Tuesday, March 17, 2026

অভিনেতা শামস সুমন মারা গেছেন

প্রকাশ ১৭ মার্চ ২০২৬ঃ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল থেকে শামস সুমনের মৃত্যুর খবরটি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে অভিনেতা সুজাত শিমুল। শামস সুমন রেডিও ভূমির স্টেশন প্রধান এবং চ্যানেল আই এর অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক ছিলেন।

হাসপাতাল থেকে অভিনেতা সুজাত শিমুল জানান, আজ বিকেল পাঁচটা পর এই অভিনেতা হঠাৎই অসুস্থতাবোধ করেন। তিনি পরে অসুস্থতার কথা জানান আরেক অভিনেতা শাহাদৎ হোসেনকে। শাহাদৎ দ্রত তাঁকে ঢাকার গ্রিন রোড এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তিনি মারা যান।

সুজাত শিমুল বলেন, ‘আমরা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, মূলত কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে শামস সুমনের মৃত্যু হয়েছে।’

একসময়ের টিভি নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন। মঞ্চ থেকে শুরু করে ছোট পর্দা ও বড় পর্দা দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। কয়েক বছর ধরে টেলিভিশন নাটকে অনিয়মিত ছিলেন তিনি।

শামস সুমন অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো হলো ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’, (২০১৬) ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’, ‘চোখের দেখা’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’, ‘আয়না কাহিনি’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘জয়যাত্রা’, ‘নমুনা’, ‘হ্যালো অমিত’।

২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-03-17%2Fh0we1xju%2FWhatsApp-Image-2026-03-17-at-7.37.21-PM-1.jpeg?rect=0%2C0%2C1600%2C1067&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
অভিনেতা শামস সুমন। ফাইল ছবি

যুদ্ধে মিত্রদের পাশে পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র

এএফপি ও রয়টার্সঃ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে নানাভাবে মিত্রদেশগুলোকে এ যুদ্ধে যুক্ত করার চেষ্টা চালিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে গতকাল সোমবার যুদ্ধের ১৭তম দিনেও কোনো দেশ এ যুদ্ধে যোগ দেয়নি।

সে ক্ষোভ থেকেই গত রোববার ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাজ্যসহ মিত্রদেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সহায়তা না দিলে সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। যদিও গতকাল তিনি আশা প্রকাশ করেন, হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক করতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে পাশে পাবে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোয় পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। আশপাশের অন্তত ১৪টি দেশে যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরান কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানির ২০ শতাংশ সরবরাহ করা হয়। জ্বালানি নিয়ে এ বৈশ্বিক পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একধরনের চাপ তৈরি করেছে।

তারপরও যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। গতকালও ইরানের তেহরান, তাবরিজ ও শিরাজে ব্যাপক হামলা হয়েছে। ইরান ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরাকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে—ট্রাম্পের এ দাবি আবারও প্রত্যাখ্যান করে ইরান বলেছে, যত দিন প্রয়োজন, তত দিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তারা প্রস্তুত।

মিত্রদের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট ট্রাম্প


ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর জ্বালানি তেলের দাম ৪০ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সেই চাপ থেকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে চাইছে। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ ও ট্যাংক চলাচল নিশ্চিত করতে মিত্রদের সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান।

গত শনিবার ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রত্যাশা, চীনসহ মিত্রদেশ ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সহায়তা করবে। কোনো সাড়া না পেয়ে রোববার ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাজ্যসহ মিত্রদেশগুলো সহায়তা না দিলে সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ট্রাম্প রোববার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘যারা এই প্রণালি (হরমুজ) থেকে উপকৃত হচ্ছে, তাদের উচিত, সেখানে যাতে খারাপ কিছু না ঘটে, সে জন্য সহায়তা করা।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের ন্যাটো নামের একটি জোট আছে। এই জোটের প্রতি আমরা অনেক উদারতা দেখিয়েছি। ইউক্রেন ইস্যুতে তাদের (ন্যাটো) সাহায্য করার কোনো প্রয়োজন ছিল না আমাদের। ইউক্রেন আমাদের থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে...কিন্তু আমরা তাদের সহায়তা করেছি। এখন দেখা যাক, তারা আমাদের সহায়তা করে কি না।’

একপর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি (সহায়তার) কোনো সাড়া না পাওয়া যায় অথবা নেতিবাচক সাড়া আসে, তাহলে আমি মনে করি, এটি ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য খুব খারাপ হবে।’

