Tuesday, March 10, 2020

দুর্বলের বন্ধু হও by কাজী সিকান্দার

আমাদের আজ গোটা সমাজ ব্যবস্থাই যেন দুর্বলের বিপক্ষে। যারা দুর্বল তারা পথেঘাটে সব স্থানে লাঞ্ছিত ও সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছে। পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সব স্তরে দুর্বলের হাহাকার ও কষ্টের তপ্ত নিঃশাসে ভারি আবহাওয়া। দুর্বলের ওপর সবাই চেপে বসে। আইন-কানুন যেন দুর্বলের জন্য। অথচ তার ঘামে, তার  কষ্টকর মেহনতে সবলদের চাকা চলে। আমাদের যিনি শ্রেষ্ঠ মানব, মানবতার অগ্রদূত, তাঁর আনিত ধর্ম ইসলাম সেই দুর্বলদের সঙ্গেই আছে। হুজুর (সা.) নিজেই ঘোষণা করেন, আমাকে দুর্বলদের মধ্যে তালাশ কর। কেননা, দুর্বলদের কারণেই তোমাদের রিজিক দান করা হয় এবং তোমাদের সাহায্য করা হয়। তাই যারা পরিবারে দুর্বল বা যারা সমাজ ও রাষ্ট্রে দুর্বল তাদের হেয় করার কোনো কারণ নেই। তাদের তুচ্ছ ভাবার কোনো কারণ নেই। তাদের কারণে তুমি খেতে পারছ। মনে রেখ, তাদের কারণে তোমাকে সাহায্য করা হচ্ছে। তুমি সবল নও, সত্যিকারে তুমি যাকে দুর্বল ভাবছ সে-ই সবল। তার কারণে তুমি আজ সবল দাবি করতে পারছ।
দুর্বল কারা? সচরাচর যারা আচার-আচরণের ক্ষেত্রে বিনয়ী ও নম্র হয়, কঠোর হয় না আর লোকেরা তাকে দুর্বল মনে করে, আমরা তাদের দুর্বল ভাবি। কিন্তু আজ যাকে দুর্বল ভাবছি আসলেই কি সে দুর্বল? দুর্বল যখন সৎপথে থাকে, আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগির হক আদায় করে- আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন। কাজেই সে অনেক সবল। আমাদের জীবনে অনেক দুর্বল লোককে দেখেছি। কালের প্রবাহে ছেলেমেয়ে উপযুক্ত হওয়ায় তারা অনেক সবল ও প্রতিষ্ঠিত। এটি আল্লাহর রহমতের প্রকাশ। আসলে জীবনে তারাই সফল। আর আমি-আপনি? কীভাবে দুর্বলের ওপর অত্যাচার করি। নারী, চাকর, দরিদ্র, অসহায় মানুষকে আমরা অনেকে তো মানুষই মনে করতে রাজি নই। অথচ সে-ই দুর্বল যদি আল্লাহর নামে কসম করে আর আল্লাহ তা অবশ্যই পূরণ করেন। তাই দুর্বলদের সঙ্গে সর্বাবস্থায় সদাচরণ করা চাই।
হাদিস শরিফে আছে, যারা দুর্বলের সঙ্গে নরম ব্যবহার করবে তারা কেয়ামতের দিন আল্লাহর রহমতের নিচে স্থান পাবে। হুজুর (সা.) বলেন, তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে আল্লাহ তায়ালা তাকে কেয়ামতের দিন আপন রহমতের ছায়াতলে স্থান দেবেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। এ তিনটি গুণ হলো- দুর্বলদের সঙ্গে নরম ব্যবহার করা, বাবা-মায়ের সঙ্গে সদয় আচরণ করা এবং গোলামের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা। আসুন আমরা দুর্বলদের সঙ্গে নরম ব্যবহার করতে শিখি, জান্নাত কামাই করি। তাদের সব জায়গায় স্থান করে দিই। উঁচু-নিচু ভেদাভেদ ভুলে যাই। সবলরা যদি দুর্বলের সঙ্গে সদয় ব্যবহার করে আর দুর্বলরা শ্রদ্ধা করে সবলকে তাহলে তো পরিবার, সমাজ স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে। মনে রাখবেন, যারা দুর্বল বা পিছিয়ে পড়ে আছে তারাও মানুষ। এবং দুর্বলের সঙ্গেই মহান সৃষ্টিকর্তা আছেন। তাই আসুন আমরা দুর্বলদের সাথী হই। আল্লাহ আমাদের সাথী হবেন ইনশাআল্লাহ।

