Thursday, December 17, 2009

আইফেল টাওয়ারের সিঁড়ির অংশবিশেষ নিলামে বিক্রি

ফ্রান্সের বিখ্যাত আইফেল টাওয়ারের সিঁড়ির অংশবিশেষ নিলামে এক লাখ ২৪ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে। সোমবার প্যারিসে ওই নিলামের আয়োজন করা হয়। একজন ফরাসি ব্যবসায়ী টাওয়ারের পেঁচানো সিঁড়ির ওই অংশটি কিনে নেন। নিলামের আয়োজন করে ‘ড্রোআউট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
লম্বায় ৭ দশমিক ৮ মিটার সিঁড়ির ওই অংশটি সিঁড়ির বড় একটি অংশের খণ্ড। ১৯৮৩ সালে আইফেল টাওয়ারের সিঁড়ির ওই বড় অংশটি সরানো হয়।
বিক্রির জন্য পরে এটিকে ২৪টি বড় টুকরো করা হয়। বিভিন্ন সময় ওই টুকরোগুলোর নিলাম ডাকা হয়।
সিঁড়ির অংশবিশেষের ক্রেতা প্যারিসের পূর্বাঞ্চলীয় ট্রয়েস শহরের একজন লোহা ব্যবসায়ী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এএফপিকে বলেন, সিঁড়ির ওই অংশ টুকরো টুকরো করে আবারও বিক্রি করা হবে। এ ধরনের কাজে তাঁর পূর্বাভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগে বার্লিন প্রাচীরের অংশবিশেষ কিনেও তিনি একই কায়দায় বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেন। তিনি আশা করেন, এবারও সফল হবেন। তাঁর কেনা পেঁচানো ওই সিঁড়িতে ৪০টি ধাপ রয়েছে।

দার্জিলিংয়ে বন্ধ্ প্রত্যাহার

দার্জিলিংয়ের জনমুক্তি মোর্চা ৯৬ ঘণ্টার একটানা বন্ধ্ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গত বুধবার অন্ধ্র প্রদেশকে ভেঙে পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্য গড়ার প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিলে দার্জিলিংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে শুরু করে ৯৬ ঘণ্টার বন্ধ্।
বন্ধ্ ঘোষণার পর পাহাড় থেকে পর্যটকেরা চলে যেতে শুরু করলে পাহাড়ের ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেটি আঁচ করতে পেরে বিজেপির নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি, সুষমা স্বরাজ, অরুণ শৌরী ও দার্জিলিংয়ের বিজেপির সাংসদ যশোবন্ত সিনহা বন্ধ্ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তাঁদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জনমুক্তি মোর্চা প্রত্যাহার করে নেয় ৯৬ ঘণ্টার বন্ধ্ কর্মসূচি।

বেনজির হত্যাকাণ্ডে গঠিত জাতিসংঘ কমিশনের মেয়াদ বাড়ছে

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারী জাতিসংঘ কমিশনের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানোর বিষয়টি ‘ইতিবাচকভাবে বিবেচনা’ করা হচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এ কথা বলেছেন। চলতি মাসেই ওই কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বান কি মুন বলেন, তদন্ত শেষ করতে আরও সময় লাগবে। এ জন্য কমিশনের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানোর জন্য রাষ্ট্রদূত হেরাল্ডো মুনোজ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। বেনজির হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গঠিত জাতিসংঘ কমিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন হেরাল্ডো মুনোজ।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মহাসচিব বান কি মুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁদের আরও সময় প্রয়োজন। আমি মনে করি, এটা যুক্তিসংগত। আরও তিন মাস সময় বাড়ানোর বিষয়টি আমি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছি।’
২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে এক নির্বাচনী সমাবেশে নিহত হন বেনজির ভুট্টো।
এদিকে বান কি মুন বলেন, পাকিস্তানে জাতিসংঘের পাঁচ কর্মী নিহত হওয়ার পর নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে পাকিস্তানি জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার সর্বোত্তম উপায় কী হতে পারে, সেটা বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে।

