Thursday, October 4, 2018
সিনহা’র অ্যাকাউন্টে অনিয়মের তথ্য পেয়েছে দুদক

তিনি বলেন, ফারমার্স ব্যাংকের দু’টি অ্যাকাউন্ট থেকে চার কোটি টাকা ঋণের ব্যাপারে আমরা তদন্ত করেছি। তদন্ত শেষ হয়ে গেছে। অনেকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বা চিহ্নিত করা হয়েছে। ঋণ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। সেখানে অনেকেরই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। আমরা সেগুলো বিচার বিশ্লেষণ করছি।
সাবেক প্রধান বিচারপতি জড়িত কিনাÑ এমন প্রশ্নে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি থাকুক আর যেই থাকুক, যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বা যাবে তাদের বিরুদ্ধেই আমরা ব্যবস্থা নেবো। তবে এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম বলতে রাজি হননি দুদক চেয়ারম্যান। ইকবাল মাহমুদ বলেন, দু’টি অ্যাকাউন্ট থেকে ঋণপ্রক্রিয়া এবং এই টাকা মানি লন্ডারিং বা বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া, নগদ উত্তোলন বিষয়ে অনেক কিছু এসেছে। দুদকের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যা হয়, তাই হবে। যদি অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী মামলা করা হবে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ফারমার্স ব্যাংক থেকে ব্যবসায়ী নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা এবং মোহাম্মদ শাহজাহান ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে একইদিনে ২ কোটি করে ৪ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। ওইদিনই তারা টাকাগুলো পে-অর্ডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে জমা দেন। এরপর সেই অ্যাকাউন্ট থেকে একইদিন টাকাগুলো তুলে আত্মসাৎ করা হয়। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। তবে দুদকের পক্ষ থেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে এ অভিযোগের অনুসন্ধানে গত ৬ই মে মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা নামে কথিত দুই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই দুজনের আইনজীবী বিচারপতি সিনহা’র সঙ্গে লেনদেনের কথাই বলেন। আইনজীবীরা জানান, উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের পাঁচ কাঠা জমির ওপর ৫১ নম্বরের ছয়তলা বাড়িটির মালিক সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহা। তিনি ছয় কোটি টাকায় বাড়িটি বিক্রি করেন টাঙ্গাইলের বাসিন্দা রণজিৎ চন্দ্র সাহার স্ত্রী শান্ত্রী রায়ের কাছে। তারা বলেন, ২০১৬ সালের মে মাসের দিকে বায়না দলিলের মাধ্যমে বিচারপতি এস কে সিনহা’র কাছ থেকে বাড়িটি শান্ত্রী রায় মালিক হন।
তখনই বাড়িবাবদ দুই কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। এরপর একই বছরের ৮ই নভেম্বর দু’টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের সুপ্রিম কোর্ট শাখায় বিচারপতি এস কে সিনহা’র অ্যাকাউন্টে চার কোটি টাকা জমা দেয়া হয়। পরে ২৪শে নভেম্বর এস কে সিনহা হস্তান্তর দলিলের মাধ্যমে শান্ত্রী রায়কে বাড়িটি লিখে দেন। তারা আরো জানান, নিরঞ্জন ও শাহজাহান ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নেন। এতে থার্ড পার্টি হিসেবে শান্ত্রী রায়ের বিভিন্ন জমি মর্টগেজ হিসেবে ব্যাংকে জমা দেয়া হয়। এই ঋণ থেকেই বাড়ির চার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। রণজিৎ চন্দ্রের চাচা নিরঞ্জন সাহা আর শাহজাহান হচ্ছে রণজিতের বন্ধু। তাদের সবার বাড়ি টাঙ্গাইল। এ ঘটনায় গত ২৬শে সেপ্টেম্বর ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম শামীমসহ ৬ জনকে সাড়ে ৬ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।
অন্যরা হলেনÑ বেসরকারি ব্যাংকটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট গাজী সালাউদ্দিন, সাবেক ক্রেডিট অফিসার ও সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিউদ্দিন আসকারী আহমেদ ও নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালমা সুলতানা। জিজ্ঞাসাবাদ করা ৬ জন ছাড়াও ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এসভিপি জিয়াউদ্দিন আহমেদকে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে পুলিশের ইমিগ্রেশন অফিসকে চিঠি দেয় দুদক।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
২৮ বছরে বিদেশে ৭ লাখ নারী শ্রমিক: জীবন বদলায় না কপাল পোড়ে

শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়াদের তালিকাও দীর্ঘ। পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়া হয়েছে কারো। কারো শরীরে ঢেলে দেয়া হয়েছে গরম পানি ও তেল। মানসিক নির্যাতন একেবারে মামুলি ব্যাপার। দেশে ফিরেও মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন কেউ কেউ। তাদের অনেকের বাড়িতে ফেরার মতো পরিস্থিতি থাকে না। কারো সংসার ভাঙছে। কেউ কেউ লোকলজ্জার ভয়ে ঘরের বাইরে বের হন না।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়ে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন দেড় হাজার নারীকর্মী। একই সংস্থার জরিপ রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত গত ২৮ বছরে বিভিন্ন দেশে নারী শ্রমিক গেছে ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৫২ জন। ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত যাওয়া-আসা করে মোট ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩শ’ ৬৭ জন নারী।
সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, কাতার বাহরাইন, লেবানন, জর্ডান, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, ইতালি, হংকং, সাইপ্রাস, ব্রুনাই ও মরিশাসসহ বিভিন্ন দেশে গেছেন এসব শ্রমিক। এরমধ্যে আড়াই লাখই গেছেন সৌদি আরবে। এ ছাড়া জর্ডানে এক লাখ ৩৩ হাজার, আরব আমিরাতে এক লাখ ২৭ হাজার, লেবাননে এক লাখ চার হাজার, ওমানে ৬৯ হাজার, কাতারে ২৭ হাজার এবং মরিশাসে ১৬ হাজার নারী গেছেন। জর্ডান ও লেবাননে পোশাক কারখানায় কাজ করতে যাওয়া অধিকাংশ নারী শ্রমিক ভালো অবস্থায় আছেন, এমন তথ্য নানাভাবেই মিলছে। এর বাইরে অন্য দেশগুলোয় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে যাওয়া অনেকেই ভালো নেই। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সৌদি আরবে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) দেয়া তথ্যমতে, ২০১৭ সালে অভিবাসী নারীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৫ জন, যা মোট অভিবাসনের ১৩ শতাংশ এবং এ যাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ১৯৯১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত অভিবাসন প্রত্যাশী নারী শ্রমিককে অভিবাসনে যেতে বাধা দেয়া হলেও ২০০৩ এবং ২০০৬ সালে তা কিছুটা শিথিল করা হয়। ২০০৪ সালের পর থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত নারী শ্রমিকের অভিবাসন হার ক্রমাগত বাড়তে থাকে। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় মোট অভিবাসনের ১৯ শতাংশে। তবে ২০১৬ সালে অভিবাসী নারী শ্রমিকের সংখ্যা নেমে আসে ১৬ শতাংশে এবং ২০১৭ সালে ১৩ শতাংশে।
বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বছরের ৩রা মে ৩৫ জন, ১২ই মে ২৭ জন, ১৯শে মে ৬৬ জন, ২৩শে মে ২১ জন, ২৭শে মে ৪০ জন এবং ৩রা জুন ২৯ জন, ১৮ই জুন ১৬ জন এবং ১৯শে জুন ২৭ জন, ২৬শে জুন ২২ জন, ১০ই জুলাই ৪২ জন, ২১শে জুলাই ৩৪ জন, ২৮শে জুলাই ৪২ জন, ৩রা আগস্ট ২৮ জন, ১৪ই সেপ্টেম্বর ৬৫ জন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ৪২ জন, ২৩শে সেপ্টেম্বর ৪২ জন নারী শ্রমিক দেশে ফিরেছেন। তবে এর বাইরেও আরো নারী শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা যায়।
ব্র্যাকের জরিপে বলা হয়, প্রায় দশ বছর আগে সৌদি আরব প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে নারী গৃহকর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। ততোদিনে জর্ডান, লেবাননসহ আরো কিছু জায়গায় গৃহকর্মী হিসেবে যাওয়া বাংলাদেশি মেয়েরা নির্যাতনের শিকার হয়। সাত বছর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরব যখন বাংলাদেশ থেকে নারী গৃহকর্মী চাইলো তখন বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি জানানো হয়। ওই সময় বলা হয়, সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে যাওয়া ইন্দোনেশীয়, ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কার নারীরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নির্যাতনের কারণে ওই দেশগুলো যখন তাদের নারীদের সৌদি আরবে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে ঠিক তখনই বাংলাদেশ থেকে নারী গৃহকর্মী নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে দেশটি। তখন নারীদের বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি একেবারে বন্ধ না হলেও কিছুটা গতি হারায়। এভাবে কাটলো আরো চার বছর। তারা বারবার চাপ দিতে থাকে বাংলাদেশ থেকে নারী গৃহকর্মী দিতে হবে। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সৌদি আরবের শ্রম মন্ত্রণালয়ে উপমন্ত্রী আহমেদ আল ফাহাদের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসে। তাদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। ১২০০ রিয়াল থেকে ১৫০০ রিয়াল বেতনের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত ৮০০ রিয়ালেই (১৬ হাজার ৮০০ টাকা) গৃহকর্মী পাঠাতে রাজি হয় বাংলাদেশ।
