Monday, September 2, 2024
আওয়ামী লীগ সরকারের এমন অবস্থা হবে ১৫ বছর আগেই আঁচ করেছিলাম -সোহেল তাজ by শুভ্র দেব
প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম না বললেও তখন আলোচনা ছিল আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম পুলিশের বদলিসহ সব নিয়ন্ত্রণ করতেন যা মেনে নিতে পারেননি সোহেল তাজ। শেখ সেলিম তখন সরকারের কোনো দায়িত্বে ছিলেন না। মানবজমিনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সোহেল তাজ এমনই ইঙ্গিত দেন।
তার ভাষায় সরকারের ৯০ ভাগ মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রিত হতো শেখ হাসিনার লোকদের দ্বারা। মন্ত্রণালয়গুলো চলতো ম্যাজিক্যালি। সোহেল তাজ বলেন, ১৫ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকারের এখন যে পরিস্থিতি হয়েছে মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার সময়ই তা আঁচ করতে পেরেছিলেন। সোহেল তাজ জানান, তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অথচ তার নির্দেশ পালন করতেন না সচিবরা। তাদেরকে বলা হয়েছিল সোহেল তাজের কথা না শোনার জন্য। তার অজান্তেই এসপি বদলি হয়ে যেত। পরে তিনি বাধ্য হয়েই পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর দৃশ্যপট অন্যদিকে যায়। তাকে জীবন-মরণ লড়াই করতে হয়। বিভিন্নভাবে তাকে নির্যাতন করা হয়। তার ভাগ্নেকে পর্যন্ত গুম করা হয়। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব পেয়ে ওই বছরের মে মাসে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ২০১২ সালের ২৩শে এপ্রিল তিনি এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ওই সময় তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করায় ৭ই জুলাই তিনি আবার পদত্যাগপত্র দিলে সেটি গ্রহণ করা হয়।
সোহেল তাজ বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাই। আমি খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে। আমার ইচ্ছা ছিল দেশটাকে একটি সুন্দর, প্রগতিশীল উন্নত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। তার মানে আমি এটাও জানি আমাকে কী করতে হবে? সিস্টেমিক চেঞ্জ করতে হবে। সিস্টেমিক চেঞ্জ করতে চেয়েছিলাম আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে। বিচার বিভাগ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনীতি ও দলীয়করণমুক্ত করতে হবে। যাতে এই প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য কাজ করে। আওয়ামী লীগ এরকমই একটা ইশতেহার দিয়েছিল যেটি আমাকে সাংঘাতিকভাবে উৎসাহিত করে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল নির্বাচন কমিশন। একদম একটা স্বাধীন নির্বাচন কমিশন হবে। যেখানে কোনো ভোটের কারচুপি হবে না। আপনার ভোট আমার ভোট স্বদিচ্ছায় দিতে পারবো। এমনই একটা বাংলাদেশ হবে। এরকম একটা চিন্তা নিয়ে আমি মনে-প্রাণে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম, নতুন একটা বাংলাদেশ বিনির্মাণে। তিনি বলেন, যদি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চেঞ্জ, মজবুত ও রিফর্ম করতে চাই তাহলে এনসিউর করতে হবে সুশাসন ও গুড গভর্নেন্স। আমরা এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঠিক করবো গুড গভর্নেন্সের মাধ্যমে। সুশাসনের পূর্বশর্ত আইনের শাসন। যে সমাজে জাস্টিস থাকবে না সেখানে আপনি কখনো সুশাসন কায়েম করতে পারবেন না। আপনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান তবে দেখতে হবে আইনগুলো প্রয়োগ করছে কে। হাতিয়ারটা হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাই রিফর্ম করতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। আগে ডি পলিটিসাইজ করতে হবে বাহিনীগুলোকে। তাদেরকে একটি পেশাদার, শৃঙ্খলা ও জনগণের বন্ধু বানাতে হবে। আমি সেদিকে মনোযোগ দিয়েছিলাম। আমার চিন্তা ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পুনর্গঠন করতে হবে। তাদেরকে সঠিকভাবে কাজ করতে দিতে হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে দুর্নীতি দূর করতে হবে। দুর্নীতির ক্যান্সার সব জায়গায় ছড়িয়ে গেছে। দুর্নীতি ঠিক করতে না পারলে অনিয়ম ঠিক করা যায় না। করাপশন কলাপস এভরিথিং। করাপশনকে থামাতে হলে লাগবে একটি দক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আমি এসব নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখি আমি একাই এটা চেয়েছি। একা চাওয়ার কারণে এটা সম্ভব হয়নি। বরং উল্টো আমাকেই ভিকটিমাইজ করা হতো। আমি যখন পদত্যাগ করেছিলাম তখন অনেক মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছে।
সাবেক এই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর একটা মিটিং ডেকে ছিলাম। আইজিপি, এসবি প্রধান, র্যাব প্রধান, ডিবি প্রধান এবং সকল সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। আমি তাদেরকে স্পষ্ট করে বলেছিলাম বদলি, নিয়োগ বাণিজ্য এখন থেকে বন্ধ। এখানে কোনো ব্যবসা চলবে না। আমি যতদিন থাকবো ততদিন এটা অ্যালাও করবো না। এটা শুধু পুলিশের মধ্যে না। এই লিংকেজটা অনেক উপরের দিকে যায়। এখানে অনেক অদৃশ্য শক্তি আছে যারা এটাকে নিয়ন্ত্রণ করে। অনেক ক্ষেত্রে আমার অজান্তেই একটা অদৃশ্য শক্তি কাজ করে নেয়। এসপি বদলি হয়ে যায় অথচ আমি নিজেই জানতাম না। এ ধরনের ঘটনা যখনই ঘটতে লাগলো তখন আমি মনে করলাম এখানে একটা পদ নিয়ে বসে থাকার মানে হয় না। আমি বলেছিলাম পুলিশকে রিফর্ম করতে হলে তাদের বেসিক চাহিদাগুলো আমাদের পূরণ করতে হবে। তাদেরকে মধ্যবিত্ত স্ট্যাটাসে রাখতে হবে যাতে তাদের পরিবার স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারে। তাদের যাতে কোনো চাহিদা না থাকে। পরে আমরা তাদের কাছে ডিমান্ড করবো আপনাদেরকে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। ঘটনা আরও আছে। মন্ত্রণালয়গুলো ম্যাজিকেলি চলতো। ৯০ শতাংশ মন্ত্রী জানেন না তাদের মন্ত্রণালয় কীভাবে চলছে।
উপর মহল বলতে কি বুঝাতে চাচ্ছেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, উপর মহল হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক কালচারে যা হয়ে এসেছে। যারা দলীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা আছেন। এ ছাড়া যেহেতু আমাদের রাজনৈতিক কালচার হচ্ছে পরিবারতান্ত্রিক। এখানে অনেক পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। যারা কলকাঠি নেড়েছেন। মন্ত্রীরা অনেক ক্ষেত্রে জানতেন না কী হচ্ছে তাদের মন্ত্রণালয়ে। সচিবদের ম্যানেজ করে কন্ট্রোল করা হতো। আমি আমার মন্ত্রণালয়ে অনেক নির্দেশ দিতাম কিন্তু সেগুলো দেখতাম হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না? পরবর্তীতে আমি জানতে পারলাম বলা হয়েছে আমার কথা না শোনার জন্য। আমি রাজনীতিতে এসেছিলাম জনগণকে সার্ভ করার জন্য। এমন হলে কেন থাকবো আমি? আমি তো এখানে টাকা বানাবার জন্য আসিনি। তো কেন আমি এই সিটে থাকবো।
পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কি কারণ বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সিরিজ অব ইভেন্টস। একটার পর একটা ঘটনা জমতে জমতে তখন যা হয়। আমি একটা টাইমফ্রেম হাতে রেখেছিলাম আগেই। আমরা যদি সঠিক পথে যাই তার চিহ্ন প্রথম ৬ মাসেই পেয়ে যাবো। আপনি কোন ডিরেকশনে যাবেন সেটার ম্যাপিং করতে হবে না? তাহলেই তো ব্লুপ্রিন্টটা চলে আসবে। বলা হচ্ছে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের এক ব্যক্তির সঙ্গে আপনার ঝামেলা হয়েছিল? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখানে অন্যভাবে জিনিসগুলো এসেছে। কিন্তু আমাকে কেউ মারবে আর সে বাসায় বসে থাকবে- এটা হতে পারে না। আমার গায়ে টাচ্ করলে হাসপাতালে যাবে সে। এখানে মারধরের কোনো বিষয় ছিল না। এখানে বিষয়গুলো ছিল আরও সূক্ষ্ম। অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্যে আঘাত পড়েছে। কারণ তারা যেভাবে চেয়েছিল সেভাবে কাজগুলো করতে পারেনি। এজন্যই তারা পদত্যাগের পর মিষ্টি বিতরণ করেছিল। কারা মিষ্টি বিতরণ করেছে এবং কারা কলকাঠি নাড়তো? শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ওনার পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। যাদের কোনো সরকারি পজিশন না থাকা সত্ত্বেও হস্তক্ষেপ করেছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে। বিভিন্ন এজেন্সির উপর তারা প্রভাব বিস্তার করতেন। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও হস্তক্ষেপ ফিল করেছি। যতটুকু পেরেছি আমি প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছি।
১৫ বছরের আওয়ামী লীগের শাসন ও ৫ই আগস্ট মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নিয়ে সোহেল তাজ বলেন, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছিল। ছাত্র সংগঠন ও পুলিশ দিয়ে তাদেরকে বেধড়কভাবে পেটানো হয়েছিল রাস্তায়। তখন কোটা সংস্কার আন্দোলন হয়েছিল। তখন আমি ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। সেটা ছিল এমন-একটা পাতিলের মধ্যে পানি ফুটছে। নিচে আগুন জ্বলছে। আমি বলেছিলাম ঢাকনাটা যদি চাপ দিয়ে রাখা হয় তবে একদিন বিস্ফোরণ হবে। ১৫ বছর এই ঢাকনাটাকে চাপা দিয়ে রাখার বহিঃপ্রকাশ পেয়েছি ৫ই আগস্ট। এটা হচ্ছে ২০১৪ সালের নির্বাচন, হত্যা, গুম, নির্যাতন, বিরোধী দলের ওপর নির্যাতনের কারণে। আমরা দেখেছি খালেদা জিয়াকে যেটা করা হয়েছে যেটা আমি একেবারেই সমর্থন করি না। এটা অন্যায় হয়েছে; অবিচার হয়েছে। আমার বিবেক বলে আমি গিয়ে ওনার কাছে সরি বলবো। এটা হওয়া উচিত হয়নি। তার একটি সন্তান মারা গিয়েছে। তার বাসার সামনে ট্রাক নিয়ে রাখা হয়েছে। এগুলো জঘন্য নিকৃষ্ট কাজ। এগুলো কেন করবো? এটাতো আমাদের পলিটিক্যাল কালচার হওয়ার কথা না। একটি ডেমোক্রেসির ভেন্টিং প্রসেস হচ্ছে নির্বাচন। আপনি একটা টার্ম আসবেন মানুষ আপনাকে পছন্দ করবে না। তারা ফুঁসে উঠবে। ভোটের মাধ্যমে আপনাকে আউট করবে। আপনি ওই পথটাকে বন্ধ করে দিলেন। একের পর এক নির্বাচন আপনি করলেন। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে দ্রব্যমূল্য। দ্বিগুণ-তিনগুণ-চারগুণ দাম। মানুষ দিশাহারা। এটা হচ্ছে গান পাউডার কেক। ওটার ফিউজটা ছাত্ররা জ্বালিয়ে দিয়েছে। বিস্ফোরণটার জন্য রেডি ছিল। আপনি মানুষের ওপর বোঝা দিতে দিতে শেষমেশ ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
