Wednesday, October 2, 2019

নিজেকে আবেদনময়ী মনে করেন না দিশা

বলিউড দুনিয়ার আলোচিত মুখ দিশা পাটানি। হাতে গোনা কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেই চলে এসেছেন আলোচনায়। তাকে এখন বলিউডের অন্যতম আবেদনময়ী অভিনেত্রী হিসেবে ধরা হয়। সেকারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার কোনো ছবি প্রকাশ পেলে মূহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। তবে বলিউড ইন্ডাস্ট্রি কিংবা ভক্তরা দিশাকে আবেদনময়ী মনে করলেও তিনি নিজেকে তা মনে করেন না। ভারতের একটি জাতীয় দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটি জানিয়েছেন এই বলিউড সুন্দরী। দিশা বলেন, আমি আমাকে কখনোই আবেদনময়ী মনে করি না। আমি বাস্তব জীবনে টমবয়। কিন্তু আমি একটু ভিন্নভাবে ছবি তুলি বলে অনুরাগীরা আমাকে আবেদনময়ী মনে করে। খুব সাধারন একটি মেয়ে আমি। দিশা পাটানি অভিনীত ‘মালাঙ’ ছবি রয়েছে মুক্তির তালিকায়। এতে আরও অভিনয় করেছেন আদিত্য রয় কাপুর, অনিল কাপুর ও কুনাল খেমু। মোহিত সুরি পরিচালিত ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী ২০২০ সালে।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এবার অস্ট্রেলিয়াকে চাপ দেয়ার অভিযোগ!

ইউক্রেনের পর এবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনকে চাপ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলার যে তদন্ত করেছিলেন, তার উৎস নিয়ে বর্তমানে তদন্ত করছে আইন মন্ত্রণালয়। ট্রাম্প শিবিরের প্রত্যাশা, বর্তমান তদন্তের মাধ্যমে রবার্ট মুয়েলারের প্রতিবেদনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে। আর এই তদন্তের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার’কে সহযোগিতা করতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে সম্প্রতি চাপ দিয়েছেন ট্রাম্প। দু’জন মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। বিবিসির আরেক খবরে বলা হয়, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অস্ট্রেলিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও।
খবরে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের কাছে ওই তদন্তের জন্য সহায়ক প্রমাণ ও তথ্য দিতে ট্রাম্প অনুরোধ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষ বলেছে যে, প্রধানমন্ত্রী মরিসন ওই অনুরোধে সম্মত হয়েছেন।
এই খবর এমন সময় এলো যখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই অভিযোগে অভিশংসন তদন্ত চলছে যে, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি নিজের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী, ডেমোক্রেট দল থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে আরেক বিদেশি নেতা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কিকে চাপ দিয়েছিলেন।
শুধু তা-ই নয়। এজন্য তিনি ইউক্রেনকে যে আমেরিকান সহায়তা দেয়ার কথা, তা স্থগিত রেখেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ট্রাম্প ও মরিসনের মধ্যকার ফোনালাপের বিবরণ হোয়াইট হাউজের খুবই অল্প কয়েকজন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে, যা স্বাভাবিক প্রটোকলের মধ্যে পড়ে না। একই ধরনের বিধিনিষেধ ইউক্রেন ফোনালাপের ক্ষেত্রেও করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুয়েলারের তদন্তের বিষয়বস্তু ছিল ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ। এই তদন্তের অন্যতম বিবেচ্য বিষয় ছিল, নির্বাচনে ট্রাম্প বা তার নির্বাচনী প্রচারাভিযান থেকে রাশিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল কিনা। এছাড়া এই সংক্রান্ত তদন্ত ট্রাম্প বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছিলেন কিনা। মুয়েলার এপ্রিলে নিজের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি অবশ্য এই অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করেননি যে, ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবির নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে রাশিয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। তবে ওই প্রতিবেদনে ট্রাম্পকে সকল বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মেলানোর অভিযোগ থেকে অব্যাহতিও দেওয়া হয়নি। এছাড়া প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে    বিচার বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ বিস্তারিতভাবে দাঁড় করানো হয়েছে।
এই তদন্তে ট্রাম্প বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন। তদন্ত চলাকালে তিনি এ নিয়ে বারবার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরের মাসে তিনি ঘোষণা দেন যে, অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার তদন্ত করবেন কীভাবে মুয়েলারের তদন্ত প্রকৃতপক্ষে শুরু হয়েছিল। এরপরই আমেরিকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত জো হোকি হোয়াইট হাউজকে চিঠি লিখে জানান, এই তদন্ত পর্যালোচনায় সাহায্য করতে অস্ট্রেলিয়া প্রস্তুত। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাম্পের কথোপকথনের বিষয়বস্তু ফাঁস হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার সরকার মঙ্গলবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ‘তদন্তনাধীন বিষয়ে আরো স্বচ্ছ ধারণা লাভ করতে যে প্রচেষ্টা চলছে তাতে সব সময়ই সহায়তা ও সহযোগিতা করতে অস্ট্রেলিয়া প্রস্তুত ছিল। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টি ফের নিশ্চিত করেছেন।’
প্রসঙ্গত, অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী মরিসন ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক মিত্রদের একজন। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে তাকে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের মাধ্যমে বিরল সম্মান দেয়া হয়। এই সফরের কিছুটা আগেই ওই ফোনালাপ হয় দুই নেতার মধ্যে।

মুয়েলার তদন্তের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার যোগসূত্র কী?
ট্রাম্প-রাশিয়া তদন্ত শুরু হওয়ার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বড় ধরনের যোগসূত্র ছিল। মূলত, অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা মার্কিন এফবিআই’কে তাদের একজন শীর্ষ কূটনীতিকের উদ্বেগের বিষয়ে অবহিত করেন। ওই কূটনীতিক ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন হাইকমিশনার অ্যালেক্সান্ডার ডাওনার। ডাওনার বলেছেন, ২০১৬ সালের মে মাসে ট্রাম্প শিবিরের উপদেষ্টা জর্জ পাপাদোপোলোস তাকে বলেছিলেন যে, ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিপক্ষ হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে ‘মারাত্মক তথ্য’ আছে মস্কোর কাছে। ডাওনার পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ার এবিসি চ্যানেলকে বলেন, ‘তিনি আমাকে বললেন যে, রাশিয়া হয়তো এমন কিছু তথ্য প্রকাশ করতে পারে যা হিলারি ক্লিনটনের জন্য নেতিবাচক হবে।’ তবে পাপাদোপোলোস এই ধরনের কথোপকথনের কথা অস্বীকার করেছেন। ২০১৮ সালে তিনি ২ সপ্তাহ কারান্তরীণ ছিলেন। রাশিয়ার একজন কথিত মধ্যস্বত্বভোগীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি এফবিআই’র কাছে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার কথা স্বীকার করার পর তার ওই কারাদণ্ড হয়।

জলবায়ু পরিবর্তন: পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে জাতিসংঘের 'রেড-অ্যালার্ট'

জাতিসংঘের একটি বিজ্ঞানী প্যানেল হুঁশিয়ার করেছে - মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের পরিণতিতে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন দ্রুত হারে সাগর-পৃষ্টের উচ্চতা বাড়ছে এবং বরফ গলছে।
সেই সাথে, জীব-জন্তুর বিভিন্ন প্রজাতি তাদের আবাসস্থল বদলাচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বরফের আচ্ছাদন বিলীন হওয়ার কারণে কার্বন নি:সরনের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলে, পরিস্থিতি দিনকে দিন বিপজ্জনক হয়ে পড়ছে।
আইপিসি বা জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্যানেলের সর্ব-সাম্প্রতিক একটি বিশেষ রিপোর্টে এসব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। গত এক বছরের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে এটি তাদের তৃতীয় রিপোর্ট।
এর আগে বিজ্ঞানীরা বোঝার চেষ্টা করেছেন, এই শতকের শেষভাগে গিয়ে যদি বিশ্বের তাপমাত্রা ১.৫ শতাংশ বেড়ে যায়, তার পরিণতি কী হতে পারে।
সর্বশেষ এই রিপোর্টে দেখা হয়েছে, তাপমাত্রার বাড়ার কারণে সমুদ্র এবং বরফে আচ্ছাদিত অঞ্চলের ওপর তার প্রভাব কী হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা এবার যা পেয়েছেন, তা আগের রিপোর্টগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ভীতিকর।

কী পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা এবং তা কতটা খারাপ

খুব সংক্ষেপে বলতে গেলে - সাগর-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ছে, বরফ গলছে দ্রুতহারে, এবং এর প্রভাব পড়ছে পুরো বিশ্বের প্রাণীজগতের ওপর।
"ব্লু-প্ল্যানেট (পৃথিবী) এখন মহা-সঙ্কটে। বিভিন্ন দিক থেকে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, এবং এর জন্য আমারাই দায়ী।," বলছেন ড. জ্যঁ পিয়ের গুাত্তুসো, যিনি এই রিপোর্টের প্রধান প্রণেতা।
বিজ্ঞানীদের এখন কোনো সন্দেহ নেই যে সাগর-মহাসাগরে উষ্ণতা ১৯৭০ সাল থেকে অব্যাহত-ভাবে বাড়ছে।
২১০০ সাল নাগাদ সাগর-পৃষ্ঠের উচ্চতা ১.১ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে
মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের ফলে পরিবেশে যে বাড়তি তাপ তৈরি হচ্ছে, তার ৯০ শতাংশই শুষে নিচ্ছে সাগর। ১৯৯৩ সাল থেকে শুষে নেওয়ার এই মাত্রা দ্বিগুণ হয়েছে।
সেই সাথে গলছে গ্রিনল্যান্ড এবং অ্যান্টার্কটিকার বরফ। বাড়ছে সাগর পৃষ্ঠের উচ্চতা
২০০৭ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত যে হারে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলেছে তার আগের ১০ বছরের তুলনায় তিনগুণ।
অ্যান্ডিজ, মধ্য ইউরোপ এবং উত্তর এশিয়ায় যেসব হিমবাহ রয়েছে, সেগুলোর বরফ ২১০০ সাল নাগাদ ৮০ শতাংশ গলে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বরফ গলার পরিণতি কী

বরফ গলা পানি গিয়ে পড়ছে সাগরে। ফলে, আগামী দশকগুলোতে সাগর-পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েই চলবে।
আইপিসিসির নতুন এই রিপোর্টে বলা হয়েছে ২১০০ সাল নাগাদ সাগর-পৃষ্ঠের উচ্চতা ১.১ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
আগের ধারণার চেয়ে এই উচ্চতা ১০ সেমি বেশি।
ড. গাত্তুসো বলছেন, "নিচু জায়গাগুলোতে সাগরের উচ্চতা বাড়ার পরিণতি হবে ব্যাপক। ৭০ কোটি মানুষ এরকম নিচু উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করে। ফলে বিষয়টি খুবই উদ্বেগের।"

আপনার ওপর এর প্রভাব কী হবে?

কার্বন নির্গমন এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাত্রা যদি বেশি হয়, তাহলে নিউ ইয়র্ক বা সাংহাইয়ের মত বিত্তশালী নগরগুলোও সাগর-পৃষ্টের উচ্চতা বাড়ার কারণে ঝুঁকিতে পড়বে।
রিপোর্টে সাবধান করা হয়েছে - সাগরে তাপ বাড়ার ফলে আবহাওয়া দিনকে দিন বিপজ্জনক আচরণ করবে। সামুদ্রিক ঝড় বেশি হবে, জলোচ্ছ্বাস বাড়বে।
বরফ গলছে আশংকজনক হারে
বিধ্বংসী জলোচ্ছ্বাসের নজির ইতিহাসে খুবই কম। শত বছরে গড়ে একটি করে এরকম দুর্যোগ হয়। কিন্তু নতুন এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের বেশ কিছু জায়গায় খুব বড় মাসের জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।
"আমরা নজিরবিহীন কিছু বিপদের ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছি," বলছেন আইপিসিসি প্যানেলের অধ্যাপক ডেরা রবার্টস।
"আপনি যদি স্থলভাগের খুব ভেতরেও বসবাস করেন, তাহলেও সাগর এবং পরিবেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আপনি নিরাপদে থাকতে পারবেন না।"
যেভাবে আপনার জীবনযাপন প্রভাবিত হতে পারে - বন্যার ক্ষতির মাত্রা দুই থেকে তিনগুণ বাড়তে পারে। সাগরের তাপমাত্রা বাড়ার ফলে ৯০ শতাংশ প্রবাল বিলীন হয়ে যেতে পারে।
সাগরের তাপমাত্রার বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে মাছ এবং জলজ উদ্ভিদের ওপর। মাছের শরীরে ভেতর পারদের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

রিপোর্টে কোনো আশাবাদ কি রয়েছে?