এদিকে কেনেডি সেন্টারের বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের আগে গতকাল প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘কিছু দেশ রয়েছে, যাদের আমরা বহু বছর ধরে সাহায্য করেছি। আমরা তাদের ভয়ংকর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করেছি। কিন্তু তারা (সহায়তায়) অতটা আগ্রহী ছিল না। আর উৎসাহের মাত্রা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’

ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি এ বিষয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু তাঁর প্রতিক্রিয়া জুতসই নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি মনে করি, তিনি (মাখোঁ) সাহায্য করবেন।’ ট্রাম্পের আশা, যুক্তরাজ্যও হরমুজ মিশনে যুক্ত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত না হওয়ার ব্যাপারে ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থান জোরালো বলে মনে করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস মোরান। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের কোনো বৈধতা নেই—এ বিষয়ে ইউরোপজুড়ে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে।

মোরান আল–জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপকে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউরোপের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী (রাশিয়া) বিশ্ববাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে।

ন্যাটোর ‘করার কিছু নেই’

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের ওই সংবাদ সম্মেলনের আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গতকাল ডাউনিং স্ট্রিটে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। স্টারমার বলেন, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য তার মিত্রদের সঙ্গে একটি ‘কার্যকর’ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তবে নিজেদের পরিকল্পনায় ন্যাটোর সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিষয়টি পরিষ্কার করে বলি, এটি কোনো ন্যাটো মিশন হবে না এবং এটি কখনো সেভাবে ভাবাও হয়নি।’ ইরানে হামলা চালানোর জন্য শুরু দিকে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি যুক্তরাজ্য। ইরানে বিমান হামলায় সহায়তা করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন স্টারমার। এ কারণে তাঁকে তিরস্কার করে ট্রাম্প বলেছিলেন, দুই দেশের (যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য) সম্পর্ক এখন আর আগের মতো নেই।

স্টারমার গতকাল জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য নিজেদের ও মিত্রদের রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে বৃহত্তর কোনো যুদ্ধে জড়াব না।

ইউরোপ যে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশামতো হরমুজ মিশনে যুক্ত হচ্ছে না, তা স্পষ্ট করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি–বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস। গতকাল ব্রাসেলসে জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মধ্যপ্রাচ্যে একটি নৌ মিশন শক্তিশালী করার ‘সুস্পষ্ট ইচ্ছা’ প্রকাশ করেছেন। তবে আপাতত হরমুজ প্রণালি পর্যন্ত এর পরিধি বাড়ানোর কোনো আগ্রহ তাঁদের নেই।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ‘ন্যাটোর যুদ্ধ’ নয় উল্লেখ করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। তিনি গতকাল বলেন, জার্মানি এতে অংশ নেবে না। এ যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জার্মানি বা ইউরোপের সঙ্গে পরামর্শ করেনি।

৩২ দেশের জোট ন্যাটোর সদস্য ইতালি, স্পেন, পোল্যান্ড ও গ্রিস হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না বলে জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্র অস্ট্রেলিয়া ও জাপান বলেছে, তারাও হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না। তবে ন্যাটোর আরেক কৌশলগত অংশীদার দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, তারা ট্রাম্পের আহ্বান বিবেচনা করে দেখছে। যদিও দেশটিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির বিষয়ে আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গতকাল সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্রদের জন্য তা বন্ধ।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক নিরাপত্তাবিশ্লেষক রজার শানাহান আল-জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা হরমুজ প্রণালি ‘সুরক্ষিত’ করার কাজে জড়িত হওয়ার ‘সম্ভাবনা কম’। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ মিত্র প্রথম থেকেই এ যুদ্ধের বিরোধিতা করছে। এ যুদ্ধে সহায়তা করার বিষয়ে তাদের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম।

পাল্টাপাল্টি হামলা

গতকাল ইরানের রাজধানী তেহরান, হামাদান, শিরাজ, তাবরিজ ও ইসফাহানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। তেহরানের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বিদ্যুৎ বিভাগের একটি ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন।

এ ছাড়া ইসরায়েলের হামলায় তেহরানে রেড ক্রিসেন্টের একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ জানিয়েছে, তেহরানের আকাশ থেকে কিছু ‘ক্ষতিকর নিক্ষিপ্ত বস্তু’ ধ্বংস করেছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। গতকাল ইরানের ছেলেদের একটি স্কুলেও হামলার কথা জানা গেছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে দেশটির মেয়েদের একটি স্কুলে হামলায় প্রায় ১৭০ জন নিহত হয়েছিল।

আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরানে হামলা শুরুর পর গতকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, অন্তত ১ হাজার ৪৪৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত মানুষের সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়েছে। হামলা হয়েছে বহু বেসামরিক স্থাপনায়।

গতকাল হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সামর্থ্য ৯০ শতাংশ কমেছে। তিনি বলেন, ‘সংঘাতের শুরু থেকে আমরা ইরানজুড়ে ৭ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছি। আর এগুলোর বেশির ভাগই ছিল বাণিজ্যিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তু। আমরা তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ ৯০ শতাংশ এবং ড্রোন হামলা ৯৫ শতাংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।’ ইরানের নতুন নেতা মোজতবা খামেনি বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে আবারও সংশয় প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।

গতকাল ইরানও ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র অথবা তার ধ্বংসাবশেষ জেরুজালেমের নিকটবর্তী বেত শেমেশ এলাকায় আঘাত হেনেছে। ইরানের আইআরজিসি জানায়, তারা গতকাল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ‘সাউদার্ন কমান্ড’ ও দেশটির অস্ত্র নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান ‘রাফায়েলের’ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

গতকাল ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে হামলায় ৩ হাজার ৩৬৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গতকাল বিকেল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আহত হয়েছেন ১৪২ জন। এর আগে জানানো হয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন।

গতকাল ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার বলেন, চলমান যুদ্ধে আগামী কয়েক দিনে উত্তেজনা বাড়তে পারে। সে জন্য তাঁর দেশকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ খুব সম্ভবত আরও কয়েক সপ্তাহ চলবে।

গতকাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বিমানবন্দরের কাছে একটি ‘ড্রোন–সংক্রান্ত ঘটনায়’ তেলের ট্যাংকারে আগুন লেগে যাওয়ার ফলে উড়োজাহাজ চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল। পরে সেখানে ধীরে ধীরে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়। একই দিনে আমিরাতের পূর্ব উপকূলের ফুজাইরাহ তেলশিল্প এলাকায় ড্রোনের আঘাতে আগুন ধরে যায়। আবুধাবির উপকণ্ঠে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হন।

গতকাল বাহরাইন ও কাতারেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে ২ মার্চ থেকে লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। গতকাল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘সীমিত স্থল অভিযান’ শুরু করেছে। লেবাননে ইসরায়েলের চলমান হামলায় ৮৮৬ জন নিহত হয়েছেন।

হরমুজ প্রণালিতে সেনা পাঠাতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর প্রতিবাদে গতকাল দেশটির রাজধানী সিউলে বিক্ষোভ
হরমুজ প্রণালিতে সেনা পাঠাতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর প্রতিবাদে গতকাল দেশটির রাজধানী সিউলে বিক্ষোভ। ছবি: রয়টার্স

অন্য যে কারও চেয়ে আমি যুদ্ধ কম চাই : ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্বের অন্য যেকোনো নেতার তুলনায় তিনি সবচেয়ে কম যুদ্ধ চান বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি শান্তিকামী হলেও নিরাপত্তার প্রয়োজনে কঠোর অবস্থান নিতে দ্বিধা করেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, যদি তিনি ইরানে হামলার পদক্ষেপ নিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করতেন, তবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহারের পথে হাঁটত।

ট্রাম্প বলেন, আমি অন্য যে কারও চেয়ে যুদ্ধ কম চাই। কিন্তু আমি দীর্ঘ সময় ধরে ইরানকে পর্যবেক্ষণ করছি। যদি তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তবে তারা নির্দ্বিধায় সেটি ব্যবহার করত।

মূলত ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রোধ করতেই তার প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