দায়টা আওয়ামী লীগের না সরকার প্রধানের ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে সোহেল তাজ বলেন, এখানে একটা সমস্যা আছে দল ও সরকারকে আমরা একাকার করে ফেলি। গণতন্ত্র এভাবে চলে না। রাষ্ট্র, সরকার, দল আলাদা আলাদা বিষয়। আমাদের পলিটিক্যাল পার্টির মধ্যে কোনো ডেমোক্রেসি নাই। সরকারে এসে আপনি ডেমোক্রেসি চর্চা করবেন কীভাবে? দলের ভেতর ডেমোক্রেসি নাই অথচ বলছেন অন্যদের ডেমোক্রেসি দিবেন। দলের ভেতরে লিডারশিপটা রিজার্ভ করে রাখা হয়েছে। আপনি চাইলে সেখানে উঠতে পারবেন না। আপনার জন্য একটা সীমানা দেয়া হয়েছে আপনি এর উপরে উঠতে পারবেন না। এটা হচ্ছে প্রধান সমস্যা। তিনি বলেন, দলের কাজটা ছিল তারা প্রান্তিক লেবেলে জনগণের পালসটা বুঝবে। জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকবে। জনগণের মনের কথা বুঝবে। সেই কথাগুলো তুলে ধরবে দলীয় প্ল্যাটফরমে। দলীয় প্ল্যাটফরম সেগুলো অনুধাবন করবে বোঝার চেষ্টা করবে। মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার রিফ্লেকশন হবে দলের পলিসিতে। সেই দল যদি ক্ষমতায় যেতে পারে তবে রিফ্লেকশন আসবে সরকারের কার্যক্রমের উপরে। কিন্তু এসব চর্চা আমরা দেখতে পারছি না। সরকারের সমালোচনা করলে বলা হবে রাষ্ট্রবিরোধী। তিনি বলেন, কারও কথা বলার অধিকার নাই। আইন করে করে মানুষের মুখ বন্ধ করে রাখছেন। ৫ই আগস্ট অনিবার্য ছিল। এটাতো হওয়ার কথা ছিল।
ছাত্র-জনতার হত্যাকারীদের শাস্তির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শত শত নিরীহ মানুষ, ছাত্র-ভাইবোনদের হত্যা করা হলো। আবু সাঈদ, মুগ্ধ থেকে শুরু করে চার বছরের শিশুকে মারা হলো। আমরা নিজের চোখে দেখেছি। এটার বিচার করতে হবে না? এটা কি করে সম্ভব। একবিংশ শতাব্দীতে নিজের দেশের মানুষকে জঘন্য একটি হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে হত্যা করা হলো। তিনি বলেন, বিডিআর বিদ্রোহ থেকে শুরু করে প্রতিটি ঘটনার সঠিক সুস্পষ্ট তদন্ত করতে হবে।
এত কিছুর পরেও কী মনে করেন আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরতে পারবে? সোহেল তাজ বলেন, আত্মসমালোচনা নাই, অনুশোচনা নাই, কোনো উপলব্ধি নাই যে দলের তারা কোথায় ফিরবে? যেটা করেছি, যেটাকে সমর্থন দিয়েছি এটা আনএথিকেল, ক্রিমিনাল কাজ। দেখতে পাচ্ছেন কোনো আত্মসমালোচনা, অনুশোচনা। তাহলে আওয়ামী লীগ কোথায় আসবে। এখানে জনগণ এবং নতুন প্রজন্মের ভেতরে কি চলছে সেটা বুঝতে হবে না? মানুষ কি চায় সেটা বুঝতে হবে না? আপনি লুটপাট করে লক্ষ কোটি টাকা পাচার করে দিবেন বিদেশে, আরাম আয়েশে থাকবেন। এটাতো জনগণ চায় না। তিনি বলেন, তাজউদ্দীন আহমেদের পরিবারের সদস্যদের সময়ে সময়ে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ২০০৯ সালে যখন আমি রিজাইন করেছিলাম তখন বলেছিলাম আর ঢাল হবো না। জাতীয় চার নেতার অবদান ছিল মুক্তিযুদ্ধে। তাদেরকে অবমূল্যায়ন অবহেলা করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। ওনাকে রাজাকার বানানো হয়েছে। যারাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছে তাদের জীবনী জানতে নতুন প্রজন্ম ডিজার্ব করে। যাতে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে পারে। আমি চাই না আমার বাবার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে আমি কিছু করবো। আমার দাবি ছিল- জেলহত্যা দিবস, মুক্তিযুদ্ধে যারা অবদান রেখেছে ও মুজিবনগর সরকারকে স্মরণ করে ওই দিনটাকে রিপাবলিক ডে ঘোষণা করা।
ফেসবুকে নৃশংস ছবি ও ভিডিও ভাসছে যেগুলো খুবই হৃদয়বিদারক, আপনি বিষয়গুলোকে কীভাবে দেখছেন? এ নিয়ে সোহেল তাজ বলেন, গুলি করে মারার দৃশ্য দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। ছাত্রবাহিনীদের নামিয়ে দেয়া হলো। পুলিশ নামানো হলো। শুরুটা এমনই ছিল। তারপর দেখলাম আবু সাঈদকে গুলি করে মেরে দিলো। আমি ছটপট করেছি এগুলো দেখে। আমার একটা লিমিটেশন আছে। কিন্তু আমি সেটি মানিনি। আমি ১৮ তারিখে একটা পোস্ট দিয়েছি। যেখানে আমার দলের তো দূরের কথা কেউ সাহসই করে নাই। আমি পুলিশের গুলি নিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি। কারফিউ শুরু হলো। আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে ডিবিতে নেয়া হলো। বলা হলো- সেইফ কাস্টডিতে নেয়া হয়েছে এবং তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে। আমি গিয়েছিলাম ডিবি অফিসে তারা গ্রেপ্তার হয়েছে কিনা সেটা জানতে। যদি গ্রেপ্তার হয় তবে অ্যানি স্টেটমেন্ট গিভেন ইজ নট ভেলিড। আর সেইফ কাস্টডি যদি হয় তাহলে তাদের চাইতে হবে। না চাইলে এটা এরেস্ট। আমি তখন বলেছিলাম আমার বিবেকের কারণে গিয়েছিলাম। কারণ আমি জানি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনীতে আমার অনেক ভক্ত আছে। আমি তাদের কাছে আপিল করেছি আর গুলি চালাবেন না। ১০ জনকেও যদি থামাতে পারি তাহলে দশটা গুলি কম যাবে।
পদত্যাগের পর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দাবি করে সোহেল তাজ বলেন, ২০১৩ সালে আমার ভাগ্নে মেজো বোনের ছেলেকে ধরে নিয়ে পুলিশ নির্যাতন করলো। বেধড়ক পেটালো। দুলাভাই যখন থানাতে গেল তখন আরেক রুম থেকে শুনলো এই যে সোহেল তাজের ভাগিনাকে পেয়েছি একদম বানাই দিতেছি। আমার ভাগ্নে সৌরভকে গুম করে নিয়ে আয়নাঘরে রাখা হয়েছিল। ব্যক্তিগত হিংসার কারণে এই ঘটনাটা ঘটে। কিন্তু সেটার মধ্যদিয়েও বের হয়েছে রাষ্ট্রের মেশিনারিকে ব্যবহার করছেন ব্যক্তিগত বিষয়ে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবস্থান, রাজনৈতিক দলের চাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। মানুষের ১৫/১৬ বছরের কষ্টের বিস্ফোরণ হয়েছে। মানুষ চায় দুর্নীতিমুক্ত একটা সমাজ যেখানে অনিয়ম থাকবে না। মেধাই হবে সবকিছু্র মাপকাঠি। বৈষম্যহীন সমাজ। এটার জন্য সিস্টেমিক চেইঞ্জ লাগবে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রিফর্ম করে মজবুত করতে হবে। শক্ত পিলার করতে হবে। তবে এটা রাতারাতি করা সম্ভব নয়। জনগণ এই সরকারকে ম্যান্ডেট দিয়েছে গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে এটা ঠিক করার জন্য। এখন সেটা ঠিক করতে যতটুকু সময় দরকার ততটুকু সময় নেয়া দরকার। তাড়াহুড়া করার দরকার নাই। অনেকে বলবে এটা ডেমোক্রেটিকিলি ইলেকট্রেড না। আমি মনে করি এটাই ইলেকট্রেড। তিনি বলেন, মানুষের অধিকার আছে নতুন কিছু চাওয়ার, কিছু পাওয়ার। আমি রাজনৈতিক দলকে বলবো একটু ধৈর্য ধরার জন্য। সিস্টেমেটিকভাবে সবকিছু পরিবর্তন হোক। নির্বাচন কমিশনকে কেউ ইনফ্লুয়েন্স করতে পারবে না। টাকা দিয়েও পারবে না। বলপ্রয়োগ করেও পারবে না। এমন একটা পুলিশ প্রশাসন হোক কেউ ইনফ্লুয়েন্স করতে পারবে না। তারা শুধু আইন প্রয়োগ করে। প্রশাসন দলীয়করণমুক্ত হোক। যেখানে প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতি করতে পারবে না। তিনি বলেন, এই যে করাপটেড, নোংরা, নষ্ট, পচা রাজনৈতিক সংস্কৃতি এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বিএনপি থেকে সিনিয়র নেতারা বার বার আহ্বান করছেন অনিয়ম থেকে দূরে থাকার জন্য। আমি তাদেরকে বলবো আপনারা আরও শক্ত হয়ে বলেন। কারণ এটা আপনাদের পার্টির ইমেজটাকে নষ্ট করে দিবে। আপনারা প্রমাণ করেন আপনারা গণতন্ত্রের পক্ষে। মুদ্রার এপিট-ওপিট নন। রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এই নোংরা, পচা রাজনীতির মধ্যে আসবো না। কিন্তু এই কালচারটাকে যারা পরিবর্তন করতে চায় তাদেরকে পূর্ণ সমর্থন দিবো। কারণ ছাত্ররা যেসব দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করেছে তার সঙ্গে হবহু মিলে যায় আমার চিন্তা-চেতনা। এটাই আমি চেয়েছিলাম। এজন্য আমি রাজনীতি করতে এসেছিলাম। আমি মনে করি এটাই রাজনীতির মূলমন্ত্র।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আয়নাঘরে’ সারাক্ষণ শুধু বন্দিদের ভয়ার্ত চিৎকার শোনা যেত: মাইকেল চাকমা
মাইকেল চাকমাকে গুম করার পর যখন খোঁজাখুজি করেও তার কোনো হদিশ পাওয়া যাচ্ছিল না তখন তার পরিবারের লোকজন ধরেই নিয়েছিল তিনি আর বেঁচে নেই। তাই তারা দুই বছর আগে মাইকেলের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানও সম্পন্ন করেছিলেন।
২০১৯ সালের এপ্রিলে একদল লোক মাইকেল চাকমাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর টানা পাঁচ বছর তার কোনো খবরই পায়নি তার পরিবার। তারা ভেবে নিয়েছিল মাইকেল চাকমা আর বেঁচে নেই। যাইহোক অবশেষে হাসিনার পতনের পর তিনি আবার মুক্ত আলো-বাতাসে ফিরে এসেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের পক্ষে কথা বলে আসছেন মাইকেল চাকমা। সেখানের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীই বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাসী। যারা বাংলাদেশের মোটা ১৭ কোটি জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে মাইকেল পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক উপস্থিতি লাঘবের জন্য কাজ করতেন। অপহরণের একদিন পর তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় এবং তৎকালীন সরকারের অনুগত ডিজিএফআইয়ের কয়েকজন সদস্য তাকে তাদের অধিকৃত একটি গোপন কারাগারে বন্দি করেছিলেন। এ বিষয়ে মাইকেল বলেছেন, তাকে যেখানে রাখা হয় সেটি ছিল জানালাবিহীন একটি ছোট কক্ষ। ফলত সেখানে কোনো ধরনের প্রাকৃতিক আলো-বাতাস প্রবেশের সুযোগ ছিল না। কক্ষটিতে ছিল ঘড়ঘড় শব্দ করা দুটি বৈদ্যুতিক পাখা। সেখানে প্রবেশের পর মাইকেল চাকমা দিন রাতের হিসাব ভুলে গিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, আমার সেখানে কাউকে দেখার সুযোগ হয়নি। কিন্তু আমি সারাক্ষণ শুধু বন্দিদের আর্তনাদের চিৎকার শুনতে পেতাম। সেই চিৎকার ছিল খুবই ভয়ঙ্কর। সেখানে তার মতো অনেককে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেছেন মাইকেল। তিনি বলেছেন, তারা আমাকে একটি কক্ষে নিয়ে চেয়ারের সাথে বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন। সেসময় তারা আমাকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করার হুমকি দিতেন। তারা আমাকে প্রশ্ন করেছিল আমি কেনো হাসিনার সমালোচনা করেছি?
