Monday, July 15, 2013

ছদ্মনামে প্রথম রহস্য উপন্যাস লিখেছেন জে কে রাউলিং!

জে কে রাউলিং
যুক্তরাজ্যের তুমুল জনপ্রিয় ‘হ্যারি পটার’ সিরিজের লেখক জে কে রাউলিং এবার ছদ্মনামে রহস্যোপন্যাস লিখেছেন। দেশটির সানডে টাইমস পত্রিকা গতকাল রোববার এ খবর প্রকাশ করে। জে কে রাউলিংয়ের ওই রহস্যোপন্যাসের নাম দ্য কুকু’জ কলিং। একজন মডেলের আত্মহত্যার ঘটনা তদন্তে নিয়োজিত এক গোয়েন্দার কাহিনি এ উপন্যাসের বিষয়বস্তু। খবরে বলা হয়, প্রকাশক উপন্যাসটির লেখককে রবার্ট গলব্রেইথ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। লেখককে ব্রিটিশ রাজকীয় সামরিক পুলিশ বাহিনীর একজন সাবেক সদস্য এবং ২০০৩ সাল থেকে একটি বেসামরিক নিরাপত্তা সংস্থায় কর্মরত বলেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সামরিক বাহিনীতে কাজ করা একজন লেখক তাঁর প্রথম গোয়েন্দা কাহিনিতেই কীভাবে এত ভালো গল্প সাজাতে পারলেন, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় সানডে টাইমস অনুসন্ধানে নামে। তখনই লেখকের আসল নাম-পরিচয় বেরিয়ে আসে। পরিচয় ফাঁস হওয়ার পর রাউলিং (৪৭) তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জনসমক্ষে নিজেকে প্রকাশ না করে বা কোনো প্রত্যাশা ছাড়া ভিন্ন নামে বই লিখে সে সম্পর্কে মতামত পাওয়া ছিল চমৎকার অভিজ্ঞতা এবং সত্যিকার আনন্দের।পত্রিকাটির তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই উপন্যাসটির দেড় হাজারের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। এএফপি।

‘তালেবান-কন্যা’ পরিচয়ে থাকতে চাই না

পাকিস্তানের নারীশিক্ষা আন্দোলনের কিশোরী কর্মী মালালা ইউসুফজাই বলেছে, জঙ্গিগোষ্ঠী তালেবানের হত্যাচেষ্টার ঘটনা দিয়েই সে পরিচিত হয়ে থাকতে চায় না। বরং সে ‘নিজের অধিকার আদায়ে লড়াই করেছে, এমন এক মেয়ে’ হিসেবে পরিচিত হতে আগ্রহী। জাতিসংঘে ব্যাপকভাবে প্রশংসা কুড়ানো এক বক্তৃতা দেওয়ার এক দিন পর গত শনিবার ১৬ বছর বয়সী মালালা ওই কথা বলেছে। এ সময় সে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার আদায়ে তার জীবন উৎসর্গ করবে বলেও জানিয়েছে। নিউইয়র্কে পাকিস্তানের জাতিসংঘ মিশনের এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে শনিবার মালালা বলে, ‘২০১২ সালের ৯ অক্টোবরের ওই হামলা আমার জীবনের একটি অংশমাত্র। আমি কঠোর পরিশ্রম করে যেতে চাই, মেয়েদের শিক্ষার জন্য আমি সারা জীবন উৎসর্গ করতে চাই।’ ‘সত্যি কথা বলতে কী, তালেবানের কাছে গুলি খাওয়া মেয়ের পরিচয় নিয়ে আমি থাকতে চাই না। আমি সেই মেয়ের পরিচয় নিয়ে থাকতে চাই, যে তার অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই করেছে’, বলে মালালা। নোবেল শান্তি পুরস্কারের একজন শক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় থাকা মালালা বলে, ‘তালেবান বাহিনী ওই সব মানুষের দলে, যারা মনে করে, একজন নারী স্কুলে গেলে সে ক্ষমতাশালী হবে। তারা তাকে ভয় পায়।’ পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ায় সম্প্রতি স্কুলে সন্ত্রাসী হামলা প্রসঙ্গে মালালা বলে, ‘তারা এখনো স্কুলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। নিরীহ শিশুদের হত্যা করছে।’ মালালা আরও বলে, ‘আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করি, তবে শিগগিরই দেখতে পাব, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও অন্য দরিদ্র দেশগুলোতে অনেক স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা দেখব, নারীরা তেমন অধিকারই ভোগ করছেন, যেমন ভোগ করছেন একজন পুরুষ।’ রসিকতা করে মালালা বলে, ‘আমরা (নারীরা) সমতা চাই, আমরা পুরুষের মতো নই।’ মেয়েদের স্কুলে যাওয়ায় উৎসাহিত করা থেকে মালালাকে নিবৃত্ত করতে গত বছরের অক্টোবরে এক পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গি তার মাথায় গুলি করে। যুক্তরাজ্যে উন্নত চিকিৎসার পর সে সেরে উঠেছে। গত শুক্রবার জাতিসংঘে মালালার উপস্থিতি ছিল ওই হামলার পর জনসমক্ষে তার সরাসরি কথা বলার প্রথম ঘটনা। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের অধিবেশনের বাইরে শিক্ষা-সংক্রান্ত এক শীর্ষ সম্মেলনে মালালাকে আবার দেখা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এএফপি।

চীনে দুর্যোগ থেকে বাঁচাতে পাঁচ লাখ মানুষ স্থানান্তরিত

চীনের পূর্বাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় সুলিকের প্রভাবে ভারী বর্ষণজনিত দুর্যোগের কবল থেকে রক্ষার জন্য গতকাল রোববার পর্যন্ত পাঁচ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই দুর্যোগে তাইওয়ানে দুজন প্রাণ হারিয়েছে। চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের উপকূলে সুলিকের প্রভাবে বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ১১৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। ফুজিয়ান ও ঝেজিয়াং প্রদেশে বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার সেনা ওই এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পূর্বাঞ্চলজুড়ে প্রায় ৩১ হাজার জাহাজ বন্দরে ফিরিয়ে আনা হয় এবং উড়োজাহাজের ২০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।সুলিকের প্রভাবে চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নিংদে নগরে সমুদ্রতীরের বাঁধে ৩৩ ফুট পর্যন্ত উঁচু ঢেউ আঘাত হানছে।
সরকারি সূত্র জানায়, এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দেশটির কৃষি খাতে সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার। দুর্যোগকবলিত এলাকায় জরুরি উদ্ধার তৎপরতা চলছে। প্রবল বর্ষণে অন্তত ২০০ মানুষের মৃত্যু অথবা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঝোড়ো হাওয়া ও বর্ষণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া বর্ষণজনিত বন্যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি স্থানে গাছপালা উপড়ে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়। এই ঘূর্ণিঝড় প্রথমে তাইওয়ানে আঘাত হানে। এতে ভারী বর্ষণের ফলে সেখানে ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধস হয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় সেখানে প্রায় ৫০ হাজার সেনাসদস্যকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গ্রীষ্মকালে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত বিরল নয়। উষ্ণ জলীয় বাষ্প ও নিম্নচাপের প্রভাবে প্রায় প্রতিবছরই এ অঞ্চলে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় হয়। এএফপি।

ফ্লোরিডায় কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ হত্যার মামলায় জিমারম্যান নির্দোষ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ ট্রেভন মার্টিনকে গুলি করে হত্যার আলোচিত মামলায় স্থানীয় নাগরিক নিরাপত্তা সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী জর্জ জিমারম্যানকে গত শনিবার নির্দোষ বলে রায় দিয়েছেন আদালত। গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ‘নেইবারহুড ওয়াচম্যান’ জিমারম্যান ১৭ বছর বয়সী নিরস্ত্র মার্টিনকে গুলি করে হত্যা করেন। জিমারম্যানের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন আত্মরক্ষার জন্যই মার্টিনকে গুলি করতে বাধ্য হন তিনি। ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই এই হত্যাকাণ্ডকে বর্ণবাদী ঘটনা বলে উল্লেখ করেন। শনিবার রায় ঘোষণার সময় জিমারম্যান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় তাঁকে হাসতে দেখা যায়। বিচারক রায় ঘোষণার পর জিমারম্যানের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনি মুক্ত। এখন চলে যেতে পারেন।’ জিমারম্যানের আইনজীবী মার্ক ও’মারা বলেন, ‘আশা করি এই রায়ে সবাই সন্তুষ্ট হয়েছেন।’ নিহত ট্রেভন মার্টিনের আইনজীবী বেঞ্জামিন ক্রাম্প বলেন, ‘মার্টিন ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন...সমতা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে যুদ্ধের প্রতীক হিসেবে থাকবেন।’ মার্টিনের বাবা ট্রেসি মার্টিন টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ‘আমি হতাশ। আমার হূদয় ভেঙে গেছে।’ বিবিসি, রয়টার্স।

নেলসন ম্যান্ডেলাকে নিয়ে পোস্টার প্রদর্শনী

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নেলসন ম্যান্ডেলাকে নিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী পোস্টার আহ্বান করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকজন ডিজাইনার। উদ্দেশ্য ছিল কিংবদন্তিপ্রতিম নেতার প্রতি সম্মান জানানো। পোস্টার পাঠানোর আহ্বানে ব্যাপক সাড়া পড়ে। সাত শতাধিক পোস্টার জমা পড়ে। সেখান থেকে বাছাই করা ৯৫টি পোস্টার নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। দেশের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্টের ৯৫ বছর বয়সের বিষয়টি মাথায় রেখেই ৯৫টি পোস্টার বাছাই করা হয়। ১৮-২২ জুলাই প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠেয় এক প্রদর্শনীতে এসব পোস্টার স্থান পাবে। তহবিল সংগ্রহের জন্য নেলসন ম্যান্ডেলা চিলড্রেনস হসপিটাল ট্রাস্টের পক্ষ থেকে পোস্টারগুলো নিলামে তোলা হবে। ফুসফুসের সংক্রমণের কারণে গত ৮ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় মেডিক্লিনিক হার্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ম্যান্ডেলাকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি। গত শুক্রবার ম্যান্ডেলার স্ত্রী গ্রাসা ম্যাশেল জানান, ম্যান্ডেলা চিকিৎসায় ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন। ম্যান্ডেলাকে নিয়ে তাঁর সংশয় অনেকটাই কেটে গেছে। এর আগে দক্ষিণআফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা জানান, মহান নেতা ম্যান্ডেলা চিকিৎসায় ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন। এএফপি, দি স্টার।

