Thursday, July 1, 2010

বাড়াবাড়ির হরতাল, কাড়াকাড়ির রাজনীতি by সোহরাব হাসান

রোববারের হরতালে যে দুই পক্ষই বাড়াবাড়ি করেছে, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। সাড়ে তিন বছরের মাথায় প্রথম হরতাল নিয়ে বিরোধী দল বিএনপি ছিল মহা উদ্বেগের মধ্যে। হরতাল সফল করতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছিল। যেকোনো মূল্যে হরতাল সফল করে তুলতেই হবে। এ কারণেই দলীয় নেতারা পাড়ায় পাড়ায় গণসংযোগ করেছেন। বিনম্র কণ্ঠে শ্রমজীবী মানুষকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেছেন। প্রচারপত্র বিলি করে হরতালের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। যদিও ক্ষমতায় থাকতে আমরা তাঁদের অন্য চেহারা দেখেছি। সে সময় বিএনপির নেতারা ধরাকে সরা জ্ঞান করেছেন, এখন বিনয়ের অবতার সেজেছেন। আর ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের নেতারাও দ্রুত অতীত ভুলে গেছেন। কথায় কথায় রণহুঙ্কার ছাড়ছেন।
হরতাল নিয়ে সরকারি দলের উদ্বেগও কম ছিল না। মহাজোটের আকাশছোঁয়া জনসমর্থনে সামান্য ঘাটতি পড়েছে, সেটি মানা যায় না। কয়েক দিন আগে থেকেই মন্ত্রীরা হরতালের বিরুদ্ধে জোর গলায় প্রচার চালাতে থাকলেন। টিভির সংবাদে, টক শোতে হরতালের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ প্রচার হতে থাকল। এসব প্রচারণা বিএনপিকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে। কিন্তু তার পরও সম্ভবত হরতাল আহ্বানকারীদের কেউ কেউ নিশ্চিত হতে পারেননি। তাঁরা মধ্যরাতে গাড়ি ভাঙচুর করে, বাসে আগুন জ্বালিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিল। ফলে হরতালটি আর শান্তিপূর্ণ থাকেনি।
সরকারের মন্ত্রীরা, সরকারি দলের নেতারাও দাবি করেছিলেন, তাঁরা বিরোধী দলকে বাধা দেবেন না। দলীয় কর্মীদের রাস্তায় নামাবেন না। তবে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় যা করণীয়, প্রশাসন তা-ই করবে। কেউ জোর করে দোকান বা গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধা দেবে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
কিন্তু দুর্ভাগ্য, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ভাষায় ‘কেউ কথা রাখেনি’। না সরকারি দল, না বিরোধী দল। এতে তাদের গোঁয়ার্তুমি বহাল রয়েছে বটে; ক্ষতি হয়েছে দেশের, জনগণের। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে শায়েস্তা করছে, দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আর সাধারণ মানুষের আতঙ্ক বাড়ছে। আবার কি আমরা হরতাল-যুগে ফিরে আসছি? আবার কি রাস্তাঘাটে বেঘোরে মানুষ মারা যাবে? আবার কি রাজপথে আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া চলতে থাকবে?
রোববারের হরতালটি সারা দেশে মোটামুটি শান্তিপূর্ণ থাকলেও হঠাৎ ঢাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠল কেন? এর পেছনে কি শুধু দুই দলের অতি-উৎসাহীরা সক্রিয় ছিল, না অন্য কোনো মহল? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, তাঁরা দলীয় কর্মীদের রাস্তায় নামাবেন না। তার পরও ছাত্রলীগ কেন রাস্তায় নামল? কে তাদের নামাল? বিএনপির নেতারাও বলেছিলেন, হরতাল শান্তিপূর্ণ হবে। কিন্তু মধ্যরাতে কারা গাড়ি ভাঙচুর করল? কারা গাড়িতে আগুন লাগাল?
শোনা যায়, রাজনীতি এখন আর রাজনীতিকদের হাতে নেই। কর্মীরাও নেতাদের কথা শোনেন না। নেতাদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে মিল নেই। একেকজন একেক কথা বলেন। তাহলে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে কে? রাজনীতিকেরা, নাকি অন্য কেউ? দেশের রাজনীতি সুস্থ থাকলে যাঁদের গুরুত্ব থাকে না, গণতন্ত্র সচল থাকলে যাঁরা অপাঙেক্তয় হয়ে যান, তাঁরাই কি রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছেন? নিজেদের গুরুত্ব বাড়াতেই কি মধ্যরাতে গাড়িতে আগুন দেওয়া হলো? বিরোধী দলের সমাবেশে হামলা চালানো হলো? শাহবাগ ও বাড্ডায় ছাত্রলীগের কর্মীরা কার নির্দেশে হরতাল-সমর্থকদের ওপর হামলা চালালেন? সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দায়িত্ব অস্বীকার করেছেন। কিন্তু তিনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেননি। শাহবাগে হামলার ঘটনায় বিএনপির কর্মীরা আসামি হলে ছাত্রলীগকে বাদ দেওয়া হলো কেন? সেখানে পিকেটিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী। তিনি কেবল বিএনপির নেতা নন, সাংসদও। একজন সাংসদের নিরাপত্তা দেওয়া কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নয়? তারা সে দায়িত্ব পালন না করে তাঁকে যেভাবে টেনেহিঁচড়ে হাসপাতাল থেকে গাড়িতে তুলে নিল, তা কোনো সভ্য দেশে হতে পারে না। এভাবে আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপির সাংসদেরা এবং বিএনপির আমলে আওয়ামী লীগের সাংসদেরা লাঞ্ছিত হবেন? এই গণতন্ত্রই কি আমরা চেয়েছিলাম?
ছাত্রলীগের হামলায় শহীদ উদ্দীন চৌধুরী আহত হলে বিএনপির কর্মীরাও পাল্টা হামলা করেন, পরে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গেও তাঁদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ কোনো পক্ষকে নিবৃত্ত না করে হরতালের সমর্থক নেতা-কর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ ছাড়া র‌্যাবের সদস্যরা বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাসের বাড়িতে ঢুকে যেভাবে সেখানে আশ্রয় গ্রহণকারী নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, তা লজ্জাজনক।
হরতালে এই প্রথম র‌্যাব নামানো হলো। বিএনপির আমলে আওয়ামী লীগ নেতারা র‌্যাবকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করতেন। এখন একই কাজ তাঁরাও করছেন। তাহলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে পার্থক্য কোথায়? বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের রাস্তায় লাঠিপেটা করে র‌্যাব-পুলিশ হাতের সুখ মেটালেও সরকারের লাভ হয়নি। হরতালে সংঘাত-সংঘর্ষ না হলে বিরোধী দলের বলার কিছু থাকত না। প্রতিবাদে নতুন কর্মসূচি নিতে পারত না। এখন তারা সংসদে যাওয়ার জন্য নতুন দাবিনামা পেশ করেছে। অনেকটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, সরকার সে দাবি মানবে না। বিরোধী দল সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে আবার হরতাল ডাকবে। আবার সংঘাত-সংঘর্ষ হবে। আবার গাড়ি ভাঙচুর করা হবে। আবার পুলিশ লাঠিপেটা করবে। আবার বিরোধী দল নতুন দাবিনামা পেশ করবে। চক্রাকারে এটি চলতেই থাকবে?
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আরেকটু সতর্ক হতে পারতেন। এর মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে হলেও তাঁদের বাড়াবাড়ির কথা স্বীকার করেছেন। সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেছেন, বিএনপি নেতার বাড়িতে ঢুকে পুলিশ বা র‌্যাব যা করেছে, তা নিন্দনীয়। বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে এ কাজ করতে পারে না। তবুও করেছে। সরকার কি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে?
বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মির্জা আব্বাসের বাসায় গেছেন সেখানে আহত ব্যক্তিদের দেখতে। কিন্তু তিনি শনিবার রাতে গাড়িতে বিএনপির কর্মীদের অগ্নিসংযোগে আহত গাড়িচালক ও তাঁর সহযোগীকে দেখতে যাননি। দেখতে যাননি হরতাল পালনকারীদের ইটের আঘাতে গুরুতর আহত গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীকে। কেন? সরকারের মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তিদের দেখতে গেছেন। কিন্তু বিএনপির আহত সাংসদ ও নেতা-কর্মীদের সম্পর্কে একটি কথা বলেননি।
স্পিকার আবদুল হামিদ সাংসদ শহীদ উদ্দীন চৌধুরী চিকিৎসার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা যা-ই থাক না কেন, সবার আগে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। যথার্থ বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। আরও ভালো হতো যদি স্পিকার আহত সাংসদকে হাসপাতালে দেখতে যেতেন। একজন সাংসদের প্রতি স্পিকারের দায়িত্ব আছে। দায়িত্ব আছে সংসদ নেত্রীরও। রাজনীতিকে সুস্থ রাখতে হলে সরকার ও দলকে আলাদা রাখতে হবে। অবশ্য আওয়ামী লীগের নেতারা বলতে পারেন, বিএনপির আমলেও তাঁদের সাংসদদের লাঠিপেটা করা হয়েছিল। বিএনপি করেছিল বলে আওয়ামী লীগেরও একই কাজ করতে হবে?
হরতালের ‘সাফল্য’ ও ‘অসাফল্য’ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের নেতারা যখন বাহাস করছেন তখন সিলেট, রংপুর ও কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যায় প্লাবিত, লাখ লাখ মানুষ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। এর আগে বন্যায় হাওর এলাকার ফসল ভেসে গেছে, আইলা-আক্রান্ত মানুষ এখনো খোলা আকাশের নিচে বাস করছে। তাদের কথা কেউ ভাবছেন না। এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও জার্মানির সেমিফাইনালে ওঠার যেমন সম্ভাবনা নেই, তেমনি আওয়ামী লীগ, বিএনপিও একসঙ্গে থাকতে পারবে না। এক দল সংসদে থাকলে আরেক দল রাজপথে। অন্যান্য দেশের গণতন্ত্র হলো একযোগে কাজ করা, পরস্পরকে সহায়তা করা, জাতীয় স্বার্থে একমত হওয়া। আমাদের দেশে গণতন্ত্র হলো নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ। নিজের গুণকীর্তনের পাশাপাশি অপরের মুখ ম্লান করে দেওয়া। ক্ষমতায় থাকতে সবকিছু দখল করে নেওয়া এবং বিরোধী দলে থাকতে পরের বার দখলের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো। আর তার উপযুক্ত স্থান হিসেবে বেছে নেয় রাজপথকে। জনজীবনে বিপর্যয় আসুক, দেশ গোল্লায় যাক, তাতে তাদের কিছু আসে যায় না। তাদের একটাই লক্ষ্য—ক্ষমতায় থাকা বা ক্ষমতায় যাওয়া। ক্ষমতার জন্য মারামারি, ক্ষমতার জন্য কাড়াকাড়ি। যে পুলিশ এখন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ও মির্জা আব্বাসকে লাঠিপেটা করেছে, বিএনপির আমলে সেই পুলিশই নাসিম-মায়াদের ঠেঙিয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারে আছে, মহা প্রতাপে দেশ চালাচ্ছে। কিন্তু দল কতটা আছে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আওয়ামী লীগ যা বলে, ছাত্রলীগ শোনে না; আর নেতারা যা বলেন, কর্মীরা মানেন না। জেলায় জেলায় নেতাদের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ’ আছে। আছে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব। কিন্তু সেসব মেটানোর কোনো উদ্যোগ নেই। দল কীভাবে চলছে, তা নিয়ে কারও মাথা ব্যথা নেই। মন্ত্রীরা মন্ত্রণালয়ে ব্যস্ত, সাংসদেরা তদবিরবাজিতে। মন্ত্রী না হতে পারা নেতারা মনোবেদনায় ভুগছেন। মাঝে মাঝে ক্ষুব্ধও হচ্ছেন। ওই পর্যন্তই।
হরতালে দুই পক্ষই বাড়াবাড়ি করেছে। এটি আমাদের অসহিষ্ণু রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। কেউ কাউকে সহ্য করছে না। ক্ষমতাসীনেরা মনে করে, যেহেতু থানা-পুলিশ-র‌্যাব-বিডিআর তাদের হাতে আছে, অতএব বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন নেই। আর বিরোধী দল মনে করে, সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনের জবাব তারা রাজপথেই দেবে, সংসদে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকার যা করবে তার বিপক্ষে দাঁড়াতে হবে। দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে হবে, উন্নয়ন ব্যাহত করতে হবে। মানুষের কষ্ট হয় হোক, দেশ রসাতলে যায় যাক, ক্ষমতার সোনার হরিণ তার পেতেই হবে।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