অন্ধ্র প্রদেশের অখণ্ডতার দাবিতে কংগ্রেসের সাংসদের অনশন

অখণ্ড অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্য টিকিয়ে রাখতে গতকাল মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছেন রাজ্যের বিজয়াওয়াদা থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস দলীয় পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) এল রাজাগোপাল। বিজয়াওয়াদায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সোমবার হায়দরাবাদে অনশন শুরু করতে চেয়েছিলাম আমি। কিন্তু আমাকে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাই আজ এখানে অনশন শুরু করেছি আমি।’ সোমবার হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে নামার পর তাঁকে আটক করে স্থানীয় পুলিশ। পরে থানার সামনে দলীয় সমর্থকেরা অবস্থান ধমর্ঘট করলে তাঁকে বিজয়াওয়াদায় স্থানান্তর করা হয়।
রাজ্যের বেশির ভাগ মানুষই অন্ধ্র প্রদেশের বিভক্তি চায় না উল্লেখ করে রাজাগোপাল বলেন, রাজ্যটি বিভক্ত করা হবে না—এমন বিবৃতি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি। বিধানসভার অধিবেশনে তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের প্রস্তাব তোলা উচিত ছিল জানিয়ে রাজাগোপাল আরও বলেন, গতকালই প্রস্তাবটি তোলা উচিত ছিল। বিধানসভার ২৯৪ জন সদস্যের মধ্যে ২২৫ জনই তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের বিরোধিতা করছেন। তাই প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যেত এবং সব কিছুই পরিষ্কার হয়ে যেত। তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) প্রধান এন চন্দ্রবাবু নাইডু ও অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া চিরঞ্জীবীকে তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের প্রস্তাব সমর্থন না করারও আহ্বান জানান তিনি।
অখণ্ড অন্ধ্র প্রদেশ টিকিয়ে রাখার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য গঠিত ‘জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি’ (জেএসি) এ আন্দোলনে রাজাগোপালের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে। কমিটি গতকাল বিজয়াওয়াদায় জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করার কর্মসূচি ঘোষণা করে।
এদিকে একই দাবিতে ওই এলাকায় টিডিপির বিধায়ক ডি উমামেশওয়ারা রাও ও অন্যান্য বিধায়কদের অনশন তৃতীয় দিনে পৌঁছেছে। কেন্দ্রের ওপর চাপ বাড়াতে লোকসভার সদস্যদের পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাও।
এদিকে তেলেঙ্গানা সংকট নিয়ে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস জানিয়েছে, অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের বিধানসভায় এ ব্যাপারে প্রস্তাব অনুমোদন হওয়ার পরই কেবল আলাদা তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। গতকাল নয়াদিল্লিতে দলীয় মুখপাত্র শাকিল আহমেদ বলেন, অন্ধ্রের বিধানসভায় আলাদা তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে কংগ্রেস।
এর আগে তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির (টিআরএস) প্রধান কে চন্দ্রশেখর রাও বলেছিলেন, আলাদা রাজ্য গঠনের জন্য অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের বিধানসভায় কোনো প্রস্তাব অনুমোদন করার দরকার নেই। কেন্দ্রীয় সরকারেরই এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত ক্ষমতা রয়েছে। তারা একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে আলাদা রাজ্য গঠন করতে পারে এবং এ ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্ত রাজ্যের বিধানসভাকে জানিয়ে দিলেই চলে।
কংগ্রেস নেতারা অবশ্য স্বীকার করেছেন, আলাদা তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠন করার ব্যাপারে দলে মতৈক্য ছিল না। শাকিল আহমেদ জানান, তেলেঙ্গানা অঞ্চলের দলীয় নেতারা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও রয়ালাসিমা ও উপকূলীয় অঞ্চলের নেতারা এর বিরোধিতা করছেন। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী দলীয় পদক্ষেপ ঠিক করতে গতকাল সকালে বৈঠক করেছেন ভারতীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি ও আইনমন্ত্রী ভিরাপ্পা মোইলি।
তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠন করার বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে গিয়ে শাকিল আহমেদ বলেন, সরকার ওই দিন এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিল। কারণ, আমরণ অনশনে থাকা টিআরএস প্রধানের শারীরিক অবস্থার খুবই অবনতি হয়েছিল।

সিডনি অপেরা হাউসে ব্যানার মেলে ধরলেন পরিবেশবাদীরা -জলবায়ু পরিবর্তন

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর দাবিতে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি অপেরা হাউস ভবনের শীর্ষে উঠে একটি ব্যানার মেলে ধরেন পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিসের পাঁচজন কর্মী। গতকাল মঙ্গলবার দড়ি বেয়ে তাঁরা সিডনি অপেরা হাউসের মাথায় চড়েন এবং শীর্ষস্থান থেকে ভবনটির গায়ে ১০০ বর্গমিটার আকৃতির ওই ব্যানার মেলে ধরেন। ব্যানারে লেখা ছিল: ‘স্টপ দ্য পলিটিকস—ক্লাইমেট ট্রিটি নাও’ (রাজনীতি বন্ধ করুন—এখনই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার বিষয়ে চুক্তি করুন)। বিশ্বনেতাদের দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে তাগাদা দিতেই এ উদ্যোগ নেন তাঁরা। তবে নেমে আসার পর পুলিশ ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রিনপিস অস্ট্রেলিয়ার প্রধান লিন্ডা সেলভে বলেন, ‘পাঁচজন কর্মী গ্রেপ্তার হলেও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, বার্তাটি ছড়িয়ে দিতে পেরেছি আমরা। বিশেষ করে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জলবায়ু সম্মেলনের সংকটপূর্ণ সময়ে বার্তাটি প্রচার করতে পেরেছি।’ তিনি বলেন, মনে হচ্ছে, অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড ও অন্যান্য বিশ্বনেতা জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় কোনো একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেয়ে রাজনীতির দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অপেরা হাউসে ওঠা তিনজন নারী ও দুজন পুরুষের বয়স ২৯ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিনা অনুমতিতে ওই এলাকায় প্রবেশ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।
কোপেনহেগেন সম্মেলনে আফ্রিকার নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশের নেতারা গত সোমবার ওয়াকআউট করার কয়েক ঘণ্টা পরই এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে মতৈক্য না হওয়ায় উন্নয়নশীল দেশের নেতারা ওয়াকআউট করেন। পাঁচ ঘণ্টা পর অবশ্য সম্মেলনের আলোচনায় ফিরে যান তাঁরা। এর আগে ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেও অপেরা হাউসকে ব্যবহার করেন বিক্ষোভকারীরা।