কফি চাষে বদলে যাবে পাহাড়ি জীবন

কফি সাধারণত পশ্চিমা দেশের অন্যতম পানীয়। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সারাবিশ্বের সবার কাছেই পানীয় হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশও কফি চাষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে। এতে ধান, পাট ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কফিও বাংলাদেশকে এনে দিতে পারে রফতানি খাতে আর্থিক সাফল্য। এমনই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ২০০১ সালের দিকে খাগড়াছড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে কফি চাষ শুরু হয়। যা ইতোমধ্যে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছে। কফি চাষ সম্প্রসারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
কৃষিবিদরা জানান, কফি গাছ দেখতে অনেকটা বেলি ফুল গাছের মতো। তবে তা উচ্চতা কম হলেও ঘেরের দিক থেকে অনেকটা বড়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬শ’ ফুট উপরে যে কোন মাটিতে কফি চাষ করা সম্ভব। তবে পাহাড়ি উপত্যকা ও ঝরনার পাশের জমি এবং যেসব জমিতে লবণাক্ততা নেই; সেসব জমি কফি চাষের উপযোগী।
বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব কিংবা বাড়ির ছাদেও কফি চাষ সম্ভব। চারা রোপণের ৪-৫ বছরের মধ্যে কফির ফল-গোটা সংগ্রহ করা যাবে। কফির গোটাগুলো দেখতে অনেকটা গমের মতো। তবে তা আকারে একটু বড়। একটি গাছ থেকে ২০-৩০ বছর ধরে ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি গাছের জন্য খরচ হয় মাত্র এক থেকে দেড়শ’ টাকা। একটি গাছ থেকে বছরে আধা কেজির বেশি কফির শুকনো ফল পাওয়া যায়।

কফি গাছ থেকে শুধুমাত্র পানীয়ই নয়। কফি গাছের অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে মধু ও শ্যাম্পু তৈরি করা যাবে। একটি কফি গাছের ফুল থেকে প্রতিবারে একশ’ গ্রাম মধু সংগ্রহ করা সম্ভব। পাশাপাশি ওই গাছের উপকরণকে প্রক্রিয়া করে উন্নতমানের ‘শ্যাম্পু’ তৈরি করা যাবে।
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কফি প্রক্রিয়াজাতকারী মো. জামাল হোসেন জানান, খুব কম সময়ে কফির বিনগুলো শুকিয়ে গুড়ো করে তাৎক্ষণিক কফি তৈরি হয়ে যায়। ‘অ্যারাবিয়ান’ জাতের এ কফি বাজারের প্যাকেটজাত সাধারণ কফির চেয়ে বহুগুণ সুস্বাদু বলেও জানান তিনি।
কফি চাষের জন্য পাহাড়ি অঞ্চল খুবই উপযোগী মন্তব্য করে খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুন্সী আব্দুর রশিদ বলেন, কম খরচ ও পরিশ্রমে একটি বাগান থেকে দীর্ঘদিন ধরে কফি উৎপাদন সম্ভব। বর্তমানে খাগড়াছড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ২ একর পাহাড়ি টিলাভূমিতে ৪৫০টি গাছে কফি ধরেছে। যা ইতোমধ্যে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কফি চাষের জন্য খুবই উপযোগী জানিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সফর উদ্দিন জানান, কম সময়ে কফি চাষে ফলন পাওয়া যায় বলে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষকের মাঝে সঠিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে কফি চাষে স্বচ্ছলতা আসবে পাহাড়ি জীবনে।
আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে খাগড়াছড়িতে কফি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্ট গবেষক ও কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভবিষ্যতে কৃষি পর্যায়ে কফি চাষের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তুলতে পারলে এটি ভবিষ্যতে দেশের অর্থকরী ফসলে পরিণত হবে।

