Thursday, March 12, 2020

কুয়েতের মরুভূমিতে তাজমহল মসজিদ অনন্য ইসলামী স্থাপত্য by মেহেদী হাসান

সিদ্দিকা ফাতেমা জোহরা মসজিদ। অবস্থান কুয়েত এয়ারপোর্টের কাছে। তবে এটি তাজমহল মসজিদ নামেই পরিচিত সবার কাছে। কারণ এটি দেখতে ভারতের আগ্রায় অবস্থিত জগৎবিখ্যাত তাজমহলের মতো। আর শুধু এটাই এ মসজিদের জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
তাজমহলের মতো গঠন ছাড়া এ মসজিদের তেমন কোনো আলাদা জৌলুশ বা বৈশিষ্ট্য নেই। দূর থেকে এ মসজিদের প্রতি চোখ পড়তেই যে কারোর মনে হবে যেন তাজমহল দেখা যাচ্ছে। মরুভূমিতে তাজমহল। এ মসজিদের প্রতি চোখ পড়া মাত্র দর্শকদের স্মরণ করিয়ে দেয় আগ্রার তাজমহলের কথা। তাই এ মসজিদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা মূলত তাজমহলের প্রতিই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। মসজিদটি নির্মাণের পর থেকেই সবার কাছে জনপ্রিয়তা পায়। এ মসজিদের প্রতি মানুষের আগ্রহ আর ভালোবাসা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে প্রায় ৪০০ বছর পরও তাজমহলের অসাধারণত্বের কথা।
মসজিদটি কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত হওয়ায় খুব সহজে এটি দর্শকদের চোখে পড়ে। দেখতে তাজমহলের মতো হওয়ায় শুধু মুসলিম নন অমুসলিমদেরও অনেকে চলার পথে গাড়ি থামিয়ে কিছুক্ষণের জন্য হলেও নেমে পড়েন এ মসজিদের সামনে। ছবি তোলেন। এরপর মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেন আসলেই তিনি তাজমহল দেখছেন কি না। দর্শকদের সামলাতে আর তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রায় সব সময় ব্যস্ত থাকতে হয় মসজিদের খাদেমদের।
মসজিদটি নির্মাণ শুরু হয় ২০০৮ সালে। শেষ হয় ২০১১ সালে। এর মার্বেল পাথর আনা হয়েছে ইরান থেকে। তাজমহলের মার্বেল পাথর সাদা। এর মার্বেল পাথর কিছুটা বাদামি। ভারত ও ইরানের কারিগর দ্বারা মার্বেল পাথরের কারুকাজ করানো হয়েছে।
মসজিদের পাশে তৈরি করা হয়েছে একটি লাইব্রেরি। রয়েছে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা কমিউনিটি সেন্টার, অভ্যর্থনা কেন্দ্র। মসজিদের মোট মুসল্লি ধারণক্ষমতা চার হাজার। এর মধ্যে ৫০০ নারীর একসাথে আলাদা স্থানে সালাত আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে এক হাজার গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। কুয়েতের সংসদ সদস্য হাসান জওহারের ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে মসজিদটি। তাজমহলের অনুকরণে নির্মিত মসজিদটি নির্মাণের আগে ভারতের কাছ থেকে অনুমতি নেয়া হয়েছে।

