Friday, February 5, 2016

খালেদা-তারেকের ড্যান্ডি ডায়িং মামলায় বিচার শুরু

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের ড্যান্ডি ডায়িংয়ের ৪৫ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি মামলার বিচার শুরু  হয়েছে। আগামী ১  মার্চ মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ধার্য করেছেন আদালত।   মঙ্গলবার ঢাকার প্রথম অর্থঋণ আদালতের  বিচারক ফাতেমা ফেরদৌস বিবাদীদের বিরুদ্বে ইস্যু গঠন করে আগামী ১লা মাচ মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহনের জন্য ধার্য করেছেন আদালত।   সোনালী ব্যাংকের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম  ইস্যু গঠন বিষয়ে শুনানি করেন বিবাদী পক্ষে শুনানী করেন ব্যারিষ্টার ফখরুল ইসলাম। ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত মামলার বিষয়বস্তু হলে ব্যাংকের ম্যানেজার মধ্যস্থতা করতে পারেন। কিন্তু ৫ কোটি টাকার উর্ধ্বে হলে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান/ম্যানেজিং ডিরেক্টর লেবেলের কাউকে মধ্যস্থতায় থাকতে হবে।   এ মামলায় ব্যাংকের পক্ষে তেমন কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়টিসহ অন্যান্য বিষয়ে মামলার কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। আরাফাত রহমান কোকো এ মামলার বিবাদী ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ায় খেলাপি ঋণ দেওয়ানি কর্মবিধি আইনের ২২নং আদেশের নিয়ম ৪ অনুসারে তার সম্পদের ওয়ারিশরা বিবাদীভূক্ত হবেন। তাই তার ওয়ারিশ হিসেবে খালেদা জিয়া, স্ত্রী শর্মিলা রহমান এবং দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে বিবাদীভূক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছিল গত বছর ১৫ জুলাই  তাদেরকেও উক্ত মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।   মামলার অন্য বিবাদীরা হলেন ড্যান্ডি ডায়িং লি., প্রয়াত সাঈদ এস্কাদরের ছেলে শামস এস্কান্দার ও সাফিন এস্কান্দার, মেয়ে সুমাইয়া এস্কান্দার, স্ত্রী বেগম নাসরিন আহমেদ, গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, মামুনের স্ত্রী শাহীনা ইয়াসমিন, কাজী গালিব আহমেদ, মিসেস শামসুন নাহার ও মাসুদ হাসান। আরাফাত রহমান কোক মারা যাওয়ায় তার স্ত্রী শমিলা রহমান তার দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে এ মামলায় বিবাদীভুক্ত করা হয়। মোজাফ্ফর আহমেদ মারা যাওয়ায় তার স্ত্রী শামসুন্নাহার ও ছেলে মাসুদ হাসানকে এ মামলায় বিবাদীভুক্ত করা হয়। উল্লেখ্য ২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধের জন্য চূড়ান্ত নোটিশ প্রদান করা হলেও বিবাদীরা কোনো ঋণ প্রদান করেননি বিধায় ২০১৪ সালে ২ অক্টোবর ঢাকার প্রথম অর্থঋণ আদালতে ৪৫ কোটি ৫৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৫ টাকা ঋণ খেলাপীর অভিযোগে এ মামলাটি দায়ের করেন সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয় শাখার সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিবাদীরা ড্যান্ডি ডাইংয়ের পক্ষে ১৯৯৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সোনালী ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন করেন। ওই বছরের ৯ মে সোনালী ব্যাংক বিবাদীদের আবেদনকৃত ঋণ মঞ্জুর করেন। ২০০১ সালের ১৬ অক্টোবর বিবাদীদের আবেদনক্রমে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সুদ মওকুফ করেন। এরপর ঋণ পুনঃ তফসিলিকরণও করা হয়। কিন্তু বিবাদীরা ঋণ প্রদান না করে বরাবর কালক্ষেপন করতে থাকেন

আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার রায় ১১ ফেব্রুয়ারি

২০০৪ সালে সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি রায় দেবেন হাইকোর্ট। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বুধবার রায়ের এ দিন ঠিক করেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ। গত ৬ জানুয়ারি থেকে আসামিদের আপিলের ওপর তিন কার্যদিবসে পেপারবুক উপস্থাপন শেষে ১৪ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী একেএম ফয়েজ, মোহাম্মদ আলী এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাসনা বেগম।। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম; সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ এ কে এম মনিরুজ্জামান কবির।   মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হজরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। এতে পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিন জন নিহত হন; আনোয়ার চৌধুরী ও সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ আহত হন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। একই দিন সিলেট কোতোয়ালী থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করে পুলিশ।   এরপরে তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ৭ জুন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, তার ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, শরীফ শাহেদুল আলম ও দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। একই বছরের ৩১ জুলাই ওই চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।   পরে ২০০৮ সালের ১১ মার্চ মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম এবং দেলোয়ার হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি দুই আসামি হান্নানের ভাই মহিবুল্লাহ ও মুফতি মঈন উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এই পাঁচ আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।   বিচারিক আদালতের রায়ের পর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হাইকোর্টে যায়। এ ছাড়া আসামিরা আলাদা আপিল করেন। চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টে এ মামলার শুনানি শুরু হয়, বুধবার তা শেষ হলো

প্রাথমিকে ‘পুল’ থেকে শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য পুলভুক্ত প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। এর ফলে উচ্চ আদালতে আসা প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থীর নিয়োগের পথ খুলল বলে তাদের আইনজীবী জানিয়েছেন। ২০১১ সালের বিজ্ঞপ্তির আওতায় নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের করা ৭২টি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর বেঞ্চ বুধবার এ রায় ঘোষণা করে। পুলভুক্ত এই আবেদনকারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে নতুন করে কাউকে নিয়োগ না দিতেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর উল ইসলাম, শেখ মোহাম্মদ মুরশেদ, ছিদ্দিক উল্যাহ মিয়া ও খায়রুল আলম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি খান। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ৪ অগাস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর। এরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ২৭ হাজার ৭২০ জন উত্তীর্ণ হন। তাদের মধ্য থেকে ১২ হাজার ৭০১ জনকে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাকি ১৫ হাজার ১৯ জনকে রাখা হয় পুলভুক্ত হিসেবে।     শিক্ষক পুল গঠনের জন্য ২০১২ সালে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রথমে পরিপত্র জারি করে এবং দুই বছর পর ‘শিক্ষক পুল’ নীতিমালা করে। ওই নীতিমালায় ছয় মাসের অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে প্রার্থীদের সইও নেয়া হয়। কিন্তু উত্তীর্ণ প্রার্থীদের স্থায়ী নিয়োগ না দিয়ে ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য আবারও বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ওই বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা ৫২ জন আবেদনকারী ওই বছর রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবর হাই কোর্ট রুল দেয় এবং নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত করে। পরে একই বিষয়ে আরও ৭১টি রিট আবেদন ও রুল হয়। এসব রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বুধবার রায় দিল আদালত। রিট আবেদনকারীদের  আইনজীবী ছিদ্দিক উল্যাহ মিয়া বলেন, “হাই কোর্ট ২০১১ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পুলভুক্তদের মধ্যে রিট আবেদনকারীদের নিয়োগ দিতে নির্দেশ দিয়েছে। তাদের নিয়োগের আগে নতুন করে অন্যদের নিয়োগ না দিতে বলেছে।” অন্যদিকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি খান বলেন, তারা আপিল বিভাগে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন

শিশু আবদুল্লাহ হত্যা মামলায় চারজনের রিমান্ড

কেরানীগঞ্জে শিশু আবদুল্লাহ (১১) হত্যা মামলায় চার আসামির বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নাজমুন নাহার নিপু এ আদেশ দেন। রিমান্ড দেয়া আসামিরা হলেন খুরশীদ আলম, আল আমিন, মিটু আখতার ও মেহেদী হাসান। তাদের মধ্যে মেহেদী হাসানের সাত দিন এবং বাকি তিনজনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল আলম এই চার আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেককে ১০ দিন করে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, এ হত্যাকাণ্ড নৃশংস। এ হত্যার রহস্য উদঘাটন ও অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্য তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কেরানীগঞ্জ উপজেলার মুগারচর গ্রামের স্কুলছাত্র মো. আবদুল্লাহ নিখোঁজ ছিল গত শুক্রবার থেকে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা আবদুল্লাহদের বাড়ির মাত্র ১০০ গজ পশ্চিমের এক বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। ওই বাড়িটি আবদুল্লাহর মায়ের বড় মামা মোতাহার হোসেনের। ওই দোতলা বাড়ির একটি কক্ষ থেকে প্লাস্টিকের ড্রামে ভরা আবদুল্লাহর গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মোতাহার হোসেন পলাতক রয়েছেন। আর গত সোমবার রাতে মোতাহারের ছেলেসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মাঠে খেলতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় পশ্চিম মুগারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবদুল্লাহ। আর সে বাড়ি ফেরেনি। ওই দিনই সন্ধ্যায় অপহরণকারীরা একটি মুঠোফোন নম্বর থেকে খুদে বার্তা পাঠিয়ে আবদুল্লাহর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ বাবদ সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। নিখোঁজের ঘটনায় ওই দিন রাতে শিশুটির নানা মারফত আলী কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন

কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র অবৈধ: হাইকোর্ট

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের উপনির্বাচনে কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এই আসনে উপনির্বাচন হতে আর কোনো বাধা নেই বলে রুলের নিষ্পত্তি করেছেন আদালত।    বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। গত রোববার এই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়। হজ নিয়ে মন্তব্যের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত এবং মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার পর টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে লতিফ সিদ্দিকী পদত্যাগ করেন। এতে ওই শূন্য আসনে উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে কাদের সিদ্দিকী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ঋণখেলাপির অভিযোগে গত ১৩ অক্টোবর তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে তা ১৮ অক্টোবর খারিজ হয়। এরপর প্রার্থিতা ফিরে পেতে ২০ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন কাদের সিদ্দিকী। কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ২১ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল দেন। একই সঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে। ২ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ আদেশে বলেন, কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়ে দেওয়া হাইকোর্টের রুল ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। ওই সময় পর্যন্ত টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপনির্বাচনের সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে

মধ্যপ্রাচ্য থেকে কমছে রেমিট্যান্স আয়

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় সেটির ধাক্কা বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ের ওপর পড়তে শুরু করেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন।   বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে সে তুলনায় জানুয়ারি মাসে প্রায় ১২% কম এসেছে।   কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিমাসে রেমিট্যান্স বাবদ বাংলাদেশে প্রায় গড়ে ১.২ বিলিয়ন ডলারের আসে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল।   কিন্তু গতমাস অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে এসে সে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বড় একটি ধাক্কা লাগল।   বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল জানান, বাংলাদেশের রেমিট্যান্স সবচেয়ে বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এক্ষেত্রে সৌদি আরব প্রথম স্থানে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এর পরেই আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে তারপরেই আবার মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থান।   মি. পাল বলেন, তেলের দাম কমে যাওয়ায় সৌদি আরব ৯৮ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে যেটি বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় অর্ধেক।   মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অর্থনৈতিক মন্দার বিষয়টি বাংলাদেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমে যাবার একটি কারণ বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রধান অর্থনীতিবিদ।   তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের শ্রমিকরা তাদের নির্ধারিত কর্ম ঘণ্টার বাইরে যে ওভারটাইম কাজ করতেন সেটিও কমে গেছে। যে কারণে অনেকে আগের তুলনায় দেশে কম পরিমাণ টাকা পাঠাচ্ছেন।   দুবাই থেকে সাংবাদিক সাইফুর রহমান জানান, তেলের দাম কমে যাবার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনেক ছোট-খাটো কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে অনেকেই চাকরি হারাবে বলে মি: রহমান বলেন।   তিনি বলেন, “তেলের দাম কতদিন নিচে থাকে সেটা দেখার বিষয়। কিছু কোম্পানি হয়তো টিকে থাকবে। কিন্তু এই প্রবণতা দীর্ঘায়িত হলে হয়তো বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।”   তেলের দাম কমে যাওয়ায় রেমিট্যাটেন্সের প্রবাহ কমলেও বাংলাদেশ আরেকটি উপায়ে লাভবান হচ্ছে।   তেল আমদানি বাবদ অনেক ডলার সাশ্রয় হচ্ছে।   রেমিট্যান্স কমে যে ক্ষতি হচ্ছে সেটি পুষিয়ে যাচ্ছে তেল আমদানি থেকে অর্থ সাশ্রয় করে।   বিরূপাক্ষ পাল বলেন, যোগ-বিয়োগে সমান হলেও বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স আসার বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে।   তিনি বলেন, “রেমিট্যান্সটা যখন আসে সেটা গ্রামে-গঞ্জে চলে যায়। রেমিট্যান্স কমে আসুক সেটা আমরা চাই না। কারণ এটা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভোগ প্রবণতার ব্যাপক শক্তি বাড়ায়

