Saturday, February 13, 2016
ওসমানী জানিয়ে দেন, ভারতের খবরদারি বন্ধ না হলে তিনি পদ ছেড়ে দিবেন
![]() |
| নির্লোভ মহানায়ক আতাউল গনি ওসমানী |
লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদের সদ্য প্রকাশিত ‘ বিএনপি সময়-অসময়’ শীর্ষক বইতে এসব কথা লেখা হয়েছে। এর তথ্য সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বি. জেড খসরুর লেখা বই ‘দ্য বাংলাদেশ মিলিটারি ক্যূ অ্যান্ড সিআইএ লিঙ্ক’। মহিউদ্দিন আহমদ একই সূত্রের বরাতে আরও লিখেছেন, ১২ই জুলাই বসল সেক্টর কমান্ডারদের সভা। প্রধান অতিথি তাজউদ্দীন, প্রধান বক্তা হিসেবে ওসমানীর থাকার কথা। কিন্তু তিনি অনুপস্থিত। বার্তা পাঠালেন তিনি আসতে পারবেন না। সভায় গুঞ্জন উঠল। তাজউদ্দীন চেষ্টা করলেন সবাইকে শান্ত রাখতে; বললেন, ওসমানীর ওপর কমান্ডারদের আস্থার অভাব থাকায় তিনি পদত্যাগ করেছেন। এই কথা শুনে সভায় হইচই হলো। কেউ কেউ জানতে চাইলেন, এই খবরের সূত্র কি তা প্রধানমন্ত্রীকে বলতে হবে।
কমান্ডারদের মধ্যে মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর এম এ জলিল, মেজর খালেদ মোশাররফ এবং উইং কমান্ডার খাদেমুল বাশার উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই ওসমানীর সঙ্গে দেখা করে তাকে সেনাপতির দায়িত্ব পালন করে যেতে বললেন। ওসমানী পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে নিতে রাজি হন। কমান্ডাররা এরপর সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীনের কাছে যান এবং ওসমানীর পদত্যাগের কথিত কারণের সূত্র প্রকাশ করার জন্য তাজউদ্দীনকে চাপ দেন। তাজউদ্দীন বলেন, তিনি নিজস্ব সূত্রে এটা জেনেছেন যে কোনো কোনো কমান্ডার ওসমানীর ওপর খুশি নন। জিয়াউর রহমান তখন বলেন, ওসমানীর ওপর তাদের পুরোপুরি আস্থা আছে এবং এই পদে কোন পরিবর্তন আনা হলে তাদের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
তাজউদ্দীন জিয়ার প্রস্তাব মেনে নেন। সভায় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম চুপচাপ বসে ছিলেন। তাজউদ্দীন তার কথা রেখেছিলেন। ওসমানী পরদিন তার পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নেন এবং সেক্টর কমান্ডারদের সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।
সেক্টর কমান্ডার সফিউল্লাহর মতে, জিয়া ওসমানীর অব্যাহতি চেয়েছিলেন। কেননা ওসমানীকে জিয়া একজন দুর্বল নেতা মনে করতেন। জিয়া চেয়েছিলেন একটা সামরিক পরিষদ যুদ্ধ পরিচালনা করুক। সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ ছিলেন ওসমানীর পক্ষে। খালেদ সম্মেলনে বলেছিলেন, কেউ যদি ওসমানীকে সরাতে চায় তাকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বাধা দেয়া হবে।
ডালিমের বর্ণনায় জানা যায়, তিনি ও নূর ওই সময় থেকেই সমমনা কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতে শুরু করেন। মুক্তিযুদ্ধে ‘ভারতের খবরদারি’ নিয়ে তাদের মাথাব্যথা ছিল এবং তারা এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পুলিশ হতে ১০ লাখ ও স্কুল শিক্ষক হতে ৫ লাখ টাকা লাগে -হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা! by মেরি দাইয়েফস্কি
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে দেওয়া এক বক্তৃতায় অ্যাশ কার্টার বলেছেন, ‘রাশিয়ার আগ্রাসন’ ঠেকাতে ইউরোপে অবস্থানরত মার্কিন সেনাবাহিনীর ব্যয় তিন গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করবেন তিনি। অন্যদিকে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ব্যয়ও ৫০ শতাংশ বাড়াতে হবে। এই বার্তা দ্ব্যর্থহীন, তবে পেন্টাগনের পরিপ্রেক্ষিতে চিন্তা করলে দেখা যাবে, আইএসের চেয়ে রাশিয়াই এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এটা যদি পেন্টাগনের চিন্তা হয়ে থাকে, তাহলে বারাক ওবামার নীতি বদলে গেছে বলতে হবে, যেটা তাঁর শাসনামলজুড়ে একরকম ধারাবাহিকই ছিল। এমনকি তিনি নির্বাচিত হওয়ার আগেই ইউরোপের অনেক মহল বলতে শুরু করেছিল, তিনি প্রকৃত অর্থেই স্নায়ুযুদ্ধোত্তর কালের প্রথম প্রেসিডেন্ট হবেন। তাঁর বয়স খুব বেশি না হওয়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি তাঁর নেই, ফলে তিনি দৃষ্টিভঙ্গিতে আটলান্টিকবাদী না হয়ে অধিকতর বৈশ্বিক হবেন।
ক্ষমতায় আসার পরের দিন থেকেই ওবামাকে মনে হয়েছে, তিনি ইউরোপ ছাড়া আর সব ব্যাপারে আগ্রহী। তিনি প্রেসিডেন্টের কাজই শুরু করেছিলেন কায়রোতে মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে, যদিও আরব বসন্ত ও তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের কারণে তাঁর সেই উদ্যোগ ব্যাহত হয়েছিল, যেটা আবার গত বছর ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করার মধ্য দিয়ে অংশত পুনরুদ্ধার হয়েছে। চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের ব্যাপারটি আমলে নেওয়া ছাড়া তাঁর আর উপায় ছিল না, আর কিউবার সঙ্গেও অর্ধশতকের বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটিয়েছেন তিনি। কিন্তু তিনি মূলত ইউরোপকে নিজের মতো করেই চলতে দিচ্ছেন। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যখন লিবিয়ায় হস্তক্ষেপ করল, তখন যুক্তরাষ্ট্র ‘পেছন থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল’। গত বছর আমাদের জানানো হলো, ইউরোপে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের বড় অংশই প্রত্যাহার করা হবে।
সে রকম মনোভঙ্গি অযৌক্তিক ছিল না। তুলনামূলকভাবে ইউরোপ শান্তিতেই ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একরকম ধীরেসুস্থে চলছিল, যদিও মাঝখানে গ্রিস ও ইউরো সংকটে তারা কিছুটা পিছপা হয়েছিল। এমনকি ইউক্রেনের সংকটের শুরুর দিকে ওয়াশিংটন বিষয়টিকে স্থানীয় ব্যাপার হিসেবেই বিবেচনা করেছে, সেটাকে স্নায়ুযুদ্ধ মনে করেনি। সে সময় কিয়েভের মরিয়া আবেদন সত্ত্বেও ওবামা ওই দ্বন্দ্ব থেকে একরকম দূরেই ছিলেন। এমনকি কংগ্রেস সেখানে অস্ত্র পাঠানোর জন্য চাপাচাপি করলেও ওবামা প্রজ্ঞার সঙ্গেই তা নাকচ করেছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন, এটা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নয়।
প্রেসিডেন্টের জমানার শেষের দিকে এসে ওবামা সেই দূরত্ব আর বজায় রাখতে পারছেন না। ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দ করেছেন তিনি, পোল্যান্ড ও বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোতে নতুন ঘাঁটি নির্মাণ ও অস্ত্র মজুত করার জন্য এ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় ন্যাটো সেনাদের অধিকতর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, আরও কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হবে।
হতে পারে যে এ বছরের জুলাইয়ে ওয়ারশতে ন্যাটোর সম্মেলনের আগে এই অতিরিক্ত ব্যয় ও যন্ত্রপাতি কেনার ব্যাপারটা ‘সম্মুখসারির’ ইউরোপীয় দেশগুলোকে সাময়িকভাবে খুশি করার কৌশল, যারপর তার কথা সবাই নীরবে ভুলে যাবে। সেটা যদি সত্যও হয়, তাহলে সময় নির্বাচনও খুব একটা খারাপ হয়নি বলতে হয়। ফলে ইউরোপের ভবিষ্যতের প্রসঙ্গটা আবারও সামনে চলে এল।
এভাবে ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে বৈরিতার বার্তা দিচ্ছে, যেটার তেমন একটা দরকার ছিল না। রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করেছে প্রায় দুই বছর হলো, আর এমএইচ ১৭ ভূপাতিত হওয়ার পরও ১৮ মাস পেরিয়ে গেল। পূর্ব ইউক্রেনের যুদ্ধও কিছুটা থিতিয়ে এসেছে, আর সম্প্রতি রাশিয়া কিয়েভবিরোধী বিদ্রোহীদের যুদ্ধোপকরণ দিয়ে সহায়তা করেছে, এমন প্রমাণও নেই। অন্তত এ সম্ভাবনা আছে যে মিনস্ক-২ চুক্তিকে সম্মান জানিয়ে ইউক্রেন অখণ্ড থাকবে, যদিও কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে।
ওদিকে রাশিয়া সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে, তারা সেখানে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালু হতেও সহায়তা করেছে, আর নীতিগতভাবে এটাও মেনে নিয়েছে যে সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে সরে যেতে হবে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হলে মস্কোর ধারাবাহিক সমর্থন থাকাও জরুরি। ২০০৯ সালের দুর্ভাগা ‘পুনর্বিন্যাসের’ পর রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমের সম্পর্কোন্নয়নের প্রথম প্রকৃত সম্ভাবনা মনে হচ্ছে শুরুর আগেই শেষ হয়ে গেছে।
আরও খারাপ ব্যাপার হচ্ছে, নতুন ব্যয়ের ক্ষেত্র হিসেবে পোল্যান্ড ও ‘নতুন’ ন্যাটো রাষ্ট্রগুলোকে চিহ্নিত করে যুক্তরাষ্ট্র আরও দুটি বার্তা দিচ্ছে, যাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আছে। প্রথমটি হচ্ছে ওয়াশিংটন এসব রাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রত্যক্ষ দায়িত্ব নিতে রাজি। এর ফলে ওই দেশগুলো নিজেদের শক্তিশালী প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সুযোগ তো পাবেই না, এতে রাশিয়ার নিজের নিরাপত্তাহীনতার বোধও তীব্র হবে। সর্বোপরি, তাদের মধ্যে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হবে। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতাও যে নতুন করে শুরু হবে না, সেটাও তো বলা যায় না।
দ্বিতীয় ব্যাপার হচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলো এর মধ্য দিয়ে স্বনির্ভর হওয়ার পথ থেকে সরে আসবে, যেটা একসময় তাদের অবশ্যই হতে হবে। ওবামার নিরাসক্তির ফলাফল কেবলই অনুভূত হতে শুরু করেছিল। কথা হচ্ছে, ইউরোপকে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে, ব্যয় বাড়াতে হবে, রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা নিয়ে আন্তরিকভাবে কথা বলতে হবে, আর সাধারণভাবে তাদের বড়র মতো আচরণ করতে হবে—মনে হচ্ছে, এই ব্যাপারগুলো ব্রাসেলস থেকে শুরু করে অন্য ইউরোপীয় রাজধানীগুলো শেষমেশ বুঝতে শুরু করেছে। এবার তারা নিজেদের পুরোনো বিভাজন সৃষ্টিকারী ও শিথিল পন্থায় ফিরতে পারবে, তাদের মনে এই আত্মবিশ্বাস থাকবে যে ওবামার পর যিনিই মার্কিন প্রেসিডেন্ট হোন না কেন, তাঁর ওবামার চেয়ে কম আটলান্টিকবাদী হওয়ার সম্ভাবনা কম, যিনি শেষবারের মতো হলেও তাদের অন্তত আর একবার বাঁচিয়ে দেবেন।
মেরি দাইয়েফস্কি: লেখক ও সাংবাদিক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দমিত মানুষের শক্তির খোঁজে by আনু মুহাম্মদ
![]() |
| আখতারুজ্জামান ইলিয়াস: অসাধারণ শিল্পস্রষ্টা |
ইলিয়াস ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আগে থেকেই তাঁর সৃষ্টির সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। ১৯৮৪ সাল থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ অনেক ঘনিষ্ঠ হয় একই সংগঠনে একসঙ্গে কাজ করার সূত্রে। সেই সময় দেড় দশক ধরে যে কয়েক দফা আমি ‘বাঙলাদেশ লেখক শিবির’ নামে লেখক শিল্পী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, তার পুরো সময়টাতেই ইলিয়াস ভাই খুবই সক্রিয়ভাবে সঙ্গে ছিলেন—ছিলেন তারপরও। বদরুদ্দীন উমরের পর ১৯৮৬ তে আমাদের অনুরোধে কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক সুদূর রাজশাহী থেকেও সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, এটা ইলিয়াস ভাইয়ের জন্য পরম স্বস্তির ব্যাপার ছিল। তিনি হাসান ভাইকে কখনো ছাড়তে রাজি ছিলেন না। আর ইলিয়াস তখন থেকেই সহসভাপতি। আরেকজন সহসভাপতি ছিলেন চট্টগ্রাম থেকে অধ্যাপক আসহাবউদ্দীন আহমদ। এই সময়কালে এঁদের সঙ্গে আলোচনা, পাঠ, বিতর্ক, পথসন্ধান, অনুষ্ঠান, সাংগঠনিক কাজ, আড্ডা, বিভিন্ন অঞ্চল সফর, কী যে আনন্দ আর সমৃদ্ধির সময়—তা মনে করলে ইলিয়াসের অভাবের কষ্টই বাড়ে।
তৃণমূল সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হলো ১৯৯২ সালে। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসই ছিলেন সম্পাদক। যেমন আলোচনা, লেখা, শিক্ষকতা তেমনি সম্পাদনা—সব জায়গায় ইলিয়াস একই রকম আনন্দ আর গভীর নিষ্ঠা ও শ্রম দিয়ে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে, পুরো দায়দায়িত্ব নিয়ে পরম মমতায় সব কাজ করতেন। সেই তৃণমূল-এর চতুর্থ সংখ্যা ছিল আয়তনে বৃহত্তম, কিন্তু তা প্রকাশিত হয়েছিল ‘আখতারুজ্জামান ইলিয়াস’ সংখ্যা হিসেবে। আমাকেই সেই সংখ্যা সম্পাদনা করতে হয়েছিল!
