Saturday, July 17, 2010

কুসংস্কার দূরীকরণে ইসলাম by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

চিরন্তন ও পরিপূর্ণ জীবনদর্শনে যা কিছু সত্য, সুন্দর ও মার্জিত, ইসলামে তা-ই অনুমোদিত। অন্যদিকে অন্যায়, অসত্য, অসুন্দর বা কদর্যতা এবং উচ্ছৃঙ্খলতা ইসলামে অননুমোদিত। দিশেহারা কুসংস্কারাচ্ছন্ন আরব জাতিকে অমানিশার অন্ধকার থেকে আলোর পথের দিশা দিয়ে তাদের তপ্ত হূদয়ে শান্তির পরশ বুলিয়ে দিতেই ইসলামের আগমন ঘটেছিল। মানুষের জীবনকে সুন্দর ও পবিত্র করার জন্য যত রকমের সহজ পন্থা রয়েছে, তার সবই ইসলাম ধর্মে বিদ্যমান। তাই এই ধর্মকে মধ্যপন্থীদের ধর্ম বলা হয়। যাবতীয় নিষ্ঠুরতা, অসহিষ্ণুতা ও বর্বরতার বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মই একমাত্র রক্ষাকবচ। তা সত্ত্বেও ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং কুসংস্কার সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান। আমাদের সমাজজীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে কুসংস্কার বা অন্ধবিশ্বাস সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ ইসলামে কুসংস্কারের কোনো স্থান নেই।
কুসংস্কারের ফলে সৃষ্টিকর্তার ওপর সুদৃঢ় আস্থা ও ধর্মবিশ্বাস এবং পরম করুণাময়ের প্রতি নির্ভরতা বহুলাংশে লোপ পায়। কুসংস্কার হলো ধর্মীয় বিধানের বাইরে এমন একটি প্রচলিত নিয়মবিধি, যার প্রতি মানুষ অন্ধবিশ্বাস স্থাপন করে এবং কর্মক্ষেত্রে এ বিশ্বাসকে আশ্রয় করেই চলে। কুসংস্কারজনিত অন্ধবিশ্বাসের মোহজালে পড়ে মানুষ নিজেদের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে এবং আল্লাহর প্রতি পরম আস্থা ও নির্ভরতা থেকে নিজেদের ঈমানের শক্তি দুর্বল করে তুলছে। একজন মুসলমানের আত্মবিশ্বাস ও আল্লাহর ওপর ভরসাই যথেষ্ট। তাই ইসলামি শরিয়তের ঘোরতর পরিপন্থী এমন প্রচলিত কুনীতিগুলোর মূলোচ্ছেদ করা বা বর্জন করা মুসলমানদের অবশ্যকর্তব্য। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘অশুভ বা কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই, বরং তা শুভ বলে মনে করা ভালো। সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! শুভ লক্ষণ কী?’ তিনি বললেন, ‘এরূপ অর্থবোধক কথা, যা তোমাদের কেউ শুনতে পায়।’ (বুখারি) তাই কুসংস্কার বন্ধের জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা চালানো সবার ঈমানি দায়িত্ব।
ইসলামে জ্ঞান অর্জনকে ফরজ বা অত্যাবশ্যক করা হয়েছে। কেননা, অজ্ঞতা থেকেই সৃষ্টি হয় যাবতীয় কুসংস্কার, যাতে সমাজে নানা রকম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। জাতি ও গোত্রে বিভেদ, অন্যায়, অত্যাচার প্রভৃতি সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নেয়। বর্তমান আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও ধর্মীয় গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করার জন্য সবার মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মাধ্যমে সমাজে মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তাই অজানাকে জানতে হবে, অচেনাকে চিনতে হবে। যত দূর সম্ভব প্রতিটি বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞান ও পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। এ জন্য চাই সঠিকভাবে জ্ঞান অন্বেষণ ও বিদ্যার্জন। জ্ঞান-বিজ্ঞানের দ্বার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে আজ আমাদের থেকে কুসংস্কার ও সংকীর্ণ মনোভাব ক্রমশ দূরীভূত হচ্ছে। ব্যাপক গণসচেতনতার মাধ্যমেই আমাদের সমাজ থেকে দূরীভূত হতে পারে অজ্ঞতা ও কুসংস্কার। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি জ্ঞান রাখে আর যে জ্ঞান রাখে না, তারা উভয় কি সমান হতে পারে?’ (সূরা আল-যুমার, আয়াত: ৯)
সাধারণত গ্রামীণ লোকালয়ে বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার বেশি লক্ষ করা যায়। গ্রামবাংলায় সমাজ-সংসারে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে মানুষের মনগড়া মতবাদ ও ভ্রান্ত পথ অনুযায়ী কাজকর্ম সম্পন্ন হয় এবং আল্লাহর নির্ধারিত বিধান সম্পাদনের মধ্যে বিরাট পার্থক্য প্রত্যক্ষ করা যায়। মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এসব কুসংস্কার বা কুপ্রথাকে বিশ্বাস করা হারাম বলে অভিহিত করেছেন। ইসলাম ধর্মমতে, একজন লোকের একই সঙ্গে চারটি বিয়ে করার সম্ভাবনা থাকলেও একই ব্যক্তি চারজন স্ত্রীর দায়িত্ব সমানভাবে পালন করতে পারে না—এ বিষয়টি বহুবিবাহে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের অবগত করার ব্যবস্থা করা দরকার। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম, মসজিদের ইমাম-খতিব, এনজিওদের কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে হবে, যাতে তারা ধর্ম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা লাভ করে পরিকল্পিত পরিবার গঠনে জন্মনিয়ন্ত্রণের উৎসাহ ও উদ্দীপনা লাভ করে।
