Saturday, July 27, 2019

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরো এক চিকিৎসকের: ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতেন তিনি by মোহাম্মদ ওমর ফারুক

হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ভিড়। শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া বেশিরভাগ রোগীই ডেঙ্গু নিয়ে এসেছেন। এই ওয়ার্ডের ডাক্তার তানিয়া। নিজের ঘরেও রয়েছে সাড়ে তিন বছরের এক পুত্রসন্তান। নিজ সন্তানের মতোই শিশুদের চিকিৎসা করান। আদর সোহাগে ভরিয়ে দেন। সুস্থ হলে নিজেও তৃপ্তি পান। গত সপ্তাহ জুড়ে এভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড সামলিয়েছেন তানিয়া।
কিন্তু নিজেই কখন যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন তা তিনি ঘুর্ণাক্ষরেও টের পাননি। পুরো নাম ডাক্তার তানিয়া সুলতানা। রোগীকে আপন করে নেয়ার এক যাদু ছিল তার মাঝে। তাইতো রোগীরা তাকে পছন্দ করতেন। ভালবাসতেন। তার এই ভালবাসার টানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর কাছে আপনজন হিসাবে পরিচিত ছিলেন তিনি। কিন্তু কে জানতো যে ডাক্তার রোগীর আপনজন হয়ে দাঁড়াতেন সেই তাকেই রোগী হয় চলে যেতে হবে পরপারে। ডেঙ্গু রোগ দেখা দিতে না দিতেই বড্ড অকালে চলে গেলেন ডাক্তার তানিয়া। আর তার এ চলে যাওয়া দুই পরিবারে যেমন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তেমনি বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজনও ভাসছেন শোকের সাগরে। একই সঙ্গে তানিয়াকে নিয়ে যারা স্বপ্ন দেখতেন তাদের স্বপ্নও চুরমার হয়ে গেছে। যাত্রবাড়ির বাসিন্দা ডাক্তার তানিয়া সুলতানা। বয়স মাত্র ২৮ বছর।  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনারারি চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।  যে ডাক্তার রোগীর জীবন বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালান সেই ডাক্তারকেই ডেঙ্গুর কাছে হার মানতে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ধানমন্ডি আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।  ডা. তানিয়া সুলতানা সিলেট এম এ জি ওসমানী  মেডিকেল কলেজের ৪৭তম ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন। এমবিবিএস শেষ করে ঢাকায় চলে আসেন তিনি। বছরখানেক বিরতি দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন এফসিপিএস কোর্স কমপ্লিট করতে। স্বপ্ন ছিলো এফসিপিএস শেষ করবেন। বাংলাদেশি ডাক্তারের জন্য সবচেয়ে সম্মানের এই কোর্সটির প্রথম পার্ট শেষ করেছিলেন  তিনি। ছিলেন পার্ট দুইয়ের শিক্ষার্থী। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরন হলো না তার । ডেঙ্গু কেড়ে নিলো তার সেই স্বপ্ন। ডাক্তার তানিয়া সুলতানার সাড়ে তিন বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে। পুত্রও গতকাল মায়ের জন্য কান্না করছে। মৃত্যু কি না বুঝলেও মাকে দেখছেনা, এটা তাকে কাঁদাচ্ছে। ডাক্তার তানিয়ার স্বামী ব্যবসায়ী আমিনুল বাহার হিমন বলেন , জ্বরের কারণে তানিয়ার এভাবে মৃত্যু হবে আমরা  কখনও কল্পনা করিনি। এত অল্প বয়সে আমার বাচ্চা মা হারাতে হলো। তিনি বলেন, ছেলেটি তার মাকে পাগলের মতো খুঁজছে। তাকে বলেছি, তোমার মা বেড়াতে গেছে, আসবে। একটু পরেই আসবে। কিন্তু এভাবে কতদিন  বাবুকে শান্তনা দিবো। সৃষ্টিকর্তা আমাদের এই  কেমন পরিক্ষা নিলো? তানিয়ার খুব ইচ্ছে ছিলো সে এফসিপিএস করবে। সংসার, বাচ্চা সামলে প্রতিদিন হাসপাতালে যেতো সেই যাত্রাবাড়ি থেকে। তার খুব কষ্ট হতো। তারপরও তার স্বপ্নে অটল ছিলো সে।

ডাক্তার তানিয়া সুলতানা গত ২২শে জুলাই থেকে জ্বরে ভুগছিলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার  ডেঙ্গু পজিটিভ আসে। ২৪শে জুলাই তাকে রাজধানীর মগবাজার কমিউনিটি  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বুধবার তাকে আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পর দিন রাত দশটায় তার মৃত্যু হয়।

ডাক্তার তানিয়ার স্বামী আমিনুল বাহার হিমন বলেন, বৃহস্পতিবার তাকে আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে  মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাক্তার আব্দুল কাহার আকন্দের অধীনে ভর্তি করানো হয়।  সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় তার মৃত্যু হয়।

তানিয়ার কলেজের সিনিয়র শ্যামলী টিবি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সামিউর রশিদ বলেন, তানিয়া যেখানে চিকিৎসা দিতেন সেই শিশু ওয়ার্ডটিতে প্রচুর পরিমান ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশু ছিলো। যেহেতু  সেখানে  ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বেশি ছিলো সেহেতু ওখান থেকেই তিনি আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া দশ বারোদিন আগে তার শাশুড়ি মারা গেছে। এই নিয়ে তাকে বেশ কয়েক দিন নানান ঝামেলার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

এ নিয়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনজন চিকিৎসকের মৃত্যু হলো। এর আগে রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নিগার নাহিদ দিপু নামে একজন চিকিৎসক, দুইদিন আগে হবিগঞ্জ  জেলা সিভিল সার্জন শাহাদাত  হোসেন হাজরা মারা যান।

এই প্রসঙ্গে  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ইমন ভুইয়া বলেন , ডেঙ্গু চিকিৎসা করতে গিয়ে ডাক্তাররা অনেক ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। যেহেতু হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী অনেক সেহেতু চিকিৎসকের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থেকে যায়। 

এদিকে, এই প্রতিবেদক মুগদা জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখেন, এই হাসপাতালে তিনজন চিকিসৎক ও দুইজন নার্স ডেঙ্গু রোর্গে আক্রান্ত। এর মধ্যে তিন ডাক্তার হাসপাতালের আইসিউতে ভর্তি রয়েছেন।

মেয়ের বিয়েতে এক মাসের জন্যে জেল থেকে মুক্ত রাজীব গান্ধি হত্যার আসামী নলিনী

রাজীব গান্ধি হত্যায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নলিনী শ্রীহরণকে তাঁর জেলবন্দি দশা থেকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হল, মেয়ের বিয়েতে যোগদানের জন্যেই একমাসের জন্যে মুক্ত তিনি। গত বৃহস্পতিবার ভেলোর জেল থেকে ওই সাময়িক সময়ের ছুটি পেয়ে নিজের বাড়ি গেলেন রাজীব হত্যায় সাজাপ্রাপ্ত নলিনী। জানা গেছে, তাঁর মেয়ে মেগারার বিয়ে, আর সেই বিয়ের আয়োজন ও শুভ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কারণেই নলিনী শ্রীহরণকে একমাসের জন্যে কারাবাস থেকে রেহাই দেওয়া হয়েছে। তাঁর মেয়ে ব্রিটেনে ডাক্তারি পড়েছেন, আগামী সপ্তাহেই দেশে ফিরে আসবেন তিনি। তবে মেয়ের বিয়ের জন্যে কিছুদিনের জন্যে জেল থেকে মুক্তি মিললেও তাঁর উপর রয়েছে কয়েকটি কড়া নিষেধাজ্ঞা। ভেলোরের বাইরে কোথাও যেতে পারবেন না নলিনী এবং এই সাময়িক মুক্তির সময়কালে কোনও রাজনৈতিক নেতা বা সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধির সঙ্গেও কথা বলতে পারবেন না তিনি।

গত মাসেই নলিনীকে ওই একমাসের ছুটি মঞ্জুর করে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। আদালতে শুনানি চলাকালীন নিজের এই মুক্তির ব্যাপারে নিজেই সওয়াল করেন তিনি। গত ২৮ বছরে এই প্রথমবার জেলের বাইরের আলো বাতাস দেখার সুযোগ মিলছে রাজীব গান্ধি হত্যায় সাজাপ্রাপ্ত নলিনী শ্রীহরণের।

এর আগে গতবছর তাঁর বাবার শেষকৃত্যে যোগদানের জন্যে মাত্র একদিন প্যারোলে মুক্তি মেলে নলিনী শ্রীহরণের। তাঁর স্বামী মুরুগানও ওই একই জেলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করছেন। প্রাথমিকভাবে রাজীব গান্ধির হত্যাকারীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে নলিনীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে পরে রাজীব গান্ধির স্ত্রী তথা কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধির হস্তক্ষেপে, তাঁর মৃত্যুদণ্ডের সাজা বদলে যাবজ্জীবন করা হয় এবং তাঁর এই মেয়ের জন্ম জেলে থাকা অবস্থাতেই হয়।

পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট রাজীব গান্ধি হত্যায় দোষী বাকি ৬ জনেরও মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে যাবজ্জীবন সাজার বিধান দেয়। ৭ জন সাজাপ্রাপ্তই গত ২৮ বছর ধরে জেলে রয়েছেন।

এর আগে গতবছর তাঁর বাবার শেষকৃত্যে যোগদানের জন্যে মাত্র একদিন প্যারোলে মুক্তি মেলে নলিনী শ্রীহরণের। তাঁর স্বামী মুরুগানও ওই একই জেলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করছেন। প্রাথমিকভাবে রাজীব গান্ধির হত্যাকারীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে নলিনীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে পরে রাজীব গান্ধির স্ত্রী তথা কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধির হস্তক্ষেপে, তাঁর মৃত্যুদণ্ডের সাজা বদলে যাবজ্জীবন করা হয় এবং তাঁর এই মেয়ের জন্ম জেলে থাকা অবস্থাতেই হয়।

পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট রাজীব গান্ধি হত্যায় দোষী বাকি ৬ জনেরও মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে যাবজ্জীবন সাজার বিধান দেয়। ৭ জন সাজাপ্রাপ্তই গত ২৮ বছর ধরে জেলে রয়েছেন।

তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ থেকে ওই সাজাপ্রাপ্তদের মুক্তির ব্যাপারে তদ্বির করা হলেও, এখনও এ ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেননি সে রাজ্যের রাজ্যপাল।

এর আগে নিজের ৬ মাসের মুক্তির আবেদন জানান নলিনী শ্রীহরণ। তিনি এও অভিযোগ করেন যে রাজীব হত্যায় তাঁকে ভুলভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজের হয়ে এক আবেগপূর্ণ সওয়াল করে বলেন “আমি আমার মেয়ের প্রতি কোনও কর্তব্যই করতে পারছি না, এমনকি মাতৃত্বের দায়িত্বটুকুও পালন করতে পারছি না আমি”। এরপরেই তাঁকে একমাসের জন্যে মুক্তিদানের সিদ্ধান্ত নেয় আদালত। তবে বিচারকের মধ্যে অন্যতম এমএম সুন্দরেশ তাঁকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়ার আগে তাঁকে ব্যাখ্যা করে বলেন যে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে একমাসের বেশি মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয়।

লোকসভায় তাক্ষণিক তিন তালাকবিরোধী বিল পাস, বিরোধীদের ওয়াকআউট

৩ তালাক বিল বিরোধী বিক্ষোভ (ফাইল ফটো)
কংগ্রেস, তৃণমূলসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা সত্ত্বেও ভারতের লোকসভায় পাস হয়েছে বহুল আলোচিত তিন তালাক নিষিদ্ধের বিল। গত বৃহস্পতিবার দিনভর বিতর্ক ও বিরোধীদের ওয়াকআউটের মধ্যে কণ্ঠভোটে এ বিলটি পাস হয়। কণ্ঠভোটে খারিজ হয়ে যায় অলইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসির আনা সংশোধনীও। বিলের পক্ষে ৩০২টি ও বিপক্ষে পড়ে ৭৮টি ভোট।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, লোকসভায় পাস হলেও বিলটিকে এবার রাজ্যসভা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সেখানেও পাস হলে তবেই কার্যকর হবে তিন তালাকের মাধ্যমে মুসলমানদের তাৎক্ষণিক বিবাহ বিচ্ছেদ নিষিদ্ধের এ আইন।

নতুন এ আইনে, কোনো মুসলমান পুরুষ শুধু মুখে তিন তালাক বলেই বিবাহ বিচ্ছেদ করলে তার কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

তবে, এ আইনকে অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করে কঠোর সমালোচনা করেছে বিরোধীরা। বিল পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকসভা থেকে ওয়াকআউট করেন কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। এমনকি, এ বিলের বিরোধিতা করছে বিজেপি জোটের অন্যতম শরিক জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ)। তাদের দাবি, এ আইন সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি করবে।

ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি তিন তালাকবিরোধী বিলের সমালোচনা করে বলেন, “আপনারা বলছেন, কেউ তিন তালাক দিলে তাঁকে ৩ বছরের জন্য জেলে পাঠানো হবে। তাহলে ওই সময়ে মহিলার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কে নেবে? ওই মহিলাই তো উলটে বিপদে পড়বেন!”