কিছু আশাবাদ তো অবশ্যই রয়েছে।
রিপোর্ট বলা হয়েছে যে সাগরের ভবিষ্যৎ এখনও আমাদের হাতে রয়েছে।
কিন্তু তার জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে এখনকার তুলনায় কার্বন নির্গমনের মাত্রা কমপক্ষে ৪৫% কমাতে হবে।
আইপিসিসি প্যানেলের চেয়ারম্যান হোসুং লি বলেছেন, "কার্বন নির্গমনের মাত্রা অনেক কমালেও চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকা মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা চ্যালেঞ্জিং হবে।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর জন্য রাজনীতিকদের ওপর জনগণের চাপ বাড়ানো খুবই জরুরি।
নিউইয়র্ক থেকে ঢাকা - বিশ্বের ডজন ডজন বড় শহর ঝুঁকির মুখে

মাটির নিচে যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩ কোটি ব্যারেল জরুরি তেলের ভান্ডার

সৌদি আরবের দুটি তেল স্থাপনার ওপর ড্রোন হামলার পরই যখন তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল তখন আমেরিকান কর্মকর্তারা বলছিলেন, তেল সরবরাহে সংকট দেখা দিলে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল 'জরুরি মজুতে' থাকা তেল কাজে লাগানো হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইট করেছিলেন, বাজারে তেলে সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য সেই 'কৌশলগত মজুতের' তেল ব্যবহার করতে পারেন তারা।
কিন্তু কোথায় সেই আমেরিকান তেলের ভান্ডার?
এই মজুত আছে টেক্সাস এবং লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে মাটির নিচে লবণের স্তরের ভেতর তৈরি গুহায়। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোন জরুরি প্রয়োজন সামাল দেবার জন্য জমা করে রাখা আছে ৬৪ কোটি ব্যারেল তেল।
আসলে সেই তেলের মজুত গড়ে তোলার ভাবনাচিন্তা করা হয়েছিল ১৯৭০-এর দশকে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময়কার তেল সংকটের পটভূমিতে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি এজেন্সির সব সদস্য দেশকেই অন্তত ৯০ দিন ব্যবহারের মত পেট্রোলিয়ামের আমদানি ধরে রাখতে হয়। তবে জরুরি প্রয়োজন মোকাবিলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে ভান্ডার গড়ে তুলেছে - তার মত বড় মজুত পৃথিবীর কোথাও নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে মোট চারটি জায়গায় এই জরুরি তেলের মজুত রয়েছে। টেক্সাসের ফ্রিপোর্ট এবং উইনির কাছে, আর লুইজিয়ানায় লেক চার্লস আর ব্যাটন রুজে।
মাটির তিন হাজার তিনশ' ফিট নিচে মানবসৃষ্ট অনেকগুলো গুহার মধ্যে এই তেল জমা করে রাখা আছে । ভূগর্ভস্থ লবণের স্তরের একটা অংশের লবণ গলিয়ে ফেলে তৈরি করা হয় এই গুহা - যাতে প্রাকৃতিক গ্যাস বা তেল মজুত রাখা যায়।
মাটির ওপরে ট্যাংকে তেল জমা রাখার চাইতে এই পদ্ধতি অনেক সস্তা, এবং নিরাপদ। ভূগর্ভস্থ লবণের রাসায়নিক গঠন এবং ভূতাত্বিক চাপ - দুই কারণেই এখান থেকে তেল বেরিয়ে যেতে পারে না।
ফ্রিপোর্টের কাছে ব্রায়ান মাউন্ডে যে গুহাটি আছে তাদের ২৫৪ মিলিয়ন বা ২৫ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল জমা রাখা যায়।

কেন এই জরুরি তেলের মজুত ?

উনিশশ' সত্তরের দশকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে সারা পৃথিবীতেই তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গিয়েছিল।
১৯৭৩এর আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পক্ষ নেয়ায় ওপেকের সদস্য ইরাক,কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরব আমেরিকায় তেল রপ্তানি করতে অস্বীকার করে।
আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ মাত্র তিন সপ্তাহেই থেমে যায় কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল ১৯৭৪এর মার্চ পর্যন্ত।
ফলে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল প্রায় চারগুণ - ব্যারেল প্রতি ৩ ডলার থেকে ১২ ডলারের কাছাকাছি। পেট্রোলপাম্পগুলোয় পড়ে গিয়েছিল গাড়ির দীর্ঘ লাইন।
এর পরই ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলার চিন্তা থেকে মার্কিন কংগ্রেসে একটি আইন পাস করে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ গড়ে তোলা হয় ।

কত দিন চলবে এই মজুতে?

যুক্তরাষ্ট্রের এই মজুতের যে তথ্য যে ওয়েবসাইটে আছে তাতে জানা যাচ্ছে - ১৩ই সেপ্টেম্বর সর্ব মোট তেল মজুত ছিল ৬৪ কোটি ৪৮ লাখ ব্যারেল।
মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের এক হিসেবমতে আমেরিকানরা ২০১৮ সালে গড়ে প্রতিদিন ২ কোটি ৫ লাখ ব্যারেল তেল ব্যবহার করেছে।
সে হিসেবে এই জরুরি মজুতে আমেরিকার ৩১ দিন চলবে। ১৯৭৫ সালের এক আইন অনুযায়ী এই জরুরি মজুতের তেল ব্যবহারের নির্দেশ শুধুমাত্র প্রেসিডেন্টই দিতে পারেন।
অবশ্য এখান থেকে তেল বের করা সহজ নয়। প্রেসিডেন্টের আদেশ পেলেও এখান থেকে তেল বের করে তা বাজার পর্যন্ত পৌঁছে দিতে প্রায় দু সপ্তাহ লাগবে।
তা ছাড়া এখানে তেল জমা রাখা হয়েছে অশোধিত আকারে। গাড়ি, জাহাজ বা বিমানে ব্যবহার করতে হলে এই তেলকে আগে শোধনাগারে পাঠিয়ে প্রক্রিয়াজাত করাতে হবে।

এই তেল কি কখনো ব্যবহার হয়েছে?

সবশেষ এই জরুরি মজুতের তেল ব্যবহার করা হয় ২০১১ সালে, যখন আরব বসন্তের কারণে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।
১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়র জরুরি মজুতের তেল ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন।
তার ছেলে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ হারিকেন কাটরিনার পর জরুরি মজুতের ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল বিক্রির অনুমতি দেন।
প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সময়ও বাজেট ঘাটতি কাটাতে ১৯৯৭ সালে ২ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল বিক্রি করা হয়।
অনেকে অবশ্য এত বড় জরুরি মজুত রাখার আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৭ সালে জরুরি মজুতের অর্ধেক তেলই বিক্রি করে দেবার পরিকল্পনা করেছিলেন ফেডারেল ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে।
লুইজিয়ানা ও টেক্সাস রাজ্যে ভূগর্ভস্থ গুহায় জমিয়ে রাখা আছে জরুরি প্রয়োজন মেটানোর তেল
মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে জরুরি তেলের মজুত কোথায় কোথায় আছে

তিস্তা নেই, ১৬ চুক্তি-সমঝোতা সইয়ের প্রস্তুতি: প্রধানমন্ত্রী দিল্লি যাচ্ছেন কাল by মিজানুর রহমান

চার দিনের সরকারি সফরে আগামীকাল সকালে নয়াদিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশি ভারতের সঙ্গে ‘রাজনৈতিক সম্পর্ক’ উন্নয়নই এ সফরের মূল লক্ষ্য। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতায় ঐতিহাসিকভাবে পরীক্ষিত বন্ধু ভারতের কোনো কোনো কূটনীতিক উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, যদিও এ নিয়ে দিল্লির তরফে আনুষ্ঠানিক কোনো রিজারভেশন বা অবজারভেশন এখনো নেই। সেই প্রেক্ষিতে সরকার প্রধানের সফরে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের গুরুত্ব তথা অপরিহার্যতার বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে। সফরকালে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে বিভিন্নখাতে অন্তত ১৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকে অংশ নেয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সরকার ও বিরোধী শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন। দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হবে। সার্বজনীন ওই সফরের বিভিন্ন আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়াসহ বাংলাদেশের সামপ্রতিক সময়ের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরবেন।
পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের বর্তমান জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং বিগত কয়েক বছরে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার সরকারের ব্যাপক সাফল্যের কথাও উল্লেখ করবেন। তিনি ভারতের বড় বড় বিনিয়োগকারীকে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানাবেন।
এছাড়া তিনি ভারতের তিনটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড এক্সচেঞ্জের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও মতবিনিময় করবেন। বর্তমান মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে এটি হবে দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক। গত শুক্রবার নিউইয়র্কে তাদের প্রথম সাক্ষাৎ-বৈঠক হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনের সাইড লাইনে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। ২০১৮ সালের ৩০ শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয় নিয়ে টানা তৃতীয়বার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। আর এ বছরের জুনে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করেন নরেন্দ্র মোদি। এই দুই নেতার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্ক দিনে দিনে জোরালো হয়েছে। যৌথভাবে দুই নেতা যোগাযোগ খাতে বেশ কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন। দুই দেশের মধ্যকার পুরনো সংযোগ পূনঃস্থাপনেও নানা প্রকল্প চালু হয়েছে হাসিনা-মোদি সরকারের মেয়াদে।  এছাড়া সমপ্রতি আসামের নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে ঢাকায় যে উদ্বেগ তা নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। যদিও নিউইয়র্ক বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন। তবে এবারের সফরের আলোচনার এজেন্ডায় তিস্তা নেই এটা নিশ্চিত করেই বলছেন ঢাকার কর্মকর্তারা। তবে তারা আশা করছেন ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীগুলোর পানিবন্টন নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে তিস্তার বিষয়টি আসতে পারে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার যেন ফিরিয়ে নেয়, কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে ভারতের সহযোগিতা চাইতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এদিকে আগামী মার্চে বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত শুক্রবারের নিউইয়র্ক বৈঠকে প্রধধামন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রন জানিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড, একে আব্দুল মোমেন এবং দিল্লির তরফে প্রচারিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ মোদি গ্রহণ করেছেন। সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লির উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যাবেন। ওই দিন দুপুরে তিনি নয়াদিল্লিতে পৌছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকে যোগ দিবেন। রাতে নয়াদিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং তার সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নিবেন। পরদিন শুক্রবার তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সমাপনীতে যোগ দেবেন। সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। শনিবার সকাল ১০টায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। এরপর হায়দ্রাবাদ হাউজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দিবেন শেখ হাসিনা। তার আগে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক হবে। আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে দুই নেতার উপস্থিতিতে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট সোনিয়া গান্ধি সৌজন্য সাক্ষাত করবেন।
যে সব চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি: যোগাযোগ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কারিগরি সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে ১৬টি চুক্তি ও সমঝোতা সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা ও দিল্লি। তবে ওই তালিকায় শেষ মুহুর্তে সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে জানিয়ে ঢাকার এক কর্মকর্তা বলেন, এবারের সফরে আকাশ সেবা সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে এটা প্রায় নিশ্চিত। তাছাড়া চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার সংক্রান্ত একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ত্রিপুরার চা শ্রীমঙ্গলে অকশন বা নিলামে বিক্রির একটি প্রস্তাব ঢাকার বিবেচনায় পাঠিয়েছে দিল্লি। যদিও এ নিয়ে দেশের চা শিল্প-সংশ্লিষ্টদের আপত্তি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হাই প্রোপাইল ওই সফরে নাটকীয় সিদ্ধান্ত আসতে পারে। চুক্তিও সই হতে পারে।

অবশেষে নগ্ন হলেন পুনম

সিনেমায় তেমন নাম নেই, নেই জস কিংবা খ্যাতি। তবুও তিনি বলিউড অভিনত্রেী। নাম পুনম পা-ে। এই লাস্যময়ীকে লোকে চেনে শুধুমাত্র তার খোলামেলা চালচলনের জন্য। আসলে খোলামেলা বললে ভুল হবে; নগ্নতার জন্য। ২০১১ সালে তিনি পরিচিত হন এক উদ্ভট মন্তব্যের কারণে। বলেছিলেন, যদি ধোনির নেতৃত্বে ভারত বিশ্বকাপ জেতে, তবে ফাইনালের ভেন্যুতে এসে সবার সামনে নগ্ন হবেন তিনি। কিন্তু সে যাত্রায় পারেননি পুনম।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মাহেন্দ্র সিং ধোনি ও গৌতম গম্ভীরের অনবদ্য জুটির কল্যাণে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বসেরার মুকুট লাভ করে ভারত। পুনমের হটকারী মন্তব্যে ওয়াংখেড়ে বাড়ানো হয় নিরাপত্তা। যে কারণে সেই বিশ্বকাপের ফাইনালেও যেতে পারেননি তিনি। ৮ বছর পর নিজের কথা রেখেছেন পুনম পা-ে। অবশেষে নগ্ন হলেন তিনি। গ্যালারি ভর্তি দর্শক বা দিনে-দুপুরে নয়, বরং গভীর রাতে চোরের মতো ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ঢুকে নগ্ন হয়েছেন। সম্প্রতি এর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, কাউকে সঙ্গে নিয়ে গাড়ি করে ওয়াংখেড়ে আসেন পুনম। পরনে ছিল কালো ওভারকোট, মুখ ঢাকা। কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক দৌঁড়ে পৌঁছান মূল গেটে। এক ব্যক্তিকে সেখানে কুকুর নিয়ে পাহারারত অবস্থায় দেখা যায়। তিনি চলে যাওয়ার পর তালা কাটার যন্ত্র নিয়ে সামনে দিকে এগিয়ে যান পুনম। তালা কেটে আবারও দৌঁড় শুরু করেন তিনি। এ সময় আরেক ব্যক্তিকে টর্চ হাতে ঘুরতে দেখা যায়। সম্ভবত তিনিও নিরাপত্তাকর্মী। তিনি যেন দেখতে না পারেন, তাই প্রথমে লুকিয়ে পড়েন পুনম। ওই ব্যক্তি চলে যাওয়ার পর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে গিয়ে সরাসরি কাপড় খুলতে শুরু করেন শরীর থেকে। ভিডিওর শেষের দিকে দেখা যায়, পুরোপুরি নগ্ন হয়ে পড়েন পুনম। গায়ে ছিল না একটি সুঁতোও। এ সময় হাঁপাচ্ছিলেন তিনি। পরে ভক্তদের চুমুর ভঙ্গি দেখিয়ে বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ কমপ্লিট।’ অবশ্য এ ঘটনার আগে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করেন পুনম। সেখানে তিনি লেখেন, ‘২০১১ সালে আমি বলেছিলাম করে দেখাব। এটা শুধুমাত্র আমার নীল পোশাকের ছেলেদের জন্য। তোমরা চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলেছিলে। মনে রেখো- পুনম কখনো মিথ্যা বলে না।’

