Monday, January 25, 2016

বাংলাদেশের ৪ সন্ত্রাসীকে খুঁজছে ভারতের পুলিশ

‘বাংলাদেশ ভিত্তিক একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের’ ৪ সদস্যকে খুঁজছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল তাদের ধরতে অভিযান চালানো হয়। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ২৩ থেকে ২৬শে জানুয়ারির মধ্যে তারা আত্মঘাতী বোমা হামলা চালাতে পারে। বার্তা সংস্থা পিটিআইএ-এর বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে দ্য স্টেটসম্যান। খবরে বলা হয়, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো’র (আইবি) তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের গোয়েন্দারা চার ব্যক্তিকে খুঁজছে। বলা হচ্ছে, তারা বাংলাদেশভিত্তিক একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য। কলকাতা পুলিশ গোয়েন্দা বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, তাদের দুজনকে ধরতে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের কয়েকটি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, বিগত কয়েকদিন ধরে তারা সেখানে আত্মগোপন করে ছিল। তিনি আরও জানান, বারাসাতে আত্মগোপনে থাকা দুই ব্যক্তির নাম আনিসুর রেহমান ও মোহাম্মদ আনসারি। অপর দুইজন মালদা জেলার কোনো একটি স্থানে লুকিয়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেন ওই কর্মকর্তা। ব্যারাকপুর কমিশনারেটের অপর এক কর্মকর্তা বলেন, গতকাল আনসারি ও আনিসুরকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। এতে তাদের খোঁজ না মিললে রাজ্যের অন্যান্য স্থানে অভিযান শুরু হয়েছে। স্টেটসম্যানের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ১৮ই জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গসহ সকল রাজ্যকে একটি সতর্কবার্তা পাঠায়। এতে সতর্ক করা হয়- বাংলাদেশভিত্তিক গ্রুপ হিজবুত তাহরির ভারতের ২৩টি ভিন্ন স্থানে হামলা চালাতে পারে। ওই সতর্কবার্তা উদ্ধৃত করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, গ্রুপটি ২৬শে জানুয়ারির মধ্যে এ সপ্তাহের কোনো একটি সময়ে বোমা ও আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করছে। সতর্কবার্তার আলোকে- কালিঘাট মন্দির, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালসহ সকল রেলস্টেশন, হাওড়া ব্রিজ, জুবিলি ব্রিজ ও দক্ষিনেশ্বর মন্দিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘোজাডাঙা সীমান্ত দিয়ে গত সপ্তাহের কোনো এক সময়ে ভারতে প্রবেশ করে আনিসুর ও আনসারি।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশভিত্তিক এক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হামলা পরিকল্পনা নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য আসার পর উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে মহারাষ্ট্র ও গুজরাট।
ওদিকে, হিন্দুস্থান টাইমসের অপর এক রিপোর্টে, পশ্চিমবঙ্গে সন্ত্রাসী ঝুঁকির প্রসঙ্গে এসেছে জেএমবি (জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ) ও আইএসের যোগসূত্রের কথা। বলা হয়েছে, আইএসের সঙ্গে জেএমবি’র যোগসূত্র থেকে ভারতে উগ্রপন্থার যে ঝুঁকি রয়েছে তা মোকাবিলা করা শুরু করেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যে সম্ভাব্য হামলার উদ্বেগ রয়েছে বলে মনে করছে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। বাংলাদেশে কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলায় আইএসের দায় স্বীকারের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, বিভিন্ন রিপোর্টে ইঙ্গিত মিলছে তারা জেএমবির ক্যাডারদের সঙ্গে কাজ করছে। জেএমবি সদস্যরাই ২০১৪ সালের অক্টোবরে বর্ধমান বিস্ফোরণে দায়ী। জেএমবি ক্যাডাররা আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদীর তথাকথিত ‘খিলাফতে’ আনুগত্য প্রদর্শন করেছে- এমন খবর এসেছে। বর্ধমান বিস্ফোরণের তদন্তে উঠে আসে দলটির ক্যাডাররা সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে অনুপ্রবেশ করেছে। এরপর জেএমবি নিয়ে উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ। তদন্ত চলাকালীন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ঝাড়খণ্ড থেকে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে। গত বছরে বাংলাদেশে কমপক্ষে ১০টি আইএস হামলা হয়েছে। ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এখন পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগ পোষণ করছে। হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতে পাকড়াও হওয়া সন্ত্রাসী মডিউলগুলোর অর্থায়ন পশ্চিম এশিয়া থেকে আসতো বলে তথ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে। আর অর্থায়ন হতো হুন্ডির মাধ্যমে। শনিবার রাতে মহারাষ্ট্রের আওরংবাদ থেকে আরও এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হওয়ার পর আইএস সংশ্লিষ্টতা সন্দেহে আটক মোট ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬। সরকারের শীর্ষ সূত্রের বরাতে বলা হয়, আইএসের ভারতীয় অংশের নামকরণ করা হয় জুন্দাল খলিফা (খিলাফতের সেনাবাহিনী)। আর এ নামকরণ করেন তথাকথিত আমিরে হিন্দ মুদাব্বির শেখ। তিনি ভারতের থানে জেলার মুম্ব্রা শহর নিবাসী। মুদাব্বির শেখ থানে পলিটেকনিক থেকে পড়াশোনা করা একজন প্রশিক্ষিত ওয়েব ডিজাইনার। গত দু’বছরে ইন্টারনেটে তিনি উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হন। নিরাপত্তা বাহিনী তার ওপর নজর রাখছে। অতীতে ওয়াদাত-ই-ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার পাশাপাশি মুদাব্বির শেখ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইন্ডিয়ান মুজাহিদীনের (আইএম) সাবেক সদস্য কর্ণাটকের মোহাম্মদ শাফি আরমারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন। আরমার ও কয়েকজন সাবেক আইএম সন্ত্রাসী বর্তমানে সিরিয়া ও ইরাকে আইএসের সঙ্গে লড়াই করছে। গত মে মাসে রতনম মডিউলকে ধরার পর ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাদের নজরদারিতে রেখেছে শতাধিক আইএস সমর্থককে। পশ্চিম এশিয়া থেকে আসা যোগাযোগ বার্তায় আড়িপাতা তথ্য থেকে ইঙ্গিত মেলে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি আসন্ন। এরপর তারা হরদ্বার ও শেখ মডিউলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়। সিনিয়র এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিস্ফোরক ছাড়াও টাইমার, সার্কিট বোর্ড ও অর্থ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ আদান-প্রদানের তথ্যপ্রমাণ মেলে। ওই অর্থ ছিল অস্ত্র আর বিস্ফোরক কেনার জন্য।’

কোকেন কাণ্ড - মুখ খুলছে না নুর মোহাম্মদ by মহিউদ্দিন জুয়েল

চট্টগ্রামের কোকেন কাণ্ডের ঘটনায় মুখ খুলছে না আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক সেই নুর মোহাম্মদ। ভোজ্য তেলের আড়ালে অতীতে কখনো কোকেন আনা হয়েছে কিনা তা জানতে এখন উদগ্রীব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই ঘটনায় এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন লন্ডনে বসে কোকেন পাঠানো ফজলুর রহমান ও বকুল মিয়া।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, নুর মোহাম্মদ প্রকৃত ঘটনা থেকে আড়াল থাকতে চাইছেন। প্রথম দফায় চার্জশিটে তার নাম বাদ দেয়ার পর পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঘটনার পর যদিও সে প্রথম থেকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। একই সঙ্গে এই ঘটনার জন্য তার ম্যানেজার সোহেলকে দায়ী করছেন।
তার কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়ার আশায় আদালতে দ্বিতীয় দফায় তার রিমান্ড চেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে তিন দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার সন্ধ্যায় র‌্যাব তাকে দ্বিতীয় দফায় আদালতে হাজির করেছিল। এই সময় মহানগর হাকিম রহমত আলীর আদালতে হাজির করে আরও তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানির জন্য আদালত আজ সোমবার দিন ঠিক করেছেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে মানবজমিনের সঙ্গে কথা হয় নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কাজী মুত্তাকি ইবনু মিনানের। তিনি বলেন, র‌্যাব তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়েছে। আদালত আজ এই বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন। আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছি।
চট্টগ্রাম বন্দরে তেলের ড্রামে কোকেন পাওয়ার ঘটনায় চলতি বছরের গত ২৮শে জুন বন্দর থানার এসআই ওসমান গণি বাদী হয়ে দুইজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। সানফ্লাওয়ার তেল ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা ১০৭টি কনটেইনারের একটিতে গত ২৭শে জুন তরল কোকেনের অস্তিত্ব মিলে।
ঢাকার বিসিএসআইআর ও বাংলাদেশ ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর পর তারা কোকেন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ৮ই জুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও নৌবাহিনীর ল্যাবের প্রাথমিক পরীক্ষায় কোনো তরল কোকেন না থাকার কথা জানিয়েছিলেন কর্মকর্তারা।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে মূল হোতা যুক্তরাজ্যের নাগরিক ফজলুর রহমান ও বকুল মিয়া এখনও পলাতক রয়েছে। তারা আদৌ সেখানে অবস্থান করছেন কিনা তা জানতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অন্যদিকে ঘটনার ৭ মাস পর র‌্যাব কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় নুর মোহাম্মদকে।
তবে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার এখনও কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি গোয়েন্দারা। গত বছরের ১৯কে নভেম্বর এই সংক্রান্ত মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়া হয়। এতে বলা হয়, যে চালানটি ধরা পড়েছিল তার গন্তব্য ছিল ভারতে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তা আদালতে দাখিল করেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার কামরুজ্জামান।
এতে তিনি যাদের আসামি করেন তাদের মধ্যে ছিলেই গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, কসকো বাংলাদেশ শিপিং লাইনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক এ কে আজাদ, মোস্তফা কামাল, আমদানিকারক সূর্যমুখী তেলের প্রতিষ্ঠান খান জাহান আলী লিমিটেডের কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা সোহেল, আইটি বিশেষজ্ঞ মেহেদী আলম, লন্ডনে বসবাসরত নাগরিক ফজলুর রহমান ও বকুল মিয়া, সিঅ্যান্ডএফ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আসামিদের মধ্যে ফজলুর রহমান ও বকুল মিয়া অন্যতম আসামি গোলাম মোস্তফা সোহেলের আত্মীয়। সোহেল জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, তাদের মাধ্যমেই তিনি ভোজ্য তেল নিয়ে আসতেন বিভিন্ন দেশ থেকে। তবে এই কাজে মালিক নূর মোহাম্মদকে তিনি বিষয়টি অবহিত করতেন।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, আসামি সোহেল রিমান্ডে বলেছিলেন, লন্ডন থেকে বলিভিয়া হয়ে এসব চালান দেশের বিভিন্ন ব্যক্তির হাতে পৌঁছে দিতো। প্রতিটি চালানেই খান জাহান আলী লিমিটেডের নাম ছিল আমদানিকারক হিসেবে। এই ঘটনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠান বলিভিয়ার ‘ইমপোর্ট এক্সপোর্ট ইএল ভাইভেন এসআরএল’ ও উরুগুয়ের ‘সাউথ ফ্রেইট লজিস্টিক নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে সে স্বীকার করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীদের কাণ্ড

তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। এক্স-রেটেড একটি শোর আয়োজন করেছিল। সেখানে বিবস্ত্র হয়ে তারা নাচলো। স্ট্রিপার হিসেবে আপত্তিকর কর্মকাণ্ড চালালো। এ ঘটনা ঘটেছে বৃটেনের শ্রোপশায়ারে অবস্থিত হারপার এডামস ইউনিভার্সিটিতে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর প্রিন্সেস অ্যান। তাই বিষয়টি নিয়ে বৃটিশ মিডিয়ায় শোরগোল শুরু হয়েছে। ওই শোতে ছাত্রীরা যে উত্তুঙ্গ নেচেছে, সেই ছবিসহ রিপোর্ট প্রকাশ হচ্ছে। তবে ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে যতদূর সম্ভব তা সেন্সর করে প্রকাশ করা হচ্ছে। অনলাইন মিরর লিখেছে, আসলে ওই শোটি পরিণত হয়েছিল সেক্স শোতে। যেখানে রগরগে যৌনতা মঞ্চে তুলে ধরে ল্যাপ ড্যান্সাররা। এটা আসলে এক্স-রেটেড রাত ছিল।
স্টুডেন্টস ইউনিয়ন থেকে ধারণ করা ছবিতে দেখা যায়, দুজন ছাত্রী বিবস্ত্র। তাদের শরীরের নিচের অংশে কিছুই নেই। এ ছবি ধারণ করা হয়েছে দর্শকদের সারি থেকে। একজন নর্তকীর শরীরে কিছুই নেই। অন্যজনের শরীরে সামান্য অন্তর্বাস। উল্লেখ্য, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বৃটেনের চতুর্থ জনপ্রিয়। এখানে এমন দৃশ্যের অবতারণা করায় এ নিয়ে সবার চোখ ওপরে উঠেছে। একটি সূত্র বলেছে, এ অনুষ্ঠানের আয়োজক স্টুডেন্ট ইউনিয়ন।

এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম

ভারতের একেবারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছোট্ট গ্রাম মাওলিনং। প্লাস্টিকের যে কোনো সামগ্রী এখানে নিষিদ্ধ। রাস্তাঘাট ঝকঝকে তকতকে, ময়লা-আবর্জনার দেখা পাওয়া মুশকিল। চারপাশে ফুলের বাগান। গ্রামটিকে বলা হয় এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামটিতে ২০০৩ সালের আগে পর্যটকদের পদচ্ছাপ পড়তো না। মেঘালয়ে ছিল না কোনো সড়ক। যেতে হতো শুধুমাত্র পায়ে হেঁটে। মাওলিনং-এ খাসি উপজাতিদের বসবাস। বিরল মাতৃতান্ত্রিক সমাজের জন্য খ্যাত এ গ্রাম। এই খাসি সমাজে ধন-সম্পদের মালিক হন মেয়েরা। মায়ের সম্পদের একমাত্র উত্তরাধিকারী হন সবচেয়ে ছোট মেয়েটি। মায়ের নামের পদবি গ্রহণ করে সন্তানরা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিন্ন কারণে এ গ্রামটি বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। সেটি হলো, গ্রামের ব্যতিক্রমধর্মী পরিচ্ছন্নতা। ভারতের বড় বড় শহরের ধুলাবালি আর কোলাহল থেকে অনেক আলাদা এ গ্রাম। গ্রামের কোনায় কোনায় দেখা মিলবে বাঁশের তৈরি ডাস্টবিন। স্বেচ্ছাসেবীরা নিয়মিত বিরতির পরপর সড়ক ঝাড়ু দেয়। প্লাস্টিকের ব্যাগ ফেলে দিতে দর্শণার্থীদের প্রতি কড়া নির্দেশমূলক সংকেত চোখে পড়বে প্রায়ই। আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা একেবারেই নিষিদ্ধ। নিজের ছোট কিন্তু উজ্জ্বল পারিবারিক বাড়িটির সামনে বসে আছে বনিয়ার মাওরোহ। মাওরোহর ভাষ্য, আমরা প্রতিদিন পরিষ্কার করি। কারণ, আমাদের দাদা-দাদি ও পূর্ব-পুরুষরা আমদের শিখিয়েছে কীভাবে গ্রাম ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখতে হয়। কারণ, পরিচ্ছন্ন থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
১২ বছর আগে এ গ্রামে প্রথম সড়ক নির্মিত হয়। তারপর ডিসকোভার ইন্ডিয়া নামে একটি ট্রাভেল ম্যাগাজিনের এক সাংবাদিক ঘুরে যান গ্রামটি। তারপরই তার লেখা একটি নিবন্ধে গ্রামটিকে এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। এরপরই যেন দর্শণার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে গ্রামটিকে ঘিরে। ভরা মৌসুমে প্রতিদিন ২৫০ পর্যটক এ গ্রামে বেড়াতে যান। গ্রামের জনসংখ্যা বেড়ে গেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ক্রমেই, খ্যাতির বিড়ম্বনার মুখোমুখি হয় মাওলিনং। গ্রামের একটি অতিথিশালার মালিক ৫১ বছর বয়সী রিশোত খোংথোহরেম। তিনি বলেন, এখানে এখন শব্দ দূষণ চলে। আমি গ্রাম পরিষদের সঙ্গে কথা বলেছি। পরিষদ কর্তৃপক্ষ গ্রাম থেকে আরও দূরে নতুন একটি গাড়ি পার্ক করার স্থান নির্মাণে সরকারের কাছে চিঠি লিখেছে। মেঘালয় ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সাবেক কর্মকর্তা দীপক লালু এ গ্রামের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে একেবারে প্রথম দিকে গ্রাম পরিষদকে পরামর্শ দিয়েছেন। তিনিও এখন অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ নিয়ে চিন্তিত। তিনি বলেন, এখন কোথাও কোনো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নেই। এক নারী হয়তো গোসল করছে। তার ছবি তুলে ফেলা হচ্ছে। যে সামাজিক বন্ধন গ্রামটিকে এক করে রেখেছে, তা নষ্ট হচ্ছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে মাওলিনং গ্রামে এতটা উদ্বেগ সৃষ্টি হয় ১৩০ বছর আগের একটি কলেরা মহামারি থেকে। তখন গ্রামে ছিল না কোনো স্বাস্থ্য সুবিধা। এ কারণেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকেই কলেরা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হতে থাকে। খোংথোহরেম বলেন, খ্রিষ্টান মিশনারিজ আমাদের পূর্বসূরিদের বলেছিল, তোমরা কলেরা থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারবে, যদি ভালোভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পারো। ঘরে-বাইরে, জমিতে, গ্রামে, নিজের দেহে কিংবা খাবার গ্রহণের বেলায় - সবসময়ই পরিচ্ছন্নতা মেনে চলতে হবে। এরপর থেকে মাওলিনং গ্রামে এ খুঁতখুঁতে অভ্যেস প্রতিষ্ঠা পায়। ফলে গ্রামটির ভিন্ন অর্জনও বেড়েছে। প্রকাশ্যে মলমূত্র ত্যাগ যেখানে প্রত্যন্ত ভারতে স্বাভাবিক বিষয়, সেখানে এ গ্রামের ৯৫টি বাড়ির সব কটিতে টয়লেট রয়েছে। এ গ্রামের প্রশংসা করেছেন খোদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মহাসড়কে ও স্মৃতিস্তম্ভের আশেপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য কুখ্যাতি আছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষদের। এ দুর্নাম দূর করতে মোদি শুরু করেন ক্লিন ইন্ডিয়া প্রচারাভিযান। আর এর অংশ হিসেবে এক রেডিও ভাষণে মোদি এ গ্রামের প্রশংসা করেন। মোদি বলেছিলেন, আমি জেনে চমৎকৃত হয়েছি, উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয়ে এমন একটি প্রত্যন্ত গ্রাম আছে, যেটি বছরের পর বছর ধরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে আসছে। এমন অর্জন নিয়ে মাওলিনং গ্রাম নিশ্চয়ই গর্বিত। অনেকে তবে মনে করেন, বাসিন্দাদের মঙ্গলের জন্য এ গ্রামে পর্যটকদের সংখ্যা সীমিত করতে হবে। পর্যটক বিশেষজ্ঞ লালু বলেন, তাদের অবশ্যই পর্যটক সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে জানতে হবে। একটা পর্যায়ের পর ‘না’ বলতে পারতে হবে।

১৩০ পাক পরমাণু বোমা ভারতের দিকে তাক করা!

পাকিস্তানের ১৩০টি পরমাণু বোমার সবকটি তাক করা রয়েছে ভারতের দিকে। ইসলামাবাদের আশঙ্কা, নয়াদিল্লি যে কোনও সময় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে। তাই পাকিস্তান নিজেদের সবক’টি পরমাণু অস্ত্রের নিশানাতেই ভারতকে রেখেছে। মার্কিন কংগ্রেসে পেশ হয়েছে এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট। পাক সেনার সমরসজ্জার এই ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা বিশ্বে।
মার্কিন কংগ্রেসের স্বশাসিত শাখা ‘কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস’ (সিআরএস) সম্প্রতি আমেরিকার সংসদে তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। প্রতি বছরই বিভিন্ন বিষয়ে এই রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে ২৮ পাতার যে রিপোর্ট মার্কিন কংগ্রেসে জমা পড়েছে, তাতে পাকিস্তানের সমরসজ্জা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিআরএস। ইসলামাবাদের ‘ফুল স্পেকট্রাম ডেটারেন্স’ তত্ত্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ফুল স্পেকট্রাম ডেটারেন্স-এর অর্থ হল, অস্ত্রাগারে থাকা সবকটি পরমাণু বোমাকে যে কোনও সময় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা। পাকিস্তানের হাতে ১১০ থেকে ১৩০টি পরমাণু বোমা রয়েছে বলে মার্কিন গবেষকদের দাবি। ভারতের দিক থেকে যে কোনও রকম আক্রমণের সম্ভাবনা রুখতেই পাকিস্তান এই ফুল স্পেকট্রাম ডেটারেন্স নীতি নিয়েছে বলে খবর। অর্থাৎ, ১৩০টি পরমাণু বোমা মাথায় নিয়ে তৈরি থাকা পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার মিসাইলগুলির প্রত্যেকটিই ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের দিকে তাক করে রাখা হয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসে জমা পড়া রিপোর্টে পাকিস্তানের এই রণসাজের কথা উল্লেখ করে প্রবল উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মার্কিন গবেষকরা সে দেশের কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ভারতের প্রতি পাকিস্তানের এই মনোভাব দক্ষিণ এশিয়ার দু’টি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানের মোকাবিলায় ভারতও নিজেদের প্রস্তুত রাখছে বলে সিআরএস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতও নিজেদের পরমাণু বোমার সংখ্যা বাড়াচ্ছে। দাবি মার্কিন রিপোর্টটিতে।
সূত্র: আনন্দবাজার

