Tuesday, April 20, 2010

ভিয়েতনামের ঐতিহ্য: দো সনের ষাঁড়ের লড়াই

বড় বড় কালো চোখ আর শান্ত স্বভাব দেখে বোঝার উপায় নেই, ষাঁড়গুলোর একমাত্র কাজ লড়াই করা। শুধু কাস্তে আকৃতির কালো একজোড়া শিং জানান দিচ্ছে, বড় ধরনের আঘাত করার সামর্থ্য তাদেরও রয়েছে। এদের কোনো নাম নেই। শুধু নম্বরের মাধ্যমে পরিচয় পাওয়া যায় এসব ষাঁড়ের। এরা সবাই ভিয়েতনামের দো সন শহরের ষাঁড়ের লড়াই প্রতিযোগিতার প্রতিযোগী। ভিয়েতনামের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর নগর হাইফংয়ের কাছে অবস্থিত শহরটিতে প্রতিবছর এ প্রতিযোগিতার আসর বসে।
প্রতিযোগিতার আয়োজকেরা জানালেন, দো সন শহরের ষাঁড়ের লড়াই শত শত বছরের পুরোনো। ভিয়েতনামের ঐতিহ্য এই ষাঁড়ের লড়াই। ঐতিহ্যবাহী এই ষাঁড়ের লড়াই এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি উত্সবে পরিণত হয়েছে। কারণ উত্সবের পৃষ্ঠপোষকেরা এতে বেশ ভালো অর্থ খরচ করে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মোটা অঙ্কের পুরস্কার দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিযোগী ষাঁড়গুলো ঘিরে বড় ধরনের জুয়ার আসর বসে। তবে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের জন্য অর্থের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিজেদের গোষ্ঠী-মর্যাদা।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া একটি ষাঁড় সম্পর্কে এর মালিক লুং ত্রাক তাই (৭৫) বললেন, ‘আমার ভাগ্নে লং দুই হং-কে একটি ভালো ষাঁড় খুঁজে বের করতে বলেছিলাম। কয়েক মাস খোঁজাখুঁজির পর সে এই ষাঁড়টি খুঁজে বের করে।’ ছয় কোটি ডং (ভিয়েতনামের মুদ্রা) বা তিন হাজার ৪১৩ ডলার খরচ করে ষাঁড়টি কেনে লুং ত্রাক তাইয়ের পরিবার। এরপর একে প্রশিক্ষিত করতে আরও চার কোটি ডং খরচ হয়।
ত্রাক তাই বললেন, ‘কুঁজের ওপর ও উরুর দুই পাশের পাতলা লোম প্রমাণ করে, ষাঁড়টি সাহসী। তাই আমরা একে বেছে নিয়েছি। তবে লড়াইয়ে জিততে সাহসের পাশাপাশি প্রশিক্ষণও দরকার।’ তাইয়ের ভাগ্নে হং জানালেন, ‘একজন ক্রীড়াবিদের মতো করেই একে প্রশিক্ষণ দিয়েছি আমি।’ হংয়ের ষাঁড়ের নম্বর ১৮। দুটো বাছাইপর্ব পার করে চূড়ান্তপর্বে পৌঁছায় এটি। এখন এদের মধ্যে খুবই ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে; কিন্তু প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত দিনই এই সম্পর্কের শেষ দিন। কারণ হারুক বা জিতুক, প্রতিযোগিতার শেষে প্রতিটি ষাঁড়কেই জবাই করা হয়। এগুলোর মাংস বেশ ভালো দামে বিক্রি হয়। কারণ প্রচলিত সংস্কার হচ্ছে, এসব ষাঁড়ের মাংস সৌভাগ্য বয়ে আনে।
হং জানালেন, জবাইয়ের সময় তিনি ষাঁড়টির কাছে থাকতে চান না। ষাঁড়ের মাংস বিক্রি থেকে এর পেছনের খরচের কিছুটা তুলে আনতে পারে মালিক। পাশাপাশি প্রতিযোগিতার পুরস্কার রয়েছে চার কোটি ডং। তবে হং জানালেন, এখানে ষাঁড়ের লড়াইকে তাঁরা ব্যবসা হিসেবে বিবেচনা করেন না। বরং ঐতিহ্য আর মর্যাদার কথা স্মরণ করেই তাঁরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
কয়েক হাজার দর্শকে পরিপূর্ণ স্থানীয় স্টেডিয়ামে প্রতিযোগী ষাঁড়গুলো লড়াইয়ে নামে। প্রতিবার দুটো প্রতিপক্ষ ষাঁড় লড়াই করে। কয়েক মিনিট স্থায়ী লড়াইয়ে যে ষাঁড়টি আগে রণে ভঙ্গ দেয়, সেটিকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়।
হাইফং থেকে লড়াই দেখতে আসা দর্শক এনগুইএন ভান হাং (২৯) বললেন, ‘এটা অনেকটা মার্শাল আর্টের মতো মনে হয়। দুটো ষাঁড়ের শিংয়ের সংঘর্ষ রোমহর্ষক শব্দ তৈরি করে। তবে ষাঁড়গুলো রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে আমার খারাপ লাগে।’
স্থানীয় সূত্রে দো সন শহরে ষাঁড়ের লড়াই প্রতিযোগিতার সূচনা সতেরো শতকের দিকে। ওই সময় একজন পাদরির নামে উত্সর্গ করার জন্য আনা দুটো ষাঁড় নিজেদের মধ্যে লড়াই শুরু করে। আর এর মধ্য দিয়েই এ প্রতিযোগিতার সূচনা। তবে শুধু দোন শহরেই নয়, ভিয়েতনামের অন্যান্য শহরেও প্রতিবছর ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হয়।

উন্মুক্ত খনি, ভূগর্ভস্থ খনি নাকি গ্যাসীকরণ by ড. বদরূল ইমাম

বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানির সংকট যে এককভাবে গ্যাস দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়, এ বিষয়ে কারও দ্বিমত নেই। আর ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদাকে বিবেচনায় আনলে বহু ধারার জ্বালানি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না। দেশে গ্যাস ছাড়া অপর যে জ্বালানি সম্পদের উল্লেখযোগ্য মজুদ আবিষ্কার হয়েছে, তা হলো কয়লা। উত্তরবঙ্গে ১৯৬২ সালে জামালগঞ্জে প্রথম বিরাট কয়লা মজুদ আবিষ্কারের পর আজ অবধি দিনাজপুর-রংপুর এলাকায় আরও চারটি বড় আকারের কয়লার মজুদ আবিষ্কার হয়। এর মধ্যে কেবল দিনাজপুরে বড়পুকুরিয়া ভূগর্ভস্থ কয়লার খনিতে ২০০৫ সাল থেকে সীমিত আকারে কয়লা উৎপাদন হচ্ছে। জ্বালানি-সংকটের এ দুর্দিনে দেশের কয়লা সম্পদকে ব্যাপকভাবে উত্তোলন করার কর্মপন্থা নেওয়া বা না-নেওয়ার বিষয়টি কেবল প্রশ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা ক্ষেত্রবিশেষে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটায়। আর এ বিতর্কে দুটি পক্ষ তাদের নিজ অবস্থান ছাড়তে নারাজ। একপক্ষ মত প্রকাশ করে যে কয়লা সম্পদকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করার লক্ষ্যে উন্মুক্ত পদ্ধতির খনি নির্মাণ করা প্রয়োজন, যাতে করে ৯০ শতাংশ কয়লা সহজেই উত্তোলন করা যাবে এবং এ পন্থায় দেশের জ্বালানির সংকট বহুলাংশে মেটানো সম্ভব হবে। তাই এখনই উন্মুক্ত কয়লা খনি নির্মাণ আবশ্যক। অপর পক্ষ বলছে যে উন্মুক্ত খনি থেকে ব্যাপকভাবে কয়লা উত্তোলন সম্ভব বটে, কিন্তু তার ফলে প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের যে সমূহ ক্ষতি হবে, তা মেটানোর কোনো উপায় নেই। তাই উন্মুুক্ত পদ্ধতির কয়লা খনি বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হবে। সুতরাং উন্মুক্ত কয়লা খনি করা যাবে না।
কয়লা খনি নির্মাণের আগে যেকোনো দেশেই পক্ষে-বিপক্ষে প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে। তাই বাংলাদেশে উপরিউক্ত বিতর্ক যে অপ্রত্যাশিত, তা নয়। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টির গুরুত্ব অধিকতর এ কারণে যে একদিকে চরম জ্বালানির সংকট মেটাতে কয়লার ব্যাপক ব্যবহার যেমন কাম্য, অন্যদিকে তেমন এ দেশের বিশেষ ভূপ্রকৃতি ও সামাজিক পরিবেশে উন্মুক্ত খনির মাধ্যমে ব্যাপক হারে কয়লা আহরণের সুযোগ সীমিত বা অনেক ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রণীত ও সর্বশেষ ২০০৭ সালে পেশ করা প্রস্তাবিত কয়লানীতির সূচনা পর্বে এ মত প্রকাশ করা হয় যে যেহেতু ১) বাংলাদেশের সব কয়লা মজুদ নরম উর্বর সমতল আবাদি জমির নিচে অবস্থিত, ২) এসব স্থান ঘন বসতিপূর্ণ, যেখানে চাষাবাদের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ অন্যতম প্রধান উপায়, ৩) কয়লাস্তরের ওপর বিরাট পুরুত্বের পানিবাহী স্তর বিদ্যমান, যা খননে বড় আকারের পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে এবং ৪) কয়লা মজুদসমূহ অপেক্ষাকৃত গভীরতায় (১০০ মিটারের বেশি) বিদ্যমান, সেহেতু এসব কয়লা আহরণে রক্ষণশীল পন্থা অবলম্বন করা আবশ্যক। এ বক্তব্যে উন্মুক্ত খনন প্রক্রিয়ায় কয়লা উত্তোলনের বৃহত্ কর্মযজ্ঞ পরোক্ষভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
আলোচনার এ পর্যায়ে ফুলবাড়ী কয়লা খনি প্রসঙ্গটি টেনে আনা প্রাসঙ্গিক হবে। এশিয়া এনার্জি কোম্পানি ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লা খনি তৈরির উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার কারণ প্রধানত স্থানীয় জনগণের চরম আপত্তি। শুধু তা-ই নয়, দেশের বিশেষজ্ঞ মহলের বড় অংশ মনে করে যে ফুলবাড়ী এলাকার ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও সামাজিক পরিবেশ উন্মুক্ত খনি স্থাপনার জন্য বাধাস্বরূপ। অনেকেই মনে করেন, এটি কেবল বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই নয়, বিশ্বের যেকোনো দেশেই এ রকম প্রাকৃতিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার উপস্থিতি উন্মুক্ত কয়লা খনি স্থাপনে বিরোধের সম্মুখীন হবে। প্রকৃতপক্ষে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের উদাহরণ নিলেও দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গ বা বিহার অঞ্চলের কয়লা খনিসমূহ কোনোটিই উর্বর জমিতে বা এ রকম ঘনবসতি এলাকায় নির্মাণ করা হয়নি।
ফুলবাড়ীতে কয়লা খনি স্থাপনের বিষয়ে যে প্রশ্নটি আলোচিত হতে দেখা যায় না তা হলো ফুলবাড়ী কয়লা আবিষ্কারক অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি বিএইচপি সেখানে কয়লা আবিষ্কারের পর উন্মুক্ত খনি স্থাপন করেনি কেন? আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মাইনিং কোম্পানি বিএইচপির কারিগরি দক্ষতা ও আর্থিক সামর্থ্য সর্বজন স্বীকৃত এবং এর খনি নির্মাণ কার্যক্রম বিশ্বের অধিকাংশ সম্পদশালী দেশজুড়ে বিস্তৃত। সমপ্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিএইচপি বাংলাদেশে উন্মুক্ত কয়লা খনি স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে কয়লা অনুসন্ধান করতে আসে। কিন্তু ১৯৯৭ সালে ফুলবাড়ীতে কয়লা আবিষ্কারের পরে উন্মুক্ত কয়লা খনি স্থাপনের প্রশ্নে বিএইচপি অগ্রসর হতে দ্বিধা করে। এর কারণ বিএইচপি মনে করে, ফুলবাড়ী এলাকার ভূপ্রকৃতি ও সামাজিক পরিবেশে ১০০ মিটারের বেশি গভীরতায় অবস্থিত কয়লা উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে খনন করলে তা পরিবেশকে যথেষ্টভাবে প্রভাবিত করবে, যা কি না অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশনীতির মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য নয়। বিএইচপি মনে করে, কয়লাস্তরের গভীরতা ১০০ মিটারের কম বা কাছাকাছি হলে তবেই এ দেশে উন্মুক্ত কয়লা খনি স্থাপন সম্ভব। ফুলবাড়ীতে কয়লাস্তরের গভীরতা ১৫০ থেকে ২৫০ মিটার। পরে বিএইচপি ফুলবাড়ী কয়লাক্ষেত্র এশিয়া এনার্জি কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করে দেশ ত্যাগ করে।
ফুলবাড়ী কয়লার গভীরতা ১৫০ থেকে ২৫০ মিটার হওয়ার কারণে যদি তা উন্মুক্ত খনি স্থাপনের যোগ্য বলে বিবেচিত না হয়, তবে অপর কয়লাক্ষেত্রসমূহ যেমন খালাশপীর (গভীরতা ২৬০—৪৫০ মিটার) বা দীঘিপাড়া (গভীরতা ২৫০—৩৫০ মিটার) কোনোভাবেই উন্মুক্ত খনির যোগ্য নয় (জামালগঞ্জ কয়লার গভীরতা ৬০০ মিটারের বেশি বিধায় তা কোনো পদ্ধতিতেই উত্তোলনযোগ্য নয়)। তাহলে বাংলাদেশে কি কোথাও উন্মুক্ত কয়লা খনি করা সম্ভব নয়? বিষয়টির ওপর সরকার গঠিত বিশেষজ্ঞ দল প্রণীত প্রস্তাবিত কয়লানীতিতে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা বিবেচনায় এনে কয়লা খনন পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে। এতে প্রস্তাব করা হয়েছে যে বড়পুকুরিয়া কয়লাক্ষেত্রের এক প্রান্ত বরাবর যেখানে কয়লার গভীরতা সবচেয়ে কম (১১৭ মিটার), সেখানে একটি উন্মুক্ত খনি করা যেতে পারে।
খালাশপীর ও দীঘিপাড়া কয়লাক্ষেত্র ভূগর্ভস্থ খননের মাধ্যমে উন্নয়ন করা সম্ভব। কিন্তু বড়পুকুরিয়া ভূগর্ভস্থ কয়লা খনির অভিজ্ঞতায় মাত্র ২০ শতাংশ কয়লা আহরণ হবে বলে যে চিত্র পাওয়া যায় তা সামগ্রিকভাবে কতটা অর্থনৈতিক লাভ বয়ে আনবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আবার ভূগর্ভস্থ কয়লা খনি যে পরিবেশের ক্ষতি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত তাও নয়। ইতিমধ্যে বড়পুকুরিয়া খনির ওপর ভূপৃষ্ঠে জমি দেবে যাওয়ার ফলে অনেক এলাকাজুড়ে ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে। সুতরাং একদিকে ভূগর্ভস্থ কয়লা খনি নির্মাণের বিশাল ব্যয় ও তার বিপরীতে কয়লা মজুদের সামান্য অংশ উত্তোলন করার যৌক্তিকতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন করেন।
ওপরের অলোচনা থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে বাংলাদেশর ভূপ্রাকৃতিক ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য কয়লা খনির স্থাপনের বৃহত্ কর্মযজ্ঞ চালানোর জন্য মোক্ষম স্থান নহে। সমপ্রতি বিশ্বে কয়লা সরাসরি খনন করে ওঠানোর পরিবর্তে বিকল্পভাবে ব্যবহারের পন্থা উদ্ভাবিত হয়েছে। এ পন্থাটিকে বলা হয় ভূগর্ভস্থ কয়লা গ্যাসকরণ (underground coal gasification বা সংক্ষেপে UGC)। এ পদ্ধতিতে কয়লা না উঠিয়ে ভূপৃষ্ঠ থেকে কূপ খনন করে কয়লার ভেতর বাতাস বা অক্সিজেন ও উত্তপ্ত জলীয় বাষ্প ঢোকানো হয় ও উচ্চ তাপে কয়লাকে ভূগর্ভে প্রজ্বালন করা হয়। এর ফলে কয়লা থেকে একাধিক গ্যাস তৈরি হয়। যেমন হাইড্রোজেন, কার্বন মনোক্সাইড, মিথেন ইত্যাদি, যা কি না অপর একটি কূপ খনন করে ভূপৃষ্ঠে নিয়ে আসা হয়। আর এ গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র, কলকারখানা ইত্যাদি চালানো যেতে পারে। ভূপ্রকৃতিতে বা সামাজিক পরিবেশের ওপর এ পদ্ধতির গ্যাস উত্তোলন কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না বিধায় এ পদ্ধতিটি সমপ্রতি বিশ্বে বহু দেশে বিশেষ করে পরিবেশবাদীদের আকর্ষণ কেড়েছে। বর্তমানে যদিও কয়লার গ্যাস উত্তোলনের এই পদ্ধতিটির বাণিজ্যিক প্রয়োগ ব্যাপক আকারে প্রচলিত হয়নি, পৃথিবীর অনেক দেশেই এ রকম প্রকল্প চালু করা হয়েছে।
ভূগর্ভস্থ কয়লা গ্যাসকরণ প্রকল্প চালু করার দিক থেকে দক্ষিণ অফ্রিকা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। সে দেশে ২০০৭ সালে মাজুবা কয়লা গ্যাসকরণ প্রকল্প চালু এবং সে গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে। কানাডার আলবার্টা ও নোভাস্কোশিয়া প্রদেশে দুটি কয়লা গ্যাসকরণ প্রকল্প চালু ও তা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র চালানোর প্রকল্প এগিয়ে চলেছে। কানাডার এরগো এক্সারজি কোম্পানি বাণিজ্যিক কয়লা গ্যাসকরণ প্রকল্প বিষয়ে পৃথিবীর অন্যতম প্রধান পরামর্শক ও অপারেটর হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করে থাকে। দক্ষিণ অফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, নিউজিল্যান্ডসহ পৃথিবীর বহু দেশ পরীক্ষামূলক ও বাণিজ্যিক প্রকল্প চালু করার কাজে অগ্রগতি অর্জন করছে। চীন ইতিমধ্যে ১৬টি পরীক্ষামূলক প্রকল্প শেষ করেছে ও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করছে। ভারত ইতিমধ্যেই রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে।
ভূগর্ভস্থ কয়লা গ্যাসকরণ প্রকল্পসমূহ যেভাবে বিভিন্ন দেশে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠা লাভ করছে, তাতে মনে হয় যে এ প্রযুক্তি অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বে কয়লা ব্যবহারের ধারা বদলে দিতে পারে। এতে করে কয়লা উত্তোলন নিয়ে ভূপ্রকৃতি বা সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার সমস্যা থাকবে না। বাংলদেশে ভূগর্ভস্থ কয়লা গ্যাসকরণ প্রযুক্তির প্রয়োগ জ্বালানি সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রাখবে। এ প্রযুক্তি কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশকে এখনই পরীক্ষামূলক প্রকল্প হাতে নিতে হবে।
ড. বদরূল ইমাম: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, রেজাইনা বিশ্ববিদ্যালয়।

