Tuesday, August 4, 2015

মর্যাদা বেড়েছে নিম্ন মধ্যম আয়ের বাংলাদেশের by শওকত হোসেন

বাংলাদেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ
এমন নয় যে সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, আপনার পকেটে থাকা একমাত্র এক শ টাকার নোটটি রাতারাতি দ্বিগুণ হয়ে গেছে। অফিসে এসে বেতন বাড়ারও খবর পেলেন না। পরিবর্তনই হলো না কিছুই, সবই আগের মতো আছে। অথচ আপনি কিন্তু রাতারাতি নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের নাগরিক হয়ে গেছেন। তাহলে বাংলাদেশের লাভটা কী হলো? তারাপদ রায়ের সেই কবিতা থেকে বলা যায়, ‘অসীম দয়ার শরীর আপনার/ আপনি এসে আমাকে বললেন,/ না, গরিব কথাটা খুব খারাপ/ ওতে মানুষের মর্যাদা হানি হয়।’ পার্থক্য এটাই। তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বাংলাদেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এই নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদাই খানিকটা বেড়েছে। এর বাইরে অর্থনৈতিক লাভ আপাতত আর কিছু হয়নি।
কোন দেশ নিম্ন আয়ের, আর কোন কোন দেশ উচ্চ বা মধ্যম আয়ের, তা নির্ধারণ করে একমাত্র বিশ্বব্যাংক। মূলত কোন দেশগুলোকে তারা কী ধরনের ঋণ দেবে, সেটা ঠিক করতেই এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। বিশ্বব্যাংকের পরিমাপ অনুযায়ী, ১ হাজার ৪৫ ডলার থেকে ১২ হাজার ৭৩৫ ডলার পর্যন্ত মাথাপিছু জাতীয় আয় হলে একটি দেশ মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় ঢুকে পড়বে। তবে যেহেতু সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ আয়ের মধ্যে পার্থক্যটি অনেক বড়, তাই মধ্যম আয়কে আবার দুটি উপখাতে ভাগ করেছে বিশ্বব্যাংক। অনেকটা উচ্চ মধ্যবিত্ত আর নিম্ন মধ্যবিত্তের মতো। আর এই ভাগ অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় ঢুকেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে বাংলাদেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় (জিএনআই) এখন ১ হাজার ৩১৪ ডলার। তবে বিশ্বব্যাংকের পরিমাপ পদ্ধতিতে বাংলাদেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় ১ হাজার ৮০ ডলার। অর্থাৎ সামান্য ওপরে আছে বাংলাদেশ। সুতরাং ঝুঁকিও আছে বাংলাদেশের। যেমন, গৃহযুদ্ধ ও জাতীয় তেল খনি নিয়ে বিপত্তির কারণে দক্ষিণ সুদান নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে নিচে নেমে নিম্ন আয়ের দেশে চলে গেছে।
জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার ফলে দেশ হিসেবে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত হবে। দেশের ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে এ অর্জন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। কিন্তু তাতে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না। এই অর্জনের ফলে এখন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়াও একটু কঠিন হতে পারে। কারণ, ঋণদাতারা এখন হয়তো কিছুটা কঠিন শর্ত জুড়ে দিতে পারে। তাই সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এ ছাড়া স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ যেসব সুবিধা পেয়ে থাকে, সেগুলো যেন অব্যাহত থাকে, এ ব্যাপারেও সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।
বাংলাদেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ
বিশ্বব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মধ্যম আয়ের তালিকায় ঢুকলেও বাংলাদেশ সহজ শর্তের (আইডিএ) ঋণ পেতে থাকবে। যেমন এখন ৩৯ বছরে পরিশোধযোগ্য ঋণ পায় বাংলাদেশ। পরিশোধের জন্য বাড়তি আরও ৬ বছর দেওয়া হয়। আর সুদ দিতে হবে দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে। তবে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ২০০ ডলার হলে এই ঋণ আর পাবে না। তখন ৫ শতাংশের বেশি সুদে ঋণ নিতে হবে। থাকবে না পরিশোধের দীর্ঘ সময়। মধ্যবিত্তরা যেমন হাত পাততে পারে না, মধ্যম আয়ের দেশ হলে বাংলাদেশও তা আর করতে পারবে না। সুতরাং এখন থেকেই সে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।
আয় বৃদ্ধিই উন্নয়ন নয়: মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে কেবল মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিকেই সূচক হিসেবে গণ্য করে বিশ্বব্যাংক। কেবল মাথাপিছু জাতীয় বৃদ্ধির প্রবণতা থেকে তারা এই তালিকা করে থাকে। আর কোনো সূচক বিবেচনা করা হয় না। অথচ প্রবৃদ্ধির সুফল গড়িয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে যাওয়ার তত্ত্ব বাতিল হয়ে গেছে সেই ষাটের দশকেই। সে সময়ে অর্থনীতিবিদেরা গবেষণা করে দেখান, অনেক দেশে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও এর সুফল দরিদ্র মানুষেরা পাননি। অনেক দেশে বৈষম্য বেড়েছে, অপূর্ণাঙ্গ কর্মসংস্থান বেড়েছে কৃষি খাতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমানেরও অবনতি ঘটেছে।
সত্তরের দশকেই অর্থনীতিবিদেরা এটা মেনে নেন যে কেবল মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি একটি দেশের উন্নয়নের সঠিক বা যথাযথ নির্দেশক নয়। এরপরই উন্নয়ন তত্ত্বে পুনর্বণ্টন এবং সামাজিক সূচক বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এলডিসি থেকে উত্তরণ: জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকের ভিত্তিতে বিশ্বের দেশগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করে। যেমন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি), উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশ। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত বা এলডিসি। বর্তমানে এলডিসিতে আছে ৪৮টি দেশ। অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এলডিসি থেকে উত্তরণ। কারণ, এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য আয় বাড়ানোর পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়।
বিশ্বব্যাপী এখন নিম্ন আয়ের দেশের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। ১৯৯৪ সালে নিম্ন আয়ের দেশ ছিল ৬৪টি, এখন তা মাত্র ৩১টি। বিশ্বে এখন সবচেয়ে বেশি আছে মধ্যম আয়ের দেশ। এই দেশগুলোর বেশির ভাগই ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই জায়গায় রয়ে গেছে। বেশির ভাগ দেশ মধ্যম আয়ের দেশ হয়েই আছে, উচ্চ আয়ের দেশ হতে পারছে না। একে এখন বলা হচ্ছে মধ্যম আয়ের ফাঁদ। এ থেকে এমনকি রাশিয়া, চীন, ব্রাজিল বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশও বের হতে পারছে না।
তিনটি কারণে এবার বাংলাদেশ ২০২১ সালের আগেই মধ্যম আয়ের দেশ হতে পেরেছে। যেমন প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশ হওয়ায় গড়ে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৪ শতাংশ হারে। দ্বিতীয়ত, জাতীয় আয়কে সূচক হিসেবে নেওয়ায় প্রবাসী-আয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে আয়ও বেশি দেখানো যাচ্ছে। আর ডলার ও টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকার সুবিধাও বাংলাদেশ পেয়েছে। অতীতে দেখা গেছে, ডলারের তুলনায় টাকার অবমূল্যায়ন হয় এবং এতে টাকায় জাতীয় আয় বাড়লেও ডলারে তা বাড়ে না।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে এলডিসি নিয়ে কাজ করছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, দ্রুততর সময়ে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ায় উৎফুল্ল হলেও তৃপ্ত হওয়া যাচ্ছে না। কারণ, কেবল আয় বৃদ্ধিকে এখন আর উন্নয়ন বলা যায় না। এ কারণেই এলডিসি থেকে উত্তরণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ, এর সঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনীতির ভঙ্গুরতার বিষয়টি জড়িত আছে। যেমন এক পণ্যের ওপর নির্ভরতা। বাংলাদেশ যেমন তৈরি পোশাকের মতো এক পণ্যে নির্ভর। সুতরাং এসব বিষয়ে নজর দিলেই বাংলাদেশ বেশি লাভবান হবে।

