Sunday, July 24, 2011

ব্রিটিশ চিত্রশিল্পী লুসিয়ান ফ্রয়েড আর নেই

যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত রিয়ালিস্ট চিত্রশিল্পী লুসিয়ান ফ্রয়েড আর নেই। গত বুধবার লন্ডনের নটিং হিলের বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
লুসিয়ান ফ্রয়েডকে যুক্তরাজ্যের সমকালীন শীর্ষ শিল্পী হিসেবে গণ্য করা হতো। তিনি বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েডের নাতি। নগ্নিকা ও আত্মপ্রতিকৃতি আঁকার জন্য তিনি বিখ্যাত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁর আঁকা ছবিগুলো চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। ১৯৯৫ সালে তাঁর আঁকা ‘বেনিফিটস সুপারভাইজর স্লিপিং’ শিরোনামের একটি প্রতিকৃতি নিউইয়র্কের ক্রিস্টিস নিলাম হাউসের নিলামে তিন কেটি ৩৬ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে। জীবদ্দশায় কোনো শিল্পীর জন্য এটি একটি রেকর্ড।
লুসিয়ান ফ্রয়েডের জন্ম ১৯২২ সালে জার্মানির বার্লিনে। নাৎসিদের কবল থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য তাঁর পরিবার ১৯৩২ সালে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমায়। ১৯৩৩ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব লাভ করেন। তিনি লন্ডনের সেন্ট্রাল স্কুল অব আর্ট ও গোল্ডস্মিথ কলেজে শিক্ষালাভ করেন।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে আলোচনা হতে পারে

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী আকবর সালেহি বলেছেন, ‘সমতার ভিত্তিতে’ হলে এবং ওয়াশিংটন ইরানের জনগণের প্রতি সম্মান দেখালে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের ‘ভুল বোঝাবুঝি’ শেষ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সালেহি। গতকাল শুক্রবার ওই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালেহি বলেন, ‘ইসরায়েল ছাড়া অন্য কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা বা উন্নয়নের বিষয়টি আমরা কখনোই নাকচ করিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো কিছু দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কিছুটা অস্বাভাবিক। তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো দিন সমতার ভিত্তিতে, নিঃশর্তভাবে এবং আমাদের জনগণের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখালে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে।’
সালেহি আরও বলেন, ‘আমরা পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের পক্ষে। পাশ্চাত্য দেশগুলো যদি এতে বিশ্বাস করে, তাহলে আলোচনার টেবিলে আসতে পারি। আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছি। আর যদি তা না চায়, তাহলে যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলতে পারে। কারণ, তাদের চাপ আমাদের আরও শক্তিশালী করবে।’
৩০ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি কেন্দ্র করে কয়েক বছর ধরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত পর্যায়ে পৌঁছে। ইরানের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহারের জন্য পরমাণু কর্মসূচি চালাচ্ছে।

দার্জিলিং চুক্তি নিয়ে চাপের মুখে জনমুক্তির বিমল গুরুং

দার্জিলিং চুক্তি নিয়ে এখন প্রচণ্ড চাপের মুখে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রধান বিমল গুরুং। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্য গড়ার দাবি থেকে সরে এসে প্রকারান্তরে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্য গড়ার স্বপ্ন তিনি বাস্তবায়িত করতে পারলেন না। বলা হচ্ছে, তিনি গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফোর্স বা জিএনএলএফের নেতা সুভাষ ঘিসিংয়ের পথ অনুসরণ করেছেন। তিনিও গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে ১৯৮৮ সালে দার্জিলিং-গোর্খা পার্বত্য পরিষদ গঠন করেন। এর মাধ্যমে থেমে যায় তাঁর সেই আন্দোলন।
গোর্খাল্যান্ড-প্রত্যাশী অনেকে বলেছেন, এবার সেই একই কায়দায় গোর্খাল্যান্ড আঞ্চলিক প্রশাসন বা জিটিএ গঠন করে সন্তুষ্ট হলেন বিমল গুরুং। গোর্খাল্যান্ডের সমর্থকেরা এর মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।
বিমল গুরুং পাহাড়ের সাধারণ মানুষের মনোভাব বুঝতে পেরে গত বৃহস্পতিবার দার্জিলিংয়ে বিজয় দিবস পালন করতে গিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন, জনমুক্তি মোর্চা পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবি থেকে সরে আসেনি। পৃথক রাজ্য গোর্খাল্যান্ড গড়ার প্রথম ধাপ হলো এই চুক্তি। আর চূড়ান্ত ধাপ হবে পৃথক রাজ্য গঠনের চুক্তি। সেই চুক্তিতে সই করবেন তিনি।

দাবার ঘুঁটিতে ওবামা-ওসামা!

