Tuesday, March 15, 2011

লিবিয়ায় নো ফ্লাই জোন আরোপে এবার আরব লিগের আহ্বান

বেসামরিক লোকজনকে গাদ্দাফি বাহিনীর বেপরোয়া বিমান হামলা থেকে রক্ষার জন্য আরব লিগ লিবিয়ায় নো ফ্লাই জোন আরোপের আহ্বান জানিয়েছে। শনিবার মিসরের রাজধানী কায়রোয় সংস্থাটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক জরুরি বৈঠকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি ওই আহ্বান জানানো হয়। এদিকে সরকারি সেনারা বিদ্রোহীদের কাছ থেকে জাবিয়া ও রাস লানুফ দখল করে নেওয়ার পর এখন দেশটির পূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বিদ্রোহীনিয়ন্ত্রিত কয়েকটি এলাকা সরকারি সেনারা পুনর্দখল করে নেওয়ার পর লিবিয়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য কায়রোয় আরব লিগের কার্যালয়ে সংস্থাটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গত শনিবার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠক শেষে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক বিবৃিতিতে বলা হয়, লিবিয়ার জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য তারা সেখানে নো ফ্লাই জোন আরোপের আহ্বান জানাচ্ছে। লিবিয়ার আকাশসীমায় নো ফ্লাই জোন আরোপের দায়িত্বটি নিতে হবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকেই।
বিবৃতিতে লিবিয়ার বেনগাজিতে বিদ্রোহীদের ট্রানজিশনাল ন্যাশনাল কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করার কথাও উল্লেখ করা হয়। বেনগাজিতে বিদ্রোহীরা ট্রানজিশনাল ন্যাশনাল কাউন্সিল গঠন করে বিকল্প সরকারব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
বৈঠকের পর আরব লিগের মহাসচিব আমর মুসা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিমান হামলা থেকে লিবিয়ার জনগণকে রক্ষার জন্য মানবিক দিক বিবেচনা করে তাঁরা ওই আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু এর অর্থ এই নয়, তাঁরা লিবিয়ায় বিদেশি বাহিনীকে হামলা চালানোর লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছেন।
আলজেরিয়া ও সিরিয়া ছাড়া সব আরব দেশই আরব লিগের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ছয়টি আরব দেশের সংগঠন গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলও নো ফ্লাই জোন আরোপের প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র আরব লিগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এর ফলে কর্নেল গাদ্দাফির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরালো হবে। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় লিবিয়া প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ। তাদের পরিষ্কার বক্তব্য, লিবিয়ায় সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। গাদ্দাফি সরকারকে বিদায় নিতে হবে।
এদিকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ট্যাংক-কামানের ছত্রচ্ছায়ায় গাদ্দাফির অনুগত সেনারা এখন বিদ্রোহীনিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তারা শুক্রবার বিদ্রোহীদের কাছ থেকে জাবিয়া দখল করে নেয়। পরদিন শনিবার তেলসমৃদ্ধ রাস-লানুফের ওপর তারা পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। সুপ্রশিক্ষিত ও আধুনিক অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত সেনারা এখন মিসরাতে নতুন করে হামলা শুরু করেছে। এখানকার একজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, শুধু বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। সবাই বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে। দোকানপাট বন্ধ। বিদ্রোহীরা যে যার মতো অবস্থান নিয়ে আছে। সেনারা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে উজালা ও ব্রিগা শহরেও।
জাবিয়া থেকে একজন বিদ্রোহী জানান, তাঁরা এখন রীতিমতো গণহত্যার শিকার। তাঁর ধারণা, ‘মিসরাতের পতন হলে সেখানেও একই অবস্থার সৃষ্টি হবে। গাদ্দাফি বাহিনীকে প্রতিরোধ করার মতো ক্ষমতা আমাদের নেই। তাদের ট্যাংক আছে, আছে ভারী অস্ত্র। কিন্তু আমাদের আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ও ভরসা রাখা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।’
এদিকে বেনগাজিতে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের গুলিতে আল-জাজিরার এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম আল-জাবের (৫৬)।

