Friday, January 9, 2015

প্যারিসে চলছে দুই জিম্মি নাটক, নিহত ২

(গত বুধবার সাপ্তাহিক রম্য পত্রিকা শার্লি হেবদোতে হামলাকারী সন্দেহভাজন দুই ভাইকে খুঁজতে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে দেশটির পুলিশ। ওই দুই ভাই প্যারিসের উত্তর–পূর্বে ছোট্ট শহর দামার্তাঁ-অঁ-গুলতে একটি প্রিন্টিং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঘাপটি মেরেছেন। ওই ভবনের ছাদে পুলিশের এক সদস্য। ছবি: এএফপি) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস ও এর নিকটবর্তী একটি শহরে একই সঙ্গে চলছে দুই জিম্মি নাটক। প্যারিসের একটি ইহুদি সুপারশপে ঢুকে এক সন্ত্রাসী অন্তত দুজনকে হত্যা করে আরও কয়েকজনকে জিম্মি করে আছে। ওই মার্কেট ঘিরে রেখেছে কমান্ডো বাহিনী। এই ঘটনা যখন চলছে, ঠিক তখনই প্যারিসের প্রধান বিমানবন্দর শার্ল দো গল থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে ছোট্ট শহর দামার্তাঁ-অঁ-গুলতে একটি প্রিন্টিং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কর্মকর্তারা বলেছেন, রম্য ম্যাগাজিন শার্লি হেবদোতে হামলাকারী সন্দেহভাজন দুই ভাই ওই ভবনে ঢুকে এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে রেখেছেন। তাঁদের পাকড়াও করতে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালানো হচ্ছে। দেশটির সরকারি কয়েকটি সূত্র এএফপিকে এ তথ্য জানায়। একটি সূত্র জানায়, প্যারিসের সুপারশপে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে বেশিও হতে পারে। কিন্তু এই মুহূর্তে তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। প্যারিসের দক্ষিণে শহরতলি মঁরুজ এলাকায় গতকাল এক বন্দুকধারীর গুলিতে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। গুরুতর আহত হন আরেকজন। হামলার পর বন্দুকধারী পালিয়ে যায়। আজকের এ জিম্মি নাটকের ঘটনায় ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, নারী কর্মকর্তাকে হত্যাকারী ওই বন্দুকধারীই পাঁচজনকে জিম্মি করে। কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই বন্দুকধারীর নাম আমেদি কৌলিবেলি (৩২)। তাঁর সঙ্গে গত বুধবার সাপ্তাহিক রম্য পত্রিকা শার্লি হেবদোতে হামলাকারী সন্দেহভাজন দুই ভাইয়ের একজন শরিফ কোশির পরিচয় আছে। ২০১০ সালে ফ্রান্সে কারাগার ভাঙার সময় শরিফের সঙ্গে আমেদিকে দেখা গেছে। এদিকে, পুলিশ বলেছে, দুপুর থেকে শার্লি হেবদোতে হামলাকারী সন্দেহভাজন দুই ভাই রাজধানীর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি ভবনে ঘাপটি মেরে আছে। সেখানে তাঁরা এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে রেখেছে। তাঁদের ঘিরে ফেলেছে কমান্ডো বাহিনী। তাঁদের পাকড়াও করতে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারিসের প্রধান বিমানবন্দর শার্ল দো গল থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে ছোট্ট শহর দামার্তাঁ-অঁ-গুলতে একটি প্রিন্টিং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঘাপটি মেরেছেন তাঁরা। ইসলাম ধর্ম ও মহানবী (স.)-কে ব্যঙ্গ করে বিশ্বব্যাপী সমালোচিত হওয়া শার্লি হেবদোর কার্যালয়ে গত বুধবারের জঙ্গি হামলায় নিহত হন পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদকসহ আট সাংবাদিক, পুলিশের দুই সদস্য ও অন্য দুজন । এ ছাড়া আহত হন আরও ১০ জন। ফ্রান্সের মাটিতে কয়েক দশকের মধ্যে এই হামলাকে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফরাসি পুলিশ বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযানে নামা বাহিনীগুলোকে সন্দেহভাজন তিন হামলাকারীর নামসংবলিত যে নথি সরবরাহ করেছে, তা গতকাল গণমাধ্যমের কর্মীদের হাতে পৌঁছে যায়। ওই নথি মোতাবেক তিন হামলাকারী হলেন সাইদ কোশি (৩৪), তাঁর ভাই শরিফ কোশি (৩২) ও হামিদ মুরাদ (১৮)। এর মধ্যে পুলিশ গতকাল সকালে শরিফ ও সাইদ কোশির ছবি প্রকাশ করে। প্যারিসের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, তিনজনের মধ্যে হামিদ মুরাদ প্যারিস থেকে ২৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে বেলজিয়াম সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। শার্লি হেবদো কার্যালয়ের সামনে ফেলে যাওয়া একটি পরিচয়পত্র দেখে তাঁকে আগেই শনাক্ত করা হয় বলে জানায় পুলিশ। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, দুই ভাইয়ের মধ্যে শরিফ কোশিকে ২০০৮ সালে একটি জিহাদি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার দায়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। প্যারিসভিত্তিক জিহাদি গোষ্ঠীটি ইরাকে জিহাদি পাঠানোর সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ছিল। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেরনাদ ক্যাজনভ টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, তাঁদের দমন করতে এ অভিযান চলছে। এরই অংশ হিসেবে ওই এলাকায় অনেকগুলো বিমান আকাশে টহল দিচ্ছে ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রচুর সদস্য সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকতে ও বাতি নিভিয়ে রাখতে অনুরোধ করেছে পুলিশ। এর আগে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করতে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের গুলিবিনিময় হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছেন কৌঁসুলি। ফ্রান্সের প্রধারনমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভাল আজ বলেছেন, ‘ফ্রান্স সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে’ নেমেছে। আমরা ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, একটি সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি আমাদের ওপর হামলা হতে পারে। কিন্তু এ ঘটনার পর ফ্রান্সবাসীর মনোবল যে আরও দৃঢ় হবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা কী চায়? তারা ফ্রান্সে পরস্পরের মধ্যে ভয় ও বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়... কিন্তু এসব ভয়-বিভেদকে উতরে গিয়ে আমাদের আরও শক্তিশালী হতে হবে।’

প্যারিসের সেই ‘হামলাকারীদের’ ঘিরে ফেলেছে পুলিশ

(প্যারিসের পূর্বাঞ্চলে ইহুদিদের সুপার মার্কেটে কয়েকজনকে জিম্মি করে রেখেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ ওই এলাকা ঘিরে ফেলে। এ সময় মোটরসাইকেলে করে দুই তরুণ ওই এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের থামতে বলে। তাঁরা না থামলে পুলিশ বন্দুকের মুখে তাঁদের রাস্তায় ফেলে চেপে ধরে। ধারণা করা হচ্ছে, গতকাল বৃহস্পতিবার নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে যে সন্ত্রাসী গুলি করে হত্যা করেছিল, সে আজ কোশের নামের ওই সুপার মার্কেটে কয়েকজনকে জিম্মি করে রেখেছে। ছবি: রয়টার্স) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বিদ্রূপ ম্যাগাজিন শার্লি হেবদোর কার্যালয়ে হামলাকারী দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তি রাজধানীর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি ভবনে ঘাপটি মেরে আছেন। তাঁরা এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে রেখেছে। তাঁদের ঘিরে ফেলেছে কমান্ডো বাহিনী। তাঁদের পাকড়াও করতে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালানো হচ্ছে। আজ শুক্রবার এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারিসের প্রধান বিমানবন্দর শার্ল দো গল থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে ছোট্ট শহর দামার্তাঁ-অঁ-গুলতে একটি প্রিন্টিং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঘাপটি মেরেছেন তাঁরা। ইসলাম ধর্ম ও মহানবী (স.)-কে ব্যঙ্গ করে বিশ্বব্যাপী সমালোচিত হওয়া শার্লি হেবদোর কার্যালয়ে গত বুধবারের জঙ্গি হামলায় নিহত হন পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদকসহ আট সাংবাদিক, পুলিশের দুই সদস্য ও অন্য দুজন। এ ছাড়া আহত হন আরও ১০ জন। ফ্রান্সের মাটিতে কয়েক দশকের মধ্যে এই হামলাকে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফরাসি পুলিশ বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযানে নামা বাহিনীগুলোকে সন্দেহভাজন তিন হামলাকারীর নামসংবলিত যে নথি সরবরাহ করেছে, তা গতকাল গণমাধ্যমের কর্মীদের হাতে পৌঁছে যায়। ওই নথি মোতাবেক তিন হামলাকারী হলেন সাইদ কোশি (৩৪), তাঁর ভাই শরিফ কোশি (৩২) ও হামিদ মুরাদ (১৮)। এর মধ্যে পুলিশ গতকাল সকালে শরিফ ও সাইদ কোশির ছবি প্রকাশ করে। প্যারিসের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, তিনজনের মধ্যে হামিদ মুরাদ প্যারিস থেকে ২৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে বেলজিয়াম সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। শার্লি হেবদো কার্যালয়ের সামনে ফেলে যাওয়া একটি পরিচয়পত্র দেখে তাকে আগেই শনাক্ত করা হয় বলে জানায় পুলিশ। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, দুই ভাইয়ের মধ্যে শরিফ কোশিকে ২০০৮ সালে একটি জিহাদি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার দায়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। প্যারিসভিত্তিক জিহাদি গোষ্ঠীটি ইরাকে জিহাদি পাঠানোর সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ছিল। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেরনাদ ক্যাজনভ টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, তাঁদের দমন করতে এ অভিযান চলছে। এরই অংশ হিসেবে ওই এলাকায় অনেকগুলো বিমান আকাশে টহল দিচ্ছে ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রচুর সদস্য সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকতে ও বাতি নিভিয়ে রাখতে অনুরোধ করেছে পুলিশ। এর আগে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করতে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের গুলিবিনিময় হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছেন কৌঁসুলি। ফ্রান্সের প্রধারনমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভাল আজ বলেছেন, ‘ফ্রান্স সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে’ নেমেছে। আমরা ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, একটি সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি আমাদের ওপর হামলা হতে পারে। কিন্তু এ ঘটনার পর ফ্রান্সবাসীর মনোবল যে আরও দৃঢ় হবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা কী চায়? তারা ফ্রান্সে পরস্পরের মধ্যে ভয় ও বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়... কিন্তু এসব ভয়-বিভেদকে উতরে গিয়ে আমাদের আরও শক্তিশালী হতে হবে।’

গাড়ি চালাতে হবে, পোড়ালে ক্ষতিপূরণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন খালেদা: ইনু

২০ দলীয় জোটের ডাকে চলা টানা অবরোধে সড়কে গাড়ি চালাতে বললেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, অবরোধের সময় রাস্তায় গাড়ি বের করতে হবে। এসময় কোন যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাস, ট্রাকসহ সবধরণের যানবাহনই এর আওতাভুক্ত। বিষয়টি আমাকে আপনাদের জানিয়ে দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। শুক্রবার বিকালে সারাদেশে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীর গাবতলীতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন পরিবহনের মালিক ও শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন খালেদা: ইনু
বিএনপিসহ ২০-দলীয় জোটের ডাকা লাগাতার অবরোধ কর্মসূচিকে ‘হঠকারি পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে নাশকতার মধ্য দিয়ে জনগণের ওপর রাগ ঝাড়ছেন। জনগণের বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।’
আজ শুক্রবার দুপুরে খুলনায় বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) জেলা ও মহানগর শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইনু এসব কথা বলেন।
টঙ্গীতে চলমান বিশ্ব ইজতেমার মধ্যে অবরোধ রাখার সমালোচনা করে জাসদ সভাপতি বলেন, ‘মুসলমানদের ইজতেমা উনি (খালেদা জিয়া) সহ্য করতে পারেন না। কারণ, ওনার পেছনে রাজাকাররা আছে, জামায়াতিরা আছে। ওরা ইজতেমার বিরুদ্ধে। সেজন্য এই তবলিগ জামাতকে ধ্বংস করার জন্য খালেদা জিয়া অবরোধ অব্যাহত রেখেছেন।’
বক্তব্যের একপর্যায়ে খালেদা জিয়াকে ‘অমানবিক নেত্রী’ বলে অভিহিত করেন ইনু। বলেন, ‘আপনার দিলে একটু রহম আনেন। জেএসসি পরীক্ষার সময় আপনি হরতাল দিয়েছেন। এসএসসি পরীক্ষা সামনে। আপনার দিলে যদি রহম না আসে, প্রশাসন কঠোর থেকে কঠোর হবে।’
এ ছাড়া লাগাতার অবরোধ কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি নেত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এটা অবরোধ নয়। কোথায় আপনার কর্মী? আপনার জনগণ কই? আপনি এক হাজার লোক দিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন, একটা গুলিও মারব না আমরা। কিন্তু আমি জানি আপনি নাশকতায় বিশ্বাস করেন।’
সেই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের দেওয়া সাত দফা প্রস্তাবে ‘কৌশলে’ যুদ্ধাপরাধী ও সন্ত্রাসীদের মুক্তির জন্য ‘ওকালতি’ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা কোনো খালেদা জিয়াকে আটকাইনি। আমরা হঠকারি খালেদা জিয়ার উসকানি বন্ধ করতে চেয়েছি।’
জাসদ খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি রফিকুল হক খোকনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরীন আখতার ও সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান।
অসুস্থ হলে হাসপাতালে যান, খালেদাকে মায়া
ত্রাণমন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এ জন্য প্রয়োজনে তাঁর চিকিৎসার ভার আওয়ামী লীগ নেবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
আজ শুক্রবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভায় তিনি খালেদা জিয়াকে এ পরামর্শ দেন।
বিশ্ব ইজতেমার সময় অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার না করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘নাস্তিকতার’ পরিচয় দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন ত্রাণমন্ত্রী।
মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিশ্ব ইজতেমা সফল করার জন্য পূর্বঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত করেছে। অন্যদিকে ধর্মপ্রাণ মানুষ যেন ইজতেমায় আসতে না পারেন, সে জন্য খালেদা জিয়া অবরোধ প্রত্যাহার করেননি। এটা কোনো আস্তিক করতে পারেন না।’
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে মায়া বলেন, ‘অসুস্থ হলে হাসপাতালে যান। আপনি সুস্থ থাকেন, আওয়ামী লীগ এটা চায়। দরকার হয় চিকিৎসার ভার আওয়ামী লীগ গ্রহণ করবে।’
একই অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়। তাদের এজেন্ডা তত্ত্বাবধায়ক নয়, এদের আসল উদ্দেশ্য খালেদা-তারেকের মামলা প্রত্যাহার করা। তাদের কোনো মামলা প্রত্যাহার করা হবে না।’ তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া এতিমদের টাকা মেরে খেয়েছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন, বিচার থেকে তিনি রেহাই পাবেন না। তাই তিনি এখন অসুস্থতার ভান করছেন।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের সব কর্মসূচি সফল করতে ওই বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সস্পাদক শাহে আলম মুরাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুল হক প্রমুখ।

প্রতিবাদকারীদের মৃত্যুর তদন্ত, আটককৃতদের মুক্তির আহবান অ্যামনেস্টির

বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই প্রতিবাদকারীদের নিহত হবার ঘটনা তদন্ত এবং আটককৃতদের মুক্তি দিতে হবে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে বিশিষ্ট একজন সাংবাদিক এবং একজন বিরোধী দলের নেতা। আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান বিরোধী বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে এ সপ্তাহে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। এতে আরও বলা হয়, সোমবার থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬ জন মানুষ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নিহত হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ গবেষক আব্বাস ফয়েজ বলেন, অবিলম্বে এসব মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র তদন্ত শুরু করা এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনা বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব। গত বছরে বিতর্কিত নির্বাচনের বছরপূর্তিতে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সমর্থকদের রাজপথে নেমে অবরোধ পালনের আহ্বান জানান। ৫ ই জানুয়ারি থেকে খালেদা জিয়াকে তার কার্যালয় থেকে বের হতে দেয়া হয় নি। এছাড়া সপ্তাহের শুরুতে পুলিশ একুশে টিভি চ্যানেলের চেয়ারম্যান আবদুস সালামকে গ্রেপ্তার করেছে। আটক করেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। আটক হয়েছে দলের অনেক নেতাকর্মী। আবদুস সালাম ও মির্জা ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এমন অনেক ইঙ্গিত রয়েছে। আব্বাস ফয়েজ বলেন, এসব গ্রেপ্তার বাক স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সভা সমাবেশের অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন তুলে ধরে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করতে হবে। নিজের অধিকার চর্চার কারণে কাউকে স্বেচ্ছাচারী গ্রেপ্তার, হয়রানী বা হুমকি ধামকি দেয়া হবে না সেটা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষকে তা করতে হবে। (বগুড়ার ধুনটে পুলিশের শর্টগানের গুলিতে আহত যুবদলের নেতা আমিনুল ইসলাম ও ছাত্রদলের নেতা রাজু আহমেদ (বাঁ থেকে)। ছবি: প্রথম আলো)
পুলিশের গুলিতে ৩ অবরোধকারী আহত
বগুড়ার ধুনটে পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নি‌ক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের ছোড়া গুলিতে তিনজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন উপজেলা বিএনপির এক নেতা। তবে পুলিশ একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম দাবি করেন, পুলিশের গুলিতে উপজেলা যুবদলের নেতা আমিনুল ইসলাম (৩০), ছাত্রদলের নেতা রাজু আহম্মেদ (২৮) ও উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়াও পুলিশের লাঠির আঘাতে ‌বিএনপির নেতা রফিকুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রদলের নেতা রনজু, মিশু, শামীমসহ আরও অন্তত ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে শেরপুর-ধুনট রোডের হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা অবরোধ ও মিছিল সমাবেশ করার চেষ্টা চালান। নাশকতার আশঙ্কায় মিছিলে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শর্টগানের পাঁচটি গুলি ছোড়ে পুলিশ।
এ সময় অবরোধকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল মমিন, ফরিদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর হোসেন নামের পুলিশের চার সদস্য আহত হন। তাঁরা ধুনট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। হাতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসানকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ধুনট সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বনি আমিন (৩০), উপজেলা মৎস্য দলের সাবেক সভাপতি সেলিম আহম্মেদ (৩২), ছাত্রদলের নেতা আলম হাসান (২০) এবং আবদুল হান্নানকেও (২৫) আটক করা হয়।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, সরকারি কাজে বাধা ও ইটপাটকেল নি‌ক্ষেপ করে পুলিশের চার সদস্যকে আহত করার ঘটনায় বিএনপির পাঁচ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। গুলিবিদ্ধ মাহমুদুলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হবে।