আফগানিস্তানে জুনে ১০০ বিদেশি সেনা নিহত

আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী যুদ্ধে চলতি জুন মাসে ১০০ বিদেশি সেনা নিহত হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির এক তালিকা থেকে গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। আফগানিস্তানে কোনো এক মাসে এত বেশি বিদেশি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত ২৪ জুন আফগানিস্তানের ফারাহ প্রদেশে সংঘর্ষে এক মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছর দেশটিতে ৩২০ জন বিদেশি সেনা নিহত হয়। এর আগের বছর ২০০৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫২০।
আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর এক লাখ ৪০ হাজার সেনা তালেবান জঙ্গিবিরোধী যুদ্ধ করছে। তালেবান জঙ্গিরা লড়াই করছে পশ্চিমা-সমর্থিত প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সরকারকে উৎখাত করতে। পশ্চিমা সেনাদের মোকাবিলায় তালেবান জঙ্গিরা দেশে তৈরি বোমা এবং সস্তা ও সহজলভ্য বিস্ফোরক ব্যবহার করছে।

ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সাতজনের আপিল

১৯৮৪ সালে ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ভোপালে রাসায়নিক কারখানায় গ্যাস দুর্ঘটনার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাত ভারতীয় জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। তাঁদের দুই বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পত্রিকার খবরে এ কথা জানানো হয়।
১৯৮৪ সালের ৩ ডিসেম্বর ইউনিয়ন কার্বাইড কারখানা থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে কয়েক হাজার মানুষ মারা যায়। বেসরকারি হিসাবে ওই দুর্ঘটনায় মারা গেছে ১৫ হাজার লোক।

জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ৫ জুলাই ভারত বন্ধ্

জ্বালানি তেল, গ্যাসসহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ৫ জুলাই গোটা ভারতে বনেধর ডাক দিয়েছে চারটি বাম দল। গতকাল মঙ্গলবার বাম দলগুলোর নেতারা ১২ ঘণ্টার এই বনেধর ডাক দেন।
সিপিএম, সিপিআই, ফরোয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি এই বনেধর ডাক দেয়। বনেধর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে অজিত সিংয়ের আরএলডি, ওমপ্রকাশ চৌতালার আইএনএলডি, লালু প্রসাদ যাদবের আরজেডি, মুলায়ম সিং যাদবের সমাজবাদী পার্টি, বিজু পট্টনায়েকের বিজেডি, চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলেগু দেশম, এইচ ডি দেবগৌড়ার জেডিএস, রামবিলাশ পাশোয়ানের এলজেপি, কুমারী জয়ললিতার এডিএমকে প্রভৃতি রাজনৈতিক দল।

ইন্দোনেশিয়ার ‘প্রিন্স অব জিহাদ’-এর পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

প্রিন্স অব জিহাদ’ নামে পরিচিত ইন্দোনেশিয়ার এক প্রকাশক ও ইসলামপন্থী ব্লগারকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বছর ১৭ জুলাই জাকার্তার দুটি বিলাসবহুল হোটেলে আত্মঘাতী হামলায় সহায়তার অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
উগ্রপন্থী সাহিত্য ও একটি মিলিশিয়া ব্লগের প্রকাশক মোহাম্মদ জিবরাইল আবদুরাহমানকে গত বছর জেডব্লিউ ম্যারিয়ট ও রিজ-কার্লটন হোটেলে হামলার দিনই তাঁর কর্মস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রধান বিচারক হারিয়ান্তো বলেন, ওই আত্মঘাতী হামলায় সহায়তা দান ও তথ্য সরবরাহে জিবরাইলের সহযোগিতা করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযুক্ত জিবরাইল আদালতে শান্ত থাকায় তাঁর শাস্তির মেয়াদ পাঁচ বছর করা হয়েছে। এ ছাড়া বোমা হামলায় তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততারও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিচ্ছেন জেনারেল ম্যাকক্রিস্টাল

বহুল আলোচিত মার্কিন জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাকক্রিস্টাল অবশেষে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র গত সোমবার এ কথা জানিয়েছেন।
ম্যাকক্রিস্টাল এত দিন আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তাঁর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপহাস করায় গত সপ্তহে ওবামা তাঁকে ওই পদ থেকে বরখাস্ত করন। এর পর থেকেই তাঁর চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার ব্যাপারে কানাঘুষা শুরু হয়।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল টমাস কলিন জানিয়েছেন, ম্যাকক্রিস্টাল চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র দাখিল করেননি। তাই কবে নাগাদ ওই চার তারকা জেনারেল সেনাবাহিনী থেকে বিদায় নেবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
জেনারেল ম্যাকক্রিস্টাল সম্প্রতি রোলিংস্টোন নামের একটি পত্রিকায় নিবন্ধ লেখেন। ‘দ্য রানঅ্যাওয়ে জেনারেল’ শিরোনামের ওই নিবন্ধে তিনি প্রেসিডেন্ট ওবামা, ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ পদস্থ মার্কিন কর্মকর্তাদের উপহাস ও সমালোচনা করেন।
ম্যাকক্রিস্টাল তাঁর নিবন্ধে লিখেছেন, আফগানিস্তান রণাঙ্গনের জন্য অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের অনুমোদন প্রাপ্তির সময়টি ছিল ‘বেদনাদায়ক’। আর প্রেসিডেন্ট আফগানিস্তানের মতো একটি ‘অবিক্রয়যোগ্য’ বিষয় তাঁর হাতে হস্তান্তর করেছেন। তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নাম শুনে তাঁকে চেনা যায় না বলেও কৌতুক করেছেন।
এর পরই নড়েচড়ে বসে ওবামা প্রশাসন। বেসামরিক প্রশাসনের বিরুদ্ধে একজন চৌকস সমর কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণে ক্ষুদ্ধ হন তাঁরা। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক ও বিরোধী রিপাবলিকান নেতারা। এর পরই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ম্যাকক্রিস্টালকে হোয়াইট হাউসে ডেকে পাঠান এবং পদত্যাগ করতে বলেন। প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী ম্যাকক্রিস্টাল তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব ছেড়ে দেন।
ম্যাকক্রিস্টালের অপসারণের পর প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, আফগান যুদ্ধে সেনাবাহিনীতে ঐক্য ধরে রাখার জন্যই ম্যাকক্রিস্টালকে অপসারণের প্রয়োজন ছিল। ওবামা তাঁর জায়গায় স্থলাভিষিক্ত করেন জেনারেল ডেভিড পেট্রাউসকে।

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর লুয়ান্ডা সস্তা করাচি

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর হচ্ছে অ্যাঙ্গোলার রাজধানী লুয়ান্ডা। এখানকার জীবনযাত্রার ব্যয় বিশ্বের যেকোনো শহরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি এক জরিপের ফলাফলে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জরিপটি পরিচালনা করেছে ব্রিটিশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মার্সার। এই জরিপে ব্যয়বহুল নগরের পাশাপাশি সবচেয়ে কম ব্যয়ের নগরের তালিকাও করা হয়েছে। এতে সবার ওপরে জায়গা করে নিয়েছে পাকিস্তানের বন্দর নগর করাচি।
পাঁচটি মহাদেশের ২১৪টি শহরে জরিপ চালিয়ে এ তালিকা করা হয়েছে। প্রতিটি শহরে দুই শতাধিক পণ্যের তুলনামূলক দাম গবেষণা করে এ তালিকা তৈরি করা হয়।
মার্সারের জ্যেষ্ঠ গবেষক নাথালি কন্সটানিন-মেট্রাল বলেছেন, ‘এসব শহরে বসবাসকারী বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অনুরোধের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে।’
জরিপে দ্বিতীয় ব্যয়বহুল নগর হিসেবে জাপানের রাজধানী টোকিও নির্বাচিত হয়েছে। আফ্রিকার দেশ শাদের এনজামেনা হয়েছে তৃতীয়। ব্যয়বহুল শীর্ষ ১০টি শহরের তালিকায় এবারই প্রথম আফ্রিকার তিনটি শহর স্থান করে নিয়েছে। অন্যটি হলো গ্যাবনের লিবরেভিল।
এশিয়ার তিনটি শহর ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় রয়েছে। এগুলো হলো টোকিও, ওসাকা ও হংকং। টোকিও ও ওসাকা যৌথভাবে ষষ্ঠ এবং হংকং হয়েছে অস্টম। শীর্ষদশের বাকি চারটি শহর হলো ইউরোপের। এগুলো হলো মস্কো চতুর্থ, জেনেভা পঞ্চম, জুরিখ অস্টম (হংকংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে) ও কোপেনহেগেন দশম।
মধ্যপ্রাচ্যের সবেচেয়ে ব্যয়বহুল নগর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে তেল আবিব। এটি ১৯তম স্থান দখল করেছে।

