Sunday, November 24, 2013
অন্তত শিশুদের কথা ভাবুন by বিমল সরকার

পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব পাকিস্তান মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড স্থাপিত হলে গোটা পঞ্চাশের দশকজুড়ে এসএসসি (প্রবেশিকা) এবং সমমান পরীক্ষা গ্রহণ করতে সময় লাগত ১২-১৩ কিংবা বড়জোর ১৫ দিন। একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ষাটের দশকে পৃথক পৃথক মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড স্থাপিত হলে এসবের অধীন গোটা পাকিস্তান আমলে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষা সম্পন্ন করতেও ১৫-২০ দিনের বেশি সময় কখনও লাগেনি। এছাড়া দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ছিল একটি স্বাভাবিক রেওয়াজ। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ডিগ্রি (পাস) পরীক্ষা নিতে এবং ফলাফল প্রকাশ করতেও নির্দিষ্ট সময়ের বেশি লেগেছে এমন দৃষ্টান্ত বলতে গেলে নেই। টানা নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে সঙ্গত কারণেই কিছু বিশৃংখলা দেখা দেয়। তা সত্ত্বেও শিক্ষাবোর্ডগুলো মাত্র ১৫-১৬ দিনে এসএসসি এবং ২০-২১ দিনে এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে এসবের ফলাফলও জানিয়ে দিতে পেরেছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর আমলে ১৯৭৫ সালের এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল মাত্র ১৫ দিনে (৩০ এপ্রিল থেকে ১৫ মে)।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অন্তর্বর্তী অবস্থায়ও কি রাষ্ট্রপতির ভূমিকা একই থাকবে? by ইকতেদার আহমেদ

আমাদের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। রাষ্ট্রপতিকে তার দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা এবং পরামর্শ দানের জন্য একটি মন্ত্রিপরিষদ ছিল। কিন্তু পরিষদ বা মন্ত্রী আদৌ কোনো পরামর্শ দান করেছেন কি-না এবং করে থাকলে কী পরামর্শ দান করেছেন, কোনো আদালতকে সে বিষয়ে কোনো প্রশ্নের তদন্তের অধিকার দেয়া ছিল না। রাষ্ট্রপতি তার বিবেচনায় সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে কিংবা সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যদের মধ্য থেকে একজন প্রধানমন্ত্রী এবং তার কাছে যেরূপ আবশ্যক মনে হতো সেরূপ অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষমতা ভোগ করতেন, যদিও কোনো প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী পরিষদের সদস্য হওয়া থেকে বারিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করতেন অথবা তিনি সেসব সভায় উপ-রাষ্ট্রপতি অথবা প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতিত্ব করতে নির্দেশ দিতে পারতেন। মন্ত্রীরা রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকতেন। রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে কোনো মন্ত্রী স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারতেন।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী কর্তৃত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত ছিল এবং সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তা প্রত্যক্ষভাবে অথবা তার অধীনস্থ কর্মচারীর মাধ্যমে প্রযুক্ত হতো।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিধান ছিল। কিন্তু আমাদের বর্তমান সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নির্বাচিত হন। বর্তমান সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সবার ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করলেও প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রযুক্ত হয়। সংসদীয় পদ্ধতির বর্তমান সরকার ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের কাছে দায়ী থাকে। এ ব্যবস্থায় সরকারের সব ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত বলা হলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে কোনো নির্বাহী ক্ষমতা ভোগ করেন না। যদিও অনুচ্ছেদ নং ৪৮(৩)-এর বিধান অনুযায়ী বলা আছে, সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া রাষ্ট্রপতি তার অন্যসব দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী করবেন, কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে উভয় বিষয়ে রাষ্ট্রপতির স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ একেবারে সীমিত। প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে যে সংসদ সদস্য সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন, তাকে ছাড়া অন্য কাউকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং এখানে রাষ্ট্রপতি তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন নন এমন কাউকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করতে পারেন না।