ভারতে ঢুকেছে আত্মঘাতী তালেবান জঙ্গিরা -দেশজুড়ে সতর্কতা জারি

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে জঙ্গি হামলার আগাম সতর্কতা জারি করেছে। মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, তালেবান জঙ্গিদের আত্মঘাতী একটি দল কাশ্মীরের কুপওয়ারা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে। তারা পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, কর্ণাটক ও গুজরাটের উপকূলবর্তী অঞ্চলে আত্মঘাতী হামলা চালাতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ আগাম সতর্ক বার্তা পেয়ে ওই পাঁচ রাজ্যের সরকার তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে।
সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, জনবহুল এলাকা, রেল ও বাসস্টেশন, বিমানবন্দর, পাতালরেল, ঐতিহাসিক স্থাপনা, বিপণিকেন্দ্র, হাসপাতাল, রাজনৈতিক দলের অফিস, প্রতিরক্ষা ভবন, সেনাবাহিনীর ঘাঁটি, স্টক এক্সচেঞ্জ, সেতু, কলকাতায় মার্কিন কনসুলেট, বিনোদন পার্ক, পাঁচতারা হোটেল, বাজার এবং ধর্মীয় স্থানে আত্মঘাতী হামলা চালতে পারে তালেবান জঙ্গিরা।
আফগান ও পাখতুন নাগরিকদের চলাফেরার ওপর দৃষ্টি রাখতে বলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জঙ্গিরা তাদের মধ্যে আত্মগোপন করে থাকতে পারে বলে সতর্ক বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সতর্ক বার্তা জারির পর ভারতের সব কটি পারমাণবিক স্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে সব বিমানবন্দরে। দেশের প্রতিটি এলাকায় সন্দেহভাজনদের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য প্রতিটি নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে ওই সতর্ক বার্তা জারি করার পর সোমবার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সভাপতিত্বে নয়াদিল্লিতে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম, অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি এবং গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই ও ‘র’-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। বৈঠকে সারা দেশের নিরাপত্তার দিকটি খতিয়ে দেখা হয়।
সোমবার পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব অর্ধেন্দু সেন বলেন, এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
লস্করের হামলার পরিকল্পনা: টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবা (এলইটি) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজ (এনডিসি), গুজরাটের সোমনাথ মন্দির এবং মুম্বাইতে কয়েকজন চলচ্চিত্র তারকা ও শিবসেনা নেতার ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিল।
সোমবার পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত শিকাগোর ব্যবসায়ী তাহাউউর হুসেইনের বিরুদ্ধে শিকাগোর ফেডারেল আদালতে করা হলফনামায় এ কথা বলা হয়েছে। সন্দেহভাজন পাকিস্তানি-মার্কিন জঙ্গি ডেডিভ কোলম্যান হেডলির সঙ্গে তাঁকে গত মাসে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারত ও ডেনমার্কে সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালতে উপস্থাপন করা নতুন হলফনামায় বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বরের আলাপচারিতায় হেডলি ও তাহাউউরের মধ্যে কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুগুলো হলো সোমনাথ মন্দির ও ডেনমার্ক এবং বলিউড ও শিবসেনা।
এফবিআই বলেছে, গ্রেপ্তার-পরবর্তী বিবৃতিতে তাহাউউর মিথ্যা দাবি করেছিল যে সম্ভাব্য ব্যবসায়িক উদ্যোগের জন্যই ওই নামগুলো উল্লেখ করা হয়েছিল।
২০০৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তাহাউউর ও হেডলির আলাপচারিতায় এনডিসিকে ‘লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে আলোচনা করা হয়। আগে আলোচিত লক্ষ্যবস্তুর সঙ্গে এনডিসিকেও যোগ করেছিলেন হেডলি।
মার্কিন আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, গত বছর মুম্বাইতে সন্ত্রাসী হামলার সময় এলইটি সদস্যরা ‘চমত্কার কাজ’ করেছে বলে তাদের প্রশংসা করেছেন তাহাউউর।