দোষ লেজের, নাকি মূল শরীরের by সুশান্ত সিনহা

‘লেজুড়বৃত্তির এই ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে হবে’ শিরোনামে প্রথম আলোয় ৫ এপ্রিল প্রকাশিত বদিউল আলম মজুমদারের লেখায় তিনি দেশের দুরারোগ্য এই ব্যাধির চিকিৎসা হিসেবে শুধু ছাত্ররাজনীতি বন্ধের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর লেখা পড়ে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর পেতেই এই লেখার চেষ্টা।
প্রথমত, আজকে যে নষ্ট অবস্থা ছাত্ররাজনীতিতে দেখছি, তা কি শুধু ছাত্ররাজনীতির ক্ষেত্রেই, নাকি মূল দল বা জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রেও সত্য? শুধু তো ছাত্ররাজনীতিই পথভ্রষ্ট হয়নি, দলীয় মূলধারার রাজনীতিরও অধঃপতন হয়েছে বলেই এর ছাপ পড়েছে ছাত্ররাজনীতিতে। যদিও জনাব মজুমদার মাত্র এক প্যারায় নিজেই উল্লেখ করেছেন, ‘ছাত্ররাজনীতির বর্তমান অবক্ষয়ের জন্য মূলত দায়ী আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর দেউলিয়াপনা’। তাহলে প্রশ্ন আসে, দায়ী কি লেজুড় ছাত্ররাজনীতি, নাকি মূল দলগুলো? দেউলিয়াপনা, লুটপাট ও অবক্ষয়ী রাজনীতির সংস্পর্শে এসে কেউ যদি ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে, তবে দোষটা কার? আপনি তো সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন, তাই আপনার কাছে এই প্রশ্নের উত্তর তো প্রত্যাশা করতেই পারি। যেকোনো প্রাণীর ক্ষেত্রেই লেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কিন্তু লেজ একা একা কাজ করতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত মাথা বা শরীর থেকে নির্দেশ না পায়। ফলে মূল দলের অবস্থানটি কি গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন নেই?
আপনি লিখেছেন, ‘ছাত্ররাজনীতির কারণে গণতান্ত্রিক শাসনামলে প্রায় আড়াই শ শিক্ষার্থী বলি হয়েছে।’ আপনার এই তথ্য নিশ্চিয় সত্য এবং তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ১৯৯০ সালের পরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামাত-জাতীয় পার্টির সন্ত্রাসী কার্যক্রমে কয়েক হাজার মানুষ খুন হয়েছে; পাবর্ত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রায় অর্ধশত মানুষ মারা গেছে; বখাটেদের কারণে সিমি, ইলোরার মতো বেশ কয়েকজন মেয়েকে জীবন দিতে হয়েছে; গত দেড় মাসে চট্টগ্রামেই খুন হয়েছে তিনজন শিক্ষার্থী; ঢাকাসহ সারা দেশে গড়ে প্রতিদিন ১০-১২ জন খুন হচ্ছে। এসবের জন্য তো ছাত্ররাজনীতি দায়ী নয়। সামাজিক মূল্যবোধের ধস আর অবক্ষয় আমাদের এই জায়গায় নিয়ে গেছে। প্রকৃত দায়ী কোনটা, তা সবাইকে জানানো উচিত নয় কি?
দ্বিতীয়ত, অতীতের ছাত্ররাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার রেশ টেনে ধরে আপনি লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার কথা বলেছেন। অথচ এটাও নির্মম সত্য যে আজকের মতো অতীতেও এসব ছাত্রসংগঠন মূল দলগুলোর সঙ্গে লেজুড় হয়েই কাজ করেছে। তখন তো এমন বদনাম ছাত্রনেতাদের নামে হয়নি। তাহলে প্রশ্ন আসে, কোন জাদুকাঠির বদৌলতে সেদিন ছাত্ররানীতি দেশের আপামর মানুষের জন্য কাজ করতে পেরেছে আর আজ কেনই বা তা কলুষিত? এখন কেন সিট দখলের হানাহানিতে ব্যস্ত হচ্ছে তারা? কারণ এটাই নয় কি যে ক্ষমতালিপ্সার কারণে নব্বই-পরবর্তী প্রতিটি সরকারি দলের লোকজনই দুর্নীতি-অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদের ইমারত গড়েছে? ধ্বংস করেছে ন্যায়-নীতিকে, মূল্যবোধকে গলা টিপে হত্যা করেছে, প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতিকেরা ক্ষুদ্র ও হীন স্বার্থ জায়েজ করতে সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে পুরো সমাজকে।
তৃতীয়ত, আপনি নিজেই বলেছেন শিক্ষকরাজনীতির কারণে শিক্ষার মান নিম্নগামী হওয়ার কথা। সমস্ত নিয়মনীতি পায়ে দলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে হলের প্রভোস্ট, হাউস টিউটর—সব পদেই দলীয় ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রশাসন অবস্থান নিতে পারে না—এটাই দুই দশক ধরে দেখে আসছি। এসব ক্ষেত্রেও ছাত্ররাজনীতির কিছু করার আছে কি? বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ১৯৯০ সালের পর দেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী বেড়েছে কয়েকগুণ। অথচ সেই অনুপাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবং হল ও হোস্টেল বাড়েনি, যে বিষয়টি আপনার লেখায় একটিবারের জন্যও আসেনি।
মূলধারার বাইরের ছাত্রসংগঠনগুলো যখন শিক্ষার দাবি নিয়ে কাজ করছে, তাদের কথা এভাবে বেমালুম চেপে গিয়ে কি অধঃপতিত ধারার ছাত্ররাজনীতির হাতকে শক্তিশালী করছেন না? এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে সুস্থ ধারা ও অসুস্থ ধারাকে স্পষ্টভাবে ছাত্র সমাজসহ দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার কি সময় আসেনি? দেশের রাজনীতিতে ভালো মানুষের সংখ্যা কমছে, বাড়ছে দুর্নীতিপরায়ণ ও অবৈধ সম্পদশালী মানুষের সংখ্যা। তাই অন্ধের মতো উধোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর মতো ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে কোন ফল পাওয়া যাবে না।
সুশান্ত সিনহা: সাংবাদিক, এটিএন নিউজ।
sinhasmp@yahoo.com

‘গোড়ার কথা’ by আবুল হায়াত

কাজের ব্যস্ততায় উত্তরের ঝোলা বারান্দায় দাঁড়াবার সময়টুকু পর্যন্ত হয় না। তাই নীপবনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়ে গেছে যেন আমার। পাঠককুলকেও আর দেওয়ার ফুরসত হয়ে ওঠে না নীপবনের খবর।
আজ অকারণেই শুটিং বাতিল হওয়ায় বুকভরে একটু নিশ্বাস নেওয়ার আশায় ঘুম ভাঙতেই এসে দাঁড়ালাম প্রিয় বারান্দাটায়। সুন্দর, অদ্ভুত সুন্দর ঝকঝকে সকাল। মনেই হচ্ছে না কদিন আগেও—
‘দারুণ অগ্নিবাণে রে হূদয় তৃষায় হানে রে
রজনী নিদ্রাহীন, দীর্ঘ দগ্ধদিন, আরাম নাহি যে প্রাণে রে।’
পয়লা বৈশাখেই একপশলা বৃষ্টি দিয়ে গেছে প্রকৃতি। তাতে স্নাত হয়ে স্নিগ্ধ মধুর রূপ ধারণ করেছে আমার নীপবন। সবুজের মেলা বসেছে এই কংক্রিটের বস্তির মাঝখানে। পাশেই কৃষ্ণচূড়ার চূড়ায় লাল রঙের ছোপ ধরেছে। বাগানবিলাসগুলো আমার বারান্দার শোভাও বর্ধন করেছে। আজ মনে হয় কিডস টিউটোরিয়াল বন্ধ। কোলাহল নেই বললেই চলে। ঢাকার চিরাচরিত ট্রাফিক জ্যাম শুরু হতে এখনো ঘণ্টাখানেক দেরি। লিখতে বসলাম। কিন্তু কী নিয়ে লিখব?
বিদ্যুৎ? কিন্তু এ নিয়ে এত লেখা হয়েছে যে মানুষ বিরক্ত হবে। বরং আমার নিজের কথা দিয়েই শুরু করি। সেই সাতচল্লিশের দেশভাগের সঙ্গে সঙ্গেই বাবা-মায়ের সঙ্গে চলে আসি চট্টগ্রাম। সেই সুদূর মুর্শিদাবাদ থেকে। মুর্শিদাবাদের সেই গ্রামে যেমন কুপি-হারিকেনের আলোয় তিন বছর জীবন কেটেছে, সেই একই রকমভাবে শুরু চট্টগ্রাম টাইপাস রেলওয়ে কলোনিতে। কুপি-হারিকেন দিয়ে অ-আ, ক-খ শুরু হয়েছিল। বিদ্যুৎ কী জিনিস চোখে দেখা তো দূরের কথা, নামও শুনিনি। কদিন যেতেই দেখলাম বাসার সামনে রাস্তায় বিশাল খাম্বা পোঁতা হলো, কদিন পর তার টানাও দেখলাম। তারপর একদিন অবাক বিস্ময়ে বাতিও জ্বলতে দেখলাম রাস্তায় খাম্বার মাথায়। প্রায়ই বসে যেতাম সন্ধ্যার পর পাটি বিছিয়ে বাগানে, ওই লাইটপোস্টের ঠিক নিচেই। স্বল্প সে আলোয় পড়তাম—‘জল পড়ে পাতা নড়ে’।
তারপর কয়েক বছর যেতেই দেখলাম মিস্ত্রি চলে এল বাসায়। হাতে ব্যাটেন, ক্লিপ, তার, সুইচ, সকেট, প্লাগ, লাইট, কত কিছু। দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতাম ওদের কাজ। জ্বলল একদিন বাসার ভেতরে বৈদ্যুতিক বাতি। আহ! সে কী আনন্দ। নিজের পড়ার টেবিলে বিদ্যুতের আলোয় পড়া শুরু করার আনন্দটা আজ বোধহয় কাউকে বোঝাতে পারব না।
এখনো মনে পড়ে, প্রথম দিকে বাসায় সংযোগ দেওয়া হয়েছিল রাস্তার বাতির লাইন থেকে। ফলে দিনভর আমাদের অপেক্ষা চলত কখন জ্বলবে রাস্তার বাতি, আর আমরা ঘরে সুইচ টিপব। অপেক্ষা শেষের আনন্দের নেই কোনো তুলনা।
নাহ, সেই ঘুরেফিরে বিদ্যুৎই চলে এল। কী করি বলুন। তবে সমস্যার কথা না বলে চলুন বিদ্যুতের গোড়ার কথায় যাই।
বিদ্যুৎ কে আবিষ্কার করেন? না কোথাও খুঁজে পাবেন না আবিষ্কর্তার নাম। কারণ বিদ্যুৎ কাউকে উদ্ভাবন করতে হয়নি। খুঁজে নিতে হয়েছে। এই খোঁজকর্তা অনেক অনেকজন।
বিদ্যুৎ আসলে সব সময়ই ছিল, শুধু জ্ঞানের অভাবে ব্যবহূত হয়নি। গ্রিকদের বিশ্বাস, দেবতাদের দেবতা জিউস বিদ্যুৎ বহন করে এনেছেন এই ধরাধামে। তিনি হলেন মেঘের দেবতা, প্রকৃতির দেবতা, বজ্রদেবতা। মোটকথা, তিনিই হলেন পুরো আকাশের দেবতা। তিনিই মানুষকে দিয়েছেন বিদ্যুতের অবদান। তবে অনেকের বিশ্বাস, বিদ্যুৎ এনেছেন দেবী ইলেকট্রা। তিনিই আকাশ, সমুদ্র, ঝড়-ঝঞ্ঝা, মেঘের বিদ্যুতের দেবী। তাঁর ইলেকট্রা নাম থেকেই আমরা বিদ্যুতের নাম পেয়েছি ‘ইলেকট্রিসিটি’।
সবই ঠিক আছে। কিন্তু আবিষ্কার করল কে (who discovered)? সেই গোঁড়ার কথা খুঁজতে গিয়েই এত কথা।
কাগজপত্র ঘাঁটতে গিয়ে পেলাম কিছু নাম। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, তবু বলি—টমাস এডিসন, নিকোলা টেলসা, উইলিয়াম গিলবার্ট, ভোল্টা, অ্যাম্পার, ফ্যারাডে, ফ্রাংলিন। এঁদের মধ্যে গিলবার্ট ১৬০০ সালের দিকে ইলেকট্রা-ম্যাগনেট নিয়ে যথেষ্ট কাজ করেছেন। ফ্যারাডে সাহেব ১৮৩১ সালে জেনারেটর উদ্ভাবন করেন, যা আজ বাংলাদেশের মানুষের জন্য আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিরূপে বিরাজ করছে। আর এডিসন সাহেব তড়িত্ শক্তির ওপর গবেষণা করে ১৮৭৯ সালের ২১ অক্টোবর প্রথম বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালান।
বিদ্যুৎ-বাতি জ্বলার তারিখ জানতে পারলেও কেন যেন বিদ্যুতের গোড়ার কথাটা পরিষ্কার জানা হলো না। বরং জানলাম হারিকেনের ইতিকথা। শুনবেন, শুনতেই হবে, কারণ এই লোডশেডিংয়ে ওটাই তো বন্ধু। চীনারা শুরু করেছিল প্রাচীন যুগে। চীনামাটির বেজের (base) ওপর কাচের খোপ বসিয়ে তার ভেতরে শতশত জোনাকি পোকা ঢুকিয়ে হারিকেন তৈরি করা হতো পথচলার সুবিধার জন্য। তারপর নানা হাত ঘুরে আজ এই সর্বশেষ চেহারা হারিকেনের। চমকপ্রদ না, বলেন?
বিদ্যুতের গোড়ার কথা খুঁজতে যখন এত দূর এলাম, তাহলে এই বাতি ঢাকায় কবে জ্বলল, সেটাও জেনে নেওয়ার একটু চেষ্টা করি আসুন। আমার এক প্রকৌশল জার্নাল বলছে, ১৯০১ সালের ৭ ডিসেম্বর বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত লেফেটন্যান্ট গভর্নর বোল্টন সাহেব আহছান মঞ্জিলে এক সুইচ টিপে ঢাকা শহর বিদ্যুতায়ন শুরু করেন।
সকাল থেকে নানা বইপত্র ঘাঁটাঘাঁটিতে বিরক্ত শিরিন এবার অধৈর্য ভঙ্গিতে জিজ্ঞাসা করল
‘কী শিখছ এত বই ঘেঁটে?’
‘বিদ্যুতের গোড়ার কথা।’ ঘামতে ঘামতে উত্তর দিই।
‘এ তো সহজ, এর জন্য এত বই ঘাঁটতে হবে কেন?’ বেগম সাহেবা হেসেই বললেন এবার।
‘কী বল তো?’ জেগে উঠলাম আমি।
‘খাম্বা।’
‘খাম্বা?’
‘হ্যাঁ খাম্বাই তো। দেখনি, আগের সরকার বিদ্যুৎ দিক আর না দিক, কোটি কোটি টাকার খাম্বা দিয়ে গেছে। আর তারই পথ অনুসরণ করে এঁরাও খাম্বা কিনেছে।’ বলেই তিনি তাঁর কাজে চলে গেলেন। ভাবতে বসলাম আমি আবার। তাই তো! এটাই তো আজ আমাদের বিদ্যুতের গোড়ার কথা। আর হাতে হারিকেন তো আছেই!
ঢাকা, ১৭/০৪/২০১০
আবুল হায়াত: নাট্যব্যক্তিত্ব।