ডিএসই থেকে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৪০ শতাংশ

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে জানুয়ারি মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ৫৪ লাখ ১৫ হাজার ৮৭ টাকা। গত ডিসেম্বরে এর পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ছয় লাখ ৬০ হাজার ২৭২ টাকা। এ হিসাবে ডিসেম্বরের চেয়ে জানুয়ারি মাসে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৪০ শতাংশের বেশি। বুধবার ডিএসইর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাজার-সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিএসইর সদস্য ব্রোকারেজ হাউসগুলো নতুন বছরে লেনদেনে অধিক সক্রিয় হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিসেম্বর মাসের চেয়ে জানুয়ারিতে রাজস্ব আদায় বেড়েছে। জানুয়ারিতে ডিএসইর রাজস্ব আহরণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বেচাকেনা থেকে। ডিসেম্বরের চেয়ে এ খাতে প্রায় দ্বিগুণ রাজস্ব আদায় হয়েছে। ট্রেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠান থেকেও রাজস্ব বেড়েছে। জানুয়ারিতে ট্রেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠান থেকে ডিএসইর রাজস্ব এসেছে ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৭ টাকা। ডিসেম্বরে এর পরিমাণ ছিল নয় কোটি ১৬ লাখ ১১ হাজার ৯৬২ টাকা। এ হিসাবে এ খাত থেকে রাজস্ব বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। জানুয়ারিতে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বেচাকেনা থেকে রাজস্ব আহরণ হয়েছে চার কোটি ১৯ লাখ ১৮ হাজার ৭৮০ টাকা। ডিসেম্বরে এর পরিমাণ ছিল এক কোটি ৯০ লাখ ৪৮ হাজার ৩১০ টাকা

টেকসই উন্নয়ন নিয়ে ইউল্যাবে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) অডিটরিয়ামে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপি ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (আইসিএসডি)’। বৃহস্পতিবার সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক-এর ভাইস চেয়ানম্যান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইলম্যান পপুলেশন অ্যান্ড ফ্যামিলি হেলথ্-এর অধ্যাপক ড. এ মুশতাক আর চৌধুরী । উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরোও বক্তব্য দেন নেদারল্যান্ডের ইউনেস্কো আইএইচই ও আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াটার গভর্ণ্যান্সের  অধ্যাপক ড. মার্গারেট জুয়ার্টাভেন, জামার্নীর ইউনিভার্সিটি অব কোলন-এর জিওগ্রাফী বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরিস ব্রাউন, জাপানের কিয়োটো বিশ্বাবিদ্যালয়ের গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল ষ্টাডিজের অধ্যাপক ড. রাজিব শ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এ্যান্ড ভালনারিবিলিটি ষ্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরিন, শ্রীলংকার ইউনিভার্সিটি অব প্যারাদেনিয়ার এগ্রিকালচার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ই.আর. নিমাল গুনাওয়ারদেনা, নেদারল্যান্ডের ওয়াগেনিগেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (ডবিøউইউআর)-এর স্যোশিওলজি অব ডেভেলপমেন্ট এ্যান্ড চেঞ্জ গ্রæপের অধ্যাপক ড. জেরোন ওয়ার্নার এবং ইউল্যাবের সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (সিএসডি)-এর পরিচালক ও কনফারেন্সের আহবায়ক অধ্যাপক ড. হামিদুল হক। সম্মেলনে টেকসই কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকায়ন, সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, লিঙ্গ বৈষম্য, মাইগ্রেশন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও অভিযোজন, উপকূলবর্তী স্থানসমূহের ব্যবস্থাপনা, প্রতিবন্ধী ও টেকসই উন্নয়ন, সবুজ শহর ও জনবসতি, জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়সহ মোট ১২টি বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। শতাধিক গবেষণাপত্র থেকে নির্বাচিত ৪২টি গবেষণাপত্র দু’দিনব্যাপি এই কনফারেন্সে উপস্থাপন এবং আলোচনা করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর “টেকসই উন্নয়ন ও জাতীয় দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা: বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০” বিষয়ক একটি প্ল্যানারী সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারন অর্থনীতি বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. শামসুল আলম। তিনি বলেন, দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিনিয়তই পানি, খাদ্য নিরাপত্তাসহ বন্যা, খরা, ঘূর্নিঝড়ের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়। এই কনফারেন্সের সুপারিশমালা দেশের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা প্রনয়ণে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করবে বলে ড. শামসুল আলম আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ইউল্যাব-এর সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (সিএসডি)-এর উদ্যোগে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক বাস্তব অভিজ্ঞতা, তথ্য-উপাত্ত নির্ভর গবেষণা ও গবেষণালব্ধ সুপারিশমালা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়া ও সর্বোপরি জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভুমিকা পালনের লক্ষ্যে এই কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজক সূত্র জানিয়েছে সম্মেলনে সমাপনি বক্তব্য দিবেন ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট এ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের আওতাধীণ ক্লাইমেট চেঞ্জ গ্রুপের সিনিয়র ফেলো ও আইসিসিসিএডি’র পরিচালক ড. সলিমুল হক।  উল্লেখ্য, এবারের কনফারেন্সে যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, জামার্নী, জাপান, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশসহ প্রায় ২০০ জন শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্প্রসারণকর্মী, সমাজকমী ও উচ্চ শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন

সোনার দাম বাড়ছে

চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ছে। সব ধরনের সোনার দর ভরিতে এবার বাড়ছে ১ হাজার ২২৫ টাকা। দাম বড়ার ফলে ২২ ক্যারেট সোনার দাম পড়বে ৪৩ হাজার ৭৪০ টাকা।  শনিবার থেকে নতুন দর কার্যকর হবে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৃহস্পতিবার সোনার দাম বৃদ্ধির বিষয়টি জানিয়েছে। অবশ্য সোনার পাশাপাশি রুপার দাম ভরিতে ৫৮ টাকা বাড়িয়েছে সমিতি। সর্বশেষ ১৩ জানুয়ারি সোনা-রুপার দাম বাড়িয়েছিল তারা। সব মিলিয়ে বছরের প্রথম ৩৭ দিনেই সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ৪৫০ টাকা বাড়তে যাচ্ছে। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম পড়বে ৪৩ হাজার ৭৪০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট ৪১ হাজার ৬৪০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম হবে ৩৪ হাজার ৯৯২ টাকা ভরি। সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ২৩ হাজার ৯১১ টাকা দাঁড়াবে। আর ২১ ক্যারেট (ক্যাডমিয়াম) রুপার ভরি হবে ৯৯১ টাকা। শুক্রবার পর্যন্ত প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনা ৪২ হাজার ৫১৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪০ হাজার ৪১৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৩৩ হাজার ৭৬৭ টাকায় বিক্রি হবে। আর সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরির দর ২২ হাজার ৬৮৬ টাকা। ৯৩৩ টাকায় বিক্রি হবে প্রতি ভরি রুপা। জুয়েলার্স ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ, ২১ ক্যারেটে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ১৮ ক্যারেটে ৭৫ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা থাকে। সনাতন পদ্ধতির সোনা পুরোনো স্বর্ণালংকার গলিয়ে তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে কত শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা মিলবে সে বিষয়ে কোনো মানদণ্ড নেই

ইউনাইটেড এয়ারের সব ফ্লাইট বন্ধ

আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের সব ফ্লাইট বন্ধ করেছে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। ফলে সাময়িকভাবে ভোগান্তিতে পড়েছেন ইউনাইটেড এয়ারের যাত্রীরা।   ইউনাইটেড এয়ারের উপমহাব্যবস্থাপক ইফতেখার হাসান জানান,  “কয়েক দিন ধরে ইউনাইটেড এয়ারের সব ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে।অন্য কোনো সমস্যা নয়, শুধু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে ফ্লাইট।” আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্লাইট নিয়মিত হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেসব যাত্রীর টিকিট কাটা রয়েছে তাদের সংশ্লিষ্ট বিক্রয় কেন্দ্র থেকে অর্থ ফেরত নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইফতেখার হাসান।   ২০০৫ সালে বিমান পরিচালনার লাইসেন্স পাওয়ার দুই বছর পর যাত্রী পরিবহন শুরু করে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। আট বছর ধরে অভ্যন্তরীণ রুটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কয়েকটি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। এরমধ্যে বিভিন্ন সময়ে নানা জটিলতায় ফ্লাইট বন্ধ করতে হয়েছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে।   বর্তমানে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ১১টি উড়োজাহাজের প্রায় সবকটি ত্রুটিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পাওনা আছে প্রায় ১২৮ কোটি টাকা

পুলিশ এখন নিজেই সন্ত্রাস করছে: বিএনপি

পুলিশ এখন নিজেই সন্ত্রাস করছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। মিরপুরে চাঁদা না পেয়ে কেরোসিনের আগুনে চা বিক্রেতাকে হত্যায় ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে দেয়া এক বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার রাতে দেয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন,  “দেশবাসী আওয়ামী লীগের দুঃশাসকদের নির্মম, পৈশাচিক ও দুর্ধর্ষ সব সন্ত্রাসী তা-ব দেখে আতঙ্কিত। পুলিশ এখন নিজেই সন্ত্রাসী কর্মকা- করছে। তা আরেকবার প্রমাণিত হলো- চা বিক্রেতা বাবুল মাতব্বরের কাছে থেকে চাঁদা না পেয়ে নির্দয়ভাবে কেরোসিনের চুলার আগুন দিয়ে তাকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে।” মির্জা আলমগীর বলেন, “দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন পুলিশের কর্তব্য হলেও তা অনুরসরণ করাকে তারা ঘৃণা করছে। দুষ্টকে দমন না করে বরং পুলিশই এখন চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে দুষ্টদের উৎসাহিত করছে। গরিব মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের মতো অমানবিক ও নির্দয় কর্মকা- দেখে দেশবাসী এখন হতবাক ও বিস্মিত। গরিব মানুষদের কাছ থেকে পুলিশের চাঁদা আদায়, জুলুমবাজি ও পৈশাচিক কর্মকা- দেশকে চরম নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।” অবিলম্বে গরিব চা বিক্রেতা বাবুল মাতব্বরের হত্যাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

গণপূর্ত থেকে কাউন্সিলের অনুমতি মিলেছে: রিজভী

আগামী ১৯ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতি দিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত অনুমতি পায়নি দলটি। শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এ কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে মিরপুরে চা বিক্রেতাকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে রিজভী বলেন, “সরকার নিষ্ঠুর, নির্দয় রক্তপাতের মাধ্যমে গোটা জাতিকে স্থির, নিস্তব্ধ গোরস্থানে পরিণত করতে চাচ্ছে। গোটা দেশ এখন অগ্নিগর্ভ “ রুহুল কবীর রিজভী বলেন, “যদি জনগণের মনের কথা, বেদনার কথা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উপলব্ধি করতে না পারেন তাহলে জনগণের ক্ষোভ যেকোনো মূহূর্তে সুনামির ন্যায় আছড়ে পড়ে দস্যু দলের ন্যায় আচরণকারী বর্তমান সরকারকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।” বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “ভোটারবিহীন গদি আটকে রাখা শাসকগোষ্ঠী দেশকে চরম অরাজকতার লীলাভূমিতে পরিণত করেছে। সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে বিরোধী দল নির্মূল করার অভিযানে লেলিয়ে দিয়ে তাদের বুকের মাপটা বড় করে দেয়া হয়েছে।” রিজভী বলেন, “বিগত কয়েক বছর বিচার বহির্ভূত হত্যা, বেআইনী গুম ও গুপ্তহত্যা সংঘটিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে যে ছাড়পত্র দিয়েছিল সরকার তাতে তারা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে এখন বিবেকহীন অবিশ্বাস্য রকম বেপরোয়া ‘আউট ল’ এ পরিণত হয়েছে “ রিজভী আরো বলেন, “সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সদা তৎপর র‌্যাব-পুলিশ কর্তৃক এখন সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করা যেন গা সওয়া করে দেয়া হয়েছে

শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রুগণ রাজনীতি: ড. কামাল

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক করা রুগণ রাজনীতি বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। শুক্রবার রাজধানীর আরামবাগে দলীয় কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। গত বছরের ২১ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, “বলা হয়, এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছে। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে, আসলে কত শহীদ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে, এটা নিয়েও বিতর্ক আছে।” খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যের পর এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এই বক্তব্যের জেরে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালত থেকে সমন জারি করা হয়েছে। শহীদদের চলমান বিতর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এগুলো হলো রুগণ রাজনীতি। এ নিয়ে বিতর্কের ব্যাপার হতে পারে? এগুলোর মধ্যে ঢুকে পড়ে সময় নষ্ট করব না। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন দলের স্থায়ী কমিটির সভায় বলেন, যে যে-ই দল করুক না কেন, বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে সংবিধান অমান্য করার কোনো অধিকার নেই। সংবিধান সবাইকে মানতে হবে। শহীদদের স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করে ড. কামাল শহীদদের স্বপ্ন পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান। কোনো দল নয়, জনগণ হিসেবে শাপলাকে (জাতীয় প্রতীক) কেন্দ্র করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ড. কামাল জানান, আগামী ১৩ মার্চ গণফোরামের বর্ধিত সভা হবে

পুলিশের বিচার দ্রুত বিচার আইনে করতে হবে: সুরঞ্জিত

পুলিশের নির্যাতনে চা বিক্রেতা মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচার দ্রুত বিচার আইনে করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত আলোচনা সভায় সুরঞ্জিত এ আহ্বান জানান। তিনি ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, ‘‘দায়ী পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার বা ঘটনা তদন্ত নয়, চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে দ্রুত বিচার আইনে তাদের বিচার করতে হবে”। সুরঞ্জিত বলেন, ‘‘অবিলম্বে ফৌজদারি অপরাধে ৩০২ ধারায় এফআইআর (এজাহার) কইরা প্রত্যেককে অ্যারেস্ট কইরা আদালতে সোপর্দ করেন,  মানুষ দেখুক যে, আইন পুলিশের লেইগাও আছে। এটাকেই বলে সুশাসন। জাস্টিস নট অনলি টু বি ডান, জাস্টিস মাস্ট বি সিম টু বি ডান (ন্যায়বিচার দেখালেই হবে না, দেখাতে হবে ন্যায়বিচার হয়েছে)”। সাবেক রেলমন্ত্রী বলেন, ‘‘এরা গেছে গিয়া... আপনার পুলিশ, স্টোভ জ্বলতেছে এইটার ওপরে বাড়ি মাইর দিল, জ্যান্ত মানুষটারে পুইড়্যা মাইর্যাে ফালাইল। চান্দা দেয় নাই দেইখ্যা? এরপর আবার তদন্ত লাগবে এইটার? মানুষ যার ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে, সেই পুলিশ যেখানে জড়িত, তাকে শাস্তি দিয়া চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা দ্রুত বিচার আইনে আপনারা এই এক মাসের মধ্যে এইটা শেষ করেন।’’ গত বুধবার রাতে শাহ আলী থানার গুদারাঘাট এলাকায় পুলিশের লাঠির আঘাতের জেরে চুলার আগুনে চা বিক্রেতা বাবুল মাতব্বর দগ্ধ হন। পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। পরিবারের অভিযোগ, মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় বেশ কিছুদিন ধরেই পুলিশ তাকে হয়রানি করে আসছিল। এই ঘটনার জের ধরে শাহ আলী থানার পাঁচ পুলিশ সদস্যকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন- উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মমিনুর রহমান খান, এসআই একেএম নিয়াজউদ্দিন মোল্লা, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শ্রীধাম চন্দ্র হাওলাদার, এএসআই দেবেন্দ্রনাথ সরকার ও কনস্টেবল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন

রাজপথে থেকে দাবি আদায় করবো: ইমরান

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, যত বাধাই আসুক না কেন গণজাগরণ মঞ্চ রাজপথে থেকে দাবি আদায় করবে। এই আন্দোলন আমরা অব্যাহত রাখব। একটি মানবিক, বৈষম্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব। এটাই আজকে গণজাগরণের মঞ্চের প্রত্যয়। গণজাগরণ মঞ্চের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত স্মৃতিচারণামূলক অনুষ্ঠানে ইমরান এইচ সরকার এসব কথা বলেন। ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চের যাত্রা শুরু হয়েছিল। তৃতীয় বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, জাগরণযাত্রা, স্মৃতিচারণামূলক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবার গণজাগরণ মঞ্চের বর্ষপূর্তির স্লোগান হচ্ছে-‘নির্ভয় চিত্তে মুক্তির সংগ্রাম অবিরাম’। জাগরণযাত্রাটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে হোটেল রূপসী বাংলার মোড়-শাহবাগ-টিএসসি হয়ে আবার শাহবাগে এসে শেষ হয়। ইমরান এইচ সরকার স্মৃতিচারণামূলক অনুষ্ঠানে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মানবিক বাংলাদেশ, একটা নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই গণজাগরণ মঞ্চের আগামীদিনের চ্যালেঞ্জ। আমরা ইতিমধ্যে সেই চ্যালেঞ্জ ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকেই নিয়েছি। ইতিমধ্যে চারজন যুদ্ধাপরাধীর রায় কার্যকর হওয়ায় সবাইকে ধন্যাবাদ জানান ইমরান এইচ সরকার। তিনি বলেন, এত বাধা, ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে এত দীর্ঘ সময় রাজপথে আছেন। আমাদের ছয় দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের পথ সুগম হয়েছে। আর কালক্ষেপণ না করে শিগগিরই জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশের মানুষের যে দাবি, সেই ছয় দফা দাবির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে। এখনো কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে ইমরান বলেন, ‘আমরা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দেখছি বৈষম্য আর অন্যায়-অবিচার। গণজাগরণ মঞ্চ যেমন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে, একই সঙ্গে সব অন্যায়ের বিরুদ্ধেও রাজপথে সোচ্চার হয়েছে। আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে, অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে। আমরা চাই একটা ন্যায়বিচার সম্পন্ন বাংলাদেশ বিনির্মাণের। যেখানে আইনের শাসন থাকবে, কথা বলার অধিকার থাকবে। তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগীতা ইমাম, সমাজতান্ত্রিক ফ্রন্টের সভাপতি জনার্দন দত্ত, জীবনানন্দ জয়ন্ত প্রমুখ। বর্ষপূর্তির দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে আগামীকাল শনিবার বিকেল চারটার দিকে আলোচনা সভা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং শাহবাগের গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে ব্লগারস অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বানে আর সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে শাহবাগে আন্দোলন শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠিত হয় গণজাগরণ মঞ্চ

গণতন্ত্রের জন্য দর্শনের ভূমিকাও কম নয়: প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অনন্য অবাদান রয়েছে। দর্শন ও আইনের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। কেননা আইনের ভিত্তি অনেকাংশেই দর্শনের ওপর নির্ভরশীল। তবে দর্শন সবসময় বাস্তবতার বিবেচনায় আইনের মতো শক্তিশালী নয়। রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে গণতন্ত্রের বিকাশে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি দর্শনের ভূমিকা কোনো দিক থেকেই কম নয়।   শুক্রবার দুপরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। ঢাবির দর্শন বিভাগের অ্যালামনাই আ্যসোসিয়েশনের অষ্টম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক প্রদীপ কুমার রায়।   তিনি বলেন, ভাষার এ মাসে ভাষা আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। ভাষা আন্দোলন আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছ। এ আন্দোলন এ ভূখণ্ডের মানুষদের পরম সম্মানিত করেছে।   প্রধান বিচারপতি বলেন, একজন ভালো আইন বিশেষজ্ঞ হতে হলে তাকে অবশ্যই দর্শন বিজ্ঞানে পারদর্শী থাকতে হবে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের ভবিষ্যত বিনির্মাণে কর্মশালা, উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার পাদপীঠ। শিক্ষাই জীবনের আলোকবর্তিতা। এর মাধ্যমে মানুষ নিজেকে চিনতে পারে।   তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস বিশ্বদ্যিালয়গুলো গুণগত শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে একটি সৃমদ্ধশালী দেশ নির্মাণে নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।   প্রধান বিচারপতি বলেন, আশা করব দ্বন্দ্ব সংঘাত কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতাসহ জাতির বিভিন্ন সংকট সমাধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশের দার্শনিক সমাজ অনেক প্রতিকূলতা ও বৈপরীত্যের র মাঝেও অতীতের ন্যায় জাতিকে পথ দেখাবে। জাতির প্রয়োজনের রক্ষাকবচে ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে।   অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক শহীদ আকতার হোসাইন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাবির কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, সংগঠনের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ লুতফর রহমান

বইমেলায় মুখরিত প্রথম শিশুপ্রহর

বইমেলার পঞ্চম দিন হলেও প্রথম শুক্রবার আজ। একে তো ছুটির দিন। তারওপর যোগ হয়েছে শিশুপ্রহর। সঙ্গত কারণেই সকাল থেকেই শিশুকিশোরদের পদচারণায় মুখরিত মেলার দুই প্রাঙ্গণ। অনুকূল আবহাওয়া, অভিভাবকের বাড়তি আদর-স্নেহ ও প্রকাশকের প্রস্তুতি সবমিলে মেলা যেন উৎসবে রূপ নেয়। বিগত বছরগুলোতে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ছিল শিশুকর্নার। কিন্তু এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিশুদের প্রাণের মানুষ রোকনুজ্জামান দাদাভাই চত্বরে শিশুকর্নার করা হয়েছে। সকাল ১১টা থেকে অনেক অভিভাবক ও শিশু না জেনেই বাংলা একাডেমির প্রবেশদ্বারে ভিড় করে। বই কেনা-বেচা, শিশুদের জন্য সাজানো নানাবিধ উপকরণের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা আর মেলা প্রাঙ্গণে দিগ্বিদিক ঘুরে বেড়ানোই ছিল সকালের মূল চিত্র। শুক্রবারে শিশুদের জন্য ছিল আরেক আয়োজন। সারা বাংলার শিশুদের প্রিয় সিরিজের প্রিয়-চরিত্র ইকরি, টুকটুকি ও হালুমের উপস্থিতি। জনপ্রিয় এ চরিত্রের শরীরিক উপস্থিতিই শুধু নয় তারা শিশুদের সঙ্গে নেচে-গেয়ে-কথা বলে প্রথম শিশুপ্রহরটি উচ্ছ্বাসমুখর করে রাখে। শিশুদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে, তাদের চোখে-মুখে দেখা যায় বিরক্তির ছাপ। যেন আজ কোনো কথা নয়, আজকের দিনটি শুধুই আনন্দের, উচ্ছ্বাসের এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ানোর। মেলায় আগত কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা জানান, পুরো একটি বছর এ মেলার জন্য শিশুরা অপেক্ষা করে। আমরাও করি। আমাদের পছন্দের বই কিনি। তবে ওদের হাতে বই তুলে দিয়ে তারপর নিজের কথা ভাবি। মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে জান্নাত ফেরদৌস নিয়ে এসেছেন তার খালাতো বোন তাজরিয়ানকে। দুজনের মধ্যেই দেখা গেছে যারপর নাই আনন্দের ছাপ। জান্নাত বলেন, “একদিন আমাদেরও অভিভাবকরা নিয়ে আসতেন মেলায়। মেলাকে কেন্দ্র করে ছোটবেলার কত স্মৃতি আমাদের! এ ধরনের সুন্দর স্মৃতি আমাদের পরের প্রজন্মকে উপহার দিতেই এখানে নিয়ে আসা।” এদিকে স্টলে স্টলে বিশেষ করে শিশুকর্নারের স্টলে ছিল কেনা-বেচার ধুম। ঝিঙেফুল, সিসিমপুর, প্রগতি, ঘাসফড়িঙ, ঝিনুক প্রভৃতি স্টলের বিক্রেতারা জানান, সকাল থেকেই বই বিক্রি শুরু হয়েছে। শিশু প্রহরের পুরো সময়ই একইভাবে চলে। শিশুপ্রহর শেষ হয় দুপুর ২টায়

গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আক্রমণ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: রাষ্ট্রপতি

সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে যেকোনো আক্রমণ গণতন্ত্রের জন্যও হুমকিস্বরূপ বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে আয়োজিত ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে জনমত গঠনে গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে আবদুল হামিদ বলেন, তথ্যভিত্তিক হলে সরকারের বা এমনকি নিজের সমালোচনাতেও আপত্তি নেই তার। রাষ্ট্রপতি বলেন, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে যেকোনো অপশক্তির মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, জামিলুর রেজা চৌধুরী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার বীণা সিক্রি, পাকিস্তানি সাংবাদিক হামিদ মীর প্রমুখ

চা-বিক্রেতার মৃত্যু: শাহ আলীর ওসি প্রত্যাহার

পুলিশের লাঠির আঘাতে স্টোভের আগুন ছড়িয়ে চা-বিক্রেতা বাবুল মাতুব্বরের দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মিরপুরে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম শাহীন মণ্ডলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারের উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সর্দার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বুধবার রাজধানীর মিরপুরের শাহআলী এলাকায় পুলিশের লাঠির আঘাতে স্টোভের আগুন ছড়িয়ে চা-বিক্রেতা বাবুল দগ্ধ হন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তারা হলেন, মিরপুর শাহআলী থানার এসআই মমিনুর রহমান, এসআই নিয়াজ উদ্দীন মোল্লা, এসআই শ্রীরাম চক্রবর্তী, এএসআই দেবেন্দ্র নাথ ও কনস্টেবল জসিম উদ্দীন।   বাবুলের স্বজনদের অবিযোগ, বুধবার রাতে পাঁচ পুলিশ সদস্য শাহআলী এলাকায় গিয়ে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশের লাঠির আঘাতে চায়ের দোকানের কেরোসিন স্টোভ থেকে আগুন ছড়িয়ে দগ্ধ হন বাবুল।   এ ঘটনা তদন্তে বৃহস্পতিবার পুলিশের মিরপুর জোনের উপকমিশনার মাসুদ আহমেদকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। ডিএমপি মিরপুর জোনের ডিসি কাইমুজ্জামান খানের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বাবুলের পরিবার।   ডিএমপি সদর দফতরের তদন্ত কমিটি:  চা বিক্রেতা বাবুল মাতুব্বরের মৃত্যুর ঘটনায় ডিএমপি সদর দফতর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এক সদস্যের ওই কমিটির প্রধান হলেন ডিএমপির উপকমিশনার (শংখলা) টুটুল চক্রবর্তী। তাকে এ ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

মায়ের নামে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যপরীক্ষা

কাশীমপুর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গাজীপুরের কাশীমপুর তেতুইবাড়িতে তার মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে হাসপাতালে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করিয়েছেন। শুক্রবার সকালে হাসপাতালে যান তিনি। খবর বাসসের এ সময় হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয়তুন সোলায়মান ও ডিরেক্টর আরিফ মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী নিজেই হাসপাতালের কাউন্টারে গিয়ে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করান। নিজ হাতে রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষার ফি প্রদান করেন। এরপর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যপরীক্ষা শুরু হয়। দেশের খ্যাতনামা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর তত্ত্বাবধানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়। বিশিষ্ট নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত প্রধানমন্ত্রীর নাক, কান, গলা সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। চক্ষু পরীক্ষা করেন বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. দ্বীন মো. নুরুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী। এছাড়া স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেন ডা. ওয়াজিহা আক্তার জাহান, ডা. বনজবা ও ডা. শাহানা ফেরদৌস। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নিজেই তার স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য এই হাসপাতালটিকে পছন্দ করেন। উল্লেখিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াও দেশের খ্যাতিমান চিকিৎসকরা এ হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রত্যেক রোগীকে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সাহায্য প্রদান করেন। ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর মালয়েশিয়ার খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান কেপিজের সাথে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে এ হাসপাতালটি যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, শিশু, চক্ষু, নাক-কান-গলা, নিউরোমেডিসিন ও হৃদরোগসহ সকল ধরনের রোগের উন্নত চিকিৎসাসেবা দিয়ে হাসপাতালটি যথেষ্ট প্রশংসা অর্জন করেছে। এছাড়া এমআরআই, সিটি স্ক্যান, ক্যাথ ল্যাব, ডায়ালাইসিসসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আন্তর্জাতিকমানের নাসিং সেবা দিয়ে দেশের চিকিৎসা খাতে বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তাগণ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমানসহ অন্য সদস্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন

আজ ইকুয়েডরের দূতাবাস ছাড়তে পারেন অ্যাসাঞ্জ

ইকুয়েডরের দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়া যদি বেআইনি হয়, তা হলে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের বন্দিদশা কাটিয়ে শুক্রবার বৃটিশ পুলিশের হাতে ধরা দেবেন উইকিলিকস-প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। বৃহস্পতিবার এ কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। যদিও বৃটিশ সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, অ্যাসাঞ্জের পাশে দাঁড়াবে জাতিসংঘ। কিন্তু সেই সমর্থন না জুটলে দূতাবাস ছেড়ে বেরনোর সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেফতার হতে হবে তাকে।   ঘটনার সূত্রপাত ২০১০ সালে। অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার দু’টি পৃথক অভিযোগ আনেন দুই মহিলা। এর মধ্যে এক জনের দাবি ছিল, অ্যাসাঞ্জ তাকে ধর্ষণ করেছেন। জেরা করার জন্য অ্যাসাঞ্জকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায় সুইডেন। উইকিলিকস-প্রতিষ্ঠাতার অবশ্য প্রথম থেকেই দাবি ছিল, তাকে ফাঁসানো হয়েছে। ওই বছরই মার্কিন সেনাবাহিনীর বেশ কিছু গোপন নথি প্রকাশ করে দিয়েছিল উইকিলিকস। অ্যাসাঞ্জ দাবি করেন, সেই ঘটনার শোধ তুলতেই আমেরিকার এই ষড়যন্ত্র। সুইডেন আসলে তাকে গ্রেফতার করে আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়ার ফন্দি এঁটেছে। এর পরই ২০১২ সালে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন অ্যাসাঞ্জ। ইকুয়েডরও জানায়, সুইডেনের হাতে তুলে দিলে অ্যাসাঞ্জের মানবাধিকার লঙ্ঘন হতে পারে। এই আশঙ্কাতেই তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। এর পর মেট্রোপলিটন পুলিশ ঘোষণা করে, দূতাবাস থেকে বেরোলেই অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতার করা হবে। সেই থেকেই তিনি ইকুয়েডর দূতাবাসে ‘বন্দি’। গত বছর অগস্ট মাসে অবশ্য যৌন হেনস্থার একটি মামলা তুলে নেওয়া হয়। ধর্ষণের মামলাটি বহাল থাকে। পরে অক্টোবরে কমিয়ে দেওয়া হয় ইকুয়েডরের দূতাবাসের বাইরে পুলিশি নজরদারিও।   এ সবের মধ্যেই ২০১৪ সালে জাতিসংঘের কাছে অ্যাসাঞ্জ আবেদন জানান, ‘‘আমার স্বাধীনতা খর্ব করে বেআইনি ভাবে দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছে।’’ আবেদনে তিনি এ-ও জানান, ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে বেরোলেই তাকে গ্রেফতার করার ভয়ও দেখানো হয়েছে। এর পরই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে জাতিসংঘ। সূত্রের খবর, আগামিকাল হয়তো সিদ্ধান্তের কথা জানাবে তারা। তবে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতিসংঘের তরফে টুঁ শব্দটি করা হয়নি। উইকিলিকস-প্রতিষ্ঠাতা অবশ্য ঘোষণা করেছেন, কাল যদি রাষ্ট্রপুঞ্জ বলে, তিনি বেআইনি ভাবে দূতাবাসে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন, তা হলে আত্মসমর্পণ করবেন তিনি।   টুইটারে উইকিলিকসের দেওয়া বিবৃতিতে অ্যাসাঞ্জ লিখেছেন, ‘‘কাল হয়তো রাষ্ট্রপুঞ্জ ঘোষণা করবে, বৃটেন ও সুইডেনের বিরুদ্ধে আমি হেরে গিয়েছি। সে ক্ষেত্রে শুক্রবার দুপুরে দূতাবাস থেকে বেরিয়ে বৃটিশ পুলিশের হাতে ধরা দেব আমি। কারণ নতুন করে আবেদনের আর কোনও অর্থ নেই।’’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘‘...কিন্তু যদি জিতে যাই, যদি প্রমাণ হয় সরকার বেআইনি কাজ করেছে, তা হলে আশা করি এ বার আমার পাসপোর্ট ফেরানো হবে। গ্রেফতারি পরোয়ানাও তুলে নেওয়া হবে।’’   বৃটিশ পুলিশ জানিয়েছে, অ্যাসাঞ্জ দূতাবাসের বাইরে পা ফেললেই তাকে গ্রেফতার করা হবে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এখনও বহাল। জারি ইউরোপের গ্রেফতারি পরোয়ানাও। এক সরকারি কর্তার কথায়, ‘‘আমরা বারবারই জানিয়েছি, অ্যাসাঞ্জকে বেআইনি ভাবে আটকে রাখেনি বৃটেন। তিনি নিজেই গ্রেফতারি এড়াতে ইকুয়েডরের দূতাবাসে লুকিয়ে রয়েছেন। বৃটেন এখনও তাকে সুইডেনের হাতে তুলে দিতে বদ্ধপরিকর

শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে মনোনয়ন পেয়েছেন ট্রাম্প

ভিন্ দেশি শরণার্থীদের জন্য অবাধে দরজা খুলে দেওয়া গ্রিক দ্বীপপুঞ্জের সাধারণ মানুষ। জঙ্গি ঘাঁটি থেকে পালিয়ে যৌনদাসী, তারপর অনেক লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে সমাজকর্মী হয়ে ওঠা এক তরুণী। মার্কিন প্রতিরক্ষার তথ্য ফাঁস করে শিরোনামে আসা এডওয়ার্ড স্নোডেন।   এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প।   এদের মধ্যে মিল কোথায়? এরা সবাই এ বছর শান্তির নোবেল পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছেন।   ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই চলতি বছরের শান্তি-নোবেল পুরস্কারের মনোনীত বিভিন্ন নাম সামনে আসছে। সম্ভাব্য শান্তি পুরস্কার প্রাপকের সেই তালিকায় নবতম সংযোজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। যা প্রকাশ্যে আসতেই উঠেছে ব্যঙ্গের ঝড়। ব্যঙ্গের রেশ পৌঁছেছে টুইটারের দেওয়াল-লিখনেও।   আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী তথা বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী ট্রাম্প প্রচার শুরু করে বলেছিলেন, মসনদ পেলেই মার্কিন মুলুকে মুসলিমদের ‘নিষিদ্ধ’ করবেন। মেক্সিকোর শরণার্থীদের নিয়ে একের পর এক কুরুচিকর মন্তব্যও করে গিয়েছেন। এবং তার পরেও মনোনীত হয়েছেন শান্তি পুরস্কারের জন্য!  কে ট্রাম্পকে মনোনয়ন করেছেন, তার নাম অবশ্য প্রকাশ করেনি নোবেল কমিটি। অসলোর ‘পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর অধিকর্তা এবং নোবেল কমিটির সদস্যদের ঘনিষ্ঠ ক্রিস্টিয়ান বের্গ হার্পভাইকেনের কথায়, ‘‘মনোনয়নকারীর নাম বলার অধিকার আমাদের নেই।’’ মনোনয়নকারীর নাম না জানালেও মনোনয়ন-পত্রের কিছুটা অংশ প্রকাশ করে দিয়েছেন ক্রিস্টিয়ান। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘‘কড়া হাতে চরমপন্থী মুসলিমদের মোকাবিলা করার কথা বলার জন্য এবং আইএস, পরমাণু শক্তিধর ইরান ও কমিউনিস্ট চিনের বিরুদ্ধে মুখ খোলার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পুরস্কার পাওয়া উচিত।’’   যা শুনে টুইটারের দেওয়াল ভেসে যাচ্ছে বিদ্রুপ-খোঁচায়। কেউ বলছেন- ‘‘কেউ নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেলের জন্য মনোনীত করেছে। কিম জং উন আর আল-বাগদাদি নিশ্চই এটা শুনে দুঃখ পাচ্ছেন!’’ আবার কারও মন্তব্য— ‘‘যিনি-ই ট্রাম্পকে মনোনীত করে থাকুন না কেন, তার মনোবিদের কাছে যাওয়া উচিত।’’ এপ্রিল-ফুলের প্রসঙ্গ টেনে এনে এক জন টুইটারে লিখেছেন, ‘‘নোবেলে মনোনীত ট্রাম্প। এ বছর এপ্রিল অনেক তাড়াতাড়ি এসে পড়ল!’’ এক জনের ‘দাবি’, ট্রাম্প পুরস্কার পেলে তার প্রতিবাদে তিনি জীবনের মতো মোবাইল ব্যবহার করা ছেড়ে দেবেন। আর এক জন আশ্বাস দিয়েছেন, ‘‘এই মনোনয়ন বাস্তবায়িত হলে আমি মহাশূন্যে পাড়ি দিয়ে গিয়ে ভিন্ গ্রহের প্রাণী হয়ে যাব

নিখোঁজের ৪০ বছর পর মৃত ঘোষণা!

তিনি পলাতক ছিলেন চার দশক। তিনি মানে লর্ড লুকান নামে সম্ভ্রান্তশালী এক বৃটিশ নাগরিক। লর্ড লুকানকে শেষ দেখা যায় ১৯৭৪ সালে। তখন তার বয়স ৩৯। চার দশক নিখোঁজ থাকার পর সম্প্রতি বৃটেনের এক আদালত তাকে সরকারি মতে মৃত বলে মেনে নিয়েছে।   কিন্তু হঠাৎ কেন এত দিন পর মৃত বলে ঘোষণা করা হল? কোথায় ছিলেন লর্ড লুকান?   এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে চার দশক পিছনে। লর্ড লুকান বৃটেনের এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। তিনি অষ্টম আর্ল অফ লুকান পদাধিকারী ছিলেন। লন্ডনের অভিজাত মহলে ছিল তার নিত্য ওঠাবসা। শহরের অভিজাত এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। সব কিছুই হঠাত্ই তছনছ হয়ে যায় ১৯৭৪ সালের নভেম্বর মাসের এক শীতের রাতে। সে বছর ৭ নভেম্বর উদ্ধার হয় স্যান্ড্রা রিভেট নামে এক মহিলার ক্ষতবিক্ষত দেহ। মৃত ওই মহিলা ছিলেন লুকানের তিন সন্তানের ন্যানি। ঘটনার দিন কয়েক পর উদ্ধার হয় লর্ড লুকানের রক্তমাখা গাড়ি। লন্ডন থেকে ৬৫ মাইল দূরে পূর্ব সাসেক্সের নিউ হাভেন বলে একটি জায়গা থেকে উদ্ধার হয় রক্তমাখা গাড়িটি। গাড়িটি পাওয়া গেলেও খোঁজ পাওয়া যায়নি লর্ড লুকানের। সঙ্গে সঙ্গেই লুকানের উপরই গিয়ে পড়ে সন্দেহের তির।   গঠন করা বিচারবিভাগীয় কমিশন। কিন্তু সবই ভোঁ ভাঁ। তার পরিবার লন্ডনে থাকলেও খোঁজ মেলেনি লর্ড লুকানের। বছর খানেক পর লুকানকে মৃত ন্যানি স্যান্ড্রা রিভেটের খুনি বলে ঘোষণা করে ওই তদন্ত কমিশন। কিন্তু খুনি ঘোষণা করা হলেও তাতে সমস্যা মেটেনি। কোথায় পালিয়েছেন লর্ড লুকান তা নিয়ে জল্পনা বাড়তেই থাকে। বছর বছর ধরে রহস্য বাড়তেই থাকে। তাকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা অথবা ভারতে দেখা গিয়েছে বলে  বিভিন্ন সময় জল্পনা বাড়তে থাকে।   ২০১৪ সালে আদালতে তার বাবাকে মৃত বলে মেনে নেওয়া হোক বলে আবেদন জানান লুকানের ছেলে জর্জ বিংহাম। তার বাবাকে মৃত ঘোষণা করে বাবার লর্ড উপাধি তাকে দেওয়া হোক বলে আদালতে আবেদন জানান জর্জ। জর্জের আবেদনকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান রিভেটের ছেলে নীল বেরিমানও। পরে অবশ্য সে আবেদন ফিরিয়ে নেন নীল বেরিম্যান। জর্জের আবেদন মেনে লর্জ লুকানকে অবশেষে মৃত বলে মেনে নিল বৃটেনের আদালত। তবে বছর চল্লিশ পর

আরব আমিরাতে মন্ত্রী পদে ছাত্র নিয়োগের বিজ্ঞাপন

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফেডারেল সরকারের মন্ত্রী করার জন্য ছাত্রদের কাছ থেকে আবেদনপত্র চাওয়া হয়েছে।     বিজ্ঞাপনlদাতা দুবাইর শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম দুবাইর শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম তার টুইটার একাউন্টে এই বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, মন্ত্রিসভায় এই মন্ত্রী তরুণদের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করবেন। গত দুবছরে যারা স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন অথবা যারা স্নাতক শেষ বর্ষে পড়াশুনা করছেন, তারা আবেদন করার যোগ্য হবেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তিন জন পুরুষ এবং তিন জন নারীকে এই পদে মনোনয়ন দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে আরব সমাজের অর্ধেকই হচ্ছে তরুণ, সুতরাং দেশ শাসনে তাদের একটা ভূমিকা দেয়া খুবই যৌক্তিক। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রিপরিষদের ওয়েবসাইটেও এই মন্ত্রী পদে লোক চেয়ে বিজ্ঞাপন আছে। প্রার্থীর বয়স হতে হবে ২৫ বছরের কম। যোগ্য প্রার্থীকে তরুণদের আশা-আকাঙ্খা ধারণ করতে হবে। এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে দেশটিতে। একজন ছাত্র বলেছেন, অনেকে আমাদেরকে খুব বেশি তরুণ বলে মনে করে। অথচ লোকে যেটা বুঝতে পারে না তা হলো আমাদের ধ্যান-ধারণা থেকেও দেশ উপকৃত হতে পারে

দেশে প্রথমবারের মতো অভিনব পরামর্শ সেবা নিয়ে এলো ‘রে অব লাইট’

দেশে প্রথমবারের মতো ‘সান্নিধ্য’ নামে নতুন ও অভিনব পরামর্শ সেবা নিয়ে এলো বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ব্যক্তিকেন্দ্রিক তত্ত¡াবধায়কনির্ভর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘রে অব লাইট’। এ সেবার আওতায় গ্রাহকরা প্রতি রবিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রশিক্ষিত কর্মী ও লোকবল দ্বারা স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা নিয়ে প্রয়োজনীয় এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সহ পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা পাবেন। মূলত পরিবারের বৃদ্ধ, অসুস্থ, ও অক্ষম ব্যক্তিদের এ সেবা দেয়া হবে। যারা বিচ্ছিন্নতা রোগে ভুগছেন এবং যাদের অন্যের সান্নিধ্য ও সাহচর্য প্রয়োজন তাদের জন্য এ সেবাটি অত্যন্ত কার্যকরী ও যথোপযুক্ত। তাদেরকে আরও উন্মুক্ত করতে, বিচ্ছিন্নতা রোগ দূরীকরণে, আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা ফিরিয়ে আনতে, স্মৃতিরোমন্থণে এবং মিথস্ক্রিয়া বাড়াতে ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতারা প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদাভাবে সেবা দিবেন। বিবিধ অর্থপূর্ণ কার্যক্রমের মাধ্যমে উদ্দীপনা ও অবকাশ প্রদান এবং চিকিৎসা সেবামূলক অধিবেশনের সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে নতুন এ সেবা চালু করলো প্রতিষ্ঠানটি। এ সেবাদান নিয়ে ‘রে অব লাইট’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজাম চৌধুরী বলেন, আমাদের পরিবারের অনেক সদস্য রয়েছেন যারা বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। অনেকক্ষেত্রে, সঠিক পরামর্শ ও নির্দেশনা পেলে তারা নিজেরাই এ অসুস্থতা কাটিয়ে উঠতে পারেন। আমরা, আমাদের দক্ষাতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাদের সমস্যা অনুযায়ী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সঠিক পরামর্শ, নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেই। ‘রে অব লাইটে’ সেবা ও চিকিৎসা বিষয়ক সকল অধিবেশনই যোগ্য ও প্রশিক্ষিত সেবিকাদের দিয়ে পরিচালিত হয়। এখানে পরামর্শ দানকারী সকল কর্মীকেই নিজাম চৌধুরীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। নিজাম চৌধুরী দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্যে এ সেবাদানে যুক্ত ছিলেন। এ সেবার সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে কমপক্ষে চারটি অধিবেশনের জন্য অগ্রিম নিবন্ধন করতে হবে। প্রতিটি অধিবেশনের ফি ৫শ’ টাকা

