Sunday, January 11, 2015

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান খালেদার

দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দলের নেতা কর্মীদের আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ রাতে গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। এর আগে ৯ দিনের মাথায় অবরুদ্ধ খালেদা জিয়াকে দেখতে যান দলের স্থায়ী কমিটির তিন বর্ষীয়ান সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার ও  ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে আলাদাভাবে তারা কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। ঘণ্টাখানেক পর কার্যালয় থেকে বেরিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খালেদা জিয়া। অবরোধ কতদিন চলবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সকল দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। আমরা বারবার সরকারকে আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু সরকার তা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছে। তবুও আমরা অপেক্ষায় আছি- সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তারা আলোচনার উদ্যোগ নেবে। অন্যথায় আন্দোলন চলবে। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ কি আদৌ ফোন করে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খোঁজ নিয়েছেন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অমিত শাহর সঙ্গে নেত্রীর কথা হয়েছে। খালেদা জিয়া যেভাবে আছেন সেটাকে কি গৃহবন্দি বলা যায়, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রফিকুল বলেন, এটা গৃহবন্দি নয়, তিনি  বন্দি রয়েছেন। এছাড়া  খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন বলেও জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য। এদিকে রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান তা উপদেষ্টা ও আইনজীবী  এজে মোহাম্মদ আলী।

অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে রাজনীতি by সুজয় মহাজন

(দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে গেছে আলু বহনকারী ট্রাক। ঘটনাটি গত শুক্রবার রাতে বগুড়ার বাইপাস সড়কের চারমাথা নিশিন্দারা এলাকার। ছবিটি তোলা গতকাল বেলা ১১টায় l প্রথম আলো) অর্থবছরের ছয় মাস শেষে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি এখন মাত্র দেড় শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮ শতাংশ। আবার গত নভেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি মাত্র ১৪ শতাংশ, অথচ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ২৪ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হতে হবে। গবেষকেরা বলছেন, অর্থবছর শেষে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হবে ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। নভেম্বরের তুলনায় গত ডিসেম্বরে রপ্তানি কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবৃদ্ধি গত ছয় মাসে প্রথমবারের মতো ১ শতাংশ ছাড়িয়েছে। তবে জানুয়ারি মাস নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। প্রধান রপ্তানিপণ্য তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, এরই মধ্যে উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। আর ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতিসমূহের ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, টানা অবরোধের কারণে কেবল পরিবহন খাতেই প্রতিদিন গড়ে ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। রপ্তানি কম হলে এর প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানের ওপর। আর রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি হলে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যাহত হবে। এর বিরূপ প্রভাব পড়বে সামগ্রিক বিনিয়োগ ও জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির ওপর। চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকার কর ও করবহির্ভূত খাত মিলিয়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমে যাচ্ছে। এফবিসিসিআইয়ের মতে, রাজস্বের সিংহভাগই আসে বেসরকারি খাত থেকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে, যা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা এ বি আজিজুল ইসলাম গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, সরকার চলতি অর্থবছরে যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা কোনোভাবেই পুরোপুরি অর্জিত হবে না। যে পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা ছিল বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাতেও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এমনিতেই দেশে সন্তোষজনক বিনিয়োগ হচ্ছে না। এর মধ্যে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও কমে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীরাও। আর পণ্য পাঠাতে না পেরে চরম সংকটে আছেন শীতের সবজি চাষিরা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ধরনের রাজনৈতিক সংকট স্বল্প ও মধ্য মেয়াদে দুইভাবে অর্থনীতির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্বল্প মেয়াদে শিল্পের উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে তাতে করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে, যা গিয়ে পড়বে সাধারণ ভোক্তার ওপর। পাশাপাশি উৎপাদকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রপ্তানিকারকদের ওপরও চাপ বাড়ছে। সরবরাহ সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে উৎপাদন হ্রাস করতে হচ্ছে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকেও। দেশের বৃহত্তম খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়জাত ও প্লাস্টিকপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণ (আরএফএল) গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান গতকাল প্রথম আলোকে জানান, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে তাঁদের প্রতিষ্ঠানকে ২০ শতাংশ উৎপাদন কমিয়ে দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য নিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৭০০ ট্রাক দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। কিন্তু অবরোধের কারণে এখন ৪০০-৪৫০টির বেশি ট্রাক যাতায়াত করতে পারছে না। গত কয়েক দিনে প্রতিষ্ঠানটির পণ্যবোঝাই ১৮টি ট্রাক ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে করে পুরো সরবরাহব্যবস্থা অস্বাভাবিক অবস্থার মধ্যে পড়েছে। বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম বলেছেন, ‘বড়দিন শেষে এখন পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ আসার সময়। এ সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ক্রয়াদেশ কমে যেতে পারে। এরই মধ্যে অনেক ক্রেতা বাংলাদেশে না এসে আমাদের হংকং, থাইল্যান্ডে যেতে বলছেন। এর ফলে উৎপাদন খরচ যেমন বাড়বে তেমনি বাংলাদেশ সম্পর্কে ক্রেতাদের একটি খারাপ ধারণাও তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে যা এ খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের অপর সংগঠন বিকেএমইএ বলছে, অনাকাঙ্ক্ষিত ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ অবস্থা চললে দেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধি চলতি বছরশেষে সাড়ে ছয় শতাংশ থাকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এদিকে বিরাজমান সহিংসতা ও অবরোধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে এফবিসিসিআই। সংগঠনটির মতে, অবরোধকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ঘটে যাওয়া সহিংসতা ব্যবসায়ী সমাজকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি বন্ধে আইনগত যদি কোনো সুযোগ থাকে তাহলে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই আইনগত বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় আরও জানানো হয়, চলমান সংকটে ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার জন্য এফবিসিসিআই কোনো উদ্যোগ নেবে না। কারণ, অতীতে রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য দুই নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করে কোনো লাভ হয়নি। এফবিসিসিআই বলেছে, চলমান অবরোধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবহন, উৎপাদন ও পর্যটন খাত। ২ লাখের বেশি বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান অলস পড়ে আছে আর ২০ লাখের বেশি পরিবহনশ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে তাতে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদনসহ সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর ফলে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের কাজটি দুরূহ হয়ে পড়বে।

কাল আ. লীগের মহাসমাবেশ, অনুমতি নেই, যা বোঝার বুঝে নিন -ডিএমপি by আবদুর রশিদ

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আগামীকাল সোমবার বেলা দুটায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বড় রকমের সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু রাজধানী ঢাকায় এখনো সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি)। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সমাবেশ করতে এখনো অনুমতি নেয়নি আওয়ামী লীগ। জানতে চাইলে ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, রাজধানীতে সভা-সমাবেশের ওপর অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল আছে। আওয়ামী লীগের সমাবেশের জন্য সেটা শিথিল হতে পারে। দুই দলের জন্য কেন দুই নীতি? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যা বোঝার বুঝে নিন। সমাবেশের অনুমতি না থাকা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এখনো অনুমতি নেইনি। তবে অনুমতি নিয়েই সমাবেশ করব।’
আওয়ামী লীগের দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবসে’ সমাবেশ করতে না পারায় আগামীকাল রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক জনসমাগমের চেষ্টা করবে আওয়ামী লীগ। জনসভায় প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সমাবেশ সফল করতে গতকাল ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংসদের নিয়ে যৌথসভা করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। সমাবেশ সফল করতে সৈয়দ আশরাফ আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মী, সমর্থকসহ সব শ্রেণী-পেশা এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া আগামীকালের সমাবেশ করতে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগ পৃথক যৌথসভা করেছে। দলটির লক্ষ্য, ৫ জানুয়ারির ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ ও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে শক্তির মহড়া দেওয়া।
গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ ও বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন করতে রাজধানীতে একইদিনে সমাবেশের ঘোষণা দেয়। পরে ডিএমপি সমাবেশের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজধানীতে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সমাবেশ করতে চাইলে গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রাখা হয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। বর্তমানে তিনি কার্যালয়ে ভেতরেই অবস্থান করছেন। আর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছে আওয়ামী লীগ।
আজ রোববার দুপুর ১২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, মঞ্চ করার জন্য বাঁশ ও কাঠ নিয়ে শ্রমিকরা কাজ করছেন। একজন শ্রমিক বলেন, আজ রাতের মধ্যেই মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ হতে পারে।

‘বিজয় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখুন’- ঢাকার পাশ্ববর্তী ৪ জেলায় সোমবার হরতাল

চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন: খালেদা চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রবিবার দুপুরে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে খালেদা জিয়া এ আহ্বান জানান। এর আগে বিএনপিদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান ও শাম্মী আক্তারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। সাক্ষাৎ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে বেশ ভালো।
শাম্মী আক্তার বলেন, ‘দেশনেত্রী মানসিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় রয়েছেন। তিনি বলেছেন- চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
এ সময় তিনি জানান, প্রতিনিধি দলকে সঙ্গে নিয়ে গুলশান কার্যালয়ে বসেই বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন খালেদা জিয়া। মোনাজাতে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। শাম্মী আক্তার এবং হেলেন জেরিন খানের সঙ্গে সুলতানা রাজিয়া শাওন, মাসুমা মির্জা, শাহিনুর আক্তার সাগর ও শওকত আরা উর্মি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন।
‘বিজয় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখুন’-রিজভী
সরকার পতন আন্দোলন চুড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, অবরোধ চলবে, বিজয় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখুন। গুলশানে একটি বাসায় রবিবার উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের তিনি এসব কথা বলেন। টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার সময়ে বিএনপির অবরোধ কর্মসূচি ডাক দেয়ায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা রহুল কবির রিজভী বলেন, ক্ষমতাসীন দলের একজন উচ্চ পর্যায়ের নেতা বলেছেন, বিশ্ব ইজতেমার মধ্যে অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে নাকী ২০ দলীয় জোট বাংলাদেশের বিরুদ্ধ যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। আওয়ামী লীগের কথা শুনে বিস্মিত হতে হয়। তিনি বলেন, যারা কিনা হেফাজতের সমাবেশে কোরআন মুখস্ত পড়া ছেলেদের নির্বিচারে হত্যা করেছে, যাদের গণজাগরণ মঞ্চের একজন ব্লগার রাসুল (সা.) বিরুদ্ধে কটুক্তি করে, যাদের দলের একজন মহানবী (সা.), তাবলীগ জামাত সম্পর্কে বাজে কথা বলার পরও তাকে কারাগারে জামাই আদরে রাখা হয় তারা আজ ইসলামের সেবক সেজেছে। রিজভী বলেন, প্রবাদ আছে- সাড়ে ৭শ ইদুর খেয়ে বিড়াল চলে তীর্থে। আওয়ামী লীগের অবস্থাটা হয়েছে তেমন। এরা বক ধার্মিক সেজেছে। এরা ভন্ড, প্রতারক। তারা মিথ্যা অপপ্রচার করছে। এদের বিরুদ্ধে আমাদের সর্তক থাকতে হবে। এফবিবিসিআইয়ের প্রধানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এফবিবিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, অবরোধ ও হরতাল বন্ধে আইন প্রণয়ন করা উচিৎ। শুধু মাত্র নির্দেশিত হয়ে কথা বলা উচিৎ নয়। উনি তো গুপ্ত হত্যা, গুম,খুন বন্ধের কথা বলেননি। উনাদের উচিৎ এমন একটি উদ্যোগ নেয়া- যাতে দেশে স্থিতিশীল, শান্তি বজায় থাকে। বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উদ্যোগ নেয়া হয়।
ঢাকার পাশ্ববর্তী ৪ জেলায় সোমবার হরতাল ডেকেছে বিএনপি
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করা, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে ঢাকার পাশ্ববর্তী ৪ জেলায় হরতাল ডেকেছে বিএনপি।
স্টাফ রিপোর্টার মানবজমিন, গাজীপুর থেকে জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করা রাখা ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গাজীপুরে সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে ২০দলীয় জোট। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন মুঠোফোনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অবরোধের সঙ্গে হরতাল দেওয়া হলে বিশ্ব ইজতেমা থেকে বাড়ি ফেরা মুসল্লিরা দুর্ভোগে পড়বে না দাবি করে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ইজতেমার মুসল্লিরা আজই বাড়ি ফিরে যাবে। হরতালের কারণে তাদের সমস্যা হবে না।
স্টাফ রিপোর্টার মানবজমিন, মুন্সীগঞ্জ থেকে জানান, মুন্সীগঞ্জের ৬ উপজেলায় ও ২টি পৌরসভায় সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে ২০ দলীয় ঐক্যজোট।
জেলা ২০ দলীয় ঐক্যজোট সমন্বয়ক কমিটির আহবায়ক ও জেলা বিএনপি সভাপতি আলহাজ আবদুল হাই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা, ২০দলীয় জোট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার ও মুন্সীগঞ্জ জেলায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে সোমবার জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করবে ২০ দলীয় ঐক্যজোট।
এদিকে, হরতাল সফল করার লক্ষ্যে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় চত্বর থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের কৃষি ব্যাংক চত্বরে এসে শেষ হয়। সেখানে এক পথসভায় জেলা বিএনপির সভাপতি, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্থানীয় সরকার ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আবদুল হাই বক্তব্য রাখেন। সভায় দলীয় নেতাকমী ও জনগণকে হরতাল পালন করা আহবান জানান।
স্টাফ রিপোর্টার মানবজমিন, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীলকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জেলায় হরতাল ডেকেছে বিএনপি। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মানবজমিন মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করা ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ এবং মুক্তির দাবীতে আগামী কাল সোমবার মানিকগঞ্জে সকাল সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জেলা বিএনপি। আজ দুপুরে জেলা বিএনপির সিনিয়ার সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট মোখসেদুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মী মানিকগঞ্জ ক্লাবে উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আগামীকাল সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, এডভোকেট আজাদ হোসেনসহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