গবেষণা থেকে নীতিনির্ধারণ -দরিদ্রবান্ধব প্রবৃদ্ধি অর্জন by ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

মাঝারি আয়ের দেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত হতে হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা আরও ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে গবেষণাভিত্তিক হওয়া উচিত। অর্থনীতিবিদদের সরকারি নীতিনির্ধারণে শুধু অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক-ব্যবস্থাকেও বিবেচনায় রাখতে হয়। অর্থনীতিবিদেরা যদি নীতিনির্ধারণে মতামত ব্যক্ত করা থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখেন, তাহলে এর ফলাফল হবে মারাত্মক। সরকারের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক একটি উচ্চ, টেকসই ও দারিদ্র্য দূরীকরণে সহায়ক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের কথা বিবেচনায় রেখে গবেষণার জন্য কিছু ভালো বিষয়বস্তুর প্রতি আমরা মনোযোগ দিতে পারি।
১. সুশাসন ও প্রবৃদ্ধি: গত ২৫ বছরে বাংলাদেশের নিম্নমানের সুশাসনের তুলনায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ছিল অনেক সন্তোষজনক। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সুশাসনের হালহকিকত সম্পর্কে আমাদের আরও অনেক বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে।
২. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরকারি নিয়ন্ত্রণ: প্রকৃতপক্ষে আমাদের বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারের গতি-প্রকৃতির ব্যাপারে পরিপূর্ণ ধারণা না থাকলে সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরোপ খুব বেশি কার্যকর হবে না।
৩. সরকার ও বেসরকারি এনজিও অংশীদারি : যেহেতু বাংলাদেশে অসংখ্য এনজিও ব্যাপকভাবে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমে জড়িত আছে, সেহেতু সরকারকে তাদের সঙ্গে অংশীদারির প্রকৃতি নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনায় আনতে হবে। সেই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি পরিপূর্ণ কার্যকারিতা নিশ্চিত সাধনের উপায় নিয়ে চিন্তা করা উচিত।
৪. রপ্তানি অবস্থা: বাংলাদেশ প্রাথমিকভাবে একটি পাট রপ্তানিকারক দেশ থেকে পোশাক রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের পোশাকশিল্প এখন অনেক সীমাবদ্ধতায় নিমজ্জিত। তাই সার্বিকভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি অবস্থা উন্নয়নে বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে বেশ কিছু বিষয় আমাদের গভীর গবেষণার আওতায় আনতে হবে।
৫. জনসংখ্যার ঘনত্ব, নগরায়ণ ও পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন: জায়গাজমির স্বল্পতা ও জনসংখ্যার ঘনত্ব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সারা পৃথিবীতে একটি অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ। এ সম্পর্কিত অনেক সমস্যার সমাধান আমাদের করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের যে পরিচিতি, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত জলবায়ুগত পরিবর্তন ও সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির করুণ পরিণতি। এ ব্যাপারে আমাদের গবেষণা করতে হবে।
৬. দারিদ্র্য দূরীকরণে ব্যষ্টিক-সামষ্টিক সমন্নয়সাধন: দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্পর্কিত বিভিন্ন কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতে দরিদ্রবান্ধব প্রবৃদ্ধি অর্জনে সর্বস্তরের নীতিনির্ধারণের সঙ্গে থানা স্তরে নিয়ন্ত্রণ আরোপে সমন্নয়সাধনে মনযোগ দিতে হবে।
এ ছাড়া সামাজিক উন্নয়ন সূচকে উন্নতি এবং সামাজিক রূপান্তরের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে অবগত হওয়ার ব্যাপারেও ব্যাপক গবেষণার সুযোগ রয়েছে।

রাঙামাটির কলা রাঙ্গুনিয়া থেকে ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে by মো. ইব্রাহিম খলিল

