Wednesday, July 24, 2019
নয়ন বন্ডকে ১২ লাখ টাকা কে দিয়েছিল? by মো. মিজানুর রহমান

সমপ্রতি মিন্নির শ্বশুর তার ছেলে হত্যাকাণ্ডে পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে আলোচনা নতুন দিকে মোড় নেয়। ১৬ই জুলাই বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মিন্নিকে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। এই মামলায় এ পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ১৫ জনের সবাই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ২রা জুলাই এই মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। মামলার এজাহারভুক্ত ১২ আসামির মধ্যে এখনো চারজন গ্রেপ্তার হয়নি। তারা হচ্ছেন মুসা, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রায়হান ও রিফাত হাওলাদার।
এদিকে রিফাত হত্যা মামলার অভিযুক্ত হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া কামরুল আহসান সাইমুনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। সকালে আবেদনের পর দুপুরে সাইমুনের জামিন আবেদনের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. ইয়াসিন আরাফাত সাইমুনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাইমুনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা কাদের।
নয়ন ও মিন্নির সম্পর্ক প্রমাণে ২০ আলামত জব্দ করেছে পুলিশ!
বন্দুকযুদ্ধে নিহত নয়নের বাড়ি থেকে অন্তত ২০ ধরনের আলামত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে নয়নের সঙ্গে মিন্নির ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের বেশকিছু ছবি, মিন্নির ব্যবহৃত লিপস্টিক, চিরুনি, চিরুনিতে আটকে থাকা মিন্নির চুল, কামিজ, চুলের ক্লিপ, ফেসপাউডার, চোখের ভ্রুতে ব্যবহৃত আই ব্রো, সিমকার্ড এবং কয়েকটি মোবাইল ফোনসেট।
নয়নের বাড়ি থেকে আলামত সংগ্রহের বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা বেশকিছু আলামত নয়নের বাড়ি থেকে সংগ্রহ করেছি।
বরগুনা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নয়নের সঙ্গে মিন্নির ঘনিষ্ঠতা ও বিয়ে প্রমাণ করতেই এসব আলামত জব্দ করা হয়েছে। নয়নের বাড়ির চিরুনিতে আটকে থাকা মিন্নির চুল ও তার ব্যবহৃত কয়েকটি জিনিস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, মিন্নি যেহেতু বারবারই নয়নের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন তাই কিছু অকাট্য প্রমাণের প্রয়োজন। রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়নের সঙ্গে মিন্নির ঘনিষ্ঠতা প্রমাণ করা গেলে রিফাত হত্যার জট অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে। অকাট্য প্রমাণ হাতে এলে তখন প্রমাণ করা সহজ হবে ঘটনার পর নিজেকে আড়াল করতেই কীভাবে মিন্নি একের পর এক মিথ্যা কথা বলে গেছেন।
এগুলোর মধ্যে একটি কামিজ, মিন্নির লেমিনেটিং করা একটি ছবি, চুল পেঁচানো চিরুনি ও এম প্লাস, এন খোদাই করা সামুদ্রিক ঝিনুক রয়েছে। এই ঝিনুকটি মিন্নি ও নয়ন কুয়াকাটা বেড়াতে গিয়ে সংগ্রহ করেছিলেন। মামলার আলামত হিসেবে এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
নয়ন বন্ডকে ১২ লাখ টাকা কে দিয়েছিল, নয়নের মায়ের প্রশ্ন
রিফাত শরীফ হত্যার মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হলেও তাকে নিয়ে আলোচনা থেমে নেই। এবার তার মা দাবি করেছেন তার ছেলেকে একটি প্রভাবশালী মহল ষড়যন্ত্র করে মেরে ফেলেছে। তিনি বলেন, কে হ্যারে বন্ড বানাইলো, জিরো জিরো সেভেন বানাইলো, তোমরা খুঁইজা বের করো। বরগুনা শহরের ডিকেপি রোড এলাকায় নিহত সাব্বির আহমেদ নয়নের (নয়ন বন্ড) বাড়িতে বসে এসব কথা বলেন তিনি।
নয়নের মা অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে দোষী, এটা আমি জানি। কিন্তু সে তো একদিনে নয়ন বন্ড তৈরি হয়নি। তাকে তৈরি করা হয়েছে। প্রভাবশালী মহল তাকে ব্যবহার করার জন্য নয়ন বন্ড হিসেবে তৈরি করেছে।
কোন প্রভাবশালী মহল জানতে চাইলে শাহিদা বেগম বলেন, তা ঠিক বলতে পারবো না। তবে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। কারণ, তার মুখ থেকে যদি প্রভাবশালী মহলের সব অপকর্মের ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়, সেই জন্যই।
তিনি বলেন, আমি টিভির হেড লাইনে পাথরঘাটা বইসা দেখছি, কেউ একজন কইছে আমার ছেলে সীমান্তের কাছে আছে। সেই ছেলে তিন দিন পর কুয়াকাটা এসে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যায় কীভাবে? তার সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন। তার হাতের নক ও কান নাই। ওরা আমার বাবারে (নয়ন) মাইরা হালাইছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাহিদা বেগম বলেন, আসল রহস্য আড়াল করার জন্য আমার ছেলেকে মাইরা ফ্যালা হইছে। আমার ছেলে তো খুনি ছিল না। সে মাদকসেবী ছিল। নিশ্চয়ই এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে।
তিনি আরো বলেন, নয়ন ভালো ছাত্র ছিল। কিন্তু ক্লাস টেন থেকে আস্তে আস্তে মাদকের জগতে প্রবেশ করে। আগে নয়ন বন্ড ১২ লাখ টাকাসহ ধরা পড়েছিল। সে এত টাকা কোথায় পাইলো? কে দিলো? তোমরা খুঁইজা বের করো।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্প-ইমরান বৈঠক: ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি

এতে তৃতীয় কোনো পক্ষের মধ্যস্থতা বা ভূমিকা থাকতে পারে না বলে মনে করে ভারত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ।
সোমবার ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করছিলেন ট্রাম্প। এ সময় একজন সাংবাদিক কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন- দু’সপ্তাহ আগে আমি (ভারতের) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এ সময়ে তিনি প্রকৃতপক্ষে আমাকে বলেছেন, আপনি কি এ ইস্যুতে মধ্যস্থতা বা সালিশদার হতে পছন্দ করেন? তার এ প্রশ্নের জবাবে আমি জানতে চেয়েছি- কোথায়? তিনি (মোদি) বলেছেন- ইস্যুটি হলো কাশ্মীর। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরো বলেন, (কাশ্মীর ইস্যুটি) অনেক অনেক বছর ধরে চলমান। তার কথা শেষ না হতেই ইমরান খান যোগ করেন, সত্তর বছরের সমস্যা এটি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি ভারত ও পাকিস্তান এই সমস্যার সমাধান চায়। আমি মনে করি আপনারাও এ সমস্যার সমাধান দেখতে চান। যদি আমি সহায়তা করতে পারি, তাহলে মধ্যস্থতাকারী হতে পছন্দ করবো আমি। এটা হওয়া উচিত নয়- আমি বলতে চাই, এটা বিশ্বাস করা অসম্ভব যে- দুটি চমৎকার দেশ, যারা অত্যন্ত স্মার্ট, অত্যন্ত স্মার্ট নেতৃত্ব রয়েছে যেখানে, তারা এই সমস্যা সমাধান করতে পারে না। কিন্তু আপনারা যদি আমাকে মধ্যস্থতাকারী বা সালিশকারী হিসেবে চান তাহলে আমি তা করতে আগ্রহ প্রকাশ করছি। এ সমস্যাটির সমাধান হওয়া উচিত। তিনি আমাকে একই কথা বলেছেন। তাই আমি মনে করি, এখানে করার কিছু আছে। তাই হতে পারে আমরা তার সঙ্গে কথা বলবো অথবা আমি তার সঙ্গে কথা বলবো। আমরা দেখবো এক্ষেত্রে আমরা কিছু করতে পারি কিনা। কারণ, আমি কাশ্মীর সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছি। কাশ্মীর একটি চমৎকার নাম। এটা হলো বিশ্বের সুন্দর জায়গাগুলোর অংশ। কিন্তু ঠিক সেখানে এই মুহূর্তে সর্বত্র শুধু বোমা আর বোমা। তারা বলছেন, আপনি সেখানকার যেখানেই যাবেন দেখবেন বোমা আর এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। এ অবস্থা অনেক বছর ধরে চলছে। এক্ষেত্রে যদি আমার কোনো সহায়তা প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে জানাবেন।
অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিশ্চিত করেছেন, কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে তারা তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ চান। তিনি বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আহ্বান করছি। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ভারত উপমহাদেশে শান্তি আনার ক্ষেত্রে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। আপনারা জানেন, ভারতে এক শ’ কোটির বেশি মানুষের বসবাস। তারা কাশ্মীর ইস্যুর কাছে জিম্মি হয়ে আছেন। আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র শুধু যুক্তরাষ্ট্রই পারে এই দুটি দেশকে একত্রিত করতে।
ইমরান খান আরো বলেন, আমার অবস্থান থেকে বলছি, আমরা আমাদের সর্বোত্তম চেষ্টা করেছি। আমরা আলোচনা শুরুর জন্য, আলোচনার মাধ্যমে আমাদের মতবিরোধ মিটিয়ে ফেলতে ভারতের প্রতি সব দিক দিয়ে আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমরা কোনো সাড়া পাই নি। তবে আমি আশা করি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রক্রিয়াকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবেন। প্রেসিডেন্ট, আমি আপনাকে বলছি, ঠিক এই মুহূর্তে আপনি যদি এই সমস্যা সমাধানের মধ্যস্থতা করেন এবং সমস্যার সমাধান করেন তাহলে শত কোটিরও বেশি মানুষের দোয়া, আশীর্বাদ পাবেন।
জি নিউজ লিখেছে, কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মধ্যস্থতা করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যে আহ্বান জানিয়েছেন বলে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সেই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাভিশ কুমার এ নিয়ে সিরিজ টুইট করেছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য আমরা দেখেছি। তিনি বলেছেন, কাশ্মীর ইস্যুতে যদি ভারত ও পাকিস্তান তাকে অনুরোধ করে তাহলে তিনি মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে এমন অনুরোধ করেন নি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারত এ বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানে। তারা মনে করে পাকিস্তানের সঙ্গে সব ইস্যুর সমাধান হতে হবে শুধু দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে। পাকিস্তানের সঙ্গে যেকোনো বিষয়ে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আগে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধ হতে হবে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে করার কথা বলা হয়েছে শিমলা চুক্তি ও লাহোর ঘোষণায়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ছেলেধরা গুজবে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল by নুর মোহাম্মদ মিঠু