মাইকেল চাকমার বোন বলেছেন, আমার ভাই নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আমরা তার খোঁজে এক থানা থেকে অন্য থানায় ঘুরেছি। পুলিশের কাছে গিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের বলেছে তাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো খবর নেই। নিখোঁজ হওয়ার পর যতই দিন গড়িয়েছে আমরা ততই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। ভাইয়ের চিন্তায় আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। মাইকেলের বোন আরও বলেছেন, আমার পুরো পরিবারের মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। আমার ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি আমাদের জন্য ছিল খুবই ভয়ঙ্কর ব্যাপার। পুত্রের শোকে ২০২০ সালে আমাদের বাবা মারা যান। এর ১৮ মাস পর আমরা মাইকেলের আশা একদম ছেড়ে দেই এবং বৌদ্ধ ধর্মমতে আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করে শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন করি। আমরা তখন তার জন্য অনেক কেঁদেছিলাম।
বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ২০০৯ সালের পর থেকে কমপক্ষে ৬০০ মানুষকে জোরপূর্বক গুম করেছে শেখ হাসিনার সরকার। এ বিষয় নিয়ে মুখ খোলাও তখন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কেননা শেখ হাসিনা ভিন্নমত দমনে বেশ কঠোর ছিল এবং তার বিরুদ্ধে সমালোচনাকে তিনি প্রায়ই স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন। যদিওবা কেউ কেউ এ বিষয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন কিন্তু তা কখনই স্বীকার করেননি তিনি। গুম হওয়া বেশ কয়েকজনকে অবশ্য বিভিন্ন সময়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সে সংখ্যা খুবই কম। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে গুম হওয়ার পর মুক্তি পাওয়া মানুষের সংখ্যা ১০০ জনের কাছাকাছি ছিল।
২০২২ সালে বাংলাদেশি বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা দ্বারা পরিচালিত গোপন কারাগারের একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে। সে খবর দেখে মাইকেল চাকমার বোন পুনরায় আশাবাদী হন যে তার ভাই হয়ত এখনও বেঁচে আছেন। ওই বছরের মে মাসে নেত্র নিউজ নামের একটি গণমাধ্যমে প্রথম ওই বন্দিশালার কথা তুলে ধরা হয়। গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে প্রকাশিত খবরে তারা দাবি করেন, ‘আয়নাঘর’ নামক ওই বন্দিশালা ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে কোথাও অবস্থিত। সেসময় ওই প্রতিবেদনে বন্দিশালার ভিতরের যে বর্ণনা দেয়া হয়েছিল মাইকেল চাকমার বর্ণনার সাথে তার মিল রয়েছে। যেমন তখন বলা হয়েছিল বন্দিশালার কক্ষগুলোতে প্রাকৃতিক আলো-বাতাস প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশে নয়া রাজনীতি বিনির্মাণে তারুণ্যের কম্পন by আব্দুল কাইয়ুম
ওমান অবজারভারের খবরে বলা হয়, আফ্রিকা এবং এশিয়ার মধ্যে সর্বশেষ বাংলাদেশের তরুণরাই পুরো রাষ্ট্রকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এশিয়ার অন্যান্য দেশ, যেমন পাকিস্তানেও গত ফেব্রুয়ারিতে তরুণদের আন্দোলনে সেনা সমর্থিত রাষ্ট্রকল্পের ভিত কেঁপে ওঠে। সেসময় দেশটির সেনাবহিনী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে বন্দি রেখে নির্বাচন করে এবং তারা তাদের মদদপুষ্ট সরকারকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে। যার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের তরুণরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। যদিও ইমরান খান সমর্থিত প্রার্থীরাই বেশি সংখ্যক আসনে জয় পেয়েছিলেন, কিন্তু তারা ক্ষমতায় যেতে পারেনি।
পরের মাসে আফ্রিকার দেশ সেনেগালেও তরুণদের বিক্ষোভ দেখা যায়। তরুণ ভোটাররা অভিযোগ করেন নির্বাচনের নামে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার অপহরণ করা হয়েছে। দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে এর আগে একজন সামান্য ট্যাক্স ইন্সপেক্টর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে কারাগার থেকে বের হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তারুণ্যের শক্তিই এমন নজির স্থাপন করেছে। পরে জুন মাসে তরুণদের এই কম্পন শুরু হয় কেনিয়ায়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা গর্বের সাথে নিজেদেরকে ‘জেন জেড’ হিসেবে পরিচয় দেন। প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া নতুন করের বোঝার বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভে নামেন তরুণরা। বাংলাদেশের মতো সেখানেও আন্দোলন দমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রাণঘাতী হামলা চালায়। এতে কয়েক ডজন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হন। কিন্তু আন্দোলন দমাতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত রুটো তার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে বাধ্য হন। এখন আফ্রিকার আরেক দেশে নাইজেরিয়া ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় নুয়ে পড়ায় তরুণদের বিক্ষোভে প্রকম্পিত হচ্ছে।
এশিয়া ও আফ্রিকায় নতুন প্রজন্মের যে উত্থান শুরু হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, তরুণরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তুলছে এবং বিরল নজির স্থাপন করছে। এটিই প্রথম প্রজন্ম যারা ইন্টারনেট ছাড়া নিজেদের জীবন কল্পনাও করতে পারে না এবং তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে শুধু লাইভ-স্ট্রিম করছে না তারা এখন রাস্তায় প্রতিবাদ করার জন্য সংগঠিত হচ্ছে। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সহ উদ্ভাবনী কৌশল তৈরি করছে এবং যখন তাদের স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হয় তখন ডিজিটাল বিক্ষোভের মাধ্যমে নতুন পথ তৈরি করছে তরুণরা। সরকারগুলো প্রযুক্তি-নিপীড়নের কৌশল ব্যবহার করেও তরুণদের রুখতে ব্যর্থ হচ্ছে। তরুণদের এই জাগরণ দেশে ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক দল এবং চিন্তাকে চ্যলেঞ্জ করছে। তারা পুরনো সব দল এবং মতবাদ ভেঙ্গে নতুন করে রাজনৈতিক প্রস্তাবনা পেশ করছে। পপুলিজম এবং কর্তৃত্ববাদকে উৎখাতে সক্ষম হচ্ছে এই তরুণরা। তাদের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন যত বাড়ছে তারা ততই শক্তিশীলী হয়ে উঠছে। এর মাধ্যমে এই তরুণদের নির্ভীক এবং আপসহীন ব্যক্তিত্ব ছড়িয়ে পড়ছে গোটা দুনিয়ায়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সময়ের সঙ্গে বাড়ছে গাজায় নিহতের সংখ্যা
ফিলিস্তিনে শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘের এজেন্সি ইউএনআরডব্লিউএ বলছে, বুধবার পশ্চিমতীরে অভিযান শুরু করে ইসরাইল। তারপর থেকে এ পর্যন্ত সেখানে কমপক্ষে ২০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে তারা। এর মধ্যে আছেন একজন বিকলাঙ্গ ও সাতটি শিশু। আজ রোববার থেকে গাজায় পোলিও টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে ইসরাইল যে মাত্রায় হামলা চালাচ্ছে তাতে স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন গ্রুপ। দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্রাজুয়েট স্টাডিজের মিডিয়া স্টাডিজ প্রোগ্রাম বিষয়ক প্রফেসর মোহামেদ এলমাসরি বলেন, গত বছর ৭ই অক্টোবরের আগে থেকেই দখলীকৃত পশ্চিম তীরে অব্যাহতভাবে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তাদের দখলদারিত্ব সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তারা এক সময় ফিলিস্তিনি জনগণ থেকে মুক্তি পেতে চায়। এ জন্য পশ্চিমতীর এবং গাজায় তারা জাতি নিধনে নেমেছে। ইসরাইলের উদ্দেশ্যের দিক থেকে এখনই পশ্চিম তীরে তাদের যুদ্ধে যাওয়ার উপযুক্ত সময়। কারণ, গাজায় কী ঘটছে তা নিয়ে মানুষ কিছুটা বিভ্রান্ত। গাজা যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোনো পদক্ষেপ না থাকায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে ইসরাইল। যদি তারা গাজায় এই হত্যাকাণ্ড চালিয়ে রক্ষা পায়, তাহলে কেন তারা পশ্চিমতীরে অভিযান চালাবে না? প্রশ্ন রাখেন এলমাসরি। ওদিকে ইসরাইলের আর্মি রেডিও’র রিপোর্টে বলা হয়েছে, গাস ইটজিওন নামের ইসরাইলি বসতির কাছে সন্দেহজনক ঘোরাফেরার কারণে ৬ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। শুক্রবার দিবাগত রাতে গাস ইটজিওনে দুটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ঘটে।
এর কাছাকাছি ইসরাইলি বাহিনী কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে দেখতে পায়। তাদের মধ্যে দু’জনকে হত্যা করেছে তারা।
১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি জাতি নিধন চালানো হয়। একে বলা হয় নাকবা। এর মধ্যদিয়ে ইসরাইলের সৃষ্টি হয়। তারপর সৃষ্টি করা হয় নুসেইরাত শরণার্থী শিবির। গাজায় ইসরাইলের হামলার আগে গাজা ছিল ঘনবসতিপূর্ণ। নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে বসবাস করতেন ৮৫,৪০৯ জন ফিলিস্তিনি। এই শিবির দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের অসংখ্য হামলার টার্গেটে ছিল।
পশ্চিমতীরে গণহারে অভিযান চালানোর নিন্দা জানিয়েছেন প্যালেস্টাইন ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের সেক্রেটারি জেনারেল মুস্তাফা বারগোতি। তিনি বলেছেন, এর মধ্যদিয়ে আরও ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করে তাদের ভূমির নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে ইসরাইল। এটা হলো আরও ভূমি দখল করে তার নিয়ন্ত্রণ নেয়া। মুস্তাফা আরও বলেন, ইসরাইলের লক্ষ্য হলো যেকোনো রকম প্রতিরোধকে ভেঙে দেয়া। তাদের এই রাজনৈতিক পরিকল্পনা পশ্চিমতীরে বসতি সম্প্রসারণ ও তা দখল করে নেয়া ছাড়া আর কিছু নয়। কার্যত ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে ইসরাইল। এটা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দিনভর দুর্ভোগ, সন্ধ্যায় ধর্মঘট প্রত্যাহার ডাক্তারদের
গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের সঙ্গে দীর্ঘ সময় রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে এমনটাই ঘোষণা দেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা। এর আগে বিভিন্ন হাসপাতালের অচলাবস্থা ও হামলার খবর পেয়ে রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেলে আসেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম। সেখানে তিনি হাসপাতালের পরিচালক, প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ আন্দোলনকারীদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহসহ আরও অনেকে। বৈঠকের একপর্যায়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যান সারজিস আলম।