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক

শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর আমন্ত্রণে দাভোসে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো আয়োজিত এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। ইউনূস সেন্টার থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রফেসর ড. ইউনূসের কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত কানাডার ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির সঙ্গে প্রফেসর ইউনূসের দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক। বিশ্বব্যাপী দরিদ্র নারীদের উন্নয়নে প্রফেসর ইউনূসের অসামান্য অবদানের জন্য কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী ড. ইউনূসের ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো এ উপলক্ষে ১৯৮৩ সালে ১২ বছর বয়সে পিতার সঙ্গে তার বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন। সে সময়ে তার চট্টগ্রাম ভ্রমণের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। ড. ইউনূস সে সময় তাকে আবারও বাংলাদেশে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানান। ড. ইউনূস ও প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো আগামী ২৮শে সেপ্টেম্বর অটোয়ায় অনুষ্ঠেয় নর্থ আমেরিকান সোশ্যাল বিজনেস ফোরাম নিয়ে আলোচনা করেন। কানাডার সুবিধা-বঞ্চিত মানুষের জন্য নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন বিষয় এবং কানাডিয়ান সরকারের উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর ইউনূসকে কানাডা সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি কানাডায় সামাজিক ব্যবসা আন্দোলনে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও দেন। ইউনূস ও প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর বৈঠকের সময়ে বিশিষ্ট গায়ক ও দারিদ্র্যবিমোচন কর্মী বোনো এবং হলিউড তারকা কেভিন স্পেসি তাদের সঙ্গে যোগ দেন এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কর্মসূচি বিষয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। অভ্যর্থনা সভায় ড. ইউনূস কানাডার অর্থমন্ত্রী ও তার দীর্ঘদিনের বন্ধু বিল মরনোর সঙ্গে এক একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। এছাড়াও ড. ইউনূস পরিবেশ মন্ত্রী ক্যাথরিন ম্যাককেনা, উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রী নবদ্বীপ সিং বেইন এবং বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

সিলেটে ছাত্রলীগের তুলকালাম ব্যবসায়ীদের সড়ক অবরোধ

সিলেটে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের চাঁদা দাবির ঘটনায় তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। চাঁদা না পেয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা প্রথমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ নিয়ে পরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ কর্মীদের ধাওয়া-পালটা ধাওয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে ব্যবসায়ীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল বিকালে সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে, ব্যবসায়ীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সমাজসেবা সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জাকারিয়া মাহমুদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের শিবগঞ্জ গ্রুপের কর্মীরা প্রায়ই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে। চাঁদা না দিলে ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে হেনস্থা হতে হয় ব্যবসায়ীদের। এ অবস্থায় কয়েক দিন ধরে ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া মাহমুদ ও তার গ্রুপের কর্মীরা উপশহরের বি ব্লকের মসজিদ মার্কেটের আল বারাকা টেলিকমের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেনের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। কিন্তু বারবারই ব্যবসায়ী জাকির চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। বলেন, এত টাকা তিনি দিতে পারবেন। এতে ক্ষুব্ধ হয় ছাত্রলীগের কর্মীরা। তারা গতকাল বেলা দেড়টার দিকে আল বারাকা টেলিকমে যায়। এ সময় তারা ওই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে এবং দা, রামদা দিয়ে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। হামলার ঘটনায় ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা একত্রিত হয়ে ছাত্রলীগের কর্মীদের ধাওয়া দিলে এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা উপশহর দিয়ে পালিয়ে যায়। এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ব্যবসায়ীরা। তারা শিবগঞ্জ-মেন্দিবাগ সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে শতাধিক ব্যবসায়ী রাস্তায় অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তারা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অগ্নিসংযোগ এবং ক্ষোভ প্রদর্শন করে। এভাবে প্রায় দুই ঘণ্টা রাস্তা  অবরোধ করে রাখে। ওই সময় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এদিকে, বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তারা চাঁদাবাজ ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া মাহমুদকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এর আগে ব্যবসায়ীরা সব চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তারের দাবিতে পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
সিলেটে ১৫০ ব্যাটারিচালিত রিকশা আটক
সিলেটে জোরেশোরে শুরু হয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা আটক অভিযান। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে নগরীর সব পয়েন্টে ব্যাটারিচালিত রিকশা আটক শুরু করেছে ট্রাফিক পুলিশ। বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অভিযানে দেড় শতাধিক অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা আটক করা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নিকোলিন চাকমা বলেন, উচ্চ আদালতে রিট খারিজ হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অভিযান শুরু হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এদিকে উচ্চ আদালতে গত ১৯ জানুয়ারি খারিজ হওয়া রিট ১৩৯৯৬/১২-এর নিষ্পত্তি সংক্রান্ত কাগজপত্র সিলেট রিকশা মালিক সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতি এমএএম শাহজাহান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও সিলেট সিটি করপোরেশনে রোববার দুপুরে হস্তান্তর করেন। এ সময় লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আদালত রিট আবেদনের রুল জারি করলেও কোথাও ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের অনুমতি দেননি। রিট খারিজ হওয়ায় বর্তমানে ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদে কোনো বাধা নেই। সিলেট রিকশা মালিক সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতির প্রধান উপদেষ্টা সহিদুল হোসেন আহমদ মামুন বলেন, আমরা রিট খারিজ সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছি। রিট ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের অনুমতি নয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, সিলেট নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধে এসএমপির সহায়তায় সিসিক অভিযান চালাবে। গত ১৯শে জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের যৌথ বেঞ্চ শুনানি শেষে সিলেট ব্যাটারি চালিত রিকশা মালিক সমিতির রিট খারিজ করে দেন। এরপর থেকে রোববার অভিযান শুরু করে এসএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

‘বঙ্গভবনে বেতালা অবস্থার মধ্যেও আছি’ -প্রেসিডেন্ট by আশরাফুল ইসলাম

আগের মতো আর অবাধে মানুষের সঙ্গে মিশতে পারেন না এমন আক্ষেপ করে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, অনেকদিন পর যখন কিশোরগঞ্জে আসি, তখন খুব ভালো লাগে। কিন্তু আপনাদের কাছে আসতে পারি না। বাঁশের বেড়া দিয়ে আপনাদের থেকে আমাকে দূরে রাখা হয়। ‘দূরের মানুষ কাছে আসো, যদি আমার গান শুনতে চাও’- একটি গান রয়েছে। কিন্তু দূরের মানুষ কাছে আসা দূরে থাক, বাঁশের বেড়া দিয়ে কাছের মানুষকেও দূরে ঠেলে দেয়া হয়। রোববার বিকালে কিশোরগঞ্জ শহরের আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন দিনব্যাপী শতবর্ষ পূর্তি উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ এসব কথা বলেন।
বঙ্গভবনকে সোনার খাঁচার সঙ্গে তুলনা করে প্রেসিডেন্ট বলেন, সোনার খাঁচার মধ্যে পাখিকে রেখে যতোই দুধ-কলা খাওয়ানো হোক না কেন, ছাড়া পেলেই সে উড়ে যায়। আমিও ছুটতে পারছি না। এটার ভিতরে আমার ভালো লাগার কথা নয়। তিনি বলেন, মানুষ রাজা-বাদশাহ্‌র মতো আছি মনে করে। রাজা-বাদশাহ্‌র মতো আছি ঠিকই। কিন্তু বেতালা অবস্থার মধ্যেও আছি। ইচ্ছা করলেই বাইরে যেতে পারি না। বাইরে যেতে অনেক সমস্যা রয়েছে। রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়ে মানুষকে দুর্ভোগে ফেলতে হয়। নিতান্তই সরকারি কর্মসূচি ছাড়া আমি বাইরে যেতে চাই না।
কিশোরগঞ্জ শহরকে নিজের প্রাণের শহর হিসেবে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ বলেন, এ শহরে আমার শৈশব ও কৈশোরসহ জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে। এখনও সুযোগ পেলেই মাটির টানে এখানে আসার চেষ্টা করি। যেখানেই থাকি না কেন কিশোরগঞ্জ সবসময়ই আমাকে কাছে টানে। এটাই হয়তো বা নাড়ির টান। আমি এখানকার আলো-বাতাসে বড় হয়েছি। এখানেই আমার রাজনৈতিক জীবনের গোড়াপত্তন। আমার আজকের অবস্থানে যাওয়ার পেছনে কিশোরগঞ্জের মাটি ও মানুষের অবদান সবচেয়ে বেশি। আমি এ অঞ্চলের মানুষের কাছে ঋণী। তাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তাই তো বার বার এখানে আসতে চাই, যদিও রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় তা সম্ভব হয় না।
প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ তার বক্তৃতায় বলেন, স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের স্বপ্ন এবং স্বপ্ন জয়ের ইচ্ছা থাকতে হবে। আর এ স্বপ্ন পূরণে থাকতে হবে শিক্ষার পাশাপাশি অধ্যবসায়, চর্চা ও প্রচেষ্টা। বড়দের যোগাতে হবে অনুপ্রেরণা, পৃষ্ঠপোষকতা ও  সহযোগিতা। তিনি বলেন, আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে বাস করছি। কিন্তু এখন আগের যে কোন সময়ের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও চ্যালেঞ্জিং। এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করেই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। নতুন প্রজন্মকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে ও দক্ষতায় হতে হবে বিশ্বমানের। আর এই উদ্যোগটি স্কুলপর্যায় থেকেই শুরু করতে হবে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, যুগের পরিক্রমায় শিক্ষার ধ্যান-ধারণা ও শিক্ষাদান পদ্ধতিতেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তাই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের সম্পদ সীমিত। সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের মাধ্যমেই উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সমন্বিত প্রয়াস চালাতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশ ও জাতির কল্যাণই হতে হবে শিক্ষার্থীদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। কোন ধরনের লোভ-লালসা বা হীনস্বার্থ চরিতার্থের মনোবৃত্তি যেন তাদের কোমল মনকে কলুষিত করতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। শিক্ষকদেরকেও এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে মনোনিবেশ করতে হবে। কিশোরগঞ্জের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হাস্যরস করে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ বলেন, আমি অনুরোধের মাস্টার। প্রেসিডেন্ট ইচ্ছা করলেই সব কিছু করতে পারেন না। আমার শুধু সবাইকে অনুরোধ করতে হয়, আমাকে কিছু টাকা দ্যান।
আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মানপত্র পাঠ করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকাররম হোসেন শোকরানা। এতে অন্যদের মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রেসিডেন্টপুত্র রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান ও শতবর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ডা. আনম নৌশাদ খান বক্তৃতা করেন। এ সময় সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য দিলারা বেগম আসমা, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার জিল্লার রহমান, জেলা ও দায়রা জজ মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ মাহবুব-উল-ইসলাম, জেলা প্রশাসক জিএসএম জাফরউল্লাহ্‌, পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর-রশীদ, পিপি শাহ আজিজুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন জানিয়ে অবিলম্বে এর কাজ শুরু হবে বলে ঘোষণা প্রদান করেন। এছাড়া তিনি আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টিকে সরকারিকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। সবশেষে তিনি তিনদিনব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এর আগে দুপুরে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ দুইদিনের সফরে কিশোরগঞ্জ এসে পৌঁছান। সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে বিকাল ৩টায় শহরের শোলাকিয়া এলাকায় অবস্থিত আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন দিনব্যাপী শতবর্ষ পূর্তি উৎসবের অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছেন। শতবর্ষ পূর্তি উৎসব উদ্বোধন শেষে সন্ধ্যায় সার্কিট হাউজে স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। শহরের খড়মপট্টি এলাকার নিজ বাসভবনে রাত্রিযাপন শেষে আজ সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় হেলিকপ্টারযোগে কিশোরগঞ্জ থেকে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

