Wednesday, August 17, 2011

দেশকে মুক্ত করার আহ্বান গাদ্দাফির

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি দেশকে ‘ন্যাটো ও বিশ্বাসঘাতকদের’ কাছ থকে মুক্ত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল টেলিফোনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা ভাষণে গাদ্দাফি এ আহ্বান জানান।
ভাষণে গাদ্দাফি বলেন, লিবিয়ার মানুষ টিকে থাকবে এবং ফাতেহ বিপ্লব টিকে থাকবে। লিবিয়ার জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এগিয়ে যান, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন, হাতে অস্ত্র তুলে নিন এবং বিশ্বাসঘাতক ও ন্যাটোর কাছ থেকে লিবিয়ার ভূখণ্ডকে স্বাধীন করতে লড়াই করুন।’ লিবীয় নেতা বলেন, ‘শহীদদের রক্তই যুদ্ধক্ষেত্রের জ্বালানি’।
এদিকে বিদ্রোহীরা রাজধানী ত্রিপোলির পশ্চিমাঞ্চলীয় জাওয়িইয়াহ শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে। বিদ্রোহীদের কমান্ডার আবদুল হামিদ ইসমাইল বলেন, ‘মূলত ওই শহরের অধিকাংশ এলাকাই আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

নেপালে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান প্রেসিডেন্টের

নেপালের প্রেসিডেন্ট রামবরণ যাদব গতকাল সোমবার জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী ঝালানাথ খানালের পদত্যাগের পর দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে।
প্রেসিডেন্টের সচিব বামন প্রসাদ নিউপানে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, অন্তর্বর্তী সংবিধানের ভিত্তিতে দলগুলোকে যাদব জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। এ জন্য তাদের আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ঝালানাথ খানাল নতুন সংবিধানের খসড়া ও শান্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে না পেরে রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে গত রোববার সন্ধ্যায় পদত্যাগ করেন। ঝালানাথ খানাল গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

দরপতন দিয়ে শেয়ারবাজারে আরেকটি সপ্তাহ শুরু

দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন দিয়েই নতুন আরেকটি সপ্তাহ শুরু হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম দিনে দুই বাজারে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও।
শেয়ারের দাম ও সূচকের ঊর্ধ্বগতি দিয়ে বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষ হয়েছিল। কিন্তু নতুন সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই সেই ধারা ফের বিপরীত রূপ নেয়। বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে এমন ধারা বিরাজ করছে। একদিন ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরলেও পরদিনই তাতে ছন্দপতন ঘটছে। এ অবস্থায় অনেক বিনিয়োগকারী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গতকাল রোববার শেয়ারের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দিনের লেনদেন শুরু হয়। তবে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ায় তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি।
গতকাল ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচকের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন অবস্থানের মধ্যকার ব্যবধান ছিল প্রায় ৯৭ পয়েন্টের। দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৪১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ১৭২-এ। সূচকের পাশাপাশি শেয়ারের দাম ও লেনদেন দুই-ই কমেছে।
গতকাল ঢাকার বাজারে ২৫১ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৮৪টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ৬০টির শেয়ারের দাম।
রোববার ডিএসইতে ৪৪০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৯৬ কোটি টাকা কম।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৯০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৬৪৭ পয়েন্টে। গতকাল সিএসইতে মোট ১৮০টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৪২টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ৩৪টির শেয়ারের দাম।
দিনশেষে চট্টগ্রামের বাজারে ৪৯ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১১ কোটি টাকা কম।