অনুরূপভাবে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের বিচারকদের মধ্যে যিনি জ্যেষ্ঠ তাকেই দু-একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছাড়া প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ দেয়া হয়ে আসছিল। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারককে প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ দেয়া হলে এক্ষেত্রে স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগের কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু জ্যেষ্ঠকে অতিক্রম করে কনিষ্ঠ কাউকে যদি প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ দেয়া হয় সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগে নাকি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী তা করা হয়েছে সে প্রশ্নটি এসে যায়।
সংবিধানের বর্তমান বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী সংসদ আগে ভেঙে না দিয়ে থাকলে প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অতিবাহিত হলে সংসদ আপনাআপনি ভেঙে যাবে। কিন্তু প্রজাতন্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার কারণে সংসদের মেয়াদ বৃদ্ধি আবশ্যক বিবেচিত হলে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া তা কার্যকর করার সুযোগ নেই। সংবিধানের বর্তমান ব্যবস্থায় সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর এবং সংসদের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে যুদ্ধাবস্থা বিদ্যমানতার জন্য ভেঙে দেয়া সংসদ পুনরাহ্বানের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে দেয়া আছে। কিন্তু এ ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণের আবশ্যকতা রয়েছে। প্রশ্ন দেখা দিতে পারে, সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি কিভাবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নেবেন? এ বিষয়ে সংবিধানের ৫৭ অনুচ্ছেদে দেখা যায়, একজন সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়া পরবর্তী পদত্যাগ অথবা সংসদ সদস্য পদে বহাল না-থাকা অথবা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থন হারানোর কারণে তার পদ শূন্য হলেও তার উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি স্বপদে বহাল থাকেন। সুতরাং এক্ষেত্রেও সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের ব্যত্যয়ে রাষ্ট্রপতির কোনো ধরনের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ নেই।
মন্ত্রিপরিষদের সদস্য নিয়োগ, মন্ত্রীদের মধ্যে দফতর বণ্টন, সাংবিধানিক পদসহ প্রজাতন্ত্রের উচ্চতর সামরিক-বেসামরিক পদগুলোয় নিয়োগ, সংসদ অধিবেশন আহ্বান ও সমাপ্তি প্রভৃতি রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী সম্পাদন করে থাকেন। এর কোনোটির ক্ষেত্রেই কখনও কোনোরূপ স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থার অধীনে রাষ্ট্রপতিকে সাংবিধানিকভাবে দেয়া হয়নি।
একজন প্রধানমন্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের আস্থাভাজন থাকাবস্থায় অপর কোনো সংসদ সদস্যকে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের সুযোগ যেমন নেই, ঠিক তেমনি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংসদ ভেঙে দেয়ারও সুযোগ নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো সংসদ সদস্য সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের আস্থাভাজন না হলে সংসদ ভেঙে দেয়ার ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের প্রয়োজন হবে। তাই এক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রপতি যে কোনো অবস্থায়ই কোনো ধরনের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ থেকে সাংবিধানিকভাবে বারিত ।
সংবিধানে বলা আছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে ক্ষেত্রমতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। অনুরূপভাবে স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে একজন সংসদ সদস্যের স্পিকারের দায়িত্ব পালনের বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে কে তার দায়িত্ব পালন করবেন সে বিষয়ে সংবিধান নিশ্চুপ থাকায় প্রধানমন্ত্রীর নিরংকুশ ক্ষমতা তার উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত অক্ষুণ্ন থাকে।
রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে দেখা যায়, একদিকে তার কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই, আর যে দুটি বিষয়ে তাকে একক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তাও প্রকৃতপক্ষে স্বেচ্ছাধীন না হওয়ায় সব বিষয়ে কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে তিনি নিজস্ব বিবেক ও বুদ্ধি বিবেচনা প্রয়োগ করতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রীর নিরবচ্ছিন্ন ক্ষমতা যেন কোনোভাবে ক্ষুণ্ন না হয় সে বিষয়টিকে মাথায় রেখে যেমন তার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের জন্য কাউকে যোগ্য করা হয়নি, ঠিক তেমনি রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে তার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে যোগ্য করায় তার ক্ষমতা সীমিত, সর্বোপরি তিনি সীমিত গণ্ডিতে আবদ্ধ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে সংবিধানে বর্তমানে যে বিধান রয়েছে তা হলো- মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার ৯০ দিন আগে এবং মেয়াদ অবসান ছাড়া অন্য যে কোনো কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার ৯০ দিন পর সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এ দুটি সময়ের যে কোনো একটি সময় হল অন্তর্বর্তী সময় এবং এ অন্তর্বর্তী সময়ে সংসদীয় পদ্ধতির গণতন্ত্র অনুসৃত হওয়ায় প্রায় সব দেশেই মন্ত্রিসভা স্বল্পসংখ্যক সদস্য নিয়ে শুধু সরকারের দৈনন্দিন কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে এবং কোনো নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকে।
জনগণের পরোক্ষ অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সংবিধানের বর্তমান ব্যবস্থায় নিজ বিবেক ও বুদ্ধি বিবেচনা প্রয়োগে এককভাবে কোনো ধরনের নির্বাহী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত না হওয়ায় তার পদটি যে ঠুঁটো জগন্নাথ এ বিষয়ে কি কোনো বিতর্কের অবকাশ আছে? আর নেই বলেই তো দেখা গেছে, সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত একজন ব্যক্তি সংবিধান লংঘন করা সত্ত্বেও তাকে উচ্চতর সাংবিধানিক পদে নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের বিপরীতে রাষ্ট্রপতির পক্ষে কিছুই করা সম্ভব ছিল না। তাছাড়া অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা পাওয়া যায়, একজন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি ২০০১ সালে বিজিত দলের নেত্রীর দাবি অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফল বাতিল না করায় তার দল থেকে প্রাপ্য সম্মান প্রাপ্তিতে বঞ্চিত হচ্ছেন। ২০০২ সালে একজন রাষ্ট্রপতিকে কিছুটা স্বাধীনভাবে দলীয় আবরণের বাইরে চলতে গিয়ে অপরিপক্ব বিদায়ের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। সর্বশেষ ২০০৯ সালে দলীয় বিবেচনায় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদকালীন কর্মকাণ্ড দলের প্রতিকূলে বিবেচিত হওয়ায় ক্ষোভ, হতাশা ও অসম্মান নিয়ে তাকে ইহলোক ত্যাগ করতে হয়েছিল।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ৪৮(৫)-এর বিধানে যে কোনো বিষয় মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য রাষ্ট্রপতির অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উপস্থাপনের কথা বলা হলেও তা প্রতিপালনের জন্য প্রধানমন্ত্রী বাধ্য নন। তাছাড়া যে কোনো অন্তর্বর্তী সময় ছাড়া অন্য কোনো সময়ে রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তা যদি প্রধানমন্ত্রীর মনঃপুত না হয় সেক্ষেত্রে তার অভিশংসনসহ বিভিন্ন হয়রানির আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই দেশের অন্তর্বর্তী অবস্থায় যে কোনো সংকটের সময় রাষ্ট্রপতি বিধানটির প্রয়োগে উদ্যোগী হলে তার মাধ্যমে দেশবাসীর প্রত্যাশা প্রতিফলনের অবকাশ সৃষ্টি হয়। স্বভাবতই অন্তত দেশের অন্তর্বর্তী সময় রাষ্ট্রপতির পদটি যে ঠুঁটো জগন্নাথ নয়, তার প্রমাণ তিনি রাখতে পারেন। আর এর মাধ্যমে তিনি যে কোনো বিপর্যয় থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারেন।
ইকতেদার আহমেদ : সাবেক জজ; সংবিধান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেশে এখন উদারনৈতিক রাজনীতির বড়ই প্রয়োজন by কাজী সাইফুল ইসলাম

ঠিক একইভাবে বিএনপির সঙ্গে জোটভুক্ত দলগুলো মনে করে আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে কেউ কেউ ধর্মে বিশ্বাস করে না। এদের হাতে দেশের শাসনভার মানেই ধার্মিকদের অসুবিধায় পড়তে হয়। এখন প্রশ্ন হল, উদার ধর্মবিশ্বাস বা ধর্মনিরপেক্ষতার মানেই কি ধর্মহীনতা?
