Wednesday, June 21, 2017

সঙ্কট কাতারে, দুর্দশায় গাজাবাসী

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় শেখ হামাদ সিটির খেলার মাঠে শিশুদেরকে খেলতে দেখার দৃশ্য এখন অনেকটাই স্বাভাবিক।
শিশুরা যখন খেলাধুলা করে তখন তাদের অভিভাবকদেরও দেখা যায় পাশেই বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ছায়ায় বসে গল্প করতে বা কথা বলতে।
গাজায় এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় এলাকা হলো এই হাউজিং প্রকল্প, যার নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিলো ২০১২ সালে।
আর এ প্রকল্পের পুরো অর্থের যোগান দিয়েছে উপসাগরের ধনী দেশ কাতার; সে কারণে প্রকল্প এলাকার নামকরণ করা হয়েছে দেশটির সাবেক শাসক শেখ হামাদের নামে।
নিম্ন আয়ের প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি পরিবার ইতোমধ্যেই সেখানে স্থানান্তর হয়েছে।
কমপ্লেক্স এলাকায় নতুন স্কুল, দোকানপাট, আকর্ষণীয় মসজিদ এবং এলাকা জুড়ে সবুজের আয়োজনে একটা নান্দনিক শহর হয়ে উঠেছে শেখ হামাদ সিটি।
এখনো প্রতিনিয়ত নির্মাণকাজ চলছে, গড়ে উঠছে একের পর এক ভবন।
কিন্তু এতো আয়োজনের মধ্যেই ফিলিস্তিনিদের এই ভূখন্ডে উদ্বেগ তৈরি করেছে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার সংকট।
গাজার হামাদ সিটির অধিবাসীদের মধ্যে রীতিমত উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে এ সংকট, কারণ তারা মনে করছে বিষয়টি দীর্ঘায়িত হলে তারা হারাবেন তাদের একজন প্রধান দাতা ও সহযোগীকে।
"আমরাই আসলে ভিকটিম হতে যাচ্ছি," বলছিলেন বাহা শালাবি, যিনি শেখ হামাদ সিটির একজন অধিবাসী।
তার মতে, "অর্থ, সমর্থন, অবকাঠামো, ভবন নির্মাণ - সবকিছুই এবার বন্ধ হয়ে যাবে"।
অর্থনৈতিক প্রবাহ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজা উপত্যকায় নতুন বাড়ি, হাসপাতাল ও সড়ক নির্মাণে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছে কাতার।
দেশটি আরও প্রায় এক শ' কোটি ডলার দেয়ার অঙ্গীকার করেছে।
যদিও সৌদি আরব সহ উপসাগরীয় মিত্রদের সাথে কাতারের বর্তমান সংকট এসব প্রকল্পে ঠিক কতটুকু প্রভাব ফেলবে তা এখনো পরিষ্কার নয়।
সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দেয়ার অভিযোগ তুলে সৌদি আরব আর তার মিত্ররা কাতারকে একঘরে করার চেষ্টা করছে, যদিও কাতার সবসময়ই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
গাজার উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে যাওয়ার প্রধান যে সড়কের নির্মাণকাজ চলছে, তার প্রকৌশলী হানাফি সাদাল্লাহ অবশ্য সতর্ক এই আশঙ্কায় যে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া হিসেবে অর্থ সহায়তা কমে যেতে পারে।
তিনি বলেন, "আমাদের শত শত কর্মী আছে এবং তারা সবাই পরিবারকে সহায়তা করছে"।
"গাজায় বেকারত্ব অত্যন্ত প্রকট। এখন কাতারের তহবিলও যদি চলে যায়, তাহলে সবাইকে ঘরে অলস বসে থাকতে হবে"।
সরকারি হিসেবে গাজার ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষের কোন কাজ নেই, বেকারত্বের ক্ষেত্রে যা বিশ্বে একটি রেকর্ড।
সৌদি আরব যেসব দাবিতে কাতারকে একঘরে করার চেষ্টা করছে, তার একটি হলো হামাসকে সহায়তা দেয়া বন্ধ করা।
আর এই হামাস সংগঠনটিই গাজা শাসন বা পরিচালনা করছে।
প্রায় এক দশক আগে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীকে হটিয়ে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলো হামাস।
তার এক বছর পর সেখানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়লাভ করে হামাস। এরপর হামাসই কাতারকে উদ্বুদ্ধ করে গাজার সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য।
"যেসব ঘরবাড়ি, সড়ক হচ্ছে সেগুলো হামাসের জন্য হচ্ছে না," বলছিলেন সংগঠনটির নেতা মাহমুদ জাহার। "মানবিক প্রতিষ্ঠান - স্কুল ও হাসপাতাল - এসবই হচ্ছে ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য।"
"কাতার থেকে হামাসকে দুরে সরিয়ে রাখার সব উদ্যোগই ভুল ও অকার্যকর"।
ইসরায়েলের অভিযোগ যে হামাস বিদেশী সহায়তা তার সামরিক অবকাঠামো শক্তিশালী করতে ব্যবহার করে।
তবে প্রকল্প নিয়ে যাতে কোন অভিযোগ না ওঠে সেজন্য দোহার তরফ থেকে সমন্বয় অফিস খোলা হয়েছে গাজাতেই, যারা নির্মাণকাজের ঠিকাদার ও জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর সাথে নিজেরাই সরাসরি কাজ করে থাকে।
চাপ কমানোর চেষ্টা
হামাস ও কাতারের মধ্যকার সম্পর্ক এখন অনেকটা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সীমান্তের দু'ধারে ইসরায়েল ও মিসর কঠিন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
যদিও দোহার সমর্থনে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক উদ্যোগও রয়েছে।
কাতারের আমীর একমাত্র সরকার প্রধান, যিনি হামাস নিয়ন্ত্রিত এলাকা সফর করেছেন।
আবার হামাসের বড় বড় নেতারা দোহায় বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন, যার মধ্যে রয়েছে হামাসের সাবেক প্রধান খালেদ মিশাল।
এখন তাদের অনেকে অবশ্য দোহা ছেড়েছেন। তবে এটিকে দেখা হচ্ছে কাতারের ওপর চাপ কমানোর ক্ষেত্রে হামাসের একটি সহযোগিতা হিসেবে।
গত মাসেই হামাস তাদের নতুন নীতি ঘোষণা করেছে, যদিও তাতে মুসলিম ব্রাদারহুডের বিষয়ে কোন কিছু বলা হয়নি।
এই মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে সম্পর্ক নিয়ে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে কাতারকে। সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী বলেই মনে করে সৌদি আরব ও তার মিত্ররা।
সূত্র : বিবিসি

ভার্জিনিয়ায় কিশোরীকে পিটিয়ে হত্যা by এ হাই স্বপন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াতে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর ১৭ বছরের এক মুসলিম কিশোরীকে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী এক শ্বেতাঙ্গ ‘মুসলিম বিদ্বেষী’ দুর্বৃত্তকে আটক করেছে পুলিশ। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট। নিহত কিশোরীর নাম নাবরা হাসানেন। হাইস্কুলে পড়ুয়া ওই কিশোরী ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির রেস্টনের বাসিন্দা ছিল। রোববার রাতে ওয়াশিংটন ডিসির নিকটবর্তী ভার্জিনিয়ার স্টার্লিংয়ের ‘অল ডালেস এরিয়া মুসলিম সোসাইটি’ (এডিএএমএস) মসজিদের কাছ থেকে অপহৃত হয় ওই কিশোরী।
লুডন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের মুখপাত্র আলেকজান্দ্রা কোয়ালস্কি পুলিশ ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের বরাতে বলেন, চার থেকে পাঁচজনের একদল মুসলিম কিশোরী রোববার ভোরে একটি রেস্টুরেন্টে সেহরি খেয়ে ফেরার পথে একজন মোটরসাইকেল চালকের বাধার মুখে পড়ে। এসময় কিশোরীরা সবাই দৌঁড়ে মসজিদে চলে আসতে পারলেও নাবরা পেছনে পড়ে যায়। বিষয়টি মসজিদ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে তারা তৎক্ষণাৎ লুডন এবং ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। এরপর উভয় কাউন্টির পুলিশ ওই কিশোরীর খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
উভয় কাউন্টির পুলিশ ফেয়ারফ্যাক্সের ড্রানেসভিলে রোড এবং হার্নডনের উডসন ড্রাইভে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী যৌথ অভিযান চালায়। এরপর বিকাল ৩টার দিকে স্টার্লিংয়ের রাইজটপের ২১৫০০ ব্লকের একটি পুকুর থেকে নাবরার লাশ পাওয়া যায়। এদিকে অভিযানকালে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় ডারউইন মার্টিনেজ টরেজ নামে এক মোটরসাইকেল চালককে চিহ্নিত করে পুলিশ। পরে নাবরাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তাকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করার কথা জানালেও তা বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। নাবরার মা বলেছেন, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে বলেছেন, নাবরার দেহে লোহার ব্যাট দিয়ে পেটানোর দাগ রয়েছে। পুলিশে জানিয়েছে, নাবরা হত্যাকাণ্ডকে সম্ভাব্য মুসলিম বিদ্বেষ জনিত অপরাধ বিবেচনা করে এ ঘটনার তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।
কিশোরী নাবরা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক বিবৃতিতে গভীর শোক জানিয়েছে এডিএএমএস মসজিদ কর্তৃপক্ষ।
মসজিদ কমিটির চেয়ারম্যান রিজওয়ান জাকা বলেন, আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে এ ধরনের বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটায় আমরা শোকাহত হয়েছি এবং আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়েছে। এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোনাজাত করা এবং আমাদের সন্তানদের দেখেশুনে রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, এডিএএমএস মসজিদ হলো উত্তর ভার্জিনিয়ার সবচেয়ে বড় মসজিদ। ২৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই মসজিদটিতে সাত শতাধিক মুসল্লি নামাজ পড়তে পারে। এতে তরুণদের একটি উইকেন্ড স্কুল, একটি জিমনেশিয়াম এবং একটি মাল্টিপারপাস মিলনায়তন রয়েছে। এডিএএমএস মসজিদের কো-চেয়ার‌ম্যান শোয়েব হাসান জানান, রমজানের শেষ দশদিনে এখানে মধ্যরাত থেকে রাত ২টা পর্যন্ত সময় জুড়ে বিশেষ নামাজের আয়োজন করা হয়।
সাধারণত এই সময় মুসল্লিরা নামাজ শেষে ম্যাকডোনাল্ড ও আইএইচওপির রেস্টুরেন্টে গিয়ে সেহরি খেয়ে রোজা রাখেন। রোববার নাবরা ও তার বান্ধবীরাও নামাজ শেষে সেহরি খেতে গিয়েছিলে বলে জানান শোয়েব।

পাকিস্তানের অধিনায়ক একজন কুরআনের হাফেজ!

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। তার নেতৃত্বেই এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে পাকিস্তানের ফাইনাল খেলার কথা হয়তো কেউ ভাবতে পারেননি। কিন্তু সরফরাজ আহমেদের দারুণ নেতৃত্ব দাপট দেখিয়ে ফাইনালে ওঠে পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের মতো দলকে হারায় তারা। আর ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে গুড়িয়ে দিয়ে শিরোপা জেতে পাকিস্তান। পাকিস্তানের এমন অর্জনের পেছনে অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের অনেক বড় কৃতিত্ব। এ কারণে আইসিসি’র টুর্নামেন্ট সেরা একাদশের অধিনায়ক করা হয়েছে তাকে। অবাক করা কথা হলো, পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ একজন কুরআনের হাফেজ। মুসলিম হিসেবে নিয়মিত ধর্মচর্চা করেন। নিয়মিত নামাজ পড়েন। সরফরাজ যে একজন কুরআনের হাফেজ এটা পাকিস্তানের অনেকেই জানেন। ২০১৫ সালে শোয়েব মালিক ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজে প্রশ্ন করেন- ‘আপনারা কি জানেন, সরফরাজ একজন কুরআনের হাফেজ?’ তখনই পাকিস্তাসজুড়ে তাকে নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই তার এই বিষয়টি জেনে যান। পরে এ বিষয়ে নিজেই মিডিয়ার সামনে কথা বলেছেন। কুরআনের হাফেজ হওয়া ও জাতীয় দলে প্রবেশ নিয়ে সব কথা খুলে বলেছেন। এক সাক্ষাৎকারে সরফরাজ জানান, তারা বাবা শাকিল আহমেদের প্রবল ইচ্ছায় তিনি ছোটবেলায় কুরআন হিফজ করার মাদরাসায় ভর্তি হন। কুরআন মুখস্ত করা অবস্থায় তার ভেতরে ছিল ক্রিকেটের প্রতি প্রবল ঝোঁক। সাধারনত এমন মাদরাসায় পড়াশুনার বাইরে সময় খুব কম পাওয়া যায়। অনেক বিধিনিষেধ থাকে। বিকেলে ঘণ্টাখানেক সময় পাওয়া যেত। ওই সময়টুকুতে তিনি স্থানীয় ক্রিকেট মাঠে ছুটে যেতেন। ক্রিকেটের জন্য আলাদা কোনো পোশাক ছিল না। মাদরাসার ওই পোশাক পরেই তিনি মাঠে নেমে পড়তেন। এরপর বাড়ি ফেরার আগে পোশাক ভালভাবে পরিস্কার করে নিতেন। যাতে তার বাবা ক্রিকেট খেলার বিষয়টি বুঝতে না পারেন। প্রথমদিকে তিনি ফাস্ট বোলার হতে চাইতেন। এরপর একসময় লেগ স্পিনার হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত নিজেই নিজের মধ্যে উইকেটরক্ষক হওয়ার গুণাবলী উপরব্ধি করেন। সঙ্গে ভাল ব্যাটিং করাও শিখে যান। মাদরাসায় কুরআন মুখস্ত ও বিকেল বেলায় এলাকার ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট- দু’টোই চলতে থাকে একসঙ্গে। খুবই ভাল খেলতেন তখন থেকে। এলাকায় তার ক্রিকেট প্রতিভার কথা সবাই জেনে যান। তার বাবা শাকিল আহমেদও জেনে যান। ছেলের এক আগ্রহকে তিনি অগ্রাহ্য করেননি। কিন্তু সবার আগে পড়া, কুরআন মুখস্ত করতে মাদরাসায় যওয়া। তিনি সারাদিন মাদরাসায় পবিত্র কুরআন মখস্ত করতেন আর বিকেলে খেলতেন ক্রিকেট। এভাবেই তিনি এক সময় পুরো ৩০ পারা কুরআন মুখস্ত করে ফেলেন। ক্রিকেটে প্রতি তার ভালবাসা তখনো প্রবল। এক সময় করাচির স্থানীয় অনূর্ধ্ব-১৫ দলে ডাক পান তিনি। দারুণ প্রতিভার ঝলক দেখান সরফরাজ। এরপর পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-১৯। পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৬ সালে তার নেতৃত্বেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে পাকিস্তাস। সেবার ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারায় তারা। ১১ বছর বাদে সেই ভারতকে হারিয়ে এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান। এবার জাতীয় দলের অধিনায়ক কুরআনের হাফেজ সরফরাজ আহমেদ।

