Friday, November 1, 2024

’৭২ ও ’৯১-এর মতো গত তিন মাসেও আশাভঙ্গের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে: আনু মুহাম্মদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে এবং এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে মানুষের যে আশাভঙ্গ হয়েছিল, গত তিন মাসেও তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এসব লক্ষণ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের ষোলোশহর রেলস্টেশনে আয়োজিত এক সমাবেশে আনু মুহাম্মদ এসব কথা বলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা অধিকার রক্ষা পরিষদের ব্যানারে এই সমাবেশ হয়।

সমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আমরা যদি মনে করি, যে লঙ্কায় যায় সে–ই রাবণ হবে, তাহলে পরিবর্তন করে আর লাভ হলো না। এটি কী কারণে হয়, সেটি আমাদের বুঝতে হবে।’

আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, কৃষক-শ্রমিকসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের স্বার্থ দেখার মতো রাজনৈতিক সংগঠিত শক্তি বাংলাদেশে তৈরি হয়নি। তৈরি হয়নি বলেই এত বড় একটি মুক্তিযুদ্ধের পরে, লক্ষ লক্ষ মানুষ শহীদ হওয়ার পরেও, বাংলাদেশে শোষক-লুটেরা শ্রেণি আবার নতুন করে তৈরি হয়েছে। নব্বইয়ে গণ-অভ্যুত্থান হলো, এরশাদ গেল, কিন্তু লুটেরা শক্তি আবার ক্ষমতায় থাকল। তিন মাস আগে এত বড় গণ-অভ্যুত্থানের পরেও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবন কিংবা ভবিষ্যৎ চিন্তায় সেই পরিবর্তনের লক্ষণগুলো দেখা যাচ্ছে না।

সমাবেশে দেশে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর গুলি করার সমালোচনা করেন আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখি ছাত্ররা দিনের পর দিন সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করে রাখে, কিন্তু শ্রমিকেরা বকেয়া মজুরির দাবি জানালে আগের সরকারের মতো গুলি করছে, বিভিন্ন অপবাদ দিচ্ছে। বলা হচ্ছে, এরা আওয়ামী লীগের লোকজন। আওয়ামী লীগ বললেই তো হবে না। আওয়ামী লীগ এখানে সুযোগ নিতেই পারে। সুযোগ নিতে সুবিধা তখনই হবে যখন এই সরকার আওয়ামী লীগের মতো ভূমিকা নেবে।’

দেশে ঢালাও মামলা হওয়ার কারণে আসল অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘কিছুদিন আগে বড় বড় অপরাধীদের বেশ কয়েকজন ছাড়া পেয়ে গেল। আমি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবশালী একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, এত বড় বড় অপরাধী ছাড়া কীভাবে পাচ্ছে? তিনি উত্তর দিলেন “আমি কিছু জানি না।” তাহলে কারা জানে? সেটাও তিনি জানেন না। তাহলে সিদ্ধান্ত কীভাবে হচ্ছে? একদিকে দেখতে পাচ্ছি  বড় বড় অপরাধী  ছাড়া পাচ্ছে, অপরাধীরা দেশ থেকে পালিয়ে যাচ্ছে; অন্যদিকে এমন অনেকের নামে মামলা হচ্ছে, যাতে মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।’

গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য হিসেবে থাকা আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আগের সরকারের সময় আদালত সরকারের নির্দেশ দ্বারা পরিচালিত হতো। আদালত বলে কিছু ছিল না। আদালত এবং বিচারপ্রক্রিয়া যদি যথাযথ না হয় তাহলে একই ঘটনা বারবার ঘটতে থাকবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরকার কথা বলছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কীভাবে হচ্ছে, এটিই আমাদের অজানা।’

সমাবেশে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি জানান আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ শ্রমজীবী। তাঁরা দেশে কাজ করছেন, বিদেশে কাজ করছেন। ঘরের শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন, বিনা মজুরিতে কাজ করছেন। তাঁরা প্রতারিত হচ্ছেন, জুলুমের শিকার হচ্ছেন। এই যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তাঁদের স্বার্থে যদি রাষ্ট্র না আসে, তাহলে লুটেরাদের পুনরুৎপাদন হবে। শ্রমিকদের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ কোনো সরকারই করতে পারেনি। এই সরকার এসেই এটি করতে পারত। কিন্তু সরকার এটি বিবেচনা করেনি।’

আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, ‘জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতার অভাবে গত সরকার স্বৈরাচারে পরিণত হয়েছিল। বর্তমান সরকারে এই দুটির অভাব কোনোভাবেই গ্রহণ করব না। এখানে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। কীভাবে খুনিরা ছাড়া পেয়ে যায়, সেটির জবাবদিহি থাকতে হবে। কীভাবে মামলাগুলো যথাযথ না হয়ে পাইকারিভাবে হয়, সেটির জবাবদিহি করতে হবে। কেন নিহত ও আহত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি হয় না, এর দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা কেন কাজ করছে না, সেটির জবাবদিহি থাকতে হবে। কী কারণে জিনিসপত্রের দাম কমছে না, কাদের কারণে কমছে না, এর জবাবদিহি করতে হবে। এই জবাবদিহি কিংবা স্বচ্ছতার জায়গাটা খুব শক্তিশালীভাবে থাকতে হবে।’

সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মাহা মির্জা বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া জনতার একটি বড় অংশ কিন্তু মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্ত কিংবা ঢাকাবাসীর ধনীরা ছিল না। বড় অংশ ছিল শ্রমজীবী মানুষ, শ্রমিক, হকার, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, ছোট দোকানদার, ছোট ব্যবসায়ী। অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ রাস্তায় নেমেছেন, জীবন দিয়েছেন। ছাত্র, জনতা এবং শ্রমজীবী মানুষ এক হয়ে লড়াইটা করেছিলেন। ছাত্র-জনতা এক না হলে প্রতাপশালী স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হতো না।

উন্নয়ন অর্থনীতিবিষয়ক গবেষক মাহা মির্জা আরও বলেন, ‘হতাশার সঙ্গে বলতে হচ্ছে এই যে নতুন বাংলাদেশ আমরা বলছি, স্বাধীন বাংলাদেশ আমরা বলছি, তা আসলে কতটুকু নতুন? শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর নতুন সরকার গঠনের পরে আমরা নতুন কী পেলাম? আদৌ নতুন কিছু পেলাম কি না, এই প্রশ্নটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে সরকার আসে সরকার যায়; কিন্তু নিম্নবিত্ত মানুষ, দরিদ্র মানুষ এবং শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যের কেন পরিবর্তন হয় না? সরকার পরিবর্তনের পরে নতুন আশার সঞ্চার হয়, কিন্তু শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা অধিকার রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক আসমা আক্তার। সংগঠনটির সদস্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওমর সমুদ্রের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির উপদেষ্টা অধ্যাপক তাহুরিন সবুর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক জি এইচ হাবীব, কবি ও সাংবাদিক আহমেদ মুনির, আন্দোলনে চোখ হারানো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শুভ, গৃহকর্মী নূপুর বেগম প্রমুখ।

সমাবেশে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, আর্থিক সহযোগিতা ও আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন, সরকারি খাসজমি উদ্ধার করে ভূমিহীনদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা ঘোষণা, গৃহকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়াসহ ১০ দফা দাবি জানায় আয়োজক সংগঠন।

সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।  আজ সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের ষোলোশহর রেলওয়ে স্টেশনে
সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। আজ সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের ষোলোশহর রেলওয়ে স্টেশনেছবি: প্রথম আলো

জাবালিয়া থেকে পলায়নরত ফিলিস্তিনিদের নগ্ন করে বসিয়ে রেখেছিল ইসরায়েলি বাহিনী

একটি ছবি। সেখানে বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ২০০ জনের বেশি মানুষ বসে আছেন। বেশির ভাগই পুরুষ। তাঁদের মধ্যে অনেকে অর্ধনগ্ন। অনেকে বয়স্ক, অনেকে আবার আহত। এই বসে থাকা মানুষগুলোর মধ্যে একটি শিশুকে দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা সিএনএনকে জানান, জাবালিয়া শরণার্থীশিবির ছেড়ে পালানোর সময় তাঁরা ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ধরা পড়েন। এরপর তাঁদের অর্ধনগ্ন করে কয়েক ঘণ্টা তীব্র শীতের মধ্যে বসিয়ে রাখা হয়।

