Sunday, May 12, 2019

মধ্যপ্রাচ্যে আবার যুদ্ধের হুঙ্কার!

মধ্যপ্রাচ্যে আবার একটি যুদ্ধের হুঙ্কার। সাজানো হচ্ছে যুদ্ধবিমান বহনকারী যুদ্ধজাহাজ। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হচ্ছে ইরানকে। ইরানের ‘হুমকি’র জবাবে এমন রণপ্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মাত্র একটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌ ফ্লিটকে ধ্বংস করে দেয়া যাবে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। ইরানের শক্তিধর রেভ্যুলুশনারি গার্ড আলাদা করে বলে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যাবে না ইরান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও তার উদারপন্থি মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যাওয়ার বিষয়টিও এতে উবে গেল। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ইরানের হুমকির জবাবে তারা এমন ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু কি সেই হুমকি সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলে নি তারা। উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগকে ইরান ‘ননসেন্স’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তারা বলেছে, ইরানকে ভীতি প্রদর্শনের জন্য এটা হলো যুক্তরাষ্ট্রের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। এমন অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম বা আকাশ পথে ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগে থেকেই পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা আছে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন যুদ্ধজাহাজ। যুদ্ধবিমান বহনকারী এ বিমানের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরেকটি যুদ্ধবিমান বহনকারী জাহাজ ইউএসএস আরলিংটন। এতে থাকছে উভচর যুদ্ধযান ও যুদ্ধবিমান। পেন্টাগন বলেছে, তাদের কাতারের ঘাঁটিতে এরই মধ্যে পৌঁছে গেছে ইউএস বি-৫২ যুদ্ধবিমান। মোদ্দাকথা, ইরানকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে, পারস্য উপসাগরে আরেকটি যুদ্ধের আলামত ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ট্রিগারে টান পড়লেই বারুদের গন্ধ ছুটবে।
তবে তাতে দৃশ্যত ভীত নয় ইরান। দেশটির আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ইনসা’কে দেশটির একজন সিনিয়র ধর্মীয় নেতা ইউসেফ তাবাতাবাই নেজাদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ফ্লিটকে ধ্বংস করে দিতে পারে ইরানের একটিমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র। শুক্রবার পেন্টাগন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সংঘাত চায় না। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ও স্বার্থ রক্ষায় প্রস্তুত ওয়াশিংটন। পেন্টাগণের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর কর্মকা- ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে যোগ করা হয়, সম্ভাব্য যেকোনো হামলা মোকাবিলার জন্য মোতায়েন করা হচ্ছে প্যাটিয়ট সিস্টেম। এর মাধ্যমে ব্যাপক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও এডভান্সড যুদ্ধবিমানকে কাউন্টার দেয়া হয়। কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়াকে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য এরই মধ্যে যাত্রা শুরু করেছে ইউএসএস আরলিংটন।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই মিলিটারি মোতায়েন হলো একটি সুস্পষ্ট ও যথার্থ বার্তা ইরানের শাসকগোষ্ঠীর জন্য। এর অর্থ হলো ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্বার্থে যেকোন হামলার জবাব হবে ভয়াবহ। ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন গত বৃহস্পতিবার সুয়েজ খাল অতিক্রম করে গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। এ অবস্থায় বিবিসির প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক প্রতিনিধি জোনাথন মারকাস বলেছেন, পারস্য উপসাগরে যুদ্ধবিমান বহনকারী যুদ্ধজাহাজ ও তাদের ‘ব্যাটেল গ্রুপ’ পাঠানো কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। কিন্তু বর্তমানে দু’পক্ষের মধ্যে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে তাতে যেকোনো দুর্ঘটনা বা পরিকল্পনায় যুদ্ধ লেগে যেতে পারে।
২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র সহ অন্যান্য শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি করে। কিন্তু গত বছর একতরফাভাবে সেই চুক্তি প্রত্যাহার করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ওই চুক্তির অধীনে ইরান তার স্পর্শকাতর পারমাণবিক কর্মকান্ড সীমিত করতে রাজি হয়। তা পরীক্ষা করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অনুমতি দেয়। বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই চুক্তি প্রত্যাহার করে অবরোধ আরোপ করেন। শুরু হয় নতুন করে উত্তেজনা। সম্প্রতি ইরান ঘোষণা দিয়েছে তারা ওই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত স্থগিত করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করে যাবে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হবে তাদের আভ্যন্তরীণ কাজের জন্য। সেটা হবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ব্যবহার।

হ্যারি-মেগানের সন্তান ব্রিটিশ সিংহাসন পাবে?