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদরের ইছাখালীতে এখন বিভিন্ন ধরনের কলার জমজমাট হাট বসে। যেখানে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা ও রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি এলাকাগুলো থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নানা জাতের কাঁচা-পাকা কলা নিয়ে আসেন। এসব কলার মধ্যে রয়েছে আইট্টা কলা, আনাজি (সবজি) কলা, কাট্টলি (বাংলা) কলা, সবরি কলা, চাঁপা কলা ইত্যাদি।
ইছাখালী কলার হাটের ইজারাদার মো. আইয়ুব প্রথম আলোকে জানান, বিশেষ করে প্রতি বুধবার এখানে প্রচুর পরিমাণে কলা ওঠে। সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও কলার বেচাকেনা চলে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর, সরফভাটা, কোদালা, চন্দ্রঘোনা, পারুয়া ও পৌর এলাকার সহস্রাধিক ব্যবসায়ী স্থানীয় পাহাড়ি এলাকাগুলোসহ রাঙামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী, ফারুয়া, বরকল, কাপ্তাই, বিলাইছড়ি ও লংঘদু বাজার থেকে কলা কিনে এ হাটে নিয়ে আসেন; যা চট্টগ্রাম শহরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের বড় ব্যবসায়ী বা পাইকারেরা নিয়ে যান। নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে ইছাখালীতে কলার হাট বসতে শুরু করে বলে তিনি জানান।
এলাকাবাসীও জানায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন বাজার থেকে ব্যবসায়ীরা কর্ণফুলী নদীপথে নৌকাযোগে প্রতি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইছাখালী ঘাটে কলা নিয়ে আসেন। পর দিন অর্থাত্ বুধবার সকাল ছয়টা থেকে শুরু হয় কলা বেচাকেনা।
মুরাদনগর পৌর এলাকার কলার ব্যবসায়ী আমির হামজা জানান, শুধু স্থানীয় ব্যবসায়ীরাই নন, রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া, সরফভাটা, শিলক, কোদালা, পোমরা, বেতাগি, চন্দ্রঘোনা, হোছনাবাদ, লালানগর, ইসলামপুর, রাজানগর ও পারুয়া ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকার জনগণও এ হাটে কলা বিক্রি করে থাকে।
চট্টগ্রাম বহদ্দার হাটের কলার ব্যবসায়ী বদরুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশে উত্পাদিত বলে সারা দেশে এ হাটের কলার চাহিদা খুব বেশি।
ইছাখালী পৌর কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ হাটে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ টাকার এবং প্রতি বুধবারে প্রায় ৪০ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের কলা বেচাকেনা হয়।
রাঙ্গুনিয়ার পৌর মেয়র নুরুল আমিন তালুকদার এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, ২০০৯ সালের জুন থেকে ইছাখালী কলার হাট ইজারা দেওয়া শুরু হয়। এক বছরের ইজারা বাবদ পৌরসভা প্রায় পাঁচ লাখ টাকার রাজস্ব আয় করেছে। এ হাটের পরিধি বাড়ানো ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌরসভা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলে তিনি জানান।

বিদ্যমান পরিসংখ্যান-ব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি আটকে রেখেছে -গোলটেবিল বৈঠকে বক্তাদের অভিমত

উন্নতি আটকে রেখেছে দেশের পরিসংখ্যান-ব্যবস্থা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) থেকে সঠিক ও যথাযথ কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। আর তথ্যের অভাবে তেমন কোনো গবেষণাও হয় না দেশে। স্বাভাবিক কারণেই গবেষণা না থাকায় নীতি প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন করা দুঃসাধ্য। বিদ্যমান পরিসংখ্যান-ব্যবস্থা এতই খারাপ যে, প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে একে ‘সমস্যা’ না বলে ‘সংকট’ বলে অভিহিত করতে হবে। জাতীয় প্রয়োজনেই শক্তিশালী করতে হবে বিবিএসকে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে ‘দরিদ্রবান্ধব প্রবৃদ্ধি অর্জন: গবেষণা থেকে নীতিনির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস), ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপ (ইআরজি) এবং ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার (আইজিসি) যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন। আর বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বৈঠকে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান ও বিআইডিএসের মহাপরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী।
আলোচনায় অংশ নেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম, বিআইডিএসের গবেষক রুশিদান ইসলাম প্রমুখ। এ ছাড়া ইয়েল, কলাম্বিয়া, ব্রাউন, বোস্টন, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের আটজন অর্থনীতিবিদও আলোচনায় অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, পরিসংখ্যান-ব্যবস্থার দুর্বলতা দেশের উন্নতিকে অনেকখানিই আটকে রেখেছে। এটি এক মারাত্মক সংকট যে, কোনো কিছুরই যথাযথ তথ্য পাওয়া যায় না।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নতির জন্য গবেষণার দরকার। কারণ, গবেষণার ফল নিয়েই নীতি প্রণয়ন করা হয়। বাংলাদেশের জন্মের পেছনেও গবেষণার অবদান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও গবেষণাচালিত সরকার।
আবদুল মুহিত বলেন, অনুদান নেওয়ার মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। এখন বিদেশি অনুদান পাওয়া যায় নামমাত্র। অথচ কর আদায় সামান্য বাড়লেই অনুদানের দরকার পড়বে না। রপ্তানিপণ্যের বহুমুখিতা শুধু তৈরি পোশাক খাতেই নয়, অন্য খাতেও দরকার বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।
মসিউর রহমান বলেন, সঠিক নীতিনির্ধারণ করতে না পারা বড় সমস্যা। তবে এ-ও দেখতে হবে, রাজনৈতিক কারণে কীভাবে এই নীতিনির্ধারণ প্রভাবিত হয়। নীতিনির্ধারণের আগে গবেষণার দরকার বলে মনে করেন তিনি।
বিদ্যমান পরিসংখ্যান-ব্যবস্থা শুধু সমস্যা নয়, বরং একে অন্যতম সংকট বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা। আর গবেষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনুদানের অর্থে গবেষণা হলে তা হবে ওই দাতা সংস্থার চাওয়া মতোই। জাতীয় প্রয়োজনেই বিবিএসকে শক্তিশালী এবং এর মহাপরিচালক পদটিকে যুগ্ম সচিব মর্যাদার না রেখে সচিব মর্যাদায় উন্নীত করা উচিত বলে মনে করেন মসিউর রহমান।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, মাঝারি আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা আরও ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে গবেষণাভিত্তিক হওয়া উচিত। আর অর্থনীতিবিদদের উচিত নীতিনির্ধারণে মতামত ব্যক্ত করা। এ থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখলে তার ফল হবে মারাত্মক। দারিদ্র্য দূরীকরণ সহায়ক প্রবৃদ্ধি অর্জনের কথা বিবেচনায় নিয়ে গবেষণার জন্য কিছু ভালো বিষয়বস্তু ঠিক করার পরামর্শ দেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের শিল্প (এসএমই) এবং কৃষিতে। এর ফল পাওয়া যাবে ভবিষ্যতে।
আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, নীতিনির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা নেই। বিবিএস অনাধুনিক এবং বিআইডিএসকেও যথাযথ ব্যবহার করা হচ্ছে না। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম বলেন, অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত জাহাজ নির্মাণ শিল্প যে এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, তা কোনো গবেষণায় উঠে আসেনি। তা একান্তই উদ্যোক্তাদের চেষ্টার ফল।
বৈঠক শেষে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ আজ আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। দুর্যোগ, মন্দাসহ এত কিছুর পরও বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখছে কীভাবে গবেষকদের কাছে তা বিস্ময়ের ব্যাপার। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ ক্ষতির শিকার। স্বল্প মেয়াদে তা মোকাবিলায় ভালো করছে বাংলাদেশ। তবে সাহায্যের সুযোগ নিতে চাইলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। তবে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিগ্রস্তদের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তার কোনো গবেষণা নেই।
বিবিএসের বর্তমান নাজুক অবস্থা কোনো আধুনিক রাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে না বলে মনে করেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