মানবাধিকারকর্মীরা সে সময় বারবার সতর্ক করলেও কেউ কথা শোনেনি। মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সারা দেশে দালালরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। ২০১৫ সালে ২১ হাজার নারী শ্রমিক পাঠানো হয়। ২০১৬ সালে ৬৮ হাজার। আগে ২৯টি তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সি পুরুষ কর্মী পাঠাতো। নারীকর্মী পাঠানোর অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ২০১৫ সালে রাতারাতি বেড়ে ৫৫৯টি হয়। প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সিকে এখন নারীকর্মী পাঠাতে হয়।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, বিদেশে যাওয়া অনেক নারীই ভালো আছেন সেটা সত্য। আবার অনেক নারী যে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সেটা কী করে অস্বীকার করা যায়। আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তো সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না। সৌদি আরবে যদি একটা মেয়েও নির্যাতিত হয়ে কাঁদে সেই কান্না কী পুরো বাংলাদেশের নয়? মেয়েদের বিদেশে পাঠানোর বিপক্ষে আমরা বলছি না। কিংবা তাদের বিদেশ যাওয়ার ভিসা বন্ধ করার পক্ষেও বলছি না। তাতে বরং নারীদের পাচার হওয়ার ঝুঁকিটা বেড়ে যায়। এর প্রধান কারণ হচ্ছে তাদের দারিদ্রতা। বিদেশ ফেরত নারীরা সাধারণত ৪ ধরনের অভিযোগ করে থাকেন। খাবার সংকট, শারীরিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন ও বেতন পান না। এক্ষেত্রে বিদেশে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে গৃহকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়াটাও জরুরি। নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে আসা নারীদের ব্র্যাকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকার বা তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। প্রথমত তারা যেনো কোনো প্রকার বিপদে না পড়ে। দ্বিতীয়ত বিপদ পরবর্তী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। দেশেই তাদের কাজের ব্যবস্থা করা। একইসঙ্গে নারীদের বিদেশ পাঠাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে হবে। আমাদের মেয়েরা বিদেশে কাজ করতে যাক, তবে সেটা গৃহকর্মী না হয়ে অন্যকিছু হলে ভালো হয়। বিশেষ করে পোশাক খাত বা অন্য কোনো কাজে। তারপরেও সরকার যদি পাঠাতে চায় তাহলে তাদের পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যারা নির্যাতন করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। অন্তত একটি মামলা হলেও হোক। দূতাবাসগুলোতে জনবল দেয়া হোক। নিয়মিত তারা নজরদারি করুক।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশের প্রায় ৮০ লাখ লোক বিদেশে আছেন। যার মধ্যে কয়েক লাখ হচ্ছেন নারী শ্রমিক। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নারী নির্যাতন বন্ধে সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই নারী গৃহকর্মীদের বিদেশ পাঠানোর আগে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের ওপর যে নির্যাতন করা হচ্ছে তা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। অতএব সরকারকে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, আমাদের দেশের নারীদের অনেকেই জানে না যে, প্রতিদিন অনেক নারী অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে আসছে। এ বিষয়ে নারীরা সচেতন না। শহরাঞ্চলে যারা পত্রপত্রিকা পড়েন তারা ছাড়া পুরো বিষয়টি আর কেউই জানেন না যে, চাকরির নামে নারীরা এরকম মর্মান্তিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এম শহীদুজ্জামান বলেন, আমি মনে করি নারী গৃহকর্মীদের সৌদিতে পাঠানো একেবারে বন্ধ করে দেয়া উচিত। নারী শ্রমিকদের নির্যাতনের বিষয়টা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সেক্রেটারি জেনারেল শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, আমাদের দেশ থেকে মাসে প্রায় ১১ হাজার নারীকর্মী বিদেশে যান। সেই হিসেবে প্রত্যেক দিন সাড়ে ৪শ’ থেকে ৬শ’ নারীকর্মীর ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স হয়। যার ৯০ ভাগই সৌদি আরব যায়। এত নির্যাতনের পরেও নারীকর্মীরা কেনো সৌদি যেতে আগ্রহী বা যায়। এখানে কোথাও একটা গোলমাল রয়েছে। কর্মী বিদেশ থেকে দেশে ফেরত আসবে- এটাই নিয়ম। কিন্তু কেনো বা কি কারণে ফেরত আসছে নির্যাতিত হয়ে নাকি স্বেচ্ছায় সেটা চিহ্নিত করতে হবে। এ বিষয়ে আমাদের দেশে গবেষণা হওয়া জরুরি। এদের মধ্যে কেউ শারীরিক অসুস্থতার কারণে, কেউ ভিসাগত জটিলতার কারণে, মানসিক কারণে এবং কেউ কেউ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ফেরত আসছেন। আমাদের পয়েন্ট আউট করতে হবে কারা কি ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তারা কীভাবে বিদেশে গেছেন। কোন মালিক বা কোম্পানির কাছে গেছেন এগুলো চিহ্নিত করতে হবে।
এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক প্রশাসন জহিরুল ইসলাম বলেন, সরকারি খরচে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ নারীকর্মী বিদেশে আছেন। এক্ষেত্রে কিছু নারী নির্যাতনের শিকার হলেও সব নারীই যে নির্যাতিত হয়ে দেশে ফেরেন- এটা ঠিক না। দূতাবাসে কথা বলে জেনেছি তাদের মধ্যে এক ধরনের হোম সিকনেস কাজ করে। ভিন্ন ও নতুন পরিবেশে গিয়ে অনেকেই মানিয়ে নিতে পারেন না। পক্ষান্তরে নিয়োগকর্তা বা মালিক যেমন সার্ভিস প্রত্যাশা করেন তেমনটা হয়তো পান না। এটা হতে পারে তার ভাষাগত সমস্যা ও সঠিক প্রশিক্ষণের অভাবে। এক্ষেত্রে আমাদের অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা যে দায়ী নয়, সেটাও বলা যাবে না। আমাদের ব্যবস্থাপনাকে আরো বেশি শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি কর্মীদের প্রশিক্ষিত করতে হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিষিদ্ধ হচ্ছে ‘খাত’, গোয়েন্দা নজরে ৫০ সিন্ডিকেট by শুভ্র দেব

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম শিকদার বলেন, মাদক হিসেবে খাতকে খুব শিগগিরই তালিকাভুক্ত করা হবে। আমরা ল্যাবে পরীক্ষা করে খাতের মধ্যে মাদকের উপস্থিতি পেয়েছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।
সেখান থেকে অনুমোদন আসার পর নিষিদ্ধ করা হবে খাতকে। তিনি বলেন, এর আগেও এ খাত বাংলাদেশে এসেছে। গ্রিন টির ব্যবসার আড়ালে ব্যবসায়ীরা আমদানি করে বিভিন্ন দেশে চালান করেছেন। কিন্তু ইদানীং ডিএনসিসহ অন্যান্য সংস্থার অভিযানে বেশ কিছু চালান আটক হওয়ার পর ব্যবসায়ীরা একটু সতর্ক হয়েছেন। কৌশল পাল্টিয়ে হয়তো চালান আনছেন। কিন্তু আমাদের দিক থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। আমাদের গোয়েন্দারা খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত বেশ কিছু ব্যবসায়ীকে নজরদারিতে রেখেছেন।
ডিএনসি গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ার মাদক কারবারিরা এনপিএস বা খাতের কারবার করতে বাংলাদেশে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। গ্রিন টি আমদানি-রপ্তানির নামে এই মাদকের কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন প্রায় অর্ধশত সিন্ডিকেট। তাদের মধ্যে ৩৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ১৬ই সেপ্টেম্বর ১৯ কেজি খাতসহ এস এম বাবুল আহমেদ নামের এক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল জানিয়েছে ইথিওপিয়া থেকে ‘চালা নুরি’ নামের এক কারবারি তার কাছে খাত পাঠায়। ওই নুরি দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক। গ্রেপ্তার হওয়ার আগেও তার কাছে ১৯৬ কেজি খাত এসেছিলো। ওই খাত বাবুল যুক্তরাজ্য পাঠিয়েছিলেন। বাবুলের মালিকাধীন সেনিন করপোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে গ্রিন টি পণ্যও বিক্রি করা হয়। আর এই গ্রিন টি ব্যবসার আড়ালেই সে খাত বিক্রি করতেন।
এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন (সিআইডি) ও পুলিশের অভিযানে বেশ কয়েকটি খাতের চালান জব্দ করা হয়েছে। গত ৩১শে আগস্ট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশের ইতিহাসে প্রথম খাত চালান আটক করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দারা। ওইদিন বিমানবন্দর ও শান্তিনগর প্লাজা থেকে ৮৬০ কেজি খাতসহ নাজিম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন গোয়েন্দারা। উদ্ধারকৃত খাত সায়েন্স ল্যাবে পরীক্ষা করে এতে মাদকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। এরপর ৫ই সেপ্টেম্বর আবার বিমানবন্দর থেকে ২০ কেজি খাত উদ্ধার করা হয়। ৮ই সেপ্টেম্বর ১৬০ কেজি এবং ১০ই সেপ্টেম্বর ১৪৫ কেজি উদ্ধার করা হয়। ৯ই সেপ্টেম্বর বৈদেশিক পার্সেল শাখা থেকে দেশের সবচেয়ে বড় খাতের চালান উদ্ধার করা হয়। ১ হাজার ৫৮৬ কেজি খাত জব্দ করে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। এরপর ১২ই সেপ্টেম্বর ১৯৩ কেজি, ১৪ই সেপ্টেম্বর ১২০ কেজি ও ১৮ই সেপ্টেম্বর ১০৭ কেজি জব্দ করে সিআইডি।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, গত কয়েক বছর ধরে এনপিএস বা খাতের চালান বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। মূলত বাংলাদেশ একটি নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছেন সিন্ডিকেটরা। বাংলাদেশে আসা এসব খাতের চালান ইউরোপ বা আমেরিকা পাঠানো হয়। কারণ এসব দেশে খাতের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তবে দেশের মধ্যে যারা খাতের কারবারের সঙ্গে জড়িত তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় কারবারি মাহবুবুল আলম হাওলাদার। নামে বেনামে, ভুয়া ঠিকানায় তিনি খাত আমদানি করেন। পোশাক কারখানার আড়ালে তিনি খাতের মজুত করেন। সময় সুযোগ মতো চালান করেন বিদেশে।
এই কারবার করতে দুই বছর আগে তার ভাই কামাল হাওলাদার ইথিওপিয়ায় পাড়ি জমান। সেখান থেকে কামালই দেশে খাতের চালান পাঠাতেন। কিছুদিন আগে ৩৯৫ কেজি খাতসহ উত্তরার একটি বাড়ি থেকে নাজমুল ইসলাম তালুকদার ও মাহবুবুর রহমান পলাশ নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যে গুদাম থেকে এই খাত জব্দ করা হয়েছে এটি এশা এন্টারপ্রাইজের। এর আগেও এই প্রতিষ্ঠানের নামে আসা তিনটি চালান জব্দ করা হয়েছিল। সিআইডি সূত্র জানায়, খাতের সবচেয়ে বড় চালানটি জব্দ করা হয় ৯ই সেপ্টেম্বর। এ ঘটনায় পল্টন থানায় অন্তত ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে ওই সপ্তাহে মতিঝিলের ব্যবসায়ী মুন্না ও দক্ষিণখানের রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে তিন কার্টন খাত জব্দ করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, খাত আমদানি করে আবার বিদেশে রপ্তানির সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গোয়েন্দারা তদন্ত করছেন। তিনি বলেন, এতদিন আমাদের কোনো ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন না। এখন দুজন ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শিগগিরই তারা মাঠে নামবেন। খাতসহ অন্যান্য মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে নামলে সুফল পাওয়া যাবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভৌতিক মামলা: মৃত, রোগী প্রবাসী বাদ যাচ্ছেন না কেউই by কাফি কামাল

আসামির তালিকা থেকে বাদ পড়ছে না মৃত, প্যারালাইজড রোগী, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, অশীতিপর বৃদ্ধ, কারাবন্দি, হজ পালনসহ নানা কাজে বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের নাম। রাজধানীতেই দায়ের হচ্ছে সবচেয়ে বেশি মামলা।
রাজধানীতে এসব মামলায় কমন আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে বিএনপি ও অঙ্গদলের অর্ধশতাধিক কেন্দ্রীয় নেতার নাম। রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়েকৃত এক মামলায় আসামি হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক প্রফেসর। আসামির তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন না পেশাদার আইনজীবীরাও। বিএনপি মহাসচিবসহ দলটির দায়িত্বশীল নেতারা বারবার এসব মামলাকে আখ্যায়িত করছেন গায়েবি মামলা হিসাবে। আইনজীবীরা আদালতে মামলাগুলো যে গায়েবি তা প্রমাণে নানা যুক্তি প্রমাণ তুলে ধরলেও জামিন মিলছে না গ্রেপ্তারকৃতদের। উল্টো আদালত গ্রেপ্তারকৃতদের পুলিশি রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দিচ্ছেন। গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নিয়ে অর্থ আদায় করছে পুলিশ। চলতি সেপ্টেম্বরে দায়েরকৃত মামলা নিয়ে বিএনপি নেতারা এসব তথ্য জানান।
রাজধানীতে গায়েবি মামলা: ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দায়েরকৃত মামলাগুলোতে যে গায়েবি তার পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, ৩০শে সেপ্টেম্বর বিএনপি সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করেছে পুলিশ ২২টি শর্ত সাপেক্ষে জনসভার অনুমতি দিয়েছিল। শর্ত মেনেই জনসভা করেছে বিএনপি।
শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচিতে বিপুল লোক সমাগম হলেও সমাবেশ ঘিরে আশপাশের এলাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি সেদিন। কিন্তু সমাবেশে যাওয়া ও ফেরার পথে আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপি ও অঙ্গদলের তিনশ’র বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইভাবে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও কারামুক্তির দাবিতে ১০ই সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও ১২ই সেপ্টেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে পুলিশের অনুমতি নিয়ে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। কর্মসূচির দিন সংশ্লিষ্ট সময়ে আশপাশে কোনো ঘটনা-দুর্ঘটনা ঘটেনি। তেমন কোনো খবরও প্রকাশ-প্রচার হয়নি গণমাধ্যমে। অথচ প্রতিটি কর্মসূচির পর কয়েকশ নেতাকর্মীকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে দেয়া হয়েছে গায়েবি মামলা। যার সবশেষ উদাহারণ, ১লা অক্টোবর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি ও অঙ্গদলের ৫৫ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে আসামি করে হাতিরঝিল থানায় দুইটি মামলা দায়ের। হাতিরঝিলের মামলাটি যে গায়েবি তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বিএনপি নেতারা জানান, সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের রোববারের সমাবেশটি শেষ হয়েছে বিকাল ৫টার পর। সমাবেশ থেকে ফেরার পথে মগবাজারে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলে সেটা বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার সময় সংঘটিত হওয়ার কথা।
কিন্তু বাস্তবে রোববার সারাদিন মগবাজারে কোনো ধরনের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। এ ধরনের কোনো সংবাদ গণমাধ্যমেও প্রকাশ হয়নি। সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে অংশ নিতে যাওয়ার পথে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রহমানকে বিকাল ৩টার সময় রমনা পার্ক এলাকা থেকে নেতাকর্মীদের সামনেই গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আসামি দেখানো হয় মুগদা থানার একটি মামলায়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, সমাবেশ থেকে ফেরার পথে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপের। কিন্তু সোহেল রহমানের বাড়ি মোহাম্মদপুরে, তিনি মোহাম্মদপুর এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়েই সমাবেশে যাচ্ছিলেন। তার ভাই মনু বলেন, মোহাম্মদপুর রাজধানীর পশ্চিমপ্রান্তে আর মুগদা পূর্ব প্রান্তে।
আমার ভাই সমাবেশ থেকে মোহাম্মদপুর না ফিরে মুগদা যাবে কেন? সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে সমাবেশ থেকে ফেরার পথে পুলিশের ওপর হামলার। কিন্তু তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন সমাবেশস্থলে ঢোকার মুখে বিকাল ৩টায়। কুমিল্লা জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউদ্দিনসহ ৭ জনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অথচ মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে সমাবেশে যাওয়ার পথে কাকরাইল মোড় থেকে নেতাকর্মীদের সামনেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত শফিউদ্দিনকে দুইজন কর্মীসহ কাকরাইল মোড় থেকে আটকের পর দুই কর্মীকে ছেড়ে দেয়া হলেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় মগবাজারে।
মৃত ব্যক্তি যখন আসামি: ১১ই সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় রাস্তা বন্ধ করে যানচলাচলে ব্যাঘাত ঘটনোর অভিযোগে দায়েরকৃত এক মামলার ২৬ নম্বর আসামি রাজারবাগ ইউনিট বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মিন্টু কুমার দাস। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন ১১ বছর আগে ২০০৭ সালের ২৩শে জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগর কামরাঙ্গীরচর থানায় ৫ই সেপ্টেম্বর একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। সে মামলায় আসামির তালিকায় রয়েছেন নূরুল ইসলামের নাম। যিনি মামলা দায়েরের ৫দিন আগে ৩১শে আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। ৫ই সেপ্টেম্বর গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপের অভিযোগে একটি মামলা হয় চকবাজার থানায়। মামলার একজন আসামি চকবাজার থানা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক আজিজ উল্লাহ মৃত্যুবরণ করেছেন দুই বছর আগে ২০১৬ সালের মে মাসে।