দুই রাজার লড়াই নিয়ে বুদ্ধির খেলা চলে দাবার বোর্ডে। বোর্ডের সেই ময়দানে যদি থাকে আফগানিস্তানের মানচিত্র, আর এতে যদি লড়াইয়ে নামে ওবামা ও লাদেনের বাহিনী, তাহলে কেমন হবে?
সম্প্রতি এ ধরনের দাবার ঘুঁটি ও বোর্ড তৈরি করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে কানাডার কোম্পানি হবি লিজার ম্যানুফ্যাকচারিং। আফগানিস্তানের মানচিত্র দিয়ে দাবার বোর্ড তৈরি করেছে তারা।
একটি দাবার সেটে ঘুঁটিগুলোর এক পক্ষে রয়েছে প্রয়াত আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের আদলে রাজা। আর রানির বেলায় রয়েছে বোরখাধারীর আদল। এ ছাড়া হাতিঘোড়াসহ অন্য সব ঘুঁটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আল-কায়েদার জঙ্গিদের আদল।
প্রতিপক্ষের রাজার মধ্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বা সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আদল। রানির আদলে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত স্ট্যাচু অব লিবার্টির আদল। অন্য সব ঘুঁটিতে রয়েছে মার্কিন সেনাদের আদল। আফগানিস্তানের কান্দাহারে এই দাবার সেট প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। দাবার বোর্ডে যারা ওবামা ও ওসামার লড়াই নিয়ে খেলতে চায়, তাদের জন্য এই সেট।
যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ওসামার লড়াই নিয়ে খেলতে চাইলে এ জন্য অবশ্য আলাদা সেট রয়েছে। প্রতিপক্ষ একই। ওসামা ও তাঁর সহযোগীরা। সেটের ঘুঁটিতে রাজার আসন দেওয়া হয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর পোশাকের ছাপ রয়েছে এই সেটের সেনাদের গায়ে। এই সেটের নৌকার জায়গায় থাকবে লন্ডনের সেন্ট স্টিফেনস টাওয়ার।
কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেফরি ট্রেইনের পরিকল্পনায় এই বোর্ড ও ঘুঁটি তৈরি করা হয়। ট্রেইন এক সময় কানাডার স্পেশাল ফোর্সের সদস্য ছিলেন।
ট্রেইন বলেন, দাবার সেটের মাধ্যমে আমি সবকিছু বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, যাতে বিভিন্ন দেশের সেনারা দেশে ফিরে এটি তাদের পরিবারকে দেখাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের জন্য আলাদা সেট তৈরি করা হয়েছে। এই সেট বিক্রি করে পাওয়া অর্থ আফগানিস্তানে নিয়োজিত সেনাদের খাদ্য ও চিকিৎসার জন্য অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।

সোমালিয়ায় দুর্ভিক্ষ নয়, খরা চলছে

সোমালিয়ার দুটি অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ চলছে বলে জাতিসংঘের দেওয়া ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে দেশটির ইসলামি বিদ্রোহী গোষ্ঠী আল-শাবাব বলেছে, ‘সোমালিয়ায় দুর্ভিক্ষ নয়, খরা চলছে।’ সে সঙ্গে গতকাল শুক্রবার আল-শাবাবের এক মুখপাত্র বলেন, তাঁদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় দুই বছর আগে যেসব বিদেশি সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, তা এখনো বহাল রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে, ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ বলে পরিচিত উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার সোমালিয়ার ওই খরাকবলিত অঞ্চলের মানুষকে খুব শিগগির ত্রাণসহায়তা পাঠাতে হবে। গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠকের সময় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা টম ডোনিলন বলেন, এ সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) মতো সংস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এ প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটন সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে। এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বান কি মুন ও টম ডোনিলন ‘হর্ন অব আফ্রিকা’য় শিগগির খাদ্যসহ অন্যান্য ত্রাণ সহযোগিতা পাঠানোর ওপর জোর দেন। বিশেষ করে, সোমালিয়ার দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের কাছে যত দ্রুত সম্ভব খাদ্য ও অন্যান্য ত্রাণ পাঠানো জরুরি বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
গত বুধবার জাতিসংঘ এক ঘোষণায় জানায়, সোমালিয়ার বাকুল ও নিম্ন শাবেলি অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ চলছে। এ অঞ্চলের খরাকবলিত অন্তত এক কোটি ২০ লাখ মানুষকে জরুরি ত্রাণ দেওয়া দরকার।

সন্দেহভাজন ৩০ জন পলাতক যুদ্ধাপরাধীকে খুঁজছে কানাডা

কানাডায় আত্মগোপন করে থাকা বিভিন্ন দেশের যুদ্ধপরাধ অথবা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ৩০ জন সন্দেহভাজন পলাতক ব্যক্তিকে খোঁজা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার কানাডার সরকার এ কথা জানিয়েছে।
কানাডার জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ভিক টোস বলেন, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে কানাডা থেকে তাড়িয়ে দেবে।
কানাডার বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি তাদের ওয়েবসাইটে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নামের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদের ধরিয়ে দিতে কানাডার নাগরিকদের প্রতি অনুরোধও জানানো হয়েছে।
ওই ওয়েবসাইটে বলা হয়, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, এল সালভাদর, ঘানা, গুয়াতেমালা, হাইতি, হন্ডুরাস, ইরাক, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, পেরু, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো, সোমালিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুদান ও সাবেক যুগোস্লাভিয়া থেকে কানাডায় এসেছে।
বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আনেনি। তবে কারও কাছে ওই ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে তা দ্রুত তাদের জানাতে অনুরোধ করেছে।