গুলশানে চলাচলে কড়াকড়ি, খালেদার কার্যালয়ের সামনে ফের ৬ ট্রাক, ‘খালেদাকে কঠিন পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে’ -ইনু

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয় ঘিরে পুরো এলাকায় চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইজতেমার মোনাজাত শেষ হওয়ার পর এয়ারপোর্ট রোড, বাড্ডা-নতুন বাজারের প্রধান সড়ক থেকে গুলশান বনানীর সড়কে কোন ধরনের গণপরিবহন প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের চলাচলেও আরোপ করা হয়েছে কড়াকড়ি। পায়ে হেটে যেতে চাইলেও পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয় নিশ্চিত হয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে। মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘিরেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। কার্যালয়ের দুই পাশের সড়কে ছয়টি বালু, ইট ও কাঠ ভর্তি ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। কার্যালয়ের আশপাশের রাস্তায়ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
‘খালেদাকে কঠিন পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে’
নাশকতার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কঠিন সম্মুখীন হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, কোন গণতন্ত্র রাজনীতির পরিভাষায় ও রীতি-নীতিতে এই ধরনের নাশকতার কোন নজির নেই। বেগম খালেদা জিয়া যত বারের প্রধানমন্ত্রী হোক না কেন নাশকতার অন্তর্ঘাতের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করলে তাকে কঠিন পরিণতির সন্মুখীন হতে হবে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজ চত্বরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় শেষে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।  তথ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া জে.এস.সি পরীক্ষার ধার ধারলেন না, ইজতেমার মুসল্লীদের ধার ধারলেন না, এত অমানবিক আচরণ কেন। তিনি এ সময়টাই হরতাল, অবরোধ না দিয়েও আন্দোলন করতে পারতেন। উনি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেছেন। এই অস্বাভাবিক আচরণের পেছনে রহস্য রয়েছে এবং এই রহস্যটা প্রশাসনিকভাবে সমাধান করতে হবে। এ সময় ইনু বলেন, আগেই বলেছি আমরা নাশকতার ব্যাপারে কঠোর হবো। পৃথিবীতে নাশকতার অন্তর্ঘাতকে যে পদ্ধতিতে দমন করা হয় সেই পদ্ধতিতে দমন করা হবে। সেখানে মুখ দেখে দল দেখে আমরা কাউকে তোয়াক্কা করবো না। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্বিক) আবু বক্কর সিদ্দিক, তথ্য অফিসার মোঃ তৌহিদুজ্জামান ও জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন উপস্থিত ছিলেন।

রাজাপক্ষেকে হারালেন সিরিসেনা

সিরিসেনার বিজয় নিশ্চিত হওয়ার
পর তাঁর সমর্থকদের উল্লাস। এএফপি
তৃতীয় মেয়াদে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন অধরা থেকে গেল মাহিন্দা রাজাপক্ষের। গত বৃহস্পতিবারের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে সাবেক সহযোগী মাইথ্রিপালা সিরিসেনার কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন তিনি। অবসান ঘটেছে রাজাপক্ষের এক দশকের ঘটনাবহুল শাসনের। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায়ই শপথ নিয়েছেন সিরিসেনা। খবর এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্সের। রাজাপক্ষের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত মাইথ্রিপালা সিরিসেনা গত নভেম্বর মাসে পক্ষ ত্যাগ করে বিরোধী জোটের টিকিট নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামেন। গতকাল প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, তিনি বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে পড়া মোট ভোটের মধ্যে ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ পেয়েছেন। রাজাপক্ষে পেয়েছেন ৪৭ শতাংশ ভোট। আগে থেকেই বলা হচ্ছিল, কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে এটি। ফলাফল স্পষ্ট হয়ে যেতেই রাজাপক্ষে পরাজয় স্বীকার করে নেন। রাজধানী কলম্বোসহ বিভিন্ন এলাকায় সিরিসেনার সমর্থকদের বিজয় উদ্যাপন শুরু হয়ে যায়। ৬৩ বছর বয়সী সিরিসেনা সংখ্যাগুরু সিংহলি সম্প্রদায়ের সদস্য হলেও সংখ্যালঘু তামিলদের বড় সমর্থন পেয়েছেন। পাশাপাশি ছিল মুসলমানদের সমর্থন। ঘনিষ্ঠজনেরা বলেছেন, তিনি দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করবেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শ্রীলঙ্কা ক্রমবর্ধমানভাবে চীনঘেঁষা পররাষ্ট্রনীতির পথে চলেছে। পর্যবেক্ষকেরা বলেন, মানবাধিকারের নাজুক অবস্থার কারণে পাশ্চাত্যের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়া এর মূল কারণ। নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হওয়ার পর সবার আগে একে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এক বিবৃতিতে রাজাপক্ষে ভোটারদের রায় মেনে নেওয়ায় তাঁকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফোন করে সিরিসেনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। রাজাপক্ষে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে চীনা বিনিয়োগের ওপর ক্রমেই বেশি করে নির্ভরশীল হয়ে ওঠেন। দেশটিতে ক্ষমতার পালাবদল হওয়ায় চীনের সঙ্গে সম্পর্ক একটা ধাক্কা খাবে বলে অনেকের ধারণা। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে। রাজাপক্ষের হারের সম্ভাব্য কারণ: নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলে দেখা গেছে, রাজাপক্ষে এখনো সিংহলি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে জনপ্রিয়। আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার সময়ও তিনি তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার ব্যাপারে খুব আশাবাদী ছিলেন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী সিরিসেনার পেছনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো জড়ো হলে রাজাপক্ষের পায়ের নিচের মাটি দুর্বল হয়ে যায়। সংখ্যালঘু গোষ্ঠী তামিলরাও এবার অন্য কাউকে ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছে। রাজাপক্ষের হারের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এবং লাগামছাড়া দুর্নীতি। দুই ভাইসহ পরিবারের বেশ কয়েকজনকে রাজাপক্ষে বসিয়েছিলেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভোটাররা ক্ষুব্ধ ছিল। এর বিপরীতে সিরিসেনা দেশে ‘নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি’ চালু, রাজাপক্ষের ‘পারিবারিক শাসনের’ ইতি ঘটানো এবং দুর্নীতির মূল উচ্ছেদ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

‘বিপ্লবী’ তরুণ যেভাবে প্রেসিডেন্ট

মাইথ্রিপালা সিরিসেনা
বীর সেনানীর ঘরে জন্ম তাঁর। ছোটবেলা থেকেই আচরণও ছিল আর দশটা ছেলের চেয়ে আলাদা। যেমন মৃদুভাষী, তেমনই মিশুক। আদর্শের ব্যাপারে আপসহীন। পরিচিতজনেরা বলাবলি করতেন, ভবিষ্যতে ছেলেটা বড় কিছু একটা হবে। তাদের কথা বাস্তবে পরিণত হলো আজ। গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে শ্রীলঙ্কার সপ্তম প্রেসিডেন্ট হয়েছেন মাইথ্রিপালা সিরিসেনা (৬৩)। তাঁর পুরো নাম পালেওয়াত্তি গামারালালাজে মাইথ্রিপালা ইয়াপা সিরিসেনা। জন্ম ১৯৫১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, মধ্য-উত্তর শ্রীলঙ্কার পোলোনারুয়া জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে। বাবা অ্যালবার্ট সিরিসেনা ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-ফেরত বীর সেনা। ছোটবেলা থেকেই সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের প্রতি প্রবল ঝোঁক ছিল সিরিসেনার। মাত্র ১৬ বছর বয়সে গ্রাম থেকে অচেনা রাজধানী কলম্বোতে গিয়ে যোগ দেন সমাজতন্ত্রীদের সরকারবিরোধী আন্দোলনে। রাজনীতিতে সেটাই হাতেখড়ি। এরপর উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া। ১৯৬৭ সালে সিরিসেনা যোগ দেন প্রগতিশীল সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির (এসএলএফপি) যুব শাখায়।
তিন বছর পর মাত্র ২০ বছর বয়সে তাঁকে সরকারবিরোধী ‘বিপ্লবে’ নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে দুই বছর কারাগারে থাকতে হয়। তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে। ১৯৮১ সালে এসএলএফপির পলিটব্যুরোতে যোগদানের মধ্য দিয়ে সিরিসেনার রাজনৈতিক উত্থান শুরু। ১৯৮৯ সালে দলটির টিকিট নিয়ে নিজ এলাকা থেকে নির্বাচন করে পার্লামেন্ট সদস্য হন তিনি। এরপর বিভিন্ন সময়ে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং বিভিন্ন সরকারের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের অধীনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। সিরিসেনা খুব ডাকসাইটে মন্ত্রী ছিলেন, বিষয়টি তেমন নয়। তবে কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে সবাই তাঁকে পছন্দ করতেন। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও সিরিসেনার সাবেক সহকর্মী অস্টিন ফার্নান্দো সেভাবেই তুলে ধরলেন তাঁকে। সিরিসেনাকে ‘নম্র-ভদ্র ও মৃদুভাষী রাজনীতিক’ হিসেবে বর্ণনা করে ফার্নান্দো বলেন, ‘তিনি এমন একজন পছন্দ হওয়ার মতো মানুষ, যিনি সহজেই অন্যের শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে উঠতে পারেন।’ কৃষক পরিবার থেকে এসেছেন সিরিসেনা। বাবা অ্যালবার্ট সিরিসেনা সেনাসদস্য হলেও বিশ্বযুদ্ধ থেকে ফিরে কৃষিকাজেই মন দেন। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের মতো তিনিও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহিল জাতিগোষ্ঠীর সদস্য। দুজনই বৌদ্ধধর্মের অনুসারী। সূত্র: এএফপি ও বিবিসি

পার্লামেন্টে অনমনীয় ইংলাক

অভিশংসনের শুনানির জন্য পার্লামেন্টে এসে পৌঁছালে
সংবাদকর্মীরা ঘিরে ধরেন ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে।
থাইল্যান্ডের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা গতকাল শুক্রবার পার্লামেন্টে দৃঢ়ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। ওই অভিযোগের জন্য ইংলাক পাঁচ বছরের জন্য রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ হতে পারেন। তাতে দেশটিতে রাজনৈতিক বিভাজনের তিক্ততা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালের ২২ মে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করার মাত্র কয়েক দিন আগে আদালতের এক বিতর্কিত আদেশে ক্ষমতাচ্যুত হন থাইল্যান্ডের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা। তিনি স্বেচ্ছা-নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার বোন। কোটি কোটি ডলারের চালে ভর্তুকি কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগে সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্টে ইংলাকের বিরুদ্ধে অভিশংসনের শুনানি শুরু হয়।
পার্লামেন্টে দোষী সাব্যস্ত হলে রাজনীতি থেকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হবেন ইংলাক। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ইংলাক বলেন, ‘আমি সততা এবং আইন অনুযায়ী সরকার পরিচালনা করেছি।’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনকারী কৃষকদের চালের মূল্য হ্রাসের নেতিবাচক প্রভাব এবং ঋণ থেকে মুক্তি দিতে তিনি ভর্তুকি প্রকল্প চালু করেন। ইংলাকের দাবি, তাঁর এ পদক্ষেপে ১৮ লাখ কৃষক উপকৃত হয়। ইংলাক সিনাওয়াত্রা রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ হলে সামরিক আইনের ভেতরে সম্প্রতি নীরব থাকা তাঁদের পারিবারিক ‘রেড শার্ট’ সমর্থকেরা আবার প্রতিবাদে ফেটে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সিনাওয়াত্রা পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতেই দেশটির রাজতন্ত্রপন্থী অভিজাতেরা তাঁর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এনেছে। এ রাজনৈতিক পরিবারের দল ২০০১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনেই জয়লাভ করে আসছে।