কুষ্টিয়ায় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

(কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বজলুর রহমান। ছবিটি বৃহস্পতিবার রাতে তোলা। ছবি: প্রথম আলো) কুষ্টিয়ায় বজলুর রহমান মোল্লা (৩২) নামের এক যুবককে পুলিশের এক সদস্য নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই যুবক গতকাল বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আজ শুক্রবার দুপুরে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। বজলুর রহমান সদর উপজেলার ফকিরাবাদ গ্রামের নবিছদ্দিন মোল্লার ছেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বজলুর ও তাঁর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ীতে একটি মাটিবোঝাই ট্রলির ধাক্কায় আকাশ নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। আহত হয় আরও দুই শিশু। এ ঘটনার পর স্থানীয় পাটিকাবাড়ী ক্যাম্পের পুলিশ ট্রলির মালিক বাদশা মিয়াকে ট্রলিটিসহ আটক করে ক্যাম্পে নেয়। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে নিহত শিশুটির পরিবারের সঙ্গে ট্রলির মালিক বাদশার সমঝোতা হয় এবং বাদশাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিকেল চারটার দিকে বাদশার চাচাতো ভাই বজলুর রহমান পুলিশ ক্যাম্প থেকে মাটিবোঝাই ট্রলিটি আনতে যান। এ সময় ক্যাম্পে দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবল আনারুল ইসলাম বজলুরকে ক্যাম্পে মাটি নামিয়ে ট্রলি নিয়ে যেতে বলেন। বজলুর মাটি নামাতে না চাইলে আনারুল তাঁকে বেধড়ক পেটান।
বজলুর বলেন, তিনি আনারুলকে বলেছিলেন মাটি নামানোর জন্য কোদাল, বেলচার দরকার, যা তাঁর কাছে ছিল না। এ কারণে তিনি মাটি নামাতে পারবেন না। প্রয়োজন হলে পরে তাঁর ভাই বাদশা থানায় মাটি দিয়ে যাবেন। বজলুর বলেন, এ কথা বলার পরই আনারুল ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। তাঁকে মাটিতে ফেলে সারা শরীরে পাড়াতে থাকেন। উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে রাইফেলের বাঁট দিয়ে পেটান। খবর পেয়ে বজলুরের চাচা আবদুল মালেক পাটিকাবাড়ী বাজার থেকে ক্যাম্পে গিয়ে পুলিশের সদস্য আনারুলের দেখানো স্থানে ট্রলি থেকে মাটি নামিয়ে দেন। পরে বজলুরকে হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনেরা। অভিযোগের ব্যপারে জানাতে চাওয়া হলে পুলিশের সদস্য আনারুল মুঠোফোনে বলেন, ট্রলির মাটি ফেলা নিয়ে ওই যুবকের সঙ্গে একটু ‘ধাক্কাধাক্কি’ হয়েছে। মারধরের অভিযোগ ঠিক না। কুষ্টিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) লিমন রায় বলেন, ‘মাটি ফেলা নিয়ে পুলিশ সদস্যের সঙ্গে এক যুবকের বাগবিতণ্ডা হয়েছিল। শুনেছি ওই যুবককে সে একটা থাপড় দিয়েছিল। এতে হাসপাতালে ভর্তি হবার কথা নয়।’ তবে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। ওই পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

‘নিউ ইউরোপে’ শেখ হাসিনার নিবন্ধ

ইউরোপের পরিচিত সাময়িকী ‘নিউ ইউরোপে’ বর্ষশুরুর সংখ্যায় লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ‘নিউ ইউরোপ’ ইউরোপের প্রভাবশালী রাজনৈতিক সাময়িকী, যেটি মূলত ইউরোপের রাজনীতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে থাকে।  ইংরেজি এই সাময়িকীটির বর্ষশুরুর বিশেষ সংখ্যায় বাংলাদেশের সরকার প্রধানের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে ৭৫ জনের বেশি রাষ্ট্রনেতা, রাজনীতিক, চিন্তাবিদ ও বিশ্লেষকের কলাম। ‘২০১৫ ইজ গোয়িং টুবি এ মাইলস্টোন ইন ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি’ শিরোনামে আটশ শব্দের এই লেখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বকে নিয়ে নিজের আশাবাদী ভাবনার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্জনগুলোও তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ভবিষ্যৎ কী হবে, তা বলা একেবারেই যাবে না, এমনটি নয়। ভবিষ্যৎ কী হবে, তা আমরাই ঠিক করে নিতে পারি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অগ্রগতি এবং সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও লিখেছেন, আমরা শিখছি আগের অভিজ্ঞতা থেকে এবং ভুল থেকে। অতীত আমাদের দৃঢ় করে তুলেছে। আমরা এখন যে স্বপ্ন দেখব, ২০১৫ সালের পর চিত্র তাই হবে। আমরা যে সব পদক্ষেপ নেব, তার আঙ্গিকেই দেখব আমাদের পরবর্তী পৃথিবীকে। কথা যদি আমরা কাজে পরিণত করতে পারি, তাহলেই আমরা একটা সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ পাব। বাংলাদেশে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তার সরকারের কাজ এবং বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে ‘ভিশন ২০২১’ পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গড়াই ২০১৫ সালের পর সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার পরবর্তী লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রসারে সরকারের পদক্ষেপগুলো জানিয়ে নারীর ক্ষমতায়নের চিত্রও তুলে ধরেন তিনি।

হারানের নাতজামাই : শিল্পী ও বিপ্লবী মানিকের সম্মিলন by রাজীব সরকার

গল্পকার হিসেবেই বাংলাসাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবির্ভাব। এরপর উপন্যাস রচনাতেও তিনি অনন্য শিল্প সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন। সাহিত্যচর্চার প্রারম্ভিক পর্বে মনস্তাত্বিক দর্শনকে ধারণ করেছেন, ফ্রয়েডের একান্ত অনুসারী হিসেবে বিপন্ন মূল্যবোধ ও বিধ্বস্ত নৈতিকতার বিশ্বস্ত ছবি এঁকেছেন। এখানেই যদি তিনি থেমে যেতেন, তাহলেও তার অমরত্ব ঘুচে যেত না। তিনি আরেক ধাপ অগ্রসর হলেন। মার্কসীয় দর্শন তথা বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদী দৃষ্টিতে তিনি তার সাহিত্যকর্মে জগৎ ও জীবনকে ব্যাখ্যা করলেন এবং এ ক্ষেত্রে তার মতো উঁচুদরের সাফল্য আর কেউ অর্জন করতে পারেননি। প্রথমে ফ্রয়েড পরবর্তী সময়ে মার্কস গভীর প্রভাব বিস্তার করেছেন মানিকের চিন্তাজগতে। কোনো সময়েই মানিক পরিমিতিবোধের অভাব ঘটতে দেননি তার রচনায়, শিল্পমানকে কখনোই ক্ষুণœ করেননি। ফ্রয়েডীয় দর্শনকে অনুসরণ করতে গিয়ে সমকালীন কবি-লেখকদের কেউ কেউ যখন নিজেদের সাহিত্যকে যৌনতাসর্বস্ব ও স্থূল করে তুলেছেন, তখনও মানিক আশ্চর্য সংযমী। ‘প্রাগৈতিহাসিক’-এর মতো চিরস্মরণীয় গল্প এবং ‘চতুষ্কোণ’ এর মতো অভিনব উপন্যাস এর জ্বলন্ত প্রমাণ। যৌনতাকে নিজের লেখা প্রতিষ্ঠার মূল হাতিয়ার হতে তিনি কখনোই দেননি। আবার যখন মার্কসের অনুসারী হয়েছেন তখনও তার কলম সস্তা প্রচারধর্মী রচনায় মনোনিবেশ করেনি। তৎকালীন মার্কসবাদী তাত্ত্বিক-লেখকদের অনেকেই যখন শ্রেণীচেতনার নামে ফরমায়েশি সাহিত্য রচনা করেছেন পার্টির নির্দেশ মেনে, মানিক তখনও লেখকের স্বাধীনতাকে বিন্দুমাত্র বিসর্জন না দিয়ে শ্রেণীচেতনার অসাধারণ প্রতিফলন ঘটিয়েছেন তার বিভিন্ন গল্প-উপন্যাসে। অথচ তিনি ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। কিন্তু পার্টির তলপিবাহক হয়ে সাহিত্যচর্চা করেননি। শিল্পীসত্তা ও বিপ্লবীসত্তার অসাধারণ ভারসাম্য রক্ষা করেছেন জীবনের শেষদিন পর্যন্ত। মার্কস, এঙ্গেলস, লেনিন, কডওয়েলের রচনা মানিক বন্দ্যোপধ্যায় নিষ্ঠার সঙ্গে পাঠ করেছেন। বুখারিনের ঐতিহাসিক বস্তুবাদ সম্পর্কে ধারণা অর্জন করেছেন। গভীর অনুশীলন ও পঠন-পাঠনের মধ্য দিয়ে নিজের জীবনদর্শন নির্মাণ করেছেন। মার্কসবাদের অনুসারী হয়ে সমাজের নিুশ্রেণীর কৃষক-শ্রমিক ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রামকে ফুটিয়ে তুলেছেন তার বিভিন্ন গল্পে। ব্যক্তিকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার কলাকৈবল্যবাদী বিলাসিতায় তিনি গা ভাসাননি। মানবকল্যাণের আকাক্সক্ষায় তিন সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন। ‘শিল্পী’, ‘ছোট বকুলপুরের যাত্রী’, ‘কংক্রিট’, ‘হারানের নাতজামাই’-এর মতো গল্প লিখে মানিক প্রমাণ করেছেন নিজের শিল্পীসত্তাকে বিসর্জন না দিয়েও শ্রেণীসংগ্রামের নিখুঁত পরিচয় সাহিত্যে প্রতিফলিত করা সম্ভব। মানিকের এ প্রয়াসের সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ ‘হারানের নাতজামাই’।
‘হারানের নাতজমাই’ গল্পটি ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়। এর কিছুদিন আগে সংঘটিত হয় রক্তক্ষয়ী তেভাগা আন্দোলন। গল্পটি পাঠশেষে বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না নিপীড়িত কৃসকশ্রেণীর সংগঠিত আন্দোলনের প্রতিফলন ঘটেছে এ গল্পে। অথচ গল্পটিতে কোন রাজনৈতিক প্রসঙ্গ নেই, তেভাগার কথাও নেই। অপূর্ব শৈল্পিক সংযমে মানিক এই গল্পটিকে উন্নীত করেন কালোত্তীর্ণ মাত্রায়। ভুবন মণ্ডল, ময়নার মা, ময়না, গফুর আলির মতো চরিত্রগুলো বিপ্লবমানসের প্রতীক হয়ে উঠেছে গল্পটিতে।
গল্পের শুরুতে দেখা যায়, মাঝরাতে সালিগঞ্জ গ্রামে নব্বই বছরের বৃদ্ধ হারানের বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ। সঙ্গে জোতদার চণ্ডী ঘোষের লোক কানাই ও শ্রীপতি। সঙ্গে কয়েকজন লাঠিয়াল। রেইডিং পার্টির অতিউৎসাহী নায়ক মন্মথও তাদের সঙ্গী। পুলিশ নিশ্চিত হয়ে এসেছে ওয়ারেন্টপ্রাপ্ত আসামী ভুবন মণ্ডল হারানের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। কৃষকের ধানের তথা জমির অধিকারের জন্য লড়ে ভুবন পরিণত হয়েছে তাদের প্রাণপ্রিয় নেতায়। গ্রামের ভেতর থেকেই যে কেউ তাকে ধরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করেছে তা বুঝতে বাকি থাকে না কারও। ‘এ বজ্জাতি গোপন থাকবে না’ প্রতিবাদী গফুর আলি সেই বিশ্বাসঘাতককে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।
গ্রামবাসী বসে থাকে না। লাঠি, সড়কি, দা, কুড়াল নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে তারা হাজির হয় হারানের বাড়িতে। বিপদ আঁচ করতে পেরে হারানের মেয়ে অর্থাৎ ময়নার মা নিজের মেয়ের ঘরে আশ্রিত ভুবন মণ্ডলকে লুকিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ভুবনকে মেয়ের জামাইয়ের অভিনয় করতে বলে। এ প্রস্তাব শুনে হতভম্ব মেয়েকে নাট্যমঞ্চের নির্দেশকের মতোই ময়নার মা বলে, ‘ঘোমটা দিবি। লাজ দেখাবি। জামাইয়ের কাছে যেমন দেখাস’ অত্যন্ত চাতুর্যের সঙ্গে পুলিশের সামনে পরিস্থিতি সামাল দেয় ময়নার মা। এ কাজে তার পারদর্শিতার প্রমাণ আগেও পেয়েছে গ্রামবাসী। কিছুদিন আগে দুপুরবেলা পুরুষশূন্য গ্রামে পুলিশ আমন্ত্রণ করলে ঝাঁটা বঁটি হাতে মেয়ের দল নিয়ে ময়নার মা তাদের তাড়িয়ে দেয় গ্রাম থেকে। চোখের সামনে ময়না ও ভুবন মণ্ডল এক ঘরে ঢুকে ঝাঁপটা ফেলে দিলে পুলিশের সন্দেহ থাকে না যে এরা স্বামী-স্ত্রী। ব্যর্থ মনোরথে তারা ফিরে যায়।
ফিরে যাওয়ার পথেই পুলিশ বুঝতে পারে তারা প্রতারিত হয়েছে। ময়নার ঘরে ভুবনের রাত কাটানোর ঘটনা নানা ডালপালায় সঞ্চারিত হয়ে মুখরোচক ঘটনায় পরিণত হয়। ক্ষুব্ধ পুলিশ পথ থেকে ময়নার যুবক ভাইকে ধরে নিয়ে যায়। এরই মধ্যে হারানের বাড়িতে এসে উপস্থিত হয় তার আসল নাতজামাই জগমোহন। পরপুরুষের সঙ্গে স্ত্রীর রাত কাটানোর রসালো ঘটনা শুনে সে ক্ষুব্ধ। ময়না ও ময়নার মা দু’জনেই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে ভুবন মণ্ডল গ্রামের অন্নদাতা, সবার বাবার মতো। তাকে নিজের ঘরে কিছুক্ষণের জন্য আশ্রয় দিয়ে ময়না কোনো অন্যায় করেনি। জগমোহন কিছুই শুনতে চায় না, তার ক্রোধ প্রশমিত হয় না। ময়না ভেঙে পড়ে, কিন্তু ময়নার মা অটল থাকে। তেজস্বিনী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ময়নার মা জোরের সঙ্গে বলে, কোনো অনুচিত কাজ ময়না করেনি। এমন দৃঢ়চেতা মা বাংলাসাহিত্যে বিরল। ধীরে ধীরে জগমোহন শান্ত হয়। পুলিশ আবার হানা দেয় হারানের বাড়িতে। এবার ময়নার সঙ্গে দণ্ডায়মান তার স্বামী জগমোহন। ময়নার নতুন জামাইয়ের পরিচয় পেয়ে পুলিশ ও মন্মথ অশ্লীল রসিকতা শুরু করে। মন্মথ লোলুপ দৃষ্টিতে ময়নাকে নিরীক্ষণ করে এবং তার অঙ্গ স্পর্শ করতে উদ্যত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই প্রতিবাদে গর্জে ওঠে জগমোহন এবং প্রতিবাদী গ্রামবাসী মিছিলে সেও শামিল হয়। অগণিত গ্রামবাসী তীব্র প্রতিরোধর মুখে হারানসহ তার বাড়ির সবাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের নিয়ে গ্রাম ছাড়ার পথেই ঘটে বিপত্তি-
‘...দলে দলে লোক ছুটে আসে চারিদিক থেকে; জমায়েত মিনিটে মিনিটে বড় হচ্ছে। মথুরার ঘর পার হয়ে পানা-পুকুরটা পর্যন্ত গিয়ে আর এগোনো যায় না। কালের চেয়ে সাত-আট গুণ বেশি লোক পথ আটকায়। রাত বেশি হয়নি, শুধু এ গাঁয়ের নয়, আশপাশের গাঁয়ের লোক ছুটে এসেছে। এটা ভাবতে পারেনি মন্মথ। মণ্ডলের জন্য হলে মানে বোঝা যেত, হারানের বাড়ির লোকের জন্য চারিদিকের গাঁ ভেঙে মানুষ এসেছে। মানুষের সমুদ্রের, ঝড়ের উত্তাল সমুদ্রের সঙ্গে লড়া যায় না।’
উত্তাল জনসমুদ্রের সামনে নিপীড়কের অসহায় আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে এ গল্পের সমাপ্তি ঘটেছে। এ গল্পে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দর্শনের স্লোগান নেই, নেই কোনো রাজনৈতিক তত্ত্বের কচকচানি। অথচ সমগ্র গল্পটি হয়ে উঠেছে শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের অপরাজেয় প্রতিরোধের প্রতীক। শত দুঃখ, দারিদ্র্য, বঞ্চনার মধ্যেও সাধারণ মানুষ তাদের বিবেক ধর্মকে বিসর্জন দেয়নি। তাদের ধান বাঁচানোর জন্য যে ভুবন মণ্ডল লড়ে যাচ্ছে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে, সেই ভুবনের জন্য তারা প্রাণ দিতে প্রস্তুত। এ আত্মাহুতির পালায় কোনো একক নায়কত্ব নেই, আছে সামষ্টিক প্রতিরোধের চেতনা। প্রথাসিদ্ধ একক নায়কের গৌরব বর্জন করে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে গণমানুষের নায়কত্বকে শৈল্পিক সুষমা দান করেছেন। ভুবন, ময়না, ময়নার মা, জগমোহন- প্রত্যেকই নায়কোচিত ভূমিকায় ভূষিত। সাহিত্যের শৈল্পিক দাবিকে সামান্যতম ক্ষুণ্ন না করেও যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার দীপ্ত গল্প লেখা যায় ‘হারানের নাতজামাই’ এর উৎকৃষ্ট প্রমাণ, বাংলা সাহিত্যে সম্ভবত উৎকৃষ্টতমও। মানিকের শিল্পী ও বিপ্লবী মানসের অসামান্য সম্মিলন ‘হারানের নাতজামাই’।

