Wednesday, October 30, 2013
ছোট মন নিয়ে গণতন্ত্র চর্চা করা যায় না
![]() |
| যে আগুনে পুড়ছে বাংলাদেশ |
আকবর আলি খান: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যে ফোনালাপটি না হলেই ভালো হতো
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ বাতিল হোক
ফাতেমা সুলতানা ও জোবাইদা নাসরীন: লেখকদ্বয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। fatama.suvra@gmail.com, zobaidanasreen@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনীতির দাসত্বে বাংলাদেশের মানুষ by একেএম শাহনাওয়াজ

আমাদের ক্ষমতার রাজনীতিকরা এখন দাস মালিকদের চরিত্র বজায় রাখছেন। দেশের সব মানুষ তাদের হুকুমের দাস। তাই তারা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য, ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছার জন্য মই হিসেবে ব্যবহার করেন দেশবাসীকে। ক্রীতদাস গণ্য করে মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর চালিয়ে দেন শানানো ছুরি। নিজেদের মোক্ষে পৌঁছার জন্য বিপর্যস্ত করেন জনজীবন। আর এসব করতে এতটুকু বিব্রতবোধ করেন না তারা।
গণতন্ত্র তো আমাদের সব পক্ষের নেতা-নেত্রীদের কাছে একটি স্লোগান মাত্র। প্রতারণার বাতাবরণে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন তারা। নির্বাচন ছাড়া আর কোনো দৃশ্যমান গণতান্ত্রিক আচরণ নেই আমাদের রাজনৈতিক দল আর নেতানেত্রীদের মধ্যে। দেশপ্রেমের প্রমাণ তারা তাদের আচরণে কখনও দেখাতে পেরেছেন বিপন্ন মানুষ তা মনে করতে পারে না। জনগণের কষ্ট, ভালো লাগা-মন্দ লাগা কখনও তাদের ছুঁয়ে যায় না। নিজেদের মোক্ষ লাভের জন্য একের পর এক প্রাণঘাতী-সম্পদঘাতী কর্মসূচি চাপিয়ে দেন। আর তা বৈধ করতে চান অপ্রাসঙ্গিক শব্দ চয়নের মধ্য দিয়ে।
স্বাধীনতার ৪২ বছর পার হয়ে গেল; কিন্তু আজ পর্যন্ত একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কাঠামো দাঁড় করাতে পারলেন না কোনো পক্ষ। একটি কাজই সাফল্যের সঙ্গে করতে পারলেন, তা হচ্ছে যার যার দলের পক্ষে একদল দলান্ধ অনুসারী তৈরি। এরা বোকা আÍঘাতী আলোর পোকার মতো যার যার দলের সুবিধাবাদী নেতা-নেত্রীদের মরীচিকার পেছনে জীবনপাত করে ছুটতে থাকেন। দেশপ্রেমের চেয়ে দলপ্রেম যখন বড় হয়ে যায় তখন অন্ধত্ব পেয়ে বসে। আর প্রতারক নেতৃত্ব এসব অন্ধকে ব্যবহার করে মানবতার বুক বিদীর্ণ করেন।
ক্ষমতার দৌড়ে ছোটা দলগুলো নির্বাচন ব্যবস্থাতেও কোনো স্থিতি দিতে পারেনি। গণতান্ত্রিক বোধের উপলব্ধি নেই বলে নির্বাচনে গণরায় মেনে নেয়ার মানসিক শক্তি কারও নেই। সবার দৃষ্টি শুধু মসনদের দিকে। তাই বিবদমান দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস এখন চরমে। এভাবে একপক্ষ শিলের চরিত্রে থাকলে অন্যপক্ষ থাকে নোড়ার চরিত্রে। আর শিল-নোড়ার প্রবল ঘর্ষণে প্রাণপাত হয় সাধারণ মানুষের।
নির্বাচনে আমাদের দেশে পরাজিত পক্ষের অভ্যাস রয়েছে ফলাফল বর্জন করার। নির্বাচন গড়াপেটা করার সুনির্দিষ্ট বা প্রামাণ্য অভিযোগ না থাকলেও নির্বাচনের ফলাফল বর্জন বা বিরূপ মন্তব্য যে গণরায়কে অবজ্ঞা করা, তা গণতান্ত্রিক আচরণ-বিচ্ছিন্ন নেতা-নেত্রীদের বোঝানো কঠিন। পরাজিত পক্ষের একান্ত দলান্ধ মানুষ ছাড়া দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষকসহ দেশের সব ভোটার গত জাতীয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। তারপরও বিপুল গণরায়ে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের মহাজোটকে স্বাগত জানাতে পারেনি বিএনপি আর তার মিত্ররা। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা যে রাজনীতিকদের দায়িত্ব, তারাই নির্বাচনের পরদিন থেকেই শত্র“তায় লেগে গেল সরকার পক্ষের বিরুদ্ধে। চেষ্টা চলতে থাকল সংসদ অকার্য করার। গণরায়ে অভিষিক্ত সরকারি দলও জণকল্যাণমুখী হতে পারল না। সব দলের এমন আচরণ প্রতিদিন হতাশ করছে সাধারণ মানুষকে।
এসবের পরও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের সরকার যখন পাঁচ বছর পূর্ণ করছে, তখন আশাবাদী মানুষের আশা করতে ইচ্ছে হয়েছিল যে, নির্বাচন একটি নিজস্ব গণতান্ত্রিক পথ পেয়ে যাবে। কিন্তু যে দেশে রাজনীতিকরা গণআস্থায় বিশ্বাসী নন, গণরায়ের প্রতি ভরসা রাখেন না, তারা নানা ঘোট পাকাবেনই। ফলে সাংবৎসর গণতান্ত্রিক আচরণ না করলেও হঠাৎ নির্বাচনকালীন সরকারের প্রশ্নে অতি বেশি গণতান্ত্রিক হয়ে গেল আওয়ামী লীগ। আদালতের নির্দেশনায় সুযোগ থাকলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা উঠিয়ে দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার পথে হাঁটতে লাগল। জানা কথা, পারস্পরিক অবিশ্বাসের রাজনীতিতে ঝড় উঠবেই। আর সে ঝড়ে দলগুলোর রাজনীতিতে কী লাভ-ক্ষতি হবে তা তারা বুঝবেন, তবে সাধারণ মানুষের জীবন ও দেশের অর্থনীতি যে বিপন্ন হবে এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। কিন্তু তাতে কি এসে যায় আমাদের নেতা-নেত্রীদের? তারা তো দেশের মানুষকে বিশেষ এক ধরনের দাস বিবেচনা করেন। এ দাসদের ঘাড়ে যা চাপিয়ে দেবেন তাই মুখ বুজে বহন করতে হবে।
