Showing posts with label মুস্তাফা জামান আব্বাসী. Show all posts
Showing posts with label মুস্তাফা জামান আব্বাসী. Show all posts

Tuesday, December 22, 2015

দাতাকে চিনতে হবে by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

দাতাকে চিনতে হবে, না হলে কাজ হবে না। আমরা দাতাকেই চিনি না। নিজেই সর্বেসর্বা হয়ে বসি। যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত সেদিন বলে গেলেন, এ দেশে আইএস জেঁকে বসার আগে ওদের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। তা না হলে কাজ হবে না, যেমনটি ঘটেছে মধ্যপ্রাচ্যে। সাদ্দামকে ফাঁসিতে ঝোলাতে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন আলকায়েদা। তাতে আরো কষ্টকর হলো সব কিছু। ১০ বছর আগে থেকেই বলা হচ্ছিল কাউকে-না-কাউকে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। না হলে বাধবে লড়াই।
ইরাকে বেশ কয়েকবার গিয়েছি ব্যাবিলন সঙ্গীত সম্মেলনে যোগ দিতে। একবারও সাদ্দামের সাথে দেখা হয়নি। বলা হলো উনি ব্যস্ত ইরাক-ইরান যুদ্ধ নিয়ে। তাকে বলতে চেয়েছিলাম- সঙ্ঘাত নয়, আলোচনার পথেই ইরাক নিজেকে সামলে নিতে পারবে। এ দিকে সঙ্ঘাত দিনে দিনে বেড়ে গেল। তারপর যুদ্ধ। লাখ লাখ লোক মারা গেল। এখন আমেরিকা বেরিয়ে আসতে চাইলেও পারছে না। যদি আগে থেকে আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত থাকত, এমনটি হয়তো হতো না। এই ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানো যেত। আসল দাতাকে চিনতে চাই না। দাতার কাছে ক্ষমা চাইলে সহজে হবে পার্থিব সঙ্ঘাতের সমাধান।
সাদ্দামের সাথে দেখা না হলেও, হলো জসীমের সাথে, তার তথ্যমন্ত্রী। এ কথা সে কথার পর জানালাম, সম্ভব হলে সাদ্দামের সাথে দেখা করতে চাই। বলল, সম্ভব হবে না। জানতে চাইল কেন? বললাম এ জন্য যে, আমেরিকার সাথে সে একটা রফা করুক এটাই আমার ইচ্ছা। তা না হলে আমেরিকা তাকে বাঁচতে দেবে না। কথাটা জসীম উড়িয়ে দিলো না। বলল, আমরা মার্কিনিদের বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি যে, আমাদের কাছে লুকানো মারণাস্ত্র নেই। ওরা বলছে, সেটা এক দিন না এক দিন প্রমাণ হবেই। ১০ বছর পর আজো প্রমাণ হয়নি যে, ওদের কাছে ‘ডব্লিউএমডি’ অথবা ‘ওইপেন্স অব মাস ডেস্ট্রাকশন’, অর্থাৎ গণবিধ্বংসী অস্ত্র ছিল। তবুও কৌশলটি ওদের কাজে লেগেছে। মুসলমানদের তিন নেতা ভুট্টো, সাদ্দাম ও গাদ্দাফিকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হলো। শেষ ফলাফল কারো জানা নেই। অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার হাতে। আল্লাহ অসীম রহমতের অধিকারী। যদি তার কাছে ক্ষমা চাওয়া না হয়, ফলাফল কী হবে, তা কল্পনাও করা যায় না।
আল্লাহ চাইছেন যেন বান্দারা অপরকেও মূল্য দেয়। না দিলে ফলাফল হবে সঙ্ঘাত। অনেক প্রাণ বিসর্জিত হবে। সব জীবের প্রতি যিনি দয়ালু, কারো প্রতি বিন্দুমাত্র তারতম্য প্রদর্শন না করে তিনি রহমান, পরমদয়ালু। রহমানকে অন্তর থেকে উপলব্ধি করার জন্য প্রয়োজন দয়ালু হৃদয়ের। যে দয়ালু নয়, তার প্রার্থনার কী দাম? যে দয়ালু নয়, সে সমাজে প্রভাবপ্রতিপত্তি সত্ত্বেও তার জন্য কারো ভালোবাসা সচরাচর প্রত্যক্ষ করা যায় না। তাই দয়ার সমুদ্র যিনি, তার কাছ থেকেই শিক্ষা নিতে হবে দাক্ষিণ্য। সংসারে অনেক ভালো লোক আছেন যারা হিসাবে অনড়, হিসাবের কড়ায় গণ্ডায় ওপরের সিঁড়ি বেয়ে সর্বোচ্চ আসনে স্থান নিয়েছেন, দয়াদাক্ষিণ্যের ধার দিয়েও যাননি। জীবনের শেষ প্রান্তে দয়াময়কে খোঁজার জন্য পরিপূর্ণ আবেগে ছুটে আসেন মসজিদে। ঢোকার মুহূর্তে তাদের দিকে চেয়ে আছেন নিরন্ন মানুষ। ঢুকছেন যিনি তার শেখা একটিই মন্ত্র : ‘মাফ কর, মাফ কর।’ পকেটে পয়সা আর বাড়ি গাড়ি সবই আছে। কয়েকটি টাকা পকেট থেকে বের করতে কতই না দ্বিধা সংশয়। করুণাময়কে সারা দিন জপ করলেও লাভ হবে না। করুণাময়কে পেতে করুণার চর্চায় নিজেকে বিলিয়ে তবেই ঢুকতে হয় মসজিদে। তার চেয়ে আল্লাহকে বলি সারা দিন : ক্ষমা করো, প্রভু।
যে লোকটি সঞ্চয় থেকে একটি সিকি কবুল করল অভাবীর কাছে, কত সহজে তার অশ্রুবন্যা প্রবাহিত হলো। সেদিনের মতো তার ইবাদত আল্লাহর কাছে হলো সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। দয়াল দাতা আল্লাহর কাছে তার নাম দাতা হিসেবে লিপিবদ্ধ হলো। একটি সিকির দাতা সারা দিন কী আনন্দের মধ্যে অতিবাহিত করলো তা শুধু সেই জানে।
ভারত-পাকিস্তান সামনাসামনি যুদ্ধাবস্থায়। দু’পক্ষের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে, কার এমন সাহস আছে? পাকিস্তানের নওয়াজ শরিফ, তাকে আগে চিনতাম। এখন নয়। দেখা হলে কুরআন শরিফ নিয়ে তার সামনে এগিয়ে দিতাম। বলতাম, দেখো এই জায়গায় : ‘তানজিলুম মিনার রাহমানির রাহিম’। পরমদয়ালু দয়ালুর দিকে তাকাও। তা হলে তোমার ভারী মন করে দেয়া হবে পাখির পালকের মতো নরম। রহমানের নাম উচ্চারণের সাথে সাথে যদি তোমার অন্তর থেকে একটি স্র্রোত প্রবাহিত হয়, তা হলেই তুমি সফল। এই নামটি জপ করার সাথে সাথে প্রবাহের শুরু। জপ করতে করতে তুমি পৌঁছে যাবে দয়ার সাগরে।
কুরআনে ‘আর রহমান’ শব্দটি ৫৭ বার উচ্চারিত। দেশে বিদেশে ঘুরলাম অনেক। থাইল্যান্ড, জাপান ও চীনে বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে বসে থাকেন ভিক্ষুরা। তাদের কোনো চাওয়া পাওয়া নেই। কেউ দিলে খান, না দিলে খান না। ওরা বসে থাকেন রহমানের আশায়। সামান্য একটু খাওয়া, এতেই খুশি। সকাল থেকে যদি কেউ রহমানের কাছে ধর্ণা দিয়ে বসেন নিজের প্রত্যাশাকে সর্বনিন্মে এনে, তা হলে তার জীবনে শান্তির সুশীতল বাতাস প্রবাহিত হবে, এটাই সত্যি। নরেন্দ্র মোদির সাথে দেখা হলে তাকে বলতাম, তার ধর্মপ্রাণতা আমার পছন্দ, কিন্তু সব ধর্মের সব মানুষের জন্য থাকতে হবে সমান ধর্মপ্রাণতা। আমার জন্যও তা প্রযোজ্য।
লেখক : সাহিত্য-সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব
mabbasi@dhaka.net