ফিলিপাইনে মুসলিম বিদ্রোহীদের সঙ্গে সম্পদ ভাগাভাগির চুক্তি

ফিলিপাইনের মুসলিম বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারের ‘সম্পদ ভাগাভাগির’ এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে কয়েক দশক ধরে চলা ওই বিদ্রোহ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বিদ্রোহের কারণে এ পর্যন্ত অন্তত দেড় লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী মিরিয়াম করোনেল-ফেরার বলেন, বিদ্রোহী মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের (এমআইএলএফ) সঙ্গে গত শনিবার ওই চুক্তি সই করা হয়। সরকার সতর্কতার সঙ্গে আশাবাদী যে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এমআইএলএফের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি সই করা সম্ভব হবে। মধ্যস্থতাকারী ফেরার এএফপিকে বলেন, ‘এই সম্পদ ভাগাভাগির চুক্তির মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, দুই পক্ষই শান্তি চুক্তি চায়, সংঘাতের অবসান চায়। এ বিষয়ে দুই পক্ষই আন্তরিক।’ চুক্তি অনুযায়ী, দক্ষিণ ফিলিপাইনের মুসলিম সংখ্যালঘু মিন্দানাও অঞ্চলের ধাতুর খনি ও প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে আয়ের ৭৫ ভাগ বিদ্রোহীরা পাবে। এ অঞ্চলটিকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিবেশী মালয়েশিয়ায় বৈঠকের পর এ সমঝোতা চুক্তি হয়। জ্বালানি সম্পদ থেকে আয়ের সমান ভাগ হবে। শান্তি আলোচক ফেরার বলেন, ‘আমরা সব সময়ই শান্তি চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী।... রমজান মাস শেষ হলে দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি হবে।’ মিন্দানাওয়ের স্বাধীনতার দাবিতে এমআইএলএফ ১৯৭০ সালে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করে। এ যুদ্ধ বন্ধে প্রেসিডেন্ট বেনিগনো অ্যাকুইনোর সরকার ও এমআইএলএফ গত অক্টোবরে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর করে। ২০১৬ সালে এর মেয়াদ শেষ হবে। তবে তার আগেই চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি হতে যাচ্ছে। ফেরার জানিয়েছেন, বিদ্রোহীদের নিরস্ত্রীকরণ ও মিন্দানাও এলাকার স্বায়ত্তশাসনের মাত্রা কতটা বিস্তৃত হবে, তা নিয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে। এএফপি।

আসল স্পর্শকাতর তথ্য এখনো প্রকাশ করেননি স্নোডেন!

এডওয়ার্ড স্নোডেন মার্কিন সরকারের ‘আসল স্পর্শকাতর’ তথ্যগুলো এখনো প্রকাশ করেননি বলে জানিয়েছেনগার্ডিয়ান পত্রিকার সাংবাদিক গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড। তিনি বলেছেন, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক এই কর্মীর হাতে এমন তথ্য-উপাত্ত আছে, যা প্রকাশ করলে যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক বেশি ক্ষতি হতে পারে। গত শনিবার আর্জেন্টিনার লা নেসিয়ন পত্রিকায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সাংবাদিক গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড। তিনিই প্রথম স্নোডেনের ফাঁস করা তথ্য যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদপত্র গার্ডিয়ান-এ প্রকাশ করেন। লা নেসিয়ন পত্রিকাকে গ্রিনওয়াল্ড বলেন, স্নোডেনের কাছে মার্কিন সরকারের এমন কিছু তথ্য আছে, যা প্রকাশ করে তিনি মিনিটের মধ্যেই সরকারের বিশাল ক্ষতি করতে পারেন। যে ক্ষতি ‘মার্কিন ইতিহাসে’ কোনো ব্যক্তি করতে পারেনি। তবে গ্রিনওয়াল্ড এ-ও বলেন, ওই সব তথ্য ফাঁস করা স্নোডেনের উদ্দেশ্য নয়। তিনি বলেন, স্নোডেন এর আগে যে নজরদারির তথ্য প্রকাশ করেছেন, তার উদ্দেশ্য মূলত জনগণকে এটা জানানো যে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয় বিষয়গুলো আর গোপনীয় নেই। এদিকে রাশিয়া বলেছে, তারা এখনো আশ্রয়ের জন্য স্নোডেনের আবেদন পায়নি। গত শুক্রবার মস্কোর বিমানবন্দরে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের সময় স্নোডেন রাশিয়ার কাছে সাময়িকভাবে আশ্রয় চান। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, এ জন্য স্নোডেনকে ফেডারেল মাইগ্রেশন সার্ভিস (এফএমএস) বরাবর আবেদন করতে হবে। গত শনিবার এফএমএসের প্রধান কনস্তান্তিন রমোদনভস্কি জানান, ওই দিন পর্যন্ত তাঁরা স্নোডেনের কোনো আবেদন পাননি। পেলে স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ায় তা খতিয়ে দেখা হবে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রাশিয়ার বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে বলেন, ‘আসলে এই মুহূর্তে রাশিয়ায় আশ্রয়ের জন্য স্নোডেনের আবেদনের ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না।’ রাশিয়া স্নোডেনকে আশ্রয় দিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যদিও স্নোডেন লাতিন কোনো দেশে আশ্রয় পাওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তর্বতী সময়ের জন্যই শুধু রাশিয়ার কাছে আশ্রয় চাইছেন। এর আগে একবার রাশিয়ার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করার পর তা প্রত্যাহার করে নেন স্নোডেন। লাতিন আমেরিকার ভেনেজুয়েলা, নিকারাগুয়া ও বলিভিয়া স্নোডেনকে আশ্রয় দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি ওই তিন দেশের যেকোনো একটিতে আশ্রয় নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। তথ্য ফাঁসের কিছুদিন আগে স্নোডেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ে চলে যান। সেখান থেকে গত ২৩ জুন মস্কোর শেরেমেয়িতেভো বিমানবন্দরে পোঁছান। তখন থেকে ওই বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকায় অবস্থান করছেন তিনি। প্রশাসনের নজরদারির কথা ফাঁস করায় স্নোডেনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মার্কিন সরকার। তাঁর পাসপোর্টও বাতিল করা হয়েছে। এএফপি, রয়টার্স।

কারাগার থেকে পালানো নিয়ে মুরসিকে জিজ্ঞাসাবাদ

২০১১ সালে মোবারকবিরোধী আন্দোলনের সময় ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ও তাঁর দলের কয়েকজন নেতার কারাগার থেকে পালানোর বিষয়ে তাঁদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। বিচার বিভাগীয় সূত্র বার্তা সংস্থাকে এ কথা জানিয়েছে। এদিকে বিশিষ্ট উদারপন্থী নেতা মোহাম্মদ এল বারাদি গতকাল পররাষ্ট্রবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এর আগে সরকারি অভিযোক্তারা মোহাম্মদ মুরসি ও তাঁর সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ করেন। গতকাল রোববার বিচার বিভাগের কয়েকটি সূত্র জানায়, সরকারি তদন্তকারীরা এদিন মুরসিকে একটি অজ্ঞাত স্থানে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। মুরসি ও তাঁর মুসলিম ব্রাদারহুড দলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি, সহিংসতা উসকে দেওয়া ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ করা হয়েছে। যাঁদের বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে মুরসির সংগঠন ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক সংগঠন ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির (এফজেপি) উপপরিচালক এসাম এল-এরিয়ানও রয়েছেন। ২০১১ সালের মোবারকবিরোধী বিক্ষোভের অস্থিতিশীল সময়ে মুরসি ও ব্রাদারহুডের বেশ কিছুসংখ্যক নেতা-কর্মী ওয়াদি নাতরুন কারাগার থেকে পালিয়ে যান। গত জুনে একটি আদালতে বিচারের সময় প্রকাশ পায় গাজার হামাস শাসক ও লেবাননের হিজবুল্লাহ তাঁদেরকে পালাতে সহায়তা করেছিল। মিসরের ইতিহাসে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে গত ৩ জুলাই সেনাবাহিনী ক্ষমতাচ্যুত করে। সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের পর এ পদক্ষেপ নেয় সেনাবাহিনী। আজ সোমবার ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি (এফজেপি) দেশজুড়ে নতুন করে গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে সেনাবাহিনী মুরসিকে অজ্ঞাত স্থানে আটক করে রেখেছে। মিসরের আইন অনুযায়ী, সরকারি অভিযোক্তারা পুলিশ অথবা যেকোনো সাধারণ মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করার ক্ষমতা রাখেন। ১৪ শীর্ষ নেতার সম্পদ জব্দের নির্দেশ: শীর্ষ ইসলামপন্থী ১৪ নেতার সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন মিসরের সরকারি অভিযোক্তা (পাবলিক প্রসিকিউটর) হিশাম বারাকাত। বিচার বিভাগ সূত্রে এ কথা জানা গেছে। সূত্র জানায়, এই নেতাদের মধ্যে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রধান মোহাম্মদ বাদি ও তাঁর উপপ্রধান খাইরাত আল-শাতেরের নামও আছে। তাঁরা ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির তালিকাভুক্ত। সূত্রমতে, সম্পদ জব্দের বিষয়টি এসব নেতার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তের একটি অংশ। ১৪ জনের মধ্যে নয়জন হলেন মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা। বাকি পাঁচজন সাবেক জঙ্গিগোষ্ঠী গামা ইসলামিয়াসহ অন্যান্য গ্রুপের। সরকারি অভিযোক্তারা দেশটির সম্প্রতি উত্খাত হওয়া প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ পাওয়ার পরদিন ইসলামপন্থী নেতাদের সম্পত্তি জব্দের এ নির্দেশ দিলেন। এএফপি ও বিবিসি।

