণ কোরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা স্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই পরীক্ষায় ওই অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক পথেই সমস্যার সমাধানের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও চীন ও রাশিয়ার তাতে আপত্তি রয়েছে। এই সংকটের সমাধানে আবার আলোচনার শুরুর আহবান জানিয়েছে চীন। সূত্র : বিবিসি

আরো অত্যাধুনিক নয়া চীনা বিমানবাহি রণতরি

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম বিমানবাহি রণতরিতে আট হাজারেরও বেশি নয়া প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করেছে চীন৷ চলতি সপ্তাহেই পানিতে নেমেছিল চীনের এই নয়া যুদ্ধ বিমানবাহী জাহাজ৷ দেশীয় পদ্ধতিতে এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার তৈরি করতে চীন যে উদ্যোগ নিয়েছে তা দেশের প্রযুক্তিকে বাড়তি উৎসাহ জোগাবে৷ এমনই প্রকাশিত হয়েছে চীনের প্রথম শ্রেণীর একটি সংবাদপত্রে৷
গত বুধবার চীনের ডালিয়ান জাহান নির্মাণ কেন্দ্র থেকে পঞ্চাশ টন ওজনের এই নতুন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারটি পানিতে নেমেছিল৷ চায়না সিপ বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশনের সাহায্যেই তৈরি হয়েছিল এটি৷ নয়া এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারটি ছাড়াও চীনের কাছে রয়েছে আরো একটি যুদ্ধ বিমানবাহী জাহাজ৷ ১৯৯৮-এ এটি ইউক্রেন থেকে ক্রয় করা হয়েছিল৷ এছাড়া আরো একটি নির্মাণ করছে চীন৷

হাওরে দুর্যোগে বিপাকে মধ্যবিত্তরা

হাওরাঞ্চলে ৯০ ভাগ ফসল তলিয়ে যাওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের পাশাপাশি বেকায়দায় পড়েছেন মধ্যবিত্ত কৃষকরাও। তারা না পারছেন ভিজিএফ পাওয়ার চেষ্টা করতে, না পারছেন ওএমএসের লাইনে দাঁড়াতে। বিপন্ন মধ্যবিত্ত কৃষকদের কেউ কেউ আপাতত গরু বিক্রি করে পরিবারের খরচ চালাচ্ছেন। আবার গরু বিক্রির টাকায় কেউ মহাজনি ঋণও পরিশোধ করছেন। কিন্তু নিজের এবং পরিবারপরিজনের সামনের দিনগুলো কিভাবে কাটবে এই দুশ্চিন্তায় ঘুমোতে পারছেন না তারা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক জানান, জেলায় কার্ডধারী কৃষকদের মধ্যে প্রান্তিক কৃষক রয়েছেন- ৯১ হাজার ৬০৯ জন, ক্ষুদ্র কৃষক আছেন এক লাখ ৩২ হাজার ১৯৮ জন, মধ্যবিত্ত কৃষক ৬৩ হাজার ১৮৮ জন এবং বড় কৃষক ১৩ লাখ ১৪৮ জন। সব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককেই প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের সুনামগঞ্জ অঞ্চলের অ্যাসিটেন্ট জেনারেল ম্যানেজার দোলন চক্রবর্তী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ আদায় আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। কৃষকেরা বকেয়া কৃষি ঋণের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে নতুন করে কৃষি ঋণ নিতে পারবেন। সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে সুনামগঞ্জের ৪২ জন ডিলার ১ টন চালের পরিবর্তে ২ টন করে চাল বিক্রি করবেন।
আগামী ৩১ মে পর্যন্ত ওএমএসের চাল বিক্রির এই কার্যক্রম চালু থাকবে। সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্র জানায়, এখন জেলার ৪৫ জন ওএমএস ডিলার এক টনের স্থলে দুই টন করে চাল বিক্রয় করবেন। চালের পরিমাণ বৃদ্ধি হওয়ায় এখন পাঁচ কেজি করে ২০০ জনের স্থলে ৪০০ জন মানুষ একজন ডিলারের কাছ থেকে প্রতিদিন চাল ক্রয় করতে পারবেন। সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ওএমএসের চাল না পেয়ে প্রতিদিনই শত শত মানুষ খালি হাতে বাড়ি ফিরছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ দিকে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকা পরিদর্শন করতে শুক্রবার সুনামগঞ্জে আসেন পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। শুক্রবার দুপুরে তিনি স্পিডবোটে সুনামগঞ্জের শনির হাওর, হালির হাওর ও গুরমার হাওর পরিদর্শন করেছেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় সার্কিট হাউজে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং জেলা প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জের হাওরে এবার আবাদকৃত ধানের ৯০ ভাগেরও বেশি তলিয়ে গেছে। জেলায় প্রায় সোয়া দুই লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছিল। ফসল তলিয়ে যাওয়ার কারণে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছে তিন লাখেরও বেশি কৃষক পরিবার।

শ্রীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে বাবা মেয়ে নিহত

গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রেনের কাটা পড়ে বাবা ও তার পালিত মেয়ে নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, শ্রীপুর উপজেলার কর্ণপুর ছিটপাড়া এলাকার হযরত আলী (৪৫) ও তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ে আয়েশা খাতুন (০৮)। নিহত আয়েশা স্থানীয় শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণির ছাত্রী। শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. শাজাহান জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনের পশু হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের নীচে কাটা পড়ে নিহত হন তারা। ধারণা করা হচ্ছে তারা আত্নহত্যা করতে পারেন। নিহত হযরত আলীর স্ত্রী হালিমা বেগম জানান, সকাল ৮টার দিকে মেয়ে সহ বাড়ি থেকে বের হন তার স্বামী হযরত আলী। এর পর পরই এ ঘটনার সংবাদ পান। তার স্বামী দীর্ঘদিন যাবত একটি মামলা সংক্রান্ত ঘটনায় মানসিক যন্ত্রণায় ভূগছিলেন। জয়দেবপুর রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দাদন মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নড়াইলে ওষুধি গাছের প্রদর্শনী

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার জনক ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের ২৬২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নড়াইলে তিন শতাধিক ওষুধি গাছের প্রদর্শনী হয়েছে। লোহাগড়া উপজেলা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সমিতির আয়োজনে শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) রামনারায়ণ পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে দিনব্যাপী বিভিন্ন ওষুধি গাছ প্রদর্শনী করা হয়। শিশু, কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ এবং হোমিওপ্যাথিক রোগিরা ওষুধি গাছের এ প্রদর্শনী দেখতে ভিড় করেন। এদিকে, লাইব্রেরি মিলনায়তনে হ্যানিম্যানের কর্মময় জীবনের ওপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ডাঃ সাইয়্যেদ আহ্মাদ আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ শ ম আনয়ারুজ্জামান, ডাঃ সৈয়দ নাজমুস শাহাদাৎ, ডাঃ এম কে বাসার, ডাঃ অধ্যাপক মোহিদুর রহমান, ডাঃ আজিজুল হক আরজ, ডাঃ রফিকুল ইসলাম মিনা, ডাঃ মিজানুর রহমান, ডাঃ অহিদুজ্জামান, ডাঃ মাহামুদুর রহমান প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম খান, সৈয়দ আকরাম আলী, সাংবাদিক আকরামুজ্জামান মিলু, আবু আব্দুল্লাহ, এসএম আলমগীর কবির লিটন প্রমুখ। বক্তারা, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতির উৎকর্ষ সাধন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

হঠাৎ বদলে গেল বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্টেডিয়ামের নাম

হঠাৎ করে বদলে গেছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্টেডিয়ামের নাম! এমন পরিবর্তন দেখে হতবাক ক্রীড়ামোদীসহ সব পেশার মানুষ। গতকাল শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। স্টেডিয়ামের দক্ষিণ পাশের নবনির্মিত প্রবেশদ্বারে ‘নড়াইল জেলা স্টেডিয়াম, নড়াইল’ লেখা হয়েছে। এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উল্লাহ হিরু বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ নড়াইলের সন্তান। মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকার জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাব পেয়েছেন। অনেক বছর আগেই তার নামে নড়াইলের এই স্টেডিয়ামটির নামকরণ করা হয়। কিন্তু কী কারণে হঠাৎ করে স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, তা বোধগম্য নয়।
এ নাম পরিবর্তনের নিন্দা জানাই। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু বলেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্টেডিয়াম’টি গেজেট আকারে প্রকাশ করা। এই নাম পরিবর্তনের প্রশ্নই আসে না। ঠিকাদারের ভুলে নাম পরিবর্তনের এ সমস্যা হতে পারে। জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ বলেন, বিষয়টি জানাজানির পর সঠিক নামকরণের জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার সহকারী পরিচালক সুকুমার সাহা বলেন, গেট (প্রবেশদ্বার) নির্মাণ করা হলেও নামফলক লেখার জন্য আমাদের কোন বরাদ্দ নেই। কে বা কারা নামফলক লাগিয়েছে, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্টেডিয়ামের প্রবেশদ্বারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ চলছে।

কাঁঠালিয়া থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ চাষ

ঝালকাঠি জেলায় কাঁঠালিয়া উপজেলায় বাঁশ বাগানের পরিমাণ অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। এরফলে পরিবেশের যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি আর্থিক লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় কৃষক জাকির হোসেন হাওলাদার জানান, আগে জমির দাম কিছুটা কম থাকায় বাঁশ ঝাড়গুলো সংরক্ষিত ছিলো। এখন জমির দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় বাঁশ ঝাড় কেটে জমি বিক্রি করা হচ্ছে। এসব জায়গায় গড়ে উঠেছে বসতিসহ নানান স্থাপনা। এছাড়া ইটভাটার জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে বাঁশ। বাঁশ বাগানের মালিক মোঃ রবিউল ইসলাম জমাদ্দার বলেন, আগে আমাদের বাঁশ ঝাড় অনেক বড় ছিলো। এখন এর প্রতি গুরুত্ব না দেয়ায় অনেক কমে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঝাড় কমে যাওয়ায় এখন বাঁশ আর সহজলভ্য নয়। এ কারণেই দিনে দিনে বাড়ছে বাঁশের দাম।
কিছুদিন আগেও একটি বাঁশের দাম ছিলো ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এখন বেড়ে দাড়িয়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। বাঁশ ব্যবসায়ি রবি দুয়ারী জানান, ঝাড়গুলো নিধন হচ্ছে। পুনরায় জন্ম নিচ্ছে না। তাই আমাদের কিনতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বাঁশের আগের মতো ঝাড় নেই। পরিবেশ সুরক্ষা ও কৃষি সহায়ক উপাদান হিসেবে বাণিজ্যিক ভাবে বাঁশ চাষের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। কাঁঠালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাদের উদ্বুদ্ধ করছে। এই বাঁশের ঝাড় পুনরায় স্থাপন করতে কি প্রযুক্তি লাগবে সেগুলো আমরা দিচ্ছি। এর মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবে। স্বল্প পরিসরে হলেও বাড়ির আশেপাশে বাঁশ বাগান সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়ার উপর জোড় দিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

