Showing posts with label মুস্তাফা জামান আব্বাসী. Show all posts
Showing posts with label মুস্তাফা জামান আব্বাসী. Show all posts
Tuesday, December 22, 2015
দাতাকে চিনতে হবে by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
দাতাকে
চিনতে হবে, না হলে কাজ হবে না। আমরা দাতাকেই চিনি না। নিজেই সর্বেসর্বা
হয়ে বসি। যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত সেদিন বলে গেলেন, এ দেশে আইএস জেঁকে বসার
আগে ওদের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। তা না হলে কাজ হবে না, যেমনটি ঘটেছে
মধ্যপ্রাচ্যে। সাদ্দামকে ফাঁসিতে ঝোলাতে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন আলকায়েদা।
তাতে আরো কষ্টকর হলো সব কিছু। ১০ বছর আগে থেকেই বলা হচ্ছিল কাউকে-না-কাউকে
আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। না হলে বাধবে লড়াই।
ইরাকে বেশ কয়েকবার গিয়েছি ব্যাবিলন সঙ্গীত সম্মেলনে যোগ দিতে। একবারও সাদ্দামের সাথে দেখা হয়নি। বলা হলো উনি ব্যস্ত ইরাক-ইরান যুদ্ধ নিয়ে। তাকে বলতে চেয়েছিলাম- সঙ্ঘাত নয়, আলোচনার পথেই ইরাক নিজেকে সামলে নিতে পারবে। এ দিকে সঙ্ঘাত দিনে দিনে বেড়ে গেল। তারপর যুদ্ধ। লাখ লাখ লোক মারা গেল। এখন আমেরিকা বেরিয়ে আসতে চাইলেও পারছে না। যদি আগে থেকে আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত থাকত, এমনটি হয়তো হতো না। এই ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানো যেত। আসল দাতাকে চিনতে চাই না। দাতার কাছে ক্ষমা চাইলে সহজে হবে পার্থিব সঙ্ঘাতের সমাধান।
সাদ্দামের সাথে দেখা না হলেও, হলো জসীমের সাথে, তার তথ্যমন্ত্রী। এ কথা সে কথার পর জানালাম, সম্ভব হলে সাদ্দামের সাথে দেখা করতে চাই। বলল, সম্ভব হবে না। জানতে চাইল কেন? বললাম এ জন্য যে, আমেরিকার সাথে সে একটা রফা করুক এটাই আমার ইচ্ছা। তা না হলে আমেরিকা তাকে বাঁচতে দেবে না। কথাটা জসীম উড়িয়ে দিলো না। বলল, আমরা মার্কিনিদের বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি যে, আমাদের কাছে লুকানো মারণাস্ত্র নেই। ওরা বলছে, সেটা এক দিন না এক দিন প্রমাণ হবেই। ১০ বছর পর আজো প্রমাণ হয়নি যে, ওদের কাছে ‘ডব্লিউএমডি’ অথবা ‘ওইপেন্স অব মাস ডেস্ট্রাকশন’, অর্থাৎ গণবিধ্বংসী অস্ত্র ছিল। তবুও কৌশলটি ওদের কাজে লেগেছে। মুসলমানদের তিন নেতা ভুট্টো, সাদ্দাম ও গাদ্দাফিকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হলো। শেষ ফলাফল কারো জানা নেই। অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার হাতে। আল্লাহ অসীম রহমতের অধিকারী। যদি তার কাছে ক্ষমা চাওয়া না হয়, ফলাফল কী হবে, তা কল্পনাও করা যায় না।
আল্লাহ চাইছেন যেন বান্দারা অপরকেও মূল্য দেয়। না দিলে ফলাফল হবে সঙ্ঘাত। অনেক প্রাণ বিসর্জিত হবে। সব জীবের প্রতি যিনি দয়ালু, কারো প্রতি বিন্দুমাত্র তারতম্য প্রদর্শন না করে তিনি রহমান, পরমদয়ালু। রহমানকে অন্তর থেকে উপলব্ধি করার জন্য প্রয়োজন দয়ালু হৃদয়ের। যে দয়ালু নয়, তার প্রার্থনার কী দাম? যে দয়ালু নয়, সে সমাজে প্রভাবপ্রতিপত্তি সত্ত্বেও তার জন্য কারো ভালোবাসা সচরাচর প্রত্যক্ষ করা যায় না। তাই দয়ার সমুদ্র যিনি, তার কাছ থেকেই শিক্ষা নিতে হবে দাক্ষিণ্য। সংসারে অনেক ভালো লোক আছেন যারা হিসাবে অনড়, হিসাবের কড়ায় গণ্ডায় ওপরের সিঁড়ি বেয়ে সর্বোচ্চ আসনে স্থান নিয়েছেন, দয়াদাক্ষিণ্যের ধার দিয়েও যাননি। জীবনের শেষ প্রান্তে দয়াময়কে খোঁজার জন্য পরিপূর্ণ আবেগে ছুটে আসেন মসজিদে। ঢোকার মুহূর্তে তাদের দিকে চেয়ে আছেন নিরন্ন মানুষ। ঢুকছেন যিনি তার শেখা একটিই মন্ত্র : ‘মাফ কর, মাফ কর।’ পকেটে পয়সা আর বাড়ি গাড়ি সবই আছে। কয়েকটি টাকা পকেট থেকে বের করতে কতই না দ্বিধা সংশয়। করুণাময়কে সারা দিন জপ করলেও লাভ হবে না। করুণাময়কে পেতে করুণার চর্চায় নিজেকে বিলিয়ে তবেই ঢুকতে হয় মসজিদে। তার চেয়ে আল্লাহকে বলি সারা দিন : ক্ষমা করো, প্রভু।
যে লোকটি সঞ্চয় থেকে একটি সিকি কবুল করল অভাবীর কাছে, কত সহজে তার অশ্রুবন্যা প্রবাহিত হলো। সেদিনের মতো তার ইবাদত আল্লাহর কাছে হলো সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। দয়াল দাতা আল্লাহর কাছে তার নাম দাতা হিসেবে লিপিবদ্ধ হলো। একটি সিকির দাতা সারা দিন কী আনন্দের মধ্যে অতিবাহিত করলো তা শুধু সেই জানে।
ভারত-পাকিস্তান সামনাসামনি যুদ্ধাবস্থায়। দু’পক্ষের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে, কার এমন সাহস আছে? পাকিস্তানের নওয়াজ শরিফ, তাকে আগে চিনতাম। এখন নয়। দেখা হলে কুরআন শরিফ নিয়ে তার সামনে এগিয়ে দিতাম। বলতাম, দেখো এই জায়গায় : ‘তানজিলুম মিনার রাহমানির রাহিম’। পরমদয়ালু দয়ালুর দিকে তাকাও। তা হলে তোমার ভারী মন করে দেয়া হবে পাখির পালকের মতো নরম। রহমানের নাম উচ্চারণের সাথে সাথে যদি তোমার অন্তর থেকে একটি স্র্রোত প্রবাহিত হয়, তা হলেই তুমি সফল। এই নামটি জপ করার সাথে সাথে প্রবাহের শুরু। জপ করতে করতে তুমি পৌঁছে যাবে দয়ার সাগরে।
কুরআনে ‘আর রহমান’ শব্দটি ৫৭ বার উচ্চারিত। দেশে বিদেশে ঘুরলাম অনেক। থাইল্যান্ড, জাপান ও চীনে বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে বসে থাকেন ভিক্ষুরা। তাদের কোনো চাওয়া পাওয়া নেই। কেউ দিলে খান, না দিলে খান না। ওরা বসে থাকেন রহমানের আশায়। সামান্য একটু খাওয়া, এতেই খুশি। সকাল থেকে যদি কেউ রহমানের কাছে ধর্ণা দিয়ে বসেন নিজের প্রত্যাশাকে সর্বনিন্মে এনে, তা হলে তার জীবনে শান্তির সুশীতল বাতাস প্রবাহিত হবে, এটাই সত্যি। নরেন্দ্র মোদির সাথে দেখা হলে তাকে বলতাম, তার ধর্মপ্রাণতা আমার পছন্দ, কিন্তু সব ধর্মের সব মানুষের জন্য থাকতে হবে সমান ধর্মপ্রাণতা। আমার জন্যও তা প্রযোজ্য।
লেখক : সাহিত্য-সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব
mabbasi@dhaka.net
ইরাকে বেশ কয়েকবার গিয়েছি ব্যাবিলন সঙ্গীত সম্মেলনে যোগ দিতে। একবারও সাদ্দামের সাথে দেখা হয়নি। বলা হলো উনি ব্যস্ত ইরাক-ইরান যুদ্ধ নিয়ে। তাকে বলতে চেয়েছিলাম- সঙ্ঘাত নয়, আলোচনার পথেই ইরাক নিজেকে সামলে নিতে পারবে। এ দিকে সঙ্ঘাত দিনে দিনে বেড়ে গেল। তারপর যুদ্ধ। লাখ লাখ লোক মারা গেল। এখন আমেরিকা বেরিয়ে আসতে চাইলেও পারছে না। যদি আগে থেকে আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত থাকত, এমনটি হয়তো হতো না। এই ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানো যেত। আসল দাতাকে চিনতে চাই না। দাতার কাছে ক্ষমা চাইলে সহজে হবে পার্থিব সঙ্ঘাতের সমাধান।
সাদ্দামের সাথে দেখা না হলেও, হলো জসীমের সাথে, তার তথ্যমন্ত্রী। এ কথা সে কথার পর জানালাম, সম্ভব হলে সাদ্দামের সাথে দেখা করতে চাই। বলল, সম্ভব হবে না। জানতে চাইল কেন? বললাম এ জন্য যে, আমেরিকার সাথে সে একটা রফা করুক এটাই আমার ইচ্ছা। তা না হলে আমেরিকা তাকে বাঁচতে দেবে না। কথাটা জসীম উড়িয়ে দিলো না। বলল, আমরা মার্কিনিদের বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি যে, আমাদের কাছে লুকানো মারণাস্ত্র নেই। ওরা বলছে, সেটা এক দিন না এক দিন প্রমাণ হবেই। ১০ বছর পর আজো প্রমাণ হয়নি যে, ওদের কাছে ‘ডব্লিউএমডি’ অথবা ‘ওইপেন্স অব মাস ডেস্ট্রাকশন’, অর্থাৎ গণবিধ্বংসী অস্ত্র ছিল। তবুও কৌশলটি ওদের কাজে লেগেছে। মুসলমানদের তিন নেতা ভুট্টো, সাদ্দাম ও গাদ্দাফিকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হলো। শেষ ফলাফল কারো জানা নেই। অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার হাতে। আল্লাহ অসীম রহমতের অধিকারী। যদি তার কাছে ক্ষমা চাওয়া না হয়, ফলাফল কী হবে, তা কল্পনাও করা যায় না।