সেলিম, যেন এক রূপকথা: অনলাইন ক্যাসিনো থেকে মাসে আয় কোটি কোটি টাকা, বিয়ের নেশা

সেলিম প্রধান। থাই ডন নামেই পরিচিতি। অনলাইন ক্যাসিনো চালানোর কারণে তাকে ক্যাসিনো ডনও বলা হয়। চলাফেরা করেন কোটি টাকার ল্যান্ডক্রুজার গাড়িতে। সামনে পেছনে থাকে গাড়ির বহর। সঙ্গে থাকেন অস্ত্রধারী দেহরক্ষী। যানজটে পড়লে উচ্চ শব্দে তার চালক বাজায় হুটার। ট্রাফিক পুলিশ শব্দ শুনে ভিআইপি ভেবে সিগন্যাল ছেড়ে দেয়।
গাড়ি থেকে নামার সময় দরজা খুলে দেয় দেহরক্ষীরা। গাড়ি থেকে নামেনও ফিল্মি স্টাইলে। নামার সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঘিরে রাখে দেহরক্ষীরা।
রাজকীয় হালে চলা এই ক্যাসিনো ডনের জীবন যেন এক রূপকথা। ১৯৮৮ সালে ভাগ্য বদল করতে পাড়ি জমান জাপানে। সেখানেই পরিচয় থাই ও কোরিয়ান নাগরিকের সঙ্গে। থাই বন্ধুর সঙ্গে থাইল্যান্ডে ব্যবসায় জড়ান। জাপানি বন্ধুকে নিয়ে বাংলাদেশেও ব্যবসা গড়েন। কোরিয়ান বন্ধুর পরামর্শে ২০১৮ সালে ঢাকায় গড়েন অনলাইন ক্যাসিনো হাট। এই ক্যাসিনো ব্যবসা থেকে প্রতি মাসে আসে কোটি কোটি টাকা। এ টাকা হুন্ডি ও বিদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করতেন। সোমবার বিদেশে পালানোর সময় বিমানে ধরা পড়া সেলিমের বিষয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে। ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে চলা সেলিম প্রধান মূলত সুবিধাবাদী এক ব্যবসায়ী। ব্যবসা শুরুর সময় সেই সময়ের ক্ষমতাসীন দলের সুবিধা নেন। তখন ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের সঙ্গে সখ্যতা ছিল বলে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। মামুনকে দামি গাড়ি  উপহার দেয়ার কথাও বলেছেন। আটকের পর সোমবার রাত থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত সেলিমের গুলশানের কার্যালয় ও বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা, টাকা, বিদেশি মদ, আট কোটি টাকার চেক, হরিণের চামড়া ও অনলাইন ক্যাসিনোর সার্ভার জব্দ করা হয়। আটক করা হয়েছে তার দুই সহযোগীকে। সম্প্রতি ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে সেলিম প্রধানের নাম উঠে আসে। এরপর থেকে গাঁঢাকা দেন। সোমবার থাই এয়ারওয়েজের টিজি ৩২২ ফ্লাইটে দেশ ছেড়ে বিদেশে পালানোর সময় র‌্যাব তাকে আটক করে।
সেলিমের ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, শুধু অনলাইনে ক্যাসিনো ব্যবসা নয় সেলিম প্রধান রাষ্ট্রীয় একটি ব্যাংক থেকে শতকোটি টাকা ঋণ নিয়ে আর ফেরত দেননি। স্পা ও ম্যাসেজ সেন্টারের আড়ালে গড়ে তুলেছিলেন অবৈধ অসামাজিক ব্যবসা। এছাড়া দেশের বাইরে বড় অংকের বিনিয়োগ করে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়েছেন। এসব ব্যবসার জন্য তিনি দেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করেছেন শত কোটি টাকা। একাধিক বিয়েও করেছেন। থাইল্যান্ডের পাতায়া শহরে রয়েছে তার হোটেল ও ডিস্কো বার। এই বারে নিয়মিত নাচ-গান করেন বিভিন্ন দেশ থেকে বাছাই করা তরুণীরা। এছাড়া একাধিক ম্যাসেজ পার্লার, বিউটি পার্লার খোলেছেন পাতায়ায়। এসব পার্লারে ফিলপাইন, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সুন্দরী তরুণীরা কাজ করেন।  বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পর্যটকদের টার্গেট করেই এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন তিনি। এসব ম্যাসেজ পার্লারে বাংলাদেশের অনেক ভিআইপিদের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যেতেন সেলিম প্রধান। সেখানেই তাদের জন্য আমোদ-ফূর্তির ব্যবস্থা করতেন। পরে তাদের সেবার জন্য তাদেরই পরামর্শে থাইল্যান্ডের মত করে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তিনি ম্যাসেজ পার্লার, স্পা সেন্টার চালু করেন। থাইল্যান্ডের ম্যাসেজ পার্লারে যেসব বিদেশি তরুণীরা কাজ করত তাদের ভিজিট ভিসা দিয়ে ঢাকায় এনে কাজ করাতেন। ঢাকার এসব ম্যাসেজ পার্লারে বিভিন্ন জগতের মানুষের আসা যাওয়া ছিল হর-হামেশা। প্রভাবশালী কেউ গেলে যথেষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হত। মূলত তার ম্যাসেজ পার্লারে দেশি-বিদেশি তরুণীদের দিয়ে অবৈধ সব কার্যকলাপ করানো হত। ক্যাসিনোসহ তার অনেক অবৈধ ব্যবসা চালানোর জন্য যাদের সহযোগিতা লাগত সেলিম প্রধান তাদের নিয়মিত আমন্ত্রণ জানাতেন থাইল্যান্ড ও ঢাকার স্পা সেন্টারে।
দেশের প্রভাশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তাদের হাতে রেখে এবং বখরা দিয়েই সে তার উদ্দেশ্য হাসিল করত। তাদের সহযোগিতায় সে বড় ধরনের অপকর্ম করে রেহাই পেয়ে যেত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনলাইন ক্যাসিনো ডন সেলিম বিয়ে করেছেন পাঁচটি। জাপানি, রাশিয়ান ও আমেরিকায় করেছেন তিনটি বিয়ে। আর বাংলাদেশে করেছেন দুটি। দেশ ছেড়ে পালিয়ে জাপানে থাকাবস্থায় তিনি জাপানি এক নারীকে বিয়ে করেন। তাকে নিয়ে থাকতেন টোকিওতে। দুজন মিলেই টোকিওতে ব্যবসা করতেন। ব্যবসা করার সময় সেলিম জড়িয়ে পড়েন নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। পরে সেখান থেকে পালিয়ে চলে যান আমেরিকা। সেখানে গিয়েও আরেক নারীকে বিয়ে করেন। পরে ফের তিনি জাপানে চলে আসেন। কিন্তু জাপানের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। কিছুদিন পর দেশে পাঠিয়ে দেয়। সূত্র বলছে, সেলিম যে দেশেই যেতেন সেখানেই একটি করে বিয়ে করতেন। এটি তার  একটি কৌশল ছিল।
অভিযানে যা পাওয়া গেল: এদিকে সেলিম প্রধানের গুলশানের কার্যালয় ও বনানীর বাসায় অভিযান চালানোর পর র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক ও র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, র‌্যাবের সাইবার মনিটরিং সেলে আমরা জানতে পারি যে, দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অনলাইনে ক্যাসিনো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সেজন্য আমরা নজরদারি বৃদ্ধি করি। তারই প্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে অনলাইন ক্যাসিনোর দলনেতা সেলিম প্রধান বিদেশে চলে যাচ্ছে এমন সংবাদ আমরা পাই। এ খবর পেয়ে দ্রুত র‌্যাবের একটি টিম বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে তাকে বিমান থেকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হই। তিনি আরও জানান, তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত তার বনানীর বাসা ও গুলশানের অফিসে অভিযান চালানো হয়।
তার অফিস ও বাসা থেকে ৪৮ বোতল বিদেশি মদ, নগদ ২৯ লাখ ৫৫০০ টাকা, ২৩ টি দেশের ৭৭ লাখ ৬৩ হাজার ২৩ টাকা মূল্যের মুদ্রা, ১২ টি পাসপোর্ট, ১৩ টি ব্যাংকের ৩২ টি চেকবই, ২ টি হরিণের চামড়া, ১ টি ল্যাপটপ  উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সেলিমসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যরা হচ্ছেন,  মো: আকতারুজ্জামান ও রোকন উদ্দিন।
তিনি জানান, সেলিমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সেলিম ১৯৭৩ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৮ সালে তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে জাপানে চলে যান। সেখানে তিনি গাড়ি ব্যবসা শুরু করেন। পরে এক জাপানি নাগরিকের সঙ্গে তিনি থাইল্যান্ডে চলে যান। সেখানে তিনি শিপের ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে থাইল্যান্ডে মিস্টার দো নামে এক কোরীয় নাগরিকের সঙ্গে পরিচয় হয়। মিস্টার দো তাকে বাংলাদেশে নির্মাণ শিল্পে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাব করেন। এর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনো খোলারও পরামর্শ দেন। ওই  অনলাইন ক্যাসিনো থেকে লাভ আসবে তার ফিফটি ফিফটি ভাগ হবে বলে তাদের মধ্যে মৌখিক চুক্তি হয়। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে তিনি অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসা শুরু করেন। ওই  কোরীয় নাগরিক দো মাঝে মাঝে বাংলাদেশে এসে অনলাইন থেকে তার যে লাভ তা ব্যাংকিং চ্যানেল বা হুন্ডির মাধ্যমে নিয়ে যেতেন। তিনি আরও জানান, সেলিমের যে অফিসে অভিযান চালানো হয়েছে সেখানে একটি কম্পিউটারে দেখা যায় যে, সেলিমের যে ওয়েবসাইট রয়েছে  সেখানে তিনি নিজেকে অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচয় দিয়েছেন। একটি সার্ভারে  দেখা যায়, সেখানে দুইটি অনলাইন ক্যাসিনো অ্যাকাউন্ট সংরক্ষণ করা আছে। একটি পি ২১ এবং আরেকটি পি-২৪। আমরা ওই সার্ভারটি জব্দ করেছি। এটা মূলত ভার্চুয়াল ক্যাসিনো।
সফটওয়ারের মাধ্যমে খেলা যায়। খেলার আগেই তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পরিশোধ করতে হয়। র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক আরও জানান, ওই ক্যাসিনো খেলার নিয়ম হচ্ছে যে, প্রথমে একজন জুয়াড়িকে মোবাইলে টি-২১ ও পি-২৪ নামের দুটি অ্যাপস ডাউনলোড করতে হতো। পরে অ্যাপসগুলো থেকে তার পছন্দমতো গেম বাছাই করতেন। এরপর শুরু হতো খেলা। জিতলে টাকা জমা হতো জুয়াড়ির নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউনে, আর হারলে টাকা কাটা যেত ওই একই অ্যাকাউন্ট থেকে।
তিনি আরও জানান, অনলাইনে ক্যাসিনো কার্যক্রমে অংশ নেয়ার আগে প্রত্যেক জুয়াড়িকে নির্দিষ্ট ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে হতো। এখন পর্যন্ত এমন ৩ টি ব্যাংকের নাম জানা গেছে।  ব্যাংকগুলো হলো কমার্শিয়াল ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক ও সিলং ব্যাংক। অ্যাকাউন্টগুলোয় নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রাখতে হতো। খেলায় জিতলে বা হারলে ওই অ্যাকাউন্টে টাকা যোগ হতো বা কাটা যেত। সম্পূর্ণ লেনদেন হতো একটি গেটওয়ের মাধ্যমে। এখন পর্যন্ত একটি গেটওয়ের সন্ধান পেয়েছে র?্যাব। সন্ধান পাওয়া ওই গেটওয়েতে কেবল ১ মাসেই প্রায় ৯ কোটি টাকা জমা হয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এমন একাধিক গেটওয়ে আছে। ওইসব গেটওয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখানে বোঝা যায় যে, একটি মোটা অংকের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, ক্যাসিনোর টাকা ব্যাংক আক্যাউন্টে জড়ো হলে সেলিমের সহকর্মীরা নগদে টাকা তুলে নিয়ে আসতো। ওইসব টাকা লন্ডন থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশে পাঠানো হতো। আর সেলিমের প্রধান সহযোগী মিস্টার দো বাংলাদেশে এসে তিনি ওই টাকা নিয়ে যেতেন।
তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইন, বৈদেশিক মুদ্রা আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ নিরাপত্তা আইনে মামলা হবে। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের ভ্রামমাণ আদালতের মাজিষ্ট্রেট সারোয়ার আলম, র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের সহকারী পরিচালক সিনিয়র এএসপি মিজানূর রহমান ভূঁইয়া, র‌্যাব-১ এর কর্মকর্তা (অপারেশন) এসি সুজয় সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অপারেশন ক্যাসিনো এরপর কী? by সাজেদুল হক

