Tuesday, October 20, 2009

ক্যামেলিয়া আছেই -স্মরণ by সুমনা শারমীন

ডাক্তারভীতি ছিল তাঁর। সেই ভীতি ভাঙালেন যে ডাক্তার, তাঁর চেম্বারেই পড়ে গিয়েছিলেন ক্যামেলিয়া। গত বছর এই ১৯ অক্টোবরেই। অতঃপর ল্যাবএইড হাসপাতাল। চিকিত্সকদের শেষ চেষ্টা এবং ক্যামেলিয়া পারভীনের চলে যাওয়া।
আমাদের ক্যামেলিয়া আপা। চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রাচ্যকলা বিভাগ থেকে বিএফএ এবং এমএফএ পাস করেছিলেন। চমত্কার গান গাইতেন। রংপুরে কেটেছে তাঁর শৈশব-কৈশোর। সে সময় রংপুর বেতারে শিশুশিল্পী হিসেবে গানও করতেন। খুব ভালো ব্যাডমিন্টনও খেলতেন। শুনেছি ক্যামেলিয়া আপার মা (গুলনাহার হামিদ) এবং মামাও (১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত কর্নেল জামিল) গান করতেন। কিন্তু যখনই বলেছি, ‘ক্যামেলিয়া আপা, একটা গান করেন না,’ মৃদু হেসে বলতেন, ‘আরে ধুর! আমি না। আমার বোন (কুমকুম মীর্জা) ভালো রবীন্দ্রসংগীত গায়।’ বাবা আবদুল হামিদ মৃধা ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
ক্যামেলিয়া আপা চলে যাওয়ার সপ্তাহ দুয়েক আগে আমরা একসঙ্গে বেড়াতে গেলাম কুমিল্লার বার্ডে। ক্যামেলিয়া আপার সেজো ভাই তখন সেখানকার মহাপরিচালক। চার ভাই চার বোনের মধ্যে ক্যামেলিয়া আপাই সবচেয়ে ছোট। বুঝতে একটুও অসুবিধা হয়নি, ছোট বোনটা ছিল খুবই আদরের ‘রত্না’। একসঙ্গে ঘুরে দেখেছি ময়নামতি বৌদ্ধবিহার, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরও রয়েছে বৌদ্ধ সভ্যতার নিদর্শন। ক্যামেলিয়া আপা বললেন, ‘কুটিলা মুড়াটা তোমরা অবশ্যই দেখবা। চমত্কার।’ আমরা একে-তাকে জিজ্ঞেস করে বার-কয়েক গাড়ির পাক খেয়ে খুুঁজে পেলাম কুটিলা মুড়া। গাড়িতে উঠে সবাই ধন্যবাদ দিচ্ছে ক্যামেলিয়া আপাকে, ‘আপনি না বললে দেখা হতো না।’
ক্যামেলিয়া এসএসসি পাস করেছিলেন এই কুমিল্লা থেকেই। মা মারা যান ১৯৮৬ সালে, তখন ক্যামেলিয়া চারুকলার ছাত্রী। ১৯৯০ সালে ক্যামেলিয়ার বিয়ে হয় শিশিরের সঙ্গে। শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য। আর ১৯৯৬ সালে জন্ম নেয় তাঁদের আদরের মেয়ে শ্রাবন্তী। ঢাকা শহরের কোনো গ্যালারিতে চলছে কোনো শিল্পীর প্রদর্শনী, চারুকলায় হচ্ছে বৈশাখের আয়োজন, অবধারিতভাবেই পাওয়া যাবে তিনজন মানুষকে—শিশির, ক্যামেলিয়া, শ্রাবন্তী।
একবার এক শীতে চার পরিবার মিলে গেলাম বেড়াতে সিলেটের লাউয়াছড়ায়। শিশিরভেজা শীতের সকালে সবাই কম্বল জড়িয়ে বাংলোর বারান্দায় এসে কুয়াশা দেখছে। ক্যামেলিয়া আপাও উঠে এলেন। দরজার চৌকাঠে হোঁচট খেয়ে ধপাস! দলের একজন রসবোধসম্পন্ন সঙ্গী বলে উঠল, সকাল থেকে কত শিশির পড়ল কোনো শব্দ নেই, ক্যামেলিয়া একবার পড়ল তাতেই কত শব্দ!
হাসির রোল উঠল। ক্যামেলিয়ার শুধু নিঃশব্দ হাসি। কী আশ্চর্য! ক্যামেলিয়া আপা চলে যাওয়ার আগে আমি কখনো ক্যামেলিয়া ফুলের গাছ দেখিনি। তাঁর মৃত্যুর বেশ কিছুদিন পর আমরা ১৩ জনের বড় একটি দল গেলাম শিলং, চেরাপুঞ্জি। শ্রাবন্তী, শিশিরদা সঙ্গেই। টাকা ভাঙাতে ব্যাংকে যাচ্ছি—শিশিরদা শ্রাবন্তীকে দেখায়, ‘এই দ্যাখ, এটাই ক্যামেলিয়া গাছ।’
রবীন্দ্রনাথের বাড়ি জিত্ভূমিতে ঢুকছি, গেটের পাশেই ক্যামেলিয়া গাছ। যেন ক্যামেলিয়া আপাও ছিলেন আমাদের সঙ্গে।
ক্যামেলিয়া আপাকে কতজন বলেছে, ছবি আঁকছেন না কেন, কাজ করেন, কাজ জমান, প্রদর্শনী করেন। তাঁর ওই এক কথা, ‘সময় পাই না, শ্রাবন্তীর পড়াশোনা দেখতে হয় যে!’ অথচ আজ বিকেল পাঁচটায় ঢাকার গ্যালারি চিত্রকে ক্যামেলিয়ার পরিবারের সদস্যারা, বন্ধুবান্ধব—সবাই যখন একসঙ্গে হবে ক্যামেলিয়ারই জন্য, তখন সেখানে স্থান পাবে ক্যামেলিয়ার কিছু চিত্রকর্ম। সেই তো হলো, শুধু ক্যামেলিয়া নেই। ক্যামেলিয়ার বন্ধু ছোটনা কিংবা জেমরিনা ভুলতে পারেন না ক্যামেলিয়ার কথা। ক্যামেলিয়াকে নিয়ে জেমরিনার লেখা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কৃষ্ণকলি। ক্যামেলিয়া আছেই।
ক্যামেলিয়া আপা, আপনি যে শ্রাবন্তীর লেখাপড়া নিয়ে সব সময় ব্যস্ত থাকতেন, দুশ্চিন্তায় থাকতেন, সেই শ্রাবন্তী শিলংয়ের একটি বোর্ডিং স্কুলে পরীক্ষায় প্রথম তিনজনের মধ্যে একজন হয়েছে। সেই শ্রাবন্তী গোটা স্কুলের মধ্যে ছবি আঁকায় দ্বিতীয় হয়েছে। নির্ভুল বানানে বাবাকে চিঠি দিয়েছে, তাও আবার ইংরেজিতে...।
এ কথা শুনে ক্যামেলিয়া আপা নিঃশব্দ হাসছেন আর বলছেন তাঁর চিরচেনা ভঙ্গিতে—তোমরা তো ভাবো সব এমনি এমনি হয়ে যায়। আমি তো শ্রাবন্তীর সঙ্গে থাকি ছায়ার মতো...তাই তো! শিলংয়ের ওই বোর্ডিং স্কুলের গেট দিয়ে ঢুকেই তো দেখা মেলে ক্যামেলিয়া গাছের...

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্তির শপথ -খাদ্য অধিকার by জোবাইদা নাসরীন

‘জাতীয় ঐক্য রুখবে দারিদ্র্য’—এই স্লোগান দিয়ে এবার শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য নিরসন দিবসের সূচনা। সেই সঙ্গে ১৭ অক্টোবর অধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ ওই দিনটিতেই দারিদ্র্যবিরোধী সমাবেশে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়ার শপথ নিয়েছে গোটা দেশ। দেশে এই প্রথম এ বিষয়ে এ ধরনের একটি শপথ নেওয়া হয়। সন্দেহ নেই, শপথটি অত্যন্ত আশাপ্রদ। শপথে বলা হয়, ‘আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে শপথ করছি—ক্ষুধা, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। আমরা ক্ষুধা, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব, ক্ষুধামুক্ত জাতি গড়ব। দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সব বাধা অতিক্রম করব। যত দিন বাংলাদেশ দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত হবে না, তত দিন আমরা আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমরা জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়বই।’
স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের বয়স প্রায় ৩৮ বছর। দীর্ঘ ৩৮ বছরেও বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করছে এবং দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হিসেবে এটিকে চিহ্নিত করতে হচ্ছে। শুধু দেশেই নয়, বাইরেও বাংলাদেশের ইমেজ উপস্থাপিত হয় ‘দরিদ্র দেশ’ হিসেবেই এবং প্রতিবছরই এই দরিদ্রদের জন্য খাদ্য ঘাটতি দূর করতে খাদ্য সাহায্য আসে বিদেশ থেকে। শুধু সরকারেই নয়, সরকারের বাইরেও বাংলাদেশে ২০ হাজারেরও অধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও এ দেশে দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প হাতে নিয়ে দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করার চেষ্টা করছে। যত দিন ধরে চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটি হিসাব করলে সহজেই বলা যায় যে এত দিনে দেশ দারিদ্র্যমুক্ত হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এর চিত্র উল্টো। দরিদ্রের সংখ্যা কমেনি, বরং অনেক মানুষ দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হচ্ছে। কোথায় যাচ্ছে এত প্রচেষ্টা? আমরা দারিদ্র্য মুক্তির লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছি না কেন? এই দারিদ্র্যের আসল কারণ কী? মূল সংজ্ঞায়নে আসলে কাদের দরিদ্র বলা হচ্ছে? কতভাবে মানুষ আসলে দরিদ্র হচ্ছে? এসব নানা প্রশ্ন দেখা দেওয়াই সংগত।
জাতীয় দারিদ্র্যসীমা জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখনো ৪০ শতাংশ অথবা ৬০ মিলিয়ন মানুষ দরিদ্র। তার মধ্যে ২৫ শতাংশ মাত্রাতিরিক্ত অর্থনৈতিক দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। এর পরের তথ্যটি আরও ভয়াবহ। ১০ শতাংশ মানুষ প্রতিবছর দুই বেলা অথবা এর চেয়ে কম খেয়ে মাসের পর মাস অতিবাহিত করে (সেন এবং হাম ২০০৬, তথ্যসূত্র http://www.chronicpoverty.org/page/chronic-poverty-in-bangladesh)| অর্থাত্ ৬০ মিলিয়ন দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কোটির হিসাবে দাঁড়ায় ছয় কোটি। আমরা যদি এটিকে মানুষের অধিকার ভোগের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখি, এই হিসাবটা হলো ১০ শতাংশ মানুষ পুরোপুরিভাবেই প্রধান মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। এখানে একটি বিষয় খুব পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন, কোনো রাষ্ট্রেই খাদ্যের অধিকার নাগরিকদের জন্য কোনো ধরনের সাহায্য কিংবা সুযোগের বিষয় হতে পারে না। এটি মানুষের প্রথম মৌলিক অধিকার। এটিই সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রকে। কিন্তু কেন মানুষ সেই অধিকারটুকু পাচ্ছে না, সে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা দরকার। মানুষের মৌলিক অধিকারহীনতা কোনো রাষ্ট্রের জন্য সুস্থ লক্ষণ নয় এবং সেখানে গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য নিরসনের ক্ষেত্রে দুটো বিষয় এসেছে। একটি ক্ষুধা, আরেকটি দারিদ্র্য। একটির সঙ্গে সরাসরি জড়িত মানুষের খাদ্যের মতো মৌলিক অধিকারের মতো কিছু বিষয়, এটি কখনো সাহায্য কিংবা নিরাপত্তা হতে পারে না। এগুলোর পার্থক্য বোঝা জরুরি। বিশ্বব্যাংকের ‘খাদ্য সাহায্য’ (Food Aid) কিংবা ‘খাদ্য নিরাপত্তা’ (Food Security) প্যাকেজটির সঙ্গে আত্মস্থতা আসলে আমাদের এই অধিকারের বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়াকেই বোঝায়। তাই অর্থনৈতিক দারিদ্র্যের কারণ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার, খাদ্য গ্রহণের অধিকার এবং খাদ্য সম্পর্কে তথ্য জানার অধিকারটিই। বাংলাদেশের সব মানুষ এই অধিকারটুকু ভোগ করতে পারছে কি না, না করলে কেন করতে পারছে না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। এবং তা জানার অধিকার সব মানুষের রয়েছে। সরকারের কাছে অনুরোধ, খাদ্য সহায়তাকে উত্সাহিত না করে এর পেছনের কারণ জেনে সেভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ বছরের স্লোগানটি ও শপথটি চমক এবং নানা কারণে নানা ধরনের আগ্রহ সৃষ্টি করলেও দুঃখজনকভাবে সত্য যে এটিতে কী প্রক্রিয়ায় দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা হবে, ক্ষুধামুক্ত করা হবে, সেই বিষয়ে কোনো ধরনের দিকনির্দেশনা নেই। এই ক্ষুধামুক্তির বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্যের ধরন এবং প্রক্রিয়ার বিষয়টিও অনুপস্থিত। যদিও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে জানা যায়, দারিদ্র্য নিরসনে তারা প্রতিটি পরিবারে একজনকে চাকরি দেওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও তাদের অঙ্গীকারের অংশ। কিন্তু দারিদ্র্য তৈরির নানা কারণকে কতটা সরকার গুরুত্ব দেবে সে বিষয়টির ওপর নির্ভর করছে ক্ষুধামুক্তি এবং দারিদ্র্য মুক্তি।
নানাভাবে দারিদ্র্য তৈরি হয়। সব দারিদ্র্যকেও একভাবে দেখা যাবে না এবং শুধু অর্থনৈতিক কারণ দিয়ে এটিকে ব্যাখ্যা করলে হবে না। অর্থনৈতিক কারণের সঙ্গে যুক্ত আছে আরও নানা কারণ। সামাজিক অসমতা এর একটি প্রধানতম কারণ। এই অসমতার উপাদান নানামুখী। মানুষের প্রতি মানুষের মর্যাদাহীনতাও একটি কারণ। দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক প্রান্তিকতা, সামাজিকভাবে অস্পৃশ্যতার দৃষ্টিভঙ্গি, এসব মিলেই বাংলাদেশে তীব্র দারিদ্র্য তৈরি হয়েছে।
দারিদ্র্যের ফলে সবচেয়ে বেশি প্রান্তিকতার শিকার হচ্ছে কৃষি মজুররা, বিধবা নারী, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সমর্থন না থাকা বয়স্ক নারী ও পুরুষ (বিশেষ করে যারা চর এলাকায় থাকে), পথশিশু, যাযাবর, নির্মাণশ্রমিক, যৌনকর্মী, অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, হরিজন, সুইপার, ঋষি, শব্দকর, কাওড়া, বেদে, প্রতিবন্ধী, হিজড়া, শরণার্থীসহ নানা মানুষ।
আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আছে, যা এ ক্ষেত্রে ভাবা প্রয়োজন। যেমন নারীর ক্ষুধামুক্তি এবং দারিদ্র্যকেও পৃথকভাবে দেখা প্রয়োজন। গৃহস্থালি খাদ্যবণ্টনের রাজনীতিতে নারীকে পুরুষের পরে খাদ্যগ্রহণ করা কিংবা সবার খাবার পর খাবার বাকি থাকলে সেটি গ্রহণ করার সামাজিক যে বোধ, তা নারীর ক্ষুধামুক্তির প্রশ্নে হুমকিমূলক। যার কারণে পুরুষের চেয়ে নারীর অপুষ্টির হার বেশি। এখানে সমাজের বৈষ্যম্যমূলক ও একপেশে পিতৃতান্ত্রিক মতাদর্শই সবচেয়ে বেশি দায়ী।
ঠিক একইভাবে পুরুষের দারিদ্র্যের সঙ্গে নারীর দারিদ্র্যকে একভাবে দেখলে হবে না। এ বিষয়ে আলাদা বিশ্লেষণও জরুরি। এই সংসদে যখন ৬৪ জন নারী প্রতিনিধিত্ব করেন একটি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে, সেখানে নারীর দারিদ্র্যকে ভিন্নভাবে পাঠ করা খুব বেশি কঠিন কাজ নয়। বলা হয়ে থাকে যে জীবন নির্বাহের সুযোগগুলো সীমিত হওয়ায় নারী হলো দরিদ্রের মধ্যে দরিদ্রতর। এটি অন্যদিকে পুরুষের ওপর নারীর অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতাকে প্রকাশ করছে। গৃহস্থালি আয় এবং ব্যয় জরিপ ২০০৫-এর তথ্য অনুসারে ২৯ দশমিক ১ শতাংশ তালাকপ্রাপ্ত এবং বিধবা নারীই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। বাংলাদেশে কৃষিভূমির মাত্র ৪ শতাংশেরও কম মালিকানা আছে নারীদের। এ থেকেই বোঝা যায়, নারীদের অবস্থা কতটুকু দরিদ্রতর। নারীর দরিদ্রতা কাটাতে না পারলে কোনোভাবেই দেশ দারিদ্র্যমুক্ত করা সম্ভব হবে না।
তবে আশার কথা হলো, এই দারিদ্র্য নিরসন দিবস থেকেই ঘোষণা এসেছে, ২০১০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত হবে। সে লক্ষ্যেই কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। এই অল্প সময়ের মধ্যে দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়া যাবে কি না তা আন্দাজ করা কঠিন। তবে আমরা অন্তত এটুকু আশা করি যে প্রতিটি মানুষের খাদ্যের অধিকারটুকু তার সরকারের আমলেই মানুষ ফিরে পাবে।
জোবাইদা নাসরীন: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
zobaidanasreen@gmail.com

বিলুপ্তির পথে ঐতিহাসিক নিদর্শন -সংরক্ষণ by এম সাখাওয়াত হোসেন

গত ২ অক্টোবর প্রথম আলোতে একটি বিশেষ প্রতিবেদন ‘বিলুপ্তির পথে ঐতিহাসিক বড় কাটরা’ প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর আরও কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা একই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এমনকি কয়েকটি চ্যানেলও বিশেষভাবে ঢাকার বড় কাটরার ওপর প্রতিবেদন দর্শকের সামনে উপস্থাপন করে। এসব প্রতিবেদন ছিল সংস্কৃতি ও ইতিহাসের প্রতি যত্নবান প্রতিটি মানুষকে নাড়া দেওয়ার মতো। প্রতিবেদন পড়ে এবং টেলিভিশনের পর্দায় দেখে অন্তত আমি তাগিদ বোধ করি, পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটরা ও বড় কাটরা দেখার জন্য। আমার মনে হয়েছিল, সত্যিই যদি অদূর ভবিষ্যতে এ স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ দখলের কারণে বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে আমার আফসোস থেকে যাবে, আমি এ দুটি স্থাপনা অতীতে চেষ্টা করেও দেখতে পারিনি। অতঃপর পুরান ঢাকার একসময়ের বাসিন্দা, যার আদি বাড়ি এখনো ওই স্থানে রয়েছে, আমার বিশেষ বন্ধু শিল্পপতি আমানউল্লার সৌজন্যে ৯ অক্টোবরে এ দুটি স্থাপনা দেখতে যাই।
এই ঐতিহাসিক স্থানগুলো দেখার আমার আগ্রহ একটু বাড়তি ছিল। কারণ চার মাস আগে ভারতের ১৫তম লোকসভার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে মোগলদের রাজধানী শহরদ্বয় আগ্রা ও দিল্লির ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানগুলো দেখার সুযোগ হয়েছিল। সফর শেষে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ আর ভ্রমণের ওপর ভিত্তি করে একটি পুস্তকের পাণ্ডুলিপিও শেষ করেছি। হয়তো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করতে পারব। পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করতে গিয়ে আমাকে উপমহাদেশের ইতিহাসের ওপর রচিত বেশ কিছু বই পুস্তক, ম্যাগাজিন আর গাইড বই পড়তে হয়েছে। আগ্রার তাজমহল, আগ্রা ও দিল্লির দুর্গ, শাহজাহানাবাদ দেখার অভিজ্ঞতা লিখতে গিয়ে ইতিহাসের পাতার কিছু অংশ আলোচনা করেছি। ওই আলোচনায় স্বভাবতই উঠে এসেছে সম্রাট শাহজাহান আর তাঁর চার পুত্র, দারাশিকো, শাহ সুজা, আওরঙ্গজেব আর মুরাদের নাম। সঙ্গে আলোচনা করেছি শাহজাদী জাহানারা আর রওশন আরার উপাখ্যান। আলোচনা করেছি সম্রাট শাহজাহানের জীবনের শেষাংশের দুঃখময় দিনগুলোর কথা। আলোচনা করেছি দিল্লির তথা আগ্রার মসনদ দখলের প্রচেষ্টায় রত শাহজাহানের চার পুত্র আর দুই কন্যার সংঘাতের বিষয়টি। ওই আলোচনায় উল্লিখিত হয়েছে তত্কালীন বাংলার সুবেদার বা গভর্নর, শাহজাহানের দ্বিতীয় পুত্র শাহ সুজার কথা।
আমি একপর্যায়ে তত্কালীন মোগল বাংলার রাজধানী ঢাকা বা জাহাঙ্গীরনগরের ঐতিহাসিক দলিলের খোঁজে আগারগাঁওয়ে স্থিত জাতীয় আর্কাইভেও গিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত সেখানে যেসব নথিপত্র রয়েছে তার সময়কাল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ১৭৩২ খ্রিষ্টাব্দ-উত্তর। মোগল বাংলার নথিপত্র নেই। হয়তো দিল্লির ভারতীয় জাতীয় আর্কাইভে আছে। এমনটা আমার কাছে মনে হওয়ার কারণ, ব্রিটিশ লেখক উইলিয়াম ডালরিম্পলের লাস্ট মোগল পড়ে জানলাম, দিল্লিতেই মোগল দরবারের নথিপত্র সংরক্ষিত আছে। মোগলদের সময়ের ঢাকার ওপরে লেখা মুনতাসীর মামুনের ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী-এর প্রথম খণ্ডে এ দুটি স্থাপনা সম্বন্ধে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। আরও তথ্য পাওয়া যায় ঐতিহাসিক জে এন সরকার আর আব্দুল করিম সাহেবের লেখায়।
যা-ই হোক, চকবাজারের বড় কাটরার সঙ্গে শাহ সুজার নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত তা বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদন মারফত পাঠকেরা জেনেছেন। শাহ সুজা মাঝের কিছু সময় ছাড়া ১৬৩৯ থেকে ১৬৬০ পর্যন্ত এ অঞ্চলের সুবাদার ছিলেন। তিনি বোধ করি একমাত্র মোগল শাহজাদা যিনি সরাসরি সুবে বাংলা শাসন করেছিলেন। তাঁরই তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছিল এ সুরম্য ভবন, যার নির্মাণশৈলী সম্পূর্ণভাবে ইন্দো-ইসলামিক-মোগল স্থাপনার বৈশিষ্ট্যের পরিচায়ক। একই ধরনের নির্মাণশৈলীর বহু নিদর্শন রয়েছে মূলত লাহোর, আগ্রা আর দিল্লিতে। এসব দেখতে আমরা বহু কসরত করে বহু অর্থের বিনিময়ে এসব শহর ভ্রমণ করি, অথচ উপমহাদেশের মোগল শাসকদের সবচেয়ে পূর্ব প্রান্তের মোগল শহর ঢাকায় এসব স্থাপনা সহজে দেখা সম্ভব হয় না। এখন হাতে গোনা যা ছিল সেগুলোও বিলুপ্তির পথে। এগুলো রয়েছে হয়তো অবৈধ দখলদারদের কবলে অথবা ক্ষমতাসীনদের যোগসাজশে দখল বৈধ করার প্রয়াসে।
শাহ সুজার পরাস্ত জীবনের শেষাংশও রচিত হয়েছিল এ পথেই। তিনি দিল্লিতে মসনদের দাবিদার হয়ে ঢাকা থেকেই বুড়িগঙ্গার পথে রওনা হয়ে প্রথমে দারাশিকোর বাহিনীর হাতে, পরে আওরঙ্গজেবের হাতে দারার পরাজয় ও প্রাণনাশের পর, ১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দে উত্তর প্রদেশের যুদ্ধে শেষবারের মতো পরাজিত হন। ওই যুদ্ধে পরাজয়ের পর শাহ সুজা তাঁর পরিবার ও অনুসারীদের নিয়ে পুনরায় বাংলায় ফিরে আসেন। তবে তিনি সুবে বাংলায় আর আধিপত্য কায়েম করতে পারেননি। আওরঙ্গজেবের সিপাহসালার মীর জুমলার বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হওয়ার আগেই তিনি ঢাকা ত্যাগ করে তত্কালীন নোয়াখালীর ভোলার নদীপথ হয়ে আরাকানের রাজধানী মরোহংয়ে পৌঁছান। তিনি ঢাকায় পৌঁছেছিলেন ১২ এপ্রিল ১৬৬০ এবং ৬ মে ১৬৬০-এ ঢাকা ত্যাগ করে ১২ মে ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে নোয়াখালীর নদীপথে আরাকানের রাজার জাহাজে চড়ে প্রথমে মক্কা শরিফ এবং পরে তুরস্কে যেতে আগ্রহী হলেও সমুদ্রের খারাপ আবহাওয়ার কারণে যেতে না পেরে অবশেষে তাঁর পরিবারসহ আরাকানের রাজার স্মরণাপন্ন হন। আরাকানেই কয়েক বছর বাস করার পর, রাজার সৈনিকদের হাতে পরিবারসহ নিহত হন। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরাকান রাজার উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মতবাদ রয়েছে। সুজার পরিবার নিহত হওয়ার পর তাঁর কিছু অনুসারী আরাকানের বিভিন্ন অঞ্চলে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন। হয়তো তাঁদের বংশধররা এখনো আরাকানেই আছেন।
যেহেতু বড় কাটরার ইতিহাস শাহ সুজার জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, সে কারণেই আমি যত্সামান্য পটভূমি আলোচনা করলাম। মুনতাসীর মামুন তাঁর রচিত পূর্বোল্লিখিত বইয়ের প্রথম খণ্ডের ১৬৫-১৬৮ পৃষ্ঠায় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন বিধায় এখানে বিষদভাবে উল্লেখ করলাম না।
আমি বড় কাটরার বর্তমান অবস্থা দেখতে গিয়ে প্রবেশপথের বিশাল আকারের দরজার শীর্ষে চড়ে বুড়িগঙ্গাসহ পুরান ঢাকার এ অংশটুকু দেখেছি। অনুরূপভাবে ছোট কাটরার শীর্ষেও চড়েছিলাম। ছোট কাটরা বানিয়েছিলেন আওরঙ্গজেবের নিয়োজিত বাংলার সুবাদার মীর্জা আবু তালেব ওরফে শায়েস্তা খাঁ। তাঁর সময়কেই সুবে বাংলার স্বর্ণযুগ বলা হয়ে থাকে।
আলোচ্য দুটি স্থাপনাই এখন বিলুপ্তির পথে। এ বিলুপ্তি শুরু হয়েছিল ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে, উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ নামে খ্যাত সিপাহি বিদ্রোহের পর হতে। তত্কালীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিং উপমহাদেশ থেকে মুসলিম তথা মোগল ঐতিহ্যকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন। এমনকি তিনি দিল্লির শাহজাহানাবাদ, বর্তমানের পুরান দিল্লি মাটির সঙ্গে গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। সেই থেকে মোগলদের স্থাপনা, বিশেষ করে ইন্দো-ইসলামিক স্থাপনা, সমাধি সৌধ, বহু মসজিদ এবং মন্দির ধ্বংস করার ইতিহাস রচিত হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে হয়তো পরবর্তীকালে ব্রিটিশ-ভারত সরকার ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে বড় কাটরাকে মাদ্রাসায় পরিণত করতে হাফেজ মোহাম্মদকে দিয়ে থাকতে পারেন (প্রথম আলো, অক্টোবর ২, ২০০৯)। এখানে প্রশ্ন থাকে, মোগলদের স্থাপনা যা পর্যায়ক্রমে সরকারের হাতে থাকার কথা, তা ব্যক্তির নামে দেওয়া আইনসংগত ছিল কি না। দেওয়া হলে তার দালিলিক প্রমাণ অবশ্যই থাকবে। এ বিষয়ে হয়তো জাতীয় আর্কাইভে দলিলাদি খোঁজ করলে পাওয়া যেতেও পারে। আমি নিজেও বর্তমানের বড় কাটরার মাদ্রাসায় কয়েকজনকে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করে সদুত্তর পাইনি। সবচেয়ে দুঃখজনক, যেভাবে এ এলাকা, বিশেষ করে স্থাপনাগুলো দখল হয়েছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। দেখলে মনে হয় দেশটি লুটপাট আর দখলদারির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। বড় কাটরার এককালের সুরম্য উঁচু দরজার ওপরের অংশে পাটাতন দিয়ে একটি কারখানা স্থাপন করা হয়েছে, যা যেকোনো সময়ে ভেঙে পড়তে পারে। এ রকম আশঙ্কার কথা আমাকে স্থানীয় জনগণই জানিয়েছে। অনেকে দুঃখ করে বলেছে, কোনো সরকারই এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখার প্রয়াস নেয়নি, অথচ অন্তত এ দুটি জায়গা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, সরকারের উচ্চপর্যায় এবং আদালতের হস্তক্ষেপে এখনো উদ্ধার করে সংস্কার করা সম্ভব। প্রয়োজনে সরকারের অনুরোধে ইউনেস্কোও এগিয়ে আসতে পারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ পুরাকীর্তি দুটি সংরক্ষণে।
আমি ভারতের বহু শহরে বহু ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি ইউনেস্কো কর্তৃক ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা দেখেছি এবং এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন সংস্কারের জন্য প্রচুর অর্থ জোগান দিয়েছে ইউনেস্কো। এমনকি দিল্লির বহু মোগল নিদর্শন ‘আগাখান ফাউন্ডেশন’ সংরক্ষণের জন্য অর্থায়ন করেছে। এমন একটি স্থাপনা হচ্ছে দিল্লির সম্রাট হুমায়ুনের সমাধিসৌধ। ভারতের সর্বোচ্চ আদালতও স্ব-উদ্যোগে বেশ কিছু বিখ্যাত নিদর্শন ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। এমনই একটি উদাহরণ আগ্রার তাজমহল। তাজমহলকে রাসায়নিক দূষণের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে আগ্রা থেকে সব বৃহত্ শিল্প-কারখানা সরিয়ে নিতে যে রায় উচ্চ আদালত দিয়েছিলেন তা উত্তর প্রদেশ সরকারকে বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করেছে। আগ্রায় বর্তমানে কোনো ভারী শিল্প-কারাখানা নেই। এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল ভারতের পরিবেশবাদীরা।
আমি কোনো ঐতিহাসিক নই, তবে ইতিহাস আমাকে সব সময়ই বিমোহিত করেছে। আমি বড় কাটরা আর ছোট কাটরার বর্তমান অবস্থা দেখে অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছি। এমনই নির্বোধ জাতি আমরা যে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিও আমরা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারছি না। মাত্র কয়েক মাস আগে পত্রিকায় পড়েছি যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শহীদ কর্নেল কাদেরের কবরের স্থানে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে। আমরা জাতি হিসেবে কি এতই দীন যে আমরা আমাদের ঐতিহ্য আর ইতিহাসকে ধরে রাখতে পারব না? এগুলো দখলদারদের হাতে ছেড়ে দিয়ে নীরব দর্শক-শ্রোতা হয়ে থাকব?
সত্য কথা বলতে, আমি অত্যন্ত অপরাধবোধ নিয়েই প্রথমবারের মতো এ দুটি স্থাপনা দেখতে গিয়ে নিজেকে আরও অপরাধী মনে করছি। আমার দুঃখের কারণ ছিল যে আমি নেপোলিয়ানের বিয়ার টেবিল, যে টেবিলে বসে বেলজিয়াম আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন, দেখতে সুদূর জার্মানির ডুসেলডর্ফ শহরে এবং রাতের অন্ধকারে ‘বন’-এর অদূরে ‘রামাগামব্রিজ’ যে ব্রিজ বা পুল নিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে তৈরি হয়েছিল হলিউডের সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র এ ব্রিজ টু ফার দেখতে যেতে পারলাম, অথচ ঢাকায় বাস করেও ইতিপূর্বে এ দুটি ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখতে পারিনি। তবু সান্ত্বনা, অনেক দেরিতে হলেও সম্পূর্ণ বিলুপ্তির আগে দেখতে গিয়েছিলাম। অবশ্যই এর জন্য প্রথম আলোসহ অন্যান্য পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ধন্যবাদের দাবিদার। আমি তাদের জনসচেতনা বাড়ানোর প্রয়াসের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
যে জাতি ইতিহাস সংরক্ষণ করতে পারে না সে জাতি অনেক বেশি দীন। আমাদের ঐতিহ্য আর ইতিহাস রক্ষার দায়িত্ব যারা নিজ কাঁধে নিয়েছেন তাঁদের কাছে আমার অনুরোধ, তারা যেন এক্ষণি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন এসব স্থাপনা রক্ষার জন্য। ইতিহাস রক্ষা করার জন্য কোনো মূল্যই বেশি নয়। এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন যদি রক্ষা করতে না-ই পারা যায়, তাহলে ঢাকার ৪০০ বছর উদ্যাপন করে আমরা কতখানি লাভবান হব!
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন: নির্বাচন কমিশনার।

জনশক্তি রপ্তানি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ চাই -সৌদির শ্রমবাজারে অশনিসংকেত

ভুয়া চাহিদাপত্রের মাধ্যমে সৌদি আরবে গিয়ে অসংখ্য বাংলাদেশি শ্রমিক মহা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। এ বছর জানুয়ারি থেকে সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। এর পরও জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে এ বছর প্রায় ১২ হাজার লোক সৌদি আরব গেছেন, যাঁদের অনেককেই দেশে ফিরে আসতে হয়েছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে কীভাবে এই বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক সৌদি আরবে পৌঁছালেন, সেটাই বড় প্রশ্ন। বিশ্বমন্দার কারণে যখন বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে পড়ছে, তখন এ ঘটনা বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতের জন্য এক বিরাট অশনিসংকেত।
বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। কিছু রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কারণে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। জনশক্তি রপ্তানিকারক যেসব প্রতিষ্ঠান এই অপতত্পরতার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখে লাইসেন্স বাতিল করাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার রক্ষা করার বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে শ্রম, কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আরও গতিশীল ভূমিকা প্রত্যাশিত।
বাংলাদেশের শ্রমবাজার যেসব দেশের ওপর নির্ভরশীল, তাদের প্রধানতম হচ্ছে সৌদি আরব। দীর্ঘদিন ধরে ওই দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকেরা নানা ধরনের সমস্যার শিকার। এর পরও তাঁরা বিভিন্ন প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছেন এবং দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন। কিন্তু প্রবাসী শ্রমিকদের দেখভালের ব্যাপারে কোনো সরকারকেই তেমন মনোযোগী হতে দেখা যায় না। প্রথমত, জনশক্তি রপ্তানিকে কেন্দ্র করে দেশে নানা ধরনের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, প্রতিনিয়ত বহু মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, সরকার দেশের বাইরে একটি টেকসই ও বিকাশমান জনশক্তির বাজার গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে জনশক্তি রপ্তানি ও প্রবাসী-আয় নিয়েও দিন দিন উদ্বেগ বাড়ছে।
জনশক্তি রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি বিদেশি মুদ্রা অর্জন করে থাকে। এ খাতে কোনো ধরনের বিপর্যয় বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলতে পারে। সরকারের উচিত হবে একটি সুচিন্তিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। প্রতিযোগিতাময় বিশ্বে একবার পা ফসকালে তা থেকে উদ্ধার পাওয়া খুবই দুরূহ। তাই এখনই সরকারের সতর্ক হওয়ার বিকল্প নেই।

কথা নয়, দরকার মহাপরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়ন -ঢাকার চারপাশে বিপন্ন নদী

স্বীকারোক্তি অনেক সময় অক্ষমতাজনিত বাধ্যবাধকতা হতে পারে, কেবল হুঁশিয়ারি কখনো বাস্তব কাজের প্রয়োজনকে খাটো করে দিতে পারে। ঢাকার চারটি নদীকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ বলে সরকারের ঘোষণা এমন মনে না করার কারণ আছে কি? জনদাবি ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনার চাপে সংকটের কথা স্বীকার করা হলো, কিন্তু সংকট কাটানোর জরুরি মহাপরিকল্পনা এল না, এটা কেমন দায়িত্বশীলতা? সমস্যার ভয়াবহতা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করাকে মন্দের ভালো ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। ন্যূনতম প্রত্যাশা হলো প্রতিকার। প্রশ্নটা নদী বাঁচানোর এবং নদী না বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে না।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক প্রতিবেদন অনুসারে, দেশের ১৭টি নদী মরে গেছে, আরও আটটি মরোমরো। এর মধ্যে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যাকে প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন হিসেবে স্বীকার করা হলেও ইছামতী, কালীগঙ্গা ও বংশী নদীর উল্লেখ থাকা প্রয়োজন ছিল। দ্বিতীয়ত, এগুলোর কোনো কোনোটির খাত ও জলপ্রবাহ যে রকম হুমকির মুখে, তাকে শুধু ‘প্রতিবেশগত বিপর্যয়’ বললে কম বলা হয়। দখল-দূষণ-ভরাট হতে হতে এগুলোর অস্তিত্বই আজ হুমকির মুখে। এ কঠিন বাস্তবতাকে জোরালোভাবেই স্বীকার করা এবং দৃঢ় প্রতিকারই জরুরি কর্তব্য। কিন্তু সরকার মনে হয় ঘোষণার আওয়াজ দিয়েই খালাস।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নিজেও নদী বাঁচানোর প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনও বিভিন্ন সময় বিপন্ন নদীসহ বেদখল হওয়া ঢাকার ৫২টি খাল এবং দেশের ১৬৫টি নদ-নদী রক্ষার জন্য আন্দোলন করে আসছে। এর আগে অনেকবার নদীতীরের অবৈধ দখল উচ্ছেদের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই সেই জায়গাগুলো পুনর্দখল ও পুনর্ভরাট হতে দেখা গেছে। যত দিন উচ্ছেদ আর দখলের এই চোর-পুলিশ খেলা বন্ধ না হবে, নদীতীর স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা না যাবে, তত দিন নদী নিরাপদ হবে না। সরকারিভাবে পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ১৩টি মন্ত্রণালয় ও ৪০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান। নদী বাঁচাতে এগুলোর সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনাই হওয়া উচিত প্রথম পদক্ষেপ। প্রয়োজনে নদী-রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে।
২০০৩ সালে ঢাকার নদীদূষণের কারণ হিসেবে ৩৬টি শিল্প-কারখানাকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এরই মধ্যে এ সংখ্যা ও দূষণের মাত্রা কয়েক গুণ বেড়েছে। দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগেরই দূষণ দূর করার শোধনাগার নেই। হাজারীবাগের ট্যানারি-শিল্প এখনো বুড়িগঙ্গায় বিষ ঢেলে যাচ্ছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা ঘোষণার ব্যাপার নয়, করে দেখানোর কাজ। পানির দেশ বাংলাদেশকে পানিহীনতা থেকে বাঁচাতে হলে কেবল জনসচেতনতায় কাজ হবে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণ নয়, ক্ষমতাবান লোকেরাই দখল ও দূষণের জন্য দায়ী। তাদের ঠেকানো ও শাস্তি দেওয়া ছাড়া কাজের কাজ হওয়া কঠিন।
যে কায়েমি মহল নদী দখল ও দূষণের জন্য দায়ী, তারা শক্তিমান। তাদের দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে কিছু উচ্ছেদ অভিযান কিংবা সতর্কতা জারি সমুদ্রে ঢিল ছোড়ার মতোই অর্থহীন। আর এমনটা হোক তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সর্বনাশের ষোলকলা যখন পূর্ণ হচ্ছে, প্রতিকারে তখন সর্বশক্তি নিয়োগ না করা অন্যায়।

মহারাষ্ট্রের থানেতে ছয় দমকলকর্মীর মৃত্যু- আতশবাজি ফাটানোর জের

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের থানেতে একটি বহুতল বাড়ির আগুন নেভাতে গিয়ে ছয়জন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে দীপাবলি উপলক্ষে আতশবাজি ফাটানোর জেরে ওই আগুন লাগে।
গুনথানের তারাঙ্গন আবাসিক এলাকার ‘পুনর্বসু’ হাউজিং কমপ্লেক্সের ১৪ তলায় গতকাল ভোরে আতশবাজির ফুলকি থেকে আ লাগে। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় দমকল বাহিনীকে। দমকল বাহিনী আগুন নিভিয়ে ফেরার পথে লিফটে নামতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে লিফটের মধ্যেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়।
এদিকে পটকা ফাটানোর ওপর কলকাতায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শনিবার রাতে কলকাতার সর্বত্র ব্যাপক পটকা ফাটানো হয়েছে। পুলিশ শনিবার রাতেই কলকাতার বিভিন্ন স্থান থেকে পটকা ফাটানোর অভিযোগে ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে একজন চিকিত্সকও রয়েছেন।

মার্কিন বিমানকে অবতরণে বাধ্য করল ভারত

অনুমতিসংক্রান্ত জটিলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানকে মুম্বাইয়ে অবতরণে বাধ্য করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল রোববার ভারতীয় বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের নির্দেশে ২০৫ জন মার্কিন মেরিন সেনাবাহী বিমানটি মুম্বাইয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ভাড়া করা মার্কিন বিমানটি সংযুক্ত আরব-আমিরাতের ফুজাইরাহ থেকে ব্যাংককে যাচ্ছিল।
বিমানবাহিনীর মুখপাত্র টি কে সিংহা বলেন, ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না থাকায় মার্কিন বিমানটিকে অবতরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করার সময় যাত্রীরা বিমানের ভেতরেই অবস্থান করেন।
সিংহা জানান, ‘ভারতীয় আকাশসীমা ব্যবহার করার জন্য বিদেশি বিমানগুলোকে দুই ধরনের ছাড়পত্র নিতে হয়। মার্কিন বিমানটি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিলেও অন্য আরেকটি (এয়ার অপারেশন রাউটিং-এওআর) ছাড়পত্র সংগ্রহ করেনি।’

স্পেনের মাদ্রিদে গর্ভপাতের বিরুদ্ধে বিশাল সমাবেশ

স্পেনের মাদ্রিদে ১০ লক্ষাধিক মানুষ গত শনিবার গর্ভপাতবিরোধী এক সমাবেশ করেছে। সরকার সম্প্রতি গর্ভপাত নিয়ে বিতর্কিত একটি আইন সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশের লোকজন রাজপথে নেমে আসে। বিরোধী মধ্য-ডানপন্থী কয়েকটি রাজনৈতিক দল শনিবারের ওই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। এ আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দিচ্ছেন রোমান ক্যাথলিক বিশপ।
গর্ভপাত বিষয়ে সোশ্যালিস্ট প্রধানমন্ত্রী হোসে লুইস রুদরিগুয়েজ সাপাতেরোর সরকার ওই আইনের খসড়া ইতিমধ্যে তৈরি করেছে। গত মাসে মন্ত্রিসভা ওই আইন অনুমোদন করেছে। আগামী মাসে এ নিয়ে পার্লামেন্টে বিতর্ক হবে।
ক্যাথলিক স্পেনের বর্তমান আইনে কোনো নারী বিশেষ পরিস্থিতিতে শুধু গর্ভপাত ঘটাতে পারে। প্রস্তাবিত নতুন আইনে ১৬ থেকে ১৭ বছরের যেকোনো মেয়ে নিজের অভিভাবককে না জানিয়ে গর্ভপাত ঘটাতে পারবে।
শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নিতে এসব মানুষ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাস ও বিমানে করে মাদ্রিদে গিয়ে জড়ো হয়। আয়োজকেরা জানায়, এদিন কমপক্ষে ১৫ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মাদ্রিদে নেওয়ার জন্য ওই দিন ৬০০ বাস ও বেশ কয়েকটি বিমান ব্যবহার করা হয়। ‘নারী ও মাতৃত্বের জন্য জীবন’, ‘সব জীবনই গুরুত্বপূর্ণ’ লেখা স্লোগানসংবলিত বিভিন্ন ব্যানার বহন করে বিক্ষোভকারীরা।
‘ফোরাম ফর দ্য ফ্যামিলি’ নামের এ আয়োজক সংস্থার প্রধান বেনিগনো ব্ল্যাঙ্কো বলেন, আজ এ বিক্ষোভে যারা অংশ নিয়েছে, তারা জীবন রক্ষার লড়াইয়ে শরিক হয়েছে। যারা আমাদের শাসন করছে, তাদের রাজপথের এ উচ্চারণ শুনতে হবে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৬৭ বছর বয়সী হোসে কারলোস বলেন, এ ধরনের আইন করা বর্বরতা ছাড়া কিছুই নয়। সরকার পশুপাখি রক্ষায় যতটা সোচ্চার, মানবশিশু রক্ষার ব্যাপারে ততটাই উদাসীন।

এলটিটিইর অর্থের জোগানদাতা মার্কিন ধনকুবের!

শ্রীলঙ্কার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলমকে (এলটিটিই) তহবিল সরবরাহের অভিযোগ আনা হয়েছে মার্কিন ধনকুবের রাজ রাজারত্নমের বিরুদ্ধে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ খবর জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে অবৈধভাবে লেনদেন করার অভিযোগে সে দেশের বৃহত্ হেজ ফান্ড গ্যালিওন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রাজ রাজারত্নম এবং আরও পাঁচজনকে গত শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, রাজারত্নম এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী আরও কয়েকজন ধনী ব্যক্তি শ্রীলঙ্কান একটি দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে এলটিটিইর জন্য অর্থ পাঠাতেন। শ্রীলঙ্কার উত্তরে একটি স্বাধীন তামিল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে লড়াইরত এলটিটিই গত মে মাসে সে দেশের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে হেরে যায়।
তবে রাজ রাজারত্নমের আইনজীবী জিম ওয়ালডেন দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেল নির্দোষ এবং এই অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়বেন তিনি। জিম ওয়ালডেন আরও বলেন, ২০০৪ সালে সুনামিতে শ্রীলঙ্কায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের পুনর্বাসনের জন্য রাজ রত্নম কিছু অর্থ দান করেছিলেন। তিনি এলটিটিইর সঙ্গে জড়িত নন।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা রাজারত্নম ও অন্য পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুই কোটি ডলারের অবৈধ মুনাফা অর্জনের অভিযোগ এনেছেন। গুগল, হিলটন হোটেল ও এএমডির মতো আন্তর্জাতিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরের তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহের পর তা কাজে লাগিয়ে ব্যবসা করে তাঁরা এ মুনাফা করেছেন। মার্কিন সাময়িকঅ ফোর্বস বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনীদের তালিকায় রাজারত্নমকে রেখেছে এবং হিসাব দিয়েছে, তাঁর ১৩০ কোটি ডলারের সম্পদ আছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানিয়েছে, আলাদা একটি সন্ত্রাসবাদের ঘটনার তদন্তে এফবিআইয়ের গোয়েন্দারা আরও আটজনের বিরুদ্ধে এলটিটিইর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে। তামিল রিহ্যাবিলিটেশন অর্গানাইজেশন বা টিআরও ইউএসএ নামের ওই মার্কিন দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে এসব অভিযুক্ত ব্যক্তি এলটিটিইকে অর্থের জোগান দিতেন।

‘আমাদের স্কুলেযেতে দাও’

হঠাত্ বিস্ফোরণ, আগুন, ধোঁয়ার কুণ্ডলী, ধ্বংসস্তূপ। চারদিকে চিত্কার। এখানে-সেখানে রক্তের ছোপ, খণ্ডিত মাংস। বাঁচাও বাঁচাও বলে আকুতি। বীভত্স সব ঘটনা। সেই সঙ্গে দারিদ্র্যের কশাঘাত এসবের মধ্যেই বসবাস গাজা ভূখণ্ডের কোমলমতি শিশুদের। একদিকে ক্ষুধা আর অন্যদিকে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর হাতছানি। এর মধ্যেও শিশুরা শিক্ষা চায়। তারা জানে, শিক্ষা নেওয়ার অধিকার তাদেরও আছে। তারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে চায় না।
ইসরায়েল গত জানুয়ারি মাসে গাজা ভূখণ্ডে সেনা অভিযান চালায়। এতে ৪০০ মানুষ নিহত ও এক হাজার ৮০০ আহত হয়। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ড শিশুদের কোমল হূদয়ে যুদ্ধের ভীতি ঢুকিয়ে দিয়েছে। শিশুরা ওই দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারছে না। যুদ্ধে তাদের কেউ বাবা-মা, কেউ ভাইবোন, বন্ধু, স্বজন হারিয়েছে। গোলার আঘাতে উড়ে গেছে তাদের কারও বসতঘর, প্রিয় স্কুল। তাই কোনোভাবেই তারা স্বাভাবিক হতে পারছে না।
নয় বছরের শিশু হুদা এলিয়েন। জানুয়ারিতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাদের বসতবাড়িটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলায় তার কয়েকজন স্বজন নিহত হয়েছে। হুদার বাবা আমির এখন আতঙ্কিত। কারণ সামনেই শীত। ওই সময় শীতের হাত থেকে বাঁচতে ঘর মেরামতের সামর্থ্যও তাঁর নেই। তিন বছর ধরে তিনি কাজ করতে পারছেন না। গাজা সীমান্তে ইসরায়েল কড়াকড়ি আরোপ করায় তিনি যে অন্যত্র গিয়ে কাজ করবেন, তাও পারছেন না। আমিরের বুকভরা আশা, ছেলে হুদা দারিদ্র্য ও যুদ্ধকে জয় করে স্কুল পাস করবেই। এরপর হয়তো ইচ্ছা থাকলেও তিনি আর ছেলেকে পড়ালেখা করাতে পারবেন না। জানালেন, ‘স্কুল পাসের পরই ভাইবোনের সঙ্গে পরিবারের আয়-উপার্জনে নেমে পড়তে হবে হুদাকে।’
মাহমুদ জাকুত নামে আরেক শিশু জানায়, সে শিক্ষা চায়। কিন্তু ইসরায়েলিরা তা করতে দিচ্ছে না। তারা বোমা মেরে স্কুল উড়িয়ে দিয়েছে। জাকুত বলে, ‘আমরা নিষ্পাপ। ইসরায়েলিরা কেন আমাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে? ইসরায়েলি শিশুদের মতো আমাদেরও তো স্কুলে যাওয়ার অধিকার আছে।’
গাজার শিশুরা অবশ্য জানে, শিক্ষা নিয়েও খুব বেশি একটা ফায়দা হবে না তাদের। কারণ, গাজায় চাকরির সুযোগ নেই। এখানে প্রায় সবাই বেকার। গাজা থেকে পালিয়ে অন্যত্র গিয়ে চাকরি, তাও সম্ভব নয়। কারণ ইসরায়েল ও মিসরীয় সেনারা গাজা সীমান্ত অতিক্রম করতে দেয় না। তাই অবরুদ্ধ গাজায় দুঃসহ জীবনই তাদের সঙ্গী।
১৭ জানুয়ারি ইসরায়েল ফসফরাস বোমা মেরে গাজার বেইতলাহিয়া এলিমেন্টারি নামের স্কুলটি ধ্বংস করে দেয়। জাতিসংঘ স্কুলটি চালাচ্ছিল। সেখানে যুদ্ধবিধ্বস্ত লোকজন আশ্রয় নিয়েছিল। জাতিসংঘ বারবার বলেছিল, সেখানে জঙ্গি নেই। কিন্তু ইসরায়েল বলেছে, ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের হাত থেকে ইসরায়েলি সেনাদের নিরাপত্তায় তারা সেখানে হামলা চালিয়েছে। জানুয়ারিতে ইসরায়েলি হামলায় কম করে হলেও গাজার ২৮০টি স্কুল ধ্বংস হয়েছে। শুধু ইসরায়েলের হামলায় নয়, গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অভ্যন্তরীণ সহিংসতারও শিকার এখানকার শিশুরা।
কিছু স্কুল কোনোমতে মেরামত করে রং করেছে গাজার লোকজন। কিন্তু তারা তাদের সন্তানদের মন থেকে যুদ্ধের দুঃসহ স্মৃতি মুছতে পারেনি। হাজার হাজার শিশু মানসিক অসুস্থতায় ভুগছে। জাতিসংঘ পরিচালিত একটি স্কুলের শিক্ষক হাল্লা আবেয়া যেমনটা বলছিলেন, ‘শিশুরা লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে পারে না। তারা মনস্তাত্ত্বিকভাবে এবং সামাজিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।’ শিশু হুদা জানায়, সে স্বপ্নে ফসফরাস বোমা জ্বলতে দেখে। ইসরায়েলিরা আবার ধেয়ে আসছে, তাদের ওপর বোমা ফেলছে। শিশুরা ঠিকই স্কুলে আসে, খেলাধুলাও করে; কিন্তু তারা কিছুতেই যুদ্ধের বীভত্স স্মৃতি ভুলতে পারে না।
ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলিদের অনেকেই জানায়, ‘জানুয়ারির যুদ্ধ ঠিকই শেষ হয়েছে, কিন্তু এটাই শেষ নয়। আসলে গাজায় জন্ম নেওয়া মানেই শিশুদের যুদ্ধের সঙ্গে বেড়ে ওঠা।’—বিবিসি অবলম্বনে মনিরুল ইসলাম

দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে সেনা-জঙ্গি তুমুল লড়াই, নিহত ৬০

পাকিস্তানের দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে তালেবান ও আল-কায়েদা জঙ্গিদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর তুমুল লড়াই চলছে। পাকিস্তানি সেনারা গত শনিবার ওই এলাকায় জঙ্গি নির্মূলে সর্বাত্মক স্থল অভিযানে নামে। গতকাল রোববার অভিযানের দ্বিতীয় দিন সেখানে জঙ্গিদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। সেনারা আফগান সীমান্তবর্তী পার্বত্য ওই এলাকায় তিন দিক থেকে হামলা শুরু করে। গতকাল দুপুরে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে ৬০ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে সেনাবাহিনী দাবি করেছে।
গতকাল সেনাবাহিনী জঙ্গিদের অবস্থানের ওপর ভারী অস্ত্রের গোলা বর্ষণ করে। সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাসদরসহ কয়েকটি স্থানে একের পর এক জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় দেড় শতাধিক লোক নিহত হয়। এরপরই সরকার সর্বদলীয় বৈঠক করে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সেনা নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়। রাজনৈতিক দলগুলো জঙ্গি নির্মূলে সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দেয়।
গতকাল দ্বিতীয় দিনের অভিযানে সেনারা দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে তিন দিক দিয়ে হামলা শুরু করে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই দুর্গম পার্বত্য এলাকায় কমপক্ষে ১০ হাজার কট্টর তালেবান জঙ্গি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান-টিটিপি) রয়েছে। এসব জঙ্গির বিরুদ্ধে লড়ছে সেনাবাহিনীর ২৮ হাজার সদস্য। দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে রয়েছে প্রায় ছয় লাখ লোকের বাস। অভিযান শুরু হওয়ার পরপরই এলাকা থেকে পালিয়েছে সেখানকার লক্ষাধিক বাসিন্দা।
সেনা কর্মকর্তা কর্নেল ওয়াসিম শাহিদ বলেন, ‘আমরা অনুমান করছি, অভিযান শুরুর পরপরই ওই এলাকা থেকে এক লাখেরও বেশি মানুষ অন্যত্র চলে গেছে। এ সংখ্যা বেড়ে দেড় থেকে দুই লাখ হতে পারে।
লড়াইরত ১০ হাজার তালেবান জঙ্গির মধ্যে এক হাজার উজবেক এবং কিছু আরবের আল-কায়েদা যোদ্ধা রয়েছে। শনিবার অভিযানের প্রথম দিনই জঙ্গিদের প্রবল বাধার মুখে পড়ে সেনারা। এ সময় সেনাবাহিনী বিমান ও গোলন্দাজ বাহিনী নিয়ে জঙ্গিদের ঘাঁটির দিকে অগ্রসর হয়। প্রথম দিনের লড়াইয়ে চার সেনা নিহত ও ১২ জন আহত হয়। সেনা কর্মকর্তারা বলেন, লড়াইয়ে সেনারা সমতল এলাকায় জঙ্গিদের একটি ঘাঁটি দখল করে নেয়।
পার্বত্য জঙ্গল এলাকা শারওয়াঙ্গি ও স্পিনকাই রাগজাইয়ের কাছে গতকাল জঙ্গিদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর তুমুল গুলিবিনিময় হয়েছে। জঙ্গি নেতা হাকিমুল্লাহ মেহসুদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কোটকাই যাওয়ার পথে সেনারা তল্লাশি চৌকি বসিয়েছে। সেনা কর্মকর্তারা বলেন, উত্তরের মাকিন, পূর্বে কোটকাই ও স্পিনকাই রাগজাই এবং পশ্চিমে কুনিগারাম, সাম ও বাদ্দার অভিমুখে যাওয়ার পথে সেনা-জঙ্গি তুমুল লড়াই হয়েছে। এ সময় চার সেনা নিহত হয়।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আতাহার আব্বাস বলেন, সেনারা ওয়াজিরিস্তানে যাতায়াতের সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে। লক্ষ অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
বিবিসির ইসলামাবাদ সংবাদদাতা জানান, টাঙ্ক ও দেরা ইসমাইল খানের মধ্যকার রাস্তায় সেনাবাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। সোয়াত উপত্যকার তুলনায় দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে কড়া প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে জঙ্গিরা। প্রায় ১০ হাজার স্থানীয় এবং এক হাজার ৫০০ বিদেশি জঙ্গি প্রায় ৩০ হাজার সেনার বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। জঙ্গিরা দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে প্রায় এক হাজার ২৭৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
ওয়ানা শহরের একজন বাসিন্দা জানান, নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা রক্ষা করতে জঙ্গিরা আগেই শহর ছেড়ে এলাকার দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে সীমান্তবর্তী এলাকায় শক্ত অবস্থান নিয়েছে।
সেনাবাহিনীর সর্বশেষ এ অভিযানকে গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় জঙ্গিবিরোধী অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে জঙ্গি অবস্থানে বিমান হামলা চালানোর পর এ অভিযান শুরু করা হয়েছে।

ঢাকায় শেলেটকের আবাসন মেলা দুই দিন বাড়ল

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রিয়েল এস্টেট কোম্পানি শেলেটক্ আয়োজিত ‘শেলেটক্ আবাসন মেলা ২০০৯’ শীর্ষক ফ্ল্যাট ও জমির মেলাটি দুই দিন বাড়ানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া মেলাটি আজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। দর্শক-ক্রেতাদের অনুরোধে মেলার মেয়াদ দুই দিন অর্থাত্ আগামী বুধবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
রাজধানীর ৫৫ পশ্চিম পান্থপথে শেলেটকের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এ মেলায় প্রতিষ্ঠানের নির্মিত ফ্ল্যাট ও রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ায় জমির প্রকল্প প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে।
শেলেটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌফিক এম সেরাজ প্রথম আলোকে বলেন, মেলায় দর্শক-ক্রেতাদের কাছ থেকে খুব ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। বেচাবিক্রি সন্তোষজনক। আর প্রচুর দর্শক তথ্য নিয়ে গেছে। তাই মেলা শেষ হওয়ার পর কমপক্ষে এক মাস প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগ ব্যস্ত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, জমির চাহিদা থাকলেও মেলায় ফ্ল্যাটের ক্রেতার সংখ্যা বেশি। কারণ মেলায় প্রতিটি ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া জমিতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য সময় মূল্যে কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। এ জন্য মেলায় ফ্ল্যাট ও জমি কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আগ্রহ বেশি।
শেলেটক্ সূত্রে জানা গেছে, মেলায় শেলেটকের ১৫টি প্রকল্পের ৬০০টি অ্যাপার্টমেন্ট এবং আশুলিয়ার জমির প্রকল্পের তিন ও পাঁচ কাঠার শতাধিক প্লট প্রদর্শন করা হবে। মেলাটি আগামী বুধবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

গ্রামীণফোনের আইপিওতে সাড়ে তিন গুণের বেশি আবেদন পড়েছে

দেশের বেসরকারি খাতের বৃহত্তম মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের ঘোষিত প্রাথমিক শেয়ারের (আইপিও) বিপরীতে সাড়ে তিন গুণের বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
গ্রামীণফোন পুঁজিবাজারে ছয় কোটি ৯৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪০০টি প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা দেয়। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারে ৬০ টাকা প্রিমিয়ার ধার্য করা হয়। এর ফলে প্রাথমিক শেয়ারের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৪৮৬ কোটি চার লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ওয়েবসাইটে গ্রামীণফোন এক ঘোষণায় বলেছে, আইপিওর জন্য মোট ১১ লাখ ২৩ হাজার ১৪০টি আবেদন করা হয়েছে, যার মূল্য এক হাজার ৭২৫ কোটি সাত লাখ টাকা।
স্থানীয় জনসাধারণ ১০ লাখ ৮৩ হাজার ৫০২টি আবেদন করেছে, যার মোট চাঁদার পরিমাণ এক হাজার ৬৫৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। অর্থাত্ স্থানীয় জনগণ তিন দশমিক ৭৯ গুণ বেশি আবেদন করেছে। অন্যদিকে প্রবাসীদের মধ্য থেকে ৩৯ হাজার ৬৩৮টি আবেদনে ৬৭ কোটি ১০ লাখ টাকা জমা পড়েছে।
এর আগে গত ডিসেম্বরে গ্রামীণফোন প্রাক-আইপিওর মাধ্যমে ৪৮৬ কোটি সাত লাখ টাকা নেয়।

ক্ষুদ্রঋণ দেশে চরম দারিদ্র্যের হার কমাতে ব্যর্থ হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম দেশের চরম দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমাতে ব্যর্থ হয়েছে। আর এ অভিমত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দারিদ্র্য বিমোচন কোনো সদিচ্ছার ব্যাপার নয়। এটা আমাদের সংবিধানের বাধ্যবাধকতা। বর্তমানে মোট জনগোষ্ঠীর ৪০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ মানুষ আবার চরম দরিদ্র।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এদের জন্য নানা কর্মসূচি নিয়েছে। তবে এ কাজে শুধু সরকারের একার পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য সমাজের বিত্তবান ও উন্নয়ন-সহযোগীদের এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষত জলবায়ু প্রভাবের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় চরম দরিদ্র মানুষ। অথচ এই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য এরা দায়ী নয়।
গতকাল রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দারিদ্র্য বিমোচন দিবস ২০০৯ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের শেষ দিনে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এসব কথা বলেন।
যুক্তরাজ্য সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি) এবং সিঁড়ি দিনব্যাপী এই সেমিনারের আয়োজন করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী। আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএফআইডির কান্ট্রি হেড ক্রিস অস্টিন, মানুষের জন্য-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম প্রমুখ।
আবদুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীন হলেও দীর্ঘ সময় সামরিক শাসনের অধীনে ছিল। আর গবেষণায় দেখা গেছে, নানা সমস্যা থাকলেও গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেশি কমেছে। তাই দারিদ্র্য বিমোচন করতে হলে গণতন্ত্র অপরিহার্য।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শুধু অর্থনৈতিক কারণ নয়, দারিদ্র্যের জন্য সামাজিক কারণও দায়ী। যৌতুক ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি দারিদ্র্য বাড়িয়ে দেয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এসব সামাজিক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে সরকার আইনগত নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
আবদুল মুহিত বলেন, দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে হলে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। কারণ দেশে মোট সাত কোটি কর্মজীবী মানুষ থাকলেও এর মধ্যে অর্ধেকই তাদের কাজে সন্তুষ্ট নয় বা বর্তমান আয়ে সন্তুষ্ট নয় বা কোনো মজুরি ছাড়াই কাজ করে।
এ অবস্থায় দারিদ্র্য দূর করতে ভালো মজুরি পাওয়া যায় এমন কাজের পরিমাণ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে হলে সবার আগে দরকার রাজনৈতিক অঙ্গীকার। তাহলে সরকার পরিবর্তন হলেও চরম দারিদ্র্য নিরসনের মতো কর্মসূচিগুলো অব্যাহত থাকে।

দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা চলছে জোড়াতালি দিয়ে -দীর্ঘদিন ধরে কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নেই by হাসান ইমাম

দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা চলছে জোড়াতালি দিয়ে। বর্তমানে স্টক এক্সচেঞ্জ দুটিতে ব্যবস্থাপনার প্রধান পদে কোনো পূর্ণকালীন কর্মকর্তা নেই। ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে চালানো হচ্ছে শেয়ারবাজারের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এ দায়িত্ব।
অবশ্য চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সম্প্রতি একজনকে পূর্ণকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু তাঁর কাজে যোগ দিতে এখনো সপ্তাহ দুয়েক সময় লাগবে।
অন্যদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সিইওর পদটি প্রায় চার মাস ধরে চালানো হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তাকে দিয়ে। প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রধান পরিচালন কর্মকর্তার (সিওও) পদটিও আট মাসের বেশি সময় ধরে ফাঁকা রয়েছে।
নিয়মানুযায়ী ৯০ দিনের বেশি প্রধান নির্বাহীর পদটি ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে চালানোর কথা নয়। সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডিএসইকে একটি চিঠিও দিয়েছে। জবাবে ডিএসইর পক্ষ থেকে সিইও নিয়োগ দেওয়ার জন্য আরও তিন মাস সময় চাওয়া হয়েছে।
বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্বনিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহীর কর্মকর্তার পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (বোর্ড ও প্রশাসন) বিধিমালা, ২০০০ অনুযায়ী মুক্ত, অবাধ, স্বচ্ছ ও দক্ষ বাজার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সিইওকে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি স্টক এক্সচেঞ্জের কোনো সদস্য ব্রোকারেজ হাউসে অনিয়ম করলে এর তদারকির প্রাথমিক দায়িত্বও সিইওর ওপরই বর্তায়। তাই সিইওকে পুঁজিবাজারের বিধিবিধান জানার পাশাপাশি প্রশাসনিকভাবে দক্ষ হতে হয়। একই সঙ্গে হতে হয় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, যাতে করে তিনি সদস্যদের অন্যায্য অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা রাখেন।
এসব কারণেই স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদ সিইও নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিলেও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় এসইসি। এর মাধ্যমে সিইওর ক্ষমতাকে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদের কোনো কোনো সদস্য চায় প্রতিষ্ঠানের সিইও এমন ব্যক্তি হোক যিনি হবেন তাঁদের অনুগত। এ কারণেই তারা পূর্ণাঙ্গ সিইও নিয়োগ না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত সিইও রাখার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী।
তবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও বাজারের স্বচ্ছতা ধরে রাখতে পূর্ণকালীন সিইওর কোনো বিকল্প নেই বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ডিএসইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সিইও নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে একজন নতুন সিইও এবং সিওও নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির এ যাবত্কালের সবচেয়ে সফল সিইও অধ্যাপক সালাহউদ্দীন আহমেদ খান পাঁচ বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি দায়িত্ব ছাড়ার পর প্রতিষ্ঠানটির সিওও শরিফুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ সময় সিইও নিয়োগ দেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়।
শেষ পর্যন্ত বাইরে থেকে কাউকে নিয়োগ না দিয়ে ২০০৯ সালের ১ মার্চ শরীফুল ইসলামকেই পূর্ণাঙ্গ সিইও হিসেবে নিয়োগ করা হয়।
কিন্তু পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেন শরীফুল ইসলাম। এর পর থেকে ডিএসইর প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) সতিপতি মৈত্র ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মার্কেট অপারেশনস ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের প্রধান মো. আতিকুজ্জামান গত আগস্ট থেকে সিএসইর ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগের সিইও আবু বকর সিদ্দিকীকে স্টক এক্সচেঞ্জের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তবে যোগাযোগ করা হলে স্টক এক্সচেঞ্জের একজন কর্মকর্তা জানান, মালেয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. আবদুল্লাহ মামুমকে পূর্ণকালীন সিইও হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের ২৯ তারিখ তাঁর কাজে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

 খাদ্য রপ্তানি বন্ধের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে এলডিসি- স্বল্পোন্নত দেশগুলোর খাদ্যনিরাপত্তা অর্জনে এটি গুরুত্বপূর্ণ: বাংলাদেশ by শওকত হোসেন

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সপ্তম মন্ত্রিপরিষদের সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) পক্ষ থেকে শুল্ক ও কোটামুক্ত পণ্যের প্রবেশাধিকারের দাবিটি আবারও জোরালোভাবে করা হচ্ছে। পাশাপাশি এবার নতুন একটি দাবি তোলা হচ্ছে। আর সেটি হলো, কোনো সদস্য-দেশ থেকে এলডিসি খাদ্য আমদানি করতে চাইলে তা নিষিদ্ধ করতে পারবে না। বাংলাদেশ এই দাবির সমর্থন দিয়ে বলেছে, এলডিসির জন্য খাদ্যনিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
১৬ অক্টোবর তাঞ্জানিয়ার দারেস-সালামে শেষ হয়েছে ষষ্ঠ এলডিসি বাণিজ্যমন্ত্রী সম্মেলন। এই সম্মেলনে গৃহীত দারেস-সালাম ঘোষণায় এ ধারাটি যুক্ত করা হয়েছে। খসড়া আকারে ঘোষণাটি সদস্য দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছিল। সে সময়ও বাংলাদেশ একে জোরালো সমর্থন করেছে।
আগামী ৩০ নভেম্বর জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে ডব্লিউটিওর মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন। এই সম্মেলন সামনে রেখে তাঞ্জানিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো এলডিসির বাণিজ্যমন্ত্রী সম্মেলন। বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেয়।
হংকংয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রী পর্যায়ের ষষ্ঠ সম্মেলনে এলডিসির জন্য ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ২০০৫ সালের পর আর মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন হয়নি। ৯৭ শতাংশ পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়নি। এখনো কোন কোন পণ্যে এই সুবিধা দেওয়া হবে তা ঠিক হয়নি। এলডিসি ২০০৯ সালের মধ্যেই এর পরিণতি চায়।
ঘোষণায় বলা হয়েছে, উন্নত দেশগুলোর কেউ কেউ এ সুবিধা দিতে সমস্যায় পড়ছে। এ ক্ষেত্রে এমনভাবে ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে হবে, যাতে এলডিসির বাজার অর্থপূর্ণভাবে সম্প্রসারিত হয়। এমনভাবে এই সুবিধা দিতে হবে, যাতে করে এলডিসির আমদানির মোট ৬০ শতাংশ পণ্যে যাতে এ সুবিধা বহাল থাকে।
সূত্র জানায়, অর্থপূর্ণ বাজার সম্প্রসারণের বিষয়টি যুক্ত হয়েছিল ২০০৮ সালের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত ডব্লিউটিওর মন্ত্রী পর্যায়ের ক্ষুদ্র পর্যায়ের সম্মেলনে। কেননা, ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হলেও এতে অনেক দেশেরই তেমন কোনো লাভ হবে না। বিশেষ করে বাংলাদেশ এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল প্রথম থেকেই। কেননা, টেক্সটাইল পণ্য বাদ দেওয়া হলে এ সুবিধা থেকে বাংলাদেশ কোনোভাবেই লাভবান হবে না। কোন কোন পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে পারবে না ধনী দেশগুলো, তারও তালিকা চেয়েছে এলডিসি।
জেনেভায় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে আরেকটি কাজ একতাবদ্ধ থেকে এলডিসির হয়ে দাবিগুলো তুলে ধরা। কেননা, বস্ত্র ও পোশাক খাতে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সমর্থন করছে না অধিকাংশ আফ্রিকা ও ক্যারিবিয়ার এলডিসি। বিশেষ করে আফ্রিকার এলডিসিগুলোই বেশি সমর্থন করছে না। সুতরাং বাংলাদেশ আফ্রিকার স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সঙ্গে মতভেদ ও ব্যবধান কমিয়ে আনতে চেষ্টা করছে। পাশাপাশি উন্নত দেশগুলোয় পণ্য রপ্তানিতে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে যে বিশেষ শুল্কসুবিধা দেওয়া হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রাপ্য সুবিধা যাতে কোনো অংশেই তাদের চেয়ে কম না হওয়া সে চেষ্টাও বাংলাদেশের রয়েছে। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ব্যাপারে উন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে বিশেষ শুল্ক সুবিধার প্রস্তাব রয়েছে।
আসন্ন সম্মেলনে পরিবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে শ্রমের মানসহ বিভিন্ন বিষয়ে চাপের মধ্যে রাখা হয়েছিল স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে। তবে এ বিষয়ের মাধ্যমে নতুন করে যাতে বিধিনিষেধ আরোপ না করা হয়, সে জন্য এলডিসিগুলো জোরালো পদক্ষেপ নেবে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে এলডিসির দারেস-সালাম ঘোষণায় বলা হয়েছে, পরিবেশ-সম্পর্কিত বিভিন্ন কৃষি ও শিল্পপণ্যের শুল্ক হার কমানোর কোনো বাধ্যবাধকতা এলডিসির ওপর আরোপ করা যাবে না। এ জাতীয় পণ্যের প্যাটেন্ট সংরক্ষণ থেকেও এলডিসিগুলো ১০ বছরের ছাড় পাবে। পাশাপাশি কোনো পণ্য উত্পাদনকারী দেশের জন্য পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হলে তা রপ্তানিও নিষিদ্ধ থাকবে। এ ছাড়া ডব্লিউটিও কারিগরি সহায়তা এবং বাণিজ্যের জন্য সাহায্য স্কিমের অনুদানের আওতায় পরিবেশগত প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, পণ্য এবং সেবা এলডিসির জন্য সহজলভ্য করার কথাও বলা হয়েছে এলডিসির ঘোষণায়।
সব মিলিয়ে ভর্তুকি, শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং বাণিজ্যের জন্য সাহায্যের ক্ষেত্রে অভিন্ন অবস্থান নিয়ে ৮৪টি পয়েন্ট-সংবলিত দারেস-সালাম ঘোষণা গৃহীত হয়েছে।

দিলস্কুপের রহস্য জানালেন দিলশান

 ক্যারিয়ারটা প্রায় এক দশকের, কিন্তু পুরোটা সময়ই তিলকরত্নে দিলশান ঢাকা পড়েছিলেন জয়াসুরিয়া-দের ছায়ায়। তবে বছরখানেক ধরে সেই দিলশানের ব্যাটের আলোতেই ম্লান অন্যরা। দিলশান নিজে এই রূপান্তরের রহস্য বলছেন ব্যাটিং-অর্ডার পরিবর্তন করে ওপেনিংয়ে উঠে আসাকে। তবে ক্রিকেটবোদ্ধাদের মতে, রহস্য ছিল আরও একটি—‘দিলস্কুপ’।
নিজের আবিষ্কৃত এই শটে সম্প্রতি প্রচুর রান পেয়েছেন দিলশান। সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে এই শটকে কার্যকরী মানছেন বিশেষজ্ঞরাও। কীভাবে আয়ত্ত করলেন এই শট? ভারতীয় একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এই রহস্য খুলে বলেছেন দিলশান, ‘অনেক তরুণ আমাকে এই প্রশ্নটা করে। আমি তাদের বলি, প্রথমে টেনিস বলে এই শট অনুশীলন করতে, এরপর আত্মবিশ্বাস পেলে তবেই ক্রিকেট বলে খেলতে পারে। আমি প্রথমে প্যাডেল করার চেষ্টা করি। এটা যদি কাজে না আসে তখনই আমি স্কুপ করি। কখনো কখনো এটা আগে থেকেই ঠিক করি, কখনো আবার বলের লেংথ দেখে। তবে বলটা যদি জায়গামতো না থাকে তাহলে এই শট আমি খেলি না। আমি মনে করি, এ জন্যই আমি সফল। বল ব্যাটে লাগার পরই কেবল আমি চোখ সরিয়ে নেই, এটাই এই শটের রহস্য।’
তাঁর সাম্প্রতিক সাফল্যে এই শটের অবদানও স্বীকার করলেন দিলশান, ‘এটা বোলারকে দ্বিধাগ্রস্ত করে দেয়। এই শট আমাকে দারুণ সাহায্য করেছে, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।’

ফার্গুসনের ম্যানইউই এগিয়ে

অ্যালেক্স ফার্গুসনের টানা চতুর্থ শিরোপার স্বপ্ন, লিভারপুলের ১৯ বছরের শিরোপা-খরা কাটানোর অভিযান, চেলসির নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির ইংলিশ ফুটবলে অভিষেকের মৌসুমেই শিরোপা জয়ের প্রত্যয়, আর্সেনালের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার উপলক্ষ, ম্যানচেস্টার সিটির নতুন শক্তি হয়ে ওঠার প্রতিজ্ঞা—এই হলো এবারের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নির্যাস।
কেবল নয়টি করে ম্যাচ শেষ হয়েছে এ পর্যন্ত। ফার্গুসনের স্বপ্ন বাঁচবে, বেনিতেজের অভিযান চলবে বীরদর্পে, আনচেলত্তির প্রত্যয় জিতবে, না আর্সেনাল ফিরে পাবে আত্মবিশ্বাস—এখনই এটা বলা মুশকিল।
তবে নয় ম্যাচ বিশ্লেষণ করলে এগিয়ে রাখতে হচ্ছে ফার্গুসনের ম্যানইউকেই। পরশু ‘বিগ ফোরের’ হরিষে বিষাদে মেশা দিনে তাঁর দল ঠিকই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। নাইটের আত্মঘাতী গোলের সঙ্গে ভ্যালেন্সিয়ার গোল মিলিয়ে বোল্টনের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জিতেছে ম্যানইউ। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানটাও এখন ফার্গুসনের দলের অধিকারে। ৯ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট তাদের।
তবে পরশুর ম্যাচের শেষের দিকে খানিক আতঙ্ক অবশ্য ছড়িয়ে পড়েছিল ‘রেড ডেভিলদের’ শিবিরে। নাইটের আত্মঘাতী গোল ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে দিয়েছিল ম্যানইউকে। এ মৌসুমেই উইগান থেকে ম্যানইউতে নাম লেখানো ভ্যালেন্সিয়ার ৩৩ মিনিটের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ম্যানইউ। ম্যানইউর জার্সি গায়ে এটি তাঁর প্রথম গোল। তবে খেলা শেষের মিনিট পনের আগে টেলরের গোল ম্যানইউকে ধাক্কাই দিয়েছিল। আরও কয়েকটি আক্রমণও এ সময়ে করে বোল্টন। ইনজুরি কাটিয়ে এদিনই মাঠে ফেরা এডউইন ফন ডার সারের বীরত্বে কোনো বিপদ হয়নি।
পরশু ধারাবাহিকতা ছিল চেলসিরও। তবে সেটি পরাজয়ের দিক দিয়ে। লিগে টানা দ্বিতীয় পরাজয় দেখল কার্লো আনচেলত্তির দল। এই দুই পরাজয় পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে নামিয়ে দিয়েছে তাদের। ৯ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট ‘ব্লু’দের। ১৫ মিনিটে দিদিয়ের দ্রগবার গোলে অবশ্য এগিয়ে গিয়েছিল তারাই। কিন্তু দুটি সেট পিচ থেকে ডানি ও কলিন্সের গোলই তাদের সবকিছু এলোমেলো করে দেয়। ম্যাচ শেষে চেলসি কোচ কার্লো আনচেলত্তিও বললেন ওই ভুলের কথা, ‘দুটি সেট পিচের ভুলেই আমরা ম্যাচটি হেরেছি।’
আনচেলত্তি মৌসুম শুরু করেছিলেন শিরোপা জয়ের প্রত্যয় জানিয়ে, কিন্তু টানা দুটি পরাজয়ের পর তাঁকে মাথা নিচু করে থাকতে হচ্ছে। এখন বলছেন, ‘আমার ধারণা আমাদের ওপরে থেকে যারা লিগ শেষ করবে, তারাই জিতবে শিরোপা।’
এ পর্যায়ে ম্যানইউই ওপরে। পয়েন্ট তালিকার ওপরের দিকটা শেষ পর্যন্ত যদি এ রকমই থাকে, তাহলে লিভারপুলের কী হবে? পরশু সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে লিভারপুলের ০-১ গোলের পরাজয়ে অবশ্য জড়িয়ে আছে বিচবল বিতর্ক। বেন্টের ৫ মিনিটের যে গোলটিতে হেরেছে লিভারপুল, বিতর্ক সেটিকে ঘিরেই। লিভারপুলেরই এক সমর্থক মাঠে ছুড়ে মেরেছিলেন একটি লাল রঙের বিচবল। বেন্টের শট তাতে লেগে গতি বদলে ঢুকে যায় জালে। তবে বেনিতেজ এই বিচবলকে দায়ী করেননি, বলেছেন নিজেদের খারাপ খেলার কথাই, ‘এটা বিশেষ একটা পরিস্থিতি। কিন্তু আমরাই বাজে খেলেছি।’
বিতর্ক-টিতর্ক কিছু নয়, আর্সেন ওয়েঙ্গারের তরুণ ‘গানার’রা এগিয়ে যাচ্ছে নিজেদের মতো করে। পরশু ফন পার্সি, দিয়াবি ও আরশাভিনের গোলে বার্মিংহামের বিপক্ষে তারা জিতেছে ৩-১ ব্যবধানে। ৮ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে তারা। টটেনহাম তৃতীয় স্থানে (১৯ পয়েন্ট)।
আর ১৫ পয়েন্ট নিয়ে আট নম্বরে লিভারপুল। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে প্রথম ৯ ম্যাচের চারটিতে হেরে এখন পর্যন্ত কোনো দলের শিরোপা ঘরে তোলার রেকর্ড নেই। লিভারপুল কি পারবে? বেনিতেজের উত্তর, ‘চারটি ম্যাচ হারা ভালো নয়। কিন্তু পরের ম্যাচগুলোর ওপরে অনেক কিছু নির্ভর করছে।’

মোহামেডানের উদ্বেগ

জাতীয় ক্রিকেট দল ও মোহামেডানের ওপেনার তামিম ইকবালের মিরপুরের বাসভবনের গেটে গুলির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মোহামেডান। ক্লাবের সদস্য সচিব লোকমান হোসেন ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁরা গুলির ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেছেন। সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানায় ক্লাবটি।
মিরপুর ১১ নম্বরের ৬ নম্বর সড়কের যে অ্যাপার্টমেন্টের গেটে পরশু রাতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে তামিম ছাড়াও থাকেন জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক আবাহনীর সাকিব আল হাসান, রুবেল হোসেন ও নাফিস ইকবাল।

বার্সার ঘাড়ের ওপর রিয়াল

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ছিলেন না, কাকা নেমেছিলেন ৭২ মিনিটে। তবে আরেকজন তো ছিলেন! ‘রিয়াল’ রাউল গঞ্জালেজ। অধিনায়কের জোড়া গোলে ভ্যালাদোলিদকে ৪-২ গোলে হারিয়ে জয়ে ফিরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে লিগে নিজেদের ইতিহাসের সেরা সূচনা হাতছাড়া করেছে বার্সেলোনা। জেনোয়াকে উড়িয়ে দিয়ে সিরি ‘আ’র শীর্ষস্থানেই আছে গত চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলান।
বার্নাব্যুতে পরশু প্রথমার্ধেই ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। রিয়ালের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডের রাতে ১৮ মিনিটের মধ্যে দলকে দুটি গোল এনে দেন রাউল। ১৩ মিনিটে বাঁ পায়ের ফ্লিকে করেন প্রথম গোল, ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ১৮ মিনিটে। এই পর্যায়ে ঘুরে-ফিরে আসছিল গত পাঁচ বছরের দুটো স্মৃতি। রিয়ালের কাছে ৭-০ ও ৭-২ গোলে হেরেছিল ভ্যালাদোলিদ। তবে ২৯ মিনিটে উইঙ্গার নাউজেত ভিয়েরার দুর্দান্ত ফ্রিকিকের গোলে লড়াইটা জমে ওঠে। আগের ম্যাচে সেভিয়ার বিপক্ষে হারের খলনায়ক ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্সেলোর ৪৫ মিনিটের গোলে স্বস্তি ফেরে রিয়াল শিবিরে। ৫৩ মিনিটে মাকুইতোসের গোলে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় ভ্যালাদোলিদ। রাফায়েল ফন ডার ভার্টের বদলে মাঠে নামা গঞ্জালো হিগুয়েইনের ৭৯ মিনিটের গোল নিশ্চিত করে রিয়ালের জয়।
ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে জিতলে টানা সাত ম্যাচ জিতে লিগে নিজেদের সেরা শুরুর রেকর্ড গড়তে পারত বার্সেলোনা। ইনজুরির জন্য ম্যাচটি খেলতে পারেননি থিয়েরি অঁরি, ইব্রাহিমোভিচ নেমেছিলেন বদলি হিসেবে। সপ্রভিত ছিলেন না লিওনেল মেসি ও জাভিরাও। খেলেননি ভ্যালেন্সিয়ার স্ট্রাইকার ডেভিড ভিয়াও। মেস্তালা স্টেডিয়ামে গোলমুখ খুলতে পারেনি কোনো দলই। বার্সেলোনার খেলায় সমর্থকেরা হতাশ, তবে বিচলিত নন কোচ পেপ গার্দিওলা, ‘ভালো একটা দলের বিপক্ষে এটা গুরুত্বপূর্ণ একটা পয়েন্ট। আমরা জিততে এসেছিলাম, কিন্তু ড্রয়ে এমন কিছু হয়ে যায়নি। আমরা নিশ্চয়ই ৩৮টি ম্যাচেই জিততে পারি না!’
ড্রয়ের পরও বার্সা শীর্ষে বলে গার্দিওলা সন্তুষ্ট হতেই পারেন। ৯ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের, ১ পয়েন্ট পেছনে রিয়াল। সমান ১৫ পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে তৃতীয় ও চতুর্থ সেভিয়া ও ডেপোর্তিভো লা করুনিয়া। আগের ম্যাচে রিয়ালকে হারিয়ে টানা পাঁচ জয়ে উড়তে থাকা সেভিয়াকে মাটিতে নামিয়েছে এদিন লা করুনিয়া। ৩৮ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন মিডফিল্ডার হুয়ান রদ্রিগেজ।
ড্র করেও গার্দিওলা সন্তুষ্ট, কিন্তু জেনোয়াকে ৫-০ গোলে হারানোর পরও সন্তুষ্ট নন হোসে মরিনহো, ‘আমরা স্রেফ একটি ম্যাচ জিতেছি। ম্যাচটাও নিখুঁত খেলিনি, শুধু ৩টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পেয়েছি।’ এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসো, মারিও বালোতেল্লি ও স্টানকোভিচের গোলে ইন্টার প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় ৩-০ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধের গোল করেছেন প্যাট্রিক ভিয়েরা ও মাইকন। ৮ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে মরিনহোর দল। আজ লািসওর বিপক্ষে জিতলে অবশ্য ১৯ পয়েন্ট হবে সাম্পদোরিয়ারও।
বদলায়নি পয়েন্ট তালিকার পরের দুটি স্থানও। পরশু নিজেদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় সমান ১৫ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছে জুভেন্টাস ও ফিওরেন্টিনা। তুরিনে হুয়ান ভার্গাসের ৫ মিনিটের গোল এগিয়ে দিয়েছিল ফিওরেন্টিনাকে। ১৯ মিনিটে সমতা ফেরান জুভেন্টাসের আমুরি কারভালহো।
জার্মানিতে মুখোমুখি হয়েছিল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল, তবে গোলশূন্য ড্র হওয়ায় পরিবর্তন হয়নি অবস্থান। সমান ২১ পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে হামবুর্গকে পেছনে ফেলে শীর্ষে বেয়ার লেভারকুসেন। ফ্রেইবুর্গকে ২-১ গোলে হারিয়ে বায়ার্ন মিউনিখ উঠেছে পাঁচে।

সেমিতেই মুখোমুখি আবাহনী-মোহামেডান

মুখোমুখি লড়াইয়ে আবাহনীর সঙ্গে জিতেছিল সূর্যতরুণ। কাল দুপুরে ধানমন্ডি স্টেডিয়ামে আবাহনী সিসিএসকে ৭ উইকেটে হারানোর পরও মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দিবা-রাত্রির ম্যাচে কলাবাগানের বিপক্ষে জিতলে সেমিফাইনালে চলে যেতে পারত তারা। কিন্তু কলাবাগান পথ আটকে দাঁড়াল। সূর্যতরুণের বিপক্ষে তাদের ৬ উইকেটের জয় মোহামেডানের সামনে সেমিফাইনালেই দাঁড় করিয়ে দিল আবাহনীকে।
ফতুল্লা স্টেডিয়ামের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে খেলাঘর মাত্র ৩ রানে হারিয়েছে বিকেএসপিকে। মিরপুরে মোহামেডানের কাছে বিমান ৯ উইকেটে হারায় ‘এ’ গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে গেছে প্রথমবার প্রিমিয়ার লিগ খেলতে আসা খেলাঘর। এ ছাড়া কাল গাজী ট্যাংক ২৭ রানে ওল্ড ডিওএইচএসকে হারিয়েছে। বৃষ্টিতে মাঠ খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ধানমন্ডি মাঠে পারটেক্স-ভিক্টোরিয়ার ম্যাচটি হয়নি। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আগামীকাল দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শুরু প্রথম সেমিফাইনালে মোহামেডানের মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু দ্বিতীয় সেমিফাইনালটি খেলবে গাজী ট্যাংক ও খেলাঘর। দেশ টিভি দুটি ম্যাচই সরাসরি দেখাবে।
প্রিমিয়ার ডিভিশন টি-টোয়েন্টি লিগটাকে যেন নিজেরই করে নিলেন তামিম ইকবাল। ৬০, ৬৯, ৪ ও ৪২-এর পর কাল মিরপুরে অপরাজিত ৭০ রান! ৮০ রানে ৮ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও তারেক আজিজের ১৩ বলে অপরাজিত ২০ রানের সৌজন্যে ১১৩ রান পর্যন্ত যেতে পারে বিমান। জবাবে তামিম-ঝড়ে মাত্র ৯.৫ ওভারেই জয় পেয়ে গেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। ৩২ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর তামিম শেষ পর্যন্ত ৭০ রানে অপরাজিত ৩৬ বল খেলে। ১০টি বাউন্ডারির সঙ্গে চারটি বিশাল ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংস। নিজের ইনিংসের শেষ ৬ বলেই নিয়েছেন ৩০ (৬, ৬, ৪, ৬, ৪, ৪) রান! দলীয় ২০ রানে আরেক ওপেনার শামসুর রহমান ফিরে গেলেও আফতাব আহমেদকে (২৪*) সঙ্গে নিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যান তামিম। তবে ২০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারে তাঁর সঙ্গে ভাগ বসিয়েছেন সতীর্থ ইমন আহমেদ। এ মাঠের অন্য ম্যাচে সূর্যতরুণের ১১৯ রানের জবাবে পাঁচ বল বাকি থাকতে জয় পেয়েছে কলাবাগান। রাসেল ৩৪ ও জাভেদ ৩০ রান করেছেন। ম্যান অব দ্য ম্যাচ ২১ রানে ৩ উইকেট নেওয়া এনামুল হক জুনিয়র। সূর্যতরুণের ধীমান ঘোষ করেছেন ৩৬ রান।
ফতুল্লায় খেলাঘরের ১২৫ রানের জবাবে শেষ বল পর্যন্ত লড়েছে বিকেএসপি। কিন্তু সৌম্যর ৩৫ ও আরিফের ৪৯ রানের পরও জয় থেকে মাত্র ৪ রান দূরে থাকতেই শেষ হয়ে গেছে তাদের ২০ ওভারের কোটা। খেলাঘরের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪০ রান ম্যান অব দ্য ম্যাচ দেলোয়ারের। ধানমন্ডিতে দুপুরে আবাহনী-সিসিএস ম্যাচের কিছু অংশও খেয়ে নিয়েছে বৃষ্টি। ১৪ ওভারের ম্যাচে ৬ উইকেটে ৭১ রান করে সিসিএস। রনি তালুকদারের ২৮ ও ইমরুল কায়েসের ২২ রানে ১২.৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়েই জিতে গেছে আবাহনী। ১২ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ শুভাশিষ।
গাজী ট্যাংক ফতুল্লায় ৫ উইকেটে করেছিল ১২২। ৯.২ ওভারে নাজিমউদ্দিন (২৩) ও মিজানুরের (৩৮) ৬০ রানের ওপেনিং জুটির পর অন্যরা ব্যর্থ না হলে স্কোরটা আরও বড় হতে পারত। তবে এই রান টপকাতে গিয়েও ৮ উইকেটে ৯৫ রান পর্যন্তই যেতে পেরেছে ওল্ড ডিওএইচএস। ১৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ গাজীর সোহরাওয়ার্দী।

‘রাউল মাদ্রিদে’র আরেক অর্জন

রেকর্ডটা তাঁর নামের পাশেই যেন সবচেয়ে বেশি মানায়। কোনো খেলোয়াড় কীভাবে একটি ক্লাবের সমার্থক হয়ে ওঠেন, এর তো জ্বলন্ত উদাহরণ রাউল গঞ্জালেস। দীর্ঘ ১৫ বছরের পথচলায় রিয়াল আর রাউল নাম দুটো মিলেমিশে এতটাই একাকার হয়ে গেছে যে অনেকে রিয়াল মাদ্রিদকে বলেন ‘রাউল মাদ্রিদ’। ক্লাবের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটা তাই রাউলের পাশেই সবচেয়ে বেশি শোভা পায়।
ভ্যালাদোলিদের বিপক্ষে পরশু মাঠে নেমেই ম্যানুয়েল সানচিজকে পেছনে ফেলেছেন রাউল। রিয়ালের বর্তমান অধিনায়কের মতোই পুরো ক্যারিয়ার বার্নাব্যুতেই কাটানো সাবেক অধিনায়ক সানচিজ খেলেছিলেন ৭১০ ম্যাচ। সেভিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচটিতে পূর্বসূরিকে ছুুঁয়েছিলেন, কিন্তু মৌসুমে দলের প্রথম পরাজয়ে ম্লান হয়ে গিয়েছিল সেই আনন্দ। তবে রেকর্ড ভাঙার দিনটি রাউলের জন্য ছিল শুধুই আনন্দে রাঙানো। মাঠে নামার আগে রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ও মহাপরিচালক জর্জ ভালদানো সুদৃশ্য এক ট্রফি দিয়ে সম্মানিত করলেন ‘ঘরের ছেলে’কে।
রাতটাকে আরও স্মরণীয় করে রাখলেন রাউল নিজেই। রেকর্ডটা উদযাপন করলেন আরও একটি মাইলফলকে পৌঁছে। দুই গোল করে দলকে জেতালেন, সেই সঙ্গে লা লিগায় সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজেকে তুলে আনলেন চতুর্থ স্থানে। স্পেনের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪ গোল করা এই স্ট্রাইকারের লা লিগায় গোল এখন ২২৬টি। রিয়ালের আরেক কিংবদন্তি ও বর্তমানে সম্মানসূচক সভাপতি আলফ্রেডো ডি স্টেফানোর গোল মাত্র ১টি বেশি।
এই ৩২ বছর বয়সেও যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, তাতে হয়তো একদিন ক্লাবের হয়ে স্পর্শ করবেন হাজার ম্যাচের মাইলফলকও। অথচ একসময় এতদূর আসার কথা চিন্তাই করতে পারেননি, ‘কখনোই ভাবিনি এটা অর্জন করতে পারব। খুব শিগগিরই আমার অভিষেকের ১৫ বছর পূর্ণ হবে। একসময় এটি চিন্তা করাই ছিল কঠিন।’ তবে নিজের এতসব অর্জনের রাতেও রিয়াল অধিনায়কের চিন্তা-চেতনা জুড়ে ছিল শুধুই দল, ‘রেকর্ডে আমি খুশি, কিন্তু আমি বেশি গর্বিত আমরা ৩ পয়েন্ট পাওয়ায়। আমার পারফরম্যান্সে আমি সন্তুষ্ট এবং ক্লাব ও সতীর্থদের এভাবেই সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু আমি এখনই বুধবারের ম্যাচ নিয়ে ভাবতে শুরু করেছি। গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউরোপিয়ান ম্যাচ আছে আমাদের এবং এ জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’
২১ অক্টোবর চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ ম্যাচে রেকর্ড নয়বারের চ্যাম্পিয়নরা মুখোমুখি হবে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন এসি মিলানের। এই ম্যাচ নিয়ে রাউলের এমন বাড়তি সতর্কতা মিলানের জন্যও একটা সতর্ক সংকেত। চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা কিন্তু এই রাউলই!

ফিলিপাইনে বিমান বিধ্বস্ত

ফিলিপাইনে একটি ‘ব্যক্তিগত’ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে চারজন নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার রাজধানী ম্যানিলার একটি শহরতলিতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
বিমান পরিবহন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় ভিক্টরিয়া এশিয়া এয়ার সার্ভিসেসের একটি ডিসি-৩ বিমান জরুরি অবতরণ করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিমানটি ম্যানিলা বিমানবন্দর থেকে পশ্চিমাঞ্চলীয় দ্বীপ পালাওয়ানের উদ্দেশে রওনা হয়। আকাশে ওঠার পরপরই পাইলট জানান, তিনি জরুরি অবতরণ করতে যাচ্ছেন। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি।

আফগানিস্তানে বিমান হামলায় ২৫ জঙ্গি নিহত

আফগানিস্তানে ন্যাটো ও আফগান বাহিনীর হামলায় অন্তত ২৫ তালেবান জঙ্গি নিহত হয়েছে। সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল শনিবার এ তথ্য দিয়েছে।
প্রাদেশিক গভর্নরের মুখপাত্র হামিদুল্লাহ জাওয়াক টেলিফোনে এএফপিকে জানান, গত শুক্রবার রাতে পাকতিকা প্রদেশের উরুজগান এলাকায় বিমান হামলায় অন্তত ২০ তালেবান জঙ্গি নিহত হয়েছে। জঙ্গিরা নিরাপত্তাবাহিনী ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার হেলমান্দ প্রদেশের গেরেশক এলাকায় আফগান কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ তালেবান জঙ্গি নিহত হয়েছে। একই প্রদেশের সাঙ্গিন এলাকায় জঙ্গিদের আক্রমণে এক আফগান সেনাসদস্য নিহত ও অন্য একজন আহত হয়েছেন।
২০০১ সালে মার্কিন সেনা অভিযানের মধ্য দিয়ে তালেবানদের ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে এখন তালেবান জঙ্গিরা বেশ সক্রিয়।

যুক্তরাষ্ট্র সফরের ভিসা পাচ্ছেন উত্তর কোরীয় কূটনীতিক

যুক্তরাষ্ট্র সফরের জন্য উত্তর কোরীয় একজন কূটনীতিককে ভিসা দিচ্ছে মার্কিন সরকার। তাঁর নাম রি গুন। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু সংকট-বিষয়ক আলোচনায় পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষের একজন মধ্যস্থতাকারী তিনি। শুক্রবার এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইয়ান কেলি এ কথা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, অক্টোবরের শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সুযোগ দিতে পিয়ংইয়ংয়ের কূটনীতিক রি গুন ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। এ ব্যাপারে উত্তর কোরিয়ায় জাতিসংঘ মিশনের একজন মন্ত্রী কিম মিয়ং গিল বলেন, একটি নিরাপত্তা-বিষয়ক সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন রি।
মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা জানায়, সফরের সময় তাঁর দেশের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কূটনীতিকের সঙ্গে আলোচনা করবেন রি। এ ছাড়া তিনি ঊর্ধ্বতন মার্কিন কূটনীতিক সুং কিমের সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন।

তামিলনাড়ুতে বাজির গুদামে অগ্নিকাণ্ড নিহত ৩৩

দেশব্যাপী যখন আলোর উত্সব দেওয়ালি উদ্যাপনের তোড়জোড় চলছে ঠিক তার আগের দিন শুক্রবার রাতে তামিলনাড়ুর একটি বাজির গুদামে আগুন লেগে ৩৩ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১০ জন।
তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাই শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের পাল্লিপাত্তু অঞ্চলের একটি বাজির গুদামে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পাল্লিপাত্তু অন্ধ্র প্রদেশের সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় অবস্থিত। ওই গুদাম থেকে বাজি কেনার জন্য ওই দিন সন্ধ্যার পর বহু লোকের ভিড় জমে। হঠাত্ গুদামে আগুন লাগলে গুদামের ভেতরে অনেকেই আটকা পড়ে পুড়ে মারা যায়।
আহতদের সরকারি তিরুত্তালি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলেছে, নিহতদের অধিকাংশ অন্ধ্র প্রদেশের চিতোর জেলার বাসিন্দা। এর মধ্যে ৩৩ জনের মৃত্যুর খবর তারা নিশ্চিত হয়েছে। এখন ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চলছে।
পুলিশের ধারণা, আরও লাশ মিলতে পারে। আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি। আগুন লাগার পর এলাকায় বিদ্যুত্সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়।

দক্ষিণসুদানের গণভোট নিয়ে দুই পক্ষের সমঝোতা

দক্ষিণ সুদানের পূর্ণ স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের ব্যাপারে দুই পক্ষ একটি সমঝোতা চুক্তিতে সই করেছে। উত্তর ও দক্ষিণ সুদানের কর্তৃপক্ষ গত শুক্রবার এ তথ্য দিয়েছে।
আধাস্বায়ত্তশাসিত দক্ষিণ সুদানের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাইয়েক মাশার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সমঝোতায় পৌঁছেছি। নানা বিষয়ে আমাদের মতপার্থক্য দূর হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে আমরা এ ব্যাপারে একটি সমঝোতা চুক্তিতে সই করেছি।’ উত্তরের রাজধানী খার্তুমে এক বৈঠক শেষে উত্তর সুদানের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী ওসমান ত্বাহাও একই ধরনের কথা বলেছেন।
দক্ষিণ সুদানকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হবে কি না, এ প্রশ্নে ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে গণভোট হবে। ২০০৫ সালের শান্তিচুক্তি অনুযায়ী দক্ষিণ সুদানের অধিবাসীরা এ ভোটে অংশ নেবে। ওই শান্তিচুক্তির মধ্য দিয়ে দেশটিতে তখন ২২ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান হয়।
আসন্ন গণভোট কীভাবে নেওয়া হবে, এ ব্যাপারে দক্ষিণ ও উত্তর সুদানের কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। খার্তুম থেকে ফিরে দক্ষিণ অংশের রাজধানী জুবা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাইয়েক মাশার বলেন, ‘নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পাওয়ার শর্তে আমরা সমঝোতায় পৌঁছেছি, যেখানে দক্ষিণকে স্বাধীন হতে হলে ৫০ ভাগের বেশি ভোট পেলেই হতো। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ৭৫ ভাগ ভোট জেতার শর্তারোপ করে আসছিল উত্তরের কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ সুদানের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ উত্তরে বসবাস করে। দেশটির উত্তরাঞ্চলে কিংবা বিদেশে বসবাসরত দক্ষিণের নাগরিকদের এ ভোটে অংশ নেওয়ার বিরোধিতা করে আসছিলেন দক্ষিণ সুদানের নেতারা। তাঁদের আশঙ্কা, এই লোকগুলো হয়তো চাইবে না, দক্ষিণ সুদান পূর্ণ স্বাধীনতা পাক।

জঙ্গিরাই পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি: সর্বদলীয় বৈঠক -দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে শুরু হয়েছে সর্বাত্মক সেনা অভিযান

পাকিস্তানের নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে গত শুক্রবার দেশটিতে সর্বদলীয় বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেছেন, জঙ্গিরাই পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি বড় হুমকির সৃষ্টি করেছে। তাঁরা ওই হুমকি মোকাবিলায় জঙ্গি দমনে চূড়ান্ত অভিযানের সুপারিশ করেন। এর পরই গতকাল শনিবার দেশের নিরাপত্তা বাহিনী তালেবান জঙ্গিদের বড় ঘাঁটি বলে পরিচিত দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে সর্বাত্মক অভিযানে নামার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। গতকাল ভোর থেকে স্থল ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওয়াজিরিস্তান অভিমুখে রওনা হন।
গতকাল বিকেলে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ওয়াজিরিস্তানে জঙ্গিদের প্রচণ্ড বাধার মুখে পড়েন। কয়েকটি স্থানে জঙ্গিরা ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সারওয়াঙ্গি এলাকায়জঙ্গিরা সেনাদের ওপর ভারীঅস্ত্রের গোলাবর্ষণকরে। সেনারাও পাল্টা গোলাগুলিছোড়ে। দুই পক্ষের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তাত্ক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য মেলেনি।
গত শুক্রবারের সর্বদলীয় বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কায়ানি বৈঠকে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন।
জঙ্গিরা গত দুই সপ্তাহে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। জাতিসংঘ কার্যালয়, সেনা সদর দপ্তর, পুলিশ একাডেমি, বিপণিবিতান ও বেসামরিক লোকদের ওপর জঙ্গিদের এসব হামলায় দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে।
গত আগস্টে মার্কিন চালকবিহীন বিমানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তালেবান নেতা বায়তুল্লাহ মেহসুদ নিহত হওয়ার পর জঙ্গিরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এর পরই নতুন তালেবান নেতা হাকিমুল্লাহ মেহসুদ ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেন।
শুক্রবারের বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে বলা হয়, সব রাজনৈতিক দল ও সামরিক কর্মকর্তারা জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। তাঁরা জঙ্গিবাদের মূলোত্পাটনে একমত হয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার জন্য জঙ্গিরা মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা ঘোষণা দিয়েছেন, জঙ্গিদের যেকোনো উপায়ে দমন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি চার ঘণ্টাব্যাপী জরুরি ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
সর্বদলীয় ওই বৈঠকের পর পর দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে কারফিউ জারি করা হয়েছে। এর পরই সেনারা জঙ্গিবিরোধী সর্বাত্মক অভিযানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। যুদ্ধবিমান ও গানশিপের সহায়তায় স্থলবাহিনী দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের দিকে অগ্রসর হয়।
একজন শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘সেনারা মেহসুদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার দিকে অগ্রসর হয়েছে। আমরা প্রথমেই সেখানে পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করব না। প্রাথমিকভাবে স্বল্পমাত্রার সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হবে।’
কর্মকর্তারা জানান, চূড়ান্ত পর্যায়ে সামিরক, আধাসামরিক ও পুলিশের সমন্বয়ে ৬০ হাজার সদস্যের একটি বাহিনী ওয়াজিরিস্তানের অভিযানে অংশ নেবে। ওয়াজিরিস্তানের পার্শ্ববর্তী এলাকায় মোতায়েন করা ট্যাংক ও ডেরা ইসমাইল খান জেলায় কর্তব্যরত সেনাদের সরিয়ে ইতিমধ্যে ওয়াজিরিস্তানের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।
বোমা বিস্ফোরণে তিন সেনা নিহত
উত্তর ওয়াজিরিস্তানে গতকাল রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে দুই সেনা নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন, তালেবান জঙ্গিরা দূরনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের মাধ্যমে এ বোমা হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। রাজমাক সামরিক ঘাঁটি অতিক্রম করার সময় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের জান্দোলা শহরে অন্য এক বোমা হামলায় এক সেনা নিহত ও আরও দুজন আহত হন।

বাজার তদারকি জোরদার ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার পরামর্শ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান শেয়ারবাজারে ১৯৯৬ সালের ধসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে—এ ধরনের চিন্তা নিতান্তই অবান্তর। কারণ বাজারের ব্যাপ্তি ও গভীরতা বাড়ার পাশাপাশি তদারকব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে।
আজিজুল ইসলাম বাজারের সাম্প্রতিক এ গতিশীলতা ধরে রাখা এবং যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাজার তদারকি আরও জোরদার করা, নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে এদের একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অধীনে নিয়ে আসা, চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যহীনতা কমাতে অতি দ্রুত রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে ছেড়ে দেওয়া। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শেয়ারবাজারে বাজার মূলধনে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর অংশ ৪০ ভাগের মতো। কিন্তু বাংলাদেশে তা পাঁচ শতাংশেরও কম।
রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ট্রেনিং একাডেমিতে পুঁজিবাজারবিষয়ক সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক কর্মশালায় অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্যকালে গতকাল শনিবার তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যের সপক্ষে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে বলেন, ১৯৯৬ সালের ২ জুলাই ডিএসইর সার্বিক সূচক ছিল মাত্র ৯৫৭ পয়েন্ট। কিন্তু একই বছরের ৫ নভেম্বর মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে সূচক প্রায় চার গুণ বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৬৪৯ পয়েন্টে। তার পরই বাজারে হঠাত্ করে ধস নামে এবং তিন সপ্তাহের মধ্যে সূচক প্রায় ৬০০ পয়েন্ট কমে তিন হাজার ১৫ পয়েন্টে নেমে আসে। এ ধারা ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত চলতে থাকে। ওই বছরের ৩ মে সূচক সর্বনিম্ন ৪৬৩ পয়েন্টে নেমে যায়। এর পর থেকে সূচক ক্রমশ বাড়তে শুরু করে।
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মোট সিকিউরিটিজের সংখ্যা ২৪১টি। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত যা বেড়ে ৪৩২টি হয়েছে। বাজার মূলধন ছয় হাজার কোটি টাকা থেকে ২০ গুণের বেশি বেড়ে এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ আগে যেখানে চার হাজার কোটি টাকা ছিল, এখন তা ২০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া বাজারে সূচকের ওঠানামা স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিদিন সূচক এক শতাংশের বেশি ওঠানামা করে না। খুব কম সময়ই এটা তিন শতাংশের মতো হয়। এগুলোই বর্তমান বাজারের শক্তির উত্স। আর এ পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো, বিনিয়োগকারীদের আস্থা যথেষ্ট বেড়েছে।
ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) এবং ডিএসই যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। ডিএসইর সভাপতি রকিবুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সিএমজেএফের সভাপতি জিয়াউর রহমান। এতে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসইসির নির্বাহী পরিচালক এ টি এম তারিকুজ্জামান, এবি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান ও আইসিবির মহাব্যবস্থাপক ইফতেখার-উজ-জামান। কর্মশালা বিভিন্ন জাতীয় সংবাদপত্র ও সম্প্রচারমাধ্যমের প্রায় ৪০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাজারের প্রতি আস্থার কারণেই বিনিয়োগকারীরা তিন হাজার সূচকের মনস্তাত্ত্বিক বাধা পেরিয়ে এসেছে। সূচক এখন তিন হাজার ২০০ পয়েন্টের আশপাশে থাকছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির শেয়ার বাজারে ছাড়ার বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেক সময় বাজারে শেয়ার ছাড়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ান। কারণ তাঁরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে ভয় পান। তিনি বলেন, বাজারে শেয়ার ছাড়া হলে কোম্পানির ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না এমন ভুল ধারণাও একটি বড় বাধা। কিন্তু সরকার চাইলে ৭৫ ভাগ শেয়ার বিক্রি করে দিয়েও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব।
নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অধীনে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানির বার্ষিক হিসাব বিবরণী বস্তুনিষ্ঠ নয়। নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় এরা নানা কৌশলে প্রকৃত মুনাফা আড়াল করে। এই প্রবণতা বন্ধ করতে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো জরুরি। এ ছাড়া বাজারে দক্ষ জনবল বাড়াতে শিগগিরই ক্যাপিটাল মার্কেট ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম শুরু করার তাগিদ দেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, ব্যাংক আমানতের সুদহার হ্রাস, ব্যাংকে বিপুল উদ্বৃত্ত তারল্য, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে বাজারের গতিশীলতা বেড়েছে। তারল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শেয়ার সরবরাহ না বাড়ায় কিছু শেয়ারের মূল্য অযৌক্তিকরকম বেড়ে গেছে।
রকিবুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির শেয়ার ছেড়ে রাষ্ট্রের এসব সম্পদের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানো যায়। এ ছাড়া সরকার ব্যাংক ও দাতাদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ না নিয়ে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাড়াতে পারে। তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত চেষ্টায় পুঁজিবাজারে নতুন যে গতির সঞ্চার করা হয়েছে, সরকার তা কাজে লাগানোর উদ্যোগ না নিলে সেটি হবে বড় দুর্ভাগ্যের বিষয়। বিদ্যুত্ উন্নয়ন প্রকল্পে বাজারকে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হলে ‘গ্রিনফিল্ডের’ সুযোগ দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শেয়ারবাজারে অবৈধ লেনদেন, যুক্তরাষ্ট্রে ছয়জন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারবাজারে অবৈধভাবে লেনদেন করার অভিযোগে ছয়জনকে গত শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা সবাই ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ করে প্রচুর অর্থ কামিয়েছিলেন।
ইনসাইডার ট্রেডিং হলো জনগণের কাছে উন্মুক্ত নয় এমন তথ্য অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে সংগ্রহ করে কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বা বন্ডের বা অন্য কোনো সিকিউরিটিজের লেনদেন করা।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্ হেজ ফান্ড গ্যালিওন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রাজ রাজারত্নাম এবং আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা অবৈধভাবে দুই কোটি ডলার মুনাফা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গুগল, হিলটন হোটেল ও এএমডির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরকার তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করে তা কাজে লাগিয়ে ব্যবসা করে তাঁরা এই মুনাফা করেছেন।
ফোর্বস ম্যাগাজিন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনীদের তালিকায় রাজারত্নামকে রেখেছে এবং হিসাব দিয়েছে যে তাঁর ১৩০ কোটি ডলারের সম্পদ আছে।
ইন্টেলের বিনিয়োগ শাখা ইন্টেল ক্যাপিটাল এবং নিউ ক্যাসেল নামের আরেকটি হেজ ফান্ডেও এ ধরনের অবৈধ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
সে কারণে ইন্টেল ক্যাপিটালের একজন পরিচালক রাজীব গোয়েল এবং আইবিএমের একজন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাবর্ট মোফ্যাটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের তালিকায় আরও আছেন ম্যাককিনসে কোম্পানির একজন পরিচালক অনিল কুমার এবং নিউ ক্যাসেলের দুই অংশীদার ড্যানিয়েল চেইসি ও মার্ক কুরল্যান্ড।
বলা হচ্ছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম হেজ ফান্ড মামলা।
এ প্রসঙ্গে মার্কিন অ্যাটর্নি প্রিট বাহরারা বলেন, ‘লোভ মোটেও ভালো নয়। এই ঘটনা ওয়ালস্ট্রিটের জন্য একটি সতর্কবার্তা হতে পারে।’
অ্যাটর্নি প্রিট বাহরারা আরও বলেন, ওয়ালস্ট্রিটে যাঁরা আছেন, তাঁদের এখন আইন ভঙ্গ করার আগে একবার চিন্তা করা উচিত যে তাঁদের কথাবার্তা কেউ শুনছে কি না।
উল্লেখ্য, ছয়জনকে গ্রেপ্তার করার আগে আদালতের অনুমতি নিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের টেলিফোন-আলাপে আড়ি পাতা হয়।
প্রসঙ্গত, হেজ ফান্ড হলো এক বিশেষ ধরনের বিনিয়োগপ্রতিষ্ঠান, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু বিনিয়োগকারী বিভিন্ন ধরনের শেয়ার, পণ্য ও ঋণে বিনিয়োগ করে থাকে। তবে এই বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

জুলাইয়ে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত প্রায় ৬১ কোটি ডলার

চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথম মাসে অর্থাত্ জুলাই মাসে দেশে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৬০ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
গত বছরের একই সময়ে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত ছিল ২৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এর মানে হলো, এক বছরের ব্যবধানে চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
মূলত প্রবাসী-আয়ের উচ্চ প্রবাহ এবং নিম্নহারে বাণিজ্য-ঘাটতি চলতি হিসাবের ভারসাম্যকে উদ্বৃত্তাবস্থায় ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।
গত অর্থবছর সার্বিকভাবে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত ছিল ২৫৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা এর আগের বছর ছিল ৯৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। তার মানে এক বছরের ব্যবধানে চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত চার গুণের বেশি বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) দেশে প্রবাসী-আয়ের পরিমাণ ছিল ১৮২ কোটি ৩২ লাখ ডলার।