Tuesday, December 26, 2017

নেপালে যেভাবে নিরঙ্কুশ প্রভাব খুঁইয়েছে ভারত by প্রশান্ত ঝা

নেপাল ২০১৫ সালে নিজেদের নতুন সংবিধান প্রণয়নে সক্ষম হয়। বছর না ফুরোতেই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সমতলভূমির মাধেসি জনগোষ্ঠী এই সংবিধানের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের কাঠামো ও যুক্তরাষ্ট্রবাদের সংশোধন চেয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ভারত-ঘেঁষা হিসেবে পরিচিত মাধেসি সম্প্রদায়ের নেতাদের যুক্তি ছিল, ওই সংবিধানের ফলে খুবই পক্ষপাতদুষ্ট রাজনৈতিক ব্যবস্থা সৃষ্টি হবে। ওই ঝঞ্ঝাটময় সময়ে এক ভারতীয় কূটনীতিক স্থানীয় এক মাধেসি নেতাকে বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই একটা সংবিধান প্রনয়ণ করছেন না কেন? শুধু তাতেই কাঠমন্ডুর শিক্ষা হবে। আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে।’
ঠিক দেড় বছর পর, অর্থাৎ ২০১৭ সালের মাঝামাঝিতে নেপালে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু, তখনও সংবিধান সংশোধনের দাবিতে অনড় মাধেসি দলগুলো ওই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
কারণ, নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে সংবিধানকে মেনে নেওয়ার শামিল। এবারও একজন গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় কূটনীতিক ঠিক আগের ওই মাধেসি নেতার সঙ্গে কথা বলেন। এবার অবশ্য ভাষা আর সুর সম্পূর্ণ আলাদা। ওই কূটনীতিক বলেন, ‘মাধেসি এখন আমাদের বোঝা হয়ে উঠেছে। আপনাদের উচিত হবে কাঠমন্ডুর মূলধারার কাছে নতি স্বীকার করা। তা করতে গিয়ে যদি ‘দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক’ও হতে হয়, তবুও তা-ই করুন। ভারতের একমাত্র স্বার্থ হলো এখন কাঠমন্ডুকে খুশি রাখা, যাতে তারা চীনের দিকে না ঘেঁষে।’
এই পরস্পরবিরোধী বার্তাতেই নিহিত আছে ভারতের নেপাল-নীতির স্বরূপ। এ থেকেই বোঝা সম্ভব কেন নেপালের সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রকাশ্যে ভারত-বিরোধী বলে পরিচিত ‘কম্যুনিস্ট জোট’ জয় পেয়েছে। এটিও বোঝা যাবে, ভারতের অসামঞ্জস্যপূর্ণতা, অ্যাড-হক ভিত্তিতে নীতি প্রনয়ণ, ক্ষমতার ভারকেন্দ্রের বহুমুখীতা, পরস্পরবিরোধী বার্তা ও সদিচ্ছার অভাব কীভাবে এই নির্বাচনী ফলের জন্ম দিয়েছে।
নেপালে গত দুই বছরে ৫টি ধাপ অতিক্রম করেছে ভারতের কূটনীতি। প্রথমটি ছিল, নেপালের সংবিধান প্রনয়ণ প্রক্রিয়ায় নিজের মূল উদ্বেগকে সংজ্ঞায়িত করা। ২০১৫ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে নেপালের পার্বত্য অঞ্চলের অভিজাতরা খসড়া সংবিধান নিয়ে মতৈক্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেন। তখনই মাধেস অঞ্চলে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। ওই সময়টাই দিল্লি কাঠমন্ডুকে ইঙ্গিত দিতে থাকে মাধেসিদের উদ্বেগকে আমলে নিয়ে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এমন সংবিধানই কাম্য। এটি ভালো পরামর্শই ছিল। অংশগ্রহণমূলক দু’ পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক ছিল। কারণ, নতুন সংবিধানে সকল নাগরিকের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন থাকতে হবে। ভারতের জন্যও ভাল হবে, কারণ অংশগ্রহণমূলক হলে ভারত-বিরোধী জাতীয়তাবাদী হিসেবে পরিচিত নেপালের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ভারসাম্য আসবে। তবে ওই পরামর্শ দিতে দেরি হয়ে গেছে। নেপালের দলগুলোর সঙ্গে আলাপে নিজের প্রভাব ব্যবহার করেনি ভারত। পাশাপাশি, কেন একটি অংশগ্রহণমূলক সংবিধান প্রয়োজন, তা স্পষ্ট করে শক্ত রাজনৈতিক মত গড়তে পারেনি। নেপালের পার্বত্য অভিজাতরা এই সুযোগে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়। তখনই ভারত সুযোগ হারিয়ে ফেলে।
কথায় আছে, সময়ের এক ফোঁড়, আর অসময়ের দশ ফোঁড়। এ কারণেই শেষমেশ নিজেদের চূড়ান্ত অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত ও দেশটির মাধেসি মিত্ররা। ভারত-সীমান্তবর্তী মাধেসিরা সীমান্ত বন্ধ করে আন্দোলন করতে থাকে। স্থলবেষ্টিত নেপাল তৎক্ষণাৎ ব্যাপক চাপে পড়ে যায়। কিন্তু নতি স্বীকার করার বদলে, নেপাল বরং ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি জাতীয়তাবাদী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। পাশাপাশি, দ্বারস্থ হন অপেক্ষারত চীনের কাছে। ওদিকে পুরো ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরেও সমালোচনা শুরু হয়। কংগ্রেস বিষয়টি নিয়ে মোদি সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করে।
সমালোচনায় জেরবার হয়ে মোদি সরকার নিজের উদ্দেশ্য পুরোপুরি হাসিল না করেই পিছু হটে। অবরোধ প্রত্যাহারে মাধেসিদের চাপ দিতে থাকে ভারত। পুরো বিষয়টিকে নিজেদের বিপুল বিজয় হিসেবে দেখে নেপাল সরকার। কারণ, তারা ভারতের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’কে অকার্যকর করে দিতে সক্ষম হয়েছে। নেপাল বুঝতে পারে চীন কার্ড খেললেই দিল্লি ভয় পেয়ে পিছু হটবে।
এ পর্যায়ে এসে ভারত সিদ্ধান্ত নেয়, অংশগ্রহণমূলক সংবিধান আর তার মাথাব্যাথা নয়। এবারের মিশন কেপি ওলিকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ, অথবা তাকে শিক্ষা দেওয়া। ভারত ভেতরে ভেতরে শাসক জোটের অংশীদার প্রচন্ডকে সরে গিয়ে নেপালি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধতে রাজি করায়। কেপিকেও শিক্ষা দেওয়া হলো, আর মুখও রক্ষা হলো যে, নেপালের সঙ্গে আর কোনো সমস্যা নেই।
ষোলকলা পূর্ণ হলো যখন ভারত মাধেসি দলগুলোকে নির্বাচিত অংশ নিতে চাপ দিতে থাকে। তারা তখনও সংবিধান নিয়ে খুবই অস্বস্তিতে ছিল। কিন্তু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ফলে দুই বছর ধরে চলমান বয়কট ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো। পুরো সময়টাতে ভারতের আনুষ্ঠানিক নীতি ‘অংশগ্রহণমূলক সংবিধানে’র পক্ষে বলা হলেও, শাসক গোষ্ঠির বড় একটি অংশ নেপালকে এই বার্তাই দিচ্ছিল যে, ভারতের স্বার্থ হলো হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, অংশগ্রহণমূলক সংবিধান স্রেফ মুখের কথা। কাঠমন্ডুর নেতারা ভারতের শাসক গোষ্ঠির এই বিভাজনকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগিয়েছে।
এভাবেই নেপালের অভিজাতদের ওপর নিজের প্রভাব হারায় ভারত। প্রথমে মাধেসিদের সমর্থন দিয়েও, পরে পিছু হটেছে ভারত। মাধেসি গোষ্ঠীকে এমন একটি সংবিধান মানতে রাজি করিয়েছে ভারত, যার জন্য তারা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছে। এ কারণে তাদের বিরাট এক অস্ত্র, অর্থাৎ সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। পাশাপাশি, চীনাদের জন্যও নেপালের দ্বার খুলে গেছে।
এই জাতীয় নির্বাচনে ভারত-বিরোধী বলে পরিচিত কম্যুনিস্ট জোটের জয়ের ফলে ‘আংশিক স্বার্বভৌম’ রাষ্ট্র থেকে নেপাল ‘প্রায় সম্পূর্ণ স্বার্বভৌম’ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আগে নেপালের ঘরোয়া রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ভূমিকা পালন করতো। আর এখন ওই প্রভাব তলানিতে।
নেপালে নিজের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ হারানোর অন্যতম কারণ হতে পারে নতুন প্রজন্মের রাজনীতিক, সুশীল সমাজ ও জনমত গঠনকারীদের ওপর ভারতের প্রভাব খাটানোর সীমিত ক্ষমতা এবং দেশটির সঙ্গে ভারতের আবেগীয় সম্পর্কের ঘাটতি। অতীতে নেপালি রাজনীতিতে একাধিপত্যের কারণে ভারত চাইলে যা খুশি তা-ই করতে পারতো। কিন্তু এখন চীন বাম জোটকে জোরালোভাবে সমর্থন দেওয়ায়, ওই একাধিপত্য শেষ। এখন ভারতের সামনে বিকল্প আছে দুইটি। একটি হলো, নেপালের ঘরোয়া রাজনীতির অকার্যকর ও অক্ষম খেলোয়াড় হিসেবে নিজের ভূমিকা অব্যাহত রাখা। অপরটি হলো, সরে দাঁড়ানো এবং চীনকে শূন্যস্থান পূরণের সুযোগ করে দেওয়া। ভারত যে বিকল্পই বেছে নিক না কেন, হারানো বৈ অর্জনের কিছুই কোনটিতে নেই।
(প্রশান্ত ঝা ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক। এই লেখাটি পত্রিকাটিতে প্রকাশিত তার একটি নিবন্ধের অনুবাদ। অনুবাদ করেছেন: মাহমুদ ফেরদৌস।)