‘বাংলাদেশ অ্যান্ড ইটস ফিউচার’ by সৈয়দ আবুল মকসুদ

যে বিষয় নিয়ে আজ বাংলাদেশের প্রতিটি পল্লিতে আলোচনা হওয়ার কথা, আদৌ হচ্ছে না তাও নয়—চুপে চুপে হচ্ছে, সেই বিষয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ওয়েস্টমিনস্টার হলে আলোচনা হলো ১৭ জুন। ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড ইটস ফিউচার’ (বাংলাদেশ এবং এর ভবিষ্যৎ) শীর্ষক বিতর্কে ২০ জনের বেশি এমপি উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় অংশ নেন আটজন। তিনজন সদ্য নির্বাচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি শ্রোতা হিসেবেও উপস্থিত ছিলেন না।
উল্লিখিত শিরোনামে আলোচনায় বসার কথা বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাদের। তা ছাড়া, ওই বিষয়ে বিতর্ক করার কথা দেশের একাডেমিশিয়ানদের। জনগণের সামনে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরার কথা আজ দেশের বুদ্ধিজীবীদের। তাঁরা মঠবাসী সন্ন্যাসীদের মতো মৌনতা অবলম্বন করেছেন, সুফি-দরবেশের মতো তাঁদের কথাবার্তায় মরমি ভাবটাই বেশি—রূঢ় বাস্তবতার বিচার-বিশ্লেষণ নেই। দেশের বর্তমান অবস্থায় এবং ভবিষ্যতের প্রশ্নে তাঁরা খুবই পরিতৃপ্ত।
আলোচনাটা হয়েছে তখন, যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে উপস্থিত। হাউস অব কমন্সের ওয়েস্টমিনস্টার হলে বিতর্কের উদ্যোক্তা পার্লামেন্টের বাংলাদেশ-বিষয়ক সর্বদলীয় কমিটির সভাপতি অ্যান মেইন। বেশির ভাগ এমপি আগের দিন পার্লামেন্টে এক সভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করেন। এমপিদের প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ-বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুগো সয়্যার। ব্রিটিশ এমপিরা কেউই ভবিষ্যদ্বক্তা কিরোর শিষ্য নন যে কোনো দেশের রাশিফল গুনে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলে দিতে পারেন।
বাংলাদেশটার কোনো দোষ নেই। এককালে সত্যিই ছিল ছায়া-সুনিবিড় শান্তির নীড়, নদী বা পুকুরঘাট থেকে কলসে পানি ভরে যখন কোনো নারী ঘরে ফিরত, তখন তাকে ‘মা বলিতে প্রাণ’ আনচান করত যেকোনো মানুষের। আজ ঘর থেকে রাস্তায় বেরোলে যেকোনো বয়সী নারীর বুকই যে শুধু কাঁপে তা-ই নয়, পুরুষেরাও আতঙ্কের মধ্যে থাকে। যেকোনো সময় যেকোনো দিক থেকে দলবিশেষের ছাত্র ও যুবনেতারা রোমান সৈন্যদের মতো বীরবিক্রমে তার ওপরে এসে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। কী কারণে যুদ্ধ ঘোষণা তা জানার আগেই ২০-২৫ জনের ফাটবে মাথা এবং দৌড়াতে গিয়ে পড়ে ভাঙবে হাঁটু। সব সময়ই যে টেন্ডারের বাক্স নিয়ে হবে তা নয়, কখনো হবে ইফতারির প্যাকেট নিয়ে, কখনো সভাপতি ও প্রধান অতিথি হওয়া নিয়ে। সভায় সামনের সারির চেয়ারে বসা নিয়ে বিবাদে চেয়ারগুলো ঘরের মধ্যেই যে ক্ষেপণাস্ত্রের মতো ব্যবহৃত হয় তা-ই নয়, আশপাশের রাস্তায় পথচারীর মাথার ওপর দিয়ে মাঝারি পাল্লার মিসাইলের মতো উড়তে থাকে।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আলোচ্য সভায় এমপিরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশের অসহিষ্ণু রাজনীতি বিদেশে থাকা দলীয় সমর্থকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন লন্ডনে স্থানীয় বিএনপির বিক্ষোভ এবং সবশেষে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে দুই পক্ষের জব্বারের বলীখেলা দূর থেকে দেখেই তাঁরা ভয় পেয়েছেন। অতিসহিষ্ণু ব্রিটিশ পুলিশ দু-একজনকে আটক পর্যন্ত করতে বাধ্য হয়েছে।
হিথরো বা জন এফ কেনেডি কুর্মিটোলা বিমানবন্দর নয়, বাংলাদেশের কোনো নেতা সেখানে গিয়ে অবতরণ করলে তাঁর সমর্থকদের দল বেঁধে সেখানে গিয়ে অভ্যর্থনা জানাতে হবে, এমন কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। প্রধানমন্ত্রী দেশের সব মানুষের প্রধানমন্ত্রী, শুধু তাঁর দলের লোকদের নন। তাই সবচেয়ে ভালো হয় বাংলাদেশের বিভিন্ন দলের নেতৃস্থানীয় কয়েকজন ফুলের তোড়া নিয়ে বিমানবন্দরে গিয়ে স্বাগত জানালে। আরও সম্মানজনক হয় যদি ওই সব দেশের নেতাদের কেউ স্বাগত জানান। দুই বিবদমান গোত্রের ভাড়াটে লোকেরা সেখানে গিয়ে অশ্রাব্য স্লোগান দেবেন, ঘুষাঘুষি করবেন, নেতার গাড়িতে হামলা করতে চাইবেন বা পাদুকা নিক্ষেপ করবেন, তা খুবই নিন্দনীয় ও নিকৃষ্ট অপকর্ম।
গত পঁচিশ বছরে বিভিন্ন সরকারপ্রধানের ব্রিটেন-আমেরিকা সফরের সময় অসভ্য আচরণ করেছে ওই সব দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কোনো কোনো গোত্র। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে দৌড়াতে গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কেউ কোমরে ও হাঁটুতে চোট পেয়েছেন, পুলিশের হান্টারের বাড়ি পড়েছে কারও পাঁজরের হাড়ে, নিজেদের ঘুষাঘুষিতে থুতনির হাড় ভেঙেছে কারও কারও। কেউ কেউ রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে করেছেন পরস্পরকে চপেটাঘাত।
বিতর্কে হুগো সয়্যার বলেছেন, গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে নাশকতার ঘটনায় শতাধিক লোক প্রাণ হারিয়েছেন। বিরোধী পক্ষের বহু লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় একটি সুযোগ নষ্ট হয়েছে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সময়। এই নির্বাচন জালিয়াতি ও সহিংসতার দোষে দুষ্ট ছিল। বিতর্কের সূচনা বক্তব্যে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলীয় এমপি অ্যান মেইন রাজনৈতিক সংঘাত এবং অস্থিরতাকে বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, রক্তপাতহীন নির্বাচনের নজির বাংলাদেশে নেই। তবে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত সিটি মেয়র নির্বাচনটি ছিল সবচেয়ে দুঃখজনক। যুক্তরাজ্য প্রতিবছর বাংলাদেশকে ২৫ কোটি পাউন্ড সাহায্য দেয়, তাতে দুর্নীতি হচ্ছে কী পরিমাণ, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, বাংলাদেশে দুর্নীতি একটি ভয়াবহ সমস্যা।
লেবার দলের এমপি জিম ফিটজপ্যাট্রিক বলেন, আওয়ামী লীগ একসময় জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধেছিল। এখন বিএনপি তাদের সঙ্গে জোট বেঁধে রাজনীতি করছে। অ্যান মেইন বলেন, তিনি শুনেছেন যে পাকিস্তানের অর্থায়নে জামায়াত পরিচালিত হয়। তবে এ বিষয়ে তার কাছে কোনো প্রমাণ নেই। কনজারভেটিভ এমপি মার্ক ফিল্ড অতীতমুখী রাজনীতি অগ্রগতির জন্য শুভ নয় মন্তব্য করে বলেন, ৪৪ বছর আগে যে গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, তার বিচার একটা পর্যায় পর্যন্ত নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি সমঝোতার মাধ্যমে এর ইতি টানার বিষয়টিও জরুরি।
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সমস্যা, মানব পাচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করেন ব্রিটিশ এমপিরা। মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে সয়্যার বলেন, যুক্তরাজ্য মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করে না। প্রায় সব এমপি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতার জন্য খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সরকার যে অভিযোগ করছে, তার উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, অভিযোগের ও ঘটনাবলির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
সমগ্র মহাজগতে পক্ষ-বিপক্ষ শক্তি রয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারি দল ও সরকারবিরোধী দল থাকতেই হবে। মহাজোট সরকার সাংবিধানিক, কিন্তু দেশে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও শিষ্টাচার নেই। অসংখ্য বিরোধী নেতা-কর্মী হয় জেলে, নয়তো গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, অথবা হয়রানির শিকার। সমাবেশ-বিক্ষোভ করা, সরকারের কোনো কাজের সমালোচনা করা গণতান্ত্রিক অধিকার। দ্বিতীয় মেয়াদের ক্যামেরন সরকারের বয়স দুই মাসও হয়নি। এই সপ্তাহে তাঁর বিরুদ্ধে লন্ডনে লাখ লাখ লোক উত্তাল বিক্ষোভ করছে। সরকার তাদের নির্মূল করার উদ্যোগ নেয়নি। কারণ, ওদেশে গণতন্ত্র আছে।
হঠাৎ হঠাৎ অতীতের দু-একটি স্মৃতি মনে পড়ে। বাহাত্তরের প্রথম দিকে বঙ্গবন্ধু মস্কো সফরে যান। যেদিন ফেরেন সেদিন আমরা অনেকেই তেজগাঁও বিমানবন্দরে ছিলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর বিশ্বস্ত কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের অনেকে। যেমন তাঁর সচিব রফিকুল্লাহ চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শাহ কিবরিয়া, ফারুক চৌধুরী, প্রেস সচিব আবুল হাশেম, এইচ টি ইমাম, আমিনুল হক বাদশা, শেখ কামাল প্রমুখ। রয়টারের একজন সংবাদদাতা ও হিন্দুস্তান স্ট্যান্ডার্ড-এর তুষার পণ্ডিত রফিকুল্লাহ চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলেন, সরকারব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন হবে কি না? জনাব চৌধুরী বললেন, বঙ্গবন্ধু সংসদীয় পদ্ধতি থেকে একচুলও নড়তে চান না। ‘একচুল’ কথাটি আমার মনে আছে।
বিএনপি হিতার্থীরা কয়েক দিন যাবৎ বলাকওয়া করেছেন, জিয়ার আদর্শ থেকে সরে যাওয়াই দলের বিপর্যয়ের কারণ। তাঁরা বিএনপিকে জিয়ার আদর্শে ফিরে যাওয়ার উপদেশ দিচ্ছেন। যা হোক, সেটা তাঁরা বুঝবেন। আমার এই রচনাটি এমন একটি দিনে প্রকাশিত হবে, যেটি আওয়ামী লীগের জন্মদিন। বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাস ও আওয়ামী লীগ অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। অত বড় দলকে আমার মতো সামান্য মানুষের উপদেশ দেওয়া ধৃষ্টতা। বাংলাদেশকে বাঁচাতে আওয়ামী লীগ যদি ফিরে যেত ১৯৪৯-এর ২৩ জুন এবং বঙ্গবন্ধুর ১১ জানুয়ারি ’৭২-এর মতাদর্শে! ভাসানীর বাংলা ডিকটেশনে শামসুল হকের ইংরেজিতে লেখা আওয়ামী লীগের মূল দলিলটি আমার কাছে আছে। তাতে লেখা আছে—রাষ্ট্র পরিচালিত হবে ‘...অব দ্য প্রিন্সিপালস অব ট্রু ডেমোক্রেসি’ এবং নাগরিক অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছিল—‘টু সেফগার্ড সিভিল লিবার্টিজ, সাচ অ্যাজ ইনডিভিজুয়াল অ্যান্ড কালেকটিভ ফ্রিডম অব বিলিফ, এক্সপ্রেশন, অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড অর্গানাইজেশন।’
সে ছিল এক অন্য রকম সময়। ’৭২-এর ১১ জানুয়ারি বঙ্গভবন, হেয়ার রোড ও ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধু ভবনে ছোটাছুটি করেছি। বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন এবং অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছেন দলীয় সহকর্মীদের সঙ্গে। তখন প্রাণহীন শহরে গাড়ি ছিল অল্প, যানজট শব্দটি উদ্ভাবিত হয়নি। হেয়ার রোড থেকে ৩২ নম্বরে যেতে লাগত রিকশায় ১০ মিনিট, বঙ্গবন্ধু ভবন থেকে বঙ্গভবন ১৫ মিনিট। ১১ জানুয়ারি সংসদীয় গণতন্ত্র বিষয়ে বঙ্গবন্ধু যে সিদ্ধান্ত নেন, সেটিই হওয়া উচিত বাংলাদেশের স্থায়ী নীতি।
বাংলাদেশের আজকের পরিস্থিতিতে এবং আওয়ামী লীগের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বলব, ১১ জানুয়ারি ’৭২ বঙ্গবন্ধু যে নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, আওয়ামী লীগ যদি ক্ষতি স্বীকার করেও সেই নীতি-আদর্শে ফিরে যেতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। তা না হলে এ জাতির ভাগ্যবিপর্যয় সম্ভবত রোধ করা যাবে না।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক৷