তিনি বলেন, এমন আইন এনে মুসলিম মহিলাদের উপরে অত্যাচার করছেন। কেউ পুরুষের বিরুদ্ধে প্রমাণ দেবে না। গ্রেফতার করলে খোরপোষ দিতে পারবেন না স্বামী। তিন বছর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ থাকতে হবে স্ত্রীকে।”

সনাতনী সংস্কৃতির বিয়ের সঙ্গে ইসলামের বিয়ের ফারাক রয়েছে মন্তব্য করে তিনি “ইসলামে বিয়ে জন্ম-জন্মান্তরের সম্পর্ক নয়। এটাকে তেমন বানানোর চেষ্টা করবেন না। বরং বিবাহ একটা জন্মের চুক্তি।”

তবে সরকার পক্ষ জানিয়েছে, ভারতে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে আইনটি আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিল উত্থাপনের সময় কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, “মালয়েশিয়া-পাকিস্তানসহ বিশ্বের ২০টি মুসলিম দেশ তিন তালাক প্রথা নিষিদ্ধ করেছে। তাহলে ধর্মনিরপেক্ষ ভারত কেন করবে না? এ কাজের জন্য শাস্তির বিধানে সমস্যা কোথায়? হিন্দু ও মুসলমানদের যৌতুক বা পারিবারিক নির্যাতনের জন্য কারও জেল হলে, তখন তো কেউ অভিযোগ জানায় না।”  

তিনি বলেন, দুই বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট তিন তালাককে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলার পরও এ প্রথা চলছেই। তখন থেকে এ পর্যন্ত কয়েকশ’ মামলা হয়েছে।

তবে, হঠাৎ করেই তিন তালাক নিষিদ্ধের বিল লোকসভায় তোলায় ‘সরকারের বাজে মতলব আছে’ বলে দাবি করেছেন বিরোধী নেতারা।

কংগ্রেসের চিফ হুইপ কে, সুরেশ বার্তা সংস্থা এএনআই’কে বলেন, “গতকাল রাতে তিন তালাক বিলটি আজকের এজেন্ডায় যোগ করা হয়েছে। আর বিরোধীদের না জানিয়েছেই ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল ও ডিএনএ টেকনোলজি রেগুলেশন বিল উত্থাপন পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা এ বিলের বিষয়টি গোপন রাখছে কেন?”

তেলুগু দেশম পার্টির জয়দেব গাল্লার প্রশ্ন, “হিন্দু আইনে বিবাহ-বিচ্ছেদ ফৌজদারি অপরাধ নয়, খ্রিস্ট ধর্মেও নয়, তাহলে শুধুমাত্র মুসলিম আইনেই কেন হবে।”

লোকসভায় পাস হওয়া বিলটি এবার যাবে রাজ্যসভায়। নবীন পট্টনায়েকের বিজু জনতা দল এবং অন্ধ্রপ্রদেশের শাসকদল ওয়াইএসআর কংগ্রেস জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্যসভায় এই বিলের বিরোধিতা করবে।
ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসিরবিশঙ্কর প্রসাদ

ভারতের পিছু ছাড়ছে না ট্রাম্পের ‘কাশ্মির বোমা’, বিরোধীদের তোপের মুখে মোদি

হোয়াইট হাউজে সফররত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাশ্মির সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তা নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় থামার লক্ষণ নেই। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকে ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা দাবি করেছে ভারতের বিরোধী দলগুলো।

প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস গত বুধবারও পার্লামেন্টে বিষয়টি উত্থাপন করে এবং মোদির কাছ থেকে ব্যাখ্যা দাবি করে। এ বিষয়ে মোদির নিরবতায় ক্ষুদ্ধ হয়ে বিরোধী দলীয় সদস্যরা পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভা থেকে ওয়াক আউট করে। পার্লামেন্টে তারা মোদির বিরুদ্ধে স্লোগানও দেয়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং আবারো বুঝানোর চেষ্টা করেন যে জাপানের ওসাকায় বৈঠকের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির এ ধরনের কোন কথা হয়নি। তিনি পার্লামেন্টে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বিবৃতির চেয়ে নির্ভেজাল আর কিছু হতে পারে না। তিনি নিজেও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

কংগ্রেসের এমপি ও সাবেক জাতিসংঘ কূটনীতিক শশি থারোর প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যা চেয়ে একটি স্টপ নোটিশ জারি করেন। প্রধানমন্ত্রী কাশ্মির নিয়ে ট্রাম্পকে মধ্যস্থতা করতে বলেছিলেন কিনা তা জানতে চান।

গত ২২ জুলাই সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন যে, জুনে জাপানের নগরী ওসাকায় জি২০-এর সাইডলাইনে বৈঠকের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি কাশ্মির সমস্যা সমাধানে তার সহায়তা কামনা করেছেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ভারত যেন আকাশ থেকে পড়ে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খানের সঙ্গে যৌথ মিডিয়া ইন্টারএ্যাকশনের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিলো। আমরা এই বিষয়ে [কাশ্মির] কথা বলি। তিনি আসলে বলছেন যে আমি মধ্যস্থতাকারী হতে বা সালিশ করতে পারবো কিনা। আমি জিজ্ঞেস করি, কোথায়? [মোদি বলেন] কাশ্মিরে।’

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন এবং পার্লামেন্টে বলেন যে প্রধানমন্ত্রী মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে এ ধরনের কোন অনুরোধ করেননি ।

১৯৪৭ সাল থেকে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে কাশ্মির সমস্যা চলে আসছে। এই ভূখণ্ড নিয়ে দুই দেশ তিনটি যুদ্ধও করেছে। ১৯৯৯ সালে দুই দেশের বাহিনী কারগিল উপত্যকায় মুখোমুখি হয় এবং সেই খণ্ডযুদ্ধে ৫০০-এর বেশি সৈন্য হারায় ভারত।

চলতি বছর যুক্তরাজ্য থেকে পাঁচটি সি-১৩০জে এয়ারলিফটার পাচ্ছে বাংলাদেশ by গারেথ জেনিংস

খর্বদেহী সি-১৩০জে
যুক্তরাজ্য থেকে দুই দফায় পাঁচটি খর্বদেহী সি-১৩০জে সামরিক পরিবহন বিমান কেনার অর্ডার দিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৮ ও ২০১৯ সালের গোড়ার দিকে অর্ডারগুলো দেয়া হয়। রয়্যাল এয়ারফোর্সে (আরএএফ) বিমানগুলো সি৫ নামে পরিচিত। প্রথম দফায় দুইটি ও দ্বিতীয় দফায় তিনটি বিমানের অর্ডার দেয়া হয়। মার্শাল এরোস্পেস এন্ড ডিফেন্স গ্রুপ (এডিজি)-এর সঙ্গে বাংলাদেশ রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করার পর বিমানগুলো কেনার খবর প্রকাশিত হয়। তবে মোট সংখ্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এর আগে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী বলেছিলো যে আরএএফ থেকে সি-১৩০জে সংগ্রহ করা হলে তাদের বর্তমান এয়ারলিফট ক্যাপাসিটি ব্যাপকভাবে বাড়বে। বিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি এয়ারক্রাটগুলোর কিছু পরিবর্তনও করবে মার্শাল। এর মধ্যে রয়েছে একটি মেডিকেল ইভাকুয়েশন (মেডিভ্যাক) ক্যাপাবিলিটি ডিজাইনিং, উন্নয়ন ও সংযোজন। ফলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী দেশের ভেতরে কাজ করার পাশাপাশি বিদেশে জাতিসংঘ মিশনগুলোতেও সহায়তা দিতে পারবে।

সি-১৩০জে সংগ্রহ করার পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তার চারটি সি-১৩০বি বিমান অবসরে পাঠাবে। এসব বিমান ২০০১ সাল থেকে কাজ করছে। এসব বিমান পুরনো অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া দেশটির  আরো তিনটি এএন-৩২ ‘ক্লাইন’ ও তিনটি এল৪১০ইউভিপি-২০০ পরিবহন এয়ারক্রাফট রয়েছে। এগুলো যথাক্রমে ১৯৮৯ ও ২০১৫ সালে তৈরি।

বিমানবাহিনীর পরিবহন বহরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি এয়ারবাস ডিফেন্স এন্ড স্পেস (ডিএস) সি২৯৫ ট্যাকটিক্যাল ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফট হাতে পেয়েছে। ২০১৬ সালে এই বিমানের অর্ডার দেয়া হয়।

ক্যাপশন নিউজ

ওয়াশিংটনে একই ফ্রেমে বন্দি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস ও রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন। বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রিয়া সাহা তার ধারে-কাছেও ছিল না। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সামরিক সম্পর্ক দৃঢ়ভাবে, দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সম্পর্ক দৃঢ়ভাবে ও দ্রুততার সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের প্রতিরক্ষা এটাশে সিনিয়র কর্নেল লিউ ফাংজিয়ান এ কথা বলেন।

দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে ঘন ঘন সফর বিনিময়, সরকারি কর্মকর্তাদের সফর ও প্রশিক্ষণ বিনিময়ের মাধ্যমে বিচক্ষণ সহযোগিতা ও ফলপ্রসূ সহযোগিতা ক্রমাগত গভীর হচ্ছে বলে উল্লেখ করে তিনি।

দূতাবাসে এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা এটাশে বলেন, চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনে সফল ও ফলপ্রসূ সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন, যা দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতায় নতুন গতি এনেছে।

তিনি উল্লেখ করেন যে ২০১৬ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঐতিহাসিক সফরের পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কটি সহযোগিতার কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নিত হয়।

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)’র ৯২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের চীনা দূতাবাস এই সম্বর্ধনার আয়োজন করে।

বাংলাদেশ ও চীনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, প্রতিরক্ষা এটাশে, বুদ্ধিজীবীসহ প্রায় ৩০০ অতিথি এতে অংশ নেন।

স্বাগত বক্তব্যে সিনিয়র কর্নেল লিউ গত ৯২ বছরে পিএলএ’র অর্জন এবং বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতায় তার অবদান তুলে ধরেন।

২০২২ সাল নাগাদ মহাকাশে মানুষ পাঠাবে পাকিস্তান

প্রথমবারের মতো ২০২২ সাল নাগাদ মহাকাশে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্যের কথা ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার দেশটি জানিয়েছে, আগামী বছর থেকে প্রার্থী বাছাই শুরু করবে তারা।

সোভিয়েত নেতৃত্বাধীন মিশনের মাধ্যমে প্রতিবেশী ভারত ১৯৮৪ সালে প্রথম মহাকাশে নভোচারী পাঠায়।

সোমবার নয়াদিল্লি মহাকাশে রকেট পাঠায়। চাঁদে একটি রোভারের নিরাপদ অবতরণের চেষ্টার অংশ হিসেবে এই রকেট পাঠানো হয়েছে। ভারতের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী মিশন হচ্ছে এটি।

পঞ্চাশ বছর আগে চাঁদে প্রথমবারের মতো পা রাখে মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপোলো ১১ মিশন চাঁদে অভিযান চালায় তখন। যোগাযোগ উপগ্রহ উন্নয়নকে কেন্দ্রীভূত করে নতুন এক পরিবর্তনে আভাস দিয়েছিলেন তারা।

পাকিস্তানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী চৌধুরী ফাওয়াদ হুসেইন বলেন, আমাদের ইতিহাসে এটা হবে সবচেয়ে বড় মহাকাশ অভিযান।

তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচকমণ্ডলী প্রার্থী বাছাই শুরু করবেন। প্রথমে পঞ্চাশ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হবে। পরে সেখান থেকে ২৫, তারপর সেখান থেকে ১০ জনে কমিয়ে আনা হবে।

পাকিস্তানের বিমান বাহিনী প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করবে বলে জানান এই মন্ত্রী।

১৯৬১ সালে পাকিস্তানের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমসফেয়ার রিসার্চ কমিশন গঠন করা হয়েছে।

চৌধুরী ফাওয়াদ বলেন, তাদের এই মিশনের জন্য পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। কারণ পাকিস্তানের নিজেদের কোনো উৎক্ষেপণ স্থাপনা নেই। সেক্ষেত্রে তারা চীনের স্থাপনা ব্যবহার করবে।
পাকিস্তানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী চৌধুরী ফাওয়াদ হুসেইন

ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী পাকিস্তানি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতীয়

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে সাজিদ জাভিদকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দিলেন ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রীতি প্যাটেলকে।-খবর ডন অনলাইনের

বুধবার শপথের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর বরিস জনসন মন্ত্রিসভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর একটির দায়িত্ব দিলেন সাজিদকে।

কাজেই সাবেক এই বিনেয়োগ ব্যাংকার জনসনের মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব পেলেন। এই প্রথম কোনো নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দেশটিতে।

এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তানি অভিবাসী বাস-চালকের সন্তান সাজিদ জাভিদ একটি আধুনিক, বহু-সংস্কৃতি ও মেধাভিত্তিক ব্রিটেনের প্রতিচ্ছবি।

অর্থনৈতিকভাবে উদারপন্থী সাজিদ জাভিদ ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষেই ভোট দিয়েছিলেন।

তবে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসে যোগ দিতে যাওয়া এক কিশোরীর নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে তিনি উদারপন্থীদের সমালোচনার শিকার হয়েছেন।

এক পাকিস্তানি মুসলমান অভিবাসীর ঘরে ল্যানক্যাশায়ারের রোচড্যালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

আর প্রীতি প্যাটেল ২০১৬ সালের দিকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে তাকে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারপন্থী বলা হয়।

তার জন্ম গ্রেটার লন্ডনের উত্তরপূর্বের পৌরশহর হ্যারোওয়ে। তারা বাবা ও মা ভারতের গুজরাট থেকে প্রথকে উগান্ডায় যান।

কিন্তু ষাটের দশকে প্রেসিডেন্ট ইদি আমিন এশীয়দের বহিষ্কারের ঘোষণা দিলে তারা যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেন এবং হার্টফোডশায়ারের বসবাস শুরু করেন।

রিফাতকে ফাঁসানোর পরিকল্পনায় ছিল পুলিশও, রিফাতের বাবার দাবি by আমানুর রহমান রনি

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার আগে তাকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর জন্য নয়ন বন্ড ফাঁদ তৈরি করেছিল এবং তাতে পুলিশের অংশগ্রহণ ছিল বলে দাবি করেছেন বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘মিন্নি, নয়ন ও তিনজন পুলিশ অফিসার ষড়যন্ত্র করে আমার ছেলেকে ধরিয়ে দিয়েছিল।’ সম্প্রতি পাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রিফাতকে বাঁধার জন্য পুলিশ দড়ি খুঁজছে। এ সময় পাশ থেকে একজন গরুর দড়ি খোঁজার কথা বলে। রিফাত ও মিন্নির পরিবারের অভিযোগ, নয়ন ষড়যন্ত্র করে রিফাতকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। তবে পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এ বছরের ২৬ এপ্রিল মিন্নির সঙ্গে বিয়ের ১৫ দিন পর ১১ মে রিফাতকে বরগুনার ৯ নম্বর ইউনিয়নের লাকুরতলা এলাকার একটি সড়ক থেকে গাঁজাসহ আটক করে বলে দাবি করে পুলিশ। এ ঘটনায় বরগুনা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা হয়। এতে ১৭ দিন কারাগারে ছিলেন রিফাত।

