Tuesday, April 3, 2018

আফগান তালেবানদের অস্ত্র দিচ্ছে রাশিয়া?

যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করছে, রাশিয়া তালেবানদের সহায়তা করে আফগানিস্তানকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করছে। এমনকি তালেবানকে অস্ত্র সরবরাহ করছে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের অভিযোগ।
তবে ঐতিহাসিকভাবেই পরস্পরের শক্র রাশিয়া আর তালেবান উভয়েই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কিন্তু মার্কিন এই অভিযোগের সত্যতা কতটুকু?
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ আসলে কী?
গত মার্চে বিবিসিকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে আফগানিস্তানে মার্কিন কমান্ডার জেনারেল জন নিকলসন অভিযোগ করেন, তাজিকিস্তানের সীমান্ত এলাকা থেকে তালেবানের কাছে রাশিয়ান অস্ত্র চোরাচালান হয়ে আসছে।
তার অভিযোগ, "এসব অস্ত্র আমরা সদরদপ্তরেও এনেছি, আফগান নেতারা আমাদের দিয়েছেন এবং তারা বলেছেন যে, রাশিয়ানরাই তালেবানদের দিয়েছে।"
কয়েকজন আফগান পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন যে, তালেবানদের কাছে রাশিয়ান সরঞ্জামের মধ্যে রাতের চশমা, ভারী মেশিনগান আর ছোট অস্ত্রও রয়েছে। কারা এর সঙ্গে একমত?
গত একবছর ধরেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ করে আসছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে জেনারেল নিকলসন রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ করেন যে, তালেবানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আছে। এরপর বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা এই অভিযোগ তুলেছেন।
তবে গত বছরের মে মাসে মার্কিন সিনেটে দেয়া একটি সাক্ষ্যে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিনসেন্ট আর স্টুয়ার্ড বলেছেন, "অস্ত্র সরবরাহ বা অর্থ লেনদেনের বাস্তব কোন তথ্যপ্রমাণ আমি পাইনি।"
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেমস ম্যাটিস গত অক্টোবরে বলেছেন, তালেবানকে রাশিয়ার সাহায্য করার বিষয়ে আমি আরো তথ্যপ্রমাণ দেখতে চাই। যা এখন পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে, তা থেকে পরিষ্কার কিছু বোঝা যায় না।
নেটো মহাসচিব জেনস স্টোলটেনবার্গ বলেছেন, "এসব দাবির সপক্ষে আমরা এখনো কোন প্রমাণ পাইনি বা নিশ্চিত তথ্য পাইনি।"
আর এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে তাজিকিস্তান।
আফগান কর্মকর্তারা কি বলছেন
এই দাবির বিষয়ে আফগান কর্মকর্তারাও বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন।
কয়েকজন আফগান কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে, তালেবানদের রাশিয়া সাহায্য করছে।
কিন্তু আফগানিস্তানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মুখপাত্র গত মে মাসে বলেছেন, এখনো এর পক্ষে কোন প্রমাণ নেই।
গত অক্টোবরে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানিও দাবি করেন, রাশিয়ানদের কাছ থেকে অস্ত্র পাচ্ছে তালেবান। কিন্তু পরের মাসেই তার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এই দাবিকে গুজব বলে নাকচ করে দিয়েছেন। রাশিয়া আর তালেবান কি বলছে
মার্কিন এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে মস্কো আর তালেবান।
মস্কো বলছে, আফগানিস্তানে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আর নেটো রাশিয়ার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছে।
তালেবানরা দাবি করেছে, তারা কোনও দেশ থেকেই কোনও সামরিক সহায়তা পায়না।
রাশিয়া আর তালেবানের মধ্যে কি কোন সম্পর্ক আছে?
তালেবানকে সামরিক কোন সাহায্য সহযোগিতা দেয়ার কথা নাকচ করেছে রাশিয়া, তবে তারা স্বীকার করেছে যে, তাদের মধ্যে যোগাযোগ আছে।
তালেবান সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, সেই ২০০১ সাল থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে তালেবানের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।
গত তিন বছরে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অনেক উন্নতি হয়েছে।
অনেক তালেবান নেতা আশা করছিলেন যে, রাশিয়া থেকে ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বা এমন অস্ত্র পাবে, যা হয়তো পুরো যুদ্ধে তাদের অবস্থানকে বদলে দেবে। যেমনটা যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল আশির দশকে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে আফগানদের লড়াইয়ের সময়।
কিন্তু সেটা হয়তো হয়নি কারণ, এ ধরণের অস্ত্রের উৎস সহজেই সনাক্ত করা যায়। আর রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে এখনো ততটা খারাপ দিকে মোড় নেয়নি। তালেবান রাশিয়ার কাছ থেকে কি পেয়েছে
তালেবানের জন্য অস্ত্রের চেয়েও বেশি দরকার একটি আঞ্চলিক শক্তির নৈতিক আর রাজনৈতিক সমর্থন। হালকা অস্ত্র হয়তো কালোবাজারেও কিনতে পাওয়া যায়, কিন্তু এই সমর্থন তো পাওয়া যাবে না।
তালেবান কূটনীতিকরা চীন আর ইরানের সঙ্গেও সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করছে।
রাশিয়া আর ইরান তালেবানকে সাহায্য করছে মানে হলো, তারা যে শুধুমাত্র পাকিস্তানের ওপর নির্ভরশীল, সেই ধারণারও পরিবর্তন।
শত্রু থেকে বন্ধু
আফগানিস্তানের প্রতি রাশিয়ার মনোভাবের পরিবর্তন বেশ অবাক করার মতো।
কারণ তালেবানের বেশিরভাগ সদস্যই সাবেক মুজাহিদিন, যারা একসময় সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। এরপর তালেবানের বিরুদ্ধ বাহিনীকেও অর্থনৈতিক আর সামরিক সহায়তা দিয়েছে রাশিয়া।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলা এবং আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানের পর রাশিয়ার সঙ্গে নতুন সম্পর্কের সুযোগ পেয়েছে তালেবান।
রাশিয়ার কি লাভ
রাশিয়া-তালেবান সম্পর্কের তিনটা বড় কারণ আছে।
প্রথম: রাশিয়ান কর্মকর্তারা বলছেন, তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার প্রধান কারণ হলো আফগানিস্তানে রাশিয়ান নাগরিক আর রাজনৈতিক অফিসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
দ্বিতীয়: আফগানিস্তানের ইসলামিক স্টেট গ্রুপের বিস্তারের কারণে মস্কোর আশংকা তৈরি হয়েছে যে, তারা মধ্য এশিয়া আর রাশিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। আইএসের বিরুদ্ধে লড়ছে আফগান তালেবান এবং তারা প্রতিবেশী দেশগুলোকে আশ্বস্ত করেছে যে, তাদের সশস্ত্র লড়াই আফগানিস্তানের মধ্যেই থাকবে।
রাশিয়া জানিয়ে দিয়েছে যে, আফগানিস্তানে আইএস আরো শক্তিশালী হলে তারা সিরিয়ার মতো করে সেখানেও হস্তক্ষেপ করতে পারে।
আর তৃতীয়: রাশিয়ান কর্মকর্তারা বলছেন, আফগান সংকটের সমাধান সামরিক পথে নয়, রাজনৈতিক পথেই হওয়া উচিত। তালেবানকে শান্তির পথে আনতে আলোচনার জন্যই তাদের এই যোগাযোগ বলে মস্কো দাবি করেছে। আফগান সংকটের প্রভাব কি হতে পারে?
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়া আফগানিস্তানে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে।
যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার সম্পর্কের অবনতির প্রভাব ইউক্রেন, সিরিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য ক্ষেত্রেও পড়তে শুরু করেছে।
তালেবানদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আর নেটোকে খানিকটা অবজ্ঞাই করছে মস্কো।
আবার ওয়াশিংটন আর ইসলামাবাদের মধ্যে যেমন দূরত্ব বাড়ছে, রাশিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক আর সামরিক সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।
আর এই সবগুলো শক্তিরই আফগানিস্তানে নিজেদের স্বার্থ রয়েছে।
ফলে অনেকের মধ্যে এই আশংকাও তৈরি হচ্ছে যে, আফগানিস্তান আবারো হয়তো আঞ্চলিক আর আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর খেলার মাঝে পড়তে যাচ্ছে।
সূত্রঃ বিবিসি

কে ছিলেন উইনি ম্যান্ডেলা?

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং সাবেক ফার্ষ্টলেডি উইনি মাদিকিজেলা-ম্যান্ডেলা ৮১ বছর বয়সে মারা গেছেন।
তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কালো প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার সাবেক স্ত্রী।
বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের কারণে নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে তিনিও কারাবন্দী হন এবং প্রায় তিন দশক ধরে তারা ছিলেন বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রতীক।
যদিও পরবর্তীতে নানা আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতায় তার সে সুনাম অনেকটাই ক্ষুন্ন হয়েছে।
তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তি।
দেশটির বহু মানুষের কাছে তিনি ছিলেন 'জাতির মাতা'। ১৯৩৬ সালে দেশটির তৎকালীন ট্রান্সকেই যা এখন ইস্টার্ন কেপ, তার জন্ম হয়।
তিনি একজন প্রশিক্ষিত সমাজসেবী ছিলেন, এবং কাজ করতে গিয়েই ১৯৫০ সালে তার সঙ্গে নেলসন ম্যান্ডেলার পরিচয় হয়।
নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে তার বিয়ে ৩৮ বছর টিকে ছিল।
যদিও নেলসন ম্যান্ডেলার দীর্ঘ কারাজীবনের কারণে তাদের দাম্পত্যের বড় সময়টিই তার পরস্পরের থেকে দূরে ছিলেন।
১৯৯৬ সালে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।
নেলসন ম্যান্ডেলা যখন জেলে যান, উইনি বর্ণবাদ বিরোধী লড়াই চালিয়ে যান। নেলসন ম্যান্ডেলার যেদিন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ হয়, সেদিন সমর্থকদের উদ্দেশ্যে উইনি বলেছিলেন, "আমার এবং আমাদের কারোই কখনো আশা ছাড়া উচিত হবেনা। আসলে আমি মনে করি এ আন্দোলন চলতেই থাকবে।"
যদিও পরে তিনি নানারকম স্ক্যান্ডাল ও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তার অনেক বক্তব্য নিয়েই বিতর্ক আছে।
যেমন, নেকলেসিং নামে এক চর্চার তিনি প্রশংসা করেছিলেন বলে শোনা যায়, যে প্রথায় সন্দেহভাজন তথ্য পাচারকারীর গলায় জ্বলন্ত টায়ার ঝুলিয়ে দেয়া হত।
এছাড়া আশির দশকে তিনি এএনসির অন্য সদস্যদের নিয়ে তিনি সোয়েতোর এক অংশে ত্রাসের রাজত্ব কয়েক করেছিলেন বলেও শোনা যায়।
১৯৯১ সালে অপহরণের দায়ে তার সাজা হয় এবং ছয় বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত।
আপীলের পরে যদিও সে দণ্ড কমিয়ে তাকে জরিমানা করা হয়। ২০০৩ সালে ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগে তার সাজা হয়।
কিন্তু এসবের পরেও তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর ভাবা হয়।
এবং তিনি সব সময় গরীব কালো দক্ষিণ আফ্রিকানদের জন্য কথা বলেছেন।
তিনি সবসময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থেকে গেছেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এএনসির একজন সংসদ সদস্য ছিলেন।
সূত্রঃ বিবিসি