সত্যি কথা হচ্ছে, এসব কথাবার্তা দু’দলেরই অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়। সবই হচ্ছে রাজনৈতিক চালবাজি। সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেয়া আর প্রতিশোধের রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠিত করা। দল দুটি একই নীতিতে বিশ্বাস করে। একই আদর্শের মধ্যেই নিজেদের ধরে রেখেছে এখন পর্যন্ত। একদল ডান রাজনীতির ছোট দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের দল ভারি করছে। অপর দলটি বাম রাজনীতির ছোট দলগুলোকে নিজেদের বগলদাবা করে রাখতে মহাব্যস্ত। এর বাইরে আর কিছুই নয়।
এর বড় উদাহরণ হচ্ছে, আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির বিপক্ষে রাজপথে আন্দোলন করেছিল। কেন করেছে? রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার জন্য। ঠিক এই সময়ে হেফাজতে ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের চোখে বিশাল জঙ্গি আর যুদ্ধাপরাধী। ঠিক কালকেই যদি জামায়াতে ইসলামী আর হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো রকম কোয়ালিশন হয়েই যায়, আর বাম ঘরানার দলগুলো যদি আওয়ামী লীগকে ত্যাগ করে, তাহলে বিএনপি কি বাম দলগুলোকে সঙ্গে না নিয়ে জামায়াতে ইসলামী এবং হেফাজতের জন্য শোক পালন করবে? কখনোই নয়। আওয়ামী লীগও ঠিক তাই করবে। আজ যদি বাম দলগুলো তাকে ত্যাগ করে, কালকেই সে ডান দলগুলোকে সঙ্গে নেয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগবে। তখন স্বৈরাচার আর যুদ্ধাপরাধী বলে কিছুই থাকবে না।
আওয়ামী লীগ দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যেও একটি মুখস্থ বুলি চালু রয়েছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের দল, উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে। এই বুলিটা যদি সত্যি হতো তাহলে দেশের জন্য এর চেয়ে ভালো আর কিছুই হতো না। কিন্তু বাস্তবতা কী বলে? দলটি যখন ক্ষমতায় যায় তখন কি সত্যিই উদার রাজনীতির চর্চা হয় এদেশে? না, হয় না। কোনো দিন হবে কিনা তাও বলতে পারবে না কেউ। তবে বর্তমান সময়ে যে নোংরা রাজনীতির মধ্যে জড়িয়ে আছে দলগুলো, তা থেকে অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে। মানুষ এখন আর দলগুলোর মিথ্যা প্রতিশ্র“তিতে বিশ্বাস করছে না। বরং বিরক্ত হচ্ছে। এদেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের পিঠ দেয়ালের সঙ্গে ঠেকে আছে। যে মানুষটি দল করছে সেও যেমন ক্ষেপে আছে এই পরিবারতন্ত্রের ওপর, যে মানুষটি দলের সাথেপিছে নেই সেও চরমভাবে ক্ষিপ্ত।
একটি কথা সবারই মনে রাখা দরকার। নাগরিকের ওপর শোষণ-নির্যাতন চালিয়ে কোনো দলই টিকে থাকতে পারে না। যদি টিকেই থাকা যেত, তাহলে সারা জীবন ধরে পৃথিবীর শাসনকর্তা হয়ে থাকত হিটলার। আর সাদ্দাম হোসেনের বাথ পার্টিও চিরদিন ইরাক শাসন করত।
ইহুদিদের ওপর হিটলারের নির্মমতার বর্ণনা দেয়া প্রায় অসম্ভব। হিটলার ইহুদিদের নিজের শত্র“ মনে করত। অথচ ইহুদিরা জার্মানিরই নাগরিক ছিল। একটি রাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন মতের, বিভিন্ন জাতি আর বিভিন্ন ধর্মের নাগরিক থাকবে এটা খুবই স্বাভাবিক। তাই বলে মুসলিম শাসক যদি হিন্দু বা বৌদ্ধ নাগরিকের ওপর অন্যায়ভাবে অত্যাচার চালিয়ে তাদের একেবারেই নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়, তাহলে সেটা কতটুকু সভ্যতার স্বাক্ষর বহন করবে? বা তার পরিণামই বা কি হতে পারে?
আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে কতগুলো মুখস্থ শব্দের চালবাজি রয়েছে। রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, বিপক্ষের শক্তি, নাস্তিক, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি ইত্যাদি। সঠিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গেলে এসব শব্দগুলো কতটা জরুরি, আমি বুঝি না। কে দেশপ্রেমিক আর কে দেশদ্রোহী, কে রাজাকার আর কে মুক্তিযোদ্ধা এ খবর দেশের দশ বছর বয়সী নাগরিকের কাছেও রয়েছে। এসব অতিকথনের কারণে বরং অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের গুরুত্ব হারিয়ে যাচ্ছে দিন দিন।
রাষ্ট্র চালাতে গিয়ে উন্নত রাষ্ট্রনীতি বা সঠিক পরিকল্পনা কখনোই করতে পারেনি আওয়ামী লীগ অথবা বিএনপি। একবার ক্ষমতায় গেলে জোর করে টিকে থাকার মানসিকতা এই আধুনিক যুগেও তারা ধরে রেখেছে অসভ্য প্রাগৈতিহাসিক যুগের মতো। বাংলাদেশের নাগরিক মোটেও পিছিয়ে নেই, বিশ্বের ধনিক দেশগুলোর নাগরিকদের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই তাল মিলিয়ে চলছে তারা। কিন্তু শুধু উদার রাজনীতি আর পরিশীলিত গণতন্ত্রের অভাবের কারণেই এগিয়ে যাচ্ছে না বাংলাদেশ।
বর্তমানে একটি কথা খুবই উচ্চারিত হচ্ছে। সেটি হচ্ছে কন্সার্ন (Concern)- উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠা। সত্যি বলতে কী, গোটা জাতিই আজ উৎকণ্ঠিত। রাজনৈতিক এই অচল অবস্থা থেকে মুক্তি চায় জাতি। কিভাবে এই সমস্যার নিরসন হবে হয়তো অনেকেই বুঝতে পারে না। কিন্তু যে কোনোভাবেই হোক তারা চায় বড় দল দুটির মধ্যে সমঝোতা। আরেকটি বিষয় নিয়েও জাতি উৎকণ্ঠিত। যদি দল দুটির মধ্যে সমঝোতা না হয়ে সংঘর্ষ বেধে বসে, তাহলে সুবিধাবাদীদেরই লাভ হবে সব থেকে বেশি। কেউ কেউ দেশটা লুটে নিতে পারবে নির্দ্বিধায়। কেউ আবার গদি দখলে ব্যস্ত হবে। কেউ কেউ আবার ধর্মের নামে জঙ্গিবাদের ক্ষেত্র রচনার মহা-উদ্যোগ নেবে। ইতিহাস তাই বলে।
আর এসব হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের নাগরিক। তারপর আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো। তাছাড়া আওয়ামী লীগ যদি বিএনপির মতোই একতরফা নির্বাচনে যায়, তাহলে তারা দুটি ক্ষতির মধ্যে পড়বে। এক, তারা যে উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তার কোনো মূল্য থাকবে না। অন্যটি, তারা যদি নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে না পারে তাহলে বিএনপির মতোই ভরাডুবি হবে তাদের। সেটা দেশের জন্যও ভালো হবে না।
আওয়ামী লীগ যদি মনে করে, তারা উদার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে এবং দেশের মঙ্গলের জন্য যে কোনো ত্যাগ তারা স্বীকার করতে পারে, তাহলে এখনই বিরোধী জোটের সঙ্গে তাদের একটা সমঝোতায় আসা উচিত। তাহলে দেশের জনগণ তাদের এই সুচিন্তিত ত্যাগকে অবশ্যই বিবেচনায় নেবে। এটা ইতিহাসও হয়ে থাকবে। কারণ, গত নির্বাচনে সম্পূর্ণ একগুঁয়েমি করেছিল বিএনপি। বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ যদি দেশকে একটা নির্বাচন উপহার দিতে পারে (যে নির্বাচন হবে সর্বদলের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ), তাহলে দেশের জনগণের কাছে আওয়ামী লীগের গ্রহণযোগ্যতা অনেক গুণ বেড়ে যাবে। হতে পারে, এবার তারা সরকারে যেতে পারছে না, তাতে কী। এদেশে আওয়ামী লীগ দলটি যেসব নীতির কথা বলে, তা মানুষের কাছে পরিষ্কার হবে। আর দেশের স্বার্থও বিশালভাবে রক্ষা হবে।