Saturday, May 9, 2015

পদ্মার ঢেউ রে... by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

নজরুলের এই গানটি কে না শুনেছে? মাঝেমধ্যে আমিও গাই। নজরুল তাঁর গানে অনেক দেব-দেবীকে উপস্থাপন করেছেন, যার পরিপূর্ণ ইতিহাস এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। এই নদীতীরে ঘুরে বেড়িয়েছি কবির মতো, পদ্মার দেখা পাইনি। তাঁর পদচিহ্ন কোথায় যেন মিলিয়ে গেছে গানের সুরে সুরে। সুরের মাঝেই অন্বেষণ। এর উজানেই নৌকা ভাসিয়েছেন আরেক কবি, লিখেছেন ‘সোনার তরী’: ‘কোন পারে ভিড়িবে তোমার স্বপন তরী’? নদী ও সংগীতসংশ্লিষ্ট পদ্মা নিয়ে গবেষণার নেই বিরাম। কে এই পদ্মা?
পুরীতে জগন্নাথ দর্শনে বিহ্বল মানুষ প্রভুকে খুঁজে চলেছেন। এ খোঁজার বিরাম নেই। ভারতে হাজার হাজার মন্দির। মন্দিরের মূর্তির পেছনে বিধাতাকে ওরা দেখেনি, আমরা তো নয়–ই। খুঁজতে খুঁজতে পদ্মার দেখা পেলাম। কীভাবে তার কথাই বলব।
কবি জয়দেবের গীতগোবিন্দের গান সবাই শুনেছেন, আমরাও। পুরীর কাছে একটি গ্রামে থাকত পদ্মা নামের একটি মেয়ে, মালিনীর কন্যা, অথচ গানের গলাটি মধুর চেয়ে মধুর। অনেকের জানা আছে, জয়দেবের লেখা ‘সদুক্তিকর্নামৃত’র ২৬টি শ্লোক বাংলায় রচিত নয়। যদিও আমরা জানি বীরভূম জেলার অজয় নদের তীরে কেন্দুবিল্ব গ্রামের জন্মগ্রহণকারী জয়দেব বাঙালি। তাঁর গান ছিল নৃত্য ও গীতের সমারোহ। লক্ষ্মণ সেনের সভায় জয়দেব নিজেই গাইতেন গীতগোবিন্দের গান। এখানেই পদ্মাদেবীর আগমন। দক্ষিণী নৃত্যে পটীয়সী অসামান্য রূপসী কন্যা পদ্মা, যার মধ্যে রূপায়ণ হতো গীতগোবিন্দের আধ্যাত্মিক রূপ। কথিত আছে, দৈব আদেশে তার সঙ্গে বিবাহ হয় জয়দেবের।
পদ্মা গেয়ে শোনাত জয়দেবের গান আর বেগুনগাছ থেকে তুলত বেগুন। দূর থেকে শ্রীজগন্নাথ নিজেই কোথা থেকে শুনতে পেলেন সে মধুর সংগীত। তার ঘুরে বেড়ানোতে নেই কোনো বাধা। গিয়ে পেলেন সুন্দর একটি মেয়েকে, যে আপন মনে গাইছে গীতগোবিন্দের গান, আপনাতে আপনি বিভোল। পদ্মা জগন্নাথকে দেখেনি, নাম শুনেছে, জানতে পেরেছে, উনিই বিধাতা। উনি সবাইকে ভালোবাসেন, তার মতো একটি গ্রাম্য বালিকাকেও। পদ্মা নিজ আত্মাকেই শোনায় এ গান। ভাবে যদি কোনো দিন বিধাতা তার কাছে এসেই পড়েন, কী করবে সে। অন্তর্যামী সর্ব জীবের কল্যাণে নিয়োজিত, কাউকে উপেক্ষা করেন না, সবাইকে ভালোবাসেন। বালিকা পদ্মা তাঁর মন জয় করল। হলেন বিগলিত, আত্মবিস্মৃত; তিনি যে ভগবান, তা-ও তিনি ভুলে গেলেন। বেগুনগাছের কাঁটায় তাঁর উত্তরীয় মাটিতে পড়ে গেল। পদ্মা গানেই বিভোর। সে এত কিছু লক্ষ করেনি।
কিছু সময় পর পদ্মার ঝুড়ি বেগুনে ভর্তি হয়ে গেল, সে চলে গেল বাগান থেকে। পদ্মার গান শ্রবণ করার পর পরিতৃপ্ত শ্রীজগন্নাথ ফিরে গেলেন তাঁর মন্দিরে। পরদিন সকালে পূজারিরা এলেন প্রাতঃকালীন সেবাকর্মের দায়িত্বে। অবাক হয়ে দেখলেন জগন্নাথের ছেঁড়া বস্ত্র আর তাঁর সেই উত্তরীয়টিও উধাও। পূজারিরা হলেন চিন্তিত। এমন একটি ঘটনা ঘটতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারে না, নিশ্চয়ই তাঁদের ত্রুটি হয়েছে শ্রীজগন্নাথকে বস্ত্র পরানোর সময়। তাঁরা শুরু করলেন উপবাস। শ্রীজগন্নাথ স্বপ্নে জানালেন, তোমাদের দোষ নেই, আমি গান শুনতে গিয়েছিলাম ওই মেয়েটির কাছে।
অবিলম্বে চারদিকে খোঁজ পড়ে। পদ্মাকে খুঁজে পাওয়া যায়। গীতগোবিন্দের গায়িকা গ্রামের মেয়ে পদ্মা কোনো দিন স্বপ্নেও ভাবেনি এভাবে সে হবে সম্মানিত। সংগীতের ঢেউ মিশে গেল তার জীবননদীর স্বরগ্রামের সঙ্গে। পুরীর শ্রীজগন্নাথের মন্দিরে তার আসন হলো স্থায়ী। যেখানে প্রতিদিন শ্রীজগন্নাথের বিশ্রাম গ্রহণের আগে সুললিত কণ্ঠে গান গাইবে নৃত্যপটীয়সী পদ্মা।
এবার শোনা যাক নজরুলের গানটি: ‘পদ্মার ঢেউ রে, মোর শূন্য হৃদয়–পদ্ম নিয়ে যা, যা রে’। এখানে পদ্মা নদীর নামকরণের ইতিহাস নেই, আছে সেই পদ্মের খোঁজ, যার নামে পদ্মা। এত দূর থেকে আমরা শুধু শুনতে পাই ঢেউয়ের শব্দ আর প্রেমিক হৃদয়ের শূন্য হাহাকার, বিসর্জিত যা নদীর ঢেউয়ে।
পদ্মার ঢেউয়ে ঝিলমিল করে যে বঁধুয়ার কৃষ্ণকালো রূপ, তা ফুটে ওঠে সঞ্চারিতে। কৃষ্ণকালো রূপ শ্রীজগন্নাথের, আর কারও নয়। দূর থেকে অবশ্যই চেনা যায় পদ্মাকে। প্রেমের ঘাটে ঘাটে বাঁশি বাজায় যে প্রেমিক, খুঁজে পাওয়া দায় তাকে। চিরদিন সে আশার–দেয়ালী জ্বালিয়ে পালিয়ে বেড়ায়। তার পায়ে সমর্পিত হতে চায় পদ্ম। যেমনটি পদ্মা খুঁজে পায় মন্দিরে অধিষ্ঠিত দেবতাকে।
পদ্মা রূপ নেয় পদ্মে, যার কাছে নেই মধু, নেই সুগন্ধ, তার রূপের সরসীতে তাই নেই আনন্দ মৌমাছির ঝংকার। পদ্মা রূপ নেয় ঢেউয়ে, যখন তার মাঝে চিকমিক করে ওঠে চাঁদের আলো। চাঁদের আলোয় কৃষ্ণকালো বঁধুয়া।
গানটি গাওয়ার সময় কখনো গায়িকা পদ্মার কথা আগে মনে হয়নি। মনে হতো পদ্মফুলের মধ্যেই পদ্মার অবস্থান। পদ্ম ও পদ্মা যেন সমার্থবোধক। পদ্ম নারীর রূপ, পদ্মাও তা-ই। পদ্ম চায় বাঁশরির তালে যে প্রেমিক নেচে বেড়ায় তার আহ্বানে সাড়া দিতে।
গানটিতে বাঁশরি সঞ্চালনের প্রচুর সুযোগ অর্থাৎ এখানেই অনেকক্ষণ বাঁশরির প্রয়োগ হতে পারে যেমন ওস্তাদেরা ভাটিয়ালি গানের ধুন বাজাতে গিয়ে আশ্রয় নেন প্রলম্বিত তালের কাজে, যেন ওগুলো ঢেউয়ের কারসাজি। একটি ভাটিয়ালি গান তিন মিনিটের, অথচ ভাইটাল গাঙের মাঝিরা ওই গানটি গান প্রলম্বিত সুরে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে। পদ্মার ঢেউরেও তা-ই। এটি তিন মিনিটের গান নয়, এটি প্রাণ মাঝির শাশ্বত সংগীত, যে সর্বমুহূর্তে প্রেমিককে খুঁজে ফিরছে। পদ্মাকে খুঁজতে গিয়ে পাই স্রষ্টাকে, সর্বজীবের মঙ্গলের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা।
মুস্তাফা জামান আব্বাসী: সাহিত্য-সংগীত ব্যক্তিত্ব।
mabbasi@dhaka.net