ইলিয়াসের চিলেকোঠার সেপাই বহুদিন পর আমার আঠার মতো লেগে থেকে পড়া উপন্যাস। আমি ‘সাহিত্যের মানুষ’ নই। সাহিত্য সমালোচনার এখতিয়ার নিয়ে দ্বিধান্বিত থাকলেও এই উপন্যাসটি পাঠের পর এটা নিয়ে লেখার তীব্র তাগিদ অনুভব করেছিলাম। সেই তাগিদ থেকেই একটি দীর্ঘ পর্যালোচনা হিসেবে যা লিখেছিলাম, তা আসলে এই গ্রন্থ পাঠে আমার নিজের উপলব্ধি ও প্রতিক্রিয়া। আমার লেখার কথা ইলিয়াস জানতেন না, একেবারে ছাপা অবস্থায় দেখেছিলেন। মহাশ্বেতা দেবী চিলেকোঠার সেপাই বিষয়ে পরে লিখেছেন, ‘...এ এক নতুন বাংলা ভাষা, শহরের ধুলো-কাদা-মবিল-আবর্জনা-হঠাৎ ধনীর বর্বর অসভ্যতা আস্তাকুঁড়ের মানুষদের বারুদ হয়ে ওঠার ভাষা। শহরের নিচুতলার সমাজের মানুষের বাংলা ভাষা এমন ইজ্জত পায়নি সাহিত্যে। যেমন দেখার চোখ, তেমনি স্বচ্ছ ও কঠিন রাজনীতিক বিশ্বাস, তেমনি ধারালো হিউমার।’ (তৃণমূল, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস সংখ্যা, জানুয়ারি ১৯৯৮) এরপর খোয়াবনামা নিয়েও একই রকম কিংবা আরও তীব্র তাগিদ থেকে লিখেছিলাম। খোয়াবনামা যখন পড়েছি ও তা নিয়ে যখন লিখছি তখন ইলিয়াস কমিউনিটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
লেখায় ও জীবনে সব ধরনের মানুষই ছিল ইলিয়াসের মনোযোগের ক্ষেত্র। সব মানুষই বাস করে একই শারীরতাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যে। কিন্তু সামাজিক, ঐতিহাসিক কারণে এর মধ্যেই ঘটে বহু বিভাজন: শ্রেণি, লিঙ্গ, জাতপাত, জাতি, ভাষা, ধর্ম, বর্ণ...। বৈচিত্র্য অস্বীকৃত হয়, মহিমান্বিত হয় বৈষম্য। সম্পত্তির ব্যক্তি মালিকানা, বৈষয়িক লোভ, দখল, ক্ষমতা সর্বোপরি মানুষ ও প্রকৃতি বিদ্বেষী মতাদর্শ একই চেহারার মানুষের মধ্যে যোজন যোজন ফারাক তৈরি করে। কেউ কেউ শাসন, দখল, বিত্ত আর নির্মমতায় অমানুষ হয়; বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তার জগৎ থেকে উৎপাটিত হয়, বঞ্চিত, প্রতারিত হয়ে দলিত আর দমিত থাকে। নিপীড়নের নানা ব্যবস্থা বৈধতা দিতে গড়ে ওঠে রাষ্ট্রের নানা প্রতিষ্ঠান, আইনকানুন, সাহিত্য-সংস্কৃতি। ইলিয়াস তাঁর শিল্পসৃষ্টিতে এই বৈপরীত্য অনুসন্ধান করেন নিজে নির্মোহ থেকে, সন্ধান করেন মানুষের ভেতর মানুষকে।
নিজ গণ্ডির মধ্যবিত্ত ব্যক্তি অনুসন্ধান করতে গিয়ে ইলিয়াসের লেখক ও চিন্তা জীবনের শুরু। কিন্তু তার মধ্য দিয়েই তিনি এই জগতের বন্দিশালা অতিক্রম করেছেন। পরিবর্তিত হয়েছে তাঁর ইতিহাস-জীবন-দর্শন সম্পর্কিত চিন্তার কাঠামো। মধ্যবিত্তের আত্মপ্রবঞ্চনায় ভরা চরিত্র বিশ্লেষণ করেছেন তিনি, কিন্তু তাঁর মধ্যে আটকে থাকেনি। দৃষ্টি ও চিন্তাশক্তি প্রসারিত হয়েছে, সমাজের জালের মুখোমুখি হয়েছেন, ইতিহাস তাঁকে খুলে দিয়েছে অজানা জগৎ। মানুষের মধ্যে দেখেছেন বহু মানুষ, সন্ধান পেয়েছেন মানুষের অসীম শক্তি ও সৃজনশীলতার বিশাল সমুদ্র।
চিলেকোঠার সেপাই উপন্যাসে কৃষককর্মী চেংটু নিহত হয়, মিছিল সভা সমাবেশ দখল হয়ে যায়, হাড্ডি খিজির বুকে গুলি খায়। কিন্তু এখানেই তো জগৎ শেষ হয় না। চেংটু, খিজির থেকে যায় কোথাও না কোথাও। খোয়াবনামায় ব্রিটিশদের হাতে গুলি খাওয়া মুন্সী যেভাবে পাকুড়গাছে গিয়ে বসে, তার মরণ হয় না। তেভাগা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় কিন্তু তমিজ তার ডাকেই অনির্দিষ্ট পথে পা বাড়ায়। ভবিষ্যতের দায়িত্ব নিয়ে শক্ত মাটির ওপর দাঁড়ায় তমিজ-ফুলজানের মেয়ে সখিনা। সামরিক শাসন ভেঙে বুকে গুলি নিয়ে হাড্ডি খিজির যখন রাস্তায়, তখন দেখা-অদেখা অসংখ্য মানুষের মিছিল মুক্তির এক প্রবল মানবিক স্রোত তৈরি করে।
বহু রকম শৃঙ্খলের মধ্যেও অতীত থেকে ভবিষ্যতে প্রবাহিত মানুষের চৈতন্য অনুসন্ধান করতে করতেই ইলিয়াস নতুন নতুন প্রান্তরে হাজির হচ্ছিলেন। এভাবেই বাস্তবতার ভেতর পরাবাস্তব, চেতনের মধ্যে অচেতন, জাগরণের মধ্যে স্বপ্ন, বর্তমানের ভেতর অতীত মানুষকে এক থেকে অসংখ্য রূপে হাজির করতে থাকেন তাঁর লেখায়।
প্রকৃতপক্ষে অতীত থেকে ভবিষ্যতে প্রবাহিত মানুষের অন্তর্গত শক্তির সন্ধান এবং তাঁকে পুষ্ট করাই ইলিয়াসের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই অনুসন্ধানে তিনি একজন অসাধারণ শিল্পস্রষ্টাই কেবল নন, একই সঙ্গে একজন বিপ্লবী তাত্ত্বিকও বটে।
আনু মুহাম্মদ: অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
anu@juniv.edu/anujuniv@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পুলিশ কোনো দলের বাহিনী হতে পারে না: ড. কামাল
ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘পুলিশকে দলীয়ভাবে অপব্যবহার করা যাবে না। পুলিশ কোনো দলের বাহিনী হতে পারে না। আপনারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে এটা সবাইকে বোঝাবেন।’
পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আজকে পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পুলিশ তো আমাদের এই দেশেরই ছেলে। এই দেশের ছেলে এইভাবে মানসিকভাবে রুগ্ণ হবে? তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাহলে এটা সত্য। তারা আমাদের দেশের ছেলে। পুলিশ আমাদের শত্রু না। তারা যেভাবে রুগ্ণ হচ্ছে, সেই রোগ থেকে তাদের মুক্ত করতে হবে।’
কামাল হোসেন বলেন, ‘পুলিশ চাই, আইনের শাসনের জন্যই পুলিশ চাই। কিন্তু সেই পুলিশ এইভাবে মানুষকে ধরে বলবে—এটা আমার দাবি, এটা মানতে হবে। তারা হাতেনাতে ধরা পড়েছে। এটা কিসের আলামত? রোগের আলামত। যদি বলি, পুলিশের দরকার নেই। এটা একদম না। পুলিশকে রোগমুক্ত করো। প্রশাসনকে রোগমুক্ত করো, দুর্নীতিমুক্ত করো। বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে, নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।’
এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে, জনগণ ক্ষমতার মালিক। মালিককে মালিকের ভূমিকা রাখতে হবে। অনেক সময় মালিকের ভূমিকা রাখতে কিছুটা ঝুঁকিও নিতে হয়। মানুষ শান্তি চায়, স্থিতিশীলতা চায়, সুশাসন চায়, আইনের শাসন চায়। স্বাধীন দেশে দলীয় সরকার, দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে কাজ করবে—এটা কিন্তু সংবিধানপরিপন্থী। দলীয় সরকার থাকবে, কিন্তু তাতে সংবিধান মেনে ক্ষমতা পালন করতে হবে।’ জঙ্গিবাদ কোনো ধর্মের শিক্ষা হতে পারে না। যারা এগুলো করে, তাদের অসুস্থ বলেও মন্তব্য করেন বিশিষ্ট এই আইনজীবী।
দলের নেতাদের উদ্দেশে কামাল হোসেন বলেন, ‘চাঁদাবাজির জন্য রাজনীতি, দখল করার জন্য রাজনীতি কোনো রাজনীতি নয়। এটা হলো রুগ্ণ রাজনীতি। মানে এটা একটা গুরুতর রোগ। এটাতে কারও দ্বিমত থাকতে পারে যে, নানা সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে হবে। এটাই এখনকার রাজনীতি। এটা না করলে তো রাজনীতি হয় না। ঠিক আছে করেন। কিন্তু গণফোরাম সেই রাজনীতি মরে গেলেও করবে না। আপনাদের সবাই আমাকে ছেড়ে গেলেও বলব না, রুগ্ণ রাজনীতি করেন।’
বর্ধিত সভায় গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীনসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও জেলা থেকে আসা নেতারা অংশ নেন। বর্ধিত সভায় গণফোরামকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে আগামী দিনের করণীয় বিষয়ে নেতারা তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিপন্ন মানুষের বন্ধু by এ এইচ এম বজলুর রহমান
সরকার ইতিমধ্যে ২৮টি প্রাইভেট এফএম এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিও এফএম অনুমোদন দিয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ বেতার ১২টি আঞ্চলিক বেতারকেন্দ্র এবং ৩৫টি এফএম পরিচালনা করছে।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা তথা সাধারণ মানুষকে অপরিসীম শক্তি ও সাহস জুগিয়েছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। আজও সেই স্মৃতি আমাদের নাড়া দেয়। শুধু মুক্তিযুদ্ধ নয়, স্বাধীনতার পর দেশের উন্নয়নেও শক্তিশালী বাহন হিসেবে স্বীকৃত। গুটিবসন্ত প্রতিরোধ, ম্যালেরিয়ামুক্ত অভিযান, জন্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিবার পরিকল্পনা, জাতীয় টিকাদান, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, গণসাক্ষরতা, কৃষি উন্নয়ন, ডায়রিয়া প্রতিরোধ, শিশু ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারী পাচার রোধ, এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ, মাদকাসক্তি রোধে রেডিও কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে এখনো মানুষ বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকার অনুষ্ঠান শোনার জন্য উদ্গ্রীব থাকে।
রেডিও এখন শাখা-প্রশাখায় অনেক বিস্তৃত। মূলত চারটি ধারায় রেডিও সম্প্রচার করে থাকে, যথা: পাবলিক সার্ভিস, আন্তর্জাতিক রেডিও, বাণিজ্যিক রেডিও এবং কমিউনিটি রেডিও।
পাবলিক সার্ভিস ব্রডকাস্টিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ বেতার যেমন অনুষ্ঠান ও খবর সম্প্রচার করছে; তেমনি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস, ভয়েস অব আমেরিকা, এন এইচ কে, রেডিও তেহরান, রেডিও চায়না ও অন্যান্য বিদেশি মাধ্যমেও বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে পারছি। আবার দেশে সাম্প্রতিক কালে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সম্প্রচার করছে শহরভিত্তিক বেসরকারি এফএম রেডিও। সব মিলিয়ে রেডিওর প্রচার দিনে দিনে প্রসারিত হচ্ছে।
পাবলিক রেডিও, আন্তর্জাতিক রেডিও কিংবা বাণিজ্যিক রেডিও যেভাবে সম্প্রচার করে, তাতে সমাজের সব মানুষ সুষমভাবে প্রচারের সুযোগ পায় না। এসব রেডিও প্রকৃতিগতভাবে শহরকেন্দ্রিক ও মুনাফানির্ভর। গ্রামীণ মানুষের কথা তারা তেমন প্রচার করে না। এতে গড়ে ওঠে কেন্দ্র ও প্রান্তের মধ্যে তথ্য বিভাজন; যা জাতীয় উন্নয়নের অন্তরায়। এ বাস্তবতা মাথায় রেখে সারা বিশ্বে কমিউনিটি রেডিওর ধারণা বিকশিত হয়।