আদর্শলিপিতে কত কিছুই লেখা থাকে! টাকায় সম্মান মেলে না এ কথা সত্য নয়। একে দ্বিতীয় ঈশ্বরতো আর এমনি এমনি বলা হয়নি। এনুদের আপনি যতই পাতি নেতা বলুন না কেন, তারা সম্মানিত, বিশিষ্টজন। ঢাকায় যার ১৫-৩০টি বাড়ি আছে তাকে অসম্মান করবেন এমন দুঃসাহস কার? তবুও প্রশ্ন উঠছে। বলে রাখা ভালো, এদেশের সাংবাদিকতাও এখন হাওয়া দেখে চলে। কে না জানে, হাওয়ার দিকে যাওয়াইতো প্রকৃতির নিয়ম। ঢাকার সাংবাদিকতা তা ভালোভাবেই রপ্ত করেছে। এদেশের মানুষ তাজ্জব বনতে ভুলে গিয়েছিল। তারা দেখে আসছেন, অনেকদিন হলো সবকিছু একটি নির্দিষ্ট ধাঁচে চলছে। এবং সেটাই চলার কথা। হঠাৎ কি হলো কে জানে! ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া ছিল বড় চমক। অসাধারণ একটি সিদ্ধান্তও। যদিও তাদের এখনও আইনের মুখোমুখি করা হয়নি। মুখোমুখি করা হবে না সে কথাতো বলা হয়নি। ক্যাসিনোবিরোধী/দুর্নীতিবিরোধী/শুদ্ধি অভিযান, যে নামেই ডাকা হোক না কেন, আমজনতা এ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে। তারা কিছুটা বিস্মিত এবং হতবাকও। ক্ষমতার ছাতায় থেকে টাকা কামানো, সুযোগ সুবিধা নেয়া বাংলাদেশে অভিনব কিছু নয়। সরকার বদলায়, রাষ্ট্র বদলায় কিন্তু এ রীতির কোনো বদল হয় না। তাই বলে এতটা। একটা থানা ইউনিটের সহসভাপতির ভল্টে যদি ৫ কোটি টাকা, ৭২০ ভরি স্বর্ণ মেলে তাহলে অন্য অভিযুক্তদের কী অবস্থা। ১৫ অথবা ৩০টা বাড়ির কথাও ভাবুন। কী অবিশ্বাস্য!
অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ অবশ্য চলমান অভিযানকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান বলতে নারাজ। তিনি বলেন, বর্তমান যে অভিযান চলছে এটিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান বলা যাবে না। এটি ক্যাসিনোকেন্দ্রিক কিছু তৎপরতা।
শামীম, খালেদ, এনু এরাতো প্রতীক মাত্র। এবং এরা আসলে ছোট প্রতীক। ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। কিন্তু ক্যাসিনো বাদশাহ এখনো অধরা। নানা তালিকার কথা শোনা যাচ্ছে। ঢাকার একটি সহযোগী দৈনিকে খবর বেরিয়েছে ১৬৩ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী। তালিকায় ৩ জন মন্ত্রী, ৩০ জন এমপির নাম রয়েছে। সে যাই হোক, এরই মধ্যে একজন এমপির ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে এনবিআর। বিশ্লেষকরা বলছেন, জিকে শামীম, এনু, খালেদদের সংখ্যা এখন অনেক। শুধু ঢাকায় নয়, জেলায়, থানায়, ইউনিয়নে, এমনকি গ্রামেও তৈরি হয়েছে বহু এনু। দলীয় সাইনবোর্ড ব্যবহার করে যারা সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। সুশাসনের হঠাৎ দেখা স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে এদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। যেমন করে শুধু রাজনীতিবিদ নয়, বালিশ, পর্দাকাণ্ডের মতো ঘটনায় জড়িত পেশাজীবীদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি। ক্যাসিনো বাদশাহরা রয়েছেন প্রতিটি জায়গায়- জিকে শামীমের কথায় যা অনেকটাই খোলাসা হয়ে যায়। তার বরাতে যেসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তা শিউরে ওঠার মতো। দুই প্রকৌশলীকেই নাকি তিনি ঘুষ দিয়েছেন ১৫০০ কোটি টাকা। এখনও পর্যন্ত ওই প্রকৌশলীদের আইনের আওতায় আনার কোনো খবর নজরে পড়েনি। অপারেশন ক্যাসিনো একদিকে তৈরি করেছে আশাবাদ। অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে সংশয়। দুর্নীতির যে বিধ্বংসী বিস্তার ঘটেছে, তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। দেশ থেকে পাচার হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। সরকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, জাতীয় আয়ের ৯৫ ভাগ চলে যাচ্ছে ৫ ভাগ মানুষের হাতে। প্রতি বছর তারা আরও ধনী হচ্ছেন। অর্থনীতিবিদ মইনুল ইসলাম কয়দিন আগে বলেছেন, ধনীদের সম্পদ বাড়ার হার বাংলাদেশে দুনিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। বছরে দেশ থেকে পাচার হচ্ছে ৭৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকিং খাতেও ক্যাসিনোর মতো টাকা বেরিয়ে গেছে বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।
ক্যাসিনোবিরোধী অথবা দুর্নীতিবিরোধী এ অভিযানের গন্তব্য কোথায়? এ প্রশ্ন এরই মধ্যে উচ্চারিত হচ্ছে। সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ যথার্থই বলেছেন, মূল প্রশ্নতো আসলে ক্যাসিনো নয়। মূল প্রশ্ন হচ্ছে ক্ষমতার অপব্যবহার। এখন পর্যন্ত সরকারি দলের আলোচিত নেতাদের মধ্যে মাত্র দুই জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। সবাই জানেন, এমন অপরাধীর সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। এবং এটাও সরকারি দলের কেউ কেউ বলছেন, এরা দলে অনুপ্রবেশকারী।
অনুপ্রবেশকারী অথবা মূল খেলোয়াড় যা-ই হোক না কেন, দলীয় সাইনবোর্ড ব্যবহার করে দুর্বৃত্তপনায় জড়িত অন্যদের কি আইনের আওতায় আনা হবে না। ডজনখানেক ক্যাসিনো সম্রাট আর উজিরের কাহিনীতো পত্রিকাতেই বের হয়েছে। জেলায় জেলায় দলের ছাতার নিচে থেকে যারা দখল রাজত্ব কায়েম করেছে, অন্যের বাড়ি দখল করে যারা ভাড়া আদায় করছেন তাদের কি আইনের আওতায় আনা হবে না। ব্যাংকিং খাতে লুটপাটে যারা জড়িত তারা কি অধরা থেকে যাবে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান অসম্ভব এক আশাবাদ তৈরি করেছে। কিন্তু তা নির্দিষ্ট গন্তব্যে না পৌঁছালে শেষ পর্যন্ত তা জাতিকে কেবল হতাশাই উপহার দিবে।

ঢাকার আদালতপাড়ায় একদিন by রাশিম মোল্লা

সকাল ১০টা। ঢাকা সিএমএম আদালতের সামনে মানুষের জটলা। এগিয়ে যেতেই দেখা গেল ব্যানার নিয়ে দাঁড়ানো কিছু সালমান ভক্ত। এত বছর পরও একটুও ভুলেনি তাদের প্রিয় নায়ক প্রয়াত সালমান শাহকে। সামনে উৎসুক জনতার ভিড়। ব্যানারে লেখা সালমান হত্যার বিচার চাই। গতকাল ছিল সামমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ধার্য তারিখ। এ কারণে টিম সালমান শাহ ভক্তরা সকালে ব্যানার নিয়ে হাজির হন সিএমএম আদালতের সামনে।
টিম সামমান শাহ’র এডমিন মাসুদ রানা নকিব বলেন, ১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর সামমান শাহ খুন হন। এরপর মামলা হয়। কিন্তু এখনো মামলার বিচার শুরু হয়নি। পিবিআই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিল। কিন্তু আজও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি পিবিআই। ফের তারা সময় নিয়েছেন। এভাবে আদালত একের পর এক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করেন। আগামী ১৪ই নভেম্বর ফের সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত। ওই দিনও আমরা সালমান ভক্তরা এখানে হাজির হবো। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
কথা হয় সালমান ভক্ত বিথী মনী ভূইয়া, সালমান মাসুদ, কানিজ লিপি, ইতি, সালমান সিজানসহ অনেকের সঙ্গে। বিথী মনী ভূইয়া বলেন, আমার বয়স যখন চার, তখন থেকেই আমি সালমান শাহ’র ভক্ত। তার অভিনীত ২৭টি ছবিই একাধিকবার দেখেছি। কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবিটি ৫০ বারেরও বেশি দেখেছি। নিউমার্কেটের বিনাকা সিনেমা হলে আনন্দ অশ্রু সিনেমা মুক্তি পায়। তাই বাড়ির কারো কাছে না বলেই বান্ধবীদের সঙ্গে সিনেমাটি দেখতে যাই। হল থেকে বের হওয়ার সময় বান্ধীদেরকে হারিয়ে ফেলি। পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে খোঁজার জন্য মাইকিং করা হয়। সেই প্রিয় নায়ক হত্যার বিচারের দাবিতে শুরু থেকেই আন্দোলন করছি। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার আন্দোলন চলবে। আরেক সালমান ভক্ত কানিজ লিপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মাননবন্ধন লাইভ করায় ব্যাস্ত। তিনি বলেন, সরকার কত চাঞ্চল্য মামলার বিচার করছে। অথচ দুই যুগ পেরুলেও সামমান হত্যার বিচার শুরু হয়নি। সালমান শাহকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।
নথি থেকে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন গার্ডেন এলাকার ভাড়া বাসায় পাওয়া যায় অভিনেতা সালমান শাহর লাশ। এ ঘটনায় সালমানের বাবা কমর উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন। ১৯৯৭ সালে রিজভি আহমেদ নামের একজন অন্য এক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে জবানবন্দিতে স্বীকার করেন, সালমান শাহকে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা সাজানো হয়েছে এবং তিনি (রিজভি) নিজেও সেই হত্যায় জড়িত। এরপর সালমানের বাবা কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে নালিশি হত্যা মামলা করেন। আদালত দুটি অভিযোগ একসঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই থেকে চলছে তদন্ত। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই মামলার তদন্ত শেষ করতে পারেনি। এ ব্যাপারে মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, আগামী ১৪ই নভেম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছে আদালত।
সিএমএম আদালতের একটু সামনেই জেলা ও মহানগর দায়রা জজ আদালত। গেট দিয়ে ঢুকতেই দেখা হয় প্রতিবন্ধি মোসাম্মদ বানু আক্তারের সঙ্গে। বানুর কোনো হাত নেই। তিনি জানান, বাবা মায়ের সঙ্গে রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তারা। ২০১৩ সালে খোরশেদ আলমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ২০১৫ সালে তারই কারণে স্বামী খোরশেদ আলম প্রতিবন্ধী কোটায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি পায়। এরপর থেকে তাদের সংসার ভালোই চলছিল। সম্প্রতি স্বামী খোরশেদ বানুর কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। বানু দিতে অস্বীকার করে। এক পর্যায়ে প্রচন্ড মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেয় বানুকে। তিনি আরো বলেন, অনেক বুঝিয়েছি স্বামীকে। কিন্তু টাকা ছাড়া আমাকে তিনি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। তাই বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করতে এসেছি।
সিজিএম কোর্টের টিনসেড ভবনের বারান্দায় দেখা যায়, বিচার প্রার্থীদের প্রচন্ড ভিড়। কেউ এসেছে জামিন নিতে, কেউবা আবার মামলার হাজিরা দিতে। এরই মধ্যে দোহার আমলী আদালতের সামনে কথা হয় শাহিদা আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিয়ে হয় শরিয়তপুরের পালং থানায়। স্বামী বিদেশ থাকে। স্বশুর বাড়ির লোকজন ঝগড়া করে। তাই আমি দোহারে থাকি। এই সুযোগে ভাসুরের ছেলে ফাহিম মাদবর বিদেশ যাওয়ার জন্য আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা লোন চায়। আমি দিতে অস্বীকার করি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একদিন বাড়িতে এসে আমাকে প্রচন্ড মারধর করে। শ্বশুর বাড়িতে গেলে ভাসুরের ছেলে আমাকে আমার ঘরে ঢুকতে বাঁধা দেয়। একপর্য়ায়ে মারধর করে গলার গহনা নিয়ে যায়। ওই ঘরে আমার প্রয়োজনীয় অনেক জিনিস পত্র রয়েছে। কিন্তু তা আনতে পারছি না। তাই মামলা করেছি। আদালত আমার জবানবন্দি নিয়ে মামলাটি তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। বহু দিন হয়ে গেল। কিন্তু এখনো পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন দেয়নি। আজ ছিল মামলার ধার্য তারিখ। তাই কাক ঢাকা ভোরে বাড়ি থেকে আদালতে এসেছি।
দুপুর ১২ টায় সিএমএম আদালতের গেট দিয়ে জামিন নিয়ে বের হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপিন তিন নেতা। হাতে ব্যান্ডেজ নিয়েই সকালে হাজির হন সিএমএম আদালতে। এবি সিদ্দিকীর দায়ের করা মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের জামিন মঞ্জুর করেন। পরে আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদেরকে বলেন, গত ৫ই আগস্ট এবি সিদ্দিকীর দায়ের করা মামলায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এরপর বিএনপির এই নেতারা উচ্চ আদালতে জামিন নিতে যান। উচ্চ আদালতে তাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলেন। সেই আলোকে তারা আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

অর্ধনগ্ন যুবতীর ছবি ভাইরাল

বিহারের পাটনায় যখন বুক সমান পানি, মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা, তখন বন্যার পানিতে সেখানকার এক যুবতীর ছবি ভাইরাল হয়েছে। ভেজা পোশাকে বন্যার পানিতে রাস্তায় তাকে উল্লাস করতে দেখা যায়। বিভিন্ন ভঙ্গিমায় তিনি ছবি তুলে পোস্ট করেছেন নিজের ইন্সটাগ্রাম একাউন্টে। তার এমন কান্ডে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোরগোল চলছে। কেউ তাকে সমর্থন করছেন। কেউ তীব্র সমালোচনা করছেন। ওই যুবতীর নাম অদিতি সিং। তিনি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজির ছাত্রী।
এ খবর দিয়ে অনলাইন জি নিউজ জানাচ্ছে, টানা চারদিনের ভারি বর্ষণে বিহার ডুবছে। বাড়িঘর, হাসপাতাল পানির নিচে। রাজধানী পাটনায় বুকসমান পানি। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে মাঠপর্যায়ে। স্কুল, কলেজ রয়েছে বন্ধ। মানুষ যখন জীবন বাঁচাতে লড়াই করছে তখন অদিতির ওই পোস্ট অনেককে ভাবাচ্ছে। ছবিতে তাকে দেখা যাচ্ছে বন্যার পানিতে পাটনার রাস্তায় ভেজা পোশাকে দাঁড়ানো তিনি। তার এসব ছবি ইন্সটাগ্রাম ও ফেসবুকে শেয়ার দিয়েছেন ফটোগ্রাফার সৌরভ অনুরাজ। ছবির শিরোনাম দেয়া হয়েছে ইংরেজিতে ‘মারমেইড ইন ডিজঅ্যাস্টার’। অর্থাৎ দুর্যোগের ভিতরে মৎস্যকুমারী। এতে অদিতি সিংকে দেখা যায় লাল একটি পোশাকে। যা উরুর কাছ থেকে বিভক্ত। সেখান দিয়ে একটি পা পুরোটাই প্রায় অনাবৃত।
এ অবস্থায় বিভিন্ন ভঙ্গিতে তিনি বন্যার পানিতে হাসছেন। শনিবার এসব ছবি শেয়ার দিয়েছেন ফটোগ্রাফার অনুরাজ। তিনি বলেছেন, তারা শুধু শহরের পরিস্থিতি দেখাতে চেয়েছেন। এরই মধ্যে এই ছবিগুলোতে লাইক পড়েছে ১০ হাজারের বেশি। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে অনেকেই অদিতি সিং ও সৌরভ অনুরাজের প্রশংসা করেছেন। আবার কেউ কেউ বন্যার ভিতরে নিজস্ব রোমান্স খোঁজার জন্য তাদের সমালোচনা করেছেন। ইন্সটাগ্রামে একজন মন্তব্য করেছেন, ওই ফটোশুটের পরে আপনারা যদি অভাবী মানুষদের কাছে যেতেন তাতে তারা উপকৃত হতেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে আপনি রোমান্স বা নিজস্ব দ্যুতি ছড়ানোর উদ্যোগ নিতে পারেন না। আবার কেউ কেউ অদিতি সিংয়ের প্রশংসা করেছেন। একজন বলেছেন, এমন ধারণাকে ভালবাসি। কেন সবাই এমন ছবি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অন্ধ আবেগ দিয়ে সমালোচনা করবেন না।

টাকা ভল্টে তাই সংকট... by শামীমুল হক

ব্যাংকে টাকা গচ্ছিত রেখে ফরহাদ জামান ভীষণ চিন্তিত। গত মাসে মাত্র পাঁচ লাখ টাকা তুলতে গিয়েছিলেন একটি ব্যাংকে। ক্যাশ কাউন্টারে চেক জমা দিতেই প্রশ্নবাণে জর্জরিত হন তিনি। এত টাকা তুলবেন আগে কেন জানালেন না? কাল আসুন। শেষ পর্যন্ত ফরহাদ জামান পরদিন গিয়ে টাকা তুলেন। ব্যাংকার নীলা। একটি  বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত। তিনি জানালেন, তাদের উপর এখন ভীষণ চাপ।
কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক স্টাফকে টার্গেট দিয়েছেন গ্রাহক বাড়াতে। আরেকটি বেসরকারি ব্যাংকে বকেয়া টেলিফোন বিল দিতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েন গৃহবধূ নুরুন্নাহার। কাউন্টারে বিলগুলো দিতেই ওপাশ থেকে বলা হয়- টেলিফোন বিল আজ জমা নেয়া হবে না। পরে আসুন। অনেক অনুরোধ করেও তিনি রাজি করাতে পারেননি ব্যাংক কর্মকর্তাকে। ফিরে আসার মুহূর্তে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা শর্ত দেন যদি ওই ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেন তাহলে তিনি বিল নেবেন। এই শর্তেই রাজি হন নুরুন্নাহার। সেদিনই ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রাহক ফরম দিয়ে দেন নুরুন্নাহারকে। এমন নানা ঘটনা এখন ব্যাংক পাড়ায়। এর পেছনে কারণ একটাই ব্যাংকগুলোতে চলছে টাকার তীব্র সংকট। টাকার জন্য ধুঁকছে ব্যাংকগুলো। পরিস্থিতি এমন যে রীতি ভেঙে ৭ ব্যাংক ও দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংকের তহবিল থেকে ধারে টাকা নিয়েছেন। যার পরিমাণ সাড়ে ৬ হাজার টাকারও বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে সতর্ক করেছে ব্যাংকগুলোকে। কিন্তু কেন এই টাকার সংকট? তাহলে কি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে তা চলে যাচ্ছে অন্য পথে? সাদা টাকা হয়েও তা কি কালো টাকায় রূপ নিচ্ছে? অবস্থাদৃষ্টে তা-ই দেখা যাচ্ছে। নানাভাবে, নানা পথে অর্থ উপার্জন করে তা ব্যাংকে না রেখে ব্যাংকের মতো ভল্ট বানিয়ে নিজ বাড়িতে রাখার চিত্রও উঠে এসেছে সাম্প্রতিক ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে। সূত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক এনুর কব্জা থেকে এমন পাঁচটি ভল্ট উদ্ধার করা হয়েছে। যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। অবাক করা বিষয় ভল্টে টাকার সংকুলান না হওয়ায় স্বর্ণালঙ্কার কিনে রাখা হয়। যার পরিমাণ ৭২০ ভরি। এর আগে টেন্ডার মুঘল জি কে শামীমের অফিস থেকে উদ্ধার করা হয় নগদ পৌনে দুই কোটি টাকা ও ২০০ কোটি টাকার এফডিআর।
টেন্ডার মুঘল জি কে শামীম টেন্ডার ভাগিয়ে নিতে ঘুষই দিয়েছেন ১৫০০ কোটি টাকা। ওদিকে ক্যাসিনো লোকমান শুধু অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংকে রেখেছেন ৪১ কোটি টাকা। মতিঝিলের টাকার খনি কমিশনার মমিনুল হক সাঈদ এখন আছেন দেশের বাইরে। তারও অবৈধ পথে আদায় করা অর্থ দেশের কোনো ব্যাংকে রাখা হয়নি। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ক্যাসিনো চালানো থেকে যত টাকাই কামাই করেছে রাঘববোয়ালরা তা এসেছে ব্যাংক থেকে। কিন্তু সেসব টাকা আর ব্যংকে ফেরত যায়নি। ফলে ব্যাংকগুলো হয়ে পড়েছে অর্থশূন্য। কোনো কোনো ব্যাংক গ্রাহকের টাকা দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে ইসলামী ব্যাংক থেকে ধার নিয়ে চলতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো অর্থ সংকটে থাকলেও বাংলাদেশিদের পাঠানো টাকায় সুইস ব্যাংক সমৃদ্ধ হচ্ছে। গত জুনে ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড-২০১৮’ বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ জমার পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৬৫৫৯ কোটি টাকা। যা আগের বছরের চেয়ে ২৯ শতাংশ বা ১২০০ কোটি টাকা। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগের বছর দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬২ কোটি সুইস ফ্রাঁ। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৫৩৫৯ কোটি টাকা।
এছাড়া দেশের বিপুল অর্থ দিয়ে মালয়েশিয়ায় তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশিদের সেকেন্ড হোম। মোদ্দা কথা- দেশের অর্থ ব্যাপকহারে চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। আর দেশেও যারা অবৈধ পথে উপার্জন করছে তারা টাকা ব্যাংকে না রেখে রাখছে নিজ ঘরে। ফলে অর্থ সংকটে পড়তে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকগুলোতে এ টাকার সংকট দেশের অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত। সাতটি ব্যাংক ও দুইটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ধার করে চলা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলোর টাকার লেনদেনে সংকট দেখা দিলে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার অর্থাৎ কলমানি মার্কেট থেকে তারা স্বল্পসময়ের জন্য ধার করে থাকে। কিন্তু এটা নিয়মের মধ্যে থেকে করতে হয়। টাকার সংকটে থাকায় ওই ব্যাংকগুলো এখন ধার করে চলছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআরআর (নগদ জমা) ও এসএলআর (বিধিবদ্ধ সঞ্চিতির হার) জমা রাখতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক থেকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ২ বারে ঋণ নিয়েছে ১৫৭৫ কোটি টাকা। ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড ৩ বারে ঋণ নিয়েছে ২২১০ কোটি টাকা। এই ব্যাংকটির ঋণ নিতে পারতো সর্বোচ্চ (লিমিট ছিল) ১৬৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত ৬৫০ কোটি টাকা বেশি নিয়েছে।
সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ঋণ নিয়েছে ১১৫০ কোটি টাকা। এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড নিয়েছে ৭৫০ কোটি টাকা। প্রিমিয়ার ব্যাংক লি. নিয়েছে ১৮০ কোটি টাকা। যমুনা ব্যাংক লি. নিয়েছে ২০০ কোটি টাকা ও এবি ব্যাংক লি. ধার নিয়েছে ২০ কোটি টাকা। এসব ব্যাংকে পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ঋণ নিয়েছে ৮৪ কোটি ৫ লাখ টাকা। হজ ফাইন্যান্স কোম্পানি ধার নিয়েছে ৫০ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ৭ই ফেব্রুয়ারি মাসে ইসলামী ব্যাংকের ২৭২তম বোর্ড সভায় অন্য ব্যাংককে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়ার জন্য অনুমোদন পাস করা হয়। তবে বলা হয়, কোনোভাবেই ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি অতিক্রম করবে না। কিন্তু ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত ৪২৯ কোটি ৫ লাখ টাকা বেশি ঋণ দেয়া হয় ওই ৯টি প্রতিষ্ঠানকে। আর এই অতিরিক্ত টাকাও দেয়া হয় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে। যা নিয়ম-রীতির ভঙ্গ বলে ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, অনেকেই আগ্রাসী ব্যাংকিং করছে। সামর্থ্যের চেয়ে বেশি ঋণ দিয়ে ফেলেছে। হাতে নগদ কোনো ক্যাশ রাখেনি। অনেক ব্যাংকে ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার ওপরে চলে গেছে। ফলে টাকার সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মানলে এই সমস্যায় পড়তে হতো না বলে মনে করেন তিনি।

তিনি ছিন্নমূল শিশুদের ‘মা’ by সাদিক মৃধা

প্রতিবন্ধী এক কিশোর অস্পষ্ট স্বরে জিজ্ঞেস করছে, ‘মা, তুমি কেমন আছ?’ উত্তরে প্রায় ৭০ বছর বয়সী শ্বেতাঙ্গ মার্কিন নারী বাংলায় বলছেন, ‘ভালো আছি। তুমি কেমন আছ? কী করছ তুমি?’
ব্রিটিশ এই নারীর নাম প্যাট্রিসিয়া অ্যান ভিভিয়ান কার। তিনি নাম-পরিচয়হীন তিন সহস্রাধিক ছিন্নমূল শিশু-কিশোরের ‘মা’।
প্যাট্রিসিয়া গাজীপুরের শ্রীপুরের টেংরা গ্রামের ‘শিশুপল্লী প্লাস’ নামের একটি মা ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা। প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি মায়েদের বিভিন্ন কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে ভালোভাবে বাঁচতে শেখায়। কেন্দ্রের ভেতরে আছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, খেলার মাঠ, হস্তশিল্প তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, চিকিৎসা কেন্দ্র, কাগজ তৈরির কারখানা, ফসলের মাঠ, ফলের বাগান ও মসজিদ। প্রায় ৫১ বিঘা জায়গাজুড়ে কেন্দ্রটি যাত্রা শুরু করে ১৯৮৯ সালে। নিজের জীবনের সব সঞ্চয় ও বিভিন্ন পর্যায় থেকে সহযোগিতা নিয়ে এই প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রম বিবেচনায় প্যাট্রিসিয়া অ্যান ভিভিয়ান কার পেয়েছেন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব।
প্যাট্রিসিয়ার স্বামী ডেরেক পালমার তাঁর দেশে একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করেন। তাঁদের কোনো সন্তান নেই। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজে কেবিন ক্রু হিসেবে চাকরি নেন প্যাট্রিসিয়া। তখন বাংলাদেশ প্রায়ই আসা হতো। তবে ১৯৮০ সালে তিনি তাঁর এক বন্ধুকে নিয়ে বাংলাদেশের রাজধানীর ফার্মগেটে ‘ফ্যামিলিজ ফর চিলড্রেন’ নামের একটি আশ্রম পরিদর্শনে আসেন। সেখানকার বিভিন্ন গল্প শুনে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, মা ও শিশুকে একসঙ্গে পুনর্বাসন করবেন। ‘ফ্যামিলিজ ফর চিলড্রেন’ নামের ওই আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক মাস অবস্থান করেন অভিজ্ঞতার জন্য। পরে ১২০ জন মা ও শিশুকে নিয়ে অন্য একটি ভাড়া বাড়িতে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেন। কেবিন ক্রুর চাকরিটা ছেড়ে দেন। পরে গাজীপুরে স্থায়ীভাবে কেন্দ্রটি চালু করেন। এমন উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়ান ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের চেয়ারম্যান লর্ড কিংসহ কয়েকজন কর্মী। পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকা নারীদের মধ্য থেকে তৈরি করছেন নারী ক্রিকেটার। সম্প্রতি শ্রীপুর ক্রিকেট ক্লাবের একটি টুর্নামেন্টেও অংশ নিয়েছে তারা।
এ টুর্নামেন্ট থেকে বের হয়েছে ‘ভাওয়ালিকা উইমেন্স ক্রিকেট টিম’ নামের একটি দল। এতে তেলিহাটি ইউনিয়নের ছয়টি স্কুল অংশ নেয়।
সম্প্রতি শিশুপল্লী প্লাসে গিয়ে দেখা যায়, কাগজ তৈরিসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সবাই খুব ব্যস্ত। এখানে তৈরি কাগজগুলো দিয়ে বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প তৈরি হয়। কিছু কাগজ বিদেশে রপ্তানিও করা হয়। তা ছাড়া এখানে বুটিক ও হস্তশিল্প নিয়ে যে বিভাগ চালু আছে, সেখানে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে বাহারি পণ্য, যা বিদেশে যাচ্ছে সগৌরবে। শিশুপল্লী প্লাসজুড়ে বিশাল মাঠে শিশুরা আপন মনে খেলাধুলা করছে।
প্যাট্রিসিয়া জানালেন, চলতি বছর নারী ও শিশুদের ক্ষমতায়ন, স্বাধীনতা ও মর্যাদা—এই তিন বিষয় নিয়ে কার্যক্রম চলছে। শিশু-কিশোরদের শিক্ষিত করে আধুনিক যুগের উপযোগী করার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার, অনলাইন ব্যাংকিংসহ আধুনিক সমাজে কীভাবে তারা চলবে, তাও শেখানো হচ্ছে।
ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে প্যাট্রিসিয়া কেন্দ্রটি শুরু করেছেন। শিশুপল্লী প্লাসের বিশাল কম্পাউন্ডেই তাঁর থাকার ঘর। নিজের ব্যক্তিগত কাজ শেষ করেই তিনি বেরিয়ে পড়েন সন্তানদের দেখতে। কোনো বিশেষ দিনে শিশুদের সঙ্গে বসে খাওয়াদাওয়া করেন। নিজ হাতে খাইয়ে দেন অনেককে। ছেলেমেয়েরা বড় হলে বিয়ে দেন, তারপর বিভিন্ন উৎসবে ছেলেমেয়েরা এখানেই বেড়াতে আসেন।
গত ৮ এপ্রিলের হিসাব অনুযায়ী, শিশুপল্লী প্লাসে মা ও শিশু মিলিয়ে মোট ৫১২ জন ছিল। আর শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭৮ জন মা ও ৩ হাজার ৩৮৫ জন শিশুকে এ কেন্দ্র থেকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর প্যাট্রিসিয়া সম্পর্কে বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বেই এটা একটা অনন্য দৃষ্টান্ত। প্যাট্রিসিয়ার কাছে অনেক কিছু শেখার আছে। তিনি তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের পুরোটাই এখানে ব্যয় করেছেন।
ছিন্নমূল এক শিশু কোলে ব্রিটিশ নারী প্যাট্রিসিয়া। ছবি: সংগৃহীত