ভোলা যেন আরেকটি মাগুরা না হয় -কালের পুরাণ by সোহরাব হাসান

দেখতে দেখতে আওয়ামী লীগ ওরফে মহাজোট সরকারের মেয়াদ ১৫ মাস পার হলো। বিরোধী দল এখনো পর্যন্ত দৃশ্যগ্রাহ্য কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারলেও মাঠে-ময়দানে রণহুংকার দিয়ে যাচ্ছে। গত মাসে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া চট্টগ্রামের মহাসমাবেশে আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচির আগাম ঘোষণা দিয়ে নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। তাঁর ভাষায় সেটি ছিল ‘স্টেজ রিহার্সাল’। আগামী ১৭ মে ঢাকার মহাসমাবেশে আন্দোলনের কর্মসূচি আসবে।
কী হবে বিএনপির সেই কঠোর কর্মসূচি? তারা কি এখনই সরকার উত্খাতের আন্দোলনে নামবে? নামলে ওই আন্দোলনের গতিপ্রকৃতিই বা কী হবে? বিএনপি ক্ষমতায় আসার দুই মাসের মাথায় আওয়ামী লীগ প্রথম হরতাল করেছিল। বিএনপিও কি হরতাল-অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে? এক-এগারোর পর দেশবাসী ভেবেছিল, হরতালের যুগ শেষ হয়েছে। গত তিন বছর দেশ হরতাল নামের ভয়াবহ উপসর্গটি থেকে মুক্ত ছিল। আবার হরতালে দেশ অচল হোক তা কেউ চায় না। সরকারের অগণতান্ত্রিক কাজকর্মের প্রতিবাদ জানানোর বিকল্প পথ ও ভাষা আছে। সংসদ আছে। সংসদীয় ব্যবস্থা সচল থাকলে হরতাল-অবরোধের প্রয়োজন হয় না। আশা করি বিএনপি এমন কিছু করবে না, যাতে জনগণের দুঃখ-দুর্দশা আরও বেড়ে যায়। হরতাল-অবরোধে সরকারের পতন ঘটে না, জনজীবন বিপর্যস্ত হয়, সাধারণ মানুষ কষ্ট পায়।

দুই.
সাম্প্রতিক কালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাগ্যুদ্ধটা বেশ জমে উঠেছে। যেকোনো বিষয়ে নেতারা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছেন, এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দেখে নেওয়ার ও দেখিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। বিতর্কের শুরু সেনানিবাসে খালেদা জিয়ার বাড়ির লিজ বাতিল নিয়ে (বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের এসএসএফ-সুবিধা ও ঢাকা শহরে তাঁদের থাকার জন্য উপযুক্ত বাড়ি বরাদ্দের আইন করে ইতিমধ্যে এর নৈতিক ভিত্তি হারিয়ে ফেলেছে সরকার)। তারপর মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক বিতর্ক। তারপর নামবদল বিতর্ক। সবশেষে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে বিতর্ক। একটি ভালো উদ্যোগেও রাজনৈতিক নেতৃত্ব একমত হতে না পারা দুঃখজনক। বিএনপির নেতারা বলেছেন, বিচারের নামে সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে। বিচার মানবতাবিরোধী হলে প্রতিরোধ করা হবে। কী মানবদরদি তাঁরা! যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিরোধ না করে বিচারকে প্রতিরোধ করবেন। মহামান্যদের জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয়, একাত্তরে যখন রাজাকার-আলবদররা নিরস্ত্র ও নিরীহ মানুষকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছিল, মা-বোনদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল, তখন কোথায় ছিলেন? সরকারের বেআইনি কাজের প্রতিবাদ আর যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরেধিতা এক কথা নয়। এর মাধ্যমে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধকেই চ্যালেঞ্জ করলেন না, স্বাধীনতার জন্য আত্মাহুতি দেওয়া শহীদদেরও অপমান করলেন। হায় রে অন্ধ ও সংকীর্ণ রাজনীতি! যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে বিএনপি এতদিনকার ঢাক-গুড়গুড় ভাব কাটিয়ে জামায়াতিদের সঙ্গে হাত মেলাল আইনজীবীদের মঞ্চে। ফলে বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতি ফারাক করাটাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে জামায়াত লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিএনপি।

তিন.
ক্ষমতায় থাকতে সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতারা যেভাবে ঢালাও অভিযোগ করতেন, বিএনপির নেতারা এখন তা-ই করছেন। আবার সে সময় ক্ষমতাসীন বিএনপি যেমন সব দুর্গতির জন্য পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগের সরকারকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করাত, বর্তমান সরকারও একই কাজ করছে। আজ বিএনপির নেতারা সরকারকে হামলাবাজ-মামলাবাজ বলে অভিযুক্ত করছেন। তাঁদের আমলে কি হামলা-মামলা কম হয়েছিল? কথায় বলে, চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। আর আমাদের রাজনীতিকেরা জনদরদি হন ক্ষমতা হারালে। দেশে ভয়াবহ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট চলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, আমজনতার জীবন নিরাপত্তাহীন। এসব নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়নি। আলোচনা হয়েছে অতীত নিয়ে, সেখানে বর্তমান অনুপস্থিত। গণতন্ত্র মানে কি সংসদে নেতা-নেত্রীদের আসন বদল? বিএনপির আমলে একদল মৌ-লোভী হাওয়া ভবনের আশপাশে ঘুরঘুর করত, এখন আওয়ামী লীগের আমলে আরেক দল সুযোগসন্ধানী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আনাগোনা করছে। আবার আরেক দল সুবিধাবাদী আছে, যারা তলারটাও খায়, গাছেরটাও কুড়ায়। সব আমলে ক্ষমতাসীনদের আশীর্বাদ লাভে মুখিয়ে থাকে। রাজনীতিতে যখন নীতি-আদর্শ-মূল্যবোধ বলে কিছু থাকে না, তখনই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই সুবিধাবাদী ও চরিত্রহীন রাজনীতি আমরা দেখে আসছি ৩৯ বছর ধরে।

চার.
ভোলা-৩ উপনির্বাচনের তারিখ যতই এগিয়ে আসছে, প্রতিদ্বন্দ্বী তথা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ঝগড়াটা দ্বীপ জেলার সীমা ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। নির্বাচনী এলাকায় প্রায় প্রতিদিন ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। একে অপরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ আনছে। বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া এই বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন যে নির্বাচনে কারচুপি হলে তাঁরা সরকার উত্খাতের আন্দোলন শুরু করবেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই বিএনপি নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছে। একদিকে উত্খাতের আওয়াজ, অন্যদিকে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। ভোটের লড়াই এখন দুই দলের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। জনগণ অসহায়। তারা কোন দিকে যাবে?
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ভোলার উপনির্বাচনকে নিয়েছে মর্যাদার লড়াই হিসেবে। আওয়ামী লীগ তাদের জয়ী আসনটি কোনোভাবে হাতছাড়া করতে চায় না। বিএনপি মনে করে, এলাকাটি তাদের শক্ত ঘাঁটি। ২০০৮ সালের আগে পাঁচটি নির্বাচনেই তাদের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। অতএব এবারও জয়ী হবেন। দুই পক্ষের অনড় অবস্থানই এলাকায় উত্তেজনা ছড়াচ্ছে, জনজীবনে শংকা বাড়াচ্ছে। পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দলই মাঠ দখলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে এবং যার যেখানে শক্ত অবস্থান, সেখানে প্রতিপক্ষকে বাধা দিচ্ছে, হামলা করছে। আমাদের দেশে নির্বাচন মানে কর্মী-ক্যাডারদের পেশিশক্তি প্রদর্শন, নেতাদের প্রতিশ্রুতির লম্বা তালিকা এবং আমজনতার উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা। ভোলার ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি। ইতিমধ্যে সংখ্যালঘু এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। কারা হামলা করছে, কেন করছে বুঝতে অসুবিধা হয় না।
স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, উপনির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে তো? ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে তো? নির্বাচন কমিশন বলেছে, তারা কাউকে ছাড় দেবে না, মাস্তানি বরদাশত করবে না। কমিশনার ছহুল হোসাইন এলাকায় গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তাঁদের বক্তব্য শুনেছেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর আশ্বাসে ভোলাবাসী কতটা আশ্বস্ত হবে, তা দেখার জন্য আমাদের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। দেশবাসীর প্রত্যাশা, নির্বাচনে যে দলই জয়ী হোক না কেন, গণতন্ত্র যেন পরাজিত না হয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকাই মুখ্য। নির্বাচন কমিশনের আদেশ-নির্দেশও তাঁরা তামিল করবেন। সমস্যাটা হলো, ক্ষমতাসীনেরা বরাবর সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাবার জমিদারির রায়ত ভাবে, তাদের কথা শুনতে হবে।
এ অবস্থায় সরকারের করণীয় কী? তারা কি দলীয় কর্মী-ক্যাডারদের মাস্তানিকে প্রশ্রয় দেবে? না প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা যাতে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে ব্যবস্থা করবে? সরকার না চাইলে নির্বাচন কমিশনও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। তারা নির্বাচন বাতিল করতে পারে, স্থগিত করতে পারে।
প্রশ্ন হলো, বিএনপি যে ভুল মাগুরায় করেছিল, আওয়ামী লীগ সরকারও কি ভোলায় একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে? না তারা পূর্বসূরির ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করবে? তাদের বুঝতে হবে, এটি একটি আসনের উপনির্বাচন। এতে দলীয় প্রার্থী পরাজিত হলে সরকারের পতন ঘটবে না। কিন্তু জোর করে আসনটি নিতে চাইলে সরকারের ভাবমূর্তির যে ক্ষতি হবে, তা কোনোভাবেই পুষিয়ে নেওয়া যাবে না। আমরা ১৯৯৪ সালের মাগুরার উপনির্বাচনের কথা স্মরণ করতে পারি। সেই নির্বাচনের ফলাফল জোর করে পক্ষে না নিলে বিএনপির কী ক্ষতি হতো? তারা একটি আসন হারাত মাত্র। কিন্তু রায় নিজেদের পক্ষে নিতে গিয়ে মাগুরাকে যে গুঁড়া গুঁড়া করে ফেলেছিল, এর পর থেকেই বিএনপি সরকারের বিদায়ঘণ্টা বেজেছিল। এবার আওয়ামী লীগ অনেক বেশি শক্তিশালী। সংসদে তাদের আসনসংখ্যা তিন-চতুর্থাংশের বেশি। ভোলার আসনটি হারালে তাদের কিছু যাবে-আসবে না। কিন্তু আসনটি জোরজবরদস্তি করে নিতে চাইলে তার ফল সরকারের জন্য ভয়াবহ হতে পারে। এ কথা বলার অর্থ এই নয় যে, ভোটাররা আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করলে তারা সে বিজয় ফিরিয়ে দেবে।
দেশবাসীর প্রত্যাশা, সরকার নির্বাচন কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সিভিল প্রশাসনও ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে, কারও প্রতি পক্ষপাত দেখাবে না। দেখালে কী হবে? বিএনপির হাতে মোক্ষম অস্ত্রটি তুলে দেওয়া হবে। তারা বলার সুযোগ পাবে, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়, এদের কাছে নির্বাচন নিরাপদ নয়, ভোটাররা নিরাপদ নয়, দেশ-গণতন্ত্র কিছুই নিরাপদ নয়। আর খালেদা জিয়া তো আন্দোলনের আগাম ঘোষণা দিয়েই রেখেছেন।
এখন সরকারকেই ঠিক করতে হবে, তারা আরেকটি মাগুরা চায়, না অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করে ভোলায় নব ইতিহাস গড়তে আগ্রহী?
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