তবে সত্য-মিথ্যা আর প্রতিহিংসা— গুজবে কার ভূমিকা কতটুকু তার সঠিক হিসাব মেলানো কঠিন। সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির মোক্ষম হাতিয়ার গুজব বর্তমানে মহামারী আকার ধারণ করেছে। বঙ্গবন্ধু থেকে পদ্মা সেতু।
এর মাঝেই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে মাথা কাটার গুজব। যে গুজবের সত্যতা যাচাই না করে চিলের পিছে ছুটে চলা মানুষেরা শঙ্কিত হয়ে পড়ে। যার দরুণ যেখানে সেখানে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ায় ঘটছে ফৌজদারি অপরাধ।
গুজবের পেছনে স্বার্থান্বেষী কোনো একটি গ্রুপ থাকে। আরেক গ্রুপ থাকে, যারা এই গুজবকে কাজে লাগায়। বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ ও পদ্মা সেতুতে অভিন্ন রূপে উত্তীর্ণ হয়েছে দেশের মানুষ। এ যেন বিনাবিচারে মানুষ হত্যার উন্মাদ আচরণ!
চলমান গুজবের মধ্যেই নেত্রকোনায় এক মাদকাসক্তের কাছে শিশুর কাটা মাথা পাওয়া যায়। ওই ব্যক্তিকেও গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। অথচ গণপিটুনিতে প্রাণ হারানোর কারণে জানা যায়নি শিশুটির মাথা কাটার কারণ।
এরপর কক্সবাজার, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনির খবর পাওয়া গেছে। যা প্রতিনিয়তই ঘটছে। কিন্তু কক্সবাজারের ঘটনায় আহত রোহিঙ্গা তরুণী ধর্ষণ থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করতে ডেকেছিলেন শিশুকে। অথচ ছেলেধরা মনে করে লোকজন তাকে গণপিটুনি দেয়।
ভাগ্যক্রমে ওই তরুণীকে পুলিশে দেয়ায় এ যাত্রার তিনি প্রাণে বাঁচলেও বাঁচতে পারেননি রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করাবেন বলে তথ্য জানতে আসা নারী তাসলিমা বেগম রেনু। তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বসে কথা বলছিলেন, অথচ গুজবের বশে উত্তেজিত জনতা তাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে এনে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে।
কিন্তু কারো ভাবনায় একবারের জন্যও আসেনি— তিনি আদৌ ছেলেধরা কি না! নারায়ণগঞ্জের মিজমিজি এলাকায়ও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সেখানেও গণপিটুনিতে এক যুবক নিহত হয়েছে। কিন্তু কেউই নিশ্চিতভাবে জানেন না, ওই যুবক আসলেই ছেলেধরা ছিলেন কি না। কিন্তু সেসব বিবেচনার আগেই তার জীবন শেষ।
কেবল সন্দেহের বশে একজন মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ উল্লেখ করে পুলিশ সদর দপ্তর দেশের মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার অনুরোধ করে। কেবল কিছু ব্যতিক্রম বাদে কোনো অবস্থায়ই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার সুযোগ নেই। যারা কেবল সন্দেহের বশে এমন গর্হিত কাজ করেছেন, তারা শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তার মধ্যে বাড্ডার ঘটনায় ইতোমধ্যে ৪০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। দেশে ইমারজেন্সি সার্ভিস ৯৯৯ রয়েছে। পুলিশ অ্যাপসে সারাদেশের পুলিশের নম্বর আছে।
যেকোনো বিষয়ে কারো সন্দেহ থাকলে পুলিশকে সেটি জানানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। কিন্তু চিলে কান নিয়ে গেছে ভেবে চিলের পেছনে ছোটা এ জাতি তার নাগালে থাকা সকল আইনি সুবিধা গ্রহণ না করেই চলমান গুজবে ফৌজদারি অপরাধের জড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর প্রধান এসপি তবারক উল্লাহ বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে আমাদের প্রতি। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য— ছেলেধরা সন্দেহে যেসব বিচ্ছিন ঘটনা ঘটছে, সেগুলো ঘটার পরই আমরা জানতি পারছি। কিন্তু ঘটনার আগে কেউই জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন করে ছেলেধরা সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে বলছেন না। তার আগেই তারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছেন।
এদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা গণমাধ্যমে বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে বলে গুজব ছড়ানোকে কেন্দ্র করে সমপ্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে মর্মান্তিকভাবে কয়েকজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রবিরোধী কাজের শামিল এবং গণপিটুনি দিয়ে মৃত্যুর ঘটানো ফৌজদারি অপরাধ।
তিনি আরও বলেন, ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে এ পর্যন্ত যতগুলো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ প্রত্যেকটি ঘটনা আমলে নিয়ে তদন্তে নেমেছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে ছেলেধরা সন্দেহে কাউকে গণপিটুনি দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গুজব ছড়ানো এবং গুজবে কান দেয়া থেকে বিরত থাকুন। কাউকে ছেলেধরা সন্দেহ হলে গণপিটুনি না দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সমাজবিজ্ঞানী ড. এ এইচ এম আমান উল্লাহ বলেন, পশ্চাৎপদ দেশেও গুজবের সংস্কৃতি রয়েছে। ভারত, আফ্রিকাসহ উন্নত দেশেও গুজবের সংস্কৃতি আছে।
আফ্রিকায়ও অনেক মানুষ গুজবের কারণে মৃত্যুবরণ করতে দেখা যায়। তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে এটা বেশিই হচ্ছে। আমাদের দেশে গুজব তৈরি করা হয়। যেটা করছে— কোনো একটি স্বার্থান্বেষী মহল।
এটা নিজে নিজে কখনোই তৈরি হয় না। এ গুজব কারা ছড়াচ্ছে, কেন ছড়াচ্ছে এবং গুজব তৈরিতে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে তার রহস্য জানতে হবে। শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।
বিচারের আওতায় না আনলে এসবের কারণ অজানাই থেকে যাবে। তিনি বলেন, সমাজকে ডিস্টিবিলাইজড করা, সমাজের দৃষ্টি অন্য দিকে ফিরিয়ে দেয়া, রাষ্ট্রের মোড় ঘুরিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্যই কোনো একটি মহল গুজব সৃষ্টি করে।
মূলত গুজব সৃষ্টির করে তারা অন্য কাজ করছে। গুজবের আড়ালে তাদের স্বার্থ হাসিলের কাজকে লোকচক্ষুর আড়াল করতেই সমাজ কিংবা রাষ্ট্রকে গুজবে বিভোর করছে স্বার্থন্বেষী মহল। এ মহল দেশকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে অশিক্ষিত বেশি এবং কুসংস্কার বেশি। রাষ্ট্রকেই এসব নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের সক্ষমতা দেখাতে হবে। তবে সেটা আইনের মধ্য থেকেই করতে হবে— ক্রসফায়ারের মাধ্যমে নয়।
রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নারী নিহতের ঘটনায় ৪০০ জনকে আসামি করে মামলা দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এভাবে সঠিক সমাধান হবে না, ঢালাওভাবে মামলা করে ঘুষ-বাণিজ্য ছাড়া কিছুই হয় না।
এসব ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করার মধ্য দিয়েই বিচারের আওতায় আনতে হবে।
এদিকে গত রোববার পর্যন্ত ছেলেধরা সন্দেহে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ পর্যন্ত ছয়জনকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এছাড়া গণপিটুনির শিকার হয়ে আহত হয়েছেন ২১ জন।
২১ জুলাই ময়মনসিংহের ভালুকার ধামশুর এলাকার একটি মোটর সাইকেলের যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানায় আয়ার কাজ করা পাঁচগাঁও গ্রামের গৃহবধূ মালেকা খাতুনকে বাড়িতে ঢুকে পানি চাওয়ায় ছেলেধরা সন্দেহ হাত-পা বেঁধে গণপিটুনি দেয় বাড়ির মালিক।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। লালমনিরহাটে শনিবার রাতে একইভাবে মানিসক প্রতিবন্ধী আরেক নারীকে গণপিটুনি দেয় উত্তেজিত জনতা।
এ ঘটনায় ওই নারীকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের এক কর্মকর্তাকেও আহত করে তারা। কুমিল্লায় সরদ উপজেলার আমড়াতলী এলাকায়ও ছেলেধরা সন্দেহে নারীসহ তিনজনকে গণপিটুনি দেয়া হয়। নওগাতেও ছেলেধরা সন্দেহে ছয় জেলেকে গণপিটুনি দেয় জনতা।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ২১ জুলাই ছেলেধরা সন্দেহে তিনজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা। পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ছেলেধরা সন্দেহে খুশিয়ারা (৩০) নামে এক গৃহবধূকে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
বান্দরবানে ছেলেধরা সন্দেহে রোকেয়া আক্তার (১৮) নামে এক রোহিঙ্গ্যা নারীকেও গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। এ ছাড়া পাবনায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির হাতে থেকে এক নারীসহ তিনজনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল দুপুরে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে জহুরুল (৩০) ও জিয়া উদ্দিন (৩৫) নামের দুই ব্যক্তি এবং সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা গ্রাম থেকে সোনিয়া (২৩) নামে এক নারীকে উদ্ধর করে পুলিশ।
গত শনিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন আরও এক নারী। যাকে সাভার মডেল থানা এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দেয় জনতা। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলাও হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাড্ডায় নিহত নারী ছেলেধরা ছিলেন না, ৪০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যামামলা সন্তানকে স্কুলে ভর্তির জন্য স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন এক হতভাগ্য মা। তার নাম তাসলিমা বেগম রেনু (৪০)।
শনিবার সকালে রাজধানীর বাড্ডায় এ ঘটনা ঘটলেও এই হতভাগ্য মায়ের পরিচয় মিলে রাতে। নিহত তাসলিমা বেগম রেনুর ভাগ্নে সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তার লাশ সনাক্ত করেন। নিহতের পরিবারের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন।
সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু ঢামেক হাসপাতালের মর্গে সাংবাদিকদের জানান, নিহত হওয়া ওই নারী তার খালা তাসলিমা বেগম রেনু। বয়স আনুমানিক ৪০ বছর।
তিনি মহাখালীর ৩৩/৩ জিপি জ ওয়ারলেস গেইটে থাকতেন। তার দুই ছেলে। এর আগে তিনি স্কুলের পাশে আলী মোড় এলাকায় স্বামী তসলিম হোসেনের সাথে পরিবার নিয়ে থাকতেন।
দুবছর আগে পারিবারিক কলহের কারণে তাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে যায়। এরপর থেকে সন্তানদের নিয়ে মহাখালীতে বাসা ভাড়া করে থাকতেন।
তিনি ছেলেধরা ছিলেন না। তিনি আরও বলেন, নিহত রেনু শনিবার সকালে উত্তর বাড্ডায় ওই স্কুলে গিয়েছিলেন সন্তানকে ভর্তি করানোর জন্য খোঁজখবর নিতে।
সেখানে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন থাকতে ওই এলাকার লোকজন তাকে পিটিয়ে হত্যা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এর বিচার দাবি করেন তিনি। নিহত রেনু লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরা থানার সোনাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের মেয়ে।
তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বাড্ডা থানায় ৪০০-৫০০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যামামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটি বাদি হয়ে দায়ের করেন নিহত রেনুর ভাগ্নে নাসির উদ্দিন টিটো। মামলা নম্বর- ৩০।
বাড্ডা থানার ওসি (অপারেশন) ইয়াসিন গাজী বলেন, নিহত হওয়া নারীর ভাগিনাসহ স্বজনরা লাশ প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রিয়া সাহার অভিযোগ কতটা আমলে নিতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
![]() |
| প্রিয়া সাহার কথা শুনছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প |
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন বিরোধী কংগ্রেস সদস্য মি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ তুলছেন |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাপার বিবাদ প্রকাশ্যে: কাদেরকে মানছেন না রওশন

তারা মনে করছেন সংসদে বিরোধী দলের নেতা নির্বাচন নিয়ে এ বিভক্তি আরও বাড়বে। এনিয়ে সঙ্কট তৈরি হতে পারে।
এদিকে সোমবার মধ্যরাতে রওশনের পক্ষ থেকে পাঠানো বিবৃতিটি ছিল হাতে লেখা। তাতে রওশন ছাড়া আরও নয়জন নেতার নাম থাকলেও তাদের সাক্ষর ছিল না। বিবৃতিতে বলা হয়, জিএম কাদের দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকবেন। এতে আরো বলা হয় তাকে নিয়ে এখনো পর্যন্ত ফোরামে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। তাই তিনি স্বঘোষিতভাবে চেয়ারম্যান হতে পারেন না। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বনানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেন। এসময় তিনি বলেন, এরশাদের অবর্তমানে তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাকে ভারপ্রাপ্ত নয় চেয়ারম্যান বলার অনুরোধ করছি। গত শনিবার জিএম কাদের রওশন এরশাদের বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেন।
পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের মৃত্যুর মাত্র চারদিনের মাথায় জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। এর পর থেকেই রওশন এরশাদপন্থি নেতাদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়। তিনি নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করতে পারেন কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা। পার্টির ভিতরে ভিতরে চলে নানা জল্পনা-কল্পনা। সর্বোচ্চ নিতীনির্ধারণী ফোরামের সিদ্ধান্ত ছাড়া কিভাবে জিএম কাদের নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন এটাই হয়ে উঠে বড় প্রশ্ন। সোমবার রাতে রওশন এরশাদের দেয়া বিবৃতিতে তার স্বাক্ষর থাকলেও বাকিদের নামের পাশে স্বাক্ষর ছিল না। তবে তাদের অনেকেই বিবৃতির সত্যতা নিশ্চিত করছেন। অন্যরা হলেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, ফখরুল ইমাম, মীর সেলিম ওসমান, লিয়াকত হোসেন খোকা, রত্না আমিন হাওলাদার, রওশন আরা মান্নান ও আবদুস সবুর আসুদ।
এরশাদ জিএম কাদেরকে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং তার অবর্তমানে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এমন নির্দেশ দেয়ার পর থেকেই জাপায় রওশন এরশাদ অনুসারী বলে পরিচিত কয়েকজন সিনিয়র নেতা তা মেনে নিতে পারেননি। এরশাদের অসুস্থতা ও মৃত্যুর পর কয়েকদিন এ বিষয়ে আলোচনা না হলেও তার কুলখানির পর বিষয়টি সামনে আসে।
পার্টির সার্বিক বিষয়ে জিএম কাদের গতকাল বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আমাদের পরিবারে পিতৃতুল্য ছিলেন, সেইভাবেই রওশন এরশাদ আমাদের মায়ের মত। তিনি আমার অভিভাবক। তার পরামর্শক্রমেই দল পরিচালিত হবে। রওশন এরশাদের বিবৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভাবী এমন বিবৃতি দিতে পারেন বলে আমার বিশ্বাস হয় না। বিবৃতিটি হাতে লেখা ও কাঁচা। এটা বিশ্বাস ও গ্রহণযোগ্য নয়। দুইদিন আগেও ভাবীর বাসায় গিয়েছি। আবারও যাবো। আমি আবারও বলছি আমাদের মাঝে কোনো বিরোধ নেই।
তিনি আরো বলেন, জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ গঠনতন্ত্র অনুসরণ করেই চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন। তারা যে নামেই সম্বোধন করবে তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই। পার্টিতে কাজ করাটাই আসল কথা। তিনি বলেন, কোন সমস্যা থাকলে আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করব। জাপা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
বিবৃতি দাতাদের মধ্যে পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, জিএম কাদের নিজে নিজেই চেয়ারম্যান হয়ে যাবেন। এটা কোনো কথা হল। এভাবে পার্টি চলতে দেয়া যায় না। তিনি একলা চল নীতিতে আগাচ্ছেন। এটা ঠিক না। তাকে থামানো উচিৎ। তিনি আলাপ-আলোচনা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিবৃতি দেয়ার আগে আমাকে ফোন করা হয়েছিল, আমি মতামত দিয়েছি। স্যার তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি সে দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্যার মারা গেলেন তার শোকের সময়টাও পার হতে পারলো না। তিনি সে সময়টা অপেক্ষা করতে পারতেন। তিনি আরো বলেন, জিএম কাদের নিজে নিজে পার্টিতে ৮ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য বানিয়েছেন এটা কোনভাবেই ঠিক হয়নি। এমনিতে পার্টিতে গঠনতন্ত্র থেকে ১০/১১ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য বেশি ছিল। আর তিনি বানিয়েছেন তাদের অনেকেই নবাগত, পার্টিতে আসছে খুব বেশিদিন হয়নি। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা কে হবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এটা রওশন এরশাদই। কারণ বেশিরভাগ সংসদ সদস্য তার পক্ষে রয়েছেন।
প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা কে হবেন সেটা আমাদের সংসদীয় বোর্ড আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবে। এটার জন্য আমাদের হাতে সময় রয়েছে। আগামী অধিবেশনের পূর্বে এটা করা যাবে। রওশন এরশাদ নাকি জিএম কাদেরকে এ পদে দেখতে চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা এখনি বলতে পারছি না। এদিকে অল্প কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্যের সামনে জিএম কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করা নিয়ে জানতে চাইেেল তিনি বলেন এটা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। রওশন এরশাদ এখন একটা শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময় পরে তিনি হয়ত কথা বলবেন। পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্যদের এড়িয়ে চলাটা ভালো চোখে দেখছেন না তিনি। পার্টির অনেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সভা সেমিনারে উপস্থিত থাকছেন না। পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে কাউন্সিলের মাধ্যমে সকল ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল। এটা তো সেভাবে হয়নি।
কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, পার্টি চলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী। দলের চেয়ারম্যান জীবিত অবস্থায় তার অবর্তমানে দল পরিচালনা করার জন্য গঠনতন্ত্রের ২০/১-ক ধারা মোতাবেক তার সহোদর জিএম কাদেরকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন এবং বলেছেন তার অবর্তমানে জিএম কাদেরই হবেন পার্টির চেয়ারম্যান। একই গঠনতন্ত্রে রওশন এরশাদকে বিরোধীদলের উপনেতা বানানো হয়েছে। তিনি এখন বিরোধীদলের প্রধান নেতা হবেন এটাই স্বাভাবিক। এখানে ভুল বুঝাবুঝির কিছু আছে বলে আমি মনে করিনা। তবে পার্টি নিয়ে সবাই কথা বললে বিপদে পড়ে। তাই আর বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না। প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ বলেন, দলীয় ফোরামের সিদ্ধান্ত ছাড়া জিএম কাদের কোনভাবেই চেয়ারম্যান হতে পারেন না। তাই রওশন এরশাদের সাক্ষরিত বিবৃতির পক্ষে আমাদের মতামত রয়েছে। তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবেই থাকবেন, চেয়ারম্যান নয়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘কাটমানি’ সামলাতে ‘ব্ল্যাকমানি দাওয়াই, দাবি ব্যালট ফেরানোর, একুশের মঞ্চে তীব্র আক্রমণাত্মক মমতা