জাবি ভিসিকে লাল কার্ড

মেগাপ্রকল্পে দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে টানা সাতদিন কালো পতাকা প্রদর্শনের পর এবার ভিসিকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছেন জাবির আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে পদত্যাগের দাবির যৌক্তিকতা নেই উল্লেখ করে পদত্যাগের ব্যাপারে আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। মঙ্গলবার দুপুুরে তার অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। অন্যদিকে দুপুর ১টায় শহীদ মিনারের পাদদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদী সমাবেশে ভিসিকে লাল কার্ড দেখান আন্দোলনকারীরা। পদত্যাগের জন্য দেয়া আল্টিমেটামের শেষদিনেরও ভিসি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করায় লাল কার্ড দেখিয়েছেন বলে দাবি তাদের। এ সময় মঙ্গলবারের মধ্যে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে বুধ ও বৃহস্পতিবার সর্বাত্মক ধর্মঘটের ঘোষণা দেন আন্দোলনের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন।
তিনি বলেন, ‘উপাচার্যকে আজকের মধ্যে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেয়া হলেও তিনি তা করেননি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন। আজকের মধ্যে পদত্যাগ না করলে আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার সর্বাত্মক ধর্মঘট করা হবে।’ এ সময় শিক্ষকদের মধ্যে অধ্যাপক আব্দুল জব্বার হাওলাদার, জামাল উদ্দিন রুনু, মির্জা তাসলিমা সুলতানা ছাড়াও আওয়ামীপন্থি, বিএনপিপন্থি বামপন্থিসহ ২৫ জনের অধিক শিক্ষক অংশ নেন।
অন্যদিকে এই প্রতিবাদী সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, বাংলাদেশ সাধারন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে দুপুর দেড়টায় আয়োজিত সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। ২ দফা দাবি মেনে নিলেও পরবর্তী দাবি দুর্নীতির তদন্ত নিয়ে কী ভাবছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইউজিসি’র সাথে কথা বলেছি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার পক্ষে এটাই করা সম্ভব। আর মহামান্যের কাছে খবর যাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। তারা যদি মনে করে তদন্ত করা উচিত তবে অবশ্যই করবে। সেক্ষেত্রে আমাকে উন্মোচনের জন্য যতটুকু সহযোগিতা করা দরকার আমি করব। কিন্তু তারা (আন্দোলনকারীরা) বলছেন যে না, শেষ পর্যন্ত এক দফা দাবি আমার পদত্যাগ।’ শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে তদন্তের জন্য বলেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তদন্ত না, আমাকে যেভাবে বলতে হয়, বলেছি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সংকট চলছে তা কেন হচ্ছে, কি হচ্ছে তা উন্মোচন করেন। আপনাদের জানা একান্ত দরকার।  আন্দোলনকারীরা যে পদত্যাগ দাবি করছে তার পেছনে কারো ইন্ধন আছে বলে মনে করেন জাবি ভিসি। তিনি বলেন, এটা সারা বিশ্ববিদ্যালয় মনে করে। আমার চেয়ে আপনারা ভালো বলতে পারেন। কিছুটা হলেও তো আপনারা আমরা আঁচ করতে পারি। কারা দাঁড়াই আমার বিরুদ্ধে। তারা তো রিট করে আছে। তারা শুরু থেকেই নানান কিছু করেছে। শুরুতে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নাম ধরে দাঁড়িয়েছিল। এখন বিএনপি ও বামের শিক্ষকদের সাথে নিয়েছেন। দাঁড়ায় যারা, তাদের দেখেন। তাদের ইন্ধন অবশ্যই আছে।’ এদিকে জাবির প্রো-ভিসি অধ্যাপক আমির হোসেনের বিরুদ্ধে ২০০৪-২০০৫ শিক্ষাবর্ষে একটি ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগ আনছে ভিসিপন্থি শিক্ষক সংগঠন। এতদিন পর কেন অভিযোগ উঠছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমার সাথে যারা রাজনীতি করছেন তারা এই কথা বলছেন। ব্যানার হচ্ছে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’। দুর্নীতি কি শুধু এক জায়গায় আটকে আছে! আমার বিরুদ্ধে যারা দাঁড়িয়েছে তারাও যদি হলের কোন কাজে দুর্নীতির সাথে যুক্ত থাকে। তবে এই আন্দোলন আসলেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কিনা আমাদের সন্দিহান হতে হবে। তারা নিজেরাও তো দুর্নীতির চাপ লাগানো মানুষ। তাদেরটা কেন দেখা হবে না।’
আগে থেকে ভিসিবিরোধী বলে প্রো-ভিসি অধ্যাপক আমির হোসেন চার ঘণ্টা ফোন সিজ করার অভিযোগে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আন্দোলনকারীদের সাথে বৈঠকে আসেননি। এসব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘চার ঘণ্টা ধরে ফোন বন্ধ ছিল। বলছে সেই ফোন আমি বন্ধ করাইছি। বাইরের লোকজন এসব শুনে হাসাহাসি করে। এরপর আমি আশাবাদী তিনি আসবেন। তাই আমি নিবন্ধককে দিয়ে তাকে ফোন করিয়েছি। কিন্তু পত্রিকা মারফত আমি জানতে পারি দুর্নীতির অভিযোগ ব্যক্তিগত তাই তিনি এই ব্যাপারে ডিফেন্ড করবেন না। আমি দুর্নীতি করলে এতদিন কেন তিনি প্রো-ভিসি থেকেছেন , এখনো আছেন কেন! তার নিজ থেকেই তো সরে যাওয়া উচিত। তিনি যেখানে আমার ডানদিকে থেকে এই সংকট মোকাবেলা করতে সহযোগিতা করবেন।  সেখানে তিনি বলে চলে গেলেন দুর্নীতির অভিযোগ ব্যক্তিগত তাই তিনি উত্তর দিবেন না। এদিকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ পেয়েছেন সরকার রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সানোয়ার সিরাজ। কিন্তু এর আগে তার স্ত্রীও একটি অভিযোগ করেছিল। এই অভিযোগ আমলে নেননি দাবি করে আন্দোলনকারীরা ভিসিকে ‘যৌন হয়রানীকারীদের আশ্রয়দাতা’ বলছেন। এই ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘লিখিত স্বনামে অভিযোগ না দিলে সেটাকে আমরা টেইক কেয়ার করতে পারি না। উনি মুখে মুখে আমার অফিসে এসে বলেছেন। আমি শুনতে গিয়ে জানলাম এটা স্বামী স্ত্রীর ব্যাপার। তখন আমি বললাম লিখিত অভিযোগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয় আমলে নিতে পারে। তবে সবচেয়ে ভাল হয় পারিবারিক আদালতে গেলে। আমি তো একটা সুপরামর্শ দিয়েছি। এদিকে বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভিসির পদত্যাগ দাবিতে জাবিতে সর্বাত্মক ধর্মঘট চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

৩৮ লাখ বছর আগের মাথার খুলিই কি মানুষের পূর্বপুরুষ?

ইথিওপিয়ায় গবেষকরা প্রায় ৩৮ লাখ বছর আগের একটি মাথার খুলি খুঁজে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রথম দিকের মানুষের মতো দেখতে এপ প্রজাতির পূর্বজ।
নতুন এই নমুনাটির বিশ্লেষণ, এপ প্রজাতির বানর থেকে মানুষে রূপান্তরিত হওয়ার বিবর্তন প্রক্রিয়ার ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
নতুন মতবাদ বলছে, লুসি নামে এপ প্রজাতির বানর থেকে প্রথম মানুষের উৎপত্তি হওয়ার যে মতবাদ প্রচলিত আছে তা আবার বিবেচনা করার অবকাশ আছে।
ন্যাচার জার্নালে এই আবিষ্কারটি সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
ইথিওপিয়ার আফার রাজ্যের মিল্লা জেলার মিরো দোরা এলাকায় মাথার খুলিটি খুঁজে পান অধ্যাপক ইয়োহানেস হাইলি সেলাইসি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়োর ক্লিভল্যান্ড মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রি-এর সাথে যুক্ত এই বিজ্ঞানী বলেছেন, তিনি সাথে সাথেই জীবাশ্মটির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন।
"আমি নিজেই নিজেকে বলি, আমি যা দেখছি সেটি কি আসলেই সত্যি? তারপর হঠাৎই আমি লাফিয়ে উঠি এবং বুঝতে পারি যে, এটিই আমার সারা জীবনের স্বপ্ন ছিল," তিনি বিবিসি নিউজকে বলেন।
অধ্যাপক হাইলি সেলাইসি বলেন, মানুষের পূর্বপুরুষ হিসেবে পরিচিত এপ প্রজাতির এ পর্যন্ত পাওয়া নমুনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে এটি।
ওই প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম অস্ট্রালোপিথিকুস আনামেনসিস- সবচেয়ে পুরনো অস্ট্রালোপিথিসিন যা প্রায় ৪২ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে বাস করতো।
ধারণা করা হয় যে, এ. আনামেনসিস ছিল আরো উন্নত প্রজাতি যা অস্ট্রালোপিথিকুস আফারেনসিস নামে পরিচিত তার সরাসরি বংশধর।
এই উন্নত প্রজাতিটি প্রাথমিক মানুষের প্রথম জেনাস বা বর্গ বা দল যা হোমো নামে পরিচিত ছিল, তাদের পূর্বজ।
আবিষ্কার হওয়া মাথার খুলি তৈরি করেছেন এক শিল্পী। আনামেনসিস দেখতে কেমন ছিলো তিনি সেটি তৈরির চেষ্টা করেছেন।
বর্তমানে বেঁচে থাকা মানুষের বর্গকেও হোমো বলা হয়।
১৯৭৪ সালে আবিষ্কার হওয়া প্রথম আফারেনসিস কংকাল নিয়ে বেশ আলোড়ন তৈরি হয়েছিলো। তার নাম দেয়া হয়েছিলো লুসি।
বিটলসের বিখ্যাত গান 'লুসি ইন দ্য স্কাই উইথ ডায়মন্ডস' খননের সাইটে বাজার সময় কংকালটি আবিষ্কার করা হয়েছিলো বলে সেটির এমন নাম দিয়েছিলেন গবেষকরা।
'প্রথম এপটি হেটেছিলো,' লুসিকে এভাবে বর্ণনা করার পর তা পুরো পৃথিবীর মনোযোগ কেড়েছিল।
লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের সাথে জড়িত অধ্যাপক ফ্রেড স্পুর ন্যাচার জার্নালে একটি মন্তব্যে লিখেছেন, "দেখে মনে হচ্ছে, মানুষের বির্বতনের আরেক আইকন হতে যাচ্ছে এই আনামেনসিস।"
এটি এতো গুরুত্ব পাওয়ার কারণ হচ্ছে, আমরা বলতে পারি যে, আনামেনসিস এবং আফারেনসিস প্রায় সমসাময়িক ছিল। আগের ধারণা অনুযায়ী, পূর্বেরটি সরাসরি একটি সরল প্রক্রিয়ায় বিবর্তিত হয়ে পরেরটিতে পরিণত হয়নি।
নতুন এই ধারণাটি সামনে আসে আগের বিবর্তনের ধারণাটির পুনর্ব্যাখ্যা থেকে।
নতুন জীবাশ্মটিতে আগে আবিষ্কার হওয়া ৩৯ লাখ বছর পুরনো মাথার খুলির অবশিষ্টাংশের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
ওই অবশিষ্টাংশকে আনামেনসিস নামে ধরা হয়েছিলো।
কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি আসলে আফারেনসিসের দেহাবশেষের অংশ। তার মানে হচ্ছে, এই প্রজাতির ইতিহাস আরো গভীর।
বর্তমানে ধারণা করা হচ্ছে যে, দুটি প্রজাতিই একসাথে বেঁচেছিলো প্রায় এক লক্ষ বছর ধরে।
যা ধারণা করা হচ্ছে তা হল-আনামেনসিসের ছোট একটি দল অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে পড়ে এবং সময়ের সাথে সাথে স্থানীয় পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে এগুলো বিবর্তিত হয়ে আফারেনসিসে পরিণত হয়।
আনামেনসিস নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এই দুই প্রজাতি কিছু সময়ের জন্য হলে একই সময়ে বেঁচেছিলো।
নতুন এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাহলে এটি ধারণা দেয় যে, এপ প্রজাতির সাথে অন্য আরো উন্নত প্রজাতিরও আসলে সমসাময়িক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আর এর ফলে প্রথম মানুষ হওয়ার বিবর্তনের অনেক গুলো উপায় আমাদের সামনে চলে আসে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, যদিও এই ধারণা লুসি থেকে মানুষের হোমো বর্গের সৃষ্টি হওয়ার মতবাদকে বাতিল করে দেয় না, কিন্তু এটি এই ধারণার সাথে আরো কয়েকটি প্রজাতির নাম সংশ্লিষ্ট করেছে।
অধ্যাপক হাইলি সেলিইসি একমত প্রকাশ করেন যে, কোন প্রজাতি মানুষের পূর্ব-পুরুষ তা নিয়ে 'সব ধরণের পণ এখন বন্ধ' হয়ে গেলো।
তিনি বর্ণনা করেন: "দীর্ঘ সময় ধরে, মানুষের পূর্ব পুরুষ হিসেবে আফারেনসিসের নাম আসতো সবার আগে, কিন্তু আসলে আগের সেই অবস্থানে নেই আমরা। এখন আমাদেরকে ওই সময়ে বেঁচে থাকা সব প্রজাতিকেই বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে যে আসলে প্রথম মানুষের সাথে কোনটির সবচেয়ে বেশি মিল ছিল।"
নতুন পাওয়া মাথার খুলির বিভিন্ন দিক থেকে তোলা ছবি।
'মিসিং লিংক' এই শব্দ দুটিকে যখন নৃবিজ্ঞানীরা কারো কাছ থেকে বিশেষ করে সাংবাদিকদের কাছে থেকে শোনেন, তখন তারা অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েন।
কারণ, তারা এটি এমন একটি জীবাশ্মকে ব্যাখ্যা করতে এই শব্দ ব্যবহার করছে যা অর্ধেক এপ এবং অর্ধেক মানুষ।
ন্যাচার জার্নালের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক ড. হেনরি গি- আমার "কলিজা বের করে পেঁয়াজ, বরলটি বিন আর এক গ্লাস ক্লারেটের সাথে খেয়ে ফেলার" হুমকি দিয়েছিল। সেসময় পুরনো একটি আবিষ্কার নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করছিলাম আমি।
অবশ্য হেনরির খেপে যাওয়ার অনেক কারণও ছিল। যার মধ্যে অন্যতম ছিল, মানব বিবর্তন চক্রের অনেক সূত্র রয়েছে এবং এগুলোর মধ্যে বেশিরভাগেরই এখনো কোন সন্ধান মেলেনি।
আনামেনসিস হচ্ছে সম্প্রতি আবিষ্কার হওয়া সূত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নতুন যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আধুনিক মানুষের বিবর্তন ব্যাখ্যা করার আসলে সরল কোন রেখা নেই।
সত্য এর চেয়েও আরো অনেক জটিল এবং মজার। এটি বিবর্তনের এমন গল্প বলে, যা বিভিন্ন পরিবেশে মানুষের পূর্বপুরুষের বিভিন্ন "প্রোটোটাইপ" নিয়ে "পরীক্ষা করে"।
আর এটা ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না কোন প্রজাতি যা জলবায়ু পরিবর্তন, বাসস্থান এবং খাদ্য সংকটের চাপ উপেক্ষা করে টিকে থেকে শেষ পর্যন্ত মানুষে রূপান্তরিত হওয়ার পক্ষে শক্ত কোন বৈশিষ্ট্য সামনে তুলে ধরতে না পারে।
অধ্যাপক হাইলি সেলাইসি মানব বিবর্তন নিয়ে কাজ করা গুটি কয়েক আফ্রিকান বিজ্ঞানীদের মধ্যে একজন। এখন তিনি বেশ পরিচিতি পেলেও এই অধ্যাপক স্বীকার করেছেন যে, যোগ্য আফ্রিকান গবেষকদের জন্য পশ্চিমা ভিত্তিক অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে গবেষণার তহবিল পাওয়া বেশ দুঃসাধ্য।
"আমাদের উদ্ভবের সাথে জড়িত বেশিরভাগ জীবাশ্মই আফ্রিকায় পাওয়া যায়। আর আমার মনে হয়, আফ্রিকানরা তাদের নিজেদের মহাদেশে থাকা এসব সম্পদ ব্যবহারে সক্ষমতা পাওয়া উচিত যাতে নৃ-বিজ্ঞানের মৌল ও জীবাশ্ম বিষয়ক শাখা পালায়েও-অ্যানথ্রপলজিতে তারা তাদের ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে পারে। এ খাতে তাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হল অর্থায়ন," তিনি বলেন।
প্রথম মানুষের পূর্বজ লুসি নামে পরিচিত এপের দেহাবশেষ