ইরান চুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্য নিরাপদ

ইরান-ছয়জাতির মধ্যে সমঝোতা চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের ঘুম হারাম। ওই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বলয় বৃদ্ধি করবে ও দেশটির পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের পথ প্রশস্ত করবে বলে দুশ্চিন্তার অথৈ সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে উপসাগরীয় সহযোগী সংস্থার সদস্য দেশসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্য মিত্ররা। কিন্তু, ভূ-রাজনৈতিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ সব মিত্রদের আশার বাণী দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। এ অঞ্চলে মিত্রদের চুক্তির ব্যাপারে উৎকণ্ঠা দূর করতে ৭ দিনের সফরে বের হয়েছেন কেরি। শনিবার মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামে শুকরের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনা শেষ করেছেন। নসোমবার কাতারে উপসাগরীয় সহযোগী সংস্থা (জিসিসি) দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন তিনি। উপস্থিত বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের নানা প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন তিনি। তাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্য নিরাপদ। ইরান যাতে পরমাণু বোমা বানাতে না পারে এ লক্ষ্যেই চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে। সোমবার এএফপি এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।
এছাড়া, উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লাভরভ ও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল বিন আহমেদ আল-জুবেইরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাসহ বিবিধ বিষয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। ইরান বিষয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তিনি। কেরি এ সফরের প্রধান উদ্দেশ্য ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি বাস্তবায়নে মধ্যপ্রাচ্য মিত্রদের অনুসমর্থন লাভ। বৈঠকে সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেন সংকট এবং ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতাসহ আঞ্চলিক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। দোহায় জিসিসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মূল বৈঠক শুরুর প্রাক্কালে এ জোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ বিন রাশেদ আয যিয়ানির নেতৃত্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল রোববার রাতে। ওই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলীর ব্যাপারে তারা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এমন সময় পিজিসিসির বৈঠকে যোগ দিলেন যখন তিনি মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশ সফরেও ব্যস্ততার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তবে ইসরাইল ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক পরমাণু সমঝোতার বিরোধিতা করায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল সফরে যাবেন না বলে জানা গেছে। আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও কোনো কোনো আরব সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে আমেরিকা ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাছে ব্যাখ্যা তুলে ধরবেন।
সিরিয়া-ইয়েমেন সংকট দূর করবে পরমাণু চুক্তি : রুহানি
পশ্চিমাদের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা চুক্তি ইয়েমেন এবং সিরিয়া সংকট সমাধানের পথ ত্বরান্বিত করবে। দেশ দুটির সমস্যা রাজনৈতিক। এর সমাধানও করতে হবে রাজনৈতিকভাবে। এছাড়া এ চুক্তিকে ইরানের স্বার্থ নিশ্চিত করতে একটি তৃতীয় পন্থা বলেও মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। বিরোধী কট্টরপন্থীরা দাবি করছেন চুক্তিটির মাধ্যমে ইরানকে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণœ করা হয়েছে। এসব দাবির জবাবে শনিবার রুহানি উপরোক্ত মন্তব্য করেন। প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, ১৪ জুলাইয়ের ভিয়েনা চুক্তিতে আমি আশাবাদী। এ চুক্তি ইরানের জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত করবে।

বাজরাঙ্গি ভাইজানর চরিত্র বাস্তবে

বলিউডপাড়ায় এখন আলোচনার শীর্ষে সালমান খানের ‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’। বক্স অফিসে নিত্যনতুন রেকর্ডের জন্ম দেয়া সিনেমাটি ঘটাতে চলেছে আরেক চমকপ্রদ কাহিনী। সিনেমার কাহিনীর মতো বাস্তবেও আরেক হারানো কন্যা ঘরে ফিরতে যাচ্ছেন। সিনেমায় মুন্নি নামে এক বোবা মেয়েকে পাকিস্তানে তার নিজের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন সালমান খান। বাস্তবেও করাচিতে সন্ধান পাওয়া গেছে এক ‘মুন্নি’র।
গীতা নামের এ ভারতীয় নারী ১৩ বছর ধরে পাকিস্তানে রয়েছে। ২৩ বছরের গীতা শুধু বোবা নন, কানেও শুনতে পান না। অনেক সন্ধান করেও ভারতে তার পরিবারের খোঁজ এখনও মেলেনি। সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার গ্রুপ ইধি ফাউন্ডেশনের এক সদস্য ফয়সাল ইধি জানান, ১৩ বছর আগে পাঞ্জাব রেঞ্জার্স গীতাকে তাদের কাছে নিয়ে আসে। বহু বছর ধরে মেয়েটির বাড়ির লোকের খোঁজ করা হচ্ছে। কিন্তু তার বাড়ি কোথায় বা তার পরিবারের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাই পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারছেন না গীতা। উল্লেখ্য, সেখানেই তার ‘গীতা’ নামটি রাখা হয়। একমাত্র ইধি’র সদস্যদের সঙ্গেই আকারে ইঙ্গিতে কথা বলতে পারেন গীতা। ১৩ বছর আগে কোনোভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে ঢুকে পড়েছিল বাচ্চা মেয়েটি। সেখানেই তাকে খুঁজে পায় পাক রেঞ্জার্স বাহিনী। তারা তাকে ওই ফাউন্ডেশনের হাতে তুলে দেয়।

মিশেলের গরিলা ফেস ওবামা বানর

বর্ণবৈষম্যের ভয়াবহ নজির তৈরি করলেন ওয়াশিংটনের মেয়র প্যাট্রিক রাশিং। মার্কিন ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামাকে ‘গরিলা ফেস’ বলে মন্তব্য করলেন তিনি। অবশ্য শুধু এটুকুইতে থামেননি তিনি। নিজের ফেসবুক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পরিবারকে বাঁদরের পরিবারের সঙ্গে তুলনা করলেন প্যাট্রিক। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন- ‘মিশেল ওবামার মুখটা গোরিলার মতো। এ মহিলা একটুও আকর্ষক নন।
একমাত্র বাঁদর-মানব ওবামারই ওনাকে পছন্দ হতে পারে।’ এয়ারওয়ে হাইটস সিটি কাউন্সিল প্যাট্রিককে এ পোস্ট প্রত্যাহার করতে বললেও তিনি মোটেও তা করতে রাজি হননি। তিনি বলেছেন, ‘আমি ভুল করেছি এবং সেটা স্বীকারও করছি। কিন্তু আমি যদি পদত্যাগ করি, তাহলে প্রমাণিত হবে আমি বর্ণবিদ্বেষী। কিন্তু আমি মোটেও তা নই।’ রাশিংয়ের এ পোস্টের জেরে স্বভাবতই বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এয়ারওয়ে হাইটস কমিউনিটির সদস্যরাই এ মন্তব্যকে বর্ণবিদ্বেষী ও অবমাননাকর বলেছেন। তবে, দমতে রাজি নন রাশিং। তার দাবি এ মন্তব্য নিছকই মজা করে করেছিলেন তিনি।