আল্লাহ চাইছেন যেন বান্দারা অপরকেও মূল্য দেয়। না দিলে ফলাফল হবে সঙ্ঘাত। অনেক প্রাণ বিসর্জিত হবে। সব জীবের প্রতি যিনি দয়ালু, কারো প্রতি বিন্দুমাত্র তারতম্য প্রদর্শন না করে তিনি রহমান, পরমদয়ালু। রহমানকে অন্তর থেকে উপলব্ধি করার জন্য প্রয়োজন দয়ালু হৃদয়ের। যে দয়ালু নয়, তার প্রার্থনার কী দাম? যে দয়ালু নয়, সে সমাজে প্রভাবপ্রতিপত্তি সত্ত্বেও তার জন্য কারো ভালোবাসা সচরাচর প্রত্যক্ষ করা যায় না। তাই দয়ার সমুদ্র যিনি, তার কাছ থেকেই শিক্ষা নিতে হবে দাক্ষিণ্য। সংসারে অনেক ভালো লোক আছেন যারা হিসাবে অনড়, হিসাবের কড়ায় গণ্ডায় ওপরের সিঁড়ি বেয়ে সর্বোচ্চ আসনে স্থান নিয়েছেন, দয়াদাক্ষিণ্যের ধার দিয়েও যাননি। জীবনের শেষ প্রান্তে দয়াময়কে খোঁজার জন্য পরিপূর্ণ আবেগে ছুটে আসেন মসজিদে। ঢোকার মুহূর্তে তাদের দিকে চেয়ে আছেন নিরন্ন মানুষ। ঢুকছেন যিনি তার শেখা একটিই মন্ত্র : ‘মাফ কর, মাফ কর।’ পকেটে পয়সা আর বাড়ি গাড়ি সবই আছে। কয়েকটি টাকা পকেট থেকে বের করতে কতই না দ্বিধা সংশয়। করুণাময়কে সারা দিন জপ করলেও লাভ হবে না। করুণাময়কে পেতে করুণার চর্চায় নিজেকে বিলিয়ে তবেই ঢুকতে হয় মসজিদে। তার চেয়ে আল্লাহকে বলি সারা দিন : ক্ষমা করো, প্রভু।
যে লোকটি সঞ্চয় থেকে একটি সিকি কবুল করল অভাবীর কাছে, কত সহজে তার অশ্রুবন্যা প্রবাহিত হলো। সেদিনের মতো তার ইবাদত আল্লাহর কাছে হলো সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। দয়াল দাতা আল্লাহর কাছে তার নাম দাতা হিসেবে লিপিবদ্ধ হলো। একটি সিকির দাতা সারা দিন কী আনন্দের মধ্যে অতিবাহিত করলো তা শুধু সেই জানে।
ভারত-পাকিস্তান সামনাসামনি যুদ্ধাবস্থায়। দু’পক্ষের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে, কার এমন সাহস আছে? পাকিস্তানের নওয়াজ শরিফ, তাকে আগে চিনতাম। এখন নয়। দেখা হলে কুরআন শরিফ নিয়ে তার সামনে এগিয়ে দিতাম। বলতাম, দেখো এই জায়গায় : ‘তানজিলুম মিনার রাহমানির রাহিম’। পরমদয়ালু দয়ালুর দিকে তাকাও। তা হলে তোমার ভারী মন করে দেয়া হবে পাখির পালকের মতো নরম। রহমানের নাম উচ্চারণের সাথে সাথে যদি তোমার অন্তর থেকে একটি স্র্রোত প্রবাহিত হয়, তা হলেই তুমি সফল। এই নামটি জপ করার সাথে সাথে প্রবাহের শুরু। জপ করতে করতে তুমি পৌঁছে যাবে দয়ার সাগরে।
কুরআনে ‘আর রহমান’ শব্দটি ৫৭ বার উচ্চারিত। দেশে বিদেশে ঘুরলাম অনেক। থাইল্যান্ড, জাপান ও চীনে বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে বসে থাকেন ভিক্ষুরা। তাদের কোনো চাওয়া পাওয়া নেই। কেউ দিলে খান, না দিলে খান না। ওরা বসে থাকেন রহমানের আশায়। সামান্য একটু খাওয়া, এতেই খুশি। সকাল থেকে যদি কেউ রহমানের কাছে ধর্ণা দিয়ে বসেন নিজের প্রত্যাশাকে সর্বনিন্মে এনে, তা হলে তার জীবনে শান্তির সুশীতল বাতাস প্রবাহিত হবে, এটাই সত্যি। নরেন্দ্র মোদির সাথে দেখা হলে তাকে বলতাম, তার ধর্মপ্রাণতা আমার পছন্দ, কিন্তু সব ধর্মের সব মানুষের জন্য থাকতে হবে সমান ধর্মপ্রাণতা। আমার জন্যও তা প্রযোজ্য।
লেখক : সাহিত্য-সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব
mabbasi@dhaka.net
Saturday, May 9, 2015
পদ্মার ঢেউ রে... by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
Saturday, May 09, 2015
Anonymous
আলোচনা,
উপ-সম্পাদকীয়,
প্রথম আলো,
মতামত,
মুস্তাফা জামান আব্বাসী,
সাহিত্য
নজরুলের
এই গানটি কে না শুনেছে? মাঝেমধ্যে আমিও গাই। নজরুল তাঁর গানে অনেক
দেব-দেবীকে উপস্থাপন করেছেন, যার পরিপূর্ণ ইতিহাস এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। এই
নদীতীরে ঘুরে বেড়িয়েছি কবির মতো, পদ্মার দেখা পাইনি। তাঁর পদচিহ্ন কোথায়
যেন মিলিয়ে গেছে গানের সুরে সুরে। সুরের মাঝেই অন্বেষণ। এর উজানেই নৌকা
ভাসিয়েছেন আরেক কবি, লিখেছেন ‘সোনার তরী’: ‘কোন পারে ভিড়িবে তোমার স্বপন
তরী’? নদী ও সংগীতসংশ্লিষ্ট পদ্মা নিয়ে গবেষণার নেই বিরাম। কে এই পদ্মা?
পুরীতে জগন্নাথ দর্শনে বিহ্বল মানুষ প্রভুকে খুঁজে চলেছেন। এ খোঁজার বিরাম নেই। ভারতে হাজার হাজার মন্দির। মন্দিরের মূর্তির পেছনে বিধাতাকে ওরা দেখেনি, আমরা তো নয়–ই। খুঁজতে খুঁজতে পদ্মার দেখা পেলাম। কীভাবে তার কথাই বলব।
কবি জয়দেবের গীতগোবিন্দের গান সবাই শুনেছেন, আমরাও। পুরীর কাছে একটি গ্রামে থাকত পদ্মা নামের একটি মেয়ে, মালিনীর কন্যা, অথচ গানের গলাটি মধুর চেয়ে মধুর। অনেকের জানা আছে, জয়দেবের লেখা ‘সদুক্তিকর্নামৃত’র ২৬টি শ্লোক বাংলায় রচিত নয়। যদিও আমরা জানি বীরভূম জেলার অজয় নদের তীরে কেন্দুবিল্ব গ্রামের জন্মগ্রহণকারী জয়দেব বাঙালি। তাঁর গান ছিল নৃত্য ও গীতের সমারোহ। লক্ষ্মণ সেনের সভায় জয়দেব নিজেই গাইতেন গীতগোবিন্দের গান। এখানেই পদ্মাদেবীর আগমন। দক্ষিণী নৃত্যে পটীয়সী অসামান্য রূপসী কন্যা পদ্মা, যার মধ্যে রূপায়ণ হতো গীতগোবিন্দের আধ্যাত্মিক রূপ। কথিত আছে, দৈব আদেশে তার সঙ্গে বিবাহ হয় জয়দেবের।
পদ্মা গেয়ে শোনাত জয়দেবের গান আর বেগুনগাছ থেকে তুলত বেগুন। দূর থেকে শ্রীজগন্নাথ নিজেই কোথা থেকে শুনতে পেলেন সে মধুর সংগীত। তার ঘুরে বেড়ানোতে নেই কোনো বাধা। গিয়ে পেলেন সুন্দর একটি মেয়েকে, যে আপন মনে গাইছে গীতগোবিন্দের গান, আপনাতে আপনি বিভোল। পদ্মা জগন্নাথকে দেখেনি, নাম শুনেছে, জানতে পেরেছে, উনিই বিধাতা। উনি সবাইকে ভালোবাসেন, তার মতো একটি গ্রাম্য বালিকাকেও। পদ্মা নিজ আত্মাকেই শোনায় এ গান। ভাবে যদি কোনো দিন বিধাতা তার কাছে এসেই পড়েন, কী করবে সে। অন্তর্যামী সর্ব জীবের কল্যাণে নিয়োজিত, কাউকে উপেক্ষা করেন না, সবাইকে ভালোবাসেন। বালিকা পদ্মা তাঁর মন জয় করল। হলেন বিগলিত, আত্মবিস্মৃত; তিনি যে ভগবান, তা-ও তিনি ভুলে গেলেন। বেগুনগাছের কাঁটায় তাঁর উত্তরীয় মাটিতে পড়ে গেল। পদ্মা গানেই বিভোর। সে এত কিছু লক্ষ করেনি।
কিছু সময় পর পদ্মার ঝুড়ি বেগুনে ভর্তি হয়ে গেল, সে চলে গেল বাগান থেকে। পদ্মার গান শ্রবণ করার পর পরিতৃপ্ত শ্রীজগন্নাথ ফিরে গেলেন তাঁর মন্দিরে। পরদিন সকালে পূজারিরা এলেন প্রাতঃকালীন সেবাকর্মের দায়িত্বে। অবাক হয়ে দেখলেন জগন্নাথের ছেঁড়া বস্ত্র আর তাঁর সেই উত্তরীয়টিও উধাও। পূজারিরা হলেন চিন্তিত। এমন একটি ঘটনা ঘটতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারে না, নিশ্চয়ই তাঁদের ত্রুটি হয়েছে শ্রীজগন্নাথকে বস্ত্র পরানোর সময়। তাঁরা শুরু করলেন উপবাস। শ্রীজগন্নাথ স্বপ্নে জানালেন, তোমাদের দোষ নেই, আমি গান শুনতে গিয়েছিলাম ওই মেয়েটির কাছে।
অবিলম্বে চারদিকে খোঁজ পড়ে। পদ্মাকে খুঁজে পাওয়া যায়। গীতগোবিন্দের গায়িকা গ্রামের মেয়ে পদ্মা কোনো দিন স্বপ্নেও ভাবেনি এভাবে সে হবে সম্মানিত। সংগীতের ঢেউ মিশে গেল তার জীবননদীর স্বরগ্রামের সঙ্গে। পুরীর শ্রীজগন্নাথের মন্দিরে তার আসন হলো স্থায়ী। যেখানে প্রতিদিন শ্রীজগন্নাথের বিশ্রাম গ্রহণের আগে সুললিত কণ্ঠে গান গাইবে নৃত্যপটীয়সী পদ্মা।
