Friday, December 18, 2015

বিশ্বের প্রতি ১২২ জনের একজন শরণার্থী!

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, চলতি বছর বিশ্বের রেকর্ড সংখ্যক মানুষকে শরণার্থী হিসেবে জীবন বেছে নিতে হবে৷ গতবছর শরণার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০ মিলিয়ন৷ এবার সেটা পেরিয়ে যাবে৷ শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর শরণার্থীর সংখ্যা ‘৬০ মিলিয়নের চেয়ে অনেক বেশি' হবে৷ এর অর্থ, বিশ্বের প্রতি ১২২ জনের একজনকে তাদের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে৷ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ২০.২ মিলিয়ন – ২০১১ সালের তুলনায় সংখ্যাটি প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি৷ সিরিয়ায় সংঘাতের কারণে এ বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ৪.২ মিলিয়ন মানুষকে শরণার্থীর জীবন বেছে নিতে হয়েছে৷ শরণার্থীদের একটি অংশ ইউরোপে আসতে আগ্রহী৷ এ জন্য তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট্ট নৌকা করে সাগর পাড়ি দিচ্ছে৷ ইউএনএইচসিআর-এর গ্রিস শাখা জানিয়েছে, চলতি বছর প্রায় ৮ লক্ষ শরণার্থী সাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছেছে৷ এদের মধ্যে ৯১ শতাংশই এসেছে ১০টি দেশ থেকে, যেখানকার নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি শরণার্থী হচ্ছে৷ এ বছরের প্রথম ছয় মাসে জার্মানিতে প্রায় ১ লক্ষ ৫৯ হাজার আশ্রয়ের আবেদন পড়েছে৷ সংখ্যাটি ২০১৪ সালের মোট আবেদনের কাছাকাছি৷ অবশ্য জুন মাসের পর জার্মানিতে শরণার্থী আসার হার অনেক বেড়ে গেছে৷ ফলে বছর শেষে জার্মানিতে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ ছুঁয়ে যেতে পারে৷ ইউরোপে আসা শরণার্থীদের ইইউ-র দেশগুলোতে ভাগ করে নেয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তার ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ এই প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে তিনি ইইউ-র দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন৷ ইউরোপীয় কমিশন এর উদ্যোগে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে৷ বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা বাড়লেও শরণার্থীদের দেশে ফিরে যাওয়ার হার কমে গেছে৷ ইউএনএইচসিআর-এর মতে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মাত্র ৮৪ হাজার শরণার্থী তাদের দেশে ফিরে গেছেন৷ সংখ্যাটি গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি৷- সংবাদমাধ্যম

লালপুরে মেয়র প্রার্থীর বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক

নাটোরের গোপালপুর পৌরসভার আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী রোকসানা মোর্ত্তজা লিলির বাসায় বৃহস্পতিবার রাতে ৪০ মিনিট ধরে রুদ্ধদার সভা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তবে মেয়র প্রার্থী রোকসানা মোর্ত্তজা লিলির দাবি প্রতিমন্ত্রী শুধু টয়লেট ব্যবহার করার জন্য তার বাসায় গিয়েছিলেন। অন্যদিকে শুক্রবার সিংড়া পৌরসভা এলাকায় একাধিক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহম্মেদ পলক। প্রত্যক্ষদর্শী ও কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহম্মেদ পলক শুক্রবার সকাল আটটার দিকে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে মন্তাজুর রহমানের ধানের চাতালে ও ১০টার দিকে ২ নম্বর ওয়ার্ডে রজবের ধানের চাতালে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কর্মী সমাবেশে মতবিনিময় করেন ও খিচুড়ী খাওয়ায় অংশ নেন। পরে প্রতিমন্ত্রী নিঙ্গইন ভাটোপাড়া জামে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিকেলে তিনি পৌরসভায় মহেষচন্দ্রপুরেও সমাবেশে যোগদেন। অপরদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সরকারি গাড়ি ও প্রটোকল নিয়ে বৃহষ্পতিবার রাত আটটায় গোপালপুর পৌরসভার আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী রোকসানা মোর্ত্তজা লিলির কেশবপুর গ্রামের বাসায় ঢোকেন। প্রতিমন্ত্রী বাসায় ঢোকার পর পরই ওই বাসা থেকে কর্মী সমর্থকদের বের করে প্রধান ফটক আটকে দেয়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত লোকজন ছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ছিলেন না। প্রটেকশনের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা বাসার বাইরের ফটকের সামনে অবস্থান করছিলেন। এক পর্যায়ে ফটকের সামনের বৈদ্যুতিক বাতি নিভে যায়। ৪০ মিনিট অবস্থান করার পর আটটা ৪০ মিনিটে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ওই বাড়ির আশে পাশের একাধিক প্রতিবেশী জানান, তারাও প্রতিমন্ত্রী আসার মুহুর্তে বাসার ভেতরে ছিলেন। তারা প্রার্থী রোকসানা মোর্ত্তজা লিলি ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছিলেন। পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন। তবে পরিবারের সদস্যরাসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন স্থানীয় নেতা বাড়িতে অবস্থান করেছেন। নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ রাতে মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, প্রতিমন্ত্রীর মেয়র প্রার্থীর বাসায় যাওয়ার কথা তিনি লোকমুখে শুনেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটা পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী লালপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তিনি সবার কাছে বিদায় নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। প্রার্থীর বাসায় কি নিয়ে আলাপ হয়েছে তা তিনি জানেন না বলে জানান। গোপালপুর পৌরসভার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নজরুল ইসলাম ও লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই তালুকদার বলেছেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম কি কারণে এসেছিলেন তা তাদের জানা নেই। শুক্রবার সকালে মেয়র প্রার্থী রোকসানা মোর্ত্তজা জানান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টয়লেট ব্যবহারের জন্য আকস্মিকভাবে তার বাসায় এসেছিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যান। তার বাসায় নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো সভা হয়নি। প্রতিমন্ত্রী তার বাসায় অবস্থান করার সময় স্বামীসহ তিনি নির্বাচনী কাজে বাইরে ছিলেন। তাদের সঙ্গে রাস্তায় দেখা হয়েছিল। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার রাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেন নি।

‘ব্রিগেডিয়ার আমীন জানিয়েছিলেন, জামায়াত নিবন্ধন ও নির্বাচন দুটোই করবে’

আমি জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান জানার চেষ্টা করলাম। তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার আমীনের সাথে আমার অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় জেনেছিলাম যে, জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধন এবং নির্বাচন দুটোই করবে। আইনের প্রণয়নে প্রয়োজনে গঠনতন্ত্রও পরিবর্তন করবে। তাদেরকে নির্বাচন কমিশনের আইন মেনে চলতেই পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। এসব রাজনৈতিক দলের ওপরে গোয়েন্দা সংস্থার রাজনৈতিক শাখার কতখানি প্রভাব রয়েছে তা আমার অল্পবিস্তর জানা ছিল।
সাবেক নির্বাচন কমিশনের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন তার  ‘নির্বাচন কমিশনে পাঁচ বছর’ শীর্ষক বইয়ে নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের নিবন্ধন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার প্রেক্ষাপটে এসব কথা লিখেছেন। তিনি আরও লিখেছেন, সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বেশ সময় হাতে থাকতেই জামায়াতে ইসলামির আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী মিডিয়াকে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধিত হবার কথা জানালেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদের কেন্দ্রীয় শূরার মাধ্যমে হবে তাও জানালেন। প্রয়োজনে গঠনতন্ত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন।
অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের কোন একদিন সকালে জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম নীতিনির্ধারক ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আমার সঙ্গে কথা বলে  RPO-1972 (amended) একটি কপি নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি আমাকে জামায়াতে ইসলামীর সিদ্ধান্ত জানালেন। আলোচনার এক ফাঁকে ইসলামী দলের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন যে, ইউরোপেও ধর্মীয় নামে দল রয়েছে। আমি উত্তরে বলেছিলাম, বিশ্বের প্রায় ত্রিশটির ওপরে দেশে ‘ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি’ নামে দল রয়েছে কিন্তু আমার জানা মতে ওই দলগুলো এখন সবার জন্য উন্মুক্ত। কাজেই নামে সামান্য সমস্যা থাকলেও গঠনতন্ত্রে সমস্যা রয়েছে। আমরা সেখানে পরিবর্তন চাই।’ অনেকে ওই দলের প্রতীক দাড়িপাল্লা রদ করার কথাও আমাদেরকে জানিয়েয়েছিলেন। তাদের মন্তব্য ছিল যেহেতু ওই প্রতীক আদালত ব্যবহার করে সে কারণে রহিত করা হোক। আমরা তাদেরকে আদালতের আদেশ আনতে অনুরোধ করেছিলাম। এ বিষয়ে মামলাও হয়েছিল কিন্তু আদালতের কোন নির্দিষ্ট আদেশ পাওয়া যায়নি। জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে তৎপরতাতে আমার মনে হতো- ১৯৭১ সালে এই দলের হানাদার সম্পৃক্ততার এত প্রমাণ থাকা সত্বেও- যা ওই সময়ে বহু আলেঅচিত ছিল ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় কেন দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি? যুদ্ধ অপরাধীর বিচার যখন হবে তখন কি এই দলকে নিষিদ্ধ করা হবে? কোনো দলকে নিষিদ্ধ করার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নেই। দল নিষিদ্ধ করার এখতিয়ার সরকারের। ওই সময়কার প্রেক্ষিতে যে কোন দলের গঠনতন্ত্রে তেমন অসঙ্গতি থাকলে নিবন্ধন না দেবার যৌক্তিকতা থাকত। নিবন্ধন না দেবার মানে নিষিদ্ধকরণ নয়। দল নিবন্ধিত না হয়েও রাজনীতি করতে পারে। এ বির্তক সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর পরেও উঠেছিল। খোদ আইন বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ কয়েকবার বলেছিলেন যে, দল নিষিদ্ধকরণের এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। তার এ বক্তেব্যের জবাবে আমরা তাকে আইনের সূত্র দিতে বলেছি। তিনি এ নিয়ে পরে আর উচ্চবাচ্য করেননি। যাই হোক, আমার সাথে আলাপ করার পরের দিন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক সুস্পষ্টভাবে মিডিয়াতে বক্তব্য দিয়ে বলেন যে, জামায়াতে ইসলামী তাদের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনবে। গঠনতন্ত্রে RPO মোতাবেক মহিলাদের অন্তুভূক্ত এবং অমুসলিম নাগরিকদের জন্য দলকে উন্মুক্ত করে মৌলিক পরিবর্তন আনা হবে। ইতোপূর্বে দলের গঠনতন্ত্রে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত ছিল যে, দলের সদস্য হতে হলে একজনকে মুসলমান হতে হবে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নামে পরিবর্তন আনবার ইঙ্গিত দিয়েছিলে।
জামায়াতে ইসলামীর এ পরিবর্তন আমাদের নিকট বেশ বড় অর্জন মনে হয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছিল ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ । গঠনতন্ত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছিলো। আমরা একাধীকবার তাদের গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন দিক পরিবর্তন করতে বলেছিলাম। যথেষ্ট মৌলিক পরিবর্তন করেছিল যদিও চুলচেরা বিশ্লেষণে আরও কিছু করার জন্য বাধ্য করা যেত, তবে ঐ ধরনের অসামঞ্জস্য প্রায় দলের গঠনতন্ত্রেই রয়েছে। আমি মনে করি, ভবিষ্যতে এসব অসামঞ্জস্যতার বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন দলের নজরে আনবে। জামায়াতে ইসলামীর পথ ধরে অন্যান্য, তথাকথিত, ইসলামী দলগুলোর দলগুলোর গঠনতন্ত্রে যথেষ্ট পরিবর্তন এনেছিল।