প্রিন্স হ্যারি ও ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেলের সংসারের নতুন সদস্য আসছে। এ সদস্য আসার আগেই শুরু হয়ে গেছে তার নাম কী, সে ছেলে না মেয়ে, তার নাগরিকত্বসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা। ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের সপ্তম দাবিদার হতে যাচ্ছে হ্যারি-মেগানের সন্তান। আবার অনেকের মনে প্রশ্ন, হ্যারি-মেগানের সন্তান কি রাজপরিবারের উত্তরাধিকার হতে পারবে। বিবিসি অনলাইন এ নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

১১ মাস আগে বিয়ে হয় এ দম্পতির। এরপরই বিদেশ সফরে গিয়ে সন্তান ধারণের খবর দেন বিশ্বকে। এই নতুন সদস্য সম্পর্কে জানার আগ্রহ অনেক। নেটিজেনদের মধ্য আগ্রহ হ্যারি ও মেগানের সন্তানের ব্যাপারে। তবে অনেকেই জানেন না যে এই দম্পতির সন্তান ব্রিটিশ সিংহাসনে বসতে পারবে কি না। এপ্রিলের শেষে বা মে মাসের শুরুতে মেগানের মা হওয়ার কথা। মেগানের সন্তানের চাচাতো ভাই-বোন প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনে দুই সন্তান প্রিন্স লুইস (২৩ এপ্রিল) ও প্রিন্সেস শার্টলের (২ মে) জন্মও বসন্তে।
ছেলে না মেয়ে?
আসলে এখন পর্যন্ত কেউ এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। কারণ, হ্যারি-মেগান বা রাজপরিবারের পক্ষ থেকে অনাগত সন্তান সম্পর্কে এ পর্যন্ত বিস্তারিত কিছুই জানানো হয়নি।
এর আগে এ বছরের জানুয়ারিতে এক অনুষ্ঠানে মেগান বলেছেন, সন্তান ছেলে না মেয়ে, তাঁরা আসলে জানেন না। তবে ভক্তদের ধারণা, রাজপরিবারের নতুন অতিথি প্রিন্সেস।
একজন মুখপাত্র উইলিয়াম হিল বলেন, প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের সন্তান কন্যা হবে কি না, এ নিয়ে একধরনের জুয়া চলছে।
মেগানের সন্তানের জন্ম হবে কোথায়?
এর আগে সেন্ট্রাল লন্ডনের সেন্ট মেরি হাসপাতালে প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের সন্তানদের জন্ম হয়েছিল। তবে এবার বোধ হয় তা হচ্ছে না। হ্যারি-মেগান চাইছেন না এখানে সন্তানের জন্ম হোক। আর কারণটা হলো গোপনীয়তার অভাব।
রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাঁরা (হ্যারি-মেগান) তাঁদের সন্তান জন্মের সব পরিকল্পনা ব্যক্তিগত রাখতে চান। আর তাই ধারণা করা হচ্ছে, মেগান তাঁর সন্তানের জন্ম বাড়িতে দিতে চান।

রাজপরিবারের সন্তানের জন্ম বাড়িতে?