লেজারুসের ইকারুস হতে চাওয়া by জয়া ফারহানা

রঞ্জু ভুলেও কখনও এ বাড়িতে পা রাখতে চায় না। এ বাড়ি মানে পর্শিয়াদের বাড়ি আর কী। এ রকম একটা সাহিত্য-বিদ্বেষী পরিবারের মেয়ের নাম কী করে পর্শিয়া হয়ে গেল, সেও এক রহস্যই রঞ্জুর কাছে। যা হোক, পর্শিয়ার সঙ্গে আপনারা পরিচিত হয়ে নিন। পর্শিয়া হল রঞ্জুর বউ। তিন মাস হল তাদের বিয়ে হয়েছে। তবে বিয়েটাকে নিজের মতো করে ভাবার ফুরসত হয়নি তার। হবে কীভাবে? ফিরানির দিন থেকেই পর্শিয়ার আত্মীয়দের তরফে লাগাতার দাওয়াত চলছে। দাওয়াত-ফাওয়াতের ঝামেলা রঞ্জুর একদম ভালো লাগে না। বড়লোক বাড়িতে তো মোটেই না। নাহ সেটা এ রকম কোনো নীতিগত কারণে নয় যে, একটা বড়লোকের বাড়িতে ঢুকে পড়লে তার মনে হয় সে দেশের সেয়ানা এক চোরের বাড়িতে ঢুকে পড়েছে। ব্যাপারটা মোটেও এমন নয়। বরং রঞ্জু তো মনে মনে ঠিক প্ল্যান করে রেখেছে, কোনোদিন সুযোগ পেলে সেও দু-একটা ব্যাংক সাফা করে দেবে অথবা অন্য দেশের কোম্পানির স্বার্থ-টার্থ দেখে একটা বড় দাও মেরে দেবে। তারপর এই এদের মতো অ্যান্টিক ফায়ার প্লেসের পাশে বসে মাখন মাখানো পমফ্রেট মাছ খেতে খেতে বলবে কি যেন বাচ্চাটার নাম, ও হ্যাঁ জিহাদ...। এই যে বাচ্চাটা জিহাদ, একে আমরা সবাই মিলে ঝুলেই খুন করে ফেললাম। আহা, পৌষালী সুখের আলাপ। রঞ্জু, পর্শিয়াদের নেট ঘেরা বারান্দায় বসে বুনো মশাদের কামড় খেতে খেতে ভাবছিল, আশ্চর্য কী এত আলাপ এদের। রঞ্জু আসলে নিজে বড়লোক না হতে পারার বিরক্তিতে ঠিক খেয়াল করেনি, লিভিং রুমে পর্শিয়ার কাজিন বিএ সিদ্দিকীর লম্বা আলাপের জন্য নয় বরং তার আশ্চর্য হওয়ার কথা ছিল এটা ভেবে যে, এ ঘন বুনোটের নেট ভেদ করে কী কর বুনো মশারা ঢুকে পড়েছিল পর্শিয়াদের এ ছমছমে অভিজাত বারান্দায়। কিংবা কে জানে রঞ্জু হয়তো বিরক্ত হচ্ছিল পর্শিয়ার বাসায় ফেরার গরজ না দেখে। রঞ্জু আরও আশ্চর্য হল এটা ভেবে যে, এ বাড়ির-ই এক অতি জরুরি সদস্য ডিলিরিয়ামের ঘোরের মধ্যে এখনও আর এটার লিভিং রুম থেকে ড্রইংরুম পর্যন্ত রীতিমতো টকশো-র আসর বসিয়ে দিয়েছে। এদের আলাপেও দেখি যার পর নাই বিসঙ্গতি। জিনিসপত্রের দাম কী ভীষণ বেড়ে যাচ্ছে, রঞ্জু বিড় বিড় করে বলল তাতে তোদের কী শালারা। আবার অন্য আরেকজনের এই ভেবে রাতে ঘুম হচ্ছে না যে, কিছু দিন পরপরই ব্যাংকে কেন এক একটা অকারেঞ্জ ঘটছে। রঞ্জু আবার ফিস ফিস করে বলল তোদের কারণেই তো। রঞ্জুর প্রথমে বিএ সিদ্দিকী তারপর পর্শিয়ার ওপর খুব রাগ হল। আবার শোনা যাচ্ছে বি এ সিদ্দিকীর গলা। সে এখন কথা বলছে শাহজালালে ধরা পড়া স্মাগসলড গুডস নিয়ে। এই শালা আবার যেন কোনো মিনিস্টারের ভাইপো না ভাগনে। পর্শিয়া যে এর সঙ্গে এত তেলতেলে মেজাজে কথা বলছে তাকি খালি রঞ্জুকে কাজটা পাইয়ে দেয়ার জন্য? আসার পথে অবশ্য বলছিল বুঝলা, বরকত ভাইকে যেভাবেই হোক ম্যানেজ করতেই হবে। বরকত মানে আবুল বরকত। এবি সিদ্দিকী। তো বরকত ভাই সম্পর্কে জানার পর রঞ্জুর ছটফটানিটা বাড়ে। তার মুখে থু থু চলে আসে। গাড়ির জানালা দিয়ে একদলা থু থু ফেলে সে তখনও নিজেকে সোনানোর মতো স্বরে বলছিল ‘শালা আবুল বরকতের নামে একটা লোক অ্যায়সা হারামি হতে পারে! পর্শিয়া শুনতে না পেয়ে বলল ‘রঞ্জু, রঞ্জু নটি বয় ... কী বল? কবিতা? রঞ্জু উত্তর করল হ্যাঁ। বন্ধু-বান্ধবরা ভাবতে শুরু করেছে পর্শিয়াকে বিয়ে করে সে বোধ হয় তাদের ভুলতে বসেছে। হায় রে! রঞ্জুর এ বিয়োগান্তক বিয়ের কাহিনী জানে কেবল সে নিজে। কালচারাল শক জিনিসটা কি এতদিনে বুঝেছে সে। বউয়ের ইচ্ছা মাফিক সে তার রুচি ইমপ্র“ভ করতে পারছে না। পার্শিয়ার দাবি সে যেন একটু ফিটফাট হয়ে এসে শ্বশুরবাড়ির সবাইকে ইমপ্রেস করে। কিন্তু রঞ্জু ঠিক পেরে উঠছে না। পর্শিয়ার চাওয়া, সে অন্তত কয়েকদিন দিন-রাত এখানে পড়ে থেকে তার বাবার বি অ্যান্ড সি লিমিটেডের ফানির্শড বাড়ি, ভালো গাড়ি আর যা যা দরকার সব কিছুর পাকা বন্দোবস্ত করে। রঞ্জুর আব্বা-মা-র ও চাওয়া তাই। বড়লোকের মেয়ে বিয়ে করে সে ভালো রকম ফ্যাসাদেই পড়েছে। বাপ-মা হালুম হয়ে আছে ছেলের বড় লোক শ্বশুরের জিনিসপত্র দিয়ে ঘর ভর্তি করার। তা এসব অশান্তিতে রঞ্জুর রাতের ঘুমটাও গেছে। আর ঘুম না হওয়া মানে হ্যাং ওভার। হ্যাংওভার মানে খিটখিটে মেজাজ। আর খিট খিটে মেজাজ মানে অধীনস্থদের ওপর খানিক ঝাড়ি। তো মুশকিল হল রঞ্জুর অধীনস্থ কেউ তেমন নেই। বলতে গেলে সে পিওর বেকার-ই। কিন্তু শ্বশুর বাড়িতে নিজের পেশাগত পরিচয় লুকাতে তার কাল ঘাম ছুটে যায়। কাজ কিছু করে সে কিন্তু তার কোনোটাই পরিচয় দেয়ার মতো নয়। আবার কাজ যা করে সে সেগুলোকে কাজ না বলে দালালি বললেই যুৎসই প্রয়োগটা হয়। কিন্তু দালালিও তো আবার বলা যায় না। শ্বশুর বাড়িতে এই যে এখানে এসে সে দিন-রাত পড়ে থাকছে পর্শিয়া যাকে বলে জাস্ট ইমপ্রেশনটা ভালো করা। কিন্তু রঞ্জুর তো ধারণা এভাবে দিন-রাত শুয়ে-বসে কাটানোর জন্য ইমপ্রেশন বরং দিন দিন নাই হয়ে যাচ্ছে তার। যেটুকু ছিল বিয়ের সময়, তাও গেছে এ ক’মাসে। রঞ্জু বনানী গির্জার পাশের নিঃসঙ্গ জলপাই গাছটার দিকে তাকিয়ে ভাবে বড় লোক তাকে হতেই হবে। বড়লোক হতে হবে আবুল বরকতের ওপর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য। রঞ্জু কী করবে, যখন তখন আবুল বরকতকে তার মারতে ইচ্ছা করে। ঠিক সেই সময় একটা গোল্ডলিফ ধরানোয় প্রতিশোধের দাবি আরও বাড়তে থাকে। এই শালা তার বেডরুম পর্যন্ত হানা দিয়েছে। রাতে যখন পর্শিয়ার মধ্যে একটু খানি বেড়াল ভাব আসে তখনিই সে খালি আবুল বরকতের প্রতি সামান্য ইন-কাইন্ড সিলিং আসে। আবার পর্শিয়া যখন জেলি মাখানো গলায় বলতে শুরু করে জানো বরকত ভাই বলে সেক্সুয়াল ইন্টারফোর্স ইন দি আর্লি মর্নিং কিপস ইওর ফিগার স্লিম। দপ করে রঞ্জুর মাথায় আগুন জ্বলে ওঠে। শালা কোথাকার কোন বরকত ভাই তার উপদেশ মাফিক এখন রঞ্জুকে তার সেক্সুয়াল রুটিন ঠিক করতে হবে? খালি তাই? সলিড সেগুন কাঠ কোথায় পাওয়া যায় থেকে শুরু করে কয় আউন্স পরিমাণ মদ খেলে চিন্তা পরিষ্কার হয় তা পর্যন্ত এ ভদ্রলোক এই পরিবারকে লেকচার দিয়ে ফেলেছে। রঞ্জুরও বুঝতে সময় লেগেছে কেন প্লেয়িং ফিল্ডয়ের লেভেলে এত সুন্দর সমতা থাকার পরও পর্শিয়া কেন তার এ বি সিদ্দিকী ভাই কে বিয়ে না করে তার মতো একটা এইম লেস লাইফ লেস ছেলেকে বিয়ে করে বসল। সেই পর্শিয়া যার নাকি হাতের আঙুল, চোখের পাতা পাপড়ি ভঙ্গিটি পর্যন্ত নিখুঁত। সেই বীর কেন পর্শিয়াকে বিয়ে করল না আর রঞ্জু কেন রাম ভোদাইয়ের মতো এ বি সিদ্দিকীর বীজ পাহারা দিয়ে যাচ্ছে, রঞ্জুই কি ভালো মতো জানে তা? ক’টা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হাতিয়ে নেয়ার জন্য? আবার একটা গোল্ডলিফ ধরায় রঞ্জু। কী বোকা-ই বা ভাবে তাকে পর্শিয়া।
আর? আর কিছুও কি ভাবে সে? লোভী? হ্যাঁ লোভী তো ভাবেই পর্শিয়া। ভাবুক। রঞ্জু জানে কেন সে লোভী হয়েছে। সে গরিব বলে পর্শিয়া কি তাকে ঠকায়নি? হ্যাঁ পর্শিয়া কে ভালো বেসেছে। দেখতে সুন্দর মেয়েদের সবাই-ই বাসে। রঞ্জু হয়তো সবার চেয়ে কিছু বেশিই বেসেছে। পর্শিয়াকে সে পাবে না জেনেই বেসেছে। সেই না পাওয়ার মধ্যে অন্তত গ্লানি থাকত না। কিন্তু এখন যা হল তাতে তো রঞ্জুর জীবনটা যাকে বলে, একদম ছ্যাড়া-ব্যাড়া হয়ে গেল। পর্শিয়াকে না পাওয়ার পিওর দুঃখ নিয়ে সে অন্তত কবিতা লিখতে পারত। আর এখন যা করতে পারে তা কেবল খুন। আবার সেই খুনের জন্যও তার কোনো প্রস্তুতি নেই। সে অস্ত্র চালাতে জানে না। তার পয়সা নেই। খুন-খারাবি নিয়ে আলাপ করবে, তাকে বুদ্ধি পরামর্শ দেবে এমন কোনো বন্ধুও তার নেই। চেনা-জানার মধ্যে তাকে একটুখানি পছন্দ করে; থাকার মধ্যে এমন আছে খালি মারুফ। সরকারবিরোধী একটা পত্রিকার সিনিয়র সাব-এডিটর। বেতন মাসের কুড়ি তারিখেও হয় না। বোনাস হিসেবে আছে চাকরি যাওয়ার হুমকি। সম্পাদক নাকি টেবিলে অফিসের সবার নামের লিস্টি রেখে দিয়েছেন। যারা যারা ছাঁটাই হবে তাদের তালিকা আর কী। পর্শিয়া ভাবে, রঞ্জু মানে তার স্বামীটা বেশ ভালোই পেয়েছে। বেশ অনুগত। সারা দিন সে চকোলেট মুখের বালিকাদের মতো আহ্লাদ করে কথা বলবে এ বি সিদ্দকীর সঙ্গে আর রঞ্জু বারান্দায় বসে বসে পাহারা দেবে। পর্শিয়ার ভাবনা অবশ্য একেবারে ভুলও নয়। রঞ্জু তো পাহারাদার-ই। এ বি সিদ্দিকী আর পর্শিয়ার সন্তান পাহারা দিচ্ছে। এখন যেমন আবার পাহারা দিচ্ছে পর্শিয়া আর এবি সিদ্দিকীকে। বারান্দা থেকে কান খাড়া করে সে। এবি সিদ্দিকী গলায় মাখন মাখিয়ে বলছে বুঝলে সেই যে হ্যাভার স্যাক কাঁধে নিয়ে প্রতি দিন অন্তত দুই মাইল দৌড়াতে হতো। পর্শিয়া হেসে প্রায় তার কাঁধের ওপর গিয়ে পড়ে আর কী। হ্যাভার স্যাক কাঁধে দৌড়ানোর সঙ্গে হাসির সম্পর্কটা কী। রঞ্জুর হাত নিশপিশ করছে। একটা ফ্যামিলি সাইজের রড এনে যদি এবি’র মাথার তালুর বরাবর ...। মাথা ফুঁড়ে দিব্যি ভেতরে ঢুকে যেত। এবি সিদ্দিকীর ফিনকী দিয়ে রক্তের ধারা ছুটছে এ দৃশ্য কল্পনায় আপাতত সান্ত্বনা নিয়ে ভেতরে ঢুকল রঞ্জু। এবি সিদ্দিকীর গলায় আন্তরিক উষ্ণতা। আরে বসেন রঞ্জু। আমার রেজিমেন্টেড রুটিনের কথা বলছিলাম। তো সেই দুই মাইল হাঁটার পর পনের মিনিটের ফ্রি হ্যান্ড এক্সার সাইজ। তারপর প্যারেড। তারপর ব্রেকফার্স্ট। ম্যাপ রিভিউয়ের ক্লাস, লাইট মেশিন-গান শুটিং, লেপার্ড-ক্রলিং শেখা। এক হাতে রাইফেল নিয়ে প্রায় শুয়ে হামাগুড়ি দিয়ে বুকে হেঁটে রুক্ষ পাথুরে কংকর পথে কল্পিত শত্রুর দিকে চিতাবাঘের মতো চতুর হয়ে এগোনো ...। তারপর সিগন্যাল ক্লাস, ব্রেক। লাঞ্চ। ফের ক্লাস। বিকাল চারটার টি-টাইম। তারপর একটু ব্রেক। এরপর ক্যাম্প ফায়ার। রাত ৯টার মধ্যে লাইটস অফ। তো এসব ...
নির্দোষ কথাবার্তা শুনেও রাগ কমল না রঞ্জুর। তার খালি মনে হতে থাকল এইভাবে হবে না। এবিকে মারতে হলে মারতে হবে তার নিজের হাতে। রঞ্জুর মনে হতে থাকে এ বাড়ির চারদিকের দেয়াল যেন তার অক্ষমতাকে ভেংচি কাটছে। খুনের ভাবনায় চমকে উঠে রঞ্জু দেখে যে, আবুল বরকত না কথা বলছে তার শ্বশুর আবুল হাসেম। দু’জনের কথার মধ্যেই ঝিমুনি ধরে রঞ্জুর। আবুল বরকত আবার সেই রকম মোলয়েম স্বরে বলে রঞ্জু বোধ হয় আমাদের পারপাসটা ঠিক ধরতে পারনি। রঞ্জুর মনে হতে থাকে কেউ তার বুকে লাথি মারছে। বারান্দায় রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে পর্শিয়া।
সে তাকিয়ে ছিল উদাসীন। রঞ্জু ওই উদাসীন দৃষ্টিকে সাক্ষী করে মনে মনে বলল, তুমি ভেব না পর্শিয়া যে পুরুষ এমন হতভাগ্য দোষ তারই। তোমার কোনো দোষ নেই। তারপর সোজা চলে এলো ছাদে, যেখানে আবুল বরকত আর আবুল হাসেম পলিটিক্স নিয়ে আলাপ করছে। পলিটিক্সে রঞ্জুর ইন্টারেস্ট কম। তবু সে প্ল্যান করেছে আজ রাতে আবুল হাসেমকে খুউব তোয়াজ করবে সে। তারপর খাওয়া-দাওয়া। ফের গল্প। গল্প করা কী আর এমন কঠিন কাজ। তুললেই হল একটা প্রসঙ্গ। আবুল হাসেমের পার্টি সরকারে নেই। সুতরাং গল্প করার হাজারটা টপিক আছে। এই যেমন কার গাফিলতিতে জিহাদ মরল? আজকাল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোও হয়েছে সেই রকম ফেরেববাজ অথবা বলা যেতে পারে প্রশাসন কীরকম চেপে যেতে চেয়েছিল বা জিহাদকে কেন্দ্র করে জনতার জাগরণ। জনতার জাগরণ জাতীয় টপিক অবশ্য আবুল হাসেমের ভালো লাগবে না। থাক এসব ঝুঁকিপূর্ণ টপিক এড়িয়ে সে বরং বলতে পারে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ওই রকম চৌকস ব্যাটেলিয়নের চোখ এড়িয়ে শিয়াল কোট সীমান্ত পার হয়ে কীভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। এ টপিকটাই সম্ভবত আবুল হাসেমের সবচেয়ে প্রিয়। কারণ বলতে শুরু করলে আর কোনো দিকেই তার মনোযোগ থাকে না। হ্যাঁ শিয়াল কোটের দু’পাশেই তো পাহাড় বুঝলে, রাতের অন্ধকারে জঙ্গলের মধ্যে হাঁটতে হবে দশ মাইলের মতো। আমরা ক’জন বাঙালি আর্মি অফিসার পালিয়ে এসেছিলাম। চেকপোস্টে মিলিটারি চেকিংয়ের ভয়। তারপর পেট্রল আর রেকি করার গল্প। বহুবার শোনা। শুনতে শুনতে এমন কায়দায় মুখস্থ হয়েছে রঞ্জুর যে এ গল্প যদি সে কারও কাছে করে তবে তার বয়স বিবেচনায় না আনলে যে কেউ-ই ভাববে সে মুক্তিযোদ্ধা। তালমা ব্রিজের ২০০ গজ সামনে পানি মাছ-হাঁড়ি ভাসা জেলা বোর্ডের রাস্তার ওপর ১৫ ফুট স্প্যানের কালভার্টটি কীভাবে উড়িয়ে দেয়া হল সে গল্প তো গড়গড় করে সে বলে দিতে পারে।
তা এসব শুনে রঞ্জুর ফায়দা কী? বরং রঞ্জুকে যদি আবুল হাসেম বলত, রঞ্জু তুমি আমার ফেমাস বেঙ্গল কোম্পানির প্যাকেজ অ্যান্ড প্রিন্ট সেকশনটা দ্যাখো...। এরকম একটা অফার দিলে খেটে-খুটে ব্যবসাটাকে সে ঠিক দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারত। কিন্তু আবুল হাসেমের কাছে রঞ্জুর চাকরির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় তার অ্যালসেশিয়ানটার ঠিকঠাক এক্সার সাইজ করানো। অ্যালসেশিয়ানের শরীরে একটুখানি বাড়তি মেদ জমেছে কি জমেনি অমনি আবুল হাসেম তৎপর হয়ে ওঠেন। এ আসগর টুম্পাকে জগিং করানো হয়েছে কি না, এ আসগর টুম্পার বাওয়েল ক্লিয়ার হল কি না, এই আসগর ডাক্তারকে ফোনে আসতে বলত, এসে দেখে যাক টুম্পার স্টমাক ঠিকঠাক কি না। টুম্পা হল আবুল হাসেমের কুকুর আর আসগর কুকুর দেখনেওয়ালা। এ বাড়িতে অবশ্য কুকুরকে কুকুর বলে না। আবুল হাসেম ডাকেন নটি গার্ল। কেন সে নটি গার্ল কে জানে তা। রঞ্জু তো তার মধ্যে নটি কিছু দেখে না। বেশ শান্ত, চুপচাপ, বাওয়েলও বেশ ক্লিয়ার। আর তাকে যদি নটি গার্ল নামেই ডাকা হবে তো টুম্পা নাম-ই বা রাখা কেন? অবশ্য টুম্পা নামে তার অধরা প্রেমিকা ছিল কি না, রঞ্জু তা জানে না। রঞ্জু দিনের শেষ সিগারেট ধরায়। যা হোক আজকে একটা এসপার-ওসপার করে ফেলতে হবে, এরকমই সিদ্ধান্ত তার। ড্রইং রুমে আবার সবাই আলাপে মত্ত। দূর থেকে দেখে রঞ্জু ভাবে বোধহয় খুব সিরিয়াস কিছু। ডিলিরিয়ামের রোগীর কিছু হল নাকি। কাচে আসতে রঞ্জুর কাছে বিষয়টা পরিষ্কার হল। না, রঞ্জু নয় তার ব্যবসা বা চাকরিও নয়। জিহাদ প্রসঙ্গও চাপা পড়ে গেছে। তারা আলাপ করছে টুম্পার কন্সট্রিপেশনের সমস্যা নিয়ে।