কিছুক্ষণ পর হাসনাতও সেখান থেকে বেরিয়ে বাইরে চলে যান। এরপরও চলে বৈঠক। চার ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে উপদেষ্টা হাসপাতালের যেখানে হামলা হয়েছে সেসব স্থান ঘুরে দেখেন। সন্ধ্যার পর তিনি বলেন, চিকিৎসকরা যেই দাবিগুলো জানিয়েছেন, সেগুলো আসলেই যুক্তিপূর্ণ। তারা আমাদের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন। প্রথমত যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা সেই চেষ্টা ইতিমধ্যেই শুরু করেছি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। দ্বিতীয়ত চিকিৎসকরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন- হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ, সেনাবাহিনী বা বিজিবি সদস্য মোতায়েন করতে হবে। আমরা সেটাও মেনে নিয়েছি। এখানে কাল রাত থেকেই আমাদের সেনাবাহিনী-পুলিশ কাজ করছে। বিজিবি রয়েছে। তারা আর একটা দাবি করেছে- স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্য সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্য পুলিশের ব্যবস্থা করা। যে প্রসঙ্গে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ এটা একটা আইনের বিষয়। আমি এ বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পরই জানাতে পারবো। তাই আমি তাদের বলেছি, আপনাদের সব দাবি মেনে নেয়া হবে তবে আমাদের কিছুটা সময় প্রয়োজন। চিকিৎসাসেবা চালুর বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, আপাতত তারা তাদের জরুরি সেবাসহ হাসপাতালের সাধারণ সেবা দিয়ে যাবে। চিকিৎসকরা তাদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন।
এ সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, চিকিৎসকেরা কর্মবিরতিতে থাকলেও কিন্তু আমাদের হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা চলমান রয়েছে। অন্যান্য যেই বিষয়-জরুরি বিভাগ, ক্যাজুয়ালিটি, নিউরো সার্জারিসহ অন্যান্য চিকিৎসাসেবাও শুরু হচ্ছে। একইসঙ্গে কর্মরত ডাক্তারদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার সদস্যরা সার্বক্ষণিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও হাসপাতাল পরিচালকদের ব্রিফিংয়ের মধ্যেই সেখানে একদল চিকিৎসক এসে মারমুখী আচরণ করেন। সেখানে হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা বলেন, আমরা আমাদের কোনো কর্মসূচি স্থগিত করিনি। আমরা স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে আমাদের নিজেদের মধ্যে মিটিং করছিলাম। এর মাঝেই কীভাবে আমাদেরকে না নিয়ে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেয়া হয়। কিছু সময় নিয়ে তারা আবারো ফিরে আসেন। এ সময় আন্দোলনরত চিকিৎসকদের পক্ষে ডা. মো. আহাদ ও ডা. সুমন রানা বলেন, হামলাকারীদেরকে আইনের আওয়ায় আনা এবং জরুরি বিভাগে একজন চিকিৎসকের সঙ্গে একজন পুলিশ, সেনাবাহিনী বা বিজিবি সদস্য দেয়া হলেই আমরা শুধুমাত্র আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য ঢাকাসহ সকল বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা চালু করবো। এটা যদি এখনই করে তাহলে আমরা এখনই সেবা দিবো। আর তারা যদি এই নিরাপত্তা দিতে বিলম্ব করে তাহলে চিকিৎসাসেবাও বিলম্বিত হবে। আর আগামী ৭ দিনের মধ্যে আমদের নিরাপত্তার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন পাস ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বিশেষ স্বাস্থ্য পুলিশের ব্যবস্থা করতে হবে। আর সেটা না হওয়া পর্যন্ত আগামী ৭ দিন আউটডোর সেবা বন্ধ থাকবে। তবে আইসিইউ এইচডিউ সেবা চলমান আছে বলেও জানান তারা। তারা বলেন, একই দিনে এই হাসপাতালে তিনটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। একজন ভর্তি রোগীকে হাসপাতালের ভেতর কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পেটাতে পেটাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পৃথিবীর আর কোথাও এমন ঘটনার নজির নেই। আমরা শুধু চিকিৎসক নয়, হাসপাতালের রোগীদেরও নিরাপত্তা চাই। আমাদের দাবি আদায় না হলে আমরা আবারো আমাদের কর্মসূচি ঘোষণা করবো।
এদিকে ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় একাত্মতা ঘোষণা করে গতকাল কর্মবিরতি পালন করেন মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। এ সময় কর্মবিরতি যাওয়ায় তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে রোগীরা পড়েন চরম বিড়ম্বনায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে যান রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেলে।
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে জানান, সারা দেশের মতো রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালেও কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছে চিকিৎসকরা। রোববার ঢাকা থেকে এ কর্মসূচির ডাক দিলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে হাসপাতালের দুই শতাধিক ইন্টার্ন চিকিৎসক। এতে করে জরুরি বিভাগে আসা কিছু রোগী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিতে চলে যায়। চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে উত্তরের দুই কোটি মানুষের ভরসাস্থল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। দুপুরের পর থেকে নতুন করে কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেনি। এতে করে রোগী ও তাদের স্বজনরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। মেডিসিন বিভাগে রোগীর স্বজন কুড়িগ্রাম চিলমারীর রবিউল ইসলাম বলেন, দুপুর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসকরা বিক্ষোভ করছে। এতে করে রোগী ও আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যেভাবে ইসলামী ব্যাংক দখল করেছিল এস আলম গ্রুপ
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের ব্যাংকিং খাত দীর্ঘ ১৫ বছর ধরেই নানা অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালের ৫ই জানুয়ারি। ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল মান্নানের সঙ্গে দেখা করতে আসেন একটি গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক কর্মকর্তা। জানান, তাকে তাদের সঙ্গে যেতে হবে।
একইভাবে নিজ নিজ বাসা থেকে তুলে নেয়া হয় ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকেও। এরপর তাদের জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়, আর ব্যাংকটি দখল করে নেয় চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ। শেখ হাসিনার সরকারের উপর মহলের সিদ্ধান্তেই এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।
নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর এস আলম গ্রুপ ধীরে ধীরে ব্যাংকটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদত্যাগে বাধ্য করে ও তাদের নিজস্ব লোক হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়। এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলম পটিয়া অঞ্চলের হওয়ার কারণে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে ওই এলাকার মানুষ বিশেষ সুবিধা পান। এরপর ব্যাংকটি থেকে নামে- বেনামে ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকা লুট করে এস আলম গ্রুপ। ঋণ হিসেবে নেয়া এই অর্থ আর ফেরত না আসায় দীর্ঘ সময় ধরে তারল্য সংকটে ভুগছে দেশের অন্যতম বড় এই ব্যাংক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত সপ্তাহে আগের পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ইসলামী ব্যাংক এস আলমমুক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন এস আলমের ছেলে আহসানুল আলম।
সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ৫ই জানুয়ারি আরমাডা স্পিনিং মিলের প্রতিনিধি ও সাবেক আমলা আরাস্তু খানকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন ব্যাংকের এমডি মো. আবদুল হামিদ মিয়াকে নতুন এমডি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক একই দিনে এই নিয়োগ অনুমোদন করে। ইসলামী ব্যাংকের সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে, বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে। আরমাডা স্পিনিং এস আলমেরই স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান।
সূত্রমতে, ২০১৭ সালের ৫ই জানুয়ারি ভোরে পরীবাগের বাসা থেকে ব্যাংকটির তৎকালীন এমডি মোহাম্মদ আবদুল মান্নানকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। একই দিন ভোরে নিজ নিজ বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ার ও ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হককে। তাদেরও একই কার্যালয়ে আটকে রেখে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়। সেদিনই ব্যাংকটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সরকারের সাবেক সচিব আরাস্তু খান।
ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি আব্দুল মান্নান বলেন, ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিতে আমাকে বিশেষ মেহমানখানায় নিয়ে গিয়েছিল গোয়েন্দারা। আমাকে যে কাগজে সই নেয়া হয়, তা ইসলামী ব্যাংকের একটি প্যাড। সেই ধরনের প্যাড ১৯৮৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক ব্যবহার করেনি। সেই ধরনের প্যাডে আমার পদত্যাগপত্র তারা নিয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা দখলে নিতে ২০১৩ সাল থেকে নানা গোষ্ঠী তৎপরতা চালায়। ২০১৬ সালে তা দৃশ্যমান হতে শুরু করলে ২০১৭ সালের ৫ই জানুয়ারি ব্যাংকটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় হঠাৎ পরিবর্তন ঘটে। আব্দুল মান্নান বলেন, ওই দিন অনেক রাত পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের স্যারেরা অফিস করেছেন। তারা ওই দিনই ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করতে কাজ করেছেন। ব্যাংক কোম্পানি আইন নতুন করে তৈরি করার পরামর্শ দিয়ে আব্দুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে যে ভূত আছে তা সরিষার মধ্যে ভূত। এখন প্রয়োজন বাংলাদেশ ব্যাংককে মেরামত করা। তাদের স্বাধীন করতে হবে। এখন অরাজনৈতিক সরকার থাকায় ব্যাংক খাত সংস্কারের সুবর্ণ সুযোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সম্পদ এখন চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও ঢাকার মতিঝিলে। সব সম্পদ এখানেই পুঞ্জীভূত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।
