Tuesday, October 19, 2010

গদ্য কবিতা- 'ব্রহ্মাণ্ডের ইসকুল' by শামীম রেজা

বিসর্জনের প্রতিমার মতো ভাইসা যাচ্ছি কূল থেইকা কূলে জোয়ার ভাটায়, নক্ষত্র থেইকা অপার অন্ধকারে… অন্তিম চাহুনি ভাইসা গেছে স্বপ্নের জলের বহু আগে দুঃস্বপ্নের অন্তহীন রাতে। নিরন্তর আশ্বাসে যারা কাহিনী লিখাছে তাদের প্রতি করুণা বর্ষণ করি, অন্তহীন মৃত্যুর জমপেশ এই উৎসবে। তোমাদের অভিসম্পাত দেই আর জিজ্ঞাস করতে চাই, পায়রা রঙের দিন ছিল কোন কালে কবে? এথেনসের জন্মঘড়ি থাইমাছিল কলিঙ্গের মৃত উৎসবে, অন্ধকারের পটভূমি লেখা আছে উদয়গিরি, অস্তগিরির গায়, দেখো দেখো নগরীর সমস্ত নিষ্প্রাণ আলো বিমর্ষ তাকায়। মৃত্যু তুমি কোন গ্লানি রেখা মুইছা দিতে চাও আমার সবুজ ডানায়… শূন্যে শূন্যে সংঘর্ষ রেখা আঁইকা যাবো মৃতপ্রায় স্তনের গোল কমলালেবু চিহ্নের উপর, তোমার শরীর আর শরীরের ভেতর যত প্রিয় মেঘ আছে সব আমি বৃষ্টি হয়া ভইরা দেব রক্তধারায়। অহেতু নিরুদ্দেশ যাত্রাকালে তোমার শরীর কাবার মিনার ভেবে জিয়ারত ছলে পোড়া নক্ষত্রের স্বাদ পাইয়া চুপি চুপি ফিরাছি ডেরায়। চোখের তারায় নগ্ন নারী দেহের মতো বিদ্যুৎ চমকায়, সেই থেইকা… গ্যাস চেম্বারে পুরো সাতটা বসন্তকাল ঘুমানোর আগে, অনন্ত মরুর দিকে চাইয়া থাইকে শুধু কিছু উটের ওলানের ছায়া আটকে যাইতে দেইখাছি অপোগণ্ড রাতে। একি দৃষ্টির বিলোড়ন!…
গভীর অন্ধকারের দিকে যেতে যেতে নিমজ্জিত জাহাজের হুইলে হাত রাইখা দেখেছি স্বাধীন মাছের সংঘারাম, পটশূন্য কার্তিকের মাঠে তোমার আমার কঙ্কাল ছায়া পইড়া আছে খড়ের ভাঁজে। কী সব অনুভূতির কেলি শুয়োরের সদ্য আগুনের অক্ষরের মতো পোড়ে মনে, চারিদিকে বিবস্ত্র বিশুদ্ধ অযুক্তির ভিতর থেইকা পাশা হাতে কতিপয় মুখ প্রেমিকার স্তন কাইটা জুয়া খেলে রাতে; অসমাপ্ত গল্পের পোকা শাইন জাল বুইনা চলে গভীর অক্ষরে, আততায়ী চোখে ঠাণ্ডা আগুন বাড়ে, আর কতিপয় বন্য শুকোর তার চোখ থেইকা নামে হৃদয়ের সবুজ কফিক্ষেতে, স্খলিত ঈশ্বরীর স্তনে মুখ রেখে তীরে বিদ্ধ করি জোছনার শরীর, কী সব অনুভূতির কেলি শ্মশানের সদ্য আগুনের অক্ষরের মতো পোড়ে মনে, ঘোড়ার কঙ্কাল হাঁটে কলিঙ্গের রাজপথে, সেইসব খোরাসানী ঘোড়া — ঘুড়ির খোঁজে মধ্যরাত শেষে নাইমা আসে আমাদের গাঁয়, সিডরের বাণ তখন হেমন্তের সমস্ত জানালা ভাইঙা দিয়া যায়।

ইসরায়েলে নাগরিকত্ব বিল নিয়ে প্রতিবাদ

ইসরায়েলে গত শনিবার কয়েক হাজার আরব ও ইহুদি দেশটির নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। ওই বিলে বলা হয়েছে, ইহুদি নন এমন নতুন নাগরিকদের ইসরায়েলকে ইহুদি রাষ্ট্র মেনে এর প্রতি অনুগত থাকার শপথ নিতে হবে। ১০ অক্টোবর সে দেশের ক্ষমতাসীন ডানপন্থী সরকার আনুগত্যের শপথসংক্রান্ত এই বিল অনুমোদন করে।
বামপন্থী বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই সমাবেশের আয়োজন করে।

ফ্র্যাক্টাল জ্যামিতির জনক মাদেলব্রর জীবনাবসান

ফ্র্যাক্টাল জ্যামিতির জনক বেনোই বি মাদেলব্র আর নেই। বিশ্বখ্যাত এই গণিতবিদ গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের একটি হাসপাতালে মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন। তাঁর পরিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
ফ্র্যাক্টাল জ্যামিতির সাহায্যে মেঘ ও উপকূলরেখা পরিমাপ করা হয়। মাদেলব্র এ পদ্ধতি আবিষ্কারের আগে মনে করা হতো, মেঘ ও উপকূলরেখা পরিমাপ করা অসম্ভব। এ সংক্রান্ত তাঁর লেখা বই দ্য ফ্র্যাক্টাল জিওমেট্রি অব নেচার ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।
মাদেলব্র পোল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে নাৎসিদের ভয়ে তাঁর পরিবার প্যারিসে চলে যায়। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর। পরে তিনি পড়াশোনা করেন ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি ১৯৫২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন তিনি।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি মাদেলব্রর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, একজন শক্তিশালী মনের মানুষ ছিলেন মাদেলব্র। তিনি কখনোই উদ্ভাবনী পথ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেননি। হেলথ জ্যাকেল ডটকম।

চীনের খনিতে আটকে পড়া শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কম

চীনের কয়লাখনিতে আটকে পড়া ১১ জন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। গতকাল রোববার উদ্ধার অভিযানের উপপরিচালক ডু বো এ তথ্য জানান। এদিকে চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা চীনকে সাফল্যের সঙ্গে শ্রমিকদের উদ্ধারে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
চীনের মধ্যাঞ্চলের হেনান প্রদেশের একটি কয়লাখনিতে গত শনিবার গ্যাস বিস্ফোরণে ২৬ জন শ্রমিক নিহত হন। এতে ১১ জন শ্রমিক খনির ভেতরে আটকা পড়েন।
ডু বোর বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা চায়না নিউজ সার্ভিস জানায়, আটকে পড়া শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধার করার সম্ভাবনা খুব কম। কারণ তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করতেই তিন থেকে চার দিন লেগে যেতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, শ্রমিকেরা বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট আড়াই হাজার টন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। উদ্ধারকারীরা বলছেন, ওই শ্রমিকেরা ৫০ থেকে ৮০ মিটার গভীরে থাকতে পারেন। দুর্ঘটনার সময় খনিতে মোট ২৭৬ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৩৯ জন বের হয়ে আসতে পারলেও অন্যরা ভেতরে আটকা পড়েন। এর মধ্যে ২৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য ১১ জনের অবস্থান এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। চীনের খনিতে দুর্ঘটনা এবংমৃত্যুর হার বিশ্বে সর্বোচ্চ বলেমনে করা হয়।
এদিকে লন্ডন সফররত চিলির প্রেসিডেন্ট পিনেরা বলেছেন, ‘চীন চাইলে শ্রমিকদের উদ্ধারে আমরা সহায়তা করতে পারি। কারণ, এই অভিজ্ঞতা আমাদের আছে।’
গত ৫ আগস্ট চিলির একটি খনি ধসে ৩৩ জন শ্রমিক আটকা পড়েন। ৬৯ দিন পর গত বুধবার তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