বাংলাদেশে গুম একটি ‘গভীর উদ্বেগের বিষয়’ -আল জাজিরার প্রতিবেদন

গত মাসে ঢাকার একটি ব্যস্ত সড়ক থেকে অপহরণ করা হয়েছিল একজন শিক্ষাবিদকে। তিনি এক মাসেরও বেশি সময় পরে বাসায় ফিরেছেন। বলেছেন, ‘অজ্ঞাত অপহরণকারীরা’ তুলে নিয়ে যায় তাকে। তিনি মোবাশ্বার হোসেন। ঢাকায় অবস্থিত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহকারী প্রফেসর। তাকে অপহরণ করা হয়েছিল ৭ই নভেম্বর।
শুক্রবার তাকে ঢাকার কাছে একটি মহাসড়কে একটি মাইক্রোবাস থেকে ফেলে যাওয়া হয়। এ সময় তারা তাকে বলা হয়, ‘পিছনে ফিরে তাকালে আপনাকে গুলি করবো আমরা’। তিনি বলেছেন, অন্ধকার একটি রুমে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল ৪৪ দিন। তারপর তার চোখ বেঁধে টানতে টানতে মাইক্রোবাসে ওঠানো হয়।
মুক্তি পাওয়ার ১২ ঘণ্টারও কম সময় পরে শুক্রবার সকালে তার বাসার বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মোবাশ্বার হাসান। তিনি বলেন, ‘অনেক দিন পরে প্রথমবারের মতো আমি দিনের আলো দেখতে পাচ্ছি’।
তার অপহরণের ঘটনাটি এর আগের আরেকটি ঘটনার সঙ্গে মিলে যায়। হাসান বাসায় ফেরার মাত্র দু’দিন আগে ঢাকাভিত্তিক সাংবাদিক উৎপল দাসকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তাকে আটকে রাখা হয়েছিল ৭১ দিন।
উৎপল দাসও বলেছেন, ঢাকা থেকে তাকে অপহরণ করে চার থেকে পাঁচ ‘অজ্ঞাত অপহরণকারী’। এই অপহরণকারীরা এই দু’ব্যক্তিকেই প্রকাশ্যে দিনের আলোয় তাদের গাড়িতে তুলে নিয়েছিল। উৎপল দাস আরো বলেছেন, তাকেও চোখ বেঁধে একটি মাইক্রোবাসে তোলা হয়। এরপর তাকে ফেলে যাওয়া হয় একটি মহাসড়কে।
হাসান বলেছেন, তার অপহরণকারীদের একজন তার চোখের ভিতর কিছু একটা ঘষে দেয়। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। উৎপল দাস বলেছেন, কালো কাপড় দিয়ে তার কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল।
তবে তাদের দু’জনের কেউই অপহরণকারীদের শনাক্ত করতে বা চিনতে পারেননি।
তাদেরকে এমন একটি সময়ে মুক্তি দেয়া হয়েছে যখন বাংলাদেশে মারুফ জামানসহ সুপরিচিত অনেক মানুষ গুমের ধারাবাহিক ঘটনা ঘটেছে। মারুফ জামান ৪ঠা ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি কাতার ও ভিয়েতনামে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ছিলেন।
এ বছরের শুরুর দিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘২০১৩ সাল থেকে কয়েক শ’ মানুষকে অবৈধভাবে আটক করেছে আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ’। শুধু গত বছরেই ‘জোরপূর্বক গুমের শিকার’ হয়েছেন  ৯০ জন। ওই রিপোর্ট প্রকাশের সময় হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গুমের ঘটনাগুলো প্রমাণিত এবং এসব বিষয়ে রিপোর্ট হয়েছে। কোনো আইনের তোয়াক্কা না করে সরকার এই চর্চা অব্যাহত রেখেছে। দেখে মনে হচ্ছে লোকজনকে আটকে মুক্ত স্বাধীন অধিকার ভোগ করছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। তারা অপরাধী হবে নাকি নিরপরাধী হবেন সে সিদ্ধান্তও তারা নিচ্ছেন। তাদের শাস্তি দেয়ার বিষয়টিও তারা নিশ্চিত করছেন। এমনকি তারা বেঁচে থাকার অধিকার পাবেন কিনা তাও তারা নির্ধারণ করছে’।
ঢাকা ট্রিবিউনের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত চার মাসে ঢাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন ১৪ জন। এর মধ্যে মোবাশ্বার হাসান ও উৎপল দাসসহ এখন পর্যন্ত বাসায় ফিরেছেন পাঁচজন। স্থানীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন রয়েছেন নিখোঁজ। মারুফ জামানসহ অন্যদের কি পরিণতি হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।
মিডিয়া ও মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলোর সমালোচনার মুখে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সম্প্রতি বলেছেন, নিখোঁজ সবাইকেই পাওয়া যাবে।
অনিশ্চিত কারণ
মোবাশ্বার হাসান ও মারুফ জামান উভয়েই সম্ভ্রান্ত, মধ্যবিত্তের ব্যাকগ্রাউন্ডযুক্ত মানুষ। বাংলাদেশি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তারা সম্পদশালী ছিলেন না। আল জাজিরার সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, তাদের কাছে কোনো মুক্তিপণ চাওয়া হয়নি। অন্যদিকে উৎপল দাসের পিতা চিত্তরঞ্জন দাস বলেছেন, তার ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি মুক্তিপণ চেয়ে ফোনকল পেয়েছেন। তিনি মাসে প্রায় ১৯৫ ডলার আয় করেন। তিনি একজন স্কুল শিক্ষক। বসবাস করেন ঢাকার বাইরে একটি ভাড়া টিনশেড বাড়িতে। চিত্ত রঞ্জন দাস বলেন, অজ্ঞাতন ফোনকলকারী তার কাছে ছেলের মুক্তির জন্য ১২৫০ ডলার মুক্তিপণ দাবি করেছিল। তিনি তার ছেলের সঙ্গে কথা বলতে চান। কিন্তু তাকে সেই সুবিধা দেয়া হয় না। এরপর তাকে আর কলব্যাকও করা হয়নি।
ঢাকাভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী শাহদীন মালিক। তিনি সুপ্রিম কোর্টেরও একজন বিশিষ্ট আইনজীবী। তিনি বলেছেন, তিনি মনে করেন না চলমান এই অপহরণের ঘটনাগুলো শুধুই অর্থ আদায়ের উদ্দেশে। এর পরিবর্তে যাকে রাষ্ট্রের জন্য হুমকি মনে করা হবে তাকে এর মাধ্যমে একটি গায়ে শিহরণ লাগানো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করার জন্য এ কাজ করে থাকতে পারে। শাহদিন মালিক আল জাজিরাকে বলেন, আমার মনে হয় যারা সরকারের সমালোচক তাদের রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করছে (আইন প্রয়োগকারী এজেন্সিগুলো)’।
মোবাশ্বার হাসান রাজনীতিতে ইসলাম এবং জঙ্গি ইস্যুতে বেশ কিছু প্রবন্ধ লিখেছেন। অন্যদিকে উৎপল দাস বাংলাদেশের একটি বাহিনীকে নিয়ে খবর লিখেছেন। সাবেক কূটনীতিক মারুফ জামান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচক ছিলেন। ফেসবুকে সরকারবিরোধী অন্যদের পোস্ট শেয়ার দিতেন তিনি। শাহদিন মালিক বলেন, মোবাশ্বার হাসান ও মারুফ জামানের মতো ব্যক্তিরা রাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় এমন কর্মকা-ে জড়িত বলে সন্দেহ হতে পারে আইন প্রয়োগকারী এজেন্সিগুলোর। এর ফলে তাদের আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়ে থাকতে পারে। শাহদিন মালিক বলেন, ‘এই (প্রবণতা) ভুল এবং মানবাধিকারের মারাত্মক লঙ্ঘন’।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, মাঝে মাঝেই আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এসব গ্রেপ্তারের খবর অস্বীকার করে। সরকারের কিছু কর্মকর্তা বলে থাকেন নিখোঁজ ব্যক্তিরা ‘স্বেচ্ছায় আত্মগোপন’ করে আছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, অপহৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সদদ্যের আনা  অপহরণের এসব অভিযোগ পুলিশ গ্রহণ করে না।
রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের বেসামরিক অভিজাত বাহিনী র‌্যাব। এর মিডিয়া ও আইন বিষয়ক শাখার পরিচালক মোহাম্মদ মাহমুদ খান আল জাজিরাকে বলেছেন, যদি কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হন তাহলে এ বিষয়ক মামলাটি পড়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশের ওপর, যে এলাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বসবাস করেন।
খিলগাঁও পুলিশ স্টেশনের তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবির খান। ওই পুলিশ স্টেশনে খান সাহেবের পরিবার একটি নিখোঁজ বিষয়ক অভিযোগ করেছিল। এ বিষয়ে বলা হয়েছে, তাকে অপহরণকারীদের এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। বলা হয়েছে, দেশের দ-বিধির অধীনে একটি নতুন মামলা দায়ের করতে পারে ওই পরিবারটি। তাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা দাবি করতে পারেন যে, অপহরণ করা হয়েছে।
আল জাজিরাকে খান সাহেবের বোনো তামান্না তাসনিম বলেছেন, জাহাঙ্গীর কবিরকে ফিরে পেয়ে তাদের পরিবার খুশি। তাই অপহরণের কোনো মামলা করার পরিকল্পনা নেই আমাদের।
মারুফ জামানের ঘটনায় যোগাযোগ করা হলে ধানমন্ডি থানার ওসি আবদুল লতিফ আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে এখনও ক্লু উদ্ধারের জন্য কাজ করছে পুলিশ’। এই ধানমন্ডি থেকেই নিখোঁজ হয়েছিলেন মারুফ জামান। তার বড় মেয়ে শবনম জামান বলেছেন, তিনি কোথায় আছেন এ বিষয়ে তাদের পরিবার কোনোই তথ্য পায়নি। গত ৫ই ডিসেম্বর ঢাকায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি এলাকায় তার গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। শবনম বলেছেন, ধানমন্ডি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহিল কাফির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তিনি তাদেরকে বলেছেন, ‘পুলিশ এখনও তদন্ত করছে’।
শবনম বলেন, ‘এখনও এই অবস্থায় আমরা আশাবাদী তাকে মুক্তি দেয়া হবে’।
আল জাজিরাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেছেন, জাঙ্গাঙ্গীর খান ও উৎপল দাসসহ যেসব ব্যক্তি মুক্তি পেয়েছেন তাদের পরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তার ভাষায় ‘তাদের অপহরণের বিষয়ে আরো তথ্যের জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাবো’।
গভীর উদ্বেগ
কর্তৃপক্ষ কি এসব ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকারবিষয়ক কর্মীরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভাষ্যকার আফসান চৌধুরী আল জাজিরাকে বলেছেন, গুম দেশে একটি গ্রহণযোগ্য বিষয় হিসেবে মেনে নেয়া হয়েছে। ‘এখন সমস্যাটা এর মধ্যেই রয়েছে’।
শীর্ষ স্থানীয় মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ আইন ও সালিম কেন্দ্রের মানবাধিকারবিষয়ক কর্মী ও পরিচালক নূর খান লিটন আইন প্রয়োগকারী এজেন্সিগুলোর কাছে জানতে চান তারা কেন এসব অজানা মানুষকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে না, যাদের দৃশ্যত রয়েছে অনেক ক্ষমতা।
নুর খান লিটন বলেছেন, ‘মোবাশ্বার হাসান অথবা উৎপল দাস পরিষ্কার করে বলেছেন, তাদেরকে তুলে নিয়েছিল অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। তাদের প্রকাশ্য দিনের আলোতে কাউকে তুলে নেয়ার ক্ষমতা আছে, তুলে নিয়ে দীর্ঘ সময় অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখার এবং সেখান থেকে তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার ক্ষমতা আছে’। তাই অপহরণকারীদের খুঁজে বের করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি তিনি সব রকম পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এটা একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়’।
(অনলাইন আল জাজিরায় প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

যুদ্ধকালীন ধর্ষিতারা যখন হয়রানির শিকার! by রিফাত আহমাদ

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে রোহিঙ্গা মুসলিম নারী ও বালিকাদের ধর্ষিত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে গত মাসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়, সেনাবাহিনী এসব ধর্ষণকে জাতি নিধনের জন্য একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এ মাসে ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে সাদৃশ্যমূলক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় বার্তা সংস্থা এপি-তে। সেখানেও একইরকম তথ্য উল্লেখ করা বলা হয়- মিয়ানমারে ধর্ষণকে সুদূরপ্রসারিত ও পদ্ধতিগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিবেদনগুলোতে ওঠে এসেছে লোমহর্ষক কাহিনী- কিভাবে পরিবারের সামনে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে কোনো নারী, জনসম্মুখে উলঙ্গ হতে বাধ্য করা হয়েছে কাউকে, যন্ত্রণাদায়ক নির্যাতন আর যৌন দাসত্বের শিকার হয়েছে অনেকে! এরকম যুদ্ধকালীন ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনা ইতিহাসে আরো ঘটেছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদারদের পাশবিকতার শিকার হয়েছিল অজস্র বাংলাদেশি নারী-বালিকারা।
একইরকম ঘটনা ঘটেছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায়ও।
বসনিয়ার ১৯৯২-৯৫ সালের যুদ্ধে আনুমানিক ২০ থেকে ৫০ হাজার নারী বিভিন্ন ‘রেপ ক্যামপ’এর ভেতরে ও বাইরে নির্মম যৌন সহিংসতার শিকার হয়। ধর্ষিতাদের বেশিরভাগই ছিলেন মুসলিম। সাংস্কৃতিক নিধনের স্বার্থে ‘সিস্টেমেটিক্যালি’ ব্যবহার করা হয়েছিল ধর্ষণ। সার্বিয়ার সেনাবাহিনী, পুলিশ, আধা-সামরিক বাহিনীর নৃশংস , অমানবিক ধর্ষণে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণে বাধ্য হয়েছিলেন হাজার হাজার বসনিয়ান মুসলিম নারী। বসনিয়ার যুদ্ধ শেষ হয়েছে প্রায় দু’দশক আগে। কিন্তু সেসময়কার যৌন নির্যাতনের প্রভাব আজও সেখানে জ্যান্ত ক্ষতর বিদ্যমান। যেসব রোহিঙ্গা নারী ওইসব বসনীয় নারীদের মতো গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন, তাদের ভাগ্যও একই মোড় নিতে পারে। এখন হয়তো তাদের অসহায়ত্ব আর নিপীড়ন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হচ্ছে, তবে পরে তারাও অবহেলা আর অগ্রাহ্যতার শিকার হতে পারে। তাদের বিষয়ে নীরব হয়ে যেতে পারে বিশ্ব। তাদের সঙ্গে থেকে যেতে পারে শুধু মানসিক আঘাত।
বসনিয়ার ক্ষেত্রেও প্রথমদিকে সবাই এ বিষয়টি নিয়ে চুপ ছিল না। তৎকালীন সময়ে আহমেদ মেসিক নামের একজন বসনিয়ান ধর্মতত্ত্ববিদ, ইসলামিক আইনজ্ঞ আহমেদ নুরুদ্দিন ছদ্মনাম ব্যবহার করে ‘মেসেজ টু রেপড ওইমেন’ নামে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল- ধর্ষিতাদের ধর্মতত্ত্বীয় ব্যাখ্যা ও আধ্যাত্মিক সান্ত্ব্তনা-সমর্থন দেয়া। তার প্রবন্ধে মেসিক ধর্ষিতাদের ‘বিশ্বাসের শহীদ’ বলে ঘোষণা দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তাদের দেখাশোনা করা, সম্মান দেয়া, সমর্থন করা বসনিয়া সমপ্রদায়ের দায়িত্ব- বিশেষ করে পুরুষদের দায়িত্ব। মেসিক, ধর্ষিতাদের প্রতি পর্যাপ্ত সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থনের অভাবের সমালোচনা করেন। স্বাস্থ্যকর্মী, ধর্মীয় নেতা ও ধর্ষিতারা মেসিকের ওই বার্তা সাদরে গ্রহণ করেন। কিন্তু তার কথায় সরকার কান দেয়নি। এমনকি এখন পর্যন্ত বসনিয়ার যুদ্ধকালীন ধর্ষিতারা শুধু করুণা আর অবহেলার শিকারই হননি, পাশাপাশি সামজিকভাবে মর্যাদাহানিও করা হয়েছে তাদের। ২০১৫ সালে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের করা এক গবেষণা অনুযায়ী, ওইসব ধর্ষিতার দুই-তৃতীয়াংশ জানিয়েছে, তাদের ধর্ষণের খবর জানার পর থেকেই তারা প্রতিনিয়ত পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের অপমান, নিন্দা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির লিঙ্গ, রাজনীতি ও ধর্মবিষয়ক সহকারী অধ্যাপক ও বসনিয়ান গবেষক জিলকা সপাহিক-সিলজাক বলেন, এই নারীদের কথা মনে রাখা হয়নি। কারণ, তাদের দেখলে ওই রাষ্ট্রের লজ্জা ও পরাজয়ের কথা মনে পড়ে যায়।
রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে, আমরা এখনো কোনরকমের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতেই ব্যর্থ। মিয়ানমার সরকার তাদের বিরুদ্ধে আনীত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ ভুগছে অনিশ্চয়তায়। সামপ্রতিক সহিংসতায় ধর্ষণের শিকার হওয়া রোহিঙ্গা নারীদের ভাগ্যও ওই বসনীয় ধর্ষীতাদের মতই মোড় নেয়ার ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে। এপি’র প্রতিবেদনে, একজন ধর্ষিতার কাহিনীর বর্ণনায় বলা হয়- তার স্বামী যখন শুনলো যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী তার গর্ভবতী স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছে, তখন তার প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘আমার স্ত্রী কেন ওইসময় পালিয়ে যায়নি?’ এমনকি ওই ব্যক্তি ধর্ষিত হওয়ার কারণে তার স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ করার হুমকিও দেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বহু ধর্ষিত রোহিঙ্গা নারী সামাজিক-অবমাননার ভয়ে ধর্ষণ-পরবর্তী চিকিৎসা নেয়ার চেষ্টাও করছেনা। সপাহিক-সিলজাক বলেন, বসনিয়ান ও অন্যান্য যুদ্ধকালীন ধর্ষিতাদের প্রয়োজন তাদের নিজ গল্প বলার একটি জায়গা ও উপায়। এতে করে তারা শুধু ধর্ষণের শিকার থাকবে না, তারা লরাই করে বেঁচে যাওয়াদের একজন হবে। কিন্তু বর্তমান সমাজে এমন পরিবেশ তৈরি করা বেশ কঠিন কাজ।
মেসিক, তার প্রবন্ধে চরম পর্যায়ের নৃশংসতার শিকার হওয়া এসব নারীদের জন্য যে বার্তা রেখে গেছিলেন তার প্রয়োজন আজও রয়ে গেছে। তবে দুর্ভাগ্যজনকক্রমে, তার সেই বার্তাই অনেকে ভুলে গেছে। মেসিক বলেছিলেন, যুদ্ধকালীন ধর্ষিতাদের প্রতি সম্মান দেখাতে। একজন ইসলামিক পণ্ডিত হিসেবে, তিনি তার পাঠকদের ইসলামিক শিক্ষার মাধ্যমে মনে করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন যে- ধর্ষিতাদের ওপর নির্যাতন চালানো ওই অপরাধীদের শাস্তি দেয়া হবে আর ধর্ষিতারা সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত হবে। সৃষ্টিকর্তা নিপীড়িতদের পাশেই থাকবে। বহু রোহিঙ্গা নারী বর্তমানে এমনটাই অনুভব করেন। গণধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়া এক রোহিঙ্গা নারী এপিকে বলেন, ‘তারা (সেনাবাহিনী) আমাদের পৃথিবী থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল। তারা অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়েছেন।’ বসনিয়ার অনেক ধর্ষিতাও এমনটা অনুভব করেন। কিন্তু আফসোস, আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের কোন সদস্য তাদের নিজ সমপ্রদায়ের লোকদের পাশে ছিল না। অন্তত যথেষ্ট পরিমাণে না। বসনিয়ায় ধর্ষিতারা যেই লাঞ্ছনা, সামাজিক-অবমাননার শিকার হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটা উচিত নয়। এই গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। যৌন নির্যাতনের শিকারদের সমর্থন দিতে হবে। তাদেরকে প্রাপ্য অধিকার ও সম্মান ফিরিয়ে দিতে হবে।
(নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত, রিয়াদা আসিমভিক আকিওল লিখিত নিবন্ধের আলোকে)