মেগানের সন্তানের জন্ম যদি বাড়িতে হয়, তবে তা প্রথম রাজকীয় ঘটনা হবে না। রানির চার সন্তানের জন্ম বাড়িতে হয়েছিল। রানি এলিজাবেথের মতোই রাজপ্রাসাদেই সন্তানের জন্ম দেবেন ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্য হাসপাতালের বদলে উইন্ডসরের কটেজকেই বেছে নিয়েছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান দম্পতি।
গার্ডিয়ান ও ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়েছে, এর আগে প্রসবকালে রানির চিকিৎসক দল সঙ্গে রাখতে প্রত্যাখ্যান করেন মেগান। মেগানের প্রসবকালে তাঁর পাশে রানির চিকিৎসক, শল্যবিদসহ অন্য চিকিৎসকদের থাকার কথা ছিল। তবে প্রথা ভেঙে মেগান বলেছেন, তিনি পুরুষ চিকিৎসক দিয়ে সন্তান ভূমিষ্ঠ করাবেন না। এ সময় তিনি নারী চিকিৎসক চান। এ ছাড়া সন্তানের জন্মের আগে হাসপাতালের চারপাশে গণমাধ্যমকর্মী ও জনসাধারণের ভিড়ও অপছন্দ মেগানের। বিশেষ করে তাঁর সন্তান যখন ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকার ক্ষেত্রে অনেক দূরে। যদিও কেট মিডলটন তিন সন্তান জর্জ, শার্লট ও লুইসের জন্মের জন্য লিন্ডো উইংয়ের সেন্ট মেরি হাসপাতালকেই বেছে নিয়েছিলেন। প্রিন্সেস ডায়নাও দুই সন্তান উইলিয়াম-হ্যারির জন্ম এই হাসপাতালেই। তবে রানি এলিজাবেথ তাঁর চার সন্তানের জন্ম দিয়েছেন বাকিংহাম প্যালেসে।
মেগানের এক বন্ধু গণমাধ্যমে বলেন, মেগান নিয়মিত ইয়োগা করেন এবং শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তাই গোপনীয়তার জন্য প্রথম পছন্দ হিসেবে কটেজকেই বেছে নিয়েছেন তিনি। তা ছাড়া মেগানের খেয়াল রাখার জন্য হ্যারি সব সময় তাঁর সঙ্গেই আছেন। বিয়ের পর কেনসিংটন প্যালেসে ডিউক অব কেমব্রিজ প্রিন্স উইলিয়াম ও ডাচেস অব কেমব্রিজ কেট মিডলটনের সঙ্গে থাকলেও এখন বার্কশায়ার এস্টেটের ফ্রোগমোর কটেজে থাকছেন হ্যারি-মেগান। তিনি বলেছেন, সন্তানের জন্য নিজস্ব পরিবেশ তৈরি করতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। আর এ জন্য ফ্রোগমোর কটেজে সংস্কারও করা হয়েছে।
নাম কী?
রাজপরিবারের সদস্যদের নাম রাখার ক্ষেত্রে তেমন কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু সন্তানের নাম রাখার জন্য সিদ্ধান্ত প্রায়ই ঐতিহ্য দ্বারা পরিচালিত হয়।
তবে প্রিন্স হ্যারির প্রথম সন্তান কন্যা হবে ভেবে ডায়ানা নামটি রাখার জন্য বাজি ধরা হয়েছে বেশি। ডায়ানার পাশাপাশি প্রিন্স হ্যারির সন্তানের নাম ভিক্টোরিয়া ও এলিসও অনেকেই ভেবে বসে আছেন।
আর যদি সন্তান ছেলে হয়, তবে আর্থার এবং জেমস নামটি পছন্দের শীর্ষে। এ দুটি নাম গত বছরের মিডলটনের তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রেও এগিয়ে ছিল।

বংশীয় নাম যাবে কি না?
সন্তানের নামের জন্য হয়তো উপাধি বা বংশীয় নাম দরকার নেই। যদি নতুন শিশুকে প্রিন্স (রাজকুমার) বা প্রিন্সেস (রাজকুমারী) শিরোনাম দেওয়া হয়, তাহলে তারপরে একটি উপাধি বা বংশীয় নাম প্রয়োজন হয় না। প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের সন্তানের জন্য রাজকীয় বা রয়েল পারিবারিক নাম হবে মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর।
হ্যারি-মেগানের বিয়ের দিন (১৯ মে ২০১৮) রানি ও রাজা ফিলিপ উভয়ই আগত রাজপরিবারের নতুন সদস্যর এই পারিবারিক উপাধি ঠিক করে দেন।
কিন্তু এই দম্পতি (হ্যারি-মেগান) রানির রাখা উপাধির পাশাপাশি ডিউক ও ডাসেস অব কেমব্রিজ রাখার সম্ভাবনা বেশি। প্রিন্স উইলিয়াম ও কেটের তিন সন্তান তাদের জন্মের সার্টিফিকেটে কেমব্রিজ নাম রেখেছেন।
প্রিন্স না প্রিন্সেস?