পদপিষ্ট হয়ে বিহারে ১০ পুণ্যার্থীর মৃত্যু

ভারতের বিহার রাজ্যের একটি দুর্গামন্দিরে রামনবমীর উৎসবে যোগ দিতে এসে শনিবার রাতে পদপিষ্ট হয়ে ১০ পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন। এদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের বাঁকা ও তারাপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় বিহারের বাঁকা জেলার শম্ভুগঞ্জ থানার তিলডিহা গ্রামের দুর্গামন্দিরে রামনবমী উপলক্ষে জড়ো হয়েছিলেন অন্তত ৪৫ হাজার পুণ্যার্থী। রাতে ওই মন্দিরে পাঁঠা বলির সময় একটি পাঁঠার মাথা পুণ্যার্থীদের ভিড়ের মধ্যে এসে পড়লে আতঙ্কে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। আর এতে করেই পদপিষ্ট মারা যায় ১০ পুণ্যার্থী। বিহার পুলিশের মহানির্দেশক নীলমণি পদপিষ্ট হয়ে পুণ্যার্থীদের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছেন।

শান্তিচুক্তি করলে বসতি স্থাপন বন্ধ হতে পারে

জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত মেরোন রিউবেন বলেছেন, ফিলিস্তিনিরা শান্তিচুক্তি করলেই কেবল বিতর্কিত বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ করতে পারে ইসরায়েল। গতকাল রোববার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। আজ সোমবার মধ্যপ্রাচ্যসংকট নিয়ে নতুন করে আলোচনা হওয়ার কথা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে।
ইসরায়েলি দূত বলেন, ‘কোনো চুক্তির আগেই জাতিসংঘে আরব রাষ্ট্রগুলো একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করলে তা ইসরায়েলের জন্য উদ্বেগের কারণ হবে।’ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বসতি স্থাপন নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক চাপের মুখোমুখি হবেন রিউবেন। অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলের বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধে ফিলিস্তিনিদের দাবিকে সমর্থন করছে যুক্তরাষ্ট্র ও বেশির ভাগ বিশ্বশক্তি।
রিউবেন বলেন, ‘শান্তি-প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বসতি স্থাপন কোনো বাধা নয় এবং এটা শান্তি-প্রক্রিয়াকে বন্ধ করবে না।’ তিনি বলেন, ‘সিনাই মরুভূমিতে ইসরায়েলি বসতি ১৯৭৯ সালে মিসরের সঙ্গে শান্তিচুক্তি বাধা সৃষ্টি করেনি এবং সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। বসতি স্থাপন ২০০৫ সালে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রেও কোনো বাধা হিসেবে বিবেচিত হয়নি। এমনকি অসলো চুক্তি করার ক্ষেত্রেও এটা কোনো প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হয়নি।
বসতি স্থাপনে আরোপিত ১০ মাসের সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ইসরায়েল সরকার আর না বাড়ানোয় গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া সরাসরি শান্তি আলোচনা থেকে সরে আসে ফিলিস্তিনি পক্ষ। গত শুক্রবার পূর্ব জেরুজালেমে আরও ২৩৮টি বাড়ি নির্মাণের অনুমতি দেওয়ায় নতুন করে প্রতিবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে ইসরায়েলকে।

৭৬টি উপহারসামগ্রী নিয়েছেন টনি ব্লেয়ার

তিন বছর আগে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ার সময় যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার সঙ্গে করে ৭৬টি উপহারসামগ্রী নিয়ে গেছেন। এর মধ্যে ছিল ১২টি দামি ঘড়ি ও তিনটি ইলেকট্রিক গিটার।
সম্প্রতি দ্য সানডে এক্সপ্রেস পত্রিকায় এই উপহারসামগ্রীর তালিকা প্রকাশ করা হয়।
আগেই জানা গিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী ব্লেয়ার ২২টি উপহারসামগ্রী নিজের কাছে রেখেছিলেন। তার মধ্যে ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনির দেওয়া দুটি ৩৫০ পাউন্ড দামের ঘড়িও ছিল। প্রতিটি ঘড়ির জন্য ২০০ পাউন্ড করে দিয়েছিলেন ব্লেয়ার।
নতুন প্রকাশিত তালিকায় আরও ৫৪টি উপহারসামগ্রী সংযুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আরও ১২টি হাতঘড়ি। এ ১২টি হাতঘড়ির মধ্যে নয়টিই দিয়েছেন বার্লুসকোনি। নতুন প্রকাশিত তালিকায় তিনটি ইলেকট্রিক গিটারও রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ তিনটি গিটারের মধ্যে একটি দিয়েছে গিটার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফেন্ডার, একটি গিটার দিয়েছেন কানাডার গায়ক ব্রায়ান অ্যাডামস এবং তৃতীয় গিটারটি দেন ইউ টুর বোনো।
এ ছাড়া ইয়েমেন, ওমান ও বাহরাইনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ব্লেয়ার স্বর্ণালংকার, ফুলদানি, কম্বল ও ছুরি উপহার পেয়েছেন।
অতিথি কিংবা সফররত কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের দেওয়া উপহারসামগ্রী ব্রিটেনে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে ১৪০ পাউন্ডের চেয়ে কম দামি উপহারসামগ্রী মন্ত্রীরা ইচ্ছা করলে রেখে দিতে পারেন। এর চেয়ে বেশি দামি হলে সেগুলো কিনে নিতে পারবেন তাঁরা।

করাচিতে উপনির্বাচনের আগে সহিংসতায় নিহত ২১

পাকিস্তানের বন্দরনগর করাচিতে গত শনিবার রাতে রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ২১ জন নিহত হয়েছে। গতকাল রোববার সিন্ধু প্রদেশের প্রাদেশিক আইনসভার গুরুত্বপূর্ণ একটি উপনির্বাচনের আগে এই সহিংসতা হয়। অবশ্য সহিংসতার পর উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়েছে।
গত আগস্টে পাকিস্তানি আইনপ্রণেতা রাজা হায়দারের হত্যাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতার পর এটাই বড় রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা। আগস্টের ওই ঘটনায় ৮৫ জন নিহত হয়। রাজা হায়দার মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) দলের অন্যতম শীর্ষনেতা। করাচিতে এই দল প্রভাবশালী। রাজা হায়দারের মৃত্যুতে প্রাদেশিক পরিষদের যে আসনটি শূন্য হয়, সেটিতেই এই উপনির্বাচন হয়েছে।
করাচির পুলিশপ্রধান ফাইয়াজ লেঘারি বলেন, শহরের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে শনিবার রাতের সহিংসতায় কমপক্ষে ২১ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৪০ জন। শহরের বিভিন্ন স্থানে বন্দুকধারীরা হামলা চালায়। এদের মধ্যে ১৭ জন শনিবার রাতেই নিহত হয়। সুনির্দিষ্টভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল বন্দুকধারীরা একটি যাত্রীবাহী বাসে গুলি চালালে আরও চারজনের মৃত্যু হয়।
সহিংসতার পর ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গতকাল শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে।
ঘটনার পর এমকিউএমের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি (এএনপি) অভিযোগ করেছে, কর্তৃপক্ষ যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর আগে ভোট গ্রহণে এমকিউএম কারচুপি করতে পারে এমন অভিযোগ তুলে এই উপনির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় এএনপি। নির্বাচনের আগে এই সহিংসতার জন্য এএনপিকে দায়ী করেছে এমকিউএম। অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এএনপি।
এক বিবৃতিতে এমকিউএমের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সহিংসতার ঘটনায় দলের কর্মীসহ ২৫ জন নিহত হয়েছে। পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতৃত্বাধীন সিন্ধু প্রদেশের প্রাদেশিক জোট সরকারের অন্যতম শরিক এমকিউএম। গত মাসে লন্ডনে দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষস্থানীয় নেতা ইমরান ফারুককে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায়ও করাচিতে সহিংসতা হয়েছিল।
এমকিউএম মূলত ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর ভারত থেকে আসা মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করে। অন্যদিকে জাতিগত পশতুনদের প্রতিনিধিত্ব করে এএনপি। করাচিতে রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত সহিংসতার ইতিহাস বেশ পুরোনো। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে করাচিতে ২৬০ জন সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে।