কোন পথে রাজনীতি? by ড. হারুন রশীদ

সংলাপ না হলে সংঘাত- বর্তমানে রাজনীতি এমন অবস্থায় দাঁড়িয়ে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মহাজোট সরকারের মেয়াদ শেষ হতে আর বেশি দেরি নেই। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচন অত্যাসন্ন। এ অবস্থায় দিন দিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে পাঁচ সিটি নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থীদের ভরাডুবির পর রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর অবস্থার দিকে যাচ্ছে। তাতে জনমনে নানা শংকার সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রাজনীতিকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার কথা বলা হচ্ছে বিশেষজ্ঞ মহল থেকে। একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এর কোনো বিকল্প নেই। গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে গিয়ে বারবার হোঁচট খেয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য এদেশের মানুষকে রক্ত দিতে হয়েছে। অথচ লাখ লাখ মানুষের রক্তস্রোতের বিনিময়েই এদেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীন দেশে গণতন্ত্র মজবুত ভিত্তি পাবে- এমনটাই ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র বারবার বিপন্ন হয়েছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ভূলুণ্ঠিত করে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ক্ষমতা দখল করেছে। চেপে বসা স্বৈরশাসন গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এদেশের মানুষ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে। অথচ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার সময়ও গণতন্ত্র বিকশিত হওয়ার পথ খুব একটা সুগম হয়নি। উল্টো নেতানেত্রীদের মধ্যে পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ ও অসহনশীল মনোভাবই দেশের রাজনীতির প্রধান চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। দায়িত্বশীল পদে থেকেও এমন সব আচরণ করা হয়, কথাবার্তা বলা হয় যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করে তোলে। এতে গণতান্ত্রিক চর্চা ব্যাহত হয়। কিন্তু মানুষ দেখতে চায়, জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো অভিন্ন সুরে কথা বলছে এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে গণতন্ত্রকামী মানুষ চায়, সভা-সমাবেশের নামে রাজপথ গরম না করে, জনভোগান্তি না বাড়িয়ে, মাঠে-ময়দানে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য না দিয়ে সংসদে গিয়ে সব বিষয়ে আলোচনা করা হোক, সংসদই হোক সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু।
দেশে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে শান্তিকামী মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ে। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা রাজনৈতিক সংঘাতকেই এদেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে মনে করেন। রাজনৈতিক অবিশ্বাস ও বিভক্তি এ দেশে অনেক গভীরে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সংঘর্ষ আর বিভক্তির রাজনীতি থেকে দেশকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় দেশ চললেও এখানে গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র পরমতসহিষ্ণুতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এছাড়া সংসদ বর্জনের রীতি এখানে রীতিমতো কালচারে পরিণত হয়েছে। এটিও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংসদই হওয়ার কথা ছিল সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। দুর্ভাগ্য স্বাধীনতার চার দশক পরও এখনও তা হয়ে ওঠেনি।
শুধু রাজনৈতিক বিরোধিতায়ই নয়, নেতানেত্রীদের কথাবার্তায়ও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীল মনোভাবের অভাব রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভাষাতেও রয়েছে শিষ্টাচারের যথেষ্ট অভাব। বিগত বাজেট অধিবেশনে কিছু সংসদ সদস্য যে ভাষায় কথা বলেছেন, তা নিয়ে মানুষ ছিঃ ছিঃ করেছে। দুঃখজনক হচ্ছে, কে কার চেয়ে বড় কিংবা কাকে কিভাবে ছোট করা যায়- সব সময় এ ধরনের অসহিষ্ণু মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় রাজনীতিকদের কথাবার্তায়। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় এ ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও মানসিকতা কোনো অবস্থায়ই কাম্য নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অপরের মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াই আসলে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমাদের দেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের চর্চা যত বাড়বে, গণতন্ত্রের ভিত্তি ততই মজবুত হবে। প্রসঙ্গত ভলতেয়ারের সেই বিখ্যাত উক্তির কথা স্মরণ করতে হয়। তিনি বলেছিলেন, আমি তোমার মতের সঙ্গে একমত নাও হতে পারি, কিন্তু তোমার মতামত প্রকাশের অধিকারের জন্য জীবনও দিতে পারি। গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় এ ধরনের মানসিকতা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো রাজনৈতিক বৈরিতাপূর্ণ সমাজে বাকসংযম এবং তাতে শালীনতা রক্ষা অপরিহার্য। দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা কথাবার্তায় দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন এমনটিই স্বাভাবিক। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মাঝেমধ্যেই এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে। এবং তা প্রায়ই ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ি পর্যন্ত গিয়ে গড়ায়।
দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ প্রায়ই একে অপরের প্রতি উসকানিমূলক বক্তব্য রাখেন। উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাতে গিয়েই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। আসলে কেউ দায়িত্ব নিতে চান না। কথার ফানুস উড়িয়েই চমক সৃষ্টি করতে চান। সংসদে, জনসভায় কিংবা টিভি টকশোতে জনতার হাততালি কুড়াতে অনেকেই কথার লাগাম টানতে চান না। এতে কেউ কৌতুক বোধ করেন, কেউ বা সস্তা আমোদও পান। কিন্তু বক্তার ব্যক্তিত্ব যে এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেটা কি সংশ্লিষ্টরা বুঝতে অক্ষম?
প্রধান বিরোধী দল বিএনপি যদিও এবারের বাজেট অধিবেশনে যোগ দিয়েছে, কিন্তু এর আগে তারা লাগাতার সংসদ বর্জন করেছেন। আওয়ামী লীগও বিরোধী দলে থাকার সময় লাগাতার সংসদ বর্জন করেছে। বিরোধী দলের সংসদ বর্জন কখনও গণতান্ত্রিক রীতিসিদ্ধ হতে পারে না। সংসদীয় রীতিতে বিরোধী দলের দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক গণতান্ত্রিক দেশেই বিরোধী দল ছায়া সরকার গঠন করে। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে তাদের ভুলত্র“টি ধরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে সরকারকে সহায়তা করে তারা। এটাই গণতান্ত্রিক রীতি। এক্ষেত্রে বয়কট-বর্জনের কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে সরকারি দলেরও দায়িত্ব রয়েছে বিরোধী দলকে আস্থায় নেয়ার। বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনাকে ভালোভাবে নিতে হবে। সেই অনুযায়ী ভুলত্র“টি শুধরে জনকল্যাণে কাজ করে যেতে হবে। এজন্য পরমতসহিষ্ণুতার কোনো বিকল্প নেই। তবে মনে রাখতে হবে, এক্ষেত্রে সব পক্ষেরই দায়িত্ব রয়েছে। এককভাবে কারও ওপর দোষ চাপিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
এখানে একটি বিষয়ে আমরা ঐক্য লক্ষ্য করছি। সেটি হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকার প্রশ্নে (নাম যাই হোক না কেন) সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়েই আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে সরকার বলছে, এ আলোচনা হতে হবে সংসদে। কিন্তু বিরোধী দল পূর্বশর্ত জুড়ে দিয়েছে যে, কেবল তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে আলোচনার নিশ্চয়তা দিলেই তারা সংসদে এ নিয়ে আলোচনা করবেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদে যোগ দেয়া বিরোধী দলের নেতাদের দায়িত্ব। এক্ষেত্রে কোনো শর্তারোপ করা গণতান্ত্রিক রীতিসিদ্ধ নয়।
সংসদকে কার্যকর করতে হলে সবার অংশগ্রহণেই তা করতে হবে। সংসদ যদি কার্যকর না হয়, তাহলে এর দায় বিরোধী দলও এড়াতে পারবে না। আর সংসদ কার্যকর না হলে গণতন্ত্রের ভিত্তিও মজবুত হবে না। গণতান্ত্রিক আবহ ছাড়া রাজনীতিরও কোনো চরিত্রগত পরিবর্তন হবে না। আর সেটি না হলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমবে না। ফলে বাধাগ্রস্ত হবে সব ধরনের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড, উন্নয়ন-অগ্রগতি। তাই সব পক্ষকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে একটি গুণগত পরিবর্তনের জন্য।
নব্বইয়ের পর দেশে নতুন করে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরু হলে আশা করা গিয়েছিল, রাজনীতিতে একটি সুবাতাস বইবে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভাষা এবং নেতানেত্রীদের আচরণে পরিবর্তন আসবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তা হচ্ছে না। বৈরিতা ও বিদ্বেষপূর্ণ রাজনীতিরই দাপট এখনও। সবচেয়ে দুঃখজনক, রাজনীতিতে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলো উপেক্ষিত হচ্ছে। নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে- মূলত এ নিয়েই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনীতি। ক্ষমতায় যাওয়া ও ক্ষমতায় থাকার রাজনীতিই প্রাধান্য পাচ্ছে। অথচ বেকারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সংকট, যানজটে নাকাল মানুষ। রমজানেও উচ্চ দ্রব্যমূল্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে মানুষ। বিরোধী দল জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এ ইস্যুগুলো নিয়ে কথা বললে জনসাধারণ উপকৃত হতো। কিন্তু তা না করে তারা শুধু রাজনৈতিক ইস্যু নিয়েই ব্যস্ত রয়েছে।
আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি গুণগত পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয় এমন কিছু করা থেকে রাজনীতিকদের অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। বিরোধী দলের সংসদ বর্জন, আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও যেমন সমর্থনযোগ্য নয়, তেমনি সরকারি দলের অগণতান্ত্রিক আচরণও মেনে নেয়া যায় না। যদি রাজনৈতিক দলগুলো সঠিক আচরণ না করে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করে, তাহলে গণতন্ত্র আবারও যে বিপন্ন হবে, সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। এর মাসুল যে শুধু সাধারণ মানুষকে দিতে হবে তাই নয়, রাজনৈতিক দলগুলোও এ থেকে নিষ্কৃতি পাবে না। কথায় আছে- নগর পুড়লে দেবালয়ও এড়ায় না। কাজেই অর্থপূর্ণ সংলাপের মধ্যেই সমঝোতা খুঁজতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো পক্ষেরই কোনো শর্তারোপ বা গোঁ ধরা উচিত হবে না। বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রমজানের পর আন্দোলন তীব্র করার কথা বলেছেন। অন্যদিকে সরকারও তার অবস্থানে যদি অটল থাকে, তাহলে সেটা হবে খুবই দুর্ভাগ্যজনক। মনে রাখতে হবে, দেশের মানুষকে জিম্মি করার অধিকার কারও নেই। আর জনসাধারণই সবচেয়ে বেশি সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। ক্ষমতায় বসানোর ক্ষমতা তাদের হাতেই।
ড. হারুন রশীদ : সাংবাদিক, কলামিস্ট