এবার শোনা যাক নজরুলের গানটি: ‘পদ্মার ঢেউ রে, মোর শূন্য হৃদয়–পদ্ম নিয়ে যা, যা রে’। এখানে পদ্মা নদীর নামকরণের ইতিহাস নেই, আছে সেই পদ্মের খোঁজ, যার নামে পদ্মা। এত দূর থেকে আমরা শুধু শুনতে পাই ঢেউয়ের শব্দ আর প্রেমিক হৃদয়ের শূন্য হাহাকার, বিসর্জিত যা নদীর ঢেউয়ে।
পদ্মার ঢেউয়ে ঝিলমিল করে যে বঁধুয়ার কৃষ্ণকালো রূপ, তা ফুটে ওঠে সঞ্চারিতে। কৃষ্ণকালো রূপ শ্রীজগন্নাথের, আর কারও নয়। দূর থেকে অবশ্যই চেনা যায় পদ্মাকে। প্রেমের ঘাটে ঘাটে বাঁশি বাজায় যে প্রেমিক, খুঁজে পাওয়া দায় তাকে। চিরদিন সে আশার–দেয়ালী জ্বালিয়ে পালিয়ে বেড়ায়। তার পায়ে সমর্পিত হতে চায় পদ্ম। যেমনটি পদ্মা খুঁজে পায় মন্দিরে অধিষ্ঠিত দেবতাকে।
পদ্মা রূপ নেয় পদ্মে, যার কাছে নেই মধু, নেই সুগন্ধ, তার রূপের সরসীতে তাই নেই আনন্দ মৌমাছির ঝংকার। পদ্মা রূপ নেয় ঢেউয়ে, যখন তার মাঝে চিকমিক করে ওঠে চাঁদের আলো। চাঁদের আলোয় কৃষ্ণকালো বঁধুয়া।
গানটি গাওয়ার সময় কখনো গায়িকা পদ্মার কথা আগে মনে হয়নি। মনে হতো পদ্মফুলের মধ্যেই পদ্মার অবস্থান। পদ্ম ও পদ্মা যেন সমার্থবোধক। পদ্ম নারীর রূপ, পদ্মাও তা-ই। পদ্ম চায় বাঁশরির তালে যে প্রেমিক নেচে বেড়ায় তার আহ্বানে সাড়া দিতে।
গানটিতে বাঁশরি সঞ্চালনের প্রচুর সুযোগ অর্থাৎ এখানেই অনেকক্ষণ বাঁশরির প্রয়োগ হতে পারে যেমন ওস্তাদেরা ভাটিয়ালি গানের ধুন বাজাতে গিয়ে আশ্রয় নেন প্রলম্বিত তালের কাজে, যেন ওগুলো ঢেউয়ের কারসাজি। একটি ভাটিয়ালি গান তিন মিনিটের, অথচ ভাইটাল গাঙের মাঝিরা ওই গানটি গান প্রলম্বিত সুরে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে। পদ্মার ঢেউরেও তা-ই। এটি তিন মিনিটের গান নয়, এটি প্রাণ মাঝির শাশ্বত সংগীত, যে সর্বমুহূর্তে প্রেমিককে খুঁজে ফিরছে। পদ্মাকে খুঁজতে গিয়ে পাই স্রষ্টাকে, সর্বজীবের মঙ্গলের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা।
মুস্তাফা জামান আব্বাসী: সাহিত্য-সংগীত ব্যক্তিত্ব।
mabbasi@dhaka.net
পুরীতে জগন্নাথ দর্শনে বিহ্বল মানুষ প্রভুকে খুঁজে চলেছেন। এ খোঁজার বিরাম নেই। ভারতে হাজার হাজার মন্দির। মন্দিরের মূর্তির পেছনে বিধাতাকে ওরা দেখেনি, আমরা তো নয়–ই। খুঁজতে খুঁজতে পদ্মার দেখা পেলাম। কীভাবে তার কথাই বলব।
কবি জয়দেবের গীতগোবিন্দের গান সবাই শুনেছেন, আমরাও। পুরীর কাছে একটি গ্রামে থাকত পদ্মা নামের একটি মেয়ে, মালিনীর কন্যা, অথচ গানের গলাটি মধুর চেয়ে মধুর। অনেকের জানা আছে, জয়দেবের লেখা ‘সদুক্তিকর্নামৃত’র ২৬টি শ্লোক বাংলায় রচিত নয়। যদিও আমরা জানি বীরভূম জেলার অজয় নদের তীরে কেন্দুবিল্ব গ্রামের জন্মগ্রহণকারী জয়দেব বাঙালি। তাঁর গান ছিল নৃত্য ও গীতের সমারোহ। লক্ষ্মণ সেনের সভায় জয়দেব নিজেই গাইতেন গীতগোবিন্দের গান। এখানেই পদ্মাদেবীর আগমন। দক্ষিণী নৃত্যে পটীয়সী অসামান্য রূপসী কন্যা পদ্মা, যার মধ্যে রূপায়ণ হতো গীতগোবিন্দের আধ্যাত্মিক রূপ। কথিত আছে, দৈব আদেশে তার সঙ্গে বিবাহ হয় জয়দেবের।
পদ্মা গেয়ে শোনাত জয়দেবের গান আর বেগুনগাছ থেকে তুলত বেগুন। দূর থেকে শ্রীজগন্নাথ নিজেই কোথা থেকে শুনতে পেলেন সে মধুর সংগীত। তার ঘুরে বেড়ানোতে নেই কোনো বাধা। গিয়ে পেলেন সুন্দর একটি মেয়েকে, যে আপন মনে গাইছে গীতগোবিন্দের গান, আপনাতে আপনি বিভোল। পদ্মা জগন্নাথকে দেখেনি, নাম শুনেছে, জানতে পেরেছে, উনিই বিধাতা। উনি সবাইকে ভালোবাসেন, তার মতো একটি গ্রাম্য বালিকাকেও। পদ্মা নিজ আত্মাকেই শোনায় এ গান। ভাবে যদি কোনো দিন বিধাতা তার কাছে এসেই পড়েন, কী করবে সে। অন্তর্যামী সর্ব জীবের কল্যাণে নিয়োজিত, কাউকে উপেক্ষা করেন না, সবাইকে ভালোবাসেন। বালিকা পদ্মা তাঁর মন জয় করল। হলেন বিগলিত, আত্মবিস্মৃত; তিনি যে ভগবান, তা-ও তিনি ভুলে গেলেন। বেগুনগাছের কাঁটায় তাঁর উত্তরীয় মাটিতে পড়ে গেল। পদ্মা গানেই বিভোর। সে এত কিছু লক্ষ করেনি।
কিছু সময় পর পদ্মার ঝুড়ি বেগুনে ভর্তি হয়ে গেল, সে চলে গেল বাগান থেকে। পদ্মার গান শ্রবণ করার পর পরিতৃপ্ত শ্রীজগন্নাথ ফিরে গেলেন তাঁর মন্দিরে। পরদিন সকালে পূজারিরা এলেন প্রাতঃকালীন সেবাকর্মের দায়িত্বে। অবাক হয়ে দেখলেন জগন্নাথের ছেঁড়া বস্ত্র আর তাঁর সেই উত্তরীয়টিও উধাও। পূজারিরা হলেন চিন্তিত। এমন একটি ঘটনা ঘটতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারে না, নিশ্চয়ই তাঁদের ত্রুটি হয়েছে শ্রীজগন্নাথকে বস্ত্র পরানোর সময়। তাঁরা শুরু করলেন উপবাস। শ্রীজগন্নাথ স্বপ্নে জানালেন, তোমাদের দোষ নেই, আমি গান শুনতে গিয়েছিলাম ওই মেয়েটির কাছে।
অবিলম্বে চারদিকে খোঁজ পড়ে। পদ্মাকে খুঁজে পাওয়া যায়। গীতগোবিন্দের গায়িকা গ্রামের মেয়ে পদ্মা কোনো দিন স্বপ্নেও ভাবেনি এভাবে সে হবে সম্মানিত। সংগীতের ঢেউ মিশে গেল তার জীবননদীর স্বরগ্রামের সঙ্গে। পুরীর শ্রীজগন্নাথের মন্দিরে তার আসন হলো স্থায়ী। যেখানে প্রতিদিন শ্রীজগন্নাথের বিশ্রাম গ্রহণের আগে সুললিত কণ্ঠে গান গাইবে নৃত্যপটীয়সী পদ্মা।
এবার শোনা যাক নজরুলের গানটি: ‘পদ্মার ঢেউ রে, মোর শূন্য হৃদয়–পদ্ম নিয়ে যা, যা রে’। এখানে পদ্মা নদীর নামকরণের ইতিহাস নেই, আছে সেই পদ্মের খোঁজ, যার নামে পদ্মা। এত দূর থেকে আমরা শুধু শুনতে পাই ঢেউয়ের শব্দ আর প্রেমিক হৃদয়ের শূন্য হাহাকার, বিসর্জিত যা নদীর ঢেউয়ে।
পদ্মার ঢেউয়ে ঝিলমিল করে যে বঁধুয়ার কৃষ্ণকালো রূপ, তা ফুটে ওঠে সঞ্চারিতে। কৃষ্ণকালো রূপ শ্রীজগন্নাথের, আর কারও নয়। দূর থেকে অবশ্যই চেনা যায় পদ্মাকে। প্রেমের ঘাটে ঘাটে বাঁশি বাজায় যে প্রেমিক, খুঁজে পাওয়া দায় তাকে। চিরদিন সে আশার–দেয়ালী জ্বালিয়ে পালিয়ে বেড়ায়। তার পায়ে সমর্পিত হতে চায় পদ্ম। যেমনটি পদ্মা খুঁজে পায় মন্দিরে অধিষ্ঠিত দেবতাকে।
পদ্মা রূপ নেয় পদ্মে, যার কাছে নেই মধু, নেই সুগন্ধ, তার রূপের সরসীতে তাই নেই আনন্দ মৌমাছির ঝংকার। পদ্মা রূপ নেয় ঢেউয়ে, যখন তার মাঝে চিকমিক করে ওঠে চাঁদের আলো। চাঁদের আলোয় কৃষ্ণকালো বঁধুয়া।
গানটি গাওয়ার সময় কখনো গায়িকা পদ্মার কথা আগে মনে হয়নি। মনে হতো পদ্মফুলের মধ্যেই পদ্মার অবস্থান। পদ্ম ও পদ্মা যেন সমার্থবোধক। পদ্ম নারীর রূপ, পদ্মাও তা-ই। পদ্ম চায় বাঁশরির তালে যে প্রেমিক নেচে বেড়ায় তার আহ্বানে সাড়া দিতে।
গানটিতে বাঁশরি সঞ্চালনের প্রচুর সুযোগ অর্থাৎ এখানেই অনেকক্ষণ বাঁশরির প্রয়োগ হতে পারে যেমন ওস্তাদেরা ভাটিয়ালি গানের ধুন বাজাতে গিয়ে আশ্রয় নেন প্রলম্বিত তালের কাজে, যেন ওগুলো ঢেউয়ের কারসাজি। একটি ভাটিয়ালি গান তিন মিনিটের, অথচ ভাইটাল গাঙের মাঝিরা ওই গানটি গান প্রলম্বিত সুরে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে। পদ্মার ঢেউরেও তা-ই। এটি তিন মিনিটের গান নয়, এটি প্রাণ মাঝির শাশ্বত সংগীত, যে সর্বমুহূর্তে প্রেমিককে খুঁজে ফিরছে। পদ্মাকে খুঁজতে গিয়ে পাই স্রষ্টাকে, সর্বজীবের মঙ্গলের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা।
মুস্তাফা জামান আব্বাসী: সাহিত্য-সংগীত ব্যক্তিত্ব।
mabbasi@dhaka.net
Tuesday, March 3, 2015
প্রতিভা না রক্তের অন্বেষণ by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
বইমেলা
শেষ। ফেব্রুয়ারি এলে নিজেই সার্ভে করি। পাঠকদের গতি-প্রকৃতি, সংখ্যা,
বইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে। রিপোর্টারদের অযাচিত প্রশংসা। মেলায় কী খুঁজব?