হার্ট অ্যাটাক : কোন কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন

প্রতি দিনের জগতে কোথাও কোনো গরমিল নেই। হঠাৎই এক দিন বুকে চিনচিনে ব্যথা দিয়ে শুরু। কিংবা শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ থেকে হার্ট অ্যাটাকের কবলে ঢলে পড়া। তবে চিকিৎসকদের মতে, হার্টের কমজোরি হয়ে পড়ার ঘটনা রাতারাতি হয় না, বরং, বেশ আগে থেকেই সঙ্কেত দিতে থাকে হার্ট। অনেক সময় দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ভিড়ে হার্টের সেই সঙ্কেত আমরাই বুঝে উঠতে পারি না অথবা অবহেলা করে বসি।তাই সমস্যা শুরুর অনেক আগে থেকেই হার্টের যত্ন বিশেষ প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের মতে, হার্টের অসুখকে দূরে রাখলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা স্বাভাবিকভাবেই থাকে না। তাই হার্টের কোনো প্রকার সমস্যাই অবহেলা করা উচিত নয় হাঁটাচলার সময় বুকে কোনো রকমের চাপ বা অস্বস্তি হচ্ছে কি না খেয়াল রাখুন। অনেকের ক্ষেত্রে বুকে চিনচিনে ব্যথা থেকে জ্বালাও হয়। তেমনটা হলেও তাই সাবধান হতে হবে।
হার্ট দুর্বল হলে ব্যথা কেবল হৃদযন্ত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না। হাঁটাহাঁটির সময় চোয়াল বা হাতেও ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাধারণত হাঁটাচলা করলে এই ব্যথা জানান দেয়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে বিশ্রামের সময়ও ব্যথা টের পাওয়া যায়। মাঝে মাঝেই শরীর হালকা হয়ে পড়া বা ব্ল্যাক আউট হলে তা যে শুধুই মস্তিষ্কের কোনো অসুখ বা রক্তচাপজনিত সমস্যা তেমনটা নাও হতে পারে। তাই এমন প্রায়ই হলে অবশ্য হার্টেরও পরীক্ষা করান। হৃদস্পন্দনের দিকে খেয়াল রাখুন। অনিয়ন্ত্রিত গতি ও ঘন ঘন গতি বদলালে সচেতন হোন।সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে গেলে বা বুকে চাপ লাগলে হার্টের অবস্থা জেনে নিন।
তবে কেবল লক্ষণ জানলেই তো হবে না, অসুখ ঠেকিয়ে রাখার পাঠ নিয়েও স্পষ্ট থাকা জরুরি। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুর হার্টের যত্ন নিন, সঙ্গে নিজেদেরও, হার্ট ভালো রাখতে গেলে কয়েকটা নিয়ম মানতেই হয়-
১) রেড মিট খুব ভালোবাসলে খান, তবে সপ্তাহে দু’পিসের বেশি নয়।কিন্তু হার্টের অসুখ থাকলে বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে থাকলে একেবারেই চলবে না।
২) ফ্যাট জাতীয় খাবার শরীরের প্রয়োজন আছে। কিন্তু অসুখ ও ওজন বুঝে, তাই ঠিক কতটুকু ফ্যাট শরীরে লাগবে তা আগে জেনে নিন ডায়েটেশিয়ান ও চিকিৎসকদের কাছ থেকে। তার চেয়ে বেশি ফ্যাট চলবে না।
৩)খাবার থেকে বাদ দিন তেল-মশলার খাবার। যখন-তখন অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার, ফাস্ট ফুডও বন্ধ করতে হবে।
৪)রাতের ঘুম আর সবুজ শাকসব্জি খাওয়া, এই দুটোর সঙ্গে আপস করবেন না কখনো। রাত জেগে অফিস করতে হলে পেশা বদলান। একান্তই তা সম্ভব না হলে দিনের বেলা পর্যাপ্ত ঘুমোন। যদিও দিনের ঘুম কখনোই রাতের ঘুমের বিকল্প হতে পারে না। সে ক্ষেত্রে অন্য নিয়মগুলো মেনে চলুন।
৫) প্রতি দিন একটানা হাঁটুন অন্তত ২৫-৩০ মিনিট। যাদের হাঁটার নানা সমস্যা রয়েছে, তারা অন্তত সপ্তাহে ১৫০ মিনিট শরীরচর্চা করুন।
৬) কোলেস্টেরল বেশি থাকলে সে সবে ইন্ধন দিতে পারে এমন খাবার কিন্তু চলবে না।
৭)মনের জোর ছাড়া এই অভ্যাস ত্যাগ করা যায় না। তাই শরীরের জন্যই এটা বাদ দিতে হবে ধূমপান।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘‘ওবেসিটি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপানে আসক্তি, হাই কোলেস্টেরল, হাইপার টেনশন ইত্যাদি হার্টের রোগকে টেনে আনতে ওস্তাদ। এদের মধ্যে বেশির ভাগ লাইফস্টাইল ডিজিজ হলেও একমাত্র ধূমপান পুরোটাই নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই প্রথমেই ওটা বাদ দিতে হবে। তার পর লাইফস্টাইলের কারণে হওয়া অসুখগুলো ঠেকাতেও যত্নশীল হতে হবে। যাদের পরিবারে হার্টের অসুখের ইতিহাস আছে, তাদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে।’’

নাকের লোম তুলে যে বিপদ ডেকে আনছেন!