আগত শিশুটি সম্পর্কে জানাতে চাওয়া হলে রানিও হয়তো ছোট্ট করে উত্তর দেবেন, জানি না। রানি ২০১২ সালে প্রিন্স উইলিয়ামের সন্তানের সময় নতুন নিয়ম চালু করেছিলেন। আর তা হলো আগত সন্তানেরা প্রিন্স বা প্রিন্সেস হতে পারে।
সন্তানের পদবি কী হবে?
রানি যদি নিয়ম পরিবর্তন না করেন, তবে একটু ব্যাপারটি জটিল হয়ে যাবে। অনেকেরই মনে থাকার কথা, প্রিন্স হ্যারির বিয়ের দিন সকালের কথা। ওই দিন রানি মেগানের জন্য ডিউক অব সাসেক্স, আর্ল অব ডামবার্টন ও ব্যারন কিলকেল পদবির কথা বলেছিলেন।
আর ব্রিটিশ রীতি ও শিষ্টাচার অনুযায়ী, ডিউকের বড় ছেলে তাঁর বাবার ‘উপাধি’গুলোর একটি ব্যবহার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে শিশুসন্তান যদি ছেলে হয়, তবে তার উপাধি আর্ল অব ডুম্বার্টন হতে পারে। আর কন্যাসন্তান হলে তার প্রথম নাম হতে পারে মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর।
হ্যারি ও মেগান কি এই উপাধি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন?
আসলে এমন ঘটনা আগে ঘটেছে। রানির মেয়ে প্রিন্সেস অ্যানিকে যখন তাঁর সন্তানদের জন্য রাজকীয় উপাধি পিটার ও জারা দেওয়া হয়, তখন তিনি তা ফিরিয়ে দেন। কারণ, তাঁর চাওয়া হলো সন্তানদের যেন যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবন পেতে পারে। পিটার ও জারা ফিলিপ রাজকীয় পদবি ছাড়াই বেড়ে ওঠেন। এর আগে জারা টাইমসকে বলেছিলেন, ‘আমার বাবা-মা আমাদের পদবি দেননি। তাই আমরা একটু বেশি স্বাভাবিক জীবন যাপন করেছি। আপনি রাজপরিবারের পদবি বা উপাধি ধারণ করলে অনেক নিয়ম মেনে বড় হতে হয়।’
তাই প্রিন্স হ্যারি ও মেগানও রাজকীয় প্রোটোকল ভাঙতে ভয় পান না। তাঁরাও প্রিন্সের অ্যানির পথে হাঁটতে পারেন।
হ্যারি-মেগানের সন্তান কি রাজা বা রানি হতে পারবেন?
নতুন শিশুটি হবে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের নাতির সন্তান। সে ব্রিটিশ সিংহাসনের সপ্তম উত্তরাধিকারী হবে। এখন প্রশ্ন হলো হ্যারি-মেগানের সন্তান কি রাজা বা রানি হতে পারবেন? হ্যাঁ, তাত্ত্বিকভাবে তো অবশ্যই। আগত সন্তানের সামনে আরও ছয়জন আছেন। হ্যারি ও মেগানের সন্তান সিংহাসনের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সপ্তম। উত্তরাধিকারসূত্রেই বাবার পরেই থাকবে সে। তার সামনে চাচাতো ভাই-বোন জর্জ, শার্লট ও লুই আছে।
শিশু কি মার্কিন নাগরিক হতে হবে?
হ্যাঁ। তা হতে পারে। কারণ, মেগান এখনো মার্কিন নাগরিক। রাজপরিবারের শিশুর ক্ষেত্রে তা হতে পারে।
হ্যারি-মেগানের সন্তানকে কর দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রে?