বিষমুক্ত বাউকুল চাষের নতুন সম্ভাবনা

নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে দেশের কৃষি। প্রতিনিয়ত টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে দেশীয় কৃষিতে। এরকমই এক প্রযুক্তি বাউকুলে পলিথিনের ব্যবহার। এতে কুল চাষে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ পদ্ধতিতে ৬-৭টি কুলে এক কেজি ওজন হচ্ছে। দামও পাওয়া যাচ্ছে ভালো। সাধারণভাবে উৎপাদিত বাউকুল প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৩০-৭০ টাকা। আর পলিথিন পদ্ধতিতে উৎপাদিত কুল প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে জেলায় ৩০৮ হেক্টর জমিতে কুল চাষে ৪,২৯৬ মেট্রিক টন কুল উৎপাদন হয়েছে।
জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার রাখালগাছি-চাঁদপাড়ার মাঠে হারুনার রশিদ নামে এক কৃষক বাউকুলে পলিথিন ব্যবহার করে এ সফলতা পেয়েছেন। হারুন কালীগঞ্জ উপজেলার সানবান্ধা গ্রামের মৃত শাহাদত হোসেনের ছেলে। কুলে পলিথিন ব্যবহারের ফলে কোন কীটনাশক দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। ফলে বিষমুক্ত এই কুল সাধারণ বাউকুল থেকে মিষ্টি ও নরম। যে কারণে বাজারে চাহিদাও বেশি।
হারুনার রশিদ বলেন, ‘আমি গত ১০ বছর ধরে বাউকুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির কুল ও পেয়ারার চাষ করে আসছি। এ বছর আমার সাড়ে চার বিঘা জমিতে বাউকুল চাষ করেছি। পেয়ারায় পলিথিন পদ্ধতি ব্যবহার করে যদি ভালো উৎপাদন হয়। তাহলে কুলেও ভালো ফলন হওয়ার কথা। এমন চিন্তা থেকে কুলে পলিথিন পদ্ধতি ব্যবহার করি। কিছুদিনের মধ্যে খুব ভালো ফলাফল লক্ষ্য করি। পলিথিন ব্যবহারে উৎপাদিত কুলের সাইজ দেখে অবাক হচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন বাগান থেকে ৮-১০ মন কুল সংগ্রহ করছি। সেসব কুল ৮০ টাকা কেজি দরে ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি। প্রথম কয়েকদিন ১০০ টাকা কেজি বিক্রি করেছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণভাবে উৎপাদিত বাউকুল থেকে বছরে প্রতি বিঘা জমিতে ২ লাখ টাকার মতো বিক্রি করা যায়। এতে চারা রোপণ থেকে শুরু করে ফল সংগ্রহ পর্যন্ত খরচ হয় ৩০ হাজার টাক। কিন্তু একই খরচে এ পলিথিন পদ্ধতি ব্যবহার করায় এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে ৩ লাখের বেশি টাকার কুল বিক্রি করা যাবে।’
বিকশিত বাংলাদেশের কর্মী আনোয়ারুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘বিষমুক্ত নিরাপদ ফল উৎপাদনের লক্ষ্যে কুল চাষের জন্য তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪০০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট, ২২টি ফেরেমন ট্রাফ, ফসল সংগ্রহের জন্য প্লাস্টিকের ত্রিপল ও বাস্কেট দেওয়া হয়েছে। এখন তাকে সংগ্রহ করা কুল ঢাকার বাজারে বিক্রির কাজে সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

