Monday, July 26, 2010

ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক ও লিডস করপোরেশনের চুক্তি স্বাক্ষর

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ব্যাংকিং অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে লিডস করপোরেশনের সঙ্গে সম্প্রতি একটি চুক্তি করেছে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান তাহের আহমেদ চৌধুরী এবং লিডস করপোরেশনের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা বশির উল্লাহ তালুকদার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এ এম জাকারিয়া ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল কুদ্দুস এবং লিডস করপোরেশনের পরিচালক শেখ আবদুল শহীদসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই চুক্তি অনুযায়ী ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংককে শরিয়াহিভত্তিক কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ‘ব্যাংক আল্টিমাস’ সরবরাহ করবে লিডস করপোরেশন। ‘ব্যাংক আল্টিমাস’ হচ্ছে একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসংবলিত পরিপূর্ণ ব্যাংকিং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার। এটি ব্যবহারের সুবিধাগুলো হলো: উন্নত গ্রাহকসেবা, বর্ধিত রেভিনিউ ও রিটার্ন, উৎপাদনশীলতায় উন্নতি, নির্ভুল ইনট্রিগেশন, সহজ ধারণক্ষমতা, কম মূল্যে মালিকানা ও সহজ কার্যসম্পাদন ক্ষমতা প্রভৃতি।

বিশ্বজুড়ে বিদেশি বিনিয়োগে মন্দা বাংলাদেশেও প্রভাব পড়েছে

বিশ্ব মন্দার নেতিবাচক প্রভাবে ২০০৯ সালে বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় ৩৬ শতাংশ কমে গেছে বলে ‘বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন ২০১০’-এ উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এবারে প্রতিবেদনের প্রতিপাদ্য করা হয়েছে ‘সীমিত কার্বনের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ।’
গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিনিয়োগ বোর্ড এই প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ইসমাইল হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এস এ সামাদ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে যেখানে বাংলাদেশে ১০৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল, সেখানে ২০০৯ সালে এসেছে ৭১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ।
তবে এই সময়কালে বাংলাদেশ থেকে যথাক্রমে ৯০ লাখ ও দেড় কোটি ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বেড়িয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে ইসমাইল হোসেন বলেন, বিশ্বজুড়েই মন্দার প্রভাবে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ হ্রাস পেয়েছে যার প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়েছে। তবে মন্দা ছাড়া দেশে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটও বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
অবশ্য এস এ সামাদ বলেন, যখন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসে, তখন তারা আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে সবচেয়ে বড় বাধা বলে মনে করে। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট নিয়ে তেমন একটা অভিযোগ করে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আঙ্কটাড প্রতিবেদন অনুসারে ২০০৯ সালে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ২০০৮ সালের ৬৪ কোটি ১০ লাখ ডলারের তুলনায় ৬০ শতাংশ কমে ২৫ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।
বিদ্যুৎ-গ্যাস ও জ্বালানি খাতেও বিদেশি বিনিয়োগ ৪৯ শতাংশ কমে গেছে। ২০০৮ সালে যেখানে এই খাতে বিনিয়োগ ছিল ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার তা ২০০৯ সালে কমে হয়েছে পাঁচ কোটি ১০ লাখ ডলার।
ব্যাংকিং খাতে বিদেশি বিনিয়োগ অবশ্য সামান্য বেড়েছে। ২০০৮ সালে যেখানে ১৪ কোটি ১০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ এসেছিল, সেখানে ২০০৯ সালে তা হয়েছে ১৪ কোটি ২০ লাখ ডলার।
আঙ্কটাডের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০৮ সালে বাংলাদেশের মোট স্থির পুুঁজি গঠনে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের হার অবদান ছিল ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ যা ২০০৯ সালে নেমে এসেচে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগ প্রাপ্তির অবস্থা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নেমে গেছে। ২০০৭ সালের ১৩০তম অবস্থান থেকে ২০০৮ সালে ১১৫তম অবস্থানে উঠে আসার পর ২০০৯ সালে বাংলাদেশ নেমে গেছে ১২১তম অবস্থানে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, ২০১০ সালের প্রথম পাঁচ মাসে দেশে ৪২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। আর আলোচ্য অর্থবছরের জুলাই-মে সময়কালে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ ছিল ৬২ কোটি ১০ লাখ ডলার।
এই পরিসংখ্যান থেকে ২০১০ সালের প্রথম পাঁচ মাসের বিদেশি বিনিয়োগের হিসাব নির্ণয় করা হয়েছে।
বৈশ্বিক পরিস্থিতি: ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাপী প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ ৩৭ শতাংশ কমেছে। উন্নত দেশগুলোতে এই হার কমেছে ৪৪ শতাংশ, যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই হার কমেছে ২৭ শতাংশ।
২০০৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ গন্তব্য ছিল। বিশ্বের মোট বিদেশি বিনিয়োগের মধ্যে ১৩ হাজার কোটি ডলার গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর রয়েছে চীন। সাড়ে নয় হাজার কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে চীন। আর ছয় হাজার কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্স।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় বিদেশি বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