এস আলম গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আগে ইসলামী ব্যাংকের ৫০ শতাংশের বেশি মালিকানা বিদেশিদের হাতে ছিল। এখন যা কমে ১৩ শতাংশে নেমেছে। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ যখন ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয়, তখন ব্যাংকটিতে তাদের তিন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ ছিল ৩ হাজার ৬ কোটি টাকা। প্রাপ্ত নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এস আলম নাম যুক্ত আছে ও নাম যুক্ত নেই- এমন ঋণের পরিমাণ এখন প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। ইসলামী ব্যাংকের ‘বৈষম্যবিরোধী ও ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষাকারী ব্যাংকার সমাজের’ সমন্বয়ক আবু ওয়ালিদ চৌধুরী সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেন, ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে ৬৫ হাজার কোটি টাকা বের করে নিয়েছে এস আলম গ্রুপ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, ফজলে কবির ও আব্দুর রউফ তালুকদার গভর্নরের দায়িত্ব পাওয়ার পর ব্যাংক খাতের অবস্থা আরও ভঙ্গুর হয়েছে। ২০২২ সালের জুলাইয়ে গভর্নরের দায়িত্ব পান সাবেক সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার। সব ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কয়েকটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের চলতি হিসাবে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি রেখে লেনদেনের সুযোগ করে দেন তিনি। অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য জেনেও তিনি ব্যবস্থা নেননি। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যে নতুন সরকারে গভর্নরের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. আহসান এইচ মনসুর।
এস আলম মডেল: ৭টি ব্যাংক দখল নিয়ে ব্যাংকার মামুন রশীদ বলেন, এখন ব্যাংক খাতে এস আলম মডেল দাঁড়িয়েছে। তারা ব্যাংকটি দখল করে নিয়েছে গান পয়েন্টে, সব পরিচালকদের পদত্যাগে বাধ্য করে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে। এক রাতের মধ্যেই সুপারসনিক গতিতে নতুন এমডি নিয়োগ অনুমোদন দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব কিছুই হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাইরে থেকে উপরের নির্দেশে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আনুকূল্য ছিল ব্যাংকটি দখলে। এস আলম গ্রুপ ব্যাংকগুলো থেকে যে টাকা নিয়েছে তা পাচারের দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন ডেপুটি গভর্নর ও পরে উপদেষ্টা হওয়া এস কে সুর চৌধুরীর (সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী)। তার (এস কে সুর) ব্যাপারে তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেলও কথা বলেছিলেন, তারপরেও কিছু হয়নি। তার দায়িত্ব ছিল এস আলম গ্রুপের ব্যাংকগুলো থেকে নেয়া টাকা পাচার করে দেয়া।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১২ ঘণ্টা পর কাজে ফিরলেন চিকিৎসকেরা, দিনভর দুর্ভোগ
চিকিৎসক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগে চিকিৎসকদের মারধর করা হয়। মৃত শিক্ষার্থীর নাম আহসানুল ইসলাম (২৫)। আহসানুল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী। মারধরের ঘটনায় শনিবার বিকেল থেকে গতকাল পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওই শিক্ষার্থী গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে করে তাঁর এক বন্ধুকে বিমানবন্দরে নামিয়ে দিয়ে মিরপুরে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন। আশপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে শনিবার তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিন সকালে তিনি মারা যান।
এর কয়েক ঘণ্টা পর রাতে একই হাসপাতালে সন্ত্রাসীরা ঢুকে একজন রোগীকে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা চিকিৎসকদেরও মারধর করে।
এর আগে জুলাইয়ের মাঝামাঝি ছাত্র আন্দোলনের সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকা আহত শিক্ষার্থীরাও হামলার শিকার হয়েছিলেন। তখনই রোগী ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি বড় হয়ে দেখা দেয়। এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
গতকাল ঢাকা মেডিকেলের অন্তত ১০ জন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা বলেন, গত শনিবার দুই দফা হামলার পরও সকাল আটটা পর্যন্ত তাঁরা কাজ করেছেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের নিরাপত্তার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই তাঁরা কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। চিকিৎসকেরা বলেছেন, সন্ত্রাসীরা হাসপাতালে ঢুকে যেভাবে চাপাতি দিয়ে রোগী ও চিকিৎসকদের ওপর হামলা করেছে, তাতে কাজের কোনো পরিবেশ আর নেই। তাঁরা জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।
গতকাল বেলা দুইটার দিকে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের সামনে জড়ো হন আবাসিক ও ইন্টার্ন চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ড বয়রা। সেখানে বিক্ষোভ–মানববন্ধন শেষে সারা দেশে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বন্ধ বা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা দেন চিকিৎসকেরা।
দাবি পূরণের আশ্বাস
এরপর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করতে হাসপাতালে উপস্থিত হন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম। তখন চিকিৎসকদের পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সন্ধ্যার দিকে দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা।
বৈঠক শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জরুরি সেবাসহ কিছু সেবা এখনই চালু করব।’ আন্দোলনকারী চিকিৎসকেরা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা কাজে ফিরেছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়ায় সোমবার রাত আটটা পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।
গতকাল কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের আবাসিক সার্জন আবদুল আহাদ। গতকাল রাতে তিনি কাজে ফেরার কথা সাংবাদিকদের জানান।
এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। চিকিৎসকদের কর্মস্থলে ও হাসপাতালে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে চিকিৎসক ও রোগীদের নিরাপত্তায় ঢাকা মেডিকেলে সেনা, বিজিবি ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। চিকিৎসক ও রোগীদের ওপর হামলার ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি মামলা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলের অফিস সহায়ক আমির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
থানায় মামলা
মামলায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিউবিটি) শিক্ষক শাহরিয়ার অর্ণবসহ চারজনের নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অপর তিন আসামি হলেন পলজয়, সিহাব তুর্জ ও সাইমি নাজ শয়ন। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, শনিবার হাসপাতালের চিকিৎসক কানিজ ফাতেমার অধীনে চিকিৎসারত একজন রোগী মারা যান। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। এরপর বিকেলে ২০২১ ওয়ার্ডের জরুরি অপারেশন থিয়েটারের সামনে চিকিৎসক আল মাশরাফিকে ৩০–৪০ জন মারধর করতে থাকে। এ সময় চিকিৎসক ইমরান হোসেন এগিয়ে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ইমরানকে মারতে মারতে তারা পরিচালকের কক্ষে নিয়ে যায়।
চিকিৎসকেরা বলেন, শনিবার যখন চিকিৎসকদের ওপর হামলা করা হয়, তখন চাপাতিসহ একজনকে আটক করেন তাঁরা। পরে ওই ব্যক্তিকে সেনাসদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
দিনভর দুর্ভোগ
অন্তঃসত্ত্বা সাইমন আক্তার নামের এক নারীকে গতকাল দুপুরে গাজীপুর থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। হাসপাতালে এসেই তাঁরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে যান তাঁরা।
শুধু সাইমন আক্তার নন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা অন্তত পাঁচজন রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে এখানে এসেছেন। চিকিৎসা বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তাঁরা।
হৃদ্যন্ত্র আক্রান্ত হয়ে নোয়াখালী থেকে গত শনিবার রাতে হাসপাতালে আসেন ৭০ বছর বয়সী মোজাম্মেল হক। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে মেঝেতে শুয়ে ছিলেন তিনি। গতকাল ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় মোজাম্মেলের বোন শাহানুর বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, দুপুরে অস্ত্রোপচারের কথা ছিল। চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে সেটা হয়নি।
হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সুবিনয় কৃষ্ণ পাল সাংবাদিকদের বলেন, চিকিৎসকের কাজ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া। চিকিৎসা শেষ করে কোনো মুমূর্ষু রোগী হাসপাতাল থেকে যখন সুস্থ হয়ে বাড়ি যান, তখন চিকিৎসকেরাও আনন্দ পান। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের মারধর করা হয়েছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় দুর্ভোগে পড়েন রোগীরা।
চিকিৎসকদের চার দফা
চার দফা দাবিতে কর্মবিরতি ঘোষণা করেছিলেন চিকিৎসকেরা। দাবিগুলো হলো হাসপাতালের মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে যেসব ব্যক্তি বা কুচক্রী মহল এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করা। দ্রুত বিচার আইনের মাধ্যমে তাদের শাস্তির আওতায় আনা। নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে অবিলম্বে দেশের সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য পুলিশের (আর্মড ফোর্স) মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে হাসপাতালে রোগীর ভিজিটর (ভিজিটর কার্ডধারী) ছাড়া বহিরাগত কাউকে কোনোভাবেই ভেতরে প্রবেশ করতে না দেওয়া।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হাসিনার সামনে দুটো অপশন, ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় কিংবা দেশে ফেরা by মতিউর রহমান চৌধুরী