চীন সম্পর্কে কটু মন্তব্য করায় ওবামার কঠোর সমালোচনা

উত্তর কোরিয়া নিয়ে চীন সম্পর্কে কটু মন্তব্য করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কঠোর সমালোচনা করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় পত্রিকা। ইংরেজিভাষী পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস ওবামার ওই মন্তব্যকে দায়িত্বহীন ও ধৃষ্টতাপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে। উত্তর কোরিয়ার কর্মকাণ্ডে চীন অন্ধভাবে সমর্থন দিচ্ছে—ওবামার এমন মন্তব্যে চীনা পত্রিকায় এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়।
গত রোববার কানাডায় জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে ওবামা মন্তব্য করেন, পিয়ংইয়ংয়ের যুদ্ধংদেহী আচরণের প্রতি চীনের ইচ্ছা করে চোখ বুজে থাকা উচিত নয়। চীনা প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের মুখের ওপর তিনি এই কড়া মন্তব্য করন।
এ ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র বলে পরিচিত পিপলস ডেইলি পরিচালিত গ্লোবাল টাইমস-এ। প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য করার আগে এ অঞ্চলে চীনের ভূমিকা ওবামার বিবেচনা করা উচিত ছিল।
উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ছয় দেশের আলোচনায় উদ্যোক্তা হিসেবে চীনের ভূমিকার কথা তুলে ধরে পত্রিকায় বলা হয়, উত্তর কোরিয়া কী করেছে না-করেছে, এ ব্যাপারে চীন চোখ বুজে রয়েছে বলে যেভাবে মন্তব্য করা হয়েছে, আসলে তা ঠিক নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর নেতারাই চীনের তৎপরতা দেখছে না।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু কর্মসূচি পরিত্যাগে চীনের চেষ্টা যে কাজে লাগেনি তা ঠিক, কিন্তু পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে যোগসূত্র বজায় রাখাটা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্র এ কথা অস্বীকার করতে পারবে না যে বর্তমান পরিস্থিতিতে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ চালু রেখেছে চীন। এই পথ বন্ধ হলে গোটা পরিস্থিতি অচল হয়ে পড়বে। বিশ্ব তা কোনোভাবেই চায় না।
গত মার্চে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজডুবিতে ৪৬ জন নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করা হচ্ছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতৃত্বে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে একটি নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এখনো এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মেলেনি। উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বলে পরিচিত চীন জাতিসংঘে উত্থাপিত এই নিন্দা প্রস্তাব অনুমোদনে অস্বীকৃতি জানায়। চীন বলছে, এ ব্যাপারে তথ্যপ্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত তারা অনুমোদন দেবে না। এতে যুক্তরাষ্ট্র চীনের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়।

চীন-তাইওয়ান ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য চীন ও তাইওয়ান গতকাল মঙ্গলবার একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। গত ৬০ বছরের মধ্যে দুই সরকারের মধ্যে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। দ্য ইকোনমিক কো-অপারেশন ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট (ইসিএফএ) নামের এই চুক্তির আওতায় দুই দেশের কয়েক শ রপ্তানিপণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। তবে এই চুক্তির প্রতিবাদে তাইওয়ানে বিক্ষোভ হয়েছে।
চীনের দক্ষিণাঞ্চলের চংকিং শহরে দ্বিপক্ষীয় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চীনের পক্ষে অ্যাসোসিয়েশন ফর রিলেশন্স অ্যাক্রোস দ্য তাইওয়ান স্ট্রেইটসের (এআরএটিএস) চেয়ারম্যান চেন ইউনলিন ও তাইওয়ানের পক্ষে স্ট্রেইটস এক্সচেঞ্জ ফাউন্ডেশনের (এসইএফ) চেয়ারম্যান পিকে চিয়াং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এর আওতায় আগামী দুই বছরের মধ্যে তাইওয়ানের ৫৩৯টি রপ্তানিপণ্যের শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। এই শুল্কের পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৩৪৮ কোটি মার্কিন ডলার। আর চীনের ২৮৬ কোটি ডলার মূল্যের ২৬৭টি পণ্যের শুল্ক কমিয়ে আনা হবে। এর ফলে চীনের বাজারে প্রবেশে তাইওয়ান প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ পণ্যের শুল্ক ছাড় পাবে।
চেন ইউনলিন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে পারস্পরিক স্বার্থে এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। তাইওয়ান বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান হুয়াং চিং-সুন বলেন, এটা কেবল শুরু। ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া আরও সম্প্রসারিত হবে। পিকে চিয়াং বলেন, ‘চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের একটি বিশেষ সময়ে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে হবে।’
চুক্তির ফলে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে। এখন প্রতিবছর তাদের মধ্যে ১১ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হচ্ছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই চুক্তির ফলে তাইওয়ান বেশি লাভবান হবে। এই চুক্তিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট মা ইং জেওউর সর্বোচ্চ সাফল্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। দুই বছর আগে ক্ষমতায় আসার সময় তিনি চীনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছিলেন। গতকাল স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির জন্য ২০০৮ সাল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
চীন-তাইওয়ান চুক্তির প্রতিবাদে তাইওয়ানের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ হয়েছে। গতকাল তাইওয়ানের কয়েকটি রাস্তায় চুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষাভ মিছিল বের হয়। তবে কয়েকটি জনমত জরিপে তাইওয়ানের জনগণ চুক্তির পক্ষেই রায় দেয়। চুক্তির সমালোচক তাইওয়ানিরা বলেন, এর ফলে তাইওয়ান নানাভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে। রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশে চীন এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে উল্লেখ করে তাঁরা এর কঠোর সমালোচনা করেন। উল্লেখ্য, চীন তাইওয়ানকে তাদের অংশ মনে করে। দেশটি তাইওয়ানকে নিজের সঙ্গে একীভূত করতে দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

মালদ্বীপের মন্ত্রিসভার সব সদস্যের একযোগে পদত্যাগ

মালদ্বীপের মন্ত্রিসভার সব সদস্য গতকাল মঙ্গলবার একযোগে পদত্যাগ করেছেন। পার্লামেন্টে প্রত্যেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আনা হবে—বিরোধীদের এই হুমকির মুখে গতকাল মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেন। দেশটির একজন সরকারি কর্মকর্তা এ কথা জানান। খবর বাসসের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, বিরোধী দল নিয়ন্ত্রিত মজলিসে (পার্লামেন্ট) ১৩ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভার পক্ষে আর কাজ করা সম্ভব ছিল না। তবে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ তাঁর দায়িত্ব পালন করে যাবেন। প্রেসিডেন্ট নাশিদের প্রস্তাবিত একটি উচ্চাভিলাষী বেসরকারীকরণ প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে বিরোধীরা। নাশিদ ২০০৮ সালে দ্বীপদেশটিতে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। দেশটি পর্যটনশিল্পের জন্য বিশ্বে সুপরিচিত।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মন্ত্রিসভা হতাশ’। তিনি বলেন, পার্লামেন্টে প্রতিটি ক্ষেত্রে বিরোধীদের বাধার মুখে তাঁরা কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে পারছিলেন না। বিরোধী দল প্রত্যেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার হুমকি দিয়েছিল। মালদ্বীপের ৭৭ সদস্যবিশিষ্ট পার্লামেন্টে নাশিদের মালদ্বীপ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এমডিপি) সমর্থিত সদস্যসংখ্যা হচ্ছে ৩২। অন্যদিকে বিরোধী দল মালদ্বীপ পিপলস পার্টি (ডিআরপি) সমর্থিত সদস্যসংখ্যা ৪০-এর অধিক।
সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুমের দল ডিআরপি ২০০৮ সালের নির্বাচনে দেশটির একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। যদিও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নাশিদের কাছে মামুন হেরে গিয়েছিলেন। দেশটিতে বর্তমান জনসংখ্যা তিন লাখ ৩০ হাজার।

হন্ডুরাসের অভ্যুত্থানে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধন ছিল: জেলায়া

হন্ডুরাসের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল জেলায়া বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধনে সেনাবাহিনী এক তথাকথিত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত ও দেশছাড়া করে। পার্শ্ববর্তী দেশ ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা জেলায়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন।
এ দিকে জেলায়াকে ক্ষমতাচ্যুত করার এক বছর পূরণ হওয়ার দিনে গত সোমবার হন্ডুরাসের রাজধানী তেগুচিগালপায় তাঁর হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভকারীরা বতর্মান সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে জেলায়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
২০০৯ সালের ২৮ জুন জেলায়া ক্ষমতাচ্যুত হন। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনের মাধ্যমে পরফিরিও লোবো প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গত রোববার থেকেই জেলায়ার সমর্থকেরা রাস্তায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু করেন। গত সোমবার তেগুচিগালপার রাজপথে তাঁদের উপস্থিতি অনেক বেড়ে যায়। এ সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে রাস্তায় দাঙ্গা পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়।
ম্যানুয়েল জেলায়া বলেন, তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে তাঁর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের সুসম্পর্ক ছিল। এ ছাড়া তিনি হন্ডুরাসের ভূখণ্ড ব্যবহার করে গড়ে ওঠা মার্কিন বিমান ঘাঁটিকে বেসামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ দুটি বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী ছিল বলে মার্কিন সরকার ষড়যন্ত্র করে তাঁকে সরিয়ে দিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

যুক্তরাজ্যে ‘ওয়ার্ক ভিসা’ এপ্রিল থেকে সীমিত হচ্ছে

যুক্তরাজ্যে আগামী বছরের এপ্রিল মাস থেকে অ-ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য ওয়ার্ক ভিসার সংখ্যা সীমিত করা হবে। ওয়েবসাইটে পাওয়া যুক্তরাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ইউরোপের বাইরের দেশ থেকে অভিবাসনের সংখ্যা নব্বইয়ের দশকের পর্যায়ে নামিয়ে আনা হবে। তবে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধমে এ বছর সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই সংখ্যা চূড়ান্ত করা হবে। খবর বাসসের।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেরেসা মে গত সোমবার এই নতুন ঘোষণাকালে বলেন, ‘সরকার বিশ্বাস করে, অভিবাসন থেকে ব্রিটেন লাভবান হতে পারে, তবে অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন থেকে নয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিবাসন উপদেষ্টা কমিটি ও সরকারের অভিবাসনবিষয়ক ইনডিপেনডেন্টঅ্যাডভাইজারকে এই সীমা নির্ধারণের জন্য আলোচনা শুরুর নির্দেশ দেন।

