Showing posts with label শফিকুল ইসলাম. Show all posts
Showing posts with label শফিকুল ইসলাম. Show all posts

Monday, January 5, 2026

ধাপে ধাপে চাষ করেন জাহাঙ্গীর, ১৩ বিঘা জমিতে লেটুস, থাইপাতা, চেরি টমেটো by শফিকুল ইসলাম

চাকরির বেতনে সংসার চলত কোনোরকমে। ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকার বেতনে প্রতিটি খরচ হিসাব করে করতে হতো। অনেক সময় ৫০ টাকা খরচ করতেও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতে হয়েছে। সেই সময় পেছনে ফেলে চাকরি ছেড়ে কৃষি উদ্যোগে বদলে গেছে ৩৩ বছরের যুবক জাহাঙ্গীর হোসেনের জীবন।

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার থালতা গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন। একসময় তিনি বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমিতে চাকরি করতেন। রাজশাহী বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন প্রায় ৯ বছর। ২০২১ সালে সেই চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি নামেন কৃষিকাজে। শুরুটা হয়েছিল মাত্র ১০ কাঠা জমিতে পুদিনাপাতা চাষ দিয়ে। পাঁচ বছরের মাথায় এখন তাঁর চাষ করা জমির পরিমাণ ১২ থেকে ১৩ বিঘা। এসব জমিতে চাষ করেছেন বিটরুট, পুদিনাপাতা, লেটুস, আইস লেটুস, থাইপাতা, চেরি টমেটো, রেড ক্যাবেজ, ক্যাপসিকাম ও বালচিং অনিয়ন।

চেনা পথ ছেড়ে ভিন্ন কিছু

জাহাঙ্গীর চাকরি ছেড়ে প্রচলিত ফসল চাষের পথে হাঁটেননি। তিনি বেছে নিয়েছেন চায়নিজ বিভিন্ন সবজি। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জমিতে আছে বিটরুট। তিনি ১০ বিঘায় চাষ করেছেন বিটরুট। জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ধান-গম কেজিতে দাম বাড়ে না, কিন্তু সবজিতে কেজিতেই দাম বাড়ে। এই চিন্তা থেকেই ভিন্নপথে হাঁটলাম।’ তিনি জানান, এই উদ্যোগে শুরু থেকেই পাশে ছিল পবা উপজেলা কৃষি অফিস। ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন দেওয়ান নিয়মিত মাঠে এসে পরামর্শ দিচ্ছেন। জানতে চাইলে জালাল উদ্দিন দেওয়ান বলেন, জাহাঙ্গীর খুব বিচক্ষণ কৃষক। তিনি বাজার বুঝে চাষ করেন, নিজেই বাজারজাত করেন। ধীরে ধীরে তিনি নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন।

ধাপে ধাপে চাষ

সব ফসল একসঙ্গে চাষ না করে ধাপে ধাপে চাষ করে ফলন বাজারে আনেন জাহাঙ্গীর। আগাম চাষ করা কয়েক বিঘার বিটরুট ইতিমধ্যে তুলে বিক্রি করেছেন। মাঠে কোথাও বিটরুট তোলার শেষ পর্যায়, কোথাও গাছ বড় হচ্ছে, আবার কোথাও সদ্য বীজ বপন করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সব একসঙ্গে বাজারে আনলে দাম পাওয়া যায় না। তাই পর্যায়ক্রমে চাষ করি, যেন সব সময় কিছু না কিছু বাজারে থাকে। বর্তমানে বিটরুটের পাইকারি দাম কেজিপ্রতি ৪০-৫০ টাকা। ভালো বাজার পেলে এক বিঘা জমি থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি সম্ভব। এতে জমি ভাড়াসহ খরচ পড়ে ৭০-৭৫ হাজার টাকা।’

পুদিনাপাতায় আলাদা বাজার

তিন বিঘা জমিতে পুদিনাপাতা চাষ করছেন জাহাঙ্গীর। বর্ষাকালে পুদিনাপাতার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বগুড়া, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় বাসের মাধ্যমে পুদিনাপাতা পাঠান তিনি। জাহাঙ্গীরের ভাষ্য, পুদিনাপাতা রেস্তোরাঁয় বিক্রি হয়। রাজশাহী ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় পুদিনাপাতা পাঠান। এই পাতা চাষে খরচ কম, আয় বেশি।

বর্তমানে তাঁর খামারে প্রতিদিন পাঁচজন শ্রমিক কাজ করেন। প্রয়োজনে আরও লোক নেন। জাহাঙ্গীর বলেন, ‘একসময় আমি পরাধীন ছিলাম। অন্যের চাকরি করতাম। আজ আমার কাজ দিয়ে পাঁচটা পরিবার চলছে, এটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।’