বাশার ক্ষমতায় থাকছেন- রুশ অবস্থান মেনে নিল যুক্তরাষ্ট্র

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ
সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ বন্ধ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া একসঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে বাশার আল-আসাদের থাকা না-থাকার বিষয়টি সে দেশের জনগণই নির্ধারণ করবেন—রাশিয়ার এই পুরোনো দাবি আপাতত মেনে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর এএফপির।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোয় মঙ্গলবার তিন ঘণ্টার বৈঠকে অংশ নেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব এই আলোচনার পর কিছুটা কমেছে বলেই মনে হচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট বাশারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিষয়ে দুই পরাশক্তির মধ্যে এখনো কিছু মতভেদ রয়ে গেছে।
সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে নিউইয়র্কে আগামীকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, তাঁরা ইন্টারন্যাশনাল সিরিয়া সাপোর্ট গ্রুপের এই মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনার পক্ষে। নিউইয়র্কের ওই বৈঠকে সমঝোতা হলে তা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব আকারে তোলা হবে। পরিণামে সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশারের সরকার এবং সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর মধ্যে অস্ত্রবিরতি এবং রাজনৈতিক আলোচনায় মধ্যস্থতা করার সুযোগ তৈরি হবে।
জন কেরি বলেন, সিরিয়ায় সহিংসতা বন্ধ না হলে ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) পরাজিত করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র এবং মিত্রদেশগুলো সিরিয়ায় তথাকথিত সরকার পরিবর্তন চায় না। আর রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার কোনো উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
সিরিয়ায় কীভাবে গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটানো হবে, তা নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ ছিল। প্রেসিডেন্ট বাশার নিজ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন বলে পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ। তবে বাশারের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত রাশিয়া চায়, সিরিয়ার জনগণই নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, জন কেরির সর্বশেষ ঘোষণায় এটা স্পষ্ট যে বাশারের ব্যাপারে গত কয়েক মাসে মার্কিন নীতির পরিবর্তন হয়েছে। এখন মধ্যপ্রাচ্যে আইএসের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলার বিষয়টিকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে ওয়াশিংটন।
‘আসাদকে অবশ্যই সরে যেতে হবে’—এ কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১১ সালে প্রথম বলেছিলেন। তবে সিরিয়ার সরকার পরিবর্তনে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে রাশিয়া। দেশটি গত সেপ্টেম্বর থেকে সিরিয়ায় আইএস এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠনকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করেছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট বাশারকে সহায়তার জন্যই তাঁর বিরোধী সংগঠনগুলোর ওপর বোমা ফেলছে রাশিয়া।
সিরিয়া সংকট নিয়ে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ১৭টি দেশের মধ্যে আগেও আলোচনা হয়েছে। কেরি ও লাভরভ স্বীকার করেন, আসাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিষয়ে ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে কিছু মতভেদ রয়ে গেছে। তবে এ কারণে রাজনৈতিক আলোচনায় কোনো বিঘ্ন হবে না।
২০১১ সালের মার্চ থেকে সিরিয়ায় সহিংসতায় এ পর্যন্ত ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বাড়িছাড়া হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। মস্কোয় প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জন কেরি আশা প্রকাশ করেন, দামেস্কের কর্তৃপক্ষ ও বিদ্রোহীরা একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হলে রাশিয়া এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা ও আরব জোট সিরিয়ায় জিহাদিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা আরও জোরদার করতে পারবে।

বছরের শেষ ইইউ সম্মেলনের মূল আলোচ্য শরণার্থী সংকট

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ : সিরিয়া থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে তুরস্কের উসমানিয়ে শহরের শরণার্থী শিবিরে উঠেছে এই শিশুটি। তুরস্কে আশ্রয় নেওয়া তার মতো লাখো সিরীয় শরণার্থী শিশুর লেখাপড়া বন্ধ রয়েছে। গৃহযুদ্ধের কারণে এ পর্যন্ত ২২ লাখ সিরীয় শরণার্থী প্রতিবেশী দেশটিতে আশ্রয় নিয়েছে। এদের মধ্যে মাত্র আড়াই লাখ শরণার্থী শিবিরে জায়গা পেয়েছে। মঙ্গলবার তোলা ছবিটি গতকাল প্রকাশ করা হয়েছে। এএফপি
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে আঞ্চলিক জোটটির এ বছরের শেষ বৈঠকে বসেন। আগের ধারণামতোই এ বৈঠকে মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে থেকেছে শরণার্থী সমস্যা। বছরজুড়ে ইউরোপকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সবচেয়ে বড় শরণার্থীর স্রোত সামলাতে হয়েছে।
শরণার্থী সমস্যা সামলাতে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে নতুন স্থলসীমান্ত ও নতুন উপকূলরক্ষী বাহিনী গঠনের একটি বিতর্কিত প্রস্তাব এবং ইইউয়ের সংস্কার নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের প্রস্তাব বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য। খবর এএফপি ও বিবিসির।
ইইউ বৈঠকের আগে জার্মানি ও আরও কয়েকটি সদস্য দেশ শরণার্থী সমস্যা নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করে। বিশেষ করে সিরিয়ার শরণার্থীদের ইউরোপে পাড়ি জমানোর পথে তুরস্ক একটি প্রধান গন্তব্য। সাগর পাড়ি দেওয়া ঠেকাতে শরণার্থীদের সরাসরি তুরস্কের আশ্রয়শিবির থেকে নিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়েছে বড় দেশগুলো। এতে বিপজ্জনক সমুদ্র পথ পাড়ি দিয়ে শরণার্থীর স্রোত বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রস্তাবের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেওয়া জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল অন্যান্য ইইউভুক্ত দেশের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছেন। কেননা এর ফলে ইইউভুক্ত দেশগুলোকে তাদের জন্য নির্ধারিত বাধ্যতামূলক কোটা অনুযায়ী শরণার্থীদের স্বেচ্ছায় গ্রহণ করতে হবে।
তবে মনে করা হচ্ছে, ২৮ সদস্যের ইইউর বৈঠকে সবচেয়ে বড় বিতর্কটি হবে ইইউ দেশগুলোর নাগরিকদের বিষয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের বিতর্কিত প্রস্তাবটি নিয়ে। প্রস্তাবটি হলো যুক্তরাজ্যে আসা ইইউয়ের অন্য দেশের নাগরিকেরা সে দেশে যাওয়ার চার বছর পরই কেবল সরকারি কল্যাণ ভাতা দাবি করতে পারবে। ইইউয়ের বাকি ২৭ নেতাই ক্যামেরনের এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করতে পারেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লদ জাংকার বলেছেন, ‘আমি এর বিকল্প প্রস্তাবও শুনতে চাই। আমরা যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি ন্যায্য চুক্তি চাই। যেটি বাকি ২৭টি দেশের জন্যও সমান ন্যায্য হয়।’
ইইউ দেশগুলোর নাগরিকেরা জোটভুক্ত যেকোনো দেশে অবাধ যাতায়াত ও কর্মসংস্থানের অধিকার রাখে। তুলনামূলকভাবে অধিকতর আর্থিক সুযোগ-সুবিধার জন্য বিশেষ করে নতুন সদস্য দেশগুলোর অনেক নাগরিকেরই বেশি পছন্দ যুক্তরাজ্য। এটিসহ বিভিন্ন দায়দায়িত্বের কারণে যুক্তরাজ্য সংস্কার না হলে এমনকি জোটে থাকা না-থাকার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
বৈঠকে আরেকটি আলোচ্য বিষয় ইইউভুক্ত দেশগুলোর জন্য নতুন স্থলসীমান্ত ও উপকূলরক্ষী বাহিনী গঠনের প্রস্তাব। ইউরোপীয় কমিশনের ওই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সংস্থার দেশগুলোর কেউ কেউ আপত্তি তুলেছে। এ কারণে জাতীয় সার্বভৌমত্ব খর্ব হওয়ার আশঙ্কা করছে একাধিক দেশ। এ বছর শরণার্থী সমস্যায় নাকাল গ্রিসও এর বিরোধিতা করেছে। গ্রিসের ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রী নাইকোস জিদাগিজ বলেন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব কিছু টেকনোক্রাটের হাতে তুলে দেওয়া যায় না। এটা খুব বড় ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়।
গ্রিস থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থীকে কোটা মেনে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক হবে বলে মনে করা হয়। পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর তীব্র বিরোধিতায় এ প্রক্রিয়া এখন প্রায় থমকে আছে।
নেদারল্যান্ডসে সংঘর্ষ: শরণার্থীদের একটি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনায় আয়োজিত সভায় হামলা হয়েছে নেদারল্যান্ডসের শহর হেল্ডারমালসেনে। পুলিশ এতে বাধা দিলে হামলাকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে গতকাল তাদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ হামলাকারী কয়েকজনকে আটক করেছে। সভা চলার সময় হাজার দুয়েক বিক্ষোভকারী সেখানে হামলা চালায়। তারা ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। জার্মানি ও সুইডেনের পাশাপাশি শরণার্থীদের একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য ইউরোপের ধনাঢ্য এই দেশটি।

আত্মরক্ষার্থে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে : ইরান

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল হোসেইন দেহ্‌কান বলেছেন, সম্প্রতি তেহরান দূরপাল্লার যে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করেছে তা প্রচলিত অস্ত্রবহনে সক্ষম। তিনি আরো বলেছেন, নিজের প্রতিরক্ষার বিষয়ে ইরান কারো সঙ্গে আপোষ করবে না এবং এ ক্ষেত্রে তেহরানের অধিকার আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত। ইরানের প্রতিরক্ষার প্রয়োজনে প্রচলিত অস্ত্র ও সরঞ্জাম তৈরি এবং সেগুলো কাজে লাগানোর কাজ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ইরান গত ১১ অক্টোবর অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ‘এমাদ’ নামের নতুন দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এ পরীক্ষার মাধ্যমে ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে বলে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল গোপন প্রতিবেদনে দাবি করার একদিন পর এ বক্তব্য দিলেন দেহ্‌কান। ‘এমাদ’ ক্ষেপণাস্ত্র পরমাণু বোমা বহন সক্ষম বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে যে দাবি করা হয়েছে তাকে ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছে।
দেহ্‌কান তার বক্তব্যে ‘এমাদ’র পরীক্ষা চালানোর উদ্দেশ্যও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তেহরান বিশ্বকে জানিয়ে দিতে চায়, ইরান কেবলমাত্র তার জাতীয় স্বার্থের বিবেচনায় তৎপরতা চালায়। বিশ্বের কোনো শক্তিই ইরানের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না এবং প্রতিরক্ষার বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধও তেহরান মেনে নেবে না।
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের বিধিনিষেধ সত্ত্বেও তার দেশ নিজ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করবে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এ প্রস্তাবে পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিষয়ে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তেহরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর পরমাণু সমঝোতার ভিত্তিতে নিরাপত্তা পরিষদে এ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
অবশ্য ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, চূড়ান্ত পরমাণু সমঝোতা জেপিসিওএ’তে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞাই আরোপ করা হয় নি।
এর আগে, ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি ১৭ অক্টোবর বলেছিলেন, ‘এমাদ’ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পাদিত পরমাণু সমঝোতা ভঙ্গ করেনি তেহরান। তিনি বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিকসহ কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই পরমাণু বোমা বহনের উপযোগী করে তৈরি করা হয় নি; সে কারণে এসব ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও পরীক্ষার মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ প্রস্তাব লঙ্ঘন করা হয় নি।

পাকিস্তান দূতাবাস নব্য কাশিমবাজার কুঠি

নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ঢাকার পাকিস্তান দূতাবাস এখন ষড়যন্ত্রের আখড়া ও নব্য কাশিমবাজার কুঠিতে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার স্বাধীনতা হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানি সেনাদের প্রতীকী বিচারে ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার’-এর আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় লিখিত বক্তব্যে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান আরও বলেন, ঢাকার পাকিস্তানি দূতাবাসের ভিসা কর্মকর্তা মাজহার খান ও তারপর সেকেন্ড সেক্রেটারি ফারিনা আরশাদ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি নেটওয়ার্ক মনিটর করছেন এবং জাল মুদ্রার ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। যাতে বাংলাদেশ স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয় ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করা যায়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৫০১ জনকে নিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক পদে রয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সাংবাদিক আবেদ খান। সংগঠনটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে লিখিত বক্তব্যে শাজাহান খান ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানি সেনার বিচার ও দেশটির কাছে বাংলাদেশ সরকারের পাওনা আদায়ে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি, পাকিস্তানি যারা বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, তাদের দ্রুত পাকিস্তানে ফেরত, পাকিস্তান দূতাবাসের ষড়যন্ত্রকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনা, যেসব চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর কবর সরকারি স্থানে আছে, তা স্থানান্তর এবং জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গঠনের মাধ্যমে গণজাগরণ সৃষ্টিসহ আরও কয়েকটি লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করা হয়।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না বাংলাদেশ

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী মুসলিম দেশগুলোর জোটে বাংলাদেশ যোগ দিলেও সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মূলত রিয়াদে প্রস্তাবিত সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের সাথে গোয়েন্দা তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিমিয় করবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী ছাড়া বিশ্বের কোথাও লড়াই করতে সৈন্য পাঠায় না। বহু বছর ধরে সরকার নির্বিশেষে বাংলাদেশ এ নীতি অনুসরণ করে আসছে। এর আগে ইয়েমেনে শিয়াপন্থী হাউসি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশকে আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে সাড়া দেয়নি সরকার। এ ছাড়া আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটেও যোগ দেয়নি বাংলাদেশ। ইরাকে অভিযান চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রামসফেল্ড ঢাকায় এসে সৈন্য পাঠাতে সরকারপ্রধানকে অনুরোধ জানালেও বাংলাদেশ এ নীতি থেকে বিচ্যুত হয়নি।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মুহাম্মদ বিন সালমান গত সোমবার সন্ত্রাসবিরোধী ৩৪টি মুসলিম দেশের জোট গঠনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘কেবল আইএস নয়, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, মিসর ও আফগানিস্তানে যেকোনো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে লক্ষ্যবস্তু করে জোটভুক্ত দেশগুলো একসাথে কাজ করবে। স্থানীয় আইন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় সামরিক অভিযান পরিচালিত হবে।’ বাংলাদেশ জানায়, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থী মতবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যন্ত্রপাতি, তথ্য, ডাটা প্রভৃতি দিয়ে সহায়তা দেবে সরকার।
এসব প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল জুবাইর মঙ্গলবার প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চরমপন্থী গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে লড়তে জোটের সদস্যরা তথ্যবিনিময় এবং প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি ও সৈন্য সরবরাহ করবে।
জোটের অন্যতম শক্তিশালী দেশ তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে, সৌদি আরবের নেতৃত্বে সামরিক জোট গঠনের বিষয়টি এখন আলোচনায় নেই। বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়াও সৌদি নেতৃত্বে সামরিক জোটে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করে বলেছে, তারা বর্বরতা নয়, বরং নমনীয় পন্থায় সিরিয়া-ইরাকভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসকে দমন করতে চায়। পাকিস্তান জোটে অংশ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তাদের ভূমিকা কী হবে তা রিয়াদ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানার পরই দেশটি সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, প্রাথমিক আলোচনায় সৌদি আরব আমাদের যে ধারণা দিয়েছে তা হচ্ছে এটা যুদ্ধ করার সামরিক জোট নয়। এটি মূলত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের একটি কেন্দ্র হবে। এ জোটের সাথে যুদ্ধের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। জোটে যোগ দেয়ার ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সৌদি আরবের কাছ থেকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে তুরস্ক-ইসরাইল সমঝোতা