কূটনীতিতে বারবার হোঁচট খেয়েছে by কাফি কামাল

স্নায়ুযুদ্ধ নেই। তবে লড়াই চলছে এখনও। দেশে দেশে সক্রিয় আন্তর্জাতিক ‘দাবার’ খেলোয়াড়রা। বাংলাদেশকে ঘিরে ক্রমেই জোরদার হচ্ছে এ লড়াই। কে নেই এখানে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, চীন, রাশিয়া, সৌদি আরব। দৃশ্যত যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে ভারত। আন্তর্জাতিক এ দাবা খেলায় বারবার কৌশল পরিবর্তন করেও সুফল পাচ্ছে না বিএনপি। কোথায় যেন গোলমাল। ‘বিএনপির ময়নাতদন্তের’ চতুর্থ পর্বে আমাদের রাজনৈতিক সংবাদদাতা কাফি কামাল অনুসন্ধান করেছেন বিএনপির কূটনৈতিক কৌশলের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে---
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কূটনীতিক ক্ষেত্রে বারবার হোঁচট খেয়েছে বিএনপি। সরকারে থাকাকালে নেয়া বহু সিদ্ধান্তই ভুল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে পরবর্তীতে। ক্ষমতার বাইরে এসে বিএনপির জোর কূটনৈতিক তৎপরতা অনেকবারই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। সাফল্য যে একেবারে নেই তা নয়। বিশেষত বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক শক্তিই বিএনপির অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবির প্রতি প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। তবে ওইসব দেশ বিএনপির পক্ষে তেমন কোন কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। মুখে বলেই দায়িত্ব সেরেছে তারা। এক্ষেত্রে অবশ্য ভারতের অবস্থানই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় কূটনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা ও সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বিএনপি। ভারতবিরোধী হিসেবে ইমেজ প্রতিষ্ঠা, চীনকে চটিয়ে তাইওয়ানকে বাণিজ্য কেন্দ্র সুবিধা দেয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নানা ইস্যুতে আস্থার সম্পর্ক নষ্ট করেছে বিএনপি। এরমধ্যে তাইওয়ান প্রশ্নে চীনকে চরমভাবে আঘাত দেওয়া ছিল সবচেয়ে মারাত্মক। জামায়াতের সঙ্গে জোট করা ও হেফাজতকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেয়নি পশ্চিমা কূটনীতিক মহল। এ ছাড়া ধর্মীয় রাজনীতি ও জঙ্গিবাদ ইস্যু নিয়ে সফলভাবে একের পর এক চাল দিয়েছে বর্তমান সরকার। হজ করেছেন বর্তমান সরকারের শরিক দুই বামপন্থি মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু। দেশের প্রেসিডেন্ট যখন হজে তখন যুক্তরাষ্ট্রে বসে হজের ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য করেন তৎকালীন তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। আওয়ামী লীগ তাকে দল ও মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার করলেও তার বিরুদ্ধে কোন আইনি পদক্ষেপ নেয়নি।
ভৌগোলিক সীমারেখাভিত্তিক শহীদ জিয়ার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ইসলামিক জাতীয়তাবাদকে গুলিয়ে ফেলেন বিএনপির কতিপয় নেতা। নানা ইস্যুতে অপপ্রচারণায় সৃষ্ট নেতিবাচক ইমেজ থেকে বিএনপি যেমন বেরিয়ে আসতে পারেনি, তেমনি ক্ষমতায় গেলে ভারত ও চীনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কেমন হবে তাও স্পষ্ট করতে পারেনি। ধর্মীয় জঙ্গিবাদ নিয়ে উৎকণ্ঠায় থাকা পশ্চিমাদের কাছেও অনেক বিষয় পরিষ্কার করতে পারেনি দলটি। সব মিলিয়ে দলটির কূটনৈতিক তৎপরতায় ঘাটতির বিষয়টি এখন রীতিমতো প্রতিষ্ঠিত। অথচ কূটনীতিতে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। ঢাকার মার্কিন  ও ব্রিটিশ দূতাবাসে ডিফেন্স অ্যাটাশে পদ সৃষ্টি করা ছিল তাঁরই সাফল্য। কারণ তিনি এই পদ সৃষ্টিতে ওই দুই দেশকে আগাম রাজি করিয়েছিলেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারের ভারত-ঘেঁষা পররাষ্ট্রনীতির ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারত-সোভিয়েত অক্ষের দিকে চলে যায়। ফলে অন্যান্য বিশ্বশক্তির সঙ্গে সম্পর্ক তেমন ভাল ছিল না বাংলাদেশের। বিএনপি তার পররাষ্ট্রনীতিতে নিরপেক্ষতা ধারণ করে। একই সঙ্গে পূর্ব ও পশ্চিমমুখী কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি চীন ও আমেরিকার মতো দুই প্রভাবশালী দেশকে করেছিলেন বন্ধু রাষ্ট্র। হাত বাড়িয়েছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের দিকেও। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। জিয়াউর রহমান যখন সার্ক গঠনের উদ্যোগ নেন তখন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তা গ্রহণ করতে চাননি। কিন্তু এখন সার্কের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলছেন সেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।
এদিকে বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা আশা করেছিলেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোন গ্রহণযোগ্যতাই পাবে না। আন্তর্জাতিক চাপে আওয়ামী লীগ খুব শিগগিরই নতুন নির্বাচন দেবে বলেও আশান্বিত ছিলেন তারা। এমন ভাবনার যৌক্তিক কারণও ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফ্যাক্টর হিসেবে খ্যাত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অন্য কয়েকটি দেশের কূটনীতিক ও দাতাগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত ও স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে বড় দুই দলেরই হাইকমান্ডের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক চালিয়েছেন। বাংলাদেশ ইস্যুতে পর্যবেক্ষণ এবং সমঝোতার চেষ্টায় সক্রিয় ছিল জাতিসংঘ। খোদ জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মহাসচিবের মধ্যে বৈঠকও হয়েছিল। সেখানে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে সরকারের তরফে বলা হয়েছিল সাংবিধানিক নিয়মরক্ষার নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিতও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এটা সত্য যে, পশ্চিমা দুনিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিগত নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক মনে করেনি। একটি নতুন নির্বাচনের আহ্বানও ছিল তাদের পক্ষে। কিন্তু বাস্তবে শুধু লিপসার্ভিস ছাড়া বিএনপিকে কিছুই দেয়নি আন্তর্জাতিক বন্ধুরা। ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি. মাইলাম মনে করেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফেরাতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে ওবামা প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
ইতিহাসের নানা বাঁকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার সুযোগ তৈরি হলেও মোটাদাগে সেটা করতে পারেনি বিএনপি। ২০১৩ সালের মার্চে বাংলাদেশ সফরে এসে ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি (তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী) ‘ভারত কোন দল নয়, দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায়’ বলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। ধারণা করা হয়েছিল, বিএনপির সামনে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হতে যাচ্ছে। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে ভারত সরকারের আমন্ত্রণে ২০১২ সালে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক বন্ধু খ্যাত কংগ্রেস সরকারের আমলেই দিল্লি সফর করেন খালেদা জিয়া। এই সফরটি কোন সাদামাটা সফর ছিল না। ভারত আশা করেছিল বেগম জিয়া তাদেরকে এমন ধারণাই দেবেন যাতে ‘ভারত বিরোধী’ হিসেবে বিএনপির গায়ে যে লেবেলটা রয়েছে তা তারা একপাশে সরিয়ে রাখতে পারে। তাঁকে প্রটোকল দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ যত্নের ছাপ ছিল। ভারত সফরের আগে বৃটেনের একটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত লেখায় খালেদা জিয়া পারস্পরিক স্বার্থ ও শ্রদ্ধাবোধ, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং যৌথ ইতিহাসকে সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। দুু’দেশের বিরাজমান বর্তমান সংকটের জন্য ঔপনিবেশিক নীতি ও ঘটনা পরম্পরায় ‘ভয়ের বিকার’কে দায়ী করেছিলেন তিনি। দিল্লি সফরকালে খালেদা জিয়াকে তাই সর্বোচ্চ আতিথেয়তা ও গুরুত্ব দেয় ভারত সরকার। কেবল কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ছাড়া ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, বিরোধী দলের নেতা সুষমা স্বরাজসহ কংগ্রেস ও বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। সেখানে কয়েকটি দর্শনীয় জায়গাও ঘুরিয়ে দেখানো হয় বিএনপি চেয়ারপারসনকে। ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের’ও ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল। দেশে ফিরে ভারত সরকারের আতিথেয়তার প্রশংসা ও দিল্লি মিশন সফল বলে বক্তব্য এসেছিল বিএনপির তরফে।
তবে খালেদা জিয়ার ভারত সফর ও ওইসময়ে তাঁর নানা বক্তব্যকে সমর্থন করতে পারেনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কয়েকটি শরিক দল। পরের বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফরে এলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে একটি শিডিউল বৈঠক রাখেন তিনি। কিন্তু দলীয় ইস্যুতে জামায়াতের ডাকা হরতালের কারণে ওই বৈঠক বাতিল করেন খালেদা জিয়া। এ বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিপুল আলোচনা হয়েছে। বৈঠক বাতিলের বিষয়টি বিএনপির ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে। সংসদীয় রাজনীতিতে প্রেসিডেন্টের অবস্থান আনুষ্ঠানিক। দেশের সবার উপরে তাঁর স্থান। তাঁর সঙ্গে বৈঠক বাতিল করায় গোটা ভারতীয় এস্টাবলিশমেন্ট হতবাক হয়। বিএনপির পক্ষে যারা লবি করছিলেন তারা কোণঠাসা হন। পরবর্তীতে দেখা যায়, বিষয়টি সহজভাবে নিতে পারেনি ভারত সরকার। এটা অপমান হিসেবে বিবেচনা করে দেশটি। বিষয়টি উপলব্ধি করতে অনেক সময় চলে যায় বিএনপির। তারই প্রেক্ষিতে ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারি দল আওয়ামী লীগকে সর্বোচ্চ সহায়তা ও কূটনীতিক সমর্থন দেয় ভারত। এমনকি নির্বাচনের আগে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং বাংলাদেশে এসে ধারাবাহিক বৈঠক করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে দুতিয়ালী করেন।
তবে ওই বৈঠক বাতিলের ভিন্নকারণ রয়েছে বলে একটি খবর ছিল। দুটি পক্ষ থেকেই নিরাপত্তা হুমকির কথা বিবেচনা করে খালেদা জিয়াকে ওই বৈঠক বাতিল করতে বলা হয়। হোটেল সোনারগাঁওয়ে ভারতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। বৈঠকের নির্ধারিত সময়ের দিকে ওই হোটেলের কাছে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি ভারতের সানডে গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছিল। তাই আমি ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জির ঢাকা সফরের সময় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারিনি।’
সর্বশেষ ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসায় আশান্বিত হয় বিএনপি। চূড়ান্ত ফলাফলের আগেভাগেই বিজেপিকে অভিনন্দন জানিয়েছিলো বিএনপি। ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের ব্যাপারে নিরপেক্ষ ভূমিকা আশা করে দলটি। কিন্তু বাংলাদেশ প্রশ্নে কংগ্রেস ও বিজেপির নীতি এখন পর্যন্ত অভিন্ন বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। সাউথ ব্লক বিজেপিকে বোঝাতে সক্ষম হয় যে, ভারতের লাভ বেশি হবে কিসে। বিজেপির এক বছরের শাসনামলে বিএনপির কোন প্রতিনিধি দল বিজেপি সরকারের সঙ্গে বৈঠক বা দৃশ্যমান যোগাযোগ করতে পারেনি। অতি সম্প্রতি ভিন্ন চ্যানেলে বিএনপি নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে।
পরিবর্তিত পরিস্থিতি উপলব্ধি করে ‘ভারতবিরোধী’ অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে বিএনপি। সর্বশেষ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্র বিএনপি অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছে, ‘আমরা কখনও ভারত বিরোধী ছিলাম না’। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভারতের ব্যাপারে বিএনপির নতুন দৃষ্টিভঙ্গিকে তাৎক্ষণিক বিবেচনার সুযোগ নেই। এটি বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ঠাণ্ডা মাথায় নেয়া সিদ্ধান্তের বহিঃপ্রকাশ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তাদের এ দৃষ্টিভঙ্গির তাৎপর্য রয়েছে সঙ্গত কারণেই। দ্য সানডে গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমি ভারতবিরোধী হবো কেন? আমাকে ভারতবিরোধী ও হিন্দুবিরোধী হিসেবে প্রচার করার জন্য ক্ষমতাসীন সরকার (আওয়ামী লীগ) পরিকল্পিতভাবে প্রপাগান্ডা করছে। বিএনপি ও আমাকে ভারতবিরোধী হিসাবে সবার সামনে চিহ্নিত করতে প্রপাগান্ডা করার জন্য একটি সু-সংগঠিত তেলবাজ চক্র (ওয়েল-অয়েলড প্রপাগান্ডা মেশিনারি) ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
বিএনপি নেতারা জানান, নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলন করেছে বিএনপি। কিন্তু দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করতে না পারার পেছনে দলটির সাংগঠনিক ব্যর্থতার চেয়ে বড় বিষয় হিসেবে কাজ করেছে সরকারের কোন ধরনের কূটনৈতিক চাপ অনুভব না করা। বিশেষ করে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের নিশ্চুপ অবস্থান। এক্ষেত্রে বিএনপির ভেতরের আমলানির্ভর কূটনীতিকেই দোষারোপ করা হয়। বলা হয়, যে তিনজনের ওপর এ দায়িত্ব এদের সবাই সাবেক আমলা।
অন্যদিকে চীনের সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলেই সম্পর্ক গড়ে তোলে বাংলাদেশ। যদিও রাষ্ট্রদূত কায়সারের মাধ্যমে এই সম্পর্ক তৈরির সূচনা করে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। সেই সূত্রেই চীনের সঙ্গে বিএনপির ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব হয়।
১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া সরকার গঠনের পর চীন ও বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছিল। কিন্তু গত মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালে চীনকে অগ্রাহ্য করে তাইওয়ানকে বাণিজ্য কেন্দ্র খোলার সুবিধা দেয় চারদলীয় জোট সরকার। এমনকি ঢাকায় তাইওয়ানের পতাকা উড়েছিল। বিষয়টি সহজভাবে নেয়নি চীন। পরবর্তীতে বিএনপির তরফে ভুল স্বীকার করা হলেও চীনের আস্থার সংকটে পড়ে দলটি।
খালেদা জিয়া ২০১২ সালের মধ্য অক্টোবরে চীন সফরে গেলে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান ও উপ-প্রধানের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। চীনা নেতারা খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে ‘আপনার ভবিষ্যৎ চীন সফরে এখন আলোচিত প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন দেখতে পাবেন’ বলেও মন্তব্য করেন। তবে খালেদা জিয়ার চীন সফরকালে প্রতিটি বৈঠকে তাইওয়ানের কথাটি মনে করিয়ে দেয়ার কথা একটি ঘরোয়া আড্ডায় স্বীকার করেছেন তাঁর একজন সফরসঙ্গী। পরে ২০১৪ সালে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল চীন সফর করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষায় সার্কে চীনের পূর্ণ সদস্য পদের সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি। ‘এক চীন’ নীতির প্রতিও বরাবরই সমর্থন করে আসছে দলটি। কিন্তু পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নানা ঘটনা পরম্পরায় চীনের ভূমিকা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, দেশটির সঙ্গে বিএনপির কূটনীতিক সম্পর্ক আগের মতো মজবুত নয়। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংলাপের কথা বললেও নির্বাচন মেনে নেয়ার কথা জানায় চীন। এ ছাড়া চীনা প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত চাই শি-র ঢাকা সফরকালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক হলেও সম্প্রতি চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী লিউ ইয়ানদং-এর বাংলাদেশ সফরকালে বৈঠকের কোন শিডিউল পায়নি বিএনপি। এটা চীনের সঙ্গে বিএনপির কূটনীতিতে গড়বরের লক্ষণ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে আসছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং। দেখার বিষয় নরেন্দ্র মোদির পর চীনা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ এবং কোন সমর্থন আদায় করতে পারে কিনা বিএনপি।

বিভক্তির কবলে বিশ্বাস-৪ ‘বিভাজন ঘুচাতে পারে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া’ by উৎপল রায় ও সিরাজুস সালেকিন