ট্রাম্পের ঘটনাবহুল এক বছর by মিসবাহুল হক

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এক বছর পূর্ণ করতে চলেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারণার সময়েই বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে সমালোচিত হন তিনি। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পরেও সেই ধারা অব্যাহত থাকে। তার বিভিন্ন বিতর্কিত পদক্ষেপ দেশে ও দেশের বাইরে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এক বছরে ট্রাম্পের আলোচিত ও সমালোচিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের চুম্বক অংশ পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।
২০শে জানুয়ারি: দায়িত্ব গ্রহণ
এ বছরের ২০শে জানুয়ারি ডনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি বৈদেশিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করার ঘোষণা দেন।
তার মতে, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পাবে। পাশাপাশি বিভিন্ন চুক্তিতে সহযোগী দেশের ঘাটতির দায় থেকে মুক্তি পাবে যুক্তরাষ্ট্র।
২৩শে জানুয়ারি: টিপিপি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২৩শে জানুয়ারি ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এশিয়া নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রসহ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১২টি দেশ টিপিপি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তির প্রধান লক্ষ্য ছিল স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা। এই লক্ষ্যে দেশগুলোর মধ্যে বিনা শুল্কে বাণিজ্য ব্যবস্থা চালু করা হয়।
২৭শে জানুয়ারি: ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা
এদিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বহুল আলোচিত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। যার মাধ্যমে মুসলিমপ্রধান ছয়টি দেশের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটি পরে কয়েক দফা সংশোধন করা হয়। তবে ওয়াশিংটনের আদালত এই আদেশ আংশিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে। একই সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিবাসন বিষয়ক আরো দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। একটিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের নির্দেশনা দেন। অন্যটিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের রাষ্ট্রীয় সহায়তা সীমিত করা হয়।
৭ই এপ্রিল: সিরিয়া আক্রমণ
সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রতিক্রিয়ায় দেশটির শায়রাত বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ৭ই এপ্রিল এই হামলার অনুমতি দেন ট্রাম্প। তবে নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে রাশিয়া। উল্লেখ্য, সিরিয়া যুদ্ধে সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করে রাশিয়া।
১৮ই মে: নাফটা চুক্তির আধুনিকায়ন
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (নাফটা) চুক্তি আধুনিকায়ন করার নির্দেশনা দেন। বাণিজ্যবিষয়ক মার্কিন দূত লাইথিজার নাফটা চুক্তি আধুনিকায়নের বিষয়ে হোয়াইট হাউজের মনোভাব কংগ্রেসে উত্থাপন করেন। এই চুক্তির অন্য দুই অংশীদার হল মেক্সিকো ও কানাডা। ১৯৯৪ সালে নাফটা চুক্তি কার্যকর হয়। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ন্যায্যতা ফিরিয়ে আনতে চুক্তি পুনরালোচনা করার মনোভাব ব্যক্ত করেন তিনি।
২০-২৭শে মে: ট্রাম্পের প্রথম বিদেশ সফর
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম-বারের মতো বিদেশ সফরে যান ট্রাম্প। ২০-২৭শে মে সৌদি আরব, ইসরাইল, পশ্চিম তীর, ইতালি, ভ্যাটিকান সিটি ও বেলজিয়াম সফর করেন তিনি। রিয়াদে আরব ও মুসলিমপ্রধান দেশের নেতাদের সম্মেলনে অংশ নেন ট্রাম্প।
১লা জুন: প্যারিস চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়
জুন মাসের প্রথম দিনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেন। ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৮৮টি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এর আওতায় বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি এমন পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
৫ই জুন: কাতার সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা
কাতার সন্ত্রাসবাদের মদদ দিচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে ৫ই জুন দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হঠকারিতায় দেশটি সমর্থন দিচ্ছে এমন অভিযোগও তোলা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে এই অবরোধে সমর্থন দেন। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে সচেষ্ট হন।
১৬ই জুন: কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক
প্রেসিডেন্ট ওবামা তার শাসনামলে কিউবার সঙ্গে উদার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু এ বছরের ১৬ই জুন ট্রাম্প ওবামা প্রশাসনের নীতির অবসান করে দেশটির ওপর ভ্রমণ ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তবে কিউবা-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্ক বহাল রাখা হয়।
৫ই জুলাই: ট্রাম্প-পুতিন সাক্ষাৎ
জার্মানিতে জি-২০ সম্মেলনে অংশ নেন ট্রাম্প। সম্মেলনের ফাকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর এটিই ট্রাম্প ও পুতিনের প্রথম বৈঠক। গত বছরের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠায় দুই বিশ্ব নেতার এ বৈঠক ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পকে জেতানোর পিছনে রাশিয়ার হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর আগে ওয়ারশোতে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। সেখানে প্রথমবারের মতো ন্যাটোর সদস্য দেশুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নীতির বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করেন তিনি।
৮ই আগস্ট: উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বাকযুদ্ধ
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বাকযুদ্ধ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক বছরের শাসনামলের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াম দ্বীপে ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করার হুমকি দেয়। প্রতিক্রিয়ায় ৮ই আগস্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে সতর্ক করে বলেন, দেশটি যদি এই ধরণের হুমকি দেয়া অব্যাহত রাখে তাহলে তাদেরকে ‘আগুন ও বারুদের’ জবাব দেয়া হবে। মূলত এই হুমকি থেকেই উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র হুমকি আদান-প্রদান শুরু হয়। দুই দেশের বাকযুদ্ধ এখনো চলছে।
৫ই সেপ্টেম্বর: ওবামার অভিবাসন নীতি বাতিল
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বহুল আলোচিত ডিফারড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডিএসিএ) নীতি বাতিল করেন। ২০১২ সালে বারাক ওবামা এই নীতি চালু করেছিলেন।
১৩ই অক্টোবর: ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে স্বাক্ষরে অস্বীকৃতি
ছয় বিশ্ব শক্তি ও ইরানের মধ্যে ২০১৫ সালে জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন টু কংগ্রেস (জেসিপিওএ) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনার বিনিময়ে ইরানকে অর্থনৈতিক অবরোধ থেকে মুক্তি দেয়া হয়।
৬ই ডিসেম্বর: জেরুজালেম ঘোষণা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কয়েক শতকের মার্কিন নীতি লঙ্ঘন করে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি দাবি করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। তিনি মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেন। তার এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হয়েছে গোটা বিশ্ব। মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ওআইসির জরুরি অধিবেশন বসে তুরস্কে। এতে ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণা প্রত্যাখান করে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। মুসলিম নেতারা ট্রাম্পের ঘোষণাকে বিপজ্জনক আখ্যা দেন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ট্রাম্পের ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। কয়েকটি দেশ ছাড়া সবগুলো দেশই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তার সিদ্ধান্তে অবিচল। দেশটি তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মত প্রকাশকারী দলগুলোকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছে।

ভোটে পেছাচ্ছে এসএসসির দুই দিনের পরীক্ষা

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচনের জন্য এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পেছাতে সম্মত হয়েছে ঢাকা বোর্ড। ফেব্রুয়ারি ২৪ ও ২৫  তারিখ পরীক্ষা পেছানোর সম্মত হয়েছে ঢাকা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড। জানুয়ারিতে তফসিল ঘোষণা করা হবে।

জানালেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

মঙ্গলবার ঢাকার নির্বাচন ভবনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

তিনি বলেন, ভোটের তারিখ নির্ধারণের জন্য ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি এসএসসিতে নির্ধারিত পরীক্ষা পেছাতে অনুরোধ করা হয়েছিল। ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা তাতে সম্মতি দিয়েছেন।

হেলালুদ্দীন জানান, বোর্ডের চেয়ারম্যানরা বলেছেন পরীক্ষা পেছাতে কোন সমস্যা নেই। তফসিল ঘোষণার পর মার্চে পরীক্ষার নতুন তারিখ দেওয়া হবে। সব ধরনের জটিলতা পেরিয়ে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ২৪ ফেব্রুয়ারির পর যে কোন দিন ভোটের তারিখ ঠিক করে এই তফসিল হবে।

আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তরের মেয়র পদ এবং সম্প্রসারিত সীমানায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবগঠিত ৩৬টি সাধারণ ও ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে এ নির্বাচন হবে।

তবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার যে সূচি ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে ২৪ ও ২৫ তারিখও পরীক্ষা থাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন নির্বাচন কমিশন। 

সূচি অনুযায়ী ২৪ ফেব্রুয়ারি ভূগোল ও পরিবেশ এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি সংগীত বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল, যা এখন পিছিয়ে যাবে। নিয়ম অনুযায়ী ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

চট্টগ্রামে স্কুলে ভর্তির ফল ফেইসবুকে ফাঁস


চট্টগ্রামের নামি একটি সরকারি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার আগেই তা ফেইসবুকে ফাঁস হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় দুটি কোচিং সেন্টারের দুই মালিক, দুইজন স্কুল শিক্ষক এবং দুই স্কুল কর্মচারী জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