মানুষ সুন্দরের পূজারি। চেহারার সৌন্দর্য বাড়াতে আমরা কত কিছুই না করি। তবে কিছু পরিচর্যা হতে পারে বিপদের কারণ। যেমন, অনেক সময় নাকের ছিদ্র থেকে কিছু লোম বেরিয়ে থাকে, যা বিরক্তিকর। বাড়তি অংশের এই লোম থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই আছেন টুইজার বা চিমটা দিয়ে নাকের লোম তুলে ফেলেন। এতে আপনার সৌন্দর্য বাড়ে! তবে এটা হতে পারে আপনার মৃত্যুর কারণ। এক নজরে দেখে নিন নাকের লোম তুললে আমাদের কি কি ক্ষতি হতে পারে এবং কীভাবে?
আমাদের শরীরের প্রত্যেকটা স্থানের লোম বা পশমের আলাদা আলাদা কাজ আছে। ঠিক তেমনি নাকের লোম বা পশম বাহির থেকে সরাসরি আমাদের নাকে ধুলাবালি, তাপ ও বিভিন্ন রোগ-জীবাণু ঢুকতে বাধা দেয়।
আমাদের মুখে একটি এলাকা আছে। দেখতে ত্রিভূজ আকৃতির। একে বলে মৃত্যুর ত্রিভূজ। এই এরিয়ার মধ্যে অনেক রোমকূপ রয়েছে। এই রোমকূপের সঙ্গে প্রান্তিক এবং শিরা ও উপশিরা সংযুক্ত।
এছাড়া লোম তুলে ফেলার কারণে রোমকূপ ফাঁকা হয়ে যায়। যেখানে সহজেই বিভিন্ন ধুলাবালি ও ত্বকের ময়লা জমা বিপজ্জনক মাইক্রোব্যাবের সৃষ্টি করে, যা ত্বকের ক্যান্সার হতে সাহায্য করে।
এছাড়া যখন ওই রোমকূপে নতুন একটি লোম গজানো শুরু করে তখন সেটা আর ত্বকের বাহিরে আসতে পারে না। তাই ত্বকের লেয়ারের ভেতরে বাহিরে সমানভাবে সমস্যা দেখা দেয়। দেখা দেয় নানা ধরনের ফুসকুরি ও চর্ম রোগের।
তাই নিজে সুস্থ থাকতে এবং নানা ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এখনই নাকের লোম তোলা বন্ধ করুন। আর যদি বেশি সমস্যা হয় বা পশম বেশি বড় হয়ে যায় তাহলে ছোট কাচি বা নোস কাটিং সিজার দিয়ে লোমগুলো কেটে দিন। এতে আপনার ভয়ের কিছু থাকবে না।
>>>রূপকেয়ার

ভারতের কাশ্মীরে হামলা: পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের দ্বন্দ্ব বিশ্বের জন্য কত বড় হুমকি?

কাশ্মীরে শুধু গত বছরই সহিংসতায় নিহত হয়েছে ৫০০'র বেশি মানুষ
বিশ্বে সামরিকভাবে ব্যাপক গুরুত্ব পাওয়া অঞ্চলগুলোর একটি কাশ্মীর - এবং একই সাথে ভারত ও পাকিস্তানের মতো দু'টি পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন দেশের সবচেয়ে অস্থিতিশীল সীমান্তবর্তী এলাকা।
সম্প্রতি পুলাওয়ামা ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঐ অঞ্চলে আবারো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পুলাওয়ামা জেলায় গত সপ্তাহে হওয়া হামলাটি ছিল কয়েক দশকের মধ্যে ভারতীয় বাহিনীর উপর হওয়া সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী আক্রমণ, যেখানে কয়েক দফা বোমা বিস্ফোরণে এবং গোলাগুলিতে প্রায় ৫০ জনের মত নিহত হয়েছে।
ভারত অধ্যূষিত কাশ্মীরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংঘাতের কারণে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষও মারা গিয়েছে গত বছর: ২০১৮ সালে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বেসামরিক ব্যক্তি এবং জঙ্গীগোষ্ঠীর সদস্যসহ কাশ্মীরে ৫০০ জনের বেশি নিহত হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কেন এত আলোচনা?