প্রতিভা। কবিতায়, নাটকে, প্রবন্ধে, গল্পে, উপন্যাসে। যে পাঠকের মন ফুরফুরে,
সম্ভবত তিনিই খুঁজে পাবেন। হায়রে! কে খুঁজে ফিরছে প্রতিভা? একটি ছেলে বই
কিনতে এসেছে, এ স্টলে সে স্টলে অনেকক্ষণ। তাকে না জানিয়ে তার পিছু নিলাম,
কী কেনে তা দেখার জন্য। বলব শেষে।
বইমেলা শেষ না হতেই চাপাতির আঘাতে ব্লগারের মৃত্যু। রক্তের ছোপে বিধ্বস্ত বইমেলা। কিসের জন্য লেখা, কিসের জন্য প্রাণের মেলা, প্রাণের সংহারই যেখানে লক্ষ্যবস্তু। 'রক্তাক্ত প্রান্তর'-এ এটিই ছিল মুনীর চৌধুরীর জিজ্ঞাসা। ভেবেছিলাম লেখকদের মধ্যে সৃষ্টি হবে প্রাণচাঞ্চল্য। কীভাবে? নতুন লেখকদের জন্য কর্মসূচি সীমাবদ্ধ। নানা ব্যাংক-ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি কিছু টাকা বরাদ্দ করে তাদের পরিচিত লোকদের পুরস্কার ধরিয়ে দিতে। এতে লাভ হবে না, লেখকদের প্রাণে সৃষ্টি হবে না উদ্দীপনা।
প্রতি বছর লেখকদের জন্য হতে হবে ক্যাম্প। বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর লোকেশনে। জানা লেখকদের মধ্যে যারা উৎসাহী, একটি গ্রুপ এদের সময় দেবেন। লিখতে হলে পড়তে হয়। সেই বইগুলো ওদের কাছে পেঁৗছে দিতে হয়। শব্দের চয়ন, শব্দের ব্যবহার, প্রতিশব্দের স্টক, রূপকল্পের নতুন সমৃদ্ধি। নোবেলপ্রাপ্তদের বইগুলো বারবার পড়া। পৃথিবীর সাহিত্য কোন দিকে এগোচ্ছে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ওয়ার্কশপগুলোয় বাংলাদেশের নতুন লেখকদের উপস্থিতি এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হবে। সাহিত্য যাদের জীবনকে আলোকিত করবে এমন কয়েকজনকে পেলেই হবে। প্রতি বছর বইমেলা তাদেরকেই খুঁজবে।
নতুন নতুন দেশ থাকবে তাদের দৃষ্টির আওতায়। ধরা যাক, এ বছর চীনের দিকে দৃষ্টি দেব। পাঁচ তরুণ লেখককে পাঠাব চীন দেশে তিন মাসের জন্য। বলা বাহুল্য, এর মধ্যে একটি হবে চিরকালের, যা মহাচীনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য হবে মহাসড়ক। মনে পড়ে, সুনীলের বইটির কথা। যুবক বয়সে তিনি গিয়েছিলেন ফ্রান্সে। তার 'ছবির দেশে কবিতার দেশে' কে না পড়েছে? শুনলে কেউ অবাক হবেন, বইটি এখনও রোজ একটু একটু করে পড়ি। যখন সাসকাচুয়ান নদীর পাড়ে প্রথম গেলাম, সুনীলের কথাই মনে হয়েছিল প্রথম। এ নিয়ে কবিতাও লিখেছি।
গল্প শুনতে ভালোবাসি। শিশুরাও। শিশুদের মনোজগৎ বিস্তৃত করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, সুকুমার রায়, সত্যজিৎ রায়, মোহাম্মদ নাসির আলী। তাদের পর শাহরিয়ার কবির, হুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ফরিদুর রেজা সাগর। এরপর আরও ৫০ জন। তাদের বই স্টলে। প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি বই কিনে নিয়ে যায় শিশুরা।
কলকাতায় বইমেলা। একুশের মতো ব্যাপক না হলেও গন্তব্য আছে। কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ। ফি বছর ওই সময়টায় তারা তাদের প্রয়োজনীয় বইগুলো সংগ্রহ করেন। ধরা যাক, কেউ বাংলাদেশের গান নিয়ে উৎসাহী। তিনি সারা বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে, বাংলাদেশে ও পৃথিবীর সর্বত্র এ বিষয়ে কী কী বই বেরিয়েছে তার খবর সংগ্রহ করেন। শুনে অবাক হবেন. মৎ সম্পাদিত 'আব্বাসউদ্দীনের গান' গ্রন্থটির জন্য টেলিফোন পেয়েছি বেশ কয়েকটি। এমনি ঘটেছে নিজ গ্রন্থের ক্ষেত্রেও। যারা 'রুমির অলৌকিক বাগান' পড়েছেন, ধরেই নিয়েছেন যে আমি একজন আধ্যাত্মিক পুরুষ। পরে নিজ বইটি পড়ে বুঝতে পেরেছি, আমি কয়েকজনের পারলৌকিক অনুসন্ধিৎসা মেটাতে সক্ষম হয়েছি। 'লালন যাত্রীর পশরা' বইটি বেরোনোর পরও তা-ই হয়েছে।
কবিতার বই নিয়ে নতুনরা ব্যস্ত, ওইটিই তরুণদের আশ্রয়। কয়েক মাস আগে থেকেই ইন্টারনেটে কবিতাগুলোর আগাম পাঠ শুরু হয়ে যায়, কভারের ছবি এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে ইন্টারনেটে অগ্রিম সম্ভাষণ। এর মধ্যে দু'একটি কবিতা এত সুন্দর যে, ইচ্ছা করে কবির সঙ্গে এক্ষুণি সাক্ষাৎ করি।
মেলা বিস্তৃত। একদিন আসমাকে নিয়ে নিজেই হাজির। টিভি ক্যামেরাগুলো সচল। আসল বস্তুর সন্ধান নেই, যার কারণে এই গোধূলিবেলার নিবেদন। গ্রামে বসে যারা বই লিখছেন তাদের লেখাই পড়ার মতো, বছরে একটি বা দুটি, প্রদীপের আলোয় আসেন না, বিজ্ঞাপন দেন না। সাহিত্যের প্রদীপ আলোকময়। বাড়তি আলোর প্রয়োজন নেই।
এবার ছেলেটির গল্প। বলতে সংকোচ বোধ করছি। যে বইটি খুঁজছিল : 'রুমির অলৌকিক বাগান'। তার পকেটে ১০০ টাকা। বইটি কিনতে পারেনি। ও জানে না বইটির লেখক আমি।
সাহিত্য-সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব
বইমেলা শেষ না হতেই চাপাতির আঘাতে ব্লগারের মৃত্যু। রক্তের ছোপে বিধ্বস্ত বইমেলা। কিসের জন্য লেখা, কিসের জন্য প্রাণের মেলা, প্রাণের সংহারই যেখানে লক্ষ্যবস্তু। 'রক্তাক্ত প্রান্তর'-এ এটিই ছিল মুনীর চৌধুরীর জিজ্ঞাসা। ভেবেছিলাম লেখকদের মধ্যে সৃষ্টি হবে প্রাণচাঞ্চল্য। কীভাবে? নতুন লেখকদের জন্য কর্মসূচি সীমাবদ্ধ। নানা ব্যাংক-ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি কিছু টাকা বরাদ্দ করে তাদের পরিচিত লোকদের পুরস্কার ধরিয়ে দিতে। এতে লাভ হবে না, লেখকদের প্রাণে সৃষ্টি হবে না উদ্দীপনা।
প্রতি বছর লেখকদের জন্য হতে হবে ক্যাম্প। বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর লোকেশনে। জানা লেখকদের মধ্যে যারা উৎসাহী, একটি গ্রুপ এদের সময় দেবেন। লিখতে হলে পড়তে হয়। সেই বইগুলো ওদের কাছে পেঁৗছে দিতে হয়। শব্দের চয়ন, শব্দের ব্যবহার, প্রতিশব্দের স্টক, রূপকল্পের নতুন সমৃদ্ধি। নোবেলপ্রাপ্তদের বইগুলো বারবার পড়া। পৃথিবীর সাহিত্য কোন দিকে এগোচ্ছে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ওয়ার্কশপগুলোয় বাংলাদেশের নতুন লেখকদের উপস্থিতি এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হবে। সাহিত্য যাদের জীবনকে আলোকিত করবে এমন কয়েকজনকে পেলেই হবে। প্রতি বছর বইমেলা তাদেরকেই খুঁজবে।
নতুন নতুন দেশ থাকবে তাদের দৃষ্টির আওতায়। ধরা যাক, এ বছর চীনের দিকে দৃষ্টি দেব। পাঁচ তরুণ লেখককে পাঠাব চীন দেশে তিন মাসের জন্য। বলা বাহুল্য, এর মধ্যে একটি হবে চিরকালের, যা মহাচীনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য হবে মহাসড়ক। মনে পড়ে, সুনীলের বইটির কথা। যুবক বয়সে তিনি গিয়েছিলেন ফ্রান্সে। তার 'ছবির দেশে কবিতার দেশে' কে না পড়েছে? শুনলে কেউ অবাক হবেন, বইটি এখনও রোজ একটু একটু করে পড়ি। যখন সাসকাচুয়ান নদীর পাড়ে প্রথম গেলাম, সুনীলের কথাই মনে হয়েছিল প্রথম। এ নিয়ে কবিতাও লিখেছি।
গল্প শুনতে ভালোবাসি। শিশুরাও। শিশুদের মনোজগৎ বিস্তৃত করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, সুকুমার রায়, সত্যজিৎ রায়, মোহাম্মদ নাসির আলী। তাদের পর শাহরিয়ার কবির, হুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ফরিদুর রেজা সাগর। এরপর আরও ৫০ জন। তাদের বই স্টলে। প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি বই কিনে নিয়ে যায় শিশুরা।
কলকাতায় বইমেলা। একুশের মতো ব্যাপক না হলেও গন্তব্য আছে। কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ। ফি বছর ওই সময়টায় তারা তাদের প্রয়োজনীয় বইগুলো সংগ্রহ করেন। ধরা যাক, কেউ বাংলাদেশের গান নিয়ে উৎসাহী। তিনি সারা বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে, বাংলাদেশে ও পৃথিবীর সর্বত্র এ বিষয়ে কী কী বই বেরিয়েছে তার খবর সংগ্রহ করেন। শুনে অবাক হবেন. মৎ সম্পাদিত 'আব্বাসউদ্দীনের গান' গ্রন্থটির জন্য টেলিফোন পেয়েছি বেশ কয়েকটি। এমনি ঘটেছে নিজ গ্রন্থের ক্ষেত্রেও। যারা 'রুমির অলৌকিক বাগান' পড়েছেন, ধরেই নিয়েছেন যে আমি একজন আধ্যাত্মিক পুরুষ। পরে নিজ বইটি পড়ে বুঝতে পেরেছি, আমি কয়েকজনের পারলৌকিক অনুসন্ধিৎসা মেটাতে সক্ষম হয়েছি। 'লালন যাত্রীর পশরা' বইটি বেরোনোর পরও তা-ই হয়েছে।
কবিতার বই নিয়ে নতুনরা ব্যস্ত, ওইটিই তরুণদের আশ্রয়। কয়েক মাস আগে থেকেই ইন্টারনেটে কবিতাগুলোর আগাম পাঠ শুরু হয়ে যায়, কভারের ছবি এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে ইন্টারনেটে অগ্রিম সম্ভাষণ। এর মধ্যে দু'একটি কবিতা এত সুন্দর যে, ইচ্ছা করে কবির সঙ্গে এক্ষুণি সাক্ষাৎ করি।
মেলা বিস্তৃত। একদিন আসমাকে নিয়ে নিজেই হাজির। টিভি ক্যামেরাগুলো সচল। আসল বস্তুর সন্ধান নেই, যার কারণে এই গোধূলিবেলার নিবেদন। গ্রামে বসে যারা বই লিখছেন তাদের লেখাই পড়ার মতো, বছরে একটি বা দুটি, প্রদীপের আলোয় আসেন না, বিজ্ঞাপন দেন না। সাহিত্যের প্রদীপ আলোকময়। বাড়তি আলোর প্রয়োজন নেই।
এবার ছেলেটির গল্প। বলতে সংকোচ বোধ করছি। যে বইটি খুঁজছিল : 'রুমির অলৌকিক বাগান'। তার পকেটে ১০০ টাকা। বইটি কিনতে পারেনি। ও জানে না বইটির লেখক আমি।
সাহিত্য-সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব
Monday, February 23, 2015
সাগর সন্ধানে by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
![]() |
| মুস্তাফা জামান আব্বাসী |
![]() |
| ফরিদুর রেজা সাগর |
সাগরের
ষাট বছর, অবিশ্বাস্য। তার বাবা ফজলুল হক ছিলেন সিনেমার লোক। বন্ধুত্বের