ইসরাইলিদের পক্ষেই কথা বললেন সৌদি যুবরাজ

যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনবাসী যখন ফুঁসছে, ফিলিস্তিনি কিশোর-যুবকদের বুকের রক্তে লাল হচ্ছে মাটি, তখন ইসরাইলিদের পক্ষেই কথা বললেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। এর মধ্য দিয়ে আরো প্রকাশ্যে চলে এসেছে যে, সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ হয়েছে। উল্লেখ্য, জেরুজালেমকে ইসরাইলের স্বীকৃতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সে অনুযায়ী, তেল আবিব থেকে তাদের দূতাবাস স্থানান্তর হতে যাচ্ছে জেরুজালেমে। কিন্তু জীবন দিতে প্রস্তুত ফিলিস্তিনিরা। তারা জেরুজালেমের অধিকার ছাড়তে নারাজ। তাই গত কয়েকদিনে জেরুজালেমের আশপাশে সমবেত হয়েছে কমপক্ষে ৩০ হাজার বিক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনি। তাদের ওপর ড্রোন ব্যবহার করে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হচ্ছে। গুলি করা হচ্ছে। এতে কমপক্ষে ১৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সেখানে পরিস্থিতি যখন এমন বিস্ফোরণোন্মুখ, তখন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন দ্য আটলান্টিককে একটি সাক্ষাতকার দিয়েছেন। তা প্রকাশিত হয়েছে সোমবার। এতে তিনি বলেছেন, নিজেদের দেশে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বসবাসের অধিকার আছে ইসরাইলিদের। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি উভয়ের তাদের নিজেদের ভূখন্ডে বসবাসের অধিকার আছে। তবে আমাদেরকে সবার জন্য একটি টেকসই শান্তিচুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। উল্লেখ্য, পবিত্র ইসলাম ধর্মের সূতিকাগার ও ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র দুটি মসজিদ রয়েছে সৌদি আরবে। ইসরাইলকে কিন্তু সৌদি আরব স্বীকৃতি দেয় না। ১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময় ইসরাইলিরা আরবের যেসব ভূখন্ড দখল করেছে তাকে কেন্দ্র করেই সম্পর্ক ঝুলে আছে। মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন, জেরুজালেমে পবিত্র আল আকসা মসজিদের ভবিষ্যত ও ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের বিষয়ে আমাদের দর্শীয় দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগ রয়েছে। আমার কাছে এটাই সব। অন্য কোনো সম্প্রদায়ের মানুষের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। উল্লেখ্য, মোহাম্মদ বিন সালমান এখন যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। তার এ সফরের উদ্দেশ্য হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ইরানের প্রভাবকে খর্ব করার প্রচেষ্টায় সমর্থন দেয়া। ওদিকে তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে ক্রমাগত বাড়ছে উত্তেজনা। এতে চারদিকে কথা ছড়িয়ে পড়েছে যে, অভিন্ন স্বার্থের জন্য সৌদি আরব ও ইসরাইল এক হয়ে কাজ করতে পারে ইরানের বিরুদ্ধে। তারা দুটি দেশই ইরানকে অভিন্ন এক হুমকি হিসেবে দেখছে। তাই প্রিন্স মোহাম্মদ বলেছেন, ইসরাইলের সঙ্গে আমাদের রয়েছে বিপুল পরিমাণ অভিন্ন স্বার্থ। তাই যদি শান্তি স্থাপিত হয় তাহলে তা হবে ইসরাইল ও উপসাগরীয় সহযোগিতা বিষয়ক দেশগুলোর জন্য বৃহত্তর স্বার্থের। এখানে উল্লেখ্য, ইসরাইলের জন্য গত মাসে প্রথমবারের মতো নিজের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করেছে সৌদি আরব। সেখানে ইসরাইলের বাণিজ্যিক ফ্লাইট অবতরণ করছে। এটাকে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন ইসরাইলি এক কর্মকর্তা। তলে তলে যে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরাইলি মন্ত্রীপরিষদ যোগাযোগ করে যাচ্ছিল তা প্রকাশ হয় গত নভেম্বরে। এটাকে সবচেয়ে গোপন এক সমঝোতা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বিষয়টি এখনও অস্বীকার করে রিয়াদ। ওদিকে গত ডিসেম্বরে যখন জেরুজালেমকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প রাজধানীর স্বীকৃতি দেন তার নিন্দা জানায় সৌদি আরব।

ইরানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকায় চিন্তিত বৃহৎ শক্তিগুলো

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্যাভিন উইলিয়ামসন দাবি করেছেন, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনে ইরানের সামরিক উপস্থিতি এবং দেশটির পরমাণু উচ্চাভিলাষের বিষয়টি এখন সবার কাছেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে মার্কিন নীতির সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেছেন, পাশ্চাত্য বহুবার ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে কিন্তু ইরান বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে।
এর আগে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার জন্য দাবি করেছিলেন, পরমাণু সমঝোতা পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে ইরানকে বিরত রাখতে পারবে না আর সে কারণে ইরানের সঙ্গে বিকল্প সমঝোতায় পৌঁছা দরকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন অজুহাতে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন অথবা নিজের ইচ্ছামতো চুক্তিতে পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছেন। আমেরিকা, সৌদি আরব এবং ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে পরমাণু সমঝোতায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের উপস্থিতি ও গঠনমূলক ভূমিকা এবং এ অঞ্চলে দিন দিন ইরানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকায় আঞ্চলিক স্বৈরসরকার ও বৃহৎ শক্তিগুলো চিন্তিত হয়ে পড়েছে। এ কারণে আরব ও পাশ্চাত্য জোট নানা মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে এ অঞ্চলে ইরানের গঠনমূলক ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের গঠনমূলক ভূমিকা কোনো কোনো দেশের সম্প্রসারণকামী লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণেই ক্ষুব্ধ ব্রিটেন ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করেছে।
লেবাননের রাজনৈতিক বিশ্লেষক গালিব কান্দিল মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভূমিকা প্রসঙ্গে বলেছেন, ইরান এ অঞ্চলে ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ শক্তিগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে এবং দেশটির আর্থিক, সামরিক ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে সহযোগিতার ফলে প্রতিরোধ শক্তিগুলো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জনে সক্ষম হয়েছে। প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন পিএলও'র কর্মকর্তা সালেহ আবু মাজেদ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের শক্তিশালী ভূমিকা শত্রুদের সব সামরিক ও রাজনৈতিক হিসেবে নিকেশ ভণ্ডুল করে দিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরানকে পরমাণু উচ্চাভিলাষী হিসেবে অভিহিত করেছেন। অথচ প্রথম কথা হচ্ছে, ইরানের নীতিই হচ্ছে আত্মরক্ষামূলক এবং পরমাণু বোমা তৈরির কোনো ইচ্ছা তেহরানের নেই। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী তার ফতোয়ায় পরমাণু অস্ত্র তৈরিকে হারাম বলে ঘোষণা দিয়েছেন।  দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন শুরুর পর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার দশটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনো চেষ্টা করছে না।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়ে আমেরিকা ও ইউরোপের কর্মকর্তারা অভিন্ন নীতি পোষণ করে এবং ইরানের ওপর নানা সীমাবদ্ধতা আরোপ করে তারা নিজেরাই এ অঞ্চলের ব্যাপারে নীতি নির্ধারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে আমেরিকা নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমাজকে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের নীল নকশা সহজে বাস্তবায়ন করা যায়।

সিলেটের হোটেল ব্যাচেলরে আরিফের হানা ৬ পতিতা ও দুই কর্মচারী আটক

সিলেটের আলোচিত ব্যাচেলর হোটেলে হানা দিয়েছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। নগরীর পৌর বিপণী মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ওই হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৬ পতিতা ও দুই হোটেল কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। মেয়র আরিফ এ সময় ঘোষণা দেন- পৌর বিপণী মার্কেট ঝুঁকিপূর্ণ। দ্বিতীয় তলার ঘরগুলোও অবৈধ। এ কারণে ওই মার্কেট ভেঙে ফেলা হবে। আরিফের এই ঘোষণায় নিচ তলায় থাকা ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ওই মার্কেটে কয়েকটি সংবাদপত্র এজেন্সি রয়েছে। সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন পৌরবিপণী মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ঘর তৈরি করে ‘ব্যাচেলর হোটেল’ নাম দিয়ে ভোগদখল করে আসছিলেন কয়েক ব্যক্তি। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের লক্ষ্যে গতকাল দুপুরে পৌরবিপণী মার্কেট পরিদর্শনে যান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তখন ওই মার্কেটের নিচ তলার ব্যবসায়ীরা জানান, মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবৈধভাবে নির্মিত ‘হোটেল ব্যাচেলরে’ দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এই তথ্য পেয়ে দ্বিতীয় তলা পরিদর্শনে যান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় মার্কেটের পশ্চিম দক্ষিণ পাশে নির্মিত একটি ‘ব্যাচেলর হোটেলে’ গিয়ে তিনি অসামাজিক কার্যকলাপের প্রমাণ পেয়ে পুলিশে খবর দেন। মেয়র ওই সময় ওই হোটেল থেকে ৬ পতিতাসহ হোটেলের দুই কর্মচারীকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে দুই কর্মচারী ও ৬ পতিতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটককৃতরা হলো- সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বাইদুল্লাহপুর গ্রামের আবদুল মুক্তাদিরের ছেলে আবদুস শহীদ ও জকিগঞ্জ উপজেলার কসকনকপুর কামারপাড়ার মৃত আব্বাসের ছেলে মোস্তাক আহমদ, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের শওকত আলীর মেয়ে জ্যোতি (২৮), সুনামগঞ্জের বিশ্বম্বরপুর থানার পলাশ গ্রামের ঝর্ণা (১৯), গাজীপুরের শ্রীপুর থানার তাজুল ইসলামের মেয়ে আঁখি (২২), গাজীপুর সদর থানার সজিব আহমদের মেয়ে সুমি (২৮), ভোলা থানার পাটিয়া গ্রামের প্রিয়া (১৯) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার নতুনপূর্ণ গ্রামের কদ্দুস মিয়ার মেয়ে কাজল (২৪)। এ সময় হোটেল থেকে জুয়া ও মাদক সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়। সিটি মেয়র আরিফুল হক জানিয়েছেন- পৌরবিপণী মার্কেট এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। এরমধ্যে দ্বিতীয় তলায় নির্মিত ঘরগুলোও অবৈধ। দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ ঘরের ভেতর অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছে বলে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে আসছেন। তাই অবৈধ এই স্থাপনা সিটি করপোরেশন গুঁড়িয়ে দেবে।