ফুটপাত উদ্ধারের পরই পুনর্দখল -লোক দেখানো অভিযান নয়, প্রয়োজন সামগ্রিক পরিকল্পনা

আবারও রাজধানীর ফুটপাত উদ্ধারে অভিযানে নেমেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ৩ এপ্রিল শুরু হওয়া এ অভিযান জনদুর্ভোগ লাঘবের কথা বলে বছরের পর বছর ফুটপাত উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানের মতোই ব্যর্থ হতে চলেছে। পরিস্থিতির খুব বেশি হেরফের হয়নি।
মহানগরের ফুটপাত নিয়ে এর আগে তেলেসমাতি কারবার কম হয়নি। যেখানে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, নগর কর্তৃপক্ষ ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বারবার নোটিশ জারি করছে, সেখানে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে হকারদের কাছে ফুটপাত বরাদ্দ দেয় ডিসিসির একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা। আর উদ্ধারের কিছুদিন পরই পুনর্দখল হয়ে যায় ফুটপাত। এর পেছনে আছে অবৈধ ফুটপাত-বাণিজ্য। ফুটপাতকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও প্রভাবশালীদের চাঁদাবাজির ঘটনা তো সর্বজনবিদিত।
এসব অভিযান যে শুধু লোক দেখানো, আর এতে যে আখেরে পুলিশেরই লাভ হয়, তা আবারও পরিষ্কার হলো চলমান এই অভিযানে। রোববারের ‘ঢাকায় থাকি’তে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার হকাররা অভিযোগ করেছেন, ফুটপাত ও রাস্তায় দোকান বসানোর জন্য তাঁদের যে চাঁদা দিতে হয়, তা দিয়ে পকেট ভারী হয় ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা আর পুলিশের। তাঁরা জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে, তারপর তাঁরা পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে আবার ফুটপাত ও রাস্তায় বসছেন। এই ম্যানেজের অর্থ বুঝতে অসুবিধা হয় না।
হকারদের সঙ্গে জড়িত আছে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবনধারণের প্রশ্ন। তাদের পুনর্বাসনের যথাযথ ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ প্রকারান্তরে তাঁদের বাধ্য করে আবার ফুটপাতে বসতে। তা ছাড়া পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের ফলে অপূরণীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায়।
উচ্ছেদের পরই পুনর্দখল থেকে স্পষ্টত প্রতীয়মান হয়, ফুটপাত উদ্ধারে লোক দেখানো এসব অভিযানে কাজ হবে না। ফুটপাতে ব্যবসা করেন যে হকার, তাঁকে পুনর্বাসনের যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন করে আর কোনো ফুটপাত যেন দখল না হয়, তাও নিশ্চিত করতে হবে। নগরবাসীর জীবনের দীর্ঘস্থায়ী এই অস্বস্তি দূর করতে সামগ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হতে হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন -যত শিগগির সম্ভব ডিসিসি নির্বাচন হোক

ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাগুলোর মেয়াদ পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই, কিন্তু সেগুলোর নির্বাচন হয়নি, কবে হবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। সর্বশেষ ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) নির্বাচনও পিছিয়ে দেওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সরকার ও নির্বাচন কমিশন উভয় তরফেই আগ্রহের অভাব রয়েছে। এটা হতাশাব্যঞ্জক।
দেশের চার হাজার ৯৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল; কারণ এগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে ২০০৮ সালের জুনে। ৩১৯টি পৌরসভার মধ্যে ২৪৮টির নির্বাচন করাও জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব নির্বাচন হতে পারেনি সংশ্লিষ্ট আইনের অভাবে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসংক্রান্ত যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, বর্তমান নির্বাচিত সরকার তা সংসদে উপস্থাপন না করায় অধ্যাদেশটি বাতিলের খাতায় চলে যায়। ফলে এ ক্ষেত্রে একটা শূন্যতা দেখা দেয়। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে বর্তমান সরকারের ঘোষিত অঙ্গীকার পূরণের কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যায় না; বরং আইনের অভাবে বিষয়টি অবহেলিত রয়ে যায়। গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাসংক্রান্ত যে আইন সংসদে পাস হয়, তাতে ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত নতুন বিধান সংযোজনের কারণে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে কালক্ষেপণের পর জানা গেল, আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং মন্ত্রিসভার গত সোমবারের বৈঠকে সেই সংশোধিত আইনটির খসড়া অনুমোদিত হয়েছে। সংসদের আগামী অধিবেশনে তা পাসের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
এসব প্রক্রিয়ায় কালক্ষেপণ ছাড়া কিছুই ঘটছে না। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসংক্রান্ত আইনটি যদি আগামী বাজেট অধিবেশনে পাস হয়, তবে তার পরও নির্বাচন অনুষ্ঠানে কিছু সময়ের প্রয়োজন হবে, কারণ এ-সংক্রান্ত বিধিমালা তৈরির কাজটি তখন করতে হবে। স্থানীয় সরকার কমিশন সক্রিয় থাকতে কেন স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনের ব্যাপারে এ রকম হ-য-ব-র-ল অবস্থা সৃষ্টি হয় তা ভেবে দেখার বিষয়।
এই মুহূর্তে বড় প্রশ্ন হচ্ছে ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে। প্রায় তিন বছর আগে ২০০৭ সালের জুনে ডিসিসির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এর নির্বাচন কেন পিছিয়ে দেওয়া হলো, যখন সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা প্রস্তুত রয়েছে? গত শীতেই তো এ নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল। প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবরের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শীতকালে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ সম্পন্ন হয়নি বলে নির্বাচন করা হয়নি—এমন কথা বলা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। ২০০৭ সালের জুনের পরই যে নির্বাচন করা উচিত ছিল, আড়াই বছর পরও সে নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা হালনাগাদ না-থাকা কোনো কাজের কথা নয়। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা একটি নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান প্রক্রিয়া হওয়া উচিত। এর জন্য কোনো নির্বাচন আটকে থাকবে, এটা খুব ভালো যুক্তি নয়।
এখন যখন আইন ও বিধিমালা রয়েছে, ডিসিসির নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোনো সমস্যা বা বাধা আছে বলে মনে হয় না। যত শিগগির সম্ভব ডিসিসির নির্বাচন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হোক। এ ব্যাপারে সরকারের উচিত নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা।

১৮তম সংশোধনী বিলে আজ স্বাক্ষর করবেন প্রেসিডেন্ট জারদারি

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি আজ সোমবার দেশটির সংবিধান সংস্কারবিষয়ক ১৮তম সংশোধনী বিলে স্বাক্ষর করবেন। প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর হলেই এটি সংবিধানের অংশে পরিণত হবে।
প্রেসিডেন্ট জারদারি গতকাল পাকিস্তান মুসলিম লীগের নেতা (পিএমএল-কিউ) নওয়াজ শরিফের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি ১৮তম সংশোধনী বিলে স্বাক্ষর উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নওয়াজ শরিফকে আমন্ত্রণ জানান।
প্রেসিডেন্ট হাউস সূত্রে জানা গেছে, নওয়াজ শরিফ ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজি হয়েছেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংবিধান সংস্কারবিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান ও সিনেটর রাজা রাব্বানি, বিভিন্ন প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও গভর্নররা যোগ দেবেন।
এর আগে বিলটি পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হওয়ার পর উচ্চকক্ষ সিনেট তা অনুমোদন করে।

উত্তর সাইপ্রাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ

উত্তর সাইপ্রাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গতকাল রোববার ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে তা বেলা তিনটায় শেষ হয়।
এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট মেহমেত তালাত আলী এবং জাতীয়তাবাদী তুর্কি সাইপ্রিয়টদের নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দারভিস ইরোগলু। জনমত জরিপে ইরোগলু এগিয়ে ছিলেন। বিজয়ী প্রার্থীকে শতকরা ৫০ ভাগের বেশি ভোট পেতে হবে।
ভূমধ্যসাগরীয় এ দ্বীপটি তুর্কি-অধ্যুষিত উত্তর সাইপ্রাস ও গ্রিক-অধ্যুষিত দক্ষিণ সাইপ্রাস নামে দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রে বিভক্ত।
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এ নির্বাচনের ফল উত্তর ও দক্ষিণের পুনরেকত্রীকরণ ও তুরস্কের ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার প্রচেষ্টার ওপর প্রভাব ফেলবে।
প্রেসিডেন্ট মেহমেত তালাত আলী ও গ্রিক সাইপ্রিয়ট নেতা দিমিত্রিস ক্রিস্টোফিয়াস ২০০৮ সালে শান্তি আলোচনা শুরু করেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল দুই সাইপ্রাসের একটি কনফেডারেশন গঠন। কিন্তু মেহমেত তালাত আলী এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন বলে মনে করেন উত্তর সাইপ্রাসের বেশির ভাগ নাগরিক।
এদিকে দারভিস ইরোগলু আলাদা জাতিতত্ত্বের সমর্থক। তিনি গ্রিক ও তুর্কি সাইপ্রিয়টদের আলাদা সার্বভৌম রাষ্ট্রে বিশ্বাসী।

ব্রিটেনের নির্বাচনী দৌড়ের কেন্দ্রে তৃতীয় দল

ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনের আর কয়েক সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে নির্বাচনী দৌড়ে সে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটস আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। গতকাল রোববার প্রকাশিত একটি জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, দলটির জনপ্রিয়তা বেশ দ্রুত গতিতে বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত ও বিভিন্ন জরিপ থেকে জানা যাচ্ছে, লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের এই নির্বাচনী জনপ্রিয়তার মূল কারণ দলের নেতা নিক ক্লেগের পারদর্শিতা। গত বৃহস্পতিবার প্রচারিত ব্রিটেনের রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রথম টেলিভিশন বিতর্কে নিক ক্লেগ খুবই ভালো বক্তব্য রেখেছেন বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা।
ব্রিটিশ পোলিং ইনডেক্স (বিপিআইএক্স) পরিচালিত ওই জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহে লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের জনপ্রিয়তা ১২ শতাংশ বেড়ে ৩২ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে ব্রিটেনের প্রধান দুই দল কনজারভেটিভ পার্টি ও লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা একই সময়ে যথাক্রমে সাত ও তিন শতাংশ কমে ৩১ ও ২৮ শতাংশে অবস্থান করছে। গত শুক্র ও শনিবার ব্রিটেনের দুই হাজার ১৪৯ জনের ওপর এ জরিপ চালানো হয়।
বিবিসির ‘সিট ক্যালকুলেটর’ (নির্বাচনী আসন হিসাবকারী প্রক্রিয়া)-এর হিসাব অনুযায়ী, জনপ্রিয়তায় তৃতীয় অবস্থানে থাকার পরও ক্ষমতাসীন লেবারদের ২৭৬টি আসনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য আরও ৫০টি আসনে জিততে হবে তাদের। অন্যদিকে কনজারভেটিভরা ২২৬টি ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা ১১৯টি আসনে জিততে পারে।
ব্রিটেনভিত্তিক স্কাই নিউজ টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিক ক্লেগ বলেন, ‘ব্রিটেনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অবাক করা কিছু একটা ঘটছে। জনগণের একটি বড় অংশ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, এবার আমরা ভিন্ন কিছু দিতে পারব তাদের।’
বাজার গবেষণার প্রতিষ্ঠান পোলস্টারস মোরির প্রতিষ্ঠাতা বব ওরস্টার স্থানীয় একটি পত্রিকায় লিখেছেন, জরিপের ফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত নির্বাচনী দৌড় একঘেয়েভাবে এগোচ্ছিল। এখন তা গতি পেয়েছে। বৃহস্পতিবারের বিতর্কের আগ পর্যন্ত লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা অনেকটা একঘরে হয়ে ছিল। এখন তারা আলোচনার কেন্দ্রে।
দুই বছর ধরে রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয়তার বিচারে ব্রিটেনে এগিয়ে ছিল কনজারভেটিভ পার্টি। কিন্তু এ জরিপের ফল তাদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। দলের নেতা ডেভিড ক্যামেরন অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দেশের ঘাড়ে চেপে বসা বড় দেনার দায় মোকাবিলা করতে তাঁদের ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্রিটেনের অন্যান্য সংবাদপত্রের পরিচালিত জরিপেও দেখা গেছে, লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছে। সানডে টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহে দলটির জনপ্রিয়তা ১১ শতাংশ বেড়ে ২৯ শতাংশ হয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টির জনপ্রিয়তা সাত শতাংশ কমে ৩৩ শতাংশ এবং লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা দুই শতাংশ কমে ৩০ শতাংশ হয়েছে। সানডে টেলিগ্রাফ পত্রিকায় প্রকাশিত জরিপের ফলাফলেও দেখা গেছে, লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের জনপ্রিয়তা সাত শতাংশ বেড়েছে। সানডে মিরর পত্রিকার জরিপেও দেখা গেছে, দলটির জনপ্রিয়তা বেড়েছে আট শতাংশ।
বিবিসির রাজনৈতিক গবেষণা শাখার সম্পাদক ডেভিড কলিং বলেন, ‘জরিপগুলোর ফল থেকে দেখা যাচ্ছে, লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি দ্রুততায় বেড়েছে। তবে এই অভাবনীয় পরিবর্তন নির্বাচনের ফলাফলে কতটুকু প্রভাব ফেলবে, তা তুলনা করার মতো ঐতিহাসিক তথ্য আমাদের কাছে নেই।’

ফুলেল শ্রদ্ধায় কাচজিনস্কিকে চিরবিদায়

বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট লেস কাচজিনস্কি ও তাঁর স্ত্রী মারিয়ার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত হয়। কফিনবাহী গাড়ি রাস্তায় চলার সময় জনগণ ফুল ছিটিয়ে ও জাতীয় পতাকা নেড়ে প্রয়াত প্রেসিডেন্টকে শ্রদ্ধা জানান। রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে চেক প্রজাতন্ত্র, এস্তোনিয়া, হাঙ্গেরি, লিথুয়ানিয়া, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়াসহ অনেক দেশের নেতারা অংশ নেন।
কিন্তু আইসল্যান্ডে অগ্ন্যুত্পাতের ফলে সৃষ্ট ছাইয়ের মেঘের কারণে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি, ব্রিটেন প্রিন্স চার্লস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী চুং আন চনসহ বিশ্বের প্রায় ৭০টির দেশের নেতারা শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। খবর এএফপি, এপি ও বিবিসির।
প্রেসিডেন্ট লেস কাচজিনস্কি ও তাঁর স্ত্রী মারিয়াকে পোল্যান্ডের প্রাচীন রাজধানী ক্রাকভে গতকাল চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। উল্লেখ্য, এই ক্রাকভেই চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন পোল্যান্ডের অনেক রাজা ও জাতীয় বীর। কাচজিনস্কি ও তাঁর স্ত্রীর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের আগে তাঁদের মরদেহ সামরিক বাহিনীর একটি বিমানে করে রাজধানী ওয়ারশ থেকে ক্রাকভে নিয়ে আসা হয়।
ক্রাকভ নগরের মুুখপাত্র ফিলিপ জাতানিক বলেন, এটি বিগত ২০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় শেষকৃত্য অনুষ্ঠান।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক অভিসংশনের মুখোমুখি

আর্থিক কেলেঙ্কারির দায়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক সৌমিত্র সেন এবার ভারতীয় সংসদে অভিশংসনের মুখোমুখি হচ্ছেন। বিচারপতির বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে সৌমিত্র সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে আগামী ৫ মের মধ্যে তাঁর বক্তব্য পেশের নির্দেশ দিয়েছে। এ কমিটি সৌমিত্র সেনের জবাব পাওয়ার পরই এ বছরের জুনের শেষের দিকে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন রাজ্যসভায় পেশ করবে।
ভারতের আইনসভার উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় ওই বিচারকের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে রাজ্যসভার চেয়ারপারসন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পরামর্শে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির প্রধান হন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এস সুদর্শন রেড্ডি। এই কমিটির অন্য সদস্য দুজন হলেন পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মুকুল মুদগল এবং বিশিষ্ট জুরিস্ট ফালি এস নরিম্যান। এই তদন্ত কমিটি বিভিন্ন কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সৌমিত্র সেনের আর্থিক কেলেঙ্কারির প্রমাণ পায়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
১৯৯০ সালে মামলাভুক্ত একটি সম্পত্তি বিক্রির জন্য আদালত থেকে রিসিভার নিয়োগ করা হয়। সেই রিসিভার হিসেবে নিয়োজিত হন সৌমিত্র সেন। তখন তিনি আইনজীবী ছিলেন। এ সময়ই ওই সম্পত্তির বিক্রয়লব্ধ ২৪ লাখ রুপি বেআইনিভাবে জমা পড়ে সৌমিত্র সেনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।
সৌমিত্র সেন ২০০৩ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে যোগ দেন। এ সময় তাঁর আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস হলে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁকে ৫২ লাখ রুপি জমা দিতে বলা হয়। সৌমিত্র সেন তখন ৫২ লাখ রুপি জমা দেন। এরপর ফের অভিযোগ ওঠে, তিনি ২৫ লাখ লাখ রুপি অন্যএকটি অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে কোথাও বিনিয়োগ করেছেন। আর এ নিয়েই সৌমিত্র সেনের বিরুদ্ধে ভারতীয় সংসদে অভিযোগ ওঠে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দাবি ওঠে তাঁকে অভিশংসন করার।
এরপরই রাজ্যসভার চেয়ারপারসন বিষয়টি তদন্ত করার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। এদিকে সৌমিত্র সেনও এই কমিটির কাছে তাঁর বক্তব্য পেশ করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন।
এর আগে এ ব্যাপারে সৌমিত্র সেনের কাছ থেকে বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কে জি বালকৃষ্ণণ ১৬ মার্চ সৌমিত্র সেনকে পদত্যাগ করার বা স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সৌমিত্র সেন জানিয়ে দেন, ওই দুটি প্রস্তাবে তিনি রাজি নন।
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, হাইকোর্টের কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ পাওয়া গেলে সে ক্ষেত্রে ভারতের রাষ্ট্রপতি নিজ ক্ষমতাবলে ওই বিচারপতিকে অভিশংসন করতে পারেন; অথবা দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে ওই বিচারককে অভিশংসন করতে পারে ভারতের সংসদ।

সবকিছুর বিনিময়ে পরমাণু অস্ত্র পেতে চান ওসামা বিন লাদেন

আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেনের একজন সাবেক দেহরক্ষী সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বইয়ে দাবি করেছেন, বিন লাদেন তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তির বিনিময়ে হলেও পারমাণবিক অস্ত্র হস্তগত করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন। এ ছাড়া ধরা পড়ার নিশ্চিত আশঙ্কা দেখা দিলে বিন লাদেনকে তাঁর ওই দেহরক্ষী যেন গুলি করে হত্যা করেন, সে জন্য তিনি তাঁকে আগাম নির্দেশ দিয়েছিলেন। নাসের আল বাহির নামের ওই দেহরক্ষী ও জর্জেস ম্যালব্রাউন্ট নামের এক ফরাসি সাংবাদিক যৌথভাবে ইন দ্য শ্যাডো অব বিন লাদেন: রেভল্যুশনস অব এ রিপেনট্যান্ট বডিগার্ড শিরোনামের ওই বইটি লিখেছেন। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ৪৭ জাতির পরমাণু সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আল-কায়েদা পরমাণু অস্ত্র হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে ঘোষণা দেওয়ার পরের দিন ফ্রান্সে বইটি প্রকাশিত হয়। খবর এএফপির।
ওই বইয়ে নাসের আল বাহির বলেছেন, ১৯৯৮ সালের আগস্টে আফ্রিকায় দুটি মার্কিন দূতাবাসে আল-কায়েদা হামলা চালানোর পর বিন লাদেন মার্কিন তৎপরতার কারণে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। সে সময় নাসের তাঁর ছায়াসঙ্গী ছিলেন। নাসের বলেছেন, আমেরিকানদের সঙ্গে শক্তির ভারসাম্য অর্জন করতে লাদেন পরমাণু অস্ত্র হাতে পেতে চান। এর বিনিময়ে তিনি তাঁর সব সম্পদ খরচ করতেও কুণ্ঠিত হবেন না বলে জানিয়েছিলেন। নাসেরের বক্তব্য অনুযায়ী, লাদেন পরমাণু অস্ত্র পেলেই তা ব্যবহার করবেন—এ নীতিতে তিনি বিশ্বাসী নন। বরং যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখতে তিনি এ অস্ত্রকে সংরক্ষণ করার পক্ষে ছিলেন। তবে লাদেনের ডান হাত বলে পরিচিত আইমান আল জাওয়াহিরি প্রতিরোধমূলক নয়, বরং আক্রমণাত্মক অস্ত্র হিসেবেই এ অস্ত্র ব্যবহারে মত দিয়েছিলেন।
নাসের লিখেছেন, বিন লাদেন একটি পিস্তলে দুটি গুলি ভরে সেটি তাঁর হাতে দিয়ে বলেছিলেন, তিনি কোনো অবস্থাতেই আমেরিকানদের হাতে ধরা পড়তে চান না। তিনি নাসেরকে আগাম নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, নিশ্চিতভাবে ধরা পড়তে যাচ্ছেন মনে হলে নাসের যেন তাঁকে ধরা পড়ার আগেই গুলি করে হত্যা করেন।
নাসের বলেন, তাঁর বিশ্বাস, লাদেন এখনো বেঁচে আছেন এবং পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় তিনি আত্মগোপন করে আছেন। ইয়েমেনের বংশোদ্ভূত সাবেক ফরাসি নাগরিক নাসের ২০০১ সালে মার্কিন গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়েন এবং টানা চার বছর তিনি কারাবন্দী ছিলেন। বর্তমানে তিনি মুক্ত এবং নিজেকে লাদেনের মতবাদের ঘোরবিরোধী বলে দাবি করেন।

আগস্ট বা অক্টোবরে ভারত সফর করতে পারেন ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আগামী আগস্ট অথবা অক্টোবরে ভারতে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সফরে আসতে পারেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং শনিবার একথা বলেন। মনমোহন সিং যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল সফর থেকে ফিরে এ কথা বলেন। এ সফরে তিনি ওবামার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। মনমোহন সিং বলেন, ওবামার গুরুত্বপূর্ণ সফরের জন্য এই দুই মাস থেকে চূড়ান্ত তারিখ ঠিক করা হবে।
ওয়াশিংটনে ১১ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে মনমোহন সিং তাঁকে জানান, ভারত তাঁর সফরের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে। মনমোহন সিং বারাক ওবামাকে আরও বলেন, তিনি ভারতের মানুষসহ বিশ্বব্যাপী লাখো মানুষের কল্পনায় আছেন। এ ছাড়া ভারতের মানুষ শিগগিরই ওবামাকে তাঁদের দেশে দেখতে চায়।

পরমাণু শক্তিকেন্দ্র স্থাপন করবে সৌদি আরব

পরমাণু ও বিকল্প জ্বালানি প্রযুক্তির জন্য একটি কেন্দ্র গঠনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরব। গত শনিবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএ-তে প্রচারিত এক ঘোষণায় বলা হয়, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী হাশেম বিন আবদুল্লাহ ইয়ামানিকে ‘কিং আবদুল্লাহ সিটি ফর নিউক্লিয়ার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জিস’-এর প্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি রিয়াদে স্থাপন করা হবে।
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়, দেশের শক্তি উৎপাদন বহুমুখী করার লক্ষ্যে পরমাণু ও বিকল্প জ্বালানির ওপর গবেষণা ও প্রকল্প গ্রহণ করবে এই কেন্দ্র।
তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইতিমধ্যেই সৌরবিদ্যুতের মতো বিকল্প জ্বালানি নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেছে সৌদি আরব।
ঘোষণায় বলা হয়, নতুন এই কেন্দ্র পরমাণু জ্বালানির উন্নয়ন-সম্পর্কিত জাতীয় নীতির খসড়া প্রণয়ন করবে। এ ছাড়া পরমাণু জ্বালানির বাণিজ্যিক ব্যবহার তদারক ও সব ধরনের তেজস্ক্রিয় পদার্থের ব্যবস্থাপনাও করবে কেন্দ্রটি।
মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব কিছুটা সতর্কতার সঙ্গেই পরমাণু শক্তি অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

থাইল্যান্ডে লাল শার্টের বিক্ষোভ ঠেকাতে রাজপথে হলুদ শার্টের সমাবেশ

থাইল্যান্ডে সরকারবিরোধী লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের দমন করতে এবার সেনাবাহিনীর পাশাপাশি রাজপথে নেমেছেন সরকারপন্থী হলুদ শার্ট পরা সমর্থকেরা। ব্যাংককের প্রধান বাণিজ্যিক শহর সিলমে যাতে লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীরা যেতে না পারেন, সে জন্য হলুদ শার্ট পরা সরকার-সমর্থকেরা রাজপথে জড়ো হতে শুরু করেছেন।
গতকাল রোববার তিন থেকে পাঁচ হাজার সরকারপন্থী হলুদ শার্ট পরা ব্যক্তি ব্যাংকক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হন। তাঁরা লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, লাল শার্ট বিক্ষোভকারীরা সিলমের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেকোনো মূল্যে তাঁদের ওই শহরে যাওয়া প্রতিহত করা হবে। হলুদ শার্ট পরা সমর্থক ও সেনাবাহিনীর এসব হুঁশিয়ারিতে লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীরা কিছুটা নরম হয়েছেন। সিলমে যাওয়া নিয়ে তাঁরা গতকাল বৈঠক করেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অবশ্য এখনো জানানো হয়নি।
তবে ধারণা করা হচ্ছে, সহিংসতা এড়াতে তাঁরা শেষ পর্যন্ত ওই কর্মসূচি থেকে সরে আসতে পারেন।
থাইল্যান্ড এখন কার্যত লাল শার্ট ও হলুদ শার্ট—এ দুই অংশে বিভক্ত। লাল শার্টের লোকজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থক। হলুদ শার্টের লোকজন প্রধানমন্ত্রী অভিজিৎ ভেজ্জাজিভার সমর্থক। হলুদ শার্ট পরা সমর্থকেরা থাইল্যান্ডের এলিট বা প্রভাবশালী সম্প্রদায়ের সমর্থনপুষ্ট। অন্যদিকে লাল শার্ট পরা সমর্থকেরা সমাজের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর। তাঁদের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন খুবই জনপ্রিয়।
হলুদ শার্ট পরা সমর্থকেরা মূলত ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যালায়েন্স ফর ডেমোক্রেসির (পিএডি) সদস্য। লাল শার্ট পরা থাকসিনপন্থীদের রাজধানীর প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা সিলমে যাওয়া ঠেকাতে রোববার তাঁরা সমাবেশ করেন।
বিভিন্ন প্রদেশ থেকে পিএডির প্রতিনিধিরা এখানে আসেন, তাঁরা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের রূপরেখা নিয়ে কথাবার্তা বলেন। তিনি আরও জানান, গতকাল তাঁদের সমাবেশে তিন থেকে পাঁচ হাজার পিএডির সমর্থক অংশ নেন।
এই পিএডির সমর্থকেরা হলুদ শার্ট গায়ে দিয়ে ২০০৮ সালে ব্যাংকক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেন। তাঁদের আন্দোলনের ফলেই আদালতের বিতর্কিত রায়ে তখন থাকসিন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতা হারান। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, লাল শার্ট সমর্থকদের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগের জন্যই তাঁরা রাজপথে জড়ো হয়েছেন।
লাল শার্ট নেতারা নির্বাচনের দাবিতে চলমান আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায় নিয়ে গতকাল আলোচনা করেন। এ ছাড়া বাণিজ্যিক এলাকা সিলমে বিক্ষোভ মিছিল করা নিয়েও আলোচনা করেন।
এদিকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সহিংসতা এড়াতে তারা লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের সিলমে যেতে দেবে না। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র সেনসার্ন কাকুমনার বলেছেন, তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করা হবে, যাতে তাঁরা সিলমে যেতে না পারেন। এ জন্য পুলিশ ও সেনারা যৌথভাবে তাঁদের প্রতিরোধ করবে।
বিক্ষোভকারীরা সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে হলে এটা ছাড়া কোনো পথ তাঁদের সামনে খোলা নেই।
লাল শার্ট পরা সমর্থকদের নেতা নাতাউত সাইকুয়ার বলেছেন, শনিবার তাঁদের ২৪ জন শীর্ষস্থানীয় নেতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী অভিজিতের রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভাষণ দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দেননি।

প্রথম বিভাগ বাস্কেটবল

ধানমন্ডি বাস্কেটবল জিমনেসিয়ামে আজ শুরু হচ্ছে প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রথম বিভাগ বাস্কেটবল। অংশ নিচ্ছে ইউরোপা ইয়ুথ, ধূমকেতু ক্লাব, যোশে ফাইটস ক্লাব, ঈগলেটস ক্লাব, গ্রেগরিয়াস, ক্যান্টোনিয়ানস, ওল্ড ডিওএইচএস, রেঞ্জার্স ক্লাব, হরনেটস এসসি, ফ্লেইম বয়েজ, রেইথস, দ্য গ্রেগস, দ্য শাওনস, বকশীবাজার ও মোহাম্মদপুর বাস্কেটবল ক্লাব।

তৃতীয় বিভাগ বাছাই ক্রিকেট

ফয়সাল হোসেনের সেঞ্চুরিতে তৃতীয় বিভাগ বাছাই ক্রিকেটে কাল সোনার বাংলা ক্রীড়াচক্র (২৬৫) ১২৬ রানে হারিয়েছে উইন হান্টার স্পোর্টিং ক্লাবকে (১৫৯)। ১৪টি চার ও ১টি ছক্কায় সর্বোচ্চ ১০১ রান করেন ফয়সাল। এই জয়ে আগামী মৌসুমে তৃতীয় বিভাগে খেলার টিকিট মিলেছে চ্যাম্পিয়ন সোনার বাংলা ক্রীড়াচক্রের। তবে হেরেও রানার্সআপ উইন হান্টারও উঠে গেল তৃতীয় বিভাগে।

নারায়ণগঞ্জে মহিলা দাবা

ঢাকার বাইরে দাবাকে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে গত মাসে নাটোরে হলো জাতীয় সাব-জুনিয়র দাবা। দাবা ফেডারেশন এবার নারায়ণগঞ্জে আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় মহিলা দাবা। আগামী ২৪ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে শুরু হবে এই প্রতিযোগিতা। রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে এবারের মহিলা দাবায় অংশ নিচ্ছেন—আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শারমিন সুলতানা (শিরিন), শামীমা আক্তার (লিজা), মহিলা ফিদে মাস্টার সৈয়দা শাবানা পারভীন (নীপা), তনিমা পারভীন, মাসুদা বেগম, নাজরানা খান (ইভা), জাকিয়া সুলতানা, জাহানারা হক, প্রতিভা তালুকদার, সামিহা শারমিন (সিম্মি) ও মাহমুদা হক চৌধুরী (মলি)। টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষক আরলিন ডেভেলপারস।

বার্সার ভরসা বাস

আইসল্যান্ডের আগ্নেয়গিরি তাহলে বার্সেলোনাকেও আকাশ থেকে মাটিতে নামিয়ে আনছে! অগ্ন্যুৎপাত থেকে সৃষ্ট ছাই-মেঘ পুরো ইউরোপের বিমান চলাচলব্যবস্থাকেই বিপর্যস্ত করে তুলেছে। আকাশপথে নয়, চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ খেলতে তাই বার্সাকে মিলান যেতে হতে পারে বাসে করে।
আগামীকালই ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামছে বার্সা। আজ তাদের মিলানের উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিপর্যস্ত বিমানব্যবস্থার জন্য এক দিন এগিয়ে গতকাল অনুশীলন শেষেই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। প্রতিদিনই ইউরোপে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে, গত শুক্রবারেই কেবল বাতিল হয়েছে ১৬ হাজার। সরাসরি মিলান যেতে না পারলে বার্সা চেষ্টা করবে কাছাকাছি কোনো শহরে যেতে। সেটাও সম্ভব না হলে শেষ পর্যন্ত বাসই ভরসা পেপ গার্দিওলার দলের।
ফ্লাইট বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটেও। আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে লন্ডন হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাওয়ার কথা ছিল আফগানিস্তান দলের, কিন্তু তারা যেতে পারেনি। বিশ্বকাপ খেলতে লন্ডন হয়েই ক্যারিবিয়ায় যাওয়ার কথা ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের। বিঘ্নিত হতে পারে তাদের যাত্রাও। আইসিসি আজকের সভায় যোগ দিতে লন্ডন থেকে দুবাই আসতে পারছেন না আইসিসি প্রেসিডেন্ট ডেভিড মরগান ও ইসিবি প্রধান জাইলস ক্লার্ক। ইয়র্কশায়ারের হয়ে চুক্তিবদ্ধ ক্যারিবিয়ান পেসার টিনো বেস্টের কাউন্টি অভিষেকও পিছিয়ে যেতে বসেছে দেশ ছাড়তে না পারায়।