সম্পর্ক। চলে আসতেন অফিসে, ৩৪ নম্বর জিন্নাহ এভিনিউতে। গল্প করতাম ছবি
বানানো নিয়ে। তার তৈরি ছবি 'প্রেসিডেন্ট' পুরস্কার পায়। সাগর জিন্নাহ
এভিনিউতে [এখন বঙ্গবন্ধু এভিনিউ] 'পিঠাঘর' নামে একটি খাবার দোকান সাজিয়ে
বসে, আমি খদ্দের। নিজেই সবচেয়ে সুন্দর পাটিসাপটা পাঠাত আমার জন্য এবং বাসার
জন্য বাক্সে ভরে ভাপা পিঠা, পুলি পিঠা। ভালো লাগত যখন বায়তুল মোকাররম
মসজিদে নামাজের সময় পাশে পেতাম তাকে। এভাবে আমাদের মধ্যে গড়ে ওঠে সুন্দর
পিতা-পুত্রের সম্পর্ক। তার মধ্যে ধর্মীয় চেতনা ততখানি, বর্তমান যতখানি
সহনীয়। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে বসি, যা অনভিপ্রেত।
সাগরের কৃতিত্ব বিস্তৃত। প্রথমত তার সাহিত্যকর্ম। তার লেখা বইগুলো যেমন যত্ন নিয়ে আমার কাছে পাঠায়, তার চেয়ে বেশি আনন্দ নিয়ে সেগুলো দিনের পর দিন পড়তে থাকি। ইনডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের লেখা বইগুলো যেমন যত্নের সঙ্গে সাজিয়ে রেখেছি [পঞ্চাশেরও বেশি হলো], তেমনি ওর লেখা বইগুলোও সন্তান স্নেহে সাজিয়ে রেখেছি। স্থির বিশ্বাস, তার তাজা মনটি শিশুর মন জয় করতে সক্ষম। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে তাই ফরিদুর রেজা সাগর অনন্য।
চ্যানেল আইয়ের প্রথম দিন থেকে দর্শক, শিল্পী ও কথক হিসেবে যুক্ত। একদিন সাগর টেলিফোন করে জানায়, আব্বাসী ভাই, আপনাকে আমরা 'আজীবন সম্মাননা পদক' দিতে চলেছি। আমি অভিভূত। এক লাখ টাকা, একটি চাদর ও একটি ক্রেস্ট। পরের বছর :'নজরুল পদক'। বিরল সম্মান। সঙ্গে এক লাখ টাকা। সঙ্গে পদক পেলেন নজরুল গবেষণার জন্য অধ্যাপক রাফিকুল ইসলাম।
একবার সাগর আমাকে পাঠাল কলকাতা। কোনো একটি অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে। ছিলাম বড় হোটেলে। সারাদিন আসমা ও আমি কলকাতা ঘুরে বেড়াই, রাতে শহর থেকে দূরে একটি স্টুডিওতে শুটিং করি। কলকাতার বেশ কিছু নামি শিল্পী আমাদের সঙ্গে সহ-বিচারক। হৈমন্তী শুক্লা প্রমুখ।
সামিরা সাগরের একটি বইয়ের ইংরেজি অনুবাদ করে -
অনেকেই এক বাক্যে বলেছেন, চ্যানেল আই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা বিশিষ্ট শিল্পীদের কাছে টেনেছে। 'বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর', ৪৮৪ পৃষ্ঠার বইটি একটি অনুপম গ্রন্থ, যাতে চারটি বই এক সঙ্গে সনি্নবিষ্ট : 'এক জীবনে টেলিভিশন', 'টেলিভিশন আরেক জীবনে', 'টেলিভিশন : জীবনের সঙ্গী', 'টেলিভিশন ভাবনা'। ৪৮৩ পৃষ্ঠার বইটির প্রতি পৃষ্ঠাই মূল্যবান।
সামান্যই গাই, সামান্যই লিখি। ওদের নানা ভরা মজলিসে যেমন রবীন্দ্র মেলা, নজরুল মেলা, প্রকৃতি মেলা, বৈশাখী মেলাতে উপস্থিতি দিয়ে দেশের শ্রেষ্ঠ কবি, শিল্পী, সাহিত্যিকদের কাছ থেকে যখন ভালোবাসা পেতে থাকি, ওদের সঙ্গে একটি সবুজ অথবা লাল উত্তরীয় পরে ছবি তুলতে থাকি, বুঝতে পারি মিলন মেলাটি এই ক্ষুদ্র জীবনে কতখানি অর্থবহ। মেলার আয়োজক? নিশ্চয়ই সাগর।
পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়াই। ফ্লোরিডায় বোকারাটান শহরে যেখানে মেয়ে থাকে, সেখানে অনেকে ভালোবাসে আমাকে। বলে, কোনো অনুষ্ঠান হলে আপনাকে খুঁজতে থাকি। দূরে থেকেও বাঙালিরা কাছাকাছি চ্যানেল আইয়ের কল্যাণে। সাগর যেভাবে সবাইকে ডেকে আনতে পারে, অন্যেরা তা পারে না। এখানেই তার সাফল্য।
সাগরের কোনো অনুষ্ঠানে যখন যাই আমাকে গাইতে বলা হয় জন্মদিনের গানটি। এটি এত পপুলার হলো যে, ইংরেজি 'হ্যাপি বার্থডে টু ইউ'কেও যেন হার মানায়। জন্মদিনের আরও দুয়েকটি গান প্রস্তুত হয়েছে বৈকি, তবু এটির মতো নয়।
আল্লাহর কাছে অনেক কিছু চাওয়ার। চাই শান্তির দেশ, সুস্থ সুন্দর সংস্কৃতির বিকাশ, পৃথিবীর মানচিত্রে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অবস্থান, চাই চ্যানেল আইয়ের উত্তরোত্তর বিকাশ, সাগরের জন্য নীরোগ শতবর্ষ।
সাহিত্য-সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব
সাগরের কৃতিত্ব বিস্তৃত। প্রথমত তার সাহিত্যকর্ম। তার লেখা বইগুলো যেমন যত্ন নিয়ে আমার কাছে পাঠায়, তার চেয়ে বেশি আনন্দ নিয়ে সেগুলো দিনের পর দিন পড়তে থাকি। ইনডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের লেখা বইগুলো যেমন যত্নের সঙ্গে সাজিয়ে রেখেছি [পঞ্চাশেরও বেশি হলো], তেমনি ওর লেখা বইগুলোও সন্তান স্নেহে সাজিয়ে রেখেছি। স্থির বিশ্বাস, তার তাজা মনটি শিশুর মন জয় করতে সক্ষম। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে তাই ফরিদুর রেজা সাগর অনন্য।
চ্যানেল আইয়ের প্রথম দিন থেকে দর্শক, শিল্পী ও কথক হিসেবে যুক্ত। একদিন সাগর টেলিফোন করে জানায়, আব্বাসী ভাই, আপনাকে আমরা 'আজীবন সম্মাননা পদক' দিতে চলেছি। আমি অভিভূত। এক লাখ টাকা, একটি চাদর ও একটি ক্রেস্ট। পরের বছর :'নজরুল পদক'। বিরল সম্মান। সঙ্গে এক লাখ টাকা। সঙ্গে পদক পেলেন নজরুল গবেষণার জন্য অধ্যাপক রাফিকুল ইসলাম।
একবার সাগর আমাকে পাঠাল কলকাতা। কোনো একটি অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে। ছিলাম বড় হোটেলে। সারাদিন আসমা ও আমি কলকাতা ঘুরে বেড়াই, রাতে শহর থেকে দূরে একটি স্টুডিওতে শুটিং করি। কলকাতার বেশ কিছু নামি শিল্পী আমাদের সঙ্গে সহ-বিচারক। হৈমন্তী শুক্লা প্রমুখ।
সামিরা সাগরের একটি বইয়ের ইংরেজি অনুবাদ করে -
অনেকেই এক বাক্যে বলেছেন, চ্যানেল আই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা বিশিষ্ট শিল্পীদের কাছে টেনেছে। 'বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর', ৪৮৪ পৃষ্ঠার বইটি একটি অনুপম গ্রন্থ, যাতে চারটি বই এক সঙ্গে সনি্নবিষ্ট : 'এক জীবনে টেলিভিশন', 'টেলিভিশন আরেক জীবনে', 'টেলিভিশন : জীবনের সঙ্গী', 'টেলিভিশন ভাবনা'। ৪৮৩ পৃষ্ঠার বইটির প্রতি পৃষ্ঠাই মূল্যবান।
সামান্যই গাই, সামান্যই লিখি। ওদের নানা ভরা মজলিসে যেমন রবীন্দ্র মেলা, নজরুল মেলা, প্রকৃতি মেলা, বৈশাখী মেলাতে উপস্থিতি দিয়ে দেশের শ্রেষ্ঠ কবি, শিল্পী, সাহিত্যিকদের কাছ থেকে যখন ভালোবাসা পেতে থাকি, ওদের সঙ্গে একটি সবুজ অথবা লাল উত্তরীয় পরে ছবি তুলতে থাকি, বুঝতে পারি মিলন মেলাটি এই ক্ষুদ্র জীবনে কতখানি অর্থবহ। মেলার আয়োজক? নিশ্চয়ই সাগর।
পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়াই। ফ্লোরিডায় বোকারাটান শহরে যেখানে মেয়ে থাকে, সেখানে অনেকে ভালোবাসে আমাকে। বলে, কোনো অনুষ্ঠান হলে আপনাকে খুঁজতে থাকি। দূরে থেকেও বাঙালিরা কাছাকাছি চ্যানেল আইয়ের কল্যাণে। সাগর যেভাবে সবাইকে ডেকে আনতে পারে, অন্যেরা তা পারে না। এখানেই তার সাফল্য।
সাগরের কোনো অনুষ্ঠানে যখন যাই আমাকে গাইতে বলা হয় জন্মদিনের গানটি। এটি এত পপুলার হলো যে, ইংরেজি 'হ্যাপি বার্থডে টু ইউ'কেও যেন হার মানায়। জন্মদিনের আরও দুয়েকটি গান প্রস্তুত হয়েছে বৈকি, তবু এটির মতো নয়।
আল্লাহর কাছে অনেক কিছু চাওয়ার। চাই শান্তির দেশ, সুস্থ সুন্দর সংস্কৃতির বিকাশ, পৃথিবীর মানচিত্রে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অবস্থান, চাই চ্যানেল আইয়ের উত্তরোত্তর বিকাশ, সাগরের জন্য নীরোগ শতবর্ষ।
সাহিত্য-সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব
Tuesday, February 17, 2015
বসন্তের দিন, প্রণয়ের আভাস by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
শীতের
পরশ মিলিয়ে যায়নি। হঠাৎ উতল হাওয়া। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়
কেমন করে যেন গিয়ে হাজির। কাউকে না জানিয়ে বসন্ত তার হলুদ পতাকা উড়িয়ে
সেখানে উপস্থিত, গানে গানে, কবিতায় আর ভালোবাসার মধুর উচ্চারণে। নবীন
যারা, তাদের কাছে না পৌঁছালে বসন্তকে শনাক্ত করতে পারি না। যেখানে তারুণ্য
নেই, বসন্ত নেই। বন্ধু না থাকলে কোকিল ডাকে না, কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালে থাকে
না রঙের বিলাস। পেছনের দিনগুলো কথা কয়। আনোয়ারউদ্দিন খান আর আমি
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট একটি রুমে সারা দিন গান গাইতাম। কণ্ঠটি মধুর এবং
উচ্চারণ মর্মস্পর্শী। তবলা বাজানোর কেউ নেই, আমিই বাজাতাম। গান ধরলে ও
সুন্দর সুন্দর টোকা দিত। দুজনের গান শুনতাম দুজনে। ওর আশা ছিল, কোঁকড়া
চুলের একটি মেয়ে চুপি চুপি এসে দাঁড়াবে ওর গান শুনতে। এমনটি ঘটল একদিন।
কোঁকড়া চুলের একটি মেয়ে সন্তর্পণে ঘরে প্রবেশ করে বসে পড়ে তবলচির পাশেই।
আনোয়ারউদ্দিনের খোঁজে। ওর গান ভালোবাসত মন থেকে। গানের ভালোবাসা আর
জীবনের ভালোবাসা যে আলাদা। আরও একদিন এসেছিল। হাতে কার্ড নিয়ে। কারও নাম
লেখা নেই। সম্ভবত আনোয়ারউদ্দিনের নামটি লিখতে চেয়েছিল, সময় পায়নি। তার
বিয়ের কার্ড।
যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, কত কিছুই যে ভালো লাগত। মৌসুমি ফুলগুলো ফুটে থাকত প্রেমিকদের জন্য। মনে আছে, একেকটি ফুলের দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকতাম; বিশেষ করে কসমস, তার রঙের সীমাহীন বৈচিত্র৵ নিয়ে। ডালিয়ার ফুটে থাকা আরেক বিস্ময়! একেকটি ফুলের আশ্রয়ে শত পাপড়ি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত তো মাত্র কয়েকটি মেয়ে, পরনে সাদা শাড়ি। হয়তো একটি ছোট পাড়, সবুজ অথবা লাল। ফাল্গুনে এ শাড়ির রং হতো হলুদ। তাদের মোহনীয় সৌন্দর্য পরিবেশকে করে তুলত বেহেশতি। একটি