১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে পাকিস্তান আর ভারত স্বাধীনতা পাবার আগে থেকেই কাশ্মীর বিতর্কের কেন্দ্রে।
কাশ্মীরের অংশবিশেষ ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশ নিয়ন্ত্রণ করে। একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ চীনের।
পুলাওয়ামাতে গত সপ্তাহের সহিংস সংঘাতের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারো যুদ্ধংদেহি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
হামলার জন্য পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গী সংগঠনকে দায়ী করেছে ভারত, যার ধারাবাহিকতায় ভারতের বেশ কিছু শহরে বিক্ষোভের পাশাপাশি কাশ্মীরি ছাত্র-ছাত্রী এবং ব্যাবসায়ীরা জনরোষেরও শিকার হয়েছেন।
ভারত অধ্যূষিত কাশ্মীরে হত সপ্তাহের শেষদিকে মোবাইল ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।
এই আক্রমণের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান।
পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হওয়ায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন যে কোনো ধরণের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলেই তা ভিন্ন মাত্রা নেয়। 
ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্ত
কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে এই দুই দেশের দ্বন্দ্বের মূল রেশটা পরে কাশ্মীরে বসবাসকারী মানুষের ওপর।
কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দু'বার আলাদা যুদ্ধ ছাড়াও (১৯৪৭ ও ১৯৬৫ সালে) দুই দেশের সেনাবাহিনী, জঙ্গী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসংখ্য সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
যেসবের কারণে বর্তমানে কাশ্মীরের অর্থনীতির অবস্থা নাজুক, কর্মসংস্থান সঙ্কট প্রবল এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চরমে।

কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণ করে কারা?

১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ যখন হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারত ও মুসলিম মংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত হয় এবং ভারত-পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে - তার আগে থেকেই কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক ছিল।
কাশ্মীরের তৎকালীন হিন্দু মহারাজা হরি সিং চাইছিলেন স্বাধীন থাকতে অথবা ভারতের সাথে যোগ দিতে। অন্যদিকে পশ্চিম জম্মু এবং গিলগিট-বালতিস্তানের মুসলিমরা চাইছিলেন পাকিস্তানের সাথে যোগ দিতে।
কিন্তু সেসময় কোনো নির্বাচনের মাধ্যমে এই দ্বন্দ্বের সুরাহা করতে না পারায় পরের দুই বছর কাশ্মীর ইস্যুতে যুদ্ধ চলে দুই দেশের মধ্যে।
যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হলে পাকিস্তান কাশ্মীর থেকে সেনা সরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং কাশ্মীর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।
কাশ্মীরের বিভিন্ন অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে পাকিস্তান, ভারত ও চীন
ভারত ও পাকিস্তানের এই দ্বন্দ্বের মধ্যে ১৯৫০'এর দিকে পূর্ব কাশ্মীর - যেই অঞ্চল আকসাই চিন নামে পরিচিত - দখল করতে থাকে চীন।
১৯৬৫ সালে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধ হয় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। এরপর ১৯৮০ ও ৯০ এর দশকে কাশ্মীরের ভারত অধ্যূষিত অঞ্চলে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হলে সেখানে জঙ্গী কার্যক্রমের পরিধি বিস্তার করে, গণরোষ তৈরি হয় এবং পাকিস্তানের মদদপুষ্ট জঙ্গী বাহিনীর প্রসার শুরু হয়।
সেসময় থেকে নানা ধরণের সহিংস ঘটনায় কাশ্মীরে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে।

কাশ্মীরের মানুষ কী চায়?

১৯৫০'এর দশক থেকেব জাতিসংঘ বলে আসছে যে কাশ্মীর ইস্যুতে ঐ এলাকার মানুষের মতকে প্রাধান্য দেয়ার লক্ষ্যে একটি গণভোট আয়োজন করা উচিত।
ভারত এই পরিকল্পনাকে শুরুতে সমর্থন করলেও পরবর্তীতে তারা বলে যে গণভোট আয়োজন প্রয়োজনহীন; কারণ ভারত অধ্যূষিত জম্মু ও কাশ্মীরে নির্বাচনে সেখানকার মানুষ ভারতের সাথে থাকার পক্ষেই মত দেবে।
কিন্তু পাকিস্তান এই দাবি সমর্থন করে না।
তাদের বক্তব্য, ভারত অধ্যূষিত কাশ্মীরের অনেক মানুষই ভারতের সাথে থাকতে চায় না; তারা হয় স্বাধীনতা চয়, নয়তো পাকিস্তানের সাথে যোগ দেয়ার পক্ষপাতী।
ভারত অধ্যূষিত জম্মু ও কাশ্মীরের জনসংখ্যার ৬০ ভাগের বেশি মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী। এটিই ভারতের একমাত্র রাজ্য যেখানে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যাগুরু।
দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের দ্বন্দ্বে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাশ্মীরের পর্যটন খাত