সবার চেহারায় ফুটে উঠছিল অসহায়ত্ব। গত শুক্রবার জাবালিয়া থেকে ছবিটি তোলা। সেখানে সম্প্রতি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পরিচালিত স্থল অভিযানের কারণে সেখানকার বাসিন্দাদের সরে যেতে বাধ্য করা হয়। ফলে শিবিরের লোকজন এলাকাটি ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

ছবিটি প্রথম ইসরায়েল টেলিগ্রাম চ্যানেলে শেয়ার হয়। তবে এটি স্পষ্ট নয়, ছবিটি কে তুলেছেন।

ছবিতে থাকা বেশ কয়েকজন সিএনএনকে বলেছেন, তাঁদের আটক করার সময় ইসরায়েলি সেনারা ছবিটি তুলেছেন।

সিএনএন ছবিতে থাকা পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলেছে। তাঁদের একজন মুহাম্মাদ খালাফ। তিনি বলেন, তাঁর স্ত্রী ও ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে নিরাপদ করিডর দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন; কিন্তু ইসরায়েলি সেনারা তাঁদের আটকে দেন।

খালাফ ফোনে সিএনএনকে বলেন, ‘ঘড়িতে তখন বেলা ১১টা। নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশু—আমরা সবাই এক জায়গায় জড়ো হয়েছিলাম। এর পাঁচ ঘণ্টা পর বিকেল চারটায় তারা নারী ও শিশুদের এগিয়ে যেতে বলে এবং আমাদের ব্যাগ ও জিনিসপত্র নিয়ে যায়। পরে নারী ও শিশুদের চলে যাওয়ার অনুমতি দেয়।’

খালাফ বলেন, ‘তারা চলে যাওয়ার পর আমাদের (পুরুষ) অন্তর্বাস ছাড়া গায়ের সব জামাকাপড় খুলে ফেলতে নির্দেশ দেয়। আমরা সেটাই করি। কনকনে ঠান্ডার মধ্যে আমরা এ অবস্থায় আরও কয়েক ঘণ্টা বসে ছিলাম। এ সময় তারা আমাদের নাম ধরে উপহাস করছিল, ছবি তুলছিল।’

খালাফের দেওয়া তথ্যমতে, সেখানে জড়ো হওয়া পুরুষদের পাঁচজন পাঁচজন করে এগিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। গাজা সিটিতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ফোর্স (আইডিএফ) তাঁদের তল্লাশি (স্ক্রিনিং) করে।

খালাফ বলেন, ‘কিছু ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের অধিকাংশই গাজা শহরে আসতে পেরেছি। পরিস্থিতি ভয়ংকর ও দুঃখজনক। বয়স্ক ও আহত ব্যক্তিদের প্রতি তারা সহানুভূতি বা করুণা দেখায়নি।’

ছবিতে দেখা ছোট্ট মেয়েটির নাম জৌরি আবু ওয়ার্দ। সাড়ে তিন বছরের শিশুটি তার সাইকেলে চড়ে গাজা সিটিতে যাওয়ার চেষ্টা করছিল; কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে তল্লাশিচৌকিতে সে ও তার বাবা আটক হয়।

জৌরির বাবা মোহাম্মাদ আবু ওয়ার্দ সিএনএনকে বলেন, তাঁকে তাঁর অন্তর্বাস খুলে ফেলতে বাধ্য করা হয়েছিল। এ অবস্থায় তাঁকে আট ঘণ্টা মেয়ের পাশে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। স্ত্রী ও অন্য সন্তানেরা ভোরে এলাকা ছেড়ে গাজা সিটিতে চলে যেতে সক্ষম হয়েছিল। এই মেয়ে তাঁর কাছে রয়ে গিয়েছিল। তাই মেয়েকে যেতে দিতে পারেননি। তাঁদের কোনো খাবার বা পানি দেওয়া হয়নি।

আইডিএফ জাবালিয়াকে ঘিরে ফেলেছে। তিন সপ্তাহেরও বেশি আগে সেখানে নতুন করে স্থল অভিযান শুরু করেছে। সেখানকার বেশির ভাগ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় তারা। তীব্র লড়াইয়ের মুখে সেখানকার বাসিন্দাদের সরে যেতে বাধ্য করে। এক বছর ধরে ভারী বোমাবর্ষণ এবং বড় ধরনের সফল দুটি স্থল অভিযান চালানো সত্ত্বেও আইডিএফের ভাষ্য, তারা সেখানে হামাসকে পুনর্গঠিত হওয়ার লক্ষণ দেখতে পেয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সরে যেতে বারবার নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছিল। এমনকি জাবালিয়ার ভূখণ্ডে ওপর থেকে প্রচারপত্র ফেলা হচ্ছিল। সেখানে বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিকভাবে সরে যেতে সতর্ক করা হচ্ছিল। এর আগে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি সিএনএনকে বলেছিলেন, নির্দেশ মেনে তাঁরা চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের ওপর গুলি চালানো হয়।

এই ছবির বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে তারা স্বীকার করেছে, গাজায় অভিযানের অংশ হিসেবে সেখানকার লোকদের নিয়মিত আটক করা হয় এবং নগ্ন করে তল্লাশি করা হয়।

সিএনএনকে এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সন্দেহে কাউকে কাউকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এতে আরও বলা হয়, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আচরণ করা হচ্ছে। তবে তারা সিএনএনকে এ–ও বলেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পোশাকের ভেতরে কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা অস্ত্র আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে অনেক সময় তা খুলে পরীক্ষা করা হয়।

আইডিএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে পোশাক ফেরত দেওয়া হয় না। তবে যত দ্রুত সম্ভব পোশাক ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, সশস্ত্র যুদ্ধে আটক ব্যক্তির সঙ্গে অবশ্যই মানবিক আচরণ করতে হবে। দ্য ইন্টারন্যাশনাল রেডক্রস বলছে, ‘একেবারে প্রয়োজন হলেই’ যেন এভাবে তল্লাশি করা হয় এবং তা অবশ্যই অন্যদের সামনে নয়।

অন্যদিকে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর এভাবে মানুষকে নগ্ন করার মতো কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছে। তারা এটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অনুশীলন বলে অভিযোগ করেছে।

জাবালিয়া শরণার্থীশিবির ছেড়ে পালানোর সময় তাঁরা ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ধরা পড়েন। এরপর তাঁদের নগ্ন করে কয়েক ঘণ্টা তীব্র শীতের মধ্যে বসিয়ে রাখা হয়
জাবালিয়া শরণার্থীশিবির ছেড়ে পালানোর সময় তাঁরা ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ধরা পড়েন। এরপর তাঁদের নগ্ন করে কয়েক ঘণ্টা তীব্র শীতের মধ্যে বসিয়ে রাখা হয়। ফাইল ছবি: রয়টার্স

আল্লাহর নামে কতল হয়ে যাব : ফরহাদ মজহার

লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার বলেছেন, আমাকে কতল করলে যদি ইসলাম কায়েম হয় তবে ইনশাআল্লাহ আল্লাহর নামে কতল হয়ে যাব। আমাকে ভয় দেখাবেন না।

শুক্রবার (০১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড পিস স্টাডিজ আয়োজিত ‘দুর্নীতি ও রাষ্ট্রপতি বা সংস্কার’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।

ফরহাদ মজহার বলেন, অনেকে বলেন বাংলাদেশে ইসলাম কায়েম করতে হলে ফরহাদ মজহারকে নাকি কতল (হত্যা) করতে হবে। আমি কিন্তু বিষয়টা জেনে গেছি। আমাকে যেখানে বলবেন আমি যাব, আমাকে কতল করে ফেলবেন। আমাকে কতল করলে যদি ইসলাম কায়েম হয় তবে ইনশাআল্লাহ আল্লাহর নামে কতল হয়ে যাব। আমাকে ভয় দেখাবেন না। কিন্তু ফ্যাসিজমকে ইসলাম বলে প্রচার করবেন না। আপনারা কোথা থেকে আসেন, সেটা আমরা জানি। আপনাদের কারা পাঠায়, সেটাও আমরা জানি।

তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্রের কথা বলি তবে জনগণকে উপেক্ষা করে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরেও জনগণকে উপেক্ষা করি, এটা অদ্ভুত ব্যাপার। এতগুলো মানুষ শহীদ হয়ে গেল, এতগুলো মানুষ পঙ্গু হয়ে পড়ে আছে, তারপরেও কিন্তু আমরা জনগণকে উপেক্ষা করেছি। আপনি ধরে নিচ্ছেন তথাগত রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের প্রতিনিধি। এটা ঠিক নয়।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান শব্দটা সঠিক নয়। এটা ঔপনিবেশিক শক্তি ব্যবহার করে। তারা যাদেরকে শাসন করবে, তাদের শাসন করার জন্য আইন প্রণয়ন করা হয়। এটাকেই বলা হয় সংবিধান। কনস্টিটিউশনের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে গঠন। কনস্টিটিউশনের লিগ্যাল এবং পলিটিক্যাল অর্থ হচ্ছে যুগপৎ। আপনারা কনস্টিটিউশন শব্দটা বাদ দেওয়ার চেষ্টা করবেন। এটার ব্যবহার ইংরেজ আমল থেকে শুরু হয়েছে। আমি একটা আইন দেব, সে আইনের দ্বারা আমি শাসন করব। আপনি শাসিত এবং আমি শাসক। গণতন্ত্রে শাসিত এবং শাসক বলে কোনো পার্থক্য থাকতে পারে না। গণতন্ত্রে জনগণ নিজের শাসক। আইন এবং রাজনীতির সম্পর্ক আমরা বুঝি না বলে এবার গণঅভ্যুত্থানটা ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থ হওয়াটা জরুরি ছিল। যাতে আমরা টের পাই আমাদের অজ্ঞতা, আমাদের বেহুঁশ অবস্থা, এটা আমাদেরকে ভুল দিকে নিয়ে যাবে। আমরা বারবার সংস্কার সংস্কার বলছি। আপনি তো বাড়িই গঠন করেন নাই, সংস্কার কীভাবে করবেন?

ফরহাদ মজদার বলেন, ১৯৭২ সালে আপনি যাদের পাকিস্তানের গঠনতন্ত্র বানানোর জন্য ভোট দিয়েছেন, তারাই ফিরে এসে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন করল। তারা শাসন করতে যেটা চেয়েছে সেটাই করেছে। তারা সমাজতন্ত্র ঢুকিয়েছে, ধর্মনিরপেক্ষতা ঢুকিয়েছে। ওদের যে মতাদর্শ যেটাকে আমরা ফ্যাসিজম বলি। এটা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে এতটা বছর শাসন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ বুঝানোর চেষ্টা করেছে, আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ধারণ করেছি। অথচ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল সাম্য মানবিক মর্যাদা এবং ন্যায়বিচার।

তিনি বলেন, আপনি একটা গণঅভ্যুত্থান করেছেন। কোনো অভ্যুত্থানে কখনো শপথ করা লাগে না। আপনি যদি শহীদ মিনার বা রাজু ভাস্কর্যের সামনে শপথ গ্রহণ করতেন তাহলে যারা শহীদ হয়েছে, যারা পঙ্গু হয়েছে, তাদের যথার্থ মর্যাদা আপনিই দিতে পারতেন। যখনই আপনি বঙ্গভবনে ঢুকেছেন তখনই শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছেন। তারই কিন্তু কুফল প্রত্যেকটা দিন আপনারা দেখছেন। এর কুফল আপনারা আগামী দিনেও দেখতে পারবেন। এটা বারবার বিভিন্নভাবে আসবে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা সরকারের দুই একটা সংস্কার নিয়ে কথা বলছেন। এটা কিন্তু এখনকার আলোচনার বিষয় না। সরকারে আজকে একজন আছে আগামীকাল আরেকজন থাকবে। মূল বিষয়টা হচ্ছে রাষ্ট্র গঠন করা। আপনার এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করতে হবে, যেখানে রাষ্ট্রের মধ্যে আমরা প্রত্যেকেই এই রাষ্ট্রের অন্তর্গত। আমাদের অভিপ্রায়টা সার্বজনীন থাকতে হবে। আমরা এমন একটা রাষ্ট্র চাই যেটা আমাদের জীবন ও জীবিকা নিশ্চিত করবে। আমার জীবন ও ব্যক্তির স্বাধীনতা ও মর্যাদা হরণ করতে পারবে না। একটা গঠনতন্ত্র তৈরি করা খুব কঠিন কাজ না।

লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার। ছবি : সংগৃহীত
লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার। ছবি : সংগৃহীত



অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান

ফিলিস্তিনের গাজায় হামলার কবলে পড়েছেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হার্জি হালেভি।হামাসের কাসসাম ব্রিগেডের সেনারা তার ওপর ওই হামলা করে। সেখান থেকে অল্পের জন্য প্রাণ নিয়ে বেঁচে ফিরেছেন তিনি।

দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে নিজেদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করে যাচ্ছে গাজার স্বাধীনতাকামী সামরিক সংগঠন আল কাসসাম ব্রিগেড। কয়েক দিন আগেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিহত হয়েছেন আল কাসসাম ব্রিগেডের প্রতিষ্ঠাতা ও হামাসপ্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার। তারপরই যুদ্ধ আরও জোরদার করার ঘোষণা দেয় বাহিনীটি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের বরাতে ইরানি বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উত্তরের একটি এলাকায় হত্যা প্রচেষ্টা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন জেনারেল হালেভি। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেড গাজার উত্তরে একটি বাড়িতে হামলা চালায়। যেখানে হালেভির উপস্থিত থাকার কথা জানা গিয়েছিল। তবে হামলার সময় ওই বাড়ি থেকে নিরাপদে চলে যাওয়ায় অল্পের জন্য রক্ষা পান ইসরায়েলি সেনাপ্রধান।

একটি ইসরায়েলি সূত্র জানায়, হালেভি উত্তর গাজায় চলমান ইসরায়েলি সেনা অভিযান পরিদর্শন করছিলেন এবং খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। সেই সময়ে একটি বাড়ির ওপর অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তবে এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। 

গাজায় যুদ্ধরত ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। ছবি : সংগৃহীত
গাজায় যুদ্ধরত ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। ছবি : সংগৃহীত

দীপাবলিতে মিষ্টি বিতরন করলো ভারত-চীনের সেনা

পূর্ব লাদাখের ডেপসাং এবং দেমচোক থেকে শিবির সরানোর কাজ অনেকদিন থেকে শুরু করেছিল চীন। এছাড়াও লাদাখের বেশ কয়েকটি জায়গায় চীনা সেনা ঘাঁটি গেড়েছিল। ধীরে ধীরে সেগুলিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গালওয়ানে দুই দেশের সেনার সংঘর্ষের পর থেকে সীমান্তে যে সমস্যা বেড়েছিল তার জেরেই ভারত-চীন সম্পর্কে ফাটল ধরে। তবে সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিকস সামিটে যোগ দেওয়ার আগে থেকে এলএসি-তে সেনা প্রত্যাহার শুরু হয় চীনের। তখনই শোনা গিয়েছিল যে, সীমান্তে সম্ভবত দিওয়ালিতে চীন ও ভারতের সেনার মধ্যে মিষ্টি বিনিময় হবে। আর সেই মতো দিওয়ালির দিন সেই ছবি দেখা গেল লাদাখে । দুই দেশের জওয়ানরা মিষ্টি বিনিময় করেছেন পাঁচ জায়গায়। লাদাখের চুসুল মান্দো এবং দৌলত বেগ ওলদি, অরুণাচল প্রদেশের বাঞ্ছা, বুমলাহ এবং সিকিমের নাথুলা পাস সীমান্তে মিষ্টি বিনিময় করেছে ভারত-চীন সেনা। ২০২০ সালে গালওয়ানের সংঘর্ষের পর থেকে এই রীতি বন্ধ ছিল।