কিমের ছেলে উন গোপনে পার্লামেন্ট সদস্য হয়েছেন?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইলের ছোট ছেলে কিম জং উন (২৭) গত বছর গোপনে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার দং এ-ইলবো পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ভালো জানে—এমন উচ্চ পর্যায়ের পশ্চিমা সূত্রের বরাত দিয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কিম জং ইল তাঁর ছোট ছেলে উনকে যে উত্তরাধিকার হিসেবে গড়ে তুলছেন, এটি তাঁর আরেকটি আভাস।
কিম জং উন সম্পর্কে যদিও বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। এর পরও এ কথা ব্যাপকভাবে চাউর হয়েছে যে তাঁর হাতেই ক্ষমতা হস্তান্তর করতে যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম। ২০০৮ সালে কিমের স্ট্রোক করার খবর প্রচারিত হওয়ার পর থেকে এ সম্ভাবনা জোরালো হয়ে ওঠে। ১৯৯৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতার হাল ধরে আছেন কিম জন টন।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালের ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে কিম জং উন গোপনে নির্বাচিত হন। এতে তিনি শুধু ‘কিম জং’ নামে নির্বাচন করেন। তাঁর পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি কেউ জানতে পারেনি। এ কারণে সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলি বলে পরিচিত উত্তর কোরিয়ার পার্লামেন্টে ৬৮৭ জন সদস্যের তালিকায়ও উনের নাম ছিল না।
পশ্চিমা সূত্রের বরাত দিয়ে চোসান ইলবো পত্রিকার প্রতিবেদনের বলা হয়, উত্তর কোরিয়া নির্বাচনের বিষয়টি গোপন রাখতে চেয়েছে বলেই নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্যদের তালিকায় উনের নাম ছিল না।

রাশিয়ার পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ জন গ্রেপ্তার

রাশিয়ার পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে গত রোববার ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা রাশিয়ার ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (এসভিআর) সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণের পর তাঁদের গ্রেপ্তার করে। তবে রাশিয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ দাবি ভিত্তিহীন এবং তা স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার মানসিকতাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। একজন রুশ কর্মকর্তা বলেন, এ অভিযোগ দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের ওয়াশিংটন সফরের তিন দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিনটি অঙ্গরাজ্য থেকে ওই ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। মার্কিন কর্তৃপক্ষ ধারণা করেছে, এঁদের অধিকাংশই রাশিয়ার নাগরিক। তবে তাঁরা আসল পরিচয় গোপন করে কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্তিতে ফেলার চেষ্টা করেছেন। এঁদের কেউ কেউ কয়েক বছর ধরে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছিলেন।
এফবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা মিথ্যা পরিচয় দেওয়া, গোপন ক্যামেরা ব্যবহার ও অদৃশ্য কালি (যে কালি দিয়ে লিখলে খালি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু তাপ প্রয়োগ বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে তা দৃষ্টিগোচর হয়) দিয়ে লেখা বার্তাসহ বিভিন্ন পুরোনো পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। মার্কিন গোয়েন্দারা এমন অনেক বার্তাও উদ্ধার করেছে। এতে বলা হয়, ‘দীর্ঘমেয়াদে কাজ করতেই তোমাদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। তোমাদের শিক্ষা, ব্যাংক হিসাব, বাড়ি-গাড়ি সবকিছুই দেওয়া হয়েছে একটি উদ্দেশ্যে। তোমরা সেই লক্ষ্য পূরণ করো। মার্কিন নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করো আর তথ্য রাশিয়ায় পাঠাও।’
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও অন্য রাষ্ট্রের এজেন্ট হিসেবে বেআইনি কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২০ বছর ও বেআইনি কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে পাঁচ বছর কারাদণ্ড হবে।
গত সোমবার পাঁচজনকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন কেন্দ্রীয় আদালতে নেওয়া হয়। আদালত আগামী ২৭ জুলাই প্রাথমিক শুনানির তারিখ ধার্য করেন। এই পাঁচজন হলেন রিচার্ড মারফি, সিনথিয়া মারফি, ভিকি পেলায়েজ, জুয়ান লাজারো ও আন্না চ্যাপম্যান। এঁদের মধ্যে প্রথম দুজনকে নিউ জার্সি, পরের তিনজনকে নিউইয়র্ক থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই দিন মিখাইল সেমেনকো, মাইকেল জট্টোলি ও প্যাট্রিসিয়া মিলসকে ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়া কেন্দ্রীয় আদালতে হাজির করা হয়। এ তিনজনকেই ভার্জিনিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ম্যাসাচুসেটস থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ডোনাল্ড হাওয়ার্ড হেথফিল্ড ও ট্রেসি লি অ্যান ফোলেকে বোস্টন আদালতে নেওয়া হয়।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা তথ্যগুলো খতিয়ে দেখছি। এতে পরস্পরবিরোধী অনেক বক্তব্য রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক। তবে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক উন্নয়নে এ ঘটনা কোনো প্রভাব ফেলবে না।

লাদেনকে জীবিত ধরতে চেয়েছিলেন ফকনার

আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনকে জীবিত ধরে বিচারের মুখোমুখি করতে চেয়েছিলেন গ্যারি ব্রুকস ফকনার। গতকাল মঙ্গলবার সিবিএস টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাদেনের সন্ধানকারী এই মার্কিন নাগরিক এ কথা বলেন।
বেশ কয়েকবার পাকিস্তানে যাওয়া গ্যারি বলেন, লাদেনকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে এনে তাঁর বিচার করতে চেয়েছিলেন তিনি। এ অভিযানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের লোকজনের সহায়তা পেয়েছেন। এমনকি পাকিস্তান সরকার এ ব্যাপারে তাঁকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। পাকিস্তান সফরকালে দুবার এক পাহাড়ের গুহায় সাদা আলখাল্লা পরা এক দাড়িওয়ালা লোককে ওয়াকিটকিতে কথা বলতে দেখার দাবি করেন গ্যারি। তাঁর ধারণা, ওই ব্যক্তিই ওসামা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা গ্যারি ব্রুকস ফকনার। পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ১৩ জুন অস্ত্রসহ তাঁকে আটক করা হয়। পরে অসুস্থতার কারণে তাঁকে দেশে পাঠিয়ে দেয় পাকিস্তান।

১১ মাসে এডিপির ৬৮% বাস্তবায়ন করা হয়েছে

চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের ১১ মাসে দেশে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৬৮ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে সাত শতাংশ বেশি।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়কালে এডিপি বাবদ ১৯ হাজার ৫২২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময় ব্যয় করা হয়েছিল ১৪ হাজার ৮৮ কোটি টাকা।
আলোচ্য সময়কালে অবশ্য এডিপির মোট ব্যয় করা অর্থের মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ থেকে ব্যয় করা হয়েছে ১২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা। বাকি সাত হাজার ২৩১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে প্রকল্প সাহায্য বাবদ প্রাপ্ত অর্থ থেকে।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, সংশোধিত এডিপিতে যে পরিমাণ টাকা (্স্থানীয় মুদ্রা) বরাদ্দ করা হয়েছিল, তার ৮৯ শতাংশ ছাড় করা হয়েছে। বিপরীতে বরাদ্দ করা ১৭ হাজার ২০০ কোটি টাকার ৭১ শতাংশ ব্যয় করা হয়েছে।
এই বাস্তবতায় অর্থবছর শেষে এডিপি বাস্তবায়নের হার মোট সংশোধিত বরাদ্দের ৯০ শতাংশের নিচে থাকবে বলে ধারণা করা যায়।
২০০৯-১০ অর্থবছরের জন্য প্রথমে ৩০ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নির্ধারণ করা হয়। পরে তা সংশোধন করে কমিয়ে ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
তবে এডিপির আয়তন কমলেও এডিপিতে উন্নয়ন প্রকল্পের সংখ্যা ৮৮৬টি থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৫৮টি করা হয়েছে।
এডিপি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পল্লী-কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে বলেন, ‘যদি গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট না থাকত, তাহলে এবার এডিপি বাস্তবায়নের হার অনেক ভালো হতো। আর তাই আগামী বছর সরকারকে এদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।’
এডিপির পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই ১১ মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে। এই সময়কালে বরাদ্দের প্রায় ৯৭ শতাংশ ব্যয় করতে পেরেছে মন্ত্রণালয়টি।
গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৭৫ শতাংশ, কৃষি মন্ত্রণালয় ৭৩, বিদ্যুৎ বিভাগ ৫৪, সড়ক ও রেলপথ বিভাগ ৬২ শতাংশ হারে এডিপির বরাদ্দ বাস্তবায়ন করেছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেট উপস্থানকালে তাঁর বক্তৃতায় এডিপি প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘গত বাজেট বক্তৃতায় আমি বলেছিলাম, আমাদের সামনে বড় চ্যলেঞ্জ হলো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন হার বাড়াতে আমি পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেছিলাম। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি একনেক সভায় দুটি করে মন্ত্রণালয়/বিভাগের এডিপি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করার জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। এ ছাড়া বৃহৎ ১০টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের এডিপি বাস্তবায়নে বিশেষ নজরদারির জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে এবং বৈদেশিক সাহায্যপ্রাপ্ত সর্বাধিক ব্যয়সাপেক্ষ ৫০টি প্রকল্পের তালিকা প্রণয়ন করে এসব প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর সভাপতিত্বে প্রায় প্রতি সপ্তাহে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জননীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের ভিত্তি মজবুত ও তথ্যভিত্তিক করার লক্ষ্যে আমরা পুনরুজ্জীবিত করেছি পরিসংখ্যান বিভাগকে।’