গাজামুখী ত্রাণবাহী একটি তুর্কি জাহাজে ইসরাইলি নৌবাহিনীর হামলার জেরে ছিন্ন হওয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে দেশ দুটির মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। একজন ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাতে বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে। ২০১০ সালে গাজামুখী ওই জাহাজে আকস্মিক হামলা চালিয়ে ১০ তুর্কি আন্দোলনকারীকে হত্যা করেছিল ইসরাইলি নৌ-সেনারা।
অজ্ঞাতনামা ওই ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তিতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে তুরস্কের সব অভিযোগ প্রত্যাহারের বিনিময়ে নিহত আন্দোলনকারীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তুরস্ক কিংবা ইসরাইল- কোনো পক্ষ থেকেই বিষয়টি সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সুইজারল্যান্ডে ইসরাইল ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে হওয়া এক বৈঠকে এ বিষয়ে সমঝোতামূলক প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে বলে খবরে প্রকাশ। প্রাথমিক ওই চুক্তিতে দেশ দুটির মধ্যে আবারও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে ওই ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এমন কী ইসরাইল থেকে তুরস্কে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ শুরু করার বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পেয়েছে বলে জানা গেছে।
তুরস্কে প্রধান গ্যাস সরবরাহকারী দেশ রাশিয়া। কিন্তু সম্প্রতি একটি রুশ বোমারু বিমান তুর্কি যুদ্ধবিমানের গুলিতে সিরীয় সীমান্তে বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক তিক্ততম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। ২০১০ সালে গাজামুখী ত্রাণবাহী ওই জাহাজে হামলার আগ পর্যন্ত ইসরাইল ও তুরস্কের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক ছিল।

আইএস-এর আয়ের উৎস কী?

জঙ্গি সংগঠন আইএসকে পৃথিবীর সবচেয়ে সম্পদশালীদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সম্প্রতি এক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, আইএস-এর মাসিক আয় ৮০মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতিবছর তেল বিক্রি করে আইএস ৫০০ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করে। যার অর্থ প্রতিদিন তারা তেল বিক্রি করে ১৫ লাখ ডলার আয় করছে।
ইরাক এবং সিরিয়ার অনেক বড় তেল ক্ষেত্রে এখন আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। এই তেল ক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৪০ হাজার ব্যারেল তেল উত্তোলন করা হয়। কিন্তু এই তেল কারা কিনছে? মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর হাতে যাতে কোনভাবেই অর্থ না যায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করেতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য ১৫টি দেশের অর্থমন্ত্রীরা এক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।
১৯৯৯ সালে আল-কায়েদার অর্থের উৎস বন্ধ করতে যে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল তার ভিত্তিতেই আইএস-এর বিরুদ্ধে এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। কোন উপায়ে যাতে আইএস অর্থ সংগ্রহ করতে না পারে সেজন্য পৃথিবীর সব দেশকে আরো সুনির্দিষ্ট এবং জোড়ালোভাবে কাজ করার আহবান জানানো হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আইএস-এর অর্থের উৎস কী? মূলত তাদের অর্থ আসে দু’ভাবে। প্রথমত তেল বিক্রি এবং দ্বিতীয়ত লুটকরা পুরাকীর্তি বিক্রি করে। অভিযোগ রয়েছে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ দালালদের সহযোগিতায় আইএস’র কাছ থেকে তেল কিনছে।
তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন আইএস’র কাছ থেকে তুরস্ক তেল কিনে । পুতিন বলেন, আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ তেল তুরস্কে যায় বলে তার কাছে তথ্য রয়েছে। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোগান পুতিনকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, আইএস-এর কাছ থেকে তুরস্কের তেল কেনার বিষয়টি যদি রাশিয়া প্রমাণ করতে পারে তাহলে তিনি পদত্যাগ করবেন। আর যদি প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে কি পুতিন তার পদে থাকবেন? প্রশ্ন করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান।
এরদোয়ান স্বীকার করুন আর নাই করুন- আইএস-এর তেল দালালদের মাধ্যমে তুরস্কে পৌঁছে। আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ৮০ লাখ লোক বসবাস করে। তাদেরও জ্বালানির প্রয়োজন হয়।
জাতিসংঘের সত্তর বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা পরিষদের সবগুলো দেশের অর্থমন্ত্রীরা কোন বৈঠকে মিলিত হলেন। আমেরিকা এবং রাশিয়ার উদ্যোগে আনা এই প্রস্তাবে নিরাপত্তা পরিষদের সবগুলো দেশ সর্বসম্মত সমর্থন দিয়েছে। তারা মনে করে আইএস যাতে কোনভাবেই অর্থ সংগ্রহ করতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।
সূত্র : বিবিসি

ট্রাম্পকে 'অসাধারণ' বললেন পুতিন

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অসাধারণ ও মেধাবী মানুষ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ায় বার্ষিক দাপ্তরিক সংবাদ সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন পুতিন।
বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনের পর দেওয়া বক্তব্যে রাশিয়া নিয়ে ট্রাম্পের মনোভাবকে স্বাগত জানান পুতিন। তিনি বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) খুবই অসাধারণ মানুষ, প্রশ্নাতীতভাবে মেধাবী।’ পুতিন বলেন, আগামীতে যিনিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হোন না কেন, রাশিয়া তাঁর সঙ্গে কাজ করবে।
রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট মনোনয়নপ্রত্যাশী ট্রাম্প মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচিত ও সমালোচিত। সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চান। এর পর থেকে তাঁর সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে বিভিন্ন মহল।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ট্রাম্পের মতো একজন লোককে রিপাবলিকানরা মনোনয়ন দিলে ডেমোক্র্যাটদলীয় হিলারি ক্লিনটন হেসে-খেলে জিতবে।
গত বুধবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ট্রাম্পের মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যকে ‘নির্বুদ্ধিতা এবং ভুল’ হিসেবে আখ্যা দেন। এসব সমালোচনার মধ্যে পুতিনের ইতিবাচক বক্তব্য আগামী দিনে গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক আলোচিত হবে বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।

জোটে যাওয়া কতটা সংগত হয়েছে, সরকারই ভালো বলতে পারবে -সৌদি নেতৃত্বে জোট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সৌদি আরব নিজেই সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের নেতৃত্বে জোটে যাওয়া কতটা সংগত হয়েছে, সেটা সরকারই ভালো বলতে পারবে। এর কারণে সন্ত্রাসী হামলার বাইরে বাকি যে দেশগুলো আছে, সেখানে সন্ত্রাস চলে যায় কি না, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে সৌদি আরবের নেতৃত্বে সন্ত্রাসবিরোধী নতুন জোট নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল। এ প্রসঙ্গে তিনি সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদেশি নাগরিকদের হত্যা ও হামলার ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, এ ধরনের ঘটনাকে হালকা করে দেখবেন না। কারণ সিরিয়া, ইরাক, লেবাননে এ ধরনের ঘটনা থেকে বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার বলছে দেশে আইএস নেই। কিন্তু আদালতে চারজনের বিচার হচ্ছে আইএস নামে। এই চারজন কিশোর-বালককে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা কন্ট্রাডিক্টরি এবং স্ববিরোধী। গণতন্ত্র না থাকলে তখন সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের আশঙ্কা থাকে মন্তব্য করে তিনি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
পৌরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনে না গেলে সরকার বলত এরা সন্ত্রাসী-জঙ্গি, তাই নির্বাচনে আসেনি। আর বিদেশিরাও তা বিশ্বাস করত। মানুষের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
রাজধানীর পুরানা পল্টনে ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদের সংগঠনটি এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘আজকে প্রেসক্লাব দখল করে নিয়েছে। বিএফইউজে ও ডিইউজের যে কক্ষ ছিল, আজ তা-ও দখল করে নিয়েছে। এসব দখল করতে সাহায্য করেছে তারাই, যারা আপনাদের-আমাদের মধ্যে ছিল। এটা দুঃখজনক।’ তিনি বলেন, ‘চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাদের ইগনোর (গ্রাহ্য না করা) ও নেগলেক্ট (অবজ্ঞা) করা উচিত। এদের ব্যাপারে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে। আপনারা আপনাদের শক্তিতে বলীয়ান হবেন।’
সম্মেলনে আবদুল হাই শিকদার ডিইউজের এই অংশের সভাপতি ও জাহাঙ্গীর আলম প্রধান সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ: এদিকে সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, বরগুনা, দাগনভূঞাসহ বিভিন্ন পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রিজভী বলেন, গত বুধবার বিভিন্ন পৌর এলাকায় মন্ত্রী, হুইপ ও সাংসদেরা নিজেদের দলের মনোনীত প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছেন। এটি নির্বাচনী আচরণবিধির চূড়ান্ত লঙ্ঘন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে নির্বাচনী এলাকায় ভয়াল পরিবেশ তৈরি করে মানুষকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার ব্যাপারে আতঙ্কগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।