সূত্রের খবর, পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে সেনা প্রত্যাহারের পরই আজ, বৃহস্পতিবার থেকে দেমচক ও দেপসাং-এ স্বাভাবিক টহল শুরু করেছে ভারতীয় সেনা। ওপ্রান্তে চীনা সেনাও টহল দিচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বিগত চার বছর ধরে যে চাপান-উতোর চলছিল, তা কমার লক্ষ্যে এটি বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে। ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি ২১ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বলেছিলেন যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনার পরে ভারত ও চীনের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে এবং এটি ২০২০ সালে উদ্ভূত সমস্যাগুলির সমাধানের দিকে নিয়ে যাবে। আপাতত দিনের বেলাই পেট্রোলিং চলবে দেপস্যাং ও দেমচকে। রাতে পেট্রোলিংয়ের পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুই সংঘর্ষস্থল থেকে সেনা প্রত্যাহার সম্পূর্ণ হয়েছে। এরপর ভেরিফিকেশন বা যাচাই প্রক্রিয়া রয়েছে। তা শেষ হলে পেট্রোলিংয়ের যাবতীয় ব্যবস্থা ও সিদ্ধান্ত নেবেন গ্রাউন্ড কম্যান্ডাররা।

সূত্র : দা হিন্দু

mzamin

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন: ২৭০-এর জটিল হিসাব

গণিতের জটিল হিসাবের আবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। সেখানে কোন প্রার্থী মোট কতো ভোট পেলেন তা দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন না। নির্বাচিত হন ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট নামক এক ভোটের মাধ্যমে। পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ৫০টি রাজ্য মিলে মোট ইলেক্টোরাল ভোট আছে ৫৩৮টি। এর মধ্যে কোনো প্রার্থীকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে কমপক্ষে ২৭০টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পেতে হয়। সব রাজ্যে ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা এক না। জনসংখ্যার ভিত্তিতে এই ভোট বরাদ্দ। সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন হতে যাচ্ছে এবার যুক্তরাষ্ট্রে। ৫ই নভেম্বর নির্ধারিত হবে ডেমোক্রেট কমালা হ্যারিস নাকি রিপাবলিকান ডনাল্ড ট্রাম্পের হাতে উঠবে হোয়াইট হাউসের চাবি। আজকের দিন নিয়ে আর বাকি আছে চারদিন। এরপরই নভেম্বরের প্রথম মঙ্গলবার নির্বাচন। এই নির্বাচনে কিছু রাজ্য আছে, যেখানে কোনো একটি দলের সুনির্দিষ্ট ঘাঁটি। ফলে সেসব হিসাব আমলে না নিয়ে মাথায় ঢুকেছে ব্যাটলগ্রাউন্ড বা সুইং স্টেট বলে পরিচিত সাতটি রাজ্য। এই রাজ্যগুলো যেকোনো সময় যেকোনো প্রার্থীর দিকে ঘুরে যেতে পারে। কারণ, তারা সুনির্দিষ্ট কোনো দলের প্রতি অনুগত নয়। ভেবেচিন্তে যাকে পছন্দ হয়, তাকেই ভোট দেন ভোটাররা। মোট সাতটি সুইং স্টেটে ইলেক্টোরাল ভোট আছে ৯৩টি। এর মধ্যে পেনসিলভ্যানিয়ায়-১৯টি, জর্জিয়ায়-১৬টি, নর্থ ক্যারোলাইনায়- ১৬টি, মিশিগানে-১৫টি, অ্যারিজোনায়-১১টি, উইসকনসিনে-১০টি এবং নেভাদায় আছে ৬টি ভোট। এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন ডিসি সহ ১৯টি রাজ্য থেকে কমালা হ্যারিস কমপক্ষে ২২৬টি ইলেক্টোরাল ভোট পাবেন বলে প্রক্ষেপণে বলা হচ্ছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইলেক্টোরাল ভোট পেতে পারেন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ৫৪টি, নিউ ইয়র্ক থেকে ২৮টি এবং ইলিনয় থেকে ১৯টি। ফলে তাকে ২৭০ স্কোর করতে হলে আরও প্রয়োজন হবে ব্যাটলগ্রাউণ্ডের মোট ৯৩টি ভোট থেকে কমপক্ষে ৪৪টি। এক্ষেত্রে তিনি যদি পেনসিলভ্যানিয়াতে ১৯টি, জর্জিয়াতে ১৬টি এবং নর্থ ক্যারোলাইনার ১৬টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট নিশ্চিত করতে পারেন তাহলে তার ঘাটতি থাকা ৫১টি ভোট পূরণ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে তিনি ২৭০ ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন। কিন্তু ফাইভ থার্টি এইটের মতে, এই তিনটি রাজ্যেই তিনি ডনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে পিছিয়ে আছেন। গড় জরিপ অনুযায়ী তাদের ব্যবধান পেনসিলভ্যানিয়াতে খুবই কম। জর্জিয়া এবং নর্থ ক্যারোলাইনাতে এই ব্যবধান আর একটু বেশি। গাণিতিক হিসাবে ২৭০টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট নিশ্চিত করতে ডেমোক্রেট কমালা হ্যারিসের সামনে সম্ভাব্য বেশ কয়েকটি পথ আছে। তার মধ্যে ওই তিনটি ব্যাটলগ্রাউন্ড যদি তিনি জিততে পারেন তাহলে কেল্লাফতে। অথবা অন্য চারটি রাজ্যে যদি জয় নিশ্চিত করতে পারেন। ব্যাটলগ্রাউন্ডের ৫ বা তারও বেশি রাজ্য যদি কোনো প্রার্থী নিশ্চিত করতে পারেন তাহলে বিজয় তার সুনিশ্চিত।

অন্যদিকে ২৪টি রাজ্যে রিপাবলিকানদের ঘাঁটি আছে। সেখান থেকে ট্রাম্প কমপক্ষে ২১৯ ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পেতে পারেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট আছে টেক্সাসে ৪০টি, ফ্লোরিডায় ৩০টি এবং ওহাইওতে ১৭টি ভোট। ২৭০ নিশানায় পৌঁছতে হলে ব্যাটলগ্রাউন্ডের ৯৩টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট  থেকে ট্রাম্পের প্রয়োজন হবে কমপক্ষে ৫১ ভোট। ডেমোক্রেটদের মতোই তিনি যদি পেনসিলভ্যানিয়া (ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট ৯), জর্জিয়া (১৬) ও নর্থ ক্যারোলাইনার (১৬) ইলেক্টোরাল ভোট জয় করতে পারেন তাহলে তার জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পথ নিশ্চিত হতে পারে। জনমত জরিপ বলছে, এই তিনটি রাজ্যেই তিনি এগিয়ে আছেন। যদি রিপাবলিকানরা এই তিনটি রাজ্যের সবটাতে জিততে না পারে তাহলে ৭ ব্যাটলগ্রাউন্ডের মধ্যে কমপক্ষে চারটি রাজ্যে জয় নিশ্চিত করতে হবে।

যদি দুই দলের প্রার্থীর কেউই ২৭০ স্পর্শ করতে ব্যর্থ হন, অর্থাৎ দু’জনেই যদি ২৬৯ পর্যন্ত এসে থেমে যান তাহলে কী হবে? এক্ষেত্রে যেসব হিসাব সামনে আসতে পারে। তা হলো এখন ধারণা করা হচ্ছে ডেমোক্রেট প্রার্থী কমালা হ্যারিস ২২৬ ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট জিতবেন। যদি তাই হয় তাহলে কীভাবে দুই প্রার্থী ২৬৯ ভোট পেতে পাবেন সে হিসাবটা দেখে নেয়া যাক। কমালা ২২৬ ইলেক্টোরাল ভোট পাওয়ার পর তাকে জর্জিয়া (১৬), অ্যারিজোনা (১১), উইসকনসিন (১০) এবং নেভাদায় (৬) জয় পেতে হবে। তাহলেই ২২৬ + ৪৩ = ২৬৯ ইলেক্টোরাল ভোট নিশ্চিত হবে। অন্যদিকে রিপাবলিকান ট্রাম্প যদি তার নিশ্চিত ২১৯ ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পান তাহলে তাকে জিততে হবে পেনসিলভ্যানিয়া (১৯), নর্থ ক্যারোলাইনা (১৬) ও মিশিগানে (১৫)। ২১৯ এর সঙ্গে এই ৫০ যোগ হয়ে হবে ২৬৯।

অন্যভাবেও দুই প্রার্থী ২৬৯ ভোট পেতে পারেন। তার মধ্যে ডেমোক্রেট ২২৬ এর সঙ্গে জিততে হবে জর্জিয়া (১৬), নর্থ ক্যারোলাইনা (১৬) ও অ্যারিজোনা (১১)। তাহলেই কমালার ২৬৯ হয়ে যায়। অন্যদিকে ট্রাম্পের ২১৯ এর সঙ্গে জিততে হবে পেনসিলভ্যানিয়া (১৯), মিশিগান (১৫), উইসকনসিন (১০) ও নেভাদা (৬)।