ইন্দোনেশিয়ায় দুই কোরিয়ার পরমাণুবিষয়ক দূতের বৈঠক

দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়ার পরমাণুবিষয়ক দুজন দূত গতকাল শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার বালিতে বৈঠক করেছেন। পরমাণু ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক ছয় জাতি আলোচনা কাঠামোর বাইরে এটাই প্রথম দুই কোরিয়ার বৈঠক।
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছয় জাতি আলোচনা আবারও শুরুর জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে এ বৈঠক হলো। গত বছর কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর থেকে দুই পক্ষে এটাই প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার পরমাণুবিষয়ক দূত ওয়াই সুং-লাক ও উত্তর কোরিয়ার পরমাণুবিষয়ক কূটনৈতিক দূতিয়ালির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং-হোর মধ্যে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকটি হয়।
বৈঠকের পর দক্ষিণ কোরিয়ার পরমাণুবিষয়ক দূত ওয়াই সুং-লাক বিস্তারিত না জানিয়ে শুধু বলেন, উত্তর কোরিয়ার দূতের সঙ্গে তাঁর ‘খুবই গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার মুখপাত্র বলেন, শুক্রবারের আলোচনার ওপর ভিত্তি করে তাঁদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিম সুং-হাওয়ান উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাক উই-চানের সঙ্গে শনিবার বৈঠক করতে পারেন।
এর আগে নিজের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দক্ষিণের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল উত্তর কোরিয়া।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে কোনো সমঝোতা ছাড়াই সর্বশেষ ছয় জাতি আলোচনা শেষ হয়। ২০০৯ সালের এপ্রিলে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক আলোচনা ত্যাগের ঘোষণা দেয় উত্তর কোরিয়া। এর এক মাস পর দ্বিতীয় পরমাণু পরীক্ষা চালায় দেশটি।

অনেক প্রশ্নের জবাব জেমস মারডকের কাছে: ক্যামেরন

ফোনে আড়ি পাতা বিষয়ে রুপার্ট মারডকের ছেলে জেমস মারডক যুক্তরাজ্যের সংসদীয় কমিটির জেরার মুখে সত্য এড়িয়ে গেছেন—এমন অভিযোগ ওঠার পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, জেমস মারডকের কাছে এখনো অনেক প্রশ্নের জবাব রয়েছে। এ কারণে জেমসের আবার কমিটির সামনে হাজির হয়ে এমপিদের প্রশ্নের জবাব দিয়ে সব বিভ্রান্তি দূর করা উচিত।
গত বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের ওয়ার উইকশায়ার পরিদর্শনকালে ক্যামেরন এ কথা বলেন।
গত মঙ্গলবার সংসদীয় কমিটির সামনে হাজির হলে এমপিরা জেমস মারডককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে তাঁকে বলা হয়, ২০০৮ সালে তাঁদের কোম্পানি ফোনে আড়ি পাতার ফাঁদে পড়া এক ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, এ ঘটনার আগে তাঁর কোম্পানির লোকজন ব্যাপক হারে ফোনে আড়ি পাতছেন বলে তিনি কোনো খবর পেয়েছিলেন কি না। জবাবে জেমস বলেন, এ বিষয়ে তিনি তখন কোনো খবর পাননি। এ বিষয়ে তাঁকে অবহিত করে একটি ই-মেইল তাঁর কাছে এসেছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি এ ধরনের কোনো ই-মেইল পাননি।
তবে সদ্যবিলুপ্ত নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড পত্রিকার সাবেক সম্পাদক কলিন মাইলার এবং নিউজ ইন্টারন্যাশনালের সাবেক আইনবিষয়ক ব্যবস্থাপক টম ক্রন বৃহস্পতিবার দাবি করেন, তাঁরা জেমস মারডককে বিষয়টি অনেক আগেই জানিয়েছিলেন। কিন্তু এমপিদের কাছে জেমস সে তথ্য চেপে গেছেন।
ফোন কেলেঙ্কারির বিষয়টি দেখভাল করছে যে কমিটি, ওই কমিটির চেয়ারম্যান জন হুইটিংডেল বলেন, জেমস মারডকের বক্তব্যের সত্যতা খতিয়ে দেখতে তিনি তদন্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেবেন। ক্যামেরন বলেছেন, তিনি নিশ্চিত যে জেমস মারডক কমিটির সামনে আবার হাজির হয়ে সব বিভ্রান্তির অবসান ঘটাবেন।