রাজনীতিকদের স্বেচ্ছাচারিতা এতটা উলঙ্গ হয়ে গেছে যে, জনজীবন ও অর্থনীতির ক্ষতি জেনেও দরকারে-অদরকারে মুড়ি-মুড়কির মতো হরতাল দেয়া শুরু হয়েছে। এখন আর জাতীয় ইস্যুর দরকার পড়ে না। একজন বিএনপি বা ছাত্রদল নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করল তো তার জেলায় হরতাল ডাকা হয়ে যায়। ছাত্রশিবিরের নেতা গ্রেফতার হয়েছে তো দুটো জেলায় ডেকে ফেলা হল হরতাল। এতে গাড়ি-ঘোড়া ভাঙা হয়। জ্বালাও-পোড়াও হয়। এসব হরতালের রাজনৈতিক ফায়দা কী তাও বোঝা যায় না। এ ধারার হরতালে সরকার আদৌ কোনো চাপে পড়ে কিনা তা ভাবার বিষয়। কিন্তু যা দৃশ্যমান তা হচ্ছে, হরতাল-অঞ্চলের জনজীবন আর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিপর্যস্ত হয়। আমাদের রাজনীতিকরা সাধারণ মানুষকে দাস বিবেচনা করেন বলেই এসব অনৈতিক-অযৌক্তিক হরতাল অবলীলায় চাপিয়ে দিতে পারেন তাদের ঘাড়ে।
নির্বাচনী সরকার পদ্ধতি নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে চলছিল অনড় অবস্থান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাসরূপ দেশবাসীর প্রতি সামান্য কৃপা করে একটু নড়ে বসেছিলেন। জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে নিজের দলীয় সরকারের ধারণা থেকে খানিকটা সরে সর্বদলীয় সরকারের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রস্তাব করলেন। আমরা বলব, এ দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি একটি বড় অগ্রগতি। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করলেন না এ সরকারের প্রধান কে হবেন। আমরা যৌক্তিক কারণে ধরে নেই, এ প্রশ্নের সুরাহার জন্য আলোচনার টেবিল খোলা রয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রগলভ নেতারা কী বললেন না বললেন সেদিকে নজর দেয়া খুব জরুরি ছিল না। বিএনপি নেতা-নেত্রীরা যদি দেশপ্রেম দ্বারা চালিত হতেন, তবে মানুষের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে সংলাপের মধ্য দিয়ে একটি ফয়সালা বের করে আনতেন। কিন্তু বিএনপি এখন চালিত হচ্ছে জামায়াত-শিবিরের পরামর্শ ও পেশিশক্তি দিয়ে। ফলে ফয়সালার চেয়ে দেশজুড়ে হিংসার আগুন ছড়িয়ে দিতে চাইলেন তারা। এমন পরিকল্পনা সামনে এনে ২৫ অক্টোবর জনসভার নামে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেয়া হল আতংক। এ জনসভার অগ্রভাগে বিএনপি আর ছাত্রদল তেমন পাত্তা পেল না। শিবিরের অবস্থানই স্পষ্ট হল। দুর্বল হয়ে যাওয়া ছাত্রদল এর প্রতিবাদের সাহসও পায়নি। বেগম জিয়াও তার ভাষণে জামায়াত আর ছাত্রশিবিরকেই তোষণ করলেন বেশি। দু’দিন বললেও বাহ্যত দেড় দিনের আলটিমেটাম দিলেন সরকারকে। এর মধ্যে সংলাপের সূত্রপাত না করলে তিন দিনের লাগাতার হরতালের ডাক দিয়ে রাখলেন। অর্থাৎ আবারও নিজেদের লভ্যাংশ ঘরে তুলতে দাসসম দেশবাসীকে পায়ে মাড়িয়ে, দেশের অর্থনীতির চরম ক্ষতি করে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার কথা না ভেবে, গরিব শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা না করে দেশনেত্রী সহাস্য বদনে হরতালের ডাক দিলেন।
বিএনপির আলটিমেটামের ভেতরেই প্রধানমন্ত্রী টেলিফোনে সংলাপ করলেন বিএনপি নেতার সঙ্গে। সংলাপের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানালেন। একই কারণে হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ করলেন। অথচ খালেদা জিয়া জানালেন, এত অল্প সময়ে জোট নেতাদের তিনি পাবেন না। এ মোবাইলের যুগে কথাটি খুব হাস্যকর লাগল। খুব বিস্ময় হল যখন জানানো হল তিন দিন হরতালের পর তারা সংলাপের বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। অর্থাৎ সংলাপের আগে হরতালীয় ওয়ার্মআপের দরকার আছে। বিষয়টা অনেকটা রবীন্দ্রনাথের রাজ মহীষীর মতো, ‘জ্বেলে দে আগুন ওলো সহচরী/শীত নিবারিব অনলে।’ অর্থাৎ শিবিরের সন্ত্রাসীদের মাঠে নামিয়ে গাড়ি-ঘোড়া ভেঙে, সাধারণ মানুষকে আহত-নিহত করে, দেশের অর্থনীতির কোটি কোটি টাকার ক্ষতি করে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে। আর এর পুরো খেসারতটিই দিতে হবে সাধারণ মানুষকে। দাসসম সাধারণ মানুষকে এসব অনাচার মুখ বুজে সইতে হবে।
কিন্তু মুদ্রার অন্য পিঠটি কখনও দেখেন না প্রভুরূপী রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা। এ দেশের মানুষ শুধু দাসত্ব বরণ করতেই শেখেনি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নানা যুগপর্বেই ফুঁসে উঠেছে তারা। মানুষের দ্রোহ মোকাবেলার শক্তি নৈতিকভাবে দুর্বল এসব নেতা-নেত্রীর আছে বলে মনে হয় না। তাই সময় বয়ে যাওয়ার আগেই মেকি প্রভুত্বের খোলস পাল্টে সব পক্ষের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর উচিত হবে গণদুর্ভোগের কারণ না ঘটিয়ে গণমুখী হওয়া।