এই হিসাব অন্যভাবেও হতে পারে- কমালাকে ২২৬ এর সঙ্গে জিততে হবে নর্থ ক্যারোলাইনা (১৬), অ্যারিজোনা (১১), উইসকনসিন (১০) এবং নেভাদা। অন্যদিকে ট্রাম্পকে ২১৯ এর সঙ্গে যোগ করতে হবে পেনসিলভ্যানিয়া (১৯), জর্জিয়া (১৬) এবং মিশিগান (১৫)।

যদি এমন ঘটনার অবতারণা হয় তখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আর ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের ওপর নির্ভর করবে না। তখন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেবেন কে হবেন প্রেসিডেন্ট। এক্ষেত্রে প্রতিনিধি পরিষদে প্রতিটি রাজ্যের প্রতিনিধি মিলে মাত্র একটি ভোট দিতে পারবেন। এভাবে ৫০টি রাজ্যের প্রতিনিধিরা ৫০টি ভোট দেবেন। তাতে যে প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাবেন অর্থাৎ ৫০-এর মধ্যে কমপক্ষে ২৬ ভোট পাবেন তাকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। তারপর ভাইস প্রেসিডেন্ট বাছাই করবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। এতে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন তিনি হবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট।  

mzamin

ফিলিস্তিনিদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েল

গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) অভিযানের সময় ফিলিস্তিনিদের 'মানব ঢাল' হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সঙ্গে এক সেনার সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পায়।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

সেনা সদস্যটি জানায়, সামরিক ইউনিটগুলো ফিলিস্তিনিদের সামনে রেখে বিপজ্জনক ভবনগুলোতে প্রবেশ করে তল্লাশি চালাচ্ছে, যা মানবিক নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক আইনকে লঙ্ঘন করে।

সেনাটি জানান, তাদের ইউনিটে দুইজন ফিলিস্তিনি তরুণকে আটক করে এবং সামনে রেখে বিপদজনক ভবনে প্রবেশ করে। এভাবে 'মানব ঢাল' ব্যবহার করে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। গাজায় অভিযানের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনিদের এমনভাবে ব্যবহারের বিষয়টি তার কাছে মানবতার প্রতি এক বড় অবিচার বলে মনে হয়েছে।

ওই সেনা আরও জানান, গাজার বিভিন্ন স্থানে—উত্তর গাজা, গাজা সিটি, খান ইউনিস ও রাফা এলাকায় ফিলিস্তিনিদের এভাবে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাঁচ ফিলিস্তিনি ভুক্তভোগীও একই অভিযোগ করেছেন। মানবাধিকার সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স, যা মূলত সামরিক বাহিনীর অনিয়ম প্রকাশে কাজ করে, তারা এই ঘটনাটি সিএনএনের সঙ্গে শেয়ার করেছে।

উল্লেখ্য, মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, কোনো দেশের সামরিক বাহিনী বেসামরিক মানুষকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে না। ২০০৫ সালে ইসরায়েলের হাইকোর্টও এই চর্চার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে গাজায় এই বিধিনিষেধ কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

সেনাটি আরও বলেন, ইসরায়েলি কমান্ডারদের কাছে তিনি মানব ঢাল ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু তাকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে ভাবার দরকার নেই। যুদ্ধক্ষেত্রে ইসরায়েলি সেনাদের জীবনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই অবস্থান বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বিগ্ন করেছে এবং মানবিক মূল্যবোধের ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

এদিকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিষয়টিকে মানবিকতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর এই নির্যাতন ও অবমাননা শুধু তাদের জীবনই বিপন্ন করছে না, বরং মানবাধিকারের নীতির ওপর বড় এক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক মানুষকে এভাবে ব্যবহার করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন, যেন অবিলম্বে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

আল জাজিরা টেলিভিশনে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় ইসরায়েলি সেনারা আটককৃত ফিলিস্তিনি জনগণকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। ছবি : আল-জাজিরা
আল জাজিরা টেলিভিশনে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় ইসরায়েলি সেনারা আটককৃত ফিলিস্তিনি জনগণকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। ছবি : আল-জাজিরা



যেন রুশ ফেব্রুয়ারি বিপ্লব by নাজমুস সাকিব

রাশিয়ার মতোই শ্রমিক, কৃষকসহ নিপীড়িত মানুষগুলোর জন্য রয়েছে শুধু মিষ্টি মিষ্টি কথা আর যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে সেই ছাত্রনেতারা পেয়েছে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, তারা পায় নাই স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, জনপ্রশাসনের মতো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এবার আশার কথা বলে শেষ করি, রাশিয়ার ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের মতো বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব পরবর্তীতে জনগণের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা অনেকগুণ বেড়েছে, রাজনৈতিক ইতিহাস, সাহিত্যের প্রতি মানুষের ব্যাপক আগ্রহ।

ইতিহাস কথা কয়। ইতিহাস রিপিট করে। কখনো কখনো ঘটনাসহ মিলে যায়। বাংলাদেশে সংঘটিত ২০২৪-এর জুলাই গণবিপ্লবের সঙ্গে ১৯১৭-এর রুশ ফেব্রুয়ারি বিপ্লব-এর বহুলাংশে মিল পাওয়া যায়, যদিও ফেব্রুয়ারি বিপ্লবকে অনুসরণ করেই আমাদের বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে ব্যাপারটা এমন নয়।
প্রথমে পরিষ্কার করি, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকে আমি শুধু বিপ্লব না, গণবিপ্লব বলছি, গণঅভ্যুত্থান তো না-ই। বদরুদ্দীন উমর-এর ভাষ্যানুযায়ী, এবারে জনগণের অংশগ্রহণের ব্যাপকতা ’৬৯ কিংবা ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের চেয়ে অনেক অনেক গুণ বেশি। আমরাও দেখেছি, আন্দোলনে দেশের সর্বস্তরের, সব অংশের বেশির ভাগ মানুষ, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, পেশাজীবী, ধনী, গরিব, এলিট, মধ্যবিত্ত নানাভাবে অংশগ্রহণ করেছে- রাজপথে কিংবা ফেসবুক, ইউটিউবসহ নানা মাধ্যমে।
সেনা-সমর্থিত ওয়ান ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের নীল-নকশার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে আওয়ামী লীগের জোট সরকার জনজীবনকে বিষিয়ে তুলতে থাকে। তারপর তথাকথিত ‘সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার নামে’ ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪-এর নিকৃষ্ট ৩টি নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তারা ষোলকলা পূর্ণ করে। সর্বস্তরের জনগণের ওপর চালায় অত্যাচারের স্টিমরোলার। উন্নয়নের নামে লুটপাটের মহাসাগর। মানুষ দম নিতে পর্যন্ত পারছিল না। ছাত্ররা কোটা সংস্কারের মতো ‘নির্বিষ’ আন্দোলনে জনগণের মন ছুঁয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ফ্যাসিস্টরা তো তা হতে দিবে না, লেলিয়ে দিলো ছাত্রলীগ, পুলিশ লীগ, বিজিবি লীগ। মার খেয়ে পরেই ছাত্ররা ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তুলে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের পাশে থেকে আশেপাশের শ্রমিকরা ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীদের পরাস্ত করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রলীগকে ঠেঙিয়ে বের করে দেয়া হয়। আপাত সফলতা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, হল ..ভ্যাকেট। পরবর্তীতে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে হত্যা, আরও লাশ, মানুষের বাসা বাড়ি পর্যন্ত নিরাপদ ছিল না, যেন ’৭১-এর ২৫শে মার্চের কালরাত। মানুষ সমস্ত ভয়কে জয় করে বুক পেতে দেয়, পিঠ নয়। ফ্যাসিস্ট সরকার দেখলো- “গুলি করি, মরে একটা। একটাই যায় স্যার। বাকিডি যায় না।”