নিহত ও নিখোঁজ হাজারো আয়লানের দায় by ফারুক ওয়াসিফ

তুরস্কের উপকূলে ভেসে আসা সিরীয় শরণার্থী শিশু
আয়লান কুর্দির লাশ এক মানবিক প্রশ্ন
বিক্রি হবে, শিশুর জুতা, সম্পূর্ণ আনকোরা। কেনা হয়েছিল, কিন্তু পরানোর আগেই মরে গেছে, এমন এক শিশুর শোকে থরথর ছয়টি শব্দ: For sale, Baby shoes, Never worn! লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। সিরীয় যুদ্ধে এ পর্যন্ত নিহত ১০ হাজার শিশু। শরণার্থী হতে গিয়ে হারিয়ে গেছে আরও ১০ হাজার। এই ট্র্যাজেডি ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব?
তুরস্কের সমুদ্রতীরে সিরীয় শিশু আয়লানের মৃতদেহ পড়ে থাকার দৃশ্য মনে আছে? ওর পায়েও ছিল এক জোড়া কালো জুতা। সেগুলোও কি পুরোনো জিনিসের দোকানে বিক্রির জন্য উঠেছিল? এক যুদ্ধেই নিহত ১০ হাজার, নিখোঁজ ১০ হাজার শিশুর দায় কেমন করে শোধ করবে পৃথিবী? আরও যুদ্ধ চালাবে, নাকি যুদ্ধবাজদের ছুড়ে ফেলবে সেই সাগরে, যেখানে শিশুরা ডুবে মরছে প্রতিনিয়ত। আয়লানের পরেও আরও আরও শিশুর লাশ ভেসে আসছে তুরস্কের সাগরতীরে। গত শনিবারও ডুবে মারা গেছে ৩৯ জন। আবারও সৈকতে পড়ে থেকেছে শিশুর লাশ, আর তাদের খেলনা পুতুল। ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি লিখে সাড়া জাগিয়েছিলেন মার্কিন সাহিত্যিক হেমিংওয়ে। এক নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ জেলের পরাজিত না হওয়ার জেদের গল্প উজ্জীবিত করেছিল পাঠকদের। বেঁচে থাকলে তিনি হয়তো লিখতেন আরেক উপন্যাস, যার নাম হতো ‘চিলড্রেন অ্যান্ড দ্য সি অব টাইরানি’: ‘নির্মমতার সমুদ্র ও শিশুরা’। সম্প্রতি চীনা শিল্পী আই ওয়েইওয়েই আয়লান যেখানে নিথর পড়ে ছিল, সেখানেও ওর মতো শুয়ে থেকে প্রতিবাদ করেছেন।
তুরস্কের সমুদ্র সৈকতে ভেসে উঠেছিল সিরিয়ার শরণার্থী শিশু আইলান
জাতিসংঘ জানাচ্ছে, সিরীয় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রায় আড়াই লাখ মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের ১০ হাজারই শিশু। ওদিকে আরও আরও বোমা, বিমান, সৈন্য নামছে যুদ্ধের ময়দানে। খুব, খুব ব্যবসা হচ্ছে অস্ত্র কোম্পানির। ‘সভ্যতা’ নামক রূপকথায় বিশ্বাস টলে যাচ্ছে। শরণার্থীরা সীমান্তে সীমান্তে আশ্রয়ের তালাশ করছে। কেউ আশ্রয় পাচ্ছে, কেউ আটক হচ্ছে কারাগারে। সেভ দ্য চিলড্রেনের হিসাবে গত বছর ২৭ হাজার শিশু অভিভাবকহীন অবস্থায় ইউরোপে আসে। যুদ্ধে তারা অভিভাবক হারিয়েছে অথবা তাদের যুদ্ধভূমির বাইরে পাঠিয়ে আশ্বস্ত থাকতে চেয়েছে তাদেরই নিরুপায় পিতামাতা। এদের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার জনকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পুলিশ সংস্থা ইউরোপোল। তাদের আশঙ্কা, ইউরোপের পাচার চক্র এদের অনেককেই দাস ও যৌনপণ্য হিসেবে বিক্রি করে দিচ্ছে।
শরণার্থীদের আসা শুরু হলো আর সক্রিয় হয়ে উঠল আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র। পাচারের জন্য বিশাল অবকাঠামো ও লোকবল খাড়া হয়ে গেল। অনেক লাভ এই ব্যবসায়। বলকান যুদ্ধের পরও পূর্ব ইউরোপের হাজার হাজার শিশু ও তরুণী শরণার্থীকে পতিতাবৃত্তি ও দাসত্বের জালে আটকানো হয়েছিল। ইরাক যুদ্ধের পরও এই সর্বনাশা জাল হাজার হাজার নারী ও শিশুকে বাগে পেয়ে আটকে ফেলে। সেই চক্রই এখন টার্গেট করছে মধ্যপ্রাচ্যের নারী ও শিশুদের।
যুদ্ধে কারও সর্বনাশ কারও পৌষ মাস। কানাডীয় রাজনৈতিক তাত্ত্বিক নওমি ক্লেইন তাঁর দ্য শক ডকট্রিন: দ্য রাইজ অব ডিজাস্টার ক্যাপিটালিজম (২০০৭) বইয়ে এই করুণ কঠিন বাস্তবতা উদোম করে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, নিওলিবারেল মুক্তবাজার অর্থনীতি যেকোনো সংকটকেই কাজে লাগায়। প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক বিপর্যয়কে ব্যবহার করে তারা সম্পদ ও ক্ষমতার আরও কেন্দ্রীভবন ঘটায়। ইরাক যুদ্ধ এর নিকটতম উদাহরণ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পাশ্চাত্যের মূল ভূমিতে কোনো যুদ্ধ না হলেও বাকি দুনিয়ার প্রায় সব যুদ্ধ ও গণহত্যায় তারা কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিল। বাংলাদেশেও মার্কিন-সমর্থিত পাকিস্তানি গণহত্যা হয়েছিল। কত শিশু সে সময় নিহত, নিখোঁজ ও পঙ্গু হয়েছিল দেশের ভেতরে ও শরণার্থীশিবিরে, সেই হিসাব কি জাতিসংঘ কোনো দিন করবে? কত হাজার যুদ্ধশিশু মৃত্যু অথবা পাচারের শিকার হয়েছিল, তার খোঁজ কি আমরাই রাখি? আমরা সভ্যতার সেই পারের বাসিন্দা, যেখানে সবই কম। আমরা বড় কেবল পরিসংখ্যানে: শিশুমৃত্যুর পরিসংখ্যান, না খাওয়া ও রোগে ভোগা জীবনের টলায়মানতার পরিসংখ্যান। এ রকম শুকনো পরিসংখ্যানের মধ্যেই হারিয়ে গেছে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার লাখো শিশু। মধ্যযুগেও কি এত শিশুর অপমৃত্যু ঘটেছিল?
সিরীয় যুদ্ধের দায় অবশ্যই প্রথমত সে দেশের রাজনীতিকদের। তাঁদের বোঝা উচিত ছিল, অগণতান্ত্রিক শাসন বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ডেকে আনে। ইরানে একধরনের গণতন্ত্র আছে বলে সে দেশে যুদ্ধ ও গৃহবিবাদ চাপিয়ে দেওয়া কঠিন। দ্বিতীয়ত, এই দায় পরাশক্তিগুলোর, ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মরণখেলার। পাশাপাশি এটাও বলতে হবে, পাশ্চাত্য একমুখী নয়। গ্রিক দেবতা জানুসের মতো তার এক মুখে আলো, অন্য মুখে অন্ধকার। যখন সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো সিরিয়া ও ইয়েমেনে শরণার্থী সৃষ্টি করছে, তখন কিন্তু তুরস্ক ও জার্মানি এগিয়ে এসেছে তাদের আশ্রয় দিতে। নিখোঁজ ১০ হাজার শিশুর খোঁজার দায়িত্বও তো তারাই নিতে চাইছে। গত সপ্তাহে ব্রিটেনের সরকার সিরিয়া ও অন্য সংঘাত-অঞ্চলের আরও একাকী শিশুদের আশ্রয় দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। সুইডেনের মতো দেশ মুখ ফেরাচ্ছে যখন, তখন গ্রিস এখনো হাত বাড়িয়ে আছে। তাই সঠিকভাবেই এবারের শান্তির নোবেল পুরস্কার তাদের দেওয়ার দাবি উঠেছে।
যেকোনো সংঘাত শেষ পর্যন্ত শিশুদের আঘাত করে। জীবন যদিওবা বাঁচে, তারা হারায় তাদের নিষ্পাপ শৈশব, হারায় স্বজন। এ এমন এক দুনিয়া, যখন নাকি শিশু-কিশোরদেরই যুদ্ধের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হয়। পাকিস্তানের মালালার কথা আমরা জানি। সে দেশেরই আরেক কিশোরী নাবিলা। মার্কিন ড্রোন হামলায় স্বজন হারানোর ক্ষতি সে ভুলতে পারেনি। বিচার চাইতে সে এমনকি মার্কিন সিনেটের সামনেও হাজির হয়েছে। নাবিলার মতো আরও এক মেয়ে ছিল। জাপানের হিরোশিমার কিশোরী সাদাকো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার পারমাণবিক বোমায় তার শহর ধ্বংস হয়ে গেল। ধুঁকে ধুঁকে সে বেঁচে ছিল আরও কিছুদিন। হাসপাতালে শুয়ে থাকতে থাকতে সে চাইল সহস্র কাগজের সারস বানাতে। ওর বিশ্বাস, তা হলে বুঝি তার মনের শুদ্ধ এক ইচ্ছা পূরণ হবে। সাদাকো চেয়েছিল, পৃথিবীর আর কোনো শিশুর অপমৃত্যু যেন না হয়। কিন্তু হাজার পূর্ণ হওয়ার আগেই সাদাকো চিরতরে ঘুমিয়ে পড়ে। আর তার গল্প জাগিয়ে দেয় জাপানের শিশুদের। তারা হাজার হাজার কাগজের সারস বানাল, গান রচিত হলো সাদাকোকে নিয়ে। সেই থেকে সাদা সারস শান্তির প্রতীক। সাদাকোর অন্তিম ইচ্ছা যে পূরণ হয়নি, দুনিয়ার নিখোঁজ, নিহত ও নির্যাতিত শিশুরাই তা জানিয়ে যাচ্ছে।
আমাদের দেশে যুদ্ধ নেই বহু বছর। কিন্তু শিশুহত্যা কি থেমেছে? এই সপ্তাহেও শিশুদের অপহরণ করে হত্যার কতগুলো সংবাদ এসেছে পত্রিকায়! কবি আবুল হাসানের কথাই কি তবে সত্য হবে? ‘আমার চোয়ালে রক্ত হে অর্জুন আমি জানতাম, আমি ঠিকই জানতাম/ আমি শিশু হত্যা থামাতে পারবো না, যুবতী হত্যাও নয়!/ ভ্রূণহত্যা! সেতো আরও সাংঘাতিক, আমি জানতাম হে অর্জুন/ মানুষ জন্ম চায় না, মানুষের মৃত্যুই আজ ধ্রুব!’
মানুষের সন্তানের অপমৃত্যুই সত্য হতে পারে না! সাদাকোর গান আমাদের সেটাই বলে যায়:
‘আমি এসে দাঁড়াই প্রতিটি দরজায়
আমার নীরব হেঁটে চলা শোনে না কেউ
করাঘাত করি আমি দোরে দোরে, শোনে না কেউ
ওগো আমি যে মৃত, আমি যে মৃত!’
গানটি বলে এমন এক শিশুর কথা, যার আর চকলেট দরকার নেই, দরকার নেই খেলনা বা দুধের—কারণ সে মৃত। সে ডেকে যায়:
‘যাতে সারা পৃথিবীর শিশুরা
ছুটোছুটি করে, গান গায় আর হাসে।’
আমরাও গেেয় যাচ্ছি মুক্তিযুদ্ধের গান: ‘যে শিশুর মায়া হাসিতে আমার বিশ্ব ভোলে’; সেই বিশ্ব কি ভুলে থাকবে তার অসহায় শিশুদের?
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক।
bagharu@gmail.com