কবি জয়দেবের বসতভিটা সংরক্ষণ জরুরি by সাইফুদ্দীন চৌধুরী

গীত গোবিন্দ’ খ্যাত সংস্কৃত কবি জয়দেবের বসতভিটা সংরক্ষণ করার কথা উঠেছে। সেনরাজ লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার প্রধান কবি জয়দেবের জন্মস্থান যে বর্তমান জয়পুরহাট জেলার আমদই ইউনিয়নের কেন্দুলি (স্থানীয় লোকেরা বলে কেন্দুল) গ্রাম, তা সাহিত্যের ইতিহাসকারগণ স্বীকার করে নিয়েছেন। এক সময় ধারণা করা হতো, জয়দেব মিথিলা-উড়িষ্যার কবি। অজয় নদের তীরের কেন্দুবিল্ব বা কেন্দুলি তাঁর জন্মস্থান। কেন্দুবিল্বতে জয়দেবের স্মরণে প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তিতে মেলা বসে। খ্যাতনামা পণ্ডিত আচার্য সুকুমার সেন বলেছেন, অজয় নদের তীরে কেন্দুবিল্ব বা কেন্দুলি বলে কোনো গ্রামই নেই। তবে সেখানে যে মেলা বসে তা কেন্দুলির মেলা নামে পরিচিত। তাঁর অনুমান, সেখানে জয়দেব কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন; সে কারণে তার নিজ জন্মগ্রাম কেন্দুলির স্মরণেই এ মেলার নামকরণ হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা ইতিহাসে ঘটে থাকে। চট্টগ্রামের প্রসিদ্ধ আধ্যাত্মিক সাধক বায়েজিদ বোস্তামির মাজার আসলে রয়েছে ইরানের বোস্তাম শহরে। এ সাধক এখানে কিছুকাল অবস্থান করেছিলেন বলে তাঁর ভক্তগণ সাধকের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য এখানে একটি ‘পীঠ মাজার’ (কাল্পনিক মাজার) তৈরি করেছিলেন। জয়দেবের কেন্দুলির ক্ষেত্রেও হয়তো তেমনই কিছু ঘটেছে।
পূর্বেই উল্লেখ করেছি, জয়দেব ছিলেন সেনরাজ লক্ষ্মণ সেনের প্রধান সভাকবি। এই সেন রাজাদের রাজধানী ছিল রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার পদ্মার তীরবর্তী বিজয়নগরে। লক্ষ্মণ সেনের পিতামহ বিজয় সেন ও পিতা বল্লাল সেন এখান থেকেই গৌড়-বরেন্দ্র শাসন করেছেন। জয়দেবের কাব্যে বিজয়নগর আর কেন্দুলির প্রকৃতির অনবদ্য চিত্র ফুটে উঠেছে। কদম, কেতকী, পলাশ, বকুল তো বাংলার নিজস্ব ফুল। এসব ফুলের অসাধারণ বর্ণনা দিয়েছেন জয়দেব তাঁর ‘গীত গোবিন্দ’ কাব্যে। জয়দেব কদম ফুলের চমৎকার দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, যেখানে প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শ্রীরাধার মনেও এক ধরনের আবেগ উপচে পড়ছে। তাঁর কাব্যের গুরুগম্ভীর ঘন বর্ষার ‘মেঘৈইর্মেদুরম্বং’ আকাশ আসলে বাংলাদেশেরই বৃষ্টিঝরা আকাশ। জয়দেবের অনেক কবিতার ভণিতায় বারবার এসেছে জন্মস্থান কেন্দুলির নাম।
গৌড়-বরেন্দ্রের এই প্রাচীন জনপদ বিজয়নগর কিংবা কেন্দুলে বসে জয়দেব এত বড় কবি হলেন কী করে, যে কারও মনেই প্রশ্নটা আসতে পারে। আগেই বলেছি, জয়দেব ছিলেন লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি। সেন রাজাদের অব্যবহিত আগে এ অঞ্চলে প্রায় সাড়ে তিন শো বছর শাসন করেছেন বৌদ্ধ-ধর্মাবলম্বী পাল রাজারা। পাল শাসকদের সময় এখানে বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি সংস্কৃত সাহিত্যেরও গৌরবোজ্জ্বল ধারা গড়ে উঠেছিল। সোমপুর (পাহাড়পুর) বিহার এবং নিকটবর্তী জগদ্দল বিহারকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণ্য ধর্মের দর্শন ও অনুষ্ঠান নিয়ে বহু সাহিত্য রচিত হয় উত্তর ভারতীয় সংস্কৃত ভাষার আদর্শে। চন্দ্রগোমীন ‘চান্দ্র ব্যাকরণ’; ব্যোপদেব ‘কবি কল্পদ্রুম’, ‘ধাতুবোধ’, ‘কাব্যে কামধেনু’; অতীশ দীপঙ্কর ‘মধ্যমকরত্নপ্রদীপ’; ‘ভট্টনারায়ণ’ ‘বেণী সংহার’ রচনা করেন। এ জয়পুরহাটেরই আরেক সংস্কৃত কবি ছিলেন মৌনভট্ট। মহাস্থানের গোকুলের অধিবাসী ছিলেন ঐতিহাসিক গুরুত্ববহ ‘রামচরিতম’ গ্রন্থের রচয়িতা সন্ধ্যাকর নন্দী। সন্ধ্যাকর নন্দীর পিতা প্রজাপতি নন্দী ছিলেন পালরাজা রামপালের সান্ধি-বিগ্রহিক।
এঁদের উত্তর পুরুষ জয়দেব যখন কাব্য রচনা শুরু করেন, তখন সংস্কৃত সাহিত্যের ক্ষয়িষ্ণু অবস্থা। প্রাদেশিক ভাষাগুলো নিজ নিজ সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করেছে। কিন্তু জয়দেব এ অবস্থাতেই সংস্কৃত ভাষার নেতৃত্ব অস্বীকার করে সংস্কৃত ভাষাতেই কাব্যে বাংলাদেশের আবহ উপস্থাপন করে সাহিত্য সৃষ্টি করলেন। সংস্কৃত ভাষায় কাব্য রচনা করলেও পরোক্ষভাবে তিনি অনাগত কালের বাংলা সাহিত্যকে ছন্দে, ভাবোচ্ছ্বাসে, প্রেমানুভূতি ও ভক্তিরসে স্নাত করে রেখে গেলেন। তিনি বাঙালি কবিদের জন্য ভবিষ্যতের যে পথ নির্মাণ করে রেখে গেলেন, বাঙালির সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাধনা চিরকাল তা স্মরণ করবে। বাঙালির সাহিত্যের চর্চার কথাই শুধু বলি কেন? ধর্ম-ভাবনা, সংস্কৃতি-চিন্তা, সামাজিক অবস্থা, রাজ্য-শাসননীতি প্রভৃতি অনেক তথ্যই জানা যাবে জয়দেবের সাহিত্য পাঠ করলে।
কবি জয়দেবের বসতভিটার অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্ত। যেটুকু অবশিষ্ট আছে, তা রক্ষা করতে হবে। তাই যত দ্রুত সম্ভব সরকারি উদ্যোগে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে ‘প্রটেক্টেড মনুমেন্ট’ হিসেবে এটি অধিগ্রহণ করা প্রয়োজন। দেশে প্রাচীন সাহিত্য (ক্লাসিক্যাল) চর্চা করার কোনো একাডেমি বা কেন্দ্র নেই। সম্ভব হলে এখানে ‘সেন্টার ফর স্টাডি অব এনশিয়েন্ট লিটারেচার’ প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। কেন্দুলির খুব কাছে সোমপুর আর জগদ্দল বিহারেই তো শুরু হয়েছিল বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চর্যাপদ রচনার পর্ব। সাহিত্য-ঐতিহ্যের এই জনপদে সরকার প্রাচীন সাহিত্যচর্চার ওই কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারে। কেবল পশ্চিমা দেশেই বলি কেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এ ধরনের বেশ কয়েকটি প্রাচীন সাহিত্য চর্চাকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে।
বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া গেছে, তা অবশ্যই আমাদের গর্ব করার মতো বিষয়। সেই সঙ্গে সে ভাষার অতীতও সম্যক জানতে হবে বৈকি। এ প্রসঙ্গে এক শিশু শিক্ষার্থীর ঘটনা তুলে ধরছি। ঘটনাটি হলো, এক শিশু শিক্ষার্থীকে তার বাবা পড়াশোনা করলে কিছু উপহার দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। শিশুটিকে বলা হলো, তাদের বারান্দায় টবে রাখা পাতাবাহারের গাছ সম্পর্কে দশটি বাক্য লিখতে হবে। শিশুটি সাধ্যমতো লিখল। লেখাটি অসম্পূর্ণ বলে তার বাবা জানালে শিশুটি অত্যধিক মনোযোগ দিয়ে লেখাটি আবার তৈরি করে। এবারও লেখাটিতে কাঙ্ক্ষিত বিষয় না থাকায় নিরুপায় বাবা পুত্রকে টবের কাছে নিয়ে গিয়ে মাটি খুঁড়ে গাছের শেকড় দেখিয়ে বললেন, আদতে এ গাছটির মূলই হলো শেকড়, যার দ্বারা গাছটি বেঁচে আছে। শিশুটি সে বিষয়ে লিখতে পারেনি। বলা বাহুল্য যে, শেকড়টি দৃশ্যমান ছিল না বলেই এই শিশু শিক্ষার্থী তার লেখা পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরতে পারেনি।
শেকড় দেখতে পাওয়া যায় না বলে আমাদের অনেক কাজই অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে। শেকড় না দেখার ঘটনা আর কত ঘটতে থাকবে? কবি জয়দেবের স্মৃতি রক্ষার জন্য অবশ্যই আমাদের কর্তব্য কিছু আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখবে।
ড. সাইফুদ্দীন চৌধুরী: গবেষক। অধ্যাপক, ফোকলোর বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
pr_saif@yahoo.com

কমনওয়েলথ গেমসের আগে হামলা চালাতে পারে শিখ জঙ্গিরা

আসন্ন কমনওয়েলথ গেমসের আগেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে হামলা চালাতে পারে শিখ জঙ্গিগোষ্ঠী। পাঞ্জাবের গোয়েন্দা পুলিশ এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তারা বলেছে, শিখ জঙ্গিরা কমনওয়েলথ গেমসের আগেই হামলা চালানোর ছক কষছে। আর এতে মদদ দিচ্ছে আইএসআই। এ উদ্দেশ্যে পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নিয়ে ছয় সদস্যের একটি জঙ্গি দল ভারতে প্রবেশ করেছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ‘খালিস্তার জিন্দাবাদ ফোর্স’-এর নেতা রণজিৎ সিং নিতার সহযোগিতায় এ নাশকতা চালানোর ছক কষেছে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী। আগামী ৩ অক্টোবর থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হবে কমনওয়েলথ গেমস। চলবে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত।

তেজস্ক্রিয় পদার্থবাহী জাপানি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত

তেজস্ক্রিয় পদার্থবাহী জাপানের একটি সামরিক বিমান প্রশান্ত মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এতে পরমাণুদূষণের কোনো আশঙ্কা নেই বলে জাপানের কর্মকর্তারা গতকাল শনিবার জানিয়েছেন। এএফপি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, সামরিক ওই বিমানটি গত শুক্রবার রাজধানী টোকিও থেকে এক হাজার ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণের আইও জিমা দ্বীপ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে উড্ডয়ন করে। কিন্তু দুই মিনিটের মাথায় বিমানটির ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং বিধ্বস্ত হয়।

আশতিয়ানির মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ

ব্যভিচারের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ইরানি নারী সাকিনেহ মোহাম্মাদি আশতিয়ানির মুক্তির দাবিতে গতকাল শনিবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, এই বিক্ষোভের ফলে ইরান সরকার আশতিয়ানিকে মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে চাপের মুখে পড়বে।
২০০৫ সাল থেকে ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাবরিজের একটি কারাগারে বন্দী আছেন আশতিয়ানি। ব্যভিচারের দায়ে তাঁকে পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী বিক্ষোভের কারণে এ মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর স্থগিত আছে। তবে তাঁকে ইতিমধ্যে ৯৯টি দোররা মারা হয়েছে।
ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের কর্মকর্তারা এ মাসের শুরুতে বলেছিলেন, প্রধান বিচারক সাদেক লারজিয়ানি আশতিয়ানির মৃত্যুদণ্ড সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, আশতিয়ানির মৃত্যুদণ্ডাদেশ এখনো কার্যকর করা হতে পারে।
ব্যভিচারের দায়ে ইরানে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, এই অপরাধে ইরানে ২০০৬ সাল থেকে অন্তত ছয়জন নারীকে পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

২০১৯ সাল নাগাদ ইরান মহাকাশে মানুষ পাঠাবে

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ গত শুক্রবার বলেছেন, ২০১৯ সাল নাগাদ তাঁর দেশ মহাকাশে মনুষ্যবাহী নভোযান পাঠাবে। ইরানের প্রেস টিভির বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানায়।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান তার নিজের তৈরি স্যাটেলাইট বহনকারী রকেট কাভোশগার-৩ উৎক্ষেপণ করে। তখন আহমাদিনেজাদ বলেছিলেন, তেহরান শিগগিরই মহাকাশে নভোচারী পাঠানোর আশা করছে।
ইরানের মহাকাশযান কর্মসূচি প্রসঙ্গে আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘শত্রুদের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায়, এই প্রকল্পটি পাঁচ বছর এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
পশ্চিমা দেশগুলো সন্দেহ করছে, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। তারা এ ব্যাপারেও উদ্বিগ্ন যে কক্ষপথে কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন করতে ইরান যে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রপ্রযুক্তি ব্যবহার করছে, তা বোমা নিক্ষেপের কাজেও ব্যবহূত হতে পারে।

টানা ১৪ দিন আকাশে সৌরশক্তিচালিত বিমান

টানা দুই সপ্তাহ আকাশে উড়ল সৌরশক্তিচালিত মানববিহীন বিমান। গত শুক্রবার এটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের মরু এলাকায় একটি বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। সৌরশক্তিচালিত বিমানটি সেনাবাহিনীর নজরদারির কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর আগে কোনো মানবহীন বিমান এত দীর্ঘ সময় আকাশে বিচরণ করেনি বলে নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানের দাবি। এটি বিশ্ব রেকর্ড কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিরক্ষা-প্রযুক্তি-প্রতিষ্ঠান কাইনেটিকিউ জানায়, জেফির নামের এই বিমানটি ২২ দশমিক ৫ মিটার (৭৪ ফুট) দীর্ঘ। ওজন মাত্র ৫০ কিলোগ্রাম (১১০ পাউন্ড)। দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন সেনাদের ঘাঁটি ইউমা প্রুভিং গ্রাউন্ড থেকে এটি আকাশে ওড়ে।
লন্ডন থেকে নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র ক্লেয়ার স্কটার বলেন, ‘বিমানটি মোট ১৪ দিন ২১ মিনিট আকাশে ওড়ে। কোনো মানববিহীন বিমানের টানা আকাশে ওড়ার ক্ষেত্রে এটি বিশ্ব রেকর্ড কি না—এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে আমরা ওয়ার্ল্ড এয়ার স্পোর্টস ফেডারেশনের (এফএআই) কর্মকর্তাদের বক্তব্যের অপেক্ষায় আছি।’
ইউমা সান নামের স্থানীয় পত্রিকায় বলা হয়, বিমানটি প্রায় ৭০ হাজার ফুট উঁচুতে উঠেছিল।

পরমাণু অস্ত্র দিয়ে জবাব দেব শুরু করব পবিত্র যুদ্ধ

উত্তর কোরিয়া কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, প্রয়োজনে পরমাণু অস্ত্রের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার জবাব দেওয়া হবে। তারা দেশ দুটির বিরুদ্ধে যেকোনো সময় ‘পবিত্র যুদ্ধ’ শুরু করতে পারে বলেও ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এই হুঁশিয়ারির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এমন যুদ্ধংদেহী মন্তব্যের প্রতি তাদের কোনো আগ্রহ নেই। বরং তারা চায় উত্তর কোরিয়া আলোচনার পথে আসুক।
কমিউনিস্টশাসিত উত্তর কোরিয়া এর আগেও অনুরূপ ভাষায় হুমকি দিয়েছে। তবে এর পরও তাদের এ ঘোষণা অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করবে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী জাতীয় প্রতিরক্ষা কমিশন গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্র আর তার হাতের পুতুল দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার জনগণ ও সেনাবাহিনী প্রয়োজনে যেকোনো সময় পবিত্র যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া বিশেষ কৌশল হিসেবে যৌথ মহড়ার আয়োজন করেছে। উত্তর কোরিয়াকে দমিয়ে রাখাই তাদের আসল উদ্দেশ্য। আজ রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে ‘অসংযত’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়। উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সিতে (কেসিএনএ) এই বিবৃতি প্রচার করা হয়।
একই বার্তা সংস্থা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানায়, উত্তর কোরিয়ার ওপর নতুন মার্কিন অবরোধ ও যৌথ মহড়ার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। কিন্তু এই কঠোর জবাব ঠিক কী হবে হবে—তার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
উত্তর কোরিয়ার গতকালের এ হুঁশিয়ারির জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র পি জে ক্রাউলি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে গঠনমূলক উদ্যোগ আশা করে। পাশাপাশি এটাও আশা করে যে দেশটি উসকানিমূলক কথাবার্তা কমিয়ে দেবে।
গত শুক্রবার ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) বৈঠকে উত্তর কোরীয় প্রতিনিধিদলের মুখপাত্র রি তং ইলের হুঁশিয়ারির পরদিনই উত্তর কোরিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা কমিশনের বিবৃতিতে নতুন করে হুঁশিয়ারি দেওয়া হলো।
আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়ায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন, অন্য ২০টি রণতরী ও ডুবোজাহাজ, ১০০টি বিমান ও আট হাজার সেনা অংশ নেবে। উত্তর কোরিয়ার আশঙ্কা, এই মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করবে, যা শুধু উত্তর কোরিয়ার জন্য নয়, এশিয়ার এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের হুমকি।
চীনও যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়ার পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, মহড়াটি এ অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়াবে। যৌথ মহড়া পর্যবেক্ষণ করতে জাপান চার সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কয়েক মাসের মধ্যে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রোববারেরটি নিয়ে অন্তত ১০টি যৌথ সামরিক মহড়া চালাবে।
উল্লেখ্য, পীত সাগরে গত ২৬ মার্চ রহস্যজনকভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজ চেওনান ডুবে যায়। এতে ৪৬ জন নাবিকের মৃত্যু হয়। আন্তর্জাতিক একটি তদন্ত দলের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার টর্পেডোর আঘাত এজন্য দায়ী। এ ঘটনার পর থেকে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে উত্তর কোরিয়া বার বার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নিলেন জেনারেল ম্যাকক্রিস্টাল

জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাকক্রিস্টাল গত শুক্রবার মার্কিন সেনাবাহিনী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নিয়েছেন। ওয়াশিংটনে অবস্থিত ফোর্ট ম্যাকনেয়ারের ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনী এই সমরনায়ককে বিদায় জানায়। অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
বিদায় অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তৃতায় ম্যাকক্রিস্টাল বলেন, তিনি চাকরি থেকে অবসর নিলেও তাঁর অবদান সেনাবাহিনীতে সবসময় থাকবে। এটা কোনো দিন শেষ হবে না। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস বলেন, গর্ব ও দুঃখ নিয়ে আমরা আজ তাঁকে বিদায় জানাচ্ছি। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ এডমিরাল মাইক মুলেন তাঁর বক্তৃতায় বলেন, অত্যন্ত জটিল ও বিপজ্জনক সময়ে ম্যাকক্রিস্টাল দায়িত্ব পালন করেন।
ম্যাকক্রিস্টাল ছিলেন আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর প্রধান। মাসখানেক আগে রোলিং স্টোন পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে তিনি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে তাঁদের রোষানলে পড়েন। এরপর বারাক ওবামা তাঁকে আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর প্রধানের পদ থেকে বরখাস্ত করেন। পরে ম্যাকক্রিস্টাল সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন।

মেক্সিকোর গণকবরে ৩৮টি মৃতদেহ

মেক্সিকোর সেনারা একটি গণকবরের সন্ধান পেয়েছে। গণকবরটিতে ৩৮টি মৃতদেহ ছিল। মাদক নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাদের হত্যা করে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় নুয়েভো লিওন প্রদেশের এই কবরে মাটিচাপা দেওয়া হয় বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। মৃতদেহগুলো ৭০ মিটার দীর্ঘ ৪০ মিটার প্রশস্ত ও ২০ মিটার গভীর একটি গর্তে রাখা ছিল। মারাত্মকভাবে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় মৃতদেহগুলো তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, গণকবরটি আকারে একটি ফুটবল মাঠের সমান। মাদকচক্র নির্জন এই জায়গাটিতে প্রতিপক্ষের লোকজনকে ধরে এনে অত্যাচার চালাত এবং হত্যা করত। গত কয়েক সপ্তাহে এ প্রদেশে এ ধরনের আরও দুটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। নুয়েভো লিওন মাদক ব্যবসায়ীদের আখড়া হিসেবে পরিচিত এবং এখানে মাদক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রায়ই রক্তক্ষয়ী লড়াই হয়ে থাকে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গণকবরের কাছে তাঁরা জমাট বাঁধা প্রচুর রক্ত দেখতে পেয়েছেন। এ থেকে মনে হচ্ছে, হত্যার আগে ধরে আনা লোকজনকে মাদকচক্র অত্যাচার করত।

চীনে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে এক লাখ লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

চীনের ইয়াংজি নদীর আশপাশের বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। একটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকা থেকে এক লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার দেশটির সরকারি গণমাধ্যমে এসব কথা জানানো হয়।
টানা ভারী বর্ষণের কারণে জিয়ালিং নদীর পানি বেড়ে গেছে। এতে এক লাখ মানুষকে বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশের কর্তৃপক্ষ। গতকাল একটি প্রাদেশিক ওয়েবসাইটে এ কথা বলা হয়।
চীনা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে দেশ। বন্যায় কমপক্ষে এক হাজার ১০০ লোক মারা গেছে অথবা নিখোঁজ হয়েছে। বন্যায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বিপুল। বন্যার প্রভাব পড়েছে ১২ কোটি মানুষের ওপর।
সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, শাংজি প্রদেশে লুয়োফু নদীর পানি তীর উপচে হুয়াইন শহরে ঢুকে পড়েছে। এতে ছয় হাজার ৪০০ লোক বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
হুবেই প্রদেশে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে চীনা প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও বলেন, পরিস্থিতি ‘সংকটপূর্ণ পর্যায়ে’ রয়েছে। আরও ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য দেশজুড়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
হুবেইয়ের অন্যত্র বন্যায় একজন মারা গেছে। নিখোঁজ হয়েছে আরও পাঁচজন। তাইপিয়াংজি নামের একটি শহরে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় এক হাজার ২০০ মানুষ শহর ছেড়ে গেছে।