নওগাঁয় মাল্টা চাষে সফল নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার

নওগাঁর ধামইরহাটের বরেন্দ্র অঞ্চলে মাল্টা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার।

তিন একর জমিতে মাল্টা রোপন করে এখন তার বাগান ফলে ফলে ভরে গেছে। বাজারে ভালো দাম পেলে অনেক মুনাফা লাভের স্বপ্নও দেখছেন এই নারী উদ্যোক্তা।

স্নাতক পাসের পর চাকরি না পেয়েও হতাশ হননি রিনা। নেমে পড়েন ফলের বাগান করতে। উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত আঙ্গরত তেলিপাড়া গ্রামের মায়া কানন (বায়ো এগ্রি ফার্ম) নামে একটি নার্সারি গড়ে তোলেন তিনি।

কৃষিবিদ পরিবারে বেড়ে ওঠা রিনার ছোট বেলা থেকে কৃষির প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে ফল বাগান গড়ে তোলা তার স্বপ্ন ছিল। তাইতো তার নিজ হাতে তিনি শুরু করেন মাল্টা চাষ।

এ ব্যাপারে রিনা আক্তার বলেন, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৫০ শতাংশ জমিতে ১ বছর বয়সী উন্নত মানের মাল্টা চাষ শুরু করি। সে সময় ধামইরহাট উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. জামাল উদ্দিন ও বর্তমান কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সেলিম রেজা আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন। 

তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ১০ ফুট পর পর মোট ১৩৬টি চারা গাছ রোপন করি। পরের বছর গাছে ফুল আসলেও তা ভেঙ্গে দেয়া হয়। এবছর গাছে পর্যাপ্ত ফুল আসে এবং অসংখ্য ফল ধরে। বর্তমানে প্রতি গাছে প্রচুর পরিমাণে ফল ধরেছে। আশা করা যাচ্ছে প্রতি গাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যাবে।

আগামী আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গাছ থেকে ফল নামানো শুরু হবে। বাজারে বর্তমানে পাইকারি মাল্টা ১শ থেকে ১শ ২০ টাকা দরে কেনা বেচা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী ১শ টাকা কেজি হলে প্রতি গাছ থেকে প্রায় ১০ কেজি মাল্টা পাওয়া যাবে যার দাম হবে ১ হাজার টাকা। সে হিসেবে ১৩৬টি গাছ থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তবে এবার মাল্টা বিক্রি করে লাভের আশা করছেন রিনা।

তিনি জানান, মাল্টা বাগান গড়ে তুলতে তার প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিটি চারা গাছ তিনি ১৫০ টাকা দর হিসেবে ২০ হাজার ৪শ টাকায় কিনেছেন। এছাড়া শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য বাবদ মোট ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। এবছর ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করারও আশা করছেন তিনি। 

ধামইরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, ধামইরহাটের মাটি যেকোন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এ অঞ্চলের মানুষ শুধু ধান চাষে ব্যস্ত থাকে। বর্তমানে ধান চাষে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

এ কারণে এলাকার চাষিদেরকে লাভজনক ফল চাষে অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে। রিনা আক্তারকে মাল্টা ও ড্রাগন চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তার বাগানে মাল্টার প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে।

এছাড়া উন্নতমানের মাল্টা চারা বারি-১ সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত তাকে পরামর্শ দেয়া হয়। এ অঞ্চলে মাল্টা ও ড্রাগন ফলের মিষ্টতা ও গুনাগুণ অন্যান্য অঞ্চল থেকে ভালো। তাছাড়া বাজারে মাল্টা এবং ড্রাগন ফলের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এলাকার বেকার যুবকরা ওই বাগান দেখে ইতোমধ্যে অনেকে ফল বাগান চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। আগামীতে এ অঞ্চল ফলের এলাকা হিসেবে পরিচিতি পাবে বলেও আশা করছেন এই কৃষিবিদ।- ইউএনবি

ইসরায়েলে ৯০০০ বছর আগের ‘রহস্যময়’ শহরের সন্ধান

৯ হাজার বছর আগের একটি নগরের কথা জানা ছিল না কারও। কিন্তু সম্প্রতি মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এল সেই শহরের ধ্বংসাবশেষ। ধ্বংসাবশেষ থেকে যা মিলল তাতে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা হতবাক।
ইসরায়েলের রাজধানী জেরুজালেমের পাশের মিলেছে এ নগরের খোঁজ। ইসরায়েলের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, সেই বসতিতে ছিল আধুনিক নগর-পরিকল্পনার ছোঁয়া। ছিল চাষবাসেরও ব্যবস্থা। পাওয়া গেছে নারীদের কানের দুলও। ‘নিওলিথিক’ যুগের বড় এক শহর প্রত্নতত্ত্ববিদদের সামনে।
ইসরায়েলের মোৎজা শহরে সন্ধান মিলল এই পুরোনো নগরীর। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের প্রত্নতত্ত্ববিদদের দাবি, খননের পর এখন পর্যন্ত সামনে আসা নগরটিতে জনসংখ্যা ছিল ২ থেকে ৩ হাজারের মতো। জেরুজালেম থেকে শহরটির অবস্থান ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে। এটি বর্তমানে মোৎজা শহরেই গড়ে উঠেছিল এ নগরী।
গত ১৬ জুলাই মঙ্গলবার এই নগরের খোঁজ মেলার কথা জানিয়ে ইসরায়েলের প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানান, এই সময়ে এই নগর ছিল সবচেয়ে বড় নগর। এর আগে ১৬ মাস ধরে খননের পরই এই শহরের দেখা পেয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদেরা।
১৬ মাস খননের পরই ‘রহস্যময়’ এই শহরের সন্ধান পেলেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। ছবি: সংগৃহীত
খননকাজে তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক জ্যাকব ভার্দি জানান, আসলে প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে ওই এলাকার গুরুত্ব অনেক দিন ধরেই স্বীকৃত। তবে সাম্প্রতিক আবিষ্কার পুরো দক্ষিণ লেভান্ত জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। তবে খনন কাজের পর খোঁজ মেলা শহরটি অনেক বড় ছিল। দক্ষিণ লেভান্ত বলতে ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, জর্ডান, দক্ষিণ লেবানন ও দক্ষিণ সিরিয়ার বৃহত্তম এলাকাকে বোঝায়।
  • *৯ হাজার বছর আগের নগরের সন্ধান ইসরায়েলে।
  • *মাটি খুঁড়তেই দেখা মিলল তাক লাগানো শহরের।
  • *শহরের বাসিন্দারা মৃত ব্যক্তিকে সমাধিস্থ করতেন।
প্রত্নতত্ত্ববিদদের তথ্য মতে, বাড়ি বানানোর জন্য যে প্লাস্টার ব্যবহার করা হয়, তা বানাতে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন ওই শহরের কারিগরেরা। আর দুটি বাড়ির মধ্যে সমান্তরালভাবে সড়কের যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, তাতে উন্নত নগর-পরিকল্পনার ছাপের প্রমাণ মেলে। বিভিন্ন জায়গায় গুদামে বীজ সংরক্ষণ করে রাখার প্রমাণও মিলেছে। এর মানে হলো এ অঞ্চলে কৃষিকাজ চলত। তিরের ফলা থেকে বিশেষজ্ঞদের আন্দাজ, পশু শিকার নির্ভর জীবনযাপন করতেন মৃত ওই নগরীর লোকজন। পাশাপাশি পশুদের হাড়ের অবশিষ্টাংশ থেকে সে যুগে পশুপালনের প্রমাণও মেলে।
এই শহরে দুটি বাড়ির মধ্যে সমান্তরালভাবে সড়কের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। এতে প্রমাণ মেলে উন্নত নগর-পরিকল্পনার। ছবি: সংগৃহীত
জ্যাকব ভার্দির দলের দাবি, ওই শহর থেকে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সন্ধান মিলেছে। যা থেকে এটা বোঝা যায় যে অস্ত্র তৈরিতে রীতিমতো দক্ষ ছিলেন বাসিন্দারা। ছুরি, কুঠার তো বটেই, ছিল প্রসাধনের জন্য ব্যবহৃত গয়না তৈরির মতো সূক্ষ্ম হাতের কাজের পারদর্শিতাও। এর প্রমাণ হিসেবে মিলেছে ছুরি, পাথরের ব্রেসলেট, বিভিন্ন ধরনের পাথরের তৈরি পুতুলসহ নানান পণ্য। বাইরের জগতের সঙ্গে যে এ শহরের বাণিজ্যিক সম্পর্কও ছিল তা মোটামুটি নিশ্চিত প্রত্নতত্ত্ববিদেরা। সব মিলিয়ে এ আবিষ্কারকে ‘যুগান্তকারী’ বলে মনে করছেন তাঁরা। এর আগে জেরুজালেম থেকে যে সবচেয়ে পুরোনো ধ্বংসাবশেষটির সন্ধান মিলেছিল, সেটি ছিল ৭ হাজার বছর আগের। সেদিক থেকে দেখলে এই সাম্প্রতিক আবিষ্কার আরও অনেক পুরোনো।
জ্যাকব ভার্দি বলেন, এখানকার বাসিন্দারা মৃত ব্যক্তিকে সমাধিস্থ করতেন। এর প্রমাণও খননের পরই মিলেছে। সমাধিগুলো সজ্জিত করা হতো। এর অর্থ হলো ধর্মীয় বিশ্বাসে তারা এসব করতেন। তথ্যসূত্র: সিএনএন।
খননকাজে তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক জ্যাকব ভার্দি। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র: নতুন অর্থনৈতিক ভূগোলের অংশীদার! by হারুন শরিফ