মৃত ব্যক্তি আসামি হয়েছেন ঢাকার বাইরেও। ২রা সেপ্টেম্বর খুলনার দাকোপ থানায় দায়েরকৃত একটি নাশকতা মামলার আসামি যুবদল নেতা ফয়সাল ঘটনার তিন দিন আগে ২৯শে আগস্ট ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়েরকৃত এক মামলায় ৫ নম্বর আসামি শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মজিবর রহমান। কিন্তু তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন ২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর।
প্রবাসী ও বিদেশে অবস্থানকারীও আসামি: সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের পর ৩০শে সেপ্টেম্বর হাতিরঝিল থানায় দায়েরকৃত নাশকতা মামলার আসামিদের অন্যতম বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন ২৬শে সেপ্টেম্বর। সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেও তিনি হয়েছেন নাশকতা মামলার আসামি। মামলার আরেক আসামি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরেই অবস্থান করছেন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। তিনিও সমাবেশে অংশ নিতে কার্যালয় ছেড়ে যাননি। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি’র মানববন্ধনের দিন সকালেই নিজের অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর যান গাজীপুর জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল। কিন্তু সেদিন ১১ই সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়েরকৃত এক মামলায় আসামির তালিকায় রয়েছে তার নাম। গাজীপুর জেলা বিএনপি সভাপতি ফজলুল হক মিলন বলেন, পুলিশ যখনকার ঘটনা দেখিয়ে মামলা দায়ের করেছে তখন গাজী বাবুল ছিলেন বিমানে। ৫ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর চকবাজার থানায় দায়েরকৃত মামলার আরেক আসামি চান মিয়া।
৪ঠা আগস্ট হজ করতে সৌদি আরবে যাওয়ার পর ঘটনার দিন পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করছিলেন। ১৪ই আগস্ট রাতে বিএনপি’র মিছিল থেকে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপের অভিযোগে চকবাজার থানায় ৩রা সেপ্টেম্বর একটি মামলা হয়। সে মামলায় আসামি বিএনপি নেতা খতিবুর রহমান হজ পালন করতে ১০ই আগস্ট থেকে সৌদি আরবে রয়েছেন। হাজারীবাগ থানা বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি ধানমন্ডি থানায় দায়েরকৃত এক মামলায় আসামির তালিকায় রয়েছে এককালে হাজারীবাগ থানা বিএনপি’র সঙ্গে যুক্ত ইঞ্জিনিয়ার প্রিন্সের নাম। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই ইঞ্জিনিয়ার প্রিন্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। ৩রা সেপ্টেম্বর ওয়ারী থানায় দায়েরকৃত মামলার আরেক আসামি বিএনপি’র ওয়ার্ড নেতা সাব্বির আহমেদ আরিফ। অথচ ১লা সেপ্টেম্বর থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ভারতে অবস্থান করছিলেন। বিএনপি’র মানববন্ধন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের শ্রীপুরে দায়েরকৃত বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলায় আসামির তালিকায় নাম উঠা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সিরাজ কাইয়া আগে থেকেই চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছিলেন কলকাতায়।
এ মামলায় আরেক আসামি হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সহ-সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কেন্দ্রীয় মানববন্ধনে। কুমিল্লার মুরাদনগরের আহাদ খলিফা একজন বাহরাইন প্রবাসী। তিনি ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে ছুটে কাটাতে দেশে আসেন এবং ২০১৮ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি বাহরাইনে ফিরে যান। কিন্তু প্রায় ৮ মাস পরে মুরাদনগর থানায় ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দায়েরকৃত এক মামলায় আসামির তালিকায় নাম উঠেছে তার। রাজশাহীর তানোর থানা পুলিশ ৩রা সেপ্টেম্বর নাশকতার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে। সে মামলার একজন আসামি জামালউদ্দিন হজ পালনের জন্য ওই সময় সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। ২০১৮ সালের ২৮শে আগস্ট থেকে ৪ঠা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশে অবস্থান করছিলেন নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান। কিন্তু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে ৩রা সেপ্টেম্বর দায়েরকৃত দুটি মামলায় তিনি আসামি। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার জানান, সোনারগাঁ উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল মোমেন ও তারাবো পৌর বিএনপির সভাপতি নাসিরউদ্দিন সেপ্টেম্বর মাসে নিজ নিজ এলাকায় দায়েরকৃত মামলায় আসামি হয়েছেন।
কিন্তু ঘটনা এবং মামলার সময় তারা চারজনই পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। এছাড়া ৮ই সেপ্টেম্বর ফতুল্লা থানায় দায়েরকৃত মামলার আসামি রানা মজিদ দীর্ঘদিন থেকেই অবস্থান করছেন দক্ষিণ কোরিয়ায়। এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর বন্দর এলাকার বাসিন্দা প্রবাসী শেখ সেলিম। দেশে না থাকলেও তার নামে মামলা দিয়েছে পুলিশ। কালিয়াকৈরে দায়েরকৃত মামলার আসামি থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক খলিলুর রহমান ইবরাহিম হজ পালনে অবস্থান করছিলেন সৌদি আরবে।
শয্যাশায়ী ও অশীতিপর বৃদ্ধ আসামি: ১২ই সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় দায়েরকৃত তিন মামলায় অন্যতম আসামি বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম। জটিল কিডনি রোগের পাশাপাশি তার শরীরে দুরারোগ্য ক্যানসার ধরা পড়ে চলতি বছরের প্রথমদিকে। গত এক বছর ধরে তার বেশিরভাগ সময় কেটেছে দেশ-বিদেশের হাসপাতালে। দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও পর্যন্ত অংশ নিতে পারছেন না তিনি। সবচেয়ে বড় কথা অন্যের সাহায্য ছাড়া তিনি চলাফেরাই করতে পারেন না। কিন্তু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে নাশকতা ও পুলিশের কাজে বাধাদানের। ৩রা সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বয়েজ ক্লাব মাঠে বিরোধী নেতাকর্মীরা জমায়েত হয়ে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে ৯৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা করে ওয়ারী থানা পুলিশ। ওই মামলায় উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত ৮২ বছর বয়স্ক লুৎফুল কবিরকে আসামি করা হয়। তিনি অন্যের সাহায্য ছাড়া একাকী চলাফেরা করতে পারেন না।
যিনি ১১ই আগস্ট পর্যন্ত ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের ৫৬০ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ৭ই সেপ্টেম্বর নাশকতার অভিযোগে একটি মামলা হয় বগুড়ার ধুনট থানায়। সে মামলায় ৮৬ বছরের প্যারালাইজড রোগী আবদুল খালেক সরকারকে আসামি করা হয়, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই শয্যাশায়ী। সেপ্টেম্বর মাসে দ্বিতীয় সপ্তাহে নেত্রকোনা সদর থানায় দায়েরকৃত এক মামলায় আসামি হয়েছেন এহতেশাম হায়াত খান রিংকু। নেত্রকোনা জেলা বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত রিংকু কিডনি জটিলতার কারণে তিন বছর ধরে রাজনীতিতে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়। দীর্ঘদিন ভারতে চিকিৎসা নেয়ার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও সপ্তাহে একবার কিডনি ডায়ালেসিস করতে হয়। তার শারীরিক অবস্থা এতটাই নাজুক যে, অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরাই করতে পারেন না। অথচ সদর থানায় দায়েরকৃত তিনটি মামলায় আসামির তালিকায় রয়েছে রিংকুর নাম।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও কারাবন্দি আসামি: আসামির তালিকায় থাকা অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঘটনার সময় সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। দলের আরেক নেতা অ্যাডভোকেট মনির ঘটনার দুই সপ্তাহ আগে থেকেই চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছিলেন ভারতের ভেলোরে। সোনারগাঁ থানায় দায়েরকৃত এক মামলায় ১১নং আসামি থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ। যিনি প্যারালাইজস হয়ে সাভার সিআরপিতে ভর্তি রয়েছেন। কালিয়াকৈরে দায়েরকৃত মামলার আসামি যুবদল মৌচাক শাখার সভাপতি রিয়াজ মেম্বার বিগত ৬ মাস ধরে কারাগারে আটক রয়েছেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হাসিনার আশা সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে

অন্যায়টা কি করেছি যে, এখনই পদত্যাগ করতে হবে। দিন বদল কি হয়নি? চিকিৎসা, শিক্ষাখাতে উন্নয়ন হয়নি? সারা দেশে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাইরের দেশের কে আমাকে সমর্থন করলো আর কে করলো না তা বিচার্য বিষয় নয়। আমার জোর হচ্ছে দেশের জনগণ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে সাংবাদিকরা মনে করে তারা কোনো অন্যায় কাজ করে না, কারও বিরুদ্ধে অপবাদ বা মিথ্যা তথ্য দেবে না বা বিভ্রান্ত করবে না, তাদের উদ্বিঘ্ন হওয়ার কিছু নাই।
তিনি বলেন, বরং আমি ওখানে একটা ঘাটতি দেখছি। একটা জিনিস ওখানে ঢোকানো উচিত আমি মনে করি। সেটা হলো- যদি কেউ কারও বিরুদ্ধে কোনো মিথ্যা তথ্য দেয়, তাহলে তাকে প্রমাণ করতে হবে যে এটা সত্য। যদি সে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়। যে সাংবাদিক লিখবে, যে পত্রিকা বা মিডিয়া তাদের সবাইকে শাস্তি পেতে হবে। এবং যার বিরুদ্ধে লিখবে, তার যে ক্ষতিপূরণ হবে সেটার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এদিকে নির্বাচন প্রসঙ্গে চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন হবে। দেশের মানুষও ভোট দেবে। দেশে অনেক রাজনৈতিক দল। নির্বাচনে কোন দল আসবে, আর কোন দল আসবে না, সে সিদ্ধান্ত তো আমরা নিতে পারি না। তবে আমাদের আশা, সব দলই নির্বাচনে আসবে। বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ২০১৪ এর নির্বাচনে আমার চেষ্টা ছিল, সবাই অংশ নিক। কিন্তু সেই নির্বাচন ঠেকানোর নামে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ মারা হলো। আপনারা যাদের নির্বাচনে চাইছেন, তারা মানুষ পুড়িয়ে মারে। আর যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে, তাদের জন্য এত কান্নাকাটি কেন? প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ এর নির্বাচন ঠেকানোর নামে যাদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে, তারা কেমন আছে, কেউ কি খোঁজ নিয়েছেন? আমি অনুরোধ করবো, ওই সময় যাদের পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, তাদের পরিবার কেমন আছে, তাদের খোঁজ নিন। মানুষ পুড়িয়ে মারার ওই অন্দোলনে অনেক মানুষ কর্মক্ষমতা হারিয়েছে, তাদের সংসার কেমন চলছে? যে দলের আন্দোলন মানুষ পুড়িয়ে মারা, তাদের জন্য এত মায়াকান্না কেন? তিনি বলেন, ২০১৪ সালে বিএনপির আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে আমার কাছে আসে। আমি তাদের সাহায্য করি। যাদের কারণে মানুষের এই অবস্থা, তাদের জন্য মায়াকান্নার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।
ল’ উইল টেক ইটস ওন কোর্স: সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির যেসব অভিযোগ উঠেছে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ল’ উইল টেক ইটস ওন কোর্স। ৭১ টিভির সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবুর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বই প্রকাশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থন না দেয়ার অনুরোধ প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চান। সিনিয়র এ সাংবাদিক ভারতের সংবাদ মাধ্যম পিটিআই’র রিপোর্ট তার হাতে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সিনহা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থন করে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া ভারতের উচিত নয়। কারণ বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ। তারা হয়তো একবার বা দুই বারের জন্য ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। কিন্তু একদিন সময় আসবে জনগণ রুখে দাঁড়াবে। তখন ভারত নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশের ওপর প্রভাব হারাবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয় উল্লেখ করে সিনহা বলেন, মোদিকে তিনি বলেছেন, একটি স্বৈরাচারী সরকারকে সমর্থন দিয়ে ভারত যে ভুল করছে সামনে এর মাশুল দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সিনহার প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিষয়টি তার পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বলেন, বাংলাদেশে প্রথম একজন সংখ্যালঘু থেকে তাকে আমরা প্রধান বিচারপতি বানিয়েছিলাম। তিনি সেই পদটিকে সম্মানজনকভাবে ধরে রাখতে পারেননি। এখানে কিন্তু আমাদের কিছু করার ছিল না। কারণ আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, তারই সহকর্মীরা তার নামে অভিযোগ পেশ করেন এবং তার সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানান। সমস্যা কিন্তু ওখান থেকেই তৈরি। এখানে কিন্তু আমরা কিছু করিনি। এখন যে কথাগুলো উনি বলছেন, এখানে আমার কমেন্ট করার কিছু নেই। আমি আগেই বলেছি, তাই আমি কমেন্ট করতে চাই না। শেষ পর্যন্ত কী করেন, আমি দেখি। আমি বিষয়টা অবজার্ভ করছি, এটুকু আমি বলতে পারি। শেখ হাসিনা বলেন, কথা হচ্ছে, আমরা কারও মুখাপেক্ষী হয়ে রাজনীতি করি না। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে উনি অনুরোধ করেছেন আমাকে সমর্থন না দিতে। এই রকম তিনি কেন, সবাই করেছে। এই যে বিএনপি যাচ্ছে (ভারতে), সবাই যাচ্ছে (ভারতে), গিয়ে অনুরোধ করে আসছে। এখন কে সমর্থন করবে, আর কে সমর্থন করবে না বা বাইরের দিকে মুখাপেক্ষী হয়ে আমার রাজনীতি না। আমি মনে করি, আমার জোর হচ্ছে আমার দেশের জনগণ। আমার জনগণের সমর্থন আছে কি না, জনগণ আমাকে চায় কি না, জনগণ আমাকে ভোট দেবে কি না, সেটাই বিবেচ্য বিষয় আমার কাছে। এ সময় ২০০১ সালে আমেরিকাকে গ্যাস দেয়ার গোপন চুক্তিতে সম্মতি না দেয়ার কারণে সরকার গঠন করতে না পারার দিকটি তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমার ওরকম কারও সহযোগিতা নিয়ে ক্ষমতায় থাকতে হবে কি হবে না সে প্রশ্ন যদি করেন আমি বলব, আমার ক্ষমতায় না থাকাই ভালো। আর দরকার নাই ক্ষমতার। আমার দেশের মানুষের শক্তিটা হচ্ছে আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই শক্তি যদি না থাকে, আর দেশের মানুষ যদি না চায়, কে আমাকে ক্ষমতায় এনে বসাবে? ওই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাজনীতি আমি করি না।
ঘায়েল করার জন্য ডকুমেন্ট তৈরি করে বসে আছে: ডিজিটার নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্বেগের বিষয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাবে, তিনি বলেন, এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই যদি কেউ মিথ্যা তথ্য প্রকাশ না করে।
সাংবাদিকরা খুব উদ্বিগ্ন, আমি বুঝলাম। কিন্তু আমাদের উদ্বেগটা দেখবে কে। বা যারা ভিকটিমাইজ হচ্ছে, তাদের উদ্বেগটা কে দেখবে। আর তাদের কীভাবে কম্পোনসেট করবেন। ওই জায়গায় একটু কমতি আছে। যেটা ইংল্যান্ডের আইনে আছে। আমরা এটা করার আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনগুলো দেখেছি। আইনগুলো দেখা হয়নি, তা নয়। তারপর এটা অনলাইনে ছিল। এটা সকলের সঙ্গে আলোচনাও হয়ে গেছে। এরপর এসে হঠাৎ এত উদ্বিগ্ন হয়ে গেলেন কিসের জন্য। আমার কাছে সেটা প্রশ্ন। কারও যদি অপরাধী মন না থাকে, বা ভবিষ্যতে কিছু অপরাধ করবে এরকম পরিকল্পনা না থাকে, তার উদ্বেগ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আগে তো সমন জারি করা হতো, সরাসরি গ্রেপ্তার করা হতো। আমি সেটা পরিবর্তন করে দিয়েছি। আগে তো চট করে ধরে নিতো। আপনারা সাংবাদিকরা যাদের কাছে নির্যাতিত হয়েছেন। তাদের জন্য কি করতে পেরেছেন। আর আপনারা এখন উদ্বিগ্ন। আমার যেটা মনে হয়েছে। বৈঠকের পর বৈঠক। বৈঠকে আমি এমন এমন মানুষ দেখেছি। তারা লেখা তৈরি করে বসে আছে। একটার পর একটা লেখা আমার বিরুদ্ধে চালাবে। উদ্বিগ্ন হবে তারা। আপনাদের তো উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। অন্তত আমি যত দিন আছি। আপনাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এখানে স্পষ্ট বলবো- যে সাংবাদিকরা মনে করেন তারা কোনো অন্যায় কাজ করে না, কারও বিরুদ্ধে অপবাদ বা মিথ্যা তথ্য দেবে না বা বিভ্রান্ত করবে না, তাদের উদ্বেগ হওয়ার কিছু নাই। সেখানে আইনে যেটা দেয়া আছে, সিআরপিসিতে যা আছে-তাই দেয়া আছে। সেখানে ডিজিটাল ডিভাইসগুলো ব্যবহার সম্পর্কে উল্লেখ করা আছে। জঙ্গিবাদ দমনে আমাদের কিছু কিছু ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছে, তাদেরকে ট্র্যাক করার জন্য। এখন ট্র্যাক করার পর তো বসে থাকা যাবে না। তাকে তো ধরতে হবে। কারণ সেতো আমাদের জন্য বসে থাকবে না।