ভারতের উদ্বেগ সেভেন সিস্টার নিয়ে। হাসিনার জমানায় স্বস্তি এসেছে। প্রতি বিপ্লবের পথে গিয়ে যেটুকু অর্জন তা হারিয়ে যেতে পারে। এই আশঙ্কাও তাদের মধ্যে রয়েছে। তাদের ভয়, হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ দেখাতে গিয়ে চীনের আগমন ঘটে কিনা! সে নিয়েও তাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। তাছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনেকটা নীরবেই তাদের অবস্থান সুসংহত করেছে। ঢাকার রাষ্ট্রক্ষমতায় এখন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যার সঙ্গে রয়েছে পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানের সরাসরি যোগাযোগ। তিনি চাইলে অন্তত একশ’টি দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে যখন তখন কথা বলতে পারেন। এ কারণে ভারত সতর্ক পা ফেলছে। জুলাই বিপ্লবের পর ইউনূসের সরকারকে স্বীকৃতি দিতে ভারত সময় নষ্ট করেনি। হাসিনার পতনে ভারত বিরক্ত। তাই বলে তারা দরজা বন্ধ করে রাখছে না। যে যাই বলুন, বিপ্লবের পরে প্রতি বিপ্লবের ছায়া। তারা যে রসদ যোগাচ্ছে না তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কূটনৈতিক পণ্ডিতরা নরেন্দ্র মোদির সরকারকে আবেগতাড়িত না হয়ে বাস্তব সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দিয়েছেন। পরিবর্তিত এই অবস্থায় হাসিনার দেশে ফেরা ছাড়া আর কী বিকল্প রয়েছে? গণহত্যার অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত হতে চলেছেন। পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশ তাকে গ্রহণ করতে চাইবে না। সময় যত গড়াচ্ছে বাংলাদেশ নিয়ে ভারতীয়দের মনোভাবেও পরিবর্তন আসছে। দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশের সঙ্গেই ভারতের সুসম্পর্ক নেই। যেটুকু ছিল বাংলাদেশের সঙ্গেই। ভুল নীতি কৌশল গ্রহণ করে সেটুকু হারাতে চায় না ভারত। কোটা বিরোধী আন্দোলন হাসিনার ভবিষ্যৎ যেমন ফিকে করে দিয়েছে তেমনি বাংলাদেশে ভারতের অবস্থান অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ করে দেয়। সামপ্রতিক বন্যা নিয়ে বাংলাদেশিদের প্রতিক্রিয়া দেখে ভারতের নেতৃত্ব বেশ চিন্তিত বলেই মনে হচ্ছে। উত্তরে চীন, পশ্চিমে পাকিস্তান। পূর্বে আরেকটি নিরাপত্তা ফ্রন্ট ভারত খুলবে কি-না তা নিয়ে হিসাবনিকাশ চলছে। কূটনৈতিক পণ্ডিতরা বলছেন, এটা যদি করা হয় তা হবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গভীর নজর রয়েছে সর্বশেষ ঘটনাবলির উপর।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হার্টের রোগীদের জন্য সুখবর
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সমাধিসৌধের পবিত্রতা হেয় করেছেন ট্রাম্প: কমালা
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পররাষ্ট্র সচিব মোমেনের বিদায়
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জ্বালানি খাতের লুণ্ঠন প্রতিরোধে ক্যাবের ১১ দাবি: ২০২২ সালেই বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট ৩৫ হাজার কোটি টাকা
জ্বালানি খাতের নিরাপত্তায় ক্যাবের ১১ দফা দাবিসমূহ হলো-
১. অন্যায় ও অযৌক্তিক ব্যয় রোধ করে ঘাটতি সমন্বয় ও পণ্য মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ এবং সংকট মোকাবিলা করার লক্ষ্যে ৩ বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানির মূল্যহার বৃদ্ধি করা হবে না- সরকারের নিকট থেকে এমন ঘোষণা চাই।
২. সেই লক্ষ্যে বিইআরসি’র আওতায় ক্যাব প্রস্তাবিত বাংলাদেশ জ্বালানি রূপান্তর নীতি ২০২৪-এর আলোকে জ্বালানি খাত সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়নের জন্য একটি ‘জ্বালানি খাত সংস্কার কমিশন’ চাই। সংস্কার প্রস্তাবে বিদ্যুৎ, প্রাথমিক জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরবরাহে লুণ্ঠনমূলক ব্যয় রোধ করে ঘাটতি সমন্বয় এবং ভোক্তার জ্বালানি অধিকার সংরক্ষণে জ্বালানি সুবিচার নিশ্চিত করার জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা চাই।
৩. বিইআরসি’র চেয়ারম্যান পরিবর্তন হয়েছে। সদস্যরা পদত্যাগ করেছেন। তাদের স্থলে অভিজ্ঞ, নিরপেক্ষ, দক্ষ, সৎ পেশাজীবীদের নিয়োগ সার্চ কমিটির মাধ্যমে চাই। অংশীজনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে সার্চ কমিটি গঠন চাই।
৪. জ্বালানি অধিকার সুরক্ষায় জ্বালানি খাতের আওতাধীন বিভিন্ন কোম্পানির পরিচালনা বোর্ড/সংস্থাসমূহে বিভিন্ন পদে পদস্থ ক্যাডার কর্মকর্তাদের অপসারণ চাই।
৫. একই সঙ্গে পেট্রোবাংলা, বিপিসি, পিডিবি, আরইবি, স্রেডা, এবং বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি খাতের বিভিন্ন কোম্পানির শীর্ষ পদসমূহের কর্মকর্তাদের পরিবর্তন চাই। বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সম্পদ উভয় বিভাগেও অনুরূপ পরিবর্তন চাই। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত পরিচালনায় মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্বের অবসান চাই।
৬. বিইআরসি’র দ্বারা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে অংশীজনদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ চাই।
৭. বিইআরসিকে সক্ষম ও কার্যকর করার জন্য মন্ত্রণালয়কে কেবলমাত্র আপস্ট্রিম তথা পলিসি রেগুলেটরের দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে- দেখতে চাই।
৮. বিইআরসি আইনের সংশোধনী ৩৪ ক বাতিল হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন ২০১০ বাতিল চাই। এবং প্রতিযোগিতাবিহীন বিনিয়োগ ও ক্রয়-বিক্রয় আইন দ্বারা নিষিদ্ধ দেখতে চাই।
৯. ২০১২ সালে বিইআরসি প্রস্তাবিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের (পেট্রোল, ডিজেল, ফার্নেসঅয়েল, কেরোসিন ইত্যাদি) মূল্যহার নির্ধারণ সংক্রান্ত তিনটি প্রবিধানমালা কার্যকর দেখতে চাই।
১০. কস্ট প্লাস নয় কস্ট বেসিসে লুণ্ঠনমুক্ত মুনাফাবিহীন সরকারি জ্বালানি সেবা চাই।
১১. বিদ্যুৎ, প্রাথমিক জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরবরাহের যেকোনো পর্যায়ের দুর্নীতি ও লুণ্ঠনে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ এবং ‘জ্বালানি অপরাধী’ হিসেবে তাদের বিচার চাই।
এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, জ্বালানি খাতের লুণ্ঠনমূলক ব্যয় পরিহার করতে না পারলে ভোক্তা তার জ্বালানি অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। বিগত সরকার জ্বালানি খাতে যে লুণ্ঠন করে গেছে, বর্তমানে যারা এখনো জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছে, তারাও সেই অলিগার গ্রুপেরই লোক। তাই জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সেই অলিগারদের দ্রুত সরিয়ে দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা অন্তত ৩ বছরের মধ্যে দেশে বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছি। জ্বালানি খাত থেকে লুণ্ঠনমূলক ব্যয় পরিহার করতে চাইলে সামিট-আদানির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে হবে। তিনি বলেন, বিগত সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বিইআরসি’র আইনকে শুধু খর্ব করেছে বললে ভুল হবে, বিইআরসি’র ক্ষমতাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তাই বিইআরসিকে তার প্রকৃত শক্তি ফিরিয়ে দিতে হবে।
ক্যাবের আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, একটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম শর্ত হলো ভোক্তাকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ জ্বালানি নিশ্চিত করা। কিন্তু এটা নিশ্চিত না হলে কি হয়-সেটা বিগত সরকারের শাসনামলে দেশের জ্বালানি খাতের অস্থিরতাই প্রমাণিত। তেল-গ্যাসসহ জ্বালানি খাতের ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের আমানতকে লুণ্ঠন করে মুনাফা করেছে। সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের বক্তব্য উল্লেখ করে এই আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘ভর্তুকি না দেয়ার বিষয়ে বিগত সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সব সময়ই সেই সকল দেশের উদাহরণ দিয়ে বিভ্রান্তি করেছে, যে দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের থেকে অনেক উন্নত। কিন্তু বাংলাদেশের মতো অনুন্নত অধিকাংশ দেশেই জ্বালানিসহ অনেক খাতেই ভর্তুকি দেয়া হয়। তাই বাংলাদেশেও শিক্ষা-জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ভর্তুকি দেয়া প্রয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হুমায়ূন কবির ভূঁইয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান প্রমুখ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুদকে অভিযোগ: সুনামগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যানের শত কোটি টাকার দুর্নীতি by ওয়েছ খছরু
জমিসহ ভবনের দাম প্রায় ২৫ কোটি টাকা। এই এলাকায় প্রতি শতক জমির দাম ১০ লাখ টাকা। সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়া, হাসননগরসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার নিজের ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে বাসা-বাড়ি ও জমি আছে। নিজ এলাকার গ্রামের বাড়ির নিকটে গত ৫ বছরে স্ত্রীর নামে ৫০ একর জায়গা ক্রয় করেন। ওই জায়গার দাম ১০ কোটি টাকা। অথচ তার স্ত্রী একজন গৃহবধূ।
তাহিরপুর উপজেলা সদরে বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী প্রয়াত হাজী জয়নাল আবেদীনের দোকান ২ কোটি টাকায় তিনি কিনে নেন। ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ২০ একর জায়গার উপর গড়ে তুলেছেন মোরগ ও ডিম উৎপাদনের খামার। ওই খামারের দাম ২০ কোটি টাকারও বেশি। সিলেট সদর উপজেলায় সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের পাশে একটি সিএনজি পেট্রোল পাম্প নির্মাণাধীন রয়েছে। রাজধানী ঢাকার সেগুনবাগিচায় একটি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট ও ঢাকায় দুটো প্লট আছে। ২০২২ সালে কালো টাকার জোরে প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় বালিজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। চেয়ারম্যান হওয়ার পরই তাহিরপুরের আনোয়ারপুর বাজারের নিকটস্থ নোয়াহাট এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের আড়াই একর জায়গা দখল করে নেন। এরপর দখলকৃত জায়গায় স্থাপন করেন পাথর ভাঙার ক্রাশার মিল। বর্তমানে এই ক্রাশার মিলকে কেন্দ্র করে ১০ কোটি টাকারও বেশি দামের পাথর স্টক করা হয়েছে। আজাদ হোসেন গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। বাংলাদেশ স্থলবন্দর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদকের প্রভাব খাটিয়ে প্রতিটি স্থলবন্দর থেকে একসময় নিয়মিত চাঁদা নিতেন। রাজধানী ঢাকার শান্তিনগরে স্থলবন্দর শ্রমিক লীগের অফিস নিয়েছেন আজাদ। অফিস তার নিয়ন্ত্রণে, তিনি নিয়মিত অফিসে বসেন এবং বেশির ভাগ সময় ইউনিয়নবাসীকে সেবা না দিয়ে ঢাকায় বসবাস করছেন। সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ২০১২ সালে রেলমন্ত্রী হওয়ার পর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিতে এই আজাদ হোসেন তিন লাখ টাকা করে ১০০ জনের কাছ থেকে নগদ টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি ফাঁস হয়ে গেলে ওই নিয়োগ বাতিল হয়ে যায়। রেলের কালো বিড়ালের তকমা নিয়ে মন্ত্রিত্ব হারান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। লোকজনের বহুচাপে কিছু মানুষের টাকা ফেরত দিলেও অধিকাংশ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেন আজাদ। ২০১৬ সালে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ধোপাজান নদীর বালুমহাল সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় ইজারা নেন।