ড. একেএম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তিন উদ্দিনের পদধ্বনি! by অরবিন্দ রায়

কেউ চলে গেলে কিছু না কিছু চিহ্ন রেখে যায়। এমনকি ফকিরের ডাকে সাড়া দেয়া ভূত চলে যাওয়ার সময়ও নাকি গাছের ডাল ভেঙে দিয়ে যায়। তথাকথিত তিন উদ্দিন সরকারও চলে যাওয়ার সময় মনের গভীরে ক্ষত রেখে গেছে। সে ক্ষতটি হচ্ছে ভয়। এ ভয় অনির্বাচিত ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা চলে যাওয়ার। পুনরায় আসা সরকারটিও যে তিন উদ্দিনের মতো লাইফ লাস্টিংয়ের খায়েশ পোষণকারী হবে না, এ নিশ্চয়তা কে দেবে! কারণ দিন যতই গড়াচ্ছে, মানুষের মনে অনৈতিক বাসনার মাত্রা ততই বাড়ছে। তাই ২০০৭ সালের অনির্বাচিত সরকারটি দু’বছর লাস্টিং করলেও এবারের সরকার এক যুগের মনমানসিকতা নিয়ে এসে পাঁচ বছর লাস্টিং করলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। আবার বিদায়ের আগে মাল্টি ফ্যাসাদ বাধিয়ে দিয়ে যাওয়াও বিচিত্র কিছু নয়। প্রবাদ আছে, বর্জ্য সব সময়েই বর্জ্যরে জন্ম দেয়। কাজেই সেই অনির্বাচিত সরকারটি চলে যাওয়ার সময় নির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা তুলে না দিয়ে যদি কোনো ষণ্ডা-গুণ্ডার হাতে দিয়ে যায়, তাহলে আশংকার ষোলকলা পূর্ণ হওয়ার আর বাকি থাকবে না।
কথায় বলে, ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে আগুন দেখে চমকায়। মূলত সেই ঘর পুড়ে যাওয়ার স্মৃতিকে ভুলতে না পারার কারণে হয়তো তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথার বিলোপ ঘটানো হয়েছে। এ বিলোপ কাজটি পাকাপোক্ত করার জন্য সংবিধানেও সংশোধনী আনা হয়। সংবিধানকে ডিঙিয়ে এক কথায় উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো কেউই যেন ক্ষমতার সরাবে এসে আমরণ চুমুক বসানোর দিবাস্বপ্নে বিভোর হতে না পারে, তা ঠেকানোই এ সরকার প্রথা বিলোপের অন্যতম কারণ বলে দাবি করা হয়। কিন্তু বিরোধী দল সরকারের এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তাদের তরিকাবাহী কতিপয় সুশীল ব্যক্তিরও ধারণা, সরকার তার জনপ্রিয়তা হ্রাসের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে অর্থাৎ আসন্ন নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে। কেননা সরকার ক্ষমতাসীন অবস্থায় যদি নির্বাচন পরিচালনা করে, তাহলে সে নির্বাচন কখনোই নিরপেক্ষ হবে না। অর্থাৎ নির্বাচনে প্রভাব অক্ষুণ্ন রাখার জন্যই তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির বিলুপ্তি ঘটিয়েছেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পন্ন হওয়া সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বিরোধী দলের এ ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছে। দলীয় সরকারের অধীনেও যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, এ পরীক্ষায় ক্ষমতাসীনরা জিপিএ-৫ পেয়ে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। তারপরও বিরোধী দল সরকারের এ স্বচ্ছতায় আস্থা রাখতে পারছে না। তাদের ধারণা, ওস্তাদের শেষ রাতের মারটা সরকার নিজ হাতেই রেখেছে। সেই শেষ রাতের মারটা হচ্ছে দশম সংসদ নির্বাচন। প্রশ্ন জাগতে পারে, সরকারের নিরপেক্ষ থাকার মনমানসিকতা যদি না থাকত, তাহলে মান রক্ষার জন্য হলেও একটি সিটি কর্পোরেশনকে নিজেদের করে রাখতে পারত। সেটি তারা করেনি। সুবোধ যোদ্ধার মতো পরাজয় মেনে নিয়েছে। তারপরও কেন এই সন্দেহ? অনেকের ধারণা, পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকার বিষয়টি সরকারের একটা কৌশল মাত্র। সরকারের নিরপেক্ষতায় সন্দিহান হয়ে কেউ যেন তত্ত্বাবধায়কের দাবিকে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে না পারে তারই কূটকৌশল হিসেবে সরকার এ পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শতভাগ নিরপেক্ষ থেকেছে। শেয়ালের ওপর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য কুমির যেমন মরার অভিনয় করে নদীর ধারে শুয়েছিল। শেয়াল কুমিরকে মৃত ভেবে তাকে খাওয়ার জন্য এগিয়ে আসা মাত্রই খপ করে ধরে ফেলবে। সিটির নির্বাচনগুলোতে সরকারের নিরপেক্ষ থাকার বিষয়টিও কুমিরের মরার অভিনয়ে শুয়ে থাকার মতো। সংসদ নির্বাচন এলেই এ সরকার নিরপেক্ষতাকে বিসর্জন দিয়ে খপ করে ক্ষমতাকে গিলে ফেলবে। কিন্তু কুমিরের এ কূটচাল যে সফলতার মুখ দেখেনি, গল্পকারই তার দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। তারপরও কেন এই ভয়। এখানে আরও একটি অপ্রিয় সত্য উল্লেখ না করলেই নয়। সেটি হচ্ছে, সম্পন্ন হওয়া পাঁচটি সিটি নির্বাচনে সরকার নিরপেক্ষ থেকেছে নাকি চাতুরী করার সুযোগ পায়নি এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো মন্তব্য করেনি। এমন তো হতে পারে, সরকার পক্ষপাতিত্বের চেষ্টা করেও জনরায়ের স্রোতে কুলিয়ে উঠতে পারেনি। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে সরকার সমর্থিত টিভি চ্যানেল যেখানে গুটিকয়েক কেন্দ্রের ফলাফল ফিসফাস করে প্রকাশ করছিল, তখন বিরোধী দল সমর্থিত চ্যানেল তার ১০-১২ গুণ কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশ করে তার সমর্থিত প্রার্থীকে ধরাছোঁয়ার বাইরে উন্নীত করতে পেরেছিল। ক্ষমতার জাল রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা অবস্থাতেও যখন জনরায় উপেক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়নি, তখন সর্বদলীয় অর্থাৎ উভয় দলের পাঁচজন করে এবং একজনকে (তিনি যেই হোন) প্রধান বানিয়ে নির্বাচন করলে জনরায় উল্টে যাবে এ আশংকা মনে হয় না ততটা সঠিক।
আমার ব্যক্তিগত অভিমত, সরকার তত্ত্বাবধায়কের বদলে যে সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, সেটি তাদের জন্য একটি মরণঘাতী প্রস্তাব। পাঁচ সিটির নির্বাচনী ফলাফলই বলে দেয় এটি কতটা মরণঘাতী। প্রেক্ষাপটের চুলচেরা বিশ্লেষণে তত্ত্বাবধায়ক ও সর্বদলীয় সরকার পদ্ধতিকে পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে তুলনা করা হলে তত্ত্বাবধায়ককে বলা হবে ডালডা আর সর্বদলীয়কে বলা যেতে পারে চলনসই ঘি। সরকার আবেগের বশে বিরোধী দলের হাতে ডালডার বদলে ঘিয়ের পাত্রটি তুলে দিতে চেয়েছে। সেই সর্বদলীয় সরকারপ্রধান যদি শেখ হাসিনা হন, তাহলে সেই ঘি যে ঘোষপাড়ার খাঁটি গাওয়া ঘি তাতে কোনো সন্দেহ থাকবে না। কেননা সর্বদলের পাঁচকে প্লাস মাইনাসে শূন্য ধরা হলে অবাধ মিডিয়ার যুগে একজন মহিলার পক্ষে গোটা দেশের নির্বাচনী ফলাফল উল্টে দেয়া কতটা সম্ভব, তা বোঝার জন্য চিন্তাশক্তিকে বেশি গভীরে নেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তারপরও বিরোধী দল সরকার ঘোষিত এ প্রস্তাবকে গ্রহণ না করে অসময়ের আন্দোলনে নেমে নিরীহ মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ালে পাঁচ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনী ফলাফলকে অপমান করা হবে।
পরিশেষে আবারও সেই তিন উদ্দিন প্রসঙ্গে আসা যাক। বর্তমান প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যে প্রেক্ষাপটে ২০০৭ সালে অনির্বাচিত সরকার তিন মাসের কথা বলে দু’বছর পার করেছিল, সেই একই আবহ কিন্তু ২০১৩ সালে তৈরি হতে চলেছে। সরকার চাইছে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পদ্ধতি। বিরোধী দল বলছে, সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে। একটি বিষয় ভাবা উচিত- সরকার তত্ত্বাবধায়কের প্রশ্নে রাজি হলেই যে সব সমস্যার সমাধান হবে, তা নয়। তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু শেষ হতে না হতেই সিইসিসহ আরও অনেক ইস্যু দেখা দেবে। এরকম ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যেই কিন্তু আবির্ভাব ঘটতে পারে তিন উদ্দিন কিসিমের লাইফ লাস্টিং মানসিকতা সম্পন্ন সরকারের। তাকে শেষটায় ক্রেন লাগিয়েও গদি থেকে তোলা যাবে কি-না সন্দেহ।
অরবিন্দ রায় : একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি পরিচালক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি by আল আমীন চৌধুরী

এরই মধ্যে সুপ্রিমকোর্টের খসড়া রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সংবিধানসম্মত নয় মর্মে রায় দেয়া হয়। তবে সংসদ ইচ্ছা করলে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দু’বার ওই ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যেতে পারে বলে নির্দেশনাও রাখা হয়। কিন্তু সংসদ সে মর্মে কোনো আইন পাস করেনি এবং ওই ব্যবস্থা সংবিধানেও রাখা হয়নি। এসব ইতিবৃত্ত প্রায় সবারই জানা। এখন সরকার পক্ষ বলছে, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে আর বিরোধী দল বলছে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। এ বিবাদ-বিরোধ নিয়েই হরতাল ও নৈরাজ্যকর অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে আলোচনা-সভা ও টকশোর বিজ্ঞ ব্যক্তিত্ববর্গ, রাজনীতির পণ্ডিত কিংবা জনমত বিশেষজ্ঞরা অহর্নিশি নানা মতামত ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। কেউ বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেত্রীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর একটি টেলিফোন করতে কতক্ষণ সময় লাগে?
প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের জন্য বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের নাম চেয়েছেন এবং সেই কাক্সিক্ষত টেলিফোনটি করেছেন। বিরোধী দলও ইতিমধ্যে তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি সংসদে উত্থাপন করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব, মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ অনেক দেশের প্রতিনিধিরাও সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিরসনের পরামর্শ দিচ্ছেন। কেউ কেউ সালিশদার হতেও রাজি আছেন মর্মে জানা গেছে। তবে দুই নেত্রীর ফোন আলাপে বা চলমান কর্মকাণ্ড বিচারে মনে হয় না যে তারা ‘সালিশ মানি তবে তালগাছটা আমার’ এ অবস্থানের বাইরে যাবেন। সে কথায় পরে আসব। তার আগে আমার বেশ কিছু প্রশ্ন আছে।
প্রথম প্রশ্ন হল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারে। রাজনীতি, টকশো ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজ বা অন্যরা যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলেন কিংবা যে তত্ত্বাবধায়কের ব্যাপারে সংবাদপত্রসহ কয়েকটি জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জরিপ করে বলেছে যে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী ওই সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন চায়, তারা কি ত্রয়োদশ সংশোধনীতে সংবিধানে সন্নিবেশিত এবং ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার কথা বলছেন, নাকি সংশোধিত কোনো তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার কথা বলছেন? সংশোধিত হলে কোন কোন স্থানে কী কী সংশোধনী আনার প্রস্তাব হয়েছে, তা কি সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে? উল্লেখ্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন বা ওই সরকার কীভাবে গঠিত হবে, সংবিধানে তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ আছে এবং ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সেভাবে গঠিত সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় (যদিও পরাজিত দল ফলাফলের ব্যাপারে আপত্তি করেছে) বলেই জনগণ সেরূপ সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আমার বিশ্বাস, পত্রিকা বা অন্যান্য জরিপ পরিচালনাকারী জনগণের কাছে পরিচিত এবং পূর্ব-পরীক্ষিত সেই তত্ত্বাবধায়কের ধারণার ওপরই জনমত যাচাই করেছেন। এখানে আরও উল্লেখ্য, বিরোধী দল সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনঃস্থাপন চায় না। বিশেষ করে সে বিধান অনুযায়ী সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তারা মেনে নেবে না বলে বহু আগেই ঘোষণা দিয়েছে। তাছাড়া তাদের সর্বশেষ প্রস্তাবেও ওই সরকারপ্রধান হিসেবে সর্বজন শ্রদ্ধেয় সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন নিরপেক্ষ বিশিষ্ট নাগরিকের কথা বলা হয়েছে। অনুরূপ প্রস্তাব রাজনীতিক, গণমাধ্যম, বিশেষজ্ঞ ও স্বনামধন্য অনেক ব্যক্তির কাছ থেকেও এসেছে। এরূপ একজন ব্যক্তি ১৯৯৫ সালে কমনওয়েলথের সেক্রেটারি জেনারেল চিফ এমেকা আনিয়াওকু বা পরে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী কমনওয়েলথের সেক্রেটারি জেনারেলের বিশেষ দূত স্যার নিনিয়ান স্টিফেন বহু চেষ্টা করেও খুঁজে পাননি। ঠিক তেমনি ২০০৬ সালে বিএনপির মহাসচিব মান্নান ভূঁইয়া ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের মধ্যে দীর্ঘ সংলাপের সময়ও সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন নিরপেক্ষ বিশিষ্ট নাগরিকের সাক্ষাৎ মেলেনি। মেলার কথাও নয়। দুই দল ও নেতৃত্বের মধ্যে যে চরম অবিশ্বাস ও আস্থার অভাব রয়েছে তাতে একপক্ষ রাজি হলে অন্যপক্ষ তাকে প্রতিপক্ষের লোক মনে করবে। প্রকৃতপক্ষে আলোচ্য ব্যক্তি যত শ্রদ্ধেয় ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিই হোন না কেন, দুই পক্ষের প্রত্যেকেই তাদের প্রতি অনুগত বা তাদের পক্ষ সমর্থনকারীকেই শুধু মেনে নিতে রাজি, অন্য কাউকে নয়। বিদ্যমান অবস্থায় একমাত্র বিধাতার পক্ষেই মনে হয় সে ভূমিকা পালন করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রেও নির্বাচনের পর পরাজিত দল সূক্ষ্ম কারচুপি হয়েছে বা আমাদের বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে- এরূপ অভিযোগ যে উত্থাপন করবে না, তা হলফ করে বলা যাবে না। কেউ কেউ সার্চ কমিটির মাধ্যমে সরকারপ্রধান মনোনয়নের প্রস্তাব দিয়েছেন। কারা সে কমিটির সদস্য হবেন? কেইবা তাদের নিয়োগ দেবে? সেসব প্রশ্ন ছাড়াও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, সেই কমিটির সুপারিশকৃত প্রার্থীকে দুই দল কি সমর্থন দেবে? সম্ভাব্য উত্তর : না। তাই কার্যকর কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারে প্রস্তাব করতে হলে এ ধরনের উন্মুক্ত প্রস্তাবের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব অধিকতর যুক্তিসঙ্গত।
আমার দ্বিতীয় দফার প্রশ্নগুলো হচ্ছে সুপ্রিমকোর্টের খসড়া রায়ের নির্দেশনামূলক পরামর্শ অনুযায়ী আরও দু’বার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব সম্পর্কে। অনেক বিশেষজ্ঞ ও পণ্ডিত ব্যক্তির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও বাসদসহ আরও দু’-একটি দল ওই প্রস্তাব দিয়েছে। এখানে তাদের কাছে প্রথম প্রশ্ন : তারা কি সত্যিই মনে করেন, আগামী দু’বারের পর বর্তমান সংবিধানের আলোকে ক্ষমতাসীন দলের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করার মতো গণতান্ত্রিক ভিত রচিত হবে এবং সব দল সে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবে?
১৯৯১ সালে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনসহ মোট চারটি নির্বাচন নির্দলীয় অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ার পরও যেখানে একটি শক্তিশালী নির্বাচনী কাঠামো গড়ে ওঠেনি, স্বাধীন ও প্রকৃত ক্ষমতাবান নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়নি, রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো নিজেদের মধ্যে যেমন আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি তেমনি নির্বাচন কমিশনের ওপরও আস্থা স্থাপন করতে পারেনি, সেখানে আগামী দু’বার অনুরূপ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেই অন্য কোনোরূপ মৌল পরিবর্তন ছাড়াই অবস্থা বদলে যাবে- তেমনটি বিশ্বাস করার কোনো কারণ দেখি না। ওই প্রস্তাব বাস্তবায়নের সম্ভাব্য চিত্রটি একবার চিন্তা করে দেখুন। ১৯৯০ পরবর্তী নির্বাচনগুলোর ফলাফলে দেখা যায়, ক্ষমতাসীন দল পরপর দু’বার ক্ষমতায় আসতে পারেনি। সে অনুযায়ী যে দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের প্রস্তাব করা হয়েছে তার প্রথমটিতে অর্থাৎ আগামী নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের জায়গায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে। আর দ্বিতীয়বারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় যাবে এবং এরপর থেকে ক্ষমতাসীন দল বা জোটের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। তখন আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো বিনা আপত্তিতে নির্বাচন মেনে নেবে- এরকম বিশ্বাস করা দুষ্কর। প্রতিটি দলের কার্যক্রম, আচার-আচরণ, মনমানসিকতার আমূল পরিবর্তন করে গণতান্ত্রিক চর্চা, পরস্পরের প্রতি আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি, সবাই মিলে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ এবং নিরপেক্ষ ও ন্যায়নিষ্ঠ প্রশাসন গড়ে তুললেই কেবল অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং শাসনভার হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। এর জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও দৃঢ় সংকল্প। কিন্তু বিরাজমান অবস্থায় সে লক্ষণ কোনো দল বা জোটের মধ্যেই দেখা যায় না। তাছাড়া চার চারটি নির্বাচনে এমনকি সেনাসমর্থিত দু’বছর মেয়াদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠিন অভিজ্ঞতার পরও যখন আমাদের দলীয় রাজনীতির কৃষ্টি বদলায়নি, আরও দু’বারের বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন যে দেশকে দৃঢ় গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে এবং সব দলকে নির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন অকুণ্ঠচিত্তে গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত করবে, সে ভরসা কোনোক্রমেই করা যায় না। এখানে ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ বিভাগের পর পাকিস্তান ও ভারতের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক ধারা বিকাশের উদাহরণ একান্ত প্রাসঙ্গিক মনে করি। পাকিস্তান নিজেকে শিশুরাষ্ট্র হিসেবে গণ্য ও ঘোষণা করে প্রথম ৯ বছর পর্যন্ত জাতীয় সাধারণ নির্বাচন যেমন দেয়নি, তেমনি একটি শাসনতন্ত্র বা সংবিধানও রচনা করেনি পাছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের টানাপোড়েনে শিশুরাষ্ট্রটি সবল ও পুষ্ট হতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। তারপর যাও একটি সংবিধান রচিত হল, নানা অজুহাতে তার বাস্তবায়ন ও নির্বাচন অনুষ্ঠান স্থগিত করে সামরিক শাসন জারি করা হল। এরপর গণতন্ত্র বা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকারের মতো ন্যায্য দাবিগুলো শিশুরাষ্ট্রের দোহাই দিয়ে নাকচ করা হল। শেষ পর্যন্ত ২৩ বছরেও যখন দুর্বল শিশুটি সাবালক হল না, তখন গণতন্ত্র ও ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হল এবং সেই শিশুরাষ্ট্রটির মৃত্যু হল। অন্যদিকে ভারত প্রথমেই সংবিধান রচনায় এবং গণতন্ত্রের প্রথায় জাতীয় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যাপৃত হল এবং অল্প সময়ের মধ্যেই একটি সবল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত হল। নতুন রাষ্ট্রের দুর্বল গণতান্ত্রিক ভিতের দোহাই দিয়ে তারা নির্বাচিত দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকেনি। আসলে গণতন্ত্রে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা নিরসনে চাই আরও বেশি গণতন্ত্র- রাষ্ট্র কাঠামোয়, সরকারে, দলে ও প্রশাসনিক স্তরে। তার সঙ্গে চাই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার পরিবেশ এবং জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ঐকমত্য।