সতীত্বের জন্য বৃত্তি

প্রতীকি ছবি
এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় খাজুলু-নাটাল প্রদেেশর মেয়রের মুখপাত্র জাবুলানি মখোনজা বলেছেন, এ বৃত্তি এবারই প্রথম চালু করা হলো। উথুকেলা জেলার যেসব মেয়ে কুমারী ছিলেন তাদেরকে এবার বৃত্তি দেয়া হয়েছে। প্রতি বছর হাই স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শতাধিক ছাত্রীকে এ বৃত্তি দেবে মেয়রের অফিস। যাদেরকে এবার বৃত্তি দেয়া হয়েছে তারা স্বেচ্ছায় স্বীকার করে নিয়েছেন যে, তারা এখনও কুমারী আছেন। তাদের সতীত্বেও ওপর কোন কলঙ্ক লেপন হয় নি। এ জন্য নিয়মিত তারা কুমারিত্ব বিষয়ক টেস্ট করাতে রাহি হয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার রেডিও স্টেশন ৭০২কে এ কথা বলেছেন উথুকেলার মেয়র দুদু মাজিবুকো। তিনি বলেন, এসব কুমারীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ তাদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য। আমি আশা করি তারা তাদের ডিগ্রি বা পড়াশোনা শেষ করা পর্যন্ত কমপক্ষে পরবর্তী তিন বছর এই কুমারিত্ব ধরে রাখবেন। তিনি বলেন, এই বৃত্তি বিভিন্ন সময়ে নবায়ন করা হবে। কারণ, কোন কুমারী এই সনদকে ব্যবহার করে অন্য উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেন। এই সনদ দেখিয়ে দাবি করতে পারেন যে, তিনি কুমারী। আর এ দাবি করে তিনি বিভিন্ন কাজ করতে পারেন। তাই তাদের বৃত্তিকে সময়ে সময়ে নবায়ন করা হবে। এই বৃত্তি দেয়া হচ্ছে যুবতীদের, কারণ বিপথে যাওয়ার ঝুঁকি, টিনেজ বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া ও তাদের মাধ্যমে যৌনবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় স্কুল পর্যায়ের কিশোরী ও যুবতীদের মধ্যে কমপক্ষে ২০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার রেকর্ড রয়েছে সেখানকার শিক্ষা বিভাগের হাতে। দক্ষিণ আফ্রিকা ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের মতে, এখনও প্রাইমারি স্কুলে অধ্যায়ন করা অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের সংখ্যা ২২৩। স্ট্যাটিসটিকস সাউথ আফ্রিকার একটি জরিপে দেখা গেছে, ২০১৩ সালে ১৪ থেকে ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের মধ্যে শতকরা ৫.৬ ভাগই অন্তঃসত্ত্বা। কমিশন ফর জেন্ডার ইকুয়ালিটির চেয়ারম্যান মফানোজিলওয়ে শোজি বলেছেন, আমি মনে করি এর প্রেক্ষিতে মেয়র যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা মহৎ কাজ। তবে কুমারিত্বের জন্য বৃত্তির বিষয়ে আমরা একমত নই। তবে কুমারিত্ব পরীক্ষা দক্ষিণ আফ্রিকার সংবিধান বিরোধী নয়। বরং অত্যাবশ্যক। বেশ কিছু মানবাধিকার কর্মী দক্ষিণ আফ্রিকায় এ পরীক্ষা বন্দের আহ্বান জানিয়েছেন। যারা এ পরীক্ষার পক্ষে তারা বলছেন, এর মাধ্যমে প্রজনন স্বাস্থ্য, এইচআইভি ও এইডস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় খালেদাকে সমন

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে করা নালিশি মামলা আমলে নিয়ে সমন জারি করেছেন আদালত। তাঁকে আগামী ৩ মার্চ সশরীরে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন আহমদের নালিশি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর হাকিম মো. রাশেদ তালুকদার এই আদেশ দেন।
আদালতের আদেশের পর বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এর আগে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত। বাদীর পক্ষে আদালতে ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনজীবী সাহারা খাতুনসহ আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা।
বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা গ্রহণে সকালে আদালতে আবেদন করেন মমতাজ উদ্দিন।
আবেদন প্রসঙ্গে মমতাজ উদ্দিন বলেন, আবেদনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা আমলে নেওয়ার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আরজি জানানো হয়েছে। অপরাধ হয়েছে কি হয়নি, তা খতিয়ে দেখে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিতে পারেন, সমনও দিতে পারেন।
‘স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে’—খালেদা জিয়ার এমন মন্তব্যের পর মমতাজ উদ্দিনের একটি আবেদন পর্যালোচনা করে বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার অনুমতি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মমতাজ উদ্দিন ওই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করতে সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের কাছে সহায়তা চান। এর পর সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন ওই আইনজীবী। মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার তাঁকে মামলা করার অনুমতি দেয়।
আইনজীবীর আবেদনে বলা হয়, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। এ ছাড়া জাতির পিতা ও আওয়ামী লীগ নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেছেন তিনি। এটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল বলে মনে করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনি নোটিশ দেওয়ার পরও তিনি ক্ষমা চাননি বা বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যে রাষ্ট্রদ্রোহের কিছু নেই বলে দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, দণ্ডবিধির ১২৪-এ ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, খালেদা জিয়ার বক্তব্য এ সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। রাষ্ট্রদ্রোহ হয় যদি কেউ সরকার উৎখাতের চেষ্টা করে। যদি কেউ সরকারের প্রতি জনগণকে উসকে দেওয়ার জন্য বক্তৃতা দেয়, তাহলে সেটা রাষ্ট্রদ্রোহ। এখানে খালেদা জিয়া কোনো রাষ্ট্রদ্রোহ করেননি।
গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। আজকে বলা হয়, এত লাখ লোক শহীদ হয়েছে। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে খালেদা জিয়া দাবি করেন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।