স্থানীয় জাকির হোসেন বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করলে আজাদের লিজ বাতিল করে কয়েক কোটি টাকা জরিমানাও আরোপ করেন। ২০১৮ সালে ফাজিলপুর বালুমহালে ৭১ হেক্টর জায়গার ইজারা নেন। কিন্তু তিনি তার ব্যবসায়িক পার্টনার ফেরদৌস আলমকে হটিয়ে শুধুমাত্র দলীয় তথা আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র প্রভাব খাটিয়ে বহুল আলোচিত জিয়াউল ও সেলিমকে অংশীদার বানান। পরবর্তীতে জাদুকাটা নদীতেও সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বালু তোলেন। এদিকে অভিযোগকারী রেজাউল বলেন- সামান্য একটা দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়ে মাত্র ১৬ বছরে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হলেন এমন প্রশ্ন এলাকার সাধারণ লোকজনের। এ কারণে তিনি দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে তিনি আবেদনটি করেছেন। তদন্ত করলে দ্বিগুণ সম্পদ পাওয়া যাবে বলে জানান রেজাউল।
আজাদের বক্তব্য: এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ‘আমি ঠিকাদারিসহ নানা ব্যবসা করি। ব্যবসার মাধ্যমে সুনামগঞ্জে বাড়ি বানিয়েছি। সেটি আমার ট্যাক্স ফাইলে। সিলেট সদর উপজেলায়ও একটি সিএনজি পাম্প নির্মাণের চেষ্টায় আছি। তবে যা করছি সবই বৈধভাবে করছি। ট্যাক্স দিয়ে, ব্যবসা করে সম্পদ উপার্জন তো দোষের কিছু না।’ তিনি বলেন- ‘সম্প্রতি সময়ে নামে-বেনামে আমার কাছে ফোন করে মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা চায়। যিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন তিনি ওই দলের কিনা জানি না। তবে আমি ক্ষমতার জোরে অন্যায় করলে এখন তো এলাকায় থাকতে পারতাম না। মানুষের জন্য কাজ করি বলে এলাকায় রয়েছি। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে এর বেশির ভাগই মিথ্যা বলে জানান তিনি। দুদক তদন্ত করলে অবশ্যই এর সত্যতা পাবে বলে জানান তিনি।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কারখানায় মিলছে মানুষের হাড়গোড়, এখনো নিখোঁজ ১২৯
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান মাহমুদ রাসেল জানান, ২৫শে আগস্ট গাজী টায়ার্স কারখানায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। টানা ৩২ ঘণ্টার আগুনে সেখানে কিছু ইঞ্জিন আর ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা ছাড়া কিছুই ছিল না। আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া ভবন ও লোহার অবকাঠামোও যেকোনো সময় ধসে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় বুয়েট বিশেষজ্ঞের মতামতে গত ৩০শে আগস্ট থেকে উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়। আগুনের সময়ে ভেতরে বেশ কিছু মানুষ আটকে পড়ার অভিযোগ তোলেন নিখোঁজদের স্বজনরা। তাই রোববার কারখানা অভ্যন্তরে নিখোঁজদের সঠিক তালিকা তৈরি করতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হামিদুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৮ সদস্যর তদন্ত কমিটি গণশুনানি আয়োজন করেন।
এদিন মোট ১২৯ জন নিখোঁজের তথ্য দিয়ে নাম লিপিবদ্ধ করেন তাদের স্বজনরা। অপরদিকে শুনানি চলাকালে কয়েকজন অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে কারখানার ভেতরে ঢুকে যায়। সেখান থেকে তারা মানুষের পোড়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গ উদ্ধার করেন। সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু মানুষের পোড়া অংশবিশেষ পাওয়া গেছে তাই নিখোঁজের ব্যাপারটি গুজব নয়। আমরা যেকোনো প্রক্রিয়ায় আবারো উদ্ধার অভিযান শুরু করবো। আমরা চাই যেনো একটু আলামত নিয়ে হলেও পরিবার তাদের জানাজা দিতে পারেন অথবা সৎকার করতে পারেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিসিবি সভাপতির সঙ্গী ‘ব্যর্থ আর অভিযুক্তরা’ by ইশতিয়াক পারভেজ
গেল সরকারের শাসন আমলে পাপনের নেতৃত্বে ধিরে ধিরে বিসিবিতে হয়েছে একের পর এক অনিয়ম। কারো বিপক্ষে দুর্নীতি কারো বিপক্ষে স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যহার ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ। এমন ব্যর্থ আর অভিযুক্তরাই এখন নয়া সভাপতি ফারুকের সঙ্গী। যদিও নতুন সভাপতি বলেছেন, ‘আমি জানি নানা অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে। তবে বের করতে হবে কাউকে দোষী বলতে হলে প্রমাণও লাগবে। আমরা কাজ করছি, কথা দিচ্ছি যাকেই জড়িত পাওয়া যাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বিসিবিতে পরিবর্তনটা শুরু হয়েছে নাটকীয়তা দিয়ে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কোটায় পরিচালক হয়ে আসা ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুস চাপের মুখে পদত্যাগ করেন। আরেক পরিচালক সাজ্জাদুল আলম ববিকে এনএসসি সরিয়ে দেয় পদ থেকে। সেখানেই ফারুক হন পরিচালক এরপর নির্বাচিত সভাপতি। তার সঙ্গে আসেন নয়া পরিচালক নাজমুল আবেদিন ফাহিম। এরপর নতুন করে পথ চলা শুরু। বাকি যারা আত্মগোপনে ছিলেন তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত পদত্যাগ করেছেন নারী বিভাগের চেয়ারম্যান শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। গুঞ্জন রয়েছে মিডিয়া বিভাগের প্রধান তানভীর আহমেদ টিটুও পদত্যাগ করেছেন তবে সত্যতা মিলেনি। বাকি যারা আছেন সব মিলিয়ে তিনটি কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় অংশ না নিলে তাদের পরিচালক পদ খারিজ করে দিতে পারবেন সভাপতি। যদিও আরো কিছু নিয়ম রয়েছে। তবে ধীরে ধীরে অনুপস্থিতদের বিসিবি থেকে সরে যেতে হবে এটা একেবারেই পরিষ্কার। তবে ভাবনাটা তাদের নিয়ে নয়, যারা আছেন তাদের নিয়েই বেশি! বর্তমানে ফারুক আহমেদের অন্যমত সঙ্গী হলেন আকরাম খান, মাহবুবুল আনাম, ইফতেখার মিঠু ও প্রধান নির্বাহী নিজামুদ্দিন চৌধুরী। এই তিনজনকে পাশে নিয়ে তোপের মুখে পড়তে হয়েছে নয়া সভাপতিকে। নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এসে সভাপতিকে মাহবুবুল আনাম ও আকরামকে নিয়ে প্রশ্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় সংবাদমাধ্যমের। সরাসরি তাদের বিপক্ষে নানা অভিযোগ শুনে বিব্রত হতে হয় নয়া সভাপতিকে। আকরামের বিপক্ষে অভিযোগ তো বেশ পুরনো। প্রধান নির্বাচক, এরপর ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান এমনকি বর্তমান ফ্যাসিলিটিস বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবেও তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচক হিসেবে তিনি ব্যর্থতা নিয়ে সরে গেছেন। এরপর ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগে থেকে ব্যর্থতার কারণে তাকে সরিয়ে দেয় বিসিবি। বর্তমানে তিনি যে দায়িত্বে আছেন সেখানে আছে দুর্নীতির অভিযোগ। বিসিবির সবচেয়ে প্রভাবশালী পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিক। যে কিনা ক্লাব থেকে শুরু করে বিসিবির অর্থনিতীও নিয়ন্ত্রণ করতেন। সেই মল্লিকের ব্যবসায়কি পার্টনার আকরাম খান। তিনি নিজেও নাজমুল হাসান পাপনের বোর্ডের অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তি। অন্যদিকে মাহবুবুল আনামকে বলা হয় বিসিবির শ্রীলঙ্কান সিন্ডিকেটের প্রধান। বিশেষ করে প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ও কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার বিপক্ষে অভিযোগের শেষ নেই। কিন্তু মাহবুবুল আনামের আশীর্বাদে এই দুই লঙ্কানই আছেন বহাল তবিয়তে। শুধু তাই নয়, ২০০১ থেকে কয়েকবার সরকার পরিবর্তন হলেও তিনি বিসিবি’র সব বোর্ডে ছিলেন, এখনো আছেন। বলা চলে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রেখেছেন। অন্যদিকে ইফতেখার মিঠুর বিপক্ষে অভিযোগ তিনি আম্পায়ারিং বিভাগের প্রধান হওয়ার পরও সেখানে স্বচ্ছতা আনতে পারেননি। বিসিবি পরিচালকদের নিয়ন্ত্রিত বড় বড় ক্লাবের পক্ষেই তিনি তার আম্পায়ারদের ব্যবহার করেছেন। তিনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক প্রধান ও অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর বন্ধু বলেই পরিচিত। তবে তার কোনো সুফল বাংলাদেশ ক্রিকেট পেয়েছে কিনা সন্দেহ! তিনিও পাপনের সময়ের বোর্ডের পরিচালক, তাকে নানা রকম অনিয়মের সঙ্গ দিয়েছেন এমন অভিযোগও কম নয়। তার আম্পায়ারিং বিভাগের কর্মকর্তা সয়লাব হোসেন টুটুল বিসিবিতে না এসেই লাখ টাকা বেতন নিচ্ছেন। চেয়ারম্যান হয়েও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি মিঠু। এছাড়া খালেদ মাহমুদ সুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোও বেশ পুরনো। তিনি পরিচালক হয়েও জাতীয় দল থেকে শুরু করে ক্লাব ক্রিকেট- সব জায়গায় পালন করেছেন কোচের দায়িত্ব। প্রিমিয়ার লীগের দল আবাহনী ছাড়াও বিপিএলে ঢাকার কোচ তিনি। এছাড়াও জতীয় দলের ম্যানেজার থেকে শুরু করে টিম ডিরেক্টর পদেও তিনি কাজ করেছেন। তিনিও পাপন বোর্ডের অন্যতম প্রভাবশালীদের একজন। অনেক অনিয়ম জেনেও চুপ ছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক। নানা সময়ে নানা ঘটনায় বিতর্ক জন্ম দিয়েছেন তিনি নিজেও। বিশেষ করে ক্যাসিনোকাণ্ড অন্যতম। অভিযোগ রয়েছে জাতীয় দলের সঙ্গে সফরে থাকা অবস্থায় তিনি ক্যাসিনোতে খেলতে গিয়ে হয়েছেন বিতর্কিত! প্রধান নির্বাহী নিজামুদ্দিন চৌধুরী ১২ বছর ধরে এই একই পদে আছেন। তার বিরুদ্ধে পাপন বোর্ডের নানা অনিয়মের সঙ্গী হিসেবে থাকার অভিযোগ আছে। এছাড়াও অভিযোগ আছে আর্থিক দুর্নীতিরও। এছাড়াও বিসিবি’র অর্থবিভাগের প্রধান কর্মকতা মান্নানের বিপক্ষে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বলতে গেলে নয়া সভাপতিকে নিজের কাজকে এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি এসব জঞ্জাল পরিষ্কারের কাজ করতে হবে। নয়তো তাকেও মেনে নিতে হবে অনেক অদৃশ্যকিছু!