পীরগাছায় চাঁদা তুলে রাস্তা সংস্কার

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়নের সীমান্তে এবং রংপুর সিটির সিমান্তে অথাৎ দেউতি সুন্দর পাড়া- মেকুড়া সুন্দর পাড়া নামক স্থানে ছোট একটি রাস্তার সংস্কার না করার কারনে বেহাল দশায় পড়ার কারনে স্থানীয়রা নিজ উদ্দ্যেগে সংস্কার করার উদ্দ্যেগ গ্রহণ করেছেন। রাস্তা সংস্কার করার কারনে শনিবার সকালে দেখা গেছে স্থানীয়দের ভাষায় সুকানো বাস টাংঙ্গিয়ে পথচারিদের কাছ থেকে বুঝি বুঝিয়ে টাকা সংগ্রহ করছেন।
পথচারিরাও টাকা দিয়ে সহযোগিতা করছেন। টাকা সংগ্রহ কারি মো: আব্দুল মতিন, মজিবুর রহমান আ: আজিদ হোসেন সহ অনেকেই বলেন এই এলাকাটি মুলত পীরগাছা এবং রংপুর সিটির একেবারেই সিমান্তে হওয়ার কারনে কেউ সংস্কার করতে চায় না তাই বাধ্য হয়েই আমরা রাস্তাটি সংস্কার করার উদ্দ্যেগ নিয়েছি।

চালের বাজার বেসামাল

সব ধরনের চালের দাম বছরজুড়েই বাড়তি। বাজারে নতুন চাল আসতে শুরু করেছে। দাম এখন কমতির দিকে থাকার কথা। হাওরের পাহাড়ি ঢল দুর্গতি বাড়িয়েছে সারা দেশের মানুষের। নতুন অজুহাতে নতুন করে দাম বেড়েছে আরেক দফা। ৪০ টাকার কমে মোটা চাল মিলছে না। সরু চালের ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৫ থেকে ৫৭ টাকা। চালের এই নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতির জন্য খুচরা বিক্রেতারা দুষছেন পাইকারদের। পাইকারি বিক্রেতাদের অভিযোগ মজুতদার মিলমালিকদের প্রতি। আর অর্থনীতিবিদের বিশ্লেষণ, সরকারের দুর্বল মনিটরিং ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট ক্রয়নীতিই সামগ্রিক বেসামাল পরিস্থিতির জন্য দায়ী। গতকাল শুক্রবার রাজধানী ঢাকার কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, পারিজা-স্বর্ণার মতো মোটা চালও বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে। আটাশ ৪৩ থেকে ৪৫ টাকা। নাজিরশাইলের কেজি ৫৬ থেকে ৫৭ টাকা। মিনিকেট ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা। বাসমতি বিক্রি হচ্ছে ৫৯ থেকে ৬২ টাকা দরে। অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় গরিব মানুষদের জন্য সরকারি কর্মসূচি ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কার্যক্রম এখন বন্ধ।
মান যতই নিম্ন হোক ১৫ টাকা কেজি দরে ট্রাকে চাল বিক্রির কার্যক্রমও অভাবী মানুষদের তেমন কাজে আসছে না। কারণ, এ কর্মসূচির ট্রাকসংখ্যা খুবই কম। আমার একটি ট্রাকে মাত্র এক টন চাল সরবরাহ করায় প্রথম ধাক্কাতেই শেষ হয়ে যায় চাল বিক্রি। চালের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি দেশের সব মানুষকেই নাড়া দিয়েছে। চালের কারণে প্রতিটি পরিবারেই মাসিক খরচ বেড়ে গেছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, গরিব মানুষের জন্য দাম বাড়ানো কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। চালের দাম বাড়ানোর কোনো কারণ এখন নেই। তিনি বলেন, দিন দিন এসব মানুষ নিজের পরিবার চালাতে হাঁপিয়ে উঠছেন। এ বিষয়ে সরকারের নজর দেয়া দরকার। তিনি বলেন, যারা বাজারে অস্বাভাবিক দাম বাড়ায়, তাদের ব্যাপারে সরকার চাইলে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। প্রয়োজনে সরকার বাজার মনিটরিং করতে পারে। তাহলে আসল তথ্য জানা যাবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৬৮ হাজার টন চাল উৎপাদিত হয়েছে; যা আগের বছরের চেয়ে ২ লাখ ৫৮ হাজার টন বেশি। চলতি অর্থবছরে উৎপাদনের ল্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টন। হওরের পরিস্থিতি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেয়া তথ্যানুযায়ী, এবার বোরো মওসুমে ৪৮ লাখ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। এ থেকে ১ কোটি ৯১ লাখ টন চাল উৎপাদনের ল্য ঠিক করেছিল সরকার। তবে হাওর তলিয়ে যাওয়ায় তা কিছুটা কম হওয়ার আশঙ্কা আছে। হাওরের ২ লাখ ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছিল। সেখান থেকে প্রায় ৯ লাখ টন চাল উৎপাদনের আশা করেছিল অধিদফতর। তবে সেখানকার বড় অংশের ধানই নষ্ট হয়ে যাবে আশঙ্কা তাদের।
যদিও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম দাবি করেছেন হাওর ডুবে গেলেও চালের কোনো ঘাটতি হবে না। তার দাবি, বাংলাদেশে বছরে ১৫ থেকে ২০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকে। হাওরে ছয় লাখ টন কম উৎপাদন হলেও কোনো ঘাটতি হবে না। ১০ বছরে দ্বিগুণ কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) এক পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১০ বছরে দেশে চালের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০০৬ সালে প্রতি কেজি মিনিকেট চালের গড় দাম ছিল ২৭ টাকা ৯৫ পয়সা। ২০১৬ সালে ওই চালের দাম হয় ৪৮ টাকা ৩৪ পয়সা। ২০০৬ সালে নাজিরশাইলের দাম ছিল ২৫ টাকা ৫৪ পয়সা। ২০১৬ সালে ওই চালের দাম হয় ৫৫ টাকা ৭৮ পয়সা। ২০০৬ সালে পাইজাম চালের দাম ছিল ২৩ টাকা। গত বছর ওই চালের দাম ছিল ৪০ টাকা ৩৭ পয়সা। ২০০৬ সালে পারিজা/স্বর্ণার দাম ছিল ১৯ টাকা ২৫ পয়সা। গত বছর ওই চালের দাম ছিল ৩৭ টাকা ১৯ পয়সা। ২০০৬ সালে বিআর এগারো/আটের দাম ছিল ১৮ টাকা ২৫ পয়সা। গত বছর ওই চালের দাম ছিল ৩৫ টাকা ৪১ পয়সা। সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক খাদ্যশস্য পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই এখন মোটা চালের দাম সবচেয়ে বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত থেকে ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চাল আমদানি করলে এখন দেশের বাজারে প্রতি কেজির সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়াবে ৩২ টাকার কিছু বেশি। পাকিস্তান থেকে আনলে তা কেজিপ্রতি প্রায় ৩৫ টাকা পড়বে। অন্য দিকে থাইল্যান্ড থেকে আতপ চাল আমদানি করলে প্রতি কেজি ৩২ টাকা ৪৪ পয়সা ও ভিয়েতনাম থেকে আনলে পড়বে ৩৩ টাকা ৬৪ পয়সা। অথচ দেশে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৩ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে। আমদানি কমেছে অর্ধেক চালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য অন্যতম কারণ হিসেবে আমদানি কমে যাওয়ার কথা বলছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে চালের আমদানি নিরুৎসাহিত করতে শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার পর আমদানি কমে যায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে প্রায় দুই লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল প্রায় সাড়ে তিন লাখ টন। ক্রয়নীতির দুর্বলতা অনুসন্ধানে জানা যায়, চালের বাজারে অস্থিতিশীলতার জন্য সরকারের ক্রয়নীতিও অনেকাংশে দায়ী।
সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যস্বত্বভোগী বানাতে বেশি দামে ধান-চাল কিনছে। এর ফলে কৃষক লাভবান না হলেও দলীয় লোকেরা উপকৃত হচ্ছেন। আর বাজার অস্থিতিশীল হয়ে তার দায় চাপছে দেশের সব মানুষের ঘাড়ে। গত বছর ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় ২৩ টাকা দরে ধান এবং ৩২ টাকা দরে চাল ক্রয় করে সরকার। কিন্তু ক্রয়নীতিতে দুর্বলতা এবং দলীয় লোকদের মধ্যস্বত্ব ভোগের কারণে কৃষক এ দাম পাননি। সরকার ৯২০ টাকা দর বেঁধে দিলেও মওসুমের শুরুতে কৃষক ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। আর এই সুযোগটা নিয়ে ধান মজুত করেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, চলতি মওসুমে প্রতি কেজি ধান উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ২২। চালে খরচ পড়ছে ৩১ টাকা। চলতি মওসুমের জন্য ধান ও চালের সরকারি ক্রয়মূল্য ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। এবার ৭ লাখ টন ধান কিনবে সরকার। চাল কেনা হবে ৮ লাখ টন। প্রতি কেজি ধানের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ টাকা। চালের দাম ৩৪ টাকা। এর ফলে নতুন করে চালের বাজার অস্থিতিশীল হচ্ছে বলে জানান বিশ্লেষকেরা।