সমাজ রূপান্তরে প্রভাব ফেলতে চেয়েছি : সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী by জুননু রাইন

জুননু রাইন : ‘নতুন দিগন্ত’ পত্রিকা একযুগ পূর্ণ করে ১৩ বছরে পদার্পণ করল। এ দীর্ঘ পথযাত্রায় আপনারা কি উদ্দেশ্য এবং পরিকল্পনা রেখে এগিয়েছিলেন?
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : আমরা ‘সমাজ রূপান্তর অধ্যয়ন কেন্দ্র’ নামে একটি সংগঠন স্থাপন করি, তারই একটি অংশ হিসেবে এ পত্রিকাটি। ‘সমাজ রূপান্তর অধ্যয়ন কেন্দ্র’টি একটি বড় স্বপ্নের মতো ছিল। সেখানে অনেক কাজের চিন্তা আমাদের ছিল। নামের মধ্যে যে ইঙ্গিতটি আছে সেটাই হচ্ছে লক্ষ্য। অর্থাৎ সমাজ রূপান্তরিত হচ্ছে এক ভাবে, আমাদের ইচ্ছে নিরপেক্ষ ভাবেই। কিন্তু এ সমাজের রূপান্তরের ক্ষেত্রে আমরা কোনো প্রভাব ফেলতে পারি কি না। আমরা কী দাসত্বই স্বীকার করব? না এর ওপরে কর্তৃত্ব করব? এটিই ছিল আমাদের এক ধরনের উদ্দেশ্য বলা যায়।
আপনি যে দাসত্বের কথা বলছেন- সেটা রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সামাজিক দাসত্ব না চিন্তার দাসত্ব?
: কর্তৃত্ব করার জন্যও তো চিন্তা করার দরকার। আমরা ভাবলাম এই যে সমাজ রূপান্তর হচ্ছে- এর মধ্যে যদি আমরা প্রভাব ফেলতে পারি এবং লক্ষ্য হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠায়। আমরা যদি সেদিকে কিছুটাও প্রভাব ফেলতে পারি- এটির জন্য একটা কেন্দ্র বানানো। আমরা চিন্তা করলাম আমরা যদি প্রভাব ফেলতে চাই তাহলে আমাদের কতগুলো বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ করতে হবে।
সেই কাজগুলোর একটা হল আমরা একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা বের করব। তারপর ভাবলাম আমরা কিছু আলোচনা সভা করব। সমাজ, রাষ্ট্র যা করছে সেসব বিষয়ে আমরা মত প্রকাশ করব। আমরা বক্তৃতার ব্যবস্থা করব। আমরা কিছু প্রয়োজনীয় বই প্রকাশ করব। আমরা একটি পাঠাগার গড়ে তুলব। যেটি বেশ একটি নতুন ধরনের পাঠাগার হবে। সেখানে একটি আর্কাইভসও থাকবে, যেখানে আমাদের মুক্তি-সংগ্রামের যে দলিলপত্র ওইগুলো যাতে রাখা যায়।
কেবল একাত্তরের নয়, আমাদের ধারাবাহিকভাবে মুক্তি-সংগ্রামের ইতিহাস থাকবে। সেটা ১৭৫৭ সাল থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত।
এসব চিন্তা নিয়ে আমাদের শুরু করা। ‘সমাজ রূপান্তর অধ্যয়ন কেন্দ্রে’র প্রথম কাজটি ছিল আমাদের পত্রিকাটি বের করা। এটি আমরা বের করলাম। ১২ বছর পার হয়েও গেল। এখন আমরা ১৩ বছর শুরু করলাম। আমরা একটি বইও প্রকাশ করেছি। সেটি মওলানা ভাসানীর জীবনীগ্রন্থ।
আরও বই প্রকাশ করার ইচ্ছা ছিল, আমরা অনেক আলোচনা সভা করেছি। গোলটেবিল বৈঠক, বত্তৃতা, সভা। তবে মূল কাজ যেটি করতে পেরেছি সেটি হচ্ছে- পত্রিকাটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা। তো এ পত্রিকাটি প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে আমরা ওই চিন্তাগুলোর আদান-প্রদান করার চেষ্টা করেছি।
বলছেন বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে বড় একটি কাজের অংশ হিসেবে এ পত্রিকা। সেক্ষেত্রে লেখা নির্বাচনে আপনাদের পছন্দটা কি রকম?
: মূল দৃষ্টি ছিল মননশীল প্রবন্ধের ওপরে। গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ এমনকি ধারাবাহিক উপন্যাসও আমরা প্রকাশ করেছি। কিন্তু আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল আমরা চিন্তাশীল প্রবন্ধ ছাপব। যে লেখা মানুষের চিন্তাকে নাড়া দেবে। মানুষকে ভাবতে সাহায্য করবে সমাজ, রাষ্ট্র এবং তার পারিপার্শিক অবস্থা নিয়ে। লেখা পেতে হলে সাধারণত লেখকদের সম্মানী দিতে হয়। ‘নতুন দিগন্তে’র ক্ষেত্রেও কি এরকম?
: এ পত্রিকাতে কোনো সম্মানী আমরা কাউকে দিতে পারি না।
সব লেখকই নিজে স্বপ্রণোদিত হয়ে লেখেন এবং আমরা যারা কাজ করি তারাও নিজেদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করি। দু-একজন আমাদের আছেন যাদের সম্মানী দিতে হয়। আমরা দিয়ে থাকি।
মূলত সামাজিক উদ্যোগেই পত্রিকা চলছে। এ পত্রিকার উৎপাদন খরচ এখন ১২০ টাকা (সংখ্যা প্রতি)। আমরা দাম রেখেছি ৫০ টাকা। শুরুতে ছিল ৩০ টাকা। তার পর ৫০ টাকা করেছি।
এখন আপনাদের সার্কুলেশন কত? শুরুতে কত সংখ্যা ছেপেছিলেন?
: আমরা প্রথম সংখ্যা ছেপেছিলাম ৫০০। আমরা মনে করেছিলাম এর চেয়ে বেশি এটি যাবে না। এর বেশি এর চাহিদা হবে না। তারপর দেখলাম যে খুব চাহিদা হল। তার পরের সংখ্যা থেকে আমরা ১ হাজার কপি ছাপালাম। তার পর ধাপে ধাপে উঠে আমরা আড়াই হাজার ছাপালাম।
আড়াই হাজার ছাপার পর আমরা দেখলাম, খরচ খুব বেশি হয়ে যাচ্ছে। যত ছাপাব তত বেশি খরচ। তাতে করে আমরা এখন ২ হাজার ৩০০তে নেমে এসেছি।
আপনাদের বিতরণ বা বিপণন ব্যবস্থাটি কি রকম?
: আমাদের বিতরণ ব্যবস্থাটাও বেশ ভালো। আমরা আমাদের পত্রিকায় কিছু ঠিকানা দিই। এরা আসলে পেশাগত বই বিক্রেতা না। তারা আমাদের শুভানুধ্যায়ী। তারা আমাদের কাছ থেকে পত্রিকা নেন। তারাই গ্রাহকদের মাধ্যম।
পত্রিকার আয় বা এর উৎপাদন খরচের প্রধান উৎস কি?
: আমাদের আয়টা হয় বিজ্ঞাপন থেকে। আর কিছু শুভানুধ্যায়ী আছেন যারা এর খরচের কিছু অংশ বহন করেন। এভাবেই এটি চলছে।
খরচ কমানোর চিন্তা থেকেই ২ হাজার ৫০০ থেকে ছাপানো কমিয়ে এখন ছাপছেন ২ হাজার ৩০০। পত্রিকাটি আরও বেশি পাঠকের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এটি একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। এ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন?
: সব কিছুরই একটা পরিকল্পনা থাকে। আমরা দেখলাম ১২ বছর পূর্ণ করে ১৩ বছরে চলে আসছি। এটি একটি বিষয়। আমাদের এক ধরনের পরিকল্পনায় বিগত বছরগুলোর কাজ এগিয়েছে। এখন আমরা এটি নিয়ে নতুন করে ভাবছি। ভাবছি যে এর পরবর্তী ধাপটা কি হতে পারে। কীভাবে এ জায়গাটিকে আরও ভালোর দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এটি নিয়ে আমরা ভাবছি।
আপনাদের মূল উদ্দেশ্য সমাজ রূপান্তর। তারই অংশ হিসেবে এ পত্রিকার প্রকাশ। এর সার্কুলেশন অবশ্যই আপনাদের উদ্দেশ্যের ব্যাপারে ইতিবাচক ইশারা। এ ধরনের পত্রিকার আড়াই হাজার সার্কুলেশন অনেক বেশি। যদিও জনসংখ্যার হিসেবে তা যথার্থ না বলেই মনে হয়।
আপনাদের মূল উদ্দেশ্যের মুখপত্র যদি ‘নতুন দিগন্ত’কে মনে করি, সেক্ষেত্রে এটি মানুষের মধ্য বেশি ছড়িয়ে দেয়া বা এটির মাধ্যমে আপনারা আপনাদের উদ্দেশ্যের ব্যাপারে আরও বেশি মানুষকে জানান দেয়ার ব্যাপারে আরও বেশি তৎপর হওয়া দরকার নয় কি?
: এর সঙ্গে খরচের একটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণভাবে জড়িত যেটি আমি আগেও বলেছি। বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করা। বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করা। সেখানে যাওয়া ইত্যাদি কাজের জন্য আমাদের ওই ধরনের পর্যাপ্ত সহযোগিতা না থাকাই এর একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। যেমন আমাদের পত্রিকার জন্য নির্ধারিত কোনো অফিস নেই। আমি এবং আমরা যারা এটি নিয়ে কাজ করছি তারা আমার বাড়ির ছোট্ট চিলেকোঠায় বসার ব্যবস্থা করেছি। সেখানে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেখানে বিজ্ঞাপনে কাজ করার জন্য একটি বিভাগ বা সার্কুলেশনে কাজ করার জন্য একটি বিভাগ অথবা সরাসরি পত্রিকার কাজের লোকরা যে বসবে সেই স্থান সংকুলান আমাদের নেই, নেই সেই প্রয়োজনীয় জনবলও।
আমরা দেখছি মননশীল প্রবন্ধের পাঠক বাড়ছে। কিন্তু তাদের চাহিদা পূরণে আমরা পুরোপুরি সফল হতে পারিনি। নতুন বছরে আমরা এটি নিয়ে ভাবছি। আমরা চেষ্টা করছি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে।
লেখা পাওয়া নিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে?
: ভালো লেখা পাওয়া সবসময়ই কঠিন। সেটি তুমিও’ত জান।
এখানে গল্প, কবিতা, উপন্যাস বই আকারেও পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের একটি উদ্দেশ্য আছে। যেটি বলেছি- সমাজ রূপান্তরে আমাদের অবদানই মূল লক্ষ্য।
পত্রিকা ছাড়া আপনাদের অন্য আরও যে কাজের পরিকল্পনা ছিল সেসবের এখন কি অবস্থা?
: সেগুলো আমরা ভালোভাবে এগিয়ে নিতে পারিনি। আমরা যারা এটি শুরু করেছিলাম, তাদের অনেকেই এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। যোগাযোগের অভাবে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। অনেকের বয়স হয়েছে। তরুণ সমাজকে আমরা সেভাবে আনতে পারিনি এখানে যেমনটি দরকার ছিল। আমরা তো বয়স্ক লোক, আমাদের চেয়ে তরুণদের কাজের শক্তি অনেক বেশি। তাদের আমরা ওভাবে আনতে পারিনি। সেটি আমাদের এক ধরনের সীমাবদ্ধতা। তাদের হাতে কাজটিকে যে উত্তরাধিকার হিসেবে তুলে দেয়া অথবা তাদের ধারা আরও প্রসারিত করা, এ কাজটি আমরা করতে পারলাম না, সেজন্য ‘সমাজ রূপান্তর অধ্যয়ন কেন্দ্রে’র যেভাবে আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম সেভাবে কাজটি করা গেল না। এটি থেকে উপলব্ধি বোধ হয় এ রকমের- যে তরুণ সমাজকে আনতে হবে। এবং সেই তরুণদেরই দায়িত্বটা নিতে হবে। আমরা যখন শুরু করেছিলাম তখন আমরা সবাই বয়স্ক। আমরা অনেকেই অবসর নিয়ে কাজটি শুরু করেছি। এরা অনেকেই আমার সমসাময়িক, আমার বন্ধুবান্ধব। কিন্তু এখন মাঝখানে একটি ব্যবধান তৈরি হয়ে গেছে। আমাদের এখানে তরুণরা লেখে কিন্তু তাদের আমরা জায়গা করে দিতে পারছি না। জায়গার অভাবটা কিন্তু এমন, যদি বলি রূপক অর্থে যে জায়গা এমনকি শব্দার্থের যে জায়গা সেটিও নেই।
তো আমার এ অফিস যে চিলেকোঠায়, চিলেকোঠা ছিল বলে সেখানে একটি ছোট হলেও অফিস করতে পেরেছি। না হলে তো অফিস ভাড়া করতে আমাদের অনেক টাকা চলে যেত। সেজন্য যে জিনিসটা আমরা বুঝতে পারি, তরুণরা যদি এ উদ্যোগটা নেয় এবং তার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে বয়স্কদের সঙ্গে নেয়, তাহলে কিন্তু কাজটা আরও ভালো হবে এবং কাজটা আরও এগোবে। কিছু তরুণ আছে আমাদের সমাজে যারা লিটল ম্যাগাজিন বের করে। এসব খুব ভালো গ্র“প। কোনো কোনো লিটল ম্যাগাজিন খুবই অসাধারণ। তাদের সঙ্গেও আমাদের পর্যাপ্ত যোগাযোগ হচ্ছে না। আর এখন মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়েছে অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। যে কারণে আমরা চাইলেও এ কাজে সহযোগিতা করার লোক খুব পাব বলেও মনে হচ্ছে না।
এতো কিছুর মধ্যেও পত্রিকাটা যে চলে এসেছে, এটি একটি ঘটনা।
আমরা ভেবেছিলাম একটি কেন্দ্র থাকবে যেখানে বই থাকবে। লোকজন জানার জন্য তাদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য আসবে-যাবে। কিন্তু ওই রকম কিছুর জন্য যে জায়গা দরকার, দালান তৈরি করা দরকার বা সেরকম একটা কাঠামো তৈরি করা দরকার। ওটা তো আমাদের সামর্থ্যরে মধ্যে ছিল না।
লিটল ম্যাগাজিন এবং এই গ্রুপ নিয়ে আপনি খুব আশাবাদী। লিটল ম্যাগ বা লিটলম্যাগকর্মীদের নিয়ে কিছু বলুন-
: লিটল ম্যাগাজিনের আসল শক্তি থাকবে সে কি বলতে চায়। আমি যে দু-একটা পত্রিকা দেখেছি- মনে হয় তাদের একটা বক্তব্য আছে। তাদের একটি লক্ষ্য আছে। তারা এ সমাজটাকে বদলাতে চায়। এ লক্ষ্য ছাড়া লিটল ম্যাগাজিন কখনও গুরুত্বপূর্ণ হয় না। মানে লিটল ম্যাগাজিনও বড় ম্যাগাজিনের অংশ হয়ে যাবে।
আমাদের এ পত্রিকাটির আমি মনে করি যদি কোনো গুরুত্ব থাকে তা হলে, এ লক্ষ্যে যে- এটি সমাজ রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তা নাহলে একটি পত্রিকা বের করলাম, পাঁচ মিশালী লেখা এবং সব লেখা একসঙ্গে করে দিলাম, এটি কোনো কাজ হতো না।
লিটল ম্যাগাজিনের যদি লক্ষ্য থাকে সে পারস্পরিক চিন্তাগুলোকে প্রকাশের ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। চিন্তা ও প্রকাশের যে একটি অনুশীলন সেই অনুশীলনটা যে ম্যাগাজিনগুলো করে সেই গ্র“পগুলোর কথা আমি বলছি। এমন দু-একটা গ্র“প আমি পাই যারা সমস্যাটাকে বোঝার চেষ্টা করছে। তরুণদের ওপর ভরসা করার ব্যাপারটা আরও আসে যে কারণে তার দুটো ঘটনার একটি শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ। এই যে তরুণগুলো এলো- এরা কিন্তু বড় কাজ করতে চায়।
কিন্তু ওরা যে শুধু ’যুদ্ধাপরাধের বিচার’ নিয়ে বলছে, এটিতো ছোট জায়গা । যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়ে গেল তার পর কী করবে?
এটিকে আরও দূরে নিয়ে যাওয়া যেত যদি এরকম দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, ধীশক্তিসম্পন্ন নেতৃত্ব এখানে বেরিয়ে আসত, তাহলে কিন্তু এখান থেকেই একটি আন্দোলন তৈরি হতো যে- আমরা সমাজে পরিবর্তন আনতে চাই। যে কাজ আমি লেখার মধ্যে দিয়ে করতে চাই, সে কাজ ছাত্রদের অন্য যুবকদের আন্দোলনের মধ্য দিয়েও হতে পারে।
এই যে কিছুদিন আগে জিহাদকে উদ্ধার করা যুবকরা তাদের যে সামাজিক দায়িত্ব এবং সৃজনশীলতা দেখিয়েছে আমরা কিন্তু এগুলো কাজে লাগাতে পারছি না।
নতুন বছরে আপনাদের ’নতুন দিগন্ত’ নিয়ে কি প্রত্যাশা?
: আমি আশা করব আমার তরুণ সহযোগী বন্ধুরা দায়িত্বটা নিয়ে এটিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সেটি অন্য আঙ্গিকে হতে পারে।
আমি খুবই আশান্বিত যে এই পত্রিকা মানুষ গ্রহণ করেছে। ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ কপি পর্যন্ত ছাপা হয়েছে। পত্রিকা ছাপতে দেরি হলে মানুষ ফোন করে। একটি পাঠক গোষ্ঠীও তৈরি হয়ে গেছে যারা নিয়মিত পড়ে। এই যে ২ হাজার ৫০০ লোকের কাছে যাচ্ছে নিয়মিত এবং আমাদের আগে বিদেশেও যাচ্ছিল। বিদেশে পাঠানো ব্যয়বহুল হয়ে যাওয়াতে আমরা ওয়েবসাইট খোলার চেষ্টা করছি, যেখানে আপডেট করলে প্রচারটা আরও বেড়ে যাবে।
গ্রন্থনা : মুসাররাত নওশাবা