সিজারিয়ানের পর প্রসুতি মায়ের যত্ন

একজন গর্ভবতী মহিলার বাচ্চা গর্ভে থাকাকালীন যেমন তার যত্ন নিতে হয় সবার থেকে আলাদাভাবে, ঠিক তেমনি সন্তান প্রসবের পর বিশেষভাবে তার যত্ন নিতে হয় যেন সে তার আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। প্রসব পরবর্তী ৬-৮ সপ্তাহ সময় একজন মায়ের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ সময়। প্রসব পরবর্তী দিনগুলো মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং বিশেষ করে মায়ের যদি সিজারিয়ান হয়। সিজারিয়ানের পর মায়ের যত্ন নিয়েই আজকের আলোচনা।
সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেয়ার সময় এবং তার পরেও শরীরের উপর দিয়ে অনেক ধকল যায়। এটি একটি বড় ধরনের অস্ত্রোপচার, যেখানে পেটের বিভিন্ন স্তরের টিস্যু কাটা হয়। সিজারের প্রভাব মায়ের উপর শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও পরতে পারে। তবে এই পরিবর্তন একেক মায়ের জন্য একেক রকম হতে পারে।
সার্জারির পর আপনার অস্থির এবং বমি বমি ভাব হতে পারে। এ অনুভূতি ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। অনেক মায়েদের সারা গায়ে চুলকানি হতে পারে বিশেষ করে যাদের চেতনানাশক ওষুধ দেয়া হয়।
সিজার হলে মায়েদের সাধারণত ২-৪ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। তবে বাসায় ফিরে যাওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ মা রিকোভারি স্টেজ এ থাকবেন।
সিজারের পর কাটা স্থানে অসাড় অনুভূতি বা ব্যাথা হতে পারে। এবং কাটা স্থান সাধারণত কিছুটা ফুলে থাকতে পারে এবং কালো হয়ে যেতে পারে। পেটে চাপ পড়ে এমন যেকোনো কিছুতেই এ সময় ব্যাথা লাগতে পারে। তবে এটা আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যায়। এ সময় কাশি দেয়ার সময় বা হাসার সময় হাত বা বালিশ দিয়ে কাঁটা স্থানে সাপোর্ট দিতে পারেন।
প্রত্যেকটি মায়েরই প্রসবের পর ভ্যাজিনাল ডিসচার্জ হয় যাকে। এটি রক্ত, ব্যাকটেরিয়া এবং জরায়ুর ছিঁড়ে যাওয়া টিস্যুর সমন্বয়ে গঠিত। প্রসবের পর প্রথম কিছুদিন এ ডিসচার্জ উজ্জ্বল লাল বর্ণের থাকে।
সিজারের পর প্রথম এক দুই দিন আপনার গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। এসময় মায়ের পরিপাকতন্ত্র মন্থর থাকে বলে বেশি গ্যাস উৎপন্ন হতে পারে। এ সময় হালকা হাঁটাচলা স্বস্তি দিতে পারে। সার্জারির পরদিনই মাকে বিছানা থেকে উঠে কিছুটা হাঁটাহাঁটি করার পরামর্শ দেয়া হতে পারে। তবে সেটা নিজে নিজে কখনোই চেষ্টা করবেন না, নার্সের সাহায্য নিন।
এ সময় হেঁটে বাথরুমে যাওয়াটাও আপনার কাছে অসম্ভব মনে হতে পারে। কিন্তু এই নড়াচড়া সেরে উঠার জন্য খুবই উপকারী। এর ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমে যায়। সার্জারির পর শুয়ে থাকা অবস্থাতেও পা নাড়িয়ে, স্ট্রেচিং করে পায়ে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পারেন।
তৃতীয় বা চতুর্থ দিনে ডাক্তার আপনার সেলাই খুলে দিতে পারেন। এতে তেমন কোনো ব্যাথা পাওয়া যায়না এবং খুব অল্প সময় লাগে। এটি সাধারণত হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জের আগে করা হয়। তবে যদি কোনো সমস্যা থাকে তবে আরো কিছুদিন পরেও তা খোলা হতে পারে।
প্রথম দিকে সিজারের কাটা স্থান সামান্য ফোলা এবং গাঁড় বর্ণের থাকলেও ছয় সপ্তাহের মধ্যে তা আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে আসতে থাকে। সিজারের কাটা সাধারণত ৪-৬ ইঞ্ছি লম্বা হয়। এটি সেরে ওঠার সময় কাটা স্থানে চুলকাতে পারে।
সিজারের পর মায়ের শারীরিক যত্ন