এ প্রসঙ্গে রিফাতের বাবা বলেন, ‘এটি অন্য একটি ষড়যন্ত্র ছিল। ষড়যন্ত্রে মিন্নি, নয়ন ও তিন পুলিশ অফিসার জড়িত ছিল। নয়ন তথ্য দিয়ে রিফাতকে ধরিয়ে দেয়।’ তিনি বরগুনা থানার তিন পুলিশ অফিসারের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘এসআই (উপ-পরিদর্শক) আসাদুজ্জামান ও কাজী ওবায়দুর রহমান এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. সোহেল খান সেখানে উপস্থিত ছিলেন।’

আসাদুজ্জামান বর্তমানে পিরোজপুর জেলা পুলিশে কর্মরত আছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি বদলি হন। তবে এস আই কাজী ওবায়দুর রহমান ও এএসআই মো. সোহেল খান বর্তমানে বরগুনা সদর থানাতেই কর্মরত রয়েছেন।

দুলাল শরীফ বলেন, ‘নয়ন বন্ড ও মিন্নি চলতি বছরের ১১ মে আমার ছেলেকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে জেল হাজতে পাঠায়। রিফাত এই ১৭ দিন জেলে থাকার সময় নয়নের সঙ্গে মিন্নির যোগাযোগ ছিল।’

এ বিষয়ে এএসআই সোহেল খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সেদিন রাত ১১টার দিকে রিফাত মোটরসাইকেলে আসছিল। আমাদের সিনিয়র অফিসাররা তাকে থামানোর ইঙ্গিত দিলেও সে থামছিল না। এরপর আমি তাকে থামাই। তার পেছনে যে ছেলেটি ছিল, সেই ছেলেটি তার পকেট থেকে এক পোটলা গাঁজা মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর রিফাতের পকেট হাতড়ে আরও এক পোটলা গাঁজা পাওয়া যায়। সেখানে ৫০ থেকে ১০০ জন মানুষ ছিল। এতো মানুষের সামনে আমরা কীভাবে ষড়যন্ত্র করলাম? ওই রাতেই রিফাতের বাবা থানায় এসে আমাদের অনেক অনুরোধ করেছেন ছেড়ে দেওয়ার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি কোনও ষড়যন্ত্র করতাম, তাহলে তো আমাদের থানা ঘেরাও দিতে পারতো। তা তখন দিলো না কেন?’
বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা
রিফাতকে গ্রেফতারের সময় যে ভিডিওটি করা হয়েছিল, সেটি নয়ন বন্ড করেছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ। তিনি বলেন, ‘ভিডিওতে যার কথা শোনা যাচ্ছে সে নয়ন। এটা নয়নের কণ্ঠই। সে ভিডিও করেছে, ছড়িয়ে দিয়েছে। এটা পুলিশও জানতো।’

তবে এএসআই সোহেল খান বলেন, ‘সেখানে অনেক মানুষ ছিল, ভিডিও কে করছে, আমি জানি না। আমরা এখন ভিডিওর কথা শুনছি, আগে কখনও ভিডিওর কথা শুনিনি।’

রাতের ভিডিওতে দেখা যায়, এএসআই সোহেল রিফাতের প্যান্ট কোমরের দিকে ধরে বলছেন, ‘তোর বাপের মুখটা যখন দেখলি, তখন গাড়িটা থামাইলি না কেন?’ এরপর কিছু খারাপ ভাষায় বকা দেয় এএসআই সোহেল। এরমধ্যে কয়েকবার রিফাত শরীফের পায়ে লাথি দেয় পুলিশ। এ সময় রিফাত এএসআই সোহেলকে উদ্দেশ করে বলে, ‘পা-ডা ভাঙা।’ পাশ থেকে একজন বলে ওঠে, ‘পা ভাঙা হেতে কী হইছে, আবার ভাঙবে।’ এরপর পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘থানায় নিয়ে আবার ভাঙমু।’

এরপর এএসআই সোহেল রিফাতকে বাঁধার জন্য রশি চান। পাশের একজনকে জিজ্ঞাসা করেন– মোটা রশি আছে কিনা? এ সময় উৎসুক একজন (কণ্ঠ শোনা যায়, দেখা যায় না) বলে ওঠেন, ‘একটা গরুর রশি লইয়ান দেহি।’

এ সময় আরেক ব্যক্তি বলে ওঠেন, ‘পাপে ছাড়ে না বাপেরেও। তুই আসটোদিন আমারে ডিবি পাডাইছো, আজ তুই ধরা খাইছো।’ এ সময় রিফাত শরীফ তাকে বলে, ‘তোরডে জিগাই নাই।’

এসআই ওবায়দুর এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সেদিন আমরা অন্য একটি অভিযানে গিয়েছিলাম। ১৫৬ পিস ইয়াবাসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করি। আমাদের সঙ্গে মোটরসাইকেল ছিল দুটি। কিন্তু আসামিসহ লোক বেশি হওয়ায় আমরা একটা মোটরসাইকেলের জন্য লাকুরতলায় অপেক্ষা করছিলাম। এ সময় একটা মোটরসাইকেল দ্রুতগতিতে আসে। মোটরসাইকেলটিকে থামানোর নির্দেশ দেওয়ার পরও সামনে যায়। তখন এএসআই সোহেল মোটরসাইকেলটিকে আটক করে। এ সময় রিফাত মোটরসাইকেলের পেছনে ছিল, সাগর নামে একজন চালাচ্ছিল। তাদের তল্লাশি করে দুই পোটলা গাঁজা পাওয়া যায়। এরপর বিষয়টি ওসি স্যারকে জানাই। ওসি স্যার গাড়ি পাঠানোর পর তাকে থানায় নিয়ে আসি। এ সময় সেখানে ৫০/৮০ জন স্থানীয়রা ছিল। নয়ন ছিল কিনা জানি না, থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। তবে আমি দেখিনি। পরে আমি একটা ভিডিও দেখেছি। তবে ভিডিওটা নয়ন করেছে কিনা আমি জানি না।’

রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৫ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা সবাই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। তবে মামলার এজাহারভুক্ত ১২ আসামির মধ্যে এখনও চারজন গ্রেফতার হয়নি।

প্রসঙ্গত, ২৬ জুন সকালে প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল নেওয়ার পর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

মালিঙ্গার বিদায়ী ম্যাচে বাংলাদেশের বড় পরাজয়

মুশফিকুর রহিম ও সাব্বির রহমান
একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে লাসিথ মালিঙ্গার বিদায়ী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৯১ রানে হেরে গেল বাংলাদেশ। ৩১৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২২৩ রানে অলআউট হয় তামিম ইকবালের দল।
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩১৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই আউট হন তামিম ইকবাল। মালিঙ্গার করা বলটি তামিমের ব্যাটের ফাঁক গলে লেগ স্ট্যাম্পে গিয়ে আঘাত হানে। শূন্য রানে বোল্ড হয়ে ফেরেন তামিম।
দলীয় ৭.৩ ওভারে ৩০ রানে নুয়ান প্রদীপের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন ওয়ান ডাউনে ব্যাটিংয়ে নামা মোহাম্মদ মিঠুন। প্রস্তুতি ম্যাচে ৯১ রান করা এ উইকেটেকিপার ব্যাটসম্যান ২১ বলে ১০ রানে ফেরেন।
এরপর কোনো রান যোগ করার আগেই মালিঙ্গার বলে স্ট্যাম্প উড়ে যায় সৌম্য সরকারের। ২২ বলে ১৫ রান করেন তিনি। ৩০ রানে ৩ উইকেট পতনের পর দলের হাল ধরতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। লাহিরু কুমারার বাউন্সি বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে সীমানার ঠিক কাছাকাছি ক্যাচে পরিণত হন রিয়াদ। তার বিদায়ে ১১.৫ ওভারে ৩৯ রানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ দল।
সেই অবস্থা থেকে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে দলকে খেলায় ফেরান মুশফিকুর রহিম ও সাব্বির রহমান রুম্মন। তাদের ১১১ রানের অনবদ্য জুটিতে একটা সময়ে ৪ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১৫০ রান। খেলার এমন অবস্থায় টাইগার সমর্থকদের অনেকেই জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
এরপর আবারও ব্যাটিং বিপর্যয়। ২৭ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট পড়ে গেলে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় বাংলাদেশ। ৫৬ বলে সাত চারের সাহায্যে ৬০ রান করে ফেরেন সাব্বির। মুশফিকের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ডি সিলভার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

১৮৭ রানে ৭ উইকেট পড়ে গেলে মনোবল হারিয়ে ফেলেন দুর্দান্ত ব্যাটিং করে যাওয়া মুশফিকুর রহিমও। নুয়ান প্রদীপের বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন বাংলাদেশ দলের এ নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান। ৮৬ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৬৭ রান করে বিদায় নেন মুশফিক। মাত্র এক রানের ব্যবধানে ফেরেন শফিউল ইসলাম।
ইনিংসের শেষ দিকে মারমুখি ব্যাটিং করে পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমান মোস্তাফিজুর রহমান। এই কাটারমাস্টার শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে মালিঙ্গার তৃতীয় শিকার হলে ২২৩ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। ৩২ মাস পর দলে ফিরেই শুভ সূচনা এনে দেন শফিউল ইসলাম। তার বলে ফাস্ট স্লিপে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন লংকান ওপেনার অভিস্কা ফার্নান্দো। দলীয় ১০ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙে শ্রীলংকার।
ভালো শুরুর রেশ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ওয়ান ডাউনে ব্যাটিংয়ে নেমে দিমুথ করুনারত্নের সঙ্গে জুটি গড়ে তোলেন কুশাল পেরেরা। তাদের জুটিতে প্রথম ১০ ওভারে শ্রীলংকা করে ১ উইকেটে ৭৭ রান। টাইগার বোলারদের তুলোধুনো করে এই জুটিতে তারা যোগ করেন ৯৭ রান।
ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা এই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার অফ স্পিনে ফাইন লেগে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন লংকান অধিনায়ক করুনারত্নে। তার আগে ৩৭ বলে ৩৬ রান করেন তিনি।তার বিদায়ে ১৫ ওভারে ১০৭ রানে দুই উইকেট হারায় শ্রীলংকা।
এরপর কুশল মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে ফের ১০০ রানের জুটি গড়েন পেরেরা। এই জুটিতেই ৮২ বলে শতরানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। নিয়মিত বাউন্ডারি হাঁকিয়ে যাওয়া এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যানকে ক্যাচ তুলতে বাধ্য করেন সৌম্য সরকার। তার আগে ৯৯ বলে ১৭টি চার ও এক ছক্কায় ১১১ রান করেন পেরেরা।
অনবদ্য ব্যাটিং করে ফিফটির পথেই ছিলেন কুশল মেন্ডিস। তাকে মুশফিকের ক্যাচে পরিণত করেন রুবেল হোসেন। ৪৯ বলে ৪৩ রান করে ফেরেন মেন্ডিস। তার বিদায়ে ৩৪ ওভারে ২১২ রানে ৪ উইকেট হারায় শ্রীলংকা।
এরপর ইনিংসের শেষ দিকে ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে যান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও লাহিরু থিরিমান্নে। ৩০ বলে ২৫ রান করা থিরিমান্নেকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। তবে ব্যাটিং চালিয়ে যান ম্যাথিউস। ইনিংস শেষ হওয়ার ৯ বল আগে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে মোস্তাফিজের বলে সাব্বিরের ক্যাচে পরিণত হন লংকান সাবেক অধিনায়ক ম্যাথিউস। তার আগে ৫২ বলে তিন চারে ৪৮ রান করেন তিনি।

ইসরাইলের সঙ্গে করা সব চুক্তি বাতিল করলেন মাহমুদ আব্বাস

ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে এ পর্যন্ত করা সব চুক্তি বাতিল করেছেন। জেরুজালেম আল-কুদস নগরীর উপকণ্ঠে ইসরাইল বহু ফিলিস্তিনির ঘরবাড়ি ভেঙে দেয়ার পর এ ঘোষণা দিলেন তিনি।
মাহমুদ আব্বাস এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, “আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে এতসব সহিংসতার কারণে আমরা ইসরাইলের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সব চুক্তির সমাপ্তি ঘোষণা করছি।” তেল আবিবের সঙ্গে ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষ যে ‘নিরাপত্তা সহযোগিতা’ চুক্তি সই করেছিল তাও বাতিল করা হয়েছে বলে মাহমুদ আব্বাস জানান।
নিরপরাধ ফিলিস্তিনি জনগণের ঘরবাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে তাদের ভূখণ্ড দখল করে চেপে বসা ইসরাইল
অধিকৃত জর্দান নদীর পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরে বৃহস্পতিবার স্বশাসন কর্তৃপক্ষের এক জরুরি বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট আব্বাস। বৈঠকে তিনি বলেন, ইসরাইলে সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো বাতিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কৌশল ঠিক করতে একটি কমিটি গঠন করা হবে।
মাহমুদ আব্বাস বৈঠকে আরো বলেন, ইসরাইলি দখলদার কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সব চুক্তির প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করছে। তারা ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে, গ্রেফতার করছে, তাদের ভূমি অধিগ্রহণ করছে এবং তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দিচ্ছে।
তিনি আমেরিকার পরিকল্পিত ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকার আরো বেশি লঙ্ঘন করার জন্য এ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস

লিবিয়ার উপকূল থেকে ৬২ মৃতদেহ উদ্ধার, ভেসে বেড়াচ্ছে আরও লাশ

লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহত অন্তত ৬২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার লিবিয়ার রেড ক্রিসেন্ট এ তথ্য জানিয়েছে। তারা বলেছে, উদ্ধারকর্মীরা বৃহস্পতিরার বিকেল থেকে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