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি থাকা উচিত কি? by আবদুল লতিফ মণ্ডল

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে চাকরিপ্রার্থী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আন্দোলনে করছে। চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবি বেশ কয়েক বছরের পুরনো হলেও সম্প্রতি ৩৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পরই তা নতুন রূপ ধারণ করেছে। পত্রপত্রিকার খবর থেকে জানা যায়, ৮ জুলাই পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষার প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ অন্য বছরগুলোতে যেখানে বিজ্ঞাপিত পদের ১০ থেকে ১৫ ভাগ পরীক্ষার্থীকে পাস করিয়ে লিখিত পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হতো, সেখানে এবার মাত্র ৫ ভাগ পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ করা হয়। তারা আরও অভিযোগ করেছে যে, এবারের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফলে কোটা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। ফলে কোটাধারী প্রায় ৫৮ ভাগ পরীক্ষার্থী সাধারণ পরীক্ষার্থীদের তুলনায় কম স্কোর করলেও তাদের মেধা তালিকায় অনেক বেশি রাখা হয়েছে। তাই ৩৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর আন্দোলন শুরু করে চান্স না পাওয়া পরীক্ষার্থীরা। আন্দোলন-প্রতিবাদের মুখে ৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএসসি। এভাবে শুরু হওয়া আন্দোলন সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে রূপ নেয় এবং তা আন্দোলন আকারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি চালুর উদ্দেশ্য হল নাগরিকদের অনগ্রসর অংশ বা সম্প্রদায় যাতে চাকরিতে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করতে পারেন সেজন্য তাদের অনুকূলে বিশেষ বিধি-বিধান প্রণয়ন। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনামলে বেসামরিক প্রশাসনে ‘আনকভিনেন্টেড’ ক্যাডার সৃষ্টিকে অনেকটা কোটা পদ্ধতি চালু বলে আখ্যায়িত করা যেতে পারে। তবে এটির মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক। সাম্রাজ্যকে টিকিয়ে রাখার জন্য ‘কভিনেন্টেড ক্যাডারের’ তুলনায় ‘নিুশ্রেণীর আনকভিনেন্টেড ক্যাডারে’ ভারতীয়দের ব্যাপকভাবে নিয়োগ দেয়া হয়। পাকিস্তান আমলে কোটা পদ্ধতির প্রসার ঘটে। সেন্ট্রাল পাবলিক সার্ভিস কমিশন কর্তৃক গৃহীত পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগকৃত অল-পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস (যেমন- সিএসপি, পিএসপি) এবং পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সুপিরিয়র সার্ভিসগুলোতে (যেমন-পাকিস্তান অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস সার্ভিস, পাকিস্তান ট্যাক্সেশন সার্ভিস, পাকিস্তান কাস্টমস অ্যান্ড এক্সসাইজ সার্ভিস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস, পোস্টাল সার্ভিস) কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো। সাবর্ডিনেট সার্ভিসের পদগুলোতে কোটা পদ্ধতি চালু করা হয়।
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গৃহীত বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকদের অনগ্রসর অংশ যাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করতে পারেন সেজন্য তাদের অনুকূলে বিশেষ বিধি প্রণয়নের বিধান করা হয়। এছাড়া কোনো ধর্মীয় বা উপসম্প্রদায়গত প্রতিষ্ঠানে ওই ধর্মাবলম্বী বা উপসম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগ সংরক্ষণের বিধান সংবলিত যে কোনো আইন কার্যকর করার বিধান করা হয়। নারী বা পুরুষের কাজের বিশেষ প্রকৃতি বিবেচনায় যে কোনো শ্রেণীর নিয়োগ বা পদ পুরুষ বা নারীর জন্য সংরক্ষণেও সংবিধান রাষ্ট্রকে ক্ষমতা প্রদান করে। এসব বিধান সংবিধানে এখনও বহাল রয়েছে।
সংবিধান গৃহীত হওয়ার আগেই সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি শুরু হয়। ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বরে জারিকৃত এক আদেশে বলা হয়, অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে সব শূন্য পদ জেলাগুলোর জনসংখ্যার ভিত্তিতে পূরণ করতে হবে। যদি পদসংখ্যা এমন হয় যে, সব জেলার জন্য তা বণ্টন করা সম্ভব নয়, সে ক্ষেত্রে বিভাগের জনসংখ্যার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। ওই আদেশে আরও বলা হয়, জেলা/বিভাগীয় পদের কোটা নির্ধারিত হবে পদের শ্রেণী ভিত্তিতে। উদাহরণস্বরূপ, প্রথম শ্রেণীর শূন্য পদের ৩০ ভাগ মেধা এবং বাকি পদ জেলা/বিভাগীয় কোটার ভিত্তিতে পূরণের নির্দেশ দেয়া হয়। চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা এবং নির্যাতিত মহিলাদের কোটা দাঁড়ায় যথাক্রমে ৩০ ভাগ এবং ১০ ভাগ।
সংবিধান গৃহীত হওয়ার পরেও জেলা/বিভাগীয় কোটা চালু থাকে। অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ, রশীদের নেতৃত্বাধীন ১৯৭৭ সালের পে অ্যান্ড সার্ভিসেস কমিশনের একজন সদস্য এমএম জামান (পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব) ব্যতীত অন্য সব সদস্য জেলা কোটা না রাখার পক্ষে মত দেন। কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, `This policy (district quota) will have serious repercussion on the quality of the service particularly in positions which are meant to have nationwide function.' তবে কমিশন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদে জেলা কোটায় আপত্তি করেনি। জনাব এমএম জামান তার নোটে উল্লেখ করেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে বাস করলেও সচিবালয়ের ১৬ শতাংশ, রেলওয়ের ১০ শতাংশ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ১৪ শতাংশ পদে এ দুটি বিভাগের লোক নিয়োজিত। এর জন্য তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসম শিক্ষা সুযোগকে দায়ী করেন এং অনুন্নত অঞ্চলগুলোতে ভালো স্কুল, কলেজ এবং যথোপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। এসব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তিনি পরবর্তী দশ বছরে জেলা কোটার হার ধীরে ধীরে কমিয়ে দশম বছরে তা বিলুপ্ত করার কথা বলেছিলেন। ওই সুপারিশ অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পর দেশের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো কোটা থাকার কথা নয়।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এইচএম এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৫ সালের এক আদেশে চাকরিতে কোটা পদ্ধতি পুনর্বিন্যাস করা হয়। এ আদেশের মাধ্যমে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, কর্পোরেশন ইত্যাদিতে ১ম ও ২য় শ্রেণীর পদে মেধাভিত্তিক কোটা ৪৫ ভাগে উন্নীত করা হয়, যা এখন পর্যন্ত চালু আছে। ২১টি জেলার জনসংখ্যা অনুযায়ী বিশেষ কোটার (মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা, উপজাতীয়, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা সদস্য) পদ বিতরণের পরিবর্তে জনসংখ্যা অনুযায়ী ৬৪টি জেলার পদ বিতরণের নির্দেশ দেয়া হয়। নন-গেজেটেড পদে সর্বপ্রথম জেলাভিত্তিতে পদ পূরণের পর বিশেষ কোটায় মেধা ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের নির্দেশ দেয়া হয়, যা এখনও বহুলাংশে বহাল রয়েছে। পরিবর্তনটি হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা না পাওয়া গেলে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা কোটা সুবিধা (৩০ শতাংশ) পাবে।
কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে অভিযোগ হল, এতে মেধার অবমূল্যায়ন হয়। অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা নিয়োগ পায়। ফলে রাষ্ট্র মেধাবীদের সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। এ যুক্তির সত্যতা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে নাগরিকদের অনগ্রসর অংশ বা বিশেষ শ্রেণীর জন্য চাকরিতে কোটার প্রয়োজনীয়তা এ মুহূর্তে একটি বাস্তব সত্য। সরকারি চাকরিতে এ ধরনের কোটা আমাদের পাশের দেশগুলোতেও রয়েছে। তাই হয়তো আন্দোলনকারীদের একাংশ কোটা পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে। তাদের সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো হচ্ছে- জেলাভিত্তিক কোটা বাতিল, মুক্তিযোদ্ধা/ মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের কোটা শতকরা ১০ ভাগ এবং মুক্তিযোদ্ধা/ মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের কোটাসহ সব কোটা ২০ ভাগে নামিয়ে আনা। তবে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ ও ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড’ নামে দুটি সংগঠন কোটা বাতিলের দাবিকে ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করে মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের শতকরা ৩০ ভাগ কোটা হ্রাসের বিরোধিতা করেছে। সুশীল সমাজের কেউ কেউ বিদ্যমান জেলা কোটাকে সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণ সম্পর্কে সংবিধানের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিহিত করেছেন। তারা আরও মনে করেন, মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটা শুধু গরিব ও দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। এছাড়া প্রয়োজন দেখা দিয়েছে সমাজের অনগ্রসর অংশকে চিহ্নিত করা। সময় এসেছে কোটা পদ্ধতি আর কতদিন বহাল থাকবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের।
সবশেষে যা বলা দরকার তা হল, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এর সঙ্গে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো জড়িত আছে। তাই তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত হবে না। উপযুক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সরকার একটি কমিশন গঠন বিবেচনা করতে পারে। কমিশন প্রাসঙ্গিক সবদিক বিবেচনা করে সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ পেশ করবে। সরকার তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
আবদুল লতিফ মণ্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক

দমনপীড়ন ও আঁতাতের রাজনীতি বন্ধ হোক by মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন

পাঁচ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের ফলাফল মনে হয় রাজনীতির দৃশ্যপট পাল্টে দেবে। শুরু হবে রাজনীতিতে চূড়ান্ত খেলা, বদলে যাবে রাজনৈতিক কৌশল; শত্রু হয়ে যাবে মিত্র আর মিত্র হয়ে যাবে শত্রু। রাজনীতির চূড়ান্ত খেলায় ক্ষমতাসীরা অত্যন্ত নিচু স্তরে নেমে যাবে বলে প্রতীয়মান হয়; ক্ষমতার জন্য হেন কোনো কাজ নেই যা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ করতে পারে না। এরই মধ্যে তাদের রাজনীতিতে নিচু স্তরে নেমে যাওয়ার প্রাথমিক আলামত দেখা যাচ্ছে। জামায়াতের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের একটা গোপন সমঝোতার প্রক্রিয়া জোরেশোরে শুরু হয়েছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আমেরিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের সহায়তায় তার গুলশানের বাসায় জামায়াতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের তিন নেতার সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের গোপন বৈঠক হয়েছে বলে রাজনীতিতে জোর গুঞ্জন রয়েছে। আসলে দমন-পীড়নে সিদ্ধহস্ত হলেও নির্বাচনী রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ যে কত অসহায়, তার একটা নমুনা দেখে গেছে পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে। দেশে অল্প দিনের ব্যবধানে পরপর পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর প্রত্যেকটিতে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় প্রার্থী প্রতিপক্ষের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। বিশেষ করে গাজীপুরের পরাজয়টা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে বিস্ময়ের মতো মনে হয়েছে। কেননা গাজীপুরকে বলা হয় আওয়ামী লীগের দুর্গ। গোপালগঞ্জের পরই গাজীপুর আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি। এই ঘাঁটিতে বিপর্যয়ে গভীর হতাশা সৃষ্টি হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের সর্বস্তরে। এই পরাজয়ে তারা বিমর্ষ, বিধ্বস্ত, স্তম্ভিত ও হতবাক; তারা এখন অকপটে স্বীকার করছেন ক্ষমতাসীন দলের জনসমর্থনে ব্যাপক ধস নামার কথা। আগামী নির্বাচনের আগে এই জনসমর্থন পুনরুদ্ধারের কোনো সম্ভাবনাও তারা দেখছেন না। তাদের এখন একমাত্র সান্ত্বনা দলীয় সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন করে আবার ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখা। তাই তারা এখন বিপজ্জনক আঁতাতের রাজনীতি শুরু করেছে। জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করে ও জাতীয় পার্টিকে কোনোরকমে ম্যানেজ করে একটা যেনতেন নির্বাচনের পথে ক্ষমতাসীন দল হাঁটছে। এই বিপজ্জনক আঁতাতের রাজনীতি ক্ষমতাসীন দলের কবর রচনা করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।
বলাবাহুল্য রাজনীতিতে হঠকারী সিদ্ধান্তে জামায়াতের কোনো জুরি নেই। জন্মের পর থেকে জামায়াত রাজনীতিতে যতগুলো নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ইতিহাস বলে, তার সবগুলোই ছিল হঠকারী ও ভুল। দলটি পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের বিরোধিতা করে ভুল করেছে, ভুল করেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের বিরোধিতা করেও। ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলটি ভুল করেছে, পরবর্তীকালে সংসদ থেকে পদত্যাগ করে এই ভুলের সংশোধনের চেষ্টা করেছে। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে দলটি পরে হায় হায় করেছে; মাত্র তিনটি আসন তারা ওই নির্বাচানে পেয়েছে। তা ছাড়া এক-এগারোতে দলটির রহস্যজনক ভূমিকাও ভুল ছিল বলে জনশ্র“তি আছে। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপিকে প্ররোচিত করেও জামায়াত ভুল করেছে। এখনও জামায়াত যদি কোনো আঁতাতের রাজনীতির দিকে পা বাড়ায়, তাহলে এটি তাদের জন্য চূড়ান্তভাবে বুমেরাং হবে; তারা যে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে- এতে কোনো সন্দেহ নেই।
অন্যদিকে আন্দোলনে না হলেও নির্বাচনী রাজনীতিতে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান ফুটে উঠেছে। সাংগঠনিকভাবে ব্যর্থ হলেও জনগণ বিএনপিকে সামনে পথ চলতে বন্ধুর মতো সাহায্য করেছে। জনগণের সাহায্যে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এখন উদ্দীপ্ত ও উজ্জীবিত; তাদের সব ব্যর্থতা নির্বাচনী রাজনীতিতে ঢাকা পড়ে গেছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলও অনেকটা দূর হয়ে গেছে। তাছাড়া নির্বাচনী রাজনীতিতে বিএনপি একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক দিকনির্দেশনাও পেয়ে গেছে। এটি বিএনপির রাজনীতিকে পথ দেখিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত নিয়ে যাবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই। দমন-পীড়ন ও বন্দুকের নল যে ক্ষমতার উৎস নয়, এটি অনিবার্যভাবে প্রমাণ করেছে জনগণ। দমন-পীড়নের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার এক নজিরবিহীন ইতিহাস স্থাপন করেছে। এই সরকারের পুলিশ মানুষকে দৌড়ে পালানো অবস্থায়ও পেছন দিক থেকে গুলি করে হত্যা করেছে, যা টিভি চ্যানেলে মানুষ দেখেছে। পুলিশ শুধু মানুষের ওপর গুলিই চালায়নি, সন্ত্রাসী কায়দায় ন্যক্কারজনক ও অকল্পনীয়ভাবে দখল করেছে রাজনৈতিক দলের প্রধান কার্যালয়ও। সেখানে নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে ইতিহাসে স্থাপন করেছে এক অনন্য নজির, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ঘটনা নজিরবিহীন। এটি মানুষকে চরমভাবে বিক্ষুব্ধ করেছে, মানুষ ভোটের মাধ্যমে এর জবার দিয়েছে।
বাংলাদেশের জন্মের পর বর্তমান সরকারের আমলে পুলিশের গুলিতে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়ে প্রচার হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তির ও গণমাধ্যমের এই যুগে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকারের আচরণ এমন ভয়ানক হবে তা ভাবাই যায় না। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, রাষ্ট্রের ভিত্তিও জনগণ; এই জনগণের ওপর শক্তি প্রয়োগ করে রাজনীতিতে টিকে থাকা যে কঠি- সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এটি প্রমাণ হয়েছে। এখান থেকে শুধু ক্ষমতাসীন দলকেই নয়, শিক্ষা নিতে হবে অন্যান্য রাজনৈতিক দলকেও। গত সাড়ে চার বছরে যুদ্ধাপরাধের বিচার, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুসহ অন্যান্য রাজনৈতিক ইস্যুতে শাসক দল তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে। ধর্ম, রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুখোমুখি অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছে। যেখানে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন ছিল, সেখানে তৈরি করেছে ভয়াবহ বিভক্তি। এই বিভক্তি এখন তাদের কুরে কুরে খাচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রায় সব মানুষ ধর্মীয় চেতনায় বিশ্বাস করে, বিশ্বাস করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়ও; এই দুইয়ের মধ্যে বিরোধ অতীতে সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার এটি করেছে। অন্যদিকে সংখ্যালঘুদের ওপর চলছে অবর্ণনীয় অত্যাচার, তাদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে; পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে মন্দির, যা অতীতে কখনও বাংলাদেশে হয়নি। এর জন্য সংখ্যালঘুরা সরকারকেই দায়ী করছে। যার জন্য সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সংখ্যালঘুরা আওয়ামী লীগকে সেইভাবে ভোট দেননি।
শেয়ার মার্কেট, এমএলএম ব্যবসার নামে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকার কিছুই করেনি। এ ব্যাপারে মানুষ হতাশ। শেয়ার মার্কেটে ৩৫ লাখ পরিবার নিঃস্ব, সর্বস্বান্ত হয়েছে। হলমার্ক রাষ্ট্রের কয়েক হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। কুইক রেন্টালের নামে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলে মানুষ দিশেহারা। ঘরে ঘরে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আসছে, যা আগের চেয়ে চার-পাঁচ গুণ বেশি। এই মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল দিতে দিতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। মানুষ মনে করে সরকারের দুর্নীতিপরায়ণ ও অদূরদর্শী জ্বালানি নীতির কারণেই এমনটি হচ্ছে। এর জন্য তারা শাসক দলকেই দায়ী করছেন এবং ভোটের মাধ্যমে জবাব দিচ্ছেন। তাছাড়া বর্তমান সরকারের আমলে এমএলএম ব্যবসার মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষ আর্থিকভাবে শোষণের শিকার হয়েছেন। অনেকে নিজের ও আত্মীয়স্বজনের অর্থ খুইয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। এসব সংক্ষুব্ধ মানুষই সুযোগ পেয়ে ব্যালটের মাধ্যমে নীরব ভোট বিপ্লব ঘটিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলেও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নে দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে, রাজনীতির আকাশে শুধুই অশনি সংকেত। সবকিছু নিক্ষিপ্ত হচ্ছে এক সর্বগ্রাসী সংকটের আবর্তে। মানুষের মনে আতংক, অনিশ্চয়তা, অবিশ্বাস ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। এই উৎকণ্ঠা সরকারকেই দূর করতে হবে। সামনের নির্বাচন নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে এটা স্বীকার করতে হবে। এটি স্বীকার করলেই সংকট দূর করার মনোবৃত্তি তৈরি হবে। সংকট নিরসনে এখন, এই মুহূর্তে উদ্যোগ নিতে হবে; সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। সরকার যদি সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসে, তাহলে তারা এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবে। মানুষ তাদের নতুন চোখে দেখবে।
চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় শতাধিক নিরীহ মানুষ জীবন দিয়েছেন। জীবন দিয়েছেন কয়েকজন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও। হাজার হাজার মামলায় বিরোধী দলের লাখ লাখ নেতাকর্মীকে করা হয়েছে আসামি। সরকারের কাজ হল সমাজের বিভক্তি কমিয়ে আনা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনরা করেছে ঠিক উল্টোটা। তারা দেশটাকে সুস্পষ্টভাবে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে। এটা কেবল যুদ্ধাপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে নয়, যারাই সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করছেন তাদেরকেই সরকার শত্র“ ভাবছে। এই বিভক্তিতে সরকারেরই ক্ষতি হয়েছে। নির্বাচনে তাদের প্রার্থী গোহারা হারছে। ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা জনগণকে উদ্দেশ করে বলছেন- ‘আমাদের ভুল সংশোধনের সুযোগ দিন।’ ক্ষমতাসীনদের মনে রাখতে হবে, দশটি ভালো কাজকে একটি মন্দ কাজই ক্ষতিগ্রস্ত করতে যথেষ্ট। হেফাজতের ওপর ক্র্যাকডাউন চালানোয় সরকারের সব ভালো কাজ ম্লান হয়ে গেছে। গভীর রাতের এই নারকীয় ঘটনাটি মানুষ কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। তাই তারা নীরব ব্যালটের মাধ্যমে এর জবাব দিচ্ছেন। দমন-পীড়ন ও নিরীহ মানুষ হত্যা কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ হতে পারে না। এ ধরনের সরকার জনগণের ভোট কিছুতেই আশা করতে পারে না। জনগণের ভোট প্রত্যাশা করলে, সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়নের পথ অবশ্যই পরিহার করতে হবে।
ভীতি ও আস্থাহীনতা বিরাজ করছে মানুষের মধ্যে । বাংলাদেশ ঐক্যের দিক থেকে পৃথিবীতে একটা উদাহরণ ছিল। কিন্তু এটি ভেঙে চুরমার হয়েছে। এখন জাতি হিসেবে সবদিক দিয়ে আমরা বিভক্ত। ক্ষুদ্র একটি আঘাত সহ্য করার মতো শক্তিও আমাদের নেই। বিভক্ত জাতি সাহসহীন, আশাহীন বিপন্ন এক জাতিতে পরিণত হয়। সব কিছু বিপন্ন হওয়ার আগে সরকারের উচিত বিরোধী দলকে আস্থায় নেয়া এবং সংকট দূর করে দেশকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে ধাবিত করা। তাতে সরকারের হারানো ইমেজ পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। জনগণের কাছে যাওয়ার এই একটি মাত্র পথই ক্ষমতাসীন দলের জন্য খোলা আছে, যা তারা কাজে লাগাতে পারে।
সংকীর্ণ দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি শাসক দলকে ত্যাগ করতে হবে, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন ও জুলুম-নির্যাতন এবং আঁতাতের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে, জাতীয় ঐক্যের পথ প্রশস্ত করতে হবে, হিংসা-বিদ্বেষ ও অনৈক্য-বিভাজনের রাজনীতি দিয়ে বর্তমান ক্রান্তি সময় অতিক্রম করা শাসক দলের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এখন প্রয়োজন দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা। দমন-পীড়ন, হিংসা-বিদ্বেষ-অনৈক্য ও বিভাজনের রাজনীতি কোনো কিছুরই সমাধান দিতে পারে না, এ থেকে কোনো পক্ষই লাভবান হয় না। এর ফলে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তা থেকে লাভবান হয় বাইরের কোনো শক্তি।
মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন : রাজনৈতিক বিশ্লেষক