চট্টগ্রামের সরকারি কলেজিয়েট স্কুলের ভর্তি পরীক্ষার ফল ফাঁসের এ ঘটনায় নগরীর সদরঘাট থানায় একটি মামলা হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

সোমবার চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ওই ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ২১ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু তার ঘণ্টাখানেক আগেই সে ফল ফাঁস হয়ে যায় ফেইসবুকে।

জেলা প্রশাসন বলছে, কলেজিয়েট স্কুলে ফলাফল প্রক্রিয়াকরণের পর জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরের জন্য কেন্দ্র থেকে কাগজপত্র নিয়ে আসা হয়।

“এরপর ওই কেন্দ্রের কম্পিউটারে রক্ষিত সফট কপি প্রিন্ট করে শিক্ষক-কর্মচারী ও কয়েকজন অভিভাবকের সহায়তায় বাবলা স্যার কোচিং সেন্টারের পরিচালক বাবলা দে-কে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া মামুন কোচিং সেন্টারের পরিচালক মো. মামুনের সহায়তায় বাবলা দে ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।”

ফেইসবুকে প্রকাশিত ফলাফল এবং পরে সরকারিভাবে প্রকাশিত ফলাফল একই বলে জানানো হয় জেলা প্রশাসনের বিবৃতিতে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমান  বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে শিক্ষক ও কোচিং সেন্টারের মালিকদের পারষ্পরিক যোগসাজোশে ফলাফল ফাঁসের প্রমাণ আমরা পেয়েছি।”

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের উচ্চমান সহকারী সজল কান্তি মজুমদার বাদী হয়ে রোববার একটি মামলা দায়ের করেন।

কলেজিয়েট স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন ও আনিছ ফারুক, উচ্চমান সহকারী ফারুক আহমেদ ও কম্পিউটার অপারেটর রিদুয়ানুল হক এবং দুই কোচিং সেন্টারের মালিক বাবলা দে ও মো. মামুনকে আসামি করা হয়েছে ওই মামলায়।

কম্পিউটার অপারেটর রিদুয়ানুল হককে ইতোমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান।

তিনি বলেন, “ভর্তি পরীক্ষা সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তারপরও তারা এ কাজ করেছে। আমরা কাউকে ছাড় দেব না।”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদরঘাট থানার এসআই মো. আওরঙ্গজেব বলেন, “আমরা তদন্ত করছি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

বছর শেষে যেসব ফোনে কাজ করবে না হোয়াটসঅ্যাপ


 স্মার্টফোনের অনেক ব্যবহারকারীর জন্য হোয়াটসঅ্যাপের ২০১৭ সালের ‘বিদায়ী বার্তাটি’ সুখকর হচ্ছে না। কারণ বছর শেষে অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বরের পর বেশ কয়েকটি মোবাইলে কাজ করবে না বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপটি।

এ বিষয়ে এক ব্লগ পোস্টে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্ল্যাকবেরি ওস, ব্ল্যাকবেরি ১০, উইন্ডোজ ফোন ৮.০ সহ পুরনো অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত ফোনগুলোতে ৩১ ডিসেম্বরের পর হোয়াটসঅ্যাপ আর কাজ করবে না। এর ফলে এসব ফোন ব্যবহারকারীদের হাতে সময় রয়েছে এক সপ্তাহের কম।

এছাড়া ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর নকিয়া এস৪০ ফোনে এবং ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অ্যান্ড্রয়েড ২.৩.৭ ও জিঞ্জারব্রেড অপারেটিং সিস্টেমের মোবাইলে কাজ করবে না হোয়াটসঅ্যাপ। যদিও ২০১৭ সালের ৩০ জুন থেকে নকিয়ার সিমবিয়ান এস৬০-তে পরিচালিত ফোনে কাজ করছে না অ্যাপটি।
 
চলতি বছরের জুনে উভয় প্লাটফর্মে (মোবাইল, ডেস্কটপ) ব্যবহারের সুবিধা চালু করে হোয়াটসঅ্যাপ। সবশেষ তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ১৩০ কোটি ব্যবহারকারী নিয়মিত অ্যাপটির মাধ্যমে তাদের ভাব আদান-প্রদান করছেন। যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) এক অনুষ্ঠানে ঘুষ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের জবাব দিতে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে আসছে, অতীতের সঙ্গে তুলনা করে বর্তমানের কথা ধরে নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। এমন বিবৃতি দেওয়ার পর বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করবেন নাহিদ।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আফরাজুর রহমানের পাঠানো মিডিয়া কাভারেজ থেকে জানা যায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিষয়ে বেলা ১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বক্তব্য রাখবেন শিক্ষামন্ত্রী।

গত ২৪ ডিসেম্বর শিক্ষামন্ত্রী ডিআইএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ল্যাপটপ ও প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী এ অধিদপ্তরের অতীতের/আট বছর আগের উদাহরণ দিতে গিয়ে ডিআইএ’র কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির কথা তুলে ধরেন।

‘ঘুষ খাবেন, কিন্তু সহনীয় হয়ে’- এমন শিরোনামে ওই অনুষ্ঠানে খবর গণমাধ্যমে আসে।

এরপর মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় মনে করে প্রকাশিত সংবাদে ভুল বুঝাবুঝির অবকাশ রয়েছে।

বিবৃতিতে মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, তিনি বলেছেন, বর্তমানে পিয়ার ইনস্পেকশন ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর ফলে এ অবস্থার অনেক পরিবর্তন ও উন্নতি হয়েছে।

ডিআইএ’র কর্মকর্তাদের কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি ডিআইএ’র একজন কর্মকর্তাকে দুর্নীতির প্রমাণসহ দুদকের সহায়তায় গ্রেফতার করা হয়েছে। মন্ত্রী ঘুষ-দুর্নীতি বিষয়ে ডিআইএ-সহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থার প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি স্মরণ করিয়ে দেন।

‘কিন্তু প্রকাশিত সংবাদগুলোতে ডিআইএ’র অতীত বিষয়ক বক্তব্য বা তুলনাকে বর্তমানের কথা ধরে নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। যা দুঃখজনক, বিভ্রান্তিকর ও শিক্ষামন্ত্রীর মূল বক্তব্যের বিপরীত এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বর্তমান নীতির পরিপন্থী।’

ট্রেনে তরুণীর প্রসব করালেন চিকিৎসক


ভারতের ঝাড়খণ্ডের কাণ্ডরা স্টেশন থেকে বাঁকুড়ার গোবিন্দনগরে বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন গর্ভবতী লক্ষ্মী গুপ্ত। এদিকে রোববার রাতে দলীয় কর্মসূচি শেষ করে ফেরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়ালকে ট্রেনে তুলতে পুরুলিয়া স্টেশনে ছিলেন রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি সুভাষ সরকার।

এমন সময় প্রসব বেদনা শুরু হয় লক্ষ্মীর। সুভাষ সরকার পেশায় স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। তৎক্ষণাৎ প্রসবের প্রক্রিয়ায় হাত লাগান তিনি। খবর পেয়ে রেলের চিকিৎসক আসেন। তবে তার আগেই প্রসবের যাবতীয় প্রক্রিয়া সেরে ফেলেন তিনি।

লক্ষ্মী ও তার নবজাতক পুত্রসন্তান সুস্থ রয়েছে। পরে রেল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা করে পরে মা ও নবজাতককে পুরুলিয়ার দেবেন মাহাত সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়।

এ বিষয়ে সুভাষ বলেন, দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মও প্ল্যাটফর্মেই হয়েছিল। সেই কথা মনে রেখে আমরা শিশুটির নাম দীনদয়াল রেখেছি। দীনদয়ালের সঙ্গে ট্রেনের সম্পর্ক নিবিড়। তার জন্ম হয়েছিল প্ল্যাটফর্মে। ১৯৬৮ সালে তার মৃত্যুও হয় ট্রেনের কামরায়।

‘নোলক’র ববি কেমন?

ভারতের হায়দরাবাদে শুটিং চলছে রাশেদ রাহা পরিচালিত ‘নোলক’ সিনেমার। ছবিটিতে অভিনয় করছেন শাকিব খান ও ববি হক। এর আগেই শাকিব খানের ফার্স্ট লুক প্রকাশ করা হয়েছে। পরবর্তীতে নবান্ন উৎসবের আমেজেও শাকিবকে দেখা গেছে।

কিন্তু ববি যেন কিছুটা অন্তরালেই ছিলেন। এবার পাওয়া গেলো ‘নোলক’-এর ববিকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়েছে নোলক সিনেমায় ববির ফার্স্ট লুক। এতে আবেদনময়ী চাহনিতে নজর কেড়েছেন এই নায়িকা।

নির্মাতা রাশেদ রাহা জানান, গেলো ১ ডিসেম্বর থেকে ছবিটির শুটিং চলছে হায়দরাবাদের রামুজি ফিল্ম সিটিতে। শাকিব-ববিকে অন্যরকম জুটি হিসেবে এই সিনেমায় দেখতে পাবেন দর্শক।

তরুণ নির্মাতা রাশেদ রাহা বলেন, ছবিতে ববির চরিত্রটি একদম আলাদা। তাকে এমন চরিত্রে আগে কখনো দর্শকরা দেখেননি। আর সঙ্গে আছেন শাকিব খান। সবমিলে দর্শকদের ভালো কিছু দিতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।

এর আগে শাকিব-ববিকে ফুল অ্যান্ড ফাইনাল, রাজত্ব, হিরো- দ্য সুপারস্টার, রাজাবাবু- দ্য পাওয়ার ছবিগুলোতে দেখা গেছে। এবার নোলক সিনেমা নিয়ে দর্শকের সামনে আসছেন এই তারকা জুটি।

চিত্রনায়িকা ববি জানান, এই সিনেমাটি সবার ভালো লাগবে। এমন একটি কাজের জন্য অনেক দিন থেকেই তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শাকিব খানের সঙ্গে আগের ছবিগুলো দর্শক পছন্দ করায় নতুন ছবি নিয়েও আশাবাদী ববি।

১৫০ বগি ও ২০ ইঞ্জিন কিনছে সরকার

 বাংলাদেশের রেলওয়ে খাতকে আরো একধাপ এগিয়ে নিতে ১৫০টি বগি ও ২০টি ইঞ্জিন কিনছে সরকার। এজন্য ব্যয় হবে ১৮শ কোটি টাকা। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এগুলো কেনা হবে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ সংক্রান্ত প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। 

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

সভায় এটিসহ ১৬ হাজার ১০ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১৬টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে প্রকল্প সাহায্য ৩ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা এবং বাকিটা সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে মেটানো হবে।

একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ব্রিফ করেন।

তিনি বলেন, আজকের সভায় ১৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৬ হাজার ১০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে ১১ হাজার ৮৭০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ব্যয় হবে ৩০০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এছাড়া প্রকল্প সাহায্য থেকে আসবে ৩ হাজার ৮৩৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা।


চার নারী ধর্ষণ মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেল পিবিআই


চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় একই পরিবারের ৪ নারী ধর্ষণ মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মঙ্গলবার বিকেলে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর জনসংযোগ কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বিষয়টি আরটিভি অনলাইনকে নিশ্চিত করেন।

সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, আমরা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। পিবিআই হেডকোয়ার্টার থেকে মামলার তদন্তভার গ্রহণের জন্য আমাদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গেলো ১২ ডিসেম্বর কর্ণফুলী থানাধীন শাহমীরপুর এলাকার একটি বাড়িতে ডাকাতির পর ওই পরিবারের চার নারীকে ধর্ষণ করে ডাকাতরা।

এ ঘটনায় প্রথমে থানা পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করলেও পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের হস্তক্ষেপে ১৭ ডিসেম্বর মামলা গ্রহণ করে পুলিশ। ওই মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে গেলো সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই ধর্ষণের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নিতে পুলিশের আংশিক ব্যর্থতা ছিল বলে স্বীকার করেন নগর পুলিশের উপকমিশনার (বন্দর) হারুণ অর রশিদ হাযারী।

চট্টগ্রাম মহানগর আ’লীগের সভাপতি মাহতাব চৌধুরী

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনোনীত হয়েছেন মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর জহুর আহমদ চৌধুরীর ছেলে। দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের সভায় এই ব্যাপারে আলোচনা শেষে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সিদ্ধান্ত জানান।

রোববার চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী বিএনএ ফ্লোটিলায় রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে মাহতাব উদ্দিনের ভাই হেলাল উদ্দিন চৌধুরী তুফানকে বিষয়টি অবহিত করেন।

এ ব্যাপারে জহুর আহমদ চৌধুরীর ছেলে হেলাল উদ্দিন চৌধুরী তুফান বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুপুর ১২টার দিকে নৌবাহিনীর প্যারেড শেষ করে হেঁটে যাওয়ার সময় আমি সালাম দিয়েছিলাম। এ সময় আমাকে ডেকে বললেন, ‘মাহতাবকে (মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী) দায়িত্ব দিলাম। আমি তোমাদের পরিবারকে সম্মান দিয়েছি।’

জানা গেছে, গত ২৩ ডিসেম্বর দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় দলের এক নম্বর সহসভাপতি হিসেবে মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভায় উপস্থিত দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

মোশাররফ হোসেন জানান, মাহতার উদ্দিন চৌধুরীকে না দিয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দিলে সাংগঠনিক জটিলতা বাড়তে পারে– এই কারণে এক নম্বর সহসভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