জাপানে খাদ্য, পানি ও বিদ্যুৎ বিহীন লাখ লাখ মানুষ

জাপানে ভয়াবহ ও সুনামির পর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও গতকাল পর্যন্ত নিখোঁজ ছিল হাজার হাজার মানুষ। আশঙ্কা করা হচ্ছে হতাহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আটকে পড়া লোকজন এবং লাশ উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকর্মীরা। তবে যোগাযোগব্যাবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়ায় পীড়িত লোকজনের কাছে পৌঁছাতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের। এই অবস্থায় খাবার, পানি ও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে উপকূলীয় এলাকার লাখ লাখ মানুষ।
জাপানের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৭০০। তবে এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মৎস্য বন্দর মিনামিসানরিকুর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানকার মোট ১৭ হাজার বাসিন্দার মধ্যে ১০ হাজার মানুষকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শুক্রবারের সুনামি ওই বন্দরের প্রায় ছয় কিলোমিটার ভূভাগ পর্যন্ত ধুয়ে নিয়ে যায়।
আকাশ থেকে তোলা ছবিতে দেখা যায়, ভূমিকম্প ও সুনামিতে মিনামিসানরিকুর বাড়িঘর মাটির সমান হয়ে গেছে এবং ভগ্নাবশেষের ওপর ঘন কাদার স্তর জমে আছে।
সেন্দাই শহরসহ হনসু দ্বীপের উত্তর-পূর্ব উপকূল বরাবর বাস করে ১০ লাখের বেশি মানুষ। গতকাল দেখা যায় মিনামিসোমার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও নাতোরি শহরের একটি ব্যায়ামাগারকে অস্থায়ী শবাগার বানিয়ে সেখানে রাখা হয়েছে শত শত লাশ। অনেক মানুষকে চিরতরে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সুনামি, অনেকের খোঁজ হয়তো আর কখনো পাওয়া যাবে না।
দুর্যোগের পর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও খাদ্য ও জ্বালানি জোগাড় করতে না পেরে ইওয়াকি শহর থেকে লোকজন অন্যত্র চলে যাচ্ছে। ওই শহরে দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই, একটি দোকানও খোলেনি। সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সাহায্যও গতকাল পর্যন্ত সেখানে পৌঁছায়নি।
বন্দরনগর সেন্দাইয়ের পাশের তাগাজো শহরের একটি হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছে আহত অনেক মানুষ। কিন্তু ওই হাসপাতালেও পানি ও বিদ্যুৎ নেই। হাসপাতালের কর্মকর্তা ইকুরো মাতসুমোতো বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত পানি ও বিদ্যুতের কোনো ব্যবস্থা হয়নি। গুরুতর অসুস্থ অনেক মানুষ এখানে আছে।’
মাসাহি ইমাই নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘গত দুই দিনে আমি এক টুকরা রুটি ও একটি মোয়া ছাড়া আর কিছুই পাইনি।’
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি রিকুজেন্তাকাতা শহরের আট হাজার বাড়ির মধ্যে পাঁচ হাজার বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। উদ্ধারকারী সেনাবাহিনী গতকাল জানায়, সেখানে প্রায় ৪০০ লাশ পাওয়া গেছে।
নিখোঁজ হওয়া চারটি ট্রেনের মধ্যে গতকাল একটির খোঁজ পাওয়া গেছে শিনচি এলাকায়। ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পড়ে আছে কাদার মধ্যে। ট্রেনটিতে কতজন যাত্রী ছিল এবং তাদের কতজন রক্ষা পেয়েছে, তা জানা যায়নি। অপর তিনটি ট্রেনের কোনো হদিস গতকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এদিকে আটকে পড়া লোকজন এবং নিহত ব্যক্তিদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চলছে। বিমান, নৌ ও স্থলপথে লোকজনকে উদ্ধার করা হচ্ছে, পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে জরুরি খাবার ও পানি। উদ্ধারকর্মীর সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ করা হয়েছে। শত শত বিমান ও জাহাজসহ স্থল ও নৌযান দিয়ে উদ্ধারকাজ চলছে। তবে বিদ্যুৎ ও টেলিফোন লাইন অচল থাকায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের মধ্যে গতকালও প্রায় ৫৬ লাখ বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না এবং পানি ছিল না ১০ লক্ষাধিক বাড়িতে। এতে স্বাস্থ্যগত সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কাও করা হচ্ছে।
এ ছাড়া পুরো এলাকা কাদাপানিতে ভরে থাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। কাদার কারণে রাস্তায় যানবাহন এবং ট্রেন চলাচলব্যবস্থা চালু করা যাচ্ছে না। এর পরও সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। আটকে পড়া হাজার হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে হেলিকপ্টারে করে। যেসব বাড়িঘরে আগুন জ্বলছে তা নেভানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
অনেক এলাকার টেলিফোনব্যবস্থা বিকল থাকায় মানুষ তাদের প্রিয়জনকে খুঁজে ফিরে হয়রান হয়ে যাচ্ছে। না পেরে অনেকে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল এবং রেডিও স্টেশনে ফোন করে প্রিয়জনের উদ্দেশে বার্তা দিচ্ছেন।