কাজ ও বিশ্রামঃ
সিজারিয়ান একটি মেজর সার্জারি। অন্য যেকোনো সার্জারির মতোই তা সেরে ওঠার জন্য সময় দিতে হবে। সিজারের পর স্বাভাবিকভাবেই আপনাকে বিশ্রামে থাকতে হবে এবং অন্যদের আপনার কাজে সাহায্য করতে দিতে হবে। এই সময়টুকু নিজের শরীরকে সুস্থ করার জন্য ভালমতো বিশ্রাম করা জরুরি, অন্তত প্রথম ৬ সপ্তাহ থাকতে হবে বিশ্রামে।
যদিও এটা বলার চাইতে করাটা অনেক কঠিন। বাচ্চার কারণে বিশ্রাম নেয়াটা অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। বাচ্চার যত্নআত্তির কাজে পরিবারের অন্য সদস্যদের সাহায্য নিন।
তবে শুধু শুয়ে বসে সময় কাটালেই চলবেনা। সিজারের সাধারণত চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই মাকে বিছানা থেকে উঠে বাথরুমে যেতে উৎসাহিত করা হয়। এতে ক্ষতস্থান তাড়াতাড়ি সেরে উঠতে সাহায্য করে। তবে এ সময় হাঁটাচলা ধীরে সুস্থে করতে হবে। নিয়মিত হাঁটা শুধু ক্যালরি বার্ন করে না, অপারেশনের পর শরীরের অ্যানার্জি লেভেল বাড়াতেও সাহায্য করে।
যে সকল মায়েরা সিজার অপারেশনের মধ্য দিয়ে যান তাদেরকে সাধারণত অপারেশনের পরদিন থেকেই অল্প অল্প করে হাঁটা শুরু করতে বলা হয়। কারণ হাঁটলে সেলাই দ্রুত শুকায়, রক্ত জমাট বাঁধে না এবং ব্যাথা প্রশমন ত্বরান্বিত হয়। তবে প্রথম ছয় থেকে আট সপ্তাহ খুব আস্তে আস্তে হাঁটতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে হাঁটার গতি এবং সময় বাড়াতে হবে। তবে তা অবশ্যয় ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করতে হবে।

খাবারঃ
প্রসব পরবর্তীতে মায়ের স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ক্যালরি দরকার হয়। এই অতিরিক্ত ক্যালরি বুকের দুধ তৈরির জন্য প্রয়োজন হয়। তাই এ সময় মাকে সঠিকমাত্রায় সুষম খাবার খেতে হবে। পাশাপাশি প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে। এ সময় মায়ের দেহে পানির প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায় ও ঘন ঘন পিপাসা পায়। মাকে সব সময় পিপাসা পেলেই প্রচুর পানি পান করতে হবে। পানি পানের উপকারিতা অনেক। যেমন : এই পানি বুকের দুধের মাধ্যমে বাচ্চার পানির প্রয়োজনীয়তা মেটায়। বাচ্চাকে আলাদাকরে পানি খাওয়ানোর প্রয়োজন হয় না। পানি মায়ের শরীরের বিভিন্ন পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে, প্রস্রাবের প্রদাহ, কোষ্টকাঠিন্য এবং রক্ত জমাট বাধা রোগ হবার ঝুঁকি কমায়।

কাটা স্থানের যত্নঃ
সিজারের ক্ষেত্রে কাটা স্থানের যত্ন নিতে হবে। প্রতিদিন হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে শুকিয়ে নিন। যদি কাটা স্থানটি কাপড়ের সাথে ঘষা লাগে তবে এর উপর গজ ব্যান্ডেজ লাগিয়ে নিতে পারেন। ঢোলা, আরামদায়াক এবং সুতির কাপড় পরার চেষ্টা করুন।
কাটা স্থানে ইনফেকশন হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন। যদি ক্ষতস্থান লাল হয়ে যায় বা বেশি ব্যথা হয় তবে ডাক্তারকে জানান। এ সময় সুইমিং পুল বা হট টাব এড়িয়ে চলা উচিত।

বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানঃ
বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুধু বাচ্চার জন্যই উপকারী না, এটা মায়ের জন্যও অনেক উপকারী। যেসকল মায়েরা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান তাদের ওজন অন্য মায়েদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত দ্রুত ঝড়ে যায়। কারণ বুকের দুধের মাধ্যমে বাচ্চাকে পর্যাপ্ত পুষ্টি দিতে গিয়ে মায়ের শরীর থেকে অনেক বেশি ক্যালরি ক্ষয় হয়। যার ফলে ওজন ঝড়ে যেতে শুরু করে। এজন্য শুধু জন্মের প্রথম ছয় মাসই নয়, বরং এরপরও বাচ্চাকে অন্তত এক বছর পর্যন্ত নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত।

বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় বিভিন্ন পজিশন চেষ্টা করে দেখতে পারেন কোনটা আপনার জন্য আরামদায়ক। বুকের দুধ খাওয়ানো সময় আপনার সোজা হয়ে বসে কোলের উপর বালিশ রেখে তার উপর বাচ্চাকে শুইয়ে দুধ খাওয়াতে পারেন। বাচ্চাকে ব্রেস্ট ফিডিং এর জন্য এ ধরনের কিছু বিশেষ ধরনের বালিশ এখন কিনতে পাওয়া যায়। এছারাও আপনি পাশ ফিরে শুইয়েও বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে পারেন।

যেসব কাজ এড়িয়ে চলতে হবেঃ
সিজারিয়ানের পর কিছু কিছু কাজ বেশ কিছুদিনের জন্য এড়িয়ে চলা উচিত। সিজারিয়ানের পর ক্ষতস্থানে বার বার হাত দেয়া উচিত নয়। এতে ইনফেকশনের সম্ভাবনা বাড়ে। বাসায় ফেরার সাথে সাথে গৃহস্থালির কাজ কর্ম শুরু করার প্রয়োজন নেই। এ সব কাজে পরিবারের অন্য সদস্যদের সাহায্য নিন। সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নামা যতটা সম্ভব কম করা উচিত। এছাড়াও ভারী জিনিষ ওঠানো বা বহন করা আপাতত বন্ধ রাখতে হবে।
সিজারিয়ানের পর কিছুদিন পর্যন্ত নিজের বাচ্চাকে কোলে নেয়াটাও কষ্টকর হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সেটা খুব বেশি করার প্রয়োজন নেই। আপনি চেয়ারে বসে অন্য কাউকে বলুন বাচ্চাকে আপনার কোলে তুলে দেয়ার জন্য।
সিজারিয়ানের পর অন্তত ছয় সপ্তাহ শারীরিক মিলন থেকে বিরত থাকুন। আপনার ক্ষতস্থান স্বাভাবিক হয়ে আসার পর প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে শারীরিক মিলন শুরু করতে পারেন। এসময় খুব বেশি জোরে হাঁসা বা কাশি দেয়া উচিত নয়। এতে ক্ষতস্থানের উপর চাপ পড়তে পারে। হাঁসার সময় বা কাশি দেয়ার সময় হাত বা বালিশ দিয়ে ক্ষতস্থানে সাপোর্ট দিন।

সিজারিয়ানের পর মানসিক যত্নঃ
ডেলিভারির পর,বিশেষ করে সিজারিয়ান হলে ৪-৫ দিনের দিন ইমোশনাল ব্রেকডাউন হয়। একটুতেই খারাপ লাগে,কান্না পায়, দুর্বল লাগে এবং ঠিকমতো চিন্তা করার ক্ষমতা থাকেনা। অনেক মা ই নরমাল ডেলিভারি হয়নি বলে অনেক মন খারাপ করে থাকেন বা নিজেকে অযোগ্য বলে ভাবতে থাকেন। এসব অনুভূতি নিয়ন্ত্রন করা অনেক সময় মায়েদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

বাচ্চার দেখাশোনা এবং সামনের বেশ কিছু দুশ্চিন্তা-পূর্ণ সময় যেন মা-কে গ্রাস করে না ফেলে, তার জন্য বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। কিছু কিছু মা হয়তো প্রসব পরবর্তি বিষণ্ণতা কাটিয়ে উঠতে পারে না-এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই মা কে পরিবারের অন্যদের এবং একজন ভালো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। বাবা ও পরিবারের অন্যানদের সহযোগীতা বিশেষভাবে কাম্য এই সময়টিতে।