সরেজমিনে মাঠে

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, শীতের সকালের রোদে থালতা গ্রামের মাঠজুড়ে কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের ব্যস্ততা। কয়েকজন শ্রমিক মাটির নিচ থেকে তুলে আনছেন লালচে বিটরুট। পাশে বস্তায় ভরে রাখা হচ্ছে সবজি। একটু দূরে কাঁচা সবুজের সারি পুদিনাপাতা। বাতাসে ভেসে আসছে তাজা সবজির গন্ধ। পাশাপাশি সারি সারি লেটুসপাতা নজর কাড়ছে। কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন মাঠে দাঁড়িয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করছেন। কখনো বিটরুট তোলা দেখছেন, কখনো বস্তায় ভরছেন। আবার পুদিনাপাতার বস্তা ঠিকঠাক করছেন। স্থানীয় কৃষক তবুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের ফসল আগে এলাকায় কেউ করতেন না। জাহাঙ্গীরই শুরু করেছেন। এখন তিনি একাই ১০ বিঘায় বিটরুট চাষ করছেন। এলাকায় এ উদাহরণ হয়ে গেছে।’

ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাষাবাদ ও কর্মসংস্থান তৈরির স্বপ্ন জাহাঙ্গীরের। তিনি বলেন, ‘কষ্টের কোনো বিকল্প নেই। মাটি ধরলে মাটি আপনাকে ফিরিয়ে দেবে—এই বিশ্বাসেই সামনে এগোচ্ছি। চাকরির অনিশ্চয়তার জীবন ছেড়ে মাটির ওপর ভরসা রেখেছি।’

পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান বলেন, ‘জাহাঙ্গীর একজন শিক্ষিত উদ্যোক্তা। তিনি যে ফসলগুলো চাষ করছেন, সেগুলো লাভজনক ও ব্যতিক্রমী। আমরা নিয়মিত তাঁকে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি। জাহাঙ্গীরের মতো উদ্যোক্তা যদি আরও বাড়ে, তাহলে কৃষি আরও আধুনিক হবে।’

বিটরুট বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন। সম্প্রতি রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার থালতা গ্রামে
বিটরুট বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন। সম্প্রতি রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার থালতা গ্রামে। ছবি: প্রথম আলো

Saturday, September 7, 2019

২৭৭ কোটি টাকায় সুপেয় পানি পাবেন আড়াই লাখ মানুষ by শফিকুল ইসলাম

সুপেয় পানির সংকট (ছবি: ইউনিসেফ)
দেশের দুই লাখ ৪৫ হাজার ৫১৬ জন মানুষের জন্য লবণাক্ততামুক্ত ও দুর্যোগ সহনশীল সুপেয় পানি নিশ্চিত করছে সরকার। বছরব্যাপী এই সুবিধা পাবেন খুলনা ও সাতক্ষীরার ৩৯টি ইউনিয়নের ৫৫ হাজার পরিবারের এই আড়াই লাখ মানুষ। এর জন্য খরচ হবে প্রায় ২৭৭ কোটি টাকা। একই সঙ্গে সরকার ওই অঞ্চলের ৪৩ হাজার পরিবারের নারী সদস্যদের জন্য জলবায়ু সহিষ্ণু জীবিকার সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে অভিযোজন সক্ষমতা গড়ে তুলতে চায়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ‘উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর, বিশেষত নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততা মোকাবেলায় অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। মহিলা বিষয়ক অধিদফতর এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন, কয়রা উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন, পাইকগাছা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন এবং সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন, শ্যামনগর উপজেলার আটটি ইউনিয়নসহ মোট ৩৯টি ইউনিয়নের ৫৫ হাজার পরিবারের আড়াই লাখ মানুষ সারা বছরই সুপেয় পানি পাবেন।

পাশাপাশি খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৯টি ইউনিয়নের ৪৩ হাজার পরিবারের নারী সদস্যদের জলবায়ু সহিষ্ণু জীবিকার সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে অভিযোজন সক্ষমতা গড়ে তোলা হবে। এই ৩৯টি ইউনিয়নে ১০১টি নারী স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করা হবে। প্রশিক্ষণ ও উপকরণ সহায়তার মাধ্যমে নারী সংবেদনশীল পূর্ব সতর্কীকরণ ও দুর্যোগ প্রস্তুতি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। মহিলা বিষয়ক অধিদফতর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু অভিযোজন বিষয়ক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রায়োগিক দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ৬৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। আর বৈদেশিক সহায়তা বাবদ গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে পাওয়া যাবে ২০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় কৃষিজীবী জনগোষ্ঠী বিশেষত নারীদের জলবায়ু সহিষ্ণু জীবিকায়নে অভিযোজন দক্ষতা বাড়ানো হবে। ৪৩ হাজার নারীকে জীবিকা সহায়তা দেওয়া হবে। এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ও উপকরণ দেওয়া হবে। কাঁকড়া চাষ, গৃহস্থালি পর্যায়ে সবজি চাষ, তিল চাষ, লবণাক্ততা সহিষ্ণু নার্সারি এবং বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন শেখানো হবে। কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি হবে। বাজারজাতকরণ এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের জন্য সহযোগিতা করা হবে। সমাজভিত্তিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