ভারতের সেই বিচারপতি জেলে

কলকাতা হাইকোর্টের বহুল বিতর্কিত সাবেক বিচারক সিএস কারনানের জামিন আবেদন বাতিল করে তাকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের সঙ্গে সম্প্রতি তার তিক্ত সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ ওঠে। মে মাসে তার বিরুদ্ধে ৬ মাসের জেল দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তারপর থেকেই বিচারপতি সিএস কারনান পলাতক ছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার তাকে তামিলনাড়ুর কোয়েমবাটোর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে জামিন আবেদন ও শাস্তি স্থগিত করার আবেদন করেন তিনি। সুপ্রিম কোর্ট তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন একটি বেঞ্চের বিচারক ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারক সঞ্জয় কিষাণ কাউল বলেছেন, ওই বিচারকের বিরুদ্ধে ৬ মাসের জেল ঘোষণা করেছেন ৭ জন বিচারকের বেঞ্চ। আমরা ওই আদেশ স্থগিত করতে পারি না। বিচারক চন্দ্রচূড় জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সরি, কোনোভাবেই পারছি না। অভিযুক্ত বিচারক কারনানের আইনজীবী ম্যাথিউ জে নাদুমপারা আদালতে সাবেক এই বিচারকের জামিন আবেদন করেন। তিনি আবেদনে বলেন, ফের আদালত খোলা পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুরের সব ক্ষমতা আছে এই আদালতের এবং তা মঞ্জুর করাও উচিত। কিন্তু তা বানচাল হয়ে যায়। ফলে সাবেক এই বিচারকের স্থান হওয়ার কথা এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেল। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের নভেম্বরে ন্যাশনাল কমিশন ফর শিডিউলড ক্যাস্টস (এনসিএসসি)-এর কাছে একটি চিঠি লেখেন বিচারক সিএস কারনান। তাতে তিনি মাদ্রাজ হাই কোর্টের অন্য বিচারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। বলেন, তাদের কাছে তিনি গোষ্ঠীগত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের এপ্রিল থেকে তিনি এমন অবমাননার শিকার হচ্ছেন এবং তা চলছেই। একজন বিচারক তাকে পা দিয়ে স্পর্শ করেছেন এমন একটি ঘটনার পর তিনি মুখ খোলেন। এতে আদালত চত্ত্বরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ফলে এনসিএসসি’র চেয়ারম্যান পি এল পুনিয়া ওই চিঠিটি পঠিয়ে দেন তখনকার ভারতের প্রধান বিচারপতি এস এইচ কাপাদিয়ার কাছে। এ ছাড়া ২০১৩ সালের জুনে বিচারক সিএস কারনান বিয়ে নিয়ে একটি বিতর্কিত রায় দেন। তিনি বলেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে বিবাহ পূর্ববর্তী শারীরিক সম্পর্ককে বিয়ে হিসেবে গণ্য করা যাবে। তিনি বলেন, একজন যুবকের বয়স যদি ২১ বছর বা তার বেশি হয়, একজন যুবতীর বয়স যদি ১৮ বছর বা তার বেশি হয় তাহলে তারা সিভিল ফোরাম হিসেবে থাকতে পারবে। ওই যুবতী স্ত্রীর মর্যাদা দাবি করতে পারবে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে বিচারক কারনান বলেন, তিনি কোনো ধর্ম বা ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে নয় এ রায়। সুনির্দিষ্ট কিছু বিচারকের নিয়োগ নিয়ে মাদ্রাজ হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন (পিআইএল) বিষয়ক শুনানি চলছিল। সেখানে বিচারপতি সিএস কারনান প্রবেশ করে বিতর্কের সৃষ্টি করেন। তিনি উন্মুক্ত ওই আদালতে বলেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু নয়। তিনি নিজের নামের একটি এফিডেভিট করাতে চান। তার এ আচরণের নিন্দা জানায় সুপ্রিম কোর্ট। ওই সময় মাদ্রাজ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রাজেশ কুমার আগরওয়াল বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি পি সাথাসিবামের কাছে চিঠি লেখেন। তিনি বিচারপতি কারনানকে অন্য কোনো হাইকোর্টে স্থানান্তরের সুপারিশ করেন। ওদিকে সাথাসিবাম ও আগরওয়ালকে উল্টো চিঠি লেখেন বিচারক কারনান। তাতে তিনি বলেন, তিনি মাদ্রাজ হাই কোর্টেই থাকবেন। থেকে তিনি প্রমাণ করবেন তার অভিযোগ। তিনি এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি ও কোর্টের অন্য বিচারকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। একই সঙ্গে তিনি তথ্য পাওয়ার অধিকার বিষয়ক জয়েন্ট রেজিস্ট্রারের কাছেও চিঠি লেখেন। তাতে জানান জেলা জজ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। ভারতের প্রেসিডেন্টের কাছেও একটি অভিযোগে এ বিষয়ে বিস্তারিত লেখেন তিনি। ওদিকে আবার মাদ্রাজ হাই কোর্টের ২০ জন বিচারক যৌথভাবে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে একটি চিঠি লেখেন বিচারক সিএস কারনানকে বদলী করতে। ২০১৪ সালের আগস্টে মাদ্রাজ হাই কোর্টে প্রধান বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান বিচারক কাউল। এরপর থেকেই অনেক বিচারকের বিরুদ্ধে একা অভিযোগ সামনে এনে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন কারনান। ২০১৫ সালে তিনি আরো একটি ভয়াবহ অভিযোগ আনেন। বলেন, নিজের চেম্বারে একজন ইন্টার্নকে যৌন হয়রান করেছেন অন্য একজন বিচারক। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিচারক সিএস কারনানকে বদলি করা হয় কলকাতা হাই কোর্টে। এ বছর ২৩ শে জানুয়ারি তিনি একটি খোলা চিঠি লেখেন প্রদানমন্ত্রীর উদ্দেশে। তাতে তিনি সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত ২০ জন বিচারকের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। ৮ই মে তিনি ভারতের প্রধান বিচারপতি জেএস কেহার ও সুপ্রিম কোর্টের অন্য ৭ জন বিচারকের বিরুদ্ধে ৫ বছরের জেল ঘোষণা করেন। জবাবে ৯ই মে কলকাতা হাই কোর্টের এই বিচারকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার দায়ে ৬ মাসের জেল ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট।

নেতৃত্বের পরীক্ষায় ব্যর্থ তেরেসা মে by এডাম পারসনস

গ্রিনফেল টাওয়ার অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতায় আমাদের ক্ষুব্ধ হওয়া উচিত। প্রকৃতপক্ষে তারও চেয়ে বেশি কিছু হওয়া উচিত আমাদের। যেভাবে মানুষের জীবনকে আমরা নষ্ট করেছি, সেই ব্যর্থতায় আমাদের উচিত অগ্নিমূর্তি ধারণ করা। সরকারি পর্যায়ে এই ট্র্যাজেডিতে যেভাবে দুর্বল উপায়ে সাড়া দেয়া হয়েছে তাতে আমাদের ক্ষুব্ধ হওয়া উচিত। এ নিয়ে বিশ্লেষণ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলবে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর। কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে আমাদের কয়েকটি নিন্দনীয় প্রশ্ন করতে হচ্ছে। তা হলোÑ এ বিপর্যয়ে প্রাথমিক পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে কেন এত বড় শূন্যতা? এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কেন অপেশাদার ব্যক্তিদের হাতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে? আমাদের নেতৃত্বের কি ঘটেছে এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী কি করেছেন?
রাজনীতি হোক আর ব্যবসা, খেলাধুলা বা অন্য কোন কিছু হোক, বাস্তবে দক্ষ নেতারা সব সময়ই মাঠপর্যায়ে কিছুটা দুর্বল থাকেন। অনেকেই ‘ক্যাপ্টেনের’ বাহুবন্ধনী বাঁধতে পারেন। কিন্তু বহু মানুষই এর প্রকৃত লক্ষ্য পূরণ করতে পারেন না। তার টিমকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারেন না। কৌশল সংজ্ঞায়িত করতে পারেন না। সমন্বিত পারফরম্যান্স উত্থাপন করতে পারেন না। বোঝাপড়াও ঠিকমতো করতে পারেন না, যা তাদের আসলে করা উচিত। সঠিক সময়ে সঠিক জিনিসটি করতে হবে।
ধরুন বৃটিশ এয়ারওয়েজের বস অ্যালেক্স ক্রুজের কথা। তিনি সেই মানুষ, যিনি সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, বৃটিশ এয়ারওয়েজের সেবাগুলো আরো কমিয়ে আনার মধ্যে এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। এক্ষেত্রে তিনি যাত্রীদের কাছ থেকে চা ও চিজ স্যান্ডউইচের চার্জ বা মূল্য নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গত মাসে যখন বৃটিশ এয়ারওয়েজের কম্পিউটার সিস্টেম ভেঙে পড়ে তখন অ্যালেক্স ক্রুজ ছুটে যান হিথ্রো বিমানবন্দরে। সেখানে যাত্রীদের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করেন। তাদের প্রতি অনুশোচনা প্রকাশ করেন। কঠোর সব প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে সাক্ষাৎকার দেন। সমস্যা সমাধান নিয়ে জনসমক্ষে একটি বিবৃতি দেন। তিনি অফিসে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে যেসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে তা বিশ্লেষণ করেন। প্রথমেই তিনি একটি পুরনো ধারার হাফহাতা শার্ট পরেন অফিসে। সেখানে তাকে ঘিরে রাখেন জনসাধারণ। দ্বিতীয়ত, নিজের একজন স্টাফই তার সাক্ষাৎকার নেন। উভয় ক্ষেত্রেই তিনি নিজের বিরুদ্ধে তদন্ত ও তার নিজের কাস্টমারদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চেষ্টা করছিলেন।
২০১৭ সালে এসে এটাই হলো একজন নেতা হওয়ার সমস্যা। এটা হলো আপনি কি করছেন তা নয়। বিষয়টি হলো আপনি কিভাবে করছেন। শত বছর আগে বিশ্ব পুরস্কৃত করেছে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এমন নেতাদের। তবে তাদের প্রতি বিপুল জনসমর্থন ছিল না। এটা ছিল সুখ-দুঃখের প্রতি উদাসীন, দৃঢ়সংকল্প ও কঠিন চাপে নত না হওয়ার এক প্রতিজ্ঞার বিশ্ব। বিশ্বের সেই যুগ বিগত হয়েছে।
এখনকার নেতাদের বুঝতে হয় জনমত কোনদিকে ঝুঁকবে। আপনি যদি বৃটিশ এয়ারওয়েজ, বৃটিশ সেনাবাহিনী অথবা টেসকো চালান, তাহলে আপনাকে বুঝতে হবে আপনার কর্মকা-ে জনগণ কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে। এমনটাই হয়েছে গ্রিনফেল টাওয়ার ও তেরেসা মে’র ক্ষেত্রে।
আমি যখন গত সপ্তাহে প্রথম সেখানে যাই, সেখানে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের উদভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করতে দেখেছি। হতভম্ব অনেকে, সহায়তার জন্য মরিয়া। হতবিহ্বল, ক্ষুব্ধ ও দয়াবানÑ সবাই একে অপরের দিকে তেড়ে যাচ্ছে। কাউন্সিল বা সরকারের পক্ষ থেকে সেখানে একজন লোকও ছিল না।
সত্যি বলতে কী, কয়েক ঘণ্টা সেখানে থেকে আমি শুধু দুজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখেছি। এই মানুষজনের ভিড়ে, তেরেসা মে ছিলেন তার গাড়িবহরের আড়ালে। সেখানে তিনি গেছেন কিছু জরুরি সেবাদাতা কর্মীর সঙ্গে কথা বলতে। সেখানে তিনি কোনো বাসিন্দা বা স্বেচ্ছাসেবীর সঙ্গে কথা বলেননি। এটি ছিল খুবই মূর্খতাপূর্ণ ও শোচনীয় সিদ্ধান্ত। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীকে নির্লিপ্ত ও জনবিচ্ছিন্ন মনে হয়েছে। উত্তর কেনসিংটনের নারকীয়তার সঙ্গে তার কোনো সংযোগ নেই।
এখনকার এই যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আবেগীয় বিশ্লেষণকে মূলধারার গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। আর তখন তাকে শীতল মনে হচ্ছিল, যেন সহমর্মিতা তাকে ছেড়ে চলে গেছে। একদিন পর তিনি যখন ভুল সংশোধন করতে আবার ঘটনাস্থলে গেলেন, তখন বাতাসে একটি শব্দই বাজছিল: ‘কাপুরুষ।’ তার সমর্থকরা অবশ্য বলবেন, তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে গেছেন। আড়ালে আবডালে চোখের পানি ফেলেছেন। কিন্তু সেসবের কোনো মূল্য নেই। কারণ, সেই মুহূর্তে দেশের নেতার মতো আচরণ করার দরকার ছিল তার। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। কোনো এক কারণে, তিনি খুব সাংঘাতিক এক সময়কে আরো উত্তাল ও বিপজ্জনক করে তুলেছেন।
তার সমর্থকরা আরো বলবেন, তিনি স্টাইলের চেয়ে সারবত্তা নিয়ে বেশি আগ্রহী। কিন্তু এই দাবি আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালেই বেশি মানানসই। কিন্তু আপনি যখন প্রধানমন্ত্রী, পরিস্থিতি তখন একেবারে ভিন্ন। সোজা ভাষায় বললে, এসব সুযোগ কেউ আর পায় না। তিনি উত্তর কেনসিংটনের চার্চে গেলেন বটে, কিন্তু সেখানকার ক্ষুব্ধ লোকজনের সম্মুখীন হলেন তিনি। আর একপর্যায়ে রেঞ্জ রোভারে করে তড়িঘড়ি চলে গেলেন।
এরপর তিনি ডাউনিং স্ট্রিটে লোকজনকে আমন্ত্রণ জানালেন। এ সিদ্ধান্তটি যথেষ্ট ভালো ছিল। কিন্তু এর সঙ্গে যেন স্থানীয় সম্প্রদায়ের কোনো সংশ্লেষ ছিল না। তিনি যতবার ভুল সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছেন, ততবারই যেন তার মূল ভুলটি আরো স্থুল হয়ে ফুটে ওঠে।
আসলে এটি হলো আপনার সহজাত প্রবৃত্তির পরিমাপ। অর্থাৎ, আপনি যে ভুল করতে যাচ্ছেন সেটি টের পান কিনা। জর্জ বুশ একবার প্রকাশ করেন যে, তিনি একবার খুবই ভয়াবহ ও ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার মতো ভুল করেছিলেন। হারিকেন ক্যাটরিনার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তার হেলিকপ্টার নামেনি। বরং ধ্বংসস্তূপ এড়িয়ে গিয়ে তিনি লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। আমার মনে হয়, তেরেসা মে-ও একই কথা চিন্তা করছেন।

(এডাম পারসনস, স্কাই নিউজের বিজনেস করেসপন্ডেন্ট। অনলাইন স্কাই নিউজে প্রকাশিত তার লেখার অনুবাদ)