শহিদ স্মরণের এটা ছিল ২৬ বছর। কিন্তু এ বারের শহিদ স্মরণ সমাবেশের প্রেক্ষিত ছিল একেবারেই আলাদা। ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত বিরোধী দল হিসেবে শহিদ স্মরণের আয়োজন করত তৃণমূল। ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটার পর থেকে স্বাভাবিক ভাবেই এক লাফে বেড়ে যায় একুশের সমাবেশের জৌলুস এবং আয়োজন। রাজ্য জুড়ে একচ্ছত্র দাপটে বিরাজ করা একটি রাজনৈতিক দলের সমাবেশের মেজাজ যেমন হওয়া উচিত,ঠিক সেই মেজাজেই হত শহিদ স্মরণ। কিন্তু এ বার সেই দাপটের আবহে আয়োজিত হয়নি সমাবেশ। বিরোধী আসনে নয়, এখনও এ রাজ্যে শাসকের আসনেই রয়েছে তৃণমূল। কিন্তু কয়েক মাস আগে হওয়া লোকসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়েছে দল। সেখানেই শেষ নয়, বরং রক্তক্ষরণ তার পরেও অব্যহত। এই রকম এক বেনজির আবহে কী বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সে দিকে নজর ছিল গোটা রাজ্যের।
এ দিনের ভাষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় আগাগোড়াই ছিলেন তীব্র আক্রমণাত্মক। শহিদ স্মরণের সমাবেশে গত কয়েক বছর ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল নিশানায় থাকছিল বিজেপি। এ বারও তাই। কিন্তু এ বারের আক্রমণের ঝাঁঝ অন্যান্য বছরের আক্রমণকে ম্লান করে দিয়েছে।
বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্রে (ইভিএম) ভোট নেওয়া চলবে না, ব্যালট ফেরাতে হবে— এই দাবি অনেক দিন ধরেই তুলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিনের সভা থেকে আরও জোর দিয়ে তিনি সে দাবি তুলেছেন। লোকসভা নির্বাচনে দেশ জুড়ে যে গেরুয়া ঝড় দেখা গিয়েছে, তা আসলে ঝড়, নাকি ভোটযন্ত্রের ‘কারসাজি’, সে প্রশ্ন এ দিন আরও জোর দিয়ে তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির ফলাফল এত ভাল কী ভাবে হল, সে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বলেন, ‘‘কী করে হল? কেমন করে হল? যত আসন পাবে বলেছিল, তাই পেল! অঙ্কটা মিলে গেল কী করে?’’ মমতা বলেন, ‘‘আমি এখনও মনে করি, ২০১৯ সালে যে ভোটটা হয়ে গেল, সেটা একটা মিস্ট্রি (রহস্য)। এটা হিস্ট্রি (ইতিহাস) নয়, এটা মিস্ট্রি। তাই তো বলি, ইভিএম চাই না, ব্যালট চাই।’’ তাঁর স্লোগান, ‘ব্যালট ফেরাও, গণতন্ত্র বাঁচাও।’ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আওতায় হওয়া পঞ্চায়েত এবং পুরসভা ব্যালটেই হবে বলে এ দিন ফের ঘোষণা করেন তিনি (যদিও পঞ্চায়েত ভোট এত দিনও ব্যালটেই হত)।
তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বর এ দিন সবচেয়ে চড়া ছিল ‘কাটমানি’ বিক্ষোভের বিরোধিতায়। তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে নজরুল মঞ্চে আয়োজিত এক সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই ‘কাটমানি’ প্রসঙ্গ তুলেছিলেন এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পুরোপুরি পৌঁছতে না দিয়ে সে টাকায় ভাগ বসানোর প্রবণতা তিনি বরদাস্ত করবেন না বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সে দিন জানিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর সেই মন্তব্যকেই হাতিয়ার করে বিরোধী দলগুলো এবং রাজ্যের নানা প্রান্তে তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। এই বিক্ষোভের বিরুদ্ধেই এ দিন সুর চড়িয়েছেন মমতা।
সাধারণ মানুষের প্রাপ্যে যেন অন্য কেউ ভাগ না বসায়, তা নিশ্চিত করতেই তিনি কাটমানির কথা বলেছিলেন, তারই অপব্যাখ্যা করছে বিজেপি, অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝাঁঝালো আক্রমণে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি একটা মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে বললাম! আর বিজেপির নেতারা এলাকায় এলাকায় গিয়ে বলছে, টাকা ফেরত দাও। তুই সবচেয়ে বড় ডাকাত, তুই তৃণমূলকে বলছিস টাকা ফিরিয়ে দাও!’’
কাটমানির পাল্টা স্লোগান তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ব্ল্যাকমানি ফিরিয়ে দাও’। বিজেপির দিকে আঙুল তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ব্ল্যাক মানির জবাব চাই, জবাব দাও। নির্বাচনের খরচ কোথা থেকে এসেছে, জবাব দাও।’’ এ কথা বলেই দলকে নেত্রীর নির্দেশ, ২৬ এবং ২৭ জুলাই বিজেপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে পথে নামতে এবং ‘ব্ল্যাকমানি’ ফেরত চাইতে। মমতার কথায়, ‘‘১৫ লাখ টাকা করে ব্ল্যাকমানি ফিরিয়ে দাও। আগে ফিরিয়ে দাও, তার পরে বিজেপির ঝান্ডা ধরবে।’’
বিজেপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই নাম না করে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষকে আক্রমণ করেন তিনি। অসমিয়া গামছাকে মাঝেমধ্যেই উত্তরীয় হিসেবে ব্যবহার করেন দিলীপ। ‘গামছাবাবু’ বলে সম্বোধন করে উজ্জ্বলা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘উজালা (উজ্জ্বলা) বের করব? কী গামছাবাবু? উজালাটা একটু বের করি! খাপটা খুলি একটু!’’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘উজালা কেসে আমি চাই তদন্ত হোক। তার কারণ অনেকেই অভিযোগ করেছেন।’’
দিলীপ ঘোষ অবশ্য সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসন তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই রয়েছেন। পারলে তদন্ত করুন, দুর্নীতি প্রমাণ করে দেখান।
বিজেপি-কে আক্রমণের ফাঁকেই অল্পক্ষণের জন্য হলেও এ দিন রাজ্যের অন্য দুই বিরোধী দলের উদ্দেশেও নিজের বার্তা দিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘‘সিপিএম এবং কংগ্রেসকে বলব, যে ডালে বসে আছ, সেই ডালটাকে না কেটে, বিজেপির বিরোধিতা কর।’’ বলেন মমতা। তিনি বলেন, সিপিএম বা কংগ্রেসের ভোট বা সমর্থন তাঁর প্রয়োজন নেই, কিন্তু বিজেপি-কে সাহায্য করা ওই দুই দলের উচিত নয়। মমতা বলেন, ‘‘বিজেপি একটা পরগাছা এখানে। নিজের কোনও ক্ষমতা নেই, কিচ্ছু নেই। কখনও সিপিএমের কানে কানে উঁকি মারে, কখনও কংগ্রেসের কানে কানে উঁকি মারে, আর তিনটে দল একসঙ্গে কাজ করে।’’
একুশের সমাবেশে যোগ দিতে কলকাতায় আসার পথে বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের বাধা দেওয়া হয়েছে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘অনেক জায়গায় ট্রেন বন্ধ করে দিয়েছে, বাস আটকেছে।’’ যেখানে যেখানে তৃণমূল কর্মীদের আটকানো হয়েছে, সেখানে সেখানে সোমবার প্রতিবাদ মিছিল হবে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন। তবে বাধা দিয়েও যে লাভ হয়নি, সে কথা এ দিন বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তৃণমূল চেয়ারপার্সন। এ বারের সমাবেশকে দেখে ব্রিগেড সমাবেশ বলে মনে হচ্ছে— এই রকম মন্তব্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি সভামঞ্চে আসার সময়ে দেখেছেন যে, রেড রোডে ২-৩ লক্ষ লোক দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ময়দানে বসেও অনেকে ভাষণ শুনছেন বলে তিনি দাবি করেন।
টলিউড থেকে বেশ কিছু তারকার বিজেপি-তে যোগদান প্রসঙ্গেও এ দিন বিজেপি-কে কটাক্ষ করেন মমতা। একই লোককে বার বার যোগদান করানো হচ্ছে, দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অভিনেত্রী অঞ্জনা বসুকে একাধিক বার বিজেপি-তে যোগদান করানো হয়েছে বলে মন্তব্য করে মমতা বলেন, ‘‘একই লোককে নিয়ে বার বার যোগদান করাচ্ছে। লজ্জা নেই! তোর যদি লোক না থাকে, তা হলে আমার থেকে ধার নে না! আমি দিয়ে দিচ্ছি এক-দু’টো।’’
তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরেই এ দিন আরও কয়েক জন টলি তারকা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। রাজ্য বিজেপির সদর দফতরে গিয়ে তাঁরা এ দিন বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম রিমঝিম মিত্র। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে রিমঝিম বলেন, বাংলা ফিল্ম ও টেলিভিশন ইনডাস্ট্রিতে কারও কারও ‘একচ্ছত্র আধিপত্য’ চলছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন এবং তাঁকে কোণঠাসা করা হচ্ছে বলেও রিমঝিম এ দিন মন্তব্য করেন।
কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘অটলজির সরকারও দেখেছি, আর এখনও দেখছি। আজকে যা ইচ্ছে বিল নিয়ে আসা হচ্ছে,দেখতে দেওয়া হচ্ছে না, মধ্যরাতে বিল নিয়ে আসা হচ্ছে, সকালে পাস করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’’ কী বিল পাস হচ্ছে, কারও জানা নেই— অভিযোগ তৃণমূল চেয়ারপার্সনের।
কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে ব্যবহার করেও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত হানা হচ্ছে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন ফের অভিযোগ করেন। সিবিআই বা ইডি-র মতো তদন্তকারী সংস্থা এ রাজ্যে যে সব অভিযোগের তদন্ত করছে, সে প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘শতাব্দীকে (শতাব্দী রায়) ডেকেছে, প্রসেনজিৎকে ডেকেছে, ঋতুপর্ণাকে ডেকেছে, আরও অনেককেই ডাকবে। ডেকেই বলছে, তুমি বিজেপির অমুক লোকের সঙ্গে যোগাযোগ কর। যোগাযোগ করলে তোমার কিছু হবে না। আর না হলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় হতে হবে, তাপস পাল হতে হবে।’’
শহিদ স্মরণের মঞ্চ থেকে এ দিন ফের বিজেপি-কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি, ‘‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেব।’’ বিজেপি বাংলার সংস্কৃতিকে ধ্বংস করছে, মনীষীদের অপমান করছে— এ অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেও করেছেন। এ দিন সে কথাই আরও জোর দিয়ে উচ্চারণ করে মমতার মন্তব্য, ‘‘রবীন্দ্রনাথের গায়ে হাত দেবে না, বিদ্যাসাগরের গায়ে হাত দেবে না, রামমোহনের গায়ে হাত দেবে না, বিরসা মুন্ডার গায়ে হাত দেবে না, গাঁধীজির গায়ে হাত দেবে না, মৌলানা আজাদের গায়ে হাত দেবে না, আম্বেডকরের গায়ে হাত দেবে না। না হলে আমরা কিন্তু সবচেয়ে বিপজ্জনক, ডেঞ্জার লেভেল ক্রস করে যাব, মনে রাখবে।’’
এ দিনের সভায় উল্লেখযোগ্য অনুপস্থিতি ছিল কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তর। শোভনের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, শনিবার রাত পর্যন্তও তাঁকে ধর্মতলার মঞ্চে হাজির থাকার জন্য বার্তা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তিনি আসেননি। যদিও তৃণমূলের তরফে শোভনকে বার্তা পাঠানোর কথা স্বীকার করা হয়নি। সব্যসাচী দত্তকে অবশ্য শহিদ স্মরণের মঞ্চে আনার চেষ্টা হয়নি বলেই তৃণমূল সূত্রে খবর।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিখোঁজ ৩.৭০ কোটি হিন্দু বাংলাদেশি ভারতেই -ভারতীয় পত্রিকা যুগশঙ্খের রিপোর্ট