আমার দ্বিতীয় প্রশ্নটি হচ্ছে রাজনীতিবেত্তা, সুশীল সমাজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পণ্ডিত ও বিশ্লেষক এবং প্রগতিবাদী রাজনীতিকদের কাছে। প্রতিবার যখন নির্বাচন ঘনিয়ে আসে, ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরোধী দলের ক্ষমতার লড়াই চরম সহিংসতায় রূপ নিয়ে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, তখন তারা স্থায়ী কোনো সমাধানের ব্যবস্থার কথা না বলে আপাত প্রশমনের ব্যবস্থা হিসেবে কেন সেবারের মতো একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে কোনোমতে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুপারিশ করে থাকেন? এতে প্রতিবারই একই অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে। প্রতিবারই সেই দুই বিবদমান দলকে সংলাপে বসতে আহ্বান করা হবে। দুই নেতাকে ফোনালাপ করতে অনুরোধ করা হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে অভিমান ভাঙানোর চেষ্টা হবে। এরই মধ্যে গত তিন দিনের হরতালের মতো বা তার আগেরবারের মতো হালি হালি মানুষ মরবে, শত শত আহত হবে, কোটি কাটি টাকার সম্পদ নষ্ট হবে, অগণিত মানুষ আয় হারাবে, শান্তি হারাবে। আর তাতেও কাজ না হলে তৃতীয় কোনো অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ অচলাবস্থার অবসান হবে। এ দুষ্ট চক্র থেকে মুক্তির উপায় বোধ করি রাজনীতিকদেরই বের করতে হবে। সে লক্ষ্যে আমার মনে হয়, সার্চ কমিটির মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের পরিবর্তে অনুরূপ কোনো সর্বসম্মত ব্যবস্থায় শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলার দিকেই তাদের সর্বাÍক চেষ্টা চালানো সমীচীন হবে।
বড় বড় দল ও জোটগুলোর পালাক্রমে ক্ষমতায় থাকার সময় সব ধরনের বাজিকরি (বিচারপতি হাবিবুর রহমানের ভাষায়) কর্মকাণ্ড দেখার পরও বলছি, প্রধানমন্ত্রীর সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব সব রাজনৈতিক দলের পক্ষে বিবেচনার দাবি রাখে। ওই প্রস্তাবের আলোকে আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারের অধীনে আবার সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ আছে। উন্নত ও উন্নয়নশীল অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো এবার থেকেই শুরু হতে পারে সে ব্যবস্থা। এতে নির্বাচনে মানুষের উৎসাহ বাড়বে, উৎকণ্ঠা নয়। রাজনীতিকরাও জনসমর্থন আদায়ে বেশি সময় ব্যয় করতে পারবেন, জনদুর্ভোগ বাড়াতে নয়।
আল আমীন চৌধুরী : কলাম লেখক ও সাবেক সচিব
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কুতুবদিয়ায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ২৩
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, ৬০ ঘন্টার হরতাল শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত ধুরুংবাজারে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। মাগরিবের নামাজের পরপরই কুতুবদিয়া থানার একদল পুলিশ এসে সভা করতে বাধা দিয়ে ওই মঞ্চ দখলে নেন। এতে পুলিশ ও জামায়াত শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ লেগে যায়। জামায়াত শিবিরের কর্মীরা পুলিশের উপর হামলা চালালে পুলিশ ব্যাপক গুলি বর্ষণ করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের আবু আহম্মদ (৫৫) ও লেমশিখালী ইউনিয়নের আজিজুর রহমান (২০) মারা যান । সাড়ে ৭টার দিকে মারা যান গুলিবিদ্ধ মোঃ পারভেজ (২৪) । এ ছাড়া রাত ৯টার দিকে তাজুল ইসলাম (২৯) নামের আরো একজন মারা যায়। এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাড়ালো ৪ জনে। নিহত ৪ জনের মধ্যে একজন জামায়াত ও ২ জন শিবির কর্মী বলে দাবী করেছেন উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারী শাহরিয়ার চৌধুরী।
ধুরুং ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজাদ সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ পর্যন্ত ৩ জন নিহত ও আরো ৬ জন গুলিবিদ্ধ সহ ২৪ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশীর ভাগকে চট্টগ্রাম ুমেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুরো এলাকায় থেমে থেমে গুলি বর্ষণ হচ্ছে। বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা।

এদিকে, সংঘর্ষ চলাকালে দু’পুলিশ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো.আজাদ মিয়ার মোবাইলে বার বার ফোন করার পরেও তিনি রিসিভ করেননি।