কমিউনিটি রেডিও হচ্ছে কমিউনিটিভিত্তিক রেডিও। এখানে সাধারণভাবে সীমিত প্রযুক্তিগত স্থাপনার মাধ্যমে অল্পসংখ্যক মানুষ কাজ করে। ভৌগোলিকভাবে এর প্রচার এলাকা ছোট। হতে পারে একটি গ্রাম বা শহরতলি। সম্প্রচারে এফএম ট্রান্সমিটার ব্যবহৃত হয়। অলাভজনকভাবে পরিচালিত এ রেডিওতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। শুধু জানা নয়, নিজেকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে কমিউনিটি রেডিও সমাজের প্রান্তীয় মানুষকে জায়গা করে দেয়। স্থানীয় সমস্যার কথা জানানোর পাশাপাশি সমাধানের পথও দেখায় কমিউনিটি রেডিও।
বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) ২০০০ থেকে বাংলাদেশে গ্রামীণ জনপদে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর মধ্যে উন্নয়নমূলক তথ্য ও জ্ঞানবিনিময়ের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি সেবা তথ্যসমূহসহ জীবনঘনিষ্ঠ তথ্য জনগণের মাঝে সহজবোধ্য ভাষায় প্রচারের লক্ষ্যে কমিউনিটি রেডিও চালু করার জন্য সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করেছে।
তারই ধারাবাহিকতায় তথ্য মন্ত্রণালয় কমিউনিটি রেডিও স্থাপন, সম্প্রচার ও পরিচালনা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র বাংলাদেশে কমিউনিটি রেডিওবিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণীত হয়েছে। বর্তমানে চলমান ১৬টি কমিউনিটি রেডিও প্রতিদিন ১২৫ ঘণ্টার বেশি সময় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। এক হাজার জন যুব নারী ও যুবকের অংশগ্রহণে নতুন ধারার এ গণমাধ্যমটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ১৪টি জেলায় সর্বমোট ৬৮টি উপজেলার বর্তমানে প্রায় ৫৫ লাখ জনগোষ্ঠী কমিউনিটি রেডিওর সুবিধা ভোগ করছে।
কমিউনিটি রেডিও স্টেশন পর্যায়ে সর্বমোট পাঁচ হাজারটি শ্রোতাক্লাব শ্রোতাদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। প্রথমবারের মতো স্থাপিত কমিউনিটি রেডিওগুলোর অর্জন ইতিমধ্যে সব মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আরও ১৬টি কমিউনিটি রেডিও অনুমোদন পেয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী ডিসেম্বর ২০১৬ সালের মধ্যে ওই ১৬টি কমিউনিটি রেডিও সম্প্রচারের কাজ শুরু করবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কমিউনিটি রেডিওগুলোর মূল প্রভাব হলো জনগণের দোরগোড়ায় স্থাপিত এই গণমাধ্যম দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজেদের কথা সরাসরিভাবে বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তৈরি হয়েছে কণ্ঠহীনদের কণ্ঠস্বর সোচ্চার হওয়া ও শোনার সুযোগ। এই নয়া গণমাধ্যম সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং পরিবেশের ক্ষেত্রে পল্লি অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে তথ্য এবং যোগাযোগের অধিকার এনে দিয়েছে। সুশাসন নিশ্চিতকরণে জনপ্রতিনিধি, সরকারি এবং বেসরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জনসাধারণের সংলাপ আদান-প্রদানের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রধান খাতগুলোর সঙ্গে জনসাধারণের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
দুর্যোগকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সংঘটিত হওয়ার আগে, পরে ও দুর্যোগকালীন রেডিও একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম। জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়াদান অধিকতর স্বচ্ছ ও সহজতর হতে পারে, যখন থাকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকেরা নিরাপদ পরিবেশে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। রেডিও দুর্যোগে বেঁচে যাওয়া ও এমনকি আশ্রয়শিবিরে অবস্থানকারী বিপদাপন্ন ব্যক্তিদের মর্যাদা জুগিয়ে সহায়তা করে।
সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ এবং কমেনের সময় উপকূলীয় অঞ্চলে স্থাপিত কমিউনিটি রেডিওগুলোর ভূমিকা সব মহলে প্রশংসিত হয়। বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ঘূর্ণিঝড়ের সর্বশেষ খবর জানার ক্ষেত্রে উপকূলের মানুষের প্রধান উৎস ছিল কমিউনিটি রেডিও।
দুর্যোগ ও জরুরি অবস্থায় আঘাতপূর্ব, আঘাতকালীন ও দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ের জন্য রেডিও খুবই শক্তিশালী। রেডিও শ্রোতাদের সক্ষম করে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ জনসাধারণকে সুরক্ষা দিতে মানবাধিকার ও উদ্ধারকর্মীদের এগিয়ে আসতে উদ্যমী করে তোলে।
দুর্যোগ ও কোনো জরুরি অবস্থায় রেডিওর ভূমিকা খুবই শক্তিশালী। সম্ভব দ্রুত সময়ের মধ্যে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে সচেতন করতে রেডিওর সক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে এ ক্ষেত্রে সামাজিক গণমাধ্যমেরও সক্ষমতা রয়েছে, তবে সামাজিক গণমাধ্যমগুলো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য রেডিওর সঙ্গে সংযুক্ত হলে এর প্রভাব আরও বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে।
এ মুহূর্তে আরও অন্তত ৫০-৬০টি কমিউনিটি রেডিওর অনুমোদন প্রদান করলে সুবিধাবঞ্চিত তথা মিডিয়া ডার্ক এলাকাগুলো কমিউনিটি রেডিওর আওতায় আসবে।
এতে কণ্ঠস্বর ভেসে উঠবে দেশের প্রান্তীয় মানুষের। সবাই সুযোগ পাবে তার কথা নিজের মতো করে বলার। সব জনগোষ্ঠীর ভাবনা জানতে পারবেন দেশের নীতিনির্ধারকেরা। স্থানীয় সরকারি এবং বেসরকারি কর্তৃপক্ষ সরাসরি জানবে তাদের উদ্দিষ্ট মানুষের চাওয়া-পাওয়া।
এ এইচ এম বজলুর রহমান: বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হিলারি ও স্যান্ডার্স সমানে সমান by হাসান ফেরদৌস
তাঁদের বিতর্কের একটি প্রধান বিষয় ছিল, যে পরিবর্তনের কথা এই দুই ডেমোক্রেটিক প্রার্থী বলছেন, তা বাস্তবায়নে সরকারের কী ভূমিকা হবে। প্রেসিডেন্ট স্যান্ডার্সের অধীনে ফেডারেল সরকারের আয়তন ঠিক কী পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে, বিতর্কের সঞ্চালকের এই প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেওয়ার বদলে স্যান্ডার্স দেশের নাগরিকদের পর্যাপ্ত জীবনমান, বিশেষত স্বাস্থ্য পরিচর্যা নিশ্চিত করা, যেকোনো গণতান্ত্রিক সরকারের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন। হিলারি জানান, তাঁর হিসাবমতে, স্যান্ডার্সের প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকারের আয়তন ৪০ শতাংশ বাড়বে। মানুষের ঘাড়ে নতুন করের বোঝা পড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য খাতে সম্ভাব্য ব্যয়ের ব্যাপারে সিনেটর স্যান্ডার্স মোটেই স্বচ্ছ নন। দেশের মানুষের জীবন যেখানে জড়িত, সেখানে স্যান্ডার্সের উচিত সত্যি কথাটা বলা।
হিলারি আগাগোড়া বলে এসেছেন, স্যান্ডার্স যে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা বলছেন, তার প্রতি তিনি সহানুভূতিশীল, কিন্তু তাঁর প্রস্তাব মোটেই বাস্তবসম্মত নয়।
বিতর্কের দ্বিতীয় পর্যায়ে বৈদেশিক নীতি প্রশ্নে উভয় প্রার্থী তাঁদের ভিন্নতা তুলে ধরার চেষ্টা করেন। এ ক্ষেত্রে হিলারির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, তত্ত্ব-তথ্য তাঁর নখদর্পণে। তা সত্ত্বেও স্যান্ডার্স কঠোর ভাষায় হিলারিকে আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি সমর্থন করায় সমালোচনা করেন। স্যান্ডার্স মনে করিয়ে দেন, ইরাক যুদ্ধের প্রশ্নে হিলারি ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট দিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন সেই যুদ্ধের বিপক্ষে। লিবিয়ায় গাদ্দাফি সরকার পরিবর্তনে হিলারি নেতৃত্ব দেন, যদিও গাদ্দাফির প্রস্থানের পর যে শূন্যতার সৃষ্টি হবে, সে কথাটা তিনি মাথায় রাখেননি। হিলারি বহু অভিজ্ঞ, এ কথা মেনে নিয়ে স্যান্ডার্স বলেন, অভিজ্ঞতাই যথেষ্ট নয়। কার বিচারবুদ্ধি কেমন, সেটাও বিবেচনায় রাখা দরকার। হিলারি হেনরি কিসিঞ্জারকে নিজের উপদেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার সমালোচনা করে স্যান্ডার্স বলেন, এই সেই লোক, যাঁর জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যুদ্ধ ও গণহত্যা হয়েছে, যাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন দেশে সরকারের পতন ঘটেছে।
‘কিসিঞ্জারের মতো লোক আমার পরামর্শদাতা নন,’ ঈষৎ হাসিতে বলেন স্যান্ডার্স।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পিটারসেনের পুনর্জন্ম বাংলাদেশেই
তবে সতীর্থের পাশে এসে দাঁড়ালেন পল কলিংউড, ‘বিশ্বে আমরাই একমাত্র দল যাদের বছরজুড়ে খেলতে হচ্ছে। অন্যরা কিন্তু ঠিকই ছুটি পেয়েছে। চাপটার সঙ্গে ফুটবল দলের কোচের চাপ তুলনা করা যায়। স্ট্রাউসি আর দলের নীতিনির্ধারকদের তাই মনে হয়েছে, ওকে খানিকটা বিশ্রাম দেওয়ার এটাই সঠিক সময়।’
অ্যাশেজকে ভাবনায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কলিংউডের মন্তব্য, ওয়ার্ন সেটা বুঝছেন বলেই তাঁর গা-জ্বলুনি, ‘অধিনায়ক যদি তরতাজা হয়ে ফিরে এসে অ্যাশেজে বড় স্কোর করে, তাহলে সেটা তো দুর্দান্ত হবে। এটা আসলে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা থেকেই করা। আমাদের দলে দুর্দান্ত সব খেলোয়াড় আছে। স্ট্রাউসি না থাকলেও দলের মূল লক্ষ্য একই থাকবে।’
অন্য খেলোয়াড়দের মধ্যে সিনিয়র হিসেবে কেভিন পিটারসেন সামনে থেকে পথ দেখাবেন বলে আশা কলিংউডের। ফর্মের সঙ্গে যুঝতে থাকা পিটারসেনের বাংলাদেশে পুনর্জন্ম হবে বলেই প্রত্যাশা তাঁর।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া
এই বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন সিরিয়ার অবরুদ্ধ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেবার বিষয়েও তারা সম্মত হয়েছে।
সে সংবাদ সম্মেলনে মি: কেরির পাশে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ এবং সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত।