দেহ ও মনের সংযম সাধনাই রোজা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম হচ্ছে মাহে রমজানের রোজাব্রত পালন বা সংযম সাধনা। মানুষের দেহ ও মনকে সংযমের শাসনে রেখে ইসলামি শরিয়ত বা জীবনবিধানের পরিপন্থী যাবতীয় অসামাজিক ও অমানবিক কাজ পরিহার করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ ও তাকওয়া অর্জনের কঠোর সিয়াম সাধনাই মাহে রমজানের মূলকথা। রোজার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল লাভ করার অন্যতম শর্ত হলো, হালাল বস্তু দ্বারা আহার করা। পক্ষান্তরে হারাম বস্তু খেয়ে রোজা রাখলে এতে নফেসর পাশবিকতা অবদমিত হওয়ার পরিবর্তে তা আরও উত্তেজিত হয়ে উঠবে। সিয়াম পালনের মধ্য দিয়ে মানুষের ইচ্ছাশক্তির বিকাশ, সংযম ও আত্মোন্নয়ন ঘটে।
রোজা অর্থ আত্মসংযম। মিথ্যাচারিতা, আজেবাজে, অহেতুক কথা বলা, চোখের গিবত এবং কটুবাক্য থেকে জিহ্বাকে সংযত রাখা, প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের হেফাজত করা এবং হারাম মাল না খাওয়া—সর্বক্ষেত্রেই সংযত হওয়া বাঞ্ছনীয়। রমজান মাসে রোজা প্রকৃতই রোজাদারদের হাত, পা, মুখ ও অন্তঃকরণকে সংযত করে। সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তিদের রোজা চক্ষু, কান, জিহ্বা, হাত, পা এবং দৈহিক সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে যাবতীয় গুনাহের কাজ থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে অর্জিত হয়। যেমন—চোখকে অবৈধ দৃষ্টিপাত থেকে ফিরিয়ে রাখা। এ সম্পর্কে মহানবী (সা.) বাণী প্রদান করেছেন যে, ‘মন্দ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করা শয়তানের একটি বিষমিশ্রিত তীর।’ যে আল্লাহর ভয়ে এটা বর্জন করে, আল্লাহ তাআলা তাকে ঈমানের এমন নূর প্রদান করেন, যার আস্বাদন সে অন্তরে অনুভব করে।
দেহকে আত্মনিয়ন্ত্রণে আনতে হলে দৈহিক প্রেরণাকে সংযত করতে হয়। আত্মিক শক্তিকে সমৃদ্ধ করতে হয়। দৈহিক কামনা-বাসনাকে সংযত করার জন্য একদিকে ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্ট সহ্য ও রিপুর তাড়নাকে পরিত্যাগ করতে হয়, অন্যদিকে জিহ্বা ও মনের চাহিদা এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এভাবে দৈহিক আকাঙ্ক্ষা ও প্রেরণাকে যত সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, অন্য কোনোভাবে তা সম্ভব নয়। তাই হারাম জিনিস দেখা, নিষিদ্ধ কথা শ্রবণ করা ও হারাম কাজ সম্পাদন করা প্রভৃতি থেকে নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে অবশ্যই বিরত রাখা উচিত। তবেই রোজার স্বাদ অনুভূত হবে এবং রোজাও প্রাণবন্ত হবে। মাহে রমজানে ত্যাগ ও সংযম সাধনার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পাঁচটি বিষয় রোজাদারের রোজা বিনষ্ট করে দেয়—মিথ্যা বলা, কূটনামি করা, পশ্চাতে পরনিন্দা করা, মিথ্যা শপথ করা এবং খারাপ দৃষ্টিতে তাকানো।’
মাহে রমজান হলো সংযম সাধনার একটি সুবর্ণ সুযোগের মাস। আর নিরলস সাধনা হলো নিজের বিরুদ্ধে, নফ্স, রিপু ও লালিত কামনা-বাসনার বিরুদ্ধে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রকৃত মুজাহিদ তো সে-ই, যে তার নিজের নফ্স ও রিপুর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে।’ (মুসনাদে আহমাদ) রোজাব্রত পালন বা সিয়াম সাধনার বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, অনর্থক কথাবার্তা, মিথ্যাচার, পরনিন্দা, গিবত, কটুবাক্য ব্যবহার প্রভৃতি গর্হিত কাজ থেকে জিহ্বাকে সংযম অবস্থায় রাখতে হবে। তাই নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ! তোমাদের কেউ যখন রোজা রাখে, তখন যেন মুখ দিয়ে অশ্লীল ও খারাপ কথা না বলে; কেউ তার সঙ্গে ঝগড়া করলে অথবা গালি দিলে সে যেন বলে—আমি রোজাদার।’ (বুখারি)
রোজাদারকে কু-কথা শ্রবণ করা থেকে নিজের কানকে বিরত রেখে সাধনা করতে হবে। কেননা, যেসব কথা বলা হারাম, সেগুলো শ্রবণ করাও হারাম। এ কারণেই মিথ্যা শ্রবণকারী ও হারাম ভক্ষণকারীদের পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘গিবতকারী ও শ্রবণকারী উভয়েই গুনাহের অংশীদার।’ সুতরাং রমজান মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকা, রুটিনমাফিক উপবাস করা, মসজিদে যাওয়া, তারাবির নামাজ পড়া, ইফতার আর সেহির খাওয়াতেই রোজাব্রত পালন সম্পন্ন হয় না; এর সঙ্গে রোজাদার ব্যক্তির দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সংযম সাধনা করা বাঞ্ছনীয়।
মাহে রমজানে রোজাদারদের চোখকে খারাপ জিনিস দেখা থেকে বিরত রাখতে হবে। হাতকে চুরি, ডাকাতি, ঘুষ-দুর্নীতি, ছিনতাই, রাহাজানি, খুন-খারাবি, ধর্ষণ, অপহরণ, মজুদদারি, চোরাকারবারিসহ সব ধরনের অবৈধ কাজকর্ম থেকে বা হারাম খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে হবে। কানকে নিষিদ্ধ কোনো কিছু শোনা থেকে মুক্ত রাখতে হবে। মনকে কামনা-বাসনা, হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-লালসামুক্ত রেখে মৃত্যু ও পরকালীন হিসাব-নিকাশের কথা সর্বদা স্মরণে রেখে আল্লাহভীতি বা তাকওয়া অর্জনে উন্মুখ হতে হবে।
মানুষের মধ্যে যেসব কুপ্রবৃত্তি রয়েছে, তা মানুষকে অন্যায়-অত্যাচার ও পাপাচারে লিপ্ত হতে উদ্বুদ্ধ করে থাকে। মাহে রমজানের রোজার উদ্দেশ্য হচ্ছে পশু প্রবৃত্তিকে দমন করা এবং ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান হওয়া। বছরের ১১ মাস প্রচুর খাওয়ার পর রমজানের এক মাস কিছুটা কম খেয়ে সংযম সাধনা করলে তেমন অসুবিধা হয় না। যার ইন্দ্রিয় তৃষ্ণা প্রবল, তাকে রোজা রাখার জন্য উপদেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ১২ মাসের মধ্যে একটি মাস ইন্দ্রিয় সংযমের জন্য রোজা পালনের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি নিশ্চয়ই মানুষের মঙ্গলের জন্যই সিয়াম সাধনাকে শরিয়তের বিধান হিসেবে নির্ধারিত করেছেন।
রোজা মানুষকে সংযমী মনোভাব গড়ে তোলার অতুলনীয় শিক্ষা দেয়। সংযত ও নিষ্ঠাবান হওয়ার যে মহান শিক্ষা মাহে রমজানে রয়েছে, আমরা যেন ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি, যার ওপর নির্ভর করবে প্রকৃত রোজাদারদের সংযম সাধনা।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নেই মনোযোগী হতে হবে