রেড ক্রিসেন্টের প্রধান আব্দুল মোনেইম আবু সেবেই বলেছেন, সাগরে এখনও মৃতদেহ ভেসে বেড়াচ্ছে। এ কারণে বলা যাচ্ছে না নৌকাডুবিতে ঠিক কত জন প্রাণ হারিয়েছে। গতকাল নৌকাডুবির পর অন্তত ১৪৫ জন শরণার্থীকে জীবিত উদ্ধার করেছে লিবিয়ার কোস্টগার্ড ও জেলেরা।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, লিবিয়ার বন্দর-শহর খোমস থেকে প্রায় চারশ’ যাত্রী নিয়ে তিনটি নৌকা ভূমধ্যসাগরে যাত্রা শুরু করেছিল। উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের কাছ থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এ তথ্য সঠিক হলে সাগরে দুই শতাধিক মানুষ মারা গেছে।

লিবিয়ায় যুদ্ধাবস্থা থেকে বাঁচতে ইউরোপে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে ডুবে এর আগেও মারা গেছেন বহু মানুষ। এ বছর এটিই ভূমধ্যসাগরে শরণার্থী নৌকাডুবিতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যুর ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

এ বছরের প্রথম চারমাসে ভূমধ্যসাগরের একই রুটে প্রায় ১৬৪ জন শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত মে মাসে তিউনিসিয়া উপকূলে শরণার্থী নৌকা উল্টে অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়।

লিবিয়া থেকে শরণার্থীরা ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতিবছরই এমন দুর্ঘটনার শিকার হলেও এই প্রবণতা কমছে না। বিশেষজ্ঞরা এ ধরণের অনিরাপদ যাত্রা থেকে বিরত থাকতে মানুষকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

জয়ের ৪৯তম জন্মদিন আজ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৪৯তম জন্মদিন আজ শনিবার (২৭ জুলাই)। ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই ঢাকায় পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়া ও শেখ হাসিনা দম্পতির ঘর আলো করে জন্ম নেন জয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্ম নেওয়া জয়ের নাম রাখেন নানা শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার সময় মা ও বাবার সঙ্গে জার্মানিতে ছিলেন জয়। পরে মায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ভারত চলে যান তিনি। তার শৈশব ও কৈশোর কাটে ভারতে। সেখানকার নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজে লেখাপড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০০২ সালের ২৬ অক্টোবর ক্রিস্টিন ওভারমায়ারকে বিয়ে করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। সোফিয়া নামে তাদের একটি মেয়ে আছে।
লেখাপড়া করা অবস্থায় রাজনীতির প্রতি অনুরক্ত থাকলেও জয় সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লেখান ২০১০ সালে। ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিতৃভূমি রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ দেওয়া হয় তাকে; যার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি রাজনীতিতে আসেন। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন।
২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে দায়িত্বশীল পদপ্রাপ্তি নিয়ে গুঞ্জন ওঠে। নেতাকর্মীরা তাকে দায়িত্বশীল পদে দেখতে চেয়ে দাবিও তোলেন। কিন্তু তখন দলের সরাসরি পদের প্রতি অনীহা প্রকাশ করেন তিনি।
জয় দেশে থাকলে প্রতি বছর তার জন্মদিনে মা শেখ হাসিনা নিজে রান্না করে খাওয়ান তাকে। পাশাপাশি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে কেক কেটে তার জন্মদিন পালন করা হয়। কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রী সরকারি সফরে লন্ডনে। জয়ও যুক্তরাষ্ট্রে। এ কারণে দেশে তার জন্মদিনের কোনও আনুষ্ঠানিকতা নেই।

শিশু অপহরণ গুজব: কাটা মাথা আতঙ্ক জেঁকে বসেছে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে by আকবর হোসেন

বাংলাদেশের অন্যতম বড় নির্মাণ প্রকল্প পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে এমন একটি গুজব যে দেশের গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে কতটা ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে, তার একটি প্রমান পেলাম বরগুনা শহরে।
দক্ষিণাঞ্চলের জেলা শহর বরগুনায় গিয়েছিলাম পেশাগত কাজে চলতি সপ্তাহে, আর একদিন শহরের কেন্দ্রে একটি কোচিং সেন্টারে যাই বিকেল পাঁচটা নাগাদ।
বড় গেট পেরিয়ে কোচিং সেন্টার চত্বরে ঢুকতেই বেশ কিছু নারী-পুরুষ আমাকে দেখে সতর্ক হয়ে উঠলেন।
অনেকটা মারমুখী ভঙ্গিতেই দুজন পুরুষ এসে আমার পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন।
আমি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও তারা ঠিক আশ্বস্ত হতে পারছিলেন না।
আমার সাথে থাকা বরগুনার স্থানীয় একজন সাংবাদিকের আত্মীয় ওই কোচিং সেন্টারের অন্যতম শিক্ষক। তিনি আসার পর অভিভাবকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন।
ওই শিক্ষক পরে আমাকে বললেন, অভিভাবকদের কয়েকজন প্রথমে আমাকে ছেলেধরা বলে সন্দেহ করেছিলেন।
বেশ কয়েকদিন ধরেই সারা বাংলাদেশে গুজব ছড়িছে পড়েছে যে পদ্মা সেতুর জন্য মানুষের মাথা প্রয়োজন। আর সে গুজব থেকেই অভিভাবকের মনে এই প্রবল সন্দেহ বলে জানালেন ওই শিক্ষক।
পদ্মা বহুমুখী সেতু কর্তৃপক্ষ অবশ্য সপ্তাহ দু'এক আগে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্পষ্ট করেই জানিয়েছে যে "একটি কুচক্রী মহল" সেতুতে মাথা লাগার গুজব ছড়িয়েছে। এই গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্যও কর্তৃপক্ষ সবার প্রতি আহবান জানায়।
বরগুনায় একটি কোচিং সেন্টারের সামনে অপেক্ষমান কয়েকজন অভিভাবক বিবিসির সাথে কথা বলছেন।
এছাড়া, গুজব ঠেকাতে বিশেষ অভিযানের কথা জানিয়েছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
তবে এসব পদক্ষেপ নেয়ার পরও যে পুরস্থিতির খুব একটা উন্নতি ঘটেনি, তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে ছেলেধরা সন্দেহে একের পর এক গণপিটুনির ঘটনায়।
বরগুনার কোচিং সেন্টারে আমার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ছেলেধরা নিয়ে তাদের সন্দেহ আর চলমান গুজব নিয়ে অভিভাবকেরা বেশ খোলামেলা ভাবে তাদের মনোভাব প্রকাশ করলেন।
জেসমিন আক্তার নামে এক অভিভাবকে জিজ্ঞেস করলাম, কেন তাদের এই সন্দেহ?
"টেলিভিশনে দেখলাম, নেত্রকোনা বলে একটা জায়গা আছে, ওখানে একটা লোকের ব্যাগের ভিতরে বাচ্চার মাথা পাওয়া গেছে। লোকটাকে পিটাইয়া ওখানেই মাইর‍্যা ফালাইছে। এসব দেইখা আমাদের ভয় হয়। বাচ্চাদের একা ছাড়তে পারি না," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন জেসিমন আক্তার।
'কাটা মাথা' আতঙ্ক এখন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। নিজের শিশু সন্তান হারিয়ে যাওয়ার ভয় এখন মানুষের মধ্যে জেঁকে বসেছে।
কোন কিছুতেই তারা বিশ্বাস করতে চাচ্ছেন না যে এটা একেবারেই একটা গুজব।
নেত্রকোনায় এক ব্যক্তির ব্যাগে শিশুর কাটা মাথা পাওয়া গেছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মূলত এই ধারণা মানুষের মাঝে অনেকটা বদ্ধমূল হয়েছে যে 'কাটা মাথার' বিষয়টি কোন গুজব নয়।
কেন এটা বিশ্বাস করছেন? - জেসমিন আক্তারকে এমন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, "টেলিভিশনের খবর সবাই বিশ্বাস করে। ওখানে সত্যিটাই দেখানো হয় বা বলা হয়।"
কিন্তু এই আতঙ্ক কি কেবল শুধু শহর-কেন্দ্রীক?
প্রত্যন্ত গ্রামের অবস্থা
বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বরগুনা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দুরে নলিবাজার নামের একটি এলাকায় গেলাম। এ জায়গাটি জেলে অধ্যুষিত এলাকা।
অনেকটা অবাক হয়েই লক্ষ্য করলাম যে সেখানে 'কাটা মাথা' গুজব বরং আরো জোরালো। এলাকায় অপরিচিত মানুষ দেখলেই সন্দেহ করছেন সবাই।
আমি যখন সেখানে বাজারে পৌঁছলাম, দেখলাম লোকজন বেশ উৎসুক দৃষ্টিতে আমাকে দেখছে। এক ব্যক্তি এসে সরাসরি আমার পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন।
আমি পরিচয় দিলাম, আর আমার সাথে থাকা স্থানীয় ট্রলার মালিক সমিতির এক ব্যক্তি আমার পরিচয় তাদের কাছে নিশ্চিত করলেন।
জানলাম 'কাটা মাথা' গুজব গ্রামাঞ্চলে এতোটাই ছড়িয়েছে যে বিভিন্ন প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি পর্যন্ত কমে গেছে।
একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মারজানা রহমান।
একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মারজানা রহমান বললেন, "এইডা তো এখন সব জায়গায় ছড়াছড়ি চলে যে কল্লা কাডা, বাচ্চারা একটু ভয় পায় আসতে চায় না। এ রকম একটা প্রভাব পড়া স্বাভাবিক, সব জায়গায়।"
সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার হলো, এমন গুজবও ছড়িয়েছে যে প্রতিটি স্কুল থেকে একটি করে শিশু চাওয়া হয়েছে।
বিবিসি বাংলাকে মারজানা রহমান বলেন, "অনেকে জিজ্ঞেস করে যে আপনার স্কুলে কি এ রকম কোন তথ্য দিছে যে একটা বাচ্চা দেয়া লাগবে? আমরা বলি যে এ ধরণের কোন তথ্য নাই। এটা সম্পূর্ণই গুজব।"
কিন্তু শিক্ষকদের কথাও পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না অভিভাবকেরা।
মারজানা রহমান বলেন, "আসলে এতোই ছড়াছড়ি চলতেছে যে এইডা বললেও সহজে বিশ্বাস করতে চায় না। তারা বলে, সব জায়গায় কি এতো মিথ্যা কথা হয়?"
অভাবনীয় বিষয় হচ্ছে, প্রত্যন্ত গ্রামেও এখন অনেক অভিভাবক শিশু সন্তানদের স্কুলে আনা-নেয়া করছেন।
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর মোল্লা নামে এক অভিভাবক বলেন, "এখন বাচ্চাদের সাথে যাওয়া লাগে এবং বাচ্চাদের স্কুল থেকে যাইয়্যা আনা লাগে। আমরা খুব আতঙ্কের ভিতরে আছি।"

গুজব কিভাবে ছড়িয়েছে

আমি যাদের সাথে কথা বলেছি তাদের কেউ-ই ফেসবুক ব্যবহার করেন না বলে দাবি করেছেন।
পুরুষেরা বলেছেন, গ্রামের হাট-বাজারে অনেকেই 'কাটা মাথা' প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করেছেন, আর সেখান থেকেই তারা এটি শুনেছেন।
অনেকে আবার লোকমুখে শুনেছেন যে দূরের কোন গ্রামে এক শিশু হারিয়ে গেছে। যদিও বিষয়টি তারা কখনো যাচাই করেননি, তবে এভাবেই গুজবের ডালপালা বিস্তৃত হয়েছে।
নলিবাজার এলাকার বাসিন্দা মোঃ দুলাল মিয়া জানালেন, তিনি এলাকার সবার কাছে একই কথা শুনছেন। "বাজারে শুনছি, ফেসবুকে-টুকে না। খালি মানুষের মুহে-মুহে"।
অন্যদিকে নারীদের অনেকেই বিষয়টি শুনেছেন হয়তো তাদের আত্নীয়-স্বজনের কাছে, নয়তো স্কুলের অন্য অভিভাবকদের কাছ থেকে।
"এইটা মানুষের মুখে-মুখে। যেমন স্কুলে আসছি, এক ভাবী বললো, এ রকম ছেলে ধরা বের হইছে। এ রকম কইরা শুনছি," বলছিলেন অভিভাবক জেসমিন আক্তার।
সরকারের তরফ থেকে অবশ্য এখন তথ্য জানিয়ে দেয়া হচ্ছে যে পদ্মাসেতুতে মাথা লাগার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
তবে গত এক সপ্তাহে ছেলেধরা আতঙ্কে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় গণপিটুনিতে বেশ কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "মানুষ যাতে আইন নিজের হাতে তুলে না নেয় সেজন্য জনসচেতনতা তৈরি করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টিভিসিসহ নানা ভাবে প্রচারণা চালানো শুরু হয়েছে এবং আরো ব্যাপকতর করা হচ্ছে।"
ব্যাপক হারে প্রচারণার জন্য আগামী ৩১শে জুলাই তথ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এক সাথে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আফগানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীনের ভূমিকা বাড়ছে by রহিমুল্লাহ ইউসুফজাই

আফগান শান্তি প্রতিষ্ঠায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে চীনকে বেশ আগ্রহী দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে চীনকে দুবার অত্যন্ত সক্রিয় বলে মনে হয়েছে। প্রথমত, তালেবান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা, আন্তঃআফগান সংলাপ ও আফগানিস্তানে সন্ত্রাস বন্ধে লড়াই প্রশ্নে রাশিয়া ও মার্কিন প্রয়াসে যোগ দিয়েছে চীন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র, আফগান সরকার ও তালেবানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে শান্তি আলোচনার মাধ্যমে আফগান সঙ্ঘাত অবসানে তাদের প্রকাশ্যে ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিন পরাশক্তির সাথে কাজ করতে পাকিস্তানকে সক্ষম করতে ভূমিকা পালন করেছে।