মি: কেরি বলেছেন এই যুদ্ধবিরতি ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং আল-নুসরা ফ্রন্টের জন্য কার্যকরী হবে না। তিনি বলেন এই যুদ্ধবিরতির বিষয়টি বেশ কঠিন হতে পারে। কারণ এই উদ্যোগকে সবগুলো পক্ষ কতটা সম্মান করবে তার উপর সফলতা নির্ভর করবে।
অবরুদ্ধ এলাকাগুলোতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেবার জন্য জাতিসংঘের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।
মি: কেরি এবং মি: ল্যাভরভ মনে করেন সিরিয়ার সরকার এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে অতিদ্রুত শান্তি আলোচনা শুরু করা উচিত।
এই যুদ্ধবিরতির বিষয়ে বৃহৎ শক্তিগুলো এমন এক সময়ে সম্মত হলো যখন রাশিয়ার বিমান হামলার সহায়তা নিয়ে সিরিয়ার সরকারী বাহিনী আলেপ্পোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই এলাকাটি সরকার বিরোধীদের দখলে।
প্রায় সাড়ে বছর আগে সিরিয়ার সংঘাত শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করতে আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলো অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু সিরিয়ার যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশারের পক্ষে রাশিয়া সম্পৃক্ত হবার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে থাকে।
রাশিয়া বলছে জঙ্গিগোষ্ঠি ইসলামিক স্টেট বা আইএসকে লক্ষ্য করে তাদের বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করে প্রেসিডেন্ট আসাদ বিরোধীদের লক্ষ্য করে রাশিয়া বিমান হামলা চালাচ্ছে।
গত সাড়ে চার বছরের যুদ্ধে সিরিয়ায় ৬৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসেবে এখনো পর্যন্ত এই যুদ্ধ আড়াই লাখ মানুষ মারা গেছে। সিরিয়া থেকে হাজার হাজার শরণার্থীর স্রোত ইউরোপের দিকে গেছে। এতদিন পরে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে বৃহৎ শক্তিগুলো যে একমত হয়েছে সেটি কতটা কার্যকর হবে তা এখন দেখার বিষয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিক্ষাবিজ্ঞানী আবদুল জব্বার by সরকার আবদুল মান্নান
![]() |
| মুহাম্মদ আবদুল জব্বার |
মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ১৯৩১ সালে ময়মনসিংহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল, আনন্দ মোহন কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অধ্যয়ন করেন। ১৯৫২-৫৩ সালে রসায়নে অনার্স-মাস্টার্স করলেও গোটা জীবন তিনি কাটিয়ে দেন শিক্ষাবিজ্ঞান চর্চায়। এর জন্য তাঁকে বিটি (বিএড) করতে হয়েছে ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে (১৯৫৬) এবং ১৯৬১ শিক্ষায় এমএ করতে হয়েছে আমেরিকার নর্দার্ন কলরাডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তারপর ১৯৭৩ সাল থেকে ২০১৬ সালের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৪২ বছর অসাধারণ নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।
১৯৭৫ সালের ২৫ অক্টোবর ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন কমিটির তিনি ছিলেন সদস্যসচিব। অধ্যাপক মুহম্মদ শামস-উল হক ছিলেন এই কমিটির চেয়ারম্যান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের হত্যার পর যে বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থী সরকারগুলো পাকিস্তানি আদর্শের দিকেই ফিরে গিয়েছিল। সেই সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের মৌল আদর্শগুলো জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন কমিটির রিপোর্টে প্রতিফলিত হয়নি। কিন্তু মুহাম্মদ আবদুল জব্বারের তত্ত্বাবধানে যে রিপোর্ট প্রণীত হয়, সেখানে একজন শিক্ষাবিজ্ঞানী হিসেবে শিক্ষাতত্ত্বের আদর্শকে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে অনুসরণ করতে চেষ্টা করেছেন।
১৯৭৭ সাল থেকে এই কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী। এ সময় সদস্যসংখ্যা ছিল ৫১। ১৯৮৬ সালে পরিমার্জিত যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয় তারও সদস্যসচিব ছিলেন জব্বার স্যার। ১৯৯৩ সালে শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, সেখানে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি তৈরি করা হয়। এই কমিটির সভাপতি ছিলেন মুহাম্মদ আবদুল জব্বার আর সদস্যসচিব ছিলেন অধ্যাপক মুহম্মদ আলী। দীর্ঘদিন পর জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর আলোকে ২০১১ সালে যখন প্রাক্-প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাক্রম প্রণয়ন ও পরিমার্জনের বিপুল কর্মযজ্ঞ গ্রহণ করা হয়, তখন মুহাম্মদ আবদুল জব্বার অশীতিপর বৃদ্ধ। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, পুরো কর্মযজ্ঞের সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। বিপুল সেই কর্মযজ্ঞের সময় আমরা এই শিক্ষাবিজ্ঞানীর অভিভাবকত্বের আশ্রয় থেকে কখনোই বঞ্চিত হইনি। তাঁর বিস্ময়কর পাণ্ডিত্য, অসাধারণ প্রজ্ঞা ও সহনশীলতা, সহকর্মীদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও মমত্ববোধ পুরো কর্মযজ্ঞটিকে আনন্দময় করে তুলেছিল।
মুহাম্মদ আবদুল জব্বার কত বিষয়ে যে অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন, তার ইয়ত্তা নেই। বিশেষ করে শিক্ষাক্রম প্রণয়ন বা পরিমার্জন, শিক্ষার্থী মূল্যায়ন নীতিমালা, শিখন-শেখানোর উপকরণ—বিশেষ করে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, শিখন-শেখানোর কৌশল নির্ধারণ এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নীতিমালা ও শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন-কৌশল বিষয়ে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল অসাধারণ। কিন্তু তাঁর বিপুল অভিজ্ঞতা ও পাণ্ডিত্য তাঁকে কখনোই অহংকারী করে তোলেনি। অধিকন্তু তিনি নিরহংকারী মানুষ এবং সাধারণের চেয়েও সাধারণ। প্রাচীন ঋষিদের মতো তিনি অতিসাধারণ ও সহজ-সরল জীবনযাপন করে গেছেন। কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তিনি বিনয়ের সঙ্গে এতটাই দৃঢ়তার পরিচয় দিতেন যে আত্মম্ভরি লোকজনও সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর যুক্তি মেনে নিতেন।
হ্যাংলা-পাতলা আর ছোটখাটো এই মানুষটিকে প্রথম দেখায় শ্রদ্ধাভক্তি করার কারণ ছিল না। একটি ছাতা আর একটি কাপড়ের ব্যাগ হাতে নিয়ে কুঁজো হয়ে তিনি হাঁটতেন। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে উত্তরা থেকে পাবলিক বাসে চড়ে তিনি চলে আসতেন মতিঝিলে অবস্থিত ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড’ ভবনে। এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক নিয়ে যত ধরনের কর্মকাণ্ড চলে, তার প্রায় প্রতিটিতেই তিনি অংশ নিতেন। কোনো রকম আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া শুধু তাঁকে টেলিফোনে জানালেই হতো। অসাধারণ সময়নিষ্ঠ এই মানুষটি যথাসময়ে এসে উপস্থিত হতেন। পথের ঝক্কিঝামেলার অজুহাত দিতেন না কখনোই। শারীরিক অসুস্থতার কথাও আমরা শুনিনি।
অনুষ্ঠানে তিনি কখনোই মুখর হয়ে উঠতেন না। বরং খুব মনোযোগের সঙ্গে আলোচকদের কথা শুনতেন। তাঁর যদি মনে হতো আলোচনা ঠিকভাবে এগোচ্ছে না কিংবা কোনো আলোচক সঠিক বলছেন না, তাহলে বিনয়ের সঙ্গে বলতেন, ‘তুমি ঠিকই বলেছ, ঠিকই আছে সব। তবে...।’ এই বলে তিনি তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করতেন। ‘তবে’ বলে যখন তিনি শুরু করতেন, তখন আমরা বুঝে যেতাম যে আমাদের ধারণা মোটেই ঠিক নয়। ছোট-বড়, দক্ষ-অদক্ষ, অভিজ্ঞ-অনভিজ্ঞ সবাইকে তিনি সম্মান করে কথা বলতেন। কারও বক্তব্যকে তিনি ছোট বা গুরুত্বহীন বলে মনে করতেন না। বাংলাদেশের শিক্ষাবিজ্ঞানের জগতে তিনি যে অবদান রেখেছেন, তার জন্য তিনি অনেক সম্মান, মর্যাদা ও স্বীকৃতি পেতে পারতেন। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে সেই স্বীকৃতি তিনি পাননি।
এই মহান ব্যক্তির তিরোধানে শিক্ষাবিজ্ঞান চর্চার একটি জ্ঞানভান্ডার হারিয়ে গেল, যা আর কখনোই ফিরে আসবে না।
ড. সরকার আবদুল মান্নান: সদস্য, এনসিটিবি।
drsharkaramannan@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের মুখে ইরান? by মাসুমুর রহমান খলিলী
![]() |
| তেহরানের আসন থেকে বিশেষজ্ঞ পরিষদের প্রার্থী হওয়ার জন্য নিবন্ধন করছেন আয়াতুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি |
২০টি মনোনীত আসন বাদ দেয়া হলে ২৯০ আসনের মজলিসের ২৮৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাকি পাঁচটি আসন সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। ১৯৬টি নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত হবেন মজলিস সদস্যরা, যাদের মধ্যে একক নির্বাচনী এলাকা এবং মিশ্র নির্বাচনী এলাকাও রয়েছে। সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত ব্যক্তি এক-তৃতীয়াংশের বেশি সমর্থন না পেলে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত দু’জনের মধ্যে পুনর্নির্বাচনের বিধান রয়েছে।