বিশ্বের মাত্র কয়েকটি দেশ নাগরিকত্বের ওপর কর আরোপ করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রও এর মধ্যে। প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলের সন্তান ব্রিটিশ বাবা এবং মার্কিন মায়ের সন্তান হওয়ায় দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকার পাবে। নিয়ম অনুযায়ী, মা-বাবার মধ্যে কোনো একজন যদি মার্কিন নাগরিক হন এবং সেই দেশে কমপক্ষে পাঁচ বছর (যার মধ্যে ১৪ বছর বয়সের পর ২ বছর) বসবাস করেন, তাহলে তাঁর সন্তান আপনা থেকেই মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করে। তাই অনাগত সন্তানকে নিয়ে হ্যারি-মেগান স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যের উইন্ডসরের ফ্রগমোর কটেজে বাস করলেও যুক্তরাষ্ট্রের কর কর্তৃপক্ষ ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিসের (আইআরএস) কাছে করসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জমা দিতে বাধ্য থাকবেন তাঁরা। সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য ব্যাংকে কত অর্থ গচ্ছিত রেখেছেন, কে কত টাকার উপহার দেবেন শিশুটিকে, এসবই আইআরএসকে জানাতে হবে। ভবিষ্যতের কোনো বিনিয়োগ বা সম্পত্তি থেকে আয় শিশুটির নামে রাখা হলে তাও করের আওতায় পড়বে।
মেগান যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন। তবে সব প্রক্রিয়া শেষ হয়ে এটি পেতে বেশ সময় লাগবে। ২০১৮ সালে এই রাজদম্পতির বিয়ের দিনই জানানো হয় নাগরিকত্ব পেতে মেগানকে অন্তত পাঁচ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাস করতে হবে। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর মার্কিন নাগরিকত্ব ও তাঁর করের দায় অস্বীকার করতে পারবেন মেগান।

ধর্ষণের পর শাহিনুরের মাথার খুলি ফাটিয়ে দেয় ধর্ষকরা by আশরাফুল ইসলাম

স্বর্ণলতা পরিবহনের বাসের চালক নূরুজ্জামান নূরু, হেলপার লালন মিয়া এবং বোরহান এই তিনজনে মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে। ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিতে তানিয়াকে বাস থেকে নিচে ফেলে দেয়া হয়। গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই ঘটনার সোয়া দুই ঘণ্টা পর রাত পৌনে ১১টার দিকে স্বর্ণলতা পরিবহনের কটিয়াদীর কাউন্টার মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম রফিক এবং স্বর্ণলতা পরিবহনের সুপারভাইজার আল আমিন তানিয়ার নিথর দেহ কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পাশবিক অত্যাচার ও বাস থেকে ফেলে দিয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর দুই ঘণ্টারও বেশি সময় চিকিৎসা না পেয়ে তানিয়ার মৃত্যু হয়। শনিবার রাতে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে ধর্ষণকাণ্ডে ব্যবহৃত স্বর্ণলতা পরিবহনের বাসটি (ঢাকা মেট্রো ব-১৫-৪২৭৪) পুলিশ জব্দ করার পর আলামত ও নমুনা সংগ্রহ করেছে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট। শনিবার বিকালে ময়মনসিংহের সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটের একটি টিম বাজিতপুর থানায় রাখা বাসটি থেকে আলামত ও নমুনা সংগ্রহ করেন। অন্যদিকে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, তানিয়ার মাথার পেছন দিকে ভারি কিছু দিয়ে আঘাত করে ধর্ষকরা।
এতে তার মাথার পেছনের খুলি ফেটে যায়। কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন সূত্র জানিয়েছে, এ প্রতিবেদন বাজিতপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সারোয়ার জাহান জানান, বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু ও হেলপার লালন মিয়া রিমান্ডে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, ঘটনার সময়ে বাসটিতে বাসচালক নূরু ও হেলপার লালন মিয়া ছাড়াও বোরহান নামে আরেকজন ছিল। বোরহান নূরুর খালাতো ভাই এবং বাসটির অপর হেলপার। তার বাড়িও গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। তাকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসটি পিরিজপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার সময় চালকের আসনে বসে হেলপার লালন মিয়া বাসটি চালাচ্ছিল। রাত ৮টার দিকে পথে গজারিয়া এলাকায় একটি কলাবাগানের পাশে বাসটি থামিয়ে তানিয়ার উপর পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়। তানিয়ার চিৎকার যেন বাইরে না যায় এজন্যে বাসের দরজা-জানালা বন্ধ করে দেয়া হয়। লালনকে চালকের আসনে রেখে বাসচালক নূরু মিয়া হামলে পড়ে তানিয়ার উপর। তানিয়া সর্বশক্তি দিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে গেলে বাসে থাকা অপর হেলপার বোরহান তানিয়াকে ধরে রাখে। এ সময়ে লালন ধীরে ধীরে বাসটি চালাতে থাকে। চলন্ত বাসটিতে তিন ধর্ষকের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বাসেই লুটিয়ে পড়ে তানিয়া।