বিরোধীদের ওপর বলপ্রয়োগ না করার আহ্বান এইচআরডব্লিউ’র

সরকারকে অবিলম্বে বিরোধী দলের ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগ ও গ্রেফতার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। একইসঙ্গে মিডিয়া ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ তুলে নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।   বৃহস্পতিবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।   ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বিতর্কিত উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, “সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সারাদেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে বিরোধীদলের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সরকার এই দমন-নিপীড়ন চালিয়েছে। বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নেয়নি, জামায়াতকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হয়নি।”   সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করে সংস্থাটির এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেন, “নির্বিচারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার, নিয়মবর্হিভূত গ্রেফতার এবং মিডিয়ায় নিয়ন্ত্রণ চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিকে আরো উসকে দেবে।”   তিনি বলেন, “জনগণের অধিকার রক্ষার বাধ্যবাধকতা সরকারের রয়েছে। তবে এটা এমনভাবে যেন না হয় যে, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে জানালা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হচ্ছে।”   বিএনপি চেয়ারপারসনকে বন্দী রাখা হয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, “গত ৩ জানুয়ারি থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কার্যত তার কার্যালয়ে বন্দী করে রাখা হয়েছে। যদিও সরকার বলছে তাকে বন্দী করা হয়নি, তবুও তার বাসার চারদিকে অসংখ্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, বাসার ফটকে তালা দেয়া হয়েছে, তাকে বাসা থেকে বের হতেও দেয়া হচ্ছে না। সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জানিয়েছেন, গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে খুনের মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। পুলিশের অবস্থানের কারণে এ সপ্তাহে দুর্নীতির একটি মামলায়ও হাজিরা দিতে পারেননি খালেদা জিয়া।”   বিএনপি নেতাদের আটকের কথা তোলে ধরে এতে বলা হয়, “জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় গত ৬ জানুয়ারি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আটক করে পুলিশ। বিক্ষোভে সহিংসতার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। বিক্ষোভে চারজন নিহত হয়েছেন এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে সরকারি দল ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন। অপর দুইজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারায়। এর পাশাপাশি বিএনপি অনান্যা নেতারা গ্রেফতার হয়েছে।”   সরকার মিডিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, “বিরোধী দলের প্রচারে সহায়তার অভিযোগে মিডিয়াতেও হস্তক্ষেপ করছে সরকার। পর্নোগ্রাফি প্রচারের অভিযোগে গত ৭ জানুয়ারি একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আব্দুস সালামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের সরকার বিরোধী একটি বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করার একদিন পরই তাকে আটক করা হয়। বক্তব্য সম্প্রচারের পরই সরকার কোনো কারণ ছাড়াই সব মিডিয়ায় তারেক রহমানের বক্তব্যের প্রচার নিষিদ্ধ করেছে।”   এতে বলা হয়, “সরকার বলছে, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা সহিংসতা ও জ্বালাও পোড়াওয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে এর স্বপক্ষে যুক্তিযুক্ত কারণ কিংবা প্রমাণ তারা দাঁড় করাতে পারেনি।”   বিরোধীদলকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “বিরোধীদলের নেতাদের উচিত তাদের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভের সময় সংযত আচরণ করা।”   ২০১৪ সালে ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে শতাধিক লোক নিহত ও অনেকেই আহত হয়। বিরোধীদলের বিক্ষোভের জবাবে সরকার তাদের উপর দমন-নিপীড়ন চালাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী নিয়মবর্হিভূতভাবে খুন, গুম ও নির্বিচার গ্রেফতার করছে।   অ্যাডামস বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ের দমন-নিপীড়নে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার বিষয়টি হুমকির মুখে পড়ে গেছে।”   তিনি বলেন, “যে সরকার নিজেদের গণতান্ত্রিক দাবি করে, তাদের কাছ থেকে একটি টেলিভিশন মালিকের গ্রেফতার কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।”

কার্যত জরুরি অবস্থা কায়েম করেছেন হাসিনা -আনন্দবাজারের সম্পাদকীয়

বাংলাদেশ অবশ্যই দরিদ্র দুনিয়ায় গণতন্ত্রের অনুশীলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। কিন্তু সেই কারণেই, সে দেশে গণতন্ত্র যে ভাবে খন্ডিত হচ্ছে, তাতে উদ্বেগের বড় কারণ আছে। এক বছর আগের পার্লামেন্ট নির্বাচন বিরোধীরা বয়কট করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগই তাতে জয়ী হয়। বিরোধী বিএনপি ওই নির্বাচনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশময় প্রতিবাদ-সমাবেশের ডাক দিলে তা বানচাল করতে হাসিনা ওয়াজেদের সরকার গোটা দেশে কার্যত জরুরি অবস্থার অনুরূপ নিরাপত্তার কড়াকড়ি কায়েম করে, বিরোধী দলনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘তারই নিরাপত্তা’র নামে কার্যত অন্তরিন করা হয়। প্রতিবাদী আন্দোলন উত্তাল হইয়া উঠিয়াছে। শাসক ও বিরোধী দলের সমর্থকদের মধ্যে দেশব্যাপী সংঘর্ষ, তাহাতে মানুষ হতাহত হইতেছেন, দোকানপাট ভাঙচুর হইতেছে, ঘরবাড়ি ভস্মীভূত, রাস্তায় লুঠপাট, গুলিবোমা, ইটপাটকেল। বাংলাদেশ নূতন করিয়া অশান্ত, অগ্নিগর্ভ। এই পরিস্থিতি এড়ানো কি অসম্ভব ছিল? হাসিনা ওয়াজেদ ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সম্পর্কের শৈত্য ও বৈরিতা সত্ত্বেও বিরোধী পক্ষের আন্দোলনের পথ খোলা রাখার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কারণ গণতন্ত্র মানে কেবল শাসকের অভিপ্রায় নয়, বিরোধীদেরও তাহাতে প্রতিবাদের পূর্ণাঙ্গ অধিকার স্বীকৃত। বিএনপি নেতৃত্ব যদি তাহার বয়কট করা নির্বাচনকে অবৈধ আখ্যা দিয়া প্রতিবাদ জানাইতে চায় এবং নতুন করিয়া নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নামে, তবে তাহা নিষিদ্ধ করা ও  নেতাদের গ্রেপ্তার করা কেমন ধরণের গণতন্ত্র? বিএনপি ও তাহার জোটসঙ্গী জামাতে ইসলামীর যৌথ আন্দোলন সহজেই হিংসাত্মক হয়, তাহা সত্য। কিন্তু অতিরিক্ত দমন নীতি জনসাধারণের এক বৃহৎ অংশের ক্ষোভ-বিক্ষোভ বাহিরে আসার পথটিই রুদ্ধ করিতে পারে, স্বাভাবিক নিষক্রমণের পথ না পাইয়া এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ অন্তর্ঘাতেই বিস্ফোরণের পথ খুঁজিবে। উল্লেখ্য, খালেদা জিয়াও  দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, তাহার দলের গণভিত্তি যথেষ্ট মজবুত। তাহাকে কার্যত অন্তরিন রাখিয়া তাহার বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করিবার উদ্যোগে কোথাও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ক্রিয়া নাই তো? পাকিস্তানে নওয়াজ শরিফের দল ‘কারচুপি করিয়া ভোটে জিতিয়া সরকার গড়িয়াছে, অতএব সেই নির্বাচন বাতিল’ করার দাবিতে তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের নেতা ইমরান খান যে প্রবল দেশব্যাপী প্রতিবাদ-আন্দোলন সংগঠিত করেন, তাহা পাক সরকারের পক্ষে এক বিপুল সঙ্কট ঘনাইয়া তুলিয়াছিল। কিন্তু নওয়াজ শরিফ ইমরানসহ বিরোধী পক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনায় বসিয়া দেশে শান্তি ও স্থিতি ফিরাইয়াছেন। বিরোধী পক্ষকে দমন করা নয়, দেশে সুশাসন চালানোই  যে একটি নির্বাচিত সরকারের জনাদেশ, ইহা বুঝিতে শরিফের অসুবিধা হয় নাই। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতি এক নহে, কিন্তু পাকিস্তানের সমস্যা কিছুমাত্র কম বলিয়া মনে করিবারও কারণ নাই। গণতন্ত্রের স্বার্থেই নমনীয় হওয়া দরকার। আর শাসক পক্ষের দিক হইতেই নমনীয়তা অধিক জরুরি। নতুবা রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িবার আশঙ্কা প্রবল,  মৌলবাদীরা তাহার সুযোগ লইতে পারে। তাহার পরিণাম কেবল দেশের উদীয়মান ও সংকটদীর্ণ অর্থনীতি নহে, দেশের শাসক দলের পক্ষেও শেষ বিচারে বিপজ্জনক।
৯ জানুয়ারি, ২০১৫

শ্রীলঙ্কায় সিরিসেনা শপথ নেবেন আজ, পরাজয় মেনে নিলেন রাজাপক্ষে

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নিচ্ছেন মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। এএফপির খবরে জানানো হয়, আজ সন্ধ্যায় ইনডিপেনডেন্ট স্কয়ারে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। তাঁর মুখোপাত্র সামান আথাউদাহেতি এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কার আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটের ফলাফলে বিরোধী প্রার্থী মাইথ্রিপালা সিরিসেনা বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এরপর মাহিন্দা রাজাপক্ষে পরাজয় মেনে নেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বলেও তিনি অঙ্গীকার করেন। প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব ভবজয়ানন্দ হেরাথ বলেন, পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় নেতা রনিল বিক্রমাসিংহের কাছে রাজাপক্ষে পরাজিত হয়েছেন বলে মেনে নিয়েছেন। হেরাথ বলেন, প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্টে বিরোধী দলের প্রধান রনিল বিক্রমাসিংহের সঙ্গে আজ সকালে দেখা করেছেন। তিনি পরাজয় মেনে নিয়েছেন এবং মানুষের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।
পরাজয় মেনে নিলেন রাজাপক্ষে
শ্রীলঙ্কার আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাহিন্দা রাজাপক্ষে পরাজয় মেনে নিয়েছেন। শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বলেও তিনি অঙ্গীকার করেছেন। আজ শুক্রবার দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা জানান। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, গতকাল বৃহস্পতিবারের নির্বাচনের এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী মাইথ্রিপালা সিরিসেনা বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব ভবজয়ানন্দ হেরাথ বলেন, পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় নেতা রনিল বিক্রমাসিংহের কাছে রাজাপক্ষে পরাজিত হয়েছেন বলে মেনে নিয়েছেন। হেরাথ বলেন, প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্টে বিরোধী দলের প্রধান রনিল বিক্রমাসিংহের সঙ্গে আজ সকালে দেখা করেছেন। তিনি পরাজয় মেনে নিয়েছেন এবং মানুষের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।