মেয়ে আসত তার ভাবির আঁচল ধরে। এতই লজ্জাশীলা যে কখনোই তাকে একা দেখা যায়নি, ফুলের মতোই মিষ্টি ও পবিত্র তাদের সৌন্দর্য। এ কথা সত্যি যে যৌবনের অনুভূতিটুকুই জাগিয়ে দেয় প্রেম। গানে গানে সে প্রেম হয় মুখরিত।
আবু হেনা মোস্তফা কামাল লিখেছিলেন কৃষ্ণচূড়ার প্রথম গান: ‘কেন যে আমার কৃষ্ণচূড়ার বনে’। সুর দিলেন আবদুল আহাদ। গাইলেন বোন ফেরদৌসী। এক গানেই মাত। প্রথম আধুনিক বাংলা গান। রেডিওতেই বেজেছে হাজারবার। সবার মনে মনে গেঁথে আছে গানটি। আবু হেনাকে বললাম, আমার গান কই? লিখলেন আমার জন্য:
‘মহুয়ার বনে বনে মৌমাছি ওড়ে মনবিলাসে/ ঝিকিমিকি রোদ লাগে পলাশে। ফুলে ফুলে গুঞ্জন/ ভুলে বুঝি যায় মন/ ফাগুনের আলোড়ন দোলা দেয় চঞ্চল বাতাসে’। রেডিওতে গাওয়ার পরদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন ভালোবাসার বাতাস বয়ে গেল। পরের লাইনটি শুনুন: ‘কেন আর দূরে থাক সহেলি/ আকাশে তো আর নেই পৌষের কুহেলি/ রুনুঝুনু ছন্দে মাধবীর গন্ধে/ ছড়ায়ে আনন্দে এসো তুমি প্রণয়ের আভাসে’।
সুর করল আনোয়ারউদ্দিন খান, আবু হেনার প্রাণের বন্ধু। দেখা গেল সুরটি আমার কণ্ঠেই বেশি মানিয়েছে। সলিমুল্লাহ হল, ফজলুল হক হলে নানা অনুষ্ঠানে আমিই গানটি গেয়েছি। আনোয়ার রেকর্ড করল না, আমিই করলাম। আনোয়ারের আশা ছিল, গানটির শেষ চরণে তার ‘প্রণয়ের আভাস’ দল মেলবে। মেলেনি। গীতিকার-সুরকার কিছুই পেলেন না। পেলেন, যিনি গানটি কণ্ঠে ধারণ করেছিলেন।
তখন মোবাইল নেই। চিঠিপত্র দূরাগত। ‘নাই টেলিফোন, নাইরে পিয়ন’। দেখাদেখি নেই, কিছুই নেই। যা কিছু শুধু কবিতায় ও গানে। আবু হেনা আরও কয়েকটি গান লিখলেন আমার জন্য। ‘এ গান আমার ফুলের মতো ঝরে যেতে চায়/ পথের ধুলায় এবার সে তো হারিয়ে যাবে হায়’। গানটির প্রতিটি কথা ভালোবাসার মানুষের জন্য নিবেদিত। এখন ভাবি, কীভাবে এত সুন্দর গান তিনি লিখতে পারলেন। তিনি যাঁকে ভালোবাসতেন, তিনি থাকত অনেক দূরে। গ্রামের বালিকা বধূ তিনি। পরের দিন লিখলেন: ‘গানে আমার এ কোন মায়া মেঘের মতো রং ছড়ায়/ স্বপ্ন আমার নদীর মতো অনেক দূরে হারিয়ে যায়...’। আবু হেনা সব কটি গান আমার খাতায় লিখে দেন। যে গানটি আমার কণ্ঠে তার সবচেয়ে ভালো লাগত: ‘মহুয়ার হাসিতে রাখালিয়া বাঁশিতে ভুলেছি আমি/ পলাশের মেলাতে ফাগুনের দোলাতে দুলেছি আমি’।
আবু হেনার গান গেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোড়ন তুললাম। ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান লক্ষ করল। বলল, আব্বাসী, আমিও তোমাকে গান দেব। শর্ত একটাই। গানগুলোতে নিজেই সুরারোপ করবে। সেদিনই প্রথম গান পেলাম: ‘কুসুমে কাঁপে ওই ফাল্গুনী সন্ধ্যা/ ঘনালো কাজলে কালো কী নিবিড় তন্দ্রা’। সুর দিলাম। মনিরুজ্জামান আমাকে জড়িয়ে ধরল। মনিরুজ্জামানের সঙ্গে তখনো রাশিদার বিয়ে হয়নি। জানি, গানটি সে রাশিদার জন্য লিখেছিল। পরের গানটি: ‘মিনতি জড়ানো মধুর কণ্ঠে যে কথা শুনেছিলাম/ আজ মনে হয় সে শুধু ছলনা নেই তার কোনো দাম’। মনিরুজ্জামানের শব্দচয়ন ছন্দঘন, প্রেম উচ্ছ্বাসী ও বেদনার হাসি লুকোনো। সেই গানই মানুষ গাইবে, যাতে লুকোনো বেদনার আভাস। বসন্তের দিন এলে ওই গানগুলো আমার বেদনাকে উসকে দেয়। আবু হেনার লেখা: ‘ভ্রমরের পাখনা যতদূরে যাক না, ফুলের দেশে’। ওরা যেখানেই থাকুক, ওই গানগুলো বসন্তের প্রণয় আভাস ভোমরের পাখনায় ভর করে দিনগুলোকে কাছে নিয়ে আসে।
মুস্তাফা জামান আব্বাসী: সাহিত্য-সংগীতব্যক্তিত্ব।
mabbasi@dhaka.net
যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, কত কিছুই যে ভালো লাগত। মৌসুমি ফুলগুলো ফুটে থাকত প্রেমিকদের জন্য। মনে আছে, একেকটি ফুলের দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকতাম; বিশেষ করে কসমস, তার রঙের সীমাহীন বৈচিত্র৵ নিয়ে। ডালিয়ার ফুটে থাকা আরেক বিস্ময়! একেকটি ফুলের আশ্রয়ে শত পাপড়ি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত তো মাত্র কয়েকটি মেয়ে, পরনে সাদা শাড়ি। হয়তো একটি ছোট পাড়, সবুজ অথবা লাল। ফাল্গুনে এ শাড়ির রং হতো হলুদ। তাদের মোহনীয় সৌন্দর্য পরিবেশকে করে তুলত বেহেশতি। একটি
মেয়ে আসত তার ভাবির আঁচল ধরে। এতই লজ্জাশীলা যে কখনোই তাকে একা দেখা যায়নি, ফুলের মতোই মিষ্টি ও পবিত্র তাদের সৌন্দর্য। এ কথা সত্যি যে যৌবনের অনুভূতিটুকুই জাগিয়ে দেয় প্রেম। গানে গানে সে প্রেম হয় মুখরিত।
আবু হেনা মোস্তফা কামাল লিখেছিলেন কৃষ্ণচূড়ার প্রথম গান: ‘কেন যে আমার কৃষ্ণচূড়ার বনে’। সুর দিলেন আবদুল আহাদ। গাইলেন বোন ফেরদৌসী। এক গানেই মাত। প্রথম আধুনিক বাংলা গান। রেডিওতেই বেজেছে হাজারবার। সবার মনে মনে গেঁথে আছে গানটি। আবু হেনাকে বললাম, আমার গান কই? লিখলেন আমার জন্য:
‘মহুয়ার বনে বনে মৌমাছি ওড়ে মনবিলাসে/ ঝিকিমিকি রোদ লাগে পলাশে। ফুলে ফুলে গুঞ্জন/ ভুলে বুঝি যায় মন/ ফাগুনের আলোড়ন দোলা দেয় চঞ্চল বাতাসে’। রেডিওতে গাওয়ার পরদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন ভালোবাসার বাতাস বয়ে গেল। পরের লাইনটি শুনুন: ‘কেন আর দূরে থাক সহেলি/ আকাশে তো আর নেই পৌষের কুহেলি/ রুনুঝুনু ছন্দে মাধবীর গন্ধে/ ছড়ায়ে আনন্দে এসো তুমি প্রণয়ের আভাসে’।
সুর করল আনোয়ারউদ্দিন খান, আবু হেনার প্রাণের বন্ধু। দেখা গেল সুরটি আমার কণ্ঠেই বেশি মানিয়েছে। সলিমুল্লাহ হল, ফজলুল হক হলে নানা অনুষ্ঠানে আমিই গানটি গেয়েছি। আনোয়ার রেকর্ড করল না, আমিই করলাম। আনোয়ারের আশা ছিল, গানটির শেষ চরণে তার ‘প্রণয়ের আভাস’ দল মেলবে। মেলেনি। গীতিকার-সুরকার কিছুই পেলেন না। পেলেন, যিনি গানটি কণ্ঠে ধারণ করেছিলেন।
তখন মোবাইল নেই। চিঠিপত্র দূরাগত। ‘নাই টেলিফোন, নাইরে পিয়ন’। দেখাদেখি নেই, কিছুই নেই। যা কিছু শুধু কবিতায় ও গানে। আবু হেনা আরও কয়েকটি গান লিখলেন আমার জন্য। ‘এ গান আমার ফুলের মতো ঝরে যেতে চায়/ পথের ধুলায় এবার সে তো হারিয়ে যাবে হায়’। গানটির প্রতিটি কথা ভালোবাসার মানুষের জন্য নিবেদিত। এখন ভাবি, কীভাবে এত সুন্দর গান তিনি লিখতে পারলেন। তিনি যাঁকে ভালোবাসতেন, তিনি থাকত অনেক দূরে। গ্রামের বালিকা বধূ তিনি। পরের দিন লিখলেন: ‘গানে আমার এ কোন মায়া মেঘের মতো রং ছড়ায়/ স্বপ্ন আমার নদীর মতো অনেক দূরে হারিয়ে যায়...’। আবু হেনা সব কটি গান আমার খাতায় লিখে দেন। যে গানটি আমার কণ্ঠে তার সবচেয়ে ভালো লাগত: ‘মহুয়ার হাসিতে রাখালিয়া বাঁশিতে ভুলেছি আমি/ পলাশের মেলাতে ফাগুনের দোলাতে দুলেছি আমি’।
আবু হেনার গান গেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোড়ন তুললাম। ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান লক্ষ করল। বলল, আব্বাসী, আমিও তোমাকে গান দেব। শর্ত একটাই। গানগুলোতে নিজেই সুরারোপ করবে। সেদিনই প্রথম গান পেলাম: ‘কুসুমে কাঁপে ওই ফাল্গুনী সন্ধ্যা/ ঘনালো কাজলে কালো কী নিবিড় তন্দ্রা’। সুর দিলাম। মনিরুজ্জামান আমাকে জড়িয়ে ধরল। মনিরুজ্জামানের সঙ্গে তখনো রাশিদার বিয়ে হয়নি। জানি, গানটি সে রাশিদার জন্য লিখেছিল। পরের গানটি: ‘মিনতি জড়ানো মধুর কণ্ঠে যে কথা শুনেছিলাম/ আজ মনে হয় সে শুধু ছলনা নেই তার কোনো দাম’। মনিরুজ্জামানের শব্দচয়ন ছন্দঘন, প্রেম উচ্ছ্বাসী ও বেদনার হাসি লুকোনো। সেই গানই মানুষ গাইবে, যাতে লুকোনো বেদনার আভাস। বসন্তের দিন এলে ওই গানগুলো আমার বেদনাকে উসকে দেয়। আবু হেনার লেখা: ‘ভ্রমরের পাখনা যতদূরে যাক না, ফুলের দেশে’। ওরা যেখানেই থাকুক, ওই গানগুলো বসন্তের প্রণয় আভাস ভোমরের পাখনায় ভর করে দিনগুলোকে কাছে নিয়ে আসে।
মুস্তাফা জামান আব্বাসী: সাহিত্য-সংগীতব্যক্তিত্ব।
mabbasi@dhaka.net
Monday, November 3, 2014
‘রাসুল (সা.)-এর পদপ্রান্তে’ by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
Monday, November 03, 2014
Anonymous
আলোচনা,
উপ-সম্পাদকীয়,
ধর্ম,
প্রথম আলো,
মতামত,
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
রাজার অতিথি আমি, দর্শনপ্রার্থী তাঁর, যিনি সব রাজার রাজা। সৌদি দূতাবাস থেকে জরুরি টেলিফোন, ‘পাসপোর্ট পাঠান, হজ ডেলিগেশনে রাজকীয় মেহমান আপনি।’ শেষ ফ্লাইটে সৌদিয়া বিমানে বিজনেস ক্লাসে বসে আল্লাহকে জানালাম কোটি কোটি শুকরিয়া। হজ করেছি ৩২ বছর আগে, আবার গত বছর ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে। মদিনায় খেজুর বাগানে গিয়ে শারমিনীকে জানালাম জীবনের শেষ স্বপ্নের কথা। এখানেই থাকতে মন চায় জীবনের শেষ কয়টি দিন। তবে কি সেই আহ্বানই শুনতে পেয়েছেন বিধাতা? হজের প্রচণ্ড ভিড়ে কাবাঘর স্পর্শ পঁচাত্তর-উত্তীর্ণ যুবকদের পক্ষে অসম্ভব কল্পনা, আল্লাহ অল্প আয়েসেই অধমকে পৌঁছে দিলেন সেই স্থানে। দেয়ালের স্পর্শ ছাড়ব না কিছুতেই, চাইব যতক্ষণ দেহে আছে শক্তি, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মুসলমানদের জন্য এবং দেশের সবার জন্য চাইব শান্তির ফয়সালা। জীবনব্যাপী ভুলের নজরানা কুলাল না নজরুল-আব্বাসউদ্দীনের ফেলে যাওয়া গজলসম্ভারে, দুকূল ভাঙা অশ্রুধারা শুকাল শেষে ক্লান্তিহীন করুণা ভিক্ষায়। কাবা প্রদক্ষিণের এ অনন্ত স্রোতধারা, শেষ হবে না কোনো দিন। পতঙ্গের মতো, সুযোগ পেয়েছি আলোর আবর্তে নিজকে বিলীন করার, সুযোগ পেয়েছি প্রাণ ভরে মজলুম মুসলমানদের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার। কাঙালের মতো এই ক্ষণে ফরিয়াদরত নারী– পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ-যুবা একাকার। জীবন স্রোতের সঙ্গে তুলনীয় এই স্রোত কেউ কখনো খুঁজে পাবে না পৃথিবীর অন্য কোথাও।
