Monday, December 5, 2016

ইতালির প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

মাত্তিও রেনজি। রয়টার্স
ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজি পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। দেশটির সংবিধান সংস্কারে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘না’ ভোট জয়ী হওয়ায় পদত্যাগ করেন রেনজি। গতকাল রোববার দেশটিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে ‘না’ জয়ী হওয়ায় আভাস দিয়েছিল জনমত জরিপ। প্রধানমন্ত্রী রেনজি আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, গণভোটে ‘না’ জয়ী হলে পদত্যাগ করবেন তিনি।
সংস্কার প্রস্তাবের বিরোধীরা গণভোটে সুস্পষ্টভাবে জয়ী হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদত্যাগ করলেন। গভীর রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে রেনজি বলেন, গণভোটের ফলের দায়ভার নিয়েছেন তিনি। ভোটকেন্দ্রফেরত এক জরিপে বলা হয়, ‘না’ ভোট পড়েছে ৫৪ থেকে ৫৮ শতাংশ। আর সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ৪২ থেকে ৪৬ শতাংশ। রেনজি বলেন, আজ সোমবার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিজের পদত্যাগের কথা জানাবেন তিনি। এরপর ইতালির প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।

সমাহিত হলেন মহান বিপ্লবী

তাঁর কোনো ভাস্কর্য বানানো হবে না কিউবায়। তাঁর নামে গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থানের নামকরণও হবে না। মহান বিপ্লবী ফিদেল কাস্ত্রোর অন্তিম ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানালেন তাঁর ছোট ভাই প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো। কিন্তু তাঁর স্মৃতি মুছে যাবে না। লাখো জনতার ‘আমিই ফিদেল’ স্লোগান এমনটাই জানান দিল। নয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যে শনিবার লাখো জনতার উপস্থিতি ও স্লোগানমুখর পরিবেশে কাস্ত্রোর দেহভস্ম সান্তিয়াগো শহরে নেওয়া হয়। পরে গতকাল রোববার সান্তিয়াগোর সান্তা ইফিগেনিয়া সমাধিক্ষেত্রে কিউবার ঊনবিংশ শতাব্দীর বিপ্লবের নায়ক হোসে মার্তির সমাধির পাশে সমাহিত করা হয় এই বিপ্লবীর ভস্মাধার। ১৯৫৯ সালের বিপ্লবে কাস্ত্রোর গেরিলা বাহিনী যে পথে হাভানা পৌঁছেছিল, তার উল্টো পথ অনুসরণ করে দেহভস্ম। রাজধানী হাভানা থেকে চার দিনে দেশের বিভিন্ন শহর ঘুরে কাস্ত্রোর দেহভস্মবাহী ‘মুক্তির কাফেলা’ শনিবার বিপ্লবের সূতিকাগার সান্তিয়াগোতে পৌঁছায়। এই কয় দিনে দেহভস্মবাহী গাড়ি নয় শ কিলোমিটার ভ্রমণ করে সান্তিয়াগোতে পৌঁছায়। সেখানে রেভল্যুশন স্কয়ারে লাখো জনতা স্লোগানমুখর পরিবেশে দেহভস্মকে স্বাগত জানায়।
কাস্ত্রোর দেহভস্মের সামনে উপস্থিত জনতাকে নিয়ে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে রক্ষার শপথ করেন তাঁর ছোট ভাই ও কিউবার বর্তমান নেতা রাউল কাস্ত্রো। ফিদেল ২০০৬ সালে রাউলের কাছে দেশের দায়িত্ব তুলে দেন। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন কাস্ত্রোর দ্বারা অনুপ্রাণিত ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ ও লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভা। যোগ দিয়েছিলেন ভেনেজুয়েলা, নিকারাগুয়া, বলিভিয়ার নেতারা। এ ছাড়া ছিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা ম্যারাডোনার মতো বহু তারকা। অনুষ্ঠানে রাউল কাস্ত্রো জানান, ফিদেল কাস্ত্রোর ইচ্ছা অনুসারে তাঁর নামে কোনো ভাস্কর্য বা সড়কের নামকরণ করা যাবে না। এ বিষয়ে আইন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। ফিদেল কাস্ত্রো সব সময় ব্যক্তিপূজার বিরুদ্ধে ছিলেন বলেও জানান রাউল। পূর্বসূরির মতো সমাজতন্ত্র ও পিতৃভূমি রক্ষায় বিপ্লবের পথ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন রাউল। স্মরণানুষ্ঠানে প্রিয় নেতার ছবি হাতে এসেছিলেন লাখো ভক্ত। সভায় অংশগ্রহণকারী আনসেল হেচাভারিয়া নামের একজন বলেন, ‘ফিদেল মারা যাওয়া মানে এই নয় যে আমরা নিশ্চুপ হয়ে যাব। আমরা ফিদেলের উত্তরাধিকারী।’
স্মরণসভায় আসা তানিয়া মারিয়া জিমেনেজ বলেন, ‘আমরা সবাই ফিদেলকে ভালোবাসি। ফিদেল আমাদের কাছে বাবার মতো। তিনি আমাদের জীবনের পথকে সহজ করে দিয়েছেন। জনগণ তাঁকে অনুসরণ করবে।’ গতকালের শেষকৃত্য মোটেও আড়ম্বরপূর্ণ ছিল না। একান্ত ঘরোয়া পরিবেশে সম্পন্ন হয়। প্রথমে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া রাষ্ট্রীয় টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারের কথা থাকলেও পরবর্তীকালে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সান্তিয়াগোতে সমাহিত করার সময় রাজধানী হাভানায় ২১ বার তোপধ্বনি শোনা যায়। ১৯৫৬ সালে মেক্সিকো থেকে ৮২ জন গেরিলাযোদ্ধা নিয়ে কিউবায় প্রবেশ করে তৎকালীন মার্কিনপন্থী বাতিস্তা সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করেন কাস্ত্রো। ১৯৫৯ সালে উৎখাত করেন ওই সরকারকে। সেই গেরিলা দলে তাঁর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছেন আর্জেন্টিনার বিপ্লবী চে গুয়েভারা। এরপর ৪৯ বছর ধরে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ও পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে কিউবা শাসন করেছেন কাস্ত্রো। গত ২৫ নভেম্বর তিনি মারা যান। তিনি রাজতন্ত্রের বাইরে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘমেয়াদি শাসক।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর জন কির পদত্যাগ