আবহাওয়ার পরিবর্তনে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে শিশুরা

‘জলবায়ু পরিবর্তন’ আজ বিশ্বের সব মানুষের কাছেই একটি পরিচিত শব্দ। যার প্রভাব আজ বিশ্বের প্রায় সব দেশে পড়লেও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ। ষড় ঋতুর দেশ হলেও আজ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের আবহাওয়াও অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। আর আবহাওয়া পরিবর্তনে দেশের ফসল, মানুষের জীবযাত্রা সব কিছুতেই ঘটেছে পরিবর্তন। সব মিলিয়ে মানুষের জীবনে বয়ে আনে মারাত্মক বিপর্যয়। তবে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশর শিশুরা। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ছয় বছরের নিচে প্রায় ১.১৩ মিলিয়ন শিশু বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অসুস্থ হয়। জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ শিশুদের পড়াশোনার ক্ষেত্রেও বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। ওই সময় প্রায় ১.০৮ মিলিয়ন শিশু স্কুলে যেতে পারে না। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঢাকা শহরের ০-১৭ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশী ঝুঁকির মধ্যে থাকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সর্বমোট ১.৩১ মিলিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত শিশুর মধ্যে ৪৮.৫৬ শতাংশ শিশু বন্যার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে, ১২.১৫ শতাংশ অসুস্থ হয় জলাবদ্ধতা, ১২.১৪ শতাংশ অসুস্থ হয় ঘূর্ণিঝড়ে, ৬.৭৭ শতাংশ হয় খরা, ৫.৩৩ শতাংশ বজ্রপাত এবং ১৫.০৫ শতায়ংশ হয় অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘বাংলাদেশ দুর্যোগ সম্পর্কিত পরিসংখ্যান ২০১৫: আবহাওয়া পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এক জরিপের চিত্র এটি। ২০০৯- ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এটি প্রকাশিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঝুঁকিতে থাকা এসব শিশু এবং তাদের পরিবারের বিষয়ে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে ঢাকার শিশুরা। ২০০৯ সাল হতে ২০১৪ পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঢাকা বিভাগের ২১.৭০ শতাংশ শিশু অসুস্থ হয়। যা রাজশাহী বিভাগে ছিল ১৫.৪৪ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ১৩.৭৭ শতাংশ, বরিশালে ১৩.২৪ শতাংশ,
চট্টগ্রামে ১২.৭৫ শতাংশ, রংপুরে ১২.১৪ শতাংশ এবং খুলনা বিভাগে ১০.৯৬ শতাংশ। বিভিন্ন বয়সী শিশুদের মধ্যে ৫-১২ বছর বয়সী শিশুরা সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। সর্বমোট ১.৩১ মিলিয়ন শিশুর মধ্যে ৫৪.২৪ শতাংশ ৫-১২ বছর বয়সী শিশু অসুস্থ হয়। এছাড়া ২৫.১৩ শতাংশ ০-৪ বছর বয়সী শিশু অসুস্থ হয়। বাকী ২০.৬৩ শতাংশ অন্যান্য বয়সী শিশু। আবার এসব শিশুর অধিকাংশই অসুস্থতার সময় তেমন কোন ভালো চিকিৎসা সেবা পায় না। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মাত্র ১৯.৭০ শতাংশ শিশু কোন এমবিবিএস ডাক্তারের কাছ হতে চিকিৎসা সেবা পায়। সর্বোচ্চ সংখ্যক (২৬.০৪ শতাংশ) শিশু চিকিৎসা সেবা পায় প্যারা-মেডিকেল ডাক্তার, মেডিকেল সহকারী অথবা নার্সের কাছ থেকে, ২৩.৮৫ শতাংশ শিশু পায় ফার্মেসী থেকে, ২৩.৪৪ শতাংশ পায় গ্রাম্য ডাক্তারের কাছ থেকে, ৬.৩২ শতাংশ পায় অন্যান্যভাবে এবং ০.৬৫ শতাংশ কোন চিকিৎসা সেবাই পায় না। পরিসংখ্যানে আরো দেখা যায়, ১.০৮ মিলিয়ন ঝুঁকিগ্রস্থ শিশুর মধ্যে ৩৭.১৭ শতাংশ শিশু ৮-১৫ দিন স্কুলে উপস্থিত হতে পারে না, ৩৬.৬৫ শতাংশ পারে না ১-৭ দিন, ২১.৩৬ শতাংশ পারে না ১৬-৩০ দিন এবং ৪.৮৩ শতাংশ শিশু ৩১ দিনের অধিক স্কুলে উপস্থিত হতে পারে না। এসব শিশুর মধ্যে বরিশালের শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। দেখা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এই অঞ্চলের ২৪.৫৬ শতাংশ শিশু স্কুলে যেতে পারে না, যা ঢাকায় ১৮.৫৮ শতাংশ, সিলেটে ১৮.৩৪ শতাংশ এবং খুলনায় ৭.১৫ শতাংশ। এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের শিশুরা। তিনি বলেন, সমুদ্র তীরবর্তী এলাকার বসবাসরত জনগণই সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। কারণ তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয়। গত কয়েক বছর ধরে এসব এলাকায় ঝুঁকি বেড়ে গেছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এসব অঞ্চলের গরীব জেলে এবং কৃষকরা। তারা যখন ক্ষতিগ্রস্থ হয় তখন স্বাভাবিকভাবে তাদের সন্তানরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং স্কুলে উপস্থিত হতে পারে না। তিনি আরো বলেন, যখন এসব সমস্যা হয় তখন এসব শিশুদের খাদ্য এবং পুষ্টির সমস্যা হয় এবং তারা অপুষ্টিতে ভোগে। তাই সরকারের উচিত এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্টীর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। এছাড়াও সরকারি ব্যাংক এবং অন্যান্য সংস্থা তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে পারে। যাতে তারা বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জন্য স্কুলের সময়-সূচি সহজীকরনেরও দাবি জানান সাবেক এই উপদেষ্টা। সূত্র : বাসস

শ্যামপুরে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ২

রাজধানীর শ্যামপুর থানার সরকার পেট্রলপাম্পের সামনে ট্রাকের ধাক্কায় দুজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে একজন। আজ শনিবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন শমসের আলী ও সালাম। আহত ব্যক্তির নাম শাহ আলম। তাঁদের বয়স ৩০ থেকে ৪০-এর মধ্যে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্য, পেট্রলপাম্পের সামনে একটি ট্রাকের মেরামতকাজ চলছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক এসে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে শমসের আলী নিহত হন। আহত সালাম ও শাহ আলমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে সালামকে মৃত ঘোষণা করা হয়। শাহ আলম চিকিৎসাধীন।

রাজনীতি নয়, দাবি আদায় করতে চায় হেফাজত

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে হেফাজতে ইসলামকে রাজনৈতিক দল হিসেবে সামনে আনতে ক্ষমতাসীন মহলে আগ্রহ থাকলেও হেফাজতের নেতারা এমন সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইসলামপন্থীদের সমর্থন আদায় ও জাতীয়তাবাদী ইসলামপন্থীদের ভোট বিভাজনে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বেশ কিছু কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অধিকসংখ্যক ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানো। হেফাজতে ইসলামও এমন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে। হেফাজতে ইসলামের মাঠপর্যায়ের কোনো কোনো নেতা নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনের জন্য খোঁজখবর নিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। তবে হেফাজতে ইসলামের নেতারা বলেছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের চেষ্টার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। হেফাজতের ভাবমর্যার্দা নষ্ট করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তারা। হেফাজত নেতারা বলছেন, রাজনীতি না করে ইমান ও আকিদা রক্ষার তাগিদে তারা আন্দোলন করছেন। সে আন্দোলন অব্যাহত আছে ও থাকবে। দেশের রাজনীতিতে ইসলামপন্থীরা ক্রমেই একটি শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছেন। ২০০১ সালে বিএনপি ইসলামি দলগুলোর সাথে জোট করার কারণে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। এ কারণে জোটের ভাঙন ধরাতে দীর্ঘ দিন থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু তার পরও বিএনপি জোটের ঐক্য অটুট থাকায় সরকার এখন বিকল্প হিসেবে ইসলামপন্থীদের কাছে টানার কৌশল নিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। এর অংশ হিসেবে সরকারের মধ্যে থাকা জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে বেশ কিছু ইসলামি দল নিয়ে একটি জোট গঠন করার চেষ্টা চলছে।
একইভাবে সরকার নিজেও ইসলামপন্থীদের ভোট টানার কৌশল হিসেবে হেফাজতকে রাজনীতিতে আনার চেষ্টা করছে বলে মনে করেন তারা। বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, মাত্র কয়েক বছর আগেও যাদের শাপলা চত্বরে নির্মমভাবে আঘাত করা হয়েছিল, তাদের এখন কাছে টেনে নেয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য না থাকলে এটি হয় না। এ কারণেই হেফাজতের দাবির ব্যাপারে এত নরম অবস্থান নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, শোনা যাচ্ছে হেফাজত সরকারের কাছে ২০টি আসন দাবি করেছে। এখন দেখা যাক ১৪ দলের জোটে থাকা সমাজতন্ত্রীরা কী মনোভাব দেখায়। এর পরই সরকারের অবস্থা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধরী নয়া দিগন্তকে বলেন, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো হেফাজতের সাথে সরকারের সম্পর্ক নিয়ে আগে প্রতিক্রিয়া দেখালেও এখন তারা চুপ করে গেছে। সরকার তাদের কিছু একটা বোঝাতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। মূলত ক্ষমতাই এখানে আসল। হেফাজত তাদের নিজস্ব দাবি নিয়ে এলেও সরকার মূলত তাদের ব্যবহার করতে চাচ্ছে। আবার ক্ষমতায় আসার পর দেখা যাবে হেফাজতকে ছুড়ে ফেলা হবে। তবে হেফাজতের নেতারা রাজনীতিতে আসার খবর নাকচ করে দিয়েছেন। তারা বলেছেন হেফাজতের রাজনীতিতে আসার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বরাত দিয়ে প্রেস সচিব মাওলানা মুনির আহমদ নয়া দিগন্তকে বলেন, হেফাজতের আমির বারবার বলেছেন হেফাজত কখনো রাজনীতিতে জড়াবে না। ইমান-আকিদা এবং দেশাত্মবোধ ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য হেফাজত গঠিত হয়েছে। এ জন্য হেফাজতের রাজনীতিতে আসার যে খবর বলা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক। হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী নয়া দিগন্তকে বলেন, হেফাজতের রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন নেয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ জন্য যে খবর প্রচার করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। আমাদের অজান্তে কে বা কারা নির্বাচন কমিশনে খোঁজ নিয়েছে, তা আমরা জানি না। হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ নয়া দিগন্তকে বলেন, হেফাজত ইমান-আকিদাভিত্তিক, মানবতাবাদী ও দেশপ্রেমিক একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। হেফাজতের ব্যানারে রাজনীতি করার প্রশ্নই ওঠে না।
হেফাজতের রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন নেয়ার যে কথা প্রচার করা হচ্ছে, তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক। তিনি বলেন, কিছু ইসলামবিদ্বেষী মিডিয়া সিন্ডিকেটেড সংবাদ প্রকাশ করে হেফাজত সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃতে গঠিত হয় হেফাজতে ইসলাম। এরপর বিভিন্ন সময়ে তারা শিক্ষানীতিসহ বিভিন্ন ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে। এর মধ্যে শাহবাগের আন্দোলন থেকে ইসলাম ও ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করলে তারা ২০১৩ সালের ৫ মে ইসলাম ও রাসূলকে কটূক্তিকারী নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসিসহ ১৩ দফা দাবিতে শাপলা চত্বরে ব্যাপক আন্দোলন ও সমাবেশ করে। এ সমাবেশে সারা দেশ থেকে কয়েক লাখ মানুষ অংশ নেয়। ওই দিন রাতে দাবি আদায়ে অবস্থান নিলে সরকার তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় ব্যাপকসংখ্যক হেফাজত নেতাকর্মীর মৃত্যু ঘটে বলে হেফাজত নেতারা দাবি করেন। এরপর দীর্ঘ দিন থেকে হেফাজত অনেকটা নীরব হয়ে পড়ে। সম্প্রতি শিক্ষানীতি ও শিক্ষাআইন বাতিল এবং পাঠ্যপুস্তকে ইসলাম ধর্ম ও নৈতিকতা সম্পর্কিত লেখাগুলো বাদ দেয়ার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করে তারা। এতে সরকার সাড়া দিয়ে পাঠ্যপুস্তকে বেশ কিছু পরিবর্তন করেছে। এরপর কওমি সনদ নিয়ে তারা আবারো সোচ্চার হয়। এ ছাড়া হাইকোর্টের সামনে স্থাপিত মূর্তি সরানোর দাবিতে আন্দোলন করে হেফাজত। এর প্রেক্ষিতে গত ১১ এপ্রিল হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীসহ তিন শ’ আলেম গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী হেফাজতের দাবি মেনে নিয়ে দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমর্যাদার স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দেন। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে গ্রিক দেবীর মূর্তি সরানোর বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বাস দেন। এর পর থেকে উগ্র ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী বিভিন্ন সংগঠন সরকারের সমালোচনা শুরু করে। এ ছাড়া আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার হেফাজতকে ব্যবহার করতে চাচ্ছে বলেও অভিযোগ করে।

