Saturday, May 1, 2010

শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি দিতে হবে by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলামে শ্রমিক ও মালিকের অধিকার এবং কর্তব্যের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শ্রমিক মালিকের কাজের দায়িত্ব নিয়ে এমন এক চুক্তিতে আবদ্ধ, যা শুধু তার সংসার নির্বাহের ক্ষেত্রে নয়, পরকালের সফলতা অর্জন করায় এ দায়িত্ব বিশেষ ভূমিকা পালন করে। শ্রমজীবী কর্মমুখী মানুষের যেমন মর্যাদা ও সম্মানবোধ রয়েছে, তেমনি মালিকদেরও রয়েছে গুরুদায়িত্ব, কর্তব্যপরায়ণতা ও ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে নির্ধারিত কাজ সম্পাদন করা। তাই ইসলাম মালিক ও শ্রমিকের ওপর অত্যাবশ্যকীয় বিধিমালা উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করেছে। কেননা পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই যেকোনো বিষয়ে যেকোনো সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। শ্রমিকদের সম্পর্কে বলা হয় যে ‘সর্বোত্তম শ্রমিক সেই ব্যক্তি যে শক্তিশালী এবং দায়িত্বশীল হয়।’ তাই শ্রমিকদের উচিত তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব বিশ্বস্ততার সঙ্গে প্রতিপালন করা।
শ্রমের বিনিময়ে মালিকের বিনিয়োগকৃত সম্পদ শ্রমিকের কাছে আমানত। এ আমানত রক্ষায় শ্রমিকের অধিকার ও কর্তব্য রয়েছে। শ্রমিকদের ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে যে, সে যেন তার চুক্তিকৃত মজুরির বিনিময়ে উত্তম সেবা প্রদান করে এবং মালিকের প্রদত্ত জিম্মাদারী অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সঙ্গে সম্পন্ন করে ও তার পরিপূর্ণ শক্তি-সামর্থ্য নির্দিষ্ট কাজে ব্যয় করে। শ্রমিকের তত্ত্বাবধানে যেসব প্রতিষ্ঠান বা কারখানার মূল্যবান আসবাবপত্র দেওয়া হয়, তা আমানতস্বরূপ ব্যবহার করবে এবং সেগুলো তুচ্ছ মনে করে চুরি, অবৈধ ব্যবহার, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা অন্য কোনো ধ্বংসাত্মক পন্থায় সম্পদ কখনোই বিনষ্ট করা যাবে না। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিষেধাজ্ঞা জারি করে বলেছেন, ‘নিজের কিংবা অন্যের কোনো ক্ষয়ক্ষতি করা যাবে না।’ নবী করিম (সা.) আরও বলেছেন, ‘যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার মধ্যে ঈমানও নেই।’
মালিকের প্রধান কর্তব্য হলো কর্মক্ষম, সুদক্ষ, শক্তি-সামর্থ্যবান, আমানতদার ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে কাজে নিয়োজিত করা এবং সময়, কার্যকাল ও ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করে শ্রমিককে কাজে নিয়োগ করা। অন্যথায় শ্রমিক-মালিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ ও আন্দোলন দেখা দিতে পারে এবং উত্পাদন বিঘ্নিত হতে পারে। শ্রমিকের বেতন-ভাতা যতক্ষণ পর্যন্ত স্থিরীকৃত না হবে এবং সন্তুষ্ট মনে সে তা গ্রহণ না করবে ততক্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে কাজে নিযুক্ত করা ইসলামসম্মত নয়। ন্যূনতম মজুরি প্রত্যেক শ্রমিকের প্রয়োজন ও কর্ম অনুসারে নির্ধারিত হবে। শ্রমিককে কমপক্ষে এমন মজুরি দিতে হবে, যাতে সে এর দ্বারা তার ন্যায়ানুগ ও দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক চাহিদা পূরণ করতে পারে। শ্রমিকের প্রাপ্য ন্যায্য মজুরি প্রদান সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, ‘শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি দিয়ে দাও।’ (ইবনে মাজা) নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘শ্রমিকের কাজ বা কাজের মেয়াদ শেষ হলেই তার মজুরি পুরোপুরি দিতে হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ)
কাজ সম্পাদন করামাত্রই শ্রমিককে তার প্রাপ্য পারিশ্রমিক প্রদান করা মালিকের প্রাথমিক দায়িত্ব। তবে অগ্রিম বা অন্য কোনো রকম শর্ত থাকলে ভিন্ন কথা। মূলত শ্রমিক-মজুরেরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে কাজ করে থাকে। তারা নিজের ও পরিবারের যাবতীয় প্রয়োজন পূরণের জন্য কঠিন শ্রম দেয় এবং এ মজুরিই তাদের একমাত্র অবলম্বন। এমতাবস্থায় তারা যদি ন্যায্য মজুরি না পায় বা প্রয়োজন অপেক্ষা কম পায় বা নির্দিষ্ট সময়মতো প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, তবে তাদের দুঃখ-দুর্দশার সীমা থাকে না। এতে হতাশায় ভারাক্রান্ত হয়ে কাজের প্রতি তাদের বীতশ্রদ্ধা ও বিতৃষ্ণা সৃষ্টি হতে পারে। তাই রাসূলুল্লাহ (সা.) সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন, ‘তারা (মজুর, শ্রমিক ও অধীনস্থ বেতনভোগী কর্মচারীরা) তোমাদের ভাই। আল্লাহতাআলা তাদের দায়িত্ব তোমাদের ওপর অর্পণ করেছেন। মালিকেরা যা খাবে তা শ্রমিকদেরও খাওয়াবে এবং মালিকেরা যে পোশাক পরবে তা শ্রমিকদেরও পরতে দেবে। আর যে কাজ করা তাদের পক্ষে কষ্টকর, সাধ্যাতীত, তা করার জন্য তাদের কখনো বাধ্য করবে না।’ (বুখারি)
বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কোনোদিন শ্রমিকের মজুরি কম দেননি। তিনি শ্রমজীবীদের যেসব অধিকার নির্ধারণ করেছেন, তন্মধ্যে শ্রমিককে শুধু তার পূর্ণ মজুরি প্রদান করাই যথেষ্ট নয়, বরং যতটা সম্ভব ত্বরিত পারিশ্রমিক প্রদান করতে হবে। কেউ অতিরিক্ত বা অতি উত্তম কাজ করলে তারও মজুরি বা সে জন্য ঘোষিত পুরস্কার লাভের অধিকার রয়েছে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘অনন্তর কেউ অণু পরিমাণ সত্কর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসত্কর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।’ (সূরা আল-যিলযাল, আয়াত:৭-৮)
শ্রমের ব্যাপারে শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে লিখিত চুক্তি সম্পাদন করে নেওয়া উচিত। তাহলে শ্রমিক থেকে কাজ উসুল করে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার মালিকের থাকবে এবং শ্রমিক মালিকের কাছে কাজের জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। এ ক্ষেত্রে কাজে কোনোরূপ শৈথিল্য, উদাসীনতা বা গাফিলতি গ্রহণযোগ্য হবে না। আবার কোনো শ্রমিককে এক কাজের জন্য চুক্তি করে তার সম্মতি ছাড়া অন্য কাজে নিয়োগ করাও জায়েজ নয়। শ্রমিকদের রক্ষণাবেক্ষণ, তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করার দায়িত্ব মালিকদের। মালিকপক্ষ তার অধীনস্থদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হবে, শ্রমিকদের ওপর কোনো রকম অন্যায়, অত্যাচার, দমন-পীড়ন বা নির্যাতন করতে পারবে না। শ্রমিক-মালিকের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি ঘটলে শ্রমিকেরা মালিক কর্তৃক শোষিত, নির্যাতিত-নিপীড়িত হলে ভয়াবহ সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন করলে তার কঠোর শাস্তি রয়েছে। শ্রমিকদের মজুরিপ্রাপ্তি সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত আছে যে নবী করিম (সা.) বলেছেন, আল্লাহ পাক বলেন: ‘আমি রোজহাশরে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান হব—যে ব্যক্তি আমার নামে ওয়াদা (প্রতিশ্রুতি) করেছে অথচ তা রক্ষা করেনি। যে ব্যক্তি স্বাধীন লোককে বিক্রয় করে তার মূল্য ভোগ করেছে। আর যে ব্যক্তি স্বাধীন মজুরের দ্বারা সম্পূর্ণ কাজ করিয়ে তার মজুরি প্রদান করেনি।’
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শ্রমিকদের সব সমস্যার সার্বিক ও ন্যায়ানুগ সমাধানের দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। ইসলাম চায় এমন এক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তার সৌহার্দ্যমূলক পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এমন এক জীবনবিধানের প্রচলন করতে, যেখানে শোষণ নেই, নিপীড়ন নেই, সর্বোপরি নেই দুর্বলকে পিষে খতম করার জঘন্য প্রবণতা। যেহেতু সম্পদ ব্যবস্থাপনায় মালিকপক্ষ বা পুঁজিপতি তার মূলধন খাটানোর কারণে এবং শ্রমিক তার শ্রমের বিনিময়ে লাভের হকদার হয়ে থাকে, নবী করিম (সা.) শ্রমিককে মজুরি দান করার পরেও তাকে লাভের অংশ দেওয়ার জন্য উপদেশ দিয়ে বলেছেন, ‘শ্রমিকদের তাদের শ্রমার্জিত সম্পদের লভ্যাংশ দাও, কেননা আল্লাহর শ্রমিককে বঞ্চিত করা যায় না।’ (মুসনাদে আহমাদ)
শ্রমিকদের দেশে প্রচলিত রীতি অনুসারে উপযুক্ত খোরপোষ ও পোশাক-পরিচ্ছদ দিতে হবে এবং তাদের ওপর সামর্থ্য অনুযায়ী কাজের দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে। মজুরির পরিমাণ এমন হতে হবে যেন তা কোনো দেশ ও যুগের স্বাভাবিক অবস্থা ও চাহিদা অনুসারে যুক্তিসংগত হয় এবং উপার্জনকারী শ্রমিক তার পারিশ্রমিক দ্বারা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিত্সাসহ মানবিক, মৌলিক অধিকার ও জীবন ধারণের অন্যান্য প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেবে অথবা এমন মজুরি দেবে, যাতে তাদের প্রয়োজন মিটে যায়। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকের দক্ষতা, যোগ্যতা, পরিবেশ, চাহিদা, জীবনযাত্রা প্রভৃতি পর্যালোচনা করে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। এগুলো যেহেতু পরিবর্তনশীল, তাই শ্রমিকের মজুরির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন সাধিত হতে পারে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)
dr.munimkhan@yahoo.com

বৈশাখী মেলায় বোমা হামলা

যশোরের বেনাপোলের বলফিল মাঠে আয়োজিত বৈশাখী মেলায় বুধবারের বোমা হামলার ঘটনা যেকোনো নাগরিককে উদ্বিগ্ন করবে। দীর্ঘদিন দেশ বোমাবাজি থেকে মুক্ত ছিল। বেনাপোলের ঘটনায় বাড়তি উদ্বেগের কারণ, ১৯৯৯ সালে এ যশোরেই উদীচীর সম্মেলনে জঙ্গিরা বোমা হামলা চালিয়ে ১০ জন সংস্কৃতিসেবীকে হত্যা এবং বহু লোককে আহত করেছিল। সেই হামলায় আক্রান্ত অনেকে এখনো স্প্লিন্টারের আঘাতের দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করছেন। অপরাধীদের কেউ কেউ আটক হলেও বিচার শেষ হয়নি।
বেনাপোলে বোমা হামলাকারীদের শনাক্ত করা যায়নি, যদিও সন্দেহভাজন চারজনকে পুলিশ আটক করেছে। তদন্ত শেষ হলে হামলাকারীদের পরিচয় জানা যাবে। ঘাতক জঙ্গি হোক বা জঙ্গিগোষ্ঠীর বাইরের কেউ হোক, তাতে অপরাধের মাত্রা কমে না। বোমা হামলায় স্থলবন্দরের যে শ্রমিক মারা গেলেন, তাঁর শোক স্বজনদেরই বয়ে বেড়াতে হবে। সাধারণ নাগরিকদের প্রত্যাশা রাষ্ট্রের কাছে, তাদের জানমালের নিরাপত্তা দেবে। এর আগের আওয়ামী লীগ ও চারদলীয় জোট সরকারের আমলে জঙ্গিদের উপর্যুপরি বোমা হামলায় বহু মানুষ মারা গেছেন। চারদলীয় জোটের কেউ কেউ জঙ্গিদের মদদ জুগিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বোমা হামলা হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলেও এত দিন বোমা হামলার ঘটনা ঘটেনি।
ধারণা করা গিয়েছিল, বাংলাদেশে বোমা হামলার যুগ শেষ হয়েছে। কিন্তু বেনাপোলের ঘটনা দেশবাসীকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। অবশ্য গ্রামাঞ্চলের মেলা-প্রদর্শনীতে অন্য কারণেও সংঘাত-সংঘর্ষ ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে থাকে, বিশেষ করে রাজনৈতিক সংগঠন বা তাদের অনুসারীরা এসব আয়োজন করলে প্রতিপক্ষ তা ভণ্ডুল করার চেষ্টা চালায়। এটি হয়ে থাকে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই সংগঠন কিংবা একই সংগঠনের প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের মধ্যে। যে কারণেই বেনাপোলে বোমাবাজির ঘটনা ঘটুক না কেন, অপরাধীদের খুঁজে বের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের বিকল্প নেই। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে

পাকিস্তানে দুটি বেসামরিক পরমাণু চুল্লি তৈরি করবে চীন

পাকিস্তানে নতুন দুটি বেসামরিক পরমাণু চুল্লি তৈরি করতে রাজি হয়েছে চীন। এক প্রতিবেদনে গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা বলা হয়।
ফিনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকা জানায়, চীন পাঞ্জাব প্রদেশের চশমা এলাকায় কমপক্ষে দুটি নতুন ৬৫০ মেগাওয়াট চুল্লি তৈরি করবে।
চীনের বেসামরিক ও সামরিক পরমাণু কর্মসূচির তদারককারী প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার করপোরেশনের ওয়েবসাইটে ১ মার্চ বলা হয়, চশমা এলাকায় দুটি নতুন চুল্লির অর্থায়নের ব্যাপারে দুই পক্ষই গত ফেব্রুয়ারিতে রাজি হয়েছে। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র গতকাল জানান, তিনি এ ধরনের চুক্তির ব্যাপারে জানেন না।

ভারত সীমান্ত থেকে এক লাখ সেনা সরাল পাকিস্তান

পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে তার সীমান্ত থেকে এক লাখ সৈন্য সরিয়ে নিয়ে আফগান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মোতায়েন করেছে। তালেবান ও অন্য জঙ্গিদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান জোরদার করার লক্ষ্যে পাকিস্তান এ পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এ কথা জানায়।
মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া প্রতিবেদনে পেন্টাগন গতকাল বৃহস্পতিবার জানায়, পাকিস্তানের এত সৈন্য একসঙ্গে সরানো থেকে বোঝা যায়, সন্ত্রাসবাদ ও অভ্যন্তরীণ জঙ্গি তাদের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেন্টাগন বলছে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ মার্কিন নেতৃত্বাধীন আফগান যুদ্ধে তাত্ক্ষণিক কোনো প্রভাব ফেলবে না।

পরমাণু অস্ত্ররোধ চুক্তির নানা দিক

৪০ বছরের পুরোনো পরমাণু অস্ত্রবিরোধী বৈশ্বিক চুক্তি খতিয়ে দেখতে আগামী সোমবার নিউইয়র্কে শুরু হচ্ছে ১৮৯টি দেশের মাসব্যাপী বৈঠক।
পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ চুক্তিতে (এনপিটি) পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী দেশগুলোকে তাদের অস্ত্রভান্ডার হ্রাস করার এবং আণবিক অস্ত্রহীন দেশগুলোকে তা তৈরি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। এ নিয়ে এক মাস ধরে যে আলোচনা হবে, খতিয়ে দেখা যাক তার কিছু দিক।
আলোচনা সভাটির লক্ষ্য কী
স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালে স্বাক্ষরিত এনপিটির সদস্যরা চুক্তিটির লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে কী অগ্রগতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে এবং এটিকে আরও উন্নত করার সম্ভাব্য উপায় বের করতে প্রতি পাঁচ বছরে একবার চুক্তিটির পর্যালোচনা করেন। প্রথা হচ্ছে, মতৈক্যের ভিত্তিতে গৃহীত একটি চূড়ান্ত ঘোষণায় পরবর্তী পাঁচ বছরের দায়িত্ব ও কাজ বিশদভাবে ব্যক্ত করা।
পশ্চিমা দেশগুলোর বক্তব্য হচ্ছে, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার আণবিক কর্মসূচি চুক্তিটির ভিত্তিমূল কাঁপিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে কিছু দেশের অভিমত হচ্ছে, বড় শক্তিগুলো নিজেদের নিরস্ত্রীকরণে ব্যর্থ হওয়ায় চুক্তিটির বিশ্বাসযোগ্যতা কমে গেছে।
আসন্ন বৈঠকে চুক্তিটির কোনো বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেন না বিশ্লেষকেরা। তবে তাঁরা ২০০৫ সালের চেয়ে ভালো ফলাফল আশা করেন। ২০০৫ সালের বৈঠকটি কার্যপ্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও ইরানের তর্কাতর্কির ফলে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের মনোভাব
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এক বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ঘোষণা দেন, তিনি একটি ‘পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের’ ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ। এছাড়া পরমাণু অস্ত্রের সবচেয়ে বড় মজুদের মালিক রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হ্রাসকরণ চুক্তি একটি ইতিবাচক গতি তৈরি করতে সাহায্য করেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষানীতিতে আণবিক অস্ত্রের ভূমিকা হ্রাসকারী এক নতুন কৌশল এবং এ মাসে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত পরমাণু নিরাপত্তাবিষয়ক শীর্ষ সম্মেলনও এই আলোচনাসভার জন্য একটি ভালো ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। আর এ বৈঠকেই ওবামার কূটনৈতিক উদ্যোগের কার্যকারিতার পরীক্ষা হয়ে যাবে।
যদিও কিছু উন্নয়নশীল দেশ হয়তো বড় শক্তিকে নিরস্ত্রীকরণের জন্য যথেষ্ট চেষ্টা না করার জন্য সমালোচনা করবে, কিন্তু সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর কারণে সম্ভবত এ যুক্তি এবার গত বৈঠকের মতো তত গুরুত্ব পাবে না।
চ্যালেঞ্জগুলো কী
মিসর ও আরও কিছু উন্নয়নশীল দেশ মধ্যপ্রাচ্যে একটি পরমাণু অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এ উদ্যোগের ফলে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। উল্লেখ্য, ভারত ও পাকিস্তানের মতো ইসরায়েলও এনপিটিতে স্বাক্ষর করেনি।
মিসর ও আরও কিছু আরব দেশ বলেছে, ইসরায়েলের প্রশ্নে কোনো সমঝোতা না হলে তারা চূড়ান্ত ঘোষণার ব্যাপারে মতৈক্য সৃষ্টিতে বাধা দেবে। এনপিটি সভায় সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মতৈক্যের ভিত্তিতে। কিন্তু কূটনীতিক ও বিশ্লেষকেরা বলেন, মিসরকে যদি মধ্যপ্রাচ্যে কোনো বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়, তবে সে সম্ভবত ইরানকে অন্যান্য প্রশ্নে সহায়তা করবে না, ফলে তেহরান হয়ে পড়বে একঘরে।
বিদ্যমান কিছু বিষয়
চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে ইরানও রয়েছে। এনপিটি ব্যবহার করে পরমাণু প্রযুক্তির ওপর একচেটিয়া মালিকানা বজায় রাখছে এবং অন্যান্য দেশের বেসামরিক আণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের অধিকার খর্ব করছে—পাশ্চাত্য শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলে অতীতে ইরান উন্নয়নশীল দেশগুলোকে একজোট করতে পারত।
সাফল্য বা ব্যর্থতা
প্রায় সব পক্ষই এ ব্যাপারে একমত যে যদি কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা না দেওয়া যায়, তবে বৈঠকটি ব্যর্থ হবে। তবে সাফল্যের জন্য কারও খুব বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়ারও প্রয়োজন নেই।

জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় কলকাতাজুড়ে কড়া সতর্কতা জারি

জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় জারি করা হয়েছে কড়া সতর্কতা। ভারতের বিভিন্ন শহরে ইতিমধ্যে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটলেও এত দিন কলকাতায় সে ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। এবার ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা কলকাতা পুলিশকে জানিয়ে দিয়েছে, জঙ্গিদের এবার লক্ষ্যবস্তু হতে চলেছে কলকাতা শহর। বুধবার বিকেলেই রাজ্য গোয়েন্দা দপ্তর সেই আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দিয়েছে কলকাতা পুলিশকে। সতর্কবার্তা পাওয়ার পর রাতেই কলকাতার পুলিশ কমিশনার বৈঠক করেন কলকাতা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে। সেখানেই জঙ্গি হামলার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তারপরই কলকাতাজুড়ে জারি করা হয় সতর্কতা।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা জঙ্গি সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদীনের গোপন খবরের সূত্র ধরে জানিয়েছে, ওই সংগঠন এবার তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে কলকাতাকে। সামনে কলকাতা এবং সল্টলেক পৌরসভার নির্বাচন। এই নির্বাচনের প্রচারের মাঝেই তারা ঘটাতে পারে নাশকতা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বলেছে, জঙ্গিদের টার্গেটে রয়েছে কলকাতা বিমানবন্দর, পাতালরেল, কলকাতা ও হাওড়া রেলস্টেশন, দক্ষিণেশ্বর এবং কালীঘাট মন্দির, হাওড়া ব্রিজ, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, শহরের নামী বিপণিকেন্দ্র ও সিনেমা হলসহ ঐতিহাসিক স্থাপনা।
গোয়েন্দা সংস্থার আগাম সতর্কবার্তায় এ কথাও বলা হয়েছে, ইন্ডিয়ান মুজাহিদীনের জঙ্গি আবদুর রেজা এবং মমিন লস্কর ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে পড়েছেন। তাঁরা এখন আত্মগোপন করে আছেন।
কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (সদর) জাভেদ শামীম জানিয়েছেন, কলকাতা পুলিশ এখন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। শহরে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা ব্যক্তির সন্ধান মিললে সঙ্গে সঙ্গে তা পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেছেন।

বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমনাভিযান জোরদার করছে থাই সরকার

থাইল্যান্ডের সরকার থাকসিনপন্থী লাল শার্ট বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। গত বুধবার সেনাসদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষের পর গতকাল বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দেওয়া হলো। ওই সংঘর্ষে একজন সেনা নিহত ও ১৯ জন বিক্ষোভকারী আহত হন।
এদিকে বিক্ষোভকারীরা সরকারের দমন অভিযান বন্ধে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সেনাদের শক্তি প্রয়োগ সচক্ষে দেখার জন্য তাঁরা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে পর্যবেক্ষক পাঠাতে বলেছেন। তবে থাই সরকার দেশীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে।
সরকারের পদত্যাগ ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা রাজধানী ব্যাংকক এবং এর আশপাশে সাত সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক সহিংসতায় এ পর্যন্ত সেনা ও বিক্ষোভকারীসহ অনেকে হতাহত হয়েছেন। পর্যটননির্ভর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমৃদ্ধ এ দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থাও দিন দিন খারাপ হচ্ছে। পদত্যাগের জন্য নানা দিক থেকে চাপ আসছে প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ ভেজ্জাজিভার ওপর। দেশের সংকট দিন দিন বাড়ার প্রেক্ষাপটে গতকাল সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র সানসার্ন কায়েকার্ন বলেছেন, বিভিন্ন তল্লাশি চৌকিতে থাকা সেনাদের আরও তত্পর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় বিক্ষোভকারীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হচ্ছেন, সেখানে আরও সেনা পাঠানো হবে। সেনাসদস্যরা বিক্ষোভকারীদের থামিয়ে দিতে এবং তাঁদের রাজধানী অভিমুখে যেতে নিরুত্সাহিত করবেন।
বিক্ষোভকারীদের নেতা ওয়েং তুজিরাকার্ন গতকাল বলেছেন, বুধবারের সহিংসতার পর তাঁর সমর্থকেরা নতুন করে চাঙা হয়েছেন। এখন বিক্ষোভে লোক সমাগম আরও বাড়বে বলে তিনি ধারণা করছেন। সমবেত হাজার হাজার জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার তাঁদের যুদ্ধের দিকে নিয়ে গেছে। তাঁরা এখন লড়াই চালিয়ে যাবেন। জয় তাঁদের দ্বারপ্রান্তে। বিক্ষোভকারীদের আরেক নেতা জারান দিতসাতাপিচাই বলেন, তাঁদের দমনের জন্য সেনাসদস্যরা নির্যাতন চালাচ্ছেন। সামনে দমন-পীড়ন আরও বাড়বে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। সেনাদের দমন অভিযান সচক্ষে দেখার জন্য পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য তাঁরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। এর আগে বিক্ষোভকারীরা পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য জরুরি আহ্বান জানিয়ে ইইউর রাষ্ট্রদূত ডেভিড লিপম্যানকে একটি চিঠি দেন। লিপম্যান ইতিমধ্যে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাসিত পিরোমায়া দেশীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। গতকাল ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্তি নেতালেগওয়ার সঙ্গে বৈঠকের সময়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি সরকারের পুরো নিয়ন্ত্রণে আছে। এ অবস্থায় থাইল্যান্ডের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের কোনো প্রয়োজন নেই।

ছড়িয়ে পড়া তেলের পরিমাণ ধারণার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, মেক্সিকো উপসাগরের তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণে আগের ধারণার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি তেল নিঃসৃত হয়ে থাকতে পারে।উপকূলরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল মেরি ল্যান্ড্রি জানিয়েছেন, প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার ব্যারেল (দুই লাখ ১০ হাজার গ্যালন) তেল সমুদ্রের পানিতে মিশছে। তেল নিঃসরণ বন্ধ করার জন্য কাজে নেমেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) বিশেষজ্ঞরা বিভিন্নভাবে নিঃসৃত তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন। আগে জানা গিয়েছিল, দুটি ছিদ্র দিয়ে তেল বের হচ্ছে। কিন্তু এখন নতুন আরেকটি ছিদ্রের খোঁজ পাওয়া গেছে। নিঃসৃত তেল সাগরের ২৮ হাজার ৬০০ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। পানিতে ভেসে থাকা তেলের স্তরের মূল প্রান্ত মিসিসিপি নদীমুখের প্রায় ২০ মাইলের মধ্যে চলে এসেছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, বায়ুর গতি পরিবর্তিত হয়ে আজ রাত নাগাদ তেলের স্তর উপকূল ছুঁতে পারে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে জরুরি সহায়তা চেয়েছেন লুইজিয়ানার গভর্নর ববি জিন্দাল।
জিন্দাল বলেন, আমাদের প্রথম এবং প্রধান চেষ্টা মানুষজন ও পরিবেশ রক্ষা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দরকার আমাদের।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা দপ্তর সাহায্য করতে প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছে সরকার।
ভাসমান তেল অপসারণ বা নষ্ট করে ফেলতে এবং নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাজ শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। তবে তেল নিঃসরণের ছিদ্র বন্ধ করতে এক মাসেরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।
পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি বাঁচাতে ভাসমান তেলের একটি নির্দিষ্ট অংশে ‘নিয়ন্ত্রিত আগুন’ লাগিয়ে তা পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ প্রক্রিয়ায় খুব বেশি কিছু করা যাবে না। এ ছাড়া পরিবেশবাদীরাও সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, এতে সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে। তবে সমুদ্রের পানিতে তেল থাকলে সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষতি আরও বেশি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব-দক্ষিণ সীমান্তের মেক্সিকো উপসাগরে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি) পরিচালিত এই তেলক্ষেত্রটিতে বিস্ফোরণ হয় গত মঙ্গলবার। এতে আগুন লেগে গেলে সেখানে ১১ জন কর্মী নিহত হন।

অস্ট্রেলিয়ায় সিগারেটের প্যাকেটে লোগো নিষিদ্ধ হচ্ছে

অস্ট্রেলিয়ায় সরকারের ধূমপানবিরোধী ভূমিকা আরও বেশ কঠোর হয়েছে। সেখানে সরকার এবার এমন এক আইন পাস করতে যাচ্ছে, যার ফলে দেশটির কোনো সিগারেট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তাদের উত্পাদিত সিগারেটের মোড়কে প্রতিষ্ঠানের নাম, লোগো এমনকি কোনো রংও ব্যবহার করতে পারবে না। অর্থাত্ সিগারেটের প্যাকেট হবে একেবারে সাদামাটা এবং তাতে কোনো নাম, ব্র্যান্ড কিংবা রঙের ছিটেফোঁটাও থাকবে না। আইনটি দুই বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এমন নতুন আইন প্রণয়ন অনুমোদন করেছে। বিবিসি।
অনলাইনে বিবিসির প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, অনেকেই মনে করছেন অস্ট্রেলিয়ার এই আইন ধূমপানবিরোধী আন্দোলনে নতুন মাত্রা আনবে। কারণ, এর আগে সিগারেটের প্যাকেটে ধূমপানের ক্ষতিকর দিক বর্ণনা থেকে শুরু করে ধূমপানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হূিপণ্ড, ফুসফুস ও মানবদেহের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ছবি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হলেও রং, লোগো এমনকি ব্র্যান্ড পরিচয়হীন সিগারেটের মোড়ক তৈরির আইন বিশ্বে এই প্রথম।
অস্ট্রেলিয়ার নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী কেভিন রুড নির্বাচনের সময় অস্ট্রেলীয় জনগণকে ধূমপানের কারণে মানব-মৃত্যুর হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়াতে প্রতি বছর প্রায় ১৫ হাজার মানুষ ধূমপানের কারণে বিভিন্ন রোগে ভুগে মৃত্যুবরণ করেন।
অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিকোলা রক্সন খুব শিগগিরই এই আইনের ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছে বিবিসি অনলাইন।
এর আগে সিগারেট ও অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপনের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা অস্ট্রেলিয়া সরকার আরোপ করেছিল, তাতে ধূমপায়ীর সংখ্যা ১৯৮৮ সালের তুলনায় ২০০৭-এ নেমে এসেছিল প্রায় অর্ধেকে। ১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সী মোট ধূমপায়ীর সংখ্যা ছিল ৩০ শতাংশ, ২০০৭ সালে তা কমে ১৬ দশমিক ছয় শতাংশে দাঁড়ায়।

নেপালকে মাওবাদীদের সঙ্গে সমঝোতার পরামর্শ দিলেন মনমোহন

নেপালের চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে মাওবাদীদের সঙ্গে সমঝোতায় আসার জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপালকে পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। গতকাল বৃহস্পতিবার ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মনমোহন সিং মাধব কুমারকে এ পরামর্শ দেন।
নেপালি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা রাজন ভট্টরাই জানিয়েছেন, সংকট সমাধান এবং শান্তিপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে মাওবাদীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার জন্য সৌহার্দ্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে মাধব কুমারকে পরামর্শ দিয়েছেন মনহোমন।
মাধব কুমারের প্রেস সচিব বিষ্ণু রিজাল জানান, মনমোহনকে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, শান্তিপ্রক্রিয়া শেষ করতে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়নের ব্যাপারে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ।
নেপালি প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে শান্তিপ্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে এবং শান্তিপ্রক্রিয়া শেষ করা ও নতুন সংবিধান প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই।
থিম্পুর একটি অবকাশ যাপন কেন্দ্রে দুই নেতার বৈঠক প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী হয়। এ সময় তাঁরা দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন

দুই দিনেই ৯৪ হাজার ভক্ত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক টুইটারে যুক্ত হওয়ার পর ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। এ সাফল্যে ভক্তদের অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। মাত্র দুই দিনেই টুইটারে তাঁর ভক্তের (ফলোয়ার) সংখ্যা ৯০ হাজার ছাড়িয়েছে। এ বিপুলসংখ্যক ভক্তের সাড়ায় অভিভূত শাভেজ বলেন, ‘এটা অপ্রত্যাশিত ব্যাপার, মাত্র দুই দিনেই ৯৪ হাজার ভক্ত টুইটারে যুক্ত হয়েছেন। ভক্তদের সবাইকে ধন্যবাদ।’ খবর রয়টার্স অনলাইনের।
বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস বর্তমানে ভেনেজুয়েলা সফর করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁকে স্বাগত জানানোর এক অনুষ্ঠানে বসে শাভেজ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি আর ইভো আছি। আমরা বিজয় চাই।’
ভেনেজুয়েলার বিরোধী শিবির অনলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তাদের কর্মীদের সংগঠিত করছে। অনলাইনে পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে তারা সরকারকে নানাভাবে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় শাভেজও গত মঙ্গলবার তাঁর সমর্থকদের সামাজিক ওয়েবসাইট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পাওয়ার পর ভক্তরা স্রোতের মতো টুইটারে যুক্ত হয়েছেন। শাভেজ নিজেও একটি টুইটার পেজ খুলেছেন। গতকাল পর্যন্ত সেই পেজে ৯৪ হাজার ভক্ত যুক্ত হন।
শাভেজের এ উদ্যোগে অবশ্য ভেনেজুয়েলানরা হেসে কুটিকুটি। তারা বলেছে, যে নেতা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলেন, তিনি কীভাবে টুইটারে মাত্র ১৪০ বর্ণে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরবেন।

গাজার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ল্যাপটপ বিতরণ

ফিলিস্তিনের হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্কুল-শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই লাখ ল্যাপটপ বিতরণের একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। গাজায় ‘দ্য ইউএন রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সির (ইউএনআরডব্লিউএ) একজন মুখপাত্র গতকাল এ কথা জানান।
মুখপাত্র আদনান আবু হাসনা বলেন, ২০১২ সালের মধ্যে মধ্য প্রাচ্যের শরণার্থীদের মধ্যে পাঁচ লাখ ল্যাপটপ বিতরণের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইউএনআরডব্লিউএ।
তিনি বলেন, গাজার শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই লাখ ল্যাপটপ বিতরণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাফার শরণার্থী-স্কুলগুলোয় দুই হাজার ২০০ ল্যাপটপ বিতরণের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আবু হাসনা বলেন, সংকটের সময়ও শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে পারে সে জন্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের তারবিহীন ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকার আহ্বান জানানোরও পরিকল্পনা এই প্রকল্পে নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়ান ল্যাপটপ পার চাইল্ড (ওএলপিসি) ও দ্য জর্ডান হাশেমাইত চ্যারিটি অর্গানাইজেশন ওই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে।
গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর, জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়ায় ৪৭ লাখেরও বেশি নিবন্ধিত ফিলিস্তিনি শরণার্থীকে মানবিক ত্রাণ-সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে ইউএনআরডব্লিউএ। এ ছাড়া শরণার্থীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা-সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে জাতিসংঘের ওই এজেন্সি। গাজার ১৫ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই বিদেশি ত্রাণ-সহায়তার ওপর নির্ভরশীল

কানাডীয়রা মার্কিনদের চেয়ে বেশি দিন বাঁচেন: গবেষণা

যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কানাডার অধিবাসীরা গড়ে তিন বছর বেশি বাঁচেন। এ দুই দেশের মধ্যে কানাডার লোকজনের গড় স্বাস্থ্যও অনেক ভালো। সামগ্রিক দিক দিয়ে কানাডার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিম্নমানের হওয়ায় এমনটা ঘটছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান বায়োমেড সেন্ট্রালের স্বাস্থ্য সাময়িকী পপুলেশন হেলথ মেট্রিকসের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
২০০২ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত মোট আট হাজার ৬৮৮ জন কানাডীয় ও মার্কিন নাগরিকের টেলিফোন সাক্ষাত্কার নিয়ে ওই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে বলা হয়, কানাডীয়রা যেখানে ৭৯ দশমিক ৭ বছর বেঁচে থাকার আশা করতে পারেন, সেখানে মার্কিনরা ৭৭ দশমিক ২ বছর বাঁচার আশা করেন। ১৯ বছর বয়সী একজন কানাডীয় তরুণ আরও ৫২ বছর সুস্বাস্থ্য ধরে রাখার আশা করতে পারেন। অন্য দিকে ওই একই বয়সের মার্কিন তরুণ আর মাত্র ৪৯ দশমিক ৩ বছর সুস্বাস্থ্য ধরে রাখার আশা করতে পারেন।
গবেষক ডেভিড ফেনি বলেছেন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অভিন্ন সীমান্তরেখা থাকা ও জীবনযাপনের মান কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও মার্কিনদের চেয়ে কানাডীয়দের গড় আয়ু বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার তুলনামূলক ঘাটতি ও দারিদ্র্যের আধিক্যের কারণে এ ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। কানাডার প্রায় সবাই সরকারের কাছ থেকে অভিন্ন ধরনের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে নিজ নিজ আয় ও অর্থনৈতিক অবস্থানের ধরন অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায়।

প্রথম বিভাগ বাস্কেটবল

প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রথম বিভাগ বাস্কেটবল লিগে কাল জিতেছে ফ্লেইম বয়েজ, হরনেটস ক্লাব ও মোহাম্মদপুর বাস্কেটবল ক্লাব। ধানমন্ডি ইনডোরে কাল ফ্লেইম বয়েজ ৮০-৭৬ পয়েন্টে দ্য গ্রেগসকে, হরনেটস ক্লাব ৯৮-৩১ পয়েন্টে দ্য শাওনসকে এবং মোহাম্মদপুর বাস্কেটবল ক্লাব ৪০-৩১ পয়েন্টে ওল্ড ডিওএইচএসকে হারিয়েছে।

খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মেহরাবকে

এশিয়ান গেমস বাছাই হকির প্রাথমিক দলের ২৭ জন খেলোয়াড়ের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা আশায় ছিলেন অনুশীলন ক্যাম্পে যথাসময়ে যোগ দেবেন মেহরাব হোসেন (কিরণ)। কিন্তু ক্যাম্প শুরুর ৯ দিন পরও মেহরাব আসেননি। জানা গেছে, জাতীয় দল ও তাঁর ক্লাব দল মোহামেডানকে বিপদে ফেলে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন জাতীয় দলের গোলকিপার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাঁর এক সতীর্থ জানিয়েছেন, ‘ইতালিতে চলে গেছে মেহরাব।’
মোহামেডানের হকি কর্মকর্তা সাজেদ এ আদেল বললেন, ‘কিরণকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ওকে খুঁজতে দেশের বাড়িতে (নেত্রকোনা) লোক পাঠিয়েছিলাম। বাড়ির লোকেরা জানিয়েছেন, বিদেশে গেছে কিরণ।’ কিরণের ব্যাপারে ফেডারেশনকে দুষছেন আদেল, ‘আমি বলব, এটা ফেডারেশনের ব্যর্থতা। ইউরোপ সফর করে আসা খেলোয়াড়দের পাসপোর্ট ফেডারেশনে জমা রাখা উচিত ছিল। তাহলে এই ক্ষতি হতো না। শুধু আমার দলেরই নয়, দেশেরও বড় ক্ষতি হলো।’
কোচ পিটার গেরহার্ডকে মেহরাবের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতেই জানালেন, ‘কে বলেছে সে ইতালি গেছে? আমার জানামতে, এখন ইতালিতে কোনো লিগ হচ্ছে না। আর ইউরোপের কোনো দেশে খেলোয়াড়দের যেতে হলে আমার মাধ্যমেই যেতে হবে। মেহরাবের ইতালি যাওয়ার ব্যাপারটা যেই বলে থাকুক না কেন, সে সত্যি বলেনি।’ মেহরাবের বিকল্প খেলোয়াড় এখনো ঠিক করেননি কোচ।
গত এসএ গেমসে জাতীয় দলের হয়ে খেলা এই গোলকিপারের দেশের বাইরে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার জামিলউদ্দিন, ‘আমি ব্যাপারটা এখনো জানি না। তবে ও যদি চলে গিয়েই থাকে তাহলে দেশের জন্য একটা ক্ষতি হয়ে গেল।’ আগামী ৭ মে ঢাকায় শুরু হচ্ছে সাত জাতির এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্ব।

আফগানদের আইরিশ-বধ

কদিন আগে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ আফগানিস্তান ক্রিকেট দলকে তুলনা করেছিলেন ‘কলার খোসা’র সঙ্গে। সতর্কতার সঙ্গে পা না ফেললে যেখানে থাকে পা হড়কানোর আশঙ্কা। বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া আফগান ক্রিকেট দল যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বড় দলগুলোর মাথাব্যথার কারণ হতে পারে, সেটা তারা দেখাল পরশুর প্রস্তুতি ম্যাচে। গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে তারা ৫ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে আয়ারল্যান্ডকে।
প্রথমে ব্যাট করে আয়ারল্যান্ড ৯ উইকেটে ১৩৩ রান তোলে। আয়ারল্যান্ডকে এই রানে বেঁধে ফেলার বড় কৃতিত্বটা দৌলত আহমেদজাইয়ের। ৪ ওভারে ১৫ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। আফগানিস্তান ৩ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে ফেলে।
দিনের অন্যান্য প্রস্তুতি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫ উইকেটে শ্রীলঙ্কাকে এবং নিউজিল্যান্ড ৭ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে। কেনসিংটন ওভালে প্রথমে ব্যাট করে কাপুগেদারার অপরাজিত ৬১ রানের সুবাদে ৮ উইকেটে ১৩৭ রান করে শ্রীলঙ্কা। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটে টপকে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস।
প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস জেতা নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে তোলে ১২৪ রান। রস টেলর (৫০) ও জ্যাকব ওরাম (৪৬*) ছাড়া আর কেউই দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। তবে নিউজিল্যান্ডের এই মাঝারি স্কোরও টপকাতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯.৪ ওভারে ১১৭ রানে অলআউট ক্রিস গেইলের দল।

সেই বার্সেলোনা এখন

মুদ্রার অন্য পিঠটা এখন দেখতে পাচ্ছেন পেপ গার্দিওলা। বার্সেলোনা সিনিয়র দলের অভিষেক মৌসুমেই গুনে গুনে ছয়টি শিরোপা কাতালানদের ঘরে তুলেছিলেন। সেই বার্সেলোনা পরের মৌসুমেই দাঁড়িয়ে গেল শিরোপা-শূন্যতার মুখোমুখি। মৌসুমের শেষবেলার অঙ্ক বলছে, এমনও হতে পারে, গত বছর ছয় ট্রফি জেতা বার্সেলোনা এবার একটি ট্রফিও জিতল না!
গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপ, উয়েফা সুপার কাপ, স্প্যানিশ লিগ, কিংস কাপ ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছিল বার্সেলোনা। এই ছয় ট্রফি জেতানো গার্দিওলা দলকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে দলে ভিড়িয়েছিলেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের মতো খেলোয়াড়কে। দৃশ্যত তাতে লাভ হয়নি। এখন স্প্যানিশ লিগ আর সেই সুবাদে স্প্যানিশ সুপার কাপ ছাড়া বার্সেলোনার সামনে জেতার মতো কিছু নেই।
কিংস কাপ থেকে বার্সেলোনা ছিটকে গেছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। পরশু রাতে ছিটকে গেল চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে। চ্যাম্পিয়নস লিগ না জিতলে যেহেতু উয়েফা সুপার কাপ আর ক্লাব বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ারই সুযোগ নেই; তাই চ্যাম্পিয়নস লিগের সঙ্গে এ দুটো ট্রফিও গেছে।
এখন বার্সেলোনার সামনে প্রথমত টিকে আছে স্প্যানিশ লিগ জেতার সম্ভাবনা। সে দৌড়ে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ১ পয়েন্ট এগিয়েও আছে তারা। তবে ম্যাচ বাকি এখনো চারটি করে। আর স্প্যানিশ লিগ জিততে পারলে স্প্যানিশ সুপার কাপে খেলার সুযোগও পাবে তারা। কিন্তু সে জন্য আগে লিগ জিততে হবে।
সেটা কি পারবে গার্দিওলার দল? গাণিতিক সমীকরণ বলে, বার্সেলোনা শিরোপার দৌড়ে ভালো অবস্থায় আছে। কিন্তু মনস্তাত্ত্বিকভাবে দলটি নিঃসন্দেহে একটা ধাক্কা খেল। চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায়ের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের লিগ ম্যাচ খেলতে নামতে হচ্ছে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে; ভিয়ারিয়ালেরই মাঠে। মনে রাখতে হবে, ভিয়ারিয়াল নিজেদের মাঠে সর্বশেষ ৭টি ম্যাচের ৫টিই জিতেছে!
বার্সেলোনা কি এই সময়ের মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগের ধাক্কা সামলে উঠতে পারবে? পেপ গার্দিওলা জানেন কাজটা কঠিন। তার পরও আশা করছেন, ‘খেলোয়াড়েরা ভেঙে পড়েছে, দুঃখ পেয়েছে। কিন্তু আমাদের নিজেদের চাঙা করে তুলতে হবে। শনিবার লা লিগার ম্যাচ আছে। ওখানে আমাদের জিততে হবে।’
ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে বার্সেলোনা যদি আরেকবার ভেঙে পড়ে, তাহলে সবচেয়ে খুশি হবে নিশ্চয়ই রিয়াল মাদ্রিদ। এমনিতেই চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে যাওয়া বার্সেলোনার সর্বশেষ কয়েকটা ম্যাচের পারফরম্যান্সে রিয়ালের খুশি থাকার কথা। বার্নাব্যু ফাইনালে বার্সেলোনা অন্তত রিয়াল সমর্থকদের গায়ে জ্বালা ধরাতে আসছে না, এতেও খুশি তারা।
খুশি কি অখুশি সেটা রিয়ালের কেউ মুখ ফুটে বলছে না। তবে ইনজুরি থেকে ফিরেই রিয়ালের ত্রাতা হয়ে যাওয়া ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার কাকা বলছেন, তারা এখন স্প্যানিশ লিগ জেতার ব্যাপারে খুবই আশাবাদী, ‘আমাদের এখন লিগ জেতার ভালো সুযোগ আছে। ড্রেসিংরুমের সবাই বিশ্বাস করে, আমরা এটা পারব। এক পয়েন্ট এমন কোনো ব্যবধান নয়। আমরা নিশ্চিত, নিজেরা সব ম্যাচ জিতলে আমরা বার্সেলোনার ওপরেই থাকব।’
সেটা সত্যি হলে গার্দিওলার ফুলের বিছানা কাঁটায় ভরে উঠবে।

জমে উঠেছে মহিলা দাবা

আরলিন জাতীয় মহিলা দাবা বেশ জমে উঠেছে। ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে পয়েন্টে কাছাকাছি আছেন চারজন খেলোয়াড়। শীর্ষস্থান নিয়ে লড়াই চলছে শারমিন সুলতানা (শিরিন) ও শামীমা আক্তারের (লিজা) মধ্যে। এই দুজনের পয়েন্ট সাড়ে পাঁচ। ঠিক আধা পয়েন্ট কম নিয়ে এর পরই আছেন নজরানা খান (ইভা)। ৪.৫ পয়েন্ট মাসুদা খাতুনের। ৩.৫ পয়েন্ট নিয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছেন রানী হামিদ।
নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠানরত প্রতিযোগিতায় কাল ষষ্ঠ রাউন্ডে শারমিন জাকিয়া সুলতানাকে, শামীমা দিলারা জাহানকে, মাসুদা রোকসানাকে, রানী হামিদ জাহানারা হককে হারিয়েছেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিটিভিতে

বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) দেখা যাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের খেলা। ওয়েস্ট ইন্ডিজে আজ শুরু টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের খেলাসহ প্রায় সবগুলো ম্যাচই সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি। উপমহাপরিচালক খ ম হারুন জানিয়েছেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও আমরা বিশ্বকাপের খেলাগুলো দেখাব। বাংলাদেশের গ্রুপের খেলাগুলো তো থাকছেই, সেই সঙ্গে সেমিফাইনাল-ফাইনালসহ প্রায় সবগুলো ম্যাচই দেখানোর সম্ভাবনা রয়েছে।’ আজ রাত ৯টায় শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ড উদ্বোধনী ম্যাচ ও রাত ৩টায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ-আয়ারল্যান্ড দ্বিতীয় ম্যাচটাও দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন বিটিভির উপমহাপরিচালক।

ম্যাচ পাতানো নিয়ে সতর্ক আইসিসি

বাতাসে আবার সেই ম্যাচ পাতানোর গুঞ্জন। অনেকেই মনে করছে, ২০০০ সালের মতো কিংবা তার চেয়েও বড় ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারি ধাক্কা দিতে যাচ্ছে ক্রিকেটকে।
যদিও এখন পর্যন্ত কোনো গুঞ্জন বা গুজবের সপক্ষে কোনো প্রমাণ কোথাও পাওয়া যায়নি। তার পরও আইপিএল ও ইংলিশ ক্রিকেটকে ঘিরে সৃষ্ট ম্যাচ পাতানো বিষয়ে আলোচনাগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আজ শুরু হতে যাওয়া আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টকে ঘিরে সতর্ক থাকার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
গুঞ্জনটা প্রথম পাখা মেলেছে ইংলিশ ক্রিকেটে। গত মৌসুমে অ্যাসেক্স খেলোয়াড়েরা একটি প্রো-৪০ ম্যাচ পাতানোয় জড়িত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁদের নিয়ে তদন্তও চলছে। ইংল্যান্ডের এই অভিযোগের মীমাংসা হওয়ার আগেই সাড়া ফেলে দিল তৃতীয় আইপিএল নিয়ে ওঠা একটার পর একটা অভিযোগ।
যদিও আইপিএলের দ্বিতীয় আসরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ম্যাচ পাতানো হয়েছিল বলে একটা জনশ্রুতি ছিল আগে থেকেই। কিন্তু এবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানাল, এক ‘খ্যাতনামা অস্ট্রেলীয়’সহ কমপক্ষে ২৭ আইপিএল খেলোয়াড় দক্ষিণ আফ্রিকা আসরে ম্যাচ পাতানোয় জড়িত ছিলেন। আর সর্বশেষ বোমাটা ফাটল কয়েক দিন আগে। এবারের আইপিএলের বেশ কিছু ম্যাচ তো বটেই, খোদ ফাইনালটাই পাতানো ছিল!
এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া না গেলেও আইসিসির মুখপাত্র বলেছেন, তাঁরা ওয়েস্ট ইন্ডিজে শুরু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবেন। সতর্ক থাকবে তাদের দুর্নীতিবিরোধী ও নিরাপত্তা ইউনিট (এসিএসইউ), ‘ক্রিকেটে দুর্নীতির সম্ভাবনাটা পুরোপুরি বাস্তব। যারা খেলাটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় এসিএসইউ সফলভাবে তাদের বিরুদ্ধে লড়ছে। তার মানে অবশ্য এই নয় যে, আমরা আত্মতৃপ্তিতে ভুগছি। তাই ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে যে, যারা সম্ভাব্য দুর্নীতিবাজ তাদের সংখ্যা যেন কমে যায় এবং তাদের যেন এখান থেকে বের করে দেওয়া যায়।’
যদিও যে এসিএসইউর ভরসায় আইসিসি এসব কথা বলছে, সেই সংগঠনটিই তার নেতাকে হারাতে যাচ্ছে। ২০০০ সালের ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারির সময় গঠিত এসিএসইউর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসা পল কনডন অবসরে যাবেন জুন মাসে। সংস্থাটির প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা রবি সাওয়ানিও পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে শোনা গিয়েছিল। কিন্তু আইসিসি জানিয়েছে, সাওয়ানি অন্তত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে যাচ্ছেন না।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শুরু আগামীকাল

আজই পর্দা উঠলেও বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। প্রথম ম্যাচেই বড় পরীক্ষার সামনে সাকিব আল হাসানের দল। সেন্ট লুসিয়ায় বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ যে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান!
আসল লড়াইয়ের মঞ্চে নামার আগে বাংলাদেশের প্রস্তুতিটা হয়েছে ভালো-মন্দ মিশিয়ে। প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে জিতলেও পরশু দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে হেরেছে ইংল্যান্ডের কাছে। টি-টোয়েন্টির সঙ্গে একেবারেই বেমানান কচ্ছপ গতিতে রান তুলতে তুলতে ২০ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর গিয়ে পৌঁছেছিল ৭ উইকেটে ১২৬। রবি বোপারার ৬২ রানের ইনিংসের সৌজন্যে ১৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড।
টি-টোয়েন্টি মানে যেখানে চার-ছয়ের ফুলঝুরি, সেখানে পরশু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা গোটা ইনিংসে ৯টি চার আর একটি মাত্র ছক্কা মেরেছেন। ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৮ রান এসেছে মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান করেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ৩৯ রানের উদ্বোধনী জুটির পর ২৭ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদেই পড়ে যায় বাংলাদেশ। এই ধাক্কা সামলে আর রানের ঝড় তুলতে পারেনি সাকিবের দল।
প্রথম ম্যাচে অবশ্য ব্যাটসম্যানরা ভালো করেছিলেন। এদিন বোলারদের অনুশীলনের সুযোগ করে দিতে ইংল্যান্ডের ১৭.১ ওভার ইনিংসটাকেও ভালোমতো কাজে লাগিয়েছেন সাকিব। এরই মধ্যে ব্যবহার করেছেন আট আটজন বোলারকে!

অবনমন বাঁচিয়েই উৎসব

সেই ঢাকঢোল, ব্যান্ডপার্টি আর বিজয়ের উত্সব। বছর পাঁচেক আগে ঢাকার ফুটবলে শিরোপা জেতার পর এমন উত্সব করেছিল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। কাল আবার তা করল দলটি। এবার প্রেক্ষাপট উল্টো—চলমান বাংলাদেশ লিগে অবনমন এড়াতে পারায় এমন আনন্দ-আয়োজন ব্রাদার্সের!
উত্সবের সুযোগটা তারা করে নিয়েছে কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিয়ানীবাজারকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে। মাঝে গোটা চারেক ড্র করলেও ৭ ম্যাচ পর পাওয়া এই জয়ে ১৯ ম্যাচে ব্রাদার্সের পয়েন্ট হলো ২১ (৪ জয়, ৯ ড্র)। আপাতত পয়েন্ট তালিকায় তারা উঠে এসেছে ৪ নম্বরে।
৩৭ মিনিটে মুরাদ আহমেদ (মিলন) কাল দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর ৪৫ ও ৬৭ মিনিটে দুই গোল করে জয়টা নিশ্চিত করে দেন এনক বেনটিল। ৭৭ মিনিটে বদলি স্ট্রাইকার মাকসুদুল আলম (বুলবুল) করেন শেষ গোলটি।
১৮ ম্যাচে নবম পরাজয়ে বিয়ানীবাজারের পয়েন্ট ১৩-ই থাকল। পয়েন্ট তালিকায় নিচের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে আছে সিলেটের দলটি। ১৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে নারায়ণগঞ্জ শুকতারা। ব্রাদার্সের কালকের জয়ে শুকতারা-বিয়ানীবাজারের অবনমন শঙ্কা আরও প্রবল হলো এবং বাকি দলগুলোও হয়েছে লাভবান।
দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পেরে ব্রাদার্স কোচ ওয়াসিম ইকবালকে খুবই উচ্ছ্বসিত দেখাল কাল। তবে ব্যান্ডপার্টি নিয়ে স্টেডিয়ামে আসা এবং সমর্থকদের উত্সবের ব্যাপারটা নিয়ে তাঁর নাকি লজ্জাই লাগছিল, ‘শিরোপা জিতে উত্সব করার কথা ব্রাদার্সের। কিন্তু আমরা এখন অবনমন এড়িয়ে আনন্দ করছি! লজ্জাই লাগছে। পরিস্থিতি এমন যে, রেলিগেশন বাঁচানোই এখন বিরাট খবর আমাদের জন্য!’
রাসেলের ড্র: চট্টগ্রামে স্থানীয় মোহামেডানের বিপক্ষে দুই গোলে এগিয়েও শেষ পর্যন্ত ২-২-এ ড্র করেছে শেখ রাসেল। ১৯ ম্যাচে রাসেলের পয়েন্ট ৪৪, মোহামেডানের ৪৯, আবাহনীর ৫৫, চট্টগ্রাম মোহামেডানের ২০।
চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ৪৩ মিনিটে সামির ওমারি রাসেলকে এগিয়ে নেওয়ার পর ৫৩ মিনিটে ২-০ করেন জামাল নিখালী। আগের দিন ঢাকা মোহামেডান দুই গোলে এগিয়ে নির্ভার হয়ে যাওয়ায় ড্র করে শিরোপা-স্বপ্ন শেষ করে ফেলেছে, তেমনই কাল রাসেলও গা-ছাড়া ফুটবল খেলার মূল্য দিয়েছে রানার্সআপ হওয়ার লড়াই থেকে আবারও পিছিয়ে পড়ে। ৭৮ ও ৮২ মিনিটে লামিন সুমার ও লিংকন দুই গোল করে নাটকীয়ভাবে ২-২ করে দেন।

বড় রানের পথে দ. আফ্রিকা ‘এ’

ভেন্যু পাল্টেছে, পাল্টেছে নতুন বলের দুই বোলার ও দলের মূল স্পিনারও। তবে দক্ষিণ আফ্রিকানদের রান-উত্সবে ভাটা পড়েনি। মিরপুরের মতো বিকেএসপিতেও দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের ব্যাটসম্যানরা ব্যাট করেছেন ওয়ানডে মেজাজে।
দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দিনেই তুলেছে তারা ৩৬০ রান, উইকেট পড়েছে পাঁচটি। ব্যতিক্রম বলতে এখন পর্যন্ত সেঞ্চুরি পাননি কেউ। তবে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন দুজন। ৮১ রান নিয়ে উইকেটে আছেন রিলে রোজু, ৯০ রানে আগের টেস্টেও সেঞ্চুরি করা থামি সোলেকিলে।
রবিউল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেনের জায়গায় দলে এসেও কিছু করতে পারেননি দুই পেসার মাহবুবুল আলম ও তালহা জুবায়ের। পিটারসেন-এলগারের উদ্বোধনী জুটিটা অবশ্য জমে উঠতে পারেনি। ১৭ রান করা এলগারকে ফিরিয়েছেন কাজ চালানোর মতো বোলার থেকে ক্রমেই অলরাউন্ডার হয়ে উঠতে থাকা ফয়সাল হোসেন। এই বাঁহাতি স্পিনার পরে আউট করেছেন জোনাথন ফন ডায়ারকেও (১৯)। এনামুলের জায়গায় আসা আরেক বাঁহাতি স্পিনার নাবিল সামাদ অবশ্য উইকেট পাননি একটিও। ৩ উইকেট নিয়ে সফলতম বোলার লেগ স্পিনার নূর হোসেন। টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির কাছাকাছি যাওয়া আলভিরো পিটারসেনকেও ফিরিয়েছেন তিনিই। তবে যথারীতি বাংলাদেশের বোলারদের যন্ত্রণা দিয়ে এই ওপেনার করেছেন ১১৯ বলে ৯২। প্রথম ম্যাচের আরেক সেঞ্চুরিয়ান হেইনো কুন ৪৮ রান করে আউট হওয়ার পর অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৭৪ রান তুলেছেন রোজু ও সোলেকিলে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’: ৯০ ওভারে ৩৬০/৫ (পিটারসেন ৯২, সোলেকিলে ৯০*, রোজু ৮১*, কুন ৪৮; নূর ৩/১১৫, ফয়সাল ২/৭৬)।