দেশের বেশির ভাগ নারী আজও অবহেলা আর কুসংস্কারের শিকার। গর্ভধারণ প্রত্যেক মায়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় তাঁর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য সবার আগে তাঁর স্বামীর সহযোগিতা প্রয়োজন। এ সময়টায় অনেক গর্ভবতীরই কোনো ধরনের চিকিৎসা হয় না। তাই দেশে মাতৃমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। অথচ পরিবারের পুরুষ কেউ অসুস্থ হলে দেশে-বিদেশে চিকিৎসাসেবা পেয়ে থাকেন। আর নারীর সাধারণ চিকিৎসার কথাও পরিবারের কেউ ভাবেন না। গর্ভাবস্থায় কোনো চিকিৎসক দেখানোর সুযোগ থাকে না, এমনকি স্বাস্থ্যকর্মীর সহযোগিতায় নিজেদের টিকা এবং শিশুর জন্মের পর রোগ প্রতিষেধক টিকা গ্রহণও সম্ভব হয় না। শিক্ষিত ও সচ্ছল পরিবার হলে কেউ কেউ সন্তান প্রসবকালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ভর্তি হন। আর কুসংস্কারাচ্ছন্ন অনেকে মৃত্যুঝুঁকির সম্মুখীন হয়েও এলাকার ধাত্রীর সাহায্যেই শিশু ভূমিষ্ঠের চেষ্টা করেন। নারীরা বিনা মূল্যে পরিবারে সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে থাকলেও তাঁদের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের কোনো সুযোগ দেওয়া হয় না।
মানুষ আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে সত্য, কিন্তু এতেও সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর হয়নি। ১৪-১৫ বছরের বিবাহিত জীবনে অনেক নারীরই সন্তানসংখ্যা পাঁচ-ছয়। এসব সন্তানের শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পুষ্টির অভাবেই এ দুরবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটি যদি কন্যা হয়, তাহলে শুরু হয় ভিন্নধর্মী অবহেলা আর বঞ্চনা। স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া তো দূরের কথা, কুসংস্কারাচ্ছন্ন নারীদের যুক্তি হলো, ছেলেরা বড় হয়ে আয় করে খাওয়াবে। তাই তাদের ছোটবেলা থেকেই বেশি খাওয়ানো দরকার। আর মেয়েরা যেহেতু ঘরসংসার করবে, সেহেতু তাদের বেশি খাওয়ার দরকার নেই। দেশ-জাতির বৃহৎ স্বার্থে এই কুসংস্কারাচ্ছন্ন মনোভাবের পরিবর্তন জরুরি।
বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কারে শুভ-অশুভ মেনে চলা ইসলামি শরিয়তগর্হিত কাজ ও শিরকতুল্য। তাই আমাদের সব ধরনের কুসংস্কারের ঊর্ধ্বে উঠে সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও পরিমার্জন করতে হবে। শিক্ষিত নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করলে একদিকে যেমন নারীরা তাঁদের সামাজিক অধিকার ফিরে পাবেন, অন্যদিকে জন্মনিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি তথা পরিবার-পরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগ বাড়বে। এতে চাকরিজীবী নারীদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে এবং তাঁদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে। বিবাহের ক্ষেত্রে ধর্মীয়, সামাজিক ও সরকারি আইন হুবহু মেনে চলতে পারলে তা জন্মনিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। কুসংস্কারে বিশ্বাস স্থাপন কোনো কিছুর প্রতি কুলক্ষণ ভেবে মেনে চলা আর তার প্রতি আস্থাশীল হওয়াও মহাপাপ। পবিত্র কোরআনে এ সম্পর্কে উল্লেখ আছে, ‘গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট লোক আল্লাহর রহমত থেকে অনেক দূরে অবস্থান করবে।’
সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে নোংরা অপসংস্কৃতির করাল গ্রাস প্রভাব বিস্তার করেছে। অশ্লীলতা ও কুসংস্কার সমাজকে ব্যাধিগ্রস্ত করছে। বর্তমানে হত্যা, ধর্ষণ, খুন-খারাবি, ছিনতাই, অপহরণ, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, অন্যায়, অত্যাচার, জবরদখল, সম্পত্তি আত্মসাৎ প্রভৃতি অনৈতিক কর্মকাণ্ড সমাজে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিকতার নামে তরুণ প্রজন্ম ইসলাম-পরিপন্থী যৌনাচার, অবাধ মেলামেশা, নগ্নতা, অশ্লীলতা প্রভৃতি অপকর্মে লিপ্ত। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভান্ডার তথা ইসলামি শরিয়তের মূল উৎস আল-কোরআনকে সঠিকভাবে বুঝতে ব্যর্থ হলে ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কারের অতল গহ্বরে মানুষ হারিয়ে যাবে। তাই সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে কুসংস্কার জাতীয় যাবতীয় প্রচলিত নিয়মনীতি প্রতিরোধে সচেষ্ট হওয়া এবং কুসংস্কারের অলীক ধ্যান-ধারণা পরিত্যাগ করে সত্যিকারভাবে ইসলাম-নির্দেশিত মধ্যমপন্থায় জীবন পরিচালনা করা একান্ত বাঞ্ছনীয়।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান:সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমী, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
dr.munimkhan@prothom-alo.info

জাপানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অবিস্ফোরিত ৯০০টি বোমা উদ্ধার

জাপানের ইতোমান শহরের একটি রেস্তোরাঁর পাশ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার অবিস্ফোরিত ৯০০টির বেশি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বোমাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি।
ইতোমান শহরের পুলিশ কর্মকর্তা কিয়োতাকা মায়েদোমারি জানান, গত বুধবার নির্মাণশ্রমিকেরা সড়ক সম্প্রসারণের কাজ করার সময় বোমার সন্ধান পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বিশেষজ্ঞরা এসে ৯০২টি বোমা উদ্ধার করেন। মায়েদোমারি আরও জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অনেক স্থানে অবিস্ফোরিত বোমা ছড়িয়ে পড়ে। তাই সেখানে নির্মাণশ্রমিকেরা কাজ শুরুর আগে বোমা শনাক্তকারী যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করে নেন।

লিবিয়ার ত্রাণবাহী জাহাজ মিসরে নোঙর করেছে

গাজাগামী লিবিয়ার ত্রাণবাহী জাহাজটি অবশেষে তার গতিপথ পাল্টে মিসরের আল আরিশ বন্দরে ভিড়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় আল আরিশের উত্তর সিনাই এলাকায় জাহাজটি নোঙর করে এবং মাল খালাস শুরু করে। ইসরায়েলের নৌবাহিনীর হুমকির মুখে জাহাজটি তার ঈপ্সিত গন্তব্য থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মোয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলের নেতৃত্বাধীন দাতব্য সংস্থা গাদ্দাফি ফাউন্ডেশন জাহাজটি পাঠিয়েছিল।
মিসরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, আমালথিয়া নামের ওই জাহাজটি মিসরের উপকূলীয় বন্দর আল আরিশে প্রায় দুই হাজার টন খাদ্য ও ওষুধ নামানো শুরু করে। বন্দরের দায়িত্বে থাকা ক্যাপ্টেন গামাল আবদেল মকসুদ বলেন, ওষুধপত্র নিয়ে ত্রাণকর্মীরা রাফা সীমান্ত দিয়ে গাজায় প্রবেশ করবেন। অন্যদিকে খাদ্যসামগ্রী আওজা সীমান্ত দিয়ে গাজায় পাঠানো হবে। এসব সামগ্রী স্থলপথে নেওয়ার জন্য রেড ক্রিসেন্ট এবং মিসর কর্তৃপক্ষের ট্রাক আল আরিশে অপেক্ষা করছে।
গত শনিবার গ্রিস থেকে ত্রাণ বোঝাই করে জাহাজটি গাজার উদ্দেশে রওনা হয়। মঙ্গলবার গাজার কাছে আসার পরই ইসরায়েলের নৌবাহিনী সেটির গতিরোধ করে এবং জাহাজটিকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

সমকামীদের বিয়েকে বৈধতা দিল আর্জেন্টিনা

সমকামীদের বিয়েকে বৈধতা দিয়েছে আর্জেন্টিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার সে দেশের সিনেটে এ-সংক্রান্ত একটি আইন পাস হয়েছে। মাত্র ৬ ভোটের ব্যবধানে আইনটি পাস হয়। আর্জেন্টিনা লাতিন আমেরিকার প্রথম দেশ যেখানে সমকামীদের বিয়ে বৈধতা পেল।
তুমুল বিতর্কের পর সিনেটে এই আইন পাস হয়। এর পক্ষে ৩৩ এবং বিপক্ষে ২৭ ভোট পড়ে। ভোট গ্রহণের সময় তিনজন সিনেটর অনুপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী এই আইনের কঠোর সম-ালোচনা করে।
আর্জেন্টিনার ফেডারেশন অব লেসবিয়ানের সভাপতি মারিয়া রেচিড বলেন, প্রায় সব রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন সমকামী বিয়ের বৈধতার পক্ষে মত দিয়েছে।

ওসামা বিন লাদেন বেঁচে আছেন

আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেনের ছেলে ওমর বিন লাদেন বলেছেন, তাঁর বাবা বেঁচে আছেন, কিন্তু কোথায় আছেন, সেটা তিনি জানেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার দ্য সান পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে ওমর বিন লাদেন আরও বলেন, ‘আমার বাবা জীবিত আছেন, কিন্তু তিনি কোথায় আছেন, তা আমার জানা নেই। তাঁর মতো লোক মারা গেলে সেটা কোনোভাবেই গোপন রাখা যাবে না। তিনি মরে গেলে পুরো বিশ্বটাই বদলে যাবে।’
লাদেন-পুত্র বলেন, ‘আমি তাঁকে এখনো ভালোবাসি। কারণ, তিনি আমার বাবা। এটা একটা মানবিক বিষয়ও বটে। বাবা হিসেবে তাঁর কথা আমার খুব মনে পড়ে। কিন্তু আমরা ভিন্ন পরিস্থিতিতে আছি। আমি শান্তি চাই।’
দোহায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওমর বিন লাদেন পত্রিকাটিকে বলেন, বাবা প্রায়ই বলতেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো হচ্ছে স্টিঙ্গার ক্ষেপণাস্ত্র। উল্লেখ্য, এ অস্ত্রটি ব্যবহার করেই আফগান মুজাহিদীনরা তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপুল ক্ষতি সাধন করেছিল।
ওমর বিন লাদেন বর্তমানে তাঁর ব্রিটিশ স্ত্রী জাইনার কাছ থেকে আলাদা হয়ে গেছেন। জাইনা বলেছেন, ওমর মানসিক রোগে ভুগছেন। তিনি প্রায়ই বাবা ওসামা বিন লাদেনের কণ্ঠ শুনতে পান বলে বলে আসছেন।
এ প্রসঙ্গে ওমর বলেন, ‘মানুষ যখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে, তখন তারা অনেক কিছুই বলে, যার কোনো অর্থ থাকে না। আমি বাবার কণ্ঠ শুনতে পাই না, তবে তাঁকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখি।’
ওমর বাবা সম্পর্কে আরও বলেন, ‘আমি তাঁর খুব পছন্দের ছেলে। তাঁর মধ্যে সম্মোহনী শক্তি আছে। বাবার কথা শুনলে যে কারও মন পরিবর্তন হয়ে যাবে। কিন্তু আমি বাবাকে অনুসরণ করি না।

মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ

মিয়ানমারে আমদানি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর পক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। সে দেশের আইনপ্রণেতারা গত বুধবার কণ্ঠভোটে ওই বিলটির অনুমোদন দেন। মিয়ানমারে জান্তা সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট শিগগিরই ওই বিলটি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছে পাঠাবে। প্রেসিডেন্ট এতে সই করলে তা আইনে পরিণত হবে।
মিয়ানমারের জান্তা সরকারের দীর্ঘদিনের সমালোচক ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধি জোসেফ ক্রাউলি বলেছেন, ‘জান্তা সরকার তার দেশে অজস্র ভয়াবহ অপরাধ করেছে। এটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জানা। মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। জান্তা সরকারকে এসব অপরাধের দায়দায়িত্ব স্বীকার করতে চাপ প্রয়োগে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব। সে লক্ষ্যে দেশটির আমদানি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা নবায়নের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
মিয়ানমারের জান্তা সরকার সে দেশের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী দল নিষিদ্ধ করে এ বছরের শেষ দিকে নির্বাচন দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সমালোচকেরা বলছেন, জান্তা সরকার তার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে পাতানো নির্বাচনের এই কৌশল হাতে নিয়েছে। ওই নির্বাচন সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

উত্তর কোরিয়ায় স্বাস্থ্যসেবার চিত্র ভয়াবহ: অ্যামনেস্টি

চেতনা বিলোপ না করে যদি কোনো অস্ত্রোপচার করা হয়, তাহলে রোগীর অবস্থাটা কী দাঁড়াবে? নিঃসন্দেহে তা ভয়ঙ্কর এক ব্যাপার। যদি জীবাণুমুক্ত সূচ ব্যবহার না করে রোগীকে ইনজেকশন দেওয়া হয়, তাহলে সুস্থ না হয়ে বরং ভয়াবহ পরিণাম হতে পারে রোগীর। এমন সব দুর্দশা ও অব্যবস্থাপনার জটাজালে পেঁচিয়ে আছে উত্তর কোরিয়ার স্বাস্থ্য খাত। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়ার স্বাস্থ্যসেবার করুণচিত্র তুলে ধরা হয়।
অ্যামনেস্টি জানায়, বিদেশে অবস্থানরত ৪০ জনের বেশি উত্তর কোরীয় নাগরিকের সাক্ষাৎকার নিয়ে এবং সে দেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নব্বইয়ের দশকে উত্তর কোরিয়ায় যে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল, সেই থেকে এখনো সে দেশে ব্যাপক খাদ্য ঘাটতি বিদ্যমান। কিছু এলাকায় তা এতই ভয়াবহ যে জীবন ধারণে সেখানকার মানুষকে ঘাসও খেতে হয়। খায় গাছের বাকল ও শেকড়।
কমিউনিস্ট দেশের সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে, সেখানে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। কিন্তু অনেক ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে অ্যামনেস্টি জানায়, সেখানে স্বাস্থ্যসেবার সব ক্ষেত্রেই টাকা লাগে। চিকিৎসকের সাধারণ ভিজিট দিতে হয় সিগারেট, মদ বা খাবারের মাধ্যমে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা অস্ত্রোপচারের জন্য দিতে হয় নগদ অর্থ।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নগর মুসানের বসিন্দা ৫৬ বছর বয়সী এক নারী জানান, ২০০১ সালে চেতনা বিলোপ না করেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর অ্যাপেনডিক্স অপসারণ করা হয়।
প্রতিবেদনে ২০ বছর বয়সী এক শরণার্থী তরুণীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘এখানে আপনার যদি টাকা না থাকে, তাহলে আপনি মারা যাবেন।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে উত্তর কোরিয়ায় স্বাস্থসেবা খাতে ব্যয় কম। এই খাতে সেখানে বছরে মাথাপিছু এক ডলারেরও কম খরচ হয়।
প্রতিবেদনে খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলায় উত্তর কোরিয়াকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আন্তর্জাতিক খাদ্য সহায়তা নেওয়া ও তা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করারও অনুরোধ জানানো হয়।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় উত্তর কোরিয়াকে সহায়তা দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও দাতা সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। উত্তর কোরিয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক বিবেচনায় না এনে প্রয়োজনের কথা ভেবে তাদের সহায়তা নিশ্চিত করার আবেদন জানায় মানবাধিকার সংস্থাটি।
অ্যামনেস্টির এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপপরিচালক ক্যাথেরিন বাবের এক বিবৃতিতে বলেন, উত্তর কোরিয়াকে সহায়তা করার বিষটিকে দাতা দেশগুলোর রাজনীতির ফুটবল হিসেবে দেখা উচিত নয়।

আলোচনার ওপর গুরুত্ব আরোপ উত্তর কোরিয়ার

উত্তর কোরিয়া গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের কমান্ডের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এতে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা প্রয়োজন বলে একমত হয় তারা। পীতসাগরে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজ ‘চেওনান’ ডুবির পর এই প্রথম জাতিসংঘের কমান্ডের সঙ্গে বৈঠক করল উত্তর কোরিয়া।
গত মঙ্গলবার এই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে ঘণ্টাখানেক আগে উত্তর কোরিয়া ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে তা স্থগিত করে। জাতিসংঘের এই কমান্ড দুই কোরিয়ার যুদ্ধ বন্ধে ১৯৫৩ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তির তত্ত্বাবধান করে।
গতকাল উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে অবস্থিত পানমুনজম গ্রামে এই বৈঠক হয়। দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে চেওনান ডুবির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
কর্নেল পর্যায়ের এই বৈঠকের পর জাতিসংঘ কমান্ডের সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই পক্ষই ভবিষ্যতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে। আর বৈঠকের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর এ ব্যাপারে তারা সিদ্ধান্ত জানাবে।
গত মার্চে পীতসাগরে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজ চেওনান ডুবে ৪৬ জন নাবিকের মৃত্যু হয়। দক্ষিণ কোরিয়া এ জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করে।
পরে আন্তর্জাতিক তদন্তে উত্তর কোরিয়ার তৈরি টর্পেডোর আঘাতেই চেওনান ডুবির ঘটনা ঘটে বলে প্রমাণ মেলে। তবে উত্তর কোরিয়া ওই তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে এ ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি বারবার অস্বীকার করে আসছে।