হেডলির আরেক স্ত্রীও মার্কিন কর্তৃপক্ষকে আগেই জানান

মুম্বাই হামলার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ডেভিড হেডলির আরেক স্ত্রীও হামলার এক বছর আগে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তাঁর স্বামী লস্কর-ই-তাইয়েবার সঙ্গে জড়িত এবং ভারতের বাণিজ্যিক কেন্দ্রে হামলার ষড়যন্ত্র করছেন। এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, হেডলির স্ত্রীদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর তা সময়মতোই ভারত সরকারকে জানানো হয়েছিল।
২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিসংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবাকে দায়ী করে আসছে ভারত। গত শুক্রবার সংবাদ প্রতিষ্ঠান প্রোপাবলিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, মুম্বাই হামলার তিন বছর আগেই পাকিস্তানি-মার্কিন ডেভিড হেডলির স্ত্রী এফবিআইকে জানিয়েছিলেন, তাঁর স্বামী লস্কর-ই-তাইয়েবার সঙ্গে জড়িত এবং তিনি হামলার লক্ষ্য নির্ধারণের কাজ করছেন।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, হেডলির আরেক স্ত্রী ফাইজা আওতালহা জানিয়েছেন, মুম্বাই হামলার অন্তত এক বছর আগে তিনি সম্ভাব্য ওই হামলার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, ২০০৭ সালের এপ্রিল ও মে মাসে দুই দফায় তাঁর স্বামী হেডলির সঙ্গে তিনি মুম্বাইয়ে তাজমহল হোটেলে ছিলেন। সে ছবিও তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের দেখিয়েছিলেন।
হেডলির কমপক্ষে তিনজন স্ত্রী আছেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। ২৭ বছর বয়সী ফাইজা জানান, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাসে তিনি দুই দফায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাঁদের জানিয়েছিলেন, তাঁর স্বামীর অনেক বন্ধু আল-কায়েদার সক্রিয় সদস্য।
এদিকে প্রোপাবলিকার ওই প্রতিবেদনের পর প্রশ্ন উঠেছে, এত আগে হামলার বিষয়ে জানতে পেরেও বিষয়টি কি মার্কিন গোয়েন্দারা ভারত সরকারকে জানাননি? তবে হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র মাইক হ্যামার জানিয়েছেন, হেডলির স্ত্রীরা তাঁদের স্বামীর জঙ্গি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তাঁদের তথ্য দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু হামলার সঠিক দিনক্ষণ ও স্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য তাঁরা পাননি। তিনি বলেন, ‘হামলার নির্দিষ্ট সময় ও স্থান সম্পর্কে যদি আমরা জানতে পারতাম, তাহলে দেরি না করে সবিস্তারে তা ভারতকে জানানো হতো।’
মুম্বাই হামলার তদন্তের সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তাও স্বীকার করেছেন, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সতর্কতা পেয়েছিলেন। তবে তা ছিল নেহাত সাধারণ কিছু তথ্য। এএফপি, ডন।

ইরাকে মার্কিন বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সুন্নিরা আল-কায়েদায় যোগ দিচ্ছে

ইরাকে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরাকস্ অ্যাওকেনিং কাউন্সিলের (ইরাকের জাগ্রত পরিষদ) কয়েক শ সুন্নি সদস্য আল-কায়েদার সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল রোববার নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ইরাকে উগ্র ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার কারণে ইরাক যুদ্ধের সময় সুন্নি সম্প্রদায়ের একটি পক্ষকে মার্কিন বাহিনী মিত্র হিসেবে গ্রহণ করে। ওই সুন্নিদের নিয়ে ইরাকস্ অ্যাওকেনিং কাউন্সিল গঠন করা হয়। বিভিন্নভাবে সহায়তা করার জন্য মার্কিন বাহিনী তাঁদের মোটা অঙ্কের অর্থ সহায়তা দিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের ইরাকি বাহিনীতেও চাকরি পাইয়ে দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছিল মার্কিনিরা। তবে চলতি বছর মার্কিন বাহিনীর কমব্যাট সেনারা ইরাক ছাড়া শুরু করলে ওই সুন্নিরা মার্কিন বাহিনী তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মনে করতে শুরু করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাওকেনিং কাউন্সিলের যেসব সদস্য দল ত্যাগ করে আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, তাঁদের একাংশ মনে করেন, ইরাকের বর্তমান সরকার তাঁদের ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে। তাই সরকারবিরোধী শক্তির সঙ্গে তাঁদের যোগ দেওয়া উচিত। আরেকটি অংশ আল-কায়েদার চাপে পড়ে তাঁদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন বলেও ধারণা করছেন কর্মকর্তারা।
ইরাকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি কর্মকর্তা, অ্যাওকেনিং কাউন্সিল ও জঙ্গি দলের সদস্যদের উদ্ধৃতি দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে অ্যাওকেনিং কাউন্সিল থেকে পদত্যাগ করা অথবা বরখাস্ত হওয়া কয়েক শ সদস্য আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকতে পারেন। তাঁদের অনেকেই সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং মার্কিন বাহিনীর সামরিক কৌশল সম্পর্কে তাঁরা অবগত। কর্মকর্তাদের ধারণা, অ্যাওকেনিং কাউন্সিলের মধ্যে এমন কয়েক হাজার সদস্য আছেন, যাঁরা নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা পাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে তাঁরা জঙ্গিদের সহায়তা করে যাচ্ছেন।
কর্মকর্তারা বলেছেন, আগামী বছর ইরাক থেকে সব সেনা সরিয়ে নেওয়ার সময় অ্যাওকেনিং কাউন্সিলের সদস্যরা বিগড়ে যাওয়ায় সেখানে নতুন করে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ হীরার বাজার মুম্বাইয়ে

ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে ‘বিশ্বের বৃহত্তম’ হীরার বাজার চালু হলো। এর ফলে এই বাজার ঘিরে এখন থেকে গোটা বিশ্বে হীরাসহ নামীদামি পাথর ও হীরার অলংকারের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
হীরা কেনাবেচার এই বাজারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভারত ডায়মন্ড বোরস’। বাজারটি চালু করা হয়েছে মুম্বাই শহরের বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সে, যেটাকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ হীরার বাজার বলে মনে করা হচ্ছে। এত দিন বিশ্বের সর্ববৃহৎ হীরার বাজার ছিল বেলজিয়াম ও ইসরায়েলে।
এদিকে যেখানে হীরার বাজারটি চালু করা হয়েছে সেই বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সটির নকশা করেছেন বিখ্যাত স্থপতি বালাকৃষ্ণ দোশী। ২০ একর জমির ওপর নির্মিত নয়তলাবিশিষ্ট এই কমপ্লেক্সটিতে নয়টি টাওয়ার রয়েছে। এটি তৈরি করতে ভারতীয় মুদ্রায় এক হাজার ১০০ কোটি রুপি ব্যয় হয়েছে।
ভারত ডায়মন্ড বোরসের প্রেসিডেন্ট অনুপ মেহতা বলেছেন, ভারতের হীরা ও অলংকারশিল্পকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই তৈরি করা হয়েছে এই কমপ্লেক্স। এখানেই হীরার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম থেকে শুরু করে হীরার শেয়ারবাজার ও ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে।
অনুপ মেহতা জানান, ভারতের মোট হীরার ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই বিদেশের বাজারে রপ্তানি করা হয়। হীরা কাটা, পালিশ করা, হীরার অলংকার তৈরি ইত্যাদি মিলিয়ে এই শিল্পের সঙ্গে বর্তমানে প্রায় আট লাখ ৫০ হাজার কর্মী জড়িত রয়েছেন। আর ভারতে হীরা রপ্তানির ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছে ৪০০টি প্রতিষ্ঠান। তিনি আরও জানান, ভারতে এখন বছরে দুই হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ কোটি ডলার মূল্যের হীরা আমদানি-রপ্তানি হয়।
অনুপ মেহতা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মুম্বাইয়ে এই বিশাল হীরার বাজার চালু হওয়ার পর এবার বেলজিয়াম ও ইসরায়েলের মতো হীরার বড় ব্যবসায়ের দেশগুলো থেকেও ব্যবসায়ীরা নিয়মিতভাবে ভারতে আসবেন।