সেমিতে চেন্নাই-ডেকান

ইরফান পাঠানের করা শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৬, মহেন্দ্র সিং ধোনি তা করে ফেললেন ৪ বলেই (৪-২-৬-৬)। এরপর নিজেই নিজের চোয়ালে ঘুষি মেরে বসলেন, মুখে হাসি নেই একটুও! এর চেয়েও অনেক বড় ম্যাচ জিতিয়েছেন, কিন্তু মহেন্দ্র সিং ধোনিকে এমন রূপে খুব কমই দেখা গেছে। কাল একটু আবেগপ্রবণ হলেন। কারণ, হারলেই বাদ—এমন ম্যাচটি হারের মুখ থেকে ৬ উইকেটে জিতিয়ে চেন্নাইকে তিনিই তুলে দিলেন আইপিএলের সেমিফাইনালে। ১৪ ম্যাচে তাদের মতো আরও দুই দলের পয়েন্টও ১৪। তবে ধোনির দল বাকিদের টেক্কা দিয়েছে রান রেটে।
শেষ ম্যাচে পাঞ্জাব সান্ত্বনার জয়টিও পায়নি বোলারদের ব্যর্থতায়। ৮ বলে ২১ রান করে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন জয়াবর্ধনে। আদ্যন্ত ব্যাট করে ৫৭ বলে ৮৮ রান করেন মার্শ, ২৭ বলে অপরাজিত ৪৪ পাঠান। ৩ উইকেটে পাঞ্জাব তোলে ১৯১। শুরুতে হেইডেন-বিজয়কে হারালেও চেন্নাইকে লড়াইয়ে রাখেন সুরেশ রায়না (২৭ বলে ৪৬) ও সুব্রামানিয়াম বদ্রিনাথ (৩৬ বলে ৫৩)। শেষ ৫ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৬৩, ধোনির ২৯ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংসে যেখানে পৌঁছে যায় তারা ২ বল আগেই।
দিনের আরেক ‘অস্তিত্ব রক্ষা’র ম্যাচে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসকে ১১ রানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ডেকান চার্জার্স। ডেকানের ৭ উইকেটে করা ১৪৫ রানের জবাবে সমানসংখ্যক উইকেট হারিয়েই দিল্লি করেছে ১৩৪ রান। গতকালের হারে এবারের আইপিএলটা শেষই হয়ে গেল তাদের জন্য। শেষ দল হিসেবে সেমিফাইনালে যেতে কঠিন সমীকরণ কলকাতা নাইট রাইডার্সের সামনে। আজকের ম্যাচে শুধু শীর্ষে থাকা মুম্বাই ইন্ডিয়ানসকে হারালেই হবে না, তাদের রান রেট হতে হবে বেঙ্গালুরুর চেয়ে বেশি।

সন্দেহের জালে মোদি

এ মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্যোতিষী কে বলতে পারেন? সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক টুইটারে যাঁরা লোলিত মোদিকে ‘ফলো’ করেন, তাঁদের উত্তরটা জানা থাকার কথা। টুইটার স্ট্যাটাসে একের পর এক আইপিএলের ম্যাচের ফলাফল সম্পর্কে মোদির ভবিষ্যদ্বাণী যেভাবে সত্য হচ্ছে, তাঁকেই মনে হচ্ছে সবচেয়ে বড় জ্যোতিষী। কিন্তু মোদি তো আর জ্যোতিষী নন, আইপিএল কমিশনার। সন্দেহটা তাই বাড়ছে, তবে কি মোদি ম্যাচের ফলাফলও নিয়ন্ত্রণ করেন? সোজা বাংলায় বলা যায়, আইপিএলে কি তবে পাতানো ম্যাচ হচ্ছে?
গুঞ্জনটা আগে থেকেই ছিল, টুইটার-কাণ্ডে এখন সেটা রূপ নিচ্ছে বিশ্বাসে। প্রায় ‘কেউ নন’ থেকে হঠাৎ করেই ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একজন হয়ে যাওয়া মোদি এবার দেখছেন মুদ্রার অন্যপিঠ। কোচি দলের মালিকানার শেয়ার বিতর্ক, সেই সূত্র ধরে শশী থারুরের সঙ্গে কথার যুদ্ধ, এর পর আয়কর কর্মকর্তাদের হানা, সব মিলিয়ে কিছুদিন ধরে সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না মোদির। এরই মাঝে উঠেছে ম্যাচ পাতানো বিতর্ক। ফিসফাসের শুরু অবশ্য গত বছর থেকেই। রাজস্থান রয়্যালস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচ যখন পেন্ডুলামের মতো দুলছে, তখনই টুইটারে ম্যাচের সম্ভাব্য পরিণতি বলে দিয়েছিলেন মোদি, যা পরে মিলে গেছে হুবহু। এবার একই ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকবার। একটি ভারতীয় টিভি চ্যানেলের খবর, মোদির টুইটার-কাণ্ডে বিসিসিআইও খুব বিরক্ত। তার পরও দুবাইয়ে আইসিসির আজকের সভায় বিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন মোদিই।
তবে এতেও মোদি স্বস্তি পাবেন কি না, কে জানে। আয়করের লোকজন এখনো পিছু ছাড়েনি। এর আগে আইপিএলের নতুন দুটি দলের বিস্তারিত তথ্যই কেবল চেয়েছিল তারা। এবার চেয়েছে বাকি আট দলেরও। মালিকানা, আয়-ব্যয়, শেয়ার ইত্যাদির বিস্তারিত খতিয়ান চেয়ে সমন জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিসিআইয়ের প্রশাসনিক প্রধান রত্নাকর শেঠি। ২৩ এপ্রিল শুনানিতে বিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন মোদি অথবা প্রধান নির্বাহী সুন্দর রমণ।
এদিকে আয়কর কর্মকর্তাদের সন্দেহের জালে পড়েও জিজ্ঞাসাবাদের পর শেষ পর্যন্ত নিষ্কলুষ বলে ছাড়া পেয়েছেন বেঙ্গালুরু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স দলের মালিক বিজয় মালিয়ার মেয়ে লায়লা মাহমুদ। মোদির অফিসে আয়কর কর্তাদের হানা দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে বেশ কিছু কাগজপত্র নিয়ে একজন মহিলার সটকে পড়ার দৃশ্য ধরা পড়েছিল সিসিটিভিতে। সন্দেহ করা হয়েছিল মোদির অফিসে কর্মরত লায়লাই সেই রহস্যময় মহিলা। কোনো ঝামেলা ছাড়াই অবশ্য পার পেয়ে গেছেন তিনি।

মোহামেডান ও আজাদের জয়

ইতি মণ্ডলের দারুণ বোলিংয়ে মেয়েদের ক্লাব কাপ ক্রিকেটে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ১০ উইকেটে হারিয়েছে মোহামেডান। অন্য ম্যাচে কলাবাগানকে ৮৮ রানে হারিয়েছে আজাদ স্পোর্টিং।
ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৪.১ ওভারে ওয়ান্ডারার্সকে ৩৭ রানে বেঁধে ফেলতে বড় ভূমিকা রাখেন ইতি। ৫ ওভারে ৩টি মেডেনসহ ৬ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন মোহামেডানের এই পেসার। ২৩তম ওভারের প্রথম ও দ্বিতীয় বলে পাপিয়া ও মানুফাকে আউট করে হ্যাটট্রিকেরই সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন ইতি। ওয়ান্ডারার্সের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৭ রান করেন নাজমা আক্তার। অতিরিক্তের অবদান ১৪ রান। মাত্র ৫.১ ওভারে বিনা উইকেটেই ছোট্ট এই লক্ষ্য টপকে যায় মোহামেডান। পাপিয়া করেন সর্বোচ্চ ১৭ রান। শুকতারা অপরাজিত থাকেন ১২ রানে। ম্যাচসেরা ওই ইতি মণ্ডল।
গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২০৩ রান করে আজাদ। রিতা খাতুনের ব্যাট থেকে এসেছে সর্বোচ্চ ৪০ রান। সোমা চক্রবর্তী, নূরজাহান সুলতানা ও সাবরিনা আক্তার নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। জবাবে ১১৫ রানেই অলআউট কলাবাগান। তুলিকা (৪১) ছাড়া বাকি কেউ রান পাননি। ম্যাচসেরা সাথিরা জাকির ৪টি ও ফারহানা সুলতানা, রিতু মণি, বৃষ্টি রায় ও ফাতেমা-তুজ-জোহরা নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

আমি মেসি নই বললেন রোবেন

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে লিওনেল মেসির সেই গোলটির কথা মনে আছে? সেই যে পুরো গতিতে এগিয়ে যেতে যেতে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে বল জালে পাঠানো? বুন্দেসলিগায় পরশু প্রায় একই রকম একটি গোল করেছেন আরিয়েন রোবেন। শুধু তা-ই নয়, হ্যানোভার ৯৬-এর বিপক্ষে গোল করেছেন তিনি আরও দুটি। এমন পারফরম্যান্সের পর ডাচ উইঙ্গারের তুলনা করা হচ্ছে লিওনেল মেসির সঙ্গে। রোবেনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের দিনে হ্যানোভারকে ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়েছে তাঁর দল বায়ার্ন মিউনিখ, জিতেছে ৭-০ গোলে।
ম্যাচ শেষে হ্যানোভার কোচ মিরকো স্লিমকা যা বলেছেন, ইদানীং তেমন বলা হয়ে থাকে কেবল মেসি সম্পর্কেই, ‘এটা স্রেফ অদ্ভুত প্রতিভা। রোবেন যখন এমন খেলে, যতবারই আপনি ভিডিও দেখেন না কেন কোনো ব্যাপার না।’ তবে এত প্রশংসা যাঁর সেই রোবেন কিন্তু নিজেকে মেসির কাতারে ভাবছেন না, ‘আমি মেসি নই, অবশ্যই সে আমার চেয়ে অনেক ভালো। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও দিদিয়ের দ্রগবারাও আছেন, তবে মেসি অন্যকিছু। সে নিজেই একটা ক্লাস। আমার এখনো উন্নতি করার জায়গা আছে।’
শনিবার বাকি চার গোলের দুটি করে করেছেন ইভিচা ওলিচ ও থমাস মুলার। এ মৌসুমে তিনটি শিরোপা জয়ের লক্ষ্য বায়ার্নের। সেই লক্ষ্যে তাদের প্রধান কান্ডারি রোবেন, রিয়াল মাদ্রিদ থেকে বায়ার্নে নাম লেখানোর পর ইনজুরি নিয়েও এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত করেছেন ১৪ গোল। বুন্দেসলিগায় ২২তম শিরোপার দিকে বায়ার্ন এগিয়ে যাচ্ছে দাপটেই, উঠেছে জার্মান কাপের ফাইনাল ও চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারেও। আগামী বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিতে লিওঁর মুখোমুখি হওয়ার আগে এই বিশাল জয় নিশ্চিতভাবেই বাড়তি প্রেরণা জোগাবে বায়ার্নকে। ২৬ বছর বয়সী রোবেনের সঙ্গে মেসির দেখা হয়ে যেতে পারে চ্যাম্পিয়নস লিগেই। সে ক্ষেত্রে বায়ার্নকে পেরোতে হবে লিওঁ-বাধা আর বার্সেলোনাকে হারাতে হবে ইন্টার মিলানকে।

সোনার হাঁসটাকে বাঁচিয়ে রাখতে বলছেন বোথাম

লাভের গুড় খাচ্ছেন বলে সুনীল গাভাস্কারদের মতো কিংবদন্তিরাও এখন টি-টোয়েন্টির প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কিন্তু এখনো কেউ কেউ আছেন, ক্রিকেটের ছোট এই সংস্করণের নেতিবাচক দিকটাও তুলে ধরেন অকপটে। ইয়ান বোথাম যেমন। সাবেক ইংলিশ অলরাউন্ডার বলছেন, টি-টোয়েন্টি যেন সবার কাছে সোনার ডিম পাড়া হাঁস। বেশি লোভে লোভে শেষে না এই হাঁসটাকেই মেরে ফেলে সবাই!
বোথামের কথার সবচেয়ে ভালো প্রমাণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বিশ্বসেরা হওয়ার এই মর্যাদার লড়াই চার বছর পর পরই হওয়ার রেওয়াজ। কিন্তু তিন বছরের মধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজন খোদ আইসিসি করছে তিনটি! বোথাম তাই বলছেন, ‘খেলাটা দারুণ। টি-টোয়েন্টি জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু আমার মতে, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টটা চার বছর পর পরই হওয়া উচিত। ফ্র্যাঞ্চাইজি আর কাউন্টি পর্যায়ে খেলাটা ঠিক আছে, এতে প্রচুর টাকা আসছে, দরজা দিয়ে নতুন নতুন অনেক খেলোয়াড়ও উঠে আসছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যখন এত খেলা হচ্ছে, সেখানে আবার আন্তর্জাতিক টোয়েন্টি-টোয়েন্টি কেন? এটাকে স্পেশালই রাখুন না। চার বছরে একবার করে বিশ্বকাপের আয়োজন করুন।’
পরিষ্কারভাবেই বোথাম ‘লোভ’ শব্দটা উচ্চারণ করেছেন। টি-টোয়েন্টি দিয়ে আইসিসি দেদার টাকা কামিয়ে নিতে চায় বলে মনে করেন তিনি, ‘গত জুনেই ইংল্যান্ডে একটা বিশ্বকাপ হলো। এরই মধ্যে ক্যারিবিয়ানে আবার আরেকটি বিশ্বকাপ। এটা তো লোভ। প্রতি রাতেই আপনি যদি আপনার প্রিয় সিনেমাটি দেখতে থাকেন, এক দিন তো ওটার ওপরও ঘেন্না চলে আসতে বাধ্য। তাই সতর্ক হওয়া দরকার। না হলে সোনার ডিম পাড়া হাঁসটাই ওরা মেরে ফেলবে একদিন।’
টি-টোয়েন্টির টাকার এমনই অমোঘ আকর্ষণ, আগামী ২ মে ৪২-এ পা দিতে চলা ব্রায়ান লারাও পরিকল্পনা করছেন ক্রিকেটে ফেরার। ইংলিশ কাউন্টি দল সারে তাঁর সঙ্গে ফ্রেন্ডস প্রভিডেন্ট টি-টোয়েন্টির জন্য চুক্তি করছে বলে খবর। লারার এ সিদ্ধান্তের কথা শুনে তাত্ক্ষণিকভাবে বিস্মিত হয়েছিলেন বলে স্বীকার করে নিলেন বোথাম, ‘ওর অ্যাড্রেনালিন ক্ষরণটা বন্ধ করা দরকার, অথবা ও-রকম কিছু একটা। আমি আসলেই খুব বিস্মিত। অবশ্য জীবনটা ওর। আমার তাতে নাক গলানোর হক নেই।’

রুনি বিহনে রোনালদো

কথা তো নিয়মিতই হয়। সামনে দেখাও হয়তো হবে নানা উপলক্ষে। কিন্তু আর কি একসঙ্গে খেলা হবে রুনি-রোনালদোর? রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ উইঙ্গার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সেই সম্ভাবনা আর দেখছেন না। খুব আফসোস নিয়েই তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, রুনি ম্যানচেস্টারে খুব ভালো আছে। রিয়াল মাদ্রিদ যদি তাকে এখানে আনতে চায়, তাহলেও সে আসবে বলে মনে হয় না।’
রুনি-রোনালদো দুজন দুই দেশের হলেও তাঁদের মধ্যে দারুণ বন্ধুত্ব। ম্যানইউতে একসঙ্গে খেলতে খেলতেই এটা হয়েছে। ২০০৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিদায় হয়েছিল পর্তুগালের কাছে হেরে। ওই ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন রুনি। এর পর একটু শীতল হয়ে পড়ে দুজনের সম্পর্ক। কিন্তু পরে আবার ঠিক হয়ে গিয়েছিল সব। তবে এ মৌসুমেই রোনালদো প্রিয় বন্ধুকে ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন। বন্ধুত্বে কোনো চিড় এতে ধরেনি। দুই বন্ধুই দুজনকে খুব মিস করেন।
ফোনে এখনো ম্যানইউ-সতীর্থদের সঙ্গে রোনালদোর নিয়মিত কথা হয়। ‘এখনো আমি ওয়েইন রুনি, রিও ফার্ডিনান্ড, নেমানিয়া ভিদিচের বন্ধু আছি। সবার সঙ্গে ফোনে কথা হয়’—বলেছেন রোনালদো। যোগাযোগ হলেও প্রাণ ভরে না রোনালদোর। তাই রুনিকে পাশে চেয়েছিলেন তিনি। এমনও বলেছিলেন—যদি সে রিয়াল মাদ্রিদে আসত! কিন্তু নিজেই আবার বুঝতে পারছেন, রুনি আসলে ম্যানইউ ছেড়ে কোথাও যাবেন না।