রাজনীতির মতো নাগরিক সমাজের বিভক্তিও এখন দৃশ্যমান বিষয়। পরিবেশ, পরিস্থিতি অনেকটাই ছোট করে দিয়েছে নাগরিক সমাজের গণ্ডি। দলীয় রাজনীতি আর স্বার্থের দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এ প্লাটফরমটিও এখন প্রশ্নবিদ্ধ। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে দলীয় রাজনীতির প্রভাবেই সুশীলসমাজে বিভক্তির রেখা বড় হচ্ছে। দেশে সবক্ষেত্রে স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠা হলে এ বিভাজন কমে আসবে। তারা মনে করছেন আদর্শগত পার্থক্য থাকলেও মৌলিক ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজের মধ্যে কোন বিভাজন থাকা উচিত না।
সুশীল সমাজের মধ্যে যে বিভাজন দৃশ্যমান তা রুগ্‌ণ রাজনীতির ফল বলে মনে করেন সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, আমরা যে দল করি না কেন মানুষ হিসেবে আমাদের মানবতা থাকা উচিত। কতগুলো মৌলিক বিষয়ে আমাদের ঐক্য আছে। এই ঐক্য শক্তি হিসেবে প্রকাশ পাক তা অনেকেই চান না। এজন্য তারা বিভাজন সৃষ্টির ক্ষেত্রে তৎপরতা চালাচ্ছেন। রাষ্ট্রের সবক্ষেত্রে দলীয়করণ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয়করণের একটা প্রভাব সকল পেশার মানুষের মধ্যে পড়েছে। এর একটা প্রভাব নাগরিকদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। রাজনীতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে করতে বিভাজনটা আসল জায়গায় চলে এসেছে। আর গণতান্ত্রিক রাজনীতি কখনও মৌলিক বিষয়ে অনৈক্য সৃষ্টি করে না। নাগরিক সমাজকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে ড. কামাল বলেন, বর্তমানে সংলাপ, সংস্কার ও সুশীল শব্দগুলোকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা সংলাপ ও সংস্কার চান তাদের নানাভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা ও সুস্থ গণতন্ত্রের চর্চা জরুরি।
নিউজ টুডে’র সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, নাগরিক সমাজের মধ্যে বিভাজন মোটেই মঙ্গলজনক নয়। আমাদের সিভিল সোসাইটি যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তবে তারা সরকারের ওপর যে কোন অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। বিভাজনের মধ্য দিয়ে এটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। দুঃখজনক হলেও সত্য সমাজটা রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে। এটা শুধু সিভিল সোসাইটি তা না। পেশাজীবী, প্রশাসনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বিভাজনের শিকার। একইভাবে সিভিল সোসাইটি বিভাজনের শিকার। এর ফলে আমাদের সমাজে সুন্দর পরিবেশ তৈরির জন্য সিভিল সোসাইটি যে ভূমিকা রাখতে পারতো সেটা পারছে না। যখনই কোন একটা বিশেষ ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত নিতে চায় তখনই নিজেরা বিভক্ত হয়ে পড়ি।
এই বিভাজনের কারণে সিভিল সোসাইটি ব্যর্থ হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক। এভাবে সমাজের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হবে না। এটা ব্যাহত হবে। নাগরিক সমাজের বিভক্তি থেকে বের হয়ে আসতে গণতন্ত্রের চর্চাকে জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বিভাজন সমাজের ঢুকে যাওয়ায় চট করে বের হয়ে আসা যাবে বলে আমি মনে করি না। এটার জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করতে হবে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে। যদি সমাজের সর্বস্তরে গণতন্ত্রের চর্চা হয় তবে এ বিভাজন থাকবে না। তখন হবে গণতান্ত্রিক বিভাজন। যেটা কাঙ্ক্ষিত। এখন যেটা হচ্ছে সেটা রাজনৈতিক বিভাজন। যেটা কাঙ্ক্ষিত নয়। সর্বক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক চর্চা ও সংস্কৃতি চালু করতে হবে। তাহলেই এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো।
ইতিহাসবিদ, গবেষক, ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনতাসির মামুন সিভিল সোসাইটির এই বিভাজনকে স্বাভাবিক বলে মনে করেন। তার মতে, সিভিল সোসাইটি বা সুশীল সমাজের মধ্যে বিভাজন বিভক্তি আগেও ছিল, এখনও আছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সিভিল সোসাইটিতে বিভাজন, বিভক্তি সবসময়ই ছিল। ভবিষ্যতেও তা থাকবে। কেননা সুশীল সমাজতো কারও ডিক্টেটরের মাধ্যমে চলে না। তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব মতামত, চিন্তা-চেতনা আলাদা। রাজনৈতিক আদর্শগত পার্থক্যও রয়েছে তাদের মধ্যে। তাই মত প্রকাশের ভিন্নতা থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে, এর মধ্যে যেটির প্রাধান্য সেটিই টিকে থাকবে। তিনি বলেন, পুরো পৃথিবীজুড়েই সুশীল সমাজের মধ্যে বিভক্তি আছে। ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রের সুশীল সমাজের মধ্যেও বিভক্তি রয়েছে। তাদের দেশেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আছে। এ কারণে তাদের সুশীল সমাজেও মতপার্থক্য রয়েছে। যে মতামত বেশি প্রাধান্য পায় তারাই টিকে যায়।
বাংলাদেশের সুশীল সমাজে বিভক্তি ও বিভাজনের জন্য সাবেক ছাত্রনেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী সরাসরি দায়ী করেন দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলকে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবক্ষেত্রেই এখন বিভাজন তৈরি হয়েছে। সুশীল সমাজেও এই বিভাজন, বিভক্তি তৈরি হয়েছে। আর এর জন্য দায়ী দেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল বা জোট। তাদের বিভাজনই অন্যদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছে। দুই বড় দল যতদিন না বিভাজনের রাজনীতি থেকে সরে না আসবে ততদিন সুশীল সমাজসহ সকল ক্ষেত্রে বিভক্তি বিভাজন চলতেই থাকবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, আমরা যাদেরকে সিভিল সোসাইটি বলি রাজনৈতিকভাবে এদের মধ্যে বিভক্তি এসে গেছে। এটা স্পষ্ট। তারা মূলত দুটি বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত। এর কারণ হচ্ছে আমাদের সুশীল সমাজের মধ্যে এক ধরনের সুবিধাবাদী প্রবণতার জন্ম হয়েছে। এরা সুবিধা নিতে চান। যেমন শিক্ষকরা, সাংবাদিকরা মনে করেন সরকারের সঙ্গে থাকলে একটা সুবিধা পাওয়া যাবে। কিংবা বিরোধী দলে থাকলে ভবিষ্যতে আখের গুছিয়ে নেয়া সহজ হবে। এই বিবেচনায় সুশীল সমাজের মধ্যে এক ধরনের সরকারের তোষণের প্রবণতা। অন্যদিকে আরেক গ্রুপের বিরোধী দলের সঙ্গে থেকে সুযোগ-সুবিধা নেয়ার প্রবণতা। আসলে এটা হওয়া উচিত ছিল না। উচিত ছিল জাতির ক্রান্তিলগ্নে নিরপেক্ষ থেকে একটা সমাধানের পথ বাতলে দেয়া। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এই কাজটি হচ্ছে না। এটি একটি দিক। অপর একটি দিকে দেখা যাচ্ছে বিদেশী বেশকিছু সংস্থা এক ধরনের স্থানীয় বুদ্ধিজীবীদের প্রমোট করছে। এরা তথাকথিত গবেষণা বা কনসালটেন্সির নামে তারা দেখা যায় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে। এটা মূলত বিশ্বব্যাংকের একটা কৌশল কিন্তু এটা ভুল কৌশল। এরা সুশীলদের প্রমোট করে তাদের স্বার্থ উদ্ধার করে নেয়। এসব সাধারণ মানুষের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না।
নাগরিক সমাজের এই বিভাজন থেকে বের আসা কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যাদের সুশীল বলছি তাদের মধ্যে সুযোগ-সুবিধা নেয়ার প্রবণতা এত বেশি যে তারা এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা কম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আমেনা মহসিন এ বিষয়ে বলেন, সিভিল সোসাইটি ও সুশীল সমাজে মতপার্থক্য বা বিভাজন থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তারাতো আর রাজনৈতিক দল নয় যে, সবকিছুতে একমত হবে। তবে শঙ্কার বিষয় হলো, সুশীল সমাজের মধ্যে বিভক্তি ও বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। তিনি বলেন, আমাদের জায়গাগুলো ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। রাষ্ট্রের কোন ইনস্টিটিউট এখন নিরপেক্ষ না। স্বাভাবিক অবস্থাকে মনে হচ্ছে অস্বাভাবিক। আর অস্বাভাবিককে মনে হচ্ছে স্বাভাবিক। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, দলীয় পরিচয় না থাকলে নাগরিকরা তাদের প্রাপ্য অধিকার পাচ্ছে না। এমনও দেখছি অনেক নিরপেক্ষ মানুষও দলীয় আশ্রয়লাভের জন্য সচেষ্ট। কিন্তু এতে করে রাষ্ট্র আরও দুর্বল হবে। অধ্যাপক আমেনা মহসিন বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারা চালু না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ ধরনের পরিস্থিতি চলতেই থাকবে।