ব্রিজের ধারের বৃদ্ধ by আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

চোখে স্টিল ফ্রেমের চশমা, পোশাক ধূলিধূসরিত—বুড়ো লোকটি রাস্তার ধারে বসে ছিল। তার সামনে ছোট ভাসমান ব্রিজটার ওপর দিয়ে অসংখ্য খচ্চরের টানা গাড়ি, ট্রাক, নারী-পুরুষ-শিশু পার হচ্ছিল সারা দিন ধরে। নদীর খাড়া পাড় বেয়ে খচ্চর টানা গাড়িগুলো হিঁচড়ে হিঁচড়ে ওপরে উঠছিল—সৈনিকেরা চাকার আড়া ধরে ঠেলে ওগুলোকে ওপরে উঠতে সাহায্য করছিল। ট্রাকগুলো ছিল সবার সামনে। গোড়ালি পর্যন্ত ধুলোতে ডুবিয়ে চাষিরা ক্লান্ত ভঙ্গিতে হাঁটছিল। কিন্তু বুড়ো মানুষটা একটুও না নড়ে একভাবে বসেই ছিল। এত পরিশ্রান্ত সে যে আর হাঁটার ক্ষমতা ছিল না তার। আমার কাজ ছিল শুধু ব্রিজ পার হয়ে ওপাশটা খোঁজা এবং শত্রুরা কতটা এগিয়ে এসেছে তা লক্ষ করা। কাজ শেষ করে আমি ব্রিজটার ওপর ফিরে এলাম। খচ্চরে টানা গাড়ি এখন আর বেশি নেই। আর পায়ে হাঁটা লোকও ছিল কম। কিন্তু বুড়ো মানুষটা তখনো সেখানে ছিল। ‘কোথা থেকে আসছ তুমি?’—তাকে জিজ্ঞেস করলাম। ‘স্যান কারলাস থেকে।’—সে উত্তর দিল এবং মৃদু হাসল। ওটা তার নিজের শহর। কাজেই তার উল্লেখে বুড়োর মুখে মৃদু হাসি ফুটে উঠল। ‘আমি পশুপাখির দেখাশোনা করতাম।’—লোকটা আমাকে বুঝিয়ে বলল। ‘ওহ।’—ব্যাপারটা ঠিক না বুঝেই আমি বললাম। ‘হ্যাঁ।’—সে বলল, ‘পশুপাখির দেখাশোনা করার জন্যই আমি এত দিন ছিলাম, বুঝলে? আমিই শেষ লোক স্যান কারলাস শহর ছেড়েছি।’ তাকে মেষপালক বা পশুপালক কারও মতো দেখাচ্ছিল না। আমি তার কালো ধুলোমাখা জামাকাপড়ের দিকে এবং ধূসর ধুলোভর্তি মুখের দিকে এবং স্টিল ফ্রেমের চশমার দিকে চেয়ে বললাম, ‘কী কী প্রাণী ছিল তোমার?’
‘নানা রকম জীবজন্তু।’—লোকটা বলল এবং মাথা ঝাঁকাল, ‘সব ছেড়ে আসতে হলো আমাকে।’ আমি ব্রিজটাকে এবং আফ্রিকার মতো দেখতে এবরো ডেলটার দেশটিকে লক্ষ করছিলাম এবং ভাবছিলাম, শত্রুদের সম্মুখীন হতে আর কত দেরি হবে। আর সেই অদ্ভুত রহস্যময় ঘটনা যাকে বলা হয় শত্রুসংযোগ—ইঙ্গিতবহ শব্দ শোনার চেষ্টা করছিলাম সব সময়।
বৃদ্ধ তখনো সেখানে বসে ছিল।
‘কী কী প্রাণী ছিল বললে?’—আমি জিজ্ঞেস করলাম। ‘তিনটে জন্তু ছিল।’—সে বলল, ‘দুটো ছাগল, আর একটা বিড়াল আর ছিল চার জোড়া পায়রা।’ ‘ওদের ছেড়ে আসতে হলো তোমাকে, তাই না?’—আমি জিজ্ঞেস করলাম। ‘হ্যাঁ। গোলন্দাজদের জন্য। গোলন্দাজ বাহিনীর জন্যই ক্যাপ্টেন আমাকে পালিয়ে যেতে বলল।’ ‘পরিবার-পরিজন কেউ নেই তোমার, না?’—ব্রিজের দূরপ্রান্তে যেখানে অল্প কটা খচ্চরে টানা গাড়ি ঢালু তীর বেয়ে অপসারিত হচ্ছিল সেখানে চোখ রেখে আমি জিজ্ঞেস করলাম। ‘না।’—বৃদ্ধ বলল, ‘যে জন্তুগুলোর কথা বললাম তারা ছাড়া কেউ নেই আমার। বিড়ালটার অবশ্য কোনো অসুবিধাই হবে না। বিড়াল নিজের ব্যবস্থা নিজেই করে নিতে পারে, কিন্তু অন্যদের যে কী হবে, আমি ভাবতেও পারি না।’
‘কোন রাজনীতিতে বিশ্বাস করতে তুমি?’
‘আমার কোনো বিশেষ রাজনীতি নেই।’—সে বলল, ‘আমার বয়েস ছিয়াত্তর বছর। আমি বারো কিলোমিটার এসেছি। আর একটুও যেতে পারব না মনে হচ্ছে।’ ‘থামার জন্য ভালো জায়গা নয় এটা।’—আমি বললাম, ‘যদি মনস্থির করতে পারো দ্যাখো—টরটোসায় ট্রাক যাচ্ছে অনেক।’
‘আমি আর একটু দেরি করব এখানে, তারপর চলে যাব। ট্রাকগুলো কোথায় যাচ্ছে বললে?’
‘বার্সেলোনার দিকে।’—তাকে বললাম। অলংকরণ: মাসুক হেলাল‘ওদিকে কাউকে জানি না আমি।’—সে বলল, ‘কিন্তু তোমাকে ধন্যবাদ। অসংখ্য ধন্যবাদ তোমাকে।’ শূন্যদৃষ্টিতে ভারি শান্তভাবে সে আমার দিকে চাইল। তারপর যেন তার দুঃখের ভাগ আর একজনকে দেওয়ার জন্যই বলল, ‘বিড়ালটার কোনো অসুবিধা নেই, আমি ঠিক জানি। বিড়ালটার সম্বন্ধে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। কিন্তু অন্যগুলো? অন্যগুলোর কী হবে বলো তো?’
‘বোধ হয় তারাও ঠিক ঠিক এই দুর্দিন পার হয়ে যাবে।’
‘তোমার কি তা-ই মনে হয়?’
‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।’—নদীতীরের দূরপ্রান্তে যেখানে এখন কোনো গাড়ি ছিল না সেদিকে লক্ষ করতে করতে আমি বললাম।
‘কিন্তু আমাকেই যখন গোলন্দাজদের উৎপাতের জন্য পালিয়ে আসতে বলল, তখন কামান চলতে শুরু করলে ওরা কী করবে?’
‘পায়রা খোপগুলো খোলা রেখে এসেছিলে তো?’—আমি জিজ্ঞেস করলাম। ‘হ্যাঁ।’ ‘তাহলে তারা ঠিক উড়ে যাবে।’ ‘হ্যাঁ, ওরা তো নিশ্চয়ই উড়ে যাবে। কিন্তু অন্যগুলো? অন্যগুলোর কথা চিন্তা না করাই ভালো।’—সে বলল। ‘তোমার বিশ্রাম নেওয়া যদি হয়ে যায় তাহলে আমি এখন যাই।’—আমি বললাম, ‘আস্তে আস্তে উঠে এখন হাঁটতে চেষ্টা করো।’ ‘ধন্যবাদ।’—সে উঠে দাঁড়াল, কিন্তু উঠেই টলমল করে দুলতে শুরু করল এবং তারপর আবার ধুলোর ওপর বসে পড়ল। ‘আমি জীবজন্তু দেখাশোনা করতাম।’—ভোঁতা গলায় বলল সে, কিন্তু এবার আর আমার উদ্দেশ্যে নয়, ‘আমি জীবজন্তু দেখাশোনা করতাম।’ তার বিষয়ে আমার আর কিছুই করার ছিল না। ইস্টারের রোববার আজ; এবরোর দিকে ফ্যাসিস্টরা এগিয়ে আসছিল। ধূসর মেঘাচ্ছন্ন সকালের দিন সেটা। কাজেই ফ্যাসিস্টদের বিমানগুলো আজ ওড়েনি—এই সুবিধা আর বিড়ালরা নিজেদের ব্যবস্থা নিজেরাই করে নিতে পারে—এই আস্থা ছাড়া বুড়োর ভাগ্যে ভালো কিছু আর জুটবে না।

ইসলামে স্বাধীনতা ও বিজয়

মানুষ সৃষ্টিগতভাবে ও জন্মগতভাবে স্বাধীন। স্বাধীনতা মানুষের মজ্জাগত, এটি মানুষের মৌলিক অধিকারের একটি। মানুষ মনোজগতে সব সময় স্বাধীন; তাই সে বস্তুজগতেও স্বাধীন থাকা পছন্দ করে। মানবতার মুক্তিদূত প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন: ‘প্রত্যেক নবজাতক স্বভাবধর্মে জন্মে; তার পিতা-মাতা তাকে বিভিন্ন শৃঙ্খলাবদ্ধ করে।’ (মুসলিম ও তিরমিজি)। মানুষ আল্লাহ ছাড়া কারও গোলামি করবে না, করবে না কারও দাসত্ব; এক আল্লাহর প্রভুত্ব ছাড়া কারও প্রভুত্ব স্বীকার করবে না; হোক সে নমরুদ-ফেরাউন বা কোনো দেব-দেবতা। জগতের সব মানুষ একই পিতা-মাতার সন্তান। সবারই পিতা বাবা আদম (আ.), সবারই মাতা মা হাওয়া (আ.)। তাই সব মানুষ ভাই ভাই, তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। সাদা-কালো, লম্বা-খাটো সে তো আল্লাহর সৃষ্ট প্রকৃতির অবদান। বর্ণবৈষম্য, ভাষাবৈষম্য এবং ভৌগোলিক ও নৃতাত্ত্বিক পার্থক্য মানুষে মানুষে কোনো প্রভেদ তৈরি করে না। কোরআন শরিফে আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘হে মানুষ! আমি তোমাদিগকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদিগকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অন্যের সহিত পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকি। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু জানেন, সব খবর রাখেন।’ (সূরা-৪৯ হুজুরাত, আয়াত: ১৩, পারা: ২৬)। বিদায় হজের ভাষণে নবী করিম (সা.) বলেছেন: ‘কালোর ওপর সাদার প্রাধান্য নেই, অনারবের ওপর আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই।’ (বোখারি শরিফ)। অর্থাৎ কেউ কারও ওপর প্রভুত্ব কায়েম করতে পারবে না।
সবার একমাত্র প্রভু মহান আল্লাহ। ইসলামের মূল বাণী পবিত্র কলেমায় এই ঘোষণাই দেওয়া হয়েছে: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ অর্থাৎ ‘এক আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো প্রভু নেই হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল’। এই ঘোষণার পর মানুষ মানব-দানব সকল প্রকার প্রভুর গোলামি থেকে মুক্ত হয়ে যায়। এবং আদর্শ হিসেবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে গ্রহণ করে। স্বাধীনতা আল্লাহর নিয়ামত। স্বাধীনতা যেমন মানুষের মৌলিক অধিকার, তেমনি ইসলামের মূল শিক্ষা। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু দাসদের মুক্ত করেই ক্ষান্ত হননি; তিনি দাসকে সন্তান বানিয়েছেন, তিনি ক্রীতদাসকে ভাইয়ের মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন, তিনি গোলামকে সেনা অধিনায়ক বানিয়েছেন। বংশানুক্রমিক দাসানুদাস কৃষ্ণবর্ণ হাবশি বিলাল (রা.)-কে মসজিদে নববির প্রধান মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। স্বাধীনতার স্বাদ পেয়ে আরব-অনারব, ধনী-দরিদ্র সবাই ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছে। রোম, পারস্যসহ সারা পৃথিবীতে ইসলামের স্বাধীনতার বাণী বাতাসের বেগে ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতবর্ষের শ্রেণিবৈষম্য ও বর্ণবৈষম্যের শিকার নির্যাতিত-নিপীড়িত কোটি কোটি মানবসন্তান স্বাধীনতার স্বাদ আস্বাদন করার জন্য ইসলামে দীক্ষিত হয়েছে। মুক্তির সুধা পান করেছে বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। স্বাধীনতা মানে সত্য প্রকাশের স্বাধীনতা, সত্য গ্রহণের স্বাধীনতা, সত্য প্রচারের স্বাধীনতা, সত্য সুন্দর ও ন্যায়ের পথে চলার স্বাধীনতা। স্বাধীনতা হলো সুন্দর, সুশীল, সুকুমারবৃত্তি চর্চার স্বাধীনতা। স্বাধীনতা মানে অসুন্দরকে বর্জন করার স্বাধীনতা, অসত্যকে অগ্রাহ্য করার স্বাধীনতা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা। দিনের পর রাত আসে, ভারতের মুক্ত আকাশে নেমে আসে অন্ধকার অমানিশা। ভারতের জনগণ আবার ব্রিটিশের জালে বন্দী হয়, হারায় তাদের স্বাধীনতা। মুক্তির জন্য ছটফট করে চিন্তাশীল ও বিবেকসম্পন্ন জনগণ।
কালক্রমে ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন হয়। তবে স্বাধীনতা অর্জন হলেও ইসলামের নামে সৃষ্টি হওয়া পাকিস্তান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর অপকৌশলে ইসলামের প্রকৃত মুক্তির স্বাদ জনগণকে উপহার দিতে পারেনি। ফলে ইয়াহিয়া, টিক্কা, আইয়ুব ও ভুট্টোর মতো নরাধমেরা আবার পূর্ব-পশ্চিমের পার্থক্য তৈরি করল; বাঙালি আর পাঞ্জাবির মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দেয়াল সৃষ্টি করল। বাঙালি যেন স্বাধীন হয়েও আবার পরাধীন হলো। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন হলো। এ আন্দোলনে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো। মাতৃভাষা মানুষের মৌলিক অধিকার। ইসলাম সব ভাষাকে সম্মান করতে শেখায়; কারণ, সব ভাষাই আল্লাহর দান। পবিত্র কোরআন শরিফে রয়েছে: ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। এতে জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে। (সূরা-৩০ রূম, আয়াত: ২২ ও ২১, পারা: ২১)। তারপরও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী জনমতের বিপরীতে অবস্থান গ্রহণ করে আবারও মুক্তিপাগল জনগণকে পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ করে রাখতে চায়। কিন্তু এ দেশের জনগণ, যাদের ইমানে মুক্তির বাণী, বিশ্বাসে স্বাধীনতার ধ্বনি, তারা তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর পরাজয় বরণ করে জালিম শাহি। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় লাভ করে মুক্তিকামী জনগণ। জন্ম হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের। বিজয় কাঙ্ক্ষিত, বিজয় গৌরবের। কিন্তু বিজয় যদি হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট আর বিজেতারা যদি হন নীতিভ্রষ্ট; কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হীন স্বার্থ যদি পায় অগ্রাধিকার, তাহলে সে বিজয় প্রকৃত আনন্দ উপহার দেয় না। আমাদের প্রিয় হাবিব বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যখন মক্কা বিজয় করেন, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে নির্দেশনা প্রদান করেন: ‘যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করতে দেবেন, তখন আপনি আপনার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন; তিনি তো তওবা কবুলকারী।’ (সূরা-১১০ নাসর, আয়াত: ১-৩, পারা: ৩০)।
বিজয়-পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে কোরআন মজিদে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন: ‘আমি তাহাদিগকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত আদায় করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজ নিষেধ করবে; আর সকল কর্মের পরিণাম আল্লাহর এখতিয়ার। (সূরা-২২ হজ, আয়াত: ৪১, পারা: ১৭)। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের স্বাধীনতাকে কিয়ামত পর্যন্ত অক্ষুণ্ন রাখুন, মুক্তির প্রকৃত স্বাদ আস্বাদনের তাওফিক দান করুন এবং বিজয়-পরবর্তী করণীয় অনুধাবন ও প্রতিপালনের সুযোগ করে দিন। মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: যুগ্ম মহাসচিব: বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক: আহছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম।
smusmangonee@gmail.com