কাজী সাইফুল ইসলাম : কলাম লেখক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আসন্ন নির্বাচনে জনগণের শান্তির উপায় কী? by আল আমীন চৌধুরী

তবে রাজনীতিকে রাজনীতিকদের জন্য কঠিন করে তুলতে যে কৌশল সামরিক শাসনামলে গ্রহণ করা হয়েছিল, তার সর্বনাশা ফল ভোগ করছে এদেশের সাধারণ মানুষ, রাজনীতিকরা নয়। ওই কৌশলের অংশ হিসেবে টাকা ও নানা সুবিধার বিনিময়ে রাজনৈতিক দলে বিভাজন, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবীসহ দেশের প্রায় সব সংগঠনে বিভক্তি, স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তার ও অর্থ আহরণের সুযোগ দিয়ে দলের সমর্থক ও কর্মী সৃষ্টির যে অপকৃষ্টি চালু হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী-গণতন্ত্রে, বলতে গেলে, তা আনুষ্ঠানিক রূপ নেয়। দুর্ভাগ্যের বিষয়, নির্বাচনে জয়লাভের পর নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে বিজয়ী দল সারাদেশের একচ্ছত্র মালিক হয়ে বসে। শুরু হয় স্বার্থান্বেষী, অর্থকেন্দ্রিক, দখল ও লুণ্ঠনের রাজনীতি। নেতাকর্মী, ছাত্র-যুবসহ সমাজের প্রায় প্রতিটি স্তরে তা বিস্তৃত হতে থাকে। সরকারপরম্পরায় তা শুধু পাল্লা দিয়ে বাড়তেই থাকে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায়ও চলে দুর্বৃত্তায়ন। এ পুরো কর্মযজ্ঞে সহায়তা করার জন্য প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গে চলে দলীয়করণ। এক কথায়, এসবের ফলে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় যে কায়েমি স্বার্থ গেড়ে বসেছে- তাকে পরাভূত করে জাতীয় মুক্তি ও বৃহত্তর কল্যাণে যে কোনো অর্জন আগের চেয়ে আজ অনেক দুরূহ।
এ কঠিন অবস্থায় মুক্তি অর্জনের জন্য প্রয়োজন আগে উল্লিখিত তৃতীয় উপাদান- একটি নিষ্ঠাবান ও নিঃস্বার্থ নেতৃত্ব। যারা সব ধরনের দুর্বৃত্তায়ন ও দুর্নীতি নিরোধ করে, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী, সংগঠন ও গোষ্ঠীর মধ্যে কৃত্রিম বিভাজন অবসান করে দেশকে একটি সুখী শান্তিপ্রিয় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের নেতৃত্ব অনেকটা যেন এর উল্টো ধাঁচের। ক্ষমতা ও নিজেদের স্বার্থের জন্য জনস্বার্থ শুধু নয়, জনজীবন বিসর্জন থেকে শুরু করে আমাদের রাজনীতিতে বিদেশীদের অনধিকার চর্চার অবাধ সুযোগ করে দেয়াসহ যে কোনো কিছু করতে তারা দ্বিধা করে না। যে দুর্নীতি ও দুুর্বৃত্তায়ন সমাজদেহে ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়ছে, তাকে তারা স্বতঃসিদ্ধ ধরে নিজেদের কৌশল ঠিক করে নিয়েছে- এর বিরোধিতা নয়, একে উল্টিয়ে ফেলার চেষ্টা তো নয়ই বরং এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়াই তাদের একমাত্র করণীয়!