পরবর্তী কমিটি না হওয়া পর্যন্ত মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীই ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি পদটি শূন্য হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ওই সময় ফের মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি করা হয়। এছাড়া আ জ ম নাছির উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক এবং মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীকে এক নম্বর সহসভাপতি করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয়।

১২ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা

আগামী ১২ জানুয়ারি টঙ্গীর তুরাগ তীরে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমা। আয়োজনকে সফল করতে স্বেচ্চাসেবীদের নিয়ে চলছে জোর প্রস্তুতি। এরইমধ্যে ইজতেমার প্রায় ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে।

তাবলিগ জামাতের মুরব্বী গিয়াস উদ্দিনের ভাষ্য মতে, আগামী ১২ জানুয়ারি ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরুর আগেই ময়দানসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে যাবে।

বিশ্ব ইজতেমাকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে গতবারের মতো এবারেও দুই পর্বে আয়োজন করা হয়েছে। ১২ জানুয়ারি শুক্রবার ফজর নামাজের পরপরই আম বয়ানের মাধ্যমে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। যা আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ১৪ জানুয়ারি শেষ হবে। এরপর ১৯ জানুয়ারি শুক্রবার ফজরের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা শুরু হবে। প্রথম পর্বের ন্যায় আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ২১ জানুয়ারি শেষ হবে।

২০১৮ সালে ২ পর্বে অংশগ্রহণকারী ৩২ জেলা হলো :  ঢাকা, শেরপুর, নারায়ণগঞ্জ, নীলফামারী, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, গাইবান্ধা, লক্ষীপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, নড়াইল, মাদারীপুর, ভোলা, মাগুরা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠিী, পঞ্চগড়, ঝিনাইদহ,  জামালপুর, ফরিদপুর, নেত্রকোনা, নরসিংদী, কুমিল্লা, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, ফেনী, ঠাকুরগাঁও, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা ও পিরোজপুর।

উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সাল থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমায় যোগদানের ব্যাপারে ৬৪ জেলার অংশগ্রহণকারীদেরকে ৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এক বছর পর পর সবাই ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। অর্থাৎ প্রতি বছর ৩২ জেলার লোকজন ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। আর এ ৩২ জেলার অংশগ্রহণকারীদেরকেও আবার দুই পর্বে বিভক্ত হয়ে অংশ গ্রহণ করতে হবে।

ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে নিহত তিন পাকিস্তানি সেনা

দুইদিন পর পাকিস্তানের হামলার জবাব দিল ভারত। সোমবার ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তিন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। এসময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক সদস্যও আহত হয়েছেন।

পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীরে রাওলাকোট সেক্টরের রাখচিকরিতে মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে এ হামলা চালায় ভারতীয় সেনারা। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

এদিকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে মঙ্গলবারের হামলা ‘বিনা উস্কানিতে’ চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়, 'বিনা উস্কানিতে’ গুলি চালানোর জন্য ভারতের সেনাবাহিনী দায়ী। অন্যদিকে ভারতের সেনাবাহিনী এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, দুই পক্ষের গুলি বিনিময়ের সময় পাকিস্তানি সেনারা নিহত হয়েছে।

এর আগে শনিবার লাইন অব কন্ট্রোলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর গুলিতে একজন মেজরসহ তিন ভারতীয় সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরির কেরি সেক্টরে টহলরত ভারতীয় সেনাদের ওপর গুলি ছোঁড়ার ঘটনায় তারা নিহত হন। শনিবারের ওই হামলার জবাব দিতেই সোমবার হামলা চালায় ভারতীয় সেনাবাহিনী।

নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের জন্য পাকিস্তান ও ভারতের সেনারা প্রায়ই পরস্পরকে দায়ী করে থাকে। ভারত ও পাকিস্তান কাশ্মীর সীমান্তে যুদ্ধ না করার ব্যাপারে ২০০৩ সালে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করে। কিন্তু দুই দেশের সেনাবাহিনী এ পর্যন্ত বহুবার ওই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।

কিউবায় আতশবাজির বিস্ফোরণে শিশুসহ আহত ৩৯

কিউবায় ক্রিসমাস উদযাপনের এক অনুষ্ঠানে আতশবাজি বিস্ফোরণে অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জন শিশুও রয়েছে। যাদের বয়স ১১ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর ২৪ ডিসেম্বর রেমেডিওস শহরে পারান্ডাস নামে শতবর্ষী পুরনো উৎসব চলে। হাজার হাজার কিউবান ও পর্যটকরা এখানে অংশ নেন। সেখানেই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, রেমেডিওসে এক দুর্ভাগ্যজনক আতশবাজির বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, আহত ২০ জনের অবস্থা গুরুতর। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের সবাই স্থানীয় বাসিন্দা। তবে কোনো পর্যটকের আহত হওয়ার খবর এখনো জানা যায়নি।

কী কারণে সেখানে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে সেটা এখনো জানা যায়নি। তবে বিস্ফোরণের কারণ জানতে তদন্তকাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

রেমেডিওস শহরটি দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় ভিল্লা ক্লারা প্রদেশে অবস্থিত। সেখানে ক্রিসমাসের আগের দিন থেকেই প্রতিবছর কিউবায় হাজার হাজার মানুষ উৎসব করতে থাকে। এসব উৎসবের মূল আকর্ষণ হচ্ছে আতশবাজি।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে এখন লেনদেন ৮৯১ কোটি টাকা


মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন ক্রমেই বাড়ছে। এক মাসের ব্যবধানে এই লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ২৪ শতাংশেরও বেশি। একই সঙ্গে বেড়েছে এজেন্ট সংখ্যাও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮৯১ কোটি টাকা। যা সেপ্টেম্বরের তুলনায় ২৪ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। পুরো অক্টোবরে মোট লেনদেন হয়েছে ২৭ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা।

লেনদেনের পাশাপাশি বেড়েছে এজেন্ট সংখ্যাও। সেপ্টেম্বরে এজেন্ট সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৭৩ হাজার ২৮৩ জন। অক্টোবরে ১ হাজার ৬০৯ জন বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯২ জনে।

অক্টোবর পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৭৮ লাখ। এর মধ্যে চালু রয়েছে ২ কোটি ৮০ লাখ হিসাব। এসব হিসাব থেকে অক্টোবরে মোট লেনদেন হয়েছে ২৭ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা রেমিটেন্স বিতরণ হয়েছে।

এছাড়া ক্যাশ ইন হয়েছে ১১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। আর ক্যাশ আউট ১০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। ব্যক্তি পর্যায়ে পরিশোধ হয়েছে ৪ হাজার ৪৩ কোটি টাকা।

বাকি অর্থ আদান-প্রদান হয়েছে ইউটিলিটি বিল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা, সরকারি বিল পরিশোধসহ অন্যান্য খাতে।

সৌদি আরব কি ইসরাইলের ফাঁদে আটকা পড়েছে?

সৌদি আরব ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানকে ইসরাইল সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে ইহুদিবাদী দৈনিক হারেত্‌জ খবর দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার কারণে সারা বিশ্বেই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ চললেও সৌদি আরব তার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। গত এক বছর ধরেই সৌদি আরব ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত সেসব দেশের শাসকেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, জনগণের মতামত এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব পায় না। ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সৌদি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। সৌদি শাসক গোষ্ঠী বিশেষকরে যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইসলামবিরোধী এ তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
তবে ইসরাইল ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার মূল কারিগর হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ের জামাই ও উপদেষ্টা জেরাড কুশনার। ইহুদি ধর্মাবলম্বী কুশনার ইহুদিবাদীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যুবরাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে রাসুলের জন্মভূমি সৌদি আরবের ওপর মার্কিন ও ইহুদিবাদী প্রভাব শতভাগ নিশ্চিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু'র দিকনির্দেশনায় ট্রাম্পের মেয়ের জামাই কুশনার এসব তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
বর্ণবাদী ইসরাইল সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে তারা গোটা মুসলিম বিশ্বের ওপর প্রভাব ফেলতে চায়। তারা গোটা বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দিতে চায় যে, সৌদি আরব হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের নেতা এবং সৌদি আরব যেখানে ইসরাইলকে মেনে নিচ্ছে সেখানে অন্যদের আর আপত্তি থাকা উচিত নয়। কারণ মুসলমানদের প্রধান দুই পবিত্র স্থান সৌদি আরবে থাকায় মুসলমানদের অনেকের মাঝেই দেশটির ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। এ প্রভাবকেই কাজে লাগাতে চায় ইসলামবিরোধী শক্তি।
এরইমধ্যে সৌদি শাসক গোষ্ঠীর ওপর ইহুদিবাদীরা যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে তা অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে গেছে গতকাল অনুষ্ঠিত ওআইসি'র শীর্ষ সম্মেলন থেকে। বায়তুল মুকাদ্দাস ইস্যুতে গতকাল তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ওআইসির যে বিশেষ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে সৌদি রাজা, যুবরাজ এমনকি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীও অংশ নেন নি। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, সৌদি আরব পুরোপুরি ইসরাইলের ফাঁদে আটকা পড়েছে। এর মধ্যদিয়ে সৌদি আরব আসলে মুসলিম বিশ্ব থেকেই নিজেকে আলাদা করে ফেলছে যা কখনোই কোনো মুসলমান প্রত্যাশা করে না।

রাজধানী হিসেবে জেরুসালেম : ১০ দেশের সমর্থন আদায়ের চেষ্টায় ইসরাইল

জেরুসালেমে রাজধানী করার পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য অন্তত দশটি দেশের সাথে যোগযোগ করছে ইহুদিবাদী ইসরাইল সরকার। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পর গুয়েতেমালার সমর্থন পাওয়ার পর দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিজিপি হতোবেলি মঙ্গলবার সরকারি বেতারে এ কথা বলেন। খবর এএফপি’র। উপমন্ত্রী বলেন, ‘রাজধানী স্থানান্তরের পক্ষে সমর্থনের জন্য আমরা ইরোপীয় দেশসহ কমপক্ষে দেশটি দেশের সাথে কথা বলেছি ।’ যদিও তিনি দেশগুলোর নাম বলেননি। তবে ইসরাইলের কূটনৈতিক সূত্রের বাত দিয়ে সরকারি বেতার জানায়, ফিলিপাইন, হন্ডুরাস, রোমানিয়া, দক্ষিণ সুদান তাদের মধ্যে অন্যতম। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যদিও যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী স্থানান্তরের ঘোষণার বিপক্ষে ভোট দিয়েছে।

স্বাধীন ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত জাপানের

স্বাধীন ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলো জাপান। ফিলিস্তিন সফররত জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টারু কোনো ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সাথে বৈঠকে এ সমর্থনের কথা বলেন। রামাল্লায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠককালে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জেরুসালেম বিষয়ক সর্বশেষ পরিস্থিতির কথা অবহিত করেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা।
মাহমুদ আব্বাস জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতির বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়ায় জাপানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি ফিলিস্তিনে জাপান সমর্থিত কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। বৈঠকে আব্বাস ফিলিস্তিন-জাপান সম্পর্ক আরো জোরদারের আহ্বান জানান। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানে দুই দেশ নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ফিলিস্তিনী জনগণের প্রতি জাপানের অর্থনৈতিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ঢাবি অধিভুক্ত গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল প্রকাশ করেন। ফলাফল অনুযায়ী, ঢাবির জীববিজ্ঞান অনুষদের অধীনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় ২ হাজার ৪৭৫ আসনের বিপরীতে আবেদনকারী ছিলো ৮ হাজার ৭৪৫ জন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৫ হাজার ৮৬৯ জন। পাস করেছে ৫ হাজার ২৭৪ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান ৩ হাজার ৪৪২ জন, মানবিক ৮৭৪ জন, ব্যবসায় ৯৩৭ জন ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি ২১জন।
ভর্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ প্রতিটি ছাত্রী তার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার রোল নম্বর, বোর্ডের নাম, পাসের সন ও মাধ্যমিক পরীক্ষার রোল নম্বরের মাধ্যমে admission.eis.du.ac.bd ওয়েবসাইট থেকে পরীক্ষার ফল জানতে পারবেন। এছাড়া যেকোনো মোবাইল অপারেটরের থেকে DU GOC< roll no> টাইপ করে ১৬৩২১ নম্বরে send করে ফিরতি SMS-এ ফলাফল জানতে পারবেন। উত্তীর্ণদের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারির মধ্যে বিষয় পছন্দ ফরম পূরণ করতে হবে। কোটায় আবেদনকারীদের একই সময়ের মধ্যে জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিস থেকে ফরম সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া ফলাফল নিরীক্ষণের জন্য ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিসে আবেদন করা যাবে।