বাংলাদেশ-নেপাল বাণিজ্য

দ্বিপক্ষীয় সমস্যা যে কেবল সংশ্লিষ্ট দুটি দেশের মধ্যেই সীমিত থাকে না, তার প্রমাণ বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে পণ্যের সহজ প্রবেশাধিকার-বিষয়ক প্রস্তাবিত চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েও সই হতে না পারা। কাঠমান্ডু পোস্ট নেপালের সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে লিখেছে, সমঝোতা অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি সচিব পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেশটির পুরো ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ঢাকায় এসে চুক্তি করতে পারছে না। উল্লেখ্য, নেপালের নতুন সংবিধান নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ভারত ও নেপালের মধ্যকার সড়ক বাণিজ্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে ভূমিবেষ্টিত দেশটিকে বিকল্প পথে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চুক্তিটি সই হলে বাংলাদেশে নেপালের ১০৮টি পণ্য এবং নেপালে বাংলাদেশের ৫০টি পণ্য শুল্ক-সুবিধা পাবে এবং তাতে দুই দেশের বাণিজ্যিক লেনদেনও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। নেপালের রাজনৈতিক অসন্তোষের কারণে যে কেবল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক চুক্তিটি আটকে আছে তা-ই নয়,
আগামী ১ জানুয়ারি থেকে যে চার দেশীয় মোটরযান ও পণ্য পরিবহন শুরু হওয়ার কথা, তাও অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে ভারতকেও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। কাঠমান্ডু মনে করে, তাদের ‘অবরুদ্ধ’ হওয়ার পেছনে ভারতের হাত আছে। বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরের সময় আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। চার দেশীয় মোটরযান ও পণ্য পরিবহন চুক্তিরও অন্যতম লক্ষ্যও এটি। কিন্তু যেখানে পণ্য পরিবহনের অনিশ্চয়তাই কাটছে না, সেখানে বাণিজ্য কিংবা অর্থনৈতিক সহযোগিতা কীভাবে বাড়বে? নেপাল-ভারত সীমান্ত সড়ক বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার বাণিজ্যিক লেনদেনও বিরাট ঝুঁকিতে পড়েছে। কেননা, দুটি দেশের পণ্য আনা–নেওয়া করতে হয় ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্য দিয়েই। এর একমাত্র বিকল্প বিমানপথে পণ্য পরিবহনের ব্যয় অনেক বেশি। নেপালে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার দ্রুত অবসান ঘটুক, চুক্তি সইয়ের বাধা দূর হোক—এটাই সময়ের দাবি।

আমার প্রেসিডেন্ট- আমাদের প্রেসিডেন্ট! by গোলাম মাওলা রনি

সেবার আমি বেশ খানিকটা সময় নিয়ে মার্কিন মুলুকে ভ্রমণ করছিলাম। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অনেক শহর-বন্দর, হাটবাজার ও গ্রামগঞ্জ দেখার পাশাপাশি সেখানকার অধিবাসীদের সাথে মেলামেশার সুযোগ পেয়েছিলাম। সিনেটর, কংগ্রেসম্যান, মেয়র ও কাউন্সিলরদের মতো জনপ্রতিনিধি ছাড়াও বিচারক, অধ্যাপক, পুলিশকর্তা, সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা, প্রবাসী লোকজন এবং মার্কিন সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাথে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যের ধরন ও প্রকৃতি নিয়ে অনেকেরই আপত্তি থাকতে পারে। কিন্তু নিজেদের দেশের আইনশৃঙ্খলা, বিচারব্যবস্থা, সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় তারা যে উন্নয়ন ঘটিয়েছে, তা বিশ্বের আর কোথাও দেয়া যায় না। সাধারণ জনগণ, সিভিল সোসাইটি, বেসরকারি সংস্থা, সংবাদমাধ্যম, এলিট সোসাইটি, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের সমন্বয়ে সেখানে এমন একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, যা নিজ চোখে না দেখলে হয়তো বিশ্বাসই করতে পারতাম না।
মার্কিন মুলুকের হাজারো ভালো-মন্দ জিনিসের মধ্যে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে তাদের রাজনৈতিক বোধবুদ্ধি ও শ্রদ্ধাবোধ। মার্কিন সমাজে রাজনীতিবিদদের অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখা হয়। আমাদের দেশের জনগণ যেমন একটু সুযোগ পেলেই দলমত নির্বিশেষে রাজনীতিবিদদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করেন, তেমন ঘটনা মার্কিন সমাজে বিরল। অন্য দিকে রাজনীতিবিদেরাও তাদের প্রতিপক্ষের মানসম্মানের প্রতি অতিমাত্রায় সংবেদনশীল থাকেন। পশ্চিমা দুনিয়ায় বিশেষ করে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইতালিতে রাজনীতিবিদদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও পত্রিকাগুলো অতিমাত্রায় বাড়াবাড়ি করে থাকে। পত্রিকার জ্বালায় রাজনীতিবিদ আত্মহত্যা পর্যন্ত করার ঘটনা ঘটে। অনেকে পদ-পদবি থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং চিরদিনের জন্য রাজনীতি থেকে হারিয়ে যান। সে হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদেরা অনেকটাই নিরাপদ। মার্কিন পত্রপত্রিকা সাধারণত কারো একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে না। সে দেশের সুদীর্ঘকালের ইতিহাসে কেবল বিল ক্লিনটন এবং তার ‘প্রেমিকা’ মনিকার কাহিনী নিয়ে মিডিয়াগুলো শোরগোল করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণকালে যখন একজন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের সাথে বিল ক্লিনটনের পরকীয়ার বিষয়টি তুললাম, তখন তিনি যা বললেন তার মোদ্দাকথা হলো- ক্লিনটনকে তার প্রেমের ঘটনার জন্য নাস্তানাবুদ করা হয়নি। কারণ ইতঃপূর্বে অনেক প্রেসিডেন্টের জীবনে প্রেমিকা হিসেবে অনেক নারীর আগমন ঘটেছিল। এমনকি প্রেসিডেন্টের স্ত্রীরা পর্যন্ত পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন। মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট কেনেডির বহুগামিতা, বিশেষ করে অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর সাথে পরকীয়া ছিল ওপেন সিক্রেট। মার্কিন নাগরিকেরা প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি একদম পছন্দ করেন না। তারা প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক দুর্বলতা এবং চারিত্রিক দুর্বলতাকে সহজে ক্ষমা করতে চান না। প্রেসিডেন্ট মিথ্যা কথা বলবেন, এমন ঘটনা মার্কিন মুলুকে কল্পনাও করা যায় না। ওই দেশে মিথ্যাকে মনে করা হয় মানুষের সবচেয়ে বড় চারিত্রিক দুর্বলতা এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। ক্লিনটনের প্রধান দোষ ছিল- তিনি আদালতে শপথ করে বলেছিলেন, মনিকার সাথে তার কোনো অনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। পরবর্তীকালে যখন তদন্তে আসল ঘটনা বেরিয়ে এলো এবং প্রমাণ হলো, প্রেসিডেন্ট শপথ নিয়ে মিথ্যা কথা বলেছেন, তখন পুরো দেশে তোলপাড় শুরু হলো। শেষপর্যায়ে ক্লিনটন যখন সত্য কথা বললেন এবং জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন, তখন মার্কিনিরা তাকে সন্তুষ্টচিত্তে এই বলে ক্ষমা করে দিলেন যে, মনিকা ইস্যুটি প্রেসিডেন্টের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। কেবল প্রেসিডেন্টের স্ত্রী ও কন্যাই ব্যাপারটিতে নাক গলাতে পারেন, সাধারণ মানুষের এতে করার কিছু নেই।
আমরা আলোচনা করছিলাম মার্কিন জনগণের রাজনৈতিক বোধবুদ্ধি ও শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে। মার্কিনিরা সাধারণত তাদের নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধির মৃত্যুর পরও সাবেক শব্দটি প্রয়োগ করেন না। মেয়র, কংগ্রেসম্যান, সিনেটর ও প্রেসিডেন্ট পদে কেউ একবার নির্বাচিত হলে রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের মানসপট তা চিরদিনের জন্য ধারণ করে রাখে। নির্বাচিত ব্যক্তিরা তাদের মেয়াদকালের পরও রাষ্ট্র থেকে সমান গুরুত্ব ও মর্যাদা পেয়ে থাকেন। অন্য দিকে মার্কিন জনগণ তাদের সমাজের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে সম্বোধনের সময় বেশ সতর্কতা অবলম্বন করেন। কোনো অনুষ্ঠানে কিংবা একান্ত আলোচনায় যদি কোনো জনপ্রতিনিধির নাম উচ্চারণ করতে হয়, তবে সাধারণত বলা হয়- মেয়র রিচার্ড ও ডেলি, কংগ্রেসম্যান স্টিভেন, সিনেটর কার্ল লেভিন, প্রেসিডেন্ট লিংকন, প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট প্রমুখ। এ ক্ষেত্রে বর্তমান বা সাবেক শব্দটি ব্যবহৃত হয় না।
প্রেসিডেন্টদের মধ্যে যারা খুবই জনপ্রিয় এবং শ্রদ্ধাভাজন, তাদের নামের সাথে অনেক সময় কিছুই যোগ করা হয় না। যেমন- জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, থমাস জেফারসন প্রমুখের নাম মার্কিন সমাজে এত বেশি উচ্চারিত হয় যে, তাদের পদ-পদবি উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না। এসব বিষয় নিয়ে যখন আমার ফেলোশিপের মেন্টর ড. ড্যান ক্যান্টরেইলের সাথে আলাপ করছিলাম, তখন বাংলাদেশের অবস্থা মনে হতেই আমার ভীষণ হাসি পেয়ে বসল। ড. ড্যান মার্কিন প্রশাসনের মধ্যম শ্রেণীর পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন এবং বেশ বয়স্ক হওয়ার পরও যথেষ্ট আমোদপ্রিয়। তিনি বেশ কৌতুক করে বললেন, বিশেষ কারো কথা মনে পড়েছে বুঝি! হ্যাঁ-সূচক জবাব দিলাম এবং কৌশলে কোনো কিছু না বলে অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলাম। কারণ আমার যা মনে হয়েছিল তা মি. ড্যানের কাছে বলা সম্ভব ছিল না। তবে সম্মানিত পাঠকগণকে তো আর না বলে পারছি না।
আমাদের দেশে ক্ষমতাসীন নেতা এবং ক্ষমতাহীন নেতার পদবি, প্রশংসা ও গ্রহণযোগ্যতায় যেমন ভিন্নতা রয়েছে, তেমনি জীবিত ও মৃত নেতার ক্ষেত্রে ভিন্নতার পরিমাণ আরো বেশি। নেতার সামনে একধরনের কথা বলা হয়, আবার পেছনে গিয়ে বলা হয় সম্পূর্ণ উল্টো কথা। নেতার জন্য আয়োজিত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত হয়ে কেউ কেউ নেতার সামনে বসে হু হু করে কেঁদে ওঠেন। কিন্তু মনে মনে বলেন- ‘হালায় মরে না ক্যান।’ অন্য দিকে মৃত নেতার আত্মীয়স্বজন আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা নেতার প্রশংসা করতে করতে শরীর ঘর্মাক্ত করে ফেলেন আর মনে মনে বলেন, ‘গুডিডা (গুটি বসন্তের বিষফোড়া) বাঁইচা থাকতেও জ্বালাইছে- অ্যাহন মইরা গিয়া আরো জ্বালার মধ্যে ফ্যালাইছে। মরার আর সময় পাইলো না। চৈত্র মাসের ঠাডাপড়া গরমের মধ্যে মইরা গিয়া আমাগোও মরনের দিকে টানতাছে। এত গরমের মধ্যে বক্তৃতা দেওয়া যায়! যতসব, ফালতু।’ আবার প্রসঙ্গে ফিরে যাওয়া যাক।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সে দেশের মানুষ অপমান করে না। তারা প্রেসিডেন্ট পদটিকে নিজেদের মর্যাদা, সাম্য, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে গণ্য করে। আমাদের দেশের সরকারপ্রধানের মতো কিংবা রাষ্ট্রপ্রধানের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছবি টানানো নিয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা কিংবা বাড়াবাড়ি নেই। এমনকি মার্কিন জাতীয় পতাকার বিষয়েও তারা বাড়াবাড়ি করে না। একবার জনৈক ব্যক্তি প্রকাশ্যে মার্কিন পতাকা পুড়িয়ে ফেললেন। তার বিরুদ্ধে মামলা হলো। অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করলেন- আমার টাকা দিয়ে পতাকা বানিয়ে পুড়িয়েছি, এখানে রাষ্ট্রের কী করার আছে। মামলা মার্কিন ফেডারেল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াল। সুপ্রিম কোর্ট অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে রায় দিলেন।
ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং ব্যক্তি-অধিকার প্রয়োগের সর্বোচ্চ অবস্থানে থেকে কোনো নাগরিক কি সীমা অতিক্রম করেন না কিংবা অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করেন না- এমন প্রশ্নের জবাবে আমাকে জানানো হলো, শৈশব থেকেই একজন নাগরিককে খুব ভালো করে শেখানো হয়, রাষ্ট্র থেকে সে কী কী অধিকার পেতে পারে। অন্য দিকে রাষ্ট্রের প্রতি তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কেও তাকে সচেতন করে তোলা হয়। রাষ্ট্রের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ, আইন মানার প্রবণতাও তৈরি করা হয়। প্রত্যেক নাগরিককে শৈশবে এমন স্বপ্ন দেখানো হয়, যাতে শিশুটি দ্রুত বড় হয়ে ওঠার আশায় এমনভাবে লেখাপড়া ও কাজকর্ম করার চেষ্টা অব্যাহত রাখে, যার ফলে সে পরনির্ভরতার পরিবর্তে আত্মমর্যাদাশীল ও স্বনির্ভর ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়ে যায়। কারো গলগ্রহ হওয়া কিংবা কারো প্রতি নির্ভরশীলতা অথবা অন্যের অর্জিত সম্পত্তির ওপর লোভ-লালসা ও পরনির্ভরতার কারণে অলসতা পেয়ে না বসে, সে লক্ষ্যে রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার একই আদর্শ ও বিশ্বাস নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার কাজে চেষ্টা চালিয়ে যায়।
মার্কিন সমাজ ও রাষ্ট্র নীতিগতভাবে প্রত্যেক ব্যক্তিকে ভিন্নমত পোষণ এবং অন্যের থেকে আলাদা ও ব্যতিক্রমধর্মী চিন্তা করার জন্য উৎসাহ প্রদান করে। মানুষ যাতে ভিন্নমত পোষণ করার সামর্থ্য অর্জন করতে পারে, সে জন্য শৈশব থেকেই স্কুলগুলোতে আলাদা ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয় অনেকটা বাধ্যতামূলকভাবে। সেসব ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের সামনে একটি বিষয় উপস্থাপন করা হয়। তারপর যেকোনো একজনকে বলা হয় বিষয়বস্তু সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করার জন্য। এরপর বলা হয় প্রথম বক্তার বক্তব্যের সাথে নতুন কিছু যুক্ত করার জন্য। সবার শেষে বলা হয়, বক্তাদের বক্তব্যের সাথে ভিন্নমত পোষণ করে সম্পূর্ণ নতুন কিছু উপস্থাপন করার জন্য। যেসব ছাত্রছাত্রী অভিনব ও ব্যতিক্রমী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে পারে, তাদের বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হয়।
তিনটি কারণে মার্কিন রাষ্ট্রব্যবস্থা ভিন্নমতের পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। প্রথমত, ভিন্নমতের কারণে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য সৃষ্টি হয়। যিনি ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন, তিনি তার মতাদর্শ অনুসারে কাজকর্ম করে ভিন্নমাত্রার কর্মযোগ সৃষ্টি করেন। দ্বিতীয়ত, ভিন্নমতের কারণে মানুষ আলাদা থেকে কাজকর্ম করতে বাধ্য হয়। তাতে করে ব্যক্তির উন্নয়ন ঘটে খুবই দ্রুততার সাথে, যা কিনা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে পরিণত হয়। তৃতীয়ত, ভিন্নমতের কারণে মানুষ তার মানবিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে পারে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, প্রকৃতির নিকৃষ্ট ও বোকা প্রাণীরা নেতাবিহীন অবস্থায় দলে-বলে চলাফেরা করে। যেমন ভেড়ার দল, মহিষ, হাঁস, শকুন ইত্যাদি। অন্য দিকে বাঘ, সিংহ ও চিতার মতো রাজকীয় প্রাণীরা একা চলে বটে, কিন্তু শিকারের প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধ হতে একটুও দেরি করে না। পিঁপড়া ও মৌমাছি যুদ্ধ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য তাদের নেতার অধীনে ও নিয়মের মধ্যে দলবদ্ধ হয়ে বাস করে। প্রকৃতির চিরায়ত বিধান মতে, যেসব মানুষ বিনা প্রয়োজনে দলবদ্ধ বা গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে কোনো ব্যক্তি বা নেতার কথামতো শুধু মাথা নাড়ে, তাদের যোগ্যতা ভেড়া, মহিষ বা শকুনের চেয়ে একটু কম নাকি একটু বেশি, তা নির্ধারণের জন্য গবেষণা প্রয়োজন। তবে ওই শ্রেণীর লোকজন কখনোই স্বাধীন, সার্বভৌম ও উন্নত মানুষ বলে কোনোকালে বিবেচিত হয়নি।
মার্কিন সমাজে যদি কোনো নাগরিকের সাথে হঠাৎ প্রেসিডেন্টের দেখা হয়ে যায়, তবে তিনি খুব উচ্ছ্বসিত হবেন না- আবার মুখ ফিরিয়ে অভদ্রতাও দেখাবেন না। কেউ আগবাড়িয়ে প্রেসিডেন্টের সাথে খাতির করতে যাবেন না এবং দলবেঁধে প্রেসিডেন্টকে ঘিরে ধরে তার প্রশংসা বা তোষামোদিতে মেতে উঠবেন না। একটি লোকও পাওয়া যাবে না, যে কিনা প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়ে তার কানে কানে ফিসফিসিয়ে কিছু বলে তার সাথে নিজের ঘনিষ্ঠতা এবং বিশেষ যোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা করবেন। প্রেসিডেন্ট যদি হাত বাড়িয়ে দেন হ্যান্ডশেকের জন্য অথবা কোনো কিছু জিজ্ঞেস করেন, তবে মানুষজন আনন্দ, বিনয় ও ভদ্রতার সংমিশ্রণে চমৎকার একটি হাসি ফুটিয়ে তুলে বলবেন- মি. প্রেসিডেন্ট!...
বর্তমান প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে যদি স্কুলের ছেলেমেয়েদের কাছে কিছু জিজ্ঞেস করা হয়, তাহলে তারা প্রথমেই বলবে, মাই প্রেসিডেন্ট অথবা আওয়ার প্রেসিডেন্ট। অর্থাৎ তারা প্রেসিডেন্টের নাম উচ্চারণ না করে বলবে, আমার প্রেসিডেন্ট অথবা আমাদের প্রেসিডেন্ট। তারপর প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে প্রযোজ্য বাক্যগুলো বলে তাদের বক্তব্য শেষ করবে।
আপনি যদি একটিবারের জন্য ওইসব শিশু-কিশোরের মুখের দিকে তাকান, তবে স্পষ্টতই বুঝতে পারবেন, প্রেসিডেন্ট শব্দটি তাদের বুকের মধ্যে অতি সযতনে আর মর্যাদার সাথে সংরক্ষিত। আপনার প্রশ্নের উত্তরে শিশুটি প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে যেই না কিছু বলার চেষ্টা করল, অমনি প্রেসিডেন্টকে সে প্রথমে তার চোখের ওপর ফুটিয়ে তুলল। তারপর মুখমণ্ডল এবং অভিব্যক্তিতে প্রেসিডেন্টকে আনন্দময় ভঙ্গিমায় উপস্থাপন করল। সবশেষে শব্দযন্ত্রের সাহায্যে মিষ্টি করে উচ্চারণ করল- আমার প্রেসিডেন্ট! আমাদের প্রেসিডেন্ট!...

একজন বীর প্রতীকের উপহার by ডক্টর তুহিন মালিক

এক. বিজয় দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়েও বঙ্গভবনে ঢুকতে দেয়া হয়নি একজন বীর প্রতীককে। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ৩৫ বছর ধরে প্রায় প্রতিটি সরকারের আমলেই এ দিনটিতে বঙ্গভবনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছেন। এমনকি কল্যাণ পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেও গত আট বছরে যথারীতি বঙ্গভবনের দাওয়াতি হতে কখনো তাকে কোনো বাধার মুখে পড়তে হয়নি, কিন্তু এবারের বিজয় দিবসের সংবর্ধনায় বঙ্গভবনের গেটে দণ্ডায়মান পুলিশ কর্মকর্তা তাকে জানান, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের তালিকা অনুযায়ী, বঙ্গভবনে অবাঞ্ছিত ঘোষিত ব্যক্তিদের মধ্যে তার নাম নাকি এক নাম্বারে রয়েছে। এর অর্থ, বঙ্গভবনের নিরাপত্তার জন্য তিনি নাম্বার ওয়ান হুমকি! একটি ছোট দলের প্রধানও যদি নাম্বার ওয়ান বিপজ্জনক হয়ে থাকেন, তাহলে বাকিরা তো দেখি মহাভয়াবহ! অথচ এই ঘটনায় স্বদেশের মুক্তির জন্য যুদ্ধ করা এই বীর প্রতীক কতটা লজ্জাবোধ করলে বলতে পারেন, ‘একজন বীর প্রতীকের জন্য বিজয় দিবসের উপহার। বিজয় দিবসে একজন বীর প্রতীককে অপমান করা কি জরুরি?’ প্রচণ্ড ক্ষোভে তিনি বলেন, ‘আমার তিনটি পরিচয়- প্রথমত, আমি একজন বীর প্রতীক। দ্বিতীয়ত, একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল। তৃতীয়ত, আমি একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রধান। জানি না, এই তিন পরিচয় বা বৈশিষ্ট্যের কোনটিকে আক্রমণ করতে গিয়ে তারা কোনটিকে অপমান করল।’ আসলে জেনারেল ইবরাহিম তার তিনটি পরিচয়ের কথা বললেও চতুর্থ পরিচয়ের কথাটি কিন্তু বলেননি। তিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের একটি শরিক দলের চেয়ারম্যান। আসলে সরকারের কাছে এটাই হচ্ছে তার বড় পরিচয়। আর এটাই তাদের কাছে বড় অপমানের, বড় যন্ত্রণার!
দুই. আসলে শুধু জেনারেল ইবরাহিম একাই নন, কি মুক্তিযোদ্ধা, কি বীর প্রতীক; ক্ষমতাসীন দল না করলে বাকি সবাই যেন আজ রাজাকার আর স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যারা বাণিজ্য চালায়, তাদের কাছে বীর প্রতীকের সম্মানহানি তো স্বেচ্ছাচারী আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ মাত্র। ঠিক আছে, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে বঙ্গভবনে নিষিদ্ধ করলেন, কিন্তু দাওয়াত দিয়ে এভাবে অপমান করলেন কেন? জেনারেল ইবরাহিম দাবি করলেন, তার দলটি নিবন্ধিত। কিন্তু তিনি হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন যে, শুধু নিবন্ধিত দল হলেই চলবে না, দাওয়াতটিও ‘নিবন্ধিত’ হতে হবে। একটা ভুল তিনি করেছেন বটে, আওয়ামী লীগের গুণকীর্তনে পারদর্শিতা অর্জন না করে তিনি বঙ্গভবনে গেলেনই বা কেন? অথচ বঙ্গভবনের সেই সংবর্ধনায় মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সরকারের সুবিধা ভোগ করা লোকজনের কমতি ছিল না বলে জানা গেছে। বঙ্গভবনের বিজয় দিবসের সংবর্ধনায় ছিলেন অনেক মুখচেনা লোক, যাদের ভূমিকা প্রশ্নাতীত নয়। তাই একজন বীর প্রতীককে ঢুকতে না দিয়ে বিজয়ের উৎসবটি কী গৌরবগাথার জন্ম দিলো তা বোধগম্য নয়। আমরা চাইলেও তো এখন আর নতুন করে কোনো বীর প্রতীকের জন্ম দিতে পারব না। যে দু-একজন বীরযোদ্ধা এখনো বেঁচে আছেন, তাদেরকে এভাবে অসম্মান করা আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করার নামান্তর নয় কি? বঙ্গভবনের বিজয় দিবসের সংবর্ধনায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের তালিকা প্রস্তুত করে আমন্ত্রণ করার রেওয়াজ দীর্ঘ দিনের। কিন্তু এই তালিকায় কখনোই থাকে না কৃষকের কোনো ক্যাটাগরি। আমন্ত্রণপত্র পৌঁছায় না কোনো কৃষকের ঘরে। অথচ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণ বিসর্জনকারী, যুদ্ধাহত এবং যুদ্ধজয়ী মুক্তিযোদ্ধারা প্রায় সবাই ছিলেন কৃষক পরিবারের। কৃষকের আত্মত্যাগে যে স্বাধীনতা, তার বিজয় উৎসবে কৃষকের কোনো জায়গা হয় না কেন?
তিন. গত পরশু বিজয় দিবসের একই সময়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসার সামনে স্ত্রী-সন্তানদের সাথে নিয়ে অনশন পালন করেছেন যুদ্ধাহত সাংবাদিক প্রবীর সিকদার। প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত করায় প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে গত ১৬ আগস্ট ফরিদপুরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়। এর আগে পুলিশ কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাকে অফিস থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে বলে তিনি অভিযোগ করেছিলেন। যুদ্ধাহত এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবার নিয়ে তাই বিজয় দিবসে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অনশন পালন করলেন। আসলে শুধু সরকারের ও দলের গুরুত্বপূর্ণ অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের সময় বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছেন বলে বহু অভিযোগ রয়েছে। স্বয়ং বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী পর্যন্ত এসব মন্ত্রী-নেতার তালিকা তুলে ধরেছেন। কিন্তু শুধু বিশেষ দল করার সুবাদে তারাই আজ কিনা বড় বড় মুক্তিযোদ্ধা সেজে রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। এদিকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হতে হচ্ছে নিগৃহীত। সচিবের হাতে অপমানিত হয়ে আত্মহত্যার পথ পর্যন্ত বেছে নিতে হচ্ছে এ দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। অথচ দলীয় আশীর্বাদের কারণে মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান ও হত্যার বিচার হয় না। আওয়ামী ঘরানার নিষ্ঠাবান সাংবাদিক প্রবীর সিকদার আজ আওয়ামী নেতাদের রোষানলে পড়ে চরম জনমতের চাপে শেষ পর্যন্ত মহাবিপদ থেকে ফিরে আসতে পেরেছেন।
চার. এখন অবস্থা এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে, যে কেউ আওয়ামী লীগের গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মুখ খুলবে, তাকেই রাজাকারের খেতাব দিয়ে দেয়া হবে। সাথে মামলা-হামলা, জেল-জুলুম তো আছেই। অথচ তাদেরই বিগত শাসনামলের পরিকল্পনামন্ত্রী এবং সেক্টর কমান্ডার ফোরামের সভাপতি মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি অব: এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারকে পর্যন্ত রাজাকার উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে স্বয়ং আওয়ামী লীগ থেকেই। এমনকি সত্য ইতিহাস তুলে ধরার অপরাধে তাকে কুলাঙ্গার এবং আইএসআইয়ের এজেন্ট বলেও গালাগাল করেছেন নেতারা। দেউলিয়া রাজনীতির তাণ্ডব থেকে নিষ্কৃতি পাননি বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধের মহানায়কেরা পর্যন্ত। স্বয়ং বঙ্গবন্ধু যাকে বীর উত্তম খেতাব দিলেন, সেই জিয়াউর রহমানকে পর্যন্ত কী করে আইএসআইয়ের এজেন্ট বলা যেতে পারে? নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও নিজের জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া জিয়াকে যারা আজ পাকিস্তানের চর বলে তিরস্কার করছে, তাদের অনেকে সেদিন মুক্তিযুদ্ধে অংশই নেননি। মুক্তিযুদ্ধের সেই রক্তঝরা দিনগুলোতে তারা পাকিস্তান সরকারের আতিথেয়তায় সুরক্ষিত ছিলেন। কেউ আবার কলকাতায় বসে নিশ্চিন্ত বিলাসী জীবনে মগ্ন ছিলেন। তবে আমাদের জাতীয় নেতারাসহ বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেদিন ঠিকই চরম আত্মত্যাগের মহিমায় স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছেন। আমাদের দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামে আওয়ামী লীগের অবদান কোনো অংশেই কম নয়। স্বীকার করতে হবে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগানেই আমরা হানাদারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। কিন্তু তাই বলে মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক দলের অর্জন হতে পারে না। দেশের সাধারণ মানুষ সেদিন অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও নেতা মেনেই আমরা সবাই দলমত নির্বিশেষে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার, মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি-উপসেনাপতি, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আর স্বাধীনতার ঘোষকের কি অবদান নেই? বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানিদের হাতে বন্দী হয়ে পড়ায় যুদ্ধ করতে পারেননি সত্য, কিন্তু তার আত্মীয়স্বজনের অনেকেসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতা সেদিন যুদ্ধে যাননি কেন, সেই প্রশ্নেরও সদুত্তর দেয়া প্রয়োজন।