১ ভাগের বিরুদ্ধে ৯৯ ভাগের লড়াই by হায়দার আকবর খান রনো

প্রথম আলোর ১৯ জানুয়ারি সংখ্যায় প্রথম পাতায় প্রকাশিত একটা রিপোর্ট রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। রিপোর্টটি বিশ্ব অর্থব্যবস্থা–সংক্রান্ত। রিপোর্টের হেড লাইনটি ছিল এ রকম, ‘৬২ ব্যক্তির সম্পদ হচ্ছে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের সমান’।
রিপোর্টটি তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক এনজিও অক্সফাম। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভায় রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়েছিল। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘ক্রেডিট সুইস’-এর একটি প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত হয়েছিল এই রিপোর্ট। রিপোর্টটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অ্যান ইকোনমি ফর দ্য ওয়ান পারসেন্ট’।
এখানে স্মরণ করা যেতে পারে যে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সেই দেশের বহুজাতিক ব্যাংক ও করপোরেশনসমূহের প্রধান কেন্দ্রস্থল ওয়াল স্ট্রিট দখল করে যাঁরা চরম অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন, তাঁরাও তাঁদের আন্দোলনের নাম দিয়েছিলেন ‘১ শতাংশের বিরুদ্ধে ৯৯ শতাংশ।’ অক্সফামের সাম্প্রতিক রিপোর্টটিও বলছে, পৃথিবীর জনসংখ্যার একাংশের সম্পদ বাকি ৯৯ শতাংশের চেয়েও বেশি। তাই বিশ্বজুড়ে ১ শতাংশের বিরুদ্ধে ৯৯ শতাংশের সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে ধনিক রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের এক বিদ্রোহী জনগোষ্ঠী। ধনকুবেরদের কেন্দ্রস্থল ওয়াল স্ট্রিট দখল সেই বিদ্রোহের কর্মসূচি ছিল।
ধনবৈষম্য পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সাধারণ বৈশিষ্ট্য। কিন্তু তা যদি একটা সীমা অতিক্রম করে যায়, তাহলে তা পুঁজিবাদভিত্তিক সমাজব্যবস্থার জন্যও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। দেখা যাচ্ছে, এই বৈষম্য এখন বিপদরেখা অতিক্রম করেছে। বৈষম্য ক্রমাগত বেড়েই চলেছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে বৈষম্য বৃদ্ধির হারটাও মারাত্মক বিপদের সংকেতবহ।
উপরিউক্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল অর্থাৎ বিগত পাঁচ বছরে একদিকে যেমন স্বল্পসংখ্যক সর্বোচ্চ ধনীর হাতে সম্পদ কুক্ষিগত হয়েছে, অপরদিকে তেমনি ৫০ শতাংশ মানুষের সম্পদ কমেছে প্রায় অর্ধেক (৪১ শতাংশ)। একটা কথা অনেক সময় বলা হয় যে বৈষম্য বাড়লেও নিচের তলার লোকদেরও আয়-সম্পদ বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ গোটা বিশ্বের সম্পদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বর্ধিত সম্পদের বড় অংশ নাহয় অল্প কিছু লোক ভোগ করছে। কিন্তু বাকিদেরও তো আয়-উপার্জন বাড়ছে। একে বলা হয়, ওপর থেকে চুইয়ে পড়ার (trickle down) নীতি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সেই তত্ত্বও কার্যকরী হচ্ছে না। হবেও না। একটা সীমার পর বৈষম্য যদি বৃদ্ধি পায়, তাহলে এই তত্ত্ব আর কার্যকরী হবে না। বরং তা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে এবং ঝুঁকিও তৈরি করবে।
এই বিষয়টি বুঝেছিলেন অনেক আগেই বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ। তাঁদের মধ্যে একজনের নাম মাহবুবুল হক। তিনি পাকিস্তানের নাগরিক হলেও আন্তর্জাতিক মহলে তাঁর খ্যাতি ও প্রভাব ছিল। তাঁরই প্রচেষ্টায় ১৯৯০ সাল থেকে জাতিসংঘ প্রতিবছর মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করতে শুরু করে। সেখানে মাহবুবুল হকের সঙ্গে আরেকজন বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদ নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেনেরও ভূমিকা ছিল। আজ থেকে ২৫ বছর আগের কথা। গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে বৈষম্যের এই খতিয়ান দেখে আমরা তখনই চমকে গিয়েছিলাম। কিন্তু বৈষম্য কমেনি। এখন তা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
অক্সফামের রিপোর্ট বলছে, ২০১০ সালে ৫০ শতাংশের সম্পদের সমান ছিল মাত্র ৩৮৮ জনের সম্পদ। ২০১৪ সালে তা দাঁড়ায় ৮০ জনের সম্পদের সমান। আর এখন আরও কম। ৬২ জনের সম্পদ হচ্ছে পৃথিবীর জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের সম্পদের সমান। অর্থাৎ কী পরিমাণ সম্পদ মাত্র কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে! ওই রিপোর্ট কিন্তু সংখ্যাতত্ত্ব দিয়েই আমাদের ভড়কে দেয়নি। আরও একটি কথা বলেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিপৎসংকেত দিচ্ছে। ‘বিশ্বের সর্বত্র শ্রম থেকে অর্জন, তার তুলনায় পুঁজি থেকে আয় অনেক বেশি।’ (প্রথম আলো, ১৯ জানুয়ারি)। এই যে অবস্থা, তার থেকেই ফিন্যান্স পুঁজির দাপট ও ফাটকা পুঁজির উদ্ভব ও মাত্রাতিরিক্ত প্রাধান্য দেখা দিয়েছে। ২০০৮ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মূলেও এটাই ছিল। এই রিপোর্ট থেকে দেখা যাচ্ছে, সেই প্রবণতা মোটেও কমেনি। এই বৈষম্যের সূত্রও বহুলাংশে এই বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভরশীল।
একটু পেছনে ফিরে দেখা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট তাঁর বিখ্যাত নিউ ডিল (New Deal) প্রণয়নের সময় ফাটকা প্রবণতা প্রতিরোধকল্পে ‘গ্লাস স্টিগাল অ্যাক্ট’ করেছিলেন ১৯৩৩ সালে। পরে ১৯৫৬ সালে প্রণীত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যাংক হোল্ডিং কোম্পানি অ্যাক্ট’। এসব আইনের দ্বারা ব্যাংক, বিমা, লগ্নিকারী ব্যাংক এবং ঋণপত্রের কারবারি সংস্থাসমূহকে পৃথক্করণ
করা হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে ক্লিনটন প্রশাসন ‘ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করে ওই পৃথক্করণ বাতিল করে দিলেন। ক্রমে ক্রমে সারা বিশ্বই একই পথ অনুসরণ করেছিল। সেই থেকে ব্যাংক শেয়ার ও লগ্নিপত্র কেনাবেচা শুরু করে দিল। উৎপাদনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। শুধু টাকা দিয়ে টাকা বানানো। এটাই হলো ফাটকা ব্যবসা।
এর আগে ১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি পুঁজি চলাচলে সব বাধা তুলে নিয়েছিল এবং কালক্রমে সব দেশকেই একই পথ অনুসরণ করতে বাধ্য করেছিল। ফলে ফাটকার ব্যাপারটি একটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল না, ছড়িয়ে পড়ল সারা বিশ্বে। ফিন্যান্স পুঁজির দাপট এবং দাপাদাপি চলল সারা বিশ্বে।
টাকা দিয়ে টাকা বানানোর এই যে ব্যবসা, তা আগেও ছিল কিন্তু এতটা পরিমাণে নয়। নব্বইয়ের দশকেই প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ পল সুইজি বলেছিলেন, ‘ঐতিহ্যগতভাবে লগ্নির প্রসার প্রকৃত অর্থনীতির সমৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলেছে।...কিন্তু এখন আর তা নয়।’ এখন পুঁজির মালিক ‘লগ্নি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করবে, প্রকৃত উৎপাদনশীল সম্পদে নয়।’ অর্থাৎ ম্যানুফ্যাকচারিং অথবা সেবা খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না। তাই ২০০৪ সালে দেখা গেল যুক্তরাষ্ট্রে করপোরেট মুনাফার ৪০ শতাংশ আসছে আর্থিক খাত থেকে অথচ তার ৪০ বছর আগে এই হার ছিল মাত্র ২ শতাংশ।
এই প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অক্সফামের রিপোর্টে এটাকেই একটু অন্যভাবে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘শ্রম থেকে অর্জনের তুলনায় পুঁজি থেকে অর্জন অনেক বেশি।’ শুধু পুঁজি থেকে অর্জন, কোনো সম্পদ বৃদ্ধি করে না, শ্রমজীবীর জন্য কাজের ক্ষেত্র তৈরি করে না, অর্থাৎ গরিব মানুষের উপার্জন বৃদ্ধি করে না। কিন্তু পুঁজির মালিকের লাভ বাড়ায়। ফলে বৈষম্য তো বাড়বেই।
এটাকেই বর্তমান সময়ের মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক ও অর্থনীতিবিদ জন বেলামি ফেস্টার ২০০৯ সালেই বলেছিলেন, ‘অর্থনীতির আর্থিকীকরণ’ (ইংরেজিতে ফিন্যান্সিয়ালাইজেশন অব ইকোনমি)। তিনি বলেছেন, ‘উন্নত পুঁজিবাদী ব্যবস্থা আর্থিকীকরণের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। প্রকৃত অর্থনীতির বদলে আর্থিক উপরিকাঠামোর বৃদ্ধি ঘটেছে কয়েক দশক ধরেই।’ তিনি এ কথা বলছিলেন ২০০৮ সালে শুরু হওয়া মহামন্দার পরিপ্রেক্ষিতে। তিনি এই প্রসঙ্গে আরও বলেছিলেন, ‘শোষণ ও বৈষম্যের মধ্যেই মন্দার বীজ নিহিত। নতুন উৎপাদিকা ক্ষমতায় বিনিয়োগের মন্দা ঢাকতেই আর্থিক ব্যবস্থার রমরমা বাড়ানো হয়েছে।’ এর সমাধানকল্পে অবশ্য তিনি বলছেন, পুঁজিবাদকেই বাতিল করতে হবে। তিনি সমাজতন্ত্রের প্রবক্তা।
কিন্তু কোনোক্রমেই সমাজতন্ত্রী নন, এমন একজন অর্থনীতিবিদ-ইতিহাস বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ জন মেইনার্ড কেইনস গত শতাব্দীর ত্রিশের দশকেই অর্থনীতির এই ধরনের বিকৃত প্রক্রিয়া এবং সেই কারণে উদ্ভূত ফাটকা পুঁজির ক্ষতিকর প্রভাবের কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘উৎপাদন সংস্থার প্রবহমান স্রোতের ওপর ফাটকাবাজির বুদ্বুদ তার কোনো ক্ষতি করতে পারে না। কিন্তু সংস্থাটি যদি নিজেই ফাটকাবাজির ঘূর্ণিপাকে বুদ্বুদে পরিণত হয়, তখনই বিপদ দেখা দেয়। একটি দেশের পুঁজির বিকাশ যখন ক্যাসিনোর (জুয়া খেলার) উপজাত বিষয় হয়ে ওঠে, তখন উৎপাদনের কাজটাই আর ঠিকমতো করা যায় না।’
এখন প্রকৃত উৎপাদন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ফিন্যান্স পুঁজি অবধারিতভাবে হয়ে উঠেছে ফাটকা পুঁজি এবং তা সারা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রভুত্ব করছে। এতটা বোধ হয় কেইনসও ভাবতে পারেননি। এই যে মাত্র ৬২ জনের হাতে ৫০ শতাংশের বেশি জনগণের সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়া অথবা ১ শতাংশের হাতে ৯৯ শতাংশ মানুষের সম্পদ জমা হওয়া—এই যে অবিশ্বাস্য রকমের ধনবৈষম্য, তা কেবল অর্থনীতিতে সংকট সৃষ্টি করছে না, এর সামাজিক ও রাজনৈতিক ফলাফলও বড় ধরনের। এই বৈষম্য সৃষ্টি করছে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক অবক্ষয়। সুস্থ ও প্রগতিশীল রাজনীতির অনুপস্থিতিতে এই চরম ধনবৈষম্য ধর্মীয় মৌলবাদকেও বাড়িয়ে তুলতে পারে। খানিকটা করছেও বটে।
মোটকথা শুধু সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতেই নয়, মানবিক, গণতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই চরম ধনবৈষম্যকে কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। যে ১ শতাংশ অতিকায় ধনী কেবল টাকা দিয়ে টাকা বানাচ্ছে এবং সেই প্রক্রিয়াকে রক্ষার জন্য সামরিক শক্তিও প্রয়োগ করছে, তার বিরুদ্ধে জনগণের সংগ্রাম অর্থাৎ ৯৯ শতাংশের সংগ্রাম এখন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। ১ শতাংশের বিরুদ্ধে ৯৯ শতাংশের যে লড়াই শুরু হয়েছে, তাই-ই বর্তমান যুগের বিশ্ব রাজনীতির মূল মর্মকথা।
হায়দার আকবর খান রনো: রাজনৈতিক বিশ্লেষক। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি।

অলৌকিক শিশু

ভারতের উত্তর প্রদেশে বিস্ময়কর একটি শিশু জন্ম নেয়ার পর ৪৮ ঘন্টা বেঁচে ছিল। ওই শিশুটি জন্মেছিল অর্ধেক মাথা নিয়ে। এমন শিশু দেখে চিকিৎসকরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যান। শিশুটি একটি কন্যাশিশু। মাথার অর্ধেকটা নিয়ে জন্ম নেয়ায় শিশুটির দুটি চোখ যেন বিস্ফোরিত হয়ে বেরিয়ে আসছিল। মাথার সঙ্গে চোখের যেন কোন সম্পর্কই নেই। উত্তর প্রদেশের আমরোহা জেলায় এ ঘটনা ঘটেছে গত মঙ্গলবার। এদিনই সবিতা রানি (৩২) নামের এক মায়ের গর্ভে জন্ম নেয় শিশুটি। তার জন্ম ছিল স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়। কোন অপারেশন করতে হয় নি। জন্মের পর চিকিৎসকরা বলেন, এটি একটি ‘অলৌকিক শিশু’। এ খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিপুল সংখ্যক মানুষ সমবেত হয় সাই নার্সিং হোম ক্লিনিকে। তারা একনজর দেখতে চায় শিশুটিকে। ওই ক্লিনিকের গাইনির ডাক্তার কুসুমলতা (৩০) বলেন, গর্ভকালীন কোন মা যদি অনিয়মিত খাবার গ্রহণ করেন এবং যথাযথ নয় এমন কিছু আচরণ চর্চা করেন তাহলে এ রকম জটিলতা হতে পারে। তিনি বলেন, এ জন্যই গর্ভকালীন একজন মাকে নিয়মিত চেকআপের কথা বলে থাকি আমরা চিকিৎসকরা। এর উদ্দেশ্য যাতে এমন অস্বাভাবিকত্ব নিয়ে কোন শিশুর জন্ম না হয়। তিনি আরও বলেন, শিশুটির চোখ দুটি এত বড় যে তা যেন খুলে আছে। মাথার সঙ্গে এর কোন যোগাযোগ নেই, তার মাথা পুরোপুরি গড়ে ওঠে নি। অন্য শিশুদের মতো এই শিশুটি স্বাভাবিক নড়াচড়া করে নি। অন্য শিশুর মতো জন্মের পর সে কাঁদে নি।  এমন একটি শিশুর জন্ম ও তা বেঁচে থাকা মা ও শিশুর জন্য অলৌকিক।