কাশ্মীর সমস্যা মেটাতে হস্তক্ষেপ করবে জাতিসঙ্ঘ

কাশ্মীর সমস্যা মেটাতে ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন জাতিসঙ্ঘপ্রধান আন্তোনিও গুতেরাস। দুই দেশের মধ্যে আলোচনার ব্যবস্থা করে দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। কাশ্মীর সমস্যা মেটাতে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, সেবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে গুতেরাস বলেন, তিনি পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে তিনবার ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দু’বার দেখা করেছেন। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলা অশান্তির বিষয়ে তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। জানুয়ারিতে দায়িত্ব পাওয়ার এই প্রথম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন গুতেরাস। সেখানেই তাকে ভারত-পাক সীমান্ত সমস্যার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। জুন মাসেই সেন্ট পিটার্সবার্গে ইন্টারন্যাশনাল ইকনমিক ফোরামে গুতেরাসের সঙ্গে দেখা হয় নরেন্দ্র মোদির। সেখানেই সন্ত্রাস ইস্যুতে জোর দেন নরেন্দ্র মোদি। ওই একই জায়গায় নওয়াজ শরিফেরও মুখোমুখি হন জাতিসঙ্ঘ প্রধান।

নিউইয়র্কে ১৭ বছরের নিচে বিয়ে নিষিদ্ধ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ জনবহুল রাজ্য নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার পুরনো আইন সংশোধন করে বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৭ বছর নির্ধারণ করেছে। আগের আইনে ১৪ বছর বয়সেই বিয়ে করার বৈধতা ছিল। ডেমোক্রেটিক দলীয় গভর্ণর অ্যান্ড্রু সুয়োমো নতুন আইনে স্বাক্ষর করেন। এতে রাজ্যটিতে বিয়ের বৈধ বয়স ১৪ বছর থেকে ১৮ বছর করা হয়েছে। তবে কেউ যদি ১৭ বছর বয়সে বিয়ে করতে চায় তবে তাকে তার অভিভাবক ও একজন বিচারকের অনুমোদন নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘এটি শিশুদের সুরক্ষা ও জোরপূর্বক বিয়ে প্রতিরোধে আমাদের প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং আমি নতুন এই আইনে স্বাক্ষর করতে পেরে গর্বিত। এতে করে নিউইয়র্কে বাল্য বিয়ে বন্ধ হল।’ সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, ২০০০ থেকে ২০১০ সাল এই ১০ বছরে নিউইয়র্কে ৩ হাজার ৮শ’র বেশি শিশুর বিয়ে হয়েছে। বাসস

তাদের মুখে খুন গুমের কথা মানায় না : কাদের

বড়ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারের ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের । তিনি বুধবার সকালে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় মহাসড়কের যানজট পরিস্থিতি ও রাস্তা সংস্কার কাজ পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন। মন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপি আমলে আমাদের একুশ হাজার নেতাকর্মীর রক্তের দাগ বেগম খালেদা জিয়া ও তার নেতাদের হাতে আছে, সেই দাগ এখনো শুকায়নি । কে গুপ্ত হত্যা বাংলাদেশে শুরু করেছে? আমাদেও অনেক নেতা কর্মীও পরিবার এখনো তাদেও খুঁজে বেড়ায়। খুঁজে পায়না। রক্তে রক্তে বাংলাদেশ .. খুনে খুনে খুনের দড়িয়া হয়েগিয়েছিল তাদের মুখে খুন গুমের কথা মানায় না। তাদের মুখে এটা হাস্যকর বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। এসময় মন্ত্রীর সাথে ছিলেন হাইওয়ে ডিআইজি আতিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ, ঢাকা বিভাগীয় তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, গাজীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ডি. এ.কে.এম.নাহীন রেজা।

হাওরবাসীর কন্ঠে কেবলই বাঁচার আকুতি

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ফসলহারা প্রত্যন্ত গ্রাম গুলোতে ঈদের আনন্দ নেই। পরপর কয়েক বছর শিলাবৃষ্টি, অতিবর্ষন আর গেল চৈত্র মাসের বন্যার কারনে বছরে একটি মাত্র বোরো ফসল ঘরে তুলতে না পারার ফলে ওই অঞ্চলের মানুষের ঈদরে আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। পবিত্র রোজায় চরম কষ্টে দিনযাপন করে কোন রকম সংসার চালাতে তাদের কন্ঠে কেবলই শুধু বাঁচার আকুতি। সারা বছর পরিশ্রম করে গোলাঘরে ধান ভর্তি করে প্রতিবছর যারা ঈদের আনন্দে মেতে ওঠতেন, চলতি বছর ফসল ডুবির কারণে তাদের ঘরে অন্যান্য বছরের মতো এবার ঈদের আনন্দ নেই। অনেকেই ছেলে মেয়ে ও পরিবার পরিজনকে নতুন জামা কাপড় কিনে দিতে পারছেন না। জামালগঞ্জের বৃহত্তর ফসলী এলাকা পাকনা হাওরের ফেনারবাঁক গ্রামের বাসিন্দা তিন সন্তানের জননী স্বাধীনা বেগম বলেন, বানে (বন্যায়) আমরার ঈদের খুশি নিছেগা, ধনীরাই কোন ধান পায়নাই আমরার গরীবেরতো কিচ্ছুই নাই। ঘরে কোন খাওন নাই, সরকারী কোন সাহায্যেও পাইনাই আমার ছোট-ছোট অবুঝ দুধের বাচ্চা কাচ্চা নিয়া ঊনা-উফাসে চলতাছি। ঈদ কি জিনিষ আমরার মনে নাই, জীবন বাঁনোই দায়। রোপাবালী গ্রামের স্মামী হারা ৫৫ উর্দ্ধ বয়সের রংমালা বেগম বড় আক্ষেপ করে বলেন, তার স্মামী মারা যাবার পর চরম দুর্দীনে কাটছে তার সংসার জীবন। আয় রোজগারের কোন মানুষ নেই, অন্যের ঘরে কাজ করে জীবন চলছে, সরকারী কোন সাহায্য কখনো তিনি পাননি। অভাবের কারণে তার দুই কন্যা সন্তান মেয়ের বাড়িতে রেখেছেন, ঈদের আনন্দ বলতে তাঁর কাছে কিছুই নাই বলেই চোখ মুচতে লাগলেন। উদয়পুর গ্রামের রেজুয়ান আহমদ বলেন, রোজাই রাখতাছি খুব কষ্টে আর এই বছর আমরার ঈদের খুশি নাই। আমরার ফসলতো গেছেই জৈষ্ঠ্য মাইয়া বানে গেরামের ৪৫ টা গরু মইরা আমরার এখন গোয়াল শূন্য হইছি। সরকারে যে সাহায্য দিছে আমরার গেরামে মাত্র কয়েকজনে পাইলেও বেশীর ভাগ মানুষ এখনো পায়নি। কত কষ্টে আমরা আছি ঈদ নামের একটা দিন আছে, হাসি খুশি করমু মুখে হাসিও আয় না। ঘরে গিয়রা ছোট ভাই বোনদের মুখের দিকে চাইলে ছোকে পানি আয়। কেউরে তো নতুন জামা কাপড় কিনে দিতে পারছিনা। কেউর ঘরে ধান-চাল নাই আমরার গেরামে ঈদের আনন্দ নাই। রাজাপুর গ্রামের আছিয়া বেগম বলেন, আমরার এইবার ঈদ নাই গো, ফসল তলাইয়া যাওয়ায় কোন ধান পাইনাই। কোন রকম খাইয়া-না খাইয়া বাঁইচা আছি। বাচ্ছা-কাচ্ছারে নয়া কাপড় কিন্না দিতে পারিনাই, লেখাপড়া করাইতে সমস্যা দেখা দিছে। কিযে করি এই চিন্তায় বালা লাগেনা, আমরার কিয়ের ঈদ। অমরার খবর কে লয়। আমরা শুধু এহন বাঁচতে চাই। পাকনা হাওর ও হালির হাওরের বেশ ক’জন কৃষক ও জেলেরা এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা যদি এহন হাওররে মাছ ধরতে পারতাম তা হইলে কুনো মতে জীবন বাঁচত। বিলের (জলমহালের) ইজারাদাররার কারনে গরীবরা মাছও ধরতে পারিনা। কই যাই, কি করি, এই চিন্তায় ভালা লাগেনা। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দিগন্ত বিস্তৃর্ণ যে জলা ভুমি রয়েছে, বছরের ছয় মাস সেখানে জলের রাজত্ব আর ছয় মাস ফসলের আনন্দ। এখানকার হিজল-করচ বাগে বসে অতিথি পাখির মেলা। পাহাড় ঘেড়া আর হাওর বেষ্টিত এই জনপদের নাম সুনামগঞ্জ। দেশের আট-দশটা জনপদের থেকে একে বারেই ভিন্ন। বাংলাদেশের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের অনেকাংশই আসে এই অবহেলিত সুনামগঞ্জের হাওর থেকে। প্রবাদে আছে, বালু-পাথর, মাছ-ধান সুনামগঞ্জের প্রাণ। এখানকার হাওরের প্রাণী, উদ্ভিদের বন ও মৎস্য সম্পদ পরিবেশগত ভারস্যাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে অবদান রাখছে। সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ সুবিধা বঞ্চিত-নিপীড়িত জনগোষ্টির কান্না আজো কেউ শোনেনা। সীমাহীন বৈষম্য আর উন্নয়ন বঞ্চিত এ অঞ্চলের মানুষগুলো ডুবে আছে অন্ধকারে। চরম অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার এ অঞ্চলের মানুষের প্রাকৃতিক দুর্যোগই হচ্ছে জীবন সঙ্গী। এর মধ্যে পাল্লা দিয়ে মোকাবেলা করতে হচ্ছে জোতদার ইজারাদারদের শাসন। রক্ত চক্ষু আর অন্যায় ভাবে অত্যাচারিত হচ্ছে নিরিহ মানুষজন। এ ভাবেই সংকটের পর সংকটে চিরকাল দিনাতিপাত করছেন তারা। বছরের একটি সময় এ অঞ্চলের মানুষ বেকার হয়ে পড়ে। তাদের হাতে কোন কাজ থাকে না, ফলে দেখা দেয় চরম খাদ্য সংকট। উন্নয়ন, শিক্ষা আর প্রযুক্তির আলো থেকে আজো তারা অনেক দূরে। বিশাল হাওরাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষেরা এ ভাবেই যুগের পর যুগ মুখ থুবড়ে পড়ে আছেন ক্ষুধা, দারিদ্র্য, রোগ-শোক আর অবহেলায়। ফসলহারা হাওরবাসীর কন্ঠে কেবলই শুধু বাঁচার আকুতি।

জয়পুরহাট জেলা জজের অপসারণ দাবিতে আইনজীবীদের মানববন্ধন

জয়পুরহাট জেলা জজ মো: আব্দুর রহীম কর্তৃক আইনজীবীদের প্রতি অসদাচরণ, ন্যায়বিচার পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং দীর্ঘদিন ধরে আইনজীবী সমিতির পূর্বপাশে চলাচলকারী রাস্তায় প্রাচীর নির্মাণ করে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির প্রচেষ্টার প্রতিবাদে এবং তার প্রত্যাহার দাবিতে মানববন্ধন করেছে জয়পুরহাট জেলা আইনজীবী সমিতি। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা জজ আদালত সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. নৃপেন্দ্রনাথ ম-ল পিপি, সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তরুণ, প্রবীণ আইনজীবী আবু ইউছুফ মো: খলিলুর রহমান। বক্তারা আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে জয়পুরহাট জেলা জজ মো: আব্দুর রহীমকে প্রত্যাহারের দাবি জানান। প্রত্যাহার না করলে ১০ জুলাইয়ের পর আদালত বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা দেন। এর আগে মঙ্গলবার বিকালে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি অ্যাড. নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল পিপি লিখিত অভিযোগে জানান, বিভিন্ন মামলার জামিন শুনানির জন্য মিসকেসের পর দুই/তিনমাস পর শুনানির তারিখ ধার্য করেন। অপরদিকে দায়রা ও দেওয়ানী মামলা নিষ্পত্তির প্রতি গুরুত্ব না দিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় শুনানির পূর্বেই দেনমোহর প্রদানের শর্তারোপ করেন এবং এনআই অ্যাক্টের মামলা জামিনযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও জামিন না দিয়া জেলহাজতে প্রেরণ করেন। এতে বিচারপ্রার্থী জনগণ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। একই দাবিতে মঙ্গলবার বিকালে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সভা আইনজীবী ভবনের তৃতীয় তলায় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রপতির গাড়ির বহর আটকে সার্জেন্ট পুরস্কৃত!

রোববারের ঘটনা। ভারতের বেঙ্গালুরুর ট্রিনিটি সার্কেল তখন জনশূন্য। রাষ্ট্রপতির কনভয় যাবে, তাই স্বাভাবিকভাবেই গোটা রাস্তার ট্র্যাফিক তখন কার্যত ‘গ্রিন করিডর’। সেই সময়ে ট্রিনিটি সার্কেলের তেমাথার মোড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন কর্তব্যরত ট্র্যাফিক পুলিস সার্জেন্ট এমএল নিজালিনগাপ্পা। হঠাৎ তার চোখে পড়ে তিন রাস্তার মোড়ের একদিক দিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স আসছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির কনভয় নাম্মা মেট্রোর উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসছে। দ্বিতীয় কোনোকিছু না ভেবেই ট্র্যাফিক সার্জেন্ট এমএল নিজালিনগাপ্পা হাত দেখিয়ে দাঁড় করিয়ে দিলেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কনভয়। আর অন্য হাতের ইশারাতে রাস্তা করে দিলেন অ্যাম্বুলেন্সকে। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কনভয় না অ্যাম্বুলেন্স, প্রাধান্য দেওয়া হবে কাকে?
এতে দ্বিধাগ্রস্থ না হয়ে কর্তব্যরত পুলিসকর্মীর অ্যাম্বুলেন্সকে রাস্তা করে দিয়ে যে দায়িত্ব বোধের পরিচয় দিয়েছেন, সেকারণেই তাকে পুরস্কৃত করেছেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। পরে কর্তব্যরত পুলিশকর্মী নিজালিনগাপ্পাকে পুরস্কৃত করেছে সিটি পুলিশও। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় পুরস্কৃত হওয়া ট্র্যাফিক সার্জেন্ট নিজালিনগাপ্পা জানিয়েছেন, ‘জরুরী অবস্থার কথা মাথায় রেখেই অ্যাম্বুলেন্সটিকে যাওয়ার রাস্তা করে দিয়েছিলাম। প্রথমে আমার সিনিয়র কর্মকর্তাকে পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহল করেছি। তারপর দেখলাম রাষ্ট্রপতির কনভয়ের আসার জন্য সময় আর স্পেস দুটিই আছে, সেই বুঝেই অ্যাম্বুলেন্সকে আগে ছেড়ে দিই’। ‘আপদকালীন পরিস্থিতির কথা ভেবেই এমনটা করেছি’, বলছিলেন ট্র্যাফিক সাব ইন্সপেক্টর নিজালিনগাপ্পা। উল্লেখ্য, এদিন বেঙ্গালুরুর নাম্মা মেট্রো স্টেশনের উদ্ভোধন করেন রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়। সূত্র: জি নিউজ