সোনালি দিন ফেরেনি, লোকসান বরং বাড়ছে by ইফতেখার মাহমুদ

সোনালি দিন ফিরিয়ে আনার সরকারি উদ্যোগ এখন পাট খাতের জন্য গলার ফাঁসে পরিণত হয়েছে। ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে পাঁচটি বন্ধ পাটকল চালু এবং ৩৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে এখন বিপদে পড়েছে সরকারি পাটকলগুলোর পরিচালন সংস্থা বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)। তাদের ২২ হাজার শ্রমিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত। তাঁদের পেছনে বছরে ব্যয় হচ্ছে আড়াই শ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি পাটের ভরা মৌসুমে টাকা বরাদ্দ না পাওয়ায় বিজেএমসির প্রতিবছর ক্ষতি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা।
এসব সংকটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের মন্দা যোগ হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিজেএমসির লোকসানের অঙ্ক ৪৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে; যা আগের যেকোনো বছরের তুলনায় লোকসানের রেকর্ড। এর আগের দুই বছর মিলিয়ে লোকসান ছিল ৩২৬ কোটি টাকা।
সরকারি পাটকলগুলোর লোকসানের কারণ চিহ্নিত করে বিজেএমসি বস্ত্র ও পাট এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনটিতে এসব তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পাট কেনার জন্য সরকারের কাছে বিজেএমসি মার্চ-এপ্রিলে ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছিল। সরকার থেকে ১৬ জুন ওই টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই টাকা ছাড় হতে জুলাই মাস পার হয়ে যাবে। অথচ পাট কেনার জন্য জুন-জুলাই (আসলে জুলাই–আগস্ট) হচ্ছে ভরা মৌসুম। সরকারি অর্থ না পাওয়ায় পাট কিনতে হবে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে। এতে বিজেএমসিকে বাড়তি ৭০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।
ইতিমধ্যেই বিজেএমসির আওতাধীন পাটকলগুলোর চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুই মাসের বেতন ও ৬৭ হাজার শ্রমিকের বেতন ও মজুরিও বকেয়া পড়েছে। আরও বকেয়া পড়েছে অবসরে যাওয়া ৫ হাজার ৭০০ জন শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তার অবসর ভাতা ও গ্র্যাচুইটির ৩৫০ কোটি টাকা।
প্রতিদিনই স্ত্রীর ক্যানসারের চিকিৎসা, মেয়ের বিয়ে ও নিজের মুমূর্ষু অবস্থার বর্ণনাসহ পাওনা টাকা আদায়ের আবেদনপত্র জমা হচ্ছে বিজেএমসির মতিঝিলের কার্যালয়ে। মন্ত্রী, সাংসদ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা তাতে সুপারিশও করছেন। কিন্তু টাকা নেই—এ কথা বলে তাঁদের বিদায় করছেন বিজেএমসির কর্মকর্তারা।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাট খাত বাংলাদেশের ইতিহাস ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য একটি অতি সংবেদনশীল খাত। যথাযথ পরিকল্পনা ও উদ্যোগ না নেওয়ায় এ খাতে রক্তক্ষরণ যুগের পর যুগ ধরে চলছে। শুরুতেই আমরা বলেছিলাম সরকার যেভাবে কোনো ধরনের পরিকল্পনা ছাড়াই গণহারে শ্রমিক নিয়োগ ও বড় পাটকলগুলো চালু করছে, তা হিতে বিপরীত হবে। এখন হয়েছেও তাই।’
বিজেএমসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ৩৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিকের ২২ হাজার ৫২০ জনেরই কোনো কাজ নেই। ৬৭ হাজার শ্রমিকের ৯০ শতাংশই স্থায়ী করেছে বর্তমান সরকার। আর ২৬টি পাটকলের উৎপাদনক্ষমতা বা তাঁতের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বর্তমানে কাজে লাগানো হচ্ছে। বাকিগুলো বন্ধ। কিন্তু শ্রমিকদের পেছনে বছরে ব্যয় হচ্ছে ২৫০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে পাট খাতের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে সরকার থেকে ২০১১ সালে ১০৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল; যার পুরোটাই চলে যায় তিনটি বন্ধ পাটকল চালু করতে। বিজেএমসি নিজস্ব অর্থায়নে ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও দুটি পাটকল চালু করে। এখন ওই পাঁচটিসহ প্রায় সবগুলো পাটকল অতিরিক্ত শ্রমিক আর তৈরি পণ্য বিক্রি করতে না পারার সংকটে পড়েছে।
বিজেএমসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হুমায়ুন খালেদ প্রথম আলোকে বলেন, দেশের পাট খাতের সঙ্গে প্রায় চার কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা জড়িত। সরকারি পাটকলগুলো চালু থাকায় প্রায় এক কোটি পাটচাষির পাট বিক্রির একটি নিশ্চয়তা থাকছে। ফলে সরকারি পাটকলগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।
সরকারি পাটকলের ওপর নির্ভরশীল পাটচাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অবস্থা বরাবরের মতোই। সরকারি পাটকলগুলোতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার পাট সরবরাহ করে এখন তার বিল বা মূল্য পাচ্ছেন না। বিজেএমসি নতুন অর্থবছরের (২০১৫-১৬) শুরুতেই প্রায় এক হাজার কোটি টাকার পাট কেনার লক্ষ্যমাত্রা নিলেও ঈদের ঠিক আগে সরকার থেকে ১০০ কোটি টাকা দিয়ে বলা হয়েছে, আর দেওয়া সম্ভব না। এর ফলে পুরোনো বকেয়া টাকা পরিশোধ করা যাচ্ছে না, বরং এ বছর আবারও নতুন করে বাকিতে পাট কিনতে হবে।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা দেশের পাট খাতকে লাভজনক করতে ১০ বছরের একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছি। পাটকলগুলোকে আধুনিকায়ন বা বিএমআরআই করা ও পাটকলগুলোর অব্যবহৃত জমি বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করছি। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে পাটকলগুলোর সংকট আর থাকবে না।’
২০১০ সালে অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান আহমদকে প্রধান করে একটি পাট কমিশন গঠন করেছিল সরকার। বলা হয়েছিল, কমিশনের দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পাট খাত পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাট কমিশন দুই দফা সময় বাড়িয়ে ২০১১ সালে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পাটনীতিও তৈরি হয়। কিন্তু কোনোটারই কোনো বাস্তবায়ন হয়নি।
জানতে চাইলে কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাট কমিশনের প্রতিবেদন দেওয়ার পর এ বিষয়ে কী হয়েছে, তার কোনো খোঁজ আমি রাখিনি। এর কোনো ফলোআপ আমার জানা নেই।’
আবার সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বারবার বলা হয়েছে, পাট খাতকে জাগিয়ে তুলতে সরকার একটি মহাপরিকল্পনা করেছে। কিন্তু সেই মহাপরিকল্পনাও আলোর মুখ দেখেনি। এখন আবার সরকার বলছে ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনার কথা।
৭৭৬ কোটি টাকা লোকসান গত তিন বছরে
২৫০ কোটি টাকা বছরে ব্যয় বাড়তি ২২ হাজার শ্রমিকের পেছনে
৭০ কোটি টাকা বছরে ক্ষতি দেরিতে পাট কেনায়
৫৭০০ অবসরে যাওয়া শ্রমিক-কর্মচারীর পাওনা পরিশোধ হচ্ছে না

৪১ বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাচ্ছে না by মোশতাক আহমেদ

আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে হবে। তিন দফায় সময় বাড়ানোর পর মাত্র ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গভাবে নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। বাকি ৪১টি পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয় এই সময়ের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে পারছে না।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
* তিন দফায় বাড়ানোর পর সেপ্টেম্বরই শেষ সময় * কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী না পাওয়ার আশঙ্কায় ঢাকা শহরের বাইরে যাচ্ছে না...
নতুন ৩১টিসহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা এখন ৮৩। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী না পাওয়ার আশঙ্কায় ঢাকা শহরের বাইরে যাচ্ছে না। ‘জমি কিনেছি’, ‘নির্মাণকাজ করছি’ ‘যাচ্ছি’ —এ জাতীয় তথ্য দিয়ে ও অঙ্গীকার করে সময় বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার সাত বছরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে হবে, যা আগে ছিল পাঁচ বছর। এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়া ১১টির বাইরে অন্য ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ক্যাম্পাস তৈরি করলেও শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি স্থানান্তর করেনি।
আপস করছে মন্ত্রণালয়!: অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় আইন অমান্যকারী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও কার্যত আপস করছে। বারবার আইন ভঙ্গ করলেও ব্যবস্থা নিতে পারছে না। গত ছয় বছরে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারেনি মন্ত্রণালয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, আগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোনো নিয়মই মানত না। কিন্তু চাপের মুখে অনেকগুলোই নিজস্ব ক্যাম্পাসে গেছে, অনেকে উদ্যোগ নিয়েছে। এর পরও বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হলে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
ইউজিসির তথ্যানুযায়ী, ২০১০ সালে নতুন করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। প্রথমে ২০১২ সালের মধ্যে, দ্বিতীয়বার ২০১৩ সালের মধ্যে এবং সর্বশেষ এক লাফে দুই বছর বাড়িয়ে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।
কিন্তু ইউজিসির কর্মকর্তারা এখন বলছেন, সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও নির্ধারিত সময়ে ২০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে পারবে না।
নিজস্ব ক্যাম্পাসের জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় এক একর জমি ও অন্যান্য এলাকায় দুই একর নিষ্কণ্টক, অখণ্ড ও দায়মুক্ত জমি থাকতে হবে।
ইউজিসির চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান এ প্রসঙ্গে বলেন, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই যেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব ক্যাম্পাসে যায়, সে জন্য জোর তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
ইউজিসির তথ্যানুযায়ী, পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠার পর ১০ বছর পার হয়েছে। কোনোটির বয়স দুই দশক। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা করছে না তারা।
জানতে চাইলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেনজীর আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, ‘ভালো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ক্যাম্পাসে চলে গেছে, কয়েকটি যাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। বাকিগুলোর বিষয়ে বাস্তবতার নিরিখে মন্ত্রণালয় বিবেচনা করবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
স্থায়ী ক্যাম্পাসে যারা: ১১টির মধ্যে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গভাবে নিজস্ব ক্যাম্পাসে গেলেও সব শর্ত পূরণ করতে পারেনি। ফলে মাত্র দুটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী সনদ পেয়েছে। এ দুটি হলো আহ্ছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিটি বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিটি বিশ্ববিদ্যালয় সাভারের বিরুলিয়ার খাগানে নিজস্ব ক্যাম্পাস করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এখনো তারা রাজধানীর ১৩/এ পান্থপথে ভাড়া করা বাড়িতে ‘সিটি ক্যাম্পাস’ খুলে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়া নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো: নর্থ সাউথ, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-চট্টগ্রাম, ইনডিপেনডেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও গণবিশ্ববিদ্যালয়।
আংশিক নিজস্ব ক্যাম্পাসে: ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আশুলিয়ায় নিজস্ব ক্যাম্পাসে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এখনো অধিকাংশ শিক্ষার্থী পড়ছেন ঢাকার শুক্রাবাদে। এ ছাড়া নিজস্ব ক্যাম্পাস করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করলেও এখনো ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় মহাখালীতে, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি মিরপুর-২-এ আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর বিজিসি ট্রাস্ট চট্টগ্রামের চন্দনাইশে নিজস্ব ক্যাম্পাস থাকলেও আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে দুটি ক্যাম্পাস চালাচ্ছে।
নিজস্ব ক্যাম্পাসে না গেলেও নির্ধারিত পরিমাণ জমিতে নির্মাণাধীন ক্যাম্পাসে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, শান্ত-মরিয়ম ইউনিভার্সিটি, সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ইউআইটিএস। সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন ইউজিসির কর্মকর্তারা।
ফাউন্ডেশনের জমিতে বিশ্ববিদ্যালয়: আইনানুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে জমি থাকার কথা থাকলেও পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত পরিমাণ জমিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা না করে ফাউন্ডেশনের নামে কেনা আরও কম পরিমাণ জমিতে অবকাঠামো নির্মাণ করে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। এগুলো হলো: মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল, দি মিলেনিয়াম, পিপলস ও সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি।
অন্যগুলোর হালচাল: নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম জমিতে নির্মিত ক্যাম্পাসে আংশিক শিক্ষা দিচ্ছে স্টেট ইউনিভার্সিটি। আর নির্ধারিত পরিমাণ জমিতে নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মাণ করছে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক ও রয়েল ইউনিভার্সিটি।
নির্ধারিত পরিমাণ জমিতে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় নকশা অনুমোদন করেছে। কিন্তু নির্মাণকাজ শুরু করতে পারেনি। এগুলো হলো গ্রিন ইউনিভার্সিটি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি ও চট্টগ্রামের সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি। এর মধ্যে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির নামে অননুমোদিত ক্যাম্পাস রয়েছে বলে ইউজিসি জানিয়েছে।
নির্ধারিত পরিমাণ জমি কিনলেও ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে নকশা অনুমোদন পায়নি এবং জমি ব্যবহারের অনুমতি অর্জন করেনি, এমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আছে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ, ইস্টার্ন, ইউনাইটেড, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অব সায়েন্সেস, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস ও অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
এ ছাড়া ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, আশা ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি, নর্দান ইউনিভার্সিটি ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি জমি কিনলেও নির্মাণকাজ শুরু করেনি।
দ্বন্দ্ব: দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় চার ভাগে বিভক্ত হয়ে কথিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং এর প্রায় দেড় শ শাখার নামে শিক্ষা-বাণিজ্য চলছে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন করেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে সনদ বিক্রি করা ঠেকাতে পারেনি মন্ত্রণালয়।
ইবাইস ইউনিভার্সিটিতে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি নিয়ে মামলা চলছে। চট্টগ্রামে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব আছে।
এর মধ্যে আবার অনুমোদনহীন ক্যাম্পাস পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে প্রাইম ইউনিভার্সিটি, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সাউদার্ন, নর্দান, দি পিপলস, বিজিসি ট্রাস্ট, ইবাইস, আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে।
যত্রতত্র বিশ্ববিদ্যালয়: ব্যস্ততম সড়ক ও আবাসিক এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করা যাবে না, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস থাকা যাবে না—এগুলো আইনের কথা ও সরকারের সিদ্ধান্ত। কিন্তু আইন ভঙ্গ করে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে যত্রতত্র ক্যাম্পাস খুলে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার প্রচুর অভিযোগ আছে।
গত ২৪ জুন ও ১২ জুলাই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কারওয়ান বাজার থেকে ফার্মগেট এলাকার মাঝামাঝি এলাকায় কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের মতো ব্যস্ততম সড়কের ঠিক পাশেই গড়ে উঠেছে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ক্যাম্পাস। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস বনানীতে। আর স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ চলছে গাজীপুরের কাশিমপুরে।
কারওয়ান বাজারের এই ক্যাম্পাস থেকে কিছু দূর পূর্বদিকে ৭১ কারওয়ান বাজারে চলছে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির একটি ক্যাম্পাসের কার্যক্রম। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির পূর্ব পাশের দেয়াল ঘেঁষে বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলানো। উত্তর পাশের দেয়াল ঘেঁষে ঠেলাগাড়ি গ্যারেজ। দক্ষিণ পাশেই বাজারের অংশ। শুধু পশ্চিম পাশের রাস্তাটি কিছুটা পরিষ্কার। ওপরে গিয়ে শ্রেণিকক্ষের ঘিঞ্জি পরিবেশ দেখা যায়।
পান্থপথ এলাকায় দেখা যায়, পাশাপাশি তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে। পান্থপথ সড়কের উত্তর পাশে ১৩/এ ঠিকানায় সিটি ইউনিভার্সিটির সিটি ক্যাম্পাস। সড়কটির বিপরীত পাশে তিনটি ভবনে ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস। পাশেই অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস। ইউজিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, অতীশ দীপঙ্করের এই ক্যাম্পাসটি অবৈধ।
ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটির একটি ভবনে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলায় একটি রেস্তোরাঁ। ওপরের দোতলা ও তিনতলায় ফার্নিচারের দোকান। এর ওপরের তলাগুলোতে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম।
শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান গত ২৩ জুন আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে অতীশ দীপঙ্কর ও ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটির এসব ক্যাম্পাসে নানা অনিয়ম দেখতে পান। শিক্ষাসচিব প্রথম আলোকে বলেন, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স বিজ্ঞান বিভাগ আছে অথচ কম্পিউটার ল্যাবের অবস্থা গ্রামের হাইস্কুলের চেয়েও খারাপ।
অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় সচিব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ নেই।
আরও অনুমোদনের তোড়জোড়!: আরও দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ‘এনপিআই’ নামের বিশ্ববিদ্যালয়টি হবে মানিকগঞ্জে। এর পেছনে আছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না। আর সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি হবে ঢাকার অদূরে সাভারে। প্রথমে ঢাকার মিরপুরের ঠিকানায় আবেদন করলেও পরে সাভারে স্থায়ী ক্যাম্পাসের কথা বলে ফের আবেদন করে ওই ইউনিভার্সিটি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একজন প্রখ্যাত ও প্রবীণ চিকিৎসকের নাম থাকলেও নেপথ্যে রয়েছেন গাজী আবদুস সালাম নামে এক ব্যক্তি, যিনি ঢাকা-খুলনা ও কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডজন খানেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মালিক। সালামের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক থাকায় আগে বিশ্ববিদ্যালয় দেওয়া হয়নি বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।
জানতে চাইলে শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, এ দুটি প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বর্তমানে দেড় শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আবেদন জমা রয়েছে। ইউজিসি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রস্তাবিত ১০৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে আরও কয়েকটি অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