বিজয়ের দিনে ক্রিকেটের উৎসব

একজন ছিলেন ক্রিকেটার, আরেকজন সংগঠক। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ তাঁদের নিয়ে এসেছিল একই কাতারে। তাঁরা দুজনই এখন শহীদ—শহীদ আবদুল হালিম চৌধুরী জুয়েল ও শহীদ মুস্তাক আহমেদ। প্রতি বছরের মতো এই দুই শহীদের স্মরণে ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজও হবে একটা ক্রিকেট ম্যাচ। খেলবে শহীদ জুয়েল একাদশ বনাম শহীদ মুস্তাক একাদশ। যে প্রীতি ম্যাচের আয়োজন শুরু হয়েছিল ১৯৭২ সাল থেকেই।
মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জুয়েলের ক্রিকেটেও ছিল অপার সম্ভাবনা। আজাদ বয়েজ, মোহামেডানের ওপেনার হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে স্বপ্ন দেখাত টেস্ট অভিষেকের। কিন্তু সারা দেশে যখন বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা, মুক্তিকামী মানুষ যখন এক মুঠো স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রাখছে, কী করে বসে থাকেন অমন টগবগে তরুণ? খেলার চেয়েও যে বড় স্বাধীনভাবে খেলার অধিকার! ব্যাট ফেলে রাইফেল তুলে নিলেন হাতে। ঝাঁপিয়ে পড়লেন যুদ্ধে। কিন্তু যুদ্ধের ইনিংসটা আর শেষ করে যেতে পারলেন না। দিলু রোডে সহযোদ্ধা আজাদের বাসায় আরও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাসহ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেন যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ের এক রাতে। বাকিটুকু কান্নাভেজা ইতিহাস...।
যে ইতিহাসের আরেকটা অংশ শহীদ মুস্তাক। জুয়েলের মতো ক্রিকেটার ছিলেন না, তবে ক্রিকেটারদের আশ্রয়স্থল ছিলেন এই ক্রিকেট সংগঠক। কলকাতার মানুষ হয়েও ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর ঢাকার ক্রিকেটে থেকে যান ছোটখাটো একজন ক্লাব কর্মকর্তা হয়ে। তবে ২৫ মার্চ রাতে ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্যাভিলিয়নে পাকিস্তানি সেনার গুলিতে নিহত হলেন যখন, তত দিনে হয়ে উঠেছিলেন সফল এক সংগঠক। আজাদ বয়েজ ক্লাব প্রতিষ্ঠায় ছিল বড় অবদান। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসানের ভাষায় শহীদ মুস্তাক ছিলেন ক্রিকেটারদের অভিভাবক, ‘আমাকে ক্রিকেটে নামিয়েছিলেন শহীদ মুস্তাকই। আমার ক্রিকেটের প্রথম অভিভাবক ছিলেন তিনি। ক্রিকেটের জন্য উত্সর্গকৃত ছিল তাঁর জীবন।’
শহীদ মুস্তাকের উত্তরসূরি ক্রিকেট সংগঠকেরাই আজকের বিজয় দিবস ক্রিকেটের আয়োজক। তাতে খেলবেন শহীদ জুয়েলের উত্তরসূরি ক্রিকেটাররা। তবে এ ম্যাচ বিজয় দিবস ক্রিকেটের আড়ালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিও। শহীদ জুয়েল একাদশ নামে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটারদের মুখোমুখি হবে শহীদ মুস্তাক একাদশ, যে দলে আইসিএল-ফেরত ক্রিকেটারদের সঙ্গে আছেন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের অনেক খেলোয়াড়ই।
তবে খেলা কিংবা অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির চেয়ে বিজয় দিবস ক্রিকেট বিজয়ের পতাকাটাকেই উঁচিয়ে ধরবে বেশি। এ দিন ঢাকার ক্রিকেট বিজয়ের আনন্দে মেতে ওঠে ক্রিকেটীয় উত্সবে। শহীদ জুয়েল আর শহীদ মুস্তাকের বীরত্বে ১৬ ডিসেম্বর যে ক্রিকেটেরও বিজয়ের দিন!

শুরুর আগে দুই দল পাশাপাশিই

দুই দলই সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ খেলেছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজ দেশের মাটিতে। তবে ইংল্যান্ডের জন্য স্মৃতিটা যতটা মধুর, দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ততটাই তিক্ত। অস্ট্রেলিয়াতে হারিয়ে আসা অ্যাশেজটা পুনরুদ্ধার করেছিল ইংল্যান্ড। আর অস্ট্রেলিয়াতে সিরিজ জিতে আসার গৌরবটা দক্ষিণ আফ্রিকা হারিয়েছিল নিজ দেশের মাটিতে সিরিজ হেরে। তবে আজ সেঞ্চুরিয়নে চার টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে খেলতে নামার সময় একদিক থেকে দুই দলই দাঁড়িয়ে প্রায় এক জায়গায়—অনেক দিন পর টেস্ট ম্যাচ! অ্যাশেজ শেষ হয়েছে আগস্টে, আর দক্ষিণ আফ্রিকা তো খেলেছে আরও আগে, সেই মার্চে।
এই সফরের কথা মাথায় রাখলে অবশ্য একটু হলেও এগিয়ে রাখতে হবে ইংল্যান্ডকে। টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-১-এ ড্র হয়েছে, তবে বৃষ্টিবিঘ্নিত ওয়ানডে সিরিজটা ২-১-এ জিতে নিয়েছে ইংল্যান্ড। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর দুই দলের টেস্ট সিরিজের রেকর্ডে অবশ্য এগিয়ে স্বাগতিকেরা। সাতটি সিরিজের তিনটি জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, দুটি ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের মাটিতে সর্বশেষ সিরিজটা জিতেছে গ্রায়েম স্মিথের দল। সিরিজটা ২-০-তে জিতলে সম্প্রতি হারানো আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর জায়গাটি ফিরে পাওয়া যাবে—দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে এই তথ্য।
স্বাগতিকদের জন্য আরেকটি অনুপ্রেরণা হতে পারেন মাখায়া এনটিনি। আজ দলে থাকলে এটা হবে এই ফাস্ট বোলারের ১০০তম টেস্ট। টেস্ট শুরুর আগে দুই দলেরই মূল চিন্তাও একটাই—দল নির্বাচন। জেমস অ্যান্ডারসন ও রায়ান সাইডবটমকে নিয়ে ভাবনায় আছে ইংল্যান্ড। দুজনই মাত্র ফিরেছেন ইনজুরি থেকে, দুজনকে একসঙ্গে নামানোটা তাই হয়ে যেতে পারে ঝুঁকি। অন্যদিকে পাঁজরের ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা জ্যাক ক্যালিসের খেলা অনেকটাই নিশ্চিত, তবে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে। এখনো বোলিং করার মতো অবস্থায় নেই এই অলরাউন্ডার। সে ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকাকে খেলতে হবে চারজন বোলার নিয়েই।