মেঘালয় সীমান্তসংলগ্ন নয়টি শুল্ক স্টেশন সক্রিয় করা হবে

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের সঙ্গে স্থলপথে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মেঘালয় সীমান্তসংলগ্ন দুই দেশের নয়টি শুল্ক স্টেশন পুরোপুরি সক্রিয় করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশের পাঁচটি আর ভারতের চারটি রয়েছে।
সম্প্রতি মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য গঠিত স্থল শুল্ক স্টেশন অবকাঠামোসংক্রান্ত উপদলের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।
বাংলাদেশের পাঁচটি শুল্ক স্টেশন হলো: সিলেটের তামাবিল, হালুয়াঘাটের গোবরাকড়া ও গাছুয়া, শেরপুরের নকুগাঁও এবং সুনামগঞ্জের বড়ছড়া। আর ভারতের শুল্ক স্টেশনগুলো হলো ডাউকি, কড়ুইতলী, ঢালু ও বড়ছড়া।
এসব শুল্ক স্টেশনে আধুনিক অফিস, ওজনযন্ত্র, ট্রাক পার্কিং ও ওয়্যারহাউস নির্মাণ করা হবে। এর পাশাপাশি এসব শুল্ক স্টেশনে পণ্যবাহী যানবাহন পৌঁছানোর জন্য রাস্তা সংস্কার করা হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দেবে।
বর্তমানে তামাবিল ছাড়া অন্য শুল্ক স্টেশন দিয়ে নিয়মিত পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা হয় না। কোনো ধরনের অবকাঠামোও নেই এসব শুল্ক স্টেশনে। এমনকি শুল্ক কর্মকর্তাও নেই। নিকটবর্তী কমিশনারেট থেকে নির্দিষ্ট দিনে শুল্ক স্টেশনে গিয়ে দায়িত্ব পালন করেন শুল্ক কর্মকর্তারা। আমদানি ও রপ্তানিকারকের চাহিদা অনুযায়ী মাঝে মাঝে এসব রুট ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশ থেকে মেঘালয়ে ইট, চকোলেট, লজেন্স, জুসসহ নানা ধরনের পণ্য রপ্তানি করা হয়। অন্যদিকে মেঘালয় থেকে আসে প্রধানত চুনাপাথর।
৩ থেকে ৬ অক্টোবর মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে স্থল শুল্ক স্টেশন অবকাঠামোসংক্রান্ত উপদলের বৈঠকে বাংলাদেশের ছয় সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোকাব্বের হোসেন। প্রতিনিধিদলে এনবিআর, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ (বাস্থবক) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ছিলেন।
বৈঠককালে উভয় দেশের প্রতিনিধিদল মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা সব স্থলবন্দর সরেজমিনে পরিদর্শন করে।
মেঘালয়ে অনুষ্ঠিত দুই দেশের বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘এসব শুল্ক স্টেশনের অবকাঠামোসুবিধা বাড়ানো গেলে দুই অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে। শুধু ওয়্যারহাউসের অভাবে বহু বাংলাদেশি রপ্তানিকারক মেঘালয়ে পণ্য রপ্তানি করতে আগ্রহী হচ্ছেন না।’
উদাহরণ দিয়ে ওই কর্মকর্তা জানান, ঢালু-নকুগাঁও সীমান্তে গুদাম বা ওয়্যারহাউস না থাকায় প্রাণ গ্রুপের মতো রপ্তানিকারক এই পথে রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে।
বাংলাদেশের শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার সঙ্গে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে। বাংলাদেশ ও মেঘালয়ের মধ্যে পণ্য পরিবহনের জন্য তামাবিল-ডাউকি শুল্ক স্টেশন ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু এই রুট ব্যবহার করে মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে পণ্য পৌঁছাতে বেশ সময় লাগে। তাই সময় ও পরিবহন-ব্যয় কমানোর জন্য গোবরাকড়া ও গাছুয়াপাড়া-কড়ুইতলী, নকুগাঁও-ঢালু, বড়ছড়া রুটগুলো ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থলপথে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজগুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সফর করেও গেছে।
এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসেই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য মেলা এবং বাংলাদেশ-উত্তরপূর্ব ভারত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলন। এর মূল আয়োজক ছিল ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইবিসিসিআই)। সম্মেলনে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুসারে, সারা দেশে ১৮১টি শুল্ক স্টেশন রয়েছে। ওয়্যারহাউস, পানি, বিদ্যুৎসহ কোনো ধরনের অবকাঠামোসুুবিধা না থাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক শুল্ক স্টেশন বছরের পর বছর ধরে অব্যবহূত রয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ২০০৭ সালের জুলাই মাস থেকে ৫০টি শুল্ক স্টেশন অকার্যকর ঘোষণা করেছে এনবিআর। তবে পূর্বানুমতি নিয়ে এসব স্টেশন ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ৯৯টি শুল্ক স্টেশন চালু রাখা হলেও কোনো ধরনের হেড লোডিং (নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য মাথায় বহন করে আনা-নেওয়া) নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সহায়তা বাড়ানোর তাগিদ



সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনে অনুন্নত ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে পর্যাপ্ত সহায়তা দিচ্ছে না উন্নত দেশগুলো।
২০১৫ সালের মধ্যে এমডিজি অর্জনের জন্য যে আটটি লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে জাতিসংঘ, তার শর্তও পূরণ করছে না উন্নত দেশগুলো। এতে স্বল্পোন্নত বাংলাদেশসহ অন্য অনেক অনুন্নত দেশের এমডিজি অর্জন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এমডিজিতে মোট আটটি লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে আট নম্বর লক্ষ্যমাত্রাটি হলো সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাপী অংশীদারি গড়ে তোলা। এতে বলা হয়েছে, উন্নত ও উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো তাদের মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিএনপি) দশমিক ৭০ শতাংশ অনুন্নত দেশগুলোকে সহায়তা দেবে।
কিন্তু উন্নত দেশগুলো অনুন্নত দেশগুলোকে তা মাত্র দশমিক ২২ শতাংশ দিয়ে থাকে। এর মধ্যে আবার বাংলাদেশ পায় খুবই নগণ্য সহায়তা।
আর তাই উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা পাওয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) পরামর্শ দিয়েছে দারিদ্র্য নিরসন কৌশল (পিআরএস) বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নসম্পর্কিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি।
পরিকল্পনা কমিশনে কমিটির সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় এ পরামর্শ দেওয়া হয়।
পিআরএস বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নসম্পর্কিত এ কমিটি গঠন করা হয় ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ দিকে। মাঝখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুই বছরে এর কোনো সভা হয়নি। বর্তমান সরকারের পৌনে দুই বছর পার হওয়ার পর হয় এ সভা।
অর্থাৎ পিআরএস বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নসম্পর্কিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হয় চার বছর পর। তবে সভায় কমিটির চার বছরের নীরব ভূমিকাকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করা হয়।
এতে বলা হয়, দ্রুত দারিদ্র্য নিরসনে ২০০৩ সালে অন্তর্বর্তীকালীন দারিদ্র্য নিরসন কৌশলপত্র (পিআরএসপি) প্রণয়ন করে গত বিএনপি-জামায়াত সরকার। পরবর্তী সময়ে ২০০৫-০৮ মেয়াদে তিন বছরের জন্য প্রথম পিআরএসপি এবং ২০০৯-১১ মেয়াদে প্রণয়ন করা হয় দ্বিতীয় পিআরএসপি।
দ্বিতীয় পিআরএসপির ওপর ভিত্তি করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) বৈঠক আয়োজন করে।
তার পরও দেশে পিআরএসের কোনো মূল্যায়ন হচ্ছে না বলে সভায় মত দেওয়া হয়। আরও বলা হয়, পিআরএসের মতো সার্ক উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনেরও কোনো মূল্যায়ন হচ্ছে না দেশে।
জানা গেছে, স্টিয়ারিং কমিটির কার্যপরিধি অনুযায়ী পিআরএস বাস্তবায়ন এবং এমডিজি পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে একটি করে ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করার কথা। কিন্তু কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগই এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। গুটিকয় মন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করলেও তা কার্যকর করেনি।
সভায় পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম জানান, দেশে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। ২০১০-১১ অর্থবছরটি হলো পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রথম বছর, আর দ্বিতীয় পিআরএসপির শেষ বছর। তা সত্ত্বেও একটি অপরটির পরিপূরক। অর্থাৎ দলিল দুটিকে বিচ্ছিন্নভাবে ভাবা হবে না।
সূত্র জানায়, জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় আরও কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে পিআরএস বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন এবং এমডিজি অর্জনের অগ্রগতি তদারকসংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। এমডিজি অর্জনে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বছরওয়ারি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও অর্জনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যেসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না, চিহ্নিত করতে হবে সেগুলোও।
সভায় জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটিতে এমডিজি ও এসডিজি-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের আলোকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, খাদ্য বিভাগ, পরিসংখ্যান বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি দ্বিতীয় পিআরএসপি সমাপ্তির পর স্বাধীন কোনো পেশাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এর মূল্যায়ন করার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কাল বাজারে আসছে পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন কাল সোমবার শুরু হবে। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই মিউচুয়াল ফান্ডটির ট্রেডিং কোড "POPULAR1MF" ও ডিএসই কোম্পানি কোড #১২১৮০। ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের আকার ২০০ কোটি টাকা, যা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২০ কোটি ইউনিটে বিভক্ত। এই মিউচুয়াল ফান্ডের উদ্যোক্তা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।
ফান্ডটিতে উদ্যোক্তার অংশ ১০ শতাংশ বা ২০ কোটি টাকা। ৮০ কোটি টাকা মূল্যের আট কোটি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে। ফান্ডটি ১০ কোটি ইউনিট বিক্রি করার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বাকি ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। গত ১৯ জুন বাজারে আসার ব্যাপারে এসইসির অনুমোদন পায় ফান্ডটি।

অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার পরিকল্পনা করছে চীন

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির এক সম্মেলনে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আরও গতি সঞ্চার করার লক্ষ্যে দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা ও গৃহায়ণনীতি সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ সম্মেলনে কমিউনিস্ট পার্টির নীতি-নির্ধারকেরা চীনের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তৈরির ব্যাপারেও একমত হয়েছেন। খবর রয়টার্সের।
চীনের জাতীয় উন্নয়ন কমিশনের প্রধান ঝাং পিং বলেছেন, চীনে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এখনই স্বল্পমূল্যে জনগণের জন্য গৃহায়ণ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে হবে। সরকারকে গৃহায়ণকে ব্যাপক ভর্তুকি দিতে হবে।
ঝাং পিং আরও বলেন, চীনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য সামাজিক ন্যায়বিচারের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি না করা গেলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও বলেন, শহর ও গ্রামের মধ্যে যে বৈষম্য বিদ্যমান তা অবশ্যই দূর করতে হবে।
চীন ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির মর্যাদা লাভ করেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে চীনের অর্থনীতি আরও ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি উপভোগ করবে। এতে চীনের গোটা অর্থনীতির আকার দাঁড়াবে সাত দশমিক পাঁচ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ সময়ের মধ্যে দেশটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি চলে যাবে।

সিরিজে অজেয় বাংলাদেশ

সিরিজের ফল প্রতিপক্ষ মৌসুম
৪-০ কেনিয়া ২০০৫-০৬
৩-০ কেনিয়া ২০০৬
৫-০ জিম্বাবুয়ে ২০০৬-০৭
২-০ স্কটল্যান্ড ২০০৬-০৭
৩-০ আয়ারল্যান্ড ২০০৭-০৮
৩-০ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০০৯
৪-০ নিউজিল্যান্ড ২০০৯-১০*
* বৃষ্টির কারণে একটি ম্যাচ হয়

বাংলাদেশের ছোট জয় (রানে)

ফলাফল প্রতিপক্ষ সাল/ভেন্যু
৩ রান নিউজিল্যান্ড ২০১০/মিরপুর
৫ রান ইংল্যান্ড ২০১০/ব্রিস্টল
৮ রান জিম্বাবুয়ে ২০০৪/হারারে
৯ রান নিউজিল্যান্ড ২০১০/মিরপুর
৯ রান নিউজিল্যান্ড ২০১০/মিরপুর
* এই সিরিজেই তিনটি ম্যাচ

টুকরো টুকরো ছবি

গতকাল সকালে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঢুকেই দেখা গেল দুজন নতুন অতিথি। দুই ড্রেসিংরুমের পাশে দোর্দণ্ড প্রতাপে দাঁড়িয়ে আছে দুটি হাতি! নিরাপত্তাকর্মী, গ্রাউন্ডসম্যানদের কয়েকজন দাঁড়িয়ে দুই অতিথিকে ঘিরে, অত্যুৎসাহী দু-একজন আবার ছুঁয়েও দেখছে। তবে বিশালাকার হাতি দুটোর কিছুই করার নেই, তাদের দেহে যে প্রাণ নেই! আগামী বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক বাংলাদেশ। একটু অগ্রিম বিশ্বকাপের হাওয়া ছড়িয়ে দিতেই মাসকট ‘স্টাম্পি’কে রাখা হয়েছিল মাঠে।

উল্টো শুরু
নতুন বলে ইয়র্কার লেন্থে বোলিং করা সহজ নয়। এই কঠিন পথেই কাল শুরু করেছিলেন কাইল মিলস। ম্যাচের প্রথম তিনটি বলই ইয়র্কার লেন্থে। প্রথম দুটি বল ব্লক করার পর তৃতীয় বলে এক রান নেন ইমরুল কায়েস। পরের বলটা আবারও ইয়র্ক করার চেষ্টা। হয়ে যায় হাফভলি। দারুণ এক স্ট্রেট ড্রাইভে চার মেরে দেন শাহরিয়ার নাফীস। আগের ম্যাচে প্রথম বলেই আউট হয়েছিলেন শাহরিয়ার, কাল শুরু করলেন সেই একই বোলার কাইল মিলসকে চার মেরে।

আলোতে বিভ্রাট
মিলসের বল ফ্লিক করতে গিয়ে আকাশে তুলে দিয়েছিলেন জুনায়েদ সিদ্দিক। সহজ ক্যাচ, কিন্তু মিড অফের ফিল্ডার ড্যানিয়েল ভেট্টোরির জন্য কাজটা কঠিন করে দিল সূর্যের আলো। বল দেখার জন্য চোখের ওপর হাত নিতেই আরেক বিপত্তি, এবার পায়ে লেগে গেলেন পড়ে। তবে আসল কাজটি ঠিকই করেছেন। পড়িমড়ি করে ঠিকই ধরেছেন ক্যাচটি।

স্তব্ধ স্কোরবোর্ড
স্টেডিয়ামে যে একটা ডিজিটাল স্কোরবোর্ড আছে, প্রেসবক্সে বসা সাংবাদিকদের বুঝতে সময় লেগেছে অনেক। এমন একটা জায়গায় স্কোরকার্ডটি বসানো, যে সহজেই চোখে পড়ে না। সাইজে বেশ ছোট, লেখাগুলো তো আরও ছোট ছোট। আর প্রচণ্ড ঝাপসা, এই স্কোরকার্ড দেখে অনেকর মনে পড়ে গেছে পুরোনো দিনের ক্যালকুলেটরের কথা। নতুন সাজে সাজছে শেরেবাংলা স্টেডিয়াম, অথচ এমন শ্রীহীন স্কোরবোর্ড! বিশ্বকাপেও এই স্কোরকার্ড থাকলে দেশের জন্য লজ্জাজনক ব্যাপার হবে, মন্তব্য অনেক দর্শকের।

রাইডারের থাবা
টাইগার বা বাঘ ছদ্মনাম বাংলাদেশ দলের। কিন্তু কাল এক মুহূর্তের জন্য বাঘ হয়ে গেলেন জেসি রাইডার। ৩৬তম ওভারে হামিশ বেনেটকে কাট করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। বিশাল দেহ নিয়ে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক থাবায় রাইডার ধরে ফেললেন বলটি। বাঁচালেন নিশ্চিত চার রান।

উইলিয়ামসনের তৃতীয়
মাঝখানে দুটি ইনিংস ব্যতিক্রম, কাল আবার নিজের পরিচিত রূপে দেখা দিলেন কেন উইলয়ামসন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই শূন্যের সঙ্গে বেশ একটা সখ্য গড়ে উঠেছে তরুণ এই অলরাউন্ডারের। নিজের প্রথম দুই ইনিংসে শূন্যের পর দুই ইনিংসে করেছিলেন ১৩ ও ১০৮। পঞ্চম ইনিংসে কাল আবার পেলেন পরিচিত স্কোরের দেখা, ০!

বিষাদে হরিষ
আগের ম্যাচে হয়তো হয়েছিলেন, কাল নিশ্চয়ই আর বিভ্রান্ত হননি রকিবুল হাসান। আগের ম্যাচের মতো কালও রকিবুল আউট হওয়ার পর মুহূর্তের জন্য নীরব হয়েই আবার গর্জন শুরু হয়েছে গ্যালারিতে। কারণ? ব্যাট হাতে নামছেন সাকিব আল হাসান!

দৌড়া, বাঘ আইল
‘বাংলাদেশের বার্মি আর্মি’ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল এই ফেসবুক গ্রুপটির। স্বপ্ন পূরণের পথে ভালোভাবেই আছে তারা। বাংলাদেশের সুসময়-দুঃসময়ে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে অক্লান্ত। আগের সিরিজগুলোর মতো এই সিরিজেও প্রতি ম্যাচে গ্যালারিতে ছিল তাদের উপস্থিতি, সমর্থন দিয়ে গেছে গলা ফাটিয়ে।

কিউই সমর্থক
উল্লাসে মাতোয়ারা হাজারো দর্শকের মাঝে কাল চোখে পড়ল একমাত্র সেই নিউজিল্যান্ড সমর্থককে। ভিআইপি গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে সমানে নিউজিল্যান্ডের পতাকা উড়িয়ে যাচ্ছেন। দল হারার পর আর চোখে পড়ল না ওই বিদেশিকে, পতাকাটাকে দেখা গেল লেপ্টে আছে রেলিংয়ের সঙ্গে।

সাকিবের জয়
ম্যাচের ৩২তম ওভারে সাকিবের সঙ্গে একচোট ‘শুভেচ্ছা বিনিময়’ হয়ে গেল নাথান ম্যাককালামের। আম্পায়ারের হস্তক্ষেপে শান্ত হয় পরিস্থিতি। কিন্তু ব্যাপারটা হয়তো মাথায় ছিল দুজনেরই। নইলে ম্যাচের ওই পরিস্থিতিতে নাথান কেন-ই বা উইকেট ছেড়ে তেড়েফুঁড়ে মারতে আসবেন সাকিবকে! বোল্ড করার পর সাকিবের উল্লাসই বলে দিচ্ছিল, ব্যক্তিগত একটা লড়াইও ছিল!
ক্রীড়া প্রতিবেদক


ছোট পুঁজিতেও বাংলাদেশের জয়
বাংলাদেশের স্কোর প্রতিপক্ষ ফলাফল ভেন্যু/সাল
১৭৪/১০ নিউজিল্যান্ড ৩ রানে জয়ী মিরপুর/২০১০
১৮৫/৯ স্কটল্যান্ড ২২ রানে জয়ী এডিনবরা/১৯৯৯
২২০/১০ জিম্বাবুয়ে ২৬ রানে জয়ী বগুড়া/২০০৬
২২১/৯ হংকং ১১৬ রানে জয়ী কলম্বো/২০০৪
২২৩/৯ পাকিস্তান ৬২ রানে জয়ী নর্দাম্পটন/১৯৯৯

দ্বিপাক্ষিক সিরিজে অলরাউন্ড নৈপুণ্য
দেশ ম্যাচ উইকেট রান প্রতিপক্ষ মৌসুম
সৌরভ গাঙ্গুলী ভারত ৬ ১৫ ২২২ পাকিস্তান ১৯৯৭
হানসি ক্রনিয়ে দ. আফ্রিকা ৭ ১১ ২৮৫ ও. ইন্ডিজ ১৯৯৮-৯৯
ল্যান্স ক্লুজনার দ. আফ্রিকা ৭ ১১ ২২৯ ও. ইন্ডিজ ১৯৯৮-৯৯
ক্রিস গেইল ও. ইন্ডিজ ৭ ১১ ২৭৫ অস্ট্রেলিয়া ২০০২-০৩
সাকিব আল হাসান বাংলাদেশ ৪ ১১ ২১৩ নিউজিল্যান্ড ২০১০-১১
জ্যাক ক্যালিস দ. আফ্রিকা ৬ ১০ ২৯৮ ও. ইন্ডিজ ২০০০-০১
শেন ওয়াটসন অস্ট্রেলিয়া ৬ ১০ ২৫৬ ভারত ২০০৯-১০

শেরেবাংলায় জনসমুদ্র

সাপ্তাহিক দুই দিন ছুটির সঙ্গে বিজয়া দশমীর সরকারি ছুটি। ঢাকার রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। কিন্তু অনেক মানুষের কোলাহলের শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল মিরপুর ১০ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের বেশ খানিকটা দূর থেকেই। কাছে যেতেই চোখে পড়ল বিশাল লম্বা লাইন। ১০ নম্বর গোলচত্বরের ফায়ার ব্রিগেড ছাড়িয়ে লাইনটি বাঁক নিয়েছে ১২ নম্বরের দিকে। সবারই লক্ষ্য এক, টিকিট চাই!
মাঠে ঢুকে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ, সকাল সাড়ে আটটার মধ্যেই গ্যালারি প্রায় ভরা। বাইরে যে এত লোক, এদের জায়গা হবে কোথায়! কীভাবে যেন হয়ে গেল। পিলপিল করে লোক ঢুকতে থাকল স্টেডিয়ামে। বেলা ১১টা নাগাদ ভিআইপি গ্যালারির কিছু জায়গা ছাড়া আর তিল ধারণের ঠাঁই নেই। বাইরে গিয়ে দেখা গেল হাজার পাঁচেক লোক তখনো মাঠে ঢোকার অপেক্ষায়!
টিকিট কাউন্টারের সুশৃঙ্খল লাইন তখন আর নেই। কাউন্টারের সামনে হাজারো লোকের জটলা। টিকিটের আশায় কাউন্টারের ছাদ ধরে ঝুলছে কয়েকজন। কালোবাজারিও চলছে সমানে। চোখের সামনেই দেখা গেল ছোটখাটো একটা নিলাম। ‘টিকিট লাগবে কার?’—কারও কণ্ঠে এটা শুনে ছুটে গেলেন কয়েকজন। ১০০ টাকার ক্লাব হাউসের টিকিট আছে তাঁর কাছে। একজন ২০০ টাকা দিতে চাইলেন, আরেকজন ৩০০, আরেকজন চুপচাপ ৫০০ টাকার একটা নোট হাতে গুঁজে ছোঁ মেরে টিকিট নিয়ে ভোঁ দৌড়। স্টেডিয়ামের পাশে টেলিফোন ভবনের গেটটা দেখতে টিকিট কাউন্টারের মতো, সেখানেও টিকিটের জন্য ভিড় জমল। টিকিট না পেয়ে উত্তেজিত কয়েকজন ১০ নম্বরে কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করেছে।
স্টেডিয়ামের ভেতর প্রায় পরিপূর্ণ, কিন্তু বাইরে টিকিট হাতে তখনো দু-তিন হাজার লোক। বোঝা গেল ছাড়া হয়েছে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত টিকিট। দুপুরের দিকে খুলে দেওয়া হয়েছে প্রেসবক্সের বাঁ দিকের গ্যালারিটি, যেটি সিরিজে এর আগে খোলা হয়নি। সব মিলিয়ে দর্শকসংখ্যা কাল ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে।
ক্রিকেটপ্রেমীদের এমন কষ্ট অবশ্য সার্থক হয়েছে দলের অবিস্মরণীয় জয় দেখে। পুরো সময়টা নেচে-গেয়ে খেলা উপভোগ করেছে তারা। গ্যালারিতে ছিল বিশালাকার কিছু ড্রাম, যেগুলোয় বাড়ি পড়লে ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠেছে পুরো স্টেডিয়াম। খেলা শেষ হওয়ার পরও মাঠ ছাড়ছিল না কেউ, ট্রফি হাতে দলের উল্লাস না দেখে কি ফেরা যায়! ফেরার সময় ধানমন্ডি থেকে আসা রুবাইয়াত বললেন, ‘দল ইতিহাস গড়েছে, আমরা দেখেছি, উৎসাহ দিয়েছি। ইতিহাসের অংশ তো আমরাও!’
খুবই সত্যি কথা!