জামিলের বিদায় চান না খেলোয়াড়েরা

ক্লাব কাপ হকির ফাইনালে ঘটে যাওয়া নাটকের পর সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার জামিলউদ্দিনের পদত্যাগের ঘটনায় বেশ সংকটেই পড়েছে হকি ফেডারেশন। তবে জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা জামিলউদ্দিনের এমন বিদায় মেনে নিতে পারছেন না। তাঁদের আশা, জামিলউদ্দিন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করবেন।
এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বের খোঁজখবর নিতে হকি স্টেডিয়ামে আসেন জাতীয় দলের গোলরক্ষক মেহরাব হোসেন (কিরণ)। একটু পর আসেন মোশাররফ হোসেন (কুটি)। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার জামিলউদ্দিনের পদত্যাগের খবরে তাঁরা দুজনই মর্মাহত। শুধু তাঁরা নন, জাতীয় দলের বেশির ভাগই খেলোয়াড়ই মেনে নিতে পারছেন না এটি।
জাতীয় দলের ডিফেন্ডার আসাদুজ্জামান (চন্দন) জানান, ‘খবরটা শুনে আমরা মর্মাহত। উনি আমাদের জন্য অনেক করেছেন। তাঁর জন্যই মূলত জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে খেলতে পেরেছি আমরা।’ স্ট্রাইকার রাসেল মাহমুদও (জিমি) কষ্ট পেয়েছেন এ খবরে, ‘খবরটা শুনে আমার খারাপ লেগেছে।’ জামিলউদ্দিন পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করবেন বলে আশাবাদী আসাদুজ্জামান ও রাসেল মাহমুদ। আসাদুজ্জামান তো ক্যাম্প বর্জনেরও হুমকি দিয়ে দিয়েছেন, ‘উনি যদি নির্বাহী কমিটির সভায় পদত্যাগপত্র না ফিরিয়ে নেন তাহলে আমি আর জিমি এই এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বের ক্যাম্পও বর্জন করতে পারি।’ কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন বলে আবদুস সাজ্জাদ (জন) মাঠেই আসতে পারেননি। কাল ফোনে জানালেন, ‘জামিল ভাইয়ের পদত্যাগের খবরটা পত্রিকায় পড়ে খুবই খারাপ লেগেছে। উনি আমাদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। আমরা ওনার মতো সংগঠককে হারাতে চাই না।’ মোশাররফের কথা, ‘শুধু জামিল ভাই নন, ওনার মতো আরও কিছু সংগঠক হকিতে প্রয়োজন। উনি এ মুহূর্তে চলে গেলে হকির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। হকির স্বার্থেই ওনার থাকা উচিত।’
যাঁকে নিয়ে এত আলোচনা সেই জামিল নিজেই অবশ্য পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের কথা ভাবছেন, ‘সব ব্যর্থতা স্বীকার করেই পদত্যাগ করেছি। তবে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ওরা সবাই চাইছে, আমি ফিরে আসি। আমার পরিবারের জন্য পুরো ঘটনাটা বিব্রতকর ছিল। তাই যা করব পরিবারের সবার সঙ্গে কথা বলে ভেবেচিন্তেই করব।’ ২৪ এপ্রিল নির্বাহী কমিটির সভা। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হবে তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত হবে, নাকি তাঁকে আবারও দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করা হবে।
জামিলউদ্দিনের পদত্যাগে ফেডারেশনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ক্লাব কাপ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে জাতীয় দল থেকে অবসরে যাওয়া ছয়জন খেলোয়াড় মোশাররফ হোসেন, মশিউর রহমান, আবদুস সাজ্জাদ, খন্দকার হাসান, রিমন কুমার ও জাহিদ বিন তালিব (শুভ) পড়েছেন বিপাকে। মোশাররফ জানান, ‘এখন ফেডারেশনে যে হ-য-ব-র-ল অবস্থা তাতে আমাদের যে কী হবে, সেটাই বুঝতে পারছি না। আসন্ন এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে আমরা খেলতে চাই। কিন্তু চাইলেই তো হবে না। সবকিছুর একটা প্রক্রিয়া আছে। সেই সুযোগ কই?’
এদিকে গত কয়েক দিনের ঘটে যাওয়া ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আবাহনী কেন্দ্রীয় সমর্থক গোষ্ঠী হকি ফেডারেশনের সব কর্মকর্তার পদত্যাগের দাবি করেছে।

সুযোগ কাজে লাগালেন এনামুল

প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পেয়ে সেটি কাজে লাগালেন...। কথাটা তরুণ কোনো ফুটবলারের বেলায় যেমন মানানসই জাতীয় দলের স্ট্রাইকার এনামুল হকের সঙ্গে ঠিক সেভাবে যায় না। তার পরও সম্প্রতি এনামুলকে যেভাবে সাইড বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হচ্ছে অথবা বদলি হিসেবে খেলাচ্ছে আবাহনী, তাতে কাল আরামবাগের বিপক্ষে দলের ৩-০ জয়ে দুই গোল করে একাদশে খেলার সুযোগটা ভালোই কাজে লাগালেন তিনি।
ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার শেরিফ দ্বীন মোহাম্মদ আহত। তাঁর জায়গায় ইব্রাহিমের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন এনামুল। জুটিটা বেশ কার্যকর দেখাল কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। তাই শেরিফের না থাকাটা চিন্তার কোনো কারণই হতে পারেনি আবাহনীর জন্য।
এমনিতেই আরামবাগের যা দুরবস্থা, তাতে এখন আর বড় দলকে ধরে দেওয়ার চিন্তাও তারা করে না। আরামবাগ মাঠেই এসেছে হার ধরে নিয়ে। শেখ রাসেলের কাছে ১-৬ আর মোহামেডানের কাছে ০-৭ গোলে হেরে যাওয়া দলের কোনো মানসিক দৃঢ়তা থাকে না। এর ব্যতিক্রম কিছু তারা করেও দেখাতে পারেনি।
৩-০ হওয়ার পর আরামবাগ খেলল ১০ জন নিয়ে। আবাহনীর শাহেদকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেছেন আরামবাগের বদলি খেলোয়াড় নুরুল ইসলাম।
৩২ মিনিটে এনামুলের ঠেলে দেওয়া বল ইব্রাহিম গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে দারুণ দক্ষতায় জালে ঠেলে প্রথম গোল এনে দেন আবাহনীকে। ৫১ মিনিটে প্রাণতোষের পাস থেকে ২-০ করেন এনামুল। এ গোলটিও অনেকটা ইব্রাহিমের গোলটির মতো। আবাহনীর তৃতীয় গোল এসেছে পেনাল্টি থেকে। ইব্রাহিমের চূড়ান্ত পাস থেকে যখন গোল করতে যাচ্ছেন এনামুল, তখনই বক্সে তাঁকে ফাউল করা হলে পাওয়া পেনাল্টি কাজে লাগান এনামুলই (৩-০)।
ক্লাবে ফিরে ফোনে এনামুল বলছিলেন, ‘নিয়মিত সুযোগ পেলে গোল আরও পেতাম।’ নিয়মিত সুযোগটাই এখন তাঁর জন্য হতাশার ব্যাপার। এখন পর্যন্ত গোল ১০টি। তবে গোলের চেয়ে ‘পজিশন’টাই এখন তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের প্রয়োজনে কখনো মাঝমাঠে খেলতে হচ্ছে—এনামুলের কাছে যেটিই হতাশার বড় কারণ।
তবে আবাহনী বেশ উত্ফুল্ল। ১৭ ম্যাচে ১৬তম জয়ে তাদের পয়েন্ট ৪৯। ১৬ ম্যাচে মোহামেডানের ৪২, শেখ রাসেলের ৩৯। ১৭ ম্যাচে আরামবাগের পয়েন্ট ১৫। তালিকার দশম স্থানে এক সময়ের ‘জায়ান্ট কিলার’রা!
ইংল্যান্ড থেকে ফিরে আরামবাগ অধিনায়ক আলফাজ দুই ম্যাচ পর কাল খেললেন। তাঁকে খেলানো হলো মাঝমাঠে। ওই যে, গোল ঠেকাতে হবে! তাই গোলের চিন্তা বাদ দিয়ে বেশির ভাগ সময়ই আলফাজকে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেল রক্ষণেই।
ক্লাবের অনুমতি ছাড়া ইংল্যান্ডে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে গেছেন দাবি করেছিল আরামবাগ। কাল ম্যাচের পর জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার বললেন, ‘ফোনে জেনারেল সেক্রেটারিকে পাইনি। তা ছাড়া কাউকে না-কাউকে তো বলে গেছি।

আফগানিস্তানে নির্বাচন কমিশন প্রধান নিয়োগ

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সে দেশের নির্বাচন কমিশনের (আইইসি) প্রধান হিসেবে ফজল আহমেদ মানাবিকে নিয়োগ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনী অভিযোগসংক্রান্ত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ইলেকশন কমপ্লায়েন্টস কমিটিরও (ইসিসি) অনুমোদন দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের মুখপাত্র ওয়াহিন ওমর গতকাল শনিবার জানান, পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের পরামর্শক্রমে মানাবিকে নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নবগঠিত ইসিসি সদস্যদের মধ্যে তিনজন আফগান। বাকি দুজনের একজন ইরাকের মুস্তাফা শাফায়াত ও অপরজন হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান ক্রেইগলার।
গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন কমিশনের প্রধান আজিজুল্লাহ লুদিন ও তাঁর সহকারী দাউদ আলী নজাফি ৭ এপ্রিল পদত্যাগ করেন।

বিয়ের দাবিতে অনশনের হুমকি

পেরুতে কারাবন্দী মাওবাদী বিদ্রোহী সংগঠন ‘শাইনিং পাথ’-এর শীর্ষ নেতা ও তাঁর প্রেমিকা বিয়ের জন্য সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, সরকার শিগগিরই বিয়ের অনুমতি না দিলে তাঁরা অনশন করবেন। শাইনিং পাথের নেতা আবিমায়েল গুজমান ও তাঁর বান্ধবী এলিনা ইয়াপারাগুয়ার দুজনই বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
আবিমায়েল ও এলিনার আইনজীবী আলফ্রেডো ক্রেসপো জানান, তাঁর মক্কেলেরা কয়েক বছর ধরে বিয়ের অনুমতি চেয়ে আসছেন। আগামীকাল সোমবারের মধ্যে সরকারের তরফ থেকে বিয়ের অনুমতি না এলে মঙ্গলবার থেকে আবিমায়েল ও এলিনা অনশন শুরু করবেন। পেরুর আইন অনুযায়ী বন্দীরা বিয়ে করতে পারেন। এমনকি তাঁরা বছরে বেশ কয়েকবার বেড়াতেও যেতে পারেন।
১৯৮০ এর দশকে শাইনিং পাথ সরকারবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে তা গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। এতে অন্তত ৭০ হাজার লোক প্রাণ হারায়। শাইনিং পাথের প্রতিষ্ঠাতা আবিমায়েল ১৯৯২ সালে গ্রেপ্তার হন। তাঁর গ্রেপ্তারের সঙ্গে সঙ্গে শাইনিং পাথের সশস্ত্র আন্দোলনও শেষ হয়।

স্পেনে হিজাব খুলতে রাজি না হওয়ায় বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ

স্পেনে মাথা থেকে হিজাব খুলতে রাজি না হওয়ায় ১৬ বছরের এক স্কুলছাত্রীকে বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করা হয়েছে।
নাজওয়া মালহা নামের ওই ছাত্রী মাদ্রিদের কামিলো হোসে সেলা স্কুলে পড়ত। হিজাব পরায় বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোশাকের ব্যবস্থা লঙ্ঘিত হয়েছে জানিয়ে কর্তৃপক্ষ মালহাকে বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাথায় টুপি ও মাথা ঢাকতে অন্য কিছু পরা বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিধিবিধানের পরিপন্থী।
দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়, মালিহা বলেছেন, ‘আমি পুরোপুরি বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছি।’
মালহার মা-বাবা মরক্কোর অভিবাসী হলেও তার জন্ম স্পেনেই। মালহা জানায়, মায়ের উপদেশ উপেক্ষা করে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সে বিদ্যালয়ে হিজাব পরে যাওয়া শুরু করে।
মনে করা হচ্ছে, মালহার সিদ্ধান্তের পেছনে তার সহপাঠীদের সমর্থন রয়েছে; কিন্তু বিদ্যালয়টির সিদ্ধান্তে সমর্থন রয়েছে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের।
ইতিমধ্যে অ্যাসোসিয়েশন অব মরক্কান ওয়ার্কার্স অ্যান্ড ইমিগ্রান্টস ইন স্পেন বিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির প্রধান কামাল রামোইনি জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে নাজওয়া মালহা বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না। সংবিধান অনুযায়ী এতে মালহার প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের অধিকার খর্ব হচ্ছে।
এ নিয়ে স্পেনে দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের ঘটনা ঘটল। এর আগে গত নভেম্বর মাসে এক মুসলিম আইনজীবী হিজাব খুলতে না চাওয়ায় তাঁকে আদালত থেকে বহিষ্কার করা হয়।

নিহতদের প্রতি হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন

পোল্যান্ডের হাজার হাজার শোকার্ত মানুষ গতকাল শনিবার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত সে দেশের প্রেসিডেন্ট লেস কাচজিনস্কিসহ অন্যদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানায়। জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এ দিন তাঁদের মরদেহ ওয়ারশর পিলসুদস্কি স্কয়ারে রাখা হয়। লেস কাচজিনস্কির শেষকৃত্য আজ রোববার ক্র্যাকাউয়ে হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ বিশ্বের অনেক নেতার এ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু আইসল্যান্ডে আগ্নেয়গিরির অগু্ন্যৎপাতের কারণে তাঁদের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। খবর এএফপি।
শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ছোট শহর থেকে আসা জান সজিলবোরস্কি জানান, জাতির এই দুঃখময় মুহূর্তে আমাদের এখানে আসা প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, আমরা দেখিয়েছি কোন বিষয় আমাদের জন্য মূল্যবান। আর সেটা হলো আমাদের দেশপ্রেম। এ কারণে অনুষ্ঠানে আমরা এসেছি। আরেক শোকার্ত রিজসার্ড রোগালা বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট দম্পতিকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য প্রেসিডেন্ট প্যালেসে গিয়েছিলাম এবং আজও এ অনুষ্ঠানে আছি। কারণ, তিনি আমাদের প্রেসিডেন্ট ও তিনি দেশপ্রেমিক ছিলেন।
এ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কর্তৃপক্ষ বিনা মূল্যে যানবাহনের ব্যবস্থা করেছিল। এ ছাড়া জাতীয় রেল কোম্পানিও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আনার জন্য বাড়তি ট্রেনের ব্যবস্থা করেছিল।
এ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহ ধরে লোকজন শহরে এসেছে এবং তারা এ দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের প্রেসিডেন্টের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানায়।
এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কাচজিনস্কি ও তাঁর স্ত্রীর শেষকৃত্য আজই রোববার ক্র্যাকাউয়ে হবে। এতে বিশ্বের প্রায় ৮০ জন প্রতিনিধির যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

থাকসিন সমর্থকদের আকস্মিক আত্মসমর্পণের ঘোষণা

থাইল্যান্ডের লাল শার্ট বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া নেতারা আগামী ১৫ মে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন বলে আকস্মিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে। বিক্ষোভকারীদের এক নেতা গতকাল শনিবার এ কথা জানিয়েছেন।
আরেক দফা জোরপূর্বক গ্রেপ্তারের ঘটনা এড়াতেই তাঁরা এ পরিকল্পনা করেছেন বলে জানিয়েছেন ওই নেতা।
বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, রাজধানীর নিরাপত্তার দায়িত্ব সেনাপ্রধানের হাতে অর্পণ করায় তাঁরা ধারণা করছেন, শিগগিরই সেনাবাহিনী তাঁদের বিক্ষোভস্থল থেকে উচ্ছেদে আরেক দফা চেষ্টা চালাবে।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিনপন্থী লাল শার্টের নেতা নাত্তায়ুত সাইকুয়ার বলেন, ‘আগামী ১৫ মে আমাদের ২৪ জন নেতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন। তবে আন্দোলন চলবে। বিক্ষোভকারীরা ব্যাংকক ত্যাগ করবেন না।’ তাঁরা জামিনের চেষ্টা করবেন বলেও জানান সাইকুয়ার।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ২৪ নেতাই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখবেন। নেতারা কোথাও পালিয়ে যাচ্ছেন না, এটা প্রমাণ করতেই তাঁরা বিক্ষোভে অংশ নেবেন।’
সেনাপ্রধান অনুপং পাওজিন্দারের ক্ষমতা বাড়িয়ে গত শুক্রবার তাঁকে রাজধানীর নিরাপত্তাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অভিজিৎ ভেজ্জাজিভা। সেনাবাহিনী বলেছে, লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জোরদার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
রাজধানী ব্যাংককের যে হোটেলে লাল শার্ট পরা নেতারা অবস্থান করছিলেন, গত শুক্রবার নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে গ্রেপ্তার অভিযান চালায়। নেতারা নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার এড়ান। হোটেল ঘেরাওয়ের আগেই তাঁরা পালিয়ে যান। চলতি মাসের শুরুর দিকে পার্লামেন্টে ভাঙচুর করার অভিযোগে সব লাল শার্ট পরা নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। তাঁর সমর্থক লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীরা প্রায় এক মাস ধরে প্রধানমন্ত্রী অভিজিৎ ভেজ্জাজিভার পদত্যাগ ও নতুন নির্বাচন ঘোষণার দাবিতে বিক্ষোভ করে আসছেন। এঁরা মূলত দরিদ্র গ্রামবাসী।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ব্যাংককে বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও অন্তত সাত হাজার লাল শার্টধারী বিক্ষোভ করেছে।

ওবামাকে ‘বানর’ বলেছেন অস্ট্রেলীয় শিক্ষার্থী

অস্ট্রেলিয়ার একজন শিক্ষার্থী ও একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য সামাজিক নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইট টুইটারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ‘বানর’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর এই মন্তব্যে বর্ণবাদ-বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং দল থেকে ওই ছাত্রের বহিষ্কার দাবি করা হয়েছে।
কুইন্সল্যান্ড ইয়াং লিবারেল ন্যাশনাল পার্টির সদস্য ও ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্র নিক সোডেন গত শুক্রবার রাতে টুইটারে একটি বার্তায় ওবামা সম্পর্কে ওই মন্তব্য লেখেন। ওই সময় ওবামা অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম এবিসির কেরি ও’ব্রায়ানকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন।
টুইটারের ওই বার্তায় লেখা হয়েছে, ‘আমি নিশ্চিত নই কেন তারা কেরিকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার খরচ দিলেন। যদি একটি বানরের সাক্ষাৎকার দরকার ছিল, তাহলে তারোঙ্গায় (অস্ট্রেলিয়ার একটি চিড়িয়াখানা) গেলেই হতো।’
পরে অবশ্য সোডেন স্থানীয় একটি বেতারকেন্দ্রে প্রচারিত অনুষ্ঠানে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন, বন্ধুর সঙ্গে কৌতুক করে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন।

প্রভাকরণের মাকে ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি

শ্রীলঙ্কার প্রয়াত তামিল টাইগার নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণের মাকে চিকিৎসার জন্য ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া গতকাল শনিবার এ কথা জানিয়েছে।
প্রভাকরণের মা ভাল্লিপুরম পার্বতী শুক্রবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ু পৌঁছালে তাঁকে বিমান থেকে নামতে বাধা দেওয়া হয়। ভারতের বার্তা সংস্থাগুলো এ কথা জানায়। তারা এর বেশি কিছু জানায়নি।
তামিলসমর্থিত ওয়েবসাইট তামিলনেট বলেছে, পার্বতীকে ভারতের অভিবাসন কর্মকর্তারা বিমান থেকে নামতে বাধা দিয়েছেন।
পার্বতীর তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। কলম্বোয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তামিল রাজনীতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, প্রায় ৮০ বছর বয়সী পার্বতী মস্তিষ্কের রোগে ভুগছেন। তিনি বর্তমানে হুইলচেয়ারে করে চলাফেরা করেন।
তামিলনেটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্বতীকে মালয়েশিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় তাঁকে বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রভাকরণের স্থানীয় সমর্থকদের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে পুলিশ চেন্নাই বিমানবন্দরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছিল।
জানুয়ারি মাসে সামরিক হেফাজতে স্বামীর মৃত্যুর পর শ্রীলঙ্কা ছেড়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান পার্বতী।
ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণ এলটিটিইর অপর দুই শীর্ষস্থানীয় সামরিক কমান্ডারসহ গত বছরের ১৮ মে শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হন।

বেনজিরকে সতর্ক করেছিলেন কারজাই

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই এ ব্যাপারে তাঁকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। তিনি বেনজিরকে আফগানিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য নেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বেনজির হত্যাকাণ্ডে জাতিসংঘ গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার ঘণ্টা কয়েক আগে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের দ্য নিউজ পত্রিকা জানায়, আফগান প্রেসিডেন্ট চেয়েছিলেন, বেনজির যেন তাঁর নিরাপত্তায়আফগানিস্তানের গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞ এবং নিরাপত্তাকর্মীদের কাজে লাগান। তিনি বেনজিরকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তিনি শিগগিরই ভয়াবহ হামলার শিকার হতে যাচ্ছেন। আফগান গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাঁকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে বেনজির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে সে দেশের গণমাধ্যম। ‘বেনজিরকে খুনিদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল’ উল্লেখ করে পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যমে গতকাল শনিবার মন্তব্য প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে। খবর পিটিআই ও এএনআই।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের গণমাধ্যম নতুন করে বেনজির হত্যাকাণ্ডের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছে। বেনজির হত্যার পর প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির নেতৃত্বাধীন সরকারের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে গণমাধ্যম। তারা বলেছে, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে জারদারি সরকার খুবই সামান্য দায়িত্ব পালন করেছে।
নিউজ ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি পত্রিকা বলেছে, ‘বেনজিরের হত্যাকাণ্ড পুরো জাতিকে প্রভাবিত করেছে। তাই এ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানার অধিকার আছে গোটা জাতির।’ পত্রিকাটি বলেছে, ‘প্রেসিডেন্ট মোশাররফের সামনে বেনজিরকে হত্যা করা হলো। অথচ এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে মোশাররফ সরকার তেমন কিছুই করল না। শুধু তাই নয়, বর্তমান সরকারও খুনিদের খুঁজে বের করতে তেমন কিছুই করছে না। তারা খুনিদের খুঁজে বের করতে এবং প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে কোনো তদন্ত পর্যন্ত করেনি।
ডন বলেছে, বেনজিরের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মোশাররফ বেনজিরের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কেন বৈষম্য করলেন, তা তদন্ত করতে হবে।
২০০৭ সালের ডিসেম্বরে রাওয়ালপিন্ডিতে বন্দুক ও বোমা হামলায় নিহত হন বেনজির ভুট্টো।

ভূমিকম্পে নিহত ৭০০ মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে

চীনে ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর জেইগুতে গতকাল শনিবার প্রায় ৭০০ মৃতদেহ একসঙ্গে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এদিকে বুধবারের ওই ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাব অনুযায়ী এক হাজার ১৪৪-এ পৌঁছেছে। এ ছাড়া নিখোঁজ আছে আরও ৪১৭ জন। এদিকে ভূমিকম্পবিধ্বস্ত এলাকা সফরে যেতে দেওয়ার জন্য চীন সরকারের প্রতি গতকাল আহ্বান জানিয়েছেন তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা।
তিব্বতে মানুষ মারা গেলে ফালি ফালি করে শকুনকে খেতে দেওয়া হয়। এটাই সেখানকার ঐতিহ্যবাহী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া-পদ্ধতি। কিন্তু ভূমিকম্পে নিহত এত মানুষকে এভাবে সৎকার করতে গেলে রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় এক অধিবাসী বলেন, এত মৃতদেহ শকুনে খেয়ে পারবে না। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রায় ৭০০ মৃতদেহ গতকাল একসঙ্গে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ জন্য প্রথমে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা মন্ত্র পাঠ করেন, এরপর মৃতদেহগুলো একটি গর্তে রেখে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। উদ্ধার তৎপরতা এখনো অব্যাহত আছে। কিন্তু ভূমিকম্পের পর চার দিন পেরিয়ে যাওয়ায় এখন আর কারও ধ্বংসস্তূপের নিচে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। উদ্ধারকাজের জন্য ভারী সরঞ্জাম গত শুক্রবার সেখানে পৌঁছেছে সড়কপথে কয়েক শ কিলোমিটার দূর থেকে। এ ছাড়া খাবার, ওষুধ, তাঁবুও পৌঁছাতে শুরু করেছে। তবে উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, প্রয়োজন আরও বেশি।
চীনের চিংহাই প্রদেশে গত বুধবারের ভূমিকম্পের পর থেকে হাজার হাজার মানুষ এখনো গৃহহীন। হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রায় খোলা জায়গায় রাত-দিন কাটছে তাদের। চীন কর্তৃপক্ষ সেখানে ১০ হাজার সেনা ও চিকিৎসক পাঠিয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এত ব্যাপক যে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বেইজিং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে সরকার সম্ভাব্য সবকিছু করবে।
এদিকে গতকাল এক বিবৃতিতে স্বেচ্ছানির্বাচিত তিব্বতি নেতা দালাই লামা বলেন, ‘তিব্বতিদের ইচ্ছা পূরণে আমি সেখানে যেতে চাই। আমি সেখানে গেলে তারা শান্তি পাবে।’

যুক্তরাষ্ট্রকে আইএইএ থেকে বহিষ্কারের দাবি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আণবিক অপরাধী’ (অ্যাটমিক ক্রিমিনাল) বলে আখ্যায়িত করে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ) থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পরমাণু শক্তিধর সব দেশকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে ইরান। ওয়াশিংটনে ৪৭ দেশের পরমাণু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন কয়েকের মাথায় গতকাল শনিবার তেহরানে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ দাবি জানানো হয়। খবর এএফপির।
কর্মকর্তারা বলেছেন, সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির একটি লিখিত বার্তা পড়ে শোনানো হয়। ওই বার্তায় খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ যে আণবিক অপরাধ সংঘটিত করেছে। বিশ্বের এই একমাত্র আণবিক অপরাধী একের পর এক মিথ্যা বলে যাচ্ছে এবং নিজেকে পরমাণু অস্ত্রবিস্তারের বিপক্ষের শক্তি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই দেশটি এখন পর্যন্ত পরমাণু অস্ত্রবিস্তার রোধের বিষয়ে কোনো আন্তরিক পদক্ষেপ নেয়নি। খামেনি বলেন, পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহারকে তাঁরা ‘হারাম’ হিসেবে বিবেচনা করেন।
পরমাণু ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বক্তব্য দিতে গিয়ে খামেনির চেয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে ছিলেন। ওই সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধে একটি আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা উচিত। তিনি বলেন, যারা ইতিমধ্যে পরমাণু অস্ত্রের ভান্ডার গড়ে তুলেছে, যারা ইতিমধ্যে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং যারা এ অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, তাদের আইএইএ থেকে বহিষ্কার করা উচিত। তিনি বলেন, আইএইএর পরিচালনা পর্ষদ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু বর্জ্যে তৈরি ভয়াবহ অস্ত্র গত ইরাক যুদ্ধে ব্যবহার করেছে।
ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, গতকাল শুরু হওয়া ওই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রমিন মেহমানপরাশ্ত বলেছেন, লেবানন, ইরাক, সিরিয়া, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র, ওমান, তুর্কমেনিস্তান, আর্মেনিয়া ও সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও তাতে যোগ দিচ্ছেন।
মেহমানপরাশ্ত বলেছেন, ‘চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন বিশেষ দূত জাতিসংঘ, আইএইএর প্রতিনিধিরা এবং ওআইসির প্রধান এ সম্মেলনে যোগ দেবেন। আইসল্যান্ডে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আসতে বিলম্ব হচ্ছে।
তেহরান সম্মেলনে ইরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ৪৭ জাতির পরমাণু সম্মেলনের কড়া সমালোচনা করা হয়। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরমাণু অস্ত্রের মজুদ দখলে রেখে যুক্তরাষ্ট্র এখন পরমাণু অস্ত্রবিস্তার রোধের আহ্বান জানাচ্ছে।
ওয়াশিংটন সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চীনসহ জাতিসংঘের স্থায়ী পরিষদের সদস্যদের পরমাণু ইস্যুতে ইরানের ওপর চতুর্থ দফায় অবরোধ আরোপ করতে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছেন।
তেহরান সম্মেলন সম্পর্কে শুক্রবার ইরানের পরমাণু-প্রধান আলি আকবার সালেহি বলেন, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ, বিস্তার রোধ এবং শান্তিপূর্ণ পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে আলোচনার জন্য তাঁরা এ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। তিনি বলেন, আগামী মাসে নিউইয়র্কে অস্ত্রবিস্তার রোধ চুক্তি বা নন-প্রলিফারেশন ট্রিটির (এনপিটি) যে পর্যালোচনামূলক সভা হবে, এ সম্মেলনে তাতে যোগদানের প্রাক্-প্রস্তুতিও নেওয়া হবে।
এদিকে, ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির বিদেশ ভ্রমণে ‘অবরোধ আরোপ’ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। জাপানের হিরোশিমায় গতকাল একটি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। সম্মেলনের আয়োজকেরা বলেছেন, শেষ মুহূর্তে খাতামি তাঁর জাপান সফরের পরিকল্পনা বাতিল করেন। খাতামির সহযোগীরা বিবিসিকে বলেছেন, সরকারের তরফ থেকে বাধা দেওয়ার কারণেই তিনি জাপানে যেতে পারেননি।

সেনাপ্রধানের ক্ষমা প্রার্থনা

পাকিস্তানের খাইবার এলাকায় সেনা অভিযানে বেসামরিক লোকজন নিহত হওয়ার ঘটনায় সে দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক কায়ানি ক্ষমা চেয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ১০ এপ্রিল খাইবারের তিরাহ উপত্যকায় বিমান হামলায় ও গুলিতে ৪২ জঙ্গি নিহত হয় বলে সেনাবাহিনী দাবি করে আসছিল। ওই এলাকার কুকিখেল গোষ্ঠীর নেতারা দাবি করে আসছিলেন, হামলায় অন্তত ৬১ জন নিহত ও ২১ ব্যক্তি আহত হন। হতাহতদের সবাই বেসামরিক ব্যক্তি। আল-কায়েদা বা অন্য কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের যোগ ছিল না।
গতকাল সেনাবাহিনীর বিবৃতিটিতে বলা হয়, ‘সেনাপ্রধান মনে করেন, ওই হামলা ছিল ‘দুর্ভাগ্যজনক’। বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার এ ঘটনায় কুকিখেল গোষ্ঠীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন কায়ানি। সে সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সেনাবাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন সেনাপ্রধান।’