যৌন সন্ত্রাসের মহামারি রুখে দাঁড়ানোর ডাক by শুভ্র দেব

দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে ধর্ষণ। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ঘটছে ধর্ষণের ঘটনা। শুধু ধর্ষণ নয়, গণধর্ষণ ও শিশু ধর্ষণ এখন হরমামেশা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তাদের  ত্রৈমাসিক এক প্রতিবেদনে বলেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে সারা দেশে ১৮৭ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।  এর মধ্যে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৯ জনকে। ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ২জন। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে আরো ২১ জনকে। আরেক মানবাধিকার সংস্থা অধিকার গতকাল তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে জানুয়ারি মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪৬ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৭৮ জন ও মার্চ মাসে ৫৯ জন। এ ছাড়া এই তিন মাসে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন আরো ৫৪ জন। মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে এখন ধর্ষণের মহামারি চলছে। বিচারহীনতার কারণে ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়াতে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা না নিলে অবস্থা আরো চরম আকার ধারণ করবে। বিদ্যমান আইনেই এসব ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব উল্লেখ করে তারা বলেন, আইনের সঠিক প্রয়োগ খুবই জরুরি। এ ছাড়া ঘটনার পর মামলা হলে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনে যে সময় দেয়া হয়েছে তার মধ্যেই তদন্ত ও বিচার শেষ করতে হবে। বিশিষ্টজনরা বলছেন, ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সবার আগে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ সমাজে ধর্ষকের স্থান নেই এমন মনোভাব নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠলে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস পাবে না। ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান মনে করেন, ধর্ষণের ঘটনা রোধে সামাজিক আন্দোলনই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। এজন্য সামাজিক আন্দোলন আরো বেগবান করতে হবে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মানবজমিনকে বলেন, নারী ও শিশু ধর্ষণ মামলা দ্রুত শেষ করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এ বিষয়ে বলেন, ধর্ষণ যেভাবে বাড়ছে একটি বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিকভাবে ধর্ষণ হলে মামলা হয়, তদন্ত হয়, অপরাধীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। অপরাধীকে একসময় শাস্তি দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে আইনে একটা দীর্ঘসূত্রতা আছে। অপরাধের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে যেভাবে মহামারির মতো ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে এটা বন্ধ করা যাবে না। মহামারি আসলে যেমন জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয় ঠিক তেমনি এখন ধর্ষণ বন্ধে বিদ্যমান আইনের বাইরে জরুরি কিছু করা দরকার। এর বাইরে এই অপরাধের শাস্তি আরো বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন তিনি।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রথমত ধর্ষণ বাড়ছে ধর্ষকের শাস্তি না হওয়াতে। শাস্তি না হওয়ার কারণ হলো তাদের পেছনে ক্ষমতাধর লোক আছে। দ্বিতীয়ত, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী পুরুষের স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন হয় না। তারা জানে না নারীর সঙ্গে কি ধরনের সম্পর্ক থাকা উচিত। নানা ভাবে নারীকে নিপীড়ন করে। এটা নিপীড়নেরই একটা অংশ। তাই শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। তৃতীয়ত, সমাজের মানুষের নির্মমতা চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এখানে কারো সহমর্মিতা, সহানুভূতি, সংবেদশীলতা কমে গেছে। তিনি বলেন, এগুলো কোনো যুক্তিগত সমস্যা বা ব্যত্তিগত সমস্যা না এটা সামাজিক সমস্যা। সমাজ না বদলালে ধর্ষণ বন্ধ হবে না। এর বাইরে অপরাধীকে শাস্তি দিতে হবে। শুধু আইন থাকলে হবে না। আইনের প্রয়োগ করতে হবে। অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ধর্ষণের ঘটনা আগেও ছিল এখনও আছে। থানায় মামলা বা সংবাদ মাধ্যমে আসে বলে একটা পরিসংখ্যান থেকে আমরা জানতে পারি ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। কিন্তু বাস্তবে কতগুলো ঘটনা ঘটেছে তার কোনো পরিসংখ্যান কারো কাছে নেই। কয়েক বছর আগেও যেখানে এত খবর আসত না। ধর্ষণের ঘটনা কতটা চেপে যায় তার কোনো পরিসংখ্যান আমাদের কারো জানা নাই। কারণ বেশির ভাগই দরিদ্র, নিম্নবিত্ত নারীরা ধর্ষণের শিকার হয়। আর এদেশে বহু বছর ধরে নিম্নবিত্তদের ওপর করা অপরাধের কোনো বিচার হয় না। ধর্ষণের বিদ্যমান আইন ও শাস্তি নিয়ে শাহদীন মালিক বলেন, শাস্তি বাড়ালে অপরাধী দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেটিং কমে যায়। এটা সারা বিশ্বে গত ৩০০ বছর ধরে স্বীকৃত। শাস্তি বাড়ায় অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যায়। তিনি বলেন, শাস্তি বাড়ানো কোনো সমাধান নয়। নারী ও শিশু আইন হওয়ার আগে ধর্ষণের শাস্তি ছিল ১০ বছর। কিন্তু একই অপরাধে শাস্তি বাড়ানোর পরে গত ১০/২০ বছরে কোটি মানুষের বসবাসের ঢাকার ৬টি নারী শিশু আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার নজির কম। ধর্ষণের ঘটনা বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, সমাধানটা আমাদের সবারই জানা আছে। শুধু প্রয়োগটাই দরকার।
মানবাধিকার আইনজীবী সালমা আলী বলেন, ধর্ষণের ঘটনাগুলোর পেছনে বেশ কিছু শক্তি কাজ করে। রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি টাকা পয়সার প্রভাব, পেশি শক্তি, পরিবারের বড় সন্তান হওয়াতে বেপরোয়া ভাব। এই শক্তিগুলো থাকার কারণে ধর্ষক ধর্ষণের মতো কাজে সাহস পায়। এর বাইরে ইন্টারনেট, পর্নোগ্রাফি ভিডিও নেতিবাচক প্রভাব আছে। কিন্তু অপরাধীরা দেখে না দেশে আইন আছে, অপরাধ করলে শাস্তি হয়। সালমা আলী বলেন, আইন করা হয় অপরাধীকে শাস্তি দেয়ার জন্য। অপরাধীরা যাতে শাস্তি পায় এবং অন্যরা দেখে যেন অপরাধ করতে ভয় পায়। কিন্তু আমাদের দেশে ধর্ষণের ঘটনায় এক শতাংশ অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনা যাচ্ছে না। পাশাপাশি জবাবদিহিতা না থাকার একটা প্রবণতা আছে। পহেলা বৈশাখ, ৭ই মার্চের মতো বিশেষ দিনে রাস্তায় নারীর ওড়না ধরে টানাটানি করে যৌন হয়রানি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তার সত্যতা পাওয়া গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধীকে আটক করা হয়নি। তাই অপরাধীরা বারবারই পার পেয়ে যাচ্ছে। অপরাধের মাত্রাও আরো বাড়ছে। আর অপরাধীরা মনে করছে অপরাধ করলে কিছু হয় না। তিনি বলেন, ধর্ষণের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গণতন্ত্র যত বেশি শক্তিশালী হবে অপরাধ ততবেশি কমে যাবে। তবে চারটি কাজ করলে ধর্ষণের মতো ঘটনা কমে যাবে বলে মনে করেন এই মানবাধিকার আইনজীবী। তিনি বলেছেন, কমিটমেন্ট থাকতে হবে পরিবারের সঙ্গে সন্তানের এবং একটা দায়িত্ববোধ থাকা জরুরি। আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। এর বাইরে নারী ও তার পরিবারকে আরো সাহসী হতে হবে। সর্বোপরি দ্রুত বিচারের মাধ্যমে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আইনজীবী এলিনা খান বলেন, বিদ্যমান আইন যথেষ্ট কঠোর। কিন্তু তার প্রয়োগ হচ্ছে না। বলা হয়েছে ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত ও ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। সবকিছুতেই সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় চাঞ্চল্যকর মামলা হলে পুলিশের তৎপরতা দেখা যায়। পরে আগের মতই হয়ে যায়। তাছাড়া সঠিকভাবে অনেক মামলার তদন্ত হয় না। তদন্তের জন্য অনেক মামলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই তদন্তের ক্ষেত্রে যে সমস্যা হচ্ছে এগুলো যদি দূর করা যায় আর বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে যে সময় বেঁধে দেয়া আছে তার ভেতরে বিচার শেষ করতে হবে। তাহলে মানুষের কাছে এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা আসবে। যখনই মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চার হবে সচেতনতা আসবে তখনই এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হবে। এলিনা খান বলেন, শুধুমাত্র আইন দিয়ে ধর্ষণ বন্ধ করা সম্ভব নয়। মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে হবে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনায় অর্থনৈতিক,  রাজনৈতিক ও অন্যভাবে যারা প্রভাব খাটাচ্ছে তাদের যেকোনোভাবে প্রতিহত করতে হবে। পুলিশের সাবেক মহাপরিচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, যখন একটা মেয়ে ধর্ষিত হয় তখন একটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আবার ধর্ষণের পরে সংশ্লিষ্টতা ২/১ জনের থাকলে ধরে নিয়ে আসা হয় ৪/৫ জনকে। আমাদের দেশে এখনও খোলা মন নিয়ে পরিচ্ছন্ন হৃদয়ে আদালতে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। আর এরকম সুযোগে কিছু লোক বিভিন্ন প্রভাবে একটা সুবিধা নেয়। একারণেই মামলার শুরুটাই অনেক কঠিন হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হয়। আর মামলাটি যতদিন যাবে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাক্ষী প্রমাণ পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া বিভিন্ন আলামত নষ্ট হয়ে যায়। সাবেক এই আইজি মনে করেন যে আইন আছে সেটা যথেষ্ট। এর যথাযথ প্রয়োগ দরকার। কারণ মামলা নিষ্পত্তিতে অনেক সময় লেগে যায়। সিভিল আইনে থানা থেকে শুরু করে আদালত পর্যন্ত একটি মামলায় কেটে যায় অনেক বছর। এজন্য মামলা দ্রুত তদন্ত করতে হবে। যারা মামলা তদন্ত করবে তাদের তদারকিটা গভীরভাবে করতে হবে। তদন্তে যেন কোনো গাফিলতি না থাকে। এর বাইরে তদন্তে দীর্ঘসূত্রতার ক্ষেত্রে যারা জড়িত তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি মানুষকে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সবাই মিলে স্কুল, কলেজ মাদরাসায় গিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সকলেই কাজ করতে পারে।
ব্যরিস্টার সারা হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় আমরা বিচার চাইতে পারি। কিন্তু আইনটা একটু ভালোভাবে দেখা দরকার। কারণ আমাদের আইনটা সেই বৃটিশ আমলের। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আইনে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমরা কেন তেমন পরিবর্তন আনতে পারিনি। ২০০০ সালে কিছু পরিবর্তন আনা গেলেও মূল সংজ্ঞাটা প্রায় একই রয়ে গেছে। সেখানে কিছু পরিবর্তন আনা দরকার। বিভিন্ন ধরনের যৌন হয়রানির ঘটনায়ও আমাদের আইনে প্রতিকার চাওয়ার ব্যবস্থা থাকা দরকার। এ ছাড়া ধর্ষণ প্রমাণের যে সাক্ষ্য আইন সেটাও ১৮৬০ সালের বৃটিশ আমলের। সেখানে বলা আছে কেউ যদি ধর্ষিত হয় আর সাক্ষী দেয় সেখানে তার ব্যক্তিগত ইতিহাস, চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে। অথচ অন্য কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের তার ব্যক্তিগত ইতিহাস নিয়ে জেরা করা হয় না। এ জন্য আইনটি পর্যালোচনা করার দরকার আছে। পাশাপাশি সাক্ষীদের এবং ভুক্তভোগীর কিছু সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা দরকার।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজা বলেন, শুধু আইন দিয়ে কিছু করা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর নিরাপদ একটা সমাজ তৈরি করার যে মনমানসিকতা সেটা নাই। নারীদের সঙ্গে সব রকম সহিংসতা বেড়েছে। এর বিভিন্ন রকম কারণ  আছে। যদিও আমরা দেখেছি ইতিমধ্যে টেলিফোনে হেল্প লাইনে একজন ভুক্তোভোগী ধর্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে সাহায্য চেয়ে ফোন করলে টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয় যে এটাতো আমাদের বিষয় না। তার মানে আমাদের যারা রক্ষাকর্তা তাদের বুঝাপড়ায় অনেক গলদ রয়েছে।

র‌্যাগ ভয়ঙ্কর by সিরাজুস সালেকিন ও আফরোজ ইসলাম

কম্পিউটার সায়েন্সে উচ্চশিক্ষা নিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন মিজানুর রহমান। কিন্তু তার কম্পিউটার বিষয়ে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন প্রথম বর্ষেই ভেঙে গেছে। ফেব্রুয়ারিতে নিজ বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীর দ্বারা    শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি। অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে, হাজারো আশা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো রিকশাচালক বাবাকেই চিনতে পারেননি তিনি। শেষে শিক্ষা কার্যক্রম বাদ দিয়ে বাড়িতে ফিরতে হয়েছে মিজানুরকে। এর আগে জানুয়ারিতে র‌্যাগিংয়ের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়রদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ত্যাগ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। ওই মাসেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থীকে র‌্যাগ দেয়া নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে। এখানেই শেষ নয়। গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাগত ছয় শিক্ষার্থীকে বিভাগের সিনিয়র কর্তৃক মেসে ডেকে নিয়ে র‌্যাগিংয়ের নামে অর্ধনগ্ন করে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই র‌্যাগিংয়ের চর্চা সবচেয়ে বেশি। সঙ্গেই রয়েছে সরকারি মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজসহ খ্যাতনামা সব উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দেশের সবচেয়ে খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই র‌্যাগিং অনুশীলন করে। দেশের প্রথমসারির কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা ‘জুনিয়রদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া’, ‘জুনিয়র-সিনিয়র সম্পর্ক উন্নয়ন’, ‘মজা করা’ বা ‘জুনিয়রদের আদব-কায়দা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম শেখানো’ এর নামে র‌্যাগিং শুরু করে। বেশির ভাগ সময়ই নিছক মজার ছলে শুরু হয় র‌্যাগিং। কিন্তু জুনিয়রদের নিয়ে সিনিয়রদের এই মজা ক্রমশই রূপ নেয় নির্যাতনে। আবার অনেক সময় জুনিয়রদের আদব-কায়দা শেখাতে গিয়ে প্রথমে সামান্য গালাগালি থেকে শুরু হয়ে হুমকিধামকি দিয়ে শেষ হয় শারীরিক নির্যাতনে। পরিচিত পদ্ধতির সঙ্গে বিভিন্ন অভিনব কায়দায় চলে নির্যাতন। নবীন শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক সব রাজনৈতিক বড় ভাইদের পরিচয় মুখস্থ করানো, পিতা-মাতা ও পরিবারের অন্যদের জড়িয়ে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, প্রকাশ্যে নগ্ন করে নাচানো, চরম অশ্লীল বই পড়তে বাধ্য করা, সবার সামনে যৌন অভিনয়ে বাধ্য করা, পেস্ট খেতে বাধ্য করা, সবার সামনে পর্নো দৃশ্য দেখতে বাধ্য করা, রাতে মশার কামড় খাওয়ানোর জন্য বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা, কান ধরে উঠবস, বুকডন, মুরগি হয়ে বসিয়ে রাখা, প্রকাশ্যে কোনো মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে বাধ্য করা, শীতের মধ্যে পানিতে নামানো ও ফুটবল খেলতে বাধ্য করা, শীতের রাতে সিনিয়রদের কাজে বাইরে পাঠানো, সিগারেট-গাঁজা-মদ পানে বাধ্য করা, ম্যাচের কাঠি দিয়ে রুম বা মাঠের মাপ নেয়া, কোনো আদেশ না মানলে গায়ে হাত তোলা, কথার মারপ্যাঁচে বিব্রত করা ছাড়াও নানাভাবে র‌্যাগিং চলে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে। উচ্চশিক্ষা লাভে এসে সিনিয়রদের এমন আচরণ মেনে নিতে পারেন না অনেকেই। তাই অনেকে বাধ্য হয় হল বা ক্যাম্পাস ছাড়তে। অনেকে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর যারা নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারেন তাদের অনেকের মধ্যেই পরবর্তী শিক্ষার্থীদের বর্তমানের চেয়েও অতিরিক্ত মাত্রায় র‌্যাগ দেয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। র‌্যাগিং নামক এমন নিষ্ঠুর রসিকতায় শুরুতেই থেমে যায় অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্নযাত্রা। অনেক শিক্ষার্থীই ছেড়ে দেন ক্যাম্পাস, অনেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এমনকি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন অনেক শিক্ষার্থী। র‌্যাগিংয়ের শিকার বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই মানসিক অস্বস্তিতে ভোগেন। অনেক সময় মানসিক ভারসাম্যহীনতার দিকে নিয়ে যায় শিক্ষার্থীকে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, র‌্যাগিংয়ের ফলে সকল শিক্ষার্থীদের ওপর একই ধরনের প্রভাব পড়ে না। মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মেহতাব খানম বলেন, র‌্যাগিংয়ের শিকার শিক্ষার্থী মানসিকভাবে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তা মূলত র‌্যাগিংয়ের ধরন ও মাত্রার ওপর নির্ভর করে। তবে শিক্ষার্থীর পরিবার তাদের ব্যক্তি সত্ত্বাকে কতটা গুরুত্ব দেয় তার ওপর অনেকটা নির্ভর করে র‌্যাগিংয়ের শিকার শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থার। সাধারণত র‌্যাগিংয়ের ফলে শিক্ষার্থীদের মানসিক আঘাত লাগে, নিজেদের ছোট ও অসহায় মনে হয়। যেসব পরিবার তাদের সন্তানদের ব্যক্তি সত্ত্বাকে তেমন গুরুত্ব দেয় না, শুধু তাদের রেজাল্টকে মূল্যায়ন করে এসব পরিবারের সন্তানদের নিজেদের সমাজের কাছে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়। এসব মানুষ যখন র‌্যাগিংয়ের শিকার হয় স্বাভাবিকভাবেই তারা বাকিদের চেয়ে মানসিকভাবে বেশি ভেঙে পড়েন। র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি পরিবার ও বন্ধুদের সহমর্মী আচরণ তাদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে পারে বলে মনে করেন তিনি। মেহতাব খানম বলেন, র‌্যাগিংয়ের শিকার শিক্ষার্থীদের বারবার র‌্যাগিংয়ের সময়কার দুঃসহ স্মৃতি মনে পড়ে। এই সময় পরিবার যদি তাদের অসহায়ত্বটাকে বুঝতে পারে এবং যথেষ্ট সহমর্মী আচরণ করে তাহলে তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। তবে যেসব শিক্ষার্থীর আগে থেকে কোনো মানসিক সমস্যা থাকে তাদের র‌্যাগিংয়ের পর মানসিক অবস্থা ভয়াবহ হতে পারে। এসব শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই ভালো। এক্ষেত্রে অনেক সময় তাদের ওষুধের প্রয়োজন পড়ে। যাদের অবস্থা বেশি গুরতর তাদের অনেকের গলা শুকিয়ে আসে, তাদের মনে হয় তারা এখনই মরে যাবে। এসব রোগীর ক্ষেত্রে থেরাপি পর্যন্ত দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কারসহ মোট ২১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে র‌্যাগিংয়ের দায়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বহু শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। তার পরও ক্রমশই বেড়েই চলছে র‌্যাগিংয়ের ঘটনা। ফলে উচ্চশিক্ষা লাভে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে র‌্যাগিং; যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন ও শিক্ষকরাও রীতিমতো বিব্রত। পাশের দেশ ভারতের কিছু রাজ্যে র‌্যাগিং প্রতিরোধে নির্দিষ্ট আইন থাকলেও আমাদের দেশে এ বিষয়ে কোনো আইন নেই। তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন র‌্যাগিং প্রথাকে নিষিদ্ধ করেছে। গত ২রা ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে র‌্যাগিং নিষিদ্ধ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া ২০০৮ সালে র‌্যাগিং নিষিদ্ধ করে র‌্যাগিংয়ের নির্মমতায় এগিয়ে থাকা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। শুধু শিক্ষার্থী নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পর্যন্ত র‌্যাগিং বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি র‌্যাগিং বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করে জাবির শিক্ষকরা। আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগিংয়ের ঘটনা বেশি ঘটে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তপন কুমার সাহা বলেন, আবাসিক হলগুলোয় যতদিন আবাসিক পরিবেশ তৈরি না হবে ততদিন র‌্যাগিং সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব নয়। হয়তো কমানো যাবে, কিন্তু সম্পূর্ণ নির্মূল করা যাবে না। র‌্যাগিংয়ের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া মাত্রই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে নিশ্চিত করে তিনি জানান, প্রতিটি হলে হল সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সবার ফোন নাম্বার টানিয়ে দেয়া হয়েছে। যেকোনো সমস্যায় যেকোনো সময় শিক্ষার্থীরা যোগাযোগ করতে পারবে। এছাড়া কোর্স টিচার, হল প্রশাসনসহ সব শিক্ষক শিক্ষার্থীদের র‌্যাগিংয়ের বিষয়ে নিরুৎসাহিত করে বলেও জানান তিনি। র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা শিক্ষার্থী মিজানুরকে তার পরিবার বাড়িতে নিয়ে গেছে জানিয়ে র‌্যাগিংয়ের তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, মিজানুরের পরিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটিকে মিজানুরের সঙ্গে কথা বলতে দেয়নি। মিজানের সঙ্গে কথা না বলে ঘটনা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যাবে না। মিজানুরের সঙ্গে কথা বলে র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। প্রতি বছর ভর্তির সময় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও হলগুলোতে র‌্যাগিং প্রতিরোধে টানানো হয় নোটিশ। কিন্তু তাতে থেমে থাকে না এই নিপীড়ন। র‌্যাগিংয়ের শিকার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অভিহিত করতেও ভয় পায়। কারণ, র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে যুক্ত বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে তাদের নামে অভিযোগ করে লাভ হবে না বলেও জানিয়ে দেয় এসব ছাত্র নেতা। তাছাড়া অভিযোগ করলে পরবর্তীকালে সমস্যা আরো বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিশ্বাস র‌্যাগিংকে নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন এবং র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে পারলে র‌্যাগিং বন্ধ করা সম্ভব। এছাড়া ক্যাম্পসগুলোতে সুস্থধারার রাজনীতি চর্চা হলে র‌্যাগিংয়ের বিষয়টা থাকার কথা না। তবে র‌্যাগিং বন্ধে শিক্ষার্থীদের পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তাদের ধারণা। শিক্ষকরা মনে করেন, পরিবার থেকে সঠিক শিক্ষা পাওয়া কোনো শিক্ষার্থী র‌্যাগিংয়ের মতো একটি অপসংস্কৃতি চর্চা করতে পারে না। তাই দেশের সব শিক্ষার্থীর পরিবার থেকে সঠিক শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি সব শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিং বন্ধে এক হয়ে কাজ করার আহ্ববান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। সে সঙ্গে নবাগত শিক্ষার্থীর র‌্যাগিংয়ের বিষয়ে সচেতন থাকা ও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জানানোর পরামর্শ দেন তারা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভর্তি পরীক্ষার সময়, ভর্তির সময় ও হলে ওঠার সময় র‌্যাগিংয়ের মতো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা হয়। অরিয়েন্টেশনের সময়ও তাদের সচেতন করা হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর র‌্যাগিংয়ে নিরুৎসাহিত করা হয়। পরিবার থেকে সঠিক শিক্ষা পেলে কখনোই কোনো শিক্ষার্থী র‌্যাগিংয়ে উৎসাহিত হতে পারে না মন্তব্য করেন জহির উদ্দিন। র‌্যাগিংয়ের দিক থেকে কিছুটা নমনীয় পর্যায়ে আছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। ঢাবির সহকারী প্রক্টর ড. লিটন কুমার সাহা বলেন, র‌্যাগিংয়ের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জিরো টলারেন্স, ঢাবিতে র‌্যাগিংয়ের কোনো সুযোগ নেই। তাদের কাছে র‌্যাগিয়ের বিষয়ে সম্প্রতি কোনো অভিযোগ আসেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি কোনো রকম অভিযোগ আসে সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা  নেবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সব সময় র‌্যাগিংয়ের বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হয় বলেও জানান তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও বিজয় একাত্তর হলের হাউজ টিউটর তৌহিদুল হক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পারিক সৌহার্দ্যবোধ কখনই মাত্রা ছাড়িয়ে যায় না। র‌্যাগিং খারাপ কিছু না। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে তা সৌজন্যবোধকে ছাড়িয়ে যায়। সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্রা ছাড়িয়ে নেতিবাচক রূপ নেয়। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের গ্রহণ করা হয় ভয়ভীতি দেখিয়ে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুনিয়রদের গ্রহণ করা হয় ছোট ভাই হিসেবে। যে কারণে তাদের কষ্ট দেয়া হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে র‌্যাগিং প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকদের সঙ্গে কাজ করছে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন বা শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টায় চলে এন্টি র‌্যাগিং কার্যক্রম। র‌্যাগিং প্রতিরোধে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখার উদ্যোগে ২০১৭ সালের অক্টোবরে রাবিতে গঠন করা হয় ‘এন্টি র‌্যাগিং সেল’। এন্টি র‌্যাগিং সেলের সমন্বয়ক সুমন মোড়ল বলেন, ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে প্রথম বর্ষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সিনিয়র কর্তৃক নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পরিচিত হওয়ার নামে অনেক সিনিয়র শিক্ষার্থী নবাগতদের র‌্যাগিংয়ের নামে নির্যাতন করেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ধরনের সাংস্কৃতিক-সামাজিক পরিমণ্ডল গড়ে ওঠার কথা, তা ব্যাহত হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে র‌্যাগিংয়ে নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে ‘এন্টি র‌্যাগিং সেল’ পরিচালনা করা হচ্ছে। র‌্যাগিংয়ে নিরুৎসাহিত করা থেকে শাস্তি নিশ্চিত করা পর্যন্ত পাঁচ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে এই প্রতিষ্ঠানটি। সংগঠনের পক্ষ থেকে র‌্যাগিং বন্ধে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এন্টি র‌্যাগিং সেল গঠন ও র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে যুক্ত সবার শাস্তির বিধান নিশ্চিত করার দাবি জানান সুমন।

চট্টগ্রামে কলেজ অধ্যক্ষকে মারধর ছাত্রলীগ নেতার

চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ ড. জাহেদ খানকে মারধর করেছেন মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। শনিবার কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগ নেতা রনি দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা বাড়তি ফি ফেরত না দিয়ে চলে যেতে চাইলে অধ্যক্ষকে অফিসে বসিয়ে রেখে টাকা আদায় করা হয়। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের চাপ ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় তিনি উত্তেজিত হয়ে অধ্যক্ষকে কিল ঘুষি মেরে বসেন। ছাত্রলীগের এই নেতা আরো বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ ২৯শে মার্চ আমাদের প্রতিবাদের মুখে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি হিসেবে আদায় করা বাড়তি ৫ হাজার টাকা ফেরত দেয়ার কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন।
তবে অধ্যক্ষ ড. জায়েদ খান বলেন, ভর্তির সময় আমাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, মাসিক টিউশন ফি ও পরীক্ষার ফি ছাড়া আমরা বছরে আড়াই হাজার টাকা করে দুই বছরে পাঁচ হাজার টাকা উন্নয়ন ও বিবিধ ফি দেবে শিক্ষার্থীরা। এই শর্ত মেনেই শিক্ষার্থীরা আমাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছে। আমরা তাদের কাছ থেকে ওই টাকাই নিয়েছি। তিনি বলেন, আমি পালিয়ে যাবো কেন? ওই দিন আমাদের কলেজ বন্ধ ছিল। আমি এমনিতে ওই দিন কলেজে গিয়েছিলাম। এ সময় আগে থেকে কলেজের সামনে অবস্থান করা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মোবাইল ফোনে কল করে নুরুল আজিম রনিকে কলেজে ডেকে আনেন। পরে সে এসে আমাকে মারতে মারতে আমার কক্ষে নিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে এর প্রমাণ আছে। এদিকে ফুটেজে দেখা যায়, রনি ছাত্রলীগের ১৫/২০ জন নেতাকর্মী নিয়ে দুই হাত দিয়ে অধ্যক্ষ ড. জাহেদ খানকে ধাক্কা দিয়ে তার কক্ষে নিয়ে আসেন। এসময় তিনি ড. জাহেদ খানের মুখে কিল-ঘুষি মারেন।