জার্মানিতে লাভ প্যারেডে পদদলিত হয়ে মৃত্যু ১৫

জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ডুইশবুর্গে গতকাল শনিবার ‘লাভ প্যারেডে’ যোগ দিতে যাওয়ার পথে একটি সুড়ঙ্গে পদদলিত হয়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক ব্যক্তি।
অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পুলিশ লোকজনকে লাভ প্যারেডে আসতে দিচ্ছে না। ডুইশবুর্গের পুলিশ কমিশনার জোয়ারজেন কিসকেম্পার জানান, লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার কারণে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে পড়েছে। আয়োজকেরা জানান, দিনব্যাপী লাভ প্যারেডে প্রায় ১৪ লাখ লোকের সমাগম হয়েছে। খবর বিবিসি ও এএফপির।
সুড়ঙ্গ পার হয়ে একটি পরিত্যক্ত রেলওয়ে ইয়ার্ড। এখানেই অনুষ্ঠিত হচ্ছিল উৎসব। কী কারণে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কিছু জানা যায়নি।
আরও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় স্থানীয় কর্মকর্তারা উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের ধীরে ধীরে ওই জায়গা থেকে সরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। সন্ধ্যার দিকেও উৎসবস্থলে বিপুলসংখ্যক লোক ছিল।
টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, কর্মকর্তারা লোকজনকে সরাতে ব্যস্ত।

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে নেপালের পার্লামেন্ট ফের ব্যর্থ

নেপালের পার্লামেন্ট দ্বিতীয় দফা চেষ্টায়ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ব্যর্থ হয়েছে। প্রার্থীদের কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় শুক্রবারের ভোটাভুটিও ভেস্তে গেছে। এর আগে গত মঙ্গলবারের ভোটে একই ফল হয়।
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে অচলাবস্থার কারণে দেশটির শান্তি-প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটাভুটিতে ৫৯৯ জন পার্লামেন্ট সদস্য অংশ নেন। কিন্তু দুই প্রার্থীর কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেননি। মাওবাদীদের মনোনীত প্রার্থী পুষ্পকমল দহল ওরফে প্রচণ্ড পেয়েছেন ২৪১ ভোট। আর নেপালি কংগ্রেসের রামচন্দ্র পৌদেল পেয়েছেন ১২৩ ভোট। বাকিরা হয় উভয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন অথবা ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন।
স্পিকার সুভাষ চন্দ্র নেমবাং বলেছেন, ‘উভয় প্রার্থীর কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেননি। আগামী ২ আগস্ট তৃতীয় দফায় পার্লামেন্টে ফের ভোট হবে।’
মাওবাদীরা বলেছে, পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে তাঁদেরই সরকারের নেতৃত্ব দেওয়া উচিত।
সরকারের বিরুদ্ধে ১০ বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে মাওবাদীরা ২০০৮ সালে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে সরাসরি অংশ নেয়। ওই বছর সাধারণ নির্বাচনে তাঁরা জয়লাভ করে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তাঁদের নেতা প্রচণ্ড। কিন্তু সাবেক মাওবাদী গেরিলাদের সেনাবাহিনীতে আত্তীকরণ নিয়ে বিতর্কের জের ধরে গত বছর তিনি পদত্যাগ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রশান্ত ঝা বলেন, ‘নেপালে এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে একটি কার্যকর সরকার দরকার। অর্থনীতি, শান্তি-প্রক্রিয়া ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে হাজারও কাজ পড়ে আছে। নেপালের রাজনীতিতে ইদানীং যা ঘটছে তা দেশের জন্য বিপজ্জনক।’

কলম্বিয়ার অভিযোগ সমর্থন করল যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম টানাপোড়নের মধ্যে কলম্বিয়ার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলেছে, কলম্বিয়া সরকার ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের আশ্রয় দেওয়ার যে অভিযোগ করেছে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গত শুক্রবার এ কথা বলা হয়েছে। তবে জাতিসংঘ ও লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে দুই দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, পররাষ্ট্র দপ্তরে ডিপ্লোম্যাসি-বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জুডিথ হেল দুই দেশের সম্পর্ক চাঙা করতে চার দিনের সফরে কলম্বিয়া যাচ্ছেন। আজ রোববার এ সফর শুরু হওয়ার কথা।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কলম্বিয়া যেসব অভিযোগ করেছে সেগুলো খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। এসব অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত করার জন্য কলম্বিয়া ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে ভেনেজুয়েলার। সন্ত্রাসীরা ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ড যাতে ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
ওয়াশিংটনে গত বৃহস্পতিবার অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটসের এক বৈঠকে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে বামপন্থী ফার্ক গেরিলাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উত্থাপন করে কলম্বিয়া। এ অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করা হয়।
গেরিলাদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক ভাষণ দেন। ভাষণে কলম্বিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেওয়া হয়। শাভেজ বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা গেরিলাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে—কলম্বিয়ার এ ঘোষণার পর দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ নেই।’
কলম্বিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে ভেনেজুয়েলা। আজ রোববারের মধ্যে কলম্বিয়ার সব কূটনীতিককে ভেনেজুয়েলা ছাড়তে বলা হয়েছে। শাভেজ ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীকে সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন ফের উত্তেজনা প্রশমনে উভয়পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান সম্ভব।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট সংকট সমাধানে আঞ্চলিক বৈঠকের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি কলম্বিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের চাটুকার বলে অভিহিত করেছেন।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কার্লোস মাটা বলেছেন, কলম্বিয়া হামলা চালালে তার উপযুক্ত জবাব দিতে তাঁর দেশের সেনাবাহিনী প্রস্তুত। অ্যাটর্নি জেনারেল লুইসা ওর্তেগা জানান, সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
দক্ষিণ আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক জরুরি বৈঠক ডেকেছে ভেনেজুয়েলা। ওই বৈঠকে ভেনেজুয়েলার স্বায়ত্তশাসনের ওপর কলম্বিয়া সরকারের আক্রমণের নিন্দা জানানো হতে পারে।

বলিভারের দেহাবশেষ উত্তোলন নিয়ে তুমুল বিতর্ক

ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার বীর সিমন বলিভারের দেহাবশেষ কবর থেকে তোলার ঘটনা তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সমালোচকেরা বলছেন, বৈজ্ঞানিক কারণে এই বীরের মরদেহ কবর থেকে তোলা হয়নি। এর পেছনে রয়েছে প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের খেয়াল।
গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার সরকার জাতীয় সমাধি ক্ষেত্র থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে বলিভারের দেহাবশেষ উত্তোলন করে। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়, দেহটির পরিচয়, মৃত্যুর সময়কাল আর মৃত্যুর কারণ সত্যিই যক্ষ্মারোগ ছিল কি না—এসব ব্যাপারে নিশ্চিত হতে দেহাবশেষ তোলা হয়েছে।
শাভেজের সন্দেহ, যক্ষ্মায় ভুগে নয়, বিষক্রিয়ায় বলিভার মারা যান। বলিভারের দারুণ ভক্ত শাভেজ। তাঁর বামপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনের নামও তিনি দিয়েছেন এই বীরের নামে। উনিশ শতকে স্পেনের দখল থেকে দক্ষিণ আমেরিকার বেশির ভাগ এলাকা মুক্ত করতে তিনি অসামান্য অবদান রাখেন। বলিভারের মৃত্যুর কারণ নিয়ে শাভেজ কয়েক বছর ধরেই চিন্তা করছেন বলে জানান। শাভেজ বলেন, ‘আমি যখন ক্যাডেট ছিলাম, তাঁর পাথরের সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করতাম, “ভেতরে কে, বলিভারই তো?”—এ নিয়ে আমার সন্দেহ ছিল।’
ভেনেজুয়েলার বিশিষ্ট চিকিৎসক ব্লাস ব্রুনি সেলি গবেষণা করেছেন বলিভারের মৃত্যু নিয়ে। এই বীরের মৃত্যুর কারণ নিয়ে তাঁর কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, যক্ষ্মাই যে বলিভারের মৃত্যুর কারণ, এ ব্যাপারে অকাট্য তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। ১৮৩০ সালে বলিভারের চিকিৎসক আলেজান্দ্রো রেভারেন্ড তাঁর মরদেহের ময়নাতদন্ত করে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছিলেন।

