Thursday, June 18, 2026
কী আছে পিতা–মাতার ভরণপোষণ আইনে by মিতি সানজানা
মা–বাবার ভরণপোষণ নিশ্চিত করা এবং তাঁদের সঙ্গে সন্তানের বসবাস বাধ্যতামূলক করার বিধান রেখে সরকার এই আইন করে। মা–বাবার ভরণপোষণ আইন ২০১৩-এর ৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক সন্তানকে তাঁর মা-বাবার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে এবং একাধিক সন্তান থাকলে প্রত্যেককে আলাপ–আলোচনার ভিত্তিতে ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে।’
আইনে আরও বলা হয়েছে, কোনো সন্তান তাঁর মা–বাবাকে অথবা উভয়কে তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধাশ্রম কিংবা অন্য কোথাও একত্রে কিংবা আলাদাভাবে বাস করতে বাধ্য করতে পারবেন না। সন্তানেরা তাঁদের মা-বাবার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখবেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা করবেন।
শুধু তা–ই নয়, মা–বাবাকে নিয়মিত সঙ্গ প্রদান করার কথাও আইনে বলা আছে। কোনো সন্তানের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি সন্তানকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেন, তাহলে তাঁরাও একই অপরাধে অপরাধী হবেন। তাঁদেরও এই আইনের অধীন শাস্তির আওতায় আনা যাবে।
মা–বাবার ভরণপোষণ আইনের ৩(৭) ধারা অনুযায়ী, কোনো পিতা বা মাতা কিংবা উভয়ে, সন্তানদের সঙ্গে বসবাস না করে আলাদাভাবে বসবাস করলে, ওই পিতা বা মাতার প্রত্যেক সন্তান তার প্রতিদিনের আয়রোজগার, মাসিক আয় বা বার্ষিক আয় থেকে যুক্তিসংগত পরিমাণ অর্থ পিতা বা মাতা, বা ক্ষেত্রমতে দুজনকেই নিয়মিত প্রদান করবে।
আইন না মানলে
কোনো ব্যক্তি মা–বাবার ভরণপোষণ আইন অমান্য করলে প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বিচার করা হবে। কোনো আদালত এ আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ বাবা বা মায়ের লিখিত অভিযোগ ছাড়া আমলে নেবেন না। আইনে আপস-নিষ্পত্তির ধারাও সংযুক্ত করা হয়েছে।
পিতা–মাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩-এর ৫ (১) ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো প্রবীণ তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আনেন এবং সে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদের ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে এই আইনের ব্যবহার আমাদের দেশে এখনো খুবই কম।
যদি সন্তান বেঁচে না থাকেন
২০১৩ সালে করা ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন’–এর নির্দেশনা অনুসারে ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ বিধিমালা ২০২৩’ তৈরি করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশে বাবা-মায়ের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সন্তান যাতে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন, তাঁদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেন এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধাশ্রমে না পাঠান, তা এই বিধিমালায় কঠোরভাবে বলা হয়েছে।
কোনো সন্তান যদি কোনোভাবেই মা-বাবাকে নিজের কাছে রেখে ভরণপোষণ করতে না পারেন, তবে বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি বা বেসরকারি পরিচালিত ‘পরিচর্যাকেন্দ্রে’ রেখে তাঁদের পরিচর্যার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মা-বাবার কোনো সন্তান জীবিত না থাকলে বা ভরণপোষণের মতো কেউ না থাকলে, পিতা-মাতা ভরণপোষণ কমিটি তাঁদের পরিচর্যাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বিধিমালায় অসহায় মা–বাবার সহায়তার জন্য সরকারি অনুদান এবং দেশি-বিদেশি সহায়তায় একটি ‘ভরণপোষণ তহবিল’ গঠনের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
![]() |
| দেশে বৃদ্ধ মা–বাবার ভরণপোষণ দেওয়ায় রয়েছে একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা। ছবি: এআই/প্রথম আলো |
Saturday, March 7, 2026
ট্রাম্প চাইলেই কি খামেনিকে হত্যা করতে পারেন, আন্তর্জাতিক আইন কী বলে? by মো. আবু নাসের
ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে কেউ বিপজ্জনক, দমনমূলক বা আধুনিক সভ্যতাবিরোধী হিসেবে দেখতেই পারেন। কিন্তু একতরফা সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে শাসক পরিবর্তনের এই রীতি কি বিদ্যমান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল? বিশ্বের অধিকাংশ বিশ্বাসযোগ্য আইনি বিশ্লেষণ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই হামলা বেআইনি। কেবল ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি নয়, ইরানের ওপর যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলার অবক্ষয়কে প্রতিনিধিত্ব করে।
কোনো দেশ সচেতনভাবে ও প্রকাশ্যে অন্য একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নেতাকে হত্যা করেছে—এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল, এমনকি আইনগতভাবে বিতর্কহীন যুদ্ধের সময়ও।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই হামলার সমালোচনা করেছে। অনেকেই একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা গেছে। এই পরিস্থিতি একটি বড় প্রশ্ন সামনে আনে—যদি শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো নিজেদের সুবিধামতো আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে, তবে দুর্বল রাষ্ট্রগুলো কীভাবে নিরাপত্তা পাবে? আইনের ভিত্তিতে নির্মিত বিশ্বব্যবস্থা কি ধীরে ধীরে ভেঙে পড়বে?
আধুনিক আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি জাতিসংঘ সনদ, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বহু দেশ অনুমোদন করেছে। এই সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যেকোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার’ বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে দুটি ব্যতিক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে—
১. আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে, যখন কোনো দেশ সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে; অথবা ২. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন থাকলে।
ইরানের ক্ষেত্রে এই দুটি শর্তের কোনোটিই স্পষ্টভাবে প্রযোজ্য নয়। ইরান যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা চালায়নি। এমন কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণও সামনে আসেনি যে তাৎক্ষণিক ও আসন্ন হামলার মুখে পড়ে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া দেশ দুটির আর কোনো উপায় ছিল না। বরং হামলার কয়েক দিন আগেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে ‘আত্মরক্ষার্থে’ ইরানের ওপর এই হামলা বৈধ। আইনি দৃষ্টিভঙ্গির বিস্তারিত বিবরণ জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে বলেছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘এই অঞ্চলে মার্কিন সৈন্য ও ঘাঁটি রক্ষার জন্য সর্বাধিনায়ক হিসেবে তাঁর কর্তৃত্ব প্রয়োগ করেছেন।’ বিবৃতিতে ইরানের ‘কয়েক দশকের অপকর্মের’ কথা উল্লেখ করা হলেও, তাদের নেতাকে হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অন্য এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন যে ভবিষ্যৎ হুমকি প্রতিরোধে এই হামলা জরুরি ছিল। হামলার উদ্দেশ্য ছিল ‘ইরান থেকে আসন্ন হুমকি মুক্ত করে মার্কিন জনগণকে রক্ষা করা।’ তবে তিনি এমন কোনো ইঙ্গিত দেননি যে হামলার আগে ইরান সশস্ত্র আক্রমণ শুরু করার দ্বারপ্রান্তে ছিল।
‘প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ’ সমসাময়িক আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত না হলেও জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সশস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়ায় আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তবে আত্মরক্ষার দাবি করার জন্য একটি সশস্ত্র হামলা ঘটতে হবে।
প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইন আগাম সশস্ত্র হামলার হুমকির বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। তবে কোন পরিস্থিতিকে ‘আগাম’ হিসেবে গণ্য করা হবে, তা নির্ধারণ করা খুব জটিল। ‘আগাম’ বলতে আসলে কী বোঝায়, তা নিয়ে একাডেমিকরা বিভক্ত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ইরানের দ্বারা আগাম হুমকির কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
ইরান প্রায়শই ইসরায়েলকে ‘ধ্বংস’ করার কথা বলে। ইরানের এই আলঙ্কারিক বক্তব্যকে কি আগাম সশস্ত্র হামলার হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা যায়? যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের অধ্যাপক ভিক্টর কাট্টান মনে করেন—‘রক্ত ঝরানো ভাষা বা সহিংসতার হুমকি নিজেই কোনো রাষ্ট্রকে আগাম বলপ্রয়োগ করার অধিকার দেয় না।’
ধরা যাক, কেউ বিতর্কিতভাবে আত্মরক্ষার যুক্তি মেনে নিলেন। তবু যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন প্রযোজ্য। এর দুটি মূল নীতি হলো—পার্থক্য ও আনুপাতিকতা। অর্থাৎ যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করতে হবে। আর সামরিক লাভের তুলনায় অতিরিক্ত বেসামরিক ক্ষতি করা যাবে না।
খামেনি কি বেসামরিক ব্যক্তি ছিলেন
যুদ্ধকালীন পরিস্থতিতে একটি দেশের সামরিক কমান্ডাররা বৈধ লক্ষ্য হিসেবে গণ্য হন। সাধারণভাবে যুদ্ধের সময় বেসামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। তবু সশস্ত্র সংঘাতের আইন অনুযায়ী, একজন বেসামরিক নেতা যিনি সামরিক বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করেন, তিনি সম্ভবত একটি সক্রিয় যুদ্ধে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন।
আয়াতুল্লাহ খামেনি ইরানের সামরিক বাহিনীর পোশাকধারী সদস্য ছিলেন না এটা যেমন সত্য, তেমনি এটাও সত্য যে তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন। তাঁর এই হাইব্রিড মর্যাদা জটিলতা তৈরি করে।
আইনি বিশ্লেষকরা সাধারণত বলেন যে সশস্ত্র সংঘাত সেদিনই শুরু হয় যেদিন প্রথম আক্রমণ হয়। খামেনিকে হত্যার জন্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলার আগে সম্ভবত তিনি বৈধ সামরিক লক্ষ্য ছিলেন না। শান্তিকালীন সময়ে বিদেশি সামরিক সদস্য বা কোনো সরকারি কর্মকর্তা যিনি সরাসরি শত্রুতা চালাচ্ছেন না তাঁকে হত্যা করা যায় না।
যুদ্ধ শুরু করা কি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধ ছিল
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা রয়েছে কেবল দেশটির আইনসভা কংগ্রেসের। ক্ষমতা না থাকলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বেশ কয়েকজন প্রেসিডেন্ট মার্কিন সেনাদের একতরফাভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিয়োজিত করেছেন। ট্রাম্প ও অন্যান্য প্রেসিডেন্ট এ ক্ষেত্রে দেশটির সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেন।
কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে। এ অনুযায়ী তাঁরা যুক্তি দেন যে নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডে প্রেসিডেন্ট একপক্ষীয়ভাবে সেনাবাহিনী পরিচালনা করতে পারেন, এমনকি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই। প্রেসিডেন্টের আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে যদি কোনো অভিযানের প্রত্যাশিত প্রকৃতি, ব্যাপ্তি ও সময়কাল সাংবিধানিক অর্থে ‘যুদ্ধ’-এর চেয়ে কম হয় তবে এটি বৈধ।