আগস্ট মাসটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে শোকের মাসে পরিণত হয়েছে আজকের এই দিনটির জন্য। বাংলাদেশ নামে যে রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে একাত্তরে, তার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এ দিনটিতে প্রাণ দিতে হয়েছে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে। অথচ পুরো জীবনই তিনি উৎসর্গ করেছেন এ দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের জন্য। আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীনতাকে সম্ভব করে তুলেছিলেন।সেদিন ঘাতকচক্র তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও রেহাই দেয়নি। দুই মেয়ে শেখ হাসিনা (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান। পঁচাত্তরের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের এ দিনটি আজ জাতীয় শোক দিবস।
একাত্তরে বাংলাদেশের যে স্বাধীনতা এসেছে, তার প্রস্তুতিটা শুরু হয়েছিল সেই ’৪৮ সাল থেকেই। ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যে নয়া উপনিবেশ, সেটা বুঝতে এ দেশবাসীর সময় লাগেনি। বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারিতে বাঙালি জীবন দিয়েযে আন্দোলনের সূচনা করেছিল, বাষট্টির ছাত্র-আন্দোলন,ছেষট্টির ছয় দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তা বেগবান হয়। এরপর ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পথ ধরেশেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একাত্তরের মার্চে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’—এমন বজ্র ঘোষণার পর বাঙালিকে ঠেকানোর সাধ্য যে আর কোনো শক্তির ছিল না, তার প্রমাণ মিলেছে এ দেশের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে ব্রতী হন, তখনই তাঁর বিরুদ্ধে নানা চক্রান্ত চলতে থাকে। পনেরোই আগস্টের হত্যাকাণ্ড ছিল সেই চক্রান্তের চূড়ান্ত পর্যায়। এরপর দীর্ঘদিন দেশের ওপর জেঁকে বসেছে সেনাশাসন, ক্ষতবিক্ষত হয় সাংবিধানিক শাসন। সবচেয়ে দুঃখজনক যে হত্যাকারীদের বিচার করা যাবে না, এমন একটি কলঙ্কিত আইনও জারি করা হয়েছিল। বিলম্বে হলেও আমরা সেই কলঙ্ক থেকে মুক্তি পেয়েছি। ইতিহাসের জঘন্যতম এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে, বিচারের রায়ও আংশিক কার্যকর হয়েছে। এখনো যারা পলাতক রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি কার্যকর করার মধ্য দিয়ে এই পর্ব শেষ হোক—সেটাই সবার প্রত্যাশা।
আজ জাতীয় শোক দিবসের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি এই মহান নেতাকে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তবে আমরা মনে করি, তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর বড় উপায় হচ্ছে, যে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন তা বাস্তব রূপ দেওয়া। স্বপ্নটি হলো, এমন একটি দেশ গড়ে তোলা, যেখানে সব মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা পাবে; দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটবে। সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই সে কাজটি করা সম্ভব। বঙ্গবন্ধু তাঁর কাজ করে গেছেন, এখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত তাঁর দল আওয়ামী লীগের দায়িত্ব তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া, গণমানুষের কল্যাণে ব্রতী হওয়া।
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের ঘটনায় নিহত সবার প্রতি রইল আমাদের গভীর শ্রদ্ধা।