মন্ত্রীদের মুখে ইসলামের কথা ভণ্ডামি: রিজভী

আওয়ামী লীগের নেতা ও সরকারের মন্ত্রীদের মুখে ইসলামের কথা ‘ভণ্ডামি’ ছাড়া কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। আাজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর বনানীর একটি কা‌র্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে রিজভী এ মন্তব্য করেন। তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা চলাকালে অবরোধ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যের জবাবে যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয়েছে। অবরোধও চলছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে সংবিধানে আল্লাহর নাম সংযোজন করেছিলেন, এই সরকার সংবিধান থেকে মহান আল্লাহর নাম মুছে ফেলেছে। সরকারের যে মন্ত্রী পবিত্র হজ, মহানবী ও তাবলিগ জামাত সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন, তাঁকে কারাগারে জামাই আদরে রাখা হয়েছে। এ রকম ভণ্ড, প্রতারক সরকারের মুখে ইসলামের কথা ভণ্ডামি ছাড়া কিছুই নয়।’ রিজভী চলমান অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সরকার অবৈধ বন্দুকধারীদের মতো দেশ শাসন করছে। কোনো বেআইনি সরকার এভাবে দেশ পরিচালনার অধিকার রাখে না। আমরা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাব, সব শক্তি ও সাহস নিয়ে রাজপথ, রেলপথ-নৌপথ অবরোধের কর্মসূচি সফল করুন।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, এই সরকারকে পদত্যাগ করতেই হবে। এটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।’ রিজভী অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়াকে মানসিক ও শারীরিকভাবে পর্যুদস্ত করতে এমন কোনো ষড়যন্ত্র নেই, সরকার করছে না। দেশে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলার হিড়িক পড়েছে। ন্যায় ও স্বাধীন মত প্রকাশকে সরকার নিষ্ঠুরভাবে দমন করছে। তিনি এই পথ থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানান। অবরোধ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে রিজভী বলেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের এই অবরোধ কর্মসূচি ন্যায়ের জন্য, জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য, স্বাধীন মত প্রতিষ্ঠার জন্য। এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই অবৈধ সরকার পতনের মধ্য দিয়েই দেশে গণতন্ত্র মুক্তি পাবে। ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা পাবে।’
খালেদার কার্যালয়ের তালা আবার খুলেছে
রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের তালা খোলা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ফটকের তালা আবার খোলা দেখা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশানের ওই কার্যালয়ের প্রধান ফটকের তালা গোপনে খুলে নেওয়ার পর রাতে আবার লাগিয়ে দেওয়া হয়। অবশ্য তালা খোলা ও লাগানোর কথা পুলিশের কেউ স্বীকার করেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়ানো নারী পুলিশ সদস্যরা কিছুটা সরে অবস্থান নিয়েছেন। এ সময় ফটকের তালা খোলা দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরের আগে কোনো এক সময় তালা খোলার পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আবার আটকে দেওয়া হয়। সন্ধ্যার পর তা আবার খুলে দেওয়া হয়। এরপর রাত ১১টার দিকে শেষ দফায় আবার তালা লাগানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
কার্যালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আগের মতো কড়াকড়ি রয়েছে। গুলশান-২-এর ৮৬ নম্বর সড়কে গিয়ে দেখা যায়, এই কার্যালয়ে ঢোকার ক্ষেত্রে আগের মতো কড়াকড়ি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাহারাও আগের মতো বহাল। কার্যালয়ের এক পাশে একটি জলকামান, আরেক পাশে দুটি প্রিজন ভ্যান আড়াআড়ি করে রাখা। ফটকের দুই পাশে ও কার্যালয়ের সামনে ৮৬ নম্বর সড়কের দুই মুখে পুরুষ পুলিশ সদস্যদের রাস্তা আটকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। এর মধ্যেই বিশিষ্টজনেরা সেখানে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। স্বজনেরা তাঁকে খাবার সরবরাহ করেন। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের মতো রয়েছে বলে জানা গেছে।

‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে বিশ্ব ইজতেমা শুরু

লাখো মুসুল্লির কণ্ঠে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগতীরে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। আগামী রোববার জোহরের নামাজের আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ইজতেমা। ইজতেমা মাঠে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্বের ইজতেমা শেষের চার দিন পর ১৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। ১৮ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে ওই পর্বের বিশ্ব ইজতেমা শেষ হবে। বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে গিয়ে দেখা যায়, দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ইতিমধ্যে মাঠে হাজির হয়েছেন। এখন দল বেঁধে ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিরা আসছেন। আজ ফজরের নামাজের পর পাকিস্তানের মাওলানা মো. এহসান আম বয়ান করেন। তাঁর উর্দুতে দেওয়া বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা মো. আবদুল মতিন। এরপর ভারতের মাওলানা আহম্মদ লাট মুসুল্লিদের উদ্দেশে ইমান, আমল ও আখলাক বিষয়ে বয়ান করেন। আজ শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে ইজতেমা মাঠে জুমার নামাজ আদায় করা হবে। এতে ইজতেমায় আসা মুসল্লি ছাড়াও আশপাশের এলাকার মুসল্লিরা অংশ নেবেন। সংখ্যার হিসাবে এটি দেশের সবচেয়ে বড় জুমার জামাত। বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক কমিটির মুরব্বি মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, ১৬০ একরের সুবিশাল ময়দানের পুরোটাই চটের শামিয়ানা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। সব মুসল্লির রান্নার জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। তবে মাঠের পশ্চিম-উত্তর কোণে টিনশেডের উন্নত আবাসনে বিদেশি মুসল্লিদের রান্নার জন্য গ্যাস- বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া টেলিফোন সংযোগ এবং আধুনিক সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান, বিশ্ব ইজতেমার নিরাপত্তায় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তায় মাঠের চারদিকে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
ইজতেমায় টেলিফোন নম্বরসমূহ
জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণকক্ষ (১)-৯৮১৩৪০১, জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণকক্ষ(২)-৯৮১৩৪০২, পুলিশ নিয়ন্ত্রণকক্ষ-৯৮১৩৪০৩, মিডিয়া সেন্টার-৯৮১৩৪০৮, র‌্যাব নিয়ন্ত্রণকক্ষ (১) ৯৮১৫১১২, র‌্যাব নিয়ন্ত্রণকক্ষ (২)-৯৮১৫১১৩, র‌্যাব নিয়ন্ত্রণকক্ষ (৩)-৯৮১৫১১৪, স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ন্ত্রণকক্ষ- ৯৮১৩৪০৬, ৯৮১৭৫১৪, ৯৮১৭৫১৫, ৯৮১৭৫১৬, তথ্যকেন্দ্র ইজতেমা কর্তৃপক্ষ-৯৮১৬৩৭০-৭৪, ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণকক্ষ-৯৮১৬৩৬৯, বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়ন্ত্রণকক্ষ-৯৮১৬৩৭৯ ।

লড়াই হবে হাড্ডাহাডি

৩০ ডিসেম্বর, ২০১৪। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সপ্তাহ খানেক বাকি। রাজধানী কলম্বোতে কয়েকজন জ্যোতিষীর সঙ্গে ছোট্ট একটা বৈঠক সেরে নিলেন প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নিজের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাও। হিসাব-নিকাশ কষে ওই জ্যোতিষীরা একবাক্যে রাজাপক্ষের জয়ের পূর্বাভাস দিলেন। শ্রীলঙ্কায় আজ অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইটা কতটা হাড্ডাহাড্ডি হবে ওই জ্যোতিষীদের তলব করা হয়তো তারই প্রমাণ। জ্যোতিষীরা মুখে রাজাপক্ষের জয়ের ব্যাপারে খই ফোটালেও আড়ালে স্বীকার করছেন তাঁরা চাকরি হারানো নিয়ে শঙ্কিত।
কয়েক মাস আগেও কেউ ঘুণাক্ষরে চিন্তা করেনি, শ্রীলঙ্কার এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইটা এতটা হাড্ডাহাড্ডি হবে। রাজাপক্ষের চেহারায় তখন অজেয় ভাব। ২০০৯ সালে বিদ্রোহী গোষ্ঠী লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলমকে (এলটিটিই) পর্যুদস্ত করে কয়েক দশকের গৃহযুদ্ধের অবসান করেছিলেন তিনিই। পুরস্কারস্বরূপ ২০১০ সালের নির্বাচনে ৫৮ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। আর একই বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ পার্লামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনও তাঁর দলের দখলে চলে যায়। জনসমর্থন আরও বাড়তে পারে, এমন ধারণা থেকেই রাজাপক্ষে কয়েক মাস আগে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত আগস্ট মাসে এক বৈঠকে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে আমি দুশ্চিন্তা করি না। আমি আগামী পাঁচ বছর এবং তারও পরের মেয়াদগুলো নিয়ে এখন পরিকল্পনা করছি।’ রাজাপক্ষের আন্দাজ ছিল, নির্বাচন হলে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পাবেন হয় রানিল উইকরামসিংহে বা সাবেক প্রেসিডেন্ট চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গাকে। উইকরামসিংহেকেই ২০০৫ সালের নির্বাচনে পরাজিত করে প্রথম ক্ষমতার স্বাদ নিয়েছিলেন রাজাপক্ষে। আর দলের সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতা কুমারাতুঙ্গাকে সুকৌশলে হারিয়ে দিয়েই তিনি প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার টিকিট পেয়েছিলেন। এই দুজনের একজনকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পেলে রাজাপক্ষে সহজেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে যাবেন বলেই অনুমান করা হচ্ছিল। তবে রাজাপক্ষের সব হিসাব-নিকাশের গোলমাল হয়ে গেছে নিজ দল থেকে পক্ষত্যাগের মিছিল শুরু হওয়ায়। এই মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন মাইথ্রিপালা সিরিসেনা,
যিনি ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে রাজাপক্ষের ডানহাত ছিলেন। দুই মাস আগেও তিনি রাজাপক্ষের রাজনৈতিক দল শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির (এসএলএফপি) সাধারণ সম্পাদকের পদে ছিলেন। পক্ষ ত্যাগ করেই সিরিসেনা রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে দেশকে স্বৈরতন্ত্রের দিকে নিয়ে যাওয়া এবং পরিবারতন্ত্র কায়েম করার অভিযোগ তোলেন। এরপর ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সিরিসেনাকে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করলে নির্বাচনী লড়াইয়ের হিসাব পাল্টে যায়। সিরিসেনা মূলত তিনটি ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে রাজাপক্ষবিরোধী যে মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে, তা নির্বাচনী প্রচারণায় কাজে লাগিয়েছেন। প্রথমটি হচ্ছে, রাজাপক্ষের একনায়কসুলভভাবে ২০১০ সালে সংবিধান সংশোধন করে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ পরিষ্কার করা। দ্বিতীয়ত, প্রেসিডেন্টের নিজের তিন ভাইকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে ‘স্বজনপ্রীতির’ বড় নজির সৃষ্টি করা। তৃতীয় বিষয়টি হচ্ছে, রাজাপক্ষের শাসনামলে দুর্নীতির লাগামছাড়া অবস্থা। পাশাপাশি রয়েছে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা। গৃহযুদ্ধ অবসান ঘটার সময়কার গড় জাতীয় প্রবৃদ্ধি মাত্র ২ শতাংশ থেকে গত বছরের শেষ নাগাদ ৭ দশমিক ৭ শতাংশে উঠেছে, এটা সত্য। তবে তা সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে পারেনি সরকার। দেশের সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু গোষ্ঠী তামিলরা না চাইলেও সিরিসেনাকে ভোট দেবেন। রাজাপক্ষের শাসনের অবসান ঘটার আশাতেই সিরিসেনাকে ভোট দেবেন তাঁরা। তামিল রাজনৈতিক নেতারা আগেই সেই ঘোষণা দিয়েছেন।

ব্ল্যাকবক্স পাওয়ার আশা

বিধ্বস্ত এয়ারএশিয়ার উড়োজাহাজের কাঠামোর শেষ অংশের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা। এর ফলে উড়োজাহাজটির ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করা সম্ভব হবে আশা করা হচ্ছে। ‘টেইল’ বা পুচ্ছ হিসেবে পরিচিত উড়োজাহাজের শেষ অংশেই ব্ল্যাকবক্স থাকে। গতকাল বুধবার জাকার্তায় এক সংবাদ সম্মেলনে অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান হেনরি বামবাং সোয়েলিস্তি বলেন, ‘আমরা টেইলের অংশ খুঁজে পেয়েছি, যার অনুসন্ধান আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল।’ তিনি জানান, সোনার স্ক্যান যন্ত্রের মাধ্যমে উড়োজাহাজটির পেছনের ওই অংশের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে ডুবুরিরা সেটি শনাক্ত করেন। ওই অংশটি যে এয়ারএশিয়ার উড়োজাহাজেরই, তা সাংবাদিকদের বোঝাতে পানির নিচ থেকে তোলা ভগ্নাবশেষের ছবি এবং উড়োজাহাজটির আগের পূর্ণাঙ্গ ছবি দেখান সোয়েলিস্তি। এখন ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চলছে বলে জানিয়ে সোয়েলিস্তি বলেন, ‘ছবি থেকে আমি নিশ্চিত করতে পারি যে আমরা যা খুঁজে পেয়েছি সেটি টেইলেরই অংশ।’ প্রাথমিক অনুসন্ধানের স্থান থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে এ অংশটি পাওয়া যায়। এয়ারএশিয়া ইন্দোনেশিয়ার ফ্লাইট কিউজেড ৮৫০১ গত ২৮ ডিসেম্বর ১৬২ জন আরোহী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া থেকে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। কয়েক দিন পর বোর্নিও দ্বীপের কাছে জাভা সাগরে এর ধ্বংসাবশেষের প্রথম কিছু অংশ ও কয়েকটি লাশের খোঁজ মেলে। এ পর্যন্ত ৪০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জাভা সাগরে অনুসন্ধানের কাজ বারবার ব্যাহত হয়। উদ্ধার অভিযানে উড়োজাহাজের পেছনের অংশের সন্ধানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কেননা এই অংশে থাকা ব্ল্যাকবক্সে ফ্লাইটের সব তথ্য রেকর্ড হয়ে থাকে। এর ভিত্তিতে উড়োজাহাজটি কেন বিধ্বস্ত হয়েছে তার কারণ জানা সম্ভব হওয়ার কথা। উড়োজাহাজের ওই অংশের সন্ধান পাওয়ার ঘোষণাটি দেওয়ার কয়েক মিনিট পরই এয়ারএশিয়ার প্রধান টনি ফার্নান্দেজ টুইটার বার্তায় বলেন, ‘পেছনের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে মনে করছি। এটা যদি সত্যিই ওই অংশ হয়ে থাকে তবে ব্ল্যাকবক্স সেখানেই রয়েছে।...আমাদের পরিবারের সদস্যদের দুঃখ লাঘবের জন্য আমাদের সব অংশ খুঁজে পাওয়া প্রয়োজন। যাতে আমরা আমাদের অতিথিদের খুঁজে পাই।’ তবে ইন্দোনেশিয়ার বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল জনসন সুপ্রিয়াদি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, উড়োজাহাজের পেছনের অংশটি সম্পূর্ণ অক্ষত না-ও থাকতে পারে। তিনি বলেন, ব্ল্যাকবক্সটি রয়েছে উড়োজাহাজের শেষ দিকে ডান পাশে দরজার পেছনে। উড়োজাহাজটির ওই অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়ে থাকতে পারে। উল্লেখ্য, উড়োজাহাজের ব্ল্যাকবক্স প্রচণ্ড তাপ ও আঘাত সহ্য করার মতো করেই তৈরি করা হয়। উদ্ধার সংস্থার প্রধান সোয়েলিস্তি জানান, এ পর্যন্ত উড়োজাহাজটির ১২টি ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে বস্তুগুলোর সব কটি এয়ারএশিয়ার উড়োজাহাজটির অংশ কি না, তা নিশ্চিত করেননি। উড়োজাহাজটির মূল অংশে মৃতদেহ আটকা পড়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত তদন্তকারীরা ব্ল্যাকবক্সটি হাতে পেয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে না পারছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত উড়োজাহাজটির বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ নিয়ে রহস্য থেকে যাবে। যে এলাকা থেকে বিমানটি হারিয়ে যায়, সেটি প্রচণ্ড মৌসুমি ঝড়ের এলাকা হিসেবে পরিচিত। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি বলেছে, খারাপ আবহাওয়ার কারণে ইঞ্জিনে বরফ জমে তা বন্ধ হয়ে গিয়ে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে। এ দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় সুরাবায়া-সিঙ্গাপুর পথে এয়ারএশিয়ার রুট পারমিট বাতিল করে দেয়। ওই মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোম, মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনিবার ওই পথে এয়ারএশিয়ার ফ্লাইটের যাত্রার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু ফ্লাইট কিউজেড ৮৫০১ নিয়ম লঙ্ঘন করে রোববার যাত্রা করে। তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অনিয়মের সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।