তবে ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশনের পর থেকে প্রেসিডেন্টরা বড় যুদ্ধ শুরু করার আগে সাধারণত কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন চেয়েছেন। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ, ২০০১ সালে আফগানিস্তানে আল–কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া হয়। ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের সর্বসাম্প্রতিক এই যুদ্ধ প্রেসিডেন্টের একতরফা সামরিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে হচ্ছে।
হত্যা নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে কী বলা যায়
সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে শীতল যুদ্ধ চলার সময় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ অনেক বিদেশি নেতাকে হত্যা করে। ১৯৭০-এর দশকে এ নিয়ে তদন্ত হয়, যা সার্চ কমিটি তদন্ত নামে পরিচিত। ওই কমিটির প্রতিবেদনে পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে এ ধরনের হত্যা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।
এই নিষেধাজ্ঞা এখন একটি নির্বাহী আদেশের অংশ, যেখানে বলা হয়েছে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দ্বারা নিযুক্ত বা সরকারের পক্ষে কাজ করা কোনো ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডে জড়িত হতে পারবেন না বা হত্যায় জড়িত হওয়ার ষড়যন্ত্র করতে পারবেন না।’ আদেশে অবশ্য কোন ধরনের হত্যাকাণ্ডকে গণ্য করা হবে, তা সংজ্ঞায়িত করা হয়নি।
খামেনিকে কোন দেশ হত্যা করেছে তা কি গুরুত্বপূর্ণ
ইসরায়েল না যুক্তরাষ্টের হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে রাষ্ট্রের দায়বোধ নীতি অনুসারে, যদি কোনো দেশ জেনেশুনে অন্য কোনো দেশকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে সহায়তা করে, তাহলে উভয় দেশই অন্যায় কাজের জন্য দোষী বলে বিবেচিত হবে। সেই যুক্তিতে, যদি আয়াতুল্লাহকে হত্যা করা বেআইনি হয়, এবং যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানত যে ইসরায়েল খামেনিকে হত্যা করতে যাচ্ছে, তাহলে ইসরায়েলকে সহযোগিতা করে যুক্তরাষ্ট্রও আইনি দায় এড়াতে পারবে না।
ট্রাম্প প্রশাসন কি আন্তর্জাতিক আইনকে গুরুত্ব দেয়
এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি যত্নশীল নয়। কেননা জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করার জন্য মার্কিন সেনাবাহিনী যে আক্রমণ চালায় তা ছিল জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অফিস অব লিগ্যাল কাউন্সেল একটি মেমোতে বলেছে যে সেই অভিযানের সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের কোনো সম্পর্ক নেই।
এই মেমোতে পূর্বের এমন কিছু অভিজ্ঞতা উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে প্রেসিডেন্টের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে দেশের অভ্যন্তরীণ আইন অনুসারে প্রেসিডেন্ট অনেক কিছুই করতে পারেন, যা জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ইরানের প্রতিক্রিয়া কি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন
বেশির ভাগ আইনজ্ঞ মনে করেন যে আক্রমণের শিকার হওয়ার পর প্রতিশোধ হিসেবে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ করার অধিকার ইরানের রয়েছে। তবে দুবাইতে একটি হোটেল ও বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইচ্ছাকৃত আক্রমণ অবৈধ। সংঘাতের পক্ষ নয়, এমন দেশগুলোর ওপর আক্রমণও নিষিদ্ধ।
শেষ কথা
আইন কেবল কাগজে লেখা কিছু শব্দ নয়। এটি এমন একটি কাঠামো, যা শক্তিশালী পক্ষকে সীমাবদ্ধ করে ও দুর্বলদের সুরক্ষা দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা গড়ে উঠেছিল, তার লক্ষ্য ছিল অযাচিত আগ্রাসন রোধ করা। যদি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধকে স্বাভাবিক করে তোলা হয়, তবে ভবিষ্যতে যেকোনো রাষ্ট্র সম্ভাব্য হুমকির অজুহাতে আগাম হামলা চালাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলা কৌশলগতভাবে সফল বা ব্যর্থ হয়েছে কি না সেটি আলাদা বিতর্ক। কিন্তু আইনি বিচারে এই পদক্ষেপ গুরুতর প্রশ্নের সম্মুখীন।
আইনের শাসন টিকিয়ে রাখতে হলে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোকেও একই মানদণ্ডে বিচার করতে হবে। নইলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ক্রমে এমন এক বাস্তবতায় পৌঁছাবে, যেখানে নীতির চেয়ে শক্তিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে।
আইনকে উপেক্ষা করা সহজ; কিন্তু তার পরিণতি বহন করা কঠিন। আজ যদি এই নজির প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে আগামী দিনে আরও বড় সংঘাতের দ্বার উন্মুক্ত হবে। তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো আইনের প্রতি নতুন করে অঙ্গীকার, জবাবদিহি নিশ্চিত করা ও যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
* ড. মো. আবু নাসের, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, বেকার্সফিল্ডের কমিউনিকেশনস বিভাগের চেয়ারপারসন।
- মতামত লেখকের নিজস্ব
![]() |
| ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর যৌথ পরিকল্পনায় ইরানে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে। কোলাজ: প্রথম আলো |
Thursday, April 10, 2025
বদলে যাচ্ছে নির্বাচনী আচরণবিধি by মো. আল-আমিন
খসড়ার নির্বাচনী ব্যয়সীমা সংক্রান্ত বাধা-নিষেধে বলা হয়েছে, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা দলের মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী বিষয়ক সামাজিক মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন প্রদান, বুস্টিং ও স্পন্সরশিপসহ সকল ডিজিটাল প্রচারণা ব্যয় শিরোনামে সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যয়ের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন বরাবর দাখিল করতে হবে। সামাজিক মাধ্যমে সমস্ত ব্যয়সমূহ প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়সীমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। সামাজিক প্রচার অভিযানে বিদেশি অর্থায়নে বিজ্ঞাপন বা প্রচারণা কার্যক্রম চালাতে পারবে না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে প্রতি ৭ দিন অন্তর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব রিটার্নিং কর্মকর্তা/সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা-বিধি লঙ্ঘিত হলে ডিজিটাল/সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় শাস্তি প্রযোজ্য হবে।
এদিকে খসড়া আচরণ বিধিমালায় সরকারি সুবিধাভোগী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তালিকায় নতুন করে উপদেষ্টা ও তাদের সমমর্যাদার ব্যক্তিদের যুক্ত করা হয়েছে। আচরণ বিধিমালার খসড়ায় নির্বাচনের সময়কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন থেকে তফসিল পর্যন্ত সময়কে নির্বাচন-পূর্ব সময়, তফসিল ঘোষণা থেকে ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের সময়কে নির্বাচনকালীন সময় এবং ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময়কে নির্বাচন-পরবর্তী সময় উল্লেখ করা হয়েছে। খসড়ায় প্রচারে পোস্টার বাতিল করে ব্যানার শব্দ রাখা হয়েছে। ব্যানারের অর্থ বোঝানো হয়েছে কাপড়ের তৈরি প্রচারপত্র। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত ব্যানার সাদা-কালো রঙের ও আয়তন অনধিক ৩ মিটার বাই ১ মিটার হবে এবং ব্যানারে প্রার্থী তার প্রতীক ও নিজের ছবি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ছাপাতে পারবে না। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত হলে তিনি তার বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি লিফলেট বা হ্যান্ডবিলে ছাপাতে পারবে। প্রচারপত্রে পলিথিনের আবরণ বা প্লাস্টিক ব্যানার লেমিনেটিং ব্যবহার করা যাবে না। জনসভার দিন, সময় ও স্থানের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ন্যূনতম ৭২ ঘণ্টা আগে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। জনসভার কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা আগে স্থান ও সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানাতে হবে। রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ৫ জনের অধিক থাকতে পারবে না। এদিকে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য প্রার্থীর ছবি বা তার পক্ষে ক্যাপ ব্যবহার করা যাবে না।
খসড়ায় বিলবোর্ড ব্যবহার সংক্রান্ত বাধা-নিষেধ যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে কোনো প্রকারের স্থায়ী বা অস্থায়ী বিলবোর্ড ভূমি বা অন্য কোনো কাঠামো বা বৃক্ষ ইত্যাদিতে স্থাপন বা ব্যবহার করা যাবে না। ওদিকে মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে শব্দের মান ৬০ ডেসিবেল রাখার এবং বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার বিধান রাখা হয়েছে খসড়ায়। যেটা আগে ছিল রাত ৮টা পর্যন্ত।
সরকারি সুবিধাভোগীদের নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে পূর্বে সভাপতি বা সদস্য হিসেবে নির্বাচিত বা মনোনীত হয়ে থাকলে বা তৎকর্তৃক কোনো মনোনয়ন প্রদত্ত হয়ে থাকলে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে তিনি বা তৎকর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি উক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো সভায় সভাপতিত্ব বা অংশগ্রহণ করবে না অথবা উক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো কাজে জড়িত হবে না। নির্বাচনী প্রচারণার সময়কাল শুরু হওয়ার আগেই উক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে।
খসড়ায় নতুন করে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যদি কোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত রেকর্ড কিংবা লিখিত রেকর্ড হতে কমিশনের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট এই বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করেছে বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছে এবং অনুরূপ লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের চেষ্টার জন্য তিনি নির্বাচনের অযোগ্য হতে পারেন, তাহলে কমিশন বিষয়টি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে। তদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তির পর কমিশন যদি মনে করেন আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে, সেক্ষেত্রে কমিশন উক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রার্থিতা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর বিধান মোতাবেক বাতিল করতে পারবেন। খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলসমূহ এই আচরণবিধির সকল বিধান মেনে চলবে মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে প্রতীক বরাদ্দের পূর্বে দাখিল করবে।
গত সোমবার এ সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, খসড়াটি প্রায় চূড়ান্ত। এখন নির্বাচন কমিশনে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া নেয়া হবে। ইসি অনুমোদন দিলে ফাইনালি পাবলিশড হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের অধিকাংশ সুপারিশ প্রস্তাবিত আচরণবিধিতে যুক্ত করা হয়েছে। সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনাগুলো আছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও গণমাধ্যমে আসা অন্যান্য বিষয়গুলো ইনকরপোরেট করার উদ্যোগ নিয়েছি। একটা চমৎকার আচরণবিধিমালা হবে-এটা প্রত্যাশা।

Tuesday, September 11, 2018
পাওয়ার-অব-এটর্নি কি?