সন্তান জন্মদানজনিত শারিরিক ধকল, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং হরমনের বিভিন্ন জানা-অজানা প্রভাবের কারণে মায়েরা একটু খিটখিটে আচরণ করতে পারে, তুচ্ছ কারণে অভিমান বা কান্নাকাটি হতে পারে- এগুলোকে সাধারণত বেবি ব্লুস (Baby Blues)- বলা হয় যা সাধারণত শিশুর জন্মের এক-দেড় মাসের মধ্যে কেটে যায়। তবে বিষয়টি আর ‘Baby blue’-র পর্যায়ে থাকে না যখন এসব সমস্যা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায় যেমন, মাকে ভয়াবহ আত্মগ্লানি এবং বিষণ্ণতা গ্রাস করে এবং বিষয়গুলো দীর্ঘসময় ধরে চলতে থাকে কিংবা সময়ের সাথে বাড়তে থাকে। তখন এক প্রসব পরবর্তী বিষণ্ণতা বা পোস্ট পারটাম ডিপ্রেশন বলে।

মায়ের এরকম সমস্যা হোলে তাকে যথাসম্ভব মানসিক সাপর্ট দিন। বিশেষ করে বাবাদের ভুমিকা এসব ক্ষেত্রে বিশেষ ভুমিকা রাখে। প্রসুতি যদি বেবি ব্লু জনিত খিটখিটে আচরণও করে তাকে ভরসা দিন, তাকে বেশ কিছুদিনের জন্য বিচার করবেন না। সবসময় ধৈর্য রাখা পরিবারের অন্যদের জন্য খানিকটা চ্যালেঞ্জিং তবে, নবজাতক এবং মায়ের স্বার্থে তাদের সহযোগিতা বিশেষ ভাবে প্রয়োজনীয়।

প্রসব পরবর্তী বিষণ্ণতা বা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন এর ক্ষেত্রে স্বামী কিংবা পরিবারের অন্যদের বিশেষভাবে কিছু স্টেপ নিতে হবে যেমনঃ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মা-কে সর্বদা Motivated রাখা, তার বিভিন্ন কাজের প্রশংসা করা, এমনকি তার অন্যায্য কোনো ব্যাবহারের সমালোচনা না করে ঠাণ্ডা মাথায় তাকে শান্ত করা এবং যথাসম্ভব তাকে সঙ্গ দেয়া। একা মায়েদের ক্ষেত্রে / কিংবা একক পরিবারে বিষয়টি অনেকখানি কঠিন হয়, যার কারণে গর্ভাবস্থায় এ বিষয়ের প্রয়োজনীয় প্ল্যান করে রাখা দরকার।

আপনি যদি নতুন মা হন, সেক্ষেত্রে বিভিন্ন কাজে অন্যের সাহায্য নিন। অন্যেরা আপনার উপর বিরক্ত হচ্ছে কিনা, আপনি অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন কিনা, কেউ নিজে থেকে আপনাকে কেয়ার করছেনা কেন?- ইত্যাদি চিন্তা কিছুদিনের জন্য বন্ধ করার চেষ্টা করুন। সেইসাথে আপনার সমস্যা অন্যের সাথে শেয়ার করলে তারা আপনার সম্পর্কে কি ধারণা করবে- জাতীয় চিন্তা বাদ না দিলে সমস্যা বরং আরো বাড়বে। সমস্যা শেয়ার করুন এবং সাহায্য চান। আপনার এ সমস্যাটি আপনার একার নয় বরং পরিবারের সবার।

সিজারের পর নিচের লক্ষনগুলো দেখা গেলে দ্রুত ডাক্তারকে জানাতে হবেঃ
১০০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি জ্বর আসলে পেটে হঠাৎ ব্যাথা হলে, পেট নমনীয় হতে উঠলে বা জ্বলুনি হলে।
কাঁটা স্থানে হঠাৎ ব্যাথা হলে বা পুঁজ দেখা গেলে।
যোনিপথে নির্গত তরলে দুর্গন্ধ হলে পায়ের কোনো স্থান ফুলে গেলে, লাল হয়ে গেলে বা ব্যাথা হলে প্রস্রাবের সময় জ্বালা পোড়া হলে বা প্রস্রাবের সাথে রক্ত গেলে স্তনে বা বুকে ব্যাথা বা শ্বাসকষ্ট হলে।
সবশেষে মনে রাখতে হবে প্রসব পরবর্তী ৬-৭ সপ্তাহ পর মাকে অবশ্যই একবার চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
সম্পূর্ণ চেক-আপের জন্য আমাদের দেশে মায়েদের এই সেবা গ্রহণের হার খুবই কম। এ সময় চিকিৎসক মাকে সম্পূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন চিকিৎসা ও উপদেশ দিয়ে থাকেন।
এই চেকআপের সুবিধাসমূহ হচ্ছে- গর্ভধারণের সময় মায়ের শরীরে যে পরিবর্তন হয়েছিল তা পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে কিনা চিকিৎসক তা নির্ণয় করে থাকেন।