আইএস মারতে গিয়ে নিজেদের ২ সৈন্যকে হত্যা যুক্তরাষ্ট্রের

আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে যুদ্ধরত দুই মার্কিন সৈন্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার পেন্টাগন তাদের পরিচয় প্রকাশ করেছে। নিহতরা হলেন- সার্জেন্ট জোসুয়া রজার্স (২২) ও সার্জেন্ট ক্যামেরন থমাস (২৩)। তাদের আফগানিস্তানে তৃতীয় ব্যাচের সেনা হিসেবে মোতায়েন করা হয়। পেন্টাগন জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফ্রেন্ডলি ফায়ারে ওই দুই সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। খবর বিবিসির।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, বুধবার রাতে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে আইএসের সঙ্গে ভারী বন্দুকযুদ্ধের সময় তিন সেনা সদস্য গুরুতর আহত হন। এদের মধ্যে একজন প্রাণে বেঁচে গেলেও রজার্স আর থমাস মারা যান। প্রথমে বিষয়টি এমন মনে করা হলেও পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে তারা ফ্রেন্ডলি ফায়ারে নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তানে নিয়োজিত মার্কিন সেনার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইউএসএঅওআর তদন্ত করে জানতে পেরেছে- ওই দুই সেনা সদস্য দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। প্রায় তিন ঘণ্টার মতো নিজেদের মধ্যে ফ্রেন্ডলি ফায়ারে তারা মারা যান। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি তাদের পরিবারকে জানানো হয়েছে। সেনা সদস্য নিহতের ঘটনার অধিকতর তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সার্জেন্ট রজার্স যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনিয়সের ব্লুমিংটনের বাসিন্দা। তিনি একটি সেনা রেঞ্জার্সের দলনেতা ছিলেন। আর সার্জেন্ট থমাস ওহাইও'র কেটারিং থেকে আফগানিস্তানে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি অস্ত্রনিরোধক বিশেষজ্ঞ ছিলেন। সম্প্রতি আফগানিস্তানের নাগাহর প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র 'মাদার অব অল বোম্ব' ফেলে। নিহতরা এই অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

সুস্থ জীবনে লাল রঙের খাবারের যাদু!

লাল রঙ শুধু বিপদ সংকেত দেখায় না এটা ভালোবাসারও প্রতীক। আর লাল রঙের ফল বা খাবারে স্বাদ ও পুষ্টিমানও থাকে সবচেয়ে বেশি। কি বিশ্বাস হচ্ছে না! এবার বিশ্বাস করুন কারণ রঙ শুধু স্বাদ বাড়ায় না এটা খাবারের প্রতি আপনার মনোযোগও দৃঢ় করে। আমরা সবাই হলুদ রঙের ফল (কলা, আনারস) পছন্দ করি। কারণ আমরা জানি এ রঙের ফল স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।
ঠিক তেমনি লাল রঙের ফল বা সবজিতে আমরা বিশেষ নজর রাখতে পারি যেমন: টমেটো, চেরি, আপেল, কাঁচা পেঁয়াজ, স্ট্রবেরি, ডালিম, প্লাম, লাল মরিচ, লাল মটরশুঁটি, তরমুজ, লাল বাঁধাকপি এবং লাল মরিচ। লাল রঙের এসব খাবারে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্টস, চর্বি এবং প্রোটিন, যা আমাদের স্বাস্থ্য গঠনে একান্ত প্রয়োজন। খবর টাইমস অফ ইন্ডিয়ার। আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক লাল রঙের খাবারে আর কি কি সুবিধা রয়েছে;
* লাল ফলে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, অ্যানথোকিয়ানিন রয়েছে, যা প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
* এ রঙের খাবারগুলো লিকোফিনের অন্তর্ভুক্ত। লাইকোপিন একটি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে শরীরকে সুস্থ রাখে।
* লাল ফলগুলো খেলে হার্ট সুস্থ থাকে এবং রক্তচাপও থাকে স্বাভাবিক।
* এ রঙের খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, পটাসিয়াম রয়েছে। খাবারগুলো ক্যানসার, হৃদরোগ এমনকি বাতের ঝুঁকি হ্রাস করে।
* লাল খাবারে ত্বক, চুল এবং নখও সুস্থ রাখে। এতে আপনাকে দেখায় আরও সুন্দর।
* লাল ফল আমাদের শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটস সরবরাহ করে, যা দুর্বল কোষগুলিকে সঞ্চালন করতে সাহায্য করে।
* এ রঙের খাবারে পুষ্টি, সোডিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম পূর্ণ যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
* লাল রঙের ফলে ফ্লাভোনোয়েড থাকে। ফ্লাভোনোয়েড স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। আমাদের শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদান করে।
* এ খাবারে ক্যাক্রিটিন নামে একটি ফ্লেভোয়াইন থাকে, যা অ্যালার্জি সমস্যা হ্রাসে সাহায্য করে।

ক্ষমতাধর দুই নেত্রীর বিরল বাকযুদ্ধ

ব্রেক্সিট ইস্যুতে এই প্রথমবারের মতো বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ব্রিটেনের বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ না করে গাণিতিক ফর্মুলা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন মার্কেল। এ বিলম্বে যেন ব্রেক্সিট আলোচনা ভণ্ডুল না হয়ে যায় সে হুশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে এ কালক্ষেপণের জন্য ব্রিটেনের বিরোধী দল লেবার পার্টি ও ইইউয়ের ওপর দোষারোপ করেছেন তেরেসা মে। তার কনজারভেটিভ পার্টির বিরুদ্ধে ইইউ নেতারা একাট্টা হয়েছেন বলে অভিযোগ মে’র। খবর বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের। বৃহস্পতিবার জার্মানির পার্লামেন্টের নিন্মকক্ষ বান্দেসটাগে মার্কেল বলেন, ‘ব্রিটিশ নেতারা এখনও একটি মরীচিকার মধ্যে বসবাস করছেন। তাদের ধারণা, ইইউ ছাড়লে ব্রিটেন তার সব অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিজেদের করায়ত্ত করতে পারবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশটি এখন আমাদের কাছে তৃতীয় পক্ষের মতো। ইইউয়ের অন্যান্য সদস্য দেশের মতো দেশটি এখন আর একই ধরনের অধিকার পেতে পারে না। ইইউভুক্ত ২৭ রাষ্ট্র ও ইইউয়ের প্রতিষ্ঠানগুলো এ ব্যাপারে একমত।’ এজন্য অতি শিগগিরই তা বাস্তবায়নের পথে হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন মার্কেল। মে’র প্রতি আঘাত হেনে মার্কেল আরও বলেন, ইইউয়ের প্রতি ব্রিটেনের অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কীভাবে ভবিষ্যৎ যুক্তরাজ্য ও ইইউ সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে সমঝোতায় আসা যায় সে ব্যাপারে তার কোনো ‘জ্ঞান’ নেই। আর এজন্য তিনি (তেরেসা মে) সময় অপচয় করছেন।’ জবাবে তেরেসা মে বলেন, যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট অবস্থান নিয়ে মার্কেলের মন্তব্যে এটাই বোঝা যাচ্ছে, এ বিষয়ে সমঝোতা করতে ব্রিটেনের জন্য শক্তিশালী সম্ভাব্য সমর্থন প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘তার (মার্কেল) মন্তব্য বাস্তবায়ন করতে ব্রেক্সিট সমঝোতার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।’ ইংল্যান্ডের লিড শহরে এক নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ব্রেক্সিট আলোচনার বিষয়টি এখন আরও কঠিন মুহূর্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। যেমনিভাবে আমাদের বিরোধী শক্তি তা ভেস্তে দেয়ার চেষ্টা করছে তেমনি এর বিরোধিতা করতে ইইউ নেতারা একজোট হয়েছেন।’ বিরোধী লেবার পার্টির অভিযোগ, টরি পার্টি ব্রেক্সিট আলোচনা বাস্তবায়নে কঠোর ও বেপরোয়া কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারণায় ‘জাতীয় স্বার্থে’ তাকে ভোট দেয়ার জন্য লেবার সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান তেরেসা মে।
তিনি বলেন, শক্তিশালী সমর্থনের মাধ্যমে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে যেন ইউরোপের প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট ও চ্যান্সেলরদের সঙ্গে সামনের মাসেই আলোচনায় বসতে পারি। গত ২৯ মার্চ ইইউ থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরুর আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকর হবে। এর তিন সপ্তাহের মাথায় হঠাৎ করেই আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন তেরেসা মে। আগামী ৮ জুন অনুষ্ঠিত হবে ব্রিটেনের নির্বাচন। ইইউ সদস্য হতে পারে আয়ারল্যান্ড : আয়ারল্যান্ডকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য করা হতে পারে। শনিবার ইইউ নেতাদের এক শীর্ষ সম্মেলনে একীভূত আয়ারল্যান্ডকে সদস্য করার প্রস্তাব করা হবে। ইইউ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার পর এই প্রথম শীর্ষ সম্মেলনে বসছেন ২৭ দেশের জোটের নেতারা। আয়ারল্যান্ড ঐক্যবদ্ধ হলে তাদের সদস্য করা হবে বলে নেতারা ঘোষণা দিতে পারেন। এটা আইরিশ সরকারের জন্য একটি জয়। উত্তর ও দক্ষিণ আয়ারল্যান্ড গণভোটের মাধ্যমে ফের একীভূত হতে পারে, যেমনটা হয়েছিল বার্লিন প্রাচীর পতনের পর জার্মানি। আয়ারল্যান্ডকে সদস্য করার প্রস্তাব করা হলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে ব্রিটেন। তবে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকতে চান উত্তর আয়ারল্যান্ডের ৬২ ভাগ অধিবাসী, মাত্র ২২ ভাগ একীভূত হতে চান।

আবৃত্তিকার কাজী আরিফ আর নেই

ছড়াকার ও আবৃত্তি শিল্পী মুক্তিযোদ্ধা কাজী আরিফ আর নেই। বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মাউন্ট সিনাই সেন্ট লিওক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। কাজী আরিফের মেয়ে আনুশকা মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ কাজী আরিফ। হার্টের বাল্ব অকেজো হলে তাকে ম্যানহাটনের মাউন্ট সিনাই সেন্ট লিওক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত মঙ্গলবার তার বাল্ব পুনঃস্থাপন এবং আর্টারিতে বাইপাস সার্জারি করা হয়। এরপরই শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
পরে কাজী আরিফকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে নেয়া হয়। সেখানে বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে ইন্তেকাল করেন গুণী এই আবৃত্তিকার। কাজী আরিফ ১৯৫২ সালের ৩১ অক্টোবর ফরিদপুর রাজবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু শৈশব থেকেই চট্টগ্রাম শহরে বেড়ে উঠেন তিনি। এরপর পড়াশোনা, রাজনীতি, শিল্প-সাহিত্য সব কিছুরই হাতেখড়ি হয় সেখানেই। ১৯৭১ সালে ১ নম্বর সেক্টরে মেজর রফিকের কমান্ডে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি। কাজী আরিফ একাধারে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, আবৃত্তিকার, লেখক ও মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক ছিলেন।