রাজ্যসভার সদস্য অমর সিংকে দিল্লি পুলিশের জেরা

ভোট কেনা’ কেলেঙ্কারি তদন্তে ভারতের রাজ্যসভার সদস্য অমর সিংকে গতকাল শুক্রবার দিল্লি পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখা জেরা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পরমাণু চুক্তির বিষয়ে অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে বিরত থাকার জন্য অমর সিং কয়েকজনকে ঘুষ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০০৮ সালের ২২ জুলাই তৎকালীন মনমোহন সিংয়ের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট সরকারকে বেসামরিক পরমাণু চুক্তি নিয়ে সংসদে আস্থা ভোটের সম্মুখীন হতে হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই ভোটে সরকার যাতে সহজে উতরে যেতে পারে, সে জন্য বিজেপির তিনজন এমপিকে ভোটদানে বিরত থাকার জন্য কোটি টাকা ঘুষ দেওয়া হয়। ভোটের পরে ওই তিনজন এমপি নোটের বান্ডিল পার্লামেন্টের স্পিকারের সামনে তুলে ধরে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ঘুষ দিয়ে
ভোট কেনার অভিযোগ তোলেন। ঘটনা তদন্তে গঠিত হয় সংসদীয় কমিটি।
দিল্লি পুলিশ গত রোববার অমর সিংয়ের সাবেক সহযোগী সঞ্জীব সাক্সেনাকে এবং সোহাইল হিন্দুস্তানি নামের আরেক রাজনৈতিক কর্মীকে গত বুধবার গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ বলেছে, জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা বলেছেন, তাঁদের দিয়ে অমর সিং বিজেপির তিনজন এমপিকে ঘুষ দিয়েছিলেন। তাঁদের দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অমর সিংকে জেরা করা হয়।
এদিকে অমর সিং বরাবরের মতো নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

সৌদিতে প্রস্তাবিত সন্ত্রাসবিরোধী আইন মানবাধিকার খর্ব করবে

সৌদি আরব সরকারের প্রস্তাবিত সন্ত্রাসবিরোধী আইন পাস হলে তা দেশটিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। প্রস্তাবিত ওই আইনে অনেকগুলো ধারা রয়েছে, যা মানবাধিকার খর্ব করবে বলে অ্যামনেস্টি মনে করছে।
প্রস্তাবিত আইনে দীর্ঘমেয়াদি আটকাদেশ, আইনি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ এবং মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার আরও বাড়ানোর বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নতুন এ আইনের বিষয়ে রক্ষণশীল এ মুসলিম দেশের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে না চাইলেও এক কর্মকর্তা বলেছেন, এটি সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। রাজনৈতিক কারণে এর ব্যবহার হবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো নিয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। প্রস্তাবিত আইনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সংজ্ঞার পরিসর আরও বাড়ানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর’ কিংবা ‘জাতীয় ঐক্যে ঝুঁকি’ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ বৈধ বলে গণ্য হবে।
এই আইনে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় সর্বোচ্চ ১২০ দিন আটক রাখা যাবে। আদালতের অনুমোদন নিয়ে আটক রাখার মেয়াদ বাড়ানো যাবে। আটক ব্যক্তির আইনি সহায়তা পাওয়ার বিষয়েও থাকবে কড়াকড়ি।
আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরলে কিংবা যেকোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের লক্ষ্যে অস্ত্র ব্যবহার করলে তাকে নিশ্চিত মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে।
অ্যামনেস্টি বলছে, এ আইনের অনেক ধারাই জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের পরিপন্থী। এমনকি সৌদি আরবের মূল আইনের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
চলতি বছরের শুরু থেকে আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে গণ-আন্দোলন শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গণবিক্ষোভের মুখে তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট বেন আলী ও মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।
বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ইয়েমেন ও সিরিয়াতেও। সেখানে এখনো ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালাচ্ছে জনগণ।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবেও গণবিক্ষোভ শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছে সরকার। নতুন এ আইন সৌদি আরবে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বড় হুমকি বলে বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রচণ্ড দাবদাহে ২২ জনের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রচণ্ড দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে গেছে। দাবদাহে এরই মধ্যে বৃদ্ধসহ ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পূর্বাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপদাহের ‘বিপজ্জনক’ মাত্রার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে জাতীয়আবহাওয়া দপ্তর। আগামীকাল রোববার পর্যন্ত পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোর অধিবাসীরা এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাবে না বলে মনে করা হচ্ছে।
আবহাওয়া বিভাগের ওয়েবসাইটে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের বেশির ভাগ জায়গায় বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। সপ্তাহের বাদবাকি সময় ওহাইও উপত্যকা ও পূর্ব উপকূলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোয় অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আদ্রতা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা জানান, অতিরিক্ত গরমে ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছে। ওকলাহোমায় তিন বছরের এক শিশু মারা গেছে।
কানসাসের হাচিনসন শহরে পৃথক বাড়িতে তিনজন বয়স্ক মানুষকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
পত্রিকার খবরে বলা হয়, মিনেসোটায় অত্যধিক গরমে যে হারে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি মারা যাচ্ছে, গত তিন দশকেও এ রকম দেখা যায়নি। খবরে বলা যায়, সবচেয়ে বেশি মারা যাচ্ছে গৃহপালিত পাখি টার্কি।
দক্ষিণ ডাকোটায় প্রচণ্ড গরমে দেড় হাজার গবাদিপশু মারা গেছে। টেক্সাসের তিন-চতুর্থাংশের বেশি এলাকা খরাকবলিত হয়েছে। দরিদ্র ও বয়স্ক মানুষের জন্য শহর এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ঠান্ডার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ফিলাডেলফিয়ার সরকারি সুইমিংপুলগুলোয় মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের অত্যধিক ব্যবহারের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ পড়েছে।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় বসানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ ফোয়ারা।
আবহাওয়াবিদেরা বলেছেন, ১৯৯৫ সালে শিকাগোয় তাপপ্রবাহে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, এবারের ক্ষতির পরিমাণ তার চেয়ে বেশি হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩১ কোটি মানুষ যখন তাপদগ্ধ, তখন দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কয়েকটি অঞ্চলে অস্বাভাবিক ঠান্ডা আবহাওয়া বয়ে যাচ্ছে।