উপরোক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, ক্ষমতার লড়াইয়ের ধ্বংসাত্মক পরিণতি থেকে জনগণের মুক্তি যেমন কঠিন, মুক্তির পথও তেমনি বন্ধুর।
চলুন এখন আসন্ন সংসদ নির্বাচনের সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখা যাক। এরই মধ্যে জাতীয় পার্টির ছয়জনসহ সর্বদলীয় নামে মহাজোটের মোট ২৯ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রীদের মধ্যে দফতরও বণ্টন হয়ে গেছে। সরকার পক্ষ থেকে মন্ত্রিসভায় যোগদান করার এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানানো সত্ত্বেও তাদের কেউ মন্ত্রিসভায় যোগদান করেননি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীন ছাড়া তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার পূর্বাবস্থানে অনড় রয়েছেন। হরতাল ও আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন। অসাধারণ কিছু না ঘটলে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এদিকে নির্বাচন কমিশন এ সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে সংঘাত ও সহিংসতা অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে। আর এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা বাজার অর্থনীতির এ যুগে সহজও হয়ে উঠেছে। দলীয় লোকেরা যদি এ কাজ না করতে চায় তাহলে ‘আউটসোর্সিং’ বা বাইরের কাউকে দিয়ে করানো এবং ব্যবস্থাপনা ঠিকাদারের মাধ্যমে পরিচালনা করা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানা যায়। তাই শেষ মুহূর্তে ১৮ দলীয় জোট যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তাহলে হরতাল, অবরোধ, ধ্বংসযজ্ঞ চলবে; অস্থিরতা, জনদুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে। তবে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচন প্রতিহত করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সবার কাম্য। কিন্তু এর সম্ভাবনা কম বলে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সক্রিয় সহায়তায় নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও বিচার বিভাগ যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করে এবং গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষক দল যদি নির্বাচনে নিবিড় নজরদারি চালায়, সেক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে যদি ১৮ দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং জয়লাভ করে তাহলে সোনায় সোহাগা। একদিকে পরাজিত সরকারি দল বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে, অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাদের অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে সত্য; অন্যদিকে এর মাধ্যমে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্থায়ী ব্যবস্থার প্রতি আস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতার একটি ঐতিহ্য গড়ে উঠবে। এর অন্যথায় অর্থাৎ নির্বাচন যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ না হয় অথবা তাতে কারচুপি হয়, তাহলে বিরোধী দল সহজেই এবং সঙ্গত কারণেই সরকার পতনের একটি সফল আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে।