এবারের নির্বাচনের বিশেষ তাৎপর্য হলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে দেশটি এক ধরনের পরিবর্তনের ক্রান্তিলগ্নে এসে দাঁড়িয়েছে। রক্ষণশীল বা মূলনীতিবাদী এবং সংস্কারপন্থী এ দুই ধারার রাজনৈতিক দলে বিভক্ত ইরানে আয়াতুল্লাহ রুহানি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত রক্ষণশীলদের ছিল একক আধিপত্য। মোট ৩১০ আসনবিশিষ্ট বিদায়ী মজলিসে ১৮২ জনই ছিলেন মূলনীতিবাদী বা রক্ষণশীল। আর মাত্র ১৩টি আসন ছিল সংস্কারবাদীদের হাতে। প্রভাবশালী পশ্চিমা দেশসহ ছয় বিশ্বশক্তির সাথে পারমাণবিক চুক্তির পর অবরোধ প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হলে যে নতুন পরিস্থিতি ইরানে সৃষ্টি হয়েছে, তাতে এবারের মজলিস সংস্কারবাদীদের দখলে চলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি যে বিদায়ী বিশেষজ্ঞ পরিষদে সংস্কারপন্থীদের মাত্র ২৯টি আসন ছিল, সেখানেও গরিষ্ঠ আসনে জয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন সংস্কারবাদীরা। যদিও প্রার্থিতা বাতিলের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট রুহানি বিশেষজ্ঞ পরিষদের ব্যাপারে সংস্কারপন্থীদের প্রার্থিতা ব্যাপক হারে বাতিল করার অভিযোগ করেছেন। বাতিলকৃতদের মধ্যে ইরানের বিপ্লবের মূল নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির নাতিও রয়েছেন। তার প্রার্থিতা বাতিলের ব্যাপারে যুক্তি দেখানো হয়েছে খোমেনির পরিবারকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খোমেনির নাতি অবশ্য পাল্টা যুক্তি দেখিয়েছেন, আহলে বাইত যেখানে নেতৃত্ব ইমামত নির্বাচনের মূলসূত্র, সেখানে পরিবারকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার যুক্তি মানতে হলে রাসূল স:-এর উত্তরাধিকারীদের নেতৃত্বে আনার যুক্তি হারিয়ে যাবে। যা হোক, ইতোমধ্যে বেশ কিছু বাতিল হওয়া প্রার্থির প্রার্থিতা পুনর্বহালও হয়েছে। আপিল ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় আরো বেশ কিছু সদস্য তাদের প্রার্থিতা ফেরত পেতে পারেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদের শেষ মেয়াদ থেকে সংস্কারপন্থীদের ইরানি রাজনীতিতে শক্তিমান হয়ে ওঠার প্রবণতা শুরু হয়। প্রথম নির্বাচনেই সংস্কারপন্থী ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহানি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবার। এর মধ্যে বিশ্ব শক্তিগুলোর সাথে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানি রাজনীতিতে ঝড় বয়ে যায়। রক্ষণশীলদের ব্যাপক বিরোধিতার পরও এই চুক্তি সংসদের অনুমোদন লাভ করে। ইরানের অভ্যন্তরীণ জনমতের চাপে এটি হয়েছে বলে মনে করা হয়। এক দিকে বিশ্বশক্তিগুলোর সাথে সমঝোতা এবং অভ্যন্তরীণভাবে উদার যুগের সূচনার কিছু লক্ষণ; আর অন্য দিকে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের জন্য সিরিয়াসহ আরব জাহানে ইরানের আগ্রাসী নীতি অভ্যন্তরীণ জনমতকে বেশ ভালোভাবে প্রভাবিত করতে পেরেছে।
অতি সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে তার প্রকাশ লক্ষ করা যায়। ম্যারিল্যান্ডের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটিজ স্টাডিজের বহুল আলোচিত এই জনমত জরিপে দেখা যায়, ৮২ শতাংশ ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির নীতিকে সমর্থন করছেন, যাদের মধ্যে ৪২ শতাংশ জোরালোভাবে এবং ৪০ শতাংশ মোটামুটি সমর্থন করছেন তার নীতিকে। পূর্ববর্তী আগস্টের তুলনায় গত জানুয়ারি মাসে জোরালো সমর্থন ৬১ শতাংশ থেকে ৪২ শতাংশে নেমে এলেও সার্বিক সমর্থনের অবনতি ঘটেছে মাত্র ৭ শতাংশ। অর্থাৎ এখনো রুহানি ইরানে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। তার কাছাকাছি জনপ্রিয় ব্যক্তি হলেন পররাষ্ট্র্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। মজার ব্যাপার হলো কট্টরপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদকে ২৪ শতাংশ ইরানি খুবই পছন্দ করেন, আবার সমানসংখ্যক লোক করেন খুবই অপছন্দ। আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশেমি রাফসানজানির অবস্থাও একই। তাকে ১৯ শতাংশ খুবই পছন্দ করেন আর সমসংখ্যক ইরানি খুবই অপছন্দ করেন। এই হার প্রেসিডেন্ট রুহানি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের ক্ষেত্রে অন্য রকম। রুহানিকে খুবই পছন্দ করেন ৪৩ শতাংশ আর খুবই অপছন্দ করেন মাত্র ৮ শতাংশ। আর জাভেদ জারিফের ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ ইরানি তাকে খুবই পছন্দ করেন আর অপছন্দ করেন ৮ শতাংশ।
জরিপ অনুসারে ৮৬ শতাংশ ইরানি মনে করেন প্রেসিডেন্ট রুহানি জাতীয় নিরাপত্তার উন্নয়নে সফল হয়েছেন, ৮০ শতাংশ মনে করেন ইউরোপের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নেও তিনি সফল হয়েছেন। অর্থনৈতিক উন্নয়নে তিনি সফল হয়েছেন বলে মনে করেন ৬৪ শতাংশ আর বেকারত্ব দূর করতে প্রেসিডেন্টকে সফল মনে করেন ৩৭ শতাংশ। এটি ঠিক যে অবরোধ প্রত্যাহারের ইতিবাচক প্রভাব যত দ্রুত পড়বে বলে ইরানি জনগণ মনে করেছিলেন, তত দ্রুত তা পড়েনি তেলের দাম হ্রাসসহ অন্য কয়েকটি কারণে। এজন্য ৪৭ শতাংশ ইরানি মনে করছেন, তাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। আর ৪১ শতাংশ এর উল্টোটা মনে করেন। এর পরও আগামী সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে ইরানিদের বেশ উৎসাহ রয়েছে। ৬৭ শতাংশ ইরানি মনে করেন, এই নির্বাচন অবাধ ও মুক্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ২০ শতাংশ মনে করেন মোটামুটি সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন অবাধ ও মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই মনে করেন মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ।
জরিপে আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফল এসেছে নির্বাচনের আউটকাম নিয়ে। জরিপের ৫৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন সংসদ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট রুহানির সমর্থকদের জয়ী হওয়া উচিত। আর প্রেসিডেন্টের সমালোচকদের জয়ী হওয়া উচিত মনে করেন মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ।
এই জরিপ থেকে ধারণা করা যায়, ২৬ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এমন এক বিস্ময়কর ফল হতে যাচ্ছে যাতে ইরানি রাজনীতির ওপর বেশ কয়েক দশক পর সংস্কারপন্থীদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হতে পারে। এবার তাদের শুধু মজলিসেই নয়, একই সথে বিশেষজ্ঞ পরিষদেও গরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেটি হলে এর আগে সংস্কারপন্থী খাতেমি যেসব নীতিগত পরিবর্র্তন আনতে বাধার মুখে পড়েছিলেন তেমন অবস্থা রুহানির ক্ষেত্রে হবে না। আর এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু উদার নীতি ইরানের নীতিনির্ধারকেরা নিতে পারেন। আর খামেনির উত্তরাধিকারী হিসেবে নমনীয় কোনো ধর্মীয় নেতা এলে পরিবর্তন হতে পারে আরো দ্রুত।
পশ্চিমা নেতাদের ইরানের প্রতি নরম নীতি নেয়ার পেছনে দু’টি কারণ কাজ করেছে বলে মনে করা হয়। প্রথমটি হলো অবরোধ আরোপসহ অন্যান্য চাপ প্রয়োগের নীতিতে ভালো কোনো ফল পাওয়া যায়নি বলে তারা মনে করছেন। নির্বাচনের কারচুপির কথা বলে আন্দোলন করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এখন সংস্কারপন্থী রুহানির সময় পারমাণবিক সমঝোতার মাধ্যমে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে ইরানি অর্থনীতিতে এক ধরনের জোয়ার আসবে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য চলে আসবে। তারা কট্টরপন্থীদের পরিবর্তে নরমপন্থীদের সমর্থন দেবে। আর সংস্কারপন্থীরা পাশ্চাত্যের সাথে সম্পর্ক বাড়াবে। ইতোমধ্যে এর কিছু লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪০০ বোয়িং কেনার অর্ডার দিয়েছে ইরান। ফ্রান্স থেকে এয়ার বাস আমদানির অর্ডার দেয়া হয়েছে ১০০টি। এসব দেশে আটকে থাকা অর্থ দিয়ে এর মূল্য পরিশোধ করা যাবে বলে তা থেকে দুই দেশই লাভবান হবে।
অন্য দিকে, মুসলিমদের মধ্যে সংখ্যালঘু শিয়া প্রধান ইরানকে শক্তিশালী হতে সহায়তা দেয়া হলে মুসলিম মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্ঘাত স্থায়ী রূপ নেবে। এতে পশ্চিমাদের অস্ত্রবাণিজ্য দীর্ঘ সময় জমজমাট থাকবে। সঙ্ঘাতের লক্ষ্যবস্তু ইসরাইল অথবা পাশ্চাত্য হওয়ার পরিবর্তে হবে শিয়া বনাম সুন্নি শক্তি। মধ্যযুগে অর্থোডক্স খ্রিষ্ট শক্তির সাথে রোমান খ্রিষ্টশক্তির এ ধরনের লড়াইয়ের পর রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে ধর্মীয় প্রভাব বিদায় নেয় আর সেকুলাররা শক্তিমান হয়ে ওঠে। মুসলিম দেশগুলোতে একইভাবে জাতিতাত্ত্বিক সঙ্ঘাত সংঘর্ষ চলতে থাকলে সেকুলার মুসলিমরা রাষ্ট্রশক্তির ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। পাশ্চাত্যের এই দুই লক্ষ্যের কতটা অর্জিত হবে তা এ মুহূর্তে বলা কঠিন। তবে ইরানের অভ্যন্তরে যে বড় ধরনের পরিবর্তনে সূচনা ঘটতে যাচ্ছে তা একপ্রকার নিশ্চিত করেই বলা যায়। আর এই পরিবর্তনের প্রথম লক্ষণটি দেখা যাবে সম্ভবত মজলিস ও বিশেষজ্ঞ পরিষদ নির্বাচনে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জয়ের আনন্দে বারবার কাঁদতে চাই by আনিসুল হক
![]() |
| মাবিয়া আক্তার সীমান্ত বিজয়স্তম্ভে উঠেছেন। গলায় সোনার মেডেল। চোখে দেশপ্রেমের কান্না |
কোত্থেকে আসে এত আবেগ? আমার সোনার বাংলা শুনলেই কেন চোখ ছলছল করে? কী শোভা কী ছায়া গো, কী স্নেহ কী মায়া গো!
এত মায়া কোত্থেকে আসে?
বাংলাদেশের একদল নারী-সাংবাদিক একবার আমেরিকার একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন সাংবাদিকতার কর্মশালায় অংশ নিতে। সেখানে একটা অনুষ্ঠানে তাঁদের বলা হলো গান গাইতে। সবাই কোন গানটা জানেন? অবশ্যই আমাদের জাতীয় সংগীত। তাঁরা গাইতে আরম্ভ করলেন। আর শুরু করে দিলেন কান্না। আমেরিকানরা আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করল, তোমরা কাঁদছ কেন?
‘কারণ, আমরা আমাদের জাতীয় সংগীত গাইছি।’
‘জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় কাঁদতে হবে কেন? আমরাও তো গাই। আমরা তো কাঁদি না।’
এটা আমেরিকানরা বুঝবে না, কেন আমরা, বাংলাদেশের মানুষ, বিদেশের মাটিতে জাতীয় সংগীত শুনলে কাঁদি। এই দেশটা আমাদের স্বপ্ন দিয়ে তৈরি, স্মৃতি দিয়ে ঘেরা।
আমাদের মেয়েরা আমাদের সোনা এনে দিচ্ছেন এসএ গেমসে। কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসেছেন তাঁরা। কতই না প্রতিকূলতা পেরিয়ে তাঁদের আজকের এই জয়। আমাদের বাংলাদেশও অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে এখন জয়ের পথে, জয়ের রথে, এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকেই।
২.