এসব দেশের সবাই একমত যে কাবুলের আফগান সরকারের সাথে সরাসরি আলোচনায় না বসার অবস্থান থেকে সরে আসার জন্য তারা তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

অবশ্য আফগান শান্তিপ্রক্রিয়ায় চীনকে আগেও গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। আফগানিস্তানের পাশাপাশি পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন হলো চার জাতি গ্রুপের (কিউসিজি) সদস্য। এই গ্রুপটি কয়েক মাস ধরে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রয়াস চালাচ্ছে। আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে যে তালেবানকে আলোচনার টেবিলে আনার জন্য চীন তার ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তানকে ভূমিকা রাখার কাজটি করতে পারবে। কিউসিজি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়নি। তবে তবে আফগান শান্তিপ্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে না পারায় এর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে না।

আফগান-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে চীন। আফগানিস্তান ও পাকিস্তান উভয় দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকার সুবিধা গ্রহণ করে চীন উভয় দেশকেই ভূখণ্ডগত বিরোধ মীমাংসায় রাজি করানোর চেষ্টা করছে। উভয় দেশকেই চীন আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সমস্যাগুলো সুরাহা করতে বলছে।

এখন পর্যন্ত প্রতিটি আফগান শান্তি উদ্যোগকে সমর্থন করছে চীন। দেশটি কাতারের দোহায় তালেবান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনাকে সমর্থন করেছে, মস্কোতে রাশিয়ার আয়োজিত আন্তঃআফগান সম্মেলনকেও সমর্থন করেছে।

প্রতিবেশী আফগানিস্তানের ঘটনাবলীর প্রতি চীন দীর্ঘ দিন ধরে আগ্রহী হলেও ২০১৫ সালের প্রথম দিকে আফগান শান্তিপ্রক্রিয়ায় প্রথমবারের মতো সক্রিয় হয় জিনজিয়াং প্রদেশের উরুমকিতে তালেবান ও আফগান সরকারের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক আয়োজন করে। এর রেশ ধরেইে একই বছরের জুলাইতে মারিতে আফগান সরকারি প্রতিনিধি ও তালেবান প্রতিনিধিদের মধ্যে সভা হয়। এক দিনের ওই সভায় চীনা ও মার্কিন কূটনীতিকরা পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২০১৪ সালের জুলাই মাসে আফগানিস্তানবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ করে দেঙ জিজুনকে। এতে বোঝা যাচ্ছে, আফগানিস্তানের ঘটনাবলীর দিকে বিশেষভাবে নজর রাখছিল চীন। এর অন্যতম কারণ ছিল আফগানিস্তানভিত্তিক আফগান ও বিদেশী যোদ্ধাদের চীনা ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা। চীন আশঙ্কা করছে, আফগানিস্তান থেকে যাওয়া যোদ্ধারা চীনা মুসলিমদেরকে প্রভাবিত করতে পারে। এ কারণে আফগানিস্তান সীমান্তে টহল জোরদার করে চীন।

ইটিআইএম, আইএমইউ, আল-কায়েদা, আইএসআইএস ইত্যাদি ইসলামপন্থী গ্রুপগুলোকে প্রতিরোধ করার জন্য চীন সহযোগিতা চাচ্ছে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও অন্যান্য প্রতিবেশীর। ইটিআইএমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে চীন। দেশটি বিতর্কিত চরমপন্থীবিরোধী কর্মসূচিও গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে চীনা উইঘুর মুসলিমদেরকে পুনর্বাসন ও পুনঃশিক্ষা ক্যাম্পগুলোতে পাঠানো হচ্ছে।

আফগান সরকার ও তালেবান উভয়ের সাথেই সম্পর্ক রক্ষা করার কাজ করছে চীন। আফগান সরকারকে সে অর্থনৈতিক সহায়তা ও হালকা অস্ত্র সরবরাহ করছে। এছাড়া তামা খনি, তেল ও গ্যাস খাতেও সহায়তা করছে আফগানিস্তানকে। আর ইটিআইএমকে দমনের জন্য চীনকে সহায়তা করছে আফগান সরকার। অন্যদিকে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) আফগানিস্তানে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা করছে চীন।

আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আফগান তালেবানের সাথেও যোগাযোগে আগ্রহী চীন। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তালেবানের সাথে চীনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। এই সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের ভূমিকা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তালেবান আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও সর্বোচ্চ নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমর তালেবান শাসনের প্রায় ছয় বছর লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন। কিন্তু তিনি চীনা কূটনীতিকদের সাথে সাক্ষাত করতে রাজি হয়েছিলেন। এতেই বোঝা যাচ্ছে, তালেবানের সাথে চীনের যোগাযোগের মাত্রাটা কত ছিল।

আর চীন যখন আফগান শান্তিপ্রক্রিয়ায় এগিয়ে আসে, তখন আফগান সরকার ও তালেবান উভয় পক্ষ একে স্বাগত জানায়।

সাম্প্রতিক সময়ে চীন স্বীকার করে যে তালেবানের একটি প্রতিনিধিদল বেইজিং সফর করেছে। অতীতে কয়েকবারই তালেবান প্রতিনিধিদল চীন সফর করলেও বেইজিং তা স্বীকার করেনি। তবে বর্তমানে ক্রমাগত বেশি বেশি রাষ্ট্র তালেবানের সাথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা ও তাদেরকে তাদের দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানাতে থাকায় চীনও এ ব্যাপারে প্রকাশ্য অবস্থান গ্রহণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটেই কাতারভিত্তিক তালেবান রাজনৈতিক কমিশনের উপপ্রধান মোল্লা আবদুল ঘানি বারদারের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের তালেবান প্রতিনিধিদল চীন সফর করলে তা প্রকাশ করা হয়। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তঃআফগান সংলাপের ব্যবস্থা করতেই হয়েছে এই সফর। সফরটি হয় মধ্য জুনে। আর তালেবান প্রতিনিধি দলের সিনিয়র সদস্য মোল্লা আবদুল সালাম হানাফি জানিয়েছেন, এই সফরে ব্যবহারের জন্য তাদেরকে একটি বিমান দিয়েছিল চীনা সরকার।

এতে স্পষ্ট যে আফগান শান্তিপ্রক্রিয়ায় ভূমিকা পালন করবে চীন। তবে কোনো একটি দেশ আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। শান্তিপ্রক্রিয়া একটি যৌথ দায়দায়িত্ব। তবে আফগানিস্তান শান্তিপ্রতিষ্ঠা করতে কাবুল ও তালেবানের ওপর তার প্রভাব ব্যবহার ও মিত্র পাকিস্তানকে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে রাজি করানোর কাজ করতে পারে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনা সম্পর্ক উষ্ণ না হলেও আফগানিস্তান প্রশ্নে উভয় দেশের অবস্থান অভিন্ন। উভয় দেশই তাদের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসীদের জায়গা দিতে নারাজ।
আব্দুল ঘানি বারদারের নেতৃত্বে (মাঝে) একটি তালেবান প্রতিনিধি দল সম্প্রতি চীন সফর করে

রেনুর দুই সন্তানের দায়িত্ব নেবেন স্বজনরা

রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত তাসলিমা বেগম রেনুর দুই শিশু সন্তান মাহী ও তুবা দিনরাত খুঁজে ফিরছে মাকে। তাদের বাড়িতে আসা হাজারো লোকের ভিড়ে যেন মাকেই খুঁজছে এ অবুঝ দুই শিশু। চার বছরের শিশুকন্যা তুবা তেমন কিছু না বুঝলেও মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদছে ভাই মাহী। এদিকে, দুই শিশু সন্তানের দায়িত্ব নিতে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করলেও তার স্বজনরা এতে নারাজ। তারা বলছেন, তাদের কাছে রেখে মানুষ করতে চান।
গত ৫ দিন ধরেই কত মানুষ আসছে নিহত তাসলিমা বেগম রেনুর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর এলাকায়। বাড়িতে ছোট্ট তুবা এবং ১০ বছরের ছেলে তাসলিম আল মাহী মনের অজান্তেই যেন খুঁজছে তাদের মাকে। মায়ের একটু স্নেহ পেতে বারবারই ছুটে যায় কবরের কাছে।
পাশাপাশি শিশুকন্যা তুবা বারবার বলছে, মা নিচে গেছে ড্রেস আনতে- একথা বলে কান্না করছে। গতকাল সকালে সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, রেনুর বড় ছেলে ৫ম শ্রেণির স্কুলছাত্র তাসলিম আল মাহী মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। আর বলছে, যারা মিথ্যা ছেলেধরা গুজব তুলে তার মাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের যেন বিচার হয়। আর শুধু চারদিকে তাকিয়ে হাউমাউ করে কাঁদছে। পাশাপাশি ছোট্ট অবুঝ শিশু তুবাও চারদিকে শুধু মাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। দুপুরের দিকে খালাদের সঙ্গে রায়পুরের সোনাপুর গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে মাইক্রোবাসে চলে যায় তারা।
এদিকে, নিহত তাসলিমা বেগম রেনুর বড় বোন নাজমুন নাহার  ও দুলাভাই তোফাজ্জল হোসেন জানান, তুবা ও মাহী পড়াশোনাসহ সকল দায়িত্ব নিতে অনেকেই এগিয়ে আসতে চায়। বিশেষ করে বিচারক, অর্থশালী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাসহ বিত্তশালী ব্যক্তিরা। কিন্তু স্বজনরা এতে রাজি নয়। যে সমাজ  ছেলেধরা গুজব তুলে এ অবুঝ দুই শিশুর মাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করেছে, সেই সমাজে তাদের নিরাপদের কথা ভেবে নিজেদের কাছে রেখে মানুষ করতে চায় স্বজনরা। তবে যারা এই ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন এবং তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান স্বজনরা। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তারা।
ভাগিনা ও মামলার বাদী নাসির উদ্দিন টিটু জানান, দুই সন্তানের লেখাপড়া-ভরণপোষণ করার মতো অবস্থা তাদের রয়েছে। যারা তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষ করে মিডিয়া প্রথম থেকে যেভাবে সহযোগিতা করছে। ভবিষ্যতেও যেন তাদের পাশে থাকে, সে অনুরোধ করেন তিনি। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে ঢাকার উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাসলিমা বেগম রেনুকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মেয়েকে ভর্তির জন্য ওই স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে কথাবার্তায় সন্দেহ হলে গুজবেই লোকজন ছেলেধরা বলে পিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে ছেলে তাসলিম আল মাহী ফুফুর বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করছে। বর্তমানে সে লামচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামে রেনুর বাড়ি। তুবা এখন খালাদের সঙ্গে রয়েছে। এ ঘটনার পর দেশজুড়ে শুরু হয় নিন্দার ঝড়। দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে সর্বস্তরের মানুষ।

রাখাইনে প্রত্যাবাসনের পরিস্থিতি নেই: জাতিসংঘ বিশেষ দূত

জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্র্যানার বার্গেনার বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার সহায়ক পরিবেশ রাখাইনে নেই। গত ২৩ জুলাই মঙ্গলবার বিকালে ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

মিয়ানমারে ১০ দিন থাকার পর এদিন সকালে তিনি ঢাকায় আসেন। মিয়ানমারে অবস্থানকালে তিনি দেশটির মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, থিংক ট্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বার্গেনারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন কর্মকর্তা বলেন, বার্গেনার আমাদের জানিয়েছেন রাখাইনের মাঠপর্যায়ের অবস্থার কোনও উন্নতি নেই।

ওই কর্মকর্তা বলেন, রাখাইনে ২৬টি ইন্টারনালি ডিসপ্লেসড ক্যাম্পের মধ্যে মাত্র একটি বন্ধ হয়েছে বলে বৈঠকে তিনি জানান।

বার্গেনার কেন বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন না জানতে চাইলে তিনি এর কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।

জাতিসংঘের এই প্রতিনিধি এর মধ্যে ৫ বার বাংলাদেশ সফর করেছেন। মাত্র একবার তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠকে তিনি সিদ্ধান্ত দেন, এবারে তিনি ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন।

বার্গেনার স্বীকার করেন যে রাখাইনে তাদের গতিবিধি অত্যন্ত সীমাবদ্ধ এবং তারা শুধু ওই জায়গাগুলোতে যেতে পেরেছেন, যেখানে মিয়ানমার সরকার তাদের নিয়ে গেছে।

গত সপ্তাহে মিয়ানমারে এক ডিপ্লোমেটিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ বিষয়ে তিনি অসত্য কথা কেন বলেছেন, সেটির বিষয়ে বার্গেনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জেরা করলে তিনি অজ্ঞতাপ্রসূত ওই মন্তব্য করেছেন বলে জানান।

ওই ব্রিফিংয়ে তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের জানান, মিয়ানমার ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমিশনকে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অনুমতি দেয়নি বাংলাদেশ, যা সঠিক নয়।

মিয়ানমার প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবে

আগামী সপ্তাহে প্রত্যাবাসন নিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজার সফর করবে। দেশটির পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোর নেতৃত্বে ওই দল রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়ে রোহিঙ্গাদের বিস্তারিত জানাবে।