ফিলিপাইনের একটি গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলা

ফিলিপাইনে প্রায় ২শ’ বন্দুকধারী বুধবার সৈন্যদের ওপর হামলা চালিয়ে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় দখল করে নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ একথা জানিয়েছে। এই ঘটনাকে কাছের শহরে যে যুদ্ধ চলছে তাতে ইসলামপন্থী যোদ্ধাদের সহায়তা করার একটি কৌশল হিসেবে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর এএফপি’র। পুলিশ ও স্থানীয় মেয়র বলেন, মারাউই নগরী থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরের খামার প্রধান শহর পিগকাওয়াইয়ানের একদল সৈন্যের ওপর বন্দুকহামলা চালিয়ে স্কুলটি দখল করে। মারাউইতে এক মাসের বেশি সময় ধরে ইসলামপন্থী যোদ্ধাদের সঙ্গে সরকারি সৈন্যদের সংঘর্ষ চলছে। এই যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সম্পৃক্ততা রয়েছে। শিক্ষার্থী না শিক্ষকদের পণবন্দি করা হয়েছে সে ব্যাপারে প্রধান ইন্সপেক্টর রিয়ালান ম্যামন নিশ্চিত হতে পারেননি। স্কুল শুরুর আগেই এ হামলা চালানো হয়। ম্যামন রেডিওকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই হামলাটি মারাউইতে লড়াইরত যোদ্ধাদের ওপর চাপ কমানোর একটি কৌশল হতে পারে। তিনি আরো বলেন, এই বন্দুকধারীরা বাংসামোরো ইসলামিক ফ্রিডম ফাইটার্স (বিআইএফএফ)-এর সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় যে চারটি সশস্ত্র গোষ্ঠী আইএস-এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে বিআইএফএফ তার অন্যতম।

সৌদির নতুন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান

সৌদি আরবের নতুন ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের (৩১) নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে পদচ্যুত হলেন মোহাম্মদ বিন নায়েফ আবদুল আজিজ (৫৭)। আজ বুধবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ দেশটির ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স ছিলেন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতেন।  উল্লেখ্য, মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ সৌদি বাদশার ছেলে এবং পদচ্যুত মোহাম্মদ বিন নায়েফ আবদুল আজিজ বাদশাহর ভাতিজা।  সূত্র : রয়টার্স

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল উন্নয়নে এডিবির ৩০ কোটি ডলার ঋণ

আঞ্চলিক বাণিজ্য ও কানেক্টিভিটি উন্নয়নে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন করা হচ্ছে। সাসেকের আওতায় ১০২ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপনে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৩০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশকে। এই প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য এডিবি চুক্তি করেছে। আজ বুধবার শেরেবাংলা নগরস্থ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সম্মলেনকক্ষে বাংলাদেশ ও এডিবির মধ্যে এই ঋণ চুক্তি হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডি ভারপ্রাপ্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং এডিবির পক্ষে মুখ্য কান্ট্রি স্পেশালিষ্ট জ্যোসনা ভার্মা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। জানা যায়, এই ঋনের আওতায় দোহাজারি হতে কক্সবাজার পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মান করা হবে। আগামী ২০২২ সালে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা। এডিবি চার কিস্তিতে ওসিআর এবং সহজ শর্তে সিওএল হিসাবে মোট ১৫০ কোটি ডলার দেবে। এই লক্ষ্যে এডিবির সাথে ফ্রেমওয়ার্ক ফাইনান্সিং এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হলো। যার ফলে প্রথম কিস্তিতে ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে। দ্বিতীয কিস্তিতে দেবে ৪০ কোটি ডলার। তৃতীয় কিস্তিতে ৫০ কোটি ডলার এবং শেষে ৩০ কোটি ডলার দেবে এডিবি। প্রত্যেক কিস্তির জন্য আলাদা আলাদা চুক্তি করতে হবে। এই লাইন নির্মানের ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোরের সাথে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডোরকে যুক্ত করা। ৩০ কোটি ডলারের মধ্যে ২১ কোটি ডলার ওসিআর ঋণ। ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ২৫ বছরে পরিশোধযোগ্য। সুদ হার ০.৫ শতাংশ এবং ম্যাচুরিটি প্রিমিয়াম ০.১ শতাংশ। এছাড়া অবিতরণকৃত ঋণের ওপর কমিটমেন্ট চার্জ ০.১৫ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রী বেঁচে থাকলে আরো বাজেট দেবেন : তোফায়েল

প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, এ বাজেট বৈষম্যহীন সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ার পথকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে। তারা বলেন, বর্তমান সরকার গত ৯ বছর সফলভাবে বিশাল আকারে ৮টি বাজেট বাস্তবায়ন করে দেশের সকল খাতে ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করেছে। বিশেষ করে দেশের সব এলাকা এবং শহর আর গ্রামীণ উন্নয়নে সমতা আনার চেষ্টায়ও অনেকাংশে সফল হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ সকাল ১০টা ৫৭মিনিটে অধিবেশনের শুরুতে মন্ত্রীদের জন্য প্রশ্ন-জিজ্ঞাসা-উত্তর টেবিলে উপস্থাপন শেষে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হয়। গত ১ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট আলোচনার ১০ম দিনে আজ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সরকারি দলের ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, ধীরেন্দ্র দেবনাথ শমভু, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, ড. হাছান মাহমুদ, বজলুল হক হারুন, একাব্বর হোসেন, বেগম ওয়াসিকা আয়শা খান, মমতাজ বেগম, জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী ও ঊষাতন তালুকদার আলোচনায় অংশ নেন। বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর বাজেট বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বেঁচে থাকলে এবং আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় থাকে তাহলে তিনি আরও বাজেট দেবেন। কারণ তার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আস্থা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। জিয়া উদ্দিন বাবলু যে ভাষায় অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন আমি এ ভাষা আশা করিনাই। সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু সমালোচনা হবে গঠনমূলক। যখন বয়স নিয়ে কথা বলেন, আপনাদের নেতা এরশাদের বয়সের কথা চিন্তা করেন না? যার নেতৃত্বে আপনি দল করেন। তার বয়সতো অর্থমন্ত্রীর চেয়ে ৫ বছর বেশি। বাবলু কি করে ভুলে গেল তার (এরশাদ) বয়স ৮৬ এর বেশী? আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রীর চেয়ে বেশী। বাবলু যদি বলত, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের অনেক বয়স হয়েছে, আপনি আগে পদত্যাগ করেন। তাহলে কথাটা খুব ভাল ছিল।’ তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির সময়ে ১৯৮৯-৯০ অর্থবছরে দেশের রাজস্ব আয় ছিল ৫ হাজার ২৯২ কোটি টাকা, বিএনপি আমলে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে রাজস্ব আয় দাঁড়ায় ৩৭ হাজার কোটি টাকায় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের সময়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাজস্ব আয় ২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শক্রমে প্রস্তাবিত বাজেট যখন পাস হবে তখন এটি সর্বকালের সেরা বাজেট হিসেবে জনগণের কাছে প্রশংসিত হবে। বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে প্রধান্য দিয়ে সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ১৪৫টি খাতকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ৪৩ শতাংশ থেকে ২৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে এই হার ১৩ শতাংশে এবং ২০৩০ সালে হতদরিদ্র্য ৩ শতাংশে নিচে নেমে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ব্যবসা বান্ধব সরকার। ২০০১ সালে রপ্তানী ছিল ৭ বিলিয়ন ডলার, বিএনপি ৫ বছরে বাড়িয়েছে ৩ বিলিয়ন ডলার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বেড়েছে ৪ বিলিয়ন ডলার, বর্তমানে তা ৩৪ বিলিয়ন ডলার এবং এবার তা ৩৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করা যায়। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে রিজার্ভ ছিল ৪ বিলিয়ন ডলার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রাম-শহরের আয় বৈষম্য কমিয়ে সমতাভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে বলেন, আয় বৈষম্য না কমানো গেলে ধনী-দারিদ্র্যের বিভাজন বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, রাজস্ব আয় বাড়াতে সাধারণ মানুষকে আঘাত না করে করের পরিধি বাড়িয়ে এনবিআরকে আরও দক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। বাজেটের টাকা সঙ্কুলানের জন্য ঢালাওভাবে ভ্যাট-ট্যাক্স আরোপ না করে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার পরামর্শ দিয়ে তিনি ব্যাংক আমানতের ওপর প্রস্তাবিত আবগারী শুল্ক প্রত্যাহার, মেডিটেশনকে ভ্যাট অব্যাহতি ও সঞ্চয়পত্রের সুদ না কমানোর আহবান জানান। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী বলেন, ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও যাত্রী চলাচল বৃদ্ধির কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর সম্প্রসারণের কাজ বাস্তবায়নে জন্যে জাইকার সাথে মন্ত্রণালয়ের একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইতোমধ্যে পরামর্শক কোম্পানী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কক্সবাজার বিমান বন্দরকে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে রূপ দেয়া হয়েছে। এই বিমান বন্দরের রানওয়েকে ৯ হাজার ফুটে উন্নীত করার কাজ চলছে। কক্সবাজার বিমান বন্দরে ‘আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্প কাজ শেষ হলে কক্সবাজার বিমান বন্দর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর হিসেবে কাজ করবে। বাগেরহাট মংলা বন্দরের কাছাকাছি খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণ কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া ৪শ’ ৯১ কোটি ৯৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয়ে সিলেট আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের বিদ্যমান রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ও নির্দেশনা অনুযায়ী এভিয়েশন সেক্টরকে রিজিওনাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নির্মাণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জায়গা নির্বাচন সংক্রান্ত সমীক্ষা কাজ সমাপ্তির পথে। আগামী জাতীয় নির্বাচন জামায়াত দলীয়ভাবে নির্বাচনে আসতে না পারলেও তারা বিএনপির ছত্রছায়ায় নির্বাচনে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে উল্লেখ করে রাশেদ খান মেনন বলেন, শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে না আসলে এটা হবে তাদের জন্য আরেকটি বড় ভুল। এভাবে বিএনপি এক সময় মুসলিম লীগে পরিণত হয়ে যাবে। বাজেটকে সাফল্যের একটি মাইল ফলক উল্লেখ করে সরকারি দলের সদস্যরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব ও সমোপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন ২০১৫ সালের মধ্যে ২৩ ভাগে নেমে এসেছে। ধনী-দরিদ্র্যের আয় বৈষম্য কমে এসেছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্য কমেছে। ১৪৭টি খাত চিহ্নিত করে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে সরকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষের আয় অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মানও বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। তারা বলেন, সম্প্রতি কানাডার ফেডারেল কোর্টে বিএনপির এক কর্মী রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে গেলে কোর্ট বলেছে, বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল। তাদের মিত্র জামায়াত একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। বিএনপির অনেক নেতা ও তাদের মিত্র জামায়াত দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। জামায়াত বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেশের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। বাসস

ঢাকা শহরে পানির কোনো সঙ্কট নেই : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ঢাকা শহরে বর্তমানে পানির কোনো সঙ্কট নেই। তিনি আজ বুধবার সংসদে সরকারি দলের সদস্য এম. আবদুল লতিফের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে আরও বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা বিদ্যুত সমস্যার কারণে কোথাও কোথাও সাময়িক পানির স্বল্পতা দেখা দেয়, যা বিকল্প উপায়ে পানির গাড়ি দিয়ে ও ডাইভার্সনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সমাধান করা হয়।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ৮৭ শতাংশ জনগণ বিশুদ্ধ পানির আওতাভুক্ত। ১৩ শতাংশ জনগণ দূরবর্তী অন্যান্য নিরাপদ পানির উৎস থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করে থাকেন। সরকারি দলের সদস্য জাহান আরা বেগম সুরমার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ঢাকাসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসন তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন রাস্তা ও অবকাঠামো শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ২টি দোতলা আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ১৪ তলা বিশিষ্ট ৯টি ভবন এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে ১০ তলা বিশিষ্ট ৩টি আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব শিগগিরই স্থানীয় সরকার বিভাগে দাখিল করা হবে মর্মে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানানো হয়েছে। সরকারি দলের সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিজ্ঞাপন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। নীতিমালায় শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ডলার : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেছেন, ২০৪১ সালে স্বাধীনতার ৭০তম জয়ন্তীতে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার এবং মাথাপিছু আয় প্রায় ১২ হাজার ডলারে উন্নীত হবে। প্রধানমন্ত্রী আজ বুধবার সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য দিদারুল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আগামী ২০৪১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৭০তম জয়ন্তী উদযাপন করবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে এবং জনপ্রতি মাথাপিছু আয় প্রায় ১২ হাজার ডলারে উন্নীত হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালের বাংলাদেশের অর্থনীতি এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। বাংলাদেশের অনুসৃত উন্মুক্ত অর্থনীতি উপ-আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে উইন-উইন অবস্থান তৈরি করে সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। শেখ হাসিনা বলেন, সে লক্ষ্যে শিল্প বিকাশ ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বর্তমান সরকার বিদ্যমান বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত করার লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পে বিভিন্ন পরিসেবা, ভূমির নিশ্চয়তা, প্রতিযোগিতামূলক প্রণোদনা এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস-প্রদানসহ বিনিয়োগ বান্ধব আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এ পর্যন্ত ৪টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের চূড়ান্ত লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, মেঘনা ইকোনমিক জোন, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ, আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল, গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জ, আমান ইকোনমিক জোন, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ এবং বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল, কোনাবাড়ী, গাজীপুর। তিনি বলেন, এছাড়া ১০টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রি-কোয়ালিফিকেশন লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাস্তবায়ন অগ্রগতি হচ্ছে। বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অভ্যন্তরে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার জন্য এ পর্যন্ত ৮টি প্রজেক্ট ক্লিয়ারেন্স প্রদান করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে এ পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৯০৪.১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে মোট কর্মসংস্থানের পরিমাণ ৭ হাজার ৭৮১ জন। তিনি বলেন, পিপিপি ভিত্তিতে মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মিরেরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল (প্রথম পর্যায়)-এ ডেভেলপার নিয়োগ করা হয়েছে। এ সকল ডেভেলপার বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়াও বৃহৎ ও বিশেষায়িত, বিনিয়োগকারীদের মিরেরসরাই ও শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে সরাসরি জমি বরাদ্দের উদ্দেশ্যে দরখাস্ত আহ্বান করে আবেদন পত্রসমূহ মূল্যায়ন চলছে। এ সকল আবেদনকারীই বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা। শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়ন সূচিত পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা রক্ষায় সরকারি খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উন্নয়নেও নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং নতুন বাজেটেও এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশব্যাপী সরকার একশত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ হবে। শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালে আইটি সেক্টরে ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান এবং এ সেক্টর থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করার টার্গেট নিয়ে কালিয়াকৈরে ৩৫৫ একর জমির ওপর পিপিপি’র ভিত্তিতে হাইটেক পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। একইভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)’র সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যসমূহ ২০৩০ সালের মধ্যেই অর্জন করে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী এসডিজি বাস্তবায়নেও রোল মডেল হিসেবে পরিচিত হবে। শেখ হাসিনা বলেন,
২০৩০ সাল নাগাদ এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ও প্রতিবেশী বন্ধুপ্রতিম দেশসমূহের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক উন্নয়ন জরুরি। তিনি বলেন, এছাড়া, বিসিআইএম, বিবিআইএন, সার্ক, আসিয়ান, বিএমসটেক, সাসেক এবং পূর্ব ইউরোপ পর্যন্ত বাংলাদেশের পণ্যেও প্রবেশাধিকার দ্রুত ও উন্নত আঞ্চলিক সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে আরও সহজতর ও গতিশীল করবে। সরকার বেসরকারি খাতের উন্নয়নের জন্য প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট পলিসি কোঅর্ডিনেশন কমিটি (পিএসডিপিসিসি) গঠন, সুসংহত শিল্পোন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি (বেজ-বিইজডএ), বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা-বিআইডিএ), অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পিপিপি অফিস, দেশী ও বিদেশী বেসরকারি বিনিয়োগ উন্নয়নে সময়োপযোগী শিল্পনীতি, রপ্তানি নীতি এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিতকরণে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারস’র (পিডব্লিউসি) ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ বিশ্বের ২৯তম এবং ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে। যার বর্তমান অবস্থান ৩১তম।