কুতুবদিয়া ধুরুংবাজারে এলাকায় পুলিশ ও ১৮ দলের নেতা কমীদের মাঝে সংঘর্ষ চলাকালে নিখোঁজ হওয়া ২ পুলিশ কনষ্টেবলকে রাত ৮ টায় উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় কুতুবদিয়া থানার ২ পুলিশ নিখোঁজ হয়েছিল। কুতুবদিয়ায় পুলিশের গুলিতে ৪ জন এবং গত রবিবার চকরিয়ায় ২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ১৮ দল কক্সবাজার জেলায় বৃহস্পতিবার সকাল সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে।
জেলা বিনেপির দপ্তর সম্পাদক ইউছুপ বদরী জানান, বৃহস্পতিবার ডাকা হরতাল কুতুবদিয়া, চকরিয়া সহ পুরো জেলা আওতায় থাকবে।
কুতুবদিয়া থানার ওসি জানিয়েছেন, নিখোঁজ ২ পুলিশ সদস্যকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
এদিকে, কুতুবদিয়ায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জামায়াত শিবিরে সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার রাত ৯ টায় কক্সবাজার শহরেও ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে জামায়াত শিবির। জামায়াত শিবির কর্মীরা কক্সবাজার শহরের লালদীঘির পাড়, কৃষি অফিস রোড, ফায়ার সার্ভিস এলাকা ও বাজার ঘাটায় বেশ কিছু যান বাহন ভাংচুর করা হয়েছে। এসময় চলে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। । শহরের সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
এক বিবৃতিতে হামিদ আযাদ এমপি বলেন, সরকার গণআন্দোলনে ভীত হয়ে হত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের পথ বেছে নিয়েছে। টানা ৬০ ঘন্টার হরতালে পুলিশের গুলীতে সারা দেশে ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছে। শত শত মানুষকে আহত করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। সে ধারাবাহিকতায় আজ কুতুবদিয়া উপজেলার ধুরং বাজারে জামায়াত-শিবিরের হরতাল পরবর্তী সমাবেশে পুলিশ বিনা উস্কানীতে গুলীবর্ষণ করে আবু আহমদ, আজিজুর রহমান, তাজুল ইসলাম ও পারভেজসহ ৫ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। পুলিশের উপর্যুপরি হামলা ও গুলীবর্ষণে ২০ জন গুলীবিদ্ধ হয়ে গুরতর আহতসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আহত করেছ। কিন্তু জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে, গুলীবর্ষণ ও হত্যা করে গণআন্দোলন দমন করা যাবে না বরং শহীদের রক্তের পথ ধরেই গণআন্দোন বিজয় লাভ করবে।
তিনি ধুরং বাজার হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিচারের আওতায় জোর দাবী জানান। অন্যথায় গণআন্দোলনকে বিজয়ী করে শহীদের রক্তের বদলা নেয়া হবে।
কুতুবদিয়ায় হত্যার প্রতিবাদে বুধবার বিক্ষোভ বৃহষ্পতিবার কক্সবাজারে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
জামায়াত প্রেরিত প্রেস রিলিজ :
কুতুবদিয়ায় ১৮দলীয় জোটের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৩ জামায়াত-শিবির কর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা এবং অসংখ্য নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হওয়ায় তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা আমীর মুহাম্মদ শাহজাহান, নায়েবে আমীর মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, সেক্রেটারি জিএম রহীমুল্লাহ। ২৫ অক্টোবর চকরিয়ায় বিজিবির গুলিতে ৩ বিএনপি কর্মী এবং আজ (২৯ অক্টোবর) কুতুবদিয়ায় ৩ জামায়াত -শিবির কর্মী হত্যার প্রতিবাদে ১৮দলীয় জোটের আহবানে আগামীকাল বুধবার বিক্ষোভ এবং ৩১ অক্টোবর বৃহষ্পতিবার কক্্সবাজারে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হবে। জেলাবাসীকে ১৮দল ঘোষিত কর্মসূচী স্বত:স্ফূর্তভাবে পালন করার জন্য ১৮দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রোমের নাগরিকত্ব পেলেন সুচি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রথম পোলিশ প্রধানমন্ত্রী তাদেউসজ চলে গেলেন
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1400)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
October
(362)
-
▼
Oct 30
(9)
- ছোট মন নিয়ে গণতন্ত্র চর্চা করা যায় না
- যে ফোনালাপটি না হলেই ভালো হতো
- ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ বাতিল হোক
- রাজনীতির দাসত্বে বাংলাদেশের মানুষ by একেএম শাহনাওয়াজ
- তিন উদ্দিনের পদধ্বনি! by অরবিন্দ রায়
- সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা জর...
- কুতুবদিয়ায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ২৩
- রোমের নাগরিকত্ব পেলেন সুচি
- প্রথম পোলিশ প্রধানমন্ত্রী তাদেউসজ চলে গেলেন
-
▼
Oct 30
(9)
-
▼
October
(362)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