যুবককে বিবস্ত্র করে পেটালো ছাত্রলীগ নেতা, এলাকায় তোলপাড়

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলিফ মাহমুদকে মাদক সরবরাহ না করায় কামরুল ইসলাম নামে এক যুবককে বিবস্ত্র করে পেটানো হয়েছে। সোমবার রাতে বাগাতিপাড়া উপজেলার পেড়াবাড়িয়া বাজারে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনা শুনে নাটোর-১ (লালপুর- বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থালে ছুটে এসে আলিফ মাহমুদকে দল থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলিফ মাহমুদকে বিভিন্ন সময় টাকার বিনিময়ে মাদক এনে দিতো লালপুর উপজেলার চকশোভপুর গ্রামের ওমর মন্ডলের ছেলে কামরুল ইসলাম। সম্প্রতি তাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে কামরুল বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলিফ মাহমুদকে মাদক সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এরই জেরে সোমবার সন্ধ্যার পর কামরুলকে নিজের অফিসে ডেকে আনেন আলিফ। এ সময় পুনরায় তিনি মাদক সরবরাহ করার প্রস্তাব দিলে কামরুল তাতে অস্বীকৃতি জানান। এসময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কামরুলকে দিগম্বর করে পেটাতে থাকে ছাত্রলীগ নেতা আলিফ।
কামরুল নিজেকে রক্ষা করতে বিবস্ত্র অবস্থায় চিৎকার করতে করতে ছুটে বাইরে বেরিয়ে বাজারে এস কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। এই দৃশ্য দেখে আশেপাশের লোকজন একটা গেঞ্জির হাতা কেটে পরিয়ে তার লজ্জা নিবারণ করার ব্যবস্থা করে দেয়। এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলিফ মাহমুদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সিগারেট কেনার ৫০০ টাকা চুরি করায় কামরুলের সাথে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে বিষয়টা মিটমাট হয়ে গেছে। বিবস্ত্র করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। এদিকে ঘটনাটি স্থানীয়দের কাছ থেকে মোবাইলে ফোনে জানতে পেরে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থালে ছুটে আসেন। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি আলিফ মাহমুদকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন। নাটোর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাকিবুল হাসান জেমস জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলিফ মাহমুদ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে শুনেছি। আমরাও তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেবো।

মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে ৫ দিনব্যাপী আন্তঃহাউজ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু

বর্ণাট্য আয়োজনে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে পাঁচ দিনব্যাপী ৫৪তম আন্তঃহাউজ বার্ষিক ক্রীড়া (অ্যাথলেটিকস) প্রতিযোগিতা আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। আজ সকাল ৯টায় কলেজ ক্যাম্পাসে পাঁচ দিনব্যাপী এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মি. বিমান রায় চৌধুরী।
এ সময় কলেজের অ্যাডজুট্যান্ট মেজর আব্দুল মালেক ও মেজর জাকারিয়া ফিরোজসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ক্যাডেটরা উপস্থিত ছিলেন। ক্যাডেট কলেজ সূত্র জানায়, এ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ৩০টি ইভেন্টে মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের ফজলুল হক হাউজ, নজরুল হাউজ ও সোহরাওয়ার্দী হাউজ এই তিনটি হাউজের দেড় শতাধিক ক্যাডেট বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়েছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর হবে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করবেন মেজর জেনারেল মো: আকবর হোসেন, এসইউপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি প্লাস, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ৯ পদাতিক ডিভিশন, সাভার সেনানিবাস, ঢাকা।

কাঠালিয়ায় শ্রমিক সঙ্কটে পাকা ধান ঝরে যাচ্ছে মাঠে

ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় চলতি মৌসুমে ধান কাটা শুরু হয়েছে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় সম্প্রতি অসময়ের ঝড়ো বৃষ্টিতে নিচু এলাকার পাকা ও আধা পাকা ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হলেও শ্রমিক সংকটে তা কেটে ঘরে তুলতে পারছে না কাঠালিয়ার চাষিরা। উপকূলীয় এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলন হলেও হঠাৎ করে ঝড়ো বৃষ্টির প্রভাবে অধিকাংশ জমির পাকা ও আধা পাকা ধান নিয়ে বিপাকে রয়েছে কৃষকরা। উপজেলার প্রধানত ৫৪টি গ্রামের চাষিরা এখন পাকা আমন ধান কাটার সময় শ্রমিক সংকটে পড়েছে। পাকা ধান ক্ষেতেই পেকে ঝরে যাচ্ছে। এ উপজেলায় ১০ হাজার ৯ শত ৫০ হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে আমনের আবাদ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরও ধানের বাজার ভাল থাকায় আমন চাষিরা লাভের স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু চাষিরা দৈনিক ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা মজুরি দিয়েও কৃষি শ্রমিক পাচ্ছে না। আর এ কারণে মাঠের ধান মাঠে ঝরে গিয়ে উৎপাদন হারাচ্ছে চাষিরা। কৃষি বিভাগ দাবি করেছে আগামীতে পদ্মা সেতু নির্মান হলে দক্ষিণ অঞ্চলের মধ্যে ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মিল কারখানা গড়ে উঠবে। তখন কৃষি শ্রমিক সংকট আরও বড় আকার ধারন করবে। তাই কৃষি বিভাগ সেই দিক বিবেচনা করে কৃষকদের দলবদ্ধ করে চাষাবাদকে যান্ত্রিকতার আওতায় আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই কৃষকদের উপস্থিতিতে কম্বাইন্ড হারবেস্টার, ডিপার মেশিন- এই যন্ত্রগুলো দিয়ে কৃষকের মাঠের ধান কর্তন করে মাঠ দিবস করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যন্ত্রের উপকারিতা ও অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে। কৃষক জালাল ফকির বলেন, এবছর আমন আবাদ ভালো হয়েছে কিন্তু দৈনিক ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা মজুরি দিয়েও কৃষি শ্রমিক পাচ্ছি না। আর এ কারণে মাঠের ধান মাঠে ঝরে গিয়ে উৎপাদন হারাচ্ছি আমরা চাষিরা।
কৃষক নূরনবী তালুকদার বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আমানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের সেই স্বপ্ন কষ্টার্জিত ধান এখন কাঁদা পানিতে লেপ্টে আছে। আশানুরূপ ফলন থেকে এবার কৃষকরা বঞ্চিত হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। কৃষি শ্রমিক সংকট থাকলে এবার ক্ষেতের ধান সঠিকভাবে কেটে ঘরে তোলা অসম্ভব বলে মনে মনে হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, এ উপজেলায় ১০ হাজার ৯ শত ৫০ হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে আমনের আবাদ করা হয়েছে। কয়েক দিনের বর্ষণে প্রায় ২৩শ’ ৭০ হেক্টর জমির আমন ধান হেলে পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধানের খড়কুটা পচে যাওয়ায় ও কর্দমাক্ত হওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিবে বলেও মনে করছে উপজেলা কৃষি অফিস। কাঠালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও রোপা আমন ধান চাষাবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ধানের ফলনও হয়েছে ভালো। তিনি বলেন, আমাদের দেশের স্বনির্ভরতার সবচেয়ে বড় অর্জন এই ধান। এ বছর কৃষি শ্রমিক সংকটের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, চাষিরা দৈনিক ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা মজুরি দিয়েও কৃষি শ্রমিক পাচ্ছে না। আর এ কারণে মাঠের ধান মাঠে ঝরে গিয়ে উৎপাদন হারাচ্ছে চাষিরা। ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক জানান, কৃষিশ্রমিক সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখেই চাষাবাদে কৃষকদের যান্ত্রিকতায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য রিপার মেশিন ও কম্বাইন্ড হারবেস্টারসহ কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় শুরু করা হয়েছে।

একই ইঞ্জিন : দামে ফারাক সাড়ে ৩ কোটি টাকা


মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তিন কোটি ৬৪ লাখ টাকা দর পার্থক্যে কোরিয়া থেকে আমদানি করা হচ্ছে রেলের লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন। জাইকার অর্থায়নে ২৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা দরে লোকোমোটিভ কেনা হয়। আর বর্তমানে ৩২ কোটি টাকা দরে কেনার জন্য চুক্তি করা হয়েছে। কোরিয়ার ঋণে শর্ত হলো সব কিছুই তাদের দেশ থেকে কিনতে হবে। কিছু দিনের ব্যবধানে বাড়তি দরে কোরিয়া থেকে লোকোমোটিভ কেনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্টরা। তারা এও বলছেন, এসব কেনার জন্য আটজন পরামর্শককে মাথাপ্রতি দিতে হবে এক কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই দশক ধরে লোকোমোটিভ, কোচ, ওয়াগন ক্রয়ের প্রকল্প নিয়েও বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীবাহী কোচ ও গাড়ির সঙ্কটের সমাধান হয়নি। মেরামতকৃত কোচের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও নতুন কোচ কেনার প্রকল্পও থেমে নেই। চলমান দশ প্রকল্পের মাধ্যমে মোট এক হাজার ১৬০টি লোকোমোটিভ, কোচ এবং ওয়াগন কেনার কথা। যার জন্য মোট অর্থ বরাদ্দ রয়েছে ছয় হাজার ৩০০ কোটি টাকা। প্রকল্পগুলো ২০০৭ সালে এবং ২০১০ সালে শুরু হয়েছে। কিন্তু আজো ক্রয় প্রকল্পগুলো শেষ হচ্ছে না। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত গত ছয় বছরে ৪৬টি লোকোমোটিভ, ৫১৬টি ওয়াগন সংগ্রহ করা হয়েছে। আর যাত্রীবাহী কোচ মেরামত করা হয়েছে ২৬০টি বলে রেলওয়ের ওয়েবের তথ্যে বলা হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার ঋণে কোরিয়া থেকে ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ এবং ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ কেনা হবে। আর এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৭৯৯ কোটি ১০ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। যার মধ্যে কোরিয়ার ঋণ সহায়তা হলো এক হাজার ৪১৪ কোটি ৬৭ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। বাকিটা বাংলাদেশ সরকারকে দিতে হবে। পুরনো ও মেয়াদহীন মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ এবং যাত্রীবাহী ক্যারেজগুলো প্রতিস্থাপনের জন্য এই প্রকল্প। পিইসিতে পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০টি এমজি ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৪০ কোটি টাকা। এখানে প্রতিটির দর দাঁড়াচ্ছে ৩২ কোটি টাকা।
কোরিয়ার সাথে গত ২০১৬ সালে করা ঋণ চুক্তির শর্তানুযায়ী লোকোমোটিভ ও কোচগুলো অবশ্যই কোরিয়া উৎপাদিত কোম্পানি থেকে সংগ্রহ করতে হবে। অন্য কোনো দেশ থেকে তা কেনা যাবে না। কোরিয়া থেকে বেশ কয়েক দফায় মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হয়েছে। জাইকার অর্থায়নে কেনা এসব লোকোমোটিভের দর ২৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আর এখনকার প্রকল্পের জন্য ৩২ কোটি টাকা একক দরকে যৌক্তিক বলে দাবি করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। অন্য দিকে ১৫০টি যাত্রীবাহী কোচ কেনা হবে। যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ফলে এখানে প্রতিটি কোচের দাম পড়ছে পাঁচ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। যেখানে চীন থেকে কেনা প্রতিটি কোচের দাম পড়েছিল তিন কোটি ২৯ লাখ টাকা। এসব কোচ ও ইঞ্জিন কেনার জন্য আটজন পরামর্শক নেবেন ১২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে রেলওয়েতে ১৮৬টি মিটারগেজ এবং ৯৬টি ব্রডগেজসহ মোট ২৮২টি লোকোমোটিভ রয়েছে। এদের অর্থনৈতিক মেয়াদ বা বয়স ২০ বছর হয়। যার মধ্যে ১৬৮টি লোকোমোটিভের বয়স বর্তমানে ৩০ বছর অতিক্রম করেছে। এখন এসব পুরনো দিয়েই রেলের কাজ চালানো হচ্ছে। এক হাজার ১৬৫টি যাত্রীবাহী মিটারগেজ ক্যারেজ রয়েছে। এসবের মেয়াদ হয় ৩৫ বছর। কিন্তু বর্তমানে ৪৫৬টি কোচের মেয়াদ ৩৫ বছর পার হয়ে গেছে। ১৩৫টির মেয়াদ ৩১ থেকে ৩৪ বছর। কোট স্বল্পতার কারণে এসব দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) দু’টি প্রকল্পের মাধ্যমে সংগ্রহাধীন তিন শ’টি এমজি যাত্রীবাহী কোচের কার্যাদেশ প্রাপ্ত দর এবং জাইকার অর্থায়নে সংগৃহীত ১১টি এমজি লোকোমোটিভ, ইডিসিএফের অর্থায়নে সংগৃহীত ৯টি এমজি লোকোমোটিভ কার্যাদেশকৃত স্পেসিফিকেশন এবং একক গড় মূল্যের সাথে পর্যালোচনা করতে হবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে চলমান প্রকল্পের যাত্রীবাহী কোচ ও লোকোমোটিভের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।

মহানবীকে অবমাননা : বিমানবন্দরে ব্লগার গ্রেফতার

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে অবমাননার অভিযোগে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এক এক ব্লগারকে গতরাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বরগুনার আমতলীতে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে জানুয়ারি মাসে দায়ের করা একটি মামলায় ঐ ব্লগারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তির নাম আসাদুজ্জামান নূর, যিনি আসাদ নূর নামে পরিচিত। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ফেসবুক, ইউটিউব এবং ব্লগে অডিও-ভিডিও এবং লেখনীর মাধ্যমে নবী মোহাম্মদকে অবমাননা করেছেন, এমন অভিযোগে একটি মামলা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার পর থেকে পুলিশ আসাদ নূরকে খুঁজছিল। এই মামলায় এর আগে আরেকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মি. শহীদুল্লাহ বলেছেন, আসাদ নূর যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে, সেজন্য পুলিশ ইমিগ্রেশনে অ্যালার্ট দিয়ে রেখেছিল। সে প্রেক্ষাপটে গতরাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে, ঢাকার বিমানবন্দর থানার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসাদ নূর গতকাল নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে গেলে সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। এখন সংশ্লিষ্ট থানা তাকে আদালতে উপস্থাপন করবে।