এটি একটি প্রশ্নবিদ্ধ রায় by ইকতেদার আহমেদ

পৃথিবীর যেকোনো দেশে জনমানুষের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়ার পর তা নিজেরা সুরাহা করতে না পারলে আদালতের শরণাপন্ন হন। এ ক্ষেত্রে আদালতকে নিজ দেশের সংবিধান, আইন ও বিধি-বিধানের আলোকে সিদ্ধান্ত দিতে দেখা যায়। আদালতের সিদ্ধান্ত অধিকাংশ দেশের ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিরোধ নিরসনে সহায়ক কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশের সর্বোচ্চ আদালতের একটি মামলাসংক্রান্ত একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্ত বিরোধ নিরসনের পরিবর্তে উত্তপ্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
২০১০ সালে ১৮তম প্রধান বিচারপতির অবসর-পরবর্তী ১৯তম প্রধান বিচারপতি নিয়োগের প্রশ্ন দেখা দিলে দু’জন জ্যেষ্ঠ ও সার্বিক বিবেচনায় উৎকৃষ্ট বিচারককে অতিক্রান্ত করে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ দেয়া হয়। প্রধান বিচারপতি হিসেবে তার ব্যাপ্তিকাল ছিল প্রায় আট মাস। প্রধান বিচারপতি পদে আসীন থাকাবস্থায় তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় দেন। ওই মামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধতা ও সপ্তম সংশোধনী বাতিলসংক্রান্ত মামলাদ্বয়ের আপিল শুনানি। এ দু’টি আপিল মামলার মধ্যে প্রথমোক্তটির ক্ষেত্রে তিনি পদে বহাল থাকাকালীন সংক্ষিপ্ত আদেশ দেন এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে পদে বহাল থাকাকালীন পূর্ণাঙ্গ আদেশ তিনি দেন। প্রথমোক্তটির সংক্ষিপ্ত আদেশে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক, তাই বেআইনি, তবে পরবর্তী দু’টি নির্বাচন সংসদের অভিপ্রায় অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। দ্বিতীয় আপিলটিতে সপ্তম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন যে, সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত ক্রান্তিকালীন বিধান বলতে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালকে বুঝাবে। এ সময়কালের বাইরের কোনো সময়কে ক্রান্তিকালীন সময় বলা যাবে না এবং বলা হয়ে থাকলেও তা অকার্যকর হবে।
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর সংক্ষিপ্ত আদেশটি দেয়া হয় ১০ মে, ২০১১ সালে এবং অতঃপর ওই বিতর্কিত প্রধান বিচারপতি ১৭ মে, ২০১১ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি অবসরগ্রহণ-পরবর্তী ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনী সংক্রান্ত তার ৩৪২ পৃষ্ঠাসংবলিত রায়ে অবসরগ্রহণের ১৬ মাসেরও অধিক সময় পর স্বাক্ষর করেন।
এখন প্রশ্ন- উচ্চ আদালতের একজন বিচারপতি বা বিচারক অবসরগ্রহণ-পরবর্তী রায় লিখতে ও রায়ে স্বাক্ষর করতে পারেন কি না? উচ্চ আদালতের বিচারপতি বা বিচারকেরা সাংবিধানিক পদধারী হিসেবে শপথ ও সংবিধানের ৯৬ নম্বর অনুচ্ছেদের অনুবলে প্রস্তুতকৃত আচরণবিধি দিয়ে পরিচালিত। উচ্চ আদালতের একজন বিচারপতি বা বিচারক বিচারপতি বা বিচারক পদে নিয়োগ-পরবর্তী শপথগ্রহণ ব্যতিরেকে পদে আসীন হন না এবং যে তারিখে তিনি বিচারপতি বা বিচারকের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন সে তারিখ থেকে তিনি স্বপঠিত শপথ থেকে অবমুক্ত হয়ে যান। তাই স্বভাবত প্রশ্ন জাগে, উচ্চ আদালতের একজন বিচারপতি বা বিচারক স্বপঠিত শপথ থেকে অবমুক্ত হওয়ার পর তার পক্ষে পূর্বে শ্রুত বা পূর্বে আংশিক প্রদত্ত কোনো মামলার রায় বা পূর্ণাঙ্গ রায় লেখার বা তাতে স্বাক্ষর করার সুযোগ আছে কি না?
উপরিউক্ত বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানসহ দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধি, সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ রুল এবং দেওয়ানি আদেশ ও কার্যাবলি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আইন বা বিধি-বিধানের কোথাও উচ্চ আদালতের একজন বিচারপতি বা বিচারককে অবসরগ্রহণ-পরবর্তী পূর্বে শ্রুত বা পূর্বে আংশিক প্রদত্ত মামলার রায় বা পূর্ণাঙ্গ রায় লেখার সমর্থনে ক্ষমতা প্রদানপূর্বক কোনো অধিকার দেয়া হয়নি। আর অধিকার দেয়া না হয়ে থাকলে আইনের অবস্থান দাঁড়ায় অবসরগ্রহণ-পরবর্তী কোনো বিচারপতি বা বিচারক কর্মে বহাল থাকাকালীন শ্রুত বা আংশিক প্রদত্ত কোনো মামলার রায় বা পূর্ণাঙ্গ রায় লিখলে এবং তাতে স্বাক্ষর দিলে তা হবে আইনের পরিপন্থী। তা ছাড়া উপরিউক্ত আইন ও বিধানাবলিতে রায় ঘোষণা বিষয়ে স্পষ্টত যে কথাগুলো বলা হয়েছে, তার মর্মার্থ হলো- আদালত মামলার শুনানি সমাপ্ত হওয়ার পর তৎক্ষণাৎ অথবা অন্য কোনো ভবিষ্যৎ দিনে পক্ষগণ অথবা তাদের আইনজীবীদের জ্ঞাতকরণপূর্বক প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণা করবেন এবং রায় ঘোষণাকালে বিচারক তাতে স্বাক্ষর ও তারিখ দেবেন। একবার স্বাক্ষরিত হলে করণিক বা গাণিতিক ভুল অথবা আকস্মিক ফসকান (Accidental slip) বা বিচ্যুতি (Omission) ব্যতীত রায়ের অপর কিছু সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই।
পূর্ণাঙ্গ রায় দৃষ্টে প্রতীয়মান হয়, আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি ও ছয়জন বিচারক সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলসংক্রান্ত আপিল মামলার শুনানি গ্রহণ করেন এবং পূর্ণাঙ্গ রায় লেখা ও তাতে স্বাক্ষর করার সময় একজন বিচারপতি অবসরে ছিলেন এবং একজন বিচারপতি ও পাঁচজন বিচারক নিজ নিজ পদে বহাল ছিলেন। অবসরে যাওয়া বিচারপতিসহ কর্মরত প্রধান বিচারপতি এবং দু’জন বিচারক সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সন্নিবেশিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বেআইনি ঘোষণা করেন। অপর দিকে, দু’জন বিচারক এটিকে সংবিধানসম্মত ঘোষণা করেন এবং একজন বিচারক সংবিধানসম্মত ঘোষণা করে এ বিষয়ে বিজ্ঞচিত সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার সংসদের ওপর ছেড়ে দেন। যেহেতু পূর্ণাঙ্গ রায় লেখা ও রায়ে স্বাক্ষরকালীন সময় সাবেক প্রধান বিচারপতি পদে বহাল ছিলেন না, তাই আইনের দৃষ্টিতে তিনি যে রায় দিয়েছেন তা এখতিয়ারবিহীন ও মূল্যহীন। এ বাস্তবতায় ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত রায়টি ৩:৩ এর বিভক্ত রায়।
১৯তম প্রধান বিচারপতি সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর আপিল মামলার প্রবর্তক বিচারক (Author Judge)। আপিলের রায় দেয়ার সময় তার সাথে যারা সম্মত হয়েছেন রায়টি তার দ্বারা পরে স্বাক্ষরিত হওয়ার কারণে এ ধরনের সম্মতি রায়টির মৌলিকত্বের ওপর আঘাত হানে কি না তা বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন।
ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে আপিল আদালতের বিচারকেরা সমভাবে বিভক্ত হলে যে বিধান অনুসৃত হয় তাতে বলা হয়েছে, অভিমত দেয়ার ক্ষেত্রে আপিল আদালতের বিচারকেরা সমভাগে বিভক্ত হলে মামলার ওপর তাদের অভিমতসহ একই আদালতের অপর বিচারকের সম্মুখে মামলাটি উপস্থাপিত হবে এবং ওই বিচারক তার বিবেচনায় যথাযথ শুনানি গ্রহণের পর স্বীয় অভিমত দেবেন এবং রায় বা আদেশ ওই অভিমতের আলোকে প্রণীত হবে।
দেওয়ানি আপিলের ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধিতে বলা হয়েছে, ভিন্নমত লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং যে ক্ষেত্রে আপিলটি একাধিক বিচারক কর্তৃক শ্রুত হয়, সে ক্ষেত্রে কোনো একজন বিচারক আদালতের রায়ের সাথে দ্বিমত পোষণ করে থাকলে আপিলে যে সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন, তা লিখিতভাবে বিবৃত করবেন এবং এর ওপর তিনি তার যুক্তিও বিবৃত করবেন। অপর এক বিধিতে বলা হয়েছে, ভিন্নমত পোষণকারী বিচারকের রায়ের ডিক্রিতে স্বাক্ষরের প্রয়োজন নেই। ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলসংক্রান্ত আপিল মামলাটির সাথে ডিক্রি কার্যকরণের বিষয় সম্পৃক্ত না থাকায় ভিন্নমত পোষণকারীদের রায়ের ডিক্রিতে স্বাক্ষর করা বা না করার বিষয়টি এখানে অপ্রাসঙ্গিক।