Tuesday, March 3, 2015

প্রতিভা না রক্তের অন্বেষণ by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

বইমেলা শেষ। ফেব্রুয়ারি এলে নিজেই সার্ভে করি। পাঠকদের গতি-প্রকৃতি, সংখ্যা, বইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে। রিপোর্টারদের অযাচিত প্রশংসা। মেলায় কী খুঁজব? প্রতিভা। কবিতায়, নাটকে, প্রবন্ধে, গল্পে, উপন্যাসে। যে পাঠকের মন ফুরফুরে, সম্ভবত তিনিই খুঁজে পাবেন। হায়রে! কে খুঁজে ফিরছে প্রতিভা? একটি ছেলে বই কিনতে এসেছে, এ স্টলে সে স্টলে অনেকক্ষণ। তাকে না জানিয়ে তার পিছু নিলাম, কী কেনে তা দেখার জন্য। বলব শেষে।
বইমেলা শেষ না হতেই চাপাতির আঘাতে ব্লগারের মৃত্যু। রক্তের ছোপে বিধ্বস্ত বইমেলা। কিসের জন্য লেখা, কিসের জন্য প্রাণের মেলা, প্রাণের সংহারই যেখানে লক্ষ্যবস্তু। 'রক্তাক্ত প্রান্তর'-এ এটিই ছিল মুনীর চৌধুরীর জিজ্ঞাসা। ভেবেছিলাম লেখকদের মধ্যে সৃষ্টি হবে প্রাণচাঞ্চল্য। কীভাবে? নতুন লেখকদের জন্য কর্মসূচি সীমাবদ্ধ। নানা ব্যাংক-ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি কিছু টাকা বরাদ্দ করে তাদের পরিচিত লোকদের পুরস্কার ধরিয়ে দিতে। এতে লাভ হবে না, লেখকদের প্রাণে সৃষ্টি হবে না উদ্দীপনা।
প্রতি বছর লেখকদের জন্য হতে হবে ক্যাম্প। বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর লোকেশনে। জানা লেখকদের মধ্যে যারা উৎসাহী, একটি গ্রুপ এদের সময় দেবেন। লিখতে হলে পড়তে হয়। সেই বইগুলো ওদের কাছে পেঁৗছে দিতে হয়। শব্দের চয়ন, শব্দের ব্যবহার, প্রতিশব্দের স্টক, রূপকল্পের নতুন সমৃদ্ধি। নোবেলপ্রাপ্তদের বইগুলো বারবার পড়া। পৃথিবীর সাহিত্য কোন দিকে এগোচ্ছে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ওয়ার্কশপগুলোয় বাংলাদেশের নতুন লেখকদের উপস্থিতি এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হবে। সাহিত্য যাদের জীবনকে আলোকিত করবে এমন কয়েকজনকে পেলেই হবে। প্রতি বছর বইমেলা তাদেরকেই খুঁজবে।
নতুন নতুন দেশ থাকবে তাদের দৃষ্টির আওতায়। ধরা যাক, এ বছর চীনের দিকে দৃষ্টি দেব। পাঁচ তরুণ লেখককে পাঠাব চীন দেশে তিন মাসের জন্য। বলা বাহুল্য, এর মধ্যে একটি হবে চিরকালের, যা মহাচীনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য হবে মহাসড়ক। মনে পড়ে, সুনীলের বইটির কথা। যুবক বয়সে তিনি গিয়েছিলেন ফ্রান্সে। তার 'ছবির দেশে কবিতার দেশে' কে না পড়েছে? শুনলে কেউ অবাক হবেন, বইটি এখনও রোজ একটু একটু করে পড়ি। যখন সাসকাচুয়ান নদীর পাড়ে প্রথম গেলাম, সুনীলের কথাই মনে হয়েছিল প্রথম। এ নিয়ে কবিতাও লিখেছি।
গল্প শুনতে ভালোবাসি। শিশুরাও। শিশুদের মনোজগৎ বিস্তৃত করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, সুকুমার রায়, সত্যজিৎ রায়, মোহাম্মদ নাসির আলী। তাদের পর শাহরিয়ার কবির, হুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ফরিদুর রেজা সাগর। এরপর আরও ৫০ জন। তাদের বই স্টলে। প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি বই কিনে নিয়ে যায় শিশুরা।
কলকাতায় বইমেলা। একুশের মতো ব্যাপক না হলেও গন্তব্য আছে। কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ। ফি বছর ওই সময়টায় তারা তাদের প্রয়োজনীয় বইগুলো সংগ্রহ করেন। ধরা যাক, কেউ বাংলাদেশের গান নিয়ে উৎসাহী। তিনি সারা বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে, বাংলাদেশে ও পৃথিবীর সর্বত্র এ বিষয়ে কী কী বই বেরিয়েছে তার খবর সংগ্রহ করেন। শুনে অবাক হবেন. মৎ সম্পাদিত 'আব্বাসউদ্দীনের গান' গ্রন্থটির জন্য টেলিফোন পেয়েছি বেশ কয়েকটি। এমনি ঘটেছে নিজ গ্রন্থের ক্ষেত্রেও। যারা 'রুমির অলৌকিক বাগান' পড়েছেন, ধরেই নিয়েছেন যে আমি একজন আধ্যাত্মিক পুরুষ। পরে নিজ বইটি পড়ে বুঝতে পেরেছি, আমি কয়েকজনের পারলৌকিক অনুসন্ধিৎসা মেটাতে সক্ষম হয়েছি। 'লালন যাত্রীর পশরা' বইটি বেরোনোর পরও তা-ই হয়েছে।
কবিতার বই নিয়ে নতুনরা ব্যস্ত, ওইটিই তরুণদের আশ্রয়। কয়েক মাস আগে থেকেই ইন্টারনেটে কবিতাগুলোর আগাম পাঠ শুরু হয়ে যায়, কভারের ছবি এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে ইন্টারনেটে অগ্রিম সম্ভাষণ। এর মধ্যে দু'একটি কবিতা এত সুন্দর যে, ইচ্ছা করে কবির সঙ্গে এক্ষুণি সাক্ষাৎ করি।
মেলা বিস্তৃত। একদিন আসমাকে নিয়ে নিজেই হাজির। টিভি ক্যামেরাগুলো সচল। আসল বস্তুর সন্ধান নেই, যার কারণে এই গোধূলিবেলার নিবেদন। গ্রামে বসে যারা বই লিখছেন তাদের লেখাই পড়ার মতো, বছরে একটি বা দুটি, প্রদীপের আলোয় আসেন না, বিজ্ঞাপন দেন না। সাহিত্যের প্রদীপ আলোকময়। বাড়তি আলোর প্রয়োজন নেই।
এবার ছেলেটির গল্প। বলতে সংকোচ বোধ করছি। যে বইটি খুঁজছিল : 'রুমির অলৌকিক বাগান'। তার পকেটে ১০০ টাকা। বইটি কিনতে পারেনি। ও জানে না বইটির লেখক আমি।
সাহিত্য-সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব

Monday, February 23, 2015

সাগর সন্ধানে by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

মুস্তাফা জামান আব্বাসী
ফরিদুর রেজা সাগর
সাগরের ষাট বছর, অবিশ্বাস্য। তার বাবা ফজলুল হক ছিলেন সিনেমার লোক। বন্ধুত্বের সম্পর্ক। চলে আসতেন অফিসে, ৩৪ নম্বর জিন্নাহ এভিনিউতে। গল্প করতাম ছবি বানানো নিয়ে। তার তৈরি ছবি 'প্রেসিডেন্ট' পুরস্কার পায়। সাগর জিন্নাহ এভিনিউতে [এখন বঙ্গবন্ধু এভিনিউ] 'পিঠাঘর' নামে একটি খাবার দোকান সাজিয়ে বসে, আমি খদ্দের। নিজেই সবচেয়ে সুন্দর পাটিসাপটা পাঠাত আমার জন্য এবং বাসার জন্য বাক্সে ভরে ভাপা পিঠা, পুলি পিঠা। ভালো লাগত যখন বায়তুল মোকাররম মসজিদে নামাজের সময় পাশে পেতাম তাকে। এভাবে আমাদের মধ্যে গড়ে ওঠে সুন্দর পিতা-পুত্রের সম্পর্ক। তার মধ্যে ধর্মীয় চেতনা ততখানি, বর্তমান যতখানি সহনীয়। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে বসি, যা অনভিপ্রেত।
সাগরের কৃতিত্ব বিস্তৃত। প্রথমত তার সাহিত্যকর্ম। তার লেখা বইগুলো যেমন যত্ন নিয়ে আমার কাছে পাঠায়, তার চেয়ে বেশি আনন্দ নিয়ে সেগুলো দিনের পর দিন পড়তে থাকি। ইনডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের লেখা বইগুলো যেমন যত্নের সঙ্গে সাজিয়ে রেখেছি [পঞ্চাশেরও বেশি হলো], তেমনি ওর লেখা বইগুলোও সন্তান স্নেহে সাজিয়ে রেখেছি। স্থির বিশ্বাস, তার তাজা মনটি শিশুর মন জয় করতে সক্ষম। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে তাই ফরিদুর রেজা সাগর অনন্য।
চ্যানেল আইয়ের প্রথম দিন থেকে দর্শক, শিল্পী ও কথক হিসেবে যুক্ত। একদিন সাগর টেলিফোন করে জানায়, আব্বাসী ভাই, আপনাকে আমরা 'আজীবন সম্মাননা পদক' দিতে চলেছি। আমি অভিভূত। এক লাখ টাকা, একটি চাদর ও একটি ক্রেস্ট। পরের বছর :'নজরুল পদক'। বিরল সম্মান। সঙ্গে এক লাখ টাকা। সঙ্গে পদক পেলেন নজরুল গবেষণার জন্য অধ্যাপক রাফিকুল ইসলাম।
একবার সাগর আমাকে পাঠাল কলকাতা। কোনো একটি অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে। ছিলাম বড় হোটেলে। সারাদিন আসমা ও আমি কলকাতা ঘুরে বেড়াই, রাতে শহর থেকে দূরে একটি স্টুডিওতে শুটিং করি। কলকাতার বেশ কিছু নামি শিল্পী আমাদের সঙ্গে সহ-বিচারক। হৈমন্তী শুক্লা প্রমুখ।
সামিরা সাগরের একটি বইয়ের ইংরেজি অনুবাদ করে -
অনেকেই এক বাক্যে বলেছেন, চ্যানেল আই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা বিশিষ্ট শিল্পীদের কাছে টেনেছে। 'বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর', ৪৮৪ পৃষ্ঠার বইটি একটি অনুপম গ্রন্থ, যাতে চারটি বই এক সঙ্গে সনি্নবিষ্ট : 'এক জীবনে টেলিভিশন', 'টেলিভিশন আরেক জীবনে', 'টেলিভিশন : জীবনের সঙ্গী', 'টেলিভিশন ভাবনা'। ৪৮৩ পৃষ্ঠার বইটির প্রতি পৃষ্ঠাই মূল্যবান।
সামান্যই গাই, সামান্যই লিখি। ওদের নানা ভরা মজলিসে যেমন রবীন্দ্র মেলা, নজরুল মেলা, প্রকৃতি মেলা, বৈশাখী মেলাতে উপস্থিতি দিয়ে দেশের শ্রেষ্ঠ কবি, শিল্পী, সাহিত্যিকদের কাছ থেকে যখন ভালোবাসা পেতে থাকি, ওদের সঙ্গে একটি সবুজ অথবা লাল উত্তরীয় পরে ছবি তুলতে থাকি, বুঝতে পারি মিলন মেলাটি এই ক্ষুদ্র জীবনে কতখানি অর্থবহ। মেলার আয়োজক? নিশ্চয়ই সাগর।
পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়াই। ফ্লোরিডায় বোকারাটান শহরে যেখানে মেয়ে থাকে, সেখানে অনেকে ভালোবাসে আমাকে। বলে, কোনো অনুষ্ঠান হলে আপনাকে খুঁজতে থাকি। দূরে থেকেও বাঙালিরা কাছাকাছি চ্যানেল আইয়ের কল্যাণে। সাগর যেভাবে সবাইকে ডেকে আনতে পারে, অন্যেরা তা পারে না। এখানেই তার সাফল্য।
সাগরের কোনো অনুষ্ঠানে যখন যাই আমাকে গাইতে বলা হয় জন্মদিনের গানটি। এটি এত পপুলার হলো যে, ইংরেজি 'হ্যাপি বার্থডে টু ইউ'কেও যেন হার মানায়। জন্মদিনের আরও দুয়েকটি গান প্রস্তুত হয়েছে বৈকি, তবু এটির মতো নয়।
আল্লাহর কাছে অনেক কিছু চাওয়ার। চাই শান্তির দেশ, সুস্থ সুন্দর সংস্কৃতির বিকাশ, পৃথিবীর মানচিত্রে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অবস্থান, চাই চ্যানেল আইয়ের উত্তরোত্তর বিকাশ, সাগরের জন্য নীরোগ শতবর্ষ।
সাহিত্য-সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব

Tuesday, February 17, 2015

বসন্তের দিন, প্রণয়ের আভাস by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

শীতের পরশ মিলিয়ে যায়নি। হঠাৎ উতল হাওয়া। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কেমন করে যেন গিয়ে হাজির। কাউকে না জানিয়ে বসন্ত তার হলুদ পতাকা উড়িয়ে সেখানে উপস্থিত, গানে গানে, কবিতায় আর ভালোবাসার মধুর উচ্চারণে। নবীন যারা, তাদের কাছে না পৌঁছালে বসন্তকে শনাক্ত করতে পারি না। যেখানে তারুণ্য নেই, বসন্ত নেই। বন্ধু না থাকলে কোকিল ডাকে না, কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালে থাকে না রঙের বিলাস। পেছনের দিনগুলো কথা কয়। আনোয়ারউদ্দিন খান আর আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট একটি রুমে সারা দিন গান গাইতাম। কণ্ঠটি মধুর এবং উচ্চারণ মর্মস্পর্শী। তবলা বাজানোর কেউ নেই, আমিই বাজাতাম। গান ধরলে ও সুন্দর সুন্দর টোকা দিত। দুজনের গান শুনতাম দুজনে। ওর আশা ছিল, কোঁকড়া চুলের একটি মেয়ে চুপি চুপি এসে দাঁড়াবে ওর গান শুনতে। এমনটি ঘটল একদিন। কোঁকড়া চুলের একটি মেয়ে সন্তর্পণে ঘরে প্রবেশ করে বসে পড়ে তবলচির পাশেই। আনোয়ারউদ্দিনের খোঁজে। ওর গান ভালোবাসত মন থেকে। গানের ভালোবাসা আর জীবনের ভালোবাসা যে আলাদা। আরও একদিন এসেছিল। হাতে কার্ড নিয়ে। কারও নাম লেখা নেই। সম্ভবত আনোয়ারউদ্দিনের নামটি লিখতে চেয়েছিল, সময় পায়নি। তার বিয়ের কার্ড।
যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, কত কিছুই যে ভালো লাগত। মৌসুমি ফুলগুলো ফুটে থাকত প্রেমিকদের জন্য। মনে আছে, একেকটি ফুলের দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকতাম; বিশেষ করে কসমস, তার রঙের সীমাহীন বৈচিত্র৵ নিয়ে। ডালিয়ার ফুটে থাকা আরেক বিস্ময়! একেকটি ফুলের আশ্রয়ে শত পাপড়ি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত তো মাত্র কয়েকটি মেয়ে, পরনে সাদা শাড়ি। হয়তো একটি ছোট পাড়, সবুজ অথবা লাল। ফাল্গুনে এ শাড়ির রং হতো হলুদ। তাদের মোহনীয় সৌন্দর্য পরিবেশকে করে তুলত বেহেশতি। একটি
মেয়ে আসত তার ভাবির আঁচল ধরে। এতই লজ্জাশীলা যে কখনোই তাকে একা দেখা যায়নি, ফুলের মতোই মিষ্টি ও পবিত্র তাদের সৌন্দর্য। এ কথা সত্যি যে যৌবনের অনুভূতিটুকুই জাগিয়ে দেয় প্রেম। গানে গানে সে প্রেম হয় মুখরিত।
আবু হেনা মোস্তফা কামাল লিখেছিলেন কৃষ্ণচূড়ার প্রথম গান: ‘কেন যে আমার কৃষ্ণচূড়ার বনে’। সুর দিলেন আবদুল আহাদ। গাইলেন বোন ফেরদৌসী। এক গানেই মাত। প্রথম আধুনিক বাংলা গান। রেডিওতেই বেজেছে হাজারবার। সবার মনে মনে গেঁথে আছে গানটি। আবু হেনাকে বললাম, আমার গান কই? লিখলেন আমার জন্য:
‘মহুয়ার বনে বনে মৌমাছি ওড়ে মনবিলাসে/ ঝিকিমিকি রোদ লাগে পলাশে। ফুলে ফুলে গুঞ্জন/ ভুলে বুঝি যায় মন/ ফাগুনের আলোড়ন দোলা দেয় চঞ্চল বাতাসে’। রেডিওতে গাওয়ার পরদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন ভালোবাসার বাতাস বয়ে গেল। পরের লাইনটি শুনুন: ‘কেন আর দূরে থাক সহেলি/ আকাশে তো আর নেই পৌষের কুহেলি/ রুনুঝুনু ছন্দে মাধবীর গন্ধে/ ছড়ায়ে আনন্দে এসো তুমি প্রণয়ের আভাসে’।
সুর করল আনোয়ারউদ্দিন খান, আবু হেনার প্রাণের বন্ধু। দেখা গেল সুরটি আমার কণ্ঠেই বেশি মানিয়েছে। সলিমুল্লাহ হল, ফজলুল হক হলে নানা অনুষ্ঠানে আমিই গানটি গেয়েছি। আনোয়ার রেকর্ড করল না, আমিই করলাম। আনোয়ারের আশা ছিল, গানটির শেষ চরণে তার ‘প্রণয়ের আভাস’ দল মেলবে। মেলেনি। গীতিকার-সুরকার কিছুই পেলেন না। পেলেন, যিনি গানটি কণ্ঠে ধারণ করেছিলেন।
তখন মোবাইল নেই। চিঠিপত্র দূরাগত। ‘নাই টেলিফোন, নাইরে পিয়ন’। দেখাদেখি নেই, কিছুই নেই। যা কিছু শুধু কবিতায় ও গানে। আবু হেনা আরও কয়েকটি গান লিখলেন আমার জন্য। ‘এ গান আমার ফুলের মতো ঝরে যেতে চায়/ পথের ধুলায় এবার সে তো হারিয়ে যাবে হায়’। গানটির প্রতিটি কথা ভালোবাসার মানুষের জন্য নিবেদিত। এখন ভাবি, কীভাবে এত সুন্দর গান তিনি লিখতে পারলেন। তিনি যাঁকে ভালোবাসতেন, তিনি থাকত অনেক দূরে। গ্রামের বালিকা বধূ তিনি। পরের দিন লিখলেন: ‘গানে আমার এ কোন মায়া মেঘের মতো রং ছড়ায়/ স্বপ্ন আমার নদীর মতো অনেক দূরে হারিয়ে যায়...’। আবু হেনা সব কটি গান আমার খাতায় লিখে দেন। যে গানটি আমার কণ্ঠে তার সবচেয়ে ভালো লাগত: ‘মহুয়ার হাসিতে রাখালিয়া বাঁশিতে ভুলেছি আমি/ পলাশের মেলাতে ফাগুনের দোলাতে দুলেছি আমি’।
আবু হেনার গান গেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোড়ন তুললাম। ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান লক্ষ করল। বলল, আব্বাসী, আমিও তোমাকে গান দেব। শর্ত একটাই। গানগুলোতে নিজেই সুরারোপ করবে। সেদিনই প্রথম গান পেলাম: ‘কুসুমে কাঁপে ওই ফাল্গুনী সন্ধ্যা/ ঘনালো কাজলে কালো কী নিবিড় তন্দ্রা’। সুর দিলাম। মনিরুজ্জামান আমাকে জড়িয়ে ধরল। মনিরুজ্জামানের সঙ্গে তখনো রাশিদার বিয়ে হয়নি। জানি, গানটি সে রাশিদার জন্য লিখেছিল। পরের গানটি: ‘মিনতি জড়ানো মধুর কণ্ঠে যে কথা শুনেছিলাম/ আজ মনে হয় সে শুধু ছলনা নেই তার কোনো দাম’। মনিরুজ্জামানের শব্দচয়ন ছন্দঘন, প্রেম উচ্ছ্বাসী ও বেদনার হাসি লুকোনো। সেই গানই মানুষ গাইবে, যাতে লুকোনো বেদনার আভাস। বসন্তের দিন এলে ওই গানগুলো আমার বেদনাকে উসকে দেয়। আবু হেনার লেখা: ‘ভ্রমরের পাখনা যতদূরে যাক না, ফুলের দেশে’। ওরা যেখানেই থাকুক, ওই গানগুলো বসন্তের প্রণয় আভাস ভোমরের পাখনায় ভর করে দিনগুলোকে কাছে নিয়ে আসে।
মুস্তাফা জামান আব্বাসী: সাহিত্য-সংগীতব্যক্তিত্ব।
mabbasi@dhaka.net