দাওয়াত পাওয়া না পাওয়া নিয়ে চলছে মান-অভিমানের পালা

চেলসি ক্লিনটন ও তাঁর হবু বর মার্ক মেজভিনস্কি
বলা হচ্ছে, মার্কিন মুলুকের এ শতাব্দীর সবচেয়ে আলোচিত বিয়ে হতে যাচ্ছে এটি। এক সপ্তাহও বাকি নেই সেই বিয়ের। হ্যাঁ, ৩১ জুলাই বিয়ে হচ্ছে ক্লিনটন দম্পতির একমাত্র মেয়ে ছোটবেলার ‘কুচ্ছিত হাঁসের ছানা’ থেকে সুন্দরী নারী হয়ে ওঠা চেলসির।
সিয়াটল থেকে মিয়ামি, নিউইয়র্ক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস—সব জায়গায় এখন এই বিয়ে নিয়ে আলোচনা।
বিয়েবাড়িতে কেমন সাজসজ্জা হবে, কী পরিমাণ উপহারসামগ্রী আসতে পারে, সেসব আলোচনা তো আছেই। তবে এখন সবকিছু ছাপিয়ে উঠেছে বিয়েতে কে কে দাওয়াত পাচ্ছেন সেই আলোচনা।
খুব সাম্প্রতিক সময়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট বলে বিল ক্লিনটনের মেয়ের বিয়েতে দাওয়াত পাওয়ার আশা করতে পারেন অনেকেই। কিন্তু বিল ক্লিনটন ও তাঁর স্ত্রী বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটনের আত্মীয়স্বজন ছাড়াও বন্ধু, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীর তো ইয়ত্তা নেই। কাজেই সবাইকে নিমন্ত্রণ করা সম্ভবও নয়। এটা বুঝেই এখন পর্যন্ত দাওয়াত না পাওয়া অনেকেই আশা ছেড়ে দিয়ে নাকি হতাশ হয়ে পড়েছেন। হতাশার সঙ্গে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
বিল ক্লিনটনের ঘনিষ্ঠ এক ধনী বন্ধু নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ‘পুরো দেশ চষে বেড়ানোর জন্য বিলকে নিজের উড়োজাহাজ ধার দিয়েছি, অথচ সেই বন্ধুর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ পাওয়ার যোগ্যতা হলো না।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক হ্যানক শেইনকপফ ১৯৯৬ সালে বিল ক্লিনটনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচনের সময় প্রচার সহযোগী ছিলেন। ৩০ বছর একসঙ্গে রাজনীতি করেছেন। অথচ আমন্ত্রণ পাননি। দুঃখ করে তিনি বলেছেন, ‘ক্ষমতাবান লোকজনকে ঘনিষ্ঠ ভাবা খুবই বিপজ্জনক। অনেক সময়ই এ ঘনিষ্ঠতা সত্য নয়।’
তবে শেইনকপফ এ-ও বলেন, ‘ক্লিনটন দম্পতি তাঁদের মেয়ের গোপনীয়তা রক্ষায় সব সময়ই সচেষ্ট ছিলেন। তাই যাঁরা এ বিয়েকে কেন্দ্র করে সাবেক প্রেসিডেন্টের সাহচর্য পেতে চান, তাঁদের জন্য কোনো লাভ হবে না।’
ধনকুবের জন কেটসিমেটিডিস ক্লিনটন দম্পতির নির্বাচনী প্রচারণায় লাখ লাখ ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছেন। নিমন্ত্রণ না পেয়ে তিনি বলেছেন, ‘বিয়ের আর মাত্র সপ্তাহ খানেক বাকি। এখনো আমন্ত্রণপত্র পৌঁছায়নি। ফলে ধরেই নেওয়া যায়, আমি আমন্ত্রিতদের মধ্যে নেই।’
বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য লবিংও শুরু হয়েছে। কেননা, চেলসির বিয়েতে থেকে ক্লিনটন দম্পতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা প্রমাণ করা অনেকের কাছেই মুখরক্ষার চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমন্ত্রণ না পেয়ে কেউ কেউ অবশ্য রাজনৈতিক কায়দায় মন্তব্য করছেন, ‘বিয়েটা পারিবারিকভাবেই হচ্ছে।’ জন কেটসিমেটিডিস তাঁদেরই একজন। তিনি বলেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ নয়। এমনকি কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানও নয়।’
নিউইয়র্ক সিটির অদূরে রাইনব্যাক এলাকায় আগামী শনিবার হবে বহুল আলোচিত এ বিয়ে। ইহুদি বন্ধু মার্ক মেজভিনস্কিকে (৩২) বিয়ে করছেন চেলসি (৩০)। বিয়ের অনুষ্ঠানটি হচ্ছে খুবই নিয়ন্ত্রিত ও পারিবারিকভাবে। দেশ-বিদেশের মাত্র ৪০০ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাঁদের বেশির ভাগই বর-কনের নিকটাত্মীয় ও ঘনিষ্ঠজন।

বিএসইসির ৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭টি মুনাফার মুখ দেখেছে