পরে ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিতে তানিয়াকে বাস থেকে নিচে ফেলে দেয় ধর্ষক। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তানিয়া। রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকেন তানিয়া। এ অবস্থায় তানিয়া বাস দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন জানিয়ে তাকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পিরিজপুর বাজারের সততা ফার্মেসিতে নেয়া হয়। সততা ফার্মেসির হাবিবুর রহমান মেয়েটিকে দেখে তাকে দ্রুত কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। বাসের চালক ও হেলপার মেয়েটিকে একটি সিএনজিতে তুলে দিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করে। কিন্তু অচেনা কোন মেয়েকে একা হাসপাতালে নিতে কোন সিএনজি রাজি না হওয়ায় তানিয়াকে আবারও বাসে তুলে নেয় ধর্ষকদল। প্রায় দুই ঘন্টা মুমূর্ষু তানিয়াকে নিয়ে এখানে-সেখানে ঘুরাফেরার পর কটিয়াদীর কাউন্টার মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম রফিক এবং সুপারভাইজার আল আমিন একটি সিএনজিতে করে তানিয়ার নিথর দেহ কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ততক্ষণে তানিয়া চলে যান না ফেরার দেশে।
নিহত শাহিনুর আক্তার তানিয়া কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। তিনি ঢাকার ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন ডিপ্লোমা নার্স ছিলেন। কর্মস্থল ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার জন্য গত সোমবার বিকাল ৩টায় ঢাকার বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো ব-১৫-৪২৭৪) ওঠেন। স্বর্ণলতা পরিবহনের বাস মহাখালী থেকে কটিয়াদী হয়ে বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত চলাচল করে। বাসে ওঠে তানিয়া তার বাবাকে জানান, তিনি পিরিজপুর বাসস্ট্যান্ডে নামবেন। কিন্তু বাড়িতে ফিরতে দেরি হওয়ায় রাত সাড়ে ৮টায় তানিয়ার মোবাইলে ফোন করে নম্বরটি বন্ধ পান বাবা গিয়াস উদ্দিন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফোন করে এক ব্যক্তি গিয়াস উদ্দিনকে জানায়, তার মেয়ে বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে এবং বর্তমানে সে কটিয়াদী হাসপাতালে রয়েছে। এ খবর পেয়ে স্বজনেরা হাসপাতালে গিয়ে তানিয়াকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পড়ে থাকতে দেখেন।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ মামলার তদন্তের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য রোববার ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন কিশোরগঞ্জের আসছেন বলে পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ, বিপিএম (বার) জানিয়েছে।
এদিকে পাশবিক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কিশোরগঞ্জে ক্ষোভ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকালে জেলা শহরের আখড়াবাজার ব্রীজ সংলগ্ন সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে মানবাধিকার নাট্য পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখাসহ একাধিক সংগঠন। কর্মসূচিতে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট অশোক সরকার জেলা পাবলিক লাাইব্রেরিব সম্পাদক অ্যাডভোটেক মোজাম্মেল হক খান রতন, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সংস্কৃতি কর্মী অসীম সরকার বাধন, অনলাইন এক্টিভিস্ট শিপন করিম, জেলা মানবাধিকার নাট্য পরিষদের সভাপতি হারুন আল রশীদ, জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এনায়েত করিম অমি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বক্তারা চলন্ত বাসে নার্স তানিয়াকে গণধর্ষণ শেষে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানান।
তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় শনিবার কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় আরও কয়েকটি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসব মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেয়। এসব কর্মসূচি থেকে তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানান এবং মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবি জানানো হয়।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে চীনা রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের সমলোচনা ঢাকায়