মার্কিন জোটে কোনও সেনা পাঠানো হবে না: জাপান

মধ্যপ্রাচ্যের পানিসীমার সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সামরিক জোটে কোনও না পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে জাপান। মঙ্গলবার দেশটির মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োশিহিদি এ ঘোষণা দেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাকেশি আয়া গত সপ্তাহে বলেছিলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে সেনা পাঠানোর কোনও পরিকল্পনা টোকিও-র নেই। মঙ্গলবার তার সে বক্তব্যেরই যেন প্রতিধ্বনি করলেন দেশটির মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োশিহিদি। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাকেশি আয়া যা বলেছেন তাতে কোনও পরিবর্তন আসেনি।
মধ্যপ্রাচ্যে পারস্য উপসাগরের ওপর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে প্রস্তাবিত সামরিক জোটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপেদষ্টা জন বোল্টনের চলমান টোকিও সফরে মধ্যপ্রাচ্যে সেনা পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
গত সোমবার বোল্টন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কানো, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আয়া এবং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শোতারু ইয়াচির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এদিকে, জাপানি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের নির্বাচনে শিনজো অ্যাবের জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে। সেখানে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্টসহ বহু নেতার সঙ্গে আমার বৈঠক হয়েছে। যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমরা উত্তেজনা প্রশমনে সব ধরনের চেষ্টা চালাবো। আর যুক্তরাষ্ট্র নতুন জোট গঠন করে কী করতে চায় সে সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া প্রয়োজন।
এর আগে এ মাসের গোড়ার দিকে পারস্য উপসাগরে ইরান ও ইয়েমেন সংলগ্ন পানিসীমার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গড়ে তোলার পরিকল্পনা কথা জানান মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান মেরিন জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড। তার ভাষায়, ওই অঞ্চলে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
মে মাসে ওমান উপসাগরে চারটি ট্যাংকারে হামলার পর গত মাসে ওই এলাকায় আরও দুটি ট্যাংকারে হামলা হয়। মে ও জুন মাসে তেল ট্যাংকারের ওপর হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জুন মাসে ট্যাংকারে হামলার কয়েক দিনের মাথায় একটি চালকবিহীন ড্রোন ভূপাতিত করে ইরানি বাহিনী। ইরানের দাবি, ড্রোনটি তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল। আর যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ড্রোনটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমাতেই ছিল।
পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় উত্তেজনা চলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জোসেফ ডানফোর্ড জানান, ওই এলাকায় পানিসীমার সুরক্ষা দিতে একটি সামরিক জোট গঠনের পরিকল্পনা চলছে। এ পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন আদায়ে বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের জোট গঠন করা সম্ভব হলে হরমুজ ও বাবুল মান্দেব প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাধীন ও নিরাপদ হবে। আমি মনে করি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিষ্কার হবে কোন কোন দেশ এ জোটে যোগ দিতে ইচ্ছুক। এরপর আমরা সরাসরি সামরিক বাহিনীকে নিয়ে কাজ করবো, যাতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে সক্ষমতা যাচাই করা সম্ভব হয়।’
জেনারেল ডানফোর্ড জানান, উদ্যোগের আকার কেমন হবে তা নির্ভর করবে কতটি দেশ এতে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘অংশীদারদের সংখ্যা যদি কম হয়, তবে আমাদের মিশনও ছোট হবে।’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র ‘কমান্ড ও কন্ট্রোল’ জাহাজ সরবরাহ করবে আর কাছাকাছি এলাকায় টহল দেওয়ার জন্য অন্য দেশগুলোর কাছ থেকে নৌকা চাওয়া হতে পারে। তবে এরমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত জাপান বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার নিজ দেশের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।

এ যেন খোঁড়াখুঁড়ির নগরী by মারুফ কিবরিয়া

এ যেন খোঁড়াখুঁড়ির নগরী। ঢাকায় কিছু পথ পরপরই কাটা রাস্তা। আর তার ফলে লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট। রাস্তার এক পাশ কাটা থাকায় যান চলাচলের জায়গা থাকে বেশ সংকুচিত। এতে মানুষের ভোগান্তির সীমা নেই। রাজধানীর এই চিত্র নিত্যদিনের। নিয়ম থাকা সত্ত্বেও সারা বছরজুড়েই চলে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ।

সাধারণত বর্ষাকালে বিশেষ করে মে, জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বছরের পাঁচ মাস রাস্তা কাটায় নিষেধ রয়েছে।
এ সময় বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করা যাবে না। সিটি করপোরেশন ছাড়াও অন্য সেবা সংস্থা এ সময় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির অনুমতি পাবে না। অথচ বর্ষা মৌসুমেই সড়কের বিভিন্ন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে কাজ করতে দেখা যায়। বিটিসিএল, ডেসকো, ওয়াসাসহ প্রায় প্রতিটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানই বছরের কোনো না কোনো সময় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজে ব্যস্ত থাকে।

রাজধানীর খিলগাঁও, শাহজাহানপুর, মালিবাগ, বাসাবো, মাদারটেক, মগবাজার এলাকার সড়কগুলোতে বিদ্যুৎ, ওয়াসা, তিতাস গ্যাসের, বিটিসিএলসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ  সারাবছরই চলতে থাকে। সরজমিনে দেখা যায়, মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংক সংলগ্ন দক্ষিণ কমলাপুর সড়কের বেশকিছু অংশ এক মাস ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এ সড়কের মাঝ বরাবর কেটে পাইপ স্থাপন করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এ কারণে এ সড়ক দিয়ে পথচারীরা কোনোরকমে চলাচল করতে পারলেও কোনো যানবাহন চলছে না। এজন্য ওই সড়কের চাপ আশপাশের সড়কে পড়ে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ সড়কের কিছু দূরেই সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারের পাশের সব সড়কেই ড্রেন স্থাপনের জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। আর কে মিশন রোডের মাঝখানে বড় বড় সিমেন্টের পাইপ ফেলে রাখা হয়েছে। এ সড়কে পাইপ স্থাপনের কাজ চলায় যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। কমলাপুর থেকে টিটিপাড়া পর্যন্ত রাস্তার পাশে সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে। এ কারণে রাতদিন ওই সড়কে যানজট তৈরি হচ্ছে।

ব্যস্ততম এলাকা দিলকুশার অন্যতম প্রধান সড়ক খুঁড়ে ড্রেন স্থাপন করা হচ্ছে। রাস্তার বেশির ভাগ অংশ দীর্ঘদিন থেকে খুঁড়ে রাখায় গাড়ি ও জনসাধারণের চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তি হচ্ছে। একই চিত্র  বাসাবো বৌদ্ধমন্দিরের পাশের অলিগলিতেও। দীর্ঘদিন থেকে এসব সড়কে খোঁড়াখঁুঁড়ি চলছে। কখনো গ্যাস পাইপ লাইন আবার কখনো বিটিসিএলের কাজের জন্য। অন্যদিকে মেরুল বাড্ডার একটি সড়ক ওয়াসার সুয়ারেজের কাজ চলায় দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। এ সড়কে কোনো যানচলাচলও করতে পারে না। বসিলাতে সড়কে উন্নয়নের জন্য অনেক আগে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়েছে। কিন্তু কাজ এখনো শেষ হয়নি। ফলে জনসাধারণকে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রাজধানীতে প্রায় তিন বছর আগে মেট্রোরেলের কাজ শুরু হয়েছে। উত্তরা থেকে মিরপুর, শেওড়াপাড়া হয়ে আগারগাঁও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় অফিস পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে কাজ করা হয়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীকে দীর্ঘদিন থেকে ভোগান্তি সহ্য করতে হচ্ছে। আগারগাঁও থেকে ফার্মগেট, শাহবাগ হয়ে মতিঝিল অংশেও মেট্রোরেলের কাজ চলছে। এ কারণে ফার্মগেট, কাওরানবাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ, জাতীয় প্রেস ক্লাব, পল্টন, দৈনিকবাংলা, মতিঝিল এলাকার সড়কে রাতদিন যানজট লেগেই থাকছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছে সব ধরনের যানবাহন।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর দুই হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সড়কের অধিকাংশই এখন ভাঙাচোরা, গর্ত ও খানাখন্দে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে শত শত কোটি টাকা ব্যয় হলেও এর সুফল পাচ্ছেন না নগরবাসী। বরং পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। জানা গেছে, কোনো সড়ক খোঁড়ার পর কাজ শেষে দ্রুত সেটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নিয়ম সিটি করপোরেশনের থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা মানছে না সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিরলতম ঘটনা: মুম্বাইয়ের যুবকের দেহে একাধিক নারী জননাঙ্গ

কালের কণ্ঠ অনলাইন, ১৪ জুলাই, ২০১৯:
হাসপাতালে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা করতে এসেছিলেন এক যুবক। এমআরআই স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির দেহে নারী জননাঙ্গের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। ২৯  বছর বয়সী এই ব্যক্তির তলপেটে অকার্যকর জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউব (গর্ভনালী), সারভিক্স ও পারসিয়াল ভ্যাজাইনা (আংশিক যোনি) পাওয়া গেছে। ভারতের মুম্বাইয়ের জে.জে হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এটি একটি সরকারী হাসপাতাল।
জে.জে হাসপাতালে ইউরোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক ভেঙ্কট গিতে জানিয়েছেন, ওই লোক বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা করতে হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের ওপিডিতে এসেছিলেন। প্রথমে তাকে দেখে সুস্থ মনে হয়েছিল। কিন্তু পরে যখন পরীক্ষা করে তার শরীরে জটিলতা ধরা পড়ল। স্ক্যানের মাধ্যমে দেখা গেছে, তার শুক্রাশয় (টেস্টিস) স্ক্রোটাল স্যাক বা শুক্রথলির মধ্যে নেই। এতে তার  অস্ত্রোপচার করা জরুরী হয়ে পড়ল। কেননা অস্ত্রোপচার না করলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকতেন তিনি।
তিনি বলেন, অস্ত্রোপচার শুরু করলাম তার শরীরে ইউটেরাসের (জরায়ু) মতো একটি অঙ্গ দেখতে পেলাম। অস্ত্রোপচার বন্ধ করে আমরা তার এমআরআই পরীক্ষা করলাম। স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির দেহে নারী জননাঙ্গের উপস্থিতি ধরা পড়ে। তার দেহে জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউব, সারভিক্স ও আংশিক যোনি ছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেগুলো ফেলে দেওয়া হয়েছে।
ভেঙ্কট গিতে জানান, এই রোগ খুবই বিরল।  এখনও পর্যন্ত এমন ২০০টি ঘটনা দেখা গেছে।
তিনি জানান, শরীরের এই সমস্যাকে পারসিসটেন্ট মুলেরিয়ান ডাক্ট সিনড্রোম বলা হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই লোকের বন্ধ্যাত্ব দূর করা যাবে না। তার 'অ্যাজুস্পার্মিয়া'র সমস্যা রয়েছে । এক্ষেত্রে তার বীর্যে কোনও শুক্রাণু নেই । তবে তার যৌন সম্পর্ক স্থাপনে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয় ।
জানা গেছে, ওই যুবক ও তার স্ত্রীকে মানসিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিতেও বলা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে বিবাহিত জীবনে এর কোনও প্রভাব না পড়ে ।
>>>সূত্র : এশিয়ান এইজ, ইটিভি ভারত

গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ সমালোচনার সকল ক্ষেত্রেই মূল সমস্যা অস্বীকার করে সরকার, বলছেন শহিদুল আলম

গণমাধ্যমের বাকস্বাধীনতা সহ অন্যান্য যেসব বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের সমালোচনা করা হয় সেগুলোর প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে সরকার মূল সমস্যাকে অস্বীকার করে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের আলোকচিত্র সাংবাদিক শহিদুল আলম।
যুক্তরাজ্য এবং কানাডা সরকারের যৌথ আয়োজনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নে দু'দিনের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন আজ লন্ডনে শুরু হচ্ছে - বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের সাথে শহিদুল আলমসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা কতটা আছে - সেই প্রশ্ন গত কয়েকমাসে বেশ কয়েকবার সামনে এসেছে, যে বিষয়টি লন্ডন সম্মেলনে আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন।
বাংলাদেশের আলোচিত ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলম বিবিসি বাংলাকে জানান, বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকতায় কতটুকু স্বাধীনতা আছে, সেই বিষয়টি আলোচনা করা হবে এই সম্মেলনে।
বাংলাদেশে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সমালোচনা এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার বিষয়গুলোকে এই সম্মেলনে তুলে ধরবেন বলে জানান মি. আলম।
"রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে আদালত, পুলিশের মত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান থাকে, যেগুলোকে এক এক করে ভাঙা হয়েছে। গণমাধ্যম এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে না পড়লেও দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমকেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না।"
মি. আলমের মতে, বাংলাদেশে কয়েকটি কণ্ঠ ছাড়া কোনো গণমাধ্যমই সরকারের সমালোচনা করতে পারছে না।

তথ্যমন্ত্রীর দাবি: কতটা সত্যি

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে লন্ডনে শুরু হতে যাওয়া এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেয়ার আগে, বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বিবিসি'র কাছে দাবিকরেছেন, ব্রিটেনের গণমাধ্যমের চেয়েও স্বাধীন বাংলাদেশের গণমাধ্যম।
অথচ, ২০১৯ সালে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস নামের আন্তর্জাতিক সংগঠন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে যে বৈশ্বিক প্রতিবেদন ছেপেছে, সেখানেও ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চার ধাপ নেমে দাড়িয়েছে ১৫০তম অবস্থানে।
গত বছরে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবিতে হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় ভুল খবর প্রচারের অভিযোগে মি. আলমের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং ১০০ দিনের বেশি সময় কারাগারে থাকেন তিনি।
বর্তমানে জামিনে মুক্ত থাকলেও তার বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ে তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পর্কে শহিদুল আলমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "শুধু গণমাধ্যম নয়, সব ক্ষেত্রেই নিজেদের বিরুদ্ধে হওয়া সমালোচনার জবাবে মূল সমস্যাটাই অস্বীকার করে সরকার।"
"সরকারের বক্তব্য কিন্তু সবক্ষেত্রে শুরুই হয় অস্বীকার করার ভিত্তিতে। সরকার বলছে ক্রসফায়ার হয় না, গুম হয় না, দুর্নীতি হয় না, পক্ষপাতিত্ব হয় না এবং তারা বলছে যে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচারে কোন বাধাবিপত্তি নেই।"
মি. আলম মনে করেন, সবসময় সরাসরি বাধা দেয়া না হলেও পরোক্ষভাবে বাধা প্রয়োগ করা হয় গণমাধ্যমের ওপর।
"সংবাদমাধ্যমের বিজ্ঞাপণ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তারা সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাইলে কীভাবে তাদের বিরুদ্ধে চড়াও হয়ে ওঠে এবং এই মুহূর্তে কতজন সাংবাদিকের ওপর মামলা রয়েছে - সেগুলো যাচাই করলেও কিছুটা বোঝা যাবে যে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান থাকলেও কেন তাদের সত্যিকার অর্থে বাকস্বাধীনতা নেই।"
তবে বাংলাদেশের এসব সমস্যা সমাধানে লন্ডনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আলোচনা করা কতটা কার্যকর হবে, সেবিষয়েও সন্দেহ পোষণ করেন মি. আলম।
"জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের মত কেউ যখন এসব দেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে বা তথ্য দেয় - যেসব তথ্যের কারণে তারা বিপদে পড়ে - তখন তারা কী করে আমরা তা'ও দেখেছি।"
পশ্চিমা দেশগুলোর নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করার বিষয়েও সম্মেলনে আলোচনা করবেন বলে জানান মি. আলম।
গত বছরে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবিতে হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় ভুল খবর প্রচারের অভিযোগে ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং ১০০ দিনের বেশি সময় কারাগারে থাকেন তিনি। (ফাইল ছবি)