তিনি বলেন, ২০০৭ সালে আমি যখন বন্দি। আমার বিরুদ্ধে যত নিউজ করা হলো। পরে সেটা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হলো। ওই পত্রিকার কোনো সাজা হলো না। কিন্তু তার সম্মান তো নষ্ট হলো। তাদের তো এই লজ্জা হয় না যে একটা মিথ্যা তথ্য দিলো। কিন্তু যার সমাজে সম্মান নষ্ট হলো। তার তো সব গেল। পদ্মা সেতু নিয়ে যারা বড় বড় হেডলাইন লেখেছে, তারা তো এখনও সমাজে বুক উঁচু করে চলছে। কিন্তু পরিবারের কাছে, সমাজের কাছে যে হেয়প্রতিপন্ন হলো; অসম্মান হলো তাদের কে দেখবে। অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, সাইবার সিকিউরিটি প্রতিটি দেশেই একটি বিরাট সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় সামাজিক, পারিবারিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। নানা ধরনের ক্রাইম, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস এবং পর্নো-নানা ধরনের ঘটনা দেখা দিচ্ছে। সেজন্য সকলেই এ ব্যাপারে প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অসামপ্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে এবং আমরা অসামপ্রদায়িকতায় বিশ্বাস করি। হ্যাঁ এটা তো ঠিক র্যাডিকালিজম তো আছে, একেবারে নাই- তা না। তবে যারা এই ধরনের কাজ করে তারা আসলে বিকৃতমনা। এদের কোনো নীতি-টীতি নাই। এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে সমাজকে আরো সচেতন করে তোলার এবং সাংবাদিকদের তাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেন সরকারপ্রধান।
জোটের কলেবর বাড়ানোর ইচ্ছা নেই: নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের কলেবর বৃদ্ধির কোনো চিন্তা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চারদিকে অনেক বড় বড় জোট-মহাজোট হচ্ছে। এ সবের মধ্যে আমাদের জোটের কলেবর বাড়ানোর তেমন কোনো চিন্তা নেই। এরপরেও কেউ যদি আমাদের সঙ্গে আসতে আগ্রহী থাকে, তখন আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে পারি। এ সময় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো ফর্মুলা নেই। সংবিধানে বলা আছে প্রতি ৬০ দিন অন্তর সংসদ অধিবেশন বসার জন্য। তবে নির্বাচনের আগে এ বিষয়টি শিথিল থাকে। তখন আমরা সংসদ বহাল রেখে কীভাবে নির্বাচন আয়োজন করা যায় সে বিষয়ে কথা শুরু করেছি। আমাদের জোটের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কয়েকটির সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের নির্দেশনাও নেয়া হবে। নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিষয় নিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যেসব দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে তাদের সঙ্গে নির্বাচন বিষয়ে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, সরকার যেভাবে থাকে সেভাবে রেখেই পাঁচবছর পূর্ণ হওয়ার আগের তিন মাসে নির্বাচন আয়োজন করে। তবে কোনো কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে হলে তারা সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করে। এটাই আসলে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত নিয়ম। তিনি আরও বলেন, আমরা ওই নিয়মেই নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করবো। এক্ষেত্রে ক্যাবিনেট ছোট করে নিয়ে কাজ করা হবে। চিন্তা-ভাবনা করে দেখবো কি করা যায়। কারণ, নির্বাচনের সময়ে আরপিও অনুযায়ী চলাচলে বিভিন্ন সমস্যা থাকে। এ সময় চলতি সংসদের ওপর জনগণের আস্থা বেড়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের সংসদ অন্য যে কোনো সংসদের চেয়ে ভালো ছিল।
আমি ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে: আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার চান বলে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আপনি ইভিএম ব্যবহার কতটুকু সমর্থন করেন এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। আপনি সবচেয়ে প্রিয় জিনিস টাকা মোবাইল ফোনে পাঠাতে পারেন। ভোটটাও আপনার প্রিয় জিনিস, তো ভোটটাও কেন আপনি ইভিএম-এ দিতে পারবেন না? আমি ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে। তিনি আরও বলেন, বরং এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করা উচিত, যেন মোবাইল থেকেও মানুষ ভোট দিতে পারে। তাহলে আর ভোটকেন্দ্রে যাওয়া লাগবে না। ইভিএমটা হোক। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ) প্রজেক্ট পাস করে দিয়েছি। যেহেতু আমরা পাস করে দিয়েছি, তাহলে বুঝতেই পারেন, আমাদের মানসিকতা কি। জনগণের প্রতি আমাদের আস্থা আছে, বিশ্বাস আছে। জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। তাদের ভোটের অধিকার সুরক্ষিত করা আমাদের দায়িত্ব। আর সেটা মনে করেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
শত ফুল ফুটতে দিন: কারও সমাবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছি। আমি বলেছি, সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে একটা জায়গা করে দিন, যে যতো খুশি বক্তব্য দিক। আরও দু’-একটি জায়গা পাওয়া যায় কিনা তাও দেখছি। এটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। তারা যদি সমাবেশে মানুষ চায়, সে ব্যবস্থাও আমরা করে দিতে পারি। তাদের এসব সমাবেশ নিয়ে আমার ভয়ের কিছু নেই। যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে গঠিত জোটকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের জোট করার জন্য যদি সহযোগিতা করা লাগে তবে তা আমি করবো। কারণ আমরা জানি, বাংলাদেশে ভোট আছে দু’পক্ষে। একটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও আরেকটি হলো এন্টি আওয়ামী লীগ। এখন এন্টিআওয়ামী লীগ ভোটগুলোকেতো একটি জায়গায় যেতে হবে। তাদের জন্য একটি জোট হচ্ছে এবং সেখানে বড় বড় মানুষও আছে। জোট হওয়াতো ভালো কথা। আমার কথা হচ্ছে শত ফুল ফুটতে দিন। শেখ হাসিনা বলেন, জোট গঠন নির্বাচনের জন্য ভালো। তবে শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনে আসবে কিনা বা আসার সামর্থ্য তাদের আছে কিনা বা সে সাহস তাদের আছে কিনা সেটিও কিন্তু একটি প্রশ্ন।
তাদের জন্য ভবিষ্যৎ ঠিকানা করে দিয়েছি: কওমি শিক্ষার স্বীকৃতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কওমি মাদ্রাসার ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ ছিল না। তারা কি করতো কোথায় যেত কোনো ঠিকানা ছিল না। আমি তাদের জন্য ভবিষ্যৎ ঠিকানা করে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমার কোনো শত্রু ছিল না। তবে হ্যাঁ ওই হেফাজতের ঘটনার রাতের আগে খালেদা জিয়া সবাইকে আহ্বান জানালেন আপনারা সবাই ঢাকা চলে আসেন। আমার মতো চেষ্টা করেছি পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য। ওই রকম পরিস্থিতি যেন বাংলাদেশে না ঘটে। খালেদা জিয়া তাতে ওপেন সমর্থন দিয়েছিলেন, জামায়াত আল্লামা শফীকে সমর্থন দিয়েছিল। তিনি বলেন, ওই রাতে মতিঝিল শাপলা চত্বরসহ মানুষ যে টেনশনে ছিল তাদের তো টেনশনমুক্ত করেছি।
এজন্য আমি তো ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। সে সময় অনেকে বলেছে আমি তো ধর্মই বিশ্বাস করি না। যাই হোক এখন যদি তারা আমাকে ধন্যবাদ দেয় তাহলে আমিও তাদের ধন্যবাদ জানাই। কারণ এ ধরনের ঘটনা হয়তো আর ঘটবে না। এ রকম একটা ভাবনা অনেকের মধ্যে ছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার ব্যাপারে বলবো যে, ওখানে লাখ লাখ ছেলে-মেয়ে পড়াশোনা করে। তাদের কোনো স্বীকৃতি ছিল না। তারা নিজেরা নিজেদের মতো করে জীবন যাপন করতো। তিনি বলেন, আপনারা যদি লক্ষ্য করেন তাহলে দেখবেন, উপমহাদেশে শিক্ষার যাত্রা শুরু হয় মাদ্রাসা দিয়ে। হিন্দু ধর্মের জন্য টং থেকে। কাজেই এটাকে একবারে বাদ দেয়া যাবে না। কারণ ১৪ থেকে ১৫ লাখ ছেলে-মেয়ে লেখাপড়া শিখছে। তাদের জন্য ভবিষ্যৎ ঠিকানা করে দিয়েছি।
থাকে লক্ষ্মী যায় বালাই: প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের কাছে উন্নয়ন যাতে দৃশ্যমান হয় সেজন্য আমার ইচ্ছা ছিল পরপর দুই টার্ম ক্ষমতায় থাকা। আমি তা পেরেছি। এখন আমার কাছে ক্ষমতা- থাকে লক্ষ্মী যায় বালাই। আমার কোনও চিন্তা নাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থেকে যে উন্নয়ন করেছিলাম তা বিএনপি আসার পর থেমে যায়। আমার ইচ্ছা ছিল আমি যদি একটানা দুইবার থাকতে পারি তবে উন্নয়নগুলো দৃশ্যমান হবে। মানুষ তার সুফলটা পাবে। দুই টার্ম থেকেছি। মানুষ তার সুফল পেয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ২০ দলীয় জোটের সমপ্রসারণ নিয়ে আমার কোনো ভয় নেই। ভয় থাকে তার, যার হারানোর কিছু আছে। আমার হারানোর কিছু নেই। আমি আমার বাবা, মা, ভাই সব হারিয়েছি। আমরা দুই বোন আছি, আমাদের ছেলেমেয়ে আছে। তারা আপনাদের জন্যই কাজ করে যাচ্ছে। দেশের জন্য কাজ করছে। সেটা ডিজিটাল বাংলাদেশ বলেন বা অটিজম বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পাশে মঞ্চে ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশ নেয়া ও সাইড লাইনে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও সাক্ষাতের বিষয় তুলে ধরেন। এসব বৈঠক ও সাক্ষাতে বিশ্ব নেতারা শেখ হাসিনাকে আবারো সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চান বলে আশা প্রকাশ করেছেন বলেও প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরাকে সুন্দরী নারীদের হত্যার হুমকি!