বঙ্গবন্ধুর নাতনির বিয়ে এবং রাজনীতি by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

মানুষ যা চায় তা সব সময় পায় না। পেলে কী হতো তাও জানি না। এটা ভাগ্য না ভগবানের বিধান তাও বলতে পারব না। কৈশোরকাল থেকে আমি বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। যৌবনে তাই, সেই পাকিস্তান আমলেই আমার সব ছেলেমেয়ের নাম বাংলায় রেখেছি। ছেলেকে ঢাকার গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলে ভর্তি করেছিলাম। কারণ স্কুলটিতে বাংলার মাধ্যমে শিক্ষাদান করা হতো। তখন কী আর জানতাম, ভাগ্যের ফেরে পড়ে আমার অতিক্রান্ত যৌবন এবং শেষ জীবনটা বিদেশেই কাটাতে হবে? ছেলেমেয়েরা সম্পূর্ণ ভিন্ন কৃষ্টিতে মানুষ হবে। তারা বাঙালি হবে না, ইংরেজও হবে না, হবে বাংরেজ। বিশ্বায়নের মহা ঘূর্ণাবর্তে আমার জাতীয়তাবাদ খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে? সত্যি কথা বলতে কী, এ নিয়ে আমার দুঃখ নেই। এ মাসের গোড়ায় লন্ডনে বঙ্গবন্ধুর নাতনি (শেখ রেহানার বড় মেয়ে) টিউলিপ সিদ্দিকের বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় যোগ দিতে গিয়ে মনে মনে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেছি। বাঙালি জাতীয়তাবাদের বলিষ্ঠ উদগাতা। তিনি কি জানতেন, তার বংশধর একদিন এই জাতীয়তাবাদের সীমারেখা ভেঙে বিশ্ব জাতীয়তার ঘূর্ণাবর্তে মিশে যাবে? শেখ হাসিনার বড় মেয়ে পুতুল ছাড়া দু’বোন হাসিনা ও রেহানার আর কোনো ছেলেমেয়ে (রেহানার ছোট মেয়ে রূপন্তি এখনও অবিবাহিত) বাঙালি বিয়ে করেনি। সজীব ওয়াজেদ জয়ের স্ত্রী আমেরিকান, টিউলিপের স্বামী ব্রিটিশ, ববির স্ত্রী ইউরোপিয়ান। গোপালগঞ্জের কট্টর জাতীয়তাবাদী শেখ পরিবারের এখন বিশ্বজনীন পরিচয়।
আমার বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধু এখন বেঁচে থাকলে তার বংশধারার এই বিবর্তনে খুশি হতেন। তিনি বাঙালির হাজার বছরের মিশ্র সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিলেন না। মাঝে মাঝে দেখতাম, তিনি অবসর সময়ে রবীন্দ্রনাথের ‘ভারত-তীর্থ’ কবিতাটি আবৃত্তি করতেন, বিশেষ করে এই কটি লাইন :
‘রণধারা বাহি জয়গান গাহি উন্মাদ কলরবে
ভেদি মরুপথ গিরি পর্বত যারা এসেছিলো সবে
তারা মোর মাঝে সবাই বিরাজে কেহ নহে নহে দূর
আমার শোনিতে রয়েছে ধ্বনিতে তার বিচিত্র সুর।’
সন্দেহ নেই, বঙ্গবন্ধুও চাইতেন, বাঙালি তার জাতীয় স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতা নিয়ে জেগে উঠুক এবং বিশ্ব জাতীয়তার মোহনায় আপন বৈশিষ্ট্য নিয়ে মিলিত হোক। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার ছেলেমেয়েরা তার সেই সাধই পূর্ণ করেছে বলে মনে হয়। যদি তা না হতো তাহলে বিলাতে বাস করে, উচ্চশিক্ষা লাভ করে, চারদিকে এত অর্থবিত্তের পেশা থাকতে টিউলিপ রাজনীতিকে তার পেশা হিসেবে গ্রহণ করত না। বর্তমানে সে লন্ডনের ক্যামডেন কাউন্সিলের নির্বাচিত কেবিনেট মেম্বার ফর কমিউনিটিজ অ্যান্ড কালচার। একই সঙ্গে সে এখন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হ্যামস্টেড কিলবার্ন নির্বাচন কেন্দ্র থেকে লেবার পার্টির এমপি পদে মনোনয়ন প্রার্থী। এই আসনে এতদিন লেবার দলীয় এমপি ছিলেন বিখ্যাত অভিনেত্রী গ্লেন্ডা জ্যাকসন। বঙ্গবন্ধুর জীবন এবং আদর্শই যে তার চরিত্র গঠন করেছে, টিউলিপ সে কথা অকপটে বলেছেন, লন্ডনের সান্ধ্য দৈনিক ইভনিং স্টান্ডার্ডের (১১ জুলাই বৃহস্পতিবার) সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে। তার বক্তব্য, গ্রান্ডফাদারের আদর্শই তার চরিত্র গঠন করেছে। পারিবারিক ঐতিহ্যই তাকে একজন স্ট্রং সোস্যালিস্টে পরিণত করেছে। তবে বর্তমানে সে একজন লোকাল কাউন্সিলর এবং ব্রিটিশ।
সম্ভবত এই উপলব্ধি থেকেই টিউলিপ বাংলাদেশের রাজনীতির বদলে ব্রিটিশ রাজনীতিতে যোগ দিয়েছে। আমি খুশি হতাম টিউলিপ বাংলাদেশের রাজনীতিতে যোগ দিলে। বাংলাদেশের রাজনীতির এখন যা অবস্থা, তাতে তার মতো উচ্চশিক্ষিত, আর্টিকুলেট, সমাজতন্ত্র ও সেকুলারিজমে বিশ্বাসী নেতাকর্মীর দরকার। বিশেষ দরকার। তবে ব্রিটিশ রাজনীতিতেও বাঙালির উপস্থিতি এখন বাড়ছে। প্রভাবও বাড়ছে এবং তা দরকার। ব্রিটিশ হাউস অব লর্ডস এবং হাউস অব কমন্স-এ এখন দু’জন বাঙালি সদস্য আছেন। দু’জনই মহিলা এবং লেবার দলের। এরা হলেন ব্যারোনেস পলাউদ্দীন এবং রোশনা আলী। রোশনা এরই মধ্যে লেবার দলের পার্লামেন্টারি পার্টিতে ছায়া মন্ত্রিসভার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং আগামী নির্বাচনে লেবার দল জয়ী হয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করলে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। তিনিই হবেন ব্রিটিশ মন্ত্রিসভায় প্রথম বাঙালি মন্ত্রী। কোনো সন্দেহ নেই, রেহানা-কন্যা টিউলিপ এবার ব্রিটিশ এমপি হওয়ার জন্য লেবার পার্টির মনোনয়ন পেলে এবং লেবার পার্টি আগামী সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হলে এড মিলিব্যান্ডের নতুন মন্ত্রিসভায় টিউলিপ সিদ্দিকও হবে একজন মন্ত্রী। এটা বাংলাদেশ ও বাঙালির জন্য কম অর্জন নয়। বঙ্গবন্ধু আজ বেঁচে থাকলে খুবই খুশি হতেন। গত ৭ জুলাই রোববার টিউলিপ ও ক্রিসের বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলাম। ক্রিস উচ্চশিক্ষিত সুদর্শন ইংরেজ যুবক। টিউলিপের জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। টিউলিপের পাশে দাঁড়িয়ে তার স্বামী ক্রিস যখন জয়বাংলা স্লোগান দিয়েছে, তখন আমার বুড়ো হাড়েও ভেলকি লেগেছে। আমি অনেকের মতো রোমাঞ্চিত হয়েছি।
টিউলিপের বক্তৃতা আমি প্রথম শুনি কয়েক বছর আগে ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে এক সেমিনারে। বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং আরও কয়েকটি ব্যাপারে অত্যন্ত যুক্তিতর্কসহ সে তার বক্তব্য তুলে ধরেছিল। বিদেশে থাকলে কী হবে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সম্পর্কে সে যে এতটা অবহিত ও অভিজ্ঞ তা আমার জানা ছিল না। রাজনীতিতে তার নিষ্ঠা এবং অভিজ্ঞতা প্রচুর। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের সঙ্গে সে পরিচিত হয়েছে এবং দু’জন বিখ্যাত এমপি টেসা জুয়েল এবং হ্যারি কোহেনের সহকারী হিসেবে কাজ করেছে। ২০১০ সালে ব্রিটিশ লেবার পার্টির যখন নতুন নেতা নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে তখন অনেকের ধারণা ছিল টিউলিপ ব্লেয়ারপন্থী বড় মিলিব্র্যান্ডের পক্ষাবলম্বন করবে। কারণ, তারই জেতার সম্ভাবনা ছিল বেশি এবং টাইমস থেকে শুরু করে বিগ মিডিয়াগুলো তাকেই সমর্থন দিচ্ছিল। ছোট ভাই এড মিলিব্যান্ড ব্লেয়ারের তথাকথিত নিউ লেবারের বিরোধী এবং নিজেকে একজন সোস্যালিস্ট বলতে দ্বিধা করেন না। টিউলিপ লেবার পার্টির নেতৃত্বের এই দ্বন্দ্বে এড মিলিব্যান্ডের হয়ে কাজ করে এবং লেবার লেফট গ্রুপে তার সমাদর প্রচুর। লেবার দলীয় বর্তমান বাঙালি এমপি রোশনা আলীও এড মিলিব্যান্ডের গ্রুপে।
৭ জুলাই রোববার টিউলিপ-ক্রিসের বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় গেছি। ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার লন্ডনের সান্ধ্য দৈনিক ইভনিং স্ট্যান্ডার্ডে দেখি পাতা জোড়া বিরাট খবর। সঙ্গে টিউলিপের ছবি। খবরের হেডিং হল `Bangladeshi PM's niece is contender for Labour marginal of Hamstead' অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বোনঝি লেবারের মার্জিনাল আসন হ্যামস্টেডে মনোনয়ন প্রার্থী। যদিও পার্লামেন্টের এই আসনে টিউলিপের দলীয় মনোনয়ন লাভের সম্ভাবনা বেশি, তথাপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জোরেশোরে। মনোনয়ন প্রার্থী অপর দু’জনও শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী প্রার্থী। এ ছাড়া আসনটিও লেবার দলের খুব নিরাপদ আসন নয়। ইতিপূর্বে অভিনেত্রী গ্লেন্ডা জ্যাকসন এই আসনে মাত্র ৪২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন।
লন্ডনের হ্যামস্টেড-কিলবার্ন কেন্দ্রে লেবার পার্টির অপর দু’জন মনোনয়ন প্রার্থী খুবই প্রভাবশালী। সোফি লিনডেন এখন হ্যাকনি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র এবং আগে শিক্ষা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা ছিলেন। অন্যজন সেলি গিমসনও টিউলিপের মতো ক্যামডেনের একজন কাউন্সিলর, একটি ন্যাশনাল চ্যারিটির প্রধান এবং একজন সাংবাদিক ছিলেন। দলের মনোনয়ন পেতে টিউলিপকে যেমন জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তেমনি মনোনয়ন পেলে লেবারের এই মার্জিনাল আসনে টোরি ও লিবারেল উভয় প্রার্থীর সঙ্গেই তাকে জোর লড়াইয়ে নামতে হবে। তবে ইভনিং স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনের মতে, টিউলিপের শক্তির ভিত্তি হচ্ছে স্ট্রং কম্যুনিটি লিংক এবং ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাস। সে যে একজন সোস্যালিস্ট এবং লেফট সে কথা কোনো কারণেই লুকিয়ে রাখেনি। সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল তার কাছে, লেবার পার্টির ভালো কাজ এবং খারাপ কাজ কোনটি? টিউলিপের জবাব, ভালো কাজ হচ্ছে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের উন্নয়ন আর খারাপ কাজ হচ্ছে ইরাকযুদ্ধ। ব্রিটিশ রাজনীতিতে টিউলিপ সিদ্দিক যদি একটি পাকা আসন তৈরি করতে পারে, তাহলে তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতেও সুদূরপ্রসারী শুভ প্রভাব বিস্তার করবে বলে আমার ধারণা। টিউলিপের বয়স এখন মাত্র তিরিশ। সারাটা জীবন তার সামনে পড়ে আছে। বঙ্গবন্ধুর চারিত্রিক নিষ্ঠার যে পরিচয় এই বয়সে তার মধ্যে পাচ্ছি এবং সমাজতন্ত্র ও লেফট চিন্তা-চেতনার যে স্পষ্ট বিকাশ তার মধ্যে দেখছি, তা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ-রাজনীতিকেও প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। তা যদি হয়, দেশের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দল আওয়ামী লীগে বর্তমানে যে ডান বিচ্যুতি ক্রমশ লক্ষণীয় হয়ে উঠছে, তা বাধাগ্রস্ত হবে এবং আওয়ামী লীগের তরুণ প্রজন্মের নেতাকর্মীরাও হয়তো টিউলিপের ভাবাদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত হবে। তাহলে আওয়ামী লীগ বাঁচবে এবং বাংলাদেশ বাঁচবে।