হিলারির মতো ভুল আমি করব না : ম্যাক্রোঁ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘হিলারি ক্লিনটন সেসব ভুল করেছেন তা তিনি করবেন না। এজন্য প্রথম দিন থেকে তিনি খুব সাবধানেই সামনের দিকে পা ফেলেছেন।’ বৃহস্পতিবার সিএনএনের মেলিসা বেলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ফ্রান্সের মধ্যপন্থী এ প্রার্থী। গত ২৩ এপ্রিলের প্রথম পর্বের নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পান তিনি। তবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আগামী ৭ মে কট্টর-ডানপন্থী প্রার্থী মেরিন লি পেনের মুখোমুখি হচ্ছেন ম্যাক্রোঁ। ফ্রান্সের সাবেক অর্থমন্ত্রী ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমি দেশের ক্ষুদ্র অংশ বা কোন একক গোষ্ঠীর প্রার্থী নই। আমি ফ্রান্সের মধ্যবিত্ত শ্রেণী ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার সরকার শিক্ষা ও শ্রমিকদের নীতি উন্নয়নে কাজ করবে। আমার উন্নয়ন প্রকল্প সবার জন্য। যেখানে শহর, গ্রাম, কৃষক, শিল্পপতি, শ্রমিক ও বিনিয়োগকারী সবাই অন্তর্ভুক্ত হবে।’ সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী লি পেন থেকে নিজেকে আলাদা করে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। লি পেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। ম্যাক্রোঁ বলেন, আমি বার্লিন (জার্মানির রাজধানী) বিরোধী নই। আমি বার্লিনের সঙ্গেই আছি। ইইউয়ের পক্ষ নিয়ে ম্যাক্রোঁ আরও বলেন, ‘ইউরোপ হলো আমাদের শক্তভিত্তি। আমাদের শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্বাধীনতার জন্যই অক্ষুণœভাবে ইউরোপ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’ এদিকে, ম্যাক্রোঁর নির্বাচনী টিম তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ম্যাক্রোঁর মুখপাত্র বলেন,
রাশিয়ার রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত স্পুটনিক নিউজ এজেন্সি ও আরটি টিভি নেটওয়ার্কের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ দুই গণমাধ্যমের ওপর নির্বাচন নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট খবর প্রকাশের অভিযোগ তুলেছে ম্যাক্রোঁর নির্বাচনী টিম। ফ্রান্সের নির্বাচনে লি পেনের পক্ষে রাশিয়া সাইবার হামলা চালিয়েছে বলে খবর প্রকাশের পর দেশটির গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে এমন নিষেধাজ্ঞা এলো। আমি ফ্রান্সের পক্ষে, প্রতিদ্বন্দ্বী বিপক্ষে-লি পেন : ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কট্টর-ডানপন্থী প্রার্থী লি পেন বলেছেন, এবারের নির্বাচনের ফরাসি নাগরিকদের দেশের পক্ষের শক্তি ও বিরোধীশক্তির মধ্যে যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। নিজেকে ফ্রান্সের পক্ষের শক্তি দাবি করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ম্যাক্রোঁর সমালোচনা করেন তিনি। বৃহস্পতিবার নিজ শহরে এক নির্বাচনী প্রচারণায় লি পেন বলেন, ম্যাক্রোঁ এ দেশের স্থায়িত্ব চান না। তিনি ফ্রান্সকে শুধু একটি স্থান, পতিত ভূমি বা বাণিজ্য ভূমি হিসেবে মনে করেন। ফ্রান্স একটি বৈচিত্র্য সাংস্কৃতির দেশ, যেখানে একটাই আইন প্রচলিত- সংগ্রাম করে টিকে থাক। তিনি আরও বলেন, এ নির্বাচন একটি গণভোট, যেখানে ফ্রান্সের পক্ষ ও বিরোধীশক্তির মধ্যে যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে।

মেস থেকে পুলিশের সহকারী কমিশনারের মরদেহ উদ্ধার

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) এক সহকারী কমিশনারের (এসি) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম সরফরাজ হোসেন (২৮)। তিনি আরএমপির রাজপাড়া জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। শনিবার সকালে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন মহানগর পুলিশের অফিসার্স মেস থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। এই কর্মকর্তার অপমৃত্যুতে মহানগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক এক বৈঠকে বসেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রটি জানায়, শনিবার সকাল ১১টার পরও এসি সরফরাজ অফিসার্স মেসে তার  কক্ষ থেকে ঘুম থেকে না জাগায় তাকে ডাকাডাকি করা হয়। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে তার মরদেহ ঝুলতে দেখা যায়। পুলিশের এই কর্মকর্তা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে সূত্রটির ধারণা। সূত্রটি আরো জানায়, নিহত পুলিশ কর্মকর্তা সরফরাজের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। তার বাবা এম ওবায়দুল্লাহ ছিলেন পুলিশের সাবেক ডিআইজি। তবে সরফরাজের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ হলেও তিনি দিনাজপুর জেলা কোটায় পুলিশে চাকরি নেন।

বিমানবন্দরে নেমেই যুবক বললেন তিনি 'আইএসআই এজেন্ট'

ভারতের মাটিতে বিমান থেকে নেমেই নিজেকে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)-এর এজেন্ট বলে দাবি করেছেন এক যুবক। ৩৮ বছর বয়সী মহম্মদ আহমেদ শেখ মহম্মদ রফিক শুক্রবার দুবাই থেকে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমানে দিল্লি আসেন। খবর এনডিটিভির। শুক্রবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেই রফিক ঘোষণা দেন, 'আমি আইএসআইয়ের একজন এজেন্ট। কিন্তু আমি আর ওই সংগঠনের সঙ্গে থাকতে চাই না। আমি ভারতে থাকতে চাই।'
বিমানবন্দরের হেল্প ডেস্কের সামনে গিয়ে রফিক তার পাকিস্তানি পাসপোর্টটি দেখান। এ সময় আইএসআইয়ের কর্মী প্রমাণ দিতে নিজ উদ্যোগে বেশ কিছু দলিলও দেখান তিনি। হেল্প ডেস্কের কর্মীদের রফিক জানান, তিনি পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের অনেক গোপন খবরাখবর জানাতে চান। হেল্প ডেস্কের কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে রফিকের খবর পৌঁছে দেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা অফিসারদের। সেখানে থেকে খবর পৌঁছে যায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ খবরাখবর নিয়ে জানতে পেরেছেন, রফিক দুবাই থেকে দিল্লিতে এসেছেন ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমানে। তার সেখান থেকে কাঠমান্ডুতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাঠমান্ডুতে না গিয়ে তিনি বিমানবন্দরের হেল্প ডেস্কের কর্মীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির অফিসাররা তারা কোনো এক অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে যান। রফিকের দাবি যথার্থ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সুন্দরবনের আরও দুটি দস্যু বাহিনীর আত্মসমর্পণ

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির মধ্যস্থতায় সুন্দরবনের ভয়ঙ্কর আরও দুটি বনদস্যু বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পটুয়াখালী শিল্পকলা একাডেমিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে আলিফ ও কবিরাজ বাহিনীর ২৫ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় দস্যুরা ৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল সংখ্যক গোলবারুদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জমা দেন। এর আগে যমুনা টিভির মধ্যস্থতায় সুন্দরবন দাপিয়ে বেড়ানো জাহাঙ্গীর, মাস্টার, মজনু, ইলিয়াস, খোকা বাবু ও ছোট রাজু বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে।