পাঁচ. মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান যেদিন ইন্তেকাল করেন, সেদিন বঙ্গভবনে ছুটে গিয়েছিলেন সরকারি দল, বিরোধী দলসহ সমাজের সব স্তরের সাধারণ মানুষ। চলমান সঙ্ঘাতময় রাজনীতির ভিড় ঠেলে রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর একাত্মতা সেদিন দেশবাসীকে মুগ্ধ করেছিল। বিশেষ করে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল ও তার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে অভূতপূর্ব সহমর্র্মিতা প্রদর্শন করেছিলেন, তা সমসাময়িক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরল ঘটনা। মরহুম রাষ্ট্রপতির সম্মানে সেদিন তিনি শুধু হরতাল প্রত্যাহারই করেননি, বরং বগুড়া ও জয়পুরহাটের সফরও স্থগিত করেছিলেন। বিএনপি অফিসে সেদিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছিল। তৎকালীন বিরোধী দলের নেত্রী কোনো প্রটোকল, অভ্যর্থনা বা সৌজন্যকে বাহানা না করেই ছুটে গিয়েছিলেন বঙ্গভবনে। নিত্যদিনের সরকারি দলনপীড়নে আক্রান্ত মির্জা ফখরুলসহ দলের নেতারা এক কাতারবন্দী হয়েছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতির জানাজার নামাজে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদও একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে জনপ্রিয় তবু তার বঙ্গভবনের দুয়ার একজন বীর প্রতীকের জন্য বন্ধ করে দেয়া হলো কেন, কার ইঙ্গিতে? এটা নিশ্চয়ই পূর্বপরিকল্পিত কিছু ছিল না। কারণ, পূর্বপরিকল্পিত হলে জেনারেল ইবরাহিমকে দাওয়াতই দেয়া হতো না। সরকারের মধ্যে অতি উৎসাহী কোনো অপশক্তির ইশারায় এহেন ন্যক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই সরকারের জন্য লাভজনক হয়েছে বলে কেউ বিশ্বাস করতে পারে না। আসলে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জাতীয় ঐক্য গড়তে না পারলেও জাতির জন্য অনেক বড় প্রত্যাশার জন্ম দিতে পারে নিঃসন্দেহে। কি সরকারি দল, কি বিরোধী দল, দলমত নির্বিশেষে সব দলের রঙধনুতেই গণতন্ত্রের আসল সৌন্দর্য লুক্কায়িত। আমাদের দেশে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা কেন পরস্পর শত্রুতে পরিণত হবেন? আমাদের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে সব দলের পারস্পরিক সহাবস্থান কবে নিশ্চিত হবে? এই তো ক’দিন আগে ভারতে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাড়িতে চায়ের আমন্ত্রণে গেলেন। আর আমরা একদল আরেক দলকে চিরতরে নির্মূল করার শপথ নিয়েই যেন রাজনীতি করছি।
লেখক : সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ
E-mail : drtuhinmalik@hotmail.com

ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ, আহত ৩০

রাজধানীর মিরপুর রোডে বৃহস্পতিবার  ঢাকা কলেজের
ছাত্রদের সঙ্গে ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের
ব্যবসায়ী ও হকারদের সংঘর্ষ। ছবি: হাছন রাজা
রাজধানীতে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে ধানমন্ডি
হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী ও হকারদের সংঘর্ষ চলাকালে
মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। ছবি: হাছন রাজা
ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে ধানমন্ডি হকার্স
মার্কেটের ব্যবসায়ী ও হকারদের সংঘর্ষের পর রাস্তায়
পড়ে থাকা ইটের টুকরো। ছবি: হাছন রাজা
রাজধানীর মিরপুর রোডে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী ও হকারদের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুই ঘণ্টা ধরে এই সংঘর্ষ চলার সময় ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটে কয়েকটি দোকান এবং রাস্তায় কয়েকটি যান ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীরা এই ঘটনার জন্য ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগকে দায়ী করেছে। অন্যদিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ প্রথম আলোকে বলেছেন, ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের কোনো কার্যক্রম নেই। কেউ ছাত্রলীগের নাম ভাঙাতে চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের শাড়িমেলার কর্মচারী হাবিবুর রহমানের ভাষ্য, বিকেল তিনটার দিকে দুই যুবকসহ চারজন তাঁর দোকানে বিয়ের শাড়ি কিনতে আসেন। এক কর্মচারী শাড়ি প্যাকেট করে দিলে ক্রেতারা দাম না দিয়ে চলে যেতে উদ্যত হন। এ সময় বাধা দিলে যুবকেরা বলেন, ‘আমরা ঢাকা কলেজের ছাত্রলীগের নেতা, আমরা ঢাকা চালাই। এর ফল পাবি।’ পরে তাঁরা চলে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, যুবকেরা চলে যাওয়ার আধঘণ্টা পর বিকেল পৌনে চারটার দিকে ৩০-৩৫ যুবক লাঠিসোঁটা, রড, চাপাতি ও রামদা নিয়ে ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটে ঢুকে পড়েন। এ সময় মার্কেটের বাইরে অবস্থান নেন শতাধিক যুবক। তাঁরা একে একে দোকানের বৈদ্যুতিক বাতি ও সাইনবোর্ড ভাঙচুর করেন। কয়েকজন শাড়িমেলায় ঢুকে দোকানের মালিক মিজানুর রহমান ও তার কর্মচারীদের পেটান। দোকান কর্মচারী হাবিবুর রহমান দাবি করেন, ওই যুবকেরা তাঁদের দোকান ভাঙচুরের পর দোকানের সব শাড়ি লুটে নেন। পরে মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা প্রতিরোধ করতে গেলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় অন্তত ১৫ জন আহত হন।
হামলাকারীরা পরে ওই মার্কেটের সামনে ফুটপাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দোকান লুট করতে গেলে তাদের সঙ্গেও সংঘর্ষ বাধে। এ নিয়ে ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী ও ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় একপক্ষ অপর পক্ষের ওপর বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে আরও অন্তত ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে রাস্তার পাশে থাকা চারটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। পরে পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে রাস্তা খুলে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. জসীমউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে হয়েছে।

সেরা ৫ বিমানবাহিনী কোন কোন দেশের?

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিমানবাহিনী কোন দেশের? এই প্রশ্নের জবাব সম্ভবত সবার জানা। সেটা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তার পরের দেশগুলো! এখানে একেকজনের একেক ভাষ্য।
সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিমানবাহিনী হিসেবে অবশ্যই উঠে এসেছে আমেরিকার বিমানবাহিনীর নাম। অত্যাধুনিক সরঞ্জাম এবং অপরিসীম দক্ষতায় তারা অন্য সব বিমানবাহিনীর চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে। যুদ্ধবিমানের সংখ্যাতেও আমেরিকার ধারেকাছে নেই অন্য কোনো দেশ। সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, আমেরিকার হাতে যতগুলো যুদ্ধবিমান রয়েছে, গোটা বিশ্বের অন্য সব দেশের বিমানবাহিনীকে জুড়লে সেই সংখ্যার সমান হওয়া যাবে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাশিয়া। তৃতীয় স্থানে ইসরাইল। বিমানবাহিনীর আকারে ইসরাইল খুব বড় নয়। কিন্তু প্রায় সবক’টি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকা ইসরাইলি বিমানবাহিনীর দক্ষমতা অসামান্য, বলছে সমীক্ষা রিপোর্ট। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারেও ইসরাইল এয়ার ফোর্স অনেকের চেয়ে এগিয়ে। চতুর্থ স্থানে রাখা হয়েছে ভারতকে। ১ লক্ষ ৭০ হাজার কর্মী এবং ১৫০০ যুদ্ধবিমান নিয়ে গড়ে ওঠা এই বিশাল বাহিনীর ব্যবহৃত সমর সরঞ্জামের মানও অন্যান্য দেশের পক্ষে ঈর্ষণীয়।
এই সমীক্ষাতে ভারতের পরেই ঠাঁই দেয়া হয়েছে ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সকে। যুদ্ধবিমান এবং যোদ্ধার সংখ্যায় ভারতের চেয়ে অনেক পিছনে রয়্যাল এয়ার ফোর্স। কিন্তু, আধুনিকতা, দক্ষতা এবং বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ নিয়ে সফলভাবে লক্ষ্য পূরণের কথা মাথায় রেখে ব্রিটিশ বিমানবাহিনীকে প্রথম পাঁচেই রাখা হয়েছে। স্ট্র্যাটেজিক বম্বিং বা কৌশলগত বোমা হামলা চালানোর দক্ষতায় ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের জুড়ি নেই গোটা পৃথিবীতে। বলছেন সমীক্ষকরা। ষষ্ঠ স্থানে রাখা হয়েছে চীনের বিমানবাহিনীকে। পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্সের হাতে রয়েছে ২৫০০ যুদ্ধবিমান। রয়েছেন ৩ লাখ ৩০ হাজার কর্মী। আকারে ভারতের চেয়ে বেশ খানিকটা বড় হলেও বড়সড় যুদ্ধে অংশ নিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়ার রেকর্ড চিনা বিমানবাহিনীর নেই। সে কথা মাথায় রেখেই চীনকে কিছুটা পিছনে রাখা। তবে তুল্যমূল্য বিচারে এই বিমানবাহিনীগুলির কোনওটিই কারো চেয়ে খুব এগিয়ে বা খুব পিছিয়ে নয়। শক্তির বিচারে তারা পরস্পরের খুব কাছাকাছি। দাবি সমীক্ষকদের।
সপ্তম স্থানে ফরাসি বিমানবাহিনী, অষ্টম স্থানে জার্মানি, নবম স্থানে রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্স এবং দশম স্থানে জাপান সেল্ফ এয়ার ডিফেন্স ফোর্স রয়েছে বলে সমীক্ষক সংস্থাগুলি মনে করছে।
একটি সমীক্ষায় অবশ্য চীনকে ভারতের চেয়ে সামান্য এগিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে বিমানবাহিনীর আকার, পেশাদারিত্ব, দক্ষতা, ক্ষমতা, যুদ্ধে অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতা— এই সব বিচার করে প্রথম তিনটি স্থানে আমেরিকা, রাশিয়া এবং ইসরাইল। তার পর রয়েছে চীন, ব্রিটেন, ফ্রান্স, ভারত, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান। এই দেশগুলির সবক’টিই প্রয়োজনে নিজেদের দেশেই যুদ্ধবিমান তৈরির ক্ষমতা রাখে বলে সমীক্ষা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃতীয় একটি সমীক্ষায় প্রথম ১০ থেকে ইসরাইল ও অস্ট্রেলিয়াকে বাদ দেয়া হয়েছে। বাকি আটটি দেশের নাম একই। সেখানেও চীন-ভারত প্রথম পাঁচে এবং পাশাপাশি অবস্থানে। নবম ও দশম স্থানে রাখা হয়েছে তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়াকে।