সাফ ব্যর্থতায় ক্ষমা চাইলেন সালাউদ্দিন

সাফ ফুটবলের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে বিদায়ের ক্ষত এখনো শুকাতে পারেনি বাংলাদেশের দর্শকেরা। উপচেপড়া গ্যালারি থেকে সেদিন আশাভঙ্গের বেদনায় তারা মাঠে ছুড়েছিল পানির বোতল, কলার খোসা। সাফ ফুটবলে হারের জন্য দর্শকদের কাছে কাল ক্ষমা চাইলেন বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ফুটবলপ্রেমী, এটা তো বলার অবকাশ নেই। মাঠে কী পরিমাণ দর্শক এসেছে, সেটা সবাই দেখেছে। তারা খেলা দেখে হয়তো দুঃখ পেয়েছে। কিন্তু এটাই ফুটবল। এখানে হার-জিত তো থাকবেই। তার পরও আমি ওইসব দর্শকের কাছে ক্ষমা চাইছি।’
এই হারে ভবিষ্যতের জন্য একটা শিক্ষাও নিয়েছেন তিনি, ‘আমরা একটা জিনিস তো শিখতে পেরেছি, ফুটবল যদি মাঠে থাকে, তাহলে দর্শকের অভাব হবে না। কিন্তু ভবিষ্যতে যাতে মানসম্পন্ন ফুটবল উপহার দেওয়া যায়, সেটার দিকেও আমাকে খেয়াল রাখতে হবে। খেলার জন্য যা যা দরকার, সেই প্রতিশ্রুতি বাফুফে দেবে।’
ডিডো-পরবর্তী ডামাডোল সামলে শাহীদুর রহমান সান্টুই আছেন আপত্কালীন কোচের দায়িত্বে। আগামী দুটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের (সাফ গেমস ও এশিয়ান চ্যালেঞ্জ কাপ) দায়িত্বেও তিনিই থাকছেন। তাই এখনই নতুন কোনো কোচের কথা চিন্তাভাবনা করছেন না সালাউদ্দিন, ‘এখনই নতুন কোনো কোচের কথা ভাবছি না। আমি ৪-৫ জায়গায় খোঁজ লাগিয়েছি। আমি চাই, মানসম্পন্ন কোচ, যাঁদের অতীতে ভালো কিছু করার রেকর্ড আছে। এমন কোচই আমার দরকার।’

সিলেট বিকেএসপি পাচ্ছে বাফুফে

অবশেষে পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে কাজী সালাউদ্দিনের একাডেমি গড়ার স্বপ্ন। ফুটবলের একটা নিজস্ব একাডেমি বানানোর জন্য বেশ কিছু দিন আগে সরকারের কাছ থেকে সিলেট বিকেএসপি চেয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। কিন্তু সরকার বিকেএসপির আংশিক বরাদ্দ দিতে চাইলে বাফুফে তাতে রাজি হয়নি। ১৩ ডিসেম্বর সাফ ফুটবল ফাইনালের রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট বিকেএসপির পুরোটাই বাফুফের একাডেমি গড়ার জন্য দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
কাল এক সংবাদ সম্মেলনে খুশির সংবাদটা নিজেই জানালেন বাফুফের সভাপতি সালাউদ্দিন, ‘সিলেট বিকেএসপি আমি আগেও চেয়েছিলাম। কিন্তু এটি নিয়ে বেশ কিছু সমস্যা ছিল। প্রধানমন্ত্রী সাফ ফুটবলের ফাইনালের রাতে ক্রীড়ামন্ত্রীকে বলে দিয়েছেন, সিলেট বিকেএসপি বাফুফেকে দিয়ে দেওয়ার জন্য।’
একই সঙ্গে একাডেমি চালানোর জন্য আর্থিক নিশ্চয়তাও মিলেছে ফেডারেশনের। একাডেমির স্পনসর হচ্ছে বেক্সিমকো গ্রুপ। এ জন্য বছরে তিন কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। একাডেমিকে ঘিরে বাফুফে আট বছরের একটা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ জন্য মোট ২৪ কোটি টাকা দেবে বেক্সিমকো।
নেদারল্যান্ডের আয়াক্স আমস্টারডাম একাডেমির আদলে একাডেমিটি গড়ার ইচ্ছে সালাউদ্দিনের। এ জন্য খুব শিগগিরই তিনি আমস্টারডামে গিয়ে সেখানকার একাডেমিটা দেখে আসবেন বলে জানিয়েছেন।
সালাউদ্দিন জানালেন, তাঁর স্বপ্নের কথাও—ফুটবলার তৈরির সুতিকাগার হবে এই একাডেমি। এখানে ২-৩টি গ্রুপে ১২ বছর, ১৫ বছর ও ১৭ বছর বয়সী ছেলেরা প্রশিক্ষণ নেবে। কোনো রকম তদবিরের মাধ্যমে এই একাডেমিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকবে না। তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে এনে সেখান থেকে ট্রায়ালের মাধ্যমে সেরা খেলোয়াড়দের ভর্তি করানো হবে এই একাডেমিতে। সারা দেশে প্রতিভা অন্বেষণের এই কাজটি করবে বাফুফের কোচদের ৭-৮টি দল। এদের বাইরে অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলকেও এই একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।