সরকারের ব্যর্থতা ও অমানবিকতার এক ভয়াবহ কাহিনী by বদরুদ্দীন উমর

২৭ ডিসেম্বর ২০১৪ বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকার শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির মৈত্রী সংঘ মাঠে খেলা করছিল কয়েকটি ছেলেমেয়ে। এ খেলার সময় জিহাদ নামে একটি ৪ বছরের ছেলে মাঠের পাশে ওয়াসার পরিত্যক্ত পানির পাম্পের খোলা পাইপের ৬০০ ফুট নিচে পড়ে যায়। সে তার খেলার সাথীদের সঙ্গে খেলার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ পাইপটি কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ওয়াসার বন্ধ করে দেয়ার কথা থাকলেও চরম গাফিলতির কারণে তারা এ কাজটি না করার ফলে পাইপের মুখ খোলা ছিল। জিহাদের খেলার সাথী মুনসুর যুগান্তরের প্রতিনিধিকে জানায়, জিহাদসহ চারজন সেখানে গোল্লাছুট খেলছিল। এ সময় বিল্লাল নামে একটি ছেলে জিহাদকে ধাওয়া করার সময় সে দৌড় দিতে গিয়ে পাইপটির মধ্যে পড়ে যায়। এ সময় তারা পাইপের মুখে গিয়ে দাঁড়ালে জিহাদের ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার শোনে। এই ছেলেরা চিৎকার শুনে কান্নাকাটি ও চেঁচামেচি শুরু করলে পাশেই এক মুদি দোকানি সিরাজ দৌড়ে সেখানে গিয়ে দাঁড়ালে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনতে পান। এরপর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে আধঘণ্টা পর তাদের লোকজন সেখানে উপস্থিত হয় (যুগান্তর, ২৮.১২.২০১৪)।
উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণকারী ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, রাত ৯টার দিকেও তিনি শিশুটির কান্নার শব্দ শোনেন। তাদের ডাকে শিশুটি সাড়াও দিয়েছিল। শিশুটিকে উপর থেকে কয়েক দফা জুস দেয়া হয়েছিল যা সে খেয়েছিল। তাকে বাঁচিয়ে রাখতে উপর থেকে পাইপের মাধ্যমে অক্সিজেনও সরবরাহ করা হয়। তাকে জীবিত উদ্ধার করার সব চেষ্টাই তারা করেন (ওই)। কিন্তু সব চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে উপরে আনা সম্ভব হয়নি। পরে ওয়াসার লোকজনও যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু এসব চেষ্টা সত্ত্বেও জিহাদকে টেনে উপরে আনা তাদের দ্বারা সম্ভব হয়নি। এ ক্ষেত্রে বিস্ময়কর ব্যাপার এই যে, তাদের হাতে যা কিছু যন্ত্রপাতি ছিল তা নিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা সত্ত্বেও তারা ব্যর্থ হন। এ সময় শিশুটিকে উদ্ধার করার জন্য রাত সাড়ে ১১টার সময় বশীর নামে এক স্বেচ্ছাসেবক জিহাদকে উদ্ধারের জন্য পাইপের ভেতরে নামার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি রানা প্লাজার দুর্ঘটনার সময় একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অনেক কাজ করেছিলেন। কিন্তু অন্য একজনকে ভেতরে নামতে দিলে তারও জীবনহানির আশংকার কথা ভেবে তাকে অনুমতি দেয়া হয়নি। বশীর আহমদ বলেন, তার নিজের জীবন বিপন্ন করেও তিনি শিশুটিকে বাঁচাতে পাইপের ভেতরে নামার জন্য দুই দফা চেষ্টা করেন। কিন্তু তাকে বাধা দেয়া হয়। পরে জিয়াউর রহমান নামে আরেক যুবক শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য পাইপের ভেতরে নামার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তাকেও ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা নিচে নামতে বাধা দেয়। অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিস ও ওয়াসার কর্মীরা তাদের হাতে থাকা যন্ত্রপাতি নিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করতে অক্ষম হন। সব থেকে বিস্ময়কর ব্যাপার এই যে, রাত তিনটার সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হয়ে আধঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর ঘোষণা করেন, ‘পাইপের ভেতরে শুধু জীবিত নয়, মৃত কোনো মানুষেরও অস্তিত্ব মেলেনি।’ প্রতিমন্ত্রীর এ ঘোষণার পর ওয়াসা ও ফায়ার সার্ভিসের অক্ষমতার মুখে উদ্ধার কাজ বন্ধ করা হয়! কিন্তু আরেক বিস্ময়কর ব্যাপার হল, তাদের দ্বারা এভাবে উদ্ধার কাজ পরিত্যাগ করার ১৫ মিনিটের মধ্যেই স্থানীয় লোকেরা জিহাদকে উপরে নিয়ে আসতে সক্ষম হন!! এ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনা ও তাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘বিশেষজ্ঞ’দের অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণার মধ্যে যে চরম অমানবিকতা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় পাওয়া যায়, এটা নিঃসন্দেহে এক ভয়াবহ ব্যাপার। শুধু তাই নয়, এর অপরাধমূলক চরিত্রও উপেক্ষার বিষয় নয়। জিহাদের খেলার সাথীরা, স্থানীয় লোকরা এবং সর্বোপরি ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম নিজে শিশুটির কান্নার আওয়াজ বারবার শোনা সত্ত্বেও প্রতিমন্ত্রীর এ বেপরোয়া ঘোষণার মধ্য দিয়ে যে সমগ্র প্রশাসন ও সরকারের অমানবিক ও অনৈতিক চরিত্রের প্রতিফলন ঘটে, এ নিয়ে কোনো সুস্থ ও মানবিক চেতনাসম্পন্ন লোকের কি বিতর্কের কোনো অবকাশ আছে? এর জন্য যে প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া দরকার, এ বিষয়েও কারও কি অন্য মত থাকতে পারে?
অন্যদিকে ঘটে আরেক ঘটনা। জিহাদ পানির পাইরে মধ্যে পড়ে যাওয়ায় তার মা ও বাবার অবস্থা স্বাভাবিকভাবেই শোকে অস্থির ছিল। সেই অবস্থায় নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য পুলিশ জিহাদের বাবা নাসির ফকিরকে থানায় ধরে নিয়ে যায় জিহাদ কোথায় আছে এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য! শুধু তাই নয়, সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের নামে তার ওপর নির্যাতন করা হয়। এমনকি ক্রসফায়ারের জন্য তাকে র‌্যাবের হাতে তুলে দেয়ার হুমকিও তারা প্রদান করে!! এভাবে তারা শিশুটির শোকগ্রস্ত বাবাকে সেই অবস্থায় কয়েক ঘণ্টা থানায় আটক রাখে। জিহাদের লাশ হাসপাতালে নেয়ার পরই থানা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে!!! এখানে প্রশ্ন হল, শিশুটি ওয়াসার খোলা পাইপের মধ্যে পড়ে যাওয়ার পর কোন যুক্তিতে তার বাবাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হল? একজন সাধারণ মানুষ কী কারণে নিজের সন্তানকে গায়েব করে দিয়ে নাটক করতে পারে? এর কোনো যুক্তি কি সুস্থ লোকের মাথায় আসতে পারে? নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য সরকার ও প্রশাসন কোন পর্যায় পর্যন্ত যেতে পারে, তার প্রমাণ কি এর মধ্যে পাওয়া যায় না? শুধু তাই নয়, পুলিশের এ নির্যাতনের সাফাই গেয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং পুলিশ কমিশনার বলেন, সদিচ্ছাবশত শিশুটির বাবার ‘নিরাপত্তার’ জন্যই তাকে আটক রাখা হয়েছিল! (ডেইলি স্টার ২৯.১২.২০১৪)।
সরকার ও তাদের আজ্ঞাবাহী পুলিশ কথায় কথায় মানুষ ধরে নিয়ে যায়, তাদের ওপর নির্যাতন করে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যে তারা সব সীমা অতিক্রম করেছে এতে সন্দেহ কী? এ ক্ষেত্রে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা করেছেন তার অপরাধমূলক চরিত্রই বা অস্বীকার করবে কে? এর জন্য মন্ত্রিসভা থেকে কি তাকে জবাবদিহি করতে বলা এবং এজন্য তার উপযুক্ত শাস্তির দাবি কি অযৌক্তিক?
এখানে উল্লেখ্য, সরকারের এই অপদার্থতা ও অমানবিকতার পরিচয় শুধু এ দুর্ঘটনার মধ্যেই পাওয়া যায়নি। রানা প্লাজার দুর্ঘটনার সময়ও সরকার ও প্রশাসন নিহত ও আহতদের বিল্ডিং থেকে বাইরে আনার ক্ষেত্রে চরম অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছিল। সে সময় সাধারণ লোকজনই ব্যাপক আকারে উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তারা যদি এভাবে অংশগ্রহণ না করতেন, তাহলে আরও অনেকেই মারা পড়তেন। সারা দেশে আজ প্রশাসন কীভাবে ভেঙে পড়েছে, চুরি-দুর্নীতি ছাড়া যে তাদের মাথায় আর কোনো ধান্ধা নেই এটা প্রশাসন, পুলিশ এবং সর্বোপরি তাদের সরকারের কার্যকলাপের মধ্যে প্রতিদিনই দেখা গেলেও জিহাদের উদ্ধার কাজে তাদের অক্ষমতা, অপদার্থতা ও অমানবিকতার যে পরিচয় ও প্রমাণ তারা রেখেছে, একটি দেশ ও জনগণের জন্য এর থেকে ভয়াবহ ব্যাপার আর কী হতে পারে?
বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন জনগণের শক্তির প্রমাণ দিল by এম হুমায়ূন কবির

গত ৮ জানুয়ারি শ্রীলংকায় যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল, ওই নির্বাচনে সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রের বিজয় সূচিত হল। নির্বাচনে দেশটির নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। মাইথ্রিপালা সিরিসেনার নির্বাচনী স্লোগান ছিল, Regime change for good governance.
শ্রীলংকায় বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মাহিন্দ রাজাপাকসে সরকার পরিচালনায় উন্নয়ন ও নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। রাজাপাকসের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল, তিনি ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করেছেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রশাসনের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায়িক সুবিধা পাইয়ে দেয়ার বিষয়ে রাজাপাকসের ভূমিকা থাকত, এমন অভিযোগও রয়েছে। অনেকে মনে করেন, এ প্রক্রিয়ায় শ্রীলংকার প্রশাসন ও অর্থনীতিতে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে।
শ্রীলংকায় এলটিটিই বিদ্রোহীদের দমনে রাজাপাকসে সফল হলেও সরকার পরিচালনার সময় তিনি দেশটির তামিল ও মুসলিম সংখ্যালঘুদের দিকে যথাযথ মনোযোগ দিতে পারেননি। ফলে তামিল ও মুসলিম সম্প্রদায়ের সমর্থন যে রাজাপাকসের বিপক্ষে গিয়েছে সেটা অনুমান করা যায়। এছাড়া রাজাপাকসে এককভাবে সিংহলিদের সমর্থন আদায়েও সফল হতে পারেননি। এ প্রেক্ষাপটে বিরোধী বিভিন্ন মতাদর্শের অনুসারী সব রাজনৈতিক পক্ষ একজোট হওয়ায় নির্বাচনে রাজাপাকসে হেরে যান।
রাজাপাকসে নির্বাচনের ফলকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে জনগণের রায় মেনে নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে শ্রীলংকায় গণতন্ত্র চর্চায় একটি ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপিত হল। এমনকি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগেই রাজাপাকসে সরকারি বাসভবন ছেড়েছেন। তার এ আচরণও দেশটির গণতন্ত্রের চর্চায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শ্রীলংকার জনগণ যে সরকারের কর্তৃত্বপরায়ণ আচরণ ও পরিবারতন্ত্র মেনে নেয়নি, ৮ জানুয়ারির শ্রীলংকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তা আবারও স্পষ্ট হল।
শ্রীলংকার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে দেশটির উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও নিজের জনসমর্থন ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে তা হল, কেবল উন্নয়ন ও নিরাপত্তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। জনগণ শাসকদের কাছে আরও বেশি কিছু আশা করে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিশেষভাবে যে বিষয়গুলো বারবার আলোচিত হবে তা হল, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যথাযথ ভারসাম্য ও দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সব মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলেই জনগণ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার সুফল ভোগ করে সামনে এগোতে পারে।
শ্রীলংকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রমাণ করল গণতান্ত্রিক অবস্থার মধ্য দিয়েই স্বৈরতন্ত্রকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা সম্ভব। নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতি সিরিসেনা যে প্রতিশ্র“তি দিয়ে ক্ষমতায় এলেন তাকেও যথেষ্ট দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এম হুমায়ূন কবির : সাবেক রাষ্ট্রদূত

মেঝেতে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ

ফ্রান্সের প্যারিসে বিদ্রুপাত্মক সাপ্তাহিক শার্লি হেবদোর কার্যালয় জঙ্গি হামলার রক্তাক্ত হয়েছে। বুধবার পত্রিকাটিতে জঙ্গি হামলায় নিহত হন প্রধান সম্পাদকসহ আট সাংবাদিক, দুই পুলিশ সদস্য ও অন্য দু’জন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। হামলার সময় সাংবাদিকরা কনফারেন্স রুমে বর্ণবাদবিষয়ক আলোচনায় মগ্ন ছিলেন। হামলার একদিন পর লণ্ডভণ্ড শার্লি হেবদোর নিউজরুমের প্রথম ছবি প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত ফ্রান্সের লা মন্ডে পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে। ছবিতে মেঝে যত্রতত্র ছোপ ছোপ রক্তের দাগ।
এলোমেলোভাবে করিডোরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নোট ও কার্ড। রক্তে লাল হয়েছে স্কেচ পেপারও। তার মধ্যে দিয়েই হেঁটে যাওয়ার চিহ্ন। একপাশে কয়েকটি বই ও সংবাদপত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ছবির অপর প্রান্তে উল্টে আছে একটি চেয়ার। সেখানে ঝুলছে হতভাগা কোনো সংবাদকর্মীর জ্যাকেট। আছে কাচের দেয়ালে বুলেটের চিহ্ন। এদিকে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ফ্রান্স সরকার এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে তিন হামলাকারী সাইদ কোউয়াচি (৩৪), তার ভাই শরিফ কোউয়াচি (৩২) এবং হামিদ মুরাদ (১৮) পত্রিকাটিতে হত্যাযজ্ঞ চালায়। তিনজনের মধ্যে হামিদ মুরাদ বৃহস্পতিবর প্যারিস থেকে ২৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে বেলজিয়াম সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় থানায় আত্মসমর্পণ করেছে। ডেইলি মেইল।

হার মানলেন রাজাপাকসে

শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধীপ্রার্থী মাইথ্রিপালা সিরিসেনা বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। পরাজয় মেনে নিয়েছেন মাহিন্দা রাজাপাকসে। তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বলেও জানিয়েছেন। শ্রীলংকার সেনাবাহিনী ২০০৯ সালে বিদ্রোহী তামিল টাইগারদের নির্মূল করার পর রাজাপাকসে রাজনীতিতে অজেয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তিনি প্রায় এক দশক ধরে রাজনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করে আছেন। তবে এবার তার বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাইথ্রিপালা সিরিসেনা নিজ দল ত্যাগ করে প্রধান বিরোধী জোটের প্রার্থী হওয়ায় তাকে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে দেখা গেছে, বিরোধীপ্রার্থী সিরিসেনা বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। সরকারিভাবে এক তৃতীয়াংশ ভোটের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিরিসেনা ৫২ দশমিক ৪৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন এবং রাজাপাকসে পেয়েছেন ৪৬ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট।
প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব বিজয়ানন্দ হেরাথ বলেন, রাজাপাকসে পরাজয় মেনে নিয়েছেন এবং মানুষের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। তিনি যে পরাজয় মেনে নিয়েছেন তা প্রকাশ করতে ইতিমধ্যে তার প্রধান সরকারি বাসভবন খালি করেছেন। বিদায়ী প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানায়, বিরোধীপ্রার্থী সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন এবং এটা অতিক্রম করা যে সম্ভব নয় তা প্রেসিডেন্ট বুঝতে পেরেছেন। হেরাথ বলেন, প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্টে বিরোধী দলের প্রধান রনিল বিক্রমাসিংহের সঙ্গে সকালে দেখা করেছেন। সাক্ষাৎকালে রাজাপাকসে পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় নেতা রনিল বিক্রমাসিংহের কাছে নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়েছেন। বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করবেন বলে সিরিসেনা জানিয়েছেন। বিরোধী আইনপ্রণেতা হর্ষ ডি সিলভা বলেন, রাজাপাকসের সঙ্গে ক্ষমতা হস্তান্তর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে এবং বিক্রমাসিংহে ‘তাকে ও তার পরিবারের নিরাপত্তার ’ নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সিরিসেনা এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি এখনও রাজধানীর পূর্বে পলন্নারুয়ায় বেসরকারি বাসভবনে অবস্থান করছেন। এএফপি।

অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে by মীর নাসির হোসেন

যে কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিভিন্ন পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহে বিপর্যয় দেখা দিলে বহুমুখী সংকটের সৃষ্টি হয়। এতে জনগণের নিত্যপণ্য প্রাপ্তিতে বিশেষ সংকট তৈরি হয়। বিশেষ করে যে কোনো পণ্যের খুচরা মূল্য অতিরিক্ত বেড়ে যায়, এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের প্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটে, যা শেষ পর্যন্ত দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
কাঁচামাল সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে উৎপাদনে বিপর্যয় দেখা দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহের চেইন ভেঙে পড়ে। উৎপাদন বন্ধ থাকলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষ নিজ থেকে শ্রমিকদের বেতন দিলেও সেটা বেশিদিন অব্যাহত রাখা সম্ভব হয় না। উৎপাদন বন্ধ থাকলে রফতানি বাণিজ্যে সিডিউল রক্ষায় বিপর্যয় দেখা দেয়। এর ফলে ব্যাংক ঋণ পরিশোধে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। হরতাল কিংবা অবরোধে সারা দেশে যে ব্যাপক ক্ষতি হয়, তা স্বল্প পরিসরে বর্ণনা করা সম্ভব নয়।
২০১৪ সালে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক ভালো থাকলেও নানা কারণে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগে স্থবিরতা লক্ষ করা গেছে। এ অবস্থায় বর্তমানে নতুন করে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হল তা ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে আমাদের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ডাবল ডিজিটে নেয়া সম্ভব হয়নি। অথচ মধ্যম আয়ের লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য ডাবল ডিজিটের প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। শিল্প স্থাপনে উপযোগী নিষ্কণ্টক জমির স্বল্পতা, জ্বালানি সমস্যা, ঋণের উচ্চ সুদসহ অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে এমনিতেই বিনিয়োগ খাতে স্থবিরতা বিরাজ করছে। বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে নতুন বিনিয়োগে ব্যাপক অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হবে, যা দেশের অর্থনীতিসহ সামগ্রিক পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে রফতানি বাণিজ্যে ধস নামলে এই ক্ষতি পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত অবিলম্বে সমঝোতায় আসা এবং জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছানো।
মীর নাসির হোসেন : এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি

ফ্রান্সে মুসলিমরা কোণঠাসা

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন চার্লি হেবদোর অফিসে বুধবার হামলার পর দেশটির বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি মসজিদে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ইউরোনিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এ খবর জানায়। প্যারিসের পশ্চিমে লে মেনসের কাছে একটি মসজিদে কয়েকটি গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া মসজিদে বুলেটের চিহ্নও দেখা গেছে। দক্ষিণ ফ্রান্সের পোর্ট লা নৌভেলে জেলায় একটি মসজিদ লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। মাগরিবের নামাজের পর ওই হামলার ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। হোনা অঞ্চলের একটি শহরে এক মসজিদের কাছে রেস্টুরেন্টেও বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। লে পোগহে পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে সিনহুয়া জানায়, এ বিস্ফোরণে জানালার কাচ ভেঙে যায়। এসব ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যায়িত করেছেন দেশটির প্রসিকিউটর। এর আগে অভিযানের তৃতীয় দিনে শুক্রবার প্যারিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দ্রুতগতির একটি গাড়িকে ধাওয়া করে পুলিশ। মহাসড়কে দুই ব্যক্তির সঙ্গে পুলিশের গুলির ঘটনা ঘটেছে। প্রসিকিউটরের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রতিবেদনে বলেছে, শুক্রবার গুলিতে কেউ নিহত হয়নি। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, ওই ব্যক্তিরা সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন চার্লি হেবদোর অফিসে ১২ জনকে হত্যা ও আহতের জন্য সন্দেহভাজন হতে পারেন। হেবদো পত্রিকা অফিসে বুধবার কালাশনিকভ রাইফেল ও রকেট লঞ্চার নিয়ে হামলা চালায় তিন ব্যক্তি। এতে পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক ও তিন ব্যঙ্গচিত্রশিল্পী এবং পুলিশ সদস্যসহ ১২ জন নিহত হন। আহত হন আরও ১০ জন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। এ হামলার মূল হোতাদের মধ্যে সাইদ কৌচি ও চিরেফ কৌচি অন্যতম।
ফ্রান্সে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে একে। হামলাকারীরা গ্রেফতার না হওয়ায় আরও হামলার আশংকা করা হচ্ছে। দু’ভাইয়ের এক ভাই আল কায়দার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফ্রান্সের প্যারিসে রম্য সাপ্তাহিক পত্রিকা শার্লি হেবদোর কার্যালয়ে হামলাকারী দুই ভাইয়ের একজন আল কায়দার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হামলাকারীদের একজন সাঈদ কোউয়াচি ইয়েমেনে আল কায়দার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য। তিনি জানান, ৩৪ বছর বয়েসী কোউয়াচি ২০১১ সালে ইয়েমেনে আল কায়দার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেন। এর আগে প্যারিসের উত্তরাঞ্চলীয় একটি বনে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে আলোচনায় আসেন এ দুই ভাই। ৭ জানুয়ারি সকালে ফ্রান্সের প্যারিসে ব্যঙ্গ পত্রিকা শার্লি হেবদোর কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে এরপর প্রধান সম্পাদকসহ আটজন কার্টুনিস্ট, দুজন পুলিশ সদস্য ও অন্য দুই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারীরা। এর প্রতিবাদে সমগ্র দেশবাসী গর্জে ওঠেন। সেই সঙ্গে বিশ্বের সংবাদমাধ্যমগুলিও এ হত্যার নিন্দা জানিয়ে শার্লি হেবদোর নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এএফপির খবরে জানানো হয়, সন্দেহভাজন হামলাকারী সাঈদ (৩৪) এক বছর ধরে সন্ত্রাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি তালিকায় রয়েছেন। ফ্রান্সের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ২০১১ সালে সাঈদ ইয়েমেনে যান। সেখানে তিনি আল কায়দার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেন।
বড় হামলার ছক করছে আল কায়দা : ব্রিটেন
ব্রিটেনসহ পশ্চিমাবিশ্বে ফের বড় ধরনের হামলা ছক কষছে জঙ্গি সংগঠন আল কায়দা। ব্রিটিশ গোয়েন্দা দফতর আল কায়দার সম্ভাব্য হামলার ছক মাথা রেখে ব্রিটেনজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। ব্রিটেন সিকিউরিটি সার্ভিসের পরিচালক অ্যান্ড্র– পার্কার জানিয়েছেন, আল কায়দার হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে ব্রিটেনজুড়ে রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসের এক গোয়েন্দা দলকে নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সিরিয়াভিত্তিক আল কায়দা জঙ্গিরা ব্রিটেনের বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তারা বড় ধরনের প্রাণহানির পরিকল্পনা করছে। বিশেষত পাবলিক প্লেস কিংবা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালাতে চায় জঙ্গিরা। তিনি জানান, এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত জঙ্গি মুহসিন আল আল ফাদলি এই হামলার নেতৃত্ব দিতে পারেন। যে কোনো ধরনের বোমা তৈরিতে সক্ষম এই আল কায়দা জঙ্গির মাথার দাম ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটেনের সম্ভাব্য আল কায়দা হামলার বিষয়ে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে বলেন, এ ধরনের হামলার আশংকায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দ্য টেলিগ্রাফ, ডেইলি মেইল।

তিনি ছিলেন ন্যায়বিচারক ও দেশপ্রেমিক by কাজী সালাহ উদ্দীন

সৈয়দ মাহবুব মোরশেদ। সংক্ষেপে লিখতেন এসএম মোরশেদ। বিচারপতি মোরশেদ নামে তিনি ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। বিচারপতি মোরশেদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার অম্লান স্মৃতি ও আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
পেশাগত জীবনে আইন এবং বিচারাসনে বসে এত বেশি জনপ্রিয়তা এ দেশে কেউ আর লাভ করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। জনগণের চেতনার সঙ্গে একাত্ম ছিলেন বলেই তার পক্ষে সম্ভব হয়েছিল জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছা এবং সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা, অগাধ ভালোবাসা লাভ করা।
১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকা হাইকোর্টে বিচারক হিসেবে শপথ নেন। ১৯৬২-৬৩ সালে তিনি পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্টের তদর্থক বিচারক হন। ১৯৬৪ সালে তিনি প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন। বিচারাসনে বসে সবচেয়ে বিখ্যাত হন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনার সময় পদত্যাগ করে। অন্যান্য মামলার মধ্যে সমাবর্তন মামলা, মন্ত্রী সংঘটিত মামলাগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
সৈয়দ মাহবুব মোরশেদের বাবা সৈয়দ আবদুস সালেক ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন বিসিএস (বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস)। এক সময় তিনি বগুড়া ও দিনাজপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। ১৯২৬ সালে রাজমাহ বিভাগে সব প্রার্থীর মধ্যে প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন এসএম মোরশেদ। ১৯৩০ সালে তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতিশাস্ত্রে কৃতিত্বের সঙ্গে অনার্স পাস করেন। পরবর্তীকালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপর ব্যারিস্টারি পড়া শুরু করেন এবং তিনিই একমাত্র ছাত্র ছিলেন যিনি অনার্সসহ বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। প্রেসিডেন্সি কলেজ সংকলনে তিনি ছিলেন প্রথম মুসলমান সম্পাদক। কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের তিনি অন্যতম সংগঠকও ছিলেন। ১৯৪২ সালে স্টেটসম্যান পত্রিকায় একটি লেখা প্রকাশিত হলে প্যালেস্টাইন এবং আরব-বিশ্বে তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় তিনি আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম সংস্থার মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে মানবতার সেবায় এগিয়ে আসেন। ১৯৪৭ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় দাঙ্গা নিরসনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর চৌধুরী মোহাম্মদ আলী প্রতিষ্ঠিত লন্ডনস্থ পাকিস্তান সোসাইটির অন্যতম সদস্য হন। পরবর্তী সময়ে অন্য সদস্যদের সঙ্গে মতানৈক্য হওয়ায় সোসাইটির তৎপরতা থেকে তিনি অব্যাহতি নেন।
১৯৫২ সালে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে তিনি পরোক্ষভাবে পথ নির্দেশনার মাধ্যমে অনন্য ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচি প্রণয়নে এবং বাস্তবায়নে তার উল্লেখযোগ্য অবদান অবিস্মরণীয়। ১৯৬২ সালে ডাকসুর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিনি বলেছিলেন : বিশ্ববিদ্যালয় হবে অবশ্যই স্বাধীন আশার ও চিন্তাধারার প্রতীক। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী কমিটি গঠনে তিনি তৎকালীন সরকারের সব বাধা উপেক্ষা করে অগ্রনায়কের ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে এবং ১১ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা চিরস্মরণীয়। সে সময় আইয়ুব খানের রাউন্ড টেবিল কনফারেন্সে তার বক্তব্য সমগ্র পাকিস্তানে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী একবার তার সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন, তিনি একজন বলিষ্ঠ ন্যায়বিচারক এবং উদার ও উচ্চমানের বিচারক। বিখ্যাত আইনবিদ মি. বীরেন সরকার মন্তব্য করেছিলেন, তিনিই একমাত্র সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ন্যায্য দাবি আদায়ের ব্যাপারে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ। বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, লায়ন্স ক্লাব, রোটারি ক্লাব, পাক-চীন মৈত্রী সমিতি, বাংলা-চীন মৈত্রী সমিতির তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বাংলা একাডেমি, বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের তিনি ছিলেন আজীবন সদস্য। ১৯৫৬ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি রেডক্রস সোসাইটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
সৈয়দ মাহবুব মোরশেদ ১৯৭৯ সালের ৩ এপ্রিল এ সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে আমাদের শোকাভিভূত করে বিদায় নেন। তার আদর্শের মৃত্যু নেই। আমাদের নিত্যদিনের পথ চলায় তার আদর্শ চলার পথের পাথেয় হোক। তাকে স্মরণের মধ্য দিয়ে আসুন আমরা বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলি। আমরা যেন তার উজ্জ্বল প্রতিভা ও আদর্শের সত্যিকার উত্তরাধিকার হই।
কাজী সালাহ উদ্দীন : বিচারপতি মোরশেদ স্মৃতি সংসদের সেক্রেটারি, কবি ও কলামিস্ট