আইআরআইয়ের সর্বশেষ জরিপে দেখা যাচ্ছে, সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে। আওয়ামী লীগের সমর্থন বাড়ছে। দেশের অর্থনীতি ঠিক পথে এগোচ্ছে বলে বেশির ভাগ মানুষের ধারণা। বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন, দেশ ঠিকপথে এগোচ্ছে, মানুষের নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো বা মোটামুটি ভালো। ৪৫ শতাংশ মনে করেন, গণতন্ত্রের চেয়েও বেশি দরকার অর্থনৈতিক উন্নতি। তবে বেশির ভাগ মানুষ নির্বাচন ব্যবস্থা হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনকেই বেশি পছন্দ করেন। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একই প্রতিষ্ঠানের জরিপে বলা হয়েছিল, দেশের মানুষ অসন্তুষ্ট দুর্নীতি নিয়ে। তাঁদের প্রধান দুশ্চিন্তা এমনকি রাজনৈতিক হানাহানির চেয়েও বেশি দুর্নীতি নিয়ে। গত বছরের মাঝামাঝি সময় পরিচালিত জরিপে বলা হয়েছিল, ৪৩ শতাংশ মানুষ চায় দ্রুত নতুন নির্বাচন, আর ৪০ শতাংশ মানুষ চায় এই সংসদ পুরো মেয়াদ শেষ করুক। আর নভেম্বরে দ্রুত নির্বাচন চাওয়া মানুষের সংখ্যাটা ছিল ৩৬ শতাংশ।
সবটা মিলিয়ে সরকারের নিজের ব্যাপারে আস্থাবান হওয়ার যথেষ্ট উপকরণ আছে আইআরআইয়ের জরিপে।
পাশাপাশি গত বছরের শেষে কিংবা নতুন বছরের প্রাক্কালে আরও কিছু জরিপের ফল প্রকাশিত হয়েছে। একটা হলো, টিআইবির জরিপ। এ জরিপে আবারও বাংলাদেশের দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠেছে, যা লজ্জার এবং হতাশার। দুর্নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। এ প্রেক্ষাপটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘দুর্নীতির ব্যাপারটা আমরা টাচ করতে পারিনি।’
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, সেসবও বেশ উদ্বেগজনক। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি মানবাধিকার-বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ সম্পর্কে সেই প্রতিবেদনে যা বলা হয়, তাতে নতুন কথা কেউ আশাও করেননি। ওই প্রতিবেদনে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বড় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি দপ্তরগুলোতে ব্যাপক দুর্নীতি, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটকে রাখা, দুর্বল বিচারিক ক্ষমতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাহীনতা এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা। এ ছাড়া তৈরি পোশাকশিল্পের কর্মীদের কাজের পরিবেশের কথা উঠে আসে। অনলাইনে ও গণমাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতা কমে আসার কথাও উঠে এসেছে ওই প্রতিবেদনে।
সবশেষ খবর হলো, মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশে বিরোধী দলকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতা বাড়াতে পারে। এটা বলার জন্য অবশ্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের দরকার পড়ে না। যেকোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক যেকোনো দেশের জন্য সাধারণভাবে এ কথা সব সময়ই বলবেন যে মানুষকে তার মত প্রকাশ করতে দাও, বিরোধীদের পরিসর দাও নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিরোধিতা করার, তা না হলে তাদের ক্ষোভ জমতে থাকবে, তা একসময় বিস্ফোরিত হবে, কিংবা তা প্রকাশের জন্য চোরাগোপ্তা পথ খুঁজবে। এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আলী রীয়াজ ইলিনয় থেকে অনেকবার কলাম লিখেছেন; প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পুস্তক প্রকাশ করেছেন।
আমরা সবাই চাই বাংলাদেশের জয়। বাংলাদেশের মেয়ে মাবিয়া আক্তার সীমান্ত যখন সোনা জয় করে জাতীয় সংগীতের আবহে লাল-সবুজ পতাকাকে অভিবাদন জানাতে গিয়ে কাঁদতে থাকেন, তখন আমরা জানি, আমরা এই দেশকে কত ভালোবাসি, আর এই দেশের জন্য জয় ছিনিয়ে আনতে আমরা কতটাই না মরিয়া। বাংলাদেশ নিজের শক্তিতে পদ্মা সেতু বানাতে যাচ্ছে, সেটাও আমাদের মাথা উঁচু করেছে, গৌরবে আমাদের বুকের ছাতি ফুলে উঠেছে। আমেরিকান সংস্থা আইআরআইয়ের জরিপে সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ার খবরে কেউ কেউ মন খারাপ করতে পারেন; বিএনপি তো বলেই দিয়েছে, এই জরিপ ত্রুটিপূর্ণ। কিন্তু সাধারণভাবে এটা গ্রহণযোগ্য বলেই মনে হয়। জাতীয় সংসদে মাননীয় সাংসদেরা আইআরআইকে ধন্যবাদও দিয়েছেন। আইআরআইয়ের জরিপেই আমরা দেখেছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বাড়ছে এবং তিনি তাঁর দলের চেয়েও বেশি জনপ্রিয়। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য বলেছিলেন, এতে তাঁর খুশি হওয়ার কিছু নেই। কারণ, তিনি যা কিছু অর্জন করতে পেরেছেন, তার পেছনে আছে তাঁর দল। এখন আমরা আইআরআইয়ের জরিপটি যদি গ্রহণ করি, আমাদের আত্মবিশ্বাস যদি বাড়ে, তাহলে আন্তর্জাতিক অন্যান্য সংস্থার জরিপগুলোকে রাবিশ বলে উড়িয়ে দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। আশার কথা, টিআইবির জরিপের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতই রাবিশ কথাটা উচ্চারণ না করে বাস্তবতা মেনে নিয়েছেন। মানবাধিকার, আইনের শাসন, দুর্নীতি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ে যে হতাশার কথা প্রতিবেদনগুলোয় ফুটে ওঠে, সেসব আমলে নেওয়া জরুরি।
আমরা সবাই জানি, দুই বছর আগের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। তার আগে তারাই ছিল প্রধান বিরোধী দল এবং তারও আগে তারা ছিল সরকারি দল। কাজেই এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। সরকারের জন্য পরম স্বস্তির ও উৎসাহের ব্যাপার হবে, মানুষ সরকারের ওপর আস্থাশীল রয়েছে, দেশ ঠিক পথে এগোচ্ছে বলেই বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন। এখন এখানেই সরকারের সামনে বড় সুযোগ, করণীয় ক্ষেত্রটি বড়ই স্পষ্ট। নির্বাচন গণতন্ত্রের একটা উপাদান, হয়তো খুব বড় উপাদান, কিন্তু একমাত্র উপাদান নয়। নির্বাচিত সরকারও দুঃসহ যাতনার কারণ হতে পারে, একনায়কতান্ত্রিক আচরণ করতে পারে। গণতন্ত্রের মিটারে পারদের ওঠানামা মাপা যায় বাক্স্বাধীনতা আর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কতখানি আছে, তা দেখে। মানুষ নির্ভয়ে মনের কথা বলতে পারে কি না, সেখান থেকে। সবচেয়ে বড় লিটমাস টেস্ট হলো, বিরোধী মতের মানুষ যদি একজনও হন, তিনি কেমন আছেন, সেটা দেখা। আর মানবাধিকার রক্ষা করা হচ্ছে কি হচ্ছে না। মানবাধিকার মানে ব্যক্তির অধিকার। বিনা বিচারে একজন মানুষও শাস্তি পেতে পারে না, আটক থাকতে পারে না। বিচারের পরে আইনানুগ শাস্তি হলে কারও তো আপত্তি থাকবেই না, বরং মানুষ সেটাই চায়। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনই তো সরকারের কাজ। কিন্তু অস্ত্রের বলে, আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যেন কেউ কাউকে তুলে নিয়ে না যায়, মানুষ যেন গুম না হয়। খালি চোখে সাম্প্রতিক কালে এই বিষয়ে কিছু উন্নতি অবশ্য দেখা যাচ্ছে। আর বিরোধী দল ও ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরোধিতা ও ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে, অসন্তোষ প্রকাশের অসংকোচ সাহস যেন তারা দেখাতে পারে।
আমি এখনো মনে করি, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরে রেখেছে এই দেশের স্বাধীন সংবাদমাধ্যম। বাধা আছে, পরোক্ষ এবং কখনো কখনো প্রত্যক্ষ। তারপরেও বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের চিত্ত স্বাধীন, তাদের শির উন্নত। সম্প্রতি ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনামের বিরুদ্ধে কয়েকজন মাননীয় সাংসদ জাতীয় সংসদে যে বিরূপ সমালোচনা করেছেন, তাঁর গ্রেপ্তার, শাস্তি ও কাগজ বন্ধের যে দাবি জানিয়েছেন, সেটা একটা দেশের স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি ক্ষমতাসীনদের একাংশের অসহিষ্ণু মনোভাবেরই প্রকাশ মাত্র। সাত বছর আগে যে প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য তাঁরা পত্রিকাটির বিরুদ্ধে কথা বলছেন, সেই প্রতিবেদনগুলো তাঁদের পাশে বসা কোনো কোনো নেতারই জবানবন্দি, এটা মনে রাখলে তাঁরা ভালো করবেন।
আমি মনে করি, বাংলাদেশ মানে মাবিয়া আক্তার সীমান্ত, সোনাজয়ী তরুণী। বাংলাদেশ মানে সাঁতারে সোনাজয়ী মাহফুজা। একেকজন মাবিয়া, মাহফুজা এগিয়ে যাচ্ছেন মানে বাংলাদেশই এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের বিজয়ের পেছনে সরকারের অবদান আছে, আমাদের নেতৃত্বের কৃতিত্ব আছে। তাই তো মানুষ আস্থাশীল। সেই আস্থা আরও বাড়বে, দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হবে যদি আমরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারি, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারি, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে পারি এবং বিরোধী দলকে পরিসর দিতে পারি। বাংলাদেশের উজ্জ্বলতম ভাবমূর্তি নিয়ে জয়ের স্তম্ভে দাঁড়িয়ে আমরা মারিয়ার মতোই আনন্দাশ্রু চোখে গাইতে চাই—আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জলবায়ুর পরিবর্তনে নারীর দুর্ভোগ বেশি by আয়েশা কবির
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নারী ও পুরুষ উভয়ের জীবনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। নারীরা এমনিতেই অরক্ষিত থাকেন। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর তাঁরা আরও বেশি অরক্ষিত হয়ে পড়েন। বিদ্যমান সামাজিক বৈষম্য ও নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ব্যর্থতা তাঁদের আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর সম্প্রতি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক সম্মেলনটি ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। বলা হচ্ছে, জলবায়ুর ওপর এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক সম্মেলনগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে সফল সম্মেলন। কিন্তু এবারের সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সামাজিক যে পরিবর্তনগুলো হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। অথচ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়া জরুরি ছিল। যেমন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুহারা মানুষ অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এখনো এ বিষয়টি নারীদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হলেও এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। দুর্যোগ-পরবর্তী সংকট মোকাবিলায় নারীদের সহায়তা করতে হবে। কেননা, যেকোনো দুর্যোগে এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে নারীরাই বেশি দুর্ভোগের শিকার হন।
তবে কোনো কোনো দুর্যোগে নারী ও পুরুষের ক্ষতির পরিমাণে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। যখন কোনো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে বা নদীভাঙনে ভিটেমাটি-ঘরবাড়ি তলিয়ে যায় বা খরা দেখা দেয়, তখন নারী-পুরুষ–শিশুনির্বিশেষে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তখন আলাদা করে নারীদের দুর্ভোগের মাত্রা নিরূপণ করা যায় না। কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সবার উচিত নারীদের দুর্ভোগের বিষয়টি আলাদাভাবে চিহ্নিত করে তা নিরসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে। মোদ্দাকথা হলো, জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত নীতিগুলো যত দিন সমাজের বড় একটি অংশের সমস্যা চিহ্নিত না করবে, তত দিন কোনো ইতিবাচক ফল আসবে না। এটা সহজ একটা হিসাব।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেদনাদায়ক যে ঘটনাটি ঘটে তা হলো, লোকজনকে বাস্তুহারা হতে হয়। তারা দেশের ভেতরে অন্য কোনো স্থানে, বা কখনো কখনো দেশের বাইরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। যখন কোথাও নদীভাঙন দেখা দেয়, তখন ওই এলাকার পুরুষেরা কাজের সন্ধানে শহরে চলে যায়। পরিবারের অন্য সদস্যদের দেখভাল করার জন্য নারীরা এলাকাতেই থেকে যায়। ঘরের কাজ ছাড়াও তাঁদের পুরুষদের কাজগুলোও করতে হয়। চাষাবাদ করা, গবাদিপশুকে খাওয়ানো, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি সংগ্রহ ইত্যাদি নানা কাজ করতে হয়। আবার অনেক সময় দেখা যায়, যেসব পুরুষ কাজের সন্ধানে শহরে যান, তাঁরা সেখানে রিকশা চালানোসহ অন্যান্য কাজ করেন। তাঁদের কেউ কেউ সেখানে আরেকটি বিয়ে করেন এবং পুরোনো স্ত্রীকে ত্যাগ করেন। সেই স্ত্রীকে তখন নিজের সন্তানসন্ততি তো বটেই, যে স্বামী তাঁকে ত্যাগ করেছেন, তাঁর বাবা-মা, ভাইবোনদেরও দেখভাল করতে হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের আরেকটি ক্ষতিকর দিক এটি। কিন্তু এই বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করে না। তাই এগুলোর কোনো সমাধানও নেই।