আধুনিক রাস্তায় কিংবদন্তি অ্যাম্বাসেডর গাড়ি

ভারতের রাস্তায় গত দশকগুলোর আইকনিক একটি চিত্র অ্যাম্বাসেডর গাড়ির উপস্থিতি। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতের সড়ক বিশেষ করে কলকাতায় দাপিয়ে বেড়ানো এই গাড়িটি আবার পুনর্জীবিত হতে যাচ্ছে। ভারতের হিন্দুস্তান মোটরস মাত্র ১২ মিলিয়ন ডলারে অ্যাম্বাসেডর ব্র্যান্ডটি ফ্রান্সের পোয়গেয়ট কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। ২০১৭ এর ফেব্রুয়ারির বিক্রয় সংখ্যার পতন দিয়েই ভারতের প্রাচীনতম গাড়ী প্রস্তুতকারকদের তৈরি আইকনিক এই গাড়িটির ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। দেশটির রাজনৈতিক শ্রেণীর প্রতীক এই অ্যাম্বাসেডর গাড়িটির উৎপাদন চাহিদার অভাব ও ঋণের কারনে প্রায় ৩ বছর আগে বন্ধ হয়।
অন্যদিকে এই হস্তান্তর ২০১১ সালের বহুল আলোচিত হিন্দুস্তান মোটরস ও বাংলাদেশী বানিজ্যিক গোষ্ঠি ইন্ট্রাকো গ্রুপ এর মধ্যকার চুক্তির জন্য কি নিয়ে আসবে তা এখনো দেখার বাকি। ঢাকার রাস্তায় চলার জন্য এই চুক্তি হলেও তা বাংলাদেশে আশানরূপ সাড়া পায়নি। ২০১১ সালের এই চুক্তি অনুযায়ী ঢাকার অদূরে একটি অ্যাসেম্বলি ইউনিট করার কথা ছিল যার মাধ্যমে ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্প বাংলাদেশের ট্যাক্সিক্যাব বাজারে এবং সাধারণ গাড়ির বাজারে প্রবেশ করার আশা করেছিল। ব্যক্তি ও পরিবার ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশীদের প্রবণতা হল অভিজাত গাড়ি ব্যাবহার করা এবং এক্ষেত্রে ব্রিটেনের দীর্ঘ লুপ্ত মরিস অক্সফোর্ডের আদলে তৈরি অ্যাম্বাসেডর গাড়িটি জনপ্রিয় হতে পারেনি।
এদিকে, উত্তম বসু হিন্দুস্তান মোটরস এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফ্রন্টলাইনের কাছে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন পোয়গেয়টের সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তিটি আইকনিক এই ব্র্যান্ডকে নতুন জীবন দিতে পারে এবং তারা অবশ্যই ব্র্যান্ডটির জন্য যথা উপযোগী ব্যাবহার করতে পারবে।
“আমরা পোয়গেয়টের কাছে অ্যাম্বাসেডর ব্র্যান্ড বিক্রি করেছি কারনে তারা এর সর্বচ্চো ব্যাবহার করতে পারবে, বিশেষ করে এই প্রক্রিয়ার মার্কেটিং অংশটুকু। কিংবদন্তী এই ব্র্যান্ডটি আবার জনপ্রিয় হক এটা আমরা চাই”
বাংলাদেশে ব্যর্থ হওয়ার পরে দক্ষিণ এশিয়ার বাকি দেশগুলোতে অ্যাম্বাসেডরকে পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন এই স্বত্বাধিকারী কি ব্যবস্থা নিবে তাই এখন দেখার বিষয়।
অ্যাম্বাসেডর ১৯৫৮ সালে প্রথম ভারতে চালু হয় এবং শীঘ্রই তার গর্জনে রাস্তা-ঘাটে আলোড়ন তৈরি করে।কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির গাড়ির আবির্ভাবের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ এর মাঝামাঝি থেকে এটা বিস্মৃতির দিকে চলে যেতে থাকে। আশির দশকের বড় সময় ধরে যেখানে বার্ষিক গাড়ির উৎপাদন ছিল ২৪০০০ এর কাছাকাছি সেখানে তা ৫৫০০ তে নেমে যায় ৯০ এর শেষের দিকে।
উত্তরপাড়ায় হিন্দুস্থান মটরস প্রধান কারখানা ২০১৪ সালে স্থগিত করা হয় যা ১৯৪২ সালে স্থাপন করা এবং এশিয়ার প্রাচীনতম অটোমোবাইল প্লান্টের একটি ছিল। কোম্পানির সাফল্যের শীর্ষ সময়ে যে কারখানার লোকবল ছিল ২২০০০ এরও বেশী তা ২০১৪ সালে ২৬০০ তে এসে দাড়ায় এবং দেনার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৪ কোটি রুপী।