অনেক দিন আগে মক্কা শহরে গেছেন যাঁরা, পুরোনো কোনো কিছুই আর তাঁরা খুঁজে পাবেন না। ইতিহাসের কোনো কিছুই আর খুঁজে পাওয়া যাবে না কাবাগৃহ ছাড়া। অচিরেই এটি পরিণত হতে চলেছে পৃথিবীর আধুনিকতম নগরের একটিতে। শোভা পাবে যেখানে নতুন নতুন গগনচুম্বী হোটেল, নতুন পথঘাট, বাজারহাট। তীর্থযাত্রীরা থাকবেন শহর থেকে দূরত্বে, নতুন নতুন স্যাটেলাইট টাউনে—কম খরচে, আরাম-আয়েশে। বিদ্যুৎবেগে বিদ্যুৎ ট্রেনে পৌঁছে দেওয়া হবে কাবাগৃহের সামনে। ধরা যাক, সেদিন বাংলাদেশ থেকে যাঁরা হজে যাবেন, তাঁদের জন্য প্রস্তুত হবে ‘বাংলাদেশ মরু-পল্লি’, ভারতের জন্য ‘ভারত মরু-পল্লি’ ইত্যাদি। তীর্থযাত্রীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা, যেমন– সুআহার, চিকিৎসা ও নামাজের বন্দোবস্ত ও সর্বাপেক্ষা প্রয়োজনীয় সুনিদ্রার ব্যবস্থা থাকবে। এ কথা অনস্বীকার্য যে বর্তমানে স্থানসংকুলান না হওয়ায় ২৫ লাখ তীর্থযাত্রীর মক্কা ও মদিনায় একসঙ্গে থাকা-খাওয়া, ঘুমানো বেশ কষ্টসাধ্য। মিনা ও মুজদালিফায় তীর্থযাত্রীরা যে কষ্টের মধ্যে পতিত হন, তা থেকে এখন ব্যবস্থা উন্নততর। মরুভূমিতে প্রয়োজন পানি। তুলনায় পর্যাপ্ত পানি ও তাঁবু মজুত আছে এখন। কাবা শরিফ, মক্কা-মদিনা সব সময় পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন। পরিষ্কারে নিয়োজিত আমরা, বাংলাদেশের তরুণ শক্তি।
কাবাগৃহের চতুর্দিকে উঠছে, উঠবে, পাঁচতারা হোটেল, যেখানে বিত্তশালীরা কামরায় বসেই এবাদতে মশগুল থাকবেন। গয়া, কাশি, বেনারসেও আকাশচুম্বী হোটেলগুলোতে হতে চলেছে ভারতের লাখো মানুষের জন্য সুবিধা, গঙ্গার জলের নির্মলতা। সুব্যবস্থা গ্রহণ করছে নতুন সরকার। জাপানের কিয়োটো শহর, বৌদ্ধদের বড় মন্দির দেখে এসেছি, যেন নির্মলতা ও পবিত্রতার প্রতিমূর্তি। নবীর পদপ্রান্তে কয়টি দিন। নবীর কাছে কীভাবে যাব, ভাবছি প্রতিক্ষণ। হয়তো জায়গাই পাব না। অবাক আমি। তাঁর পদপ্রান্তে সবচেয়ে গরিব কয়জন আরববাসীর পাশেই আমার জায়গা করে দিলেন তিনি। সোম ও বৃহস্পতিবার তাঁরা রোজা রাখেন নবীর পদাঙ্ক অনুসরণে। আমার জন্যও আঁজলা ভরে জমজমের পানি, আজওয়া খেজুর ও খুবজা এগিয়ে দিলেন। রোজা ছিলাম না, অথচ ওদের সঙ্গে ইফতার করায় সওয়াব পেলাম। রাসুল (সা.)-এর কথা মনে হতেই বাংলার মানুষের চোখে অশ্রুর ঢল নামে। রাসুল (সা.)-এর জন্য আমার এবারের সওগাত:‘রসুলের পদপ্রান্তে’—আমারই লেখা মুহাম্মদের নাম গ্রন্থের ২০ বছর পর।
গ্রন্থটি মনেই ছিল, পরিণত বয়সে যা দল মেলতে চলেছে। আমার সঙ্গে এবার বাংলাদেশের শতসহস্র বঞ্চিত শিশু, যারা কোনো দিন হজে যায়নি, যেতে পারবে না। অথচ আমার সঙ্গে গেলে কত সহজেই নবীর পায়ের কাছে বসে শুনতে পারবে নজরুলের অসংখ্য গজল, যা গীত হয়েছে পিতা আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে ১০০ বছর ধরে। ছোট ছেলেমেয়েরা সবাই তাঁর সামনে খেলা করছে, তারা গান গাইছে, সহজ নৃত্য করছে, আর রাসুল (সা.)-এর স্নেহ, চুম্বনে হচ্ছে অভিসিক্ত। এ আমার মায়ার খেলা। কল্পনার চোখে এ খেলা প্রত্যক্ষ করেছি। চোখের পানিতে সয়লাব হয়ে গানগুলো আবার গেয়েছি। কাজী নজরুল, গোলাম মোস্তফা ও পিতা আব্বাসউদ্দীন আহ্মদ ছিলেন আমার সঙ্গে। কল্পনার মাহফিলে বঞ্চিত শিশুরা গান গেয়েছে, সেই সঙ্গে অবগাহন করে এসেছি নবী (সা.)-এর সেই সময়ের দেশ, যেটি ছিল মরুময়, মাঝেমধ্যে ছোট ছোট গাছ, সেখানে উট চরিয়ে ফিরছে ছোট শিশুরা। সে দৃশ্য এখনো আছে বৈকি। শুধু বদলে গেছে মক্কা-মদিনা।
সৌদি আরবের আমন্ত্রণে বারো শ মেহমান। চীন, জাপান, রাশিয়া, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, আফ্রিকার দেশগুলো, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, বাংলাদেশসহ ৭০টি দেশ। একসঙ্গে খাওয়া, তাঁবুতে ঘুমানো, জায়নামাজে সিজদা। রাজার সঙ্গে দেখা হয়নি, পাঠিয়েছেন: জায়নামাজ, তাসবিহ, আতর, মোবাইল ও জমজমের পানি। ডিরেক্টর জেনারেল বললেন, ‘আব্বাসী সাহেব, সালাম পৌঁছে দেবেন সবার কাছে। আপনাদের খাদেম আমরা। তাঁর সুন্দর হাসিটি অনেক দিন মনে থাকবে।’
মুস্তাফা জামান আব্বাসী: সাহিত্য-সংগীত ব্যক্তিত্ব।
mabbasi@dhaka.net
অনেক দিন আগে মক্কা শহরে গেছেন যাঁরা, পুরোনো কোনো কিছুই আর তাঁরা খুঁজে পাবেন না। ইতিহাসের কোনো কিছুই আর খুঁজে পাওয়া যাবে না কাবাগৃহ ছাড়া। অচিরেই এটি পরিণত হতে চলেছে পৃথিবীর আধুনিকতম নগরের একটিতে। শোভা পাবে যেখানে নতুন নতুন গগনচুম্বী হোটেল, নতুন পথঘাট, বাজারহাট। তীর্থযাত্রীরা থাকবেন শহর থেকে দূরত্বে, নতুন নতুন স্যাটেলাইট টাউনে—কম খরচে, আরাম-আয়েশে। বিদ্যুৎবেগে বিদ্যুৎ ট্রেনে পৌঁছে দেওয়া হবে কাবাগৃহের সামনে। ধরা যাক, সেদিন বাংলাদেশ থেকে যাঁরা হজে যাবেন, তাঁদের জন্য প্রস্তুত হবে ‘বাংলাদেশ মরু-পল্লি’, ভারতের জন্য ‘ভারত মরু-পল্লি’ ইত্যাদি। তীর্থযাত্রীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা, যেমন– সুআহার, চিকিৎসা ও নামাজের বন্দোবস্ত ও সর্বাপেক্ষা প্রয়োজনীয় সুনিদ্রার ব্যবস্থা থাকবে। এ কথা অনস্বীকার্য যে বর্তমানে স্থানসংকুলান না হওয়ায় ২৫ লাখ তীর্থযাত্রীর মক্কা ও মদিনায় একসঙ্গে থাকা-খাওয়া, ঘুমানো বেশ কষ্টসাধ্য। মিনা ও মুজদালিফায় তীর্থযাত্রীরা যে কষ্টের মধ্যে পতিত হন, তা থেকে এখন ব্যবস্থা উন্নততর। মরুভূমিতে প্রয়োজন পানি। তুলনায় পর্যাপ্ত পানি ও তাঁবু মজুত আছে এখন। কাবা শরিফ, মক্কা-মদিনা সব সময় পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন। পরিষ্কারে নিয়োজিত আমরা, বাংলাদেশের তরুণ শক্তি।
কাবাগৃহের চতুর্দিকে উঠছে, উঠবে, পাঁচতারা হোটেল, যেখানে বিত্তশালীরা কামরায় বসেই এবাদতে মশগুল থাকবেন। গয়া, কাশি, বেনারসেও আকাশচুম্বী হোটেলগুলোতে হতে চলেছে ভারতের লাখো মানুষের জন্য সুবিধা, গঙ্গার জলের নির্মলতা। সুব্যবস্থা গ্রহণ করছে নতুন সরকার। জাপানের কিয়োটো শহর, বৌদ্ধদের বড় মন্দির দেখে এসেছি, যেন নির্মলতা ও পবিত্রতার প্রতিমূর্তি। নবীর পদপ্রান্তে কয়টি দিন। নবীর কাছে কীভাবে যাব, ভাবছি প্রতিক্ষণ। হয়তো জায়গাই পাব না। অবাক আমি। তাঁর পদপ্রান্তে সবচেয়ে গরিব কয়জন আরববাসীর পাশেই আমার জায়গা করে দিলেন তিনি। সোম ও বৃহস্পতিবার তাঁরা রোজা রাখেন নবীর পদাঙ্ক অনুসরণে। আমার জন্যও আঁজলা ভরে জমজমের পানি, আজওয়া খেজুর ও খুবজা এগিয়ে দিলেন। রোজা ছিলাম না, অথচ ওদের সঙ্গে ইফতার করায় সওয়াব পেলাম। রাসুল (সা.)-এর কথা মনে হতেই বাংলার মানুষের চোখে অশ্রুর ঢল নামে। রাসুল (সা.)-এর জন্য আমার এবারের সওগাত:‘রসুলের পদপ্রান্তে’—আমারই লেখা মুহাম্মদের নাম গ্রন্থের ২০ বছর পর।
গ্রন্থটি মনেই ছিল, পরিণত বয়সে যা দল মেলতে চলেছে। আমার সঙ্গে এবার বাংলাদেশের শতসহস্র বঞ্চিত শিশু, যারা কোনো দিন হজে যায়নি, যেতে পারবে না। অথচ আমার সঙ্গে গেলে কত সহজেই নবীর পায়ের কাছে বসে শুনতে পারবে নজরুলের অসংখ্য গজল, যা গীত হয়েছে পিতা আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে ১০০ বছর ধরে। ছোট ছেলেমেয়েরা সবাই তাঁর সামনে খেলা করছে, তারা গান গাইছে, সহজ নৃত্য করছে, আর রাসুল (সা.)-এর স্নেহ, চুম্বনে হচ্ছে অভিসিক্ত। এ আমার মায়ার খেলা। কল্পনার চোখে এ খেলা প্রত্যক্ষ করেছি। চোখের পানিতে সয়লাব হয়ে গানগুলো আবার গেয়েছি। কাজী নজরুল, গোলাম মোস্তফা ও পিতা আব্বাসউদ্দীন আহ্মদ ছিলেন আমার সঙ্গে। কল্পনার মাহফিলে বঞ্চিত শিশুরা গান গেয়েছে, সেই সঙ্গে অবগাহন করে এসেছি নবী (সা.)-এর সেই সময়ের দেশ, যেটি ছিল মরুময়, মাঝেমধ্যে ছোট ছোট গাছ, সেখানে উট চরিয়ে ফিরছে ছোট শিশুরা। সে দৃশ্য এখনো আছে বৈকি। শুধু বদলে গেছে মক্কা-মদিনা।
সৌদি আরবের আমন্ত্রণে বারো শ মেহমান। চীন, জাপান, রাশিয়া, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, আফ্রিকার দেশগুলো, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, বাংলাদেশসহ ৭০টি দেশ। একসঙ্গে খাওয়া, তাঁবুতে ঘুমানো, জায়নামাজে সিজদা। রাজার সঙ্গে দেখা হয়নি, পাঠিয়েছেন: জায়নামাজ, তাসবিহ, আতর, মোবাইল ও জমজমের পানি। ডিরেক্টর জেনারেল বললেন, ‘আব্বাসী সাহেব, সালাম পৌঁছে দেবেন সবার কাছে। আপনাদের খাদেম আমরা। তাঁর সুন্দর হাসিটি অনেক দিন মনে থাকবে।’
মুস্তাফা জামান আব্বাসী: সাহিত্য-সংগীত ব্যক্তিত্ব।
mabbasi@dhaka.net
Monday, April 14, 2014
পয়লা বৈশাখের শুভ মুহূর্তে by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
দূর প্রবাসে যারা, বাংলাদেশের বৈশাখের
দিকে তাকিয়ে, অন্তত ফেসবুকের বাসিন্দা যারা, তাদের চোখে বৈশাখের বার্তা।
চৈত্রের নিদাঘ জানান দেয় বৈশাখের আগমন। প্রথম দিনটি এল বলে। আগে থেকেই
বাতাসে ঝড় তুলে আগমন শিলাবৃষ্টির, সেই সঙ্গে কালো মেঘের ভ্রুকুটি, যাতে
কয়েকটি প্রাণের বজ্রাঘাতে নির্বাপণ। যার গেছে, সে-ই জানে শুধু, অন্যের কাছে
নেই এর কোনো মূল্য। বাড়ে ইলিশের দাম, সেই সঙ্গে পুরোনো গানগুলোর বিন্যাস,
চলে নানা প্রস্তুতি টিভির পর্দায়, নানা সাজের পয়লা বৈশাখ দ্বারে উপস্থিত।
Wednesday, March 12, 2014
গোধূলির ছায়াপথে- ফুল ও বাতাসে মনীষীর স্পর্শ by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
সকালবেলায় শিল্পী গেয়ে গেলেন: ‘তোমার আসন
পাতব কোথায় হে অতিথি/ ছেয়ে গেছে শুকনো পাতায় কানন বীথি’। গান শেষ হয়েছে,
স্পর্শটুকু বাতাসে। আরেকটিবার শোনার জন্য মনের হাহাকার। ওটি তো চিরদিনের
জন্য ভেসে গেল।
Thursday, June 27, 2013
গোধূলির ছায়াপথে ‘আজ সকালের আমন্ত্রণে’ by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
দিনটি ভরে যায় গানে গানে, যখনই খুলে বসি
পাশের বাড়ির ‘তারা’ টিভি। অনেক দিন থেকে সুন্দর সুন্দর গানের ডালি নিয়ে
উপস্থিত তিন উপস্থাপিকা। তাঁদের নিরাভরণ সাবলীল বাক্যবিন্যাসে মন ভরে যায়।
Saturday, December 8, 2012
গোধূলির ছায়াপথে- মেঘনায় গভীর রাতে লাশের শব্দ by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
শুক্রবার ভৈরবের সুমন মোল্লার লেখাটি প্রথম আলোয় পড়ার পর অনেকেই গভীর রাতে নদীতে লাশ ফেলে দেওয়ার শব্দ শুনতে পাচ্ছেন দিনেরাতে। আমিও। সেতুসংলগ্ন কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মাছ ধরতে যান যাঁরা, প্রথমে ভাবেন এটি বড় মাছের ঘাই।
Sunday, August 26, 2012
গোধূলির ছায়াপথে- আশি অতিক্রান্তদের নিয়ে স্বপ্ন-কথা by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
আশি অতিক্রান্ত হলে শরীরের ভাষা বলে দেয়: অনেক হলো, এবার আসি। সবাই নয়। মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, ড. খান সারওয়ার মুরশিদ , ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন—এ রকম যাঁরা আশি পেরিয়েছেন, তারুণ্যের আভা যেন সব সময়ই তাঁদের মুখাবয়বকে করছে বিভাসিত।
Tuesday, July 24, 2012
এই সময়-মঙপুতে আবার by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
মৈত্রেয়ী দেবীর জবানিতে এত দূর থেকেও মঙপুর সেই পাহাড়ি বাংলোয় রবীন্দ্রনাথের গাওয়া গানটি যেন আমার কানে বাজছে। রবীন্দ্রনাথের গানকে বলেছি 'অন্তর্যাত্রা'। এর আগে তার জীবনে 'যাত্রা'র মূল্য অনুধাবন করেছি 'জীবনস্মৃতির' নানা রচনায়,
Friday, July 13, 2012
জননী জন্মভূমিশ্চ... by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
দিন বয়ে চলেছে। সামনে কী আছে জানা নেই। স্মৃতিগুলো সব সময় খেলা করছে। কখনো বা তাদের নিয়ে খেলছি। এ খেলা আমার কাছে দুরন্ত খেলা। খুব ভালো লাগছে। মা বলতে মায়ের কোলে শিশুটি, মাকে জড়িয়ে ধরছি, মা আদর করছেন, খাইয়ে দিচ্ছেন, ছোট থেকে বড় বয়স পর্যন্ত।
Thursday, June 28, 2012
গোধূলির ছায়াপথে-এই দীনতা ক্ষমা করো প্রভু... by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
সামনে শীত আসছে। নানাবাড়ি ডোমারে চলেছি বহুদিন পর। ৩০০ ছেলেমেয়ে ভোর থেকে অপেক্ষা করছে মহিলা কলেজের সামনে। কানাডা থেকে ফি বছর বন্ধুরা আসেন ‘স্লিপিং কিটস অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড’ [SCAW] প্রোগ্রামে শিশুদের জন্য এই সম্ভার বিতরণ করতে, যাতে জামাকাপড়, দুটি কম্বল, বালিশ, মশারি, বেডকভার, খাতা-পেনসিল, আরও কত কী নিয়ে প্রস্তুত একটি কিট।
Thursday, June 21, 2012
গোধূলির ছায়াপথে-প্রথম আলোর যুগপূর্তি by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
মনে করার চেষ্টা করছি, যখন আমি বারো বছরের কিশোর। আট থেকে বারোর দিনগুলো যেন ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে চলেছে। পেছনের দিকে তাকানোর নেই অবকাশ। দেশ স্বাধীন হওয়ার মুহূর্তে এক দেশ থেকে আরেক দেশ। এক স্কুল থেকে আরেক স্কুল। পরিবর্তনের দোলাচলে। সঙ্গে কিছুই নেই স্মৃতি ছাড়া।
Wednesday, June 20, 2012
গোধূলির ছায়াপথে-রঙের সওদায় মিলেমিশে আছি by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
জীবনকে যে যেভাবে দেখতে চায়—কারও সঙ্গে মিল নেই কারও। রঙের সওদায়, জিভের সওদায় আছি মিলেমিশে। এশীয় দ্বিবার্ষিক শিল্প প্রদর্শনীতে যে শিল্পীরা এসেছেন, তাঁদের সঙ্গে দুপুরের খাওয়া একসঙ্গে ঢাকা ক্লাবে। বঙ্গোপসাগরের নাতি-অতল গহ্বর থেকে আহরিত চিংড়ি, পদ্মার রুই, কামরাঙ্গীরচরের স্বাস্থ্যবান মোরগ, মুগের ডাল,
Tuesday, June 19, 2012
জীবন যেমন-কালো হরফে বন্দি একটি কাল, একটি সত্য by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
তাহলে সত্যজিৎ রায় কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ? এই জন্য যে, 'পথের পাঁচালী' অর্থাৎ পথের গানেই আছে জীবনের কথা, যার অপর নাম দীন। ওই যে রেলগাড়িটি মাঠের মধ্যে 'ঝিক' 'ঝিক' শব্দ করে বেরিয়ে গেল চোখের সামনে দিয়ে, চিরায়ত বাংলার পটভূমিতে অপুর জীবনের ট্রিলজি, মুহূর্তে যা চিনিয়ে দিল না বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ চিত্র নির্মাতাকে, এর সঙ্গে চিরায়ত মানুষকে।
Monday, June 18, 2012
গোধূলির ছায়াপথে-‘ইউ ওল্ড ফুল’ by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
আমার এমন কিছু বয়স হয়নি। দেখতে বেশি মনে হলেও একজন তরুণ ব্যক্তি আমি। যাঁরা আমাকে ছেড়ে চলে গেছেন, তাঁদের কথা আজকাল বেশি মনে হয়। দিন গত হয়ে যাচ্ছে বলে আগের দিনের মানুষের কথা ভেসে ওঠে স্মৃতিপটে। পুরান ঢাকার পাতলা খান গলিতে এক ভদ্রলোক রোজই আসতেন পিতার দর্শনার্থী হয়ে।
Friday, June 15, 2012
গোধূলির ছায়াপথে-রুমির বাগানে মহাত্মা গাঁধী by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
এলাহাবাদ কোর্টের রায় বেরিয়েছে। মসজিদ ও মন্দির দুটিই থাকবে। ২৯ সেপ্টেম্বর রুমির ও ২ অক্টোবর গাঁধীর জন্মদিন। রুমির মসনবি আজ পৌঁছেছে সবার কাছে। ১৯০৭ সালের বসন্তে লন্ডনের একটি পত্রিকার কলামে বের হতো হ্যাডলান্ড ডেভিসের সাপ্তাহিক বক্তব্য: ‘পূবের জ্ঞানসমুদ্র’।
গোধূলির ছায়াপথে-কবিকেও একলা বাড়ি ফিরতে হয় by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
শ্রাবণের দিন গত হলে এর বিলীয়মান স্পর্শের কথা কারও মনে পড়বে—হারিয়ে যায় যখন চিরতরে রিমিঝিমি শব্দস্পর্শের অন্তর্গত মায়াবী দিন। পল্লিগ্রামে টিনের চালে বৃষ্টির ফোঁটার আবির্ভাব শব্দ করে। ঘন হয়ে ওঠে শিরশির করে ওঠা অনুভূতির রোমকূপগুলো। কান খাড়া করে শোনে সর্বক্ষণ বৃষ্টি-নূপুরের ধ্বনিতরঙ্গ।
Subscribe to:
Posts (Atom)
BNM Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1522)
-
▼
August
(69)
-
▼
Aug 10
(10)
- সরেজমিনে ইরান ঘুরে কী দেখলেন বিবিসির সাংবাদিক, যুদ...
- ডিনায়াল ও ডিফেমেশনের রাজনীতি by দিলশানা পারুল
- যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগের...
- ট্রাম্প চাইলেও গাজা পরিকল্পনা মানছেন না নেতানিয়াহু
- কোনো দিন অন্যের ফ্যাশন ফলো করিনি by রুনা লায়লা
- গাজা চুক্তি বাস্তবায়নে স্পষ্ট সময়সূচি চায় হামাস
- তুরস্কের পিকেকে নিরস্ত্রীকরণ বিলে কারাবন্দি কুর্দি...
- সুযোগের সদ্ব্যবহার করছেন শি by সাইমন টিসডাল
- নির্বাচনে জয়ের আশায় গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের ...
- ব্যান্ড সংগীতের সোনালি সময়ের গল্প শোনাবেন নকীব খান
-
▼
Aug 10
(10)
-
▼
August
(69)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
আমার দেশ
ফুটবল খেলা
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
ইরান
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
মুসলিম
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
বিজ্ঞান ও গবেষণা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সংখ্যালঘু
সৈয়দ আবুল মকসুদ
নকশা
তুরস্ক
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
আলী রীয়াজ
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
লেবানন
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
যশোর
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
তথ্য প্রযুক্তি
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
Exclusive
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
Hot Topic
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
জোহরান মামদানি
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
ইসলামী ছাত্রশিবির
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
ইহুদি
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
স্পেন
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
তিউনিসিয়া
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অমানবিকতা
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট





