Tuesday, March 16, 2010

ওবামার সফরের প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভ

ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সফরের প্রতিবাদে হাজার হাজার মুসলিম গতকাল রোববার রাজধানী জাকার্তাসহ সারা দেশে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ ওবামার ইন্দোনেশিয়া সফরের কথা রয়েছে।
মাকাসসার প্রদেশের রাজধানী সুলাবেসিতে কট্টরপন্থী মুসলিম গোষ্ঠী হিজবুত তাহরিরের প্রায় দুই হাজার সদস্য এক সমাবেশ করে। সমাবেশে তারা ‘ইসলামি ঐক্য...পরাজিত হবে না’, ‘ওবামাকে প্রত্যাখ্যান করো’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ছিঁড়ে ফেলে।
মধ্য জাভার সলো শহরেও হিজবুত তাহরিরের পাঁচ শতাধিক সমর্থক সমবেত হয়ে ‘উপনিবেশবাদের নেতা ওবামাকে প্রতিহত করো’ এবং ‘যুক্তরাষ্ট্র সত্যিকারের সন্ত্রাসী’ বলে স্লোগান দেয়।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের উদ্ধৃতি দিয়ে হিজবুত তাহরিরের মুখপাত্র নূর আলম বলেন, দুই ধরনের অতিথি আছে—ভালো ও মন্দ। ওবামা মন্দ। তাঁর গায়ের রং বুশের চেয়ে অন্য রকম হতে পারে, কিন্তু তিনি এখনো মুসলমানদের দমিয়ে রাখতে চান। তিনি ইন্দোনেশিয়ায় বেড়ে উঠতে পারেন, তাই বলে তাঁকে প্রত্যাখ্যান না করার কোনো যুক্তি নেই।
নূর আলম বলেন, ওবামা একজন নিষ্ঠুর মানুষ । তাঁর হাত রক্তে ভেজা, মনের মধ্যে কোনো মায়া নেই।
শৈশব ও কৈশোরের অনেকটা সময় জাকার্তায় কেটেছে বারাক ওবামার। জীবনের এত দীর্ঘ সময় কাটানোর সুবাদে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত এই দেশটিতে তিনি বেশ জনপ্রিয়।
ওবামা ২১ মার্চ ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়বেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস গত সপ্তাহে বলেছেন, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক জোরদার করাই এই সফরের লক্ষ্য।

বেকায়দায় পড়েছেন নেতানিয়াহু

অধিকৃত ফিলিস্তিনি এলাকায় নতুন করে বসতি স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে ইসরায়েল পড়েছে দারুণ বেকায়দায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও পড়েছেন তোপের মুখে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সফরের সময় ওই বসতি স্থাপনের ঘোষণা দেওয়ায় যত বিপত্তি ঘটেছে। বিষয়টি এখন ইসরায়েল-মার্কিন সম্পর্ককে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ করেছে বলে ইসরায়েলি বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন শুক্রবার বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে টেলিফোন করে যুক্তরাষ্ট্রের হতাশার কথা জানিয়েছেন। হিলারি তাঁকে বলেছেন, ইসরায়েলি সরকার নতুন করে বসতি স্থাপনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা একটি নেতিবাচক ইঙ্গিত। এটি মধ্যপ্রাচ্য শান্তি-প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
হিলারি আরও বলেছেন, নতুন ইহুদি বসতি স্থাপনের ইসরায়েলি পদক্ষেপ শুধু শান্তি-প্রক্রিয়াকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং দেশটির শীর্ষ মিত্রের কাছে একটি গভীর নেতিবাচক বার্তাও পাঠাচ্ছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাম্প্রতিক ইসরায়েল সফরকালে পূর্ব জেরুজালেমে এক হাজার ৬০০ ইহুদি বসতি স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা শুরুর উদ্যোগও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
গণমাধ্যমের তোপের মুখে পড়ে মার্কিন-ইসরায়েল উত্তেজনা প্রশমনে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু উদ্যোগী হয়েছেন। তবে সেই উদ্যোগ কতটুকু সফল হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। এরই মধ্যে ইসায়েলের মারিভ পত্রিকা তাদের সম্পাদকীয়তে বলেছে, সংকট এখনো পূর্ণ মাত্রায় রয়েছে। বরং এটা এখন নতুন একটি উচ্চতায় চলে গেছে।...সম্ভবত এটা আরও দীর্ঘায়িত হবে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় গতকাল রোববার বিষয়টি নিয়ে জনগণের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করেছে, ওই দুঃখ প্রকাশের মধ্য দিয়ে মার্কিন-ইসরায়েল ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। গতকাল নেতানিয়াহু বলেছেন, আমার পরামর্শ হলো আত্মসংযম হারালে চলবে না। শান্ত থাকতে হবে। আমরা জানি, কিভাবে এ ধরনের পরিস্থিতি ধীরস্থিরভাবে মোকাবিলা করতে হয়।
ইসরায়েলের বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র এদিয়ত আহারনত নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে ‘মুখে থুতু নিক্ষেপ’ শিরোনামের এক সম্পাদকীয়তে বলে, সর্বশেষ কবে আমরা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে এ ধরনের কর্কশ এবং শীতল ও বিরূপ মন্তব্য শুনেছি? এবং এটা স্রেফ ওয়াশিংটনের কণ্ঠস্বর বা তাদের দুটি শব্দই নয়। এটা (ইসরায়েলের প্রতি) আস্থার অভাব ও চরম অবজ্ঞারই বহির্প্রকাশ। এএফপি।
পশ্চিম তীর বন্ধের সময় বাড়াল ইসরায়েল
ইসরায়েল গত শনিবার অধিকৃত পশ্চিম তীর বন্ধ রাখার সময় বাড়িয়েছে এবং জেরুজালেমের বিরোধপূর্ণ আল-আকসা মসজিদ কম্পাউন্ডে প্রবেশের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। ইসরায়েলের সর্বশেষ বসতি স্থাপন পরিকল্পনা নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, অব্যাহত হামলার ঝুঁকির কারণে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক পশ্চিম তীর বন্ধ রাখার সময় আগামীকাল মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়িয়েছেন।
উল্লেখ্য, বন্ধের সময় গত শনিবার রাতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব জেরুজালেমে নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধ ও ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় ইসরায়েল গত শুক্রবার পশ্চিম তীর বন্ধ করে দেয়। সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে হাসপাতাল কর্মী, রোগী, ধর্মীয় কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ ও অন্যান্য পেশাজীবী এবং যাদের মানবিক কারণে প্রয়োজন তাদের ঢুকতে দেওয়া হবে।
গত শনিবার পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারী ফিলিস্তিনি নারী ও পুরুষদের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাদের সংঘর্ষ হয়। ইসরায়েলি পুলিশ জানায়, জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ এলাকায় ৫০ বছরের কম বয়সীদের প্রবেশের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।

মুম্বাইয়ে হামলার পরিকল্পনায় জড়িত দুই ভারতীয় গ্রেপ্তার

মুম্বাইয়ের একটি জ্বালানি স্থাপনা ও একটি বিপণিকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনায় জড়িত দুজন ভারতীয় নাগরিককে গত শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০০৮ সালের নভেম্বরে ওই শহরেই জঙ্গিদের হামলায় ১৬৬ জন লোক নিহত হয়েছিল।
বার্তা সংস্থা পিটিআই শনিবার গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুজনের নাম প্রকাশ করেছে। তাঁরা হলেন আবদুল লতিফ রশিদ (২৯) ও রিয়াজ আলী (২৩)।
মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশপ্রধান কে পি রঘুবাঁশি বলেন, ভারতের ওই দুই নাগরিক পাকিস্তান থেকে আসা নির্দেশ মেনে চলতেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল, রাষ্ট্র-পরিচালিত অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস নামের জ্বালানি তেলের ডিপো ও একটি জনপ্রিয় বিপণিকেন্দ্র।
পুলিশপ্রধান আরও বলেন, ‘তাঁরা সীমানার ওপারের পাকিস্তানে তাঁদের নির্দেশদাতাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখতেন। যখন আমরা বুঝতে পারি তাঁরা কোনো হামলার পরিকল্পনা করছেন, তখনই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।’

বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে ৭০০ বছরের পুরোনো হাউস অব লর্ডস

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ৭০০ বছরের পুরোনো উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডস বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে। এটির খোল নলচে বদলে ফেলার পরিকল্পনা করেছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি সরকার। নতুন এ পরিকল্পনা অনুযায়ী রানির পছন্দের এবং উত্তরাধিকারসূত্রে আজীবন সদস্যপদ পাওয়া ৭৪০ জন অনির্বাচিত সদস্যের হাউস অব লর্ডস বিলুপ্ত করে তার জায়গায় ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ হবে। এমনকি ‘হাউস অব লর্ডস’ নামটিও আর থাকবে না। অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের আদলে নতুন ওই উচ্চকক্ষের নাম হবে ‘সিনেট’। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ব্রিটেনের বিচারমন্ত্রী জ্যাক স্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈপ্লবিক সংস্কার পরিকল্পনার ঘোষণা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রিটেনের পত্রিকা দ্য সানডে টাইমস গতকাল রোববার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। পিটিআই।
বিচারমন্ত্রী জ্যাক স্ট্রর ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছে, উচ্চকক্ষের সংস্কারসংক্রান্ত পরিকল্পনার খসড়া তৈরির জন্য স্ট্র নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শিগগিরই তিনি অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ কিছু সংস্কারমূলক প্রস্তাবের খসড়া আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবেন।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী উচ্চকক্ষকে বলা হবে সিনেট। এর সদস্যরা সিনেটর নামে পরিচিত হবেন। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মতো নির্বাচনের মাধ্যমে সিনেটর নিয়োগ করা হবে।
আগামী মে মাসে ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর আগেই হাউস অব লর্ডসের সভায় জ্যাক স্ট্র তাঁর পরিকল্পনাপত্র পেশ করবেন।
প্রায় সাত শতাব্দী ধরে হাউস অব লর্ডস ব্রিটেনের রাজকীয় ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের সদস্যসংখ্যা ৬৪৬ জন। তাঁরা সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত। অন্যদিকে হাউস অব লর্ডসের সদস্যসংখ্যা ৭৪০ জন। তাঁরা কেউই ভোটে নির্বাচিত নন। তাঁদের বেশির ভাগ সদস্য প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে রানির অনুমোদন সাপেক্ষে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। বাকিরা রাজপরিবারের উত্তরাধিকারসূত্রে এই কক্ষের আজীবন সদস্য। বর্তমানে এ রকম আজীবন সদস্য রয়েছেন ৯২ জন।
সম্প্রতি এসব আজীবন সদস্য তাঁদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি অর্থের অপচয় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারের নতুন এ পরিকল্পনার পেছনে এটিকেও একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্পর্কের টানাপোড়েনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী: জিয়াবাও

বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও। তিনি বলেছেন, সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য ওয়াশিংটনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। গতকাল রোববার চীনের বার্ষিক পার্লামেন্টারি সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়েন জিয়াবাও এ কথা বলেন। খবর জিনিউজ ও এএফপির।
ওয়েন বলেন, ওয়াশিংটনে তিব্বতিদের নির্বাসিত নেতা দালাই লামার সফর, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রিসহ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড চীনের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক মারাত্মক ব্যাহত হওয়ার জন্য চীন নয়, যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী।
ওয়াশিংটন গত জানুয়ারি মাসে স্বশাসিত তাইওয়ানের কাছে ৬৪০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়। অথচ পুনরেকত্রীকরণের অপেক্ষায় থাকা তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ মনে করে চীন।
গত মাসে চীনের আপত্তি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হোয়াইট হাউসে তিব্বতের আধ্যাত্মিক ও নির্বাসিত নেতা দালাই লামার সঙ্গে দেখা করেন। বেইজিং বলছে, ধর্মীয় ওই নেতা হিমালয় অঞ্চলের স্বাধীনতা চায়। স্বাধীনতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আদায়ে ওয়াশিংটন সফর করেন দালাই লামা। তবে চীনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দালাই লামা।
সম্প্রতি বাণিজ্য ও মুদ্রানীতি এবং ইন্টারনেটে চীনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কের অবনতি হয়। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা বার্ষিক প্রতিবেদনে চীনে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়। এর পরদিন শুক্রবার চীন যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাল্টা অভিযোগ আনে।
প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও গতকাল মুদ্রা ইউয়ানের বিনিময় হার নিয়ে বেইজিংয়ের ওপর বিদেশিদের চাপ প্রত্যাখ্যান করেন এবং এ ব্যাপারে যাতে হস্তক্ষেপ না করে, সে জন্য সতর্ক করে দেন অন্য দেশগুলোকে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনের বাণিজ্য সহযোগীরা বলছে, কমিউনিস্ট নেতারা বৈশ্বিক মন্দা থেকে বাঁচতে রপ্তানি বাড়াতে ইচ্ছা করে মুদ্রার চরম অবমূল্যায়ন করেছেন।

ব্যাংককের রাস্তায় থাকসিন সমর্থকদের বিক্ষোভ

থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার প্রায় এক লাখ সমর্থক গতকাল রোববার কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই রাজধানীর ব্যাংককে বিক্ষোভ করেছে। সরকারের কাছে তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। নয়তো ব্যাংকক অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। খবর এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্সের।
থাকসিনের ‘লাল শার্ট’ সমর্থকেরা গতকাল লাল শার্ট পরে অংশ নেয় বিক্ষোভে। বিক্ষোভের আয়োজকেরা জানান, বিক্ষোভে এক লাখেরও বেশি লোক অংশ নিয়েছে। এদের বেশির ভাগই উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র লোকজন। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল লাল পতাকা। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তারা নানা স্লোগান দেয় ও গান গায়। তাঁরা আরও জানান, বিক্ষোভে অংশ নিতে উত্তরাঞ্চলীয় ও আয়ুধুত্য প্রদেশ থেকে আরও লোকজন ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ভ্যানে চড়ে ব্যাংকক আসছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় ইতিমধ্যে ব্যাংককের রাজপথ, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রায় ৭০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক থাউইল প্লিয়েস্রি রয়টার্সকে বলেন, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। তিনি জানান, নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
থাইল্যান্ডের সর্বোচ্চ আদালত দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিনের ১৪০ কোটি ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করার দুই সপ্তাহ পর এই বিক্ষোভের ডাক দেয় তাঁর সমর্থকেরা। লাল শার্ট সমর্থকদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ ভেজ্জাজিভাকে পদত্যাগ করে ক্ষমতা ছাড়তে হবে এবং নতুন করে নির্বাচন দিতে হবে। তাদের দাবি, বর্তমানে ক্ষমতাসীনেরা অভিজাত ব্যক্তি। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তারা।
বিক্ষোভকারীরা গত শুক্রবার থেকে সড়ক ও নৌপথে ব্যাংকক পৌঁছায়। কিন্তু আনুষ্ঠানিক বিক্ষোভ শুরু হয় গতকাল দুপুরে রেড শার্ট নেতা ভিরা মুসিকাপংয়ের জ্বালাময়ী বক্তৃতার মধ্য দিয়ে। উদ্দীপিত জনতার উদ্দেশে ভিরা মুসিকাপং বলেন, ‘জনগণের হাতে ক্ষমতা ফেরত এবং পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে পুরো দেশের লালরা। আমরা এখানে অবস্থান নিয়েছি এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তরের অপেক্ষায় আছি।’
ব্যাংককের ৮০ কিলোমিটার পূর্ব দিকে চুনবুরি অঞ্চল থেকে এসে গতকালের বিক্ষোভে অংশ নেন পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানির কর্মী ৫০ বছর বয়সী বেনজাওয়ান ফোলপ্রসার্ট। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো ধরনের সহিংসতায় ভীত নই। আমরা শক্তি প্রয়োগ করব না। সরকারের দমন-পীড়নেও আমি ভীত নই।’
তবে প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ ভেজ্জাজিভা জনগণকে তোয়াক্কা করছেন না উল্লেখ করে বেনজাওয়ান বলেন, ‘আমরা যা চাই তা যদি পেতে চাই তবে ভয় পেলে চলবে না।’
প্রধানমন্ত্রী অভিজিতের সাপ্তাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বলা হয়েছে, ক্ষমতা না ছাড়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালেও তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। অভিজিত্ বলেন, ‘ক্ষমতার মেয়াদ শেষ করা আমার অধিকার। ক্ষমতা ছাড়ার কোনো ইচ্ছা নেই।’ তিনি বলেন, মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। মিছিল হবে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলার সঙ্গে। বিক্ষোভের কারণে প্রধানমন্ত্রী তাঁর অস্ট্রেলিয়া সফরও বাতিল করেছেন।
এদিকে বিক্ষোভ দীর্ঘস্থায়ী হওয়া নিয়ে আতঙ্কে আছেন বিনিয়োগকারীরা।
থাকসিন সিনাওয়াত্রা ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে থাকসিনের বিরোধী ‘হলুদ শার্ট’ সমর্থকেরা তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাঁর পদত্যাগ দাবি করে ব্যাপক বিক্ষোভ করে। এর কিছুদিন পর সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন থাকসিন।

বেসিক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক সম্মেলন

বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের ২০১০ সালের শাখা ব্যবস্থাপকদের প্রথম সম্মেলন সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু। এতে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম সাজেদুর রহমান।
সম্মেলনে ব্যাংকের ২০০৯ সালের অর্থনৈতিক সাফল্য পর্যালোচনা এবং চলতি বছরের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

বৈদেশিক বাণিজ্যে অর্থায়ন বিষয়ে বিআইবিএমের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ ও অর্থায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কোর্স সম্প্রতি শেষ হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী শাখায় অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণ কোর্সে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৩১ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ কোর্সে অংশ নেন।
বিআইবিএমের মহাপরিচালক বন্দনা সাহা কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী শাখার মহাব্যবস্থাপক নির্মল চন্দ্র ভক্ত। বিআইবিএমের অনুষদ সদস্য মো. আতিয়ার রহমান মোল্লা ও ঊর্ধ্বতন সহযোগী অধ্যাপক শেখ হারুন-অর-রশীদ যৌথভাবে কোর্স সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন।

অ্যাপোলো হসপিটালস ও এবি ব্যাংকের চুক্তি

অ্যাপোলো হসপিটালস ঢাকা সম্প্রতি আরব-বাংলাদেশ (এবি) ব্যাংক লিমিটেডের সঙ্গে একটি করপোরেট চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তির আওতায় আরব-বাংলাদেশ ব্যাংকের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অ্যাপোলো হসপিটালসে দ্রুত ও সুনিশ্চিত চিকিত্সাসেবাসহ অন্যান্য করপোরেট সুবিধা লাভ করবেন।
অ্যাপোলো হসপিটালস ঢাকার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শাহজাহান মজুমদার এবং আরব-বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কায়সার এ চৌধুরী নিজ নিজ পক্ষে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে অ্যাপোলো হসপিটালসের মহাব্যবস্থাপক শাগুফা আনোয়ার এবং আরব-বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট সাব্বির আলী উপস্থিত ছিলেন।

ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার নিয়মিত প্রকাশ করবে কর্তৃপক্ষ

ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদের হার নিয়মিত ভিত্তিতে প্রকাশ করা হবে। আর প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সুদের হার নির্ধারণ করতে হবে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) বেঁধে দেওয়া নীতির মধ্যে।
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ক্ষুদ্র অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণবিধি: কার উপকার?’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এমআরএ তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে, যা আজ সোমবার থেকে শুরু হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ক্ষুদ্রঋণের সুদের হারের বিষয়টি জটিল। এখানে বিভিন্ন ধরনের ঋণসেবার বিভিন্ন ধরনের সুদ ও মাশুল আছে। ঋণ পরিশোধের ধরনে রকমভেদ আছে।
এই বাস্তবতায় এমআরএ সুদের হার নির্ধারণের জন্য নীতিনির্দেশনা দিয়ে দেবে, যা নিয়ে এখন কাজ চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এমআরএ পরিচালক লীলা রশিদ বলেন, ‘এটা ঠিক যে, ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার অনেক চড়া। ১৫ শতাংশ ঘোষিত সুদ শেষ পর্যন্ত ২৫-৩০ শতাংশও হয়ে যায়। পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে যে, মানুষের বাড়ির দোরগোড়ায় ঋণসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয়ও অনেক বেড়ে যায়। যে কারণে ব্যাংক এই ক্ষুদ্রঋণ দিতে পারে না।’
আর তাই এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে সুদের হার নির্ধারণ করার কাজটি জটিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
লীলা রশিদ আরও বলেন, ইতিমধ্যে ৫০০ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তাদের বিভিন্ন ধরনের সেবা মাশুল ও সুদের হারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, এমআরএ সুদবিষয়ক নীতি নির্ধারণ করবে, যার আওতায় প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে সুদের হার ঘোষণা করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, বিশ্বমন্দার ঝাপটায় বাংলাদেশ যে বড়ভাবে আক্রান্ত হয়নি তার জন্য কৃষি উত্পাদন ও প্রবাসী-আয়ের পাশাপাশি ক্ষুদ্রঋণ একটি ভূমিকা রেখেছে। সুতরাং ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম সুষ্ঠু নিয়মনীতির নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
গভর্নর বলেন, দেশের ভেতর চাহিদা সৃষ্টি করতে ক্ষুদ্রঋণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি কোনো বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়, তাহলে লাখ লাখ মানুষ বিপদে পড়বে। আর তাই এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য নিয়ন্ত্রণবিধি জরুরি।
আতিউর রহমান ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্ষুদ্রঋণের অভিজ্ঞতা ও ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক নিয়ন্ত্রণবিধির বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে, মতবিনিময় করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এমআরএর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মুজহারুল হক বলেন, কারা ক্ষুদ্রঋণ দেবে আর কারা ক্ষুদ্রঋণ পাবে, তা নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে। তাই প্রয়োজন সুষ্ঠু নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণবিধি। তিনি আরও বলেন, ব্র্যাকের মতো বড় প্রতিষ্ঠান যেমন ক্ষুদ্রঋণ দিচ্ছে, তেমনি অনেক ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানও এ খাতে রয়েছে। কিন্তু সবার জন্য অভিন্ন বিধিমালা সমভাবে প্রযোজ্য নয়।
আরেক প্রশ্নের জবাবে মুজহারুল হক বলেন, এমআরএ থেকে এক হাজারের মতো প্রতিষ্ঠানকে (এনজিও) কার্যক্রম বন্ধের জন্য বলা হয়েছে এটা ঠিক। তবে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য বা ব্যাখ্যা থাকলে তা জানানোরও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওর-বাঁওড় ও চরাঞ্চলের মতো কিছু এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা আনা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, তিন দিনের এই সম্মেলনে ২০টি দেশের ৫০ জন প্রতিনিধি অংশ নেবেন। বাংলাদেশ থেকে থাকবেন ১৫০ জন। আজ সকালে সোনারগাঁও হোটেলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। বুধবার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান।

ব্যাংকের নির্বাহী কমিটিতে এক পরিবারের একাধিক পরিচালক থাকবেন না

ব্যাংকের নির্বাহী কমিটিতে এক পরিবারের একাধিক পরিচালক থাকার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যে গঠিত কোনো ব্যাংকের নির্বাহী কমিটিতে এক পরিবারের একাধিক সদস্য থাকলে পর্ষদের পরবর্তী সভায় ওই কমিটি পুনর্গঠন করতে নির্দেশ দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল রোববার দেশের সব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে পাঠানো এক সার্কুলারে এ নির্দেশ দিয়েছে।
ব্যাংক কোম্পানি আইনে পরিবার বলতে স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন এবং ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল সবাইকে বোঝানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫(১) ধারার ক্ষমতাবলে এ নির্দেশ জারি করেছে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্বাহী কমিটির সদস্যসংখ্যা সর্বোচ্চ সাতজনে নির্ধারণ করে দেয়।
জানা যায়, কোনো কোনো ব্যাংকের নির্বাহী কমিটিতে এক পরিবারের একাধিক পরিচালক সদস্য রয়েছেন। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া প্রভাবিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ কারণে নির্বাহী কমিটিতে এক পরিবারের একাধিক পরিচালক থাকার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

ক্রিকেটের জন্মদিন!

টেস্ট ক্রিকেটই নাকি আসল ক্রিকেট। তাই যদি হয় আজ তো ক্রিকেটের জন্মদিন! ১৮৭৭ সালে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া—ইংল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে আজকের দিনটিতেই যাত্রা শুরু করেছিল টেস্ট ক্রিকেট। যদিও শুরুতে ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল সম্মিলিত ইংল্যান্ড একাদশ এবং নিউ সাউথ ওয়েলস-ভিক্টোরিয়া যৌথ একাদশের মধ্যে। পরে এটিই টেস্ট ম্যাচের মর্যাদা পেয়ে যায়। সেই থেকে এই ১৩৩ বছরে চট্টগ্রাম টেস্টসহ ম্যাচ হয়েছে ১৯৫৪টি। যে দুই দলের হাতে সূচনা, সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে তারাই, ৮৯৬টি ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ৭১৯টি। ৪৬২টি খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ৪৩৭টি ভারত, নিউজিল্যান্ড ৩৫৭, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৫০, পাকিস্তান ৩৪৬, শ্রীলঙ্কা ১৯২, জিম্বাবুয়ে ৮৩ ও বাংলাদেশ ৬৫টি। ১টি টেস্ট খেলেছে আইসিসি বিশ্ব একাদশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য ১৬২ রান

পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ আগেই জিতে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কাল আনুষ্ঠানিকতার শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১৬১ রানে বেঁধে ফেলেছে স্বাগতিকেরা। সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেছেন কভেন্ট্রি। জবাবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪.১ ওভারে ১ উইকেটে ২০ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

নিউজিল্যান্ড দলে সিনক্লেয়ার

১৯ মার্চ ওয়েলিংটনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুরু দুই টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচটায় ম্যাথু সিনক্লেয়ার খেললে সেটি হবে নিউজিল্যান্ড দলে তাঁর ষষ্ঠ প্রত্যাবর্তন! ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যানের দলে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে নিল ব্রুমকে বাদ দিয়ে ঘোষিত ১৩ জনের দলে নাম থাকায়। ৩৪ বছর বয়সী সিনক্লেয়ার সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন দুই বছর আগে।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম নিয়ে ফুটবল লিগ জটিলতা

মহান স্বাধীনতা দিবস পালন উপলক্ষে ১৬-২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম চায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। বাফুফেকে চিঠি দিয়ে তা জানানো হয়েছে।
বাফুফে ক্রীড়া পরিষদকে বলেছে, ২৩ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ লিগের খেলা আছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। এর আগে মাঠ দিলে লিগ শেষ করতে দেরি হবে আরও। তবে ক্রীড়া পরিষদের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁরাও খেলা বন্ধ রাখার পক্ষে নন। তাই দুই পক্ষে আলোচনা করে একটা সমাধান খোঁজা হবে।
আবাহনীতে নতুন বিদেশি: ১৯ মার্চ মোহামেডানের মুখোমুখি হওয়ার আগে সুবিধাজনক অবস্থায় আবাহনী। ১১ ম্যাচে আবাহনীর পয়েন্ট ৩৩, ১০ ম্যাচে মোহামেডানের ২৬। মোহামেডানকে হারাতে পারলে পেশাদার লিগে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে আবাহনীর। দলের শক্তি বাড়াতে আগামী বৃহস্পতিবার একজন নাইজেরিয়ান খেলোয়াড় আনছে তারা। নাইজেরিয়ান লিগে খেলা এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে অবশ্য অনুশীলনে দেখেই নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত হবে।
দুই মোহামেডানের ম্যাচ: ঢাকা মোহামেডানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে আজ নির্ধারিত দুই মোহামেডানের স্থগিত ম্যাচটি হবে ২৪ মার্চ।

ভাঙা মন নিয়েই নিউজিল্যান্ডে আসছেন ক্লার্ক

৪.৭ ক্যারেটের ২ লাখ ডলার দামের মহামূল্যবান আংটিটা দিয়ে এখন কী করবেন লারা বিঙ্গল? এমন একটা প্রশ্নই অস্ট্রেলিয়ার একটি ওয়েবসাইট ছুড়ে দিয়েছে তাদের পাঠকদের সামনে। তাতে বেশ কয়েকটি ‘অপশনে’ ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। তবে এর কোনোটাই নয়, বিঙ্গল আংটিটার আপাতত সবচেয়ে ‘যোগ্য’ ব্যবহার করেছেন। ফেলে দিয়েছেন টয়লেটের কমোডে!
আংটিটা এখন অর্থহীন হয়ে গেলেও তার অর্থমূল্য নিশ্চয়ই কমেনি। আর তাই সেটি পুনরুদ্ধার করতে মিস্ত্রি ডাকতে হয়েছিল। সিডনির টুইন পাইপস কোম্পানির কর্মীরা সান হেরাল্ডকে জানিয়েছেন, রাত আড়াইটার দিকে তাঁরা বন্ডি সৈকতের বিলাসবহুল ওই অ্যাপার্টমেন্টে এসেছিলেন আংটিটা উদ্ধার করতে। প্রথম দফায় ব্যর্থ হওয়ার পর বিশেষ এক ধরনের ক্যামেরা ব্যবহার করে সেটি উদ্ধার করা গেছে।
এদিকে ভাঙা মন নিয়েই নিউজিল্যান্ডে আসছেন মাইকেল ক্লার্ক। ক্রিকেটের মাঝেই দাওয়াই খুঁজছেন হূদয়ের ক্ষত সারিয়ে তোলার। আর তাই বিঙ্গলের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলেও ১৯ মার্চ শুরু প্রথম টেস্টেই খেলতে চান দলের সহ-অধিনায়ক। নিউজিল্যান্ডের সাবধান হওয়া উচিত। কারণ ২০০৮ সালে বিঙ্গলের বাবার মৃত্যুর কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফররত দলের সঙ্গে দেরিতে যোগ দিয়েছিলেন ক্লার্ক। ভাবী শ্বশুরের মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন থেকেও কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নেমেই করেছিলেন সেঞ্চুরি!
গতকাল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) মুখপাত্র জানিয়েছেন, আজই ফিলিপ হিউজ, সাইমন ক্যাটিচদের নিয়ে সিডনি থেকে ওয়েলিংটনে উড়ে যাওয়ার কথা তাঁর। মাইক হাসি জানিয়েছেন, ক্লার্ককে বরণ করে নিতে তাঁরা প্রস্তুত, ‘মানসিকভাবে ও খুবই দৃঢ় স্বভাবের। ওর সবকিছুই নিশ্চয়ই ঠিক হয়ে যাবে। যা হয়েছে সেটির প্রভাব আমাদের খেলায় না পড়লেই ভালো।’
রিকি পন্টিং অবশ্য আশাবাদী, খেলায় কোনো প্রভাব পড়বে না, ‘প্রথম টেস্টের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ ও পাচ্ছে। গত কিছুদিন ওর কঠিন সময় গেছে, এটা তো ঠিক। আমরা যারা এখানে আছি তারা সবাই ওকে যথাসম্ভব মানসিক সমর্থন দেব। দলের সহ-অধিনায়ক এবং একজন অভিজ্ঞ সদস্য হিসেবেই ও ফিরবে।’

ওয়ার্ন টেন্ডুলকার লারার ইউসুফ-প্রশস্তি

ধন্য ইউসুফ পাঠান! শেন ওয়ার্নের কাছ থেকে যে প্রশংসা পেলেন, বাকি জীবনটায় আর ক্রিকেট না খেললেও চলবে তাঁর! কী বলেছেন ওয়ার্ন? বলেছেন, পরশু পাঠানের ৩৭ বলে ১০০ রানের ইনিংসটাকে তাঁর দেখা সেরা ইনিংস।
কত নামীদামি ব্যাটসম্যানের ইনিংসই না দেখেছেন দু দশকের লম্বা ক্যারিয়ারে ৭০৮ টেস্ট উইকেটের মালিক। কিন্তু আইপিএলের দ্বিতীয় দিন ৯টি চার আর ৮ ছক্কায় ইউসুফ যে ইনিংসটা খেললেন, সেটিই কিংবদন্তির লেগ স্পিনারের চোখে সেরা, ‘২১ বছর ধরে ক্রিকেট খেলছি। শচীন টেন্ডুলকার, ব্রায়ান লারার অনেক ইনিংস দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। কিন্তু আজই (পরশু) আমি আমার সেরা ইনিংসটা দেখলাম।’
টি-টোয়েন্টিতে এর চেয়েও দ্রুততম সেঞ্চুরি আছে আরেকটি। ৩৪ বলে যেটি করেছিলেন ওয়ার্নেরই সাবেক সতীর্থ অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস। কিন্তু রাজস্থান সতীর্থ সম্পর্কে অধিনায়কের এমন উচ্ছ্বসিত মন্তব্যের পেছনে আবেগ খোঁজা যায়। তবে ওয়ার্ন নিরেট পরিসংখ্যান দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, কেন এই ইনিংসটাকেই তাঁর দেখা সেরা বলছেন, ‘আমরা ২১৩ রানের বিশাল লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে সাত ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিলাম মাত্র ৩৭ রানে। ওই অবস্থার পরও ম্যাচটা যে এত ক্লোজ হলো (রাজস্থান হেরেছে ৪ রানে), এর অবদান ৩৭ বলে সেঞ্চুরিটারই। এটা স্পেশাল একটা ইনিংস।’
শহীদ আফ্রিদির করা ওয়ানডের দ্রুততম সেঞ্চুরিটাও ৩৭ বলে। যদিও আন্তর্জাতিক রেকর্ডে ঠাঁই পাচ্ছেন না পাঠান, তার পরও এমন মারকুটে একটা ইনিংস খেলার জন্য নিশ্চয়ই গর্ব হচ্ছে তাঁর। ইউসুফের এমন ইনিংস খেলার সামর্থ্য নিয়ে কোনো বিস্ময় নেই। ভারতের ঘরোয়া ওয়ানডেতে কদিন আগে মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪০ বলে সেঞ্চুরি করেছেন। সেই মহারাষ্ট্রেরই মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষেই পরশু এই কীর্তি।
এমন ইনিংস খেলার পরও পাঠান ভাইদের বড় জনের কণ্ঠে আক্ষেপ তাঁর রান আউটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়ায়, ‘আমি একটা ভুল করেছি, আর সেই ভুলের কারণেই আমরা হারলাম।’
তবে তাঁর আক্ষেপ ঘুচে যাওয়ার কথা ওয়ার্নের ওই প্রশংসাবাণীতে। শুধু ওয়ার্ন কেন, কদিন আগে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো শচীন টেন্ডুলকারও তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। মুম্বাই অধিনায়ক তো একদম কাছে থেকেই দেখেছেন এই ঝোড়ো ইনিংস। ঝড়ের পূর্বাভাস আগেই পেয়ে গিয়েছিলেন টেন্ডুলকার, ‘ওদের তিন উইকেট দ্রুত পড়ে যাওয়ার পরও আমি দলের সবাইকে সাবধান করে দিয়েছিলাম। কারণ এর পরই তো ইউসুফ আসছে উইকেটে।’
টেন্ডুলকার-ওয়ার্ন—আধুনিক ক্রিকেটের দুই অবিসংবাদিত গ্রেটের প্রশংসা! হ্যাটট্রিকও হয়ে গেল ইউসুফের। কারণ কাল ব্রায়ান লারাও শংসাবচন দিয়ে গেছেন এই পাঠানকে।

বিষয় ফলোঅন

৩০৩ রানের লিড নিয়েও ইংল্যান্ডকে আবার ব্যাটিং করতে দেখে এটাই কি প্রথম মনে হয়েছে আপনার? হতেই পারে। রানের ব্যবধানে যত বড় পরাজয়ই হোক না কেন, ইনিংস পরাজয়ের লজ্জাটা বোধ হয় আরও বেশি।
এই ‘লজ্জা’ শব্দটা ফলোঅনের সঙ্গেও খুব ব্যবহূত হয়। তা ফলোঅনের সঙ্গে একটু অপমান তো মিশে থাকেই। কোনো দলকে যখন ফলোঅন করতে বলা হয়, তাতে প্রচ্ছন্ন হয়ে থাকে এই বিদ্রূপটাও—আমরা একবার ব্যাটিং করে যা করেছি, দেখি তোরা দুবারে তা করতে পারিস কি না!
তা অ্যালিস্টার কুক এত উদার হলেন কেন? উদারতা-টুদারতা কিছু নয়, আধুনিক ক্রিকেটে এখন এটাই রীতি। একসময় যেমন ফলোঅন করানোটাই ছিল নিয়ম, গত কিছুদিন তেমনি না-করানোটা। নয় বছর আগের কলকাতা টেস্টের প্রভাব?
২০০১ সালে ইডেন গার্ডেনে ৩৮৩ রানের লিড নিয়েও ভারতকে ফলোঅন করানোর পর হারতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে। সেই টেস্ট ম্যাচটি চর্মচক্ষে দেখার সুযোগটাকে সাংবাদিকতা জীবনের মহাসৌভাগ্য বলে মানি। টেস্টের তৃতীয় দিন কলকাতার প্রায় সব পত্রিকাই সে দিনই ওই টেস্ট শেষ হয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল। স্বীকার করে নেওয়া উচিত, আমার ম্যাচ রিপোর্টেও ছিল সেই ইঙ্গিতই। এটা অনুমান করা কার সাধ্য ছিল যে, ভেঙ্কট লক্ষ্মণ ও রাহুল দ্রাবিড় ফলোঅন ইনিংসে পুরো চতুর্থ দিন অবিচ্ছিন্ন থেকে ৩৭৬ রানের জুটি গড়বেন! প্রথম ইনিংসে ১৭১ রানে অলআউট ভারত ইনিংস ছাড়বে ৭ উইকেটে ৬৫৭ রান তুলে!
তার পরও তো ওই টেস্ট ড্রই হয়! পঞ্চম দিন লাঞ্চের একটু আগে ভারতের ইনিংস ঘোষণা, চা-বিরতির সময়ও অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেটে ১৬১। অথচ শেষ সেশনে ৩১ বল ও ৮ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে ধসে পড়ল স্টিভ ওয়াহর দল। প্রথম ইনিংসে হ্যাটট্রিকসহ ৭ উইকেট, দ্বিতীয় ইনিংসে ৬—অথচ হরভজনের কীর্তি চাপা পড়ে গেছে লক্ষ্মণের মহাকাব্যিক ২৮১ রানের নিচে।
এটাও মনে আছে, পঞ্চম দিন সকালেও ভারতকে ব্যাটিং করতে দেখে মহাবিরক্ত হয়েছিলাম। ম্যাচটাকে এমন নষ্ট করার কোনো যুক্তি আছে নাকি! পরে যুক্তিটা জেনেছি জন রাইটের ইন্ডিয়ান সামার বইটা পড়ে। টেস্টের চতুর্থ দিন রাতে কোচ রাইট ও অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী আলোচনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছান, এমন একটা অবস্থায় গিয়ে ডিক্লেয়ার করতে হবে, যখন অস্ট্রেলিয়ার বিন্দুমাত্র জয়ের সম্ভাবনাও থাকবে না। শুধুই ম্যাচ বাঁচানোর জন্য ব্যাটিং করাটা অস্ট্রেলিয়ার চূড়ান্ত অপছন্দ। ওদের এই বিরক্তিটা হবে ভারতের আসল ‘বোলার’!
ফলোঅন করাব কি করাব না সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অধিনায়কদের এখন মনে পড়ে যায় ওই কলকাতা টেস্টের স্মৃতি। তবে অ্যালিস্টার কুকের সিদ্ধান্তে অবশ্যই এর ভূমিকা নেই। ফলোঅন করালে বাংলাদেশের কেউ ভেঙ্কট লক্ষ্মণ হয়ে যেতে পারেন, এই ভয় পাওয়ার কোনো কারণই নেই। কুক ফলোঅন করাননি এই গরমে বোলারদের একটু স্বস্তি দিতে। ইদানীং ফলোঅন না করানোর যে প্রবণতা, তাতে এটিই থাকে সবচেয়ে বড় কারণ। এর সঙ্গে আরেকটি বিবেচনা, চতুর্থ ইনিংসে বোলিং করার সুযোগ।
আরও কিছু কারণও যোগ হয়েছে এর সঙ্গে। আশির দশকের শুরুতেও টেস্টে ‘রেস্ট ডে’ ছিল। বোলারদের বিশ্রাম-টিশ্রাম নিয়ে তাই ভাবতে হতো না। আরেকটা কারণ, এখন টেস্টে অনেক দ্রুত রান ওঠে। দ্বিতীয়বার ব্যাটিং করেও তাই প্রতিপক্ষকে অলআউট করার জন্য যথেষ্ট সময় মেলে।
১৯০০ সাল পর্যন্ত ফলোঅনটা অধিনায়কদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করত না। এটি ছিল বাধ্যতামূলক। ব্যাপারটা অধিনায়কের ইচ্ছাধীন হয়ে পড়ার পরও অনেক দিন সে রকমই ছিল। প্রথমে ব্যাটিং করা দল ২০০ বা এর বেশি রানে এগিয়ে থাকলে প্রতিপক্ষ দলের দুই ওপেনার প্যাড-ট্যাড পরে ফেলতেন। ফলোঅন করাতে অনীহাটা সেভাবে প্রথম দেখাতে শুরু করেন মার্ক টেলর। একটা বড় কারণ তো অবশ্যই তাঁর দলে শেন ওয়ার্ন নামে জনৈক লেগ স্পিনারের উপস্থিতি। ওয়ার্নকে চতুর্থ ইনিংসে লেলিয়ে দেওয়ার সুযোগ কোন অধিনায়ক না কাজে লাগাতে চাইবেন!
কলকাতা টেস্টেও শেন ওয়ার্ন ছিলেন। তার পরও পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর প্রতিপক্ষকে ফলোঅন করাতে একটু ভাবেননি স্টিভ ওয়াহ। একে তো ৩৮৩ রানের লিড, তার ওপর এর আগে টানা ১৬ টেস্ট জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। অথচ হকচকিত স্টিভ ওয়াহ দেখলেন, জ্যাক ব্ল্যাকহাম ও কিম হিউজের সঙ্গে লেখা হয়ে গেছে তাঁর নাম। ফলোঅন করিয়েও টেস্ট হারার ‘কীর্তি’ শুধু এই তিন অধিনায়কেরই। কী আশ্চর্য, তিনজনই অস্ট্রেলিয়ান!
ব্ল্যাকহামেরটা টেস্ট ক্রিকেটের আদি যুগের ঘটনা। ১৮৯৪-৯৫ অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার সেই পরাজয়ের মূলে অনাবৃত উইকেটের যুগে বৃষ্টিভেজা সিডনির উইকেটে দুই ইংলিশ বাঁহাতি স্পিনারের আনপ্লেয়েবল হয়ে ওঠা। দ্বিতীয় ঘটনাও অ্যাশেজেই। ১৯৮১-এর সেই হেডিংলি টেস্টকে ক্রিকেট ইতিহাস জানে ‘বোথামের টেস্ট’ বলে। ফলোঅন ইনিংসে পঞ্চম উইকেট পড়ার পর যখন ব্যাটিং করতে নামেন, ইংল্যান্ড তখনো ১২৬ রানে পিছিয়ে। বোথামের অপরাজিত ১৪৯-এ ১২৯ রানের লিড। তার পরও তো অস্ট্রেলিয়ারই জেতার কথা। ৪৩ রানে ৮ উইকেট নিয়ে উল্টো ইংল্যান্ডকে জিতিয়ে দিলেন বব উইলিস।
বোথাম-উইলিস তো মনে রাখবেনই। রডনি মার্শ ও ডেনিস লিলিও ওই টেস্টটিকে কোনো দিন ভুলতে পারবেন না। অস্ট্রেলিয়া দলের এই দুজনকে আলাদা করা কেন? কারণ ইংল্যান্ডের জয়ের পক্ষে ৫০০-১ বাজির দর জেনে এঁরা দুজন লোভ সামলাতে পারেননি। ব্যাপারটা এমনই অসম্ভব ছিল যে মজা করে ধরা সেই বাজির কথা সবাইকে বলেও বেড়িয়েছেন।
ফলাফল—বাজিতে যা জিতেছিলেন, জরিমানা দিতে হলো তার চেয়ে বেশি!

ইভটিজিং’ স্পষ্টতই যৌন হয়রানি by শীপা হাফিজা ও চিররঞ্জন সরকার

বখাটেদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার ঘটনা আমাদের সমাজে হরহামেশাই ঘটছে। মাত্র কয়েক দিন আগেই রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় পিংকী নামের এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। ‘ইভটিজিং’-এর প্রকোপ বর্তমানে এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে যে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের সিমি, মিরপুরের ফাহিমা, খুলনার রুমি, গাইবান্ধার তৃষা, স্বপ্না ও সাভারের তিথির মতো অসংখ্য কিশোরী নিজের জীবনের সমাপ্তি টেনেছে আত্মহননের মধ্য দিয়ে। এসব মৃত্যু শুধু মৃত্যুই নয়, একেকটি আমাদের অভিশপ্ত সামাজিক জীবনের বিষাদময় কাহিনী।
‘ইভটিজিং’ কথাটি আমাদের দেশের পত্রপত্রিকায় খুবই ব্যবহার করা হয়। রাস্তায় মেয়েদের দেখে টিটকিরি দেয়া—এককালে ‘ইভটিজিং’ বলতে সেটিই বোঝানো হতো। টিজিং কথাটির আভিধানিক অর্থ পরিহাস, জ্বালাতন ইত্যাদি। তাই ‘ইভটিজিং’ শুনলে মনে হয়, সেটি দুষ্টুমি হতে পারে; কিন্তু সে রকম গুরুতর অন্যায় নয়। ‘ইভটিজিং’ বলে এভাবে অন্যায়টিকে হালকা করে দেখার একটা প্রবণতা থাকে। সভ্যসমাজে শব্দটি ব্যবহার করা হয় না। সেখানে এ আচরণ যৌন হয়রানি (sexual harassment) হিসেবে বিবেচিত হয়। আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা কখনো কখনো একে একটি রোমান্টিক ইমেজ দিতে টিজিংকারী পুরুষদের ‘রোমিও’ বলে। রোমান্টিকতার পর্দার আড়ালে এর নেতিবাচক পরিণতিগুলো তাই আমাদের চোখে পড়ে না।
যৌন হয়রানি কী
যৌন হয়রানি হচ্ছে সেই ধরনের কর্মকাণ্ড ও আচরণ, যা মানুষের যৌনতাকে উদ্দেশ্য করে মানসিক ও শারীরিকভাবে করা হয়। যেকোনো ব্যক্তিই যৌন হয়রানির শিকার হতে পারেন, তবে আমাদের দেশে সাধারণভাবে নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হন বেশি। যৌন হয়রানি কর্মক্ষেত্রে, গৃহে, সমাজে নারী-পুরুষ সম্পর্কের ক্ষেত্রে মর্যাদাহানিকর ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
নির্যাতিতের অনুভূতিই শুধু বলতে পারে, বিষয়টি যৌন হয়রানির আওতায় পড়ে কি না। মানসিকতা, স্থান, কাল এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ওপরও তা নির্ভরশীল। একই ঘটনা ভিন্ন ব্যক্তি ও সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে যৌন হয়রানি বলে বিবেচিত হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। এই হয়রানির ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা রয়েছে। যেমন—ঠাট্টা-মশকরা, অঙ্গভঙ্গি, ইশারা, তিরস্কার, অবহেলা থেকে শুরু করে তা ধর্ষণ পর্যন্ত গড়াতে পারে।
২০০৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়েছে, শারীরিক ও মানসিক যেকোনো ধরনের নির্যাতন যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে: যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য বা রসিকতা, ্প গায়ে হাত দেওয়া বা দেওয়ার চেষ্টা করা, ্প ই-মেইল, এসএমএস, টেলিফোনে বিড়ম্বনা, ্পপর্নোগ্রাফি বা যেকোনো ধরনের চিত্র, অশ্লীল ছবি, দেয়াল লিখন, ্প অশালীন উক্তিসহ আপত্তিকর কোনো ধরনের কিছু করা, কাউকে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে সুন্দরী বলা, ্প কোনো নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, যেকোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা, ্প মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক স্থাপন করা, যৌনসম্পর্ক স্থাপনের দাবি বা অনুরোধ, ্প অন্য যেকোনো শারীরিক বা ভাষাগত আচরণ, যার মধ্যে যৌন ইঙ্গিত প্রচ্ছন্ন।
দায়ী আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও নিষ্ক্রিয়তা
‘ইভটিজিং’-এর শেকড় আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বা মূল্যবোধের মধ্যেই মিশে রয়েছে। শিশুর বেড়ে ওঠা ও সামাজিকীকরণের মধ্যেই নারীর প্রতি এই বিদ্বেষ ও সহিংস মনোভাব আত্মস্থ হয়ে পড়ে এবং তা ছেলে শিশুর ব্যক্তিত্বের অংশে পরিণত হয়। পরিণত জীবনে যাকে মুছে ফেলা কঠিন হয়। ঘরের অভ্যন্তরে বাবা বা অন্যান্য পুরুষ চরিত্রের রূঢ় আচরণ মেয়ে বা নারীদের অপমান করার সহজাত প্রবণতা থেকে ছেলেরা আত্মম্ভরী, বিদ্রূপাত্মক ও আশপাশের কম শক্তিধর মানুষকে হেয় করার মানসিকতা নিয়ে বড় হতে থাকে এবং মেয়েরা শত অত্যাচার-অনাচারেও রা না করে মেনে নেওয়ার প্রবণতাকে ধারণ করে নেয়। এ ধরনের সামাজিকীকরণের মাধ্যমেই ছেলেরা রাগী, উদ্ধত ও সিদ্ধান্ত প্রদানে আগ্রহী হয় এবং মেয়েরা মেনে নেয়া, কথা না বলা ও সিদ্ধান্তহীনতার চরিত্র ধারণ করে। এভাবে উভয়েই অসম্পূর্ণ মানুষ হয়ে বড় হয়। এই চক্র থেকে উত্তরণ পেতে হলে শিশুর সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার দিকে সর্বপ্রথম নজর দিতে হবে, যাতে তারা উভয়ের প্রতি সম্মান ও মর্যাদার মনোভাব নিয়ে বেড়ে উঠতে শেখে।
আইনের ব্যাখ্যা নেই
আমাদের দেশে ‘ইভটিজিং’-এর ঘটনা থেকে আত্মহত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে ঘটছে। অথচ প্রচলিত আইনের কোনো ধারায় ‘ইভটিজিং’ বা হয়রানি বলে কিছু নেই। তবে হয়রানিমূলক কাজকে বিভিন্ন আইনে অপরাধ বলে ধরে শাস্তির বিধান করা হয়েছে। তবে ১৪ মে ২০০৯ যৌন হয়রানি বন্ধে হাইকোর্টের এক যুগান্তকারী রায় ঘোষণার পর এ সংক্রান্ত অস্পষ্টতা অনেকটাই দূর হয়েছে। এখন প্রয়োজন হাইকোর্টের এ রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন।
যৌন হয়রানির ফলে সৃষ্ট সামাজিক সমস্যা
‘ইভটিজিং’-এর মতো মেয়েদের প্রাণসংহারক একটি গুরুতর অপরাধকে হালকাভাবে দেখার এবং এর দোষ মেয়েদের ঘাড়ে চাপানোর প্রবণতাই এর ব্যাপ্তি বাড়াতে সহায়তা করছে। আমাদের রক্ষণশীল সমাজের ধারণা—মেয়েদের জায়গা ঘরে আর ছেলেদের জায়গা ঘরের বাইরে। এমনও বলা হয়ে থাকে, মেয়েরা ‘অশালীন পোশাক’ পরে রাস্তাঘাটে চলাচল করে বলেই হয়রানির ঘটনা ঘটে। অথচ বৃদ্ধা বা অবগুণ্ঠিত নারীদের ক্ষেত্রেও যৌন হয়রানি অহরহ ঘটার প্রমাণ পাওয়া যায়। আমাদের সমাজ হয়রানকারীদের না দুষে উল্টো মেয়েদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে তাদের মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত করে তোলে। অন্যদিকে অপরাধীরা দ্বিগুণ উত্সাহে এ কাজ চালিয়ে যায়। সমাজের চাপ এবং নিরুত্সাহের কারণে এ নিয়ে আইনের দ্বারস্থ হতেও সমস্যা হয়।
উত্ত্যক্ত ও হয়রানির পথ ধরে অপহরণ, ধর্ষণ, অ্যাসিড নিক্ষেপ, জোরপূর্বক বিয়ে, আত্মহত্যা, পরিবারের এলাকা ত্যাগ, মা-বাবা ও ভাইয়ের হতাহত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে থাকে। এর নেতিবাচক প্রভাবও তাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজসহ বিভিন্ন পর্যায়েই পড়ে। বিকৃত মানসিকতাসম্পন্ন বখাটেরা নিজেদের বিকৃত বিনোদন পাওয়ার জন্য নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে। ভয়-ভীতি ডিঙিয়ে যখন নির্যাতিতা মেয়েটি পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনাটি খুলে বলে তখন তাকে যে পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয় সেটি আরও দুর্বিষহ। পরিবারের মূল্যবোধের কথা চিন্তা করে মেয়েটির জীবনের সব আশা-আকাঙ্ক্ষাকে বিসর্জন দিয়ে বিয়ের মাধ্যমে তাকে ঠেলে দেওয়া হয় ভিন্ন এক জগতে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের বাল্যবিয়ে গ্রামে হয়ে থাকে। স্কুল থেকে মেয়েশিশু শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়ার অন্যতম একটি কারণ হলো বাল্যবিয়ে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ের কারণ হিসেবে দেখা গেছে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি।
যৌন হয়রানি কেন হচ্ছে
কেন আমাদের দেশে যৌন হয়রানি এত বেশি—এ বিষয়ে গবেষণা হওয়া উচিত। কিছু গবেষকের মতে, এ ব্যাপারে স্যাটেলাইট চ্যানেল, টিভি নাটক, বিজ্ঞাপন এবং হিন্দি সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। নাটক ও বিজ্ঞাপনে এবং বলিউডের বহু সিনেমায়ই নায়ক মজা করে নায়িকাকে শিস দিয়ে, গান গেয়ে, অঙ্গভঙ্গি করে করে যৌন হেনস্তা করে; নায়িকা প্রথম বিরক্ত হলেও পরে তার হাতেই ধরা দেয় এবং নায়কের প্রেমে পড়ে। বহু যুবক হয়তো এ আশায়ই মেয়েদের ধাওয়া করে। কিছু গবেষকের বিশ্বাস, যেসব মেয়ে অন্তপুর থেকে বাইরের জগতে পড়াশোনা বা কাজ করতে বের হচ্ছেন—তাদের দমিত করাই এ ধরনের যৌন হয়রানির মুখ্য উদ্দেশ্য। কারণ যাই হোক, মহামারির মতো যৌন হয়রানি ঘটছে, এটি সমগ্র জাতির পক্ষেই কলঙ্কজনক এবং উদ্বেগের।
মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধ
একজন নারী নানা উপায়ে নির্যাতিত হয় একমাত্র নারী হওয়ার কারণে। সমাজ নারীকে মনে করে ভোগের বস্তু। একজন মানুষ হিসেবে শ্রদ্ধার চোখে তাকে দেখা হয় না। প্রবঞ্চনা, শঠতা আর নির্যাতনে এভাবেই নারীকে করা হচ্ছে দুর্বল। আমাদের সংস্কৃতিতে নারীর ‘সম্ভ্রম’ বিবেচনা করা হয় সতীত্বের দিক বিচার করে। অথচ একজন নারী সমাজের কিছু বিকৃত মানসিকতাসম্পন্ন মানুষ দ্বারা সম্ভ্রম হারালে তখন মেয়েটিকেই অসতী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সমাজের এ ধরনের বিপরীত আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। যে মেয়েটি তাঁর সম্ভ্রমের কথা চিন্তা করে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে, তার পেছনেও এই সম্ভ্রমবোধ কাজ করেছে বলে ‘সম্ভ্রমহীন অর্থহীন’ জীবনের চেয়ে সে মৃত্যুকে শ্রেয় মনে করেছে। অভিভাবকেরা বাল্যবিয়ের ভয়াবহ ফলের কথা জানলেও সম্ভ্রমহানি তার চেয়েও ভয়াবহ মনে করে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। অভিভাবকেরা সন্তানদের বিষয়ে ভুল ধারণা নিয়ে সমাজে বেঁচে আছেন। তাদের এই ভুল ধারণার মূল্য দিতে হচ্ছে অসহায় মেয়েদের। প্রশ্ন হলো, আমাদের সমাজের মেয়েরা কি এভাবে বলি হয়েই চলবেন? আর আমরা একটু আহা-উহুর মধ্য দিয়েই আমাদের যাবতীয় দায়িত্ব শেষ করব? সম্মিলিতভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার কাজটিতে আর কতকাল অবহেলা দেখানো হবে?
শীপা হাফিজা: ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ও জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির পরিচালক; চিররঞ্জন সরকার: উন্নয়নকর্মী

আগুনে পোড়ে পাহাড়ি আর বাঙালি মানুষ by আনু মুহাম্মদ

জাতিগত নিপীড়নবিরোধী লড়াইয়ের আন্তর্জাতিক স্মারক হয়ে ওঠা একুশে ফেব্রুয়ারির ঠিক আগের কয়েক ঘণ্টায় পাহাড়ে সংখ্যালঘু জাতির মানুষেরা হত্যা আর অগ্নিকাণ্ডের শিকার হলো। আর নারী শ্রমিকদের গড়ে তোলা আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শতবর্ষ পূর্তির কয়েক দিন আগে আগুনে পুড়ে ঢাকায় নিহত হলেন বর্তমান বাংলাদেশের বাঙালি নারী শ্রমিকেরা। উদ্যাপন আর বাস্তবতার কী নির্মম বৈপরীত্য! দেশের দুই প্রান্তে আক্রান্ত দুই জাতির মানুষের যোগসূত্র পাওয়া কঠিন নয়। পাহাড়ের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত সাজেক ভূমি রক্ষা কমিটির অনুষ্ঠানে অংগ্য মারমা তাই ঠিকই বলেন, ‘পাহাড়ের আর ঢাকার আগুনের পার্থক্য নেই। অবহেলায় অধিকারবঞ্চিত করার ফল এটা।’ (প্রথম আলো, ১০ মার্চ, ২০১০)
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, অগ্নিকাণ্ডসহ যেসব হিংসাত্মক ঘটনা গত কিছুদিনে ঘটেছে তার ক্ষেত্র বহু দিনে সৃষ্ট, বহুবার ঘটা ঘটনার সর্বশেষ এগুলো। পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাত ও নির্মমতার যে বিবরণ সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে, তা পুরোনো ক্ষত আর প্রশ্নগুলোকেই সামনে এনেছে। এই সর্বশেষ ঘটনাবলিতে এটাও স্পষ্ট হয়েছে, জাতিগত নিপীড়নের দায় থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্র এখনো মুক্ত হতে ইচ্ছুক নয়।
কয়েক দশক ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে রক্তপাত, সহিংসতা, অস্থিরতা আর অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হচ্ছে বারবার, তার উত্স সন্ধান করলে মোটা দাগে তিনটি কারণ পাওয়া যায়। প্রথমত, উন্নয়ন প্রকল্প; যা মানুষ ও প্রকৃতির ওপর দীর্ঘ মেয়াদে বিষফল বিবেচনায় না এনে প্রণীত। দ্বিতীয়ত, জাতিগত ভিন্ন অস্তিত্বের প্রতি অস্বীকৃতি; আপেক্ষিকভাবে দুর্বল সংখ্যালঘু জাতিসত্তার প্রতি উপনিবেশ-ধরনের সংস্কৃতি ও রাজনীতি। এবং তৃতীয়ত, দখল-তত্পরতা।
ষাটের দশকে বিদেশি ঋণ ও উপদেষ্টা সহযোগে বিদ্যুত্ উত্পাদনের লোভনীয় লক্ষ্য সামনে রেখে কাপ্তাই জলবিদ্যুত্ প্রকল্প করা হয়েছিল। পাকিস্তানি স্বৈরশাসক জেনারেল আইয়ুব খানের কথিত উন্নয়ন দশকের এটি ছিল একটি বড় অবলম্বন। সেই প্রকল্প অনুযায়ী বাঁধ নির্মিত হলো, সেই বাঁধের কারণে সৃষ্টি হলো কাপ্তাই লেক, ভেসে গেল রাঙামাটির রাজবাড়িসহ বৃহত্ জনবসতি। সেই অঞ্চলের সবাই, লক্ষাধিক মানুষ উদ্বাস্তু হলো, যারা সবাই সংখ্যালঘু জাতি, ভাষা ও ধর্মের মানুষ। উন্নয়ন এবং তার লাভ-ক্ষতি পরিমাপে একচোখা হিসাবের কী পরিণতি হয় এবং তার জন্য কত খেসারত দিতে হয় মানুষকে, এটি তার একটি নমুনা। উদ্বাস্তু মানুষদের ক্ষতিপূরণ আর পুনর্বাসন নিয়ে অনেক রঙিন গল্প ছিল, কিন্তু বাস্তবে তা এখনো অমীমাংসিত। একটি অংশ এখনো উদ্বাস্তু। যে বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য ভাসিয়ে দেওয়া হলো লাখো মানুষ, সেই বিদ্যুত্ উত্পাদনও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হয়নি। পরে বরং এর আরও অবনতি হয়েছে, এখন বলা হচ্ছে আগের পরিকল্পনায় বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে গেলে আরেকটি বাঁধ দিতে হবে! এখনো উন্নয়ন নামে নানা প্রকল্পের আয়োজন চলছে।
জাতিগত নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। কিন্তু উদ্ভবের পর ১৯৭২ সালেই এই দেশের সংখ্যালঘু জাতিসত্তার জন্য ‘উন্নয়ন’-সৃষ্ট সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয় জাতিগত অস্বীকৃতি। সংবিধান অস্বীকার করল যে বাংলাদেশে শুধু বাঙালি নয়, অন্যান্য জাতিও আছে। অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র অস্তিত্বের এই অস্বীকৃতির মধ্য দিয়ে আগের জমে থাকা ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পেল। সংঘাত, অবিশ্বাস ও নিপীড়নের নতুন পর্ব শুরু হলো। এম এন লারমা প্রতিবাদ করলেন, প্রত্যুত্তরে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসল সেনানিবাস। শুরু হলো সশস্ত্র প্রতিবাদ, প্রত্যুত্তরে আরও সেনানিবাস।
এভাবেই বাংলাদেশের সব মানুষ সামরিক শাসনের অধীনে আসার আগেই পার্বত্য চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে সামরিক শাসন। বাংলাদেশের সব মানুষ যখন সামরিক শাসনের অধীনে, তখন এই অঞ্চল বাড়তি সামরিক শাসনের আওতায়। আর এই শাসনকালে, আড়ালে, সামরিক-বেসামরিক ক্ষমতাবানদের হাতে জমি গেছে, সম্পদও গেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘকাল স্বাভাবিকভাবেই বাঙালিরা গেছে, বসতি গেড়েছে। বাঙালি-পাহাড়ি সহাবস্থানে কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু সত্তরের দশকের শেষে জাতিগত শাসনের পদ্ধতির অংশ হিসেবে যখন রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরিব বাঙালিদের অর্থ, জমি ও কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হতে থাকল, তখনই জটিলতার শুরু। গরিব বাঙালিদের ঢাল সৃষ্টির মধ্য দিয়ে শুরু হলো নিপীড়ন, সহিংসতা ও জাতিগত বিদ্বেষের বর্তমান অধ্যায়।
রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এভাবে বাঙালি ‘সেটলার’দের সংখ্যা বেড়েছে, ক্রমে কোথাও কোথাও তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। জাতিগত নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাবলি ক্রমে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দূরত্ব, অবিশ্বাস, সংঘাত ও সহিংসতা বৃদ্ধি করেছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা রক্ষার নামে পাহাড় উজাড় হয়েছে। রেশন, উন্নয়ন বাজেট, নির্মাণ, স্থাপনা ইত্যাদি ধরে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে; উন্নয়ন ও নিরাপত্তার অজুহাতে পাহাড় লিজ হচ্ছে ব্যক্তির নামে।
এগুলো ঘিরে বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে, যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত। এদের মধ্যে অধিকাংশ বাঙালি হলেও নতুন সুবিধাভোগী কিছু পাহাড়িও আছে। এদের নিজেদের স্বার্থরক্ষার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তি অর্থাত্ সামরিকীকরণ অর্থাত্ অব্যাহত সহিংসতা উত্তেজনা অবিশ্বাস দরকার। এর শিকার প্রথমত সংখ্যালঘু জাতির মানুষেরা, কিন্তু এর শিকার অবশ্যই টেনে নিয়ে যাওয়া দরিদ্র বাঙালিরাও। ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে মূল সমস্যাগুলো অনিষ্পন্ন রেখেই কিংবা জাতিগত স্বীকৃতি, বসতি-পুনর্বাসন ও উন্নয়ন দর্শনের সমস্যা বিষয়ে যথেষ্ট দৃষ্টি না দিয়েই।
জাতিগত নিপীড়ন, বিদ্বেষ এবং এর সামরিক সমাধানের চেষ্টা পৃথিবীর কোথাও সফল হয়নি। শুধু দক্ষিণ এশিয়ার কথাই যদি বিবেচনা করি, এ কারণেই পাকিস্তান ভেঙেছে, এ কারণেই ভারতের এক-তৃতীয়াংশ এখন সামরিক শাসনের অধীনে, নিপীড়ন হত্যাকাণ্ড এবং সহিংসতা সেখানে বাড়ছেই, শ্রীলঙ্কা চির অশান্তির মধ্যে আছে এখনো। আর বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে ক্রমান্বয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে মানুষের, রক্তক্ষরণ হচ্ছে সমাজ ও অর্থনীতির।
গত দুই দশকে সারা দেশে দখলদার দুর্বৃত্তদের দাপট তৈরি হয়েছে; উন্নয়ন আর প্রবৃদ্ধির গল্পের আড়ালে নদীনালা, খালবিল, বনজঙ্গল সবকিছু দখলে নেওয়ার জন্য তারা মরিয়া, তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশাল ভূমি ও সম্পদ তাদের আওতার বাইরে কী করে থাকে? এই দখল-তত্পরতা জাতিগত সংঘাত আর নিরাপত্তাকে ব্যবহার করছে খুব জুতসই একটি অজুহাত হিসেবে। আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এতগুলো হত্যাকাণ্ড আর অগ্নিসংযোগের ঘটনা, কোনোটিরই তাই যথাযথ তদন্ত বা বিচার হয়নি। এবারও হওয়ার সম্ভাবনা দেখি না।
প্রাথমিক কয়েকটি কথা আমাদের মাথায় গেঁথে নেওয়া দরকার যে বাংলাদেশ প্রধানত বাঙালি-অধ্যুষিত দেশ হলেও কেবল বাঙালির বাসভূমি নয়; বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও কেবল মুসলমানের বাসভূমি নয়; এই বহুজাতিক, বহুধর্মীয়, বহুভাষিক বৈচিত্র্য আমাদের সম্পদ—কোনোভাবেই সমস্যা নয়, তা আমাদের ঐশ্বর্য। সর্বোপরি পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অংশ, এই রাষ্ট্রের উপনিবেশ নয়।
সম্পদকে সংকটে পরিণত করছে যে মতাদর্শ, রাজনীতি ও উন্নয়ন দর্শন তাকে জাতি ধর্ম ভাষা নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করা ছাড়া কোনো পথ নেই। কেননা দখল-নিপীড়নে বাঙালি জাতির কোনো স্বার্থ নেই, আছে কতিপয়ের। একটি শক্তিশালী সুবিধাভোগী গোষ্ঠী এই নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতেই সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। এই সূত্র ধরে দেশি-বিদেশি নানা ফাঁদ বা অজুহাত সৃষ্টি হওয়াও খুবই সম্ভব। আবার বলি, এসবের ফলে লাভবান কিছু ব্যক্তি, শ্রেণী বা গোষ্ঠী; কিন্তু এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত সমগ্র বাংলাদেশ, সঙ্গে বাঙালি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষও।
(এই লেখা যখন শেষ করছি, তখনই পাহাড় থেকে লেখক গবেষক অদিতি ফাল্গুনী এসএমএস করে জানাচ্ছেন, ‘অবিশ্বাস্য! পাহাড়গুলো একবারে পোড়া ছাইয়ের মতো হয়ে আছে। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পরও পাহাড়ের নারী-পুরুষ এখনো খোলা আকাশের নিচে দিনরাত কাটাচ্ছে।’ তবে কী করল সরকার এত দিন? আর ঢাকার পোড়া বাঙালি নারী শ্রমিকেরা? তদন্ত কমিটি? অপরাধীদের শাস্তি? প্রশ্নও যেন অর্থহীন!!)
আনু মুহাম্মদ: অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

বিরোধীদলীয় নেত্রীর ক্ষীণ উপস্থিতি

সংসদ যে ভালোভাবে চলছে না, সেটা অধিবেশন চলার সময় কক্ষের ফাঁকা চেয়ারগুলো দেখলেই বোঝা যায়। কিন্তু আরও উদ্বেগজনক চিত্রটি হলো সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার ক্ষীণ উপস্থিতি। বর্তমান সংসদে ১১৭ কার্যদিবসের মধ্যে তিনি মাত্র চার দিন উপস্থিত ছিলেন। বলতে হয়, সংসদের অবস্থা শুধু খারাপই নয়, খুব খারাপ। কারণ সংসদে বিরোধী দলের মনোনীত কোনো উপনেতাও নেই। তাই নেত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদে তাদের ভূমিকা অনেকাংশে দুর্বল হয়ে পড়ে। সংসদে কান্ডারিবিহীন বিরোধী দলের পক্ষে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না। সংসদীয় কার্যক্রম গুরুত্ব হারায়। এই পরিস্থিতি কার্যকর সংসদের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
অথচ নির্বাচনের আগে বিএনপি তাদের ইশতেহারে সংসদকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার জন্য বিরোধী দলের ভূমিকার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছিল। বিশেষভাবে তারা উল্লেখ করেছিল যে কোনো সংসদ সদস্য সংসদের অনুমোদন ছাড়া ৩০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে তাঁর সদস্যপদ শূন্য হবে। ইস্যুভিত্তিক ওয়াকআউট ছাড়া কোনো দল বা জোট সংসদের পুরো সেশন বা বৈঠক বর্জন করতে পারবে না। আশান্বিত হওয়ার মতো এসব প্রতিশ্রুতি থেকে বিএনপি এখন দূরে সরে এসেছে। নির্বাচনে জয়লাভ করতে না পারলে নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের এই অনুশীলন একটি রাজনৈতিক দলের অদূরদর্শিতার প্রমাণ।
শুধু বিরোধীদলীয় নেত্রী নয়, সংসদে সামগ্রিকভাবে বিরোধী দলের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কম। ১১৭ দিবসের মধ্যে গড়ে মাত্র ৩২ কার্যদিবস উপস্থিতি সংসদের প্রতি বিরোধী দলের অনাগ্রহের প্রকাশ। তাহলে তারা নির্বাচন করেছিল কেন? কেন মানুষ তাদের ভোট দিয়েছে? সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারি দলের কাজকর্মের জবাবদিহি হয় সংসদ অধিবেশনে। বিরোধী দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের প্রশ্ন করেন, তাঁদের কাজের ত্রুটি-বিচ্যুতির সমালোচনা করেন। সংসদে বিরোধী দলের অনুপস্থিতির অর্থ দাঁড়ায় সরকারের ভালো-মন্দ সবকিছু বিনা বাক্য ব্যয়ে মেনে নিতে মানুষকে বাধ্য করা। এটা অন্যায়। সংসদে উপস্থিত থেকে সরকারকে জনকল্যাণকর কাজ করতে বাধ্য করা বিরোধী দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিরোধী দলের দেখা উচিত, যেন তারা এই প্রত্যাশিত অবস্থান থেকে বিচ্যুত না হয়।
এখানে সরকারি দলকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিরোধী দলকে কোণঠাসা করে রাখার প্রবণতা পরিণামে সরকারের জন্যও বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিরোধী দলের জন্য অমর্যাদাকর কোনো কথা বা মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা দরকার। সরকারি দলের উদ্দেশ্য হবে বিরোধী দলকে সংসদে ধরে রাখা, দূরে ঠেলে দেওয়া নয়।
বিগত দুটি সংসদের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিরোধীদলীয় নেত্রী সংসদ অধিবেশনে খুব কম উপস্থিত থাকেন। এই সংস্কৃতি সংসদীয় গণতন্ত্রের আকাশে কালো মেঘের মতো বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে অর্থবহ উদ্যোগ নিতে হবে। সংসদ কার্যকর থাকলে গণতন্ত্র সংকটমুক্ত থাকে এবং দেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত হয়। তাই মাথাব্যথাটা তাদেরই বেশি থাকা দরকার, যারা সংবিধানবহির্ভূত শক্তির হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সদা সোচ্চার। কার্যকর সংসদ নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র নিরাপদ হবে না।

কানাডায় চাকরি ধরে রাখা কঠিন

কানাডা এমন একটি দেশ যেখানে চাকরিজীবীদের চাকরি বাঁচাতে রীতিমতো ‘যুদ্ধে’ অবতীর্ণ হতে হয়। এখানে খুব কম নাগরিকই দীর্ঘদিন একটি চাকরি ধরে রাখতে পারেন। গত শনিবার কানাডার পরিসংখ্যান বিভাগের একটি রিপোর্টে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
গত মাসে কানাডার সবচেয়ে ধনী এবং তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ অ্যালাবার্টা প্রদেশে ১৫ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। অথচ লোভনীয় চাকরির আশায় গত বছর কানাডায় অন্যান্য প্রদেশ থেকে লক্ষাধিক অভিবাসী এখানে পাড়ি জমিয়েছেন।
অ্যালাবার্টার কর্মসংস্থান এবং অভিবাসন-বিষয়ক মন্ত্রী থমাস লুকাস জুক জানান, হঠাত্ করে ব্যাপক হারে অভিবাসীদের আগমনের কারণে চাকরি হারানোর ঘটনা ঘটেছে। কৃষি, শিক্ষা এবং ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরিচ্যুতি বেশি ঘটছে। অ্যালাবার্টায় বেকারত্বের হার এখন ৬.৯ শতাংশ, যা একটি রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। গত মাসে বেকারত্বের হার ছিল ৬.৬ শতাংশ। বাংলাদেশ, ভারত এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে নতুন অভিবাসীরা অ্যালাবার্টার ক্যালগ্যারি শহরটিতে তাঁদের বসতি গড়ে তুলছেন। এখানে বেকারত্বের হার বেড়ে গিয়ে ৭.১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে জাতীয়ভাবে মন্দা কাটিয়ে সেটা কানাডায় ৬০ হাজার নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা গত বছরের মন্দার সময় বেকারত্বের সর্বোচ্চ সীমাতে (৯ শতাংশ) কিছুটা প্রশমিত করে ৮.২ শতাংশে কমিয়ে এনেছে বলে জানিয়েছে পরিসংখ্যান বিভাগ।

সোয়া শ বছর পর মিসরে ফিরল তিন হাজার বছরের পুরোনো শবাধার

প্রায় সোয়া শ বছর আগে নিজ ভূখণ্ড থেকে চুরি যাওয়া তিন হাজার বছরের পুরোনো একটি শবাধার বা কফিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে এনেছে মিসর। ২০০৮ সালে স্পেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিমানবন্দরে আসার পর আমদানিকারক মালিকানা প্রমাণ করতে না পারায় সেখানকার কাস্টমস কর্মকর্তারা সেটি জব্দ করেন। অবশেষে মিসরের সরকারি কর্মকর্তারা সেটি নিজ দেশে ফিরিয়ে নেন। বিবিসি।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, প্রায় তিন হাজার বছর আগে মিসরের একুশতম রাজবংশের (১০৭০-৯৪৫ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ) ইমেসি নামক এক রাজপ্রতিভূর শবদেহ ওই কফিনে রাখা হয়েছিল। ১০০ বছর আগে সেটি চুরি করে স্পেন নিয়ে যাওয়া হয়। ২০০৮ সালে সেটি স্পেন থেকে আমেরিকায় আসে।
হূত প্রত্নসম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্য মিসরের সুপ্রিম কাউন্সিল অব অ্যান্টিকুইটিসের প্রধান জাহি হাওয়াস গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি শবাধারটি উদ্ধার করে গত শনিবার কায়রোয় পৌঁছান।
জাহি বলেছেন, মিসর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে পাচার হয়ে যাওয়া আরও বেশ কিছু প্রত্নসম্পদ তাঁরা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
উপনিবেশ আমলে মিসর থেকে হাজার হাজার প্রত্নসম্পদ লুট হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি থেকে সরে আসছে তামিলরা

পৃথক রাষ্ট্রের দাবি থেকে সরে এসেছে শ্রীলঙ্কার সংখ্যালঘু তামিলদের প্রধান রাজনৈতিক দল তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (টিএনএ)। পরিবর্তে তারা এখন চাইছে, সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও ক্ষমতার ভাগাভাগি।
তামিল-অধ্যুষিত দুটি প্রদেশকে পুনরায় একত্রীকরণ এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ চায় টিএনএ। আগামী মাসে পার্লামেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহারে দলটি নিজেদের এ অবস্থান জানিয়েছে।
নয় বছর আগে গঠিত হয় টিএনএ। দলটিকে লিবারেশন টাইগার অব তামিল ইলম বা এলটিটিইর রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী হিসেবেই দেখা হয়। তামিলদের স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য ১৯৭০ সালের পর থেকে দীর্ঘ প্রায় চার দশক লড়াই করেছে এলটিটিই। কিন্তু গত বছর সেনা অভিযানে পরাজিত হয় এলটিটিই।

কান্দাহারে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৩৫

দক্ষিণ আফগানিস্তানের কান্দাহারে চারটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫৭ জন। শহরের একটি হাসপাতালের প্রধান আবদুল কাইয়ুম পোখলা বিবিসিকে জানান, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেসামরিক লোক ও পুলিশ সদস্য রয়েছে।
তালেবানেরা এ হামলার দায়ভার স্বীকার করে বলেছে, ন্যাটো বাহিনীকে শিক্ষা দিতেই তারা এ হামলা চালিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সত্ভাই এবং কান্দাহার প্রাদেশিক কাউন্সিলের প্রধান আহমদ ওয়ালি কারজাই বলেন, কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি গাড়িকে লক্ষ্য করেই প্রথম বোমা হামলাটি চালানো হয়।

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তির দ্বারপ্রান্তে

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, দেশ দুটির মধ্যে একটি নতুন পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি শিগগিরই সম্পাদন করা সম্ভব। মস্কো ও ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের মধ্যে এ ব্যাপারে ‘ভালো আলোচনা’ হয়েছে।
১৯৯১ সালে সম্পাদিত স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিটির (স্টার্ট) জায়গায় নতুন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। গত ডিসেম্বর মাসে ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের কাছে দুই হাজারের বেশি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার কাছে প্রায় তিন হাজার পরমাণু অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মস্কোয় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে আলোচনা করবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।
ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলোতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় গত শনিবারের টেলিফোন আলাপচারিতায় দুই প্রেসিডেন্ট সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই নেতাই জোর দিয়ে বলেছেন, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের স্বাক্ষরের জন্য খসড়া চুক্তি উত্থাপন করতে সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করাও এখন সম্ভব। তবে বিবৃতিতে কোনো সময় উল্লেখ করা হয়নি।
হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র বলেছেন, শিগগিরই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে দুই নেতাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ওবামা ও মেদভেদেভের মধ্যে ‘ভালো আলোচনা’ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন মুখপাত্র মাইক হ্যামার।
স্টার্টের জায়গায় নতুন চুক্তির জন্য গত এপ্রিলে আলোচনা শুরু করেন দুই নেতা।

ওবামার সফরের প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভ

ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সফরের প্রতিবাদে হাজার হাজার মুসলিম গতকাল রোববার রাজধানী জাকার্তাসহ সারা দেশে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ ওবামার ইন্দোনেশিয়া সফরের কথা রয়েছে।
মাকাসসার প্রদেশের রাজধানী সুলাবেসিতে কট্টরপন্থী মুসলিম গোষ্ঠী হিজবুত তাহরিরের প্রায় দুই হাজার সদস্য এক সমাবেশ করে। সমাবেশে তারা ‘ইসলামি ঐক্য...পরাজিত হবে না’, ‘ওবামাকে প্রত্যাখ্যান করো’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ছিঁড়ে ফেলে।
মধ্য জাভার সলো শহরেও হিজবুত তাহরিরের পাঁচ শতাধিক সমর্থক সমবেত হয়ে ‘উপনিবেশবাদের নেতা ওবামাকে প্রতিহত করো’ এবং ‘যুক্তরাষ্ট্র সত্যিকারের সন্ত্রাসী’ বলে স্লোগান দেয়।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের উদ্ধৃতি দিয়ে হিজবুত তাহরিরের মুখপাত্র নূর আলম বলেন, দুই ধরনের অতিথি আছে—ভালো ও মন্দ। ওবামা মন্দ। তাঁর গায়ের রং বুশের চেয়ে অন্য রকম হতে পারে, কিন্তু তিনি এখনো মুসলমানদের দমিয়ে রাখতে চান। তিনি ইন্দোনেশিয়ায় বেড়ে উঠতে পারেন, তাই বলে তাঁকে প্রত্যাখ্যান না করার কোনো যুক্তি নেই।
নূর আলম বলেন, ওবামা একজন নিষ্ঠুর মানুষ । তাঁর হাত রক্তে ভেজা, মনের মধ্যে কোনো মায়া নেই।
শৈশব ও কৈশোরের অনেকটা সময় জাকার্তায় কেটেছে বারাক ওবামার। জীবনের এত দীর্ঘ সময় কাটানোর সুবাদে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত এই দেশটিতে তিনি বেশ জনপ্রিয়।
ওবামা ২১ মার্চ ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়বেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস গত সপ্তাহে বলেছেন, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক জোরদার করাই এই সফরের লক্ষ্য।

বেকায়দায় পড়েছেন নেতানিয়াহু

অধিকৃত ফিলিস্তিনি এলাকায় নতুন করে বসতি স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে ইসরায়েল পড়েছে দারুণ বেকায়দায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও পড়েছেন তোপের মুখে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সফরের সময় ওই বসতি স্থাপনের ঘোষণা দেওয়ায় যত বিপত্তি ঘটেছে। বিষয়টি এখন ইসরায়েল-মার্কিন সম্পর্ককে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ করেছে বলে ইসরায়েলি বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন শুক্রবার বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে টেলিফোন করে যুক্তরাষ্ট্রের হতাশার কথা জানিয়েছেন। হিলারি তাঁকে বলেছেন, ইসরায়েলি সরকার নতুন করে বসতি স্থাপনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা একটি নেতিবাচক ইঙ্গিত। এটি মধ্যপ্রাচ্য শান্তি-প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
হিলারি আরও বলেছেন, নতুন ইহুদি বসতি স্থাপনের ইসরায়েলি পদক্ষেপ শুধু শান্তি-প্রক্রিয়াকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং দেশটির শীর্ষ মিত্রের কাছে একটি গভীর নেতিবাচক বার্তাও পাঠাচ্ছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাম্প্রতিক ইসরায়েল সফরকালে পূর্ব জেরুজালেমে এক হাজার ৬০০ ইহুদি বসতি স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা শুরুর উদ্যোগও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
গণমাধ্যমের তোপের মুখে পড়ে মার্কিন-ইসরায়েল উত্তেজনা প্রশমনে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু উদ্যোগী হয়েছেন। তবে সেই উদ্যোগ কতটুকু সফল হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। এরই মধ্যে ইসায়েলের মারিভ পত্রিকা তাদের সম্পাদকীয়তে বলেছে, সংকট এখনো পূর্ণ মাত্রায় রয়েছে। বরং এটা এখন নতুন একটি উচ্চতায় চলে গেছে।...সম্ভবত এটা আরও দীর্ঘায়িত হবে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় গতকাল রোববার বিষয়টি নিয়ে জনগণের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করেছে, ওই দুঃখ প্রকাশের মধ্য দিয়ে মার্কিন-ইসরায়েল ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। গতকাল নেতানিয়াহু বলেছেন, আমার পরামর্শ হলো আত্মসংযম হারালে চলবে না। শান্ত থাকতে হবে। আমরা জানি, কিভাবে এ ধরনের পরিস্থিতি ধীরস্থিরভাবে মোকাবিলা করতে হয়।
ইসরায়েলের বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র এদিয়ত আহারনত নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে ‘মুখে থুতু নিক্ষেপ’ শিরোনামের এক সম্পাদকীয়তে বলে, সর্বশেষ কবে আমরা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে এ ধরনের কর্কশ এবং শীতল ও বিরূপ মন্তব্য শুনেছি? এবং এটা স্রেফ ওয়াশিংটনের কণ্ঠস্বর বা তাদের দুটি শব্দই নয়। এটা (ইসরায়েলের প্রতি) আস্থার অভাব ও চরম অবজ্ঞারই বহির্প্রকাশ। এএফপি।
পশ্চিম তীর বন্ধের সময় বাড়াল ইসরায়েল
ইসরায়েল গত শনিবার অধিকৃত পশ্চিম তীর বন্ধ রাখার সময় বাড়িয়েছে এবং জেরুজালেমের বিরোধপূর্ণ আল-আকসা মসজিদ কম্পাউন্ডে প্রবেশের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। ইসরায়েলের সর্বশেষ বসতি স্থাপন পরিকল্পনা নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, অব্যাহত হামলার ঝুঁকির কারণে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক পশ্চিম তীর বন্ধ রাখার সময় আগামীকাল মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়িয়েছেন।
উল্লেখ্য, বন্ধের সময় গত শনিবার রাতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব জেরুজালেমে নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধ ও ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় ইসরায়েল গত শুক্রবার পশ্চিম তীর বন্ধ করে দেয়। সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে হাসপাতাল কর্মী, রোগী, ধর্মীয় কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ ও অন্যান্য পেশাজীবী এবং যাদের মানবিক কারণে প্রয়োজন তাদের ঢুকতে দেওয়া হবে।
গত শনিবার পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারী ফিলিস্তিনি নারী ও পুরুষদের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাদের সংঘর্ষ হয়। ইসরায়েলি পুলিশ জানায়, জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ এলাকায় ৫০ বছরের কম বয়সীদের প্রবেশের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।

মুম্বাইয়ে হামলার পরিকল্পনায় জড়িত দুই ভারতীয় গ্রেপ্তার

মুম্বাইয়ের একটি জ্বালানি স্থাপনা ও একটি বিপণিকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনায় জড়িত দুজন ভারতীয় নাগরিককে গত শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০০৮ সালের নভেম্বরে ওই শহরেই জঙ্গিদের হামলায় ১৬৬ জন লোক নিহত হয়েছিল।
বার্তা সংস্থা পিটিআই শনিবার গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুজনের নাম প্রকাশ করেছে। তাঁরা হলেন আবদুল লতিফ রশিদ (২৯) ও রিয়াজ আলী (২৩)।
মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশপ্রধান কে পি রঘুবাঁশি বলেন, ভারতের ওই দুই নাগরিক পাকিস্তান থেকে আসা নির্দেশ মেনে চলতেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল, রাষ্ট্র-পরিচালিত অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস নামের জ্বালানি তেলের ডিপো ও একটি জনপ্রিয় বিপণিকেন্দ্র।
পুলিশপ্রধান আরও বলেন, ‘তাঁরা সীমানার ওপারের পাকিস্তানে তাঁদের নির্দেশদাতাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখতেন। যখন আমরা বুঝতে পারি তাঁরা কোনো হামলার পরিকল্পনা করছেন, তখনই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।’

দক্ষিণ কোরিয়ার অধিকাংশ নাগরিক মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে

ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দায়ে মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করেন দক্ষিণ কোরিয়ার ৮০ শতাংশেরও বেশি নাগরিক। সে দেশে গতকাল রোববার প্রকাশ করা একটি জনমত জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দলের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউয়েডো ইনস্টিটিউট গত শুক্রবার ওই জরিপ চালায়। এতে সারা দেশের তিন হাজার ৪৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের ৮৩ দশমিক একজন মৃতুদণ্ড সমর্থন করেন। এই শাস্তির বিরোধিতা করেন ১১ দশমিক এক শতাংশ মানুষ।
এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কিম কিল-তায়ে (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই কিশোরী (১৩) ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিল। গত ৬ মার্চ বুসান শহরে নিজ বাড়ির কাছে একটি পানির চৌবাচ্চা থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর ওই জরিপ চালানো হয়।

ফিদা হুসেনকে ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবি সালমান রুশদির

বিশ্বখ্যাত চিত্রকর মকবুল ফিদা হুসেনকে ভারতে ফিরিয়ে না আনার ঘটনা অত্যন্ত লজ্জার। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাঁকে অবিলম্বে ভারতে ফিরিয়ে আনা উচিত। ভারতে যেভাবে হিন্দু ও মুসলিম মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে তা সত্যিই মহাত্মা গান্ধী বা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শের বিরোধী। তাই আজই হিন্দু ও মুসলিম মৌলবাদকে প্রতিরোধ করা দরকার।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদি শুক্রবার রাতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে একটি সংবাদপত্র আয়োজিত এক সেমিনারে এ কথা বলেছেন।
সালমান রুশদি বলেন, হুসেনকে যেভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে তা ভারতের জন্য লজ্জার। তিনি আরও বলেছেন, শাহরুখ খান এবং শচীন টেন্ডুলকারের মতো ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে গলা ফাটাচ্ছে একটি মহল। আটকে যাচ্ছে নেহরুকে নিয়ে ছবি করার প্রস্তাব। তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে ঘটছে দুঃখজনক ঘটনা। মৌলবাদীদের এই কর্মকাণ্ডকে এখনই রুখতে হবে ভারতকে।
এদিকে মকবুল ফিদা হুসেনকে অবিলম্বে ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন কলকাতার শিল্পী-সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা। শনিবার বিকেলে কলকাতার একাডেমি অব ফাইন আর্টস প্রাঙ্গণে বুদ্ধিজীবীদের এক সমাবেশে অবিলম্বে কাতার থেকে উপযুক্ত নিরাপত্তা দিয়ে ফিদা হুসেনকে ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবি তোলা হয়।
সমাবেশে বলা হয়েছে, মকবুল ফিদা হুসেনের ওপর মৌলবাদীদের পরপর হামলা এবং তাঁর কাতারের নাগরিকত্ব গ্রহণের ঘটনার পরও কেন্দ্রীয় সরকার নীরব রয়েছে। অবিলম্বে মকবুল ফিদা হুসেনকে নিরাপত্তা দিয়ে ভারতে আনতে হবে। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে রাজ্যব্যাপী সামাজিক সংগঠন তুণির এবং পান্থজনের উদ্যোগে চলছে স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান। স্বাক্ষর সংগ্রহের পর এই আবেদন পাঠানো হবে ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে।
শনিবারের এই সমাবেশে যোগ দেন কলকাতার বিশিষ্ট চিত্রকর যোগেন চৌধুরী, গণেশ হালুই, সুহাস রায়, ঈশা মহম্মদ, ওয়াসিম কাপুর, রবীন মণ্ডল, শানু লাহিড়ি, সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়, সমীর আইচ, ইলিনা বণিক, তপন মিত্র, দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, শীলা কাপুর, পরিচালক অনিন্দিতা সর্বাধিকারী, অভিনেতা চন্দন সেন, দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায়, উষা গাঙ্গুলি, চিত্রা সেন প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ভারতের প্রথিতযশা চিত্রকর মকবুল ফিদা হুসেনের বয়স এখন ৯৫ বছর। হিন্দু দেবদেবীর নগ্ন ছবি এঁকে তিনি মৌলবাদী হিন্দুদের রোষানলে পড়েন। অবশেষে তিনি স্বেচ্ছানির্বাসনে দুবাই যান। দীর্ঘ পাঁচ বছর স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকার পর কদিন আগে তিনি কাতারের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। এদিকে ভারতের সংসদের উভয় কক্ষ রাজ্যসভা ও লোকসভাতে মকবুল ফিদা হুসেনকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি তুলেছেন সিপিআইএম সাংসদেরা।

বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে ৭০০ বছরের পুরোনো হাউস অব লর্ডস

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ৭০০ বছরের পুরোনো উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডস বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে। এটির খোল নলচে বদলে ফেলার পরিকল্পনা করেছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি সরকার। নতুন এ পরিকল্পনা অনুযায়ী রানির পছন্দের এবং উত্তরাধিকারসূত্রে আজীবন সদস্যপদ পাওয়া ৭৪০ জন অনির্বাচিত সদস্যের হাউস অব লর্ডস বিলুপ্ত করে তার জায়গায় ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ হবে। এমনকি ‘হাউস অব লর্ডস’ নামটিও আর থাকবে না। অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের আদলে নতুন ওই উচ্চকক্ষের নাম হবে ‘সিনেট’। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ব্রিটেনের বিচারমন্ত্রী জ্যাক স্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈপ্লবিক সংস্কার পরিকল্পনার ঘোষণা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রিটেনের পত্রিকা দ্য সানডে টাইমস গতকাল রোববার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। পিটিআই।
বিচারমন্ত্রী জ্যাক স্ট্রর ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছে, উচ্চকক্ষের সংস্কারসংক্রান্ত পরিকল্পনার খসড়া তৈরির জন্য স্ট্র নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শিগগিরই তিনি অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ কিছু সংস্কারমূলক প্রস্তাবের খসড়া আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবেন।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী উচ্চকক্ষকে বলা হবে সিনেট। এর সদস্যরা সিনেটর নামে পরিচিত হবেন। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মতো নির্বাচনের মাধ্যমে সিনেটর নিয়োগ করা হবে।
আগামী মে মাসে ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর আগেই হাউস অব লর্ডসের সভায় জ্যাক স্ট্র তাঁর পরিকল্পনাপত্র পেশ করবেন।
প্রায় সাত শতাব্দী ধরে হাউস অব লর্ডস ব্রিটেনের রাজকীয় ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের সদস্যসংখ্যা ৬৪৬ জন। তাঁরা সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত। অন্যদিকে হাউস অব লর্ডসের সদস্যসংখ্যা ৭৪০ জন। তাঁরা কেউই ভোটে নির্বাচিত নন। তাঁদের বেশির ভাগ সদস্য প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে রানির অনুমোদন সাপেক্ষে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। বাকিরা রাজপরিবারের উত্তরাধিকারসূত্রে এই কক্ষের আজীবন সদস্য। বর্তমানে এ রকম আজীবন সদস্য রয়েছেন ৯২ জন।
সম্প্রতি এসব আজীবন সদস্য তাঁদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি অর্থের অপচয় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারের নতুন এ পরিকল্পনার পেছনে এটিকেও একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈদেশিক বাণিজ্যে অর্থায়ন বিষয়ে বিআইবিএমের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ ও অর্থায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কোর্স সম্প্রতি শেষ হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী শাখায় অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণ কোর্সে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৩১ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ কোর্সে অংশ নেন।
বিআইবিএমের মহাপরিচালক বন্দনা সাহা কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী শাখার মহাব্যবস্থাপক নির্মল চন্দ্র ভক্ত। বিআইবিএমের অনুষদ সদস্য মো. আতিয়ার রহমান মোল্লা ও ঊর্ধ্বতন সহযোগী অধ্যাপক শেখ হারুন-অর-রশীদ যৌথভাবে কোর্স সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন।

অ্যাপোলো হসপিটালস ও এবি ব্যাংকের চুক্তি

অ্যাপোলো হসপিটালস ঢাকা সম্প্রতি আরব-বাংলাদেশ (এবি) ব্যাংক লিমিটেডের সঙ্গে একটি করপোরেট চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তির আওতায় আরব-বাংলাদেশ ব্যাংকের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অ্যাপোলো হসপিটালসে দ্রুত ও সুনিশ্চিত চিকিত্সাসেবাসহ অন্যান্য করপোরেট সুবিধা লাভ করবেন।
অ্যাপোলো হসপিটালস ঢাকার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শাহজাহান মজুমদার এবং আরব-বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কায়সার এ চৌধুরী নিজ নিজ পক্ষে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে অ্যাপোলো হসপিটালসের মহাব্যবস্থাপক শাগুফা আনোয়ার এবং আরব-বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট সাব্বির আলী উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ করা হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী

যমুনা নদীর ওপর আরেকটি সেতু নির্মাণ করার কথা ভাবছে সরকার। এতে রেল ও সড়ক উভয় সংযোগই থাকবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার গতকাল রোববার এ কথা জানিয়েছেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনে এনইসি মিলনায়তনে এক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খবর ইউএনবির।
এ কে খন্দকার বলেন, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সড়ক-রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের জন্য সরকার দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।
কর্মশালায় মন্ত্রী আরও জানান, ২০১০-২১ মেয়াদে প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা দ্রুত চূড়ান্ত হবে। আর এই দলিলই হবে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের প্রধান নির্দেশিকা। এই প্রেক্ষিত পরিকল্পনার আওতায় দুটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা ও বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, অতীতে দেশের যোগাযোগ-ব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন যে প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় রেলপথ ও নৌপথ উন্নয়নে বিশেষ দিকনির্দেশনা থাকবে।
পরিকল্পনা কমিশনের সামষ্টিক ও প্রেক্ষিত পরিকল্পনা অনুবিভাগ এবং সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ ‘ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ (সড়ক, জলপথ, রেল ও বেসামরিক বিমান, গ্রামীণ, ইউনিয়ন ও উপজেলা সড়ক এবং নগরায়ন ও নগর পরিবহন)’ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ের এই পরামর্শ সভার আয়োজন করে।
সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. হাবিব উল্লাহ মজুমদার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য ১৬২ রান

পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ আগেই জিতে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কাল আনুষ্ঠানিকতার শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১৬১ রানে বেঁধে ফেলেছে স্বাগতিকেরা। সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেছেন কভেন্ট্রি। জবাবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪.১ ওভারে ১ উইকেটে ২০ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

নাইটরা ছুটছেই

এবার শুরু থেকেই জ্বলে উঠল কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্রথম ম্যাচে ডেকান চার্জার্সের বিপক্ষে ১১ রানে জয়ের পর কাল বেঙ্গালুরু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সকে হারাল ৭ উইকেটে। এ ম্যাচেও নায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। ইডেন গার্ডেনে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৩৫ রান তোলে টসে হারা বেঙ্গালুরু। ওপেনার জ্যাক ক্যালিস ৫২ বলে ৬৫ রান করলেও অন্যরা ব্যর্থ। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ৪ ওভারে ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। জবাবে দুই ওপেনার ব্র্যাড হজ ও মনোজ তিওয়ারির ১০১ রানের উদ্বোধনী জুটিতেই জয় দেখতে পায় কলকাতা। হজ ও তিওয়ারি দুজনেই আউট হন ৫০ রান করে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সৌরভ গাঙ্গুলীর ২৩। চার বল বাকি থাকতেই জেতে কলকাতা। কাল অন্য ম্যাচে ডেকান চার্জার্স ৩১ রানে হারিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংসকে। প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৯০ রান করে ডেকান। জবাবে ৯ উইকেটে ১৫৯ রান তুলতে পারে চেন্নাই।

নিউজিল্যান্ড দলে সিনক্লেয়ার

১৯ মার্চ ওয়েলিংটনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুরু দুই টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচটায় ম্যাথু সিনক্লেয়ার খেললে সেটি হবে নিউজিল্যান্ড দলে তাঁর ষষ্ঠ প্রত্যাবর্তন! ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যানের দলে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে নিল ব্রুমকে বাদ দিয়ে ঘোষিত ১৩ জনের দলে নাম থাকায়। ৩৪ বছর বয়সী সিনক্লেয়ার সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন দুই বছর আগে।

ভাঙা মন নিয়েই নিউজিল্যান্ডে আসছেন ক্লার্ক

৪.৭ ক্যারেটের ২ লাখ ডলার দামের মহামূল্যবান আংটিটা দিয়ে এখন কী করবেন লারা বিঙ্গল? এমন একটা প্রশ্নই অস্ট্রেলিয়ার একটি ওয়েবসাইট ছুড়ে দিয়েছে তাদের পাঠকদের সামনে। তাতে বেশ কয়েকটি ‘অপশনে’ ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। তবে এর কোনোটাই নয়, বিঙ্গল আংটিটার আপাতত সবচেয়ে ‘যোগ্য’ ব্যবহার করেছেন। ফেলে দিয়েছেন টয়লেটের কমোডে!
আংটিটা এখন অর্থহীন হয়ে গেলেও তার অর্থমূল্য নিশ্চয়ই কমেনি। আর তাই সেটি পুনরুদ্ধার করতে মিস্ত্রি ডাকতে হয়েছিল। সিডনির টুইন পাইপস কোম্পানির কর্মীরা সান হেরাল্ডকে জানিয়েছেন, রাত আড়াইটার দিকে তাঁরা বন্ডি সৈকতের বিলাসবহুল ওই অ্যাপার্টমেন্টে এসেছিলেন আংটিটা উদ্ধার করতে। প্রথম দফায় ব্যর্থ হওয়ার পর বিশেষ এক ধরনের ক্যামেরা ব্যবহার করে সেটি উদ্ধার করা গেছে।
এদিকে ভাঙা মন নিয়েই নিউজিল্যান্ডে আসছেন মাইকেল ক্লার্ক। ক্রিকেটের মাঝেই দাওয়াই খুঁজছেন হূদয়ের ক্ষত সারিয়ে তোলার। আর তাই বিঙ্গলের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলেও ১৯ মার্চ শুরু প্রথম টেস্টেই খেলতে চান দলের সহ-অধিনায়ক। নিউজিল্যান্ডের সাবধান হওয়া উচিত। কারণ ২০০৮ সালে বিঙ্গলের বাবার মৃত্যুর কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফররত দলের সঙ্গে দেরিতে যোগ দিয়েছিলেন ক্লার্ক। ভাবী শ্বশুরের মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন থেকেও কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নেমেই করেছিলেন সেঞ্চুরি!
গতকাল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) মুখপাত্র জানিয়েছেন, আজই ফিলিপ হিউজ, সাইমন ক্যাটিচদের নিয়ে সিডনি থেকে ওয়েলিংটনে উড়ে যাওয়ার কথা তাঁর। মাইক হাসি জানিয়েছেন, ক্লার্ককে বরণ করে নিতে তাঁরা প্রস্তুত, ‘মানসিকভাবে ও খুবই দৃঢ় স্বভাবের। ওর সবকিছুই নিশ্চয়ই ঠিক হয়ে যাবে। যা হয়েছে সেটির প্রভাব আমাদের খেলায় না পড়লেই ভালো।’
রিকি পন্টিং অবশ্য আশাবাদী, খেলায় কোনো প্রভাব পড়বে না, ‘প্রথম টেস্টের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ ও পাচ্ছে। গত কিছুদিন ওর কঠিন সময় গেছে, এটা তো ঠিক। আমরা যারা এখানে আছি তারা সবাই ওকে যথাসম্ভব মানসিক সমর্থন দেব। দলের সহ-অধিনায়ক এবং একজন অভিজ্ঞ সদস্য হিসেবেই ও ফিরবে।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম নিয়ে ফুটবল লিগ জটিলতা

মহান স্বাধীনতা দিবস পালন উপলক্ষে ১৬-২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম চায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। বাফুফেকে চিঠি দিয়ে তা জানানো হয়েছে।
বাফুফে ক্রীড়া পরিষদকে বলেছে, ২৩ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ লিগের খেলা আছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। এর আগে মাঠ দিলে লিগ শেষ করতে দেরি হবে আরও। তবে ক্রীড়া পরিষদের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁরাও খেলা বন্ধ রাখার পক্ষে নন। তাই দুই পক্ষে আলোচনা করে একটা সমাধান খোঁজা হবে।
আবাহনীতে নতুন বিদেশি: ১৯ মার্চ মোহামেডানের মুখোমুখি হওয়ার আগে সুবিধাজনক অবস্থায় আবাহনী। ১১ ম্যাচে আবাহনীর পয়েন্ট ৩৩, ১০ ম্যাচে মোহামেডানের ২৬। মোহামেডানকে হারাতে পারলে পেশাদার লিগে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে আবাহনীর। দলের শক্তি বাড়াতে আগামী বৃহস্পতিবার একজন নাইজেরিয়ান খেলোয়াড় আনছে তারা। নাইজেরিয়ান লিগে খেলা এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে অবশ্য অনুশীলনে দেখেই নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত হবে।
দুই মোহামেডানের ম্যাচ: ঢাকা মোহামেডানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে আজ নির্ধারিত দুই মোহামেডানের স্থগিত ম্যাচটি হবে ২৪ মার্চ।

ওয়ার্ন টেন্ডুলকার লারার ইউসুফ-প্রশস্তি

ধন্য ইউসুফ পাঠান! শেন ওয়ার্নের কাছ থেকে যে প্রশংসা পেলেন, বাকি জীবনটায় আর ক্রিকেট না খেললেও চলবে তাঁর! কী বলেছেন ওয়ার্ন? বলেছেন, পরশু পাঠানের ৩৭ বলে ১০০ রানের ইনিংসটাকে তাঁর দেখা সেরা ইনিংস।
কত নামীদামি ব্যাটসম্যানের ইনিংসই না দেখেছেন দু দশকের লম্বা ক্যারিয়ারে ৭০৮ টেস্ট উইকেটের মালিক। কিন্তু আইপিএলের দ্বিতীয় দিন ৯টি চার আর ৮ ছক্কায় ইউসুফ যে ইনিংসটা খেললেন, সেটিই কিংবদন্তির লেগ স্পিনারের চোখে সেরা, ‘২১ বছর ধরে ক্রিকেট খেলছি। শচীন টেন্ডুলকার, ব্রায়ান লারার অনেক ইনিংস দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। কিন্তু আজই (পরশু) আমি আমার সেরা ইনিংসটা দেখলাম।’
টি-টোয়েন্টিতে এর চেয়েও দ্রুততম সেঞ্চুরি আছে আরেকটি। ৩৪ বলে যেটি করেছিলেন ওয়ার্নেরই সাবেক সতীর্থ অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস। কিন্তু রাজস্থান সতীর্থ সম্পর্কে অধিনায়কের এমন উচ্ছ্বসিত মন্তব্যের পেছনে আবেগ খোঁজা যায়। তবে ওয়ার্ন নিরেট পরিসংখ্যান দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, কেন এই ইনিংসটাকেই তাঁর দেখা সেরা বলছেন, ‘আমরা ২১৩ রানের বিশাল লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে সাত ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিলাম মাত্র ৩৭ রানে। ওই অবস্থার পরও ম্যাচটা যে এত ক্লোজ হলো (রাজস্থান হেরেছে ৪ রানে), এর অবদান ৩৭ বলে সেঞ্চুরিটারই। এটা স্পেশাল একটা ইনিংস।’
শহীদ আফ্রিদির করা ওয়ানডের দ্রুততম সেঞ্চুরিটাও ৩৭ বলে। যদিও আন্তর্জাতিক রেকর্ডে ঠাঁই পাচ্ছেন না পাঠান, তার পরও এমন মারকুটে একটা ইনিংস খেলার জন্য নিশ্চয়ই গর্ব হচ্ছে তাঁর। ইউসুফের এমন ইনিংস খেলার সামর্থ্য নিয়ে কোনো বিস্ময় নেই। ভারতের ঘরোয়া ওয়ানডেতে কদিন আগে মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪০ বলে সেঞ্চুরি করেছেন। সেই মহারাষ্ট্রেরই মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষেই পরশু এই কীর্তি।
এমন ইনিংস খেলার পরও পাঠান ভাইদের বড় জনের কণ্ঠে আক্ষেপ তাঁর রান আউটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়ায়, ‘আমি একটা ভুল করেছি, আর সেই ভুলের কারণেই আমরা হারলাম।’
তবে তাঁর আক্ষেপ ঘুচে যাওয়ার কথা ওয়ার্নের ওই প্রশংসাবাণীতে। শুধু ওয়ার্ন কেন, কদিন আগে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো শচীন টেন্ডুলকারও তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। মুম্বাই অধিনায়ক তো একদম কাছে থেকেই দেখেছেন এই ঝোড়ো ইনিংস। ঝড়ের পূর্বাভাস আগেই পেয়ে গিয়েছিলেন টেন্ডুলকার, ‘ওদের তিন উইকেট দ্রুত পড়ে যাওয়ার পরও আমি দলের সবাইকে সাবধান করে দিয়েছিলাম। কারণ এর পরই তো ইউসুফ আসছে উইকেটে।’
টেন্ডুলকার-ওয়ার্ন—আধুনিক ক্রিকেটের দুই অবিসংবাদিত গ্রেটের প্রশংসা! হ্যাটট্রিকও হয়ে গেল ইউসুফের। কারণ কাল ব্রায়ান লারাও শংসাবচন দিয়ে গেছেন এই পাঠানকে।