বাংলাদেশ হতে পারে হংকংয়ে গৃহকর্মীর নতুন উৎস

হংকংয়ে গৃহকর্মীর বড় সংকট। এখানে বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহায়তা নিতে পারে তারা। গৃহকর্মীর এই সংকট সমাধানের একটি নতুন উৎস হতে পারে বাংলাদেশ। অনলাইন সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, দীর্ঘদিন এ কাজে ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া থেকে গৃহকর্মী নিচ্ছে হংকং। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে পলিসিগত জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের দিকে দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। এরই মধ্যে অনেক নারী এ কাজে হংকং যাচ্ছেন।
তার মধ্যে রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করা তাজমিরাও। তার মতো অনেক যুবতী বা নারী হংকংয়ে গৃহকর্মী সংকটে বাংলাদেশের সহায়তা নিতে পারেন। এমনটা আশা করছে হংকং। সেখানে বর্তমানে প্রায় তিন লাখ ৯০ হাজার গৃহকর্মী রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ফিলিপাইনের। বাকি অর্ধেক ইন্দোনেশিয়ার। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার ওপর এক্ষেত্রে কতদিন নির্ভর করা যাবে তা পরিষ্কার নয়। হংকংয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা ইন্দোনেশিয়ার গৃহকর্মী নেয়ার ক্ষেত্রে কঠোরতা চান। সরকারি হিসাবে হংকংয়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা। তাই আগামী তিন দশকের মধ্যে সেখানে বাড়তি ২ লাখ ৪০ হাজার গৃহকর্মী প্রয়োজন হবে।
ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, হংকংয়ের এজিন্সিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ একটি চুক্তি করার পর ২০১৩ সালে বাংলাদেশি গৃহকর্মী প্রথম হংকং যাওয়া শুরু করেন। আশা করা হয়েছিল, সেখানে গৃহকর্মীর যে সংকট আছে তা পূরণ করতে পারবে বাংলাদেশ। কিন্তু বিপুল পরিমাণ গৃহকর্মী পাঠানোর প্রত্যাশায় তেমন সাড়া পড়েনি। হংকং ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশি মাত্র ২৭৫ জন গৃহকর্মী গিয়েছেন সেখানে। ২০১৪ সালে এ সংখ্যা ৫৯৪। ২০১৫ সালে ৬৫০। ২০১৬ সালে ৫১৭। ২০১৭ সালে ৫০৭। ২০১৮ সালে ৫০১ এবং এ বছর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ সংখ্যা ৫০৭।
তবুও বাংলাদেশি গৃহকর্মী পাঠানোর চেষ্টা চলছে। তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। রিক্রুটমেন্ট বিষয়ক কোম্পানি ইউনিভার্সেল ওভারসিসের ঢাকা অফিসের প্রধান নির্বাহী জিয়াউর রহমান বলেছেন, সবেমাত্র বাংলাদেশি নারীরা বিদেশে কাজে যাওয়া শুরু করেছেন। প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ক এজেন্সিগুলো হংকংয়ের বাজার নিয়ে উৎসাহিত। তিনি বলেন, ১০ বছর আগে নারীদের কাজ করতে বিদেশে যাওয়ার অনুমোদন দেয়া হতো না। কারণ বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ। বিদেশে গিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে এখানে নারীদের বিষয়ে রয়েছে রক্ষণশীলতা। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি পুরো পাল্টে গেছে। হংকং হলো নিরাপদ ও সভ্য একটি স্থান। তাই মধ্যপ্রাচ্যের চেয়ে এটা একটি প্রতিশ্রুত গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া নারী গৃহকর্মীদের মধ্যে শতকরা ২০ থেকে ৩০ ভাগই যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন রকম নির্যাতনের শিকার হন।
তিন বছর আগে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন তাজমিরা (২৪)। তিনি বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে একটি কাজ খুঁজছিলেন। কিন্তু উপযুক্ত কোনো কাজ পাচ্ছিলেন না। ফলে তিনি গার্মেন্ট কারখানাকে বেছে নিলেন। এই কারখানায় বর্তমানে প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্রান্ডের পোশাক তৈরি করেন। সেখানে কাজ করে তাজমিরা মাসে বেতন পেতেন মাত্র ১০ হাজার টাকা। এ দিয়ে ৫ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ করা তার পক্ষে সম্ভব হতো না। তার ওপর নির্ভরশীল ছিল ছোট দুই বোন। তারা স্কুলে পড়াশোনা করেন। তাজমিরা বলেন, বাংলাদেশে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে চাকরি পাওয়া খুব কঠিন কাজ। আমি পছন্দ করি, তাই এ সাবজেক্টে পড়াশোনা করেছি।
বাংলাদেশের গ্রাম অঞ্চলের বহু নারীর মতো তাজমিরাও জানেন না হংকং কোথায়। কিন্তু তার দুই বন্ধু তাকে বললেন, সেখানে তারা মাসে ৪৫২০ হংকং ডলার উপার্জন করছেন গৃহকর্মী হিসেবে। এই অর্থ বাংলাদেশে তাদের আয়ের প্রায় ৫ গুণ। এ কথা শুনে তাজমিরাও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। তিনি বলেন, অবশ্যই আমি বেশি অর্থ উপার্জন করতে চাই। আমার পরিবারকে ভালোভাবে পরিচালনা করতে চাই। তাই প্রথমবার আমি হংকং যেতে রাজি হয়ে যাই। না, এক্ষেত্রে আমার কোনো ভয় হচ্ছে না। তবে আমার পরিবারকে মিস করবো। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে একটি চারতলা বিশিষ্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষিণ নিচ্ছেন তিনি। সেখান থেকে এ কথা বলেন তাজমিরা। এখানে তিনি চাইনিজ রান্না ও ভাষা শিখছেন।
কিন্তু এক্ষেত্রে বিদেশ গমনে ইচ্ছুক নারী ও এজেন্সিগুলো বেশ সমস্যায় পড়ছেন। জিয়াউর রহমান বলেছেন, হংকংয়ে বাংলাদেশী নারীদের কাজ করার আগে তিন মাসের একটি প্রশিক্ষণ নিতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে ভাষা ও রান্না। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যারা যান তাদের জন্য এই প্রশিক্ষণের মেয়াদ মাত্র এক মাস। ফলে তিন মাস এসব নারীর জন্য একটি দীর্ঘ সময়। এ জন্য তাদের ঝরে পড়ার হার অনেক বেশি। তাই তার এজেন্সি কয়েক বছরে মাত্র ১০০ নারী গৃহকর্মী পাঠাতে পেরেছে হংকংয়ে।
বিদেশে নারী শ্রমিকদের গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানোর ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যকে আকর্ষণীয় হিসেবে দেখে থাকে এজেন্সিগুলো। ওই অঞ্চলে এক একজন নারী শ্রমিককে পাঠিয়ে এজেন্সিগুলো আয় করে ৪০০ ডলার থেকে ৫০০ ডলার। অন্যদিকে হংকংয়ে এক্ষেত্রে এজেন্সির আয় ১০০ ডলার থেকে ১২০ ডলার।
বাংলাদেশে হংকংগামী শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম এভারগ্রিন হাউজকিপারস ট্রেনিং সেন্টার। এখানেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন তাজমিরা। এর মালিক ফেলিক্স চ্যাং ইয়োই-চোং। তিনি বলেন, হংকংয়ের মানুষের কাছে বাংলাদেশি গৃহকর্মীরা আকর্ষণীয় নয়। কারণ, ২০১৩ সালে প্রথম দফায় যাদের পাঠানো হয়েছে তারা প্রশিক্ষিত নন। ফিলিপাইনের গৃহকর্মীরা যেভাবে ইংরেজিতে পারদর্শী, বাংলাদেশিরা ততটা নন। এমনকি বাংলাদেশি অনেক গৃহকর্মী জানেনও না যে, গৃহকর্ম বলতে কি বোঝায়। এ কাজটি তাদের কাছে একেবারে নতুন। বাংলাদেশে তার নিজের কারখানায় কাজ করেন ১৮০০০ শ্রমিক। তিনি বলেন, এসব সত্ত্বেও সামনের দিনগুলোতে হংকংয়ে বাংলাদেশি গৃহকর্মী বাড়বে। ফিলিপাইন এখন চীনে তাদের গৃহকর্মী পাঠাতে সক্ষম হবে। ফলে এক্ষেত্রে সংকট দেখা দেবে হংকংয়ে। এই ফাঁকে বাংলাদেশি গৃহকর্মীদের প্রচুর চাহিদা সৃষ্টি হবে। তাই হংকংয়ে গৃহকর্মী পাঠানোর বাণিজ্যে তিনি ১০ লাখ হংকং ডলার বিনিয়োগ করেছেন।
এরই মধ্যে চীনে ফিলিপিনো গৃহকর্মী পাঠানো নিয়ে আলোচনা করেছেন ফিলিপাইন ও চীনা কর্মকর্তারা। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমানে বিদেশি হিসেবে হংকং ও ম্যাকাও থেকে চীনের নির্বাচিত কিছু শহরে বিদেশি গৃহকর্মী নিয়োগ দেয়া অনুমোদিত।
হংকংয়ে বাংলাদেশি গৃহকর্মী নিয়োগ দেয়ার দেয়ার জন্য অনুমোদিত প্রথম হংকংভিত্তিক এজেন্সি টেকনিক এমপ্লোয়মেন্ট সার্ভিস সেন্টার। এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তেরেসা লিউ সুই-লান। তিনি মনে করেন গৃহকর্মী নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে একটি সমস্যা আছে। তার মধ্যে প্রথম দফায় যাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল তাদের অনেকেই কয়েক দিনের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেছেন। তারা নিয়োগকারীর কাছ থেকে পালিয়ে অবৈধভাবে কাজ করেছেন। এক্ষেত্রে কেউ রেস্তরাঁয় হাঁড়িপাতিল ধোয়ার কাজ করেন। হংকংয়ে গৃহকর্মীদের মাসে সর্বনিম্ন বেতন ৪৫২০ হংকং ডলার। কিন্তু এসব কাজ করে তারা অনেক বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারেন।
সুই-লান বলেন, এভাবে গৃহকর্মী পালিয়ে যাওয়ায় আমাদের ক্লায়েন্টরা আমাদের ওপর নাখোশ। এমনো দেখা গেছে, চার বছর আগে যে গৃহকর্মী লাপাত্তা হয়ে গিয়েছিলেন অকস্মাৎ তিনি আমাদের সঙ্গে একদিন যোগাযোগ করে বসলেন। তাই হংকংয়ের খুব কম সংখ্যক এজেন্সিক এখন বাংলাদেশি গৃহকর্মী নিচ্ছে।
হংকংয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসুল জেনারেল মেহদি হাসান স্বীকার করেন, কিছু গৃহকর্মী হংকংয়ে অবৈধ উপায়ে কাজ করেছেন। তবে তিনি বলেন, এমনটা আর ঘটছে না। গৃহকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতে ২০১৫ সালে কনসুলেট একটি লেবার অফিস স্থাপন করেছে। তিনি আশা করেন, তিন বছরের মধ্যে হংকংয়ে বাংলাদেশি গৃহকর্মীর সংখ্যা দাঁড়াবে ১০০০। এ বিষয়ে তিনি হংকংয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা কেরি লাম চেয় ইউয়েত-নগর এবং ম্যাথিউ চিউং কিন-চুং-এর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার ভাষায়, হংকংয়ে বয়সী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ হলো একটি ‘ইয়াং নেশন’। তাই দক্ষ গৃহকর্মীর জন্য একটি উত্তম উৎস হতে পারে বাংলাদেশ।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকিতেও অটল তুরস্ক by এম কে ভদ্রকুমার

ইস্তাম্বুলে সাম্প্রতিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থীর কাছে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের দলের প্রার্থী হেরে যাওয়ার পর থেকে বহু আমেরিকান ভাষ্যকার, বিশেষ করে ইসরাইলপন্থীরা একটা গুঞ্জন তোলার চেষ্টা করছেন যে, এরদোয়ানের ১৭ বছরের দীর্ঘ আধিপত্যের ইতি ঘটতে চলেছে। ২০০২ সালের সাধারণ নির্বাচনে চমক লাগানো বিজয়ের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন এরদোয়ান।

ডুমসডে প্রেডিকশানের নামে যে এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তার আসল উদ্দেশ্য হলো এরদোয়ানকে নাড়িয়ে দেয়া, তাকে দুর্বল করে দেয়া, তার কঠোর ইহুদিবাদ-বিরোধী অবস্থানকে টলিয়ে দেয়া এবং ফিলিস্তিনের প্রতি তার খোলামেলা সমর্থনের ইতি ঘটানো, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা ঘোচানো ইত্যাদি – সার্বিকভাবে তার স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির উপর আঘাত হানা। বিশেষ করে, রাশিয়ার কাছ থেকে এরদোয়ানের এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম কেনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নেমেছে ওয়াশিংটন।

তবে, এস-৪০০ চুক্তি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে বিস্মিত করেছেন এরদোয়ান, এবং প্রকাশ্যেই নিষেধাজ্ঞার হুমকিকে অগ্রাহ্য করেছেন তিনি। এই মিসাইলের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে পাঁচ বছর আগে এবং প্রায় প্রতিদিনই রাশিয়ান সামরিক বিমান আঙ্কারাতে অবতরণ করছে এবং এস-৪০০ এবিএম সিস্টেমের বিভিন্ন চালান নিয়ে আসছে।

শুধু তাই নয়, এরদোয়ান এমনকি আমেরিকাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক জি২০ সম্মেলনের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে জানিয়েছেন যে, মার্কিন কর্মকর্তারা যা-ই বলুক না কেন, কোন নিষেধাজ্ঞা তুরস্কের উপর দেয়া হবে না।

ব্লুমবার্গের মতে, ট্রাম্পের টিম একটি নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ তৈরি করেছে এবং চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে অনুমোদনের পর সেটি ঘোষণার পরিকল্পনা নিয়েছে। অন্যদিকে, এরদোয়ান রোববার বলেছেন যে, ট্রাম্পের তুরস্কের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ক্ষমতা রয়েছে এবং “এটাই যখন বিষয়, তখন মধ্যবর্তী একটা অবস্থান খুঁজে বের করার দায়িত্বটা ট্রাম্পেরই”।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ওয়াশিংটন পোস্টকে এক সাক্ষাতকারে দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, “আইন অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপের দায়বদ্ধতা রয়েছে এবং আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমরা আইন অনুযায়ী চলবো এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও আইন অনুযায়ী চলবেন”।

মনে হচ্ছে যেন এরদোয়ান বিপজ্জনক খেলায় নেমেছেন। গেলো সপ্তাহান্তে তিনি জানিয়েছেন যে, রাশিয়ান সিস্টেম মোতায়েন করা হবে এবং আগামী বছরের এপ্রিলে এটা পুরোপুরি প্রস্তুত হবে। একই সাথে, তিনি এটাও উল্লেখ করেছেন যে, তুরস্কে রাশিয়ান এই সিস্টেমটি যৌথভাবে তৈরি করা হতে পারে। তার ভাষায়, “আমাদের দেশে যারা হামলা করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে এস-৪০০ সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইনশাআল্লাহ, আমরা রাশিয়ার সাথে যৌথভাবে এটা তৈরি করবো, এবং সেটা অব্যাহত রাখবো”।

এটা নিশ্চিত যে, ইস্তাম্বুলের মেয়র পদে দলের প্রার্থী হেরে যাওয়ায় এরদোয়ান এতটুকুও দমে যাননি। মার্কিন মিডিয়া ও থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠানগুলো তার বিরুদ্ধে যে প্রচারণা চালাচ্ছে, তাকে তিনি পাত্তা দেননি। তার আচরণে এটাও প্রকাশিত হচ্ছে না যে, তিনি দৌড়ের উপর রয়েছেন।

সমস্ত বিষয়কে বিবেচনায় নিলে এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না যে, ট্রাম্প হয়তো নিষেধাজ্ঞা থেকে তুরস্ককে মুক্তি দিতে পারেন বা সেটা স্থগিত করতে পারেন, কারণ এই দেশটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক স্বার্থ রয়েছে। তবে এটা নিশ্চিত যে কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো তার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাবেন এরদোয়ান।

এরদোয়ানের সামনে অনেকগুলো পথ রয়েছে – তুরস্ক থেকে মার্কিন সেনা ঘাঁটি সরিয়ে দেয়া (যেটার অধীনে ৬০টি পারমাণবিক বোমাও সরিয়ে নিতে হবে)। এছাড়া সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দীদের বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন এরদোয়ান।

তুরস্ক যদি কুর্দি যোদ্ধাদের ধ্বংস করে দেয়, তাহলে সিরিয়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কোন পরোপক্ষ মিত্র থাকবে না এবং সে ক্ষেত্রে ইউফ্রেটিস অঞ্চলে যে কোন ধরনের আমেরিকান উপস্থিতি নিশ্চিত করাটা কঠিন হয়ে যাবে। সেটা নিশ্চিতভাবে ইসরাইলের স্বার্থের উপর বড় ধরনের আঘাত হানবে। পেন্টাগন এরই মধ্যে এটা নিয়ে অস্বস্তিতে আছে।

সমস্ত তথ্য প্রমাণে মনে হচ্ছে যে, এরদোয়ান একটা কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন যে, তুরস্কের ভবিষ্যৎ নিহীত রয়েছে ইউরেশিয়ার সাথে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এবং বর্তমান সঙ্ঘাতগুলো তারই একটা সূচনা মাত্র। সম্প্রতি জি২০ সম্মেলনের পর ওসাকাতে এবং পরে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে তার বৈঠক এবং উইঘুরদের ব্যাপারে চীনা নীতির পক্ষে তার জোরালো সমর্থনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, তুরস্কের আগ্রহ প্রাচ্যের দিকে ঘুরে গেছে।

বিশেষ করে তুরস্কের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার জন্য এবং পশ্চিমা চাপকে অগ্রাহ্য করার জন্য চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড কর্মসূচির মধ্যে তিনি একটা বিকল্প সুযোগ দেখতে পাচ্ছেন। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ট্যাবলয়েড পত্রিকা গ্লোবাল টাইমসে বলা হয়েছে যে, চীনা নেতৃবৃন্দের সাথে এরদোয়ানের বৈঠকে “চীন ও তুরস্কের মধ্যে গভীর বোঝাপড়া ও ঐক্যমত্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চীনের জিনজিয়াং নীতি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং অন্য কোন দেশের সেখানে হস্তক্ষেপের কোন অধিকার নেই। জিনজিয়াং নিয়ে এরদোয়ানের মন্তব্যের উপর ভিত্তি করেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি এগিয়ে গেছে”।

বেইজিং সফরের আগে গ্লোবাল টাইমসে একটা খোলা কলামে এরদোয়ান লিখেছিলেন, “তুরস্ক বিশ্ব শান্তির ব্যাপারে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায়, বহুপাক্ষিকতার বিকাশে, এবং মুক্ত বাণিজ্যের নীতি উচ্চকিত রাখার ক্ষেত্রে চীনা দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে। বিশ্বের এখন একটা নতুন, বহুমেরুর ভারসাম্য প্রয়োজন। নতুন একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা দরকার যেখানে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সাথে সমগ্র মানবজাতির স্বার্থ সংরক্ষিত হবে। বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীনতম সভ্যতা তুরস্ক ও চীনের এখানে নিজেদের ভূমিকা রাখার দায়িত্ব রয়েছে”।

ইরানে 'সিআইএ'র সন্দেহভাজন ১৭ জন গুপ্তচর গ্রেফতার, বেশ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড'

ইরানের ইন্টেলিজেন্স মিনিস্টার মাহমুদ আলাভি
ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা -সিআইএ'র হয়ে কাজ করা ১৭ জন গুপ্তচরকে গ্রেফতার করেছে তারা। এদের মধ্যে কয়েক জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।
দেশটির তদন্তকারী সংস্থা জানায়, সন্দেহভাজনরা ইরানের পরমাণু, সামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছিলো।
ইরানের এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এই অভিযোগ 'সম্পূর্ণ মিথ্যা'।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে একে অপরের সাথে বিবাদে জড়িয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান; এবং এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে।
গত বছর ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি বাতিল করেন মিস্টার ট্রাম্প এবং দেশটির উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মার্কিন প্রশাসন।
সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে উপসাগরীয় এলাকায় দুই দেশ সামরিক দ্বন্দ্বে জড়ানোর উপক্রম হয়েছিল।
গ্রেফতার বিষয়ে ইরানের ঘোষণার পর পরই মিস্টার ট্রাম্প বলেন, "ইরানের সাথে কোন ধরণের চুক্তিতে যাওয়া ক্রমাগত কষ্টকর হয়ে পড়ছে তার জন্য।"

'গুপ্তচরবৃত্তি' সম্পর্কে কী জানা যায়?

চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বিগত ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করা ওইসব সন্দেহভাজন গুপ্তচরদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
ইরানের এক উচ্চ পদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃত ১৭ জনই ইরানের নাগরিক। তার সামরিক, পরমাণু ক্ষেত্র এবং বেসরকারি সেক্টরের 'স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোতে' কাজ করতো। তবে এরা সবাই স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতো।
তবে তিনি জানাননি যে কতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং সেগুলো কখন হস্তান্তর করা হবে।
"এই গুপ্তচরদের দণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে, এদের মধ্যে কয়েক জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে 'পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টিকারী' হিসেবে (ইরানে এই অপরাধের সাজা মৃত্যুদণ্ড)," তদন্তকারী সংস্থার গুপ্তচরবৃত্তি বিভাগের প্রধানের উদ্ধৃতি দিয়ে এমনটা জানিয়েছে দেশটির সংবাদ মাধ্যম ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি (আইএসএনএ)।
রবিবার দেশটির ইন্টেলিজেন্স মিনিস্টার মাহমুদ আলাভি 'যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট গুপ্তচর' বিষয়ে একটি তথ্যচিত্র তৈরির ঘোষণা দেন, যা ইরানের টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে।
ইরানের ইন্টেলিজেন্স মিনিস্ট্রি, ওই তথ্যচিত্রের ট্রেইলার নিয়ে একটি সিডি প্রকাশ করেছে; যা গুপ্তচরবৃত্তি বিষয়ক বৈঠক এবং মিস্টার আলাভিসহ বেশ কয়েক জন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার রয়েছে।
কয়েক জন গুপ্তচর সিআইএ'র আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র সফরের জন্য 'ভিসার ফাঁদে' পড়েছেন বলে জানান মিস্টার আলাভি। তিনি বলেন, "অনেকে ভিসার জন্য আবেদন করতে এসে গ্রেফতার হন, এদের মধ্যে অনেকের আগে থেকেই ভিসা ছিল কিন্তু সিআইএ তাদেরকে আবারো ভিসা নবায়ন করতে বলেছিল।"
অন্যদেরকে অর্থ, আকর্ষণীয় চাকরি ও চিকিৎসা সেবার লোভ দেখানো হয়েছিল, বলেন তিনি।
ইরানের প্রেস টিভিতে "সিআইএ'র নেটওয়ার্ক" ভেঙে দেয়া নিয়ে একটি তথ্যচিত্র সম্প্রচারিত হয়েছে।
গত মাসে ইরান বলেছিল, সিআইএ'র সাথে সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্ককে ভেঙে দিয়েছে তারা। তবে এটা স্পষ্ট নয় যে, সোমবারের ঘোষণা ওই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট কি-না।

ইরানের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব?

বিবিসি'র প্রতিবেদক কাসরা নাজি বলেন, ইরানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুপ্তচরবৃত্তি দমনে দেশটির এই দাবিকে অনেক পর্যবেক্ষকই বেশ সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছেন।
সোমবার ইরানের ইন্টেলিজেন্স মিনিস্ট্রি জানায়, সিআইএ'র সাথে সংশ্লিষ্ট একটি চক্রকে গত মাসে ভেঙে দিয়েছেন তারা।
কিন্তু পরে তারা কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্যও দিয়েছে যেখানে বলা হয়, যে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরকে গত বছরেই আটক করা হয়।
অনেকে আবার বলছেন, যে ১৭ জনের কথা বলা হচ্ছে তাদেরকে আসলে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সময় গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা সবাই ইরানের নাগরিক।
ইরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে অনেক বন্দী রয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ রয়েছে।
তবে এ সময় কেন ইন্টেলিজেন্স মিনিস্ট্রি এ ধরণের ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসছে - ধারণা করা হচ্ছে, গ্রেফতারের ঘটনা নয় বরং ইন্টেলিজেন্স মিনিস্ট্রি এবং এর প্রতিপক্ষ ইরানের সামরিক বাহিনী রেভ্যুলিউশনারি গার্ডের গোয়েন্দা ইউনিটের মধ্যে রেষারেষিই এর প্রধান কারণ।
মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি ডকু-ড্রামার শেষ পর্বে গোয়েন্দা ইউনিটকে কৃতিত্ব দিয়ে পশ্চিমা গুপ্তচরবৃত্তি মোকাবেলায় প্রেসিডেন্ট হাসান রূহানীর সরকারকে দুর্বল ও অকার্যকর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
আর এখন এর জবাবে ইন্টেলিজেন্স মিনিস্ট্রি তাদের নিজেদের বানানো তথ্যচিত্রে দাবি করছে যে, গুপ্তচরবৃত্তিতে তাদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে যে, ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিজেদের মধ্যে এক ধরণের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে যা প্রচার করা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে।

চলমান সংকটের প্রেক্ষাপট কী?

জাহাজ চলাচলের জন্য বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ঘটনার পর ইরান, যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজ্যের মধ্যে সংকট চরমে উঠেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
  • • গত ১৯ জুলাই শুক্রবার নিজেদের কৌশলগত জলসীমায় যুক্তরাজ্যের পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাংকার আটক করে ইরান। চলতি মাসের শুরুতে জিব্রাল্টার প্রণালীতে যুক্তরাজ্যের কাছে ইরানের একটি ট্যাংকার আটকের পর এর প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলো তেহরান।
  • • গত সপ্তাহে মিস্টার ট্রাম্প বলেছেন, ফিরে যাওয়ার নির্দেশ না মানায় ইরানের একটি ড্রোন ধ্বংস করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী, যা অস্বীকার করেছে ইরান।
  • • গত মাসে নিজেদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ মার্কিন একটি নজরদারি ড্রোন ভূ-পাতিত করে ইরান। কিন্তু মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করে যে, ঘটনার সময় আন্তর্জাতিক জলসীমায় ছিল ড্রোনটি। একে 'উস্কানিবিহীন হামলা' উল্লেখ করে এর নিন্দাও জানায় তারা।
  • • গত মে এবং জুন মাসে ওমান উপসাগরে দুটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা অস্বীকার করেছে ইরান।
  • ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি বাতিলের পর ইরানের তেল খাতের উপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে।
জিব্রাল্টারের কাছে এই ইরানি তেলবাহী জাহাজটি আটক করেছিল ব্রিটেন, তার পর থেকেই ইরান পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি দিচ্ছিল।