কিউবায় মার্কিন নাগরিকের ১৫ বছরের দণ্ড

রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অপরাধে কিউবার একটি আদালত মার্কিন সাহায্যকর্মী অ্যালেন গ্রসকে (৬১) ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
কিউবার ওই আদালত ৫ মার্চ অ্যালেন গ্রসকে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে আদালত তখন তাঁর শাস্তি ঘোষণা করেননি। আইনজীবীরা আদালতের কাছে গ্রসের ২০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন।
কিউবার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, মার্কিন সরকারের অর্থায়নে গ্রস দেশটিতে ইন্টারনেটের অবৈধ সংযোগ স্থাপন করছিলেন।
২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে কিউবা সরকার গ্রসকে গ্রেপ্তার করে। মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির অর্থায়নে কিউবায় গণতন্ত্র উন্নয়ন প্রকল্পে গ্রস কাজ করছিলেন।
গ্রসের স্ত্রী জুডি মানবিক কারণে তাঁর স্বামীকে মুক্তি দিতে কিউবার কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। গ্রস কারাগারে নানা ধরনের রোগে ভুগছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে মার্কিন সরকার সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, গ্রসের মুক্তির আগে কিউবার সঙ্গে আর কোনো সম্পর্কোন্নয়ন নয়।

পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণে ইসরায়েলের অনুমতি

ইসরায়েল গতকাল রোববার ঘোষণা করেছে, তারা অধিকৃত পশ্চিম তীরে কয়েক শ বসতি স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে। তারা ইহুদি বসতিকারীদের জন্য এই বসতি নির্মাণ করবে। গত শুক্রবার এক ইহুদি পরিবারের পাঁচ সদস্যকে ছুরিকাঘাতে হত্যার এক দিন পর ইসরায়েল এ ঘোষণা দিল।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা ইসরায়েলি বসতি ব্লকে আরও কয়েক শ অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে। তারা গুশ ইতজিয়ন, মালে আদুমিম, আরিয়েল ও কিরিয়াত সেফার ইউনিটে এই বসতিগুলো নির্মাণ করবে। গত শনিবার রাতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং গতকাল তা প্রকাশ করা হয়।
এ ব্যাপারে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রদাইনাহ বলেন, এটি ইসরায়েলের ভুল সিদ্ধান্ত ও অসমর্থনযোগ্য। এই সিদ্ধান্ত শুধু সমস্যার সৃষ্টি করবে।
এদিকে গত শুক্রবার এক ফিলিস্তিনির ছুরিকাঘাতে এক ইসরায়েলি পরিবারের যে পাঁচজন নিহত হয়, তাদের মধ্যে ১১ বছর, চার বছর ও তিন মাসের শিশুসহ তাদের বাবা-মা রয়েছেন। গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। তবে এ ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন ইসরায়েল নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু করতে চাইছে।
সন্দেহ করা হচ্ছে, এ ঘটনার সঙ্গে ফিলিস্তিনের জঙ্গিরা জড়িত। তবে এখন পর্যন্ত কেউ এ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। কিন্তু হামাস জঙ্গিরা বলছে, এ ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে হামাসের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।