উপস্থিতি প্রমাণে জালিয়াতি

ফিঙ্গারপ্রিন্ট জালিয়াতির মাধ্যমে অফিসে উপস্থিতির প্রমাণ দেখানোর মতো ভয়াবহ নৈরাজ্য চলছে বিমানে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি সিন্ডিকেট তিন মাস ধরে অফিসেই আসেনি। কিন্তু জালিয়াতির মাধ্যমে মেশিনে উপস্থিতি দেখিয়ে তারা বেতন-ভাতা নিয়েছে। একই ভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে বেতন-ভাতার পাশাপাশি ওভারটাইমও নিয়েছেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। ৪ ঘণ্টা ডিউটি করে তারা ৮ ঘণ্টার বেতন নিয়েছেন। বুধবার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে এ ভয়াবহ জালিয়াতি আবিষ্কার করে বিমান প্রশাসন। এতে সিবিএ নেতাসহ ১২ জনকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ১২ জনের মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। বাকি দু’জনের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এ ১০ জনই বিমান শ্রমিক লীগের প্রভাবশালী সিবিএ নেতা বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিমানের মুখপাত্র ও জেনারেল ম্যানেজার (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।
সিবিএ’র পক্ষ থেকে একটি টেলেক্স বার্তা দেয়া হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। কিন্তু ওই বার্তায় কী আছে সেটা তিনি জানতে পারেননি বলে জানান। এদিকে নেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার জরুরি আইন অমান্য করে সিবিএ’র পক্ষ থেকে কর্মচারীদের কাজ না করার হুমকি দেয়া হয়েছে। সিবিএ সভাপতি মসিকুর রহমান শ্রমিক-কর্মচারীদের উদ্দেশে এ টেলেক্স বার্তা পাঠান। জানা গেছে, এর পর পরই বিমানের বিভিন্ন শাখায় প্রভাব পড়তে শুরু করে। বিশেষ করে কাস্টমার সার্ভিস, গ্রাউন্ড সার্ভিস ও কার্গো শাখার শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজ বন্ধ করে দেন। এতে জনবল স্বল্পতায় দুপুরের পর বিমানের বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বিলম্বে ঢাকা ছেড়েছে। একই সঙ্গে যেসব ফ্লাইট শাহজালালে অবতরণ করেছে সেগুলোর লাগেজ হ্যান্ডেলিংয়েও ধীরগতি দেখা গেছে। ফলে যাত্রীদের লাগেজ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ ঘটনায় মহিলা ও শিশু যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়েন। ঢাকার পাশাপাশি বিমানের সব আন্তর্জাতিক স্টেশন ও দেশের ৬ বিমানবন্দরেও এর প্রভাব পড়েছে বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে সিবিএ সভাপতি মসিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, টেলেক্সের মাধ্যমে কোনো শ্রমিক-কর্মচারীকে কাজ বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়নি। ওই বার্তায় শ্রমিক-কর্মচারীদের বিমান ম্যানেজমেন্টের অবৈধ ও বেআইনি নির্দেশ না মানতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, বিমানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের অগোচরে কিছু বিভাগ নানা ধরনের অফিস সার্কুলার জারি করে- যা আইনের পরিপন্থী। এ অবস্থায় তিনি শ্রমিক-কর্মচারীদের আইন মেনে অফিসে আসা ও ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। সূত্র জানায়, টেলেক্সে উল্লেখ করা হয়েছে কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা বিমানের শ্রমিক-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত কাজে লাগাচ্ছেন। অফিস টাইমে ব্যক্তিগত সুবিধা নেয়ার জন্য তারা নানারকম বেআইনি আদেশ দিয়ে থাকেন। কোনো শ্রমিক-কর্মচারী বিশেষ করে সিবিএ নেতাকর্মীরা যাতে তাদের শীর্ষ কর্তাদের এসব বেআইনি নির্দেশ না মানে টেলেক্স বার্তায় তা জানিয়ে দেয়া হয়। বিমান প্রশাসন শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, তারা গোপন সংবাদে জানতে পেরেছেন বিমানের কাস্টমার সার্ভিস, গ্রাউন্ড সার্ভিস ও কার্গো শাখার বিপুলসংখ্যক দুর্নীতিবাজ কর্মচারী ও সিবিএ নেতা দীর্ঘদিন ধরে অফিসে না এলেও মাস শেষে হাজিরা খাতায় নাম উঠছে। মাসে শত শত ঘণ্টা ওভারটাইমও করছেন। এ অভিযোগের পর বুধবার কাস্টমার সার্ভিস ও ট্রাফিক বিভাগের সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। তাতে দেখা গেছে ৬-৭ জন সিবিএ কর্মী ও ক্যাজুয়াল কর্মচারী প্রায়ই অফিসে প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়ার সময় নিজের কার্ডের পাশাপাশি আরও ১০-১২টি করে আইডি কার্ড পাঞ্চ করছেন।
এরপর তাদের চিহ্নিত করে সব আইডি কার্ড কেড়ে নেয়া হয়। আর স্থায়ী কর্মচারীদের মধ্যে জুনিয়র অ্যাকাউন্টস অফিসার বেলাল হোসেন ও ট্রাফিস বিভাগের কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। অভিযোগ আছে, বাকি ১০ কর্মচারীর সবাই সিবিএ নেতা হওয়ায় ভয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের সাহস পায়নি। বিষয়টি বিমানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তারা সিবিএ নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, বিমান ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত ছিল যদি কোনো কর্মচারী ৪ ঘণ্টা ওভারটাইম করে তাহলে তিনি ৮ ঘণ্টার বেতন-ভাতা পাবেন। সেক্ষেত্রে ওই কর্মীর পক্ষে তার মনোনীত তৃতীয় কোনো ব্যক্তি ৪ ঘণ্টা পরে ওই কার্ড পাঞ্চ করে আউট হতে পারবেন। প্রশাসন শাখার একটি সূত্রে জানা গেছে, তারা ট্রাফিক বিভাগের ফরেন ক্যারিয়ার ইউনিটের একটি টেবিলের ড্রয়ারে ৬০টির বেশি আইডি কার্ড পেয়েছেন। জানা গেছে, এ কার্ডধারী কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বিমানে অনুপস্থিত। কিন্তু তাদের পক্ষে একটি সিন্ডিকেট প্রতিদিন আইডি কার্ডগুলো পাঞ্চ করে অফিসে প্রবেশ করত এবং একইভাবে কার্ড পাঞ্চ করে অফিস থেকে বের হতো। ওই কর্মকর্তার মতে, যেহেতু বিমানের অফিস আদেশে বলা আছে ৪ ঘণ্টা ওভারটাইম করলে ৮ ঘণ্টার বেতন পাওয়া যাবে সে কারণে এসব কার্ড ওভারটাইমে বেশি ব্যবহৃত হতো। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি বছর বিমানে ওভারটাইমের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে। শুধু এ খাতে প্রতি বছর গড়ে ৩৮ থেকে ৪২ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ বিমানে এখন জনবল আছে ৪ হাজারের বেশি।
সম্প্রতি আরও ৫শ’য়ের বেশি লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারপরও কাজের সময় কোনো কর্মচারী পাওয়া যায় না। যার কারণে বাধ্য হয়ে কর্মচারীদের ওভারটাইম দিতে হচ্ছে ম্যানেজমেন্টকে। দেখা গেছে, একজন কর্মচারীর গড়ে প্রতি ঘণ্টার বেতন ৮০ টাকা হলেও ওই কর্মচারী প্রতি ঘণ্টার জন্য ওভারটাইম পাচ্ছেন ১৬০ টাকা। এ কারণে বেশির ভাগ কর্মচারী দিনের নির্ধারিত কাজের চেয়ে ওভারটাইম পেতে বেশি আগ্রহী। আগে ওভারটাইমের জন্য দক্ষ কর্মীদের কাজে লাগানো হলেও এখন সিবিএ মনোনীত কর্মীদের বাধ্য হয়ে ওভারটাইম দিতে হয়। অভিযোগ আছে, এ অবৈধ ওভারটাইম বন্ধ করা ও কাজে উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিমান ম্যানেজেমন্ট ২০১২ সালে সংস্থার বিভিন্ন দফতরে ৩০টি বায়োমেট্রিক্স অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম (ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন) লাগিয়েছিল। কিন্তু কর্মচারীরা সেসময় মেশিনগুলো ভাংচুর করে বাস্তবায়ন করতে দেয়নি। কয়েকটি মেশিন অকার্যকর করার জন্য সুপার গ্লু ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছিল। এরপর আন্দোলনের মুখে ম্যানেজেমেন্ট এ বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স মেশিন চালু করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত বিমানের সিবিএ কর্মকাণ্ডের ওপর জরুরি অবস্থা জারি করে (অ্যাসেনশিয়াল সার্ভিস ঘোষণা) কিছু দিন আগে বিমানে আবারও ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন বসানো হয়। কিন্তু অভিযোগ আছে, বিমানের শ্রমিক সংগঠনগুলো প্রায়শই এ জরুরি আদেশ মানছে না। আর এজন্য কর্তৃপক্ষও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

ক্ষমতা কারও কম নয় সমঝোতা করে চলতে হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি অঙ্গ- আইন, বিচার ও শাসন বিভাগকে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে চলতে হবে। তা না করে এ অর্গানগুলো একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকলে কোনো রাষ্ট্রই সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে না। এ বিষয়টিতে সবাইকে সচেতন থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’ শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০১৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বিচারপ্রার্থীদের প্রতি আরও মানবিক হওয়ার জন্য বিচারক ও আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু আইন করে আর অবকাঠামো সুবিধা বাড়িয়ে বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি কমানো সম্ভব নয়। আমাদের বিচারক এবং আইনজীবীদের আরও মানবিক এবং জনগণের প্রতি সেবার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ আইন প্রণয়ন করে, তা প্রয়োগ করে বিচার বিভাগ। আর তা কার্যকর করার দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের। ক্ষমতা কোনো বিভাগেরই কম নয়। কিন্তু কেউ এককভাবে চলতে পারে না।
সবাই মিলে সমঝোতা রেখেই চলতে হয়।’ শেখ হাসিনা বলেন, “কেউ যদি মনে করেন যে, না, ‘এখানে আমার ক্ষমতা, আমিই সবটুকু প্রয়োগ করে ফেলব...’, কিন্তু সেই প্রয়োগটা করবে কে? তার জন্য তো কাউকে লাগবে। কাজেই এ কথাটা কেউ যেন ভুলে না যায়, আমি সেটুকুই বলব।” বাসস ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা এমন একটি সমাজ বিনির্মাণ করতে চাই, যেখানে ধনী-দরিদ্রের কোনো বৈষম্য থাকবে না এবং জনগণ সংবিধানের মৌলিক অধিকারসমূহ ভোগ করে নিজেরা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন ঘটাতে পারবেন।’ বিচার বিভাগের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার বিকল্প নেই। বাংলাদেশে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ সরকার সব সময়ই আন্তরিক।’ আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক এবং জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বক্তৃতা করেন। শেখ হাসিনা তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রমের বিস্তার ঘটিয়ে এটিকে স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু অর্থের অভাবে কেউ বিচার পাবে না, তা হতে পারে না।’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো, আবাসন সমস্যা দূরীকরণ তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করার প্রসঙ্গও উপস্থাপন করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পরপরই জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (এমেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০০৯ পাসের মাধ্যমে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কাজটিকে স্থায়ী রূপ দিই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, মামলার দীর্ঘসূত্রতা ও মামলা জট বিচার বিভাগের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় অধস্তন আদালতে দীর্ঘদিন বিচারক নিয়োগ বন্ধ থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর অধস্তন আদালতে ৫৮৬ জন বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৩৫০ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নতুন নতুন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় ৫৪০ জন কর্মকর্তার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মামলাজট নিরসন ও মামলার দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে সরকার আইনি সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচারাধীন মামলাসমূহ বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধন করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনের কাজ চলছে। শেখ হাসিনা বলেন, জ্বালানি সেক্টরে একজন জেলা জজসহ সাত সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে এবং জ্বালানি সেক্টরের সব বিরোধ প্রচলিত আদালতের পরিবর্তে এ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার বিচার বিভাগে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার চালু করেছে। এতে বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত বিচারপ্রার্থী জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম করার লক্ষ্যে আমরা ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০’ পাস করি। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে সরকারি আইনি সহায়তা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠন করে এ আইনকে গতিশীল করি। এ সংক্রান্ত আরও আইন ও বিধি প্রণয়ন করি। দুস্থ, অসহায় ও দরিদ্র বিচারপ্রার্থী জনগণ এর সুফল ভোগ করছে। জনগণের অধিকার রক্ষায় আমরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে সংবিধানে সুবিচার ও সাম্যের বাণীকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করেন। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে যথাযথ গুরুত্ব দেন। বঙ্গবন্ধু নিজে ভুক্তভোগী ছিলেন বলেই সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানে মানবাধিকারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেন। সরকারপ্রধান বলেন, বিনা দোষে এবং বিনা বিচারে বঙ্গবন্ধুকে বছরের পর বছর জেলখানার নির্জন সেলে একাকী বন্দি করে রাখা হয়েছিল। বিচারের নামে প্রহসনও হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ‘কারাগারের রোজনামচা’ পড়লে আমরা জানতে পারি কী দুঃসহ দুঃখকষ্ট তাকে সহ্য করতে হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর বিচারকাজ চলত। এ সময় শেখ হাসিনা সংবিধান থেকে উদ্ধৃত করে বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের আইনগত সহায়তা লাভের অধিকার রয়েছে। আমরা একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আধুনিক বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম এ বৈষম্য দূর করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে বলে আমি মনে করি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থসামাজিক কারণে বিচার পেতে অসমর্থ জনগণ সরকারি অর্থ ব্যয়ে আইনগত সহায়তা পাচ্ছেন। এ ছাড়া এসিডদগ্ধ নারী-পুরুষ, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা, প্রতিবন্ধী, পাচারকৃত নারী বা শিশু, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠীর জনগণও এ আইনগত সহায়তা পেয়ে থাকেন। শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আইনগত সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে। দাগি আসামিদের আদালতে আনা-নেয়ার পৃথক যানবাহন থাকবে। কারাগার থেকেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করারও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