চুরি ছিনতাই ও স্প্রে আতঙ্কে ভৈরব শহরের মানুষ

কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরশহরে চুরি, ছিনতাই ও স্প্রে পার্টির তৎপরতা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭ দিনের ব্যবধানে পর পর দুটি স্প্রে পার্টি ও একটি দুর্ধর্ষ ছিনতাইসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় শহরের ফাতেমা রমজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে জাকির মিয়ার বিল্ডিংয়ের ভাড়াটিয়া হাজী হিরা মিয়ার পরিবারের খাবারের সাথে স্প্রে মেরে ৬ জনকে অজ্ঞান করার খবর নিশ্চিত করেছেন ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী সোহাগ। স্প্রে মিশ্রিত খাবার খেয়ে অক্রান্তরা হলেন হাজি হীরা মিয়া (৬৫), হাবিবুল্লা মিয়া (৩০), প্রিতম (২০), এবি (১৫), পরিষ্কার বানু (৫৫) ও তানিয়া (২০)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন হাজি হীরা মিয়াসহ পরিবারের ৬জন। ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী সোহাগ জানান, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা জানালা দিয়ে চেতনানাশক কোনো দ্রব্য খাবারে স্প্রে করার কারণে রাতের খাবার খাওয়ার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। কর্তব্যরত চিকিৎসক খুশবো জানান, চেতনানাশক দ্রব্য মিশ্রিত খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ৭২ ঘন্টা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মোখলেছুর রহমান জানান, রাতের খাবার খাওয়ার পর তারা সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। গত ১৯ ডিসেম্বর রাতের বেলা একই এলাকার হাজি তেলু মিয়ার বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে প্রয়োগ করে একই পরিবারের ১৩ সদস্যকে অজ্ঞান করেছে দুর্বৃত্তরা। আক্রান্তদের মধ্যে রুবেল (২৪), জিয়াসমিন (৩০) নিন্তাকে (৮) প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেন চিকিৎসক। আর ফুলমেহের (৭০), শিশু মিয়া (৪৮) রিতা বেগম (৪০), রিগান মিয়া (২৭), প্রিয়া (২২), রাকিব (৪), রাসেল (১৮), মেয়ে মাহিমা (১৫), জুয়েল মিয়া ও নরীনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২০ ডিসেম্বর ভৈরব শহরের নাটালের টোল প্লাজার অদূরে দুপুরের সময় ছিনতাইকারীরা পথচারী মিজানুর রহমানকে (৩০) গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তার সাথে থাকা নগদ টাকাসহ মোবাইল নিয়ে যায়। এছাড়া প্রতিদিন ভোর ও মধ্যরাতে ভৈরব স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকা, গাছতলা ঘাট ব্রিজ, গাছতলা ঘাট বাজার এলাকা, শিমুলকান্দি ইউনিয়নের রামশংকরপুর, চানপুর ব্রিজ ও রাজাকাটা গ্রামে প্রায়ই চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটছে বলে এলাকাবাসীরা জানান।

হিলসডেল মাল্টি ফার্ম : প্রকৃতির মাঝেই অনন্য সম্ভাবনা

সবুজ পাহাড়ের বুকে মায়াবী হরিণ আর জীবজন্তুর অবাধ বিচরণ, হরেক রকমের পাখির ওড়াওড়ি ও বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরাজির সমাহারে সম্ভাবনাময় এক পর্যটন কেন্দ্র হিলসডেল মাল্টি ফার্ম। মিরসরাই উপজেলার ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম অলিনগর গ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ৩৪ একর জায়গাজুড়ে হিলসডেল মাল্টি ফার্মটি অবস্থিত। এখানে রয়েছে ২৭টি চিত্রা হরিণ, ১৫০টি গাভী ও বাছুর নিয়ে অত্যাধুনিক ডেইরি ফার্ম, হরেক রকমের প্রায় ৪০ হাজার বৃক্ষরাজি ও উন্নত জাতের ৮০০ আমগাছ। এ ছাড়াও রয়েছে ২০টি ব্ল্যাকবেঙ্গল ছাগল, ৭টি গড়াল, কালিম পাখি, রাজহাঁসসহ অনেক পশুপাখি। কিছু দিনের মধ্যে তালিকায় যুক্ত হবে ময়ূর, তিতির, টার্কিসহ আকর্ষণীয় বিভিন্ন পশুপাখি। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ব্যবসায়ী মঈন উদ্দীনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ মাল্টি ফার্মটি যাত্রা শুরু করে। ফার্মটির বিশেষত্ব ও আকর্ষণীয় দিক হলো মায়াবী চিত্রা হরিণ। বাংলাদেশে যে অল্পসংখ্যক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হরিণ পালনের লাইসেন্স পেয়েছেন তার মধ্যে হিলসডেল মাল্টি ফার্ম অন্যতম। পাহাড়ি পরিবেশে এখানে সফলতার সাথে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হরিণ পালন করা হচ্ছে এবং হরিণের প্রজননও হচ্ছে। খামারের সার্বিক দায়িত্বে থাকা নাজিম উদ্দিন রিপন জানান, এ মাল্টি ফার্ম দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে লোক আসেন। কেউ সবুজ প্রকৃতি দেখতে, কেউ বৃক্ষরাজি দেখতে, কেউ পাহাড়ি প্রকৃতির স্বাদ নিতে, কেউবা আবার ডেইরি ফার্ম কিংবা খামার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নিতে আসেন। তবে সবচেয়ে বেশি মানুষ আসেন হরিণ দেখতে।
এখানে ২০-২৫ জন নিয়মিত কাজ করেন। ডেইরি ফার্মে ও জীবজন্তু লালন পালনে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় এবং এখানকার দুধ ভেজালমুক্ত হওয়ায় স্থানীয় বাজারেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। খামারটি দেখতে খুলনা থেকে এসেছিলেন সিঙ্গাপুর প্রবাসী রাসেল। তিনি বলেন, আমি সিঙ্গাপুর থাকার সময় এ খামারটি সম্পর্কে জানি। আমার এলাকায় ডেইরি ফার্ম ও একটি সমন্বিত খামার করার পরিকল্পনা আছে। তাই এটি দেখে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তা সেখানে প্রয়োগ করতে পারব। পাশাপাশি এ ফার্মের সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। মাল্টি ফার্মটি একসময় নামকরা পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন এর মালিক মঈন উদ্দীন। তিনি বলেন, ২০০৬ সালে অনেকটা শখের বসে ও মাতৃভূমিতে কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে এ ফার্মটি গড়ে তুলি। এতে কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হলো, মানুষের পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘোরার মতো জায়গাও হলো, পাশাপাশি পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্পর্কে মানুষ আরো বেশি জানল। আমি এটিকে আরো আধুনিকায়ন করে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এরই মধ্যে এর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কথা চিন্তা করে একটি রাস্তা করা গেলে আমরা আরো উৎসাহিত হতাম এবং এটিকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তুলতে পারতাম। হিলসডেল মাল্টি ফার্মে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে যে কেউ বিনা মূল্যে যেতে পারেন এবং মায়াবী চিত্রা হরিণ একেবারে কাছ থেকে দেখতে পারবেন। যেভাবে যেতে হবে : দেশের যেকোনো স্থান থেকে বাসে চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট পৌরসভায় নামতে হবে। সেখান থেকে সিএনজিতে করেরহাট বাজার যেতে হবে। তার পর সিএনজিতে যেতে হবে পশ্চিম অলিনগর হিলসডেল মাল্টি ফার্মে।
থাকা-খাওয়া : বারইয়ারহাট পৌরসভায় কাশবন, গ্রিন পার্ক, আলিফ নামে ভালো রেস্টুরেন্ট আছে। তবে থাকার জন্য এখানে ভালো আবাসিক হোটেল না থাকলে বারইয়ারহাট থেকে এক ঘণ্টার পথ চট্টগ্রাম শহরের শুরুতে এ কে খান মোড়ে রয়েছে মায়ামী রিসোর্ট ও অলংকার মোড়ে রয়েছে হোটেল রোজভিউ।

গরু জবাই করলে খুন করব



গরু চোরাচালান ও জইবায়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে মরতে হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দলের এক বিধায়ক। দিন দুয়েক আগেই গরু পাচারকারী সন্দেহে এক যুবককে বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটেছিল রাজস্থানের আলোয়ারে। আক্রান্ত ওই যুবক বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। ভয় ও অস্থিরতার পরিস্থিতি শান্ত করার পরিবর্তে সেই হামলা প্রসঙ্গে এই বিতর্কিত মন্তব্য রাজস্থানের আলোয়ার জেলার রামগড়ের বিজেপি বিধায়ক জ্ঞানদেব আহুজা। হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা গরু হত্যা ও গরু পাচার করে, ধরা পড়লে মরতে হবে তাদের।’ খবর এনডিটিভির। আলোয়ার পুলিশ জানায়, গত শনিবার তাদের কাছে খবর আসে গরুবোঝাই একটি ছোট ট্রাক রামগড়ে আসছে। তা আটকাতে রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করা হয়।
কিন্তু সেই ব্যারিকেড ভেঙে পালানোর চেষ্টা করে ট্রাকটি। এর পরই স্থানীয় যাদবনগর গ্রামের মানুষ ট্রাকটি আটকায়। কিন্তু ট্রাকে থাকা তিনজনের মধ্যে দু’জন পালিয়ে যান। ধরা পড়েন যান জাকির খান নামে একজন। তাকে ব্যাপক মারধর করে স্বঘোষিত গোরক্ষক বাহিনী। পরে পুলিশ জাকিরকে উদ্ধার করে। পা ও মাথায় চোট নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি। পুলিশ জানায়, ওই ট্রাক থেকে উদ্ধার করা হয় ৮টি বাছুর। তবে আহুজা দাবি করেন, ‘গ্রামবাসী ট্রাকটিকে অনুসরণ করছিল। একপর্যায়ে ট্রাকটি উল্টে যায় এবং তিনি আহত হন। কেউই তাকে মারধর করেনি। ট্রাকটি উল্টে যাওয়ার কারণে তিনি আহত হন।’

গল্পকেও হার মানাল বাস্তবের এ ঘটনা

রূপকথার গল্পে শোনা যায়, রাজকন্যাকে বিভিন্ন অপশক্তি থেকে রক্ষার জন্য বাইরের আলোবাতাস থেকে মুক্ত রাখা হতো। বাস্তবেও এমনই এক ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়, তবে এর পরিণাম হয়েছে উল্টো। সেখানে এক মা তার মেয়ের জন্মের পর থেকে ৭ বছর বয়স পর্যন্ত একটি বদ্ধ ঘরে তাকে আটকে রাখে। যেখানে ছিল তেলাপোকা ও পোকামাকড়ের আবাস। ৭ বছর পর্যন্ত সে সূর্যের আলো দেখেনি। তাকে ভালো খাবার দেয়া হয়নি। এমনকি কথা বলতেও দেয়া হয়নি কারও সঙ্গে। ২০০৫ সালের ১৩ জুলাই পুলিশ সেই মেয়েকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য  হাসপাতালে প্রেরণ করে। মেয়েটির নাম ড্যানিয়েল ক্রকেট; সংক্ষেপে ড্যানি।
৭ বছর বয়সেও সে হাঁটতে, খেতে কিংবা কথা বলতে পারত না। তার ওজন ছিল ২০ কেজির মতো এবং দেহের আকার ছিল অদ্ভুত রকমের। উদ্ধারের পর ২০০৭ সালে তাকে দত্তক নেন বার্নি ও লিয়েরো দম্পতি। গত সেপ্টেম্বরে তার বয়স হয়েছে ১৯ বছর। কিন্তু এখনও তার আচরণের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। দক্ষিণ ফ্লোরিডা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশুরোগ চিকিৎসাবিষয়ক পরিচালক ড. ক্যাথলিন আর্মস্ট্রং বলেন, ৮৫ শতাংশ শিশুর মানসিক বিকাশ ঘটে ৫ বছর বয়সের মধ্যে। ড্যানিকে জন্মের পর ৭ বছর পর্যন্ত আটকে রাখার কারণে তার বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ঘটেনি। সে এখন পরিবেশগতভাবে একজন প্রতিবন্ধী। এ ঘটনায় দেশটির পুলিশ তার মা মাইকেল ক্রকেটকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের কাছে দেয়া বক্তব্যে তার মা জানান, সে একজন বিধবা। তাই তার মেয়েকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করতে এ ধরনের কাজ করেছে।
সূত্র: মেইল অনলাইন

৫৩ বারেও হল না সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১ ফেব্রুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।এ নিয়ে ৫৩ বার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালতের ধার্য তারিখ পেছাল। মঙ্গলবার মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল।
এদিন র‌্যাব প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল হক প্রতিবেদন দাখিলের নতুন ওই দিন ধার্য করেন। সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়ার পরও দীর্ঘদিনেও চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার কোনো ক্লু উদ্ঘাটন করতে পারেননি তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তাসম্পাদক গোলাম মোস্তফা সরোয়ার ওরফে সাগর সরোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের নিজ বাসায় খুন হন। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলানগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