বায়ু চলাচল পর্যবেক্ষণ করছে প্রতিবেশী দেশগুলো

জাপানে পারমাণবিক স্থাপনায় বিস্ফোরণের ঘটনায় তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় গুরুত্বের সঙ্গে বায়ু চলাচল পর্যবেক্ষণ করছে দেশটির প্রতিবেশীরা।
গত শুক্রবার দেশটিতে স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং ভূমিকম্প-পরবর্তী সুনামিতে উত্তর-পূর্ব উপকূলের ফুকুশিমায় অবস্থিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি চুল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণের পর তেজস্ক্রিয়তার ক্ষতিকর প্রভাব কোন এলাকায় পড়বে, তার অনেকটা নির্ভর করবে ওই কেন্দ্র থেকে বায়ু কোন দিকে প্রবাহিত হচ্ছে তার ওপর।
গতকাল রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার সেফটির নিরাপত্তা বিশ্লেষক লি ডার্ক-হান বলেন, ‘বর্তমানে বাতাস পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জাপানের পারমাণবিক দুর্ঘটনার তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব এখনো দেখা যায়নি। তবে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন হলে আমাদেরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রদেশ লিয়াওনিংয়ের কর্মকর্তারা বাতাসে সম্ভাব্য তেজস্ক্রিয় পদার্থ রয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ শুরু করেছেন। তবে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি।
পরমাণু-বিষয়ক এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, প্রদেশটি এখনো আক্রান্ত হয়নি।

মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনায় জার্মানিতে বিক্ষোভ

পারমাণবিক চুল্লির সময়কাল বাড়ানোর সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে জার্মানিতে গতকাল রোববার হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। এর অংশ হিসেবে সু্বটগার্টে বিক্ষোভকারীরা ৪৫ কিলোমিটার (২৭ মাইল) দীর্ঘ মানববন্ধনে অংশ নেয়।
আয়োজকেরা জানান, জাপানে সাম্প্রতিক ভূমিকম্প ও সুনামির ফলে পারমাণবিক চুল্লিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা প্রমাণ করেছে, এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রযুক্তি। চলতি বছর জার্মানিতে অনুষ্ঠেয় আঞ্চলিক নির্বাচনে অন্যতম বিষয় হয়ে দাঁড়াবে পরমাণুনীতি।
আয়োজকেরা মানববন্ধনে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ অংশ নেওয়ার কথা বললেও পুলিশ বলছে কয়েক হাজার।
বিক্ষোভকারীরা স্টুটগার্ট ও নেকারওয়েসথেইমের পরমাণু স্থাপনা পর্যন্ত এই দীর্ঘ পথে মানববন্ধনে অংশ নেয়। এ সময় তাঁরা হলুদ পতাকা নেড়ে ‘পরমাণু স্থাপনা নয়—ধন্যবাদ’ বলে স্লোগান দেয়।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেডেন-উয়েরটেমবার্গ রাজ্যে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। আগামী নির্বাচনে চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের রক্ষণশীল দলের পরাজয়ের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
মেরকেলের সরকার গত বছর পরমাণু চুল্লির নিরাপত্তার কথা ভেবে এর মেয়াদ বাড়িয়েছিল।
সাংবাদিকদের কাছে মেরকেল বলেন, ‘আমরা জানি, আমাদের স্থাপনা কতটা নিরাপদ। তাই এমন ভয়াবহ ভূমিকম্প বা সুনামির জলোচ্ছ্বাসে স্থাপনাগুলোর ক্ষতির ঝুঁকিতে আমাদের পড়তে হবে না।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু জাপানে যা ঘটেছে, তা থেকে আমরা শিক্ষা নেব।’
জাপানে গত শুক্রবার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে ফুকুশিমা-১ নামে পরমাণু স্থাপনাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন ধাতবনির্মিত হওয়ায় চুল্লির ভেতরের অংশ অক্ষত আছে।