তৃতীয় সম্ভাব্য পরিস্থিতি হচ্ছে, ১৮ দল বাদেই মহাজোট নিজেরা ছাড়াও অন্য কিছু দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করল এবং তাতে বিপুল ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত হল এবং প্রার্থীদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি হল। এ রকম একটি নির্বাচন দেশ-বিদেশের সবার কাছে গ্রহণযোগ্য না হলেও তার বিশুদ্ধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা সম্বন্ধে কারও সন্দেহ থাকার কথা নয়। এমন অবস্থায় বিরোধী দল অবশ্য হরতালসহ বিভিন্ন কঠিন কর্মসূচি দিয়ে প্রতিবাদ ও আন্দোলন চালিয়ে যাবে, কিন্তু নৈতিক বা আইনগত কোনো শক্ত অবস্থান নিতে অপারগ হবে। ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হবে, অর্থনীতিতে ধস নামবে। কিন্তু সরকারি দল সহজে এবং স্বল্পসময়ের মধ্যে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে বিরোধী দলের দাবি মেনে নিয়ে আবার নির্বাচনের কোনো উদ্যোগ নেবে বলে মনে হয় না।
সর্বশেষ সম্ভাব্য দৃশ্য হতে পারে এমন, যেখানে বিরোধী দলের প্রবল প্রতিরোধের মুখে ভোটারহীন বা নগণ্যসংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণে নির্বাচন হল। তথাপি সফল নির্বাচনে জয়ী হয়েছে বলে দাবি করে মহাজোট সরকার গঠন করল। ঠিক যেমনটি হয়েছিল বিএনপি সরকারের আমলে ১৯৯৬ সালের ফেব্র“য়ারি মাসের নির্বাচনে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় না, আসন্ন নির্বাচন সেরূপ ভোটারহীন হবে বা পরবর্তী সময়ে একই অবস্থার পুনরাবৃত্তি হবে।
পাঠক, মনে রাখতে হবে, বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা আমাদের রাজনীতিক ও তাদের দল এবং জোটের সৃষ্ট। তাই তাদেরই এর নিরসন করতে হবে। কোনো বিদেশী গোষ্ঠী বা তৃতীয় কোনো শক্তি নয় এবং তা অভিপ্রেতও নয়। একটি দেশে দুই দশকের অধিক গণতন্ত্র চর্চার (নির্বাচনসর্বস্ব হলেও) পরও যদি আমরা একটি সরকারের মেয়াদ শেষে শান্তিপূর্ণ উপায়ে নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের মতো বুনিয়াদি ব্যবস্থাতেই একমত হতে না পারি বা বিশ্বাস স্থাপনে অসমর্থ হই, তাহলে নিজেদের ধিক্কার দেয়া ছাড়া আর কি-ই বা করার আছে?
নিবন্ধটি এ প্রশ্ন দিয়ে শেষ করতে খারাপ লাগছে বলে বিরাজমান অবস্থায় পূর্বোক্ত দ্বিতীয় উত্তম বিকল্পটি অক্ষরে অক্ষরে এবং মর্মে মর্মে কার্যকর হোক- যেখানে শেষ মুহূর্তে হলেও ১৮ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নেবে- সে আশা নিয়ে আজ বিদায় নিতে চাই।
আল আমীন চৌধুরী : সাবেক সচিব ও কলাম লেখক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আবার আওয়ামী লীগ সরকার
![]() |
| এ সাক্ষাতের সুবাদে রাজনৈতিক অচল অবস্থা কাটবে কি? |
আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেব’
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আত্মপরিচয়ে আত্মবঞ্চনা
উম্মে মুসলিমা: কথাসাহিত্যিক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মার্কিন কংগ্রেসের উদ্বেগ
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১২ লাখ ডলারের ক্যামেরা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1400)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
November
(403)
-
▼
Nov 24
(9)
- অন্তত শিশুদের কথা ভাবুন by বিমল সরকার
- অন্তর্বর্তী অবস্থায়ও কি রাষ্ট্রপতির ভূমিকা একই থাক...
- দেশে এখন উদারনৈতিক রাজনীতির বড়ই প্রয়োজন by কাজী সা...
- আসন্ন নির্বাচনে জনগণের শান্তির উপায় কী? by আল আমীন...
- আবার আওয়ামী লীগ সরকার
- ‘চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেব’
- আত্মপরিচয়ে আত্মবঞ্চনা
- মার্কিন কংগ্রেসের উদ্বেগ
- ১২ লাখ ডলারের ক্যামেরা
-
▼
Nov 24
(9)
-
▼
November
(403)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