সূত্র: বিবিসি 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

ট্রাম্পের আলোচনার আহ্বান প্রত্যাখ্যান ইরানের, দুবাই বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনার দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। পক্ষান্তরে তারা পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। সর্বশেষ খবরে বলা হয়েছে দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে বিমানবন্দরের কাছে আগুন লেগে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলি বাহিনী ইরানের বিভিন্ন শহর, যার মধ্যে তেহরান, হামদান এবং ইসফাহানকে আঘাত করছে। এর জবাবে ইরান তাদের প্রতিরোধমূলক হামলা আরও জোরালো করেছে। এতে একাধিক ইসরাইলি শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তেহরান শান্তি আলোচনার আগ্রহ দেখাচ্ছে। তার এ বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ওদিকে, ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে অব্যাহত হামলা চালাচ্ছে। তারা সীমান্তে ট্যাংক ও সেনা মোতায়েন করছে। লেবাননে মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ৮৫০। এর মধ্যে শতাধিক শিশু রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ¦ালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, তিনি আশা করেন ইরানের উপর যুদ্ধ ‘পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে’ শেষ হবে, যা বাজার শান্ত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে ইরানের রকেট এবং ড্রোনগুলো বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করেছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কূটনৈতিক মিশন আছে। পাশাপাশি বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তিনি আবারো দাবি করেছেন যে, ইরান ‘বেপরোয়াভাবে আলোচনা করতে চায়’। কিন্তু তিনি মনে করেন না ‘তারা যা করতে হবে তা করতে প্রস্তুত।’ ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি তারা কোনো না কোনো সময় আলোচনা করবে। ইরানের পুরো পরিস্থিতি নিয়ে আমরা খুব ভালোভাবে কাজ করছি। ট্রাম্প আরও বলেছেন যে, তিনি অন্যান্য দেশের সঙ্গে কথা বলছেন হরমুজ প্রণালিতে ‘পুলিশিং’ করার বিষয়ে। তবে ইরান জোর দিয়ে বলছে যে, হরমুজ প্রণালিটি অন্যান্য জাহাজের জন্য খোলা আছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের মিত্রদের জাহাজের জন্য বন্ধ।

সারায়া আউলিয়া আল-দাম গ্রুপ তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে ঘোষণা করেছে যে, তারা বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ভিক্টোরি বেসে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে। সেখানে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ হামলার ফলে সেখানে বড় আকারে আগুন লেগেছে। ইরাকি কর্তৃপক্ষ বলেছে যে, রকেটগুলো নিকটবর্তী একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রকেও আঘাত করেছে।

ওদিকে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি তার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা হরমুজ প্রণালি ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব পুনরায় জোর দিয়েছেন। কোইজুমিকে ওই অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছেন হেগসেথ। আশ্বাস দিয়েছেন যে, ইরানের উপর যুদ্ধ জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর উপস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না। হেগসেথ আরও বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র জাপান জোটের প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা শক্তিশালী করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোইজুমি টোকিওর পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার ইচ্ছা জানিয়েছেন। 

ট্রাম্পের আলোচনার আহ্বান প্রত্যাখ্যান ইরানের, দুবাই বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দেবে চীন?

সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই চীন সফরের কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের। সেখানে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিরোধগুলো সমাধানের কথা রয়েছে। তবে সফরের আগেই আলোচনার জন্য নতুন শর্ত সামনে এনেছেন ট্রাম্প। তার চাওয়াÑ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক করতে বেইজিংকে সহায়তা করতে হবে।

কিন্তু চীনের কাছে ট্রাম্পের এই দাবিতে সায় দেয়ার তেমন কোনো প্রণোদনা নেই বলেই মত বিশ্লেষকদের।
বিশ্ব জ্বালানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ করে ইরান কার্যত বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আটকে দিয়েছে। এর ফলে তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে। ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর তেল সংকটের মুখে পড়ে ট্রাম্প এখন ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও বৃটেনসহ অন্যান্য দেশকে একসঙ্গে কাজ করে প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

চীনকে রাজি করাতে ট্রাম্প অতিরিক্ত চাপও দিচ্ছেন। রোববার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মাসের শেষ দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকের আগে তিনি জানতে চান চীন সহায়তা করতে রাজি কি না। তিনি বলেন, যদি এর কোনো স্পষ্ট উত্তর না পাওয়া যায়, তবে তিনি চীন সফর পিছিয়ে দিতে পারেন।

ট্রাম্প বলেন, যারা এই প্রণালি থেকে উপকৃত হয়, তাদেরই নিশ্চিত করা উচিত সেখানে কোনো সমস্যা হবে না। আমার মনে হয় চীনেরও সহায়তা করা উচিত।

তবে এই অনুরোধটি অস্বাভাবিক বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, ট্রাম্প কার্যত চীনের কাছে এমন একটি যুদ্ধে নিজেদের সামরিক সম্পদ ঝুঁকিতে ফেলার আহ্বান জানাচ্ছেন, যে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রই শুরু করেছে এবং যার লক্ষ্য বেইজিং-ঘনিষ্ঠ একটি দেশ। একই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক আলোচনাও স্থগিত করার হুমকি দিচ্ছেন।