পাওয়ার–অব–এটর্নি প্রধাণত দুই প্রকা্রঃ
১। প্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার–অব–এটর্নি; এবং
২। অ–প্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার–অব–এটর্ণি
অ–প্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার–অব–এটর্ণিঃ
স্থাবর সম্পতি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে, বিক্রয় চুক্তি সম্পাদনের বা loan নেওয়ার বিপরীতে স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক প্রদানের জন্য প্রদত্ত পাওয়ার–অব–এটর্ণিকে উদ্দেশ্যে অ–প্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার–অব–এটর্ণি বলে। এরুপ পাওয়ার আব এটর্ণি–তে পাওয়ার গ্রহীতার মূল মালিকের ন্যায় প্রায় এক ই ক্ষমতা থাকে। অ–প্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার–অব–এটর্ণি‘র ক্ষেত্রে পাওয়ার গ্রহীতার মৃত্যু হলে বা আইনগতভাবে দলিল সম্পাদনে অক্ষম হলে উক্ত মৃত বা অক্ষম পাওয়ার গ্রহীতার বৈধ ওয়ারিশ বা স্থলবর্তীর উপর দলিল থেকে সৃস্ট দায় বা অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্পিত হবে।
উল্লেখ্য, অ–প্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার আব এটর্ণি‘র ক্ষেত্রে উক্ত দলিল অবশ্য–ই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে এবং এ ব্যাপারে রেজিস্ট্রেশন আইনের ৫২ ক ধারার বিধাণাবলী প্রযোজ্য হবে।
পাওয়ার অব এটর্ণির অবসানঃ
কিছু কিছু পরিস্থিতিতে সম্পাদিত পাওয়ার অব এটর্ণির অবসান ঘটতে পারে–
১। যদি কোন বিশেষ purpose-এ পাওয়ার অব এটর্ণি সম্পাদন করা হয়, তা–হলে সে উদ্দেশ্য হাসিল বা অর্জিত হলে;
২। যদি কোন নিদৃষ্ট মেয়াদের জন্য পাওয়ার অব এটর্ণি সম্পাদন করা হয়, তা–হলে উক্ত মেয়াদ অবসানে;
৩। যদি কোন বিশেষ বিষয়বস্তুর উপর পাওয়ার অব এটর্ণি সৃষ্টি ক্রা হয় তা হলে উক্ত বিষয়বস্তুর ধ্বংস বা বিনাশের মাধ্যমে;
৪। অ–প্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব এটর্ণি ব্যাতীত অন্যান্যপাওয়ার অব এটর্ণি‘র ক্ষেত্রে পাওয়ার দাতা দেওলিয়া বা অপ্রকৃতিস্থ হলে বা মৃত্যুবরণ করলে বা পাওয়ার দাতার legal entity হারালে পাওয়ার অব এটর্ণির অবসান ঘটবে।
Friday, May 11, 2018
শ্রম ও ইপিজেড আইনে ব্যাপক সংস্কার হচ্ছে -কূটনৈতিক ব্রিফিং

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- শ্রমের আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড (মান)-এর সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমমানের মূল্যায়ণে প্রতিবছর জুনে জেনেভায় একটি বৈশ্বিক পর্যালোচনা সভা হয়। সেখানে বিভিন্ন দেশের সরকারি, বেসরকারি প্রতিনিধি ছাড়াও মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের স্বাধীনভাবে মতামত দেয়ার সুযোগ থাকে। সেখানে শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা একটি দেশের শ্রম পরিস্থিতি অভাব-অভিযোগ, পরামর্শ এবং প্রশ্ন তুলতে পারেন। আসন্ন বাৎসরিক আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনকে সামনে রেখে সরকার দেশের সার্বিক শ্রমমানের উন্নয়নে যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিশ্ব সমপ্রদায়ের প্রতিনিধিদের কাছে তা তুলে ধরতেই এ কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ের আয়োজন।
পড়ন্ত বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনক্লজ সভাকক্ষের ওই ব্রিফিং ফ্রান্সের ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী, আইএলও’র আফিসার ইনচার্জ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, বৃটেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, নেদারল্যান্ডস, জাপান এবং নরওয়ের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে সরকারের তরফে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক সচিব মোহাম্মদ শহীদুল হক এবং পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক যৌথভাবে পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। সোয়া দুই ঘণ্টার ক্লোজডোর ওই সেশন শেষে লেজিসলেটিভ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শহীদুল হক বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। জানান, শ্রম ও ইপিজেড আইনে মোটা দাগে কয়েকটি সংশোধনী ও সংস্কার আনছে সরকার। এ নিয়ে বহুদিন ধরে উন্নয়ন সহযোগী বিদেশিদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ ছিল। শ্রম আইনে যে সংশোধনী বা সংস্কার আনার বিষয়ে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা হলো- এখন থেকে যে কারখানাগুলোতে ২০ শতাংশ শ্রমিকের মতামত নিয়েই ট্রেড ইউনিয়ন করা যাবে। বর্তমান আইনে ট্রেড ইউনিয়ন অনুমোদনের পূর্ব শর্ত হিসাবে ৩০ শতাংশ শ্রমিকের মতামত গ্রহণ এবং তার সপক্ষে ডকুমেন্ট প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এটি ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার সুপারিশ ছিল বিদেশিদের। এ বিষয়ে লেজিসলেটিভ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন- আমরা আমাদের বিদেশি বন্ধুদের সুপারিশ আমলে নিয়েছি। তবে একসঙ্গে ৩০ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা কঠিন। সরকার মাঝামাঝি অবস্থান নিয়েছে। এটি ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন আইনে সংশোধনী আনতে হবে। আমরা তাদের জানিয়েছি যত দ্রুত সম্ভব এই সংশোধনী আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
দ্বিতীয়ত: এক্সপোর্ট প্রোসেসিং জোন বা বিশেষায়িত রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার কারখানাগুলোতেও শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে বার্গেনিং এজেন্ট বা ট্রেড ইউনিয়ন থাকার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানেও সাধারণ কারখানাগুলোর মতো ২০ শতাংশ শ্রমিকের মতামত নিয়ে এটি করা যাবে। এ জন্য ইপিজেড আইনেও সংশোধনী আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সচিব বলেন- এতদিন ইপিজেডের বাইরের কারখানাগুলোর রুটিন বা নিয়মতান্ত্রিক পরিদর্শনের সুযোগ ছিল। ইপিজেড আইনের প্রস্তাবিত সংস্কার বা সংশোধনীর ফলে এখন সেখানকার কারখানাগুলোতে দেশি-বিদেশি পরিদর্শক সংস্থার পরিদর্শনের সুযোগ উন্মুক্ত হবে।
শ্রম আইনের অধিকতর সংশোধনী চাইলেন কূটনীতিকরা:
এদিকে রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছেÑ বিফিংয়ে উপস্থিত কূটনীতিকরা বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকার ও মালিক সংগঠনগুলোর নেয়া পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা এ সকল বিষয়ে বিশেষত আইএলও কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ শ্রম আইনের অধিকতর সংশোধন, ইপিজেডগুলোতে শ্রমিক সংগঠন করার শর্তসমূহ শিথিল করাসহ বেশকিছু পদক্ষেপের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা ও তাদের কল্যাণে বাংলাদেশের সকল পদক্ষেপে তারা সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও পুনর্ব্যক্ত করেন। আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিষয়ক সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খানসহ এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন ও বেপজার প্রতিনিধি, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে বাংলাদেশে শ্রম অধিকার, শ্রমিক কল্যাণ এবং কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে কূটনীতিকদের বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে। সভায় বাংলাদেশ শ্রম আইন ও শ্রম বিধিতে শ্রমিক সংগঠন গঠনের জন্য নিম্নসীমা বর্তমানের ৩০ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ইপিজেড শ্রম আইনের অধীন শ্রমিক সংগঠন ও স্থাপনা পরিদর্শনের দায়িত্ব কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরকে ন্যস্ত করার বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করা হয়। সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বেপজা ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। শ্রমিক নেতৃবৃন্দের পক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব মো. তৌহিদুর রহমান বক্তব্য রাখেন।
Wednesday, April 11, 2018
সশস্ত্রবাহিনী যুক্ত হচ্ছে না আরপিওতে: চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন কাল by সিরাজুস সালেকিন |

এ বিষয়ে আইন সংস্কার কমিটির প্রধান ও নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। কারণ, নবম সংসদ নির্বাচনের পর আরপিও সংশোধনীর সময় এটি বাদ দেয়া হয়েছিল। নির্বাচনের সময় চাইলে আমরা অন্য আইনে সেনা মোতায়েন করতে পারব।
তিনি বলেন, দুটি বিষয় ছাড়া আরপিও সংশোধনের খসড়া মোটামুটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিষয় দুটি হচ্ছে, আগাম ভোটিং ও নির্বাচনী তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা। এ দুটি বিষয়ে নতুন কিছু করা যায় কি না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। ইসি সূত্র জানায়, খসড়া তালিকায় ২০টি আইন সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর মধ্যে ৭ (৫) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো জেলায় দুজন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা যেতে পারে। ৭ (৬) ধারায় বলা হয়, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিতে প্রত্যাহারের পাশাপাশি বদলি করা যাবে। ৮(২) ধারায় বলা হয়েছে, ২৫ দিন আগের স্থলে ভোটের ১৫ দিন আগে কেন্দ্রের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে। ৯(১) ধারায় বলা হয়, তিন দিন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল উন্মুক্ত রাখতে হবে। ১২(১) (সি) ধারায় বলা হয়, ঋণখেলাপিদের জটিলতা কমাতে মনোনয়ন দাখিলের সাত দিন আগের পরিবর্তে দাখিলের আগের দিন তা পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হবে। ১২(৩) ধারায় বলা হয়, অনলাইনে মনোনয়ন দাখিলের বিধান যুক্ত করা। ১২(৩এ) (এ) ধারায় বলা হয়, স্বতন্ত্র প্রার্থিতার সুবিধার্থে নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের ১%-এর পরিবর্তে এক হাজার ভোটার সমর্থন তালিকা জমার বিধান করতে হবে। ১২(৩এ)(সি) ধারায় বলা হয়, প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ১২ ডিজিটের টিআইএন সন দাখিল বাধ্যতামূলক করতে হবে। ১৩ (১)(এ) ধারায় বলা হয়, জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা যেতে পারে। ১৬(১) ও ১৯(১) ধারায় বলা হয়, বিদ্যমান বিধানকে সহজ করতে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর একক প্রার্থী হলে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা, সহজীকরণ করতে হবে। ২০ (এ) আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ইভিএম ব্যবহারের জন্য নতুন বিধান সংশোধন করতে হবে। ২২(১) ধারায় বলা হয়, প্রার্থীদের সুবিধার্থে নির্ধারিত ফরমে পোলিং এজেন্ট নিয়োগে সংশোধনী আনতে হবে। ২২(৩) ধারায় বলা হয়, পোলিং এজেন্টকে প্রার্থীর প্রতীক সংবলিত কার্ড না দিয়ে ইসির পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। ৩১(১) ধারায় বলা হয়, ইভিএমে ভোট নিতে হলে এ অনুচ্ছেদেও সংশোধন আনতে হবে। ৩৯ (১) ও ৩৯ (২) ধারায় বলা হয়, এতে আরও দুটি অনুচ্ছেদে সংশোধনী আনতে হবে। ৪৪বি (৬) ধারায় বলা হয়, নির্বাচনী ব্যয় সীমাবদ্ধ রাখা ও অবৈধ প্রভাব রোধে মনিটরিং কমিটি গঠন করতে হবে। ৪৪সি (৫) ধারায় বলা হয়, সময়ের বাস্তবতায় নির্বাচনী ব্যয় যথাসময়ে দিতে ব্যর্থ হলে ১০ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান করা। ৪৪ই (২) ধারায় বলা হয়, সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যর্থ হলে সরাসরি বদলি করার বিধান করে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিতে সংশোধন করতে হবে। ৯১সি (৮) ধারায় বলা হয়, ভোটে কর্মকর্তাদের অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব, দল বা প্রার্থীর অনিয়ম, আচরণবিধি লঙ্ঘনে খোঁজ নিয়ে তৃতীয় চোখ নিয়োগ করা যেতে পারে। ৯১(এ) এ ধারায় বলা হয়, নির্বাচনী অভিযোগ দাখিল ও নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে বিভিন্ন দেশে।
অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপনের বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে খসড়া তলিকায়। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে আইন সংস্কারের জন্য চার শতাধিক সুপারিশ আসলেও ইসি পোলিং এজেন্টরে বিধানসহ আইন সংস্কারের ২০টি সুপারিশ আমলে নিচ্ছে ইসি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী অন্তর্ভুক্ত করাসহ রাজনৈতিক দলের বড় বড় সুপারিশ বা এটা দিয়ে খসড়া প্রকাশ করতে যাচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। ইসির সচিব হেললুদ্দীন আহমদ বলেন, কমিশন বৈঠকে খসড়ার জন্য ২০টি সুপারিশ বাছাই করা হয়েছে। কিছু সুপারিশের বিষয়ে কমিশন একমত না হওয়ায় ১২ই এপ্রিল আবার বৈঠক বসবে। সেদিন সব ঠিক থাকলে আইনের খসড়া প্রকাশ করবে ইসি।
Monday, December 25, 2017
বড় দিনে রাজধানীতে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা বলয় : আছাদুজ্জামান মিয়া

Monday, November 30, 2015
অনলাইন পত্রিকার নিবন্ধন: পাঠকের ওপর ছেড়ে দিন by শরিফুজ্জামান
এগুলোর পাশাপাশি সরকার ছাপা পত্রিকার অনলাইন সংস্করণেরও নিবন্ধন চায়। এ নিয়ে এক নতুন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন পত্রিকার প্রকাশকেরা। তাঁরা সরকারের সব ধরনের নিয়ম মেনেই পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি পেয়েছেন। এসব পত্রিকা নিয়মকানুনের মধ্যে চলছে কি না, তথ্য মন্ত্রণালয় মাঝেমধ্যে তা দেখভাল করে।
এখন সরকারের যুক্তি হচ্ছে, যেহেতু অনলাইন পত্রিকার নিবন্ধন করতে হবে, সেহেতু ছাপা পত্রিকাগুলোকেও তাদের অনলাইন সংস্করণের নিবন্ধন নিতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয় ও তথ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার কাছ থেকে এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা বোঝার চেষ্টা করেছি। তাঁদের অনেকেই মনে করেন, এর আদৌ প্রয়োজন নেই। তবে যেহেতু ‘ওপরের’ নির্দেশ, তাই অপ্রয়োজন মনে করলেও তাঁরা এটা বাস্তবায়ন করতে চান।
প্রতিবেশী দেশ ভারতে ছাপা পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকা, টিভি ও রেডিওর জন্য অভিন্ন সম্প্রচার নীতিমালা রয়েছে। পাকিস্তানে ছাপা পত্রিকা ও অনলাইন পত্রিকার জন্য একটি এবং রেডিও-টিভির জন্য আরেকটি নীতিমালা রয়েছে। আর আমাদের দেশে রেডিও, টিভি ও পত্রিকার জন্য যতগুলো আইন ও নীতি আছে, সেগুলো একত্র করলে এক ডজনের বেশি হবে। অনেক আওয়াজ দিয়ে একটি সম্প্রচার নীতিমালা তৈরি এবং তার আলোকে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া চললেও বিতর্কের মুখে পড়ে এটি এখন কচ্ছপের গতিতে হাঁটছে।
অনলাইন নীতিমালা করার উদ্যোগটি ২০১১ সালের। ২০১২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনা (খসড়া) নীতিমালা ঘোষণা করা হয়। এরপর ফেসবুক, বিভিন্ন ব্লগ ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে এর কঠোর সমালোচনা হয়। পাশাপাশি শুরু হয় গোলটেবিল বৈঠক, মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষরের মতো নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন। প্রাথমিক সেই খসড়া ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর বাতিল করে ১৩ সদস্যের একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি অনলাইন নীতিমালার খসড়া ২০১৫ সালের ৬ আগস্ট তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। সেই খসড়া নিয়ে আলাপ-আলোচনা ও মতবিনিময় শেষে নীতিমালাটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু তথ্য অধিদপ্তর গত ৯ নভেম্বর অনেকটা আকস্মিকভাবে সংবাদমাধ্যমে তথ্যবিবরণী পাঠিয়ে অনলাইন পত্রিকার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেয়।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশে এই নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর ঘোষণাকে স্ববিরোধী ও উদ্দেশ্যমূলক বলে মন্তব্য করেছে সংবাদপত্রের প্রকাশক ও মালিকদের সংগঠন নোয়াব। প্রস্তাবিত নীতিমালায় কমিশন গঠন করলেও তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওপরই ওই কমিশনকে নির্ভর করতে হতো। কারণ, ওই কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষমতা না থাকায় ওটা এমনিতেই দুর্বল থাকত। এখন সেই কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া থেকেও মন্ত্রণালয় সরে গেল।
এর ফলে কী হতে পারে, সেই আভাস দিয়ে নোয়াব জানিয়েছে, সরকার অনলাইন গণমাধ্যমের নিবন্ধন বা পরিচালনার বিষয়গুলো নিজ এখতিয়ারে রাখলে এ ধরনের সংবাদমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ কঠোর হবে, যা মুক্ত সাংবাদিকতার অন্তরায় হয়ে উঠতে পারে। তা ছাড়া এই নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে দলীয় পরিচয় দেখা, হয়রানি বা আর্থিক লেনদেনের মতো স্পর্শকাতর অভিযোগ ওঠাও দেশে আর্থসামাজিক বাস্তবতায় অসম্ভব ব্যাপার নয় বলে মত দিয়েছেন তাঁরা।
প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এ দেশেও ছাপা পত্রিকাগুলোর অনলাইন সংস্করণ রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে দেশের পাঠকই শুধু নয়, প্রবাসী বাংলাভাষীরাও দেশের তাৎক্ষণিক খবরাখবর জানতে পারছেন। প্রচলিত সব নিয়মকানুন মেনে যাঁরা ছাপা পত্রিকা প্রকাশ করছেন, তাঁদের অনলাইন সংস্করণের জন্য আলাদা নিবন্ধন কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়। দেশের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলগুলোরও অনলাইন সংস্করণ রয়েছে। বিবিসি বাংলাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোরও অনলাইন সংস্করণ আছে। কয়েকটি ইন্টারনেট টেলিভিশন চালু হয়েছে, যেগুলোর সংখ্যা তথ্য মন্ত্রণালয়ও জানে না। এমনকি বিভিন্ন জেলা ও থানা সমিতির ওয়েবসাইট আছে, ব্যাংক-বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও ওয়েবসাইটে খবরাখবর প্রকাশ করে। প্রশ্ন উঠেছে, এসব অনলাইন গণমাধ্যমের নিবন্ধন করতে হবে কি না।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, কেউ দেশের বাইরে ওয়েবসাইট খুলে সেখানে নিউজ আপলোড করলে তা সরকার ঠেকাতে পারবে কি না। এমন অনেক ওয়েবসাইটও আছে, যেগুলো বিদেশ থেকে পরিচালিত হয়।
অনলাইন পত্রিকা নিবন্ধনের হলফনামায় কমপক্ষে ১০ ধরনের তথ্য দিতে হবে, যেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যেমন চাওয়া হয়েছে; তেমনি চাওয়া হয়েছে চারিত্রিক সনদ, পেশাসম্পর্কিত সনদ, অভিজ্ঞতার সনদ, আর্থিক সচ্ছলতার সনদ, টিআইএন সনদ ইত্যাদি। ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাবসহ টুকিটাকি আরও অনেক বিষয় থাকবে নিবন্ধন ফরম পূরণের ক্ষেত্রে। নতুন নিবন্ধন যাঁরা নেবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এগুলো প্রযোজ্য ধরা হলেও যাঁরা পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি নিয়েছেন, তাঁরা এগুলো ছাড়াও গোয়েন্দা ছাড়পত্র পেয়েছেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিও তাঁদের নিতে হয়েছে। ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইনে (ঘোষণা ও নিবন্ধীকরণ) ৪১টি ধারা ও কয়েক শ উপধারায় পত্রিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে অনেক কঠিন বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা সত্ত্বেও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ৪২ বছর ধরে এই শিল্প চলছে। কেবল ১৯৯১ সালে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ওই আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশোধনী আনা হয়, যার ফলে সরকার যখন-তখন পত্রিকার প্রকাশনা বাতিল করতে পারে না।
ছাপা পত্রিকার সঙ্গে একই প্রকাশক ও মালিক অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করছেন বিধায় তাঁকে আবার নিবন্ধন করতে বলা রীতিমতো হয়রানি। ছাপা পত্রিকার জন্য কঠিন যেসব নিয়মনীতি অনুসরণ করতে হয়, তারপর অনলাইনের জন্য আবারও নতুন শর্ত আরোপ করা কার্যত একধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা ছাড়া অন্যকিছু নয়। এমনকি, ছাপা পত্রিকাগুলোর অনলাইন চালুর বিষয়টি যদি কেবল অবগতির জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে জানানোর কথা বলা হয়, সেটিও পত্রিকাগুলোর ওপর বাড়তি ঝামেলা চাপিয়ে দেবে। এটা না জানালে যে সরকারের ক্ষতি হয়ে যাবে, বিষয়টি এমনও নয়।
গত কয়েক মাসে অনলাইন পত্রিকা বিষয়ে সরকারের প্রথম সমালোচনার বিষয় ছিল এগুলোর সংখ্যা নিয়ে, দ্বিতীয় সমালোচনা এ ধরনের পত্রিকার অপসাংবাদিকতা নিয়ে। কিন্তু সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগের কারণ দেখি না। ২৫ নভেম্বর জাতীয় সংসদে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, দেশে দৈনিক, সাপ্তাহিকসহ বিভিন্ন পত্রিকার সংখ্যা ২ হাজার ৮১০টি। এ ছাড়া দেশে টেলিভিশন, বেতার, এফএম রেডিও ও কমিউনিটি রেডিওর সংখ্যা প্রায় ১৫০। ১৬ কোটি মানুষের দেশে এবং যে দেশের অর্ধেক মানুষ শিক্ষিত, সেখানে এতো গণমাধ্যমের প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক উঠেছে জোরেশোরে। ফকিরাপুলে একই ঠিকানায় একাধিক পত্রিকার কার্যালয় যেমন আছে, তেমনি একই ছাপাখানায় অনেকগুলো পত্রিকাও ছাপা হচ্ছে। দেয়ালপত্রিকা নামে পরিচিত এসব ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ পত্রিকা যদি টিকে থাকতে ও সরকারের সুবিধা পেতে পারে, তাহলে অনলাইন পত্রিকাগুলোর সংখ্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ দেখি না।
সরকার নিবন্ধন করার যুক্তি হিসেবে যেচে অনলাইন পত্রিকাগুলোকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেটিও রক্ষার সক্ষমতা ও বাস্তবতা কতটা রয়েছে, তা প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ সুযোগ-সুবিধার সুষম বণ্টন যেমন নেই, তেমনি সরকারি বিজ্ঞাপনের বাজারও ছোট। এর মধ্যে কয়েক হাজার অনলাইন পত্রিকাকে নিবন্ধন দিয়ে তাদের কী ধরনের সুবিধা এবং কতটুকু দেওয়া যাবে, সেটি সহজেই আন্দাজ করা যায়।