স্পষ্টত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বিষয়ে আপিল বিভাগের রায়টি সংবিধান ও অন্যান্য আইন এবং বিধি-বিধানের আলোকে সমভাবে বিভক্ত গণ্য হওয়ায় আপিল বিভাগে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর শুনানির সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন বিচারক না থেকে থাকলে সংবিধানের ৯৮ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে হাইকোর্ট বিভাগের কোনো বিচারককে যেকোনো অস্থায়ী মেয়াদের জন্য আপিল বিভাগে আসন গ্রহণের ব্যবস্থা করবেন এবং শুনানির পর তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন তার আলোকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায়ের ফলাফল নির্ণীত হওয়া বাঞ্ছনীয়।
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলসংক্রান্ত রিটটি দায়ের করা হয় ১৯৯৯ সালে। পরে এ রিটটি শুনানির জন্য তিনজন বিচারক সমন্বয়ে একটি বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয় এবং ওই বেঞ্চ সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে ২০০৪ সালে বৈধ মর্মে ঘোষণা করে। অতঃপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল দায়েরের পর দীর্ঘ দিন আপিল মামলাটি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে ছিল এবং ১৯তম প্রধান বিচারপতি পদে আসীন হওয়ার পর এ আপিলটি শুনানির উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ওই প্রধান বিচারপতি যে পূর্ণাঙ্গ রায় দিয়েছেন তা পর্যালোচনায় দেখা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে সংক্ষিপ্ত রায়ে তিনি যে অভিমত দিয়েছিলেন তার সাথে পূর্ণাঙ্গ রায়ের ভিন্নতা রয়েছে। সংক্ষিপ্ত রায়ে বলা হয়েছিল রাষ্ট্রের বৃহৎ স্বার্থ ও জনগণের নিরাপত্তার প্রয়োজনে আগামী দু’টি (দশম ও একাদশ) জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিদ্যমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বিদায়ী প্রধান বিচারপতি অথবা আপিল বিভাগের বিচারকদের নিয়োগের বিধান বাতিলের বিষয়ে সংসদ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। অপর দিকে, সাবেক প্রধান বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ রায়ে আগামী দু’মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত হওয়ার বিষয়ে অভিমত ব্যক্ত করে নির্বাচনকালীন সরকারের চেয়ে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার ওপর। সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ রায়ের এ ভিন্নতাকে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীরা গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করেছেন।
১৯তম প্রধান বিচারপতির প্রদত্ত রায়ে দেখা যায়, তিনি তার রায়ে আইন, বিধি-বিধান ও নীতি-নৈতিকতাকে উপেক্ষা করে অপ্রাসঙ্গিকভাবে ১/১১-এর জরুরি সরকারের কার্যক্রমকে বৈধতা দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন- এ বৈধতার জন্য কি কোনো আবেদন ছিল? এ বিষয়ে কি কোনো শুনানি হয়েছে? আবেদন না থেকে থাকলে এবং শুনানি না হয়ে থাকলে কেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সংসদের দায়িত্ব নিজ কাঁধে নিয়ে জনগণের শেষ ভরসাস্থল খ্যাত সর্বোচ্চ আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করলেন? এখানে যে বিষয়টি স্পষ্ট তা হলো- রিট দায়েরের সময় ১/১১-এর অস্তিত্ব ছিল না। তাই রিটে সে বিষয়ের প্রতিকার চাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। রিটে যে বিষয়ে কোনো আলোচনা নেই, সে বিষয়টি কী করে ১৯তম প্রধান বিচারপতির রায়ের আলোচনায় স্থান পেল? এমনকি আপিল বিভাগে শুনানি গ্রহণকালীন এ বিষয় অ্যামিকাস কিউরি বা রাষ্ট্রপক্ষের কেউ কোনো আলোচনা করেছেন সে সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। রিট দায়ের ও নিষ্পত্তি পর্যন্ত যে শিশুর জন্ম হয়নি, সে কী করে আলোচনায় এলো? যেকোনো দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের অনভিপ্রেত আলোচনা দুঃখজনক ও দুরভিসন্ধিমূলক, যা শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীদের দৃষ্টিতে গুরুতর অসদাচরণের শামিল।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত রায় জমা দিয়ে তা ফেরত নিয়ে পরিবর্তন ও পরিমার্জন করে পুনঃদাখিল করেছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীদের দৃষ্টিতে এ ধরনের পরিবর্তন ও পরিমার্জন অসততা, অন্যায় ও প্রতারণা। এ ক্ষেত্রে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দিয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে তাকে বিচারের আওতায় আনা হলে ভবিষ্যতে আশা করা যায় জাতিকে এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে না, যদিও সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পরবর্তী সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের গঠনপ্রক্রিয়া অদ্যাবধি নির্ধারণ করা হয়নি।
১৯তম প্রধান বিচারপতি সুস্পষ্টভাবে সপ্তম সংশোধনী বাতিলসংক্রান্ত আপিল মামলার রায়ে উল্লেখ করেছেন যে, কোন্ সময়টি ক্রান্তিকালীন সময় হিসেবে গণ্য হবে এবং ওই সময় ব্যতীত অপর কোন সময়কে ক্রান্তিকালীন সময় হিসেবে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। দৃশ্যত এ অভিমত দ্বারা ইতপূর্বে সংসদ পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনীর মাধ্যমে অসাংবিধানিক শাসনব্যবস্থাকে যেভাবে বৈধতা দিয়েছিল, সে পথটি রুদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। সে দৃষ্টিকোণ থেকে যেখানে জনগণের সমার্থক সার্বভৌম সংসদের ক্ষমতা রুদ্ধ, সেখানে কী করে ১৯তম প্রধান বিচারপতি ১/১১-এর সরকারকে অযাচিতভাবে অবৈধ বলে এর কার্যক্রমকে মার্জনা দিয়ে সংসদের ঊর্ধ্বে আদালতকে স্থান দিলেন?
১৯তম প্রধান বিচারপতি পদে বহাল থাকাকালীন তার কার্যকলাপ প্রধান বিচারপতি তো দূরের কথা উচ্চ আদালতের একজন বিচারকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত কার্যকলাপের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না সে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি প্রধান বিচারপতি পদে বহাল থাকাকালীন ট্রুথ কমিশনের কাছে আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে কর্মরত তার কনিষ্ঠ ভ্রাতার চেক জালিয়াতি-সংক্রান্ত একটি মামলা চলমান ছিল। মামলার রায়ের দিন ঢাকা জেলা জজ আদালতসহ সিএমএম আদালতে আকস্মিক পরিদর্শনে যান তিনি। পরে দেখা যায় সে মামলা থেকে তার ভাই বেকসুর খালাস পেয়ে যান এবং নথি থেকে জালিয়াত-সংক্রান্ত চেকটি গায়েব হয়ে যায়। এ একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে হয়ত অনেক কিছু বের হয়ে আসবে।
ইতপূর্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহালের দাবিতে জাতি অনেক আন্দোলন সংগ্রাম দেখেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকা বা না থাকার বিষয়টি সংসদের একক এখতিয়ার। আদালতের বিভক্ত রায়ে এটিকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব সংসদের ওপর ছেড়ে দেয়াই শ্রেয়। আদালত ও সংসদ জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলনে বাস্তবতার নিরিখে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে আজ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে জাতিকে এ অনাহূত বিতর্কের সম্মুখীন হতে হতো না। এ অনাহূত বিতর্কের পেছনে যার কার্যকলাপ মুখ্য তিনি অন্য কেউ নন, ১৯তম প্রধান বিচারপতি। সংবিধান, আইন, বিধি-বিধান ও নীতি-নৈতিকতা পর্যালোচনা করে তিনি নিজেই বিবেচনা করে দেখতে পারেন অবসরগ্রহণ-পরবর্তী তার রায় লেখার ও রায়ে স্বাক্ষর দেয়ার অবকাশ ছিল কি না, সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে ভিন্নতা গ্রহণযোগ্য কি না, স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত রায় জমা দিয়ে তা ফেরত নিয়ে পরিবর্তন ও পরিমার্জন আইন দ্বারা সমর্থিত কি না এবং অপ্রাসঙ্গিকভাবে ১/১১-এর বিষয়টি আলোচনায় এনে সেটিকে অবৈধ বলে মার্জনা দেয়ার সুযোগ ছিল কি না? এ চারটি প্রশ্নের উত্তরের মধ্যেই নিহিত আছে এটি একটি প্রশ্নবিদ্ধ রায়।
লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
iktederahmed@yahoo.com