প্রতিবেশ আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে সফলভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রত্যাশিত বৈঠকটি উভয় দেশ ও অঞ্চলের জন্য ইতিবাচক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাকিস্তানের জন্যও বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথম বছরে তিনি পাশ্চাত্যের নেতাদের সাথে সম্পৃক্ত হননি। পাকিস্তানের অন্যতম ব্যবসায়িক অংশীদার (বাণিজ্য মাত্রা ৬.৬ বিলিয়ন ডলার) হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ইতিহাস ঝামেলাপূর্ণ, লেনদেনভিত্তিক, নিরাপত্তাকেন্দ্রিক ও অবিশ্বস্ততার পরিপূর্ণ দেখা যাচ্ছে।
প্রধান প্রশ্ন হলো এই যে দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের আসন্ন বৈঠকটি দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে একমতের সৃষ্টি হবে কিনা, দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার নতুন উদীয়মান অর্থনৈতিক ভূগোলে অর্থনৈতিক লেনদেনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাড়বে কিনা? কিংবা যুক্তরাষ্ট্র এরপরও আফগানিস্তান, এফএটিএফ ও চীনের সাথে সম্পর্কিত মানসিকতায় আবদ্ধ থাকবে?
জাপানে অনুষ্ঠিত জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে পাওয়া বার্তা, উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সম্পৃক্ততা, পাকিস্তানের শক্তিশালী মহলের বিবৃতিতে এমন উৎসাহজনক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো নমনীয়তা প্রদর্শন করতে পারে এবং উদীয়মান আঞ্চলিক বাজার থেকে মধ্য মেয়াদে লাভবানও হতে পারে। এ থেকে আফগানিস্তানও উপকৃত হতে পারে।
এটা বোঝা পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে যুক্তরাষ্ট্রের কাজ থেকে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আবার লাভ করার বিষয়টি হিসাবের বাইরে। দীর্ঘ মেয়াদে এবং দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ভিত্তি হতে পারে না এটি। দুই দেশের মধ্যকার নতুন করে সম্পৃক্ততার প্রধান প্রধান উদ্দেশ্য হবে অভিন্ন অর্থনৈতিক লাভ, পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক লেনদেন থেকে সরে যাওয়া, আঞ্চলিক কানেকটিভিটি ও স্থিতিশীলতা বাড়ানো।
যুক্তরাষ্ট্র – বাণিজ্যিক অংশীদার?
যে গুটিকতেক দেশের সাথে পাকিস্তানের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে, তাদের অন্যতম হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরিমাণ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। আর ২০১৮ সালে পাকিস্তানের রফতানির ১৭ ভাগ তথা ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের রফতানি গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পাকিস্তানিদের কাছ থেকে প্রবাসী আয় এসেছে ৩.১ বিলিয়ন ডলার। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ হ্রাস পাচ্ছে, ২০১৯ সালে সর্বনিম্ন ৫০ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অথচ এই সময়ে চীনা বিনিয়োগ ছিল ১.৮ বিলিয়ন ডলার।
পাকিস্তানকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে কেবল তার ভূ-কৌশলগত স্থান বিক্রি বা অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ, বেসরকারিকরণ, পর্যটন বা গৃহায়নই বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারে না। পাকিস্তান এখন আইএমএফ কর্মসূচির যন্ত্রণাময় স্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা তখনই আকৃষ্ট হবে যখন এই অঞ্চলের দেশটি কৌশলগত স্বার্থও সমর্থন করবে।
প্রথমত, সদ্য ঘোষিত খাইবার পাখতুনখাওয়ার রাশাকাই অর্থনৈতিক জোনে যৌথ বিনিয়োগ করার জন্য আফগানিস্তানকে বিশেষ সুবিধা দিতে হবে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়কেই। এতে কেবল আফগান তরুণদের জন্য চাকরিরই ব্যবস্থা করবে না, সেইসাথে আফগান উদ্যোগগুলো চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের মাধ্যমে চীনা কোম্পানিগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হবে। এর বিনিময়ে মধ্য এশিয়ার সাথে সিপিইসিকে সংযুক্ত করার জন্য পেশোয়ার-কাবুল-দুশানবে মটরওয়ে আবার চালু করার জন্য আফগানিস্তানকে রাজি হতে হবে।
দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানি তথ্য প্রযুক্তিবিদদের নেতৃত্বে একটি বিশ্বমানের প্রযুক্তি পার্ক স্থাপনে এগিয়ে আসতে হবে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানকে। এটি কেবল পাকিস্তানের প্রযুক্তিগত ভিত্তি, উৎপাদনশীলতা ও রফতানিই বাড়াবে না, সেইসাথে চীন ও ভারত থেকে মার্কিন প্রযুক্তির সোর্সিং স্পেসও বৈচিত্র্যময় করবে।
তৃতীয়ত, পাকিস্তানের জ্বালানি খাতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরিকল্পিত বিনিয়োগ নিয়ে মার্কিন কারিগরি অংশীদারিত্ব উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত কল্যাণকর হবে।
অর্থনৈতিক কূটনীতিতে নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা গ্রহণের আগে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে অবশ্যই প্রধান প্রধান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সামর্থ্যের বিষয়টি কঠোরভাবে দেখতে হবে। বর্তমানে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা প্রগতিশীলভাবে কৌশলগত চিন্তাভাবনা করতে অক্ষম।
সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ দেশ বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতির কার্যক্রম একীভূত করেছে, আর পরিকল্পনা কমিশনগুলো কয়েক বছর আগেই বিশ্বজুড়ে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। পেশাদারিত্বের সাথে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।
পাকিস্তানকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে
প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলকে দৃশ্যমান স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার সময় ঝুঁকি প্রশমিত করতে হবে। কারণ এটি দুই দেশের মধ্যকার ব্যাপকভিত্তিক ও টেকসই সম্পৃক্ততার পথে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। ইমরান খানকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে, দায় পরিশোধের ব্যাপারে পাকিস্তানের নাজুক অবস্থার সুযোগ নিতে পারে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। আইএমএফের আসন্ন কর্মসূচির রাজনৈতিক মূল্য নিয়ে খুবই সতর্ক থাকতে হবে পাকিস্তানকে। ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) সাথে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা ইতোমধ্যেই খুব বেশি রাজনীতিকরণ করা হয়ে গেছে, এবং আরো কিছু দেয়ার দাবি অব্যাহত থাকবে।
দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, পাকিস্তান এখনো অব্যাহত ঋণের জন্য ঐতিহ্যবাহী বহুজাতিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা হ্রাস করতে পারেনি। আগে হোক বা পরে হোক, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে বেকারত্ব, বাড়তে থাকা দারিদ্র্য, শিল্প ভিত্তির ক্ষয়, অর্থনৈতিক সুযোগের অব্যাহত পতনের বিষয়গুলো সামাল দিতে হবে। এ ধরনের পরিস্থিতি পাকিস্তানের দরকষাকষির সুযোগ আরো হ্রাস করবে।
সিপিইসি এখন চীন ও পাকিস্তান উভয়ের জন্য বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে, শিল্প সহযোগিতার দ্বিতীয় ধাপের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ইতোমধ্যেই নতুন অর্থনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হওয়ায় পাকিস্তান ও বিশ্বের অন্যান্য দেশকে দেখাতে হবে যে অভিন্ন সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য আঞ্চলিক কানেকটিভিটি অগ্রাধিকার পেতে পারে। এখন পর্যন্ত পাকিস্তান বহির্বিশ্বের কাছে সিপিইসির স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা প্রমাণ করতে হিমশিম খাচ্ছে।
সিপিইসির আওতায় ভবিষ্যতের বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে সরকার এখনো বাস্তববাদী ও প্রমাণনির্ভর যোগাযোগ কৌশল গ্রহণ করতে পারেনি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অনেক দেশ এখনো বিশ্বাস করে যে সিপিইসির অধীনে অর্থনৈতিক জোনগুলো কেবল চীনা কোম্পানিগুলোর জন্যই কল্যাণকর। বাস্তবে এখানে সব বিনিয়োগকারীর জন্য দরজা খোলা আছে।
এখানেও পাকিস্তানের দুর্বলতা প্রকাশিত হচ্ছে। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন কোম্পানিগুলোর সহায়তায় যৌথ প্রযুক্তি অর্থনৈতিক জোন নেতিবাচক ধারণা বদলাতে পারে, উভয় দেশের জন্য উইন-উইন পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পরে।
পাকিস্তান ও উপসাগরীয় দেশগুলো
ইমরান খানের সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার সফর জ্বালানি, আতিথিয়েতা, রিয়াল এস্টেট উন্নয়ন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতে বিশাল বিনিয়োগের দরজা খুলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের সাথে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়টি বিবেচনা করে সম্ভাব্য মার্কিন প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব এসব প্রস্তাবিত উদ্যোগের জন্য আরো কল্যাণকর হতে পারে। পাকিস্তানের জন্য পরীক্ষা হলো পেশাদারিত্ব ও ফাস্ট ট্র্যাকের ভিত্তিতে এসব প্রকল্প সামাল দেয়ার সামর্থ্য অর্জন। অন্যথায় এই স্বার্থ ফিকে হয়ে যাবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিদ্যমান আঞ্চলিক সুযোগগুলো হাতের নাগালে রয়েছে। পাকিস্তানভিত্তিক মার্কিন কোম্পানিগুলো সহজেই পশ্চিম চীন, মধ্য এশিয়া, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ৪০ কোটির বেশি লোকের বাজারে প্রবেশ করার সুযোগ পাবে।
>>>লেখক: সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী ও পাকিস্তান বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের দক্ষিণ ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেছেন।

নায়াগ্রা জলপ্রপাতে বাঁধন by আলমগীর কবির

স্বপ্নের ট্রিপে এখন আমেরিকায় আজমেরী হক বাঁধন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই ট্রিপের বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন তিনি। যেখানে সর্বশেষ সংযোজন নায়াগ্রা জলপ্রপাতের সামনে মেয়ে সায়রাকে নিয়ে তার উচ্ছ্বসিত ছবিটি।
এ প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, এর আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আমেরিকায় এসেছি। তবে এবারের যাত্রা ভিন্ন। মেয়ে বই পড়ে, গল্প গুনে আমেরিকার কিছু জায়গা বিশেষ করে ডিজনিল্যান্ড আর নায়াগ্রা জলপ্রপাত দেখার বায়না ধরেছিল। মা হিসেবে তার সেই ইচ্ছে পূরণ করাটা ছিলো চ্যালেঞ্জের। আমি সেটা পেরেছি তাই ভালো লাগছে। এক কথায় এটা একটা মায়ের জয়।
গত ৩০ মে মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান বাঁধন। শুরুতেই ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলসের রিভার সাইড, ওখান থেকে প্রাইভেট কারে দেড় ঘন্টার পথ পাড়ি দিয়ে সান ডিয়াগো। মেয়ের ইচ্ছে পূরণের প্রথম সুযোগটা পেয়েছেন এখানেই। বিশ্ববিখ্যাত ডিজনিল্যান্ড যে এখানেই অবস্থিত। স্বপ্নপুরীর স্বপ্নের মতো লাল নীল আলোয় সাজানো ডিজনি ওয়ার্ল্ডের ম্যাজিক কিংডম।
 নায়াগ্রা জলপ্রপাতের সামনে মেয়ের সাথে আজমেরী হক বাঁধন - ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
ওখানকার অ্যাডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ডের গেটে রাতে ফায়ার ওয়ার্কের মাধ্যমে মিকি মাউস, পাইরেটস অব দ্যা ক্যারিবিয়ান, লিটল মারমেইড, স্নো হোয়াইট, ময়োনা এক কথায় ডিজনির সব বিখ্যাত চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে বাঁধন গেছেন রচেস্টার। ওখান থেকে বাফোলায়। এই জায়গায়ই নায়াগ্রা জলপ্রপাত। গত ২২ জুন স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় মেয়েকে নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন বাঁধন। তাদের সাথে ছিলেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের স্কুল অব হেল্থ অ্যান্ড হিউম্যান পারফরমেন্স’র সহযোগী অধ্যাপক ড. রেহনুমা করিম।

বাঁধন বলেন, আমি এখন ওনার রচেস্টার বাসায়ই আছি, এটা বাফোলার কাছে। আমেরিকায় শিক্ষকতার পাশাপাশি বাংলাদেশে ‘হিরোজ ফর অল’নামের একটি সংগঠনের আহ্বায়ক তিনি। আমি এই সংগঠনের একজন কর্মী। গত ২২ জুন নায়াগ্রা যাওয়ার পথে উনি ড্রাইভ করেছেন এবং পাশাপাশি এর ইতিহাস নিয়ে কথা বলেছেন। প্রথম যখন নায়াগ্রার সামনে গিয়ে দাড়িয়েছি, বর্ণনা দিয়ে বুঝানো যাবে না কতটা উল্লসিত ছিলাম আমরা মা-মেয়ে। ছবিতে বা ভিডিওতে নায়াগ্রা অনেকবার দেখেছি কিন্তু বাস্তবে আসার পর যে অনুভূতি হয়েছে তা কল্পনাতীত। চোখের সামনে বিস্ময়কর জলপ্রপাত। প্রকৃতির অপরূপ এই সৌন্দর্যে ডুবে যেতে ইচ্ছে জাগে।

বাঁধন বলেন, আমরা নৌকা করে একদম জলপ্রপাতের কাছে গিয়েছিলাম। মানে চোখের সামনে পানি পড়তেছে। কি যে অসম্ভব ভালো লাগা কাজ করেছে! সব জায়গার ছবি তোলা সম্ভব হয়নি। তবে সময়টা এনজয় করেছি। একসময় নাকি এই এলাকায় শিল্পকারখান গড়ে উঠে ছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দেখে সব সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আমার মেয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করে ওনারা পারে আমরা কেন পারি না।’
স্থানীয় সময় রাত সাড়ে এগারোটায় বাসায় ফেরার আগে নায়াগ্রায় ফায়ার ওয়ার্কও তাকে মুগ্ধ করেছে।

বাঁধন বলেন, নায়াগ্রায় আমি দুইবার রংধনী দেখেছি। এই ভাগ্য সবার হয় না। বাঁধন বলেন এ পর্যন্ত আমি যে জায়গা গুলো ঘুরেছি তার মধ্যে রয়েছে, ডিজনি ল্যান্ড, ইউনিভার্সাল স্টুডিও, লাহোয়া বিচ, ইউএসএস মিডওয়ে মিউজিয়াম, নদীতে প্রমোদ ভ্রমন (রিভার ক্রোজ), লেগোল্যান্ড, সি ওয়াল্ড, সাফারি ওয়াল্ড, হলিউড, ডস লাগোস, দি বার্ড মিউজিয়াম, স্ট্রং মিউজিয়াম অব প্লে, এঞ্জেলস নেচারাল ফরেস্ট, লস এঞ্জেলস কান্ট্রি আরবোরেটাম অ্যান্ড বোটানিক গার্ডেন, ফরেস্ট ফলস ক্যালিফোর্নিয়া।
তিনি বলেন, নিউ ইয়র্ক এবং ওয়াশিংটন ডিসির কিছু দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক জায়গায়ও যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী মাসের শুরুর দিকে দেশে ফিরবেন বলে জানান বাঁধন।