বিও হিসাবের বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফি বাড়ল

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্যবহূত বেনিফিশিয়ারি ওনার (বিও) হিসাবের বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফি বা মাশুল বাড়ানো হয়েছে।
বিওপ্রতি রক্ষণাবেক্ষণ ফি বর্তমানে ৩০০ টাকা। ২০০ টাকা বাড়িয়ে তা ৫০০ টাকা করা করা হয়েছে। ১ জুলাই অর্থাৎ কাল বৃহস্পতিবার থেকে নতুন মাশুল হার কার্যকর হবে।
গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশনের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
বৃহস্পতিবার থেকে ২০১১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কোনো বিনিয়োগকারী নতুন বিও হিসাব খুললে প্রতি হিসাবের জন্য এই হারে মাশুল পরিশোধ করতে হবে। অন্যদিকে বিদ্যমান বিও হিসাবগুলো নবায়নের ক্ষেত্রেও এই বর্ধিত ফি কার্যকর।
সূত্র জানায়, বিও হিসাবের রক্ষণাবেক্ষণের বর্ধিত ২০০ টাকা সরকারের কোষাগারে জমা হবে। বর্তমানে ৩০০ টাকা বিও রক্ষণাবেক্ষণ ফি থেকে সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড (সিডিবিএল) পায় ১৫০ টাকা, সংশ্লিষ্ট ডিপজিটরি পার্টিসিপেন্ট (ডিপি) পায় ১০০ টাকা আর বাকি ৫০ টাকা পায় এসইসি। ভবিষ্যতেও তারা এই হারেই অর্থ পাবে।
এ ছাড়া বৈঠকে অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালস নামের একটি কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) এবং গ্রিনডেল্টা ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের বিবরণপত্র (প্রসপেক্টাস) অনুমোদন দিয়েছে এসইসি।
জানা গেছে, ওষুধের মৌলিক কাঁচামাল উৎপাদনকারী কোম্পানি অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালস আইপিওর মাধ্যমে এক কোটি ৬০ লাখ শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ১৬ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করবে। কোম্পানিটির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ২৪ কোটি টাকা। শেয়ারসংখ্যা দুই কোটি ৪০ লাখ। শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। আইপিও ইস্যুর পর এর মূলধন বেড়ে দাঁড়াবে ৪০ কোটি টাকা।
সর্বশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০৯ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৫১ পয়সা।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জনতা ব্যাংক লিমিটেড এর ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছে।
গ্রিনডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ডের আকার ১৫০ কোটি টাকা। ইউনিটসংখ্যা ১৫ কোটি। ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। ফান্ডটির উদ্যোক্তা গ্রিনডেল্টা ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। এতে উদ্যোক্তার অংশ ১৫ কোটি টাকা। প্রাক-আইপিও প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬০ কোটি টাকা মূল্যের সমপরিমাণ ইউনিট। আইপিওর মাধ্যমে সাড়ে সাত কোটি ইউনিট বিক্রি করে সংগ্রহ করা হবে আরও ৭৫ কোটি টাকা।

সংসদে ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেট পাস

জাতীয় সংসদে ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেট আজ বুধবার পাস হয়েছে। স্পিকার আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে চলতি অর্থবছরের জন্য এক লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকার এই জাতীয় বাজেট পাস হয়। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং অনুন্নয়ন ব্যয় রয়েছে ৯৩ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা।
উন্নয়নমূলক ব্যয়ের মধ্যে রাজস্ব বাজেট থেকে অর্থায়ন করা উন্নয়ন কর্মসূচিতে এক হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা, এডিপি-বহির্ভূত প্রকল্পে এক হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা এবং কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে এক হাজার ১৯৪ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এই সামগ্রিক বাজেট ব্যয় মেটাতে সরকার রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করেছে ৯২ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা। অতিরিক্ত ব্যয় (ঘাটতি) মেটাতে ঋণ ও বৈদেশিক অনুদান প্রাপ্তির হিসাব করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৩২৩ টাকা।
এদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেট ব্যয়ের বাইরে সরকারের বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ মিলিয়ে মোট এক লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৩ কোটি ৬৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা নির্দিষ্টকরণ বিল জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি ২০১০-১১ বছরের জন্য বাজেট প্রস্তাব এক লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকাও রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ৩১টি ক্ষেত্রে কর কমানো, অব্যাহতি, প্রত্যাহারসহ অর্থ বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের রাজস্ব আয়ে কিছু পরিবর্তন হবে। কিন্তু জাতীয় সংসদে এর কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। অন্যদিকে জাতীয় বাজেটের প্রকৃত ব্যয়ও উত্থাপন করা হয় না। গতকাল রাতে অর্থ বিল পাস হওয়ার আগে সকালের অধিবেশনে সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও সাংসদ মহীউদ্দীন খান আলমগীর বাজেটের প্রকৃত ব্যয় উপস্থাপনের দাবি করেন। তিনি এ ক্ষেত্রে বিশ্বের কয়েকটি দেশে প্রকৃত ব্যয় সংসদে উত্থাপনের তথ্যও দেন।
জাতীয় বাজেট পাস করতে গিয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগ খাতে ৫৩টি অর্থ মঞ্জুরি দাবি তোলা হয়। সেগুলো সংসদ অনুমোদন করে।

মাথা নিচু করে ওঁদের ফেরা

সবার আগে ডেভিড বেকহাম নেমে এলেন। পেছন পেছন জেমি ক্যারাঘার, মাইকেল ক্যারিকরা। খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিলেমিশে নামল স্ত্রী-বান্ধবীদের দল। কারও মুখে হাসি নেই। কেমন যেন শোকমিছিলে যোগ দিতে চলেছেন সবাই।
অথচ হিথ্রোতে বেকহামদের এই অবতরণটা অন্যরকম হতে পারত। অন্তত ইংলিশ সংবাদমাধ্যম অন্যরকম কল্পনাই করে রেখেছিল—‘সোনালি প্রজন্মে’র জেরার্ড, ল্যাম্পার্ড, রুনিরা তাদের জন্য বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে ফিরবেন। সবাই মিলে স্তুতির বন্যায় ভাসাবেন দলকে।
আর এখন ইংলিশ কোচ-খেলোয়াড়েরা ভাসছেন সমালোচনার বন্যায়। সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হচ্ছেন সেই ফ্যাবিও ক্যাপেলো। দলের ব্যর্থতায় কোচকে দায় সব সময়ই নিতে হয়, ফুটবলে সেটা আরও বেশি। আর দলটা যদি ইংলিশ ফুটবল দল হয়, তবে ব্যর্থতার দায়ে তাঁর ন্যুব্জ হয়ে পড়ার কথা।
ক্যাপেলোকে সে রকম আক্রমণই করেছেন সাবেক ইংলিশ ফুটবলার অ্যালান শিয়ারার। শিয়ারারের কাছে মনে হয়েছে, খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোচের সম্পর্ক ভালো ছিল না, ‘ক্যাম্পে অবশ্যই কিছু একটা মৌলিক সমস্যা ছিল। যারা ব্যাপারটা জানে, তারাই শুধু সত্যিটা বলতে পারবে। বাইরে থেকে মনে হয়েছে, খেলোয়াড়দের বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হয়েছে এবং খেলার দিন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর মাঠে ছেড়ে দেওয়ার পর খেলোয়াড়দের অস্বচ্ছন্দ, অপ্রস্তুত এবং পুরো বিভ্রান্ত মনে হয়েছে।’
শুধু ক্যাপেলোর বিপক্ষে নন, শিয়ারার আসলে বিদেশি কোচ আনারই বিপক্ষে। দেশি-বিদেশির প্রতি এমন পক্ষপাত নেই আরেক সাবেক তারকা পল গাসকোয়েনের। কিন্তু ‘গাজ্জা’ও মনে করছেন, দায়টা ক্যাপেলোরই।
গাসকোয়েন অবশ্য নিজের ‘লাইনে’ই কথা বলছেন, ‘আমি জানি না, এটা খেলোয়াড়দের দোষ, নাকি কোচের। তবে এটা ঠিক, দলকে দেখে মনে হয়েছে, তারা বিশ্বকাপ উপভোগ করছিল না। এতদিনের জন্য বাড়ির বাইরে থাকলে খেলোয়াড়দের জন্য উপভোগ করাটা খুব জরুরি।’
কিন্তু ক্যাপেলোর এ রকম ঢালাও সমালোচনা করে যাওয়াটা ঠিক বলে মনে করছেন না সাবেক আইরিশ তারকা রয় কিন। কিন বলেছেন, ক্যাপেলোর চেয়ে ভালো লোক এই দায়িত্বে পাওয়া কঠিন, ‘কোচের সমালোচনা করা এবং তার কাজ নিয়ে সমানে প্রশ্ন করে যাওয়াটা পাগলামি। সে বাছাইপর্বেও ভুল কিছু করেনি, এখনো না। ইংল্যান্ডের জন্য তার মতো কোচ পাওয়া একটা ভাগ্যের ব্যাপার।’
কোচ কোনো ভুল করেননি, দায়টা তাহলে কার? কিন মনে করছেন, ‘সংবাদমাধ্যম ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে যা-ই বলুক, ইংল্যান্ড দলে ফর্মে থাকা বিশ্বমানের খেলোয়াড়ই বেশি ছিল না। লোকেরা বারবার বলে, বিশ্বকাপের একদল খেলোয়াড়—তারা কারা?’ এই প্রশ্ন করে রুনিকে ছাড় দিয়ে এক এক করে সব খেলোয়াড়কে ফর্মের বাইরে বা মানসম্পন্ন নয় বলে ‘প্রমাণ’ করেছেন কিন।
কিনের মতো আক্রমণ না করলেও সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালান মুলারি বলেছেন, ‘খেলোয়াড়েরা ক্যাপেলোকে ডুবিয়েছে, ডুবিয়েছে ইংল্যান্ডের লোকজনকেও।’
ইংল্যান্ডের লোকজন সত্যিই ডুবেছে। কেউ হাত-খরচের পয়সা বাঁচিয়ে, কেউ সংসার-খরচ কমিয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ দেখতে গিয়েছিলেন। ইংল্যান্ড দলের ঘণ্টা খানেক আগে এ রকম সমর্থকদের নিয়ে বিমান পৌঁছাল হিথ্রোতে।
সেখানেই এক সমর্থক, পেশায় ট্রেনচালক স্টিফেন বেইলি বলছিলেন, ‘দুই বছর ধরে টাকা জমিয়ে খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। এখন নিজেকে প্রতারিত মনে হচ্ছে। অথচ খেলোয়াড়দের দেখলাম, বিমানে ওঠার সময় ঠিকই হাসি-তামাশা করছে। আমাদের এই সমর্থনের মূল্য তাহলে কী?