পা মাটিতেই রাখছেন সিডন্স

ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে যদি ইংল্যান্ড জিতে যায়? কিংবা বাংলাদেশ যদি আজ হল্যান্ডকে হারিয়ে ১৯ মার্চ হারিয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকাকেও! কাল্পনিক সমীকরণ মিলিয়ে বাংলাদেশকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলার স্বপ্ন দেখাই যায়। তবে জেমি সিডন্স এসব হিসাবের ফাঁদে পড়তে চান না। ইংল্যান্ডকে হারানোর পর হল্যান্ডকে সামনে পেয়েও মাটিতেই পা রাখছেন বাংলাদেশের কোচ।
কাল সংবাদ সম্মেলনে প্রথম প্রশ্নটাই হলো বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল সম্ভাবনা নিয়ে। সিডন্স কোনো স্বপ্নই দেখালেন না, ‘ইংল্যান্ড যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারে...সে অনেক পরের কথা। আবার ইংল্যান্ড যদি জেতে আমাদের শুধু কালকের (আজ) ম্যাচ জিতলেই হবে না, বাকি ম্যাচটাও জিততে হবে। নয়তো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়া।’ পরশু ভারতকে হারানো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ জেতাটাও মোটেই সহজ মনে করছেন না কোচ, ‘দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানো কঠিন। আমি এখানে বসেই বলে দিতে পারি না যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আমরা জিতব। পরের ম্যাচে ইংল্যান্ড জিতলে আমাদের শুধু হল্যান্ডের বিপক্ষেই জিতলে হবে না, শেষ ম্যাচটাও জিততে হবে।’
পরিস্থিতি যখন এই, আগে থেকে বড় কোনো স্বপ্ন না দেখিয়ে কোচ হাঁটতে চান পুরোনো পথে, ম্যাচ ধরে ধরে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের আত্মতৃপ্তিতে তিনি বুঁদ নন। তাঁর চোখে এখন কেবলই আজকের ম্যাচ। বিশ্বকাপটাকে কোচের দৃষ্টিতে দেখারই চেষ্টা করছে দলের সব খেলোয়াড়ই। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আগেই বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কী করতে হবে সেটা পরের কথা, আগে জিততে হবে হল্যান্ড ম্যাচ।
কথা ঠিক। কিন্তু ইংল্যান্ড ম্যাচটা কি চাইলেই ভুলে থাকা যায়? বিশেষ করে ওই ম্যাচের জয়টা যখন হতে পারে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর সবচেয়ে বড় টনিক! ব্যাটসম্যানদের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কোচ নিজেও তো বলছেন, ‘আমাদের বোলাররা ভালো করছে। ব্যাটসম্যানরাও বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী একটা দলের বিপক্ষে জয়ে বড় ভূমিকা রাখল। ভুলে গেলে হবে না, ইংল্যান্ডের এই দলটাই ভারতের সঙ্গে টাই করেছে, দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে আর আমরা হারিয়েছি তাদের। এই জয় আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।’ তা ছাড়া ‘ক্লোজ’ ম্যাচগুলোতেও যে বাংলাদেশ এখন স্নায়ুর যুদ্ধে জিততে পারছে, সেটির ধারাবাহিকতাও তো ধরে রাখা গেল ইংল্যান্ড ম্যাচে! সিডন্স তো বলছেন, এটা বাংলাদেশ দলের চরিত্রেরই অংশ হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে।
হল্যান্ড ছোট দল হলেও আজকের ম্যাচের আগে অন্তত পরিসংখ্যানের পাতায় তারাই এগিয়ে। বাংলাদেশ-হল্যান্ড আন্তর্জাতিক ওয়ানডে এর আগে হয়েছে একটাই এবং তাতে জিতেছিল হল্যান্ড। গত বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্য সফরের অংশ হিসেবে গ্লাসগোতে হওয়া দুই দলের একমাত্র ম্যাচে ৬ উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ। সেই স্মৃতি থেকেই কাল হল্যান্ডকে ‘বিপজ্জনক’ দল বললেন সিডন্স, ‘সর্বশেষ ম্যাচে ওরা আমাদের হারিয়ে দিয়েছিল। দলটা বিপজ্জনক। তবে ওই ম্যাচের দৈর্ঘ্য অনেক কমিয়ে (৩০ ওভার) আনা হয়েছিল। আমরা ২০০ (১৯৯) রান করেছিলাম, তারা সম্ভবত শেষ ওভারে ম্যাচ জিতেছিল। দলটা আসলেই বিপজ্জনক। তাদের সমীহ করতে হবে, হারাতে হলে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’
হল্যান্ড ম্যাচের প্রস্তুতি সাকিবের দল মাঠে যেমন নিয়েছে, নিয়েছে মাঠের বাইরেও। অনুশীলনের বাইরে অনেকটা সময়ই কেটেছে ডাচ খেলোয়াড়দের ভিডিও ফুটেজ দেখে। তার পরও যদি কোনো কিছু বাদ থেকে যায় সেই ভয়ে কাল বিকেলে টিম হোটেলে আরেকবার বসা হয়েছিল টেলিভিশনের সামনে। ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ দল থেকে যে দু-একজন ‘টার্গেট প্লেয়ার’ খুঁজে বের করা হয়, এবার সেটিও করা হচ্ছে মূলত ভিডিও ফুটেজ দেখেই। আজকের ম্যাচে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা যেমন সাবধানী হয়ে খেলবেন বাঁহাতি স্পিনার পিটার সিলারের বল, বোলাররা আটকে রাখতে চাইবেন টম কুপার ও রায়ান টেন ডেসকাটকে।
ক্রিকেটে চাপ-টাপ জাতীয় জিনিসগুলো বড় দলের চেয়ে ছোট দলের বিপক্ষেই বেশি থাকে। তবে এই চাপটাকে উড়িয়ে দিতে সিডন্স উল্টো দেখালেন পরিসংখ্যানের পাতা, ‘জেতার প্রত্যাশা থাকলে চাপটা সব সময়ই বেশি থাকে। সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে খেলার সময় এটা অস্বাভাবিক নয়। তবে ছোট দলগুলোর বিপক্ষে আমাদের রেকর্ড খুব ভালো। আমরা আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছি এবং মাত্রই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ একটা ম্যাচ জিতলাম। এ ম্যাচ জেতার ব্যাপারেও আমরা আত্মবিশ্বাসী।’
ম্যাচের আগে কোচের মুখে আশা-জাগানিয়া কথাই থাকে। তবে হল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে অন্তত বাংলাদেশের কোচ এসব কথা বিশ্বাস করেই বলবেন নিশ্চয়ই। পরিসংখ্যানে ডাচরা যতই এগিয়ে থাকুক, আজকের ছোটদের ম্যাচটার বড় দল তো বাংলাদেশই!

বোরেন-ডেসকাটদের অন্য লড়াই

হল্যান্ডের বিশ্বকাপটা তাহলে আজই শুরু হচ্ছে! ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ডের গ্রুপ থেকে শেষ আটে যাওয়ার চিন্তা করা তাদের জন্য ছিল বিলাসিতা। বিশ্বকাপে ডাচদের লক্ষ্য তাই সুযোগসন্ধানী হয়ে বসে থাকা। ঝোপ বুঝে কোপ মেরে যদি একটি-দুটি জয় তুলে নেওয়া যায়!
অঘটন ঘটতেই পারে, তবে বাস্তবতা চিন্তা করলে গ্রুপ পর্বের শেষ দুটি ম্যাচই তাদের জন্য হতে পারে ঝোপ বুঝে কোপ মারার সেরা সুযোগ। চট্টগ্রামে আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা, এরপর ১৮ মার্চ কলকাতায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। গ্রুপের অন্য দলগুলোর চেয়ে এই দুই দলের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন দেখাটাই বেশি বাস্তবসম্মত ডাচদের জন্য।
তা ডাচরা সে স্বপ্ন দেখছেও। অধিনায়ক পিটার বোরেন কাল সংবাদ সম্মেলনে শোনালেন সেই আশার কথাই, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা ভালো খেলেছি এবং আমার মনে হয় ভারতের বিপক্ষেও খারাপ খেলিনি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পারফরম্যান্সটা ছিল হতাশাজনক। এখন শেষ দুটি ম্যাচ জিততে পারলেই খুশি হব।’
আজকের ম্যাচে ডাচদের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে চট্টগ্রামের উইকেট। এমন কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা যে দলটার নেই বললেই চলে! টেলিভিশনে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচটা দেখলেও কালকের ম্যাচের আগে বোরেনও মানছেন চ্যালেঞ্জটা, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে আমরা একটা ম্যাচই খেলেছি। গত বছর গ্লাসগোতে সেই ম্যাচে জিতেছিও আমরা। তবে এখানকার কন্ডিশন একদমই ভিন্ন। মন্থর উইকেটে স্পিনারদের খেলার যে অনুশীলনটা এতদিন করে আসছি আমরা, কাল (আজ) সেটারই চূড়ান্ত পরীক্ষা হবে।’
ডাচ অলরাউন্ডার রায়ান টেন ডেসকাটের জন্যও আজকের ম্যাচ একটা পরীক্ষা। কন্ডিশন জয় করার চ্যালেঞ্জ তো আছেই, আছে ছোট দলের বড় খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদও। ‘প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করার পর দু-তিন ম্যাচে বাজেভাবে উইকেট দিয়ে এসেছি। তবে এই ম্যাচে ভালো করার ব্যাপারে আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী’—বলেছেন আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর বর্ষসেরা ক্রিকেটার ডেসকাট। প্রতিপক্ষ হিসেবে বড় মানলেও বাংলাদেশের অধারাবাহিক পারফরম্যান্সকে পুঁজি করতে চান তিনি, ‘ভালো দল হলেও তাদের সময়টা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমাদের জেতার সুযোগ আছে।’
ডেসকাট যদি ছোট দলের বড় ক্রিকেটার হন, বাস জুইডারেন্ট অনভিজ্ঞ হল্যান্ডের অভিজ্ঞতম ক্রিকেটার। এ নিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলছেন, হল্যান্ডের পক্ষে অর্ধশতাধিক (৫৭টি) ওয়ানডে খেলা একমাত্র ক্রিকেটারও এই জুইডারেন্ট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা সত্ত্ব্বেও একটা আফসোস আছে এই মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যানের। আফসোসের সঙ্গে মিশে আছে বিশ্বকাপে হল্যান্ডের হতাশাও, ‘বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণ, আমরা বড় দলগুলোর সঙ্গে খুব বেশি খেলার সুযোগ পাই না। পূর্ণ সদস্য কোনো দেশের বিপক্ষে আমরা সর্বশেষ ম্যাচটা খেলেছি গত বছর এই বাংলাদেশের বিপক্ষেই। তার আগের ম্যাচটা খেলেছি সম্ভবত আরও দুই বছর আগে।’
হল্যান্ডের মতো দলগুলোর জন্য আরও বড় দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে আইসিসির ছোট দলগুলোকে বিশ্বকাপের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত। জুইডারেন্ট প্রতিবাদই করলেন এমন সিদ্ধান্তের, ‘এটা খুবই লজ্জাজনক। সব দেশের মতো আমরাও বিশ্বকাপে খেলতে চাই। একসময় বাংলাদেশকেও বিশ্বকাপে খেলার জন্য লড়াই করতে হয়েছে। আইসিসি যদি আয়ারল্যান্ড, হল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, আফগানিস্তানের মতো দলগুলোকে বিশ্বকাপে খেলতে না দেয়, সেটা হবে হতাশাজনক।’
শুধু মুখে বলে নয়, বাংলাদেশকে হারিয়ে মাঠেও আইসিসির সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় হল্যান্ড। অধিনায়ক বোরেন আজকের ম্যাচে সেটা করে দেখানোর খুব ভালো সম্ভাবনা দেখছেন। ডেসকাটের মতো তিনিও মনে করেন, বাংলাদেশের অধারাবাহিক পারফরম্যান্সটাই প্লাস পয়েন্ট তাদের জন্য, ‘বাংলাদেশকে হারাতে পারলে সেটা হবে আপসেট। আয়ারল্যান্ডের কথা জানি না, তবে বাংলাদেশ উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা অবশ্যই চাইব তাদের উৎসব মাটি করতে।’
ফুটবল আর হকির দেশ হল্যান্ডে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা নেই বললেই চলে। বিশ্বকাপ থেকে ভালো কিছু নিয়ে ফিরতে পারলে হয়তো কিছু মানুষ ফিরে তাকাবে ক্রিকেটের দিকে। ক্রুইফ-ফন বাস্তেনদের মতো বিশ্বতারকা না হতে পারেন, দেশের মানুষ তো অন্তত চিনবে তাঁদের!