বাংলাদেশের বৌদ্ধদের প্রলুব্ধ করছে মিয়ানমার -এএফপি’র রিপোর্ট

রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ফেলে আসা ভূখণ্ডে বাংলাদেশি বৌদ্ধদের যাওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করছে মিয়ানমার। প্রধানত এমন প্রলোভন দেখানো হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশি উপজাতি পরিবারগুলোকে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার একাধিক কর্মকর্তা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত পার্বত্য অঞ্চল থেকে আনুমানিক ৫০টি পরিবার ইতিমধ্যে রাখাইন রাজ্যে পাড়ি জমিয়েছে। তাদের জমি আর খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যেসব স্থান থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম অভিযানে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম পালাতে বাধ্য হয়েছে সেখানেই তাদের স্থান দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় কাউন্সিলর মুই শৈ থুই এএফপিকে জানিয়েছেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা থেকে মারমা ও মোরো উপজাতি গোষ্ঠীর ২২টি পরিবার গত মাসে সাঙ্গু ফরেস্ট রিজার্ভ এলাকার গ্রামগুলো থেকে চলে গেছে। তিনি বলেন, এই পরিবারগুলোর মধ্যে প্রধানত বৌদ্ধ বেশি। কিছু খ্রিস্টান রয়েছে। রাখাইনে জমি, নাগরিকত্ব আর পাঁচ বছরের জন্য বিনামূল্যে খাবার দেয়ার প্রলোভনে তাদের প্রলুব্ধ করছে মিয়ানমার। তিনি আরো বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা জমিগুলোয় তারা বসতি গড়বে। তারা অত্যন্ত দরিদ্র।’ রাখাইনে গত আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কঠোর অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে আনুমানিক ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এ অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ কর্মকর্তারা জাতিগত নিধনযজ্ঞ আখ্যা দিয়েছেন।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে হওয়া সমঝোতায় একজন শরণার্থীও এখনো ফেরত যায়নি। রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের নিজ গ্রামে যাওয়ার সুযোগ দেয়া না হলে তারা ফেরত যাবেন না। অস্থায়ী পুনর্বাসন ক্যাম্পে থাকবেন না। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের বহু গ্রাম আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে।
দুই কর্মকর্তার তথ্যমতে এখন পর্যন্ত বান্দরবান থেকে ৫৫টি উপজাতি পরিবার রাখাইনে গেছে। সরকারি জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বিনামূল্যে বাড়িঘর, সাত বছরের জন্য বিনামূল্যে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এমন প্রলোভনে কিছু পরিবার সেখানে স্থানান্তর হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, এসব উপজাতি গোষ্ঠীর অনেকের স্বজন রয়েছে রাখাইনে। তাদের ব্যবহার করেই বাংলাদেশি উপজাতিদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এদের সঙ্গে মিয়ানমারের নিবাসীদের ধর্মীয় ও ভাষাগত মিল রয়েছে। তাদের পূর্বপুরুষের অনেকে সেখানে গিয়ে স্থায়ী হয়েছে। আলী কায়সার নামের আরেক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, কয়েকদিন আগে আলিকদম শহর থেকে মিয়ানমারে যেতে গিয়ে উপজাতি এক ব্যক্তি মাইন বিস্ফোরণে মারা যান। এছাড়া পরিবারের কয়েকজন সদস্য এতে আহত হন।
কর্মকর্তারা বলছেন, এই অভিবাসনের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার ধারণা মিয়ানমার হয়তো এদের নিয়ে কিছু সংবাদ প্রচার করতে চায় যে- বাংলাদেশে বৌদ্ধরা নির্যাতিত ও নিপীড়িত হচ্ছে। আর সে কারণে তারা দেশ ছেড়ে গেছে।’
বাংলাদেশি এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, পুনর্বাসন প্রকল্প ব্যবহার করে হাজারো বৌদ্ধকে রাখাইনে পুনর্বাসন করেছে মিয়ানমার। ওই পুনর্বাসন প্রকল্পে বিনামূল্যে খাবার, বাড়ি, গবাদিপশু ও নগদ অর্থের প্রলোভন রয়েছে। মুই শৈ থুই জানান, গেল তিন বছরে তার এলাকা থেকে শতাধিক উপজাতি পরিবার মিয়ানমার গেছে। পরিদর্শকরা বলছেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের অনুপস্থিতিতে উত্তর রাখাইনে সুপরিকল্পিতভাবে সামাজিক দৃশ্যপট পাল্টানোর প্রকল্প চালাচ্ছে। সরকার ও সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বেসরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এসব নানা প্রকল্প ওই এলাকার চেহারাই পাল্টে দিচ্ছে।

তুরস্কের প্রথম পরমাণু স্থাপনা নির্মাণ করবে রাশিয়া; আজ জমকালো অনুষ্ঠান

তুরস্কের প্রথম পরমাণু স্থাপনা ‘আকুইয়ু’ নির্মাণ করে দেবে রাশিয়া এবং এ উপলক্ষে আজ (মঙ্গলবার) জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে আংকারা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হবে ভূমধ্যসাগর উপকূলীয় শহর মারসিনে।
আকুইয়ু পরমাণু স্থাপনাটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোজাটম নির্মাণ করবে। তুর্কি এ স্থাপনায় চারটি ইউনিট থাকবে এবং প্রতিটি ইউনিট ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে।
পরমাণু স্থাপনাটি নির্মাণ করতে মোট ব্যয় হবে দুই হাজার কোটি ডলার এবং প্রতিষ্ঠানটি বছরে আট হাজার ঘণ্টা কাজ করতে পারবে। পরমাণু স্থাপনাটি নির্মাণের বিষয়ে ২০১০ সালে রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের চুক্তি হয়েছিল।
আল-জাজিরা টেলিভিশন জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে দুটি ইউনিটের কাজ শেষ করা হবে যা থেকে ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। পরবর্তীতে বাকি দুটি ইউনিটের কাজ শেষ করা হবে। স্থাপনাটি পুরোপুরি চালু হলে সেখান থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে যা তুরস্কের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার শতকরা ১০ ভাগ। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ লাগে শুধু ইস্তাম্বুল শহরেই।
পরমাণু স্থাপনাটি চালু করার জন্য প্রাথমিক সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৩ সাল এবং পূর্ণ মাত্রায় চালু হবে ২০২৫ সালে। স্থাপনাটি নির্মাণের জন্য পুরোপুরি কাজ শুরু হলে ১০ হাজার লোক নিয়োগ পাবে আর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে সেখানে সাড়ে তিন হাজার ব্যক্তি চাকরির সুযোগ পাবে। এ স্থাপনায় কাজ করার জন্য তুরস্কের ২৪৮ জন ছাত্রকে রাশিয়ায় লেখাপড়া করানো হয়েছে। এর মধ্যে গত মাসে ৩৫ জন ছাত্র গ্রাজুয়েট হয়েছে যাদের লেখাপড়া শেষ করতে সময় লেগেছে সাড়ে ছয় বছর।

ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ গড়ছে পাকিস্তান! -দ্য হিন্দুর রিপোর্ট

বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যখন ভারত সরকার ক্রমাগত নিকটবর্তী হওয়ার চেষ্টা করছে তখন তাদের সামনে আরেকটি বড় সামরিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হচ্ছে। আর তা হলো পাকিস্তান। পাকিস্তান আঞ্চলিক ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা সুদৃঢ় করছে। রোববার প্রথমবারের মতো মালদ্বীপ সফর সম্পন্ন করেছেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল কমর বাজওয়া। এটাকেই ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আরেকটি সামরিক আধিপত্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনলাইন দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছেন ভারতীয় সাংবাদিক সুহাসিনী হায়দার। এতে তিনি আরো লিখেছেন, পাকিস্তানি সেনা প্রধান সাক্ষাত করেছেন মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী আদম শারে উমরের সঙ্গে। এরপর মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, দু’দেশের মধ্যে সামরিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেছে পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। তবে এ নিয়ে নয়া দিল্লিতে উদ্বেগ অন্যখানে। কারণ, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান মালদ্বীপের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে টহল দেয়ায় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছে। এ ছাড়া মালদ্বীপের ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টার যাবে পাকিস্তানে। সেখানে সন্ত্রাস বিরোধী সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে মালদ্বীপ। এমন সহযোগিতা ভারতের জন্য সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ ভারতের সঙ্গে এমন সম্পর্ক নেই। এ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এখানেই শেষ নয়। আঞ্চলিক পর্যায়ে ভারত আরো পিছিয়ে পড়ছে। গত সপ্তাহে তারা সিসিলি ইস্যুতে পশ্চাৎধাবন করেছে। সিসিলির দ্বীপ পরিমাপ বা এর সুবিধা নেয়া, রক্ষাণাবেক্ষণ, এখানে অপারেশন, ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে ভারতের সঙ্গে জাতীয় পরিষদের একটি চুক্তি সামনে আনবেন না।। ওই পদক্ষেপগুলো নেয়া হলে সিসিলির চারদিকে এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হতো। এ বিষয়ে দু’দেশ প্রথমে ২০১৫ সালে চুক্তিতে আসে। ওই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সিসিলি সফরে গিয়েছিলেন। কিন্তু চুক্তিটি গত বছর জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে তা এখনও জাতীয় পরিষদ দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে। অন্যদিকে সোমবার ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে। তিনি ফেব্রুয়ারির পরে দ্বিতীয়বারের মতো থিম্পু সফর করেন। রোববার ভুটান পৌঁছেন বিজয় গোখলে। সেখানে সাক্ষাত করেন রাজা জিগমে খেসার নামগায়েল ওয়াংচুকের সঙ্গে। ওডিদকে আগামী ৬ই এপ্রিল দিল্লি সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিওর। বিজয় গোখলের ঢাকা সফরের এক সপ্তাহ আগে এ ঘটনা ঘটবে। এই সফরে কেপি শর্মা ভারতে এসে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত এলাকার পুনর্গটন নিয়ে আলোচনা করবেন। এ ছাড়া সার্ক শীর্ষ সম্মেলন যাতে করা যায় তা নিয়েও তার আলোচনা করার কথা রয়েছে।

এ্যানির স্বপ্নেও হানা দেয় সেই দুঃসহ স্মৃতি by মরিয়ম চম্পা

স্বামী ও সন্তানকে হারিয়ে প্রতিদিনই দুঃস্বপ্নে ঘুম ভাঙে আলমুন নাহার এ্যানির। ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার ভেঙে পড়া বিমানের ঝাঁকুনিটা এখনো যেন গায়ে লাগে তার। বার্ন ইউনিটের ৬ষ্ঠ তলার ৫ নং ভিআইপি কেবিনে চিকিৎসাধীন এ্যানি এমনটাই জানালেন। ওই দুর্ঘটনায় স্বামী ফারুক হোসেন প্রিয়ক ও শিশু কন্যা প্রিয়ংময়ীকে হারান এ্যানি। এদিকে বিমান দুর্ঘটনার দুর্বিষহ মুহূর্ত ভুলে থাকতে চান ত্রিভুবন ট্র্যাজেডির বেঁচে ফেরা আহত শাহরিন আহমেদ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ কর্মের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এ্যানি বলেন, ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পর প্রিয়কের সঙ্গে বিয়ের দেড় বছরের মাথায় আমাদের ছোট্ট পরী প্রিয়ংময়ীর জন্ম। মাত্র আড়াই বছর বয়সেই মেয়েটা আমাকে ছেড়ে চলে গেল। ত্রিভুবনে বিমান দুর্ঘটনার সূত্রপাতটা কীভাবে ছিল জানতে চাইলে এ্যানি বলেন, মাত্র আধা থেকে ১ মিনিটের মধ্যে কি যে হয়ে গেল ভাবতে পারছি না। ধোঁয়া আর আগুনের বাইরে তেমন কিছুই মনে করতে পারছি না। প্রিয়ংময়ী ওর বাবার কোলেই ঘুমিয়ে পড়েছিল। প্রিয়ক আর আমি গল্প করছিলাম। হঠাৎ করে বিমানে একটি ঝাঁকুনি দিয়ে আগুন ধরে যায়। আমার সিট বিমানের পাখা বরাবর হওয়ায় ওই পাশটা সবার আগে ভেঙে যায়। এসময় ধোঁয়ায় আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। আমার সিটবেল্ট খোলা থাকায় আমি দাঁড়িয়ে প্রিয়কের সিট বেল্ট খোলার চেষ্টা করি। এসময় প্রিয়ক অজ্ঞান হয়ে যায়। আমার গলায় থাকা ওড়নাতে প্যাঁচ লেগে যায়। এসময় হঠাৎ করে কে যেন আমার হাত ধরে টান দিয়ে বাইরে নিয়ে আসে। বাইরে বেরিয়ে আমি চিৎকার করে বলতে থাকি বিমানে আমার স্বামী ও মেয়ে আছে, আপনারা ওদের বাঁচান। এসময় নেপালের সেনাবাহিনীর ৪ জন  সদস্য এসে আমার কোনো কথা না শুনেই ওরা আমার হাত-পা ধরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলে। মাথায় ব্যথা ও হাঁটুতে ছোট একটি ক্ষতচিহ্ন থাকলেও শরীরের অন্য কোথাও তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এ্যানির।
বিমান দুর্ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতিচারণ করে এ্যানি বলেন, আমার চোখের সামনেই পাইলট পৃথূলাকে সিটে বসে থাকা অবস্থায় আহত হতে দেখেছি। একজন নেপালী যাত্রী বিমান থেকে বের হওয়ার পর চোখের সামনে মরে যেতে দেখেছি। এ্যানি স্বামী-সন্তান হারানোর শোক ভুলে মানুষের সেবা করে যেতে চান। মানুষের সেবায়ই তিনি প্রিয়ক প্রিয়ংময়ীকে খুঁজে পেতে চান। পাশে থাকা এ্যানির মা জানান, তার দুই মেয়ে। আমাদের কোনো পুত্র সন্তান না থাকলেও প্রিয়ককে পেয়ে ছেলের অভাব ভুলে গিয়েছিলাম। পুরো পরিবারকেই মাতিয়ে রাখতেন আমাদের ছোট্ট প্রিয়ংময়ী। প্রিয়ক ও প্রিয়ংময়ী যেখানেই থাকুক না কেন ওরা ভালো আছে এটাই এ্যানিকে বার বার বোঝাতে চেষ্টা করছেন তার মা। এ্যানির বাবা সালাহউদ্দিন জানান, ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পরপরই ভালো ছেলে পাওয়াতে এ্যানিকে বিয়ে দিয়ে দেই। এত কম বয়সে সে এমন অবস্থায় পড়বে ভাবতেও পারিনি।
২ নং কেবিনে শাহরিনের চিকিৎসা চলছে। শরীরের ক্ষত না শুকানোয় তার সঙ্গে কেউ সাক্ষাৎ করতে পারছেন না। সেখানে থাকা তার ফুফু জানান, শাহরিনের ট্রমা এখন অনেকটাই কমে এসেছে। খাওয়া-দাওয়া ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থা অনেক ভালো।
ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, আহত শাহরিন আহমেদ ও এ্যানির বর্তমান শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো। তবে মেয়ে আর স্বামীকে কিছুতেই ভুলতে পারছেন না এ্যানি। পূর্ণাঙ্গ সুস্থ হতে তাদের আরো সময় লাগবে।
গত ১২ই মার্চ নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার বিমান ৬৭ যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে বিধ্বস্ত হয়। এ দুর্ঘটনায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৫১ জন নিহত হয়েছেন।

রহস্যে ঘেরা সিলেটের জোড়া খুন: তানিয়া ধরা পড়েনি পালিয়েছে সুমনও by ওয়েছ খছরু

সিলেটের মিরাবাজারে আলোচিত মা ও ছেলে খুনের ঘটনার কোনো রহস্য উদঘাটন হয়নি। অজ্ঞাত খুনিদের সন্ধানে মাঠে নেমেছে পুলিশের   কয়েকটি টিম। এরপরও গতকাল বিকাল পর্যন্ত জোড়া খুনের ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন কাজের মেয়ে তানিয়ার খোঁজ মিলেনি। ওদিকে- এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে কাঞ্চা সুমন ও তার সহযোগীরা। লাশ উদ্ধারের দিন রোববার গভীর রাতে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন নিহত রোকেয়া বেগমের ছোটো ভাই জাকির হোসেন। গতকাল দুপুরে নিহত রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রূপমের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে- আলোচিত এ জোড়াখুনের ঘটনার একমাত্র সাক্ষী শিশু রাইসা। চিকিৎসা শেষে রাইসাকে সিলেটের কোতোয়ালি থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। পুলিশ এরই মধ্যে আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছে। রাইসা পুলিশকে কিছু তথ্য দিয়েছে। এই তথ্যে উঠে এসেছে কাজের মেয়ে তানিয়ার নাম। তানিয়া কয়েক মাস আগে কাজের মেয়ে হিসেবে রোকেয়ার বাসায় আসে। এলাকার কাঞ্চা সুমন, পাপলু, শিপন সহ কয়েক যুবক তানিয়ার পক্ষ নিয়ে রোকেয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিল। এ নিয়ে এলাকার ওই যুবকদের সঙ্গে বিরোধ তুঙ্গে ছিল রোকেয়ার। মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাঁধে। এরপর থেকে তানিয়া ওই বাসা থেকে কাজ ছেড়ে চলে গেলেও কাঞ্চা সুমন সহ ওই তিন যুবক বাসাতে আসা-যাওয়া করতো। রাইসার বক্তব্য থেকে পুলিশ জেনেছে খুনের ঘটনার সময়ে তানিয়া বাসাতে ছিল। তার সঙ্গে আরো কয়েক যুবক ছিল। ওই যুবকদের নাম বলতে পারেনি রাইসা। পুলিশ লাশ উদ্ধারের দিন রোববার দুপুর থেকে তানিয়ার সন্ধানে নেমেছে। গতকাল বিকালে সিলেটের কোতোয়ালি থানার ওসি গৌসুল হোসেন জানিয়েছেন- তারা তানিয়াকে খুঁজে ফিরছেন। কিন্তু এখনো তানিয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তানিয়া নগরীর খারপাড়া এলাকায় বসবাস করতো বলে জানান তিনি। ওসি জানান- মামলায় কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে- অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর পুলিশের একাধিক টিমের পক্ষ থেকে প্রধান সন্দেহভাজন তানিয়া বেগম ও তার সহযোগী কাঞ্চা সুমনসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের গ্রেপ্তারে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান চলছে। নিহত রোকেয়ার ভাই জাকির আহমদ জানান- তার বোন মাসখানেক আগে তাকে ফোনে জানিয়েছিলেন ওই এলাকায় থাকা যাবে না। তার জন্য বাসা দেখতে অনুরোধ করেন। একই কথা গত শুক্রবার তিনি বোনের কাছেও জানিয়েছিলেন। দ্রুত বাসা ছেড়ে দেয়ার তাগিদ দিয়েছিলেন রোকেয়া। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে রোকেয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে পুলিশও ধারণা করছে- শুক্রবার সন্ধ্যায় খুন হতে পারেন রোকেয়া ও তার ছেলে রূপম। খারপাড়ার মিতালী আবাসিক এলাকার ১৫-জে বাসার নিচ তলা থেকে লাশ উদ্ধারের সময় গোয়েন্দা পুলিশ বাসার ভেতর থেকে বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে দেখা গেছে- রোকেয়ার বেড রুমে বেনসন সিগারেটের প্যাকেট ছিল। ধারণা করা হচ্ছে- তানিয়ার বেড রুমে কোনো পুরুষ ছিল। বাসার পার্শ্ববর্তী পাড়ার দোকানি নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন- রূপম প্রায় সময় এসে তার দোকান থেকে এসে বেনসন সিগারেট নিয়ে যেত। কিন্তু রূপম সিগারেট পান করতো না। কার জন্য সিগারেট নিয়ে যেত সেটি তিনি জানেন না। শনিবার রাতেও এসে রূপম তার দোকান থেকে বেনসন সিগারেট নিয়ে গেছে বলেও জানান ওই দোকানি। বাসার মালিক সালমান হোসেন ঘটনার দিনই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- ২০১৭ সালের ১লা এপ্রিল রোকেয়া বেগমের স্বামী হেলাল আহমদ ১৩ হাজার টাকার রেন্টে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। ওই সময় লোকন মিয়া নামে এক পুরুষ থাকবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু লোকন মিয়াকে এলাকার কেউ চিনেন না। কিংবা ওই নামে কাউকে দেখেছেন বলেও কেউ চিহ্নিত করতে পারেননি। তবে- মাঝে মধ্যে কাজের মেয়ে তানিয়ার কাছে এক পুরুষ আসতো বলে এলাকার মানুষ দেখেছেন। রোকেয়া বেগমের স্বামী হেলাল উদ্দিনের পরিবারের কেউ গতকাল মা ও পুত্রের জানাজায় অংশ নেয়নি। ফলে রোকেয়ার পরিবারের সদস্যরাই বিকালে তাদের সমাহিত করেন হজরত মানিকপীর (রহ.) মাজারস্থ গোরস্থানে। হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে প্রায় এক বছর ধরে সঙ্গ ছাড়া রোকেয়ার। এর ফলে দ্বিতীয় স্ত্রী সুলতানা তান্নাকে নিয়ে তিনি নগরীর বারুতখানাস্থ বাসায় বসবাস করেন। এক বছর আগে ব্রেইন স্ট্রোক করেছেন জগন্নাথপুরের বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন। এরপর থেকে তিনি বাসাতেই অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। হেলালের দ্বিতীয় স্ত্রী সুলতানা তান্না জানিয়েছেন- হেলালের ভাইয়েরা লন্ডনে থাকে। তারা ওখান থেকে টাকা পাঠায়। আর ওই টাকা দিয়ে তাদের সংসার চলে। ফলে স্বামীর সঙ্গ ছাড়া রোকেয়া বেগম নিজ থেকে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লড়াই চালাচ্ছিলেন। নগরীর পাঠানটুলা এলাকায় তিনি বিউটি পার্লার খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রোকেয়ার টাকার উৎস সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহত রূপম মীরাবাজারের জামেয়া স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। সে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। কাঞ্চা সুমন, পাপলু ও রিপন ছিল এলাকার বখাটে। রাজনীতির আড়ালে তারা বেশ দাপটও খাটাতো। বিশেষ করে ভাড়াটিয়ারা তাদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ থাকতো। এলাকার লোকজন জানিয়েছেন- কাঞ্চা সুমন ও তার সহযোগীরা শনিবার থেকে এলাকায় নেই। ওই দিন তাদের পাড়ায় আড্ডা দিতে দেখা যায়নি। গতকালও এলাকায় খবর নিয়ে তাদের খোঁজ মিলেনি। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর দিনার খান হাসুও ঘটনার নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে এখনো কিছুই জানেন না। তবে- কাঞ্চা সুমন ও তার সহযোগীরা এলাকা ছাড়া রয়েছে বলে তার কাছেও খবর এসেছে। গত এক মাস তারা রোকেয়া বেগমের বাসার আশপাশে বেশি ঘুরাঘুরি করেছে। তারা হঠাৎ হাওয়া হয়ে যাওয়ায় এলাকায় নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে বলে জানান তিনি। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) আব্দুল ওয়াহাব মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ঘটনার সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। পাশাপাশি চলছে অভিযানও। কাজের মেয়ে তানিয়াকে পাওয়া গেলে অনেক কিছুই পরিষ্কার হবে। পুলিশ ঘটনার কারণ উদঘাটনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।

হাসপাতালে রেল কর্মকর্তার ইয়াবা ব্যবসা!

ইয়াবা ব্যবসায় আধিপত্য নিয়ে দু’গ্রুপের মারামারি। এতে ডান হাত ভেঙে গুরুতর আহত হন তিনি। মুচলেকা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত চট্টগ্রামের রেলওয়ে পরিবহন বিভাগের পরিচালক মো. বখতিয়ার হোসেন।
কিন্তু কথায় আছে ঢেঁকির কাজ বাড়া (ধান ভাঙা) বাঁধা। মক্কায় গেলেও নাকি বাড়া বাঁধে ঢেঁকি। ঠিক হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থেকেও ইয়াবা বিক্রি করছিলেন বখতিয়ার হোসেন।
আর হাতেনাতে ধরে রেলওয়ের এই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের উপ-পরিচালক শামীম আহমেদ।
তিনি বলেন, রেলওয়ে পরিবহন বিভাগের পরিচালক বখতিয়ার হোসেন নিজেই একজন মাদকাসক্ত। সে হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসাধীন থেকেও ইয়াবা বিক্রি করছিল। তার কাছ থেকে ১ হাজার ইয়াবা ও ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানান শামীম আহমেদ। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা ইবনে শফি আবদুল আহাদ জানান, গত দুইদিন আগে ইয়াবা বিক্রয় নিয়ে বখতিয়ার হোসেন একটি গ্রুপের সঙ্গে মারামারি করে। এতে তার ডান হাত ভেঙে গুরুতর আহত হয়। পরে মুচলেকা দিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কিন্তু হাসপাতালের কেবিনে বসেও সে ইয়াবা বিক্রি করছিল। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের রেলওয়ে পরিবহন বিভাগের পরিচালক মো. বখতিয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ১৫-২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ মাদক বিক্রির সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট রয়েছে তার। এর আগে তিনি নিজেও ইয়াবা ও গাঁজা সেবনে লিপ্ত হন।
মাদক ব্যবসায় তার একটি প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপ তৈরি হয়। যাদের সঙ্গে প্রায় মারমুখি অবস্থানে চড়াও হন বখতেয়ার। গত শুক্রবার রাতে ইয়াবা বিক্রি নিয়ে আধিপত্য বিস্তারে প্রতিপক্ষ গ্রুপের লোকজনের সঙ্গে মারামারি করেন তিনি। এতে তার ডান হাত ভেঙে যায়।
সূত্র জানায়, বখতেয়ার হোসেন প্রথমত, রেলওয়ের কর্মকর্তা, দ্বিতীয়ত- সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের ভয়ে তার ইয়াবা সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস করেনি। রেলওয়ে ও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের লোকজনকে ম্যানেজ করে সে এই ইয়াবা সাম্রাজ্য গড়ে তোলে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার এসআই শহীদ উল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের পরিচালক বখতেয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও ইয়াবাসহ তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন।