অঘটনের শিকার ভেনাস

উইম্বলডনের কোয়ার্টার ফাইনালে এসে অঘটনে কাটা পড়লেন ভেনাস উইলিয়ামস। কাল বুলগেরিয়ার সভেতানা পিরনকোভার কাছে হেরে গেছেন উইলিয়াম পরিবারের বড় মেয়ে। উইম্বলডনের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন র‌্যাঙ্কিংয়ের ৮২ নম্বর খেলোয়াড়ের কাছে হেরেছেন সরাসরি সেটে (৬-২, ৬-৩)। একই দিনে ২১ নম্বর বাছাই ভেরা জভোনারেভার কাছে হেরে গেছেন বেলজিয়ামের কিম ক্লাইস্টার্স। ম্যাচটি তিনি হেরেছেন ৩-৬, ৬-৪ ও ৬-২ সেটে।

ব্রাজিলের শ্রেষ্ঠত্ব মেনেই বিদায় চিলির

হারের পর হতাশার কথাটাই বেশি শোনা যায় পরাজিত দলের কোচ-খেলোয়াড়দের মুখে। চিলিয়ানরা একটু যেন ব্যতিক্রম। কোচ, খেলোয়াড় সবাই নতমস্তকে মেনে নিয়েছেন প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠত্ব, নিজেদের ব্যর্থতার দায়ভার।
পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কাছে হেরে শেষ চিলির বিশ্বকাপ। বাদ পড়ার হতাশা অবশ্যই আছে, তবে কোনো অভিযোগ নেই। নেই হারের দায় এড়ানোর চেষ্টা। কোচ মার্সেলো বিয়েলসা অকপটে স্বীকার করেছেন, পরশু যোগ্যতর দল হিসেবেই জিতেছে ব্রাজিল, ‘আমাদের বিদায়টা ঠিকই আছে। দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে হয়তো আমাদের ভালো সুযোগ থাকে। কিন্তু ব্রাজিলের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে আমাদের করার তেমন কিছু থাকে না।’
মাঠের পারফরম্যান্স মূল্যায়নেও নিজেদের দুর্বলতা ঢাকার কোনো চেষ্টা করেননি বিয়েলসা। ব্রাজিলের শ্রেষ্ঠত্ব মেনেই নিয়েছেন তিনি, ‘আমাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে ব্রাজিল একটু বেশিই ভালো দল। তাদের থামানো সম্ভব হয়নি আমাদের পক্ষে।’ তবে ম্যাচের আগে ভালো কিছুর প্রত্যাশাই ছিল বিয়েলসার মনে, ‘আশা করেছিলাম, কিছু একটা হয়তো অর্জন করতে পারব আমরা। ভেবেছিলাম ব্রাজিলের অন্তত কাছাকাছি যেতে পারব। আমি বলছি না যে ম্যাচটা একতরফা ছিল। কিন্তু আমরা সে রকম চাপ তৈরি করতে পারিনি, যেটা ওদের বিপদের কারণ হবে।’ বিয়েলসার অতৃপ্তি, ‘আমরা গোলের চেষ্টা করেছি, কাছাকাছি চলেও গেছি। কিন্তু গোলের ভালো সুযোগ কমই পেয়েছি।’
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়াটা সব সময়ই দুঃখের। চিলির কোচও ভাসছেন সেই দুঃখে, ‘এটা খুবই দুঃখের, হতাশার। তবে খেলোয়াড়দের জন্যই বেশি খারাপ লাগছে। সামর্থ্য প্রমাণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে তারা।’
কোচের মতো চিলির খেলোয়াড়েরাও ব্যর্থতা মেনে নিয়েছেন। গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভো বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ ছেড়ে গেলেও মাঠে আমরা সেরাটাই দিয়েছি। একটা সময়ে আমরা খুব ভঙ্গুর দল ছিলাম। আমরা আক্রমণটা খুব ভালো করি, কিন্তু কখন রক্ষণাত্মক ভূমিকায় আসতে হবে, সেটাও জানা থাকা দরকার।’ মিডফিল্ডার জর্জ ভালদিভিয়া বলেছেন একটা কথাই, ‘আমরা সেরা দলের কাছে হেরেছি। এর বেশি কিছু বলার নেই।’
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় মানে কোচের চাকরিও চলে যাওয়ার ব্যবস্থা। তা বিয়েলসারও কি লা রোজাদের সঙ্গে আর থাকা হচ্ছে না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিয়েলসা নির্দিষ্ট করে বললেন না কিছুই, ‘ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সময় এখন নয়। আমি জানি না কী হবে।

তাঁর চেনা প্রতিপক্ষ

ধীরে ধীরে ব্রাজিল অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে, আর আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন কার্লোস দুঙ্গা। চিলির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের পর ব্রাজিল কোচের ঘোষণা, ‘কিছু কিছু লোকের সন্দেহ ছিল আমরা বোধহয় পারফর্ম করতে পারব না। কিন্তু যতই সময় গড়াচ্ছে, আমরা উন্নতি করছি, আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছি। আশা করি, এখন আমরা ফাইনাল খেলতে পারব।’
এমন নয় যে বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের জন্যই এখন ফেবারিট ব্রাজিল। ফেবারিট ছিল তারা বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই। তবে কাগজে-কলমের ফেবারিট-তত্ত্বে খুব একটা বিশ্বাস নেই দুঙ্গার, ‘আমরা জানতাম ব্রাজিলের কাছে সব সময়ই প্রত্যাশা থাকে শিরোপা জয়ের। কিন্তু ফেবারিটের তকমা লেগে থাকা মানেই শিরোপা জেতা নয়, শিরোপা জিততে হলে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই জিততে হবে।’ দুঙ্গাকে সন্তুষ্ট করেছে তাঁর দলের মাঠের পারফরম্যান্সই। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে অনুজ্জ্বল শুরুর পর আইভরিকোস্টের বিপক্ষে ব্রাজিলের পারফরম্যান্সে ছিল উন্নতির ছাপ। গ্রুপের শেষ ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে আবার হতাশাজনক পারফরম্যান্স। দুঙ্গার দল সেরাটা দেখাল পরশু চিলির বিপক্ষে।
মার্সেলো বিয়েলসার চিলিও আক্রমণাত্মক খেলেছে। তবে ব্রাজিল সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে সুযোগ কাজে লাগাতে পারায়। দুঙ্গাও মনে করেন, দুই দলের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে এটাই, ‘ম্যাচটি দারুণ হয়েছে চিলির কারণে। ওরা চমৎকার খেলেছে, ওদের বিপক্ষে ডিফেন্স সামলানো খুব কঠিন। তবে আমরা ভারসাম্য রেখে খেলেছি, সুযোগ কাজে লাগিয়েছি।’
গ্রুপ পর্বে নিজেদের মতো খেলতে না পারা ব্রাজিল সেরাটা দেখাল নকআউট পর্বের মতো চাপের ম্যাচে। দুঙ্গার মতে, এর কারণ এই দলটার সামর্থ্য ও সুদৃঢ় বন্ধন, ‘আমার ছেলেদের সামর্থ্য কাজটা অনেক সহজ করে দিয়েছে। এই দলটা গড়ে উঠেছে গত সাড়ে তিন বছরে। মাঝে মাঝে তাই শুধু একটুখানি দৃষ্টি বা ছোট্ট কোনো কথাতেই তারা বুঝে ফেলে কী করতে হবে। সাড়ে তিন বছরের বন্ধনের প্রতিফলন ছিল এই ম্যাচে। চাপ তাই পাত্তা পায়নি।’
অধিনায়ক ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতা ইতিহাসের দ্বিতীয় ব্যক্তি হতে শেষ আটে দুঙ্গার বাধা পুরোনো শত্রু হল্যান্ড। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে দুঙ্গার নেতৃত্বে শিরোপা জয়ের পথে ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল ডাচদের, পরের বিশ্বকাপে সেই দুঙ্গার নেতৃত্ব্বেই রানার্সআপ হওয়ার পথে ব্রাজিল সেমিফাইনালে হল্যান্ডকে হারিয়েছিল টাইব্রেকারে। দুঙ্গার ধারণা, এবারও হল্যান্ড বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে, ‘হল্যান্ড সব সময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ, দারুণ সব ফুটবলার ওদের সব সময়ই থাকে। দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর মতো ওদের টেকনিক্যাল সামর্থ্যও দারুণ।’
অধিনায়ক দুঙ্গা দুবার পেরেছেন এই বাধা টপকাতে, এবার কোচ দুঙ্গার পালা।

টেস্ট সিরিজ জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা

তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০-তে জিতে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ম্যাচটি বিশাল ব্যবধানে হারার পর দ্বিতীয় ম্যাচ ড্র করে সিরিজ বাঁচানোর সম্ভাবনা জাগিয়েছিল স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু কাল কেনসিংটন ওভালে তৃতীয় ও শেষ টেস্টে ৭ উইকেটে হেরে গেছে তারা চার দিনেই।
প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। প্রথম ইনিংসের ২৩১-এর পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬১ রান তোলে তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন ডেল স্টেইন, মরনে মরকেল ও ইয়োহান বোথা। প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করা দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭। মাত্র ৮.৪ ওভার খেলে ৩ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

ফরাসি সংসদে ডাকা হয়েছে ডমেনেখকে

একজনের চুক্তির মেয়াদ শেষ। আরেকজন ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে ফ্রান্সের বিশ্বকাপের কোচ রেমন্ড ডমেনেখ এবং ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) সদ্য সাবেক হওয়া সভাপতি জাঁ-পিয়েরে এসকালেটসের মুক্তি মিলছে না এত সহজেই। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার কারণ দর্শাতে তাঁদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ফরাসি সংসদের।
দুটি পরাজয় এবং একটি ড্র—বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের তিন ম্যাচে এই ছিল গতবারের রানার্সআপদের কীর্তি। ফলে প্রথম পর্বেই দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে রওনা হয়ে যেতে হয়েছে ফ্রান্সকে। এর জন্য চরম সমালোচনাও হয়েছে বিদায়ী কোচ ডমেনেখ আর সাবেক হওয়া সভাপতি এসকালেটসের। এবার তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে জবাবদিহিও করতে হবে। জাতীয় সংসদের সংস্কৃতিবিষয়ক কমিশনের মুখোমুখি হতে হবে ডমেনেখ-এসকালেটসকে। বিশ্বকাপে ফ্রান্সের দুরবস্থার কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে তাদের।
তবে এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে হয়তো ঝামেলায়ই পড়বে ফরাসি ফুটবল। ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার সতর্ক করে দিয়েছেন—ফ্রান্স সরকার যেন সে দেশের ফুটবলে অনৈতিকভাবে কোনো হস্তক্ষেপ না করে। অতীতে বিভিন্ন দেশের ফুটবলে সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে ফিফা তাদের ফুটবল থেকে নিষিদ্ধও করেছে।