অন্যদিকে এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চীন তুলনামূলকভাবে বেশি প্রস্তুত। গত কয়েক বছরে বেইজিং বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত করেছে, আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করেছে এবং বায়ু, সৌর ও বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, কিছু তেলবাহী ট্যাংকা কে প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার কথা বিবেচনা করছে ইরান। তবে শর্ত হচ্ছে যদি সেই তেলের লেনদেন চীনা মুদ্রায় করা হয়।

সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব এশিয়া ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বার্ট হফম্যান বলেন, চীন হয়তো বলবে, ঠিক আছে। অপেক্ষা করা যাক। কৌশলগতভাবে তারা যথেষ্ট নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে, তাই তাদের হাতে কিছুটা কৌশলগত সুযোগ রয়েছে।

যুদ্ধে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কর্মকর্তারা বলেছেন, এই যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। এর ফলে ট্রাম্প ঘোষিত বেইজিং সম্মেলনও আড়ালে চলে গেছে। একই সময়ে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন।
চীনের ভেতরে এই সংঘাতের খবর অনেক ক্ষেত্রে এক ধরনের তাচ্ছিল্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়ার সঙ্গেই এসেছে।
বেইজিংভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর চায়না অ্যান্ড গ্লোবালাইজেশনের সভাপতি হেনরি হুইয়াও ওয়াং বলেন, এই মুহূর্তে বিশ্বে ট্রাম্প অনেকটাই একা। কেউই সত্যিকার অর্থে তাকে সমর্থন করছে না। ইরান যুদ্ধের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে অস্থির করে তুলেছেন এবং এখন তিনি কঠিন পরিস্থিতিতে আছেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্যে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সহযোগিতার আহ্বান জানানো হলেও জাতীয়তাবাদী পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ধারণাকে তীব্র সমালোচনা করেছে।
একটি সম্পাদকীয়তে বলা হয়, এটি কি সত্যিই দায়িত্ব ভাগাভাগি- নাকি এমন একটি যুদ্ধের ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়া, যা ওয়াশিংটন শুরু করেছে এবং শেষ করতে পারছে না?

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের আহ্বানে কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের কূটনীতি যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ট্রাম্পের সম্ভাব্য সফর নিয়ে দুই দেশ যোগাযোগ রাখছে।
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অর্থনৈতিক কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে প্যারিসে কৃষি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ নিয়ে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে কয়েক দফা আলোচনা করেছেন।
চীনের সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্পের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে আরেকটি কারণে। চলতি বছরের শুরুতে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত রায় দেয় যে, সব বাণিজ্য অংশীদারের ওপর একতরফাভাবে শুল্ক আরোপ করে তিনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। এখন তার প্রশাসন একই ধরনের শুল্ক আরোপের অন্য পথ খুঁজছে।

হেনরি হুইয়াও ওয়াং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কম।


চীনের প্রভাব ও আঞ্চলিক কূটনীতি: ট্রাম্প ইতিমধ্যে সতর্ক করেছেন, যদি সদস্য দেশগুলো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বানে সাড়া না দেয় তবে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ খুবই খারাপ হতে পারে। তবে জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো মিত্র দেশগুলো এখন পর্যন্ত তাতে সাড়া দেয়নি।
ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার এবং তার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ায় চীনের পক্ষে ট্রাম্পের আহ্বানে সায় দেয়ার সম্ভাবনা আরও কম।
চীনা কর্মকর্তারা ইরানের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার সমালোচনাও করেছে, যার মধ্যে সৌদি আরবও রয়েছে।
যদিও বেইজিং হরমুজ প্রণালিতে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেয়ার সম্ভাবনা কম, তবু মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তাদের আগ্রহ রয়েছে। কারণ তেল সংকট থেকে চীন তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত হলেও এর প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়।
সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক জা ইয়ান চং বলেন, তবু এটি কষ্টদায়ক হবে। তারা চায় তাদের অর্থনীতি যেন স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে।
মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে বেইজিং। ২০২৩ সালে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের যে চুক্তি হয়েছিল, তার মধ্যস্থতাও করেছিল চীন।
চং বলেন, মধ্যপ্রাচ্য এমন একটি অঞ্চল যেখানে বেইজিং অনেক রাজনৈতিক বিনিয়োগ করেছে। তারা অবশ্যই স্থিতিশীলতা চায় এবং অঞ্চলে নিজেদের ভূমিকা তুলে ধরতে চায়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রচেষ্টার ওপর ছায়া ফেলছে। 

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দেবে চীন?

কীভাবে যুদ্ধে মানিয়ে নিতে হয়, দেখিয়ে দিচ্ছে ইরানের সামরিক বাহিনী

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরান যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে বলে দাবি করলেও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁরা বলছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মুখে ইরানি সামরিক বাহিনী তাদের রণকৌশল পরিবর্তন করছে।

১১ দিন আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থাগুলোকে নিশানা বানিয়েছে বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন।

মার্কিন সেনারা অবস্থান করছেন এমন সব হোটেলে হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। ইরাকের ইরবিলে একটি বিলাসবহুল হোটেলে ড্রোন হামলা চালিয়ে তারা প্রমাণ করেছে, পেন্টাগন তার সেনাদের কোথায় রাখছে, সে খবর তেহরানের কাছে আছে।

তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরান সম্ভবত বুঝতে পেরেছে, তারা সরাসরি শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমান হতে পারবে না। তবে এই ব্যাপক হামলার মুখেও টিকে থাকতে পারলেই তেহরান একে নিজেদের ‘বিজয়’ হিসেবে দাবি করতে পারবে।

কর্মকর্তারা আরও বলেন, ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল জায়গাগুলোতে আঘাত করছে। বিশেষ করে সেই ইন্টারসেপ্টর ও বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থাগুলোতে, যা এ অঞ্চলে মার্কিন সেনা ও সম্পদ রক্ষায় ব্যবহার হয়ে থাকে।

পেন্টাগনের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৭ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ১৪০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০৮ জন আবার কর্মস্থলে ফিরেছেন। অন্যদিকে ইরান সরকারের দাবি অনুযায়ী, তাদের দেশে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের প্রায় সবাই বেসামরিক নাগরিক। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পাল্টা হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।

গত বছরের জুনে ১২ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ভান্ডারে বড় ধরনের টান পড়েছিল। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের মোট ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ২০ থেকে ৫০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছিল।

জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির ইরান–বিশেষজ্ঞ ভ্যালি আর নাসর বলেন, ‘এটি খুবই আশ্চর্যের বিষয়, ইরান কত দ্রুত আগের যুদ্ধের শিক্ষা কাজে লাগাচ্ছে। তারা বুঝে গেছে, তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সীমাবদ্ধতা কোথায়।’

আর নাসর মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মজুত কমিয়ে দেওয়ার পর ইরান হয়তো আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালাতে পারে।

জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন স্বীকার করেন, ইরান তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

আগে ইরান সাধারণত হামলার আগে সতর্কবার্তা দিত বা কেবল সম্মান রক্ষার জন্য নামমাত্র হামলা চালাত। যেমন গত বছর ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ইরান কাতারের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার আগে সতর্কবার্তা দিয়েছিল।

তবে এবার তেমনটি ঘটছে না। সম্প্রতি তারা কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটির একটি অত্যাধুনিক আগাম হামলার সতর্কবার্তার রাডার ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি করেছে। এ ছাড়া কুয়েতের ঘাঁটি আরিফজান ও আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটির যোগাযোগ পরিকাঠামোতেও হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে ইরান তাদের সব ড্রোন হামলা ইসরায়েলের দিকে চালাত। কিন্তু এবার তারা কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন মিত্র ও সম্পদ লক্ষ্য করে হাজার হাজার সস্তা ড্রোন ছুড়ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গতকাল মঙ্গলবার স্বীকার করেন, প্রতিবেশীদের ওপর ইরানের এমন ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া তাঁরা প্রত্যাশা করেননি। তবে তিনি একে ইরানের ‘হতাশার বহিঃপ্রকাশ’ এবং ‘বড় ভুল’ বলে বর্ণনা করেছেন।

জেনারেল কেইন দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলার কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ৯০ শতাংশ এবং ড্রোন হামলা ৮৩ শতাংশ কমেছে।

তবে পেন্টাগনের ভেতরে এখনো উদ্বেগ রয়েছে, ইরানের সব ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র সম্পর্কে তাদের কাছে পরিষ্কার ধারণা নেই। ইরান হয়তো তাদের উন্নত ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বড় কোনো লক্ষ্যের জন্য জমিয়ে রেখেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের শুরুতেই সর্বোচ্চ নেতা নিহত হলেও ইরান ভেঙে পড়েনি। তারা এমনভাবে কাজ করছে, যা দেখে মনে হয় না যে তাদের নেতৃত্ব পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

ইরানের তিন সর্বোচ্চ নেতা। একটি ব্যানারে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে ছবিতে আরও আছেন প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি