Showing posts with label বিজ্ঞান. Show all posts
Showing posts with label বিজ্ঞান. Show all posts

Tuesday, July 21, 2026

জ্যোতির্বিজ্ঞানের নতুন আবিষ্কারের খোঁজে বাংলাদেশের জ্যোতির্বিজ্ঞানী by জাহিদ হোসাইন খান

মহাকাশের বিশালতায় পৃথিবী থেকে ১ হাজার ৩৫০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত টিওআই–২১৫৫ নামক একটি নক্ষত্রকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে এক রহস্যময় বস্তু, যা বর্তমানে জ্যোতির্বিজ্ঞানী মহলে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গবেষকদের মতে, টিওআই-২১৫৫বি নামের এই বস্তুটির অবস্থান এমন এক সন্ধিক্ষণে, যা নক্ষত্র ও ব্যর্থ নক্ষত্র বা ব্রাউন ডোয়ার্ফের মধ্যকার সীমানা নির্ধারণের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। মহাকাশবিজ্ঞানের জগতে নতুন এই রহস্যের উন্মোচন করেছে বাংলাদেশের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মো. রেদোয়ান আহমেদ ও তাঁর আন্তর্জাতিক গবেষণা দল।

সম্প্রতি দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে টিওআই–২১৫৫বি নামক এক অদ্ভুত মহাজাগতিক বস্তুর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে, যা বিজ্ঞানীদের জন্য এক বড় কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট মিশনের তথ্য ব্যবহার করে এবং পরবর্তী সময় বিভিন্ন স্থলভিত্তিক মানমন্দিরের সহায়তায় এই বস্তুর অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়। টিওআই–২১৫৫বির ভর ও গঠন একে মহাজাগতিক বিবর্তনের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়েছে। এর ভর প্রায় ৮০ দশমিক ৬ বৃহস্পতির সমান, যা এটিকে ব্রাউন ডোয়ার্ফ বা বাদামি বামন এবং খুব কম ভরের নক্ষত্রের মধ্যবর্তী একটি সীমানায় স্থাপন করে। সাধারণত নক্ষত্র হতে গেলে কেন্দ্রে হাইড্রোজেনের ফিউশন বা সংযোজনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার জন্য যে ন্যূনতম ভরের প্রয়োজন হয়, এই বস্তু ঠিক সেই সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এটিই মূলত এই আবিষ্কারের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক।

টিওআই–২১৫৫বির ব্যাসার্ধ প্রায় শূন্য দশমিক ৯৭ বৃহস্পতির সমান এবং ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি, যা একে এক অনন্য মহাজাগতিক বস্তুতে পরিণত করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন মো. রেদোয়ান আহমেদ। একজন গবেষক হিসেবে তাঁর নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রম এই আবিষ্কারকে সম্ভব করেছে। মহাকাশ গবেষণার মতো জটিল ও সূক্ষ্ম একটি ক্ষেত্রে, যেখানে তথ্যের নিখুঁত বিশ্লেষণ অত্যন্ত জরুরি, সেখানে রেদোয়ানের নেতৃত্ব ও বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসনীয়। দীর্ঘ সময় ধরে সংগৃহীত তথ্য ও রেডিয়াল ভেলোসিটি পরিমাপের মাধ্যমে তিনি ও তাঁর সহযোগী ব্যক্তিরা প্রমাণ করেছেন, টিওআই–২১৫৫বির মতো বস্তু নক্ষত্র ও উপ-নাক্ষত্রিক বস্তুর বিবর্তনীয় মডেলগুলো পরীক্ষা করার জন্য একটি চমৎকার বেঞ্চমার্ক হিসেবে কাজ করতে পারে। রেদোয়ানের এই কাজ কেবল একটি নতুন মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান নয়, নক্ষত্রের জন্মের সীমা ও উপাদানের গঠন সম্পর্কে ধারণাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

মো. রেদোয়ান আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, যেসব মহাজাগতিক বস্তুর ভর নক্ষত্রে পরিণত হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয় এবং তাই তাদের কেন্দ্রে হাইড্রোজেন ফিউশন শুরু হয় না, সেগুলোকে ব্রাউন ডোয়ার্ফ বা ‘ব্যর্থ নক্ষত্র’ বলা হয়। টিওআই–২১৫৫বির ভর বৃহস্পতির ভরের প্রায় ৮০ দশমিক ৬ গুণ। সাধারণত বৃহস্পতির ভরের ৭৫ থেকে ৮০ গুণ বেশি ভরের বস্তুকে নক্ষত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু নতুন এই বস্তু সেই তত্ত্বের একেবারে কিনারে দাঁড়িয়ে আছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী মো. রেদোয়ান আহমেদ ও তাঁর দল নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বস্তুটির আকার ও ভর নিখুঁতভাবে পরিমাপ করেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানী মো. রেদোয়ান আহমেদ জানান, কেবল ভরই শেষ কথা নয়, একটি বস্তুর বয়স, রাসায়নিক গঠন ও বায়ুমণ্ডলীয় বৈশিষ্ট্যও নির্ধারণ করে সেটি নক্ষত্র হিসেবে জ্বলে উঠবে কি না। ফলে নক্ষত্র ও ব্রাউন ডোয়ার্ফের মধ্যে কোনো স্পষ্ট বিভাজন রেখা টানা সম্ভব হচ্ছে না।

টিওআই–২১৫৫বি মহাকাশের অন্যতম বিরল একটি বস্তু। এটি নক্ষত্র ও ব্রাউন ডোয়ার্ফের মধ্যকার রূপান্তরকালীন অবস্থায় থাকায় বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। মো. রেদোয়ান আহমেদের মতে, এ ধরনের আরও মহাজাগতিক বস্তু পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন, কীভাবে একটি বস্তু নক্ষত্রে পরিণত হয় এবং কোন সীমা অতিক্রম করলে তার কেন্দ্রে হাইড্রোজেন ফিউশন শুরু হয়।

মো. রেদোয়ান আহমেদ অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডনি ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোনমির অ্যাস্ট্রোফিজিকস বিভাগের পিএইচডি গবেষক। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে এক্সোপ্ল্যানেট, ব্রাউন ডোয়ার্ফ, নাক্ষত্রিক কার্যকলাপ ও রেডিও জ্যোতির্বিজ্ঞান। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার পার্কস রেডিও টেলিস্কোপের ক্রায়োপ্যাফ ম্যাসার পর্যবেক্ষণের ডেটা পাইপলাইন উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত। পাশাপাশি তিনি নক্ষত্র ও উপ–নাক্ষত্রিক বস্তুর মধ্যকার সীমানা নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইসের অ্যাস্ট্রোমিউজার্স গ্রুপ ও বাংলাদেশের ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকসের অ্যাসোসিয়েট মেম্বার হিসেবে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

মহাকাশবিজ্ঞানের জগতে নতুন এক রহস্যের উন্মোচন করেছেন মো. রেদোয়ান আহমেদ ও তাঁর আন্তর্জাতিক গবেষণা দল
মহাকাশবিজ্ঞানের জগতে নতুন এক রহস্যের উন্মোচন করেছেন মো. রেদোয়ান আহমেদ ও তাঁর আন্তর্জাতিক গবেষণা দল। সংগৃহীত

মহাকাশে আকারে বড় বিরল গ্রহের সন্ধান

মহাবিশ্বের অসীম অন্ধকারের গভীরে লুকিয়ে আছে কোটি কোটি অচেনা গ্রহ। পৃথিবী থেকে হাজার হাজার আলোকবর্ষ দূরে থাকা তেমনই এক দানবীয় গ্রহের সন্ধান পেয়েছে নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট। নাসার তথ্যমতে, স্থান–কালের তরঙ্গ ব্যবহার করে দূরবর্তী নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা গ্রহটি শনাক্ত করা হয়েছে। চেনা নিয়মের বাইরে গিয়ে এবারই প্রথম নতুন গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে।

ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট সাধারণত নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি থাকা গ্রহগুলো আবিষ্কার করে থাকে। তবে নতুন আবিষ্কৃত এই গ্রহ নিজের নক্ষত্র থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণকারী বৃহস্পতি গ্রহের মতো দূরবর্তী কক্ষপথে ঘুরছে। নতুন গ্রহটির বিষয়ে নিউ মেক্সিকো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডায়ানা ড্রাগোমির বলেন, ‘সার্ভে স্যাটেলাইট যখন মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, তখন কেউ ভাবেনি যে এটি কখনো এ ধরনের গ্রহ খুঁজে পেতে সক্ষম হবে। নতুন গ্রহটির ভর আমাদের বৃহস্পতি গ্রহের চেয়ে ১ দশমিক ৬ গুণ বেশি এবং এর কক্ষপথের দূরত্বও প্রায় এক। এই আবিষ্কার প্রমাণ করছে স্যাটেলাইটে ধারণ করা পুরোনো তথ্যের মধ্যে সম্ভবত আরও অনেক মাইক্রোলেনসিং গ্রহ লুকিয়ে আছে, যা গবেষকেরা আগে খোঁজার কথা ভাবেননি।’

২০২৩ সালে প্রথম গ্রহটির অস্তিত্বের ইঙ্গিত দিয়েছিল ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির গায়া স্পেস টেলিস্কোপ। সে সময় গায়া টেলিস্কোপের অ্যালার্ট সিস্টেমে দেখা গিয়েছিল একটি নক্ষত্র হঠাৎ অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। মহাকাশে যখন একটি নক্ষত্র অন্য একটি দূরবর্তী নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় নিজের মহাকর্ষ বলয়ের কারণে পেছনের নক্ষত্রের আলোকে বিবর্ধিত বা বড় করে দেখায়, তখন এ ঘটনা ঘটে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে গ্র্যাভিটেশনাল মাইক্রোলেনসিং বলা হয়। আর তাই পরবর্তী সময় বিজ্ঞানীরা টেস স্যাটেলাইটের আর্কাইভে থাকা পুরোনো তথ্য পরীক্ষা করে দেখেন। তাঁরা দেখতে পান টেস স্যাটেলাইটটিও একই মহাজাগতিক ঘটনা রেকর্ড করে রেখেছিল।

গবেষণায় দেখা গেছে, গায়া২৩ব্রা বি’ নামের গ্রহটি একটি কমলা রঙের বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে। এই নক্ষত্রের ভর আমাদের সূর্যের ভরের প্রায় ৮০ শতাংশ। গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। টেস স্যাটেলাইটটি সাধারণত পৃথিবীর কাছাকাছি মাত্র ১৫০ আলোকবর্ষের মধ্যে গ্রহ অনুসন্ধান করে। সে তুলনায় এই গ্রহের দূরত্ব অনেক বেশি।

সূত্র: এনডিটিভি

মহাকাশ
মহাকাশ। ফাইল ছবি: রয়টার্স

পাতালপুরীর খোঁজে বিজ্ঞানীরা by জাহিদ হোসাইন খান

পৃথিবীর কেন্দ্রে কী রয়েছে, তা জানতে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। সেই কৌতূহল মেটাতে অর্ধশতাব্দী আগে এক অবিশ্বাস্য ও দুঃসাহসিক অভিযানে নেমেছিলেন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজ্ঞানীরা। মাটির নিচে প্রায় ১২ কিলোমিটার গভীরে গর্ত তৈরি করেছিলেন তাঁরা, যা মানুষের তৈরি সবচেয়ে গভীর লম্বা গর্ত। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, বিজ্ঞানের এই বিশাল অর্জন পৃথিবীর মোট ব্যাসার্ধের তুলনায় ছিল সমুদ্রে এক ফোঁটা শিশিরের মতো।

১৯৭০ সালে উত্তর-পশ্চিম রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপে ভূ-পৃষ্ঠের গভীর রহস্য উন্মোচনে কাজ শুরু করেন সোভিয়েত ভূতাত্ত্বিকেরা। ১৯৮৯ সালে যখন এই খননকাজ শেষ হয়, তখন গর্তটির গভীরতা গিয়ে দাঁড়ায় ১২ হাজার ২৬২ মিটার (প্রায় ১২ দশমিক ২ কিলোমিটার)। এটি মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গভীর উল্লম্ব গর্ত, যা কোলা সুপারদীপ বোরহোল নামে পরিচিত। তবে এই বিশালাকার অর্জনের পরও বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে মাত্র শূন্য দশমিক১৯ শতাংশ পথ পাড়ি দিতে পেরেছিলেন। কারণ, পৃথিবীর কেন্দ্র প্রায় ৬ হাজার ৩৭১ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত।

কোলা উপদ্বীপের প্রকল্পটি কোনো খনিজ তেল বা মূল্যবান ধাতু উত্তোলনের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি। এর লক্ষ্য ছিল কেবল ভূ-তাত্ত্বিক গবেষণা। ভূমিকম্পের তরঙ্গের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর ভেতরের স্তর সম্পর্কে যেসব ধারণা করেছিলেন, শিলাখণ্ড সরাসরি সংগ্রহ করে সেগুলোর সত্যতা যাচাই করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। বিজ্ঞানীদের ইচ্ছা ছিল ১৫ কিলোমিটার গভীরে পৌঁছানো, যদিও তা সম্ভব হয়নি।

প্রায় দুই দশক ধরে চলা এই খনন অভিযানে ভূপৃষ্ঠের নিচে প্রায় ৬ হাজার ৮৪২ মিটার পর্যন্ত আগ্নেয় ও পাললিক শিলা অতিক্রম করার পর পাওয়া যায় শতকোটি বছরের পুরোনো নাইস শিলা। বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, গ্রানাইটসমৃদ্ধ এই শিলার নিচে কঠিন ব্যাসাল্ট শিলার একটি পরিষ্কার স্তর রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তা পাওয়া যায়নি; প্রাচীন কেলাসিত শিলার জটিল নেটওয়ার্ক দেখা গেছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ আবিষ্কার ছিল গভীর পাথরের স্তরে পানির উপস্থিতি। মাটির প্রায় ১১ কিলোমিটার গভীরে শিলার সূক্ষ্ম ফাটলে এই পানির সন্ধান পাওয়া যায়।

১২ কিলোমিটারের বেশি গভীরে পৌঁছানোর পর বিজ্ঞানীরা বড় ধরনের কারিগরি ও প্রাকৃতিক বাধার মুখে পড়েন। ধারণার চেয়েও মাটির গভীরের তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকায় (প্রায় ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) প্রচণ্ড তাপে ড্রিলিংয়ের যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ নরম হয়ে কাজ করার ক্ষমতা হারাতে শুরু করে। ভূ-গর্ভের অতিরিক্ত চাপে গর্তের ভেতরের দেয়াল বারবার দুমড়েমুচড়ে ও সংকুচিত হয়ে যাচ্ছিল। প্রযুক্তিগত বাধার পাশাপাশি ১৯৯০ দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটে। ফলে এই প্রকল্পের অর্থায়ন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং ১৯৯২ সালে স্থায়ীভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

কোলা উপদ্বীপে খনন করা এই গর্ত পৃথিবীর মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের কেবল তিন ভাগের এক ভাগ। ফলে ভূ-ত্বকের নিচে থাকা হাজার হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত ম্যান্টল স্তরের ধারেকাছেও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ ৫০ বছর অতিক্রম করার পরও আজ পর্যন্ত অন্য কোনো গবেষণা প্রকল্প এত গভীরে সরাসরি লম্বা গর্ত তৈরি করতে পারেনি।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

পৃথিবী
পৃথিবী। ফাইল ছবি: রয়টার্স

Saturday, May 3, 2025

দুরবস্থায় ৬০০ বিজ্ঞানী by পিয়াস সরকার

ক’দিন ধরেই উত্তাল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বাপশক)। দু’মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না কর্মকর্তা-কর্মচারী-বিজ্ঞানীরা। ১১ দফা দাবিতে টানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন তারা। প্রায় ৬০০ বিজ্ঞানী ও ২৫০০ কর্মকর্তার অভিযোগ তাদের নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে খুব বাজেভাবে। করতে দেয়া হচ্ছে না স্বাধীন বিজ্ঞান চর্চা। ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ মেলার পরও মিলছে না অনুমতি। সভা-সেমিনারগুলোতে যাচ্ছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। আমলে নেয়া হচ্ছে না নিউক্লীয় তথ্যের সুরক্ষা ও গোপনীয়তা। যে সফটওয়্যারে তাদের তথ্য দিতে বলা হচ্ছে তা ভারতীয় একটি সফটওয়্যার। নিয়ন্ত্রণ করা হয় চেন্নাই থেকে।

বাপশক-এর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিজ্ঞানীরা জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেতন-ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামের তালিকার পাশাপাশি প্রত্যেকের পরিবারের জীবন বৃত্তান্ত, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আয়-ব্যয়, আমদানি-রপ্তানি, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি সব কিছু এই সফটওয়্যারে দিতে হয়। এই সফটওয়্যারটি নিয়ন্ত্রণ হয়ে থাকে ভারতের চেন্নাই থেকে। বিজ্ঞানীদের অভিযোগ, এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার রীতিনীতি মেনে পরমাণু প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিশেষায়িত গবেষণা ও সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করলে কোনো গোপনীয়তাই থাকবে না।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন চেয়ারম্যান ও ৪ জন সদস্যের সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষ পদগুলো শূন্য। বর্তমানে চেয়ারম্যান ও মাত্র একজন সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফ্যাসিস্ট সরকার বিতাড়িত হলেও এখনো মন্ত্রণালয় ফ্যাসিস্টের দোসরমুক্ত হয়নি। পূর্ণ স্কলারশিপ থাকা সত্ত্বেও বিজ্ঞানীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা/প্রশিক্ষণের জন্য গভর্নমেন্ট অর্ডার (জিও) প্রদান করা হচ্ছে না। অভিযোগ গত কয়েক মাসে মন্ত্রণালয়ের প্রায় ১২ জন কর্মকর্তা পরমাণু প্রযুক্তি বিষয়ক বৈদেশিক প্রশিক্ষণে মনোনয়ন নিয়েছেন। এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছেন বিজ্ঞানীরা। তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত নিউক্লিয়ার সিকিউরিটির ওপর একটি ইন্টারন্যাশনাল ট্রেনিং কোর্সে কোনো বিজ্ঞানীকে না পাঠিয়ে পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ের এডিশনাল সেক্রেটারি মো. মইনুল ইসলাম তিতাসকে। ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ফর নিউক্লিয়ার সিকিউরিটির ওপর ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত প্রোগ্রামে যান ডেপুটি সেক্রেটারি মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার, অস্ট্রিয়ায় ইনসাইডার থ্রেট ইউজিং দি শাপারস থ্রিডি মডেলের ওপর কর্মশালায় যান সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফারজানা, সিডনিতে অনুষ্ঠিত সেইফ ট্রান্সপোর্ট অব রেডিওকেটিভ মেটেরিয়াল প্রোগ্রামে যান সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মো. সানোয়ার হোসেন।

ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। তিনি ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেয়েও যেতে পারেননি দেশের বাইরে। তিনি বলেন, ১৯৮৫ সালের নির্দিষ্ট একটা কমিশন আইন আছে। যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। এখানে কমিশন কীভাবে চলবে সব বলা আছে। এখানে উচ্চশিক্ষাকে ট্রেনিং হিসেবে দেখানো হয়েছে। এটা ২০১০-এর আগে অনেক সহজ ছিল। আমি আমেরিকায় ফুল ব্রাইট ভিজিটিং স্কলার্স প্রোগ্রামে স্কলারশিপ পাই, যা সারা বিশ্বের মধ্যে সেরা। রূপপুরে যে বর্জ্যগুলো উৎপন্ন হবে বা আমাদের এখানেও কিছু মেডিকেল নিউক্লিয়ার বর্জ্য বের হয়, এটার ডিসপোজালের জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা প্রয়োজন। কমিশন থেকে খুবই উৎসাহ দেয়া হলো। দেশের একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে এই স্কলারশিপটা আমি পেয়েছিলাম। ২০২৪ সালের কথা, কমিশন থেকে মন্ত্রণালয়ে জিও’র জন্য চিঠি পাঠালো। আমার পাসপোর্টে জে ওয়ান ভিসা লেগে গেছে, আমি কোথায় থাকবো, কার আওতায় কাজ করবো সেটাও ঠিক করা হয়েছে। জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে এই প্রোগ্রামটা ছিল। ডিসেম্বরের ১০ তারিখ আমার জিও (গভর্নমেন্ট অর্ডার) নামঞ্জুর করা হলো।

তিনি বলেন, আমি সচিবের সঙ্গে দেখা করলাম। তিনি বললেন সিদ্ধান্ত হয়েছে ওটা কিছু করা যাবে না। এরপর ফের পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করার পরও হলো না। জে ওয়ান ভিসা ছয় মাসের জন্য দেয়া হয়। আমাকে ছয় মাস পর অবশ্যই ফেরত আসতে হতো। সচিব বললেন, এত পড়াশুনা করে কী হবে? এই বিজ্ঞানী বলেন, দুইজন উপদেষ্টা ফোন করেছিলেন। বলেছিলেন, দেখেন এটা প্রেস্টিজিয়াস একটা প্রোগ্রাম। দুই দেশের সম্পর্কেরও বিষয়। তাও জিও দেয়া হয় নাই। ফুল ব্রাইট স্কলারশিপে চান্স পেয়ে যাননি- এমন ইতিহাস বাংলাদেশে নাই। সরকারের এক টাকাও খরচ দিতে হতো না বরং রেমিট্যান্স নিয়ে আসতে পারতাম। আমি গত ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখ রিট করেছিলাম। হাইকোর্টের রায় আমার পক্ষে আসলো। একটা রুলিং দেয়া হলো, কেন জিও দেয়া হবে না এবং ৭ দিনের মধ্যে জিও দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হলো। এরপর এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। এটা চিফ জাস্টিজ পর্যন্ত গিয়েছিল। চিফ জাস্টিজ বলেন, রুলিংয়ের উপর হেয়ারিং করে রায় দেয়ার জন্য। এরপর আবারো আমি আপিল করতে পারতাম কিন্তু করি নাই। কারণ সময় শেষ। যখন হাইকোর্টে ডিরেকশন দেয়া হয় তখন হাইকোর্ট থেকে মন্ত্রণালয়ে ফোন করা হয়েছিল। তারা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। এ বিষয়ে শোকজও করা হয়েছিল। সেটা আমার রায়েও লেখা আছে।

তিনি বলেন, আমরা কমিশনে আসি দেশকে সেবা দিতে। দেশি-বিদেশি একটা চক্র আছে যারা চায় না বাংলাদেশ বিজ্ঞানে এগিয়ে যাক। রূপপুরে আমাদেরকে কোনো কাজে লাগানো হয় নাই। রাশিয়ানদের, ভারতের কাজে লাগানো হচ্ছে। আমি নিউক্লিয়ার ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য সক্ষম। প্রয়োজনে তারা আমার মেধা যাচাই করুক। সেখানে যারা বাংলাদেশি কাজ করছে যারা তারা সব স্টাফ টাইপের লোক। মনে রাখতে হবে, রূপপুর কিন্তু চারটা পদ্মা সেতুর সমান টাকা। প্রশ্ন তো ওঠেই, রূপপুরে যে প্রকল্প করা হয়েছে এর থেকে ভারত-পাকিস্তান অর্ধেক টাকায় কীভাবে করলো?

ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ৫ই আগস্টের পর আমরা আশাবাদী ছিলাম পরিস্থিতির পরিবর্তন আসবে। কিন্তু উল্টো হয়েছে বরং সচিবালয়ের লোকদের মাধ্যমে জঘন্য আকার ধারণ করেছে। তারা চান আমরা যাতে ভারতের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকি। রূপপুর কিন্তু ১০০ বছরের প্রজেক্ট। এখানে নিজস্ব লোকবল না থাকলে, প্রযুক্তি না থাকলে অন্য স্থান থেকে নিয়ে আসতে হবে। ভারত এটাই চায়। রূপপুরে অনেক দুর্নীতি হয়েছে। বর্তমান মন্ত্রণালয় ত্রাণকর্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরেক ভুক্তভোগী ড. মো. সাইফুর রহমান বলেন, আমি ফুল ফান্ডেড জাপান সোসাইটি ফর দ্য প্রমোশন অব সায়েন্স (জেএসপিএস) ফেলোশিপ পাই। আমি বাংলাদেশে হাড় ও মাথার স্কাল (খুলি) নিয়ে কাজ করি। জাপানে আমার কাজ ছিল মানুষের দেহের একটা কোষ থেকে মাথার খুলির বিভিন্ন অংশ তৈরি করা। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ থেকে কিনে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করবে। আমার প্রোগ্রাম ছিল ২ বছরের। এরমধ্যে মেডিসিনের যারা নোবেল লরিয়েট ছিলেন তাদের সঙ্গে বৈঠকও ছিল।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে জিও’র জন্য ’২৪ সালের অক্টোবরে আবেদন করি। এরপর ডিসেম্বরে আবেদন করলেও দেয়া হয়নি। পোস্ট ডক্টরেট শুধু ডিগ্রি নয়। মন্ত্রণালয়ের লোকজনভাবে এটা বেনজির টাইপ ডিগ্রি। এটা একটা প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীদের উন্নতি হয়। বিশ্বব্যাপী কাজকে দেখানো যায়। ২০২২/২৩ সালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথে বাচ্চাদের মাথার খুলি ডেভেলপের বিষয়ে একটা সুযোগ ছিল পোস্ট ডক্টরেট করার। তখনো আমাকে যেতে দেয় নাই। তখন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বলা হয়েছিল লাইফ ক্রাশ করে দেবে, গোয়েন্দাদের দিয়ে ফ্যামিলিকে তুলে নেবো ইত্যাদি। হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়ার পরও যেতে পারি নাই। তখন চেয়ারম্যান ছিলেন ড. অশোক কুমার পাল। তিনি বলেন, হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ে কী হবে?
এই বিজ্ঞানী বলেন, মন্ত্রণালয় বলে ডক্টরেট করেছেন নামের আগে ড. লেখার জন্য আমাদের অনুমতি নিতে হবে। এগুলো কিন্তু দেশের টাকার ফেলোশিপ না বা বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ না যে, দেশের টাকায় বিদেশে গিয়ে  মোজ মাস্তি করবো। বিগত সময়ে এক সচিব শুধু বলতেন, ব্লিডিং বানাও-যন্ত্রপাতি কেনো। মানে তার কথা শুধু রাজমিস্ত্রি হও। সব সময় বলছি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগাবো, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। কিন্তু কোনো অর্থ ব্যয় করা হয় নাই, কোনো লক্ষ্য নিয়ে কাজও করা হয় নাই। পলিসিও নাই। এদের লক্ষ্য ছিল যন্ত্রপাতি কেনো। এটা কীভাবে চালায় এটা শেখার জন্য বিদেশে গিয়ে ঘুরে আসো।

সাইফুর রহমান বলেন, জাপানের স্কলারশিপ যখন দিল না তখন আমি মন্ত্রণালয়ে একজন এডিশনাল সেক্রেটারির কাছে গেলাম। অনেক কথার পর তিনি বলেন, আমরা রাজা, আপনারা প্রজা এটা মেনে নেন। এটা মেনে নিলেই সমস্যা শেষ। ৫ই আগস্টের আগে তো এসোসিয়েশনের নির্বাচনও করতে দেয়া হয় নাই। বলে, তোমরা এসোসিয়েশন করলে পিটায়া পিঠের ছাল উঠায়া দেবো। যাই হোক, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আবেদন না করে দেয়া হলো। কমিশন চেয়ারম্যান স্যার আবেদন করতে বললেন। এরমধ্যেই জাপানের ভিসা পেলাম, যে বাসায় থাকবো সেটা ঠিক হলো, ল্যাবের ফান্ডও প্রস্তুত হয়ে গেলো। কিন্তু পুনর্বিবেচনাতেও না করে দেয়া হলো। জাপান অ্যাম্বাসি থেকে ফোন দেয়া হলো স্কলারশিপ নেবো কিনা? আমি বারবার সময় বাড়ালাম কিন্তু যেতে পারলাম না। হাইকোর্টে গেলাম গত মার্চে। রিট করলাম। হাইকোর্ট আদেশ দিলেন, সাতদিনের মধ্যে জিও দিতে। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে আপিল করা হলো। এই প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল নভেম্বরে। এখনো প্রফেসরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। আমার সুযোগ এখনো রয়েছে।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বাপশক) কার্যালয় আগারগাঁওয়ে। প্রবেশ পথেই চোখে পড়ে একটি পোস্টার। যাতে লেখা- ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র সিনিয়র সচিব খুনি হাসিনার সুরক্ষা সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোকাব্বির হোসেনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে অপসারণ চাই।’ এসব অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, তথ্য পাচারের কোনো বিষয় না। তাদের মূল দাবি তারা আইবাসে যুক্ত হতে চান না। এটা সরকারের ইস্যু। অর্থ বিভাগ যখন দুই বছর ধরে সময় দিচ্ছে তারা অক্টোবরে না করেন। তারা সময় বাড়িয়ে জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিলেন। আমরা দেখলাম ১৩ শতাংশের জন্য সমস্যা হবে। আমরা বললাম, এটা কেস টু কেস সমাধান করে দেবো কিন্তু তারা রাজি হলেন না। ওনাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আইবাসে বেতন না নেয়া। তাদের কিছু লোকবল নিয়োগ আছে তারা অনুমোদনবিহীন। আইবাসে ঢুকতে গেলে ওনারা আটকে যাবেন।

উচ্চশিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ড. মুনিরুজ্জামান পোস্ট ডক্টরেট স্কলারশিপ পেয়েছেন। উচ্চশিক্ষা হচ্ছে পিএইচডি পর্যন্ত। এটা কোনো উচ্চশিক্ষা নয়, এটা চাকরি। এটা কোনো সেমিনার না ওয়ার্কশপও না। ফলে ওনারটা নামঞ্জুর করা হয়েছে। উনি আদালতে গিয়েছিলেন। মহামান্য আদালত ফুল বেঞ্চে এটা না করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ওনারা স্বায়ত্তশাসন চান। ২০১৭ সালের আইন অনুযায়ী ওনারা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। স্বায়ত্তশাসন দেয়া আমাদের এখতিয়ার না।

রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের বিষয়ে বলেন, রাশিয়ান টেকনোলজি ও নির্দেশনায় প্রত্যেকটি কাজ হচ্ছে। কোথায় কোন লোক কী করবে, সব রাশিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। মন্ত্রণালয়ের এখানে কোনো নিয়ন্ত্রণ নাই। আমরা ১৯০০’র বেশি লোক নিয়োগ দিয়েছি। ওনাদের একদল ফেস বাই ফেস কাজ করেছে। এখানে গবেষণার কোনো সুযোগ নাই। পাওয়ার প্লান্টে যে নিয়োগ, সেটা গত সাত বছরে হয়েছে। ওনাদের দাবি বায়ারদের বাদ দিয়ে ওনারা বিদ্যুৎ বিক্রির চুক্তি করবেন পিডিবি’র সঙ্গে। নিউক্লিয়ার পাওয়ারের আইন বলা হয়েছে, রূপপুরের প্রথম পিডি হবেন কোম্পানির এমডি। তাহলে পাওয়ার বিক্রির চুক্তি করবে কীভাবে? কোম্পানি আইনেই তো রেজিস্ট্রার্ড হয়েছে। কোম্পানি করাই হয়েছে ব্যবসার জন্য। সেই অনুযায়ী কোম্পানিকে বলা হয়েছে তোমরা পিডিবি’র সঙ্গে সেল পারসেস এগ্রিমেন্ট করো।

কমিশনের বিষয়ে বলেন, এখানে কমিশনের মেম্বার পদ খালি। তাদের মধ্যে কিছু জটিলতা ছিল। ওনারা গুছিয়ে দেয়ার পরই এসএসবি’তে পাঠাই। এটা তো এসএসবি’র এখতিয়ার, আমার না। আমরা ১৮২ জন নিয়োগ দেয়ার কথা বলেছি। ওনারা নিয়োগ করেন নাই। সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছেন। আমাদের ২২টি ইনমাস (ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস) পরে রয়েছে। এখানে যে জনবল সৃজন হয়েছে, একজন লোকও নিয়োগ দেন নাই। আমি বারবার চিঠি দিয়েছি, মানুষ সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন, কোটি কোটি টাকার যন্ত্র পড়ে আছে। এটার কারণ হচ্ছে নিয়োগ যদি আগে হয়ে যায় ওনারা জুনিয়র হয়ে যাবেন।
অস্থায়ী পদ স্থায়ীকরণের বিষয়ে সিনিয়র সচিব বলেন, ওনাদের তো প্রস্তাব দিতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, ওনারা তো রিসার্চ প্রজেক্ট নেন। উদাহরণ হিসেবে বলেন, চিটাগংয়ে ১ কোটি ২ লাখ টাকার ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করবেন। ওনারা ওয়ার্ক অর্ডার দেয়ার পর দুই কিস্তিতে কাজ হওয়ার প্রেক্ষিতে ৭৬ লাখ টাকা দেয়া হয়। ওনারা বলেন, এটা বাদ দিয়ে অন্য একটা করবো। অডিটে আসছে ওনারা একটা কাজও করেন নাই। যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে, এই টাকা দিয়ে ভিন্ন কাজের সুযোগ তো দিতে পারি না।

বিভিন্ন সেমিনারে মন্ত্রণালয়ের লোকজন যায়। এই বিষয়ে বলেন, আইইএফ (ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরাম) যে সেমিনার ডাকে কিছু সেমিনার হয় বিজ্ঞানীদের জন্য, কিছু ম্যানেজমেন্টের জন্য। তারা তিনটি বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন- আইন, লেজিসলেটিভ ও পলিসি রিলেটেড। এটা বিজ্ঞানীদের ট্রেনিং না। আমরা আগে নিউক্লিয়ার ইউজার কান্ট্রি ছিলাম না। আমি আগস্টে যোগদানের পর ১৬৮টি জিও দেয়ার প্রস্তাব পেয়েছি। কিছু বাদে সব দিয়ে দিয়েছি। দাবির বিষয়ে বলেন, সরকারের সঙ্গে কথা বলবো আমরা এটা পুরোই ছেড়েই দিতে চাই। সরকার স্বায়ত্তশাসন দিতে চাইলে আমার কোনো সমস্যা নাই। তারা অনেক জ্ঞানী মানুষ, দেশের অগ্রগতির জন্য তাদের প্রয়োজন রয়েছে।

mzamin

Tuesday, January 30, 2018

মার্কিন গ্রাহকদের আরো স্থানীয় সংবাদ সরবরাহ করবে ফেসবুক

ফেসবুক সোমবার জানিয়েছে, তারা মার্কিন গ্রাহকদের কাছে আরো স্থানীয় সংবাদ সরবরাহ করবে। অনেক প্রভাবশালী এ সামাজিক নেটওয়ার্কের তথ্য প্রবাহ আরো বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি তাদের সর্বশেষ প্রচেষ্টা।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। এ মাসের গোড়ার দিকে ফেসবুকের পক্ষ থেকে দেয়া ঘোষণায় ভুল তথ্যের বিস্তার ঠেকানো প্রচেষ্টার পাশাপাশি সংবাদ সূত্রের ক্ষেত্রে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতার মাত্রা বৃদ্ধি করে এ নেটওয়ার্কের গ্রাহক সংখ্যা ২শ’ কোটিতে উন্নীত করা কথা বলা হয়। এ অনলাইন জায়ান্ট মিথ্যা সংবাদের বিস্তার রোধে (বিশেষকরে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকালীন সময়ের) ব্যর্থ হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠার পর তা মোকাবেলায় এ পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়া হলো। এ সামাজিক নেটওয়ার্কে দেয়া এক পোস্টে ফেসবুক কো-ফাউন্ডার ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জুকার্সবার্গ বলেন, ‘স্থানীয় সংবাদ অন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রে কমিউনিটি গড়ে তোলার জন্য সহায়ক হচ্ছে। ‘ফেসবুকে আমাদের সময় কাটানোর ক্ষেত্রে এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’ জুকার্সবার্গ গত বছর সারা যুক্তরাষ্ট্র সফর করে ফেসবুক গ্রাহকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ‘এ সময় ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অনেকে আমাকে বলেছেন যে অধিক বিতর্কিত বিভিন্ন বিষয় এড়িয়ে তার স্থলে স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নজর দেয়া যেতে পারে।’ তিনি ফেসবুক গ্রাহকদের সাথে কথা বলে আরো জানতে পেরেছেন যে স্থানীয় সংবাদ দেয়া হলে এটা কমিউনিটির জন্য ইতিবাচক হবে।

Tuesday, February 9, 2016

জোর-জবরদস্তি শুরু করেছে মাইক্রোসফট!

উইন্ডোজ ১০
উইন্ডোজের পুরোনো সংস্করণ ব্যবহারকারীদের জোর করে উইন্ডোজ ১০ দিচ্ছে মাইক্রোসফট। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারের ডাউনলোড হতে শুরু করছে। নতুন সংস্করণ পাওয়ার জন্য অনুরোধ বা কোনো কিছু ক্লিক না করলেও ডাউনলোড হয়ে যাচ্ছে এই সফটওয়্যারটি। প্রশ্ন উঠেছে, কেন জোর করে উইন্ডোজ দিচ্ছে মাইক্রোসফট?
বিশ্লেষকেরা বলছেন, অধিক সংখ্যক পিসিতে উইন্ডোজ ১০ দেওয়ার মরিয়া প্রচেষ্টার একটি অংশ হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় ডাউনলোড প্রক্রিয়া। গত বছরের জুলাই মাসের পর থেকে অনুরোধের ভিত্তিতে উইন্ডোজ ১০ বিনা মূল্যে হালনাগাদ করার সুযোগ রেখেছিল মাইক্রোসফট। কিন্তু চলতি সপ্তাহ থেকে জোর-জবরদস্তি শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যাঁরা উইন্ডোজের জন্য অনুরোধ করছেন না, তাঁদেরও জোর করে উইন্ডোজ ১০ দিয়ে দিচ্ছে মাইক্রোসফট।
এটা কী ভালো?
উইন্ডোজ ১০-এর বেশ কিছু সুবিধা আছে। উইন্ডোজের আগের সংস্করণগুলো, বিশেষ করে উইন্ডোজ ৮-এর চেয়ে উইন্ডোজ ১০-এ অনেক সুবিধা যুক্ত হয়েছে। এতে আধুনিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, একাধিক যন্ত্রে কাজের উপযোগী ব্যবস্থা রয়েছে। পিসিতে কোনো অ্যাপ কিনলে তা ফোন ও এক্সবক্সে ব্যবহার করা যাবে। তবে সমস্যাও আছে। নতুন অ্যাপ উইন্ডোজ ১০-এর জন্য তৈরি করা হয়েছে, তাই পুরোনো পিসিতে নতুন অ্যাপ বা সফটওয়্যার সমর্থন না-ও থাকতে পারে।
মাইক্রোসফটের কী লাভ?
মাইক্রোসফটের হালনাগাদ সফটওয়্যার ব্যবহারে সুবিধা আছে। এতে মাইক্রোসফটের আয় কমে যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সফটওয়্যার বিক্রি থেকে যে আয় আসে, তার ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে মাইক্রোসফট। এর পরিবর্তে বিং সার্চ, ওয়ানড্রাইভ স্টোরেজ ও স্কাইপ কমিউনিকেশন থেকে অর্থ আয়ের পথ খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি। উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম এসব অ্যাপ অধিক ব্যবহারে জোর দেয়। এ ছাড়া বিজ্ঞাপন ও প্রিমিয়াম ফিচার বিক্রি করে অর্থ আয় করে। অ্যাপ নির্মাতাদের উইন্ডোজ ১০-এর জন্য আরও অ্যাপ তৈরিতে উৎসাহিত করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপলকে অনুসরণ করছে মাইক্রোসফট।
সতর্কতা জরুরি
সিস্টেম হালনাগাদ সব সময় ঝামেলামুক্ত হয় না। যাঁদের পুরোনো পিসি, কম গতিসম্পন্ন প্রসেসর, কম মেমোরি আর কম জায়গা, তাঁদের সিস্টেম হালনাগাদে সমস্যা হতে পারে। মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ১০ ইনস্টল হতে পিসির সর্বনিম্ন কনফিগারেশন পরীক্ষা করে। কিন্তু সর্বনিম্ন কনফিগারেশনে উইন্ডোজ ১০ চালালে পিসি গতিসম্পন্ন হয় না। পুরোনো পিসিতে থাকা অনেক সফটওয়্যার উইন্ডোজ ১০-এর সঙ্গে কাজ করে না। তখন দরকারি সফটওয়্যারগুলোর হালনাগাদ করা লাগে। প্রিন্টার, স্ক্যানারের জন্য আলাদা ড্রাইভার লাগে।
কীভাবে ঠেকাবেন
উইন্ডোজ ১০-কে মাইক্রোসফট এখন নিরাপত্তা হালনাগাদ হিসেবে দেখাচ্ছে। অপশনাল থেকে সফটওয়্যারটিকে ‘রিকমেনডেড’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। যাঁরা কম্পিউটারে অটোমেটিক বা স্বয়ংক্রিয় হালনাগাদ চালু রেখেছেন, তাঁদের উইন্ডোজ ১০ ডাউনলোড হয়ে যাচ্ছে। এই ডাউনলোড ও অটোমেটিক আপডেট ঠেকাতে উইন্ডোজ আপডেটের সেটিংস থেকে অটোমেটিক আপডেট বন্ধ করে দিন। মাইক্রোসফট এটাকে অবশ্য নিরুৎসাহিত করছে। কারণ, মাইক্রোসফট বলছে, এতে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা প্যাঁচ ব্যবহারকারী নাও পেতে পারে।
আপনি যদি বড় কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, তবে সিস্টেম ব্যবস্থাপকের অনুমতি ছাড়া উইন্ডোজ স্বয়ংক্রিয় হালনাগাদ হতে পারবে না। বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মাইক্রোসফট বিনা মূল্যে উইন্ডোজ ১০ দিচ্ছে না। ২০২০ সাল পর্যন্ত উইন্ডোজ ৭, ২০২৩ সাল পর্যন্ত উইন্ডোজ ৮-এর জন্য নিরাপত্তা হালনাগাদ দেবে মাইক্রোসফট। তত দিনে অবশ্য নতুন ধরনের পিসি বাজারে চলে আসতে পারে।
অবশ্য যাঁরা উইন্ডোজ ১০ ইনস্টল করতে চান, তাঁরা মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১০ হালনাগাদ দেখালে তার অনুমতি দিতে পারেন। উইন্ডোজ ১০ ইনস্টল করলে ছবি বা অন্য ডকুমেন্টের কোনো সমস্যা হয় না। তবে নতুন সফটওয়্যারের কারণে এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। তাই আগেভাগে ফাইল ব্যাকআপ রাখুন। এ ক্ষেত্রে অনলাইন স্টোরেজ সেবা যেমন ওয়ানড্রাইভ কিংবা ড্রপবক্স কাজে লাগাতে পারেন।
যাঁদের উইন্ডোজ ১০ আপডেট হয়ে গেছে, তাঁরা কী করবেন? মনে রাখতে হবে, প্রায় এক মাস ধরে পুরোনো সিস্টেমের ব্যাকআপ রেখে দেয় মাইক্রোসফট। সেটিংসে ‘আপডেট অ্যান্ড সিকিউরিটি’তে গিয়ে ‘রিকোভারি’ দিলে উইন্ডোজ ৭ বা ৮-এ ফেরত আসা যাবে। ফাইল ঠিকঠাক থাকলেও কিছু সফটওয়্যার অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।

জাকারবার্গের মেয়ের চীনা পরিচয়

জাকারবার্গ পরিবার
ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ যে চীনের ‘জামাই’, সে কথা তো সবার জানা। চীনা নাগরিক প্রিসিলা চ্যানকে বিয়ে করেছেন তিনি। এবারে তাঁদের মেয়ে ম্যাক্সের জন্য একটি চীনা নাম ঠিক করে দিলেন তাঁরা। ম্যাক্সের চীনা নামটি হচ্ছে ‘চেন মিংইয়ু’।
চীনের লুনার নিউ ইয়ার বা নতুন চান্দ্রবর্ষ উপলক্ষে কন্যার নতুন নাম দেন জাকারবার্গ দম্পতি। গত শনিবার একটি ভিডিও পোস্টে জাকারবার্গ দম্পতি বলেন, তাঁদের জন্য চীনের নতুন বর্ষ অর্থবহ। কারণ তাঁরা ম্যাক্সের চীনা নাম ঠিক করেছেন। জাকারবার্গ বলেন, ‘চেন’ হচ্ছে প্রিসিলা চ্যান বা ম্যাক্সের মায়ের পারিবারিক নাম। আর মিংইয়ু অর্থ আশা বা ভবিষ্যতের উজ্জ্বলতর পৃথিবীর জন্য প্রত্যাশা।
চীনা নামগুলোর নানা প্রতীকী অর্থ থাকে। শিশুর জীবনে নাম কী রকমের প্রভাব ফেলতে পারে, সে অনুযায়ী তার নাম রাখে চীনারা।
গত বছরে জাকারবার্গ যখন ম্যাক্সের জন্মের বিষয়টি ঘোষণা দেন, তখন তাঁদের পুরো সম্পদের ৯৯ শতাংশ দাতব্য কাজে ব্যয় করারও ঘোষণা দেন। ইন্টারনেট সুবিধা, শিক্ষা, চিকিৎসার ক্ষেত্রে এবং আরও উন্নত বিশ্ব গড়তে এই অর্থ ব্যয় করার কথা জানান জাকারবার্গ। মেয়ের নাম রাখার ক্ষেত্রে এই ভাবনাটিকে তিনি কাজে লাগিয়েছেন। মিং অর্থ উজ্জ্বল আর ইয়ু অর্থ বিশ্ব। জাকারবার্গের পরিবারের পক্ষ থেকে ম্যাক্সের পুরো নাম ম্যাক্সিমা রাখা হয়েছে।
জাকারবার্গ চীনের জামাই হিসেবে মান্দারিন ভাষা ভালোভাবেই রপ্ত করেছেন। কয়েক বছর আগে মান্দারিন শেখেন তিনি। ভিডিও পোস্টের পাশাপাশি এর আগে তিনি বেইজিংয়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ মিনিট মান্দারিন ভাষায় প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের সুখবর দিচ্ছেন কুক

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক
অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার চালিত ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আরও অধিক সেবা দেওয়ার আভাস দিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক। এর আগে মাইক্রোসফটও অ্যান্ড্রয়েডের জন্য বেশ কিছু প্রয়োজনীয় অ্যাপ উন্মুক্ত করেছে। বর্তমানে মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে অ্যান্ড্রয়েডের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি।
ফরচুন অনলাইনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বছরের জুনে অ্যাপল মিউজিক চালু করার সময় একে ২৪ ঘণ্টার বৈশ্বিক বেতার স্টেশনের যুগান্তকারী সেবা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল অ্যাপল। কিন্তু অ্যাপলের প্রধান নির্বাহীর সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যে অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের পক্ষ থেকে কিছু সেবা দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
গত মাসের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাপলের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় টিম কুক ও অ্যাপলের কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির প্রান্তিক আয় ঘোষণা করেন। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক সূত্রের বরাতে প্রযুক্তি-বিষয়ক ওয়েবসাইট নাইনটুফাইভ ম্যাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়। এর মধ্যে অ্যাপলের ভবিষ্যৎ-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি বিষয় ছিল।
এর মধ্যে অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের আরও সেবা বাড়ানোর বিষয়টিও রয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, অ্যাপলের আইক্লাউড সেবা ও অ্যাপল পে নামের পেমেন্ট সেবাকে অ্যান্ড্রয়েডে আনতে পারে অ্যাপল। গত নভেম্বরে অ্যান্ড্রয়েডের জন্য অ্যাপল মিউজিক উন্মুক্ত করে অ্যাপল।
অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে সেবা চালু করে গুগল ও মাইক্রোসফটকে অনুসরণ করছে অ্যাপল। গত বছর থেকে মাইক্রোসফট তাদের ডিজিটাল সহকারী সফটওয়্যার করটানাকে আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড ও সাইনোজেনের জন্য উন্মুক্ত করেছে।

Tuesday, March 3, 2015

বিজ্ঞান মেলা- খুদে বিজ্ঞানীদের বড় সম্ভাবনা

বিএফএফ-সমকাল-স্কলাস্টিকা আয়োজিত আন্তঃস্কুল বিজ্ঞান মেলায় খুদে বিজ্ঞানীদের উপস্থাপিত প্রকল্পগুলো প্রমাণ করে যে, আমাদের বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যে কত বড় সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে। উপযুক্ত প্রেরণা ও পরিচর্যা পেলে তারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উজ্জ্বল অবদান রাখতে পারে। প্রতিযোগিতামূলক এই মেলায় যদিও খুদে বিজ্ঞানীদের প্রকল্পগুলোকে পুরস্কার প্রদানের সুবিধার্থে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থীই একদিন দেশের ও জাতির মুখ উজ্জ্বল করবে। এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন, যৌথ রানার্সআপ, দ্বিতীয় রানার্সআপ এবং জুনিয়র সেকশনের চ্যাম্পিয়ন দলগুলোকে আমরা বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, তাদের শিক্ষক, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ। সমকালের সঙ্গে যৌথ আয়োজনে যূথবদ্ধ হওয়ার জন্য বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন, স্কলাস্টিকা স্কুলসহ সহ-আয়োজক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিও আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা মনে করি, এই মেলা কেবল বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা হবে না, আমাদের ব্যবহারিক জীবনেও পথ দেখাবে। কারণ চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রকল্প লঞ্চ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে 'অটোমেটিক গুডস অ্যান্ড প্যাসেঞ্জার কন্ট্রোলার', যৌথভাবে প্রথম রানার্সআপ হওয়া প্রকল্প 'ম্যাগনেটিক ট্রেন ও অটোমেটিক থিফ ক্যাচিং ডিভাইস' এবং দ্বিতীয় রানার্সআপ হওয়া প্রকল্প 'সোলার পাওয়ার ডিস্যালাইনেশন থিম' নিয়ে বৃহৎ পরিসরেও গবেষণা ও উদ্ভাবনের অবকাশ রয়েছে। এসব উদ্ভাবন নিঃসন্দেহে আমাদের দৈনন্দিন জীবন নিরাপদ ও নিয়মবদ্ধ রাখতে সহায়ক হবে। আমরা প্রত্যাশা করি, বিজ্ঞান মেলার এসব প্রকল্প দেশের উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে দেশে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারের দিকেও সংশ্লিষ্টদের মনোযোগ দিতে বলি আমরা। বস্তুত বিজ্ঞান মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তাদের উল্লেখযোগ্য অংশ এ বিষয়েই জোর দিয়েছেন। আমরা জানি, বিজ্ঞান শিক্ষার সার্বিক চিত্র উৎসাহব্যঞ্জক নয়। জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ এই শিক্ষা খাতের মান নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষত গত বছর অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষায় এইচএসসি ও এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে 'উজ্জ্বল' ফলধারী শিক্ষার্থীদেরও নিদারুণ ব্যর্থতা শিক্ষানুরাগীদের আহত করেছে। এটা এখন অস্বীকারের অবকাশ নেই যে, বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে। দারিদ্র্য, বিজ্ঞানভীতি, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা না থাকা, মাঠপর্যায়ে বিজ্ঞানাগার ও দক্ষ বিজ্ঞান শিক্ষকের অভাব এবং সঠিক দিকনির্দেশনা না থাকায় বিজ্ঞানে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাচ্ছে। শিক্ষা খাতে সরকারের বাজেট বরাদ্দও খুব কম। পদার্থবিজ্ঞানে যদিও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ রয়েছে, প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের প্রতি অগ্রসর হচ্ছে কম। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের মতো দেশে প্রকৃতিবিজ্ঞানে সুশিক্ষিত জনশক্তির প্রয়োজন সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা দুর্যোগ মোকাবেলায় বিজ্ঞানী ও গবেষকরাই জাতিকে নতুন নতুন পথ দেখাতে পারেন। তবে সবকিছুর আগে প্রয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা। আমরা বিশ্বাস করি, বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্মই পারে প্রগতির পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ানো কুসংস্কার, গোঁড়ামি ও অন্ধত্ব দূর করতে। আমাদের মনে রাখতে হবে, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এ দেশে সত্যেন বসু ও জগদীশচন্দ্র বসুর মতো বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানীর জন্ম হয়েছে। অথচ আধুনিক সময়ের সুযোগ-সুবিধা নিয়েও সেখানে তাদের উত্তরসূরি হিসেবে কাউকে না পাওয়ার বিষয়টি মেনে নেওয়া কঠিন। এজন্য বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়ের মধ্যে সুযোগ-সুবিধাগত যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে, সেটাকে দূর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতও এগিয়ে আসতে হবে। সে ক্ষেত্রে বিজ্ঞান মেলার মতো আয়োজন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সংযোগ ঘটানো এবং অনুপ্রেরণা জোগাতে নিঃসন্দেহে সহায়কই হবে।

Wednesday, November 13, 2013

ঈশ্বর কণায় হকিংস কেনো নাখোশ?

পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংস জানিয়েছেন, ঈশ্বর কণার খোঁজ পাওয়ায় তিনি নাখোশ হয়েছেন। কিন্তু কেনো? সম্প্রতি তার ব্যাখাও দিয়েছেন তিনি।

Saturday, June 1, 2013

শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

ঢাকায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুদিনের শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। সার্চ ইঞ্জিন গুগলের বিজ্ঞান প্রদশর্নীতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আগ্রহী করে তুলতে এ কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়।

Tuesday, February 12, 2013

ঢাকায় বিজ্ঞান উৎসব

বিজ্ঞানের প্রতি ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ সৃষ্টি করতে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় বিজ্ঞান উৎসব। ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে গত ৬,৭ এবং ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় এ বিজ্ঞান উৎসব।

নিজস্ব উপগ্রহের জন্য রাশিয়ার সহায়তা মিলছে

বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ 'বঙ্গবন্ধু-১'-এর জন্য অরবিটাল সস্নস্নট (কক্ষপথে উপযুক্ত স্থান) পেতে রাশিয়ার সহযোগিতা চায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

শীতে কাঁপুনি ধরে কেন? এতে শরীরে কী হয়?

ইউরোপ জুড়ে শীতের প্রকোপ। কিন্তু এখানেই তো শুধু নয়। ভারত-বাংলাদেশে তথা দক্ষিণ এশিয়াতেও তো হাড় কাঁপানো শীতে দাঁত ঠক ঠক করে। কিন্তু কেন? শীতে শরীরে কী হয়?

অল্পের জন্য পৃথিবীকে মিস করবে গ্রহাণু

মাথার টুপিটা আগামী কয়েকদিন খুলবেন না দয়া করে। কেননা শীঘ্রই একটি গ্রহাণু পৃথিবীর খুব কাছে চলে আসবে। সেটা যদি সব হিসেব ভুল প্রমাণ করে পৃথিবীর বুকে আঘাত হানে, তবে টুপিটি আপনার মাথা রক্ষা করতে পারে।

Saturday, February 9, 2013

বিদ্যুত উৎপাদনের নতুন সূত্র

জ্বালানি বুভুৰু এই বিশ্বে বিদ্যুত উৎপাদনের এক নতুন সূত্রের সন্ধান মিলেছে। সেটা হলো এনার্জির এক শক্তিশালী তরঙ্গ সৃষ্টি করে তা কার্বন ন্যানোটিউব নামে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম তারের ভিতর দিয়ে পরিবাহিত করে বিদ্যুত উৎপাদন করা।

অজানা তথ্য- ৬০ কোটি বছর আগের প্রাণীতে মানুষের দৃষ্টিশক্তির উৎস

বিজ্ঞানীরা ৬০ কোটি বছর আগের দৃষ্টিশক্তির উৎস আবিষ্কার করেছেন। প্রাচীন যুগের সামুদ্রিক প্রাণী হাইড্রার ওপর গবেষণা করে ইউসি সান্টা বারবারার বিজ্ঞানীরা মানুষের দৃষ্টিশক্তির উৎস অনুসন্ধান করতে সৰম হয়েছেন।

সবচেয়ে দূরের যমজ বামন তারা by এনামুল হক

আমাদের এই পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরে দুটো যমজ বামন তারা মাত্র ৫ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে পরস্পর পরস্পরকে প্রদৰিণ করে চলেছে। যমজ তারাদের এত অল্প সময়ের মধ্যে পরস্পরের কক্ষ পরিক্রমার ঘটনা এর আগ পর্যন্ত জানা যায়নি।

Tuesday, February 5, 2013

আগামী প্রজন্মের রোবট by নোমান

আগামী প্রজন্মের রোবট তৈরির জন্য মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও জেনারেল মোটরস একযোগে কাজ করছে। উন্নত রোবট ও সংশিস্নষ্ট প্রযুক্তি অটোমোটিভ ও এ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহার করা হবে।

মশার মানুষের রক্ত খাওয়ার রহস্য by মইনুল ইসলাম

মানুষের রক্ত খাওয়ার জন্য মশা কেন এত বেপরোয়া বিজ্ঞানীরা তার কারণ খুঁজে পেয়েছেন। এ সংক্রানত্ম বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে 'লাইভ সায়েন্স'-এ প্রকাশিত হয়েছে।