প্রেমিকের অস্বীকৃতি, জীবন দিলো এইচএসসি পরীক্ষার্থী শান্তা by আশরাফুল ইসলাম

প্রেমিকের কপট ফাঁদে শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়েতে অস্বীকৃতি জানানোয় শান্তা আক্তার নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার বদলে তাকে চলে যেতে হয়েছে দুনিয়া ছেড়ে। আত্মহত্যা করতে গিয়ে স্বজনদের চোখ ফাঁকি দিতে না পারলেও টানা ৭দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুরে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে চলে যায় শান্তা। পরীক্ষা শুরুর দিনই তাকে সমাহিত করা হয় শেষ ঠিকানায়।
শান্তা আক্তার কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকচুরী গ্রামের ফিরোজ মিয়ার মেয়ে। কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিল শান্তা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় তার অংশ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রেমিকের প্রতারণায় এর এক সপ্তাহ আগে গত ২৬শে মার্চ সকালে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় শান্তা। স্বজনেরা টের পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু অবস্থা খারাপ দেখে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ বেড না পাওয়ায় তাকে ভর্তি করা জাপান-বাংলাদেশ ফেন্ডশীপ হাসপাতালে। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ভর্তি করা হয় সেন্ট্রাল হসপিটালে। সেখানেই চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রোববার দুপুরে মৃত্যু হয় তার।
পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, প্রতিবেশী লাল মিয়ার মাস্টার্স পড়ুয়া ছেলে মাইনুল হোসেনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো শান্তার। টানা ৪ বছর ধরে চলা এই প্রেমের সুবাদে শান্তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শান্তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে কপট প্রেমিক মাইনুল। বিয়ের জন্য শান্তা প্রায়ই মাইনুলের সঙ্গে পীড়াপীড়ি করলেও কৌশলে তা এড়িয়ে যেতো মাইনুল। এ পরিস্থিতিতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ২৫ মার্চ মাইনুল প্রেমিকা শান্তাকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে অন্যত্র গিয়ে রাত্রিযাপন করে। পরে পারিবারিকভাবে বিয়ের ব্যবস্থা করবে, এমন আশ্বাস দিয়ে শান্তাকে পরদিন ২৬শে মার্চ ভোরে বাড়িতে পাঠায়। বিষয়টি দু’পক্ষের পরিবারও অবগত হয়। কিন্তু বাড়িতে পাঠানোর পর সুর বদলে যায় মাইনুলের। এ নিয়ে কয়েক দফা শান্তার সাথে ফোনে ঝগড়া হয় মাইনুলের। এক পর্যায়ে শান্তাকে বিয়ে করা সম্ভব নয়, বলে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানায় মাইনুল। প্রেমিকের এই বিশ্বাসভঙ্গের বেদনায় আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয় শান্তা। ওইদিনই (২৬শে মার্চ) সকাল ৯টার দিকে নিজ ঘরে ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে শান্তা।
নিহত শান্তার বড় ভাই মিজান জানান, ওড়না পেঁচিয়ে শান্তাকে ঝুলে পড়ার দৃশ্য দেখে তার চাচী চিৎকার দিলে দ্রুত অন্য সদস্যরা শান্তাকে নিচে নামিয়ে আনে। মুমূর্ষু অবস্থায় দ্রুত তাকে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে রশিদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস মিয়া বলেন, মাইনুল আর শান্তার প্রেমের বিষয়টি নিয়ে কয়েক মাস আগে দু’পরিবারের লোকজনদের নিয়ে দরবার শালিশ হয়। ছেলের পরিবার মেয়েকে বিয়ে করাতে রাজি নয়। ছেলে বিয়ে করতে পারবে না, এমন কথা শুনার পরই আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় মেয়েটি। এদিকে, শান্তার মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছার পর থেকে ঘরে তালা দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে প্রেমিক মাইনুল ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ ব্যাপারে নিহত শান্তার বাবা ফিরোজ মিয়া বাদী হয়ে প্রেমিক মাইনুল ও মাইনুলের বাবা লাল মিয়াকে আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন।

রামগঞ্জে শিশু নুশরাত হত্যা: ধর্ষণ শেষে হত্যা করে লাশ আলমারিতে রাখে ঘাতক

রামগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু নুশরাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহ আলম রুবেল গ্রেপ্তার হয়েছে পুলিশের হাতে। রোববার সন্ধ্যায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহযোগিতায় রামগঞ্জ থানা পুলিশ শাহ আলম রুবেলকে আটক করতে সক্ষম হয়। গতকাল সকালে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার আ.স.ম মাহতাব উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানান, ২৩শে মার্চ দুপুরের আগে একই বাড়ির সিরাজ মিয়ার ছেলে শাহ আলম রুবেল বাড়ির সম্পর্কিত  ভাতিজি নুশরাত জাহান নিশুকে আইসক্রিম খাওয়ার কথা বলে ঘরে ডেকে নেয়। ঐদিনই নুশরাতকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে লাশ ব্যাগে ভরে ঘরের স্টিলের আলমিরার উপর রেখে দেয়। সন্ধ্যার পর রুবেলের বন্ধু স্থানীয় নোয়াগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী বোরহানকে দিয়ে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে দুজন ব্যাগভর্তি লাশ নিয়ে তিন কিলোমিটার দূরের কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়া ঠাকুরবাড়ির ব্রিজের নিচে ফেলে দেয়। ২৬শে মার্চ সকাল ১১টায় তার লাশ উদ্ধার করে রামগঞ্জ থানা পুলিশ। রাতেই নিহত নুশরাতের মা রেহানা বেগম রামগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয়। পরে লাশের সঙ্গে ব্যাগের লিফলেট প্রচারণা চালায় পুলিশ। বিষয়টি সিএনজিচালক মো. রাকিব হোসেন জানতে পেরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হোসেন রানাকে ঘটনাটি তার অজ্ঞাতে হয়েছে বলে নিশ্চিত করলে পুলিশে ঘটনাটি খুলে বলা হয়। পুলিশ সিএনজি চালকের সূত্র ধরে আটক করে শাহ আলম রুবেলের বন্ধু বোরহান উদ্দিনকে। পরে পুনরায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অবশেষে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে খুলনা থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে শাহ আলম রুবেলকে আটক করতে সক্ষম হয়।
সূত্র জানায়, গত ২৩শে মার্চ পশ্চিম নোয়াগাঁও গ্রামের কালা মিস্ত্রি বাড়ির প্রবাসী এরশাদ মিয়ার মাদরাসা পড়ুয়া ৮ বছরের শিশুকন্যা নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের তিনদিন পর ২৬শে মার্চ সকাল সাড়ে ১১টায় পার্শ্ববর্তী কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়া গ্রামের ঠাকুর বাড়ির সামনের ব্রিজের নিচ থেকে শিশু নুশরাতের ব্যাগভর্তি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে রামগঞ্জ থানা পুলিশ।
এদিকে শিশু নুশরাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল হোতা রুবেল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ায় উপজেলাব্যাপী আনন্দের বন্যা দেখা দেয়। রামগঞ্জ থানার সামনে তার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে স্থানীয় লোকজন।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক ডাক্তার আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, শিশু নুশরাতকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পরদিন নুশরাতের মা রেহানা বেগম রামগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলা ও লাশের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ব্যাগের সূত্র ধরে তদন্ত চালায়। তদন্তের এক পর্যায়ে বের হয়ে আসে মূল ঘটনা।
রুবেলের বন্ধু ওসমান, বাবা মো. সিরাজ মিয়া, মা রিভা বেগম, দুই বোন রুপা ও নিপা, সিএনজি চালক রাকিব ও ঢাকার সদরঘাট থেকে গার্মেন্টসের ম্যানেজার রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলেও মূল হত্যাকারী রুবেল ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল।

পূর্ব শত্রুতার জেরে আকলিমাকে এসিড নিক্ষেপ

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় আকলিমা আক্তার নামে এক নারীকে এসিড নিক্ষেপ করে ঝলসে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সকাল সাড়ে সাতটার দিকে হাজারীবাগের শাজাহান মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এসিডে দগ্ধ আকলিমা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তার ভাই পারভেজ বাদী হয়ে হাজারীবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাজারীবাগ থানার এসআই মাসুদ বলেছেন, আকলিমাকে এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় থানায় একটি মামলা করেছেন তার ভাই। তিনি আরো জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে এসিড নিক্ষেপ করা হয় বলে এসিড দগ্ধ নারীর স্বজনরা জানিয়েছেন। সে অনুযায়ী সুমি আক্তার নামের আরেক নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
ঘটনার বিবরণ জানিয়ে আকলিমা আক্তারের স্বামী জুবায়ের হোসেন মানবজমিনকে বলেন, সোমবার সকালে বড় মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিল আকলিমা। এ সময় শাজাহান মার্কেটের সামনে এলে তাকে কে যেন এসিড ছুড়ে মারে। আমি শুনেই সেখানে গিয়ে তাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে যাই। তার শরীরের পাঁচ শতাংশ পুড়ে গেছে। কি কারণে কে আকলিমাকে এসিড নিক্ষেপ করেছে তা জানিয়ে জুবায়ের হোসেন বলেন, আমি যতদূর জানি আমার সঙ্গে বিয়ের আগে আকলিমার একটি ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। তবে ওই ছেলেটা খুবই ভালো। আকলিমার বিয়ের পর পর ওই ছেলেটিও বিয়ে করে। তার স্ত্রীর নাম সুমি। এই সুমি ওদের মধ্যে প্রেমের কথা জেনে যায়। এবং দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করে। কিন্তু ছেলেটি এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতো না। সুমি সন্দেহ করেই বারবার আমার স্ত্রীর ওপর চড়াও হতো। একবার মারধর করতেও চেয়েছিল। কিছুদিন আগেও আকলিমাকে মারতে এসেছিল। বিষয়গুলো জানার পর সমাধানের চেষ্টাও করেছিলাম। কিন্তু সুমি বারবার শত্রুতা বাড়িয়ে আসছিল। আকলিমার আগে-পরে কারো সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। আমার ধারণা সেই তাকে এসিড দিয়ে ঝলসে দিয়েছে। ঘটনাস্থলে সুমি না থাকলেও অন্য কাউকে দিয়ে সে কাজটি করিয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা থানায় অভিযোগ দেয়ার পর আকলিমার ভাই পারভেজ বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক ডা. এনায়েত কবির জানান, আকলিমার শরীরের পাঁচ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার ডান গাল, বুক ও গলার অংশ ঝলসে গেছে। তাকে এখন চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গতকাল সকালেই আকলিমাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

অটিজম আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

অটিজম আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, যারা অটিজমে ভুগছে তাদের অবহেলা করবেন না। তারা আমাদের সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনেক সুস্থ মানুষ     যা পারে না সেই সুপ্ত প্রতিভা তাদের রয়েছে। আমাদেরকেই সেই সুপ্ত প্রতিভাগুলো বিকশিত করার সুযোগ করে দিতে হবে। আর সমাজে তাদের একটা সুন্দর স্থান করে দিতে হবে। গতকাল সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১১তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুস্থ মানুষকে যেভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে তেমনি যারা প্রতিবন্ধী এবং অটিজমে ভুগছে তাদের প্রতি আমাদের সমাজকে আরো সচেতন হতে হবে, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। কারণ এটা তাদের জন্মের কোনো দোষ নয়, আল্লাহ তো মানুষকে বিভিন্নভাবেই সৃষ্টি করেন। কাজেই সেটাকে অবহেলার চোখে দেখা ঠিক নয়। তাই সমাজের সচেতনতা একান্তভাবেই প্রয়োজনীয়। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাচ্ছি অভিভাবক এবং শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে। যাতে তারা আচার আচরণ, কথা বলা ইত্যাদির মাধ্যমে অটিজমে আত্রান্তদের সুস্থ করতে ভূমিকা রাখতে পারেন। অর্থাৎ শিক্ষকরাও পারবে তাদের আরো সুস্থ করে তুলতে। তাদের মধ্যে সেই সচেতনতাটা সৃষ্টি করা একান্তভাবেই দরকার। সেটাই আমরা চাই। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সদস্য ইসাবা হাফিজের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি যখন ইসাবার বক্তৃতা শুনছিলাম তখন খুব কষ্ট হচ্ছিল। এই মানসিকতা পরিবর্তন করে সবাইকে বরং আরো সংবেদনশীল হয়ে, আরো সহানুভূতিশীল হয়ে অটিজম আক্রান্তদের আদর-ভালোবাসা দিয়ে কাছে টেনে নিতে হবে। আর তাদের মাঝে যে সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে সেই সুপ্ত প্রতিভাকে জাগিয়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী অটিজম বক্তা ইসাবার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইসাবা বলেছে সে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারবে কি-না। ‘আমি বলবো সে দিতে পারবে’। প্রধানমন্ত্রী এ সময় প্রতিবন্ধীদের পাবলিক পরীক্ষায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট বাড়িয়ে দেয়ার তার সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় অন্যরা যে সময়ে পরীক্ষা দেয় তাদের চাইতে সাধারণভাবেই ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় বেশি দিয়ে থাকি। যেন তারা তাদের পরীক্ষাটা ভালোভাবে দিতে পারে। ইতিমধ্যে ব্যবস্থাটা আমরা করে দিয়েছি। অটিজম বিষয়ে মানুষকে সচেতন করে তুলতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, আগে বাংলাদেশে অটিজম সম্পর্কে মানুষের তেমন কোনো ধারণা ছিল না। আমার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ-এর নিরলস প্রচেষ্টায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অটিজম-এর গুরুত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন উৎসবে মানুষের কাছে তিনি যেসব কার্ড পাঠান, অটিস্টিক শিশুদের আঁকা কার্ডই পাঠান। যার কার্ড নির্বাচিত হয় তাকে সম্মানী হিসেবে এক লাখ করে টাকাও প্রদান করেন। এ সময় অটিস্টিক শিশুদের প্রতিভার বিকাশে দেশের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। সমাজকল্যাণ সচিব জিল্লার রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন।  অটিজম আক্রান্তদের পক্ষে নবম শ্রেণির ছাত্রী ইসাবা হাফিজ সুস্মী বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে ২রা এপ্রিল দিনটি অটিজম সচেতনতা দিবস হিসেবে ‘নারী ও বালিকাদের ক্ষমতায়ন, হোক না তারা অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হয়। অটিজম আক্রান্ত এবং প্রতিবন্ধীদের জীবন মান উন্নয়নের নিমিত্তে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২রা এপ্রিলকে সর্বসম্মতভাবে অটিজম সচেতনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিভার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনজন অটিজম আক্রান্তকে এবং অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করেন। প্রধানমন্ত্রী পরে অটিজম আক্রান্তদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন।

বিএনপির চার নেতাকে গ্রেপ্তার কেন বেআইনি নয় -হাইকোর্টের রুল

বিএনপি ও দলটির অঙ্গ সংগঠনের চার নেতাকে গ্রেপ্তার কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে বিরোধী দলের এই চার নেতাকে গ্রেপ্তারে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। ২৯শে  মার্চ বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদের জনস্বার্থে দায়েরকৃত একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে গতকাল বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি’র রমনা জোনের উপ-কমিশনার, গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর জোনের অতিরিক্ত কমিশনার, দক্ষিণ জোনের উপ-কমিশনার, রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনারসহ ১৪ বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রিট আবেদনটির ফাইল ল’ইয়ার ছিলেন এডভোকেট সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া। আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, আসাদুজ্জামান খান, কায়সার কামাল, এহসানুর রহমান, কামরুজ্জামান মামুন ও মীর হেলাল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। উল্লেখ্য, ২৪শে ফেব্রুয়ারি নয়াপল্টনে বিএনপি’র কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে চ্যাংদোলা করে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। ৬ই মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলার সময় প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে অস্ত্র উঁচিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও কদম ফোয়ারা থেকে ছাত্রদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন মিলনকে ধরে নিয়ে যায় সাদা পোশাকধারী পুলিশ। ৮ই মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি’র মানববন্ধন চলাকালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনে থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি এসএম মিজানুর রহমানকে টেনে-হিঁচড়ে ধরে নিয়ে যায় সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্যরা। পরে মিলনকে শাহবাগ থানার এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিনদিনের রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং ১২ই মার্চ তার মৃত্যুর খবর আসে। পুলিশ দাবি করে, এই ছাত্রদল নেতা অসুস্থ হয়ে মারা যান। তবে পরিবারের দাবি রিমান্ডে নির্যাতনের মাধ্যমে মিলনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে পুলিশ। হাইকোর্ট রুল জারির পর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, মিলনের উপর অসম্ভব অত্যাচার করা হয়, পরে তার মৃত্যু হয়েছে। আমাদের আপিল বিভাগের একটি রায় আছে কীভাবে গ্রেপ্তার করতে হবে, রিমান্ডে নেয়ার ব্যাপারে অনেকগুলো বিষয় আছে। সেখানে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি ও রিমান্ড মঞ্জুরের ক্ষেত্রে ( ডিএলআর ৬৯, এডি ৬৩-এ) বিচারকদের প্রতি কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। যেটা সকল প্রশাসনের জন্য বাধ্যতামূলক। খুবই পরিচ্ছন্ন এবং সুদূরপ্রসারী রায়। মওদুদ বলেন, বাংলাদেশে প্রতিদিনই বিরোধী নেতাকর্মীদের নির্দয়ভাবে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। সেখান থেকে আমরা এই চারজনকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া ‘সম্পূর্ণভাবে আইন ও সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পরিপন্থি’ দাবি করে রিট করেছি। আদালত রুল জারির পর আগামী ১লা আগস্ট আবেদনটির পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক ঐতিহাসিক: শ্রিংলা

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ককে ঐতিহাসিক বলে মনে করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী হর্ষবর্ধণ শ্রিংলা। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ভারতীয় সেনা ও বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধারা একসঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন, রক্ত দিয়েছিলেন। এরপরই জন্ম হয় বাংলাদেশের। তাই দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। গতকাল সকালে ভারত সরকারের অর্থায়নে রাজশাহীতে চলমান কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে এসে এমন শ্রিংলা এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রাজশাহী ভারতের প্রতিবেশি শহর। এই শহরের উন্নয়নে ভারত সরকার প্রকল্প দিয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পেরে তারা আনন্দিত। বাংলাদেশ-ভারতের এই সম্পর্ক চিরকাল অটুট থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী শহরের উন্নয়নে ভারত সরকার রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে (রাসিক) ২১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা দিয়েছে। ‘সামাজিক, সাংষ্কৃতিক, পরিবেশ ও প্রত্মতত্ত্ব অবকাঠামো উন্নয়ন সাধন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে রাজশাহী নগরীর টেকসই উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এই টাকা ব্যয় করছে রাসিক।
এর মধ্যে সংস্কার হচ্ছে পুরনো মঠ, লেক ও পুকুর, নির্মাণ হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ফুটপাত এবং গ্রন্থাগার ভবন। এসব কাজই পরিদর্শনে আসেন হর্ষ বর্ধণ শ্রিংলা। এ সময় সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা ও রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতের সহকারি হাইকমিশনার অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার সকালে হর্ষ বর্ধণ শ্রিংলা প্রথমেই নগরীর ভদ্রা এলাকায় ‘পদ্মা পারিজাত লেক’ পরিদর্শনে যান। তিন কোটি ৮১ লাখ টাকায় সংস্কার হচ্ছে লেকটি। এরপর তিনি নগরীর তালাইমারী এলাকায় ‘পদ্মা সাধারণ গ্রন্থাগার’ ভবন নির্মাণ কাজ দেখতে যান। দুই কোটি ৭৮ লাখ টাকায় নির্মিত হচ্ছে ভবনটি। পরে হর্ষ বর্ধণ শ্রিংলা নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় ফুটপাত নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন। ১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই এলাকার রাস্তার দু’পাশে নির্মিত হচ্ছে ফুটপাতটি।
এটি পরিদর্শন শেষে তিনি নগরীর টি-বাঁধে গিয়ে পদ্মাপাড়ে কিছু সময় কাটান। এ সময় তিনি সেখানে বধ্যভূমিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এরপর নগরীর সপুরা এলাকায় মঠ ও পুকুর সংস্কার কাজ দেখতে যান শ্রিংলা। সেখানেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তখন তিনি কাজের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
রাজশাহী-কোলকাতা ট্রেন চালুর বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে শ্রিংলা বলেন, রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার পরামর্শে আমরা রাজশাহী থেকে মালদা হয়ে কোলকাতা পর্যন্ত একটি মৈত্রী ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এ নিয়ে দুই দেশের রেলপথ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা গেছে। এটির প্রস্তুতি খুব ভালো। কারিগরি প্রস্তুতিগুলো গ্রহণ করা শেষ হলেই ট্রেনটি চালু হবে। দুই দেশের পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে পদ্মা সাধারণ গ্রন্থাগার ভবন নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে গিয়ে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি।
এসময় সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, রাজশাহীর সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বের একটি স্মারক তৈরি হয়েছে। ভারত যে টাকা দিয়েছে তা দিয়ে রাজশাহীকে একটি পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে রাসিক। এ জন্য পুরনো মঠ, জলাশয় সংস্কার করা হচ্ছে। ভারতের টাকায় এমন সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যেন মানুষ সহজেই সে দেশের অবদান অনুধাবন করতে পারে।

মুম্বইয়ে এসেছিলেন ৫০০ রুপি নিয়ে

দিশা পাটানি। এ সময়ে বলিউডে যাকে নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। প্রথম দিনেই বাজিমাত করেছে তার অভিনীত ‘বাঘি ২’ ছবিটি। এ বছর মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে প্রথম দিনের বক্স অফিস কালেকশন এখনো পর্যন্ত সব থেকে বেশি ‘বাঘি ২’-এর। এমনকি, ‘পদ্মাবৎ’-কেও ছাপিয়ে গিয়েছে এই ছবি। ছবিতে টাইগার শ্রফের নায়িকা দিশা পাটানি, যিনি এর আগে ধোনির বায়োপিকে আত্মপ্রকাশেই বাজিমাত করেছিলেন। এই মুহূর্তে চেনা মুখ হলেও, বলিউডে পা রাখার সময়টা বেশ কঠিন ছিল দিশার। ক্যারিয়ার গড়ার জন্য যখন মুম্বইয়ে এসেছিলেন, সঙ্গে ছিল মাত্র ৫০০ রুপি। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে এমনটাই জানিয়েছেন দিশা পাটানি। তার কথায়, আমার ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। আমি জানি না আমার ছবিগুলো কেমন হবে বা এর পরেও আমায় আর কেউ কাজ করার সুযোগ দেবেন কি না। তাই আমাকে খুব সতর্ক থাকতে হয়। আমি অভিনয় করতে ভালোবাসি। সেই কাজটাই করে যেতে চাই। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে বহুবার প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হয়েছেন বলেও জানান দিশা। এমনকি, প্রথম যে ছবিতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন, তাতেও কিছুদিন পরে তার জায়গায় অন্য নায়িকাকে নেন প্রযোজক। কিন্তু সমস্ত ঘটনা থেকেই শিক্ষা নিতে ভালোবাসেন দিশা পাটানি। নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে এ নায়িকা বলেন, মানুষ হিসেবে আমি খুব ইতিবাচক। আমি পড়াশোনা ছেড়ে মুম্বই চলে আসি। একজন কলেজছাত্রীর পক্ষে একটা অচেনা শহরে এসে মানিয়ে নেয়া মোটেই সহজ নয়। আমি নিজে রোজগার করতাম এবং একাই থাকতাম। কোনো দিনও বাড়িতে টাকা চাইনি। আমি মুম্বইতে মাত্র ৫০০ টাকা নিয়ে এসেছিলাম। একটা সময়ে আমার কাছে কোনো টাকা ছিল না। এই স্ট্রাগলিং পিরিয়ডে দিশা বহু বিজ্ঞাপনের জন্য অডিশন দিতেন বলে জানিয়েছেন। তিনি জানতেন, কোনো কাজ না পেলে বাড়ির ভাড়াও দিতে পারবেন না। আমার জীবন ছিল কাজ করো, বাড়ি ফেরো আর ঘুমোও। দিশার মুখে উঠে এসেছে এসব পুরনো দিনের কথা। ২০১৬ সালে ‘এমএস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ ছবিতে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন দিশা পাটানি। সুশান্তের সঙ্গে তার রসায়ন পছন্দ হয়েছিল দর্শকদের। তখন থেকেই তাকে বলিউডের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেত্রী হিসেবে ভাবতে শুরু করে দেন সমালোচকরা।