মুজাহিদের সকালের নাস্তায় জবের রুটি by আল আমিন

মানবতাবিরোধী অপরাধে সুপ্রিম কোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহালের পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেই আছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। ১০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের একটি সেলে আছেন তিনি। সাবেক এই মন্ত্রী এখন তৃতীয় শ্রেণীর কয়েদী।
সূত্র জানায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পশ্চিম দিকের ‘৮ সেল’ নামে একটি সেলের ৪ নম্বর কক্ষে রাখা হয়েছে মুজাহিদকে। ওই সেলে ৮ কক্ষ থাকায় সেটির নাম দেয়া হয়েছে ‘৮ সেল’। মৃত্যুদ- প্রাপ্ত আসামীরাই এই সেলে থাকেন। মুজাহিদ ছাড়াও সেখানে রয়েছেন ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার। ওই সেলে কোন বেড, চেয়ার  ও টেবিল নেই। নেই ফ্যানের ব্যবস্থা। প্রতিটি কক্ষের সঙ্গে রয়েছে এটাচ বাথরুম। কারও সঙ্গে দেখা ও কথা বলার সুযোগ নেই। তবে সেলের সামনে দুইটি বড় পানির ট্যাপ রয়েছে। সেখানে আসামীরা দুপুর বেলায় গোসল করেন। আসামীদের আত্মীয় ও আইনজীবীরা তাদের সঙ্গে দেখা করতে আসলে কারা কতৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তাদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলাকালীন মুজাহিদ অধিকাংশ সময় ছিলেন নারায়নগঞ্জ জেলা কারাগারে। সুপ্রিম কোর্টের রায় হওয়ার পর তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ওই সেলে রাখা হয়েছে। তিনি হার্ট ও বার্ধক্যজনিত রোগ ভুগছেন। তিনি ফজরের নামাজ পড়ে কোরআন পাঠ করেন। পরিবার থেকে বিভিন্ন বই তাকে দেয়া হয়েছে। সেগুলো তিনি পড়েন। এরপর কারাগারের পক্ষ থেকে সকালের নাস্তা হিসাবে দুইটি জবের পাতলা রুটি ও এক টুকরা ছোট গুড় সরবারাহ করা হয়। তিনি ওই খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। বেলা ১২ টার সময় ওঠে তিনি গোসল করে দুপুরে নামাজ আদায় করেন। এরপর কারাগারের পক্ষ থেকে দুপুরের খাবার হিসাবে ভাত ও এক পিস মাছ অথবা এক পিস মাংস সরবারাহ করা হয়। তিনি গরুর মাংস না খাওয়ায় মুরগীর মাংস সরবারাহ করা হয়। ওই খাবার খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়েন। পরে ঘুম থেকে ওঠে তিনি আছরের নামাজ আদায় করেন। আছরের নামাজের পরে তিনি একাকি সেলের মধ্যে বসে থাকেন। কখনও বই পড়েন। মাগরিবের নামাজের পড়ে তিনি কোরআন তেলাওয়াত করেন। এরপর এশার নামাজের পর তিনি রাতের খাবারের গ্রহণ করেন। রাতে সকালের মতো তাকে রুটি সরবারাহ করা হয়। এরপর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। মুজাহিদ কথাবার্তা আগের চাইতে কমিয়ে দিয়েছেন। প্রয়োজন ছাড়া তেমন তিনি কোন কথা বলেন না। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী জানান, ‘৮ সেলে’  মুজাহিদকে রাখা হয়েছে। ফাঁসির আসামীদের রাখার ওই সেলে চারদিকে বাউন্ডারি আছে। কেউ প্রবেশ করতে পারে না।