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পর পর দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না- তারেক রহমান
রোববার কুমিল্লা ও ফরিদপুরের নেতাকর্মীদের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি’র মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিক এই সভা করছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
বিএনপি’র রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা এবং গত বছর জুলাইয়ে উপস্থাপিত ৩১ দফা কর্মসূচির মৌলিক বিষয়গুলো তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি তরুণ ও বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চায়, কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত যোগ্যতা অনুযায়ী ভাতা প্রবর্তন করতে চায়, নিশ্চিত করতে চায় সর্বস্তরে নারীর অংশগ্রহণ। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি এবং অর্থনীতিসহ সকল ক্ষেত্রে আনতে চায় যুগোপযোগী আমূল পরিবর্তন। গড়তে চায় ধর্ম-বর্ণ, গোত্র-গোষ্ঠী, সমতল পাহাড়ি নির্বিশেষে এক সুষম সমঅধিকারের আধুনিক বাংলাদেশ। দলের সকল নেতাকর্মীদের এই বার্তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, গত ৫ই আগস্ট স্বৈরাচার পতনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশায় যুক্ত হয়েছে নতুন আশাবাদ আর পরিবর্তিত হয়েছে ভাষা। এই পরিবর্তিত নতুন ভাষা পড়তে ও বুঝতে হবে, আর আশাবাদকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে- সেটা না পারলে ছিটকে পড়তে হবে। এতদিন শুধু আওয়ামী লীগ ছিল প্রকাশ্য প্রতিপক্ষ। আমরা তাদের আক্রমণের ধরন বুঝতাম ও জানতাম। এখন ওরা ছাড়াও চারদিকে অসংখ্য অদৃশ্য প্রতিপক্ষ, এদের অবস্থান অন্ধকারে, এরা সর্বত্র। তাই সতর্ক থাকতে হবে এই দৃশ্যমান আর অদৃশ্য প্রতিপক্ষ মোকাবিলায়।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফলতা আর জনপ্রিয়তার একমাত্র ভিত্তি ছিল দেশের সর্বস্তরের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা। এদেশের মানুষের প্রাণঢালা ভালোবাসা আর আস্থাই বিএনপি’র একমাত্র শক্তি। জনগণের এই প্রতিষ্ঠিত ভালোবাসাকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে, কোনোভাবেই এটা বিনষ্ট করা যাবে না। কেউ যদি কোনো অপচেষ্টায় লিপ্ত হয় তাহলে সে যত বড়ই হোক, দল তাকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেবে না।
বিএনপি পরিবার ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে অতীতের মতো আবারো দল হিসেবে সফল হবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।
ওদিকে গতকাল লন্ডন থেকে বিএনপি’র ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, আপনারাই বিএনপি’র প্রাণ। শত নির্যাতন, নিপীড়ন, হামলা, মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েও আপনারা জাতীয়তাবাদের আদর্শবিচ্যুত হননি। আমি জানি, অতীতে বছরের পর বছর ধরে আপনাদের অনেকেই মাফিয়া সরকার এবং তাদের দোসরদের দ্বারা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তবে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আপনাদের প্রতি আমার একটি অনুরোধ-অতীতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার কারণে আপনারা কেউ প্রতিশোধপরায়ণ হবেন না। কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নেবেন না। বরং অন্যায় অবিচারের শিকার হলে আইনগত পদক্ষেপ নিন। তবে খেয়াল রাখবেন কেউ যেন হয়রানিমূলক হামলা-মামলার শিকার না হন। আপনাদের প্রতি আমার স্পষ্ট বার্তা- শক্তি কিংবা ভয় দেখিয়ে নয়, ইনসাফ ও উদারতা দিয়ে মানুষের মন জয় করুন। জনগণের ভালোবাসা অর্জন করুন।
দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে বিএনপি’র ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনা কিংবা বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপি দেশ ও জনগণের স্বার্থ সমুন্নত রেখেছে। এ কারণেই শত প্রতিকূল পরিস্থিতি পেরিয়েও দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের কাছে স্বাধীনতার ঘোষকের দল বিএনপি সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বিশ্বস্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। যাদের নেতৃত্বে, যাদের আত্মত্যাগে, যাদের শ্রম, ঘাম ও মেধায় বিএনপি আজ সারা দেশের জনগণের কাছে বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে- দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভলগ্নে তাদের সবার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।
দেশ বর্তমানে ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ আর অসংখ্য ছাত্র-জনতার নিদারুণ যন্ত্রণাকর পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে গত ৫ই আগস্ট দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে। তবে গণঅভ্যুত্থানের সাফল্য এবং সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দিতে স্বৈরাচারের দোসররা এখনো ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি সতর্ক থাকলে দেশকে আর বিপথে নেয়া যাবে না। আর পথ হারাবে না বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে গত ১৫ বছরের অনাচার-অবিচার জনগণকে ভুলিয়ে দেয়া যাবে না। রাষ্ট্রীয় স্থাপনা গণভবন ছিল দেশের রাষ্ট্র ও রাজনীতির ঐতিহ্যবাহী স্মারক। গণভবন বর্তমানে স্বৈরাচারী হাসিনার দুর্নীতি, দুঃশাসন, অনাচার ও অপকর্মের প্রতীক। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে এই গণভবনকে গুম, খুন, অপহরণ ও গণহত্যার মিউজিয়াম হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি উঠেছে। ২০০৯ সালের পিলখানায় সেনাহত্যা থেকে শুরু করে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, ২০১২, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৩ সালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের সময় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ২০১৮ সালের কোটা বিরোধী এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুম হওয়া মানুষের স্মৃতিগুলো এই মিউজিয়ামে সংরক্ষিত থাকবে। অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য বাংলাদেশে আর কোনো শাসক যাতে স্বৈরাচারী হাসিনার মতো বর্বরোচিত পথ অনুসরণ না করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই মিউজিয়াম সেই বার্তাই বহন করবে।
তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে, এমন সময় হঠাৎ করেই চাপিয়ে দেয়া বন্যা পরিস্থিতি দেশের পূর্বাঞ্চলের বিস্তৃত অঞ্চল গ্রাস করে নিয়েছে। বন্যার করাল গ্রাসে প্রায় এককোটি মানুষ কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক মানুষ মারা গেছেন। বিনষ্ট হয়েছে সম্পদ। এমন পরিস্থিতিতে সাধ্যমতো বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে বিএনপি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সকল কর্মসূচি বাতিল করেছে। ইতিমধ্যে কোনো কোনো এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে যারা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এই মুহূর্তে তাদের বন্যা বিধ্বস্ত ঘরে ফেরানো কিংবা তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বন্যাকালীন পরিস্থিতি থেকেও কিছুটা জটিল। সুতরাং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি আপনাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখুন। সমন্বিতভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান। সফলজনকভাবে বন্যা পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে একজন নাগরিক হিসেবে সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নেও সক্রিয় ভূমিকা রাখুন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র, রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, জন প্রশাসন ও বিচারবিভাগসহ সকল ক্ষেত্রে দেশকে এক নৈরাজ্যকর অবস্থায় রেখে স্বৈরাচারী হাসিনা পালিয়েছেন। দেশকে একটি ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর ও পরনির্ভর রেখে স্বৈরাচারী হাসিনা পালিয়েছেন। শুধুমাত্র একজন হাসিনাই পালিয়ে যাননি। তার বিনা ভোটের মন্ত্রিসভা, বিনা ভোটের সকল এমপি এমনকি তাদের নিয়োগ দেয়া বায়তুল মোকাররমের খতিব পর্যন্ত পালিয়েছেন। দেশের এমন নজিরবিহীন ভয়ানক পরিস্থিতি অতিক্রম করে জনগণ এখন সম্মান এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে চায়। তাই দেশকে জনতার কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশে রূপান্তর করতে রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রমের বিকল্প নেই। তবে রাষ্ট্র সংস্কার একটি চলমান, দীর্ঘমেয়াদি এবং ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। টেকসই ও কার্যকর উপায়ে রাষ্ট্র সংস্কার করতে হলে সংস্কার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ জরুরি। গণতান্ত্রিক বিশ্বের দেশগুলোতে জনগণের ভোট প্রয়োগের অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। কারণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার এবং জনগণের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন হচ্ছে জনপ্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদ।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের লুণ্ঠিত ভোটের অধিকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে একটি জনপ্রনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অগ্রাধিকারভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রশাসন, দুদকসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার কিংবা পুনর্গঠন জরুরি। সেই লক্ষ্য অর্জনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে বলে আমরা মনে করি। সুতরাং জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল রাষ্ট্র এবং সরকার গঠনের লক্ষ্যে দেশকে নির্বাচনী রোডম্যাপে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য জনগণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সবরকমের সহায়তা করতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, আমাদের দল বিএনপি মনে করে রাষ্ট্র সংস্কারকে কার্যকর করতে হলে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। সে লক্ষ্যে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি দলীয় রাজনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বিএনপি সকল মত ও পথের সমন্বয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা ‘নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যের সমন্বয় করা এবং পরপর দুই টার্মের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন না করা ‘উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা’ প্রবর্তন, এমনকি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার বিষয়ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাসহ রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ৩১ দফা রূপরেখা দিয়েছে। আমি মনে করি, আমাদের দল বিএনপি মনে করে, জনগণের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গঠনের জন্য রাষ্ট্র ও রাজনীতি সংস্কারের বিকল্প নেই। দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রমগুলো জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে হলে সেটি বেশি কার্যকর বলেও জনগণ বিশ্বাস করে। গণতান্ত্রিক বিশ্বেও এটি স্বীকৃত।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। পলাতক স্বৈরাচার জাতীয় জীবনের ১৫টি বছর কেড়ে নিয়েছে। সেই দুঃস্বপ্নকে দূরে ঠেলে দিয়ে দেশের জনগণের সামনে একটি বৈষম্যহীন নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ গড়াই বিএনপি’র আগামী দিনের লক্ষ্য। বিএনপি বিশ্বাস করে তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান বিশ্বে কথামালার রাজনীতির পরিবর্তে বর্তমান প্রজন্ম প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চায়। সমৃদ্ধি-সম্মান এবং সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত দেখতে চায়। এজন্য রাষ্ট্র ও রাজনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং কর্মক্ষম জনশক্তির সামনে সম্ভাবনার সকল দরজা উন্মুক্ত করে দিতে হবে। নৈতিক মূল্যবোধ এবং কর্মমুখী শিক্ষানীতির পাশাপাশি দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে অগ্রাধিকারভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি’র ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভলগ্নে আমি বলতে চাই-স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’ বেগম খালেদা জিয়া দেশের ৮৭ হাজার গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। সেই দলের পতাকা এখন আমার, আপনার ও আমাদের হাতে। এই পতাকা এখন শুধু বিএনপি’র দলীয় পতাকাই নয়। এই পতাকা এখন দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সুতরাং যারা এই পতাকার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে চান, তারা কোনো প্রকার অনৈতিক কিংবা অনধিকার চর্চায় লিপ্ত হবেন না। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তির সকল স্তরের, সকল পর্যায়ের প্রতি নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভাকাংক্ষীকে মনে রাখতে হবে জনগণ বিএনপিকে বিশ্বাস করে। বিএনপি জনগণকে বিশ্বাস করে। কারণ জনগণই বিএনপি’র সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অভিবাসী শিশুদের যৌনতায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ট্রাম্পের
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
September
(772)
-
▼
Sep 02
(17)
- আওয়ামী লীগ সরকারের এমন অবস্থা হবে ১৫ বছর আগেই আঁচ ...
- ‘আয়নাঘরে’ সারাক্ষণ শুধু বন্দিদের ভয়ার্ত চিৎকার শোন...
- বাংলাদেশে নয়া রাজনীতি বিনির্মাণে তারুণ্যের কম্পন b...
- সময়ের সঙ্গে বাড়ছে গাজায় নিহতের সংখ্যা
- দিনভর দুর্ভোগ, সন্ধ্যায় ধর্মঘট প্রত্যাহার ডাক্তারদের
- যেভাবে ইসলামী ব্যাংক দখল করেছিল এস আলম গ্রুপ
- ১২ ঘণ্টা পর কাজে ফিরলেন চিকিৎসকেরা, দিনভর দুর্ভোগ
- হাসিনার সামনে দুটো অপশন, ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় কিংব...
- হার্টের রোগীদের জন্য সুখবর
- সমাধিসৌধের পবিত্রতা হেয় করেছেন ট্রাম্প: কমালা
- পররাষ্ট্র সচিব মোমেনের বিদায়
- জ্বালানি খাতের লুণ্ঠন প্রতিরোধে ক্যাবের ১১ দাবি: ২...
- দুদকে অভিযোগ: সুনামগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যানের শত কোট...
- কারখানায় মিলছে মানুষের হাড়গোড়, এখনো নিখোঁজ ১২৯
- বিসিবি সভাপতির সঙ্গী ‘ব্যর্থ আর অভিযুক্তরা’ by ইশত...
- পর পর দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পার...
- অভিবাসী শিশুদের যৌনতায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ট্রাম্পের
-
▼
Sep 02
(17)
-
▼
September
(772)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...