দ্বিতীয় কেমো নিয়ে দেশে ফিরেছেন চাভেজ

কিউবায় কেমোথেরাপি শেষে দেশে ফিরেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ। গতকাল রোববার পত্রিকার খবরে এ কথা বলা হয়।
খবরে বলা হয়, শনিবার রাতে কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো ভেনেজুয়েলার নেতা হুগো চাভেজকে বিমানবন্দরে বিদায় জানান।
ক্যানসারের কোষবাহী টিউমার অপসারণের জন্য গত ২০ জুন কিউবায় হুগো চাভেজের (৫৭) শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়।
অস্ত্রোপচারের পর চাভেজ দেশে ফিরে আসেন। এরপর প্রথম পর্যায়ের কেমোথেরাপি নিতে গত ১৬ জুলাই এক সপ্তাহের জন্য তিনি হাভানা যান।
কেমোথেরাপির জন্য গত ৬ আগস্ট আবারও কিউবা যান হুগো চাভেজ। গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, দ্বিতীয় পর্যায়ের কেমোথেরাপি ভালোভাবেই হয়েছে।

সিরিয়ায় দমন অভিযান বন্ধের দাবি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের

সিরিয়ায় সরকারবিরোধীদের ওপর নির্মম দমন অভিযান অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব। নিজেদের মধ্যে পৃথক টেলিফোন আলাপের সময় গত শনিবার ওই তিন দেশের সরকারপ্রধানেরা এ দাবি জানিয়েছেন। সংস্কারপন্থী আন্দোলন দমাতে সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর অব্যাহত অভিযানে গতকাল রোববার আরও ২৩ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, টেলিফোন আলাপের সময় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহ সিরিয়ায় বেসামরিক মানুষের ওপর সরকারি বাহিনীর হামলায় যৌথভাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা উভয়ই সম্মত হন যে সরকারের দমন-পীড়ন অবশ্যই অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার।
পৃথক এক টেলিফোন আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ওবামা ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সিরিয়ার চলমান রক্তপাত অবিলম্বে বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে একমত হন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সিরিয়ায় সরকারি দমন-পীড়নের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দুই নেতা বলেন, দেশটির জনগণের গণতন্ত্রে উত্তরণের বৈধ দাবি অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর বিশেষ করে চলতি রমজান মাসে সরকারের ‘বর্বরোচিত দমনাভিযানে’ দুই নেতা আতঙ্ক প্রকাশ করেন।
সিরিয়ায় মানবিক পরিস্থিতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে আগামী বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে সিরিয়ায় সরকারি বাহিনীর অভিযানে গতকাল লাতাকিয়া শহরে আরও ২৩ জন নিহত হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এ খবর জানিয়ে বলেছে, দমন-পীড়ন বন্ধে বিশ্বনেতাদের আহ্বান সত্ত্বেও নিরাপত্তা বাহিনী গতকাল দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনটি জানায়, যুদ্ধজাহাজ থেকে ভূমধ্যসাগর-তীরবর্তী লাতাকিয়া শহরে আক্রমণ চালানো হচ্ছে এবং সেখানকার বেশ কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ছাড়া সেনাসদস্যরা গাড়ি নিয়ে শহরে প্রবেশ করে ব্যাপক গোলাবর্ষণ করেন। এতে মোট ২৩ জন নিহত ছাড়াও ২৫ জন গুরুতর আহত হয়েছে।
এ ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনী রাজধানী দামেস্কের উপকণ্ঠের সাকবা ও হামরিয়া এলাকায় শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে অনেককে গ্রেপ্তার করেছে। সেখানকার টেলিফোন লাইন ও ইন্টারনেট সংযোগসহ সব ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে বলে জানায় মানবাধিকার সংগঠনটি।

পাকিস্তানে বোমা ও রকেট হামলায় নিহত ১৫

পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে গতকাল রোববার বোমা ও রকেট হামলা এবং বন্দুকধারীদের গুলিতে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের ডেরা আল্লাহ ইয়ার শহরের একটি রেস্তোরাঁর পাশে রাস্তায় পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে ১১ জন বেসামরিক লোক নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছেন।
জেলা পুলিশপ্রধান জাভেদ গারশিন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ওই ঘটনার পর রেস্তোরাঁর ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পাকিস্তানের ৬৪তম স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন করতে এসে তাঁরা এ বোমা হামলার শিকার হন। তবে এ হামলার দায়ভার কেউ স্বীকার করেনি।
একই প্রদেশের খুজদার শহরে বন্দুকধারীদের গুলিতে স্থানীয় এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ওই সাংবাদিকের নাম মুনির নূর। তিনি ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি অনলাইন বার্তা সংস্থায় কাজ করতেন।
এদিকে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মিরানশাহ শহরে স্বাধীনতা দিবসের সমাবেশে চারটি রকেট হামলায় কমপক্ষে তিনজন আধাসামরিক সেনা নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন। এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ কথা জানান। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর।

আফগানিস্তানে জঙ্গি হামলা, নিহত ১৯

আফগানিস্তানের পারওয়ান প্রদেশের গভর্নরের ভবনে তালেবান জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলা ও গুলিবর্ষণে ১৯ জন নিহত ও অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। কাবুল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রাদেশিক রাজধানী চারিকার শহরে গতকাল রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
পারওয়ানের গভর্নর আবদুল বাসির সালাঙ্গি স্থানীয় একটি টেলিভিশনকে বলেন, বন্দুকযুদ্ধ ও আত্মঘাতী বোমা হামলার সময় তিনি প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। গভর্নর ছাড়াও ওই ভবনে প্রাদেশিক সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তার কার্যালয় রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সিদ্দিক সিদ্দিকি বলেন, ওই হামলায় বেসামরিক ১৪ নাগরিক ও পুলিশের পাঁচজন সদস্য নিহত হন। তিনি আরও বলেন, প্রথমে একটি আত্মঘাতী গাড়িবোমা ওই ভবনের প্রবেশপথে উচ্চশব্দে বিস্ফোরিত হয়। এরপর হামলাকারীরা গুলিবর্ষণ শুরু করলে নিরাপত্তারক্ষীরা নিহত হয়।
পারওয়ান প্রদেশের পুলিশপ্রধান শের মোহাম্মদ মালাদানি বলেন, বোমা হামলাকারী পাঁচজন সদস্য গভর্নরের ভবনে ঢুকে পড়ে এবং গুলিবর্ষণ শুরু করে। ওই ভবনে মোট পাঁচটি বিস্ফোরণ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুজন সামরিক কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছেন। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ওই হামলা চলে।
এদিকে গতকালের ওই হামলার দায় স্বীকার করে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আত্মঘাতী ও ধার্মিক যোদ্ধারা ওই হামলা করে।
তালেবান যোদ্ধারা ১০ বছর ধরে পশ্চিমা-সমর্থিত সরকার ও এক লাখ ৪০ হাজার মার্কিন সেনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিচ্ছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী ২০১৪ সালের শেষদিকে আফগানিস্তান ছেড়ে যাবে এবং আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে।

১৪ জনের মৃত্যু, পানিবন্দী ১৬ লাখ মানুষ

পশ্চিমবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রাজ্যের ১৯টি জেলার মধ্যে ১৫টি জেলাই এখন বন্যাকবলিত। ইতিমধ্যেই বন্যায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের সব নদীর পানিই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। বন্যায় ডুবে গেছে বহু জনপদ, রাস্তাঘাট, ফসলের খেত। ভেঙে গেছে বহু কাঁচাবাড়ি। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় বন্যার্ত মানুষের জন্য আশ্রয়শিবির খুলেছে। বন্যার্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণও শুরু হয়েছে ।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্যের ১৫টি জেলার ১৭১টি ব্লক এবং ৫২টি পৌরসভায় বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত হয়েছে ১৬ লাখ মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় দামোদার ভ্যালি করপোরেশন এবং দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ছাড়া হচ্ছে পানি।
এদিকে বন্যাকবলিত ১৫ হাজার মানুষকে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে ত্রাণশিবিরে। উত্তর চব্বিশ পরগনায় ১০০, মালদহে পাঁচ, বর্ধমানে তিন, মুর্শিদাবাদ ও হাওড়ায় দুটি করে ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে বামফ্রন্ট রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানালেও রাজ্য সরকার বলেছে, সেই পরিস্থিতি এখনো আসেনি।

গোটা ভারতে নিরাপত্তা জোরদার

আজ ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস। এই দিনটি ঘিরে গোটা ভারতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানী দিল্লিকে ঢেকে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তার চাদরে। সাধারণত স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে ভারতের বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন নাশকতা ঘটানোর চেষ্টা চালায়। এবার অবশ্য স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো নাশকতার ঘটনা ঘটেনি।
স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে কলকাতায়ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বিভিন্ন রেলস্টেশন, বাসস্টপ, ধর্মীয় স্থান, ঐতিহাসিক স্থাপনা, ঐতিহাসিক ব্রিজ, শপিংমল, বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহ, হোটেল, রেস্তোরাঁ ইত্যাদিতে। কলকাতায় নামানো হয়েছে স্পেশাল টাস্কফোর্সের ২০টি টিম।
এদিকে আসামে ১২টি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন স্বাধীনতা দিবস বর্জনের ডাক দিয়েছে। উলফার শান্তি আলোচনাবিরোধী নেতা পরেশ বড়ুয়াও এই দলে রয়েছেন। এ রাজ্যে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় শুক্রবার থেকে রাতে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। আসামের জঙ্গিদের মূল লক্ষ্য থাকে রেললাইন। এ কারণে আসামে রাতে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়।

ফিলাডেলফিয়ায় অল্পবয়সীদের জন্য কারফিউ

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া নগরে অল্পবয়স্কদের জন্য রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে দাঙ্গার পর ফিলাডেলফিয়াতে অনুরূপ দাঙ্গার আলামত স্পষ্ট হয়ে উঠলে নগরের মেয়র মাইকেল নাটার এ কারফিউ জারির ঘোষণা করেন। সম্ভাব্য দাঙ্গা ও লুটতরাজ মোকাবিলার জন্য গত শুক্রবার থেকে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়। ১৮ বছরের কম বয়সী তরুণ-তরুণীদের রাত নয়টার পর ঘরের বাইরে না থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারফিউ না মানায় প্রথম দিনেই নগরের পুলিশ ৫০ জনকে আটক করেছে।
ফিলাডেলফিয়া পুলিশ যুক্তরাজ্যের মতো উদ্দেশ্যহীন দাঙ্গা ও লুটতরাজের আভাস পেয়েছে । বিভিন্ন সূত্রে তারা জানতে পেরেছে, অল্প বয়সী তরুণ-তরুণীরা মুঠোফোন ও ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার করে জড়ো হচ্ছে; অতর্কিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটতরাজ করে আনন্দ-উল্লাসের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এই আগাম খবরের ভিত্তিতে নগরের কেন্দ্রস্থল ও পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটি এলাকায় অল্পবয়সীদের জন্য বাধ্যতামূলক কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাত নয়টার পর ১৮ বছরের তরুণ-তরুণীদের পাওয়া মাত্র আটক করে পুলিশকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশকেন্দ্রে ডেকে আনা হচ্ছে তাদের অভিভাবকদের। প্রথমবারের মতো কারফিউ লঙ্ঘনকারীদের ১০০ থেকে ৩০০ ডলারের জরিমানার নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। একাধিকবার সান্ধ্য আইন লঙ্ঘনের জন্য বর্ধিত জরিমানা এবং ৯০ দিনের কারাবাসের শাস্তি আরোপ করা হতে পারে।
ফিলাডেলফিয়া পুলিশ কমিশনার চার্লস র‌্যামজে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে অল্পবয়স্কদের অপরাধ সংগঠনের সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে।
কৃষ্ণাঙ্গ-অধ্যুষিত ফিলাডেলফিয়া নগরে সান্ধ্য কারফিউ জারির সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিশেষ বর্ণের লোকদের লক্ষ্য করে ব্যবস্থাটি নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মার্কিন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা নিয়ে সরকার ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা

বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হাতে দমন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। এদিকে দাঙ্গা-বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য ক্যামেরন এক মার্কিন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়ায় সরকার ও পুলিশ বিভাগের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
গত সপ্তাহে লন্ডনসহ আশপাশের কয়েকটি শহরে টানা চার রাত ধরে দাঙ্গা-বিশৃঙ্খলা ও লুটপাট-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় দাঙ্গাবাজদের হামলায় নিহত হয় পাঁচ ব্যক্তি। এর মধ্যে তিনজনের হত্যার ঘটনায় আটক দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে রোববার আদালতে হাজির করার কথা ছিল।
গত সপ্তাহের ঘটনাকে ব্রিটিশ ইতিহাসের অন্যতম সন্ধিক্ষণ বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন। তিনি বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ নয়, স্রেফ লুটতরাজের জন্য এক শ্রেণীর সুযোগসন্ধানী মানুষ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আর দাঙ্গা দমনের প্রথম দিকে পুলিশ যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন ক্যামেরন।
পরবর্তী সময়ে এ ধরনের ঘটনা যাতে রোধ করা যায় এবং ঘটলেও কার্যকরভাবে তা মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য রাজপথের অপরাধ দমনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম ব্রাট্টনকে নিয়োগ দিয়েছেন ক্যামেরন। ব্রাট্টন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস ও বোস্টন শহরের পুলিশপ্রধান ছিলেন। এ সময় দাঙ্গা ও রাজপথের সন্ত্রাস দমনে সফলতার জন্য তাঁর সুনাম আছে। বর্তমানে তিনি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা ক্রোলের চেয়ারম্যান।
তবে মার্কিন বিশেষজ্ঞ ভাড়া করে আনার ক্যামেরনের উদ্যোগকে ভালোভাবে নেয়নি ব্রিটেনের পুলিশ। পুলিশ বিভাগ এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এমনিতে পুলিশের সদস্যসংখ্যা হ্রাস এবং ব্যয় কাটছাঁটের পরিকল্পনা নিয়ে ক্যামেরন সরকার ও দেশের পুলিশ বিভাগের মধ্যে অসন্তোষ ছিল।
অ্যাসোসিয়েশন অব পুলিশ চিফ অফিসার্সের প্রধান সার হুগ অর্ডি বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিত নই, যুক্তরাষ্ট্রের একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে আমাকেও দাঙ্গাবাজদের মোকাবিলার কৌশল শিখতে হবে কি না।’
নর্দান আয়ারল্যান্ড পুলিশের সাবেক কমান্ডার এবং লন্ডন নগর পুলিশের ডেপুটি কমান্ডার হুগ অর্ডি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজের্য সমাজ এক নয়। সহিংসতার ধরনও আলাদা। কাজেই এ বিষয়ে মার্কিন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে আদৌ কিছু শেখার আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পুলিশের এই শীর্ষ কর্তাব্যক্তি।

জয়ে শুরু শুধু ম্যানইউর

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ কতটা কঠিন, প্রথম ম্যাচেই টের পেলেন আন্দ্রে ভিলাস-বোয়াস। আগের দিন ড্রয়ে নতুন মৌসুম শুরু হয়েছে আর্সেনাল ও লিভারপুলের। কাল চেলসিকেও বরণ করতে হলো একই ভাগ্য। তাদের গোলশূন্য ড্রতে আটকে দিয়েছে স্টোক সিটি। জয় দিয়ে লিগ শুরু করেছে শুধু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কাল ওয়েস্টব্রমকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তারা। ম্যানইউর গোল দুটির একটি রুনির, অন্যটি রেইডের আত্মঘাতী।
এফসি পোর্তোকে প্রথম মৌসুমেই ‘ট্রেবল’ জিতিয়ে তরুণ এই কোচ দায়িত্ব নিয়েছেন চেলসির। সেই চেলসিই গত ১২ মৌসুমে এই প্রথম জয় দিয়ে মৌসুম শুরু করতে ব্যর্থ হলো।
গত এক বছরে দলবদলের বাজারে ১০ কোটি পাউন্ড ঢেলেছে লিভারপুল। লক্ষ্য একটাই হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার। দলকে তাই নতুন করে সাজিয়েছেন কোচ কেনি ডালগ্লিস। কিন্তু শুরুতেই ড্র ধাক্কা। পরশু অ্যানফিল্ডে লিভারপুল ১-১ গোলে ড্র করেছে সান্ডারল্যান্ডের সঙ্গে। আর্সেনালকে গোলশূন্য আটকে দিয়েছে নিউক্যাসল।
হতাশা এক রকম হলেও ওয়েঙ্গার ও ডালগ্লিসের ব্যাখ্যা দুই রকম। লিভারপুল কোচের কথা, নতুনদের আরও সময় দিতে হবে। আর্সেনাল কোচকে দিতে হয়েছে নতুন খেলোয়াড় কেনার প্রতিশ্রুতি।
লিভারপুল কোচ কাঠগড়ায় তুলেছেন রেফারিকেও। যুক্তিসংগত কারণও আছে। ৬ মিনিটেই বল নিয়ে বিপদ সীমায় ঢুকে পড়া লুইস সুয়ারেজকে বক্সে অবৈধভাবে ফেলে দেন সান্ডারল্যান্ডের ডিফেন্ডার কাইরান রিচার্ডসন। রেফারি পেনাল্টির বাঁশির সঙ্গে রিচার্ডসনকে হলুদ কার্ড দেখান। ডালগ্লিসের প্রশ্ন, হলুদ কার্ড কেন লাল কার্ড হলো না? সান্ডারল্যান্ড কোচও মনে করেন, ওটা লাল কার্ড হতে পারত।
রিচার্ডসনের সঙ্গে বেঁচে যায় সান্ডারল্যান্ডও। পেনাল্টি মিস করেন সুয়ারেজ। সাত মিনিট পরই অবশ্য চার্লি অ্যাডামের ক্রসে হেড করে পেনাল্টি-ব্যর্থতার দায় মেটান সুয়ারেজ। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ এক ভলিতে সান্ডারল্যান্ডকে সমতায় ফেরান সেবাস্তিয়ান লারসন। এএফপি।
এদিকে আর্সেনাল তো নতুন খেলোয়াড় বেশি কিনছেই না, উল্টো দল ছাড়তে যাচ্ছেন সেস ফ্যাব্রিগাস ও সামির নাসরি। স্বাভাবিকভাবেই এই দুজনের বিদায়ে আর্সেনালের শক্তি খর্ব হবে। সমর্থকেরা বলাবলি করছে, ওয়েঙ্গার টাকা খরচ করতে ভয় পান! ওয়েঙ্গার বলেছেন, ‘আমিও টাকা খরচ করার বিপক্ষে নই। আমরা যদি খেলোয়াড় কিনি, দল শক্তিশালী হবে। বিশ্বাস করুন, আমরা খুঁজছি।’

আর্জেন্টিনার বিদায়

অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে পর্তুগাল ও মেক্সিকো। নাটকীয় টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছে পর্তুগাল। মেক্সিকো ৩-১ গোলে জিতেছে স্বাগতিক কলম্বিয়ার বিপক্ষে।
১২০ মিনিটের খেলা ছিল গোলশূন্য। ছিল না কোনো নাটকও। সব নাটক যেন জমানো ছিল টাইব্রেকারের জন্য। যেখানে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গিয়েছিল ৩-১-এ। কিন্তু চতুর্থ ও পঞ্চম শটে গোল করতে ব্যর্থ হয় আর্জেন্টিনা। আর মিস করে সপ্তম পেনাল্টিটি। আর পর পর দুটি শটে গোল না পাওয়া পর্তুগাল গোল পায় পরের সবগুলো শটে।
যুব বিশ্বকাপের ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কোচ ওয়াল্টার পেরাজ্জো বিস্ময়ে হতবাক, ‘ফলটা অপ্রত্যাশিত। আমাকে বিস্মিত করেছে। পেনাল্টি শুটআউটে ভাগ্য তাদের সহায় হয়েছে।’ পর্তুগাল কোচ ইলিদিও ভ্যালে বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনাই টুর্নামেন্টের ফেবারিট ছিল।

ড্রয়ে শুরু রিয়াল-বার্সার

স্প্যানিশ লিগের নতুন আরেকটি মৌসুম শুরুর আগে আবারও জমজমাট একটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিল রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। গতকাল স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালের প্রথম লেগে ২-২ গোলে ড্র করে নতুন মৌসুম শুরু করেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এ দুই ক্লাব। আগামী বুধবার ন্যু ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের খেলা।
উত্তেজনাপূর্ণ প্রথমার্ধে শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ১৩ মিনিটের মাথায় তাদেরকে প্রথম গোলটি এনে দিয়েছিলেন জার্মান মিডফিল্ডার মেসুত ওজিল। ৩৬ মিনিটে খেলায় সমতা ফেরান ডেভিড ভিয়া। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি। তবে খুব বেশিক্ষণ এগিয়ে থাকতে পারেনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষে সমতাসূচক গোলটি করেন জাবি আলোনসো। বাকি সময়ে দুই দলই জয়সূচক একটি গোলের জন্য মরীয়া হয়ে খেললেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে বল পাঠাতে পারেনি কেউই।
তবে জয় দিয়ে শুরু করতে না পারলেও অন্য একটি খবরে আনন্দে ভেসেছেন গত মৌসুমের স্প্যানিশ লিগ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপাজয়ী বার্সেলোনার খেলোয়াড়েরা। গতকালই নিশ্চিত হয়েছে যে আর্সেনাল থেকে আবার ন্যু ক্যাম্পে ফিরতে যাচ্ছেন তাঁদের বহু আকাঙ্ক্ষিত সতীর্থ সেস ফেব্রিগাস। ম্যাচ শেষে বার্সা কোচ পেপ গার্দিওলা বলেছেন, ‘সেস বার্সেলোনাতেই বেড়ে উঠেছে। পরে সে ধীরে ধীরে নিজেকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে। আর এর জন্য অবশ্যই আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার ও আর্সেনালের ভূমিকা আছে। তাঁদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এখন আমরা সেসকে আরও অসাধারণ ফুটবলারে পরিণত করার চেষ্টা করব।’

গল্প- দৌড় by শওকত চৌধুরী

রাত তিনটা। মোহন কুণ্ডলী দিয়ে মেঝেয় পড়ে আছে। কুণ্ডলী দিয়ে মেঝেয় পড়ে থাকার কারণ সামনের চেয়ারে উপবিষ্ট ভদ্রলোকটির বুটের লাথি।
মোহনের চোখ বাঁধা। হাত বাঁধা। ঠোঁটেরও কোথাও কোথাও কেটে গেছে। মুখ রক্তে মাখামাখি।
ভদ্রলোক হয়তো ঝুঁকে এসে তার মুখের ওপর সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছেন। মোহনের নাকে সিগারেটের কটু গন্ধ এসে লাগছে।
মোহন!
জি স্যার!
করের হাট ট্রিপল মার্ডারটা নিয়ে দেশ উত্তাল, বিষয়টা বুঝতে পারছিস?