ঈদযাত্রার প্রথম ট্রেন যথা সময়ে ছেড়েছে

ঈদ উপলক্ষে ট্রেন যাত্রীদের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে অগ্রিম টিকেটের ট্রেনগুলো যথা সময়ে কমলাপুর রেলস্টেশন ছেড়ে যাচ্ছে বলে স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে বুধবার থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রথম দিন হওয়ায় তেমন ভিড় নেই। টিকেটের জন্য কোনো হাহাকারও নেই। সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে পারাবত এক্সপ্রেস; চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ছেড়েছে সকাল ৭টায়।  এগারসিন্ধুর ৭টা ১৫ মিনিটে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে, তিস্তা ৭টা ৩১ মিনিটে দেওয়ানগঞ্জ বাজারের উদ্দেশ্যে, মহানগর প্রভাতি ৭টা ৪৮ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে আর নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টায় চিলাহটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। তবে রংপুর একপ্রেস সকাল ৯টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি কমলাপুরে আসতে দেরি হওয়ায় এবং একটি বগি পরিবর্তনের প্রয়োজন হওয়ায় ঘণ্টাখানেক বিলম্বিত হয় বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দিনের বাকি ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়েই ছাড়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু। রোজার ঈদে ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলার যাত্রীদের জন্য গত ১২ জুন থেকে অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু করে রেলওয়ে। এবার ঈদের সরকারি ছুটি ২৫ থেকে ২৭ জুন। তার আগে দুদিন শুক্র আর শনিবার থাকায় বৃহস্পতিবার অফিস শেষে ঈদযাত্রার মূল চাপ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।

ঈদের পর লন্ডন যাচ্ছেন খালেদা জিয়া

ঈদের পর লন্ডনে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থানকারী বড় ছেলে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, তারেক রহমানের কাছে তিনি যাবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দলের সিনিয়র এক নেতা বলেছেন, খালেদা জিয়ার আসন্ন এই সফর নিছক চিকিৎসার উদ্দেশ্যেই নয়, এর রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। সামনে একাদশ সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে বিএনপি কোন প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে, আন্দোলন কর্মসূচি ঠিক কবে নাগাদ গ্রহণ করা হবে, নির্বাচন নিয়ে পর্যবেক্ষক মহল ও আন্তর্জাতিক মহলের কী মনোভাব এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলের শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে সেখানে আলোচনা হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে। বিএনপির দ্বিতীয় প্রধান নেতা তারেক রহমান প্রায় ১০ বছর ধরে লন্ডনে রয়েছেন। এক-এগারোর সরকারের সময়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। তখন থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। তার সাথে রয়েছেন স্ত্রী জোবায়দা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ এক নেতা গতকাল জানান, এখন অনেকটাই সুস্থ তারেক রহমান। লন্ডনে রাজনৈতিক ও ঘরোয়া নানা কর্মসূচিতে প্রায়ই অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি বিএনপির নীতি-নির্ধারণী নানা বিষয়ে মা’কে পরামর্শ দিচ্ছেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। দুই মাসের বেশি সময় তখন তিনি লন্ডনে ছিলেন। ওই সময়েও রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নানা বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। দেশে ফিরে দলের ষষ্ঠ কাউন্সিলের দিনণ ঘোষণা করেন খালেদা জিয়া। বিএনপির এক নেতা জানান, এবার লন্ডনে ছেলের কাছে চেয়ারপারসনের যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য চোখের চিকিৎসা। সাম্প্রতিক সময়ে তার চোখে কিছু সমস্যা হচ্ছে।
এর আগেও তিনি লন্ডনে চোখের চিকিৎসা নিয়েছেন।  চিকিৎসার জন্য চেয়ারপারসন লন্ডন যাওয়ার চিন্তাভাবনা করলেও তার এই সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বিএনপির নেতারা। তারা মনে করেন, ভবিষ্যতে দলের করণীয়, বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে দলের চূড়ান্ত অবস্থান কী হবে, সেই বিষয়ে ছেলে তারেক রহমানের পরামর্শ নেবেন তিনি। আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়া, না নেয়ার বিষয়ে দু’জনের মধ্যে আলোচনা এবং জরুরি সিদ্ধান্ত হতে পারে। এ ছাড়া সাংগঠনিক বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে। বিশেষ করে দলের স্থায়ী কমিটির তিনটি শূন্য পদে কাদের নিয়োগ দেয়া যায় সেই আলোচনাও হতে পারে তাদের মধ্যে। চেয়ারপারসন কার্যালয়ের সাথে যুক্ত এক নেতা বলেন, এ সফর হবে ‘কলা বেচা ও রথ দেখার মতো। তারেক রহমান আগে থেকেই লন্ডনে রয়েছেন, আর দলীয় প্রধান চিকিৎসার জন্য সেখানে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে দেশের চলমান রাজনীতি ও দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, সিদ্ধান্ত হবে এটাই স্বাভাবিক। এ ছাড়া কূটনীতিকভাবেও এ সফর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

ঈদযাত্রার শুরুতেই বিলম্বে ছাড়ল ট্রেন

স্বজন-প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা শুরু করেছে মানুষ। বুধবার থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিটে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। গত ১২ জুন বিক্রি হয়েছে আজকের ট্রেনের টিকিট। তবে ঈদযাত্রার প্রথমদিনই ট্রেনের যাত্রা শুরু হয় বিলম্বে। সকাল ৯টায় উত্তরবঙ্গগামী রংপুর এক্সপ্রেসের ছেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেটি এক ঘণ্টা দেরিতে সকাল ১০টায় ছেড়ে যায়। প্রথম দিনই ট্রেন ছাড়া বিলম্ব দেখে ক্ষুব্ধ হন যাত্রীরা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত করিম আবদুল নামে এক চাকরিজীবী জানান, পরিবার ও সন্তানদের আগে পাঠাতে অগ্রিম টিকিট নিয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রথম দিনেই ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছাড়ছে না। এটি রীতিমত বিরক্তিকর। ঈদের যাত্রাপথে পরবর্তী পর্যায়ে ট্রেনের সিডিউল গুলো ঠিক থাকবে কিনা আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই চাকরিজীবী। কারণ ঈদের ছুটির প্রথম দিন ট্রেনে তারও বাড়ি ফেরার কথা রয়েছে। এদিকে আজ সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে পারাবত এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ছেড়েছে সকাল ৭টায়।
৭টা ১৫ মিনিটে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে এগারসিন্ধু, ৭টা ৩১ মিনিটে দেওয়ানগঞ্জ বাজারের উদ্দেশে তিস্তা, ৭টা ৪৮ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে মহানগর প্রভাতি এবং সকাল ৮টায় চিলাহটির উদ্দেশে নীলসাগর এক্সপ্রেস ছেড়ে যায়। রংপুর একপ্রেস ট্রেন দেরিতে ছাড়ার বিষয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার শীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ট্রেনটি কমলাপুরে আসতে দেরি হয়। এ ছাড়া ট্রেনে একটি বগি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। এ সব কারণে ঘণ্টাখানেক দেরিতে ট্রেনটি ছাড়তে হয়েছে। এদিকে ঈদ উপলক্ষে আগামীকাল ২২ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত সাত জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ, রাজশাহী, পার্বতীপুর এবং চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর রুটে চলাচল করবে এসব ট্রেন। এ ছাড়া ঈদের পর ফিরতি পথের যাত্রীদের নিয়ে ২৮ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত এসব ট্রেন চলাচল করবে। শোলাকিয়া ঈদগায় যাতায়াতের জন্য ঈদের দিন ভৈরববাজার থেকে কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ রুটে দুটি ট্রেন চালানো হবে। প্রসঙ্গত, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয় ১২ জুন। প্রথম দিন বিক্রি হয় ২১ জুনের টিকিট। ১৩ জুন মঙ্গলবার ২২ জুনের, ১৪ জুন বুধবার ২৩ জুনের, ১৫ জুন  বিক্রি হয় ২৪ জুনের টিকিট। এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঈদের আগে সরকারি শেষ কর্মদিবস হওয়ায় ঈদ যাত্রায় ট্রেন, বাস ও লঞ্চে মানুষের ঢল নামতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ং সম্পর্কে ফের উত্তেজনা

উত্তর কোরিয়ার কারাগারে ১৭ মাস আটক থাকার পর দেশে ফেরার এক সপ্তাহের মাথায় মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ওটো ওয়ার্মবিয়ারের। কোমায় থাকা অবস্থায় গত সপ্তাহে মুক্তি পান ওই শিক্ষার্থী। দেশে ফেরার পর সিনসিনাটির একটি হাসপাতালে ছিলেন ২২ বছর বয়সী এই তরুণ। তার পরিবার সোমবার দুপুরে ওয়ার্মবিয়ারের মৃত্যুর খবর জানায়। তার মৃত্যুর জন্য পিয়ংইয়ংয়ের ‘বর্বর সরকারকে’ দায়ী করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর জন ম্যাককেইন বলেন, উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন প্রশাসন তাকে হত্যা করেছে। খবর বিবিসি ও সিএনএনের। ওয়ার্মবিয়ারের মা-বাবা জানান, কোমায় থাকা অবস্থায় তাকে তারা পেয়েছেন। সে সময় তাদের হাতে ছেলেকে ভালো করার আর কোনো উপায় ছিল না। সিনসিনাটি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বলছেন, মস্তিষ্কে বড় ধরনের আঘাতের কারণে ওয়ার্মবিয়ার কোমায় ছিলেন। ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ওয়ার্মবিয়ার একটি পর্যটক দলের সঙ্গে উত্তর কোরিয়া গিয়েছিলেন। সেখানে হোটেল থেকে একটি প্রোপাগান্ডা পোস্টার চুরির অভিযোগে ২০১৬ সালের মার্চে তাকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় উত্তর কোরিয়ার একটি আদালত। উত্তর কোরিয়া কর্তৃপক্ষ ‘মানবিক কারণে’ মুক্তি দেয়ার পর গত ১৩ জুন তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হয়। তখন জানা যায়, প্রায় এক বছর ধরে কোমায় রয়েছেন ওয়ার্মবিয়ার। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে ওয়ার্মবিয়ার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে একটি ঘুমের ওষুধ দেয়া হয়েছিল। তারপর থেকেই তিনি কোমায় চলে যান। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, উত্তর কোরিয়ায় নির্মম নির্যাতনের কারণেই তাদের ছেলের এই পরিণতি। যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকরাও বলেছেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কোনো লক্ষণ ওয়ার্মবিয়ারের শরীরে তারা পাননি। বরং তার মস্তিষ্কের কোষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। উত্তর কোরিয়ায় বন্দিদশায় থাকাকালে ওটোর কী চিকিৎসা হয়েছিল, তা নিয়েও রহস্য রয়েছে। ওয়ার্মবিয়ারের মৃত্যুর পর এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশের পাশাপাশি আবারও উত্তর কোরিয়ার সমালোচনা করেন ট্রাম্প।
সোমবার হোয়াইট হাউসে টেক সিইওদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার বর্বর শাসক এ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। আইনের শাসন আর মানবাধিকারের প্রতি যাদের ন্যূনতম শ্রদ্ধা নেই, তাদের হাতে নিরপরাধ মানুষের এমন পরিণতি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করেছে ওয়ার্মবিয়ারের মৃত্যু। পরে এক বিবৃতিতে তিনি শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার শাসকরা প্রচলিত আইনের শাসন ও মানবাধিকার মানেন না। তাদের বর্বরতার সর্বশেষ উদাহরণ ওয়ার্মবিয়ারের মৃত্যু। দেশটিতে আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির বিষয়ে এখন প্রশাসন জোরালো অবস্থান নেবে। ওয়ার্মবিয়ারকে মুক্তিতে ভূমিকা রাখা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেন, অন্যায়ভাবে তাকে আটক করে রাখার জন্য দায়ী উত্তর কোরিয়া। এবার তার মৃত্যুতে পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি কঠোর হওয়ার পরিস্থিতি আরও জোরালো হলো। মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন ওয়ার্মবিয়ারের মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দুঃখজনক। আমেরিকার একজন নাগরিককে উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন প্রশাসন হত্যা করেছে।

গ্রেফতার সাংবাদিকদের হবে ৭০ বছরের সাজা!