ব্রিটেন-ফ্রান্স সফরে থেইন সেইন

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন গতকাল রবিবার থেকে পাঁচ দিনের ব্রিটেন ও ফ্রান্স সফর শুরু করেছেন। সরকারের সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে তিনি এ সফরে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেয়ে হলে ভিক্টোরিয়া ছেলে হলে জেমস

ব্রিটেনের রাজপরিবারের নতুন অতিথি নিয়ে কৌতুহলের কমতি নেই। সবাই তার আগমনের প্রহর গুনছে। একই সঙ্গে কেট-উইলিয়াম দম্পতির সন্তান ছেলে হবে নাকি মেয়ে, ছেলে হলে কী নাম রাখা হবে আর মেয়ে হলেই বা কী নাম রাখা হবে- এ নিয়ে চলছে জনমত জরিপ।

ট্রেভন হত্যা মামলায় জিমারম্যান খালাস-যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রায়ের তীব্র নিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেভন মার্টিন নামে এক নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরকে গুলি করে হত্যার মামলায় অভিযুক্ত শ্বেতাঙ্গ আসামি জর্জ জিমারম্যান বেকসুর খালাস পেয়েছেন। গত শনিবার আলোচিত এ মামলার রায় হয়েছে।

মিসরকে লড়াইয়ের মাঠ বানিয়েছে সৌদি-কাতার!

পারস্য উপসাগরীয় দুই ধনী রাজতন্ত্র- সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) মিসরকে ৮০০ কোটি ডলারের নগদ সাহায্য ও ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

'স্নোডেন মুখ খুললে চরম ক্ষতি হবে যুক্তরাষ্ট্রের'

যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নজরদারি কর্মসূচি প্রিজমের কথা ফাঁস করে দেওয়া এডওয়ার্ড স্নোডেনের (৩০) হাতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিব্রতকর আরো তথ্য আছে। এসব তথ্য প্রকাশ পেলে তা যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহতম দুঃস্বপ্ন হিসেবে দেখা দিতে পারে।

শামুকে রূপচর্চা

বাগানের স্যাঁতসেঁতে মাটিতে তাদের বিচরণ। কখনো বা দেখা যায় ছোট গাছের কাণ্ড-ডালপাতায় বুক ঘষে ঘষে চলছে। শামুক নামের ছোট্ট এই প্রাণীটির প্রতি বাড়তি আগ্রহ কারো থাকার কথা নয়।

মেয়াদ শেষে দেশ ছাড়বেন জারদারি!

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসিফ আলী জারদারির মেয়াদ আছে আর মাত্র আট সপ্তাহ। ৮ সেপ্টেম্বর শেষ হবে তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ। তারপর জারদারি কোথায় থাকবেন- দেশে, নাকি বিদেশে? রাজনীতি করবেন কি না? পাকিস্তানের রাজনীতিতে এখন এ প্রশ্নই সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে।

যুবকের প্রতারণা-কমিশনের সুপারিশ আমলে নিন

যুব কর্মসংস্থান সোসাইটি বা যুবক নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে ১৯৯৪ সালে সদস্যদের মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি আর সেই কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি।

হজযাত্রী নিয়ে শঙ্কা-আগেভাগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক

প্রতিবছর হজ আসে। আর তখন হজযাত্রীদের নিয়ে নানা রকম ছলচাতুরী হয়। প্রতিবছরই কিছু না কিছু হজযাত্রী প্রতারিত হয়ে বিমানবন্দর থেকে ফিরে যান, কিংবা হজ করতে গিয়ে তাঁরা সেখানে নানা ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হন।

দৈনন্দিন বিজ্ঞান-সাবধানে রাখুন দিয়াশলাই

বাসায় আগুন তৈরির জন্য সহজ উপায় হলো দিয়াশলাই বা গ্যাস-লাইট। গ্যাসের চুলা জ্বালানোর জন্য গ্যাস লাইটের চেয়ে দিয়াশলাই বেশি উপযোগী। আবার অটোচুলা ব্যবহার করেও অনেকে ম্যাচের ব্যবহার থেকে দূরে থাকেন।

ভালো থাকুন-ডায়াবেটিক রোগীর রোজা

রোজায় একটানা অনেকটা সময় না খেয়ে থাকার ফলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে, অর্থাৎ রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যেতে পারে। ফলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া, অল্পতেই ঘেমে যাওয়া, শরীরে কাঁপুনি, মাথাব্যথা,

ব্যক্তিত্ব-নূর মোহাম্মদ তারাকি

আজ আফগানিস্তান সম্পর্কে সারা বিশ্বের যে ধারণা, মাত্র তিন দশক আগে তা ছিল না। পাহাড়, মরুভূমি, দুর্গম পথের বিশাল দেশ আফগানিস্তানে ধর্মীয় গোঁড়ামি যেমন বরাবরই আছে, তেমনি অসংখ্য প্রগতিশীল মানুষের জন্মও হয়েছে এ দেশে।

পবিত্র কোরআনের আলো-হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দাওয়াতি কার্যক্রমের প্রশংসা

১০৩. ওয়া মা--- আকছারুন না-সি ওয়া লাউ হারাসতা বি মু'মিনীনা। ১০৪. ওয়ামা- তাসআলুহুম 'আলাইহি মিন আজরিন, ইন হুওয়া ইল্লা যিকরুল লিল 'আ-লামীনা। সুরা ইউসুফ।

'ভালো কাজে সব দলেরই ঐক্য থাকা দরকার'

সরকারি চাকরিতে, বিশেষ করে বিসিএস পরীক্ষায় কোটা পদ্ধতির পুনর্বিন্যাস করতে সরবকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেছেন, 'শুধু বিসিএসের কোটা পদ্ধতির পুনর্বিন্যাস নয়, সব ভালো কাজে রাজনীতিবিদদের ঐক্য দরকার।

চালচিত্র-প্রকৃত গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন by শুভ রহমান

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভেতর দিয়েই বাঙালির এই বেদনাসিক্ত গণ-আকাঙ্ক্ষার কথাটি মূর্ত হয়ে ওঠে। বিপুল ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তদানের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন ও একটি পূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্য আজও অর্জিত হলো না।

ভিন্নমত-চাকরির কোটা বনাম মেধা by আবু আহমেদ

বাংলাদেশ আশায় ভাসে, আবার পরক্ষণে যেন নিরাশায় ডোবে। নিরাশার বিষয়গুলোর উৎস হলো বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের রাজনীতি, সর্বত্র সীমাহীন এবং গা-সওয়া দুর্নীতি, বিচার বিভাগের ওপর আস্থার স্খলন, মেধার মূল্যহীনতা, পরিশ্রমের অস্বীকৃতি, সহজ-সরলতাকে বোকামি ভাবা।

সরকারি কর্মকমিশন কোটা-বিতর্ক ও পিএসসির স্বায়ত্তশাসন by আলী রীয়াজ

পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাম্প্রতিক বিসিএস পরীক্ষার প্রাথমিক ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসনে ‘কোটা’র ভিত্তিতে নিয়োগের প্রশ্নে বিতর্কের সূচনা হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) আগের ফল বাতিল করে গতকাল নতুন করে ফল ঘোষণা করেছে।

অর্থনীতি বাজারদর নিয়ন্ত্রণে অযৌক্তিক পদক্ষেপ by মোহাম্মদ হেলাল

পবিত্র রমজান সামনে রেখে ৮ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খেজুর, ছোলা ও মসুর ডালের খুচরা ও পাইকারি মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। এর আগে গত ৩০ জুন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একইভাবে চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে।

সরকারি কর্মকমিশন কোটা-বিতর্ক ও পিএসসির স্বায়ত্তশাসন by আলী রীয়াজ

পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাম্প্রতিক বিসিএস পরীক্ষার প্রাথমিক ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসনে ‘কোটা’র ভিত্তিতে নিয়োগের প্রশ্নে বিতর্কের সূচনা হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) আগের ফল বাতিল করে গতকাল নতুন করে ফল ঘোষণা করেছে।

বেসিক ব্যাংকে আর্থিক অনিয়ম: ব্যাংকের চেয়ারম্যানের কর্মকাণ্ড নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিলেন এক পরিচালক বেসিক ব্যাংকে এসব কী হচ্ছে! by ফখরুল ইসলাম

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকের অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবার খোদ ব্যাংকের ভেতর থেকেই। ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) নানা কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে ব্যাংকেরই একজন পরিচালক সরাসরি অভিযোগ করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ে।

আ.লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিভক্তি-দলাদলি স্পষ্ট

পাঁচ সিটি করপোরেশনে ভরাডুবির পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দলাদলি ও গ্রুপিং-লবিং শুরু হয়েছে। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে ‘ব্যর্থ’ আখ্যা দিয়ে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পরিবর্তন আনতে চাইছে।

সবার দৃষ্টি আজ ট্রাইব্যুনালে

অবশেষে অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়ার প্রায় তিন মাস পর আজ সোমবার জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

অনলাইন থেকে-মিয়ানমারে সাম্প্রদায়িকতা

হাজার বছরেরও আগে মিয়ানমারে মুসলমানদের প্রভাব চোখে পড়ে। ব্যবসা-বাণিজ্যে তাদের অবস্থান ছিল বেশ ওপরে। তেমনি রাজসভায় পরামর্শক হিসেবেও মুসলমানদের অংশগ্রহণের প্রমাণ আছে। সুতরাং মিয়ানমারে মুসলমানরা কোন কারণে বহিরাগত কিংবা শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে?
বিভেদ-বিভাজন অস্বাভাবিক আকার ধারণ করে মিয়ানমারে নতুন জাতীয়তাবাদের উন্মেষ হওয়ার পর। এর পর থেকে সেখানে ভাঙা-গড়ার চেষ্টা চলছে। সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নির্যাতন চালানোর যে চেষ্টা, সেটাও এরই ধারাবাহিকতা। বিশেষ করে গত শতাব্দীর আশির দশকের পর থেকে নেতিবাচক ধারায় তা ধাবিত হতে থাকে। মিয়ানমারের শহরাঞ্চলের মুসলমানদের অধিকাংশই প্রতিষ্ঠিত। অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল। তারা মিয়ানমার অনুসৃত বৈষম্যমূলক নীতিমালা গ্রহণ করেছে কিংবা বলা চলে তাদের সামনে বিকল্প কোনো পথ খোলা ছিল না। মিয়ানমারের মানুষও তাদের কাছের মানুষ হিসেবে মানতে চায়। কিন্তু গ্রামের মুসলমানদের প্রতি তাদের দৃষ্টি মোটেও সহনীয় নয়। বহিরাগত রোহিঙ্গা হিসেবে আখ্যায়িত করার পরই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এমন অভিযোগকে স্বীকার করে নেওয়ার কথাও নয়। মিয়ানমারের মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি দুনিয়ার গণমাধ্যমে স্থান করে নেয়। এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মুসলমানরা প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। পাকিস্তানের মুসলমানরা রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিল করেছে। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় মিয়ানমার দূতাবাসের সামনে মুসলমানরা জমায়েত হয়ে রাষ্ট্রদূতকে হুমকি দিয়েছে। ভারতের গয়ায় বৌদ্ধমন্দিরে হামলা এবং বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে অতি সম্প্রতি। তবে এসব কাজে উৎসাহ বোধ করে এমন মুসলমানের সংখ্যা খুবই কম।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চি কোন কারণে এমন নৃশংসতার ব্যাপারেও চুপ করে থাকেন? এমন নৃশংসতা কমাতে কিংবা থামাতে কি তাঁর কোনো ভূমিকা থাকতে পারে না? সমস্যা হচ্ছে, যা-ই তিনি বলতে যান না কেন, সেটাই যাবে তাঁর নিজের বিরুদ্ধে। তিনি এই মুহূর্তে চান না মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের পক্ষাবলম্বন করে সামরিক সরকারকে খেপাতে। কারণ মিয়ানমারের সংস্কার সম্পন্ন করতে হলে সামরিক সরকারকে তাঁর প্রয়োজন হবে। চুপ করে সহ্য করতে পারেন বলে তাঁর সুনাম আছে। কিন্তু সব সময় চুপ থাকা কি সুফল আনতে পারে? মানবাধিকার আদায় করতে গিয়ে তিনি যে চুপচাপ থাকার কৌশল নিয়েছিলেন, তা ফল এনেছিল। কিন্তু বার্মিজভাষী মুসলমানদের ওপর নির্যাতন চলার পরও তিনি যে চুপ রয়েছেন, সেটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। সে কারণেই একসময়ের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ও গণতান্ত্রিক নেত্রী হিসেবে যেই সু চি জায়গা করে নিয়েছিলেন, মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন চলার পর সেই জায়গাটি ফিরে যেতে শুরু করেছে।

লেখক : বের্টিল লিনটনার, সুইডেনের সাংবাদিক
আউটলুক থেকে ভাষান্তর মোস্তফা হোসেইন

কুড়িয়ে পাওয়া সংলাপ-সংসারের সর্বপরিতৃপ্ত শ্রমিক by রণজিৎ বিশ্বাস

: শ্রমজীবনে আপনার উত্তরণ অনুবর্তী যাদের পরে হয়েছে, তাদের ধারেকাছেও আপনি পৌঁছুতে পারতেন না। তেমন কোনো ক্ষমতাক্ষেমতা আর যোগ্যতাই আপনার নেই।

পদ্মা সেতু নির্মাণ : সরকার প্রকৃতপক্ষে আন্তরিক কি না? by ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর-বিক্রম

একটি সেতু নদীর দুই পারের মধ্যে বন্ধন গড়ে দেয়। এটি কেবল ভৌগোলিক বাস্তবতাই নয়, একটি সেতুর সঙ্গে কোটি মানুষের স্বস্তি ও সমৃদ্ধির বিষয়টিও যুক্ত হয়ে যায়। পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে, সেটি আশা করা হয়েছিল।