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধান নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশী একজন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক। ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ঝাং ঝাও বুধবার ঢাকায় বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান করা যেতে পারে। কিন্তু রোহিঙ্গা মুসলিমদের দুর্ভোগের সঙ্গে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগকে এক সমান করে দেখানো মানবাধিকারের প্রতি অসম্মান বলে মনে করেন বাংলাদেশের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবর্তন বিষয়ক কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম। তিনি বেনার নিউজকে শুক্রবার বলেছেন, শুধু ডেভেলপমেন্ট বা উন্নয়নের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান হবে না। এক্ষেত্রে মিয়ানমার সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো বলেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার দেয়া না হলে এ সঙ্কটের শেষ হবে না। এ খবর প্রকাশিত হয়েছে অনলাইন রেডিও ফ্রি এশিয়া’তে।
বেনার নিউজ এ সময় আবুল কালাম আজাদ ও বাংলাদেশের অন্যদের কাছে জানতে চায়, চীনা রাষ্ট্রদূতের করা মন্তব্যের বিষয়ে।
চীনা রাষ্ট্রদূত বেইজিংয়ের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড ইনিশিয়েটিভের বিষয়ে বুধবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন। এ সময় তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রকৃত সমাধান রয়েছে উন্নয়নের মধ্যে। তিনি ২০১৭ সালের আগস্টে সেনাবাহিনীর নৃশংসতার ফলে বাধ্য হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়া কমপক্ষে ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গার প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন। চীনা রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, আমরা আশা করি, সহিংসতা থেমে যাওয়ার পরে লোকজনকে ফেরত পাঠানো হবে। রাখাইন রাজ্যকে আরো উন্নত করা যেতে পারে। আমরা আরো আশা করি, বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা রোহিঙ্গা সমস্যার একটি চমৎকার সমাধান পাবো।
বিসিআইএম হলো বাংলাদেশ-চায়না-ভারত-মিয়ানমার আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরাম। এশিয়ার চারটি দেশের মধ্যে বাণিজ্য উন্নত করার জন্য ১৯৯০ এর দশকের শুরুর দিকে এ ধারণার শুরু। চীনা রাষ্ট্রদূত বিস্তারিত কিছু বলেন নি। তবে তিনি বলেছেন, চীন প্রস্তাবিত সার্বিক সমাধানের একমাত্র অংশ হলো প্রত্যাবর্তন।
যেমন প্রস্তাব করা হয়েছিল, বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডোর সংযুক্ত করবে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংকে কলকাতার সঙ্গে। এই সংযুক্তি ঘটবে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহৎ শহর মান্দালয় হয়ে। অলাভজনক থিংক ট্যাংক বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এএনএম মুনিরুজ্জামান বলেছেন, চীনা রাষ্ট্রদূত এই বার্তাই দেয়ার চেষ্টা করেছেন যে, প্রস্তাবিত বিসিআইএম করিডোর যাবে রাখাইন রাজ্যের ভিতর দিয়ে। তাই বিসিআইএম করিডোর বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধান। চীনা রাষ্ট্রদূতের ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন মুনিরুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দৃশ্যত চীন রোহিঙ্গা সঙ্কটকে দেখছে বেইজিংয়ের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। রাখাইনের গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছে চীন। তারা সেখানে একটি এনার্জি টার্মিনাল নির্মাণ করছে। কিন্তু শুধু উন্নয়নই রোহিঙ্গা সঙ্কটের একমাত্র কৌশল হতে পারে না।
নভেম্বরে মিয়ানমার চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিআইটিআইসি গ্রুপের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করে। এ চুক্তির অধীনে রাখাইন রাজ্যের কাইউক পাইউ গভীর সমুদ্র বন্দরে মাল্টি বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে উন্নয়ন করতে চেয়েছে। এই চুক্তিটি এসেছে, কারণ মিয়ানমার বেইজিংয়ের খুব কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদরা চীনা কূটনীতিকের মন্তব্যকে দেখছেন এভাবে যে, বেইজিং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়টি দেখছে অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, উন্নয়নের নিরীখে মানবাধিকারকে অবজ্ঞা করে চীন রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান দেখছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক তদন্তকারীরা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জাতি নির্মূলের অভিযোগ এনেছেন। বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন চালানোর সময় এসব মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে মধ্যস্থাতার প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। কিন্তু রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সমঝোতা প্রক্রিয়া থমকে আছে। এ বছর