যোগ দিলেন ফেদেরারও

এখন তাঁর ভাবনায় শুধুই উইম্বলডন থাকার কথা। মনজুড়ে থাকার কথা ১৬তম গ্র্যান্ড স্লামের স্বপ্ন। কিন্তু রজার ফেদেরার বিশ্বকাপ ফুটবলে মজে আছেন। মজে থাকবেন, এটা তিনি নিজেই আগে বলে দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ফুটবলের চলমান বিতর্কেও যোগ দিলেন তিনি।
ফেদেরার বলছেন, ফুটবলে অবশ্যই গোললাইন প্রযুক্তি থাকা দরকার, ‘রেফারিদের অনেক ভুল হচ্ছে। কিন্তু তাঁদের দায় দেবেন না। ঘটনা যেখানে ঘটছে, অনেক সময় তাঁরা সেখান থেকে অনেক দূরে থাকছেন। ফলে অনেক বৈধ গোলই বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এটা খুবই হতাশাজনক।’
টেনিস খেলার অভিজ্ঞতা থেকেই ফেদেরার জানেন প্রযুক্তি কতটা উপকার করতে পারে। তিনি বলছেন, গোললাইন প্রযুক্তি ব্যবহার না করায় ফুটবলাররা অন্যায়ের শিকার হচ্ছেন। এমনকি ফেদেরারের ধারণা, টেনিসের চেয়েও ফুটবলে এই প্রযুক্তি বেশি দরকার, ‘একটা ফোরহ্যান্ড লাইনের ওপারে পড়লে খেলার ফল বদলে যায় না। কিন্তু একটা গোল দলের ফল, খেলোয়াড়দের মানসিকতা এবং কৌশলই বদলে দিতে পারে। একটা গোল পেয়ে গেলে কোনো দল রক্ষণাত্মকও হয়ে যেতে পারে।’
ফুটবলে প্রযুক্তির ব্যবহারটা টেনিসের চেয়ে বেশি প্রয়োজন, এ কথার পক্ষে ফেদেরারের আরও যুক্তি আছে। তিনি বলছেন, টেনিসে যেখানে একাধিক লাইন-জাজ শুধু বল লাইনের বাইরে পড়ল না ভেতরে পড়ল দেখার জন্য দাড়িয়ে থাকেন; সেখানে লাইন্সম্যানকে ছোটাছুটির মধ্যে এই লক্ষটা রাখতে হয়, ‘টেনিসে কয়েকজন লোক ছোটাছুটি না করে স্রেফ বসে থাকেন। তারা শুধু লাইনে চোখ রাখেন। এখানে তো ব্যাপারটা অনেক সোজা।’

তাড়াহুড়োয় ছন্দপতন

ছোট ছোট পাসে নিচ থেকে সংগঠিত হও, তারপর আক্রমণে ওঠো—গ্রুপ পর্বের এই খেলাটা দ্বিতীয় রাউন্ডে বদলে ফেলল ব্রাজিল।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইটা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা সহজে পেরিয়ে গেল দ্রুত আক্রমণে ওঠার ছক বাস্তবায়ন করে। এই ব্রাজিল বল চালাচালি করেনি, দু-তিনটা পাস খেলেই চলে গিয়েছে উদ্দেশ্য পূরণ করতে—মানে গোল আদায়ে।
এটা করতে গিয়ে ছন্দপতন। মিস পাসের ছড়াছড়ি। দ্রুত খেলতে চাইলে মিস পাস হবেই। কিন্তু ব্রাজিলের কাছে তা অপ্রত্যাশিত। পাসে কখনো গতি ছিল কম, কখনো বেশি। সবচেয়ে বেশি মিস পাস করল এদিন একাদশে সুযোগ পাওয়া দানি আলভেজ, রামিরেসও কম যায়নি। মিস পাসের সংক্রমণ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারেনি কাকাও!
ব্রাজিলের খেলাটা ছিল এমন—রক্ষণ থেকে বেরিয়েই দ্রুত অ্যাটাকিং থার্ডে চলে যাওয়া। ফ্লাংক ব্যবহারের দরকার নেই। তাই ক্রস হয়ইনি বলতে গেলে। তা না হোক, আক্রমণে খেলোয়াড়-সংখ্যা কম থাকুক, দ্রুত মাঝমাঠ পেরিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়ো। প্রতিপক্ষ রক্ষণ তখনো হয়তো সংগঠিত হয়নি। চিলির রক্ষণ এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে খুব একটা পারঙ্গম নয়, হয়তো এটা ভেবেই দুঙ্গার নেওয়া কৌশলটা কার্যকরই ছিল বলব।
কৌশলের চেয়ে দৃষ্টিসুখকর ফুটবল কতটা খেলল ব্রাজিল, সেটিই অনেকের কাছে বড় প্রশ্ন। এই ব্রাজিল সামগ্রিকভাবে ছন্দ ফিরে পেয়েছে, তবে ব্রাজিলীয় ফুটবলের চিরন্তন সেই ওয়ান টাচ, সুন্দর একটা ব্যাক হিল, দু-তিনজনের মাঝখান দিয়ে বল বের করার চেষ্টা—অসাধারণ এই কাজগুলো ভালোভাবে হয়নি।
রবিনহো, কাকা, আলভেজদের নেওয়া শট ছিল এলোমেলো। তিনটে গোল এলেও আরেকটু ভালো আশা করেছিলাম এই খেলোয়াড়দের কাছ থেকে। মেসি যেমন গোল না পেলেও অনটার্গেট রাখছে তার সব শটই, ব্রাজিলিয়ানদের এটা ঠিকভাবে হচ্ছে না।
আর কাকা? আবার সে ছন্দ হারিয়েছে। ডাবল হলুদ কার্ড পাওয়া ম্যাচেই বরং উজ্জ্বল ছিল ব্রাজিল প্লে-মেকার। তবে এদিন একেবারে নিষ্প্রভও নয়। চমৎকার গোল করিয়ে গোল তৈরির ক্ষমতাটা ঠিকই দেখিয়েছে কাকা।
ভাববেন না শুধু সমালোচনাই করব ব্রাজিলের। এই ব্রাজিলের কাছে প্রত্যাশা বেশি বলে খুঁত ধরছি, তবে এটাও ঠিক দাপট দেখিয়েই তারা জিতল। খেলায় অনেক ভালো দিকও ছিল। প্রথম ৫-৭ মিনিট চিলির দৌড়াদৌড়ি, অ্যাটাকিং থার্ডে ঢোকা—ফণা তুলতে যাওয়া চিলিকে দারুণভাবে বশ মানাল ব্রাজিল। ফ্লাংক থেকে চিলিকে ক্রস করতে দেয়নি। নিজেদের ডিফেন্ডিং থার্ডে ঢুকতে না দিয়ে মাঝমাঠেই ভোঁতা করে দিয়েছে।
ব্রাজিল রক্ষণের কৃতিত্ব এটা। চিলির ফরোয়ার্ডদের বক্সের ভেতর থেকে শট তেমন নিতে দেয়নি লুসিওর রক্ষণ, যা ছিল ‘ফোর ইন লাইন’।

কাকা-রবিনহোই তো এই ব্রাজিলের আলো

সেই প্রিসিলাকে আর খুঁজে পাওয়া গেল না। এলিস পার্ক স্টেডিয়ামের হলুদ-সবুজ অরণ্যে কোথায় আর খুঁজে পাওয়া যাবে কাকা-রবিনহো ভক্ত ব্রাজিল-কন্যাকে? অরণ্যটা আরও ঘন হলো দক্ষিণ আফ্রিকার বাফানা বাফানা সমর্থকদের সৌজন্যে। বাফানা বাফানাদের হলুদ-সবুজ জার্সিগুলোও এই রাতে মিলে গেল ব্রাজিলের সঙ্গে। বুকের কাছে যেখানে আগে লেখা ছিল বাফানা বাফানা, সেখানে এখন সেলেসাও। মার্কার কলমের কালিতে জার্সিগুলো বদলে ফেলেছে নাম।
প্রিসিলা হয়তো নিজের মতো করে কোথাও চিলির বিপক্ষে ব্রাজিলের বিধ্বংসী জয় উদ্যাপন করছে। হয়তো কাকা আর রবিনহোর জন্য নতমস্তকে বসে গেছে প্রার্থনায়, ‘হে ঈশ্বর, আর মাত্র তিনটি ম্যাচের জন্য এই জুটিকে সুস্থির রাখো।’
সত্যিকার অর্থে কাকা-রবিনহো জুটিটা স্ফুলিঙ্গ ছড়াল একটাই মাত্র মুহূর্তে। একটা জাদুকরি সাম্বা ছন্দে রবিনহো একটু আড়াআড়ি পাসে বলটা দিলেন কাকাকে। কাকা তা বাড়িয়ে দিলেন লুইস ফ্যাবিয়ানোকে। আর ফ্যাবিয়ানো গোলরক্ষককে নিমেষে হকচকিত করে বল জড়িয়ে দিলেন জালে। খেলার তখন মাত্রই ৩৮ মিনিট, ব্রাজিল চিলির যাবতীয় হুমকিকে কফিনবন্দী করে এগিয়ে গেল ২-০ ব্যবধানে। ম্যাচটা তখনই মুঠোবন্দী হয়ে পড়ল ব্রাজিলের। রামিরেসের পাস থেকে রবিনহোর গোলে বাকি সব প্রত্যাশাও আশা করা যায় পূরণ হয়ে গেল ৫৯ মিনিটে।
এই ব্রাজিল উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দাঁড়ানো দল। এই ব্রাজিলের গায়ে এখন চ্যাম্পিয়নের রূপের ঝলকানি। তার পরও ব্রাজিলের মধ্যে কিসের যেন অভাব ঠেকছে অনেকের কাছে। মিডিয়া সেন্টারে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আসা সাংবাদিকেরা দ্বিধাবিভক্ত। ‘জোগো বনিতো’ প্রত্যাশী অনেক ব্রাজিল সমর্থকও অকুণ্ঠ মনে আনন্দে ভাসছে না। অজস্র আনন্দবিন্দু দিয়ে গাঁথা ব্রাজিলের ঠাসবুনোন ফুটবল কোথায়? হেক্সা এলে আসবে মরণোত্তর ব্রাজিলের হাতে।
ব্রাজিল কোচ কার্লোস দুঙ্গার এসব কথায় কান দেওয়ার দরকার নেই। তিনি বলে দিয়েছেন, ‘প্রতিটা ম্যাচেই উন্নতির চিহ্ন দেখিয়ে এ ম্যাচে আমার দল প্রায় প্রত্যাশিত রূপে ফিরেছে। আমার দল দেখিয়ে দিয়েছে, কতটা ভারসাম্য আছে সবখানে।’ একেবারে খাঁটি কথা। এই দলটির রক্ষণ যেন সুই ফোটানো যায় না এমন। মাঝমাঠ প্রতিপক্ষের সামনে যেন কাপালিক, বল কেড়ে নিতে এলেই রক্ত লাল চোখে তেড়ে যায়। এই দলটি বিশ্বের তাবৎ ফুটবল-শক্তির একটু একটু করে তুলে নিয়েছে তাদের রেসিপিতে। এরা প্রতিপক্ষকে আহ্বান জানায়, এসো আমাদের সীমানায়। তারপর তাদের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে ঝড়ের বেগে যায় পাল্টা আক্রমণে। তারা যেন নীল জার্সির ইতালি! এরা প্রথম গোল পাওয়ার জন্য বিরতিহীনভাবে শট নিতে থাকে প্রতিপক্ষের পোস্ট লক্ষ্য করে। বাঁ প্রান্ত, ডান প্রান্ত, যেকোনো জায়গা থেকে। এরা তখন জার্মানির চেহারায়। এই ব্রাজিল কর্নার কিক থেকে গোল করতে ইংলিশদের মতো দক্ষ। এই ব্রাজিল সৃষ্টিশীল আনন্দদায়ী মুহূর্তও উপহার দিতে পারে। নেই নেই হাহাকারের মধ্যেও কাকা-রবিনহো জুটি যেমন কিছু মুহূর্ত সৃষ্টি করল। এই সেলেসাও সবকিছুর জন্য প্রস্তুত। এরা গতি দিয়ে গতিকে সামাল দেওয়ার জন্য কুণ্ঠাবোধ করে না। চিলি গতিসম্পন্ন দল জেনেই তাই দুঙ্গা নামিয়ে দিয়েছিলেন রামিরেস ও দানি আলভেজকে। জোগো বনিতোর দরকার তো নেই, দরকার আছে সৃষ্টিশীল দুই খেলোয়াড়কে—যাঁরা তাঁদের পায়ের ছন্দে ম্যাচের রূপ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। কাকা ও রবিনহো সেই দুজন।
সংবাদ সম্মেলনে দুঙ্গার গম্ভীর মুখে আনন্দ জেগে উঠল ব্রাজিল তাঁর প্রত্যাশামতো খেলল বলেই। তবে আনন্দের পাশে একটা উদ্বেগও আছে ব্রাজিল কোচের। কাকা যে হলুদ কার্ডের হ্যাটট্রিক করে বসলেন! ম্যাচের ৩০ মিনিটে আর্তুরো ভিদালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড পেয়েছেন তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ফুটবলারটি। আইভরিকোস্টের সঙ্গে দুই হলুদ কার্ড পাওয়া কাকা আবার কেন রেফারির খাতায় কালো দাগ পাবেন? তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন কাকাকে। মোটেই বকুনি দেওয়ার মতো করে নয়, ‘এটা একটা সমস্যা। কাকাকে বুঝতে হবে ব্রাজিলের জন্য তাকে কতটা দরকার।’
কাকা কেন এমন করছেন? বুকের গভীরের যন্ত্রণা থেকে! ‘রবিনহো মাঠ আলো করছে, গোলও পেয়ে গেল, আর আমি এখনো কিছুই দেখাতে পারলাম না’—এমন উপলব্ধির যন্ত্রণা? তবে এই অপ্রকাশিত কাকার পেছনেই দেখা যাচ্ছে লম্বা সমর্থনের মিছিল। রবিনহোর পাশে কাকার খণ্ডিত উপস্থিতিই নাকি হলুদ-সবুজ অরণ্যে অনেক প্রাপ্তি! সামনে নিশ্চয়ই ডানা মেলে ওড়ার বড় আকাশটা তিনি খুঁজে নেবেন।