বিরল এই বৃক্ষমানব রোগ হয়েছে দেশে একজনেরই

দেশে এই প্রথম ‘বৃক্ষমানব’ নামে পরিচিত বিরল এক রোগে আক্রান্ত একজন রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। চিকিৎসার জন্যে তাকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। শুরু হয়েছিল আচিলের মতো। তারপর গত ১০ বছরে এই অবস্থা আবুল বাজানদার নামের ২৫ বছরের এই যুবক গত প্রায় এক দশক যাবত এই রোগে ভুগছেন। এর ফলে তার দুই হাত এবং পায়ের কিছু অংশ বিকৃত হয়ে অনেকটা গাছের শেকড়ের মতো রূপ নিয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে মায়ের পাশে বসে কথা বলছিলেন আবুল বাজানদার। তার হাত দুটো কোলের ওপর রাখা, হাতের কব্জি থেকে বাকি অংশ বিকৃত হয়ে এমন রূপ নিয়েছে যে শুধুমাত্র হাত দুটো দেখলে সেটিকে বরং কোনো গাছের শেকড় বলে মনে হতে পারে। দুই পায়ের পাতার কিছু অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে এই রোগ। বিরল এই রোগটি বৃক্ষ মানব রোগ হিসেবে পরিচিত। আবুল বাজানদার ভ্যান চালাতেন। কিন্তু এই রোগের কারণে গত ৬ বছর যাবত কোনো কাজই করতে পারছেন না। “প্রথমে ছোট ছোট আচুলি (আঁচিল) হইছিল। এরপর থেকে আমি গ্রামের ডাক্তার দেখাইছি, খুলনায় দেখাইছি, কলকাতায় দেখাইছি। কিন্তু অসুখ বাড়া ছাড়া কমেনি। এখন ডাক্তার বলছে অপারেশন করা লাগবে,” বলেন তিনি। আবুল বাজানদারের বাড়ি খুলনা জেলার পাইকগাছায়। রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর গত ১০ বছর যাবত হোমিওপ্যাথিসহ নানা চিকিৎসা করিয়েছেন। ভারতেও গিয়েছিলেন বছর পাঁচেক আগে। চিকিৎসকেরা সেখানে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও অর্থের অভাবে সেটি আর করা হয়নি। সর্বশেষ একজন সাংবাদিকের সহায়তায় খুলনার একটি হাসপাতালে তাকে নেয়া হয়। ওই হাসপাতালের একটি মেডিকেল বোর্ড তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে আসার পরামর্শ দেন। বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ড. সামন্ত লাল সেন বলছেন, তারা এখন একটি মেডিকেল বোর্ড তৈরি করবেন এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই রোগীর হাত কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসার চেষ্টা করবেন। মি. সেন বলেন, “এটিকে বলে এপিডার্মো ডিসপ্লেশিয়া ভেরুকোফরমিস। একধরণের ভাইরাস থেকে এসেছে। আমাদের প্রথম ইম্প্রেশন হচ্ছে, রোগীর হাতটা ঠিক করতে হবে। এরপর আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।” ড. সেন বলছেন, তার জানামতে এপর্যন্ত বিশ্বে এর আগে মাত্র দু’জন রোগীর এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার রেকর্ড আছে। এদের একজন ইন্দোনেশিয়ায় এবং অপরজন রোমানিয়ার। আবুল বাজানদারের মা আমেনা বেগম বলছেন, তার ছেলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর সামাজিকভাবে তিনি মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন। “কেউ কেউ বলে খারাপ লাগে না, পাশে এসে বসে। আবার কেউ কেউ একটু দূরে দূরে থাকে।” আমেনা বেগম বলেছেন, বিভিন্নজনের থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে এতদিন ছেলের কিছু চিকিৎসা চালিয়ে এসেছেন। আট ভাই-বোনের পরিবারের ষষ্ঠ সন্তান আবুল বাজানদার বছর পাঁচেক আগে বিয়ে করেছেন। এখন তিনি তিন বছরের এক কন্যা সন্তানের বাবা। আবুল বাজানদার বলেন, “আমি মেয়েকে বলি কি হয়েছে, সে বুঝতে পারে না। আমার কোলে আসে, মুখে তুলে খাওয়ায়।” ড. সেন বলছেন, তারা মি. বাজানদারের থাকা-খাওয়া এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন। তবে শেষপর্যন্ত এই চিকিৎসা কতটা ব্যয়বহুল হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়

জিকা ভাইরাস: জরুরি অবস্থা ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

জিকা ভাইরাসে মস্তিষ্কে ত্রুটি নিয়ে শিশু জন্মের হার বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সারা বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।   সংস্থাটি বলছে, মশাবাহিত এই রোগটির সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে এখনি ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।   গত কয়েক মাসে শুধুমাত্র লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলেই ছোট আকারের মস্তিষ্ক নিয়ে চার হাজারের বেশি শিশু জন্ম নিয়েছে।   জিকা ভাইরাসের প্রকোপ লাতিন আমেরিকা থেকে খুব দ্রুতই আরো বহু দুর পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।   রোগটি এতটাই দ্রুত ছড়াচ্ছে যে দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকায় এ বছর ৪০ লাখের মতো মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাই এই রোগটিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইবোলার মতো বড় মাত্রার প্রাদুর্ভাব হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মার্গারেট চ্যন আনুষ্ঠানিকভাবে সারা বিশ্বব্যাপী এক জনস্বাস্থ্য বিষয়ক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।   মিজ চ্যান বলছেন, পরিস্থিতি আরো সংকটময় হয়ে ওঠার আগেই সমন্বিত কর্মপ্রক্রিয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।   সমন্বিতভাবে আগে ভাগে সতর্ক হলে ঝুঁকি কমানো সহজ হবে, বলছিলেন মিজ চ্যন।   জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে এসম্পর্কিত সাহায্য ও গবেষণাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে।   জিকা ভাইরাস থেকে সৃষ্ট মাইক্রোসেফালি রোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র গত চার মাসে শুধু ব্রাজিলেই চার হাজারের বেশি শিশুর জন্ম হয়েছে।   যাদের মস্তিষ্ক স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট আকারের।   প্রায় ৭০ বছর আগে রোগটির অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও এর প্রকোপ কখোনোই এতটা বেশি ছিল না।   আর তাই জিকার সাথে মাইক্রোসেফালির সম্পর্ক কতটা সে নিয়ে তেমন কোনো গবেষণাও নেই

পরীক্ষার জন্য বৃক্ষ মানবের রক্ত যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে

বাংলাদেশে ‘বৃক্ষ মানব’ নামে পরিচিত আবুল বাজানদারের রক্ত পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে।   যেসব পরীক্ষা বাংলাদেশে সম্ভব নয় সেগুলোর জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সাহায্য করতে রাজি হয়েছে।   এরই অংশ হিসেবে বাজানদারের রক্তের নমুনা আজ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে।   আবুল বাজানদারের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য, বার্ন ইউনিটের উপদেষ্টা ডা. সামন্ত লাল সেন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, এক্সরে এবং রক্ত পরীক্ষাসহ বাজানদারের প্রাথমিক কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা ইতিমধ্যেই করা হয়েরছে।   কিন্তু কিছু পরীক্ষা রয়েছে, যার সুবিধা বাংলাদেশে নেই। যেমন রক্ত, বায়োপসি আএবং রো কিছু পরীক্ষার জন্য তার রক্তে নমুনা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে।   ঢাকায় এই মূহুর্তে মেডিকেল বোর্ড বাজানদারের রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা করছে।   সেক্ষেত্রে ডায়াগনোসিসে যা বেরিয়ে আসবে, তার ওপর ভিত্তি করে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজানদারের একটি সার্জারির পরিকল্পনা মেডিকেল বোর্ডের রয়েছে বলে জানান ডা. সামন্ত লাল সেন।   এর আগে বিরল এই বৃক্ষ মানব রোগে আক্রান্ত এক ব্যক্তির চিকিৎসা করেছেন এমন একজন চিকিৎসক ইতিমধ্যেই বাজানদারের চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ডা. সেন।  বিরল রোগের কারণে বাজানদারের হাত ও পা দেখতে গাছের শেকড়ে পরিণত হয়েছে বলে মনে হয়।  সারা বিশ্বজুড়ে এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা মোটে তিনজন। এদের একজন ইন্দোনেশিয়ায় এবং অপরজন রোমানিয়ার

আলুর বিকল্প কেন হতে চলেছে কলা?

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে কলার গুরুত্ব বাড়তে চলেছে৷  বিশেষ করে উষ্ণ অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের অন্যতম খাদ্য হয়ে উঠতে পারে কলা৷ সাম্প্রতিক এক গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে এই তথ্য৷ কলার সঙ্গে মানুষের পরিচয় বহুদিনের৷ পাকা কলা খেতে যেমন মজা, তেমনি কাঁচা কলা ভর্তা কিংবা রান্না বাঙালির অন্যতম প্রিয় এক খাবার৷ এই কলার ভবিষ্যৎ বেশ উজ্জ্বল, এমনটাই বলছেন সিজিআইএআর এগ্রিকালচার পার্টনারশিপের গবেষকদের৷ তাদের ভাষ্য হচ্ছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আলুর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে কলা৷ বিশ্ব উষ্ণায়ণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কাসাভা এবং স্বল্প পরিচিত কাউপিও হয়ে উঠতে পারে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য৷ ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এই তথ্য৷ জাতিসংঘের ‘কমিটি অন ওয়ার্ল্ড ফুড সিকিউরিটি'-র অনুরোধের প্রেক্ষিতে গবেষকরা পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ২২টি কৃষিপণ্যের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করেন৷ গবেষকদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়ণের সঙ্গে মানিয়ে চলতে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে৷ তাদের ধারণা, ক্যালোরির বিবেচনায় পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন খাদ্য শস্য – ভুট্টা, চাল এবং গমের উৎপাদন ভবিষ্যতে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কমে যাবে৷ একইসঙ্গে আলুর উৎপাদনও ভবিষ্যতে আশঙ্কাজনক হারে কমে যেতে পারে৷ কেননা, আলু উৎপাদনের জন্য শীতল পরিবেশ প্রয়োজন৷ উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলে অনেকে দেশে এই সবজি উৎপাদনের মতো পরিবেশ থাকবে না৷ গবেষকদের ধারণা, এই পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে থাকা এলাকা, যেখানে এখন আলু চাষ হচ্ছে, সেখানে বিভিন্ন ধরনের কলা চাষ করে ভালো ফল পাওয়া যাবে৷ এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ড. ফিলিপ থর্নটন বিবিসিকে জানিয়েছেন, সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কিছু অঞ্চলে আলুর বিকল্প হতে পারে কলা৷ গবেষকরা তাদের প্রতিবেদনে প্রোটিন এবং ক্যালোরির বিবেচনায় গমকে পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শস্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন৷ তবে তাদের মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গমের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল নয়৷ কেননা তুলা, ভুট্টা আর সোয়াবিনের দাম বেশি হওয়ায়, গম কোণঠাসা হয়ে পড়েছে৷ ফলে জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও এই কারণটি গমের ভবিষ্যতকে শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে৷ এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি বিকল্পের কথাও জানিয়েছেন গবেষকরা৷ তাদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় গমের বিকল্প হতে পারে কাসাভা৷ কিন্তু নতুন এসব খাদ্য সাধারণ মানুষ কীভাবে গ্রহণ করবে সেটা অবশ্য ভাবার মতো বিষয়৷ জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা গোষ্ঠী, সিসিএএফএস'এর প্রকল্প পরিচালক ব্রুস ক্যাম্পবেল অবশ্য আশাবাদী৷ বিবিসিকে তিনি জানান, ভবিষ্যতে যেসব পরিবর্তন হতে পারে, সেসব অতীতেও হয়েছে৷ ব্রুস বলেন, ‘‘দুই দশক আগে আফ্রিকার কেন্দ্রীয় অঞ্চলে চালের চাহিদা একরকম ছিল না বললেই চলে৷ কিন্তু এখন সেখানে চালের চাহিদা রয়েছে৷ দামের কারণে মানুষের চাহিদায় পরিবর্তন এসেছে৷ চাল সহজলভ্য, রান্নাও সহজ৷ আমি মনে করি, এই ধরনের পরিবর্তন অতীতেও হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে৷'' খাদ্য তালিকায় ভবিষ্যতে প্রোটিনের উপস্থিতি কীভাবে ধরে রাখা যায়, তা নিয়েও খানিকটা উদ্বিগ্ন গবেষকরা৷ বর্তমানে সোয়াবিন হচ্ছে প্রোটিনের অন্যতম উৎস৷ কিন্তু তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে সোয়াবিন উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে৷ তখন কি হবে? গবেষকরা অবশ্য এক্ষেত্রেও একটি বিকল্পের কথা বলেছেন৷ সাব-সাহারান আফ্রিকায় ‘গরীবদের মাংস' হিসেবে বিবেচিত কাউপি হতে পারে সোয়াবিনের বিকল্প৷ কেননা, কাউপি খরা-সহিষ্ণু এবং অপেক্ষাকৃত উষ্ণ তাপমাত্রায় এটি উৎপাদন করা যায়

মেসি-সুয়ারেজের ডাবল হ্যাটট্রিকে গোলের মালা বার্সার

সুয়ারেজের চার, মেসির তিন৷ভালেন্সিয়াকে ৭-০ উড়িয়ে দিয়ে কোপা দেল রে-র ফাইনালে পথে বার্সেলোনা৷ ‘এমএসএন’-এর এন অর্থাৎ নেইমার গোল না-পেলেও মেসি-সুয়ারেজের গোলের বন্যায় ভেসে গেল ভ্যালেন্সিয়া৷ দুরন্ত  জয়ে কোপা দেল রে-র খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেল বার্সা৷ আগামী সপ্তাহে সেমি-ফাইনালের ফিরতি পর্বে হিসেবটা পাল্টাতে হলে অসম্ভবকে সম্ভব করতে হবে ভ্যালেন্সিয়াকে৷ঘটাতে হবে ফুটবল ইতিহাসের সেরা অঘটন। বৃহস্পতিবার ঘরের মাঠে শুরু থেকেই গোল উৎসবে মেতে ওঠে বার্সেলোনা। শুরুটা করেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লুইস সুয়ারেস, গোলটিতে দারুণ অবদান ছিল নেইমারের। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে মাঝ মাঠে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে ব্রাজিল অধিনায়ক অনেকটা দৌড়ে ডান দিক দিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়া সুয়ারেজকে পাস দেন। কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন উরুগুয়ের এই স্ট্রাইকার। পাঁচ মিনিট পর দ্বিতীয় গোলটিও আসে সুয়ারেজের পা-থেকে৷ম্যাচের তৃতীয় গোল মেসির৷ ২৯ মিনিটে আন্দ্রে ইনিয়েস্তার বাড়ানো বলে ডি বক্সের মাথায় আর্জেন্টিনা অধিনায়কের উদ্দ্যেশে আলতো ফ্লিক করেন নেইমার৷নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন মেসি৷ পরে আরও দু’টি গোল ফিফার পাঁচবারের বর্ষসেরা তারকার।বিরতির আগে আরও দুটি গোল পেতে পারতো বার্সেলোনা, কিন্তু দুর্ভাগ্য আর নেইমারের ব্যর্থতায় সেটা হয়নি। ম্যাচের ৫৮ ও ৭৪ মিনিটে আরও দুটি গোল করে হ্যাটট্রিক করেন মেসি৷ ৫-০ গোলে এগিয়ে গেলেও আক্রমণের ঝাঁঝ কমেনি বার্সার। ফল পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে আরও দুটি গোল করেন সুয়ারেজ।ম্যাচে চার গোল উরুগুয়ে স্ট্রাইকারের৷ চার গোলে  চলতি মরশুমে সুয়ারেজের গোলসংখ্যা  ৩৩ ম্যাচে ৩৫টি

দুই খানের গল্প নয়, দুটি দেশের গল্প by হামিদ মির

খান, লে. জেনারেল সাহেবজাদা ইয়াকুব (১৯২০- ?)
পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, কূটনীতিক। তিনি ১৯২০ সালের
২৩ ডিসেম্বর ভারতের যুক্ত প্রদেশের (বর্তমান উত্তর প্রদেশ)
রামপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দেরাদুনে বিখ্যাত
প্রিন্স অব ওয়েলস রয়্যাল ইন্ডিয়ান মিলিটারী কলেজে
লেখাপড়া করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ব্রিটিশ
সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন। ভারত বিভাগের পর তিনি
পাকিস্তানে চলে আসেন এবং সৈন্যবাহিনীতে দ্রুত পদোন্নতি
লাভ করেন। লে. জেনারেল পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর
তাঁকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জেনারেল
অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) নিয়োগ করা হয়।
অতঃপর ১৯৬৯ সালের ২৩ আগস্ট তাঁকে পূর্ব পাকিস্তানের
(জোন বি) সামরিক আইন প্রশাসক এবং  একই সাথে
১৯৭১ সালের ১ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর নিয়োগ
করা হয়। তিনি ১৯৭১ সালের ১০ মার্চ ঢাকা ত্যাগ করেন।
সৈন্যবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর জেনারেল ইয়াকুব
খানকে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েট ইউনিয়নে পাকিস্তানের
রাষ্ট্রদূত (১৯৭২-১৯৮২) নিয়োগ করা হয়। ১৯৮২ থেকে
১৯৯১ সাল পর্যন্ত সময়কালে তিনি প্রথমে প্রেসিডেন্টের
উপদেষ্টা এবং পরবর্তী সাতটি সরকারের আমলে পাকিস্তানের
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইয়াকুব খান ১৯৯২
থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ সেক্রেটারি জেনারেলের
পশ্চিম সাহারা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি আগা
খান ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান ছিলেন।
সাহেবজাদা ইয়াকুব খান ৯৫ বছর বয়সে মুখে প্রশস্ত হাসি নিয়ে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। কিন্তু খুব কম মানুষই জানে, ওই হাসির আড়ালে কত দুঃখ লুকিয়ে আছে। তিনি প্রথমে সৈনিক ছিলেন, পরবর্তীকালে কূটনীতিকে পরিণত হন। সব সময় যুদ্ধের বিরোধী ছিলেন। কয়েক বছর আগে ইসলামাবাদের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিহত মার্কিন সালিভান পঞ্চ ভ্রাতার গল্প বলেছিলেন, যাঁরা ১৯৪২ সালে সবাই একসঙ্গে জাপানের আক্রমণে মারা গিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সালিভানদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল না, কারণ তাঁরা একত্রে মারা গিয়েছিলেন। এরপর কিছুক্ষণ থেমে তিনি বলেন, তবে তাঁরা ভাগ্যবান ছিলেন এই অর্থে যে তাঁরা সবাই এক সেনাবাহিনীতেই কাজ করেছেন এবং একই শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।
সাহেবজাদা ইয়াকুব খান কখনোই যুদ্ধের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করেননি, যে অভিজ্ঞতা তাঁকে আমৃত্যু তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ও তাঁর ভাই সাহেবজাদা ইউনুস খান একত্রে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করেছেন, উভয়ই জেনারেল সার্ভিস মেডেল পেয়েছিলেন। ১৯৪২ সালে ইয়াকুব খান মিসর-লিবিয়া সীমান্তে জার্মান ও ইতালীয় সেনাদের হাতে ধরা পড়েছিলেন। ওই সময় কারাগারে বসে তিনি জার্মান ও ইতালীয় ভাষা শেখেন। যুদ্ধের পর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় তাঁরা দুই ভাইও পৃথক হয়ে যান, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা রামপুরের রাজা ছিলেন। মেজর সাহেবজাদা ইয়াকুব খান পাকিস্তানে চলে যান, আর তাঁর বড় ভাই সাহেবজাদা ইউনুস খান ভারতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তার এক বছরের মাথায় দেখা গেল, দুই ভাই কাশ্মীরের যুদ্ধক্ষেত্রে পরস্পরের বিরুদ্ধে নিজের ব্যাটালিয়ন নিয়ে যুদ্ধ করছেন, একে অপরের দিকে গুলি ছুড়ছেন। মেজর ইউনুস খানের বন্দুকের গুলিতে ইয়াকুব খান আহতও হন। যখন বড় ভাই বুঝতে পারেন, তাঁর গুলিতে ছোট ভাই আহত হয়েছেন, তখন তিনি চেঁচিয়ে বলেন, ‘ছোট ভাই, মন খারাপ করিস না, সৈনিক হিসেবে আমরা স্রেফ নিজেদের দায়িত্ব পালন করছি।’ পরবর্তীকালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল মানেকশ ও কর্নেল জাসবির সিং মেজর ইউনুসের প্রশংসা করে ইয়াকুবের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। দুই ভাই পরস্পরের প্রতিপক্ষ সেনাবাহিনীতে কাজ করায় ১৯৬০ সালের আগ পর্যন্ত তাঁরা কখনোই একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, সে বছর ইয়াকুব কলকাতার মেয়ে তুবা খলিলিকে বিয়ে করেন। ছোট ভাইয়ের বিয়েতে ইউনুস তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধে ইয়াকুব পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি আর্মার্ড ডিভিশনের নেতৃত্বে ছিলেন, কিন্তু তাঁর বড় ভাই কর্নেল ইউনুস তত দিনে ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছিলেন।
সেই একই সাহেবজাদা ইয়াকুব খান ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তিন তারকা জেনারেল হন। তাঁকে পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান হিসেবে ঢাকায় নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে তাঁকে শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সামরিক জান্তাকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান না চালানোর পরামর্শ দেন। তিনি ইয়াহিয়াকে লিখিতভাবে জানান, শেখ মুজিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু ইয়াহিয়া সংশ্লিষ্ট কমান্ডারের কথা না শুনলে সাহেবজাদা ইয়াকুব খান পদত্যাগ করেন। ফলে প্রাথমিকভাবে তিনি জান্তার চক্ষুশূলে পরিণত হলেও শেষমেশ তিনিই সঠিক প্রমাণিত হন। অন্তত তিনি কোনো অপরাধের অংশীদার হননি।
জুলফিকার আলী ভুট্টো জানতেন, সাহেবজাদা ১০টির বেশি ভাষা জানতেন, যার মধ্যে ছিল ফরাসি, জার্মান, ইতালীয়, পারসিক ও আরবি। জেনারেল জিয়াউল হক যখন ১৯৭৭ সালে ভুট্টোর সরকারকে উৎখাত করেন, তখন সাহেবজাদা পাকিস্তানের রুশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি আবারও সাহসের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জিয়াউল হককে কোনো রাজনীতিককে ফাঁসিতে না ঝোলানোর পরামর্শ দেন, কিন্তু জিয়াউল হক তাঁর কথা না শুনে ভুট্টোকে ফাঁসি দেন। জেনারেল জিয়াউল হক সাহেবজাদা ইয়াকুবকে ১৯৮২ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। সে বছরই তিনি রাষ্ট্রীয় সফরে নয়াদিল্লি যান, আর ৩৬ বছর পর দুই ভাইয়ের সাক্ষাৎ হয়। চোখে পানি নিয়ে তাঁরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন, কিন্তু ১৯৪৮ সালের ঘটনা নিয়ে তাঁরা কথা বলেননি।
পরবর্তী কয়েক বছর সাহেবজাদা ছিলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির হাস্যোজ্জ্বল মুখ, যদিও পররাষ্ট্রনীতির নাটাই ছিল জান্তার হাতে, যারা আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীর মোকাবিলা করার জন্য বেসরকারি জঙ্গিবাহিনী গড়ে তুলেছিল। ১৯৮৬ সালে জেনারেল জিয়াউল হক ইয়াকুব খানকে কারগিল দখল করার পরিকল্পনা জানান, সেনাবাহিনীর কয়েকজন কমান্ডার ওই পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ইয়াকুব সঙ্গে সঙ্গে ওই পরিকল্পনা বাতিল করে দেন। সৌভাগ্যবশত জেনারেল জিয়াউল হক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একমত হলে ওই পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায়। এর কয়েক বছর পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো তাঁর মন্ত্রিসভাকে জানান, সেনাবাহিনী কারগিলের পাহাড়ের কিছু কৌশলগত জায়গা দখল করতে চায়। যথারীতি সেবারও সাহেবজাদা খুব জোরের সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করেন। বেনজিরকেও তিনি ‘না’ বলতে বাধ্য করেন। কিন্তু তৃতীয়বার সেনাবাহিনী সরকারকে না জানিয়েই ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়, ফলে পাকিস্তানকে অনেক ভুগতে হয়েছিল।
সাহেবজাদা ইয়াকুব ছিলেন পাকিস্তানের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি যেমন জেনারেল জিয়াউলের সঙ্গে কাজ করেছেন, তেমনি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী যেমন বেনজির ভুট্টো ও নওয়াজ শরিফের সঙ্গেও কাজ করেছেন। কূটনীতিতে তিনি ছিলেন এক কিংবদন্তি। শেষ দিনগুলোতে তিনি নীরবে নওয়াজ শরিফের সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন, তাঁকে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝির অবসান ঘটানোর তাগিদ দিয়েছেন।
স্মৃতিকথা লিখতে বললে তিনি জবাব দিতেন, ‘আমি নিজের বেদনা ও অর্জনের কথা লিখে লোকের তামাশা হতে চাই না।’ তিনি বলেছিলেন, ‘নিজের কথা বলতে গেলে ভাইয়ের কথা না বললে হবে না, আর সে তো ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করেছে। সে তার কাজ করেছে, আমি আমারটা, আমরা একে অপরের দিকে গুলি ছুড়েছি।’ তাই তিনি এসব লিখতে পারবেন না।
১৯২০ সালে রামপুরে জন্ম হয়েছিল তাঁর, আর মৃত্যু হলো ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি। তিনি সব সময়ই ভারতে অবস্থানরত নিজের ভাই ও বোনদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে চাইতেন। তিনি কখনোই যুদ্ধে বিশ্বাসী ছিলেন না। আমি অবশ্যই বলব, এটা দুই ভাই বা খানদের গল্প নয়, এটা দুটি দেশের গল্প, যাদের প্রয়োজন শান্তি।
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন
হামিদ মির: পাকিস্তানের জিয়ো টিভিতে কাজ করেন।