প্রথম আলো-এইচএসবিসি ভাষা প্রতিযোগ: বৃষ্টি উপেক্ষা করে উৎসব by আশীষ-উর-রহমান

পরিকল্পনা-প্রস্তুতি যেমন ছিল, কাজের বেলায় ঠিক তেমন হলো না। তবে শেষাবধি যেমন হলো, তাতেও আনন্দ-উৎসবের ঘাটতি ছিল না। পার্থক্য কেবল খোলা মাঠে, উদার আকাশের তলায় উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠার বদলে ঘরের চার দেয়ালের ভেতর ছাদের সুরক্ষায় বসে কাটাতে হলো দিনটি। বাগড়া দিয়েছিল শ্রাবণের অজস্র বারিধারা। গতকাল শুক্রবার এইচএসবিসি-প্রথম আলো ভাষা প্রতিযোগের জাতীয় উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সারা দেশ থেকে এসেছিল ঢাকায়।
উৎসবের কেন্দ্র ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ মাঠে আগের রাতেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির বিড়ম্বনায় সেসব তেমনই পড়ে রইল। নাম নিবন্ধন করে প্রতিযোগী ও তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকেরা চলে গেলেন মিলনায়তনে। পরিকল্পনা খানিকটা কাটছাঁট করে মিলনায়তন মঞ্চেই প্রথম আলো বন্ধুসভার বন্ধুদের সমবেত জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে শুরু হলো ভাষা প্রতিযোগের একাদশ জাতীয় উৎসব। এবারে জাতীয় উৎসবে সেরাদের সেরা হয়েছে রাজধানীর ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির কারিন আশরাফ।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ সুফিয়া খাতুন বললেন, প্রকৃতির বিরূপতা উপেক্ষা করে ছাত্রছাত্রীদের ভাষা প্রতিযোগে এই বিপুল অংশগ্রহণ মাতৃভাষার প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসারই প্রকাশ। ভাষা নিয়ে এ ধরনের আয়োজন এবং উৎসব কেন্দ্র হিসেবে তাঁর প্রতিষ্ঠানটিকে বেছে নেওয়ায় তিনি ধন্যবাদ জানান। প্রধান অতিথি ইমেরিটাস অধ্যাপক ও ভাষা প্রতিযোগ পর্ষদের আহ্বায়ক আনিসুজ্জামানও বললেন, ‘শিক্ষার্থীদের এই উৎসাহ-উদ্দীপনা আমাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। এ দেশে ভাষার জন্য আমরা যা করেছি, তার তুলনা পাওয়া যায় না। সেই ভাষাকে শুদ্ধ করে জানতে ও চর্চা করতে হবে। নতুন প্রজন্ম যে উৎসাহের সঙ্গে প্রতিযোগে অংশ নিচ্ছে, তাতে মনে হয় বছরের পর বছর ধরে এই প্রতিযোগ সফলভাবে চলতে থাকবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে ছিলেন অধ্যাপক মাহাবুবুল হক, অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ফেরদৌস আরা বেগম ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ। উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতার পর মূল প্রতিযোগ শুরু। যাকে বলা হয়েছিল ‘পরীক্ষা পরীক্ষা খেলা’, তাতে অংশ নিতে প্রতিযোগীরা ছুটল নির্ধারিত শ্রেণিকক্ষগুলোর দিকে।
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শুদ্ধ করে মাতৃভাষা চর্চায় আগ্রহ সৃষ্টিতে উৎসাহ দিতে প্রথম আলো-এইচএসবিসি ভাষা প্রতিযোগ শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। এবার ২০১৫ সালে ১১তম উৎসবে ঢাকাসহ দেশের মোট নয়টি অঞ্চলে প্রতিযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এগুলো হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর, হবিগঞ্জ, নড়াইল ও টাঙ্গাইল। আঞ্চলিক পর্যায়ে বিজয়ী ৫৮০ জনকে নিয়ে রাজধানীতে আয়োজন করা হয়েছিল এই জাতীয় উৎসব। দুর্যোগ সত্ত্বেও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৫০৩ জন।
দেখতে দেখতেই পরীক্ষার সময়টুকু পেরিয়ে গেল। সন্ধ্যায় ঝাঁক ধরে নীড়ে ফেরা পাখির মতো কলরব করে প্রতিযোগীরা আবার ফিরল মিলনায়তনে। তারপর গানের সুর, জাদুর চমক, তারকার দ্যুতিতে জমকালো হয়ে উঠল পরিবেশ। এ পর্ব শুরু হয়েছিল প্রতিযোগীদের গান দিয়ে। শুধু পড়ালেখাতেই নয়, তারা যে পাঠ্যসূচির বাইরে সুকুমারকলার চর্চাতেও যথেষ্ট পারঙ্গম, তার প্রমাণ দিল গানে গানে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। হবিগঞ্জের নিশাত তাসমিনের গাওয়া লালনের গান ‘দেখ না মন ঝাকমারি এই দুনিয়া দারি’ শুনে মিলনায়তনের পিনপতন স্তব্ধতা। গানের শেষে সেই স্তব্ধতা ভাঙল বিপুল করতালিতে। রবীন্দ্রনাথের গান ‘আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদরদিনে’, ‘পাগলা হাওয়ার বাদল-দিনে’, ‘আমার এই পথ-চাওয়াতেই আনন্দ’, নজরুলের গান ‘পরদেশি মেঘ যাওরে ফিরে’, চলচ্চিত্রের গান ‘আমার সারা দেহ খেও গো মাটি’ গেয়ে শ্রোতাদের মন ভরিয়ে দিয়েছে টাঙ্গাইলের রোদসী, রাজশাহীর রিফা তাসফিয়া, দিনাজপুরের জয়ন্তিকা, পারমিতা দেব ও হবিগঞ্জের প্রত্যয় রায়।
এরপর মঞ্চে আসেন জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী জয়া আহসান। তিনি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র গেরিলাতে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। প্রতিযোগীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আর তাদের মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার সঙ্গে দায়বদ্ধতার জন্যও অনুপ্রেরণা দেন। তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা দিতে মঞ্চে এলেন ক্রিকেটার সাব্বির। তিনি সেলফিও তুললেন ওদের সঙ্গে।
গান আর আলাপচারিতার পর ছিল জাদুর চমক। বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় জদুশিল্পী আলী রাজ তাঁর সাবলীল উপস্থাপনা আর গানের সুরের মূর্ছনার সঙ্গে একের পর এক চমক লাগানো জাদু দেখিয়ে পরিবেশটাই উচ্ছ্বসিত করে তোলেন।
দ্বিতীয় পর্বের শুরু হলো বৃষ্টির গানের সঙ্গে জলের গানের ঐকতান দিয়ে। ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুরটুপুর’ দিয়ে জলের গানের পরিবেশনা। এরপর ছিল ‘এমন যদি হতো’, ‘কাগজের নৌকা’, ‘বকুল ফুল বকুল ফুল’, সবশেষে ‘তুমি আমার পাশে বন্ধু হে’। এরপর অভিনয়শিল্পী অপি করিম এলেন মঞ্চে প্রতিযোগীদের সঙ্গে কথা বলতে। অনুরোধের পড়ে তাঁকেও গাইতে হলো। শোনালেন ‘ভুবনেশ্বর হে মোচন কর...’।
এবার প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পালা। তার আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। এইচএসবিসির হেড অব লিগ্যাল ও রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স সাউলী কামাল খান বললেন, নতুন প্রজন্ম বিশ্বদরবারে মাতৃভাষার গৌরবকে তুলে ধরতে পারবে—এটাই সবার প্রত্যাশা। সে কারণেই তাদের উজ্জীবিত করতে এই আয়োজন।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী প্রতিযোগীদের বলেন, ভাষার বিকৃতি ঠেকাতে হবে। দেশের ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান দুর্যোগ সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কষ্ট করে আসার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা শুদ্ধ বাংলায় কথা বলব, বাংলায় স্বপ্ন দেখব।’ বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে পুরস্কার বিতরণ পর্ব পরিচালনা করেন অধ্যাপক তারিক মনজুর। অতিথিদের সঙ্গে বিজয়ীদের পুরস্কারের সনদ, ক্রেস্ট আর উপহারের ব্যাগ নিয়ে ছবি তোলার পর্বও বাদ গেল না। বৃষ্টির কিন্তু অবসর নেই, সে ঝরেই যাচ্ছে। তাকে তোয়াক্কা না করেই ঘরের পথে যাত্রা শুরু হলো সবার।
রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে গতকাল এইচএসবিসি-প্রথম আলো ভাষা প্রতিযোগ অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় অতিথি, অংশগ্রহণকারী ও অভিভাবকেরা দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান জানান l প্রথম আলো

ক্রীড়া-দুর্নীতির উর্বরভূমি সুইজারল্যান্ড? by প্রতীক বর্ধন

সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত ফিফার কার্যালয় ছবি: এএফপি
সুইজারল্যান্ড কোন খেলাতে বিশ্বসেরা? ফুটবল, ভারোত্তোলন, ভলিবল, বক্সিং-কোন খেলা? সামগ্রিকভাবে দেশ হিসেবে সুইজারল্যান্ড কোনো খেলাতেই তেমন পারদর্শী না হলেও পৃথিবীর অনেক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশনই এই দেশটিতে অবস্থিত। ব্যাপারটি কি সুইসদের খেলাধুলাপ্রীতির কারণে? মোটেই নয়! কিন্তু তার পরেও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর প্রধান কার্যালয়ের জন্য কেন এই দেশকে বেছে নেওয়া? ব্যাপারটা পুরোপুরিই আর্থিক সুযোগ-সুবিধাকেন্দ্রিক। আইনকানুনের শিথিলতার কারণে সুইজারল্যান্ডে ক্রীড়া ফেডারেশনের প্রধান কার্যালয় স্থাপন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক! আইনের শিথিলতার কারণে দুর্নীতি ও অন্যান্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্যও সুবিধাজনক এই সুইজারল্যান্ড। সে কারণেই খেলাধুলায় ঐতিহ্য না থাকার পরেও ক্রীড়া ফেডারেশনের কার্যালয় স্থাপনের জন্য এই দেশকে বেছে নেওয়া। ফিফায় কেলেঙ্কারি ও সভাপতির পদ থেকে সেপ ব্ল্যাটারের সরে যাওয়ার ঘোষণার মধ্য দিয়ে এই বিষয়গুলো এখন সামনে চলে এসেছে।
বেসবলের দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু সেই বেসবলের আন্তর্জাতিক কার্যালয় সুইজারল্যান্ডে। সেই একই ভবনে গলফ, ভারোত্তোলন, বক্সিংসহ ও আরও কিছু জনপ্রিয় ক্রীড়া ফেডারেশনের আন্তর্জাতিক কার্যালয় অবস্থিত, তার একটু দূরেই হকি ও ভলিবলের ফেডারেশন। আর বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা—ফিফার কার্যালয়ও সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত।
আন্তর্জাতিক এই ক্রীড়া সংস্থাগুলো সুইজারল্যান্ডে বিশেষ আইনি মর্যাদা লাভ করে। সুইস আইনে এই সংস্থাগুলোকে কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এমনকি দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ক্ষেত্রেও সুইস আইন এই সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। মোদ্দা কথা, সেখানে একবার কার্যালয় বানাতে পারলেই হলো, কোনো দায়দায়িত্ব নেই, যা খুশি তা-ই করা যায়। ব্যাপারটা অনেকটা দুর্নীতির টাকা সুইস ব্যাংকে রাখার মতোই।
সুইস আইনের ফাঁক গলে এই সংস্থাগুলো বছরের পর বছর ধরে আত্মনিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাচ্ছে। ফেডারেশনগুলো সম্প্রচার ও বিপণনকার্যক্রম থেকে প্রচুর আয় করছে, যেটা সাধারণত দুর্নীতির উর্বরক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত।
গত ২৭ মে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি ফিফার নয়জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন, গত দুই দশকে তাঁরা সম্প্রচার ও প্রচারণাস্বত্ব পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ১৫০ মিলিয়ন ডলার ঘুষ নিয়েছেন। ফিফা কংগ্রেসের ঠিক আগ দিয়ে জুরিখের একটি বিলাসবহুল হোটেল থেকে সেদিনই তাঁদের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে সুইস পুলিশ। এদিকে ফিফার নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য চাক ব্লেজার স্বীকার করেছেন, ১৯৯৮ ও ২০১০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ নির্বাচনে তিনিসহ আরও কয়েকজন সদস্য ঘুষ নিয়েছিলেন। ২০১৮ ও ২০২২ সালে বিশ্বকাপের আসর বসবে যথাক্রমে রাশিয়া ও কাতারে। এই দুটি দেশকে স্বাগতিক নির্বাচন করার পেছনেও বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। বিশেষ করে ছোট ও গ্রীষ্মপ্রধান দেশ কাতারকে ২০২২ সালের বিশ্বকাপের স্বাগতিক নির্বাচন নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির ফুটবল অবকাঠামোও তেমন শক্তিশালী নয়। কাতার ফুটবল অবকাঠামো নির্মাণ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শ্রমিক নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের হিসাব অনুসারে, ২০১০ সালে থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার ২০০ নেপালি ও ভারতীয় প্রবাসী শ্রমিক এই নির্মাণযজ্ঞে অংশ নিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
পদত্যাগের চার দিন আগে ব্ল্যাটার পঞ্চমবারের মতো ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কেন পদত্যাগ করব? পদত্যাগ করলে তো সবাই বলবে, আমি অপকর্ম করেছি।’
এদিকে এই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর ব্যাপক দুর্নীতির কারণে ভাবমূর্তি-সংকট সৃষ্টি হওয়ায় সুইজারল্যান্ডও এখন নড়েচড়ে বসেছে বেশ ভালোভাবেই। (টাইম অবলম্বনে)

মুক্ত হলো পাবলিক পার্ক

পুরান ঢাকার ইংলিশ রোড সংলগ্ন পাবলিক পার্কটি দখল হয়েছিল অনেক আগে। ট্রাক-বাস ও ময়লা আবর্জনার স্তূপে ভরা ছিল পুরো এলাকা। অবশেষে পার্কটি দখলমুক্ত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। এখন পার্কটি সংস্কারের কাজ চলছে। ছবিগুলো সম্প্রতি তোলা।
ছবি: আবদুস সালাম
পাবলিক পার্কটির সীমানা প্রাচীরের কাজে ব্যস্ত নির্মাণ শ্রমিকেরা।
ছবি: আবদুস সালাম
নির্মাণ শ্রমিকেরা ঢালাইয়ের কাজ করছেন।
ছবি: আবদুস সালাম
এ স্থানটি কয়েক দিন আগেও ছিল ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর।
ছবি: আবদুস সালাম
পার্কের সীমানা পাঁচিলের তারের বেড়া তৈরি করছেন একজন।
ছবি: আবদুস সালাম
ইটের দেয়াল তৈরিতে কাজ করছেন এক নির্মাণ শ্রমিক।
ছবি: আবদুস সালাম
তারের বেষ্টনী তৈরি করছেন নির্মাণ শ্রমিকেরা।