Monday, November 3, 2014

‘রাসুল (সা.)-এর পদপ্রান্তে’ by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

রাজার অতিথি আমি, দর্শনপ্রার্থী তাঁর, যিনি সব রাজার রাজা। সৌদি দূতাবাস থেকে জরুরি টেলিফোন, ‘পাসপোর্ট পাঠান, হজ ডেলিগেশনে রাজকীয় মেহমান আপনি।’ শেষ ফ্লাইটে সৌদিয়া বিমানে বিজনেস ক্লাসে বসে আল্লাহকে জানালাম কোটি কোটি শুকরিয়া। হজ করেছি ৩২ বছর আগে, আবার গত বছর ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে। মদিনায় খেজুর বাগানে গিয়ে শারমিনীকে জানালাম জীবনের শেষ স্বপ্নের কথা। এখানেই থাকতে মন চায় জীবনের শেষ কয়টি দিন। তবে কি সেই আহ্বানই শুনতে পেয়েছেন বিধাতা? হজের প্রচণ্ড ভিড়ে কাবাঘর স্পর্শ পঁচাত্তর-উত্তীর্ণ যুবকদের পক্ষে অসম্ভব কল্পনা, আল্লাহ অল্প আয়েসেই অধমকে পৌঁছে দিলেন সেই স্থানে। দেয়ালের স্পর্শ ছাড়ব না কিছুতেই, চাইব যতক্ষণ দেহে আছে শক্তি, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মুসলমানদের জন্য এবং দেশের সবার জন্য চাইব শান্তির ফয়সালা। জীবনব্যাপী ভুলের নজরানা কুলাল না নজরুল-আব্বাসউদ্দীনের ফেলে যাওয়া গজলসম্ভারে, দুকূল ভাঙা অশ্রুধারা শুকাল শেষে ক্লান্তিহীন করুণা ভিক্ষায়। কাবা প্রদক্ষিণের এ অনন্ত স্রোতধারা, শেষ হবে না কোনো দিন। পতঙ্গের মতো, সুযোগ পেয়েছি আলোর আবর্তে নিজকে বিলীন করার, সুযোগ পেয়েছি প্রাণ ভরে মজলুম মুসলমানদের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার। কাঙালের মতো এই ক্ষণে ফরিয়াদরত নারী– পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ-যুবা একাকার। জীবন স্রোতের সঙ্গে তুলনীয় এই স্রোত কেউ কখনো খুঁজে পাবে না পৃথিবীর অন্য কোথাও।
অনেক দিন আগে মক্কা শহরে গেছেন যাঁরা, পুরোনো কোনো কিছুই আর তাঁরা খুঁজে পাবেন না। ইতিহাসের কোনো কিছুই আর খুঁজে পাওয়া যাবে না কাবাগৃহ ছাড়া। অচিরেই এটি পরিণত হতে চলেছে পৃথিবীর আধুনিকতম নগরের একটিতে। শোভা পাবে যেখানে নতুন নতুন গগনচুম্বী হোটেল, নতুন পথঘাট, বাজারহাট। তীর্থযাত্রীরা থাকবেন শহর থেকে দূরত্বে, নতুন নতুন স্যাটেলাইট টাউনে—কম খরচে, আরাম-আয়েশে। বিদ্যুৎবেগে বিদ্যুৎ ট্রেনে পৌঁছে দেওয়া হবে কাবাগৃহের সামনে। ধরা যাক, সেদিন বাংলাদেশ থেকে যাঁরা হজে যাবেন, তাঁদের জন্য প্রস্তুত হবে ‘বাংলাদেশ মরু-পল্লি’, ভারতের জন্য ‘ভারত মরু-পল্লি’ ইত্যাদি। তীর্থযাত্রীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা, যেমন– সুআহার, চিকিৎসা ও নামাজের বন্দোবস্ত ও সর্বাপেক্ষা প্রয়োজনীয় সুনিদ্রার ব্যবস্থা থাকবে। এ কথা অনস্বীকার্য যে বর্তমানে স্থানসংকুলান না হওয়ায় ২৫ লাখ তীর্থযাত্রীর মক্কা ও মদিনায় একসঙ্গে থাকা-খাওয়া, ঘুমানো বেশ কষ্টসাধ্য। মিনা ও মুজদালিফায় তীর্থযাত্রীরা যে কষ্টের মধ্যে পতিত হন, তা থেকে এখন ব্যবস্থা উন্নততর। মরুভূমিতে প্রয়োজন পানি। তুলনায় পর্যাপ্ত পানি ও তাঁবু মজুত আছে এখন। কাবা শরিফ, মক্কা-মদিনা সব সময় পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন। পরিষ্কারে নিয়োজিত আমরা, বাংলাদেশের তরুণ শক্তি।
কাবাগৃহের চতুর্দিকে উঠছে, উঠবে, পাঁচতারা হোটেল, যেখানে বিত্তশালীরা কামরায় বসেই এবাদতে মশগুল থাকবেন। গয়া, কাশি, বেনারসেও আকাশচুম্বী হোটেলগুলোতে হতে চলেছে ভারতের লাখো মানুষের জন্য সুবিধা, গঙ্গার জলের নির্মলতা। সুব্যবস্থা গ্রহণ করছে নতুন সরকার। জাপানের কিয়োটো শহর, বৌদ্ধদের বড় মন্দির দেখে এসেছি, যেন নির্মলতা ও পবিত্রতার প্রতিমূর্তি। নবীর পদপ্রান্তে কয়টি দিন। নবীর কাছে কীভাবে যাব, ভাবছি প্রতিক্ষণ। হয়তো জায়গাই পাব না। অবাক আমি। তাঁর পদপ্রান্তে সবচেয়ে গরিব কয়জন আরববাসীর পাশেই আমার জায়গা করে দিলেন তিনি। সোম ও বৃহস্পতিবার তাঁরা রোজা রাখেন নবীর পদাঙ্ক অনুসরণে। আমার জন্যও আঁজলা ভরে জমজমের পানি, আজওয়া খেজুর ও খুবজা এগিয়ে দিলেন। রোজা ছিলাম না, অথচ ওদের সঙ্গে ইফতার করায় সওয়াব পেলাম। রাসুল (সা.)-এর কথা মনে হতেই বাংলার মানুষের চোখে অশ্রুর ঢল নামে। রাসুল (সা.)-এর জন্য আমার এবারের সওগাত:‘রসুলের পদপ্রান্তে’—আমারই লেখা মুহাম্মদের নাম গ্রন্থের ২০ বছর পর।
গ্রন্থটি মনেই ছিল, পরিণত বয়সে যা দল মেলতে চলেছে। আমার সঙ্গে এবার বাংলাদেশের শতসহস্র বঞ্চিত শিশু, যারা কোনো দিন হজে যায়নি, যেতে পারবে না। অথচ আমার সঙ্গে গেলে কত সহজেই নবীর পায়ের কাছে বসে শুনতে পারবে নজরুলের অসংখ্য গজল, যা গীত হয়েছে পিতা আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে ১০০ বছর ধরে। ছোট ছেলেমেয়েরা সবাই তাঁর সামনে খেলা করছে, তারা গান গাইছে, সহজ নৃত্য করছে, আর রাসুল (সা.)-এর স্নেহ, চুম্বনে হচ্ছে অভিসিক্ত। এ আমার মায়ার খেলা। কল্পনার চোখে এ খেলা প্রত্যক্ষ করেছি। চোখের পানিতে সয়লাব হয়ে গানগুলো আবার গেয়েছি। কাজী নজরুল, গোলাম মোস্তফা ও পিতা আব্বাসউদ্দীন আহ্মদ ছিলেন আমার সঙ্গে। কল্পনার মাহফিলে বঞ্চিত শিশুরা গান গেয়েছে, সেই সঙ্গে অবগাহন করে এসেছি নবী (সা.)-এর সেই সময়ের দেশ, যেটি ছিল মরুময়, মাঝেমধ্যে ছোট ছোট গাছ, সেখানে উট চরিয়ে ফিরছে ছোট শিশুরা। সে দৃশ্য এখনো আছে বৈকি। শুধু বদলে গেছে মক্কা-মদিনা।
সৌদি আরবের আমন্ত্রণে বারো শ মেহমান। চীন, জাপান, রাশিয়া, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, আফ্রিকার দেশগুলো, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, বাংলাদেশসহ ৭০টি দেশ। একসঙ্গে খাওয়া, তাঁবুতে ঘুমানো, জায়নামাজে সিজদা। রাজার সঙ্গে দেখা হয়নি, পাঠিয়েছেন: জায়নামাজ, তাসবিহ, আতর, মোবাইল ও জমজমের পানি। ডিরেক্টর জেনারেল বললেন, ‘আব্বাসী সাহেব, সালাম পৌঁছে দেবেন সবার কাছে। আপনাদের খাদেম আমরা। তাঁর সুন্দর হাসিটি অনেক দিন মনে থাকবে।’
মুস্তাফা জামান আব্বাসী: সাহিত্য-সংগীত ব্যক্তিত্ব।
mabbasi@dhaka.net

Monday, April 14, 2014

পয়লা বৈশাখের শুভ মুহূর্তে by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

দূর প্রবাসে যারা, বাংলাদেশের বৈশাখের দিকে তাকিয়ে, অন্তত ফেসবুকের বাসিন্দা যারা, তাদের চোখে বৈশাখের বার্তা। চৈত্রের নিদাঘ জানান দেয় বৈশাখের আগমন। প্রথম দিনটি এল বলে। আগে থেকেই বাতাসে ঝড় তুলে আগমন শিলাবৃষ্টির, সেই সঙ্গে কালো মেঘের ভ্রুকুটি, যাতে কয়েকটি প্রাণের বজ্রাঘাতে নির্বাপণ। যার গেছে, সে-ই জানে শুধু, অন্যের কাছে নেই এর কোনো মূল্য। বাড়ে ইলিশের দাম, সেই সঙ্গে পুরোনো গানগুলোর বিন্যাস, চলে নানা প্রস্তুতি টিভির পর্দায়, নানা সাজের পয়লা বৈশাখ দ্বারে উপস্থিত।

Wednesday, March 12, 2014

গোধূলির ছায়াপথে- ফুল ও বাতাসে মনীষীর স্পর্শ by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

সকালবেলায় শিল্পী গেয়ে গেলেন: ‘তোমার আসন পাতব কোথায় হে অতিথি/ ছেয়ে গেছে শুকনো পাতায় কানন বীথি’। গান শেষ হয়েছে, স্পর্শটুকু বাতাসে। আরেকটিবার শোনার জন্য মনের হাহাকার। ওটি তো চিরদিনের জন্য ভেসে গেল।

Thursday, June 27, 2013

গোধূলির ছায়াপথে ‘আজ সকালের আমন্ত্রণে’ by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

দিনটি ভরে যায় গানে গানে, যখনই খুলে বসি পাশের বাড়ির ‘তারা’ টিভি। অনেক দিন থেকে সুন্দর সুন্দর গানের ডালি নিয়ে উপস্থিত তিন উপস্থাপিকা। তাঁদের নিরাভরণ সাবলীল বাক্যবিন্যাসে মন ভরে যায়।

Saturday, December 8, 2012

গোধূলির ছায়াপথে- মেঘনায় গভীর রাতে লাশের শব্দ by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

শুক্রবার ভৈরবের সুমন মোল্লার লেখাটি প্রথম আলোয় পড়ার পর অনেকেই গভীর রাতে নদীতে লাশ ফেলে দেওয়ার শব্দ শুনতে পাচ্ছেন দিনেরাতে। আমিও। সেতুসংলগ্ন কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মাছ ধরতে যান যাঁরা, প্রথমে ভাবেন এটি বড় মাছের ঘাই।

Sunday, August 26, 2012

গোধূলির ছায়াপথে- আশি অতিক্রান্তদের নিয়ে স্বপ্ন-কথা by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

আশি অতিক্রান্ত হলে শরীরের ভাষা বলে দেয়: অনেক হলো, এবার আসি। সবাই নয়। মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, ড. খান সারওয়ার মুরশিদ , ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন—এ রকম যাঁরা আশি পেরিয়েছেন, তারুণ্যের আভা যেন সব সময়ই তাঁদের মুখাবয়বকে করছে বিভাসিত।

Tuesday, July 24, 2012

এই সময়-মঙপুতে আবার by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

মৈত্রেয়ী দেবীর জবানিতে এত দূর থেকেও মঙপুর সেই পাহাড়ি বাংলোয় রবীন্দ্রনাথের গাওয়া গানটি যেন আমার কানে বাজছে। রবীন্দ্রনাথের গানকে বলেছি 'অন্তর্যাত্রা'। এর আগে তার জীবনে 'যাত্রা'র মূল্য অনুধাবন করেছি 'জীবনস্মৃতির' নানা রচনায়,

Friday, July 13, 2012

জননী জন্মভূমিশ্চ... by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

দিন বয়ে চলেছে। সামনে কী আছে জানা নেই। স্মৃতিগুলো সব সময় খেলা করছে। কখনো বা তাদের নিয়ে খেলছি। এ খেলা আমার কাছে দুরন্ত খেলা। খুব ভালো লাগছে। মা বলতে মায়ের কোলে শিশুটি, মাকে জড়িয়ে ধরছি, মা আদর করছেন, খাইয়ে দিচ্ছেন, ছোট থেকে বড় বয়স পর্যন্ত।

Thursday, June 28, 2012

গোধূলির ছায়াপথে-এই দীনতা ক্ষমা করো প্রভু... by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

সামনে শীত আসছে। নানাবাড়ি ডোমারে চলেছি বহুদিন পর। ৩০০ ছেলেমেয়ে ভোর থেকে অপেক্ষা করছে মহিলা কলেজের সামনে। কানাডা থেকে ফি বছর বন্ধুরা আসেন ‘স্লিপিং কিটস অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড’ [SCAW] প্রোগ্রামে শিশুদের জন্য এই সম্ভার বিতরণ করতে, যাতে জামাকাপড়, দুটি কম্বল, বালিশ, মশারি, বেডকভার, খাতা-পেনসিল, আরও কত কী নিয়ে প্রস্তুত একটি কিট।

Thursday, June 21, 2012

গোধূলির ছায়াপথে-প্রথম আলোর যুগপূর্তি by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

মনে করার চেষ্টা করছি, যখন আমি বারো বছরের কিশোর। আট থেকে বারোর দিনগুলো যেন ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে চলেছে। পেছনের দিকে তাকানোর নেই অবকাশ। দেশ স্বাধীন হওয়ার মুহূর্তে এক দেশ থেকে আরেক দেশ। এক স্কুল থেকে আরেক স্কুল। পরিবর্তনের দোলাচলে। সঙ্গে কিছুই নেই স্মৃতি ছাড়া।

Wednesday, June 20, 2012

গোধূলির ছায়াপথে-রঙের সওদায় মিলেমিশে আছি by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

জীবনকে যে যেভাবে দেখতে চায়—কারও সঙ্গে মিল নেই কারও। রঙের সওদায়, জিভের সওদায় আছি মিলেমিশে। এশীয় দ্বিবার্ষিক শিল্প প্রদর্শনীতে যে শিল্পীরা এসেছেন, তাঁদের সঙ্গে দুপুরের খাওয়া একসঙ্গে ঢাকা ক্লাবে। বঙ্গোপসাগরের নাতি-অতল গহ্বর থেকে আহরিত চিংড়ি, পদ্মার রুই, কামরাঙ্গীরচরের স্বাস্থ্যবান মোরগ, মুগের ডাল,

Tuesday, June 19, 2012

জীবন যেমন-কালো হরফে বন্দি একটি কাল, একটি সত্য by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

তাহলে সত্যজিৎ রায় কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ? এই জন্য যে, 'পথের পাঁচালী' অর্থাৎ পথের গানেই আছে জীবনের কথা, যার অপর নাম দীন। ওই যে রেলগাড়িটি মাঠের মধ্যে 'ঝিক' 'ঝিক' শব্দ করে বেরিয়ে গেল চোখের সামনে দিয়ে, চিরায়ত বাংলার পটভূমিতে অপুর জীবনের ট্রিলজি, মুহূর্তে যা চিনিয়ে দিল না বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ চিত্র নির্মাতাকে, এর সঙ্গে চিরায়ত মানুষকে।

Monday, June 18, 2012

গোধূলির ছায়াপথে-‘ইউ ওল্ড ফুল’ by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

আমার এমন কিছু বয়স হয়নি। দেখতে বেশি মনে হলেও একজন তরুণ ব্যক্তি আমি। যাঁরা আমাকে ছেড়ে চলে গেছেন, তাঁদের কথা আজকাল বেশি মনে হয়। দিন গত হয়ে যাচ্ছে বলে আগের দিনের মানুষের কথা ভেসে ওঠে স্মৃতিপটে। পুরান ঢাকার পাতলা খান গলিতে এক ভদ্রলোক রোজই আসতেন পিতার দর্শনার্থী হয়ে।

Friday, June 15, 2012

গোধূলির ছায়াপথে-রুমির বাগানে মহাত্মা গাঁধী by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

এলাহাবাদ কোর্টের রায় বেরিয়েছে। মসজিদ ও মন্দির দুটিই থাকবে। ২৯ সেপ্টেম্বর রুমির ও ২ অক্টোবর গাঁধীর জন্মদিন। রুমির মসনবি আজ পৌঁছেছে সবার কাছে। ১৯০৭ সালের বসন্তে লন্ডনের একটি পত্রিকার কলামে বের হতো হ্যাডলান্ড ডেভিসের সাপ্তাহিক বক্তব্য: ‘পূবের জ্ঞানসমুদ্র’।

গোধূলির ছায়াপথে-কবিকেও একলা বাড়ি ফিরতে হয় by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

শ্রাবণের দিন গত হলে এর বিলীয়মান স্পর্শের কথা কারও মনে পড়বে—হারিয়ে যায় যখন চিরতরে রিমিঝিমি শব্দস্পর্শের অন্তর্গত মায়াবী দিন। পল্লিগ্রামে টিনের চালে বৃষ্টির ফোঁটার আবির্ভাব শব্দ করে। ঘন হয়ে ওঠে শিরশির করে ওঠা অনুভূতির রোমকূপগুলো। কান খাড়া করে শোনে সর্বক্ষণ বৃষ্টি-নূপুরের ধ্বনিতরঙ্গ।