যে গ্রামের ব্যাংক, বাড়ি কোথাও দরজা নেই

গ্রামের কোনো ঘরেই দরজা নেই। অফিসে ঝুলে না তালা। এমনকি ব্যাংকের দরজাও রাতদিন খোলা। কাউকে পাহারা দেয়ার প্রয়োজন হয় না। ঘরের গয়নাগাটি, অফিসের কাগজপত্র, ব্যাংকের টাকা সবই ঠিকঠাক মতো থাকছে। ভয় নেই চুরি যাওয়ার। এমন নিশ্চিন্ত ও প্রাকৃতিক নিরাপত্তার গ্রাম শনি শিংনাপুর। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় এই গ্রামে প্রতিটি বাড়িই দরজা ছাড়া। তাদের উন্মুক্ত ঘর পাহারা দেন গ্রহরাজ শনিদেব। চুরি করতে চাইলে ঘাড় মটকে দেবে শনিদেব।
এই বিশ্বাস ও ভরসাই নিশ্চিত করেছে গ্রামের নিরাপত্তা। বংশ পরম্পরায় চলে আসা গ্রামের এই প্রথা সম্পর্কে জানতে চাইলে গৃহবধূ জয়শ্রী গাদে বলেন, বহু বছর আগে শনিদেব গ্রামবাসীদের স্বপ্নে দেখা দিয়ে বলেন, ‘তোমাদের ঘরে কোনো দরজা রাখার দরকার নেই। আমিই তোমাদের সবকিছু রক্ষা করব।’ গ্রামের বাসিন্দাদের মতে, শক্তিমান ও করুণাময় শনিদেবের কথায় কেউ ঘরে দরজা রাখেনি। লোককথা অনুযায়ী, প্রায় ৩০০ বছর আগে গ্রামে ভয়াবহ বন্যায় সবকিছু ভেসে যায়। তখন লোহা ও পাথর দিয়ে শনিদেবের স্তম্ভ বানানো হয়। এখন খোলা মাঠে ফুল দিয়ে গ্রহরাজকে পূজা দেয়া হয়। শনিদেবকে শনি গ্রহের মতো বিশাল ও শক্তিশালী মনে করা হয়। কারখানা শ্রমিক বালাসাহেব বরুদ বলেন, ‘শনিদেবের এতই ক্ষমতা- কেউ যদি চুরি করে সারা রাত হেঁটে ভাবে গ্রামের বাইরে চলে গেছে। কিন্তু সকালে যখন সূর্য উঠবে, তখন দেখবে সে আসলে সেই ঘরেই রয়ে গেছে।’ ডেইলি মেইল, এএফপি।

দোস্তি বাস বন্ধ

পাকিস্তানের ওয়াগাহ সীমান্তে আটকে দেয়া হয়েছে পাক-ভারত মৈত্রী বাস। সন্ত্রাসী হুমকি বৃদ্ধির যুক্তি দিয়ে বুধবার পাকিস্তানের পর্যটন উন্নয়ন কর্পোরেশন জানিয়েছে, এই বাস আপাতত লাহোর থেকে ওয়াগাহ পর্যন্ত চলবে। তারপর সীমান্ত পার হয়ে দিল্লির বাস ধরতে হবে। একইভাবে নয়াদিল্লি থেকে আসা বাস ওয়াগাহ পর্যন্ত আসতে পারবে। ১৯৯৯ সালের ১৬ মার্চ লাহোর ও নয়াদিল্লির মধ্যে ‘দোস্তি বাস’ চালু হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো বন্ধ হলো সার্ভিসটি পিটিআই

প্যারিসে পত্রিকা অফিসে হামলা

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে একটি বিদ্রুপ ম্যাগাজিনের কার্যালয়ে বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দু’জন পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন। বন্দুকধারীরা বেশ কিছুক্ষণ অ্যাসল্ট রাইফেল দিয়ে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। বন্দুকধারীদের খোঁজে পুলিশ প্যারিসজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। শার্লি হেবদো নামের ম্যাগাজিনটি ২০১১ সালের নভেম্বরে মহানবীর কার্টুন ছেপে বিশ্বব্যাপী বিক্ষোভের মুখে পড়েছিল। তখন পত্রিকাটির কার্যালয়ে বোমা হামলা হয়েছিল।
সম্প্রতি এটি ইসলামিক স্টেটের কথিত খলিফা আবু বকর আল-বাগদাদির কার্টুন প্রকাশ করেছে। ঘটনার পরপরই প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দ অকুস্থলে ছুটে যান। তিনি মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিহতদের মধ্যে দু’জন পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর। প্রত্যক্ষদর্শী বিনো ব্রিঞ্জার একটি ফরাসি টিভিকে বলেন, কালাশনিকভ নিয়ে দু’জন কালো পোশাক পরা ব্যক্তি ভবনটিতে প্রবেশ করেন। এর কয়েক মিনিট পরই আমরা অনেকগুলো গুলির শব্দ পাই। এরপর তারা ভবনটি ছেড়ে পালিয়ে যায়। বিবিসি।

লাইফ সাপোর্টে চাষী নজরুল ইসলাম

একুশে পদকপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলামের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। তাকে ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। বুধবার রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ডাক্তাররা লাইফ সাপোর্টে রাখেন। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এই বরেণ্য পরিচালকের জন্য তার পরিবার সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। চাষী নজরুল ইসলাম লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদন ধরে অসুস্থ। তার শারীরিক অবস্থার অবনতির সংবাদে সমগ্র চলচ্চিত্র শিল্পে বিষাদের ছায়া নেমে আসে। চলচ্চিত্রের নিবেদিত প্রাণ, সদা হাস্যোজ্জল, প্রাণবন্ত, উদার মনমানসিকতার মানুষ চাষী নজরুল ইসলামের ফিরে আসার প্রার্থনা এখন সবার মুখে মুখে। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে একটাই কামনা-চাষী নজরুল ইসলাম আবারও ফিরে আসুক সবার মাঝে, তার প্রিয় চলচ্চিত্র শিল্পে। উল্লেখ্য, দেশীয় চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র চাষী নজরুল ইসলাম। একজন দক্ষ নির্মাতা হিসেবে এ অঙ্গনে যার বিচরণ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে। চলচ্চিত্র পরিচালনা প্রধান ক্ষেত্র হলেও প্রযোজনা ও অভিনয়েও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য পদচারণা। প্রয়াত পরিচালক ফতেহ লোহানীর সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার মধ্য দিয়ে ১৯৬২ সালে চাষী নজরুল ইসলামের চলচ্চিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ১৯৬৩ সালে তিনি কাজ করেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ওবায়দুল হকের সঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’-এর নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম। এ পর্যন্ত নির্মাণ করেছেন ২২টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর মধ্যে ‘ওরা ১১ জন’ ছাড়াও রয়েছে ‘সংগ্রাম’, ‘দেবদাস’, ‘ভাল মানুষ’, ‘চন্দ্রনাথ’, ‘শুভদা’, ‘বেহুলা লক্ষ্মীন্দর’, ‘দাঙ্গা-ফ্যাসাদ’, ‘বিরহ ব্যথা’, ‘লেডি স্মাগলার’, ‘বাসনা’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’, ‘শাস্তি’, ‘সুভা’, ‘দুই পুরুষ’, ‘শিল্পী’, ‘হাছনরাজা’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, ‘ধ্রুবতারা’, রঙিন দেবদাস’ উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে তিনি নির্মাণ করছেন ‘ভুল যদি হয়’ ও ‘অন্তরঙ্গ’। এছাড়াও দুই প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ মওলানা ভাসানী ও শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবনের ওপর তিনটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম নির্মাণ করেছেন তিনি।

জুবায়ের হত্যার তিন বছর- পরিবারের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না by সামছুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ হত্যার বিচারকাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। ১৩ আসামির ছয়জনই পলাতক। এঁদের মধ্যে চারজন আদালতের কাঠগড়া থেকে পালিয়ে গেলেও প্রায় ১১ মাসেও পুলিশ তাঁদের ধরতে পারেনি। এ ঘটনায় মামলাও হয়নি। এই হত্যা মামলার আসামিরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মী। তাঁদের একজন চাকরিও পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে।
২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীরা কুপিয়ে জখম করেন ছাত্রলীগের কর্মী ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদকে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ভোরে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা হয়। ওই বছরের ৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭তম ব্যাচের ১৩ ছাত্রের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বর্তমানে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ আদালতে বিচারাধীন হত্যা মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে।
কাঠগড়া থেকে আসামি পালালেও মামলা হয়নি: গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ জামিন বাতিল করলে কাঠগড়া থেকে মামলার চার আসামি পালিয়ে যান। তাঁরা হলেন খন্দকার আশিকুল ইসলাম, খান মোহাম্মদ রইস, ইশতিয়াক মেহবুব ও মাহবুব আকরাম। এ ছাড়া আদালত একই দিনে চার কার্যদিবস উপস্থিত না থাকায় রাশেদুল ও জাহিদুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) তাছলিমা ইয়াসমিন বলেন, কাঠগড়া থেকে পালানো আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেননি পূর্বের কৌঁসুলি। তবে পলাতকদের সবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাঠালেও পুলিশ এখনো তাঁদের ধরতে পারেনি। তবে পলাতক ইসতিয়াক মালয়েশিয়ায় এবং রইস ডেনমার্কে অবস্থান করছেন বলে তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ফেসবুক’ পাতায় লেখা রয়েছে। এ বিষয়ে জুবায়েরের বড় ভাই আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পুলিশকে বিভ্রান্ত করার জন্য আসামিরা ফেসবুকে এসব লিখে থাকতে পারেন। পলাতকদের মাঝেমধ্যেই ঢাকা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাস এলাকায় দেখা যায়।
জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। শুনেছি তারা কাঠগড়া থেকে পালিয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
পলাতক বাদে বর্তমানে জামিনে থাকা অন্য আসামিরা হলেন শফিউল আলম, অভিনন্দন কুন্ডু, কামরুজ্জামান সোহাগ, মাহমুদুল হাসান, মাজহারুল ইসলাম, নাজমুস সাকিব ও নাজমুল হাসান। আসামিদের মধ্যে মাহবুব আকরাম ও নাজমুস সাকিব স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আসামির চাকরি: অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি মাহমুদুল হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন কার্যালয়ে নিম্নমান অফিস সহকারী তথা কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। ২০১৩ সালের শুরুর দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘মাস্টাররোলে’ নিয়োগ দেয়। অথচ জুবায়ের হত্যায় জড়িত প্রমাণিত হওয়ায় মাহমুদুলকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করেছিল কর্তৃপক্ষ। পরে হাইকোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ এনে তিনি পরীক্ষায় অংশ নেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নেওয়া হয় গত মঙ্গলবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারহানা ইসলাম গত বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যের সময় মাহমুদুলের নিয়োগ হয়েছিল। বিষয়টি এত দিন আমাদের জানা ছিল না। জানতে পেরে আজই (বুধবার) তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।’ তবে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. এমদাদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এবিষয়ক কোনো কাগজপত্র আমার কাছে পৌঁছায়নি। তাই চাকরিচ্যুতির বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’
বৈরী সাক্ষী: মামলার ৩৭ সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জন ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন সময়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে দেখা যায়, দুজন সাক্ষী আসামিদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছেন বলে সাবেক পিপি রফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন। ‘বৈরী সাক্ষী’ হিসেবে চিহ্নিত এ দুজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও বতর্মানে স্টেট অফিসার আজিম উদ্দিন এবং নিরাপত্তাকর্মী সিদ্দিকুর রহমান। এ বিষয়ে বর্তমান পিপি বলেন, মামলা প্রমাণে এতে সমস্যা হবে না। ইতিমধ্যে ২৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন, বাকি ২৫ জনের সাক্ষ্য মামলা প্রমাণে যথেষ্ট।
পরিবারের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না: দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের একই আদালতে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে পুরান ঢাকায় ছাত্রলীগের কর্মীদের হাতে নিহত বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার বিচার হয়। রায় হয়েছে ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর। বিশ্বজিৎ হত্যার ১১ মাস আগে সংঘটিত জুবায়ের হত্যাকাণ্ডের নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচার ১৩৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে পিপি বলেন, ‘আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অনেক তারিখ নিচ্ছেন। তবে সর্বোচ্চ চেষ্টায় সাক্ষীদের হাজির করে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেছি। এখন দেশের পরিস্থিতির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। এই মাসের মধ্যে রায় হওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’
জুবায়েরের ভাই আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘যেসব আসামি পালিয়ে গেছে, তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ পদক্ষেপ নেবে। দ্রুত মামলার রায় হবে, দোষী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হবে এটাই এখন আমাদের আশা।’

পুলিশ ও বিজিবির পাহারায় কক্সবাজার ছাড়লেন পর্যটকেরা

(কক্সবাজারে আটকা পড়া পর্যটকদের গাড়ির বহরকে নিরাপত্তা দিচ্ছে পুলিশ। গতকাল বিকেল চারটায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে তোলা ছবি l প্রথম আলো) পরিবার, বন্ধুদের নিয়ে কয়েকটা দিন আনন্দে কাটাতে শহর ছেড়ে সমুদ্রে বেড়াতে এসেছিলেন তাঁরা। উত্তাল সাগরের ঢেউ, সবুজ পাহাড় আর ঝরনার সৌন্দর্যে ভুলে থাকতে চেয়েছিলেন শহরের রোজকার একঘেয়ে জীবন। তবে তাঁদের সে আনন্দ মাটি হতে বেশি সময় লাগেনি! কক্সবাজারে নেমেই অবরোধের কবলে পড়েন পাঁচ শতাধিক পর্যটক। লাগাতার অবরোধে আটকা পড়া এসব পর্যটক পুলিশ ও বিজিবির সহায়তায় কক্সবাজার ছেড়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ৫১টি গাড়িতে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। কক্সবাজারের কয়েকজন হোটেলমালিক জানান, মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের অবরোধের কারণে শহরের বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে আটকা পড়েছিলেন এসব পর্যটক। গতকাল সকালে পুলিশি পাহারায় তাঁদের চট্টগ্রাম পাঠানো হয়। গাড়ি ছাড়ার আগে গ্রিনলাইন পরিবহনের যাত্রী ঢাকার কমলাপুরের গৃহবধূ আকলিমা জান্নাত বলেন, ‘অবরোধে আটকা পড়ে ভয়ের মধ্যে ছিলাম, এখন পুলিশ পাহারায় ভিআইপির মর্যাদায় বাড়ি ফিরতে পারছি।’
পর্যটকদের গাড়িবহরের নিরাপত্তায় ছিল পুলিশ ও বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ)। ৫১টি গাড়ির মধ্যে মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত গাড়িসহ ২৫টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস ছিল। এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন জানান, পর্যটকবাহী এসব গাড়িকে ঢাকা পর্যন্ত নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০১৩ সালে টানা হরতাল, অবরোধের সময়ও আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তখন চার-পাঁচ হাজার পর্যটককে বিমান ও সমুদ্রপথে চট্টগ্রাম পৌঁছে দেওয়া হয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ বলেন, পুলিশি পাহারায় পর্যটকবাহী বাসগুলোকে ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হবে। গাড়িবহর যে এলাকায় পৌঁছাবে, সে অঞ্চলের পুলিশ পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। গ্রিনলাইন পরিবহন কক্সবাজারের পরিচালক সুলতান আহমদ বলেন, বেলা ১১টায় শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে আগে-পিছে পুলিশ ও বিজিবি পাহারায় ১১টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত গ্রিনলাইন, একটি সোহাগ, একটি টিআরসহ ৫১টি গাড়ি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। বিকেল চারটায় গাড়িবহরটি চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতু এলাকা অতিক্রম করেছে।