সেই রুবেল এই রুবেল

প্রশ্নটা ছিল অবধারিত। শেষ ওভারে বোলিং করতে এসে বুক কাঁপেনি রুবেলের?
ছোট্ট উত্তর, ‘নাহ্।’
প্রথম বলে চার খাওয়ার পরও ভড়কে যাননি?
না, জানতাম ওরা শেষ উইকেট নিয়ে ব্যাট করছে, একটা ভালো বলই যথেষ্ট।
এই রুবেল, সেই রুবেলই তো! সেই যে ২০০৯-এর জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের শেষের দিকে যাঁর দুই ওভারে ৩২ রান নিয়ে বাংলাদেশের শিরোপা-স্বপ্ন ছিনতাই করেছিলেন মুত্তিয়া মুরালিধরন? কাল সেই রুবেলের হাতে শেষ ওভারে বল দেখে নিশ্চয়ই আঁতকে উঠেছিলেন অনেকেই। তবে ওই ওভারটাই কাল প্রমাণ করেছে সেই রুবেলকে পেছনে ফেলে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন এই রুবেল। প্রমাণ করল সংবাদ সম্মেলনে রুবেলে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠও।
আত্মবিশ্বাস যতই থাকুক, এমন চাপের মুখে অতীতের বাজে অভিজ্ঞতা নড়বড়ে করে দেয় অনেককেই। কিন্তু রুবেল জানালেন, সেই ফাইনালের দুঃসহ স্মৃতি মাটিচাপা দিয়েছেন অনেক আগেই। ওই ম্যাচের কথা নাকি মাথায়ই ছিল না!
তবে মুখে যতই অস্বীকার করুন, প্রথম বলে চার খাওয়ার পর আত্মবিশ্বাসে বড় একটা ঝাঁকুনি লাগারই কথা। সেটা বুঝেই হয়তো পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। কাঁধে হাত রেখে বলেছিলেন, ‘আজ তোরই দিন, তুই অবশ্যই পারবি দেশকে জেতাতে।’ অধিনায়কের কথাগুলোই যেন সঞ্জীবনী মন্ত্র হিসেবে কাজ করল। পরের বলটি ইয়র্কার, পড়িমড়ি করে ঠেকালেন কাইল মিলস। পরের বলটি আরও নিখুঁত ইয়র্কার, এবার আর পারলেন না মিলস। নিজের মনে মনে তো চাপা দিয়েছিলেনই, মাঠেও এবার সেই ফাইনালকে চাপা দিলেন বাগেরহাটের ২০ বছর বয়সী তরুণ।
এ নাটকীয়তা আর অতীতের খেদ মেটানোর ব্যাপার ছিল বলেই শেষ ওভারটি নিয়ে এত কথা। না হলে কাল রুবেলের প্রথম স্পেলটির কথা ভুলবেন কী করে! জেসি রাইডার ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের মতো বিধ্বংসী দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে জয়ের বীজটা বুনে দিয়েছিলেন নিজের প্রথম ওভারেই। নিজের তৃতীয় ওভারে ফিরিয়েছেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান কেন উইলিয়ামসনকে। ৫-১-১৩-৩, রুবেলের প্রথম স্পেলটি ওয়ানডে ইতিহাসে নতুন বলে বাংলাদেশের অন্যরকম সেরা স্পেলগুলোর তালিকায় থাকবে অনায়াসেই। গতি, বাউন্স আর নিয়ন্ত্রণের মিশেলে বাংলাদেশের কোনো পেসারের এভাবে প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিতে কবারই বা দেখা গেছে!
অথচ ইদানীং তিনি হয়ে উঠেছিলেন পুরোনো বলের বোলার। রিভার্স সুইং খুব ভালো পারেন এটার সঙ্গে যোগ হয়েছিল আর নতুন বলে নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারা। এই তো আগের ম্যাচেই তাঁকে বোলিংয়ে আনা হয়েছিল ছয় নম্বর বোলার হিসেবে। কাল নতুন বলে তাঁর কাছ থেকে প্রয়োজন ছিল দারুণ কিছু। বদলে যে গেছেন, শুধু ম্যাচের শেষে নয়, শুরুতেও কিন্তু দেখিয়েছেন রুবেল!
দিনটাকে রুবেল বলছেন নিজের ক্যারিয়ারের সেরা দিন। নিজের প্রথম ম্যাচ-সেরার পুরস্কার, দলের ৪-০-তে সিরিজ জয়, এসব কারণ তো আছেই। আরেকটা কারণ না থেকে পারেই না। ‘রুবেল’ বললে এখন তো সেই ফাইনালটির আগে মনে পড়বে এমন একজনের কথা, যাঁর হাত ধরে পূরণ হয়েছে দলের হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন!

কবিতা- 'আমার গ্রীষ্মকাল' by কাজল শাহনেওয়াজ

আমাকে আবার লাইনে দাঁড় করালে

আবার আমাকে হাজির করেছো তোমার সামনে
এক লাইনে দাঁড় করালাম অনেকগুলি আমাকে
অনেক দূর চলে গেছে সেই লম্বা লাইন

তাকিয়ে দেখি কারো বয়স বারো, হাফ প্যান্ট ছেড়ে ফুলপ্যান্ট পরেছে
কেউবা আঠারো, ভিড় করে আছে তার মুখে একা থাকার চরম নির্যাতন
কারো বা ছাব্বিশ — অস্থিরতা, যন্ত্রণার মুখোশ পরা
কেউ তিরিশ — ক্লান্ত, পথহারা, সোনালি মাথায় কালো চুল
তুমি কি ন্যায্যমূল্য? তুমি কি বিকল্প বাজার?
আমার সাধ্যের জোর যখন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে
তুমি এলে ত্রাতা হয়ে?

আমাকে আবার লাইনে দাঁড় করালে
আমাকে আবার টেনে নিলে তোমার সাশ্রয়ী দোকানে!
১৪/৫/৮

কবিতা- 'পাঁচটি কবিতা' by মুজিব ইরম

শ্রী

আগরধূপ ও গোলাপজলে পন্থধারা ধুয়ে দিয়ে
পাকপাঞ্জাতন বন্দি করে যদি ডাকি
ও আমার নির্ধনিয়ার ধন…
পাঁচটি মোমের বাতি হয়ে আসবায় নি গো তুমি?

আমার মুর্শিদ-ফকির নাই
আমার ঈমান-আমল নাই
তোমার শ্রীতনুতে সিজদা হয়ে মৃদঙ্গ রাঙ্গাই।

নাই ক্ষমতা ফানাফিল্লা হবো
মেঘ-আন্দারি রাতে
পাঞ্জাতনের আসর বসাই তোমার চরণ ছোঁবো।

কবিতা- 'পাগলের হাসি ও অন্যান্য কবিতা' by মহাদেব সাহা

পাগলের হাসি

আমার এ সমস্তই পাগলের হাসি, এই হাসি ধ্বনিময় স্থির
আর্ত চিৎকার, সত্তার সঙ্গে নিজের শব্দ বিনিময়, কখনো
নিঃশব্দ স্তব্ধ জলরাশি, কখনো এক সেতুহীন নরবড়ে সেতু
এই পাগলের হাসি বাতাসের শব্দ পাতার নির্জন ওড়াউড়ি, গান
দৃশ্যময় অন্ধকার;
এই দৃশ্যের উপর দিয়ে শীতগ্রীষ্ম, দিনরাত্রি, আলো-অন্ধকার
প্রতিফলনহীন প্রতিধ্বনি, অরণ্যে লুকিয়ে-থাকা বৃক্ষ, অদৃশ্য
অখ্যাত জলচর প্রাণীদের জীবনকাহিনী আর্তনাদ, দাঁড়িয়ে-থাকা
কালো ঘুম।

খড়ের মতো ধূসরতা পাড়ি দিতে দিতে এই উন্মোচন, অভিযাত্রা
অক্ষরের ঘ্রাণ, মাটির ধোঁয়া, পাথরের গন্ধ, উৎসব, বাদ্য
গোল চাকার মধ্যে কেবলই এই ঘুরপাক খাচ্ছি, হেঁটে বেড়াচ্ছি
এই বেষ্টনীর মধ্যে আবদ্ধ আমার জীবন, আমার বেঁচে থাকার নিষ্ফল
উদ্যোগরাশি, এই মেঘবৃষ্টি, শস্যহীন বিবর্ণ মাঠ, হাসি হাহাকার
এই বৃত্তের মধ্যেই আমি এই পাগলের হাসি হেসে চলেছি, তার
শব্দ শুনি অর্থ জানি না, পাগলের হাসি কিছুই বলে না, বলতে চায় না।

কবিতা- 'যেভাবে ঘরের কিসসা রচিত হয়' by ওমর কায়সার

ঘরে আঁসে, ঘরে হাঁদে
ঘরে মানুষ তোয়ায়
সুন্দর ঘরগান ছাড়ি গেলগুই
আঁ-র উগগা ফোয়ায়।
(ঘরেরও হাসি কান্না আছে, মানুষ খোঁজে। কী সুন্দর ঘর ছেড়ে চলে গেল আমার সন্তান)

ঘরের ভেতর আমি ঢুকব কিভাবে। আমার ভেতর ঘর ঢুকে আছে বহুকাল আগে। আমার নিজের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে সেতো অজস্র জনম ধরে। পৃথিবীর কোথাও তাকে খুঁজেও পাই না।

আঁরে তুই কেনে ফাবি
আকাশ বাতাস বিচারী
ঘরেরে তুই হাঁছা ভাইববোছ
উড়াল দিয়ছ ঘর ছাড়ি।

কবিতা- 'বীতকৃত্য ও অন্যান্য কবিতা' by মাসুদ খান

বীতকৃত্য

যেইদিন বৃক্ষ ত্যাগ করবে তার বৃক্ষধর্ম
মিষ্ট নয়, ফল হবে কটু বা কষায়
আর সোজা না ফেলে সে ফল ফেলবে তির্যক ভঙ্গিতে…
যেইদিন আম্রবৃক্ষে জাম হবে, তাম্রবৃক্ষে সিসা…
দস্যুকে তো শীলাচারী হলে চলে না
তবুও যেদিন সে দস্যুতা ত্যাগ ক’রে
হয়ে উঠবে সুশীল, পাদ্রি ও পরার্থপর
বকেরা যেদিন মশগুল হবে মৎস্যমঙ্গলচিন্তায়…

যেদিন আয়না পরিত্যাগ করবে তার আর্শিধর্ম
দেবে না তো আর কোনো প্রতিবিম্ব
পাহাড় দেবে না প্রতিধ্বনি…

কবিতা- 'পাঁচটি কবিতা' by সরকার আমিন

ডাকাতি

নিজ স্ত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে গেলে
বহু ঐশ্বর্য রাই বৃথা যায়।
মন্দিরে দেবী দর্শনে গিয়েও লুকিয়ে রাখতে হয় চোখ
মানিব্যাগ নিয়ে সতর্ক থাকার মতো প্রযত্নে রাখতে হয় হৃদয়
বৃষ্টি মানেই মেঘের পরিণয়
আকাশকে আকাশ থাকতে হলে মাথা উঁচু করে রাখতে হয়।

হে আমার স্ত্রী
আমি অনুনয় করে বলছি -
ডাকাতি করো

তোমার ডাকের আশায়, ঘুমের পাশে বসে থাকি
তোমার ডাকাতির আশায়, পুলিশ স্টেশনে চাকরি করি।

কবিতা- 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' by মাহবুব উল আলম চৌধুরী ও চৌধুরী জহুরুল হকের 'একুশের প্রথম কবিতার প্রসঙ্গ কথা'

মাহবুব উল আলম চৌধুরী।

'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' মাহবুব উল আলম চৌধুরী

ওরা চল্লিশজন কিংবা আরো বেশি
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে—রমনার রৌদ্রদগ্ধ কৃষ্ণচূড়ার গাছের তলায়
ভাষার জন্য, মাতৃভাষার জন্য—বাংলার জন্য।
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে
একটি দেশের মহান সংস্কৃতির মর্যাদার জন্য
আলাওলের ঐতিহ্য
কায়কোবাদ, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের
সাহিত্য ও কবিতার জন্য
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে
পলাশপুরের মকবুল আহমদের
পুঁথির জন্য
রমেশ শীলের গাথার জন্য,
জসীমউদ্দীনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাটের’ জন্য।

পাঁচটি কবিতা' by অবনি অনার্য

গণিতশাস্ত্র : + - x -:-

যোগব্যায়াম তো নিয়মমাফিক করো, নাস্তা করি জলযোগেতে রোজ
যোগনিদ্রায় স্বপ্ন দেখো কারে, ভাবনা করি এইমতো ফি-রোজ
যোগভঙ্গ কাহার যোগসাজশে, যোগমায়াগো যোগ্য আমি নই
যোগসাধনে নগ্ন হয়ে বসো, দিচ্ছি কথা স্পর্শিবো না, সই

বিয়োগান্ত নাটক কতো আর, জলবিয়োগ হররোজই তো ঘটে
বউ-বিয়োগে কান্না কেন আসে, পরনারী ক্ষেত্রে কথা রটে

গুণ করা তো জন্মগত তোর, খুন করাও স্বভাবজাত, নারী
পাজামায় যে গুণ সেঁটেছ তুমি, সে-গুণ ধরে টানবে এ-গুনারি
গুণবতীর গুণমুগ্ধ আমি, গুণহীনের একটাই তো গুণ
গুণানুরাগ আছে একজনেরই, বঙ্গে তিনি নির্মলেন্দু গুণ

হতে পারিস মহাজনের বউ, ভাগরা নিছি শাস্ত্রমতে, সতী
তেভাগা আইনে ভাগ নেবো রে ঠিকই, ভাগীরথীর কসম ভগ-বতী
০৩/০৫/০৫
-----------------------------

কবিতা- 'ছুটপালক' by সব্যসাচী সান্যাল

রোদে ও পারদে আচরণে
বিচরণে হাঁটাহাঁটি এত বেড়ে গেল
ভাবতে বাধ্য হচ্ছি
কতটা পান্থ আমি ঠিক কতটা পাদপ

এও ভাবছি
এই সব বিপথের কথা না ভাবাই ভাল
ফলে লক্ষ্য করলাম
ক্যাশিয়ার মেয়েটি
আমাকে সিগারেট দিতে দিতে
পিছন ফিরে
এক কামড়
কিটক্যাট খেলেন

গদ্য কবিতা- 'লীলা আমার বোন' by নান্নু মাহবুব

সেদিন হঠৎ এক সবুজ কুকুর হয়ে ‘কিঁউ’ বলে বিদ্যুৎগতিতে পিছিয়ে আসি তোমাদের মিষ্টির দোকানের সামনে থেকে। চোখের সামনে ভাসতে থাকে উল্কার মতো উড়ে যাওয়া চ্যালাকাঠ, কালো, অঙ্গার-অঙ্গার। তাই দেখে ছাদসমান উঁচু-উঁচু মিষ্টির আলমিরার আড়াল থেকে এক রুটিরঙ ধেড়ে টিকটিকি হেসে ওঠে যেন কিছুই দেখেনি। পাশেই বনখেসারির হালকাসবুজ বনের মধ্যে দিয়ে ভোঁতা এক রেলগাড়ি চলে যায় আর আমার পাশের রেলরাস্তা ঘেঁষে-ওঠা বোকা এক পলাশের মাথা থেকে হাজার হাজার কমলাপাখি আকাশে ওড়ার জন্য একসাথে ঝাপটে ওঠে। হিরিঝিরি বৃষ্টিবাতাসে নদীর ধার ঘেঁষে হাঁটতে হাঁটতে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে নিজের হাঁটন্ত দেহটাকে দেখি। সবুজ চকচকে ধাতব আঁশে সমস্ত দেহ ঢেকে আছে। একটু ঝনঝন শব্দ হচ্ছে নাকি? আর্মাডিলো বা ঐ রকম প্রাণীদের মতো! একটু গর্ব হয়। কতক্ষণ এরকম থাকি কে জানে!