ঘানা যেখানে আলাদা

ক্যামেরুনের ছিল একজন রজার মিলা, সেনেগালের এল হাজি দিউফ। ঘানার কে?
প্রশ্নটা উঠত না, যদি মাইকেল এসিয়েন মাঠের বাইরে না থাকতেন। কিন্তু গত জানুয়ারি থেকে দলের সবচেয়ে বড় তারকাকে ছাড়াই খেলছে ঘানা। তার পরও সাফল্যের মালা গেঁথে চলেছে দলটি। আফ্রিকার মাটিতে আফ্রিকার একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে টিকে আছে ঘানা।
কীভাবে এটা সম্ভব হলো? দলীয় শক্তির জোরে। ঠিক এই জায়গাটায় ক্যামেরুন-সেনেগালের চেয়ে একটু আলাদা করা যায় ঘানাকে। ১৯৯০ সালে ক্যামেরুনকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে বড় অবদান ছিল ৩৮ বছরের রজার মিলার। ২০০২ বিশ্বকাপে সেনেগালও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল এল হাজি দিয়ুফের অগ্রণী ভূমিকায়। আফ্রিকার তৃতীয় দেশ হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে ঘানার নাম লেখানো একজন মিলা বা দিয়ুফকে ছাড়াই।
কাকতালীয় ব্যাপার, ক্যামেরুন-সেনেগাল-ঘানা তাদের ওই কোয়ার্টার ফাইনাল মিশনটা শুরু করেছে ১-০ জয় দিয়ে। প্রথম দুটি দলের শুরুটা ছিল সাড়া জাগানো। হারিয়ে দিয়েছিল তারা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নকে। ১৯৯০ সালে ক্যামেরুনের হাতে আর্জেন্টিনা-বধ, ২০০২ সালে সেনেগালের শিকার ছিল ফ্রান্স।
মিলানে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পথে দ্বিতীয়ার্ধে গোল করলেন ওমাম বিয়িক। এই ম্যাচেই দুটি লাল কার্ড দেখে শেষ দিকে ক্যামেরুন খেলল ৯ জন নিয়ে! ১২ বছর পর সিউলে সেনেগালের হাতে ফ্রান্স-বধের নায়ক ছিলেন তারকা মিডফিল্ডার পাপা বুবা দিউফ। তাঁর গোলেই এল সেনেগালের সেই সাড়া ফেলে দেওয়া জয়।
ঘানাও সাড়া ফেলল, তবে একক কোনো খেলোয়াড়ের হাত ধরে নয়। গোটা একটা দল হয়ে খেলার ফসল ঘরে তুলল তারা। প্রথম ম্যাচে হারাল ১০ জনের সার্বিয়াকে। পরের ম্যাচে ১০ জনের অস্ট্রেলিয়া ১-১-এ রুখে দিল তাদের। শেষ গ্রুপ ম্যাচে জার্মানির কাছে হেরেও গোল-গড়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা। এরপর কী ঘটল, তা তো সবারই জানা।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে ১-১, তারপর অতিরিক্ত সময়ে স্ট্রাইকার আসামোয়া জিয়ানের গোল ক্যামেরুন, সেনেগালের পাশে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ঘানাকে।
রিচার্ড কিংসন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল উইগানের তৃতীয় গোলরক্ষক হতে পারেন, অস্ট্রেলিয়াকে একটা গোল উপহার দিলেও দক্ষিণ আফ্রিকায় কিন্তু নজর কেড়েছেন ঘানার গোলরক্ষক।
আফ্রিকান কামানের একটা ফুটো দিক হতে পারে তাদের রক্ষণ। তবে ঘানার রক্ষণটা তেমন নয়। সান্ডারল্যান্ডে খেলা অধিনায়ক মেনশাহ, ফুলহামের পান্টসিল এবং তাদের সতীর্থরা যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণগুলো থামিয়ে দিয়েছেন দারুণভাবে।
পাঁচ মিডফিল্ডারের একজন তিনবারের আফ্রিকার বর্ষসেরা ফুটবলার আবেদি পেলের ছেলে আন্দ্রে আইয়ু একইসঙ্গে রক্ষণ এবং আক্রমণে রাখছেন ভূমিকা। তবে গোলের জন্য শুধু জিয়ানের ওপর নির্ভর করা কোচ মিলোভান রাজেভাচের চিন্তার কারণ বটে।
ঘানার অবস্থা জার্মানির মতো অনেকটা। ইনুজরিতে পড়া মাইকেল বালাককে ছাড়া যেভাবে চলছে, সেভাবেই এসিয়েনকে ছাড়া ঘানা। চেলসিতে বালাক-এসিয়েন আবার সতীর্থ ছিলেন এই সেদিনও। তার পরও তো এখন ঘানা-জার্মানি দুই দলেরই উপলব্ধিটা এমন, নিজ নিজ সেরা অস্ত্রকে ছাড়াও এগিয়ে যাওয়া যায়। ঘানা কোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে উরুগুয়ের সঙ্গে, জার্মানির প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা।
বড় দলগুলোর সঙ্গে চোখ এখন ঘানার ওপরও। একজন মিলা-দিয়ুফ ছাড়া কত দূর যেতে পারবে তারা, সেটিই এখন দেখার।

আরও কিছু দিতে চান মুলার

স্বপ্ন, নাকি রূপকথা! টমাস মুলারের বদলে যাওয়া ভুবনকে কী বলবেন? যাঁর যা খুশি বলতে পারেন। তবে স্বপ্ন বা রূপকথা নয়, পুরোটাই বাস্তব।
ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে জার্মানি। এ পর্যন্ত আসতে জার্মানি যে চারটি ম্যাচ খেলেছে, এর সব কটিতেই দুর্দান্ত খেলেছেন মুলার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জার্মানির এই মিডফিল্ডার যে দুটি গোল করেছেন, এক কথায় তা ছিল অসাধারণ। মুলারের খেলা দেখে অনেকেই বলছেন, এই বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড় হতে পারেন তিনি।
মুলারের পাদপ্রদীপের আলোর নিচে চলে আসা কিন্তু হঠাৎ করেই। দু বছর আগেও বায়ার্ন মিউনিখের দ্বিতীয় দলে খেলতেন। এরপর বায়ার্ন মিউনিখের মূল দলে চলে এলেও কাটছিল বসে বসে বেঞ্চ গরম করেই।
বায়ার্নের দ্বিতীয় দলের হয়ে খেলার সময় তাঁর দুর্দান্ত গতি আর কাড়িকুড়ি দেখে মুগ্ধ হন বায়ার্নের নতুন কোচ লুইস ফন গল। বেঞ্চ থেকে বায়ার্ন মিউনিখের মূল দলের হয়ে মাঠে নামা তাঁর সেই সূত্রেই। গত আগস্টে বায়ার্নের মূল দলের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলেছেন। ভাগ্যও ঘুরে যায় সেই থেকেই।
বায়ার্নের হয়ে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটিয়ে ডাক পান জার্মান দলে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে ভালো খেলেই লোকে বুঝিয়ে দেন সুযোগ পেলে বিশ্বকাপেও কিছু করতে পারেন। ডাক পেলেন বিশ্বকাপ দলে। পেলেন মাইকেল বালাকের ১৩ নম্বর জার্সিও।
রূপকথার এখানেই শেষ নয়। সেই রূপকথা কীভাবে এগিয়ে চলছে, বিশ্বকাপ যাঁরা অনুসরণ করছেন, তাঁরা তো দেখতেই পাচ্ছেন। কোচ লো মুগ্ধ মুলারে, ‘টমাস অবিশ্বাস্য এক খেলোয়াড়। স্কিলও দুর্দান্ত। আর গোলের সামনে তার মাথা থাকে একেবারে বরফের মতো ঠান্ডা!’
কিন্তু এসবই মূল্যহীন হয়ে যাবে, কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে জার্মানিকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলে। বয়স মাত্র কুড়ি হলেও সত্যিটা খুব ভালো করেই জানেন মুলার। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে তাই বলেছেন, ‘আমরা আর্জেন্টিনার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়লে এ সবকিছুই মূল্যহীন হয়ে যাবে। আমরা আরও দূরে যেতে চাই। এখানে বিশ্বকাপ জিততেই এসেছি।