আট বছর দায়িত্বপালনের পর আজ সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জন কি। বিভিন্ন কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে অন্যতম হলো নিজেকে ও পরিবারকে সময় দেওয়া। তিনি বলেছেন, এটাই অবসর নেওয়ার উপযুক্ত সময় বলে মনে করছেন তিনি। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে জন কি বলেন, আমি জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তটি নিয়েছি। আমি জানি না ভবিষ্যতে কী করব। তিনি বলেন, নিজেকে তিনি কখনো পেশাদার রাজনীতিবিদ মনে করেন না। একসঙ্গে দল ও দেশের নেতা হওয়া বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্প্রতি আট বছর ও মধ্য-ডানপন্থী ন্যাশনাল পার্টির নেতা হিসেবে ১০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করেছেন জন কি।
আগামী সপ্তাহে জানা যাবে, নিউজিল্যান্ডের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পছন্দসই নাম হতে পারে উপপ্রধানমন্ত্রী বিল ইংলিশ। জন কি জানান, স্ত্রী ব্রোনা, দুই সন্তান স্টাফেন ও ম্যাক্সের সঙ্গে আগের মতো আরও বেশি সময় কাটাবেন। নিজেকে ও পরিবারকে বেশি সময় দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য আরও কারণ আছে। নিজের ও দলের জন্য চলে যাওয়ার এটিই সেরা সময় বলে মন্তব্য করেন কি। ২০০২ সালে পার্লামেন্টে ঢোকেন জন কি। চার বছর পরে ন্যাশনাল পার্টির নেতৃত্বে আসেন। ২০০৮ সালে নয় বছরের লেবার পার্টির শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্রাইস্টচার্চে ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময় তিনি শক্ত হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। ওই ভূমিকম্পে ১৮৫ জনের প্রাণহানি হয়। বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দার সময়েও তিনি অর্থনীতিকে সচল রেখেছিলেন।

বারবার বেঁচে যান তিনি

১৯৫৯ সালে কিউবার বিপ্লবের পর নানাভাবে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। কখনো চুরুটে বিষ মিশিয়ে, কখনো সাঁতারের পোশাকে জীবাণু ছড়িয়ে কিংবা বিষাক্ত ক্যাপসুল দিয়ে। প্রতিবারই তিনি বেঁচে যান। সেই মহান বিপ্লবী ফিদেল কাস্ত্রো শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে ধরা দিলেন। কিন্তু মৃত্যুর কারণ এখনো জানানো হয়নি। তা যেন রাষ্ট্রীয় গোপন বিষয়। কাস্ত্রো জানিয়ে গেছেন, কমপক্ষে ৬০০ বার তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সিআইএর এবং ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের চার্চ কমিটির নথিতে দেখা যায়, কাস্ত্রোকে হত্যার জন্য নানা পরিকল্পনা করা হয়। এর কিছু প্রয়োগ করা হয় এবং বাকিগুলো পরিকল্পনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল।
দারুণ বক্তা হিসেবে সুখ্যাতি ছিল কাস্ত্রোর। ১৯৬০ সালের মাঝামাঝিতে সিআইএ পরিকল্পনা করে, বক্তব্যের সময় কাস্ত্রোর আচরণে গোলমাল বাধিয়ে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করবে। ভাষণ দেওয়ার স্টুডিওতে রাসায়নিক স্প্রে করে কাস্ত্রোকে অদ্ভুত আচরণ ও মাতলামি করানোর পরিকল্পনা ছিল সিআইএর। তাঁকে দুর্বল করতে জুতার মধ্যে রাসায়নিক দ্রব্য রাখার পরিকল্পনাও হয়। কমপক্ষে আটবার চুরুটে বিষ মিশিয়ে কাস্ত্রোকে হত্যার চেষ্টা করে সিআইএ। ১৯৬০ সালে সন্ত্রাসী দল ভাড়া করেছিল সিআইএ। কাস্ত্রোকে হত্যা করতে পারলে তাদের দেড় লাখ ডলার দেওয়ার প্রলোভনও দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত হয়, কাস্ত্রোকে খাবারে বিষ মিশিয়ে হত্যা করা হবে। সাঁতারের পোশাকে জীবাণু ছাড়িয়ে হত্যার পরিকল্পনাও হয়।

যথেষ্ট হয়েছে, রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধ করুন

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে তাঁর দেশের রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর চালানো ‘গণহত্যা’ বন্ধ করতে অবশ্যই উদ্যোগ নিতে হবে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক গতকাল রোববার এ কথা বলেছেন। শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় দৃশ্যত নিষ্ক্রিয় থাকায় বিদ্রূপও করেছেন রাজাক। কুয়ালালামপুরে পাঁচ হাজার মানুষের এক সমাবেশে রাজাক গতকাল ভাষণ দেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারের সরকারকে অবশ্যই দেশটির উত্তর-পশ্চিমে রক্তাক্ত অভিযান বন্ধ করতে হবে। ওই অভিযানের কারণে হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে গেছে। তাদের অনেকে হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। জনতার উদ্দেশে রাজাক বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে সু চির নোবেল পুরস্কার রাখার মানে কী? আমরা তাঁকে বলতে চাই, যথেষ্ট হয়েছে... আমাদের অবশ৵ই মুসলিম সম্প্রদায় ও ইসলামের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। আমরা চাই ওআইসি (ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা) এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিক।’
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়া সম্প্রতি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছে। তারা গত মাসে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে। এ ছাড়া কুয়ালালামপুরে মিয়ানমার দূতাবাসের সামনে প্রায় ৫০০ জন মালয়েশীয় ও রোহিঙ্গা ‘গণহত্যার’ নিন্দা জানিয়ে মিছিল করেছেন। মালয়েশিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী আসিয়ানে মিয়ানমারের সদস্যপদ রাখা যায় কি না, পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর মিয়ানমারে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযানের’ কঠোর নিন্দা জানিয়ে শনিবার একটি বিবৃতি দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিকে সামনে এনে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি করতে চাইছেন। তিনি শত কোটি ডলারের দুর্নীতির কেলেঙ্কারির অভিযোগ আড়াল করতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। এদিকে, গতকাল মিয়ানমারে মালয়েশিয়ার দূতাবাসের সামনে কিছুসংখ্যক বৌদ্ধ ভিক্ষু নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মালয়েশিয়ার সরকার অযাচিত হস্তক্ষেপ করছে।

আইএসের উত্তর ককেশীয় ‘আমির’ নিহত: রাশিয়া

রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী এফএসবি বলেছে, গোলযোগপূর্ণ উত্তর ককেশীয় অঞ্চলে দেশটির সেনা অভিযানে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর ‘আমির’ রুস্তম অ্যাসেলদেরভ নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার এফএসবি এক বিবৃতিতে এই দাবি করে। বিবৃতিতে বলা হয়, আইএসের ককেশীয় অঞ্চলের প্রধান অ্যাসেলদেরভ ও তাঁর চার ঘনিষ্ঠ সহযোগী নিহত হন। এএফএসবির ভাষ্যমতে, ৩৫ বছর বয়সী অ্যাসেলদেরভ ২০১৩ সালে রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের ভলগোগার্দ নগরে বিস্ফোরণ ঘটানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ওই বিস্ফোরণে ৩৪ জন নিহত হয়। তিনি ওই সময় অপর একটি ককেশীয় বিদ্রোহী সংগঠনের হয়ে যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন। এ ছাড়া ২০১২ সালে দাগেস্তান শহরে জোড়া গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গেও তাঁর সংশ্লিষ্টতা ছিল। এতে ১৪ জন নিহত ও কমপক্ষে ১শ ২০ জন আহত হয়। যুদ্ধবাজ এই নেতা ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে আইএস নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির কাছে দীক্ষা নেন। আইএস অ্যাসেলদেরভকে ককেশীয় প্রদেশের নতুন গভর্নর নিয়োগ দেয়। তিনি শেখ আবু মোহাম্মদ আল-কাদারি নামেও পরিচিত। এরপর থেকে আইএস দাগেস্তানে পুলিশের ওপর বেশ কয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করে। ২০১৫ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত বিদেশি সন্ত্রাসীদের তালিকায় অ্যাসেলদেরভের নাম ছিল। রাশিয়া গত অক্টোবরে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানানোর জন্য ৭৮ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে।

দুবাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশি নিহত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে দুটি বাসের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের তিনজন বাংলাদেশি ও দুজন ভারতীয় নাগরিক। আজ রোববার সকালে দুবাইয়ের আল রাবাত সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুবাইভিত্তিক খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ​প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত তিন বাংলাদেশির মধ্যে একজনের নাম মুদাসিসি (৪৯)। তাঁর বাড়ি শরিয়তপুর জেলায়। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং আহতদের রশিদ হাসপাতালে ভর্তি করে। আহত সাতজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। রশিদিয়া পুলিশ স্টেশনের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার সা ইদ বিন সুলেমানের উদ্ধৃতি দিয়ে খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্লিনকো ক্লিনিং সার্ভিসেস অ্যান্ড বিল্ডিং মেইনটেন্যান্স নামের একটি কোম্পানির বাস প্রতিষ্ঠানটির ১৯ জন কর্মী ও শ্রমিকদের নিয়ে যাচ্ছিল।
আল রাবাত সড়কে ওই বাসটির সঙ্গে অপর একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। দুবাই ফেস্টিভ্যাল সিটির একটি ভবনে কাজ করতে যাচ্ছিলেন ওই কোম্পানির কর্মী ও শ্রমিকেরা। কর্মস্থল থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত শ্রমিকদের বন্ধু ও সহকর্মীরা খালিজ টাইমসকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি​ যখন ঘটে তখন কোস্টারটিতে ১৯ জন কর্মী ও শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় গাড়িটির চালক আহত হননি। তাঁরা দুবাই ফেস্টিভ্যাল সিটিতে কাজ করার জন্য যাচ্ছিলেন। নিহত তিন বাংলাদেশির একজন শরিয়তপুরের মুদাসিসির ছেলে ফেরদৌসও দুবাই প্রবাসী। তিনি খালিজ টাইমসকে বলেন, ‘এ ঘটনায় আমার দুঃখ প্রকাশের ভাষা নেই। আমি জানি না কী করব। তবে আমি ইতিমধ্যে বাড়িতে আমার পরিবারকে ঘটনাটি জানিয়েছি।’ পুলিশ কর্মকর্তা সাইদ বিন সুলেমান বলেন, ‘ভোর পাঁচটায় দুবাইয়ের পুলিশ ওই দুর্ঘটনার খবর পায়। এর পরপরই টহল পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। চারজন শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অপর এক শ্রমিক হাসপাতালে মারা যান। উদ্ধার কার্যক্রমের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, হাইড্রলিক কাটার ব্যবহার করে দুর্ঘটনাকবলিত বাসে আটকে পড়া হতাহতদের উদ্ধার করা হয়।

ট্রাম্প বুদ্ধিমান লোক, তিনি পারবেন: পুতিন

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল রোববার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘বুদ্ধিমান’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, শিগগিরই ট্রাম্প নিজের নতুন দায়িত্ব বুঝে নিয়ে ঠিকমতো কাজ শুরু করবেন। নতাস বার্তা সংস্থা জানায়, এনটিভির দূরপ্রাচ্য অঞ্চলে ইতিমধ্যে ওই সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়েছে। এতে রুশ নেতা বলেছেন, ব্যবসায় ট্রাম্পের অর্জিত সাফল্য প্রমাণ করে তিনি বুদ্ধিমান লোক।
যদি তা-ই হয়, মানে তিনি খুব তাড়াতাড়িই ভিন্ন ধরনের একটা দায়িত্ব বুঝে নিয়ে কাজ করতে পারবেন। ক্রেমলিন গত মাসে বলেছে, গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর প্রথম ফোনালাপে ট্রাম্প-পুতিন পরস্পরের দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে একমত হয়েছেন। পুতিন গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে মস্কো প্রস্তুত রয়েছে।