কাউন্সিলের আগেই চেয়ারপারসন নির্বাচন by কাফি কামাল

আগামী ১৯শে মার্চকে সম্ভাব্য তারিখ ধরে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। ভেন্যু বুকিংয়ের জন্য চিঠি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অনুমতি চেয়ে দু-একদিনের মধ্যেই আবেদন জানাবে দলটি। ভেন্যু বুকিং ও অনুমতি সাপেক্ষে চূড়ান্ত হবে কাউন্সিলের দিন-তারিখ। সেটা চূড়ান্ত হলেই দলের চেয়ারপারসন পদে নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা ও দ্রুততম সময়ে চেয়ারপারসন নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে বিএনপি। কাউন্সিলের শুরুতেই এ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আগেভাগে এ প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় দলটি। এছাড়া তারিখ চূড়ান্ত হলেই গঠনতন্ত্রে পরিবর্তনের জন্য কাউন্সিলরদের কাছে প্রস্তাবনা আহ্বান করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মহাসচিবের কাছে জমাকৃত প্রস্তাবনাগুলো গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর দলের স্থায়ী কমিটিতে উত্থাপন করবেন। কাউন্সিলে সবার মতামতের ভিত্তিতে সেগুলোর সংযোজন-বিয়োজন করা হবে গঠনতন্ত্রে। তবে কাউন্সিলের আগেই দলের তৃণমূলে চলমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সরকারের প্রতিবন্ধকতা এড়াতে এবারের কাউন্সিল নিয়ে খুব বেশি হাঁকডাক থাকবে না। নীরবেই এ মহাযজ্ঞটি সমাধান করতে চায় তারা। বিএনপি নীতি-নির্ধারণী ফোরামের সদস্যসহ একাধিক সিনিয়র নেতা এবং দলের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য জানিয়েছেন। দলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে সাংগঠনিক কাঠামোতে কয়েকটি নীতিগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে কাউন্সিলে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন মতবিনিময় সভা ও দলীয় ফোরামে চেয়ারপারসনের কাছে উত্থাপিত কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রস্তাবনাগুলো হচ্ছে- এক নেতা এক পদ নীতিতে কমিটি গঠন, জাতীয় নির্বাচনে এমপি প্রার্থীদের স্থানীয় কমিটির পদে না রাখা, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদটি সংরক্ষিত রাখা, জাতীয় নির্বাহী কমিটির পরিধি কমানো, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীকে বিএনপির উপদেষ্টামন্ডলীতে পরিণত এবং মন্ত্রণালয় ভিত্তিক চেয়ারপারসনের পরামর্শক কমিটি গঠন। বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটি সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের তরফে দলীয় কাউন্সিলের ঘোষণা দেয়ার পরপরই কাউন্সিল আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করে বিএনপি। দুই সপ্তাহ প্রস্তুতির পর শনিবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। তবে কাউন্সিলের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি সে বৈঠকে। তবে আগামী ২৮শে মার্চ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের আগেই বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠানের ব্যাপারে মতামত এসেছে নীতিনির্ধারণী কমিটির শনিবারের বৈঠকে। নেতারা জানান, সামপ্রতিক বছরগুলোতে দু’দফায় প্রাথমিক প্রস্তুতি নেয়ার পরও সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণে কাউন্সিল আয়োজন থেকে সরে আসতে হয়েছে বিএনপিকে। এবারও সরকারের তরফে যে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা আসতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন তারা। তাই সরকারি দলের কাউন্সিলের আগে বিএনপি কাউন্সিল আয়োজন করতে চায়। যাতে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে নির্বাচন কমিশন ও দেশে এবং আন্তর্জাতিক মহলে এ ব্যাপারে বিএনপি তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে পারে। পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছিলেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান। তার সে বক্তব্য নেতাকর্মীদের করেছিল দারুণভাবে উজ্জীবিত। এবারের কাউন্সিলেও তিনি একটি ভিডিও বক্তব্য দেবেন বলে জানিয়েছেন একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র। বিএনপি সূত্র জানায়, আগামী ১৯শে মার্চকে প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় রেখে ১৫ থেকে ২৪শে মার্চের মধ্যে কাউন্সিল আয়োজনের জন্য ভেন্যু বুকিং ও প্রয়োজনীয় অনুমতির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভেন্যু হিসেবে প্রথম পছন্দে রয়েছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। এছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনকে রাখা হতে পারে বিকল্প হিসেবে। ভেন্যু বুকিংসহ অনুমতি সাপেক্ষে দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। এক্ষেত্রে অনুমতিজনিত জটিলতা এড়ানোর জন্য বিকল্প পথও খোঁজা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে আলোচনায় রয়েছেন দু’জন জ্যেষ্ঠ নেতা। পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন বিএনপির ভাইস বিচারপতি টিএইচ খান। কিন্তু তার শারীরিক অসুস্থতার কারণে এবার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের নামও প্রস্তাবনায় রয়েছে। কাউন্সিলের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে দু’জনের মধ্যে একজনকে এ দায়িত্ব দেয়া হবে। বিএনপি সূত্র জানায়, কাউন্সিলের জন্য ২০১৩ সালে গঠিত কমিটিগুলোকে প্রাধান্য দিয়েই প্রস্তুতি কমিটি গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে স্থায়ী কমিটির শনিবারের বৈঠকে। তবে মৃত্যু, অসুস্থতাজনিত কারণ এবং নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে সেসব কমিটিতে কিছু পরিবর্তন আসবে। কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দলের চেয়ারপারসন ও কেন্দ্রীয় দপ্তর ভিত্তিক দুটি উপ-কমিটি গঠন করা হবে। প্রস্তুতি কমিটিগুলোকে এ দুই উপ-কমিটি প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক সহযোগিতা করবেন। কাউন্সিলের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রস্তুতির জন্য গঠিত কমিটিগুলো কাজ শুরু করবেন। এদিকে বিএনপির দায়িত্বশীল কয়েকটি সূত্র জানায়, আগামী কাউন্সিলে কাউন্সিলর হিসেবে অংশ নেবেন অন্তত ৩ হাজার কাউন্সিলর। শিগগিরই কাউন্সিলর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর চেয়ারপারসনের কোটায় মনোনীত কাউন্সিলরসহ সবার কাছে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হবে। এছাড়া কাউন্সিলের প্রথম সেশনে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল, বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল, বিএনপির জেলা, মহানগর, থানা, উপজেলা ও পৌর ইউনিটের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। বিগত কাউন্সিলে অংশ নিয়েছিলেন কয়েকটি দেশের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা। এবারের কাউন্সিলেও যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, শ্রীলঙ্কা, চীনসহ কয়েকটি দেশের রাজনৈতিক নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলের মতো ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে একটি সংগীত তৈরি করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরকে সে সংগীতে কণ্ঠ দেয়ার জন্য মনোনীত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে থাকবেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক কণ্ঠশিল্পী মনির খান। জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমেই সাধারণ রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পুনর্গঠন করা হয়। পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিল। পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলেরর পর পেরিয়ে গেছে ৬ বছর। তিন বছর পরপর কাউন্সিল আয়োজনের গঠনতান্ত্রিক ও নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেটা পারেনি বিএনপি। ইতিমধ্যে দলের স্থায়ী কমিটিসহ ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব, সম্পাদকমন্ডলী ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা মৃত্যুবরণ করেছেন। দীর্ঘ অর্ধযুগের এ সময়ে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়েছেন অনেকেই। সেইসঙ্গে ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়া সাবেক ছাত্রনেতা ও যুবনেতারা সাংগঠনিক কাঠামোতে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। সামপ্রতিক বছরগুলোতে একাধিক মতবিনিময় সভায় সক্রিয় নেতাদের পদোন্নতি, নিষ্ক্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে নতুনদের সুযোগ দেয়ার কথা বলেছেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের পদায়ন নিয়েও দীর্ঘদিন অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে বিএনপি। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করার পর থেকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু দিন সময়েও তাকে ভারমুক্ত করা হয়নি। এ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে কিছুটা দ্বিমত রয়েছে বলে নানা সময়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি দলের তরফেও বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে টিপ্পনি শুনতে হয়েছে চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে। বিগত ৬ বছরে ত্যাগ-তিতিক্ষা ও অবদানের কথা বিবেচনা করে এবারের কাউন্সিলে তাকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। ইতিমধ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে এ ব্যাপারে অনানুষ্ঠানিকভাবে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। দলীয় সূত্র জানায়, কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দলের নেতাদের বিগত ৬ বছরের কর্মকাণ্ড, অবদান, সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে চলার ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ ও বিচার বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে বিগত ৬ বছরে নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলার একটি তালিকা তৈরি করে চেয়ারপারসনের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্ধারণের জন্য দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরের তালিকা ছাড়াও নানামুখী খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। এছাড়া লন্ডন সফরকালে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও ভবিষ্যত কর্ণধার তারেক রহমানের সঙ্গে সাংগঠনিক পুনর্গঠন ইস্যুতে আলোচনা করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নেতারা জানান, আগামী কাউন্সিলেই সে আলোচনার একটি প্রতিফলন ঘটবে দলের নেতৃত্ব নির্বাচনে।

পঞ্চদশ সংশোধনী মৃত বাকশালের প্রেতাত্মা : খালেদা জিয়া

পঞ্চদশ সংশোধনীকে মৃত বাকশালের প্রেতাত্মা আখ্যা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, বহু চক্রান্তের চোরাগলি দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী জোট বাকশালী চেতনায় নতুন করে অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে ভূগর্ভে সমাহিত করে ফেলেছে। ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষ্যে আজ রোববার দেয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, এদের (সরকার) ঐতিহ্যই হচ্ছে গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার বিপন্ন করা। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে তাদের ভরাডুবির বিপদ টের পেয়ে তারা সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে। মূলত পঞ্চদশ সংশোধনী হচ্ছে মৃত বাকশালের প্রেতাত্মা, যা বর্তমানে ভয়াল দু:শাসনের আত্মপ্রকাশকে প্রণোদিত করেছে।
খালেদা জিয়া বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করার লক্ষ্যে বহুদলীয় গণতন্ত্রের গলাটিপে হত্যা করে একদলীয় সরকার ব্যবস্থা ‘বাকশাল’ কায়েম করে। এই ব্যবস্থা কায়েম করতে গিয়ে তারা জাতীয় সংসদে বিরোধী মতামতকে উপেক্ষা করে এক প্রকার গায়ের জোরেই অমানবিক মধ্যযুগীয় চতুর্থ সংশোধনী আইন পাশ করে।
তিনি বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী মানুষের বাক, ব্যক্তি, চলাচল ও সমাবেশের স্বাধীনতাসহ সব মৌলিক অধিকার হরণ করে। সব সংবাদপত্র বাতিল করে তাদের অনুগত চারটি প্রকাশনা চালু রাখার ফরমান জারি করে। এর ফলে চিরায়ত গণতন্ত্রের প্রাণশক্তিকেই তারা সেদিন নি:শেষ করে দেয়। দেশবাসীর দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফলে অর্জিত মানুষের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে তারা ভূলুন্ঠিত করে সমাজে এক ভয়াবহ নৈরাজ্যের ঘন অমানিশা ছড়িয়ে দেয়।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এমনি এক দুঃসময়ে ৭৫’র ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার সম্মিলিত স্রোতধারায় শহীদ জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। স্বেচ্ছাচারীতার লৌহ কপাটের ভিতর থেকে তিনি গণতন্ত্রকে অর্গলমুক্ত করেন। ফের শুরু হয় বহুদলীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা। নিশ্চিত হয় মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী হচ্ছে মৃত বাকশালের প্রেতাত্মা, যা বর্তমানে ভয়াল দু:শাসনের আত্মপ্রকাশকে প্রণোদিত করেছে। পঞ্চদশ সংশোধনীতে প্রধানমন্ত্রীকে একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়ে মূলত: গণতন্ত্রকে সমাধিস্থ করে তার ওপর একক কর্তৃত্ত্ববাদী নির্দয় শাসনের ইমারত নির্মাণ করা হয়েছে। কথা, চিন্তা, বিবেক, মত প্রকাশ, সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতা তথা সামগ্রিকভাবে মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছে এই সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় দু:শাসন কায়েম করে।
বেগম জিয়া বলেন, বহুত্ত্ববাদীতা বিনষ্ট করে সামাজিক স্থিতি ও ভারসাম্য নষ্ট করা হয়েছে। তাই এখন সর্বত্রই ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর দখলবাজদের দখলের জয়জয়কার চলছে। অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা, আশ্রয়, পেশা, ব্যবসা বাণিজ্য সবকিছু এখন নৈরাজ্যের করাল গ্রাসে নিপতিত। সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী আরেকটি কালো অধ্যায় এবং এই সংশোধনীর প্রণেতাগণ জনগণ, রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের শত্রুপক্ষ।
বিএনপি চেয়ারপারসন আরো বলেন, একদলীয় বর্বর শাসন দীর্ঘায়িত করার অলীক স্বপ্নে শুধু গণতন্ত্রই নয়-দেশের ঐক্য, সংহতি ও সার্বভৌমত্বকে তারা সঙ্কটাপন্ন করে তুলতেও দ্বিধা করেনি। বিরোধী দলের প্রতি আচরণে তারা কখনই সভ্য রীতি-নীতি অনুসরণ করেনি। সুতরাং নব্য বাকশালী জগদ্দল পাথরকে অপসারণ করার লক্ষ্যে জনগণ আজ দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। আবারো কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে চেপেবসা গণতন্ত্র-বিরোধী-শক্তিকে পরাভূত করে আমাদের রক্তস্নাত বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে।
অপর এক বাণীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতাকে চিরকাল কুক্ষিগত করার অসৎ উদ্দেশ্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। একটি মাত্র দল বাকশাল ছাড়া অন্য সব দল ও সরকার অনুগত চারটি সংবাদপত্র ছাড়া সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মানুষের বাক-ব্যক্তিস্বাধীনতাকে গলাটিপে হত্যা করা হয়।
তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, সভা-সমাবেশ এবং মানুষের মৌলিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করে তারা বাকস্বাধীনতা ও মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করে মূলতঃ মানবাধিকারকেই পদদলিত করেছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ বর্তমানে ১৯৭৫ সালের সেই দুঃশাসনেরই পুনরাবৃত্তি করছে। কিন্তু বিএনপি সবসময় জনগণের মৌলিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় অঙ্গিকারাবদ্ধ। আগামীতে দেশ ও জাতির স্বার্থে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনগণকে সাথে নিয়ে দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের চলার পথকে নিষ্কণ্টক করবে ইনশাল্লাহ।