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভের সময় গ্রেফতার দুই সাংবাদিকের ৭০ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে। তাদের বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উসকানি, দাঙ্গা সংগঠন ও সম্পদ ধ্বসের অভিযোগে বিচার চলছে। গত ২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথের দিন ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ থেকে এই দুই সাংবাদিকসহ আরও দুই শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়। ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। খবর আলজাজিরার। এ দুই সাংবাদিকের একজন হলেন সাংবাদিক আলেক্সাই উড এবং অপরজন হচ্ছেন বর্তমানে বন্ধ আলজাজিরা আমেরিকার ফটোসাংবাদিক অ্যারন কান্টু। ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের দিন ওয়াশিংটনসহ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরে যাওয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে একটা নির্দেশের জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম। ব্ল্যাক ব্লক নামে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হওয়ার পর তাদের গ্রেফতার করা হয়।

নতুন সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। বুধবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা -এসপিএতে এ তথ্য জানানো হয়। খবর এনবিসি। নতুন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (৩১) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সৌদি আরব সফর ও গৃহীত দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সালমানের 'সাফল্য' বলে অভিহিত করা হয়। নতুন প্রিন্স দেশটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনে কাজ করবেন বলে জানিয়েছে এসপিএ। এছাড়া দেশটির জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং সেনাবাহিনীর দায়িত্বেও থাকবেন তিনি। গত মার্চে বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। হোয়াইট হাউজের সেই বৈঠকে ইরানকে আঞ্চলিক শান্তির বিপরীতে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এবার সৌদি থেকে বহিষ্কার কাতারের উট-ভেড়া

এবার কাতারের সব উট-ভেড়াকে সৌদি আরবের পশু চারণ ভূমি থেকে সরিয়ে নিতে বলেছে দেশটির সরকার। দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনা এলো। খবর বিবিসি। সৌদি আরবের নির্দেশনার পর প্রায় ২৫ হাজার উট এবং দশ হাজার ভেড়া সীমান্ত অতিক্রম করে কাতারে ফিরে এসেছে। কাতার ছোট দেশ হওয়ায় তাদের উট এবং ভেড়া সৌদি আরবের বিভিন্ন পশু চারণভূমিতে নিয়ে রাখা হতো। এদিকে ফেরত আসা উট ও ভেড়ার পালের জন্য কাতার জরুরি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে। সেখানে পানি এবং পশু খাদ্যের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কাতারের পৌর এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফিরে আসা উট এবং ভেড়ার পালের জন্য নতুন জায়গা খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত তাদের অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরেই রাখা হবে। কাতারি পশু পালকরা সৌদি আরবের এই পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আলী মাগারেহ নামে একজন বলেন, "আমরা এসব রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে চাই না। আমরা মোটেই খুশি নই।" এ মাসের শুরুতে সৌদি আরবসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করে। কাতার সন্ত্রাসবাদকে মদত দিচ্ছে অভিযোগ তুলে তারা এই পদক্ষেপ নেয়। কাতার অবশ্য এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

এক কক্ষেই ৪২ মরদেহ?

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের কেনসিংটন এলাকায় পুড়ে যাওয়া ২৪ তলা গ্রেনফেল টাওয়ারের একটি কক্ষেই মিলেছে ৪২ জনের মৃতদেহ। আগুন থেকে বাঁচতে তারা ওই কক্ষে জড়ো হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার ফক্স নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দমকল বাহিনীতে কাজ করেন এমন এক বন্ধুর কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয় এক ব্যক্তি।
স্বজন হারানো অন্য এক ভুক্তভোগীও একই দাবি করেন। জে স্মিথ নামের এক ব্যক্তি ইউটিউবে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ওই ভিডিওর মাধ্যমে সে দাবি জোরালো হয়েছে। তবে পুলিশ বা দমকল বাহিনী এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেনি, আবার প্রত্যাখ্যানও করেনি। পুলিশের পক্ষ থেকে আগুনে মোট ৭৯ জন নিহত হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করা হলেও বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের দাবি, এ সংখ্যা অনেক বেশি হবে।

চীনে রোজা রাখায় ১০০ মুসলিম গ্রেফতার

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখা নিষিদ্ধ করেছে দেশটি। কিন্তু এ নিয়ম ভঙ্গ করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রোজা রাখায় ১০০ জনকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জিনজিয়াং প্রদেশ উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে ধর্মীয় বিধি-নিষেধ আরোপ করে আসছে চীন সরকার। জিনজিয়াং প্রদেশটির সঙ্গে মিশে রয়েছে রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া, কাজাখাস্তান, কিরঘিজস্তান, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ও ভারত। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর সম্প্রদায়ের মধ্যে জঙ্গি নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিয়েছে ইসলামিক স্টেট। বেশ কয়েকটি নাশকতার তদন্তে নেমে এসেছে এমনই তথ্য। বিভিন্ন সময়ে জিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করছে চিন সরকার। এরই জেরে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। সরকারের জারি করা নিয়মের প্রতিবাদে বিক্ষোভে বার বার রক্তাক্ত হয়েছে জিনজিয়াং প্রদেশ।

তিউনিসিয়ায় 'সতীত্ব' ফিরে পেতে সার্জারি

তিউনিসিয়ায় 'সতীত্ব' ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন তরুণীরা। দেশটিতে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে এই সার্জারি। বিয়ের পর অনেক পুরুষ সন্দেহ করেন যে তার নবপরিণীতা স্ত্রী আগেই সতীত্ব হারিয়েছেন। আর এ কারণেই তিউনিসিয়ায় সতীত্ব পুনর্গঠন সার্জারির চাহিদা বেড়েছে। যৌনাঙ্গ পুনর্গঠনে বিশেষ সার্জারিতের খরচ হবে প্রায় ৪শ' ডলার। খবর বিবিসির সতীত্ব পুনর্গঠন হলো সামান্য সার্জারির মাধ্যমে যৌনাঙ্গ এমন অবস্থায় আনা যাতে করে মনে হয় তার আগে কোনও যৌন অভিজ্ঞতা হয়নি। আর এই সার্জারিগুলো হয় রাজধানী তিউনিসের ক্লিনিকগুলোতে স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে। এ বিষয়ে ২৮ বছর বয়সী ইয়াসমিন (ছদ্মনাম) বলেন, এটা অনেকটা আত্মপ্রবঞ্চনার মতো এবং আমি আসলেই উদ্বিগ্ন যে কোনও দিন হয়তো আমার স্বামীর সঙ্গে আলাপচারিতার সময় ভুলবশত নিজের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করে ফেলতে পারি। বা আমার স্বামী হয়তো সন্দেহ করার জন্য কিছু ক্লু পেয়ে যাবেন। তিনি বলেন, তার জন্ম একটি উদার পরিবারে। বহু বছর তাদের পরিবারটি বসবাস করেছে তিউনিসিয়ার বাইরে। তার ভয় তার হবু বর যদি তার যৌন অভিজ্ঞতার কথা জানতে পারেন তাহলে হয়তো বিয়েই ভেঙ্গে দেবেন। একজনের সঙ্গে আমার প্রেম ছিল এবং তখন আমি বুঝতেই পারিনি সমাজে এটা নিয়ে কেমন চাপ কাজ করে আর এর পরিণতিই বা কেমন হতে পারে। আর সে কারণেই এখন আমার ভয় লাগছে। যৌনাঙ্গ পুনর্গঠনের একটি বিশেষ পদ্ধতির সার্জারির জন্য চিকিৎসককে দিতে হবে প্রায় চারশ ডলার, এর মাধ্যমে তার সতীত্ব ফিরে পাওয়ার কথা। অর্থাৎ সতী বা ভার্জিন মনে হবে তাকে। পরিবার ও প্রেমিক যার সাথে তার বিয়ে হবে তাকে না জানিয়েই টাকা জমিয়ে এ ধরনের সার্জারিতে যাচ্ছেন এই তরুণী। সমাজবিজ্ঞানী সামিয়া ইলৌমির বলেন, তিউনিসিয়ার সমাজ একটি মুক্ত সমাজ কিন্তু আমরা আসলে প্রতারক হয়ে যাচ্ছি।
এখানে যেমন কিছু সামাজিক রীতিনীতি আছে যেগুলো পালনের যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া কঠিন। কারণ আমরাই আবার দাবি করি যে এটি একটি আধুনিক সমাজ। আমরা ততটুকু আধুনিক হইনি যা প্রতিফলন নারী যৌনতা ও স্বাধীনতার ক্ষেত্রে দেখা যায়। হবু স্ত্রীর সতীত্ব আছে কি- নেই তার এমন প্রশ্নের জবাবে দেশটির এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিশেম বলেন, আগামী বছরেই আমার বিয়ে। আমার জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ের পর আমি যদি বুঝতে পারি যে সে ভার্জিন নয় তাহলে আমি কখনোই তাকে বিশ্বাস করতে পারবো না। আমি এটাকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেই বিবেচনা করবো। আর আমি কিন্তু সতীত্ব পুনর্গঠনেও বিশ্বাস করি না। আমার মনে হয় না এটা কার্যকর কিছু। আর এমন সব দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই ক্লিনিকগুলোকে নারীদের আসা যাওয়া চলছে অনেক নিরবেই, যাতে করে কারও দৃষ্টিতে না পড়তে হয়। নারী অধিকার সুরক্ষার জন্য উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে তিউনিসিয়া খুবই প্রশংসিত একটি দেশ। এ সত্ত্বেও দেশটিতে ধর্ম ও প্রথাই অনেক কিছুর নিয়ন্ত্রক। এমনকি সেটি নারীর সতীত্বের ক্ষেত্রেও। সমাজের নিয়মটাই এমন দাঁড়িয়েছে যে বিয়ের আগে নারীকে যে কোন মূল্যে সতীত্ব রক্ষা করতে হবে।

নিউইয়র্কে আরেক বাংলাদেশি কূটনীতিক গ্রেফতার

ভিসা জালিয়াতি ও গৃহকর্মীকে মজুরি না দেয়ার অভিযোগে জাতিসংঘে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মকর্তা ড. হামিদুর রশিদ গ্রেফতার হয়েছেন। জনাব হামিদুর রশিদ ঢাকায় পররাষ্ট্র দফতরের মহাপরিচালক ছিলেন। তিনি লিয়েনে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মেধাবী কর্মকর্তা। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এ ধরনের একের একের পর ঘটনা রহস্যজনক। মনে হচ্ছে, বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য একটি মহল সচেষ্ট। তিনি এ ধরনের ঘটনাকে ''স্যাবোটাজ'' বলে মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, শ্রমিক পাচার, গৃহপরিচারককে নির্যাতন, বেতন না দেওয়ার অভিযোগে গত ১২ জুন নিউইয়র্কের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলাম গ্রেফতার হন। পরদিন ৫০ হাজার ডলার বন্ড দিয়ে ছাড়া পান তিনি। এরআগে ২০১৪ সালে নিউইয়র্কের তৎকালীন কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় একই ধরনের অভিযোগ আনেন তার গৃহকর্মী। অভিযোগ দাখিলের দিনই খবর পেয়ে সপরিবারে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন মনিরুল ইসলাম। ওই গৃহকর্মী পরবর্তীতে আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

জর্জিয়ায় ট্রাম্পের অগ্নিপরীক্ষা

দীর্ঘ ৩৮ বছর পর রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হতে চলেছে আসনটি, এক আসনেই ব্যয় ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য জর্জিয়ার ৬ষ্ঠ ডিস্ট্রিক্ট কংগ্রেসনাল আসনের নির্বাচন মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। কয়েক দশক ধরে রিপাবলিকান দলের দখলে থাকা কংগ্রেসের এ আসনটিতে এবার ডেমোক্রেটিক দল জয়ী হতে যাচ্ছে বলে জনমত জরিপে আভাস মিলেছে। নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জন অসফ ও রিপাবলিকান প্রার্থী ক্যারেন হ্যান্ডেল। কার্যত এ নির্বাচনের প্রার্থী হলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অসফ। কারণ এ নির্বাচনকে ট্রাম্পের জন্য জনপ্রিয়তা যাছাইয়ের মাধ্যম হিসেবে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের এক জরিপ বলছে, অসফ ৭ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। তবে রিপাবলিকানদের বিশ্বাস, ১৯৭৯ সাল থেকে দখলে রাখা এ আসনে এবারও তারা জয় পাবে। খবর বিবিসি ও সিএনএনের। জর্জিয়ার এ আসনের নির্বাচন সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন। এক আসনে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনের ইতিহাসেও সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন এটি। কংগ্রেস সদস্য টম প্রাইস ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে যোগ দেয়ার ফলে এ আসনটি শূন্য হয়। রিপাবলিকানদের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত এ আসনে প্রাইস প্রায় ২০ শতাংশ ভোটে জিতেছিলেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের চার মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর এ আসন হাতবদলের জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা আশা করছে, জর্জিয়ার এ বিশেষ নির্বাচন থেকেই শুরু হবে তাদের ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয়ার প্রচারণা। ১৮ এপ্রিল এ আসনে প্রথম দফা নির্বাচনে প্রামাণ্যচিত্র পরিচালক ৩০ বছর বয়সী অসফ ১৬ জন প্রার্থীকে ডিঙিয়ে সবচেয়ে বেশি ভোট পান। তবে প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হন তিনি। এতে এখন দ্বিতীয় দফা ভোটে তাকে জর্জিয়ার সাবেক সেক্রেটারি অব স্টেট হ্যান্ডেলের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার রেটিংয়ে ধস নামানের চেষ্টা করছে ডেমোক্র্যাটরা। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলই আসনটি দখলের লক্ষ্যে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ঢেলেছে। ট্রাম্পকে হারাতে অসফের পক্ষে প্রোগ্রেসিভ পৌরড প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার খরচ করছে। সোমবার নির্বাচনী প্রচারণায় অফস বলেন, ‘এটি তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচন। রিপাবলিকান দলের আসন রক্ষার লড়াই এটি। পাশাপাশি এটি ডেমোক্র্যাটদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার নির্বাচন।’ এদিন হ্যান্ডেলও ডিস্ট্রিক্টজুড়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। মঙ্গলবার ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় তাকে সাহস জুগিয়েছেন। ট্রাম্প টুইটারে লেখেন, ‘কংগ্রেসের জন্য ক্যারেন হ্যান্ডেল। স্বল্প কর, উত্তম স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তার জন্য লড়াই করছেন তিনি। কঠোর পরিশ্রমী হ্যান্ডেল ছেড়ে দেয়ার পাত্র নন। আজ ভোট।’ পরবর্তীতে আরেক টুইট বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, ‘জর্জিয়ায় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে দুর্বল অসফ।’ এ সময় অসফকে আক্রমণও করেন তিনি। ট্রাম্প তাকে ডিস্ট্রিক্ট ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন। ডেমোক্র্যাটরা আশা করছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প যেভাবে তার সমর্থন হারাচ্ছেন, এতে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে দেশজুড়ে একটি সমর্থনের ঢেউ জাগছে। গ্যালপের করা সর্বশেষ জরিপে ট্রাম্পকে সমর্থন করে এমন মার্কিনি রয়েছেন ৩৮ শতাংশ। তাকে সমর্থন করেন না এর পরিমাণ ৫৮ শতাংশ।