কার কথা সত্য

কার কথা সত্য। ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের- নাকি ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাবাসীর। হাওর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এখনও ত্রাণ পাননি। খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু হলেও তা শুধু জেলা ও উপজেলা শহরেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু যেসব এলাকা ডুবে গেছে সেই ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন পর্যায়ে ওএমএসের মাধ্যমে চাল বিক্রির কোনো সুবিধা নেই। সময় এবং অর্থ ব্যয় করে উপজেলা বা জেলা সদরে যাওয়ার পর চাল পাবেন কিনা তারও নিশ্চয়তা নেই। পর্যাপ্ত চাল না থাকায় দুপুরের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। অথচ ঢাকা থেকে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মহসিন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চাহিদার তুলনায় বেশি ত্রাণ মজুদ রয়েছে। আমরা চাহিদা অনুযায়ীই ত্রাণ বরাদ্দ দিচ্ছি। এমন অবস্থায় সাধারণ মানুষের প্রশ্ন- তাহলে কার কথা সত্য। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা তালিয়ে যায়। বোরো ধান কাটার এ মৌসুমে হঠাৎ এ বন্যায় লাখ লাখ কৃষকের মাথায় হাত পড়ে। এরপর পানি বিষাক্ত হয়ে মাছ মরা শুরু হয়; তারপর মরতে থাকে হাঁস। এখন তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সব হারিয়ে এখন তারা চোখে অন্ধকার দেখছেন। দরিদ্র কৃষকের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও এখন সাহায্যে জন্য হাত পাতছেন। দুর্গত এলাকায় এখনও কোনো ত্রাণ পৌঁছেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। তাও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে। ভিজিএফ, ১০ টাকা কেজি দরে চালের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিও চালু হয়নি। ত্রাণের তালিকায় ক্ষতিগ্রস্তদের নাম থাকবে কিনা- এ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। সুনামগঞ্জের বিসম্বপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের সাতগাঁও গ্রামের বাসিন্দা খলিলউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, তার নিজের ৫ বিঘা ও আরও কয়েক বিঘা বর্গা জমিতে ধান লাগিয়েছিলেন। বানের পানিতে সব তলিয়ে গেছে। এখন বাঁচার তাগিদেই সাহায্যের প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের আশপাশে কোথাও কোনো ত্রাণ বিতরণ, এমনকি খোলা বাজারে চালও বিক্রি হচ্ছে না। উপজেলা সদরে চাল আনতে যাতায়াত খরচ পড়ে ৬০ টাকা। একদিন গিয়ে খালি হাতে ফিরে এসেছি। তাই আবারও যে পাবেন তার কোনো ভরসা পাচ্ছেন না তিনি। তিনি বলেন, গ্রামে গ্রামে সম্ভব না হলেও অন্তত ইউনিয়ন পর্যায়ে খোলা বাজারে চাল বিক্রি করা হলে ক্ষতিগ্রস্তরা অনেক উপকৃত হতেন। একই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত আরেক কৃষক অনিল বর্মণ বলেন, খোলা বাজারে চাল বিক্রি ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কোনো ত্রাণ কার্যক্রমই শুরু হয়নি। উপজেলা সদরে ওএমএস চালু করায় বিভিন্ন খরচ মিলিয়ে ১৫ টাকা কেজি চাল ২৫ টাকা পড়ে যায়। তার ওপর লম্বা লাইন।
দুপুর ১২টার দিকেই সব চাল শেষ হয়ে যায়। সুনামগঞ্জের বিসম্ভরপুর হাওরের বাসিন্দা নাসিমা বেগম। এবার ফসল উঠলে মেয়ের বিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু আগাম বন্যায় তার সে স্বপ্ন ভেস্তে গেছে। এখন খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা নিয়েই দুশ্চিন্তায় তিনি। তার মতো অনেকেই পড়েছেন বিপাকে। সরকার অতি দরিদ্রদের জন্য ত্রাণ বরাদ্দের ঘোষণা দেয়ায় নাসিমা বেগমের মতো অনেক মধ্যবিত্ত সরকারের ত্রাণ সহায়তা পাবেন না বলে শঙ্কায় আছেন। সাড়ে ৮ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত : পাহাড়ি ঢলে অকাল বন্যায় দেশের হাওরাঞ্চলের ছয় জেলায় দুই লাখ ১৯ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আট লাখ ৫০ হাজার ৮৮টি পরিবার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওর এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার আগে শুক্রবার হাওর পরিস্থিতি নিয়ে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির বৈঠকে ক্ষয়ক্ষতির হালনাগাদ এ তথ্য তুলে ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ওই বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য সচিব ও মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মহসীন হালনাগাদ তথ্য সাংবাদিকদের সামনেও তুলে ধরেন। ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী- সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের দুই হাজার ৮৬০টি বাড়ি সম্পূর্ণ এবং ১৫ হাজার ৩৪৫টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছয় জেলায় ২১৩ দশমিক ৯৫ টন মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে; সুনামগঞ্জে তিন হাজার ৯০২টি হাঁস ও চারটি মহিষ মারা গেছে।

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে

উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রাখলে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, কোরীয় উপদ্বীপের চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চান তিনি। এজন্য উত্তর কোরিয়ার ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও বিবেচনা করছেন তিনি। তবে সামরিক অভিযানের বিষয়টিও তার বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারে উত্তর কোরিয়াকে মোকাবেলায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতের মাধ্যমেও আমরা সমস্যার ইতি টানতে পারি। যদিও আমরা কূটনৈতিকভাবেই সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী, কিন্তু সেটা খুবই কঠিন।’ ৪২ মিনিটের সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমি মনে করি তিনি (কিম জং উন) যৌক্তিক হবেন। আর এখানে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে হতে যাওয়া এক বিশাল সংঘাত এড়ানোর পথ অবশ্যই আছে।’ উত্তর কোরিয়া তার জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বলেও মনে করেন ট্রাম্প। পিয়ংইয়ংকে নিয়ন্ত্রণে চীনা প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি নিরন্তর চেষ্টা করছেন বলেই আমার বিশ্বাস। তিনি নিশ্চিতভাবেই অশান্তি ও মৃত্যু দেখতে চান না। তিনি একজন ভালো মানুষ। সত্যিই আমি তাকে খুব ভালো মানুষ হিসেবেই জানি।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তিনি (জিনপিং) চীনকে ভালোবাসেন, তার দেশের জনগণকে ভালোবাসেন। অবশ্যই উত্তর কোরিয়াকে ঠেকাতে তিনি তার সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন।’ উত্তর কোরিয়া সংকট নিয়ে শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বৈঠক করেছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সতর্ক করে বলেন, সেখানে বর্তমানে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে রাশিয়ার এক কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠকে ওয়াং এ কথা বলেন বলে এক বিবৃতিতে জানায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশ্বের সঙ্গে প্রায় বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র দেশ চীন। কিন্তু গত কয়েকমাসে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র ও দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চীনের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরাসরি সংলাপ চায় যুক্তরাষ্ট্র -টিলারসন : উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। এনপিআর রেডিওকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে টিলারসন বলেন, অবশ্যই সংকট সমাধানের এটাই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পন্থা। উত্তর কোরিয়া সঠিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি বলেও জানান তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সঠিক কর্মসূচি কখনও খুব সহজে সমাপ্তি হয় না। প্রয়োজন হয় কয়েক মাস, বছর ও আরও অধিক সময়। এ এজেন্ডা গত ২০ বছরের এজেন্ডা।’ তবে এ সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সংলাপের বার্তা দিতে চাইলেও এর আগে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুশিয়ারির কথা জানান টিলারসন। তিনি বলেন, চীন তাদের প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়াকে আর কখনও পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা না করার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যথায় একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়েও চীন সতর্ক করেছে বলেও জানান তিনি। তবে কি ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে সে বিষয়ে টিলারসন কিছু বলেননি। চীন প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়াকে এযাবৎকালের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কঠোর হুমকি দিল বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও চীন ফেব্রুয়ারিতেই উত্তর কোরিয়া থেকে কয়লা আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রফতানি পণ্য কয়লা। উত্তর কোরিয়া উসকানিমূলক আচরণ অব্যাহত রাখলে তাদের তেলের চালানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে বলে এ মাসে চীনা গণমাধ্যমগুলোতে খবর প্রকাশ পায়। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর কোরিয়ার পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে চীন।