কয়েস লোদী বিপাকে by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়রের ভার পেয়েছেন মেয়র প্যানেলের প্রথম সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। কিন্তু নগর ভবনে চেয়ারে বসার আগেই টের পেতে শুরু করেছেন সে চেয়ারের ‘মহিমা’। অনাস্থা নামক চ্যালেঞ্জ নিঃশ্বাস ফেলছে তার ঘাড়ে। কয়েকজন কাউন্সিলর একাট্টা হয়ে চেয়ার টেনে নিতে চাইছেন তার। কয়েস লোদী মেয়রের ভার পেয়েছেন গত বুধবার, স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে। একই প্রজ্ঞাপনে সাময়িকভাবে পদহারা হন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় চার্জশিটে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়ই পদ হারাতে হয় মেয়র আরিফকে। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনেই অসন্তোষ কয়েস বিরোধীদের। তারা সামনে আনছেন কয়েস লোদীর মাথায় ঝুলা মামলাগুলো। কয়েস লোদীও দুটো মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি। একটি মামলায় চার্জশিটভুক্ত  হওয়াই যেখানে মেয়র আরিফ পদহারা, সেখানে কয়েস লোদী সে পদটাই ‘পুরস্কার’ পেয়েছেন। এক যাত্রায় পৃথক ফল নিয়ে তাই অসন্তোষ তাদের। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সে অসন্তোষের প্রকাশ জানান দিলেন সিটি করপোরেশনের ১৩ কাউন্সিলর। গতকাল দুপুরে করপোরেশনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কয়েস লোদীর বিপক্ষে অবস্থান নেন তারা। তারা বলছেন, ইতিমধ্যেই নির্বাচিত মেয়র একজনকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন সেখানে নতুন করে অন্য কাউকে দায়িত্ব প্রদানের যৌক্তিকতা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেন। স্মরণযোগ্য যে, কিবরিয়া হত্যা মামলায় আত্মসমর্পণের আগে মেয়র আরিফ মেয়র প্যানেলের অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন।
সাদা চোখে গল্প এমনই। তবে ভেতরে আরও গল্প আছে। গল্প খুঁজতে হলে যেতে হবে আরও পেছনে। ডেটলাইন ৯ই অক্টোবর ২০১৩। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মাসিক সভা। মেয়র প্যানেল নির্বাচন হন এদিনই। ঠিক হয়, মেয়রের অবর্তমানে কারা বসবেন মেয়রের চেয়ারে। ৩ সদস্যের প্রথম নামটিই ঠিক হয় কয়েস লোদীর। সবাই মেনে নেন। তবে কারও কারও মনে কাঁটার মতো বিঁধতে থাকে নামটি। ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কয়েস লোদী এমনিতেই একটু ‘ভাব’ নিয়ে চলেন। ভারপ্রাপ্ত মেয়র হওয়ার সুযোগ পেলে তার সে ‘ভাব’ আরও  বেড়ে যাবে। তাদের সে ভয় আরও দৃঢ় হয় যখন কয়েস লোদী তার কার্যালয়ের সাইনবোর্ডে নিজের পরিচয় লিখেন ‘প্যানেল মেয়র’। একটা কিছু করার ভাবনা আসে কয়েস লোদীর ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’দের মাথায়। কয়েস লোদীর প্রতিদ্বন্দ্বী কারা? যারা তাকে পছন্দ করেন না তারাই তার প্রতিদ্বন্দ্বী। এর মধ্যে মূল দুটো নাম তার প্রতিবেশী এলাকার দুই কাউন্সিলরের। এরা হলেন- ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ ও ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম। ঘোঁট পাকান তারা। রেজওয়ান আহমদের প্রস্তাবের সূত্র ধরে ২০১৪ সালের ১০ই জুন সিলেট সিটি করপোরেশনের মাসিক সভায় অনাস্থার সুর ওঠে। সভায় উপস্থিত ২৯ জনের মধ্যে ২৬ জনই গোপন ভোটে কয়েস লোদীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে সিটি করপোরেশনের ৩৬ জনের মধ্যে ৩৩ জনেরই সম্মতিতে পাস হয় সে অনাস্থা। তবে মেয়র আরিফ যখন কিবরিয়া হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান তখন আবার কয়েস লোদীর পাল্লা ভারি হতে থাকে। হাওয়া যে কয়েস লোদীর দিকে বইছে তা টের পেয়ে তাকে সমর্থন জানিয়ে ১৭ই ডিসেম্বর নগরীর একটি হোটেলে গোপন বৈঠক করেন ১৩ কাউন্সিলর। বৈঠকের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন সিটি কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন। উপস্থিত ছিলেন, এসএম  আবজাদ হোসেন, মো. ইলিয়াছুর রহমান, মখলিসুর রহমান কামরান, রকিবুল ইসলাম ঝলক, সিকন্দর  আলী, শান্তনু দত্ত সন্তু, সাইফুর আমিন বাকের, দিনার খান হাসু, আজাদুর রহমান আজাদ, মুশতাক আহমদ, জাহানারা খানম মিলন, শামীমা স্বাধীন।
কয়েস লোদী যেন ‘১৩’ এর ফেরেই আটকে আছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘১৩’ কাউন্সিলর মিলে কয়েস লোদীকে প্রতিহতের যুদ্ধে নেমেছেন। নেপথ্য কুশীলব সেই দুজনই রেজওয়ান আহমদ ও ফরহাদ চৌধুরী শামীম। মেয়রের চেয়ারে কয়েস লোদীর অবস্থান তারা কোনভাবেই মানতে চান না। তারা চান না ‘নেতা’ হোন কয়েস লোদী। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কয়েস লোদীর বিরুদ্ধে অসন্তোষ ছড়ালেন ১৩ কাউন্সিলর। এরা হলেন- রেজওয়ান আহমদ, ফরহাদ চৌধুরী শামীম, মখলিছুর রহমান কামরান, দিনার খান হাসু, দিলোয়ার হোসাইন সজীব, আবদুর রকিব তুহিন, সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, রাজিক মিয়া, এবিএম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল, কুহিনুর ইয়াসমীন ঝর্ণা, সালেহা কবির শেপী, আমেনা বেগম রুমি। তারা বলছেন, কয়েস লোদীর মেয়র হওয়ার যোগ্যতা নেই। তিনিও দুটো মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। এর একটি হচ্ছে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হামলা-ভাঙচুরের। অন্যটি ভাঙচুর অগ্নিসংযোগের। কয়েস বিরোধীদের বক্তব্য, যার প্রতি অধিকাংশ সিটি কাউন্সিলরেরই আস্থা নেই তিনি কিভাবে পুরো নগরের আস্থা হবেন?

নার্ভাস সরকারে নানা উপসর্গ by আলফাজ আনাম

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময় বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের কারাগারে অন্তরীণ রাখা হয়েছে। বিরোধী দলের সভা-সমাবেশে বাধা প্রদান বা নিষেধাজ্ঞা জারি করার ঘটনাও নতুন কিছু নয়। কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রধানকে বাসা বা অফিসের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখা বা তিনি যাতে বের হতে না পারেন সে জন্য বালু ও ইটের ট্রাক দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার ঘটনার কোনো নজির নেই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের উদ্ভাবনী শক্তি বিরল। আওয়ামী লীগ প্রথম বাংলাদেশে টানা এক সপ্তাহ থেকে টানা ১৭ দিনের হরতাল পালন করেছে। ঈদের আগের দিন ও পরের দিনও হরতাল ডেকেছে। হরতালের মধ্যে হেঁটে চলা অফিসগামী সরকারি কর্মচারীকে দিগম্বর করেছে। এগুলো এরা করেছে যখন বিরোধী দলে ছিল। এখন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল হিসেবে বিরোধী রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ঠেকানোর জন্য নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তির পরিচয় দিচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ কী ভাবছে, আন্তর্জাতিক মহলে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া কী হচ্ছে কিংবা গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে দাবি করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাথে আচরণের মাত্রা কোন পর্যায়ে রাখা উচিত সে সম্পর্কে তাদের কোনো বিবেচনাবোধ থাকছে না। এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী সরকার স্বাভাবিকভাবে জনসমর্থনহীন হয়ে পড়ে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। বাস্তবতা হচ্ছে অস্বাভাবিক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের প্রতিটি দিন পার করতে হচ্ছে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল, তাতে সরকারের পুরো আচরণ ছিল অস্বাভাবিক। বেগম খালেদা জিয়াকে ৩ জানুয়ারি শুধু অফিসে আটকে রাখা হলো না। এরপর সারা দেশে সরকারিভাবে অবরোধ আরোপ করা হলো। ঢাকার সাথে বাস, লঞ্চ এমনকি ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হলো। অথচ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের এই কর্মসূচি ছিল একান্তই ঢাকাকেন্দ্রিক। বিএনপির একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকার বাইরে থেকে লোকসমাগম করার কোনো পরিকল্পনা বা নির্দেশনা দেয়া হয়নি। কিন্তু সরকার যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল শুধুই আতঙ্ক থেকে। এরপর বেগম খালেদা জিয়াকে কেন তার অফিসে আটকে রাখা হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে সরকারের মন্ত্রীরা যেভাবে অসত্য ও পরস্পরবিরোধী তথ্য উপস্থাপন করেছেন তাতে বাংলাদেশের প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলটির দেউলিয়াত্বই শুধু প্রকাশ পায়নি; মনে হচ্ছে নার্ভাস এই সরকার যেন জনগণকে বোকা ভাবছে। ৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী গণভবনে ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে মতবিনিময়ের সময় বলেন, ‘কয়েক দিন আগে উনি (খালেদা জিয়া) চিঠি দিয়েছেন উনার নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য। যেই নিরাপত্তা জোরদার করতে গেলাম, এখন বলে বন্দী করে রাখা হয়েছে। মানুষ যাবে কোথায়? উনি চিঠি দিলেন উনার নিরাপত্তা দিতে হবে যে, ওনার নিরাপত্তা প্রয়োজন। পুলিশ যখন নিরাপত্তা দিলো তখন বলে বন্দী করে রাখা হয়েছে। উনি তো বন্দী নন। ইচ্ছে করলে উনি উনার বাসায় এখনই যেতে পারেন।’ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ৫ জানুয়ারি বলেন, নিরাপত্তা চেয়ে এর আগে খালেদা জিয়া সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন বলেই সরকারের তরফ থেকে ব্যবস্থা করা হয়েছে। খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ নন। তাকে আটকও করা হয়নি। পুলিশ যদি মনে করে তিনি নিরাপদ, তাহলে তিনি বাসায় কিংবা নয়া পল্টনের কার্যালয়ে যেতে পারেন। একই দিন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ইট ও বালুর ট্রাক খালেদা জিয়া তার বাড়ি সংস্কারের জন্য এনে রেখেছেন। যখনই এ ধরনের পরিস্থিতি হয় তখনই তিনি এ কাজটি করেন। প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের মন্ত্রীরা যখন খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ রাখার এই ব্যাখ্যা দিচ্ছেন তখন টেলিভিশনগুলোতে বিএনপির গুলশান অফিস থেকে সরাসরি সম্প্রচারে দেখানো হয়, কিভাবে বালু ও ইটের ট্রাক আর পুলিশের গাড়ি দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখা হয়েছে। ধরে আনা ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপাররা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কী বলেছে। দেশের মানুষ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে দেখেছে, অফিসের গেটে পুলিশ কিভাবে তালা লাগিয়ে দিয়ে নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের অফিসে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী যখন বাসায় ঢুকতে চেয়েছিলেন তখন বাধার মুখে তিনি কিভাবে ফিরে যান। মানুষ সবই টেলিভিশনে দেখেছে। দেশের মানুষ সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্য বিশ্বাস করবে, না টেলিভিশনে নিজ চোখে দেখা দৃশ্য অবিশ্বাস করবে। খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করার আগে সরকারের উচিত ছিল দেশের সব টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া। নিদেনপক্ষে এই নির্দেশনা জারি করা, টেলিভিশনে খালেদা জিয়ার নাম উচ্চারণ করা যাবে না। তাহলে হয়তো সরকার সমর্থক কিছু মানুষ সরকারের এসব ব্যাখ্যা মেনে নিতে পারত। ৫ জানুয়ারি যখন খালেদা জিয়া বাসা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখনো পুলিশ বাসার গেটে শুধু তালা দেয়নি সারিবদ্ধভাবে তারা গেটে দাঁড়িয়েছিল। ভেতরে আটকে থাকা মহিলা দলের কিছু নেতাকর্মী যখন গেট খুলে দেয়ার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন, তখন পুলিশ পিপার স্প্রে করে অর্থাৎ তরল মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়া হয়। এরপর খালেদা জিয়া যখন বক্তব্য রাখছিলেন তখনো পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করা হয়। একজন রাজনৈতিক নেতাকে বাসায় তালাবদ্ধ রেখে পিপার স্প্রে করা শুধু অমানবিক নয়, নৈতিক দৃষ্টিতে গর্হিত অপরাধ। আজকে সরকারের মন্ত্রীরা খালেদা জিয়াকে উসকানিদাতা হিসেবে হত্যা মামলার আসামি করা হবে বলে হুঙ্কার দিচ্ছেন। অথচ খালেদা জিয়া তাদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনতে পারেন। তার অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণও হাজির করতে পারেন। ভবিষ্যতে এরা এই অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন না তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিরাপত্তা চেয়ে খালেদা জিয়ার চিঠির প্রসঙ্গ তুলেছেন। নিরাপত্তা মানে কি মানুষকে বাসায় তালাবদ্ধ করে রাখা? পিপার স্প্রে করা। লোকজনের সাথে দেখা করতে বাধা দেয়া? আমরা আগেই বলেছি রাজনৈতিক কূটকৌশলে আওয়ামী লীগের উদ্ভাবনী শক্তি বিরল। বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবেলায় এখন যে কৌশল প্রয়োগ করছে তাকে আমরা রাজনৈতিক ডাকাতির কৌশল বলতে পারি। ডাকাতেরা যেমন বাড়ির মালামাল লুট করার জন্য গৃহকর্তাকে আটকে রেখে ডাকাতির কাজ সম্পন্ন করে তেমনিভাবে বিরোধী রাজনৈতিক নেত্রী যাতে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে না পারেন সে জন্য আটকে রাখা হয়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বেগম খালেদা জিয়াকে একইভাবে বালুর ট্রাক দিয়ে বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর তিনি যখন মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসির নামে সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন, তখনো তাকে এভাবে আটকে রাখা হয়েছিল। তাকে অবরুদ্ধ রেখেই  ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হয়েছে। ১৫৪ জন এমপি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি আসনগুলোতে ভোট হলেও কোনোভাবেই ৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েনি। এ ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো নৈতিক ভিত্তি থাকে না। বর্তমান সরকারেরও সে নৈতিক ভিত্তি নেই। এ নির্বাচনের আগেই সরকার গঠনের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নৈতিক পরাজয় হয়েছে। দ্বিতীয়বার এই নৈতিক পরাজয় হলো ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে গণতন্ত্রের বিজয় উৎসব পালন করার মাধ্যমে। বেগম খালেদা জিয়াকে আটকে রেখে প্রমাণ করা হয়েছে তার জনপ্রিয়তা আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি। জনগণ তার সাথে আছে এবং এটাই সরকারের জন্য ভয়ের কারণ। সরকার এতটাই বিপন্ন বোধ করছে যে একটি সমাবেশের ডাকেই নার্ভাস হয়ে পড়েছে। এ কারণেই ক্ষমতার মেয়াদ দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য এরা নিপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। যেহেতু এ ধরনের সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের জনসমর্থন থাকে না। সে কারণে দলীয় কিংবা জাতীয়তাবাদী ভাবাবেগ সৃষ্টি করে তাদের সমর্থক গোষ্ঠী প্রতিপক্ষকে দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে। যাকে আমরা ফ্যাসিবাদী শাসনের রূপ হিসেবে দেখতে পারি। আমরা দেখছি সমাজের বিভিন্ন স্তরে ক্ষমতাসীনদের যে সুবিধাভোগী সমর্থক গোষ্ঠী সৃষ্টি করা হয়েছে তাদেরও মাঠে নামানো হয়েছে। পুলিশের সাথে আমরা সশস্ত্রভাবে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের দেখছি। এমনকি সাংবাদিকদের মাঝেও ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের উগ্র আচরণও লক্ষ করছি। প্রেস কাব থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গ্রেফতারের ঘটনায় এই সাংবাদিকেরা ন্যূনতম পেশাগত সৌজন্যতাও দেখাতে পারেননি। আওয়ামী লীগ সমর্থক সাংবাদিকেরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে সজ্জন ও ভদ্র রাজনৈতিক নেতা হিসেবে টেলিভিশনে আমন্ত্রণ জানাতেন। এমনকি প্রকাশ্যে প্রশংসাও করতেন। কিন্তু এরাই আবার মির্জা ফখরুলকে প্রেস কাব থেকে বের করে দেয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন। এমনকি মির্জা ফখরুলের চামড়া তুলে নেবো আমরা বলে স্লোগান দিয়েছেন। মির্জা ফখরুল নিশ্চয়ই সবচেয়ে বেশি বেদনাহত হয়েছেন পুলিশ যখন তাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল তখন তাকে রাজাকার ফখরুল বলে স্লোগান দেয়া হচ্ছিল। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার পরও তিনি রাজাকার হয়ে গেলেন। সাবেক ছাত্র ইউনিয়নের এই নেতা নিশ্চয়ই উপলব্ধি করছেন ফ্যাসিবাদের লকলকে জিহ্বা কিভাবে মানুষকে আঘাত করে। অবশ্য ৫ তারিখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে গড়ে ওঠা মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগ নামে একটি উগ্রবাদী সংগঠন কিভাবে তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছিল। আওয়ামী লীগের সেকুলার রাজনীতি অনুসরণ করলে বিএনপির রাজনৈতিক সাফল্য আসবে বলে যারা মনে করেন, তারা মির্জা ফখরুলের রাজাকার হওয়ার পরিণতি থেকে শিক্ষা নেবেন। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী সশস্ত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আর দলীয় পেশিশক্তি দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু এভাবে কত দিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে তা সরকার নিজেও জানে না। এ কারণে আমরা দেখছি যেকোনো ভিন্নমতকে ক্ষমতাসিনরা টিকে থাকার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। শুধু রাজনৈতিক দল নয় সামাজিক সংগঠন কিংবা গণমাধ্যমকেও তারা হুমকি হিসেবে দেখছে। এক দিকে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে গুম, খুন, গণগ্রেফতার আর নিপীড়নের মাধ্যমে দেশে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। আর এসবের প্রতিক্রিয়া কোন প্রক্রিয়ায় ঘটবে এই আশঙ্কায় সরকারও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বাভাবিক গতি আর থাকছে না। অতীতে এই আতঙ্কজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী শাসনের অবসান হয়েছে। আলফাজ আনাম: সাংবাদিক alfazanambd@yahoo.com