ঘূর্ণিঝড়, সিডর ও আইলার ক্ষত এখনো শুকিয়ে যায়নি। যেসব এলাকায় এ দুটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল, সেসব এলাকার একরের পর একর জমি খালি পড়ে আছে। জমি লবণাক্ত হয়ে যাওয়ায় সেখানে আর গাছপালা জন্মাতে পারছে না। ওই দুটি দুর্যোগের প্রভাব লোকজন এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। অনেকেই এখনো নানা অসুখে ভুগছে। এখনো অনেককে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহের জন্য মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয়। ওই সব এলাকার গ্রামগুলোতে এখন শুধু নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা থাকেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগ-পরবর্তী সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছে। ২০০৫ সালে যখন যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে হারিকেন ক্যাটরিনা আঘাত হেনেছিল, তখন সেই দুর্যোগ মোকাবিলায় মডেল হিসেবে বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যেসব ত্রুটি আছে, সেগুলো কারোরই চোখে পড়ছে না। দুর্যোগের পর নারীরা যেসব দুর্ভোগে পড়েন, সেগুলো উন্নয়নের নীতিনির্ধারকদের চোখ এড়িয়ে গেছে।
আমাদের দেশে বহু সাইক্লোন শেল্টার বা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র আছে। কিন্তু সেগুলো নারীবান্ধব নয়। ওই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। এগুলো নারীর জন্য বড় ধরনের বিপদ হয়ে দেখা দেয়। নারী ও পুরুষ একসঙ্গে গাদাগাদি করে থাকার ফলে কখনো কখনো কিশোরী ও নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হন। প্রাকৃতিক কাজ সারার জন্য নারীরা বাধ্য হয়ে রাতের অন্ধকারে দূরের কোনো শৌচাগারে যান। কোনো কোনো পুরুষ তখন নারীর এই প্রতিকূল পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ধর্ষণের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।
তাহলে এখন কী করতে হবে? নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী-পুরুষের সমতা আনার ক্ষেত্রে কী কী বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে? জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নারীরা যে দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন—এ সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে? সরকার, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন জাতিসংঘ ও স্থানীয় এনজিওগুলোকে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকেও একটি কর্মপরিকল্পনা আসতে হবে। বাংলাদেশে জাতিসংঘের সংস্থা ইউএন উইমেন এ ব্যাপারে বেশ কয়েকটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি সেমিনার ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গণমাধ্যমও এ ব্যাপারে ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে সবচেয়ে যেটা জরুরি, রাষ্ট্র ও সরকারকেই এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। জেন্ডার ইস্যু ও জলবায়ুর পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকার এ ব্যাপারে সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করবে, যাতে নারী ও পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করতে পারে।
আয়েশা কবির: সাংবাদিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পুলিশ বাহিনীর সদস্যের অপরাধ- স্বাধীন তদন্তের বিকল্প নেই
কোনো উচ্ছৃঙ্খল সদস্যকে বাঁচিয়ে বাহিনীর কোনো লাভ নেই। রাজধানীর আদাবর থানার এসআই রতনের বিরুদ্ধে আনা নারী নিগ্রহের অভিযোগ পুলিশি তদন্ত নাকচ করেছিল, কিন্তু বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি এখন তার প্রাথমিক সত্যতা খুঁজে পেয়েছে। বিচার বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার মতো ঘটনাবলিকে যথা গুরুত্বের সঙ্গে পুলিশ বিভাগকে নিতে হবে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে পুলিশের নিজস্ব বা বিভাগীয় তদন্তের বিষয়টি বরাবরের মতোই প্রশ্নের মুখে পড়ল এবং স্বাধীন বা বিচার বিভাগীয় তদন্তের যৌক্তিকতা প্রমাণিত হলো। এর আগে ইভ টিজিংয়ে আত্মহননের ঘটনায় সারা দেশ বিচলিত হয়েছিল। আর এখন দেখি পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ‘রিকশা থামিয়ে ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলা ঠিক হয়নি’ মর্মে স্বীকার করেন।
সাধারণ মানুষের ন্যূনতম শ্রদ্ধার আসনে পুলিশ বাহিনীর অবস্থান ধরে রাখতে হলে বাহিনীকে তার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ধরে রাখতে হবে। বিপথগামী কোনো পুলিশ সদস্যকে বাহিনীর শক্তি দিয়ে আগলে রাখা আত্মঘাতী। ব্যাংক কর্মকর্তা রাব্বী ও সিটি করপোরেশনের পরিদর্শক বিকাশকে নিপীড়নের ঘটনায় পুলিশ মানুষকে হতাশ করেছে। মিরপুরে চুলায় ফেলে চা-দোকানিকে পুড়িয়ে হত্যায় যদিও পুলিশের তদন্ত কমিটি সত্যতা পেয়েছে; কিন্তু সামগ্রিক বিচারে যেকোনো দুর্বৃত্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ত্বরিত বিশ্বাসযোগ্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ বিভাগ আগ্রহী—সেই বার্তা মানুষের কাছে নেই। পুলিশকে একটা আস্থার জায়গা অর্জন করতে হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি- দ্রুত বাস্তবায়নই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে
সংসদে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা তখনই দিলেন, যখন পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়নের দাবিতে অন্যতম চুক্তি সইকারী জনসংহতি সমিতি নানা কর্মসূচি পালন করছে। রাজনৈতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তি সই ছিল শেখ হাসিনার সরকারের সাহসী সিদ্ধান্ত। এর ফলে সেখানে দুই দশক ধরে চলে আসা সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ হয়েছে, জনগণের জীবনমানের উন্নয়নের ক্ষেত্রও প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু সেখানে শান্তি স্থায়ী হবে কি না, সেটি নির্ভর করছে চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নের ওপর।
১৭ বছর আগে চুক্তি সইয়ের পর অনেক সমস্যার সমাধান হলেও ভূমি বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। এই লক্ষ্যে পাঁচবার কমিশন গঠিত হলেও সেগুলোকে কার্যকর করা যায়নি আইনি জটিলতা ও বাস্তব কিছু সমস্যার কারণে। জনসংহতি সমিতির আপত্তির মুখে ভূমি কমিশন আইনের কতিপয় ধারার সংশোধনী মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ার পর এখন সংসদে পাস হওয়ার অপেক্ষায় আছে। ফলে ভূমি কমিশন পুনর্গঠিত হলেও কাজ করতে পারছে না।
চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদগুলোর কাছে যেসব প্রশাসনিক দায়িত্ব ন্যস্ত করার কথা ছিল, সেগুলোর খুব কমই বাস্তবায়িত হয়েছে। এ নিয়ে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে ক্ষোভ রয়েছে, তার প্রতিকার খুঁজতে হবে চুক্তির সব ধারা ও শর্ত পূরণ করেই। আবার পাহাড় অশান্ত হয়ে উঠুক—সেটি কারও কাম্য নয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশে শ্রমঅধিকার নিশ্চিত দেখতে চায় ইইউ পার্লামেন্ট- বিজিএমইএ নেতাদের সাথে বৈঠক
রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত এ বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, মাহমুদ হাসান খান বাবু, মোহাম্মদ নাসির, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট মেম্বার ইভান স্টেফানিক ও ক্রিস্টিন আর্প বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিনিধিদলের প্রধান জিন ল্যাম্বার্ট বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশে একটি দীর্ঘমেয়াদী টেকসই তৈরি পোশাক শিল্প দেখতে চায়। এ জন্য শ্রমিকের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুররুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সফরকালে আমরা বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, আইএলও, অ্যাকর্ড (ইউরোপভিত্তিক কারখানা পরিদর্শন জোট), শ্রমিক অধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেছি। আমরা সাক্ষাত করেছি প্রধানমন্ত্রীর সাথেও। সর্বশেষ বিজিএমইএর সাথে বৈঠক হলো। সরকারের কাছে জানতে চেয়েছি শ্রম অধিকার নিয়ে কী কী অগ্রগতি হচ্ছে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর কারখানার সংস্কারের অগ্রগতি সম্পর্কে জেনেছি। বেশকিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে দেশের বিদ্যমান শ্রম আইন ও বিধি কারখানা মালিকদের মানা উচিত।
বর্তমানে দেশের গার্মেন্টস কারখানার অগ্নি, ভবনের কাঠামো ও বৈদ্যুতিক সংস্কার তদারক করছে ইউরোপের নেতৃত্বাধীন পরিদর্শন জোট অ্যাকর্ড। আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে সব কারখানার সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে অ্যাকর্ডের।
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, ইউরোপের প্রতিনিধিরা ২০১৮ সালের পরেও কারখানা সংস্কার কাজ তদারকির জন্য অ্যাকর্ডের প্রয়োজন হবে কি-না তা জানতে চেয়েছেন। গার্মেন্টস খাতের বাইরে অন্যান্য খাত বিশেষত চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ শিল্প, চিংড়ি শিল্পে গার্মেন্টস খাতের ন্যায় অ্যাকর্ডের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা যায় কি-না এবং এদেশে ব্যবসায়ের পরিবেশ সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের ভাবনা সম্পর্কেও জানতে চেয়েছেন তারা।
জবাবে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সংস্কার কাজ সম্পন্ন হবে। ফলে এর পর অ্যাকর্ডের আর থাকার প্রযোজন হবে না।
বিজিএমইএ সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি সঠিক পথেই আছে। কারখানার মালিকদের মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে।
তারা বুঝতে সক্ষম হয়েছেন, ব্যবসা চালাতে হলে বাকি দুই বছরের মধ্যে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিনিধিদল গার্মেন্টস কারখানার সংস্কার কাজের অগ্রগতি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেননি। সংস্কারের অগ্রগতিতে তারা সন্তুষ্ট। এ সময় পোশাক মালিকরা ইউরোপে রফতানি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার অনুরোধ করেন। বিষয়টি নিয়ে ইউরোপের প্রতিনিধিরা আলোচনা করার প্রতিশ্রতি দিয়েছেন। তবে এদেশে শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে তাদের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পকে আরো সম্প্রসারণ করার আগ্রহের কথা জানালে বিজিএমইএ নেতারা এটিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্যের প্রধান বাজার ইউরোপ। ইউরোপের বাজারে রফতানি হয় তৈরি পোশাকের ৬০ শতাংশের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা না পেলেও ইউরোপের বাজারে জিএসপির আওতায় শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা পায় বাংলাদেশ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আগেই আঘাত করিনি বলে আমাদের বড় মূল্য দিতে হলো
প্রয়াত মেজর জেনারেল আমীন আহম্মেদ চৌধুরী ‘ ১৯৭১ ও আমার সামরিক জীবন’ শীর্ষক বইতে এসব কথা লিখেছেন। তিনি আরও লিখেছেন, লাঞ্চে অন্যান্য ইউনিটের মেজর ও তদূধর্ব র্যাংকের সেনা কর্মকর্তাদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। লাঞ্চ চলাকালে মেস ওয়েটার জেনারেল হামিদকে তার প্রিয় পানীয় ব্ল্যাক ডগ পরিবেশন করে। মেস সেক্রেটারি হিসেবে আমি তার কাছে দাঁড়িয়েছিলাম। জেনারেল হামিদ গ্লাসে কয়েক চুমুক দেওয়ার পর আমি তার কাছে গিয়ে বিনীতভাবে বললাম, স্যার জনপ্রতিনিধিদের কাছে যেন অনতিবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। এ কথায় তিনি বাঁকা দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন। কয়েক সেকেন্ড একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকার পর তিনি আমাকে বললেন, হোয়াই ইউ আর সো এক্সাইটেড?। অর্থাৎ তুমি এতো উত্তেজিত কেন? আমি তাকে বললাম, স্যার যদি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে, তাহলে তো আমাদের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবরা সেনাবাহিনীর গুলিতে পাখির মতো মারা যাবে। আমার মতো অন্য যারা কর্মরত থাকবে, তারা কি তখন নীরবে দাঁড়িয়ে এ মৃত্যু যন্ত্রনা দেখতে থাকবে? আমি তার মুখের ওপর বলেছিলাম, ডু ইউ থিঙ্ক দ্যাট ইউ উইল রিমেইন অন লুকারস? আমি এ জন্যই বলেছিলাম, যাতে তারা এ মেসেজটা গ্রহণ করেন যে এটা আনচ্যালেঞ্জড যাবে না।
আমার এ কথায় জেনারেল হামিদ বোধ হয় হকচকিয়ে গিয়েছিলেন। কয়েক সেকেন্ড আমার দিতে তাকিয়ে থেকে আমার পিঠ চাপড়ে বলেছিলেন, ডোন্ট ওরি, শেখ মুজিব ইজ বিকামিং প্রাইম মিনিস্টার অব পাকিস্তান। অর্থাৎ ভেবো না, শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন।
এসবই ছিল পাকিস্তানিদের অতি চালাকি কথাবার্তা এবং ভেতরে ছিল সব ফাঁকা। তলে তলে তারা মিলিটারি অ্যাকশনের প্রস্তুতি নিয়েছে, কিন্তু সমস্যার ডাইমেনশন ও গভীরতা কিছুমাত্র উপলব্ধি করতে পারেনি। ক্যালকুলেশন করে দেখলে দেখা যাবে, পূর্ব পাকিস্তানে তাদের মোট সৈন্যসংখ্যা ছিল ১২ হাজার। এর মধ্যে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টসহ বাঙালি সৈন্যসংখ্যা ছিল প্রায় ছয় হাজার। আর ইপিআরকে যদি ধরা হয়, তবে ইপিআরে ছিল ১৪ হাজার সেনা। এরমধ্যে হাজার দুয়েক অবাঙালি বাদ দিলে ১১ থেকে ১২ হাজার ইপিআর ছিল আমাদের সঙ্গে। পূর্ব পাকিস্তানে ২০ হাজার বাঙালি ট্রুপস ছিল পুলিশ বাদেই। আমরা যদি ভালোভাবে প্ল্যান করে তাদের আগেই আঘাত করতে পারতাম তাহলে কিন্তু তারা অত্যন্ত বেকায়দায় পড়ে যেতো। আমরা সেই জায়গায় যাইনি বলেই কিন্তু আমাদের বড় মূল্য দিতে হলো এবং এটা দেওয়া ছাড়া কোন উপায়ও ছিল না।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন -সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিনিধি দল
![]() |
| রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের (ইপি) প্রতিনিধি দলের সংবাদ সম্মেলন৷ ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন, প্রথম আলো |
তিনি বলেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ২০১৯ সালে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন দেখতে চায়। আর এ জন্য নির্বাচন কমিশনের শক্তিশালী ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
লেম্বার্ড বলেন, নির্বাচনী পদ্ধতি কি হবে তা বাংলাদেশের মানুষকেই নির্ধারণ করতে হবে। আমরা এতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারি।
বাংলাদেশে তিনদিনের সফর শেষে শুক্রবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লেম্বার্ড একথা বলেন।
তিনি চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
প্রতিনিধি দলটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের সাথে সাক্ষাত করেছে।
এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও বিজিএমইএর সাথে প্রতিনিধি দলটি মতবিনিময় করেছে।
লেম্বার্ড বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনায় আমরা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। এ সময় ব্লগারদের হত্যার বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের জীবন মূল্যবান। এসব হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চরমপন্থার উত্থানের মূল কারণ চিহ্নিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে যৌথভাবে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতিকে প্রতিনিধি দল স্বাগত জানায়। ওআইসিতে বাংলাদেশের ভূমিকা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
লেম্বার্ড বলেন, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা মুক্ত গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি পত্রিকার সম্পাদকদের নিয়ে যা ঘটছে তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। গণমাধ্যমের সমালোচনাকে রাজনীতিকরা সব সময় ভালোভাবে নেন না। রাজনীতিবিদ হিসেবে এই মূল্যটা আমাদের দিতে হয়। চলমান ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করতে পারার সক্ষমতাটা গণতন্ত্রের অংশ।
বাংলাদেশের সাথে ইইউর অর্থনেতিক সহযোগতা জোরদার করার ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় বিজনেস কাউন্সিল সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
কেবলমাত্র জামায়াতে ইসলামী নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ইইউ উদ্বেগ জানায় কেন- প্রশ্ন করা হলে লেম্বার্ড বলেন, ইইউ নীতিগতভাবে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী। তাই এক্ষেত্রে ব্যক্তির চেয়ে নীতিটা গুরুত্বপূর্ণ। সব মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রেই ইইউর উদ্বেগ জানানো উচিত।
বাংলাদেশে মিয়ানমার উদ্বাস্তু নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিয়ানমারে ক্ষমতার পালাবদলের সাথে উদ্বাস্তু নিয়ে আলোচনার নতুন সুযোগ আসবে। তবে খুব জলদি যে কিছু ঘটে যাবে এমনটা নয়।
লেম্বার্ড বলেন, রানা প্লাজা ট্রাজেডির পর নেয়া পদক্ষেপে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রম অধিকার ও কারখানা নিরাপত্তায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে আরো অগ্রগতির অবকাশ রয়েছে। বাংলাদেশের শ্রম আইন রফতানি প্রক্রিয়াকরন অঞ্চলের (ইপিজেড) জন্যও প্রযোজ্য হওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা সফরকালে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিনিধি দলটি হাজারিবাগে একটি ট্যানারি ও গণকতলীর দলিত কলনীতে ইইউর অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রকল্প পরিদর্শন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউর রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদু উপস্থিত ছিলেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অসহিষ্ণুতা ও বৈরিতা নয় by কুলদীপ নায়ার
![]() |
| পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে নিরাপত্তা জোরদার [ফাইল ছবি] |
দেশভাগের সেই ভার এখনো আমরা বহন করে চলেছি, ১৯৪৭ সালের পর তিনটি প্রজন্ম এসেছে, তাতেও সে ভার লাঘব হয়নি। এই ঘৃণা ক্রমেই বাড়ছে, কারণ দেশ দুটির মানুষের মধ্যে কোনো যোগাযোগ নেই।
সবার ওপরে রয়েছে পাকিস্তানের ইতিহাস বিকৃতি, তারা পাঠ্যপুস্তকে হিন্দুদের খুব বাজেভাবে চিত্রিত করে, যদিও দেশটির উদার মানুষের প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে সেই পাঠ্যপুস্তক সংশোধন করা হয়েছে। তারপরও পাকিস্তানের ইতিহাসে মোহাম্মদ গজনবীকে গৌরবান্বিত করা হয়, যিনি কিনা গুজরাটের বহু প্রাচীন সোমনাথ মন্দির ধ্বংস করেছিলেন। এদিকে ভারতের কিছু চরমপন্থী মানুষ ভারতের ইতিহাস পুনর্লিখন করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ভারত রাষ্ট্রটি ধর্মনিরপেক্ষ হওয়ায় তাঁরা তেমন একটা সুবিধা করে উঠতে পারেননি। তাঁরা এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছেন, কারণ কিছুটা হলেও তো তাঁরা সাড়া পাচ্ছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি পাঠানকোটের হামলা তদন্ত করে আক্রমণকারীদের শাস্তি দেবেন। তাঁর এই ঘোষণা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমানাহীন অন্ধকার সুড়ঙ্গে আলোর ঝলকানি সৃষ্টি করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে নওয়াজ শরিফের এই আত্মপ্রত্যয়কে আমাদের স্বাগত জানানো উচিত। বস্তুত তিনি শান্তিকামী মানুষ, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি কি সফল হবেন?
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল পারভেজ মোশাররফ নওয়াজকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় যে পারভেজ মোশাররফের এখন বিচার হচ্ছে। পারভেজকে যে জামিন দেওয়া হয়েছে, তাতেই বোঝা যায়, নওয়াজের ওপর সামরিক বাহিনীর কতটা চাপ রয়েছে। পাকিস্তানে শেষ কথা বলার মালিক হচ্ছে সেনাবাহিনী, তারা আর যা-ই করুক, একজন সাবেক সেনাপ্রধানকে তো আর ফাঁসিকাষ্ঠে পাঠাতে পারে না, সে তাঁর অপরাধ যতই ঘৃণ্য হোক না কেন।
এতে আরও বোঝা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি সামরিক কর্মকর্তা হলে পাকিস্তানের আইন কতটা অসহায় হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সে জায়গায় পড়ে নেই। সামরিক বাহিনী যদি সামান্য পরিমাণেও যুক্ত থাকে, তাহলে সেসব দেওয়ানি মামলার বিচার সামরিক আদালতে হয়। সেখানে ধর্মবিরুদ্ধ কাজের বিচার করে ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো, যাদের দেখভাল করার মতো কর্তৃপক্ষ নেই, এমনকি দেশের সর্বোচ্চ আদালতও ওই সব আদালতকে তত্ত্বাবধান করতে পারেন না। নওয়াজ শরিফ যদি কোনো আইনসংগত কথাও বলেন, তাহলে সেটা তাঁর সাহসিকতা, কারণ একদিকে সামরিক বাহিনী, আর অন্যদিকে ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো তাঁর ওপর নজর রাখছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আচমকা লাহোর সফর করে নওয়াজের ভাবমূর্তি বাড়িয়ে দিয়েছেন। মোদি বুঝতে পেরেছেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ ভারতের সঙ্গে সংলাপের বিরোধী। আর সে কারণেই ভারত-পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকের সূচি পুনর্নির্ধারিত হয়েছে, সেটা ভেঙে যায়নি।
এই বোঝাপড়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারতেও পাকিস্তানবিরোধী মনোভাব টগবগ করে ফুটছে। চরমপন্থীরা শত্রুতা জিইয়ে রেখে বাজিমাত করতে চায়। সে কারণে তারা চায় না, দেশ দুটি কাছাকাছি আসুক। এমনকি তারা কিছু কিছু মসজিদ ও মন্দিরে নারীদের প্রার্থনা করা বন্ধ করতে চেয়েছিল।
মহারাষ্ট্রের মন্দিরে নারীদের যারা ঢুকতে দিতে চায়নি, সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, আমি তার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু আমার অপেক্ষাটা খুবই অপ্রয়োজনীয় ছিল। চরমপন্থী হিন্দুরা নারীদের সামনে রেখে পুরুষের শ্রেষ্ঠত্ব চিরস্থায়ী করার চেষ্টা করেছে, এর মাধ্যমে তারা সমস্যা আরও জটিল করে তুলেছে। কিন্তু সরকারের এই চরমপন্থীদের শাস্তি দেওয়া উচিত।
তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে আমি দেখেছি, তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, নারীরা প্রবেশ করলে পবিত্র স্থানের পবিত্রতা বিনষ্ট হবে। কেউ কেউ আবার যুক্তি দেন, ‘আমরা তাদের যথেষ্ট জায়গা দিয়েছি।’ তাদের কথা শুনে আমি যারপরনাই ভীতবিহ্বল হয়েছি, কারণ আমি বুঝতে পারি না, মন্দিরের ভেতরে নারীরা প্রার্থনা করতে পারবে না, এমন আদেশ দেওয়ার অধিকার তাদের কে দিয়েছে।
মহারাষ্ট্র সরকারও দৃশ্যত পক্ষপাতদুষ্ট। তারা বিষয়টিকে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশকে তা সামাল দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছে। ওদিকে কেন্দ্রের মোদি সরকারও এই ভঙ্গুর যুক্তির আড়ালে গা ঢাকার চেষ্টা করছে যে আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু এটা নিছক আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়। পুরুষদের মতো নারীদেরও ধর্মীয় স্থানে ঢোকার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। চরমপন্থীরা যুদ্ধটা জিতে গেছে, তারা আবারও প্রমাণ করেছে, ধর্মীয় কঠোরতা ভাঙার লড়াইয়ে তারা জিতে যেতে পারে।
সৌভাগ্যবশত, এই বিষয়ে কিছু শহরে মিছিল-সমাবেশ হয়েছে। কিন্তু সেটা এতই সীমিত ছিল যে তাতে বোঝা যায়, মন্দিরে নারীদের প্রার্থনা করার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ভারতীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও অনেক দূর যেতে হবে। আমি জানতে পেরেছি, মসজিদেও নারীরা নামাজ পড়তে পারেন না। যেমন মুম্বাইয়ের বিখ্যাত আলী মসজিদে নারীদের ঢোকা বারণ।
কয়েক বছর আগে এক কান্নাড়া (দক্ষিণ ভারতীয়) চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বলেছিলেন, তিনি কেরালার এক মন্দিরে দেবতার মূর্তি স্পর্শ করেছেন। এরপর যেন ধরণিতে নরক নেমে এল, সেই দেবতার ভক্তরা খেপে গিয়ে এককালের সুন্দরী অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। কেরালার উচ্চ আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছিল, যদিও আদালত ছয় বছর পরে তা ভিত্তিহীন বলে বাতিল করে দিয়েছিলেন।
বস্তুত, ভারতের আরও কিছু মন্দিরে নারীদের ঢোকা বারণ। এর মধ্যে রয়েছে হিমাচল প্রদেশের বাবা বালক নাথ মন্দির, রাজস্থানের প্রভু কার্তিক মন্দির ও আসামের প্রভু সাত্রা মন্দির। অনেক আগের কথা, তবু আমার এখনো মনে আছে, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী একজন পারসিককে বিয়ে করেছিলেন বলে তাঁকে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
একই ব্যাপার ঘটেছিল কর্ণাটকের বিখ্যাত সংগীতশিল্পী কে জে ইয়েসুদাসের বেলায়, তাঁকে বিখ্যাত গুরুভায়ুর মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, যদিও তিনি নিজেই শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত ছিলেন। আরেকটি ঘটনা মনে পড়ে, যেখানে সাবেক ইউনিয়নমন্ত্রী বায়েলার রবির নাতির অন্নপ্রাশনের পর মন্দিরকে শুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। কারণ, শিশুটির দাদি খ্রিষ্টান ছিল। শিশুটির মা ও বাবা দুজনেই হিন্দু হওয়া সত্ত্বেও এ কাজ করা হয়েছিল!
এসব উদাহরণ দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো, দেশে যে অসহিষ্ণুতার আবহ ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে, তা বোঝানো। জাতিকে এ ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে।
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন।
কুলদীপ নায়ার: ভারতীয় সাংবাদিক।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
-
▼
2016
(3416)
-
▼
February
(648)
-
▼
Feb 13
(20)
- ওসমানী জানিয়ে দেন, ভারতের খবরদারি বন্ধ না হলে তিনি...
- পুলিশ হতে ১০ লাখ ও স্কুল শিক্ষক হতে ৫ লাখ টাকা লাগ...
- নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা! by মেরি দাইয়েফস্কি
- দমিত মানুষের শক্তির খোঁজে by আনু মুহাম্মদ
- পুলিশ কোনো দলের বাহিনী হতে পারে না: ড. কামাল
- বিপন্ন মানুষের বন্ধু by এ এইচ এম বজলুর রহমান
- হিলারি ও স্যান্ডার্স সমানে সমান by হাসান ফেরদৌস
- পিটারসেনের পুনর্জন্ম বাংলাদেশেই
- সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া
- শিক্ষাবিজ্ঞানী আবদুল জব্বার by সরকার আবদুল মান্নান
- অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের মুখে ইরান? by মাসুমুর রহমান ...
- জয়ের আনন্দে বারবার কাঁদতে চাই by আনিসুল হক
- জলবায়ুর পরিবর্তনে নারীর দুর্ভোগ বেশি by আয়েশা কবির
- পুলিশ বাহিনীর সদস্যের অপরাধ- স্বাধীন তদন্তের বিকল্...
- পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি- দ্রুত বাস্তবায়নই উন্নয়ন...
- বাংলাদেশে শ্রমঅধিকার নিশ্চিত দেখতে চায় ইইউ পার্লাম...
- আগেই আঘাত করিনি বলে আমাদের বড় মূল্য দিতে হলো
- নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন -সংবাদ স...
- অসহিষ্ণুতা ও বৈরিতা নয় by কুলদীপ নায়ার
- সৌদি আরব সিরিয়ায় সেনা পাঠালে বিশ্বযুদ্ধ বাঁধবে : র...
-
▼
Feb 13
(20)
-
▼
February
(648)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...