চার নারী ধর্ষণের আলামত নষ্ট

এক বাড়িতে চার নারীকে ধর্ষণের ঘটনার মামলা নিতে গড়িমসি করায় থানা-পুলিশের আংশিক ব্যর্থতা ছিল বলে স্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (বন্দর) হারুন উর রশীদ হাযারী। গতকাল সোমবার দুপুরে নগরের কর্ণফুলী থানা ভবনে পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অস্বীকার করার কিছুই নেই। ওই বিষয়ে পুলিশের আংশিক ব্যর্থতা ছিল।’ এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ধর্ষণের শিকার নারীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন, আলামত সংরক্ষণ করা হয়নি। আলামত সংরক্ষণের বিষয়টি সাধারণ মানুষ জানে না। চিকিৎসকেরা মৌখিকভাবে পুলিশকে বলেছেন, ধর্ষণের আলামত নষ্ট হয়ে গেছে। তবে চিকিৎসকের প্রতিবেদন এখনো পুলিশের হাতে আসেনি। ১২ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এক বাড়িতে ডাকাতির পর চার নারীকে ধর্ষণ করে ডাকাতেরা। চার নারীর মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। ঘটনার পাঁচ দিন পর ১৭ ডিসেম্বর ধর্ষণের শিকার পরিবারের পক্ষ থেকে কর্ণফুলী থানায় মামলা করা হয়। ঘটনার পর পরিবারটি প্রথমে কর্ণফুলী থানায় মামলা করতে যায়। কিন্তু তাদের পটিয়া থানায় পাঠানো হয়। এলাকাটি পটিয়া থানার আওতাধীন নয় উল্লেখ করে ভুক্তভোগীদের আবার কর্ণফুলী থানায় যেতে বলা হয়।
শেষ পর্যন্ত ভূমি প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কর্ণফুলী থানা মামলাটি নেয়। ধর্ষণের ঘটনায় এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। মামলা নিতে গড়িমসি করায় কর্ণফুলী থানার ওসি প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন নারী সংগঠন। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপকমিশনার হারুন উর রশীদ হাযারী বলেন, এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়, আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত ছিল। এ ঘটনায় কারও ত্রুটি পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, ঘটনার দুই থেকে তিন দিন পর ভুক্তভোগী পরিবার থানায় এসে ওসির কাছে প্রথমে ধর্ষণের কথা বলেনি। মৌখিকভাবে শুধু দস্যুতা সংঘটনের কথা বলে। ছবি দেখে ধর্ষণের শিকার নারীরা যে ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছেন, তাঁকে রিমান্ডে না নিয়ে টিআই প্যারেড (আসামি শনাক্ত) কেন করা হচ্ছে, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে কর্ণফুলী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহেদুল ইসলাম বলেন, রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ সহজ পদ্ধতি। রিমান্ডের পর টিআই প্যারেডের গুরুত্ব কমে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবু পুরো ঘটনা স্বীকার করেনি। ঘটনার শিকার নারীরা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁকে শনাক্ত করলে আইনগতভাবে এর গুরুত্ব বাড়বে।

‘আংশিক’ ব্যর্থতা স্বীকার পুলিশের

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এক বাড়িতে চার নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা নেওয়ার বিষয়ে পুলিশের গাফিলতি ছিল বলে স্বীকার করেছেন চট্টগ্রামের সিএমপি (বন্দর) উপপুলিশ কমিশনার হারুন-উর-রশিদ হাযারী। তিনি বলেন, বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত ছিল। আজ সোমবার এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ। সেখানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ১২ ডিসেম্বর রাতে কর্ণফুলী উপজেলায় এক বাড়ির চার নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। সেদিন বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য ছিলেন না। ধর্ষণের শিকার চার নারীর তিনজন জা। অন্য নারী তাঁদের আত্মীয়। তিনি বেড়াতে এসেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, জানালার গ্রিল কেটে সেদিন চার ডাকাত বাড়িতে ঢুকেছিল। ধর্ষণের পর ডাকাতেরা টাকা, স্বর্ণালংকারও নিয়ে গেছে। ঘটনার পাঁচ দিন পর ১৭ ডিসেম্বর কর্ণফুলী থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হয় পরের দিন। এ নিয়ে মামলা করতে গেলে পুলিশ গড়িমসি করে। তাদের প্রথমে পটিয়া পাঠানো হয়। এরপর আবার কর্ণফুলী থানায় মামলা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজকের সংবাদ সম্মেলনে হারুন-উর-রশিদ হাযারী বলেন, এ ঘটনায় (মামলা নিয়ে) পুলিশের আংশিক ব্যর্থতা ছিল, এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়।
এটা আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত ছিল। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কারও ত্রুটি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসির বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সিএমপির পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ঘটনার দু-তিন দিন পর এক ব্যক্তি এসে ওসির কাছে শুধু ডাকাতির ঘটনা মৌখিকভাবে জানান। তিনি তাঁর গ্রামের নাম যেটি বলেন, তা পটিয়া থানাধীন হওয়ায় তাঁকে পটিয়া থানায় যেতে অনুরোধ করা হয়। পরে ১৬ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় ওই ব্যক্তি পুনরায় কর্ণফুলী থানায় এসে তাঁদের গ্রামের নাম আরেকটি বলেন। ১৭ ডিসেম্বর সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ওই দিন সন্ধ্যায় লিখিত অভিযোগে বাদী ঘটনার সময় তাঁর ভাবিদের ও বোনকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলা দায়ের করেন। লিখিত বক্তব্যে উপপুলিশ কমিশনার (বন্দর) হারুন-উর-রশিদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামি আবুলকে ভিকটিম পরিবারের লোকজন কর্তৃক শনাক্ত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিধায় তাঁকে আদালতে প্রেরণ করে টিআইপ্যারেডের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আলামত জব্দ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আরিফিন সুমন ও কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুল মোস্তাফা।

হাতিরঝিলে গাড়ির ধাক্কায় রেলিং ভেঙে আহত ৪

ঢাকার হাতিরঝিল এলাকায় একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিং ভেঙে ২০ ফুট ওপর থেকে নিচে পড়ে যায়। সোমবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাতিরঝিল দ্বিতীয় ব্রিজের (মহানগর প্রজেক্টের পাশে) ওপর থেকে নিচে পড়ে। এতে গাড়িতে থাকা একজন নারীসহ মোট চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ ৩৫-৮৬২০। আহত ব্যক্তিদের হাতিরঝিল এলাকায় ঘুরতে আসা লোকজন দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গাড়িটি উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের কেউ বলেছেন, একটি এলিয়ন প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওভারপাসের রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে যায়। হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে দুর্ঘটনার বিষয়টি টের পান। দৌড়ে সামনে গিয়ে দেখেন, গাড়িতে থাকা যাত্রীরা ভয়ে চিৎকার করছেন, গাড়িটিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। আরেকটু হলেই গাড়িটি ঝিলের পানিতে পড়ে যেত।

একসঙ্গে বড়দিনের অনুষ্ঠান আরিফুল ও কামরানের

রাজনীতির মাঠে তাঁরা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু গতকাল সোমবারের কথা আলাদা। সব বিভেদ ভুলে তাঁরা একসঙ্গে হাতে হাত রেখে কেক কাটলেন। এরপর একজন আরেকজনের মুখে তুলে দিলেন কেক। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির নেতা আরিফুল হক চৌধুরী এবং সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের নেতা বদরউদ্দিন আহমদ কামরান গতকাল একসঙ্গে বড়দিন উৎসবে অংশ নেন। নগরের নয়াসড়ক এলাকার সিলেট খ্রিষ্টান মিশনে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। বড়দিনের ঐতিহ্য মেনে সাজানো হয়েছিল নয়াসড়ক খ্রিষ্টান মিশনারি চার্চ, ছিল গোশালা। রঙিন কাগজ, ফুল ও আলো দিয়ে সাজানো হয় ক্রিসমাস ট্রি। ভোরে ক্যারলস গানের (ধর্মীয় সংগীত) মধ্য দিয়ে বড়দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল সাড়ে আটটায় বিশেষ প্রার্থনা হয়। বড় দিনের কেক কাটতে জড়ো হন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বিশিষ্টজনেরা। বেলা ১১টায় এ আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিত হন মেয়র আরিফুল, সাবেক মেয়র কামরানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। কেক কাটার আগে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন দুজন। পরে সিলেট প্রেসবিটারিয়ান চার্চের ফাদার ডিকন নিঝুম সাংমাকে নিয়ে আরিফ ও কামরান পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কেক কাটেন। পরে তাঁরা উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের আপ্যায়ন করেন। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতিবিদদের মধ্যে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ দেখে ফাদার ডিকন নিঝুম সাংমা বলেন, ‘বড়দিন হলো বড় হওয়ার দিন। আমরা বড় দিনে বড় হওয়ার মানসিকতা দেখলাম।’
আরিফুল হক চৌধুরী নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদে আছেন। অন্যদিকে বদরউদ্দিন আহমদ কামরান কেন্দ্রীয় সদস্য, পাশাপাশি তিনি নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। ২০১৩ সালের ১৫ জুন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বদরউদ্দিনকে হারিয়ে আরিফুল মেয়র পদে বিজয়ী হন। অন্যদিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র বদরউদ্দিন। সিলেট পৌরসভা থাকার সময়ও তিনি চেয়ারম্যান পদে ছিলেন। চলতি বছর সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষে হচ্ছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার কথা। তাই দুই দলেই চলছে নির্বাচনী তৎপরতা। মেয়র পদে আরিফুল ও কামরান দুজনেই মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাঁদের সঙ্গে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় মাঠে তৎপর আছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদউদ্দিন আহমদ, নগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। অনুষ্ঠানে আসাদউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের এমন সৌহার্দ্য রাজনীতির মাঠকে স্থিতিশীল রাখবে। তাতে জনসাধারণ তথা ভোটারেরা স্বস্তির মধ্যে থাকবেন। এ রকম সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি তাঁরা সব সময় চান।

ইয়াবা ব্যবসায় পুলিশ কনস্টেবল

রাজধানীতে ইয়াবাসহ পুলিশের এক কনস্টেবলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পুলিশ কনস্টেবল সাইদুর রহমান (৩৫) ও তাঁর সহযোগী রেজাউল ইসলাম (৩১)। তাঁদের কাছ থেকে ৩ হাজার ২০০টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ইয়াবা বহনে ব্যবহার করা একটি মোটরসাইকেল। কনস্টেবল সাইদুর রাজধানীর ওয়ারী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি-পেট্রল) জিয়াউল আলমের গাড়ির চালক ছিলেন। সাইদুর ও রেজাউলের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন মতিঝিল-যাত্রাবাড়ী এলাকায় ইয়াবার পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা করে আসছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। আদালত সূত্র জানায়, ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে রোববার হাজির করে সাইদুর ও রেজাউলের পাঁচ দিন রিমান্ড চায় ডিবি পুলিশ। পরে ঢাকার মহানগর হাকিম আবু সাঈদ শুনানি নিয়ে তাঁদের দুই দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জানতে চাইলে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক শেখ নাজমুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ইয়াবাসহ হাতেনাতে কনস্টেবল সাইদুর ও রেজাউলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (রাজস্ব) অফিসের পূর্ব পাশের রাস্তার গোডাউনের সামনে থেকে রাত নয়টার দিকে সাইদুর ও রেজাউলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ডিবি অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও প্রতিরোধ টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দলাল চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এই মামলা করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন ডিবির উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম।
আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে ডিবি বলেছে, সাইদুর ও রেজাউল স্বীকার করেছেন যে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে পলাতক আসামিদের সঙ্গে নিয়ে যাত্রাবাড়ী, মতিঝিলসহ আশপাশের এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছেন। এজাহারের বক্তব্য অনুযায়ী, সহযোগী আসামি ওমর আলীসহ কয়েকজন পলাতক রয়েছেন। সাইদুর রহমান নয় বছর ধরে ওয়ারী জোনের গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নেত্রকোনার রোহা ইউনিয়নের কারী গ্রামের বাসিন্দা তিনি। ঢাকায় শ্যামপুরের ব্যাংক কলোনিতে তিনি বসবাস করেন। রেজাউল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নওহাটি গ্রামের বাসিন্দা। কনস্টেবল সাইদুর সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ওয়ারীর উপকমিশনার (ডিসি) মো. ফরিদ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ইয়াবাসহ ডিবি তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বলে শুনেছেন। ওয়ারীর এসি (ট্রাফিক) জিয়াউল আলম বলেন, সাইদুর তাঁর গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি শুধু জানতে পেরেছেন, ইয়াবাসহ সাইদুরকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। তিনি আরও বলেন, যিনি অপরাধ করেছেন দায়ভার তাঁর। ডিবি উত্তর বিভাগের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক শেখ নাজমুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আগেই সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন রেজাউল। কনস্টেবল সাইদুরকেও মাদক ব্যবসার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রের সব সদস্যকে বিচারের আওতায় আনা হবে।