বিবিসির বরাত দিয়ে জানা যায়, সীমা কাশেম লাইভ ব্রডকাস্টে এসে বলেন, হত্যাকারীদের পরবর্তী টার্গেট হিসেবে তাকে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিগত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে টারা ফারেস নামের একজন মডেলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বিশাল ফ্যান ফলোয়ার ছিল। ইন্সটাগ্রামে ২৮ লক্ষ ফলোয়ারধারী টারা ফারেস ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন দেশটিতে।
টারা ফরেসের ঘটনার ঠিক দুই দিন আগেই বাসরা শহরে একজন নারী হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট সৌদ আল আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এমনকি চলতি বছরের আগস্ট মাসে বাগদাদে দুইটি বিউটি পার্লারের দুইজন নারী মালিককে তাদের নিজেদের বাড়িয়ে হত্যা হতে হয়।
এ সকল হত্যাকান্ড গুলো পর®পরের সঙ্গে স¤পর্কযুক্ত কি না সে বিষয়ে এখনও কোন প্রমাণ নি মিললেও দেশটির প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদী বলেন, তার মতে হত্যাকা-গুলো সুপরিকল্পিত এবং তিনি ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
অপরদিকে কিছুদিন আগেই মিস ফারেসের মৃত্যু হয় আততায়ীদের হাতে। নিরাপত্তাজনিত কারণে গত তিন বছর যাবত বাগদাদে বসবাস করা ২২বছর বয়সী মিস ফারেসকে দুইজন মোটরসাইকেল আরোহী দিনের বেলায় গুলি করে হত্যা করে।
ইন্সটাগ্রামে ২৭ লক্ষ ফলোয়ারধারী মিস কাসেম তার অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিওতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ইরাকে যেসব নারীরা নিজেদের চেষ্টায় একটা সুনাম কিংবা পরিচিতি তৈরি করেছে তাদেরকে ‘মুরগির মত জবাই’ করা হচ্ছে। তিনি মিস ফারেসকে ‘শহীদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ইরাকের হিউম্যান রাইটস গ্রুপ ইরাকি আল আমাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা হানা এড্ওয়ার বলেন, যেসকল নারীরা ‘পাবলিক ফিগার’ শুধুমাত্র তাদেরকে আঘাত করার মানে হলো যাতে অন্যান্য নারীদের বাধ্য হয়ে ঘরে বন্দী হয়ে থাকতে হয়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একটি ধর্ষণের ঘটনা ও বাংলাদেশের স্বর্ণ নীতিমালা

বাংলাদেশে স্বর্ণের চাহিদা রয়েছে বছরে প্রায় ৪০ মেট্রিক টন। যার প্রায় ৩৬ মেট্রিক টন চাহিদা পূরণ করা হয় আমদানির মাধ্যমে।
কিন্তু এই স্বর্ণ আমদানি কখনো কাগজে কলমে করা হয়নি।
কেননা গুরুত্বপূর্ণ এই খাতটি নিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে কোন নীতিমালাই ছিল না।
বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বিবিসিকে বলেছেন নীতিমালা অনুমোদনের পর স্বর্ণ আমদানি করতে আর সমস্যা হবেনা।
"এতদিন বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন পথে স্বর্ণ বাংলাদেশে আসতো। এটার স্থিতিশীলতা ছিলোনা। এখন নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক কয়েকজন ডিলার নিযুক্ত হবে, যারা জুয়েলারি সমিতির সদস্য। তাদের চাহিদা অনুসারে তারা স্বর্ণ বিক্রি করতে পারবে। তাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও রাজস্ব বোর্ড জানতে পারবে যে কে কতখানি আমদানি ও বিক্রি করছে"।
এখন নীতিমালা হওয়ার ফলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যেসব অভিযান করে সেসব সংকট থেকে জুয়েলারি খাত মুক্তি পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশে এতদিন ব্যক্তিগতভাবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সোনা আনার নিয়ম থাকলেও ব্যবসার জন্য বেশী পরিমান সোনা বৈধভাবে আমদানির সুযোগ ছিলোনা।
নীতিমালার বিষয়টি আলোচনায় এলো কিভাবে?
বাংলাদেশে প্রায়শই বিমানবন্দরে কাস্টমসের হাতে অবৈধ সোনা আটকের খবর প্রকাশিত হয়। কিন্তু সোনার অবৈধ ব্যবসার বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে গত বছর জুনে।
গত বছরের ১৪ ও ১৫ইমে শুল্ক গোয়েন্দারা ঢাকায় আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি শো-রুমে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ১৩ মন সোনা ও ৪২৭ গ্রাম হীরা সাময়িকভাবে আটক করেছিলো।
পরে তিনবার শুনানির সুযোগ পেয়েও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি আপন জুয়েলার্স।
পরে ওই বছরের ৪ঠা জুন আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি শো-রুম থেকে সাড়ে সাড়ে ১৩ মণ সোনা আনুষ্ঠানিকভাবে জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর।
বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় জব্দ করা এসব সোনা ও হীরা শুল্ক গুদামের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে নেয়ার কথা তখন জানিয়েছিলো শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
অধিদপ্তর জানায় আপন জুয়েলার্সের মালিকরা শুনানিতে এসে লিখিত তথ্য দিলেও তার সাথে মজুদ সোনা ও হীরার মিল পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় পরে আটক হন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও তার দুই ভাইকে জেলেও যেতে হয়।
পর এগুলো জব্দ করে আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হয়।
কিন্তু গোয়েন্দাদের এমন তৎপরতাকে সমর্থন দেয়নি জুয়েলারি সমিতির নেতারা।
তাদের দাবি ছিলো বাংলাদেশে সাধারণত ব্যক্তির কাছ থেকে কেনা স্বর্ণই দিয়েই তারা স্বর্ণালংকার বানিয়ে বিক্রি করে থাকেন।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসার সময় বাংলাদেশীরা সেসব স্বর্ণ আনেন সেগুলোই মূলত বাজারে বিক্রি হয় বলে দাবি করেছিলেন তারা।
তবে একই সাথে তারা জুয়েলারি ব্যবসার জন্য একটি নীতিমালার দাবিও করেছিলেন তখন।
সরকারের দিক থেকেও সংশ্লিষ্টরা এ নীতিমালার যৌক্তিকতা স্বীকার করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।
পরে ওই বছরের ১৩ইজুন জুয়েলার্স সমিতির নেতাদের সাথে এক আলোচনার পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক বিজ্ঞপ্তিতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও অনুসন্ধানে প্রাপ্ত পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ছাড়া স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে অযথা কোন অভিযান চালানো হবেনা বলে জানিয়ে দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সবার সাথে নীতিমালা তৈরির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে।
আপন জুয়েলার্স কিভাবে আলোচনায় এলো
ঢাকার একটি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এনে গত বছরের ৬ই মে ঢাকার বনানী থানায় মামলা করেন এক ছাত্রী।
এ মামলার প্রধান আসামী ছিলো আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ।
এ নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র শোরগোলের মধ্যে ৮ জুন ঢাকার সিএমএম আদালতে সাফাতসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ পত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
পরে ঢাকার নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২-এর বিচারক শফিউল আজম তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
অন্য আসামিরা ছিলেন আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলের বন্ধু নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।
এ ঘটনার পর ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের 'অবৈধ সম্পদ' খুঁজতে তাঁর প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি বিক্রয়কেন্দ্রে গত ১৪ ও ১৫ মে অভিযান চালায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।
সেখান থেকেই প্রায় সাড়ে তের মন সোনা উদ্ধার হয় যার কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি আপন জুয়েলার্স।
এভাবেই একটি ধর্ষণের ঘটনার জের ধরে আলোচনায় উঠে আসে দেশের স্বর্ণ ব্যবসার চিত্র।
আর সে কারণেই এ ব্যবসার জন্য নীতিমালা তৈরির বিষয়েও সব পক্ষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়।
নীতিমালা নিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মন্তব্য
বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির সভাপতি বাবু গঙ্গাচরণ মালাকার বিবিসিকে নীতিমালা হওয়াতে স্বর্ণ শিল্পী, ব্যবসায়ী ও সরকার সবাই উপকৃত হবে।
তিনি বলেন, " আপনারা কোথা থেকে স্বর্ণ পান- এ প্রশ্ন আর শুনতে হবেনা আমাদের। স্বর্ণ নীতিমালা ছিলোনা বলে রপ্তানি করতে পারিনি। ব্যবসাও ঠিকমতো করতে পারিনি। এখন সরকার যেমন রাজস্ব পাবে বেশি এবং চোরাচালানও অনেকাংশ কমে যাবে"।
মিস্টার মালাকার বলেন এখন ব্যবসায়ীদের বৈধভাবে স্বর্ণ কেনার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এ শিল্প আরও বিস্তৃত হবে ও স্বর্ণ শিল্পীদের কাজের আরও সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন তারা।
সুত্রঃবিবিসি
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া দুই সপ্তাহও ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না সৌদি বাদশা!