নেপালে এখনকার জীবনযাত্রা by মোহাম্মদ আবুল হোসেন

ফুটপাতে ক্যাম্প করে ৫ দিন ধরে অবস্থান করছেন শিব পারওয়ার। তিনি রান্নার গ্যাসের জন্য এমন অখণ্ড অবস্থান নিয়েছেন। তার সামনে ৫২১টি খালি গ্যাস সিলিন্ডার। ফলে আরও অনেকটা সময় তাকে অপেক্ষা করতে হবে। কতক্ষণ বা কতদিন তা বলতে পারছেন না ডিলার। কারণ, তারা নিশ্চিত নন যে কখন গ্যাস সরবরাহ আসবে। প্রায় দু’মাস ধরে অবরোধের ফলে এই হলো নেপালের নিত্য দিনের চিত্র। এর ইতি ঘটার কোন লক্ষণ নেই। শিব পারওয়ার বলেছেন, পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে সন্তানদের ও স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। ধার করা অর্থে আমি বাইরের রেস্তোরাঁয় খাচ্ছি। এখন সেই অর্থও শেষ। এ অবস্থায় এই লাইনে আর কত সময় থাকতে পারবো জানি না। বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে নেপালের চিত্র এভাবেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গত ২০শে সেপ্টেম্বর নেপালের নতুন সংবিধান পাস হওয়ার পর থেকে শুরু হয়েছে অচলাবস্থা। বিশেষ করে মধেষি সম্প্রদায় মনে করছে এ সংবিধানে তাদের অধিকারকে খর্ব করা হয়েছে। এ জন্য তারা প্রায় দু’মাস ধরে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। এতে ভারত থেকে যাওয়া সব সরবরাহ বাধা পড়ছে নেপাল সীমান্তে। ফলে সৃষ্টি হয়েছে গ্যাসোলিন, ডিজেল, রান্নার জ্বালানি, খাদ্য, ওষুধ সহ নিত্যপণ্যের তীব্র সঙ্কট। চাহিদার মাত্র শতকরা ১৫ ভাগ সরবরাহ আছে নেপালে। মধেষি সম্প্রদায়ের সরকারের সঙ্গে এই রাজনৈতিক চাপে দেশটি মূলত অচল হয়ে পড়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন। এতে বর্তমানে লাখ লাখ মানুষ দুর্ভোগে ভুগছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে এ বসন্তের ভূমিকম্প। তার ফলে এমনিতেই এই শীতে অসংখ্য মানুষ জ্বালানি সঙ্কটে ভুগছে। তারা বাড়িঘর নির্মাণ নিয়ে ব্যস্ত। শিব পারওয়ার বলেন, খাদ্যের দাম আকাশচুম্বী। শুধু তা-ই নয়, নেপালে বহু জিনিসের সঙ্কট রয়েছে। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ। যারা ধনী ও নেতা তারা ঠিকই জ্বালানি তেল, গ্যাস পাচ্ছে। তারা আরামে জীবনযাপন করছে।
মধেষিদের অভিযোগ
দীর্ঘ কয়েক বছরের লড়াই সংগ্রামের পর ২০শে সেপ্টেম্বর নেপালে পাস হয় নতুন সংবিধান। এর প্রতিবাদে দেশটির দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অপরোধ আহ্বান হরে মধেষিরা। তারা মধেষিদের জন্য একটি বৃহত্তর প্রদেশ দাবি করছে। তাদেরকে পার্লামেন্টে যতগুলো আসন দেয়া হয়েছে তার চেয়ে বেশি আসন দাবি করছে তারা। এ নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের বিক্ষোভ হয়েছে। ভাঙচুর হয়েছে সরকারি গাড়ি। মহাসড়ক হয়েছে অবরোধ। এ পর্যন্ত সহিংসতায় কমপক্ষে ৫০ জন প্রতিবাদকারী, পুলিশ ও পথচারী। মধেষিদের নেতৃস্থানীয় এক নেতা উপেন্দ্র যাদব। সরকার তাদের দাবি অবজ্ঞা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভে সরকার ব্যবহার করছে অতিরিক্ত শক্তি। গত সপ্তাহে সরকার তার ভাড়া করা গুন্ডাদের দিয়ে গণ আন্দোলন বানচাল করার চেষ্টা করেছে। তারা মঞ্চে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এসব নিয়ে সরকারের সঙ্গে কমপক্ষে ৯ বার তাদের আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাতে কোন ফল হয় নি।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
নেপালে বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট সরকার। এর নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী খড়গ প্রসাদ ওলি। প্রতিবাদ বিক্ষোভের ভিতর দিয়েই তিনি দায়িত্ব হাতে নেন। তবে তার পর কেটে গেছে দু’মাস। কিন্তু এখনও দৃশ্যত কোন সমাধান আসে নি। সরকার বলেছে, তারা সংবিধান পরিবর্তনে প্রস্তব। তবে বিক্ষোভকারীরা মধেষিদের জন্য যত বড় প্রদেশ দাবি করছে তার চেয়ে কিছুটা ছোট হবে ওই প্রদেশ। হিমালয় দুহিতা নেপালে রয়েছে শতাধিক জাতিগোষ্ঠীর বাস। এর মধ্যে মধেষিরা হলো সবচেয়ে বড় অংশ। নেপালের মোট জনসংখ্যার এক পঞ্চমাংশ তারাই। ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউনাইটেড মার্কসিস্ট লেলিনিস্ট) দলের সাধারণ সম্পাদক প্রদীফ গায়ওয়ালি বলেছেন, মধেষিদের অধিক পরিমাণ ভূমি দেয়া হলে তাতে রাজ্যের সীমানা নিয়ে শুরু হবে নতুন নতুন সঙ্কট। এটা নিয়ে আমাদের এক রকম ভীতি আছে।
তাঁবুতে শীত
এ বছর এপ্রিলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিরাণ ভূমি করে দেয় নেপালকে। এতে কমপক্ষে ৯০০০ মানুষ নিহত হন। এ পরিস্থিতিতে যারা বেঁচে আছেন তীব্র এই শীতে তারা জীবন বাঁচাতে নিরন্তর সংগ্রাম করছেন। তাদেরই একজন সুন্দরী লামা। তিনি তাঁবু ছেড়ে একটি এপার্টমেন্টে উঠেছিলেন। কিন্তু জ্বালানি সঙ্কটের কারণে আবার তিনি সেই তাঁবুতেই ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, রান্নার জন্য কোন গ্যাস নেই। তাই কাঠ, খড়কুটো সংগ্রহ করে তা-ই ব্যবহার করছেন জ্বালানি হিসেবে। এই জ্বালানি তিনি এপার্টমেন্টে ব্যবহার করতে পারতেন না। এই শীতে ঠক ঠক করে তিনি কাঁপেন আর রান্না করেন। তার ওপর এক বোতল ভেজিটেবল ওয়েলের দাম তিনগুন বৃদ্ধি পেয়ে ৩০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। তার স্বামী একজন দিনমজুর। কিন্তু কাজ বলতে কিছু নেই। তাই সন্তানকে নিয়ে তাদের বেঁচে থাকাই এখন দায় হয়ে উঠেছে।
বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া
নেপালে এখন প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস। তারা বলেছে, সরকার ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তারা একটি সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সেক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগে ঘাটতি আছে বলে তাদের অভিযোগ। তবে সরকার যে বিশ্বাস করে মধেষিদের দাবি মেনে নিলে তাতে আরও জাতিগত সংঘাত সৃষ্টি হবেÑ এ বিষয়ের সঙ্গে একমত নেপালি কংগ্রেস। দলের এমপি রাম হরি খাতিওয়াদা বলেন, এ পরিস্থিতিতে কি ধরণের চুক্তি করতে চায় সরকার সে বিষয়ে পরিষ্কার কোন ধারণা পাওয়া যায় নি। তাদের কাছে কোন পরিকল্পনা নেই। তারা আলোচনায় আসে অপ্রস্তুত অবস্থায়। তিনি আরও বলেন, যদি এর কোন সমাধান পাওয়া না যায় তাহলে পরিস্থিতি সহসাই খারাপ হবে।

ইবি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৮

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সাইদুর রহমান বাবু নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয় প ৃ। কমিটি গঠন, টেন্ডার এবং শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডকে কেন্দ্র করে গতকাল দুপুরে ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম গ্রুপের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সহসভাপতি মিজানুর রহমান মিজু গ্রুপের কর্মীদের মাঝে এ সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত আরও আট ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। সংঘর্ষের পর থেকে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সূত্রমতে, গতকাল দুপুর ২টায় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করার জন্য সাবেক প্রো-ভিসি ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. কামাল উদ্দীন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন শিক্ষক নিয়ে ভিসি অফিসে যান। তিনি ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকারকে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করার জন্য চাপ দেন। একই দাবিতে সহসভাপতি মিজানুর রহমান মিজু গ্রুপের কর্মী জুয়েল রানা হালিম ও ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী ভিসি অফিসে যায়। তাদের সঙ্গে চাকরি প্রত্যাশী আশিকুর রহমান জাপান, তৌহিদুর রহমান হিটলারসহ বেশ কয়েকজন বহিরাগত যোগ দিয়ে তাদের চাকরি না হওয়া পর্যন্ত কোনো নিয়োগ বোর্ড না করার জন্য ভিসিকে হুমকি দেয়। অপরদিকে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাস নিয়োগ বোর্ড করার জন্য ভিসিকে অনুরোধ করে। এ সময় তারা বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের কর্মী শিশির ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি গ্রুপ ভিসি অফিসে প্রবেশ করলে উভয় গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজ থেকে জানা যায়, হাতাহাতির একপর্যায়ে শিশির ইসলাম বাবু তার অস্ত্রধারী নোমানের ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করে সহসভাপতি গ্রুপের কর্মী আরাফাতের বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দিতে থাকে। এতে আরাফাতের সহকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে শিশির ইসলাম বাবু পুলিশের সামনেই গুলি ছুড়তে থাকে। এতে সাইদুর রহমান বাবু নামের মিজু গ্রুপের এক কর্মী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে মিজু গ্রুপের নেতাকর্মীরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে তাদের দলীয় টেন্ট পর্যন্ত নিয়ে যায়। এ সময় সহকারী প্রক্টর আলতাফ হোসেন আহতদের উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষে আহতরা হলেন, সভাপতি গ্রুপের শিশির ইসলাম বাবু, কামরুজ্জামান সাগর (ফলিত পদার্থ-২০১৩-১৪), নোমান রবিন (ব্যবস্থাপনা-২০১১-১২), আতাউর রহমান (কম্পিউটার সায়েন্স-২০০৯-১০), রাজু আহমেদ, সহসভাপতি গ্রুপের জুয়েল রানা হালিম (বাংলা বিভাগ-২০০৯-১০), আইন বিভাগের ২০১-১৪ শিক্ষাবর্ষের ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত, অনিক, জুবায়ের প্রমুখ। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের পর সভাপতি গ্রুপ দলীয় টেন্ট ও সহসভাপতি গ্রুপের নেতাকর্মীরা ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ ভবনের পূর্ব পাশে অবস্থান নেয়। বিকাল ৫টা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। এবিষয়ে সহসভাপতি গ্রুপের কর্মী জুয়েল রানা হালিম বলেন, আমরা কিছু দাবি নিয়ে ভিসির কাছে গেলে সভাপতির ক্যাডার শিশির ইসলাম বাবু প্রকাশ্যে আমাদের নেতাকর্মীদের বুকে অস্ত্র ঠেকিয়েছে। এর প্রতিবাদ করলে গুলি ছুড়ে আমাদের কর্মীকে আহত করেছে। শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডকে বানচাল করার জন্য কিছু বহিরাগত ও ছাত্রলীগ কর্মী পরিচয়দানকারী দুর্বৃত্ত ভিসি অফিসে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে আমার নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছে। প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ঠেকাতে প্রশাসন সজাগ আছে। ক্যাম্পাসের সামগ্রিক অবস্থা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।