ইরাকে মার্কিন সেনার নিয়ন্ত্রণাধীন শেষ কারাগার হস্তান্তর

মার্কিন সেনারা ইরাকে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন শেষ কারাগার ক্যাম্প ক্রপারের কর্তৃত্ব গতকাল বৃহস্পতিবার ইরাকি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। এর মাধ্যমে ইরাকে মার্কিন সেনাবাহিনীর দখলদারির সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়গুলোর একটির সমাপ্তি ঘটল।
বাগদাদের পশ্চিমে অবস্থিত এই কারাগারে এক হাজার ৬০০ জন বন্দী রয়েছে। ২০০৩ সালের মার্চে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ইরাকে অভিযান পর এই কারাগার স্থাপন করা হয়। সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের জন্য এই কারাগার চালু করা হয়। ২০০৩ সালের নভেম্বরে সাদ্দাম হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁকে এই কারাগারে রাখা হয়। তাঁর ফাঁসিও কার্যকর করা হয় এই কারাগারে।
ইরাকের মার্কিন সেনারা এক লাখের বেশি বন্দীকে আটক করে। এসব বন্দীকে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীন কারাগারে রাখে তারা। পরবর্তী সময়ে এসব কারাগারের কর্তৃত্ব ইরাকি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণাঞ্চলীয় নগর বসরার কাছে অবস্থিত কারাগার ক্যাম্প বুকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ বছরের শুরুতে বাগদাদের উত্তরে ক্যাম্প তাজি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মার্কিন সেনা ঘায়েলে বানরকে তালিম দিচ্ছে তালেবান

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের ঘায়েল করতে এবার ভিন্ন কৌশল বেছে নিয়েছে তালেবান জঙ্গিরা। এবার আর তাদের হতাহত হওয়ায় ভয় নেই। কারণ, জঙ্গিদের বানর সেনারা লড়বে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে। এ জন্য একে-৪৭ রাইফেলের মতো আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে বানরকে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। এমন খবর চাউর হয়েছে চীনা সংবাদমাধ্যমে। চীনা পত্রিকার বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পত্রিকায় বুধবার প্রকাশিত খবরে এ কথা জানা যায়।
চীনের রাষ্ট্রীয় পত্রিকা পিপলস ডেইলি-এর বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালাতে বানরকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তালেবান।
চীনা পত্রিকার বরাত দিয়ে স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবান জঙ্গিরা মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে লড়তে বানরকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কোনো পদ্ধতি খুঁজে পেয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পাকিস্তান ও আফগান সীমান্তসংলগ্ন উপজাতীয় এলাকা ওয়াজিরিস্তানে এই প্রশিক্ষণ চলছে। বানরকে সেখানে একে-৪৭ রাইফেল, মেশিনগান ও মর্টার চালাতে শেখাচ্ছে জঙ্গিরা। তালেবানের গোপন ঘাঁটিতে চলতে থাকা এই প্রশিক্ষণে বানর সেনাদের দূর থেকে মার্কিন সেনাদের গুলি করে হত্যা করার কৌশল শেখানো হচ্ছে। প্রচুর কলা ও চীনাবাদাম দিয়ে প্রশিক্ষণে উৎসাহ জোগানো হচ্ছে বানর সেনাদের।

‘তেরে বিন লাদেন’ মুক্তি পাচ্ছে আজ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল

অনেক দিন বাদে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেন। বলিউডে তাঁকে নিয়ে নির্মিত নতুন কমেডি ছবি তেরে বিন লাদেন (লাদেন তোমাকে ছাড়া) ভারতসহ পুরো উপমহাদেশে চলচ্চিত্র দর্শকদের কাছে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। আজ শুক্রবার ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। উগ্রপন্থী মুসলমানদের মধ্যে ছবিটি বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে মনে করে পাকিস্তান সে দেশে ছবিটির প্রদর্শন নিষিদ্ধ করেছে।
ছবির পরিচালক অভিষেক শর্মা বলেছেন, বিতর্ক থেকে দূরে থাকার জন্য পাকিস্তানে ‘লাদেন’ শব্দটি বাদ দিয়ে ছবিটি শুধু তেরে বিন নামে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানে ছবিটির পরিবেশক নাদিম মান্দভিওয়াল বলেছেন, ছবিটি প্রদর্শিত হলে জঙ্গিরা হামলা চালাতে পারে বলে ধারণা করছে সে দেশের সেন্সর বোর্ড। এ কারণে বোর্ড ছবিটির প্রদর্শন বাতিল করেছে। তিনি বলেছেন, তাঁরা বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা কম।
ছবিটির কাহিনিতে দেখা যায়, পাকিস্তানের এক তরুণ সাংবাদিক যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। মার্কিন দূতাবাস থেকে বারবার তার ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়। হঠাৎ একদিন সে ওসামা বিন লাদেনের মতো দেখতে এক লোকের সন্ধান পায়। ওই লোককে ভুয়া লাদেন বানিয়ে সে তার একটি সাক্ষাৎকার নেয়। সাক্ষাৎকারটির ভিডিওচিত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যমের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে সে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার মতলব আঁটে। এই নিয়ে ছবিটির কাহিনি আবর্তিত হয়।
পরিচালক অভিষেক শর্মা বলেছেন, ছবিটি তৈরি করতে সময় লেগেছে চার বছর। খরচ হয়েছে ২০ লাখ মার্কিন ডলার। তিনি জানিয়েছেন, ছবিতে বিন লাদেনের চরিত্রকে কোনো রকম খাটো করার বা তাঁকে খোঁচা মারার চেষ্টা করা হয়নি। এতে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচারের চেষ্টা নেই। শুধু নির্মল আনন্দ দেওয়াই এই ছবির লক্ষ্য। তিনি জানান, এই ছবির কাহিনিকে যথাসম্ভব বাস্তবতার কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

মিয়ানমারে প্রথমবারের মতো আলু রপ্তানি শুরু

কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিবেশী মিয়ানমারে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো আলু রপ্তানি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে সেই দেশে মোট ২৮ লাখ টন আলু রপ্তানি হয়েছে।
জানা গেছে, আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবদুর রহমান অ্যান্ড সন্স গত বুধবার মিয়ানমারে ১৪ মেট্রিক টন আলু রপ্তানি করেছে। এর আগে চলতি মাসের গোড়ার দিকে এই প্রতিষ্ঠান আরও নয় মেট্রিক টন এবং মেসার্স জাফর এন্টারপ্রাইজ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান পাঁচ মেট্রিক টন আলু রপ্তানি করে। জাফর এন্টারপ্রাইজ এখন মিয়ানমারে আরও বেশি পরিমাণে আলু রপ্তানির চেষ্টা চালাচ্ছে।
স্থলবন্দর কাস্টমস সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সীমান্ত-বাণিজ্য চালু হওয়ার পর এই প্রথম বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে আলু রপ্তানি হলো।
টেকনাফ স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক এনামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, মিয়ানমারে এখন আলুর সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে এবার আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় দেশের চাহিদা মিটিয়ে তা মিয়ানমারে রপ্তানি করা যেতে পারে। সে অনুযায়ী তিনিও মিয়ানমারে আলু রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছেন।
টেকনাফ শুল্ক বিভাগের কাস্টমস সুপার আনোয়ার মাসুম প্রথম আলোকে জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আলু রপ্তানি করার ফলে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে আরও একটি পণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। রপ্তানি ক্ষেত্রে আরও বেশি করে দেশীয় পণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করতে ব্যবসায়ীদের তাঁরা উৎসাহিত করছেন বলে তিনি জানান।

প্রথম টেস্টে ১৫০ রানে জিতল অস্ট্রেলিয়া

চতুর্থ দিনেই সমাপ্তি ঘটল পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্টের। অস্ট্রেলিয়ার ছুড়ে দেওয়া ৪৪০ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে মার্কাস নর্থ আর স্টিভেন স্মিথের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২৮৯ রানেই গুটিয়ে গেছে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস।এক উইকেটে ১১৪ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করে পাকিস্তান। আজ শুক্রবার চতুর্থ দিনের শুরুতে মাত্র ৩৮ রান যোগ করেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান আজহার আলী। প্রথম ইনিংসে ৬৩ রান করা সালমান বাট দলীয় ১৮৬ রানের মাথায় ৯২ রান করে আউট হওয়ার পরই শুরু হয় পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়। মাত্র ৪৩ রান যোগ করতেই প্যাভিলিয়নে ফেরত যান উমর আকমল, উমর আমিন ও অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি। পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ২২৯/৬। সপ্তম উইকেট জুটিতে কামরান আকমল ও মোহাম্মদ আমির সংগ্রহ করেন ৫৪ রান। ২৮৩ রানে কামরান আকমল আউট হয়ে যাওয়ার পর আর মাত্র ছয় রান যোগ করতে পেরেছেন মোহাম্মদ আমির, উমর গুল ও দানেশ কানেরিয়া। ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করে ৫৫ রানে ছয় উইকেট নেন মার্কাস নর্থ। স্টিভেন স্মিথ পেয়েছেন তিন উইকেট। ম্যাচ সেরা হয়েছেন সাইমন ক্যাটিচ ও সালমান বাট।
এমসিসি স্পিরিট অব ক্রিকেট টেস্ট সিরিজে ১-০-তে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। ২১ জুলাই থেকে লিডসে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।

মুলারের হৃদয়জুড়ে শুধুই বায়ার্ন

টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন, হয়েছেন সেরা তরুণ খেলোয়াড়ও। অনেকের বিবেচনায় টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়দেরও একজন টমাস মুলার। এ রকম সাফল্যমণ্ডিত খেলোয়াড়ের পেছনে বড় বড় ক্লাবের লাইন লেগে যাবে, সেটাই স্বাভাবিক। সে লাইন লাগুক, আর নাই লাগুক; মুলার বলছেন, আরও বছর দশেক বায়ার্ন মিউনিখেই কাটিয়ে যেতে চান তিনি।
বায়ার্নের একাডেমি থেকেই উঠে এসেছেন মুলার। বয়স মাত্র ২০। এই বয়সেই জার্মানি দলের অন্যতম সেরা অস্ত্রে পরিণত হয়েছেন। সেই যোগ্যতাটাও প্রমাণ করে এসেছেন বায়ার্নের হয়েই।
মাত্র গত মৌসুমেই পাকাপাকিভাবে বায়ার্নের মূল দলে খেলা শুরু করেছেন মুলার। প্রথম মৌসুমে ১৩ গোল করে বায়ার্নের ‘ডাবল’ জেতায় বড় ভূমিকা রেখেছেন। সবকিছু ঠিকঠাক চললে ২০১৩ পর্যন্ত বায়ার্নের হয়ে এই ভূমিকাটা রাখতে পারবেন মুলার। ২০১৩ সালের জুন মাসে শেষ হবে ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর চুক্তি।
মুলার বলছেন, এখনই তাঁকে বললে, তিনি ১০ বছর মেয়াদি একটা চুক্তি করে ফেলতে রাজি আছেন, ‘আমার জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, আমার ক্যারিয়ারটা এখানেই চালিয়ে যাওয়া এবং বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে যত বেশি সম্ভব সুযোগ তৈরি করা। আমি এখানে ভালো করলে, বায়ার্ন মিউনিখও ভালো করবে। এ জন্যই আমি দলবদল নিয়ে কিছু ভাবি না। এখনই যদি আমার কাছে কেউ আগামী ১০ বছর বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলার চুক্তি নিয়ে আসে, আমি খুশি হব।’
মুলার দলবদল নিয়ে আগ্রহী না হলেও তাঁর জার্মান-সতীর্থ সামি খেদিরা সম্ভবত দল বদলাচ্ছেন। স্প্যানিশ পত্রিকা মার্কা বলছে, খেদিরার স্টুটগার্ড থেকে রিয়াল মাদ্রিদে আসা নিশ্চিত হয়ে গেছে। বিশ্বকাপে বালাকের বদলে সুযোগ পাওয়া খেদিরার এবার স্পেন জয় করার পালা!

অলিম্পিকে চোখ বেকহামের

ফ্যাবিও ক্যাপেলোর চাকরি টিকে আছে। কোনো খেলোয়াড়ও সংবাদমাধ্যমের বলি হননি। আপাতত ইংলিশদের বিশ্বকাপ ব্যর্থতার দায় শুধু রেফারিদের ওপরই যাচ্ছে তাহলে? না, অন্তত ডেভিড বেকহাম মনে করছেন, বিশ্বকাপের ব্যর্থতার দায়টা খেলোয়াড়দেরই।
নিজে এখনো খেলোয়াড়, খেলোয়াড়দের ব্যাপারটা তাই ভালোই বোঝেন। আবার বিশ্বকাপে কোচ ক্যাপেলোর সহকারী হয়ে ইংলিশ দলের ব্যর্থতা দেখেছেন ডাগ-আউটে বসেই। ব্যর্থতার ময়নাতদন্তও তাই খুব ভালো করতে পারছেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ইয়াহু! চ্যাট-এ ভক্তদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বেকহাম বলেছেন, কোচ ক্যাপেলোর যা যা করার ছিল, সবই করেছেন, ‘তিনি (ক্যাপেলো) যা যা করতে পারতেন, সবই করেছেন। আমাদের ঠিকমতো প্রস্তুত করেছেন। খেলোয়াড়দের নিয়ে যথেষ্ট কাজও করেছেন। কোচ তো অনেক কিছুই করতে পারেন, কিন্তু ব্যাপারটা শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের হাতেই। খেলোয়াড়েরাই মাঠে গিয়ে খেলে। তারা জানে, তারা পারফর্ম করতে না পারলে ম্যাচ জেতা যাবে না।’
বেকহামের কথাবার্তায় একটা কোচসুলভ গন্ধ টের পাওয়া যাচ্ছে না! এলএ গ্যালাক্সির এই তারকা কি তাহলে কোচিংয়ে আসার চিন্তা করছেন? না, এখনই কোচিং নিয়ে কিছু ভাবছেন না ‘এই ব্যাপারটায় আমার কখনোই খুব আগ্রহ নেই। আমাকে স্যুট পরে বসে থাকতে দেখে, অনেকেই ভেবেছে, কাজটা করব। হ্যাঁ, কাজটা উপভোগ করেছি। কিন্তু কোচিংয়ের কথা বললে, আমি বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করতেই বেশি পছন্দ করি। সে জন্য তো আমার একাডেমিটাই আছে।’
কিন্তু খেলোয়াড়ি জীবন আর কত লম্বা করতে চান বেকহাম? আপাতত ২০১২ অলিম্পিক পর্যন্ত, লন্ডন অলিম্পিকে ইংলিশ দলের হয়ে খেলতে চান সাবেক অধিনায়ক।
লন্ডন অলিম্পিক আয়োজনের লক্ষ্যে প্রচারণাপর্বে কাজ করেছেন। এখন বাড়ির পাশের অলিম্পিকেও খেলতে চান সিনিয়র খেলোয়াড়ের কোটায়। প্রশ্ন হলো, সে পর্যন্ত তাঁর ক্যারিয়ারটা টিকে থাকবে তো? বেকহাম আশাবাদী, ‘আমি যদি ওই সময় পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যাই, তাহলে অবশ্যই দলে একটা পার্থক্য গড়ে দিতে চাই, সেটা করতে ভালোই লাগবে

মোহামেডানের জয়

আগের ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়। ৯ ম্যাচের সব কটি জিতে প্রিমিয়ার হকি লিগের প্রথম পর্ব শেষ করেছে মোহামেডান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী হেরেছে শুধু মোহামেডানের কাছেই। শিরোপা নির্ধারণী পর্ব সুপার ফাইভে কি হবে কে জানে। তবে জয় দিয়ে এই পর্ব শুরু করল মোহামেডান।
মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে কাল অ্যাজাক্সের বিপক্ষে সাদা-কালোদের জয় ৮-১ গোলে। মামুনুর রহমান (চয়ন) ৩টি, জাহিদুল ইসলাম (রাজন) ২টি, কামরুজ্জামান (রানা), সাব্বির হোসেন ও রাসেল মাহমুদ করেছেন ১টি করে গোল। অ্যাজাক্সের গোলটি শরাফত আলীর।

জাতীয় এয়ারগান শ্যুটিং

গুলশান শ্যুটিং কমপ্লেক্সে কাল শুরু হওয়া জাতীয় এয়ারগান শ্যুটিংয়ের প্রথম দিনে মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে রেকর্ড হয়েছে। এটি গড়েছেন নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের আরমিন আশা (৪৭০.১ পয়েন্ট)। পুরুষ ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে ব্যক্তিগত সোনা জিতেছেন সাভার সেনা শ্যুটিং ক্লাবের নাদিমুল, দলগত সোনাও একই ক্লাবের। এই ইভেন্টের মেয়েদের বিভাগে দলগত সোনা ঢাকা রাইফেল ক্লাবের।

আদালতেও হতাশ মোদি

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) আদালতে তুলে পাশ কাটাতে চেয়েছিলেন তদন্ত কমিটিকে। কিন্তু লোলিত মোদির বিপক্ষে এবার গেল আদালতের রায়ও। মুম্বাইয়ের উচ্চ আদালত গতকাল এক রায়ে বিসিসিআই তদন্ত কমিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জানাতে অস্বীকার করেছেন। সেই সঙ্গে আদালত মোদির আবেদন অনুযায়ী বিসিসিআই তদন্ত কমিটি পুনর্গঠনেও আপত্তি করেছেন।
ভারতীয় বোর্ডের সাবেক সহসভাপতি ও আইপিএলের কমিশনার লোলিত মোদির বিরুদ্ধে অনেক রকম দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল বিসিসিআই। এসব অভিযোগেই তাঁকে বহিষ্কার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশের জবাব পেয়ে বিসিসিআইয়ের তদন্ত কমিটি শুনানির জন্য মোদিকে ডেকেও পাঠিয়েছে। আদালতে মোদির সব আবেদন অগ্রাহ্য হওয়ায় আজ শুক্রবারই তাঁকে তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে হবে।
মোদি আদালতে তাঁর আবেদনে বলেছিলেন, বিসিসিআইয়ের তদন্ত কমিটি পক্ষপাতদুষ্ট। তদন্ত কমিটিতে আছেন অরুণ জেটলি, চিরায়ু আমিন ও জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। এই তদন্ত কমিটির ওপর স্থগিতাদেশ ও তদন্ত কমিটির পরিবর্তন চেয়েছিলেন মোদি। আদালত এ আবেদনে কান না দেওয়ায় এখন নতুন করে পরিকল্পনা করছেন মোদির আইনজীবীরা।
সেই পরিকল্পনা কী, তা এখনো পরিষ্কার না। এমনকি মোদি আজ শুনানিতে যাবেন কি না, সেটাও জানাননি তাঁর আইনজীবী মেদমুদ আবদি। মোদির বিরুদ্ধে আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিসিসিআইয়ের প্রধান নির্বাহী রত্নকর শেঠি। তিনিও অবশ্য বললেন না, মোদি আজ শুনানিতে না এলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

বয়সভিত্তিক সাঁতারে আমলার দাপট

বিআরবি কেবলস ২৬তম জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতারের প্রথম দিনে সেই পুরোনো ছবিই দেখা গেল। সারা দেশ থেকে আসা সাঁতারুদের কোলাহলে মুখরিত মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্স। এই উচ্ছ্বাসের পাশে সেই চেনা ছবি—হাতঘড়িতেই চলছে সময় ধরা!
প্রথম দিনে হলো ৩৬টি ইভেন্টে। এর মধ্যে ১৯টি সোনা জিতেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপি। আনসারের প্রাপ্তি ১৪টি সোনা। ঢাকার বাইরে দলগুলো মাত্র তিনটি সোনা জিতেছে—বগুড়া সুইমিং ক্লাব, রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও মুন্সিগঞ্জের অগ্রযাত্রা সুইমিং ক্লাব।
নতুন জাতীয় রেকর্ড হয়েছে ৮টি, যার মধ্যে ৬টিই দুজনের। আনসারের জুয়েল আহমেদ ও একই দলের নাজমা খাতুন। দুজনই সমান তিনটি করে রেকর্ড করেছে। দুজনের মধ্যে আরেকটি মিল—দুজনই বাংলাদেশের সূতিকাগার কুষ্টিয়ার আমলার সাঁতারু। বাকি দুটি রেকর্ড বিকেএসপির খাদিজা আক্তার ও পলাশ চৌধুরীর।
জুয়েল গত বছর ৯টি সোনা জিতেছিল, ৫টি ছিল রেকর্ড। কাল ৪টি ইভেন্টের তিনটি সোনা জিতেছে জুয়েল—১০০ মিটার ফ্রি-স্টাইল, ৪০০ মিটার ফ্রি-স্টাইল এবং ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলে। এই তিন ইভেন্টেই নতুন রেকর্ড হয়েছে। ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে জিতেছে রুপা। কাল দিন শেষে বলছিল জুয়েল, ‘এবার ১০টি সোনা জিততে চাই।’
নাজমা খাতুন খেলেছে তিনটি ইভেন্টে, তিনটিই সোনা—১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক, ২০০ মিটার ফ্রি-স্টাইল, ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলে। এর মধ্যে ব্যাকস্ট্রোকের রেকর্ডটি ভেঙেছে ১০ বছর পর। ২০০০ সালে আগের রেকর্ড গড়েছিল সবুরা খাতুন।
৪০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে নতুন রেকর্ড গড়েছে বিকেএসপির খাদিজা আক্তার। ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে নতুন রেকর্ড করেছে বিকেএসপির পলাশ।
তবে এসব রেকর্ড নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। হাতঘড়িতে আসল টাইমিং যে কখনোই ধরা যায় না। ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড থাকলেও কেন সেটি ব্যবহার করা হলো না? ফেডারেশনের দাবি, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে বিষয়টা জানালেও তারা নাকি আগ্রহই দেখায়নি। ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলছেন, ‘ইলেকট্রনিক বোর্ড চালু করতে গত ৪ জুলাই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে চিঠি দিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু এর কোনো জবাব এখনো পাইনি আমরা।’ ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আবদুর রহমান দিলেন এর বিপরীত তথ্য, ‘বিষয়টা আমার জানা নেই!’