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার মিসিসিপির সাউথহ্যাভেনে এক র্যালিতে বক্তব্য রাখছিলেন। এ সময় তিনি বক্তব্যে বলেন, আমরা সৌদি আরবকে রক্ষা করেছি। আপনারা কি বলবেন সৌদি আরব ধনী। বাদশা সালমানকে আমি ভালবাসি। তাকে আমি বলেছি, আমরা আপনাকে সুরক্ষা দিচ্ছি। আমাদেরকে ছাড়া আপনি দু’সপ্তাহও ক্ষমতায় টিকবেন না।
তবে সৌদি আরবের বাদশা সালমানকে তিনি কবে বা কোন সময়ে ওই সতর্কতা দিয়েছেন সে সম্পর্কে কিছু বলেন নি। যদিও সৌদি আরব নিয়ে তিনি এমন কর্কশ শব্দ উচ্চারণ করেছেন, তবু সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে তার প্রশাসন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান হলো যুক্তরাষ্ট্রের মাথাব্যথার কারণ। তাদেরকে শায়েস্তা করতে সৌদি আরবকে হাতে রাখা খুবই জরুরি যুক্তরাষ্ট্রের। তাই গত বছর তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যখন বের হন, তখন প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট হিসেবে সৌদি আরবে অবতরণ করেন।
ওদিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ বলছে, গত শনিবার বাদশা সালমানকে ফোন করেছিলেন ট্রাম্প। এ সময় তারা তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখা বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন। উল্লেখ্য, বিশ্বে সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব। আর তাই তারা তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের মূল নেতৃত্বে রয়েছে। তবে তেলের উচ্চ মূল্যের কারণে এই ওপেকের কড়া সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত মাসে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে তিনি বলেছেন, বাকি বিশ্ব থেকে অর্থ তুলে নিচ্ছে ওপেক সদস্যরা। কোনো কারণেই এ দেশগুলোর পক্ষ আমি নিই না। আমাদেরকে উচ্চ মূল্যের তেল দিয়ে আমাদের কাছ থেকে সুবিধা নিচ্ছে তারা। দাম বাড়ানো বন্ধ করতে তাদের আহ্বান জানাই। তাদেরকে আহ্বান জানাই দাম কমান।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আনুষ্ঠানিকভাবে সুচির নাগরিকত্ব কেড়ে নিল কানাডা

কানাডা পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট অনুসরণ করেছে হাউজ অব কমন্সের পথ। তারাও স্বীকার করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে মানবাধিকার বিরোধী নৃশংসতা চালিয়েছে তাকে গণহত্যা হিসেবে ধরা যায়। উল্লেখ্য, সুচির নাগরিকত্ব বাতিলের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন প্রথম সিনেটর রতœা ওমিদভার। তিনি মঙ্গলবার বলেছেন, এই নৃশংসতাকে আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে। এটা হলো গণহত্যা। গণহত্যাকে গণহত্যাই বলতে হবে।
অং সান সুচিকে মিয়ানমারে গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ের জন্য ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়। রতœা ওমিদভার বলেন, ওই সময়ে তিনি ছিলেন পরিবর্তন ও মানবাধিকারের জন্য চ্যাম্পিয়ন। বিশ্ব তার ওপর আশা রেখেছিল। কারণ, তিনি মিয়ানমারে গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠার আলো ফেলেছিলেন। কিন্তু আমরা এখন যা জানি তিনি তা করেন নি। উল্টো তিনি নৃশংসতা প্রত্যাখ্যান করেছেন। রোহিঙ্গাদের নির্যাতন চালানো হয়েছে যে রাখাইনে সেখানে আন্তর্জাতিক তদন্তকারী ও সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার দেন নি। তিনি পক্ষ নিয়েছেন সেনাবাহিনীর। রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা দিতে দেন নি। আমরা তাই এখানে কানাডা থেকে ও বিশ্ব থেকে তাকে একটি কড়া বার্তা দিতে চাই। তাহলো, যদি আপনি (সুচি) এই গণহত্যায় জড়িত থাকেন তাহলে কানাডায় আপনাকে স্বাগত জানানো হবে না। আপনাকে আর কানাডার সম্মানসুচক নাগরিক বলা হবে না।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সেপ্টেম্বরে রেমিটেন্স এসেছে ১১২ কোটি ডলার

মে মাসে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৪৮ কোটি ২৮ লাখ ডলারেরও বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। এপ্রিল মাসে প্রবাসীরা ১৩২ কোটি ৭১ লাখ ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, স্থানীয় বাজারে ডলারের তেজিভাব এবং হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে গত অর্থবছর রেমিটেন্স বাড়ে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েক বছর ধরেই রেমিটেন্স ১৩ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। গত অর্থবছর ১৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হলেও রেমিটেন্স ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়নি, কারণ তার আগের বছর রেমিটেন্স অনেক কম এসেছিল। তারা বলেন, রেমিটেন্স বৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে হলে যারা বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে, তাদের অবশ্যই দক্ষ করে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি তারা যেন কোনো ঝামেলা ছাড়া কম খরচে দ্রুত টাকা দেশে পাঠাতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে। বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ১৩৮ কোটি ২০ লাখ ডলার এসেছে, যা গত বছরের জুন মাসের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। মে মাসে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৪৮ কোটি ২৮ লাখ ডলারেরও বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। এপ্রিল মাসে প্রবাসীরা ১৩২ কোটি ৭১ লাখ ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত চার বছরের মধ্যে দেশে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স এসেছে। এ সময় রেমিটেন্স এসেছিল এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবাসীদের রেমিটেন্স পাঠানোর পরিমাণ ছিল এক হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিল প্রবাসীরা। যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭.৩ শতাংশ বেশি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেমিটেন্স প্রবাহের মাস হিসেবে গত ছয় বছরের মধ্যে এটিই ছিল সর্বনিম্ন। শুধু সেপ্টেম্বরই নয়, বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এই রেমিটেন্স কমে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে রেমিটেন্স বাড়াতে নানা উদ্যোগও নেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নানামুখী উদ্যোগের কারণে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস থেকে রেমিটেন্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় ফেরে।
বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। তাদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বাংলাদেশের জিডিপিতে রেমিটেন্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো। রেমিটেন্স বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও রয়েছে সন্তোষজনক অবস্থায়। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের বড় উৎস মধ্যপ্রাচ্য। সেসব দেশে বিভিন্ন সমস্যার কারণে প্রবাসীরা সহজে রেমিটেন্স পাঠাতে পারছে না। ফলে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেয়া নানা উদ্যোগের পরও আশানুরূপ রেমিটেন্স আসছে না। দেশের রেমিটেন্সের অর্ধেকের বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত ও বাহরাইন থেকে। রেমিটেন্স বাড়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ বিলিয়ন ডলারে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘চরিত্রহীন’ কি পর্ন ওয়েব সিরিজ?

এছাড়া রয়েছে সুবলা ও সরোজিনী। এই চার নারীর কথা নিয়েই তৈরি ‘চরিত্রহীন’। যা বইয়ের পাতা থেকে এখন দেখা যাবে ওয়েবের পর্দায়। যেখানে অভিনয় করছেন সোহিনি ঘোষ, সৌরভ দাস, গৌরব চট্টোপাধ্যায়, অঙ্কিতা চক্রবর্তী, নয়না ছাড়া আরও অনেকে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
-
▼
2018
(7025)
-
▼
October
(200)
-
▼
Oct 04
(11)
- সিনহা’র অ্যাকাউন্টে অনিয়মের তথ্য পেয়েছে দুদক
- ২৮ বছরে বিদেশে ৭ লাখ নারী শ্রমিক: জীবন বদলায় না কপ...
- নিষিদ্ধ হচ্ছে ‘খাত’, গোয়েন্দা নজরে ৫০ সিন্ডিকেট by...
- ভৌতিক মামলা: মৃত, রোগী প্রবাসী বাদ যাচ্ছেন না কেউই...
- হাসিনার আশা সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে
- ইরাকে সুন্দরী নারীদের হত্যার হুমকি!
- একটি ধর্ষণের ঘটনা ও বাংলাদেশের স্বর্ণ নীতিমালা
- যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া দুই সপ্তাহও ক্ষমতায় থাক...
- আনুষ্ঠানিকভাবে সুচির নাগরিকত্ব কেড়ে নিল কানাডা
- সেপ্টেম্বরে রেমিটেন্স এসেছে ১১২ কোটি ডলার
- ‘চরিত্রহীন’ কি পর্ন ওয়েব সিরিজ?
-
▼
Oct 04
(11)
-
▼
October
(200)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...