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল সংস্থা (বিএসইসি) সদ্যসমাপ্ত ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৭১ কোটি ৪০ লাখ টাকা মুনাফা করেছে, যা আগের ২০০৮-০৯ অর্থবছরের চেয়ে ১১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে ২০০৯-১০ অর্থবছরে বিএসইসি সরকারি কোষাগারে ৩৩৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছে, যা ২০০৮-০৯ অর্থবছরের তুলনায় ১৯ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি।
বর্তমানে বিএসইসির অধীনে মোট নয়টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠান মুনাফা করেছে। কেবল দুটি প্রতিষ্ঠান লোকসান দিয়েছে।
আলোচ্য অর্থবছর এটলাস বাংলাদেশ, ন্যাশনাল টিউবস লিমিটেড, ইস্টার্ন কেব্ল লিমিটেড, ইস্টার্ন টিউবস লিমিটেড, গাজী ওয়্যারস লিমিটেড, চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেড ও প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড মুনাফা করেছে। তবে জেনারেল ইলেকট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড ও বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি লিমিটেড লোকসান দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরের বিএসইসির অধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এটলাস ৩২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, ন্যাশনাল টিউবস ছয় কোটি ১৪ লাখ টাকা, ইস্টার্ন কেব্ল দুই কোটি আট লাখ টাকা, ইস্টার্ন টিউবস ১৬ লাখ টাকা, গাজী ওয়্যারস ১১ লাখ টাকা, চিটাগাং ড্রাইডক আট কোটি ৩৭ লাখ টাকা ও প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ ২৫ কোটি পাঁচ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। তবে জেনারেল ইলেকট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি দুই কোটি ৯০ লাখ টাকা ও বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি ২৫ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে।
অন্যদিকে ২০০৯-১০ অর্থবছরে এটলাস ২১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা, ন্যাশনাল টিউবস ১০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, ইস্টার্ন কেব্ল ছয় কোটি ৩৩ লাখ টাকা, ইস্টার্ন টিউবস ৮৩ লাখ টাকা, গাজী ওয়্যারস ছয় কোটি ২৬ লাখ টাকা, চিটাগাং ড্রাইডক এক কোটি ১৯ লাখ টাকা, প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ ৮৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, জেনারেল ইলেকট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি সাত কোটি ৫৩ লাখ টাকা ও বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি ৮৯ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে রাজস্ব হিসেবে জমা দিয়েছে।
এদিকে বিএসইসির আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে সহযোগী সংস্থা প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বাংলাদেশেই জাপানের বিলাসবহুল পাজেরো স্পোর্টস জিপ গাড়ি সংযোজন করে বাজারে ছাড়বে।
এ বিষয়ে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজকে ক্রমান্বয়ে গাড়ি তৈরি কারখানায় রূপান্তর করার প্রয়াস অব্যাহত রাখা হয়েছে। এ জন্য দেশে পশ্চাদমুখী সংযোগ শিল্প গড়ে তোলার উৎসাহী উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি না করে দেশে তৈরি করা হলে উৎপাদিত গাড়ি দামে প্রতিযোগী হবে, যা দেশীয়ভাবে তৈরি গাড়িটির বাজার বাড়াতে সহায়তা করবে।

ব্রোকারেজ হাউস থেকে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া যাবে

শেয়ারে বিনিয়োগের জন্য একজন বিনিয়োগকারী ব্রোকারেজ হাউস থেকেও সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা ঋণ নিতে পারবেন। এর আগে ব্রোকারেজ হাউস থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা ঋণ নিতে পারার সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল।
মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে একজন বিনিয়োগকারী ১০ কোটি টাকার বেশি ঋণসুবিধা পাবেন না। এ ছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের পরিচালক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণসুবিধা নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে কেউ এ ধরনের ঋণসুবিধা নিয়ে থাকলে তাঁকে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে তা সমন্বয় করার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) বাজার পর্যালোচনা কমিটি আজ রোববার এ কথা জানায়।

আবার মাঠের বাইরে মালিঙ্গা

৩১ মাস পর মাঠে ফিরেই গল টেস্টের ম্যান অব দ্য ম্যাচ হলেন ক্যারিয়ার-সেরা বোলিং-ব্যাটিং করে। কিন্তু দুর্ভাগ্য লাসিথ মালিঙ্গার, ওই এক টেস্ট খেলেই হাঁটুর সমস্যায় বিশ্রামে যেতে হলো তাঁকে। ভারতের বিপক্ষে আগামীকাল শুরু কলম্বো টেস্টের দলে তাঁর জায়গায় নেওয়া হয়েছে দিলহারা ফার্নান্দোকে। এ ছাড়া দলে ফিরেছেন স্পিনার অজন্তা মেন্ডিসও।
শ্রীলঙ্কার প্রধান নির্বাচক অরবিন্দ ডি সিলভা জানিয়েছেন, দলের ফিজিও টমি সিমসেকের পরামর্শ মেনেই এক টেস্টের জন্য মাঠের বাইরে রাখা হচ্ছে মালিঙ্গাকে। তাঁর ব্যাপারে ঝুঁকি নেওয়া যাবে না, কারণ এই ডান হাঁটুর ইনজুরির কারণেই এত দিন মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। তবে ডি সিলভা আশাবাদী, ৩ আগস্ট থেকে শুরু সিরিজের তৃতীয় টেস্টে পাওয়া যাবে মালিঙ্গাকে।মুত্তিয়া মুরালিধরনের অবসরের পর শ্রীলঙ্কার সহ-অধিনায়কের পদটিও ফাঁকা। দ্বিতীয় টেস্টে কুমার সাঙ্গাকারার ডেপুটি হিসেবে থাকবেন সাবেক অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে।

সাঙ্গাকারা চান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ

আইসিসি টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে এখন ভারত, ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়া। তথ্যগুলো হয়তো আপনার জানাই। তবে নিশ্চিত করেই বলা যায়, আইসিসির র‌্যাঙ্কিংয়ে কীভাবে একটা দল ওপরে উঠে আসে বা নিচে নামে, সেটা অনেকেরই অজানা। র‌্যাঙ্কিং নিয়ে কুমার সাঙ্গাকারার প্রশ্নটাও এখানেই—আমজনতাই যদি র‌্যাঙ্কিং পদ্ধতিটা ঠিকভাবে না বোঝে, তো সেটা আবার কিসের র‌্যাঙ্কিং!
‘র‌্যাঙ্কিং যদি জনগণ, খেলোয়াড় অথবা ক্রিকেট কর্মকর্তারাই না বোঝেন, তো সেটার দরকার কি? আপনি যদি র‌্যাঙ্কিং চানই, তাহলে সেটা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেলেই নির্ধারিত হওয়া উচিত’—মন্তব্য শ্রীলঙ্কান অধিনায়কের।
যে র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৯৯৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কায় কোনো টেস্ট সিরিজ না জিতেও ভারত শীর্ষে চলে যায়, সেটার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাঙ্গাকারা, ‘র‌্যাঙ্কিং ন্যায়সংগতভাবে হওয়া উচিত। সঠিক র‌্যাঙ্কিংয়ের প্রথম ধাপ হলো একটা সুসমন্বিত ভবিষ্যৎ সফর পরিকল্পনা, যাতে প্রতি দুই বছরে প্রতিটি দল পরস্পরের সঙ্গে নিজেদের মাঠে অথবা বাইরে অন্তত একবার করে খেলবে। টেস্ট ক্রিকেটের র‌্যাঙ্কিংটা তখনই সঠিকভাবে হবে।’ গত বছর শ্রীলঙ্কাও ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা বা অস্ট্রেলিয়ায় কোনো টেস্ট সিরিজ না জিতে দুই নম্বরে উঠে এসেছিল। পরে ভারতের মাটিতে ভারতের কাছে হেরে নিচে নেমে এসেছিল তারা। সাঙ্গাকারা বলছেন, ‘দেশের বাইরে আমরা খুব বেশি টেস্ট খেলেছি বলে মনে হয় না। এখানে দুটি টেস্ট ম্যাচ তো ওখানে দুটি...এটা আসলে ঠিক নয়। আমাদের নিয়মিতই টেস্ট খেলতে হবে।’