আবার অনলাইন পত্রিকায় অপসাংবাদিকতা যে হচ্ছে না, এমনটি নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারের নিবন্ধিত বা অনুমতি পাওয়া গণমাধ্যমগুলো কি হলুদ সাংবাদিকতা করছে না? তবে কেউ এটা করলেও তার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান প্রচলিত আইনে রয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন অনলাইন পত্রিকাগুলোর জন্য একধরনের হুমকি বলেও সমালোচনা রয়েছে।
২৭ নভেম্বর সংসদে অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো অনলাইন পত্রিকা অপসাংবাদিকতা করলে অথবা সাইবার অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকলে ‘তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (সংশোধন) আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। মন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকেও স্পষ্ট যে অপসাংবাদিকতা রোধ করার শক্ত আইন আছে।
নোয়াব ২৩ নভেম্বরের বিবৃতিতে বলেছে, অনলাইন পত্রিকা প্রকাশ করলেও কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যদি কেউ নিয়ম লঙ্ঘন করে থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সব রকম সুযোগ রয়েছে।
পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক যা-ই থাকুক না কেন, অনলাইন পত্রিকাগুলো গণমাধ্যমের কুটির শিল্প হিসেবে কাজ করছে। এ ধরনের পত্রিকাগুলো যে স্বাধীন মত প্রকাশে কাজ করে যাচ্ছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আর দেশে অসংখ্য অনলাইন পত্রিকা থাকায় রাষ্ট্র, সরকার বা জনগণের ক্ষতি হয়েছে, এমন দৃষ্টান্ত এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।
ছাপা পত্রিকার জগৎ দুনিয়াজুড়ে একদিকে ছোট হয়ে আসছে, অন্যদিকে এ ধরনের পত্রিকায় প্রতি কপিতে আয়ের চেয়ে ব্যয় হয় কয়েক গুণ। সে ক্ষেত্রে পত্রিকাগুলোর টিকে থাকার অন্যতম উপায় বেসরকারি বিজ্ঞাপন। আর বেসরকারি বিজ্ঞাপনদাতা ওই প্রতিষ্ঠানকেই বিজ্ঞাপন দেবে, যার পাঠকপ্রিয়তা আছে। তাই চূড়ান্ত বিচারে পাঠক ও বিজ্ঞাপনদাতাদের ওপর যেকোনো পত্রিকার অস্তিত্ব নির্ভর করবে এবং সেই বিচারের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।
তথ্য মন্ত্রণালয় অনলাইন পত্রিকার বিষয়গুলো এতটাই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে, যাতে মনে হয়, এটা বড় কোনো জাতীয় সমস্যা। যে প্রশ্ন চেপে রাখতে পারি না, তা হলো মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত তিনটি সংবাদমাধ্যমের অবস্থার কোনো গুণগত পরিবর্তন কি এসেছে? বরং বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা একটু একটু করে ক্ষয়ে যাচ্ছে। এগুলোর আয় কমছে, মানও পড়ছে। এটা প্রমাণের জন্য কোনো গবেষণার প্রয়োজন নেই। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ওই সব প্রতিষ্ঠানের মান ও আয় যেখানে ধরে রাখা যাচ্ছে না, সেখানে ব্যক্তি উদ্যোগের খুদে এসব অনলাইন প্রতিষ্ঠানের ওপর অহেতুক নজরদারির প্রয়োজন আছে কি?
শেষে একটি কথাই বলব, আইন মেনে যার যা ইচ্ছা করার সুযোগ দেওয়া হোক। নিবন্ধন, নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণ—কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই। পাঠকই বিচার করবে কোনটি টিকে থাকবে বা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে।
শরিফুজ্জামান: সাংবাদিক।
pintu.dhaka@gmail.com
Thursday, November 5, 2015
পৌর নির্বাচনের আচরণবিধি চূড়ান্ত: মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা প্রচারে নামতে পারবেন
দলীয় পরিচয় ও প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইন হওয়ার পর পৌরসভা নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত করা আচরণবিধিতে এই সুযোগ রাখা হয়েছে। আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী বা তাঁদের সমমর্যাদার কোনো ব্যক্তি, হুইপ, সিটি করপোরেশনের মেয়র ও সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করবেন না।
গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সভায় এই আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞ ও ইসি সচিবালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করবে। নতুন আচরণবিধি ও নির্বাচন পরিচালনাবিধি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আজ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে বলে ইসি সচিবালয়ের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান।
বিদ্যমান আচরণবিধি অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, হুইপ, সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী বা তাঁদের সমমর্যাদার সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা পৌর নির্বাচনের প্রচারে অংশ নিতে পারেন না।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, সংসদ নির্বাচনের অনুকরণে এই আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হয়েছে। যেহেতু নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে, সে জন্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বা তাঁদের সমমর্যাদার সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের জন্য প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে সংসদ নির্বাচনে সরকারি সুবিধা না নিয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও উপনির্বাচনে সেই সুযোগ নেই।
জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইসি যে যুক্তিতে এ ধরনের আচরণবিধি করতে যাচ্ছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, জাতীয় নির্বাচন (সংসদ) আর স্থানীয় নির্বাচন (পৌরসভা) এক বিষয় নয়। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা এই নির্বাচনের প্রচারে নামলে নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগের ক্ষেত্র নষ্ট হবে। সরকারি সুবিধা না নিলেও তাঁদের উপস্থিতি নির্বাচনকেপ্রভাবিত করবে। তাঁরা যে সরকারি সুবিধা নেবেন না, বা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করবেন না, সে নিশ্চয়তা কে দেবে? এই নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না বলেই জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বা তাঁদের সমমর্যাদার ব্যক্তিদের প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর যোগ্যতা: প্রস্তাবিত নতুন নির্বাচন পরিচালনাবিধিতে বলা হয়েছে, ৫০ হাজারের বেশি ভোটারের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীকে ২০০ ভোটারের সমর্থনসূচক সই সংগ্রহ করে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। ৫০ হাজারের কম ভোটারের এলাকার জন্য ১০০ ভোটারের সই লাগবে। আর সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরদের প্রার্থী হতে ৩০ জন ভোটারের সমর্থনসূচক সই লাগবে।
বিধিতে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক পাবেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীদের জন্য ১২টি প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে। এগুলো হলো: ইস্ত্রি, কম্পিউটার, ক্যারম বোর্ড, চামচ, জগ, টাই, নারকেলগাছ, বড়শি, মোবাইল ফোন, রেল ইঞ্জিন, হ্যাঙ্গার ও হেলমেট।
সংরক্ষিত আসনের স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতীক হলো আঙুর, কাঁচি, গ্যাসের চুলা, চকলেট, চুড়ি, পুতুল, ফ্রক, ভ্যানিটি ব্যাগ, মৌমাছি ও হারমোনিয়াম। সাধারণ কাউন্সিলরদের প্রতীক হলো উটপাখি, গাজর, টিউবলাইট, টেবিল ল্যাম্প, ডালিম, ঢ্যাঁড়স, পাঞ্জাবি, পানির বোতল, ফাইল কেবিনেট, সেতু, ব্ল্যাকবোর্ড ও স্ক্রু ড্রাইভার।
Wednesday, July 8, 2015
স্বস্তির সময়ে ‘বিশেষ আইন’ কেন? by এ কে এম জাকারিয়া
২০০৯-১০ সালে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কী ছিল, সেটা আমাদের ভুলে যাওয়ার কথা নয়। যেভাবেই হোক, বিদ্যুৎ উৎপাদনের এমন একটি অবস্থান থেকে সরকার ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) বিল, ২০১০’ সংসদে উত্থাপন করে। লক্ষ্য হচ্ছে, ‘কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গৃহস্থালি কাজের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে উহাদের উৎপাদন বৃদ্ধি, সঞ্চালন, পরিবহন ও বিপণনের নিমিত্ত দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে এবং প্রয়োজনে বিদেশ হইতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি আমদানি করিবার পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি-সম্পর্কিত খনিজ পদার্থের দ্রুত আহরণ ও ব্যবহারের নিমিত্ত অনুসরণীয় বিশেষ বিধান’ প্রণয়ন। সংসদে তা পাস হয়। তখন আইনটি হয়েছিল দুই বছরের জন্য।
যেকোনো ‘দ্রুত’ ও ‘বিশেষ’ আইনের নানা বিপদ থাকে। এ ধরনের আইনে দায়মুক্তির যে বিষয় থাকে, তা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির নীতির সঙ্গে মেলে না। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ভাগ-বাঁটোয়ারার আশঙ্কা থাকে জোরালো। বিদ্যুৎ খাতের এই বিশেষ আইনে ‘সরকার ও সরকারি মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন সব প্রতিষ্ঠান, এই আইনের অধীন বিদ্যুৎ বা জ্বালানির দ্রুত উৎপাদন বৃদ্ধি, সঞ্চালন, পরিবহন ও বিপণন-সংক্রান্ত যেকোনো পরিকল্পনা গ্রহণ বা বিদেশ হইতে বিদ্যুৎ বা জ্বালানি আমদানি ও উহার সঞ্চালন, পরিবহন ও বিপণন-সংক্রান্ত যেকোনো পরিকল্পনা গ্রহণ ও উহার দ্রুত বাস্তবায়নের নিমিত্ত যেকোনো প্রস্তাব গ্রহণ’ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বলা আছে, ‘এই আইনের অধীনে কৃত বা কৃত বলিয়া বিবেচিত কোনো কার্য, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা, প্রদত্ত কোনো আদেশ বা নির্দেশের বৈধতা সম্পর্কে কোনো আদালতের নিকট প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।’ বা সবকিছুকেই ‘সরল বিশ্বাসে কৃত’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ‘এই আইন বা তদাধীন প্রণীত বিধি, সাধারণ বা বিশেষ আদেশের অধীন দায়িত্ব পালনকালে সরল বিশ্বাসে কৃত বা কৃত বলিয়া বিবেচিত কোনো কার্যের জন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা অন্য কোনো প্রকার আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।’
এ ধরনের বিধানসহ ২০১০ সালে বিলটি যখন সংসদে ওঠে, তখন আইনজীবী শাহদীন মালিক এ ধরনের বিধানকে সামরিক আইনের বিধিবিধানের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে আমাদের সংসদ সামরিক আইনের মডেলে আইন প্রণয়ন করছে।’ (দ্য ডেইলি স্টার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১০)। দুই বছরের জন্য পাস হওয়া সেই আইন প্রথম দফায় আরও দুই বছর বেড়েছে, দ্বিতীয় দফায় বেড়েছে আরও চার বছর। শুরুতে এই আইনের আওতায় ছোট ছোট ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হয়েছে। আর এখন চার হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের সমঝোতা স্মারক সই হচ্ছে!
‘বিশেষ’ আইন করা হয় বিশেষ পরিস্থিতিতে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এই আইন যখন করতে হয়েছিল, তখন আসলেই ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ বিরাজ করছিল। কমবেশি সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সর্বোচ্চ উৎপাদনক্ষমতা ছিল তিন হাজার ২০০ মেগাওয়াট। রাজধানী ঢাকায় তখন ১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের রেকর্ড আছে। এমন পরিস্থিতিতে এই বিশেষ আইনের লক্ষ্য ছিল দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন। সমালোচনা থাকলেও এই আইন কাজে দিয়েছে। সরকারের পক্ষে দ্রুত অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে। সেই দুঃসহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেছে।
আগেই বলেছি, ‘দ্রুত’ ও ‘বিশেষ’ আইনের কিছু বিপদ থাকে। দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলেও বিশেষ আইনের সুযোগ নিয়ে অনেক অযোগ্য উদ্যোক্তা বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ পেয়েছেন। নিয়ম মেনে ও নির্দিষ্ট সময়ে তাঁরা বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারেননি। ফলে ‘দ্রুত’ উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্যও সব ক্ষেত্রে পূরণ হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব ‘বিপদ’ মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। এসবের বিনিময়ে আমরা লোডশেডিং থেকে মুক্তি পেয়েছি। এই যে স্বস্তির পরিস্থিতি, এর কৃতিত্ব নিশ্চয়ই সরকারের। কিন্তু অবস্থা যদি সত্যিই ‘স্বস্তির’ হয়, তবে ‘বিশেষ’ আইনটির এখন কী দরকার!
বিশেষ আইন বা ব্যবস্থা সব সময়ই স্বল্পমেয়াদি বিষয়। বিদ্যুৎ খাতের ২০০৯-১০ সালের সেই ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ এখন আর নেই। ফলে দফায় দফায় এই আইনের মেয়াদ বাড়ানো এবং এখনো সেই আইন কার্যকর রেখে বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির ক্ষেত্রে তা কাজে লাগানোর কোনো সুযোগ নেই। সাধারণভাবে বললে, এ আইনের মূল ব্যাপারটি ছিল টেন্ডার এড়ানো ও সময় বাঁচানো। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে সরকারের এখন একটি মহাপরিকল্পনা। সেখানে ২০৩০ সাল নাগাদ ৩৮ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। কোন প্রাথমিক জ্বালানি থেকে কত শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, তারও নির্দেশনা রয়েছে। এসব কোনো স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নয় যে এটা বাস্তবায়ন করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিহীন এই বিশেষ আইনের দরকার পড়বে।
আর সবচেয়ে বড় কথা, দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি আমরা সামাল দিয়ে এসেছি। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এখন আমরা যে বাস্তবতার মধ্যে রয়েছি, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. তামিমের ভাষায় তা হচ্ছে ‘লিস্ট কস্ট এক্সপানশন’, অর্থাৎ সাশ্রয়ী সম্প্রসারণ। কুইক রেন্টালের মতো দামি ও ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবর্তে সাশ্রয়ী ও বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ। এগুলো আর যা-ই হোক, ‘দ্রুত’ বিদ্যুৎ উৎপাদনের আওতায় পড়বে না। ভারতের যে দুটি কোম্পানির সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, এই ‘বিশেষ’ ও ‘দ্রুত’ আইনের আওতায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ পেয়েছে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে (১০ জুন ২০১৫)। কিন্তু যদি তা বাস্তবায়নের দিকেও এগোয়, তার পরও সবকিছু ঠিক করে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘দ্রুত’ বিদ্যুৎ উৎপাদন আইনের আওতায় পড়ে কীভাবে?
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ভারতের দুই কোম্পানির সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী রিলায়েন্স গ্রুপ তৈরি করবে আমদানি করা এলএনজি (তরল গ্যাস)–নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র। চার ইউনিটে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে তিন হাজার মেগাওয়াট। অন্যদিকে, আদানি গ্রুপ তৈরি করবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। দুই ইউনিটে মোট উৎপাদন হবে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালে যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, তার ২৫ ভাগ গ্যাস থেকে হওয়ার কথা। রিলায়েন্সের সঙ্গে সমঝোতার ক্ষেত্রে হয়তো এ বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। কিন্তু আমদানি করা এলএনজিকে আবার গ্যাসে রূপান্তর করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কতটা সাশ্রয়ী হবে, সেটা অবশ্যই বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বিশ্ববাজারে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ায় এলএনজির দামও কমেছে। কিন্তু বর্তমান দামের ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্তে আসা কঠিন। বছর খানেক ধরে তেলের দাম কম থাকলেও ২০১৬ সাল থেকে আবার তেলের দাম বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ৪ জুন ভিয়েনায় ওপেক তেলমন্ত্রীদের এক বৈঠকের সূত্রে তেল ও গ্যাসশিল্প-সংক্রান্ত নিউজ পোর্টাল রিগজোন এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, বর্তমান দামেই ভারতের অন্ধ্রে তৈরি করা রিলায়েন্সের এলএনজি-নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন খরচ এত বেশি পড়ছে যে তা চালানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশে এ ধরনের প্রকল্প পোষাবে কীভাবে?
সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি মাথায় রেখেই মহাপরিকল্পনায় ৫০ ভাগ বিদ্যুতের উৎপাদন কয়লাভিত্তিক করার কথা বলা হয়েছে। আদানির সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমঝোতা স্মারকের বিষয়টি সেই বিবেচনায় মহাপরিকল্পনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। গুজরাটভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি এখন ভারতের বেসরকারি খাতে সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। গত মে মাসের হিসাব অনুযায়ী, আদানি এখন ভারতে কয়লাভিত্তিক মোট ১০ হাজার ৪৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।
রিলায়েন্স বা আদানি—এ ধরনের যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাপারে সমঝোতায় যাওয়া যেতে পারে। কিন্তু প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প কী করে বিশেষ আইনের আওতায় (যা ‘সরল বিশ্বাসে কৃত’ হিসেবে বিবেচিত হবে) বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কোনো বালাই থাকবে না!
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com
Thursday, July 2, 2015
বাড়িভাড়া নির্ধারণে কমিশন গঠনের নির্দেশ
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করার দাবিতে ২০১০ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ এ রিট করে। গতকাল ওই রিটে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ওই কমিশনের চেয়ারম্যান হতে পারেন আইন মন্ত্রণালয়ের মনোনীত একজন আইনজ্ঞ। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গৃহায়ণ ও নগর বিশেষজ্ঞ একজন অধ্যাপক, একজন অর্থনীতিবিদ, সরকারে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধি, ভোক্তা অধিকার ও নাগরিক স্বার্থ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ একজন প্রতিনিধি এবং সরকার মনোনীত একজন সিটি করপোরেশন কর্মকর্তা ওই কমিশনের সদস্য হিসেবে থাকবেন। কমিশন ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিকদের মতামত শুনে, প্রয়োজনে গণশুনানির মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি দেশের ভাড়াটিয়া ও মালিকদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে প্রতিকারের সুপারিশ করবে। এ কমিশনের প্রস্তাব সরকার গ্রহণ করবে বলে হাইকোর্ট প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত ১৯৯১ সালের বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে বাড়িভাড়া-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একজন করে নিয়ন্ত্রক, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রক ও উপনিয়ন্ত্রক নিয়োগের উদ্যোগ নিতে হবে। সরকার আর্থিক সক্ষমতা সাপেক্ষে এ উদ্যোগে নেবে। এ ছাড়া কমিশনের সুপারিশ আইনি কাঠামোতে আসার আগ পর্যন্ত কোন ভাড়াটিয়াকে যাতে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা না হয় এবং কারও কোন অভিযোগ থাকলে তা যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয় তা নিশ্চিত করতে সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। প্রয়োজনে ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা দিতেও বলা হয়েছে।
রিটকারী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ রায়ের পর বলেন, বাড়িভাড়া নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য মানুষ যে অপেক্ষা করছিল সেই পথ খুলে গেল। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিরোধ শতকরা আশি ভাগ কমে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, আদালত এক পর্যাবেক্ষণে বলেছেন, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা কর্তৃপক্ষ থাকা প্রয়োজন। ওই কর্তৃপক্ষের অধীনে সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হবে।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের রিট আবেদনে বলা হয়, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনে ভাড়ার রসিদ, বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দেয়াসহ বিভিন্ন বিধান রয়েছে। কিন্তু অনেক বাড়িওয়ালা আইন ভেঙে ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়ান, যখন-তখন বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দেন। তারা ভাড়াটেদের বাড়িভাড়ার রসিদ দেন না। ওই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে ২০১০ সালের ১৭ই মে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান কার্যকর করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
Thursday, April 2, 2015
নাটক সিনেমায় পুলিশ দেখাতে অনুমতি লাগবে
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার এস এন জাহাঙ্গীর আলম সরকার বিবিসি বাংলাকে জানান এখন থেকে নাটক-সিনেমায় পুলিশের চরিত্র দেখাতে হলে পুলিশ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে।
বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতিতে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মি. সরকার জানান, প্রায়ই নাটক ও সিনেমায় পুলিশের পোশাক পরে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা অভিনয় করেন।
ক্ষেত্রবিশেষে পুলিশের পদবির সঙ্গে পরিহিত পোশাকের মিল দেখা যায় না।
আবার নির্মাতারা পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেন না।
পুলিশের পদবির সঙ্গে পোশাক ব্যবহারের বিষয়ে সরকার অনুমোদিত একটি ড্রেস রুল রয়েছে।
ড্রেস রুল অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা র্যাংক ব্যাজ ব্যবহার করে পোশাক পরেন।
নাটক সিনেমায় পুলিশের নেতিবাচক ও হাস্যরসাত্মক উপস্থাপন জনমনে এই সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভুল ধারণা জন্ম নেয় বলে তিনি মনে করেন।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
Saturday, March 7, 2015
বিয়ের বয়স ১৮–ই থাকছে, মা–বাবা চাইলে ১৬, নতুন খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে by মানসুরা হোসাইন
খসড়া আইনটির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৮ ডিসেম্বর যে অনুশাসন দিয়েছেন, তাতে বলা হয়েছে, ‘বিয়ের বয়স ১৮, তবে পিতামাতা বা আদালতের সম্মতিতে ১৬ বছর সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। সামাজিক সমস্যা কম হবে।’
তবে শিশু ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করেন এমন ব্যক্তিরা সরকারের এই ভাবনার সঙ্গে একমত নন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিশু বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান প্রথম আলোকে বলেন, ১৮ বছর বয়সের আগে কারও বিয়ে হওয়া উচিত নয়। ১৮ বছরের আগে কেউ বিচার, বুদ্ধি-বিবেচনাবোধসম্পন্ন হতে পারে না। তা ছাড়া ১৮ বছর না হলে একজন ভোটও দিতে পারছে না। আর নিজের পায়ে না দাঁড়িয়ে বিয়ে করলে কেউ কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারবে না।
গত ১২ জানুয়ারি আইন মন্ত্রণালয়ে যে খসড়াটি মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে, তাতেও প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের কথা উল্লেখ আছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, অপরিণত বয়স্ক বা ‘মাইনর’ বলতে পুরুষ হলে অন্যূন ২১ এবং নারী হলে অন্যূন ১৮ বছর বয়সী কোনো ব্যক্তিকে বোঝাবে। তবে যুক্তিসংগত কারণে মা-বাবা বা আদালতের সম্মতিতে অন্যূন ১৬ বছর বয়সী কোনো নারী বিয়ে করলে সে ক্ষেত্রে সে অপরিণত বয়স্ক বলে গণ্য হবে না।
শিশু আইন, শিশুনীতিসহ বিভিন্ন আইন ও নীতি এবং জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদসহ বিভিন্ন সনদ অনুসমর্থন করে সরকার ১৮ বছরের কম বয়সীদের শিশু হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে। তাহলে নতুন খসড়া এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, এ প্রশ্ন করা হলে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বয়সের ব্যাপারে সিদ্ধান্তে এসে গেছি। বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ হবে। কিন্তু বিয়ে ছাড়া কেউ প্রেগন্যান্ট (অন্তঃসত্ত্বা) হয়ে গেলে কী হবে?’ তাঁর মতে, প্রতিবন্ধী নারীসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা থাকতে হবে। বিশ্বের উন্নত দেশেও অভিভাবকদের সম্মতিতে এ ধরনের বিয়ের কথা বলা আছে। সব দিক বিবেচনা করে তাঁরা সূক্ষ্মভাবে আইনটি করতে চান বলে জানান।
প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন জাতিসংঘের সনদ নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ বা সিডও কমিটির সাবেক চেয়ারপারসন এবং বেসরকারি সংগঠন উইমেন ফর উইমেনের নির্বাহী কমিটির সদস্য সালমা খান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, একটি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হলে তাকে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া সরকারের কাজ নয়। এখন অনেক মেয়ে ধর্ষণের শিকার হলে তার প্রতিকার চাইছে। বিষয়টি এখন আর এমন নয় যে ধর্ষণের কথা মুখেই আনা যাবে না। তাই সরকারকে স্বচ্ছ একটি আইন করতে হবে।
ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটির পরিচালক শীপা হাফিজা বলেন, এই বয়সী মেয়েরা কীভাবে নিরাপদ থাকবে, তা সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। সরকার দায়িত্ব এড়াতে পারে না। চুরি হয় বলে সরকার কী বলবে যে সব ঘরে তালা লাগিয়ে দাও? আর কেউ অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে বিয়ে দিয়ে দিলেই এ ধরনের সমস্যার সমাধান হবে না, বরং সমস্যা বাড়বে। এ রকম আইন হলে অনেক মা-বাবাই এ সুযোগ নেবেন এবং কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেবেন।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাজা ও জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৪’-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এই খসড়ায় নাবালকের সংজ্ঞায় পুরুষ হলে অন্যূন ২১ এবং নারী হলে অন্যূন ১৮ বছরের কথা উল্লেখ ছিল। একই বৈঠকে ১৯২৯ সালের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, ছেলেদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ২১ থেকে ১৮ এবং মেয়েদের ১৮ থেকে ১৬ করা যায় কি না, তা পর্যালোচনা করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
এ খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা ও বিরোধিতা শুরু হয়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন নারী ও মানবাধিকার সংগঠন সরকারকে স্মারকলিপি দিয়ে, মানববন্ধন করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানায়।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নারী আন্দোলন ও উন্নয়ন সহযোগী সংগঠনগুলো প্রথম থেকেই একমত যে আইনে এমন কোনো ধারা বা উপধারা সংযোজন করা যাবে না, যাতে করে বিয়ের বয়স ১৮-কে বাধাগ্রস্ত করে। বরং পারলে বিয়ের বয়স বাড়াতে হবে।’ তাঁর মতে, বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে নিরাপত্তা, দারিদ্র্য মোচনসহ বিভিন্ন বিষয়ের দিকে নজর বাড়াতে হবে, অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।
সরকারের ২০১১ সালের সর্বশেষ বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ (বিডিএইচএস) বলছে, ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ৬৬ শতাংশ কিশোরীর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। ১৯ বছরের মধ্যে প্রতি তিনজনের একজন কিশোরী গর্ভধারণ করছে বা সন্তানের জন্ম দিচ্ছে।
গত জুলাই মাসে জাতিসংঘ শিশু তহবিল-ইউনিসেফ ও যুক্তরাজ্য সরকারের যৌথ আয়োজনে ২১ থেকে ২৩ জুলাই লন্ডনে অনুষ্ঠিত গার্ল সামিটে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ বছর বয়সের আগে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ১৮ বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে সম্পূণর্ভাবে বন্ধ করার লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছিলেন।
Tuesday, February 17, 2015
আদালতের আদেশ দিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন স্তব্ধ করা যায় না -বিএনপি

Thursday, January 8, 2015
চলতি মাসেই অনলাইন নীতিমালা

Sunday, December 21, 2014
প্রশাসনে পদোন্নতি বঞ্চনা আইন ও বিধি কী বলে by মো. ফিরোজ মিয়া
সরকারি চাকরিতে পদোন্নতি সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত আইন দ্বারা অথবা উক্ত অনুচ্ছেদের শর্তাংশে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত বিধি দ্বারা পরিচালিত হয়। উক্তরূপ আইন বা বিধির অবর্তমানে পদোন্নতির জন্য প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করা যায়। কিন্তু আইন বা বিধি বিদ্যমান থাকার ক্ষেত্রে আইন বা বিধিপরিপন্থী বা উক্ত আইন বা বিধিকে অতিক্রম করে বা সংশোধন করে কোনো প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করা যায় না। আইন বা বিধি থাকা সত্ত্বেও সরকার পদোন্নতির মানদণ্ড নির্ধারণ করতে পারেন। তবে এ মানদণ্ড আইন ও বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হয়। অর্থাৎ একই পর্যায়ের এক কর্মচারীর জন্য একরূপ মানদণ্ড এবং অপর কর্মচারীর জন্য অন্যরূপ মানদণ্ড নির্ধারণ করা যায় না। এ মানদণ্ড নির্ধারণে যে নীতি অনুসরণ করা হয়। তা হল, জ্যেষ্ঠতার নীতি অথবা জ্যেষ্ঠতা তথা মেধার নীতি অথবা মেধা তথা জ্যেষ্ঠতার নীতি অথবা মেধার নীতি। সাধারণভাবে উচ্চতর পদগুলোতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা তথা জ্যেষ্ঠতার নীতি অথবা মেধার নীতি অনুসরণ করা হয়।
বাংলাদেশ সরকারের উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদে পদোন্নতি সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। উক্ত বিধিমালা অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে গঠিত সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সুপারিশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন গ্রহণ করে সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। বিধিমালা অনুযায়ী পদোন্নতির ভিত্তি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মেধা, দক্ষতা ও জ্যেষ্ঠতা। অর্থাৎ প্রশাসনের উচ্চতর ওই পদগুলোতে পদোন্নতির মানদণ্ড হচ্ছে মেধা, দক্ষতা ও জ্যেষ্ঠতা। এছাড়া বিধিমালা অনুযায়ী যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব কিংবা সচিব পদে পদোন্নতি প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সমগ্র চাকরি জীবনে পালনকৃত দায়িত্বের গুরুত্ব ও প্রকৃতি এবং তার ব্যক্তিগত সুনামসহ প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করা হয় এবং যুগ্মসচিব পদের ক্ষেত্রে তা যথাসম্ভব তার সমগ্র জীবনের সার্ভিস রেকর্ড এবং সব বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিচার্য হয়।
তবে পদোন্নতির অন্যান্য যোগ্যতা অর্জন করা সত্ত্বেও কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলায় কোনো অভিযোগ বিবরণী জারি করা হলে বা তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় অভিযোগ গঠন করা হলে কিংবা তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলায় সরকারি মঞ্জুরি প্রদান করা হলে ওই কর্মকর্তা কোনোভাবেই উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব বা সচিব পদে পদোন্নতির যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
পদোন্নতি বিধিমালা অনুযায়ী পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনকারী কর্মকর্তারাই কেবল উচ্চতর পদে পদোন্নতি পেতে পারেন। উক্ত বিধিমালা অনুযায়ী উপসচিব পদে পদোন্নতির প্রয়োজনীয় যোগ্যতা হল সিনিয়র স্কেলে ৫ বছরের চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারে অন্যূন ১০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা, বুনিয়াদি ও বিভাগীয় প্রশিক্ষণ সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করা, আইন ও বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং মোট মূল্যায়ন নম্বর ১০০ (একশত)-এর মধ্যে কমপক্ষে ৮৩ নম্বর অর্জন। এ যোগ্যতা অর্জনকারী কোনো কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠতাক্রম অনুযায়ী পদোন্নতি প্রাপ্য হলে তাকে উপসচিব পদে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করার কোনো আইনগত বা বিধিগত সুযোগ থাকে না।
যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির প্রয়োজনীয় যোগ্যতা হল উপসচিব পদে ৫ বছরের চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে অন্যূন ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা অথবা অন্যূন ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসহ ক্যাডার পদে অন্যূন ২০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা, এসিএডি প্রশিক্ষণ কোর্সে মনোনয়ন দেয়া হলে তা সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করা এবং কমপক্ষে ৮৫ মূল্যায়ন নম্বর অর্জন। এছাড়া বিধিমালা অনুযায়ী যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সমগ্র চাকরি জীবনে পালনকৃত দায়িত্বের গুরুত্ব ও প্রকৃতি এবং তার ব্যক্তিগত সুনামসহ প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করা হয় এবং তা যথাসম্ভব তার সমগ্র জীবনের সার্ভিস রেকর্ড এবং সব বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হয়। জ্যেষ্ঠতাক্রম অনুসারে প্রাপ্য হলে সার্ভিস রেকর্ড ও বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে উল্লেখিত নেই এমন কোনো কারণে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করার কোনো আইনগত বা বিধিগত সুযোগ থাকে না।
অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির প্রয়োজনীয় যোগ্যতা হল যুগ্মসচিব পদে ৩ বছরের চাকরিসহ অন্যূন ২০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা অথবা অন্যূন ২ বছরের অভিজ্ঞতাসহ অন্যূন ২২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা, সরকার নির্ধারিত স্টাফ কোর্সে মনোনয়ন দেয়া হলে তা সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করা এবং কমপক্ষে ৮৫ মূল্যায়ন নম্বর অর্জন। অপরদিকে সচিব পদে পদোন্নতির প্রয়োজনীয় যোগ্যতা হল অতিরিক্ত সচিব পদে অন্যূন ২ বছরের চাকরিসহ অন্যূন ২২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা (তবে ২ বছর পূর্তির আগে অবসরগ্রহণের সম্ভাবনা থাকলে সেক্ষেত্রে ২ বছরের চাকরির শর্ত শিথিলযোগ্য), সচিবালয়ের কোনো পদে ৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা (তবে অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্মসচিব পদে ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার ক্ষেত্রে তা শিথিলযোগ্য), সরকার নির্ধারিত সিনিয়র স্টাফ কোর্সে মনোনয়ন দেয়া হলে তা সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করা এবং কমপক্ষে ৮৫ মূল্যায়ন নম্বর অর্জন। এছাড়া বিধিমালা অনুযায়ী অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সমগ্র চাকরি জীবনে পালনকৃত দায়িত্বের গুরুত্ব ও প্রকৃতি এবং তার ব্যক্তিগত সুনামসহ প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এ বিবেচনাও লিপিবদ্ধকৃত রেকর্ডের ভিত্তিতে ব্যতীত ইচ্ছা বা মর্জিমাফিক বা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে করার কোনো আইন বা বিধিগত সুযোগ নেই।
পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তা অপেক্ষা কম দক্ষ বা যার সততা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়, এমন কনিষ্ঠ কর্মকর্তার পদোন্নতির দ্বারা জনস্বার্থ রক্ষা হয় না। উপরন্তু প্রশাসনে ক্ষোভ, হতাশা দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে প্রশাসন ভেঙে পড়ে। যার কারণে অতীতের খারাপ দৃষ্টান্ত অনুসরণ না করে জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় প্রশাসনে পদোন্নতি প্রদান করা হবে, এটাই সবার কাম্য।
মো. ফিরোজ মিয়া : অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব, চাকরি ও আইন সংক্রান্ত গ্রন্থের লেখক
Sunday, December 14, 2014
গণকর্মচারীর স্বেচ্ছা-অবসর এবং বাধ্যতামূলক অবসরের প্রয়োগ ও অপ্রয়োগ by মোঃ ফিরোজ মিয়া
গণকর্মচারী অবসর আইনের বিধানমতে, মোট চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর যে কোনো সময় যে কোনো কর্মচারী চাকরি থেকে অবসরগ্রহণ করতে পারেন। এ ধরনের অবসরকে স্বেচ্ছা-অবসর বলে। স্বেচ্ছা-অবসরের অন্যতম শর্ত হল অভিপ্রায়কৃত অবসরের দিনটির কমপক্ষে ত্রিশদিন আগে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বরাবরে সরাসরি অবসর গ্রহণের বা অবসর-উত্তর ছুটিতে যাওয়ার তারিখ উল্লেখ করে নোটিশ প্রদান এবং নোটিশে ছুটির মেয়াদ উল্লেখ করাসহ ছুটির প্রাপ্যতার সনদ সংযুক্ত করা। আইনের বিধান অনুসরণ করে ৩০ দিনের নোটিশ প্রদানপূর্বক স্বেচ্ছা-অবসরের আবেদন করা হলে কর্মচারীর স্বেচ্ছা-অবসরের প্রতিবন্ধকতাবিহীন অধিকার সৃষ্টি হয়, যা কর্মচারী প্রত্যাহার করতে পারেন না, এমনকি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষও তা প্রত্যাখ্যান করতে পারে না। কিন্তু আইনের বিধান অনুসরণ না করে অর্থাৎ আইনের বিধানমতে ৩০ দিনের নোটিশ না দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বেচ্ছা-অবসরের আবেদন করা হলে তা স্বেচ্ছা-অবসরের নোটিশ হিসেবে গণ্য করে অবসরের আদেশ জারি আইনের বিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এছাড়া আইনের বিধান অনুসরণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে অবসরের আবেদন করা আচরণবিধির সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। স্বেচ্ছা-অবসরের আবেদনে অবসর-উত্তর ছুটি ভোগের ইচ্ছা ব্যক্ত না করা হলে অবসর-উত্তর ছুটি মঞ্জুরেরও আইনগত কোনো সুযোগ থাকে না। উল্লেখ্য, কোনো কর্মচারী ছুটিতে থাকা অবস্থায়ও স্বেচ্ছা-অবসরের নোটিশ প্রদান করতে পারেন। এমনকি কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান অবস্থায়ও স্বেচ্ছা-অবসরের নোটিশ প্রদান করা যায়। তবে এক্ষেত্রে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্বেচ্ছা-অবসরের আবেদনের ওপর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা যায় না। মামলা নিষ্পত্তির পর মামলার ফলাফলের ভিত্তিতে আবেদনটি নিষ্পত্তিযোগ্য হয়। অবশ্য এক্ষেত্রে স্বেচ্ছা-অবসরের আবেদনে যে তারিখ হতে অবসর গ্রহণের অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়, ওই তারিখ হতে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারে না। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, আইনের বিধান অনুসারে ৩০ দিনের নোটিশ প্রদান না করা সত্ত্বেও তাৎক্ষণিক আবেদনের ভিত্তিতে স্বেচ্ছা-অবসরের আদেশ জারি করা হয়, যা আইন সমর্থন করে না।
গণকর্মচারী অবসর আইনের বিধানমতে মোট চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর সরকার যে কোনো সময়, জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে, কোনোরূপ কারণ দর্শানো ব্যতীত যে কোনো গণকর্মচারীকে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করতে পারে। তবে এ ক্ষমতা সরকার ছাড়া অন্য কোনো অধঃস্তন নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ প্রয়োগ করতে পারে না। যে ক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সরকার ব্যতীত অধঃস্তন কোনো কর্তৃপক্ষ অথবা বিধিবদ্ধ সংস্থা বা এর কোনো কর্মকর্তা, সেক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা যদি মনে করে যে, তদকর্তৃক নিযুক্ত কোনো গণকর্মচারীর আইনের বিধানমতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তাকে জনস্বার্থে অবসরগ্রহণ করানো উচিত, তাহলে ওই কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এতদসংক্রান্ত প্রস্তাব প্রেরণ করবে এবং এরূপ প্রস্তাব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্মচারীদের অবসরগ্রহণ সংক্রান্ত প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে তার সদয় আদেশের জন্য পেশ করবে। এরূপ বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান শৃংখলা ও আপিলবিধির আওতাধীন শাস্তিমূলক বাধ্যতামূলক অবসর না হওয়ায় বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী অবসর-উত্তর ছুটি এবং ছুটি নগদায়নসহ সব ধরনের অবসর সুবিধাদি পাবেন।
সরকার কর্তৃক এরূপ অবসর প্রদান প্রকৃতপক্ষে জনস্বার্থে অবসর প্রদান। অবসর আইনে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের উল্লেখ না থাকলেও একে বাধ্যতামূলক অবসর বলা হয়। কারণ উচ্চতর আদালতের অনেক রায়ে সরকার কর্তৃক জনস্বার্থে এরূপ অবসর প্রদানকে বাধ্যতামূলক অবসর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
একজন গণকর্মচারীর স্বাভাবিকভাবে অবসর গ্রহণের বয়সে উপনীত না হওয়া পর্যন্ত চাকরি করার অধিকার থাকলেও অবসর আইনের অধীনে একজন গণকর্মচারীকে সরকার কোনোরূপ কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান না করে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করতে পারে। উচ্চতর আদালতের কোনো কোনো রায়ে সরকার কর্তৃক বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানকে সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় মর্মে উল্লেখ করা হলেও আইনের এ বিধানকে বাতিল হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে উচ্চতর আদালতের প্রায় সব রায়েই জনস্বার্থের বিষয়টির ওপর অধিক গুরুত্বারূপ করা হয়েছে। ডক্টর নুরুল ইসলাম বনাম বাংলাদেশ সরকার মামলার রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, অবসর আইনের অধীনে সরকারকে অবসর দানের প্রতিবন্ধকতাবিহীন অধিকার দেয়া হলেও আইনে বা বিধিতে অবসর দানের কোনোরূপ নির্দেশাবলী বর্ণিত নেই। আইনে বা এর অধীনে প্রণীত বিধিতে কোনোরূপ নির্দেশনাবলী ছাড়া সরকারকে বাধ্যতামূলক অবসর দানের প্রতিবন্ধকতাবিহীন অধিকার দেয়া সংবিধানের সমতার নীতির লংঘন। এছাড়া প্রয়োগের নির্দেশনাবলী ছাড়া আইনে প্রতিবন্ধকতাবিহীন স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রদান বৈষম্যমূলক এবং এইরূপ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সমতা নীতির নিশ্চয়তার প্রতিকার পাওয়ার অধিকারী। এ সম্পর্কে ডক্টর আবু আহমেদ চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ সরকার মামলার রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার অবসর দানের প্রয়োজনীয়তা এবং জনস্বার্থ বিবেচনা করলেও চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে এমন সমপর্যায়ের সব কর্মকর্তার মধ্য থেকে এককভাবে কোনো একজনকে বাধ্যতামূলক অবসরদান বৈষম্যমূলক।
চাকরির ২৫ বছর পূর্তির পর যে কোনো সময় সরকার কর্তৃক কোনোরূপ কারণ দর্শানো ছাড়া বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের প্রধান ও অন্যতম শর্ত হল জনস্বার্থ এবং এই জনস্বার্থের বিষয়টি নির্ধারণের সম্পূর্ণ ক্ষমতা সরকারের বিধায় জনস্বার্থ প্রমাণের দায়িত্বও সরকারের। একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে চাকরিবিধি লংঘনের বা আচরণবিধির পরিপন্থী কোনো কাজের অভিযোগ পাওয়া গেলে তার জন্য বিভাগীয় মামলা রুজু করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যায়। বিভাগীয় মামলায় কর্মচারীকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অনুসরণে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পর্যাপ্ত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয় এবং কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ প্রমাণ করতে হয়। কিন্তু অবসর আইনে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বা জনশ্রুত অভিযোগের যথার্থতা বিষয়ে প্রশ্ন দেখা দেয় বিধায় আচরণবিধির পরিপন্থী কোনো অভিযোগের কারণে অবসর আইনের অধীনে অবসর দেয়া যায় না।
কিন্তু প্রায়ই কোনো গণকর্মচারীর বিরুদ্ধে আচরণবিধির পরিপন্থী কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে চাকরিবিধি অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা গ্রহণ না করে অবসর আইনের অধীনে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের প্রবণতা দেখা যায়। যার কারণে জনমনে প্রশ্ন দেখা দেয়। এছাড়া এসব মামলায় জনস্বার্থ প্রমাণ করা যায় না বিধায় আদালতে এরূপ অবসর প্রদানের আদেশ বাতিল বা রহিত হয়। অতীতে প্রদত্ত অধিকাংশ বাধ্যতামূলক অবসর আদেশই আদালতের আদেশে বাতিল বা রহিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা চাকরিতে ফিরে এসেছেন এবং অনেকে পরবর্তী পর্যায়ে উচ্চতর এক বা একাধিক পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন। সেই সঙ্গে আর্থিক সুবিধাদিও পেয়েছেন।
চাকরিবিধি লংঘন বা আচরণবিধির পরিপন্থী কার্যকলাপের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারী আইনের বিধান অনুযায়ী যথাযথ পদ্ধতিতে দণ্ড ভোগ করুক এটা সবারই কাম্য এবং এতে করে চাকরির শৃংখলাও বজায় থাকে। কিন্তু আইনের অপপ্রয়োগ চাকরির শৃংখলা বিনষ্ট করে। যার জন্য অবসর আইনের বিধানসহ বিদ্যমান চাকরি সংক্রান্ত সব আইনের বিধান যথাযথ প্রয়োগ হোক এটাই সবার কাম্য।
মোঃ ফিরোজ মিয়া : অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব, চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন গ্রন্থের লেখক
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2388)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...