মার্চে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বলেছেন, শরণার্থী সঙ্কট খারাপ থেকে আরো খারাপ হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থীদের আর ধারণ করতে সক্ষম হচ্ছে না ঢাকা। বেসরকারি থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন প্রশ্ন তুলেছেন চীনা রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের বিষয়ে। তিনি বলেন, চীন বলেছে তারা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে উন্নয়ন দেখতে চায়। কিন্তু তারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন নিয়ে নীরবতা অবলম্বন করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মিয়ানমারকে সবার আগে নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার, মুক্তভাবে চলাচলের অধিকার, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিতে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শরণার্থীরা ফিরে যেতে চান।

ডায়রিয়ার প্রকোপ আইসিডিডিআর,বিতে দ্বিগুণ রোগী

টানা কয়েকদিনের গরমে সারা দেশে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব। প্রতিদিন শত শত ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন রাজধানীর মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র’ বাংলাদেশে (আইসিডিডিআর,বি)। হাসপাতালটিতে ২৪ ঘণ্টায় ৬৩৩ জন রোগী  ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শিশুই বেশি। সূত্র জানায়, হাসপাতালটিতে ৩৫০ আসনের  বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছেন ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী। উপচে পড়া ভিড়ে হচ্ছে না স্থান সংকুলান। আইসিডিডিআরবিতে ছুটে আসা অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন খোলা আকাশের নিচে টাঙানো তাঁবুতে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম সূত্র জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় দেশে এক হাজার ২০১ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এর মধ্যে মহাখালীতে অবস্থিত আইসিডিডিআরবি ভর্তি হয়েছেন ৬৩৩ জন। গত সাত দিনে গড়ে প্রতিদিন হাসপাতালটিতে সাত শতাধিক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। অন্যান্য হাসপাতালেও ভিড় বাড়ছে।
এতে হিমশিম খাচ্ছে আইসিডিডিআর’বি কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিন রোগী বাড়ছেই। বেশি রোগী আসছে মিরপুর, টঙ্গী, যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে। সেসব এলাকায় ওয়াসার পানির কারণে বেশি রোগী আসছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য মতে, সাত দিনে দেশে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ১২৯ জন। এক মাসে দেশে ৩০ হাজার ২১০ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে আইসিডিডিআর’বিতে ভর্তি হয়েছে ১৫ হাজার ৬৪৯ জন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওয়াসার সুয়ারেজের কাজের কারণে পাইপ দিয়ে অপরিষ্কার পানি ঢুকে। ফলে দূষিত পানি খেয়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। তাছাড়া বেড়েছে গরমের তীব্রতা। আইসিডিডিআর’বির তথ্যানুযায়ী, মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই ডায়রিয়ার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ। বর্তমানে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ে। তারা আরও বলেন, তীব্র গরমে ঘন ঘন পিপাসা পাওয়ায় রাস্তাঘাটে আইসক্রিম বা বিভিন্ন ধরনের শরবত পান করা হয়। এসব খাদ্যে যে খাবার পানি বা বরফ ব্যবহৃত হয় তা বিশুদ্ধ না হলে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া বেশি গরমে বিভিন্ন ধরনের নষ্ট খাবার খেলেও ডায়রিয়া হয়। প্রতি বছর মার্চ থেকে মে মাসে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. আয়েশা আকতার মানবজমিনকে গতকাল জানান,  বিভিন্ন জায়গায় ওয়াসার সুয়ারেজের কাজের কারণে পাইপ দিয়ে দূষিত পানি প্রবেশের কারণে ওইসব এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এটি পানি বাহিত রোগ। মার্চ, এপ্রিল ও মে মাস পর্যন্ত ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। তারপর কমে আসে। তিনি আরো বলেন, আমাদের বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। রাস্তার খাবার ও পানির শরবত গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিক সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। চিকিৎসকরা জানান, মূলত বিশুদ্ধ পানির অভাব বা ভালোভাবে হাত না ধৌত করে খাবার গ্রহণই ডায়রিয়ার মূল কারণ। ডায়রিয়া থেকে মুক্ত থাকতে বিশুদ্ধ পানি পান ও সকলকে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করে খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন তারা।