লিভারপুলকে নিয়ে সতর্ক রুনি

ইংলিশ লিগে রেকর্ড ১৮ বার লিগ জিতে তারা ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরের এক দল। কিন্তু সর্বশেষ ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে শিরোপা জয়ের পর থেকেই লিভারপুল যেন দিগ্ভ্রান্ত এক পথিক। শিরোপা দূরে থাক, সেই থেকে লিগে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করতে পারছে না। গত দুই মৌসুম তারা নেই চ্যাম্পিয়নস লিগেও।
লিভারপুল কি পারবে এবার ঘুরে দাঁড়াতে? লিভারপুলের এই পতনে যাঁদের উত্থান হয়েছে রূপকথার মতো, সেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনি আসন্ন মৌসুমে লিভারপুলকে দেখছেন বড় এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে। লিভারপুলের রেকর্ড ১৮ শিরোপা জয়ের সময় ম্যানইউর ঘরে ছিল মাত্র সাত শিরোপা। গত ২১ বছরে ১২ শিরোপা জিতে অ্যালেক্স ফার্গুসনের দল গত মৌসুমেই ওই রেকর্ড টপকে গড়েছে ১৯ বার শিরোপা জয়ের নতুন রেকর্ড।
গত পাঁচ মৌসুমের চারটি শিরোপা জেতা ম্যানইউ যে আগামী মৌসুমেও শিরোপার প্রধানতম দাবিদার এটা দিবালোকের মতোই সত্য। তবে নতুন করে সাজা লিভারপুলকে নিয়ে রুনি সতর্ক। বলছেন, এই মৌসুমে লিভারপুল সত্যিকার অর্থে শিরোপার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা দেবে। কেননা হারানো মর্যাদা ফিরে পাওয়ার আশায় লিভারপুল এবার কোমর বেঁধে নেমেছে দলবদলের বাজারে।
অলরেডরা এরই মধ্যে ৫ কোটি পাউন্ডের খেলোয়াড় সওদা করে ফেলেছে। চুক্তি করেছে মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসন, স্টুয়ার্ট ডাউনিং এবং স্কটিশ প্লে-মেকার চার্লি অ্যাডামের সঙ্গে। আরও নতুন খেলোয়াড়ের সঙ্গে চুক্তির জন্য কোচ কেনি ডালগ্লিস প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসব দেখেই রুনি বলছেন, ‘আমি মনে করি, তারা এবার চ্যালেঞ্জই হবে। সত্যিই তারা ভালো কিছু ব্রিটিশ খেলোয়াড়ের সঙ্গে চুক্তি করেছে। আমি নিশ্চিত, তারা এত দিন যেমন করেছে কেনি ডালগ্লিসের অধীনে তার চেয়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেষ্টা করবে। আগামী মৌসুমে শিরোপা জয়ের চিন্তাই করবে তারা।’
শুধু লিভারপুলই নয়, রুনির সমীহ ম্যানইউর নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটিকেও, ‘স্পষ্টতই এই মুহূর্তে তাদের বেশ কয়েকজন ভালো মানের খেলোয়াড় আছে।’ তবে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী যে চেলসি আর আর্সেনালই, এটাও ভালোই বোঝেন যুক্তরাষ্ট্র সফরে হ্যাটট্রিক করা রুনি, ‘প্রধান (ম্যানইউর চ্যালেঞ্জ) নামগুলো অবশ্যই চেলসি, আর্সেনাল, লিভারপুল এবং সিটি।’
অন্যদের মতো ম্যানইউও নতুন খেলোয়াড় কেনায় মন দিয়েছে। অ্যাশলি ইয়ং, ডেভিড ডি গেয়া ও ফিল জোনসকে ইতিমধ্যেই দলে টেনেছেন কোচ ফার্গুসন। রুনির কথা, ‘ম্যানেজার যে চুক্তি করেছে, তারা এর আগে শিরোপা জেতেনি। কাজেই তাদের প্রত্যেকেই ক্ষুধার্ত থাকবে এবং ট্রফি জিততে চাইবে।’
আগামী ১৩ আগস্ট থেকেই শুরু হচ্ছে নতুন মৌসুম। উদ্বোধনী দিনেই লিভারপুলের খেলা সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে। পরদিন ম্যানইউর প্রতিপক্ষ ওয়েস্টব্রুম।

বার্সেলোনায় ‘নতুন মেসি’

যাঁকে বলা হচ্ছিল ‘নতুন মেসি’, সেই অ্যালেক্সিস সানচেজ সতীর্থ হিসেবে লিওনেল মেসিকেই পাচ্ছেন। উদিনেসে থেকে বার্সেলোনায় আসছেন এই ২২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। চিলির এই উঠতি তারকাকে কিনতে বার্সেলোনাকে গুনতে হচ্ছে ২ কোটি ৬০ লাখ ইউরো। চুক্তির অন্যান্য শর্ত মিলিয়ে যে ট্রান্সফার ফিটা শেষ পর্যন্ত ৩ কোটি ৭৫ লাখ ইউরোতে গিয়ে পৌঁছাতে পারে। সোমবার বার্সেলোনায় স্বাস্থ্যপরীক্ষা দেওয়ার পর হবে আনুষ্ঠানিক চুক্তি।
সানচেজ বার্সেলোনায় আসায় অন্য দুই ফরোয়ার্ড ডেভিড ভিয়া আর পেদ্রোর জন্য একাদশে জায়গা করে নেওয়া হতে পারে নতুন চ্যালেঞ্জ। তবে তাঁর দলভুক্তির সঙ্গে সঙ্গে এটা নিশ্চিত হয়ে যায়, বার্সা ছাড়ছেন বোজান কিরকিচ। পরে এই অনুমান সত্যি হয়। ১ কোটি ২০ লাখ ইউরোতে ইতালির এএস রোমা কিনে নিয়েছে এই তরুণ স্ট্রাইকারকে।
ওদিকে কার্লোস তেভেজকে ম্যানচেস্টার সিটিতে এসে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও এই আর্জেন্টাইন এখনো তাঁর সিদ্ধান্তে অটল। করিন্থিয়ানসের সঙ্গে চুক্তিটা সময়ের অভাবে হতে না পারায় এখন তেভেজের ব্যাপারে আগ্রহী ইন্টার মিলান। দেখা যাক, এবার কোনো সমাধান হয় কি না।

ফিরলেন সেই পিটারসেন

এদিকে কেভিন পিটারসেন, ওদিকে প্রাভিন কুমার। কাল লর্ডসে নিজ নিজ দলের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিলেন দুই ‘প’। জহিরবিহীন ভারতের বোলিং আক্রমণকে একাই টেনেছেন প্রাভিন কুমার। লর্ডস অভিষেকে ৫ উইকেট নিয়ে নাম লিখিয়েছেন অনার্স বোর্ডে। কিন্তু দিনশেষে পিটারসেনের ঔজ্জ্বল্যের পাশে ম্লান তিনি। ক্যারিয়ারের তৃতীয় দ্বিশতক করে পিটারসেন মাঠ ছেড়েছেন হার না মেনে। তাঁর দ্বিশতকের সঙ্গে সঙ্গেই ইনিংস ঘোষণা করেছেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। শেষ বিকেলের ছয়টি ওভার নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দিয়েছেন ভারতের দুই ওপেনার।দেশের মাটিতে পিটারসেনের সর্বশেষ সেঞ্চুরিটি ছিল ২০ ইনিংস আগে। ২০০৮ সালে ওভালের সেই সেঞ্চুরিটির সময় তিনি ছিলেন দলের অধিনায়ক! এরপর সময় গড়িয়েছে অনেক। মাঝে পথ হারিয়ে আবার ফিরেছেন পথে। কিন্তু বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরানো সেই পুরোনো পিটারসেন যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন। গত অ্যাশেজের অ্যাডিলেডের ডাবল সেঞ্চুরিটায় পুরোনো ঝলক কিছু দেখা গিয়েছিল। এরপর আবারও অচেনা পিটারসেন। রান যে পাননি তা নয়, কালকের আগে সর্বশেষ দুই ইনিংসেও ছিল ফিফটি। কিন্তু সেই পিটারসেন যতটা না আগ্রাসী, তার চেয়ে অনেক বেশি ‘শ্রমিক’।
লর্ডসের এই ইনিংসটা দুই চেহারার পিটারসেনের অপূর্ব সংমিশ্রণ। প্রথম এক শতে তিনি গত কিছুদিনের পিটারসেন। উইকেটে টিকে থাকার দিকেই বেশি মনোযোগ। সেঞ্চুরিতে লাগল তাই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি বল (২১৬)। সেঞ্চুরির পর মিলতে শুরু করল পুরোনো পিটারসেনের। পরের ফিফটি ৮৫ বলে। দেড় শর পর তিনি সেই চিরপরিচিত পিটারসেন, ব্যাট যাঁর চাবুক। দেড় শ থেকে দুই শ ছুঁতে লাগল মাত্র ২৫ বল। ১৮৬ থেকে রায়নার টানা ৪ বলে ১৬ রান দিয়ে দুই শ! ভারতীয় পেসারদের ‘পেসহীনতার’ সুযোগে অফ স্টাম্পের বাইরের বলও টেনে নিয়ে খেলছিলেন লেগে। ওয়াগন হুইল বলছে, ৬২ শতাংশ রানই এসেছে লেগ সাইড থেকে!
কাল ইংল্যান্ডের যে ছয়টি উইকেট পড়েছে, পাঁচটিই তুলে নিয়েছেন প্রাভিন। জবাব দিয়েছেন অনেক প্রশ্নেরও। গতি নেই, মূল অস্ত্র তাঁর সুইং। গায়ে লেগে গিয়েছিল ওয়ানডে বোলারের ছাপ। ৫২ ওয়ানডের পর এই সেদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট অভিষেক। ৩ টেস্টে ১২ উইকেট নেওয়ার পরও সমালোচকদের মন জয় করতে পারেননি। শ্রীশান্তকে বসিয়ে এই টেস্টে তাঁকে খেলানো হচ্ছে কেন, এই নিয়ে কত প্রশ্ন!
সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা ‘সুইং’ দিয়েই কাল তুলে নিয়েছেন ৫ উইকেট। নতুন বল বা পুরোনো, সারা দিনই সুইং করিয়েছেন। লাঞ্চের আগে ফিরিয়েছেন ট্রটকে। পরের ৪ উইকেট জোড়ায় জোড়ায়। এক ওভারে বেল-মরগানকে, পরে টানা দুই বলে প্রায়র ও ব্রডকে। চূড়ান্ত হতাশ করেছেন হরভজন ও ইশান্ত শর্মা। তৃতীয় পেসারের অভাব মেটাতে দুই দফায় উইকেটকিপিং গ্লাভস খুলে বোলিংয়েও আসতে হয়েছিল ধোনিকে। প্রথম স্পেলে পিটারসেনের উইকেটটা প্রায় পেয়েই গিয়েছিলেন। আসাদ রউফ কট বিহাইন্ডের আবেদনে সাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু রিভিউ বাঁচিয়ে দেয় পিটারসেনকে। হট-স্পট বলছে, রিভিউ নিলে হয়তো বেঁচে যেতেন মরগানও। 
 মন্থর ‘কেপি’
এই প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করতে দুই শর বেশি বল লাগল কেভিন পিটারসেনের!

‘নতুন শুরু’র আশায় ছাড় সাকিবকে

ফিল্ডিং কোচ জেসন সুইফটকে সঙ্গে নিয়ে জুনায়েদ সিদ্দিককে স্লিপ ক্যাচিং অনুশীলন করাচ্ছিলেন স্টুয়ার্ট ল। হঠাৎ পাশে আবিষ্কার করলেন সাকিব আল হাসানকে। দেশে আসার পর বাংলাদেশ কোচ আর অধিনায়কের প্রথম সাক্ষাৎ!
করমর্দনের পর কোচ ইশারায় বুঝিয়ে দিলেন, আপাতত ব্যস্ত, পরে কথা হবে। প্রস্তুতি ম্যাচটা হবে কি না, তখনো বোঝা যাচ্ছিল না। তবে অনুশীলন শুরু হয়ে গেছে সময়মতোই। সাকিব এলেন পৌনে ১০টার দিকে। কোচের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ব্যস্ত হয়ে পড়লেন সহকারী কোচ সারোয়ার ইমরানের সঙ্গে আলাপে। পাশে তামিম ইকবাল। মুখে হাসি। প্রস্তুতি ম্যাচ শুরুর পর দলের নতুন মুখ নাসির হোসেনের সঙ্গে মাঠের চারপাশে হাঁটতে হাঁটতে অনেকক্ষণ কথা বললেন। মুখে হাসি লেগেই আছে।
সেই হাসিটা উধাও ঘণ্টা দুয়েক পর। তামিম ইকবালকে সঙ্গী করে বিসিবির প্রধান নির্বাহীর রুম থেকে যখন বেরোলেন, সাকিবের মুখে একটু অপ্রস্তুত ভাব। বোঝা গেল, ভেতরের আলোচনা খুব একটা সুখকর হয়নি তাঁর জন্য। প্রধান নির্বাহী মনজুর আহমেদের কথায়ও ইঙ্গিত মিলল তেমনই। দল নির্বাচন নিয়ে নির্বাচকদের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য, অনুশীলনে যোগ না দিয়ে বিজ্ঞাপনে শুটিংয়ে থাকা, নতুন কোচের সঙ্গে দেখা না করা—এসব যে বোর্ড ‘সিরিয়াসলি’ নিয়েছে, সেটা সাকিবকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন তিনিই। তবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না অধিনায়কের বিরুদ্ধে। কারণ প্রধান নির্বাহীর ভাষায় কিছু ছিল ‘মিসকমিউনিকেশন’, কিছু ‘মিসরিপ্রেজেন্টেশন।’ নতুন শুরুর ‘স্বপ্ন’ দেখিয়ে তাঁর আশা, ছয় মাসের মধ্যে দেখা যাবে অন্য সাকিবকে!
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় অবশ্য আবার হাসি ফিরেছে সাকিবের মুখে। অনুশীলনে যোগ না দেওয়া নিয়ে তাঁর যুক্তি, ‘জিম্বাবুয়ে যাওয়ার আগে দলের দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার কথা ছিল। আমার সরাসরি জিম্বাবুয়ে যাওয়ার কথা ছিল ২৭ তারিখে, ওই পর্যন্ত দেশে ছুটিতে থাকার কথা। টানা খেলছি, বিশ্রামটা আমার খুব দরকার ছিল। আমি ওই প্ল্যানেই ছিলাম। বুঝতে পারিনি যে দলের প্ল্যান পরিবর্তন হওয়ায় নতুন করে আবার ছুটি নিতে হবে। বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই আমি লিখিত আবেদন করেছি। বোর্ড অনুমতিও দিয়েছে।’
ব্যাখ্যাটাকে গ্রহণযোগ্যই মনে হয়েছে মনজুরের, ‘দল দক্ষিণ আফ্রিকা যায়নি, কিন্তু ও (সাকিব) ভেবেছে ওর ছুটিটা তো বাতিল হয়নি। এটা আসলে একটা মিসকমিউনিকেশন হয়ে গেছে। আর যেহেতু ও জানে ছুটিতে থাকবে, তাই ইংল্যান্ডে থাকতেই কিছু বিজনেস কমিটমেন্ট করেছিল। সেটা এড়ানোর উপায় ছিল না। আর বিশ্রাম তো ওর প্রয়োজন ছিলই। তবে ও বুঝতে পেরেছে, সবকিছু আরও ভালোভাবে হতে পারত। কোচের সঙ্গে না দেখা করাটা হয়তো কোনো ভুল নয়, কিন্তু দেখা করলে ভালো হতো, সেটা ও বুঝতে পেরেছে।’
অধিনায়ক, সহ-অধিনায়কের সঙ্গে সভায় ছিলেন তিন নির্বাচকও। দল ঘোষণার আগে নির্বাচকেরা তাঁর মতামত নেননি—সাকিবের এই মন্তব্যেই শুরু সর্বশেষ বিতর্ক। কিন্তু কাল সাকিবই আবার বললেন, ‘ফোনে কিন্তু আকরাম ভাইয়ের (প্রধান নির্বাচক) সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। মনে হয় না, কোনো সমস্যা হয়েছে বা হবে। আমি ওনাদের যথেষ্ট সম্মান করি। আমি মনে করি, ওনারাও তা জানেন।’ আর প্রধান নির্বাহীর ব্যাখ্যা, ‘ওর বয়স কম। অনেক সময় যা বলতে চায়, তা ঠিকভাবে বোঝাতে পারে না। ও স্রেফ ওর অবস্থানটা বলেছে, কোনো অভিযোগ করতে চায়নি।’
কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার পক্ষে যুক্তি, ‘ও তরুণ অধিনায়ক, তরুণ খেলোয়াড়। ওকে বেড়ে ওঠার জন্য সময় দিতে হয়। মানুষ ভুল থেকেই শেখে। ওই সময় তিরস্কার না করে সাহায্য করা উচিত।’
সম্পূরক প্রশ্নও উঠেছে। সাকিবের জায়গায় অন্য কেউ হলেও কি ‘বেড়ে ওঠার’ সময় দেওয়া হতো নাকি শাস্তি দেওয়া হতো? মনজুর উত্তরে জোর দিলেন ‘নতুন শুরু’র দিকেই, ‘আমরা চেষ্টা করছি অতীত ভুলে যাওয়ার। এখন থেকে নতুন শুরু। টিম ম্যানেজমেন্ট নতুন, আমরা নতুন মৌসুম শুরু করছি। আমার জন্যও নতুন মৌসুম। এখন আমরা যদি এগোতে চাই, তাহলে অতীত থেকে শিক্ষা নেব, কিন্তু অতীতকে ধরে রাখব না। আজ যা আলোচনা হয়েছে, সেটা ঠিকভাবে মানলে ছয় মাসের মধ্যেই অন্যকিছু দেখতে পাবেন।’
বিসিবির প্রধান নির্বাহীর এই আশা তো পুরো বাংলাদেশেরই চাওয়া!

জাতীয় দলকেই প্রাধান্য ক্লার্কের

এর আগেও একবার জাতীয় দলকে প্রাধান্য দিয়ে ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ আইপিএল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নতুন অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। এবার জাতীয় দলের অধিনায়কত্বের দিকে আরও মনোযোগ দেওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি লিগ বিগ ব্যাশ থেকেও নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
গতকাল বিগ ব্যাশ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ক্লার্ক বলেছেন, ‘কেএফসি টি-টোয়েন্টি বিগ ব্যাশ লিগের সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি যে এ বছর আমি এখানে খেলতে পারব না। অবশ্যই আমি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ খেলতে চাই। কিন্তু এ মুহূর্তে আমার প্রধান মনোযোগ অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের অধিনায়কত্বের দিকে। সামনের ছয় মাস আমাদের অনেকগুলো সিরিজ খেলতে হবে। আর আমি পুরো মনোযোগটা সেদিকেই দিতে চাই।’ তবে ঘরোয়া এই লিগে বিশেষ বিবেচনায় একটি ম্যাচ খেলবেন বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক।
বিশ্বকাপের পরপরই অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাইকেল ক্লার্কের হাতে। ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকটা হয়ে গেলেও এখনো টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দেননি তিনি। আগামী মাসে শ্রীলঙ্কা সফরেই টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামবেন ক্লার্ক। এরপর আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দুই দল ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও টেস্ট সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া।