যে গাড়ি চলবে পৃথিবী ও মঙ্গলে

গুগলের তৈরি স্বয়ংক্রিয় গাড়ি
ভবিষ্যতের গাড়ির এক ঝলক
নিশানের তৈরি স্বয়ংক্রিয় গাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নাসা ও গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান নিশান স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির গাড়ি তৈরির জন্য পাঁচ বছরের একটি চুক্তি করেছে। এ চুক্তি অনুযায়ী, নিশানের স্বয়ংক্রিয় ও পরিবেশবান্ধব গাড়ি তৈরিতে সহায়তা করবে নাসা।  নিশানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে তারা এমন গাড়ি তৈরি করবে, যার জন্য কোনো চালক প্রয়োজন হবে না এবং এ গাড়ি থেকে পরিবেশ দূষিত করে এমন কোনো উপাদান বা বর্জ্য উৎপন্ন হবে না। পৃথিবীতে চলার উপযোগী গাড়ি তৈরির পাশাপাশি মহাশূন্যে চালানো যায় এমন গাড়ি তৈরিতেও কাজ করবে নিশান। ক্যালিফোর্নিয়ার এমস রিসার্চ সেন্টারে নিশান ও নাসার তৈরি এই গাড়ি পরীক্ষা করে দেখা হবে। নাসা ও নিশান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিশানের সিলিকন ভ্যালির গবেষণা বিভাগে নাসার গবেষকেরা একসঙ্গে কাজ করবেন। নিশান এরই মধ্যে এমন গাড়ি তৈরি করেছে যা নিজেই পথ চিনে চলতে পারে। স্বয়ংক্রিয় গাড়ির প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করতেই নাসা ও নিশান যৌথভাবে কাজ করবে। এ ছাড়া মহাকাশে ব্যবহারের উপযোগী রোবট রোভারেও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।  চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির একটি গাড়ি বাজারে আনতে পারে নিশান। নিশানের কর্মকর্তারা বলছেন, ‘নাসার রোবোটিক প্রযুক্তিবিদ ও আমাদের স্বয়ংক্রিয় গাড়ি প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয়ে গড়া দলটি একত্রে কতদূর যেতে পারে, তা দেখতে চাই।’
ভবিষ্যতের গাড়ি যেমন হবে
কেমন হবে ভবিষ্যতের গাড়ি? চার চাকা, সর্বদা ইন্টারনেট সংযোগ আর চালকের বিশ্রাম নেওয়ার সুবিধা। গাড়ি ও প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে ভবিষ্যতের এমনই গাড়ি তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত কনজুমার ইলেকট্রনিকস শো (সিইএস) উপলক্ষে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় গাড়ির দেখা মিলেছে।
কনজুমার ইলেকট্রনিকস শোতে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ গাড়ি ও উন্নত প্রযুক্তি সুবিধার গাড়ি চোখে পড়েছে, যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বাজারে চলে আসবে। সিইএসে এমনই একটি উচ্চাভিলাষী গাড়ি প্রদর্শন করছে জার্মানির গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান ডেইমলার। বৈদ্যুতিক শক্তির মার্সিডিজ-বেঞ্জ এফ০১৫ নামের গাড়িটি চালকবিহীনভাবেই লাস ভেগাসের রাস্তায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলেছে এবং দর্শকদের চমক দিয়েছে। কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত এই গাড়িটিতে যে বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হয়েছে তাতে গাড়িটি পথচারীকে সাহায্যও করতে পারে।
এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ডেইমলারের প্রধান ডায়েটার জেটসি বলেছেন, ‘আমরা আগেও স্বয়ংক্রিয় গাড়ি তৈরি নিয়ে কথা বলেছি। আমরা আগে দেখিয়েছিলাম যে, এ ধরনের গাড়ি বানাতে পারি এবং এ ধরনের প্রযুক্তি আমরা যুক্ত করতে পারি। কিন্তু এখন সেই প্রযুক্তির চেয়েও আমরা আরও এগিয়ে গেছি। এখন দেখাতে চাই, মোবিলিটি অনেকদূর যেতে পারে।’
জেটসি বলেন, ‘আমরা মানুষকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ফেরত দিতে চাই আর তা হচ্ছে সময় ও জায়গা। যাতে তারা তাদের ইচ্ছানুযায়ী সময় পার করতে পারে। তারা কাজ করতে পারে, চোখ বন্ধ করতে পারে, ভিডিও কনফারেন্স করতে পারে কিংবা ঘুমিয়েও যেতে পারে।’
গাড়ি ও প্রযুক্তি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানটি লাস ভেগাসে এসে গাড়ির ভবিষ্যৎ​ কেমন হতে পারে এবং কী কী সম্ভব হতে পারে—তা দেখাচ্ছে কিন্তু এই প্রযুক্তিনির্ভর গাড়ির জন্য গ্রাহক এখনো প্রস্তুত কি না, সেটির কোনো ধারণা নেই।
যেখানে গুগলও সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির গাড়ি তৈরি করছে, সেখানে অন্যান্য গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান এই ক্ষেত্রটিতে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। বেশির ভাগ গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান এখন স্বয়ংক্রিয় উপায়ে গাড়ি পার্কিং ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধী প্রযুক্তির দিকে নজর দিচ্ছে।
ফ্রান্সের গাড়ির যন্ত্রাংশ নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান ভ্যালিওর ভাইস প্রেসিডেন্ট গুইলাম ডেভাউচিলি বলেন, ‘গ্রাহকেরা যেটা গ্রহণ করতে এখন প্রস্তুত আছে এবং যা কারিগরিভাবে করা সম্ভব, সেটা দিতে পারছি। পরিপূর্ণ স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ভাবনাটি এখনো আতঙ্কের নাম। আমরা এখন গাড়ির বিভিন্ন ফাংশনে মানুষের আস্থা অর্জনে কাজ করছি। এ ধরনের ফাংশনগুলো অবশ্যই সহজ ও সাশ্রয়ী করতে হবে আমাদের।’R
সিইএসে সাংবাদিকদের ক্রুজফরইউ প্রযুক্তি সুবিধার ভক্সওয়াগেন পাসাট গাড়িতে লাস ভেগাসের রাস্তায় ঘুরিয়েছে ভ্যালিও। এই প্রযুক্তিতে গাড়ির স্টিয়ারিংকে অটো পাইলট মোডে রাখা যায়, যাতে স্বয়ংক্রিয় উপায়ে গাড়ির গতি বাড়ানো, ব্রেক কষা ও দুর্ঘটনা এড়ানোর মতো বিভিন্ন বিষয় রয়েছে।
ভযালিও কর্মকর্তারা বলছেন, স্বয়ংক্রিয় গাড়ির এই প্রযুক্তি ২০১৭ সাল নাগাদ গাড়িতে বাণিজ্যিকভাবে যুক্ত হবে। কিন্তু গাড়ি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় হতে এই প্রযুক্তির আরও কয়েক প্রজন্ম লেগে যেতে পারে। কারণ আরও জটিল পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে গাড়ি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উন্নত হতে হবে। গাড়ি নির্মাতা অডি তাদের প্রটোটাইপ গাড়িটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫৫০ মাইল রাস্তায় চালিয়ে দেখছে।
অডি আমেরিকার হাইওয়ে পাইলট প্রকল্পের পরিচালক ড্যানিয়েল লিপনিস্কিও স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রসর হতে সতর্ক থাকার কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘স্বয়ংক্রিয় গাড়িগুলোতে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, যাতে চালক যথাসময়ে ঠিকভাবে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন।’
এদিকে গাড়ি নির্মাতা ফোর্ড তাদের আধা-স্বয়ংক্রিয় গাড়িগুলোর প্রচারে ব্যস্ত। তাদের গাড়িগুলোতে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সহায়তা নিতে পারেন চালক।
ফোর্ডের প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা রাজ নায়ার বলেন, ‘আমরা আধা-স্বয়ংক্রিয় গাড়ি তৈরি ও বাজারে ছাড়তে প্রস্তুত, যাতে বিভিন্ন সফটওয়্যার ও সেন্সর ব্যবহৃত হয়েছে। এতে জরুরি ব্রেক, গাড়ির গতি সমন্বয় কিংবা পার্কিংয়ের সুবিধা পাওয়া যায়।
স্বয়ংক্রিয় গাড়ির আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে—সংযোগ সুবিধা। কিছু গাড়িতে শুধু স্মার্টফোন, ট্যাব আর ইন্টারনেটই নয়, বরং স্মার্টওয়াচ ও পরিধেয় প্রযুক্তিপণ্যও সমর্থন করে।
দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই অ্যান্ড্রয়েড ওয়্যার চালিত স্মার্টওয়াচ উন্মুক্ত করেছে, যার সাহায্যে গাড়ির ইঞ্জিন চালু করা ও বন্ধ করা যায়। এ ছাড়া গাড়ির দরজার তালা মারা বা খোলা, গাড়ির অবস্থান নির্ণয় করা যায়।
এ ছাড়া বিএমডব্লিউ একটি সিস্টেম দেখিয়েছে, যাতে টিভি দিয়ে গাড়ির দরজা বন্ধ করে দেওয়া যায়। ডায়েটার জেটসি বলেন, গাড়ির ক্ষেত্রে এই উদ্ভাবনগুলো স্বয়ংক্রিয় গাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র প্রয়াসের উদাহরণ মাত্র। আগামী দশক নাগাদ সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় গাড়ি চলবে রাস্তায়, যাতে চালকের কোনো দরকারই হবে না।

ফোন, বিবৃতিতে বিব্রত বিএনপি by রিয়াদুল করিম

বিজেপির সভাপতির কথিত ফোনকল, মার্কিন কংগ্রেসের ছয় সদস্যের ভুয়া বিবৃতি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে বিএনপি। পাশাপাশি নেতাদের অনেকে আছেন বিভ্রান্তিতে। এ নিয়ে রাজনীতির মাঠে নতুন করে চাপে পড়েছে দলটি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাসহ বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। তাঁরা কেউ উদ্ধৃত হতে রাজি হননি। স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলে, এই দুটি ঘটনায় তাঁরা বিব্রত ও বিভ্রান্ত। তিনি মনে করেন, মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের বিবৃতিটি ভুয়া। কিন্তু অমিত শাহের ফোনের বিষয়টি খালেদা জিয়ার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার করা রহস্যজনক। কথা না হলে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানোর কথা নয়। কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমে অমিত শাহর বক্তব্য প্রচার করার পর এখন বিএনপির নেতাদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এটিও মিথ্যা। বিএনপির নেতারা মনে করছেন, আন্দোলনের বিপরীতে সরকারের কঠোর অবস্থান, মামলা-গ্রেপ্তার, চেয়ারপারসনকে অবরুদ্ধ করে রাখা-এ সব মিলিয়ে বিএনপি কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। এ অবস্থায় মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের বিবৃতি ও ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহের ফোন সত্যি হলে বিএনপির জন্য কৌশলগতভাবে ইতিবাচক হতো। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেসের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এড রয়েস ও র‍্যাঙ্কিং মেম্বার এলিয়ট অ্যাঙ্গেল বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তাঁদের নামে প্রচারিত বিবৃতিটি নিজেদের নয় বলে জানিয়েছেন। রাজনৈতিক লক্ষ্য হাসিলের জন্য কোনো দলের এই ভুয়া বিবৃতি ব্যবহারের চেষ্টাকে তাঁরা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন। তাঁদের এই অবস্থান বিএনপির জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ এতে পারস্পরিক আস্থা নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে গণমাধ্যমের কারণে এটি অনেকটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, অমিত শাহর সঙ্গে খালেদা জিয়ার কথা হয়নি। এ অবস্থায় সরকার ও আওয়ামী লীগ একটি নতুন অস্ত্র পেয়েছে। তারা এখন এটি প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে যে, বিএনপি মিথ্যার রাজনীতি করছে। মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের ওপরও এসবের একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাদের হতাশা বেড়ে যেতে পারে। কারণ এতে এটি প্রমাণ হয় যে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএনপির পক্ষে যথেষ্ট সমর্থন নেই। থাকলে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হতো না। তবে আসলেই গণমাধ্যমগুলো অমিত শাহর সঙ্গে কথা বলতে পেরেছে কি না তা নিয়ে বিএনপি নেতাদের অনেকের সংশয় আছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, কয়েকটি টেলিভিশন অমিত শাহর ছবি দেখিয়ে একটি টেলিফোন ভয়েস শুনিয়েছে। এটি আসলেই অমিত শাহ কি না তা নিয়ে সংশয় থকে যায়। তবে তিনি মনে করেন, অমিত শাহর সঙ্গে কথা হয়ে থাকলেও বিএনপির পক্ষ থেকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে জানানোর কোনো প্রয়োজন ছিল না। তিনি বলেন, ‘অমিত শাহ কি আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন? হোয়াই অমিত শাহ ইজ সো ইমপর্টেন্ট। ’ তাঁর মতে, অমিত শাহর সঙ্গে ফোন আলাপ নিয়ে দেশের রাজনীতি ও গণমাধ্যমে যা হচ্ছে তা দেউলিয়াপনা ছাড়া আর কিছু নয়।
বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো আসলেই অমিত শাহর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কি না-তা নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেসসচিব মারুফ কামাল খানও পরোক্ষভাবে প্রশ্ন তুলেছেন। গত শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে মারুফ কামাল বলেছেন, ‘আমদের যে সব সংবাদ মাধ্যম আমার তথ্যকে ভুল প্রমাণের জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা চালাচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্য ও সততা সম্পর্কে আমি কোনো প্রশ্ন তুলতে চাই না। বিজেপি প্রধান প্রকৃতপক্ষেই তাদেরকে কোনো সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কি না সেটা নিয়েও প্রশ্ন তুলছি না। তবে শ্রীযুক্ত অমিত শাহর সঙ্গে সম্পর্কিত ঘনিষ্ঠদের কাছে আজ আমাদের অনুসন্ধানে এটুকু বেরিয়ে এসেছে যে, বর্তমানে নির্বাচনী প্রচারাভিযান ও দলের সদস্য সংগ্রহ কাজে গুরুতরভাবে ব্যস্ত বিজেপি প্রধানের পক্ষে ঢাকার কোনো সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকার প্রদানের কোনো সুযোগ ছিল না।’ গত বৃহস্পতিবার মারুফ কামাল খান সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, গত বুধবার রাতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহ ফোন করে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। পরদিন আওয়ামী লীগ দাবি করে, এ তথ্যটি সঠিক নয়। কিন্তু বিএনপি তাদের দাবিতে অনড় থাকে। পরবর্তীতে কয়েকটি গণমাধ্যম সরাসরি অমিত শাহর সঙ্গে যোগাযোগ করে। অমিত শাহ জানান, টেলিফোন আলাপের খবরটি মিথ্যা। গত শুক্রবার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ছয় মার্কিন কংগ্রেসম্যানের একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখার নিন্দা জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু পরবর্তীতে প্রমাণিত হয় ওইটি ছিল ভুয়া বিবৃতি। এর আগে ২০১৩ সালের ৩০ জুন ওয়াশিংটন টাইমস-এ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে ‘দ্য থ্যাঙ্কসলেস রোল ইন সেভিং ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ, করাপশন অ্যান্ড স্টেলিং থ্রেটেন আ ওয়ানস ভাইব্রেন্ট নেশন’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। সেসময় এটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল বিএনপি। পরে দলটি দাবি করেছিল ওই লেখাটি খালেদা জিয়ার নয়। ওয়াশিংটন টাইমস অবশ্য দাবি করেছিল লেখাটি খালেদা জিয়ারই।

একগুঁয়ে সরকার ও গোঁয়ার বিরোধী দল গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক নয়

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ভারতের জন্য রাজনৈতিকভাবে শিক্ষামূলক। এটা সত্য যে, আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের (বাংলাদেশ) রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি ভিন্ন বলে প্রতিভাত হয়। কিন্তু আবরণটা সরিয়ে, মোরগ পোলাও ছাড়িয়ে আরও ভেতরে গেলে সাদৃশ্যতা সামনে আসতে শুরু করে। বাংলাদেশের রাজনীতি বরাবরই উত্তাল। জন্মলগ্ন থেকে দেশটির রক্তাক্ত ইতিহাস এর রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর একগুঁয়ে প্রেতাত্মার মতো আবির্ভূত হয়েছে। এটা এতোটাই যে, মানুষের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশী সমাজ ঠিক দু’ভাগে বিভক্ত। এমন কি জনপ্রিয় ভাষা ব্যবহারের মধ্যেও এটা প্রতিফলিত হয়। মানুষজনকে ‘এপারের লোক’ আর ‘ওপারের লোক’ বলে অভিহিত করা হয়। গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিভক্তিই নির্দেশ করে এটা। বাংলাদেশের আজকের রাজনৈতিক পরিস্থিতিই ধরুন। এ লেখার সময় দেশটির প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপির (যদিও বর্তমানে সংসদে নেই) নেত্রী খালেদা জিয়াকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে গত ছয় দিন ধরে। প্রকৃত কারণ গোপন করার চেষ্টায় কারণ দেখানো হয়েছে যে, এটা করা হয়েছে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য। কিন্তু সরকারের এ ব্যাখ্যা কোন বাংলাদেশী কোন কিছুর বিনিময়ে গ্রহণ করছে না। বাংলাদেশের ১০ম সংসদ নির্বাচন, যেটা বিএনপি ও তার জোট শরিক দলগুলো বর্জন করেছিল, তার এক বছর পূর্তিতে বিশাল জনসমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। ওই নির্বাচনের পর বিরোধীরা ওই দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে আখ্যা দেয়। আর সেটা পালনের লক্ষ্যেই সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশে ‘সত্য’ কোন কিছু যেন কৌতুকের বিষয়। অনেকটা বাংলাদেশী ইতিহাসের মতো এটা মানুষের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে বদলায়। বিএনপি যদি বলে এখন রাত, প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ জোর দিয়ে বলবে- এখন দিন। খালেদা জিয়া আর তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনা- ‘লড়াইরত এ দুই বেগম’ সহসা একে অপরের সঙ্গে কথা বলেন না। এ কারণেই শেষবার যেদিন এ দু’জন ফোনে কথা বলেছিলেন কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ অত্যধিক আনন্দিত ও উৎসাহিত হয়ে উঠেছিল (না, তারা তাদের প্রিয় ক্রিকেটার নিয়ে আলোচনা করতে কথা বলেন নি)। এখন, ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়তো বাংলাদেশের মতো চরম বিভক্তির পর্যায়ে পৌঁছায় নি। কিন্তু সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে যেমন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে, সেখানে ভারতীয় সরকার এবং বিরোধীরা বলতে গেলে কোন ইস্যুতেই একমত নয়। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ সেটা ঠিক আছে। তবে, রাজনৈতিক শত্রুতা হলো- ওই ফুটবল খেলার মতো, যেখানে একদল বরং বাস্কেটবল খেলতে পীড়াপীড়ি করবে। কেননা তারা নিশ্চিত নয়, নিয়ম মানা নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর আস্থা রাখা যেতে পারে কিনা। আস্থার এ ঘাটতি সম্প্রতি ‘সন্ত্রাসী নৌকা’ ঘটনার সরকারি ভার্সন নিয়ে বিরোধী কংগ্রেসের সন্দেহে ফুটে উঠেছে। যদিও ঘটনার গোপনীয়তা নিয়ে ন্যূনতম কোন তথ্যপ্রমাণ কংগ্রেসের কাছে ছিল না। বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করাই যদি মন্ত্র হয়, তাহলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র থেকে ভারতের গণতন্ত্র আর কতটা আলাদা; যেখানে পরাজিত দল কখনও নির্বাচনের ফল মেনে নেয় না? গোঁয়াড় একটি বিরোধী দল ভারত ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য মোটেই শুভ নয়। একইভাবে একগুঁয়ে (বা অধ্যাদেশ বুভুক্ষু) কোন সরকারও মঙ্গলজনক নয়, যারা বিরোধীদের দৃষ্টিভঙ্গিকে স্রেফ বিড়ম্বনা হিসেবে দেখে। বাংলাদেশের ইতিমধ্যে তাদের ‘ব্যাটলিং বেগমস’ রয়েছে। সুশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সমাজকে বিভক্ত করে এমন কোন সরকার-বিরোধী রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্ব ছাড়াই চলতে পারে ভারত। (গতকাল টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)
লেখক: রুদ্রনীল ঘোষ, বর্তমানে টাইমস অব ইন্ডিয়ার সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

রাঙামাটিতে সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি

(রাঙামাটিতে গতকাল পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে ছাত্রলীগের কর্মীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হলে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়l ছবি: প্রথম আলো) রাঙামাটিতে গতকাল শনিবার সকালে মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৩১ জন আহত হয়েছেন। পরে এ সংঘর্ষ পাহাড়ি-বাঙালি সহিংসতায় রূপ নিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৌরসভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন সাড়ে ১১টার দিকে ১৪৪ ধারা জারি করে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।
জেলা প্রশাসক মো. শামসুল আরেফিন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হবে।
রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ রাঙামাটিতে গতকাল সকাল-সন্ধ্যা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছিল। ছাত্র পরিষদসহ আদিবাসীদের বিভিন্ন সংগঠন পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আগে রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি জানিয়ে আসছিল।
অন্যদিকে ছাত্রলীগসহ স্থানীয় বাঙালিদের কয়েকটি সংগঠন মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল।
গতকাল ভোর ছয়টা থেকে সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, যুব সমিতি, মহিলা সমিতি ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেতা-কর্মীদের পিকেটিং করতে দেখা যায়। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে কালিন্দীপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ওসি সোহেল ইমতিয়াজ আহত হন। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ এসে ছাত্র পরিষদের কর্মীদের কালিন্দীপুর সড়কমুখের দিকে এবং ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীদের হ্যাপির মোড়ের দিকে সরিয়ে দেয়। এ সময় ছাত্র পরিষদের কর্মীরা ইসলামী ব্যাংক ও কয়েকটি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। আর ছাত্রলীগের কর্মীরা আদিবাসীদের মালিকানাধীন শেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও টেলিটক কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে ভাঙচুর করেন।
পরে বেলা ১১টার দিকে বাঙালিরা জড়ো হয়ে বনরূপার কাছে আদিবাসী গ্রাম দেওয়ানপাড়া ও ট্রাইবাল আদামে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশসহ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে সাড়ে ১১টার দিকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
শহরের তবলছড়ির আনন্দ বিহার এলাকায় দুপুর ১২টার দিকে একদল বাঙালি পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের পিকেটারদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কর্মীরা বৌদ্ধমন্দির আনন্দ বিহার চত্বরে প্রবেশ করলে বাঙালিরা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাঙামাটি সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আর্যপ্রিয় চাকমা ও মিন্টু চাকমা নিজেদের বাসায় যাওয়ার সময় চম্পকনগর সড়কে একদল বাঙালির লাঠিসোঁটার আঘাতে গুরুতর আহত হন। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ ইমরান রোকন অভিযোগ করেন, তাঁদের নেতা-কর্মীরা মেডিকেল কলেজ উদ্বোধন দেখতে যাওয়ার পথে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কর্মীরা হামলা চালান। তবে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি বাচ্চু চাকমা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাত্রলীগের কর্মীরাই তাঁদের ওপর হামলা চালান।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে মো. হারুন, জামাল হোসেন, বীথি চাকমা, জাকির হোসেন, মো. মানিক, জহিরুল আলম, জব্বার হোসেন, মো. মনির ও জীবন্ত তঞ্চঙ্গ্যাকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে অবস্থার অবনতি হলে বীথি চাকমা ও জাকিরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে এসএ টিভির প্রতিনিধি মো. সোলায়মান অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা তাঁকে এবং ইয়াছিন রানা ও আনোয়ার হোসেন নামের আরও দুই সাংবাদিককে মারধর করেন এবং দুটি ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যান।

বিরতিহীন আন্দোলনের প্রস্তুতি জামায়াতের by আহমেদ জামাল

সংলাপ এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি আদায়ে বিরতিহীন আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। এজন্য অবরোধের পাশাপাশি অসহযোগ অবস্থান, ঘেরাও কিংবা মহাসমাবেশের মতো কর্মসূচি পালনের চিন্তা-ভাবনা করছে তারা। সেই সঙ্গে চলমান আন্দোলনকে দীর্ঘায়িত করতে চায় ২০ দলীয় জোটের শরিক দলটি। দলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, ৫ই জানুয়ারির পর আন্দোলন যে গতি পেয়েছে, তাতে কোনভাবেই বিরতি দেয়া যাবে না। ধীর লয়ে হলেও এটাকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। এক্ষেত্রে আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে হবে। শেষ জানুয়ারি পর্যন্ত এই আন্দোলন টেনে নিতে চায় তারা। এজন্য মাঠে সক্রিয় নেতাকর্মীদের সার্বিকভাবে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে দলের জেলা উপজেলা এবং মহানগর পর্যায়ে সব কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ড. রেজাউল করিম বলেন, চলমান আন্দোলন এখন কেবল ২০ দলীয় জোট তথা বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিকল্পধারা, গণফোরাম, জেএসডি এমনকি আওয়ামী লীগের অনেক মিত্রও গণতন্ত্র রক্ষার এই আন্দোলনকে সমর্থন করছে। এককথায় আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছে দেশের ১৬ কোটি মানুষ। এই আন্দোলন ক্রমে একদফায় রূপ নিচ্ছে। তাই এখান থেকে পিছপা হওয়ার সুযোগ নেই। সরকারকে অনেক সময় দেয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখন বালুর ট্রাকে বন্দি। বন্দি ‘গণতন্ত্রের প্রতীক’ খালেদা জিয়া। এই বন্দিদশা থেকে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে আন্দোলন ক্রমান্বয়ে তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে সরকার যত দ্রুত সমাধানে আসবে ততই মঙ্গল হবে। কোন অজুহাতে এবারের আন্দোলনে বিরতি দেয়া হবে না বলেও জানান শিবিরের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম। এ ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য  দলের নীতিনির্ধারকরাও একমত বলে জানান তিনি। রেজাউল করিমের বক্তব্যের সমর্থন মিলে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানের বিবৃতিতে। হামলা-মামলা ও গণগ্রেপ্তার অভিযান উপেক্ষা করে গণআন্দোলন অব্যাহত রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভীত হয়ে সরকার হামলা-মামলা ও গণগ্রেপ্তার অভিযান চালিয়ে চলমান আন্দোলন দমন করার ষড়যন্ত্র করছে। তবু ২০ দলের ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রেখে জনগণ স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ সৃষ্টি করেছে। এতে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে সরকার প্রতিদিন রাজধানী ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, দিনাজপুর, লক্ষ্মীপুর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, নোয়াখালী, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবিরসহ ২০ দলীয় জোটের শ’ শ’ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করছে। এভাবে গণগ্রেপ্তার অভিযান চালিয়ে জনগণের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। জনগণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার এবং মিছিল, সভা-সমাবেশ করার অধিকারসহ বাকস্বাধীনতা ও জানমালের নিরাপত্তা ফিরে পাওয়ার দাবিতে আন্দোলন করছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, স্বৈরশাসনের কবল থেকে দেশকে উদ্ধারের জন্য দেশবাসীর সামনে আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। তাই জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্বে রাজপথে অব্যাহতভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া এবং আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। এদিকে ঢাকায় অবরোধের প্রভাব বাড়াতে এ সপ্তাহের মধ্যেই মহাসমাবেশ করতে চায় জামায়াত। এজন্য ২০ দলীয় জোটের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা আছে বলে সূত্র জানায়। ঢাকা মহানগর জামায়াতের তরুণ সদস্য আতাউর রহমান সরকার বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় কূটকৌশলের রাজনীতি করে। এবারও তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতিমাকে সামনে রেখে কূটরাজনৈতিক খেলা খেলছে। তবে মানুষ এটা বুঝে গেছে। তাই ইজতিমার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ২০ দলীয় জোটের চলমান আন্দোলন চলছে চলবে। এটা চূড়ান্ত রূপ দিতে জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে আরও কঠিন কর্মসূচি আসছে। জামায়াতের দায়িত্বশীল সূত্র মতে, সংলাপ এবং নির্বাচনের দাবিতে লাগাতার অবরোধ অথবা অসহযোগ আন্দোলনের মতো কঠিন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তাব ছিল দলটির। ৫ই জানুয়ারিকে সামনে রেখে এমন কর্মসূচি চেয়েছিল দলটির নীতি নির্ধারকরা। সেই মোতাবেক ৫ই জানুয়ারি ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দেন জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই থেকেই চলমান আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। জামায়াতের পরিকল্পনা মতো কর্মসূচি চলায় মাঠপর্যায়ে তাদের কর্মী- সমর্থকরাও বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আন্দোলনের গতি বাড়ছে। ইতিমধ্যে বেশ ক’টি জেলায় অবরোধ শ’ ভাগ সফল হচ্ছে। ঢাকায় আন্দোলনের গতি সঞ্চারে অচিরেই ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হচ্ছে। এরপরই রাজধানীর রাজপথে একযোগে সক্রিয় হবে ২০ দলীয় জোট এমন তথ্য জানায় ওই সূত্র। এ ব্যাপারে জামায়াতের সহকারী প্রচার সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য একটি নির্বাচন দরকার। ৫ই জানুয়ারি তিনি সংবিধান রক্ষার সেই নির্বাচন করেছেন। কিন্তু এখন প্রধানমন্ত্রী তার সেই কথা ভুলে গেছেন। উপেক্ষা করে চলেছেন গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের গণদাবি। এ পর্যায়ে দেশী-বিদেশী সকল গণতন্ত্রকামী মানুষ চায় এ সরকারের পতন এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এ পর্যায়ে চূড়ান্ত আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই। এদিকে চলমান অবরোধে অব্যাহত জনদুর্ভোগের ফলে সাধারণ মানুষ কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে তাও বিচার-বিশ্লেষণ করছে জামায়াতের নীতি-নির্ধারকরা। এ ব্যাপারে মজলিসে শূরা সদস্য ড. রেজাউল করিম বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকার সেটাকে পাশ কাটিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে। এতে সংক্ষুব্ধ জনগণ অচিরেই সরকারের পদত্যাগে এক দফার আন্দোলনে নামবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি বাংলাদেশে

বাংলাদেশে সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশে-বিদেশে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। আমেরিকা-বৃটেনসহ আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগের পাশাপাশি খালেদা জিয়াকে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ’র টেলিফোনে চাপের মুখে সরকার।   ভারতের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। তাতে আওয়ামী লীগকে নমনীয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পত্রিকাটি, যা বিশেষ ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে পত্রিকাটি বলছে, গণতন্ত্রের স্বার্থেই নমনীয় হওয়া দরকার। আর শাসক পক্ষের দিক হইতেই নমনীয়তা অধিক জরুরি। তা না হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা আছে। যার পরিণাম কেবল দেশের উদীয়মান অর্থনীতির জন্যই নয়, দেশের শাসক দলের জন্যই শেষ বিচারে বিপজ্জনক।   নিউ ইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড এডামস শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছেন,বাংলাদেশ সরকারের শক্তির অপপ্রয়োগ, বিরোধী দল দমনে গ্রেফতার, গণমাধ্যমের ওপর অবৈধ নিয়ন্ত্রণারোপ ও সেন্সরশিপ, জনগণের মতকে দমনের বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   তবে, বিশ্বসমাজের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সরকার কান দেবে- এমনটা মনে করেন না আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে। সরকার দেশে বেশ কিছু বড় বড় অর্থনৈতিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাদের পাশে আছেন বলে তারা মনে করছে। এ অবস্থায় আমেরিকা-বৃটেনের উদ্বেগ খুব একটা কাজে দেবে না। বিপরীতে আরো শক্ত ভূমিকাতে সরকারকে দেখা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।   এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস্ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমেরিকা বা বৃটেনের চেয়ে আমরা দেশের মানুষ বেশি উদ্বিগ্ন। সেইসঙ্গে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছি। রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে দেশের অর্থনীতি যখন হুমকির মুখে পড়ে, তখন আর্থ সামাজিকভাবেও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়। এজন্য সরকার ও বিরোধীদল উভয় পক্ষকেই ভূমিকা নিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাই বেশি বলে মনে করেন এ মানবাধিকার কর্মী।   তার মতে, দেশে যে সহিংসতা ঘটছে তার জন্য শুধু বিরোধীরাই নয়, সরকারও দায়ী। সরকার রাষ্ট্রপরিচালনায় নিয়োজিত থাকায় তাদের দায় বেশি। এজন্য সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও ধৈর্যশীলতা দেখানো উচিত।   এদিকে, প্যারিসভিত্তিক অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা ‘ফিচ রেটিং’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থায় শুক্রবার সকালে (ঢাকার স্থানীয় সময়) উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দিয়েছে।   এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কঠোর নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি মিডিয়ার প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেয়ায় সরকারের প্রতিও নিন্দা জানানো হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ও সিনেটর ইডি রয়েসসহ ছয় সিনেট সদস্য ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন। বাকিরা হলেন-সিনেটর ইলিয়ট এল এঙ্গেল, স্টিভ সেভট, জসেফ ক্রাউলি, জর্জ হল্ডিং ও গ্রস মেঙ।

রাজধানীতে ১০ গাড়িতে আগুন ককটেল বিস্ফোরণ

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা অনির্দিষ্টকাল অবরোধের পঞ্চম দিনেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণও ঘটেছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গতকাল সকাল সোয়া সাতটার দিকে তেজগাঁও মহিলা কলেজের একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে অমূল্য বর্মণ (৪৫) নামে এক ব্যক্তি দগ্ধ হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। বার্ন ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার শরীরের ১২ শতাংশ পুড়ে গেছে। পুলিশ জানায়, বাসটি গাবতলীর দিকে যাচ্ছিল। তেজগাঁও মহিলা কলেজের সামনে গেলে একদল দুর্বৃত্ত পেট্রল ঢেলে বাসের পেছনের দিকে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল সকালে রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকাতেও একটি বাসে আগুন দেয়া হয়। এদিকে সন্ধ্যা ৬টায় শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে গুলিস্তান থেকে মিরপুরগামী বাহন পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কারও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বাসের চালক নুরুল ইসলাম বলেন, প্রেস ক্লাব থেকে দুই যুবক বাসে উঠে একদম পেছনের সিটে গিয়ে বসে। বাস যখন মৎসভবন পার হচ্ছিল, তখনই পেছনে আগুন দেখতে পান। এ সময় ওই দুই যাত্রী চলতি বাস থেকেই নেমে পড়ে। বাসটি শাহবাগ মোড়ে থামাতে থামাতে পুরো বাসেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া বিকালে মধ্যবাড্ডায় একটি লেগুনাতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর কাকরাইলে একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে, এতে কারও হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় একই সময়ে রাজধানীর খিলগাঁও মাটির মসজিদ সংলগ্ন রাস্তায় তরঙ্গ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া আগুন দেয়া হয় যাত্রাবাড়ী সাদ্দাম মার্কেটের সামনে গোধূলি পরিবহনের একটি বাসে ও মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় যাত্রীবাহী একটি বাসে। আগুন দেয়ার পর তাড়াহুড়ো করে যাত্রীরা বাস থেকে নেমে পড়ায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। রাতে বিএপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিনের প্রাইভেট কারে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। রাত ৮টা ৫০ মিনিটে বাড্ডা নতুনবাজার এলাকায় একটি বাসে আগুন দেয়া দুর্বৃত্তরা। অন্যদিকে, সকাল সাড়ে ৭টায় অবরোধকারীরা বাড্ডার নতুনবাজারে সুপ্রভাত নামে একটি যাত্রীবাহী বাসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এতে সবুজ বেগম নামে এক নারী যাত্রী মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তিনি ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া গতকাল সকাল ১০টায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। পুলিশ সূত্র জানায়, মিছিলকারীরা মহাখালী ফ্লাইওভারের পশ্চিম পাশে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও একটি প্রাইভেট কারে আগুন দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অন্যদিকে গতকাল রাতে সদরঘাটে এমভি ভোলা নামে একটি লঞ্চের কেবিনে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ককটেল বিস্ফোরণ: অন্যান্য দিনের মতো গতকালও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। দুপুর ১টায় রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবন লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। তবে এতে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, বাইরে থেকে ককটেল নিক্ষেপ করলে দেয়ালের ভেতরে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এরপর ওই এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি বলেও তিনি জানান। এদিকে সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফায় বিটিভি ভবনে ককটেল নিক্ষেপের খবর পাওয়া গেলেও রামপুরা থানার ওসি বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এছাড়া দুপুর সোয়া ২টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশে তিনটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ সময় সাদিক (২৪) নামে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করেছেন স্থানীয়রা। আটককৃত সাদিক নিজেকে ছাত্রলীগের কর্মী বলে দাবি করেছে। তবে পুলিশ বলছে, আটককৃত যুবক ছাত্রদলের কর্মী। নিজেকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে সে মিথ্যা কথা বলেছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করে তাকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গতকাল বেলা সোয়া ২টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশের জিপিও থেকে গুলিস্তানমুখী রাস্তায় হঠাৎ পরপর তিনটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালানোর সময় সুপ্রভাত পরিবহনের এক বাসচালক বোমা বিস্ফোরণকারী যুবককে জাপটে ধরেন। পরে সাদিক নামে ওই যুবক নিজেকে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) আনিসুর রহমান আনিস এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম ফারেজ সামির অনুসারী বলে পরিচয় দেন। পুলিশ প্রথমে তাকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের ছাত্রলীগের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে পল্টন থানায় নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক নিজেকে ছাত্রদলের কর্মী বলে স্বীকার করে। পুলিশের মতিঝিল জোনের উপকমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেন জানান, আটককৃত যুবক ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে নিজে বাঁচার চেষ্টা করছিল। পরে জানা গেছে সে ছাত্রদলের কর্মী। তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে সন্ধ্যায় বিজয়নগর এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে বলে জানা গেছে। রাত ৮টায় মতিঝিলের পীরজঙ্গি মাজারে একাধিক ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এছাড়া যাত্রাবাড়ী, কাওরান বাজার, দারুসসালাম ও পান্থপথেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষার মান বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে প্রতিষ্ঠিত মেডিক্যাল কলেজগুলোতে শিক্ষার মান বজায় রাখতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন, ইতিমধ্যে অনেক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপিত হয়েছে। এর সঙ্গে শিগগিরই আরও ৬টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ চালু হবে। এজন্য এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং এখান থেকে যেন ‘রোগী-মারা’ কোন চিকিৎসক বের না হন সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। তিনি গতকাল নতুন ১১টি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় একথা বলেন। সকালে গণভবন থেকে তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলে এসব মেডিক্যালের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মেডিক্যাল কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পাঠ্যক্রম ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সজাগ থাকতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণদের ভাল ডাক্তার হতে হবে। আপনাদের এসব কলেজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
নতুন কলেজগুলো হচ্ছে- সিরাজগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ, টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ, মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ, জামালপুর মেডিক্যাল কলেজ, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ, রাঙ্গামাটি মেডিক্যাল কলেজ, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ, যশোর সেনাবাহিনী মেডিক্যাল কলেজ, চট্টগ্রাম সেনাবাহিনী মেডিক্যাল কলেজ, কুমিল্লা সেনাবাহিনী মেডিক্যাল কলেজ ও বগুড়া সেনাবাহিনী মেডিক্যাল কলেজ।
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি মেডিক্যাল কলেজের পাঠদান উদ্বোধনকালে রাঙ্গামাটি মেডিক্যাল কলেজের কনফারেন্স রুমে সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার, মহিলা সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, পার্বত্য সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, রাঙ্গামাটি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. টিপু সুলতান উপস্থিত ছিলেন। এসময় কলেজের ৫১ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত রাঙ্গামাটি মেডিক্যাল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) উদ্যোগে গতকাল সকাল-সন্ধ্যা সড়ক ও জলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এসময় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাও ঘটে।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ৫১ জন শিক্ষার্থী ও ১৪ জন শিক্ষক নিয়ে শুরু হয়েছে মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের যাত্রা। গতকাল সকাল ১০টায় ভিডিও  কনফারেন্সের মাধ্যমে মানিকগঞ্জ সরকারি মেডিক্যাল কলেজসহ দেশের ১১টি মেডিক্যাল কলেজের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস, সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম, পৌর মেয়র মো. রমজান আলী।  মেডিক্যাল কলেজটির অস্থায়ী কার্যালয়ে  মানিকগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউশনের প্রথম শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ ৫০ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজের লেকচার হলে শিক্ষাকার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. শাহজাহান মিয়া, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাড. আফজাল হোসেন,  জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান মোশারেফ হোসেন, পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আ.খ.ম জাহাঙ্গীর হোসেন, জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার, পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. এমএ মান্নান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. তারিকুজ্জামান মনি ও মেডিক্যাল কলেজের নবাগত ৫০ শিক্ষার্থী সহ জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
স্টাফ রিপোর্টার, জামালপুর থেকে জানান, জামালপুরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি, সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা এমপি, সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এমপি উপস্থিত ছিলেন। ৫১ ছাত্রছাত্রী নিয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে কলেজের ক্লাস শুরু হবে।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জ সেবা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা বেগম স্বপ্না, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এবং জেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আবু মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, জেলা প্রশাসক বিল্লাল হোসেন, পুলিশ সুপার এসএম এমরান হোসেন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শামসুদ্দিন, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, চিকিৎসক, নার্স ও সর্বস্তরের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে জানান, যশোর সেনানিবাসের জিওসি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কলেজের উদ্বোধন করেন। যশোর সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান, সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম এমপি, রণজিৎ কুমার রায় এমপি, জেলা প্রশাসক ডক্টর হুমায়ূন কবির উপস্থিত ছিলেন।
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে জানান, সেনা অডিটরিয়ামে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রংপুর আর্মি মেডিক্যাল কলেজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও রংপুর এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. সালাহ উদ্দিন মিয়াজী পিএসসি, জেলা পরিষদ প্রশাসক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সিটি করপোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, বিভাগীয় কমিশনার মুহম্মদ দিলোয়ার বখত, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, রংপুর রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি হুমায়ুন কবির, জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ, পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক পিপিএম, রংপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি একেএম ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ আলীসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ছিটমহল বিনিময় পরিকল্পনা পরিত্যাগ হতে পারে

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় পরিকল্পনা পরিত্যাগ হতে পারে। এমনটা আশঙ্কা করছেন দু’দেশের ছিটমহলের অধিবাসীদের অনেকে। তারা মনে করেন, স্থানীয়দের কড়া আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত এ পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে, যেমনটা দেখা গিয়েছিল ১৯৩২ ও ১৯৩৪ সালে। গতকাল কলকাতা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক দ্য স্টেটসম্যানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ‘সাম এনক্লেভ ফোক ফিয়ার এক্সচেঞ্জ প্লান মে বি অ্যাবানডন্ড’ শীর্ষক প্রতিবেদনটির লেখক মানস ব্যানার্জী। এতে আরও বলা হয়েছে, ১৯৩২ সালে ছিটমহল বিনিময়ের প্রস্তাব নিয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে ১৯৩৪ সালে তা পরিত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বাংলাদেশের ভেতরে ভারতীয় ছিটমহলের কিছু মানুষ ও ভারতের মূল ভূখণ্ডের  ভেতরে বসবাসকারী কিছু মানুষের রয়েছে কোচবিহারে তাদের জমির বিষয়ে এক ধরনের আবেগ। সে জন্য তারা তাদের ভূমির অধিকার ছাড় দিতে চায় না। তবে মজার ব্যাপার হলো, ভারতীয় ছিটমহলগুলোতে যেসব মানুষ বসবাস করছে তার মধ্যে বিরাট একটি অংশ বাংলাদেশী নাগরিক হতে উন্মুখ হয়ে আছে। কিন্তু বাংলাদেশী ছিটমহলে বসবাসকারীরা ভারতীয় হতে  বেশি আগ্রহী। ছিটমহল বিনিময় কমিটি, কুচলিবাড়ি সংগ্রাম কমিটি, ইন্ডিয়ান এনক্লেভস ইউনাইটেড কাউন্সিলের মতো কুচবিহারভিত্তিক সংগঠন, এমনকি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)ও ছিটমহল বিনিময়ের পদ্ধতি নিয়ে তাদের আপত্তি প্রকাশ করেছে, যদিও তারা দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধানের বিরোধী নয়। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ভারতের  ভেতরে বাংলাদেশের ছিটমহল পাথুরকুঠি। সেখানকার এক অধিবাসী কাশেম মিয়া। তিনি বলেন, ছিটমহল বিনিময় নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে তা এড়ানোর জন্য অবশ্যই তিন বিঘা করিডর ইস্যুর সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ ইস্যুটি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
এটা বলা যেতে পারে যে, ভারতীয় দুটি ছিটমহল দাসিয়ারছড়া ও বাঁশকাটার অধিবাসীরা এরই মধ্যে প্রায় ১০০০ স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে, তাতে ছিটমহলগুলোর সঙ্গে করিডরকে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি করা হয়েছে। তারা বলেছেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে শিগগিরই স্মারকলিপি দেয়া হবে। কোচবিহারের আরএসএস-এর ইনচার্জ সাধন কুমার পাল বলেন, সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য ভারত তিন বিঘা করিডর লিজ চুক্তি বাতিল করতে পারে। তাছাড়া, ছিটমহল বিনিময় পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে যে কেউ ভারতে গেলেই তাকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়ে আমাদের আপত্তি আছে। যারা মূল অধিবাসী নন, তাদেরকে আমরা চাই না। আমরা এমন লোকদের চাই না, যারা অন্যের জমি গ্রাস করবেন। অবশ্যই নাগরিকত্ব দিতে হবে ভূমি রেকর্ডের ভিত্তিতে। এখানে উল্লেখ্য, ১৯৩২ সালে বৃটিশ শাসনের সময়ও সীমানা নির্ধারণ শুরু হয়েছিল। তখন পশ্চিমবঙ্গ সরকার একই রকম বাধার মুখোমুখি হয়েছিল স্থানীয়দের কাছ থেকে। কোচবিহারের দিনহাটার বাসিন্দা দেবব্রত চাকি বৃটিশ শাসনের সময়কার বিরোধিতার কথা তুলে ধরেন। ‘ব্রাত্যজনের বৃত্তান্ত’ বইয়ে তিনি কিছু সরকারি কর্মকর্তার মুখ থেকে উদ্ধৃতি তুলে ধরেছেন। ১৯৩৪ সালের ২১শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ-এর পরিচালকের কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহকারী সচিব রাই জেএন সিরকার বাহাদুর। তাতে তিনি লিখেছিলেন- আপনি ১৯৩২ সালের ২২শে আগস্ট যে চিঠি লিখেছিলেন তার চতুর্থ প্যারাগ্রাফে  কোচবিহারের রংপুর জেলা ও জলপাইগুড়ির সঙ্গে রংপুর ও জলপাইগুড়ির ছিটমহল বিনিময়ের যে প্রস্তাব দিয়েছেন তার প্রেক্ষিতে বলতে হচ্ছে প্রস্তাবিত ওই বিনিময়ের বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র বিরোধিতা আছে। তাই সরকার এ প্রস্তাব পরিত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চট্টগ্রামে নাশকতার আশঙ্কায় রাতের ট্রেনের গতি কম

দেশব্যাপী হরতাল, অবরোধে রেলপথে নাশকতার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাতের ট্রেনের গতি কমিয়ে আনা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে দিনের বেলায় ট্রেনের গতি স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে রেলপথে জরুরি টহল দেয়ার জন্য যুক্ত করা হয়েছে অ্যাডভান্স পাইলট ট্রেন (এপিটি)। অতীতের নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৩ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরের দুই সপ্তাহের টানা অবরোধে ৩১৮টি নাশকতার ঘটনা ঘটে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিদিন সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত চলাচলকারী সব ক’টি ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি হচ্ছে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার। তবে দিনে স্বাভাবিক গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭২ কিলোমিটার বহাল থাকছে। রাতের তূর্ণা নিশীথা চলাচলের সর্বোচ্চ গতিসীমা ৭২ কিলোমিটার। তবে নির্ধারিত গতির সময়সীমা হচ্ছে ৭০ কিলোমিটার। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্রে পাওয়া গেছে এমনি তথ্য। এদিকে রেললাইন কেটে ফেলার ঘটনায় চট্টগ্রাম স্টেশনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে হাজার হাজার যাত্রীকে। এ সময় তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। রেল চলাচল স্বাভাবিক হলেও যাত্রীদের মনে কাটেনি শঙ্কা। গতকাল সকালে সরজমিনে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। এ সময় বাড়ি ফিরতে না পেরে অনেকে হতাশা ব্যক্ত করেন। রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের ডাকা লাগাতার অবরোধে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আউটার রেললাইন কেটে ফেলে কে বা কারা। এতে বিপাকে পড়ে যান ঢাকামুখী শ’ শ’ যাত্রী। বিপর্যয় দেখা দেয় ট্রেনের শিডিউলেও। পেছানো হয় দুটি ট্রেনের যাত্রা।
গতকাল ভোর পৌনে ৫টায় নাঙ্গলকোট রেলস্টেশনের পাশে ঘটনাটি ঘটে। সেখানে তিন ফুটের মতো আউটার রেললাইন কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। এতে মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-সিলেটের সব রেল যোগাযোগ। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে মহানগর প্রভাতীর যাত্রা বাতিল করে। সকাল ৭টায় প্রভাতী এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে চট্টলা এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে। দুটি ট্রেনেরই যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ে যেতে না পেরে হতাশা প্রকাশ করেছেন। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ মানবজমিনকে বলেন, রেললাইন কেটে ফেলায় আসলে এমনটি হয়েছে। তবে আমরা রেল চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। ঘটনার পরপরই ঢাকা থেকে আসা গোধূলির ইঞ্জিন ও বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। ফলে চট্টগ্রামের শিডিউল বিপর্যয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের একটি সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ১০টায় দুই ঘণ্টা বিরতি দিয়ে চট্টলা এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম ছেড়ে যায়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিন চট্টগ্রাম থেকে সকালে ঢাকাগামী ‘মহানগর প্রভাতী’ স্টেশন ছেড়ে যায়। যা পরে ঢাকায় গিয়ে বিকালে ‘মহানগর গোধূলি’ হয়ে আবার চট্টগ্রামে ফেরে। দুর্ঘটনার কারণে ঢাকাগামী ‘মহানগর প্রভাতী’ ট্রেনের যাত্রা বাতিল হওয়ায় চট্টগ্রামগামী ‘মহানগর গোধূলি’ ট্রেনের যাত্রাও বাতিল হয়। রেললাইন মেরামত ও উদ্ধারকাজ শেষে বেলা পৌনে ১১টায় রেল চলাচল আবার শুরু হয় বলে মানবজমিনকে জানান স্টেশন ম্যানেজার।