সুমাইয়ার আঙুলে সুচ দিয়ে খোঁচাত বৃষ্টি

মা-বাবার সঙ্গে দেখা করার কথা বললেই শিশু সুমাইয়ার ওপর নির্যাতন চালাত বৃষ্টি। লাঠিপেটা, চড়-থাপ্পড়, এমনকি ওর কচি হাতের আঙুলের মাথায় সুচ দিয়ে নির্মমভাবে খোঁচাত পাষণ্ড বৃষ্টি। শুধু তাই নয়, কান্নাকাটি করলেই গালে, গলায় চিমটি দিয়ে ধরে চুপ করতে বলত। উদ্ধারের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার কামরাঙ্গীরচরে টিনশেডের ভাড়া বাসায় এসব অমানুষিক নির্যাতনের বর্ণনা দেয় শিশু সুমাইয়া। ছোট সন্তানের মুখে নির্যাতনের এমন বর্ণনা শুনে নিজেদের ধরে রাখতে পারছিলেন না জাকির হোসেন ও মা মুন্নি আক্তার। কান্নায় চোখ ভিজে ওঠে তাদের। অপহরণের পর ২৪ দিন ধরে একমাত্র সন্তান হারানোর বেদনায় নিজেদের দুই চোখের পাতা এক করতে পারেননি এই দম্পতি। সুমাইয়াকে উদ্ধারের জন্য কখনও থানা কখনও র‌্যাব অফিসে ছোটাছুটি করেছেন। কিন্তু কোথাও মিলছিল না প্রিয় সন্তানের খোঁজ। অবশেষে কদমতলী থানার দক্ষিণ দনিয়ার কামালের বাড়ি থেকে শিশু সুমাইয়াকে উদ্ধার করে মা-বাবার কোলে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। একমাত্র সন্তানকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরে আসে এই দম্পতির মনে। সুমাইয়াকে ফিরে পাওয়ায় কামরাঙ্গীরচরের বড়গ্রাম এলাকার বাসিন্দারাও খুশি। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ৩ এপ্রিল রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে কৌশলে সুমাইয়াকে (৫) অপহরণ করা হয়। তবে অপহরণকারীরা কোনো মুক্তিপণ দাবি করেনি। শিশু সুমাইয়াকে উদ্ধারের সময় দুই অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ দিন আদালতে সুমাইয়ার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। জবানবন্দিতে সুমাইয়া বলে, আমাকে বৃষ্টি নিয়ে গিয়ে একটা ঘরে তালা দিয়ে আটকে রাখে। ঠিকমতো খেতেও দেয়নি। বৃষ্টি আমাকে হাতে, গালে ও পিঠে অনেক মেরেছে। আমাকে বলেছে, ‘কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবি, আমার মা-বাবা মারা গেছে, যদি এই কথা না বলিস তাহলে তোকে মেরে ফেলব।’ জবানবন্দিতে সুমাইয়া আরও বলে, স্যার ওকে (বৃষ্টি) অনেক শাস্তি দেবেন। আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে, আমার আব্বু-আম্মুকেও কষ্ট দিয়েছে। ও সবাইকে কষ্ট দিয়েছে, তেমন কষ্ট ওকেও দেবেন।
তা না হলে বৃষ্টি আরও অনেককে এমন কষ্ট দেবে। স্যার ওকে ফাঁসি দেবেন। ওকে ছাড়বেন না।’ শিশু সুমাইয়ার মা মুন্নি আক্তার বলেন, মেয়ে হারানোর পর অনেকের কাছেই গিয়েছি। তবে পুলিশ আমাকে আশ্বস্ত করেছিল দেশের যে প্রান্তেই থাকুক, যদি বেঁচে থাকে আপনার মেয়েকে উদ্ধার করে আনব। তারা আমার মেয়েকে উদ্ধার করেছে। আমি পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। এ বিষয়ে অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নাজির আহমেদ খান যুগান্তরকে জানান, ভুক্তভোগী শিশু আজ (শুক্রবার) আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওয়ায়েজ করুনী সুমাইয়ার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। তিনি বলেন, এই ঘটনায় বেলাল নামের আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লালবাগের এডিসি জানান, রিমান্ডের প্রথম দিন জিজ্ঞাসাবাদে আমরা বুঝতে পেরেছি যে মেয়েটিকে পাচারের উদ্দেশ্যেই অপহরণ করেছিল সাবিনা আক্তার বৃষ্টি। এদিকে শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সুমাইয়ার বাসায় গেলে দেখা যায়, সুমাইয়া রুমের সামনেই ছোটাছুটি করছে। কিছুক্ষণ মায়ের কোলে বসে, আবার ছুটে যায় বাবার কাছে। বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সে বারবার হাসিতে আত্মহারা হয়ে পড়ছিল। প্রতিবেশীরাও তাদের দেখতে আসছে। তার সঙ্গে কথা বলছে, অপহৃত থাকার দিনগুলোর বিষয়ে জানতে চাইছে তারা।

মেয়ে নিয়ে ট্রেনের নিচে বাবার ঝাপ

গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে পালিত মেয়েসহ বাবা মারা গেছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীপুর রেলস্টেশনের পশু হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- হযরত আলী (৪৫) ও তার পালিত মেয়ে আয়েশা খাতুন (৮)। তাদের বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার কর্ণপুর ছিটপাড়া গ্রামে। নিহতদের পরিবার এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেছে। শ্রীপুরের স্টেশন মাস্টার শাহজাহান মিয়া জানান, মেয়েকে নিয়ে হযরত আলী ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেসের নিচে লাফিয়ে পড়েন।
এতে ঘটনাস্থলেই বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয়। নিহত হযরত আলীর স্ত্রী হালিমা বেগম জানান, সকাল ৮টার দিকে মেয়েসহ বাড়ি থেকে বের হন তার স্বামী। এরপরই তিনি এ দুঃসংবাদ পান। স্বামী দীর্ঘদিন যাবৎ একটি মামলা সংক্রান্ত ঘটনায় মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন বলে জানান তিনি। জয়দেবপুর রেল ফাঁড়ির এসআই দাদন মিয়া জানান, রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।

বন্দরে নববর্ষে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে স্ত্রীকে হত্যা

বৃহস্পতিবার বন্দরের ত্রিবেণী এলাকা থেকে উদ্ধারকৃত অর্ধ গলিত লাশের পরিচয় এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পহেলা বৈশাখ নববর্ষের দিন ঘুরাতে নিয়ে গিয়ে স্বামী আকাশ ওরফে আব্বাস স্ত্রী তানিয়াকে খুন করে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আকাশ পুলিশের কাছে এমন কথাই স্বীকার করেছে। প্রায় আড়াই বছর আগে বেদে সম্প্রদায়ভুক্ত তানিয়াকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে আকাশ। শুক্রবার নবীগঞ্জ কবরস্থানে তানিয়ার লাশ দাফন করেন তার বাবা আলম সওদাগর। তানিয়ার মা শাহনাজ জানান, তারা বেদে সম্প্রদায়। তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে বন্দরের কদমরসুল দরগাহ’র পাশে মিঠু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তার মেয়ে তানিয়া শহরের একটি গার্মেন্টে কাজ করার সময় পরিচয় হয় ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার ওমরাবাহু গ্রামের মহিউদ্দিন মিয়ার ছেলে আকাশের সঙ্গে। পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেম করে নিজেদের ইচ্ছায় বিয়ে করে তারা। তানিয়াকে নিয়ে আকাশ বন্দরের একরাপুর এলাকার আলম মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকত।
পহেলা বৈশাখ থেকে তানিয়া নিখোঁজ হয়। কিন্তু তানিয়ার স্বামী আকাশ তাদের বলে তানিয়া অন্য কারও হাত ধরে চলে গেছে। তানিয়ার বাবা আলম সওদাগর জানান, তার বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার টংগিবাড়ি থানার আবদুল্লাহপুরে। তারা প্রথমে নৌকায় থাকতেন পরে তারা কদম রসুল এলাকায় র্দীঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। কিন্তু তার মেয়ে তানিয়া প্রেম করে নিজ ইচ্ছায় বিয়ে করার পর জানতে পারে আকাশের স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। এ নিয়ে তানিয়ার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল। এই সূত্র ধরেই আকাশ তানিয়াকে খুন করেছে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে স্মার্টফোন!

স্মার্টফোন ব্যবহার করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি আবিষ্কারের দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। ইঁদুরের ওপর জীববিদ্যা এবং প্রযুক্তি সংযোজনটি ব্যবহার করে তারা সফলতা পেয়েছেন। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, স্মার্টফোন প্রাণীটির ভেতরে জীবিত কোষের ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ইঁদুরের রক্তের শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রেখে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীদের ভাষায়, এ পদ্ধতিটি প্রয়োগ করে তারা আশানুরূপ ফল পেয়েছেন। আর চীনা গবেষকরা এ পদ্ধতি আবিষ্কারকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি 'নতুন যুগের' সূচনা বলছেন। এ পদ্ধতি ইনস্যুলিনের মতো স্বাভাবিক সেলে কাজ করে জিনতাত্ত্বিকভাবে ওষুধ তৈরি করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে। কিন্তু এটা ভালো কাজ করে আলোতে। প্রযুক্তিটিকে ওপটোজেনেটিক (optogenetics) বলা হয় এবং লাল বাতির নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উদ্ঘাটিত হওয়ার সময় এ কোষগুলিতে  বাধা পায়।
তারপরই কোষগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ওয়্যারলেস চালিত স্মার্টফোনের অ্যাপটি (অ্যাপ্লিকেশন) এলইডি লাইটটি কাজ করতে শুরু করে। সাংহাইয়ের পূর্ব চীন নর্মাল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ইঁদুরের ওপর এ পদ্ধতিটি প্রয়োগ করেছেন। তারা দেখেছেন, টাচ স্ক্রিনের এ টুপিটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। গবেষক দল বলছে, এটি প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যক্তিগতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এটি ডিজিটালাইজড করে বিশ্বায়নের একটি নতুন যুগের পথ তৈরি করা সম্ভব। তবে রক্তের শর্করার মাত্রা জানতে বিজ্ঞানীদের প্রয়োজন হয়ে ক্ষুদ্র ড্রপ, যার মাধ্যমে তারা গণনা করতে পারবেন রোগ সারাতে কতটুকু ওষুধ প্রাণীটির প্রয়োজন। চূড়ান্ত পর্যায়ে এটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম যা উভয় চিনি মাত্রা শনাক্ত করে এবং তারপর সঠিক পরিমাণে থেরাপিউটিক রাসায়নিকভাবে মুক্তি পায়। ওয়াইমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের আণবিক জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক মার্ক গোমেলসিকে বলেন, গবেষণাটি ছিল ‘রোমাঞ্চকর উপলব্ধি’।

শিবগঞ্জের ৪ জঙ্গির লাশ দাফন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের 'জঙ্গি আস্তানায়' অভিযানে নিহত আবুসহ চার জঙ্গির লাশ দাফন করা হয়েছে। আঞ্জুমানে মফিদুলের মাধ্যমে শুক্রবার রাত ২টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। চার জঙ্গির লাশ দাফনের ব্যাপারে নিশ্চিত করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর প্যানেল মেয়র সাইদুর রহমান ও পৌর স্যানেটারি কর্মকর্তা জহির।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। শিবনগরের আস্তানায় নিহত চার জঙ্গির মধ্যে তিনজন বিস্ফোরণে এবং একজন গুলিতে নিহত হয়েছে বলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন। এদিকে রাত ৯টার দিকে জঙ্গি আবুর লাশ তার দূরসম্পর্কের চাচা ইয়াসিন আলীর কাছে দেয়া হলেও তার বাবা-মা না থাকায় লাশটি ফেরত নেয় পুলিশ। এর আগে শুক্রবার দুপুরের দিকে শিবনগরের 'জঙ্গি আস্তানা' থেকে ৪ জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা।

সব নারীকে হেডস্কার্ফ পরার আহ্বান অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্টের

‘ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবং মুসলিমদের প্রতি সংহতি জানাতে প্রত্যেক নারীকে হেডস্কার্ফ পরার আহ্বান জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজেন্ডার ভন ডের বেলেন। সম্প্রতি ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বোরকা নিষিদ্ধের দাবি ওঠে। সেই দাবি থেকেই জার্মান পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস হয়। এই পরিস্থিতিতেই আলেকজেন্ডারের এই বক্তব্য প্রকাশিত হল। দেশটির বামপন্থী গ্রিন পার্টির এই নেতা বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানুষের একটি মৌলিক অধিকার। গত জানুয়ারিতে বিরোধী কট্টর জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে সামান্য ব্যবধানে জিতে যান আলেকজেন্ডার।
স্কুল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘এটা প্রত্যেক নারীর অধিকার যে তিনি পোশাক পরতে চান, তাই পরবেন। এই বিষয় এটাই আমার মত।’ অস্ট্রিয়ার এই নেতার ভাষায়, ‘শুধু মুসলিম নারীরাই না, সব নারীই চাইলে একটি হেডস্কার্ফ পরতে পারেন। যদি এই ইসলামবিদ্বেষ চলতেই থাকে, তবে যারা ধর্মীয় কারণে এটা পরে, সেসব মুসলিমদের প্রতি সংহতি জানাতে আমরা সব নারীকে অবশ্যই হেডস্কার্ফ পরতে বলব।’ স্কুলের এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। আলেকজেন্ডার এই বক্তব্য দিয়েছিলেন গত মার্চে।