যুগশঙ্খের প্রকাশিত রিপোর্টে অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক দাবি করেন, প্রিয়া সাহার বক্তব্য সঠিক। তার কথা, সরকারের বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ১৯৭১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশ ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন।
আজ সারা বাংলাদেশে প্রিয়া সাহার বক্তব্য নিয়ে ঝড় উঠেছে। কিন্তু সরকারের ‘ক’ ও ‘খ’ তফসিলের তালিকা দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন, প্রিয়া সাহার দেয়া তথ্যে ভুল নেই।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি গোবিন্দ বলেন, আসামে প্রকাশিত নাগরিক তালিকায় বাদ পড়া প্রায় ৪০ লাখ নাগরিক তো বাংলাদেশ থেকে নিখোঁজ হওয়া মানুষই। তারা বিভিন্ন সময়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এখন আমরা স্বীকার করছি, এনআরসি থেকে বাদ পড়া ৪০ লাখ নাগরিক বাংলাদেশি ছিলেন। শুধু আসামেই নয়, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্ব ভারতসহ পুরো ভারতেই বাংলাদেশ থেকে নিখোঁজ ৩ কোটি ৭০ লাখ নাগরিকদের অধিকাংশই রয়েছেন। নিখোঁজ হিন্দুদের তালিকা সরকারই অর্পিত সম্পত্তি ‘ক’ এবং ‘খ’ তালিকায় গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে দাবি করে গোবিন্দ বলেন, প্রিয়া সাহার সত্য উচ্চারণে সবার গায়ে আগুন জ্বলছে কেন? অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় উল্লিখিত ব্যক্তিদের কেউ কি দেখাতে পারবেন? তারা কি মিসিং নন? বাংলাদেশ সরকারের পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেব কী বলছে? প্রশ্ন করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, হোয়াইট হাউসে এক সম্মেলনে অংশ নেন হিন্দু নেত্রী প্রিয়া সাহা। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ রয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, প্লিজ আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখনো সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ রয়েছেন। আমার অনুরোধ, আমাদের সাহায্য করুন। আমরা দেশ ছাড়তে চাই না। তারা আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, আমার জমি কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু বিচার হয়নি। এ সময় ট্রাম্প জানতে চান কারা নির্যাতন করছে, জবাবে প্রিয়া সাহা জানান, মুসলিম মৌলবাদীরা নির্যাতন চালাচ্ছে। সরকার সবসময় তাদের প্রশ্রয় দিয়ে থাকে। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয় সংগঠন থেকে। একইভাবে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার ঘোষণা দেয়া হয়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার কানাডায় আশ্রয় চাইলেন সিনহা

কোরিয়েরে কানাডিজ পত্রিকায় সিনহার এই সংবাদ একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদক জো ভোলপে লিখেছেন, আপনারাও নিশ্চয়ই আমার মতো এই সংবাদ শুনে মেঝে থেকে লাফ দিয়ে উঠছেন! কেননা, তিনি কোনো সাধারণ নাগরিক নন। তিনি একটি দেশের সর্বোচ্চ বিচারপতি ছিলেন।
এতে বলা হয়, সিনহার দেশ, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি।
কিছুদিন আগেও বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে এখনও এটি বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। এখানে সহিংসতা কোনো অস্বাভাবিক কিছু নয়। নিজ দেশের এমন বর্ণনা এই বিচারপতিকে কষ্ট দেয়। কিন্তু সত্য হলো, দেশের অপরিপক্ব আর্থ সামাজিক অবকাঠামোকে ব্যক্তিগত বা কর্পোরেট বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার মতো লোকের অভাব সেখানে নেই। খোদ কানাডার এসএনসি লাভালিন কোম্পানিও এই গোষ্ঠীগুলোর একটি।
সংবাদে বলা হয়, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা ভারতীয় উপমহাদেশের এক উত্তাল সময়ের মধ্যে বড় হয়েছেন। সেখানে বিদেশী দখলদারিত্ব তিনি যেমন দেখেছেন। তেমনি দেখেছেন, স্থানীয়, জাতিগত ও ধর্মীয় বিভেদ। বৃটিশ ও পাকিস্তানি দখলদারিত্ব শেষ হলেও, বাংলাদেশে এখনও এমন পরিস্থিতি আছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামোর বর্ণনা দিয়ে পত্রিকাটিতে লেখা হয়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এখনও অতটা পরিপক্ব নয়। ফলে সরকারের বিভিন্ন শাখা, অর্থাৎ আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ এখনও সম্পূর্ণ পৃথক হতে পারেনি। আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগ নির্বাচনের ভিত্তিতে ঠিক হয়। তবে খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যমগুলো সাহসের সঙ্গে প্রতিবেদন প্রচার করে দেখিয়েছে, কীভাবে ভয়ভীতি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ও দলীয় নেতাকর্মীদের গুন্ডামির মাধ্যমে নির্বাচন প্রভাবিত হয়।
এমন এক পরিস্থিতিতে ২০১৫ সালের ১লা জানুয়ারি এসকে সিনহা প্রথম হিন্দু হিসেবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের সাংবিধানিক বিচারালয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। ডেইলি স্টার ও ঢাকা ট্রিবিউনের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি লিখেছে, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে বিচারপতির গ্রামের বাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আপিল বিভাগে পদোন্নতি পাওয়ার পর থেকেই সিনহা সরকারের বিভিন্ন শাখার পূর্ণাঙ্গ পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন প্রয়োগ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন। এরপর থেকেই তিনি সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠেন। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধান বিচারপতি ও শাসক দলের বিভেদ প্রকাশ্যে চলে আসে যখন সিনহা ৭৯৯ পৃষ্ঠার একটি বিচারিক মতামত প্রকাশ করেন, যার মাধ্যমে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করা হয়। এতে করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অপসারণে পার্লামেন্টের ক্ষমতা বাতিল হয়। এরপর সরকার থেকে সিনহার বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু হয়। তার পরিবার ও বন্ধুরাও চাপে পড়ে যায়। ২ সপ্তাহের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সম্মান ও শান্তির কথা চিন্তা করে সিনহা সাময়িক ছুটিতে যান। কিন্তু তারপরেও অশান্তি তার পিছু ছাড়েনি। ১৭ই নভেম্বর তিনি বিদেশ থেকে পদত্যাগপত্র দাখিল করেন। বাংলাদেশ থেকে প্রথমে তিনি সিঙ্গাপুরে যান, এরপর অস্ট্রেলিয়া ও পরে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি ও তার স্ত্রী কানাডায় আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় প্রার্থনা করেন, তবে তার স্ত্রী করেননি। কিন্তু সিনহার সাক্ষাৎকার কখনওই নেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে, পত্রিকাটি কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ হোসেনের (যিনি নিজেও সাবেক শরণার্থী) কাছে প্রশ্ন রেখেছে, ‘তার কাছেও কী (সিনহার আবেদন) সমস্যা মনে হবে?’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাকে বাঁচাতে বিয়ে ভেঙে দিলেন বাংলাদেশী যুবতী, দান করলেন কিডনি

মাকে দিলেন নিজের কিডনি। বিরল এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কর্নাটক রাজ্যের ব্যাঙ্গালোরে পুরনো বিমানবন্দর সড়কে মনিপাল হাসপাতালে। এখন মা ও মেয়ে দু’জনেই সুস্থ আছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ওই যুবতী বা তার মার নাম, পরিচয় প্রকাশ করা হয় নি। বলা হয়েছে, প্রেমিকের সঙ্গে এনগেজমেন্টও হয়ে গিয়েছিল ওই যুবতীর। কিন্তু মাকে কিডনি দেয়ায় বাধা দিয়েছেন তার হবু স্বামী। এতে তিনি সেই এনগেজমেন্ট ভেঙে দিয়েছেন। শহরের চিকিৎসকরা বলছেন, অবিবাহিতা যুবতীদের অন্য নারীকে কিডনি বা কোনো অঙ্গ দান করার ঘটনা সাধারণ কোনো বিষয় নয়। এটা একটি বিরল ব্যাপার। চিকিৎসকরা বলছেন, তারা বাংলাদেশী ওই যুবতীর কিডনি নেয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিলেন। কারণ, এতে তার ভবিষ্যত জীবনে নানা অসুবিধা দেখা দিতে পারে। ওই মা ও মেয়ের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে গত ২১শে জুলাই। এরপরই ওই যুবতী তার বিয়ের এনগেজমেন্ট বাতিল করেছেন। মনিপাল হাসপাতালের কিডনি বিশেষজ্ঞ ও প্রতিস্থাপন বিষয়ক সার্জনরা এ কথা পরে জানতে পারেন। কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. সঙ্করান সুন্দর বলেন, আমরা সাধারণত অবিবাহিত যুবতীর দেহ থেকে অঙ্গ বা কিডনি নিতে দ্বিধা করি। কারণ, এতে তার বৈবাহিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এটা শুনতে খারাপ লাগে। কিন্তু আমি সব সময়ই চিন্তা করি, যদি মেয়েটি আমার নিজের মেয়ে হতেন, তাহলে আমি কি করতাম। ওই যুবতী ছিলেন দৃঢ়চেতা। তাই কিডনি দাতা হিসেবে তাকে মেনে নিতে হয়েছে অনিচ্ছা সত্ত্বেও। সব কিছু ঠিকঠাক মতো সম্পন্ন হয়েছে। তারা দু’জনেই এখন ভাল আছেন।
ডা. সুন্দর বলেন, ওই যুবতীর পিতার সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়েছে। তাকে আমি বলেছি, এমন একটি চমৎকার মেয়ে থাকায় তিনি সৌভাগ্যবান। জবাবে ওই পিতা আমাকে বলেছেন- ইয়েস স্যার। আমি সৌভাগ্যবান। বলতে বলতে তিনি কেঁদে ফেলেন। বলেন, মাকে কিডনি দিতে গিয়ে নিজের বিয়ে ভেঙে দিয়েছে তার এই বড় মেয়ে।
ওই পিতা ডা. সুন্দরকে বলেছেন, তার দুটি মেয়ে থাকার কারণে অন্যরা তাদেরকে নিয়ে নানা রকম ব্যঙ্গ করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার সেই মেয়েই আমাদের পরিবারকে রক্ষা করেছে। এক দশক আগে এমনই একটি ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন ওই পিতা। তখন একজন নারী তার পিতাকে কিডনি দান করেছিলেন। ওই নারী তখন ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। এতে তার জন্য সমস্যা হয়ে দেখা দেয়। কিন্তু পিতাকে কিডনি দেয়ার জন্য ওই নারী গর্ভপাত করাতে চান। কিন্তু তাতে রাজি হন নি ডা. সুন্দর। তিনি ওই নারীকে বোঝাতে থাকেন। এ সময় চিকিৎসকদের মধ্যে প্রশ্ন এসে যায়, কোন বিষয়টিকে তারা প্রাধান্য দেবেন।
সর্বশেষ বাংলাদেশী ওই যুবতীর বিষয়ে অঙ্গ গ্রহণকারী ও চিকিৎসকদের মধ্যে সোমবার শেষ রাত পর্যন্ত বিতর্ক হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতে ওই নারীর কিডনি নেয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের অনিচ্ছার পক্ষে সমর্থন দেন অনেকে। মনিপাল হাসপাতালের কিডনি বিশেষজ্ঞ ও চেয়ারম্যান ডা. এইচ সুদর্শন বল্লাল বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিপরীতমুখী না হলেও অবিবাহিত নারীর অঙ্গ দান করা নিয়ে সমাজে রয়েছে গুরুত্বর উদ্বেগ। এমন নারী কিডনি দান করলে তার সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে আতঙ্ক মনে করেন বিবাহিত নারী, তার স্বামী অথবা শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে, আমরা বাংলাদেশী ওই যুবতীর সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে সত্য বলে নি -মার্কিন কংগ্রেসে ইমরান খান

৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের করার কিছু নেই। আল কায়েদার অবস্থান হলো আফগানিস্তান। পাকিস্তানে কোনো জঙ্গি তালেবান নেই। তা সত্ত্বেও আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দিয়েছি। যখন এ নিয়ে ভুল কিছু করা হয়েছে, তার জন্র আমি দোষ দেব আমার দেশের সরকারকে। কারণ, তারা মাঠপর্যায়ের সত্য বলে নি যুক্তরাষ্ট্রকে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন ও ভারতের অনলাইন এনডিটিভি।
এতে বলা হয়, মার্কিন কংগ্রেশনাল পাকিস্তান ককাসের চেয়ারপারসন কংগ্রেসওম্যান শীলা জ্যাকসন লি’র আমন্ত্রণে ক্যাপিটল হিলে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ও সিনেটরদের বিশাল এক উপস্থিতিতে যোগ দেন ইমরান খান। সেখানে তিনি ভাষণ দেন। এর আগে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ডেমোক্রেট ন্যান্সি পেলোসি বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন পাকিস্তান সম্পর্কে জানতে পারি। ওই সময় অন্য একজন ছাত্রী শাড়ি পরে উপস্থিত হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওই ছাত্রীই আমাকে লাইব্রেরিতে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সম্পর্কে বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। এর মধ্য দিয়েই ন্যান্সি পেলোসি পাকিস্তান ও এর নেতাদের সম্পর্কে জানতে পারেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান পেলোসি। কারণ, অনেক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আমেরিকানকে উপহার দিয়েছে পাকিস্তান। এসব মার্কিনিকে চমৎকার উপহার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। পরে তারা যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। তাতে বলা হয়, পাকিস্তানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান সম্পর্ক রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও তালেবানের মধ্যে পুনর্জাগরণ ও আঞ্চলিক শান্তির ক্ষেত্রে নেতৃত্বের জন্য ইমরান খানকে ধন্যবাদ জানান ন্যান্সি পেলোসি। জবাবে আমন্ত্রণ জানানো ও পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার সুযোগ করে দেয়ার জন্য ন্যান্সি পেলোসিকে ধন্যবাদ জানান ইমরান খান। তিনি বলেন, আমি মনে করি এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাকিস্তানকে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয় নি। আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভিন্ন এক সম্পর্ক গড়ে তোলার এটাই হলো সময়। এই সম্পর্ক নতুন করে শুরু করতে হবে।
ক্যাপিটল হিলের বক্তব্যে ইমরান খান বলেন, পুরো দেশ আমার সঙ্গে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তার সফরের মাধ্যমে পাকিস্তানকে উত্তমভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাকিস্তানকে বুঝতে দেয়া হয় নি, বিশেষ করে গত ১৫টি বছর। এ সময়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব আফগানিস্তানে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে আসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত পোষণ করে পাকিস্তান।
ইমরান খান বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী, নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী সহ পুরো দেশ আমার সঙ্গে রয়েছে। আমাদের একটিই লক্ষ্য আছে। তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অভিন্ন। তা হলো যত দ্রুত সম্ভব আফগানিস্তানে শান্তি স্থাপন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রিয়া সাহা অন্যায় করেননি: -সীতাংশু গুহ

‘প্রিয়া সাহার অভিযোগ ও বাংলাদেশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমস্যা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সীতাংশ গুহ বলেন, এ বিষয়ে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র একটি স্টেটমেন্ট ইতিমধ্যে দিয়েছে- সেখানে তারা স্পষ্টভাবেই প্রিয়া সাহা এবং প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে সমর্থন করেছে। আমি এর সাথে যেটুকু যোগ করতে চাই এবং এটা আমাদের সবারই বক্তব্য প্রায় যে, প্রিয়া সাহার প্রশ্নে আমরা আবার অবাক হয়ে দেখলাম, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক চরিত্রটি। যেটি অত্যন্ত বীভৎসভাবে উন্মোচিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের আগে মন্ত্রী এবং নেতৃবৃন্দের দায়িত্বহীন কথাবর্তা- এটি একটি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাষ্কর।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ যে, তিনি একটি নির্দেশনা দিয়েছেন এবং প্রিয়া সাহার বক্তব্য শুনতে চেয়েছেন। প্রিয়া সাহা কোন অন্যায় করেননি, কোন অন্যায় দাবিও করেননি, অন্যায় কথাও বলেননি।
অন্যায় করেছেন তার বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ প্রতিবাদকারীরা। প্রিয়া সাহা যে একটি বিশাল সমস্যার ভিত উন্মোচন করেছেন, আসলে এটি নিয়ে কাজ করা দরকার।
যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের এই নেতা বলেন, সংখ্যালঘু মিসিং বা ডিজঅ্যাপিয়ার- এটি তো একটি ওপেন সিক্রেট। সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, সমস্যাটি নিয়ে তো কোন বিতর্ক নাই। প্রিয়া যেটি করেছেন, তিনি শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবহিত করেছেন।
ভয়েস অব আমেরিকাকে ধন্যবাদ দিয়ে সীতাংশু বলেন, আমি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ তিনি প্রিয়া সাহাকে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছেন এবং তিনি প্রিয়া সাহার সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি কোন বেসামরিক সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রথম। এই ঘটনা এর আগে নাই। প্রিয়া সাহাকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই, তার সাহসের জন্য। আমরা আসলে- উই স্ট্যান্ড উইথ প্রিয়া সাহা এন্ড প্রিয়া সাহা যা বলেছেন তার সঙ্গে।
সীতাংশু গুহ বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে দু’টি সেনসাস হয়েছে। একটা ১৯৭২ সালে, সেখানে ছিল ১৯ দশমিক ৬০ শতাংশ সংখ্যালঘু। আরেকটা হয়েছিল ২০১১ সালে, সেখানে ছিল সংখ্যালঘু ৯ দশমিক ৭ শতাংশ।
প্রিয়া সাহার অভিযোগের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করেছি। উনার এই বক্তব্যে তথ্যগত ভুল আছে এবং এটি রাজনৈতিক বক্তব্য। আমার মনে হয় না যে, এটি তথ্যভিত্তিক বক্তব্য। দ্বিতীয়টি হলো, যারা বলছেন যে, ১২ শতাংশ সংখ্যালঘু আছেন, ২৫ শতাংশ চাকুরি করে- এই তথ্যটি সত্য নহে। বাংলাদেশ সরকারে আগে সংখ্যালঘু দেখা যেত না, এখন দেখা যায়। শতাংশটি এখনো ৩-৫ শতাংশ। আমারটা যে সঠিক তাও না, তবে আমাদের স্ট্যাটিসটিক তাই বলে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে শাহদীন মালিক, সুলতানা কামাল বা সুফিয়া কামালের মতো লোকজন এখন হারিয়ে যাচ্ছে। অর্থ্যাৎ যে এঙ্গেলে কথা বলা দরকার, সেই এঙ্গেলে কথা না বলে আমরা একটি সম্প্রদায় আরেকটি সম্প্রদায়কে দোষারোপ করে যাচ্ছি। আপনারা শাহরিয়ার কবিরের সর্বশেষ ১৫০০ দিনের যে শ্বেতপত্রটা বের হয়েছে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির, ওইটা দেখেন- ‘ঘাতক-দালালদের’ বাস্তব চিত্রটা। বাংলাদেশে যারা দাবি করেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নহর বইছে, ঘটনাটি তাহা নহে।
ভয়েস অব আমেরিকার ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে যুক্ত ছিলেন, বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উত্তপ্ত ঢাবি: আক্তারকে মারধর নূর লাঞ্ছিত

এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হন ভিপি নুরুল হক নুর। জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বানের পরও গতকাল গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা দেয় শিক্ষার্থীরা। এরপর সকাল ৮টা থেকে ওসব ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে পাহারা দেয়া হয় যাতে কেউ তালা ভাঙতে না পারে। শিক্ষার্থীদের তালায় টানা তিনদিন খুলেনি একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের কোনো গেট। ফলে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
গতকালও কোনো বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। সকাল ১০টা থেকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে আন্দোলনকারীরা। সহস্র শিক্ষার্থীর স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাসে। চার দফা থেকে সরে এসে সাত কলেজ বাতিলের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করে তারা। দুপুরে ভিসি চত্বর অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করে আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা দাবি আদায়ে প্রশাসনের লিখিত আশ্বাস চান বলে জানান। দুপুর ১২টার দিকে সমাবেশ শেষ করে কিছু শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। একই সময়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে পূর্ব ঘোষিত সমাবেশে অংশ নেয় ছাত্রলীগ। সাত কলেজ নিয়ে স্থায়ী সমাধান ও ক্লাস-পরীক্ষা নির্বিঘ্নে করার দাবিতে ভিসিকে স্মারকলিপি দেয়ার আগে এ সমাবেশ করা হয়। ছাত্রলীগের সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও অধিভুক্ত ইডেন কলেজ ও ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের অনেককে দেখা যায়। এতে ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে যে আন্দোলন চলছে তার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। সংগঠনটির নেতারা বলেন, আমরা চাই সাত কলেজ নিয়ে সৃষ্টি জটিলতার স্থায়ী সমাধান। কিন্তু সেটি ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে নয়। সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে একটি দল ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে চায়। অধিকার আদায়ের নামে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মৌলিক যে অধিকার, ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সেই অধিকারকে বানচাল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আজকে আমরা ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার জিম্মি করে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন না। কয়েক মিনিটের মধ্যে আপনাদের দাদাগিরি আমরা বন্ধ করে দিতে পারি।
ছাত্রলীগের সেই ক্ষমতা রয়েছে। এসময় তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাত কলেজ অধিভুক্ত একটি আনহ্যাপি ম্যারেজ, এর পিসফুল ডিভোর্স চাই। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পদক গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, আগামী আগস্টের ১ম সপ্তাহে আলোচনা করে এর সমাধান করা হবে। ছাত্রলীগ ডাকসুর সঙ্গে বসে এর একটা সমাধান করবে। আপনারা আস্থা রাখুন। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করব কিন্তু ক্লাস-পরীক্ষা চলমান রাখতে চাই। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, সাত কলেজ কোনো বিষয় নয়। আমাদের দাবি শিক্ষার মানোন্নয়ন। আমাদের শিক্ষার মানোন্নয়ন হচ্ছে না। যেহেতু এগুলো আলোচনার মাধ্যমে সামাধান করতে হবে। তাই কালকে থেকে আমরা ক্লাস করব। সমাবেশ শেষে শোভন, রাব্বানী, সাদ্দামের নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনে গেলে সেখানে আগ থেকে অবস্থান করা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ডাকসুর সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক আকতারের নেতৃত্বে কিছু শিক্ষার্থী মল চত্বরের দিকে চলে আসলে সেখানে ছাত্রলীগের একটি অংশ আকতারের ওপর হামলা চালায়। হামলায় নেতৃত্বে দেন শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সাবেক সহসম্পাদক রাব্বী হক। এসময় ছাত্রলীগ নেতারা কয়েকজন ছাত্রীকেও হেনস্তা করে বলে আকতার অভিযোগ করেন।
একই সময়ে ছাত্রলীগের অন্য নেতারা প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। ভিতরে প্রবেশ করে স্মারকলিপি দিতে গেলে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী তাদের পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে বলেন। এসময় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক প্রক্টরের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। এক পর্যায়ে প্রক্টর ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা তীব্র পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর ছাত্রলীগ প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মু. সামাদের কাছে স্মারকলিপি দেয়। এরপর ছাত্রলীগ নেতারা প্রশাসনিক ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। একই সময়ে আকতারের ওপর হামলার প্রতিবাদে মিছিল শেষে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমাবেশ মিলিত হন ভিপি নুরের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু ছাত্রলীগ নেতারা সেখানে গিয়ে হামলার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ফের তর্কে জড়ান। এসময় ছাত্রলীগের রাব্বানীর অনুসারীরা ভিপি নুরুল হক নুরকে লাঞ্ছিত করেন। ছাত্রলীগের নেতারা নুর ও আকতারের ডাকসু থেকে বহিষ্কার দাবি করেন। রাব্বানীর অনুসারীরা বেশি উত্তেজনা সৃষ্টি করায় রাব্বানীকে রেখে নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন। এরপর রাব্বানীও অপরাজেয় বাংলা ত্যাগ করেন। এরপর ভিপি নুরুল হক নুর সাংবাদিকদের বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আমরা ডাকসু থেকে সমর্থন দিয়ে গতকাল ক্লাসে ফিরে যেতে আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু সমাধানের পথে না হেঁটে শিক্ষার্থীদের ওপর আজ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। এখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে কর্মসূচি দেবে আমরা তাতে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি। এরপর আন্দোলনকারীদের পক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেন শাকিল মিয়া। তিনি বলেন, আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এসময় ডাকসুর সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আকতার হোসেন বলেন, ছাত্রলীগ আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। বোনদের লাঞ্ছিত করেছে। আমি এর বিচার চাই। আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে আছি, থাকবো। এরজন্য ডাকসুর গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন হলে তারা আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। কিন্তু আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে সব সময় থাকবো।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘ক্ষুদ্র ও বড় দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বের নজির সৃষ্টি করেছে মালদ্বীপ ও চীন’

শাহিদ বলেছেন, মালদ্বীপ-চীনের সম্পর্ক অভিন্ন ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সার্বভৌমত্বের সমতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। ঐতিহাসিক বন্ধনটা সাম্প্রতিককালে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে আরও সংহত হয়েছে।
সিনহুয়াকে মন্ত্রী বলেন, “আমাদের দুই দেশের মধ্যে যে উচ্চ সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে, সেটা আসলেই আমাদের দুই দেশের জনগণের জন্য পারস্পরিক উপকারী হয়েছে। চীন সবসময়ই মালদ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হবে, যেটা মালদ্বীপকে মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশের পর্যায়ে নিতে সাহায্য করছে”।
তিনি বলেন, “আমাদের শক্তিশালী সম্পর্কটা যেন আগামী বছরগুলোতে আরও জোরালো ও আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে, সেজন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”।
চীনের আসন্ন ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শাহিদ চীন সরকার ও চীনা জনগণের প্রতি অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন যে, চীন সরকার সবসময় একটা জনমুখী উন্নয়ন দর্শন অনুসরণ করে এসেছে এবং গত সাত দশকে তারা উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
তিনি আরও বলেন, “মালদ্বীপ চীনের আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সমর্থন করে এবং আমরা সবসময় এক চীন নীতির প্রতি দায়বদ্ধ আছি”।
সাক্ষাতকারে শাহিদ আরও জোর দিয়ে বলেন যে, মালদ্বীপ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের ঘনিষ্ঠ অংশীদার এবং সমর্থক।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মালদ্বীপের জনগণ চীনের দেয়া সহায়তায় ব্যাপক উপকৃত হয়েছে। এবং চায়না-মালদ্বীপ ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ, ভেলানা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের দ্বিতীয় রানওয়ে এবং বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পসহ প্রধান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ব্যাপারেও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শাহিদ জোর দিয়ে বলেন যে, মালদ্বীপ ভবিষ্যতেও চীন সরকারের সাথে কাজ করা অব্যাহত রাখবে যাতে পারস্পরিক উন্নয়ন অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে মালদ্বীপে চীনা বিনিয়োগ জারি রাখা যায়।
দুই দেশের মধ্যকার পর্যটন সহযোগিতার বিষয়ে শাহিদ বলেন যে, পর্যটন মালদ্বীপের সবচেয়ে বড় শিল্প এবং গত এক দশক ধরে এই শিল্পের সবচেয়ে বড় বাজার হলো চীন।
মন্ত্রীর দেয়া তথ্য মতে, চলতি বছরের প্রথম চতুর্থাংশে মালদ্বীপে ৯৫,২৭২ জন চীনা পর্যটক সফর করেছে, যেটা দেশের পুরো বিদেশী পর্যটকের ১৪.৭ শতাংশ।
ঝু রুইকিং, তাং লু
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
২৪ ঘণ্টায় ৪৭৩ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে: বিপজ্জনক পরিস্থিতি, ঠাঁই নেই হাসপাতালে

পরিস্থিতি মহামারী আকার ধারণ করেছে বলে মনে করছেন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এল ই ফাতমী।
তিনি মানবজমিনকে বলেন, রোগীরা আগের চেয়ে মারাত্মক চেহারা নিয়ে আসছেন। মধ্য জুনে ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর প্রথম হলি ফ্যামিলিতে এই রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড চালু করেছিলেন অধ্যাপক ফাতমী। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক শিশু বিভাগের প্রধান ডা. এল ই ফাতমী বলেন, এবার শুধু সংখ্যায়ই বেশি না। এবার প্রায় সবাই ডেঙ্গু হেমারজিক ফিভারে আক্রান্ত। আগে ছিল ক্লাসিকাল ডেঙ্গু রোগী। এদের পঞ্চাশ ভাগই শক সিন্ড্রোম। শক সিন্ড্রোম অর্থ হচ্ছে পালর্স (নাড়ির গতি) পাওয়া যায় না। এবার ডেঙ্গুর প্যাটার্নটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এদের সবার প্ল্যাটিলেট কমে যাচ্ছে, সবাই শকে চলে যাচ্ছে।
আগে সামান্য ডেঙ্গু হয়েই ভালো হয়ে যেত। এবার সবারই রক্ত লাগছে। পেটে ও ফুসফুসে পানি চলে আসে। এই পরিস্থিতিতে জ্বর হলে গাফিলতি না করার পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি জানান, তাদের হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে যে রোগী আসছে তার ৮০ শতাংশই শিশু। এদিকে, ধানমন্ডির সেন্ট্রাল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. একেএম মোজাহার হোসেন বলেন, ডেঙ্গু রোগীতে সয়লাব।
কোন ওয়ার্ড বা কেবিন ফাঁকা নেই। সিট নাই। বাধ্য হয়ে করিডরে আলাদা সিট বসিয়ে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সিট না পেয়ে অনেকে কাঁদতে কাঁদতে চলে যাচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাদের হাসপাতালে আসা ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ৬০ শতাংশই শিশু। হাসপাতালটিতে এ বছর ৬৪১ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬৬ জন। গতকালও ১৬ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বাকি ৫৭৫ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। হাসপাতালের মূল ওয়ার্ডে বা কেবিনে সিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের করিডরে কোন রকম আলাদা সিটে বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন নাহিদা সাবিরিন। বয়স ২৬ বছর। রোগীর স্বামী তারেক মাহমুদ বলেন, তার স্ত্রীর প্রচণ্ড জ্বর। ১০৩ পর্যন্ত ওঠেছে। ব্যাপক পাতলা পায়খানা হয়েছে। শরীর প্রচণ্ড ব্যথা। চার দিন আগে তার স্ত্রীর জ্বর আসে। তার পর থেকেই তারা চিকিৎসকের পরামর্শে ছিলেন। উপায় না পেয়ে গতকাল সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি হন। রোগীর এই অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, মশা নিধন হচ্ছে না। সেদিকে নজর নেই। ফলে সর্বত্র এখন ডেঙ্গু জ্বর আতঙ্ক। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করেছে। গত ২০শে জুলাই বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি এডউইন স্যালভাদর বনানীতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের বাসায় গিয়ে বৈঠকের পর বলেন, ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। দুটি নম্বর গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক কত মানুষ এ মুহূর্তে ডেঙ্গুতে ভুগছে, কত জন চিকিৎসা নিতে আসছে। সংখ্যা দুটি কিন্তু বাড়ছে। এটা উদ্বেগজনক।
দেশের প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ ডেঙ্গু জ্বর প্রসঙ্গে বলেন, এ বছর ডেঙ্গুর ধরন পাল্টে গেছে। আগে যেমন তীব্র জ্বরের সঙ্গে গায়ে রেশ ওঠা, ঠোঁট ফেটে রক্ত বের হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যেত, এবার সে সব লক্ষণ ছাড়াও অনেক রোগীই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে জ্বর হলে ঘরে বসে চিকিৎসা না নিয়ে যত দ্রত সম্ভব দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কিংবা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিৎ।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পরিসংখ্যান মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। চলতি মাসের ২৩শে জুলাই পর্যন্ত রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নারী-পুরুষ ও শিশু রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৬৩৭ জন। এ বছর আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ৭৬৬ জন। এ বছর ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের মধ্যে এপ্রিলে দু’জন, জুনে দু’জন ও জুলাই মাসে একজন মারা যান। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্র বলছে মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত চারগুণ হবে। দু’জন চিকিৎসকও মারা গেছেন। বেসরকারি হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা তিন থেকে চার লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
জ্বর না কমা বা অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকা, বমি হওয়া, পেটে তীব্র ব্যথা, রক্তক্ষরণ, মাথা ধরা, চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা প্রস্রাব না হওয়া বা কম হওয়া, খুব বেশি দুর্বল হয়ে পড়া, নিদ্রাহীনতা ও আচরণের আকস্মিক পরিবর্তন ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ। অন্তঃসত্ত্বা, বৃদ্ধ, শিশু, সদ্যোজাত এবং ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, লিভার ও কিডনির রোগীরা ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে তাদের চিকিৎসায় বিশেষ নজর দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বরিস জনসন বৃটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের পদত্যাগের ঘোষণার ২ মাসের মাথায় ঘোষণা করা হলো নতুন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর নাম। বুধবারই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন বরিস জনসন। এদিনই প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরে শেষ দফায় অংশ নেবেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। সেখান থেকে তিনি যাবেন বার্কিংহাম রাজপ্রাসাদে। রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। তেরেসা মের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর কনজার্ভেটিভ দলের নতুন নেতাকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন রাণী এলিজাবেথ। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, নতুন প্রধানমন্ত্রী তার জন্য নির্ধারিত ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাড়িতে প্রবেশ করার আগে বক্তব্য রাখবেন বরিস। বৃহস্পতিবার মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের নিয়োগ সম্পন্ন করবেন। শুক্রবারও মন্ত্রী পরিষদে রদবদল হতে পারে।
বৃটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে সমৃদ্ধ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। তিনি ছিলেন রাজধানী লন্ডনের এক সময়কার জনপ্রিয় মেয়র। এরপর দায়িত্ব পালন করেছেন বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও। এর আগেও তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছিলেন। তখন ব্যর্থ হলেও এবার বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী বনে গেলেন বরিস জনসন। নির্বাচনের পূর্বেই নানা জনমত জরিপ জানিয়েছিল, ক্ষমতার দৌড়ে জেরেমি হান্টকে অনেকটাই পিছনে ফেলতে চলেছেন বরিস জনসন।
বৃটিশ গণমাধ্যম বিবিসি লিখেছে, এই নির্বাচনে লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসন সুস্পষ্ট জনপ্রিয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তবে তার দলের বেশ কিছু সিনিয়র সদস্য তার অধীনে কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। ব্রেক্সিট নীতি নিয়ে নিজ দলের এমপিদের বিদ্রোহের ফলে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। তিনি মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রী পরিষদের সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গণপিটুনিতে রেনু হত্যা: সেদিন যা ঘটেছিল বাড্ডার স্কুলে by শুভ্র দেব

কেনইবা রেনুকে এভাবে হত্যা করা হলো। মানবজমিন এর পক্ষ থেকে অনুসন্ধান ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে কিছুটা বর্ণনা পাওয়া গেছে সেদিনের ঘটনার।
সকাল পৌনে আটটা। উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অ্যাসেম্বলি চলছে। ওই সময় মহাখালীর বাসা থেকে সেখানে উপস্থিত হন ৪০ বছর বয়সী তাসলিমা বেগম রেনু। উদ্দেশ্য চার বয়সী মেয়ে আসনিম তুবাকে স্কুলে ভর্তির খোঁজ খবর নেয়া। অ্যাসেম্বলি শেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে যান। সকাল আটটায় ওই স্কুলের প্রথম ক্লাস শুরু হয়। স্কুলের নিচের মাঠে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এলোমেলোভাবে বসেছিলেন।
আবার কেউ দাঁড়িয়ে ছিলেন। রেনু তখন ভেতরে প্রবেশ করে এদিক-সেদিক তাকাচ্ছিলেন। নিচে থাকা স্কুলের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কিছু বলার চেষ্টা করেছিলেন। তখন এক অভিভাবক তাকে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি কে, কোথা থেকে এসেছেন, কেন এসেছেন, তার বাসা কোথায়। রেনু জানান, তার বাসা মহাখালীতে, বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করার খবর নিতে এসেছেন। রেনুকে জিজ্ঞেস করা হয় তার শিশুটি কোথায়? রেনু বলেন বাচ্চা বাসায়, এখন খোঁজ খবর নিতে আসছি। কথাবার্তার মাঝেই এক নারী অভিভাবক রেনুকে ছেলেধরা সন্দেহ করে কথা বলতে থাকেন। তার সঙ্গে সুর মেলান আরও অনেকে। তখন রেনু তাদের কাছ থেকে সরে গিয়ে স্কুলের দপ্তরির কাছে জানতে চান ভর্তি করা যাবে কিনা। দপ্তরিও তাকে জানান এখন কোন শিশুকে ভর্তি করা হবে না। এই কথা শুনে তিনি সেখান থেকে ফের স্কুলের ফটকের দিকে রওয়ানা হন। তখন অভিভাবকরা আবার তাকে আটকে বিভিন্ন ধরনের কথা বলতে থাকেন।
অভিভাবকদের নানা প্রশ্নে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন রেনু। এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত অভিভাবকরা ছেলে ধরা বলে চিৎকার শুরু করলে বাইরে থেকে লোকজন আসতে থাকে। চিৎকার চেচামেচি শুনে একজন পুরুষ শিক্ষক ও কয়েকজন অভিভাবক রেনুকে নিয়ে যান প্রধান শিক্ষক শাহনাজ বেগমের দ্বিতীয় তলার কক্ষে। আর নিচে দাঁড়িয়ে থাকা অভিভাবকের চিৎকারে আশপাশ থেকে দলে দলে লোক আসতে থাকে। এদের মধ্যে কেউ হাতে লাঠি, লোহার রড নিয়ে আসেন। তারা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে যাবার জন্য চেষ্টা করেন। কিন্তু স্কুলের দপ্তরি স্কুল ভবনের গেটে তালা দিয়ে রাখেন। উত্তেজিত মানুষ তখন ওই তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে প্রবেশ করে তারা সোজা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে যায়। ভেতরে কয়েকজন অভিভাবক ছাড়াও প্রধান শিক্ষক ও সহকারি একজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। মানুষজন প্রধান শিক্ষকের সামনে থেকে রেনুকে মারধর করে টেনে হিঁচড়ে নিচে নেমে আসে। রেনুর ওপর চলে বেধড়ক মারধর। কেউ লাঠি দিয়ে, কেউ লোহার রড দিয়ে কেউবা পা দিয়ে লাথি, কিল-ঘুষি। টানা কয়েক মিনিট মারধরের পরে নিস্তেজ হয়ে পড়েন রেনু। কিছুক্ষণ পর তিনি হাত-পা নাড়াছাড়া দিচ্ছিলেন। কিন্তু উপস্থিত হৃদয়হীন মানুষ রেনু বেঁচে আছেন ভেবে আবার পেটানো শুরু করে।
উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি জান্নাত বেগম মানবজমিনকে বলেন, ওই নারী আমাকে এসে জিজ্ঞেস করেছিলেন স্কুলে বাচ্চা ভর্তি করা যাবে কিনা। আমি তখন উনাকে বলেছি বছরের এই সময় বাচ্চা ভর্তি করা হয় না। এই কথা শুনে তিনি আবার চলে যান। এর কয়েক মিনিট পরে দেখলাম কয়েকজন লোক তাকে ধরে নিয়ে দ্বিতীয় তলার দিকে যাচ্ছে। ওই সময় স্কুল ভবনের দিকে শত শত লোক আসতে থাকে। আমি তখন গেটে তালা দেই।
কিন্তু তারা উচ্চ শব্দে চিৎকার দিয়ে তালা ভাঙ্গার চেষ্টা করে। আর প্রধান শিক্ষক তখন মাইকে বলছিলেন আপনারা শান্ত হন, ধৈর্য ধরেন। আমরা বিষয়টি দেখছি। ওই নারীর সঙ্গে কথা বলছি। জান্নাত বলেন, কে শুনে কার কথা। মানুষ ততক্ষণে তালা ভেঙ্গে দুতলায় চলে যায়। প্রধান শিক্ষক ও আরেক সহকারি শিক্ষককে ধাক্কা মেরে ওই নারীকে নিয়ে নিচে নেমে আসে। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি তাকে বাঁচানোর। কিন্তু অনেক মানুষ থাকায় সেটা আর সম্ভব হয়নি।
ওই স্কুলের প্রধান ফটকের সামনের পান সুপারি বিক্রেতা নূর ইসলাম বলেন, আমি সকাল সাতটায় দোকান খোলেছি। সকাল আটটার কিছু পরে ভেতর থেকে কিছু নারীর কন্ঠে ছেলেধরা-ছেলেধরা,গলাকাটা-গলাকাটা আওয়াজ আসছিল। এই আওয়াজ আসার সঙ্গে সঙ্গে ফটকের সঙ্গের শাক বিক্রেতা হৃদয় লাঠি নিয়ে আসে এবং আশেপাশের লোকজনকে জানিয়ে দেয় স্কুলে ছেলেধরা এক মহিলাকে আটকানো হয়েছে। এই খবরে মূহুর্তের মধ্যে শত শত লোক স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করে। তখন পাশের হোটেলের জাফর, আরেক সবজি বিক্রেতা হাতে লাটিসোটা নিয়ে স্কুলের ভেতরে যায়। স্কুলের ফটকের সামনের আরেক ব্যবসায়ী জালাল বলেন, মারধর শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর আমি দোকানে এসেছিলাম। দেখি শতশত মানুষ স্কুলের ভেতরে বাইরে। ভেতরে গিয়ে দেখি এক নারীর মরদেহ পড়ে আছে। তিনি বলেন, শুনেছি ওই নারী বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য এখানে এসেছিলেন।
স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নওরিন আক্তারের বাবা জহুরুল ইসলাম বলেন, বাচ্চাদের ক্লাসে দিয়ে নারী অভিভাবক নিচে বসে স্কুল ছুটির অপেক্ষা করেন। তখন ওই নারী ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় কয়েকজন অভিভাবক তাকে আটকে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেন, এটি একটি জগণ্য কাজ। একটা মানুষকে কিভাবে তারা ছেলেধরা বলে গণপিটুনি দিল।
বাড্ডা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদেরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছি হুজুগের কারণেই তারা মূলত গণপিটুনিতে অংশগ্রহণ করেছে।
ক্লাসে ক্লাসে ছিল কান্নার সূর: ওই নারীকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের মাঠে মানুষের ভীড় বাড়তে থাকে। সেখান থেকে কিছু লোক স্কুল ভবনের দ্বিতীয় তলায় যেতে চায়। যেখানে ওই নারীকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু গেটে তালা দেয়া থাকার জন্য তারা উপরে উঠতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে তালা ভেঙ্গে যখন তারা চিৎকার দিয়ে দিয়ে উপরে উঠছিল তখন প্রতিটা ক্লাসে শিক্ষকরা পড়াচ্ছিলেন। চিৎকার চেঁচামেচির কারনে শিক্ষকরা ক্লাস নিতে পারছিলেন না। কয়েক সেকেন্ডের ভেতরে মানুষের ভীড় দ্বিতীয় তলায়ও বাড়তে থাকে। তখন শিক্ষকরা ক্লাসরুমের দরজা বন্ধ করে দেন। অনেক শিক্ষার্থী ভয়ে কান্না শুরু দেয়। সহকারি শিক্ষক কামরুননাহার বেগম বলেন, ওই সময় আসলে কি হতে যাচ্ছে বা কি হচ্ছে আমরা কিছুই বুঝতে পারি নাই। চারদিকে শুধু মানুষের আওয়াজ-উচ্চ শব্দ। কি করব কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। তবে এই টুকু মাথায় ছিল। এই ছোট ছোট বাচ্চাদের রেখে যাওয়া যাবে না।
কারণ বাচ্চাগুলো কান্না করছিল ভয়ে। তাদের নিরাপত্তা আগে। একটা বাচ্চার যদি কিছু হয় তবে আমরা কি জবাব দিব। কানিজ ফাতেমা নামের আরেক শিক্ষক বলেন, একটা নারীকে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে সেটা আমার মাথায় ছিল না। আমি শুধু বাচ্চাদের সাহস দিয়েছি। কারণ তারা সবাই আমার সন্তান। আমি তাদের শুধু দোয়া পড়তে বলেছি যাতে আমরা বিপদ থেকে রক্ষা পাই। নাজমিন সুলতানা নামের আরেক শিক্ষক বলেন, বাচ্চারা হাউমাউ করে কান্না করছিল। আমরা বাইরে যাওয়ার উপায় ছিল না। কারণ এই ভীড়ের মধ্যে যদি তাদের ছেড়ে দেই তবে পিষ্ট হয়ে হয়তো কয়েকটা বাচ্চা মারা যেত। এদিকে রেনুকে হত্যার ঘটনার ছবি ও ভিডিও দেখে পুলিশ সাত জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের একজন স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তিনজনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি হৃদয় সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। যদিও রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তানের আঞ্চলিক অবস্থান যে কোন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী by সালমান রাফি শেখ
কুলভূষণ যাদবকে পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্ত করতে ভারত যে চেষ্টা করেছিল, সেটা ঠেকানোর ব্যাপারে পাকিস্তানের সাফল্য এই পরীক্ষায় উৎরে গেছে। যদিও আইসিজেতে যাওয়ার পরিকল্পনাটা ভারতেরই ছিল। ভারত পাকিস্তানের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসার প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করে এসেছে এবং এরই ফলশ্রুতিতে আইসিজের দ্বারস্থ হয়েছে। মোদি সরকারের অব্যাহত পাকিস্তান-বিরোধী অপপ্রচার এবং এর পরিণতিতে পাকিস্তানকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার যে নীতি তারা নিয়েছে, সেটার কারণে পাকিস্তানের সাথে আলোচনার প্রস্তাবকে তারা প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।
পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ভারতীয় নীতির একটি ভিত্তি হলো তাদের এই অপপ্রচার যে পাকিস্তান এই অঞ্চলে ‘সন্ত্রাসকে সহায়তা দিচ্ছে’। আইসিজেতে যে বিচার হলো, সেখানে তার উল্টো চিত্র উঠে এসেছে এবং সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, ভারতই বরং এ অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারটা এখন তাদের নিজেদের ঘাড়ে গিয়ে পড়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোন পরাশক্তিই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের অপপ্রচারকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। তার অতি সাম্প্রতিক বহিপ্রকাশ হলো আফগান শান্তি প্রক্রিয়ার উচ্চ পর্যায়ের টেবিলে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানানো। শুধু তাই নয় এই প্রক্রিয়া থেকে ভারত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। তাছাড়া আফগান দৃশ্যপট থেকেও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে ভারত এবং আফগানিস্তানের যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর মতো কোন প্রভাবও ভারতের নেই।
সম্প্রতি বেইজিংয়ে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও পাকিস্তানের মধ্যে চারপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে, সেখান থেকেই বোঝা গেছে যে আফগানিস্তানে ১৭ বছরেরও বেশি মার্কিন যুদ্ধের অবসানের পেছনে চূড়ান্ত বিবেচনায় কারা ভূমিকা রাখছে।
যদিও রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আগের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে পাকিস্তান ছিল না, কিন্তু সবশেষ বৈঠকে সেটা ঘটেছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, তিন প্রধান দেশ “পাকিস্তানকে আলোচনায় স্বাগত জানিয়েছে এবং তারা বিশ্বাস করে যে, আফগানিস্তানে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে”।
পাকিস্তানকে ‘বিচ্ছিন্ন করার’ ভারতীয় নীতির বিপরীতে পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থাটা আফগানিস্তান শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের ইতিবাচক ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়েছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে যে কথাটা বলে আসছে যে, আফগানিস্তানে কিছু ঘটলে পাকিস্তানের উপরও তার প্রভাব পড়ে, পাকিস্তানের ভূমিকার ব্যাপারে স্বীকৃতি ইসলামাবাদের সেই দাবিকেই সমর্থন করলো। ইসলামাবাদ আরও বিশ্বাস করে যে, বৃহত্তম পশতুভাষী জণগোষ্ঠির দেশ হিসেবে, পাকিস্তানকে অবশ্যই আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হতে হবে এবং প্রধান বিশ্ব শক্তি – বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে না, আফগানিস্তান চুক্তির সময় পাকিস্তানের স্বার্থের বিষয়টিকে অগ্রাহ্য করা।
পুরো আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান যে কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিচ্ছে, এই বক্তব্যের মধ্যে কোন অতিরঞ্জন নেই। এর কারণ মূলত আফগান তালেবানদের অব্যাহতভাবে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখাতে পাকিস্তানের সাফল্য এবং তালেবানদের সাথে সরাসরি চ্যানেলে আলোচনার জন্য চীন ও রাশিয়াকে সক্ষম করে তোলার ব্যাপারে তাদের ভূমিকা। অন্যভাবে বললে, এই শক্তিগুলো এই স্বীকৃতি দিলো যে আলোচনা এবং যুদ্ধ সমাপ্তির জন্য একটা খসড়া চুক্তির ব্যাপারে সম্মত হওয়া, অন্তত এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে, এটা পাকিস্তানের সহায়তা ছাড়া সম্ভব হতো না।
‘বিচ্ছিন্নতার নীতির’ কারণে ভারতের কাছে পাকিস্তানের এই কেন্দ্রীয় ভূমিকার বিশ্বাসটি মারাত্মক। কারণ এখানে পাকিস্তানের এমন ভূমিকা ও ইমেজ উঠে এসেছে, যারা আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি টানার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে, সন্ত্রাসবাদ উসকে দেয়ার ব্যাপারে নয়।
একজন ভারতীয় বিশ্লেষক যেমনটা বলেছেন: “সন্দেহ নেই যে, ভারত এখানে বড় ধরনের হারের মুখোমুখি হয়েছে। পাকিস্তান আফগান প্রক্সি যুদ্ধে ভারতকে পরাজিত করেছে এবং এই পরাজয় আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে”।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কের দ্রুত উন্নতি হচ্ছে, চীনের সাথে তাদের সম্পর্ক একটা অনমনীয় পর্যায়ে চলে গেছে, এবং রাশিয়ার সাথেও তাদের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এটাই সম্ভবত প্রথমবারের মতো পাকিস্তান ও রাশিয়া একত্রে আঞ্চলিক একটা ফোরামে মিত্র হিসেবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে সাহায্য করছে।
আঞ্চলিক সংহতি সন্দেহাতীতভাবে আফগান যুদ্ধের সমাপ্তির সাথে জড়িত, এর অর্থ হলো এই দেশগুলো বিশেষ করে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ মোড়ক থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং একটা অর্থনৈতিক ও কৌশলগত মাত্রা এখানে যুক্ত হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আবারও পাকিস্তানের রফতানি পণ্যের শীর্ষ গন্তব্য হতে চলেছে এবং পাকিস্তানের জ্বালানি সঙ্কট মেটানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী হয়ে উঠতে যাচ্ছে রাশিয়া। আর এতেও সন্দেহ নেই যে, পাকিস্তান রাশিয়ার অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সিস্টেম কেনার ব্যাপারেও গভীরভাবে আগ্রহী।
ভারতের জন্য এখন এটা উপলব্ধির সময় এসেছে যে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের বিচ্ছিন্নতার নীতি কাজ করেনি এবং সেটা কাজ করবে না, বিশেষ করে এমন একটা সময় যখন পৃথিবীর এই অঞ্চলটা বিআরআই থেকে নিয়ে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক সংযোগ কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে চলেছে। সংযোগ যেখানে নতুন উদীয়মান অগ্রাধিকার, ‘বিচ্ছিন্নতার’ নীতি বাস্তবায়ন সেখানে কিভাবে সম্ভব?
এটা আসলে ভারতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা যে, এই জিনিসটা বুঝতে তারা দীর্ঘ সময় নিয়েছে। পাকিস্তান, অন্যদিকে নিজেদের তরফ থেকে ভারতের সাথে সংলাপের উপর জোর দিয়ে যাচ্ছে, এবং মোদি সরকারও হয়তো নিজেদের জাতীয় ভোট ব্যাংক রক্ষায় এটার বিরোধিতা অব্যাহত রাখবে, যদি না নিজেদের অংশের বরফ গলানোর চেষ্টা করে তারা।
![]() |
| ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭, পাকিস্তানে আটক ভারতীয় গুপ্তচর কুলভূষণ যাদবের সঙ্গে সাক্ষাত করেন তার আত্মীয়-স্বজন |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বেশি যাত্রীর আশায় ‘বিশ্রামে’ থাকে চক্রাকার বাসগুলো by শাহেদ শফিক
নগরবাসীর আরামদায়ক ও নিরাপদ সেবা নিশ্চিতের জন্য চলতি বছরের ২৭ মার্চ কলাবাগান মাঠের সামনে থেকে এ সার্ভিস উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ও কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনা সংক্রান্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। দূরত্ব বুঝে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) তত্ত্বাবধানে চালু হওয়া বাসটিতে ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ২০-৩০ টাকা।
![]() |
| আজিমপুর ইডেন মহিলা কলেজের উত্তর গেটে বিআরটিসির চক্রাকার বাস |
এদিকে, রাজধানীর এই রুটটিতে যানবাহনের চাপ কমিয়ে যানজটমুক্ত করার জন্য বর্তমানে রিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে যাত্রীদের চাপ আরও বেড়েছে। কিন্তু বাসগুলো বেশি যাত্রী পাওয়ার আশায় আধঘণ্টা বা তারও বেশি সময় পর পর স্টপেজে যাচ্ছে। এছাড়া, শুক্র ও মঙ্গলবার বাসের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে সাধারণ যাত্রীদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিসি সার্ভিসটির কয়েকজন চালক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেশি যাত্রী তোলার জন্য অনেক দেরি করে প্রারম্ভিক কাউন্টার থেকে বাস ছাড়া হয়। ফলে বাসের ৫১টি আসনের বাইরেও দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলা হয়। যদি অল্প সময় পর পর বাস ছাড়া হয় তাহলে যাত্রী কম পাওয়া যায়। সে কারণে ট্রিপ শেষ করে আসার পর বাসগুলোকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। যেন সড়কে যাত্রীর সংখ্যা বাড়ে।’
![]() |
| নিউ মার্কেটের সামনে বিআরটিসির চক্রাকার বাসে ওঠার জন্য লাইনে দাঁড়ানো যাত্রীদের একাংশ |
গত ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টায় আজিমপুর ইডেন মহিলা কলেজের উত্তর গেটে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কে তখনও সার্ভিসটির ৪টি বাস সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। বাসগুলো হচ্ছে—ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৫১৩৩, ঢাকা মেট্রো-ব- ১৫-৪৯৯৪, ঢাকা মেট্রো-ব- ১৫-৪৯৮৮ ও ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৪৯৮৭। অথচ তখন ইডেন মহিলা কলেজের সামনে মাস্টার্স পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের ভিড়। কিন্তু তখনও বাসগুলো কাউন্টার থেকে লাইনে দেওয়া হয়নি।
এ সময় মাস্টার্স পরীক্ষার্থী নিলুপা মনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাসের সামনে অন্তত আধঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। চারটি বাস দাঁড়িয়ে আছে। একটি বাসও ছাড়ছে না। কলেজের সামনে গেটে অনেক শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে আছেন। বাসগুলো পেলে তারাও উপকৃত হতেন।’
![]() |
| আজিমপুর ইডেন মহিলা কলেজের উত্তর গেটে বিআরটিসির চক্রাকার বাস |
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ‘ধানমন্ডি-আজিমপুর রুটে ৫ থেকে ৭ মিনিট পরপর চক্রাকার বাস স্টপেজে আসার কথা। কিন্তু এর ব্যত্যয় যদি হয় তাহলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।’
একই বিষয়ে জানতে চাইলে মতিঝিল বাস ডিপোর ম্যানেজার মো. নায়েব আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসলে বাসগুলো চুক্তিভিত্তিক বা টার্গেট ভিত্তিতে দেওয়া হয়নি। তবে, যাত্রী কম থাকলে খরচ কমানোর জন্য দেখে-শুনে একটু লেট করে ছাড়া হয়। আমাদের নিজস্ব লোক ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ করা জনবলের মাধ্যমে এই বাসগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বাসগুলো তারা দেখাশোনা করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই বাসের চাহিদা অনেক বেশি। যাত্রীর চাপও রয়েছে।’ তবে, ছুটির দিনে বাসের সংখ্যা একটু কমিয়ে দেওয়া হয় বলেও তিনি স্বীকার করেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘কাশ্মির সমস্যা সমাধানে ট্রাম্পের মধ্যস্থতা চেয়েছেন মোদি’, ভারতের প্রত্যাখ্যান

এতে তৃতীয় কোনো পক্ষের মধ্যস্থতা বা ভূমিকা থাকতে পারে না বলে মনে করে ভারত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ।
গত সোমবার ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করছিলেন ট্রাম্প। এ সময় একজন সাংবাদিক কাশ্মির সমস্যা সমাধানের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন- দু’সপ্তাহ আগে আমি (ভারতের ) প্রধানমন্ত্রী (নরেন্দ্র) মোদির সঙ্গে সাক্ষাত করেছি। এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এ সময়ে তিনি প্রকৃতপক্ষে আমাকে বলেছেন, আপনি কি এ ইস্যুতে মধ্যস্থতা বা সালিসদার হতে পছন্দ করেন? তার এ প্রশ্নের জবাবে আমি জানতে চেয়েছিÑ কোথায়? তিনি (মোদি) বলেছেন- ইস্যুটি হলো কাশ্মির। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরো বলেন, (কাশ্মির ইস্যুটি) অনেক অনেক বছর ধরে চলমান। তার কথা শেষ না হতেই ইমরান খান যোগ করেন, সত্তর বছরের সমস্যা এটি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি তারা (ভারত ও পাকিস্তান) এই সমস্যার সমাধান চায়। আমি মনে করি আপনারাও এ সমস্যার সমাধান দেখতে চান। যদি আমি সহায়তা করতে পারি, তাহলে মধ্যস্থতাকারী হতে পছন্দ করবো আমি। এটা হওয়া উচিত নয়- আমি বলতে চাই, এটা বিশ্বাস করা অসম্ভব যেÑ দুটি চমৎকার দেশ, যারা অত্যন্ত স্মার্ট, অত্যন্ত স্মার্ট নেতৃত্ব রয়েছে যেখানে, তারা এই সমস্যা সমাধান করতে পারে না। কিন্তু আপনারা যদি আমাকে মধ্যস্থতাকারী বা সালিসকারী হিসেবে চান তাহলে আমি তা করতে আগ্রহ প্রকাশ করছি। এ সমস্যাটির সমাধান হওয়া উচিত। তিনি আমাকে একই কথা বলেছেন। তাই আমি মনে করি, এখানে করার কিছু আছে। তাই হতে পারে আমরা তার সঙ্গে কথা বলবো অথবা আমি তার সঙ্গে কথা বলবো। আমরা দেখবো এক্ষেত্রে আমরা কিছু করতে পারি কিনা। কারণ, আমি কাশ্মির সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছি। কাশ্মির একটি চমৎকার নাম। এটা হলো বিশ্বের সুন্দর জায়গাগুলোর অংশ। কিন্তু ঠিক সেখানে এই মুহূর্তে সর্বত্র শুধু বোমা আর বোমা। তারা বলছেন, আপনি সেখানকার যেখানেই যাবেন দেখবেন বোমা আর এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। এ অবস্থা অনেক বছর ধরে চলছে। এক্ষেত্রে যদি আমার কোনো সহায়তা প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে জানাবেন।
অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিশ্চিত করেছেন, কাশ্মির সমস্যা সমাধানে তারা তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ চান। তিনি বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আহ্বান করছি। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ভারত উপমহাদেশে শান্তি আনার ক্ষেত্রে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। আপনারা জানেন, ভারত উপমহাদেশে সোয়া একশ কোটির বেশি মানুষের বসবাস। তারা কাশ্মির ইস্যুর কাছে জিম্মি হয়ে আছেন। আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র শুধু যুক্তরাষ্ট্রই পারে এই দুটি দেশকে (ভারত ও পাকিস্তান) একত্রিত করতে।
ইমরান খান আরো বলেন, আমার অবস্থান থেকে বলছি, আমরা আমাদের সর্বোত্তম চেষ্টা করেছি। আমরা আলোচনা শুরুর জন্য, আলোচনার মাধ্যমে আমাদের মতবিরোধ মিটিয়ে ফেলতে ভারতের প্রতি সব দিক দিয়ে আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমরা কোনো সাড়া পাই নি। তবে আমি আশা করি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রক্রিয়াকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবেন। প্রেসিডেন্ট, আমি আপনাকে বলছি, ঠিক এই মুহূর্তে আপনি যদি এই সমস্যা সমাধানের মধ্যস্থতা করেন এবং সমস্যার সমাধান করেন তাহলে শত কোটিরও বেশি মানুষের দোয়া, আশীর্বাদ পাবেন।
জি নিউজ লিখেছে, কাশ্মির সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মধ্যস্থতা করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যে আহ্বান জানিয়েছেন বলে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সেই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাভিশ কুমার এ নিয়ে সিরিজ টুইট করেছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য আমরা দেখেছি। তিনি বলেছেন, কাশ্মির ইস্যুতে যদি ভারত ও পাকিস্তান তাকে অনুরোধ করে তাহলে তিনি মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে এমন অনুরোধ করেন নি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারত এ বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানে। তারা মনে করে পাকিস্তানের সঙ্গে সব ইস্যুর সমাধান হতে হবে শুধু দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে। পাকিস্তানের সঙ্গে যেকোনো বিষয়ে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আগে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধ হতে হবে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে করার কথা বলা হয়েছে শিমলা চুক্তি ও লাহোর ঘোষণায়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
July
(817)
-
▼
Jul 24
(31)
- নয়ন বন্ডকে ১২ লাখ টাকা কে দিয়েছিল? by মো. মিজানুর ...
- ট্রাম্প-ইমরান বৈঠক: ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে উত্তপ্ত...
- ছেলেধরা গুজবে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল by নুর মোহাম্মদ ...
- প্রিয়া সাহার অভিযোগ কতটা আমলে নিতে পারেন ডোনাল্ড ...
- জাপার বিবাদ প্রকাশ্যে: কাদেরকে মানছেন না রওশন
- ‘কাটমানি’ সামলাতে ‘ব্ল্যাকমানি দাওয়াই, দাবি ব্যালট...
- নিখোঁজ ৩.৭০ কোটি হিন্দু বাংলাদেশি ভারতেই -ভারতীয় প...
- যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার কানাডায় আশ্রয় চাইলেন সিনহা
- মাকে বাঁচাতে বিয়ে ভেঙে দিলেন বাংলাদেশী যুবতী, দান ...
- পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে সত্য বলে নি -মার্কিন কংগ্...
- প্রিয়া সাহা অন্যায় করেননি: -সীতাংশু গুহ
- উত্তপ্ত ঢাবি: আক্তারকে মারধর নূর লাঞ্ছিত
- ‘ক্ষুদ্র ও বড় দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বের নজির সৃষ্ট...
- ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৩ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে: বিপজ্জনক পরিস...
- বরিস জনসন বৃটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী
- গণপিটুনিতে রেনু হত্যা: সেদিন যা ঘটেছিল বাড্ডার স্ক...
- পাকিস্তানের আঞ্চলিক অবস্থান যে কোন সময়ের চেয়ে শক্ত...
- বেশি যাত্রীর আশায় ‘বিশ্রামে’ থাকে চক্রাকার বাসগুলো...
- ‘কাশ্মির সমস্যা সমাধানে ট্রাম্পের মধ্যস্থতা চেয়েছে...
- অমরনাথ যাত্রায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে কাশ্মিরের নিরাপত্তা ব...
- বাংলাদেশে ফিরলে প্রিয়া সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে...
- শ্রীলংকাকে বৌদ্ধ ধর্মরাষ্ট্রে পরিণত করার অলীক স্বপ...
- শেক্সপিয়ারের শহরে ভেজাল চিকেন টিক্কা: বাংলাদেশির ২...
- কেউ পেয়েছেন রিঠা, কেউ গুলশা by সোয়েল রানা
- রোহিঙ্গাদের ডাটাবেজ নিয়ে যত জটিলতা by জামাল উদ্দিন
- বগুড়ায় সাড়ে চার বছরে মাদক মামলা ১০ হাজার by প্রতীক...
- বিজেপিকে আটকাতে মমতার চার কৌশল
- রূপচর্চায় অলিভ অয়েল ব্যবহার করবেন যেভাবে by আনিকা আলম
- ইয়েমেনে আটকে গেছেন সৌদি যুবরাজ: নিউ ইয়র্ক টাইমস
- আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়াতে শ্রীলংকার সঙ্গে সামরিক ...
- রেলপথে ‘পাথর সন্ত্রাস’ ভয়ঙ্কর ৭০ স্পট- বছরে দেড় শত...
-
▼
Jul 24
(31)
-
▼
July
(817)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...