নতুন বইয়ে সাদ্দামের অন্তিম মুহূর্তের মর্মস্পর্শী বর্ণনা

ইরাকের নেতা সাদ্দাম হোসেনের বিচারের জন্য দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তুলে দেয়া হয় ২০০৪ সালের জুন মাসে। এর আগের বছর ডিসেম্বরে মার্কিন বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। জীবনের শেষ দিনগুলোতে তাকে পাহারা দিয়েছিলেন ১২ জন মার্কিন সৈন্য। ওই ১২ জন সৈন্য সাদ্দামের জীবনের শেষ সময়ের বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন। আক্ষরিক অর্থেই শেষমুহূর্ত অবধি তারাই ছিলেন সাদ্দামের সঙ্গী। ওই সেনা সদস্যদের একজন উইল বার্ডেনওয়ার্পারে লেখা এক বইয়ের বরাতে মঙ্গলবার বিবিসি এক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মার্কিন ৫৫১ নম্বর মিলিটারি পুলিশ কোম্পানির ওই ১২ জন সেনা সদস্যকে ‘সুপার টুয়েলভ’ বলে ডাকা হতো। বার্ডেনওয়ার্পারের লেখা বইয়ের নাম, ‘দ্য প্রিজনার ইন হিজ প্যালেস : সাদ্দাম হোসেন, হিজ অ্যামেরিকান গার্ডস, অ্যান্ড হোয়াট হিস্ট্রি লিভস আনসেইড’। বাংলায় অর্থ করলে বইটির নাম হবে, ‘নিজের প্রাসাদেই এক বন্দি : সাদ্দাম হোসেন, তার আমেরিকান প্রহরী- ইতিহাস যে কথা বলেনি’। বইটিজুড়ে রয়েছে সাদ্দামকে তার শেষ সময় পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়ার নানান অভিজ্ঞতা। বার্ডেনওয়ার্পার স্বীকার করেন যে, তারা যখন সাদ্দামকে জল্লাদদের হাতে তুলে দিলেন ফাঁসির জন্য, তখন তাদের ১২ জনেরই চোখে পানি এসে গিয়েছিল।
দাদুর মতো দেখতে লাগত তাকে : বার্ডেনওয়ার্পার তার এক সেনাসঙ্গী রজারসনকে উদ্ধৃত করে লিখেছেন, ‘আমরা কখনও সাদ্দামকে মানসিক বিকারগ্রস্ত হত্যাকারী হিসেবে দেখিনি। তার দিকে তাকালে নিজেদের দাদুর মতো লাগত।’ ইরাকের জেলে কাটানোর সময়ে সাদ্দাম আমেরিকান গায়িকা মেরি জে ব্লাইজার গান শুনতেন নিয়মিত। বাইকে চড়তে পছন্দ করতেন তিনি। মিষ্টি খেতে খুব ভালোবাসতেন। বার্ডেনওয়ার্পার লিখেছেন, সাদ্দাম তাদের সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করতেন। ওই ব্যবহার দেখে বোঝাই যেত না যে তিনি কোনো এক সময়ে অত্যন্ত নিষ্ঠুর শাসক ছিলেন।
কাস্ত্রো তাকে সিগারেট খাওয়া শিখান : সাদ্দামের ‘কোহিবা’ সিগারেট খাওয়ার খুব নেশা ছিল। মনে করা হয় কিউবার সিগারেটগুলোর মধ্যে এই ‘কোহিবা’ সবার চেয়ে সেরা। সাদ্দাম নিজেই বলেছিলেন যে, বহু বছর আগে কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো তাকে সিগার খাওয়া শিখিয়েছিলেন। সিগার ছাড়াও বাগান করারও শখ ছিল সাদ্দামের। জেলের ভেতরে অযত্নে ফুটে থাকা জঙ্গি ঝোপঝাড়গুলোকে তিনি একটা সুন্দর ফুলের মতো মনে করতেন।
খাওয়া-দাওয়ায় খুতখুতে স্বভাব : সকালের নাস্তাটা তিনি কয়েকটা ভাগে খেতেন- প্রথমে অমলেট, তারপর মাফিন আর শেষে তাজা ফল। ভুল করেও যদি তার অমলেটটা টুকরো হয়ে যেত, সেটা তিনি খেতে অস্বীকার করতেন। বার্ডেনওয়ার্পার লিখেছেন, একবার সাদ্দাম তার ছেলে উদয় কতটা নিষ্ঠুর ছিল, সেটা বোঝাতে গিয়ে বীভৎস এক ঘটনার বর্ণনা দেন। উদয় কোনো একটা পার্টিতে গুলি চালিয়ে দিয়েছিল, তাতে বেশ কয়েকজন মারা যান। সাদ্দাম ব্যাপারটা জানতে পেরে উদয়ের সবক’টা গাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভীষণ রাগী কণ্ঠে সাদ্দাম বলেন, উদয়ের দামি রোলস রয়েস, ফেরারি, পোর্শা গাড়িগুলোতে তিনি আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন।
সাদ্দামের দরবার : সাদ্দামকে মামলা চলার সময় দুটি জেলে রাখা হয়েছিল। একটি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের কয়েদখানা আর অন্যটা উত্তর বাগদাদের সাদ্দামের একটা প্রাসাদে। বার্ডেনওয়ার্পার লিখেছেন, প্রাসাদের একটা স্টোর রুমে সাদ্দামের দফতর তৈরি করা হয়েছিল। পুরনো একটা ছোট টেবিল, চামড়ার ঢাকনা দেয়া একটা চেয়ার এবং টেবিলের ওপরে ইরাকের একটা পতাকাও ছিল। বার্ডেনওয়ার্পার লিখেছেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছিলাম জেলের ভেতরে সাদ্দামের জন্য শাসনকাজ পরিচালনার মতো একটা অফিস তৈরি করতে। যখন সাদ্দাম ওই ঘরটায় প্রথমবার যান, একজন সৈন্য হঠাৎই খেয়াল করেন যে টেবিলের ওপরে ধুলো জমে আছে। সে ধুলো ঝাড়তে শুরু করেন।’ ওই আচরণটা সাদ্দামের নজর এড়ায়নি। চেয়ারে বসতে বসতে তিনি মুচকি হেসেছিলেন। তারপর থেকে তিনি রোজ ওই চেয়ারে বসতেন। তার নিরাপত্তায় নিযুক্ত সেনাপ্রহরীরা সামনের চেয়ারগুলোতে বসতেন, যেন সাদ্দাম নিজের দরবারে বসেছেন।
সাদ্দামের মৃত্যুতে শোক : বার্ডেনওয়ার্পারের বইটাতে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক যে বিষয়টার উল্লেখ রয়েছে, সেটা হল সাদ্দামের মৃত্যুর পরে তার প্রহরীরা রীতিমতো শোক পালন করেছিলেন। প্রহরীদের একজন অ্যাডাম রজারসন বার্ডেনওয়ার্পারকে বলেছিলেন, ‘সাদ্দামের ফাঁসি হয়ে যাওয়ার পরে আমার মনে হচ্ছে আমরা ওর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। নিজেদেরই এখন তার হত্যাকারী বলে মনে হচ্ছে। এমন একজনকে মেরে ফেললাম আমরা, যিনি আমাদের খুব আপনজন ছিলেন।’ এমনকি ওই ১২ জনের অন্যতম স্টিভ হাচিনসন সাদ্দামের ফাঁসির পরেই আমেরিকার সেনাবাহিনী থেকে ইস্তফা দেন। হাচিনসন এখন জর্জিয়ায় বন্দুক চালনা আর ট্যাকটিক্যাল ট্রেনিং দেয়ার কাজ করেন। সাদ্দাম শেষদিন পর্যন্ত আশা করতেন যে তার ফাঁসি হবে না। অ্যাডাম রোজারসন নামের এক রক্ষী বলেন, কোনো নারীর সঙ্গে প্রেম করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন সাদ্দাম। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে বিয়ে করারও ইচ্ছা ছিল তার। ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনটে নাগাদ ঘুম থেকে ডেকে তোলা হয়েছিল। তাকে জানানো হয়, কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে ফাঁসি দেয়া হবে। এই কথাটা শোনার পরে সাদ্দাম ভেঙে পড়েছিল। তিনি চুপচাপ গোসল করে ফাঁসির জন্য তৈরি হন। সেই সময়েও তার একটা ভাবনা ছিল। জানতে চেয়েছিলেন, ‘সুপার টুয়েলভের সদস্যরাও কি ঘুমোচ্ছে?’ ফাঁসির কয়েক মিনিট আগে হাচিনসনকে কারাকক্ষের বাইরে ডেকে পাঠান সাদ্দাম। লোহার শিকগুলোর মধ্যে দিয়ে হাতটা বের করে নিজের রেমন্ড ওয়েইল হাতঘড়িটা দিয়ে দেন হাচিনসনকে। হাচিনসন আপত্তি করেছিলেন। তবে সাদ্দাম কিছুটা জোর করেই ঘড়িটা তার হাতে পরিয়ে দেন। জর্জিয়ায় হাচিনসনের বাড়ির একটা সিন্দুকে রাখা ঘড়িটা এখনও টিক টিক করে চলছে।

খাওয়ার সঠিক নিয়ম জেনে নিন

জীবনের তাগিদে বেঁচে থাকার জন্য খাবার খেতে হয় আমাদের।  তাই বলে খাবার খেলাম অর শরীর চাঙ্গা হয়ে উঠল, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। তাছাড়া খাবার খাওয়ার একটা ধরন আছে, তা না মানলে যতই পেট পুরে খান না কেন, শরীরের কোনো উপকারেই লাগে না। উল্টো আরো দেহের ক্ষয় হয়। পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ জানেই না কীভাবে খাবার খেতে হয়। যে কারণেই অনেকে নানাবিধ পেটের রোগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই সঙ্গে শরীরে দেখা দেয় পুষ্টির অভাব। তাই খাবার খাওয়ার সময় কী কী নিয়ম মেনে চলা উচিত, সে সম্পর্কে জ্ঞান থাকাটা জরুরি। নইলে কিন্তু বিপদ! আয়ুর্বেদিক শাস্ত্র মতে, খাবার খাওয়ার সময় কিছু বিষয়ে নজর রাখা জরুরি। এমনটা করলে খাবার ঠিক মতো হজম হবে। ফলে পেট খারাপ ও শরীরের পুষ্টির অভাব হওয়ার আশংকা একেবারেই থাকবে না। নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকাও কমে যাবে। নিম্নে খাবার খাওয়ার সঠিক নিয়মগুলি আলোচনা করা হলো;
* খাবার খাওয়ার সময় ততক্ষণ পর্যন্ত খাবার চিবতে হবে, যতক্ষণ না তা মিহি পেস্টে পরিণত হচ্ছে। যখন দেখবেন এমনটা হয়ে গেছে তখনই গিলবেন, তার আগে নয়।
* টিভি দেখা বা কোনও কাজ করার সময় খাবার খাবেন না। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, মন দিয়ে খাবার না খেলে শরীরের কোনও উপকারে আসে না। বরং এমনটা করলে নানাবিধ ক্ষতি হওয়ার আশংকা বাড়ে।
* খেতে খেতে কথা বলতেও মানা করেন অনেক চিকিৎসক। এমনটা করলেও শরীর খারাপ হয়। মোট কথা মনোযোগ সহকারে খাবার খেতে হবে।
* খাবার খাওয়ার আগে ভুলেও ঠাণ্ডা পানি খাবেন না। এমনটা করলে হজম প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হবে। ফলে বদ-হজম, গ্যাস-অম্বল, পেটে অস্বস্তি প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়ার আশংকা বৃদ্ধি পায়।
* খেতে খেতে কোল্ড ড্রিঙ্ক খাওয়া একেবারেই চলবে না। কারণ এমনটা করলে হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা হবে। ফলে খাবার ঠিক মতো হজম না হওয়ার কারণে দেখা দেবে বহু সমস্যা।
* তাড়াতাড়ি খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। বরং খাওয়ার সময় মনকে শান্ত রেখে থেমে থেমে খাবার গেলা স্বাস্থের জন্য ভালো। এমনটা করলে হজম ক্ষমতার যেমন উন্নতি ঘটে, তেমনি খাবারে থাকা পুষ্টি ঠিকমতো শরীর দ্বারা শোষিত হয়।
* খাবার খাওয়ার পর মনে করে একটু বসে নেবেন, তারপর কাজ শুরু করবেন বা অফিসে রওনা দেবেন। দ্রুত (নাকে-মুখে) খাবার খেয়ে অফিসে বেরিয়ে পড়ার অভ্যাস ছাড়ুন। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে স্টমাকের এক তৃতীয়াংশ যতক্ষণ না ভরছে ততক্ষণ পর্যন্ত তাড়াহুড়ো করে খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।
* ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এবং ডিনারের মাঝে যেন কম করে ৩-৪ ঘণ্টার ব্যবধান থাকে। কারণ যে কোনও খাবার ঠিক মতো হজম হতে এ সময়টা লাগে। তাই ৩-৪ ঘণ্টার আগে বারে বারে খাবার খেলে পেট খারাপ হওয়ার আশংকা বাড়ে।
* সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত আমাদের হজম ক্ষমতা খুব ভালো থাকে। যেই না অন্ধকার হতে শুরু করে, আমনি ঘরির কাঁটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে হজম শক্তিও কমে যেতে শুরু করে। সেই কারণেই তো দুপুর পর্যন্ত ভারি খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। এর পর থেকে খাবার পরিমাণ কমিয়ে ফেলাটাই উত্তম।
* খাবার খাওয়ার সময় পানির তাপমাত্রার যেন স্বাভাবিক থাকে। বেশি ঠাণ্ডা পানি পানে হজমে সহায়ক অ্যাসিডগুলি ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। ফলে বদ-হজমসহ আরও সব পেটের সমস্যা দেখা দেয়ার আশংকা বাড়ে।
* যাদের খুব খিদে পায়, তারা অল্প অল্প করে বারে বারে খেতে পারেন। তবে প্রতিটি খাবার খাওয়ার মধ্যে যেন কম করে ৩ ঘণ্টার ব্যবধান থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখার চেষ্টা করবেন।
* ভারি কোনও খাবার খাওয়া আগে সুযোগ থাকলে অল্প করে আদা বা লেবু খেয়ে নেবেন। এমনটা করলে শরীরে পিত্তের ভারসাম্য ঠিক থাকবে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং আয়ুর্বেদিক শাস্ত্র মতে, রাতের খাবার ৮টার মধ্যে সেরে ফেলা জরুরি। শুধু তাই নয়, রাতের খাবার হতে হবে হলকা এবং সহজপাচ্য। যাতে তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, ভালোবেসে বানানো খাবার শরীরে পজেটিভ এনার্জির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে মন এবং মস্তিষ্ক চাঙ্গা হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, খিটখিটে বা অখুশি মন নিয়ে বানানো খাবার খেলে শরীর খারাপ হওয়ার আশংকা বাড়ে।

ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় আদালতে অভিযোগ

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির মহাসচিবের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে। ২৫/২৬ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২৫/৩০জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবী সাবেক জেলা পিপি এনামুল হক এ অভিযোগ করেন। বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল্লাহ কায়সারের আদালতে এ অভিযোগ করা হয়। আদালত বাদীর বক্তব্য শুনে আদেশের জন্য রেখেছেন। প্রসঙ্গত, রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণে যাওয়ার পথে গত রোববার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহর হামলার শিকার হয়। এসময় মির্জা ফখরুল, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ ছয়জন নেতা আহত হন। আহত অন্য নেতারা হলেন- ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. ফাওয়াজ হোসেন শুভ ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম। রাঙ্গুনিয়ায় ইছাখালী হাসপাতালের সামনে ওই দিন সকাল ১০টায় ৩০/৩৫জনের সশস্ত্র হামলাকারী তাদের গাড়িবহরে হামলা করে। এতে গাড়ির কাঁচ ভেঙ্গে বিএনপির এসব নেতা আহত হন।
পরে তারা হামলার অদূরে একটি মসজিদে গিয়ে আশ্রয় নেন। ওই গাড়িবহরে ৮/৯ টি গাড়ি ছিলো, এরমধ্যে ৫টি গাড়ি ভেঙে চুরমার করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তখন জানিয়েছিলেন, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক হয়ে ৮/৯টি গাড়ি রাঙ্গামাটির দিকে যাচ্ছিলো। এসময় ইছাখালী হাসপাতালের সামনে হঠাৎ ২৫/৩০ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে গাড়িগুলোর গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা গাড়ি বহরে হামলা ও ভাংচুর করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে গাড়িগুলো রাঙ্গামাটির দিকে অগ্রসর না হয়ে চট্টগ্রামের দিকে ফেরত যায়। রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ মো. আহসানুল কাদের ভূইয়া এ হামলার বিষয়ে জানিয়েছিলেন, বিএনপির গাড়িবহর রুট পরিবর্তন করায় তাদের নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব হয়নি।

সুইডেন ও ওমানে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ

সুইডেন ও ওমানে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মো.নাজমুল ইসলামকে সুইডেন এবং মো.গোলাম সারওয়ারকে ওমানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ১৫ তম বিসিএস এর মাধ্যমে ফরেন সার্ভিসে যোগ দিয়ে কূটনীতিক ক্যারিয়ার শুরু করা মো. নাজমুল ইসলাম বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন, জিএস অ্যান্ড আইসিটি) হিসেবে কর্মরত আছেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক নাজমুল জেদ্দা ও বেইজিংয়ে কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও তিনি লন্ডন ও জাকার্তায় বাংলাদেশ মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এদিকে ওমানে পরবর্তী বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার ১৯৯১ সালে ১০ম বিসিএসের মাধ্যমে ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাব বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর গোলাম সারওয়ার বর্তমানে সুইডেনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত আছেন। কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি জেদ্দায় কনসাল জেনারেল এবং ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ মিশনে মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও কাঠমান্ডু, কুয়ালালামপুর, ইয়াংগুনেও বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

অস্ত্রসহ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মিরাজ হাসান নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসময় তার বাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার ভোরে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের নতুন রূপপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মিরাজ হাসান পাকশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল বলেন, অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতা মিরাজ হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযানে র‌্যাব অংশ নিয়েছে। এটা পুলিশের অভিযানে ছিল না বলে জানান তিনি। পাবনা র‌্যাব অফিসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মোবাইলে জানান, আটক মিরাজের বাড়ি থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ককটেল ও ১টি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৩ মে মঙ্গলবার দুপুরে পাকশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি সদরুল আলম পিন্টুকেও ঈশ্বরদী থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। তিনিও বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।

মাঝারী ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে

দেশের কোথাও কোথাও বুধবার মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, ময়মনসিংহ, রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘন্টায় আবহাওয়ার অবস্থায় সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলঘগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে, যার বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গেপসাগরের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারী অবস্থায় বিরাজ করছে।

২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ডলার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ২০৪১ সালে স্বাধীনতার ৭০তম জয়ন্তীতে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার এবং মাথাপিছু আয় প্রায় ১২ হাজার ডলারে উন্নীত হবে। বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য দিদারুল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালের বাংলাদেশের অর্থনীতি এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। বাংলাদেশের অনুসৃত উন্মুক্ত অর্থনীতি উপ-আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে উইন-উইন অবস্থান তৈরি করে সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। শেখ হাসিনা বলেন, সে লক্ষ্যে শিল্প বিকাশ ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বর্তমান সরকার বিদ্যমান বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত করার লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পে বিভিন্ন পরিসেবা, ভূমির নিশ্চয়তা, প্রতিযোগিতামূলক প্রণোদনা এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস-প্রদানসহ বিনিয়োগ বান্ধব আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৪টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের চূড়ান্ত লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, মেঘনা ইকোনমিক জোন, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ, আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল, গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জ, আমান ইকোনমিক জোন, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ এবং বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল, কোনাবাড়ী, গাজীপুর। এছাড়া ১০টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রি-কোয়ালিফিকেশন লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে এ পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৯০৪.১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে মোট কর্মসংস্থানের পরিমাণ ৭ হাজার ৭৮১ জন। বিদ্যুৎ নিয়ে করা সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের মে থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারের মেয়াদে দেশে মোট ১৩ হাজার ৫৯৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। কিন্তু পুরানো বিদ্যুৎকেন্দ্র বিভিন্ন সময়ে অবসরে যাওয়ার কারণে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে ১৩ হাজার ১৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভসহ ১৫ হাজার ৩৫১ মেগয়াওয়াটে উন্নীত হয়েছে। এসময় বিভিন্ন সরকারের মেয়াদে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া বিদ্যুতের পরিমাণ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংসদে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২-১৯৮১ সালে ২৮৬ মেগাওয়াট, ১৯৮২-১৯৯০ সালে ১ হাজার ৫৮৮ মেগাওয়াট, ১৯৯১ সালের মার্চ-১৯৯৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৫৮৮ মেগাওয়াট, ১৯৯৬ সালের জুন হতে ২০০১ সালের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ২০৮ মেগাওয়াট, ২০০১ সালের অক্টোবর হতে ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ২৪০ মেগাওয়াট, ২০০৬ সালের অক্টোবর হতে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৪৬ মেগাওয়াট এবং ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে ২০০৭ সালের মে পর্যন্ত ৮ হাজার ৩৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

জাতিসংঘে কর্মরত গ্রেফতার বাংলাদেশি কূটনীতিকের জামিন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘে কর্মরত হামিদুর রশীদ নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে তোলা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে আপাতত জামিন পেয়েছেন তিনি। হামিদুর রশীদ জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপির ডেভেলপমেন্ট পলিসি অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ডিভিশনের প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাওয়া গৃহকর্মীর ভিসা জালিয়াতি, কর্মী নিয়োগ চুক্তি জালিয়াতি এবং সেই কর্মীর পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস-এর ওয়েব সাইট থেকে এসব তথ্য জানা গেছে তবে, এ সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়ে এখনো রশীদ বা ইউএনডিপির প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। এর আগে গত সপ্তাহে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে নিউইয়র্কের বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেলকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে আদালত থেকে তিনিও জামিন পান। বিবিসির খবরে বলা হয়, নিউইয়র্ক সময় মঙ্গলবার সকালে হামিদুর রশীদকে গ্রেফতারের পর ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে তাকে তোলা হয়। এরপর দীর্ঘ শুনানি শেষে জামিন পান তিনি। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস-এর ওয়েব সাইটে দেয়া তথ্যে জানা যায়, হামিদুর রশীদ বাংলাদেশ থেকে আনা গৃহকর্মীর জন্যে প্রযোজ্য জি-৫ ভিসার নিয়ম অনুযায়ী যে মজুরি দেবার অঙ্গীকার করেছিলেন তা পরবর্তীতে মানা হয়নি। সাপ্তাহিক ৪২০ ডলার মজুরিতে গৃহকর্মী নিয়োগের চুক্তিপত্র পররাষ্ট্র দফতরে দাখিল করা হলেও ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে গৃহকর্মী যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালে নতুন একটি চুক্তিপত্রে সই নেন। যেখানে সাপ্তাহিক মজুরি দেখানো হয় ২৯০ ডলার। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী গৃহকর্মীকে সাপ্তাহিক ৪০ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করানোর অভিযোগও আনা হয়। জানা গেছে, এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে হামিদুর রশীদের সর্বোচ্চ ২৯ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে ওই গৃহকর্মী চার বছর আগেই হামিদুর রশীদের বাসার কাজ ছেড়ে দেন বলে জানা গেছে।

ভারতীয় হাইকমিশনের আয়োজনে ঢাকায় যোগ দিবস

ভারতীয় হাইক‌মিশনের আয়োজনে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে রাজধানীবাসী। বুধবার ভোরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রায় ৪ হাজার নারী-পুরুষ এতে অংশগ্রহণ করে। ভারতীয় হাইক‌মিশনের অ্যাটাশে অ‌ফিসার রঞ্জন মণ্ডল জানান, তৃতীয়বারের মতো ঢাকায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের আয়োজন করেছে ভারতীয় হাইকমিশন। এবারের এ আসনে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার অংশগ্রহণকারী অংশগ্রহণ করেন।
তি‌নি বলেন, তাদের ঘোষিত সময় ভোর সাড়ে ৫টার মধ্যেই যোগাসন নেয়ার জন্য স্টেডিয়ামে চলে আসেন রাজধানীবাসী। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদারসহ রাজনীতিবিদ, পেশাজীবীসহ নানা পেশার মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন। এর আগে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা তাদের অনুষ্ঠানস্থলে স্বাগত জানান। ভারতীয় হাইকমিশন ২০১৫ সালে ঢাকায় প্রথমবার যোগ দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে। দ্বিতীয়বার আয়োজন করে মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে। মূল অনুষ্ঠানের পর ৩৫  মি‌নিট ধরে যোগ করেন অংশগ্রহণ কারীরা। ভারত থেকে আসা প্র‌শিক্ষক অ‌দি‌তি গুই ও সু‌মিত কুমার যোগ ব্যায়ামের অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

মজুদে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা

চাল মজুদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মানা হয়নি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনামাফিক পর্যাপ্ত মজুদ গড়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে আপৎকালীন মজুদ থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে (১০ টাকা কেজি দরের চাল) সাড়ে ৭ লাখ টন চাল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বাজার দরের চেয়ে সরকারি মূল্য কম নির্ধারণ করায় কৃষক এবং মিলাররাও সরকারকে চাল দিতে অনীহা দেখায়। ফলে দিন দিন কমতে থাকে চালের মজুদ। বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮০ হাজার ৯১ টনে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতি দরিদ্রদের জন্য ভিজিএফসহ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কাবিখা, টিআর এবং জিআর কর্মসূচিতে চালের পরিবর্তে গম দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতি কেজি চালের মূল্য অনুযায়ী সমমূল্যের গম দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি বাড়াতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (১৫ শতাংশ) তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে সম্পূরক শুল্কসহ ১৮ শতাংশ কমে চাল আমদানিতে শুল্ক দাঁড়াবে মোটে ১০ শতাংশ। এছাড়া সরকার টু সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ছয় লাখ টন চাল আমদানি করা হচ্ছে। জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘দুই মাস আগেও সাড়ে তিন লাখ চালসহ সাত লাখ টন মজুদ ছিল। এরপর ধীরে ধীরে মজুদ কমছে। সংগ্রহ বন্ধ হয়ে গেছে। যেখানে চার লাখ টন চাল সংগ্রহ হওয়ার কথা সেখানে হয়েছে মাত্র ৩৮ হাজার টন। সংগ্রহ না হওয়ার কারণে মজুদের এ অবস্থা।’ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এসব বাজে কথা ও অপপ্রচার। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চালু হয়েছে। আর এ চাল দেয়া হয়েছে কাবিখা কাবিটা হওয়ায় উদ্বৃত্ত চাল থেকে।’ এ নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি খাদ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর খাদ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করে ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ওই নির্দেশনার এক নম্বরেই ছিল- পরিকল্পনামাফিক পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ গড়ে তোলা। সেদিন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সব মৌসুমে খাদ্য উৎপাদন ভালো নাও হতে পারে। এ ধরনের বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনামাফিক পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ গড়ে তুলতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার পর ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ১০ শতাংশ সাধারণ শুল্কের (সিডি) পাশাপাশি ১৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) আরোপ করা হয়। দুটি মিলে ২৫ শতাংশ হওয়ায় বিধি অনুযায়ী এর সঙ্গে যুক্ত হয় সম্পূরক শুল্ক (এসডি) ৩ শতাংশ। ফলে ব্যবসায়ীদের ২৮ শতাংশ শুল্ক গুনতে হয়। কেজিতে তা পড়ে প্রায় ৯ টাকা। এতে দেড় বছর ধরে চাল আমদানি প্রায় বন্ধ। এছাড়া গত বছরের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রি কর্মসূচিতে সাড়ে সাত লাখ টন চাল সরবরাহ করার কারণেই মূলত মজুদের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওই কর্মসূচি নেয়ার আগে ছিল না তেমন কোনো প্রস্তুতি অথবা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। পাশাপাশি বোরো ধানে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ, সারা দেশে অতিবৃষ্টি, হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যা, ঘূর্ণিঝড় মোরা এবং সর্বশেষ চট্টগ্রামের পাহাড় ধস খাদ্য মজুদ কমে যাওয়ার কারণ বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আমলে না নিয়ে অপরিকল্পিতভাবে কোনো ধরনের দুর্যোগ না থাকা সত্ত্বেও ১০ টাকা কেজি দরে বিপুল পরিমাণ চাল বিতরণ করা হয়েছে। আপৎকালীন মজুদ বা দুর্যোগের বিষয়টি খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের কর্তাব্যক্তিদের ধারণার মধ্যেই ছিল না। সরকারের খাদ্য মজুদ সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। আপৎকালীন খাদ্য মজুদ ১০ লাখ টন থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে সরকারের গুদামে চাল ও গম আছে মাত্র ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৪৭ টন। এর মধ্যে চালের মজুদ মাত্র এক লাখ ৮০ হাজার ৯১ টন। গত বছরের এই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৮০ হাজার টন। যার মধ্যে শুধু চালই ছিল ৬ লাখ ৪ হাজার টন। দুর্বল মজুদ পরিস্থিতি টের পেয়েই এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। কারণ তারা জানেন দাম স্বাভাবিক রাখতে দেশব্যাপী ওএমএস কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয় সরকারের। খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, মাঝারি ও মোটা চালের পাইকারি ও খুচরা উভয় মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। গুটি ও স্বর্ণার মতো মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৮ থেকে ৪৯ টাকা দরে। কিন্তু বাজারে ৫০ টাকা কেজির নিচে কোনো চাল পাওয়া যাচ্ছে না। গত ২ মে থেকে সারা দেশে বোরো সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ৩২ হাজার ২৯৬ টন সিদ্ধ ও আতপ চাল। ইতিমধ্যে ৭ হাজার ২৬২টি মিল মালিকের সঙ্গে ২ লাখ ১০ হাজার টন বোরো চাল সরবরাহের চুক্তি হয়েছে। সরকারের তালিকাভুক্ত মিল মালিকের সংখ্যা ২২ হাজার ৬৫৪টি। যেসব মিল মালিক সরকারের সঙ্গে এবার চুক্তি করেনি তাদের রেজিস্ট্রেশন নবায়ন না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারের। বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী এ বিষয়ে বলেন, বর্তমান বাজারে মোটা চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৪৯ টাকা দরে। আর সরকার চালের দাম নির্ধারণ করেছে ৩৪ টাকা। সরকারি দামে কোথাও চাল পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষক ওই দামে আমাদের চাল দিচ্ছে না। ফলে আমরাও সরকারকে ওই দামে চাল দিতে পারছি না। কারণ এক কেজি ধান কিনে তা মিলে ভাঙিয়ে চালে পরিণত করতে ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা খরচ পড়ে। অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চাল সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ার পর সরকার চাল সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে হাত বাড়ায়। ভিয়েতনাম থেকে জিটুজি পর্যায়ে আড়াই লাখ টন চাল আমদানির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে আরও দেড় লাখ টন চাল আমদানি করা হচ্ছে। শিগগিরই আরও ৫০ হাজার টন চালের জন্য টেন্ডার হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা। পরে আরও দেড় লাখ টনও আনা হবে।