মায়ানমারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জেড পাথর

সাউথ এশিয়ান মনিটর, ৭ ডিসেম্বর ২০১৬: বিশ্বের সবচেয়ে ভাল জেড পাথরের (সবুজ স্বচ্ছ মূল্যবান খনিজ) মূল উৎস মায়ানমারের একটি খনিতে ১৭৫ টন ওজনের বিশাল এক জেড পাথরের সন্ধান পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সর্ববৃহৎ এই  জেড পাথরটির বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ ডলার। দেশটির কাচিন প্রদেশের একটি খনি থেকে গত অক্টোবরে এই জেড পাথরটি পাওয়া যায়। পাথরটি প্রায় ১৪ ফুট উঁচু এবং ১৯ ফুট দীর্ঘ, যা আকারে শুধুমাত্র চিনের জেড বুদ্ধ প্যালেসের প্রধান ভাস্কর্য থেকে কিছুটা ছোট।
এটি এখনও স্পষ্ট নয় যে এত বড় আকারের মূল্যবান পাথর এর আগে পাওয়া গিয়েছে কিনা, কিন্তু এটা যে গত বছরে পাওয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম হীরা বা সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় খনিতে পাওয়া বিরল রক্তবেগুনী হীরার মতো অন্য ভূতাত্ত্বিক বিস্ময়ের পর্যায়েই পড়ে তাতে সন্দেহ নেই।
জেড পাথর দ্বারা সাধারণত নেফ্রাইট ও জেডাইটেএই দুই ধরনের রূপান্তরিত পাথরকে বোঝায়, যার দাম প্রথমটার চেয়ে দ্বিতীয়টার অনেক বেশী। মায়ানমারের পাথরটি জেডাইট বলে মনে করা হচ্ছে।  ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের এক স্থানীয় নেতা ইউ টিন্ট সু বলেন ‘এটা আমাদের সরকারের সময় পাওয়া গেছে। এটা আমাদের জনগণের জন্য সৌভাগ্য নিয়ে আসবে।’ তার মতে পাথরটি প্রায় দুটি ছোটঘরের সমান হবে।
দেশটিতে পাওয়া অন্য সকল জেডপাথরের মত এটিও সম্ভবত চীনে পাঠানো হবে, যেখানে তা খোদাই করে গয়না এবং ভাস্কর্যে রূপান্তরিত হবে। চীনে জেড পাথরের নেকলেস ও ব্রেসলেট অনেক জনপ্রিয় এবং একে তারা “স্বর্গের পাথর” হিসেবে আখ্যায়িত করে।
মায়ানমারের এই মূল্যবান পাথর উত্তোলনে শ্রমিকদের অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়ে কারন সেখানে প্রায়ই খনি-ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। গত বছর নভেম্বরে একটি বড় ভূমিধসে প্রায় ১০০ জন শ্রমিক মারা গেছে। সাবেক জান্তার সাথে জড়িত এক কোম্পানি এই সেক্টরে আধিপত্য তৈরি করেছে। ২০১৪ সালে “গ্লোবাল উইটনেস” এই কোম্পানির দর ধরেছে ৩১ বিলিয়ন ডলার যা মায়ানমারের জিডিপির অর্ধেক প্রায়। সবচেয়ে দামী পাথরগুলো পার্শ্ববর্তী চীনে চোরাচালান করা হয় যা বিভিন্ন মূর্তি বানাতে ব্যবহার করা হয়।
এই আবিষ্কারের আগে বৃহত্তম নেফ্রাইট জেড পাথরের চাঁই ছিল ১.৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের যা ২০১৩ সালে কানাডায় পাওয়া যায়।
পলিশ করার পর পাথরটি এরকম সুন্দরই দেখায়ঃ ছবিটি হান্টিংটন মিউজিয়াম অফ আর্টথেকে তোলা।