সেই সমস্ত ‘সাংবিধানিক জুলুম, নিপীড়নের হিমালয় পবর্তমালা’ গুঁড়িয়ে দিয়েছে সর্বস্তরের জনগণ। ছাত্ররা নেতৃত্ব দিয়েছে। শ্রমিকরা বিপুলভাবে পাশে থেকেছে, নিহত-আহত হয়েছে প্রচুর; কারণ বিগত ১৬ বছর ধরে তারা অবিরত আন্দোলন করে গেছে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে, যদিও তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়নি তখন। এবার ছাত্রদের নেতৃত্বে তারাও আশার আলো দেখে। প্রকৃত গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অধিকারের জন্য সর্বস্তরের জনগণের আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী সরকারকে ক্ষমতা থেকে সফল উৎখাতের মধ্যদিয়ে প্রকৃতপক্ষে ‘গণতান্ত্রিক গণবিপ্লব’ সংঘটিত হয়।
এবার আমরা দেখবো রাশিয়ায় ১৯১৭ সালে কী ঘটেছিল।   বেশির ভাগ লোকজনই শুধু লেনিনদের নেতৃত্বাধীন অক্টোবর বিপ্লব (যেটা বর্তমান গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৭ই নভেম্বর বিপ্লব)-এর কথা জানেন। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে আরেকটা বিপ্লব সংঘটিত হয় রাশিয়ায় যা ‘ফেব্রুয়ারি বিপ্লব’ নামে পরিচিত।

রাশিয়ায় ছিল তখন রাজতন্ত্র, জারের শাসন। ১৯০৫ সালের ব্যর্থ বিপ্লবের পরও জার দ্বিতীয় নিকোলাস বাধ্য হয়ে দ্বিকক্ষীয় পার্লামেন্ট দেন, সেটা জারেরই নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল আর পার্লামেন্ট সদস্যরা নির্বাচিত হতো অপ্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। এ ছাড়াও জার ১৯০৬ সালে সংবিধান দেন নিজের গদি বাঁচাতে। যুদ্ধের ঘানি টানতে টানতে রাশিয়ার ত্রাহি অবস্থা।

পরবর্তীতে ১৯১৭ সালের দিকে রাশিয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে বিপর্যস্ত। খাদ্যের চরম ঘাটতি, দ্রব্যমূল্যের মারাত্মক ঊর্ধ্বগতি, মানুষের জীবনের নাভিশ্বাস। জানুয়ারি থেকে তৎকালীন রাজধানী সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের লাগোয়া শিল্পাঞ্চল পেত্রগ্রাদে ব্যাপক শ্রমিক ধর্মঘট। ২৩শে ফেব্রুয়ারি (বর্তমান ক্যালেন্ডারে ৮ই মার্চ) নারী দিবসকে কেন্দ্র করে সমাবেশ রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিক্ষোভে রূপ নেয়। পরের দিনগুলোতে বিক্ষোভের মাত্রা বাড়তে থাকে। লাখ লাখ শ্রমিক যোগ দেয় এবং জনতা-পুলিশ সংঘর্ষ বাধে। ২৬শে ফেব্রুয়ারি সাধারণ ধর্মঘট অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। শ্রমিকরা পুলিশ ও সেনাদের অস্ত্র কেড়ে নিতে থাকে, অন্যদিকে সেনাসদস্যরা জারের বিরুদ্ধে ক্ষেপে ছিল। ২৬ তারিখ সৈনিকরা শ্রমিকরা, বিশেষত নারী শ্রমিকদের ডাকে সাড়া দিয়ে উল্টো জারের পুলিশের ওপর গুলি চালায়। ২৭ তারিখ অস্ত্রাগার লুঠ করে সমস্ত শ্রমিক, শহরের প্রাণকেন্দ্রগুলো দখল করে বিদ্রোহী জনতা, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেয়, মন্ত্রীদের গ্রেপ্তার করে। ২৮শে ফেব্রুয়ারি জার সপরিবারে রাজধানী ছেড়ে পালায়, স্বৈরাচার উৎখাত হয়, গণতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয়, বিপ্লবের ঢেউ শহর থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন দলের সমন্বয়ে গঠিত হয় সাময়িক সরকার যা রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে ছিল শ্রমিক-কৃষক-সৈনিক প্রতিনিধিদের সোভিয়েত যারা দ্বৈত ক্ষমতার চর্চা করতে পারতো।

এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে খালি বাংলাদেশ বসিয়ে নিন, দেখবেন প্রায় সবই মিল পাবেন। অথচ যারা জুলাই বিপ্লবে অংশ নিয়েছেন তাদের বেশির ভাগই ফেব্রুয়ারি বিপ্লব সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এখানে ছাত্র-শ্রমিকসহ জনগণের সর্বস্তরের অংশ আন্দোলনে অংশ নিয়েছে বিপুলভাবে। আবার বিপ্লব পরবর্তীতে দেখা যাচ্ছে, অস্থায়ী সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নিয়েছিল, এমনকি আমলাদের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদগুলোও, বাংলাদেশে
রাজনৈতিক দলগুলো সরাসরি সরকারে থাকেনি, কিন্তু ঠিকই প্রশাসনিক পদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো ভাগাভাগি করে নিয়েছে, নিচ্ছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার মতোই শ্রমিক, কৃষকসহ নিপীড়িত মানুষগুলোর জন্য রয়েছে শুধু মিষ্টি মিষ্টি কথা আর যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে সেই ছাত্রনেতারা পেয়েছে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, তারা পায় নাই স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, জনপ্রশাসনের মতো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

এবার আশার কথা বলে শেষ করি, রাশিয়ার ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের মতো বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব পরবর্তীতে জনগণের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা অনেকগুণ বেড়েছে, রাজনৈতিক ইতিহাস, সাহিত্যের প্রতি মানুষের ব্যাপক আগ্রহ, বাগ্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি এসবই পরিষ্কার করে দিচ্ছে, বাংলার জুলাই আন্দোলন নিছক গণঅভ্যুত্থান নয়, এটা গণবিপ্লব।

mzamin

আগে ছাত্র সংসদ, পরে অন্য নির্বাচন

জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন করার আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র সংসদ কার্যকর করার পক্ষে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজও করছেন তারা। অচলায়তন ভেঙে ছাত্র সংসদ কার্যকর হলে শিক্ষাঙ্গণে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরবে বলে মনে করেন ছাত্রনেতারা। ছাত্র সংসদ কার্যকর না থাকায় নিজেদের দাবি-দাওয়ার বিষয় তুলে ধরার মতো শক্তিশালী প্ল্যাটফরম ছিল না এতদিন। আবার ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন নিপীড়ন চালাতো। হল দখল, টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, মাদকের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অপরাধের স্বর্গরাজ্যে রূপ দিয়েছিল তারা। তবে দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়েছে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর। এখন ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র সংগঠনের একচ্ছত্র আধিপত্য নেই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থীরা। এমতাবস্থায় শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরেছে ক্যাম্পাসগুলোতে। গত বুধবার সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, যেকোনো জাতীয় বা অন্য কোনো নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করবে। ছাত্রদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে আমাদের সর্বপ্রথম কর্তব্য। আমি মনে করি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করবে, যেকোনো জাতীয় বা অন্য কোন নির্বাচনের আগে। তিনি বলেন, ছাত্ররা দেশের ভালো চায় এবং দেশকে পুনর্গঠন করতে চায় এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তা তারা কামনা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররাজনীতি সংস্কার করার দাবি প্রবলভাবে উঠেছে। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলই সেটি অ্যাড্রেস করছে না। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের কথা রাজনৈতিক দলগুলো যতবার বলেছে, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের কথা তারা একবারের জন্যও বলিনি। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনটা কিন্তু ছাত্ররা শুরু করেছিল, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুরু করেছিল। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে আমাদের ভাবনা কী, রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা কী; সেই কথা কিন্তু কেউ বলছে না। ছাত্ররা নেতৃত্ব দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। মূলত ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই ছাত্র আন্দোলনকে কার্যকরের আলোচনা চলছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারেও ছাত্রদের প্রভাব রয়েছে। সরকারও চায় ছাত্র সংসদ কার্যকর হোক। সরকার গঠনের পর ছাত্রদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার এক বৈঠকেও বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে ছাত্ররা ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের মনোভাব জানতে চান। এ সময় শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয় সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নতুন প্রশাসনকে ছাত্র সংসদ কার্যকর করার ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রায় তিন দশক পর ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর আখতারুজ্জামানের প্রশাসন ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়। এরপর আবার অচলায়তন শুরু হয় ছাত্র সংসদ নিয়ে। আজ পর্যন্ত আর ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এ ছাড়াও দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজেও একই অবস্থা। সেখানে নির্বাচন নেই কয়েক দশক ধরে। তবে নতুন বাংলাদেশে ছাত্র সংসদ কার্যকরের দাবি জোরালো হচ্ছে। দলীয় লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে তারা। সেই ক্ষেত্রে ছাত্র সংসদ কার্যকর হওয়াকেই একমাত্র সমাধান মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। সরকারও ছাত্র সংসদ কার্যকর করতে আগ্রহী। এমতাবস্থায় ছাত্র আন্দোলন থেকে আসা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একজন উপদেষ্টা ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, সরকার জাতীয় ও অন্য কোনো নির্বাচনের আগে ছাত্র সংসদ কার্যকর করবে। এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি গুরুত্ব পেয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদ সম্প্রতি একটি জরিপ চালায় ছাত্ররাজনীতি নিয়ে। সেখানে ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করে দলীয় ছাত্ররাজনীতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে ৮৩ দশমিক ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে দলীয় ছাত্ররাজনীতিকে ‘একেবারেই নিষিদ্ধ’রূপে প্রত্যাশা করেছেন। সংস্কারকৃতরূপে বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় ছাত্ররাজনীতি প্রত্যাশা করেছেন মাত্র ১৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদ ৪টি সুপারিশ করে। যেখানে ডাকসু পুনরুজ্জীবিত ও সংস্কারেরও সুপারিশ করা হয়। শিক্ষার্থীরা মনে করে, ছাত্র সংসদ কার্যকর হলে তাদের অধিকার নিশ্চিত হবে। তাই এটি কার্যকরই একমাত্র পথ। এদিকে ২৯শে অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতর শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয় লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি বন্ধ করার দাবি ওঠে। সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন করার পরামর্শ দেয়া হয়। 
mzamin

নিয়ন্ত্রণহীন সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যান: অবৈধ দোকান ও মাদকের ছড়াছড়ি by মো. বোরহান উদ্দিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই ঐতিহাসিক সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যান। স্বাধীনতা সংগ্রামসহ জাতীয় জীবনের নানা ইতিহাস- ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে সুপরিসর এ নগর উদ্যানকে ঘিরে। শরীরচর্চা ও অবসর সময় কাটানোর সুন্দরতম স্থান। ঐতিহাসিক উদ্যানটিতে এখন গড়ে উঠেছে শতশত অবৈধ দোকান আর মাদকের রমরমা ব্যবসা। বিকাল গড়িয়ে রাত হতেই জমজমাট হয়ে ওঠে মাদকসেবীদের মিলনমেলা। পুরো উদ্যান যেন একদিকে বাজার, অন্যদিকে গাঁজার হাট। আর মাদকের মূল কেন্দ্র মুক্তমঞ্চ। আবার টিএসসি সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ শত শত খাবারের দোকান গড়ে ওঠায় ক্যাম্পাসে বেড়েছে বহিরাগতদের আড্ডা। একটা সময় উদ্যানের টিএসসি সংলগ্ন গেইটে ২০-৩০টি দোকান ছিল। কিন্তু ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে উদ্যান এলাকায় দোকান বেড়েছে কয়েকগুণ। সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ ২৬২টি দোকানের তালিকা করেছেন।

একটা সময় ছাত্রলীগের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকা এ এলাকা এখন নিয়ন্ত্রণ করে নতুন চাঁদাবাজ চক্র। চাঁদার বিনিময়ে অবৈধ এসব দোকান বসানো থেকে শুরু করে নিরাপত্তা দেয়ার কাজ করে নতুন চক্রটি। চক্রের সদস্যরা উদ্যানেই দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। বহিরাগত কেউ দোকান বসানোর সাহস করে না। তারা নতুন দোকানের জন্য জায়গা দখল করে রাখেন। চাঁদার বিনিময়ে নির্ভয়ে দোকান খোলার আশ্বাস দেন। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেন এবং প্রশাসনিক অভিযানের সময় ওপরমহলের মাধ্যমে পার পাওয়ার ব্যবস্থা করেন। চক্রটিকে নিয়ন্ত্রণ করছে অদৃশ্য ওপরমহল। চক্রের দু’জন হলেন- বাবু ও হৃদয়। যারা দীর্ঘদিন ধরেই ভাসমান হিসেবে উদ্যানের ক্যান্টিনে বসবাস করছেন। বাবুর নিজের তিনটি দোকান রয়েছে, অন্যদিকে হৃদয়ের ৫টি। আগে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের নিয়ন্ত্রণে ছিল এসব।

একইসঙ্গে উদ্যান এলাকায় মাদক ব্যবসা করছে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি চক্র। এদের মধ্যে অন্যতম পারুলী, রেখা, ফিরোজ, নাসু। চক্রটির অনেকে দিনে ফুল বিক্রি করলেও আড়ালে বিক্রি করেন গাঁজা। ফুল বিক্রিকে একটি সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করেন। দোকান থেকে চাঁদা আদায়কারী বাবু এবং হৃদয়ও জড়িত আছেন মাদক ব্যবসায়। উদ্যানের নির্মাণাধীন ৭টি ‘ফুড কিওস্ক’- ক্যান্টিনে তাদের বসবাস, এখান থেকেই পরিচালিত হয় তাদের ব্যবসা। গাঁজা থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি সকল ধরনের মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়। চক্রের সদস্য বাবু বলেন, মাদক ব্যবসার মূল শক্তি হলো প্রশাসন। প্রশাসনই তো আমাদেরকে শেল্টার দেয়। গাঁজা যত কেজি ইচ্ছা নিতে পারবেন। মদ নিতে হলে টাকা দিয়ে অর্ডার দিবেন সময়মতো পেয়ে যাবেন।

৫ই আগস্টের পর থেকে প্রকাশ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে মাদক সেবন ও ব্যবসা। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই পুরো উদ্যান জুড়েই চলতে থাকে মাদক সেবন যা রাত ১-২টা পর্যন্ত চলে। সন্ধ্যার পর থেকে মুক্তমঞ্চ, ছবির হাট লেক পাড়, টিএসসি সংলগ্ন গেট, কালীমন্দির গেট, মন্দিরের পাশের গেট, ভিআইপি গেট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের পিছনে এলাকগুলোতে প্রকাশ্যে মাদকদ্রব্য বিক্রি হতে দেখা যায়। চক্রাকারে ঘুরতে থাকেন ক্রেতারা। গাঁজা ‘পট’ হিসেবে বিক্রি হয়, প্রতি পটের দাম একশ’ টাকা। ১০ গ্রাম থেকে কয়েক কেজি পর্যন্ত নেয়া যায়। মাদকসেবীদের মধ্যে ছাত্র, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার লোকজন রয়েছেন। কয়েকশ’ মাদক সেবনকারীর জটলায় মুক্তমঞ্চ যেন রূপ নেয় গাঁজার আসরে।

জানা গেছে, উদ্যানে ঘুরতে আসা মানুষের ক্লান্তির অবসান, নাস্তা ও টয়লেট সুবিধার লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয় ‘ফুড কিওস্ক’ ক্যান্টিন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রজেক্টির কাজ করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। প্রজেক্টের কাজ আগামী বছরের জুন মাসে শেষ হলে ফুড কিওস্কগুলো লিজ দেয়া হবে। নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে হলেও পরিত্যক্ত হয়ে আছে ক্যান্টিগুলো, ফলে উদ্যানের ছিন্নমূল লোকেরা ক্যান্টিনগুলোতে বসবাস করছে। অন্যদিকে মুক্তমঞ্চটি তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উন্মুক্ত কার্যক্রমের জন্য। তবে কোন কর্তৃপক্ষ তা রক্ষণাবেক্ষণ করবেন তাও স্পষ্ট নয়। যদিও উন্নয়নকাজ করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। কিন্তু কখনো সরকারি এ দপ্তরের লোকজনকে তদারকি বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে দেখা যায় না।

উদ্যানের কেয়ারটেকার খোকন বলেন, আমরা যতবার উচ্ছেদ করি ততবার তারা দখল করে ফেলে। এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল। কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি যতক্ষণ পর্যন্ত ফুড কিওস্কগুলোকে লিজ দেয়া না হবে, এগুলো সুরক্ষিত থাকবে না। আমরা টাইল্স লাগিয়ে এলে পরেরদিনই আগুন ধরায় রান্না করার জন্য। অভিযান চালালে উদ্যানের পরিচিত মুখ ও ক্যাম্পাসের অনেকে বাধা দেয়।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার মুহাম্মদ আতিক বলেন, সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য হুমকি। গাঁজার গন্ধের জন্য উদ্যানে যাওয়া যায় না। ঢাকা শহরের মতো ব্যস্ততম জায়গায় উদ্যান খোলামেলা জায়গা হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সময় কাটাতে যায়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী কৌতূহলবশত বা বাধ্য হয়ে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। অনেক শিক্ষার্থী ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সাইফুদ্দীন আহমদ মানবজমিনকে বলেন, উদ্যানের বিষয়টি আমাদের স্মরণে আছে আমরা এটি নিয়ে মিটিং করছি। আমরা পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি দু’টি বিষয়ে। প্রথমত, তারা যেন উদ্যানের গেটটি বন্ধ করে দেন এবং উদ্যানের ভিতরে চলা অসামাজিক এবং বেআইনি কাজকর্ম বন্ধ করার জন্য যেন অভিযান চালায়। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ফোর্স পাঠিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এছাড়াও আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ভলান্টিয়ার নেবো যারা উদ্যানের গেটে থাকবে।
সম্প্রতি সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। কয়েকজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর মানবজমিনকে বলেন, আমরা প্রতিনিয়তই মাদক উদ্ধার করে মামলা দিচ্ছি। শাহবাগে লাগাতার আন্দোলন ও রাজনৈতিক মামলাগুলোর ফলে উদ্যানের দিকে মনোযোগ দিতে পারিনি। আমরা অতিদ্রুত বড় আকারে অভিযান পরিচালনা করবো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মিটিংয়ের জন্য কল করেছে, শিগগিরই আমরা মিটিংয়ে বসবো। কমিশনার স্যার একটা টিম গঠন করে দেবেন, এরপরেই আমরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবো।

mzamin

উইসকনসিনে কমালা-ট্রাম্পকে ভোট দিলেন প্রায় ৬০ মিলিয়ন আমেরিকান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আসতে আর এক সপ্তাহও বাকি নেই। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনী ডেটা অনুসারে, ৫৭.৫ মিলিয়নেরও বেশি আমেরিকান ইতিমধ্যে ভোট দিয়েছেন। সংখ্যাটি ২০২০ সালের নির্বাচনের জন্য মোট ভোটদানের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি প্রতিনিধিত্ব করে, এর অর্থ কী তা বলা কঠিন, কারণ ২০২০ কোভিড মহামারির কারণে প্রচুর সংখ্যক মেইলে ভোট হয়েছিল। তবে কিছু রাজ্যে ভোটদান ইঙ্গিত দেয় যে সমর্থকদের তাড়াতাড়ি ভোট দেওয়ার জন্য রিপাবলিকানদের আবেদন কাজ করছে।

রিপাবলিকান পার্টির সমর্থকদের সম্প্রতি ‘আবর্জনা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। পাল্টা জবাব দিতে বুধবার একটি আবর্জনাবাহী ট্রাকে বসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন আসন্ন মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘আবর্জনা’ শব্দটি নিয়ে গত রোববার হইচই শুরু হয়। সেদিন নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ট্রাম্পের সমাবেশে তার একজন মিত্র মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেওয়ার সময় ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপপুঞ্জ পুয়ের্তো রিকোকে ‘আবর্জনার ভাসমান দ্বীপ’ বলেছিলেন। এমন বক্তব্যের পর প্রাথমিকভাবে রিপাবলিকান প্রচার শিবির বিষয়টি নিয়ে রক্ষণাত্মক অবস্থানে ছিল। কিন্তু এ নিয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মন্তব্যের পর ট্রাম্প বিষয়টি লুফে নেন এবং রাজনীতির খেলা শুরু করেন। তিনি দেখাতে চাইছেন, তিনি ও তার সমর্থকেরাই বরং প্রতিপক্ষের কটু মন্তব্যের শিকার হয়েছেন।

এদিকে উইসকনসিনে কমলা হ্যারিস প্রথমবারের মতো ভোটারদের কাছে আবেদন করে বলেছিলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বন্দুক নিয়ন্ত্রণ ও গর্ভপাত অ্যাক্সেসের সমস্যাগুলো রাজনৈতিক নয়। এটি আপনার জীবিত অভিজ্ঞতা। এদিকে সিএনএন-এর জরিপে রাজ্যে ট্রাম্পের চেয়ে তাকে ছয় পয়েন্ট এগিয়ে দেখানোর পরপরই তিনি কথা বলছিলেন। হ্যারিস পেনসিলভানিয়া রাজ্যের রাজধানী হ্যারিসবার্গেও নিজের বক্তব্য রেখেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাক্তন রিপাবলিকান গভর্নর আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার ঘোষণা করেছেন যে তিনি আগাম নির্বাচনে হ্যারিসকে সমর্থন করছেন।

গার্ডিয়ানের কাছে ভার্মন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের বিষয়ে বাইডেনের প্রশাসনের অবস্থানের কারণে হ্যারিসকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে প্রগতিশীলদের উদ্বেগের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি বুঝি যে লাখ লাখ আমেরিকান যারা গাজার ভয়ানক যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা জো বাইডেনের ও কমালা হ্যারিসের সঙ্গে একমত নন। আমিও তাদের একজন। এই ইস্যুতে ডনাল্ড ট্রাম্প এবং তার ডানপন্থী সমর্থকদের অবস্থান আরো  খারাপ।

তার গ্রীন বে সমাবেশের আগে তার ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন সমাবেশে পুয়ের্তো রিকো সম্পর্কে ‘আবর্জনার ভাসমান দ্বীপ’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার পেনসিলভানিয়ার একজন বিচারক ট্রাম্পের প্রচারণার পক্ষে ছিলেন এবং ফিলাডেলফিয়ায় ব্যক্তিগত ভোট দেয়ার বিকল্প প্রদান করতে সম্মত হন, যেখানে চূড়ান্ত দিনে দীর্ঘ লাইনের কারণে একটি অপ্রস্তুত নির্বাচনী অফিসের দ্বারা ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছিলো বলে  অভিযোগ উঠেছে।

হাউসের স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, আগামী মঙ্গলবার ট্রাম্প জয়ী ওবামাকেয়ারের মতো বাতিল স্বাস্থ্যসেবাসহ একাধিক ক্ষেত্রে ‘ব্যাপক’ পরিবর্তন আসবে। স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার এজেন্ডার একটি বড় অংশ হতে চলেছে বলে উল্লেখ করেছেন জনসন।

প্রাক্তন রিপাবলিকান কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে ম্যাডিসন কাউন্টি ও ইন্ডিয়ানার একটি ভোটিং সিস্টেম পরীক্ষার সময় ব্যালট চুরি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ইন্ডিয়ানা রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, ৩ অক্টোবর চারটি ভোটিং মেশিন এবং ১৩৬টি প্রার্থীর ব্যালট পরীক্ষার সময় অফিসাররা আবিষ্কার করেন যে দু’টি ব্যালট অনুপস্থিত ছিল। সুইং স্টেটের বেশিরভাগ ভোটার বিশ্বাস করেন না যে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে গেলে সহজেই পরাজয় মেনে নেবেন। বরং তারা বিশ্বাস করেন ক্ষমতায় আসতে তিনি সহিংসতার আশ্রয় নিতে পারেন। দক্ষিণ-পশ্চিম ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা একটি ব্যালট বাক্স থেকে প্রায় ৫০০ টি  ক্ষতিগ্রস্ত ব্যালট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন যা সোমবার আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।

ওয়াশিংটনের ভ্যাঙ্কুভারে কেউ একটি ড্রপ বক্সে অগ্নিসংযোগকারী ডিভাইস রাখলে ব্যালটগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। ওরেগনের পোর্টল্যান্ডেও একটি বাক্সে আগুনের কারণে তিনটি ব্যালট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটিকে নির্বাচনী কর্মকর্তারা গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

mzamin