পেশাদার লিগে শেখ জামাল

দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলের দল ধানমন্ডি ক্লাব ঢুকে গেল বাংলাদেশের পেশাদার ফুটবলে। আসন্ন বাংলাদেশ লিগে খেলার অনুমতি পেয়ে গেছে দলটি। তবে ধানমন্ডি ক্লাব এই লিগে খেলতে চায় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব নাম নিয়ে। সেভাবেই তারা আবেদন করেছে।
বাংলাদেশ লিগ কমিটির কাল রাতের সভা শেষে জানানো হয়েছে, তিনটি দলের আবেদন ছিল লিগে খেলার জন্য। তার মধ্যে শেখ জামালের আবেদনই গ্রহণযোগ্য মনে করেছেন কর্মকর্তারা। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আল মুসাব্বির সাদীর কথা, ‘শেখ জামাল, উত্তর বারিধারা এবং বাংলাদেশ বয়েজ ক্লাব আবেদন করেছিল। কিন্তু সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সর্বসম্মতভাবে শেখ জামালের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।’ এর মধ্যে উত্তর বারিধারা প্রথম বিভাগের দল। বাফুফের বক্তব্য, আমন্ত্রণ ছিল উন্মুক্ত। দলগুলোকে প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ বলে ভাগ করা হয়নি। পেশাদার লিগে খেলার যোগ্যতা কী, এটি এখনো ঠিক হয়নি। অন্য সব দেশেই পেশাদার লিগে দ্বিতীয় স্তর থাকে। বাংলাদেশে সেটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঠের অভাবকে কারণ দেখিয়ে বাতিল করা হয়েছে অঙ্কুরেই।
বাংলাদেশ লিগ কমিটির আট সদস্যের চারজন ছিলেন এই সভায়। ছিলেন না সভাপতি সালাম মুর্শেদি। কো-চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ, সদস্য হারুনুর রশিদ, আনোয়ারুল হক হেলাল ও আবু হাসান বসেই সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেন।
কিছুদিন ধরেই পেশাদার ফুটবল লিগে শেখ জামাল ক্লাবের আগমনী শোনা যাচ্ছিল। বাজারে খবর আছে, তারা নাকি প্রথম সারির খেলোয়াড়দের নিয়ে দলও গঠন করে ফেলেছে। কিন্তু দ্বিতীয় বিভাগের একটি দল কীভাবে সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ লিগে সুযোগ পায়, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। লিগ কমিটির সিদ্ধান্ত জানার আগেই মোহামেডান ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কাউকে পেশাদার লিগে সুযোগ দিলে তারা এবার লিগেই খেলবে না।
লিগ কবে শুরু হবে, সেটি ঠিক হয়নি। ঠিক হয়নি ঘরোয়া মৌসুম শুরুর দিনক্ষণও। দলবদল ১-২০ সেপ্টেম্বর। ১-১৫ অক্টোবর বিদেশি খেলোয়াড় নিবন্ধন। জানানো হয়েছে, ১-১৫ অক্টোবরের মধ্যে যেকোনো দিন খেলা শুরু হতে পারে। অবনমিত হবে দুটি দল। তবে মৌসুমটা কোন টুর্নামেন্ট দিয়ে শুরু হবে, সেটি ঠিক হয়নি। এটা ঠিক হতে নাকি সময় লাগবে আরও!

উস্টারশায়ারের সাকিব

সাকিব
স্টারশায়ারে যাওয়ার আগে দলটির মাত্র দুজন ক্রিকেটারকেই চিনতেন সাকিব আল হাসান। বিক্রম সোলাঙ্কির নাম আগেই শুনেছেন। এবার স্কটল্যান্ডে খেলতে গিয়ে পরিচয় হয়েছে ডাচ খেলোয়াড় অ্যালেক্সি কারভেজির সঙ্গে। পুরো দলের সঙ্গে ঠিকভাবে পরিচয়ের আগেই সাকিব উস্টারশায়ারের হয়ে গেছেন। উস্টারশায়ারও হয়ে গেছে সাকিবের।
হ্যাঁ, কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ডিভিশন টু-এর প্রথম ম্যাচেই উস্টারশায়ার সাকিবের দল হয়ে গেছে। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে করেছেন ৮২ বলে ৯০ রান, বল হাতে ৩৭.৫ ওভারে ৯৪ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। মাঠের এই পারফরম্যান্স তো আছেই, স্থানীয় উস্টার নিউজ পত্রিকাকেও বাংলাদেশ সহ-অধিনায়ক বলেছেন, ‘দলের সবাই আমাকে সাহায্য করছে। স্কটল্যান্ডের ম্যাচ শেষে এলেক্সির সঙ্গে আমি ডার্বিতে এসেছি। আগে এলেক্সি ছাড়া কেবল দলের অধিনায়ক সোলাঙ্কিকেই ভালোভাবে চিনতাম। আমি নিশ্চিত, খুব দ্রুতই এখানে মানিয়ে নেব।’
আরও অনেক কিছুর মতোই সাকিব ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটেও প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার। ওয়ানডেতে বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার যেটিকে শুরু থেকেই বলে আসছেন ‘অনেক বড় সম্মান’, বলছেন এখনো। তবে সাকিব এখন আর শুধু কাউন্টি খেলার রোমাঞ্চেই ডুবে নেই, মঞ্চটাকে দেশের ক্রিকেট আর ক্রিকেটারদের তুলে ধরার জায়গা হিসেবেও নিয়েছেন বেছে, ‘ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে খেলাটা আমার জন্য বিরাট সম্মানের ব্যাপার। আমি দেখাতে চাই, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও এখানে খেলার যোগ্য।’
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বড় দুর্বলতা গতিময়-বাউন্সি উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারা। ইংলিশ কাউন্টিতে নিয়মিত খেলার অভ্যাসটাই পারে এই দুর্বলতা কাটিয়ে তুলতে। সাকিবের বিশ্বাস, উস্টারশায়ারে খেলার সুযোগ খেলোয়াড় হিসেবে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে তাঁকে, ‘এখানে খেলাটা আমাকে নিজের খেলার মান আরও ভালো করতে সাহায্য করবে। ভিন্ন ধরনের কন্ডিশনে খেললে খেলাতে উন্নতি আসবেই।’
কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার স্বপ্ন সব ক্রিকেটারেরই থাকে। সাকিবেরও ছিল এবং তাঁর স্বপ্নটা অঙ্কুরিত হয়েছে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের কাউন্টি সাফল্য দেখেই, ‘ওয়াসিম আকরামের মতো পাকিস্তানি কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের কাউন্টিতে খেলতে দেখেছি। তখন থেকে আমিও চেয়েছি, একদিন কাউন্টিতে খেলব।’
সাকিবের সে স্বপ্ন এখন বাস্তব। এবং এতটাই যে, উস্টারশায়ারের ড্রেসিংরুমে বাংলাদেশের এই ক্রিকেটার এখন আর একজন আগন্তুকমাত্র নন। কাউন্টিতে দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে উস্টারশায়ারের সাকিব অভিষেক ম্যাচেই বড় বিজ্ঞাপন করে দিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের। তাঁর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে হয়তো কাউন্টির দরজাটা খুলে যাবে বাংলাদেশের আরও অনেক ক্রিকেটারের জন্যই।