সুপেয় পানির ব্যবস্থার লক্ষ্যে নলকূপ স্থাপনের জন্য নির্দিষ্ট সাইট ম্যাপিং, উপকারভোগী নির্বাচন এবং কমিউনিটি ব্যবস্থাপনা কাঠামো গঠন করা হবে। ১৩ হাজার ৩০৮ পরিবারের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং এই পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা থাকবে। ৪১টি পুকুরভিত্তিক পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত জীবিকায়ন এবং নিরাপদ খাবার পানি বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বাড়ানো হবে। উপকূলীয় জীবনযাত্রা এবং জলবায়ু সহিষ্ণু জীবিকা সম্পর্কিত নারী-পুরুষ সাম্যতার প্রতি সংবেদনশীল কৌশল প্রণয়নে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও সমন্বয় দক্ষতা শক্তিশালীকরণের কাজ করা হবে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘প্রস্তাবিত প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বিশেষত নারীদের অভিযোজন ক্ষমতা বাড়াতে লবণাক্ততা সহিষ্ণু জীবিকা, পানীয় জলের নিরাপত্তা বিধান করা, যা বাংলাদেশ সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

তিনি জানান, ‘এ প্রকল্প স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদকে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে এক হাজার ১১৮টি দল গঠন ও বিভিন্ন সংগঠনসহ স্থানীয় পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বাড়াবে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় দারিদ্র্য নিরসন কৌশল প্রণয়নে দরিদ্র, বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অভিঘাত প্রতিরোধ ও ঝুঁকি হ্রাসের ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।’

সচিব জানান, ‘এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৩ হাজার দরিদ্র নারীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে। ৪৩ হাজার নারীকে জীবিকা সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এ প্রকল্প এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।’

তিনি আরও জানান, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় নোনা উপদ্রুত উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে ছয়টি জেলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও বরগুনা। এসব জেলায় জীবন-জীবিকার উন্নয়নে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কর্মসূচি গ্রহণ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি লবণাক্ততা সহিষ্ণু জীবিকায়ন ও নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে সরকারের উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে। পান করার জন্য এবং গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারের জন্য নিরাপদ পানির সহজ প্রাপ্তি নারীর ক্ষমতায়নকে প্রশস্ত করে। এতে তাদের যে সময় বেঁচে যায় সেই সময় তারা অন্য কোনও উৎপাদনমুখী কাজে ব্যয় করতে পারবেন। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বাড়বে। প্রকল্পটি ১৩ হাজার ৩০৮টি পরিবারভিত্তিক, ২১৮টি কমিউনিটিভিত্তিক এবং ১৯টি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্ল্যান্ট স্থাপন এবং ৪১টি পুকুরভিত্তিক পানি শোধনাগার স্থাপনের মাধ্যমে সরকারের কর্মকৌশল বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর, বিশেষ করে নারীদের জলবায়ু পরিবর্তন সৃষ্ট লবণাক্ততার ঝুঁকি প্রশমন ও অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং জীবিকার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। এসব কারণেই এ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়ন হবে।’

Sunday, September 1, 2019

রোহিঙ্গাদের পেছনে ২ বছরে বাংলাদেশের খরচ ৭২ হাজার কোটি টাকা! by শফিকুল ইসলাম

জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বস্তুচ্যুত নাগরিকের সংখ্যা এখন ১১ লাখের বেশি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, এই বিপুল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য গত দুই বছরে বাংলাদেশ সরকারের খরচ দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা। রোহিঙ্গাদের পেছনে প্রতি মাসে সরকারের খরচের পরিমাণ আড়াই হাজার কোটি টাকা। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

জাতিসংঘ বলছে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট  থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ৭ লাখ ৪৫ হাজার। এর আগে একই কারণে ১৯৭৮-৭৯, ১৯৯১-৯২ ও ১৯৯৬ সালেও মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় নেওয়ার পর রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি করা আশ্রয় ক্যাম্পে নতুন করে জন্ম নিয়েছে আরও ৬০ থেকে ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা শিশু। এসব মিলিয়ে জাতিসংঘ মনে করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার পরিমাণ ১০ লাখ। সরকারের বিভিন্ন দফতর, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সব মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ১৮ হাজারের কিছু বেশি। এ তথ্য জানিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্র। এদিকে ২০১৮ সালের জুন মাসে জাতিসংঘের তৈরি করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ১০ লাখ রোহিঙ্গার পেছনে সরকারের বছরে ব্যয় হতে পারে কমপক্ষে ৬০ কোটি ডলার। দুই বছরে এর পরিমাণ ১২০ কোটি ডলার। যা বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের পেছনে মাসে মাথাপিছু ব্যয় প্রায় ৭০০ ডলার। কিন্তু রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার চাহিদা মেটানোর প্রয়োজনেও একই পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু এই ব্যয় নির্বাহের জন্য বৈধপথে কোনও আয়ের উৎস নেই। অথচ ব্যয় হচ্ছে। আর এ কারণে টানা দুই বছর ধরে এই বিশাল ব্যয় নির্বাহ করতে হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকেই।

এর বাইরেও গত অর্থবছরে সরকারের বাজেটে আলাদা করে রোহিঙ্গাদের জন্য ৪শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী আবাসন গড়তে নোয়াখালীর ভাসানচরে আবাসন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ভাসানচরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামে এক হাজার ৪৪০টি ব্যারাক ও ১২০টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা। যা পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র।

কক্সবাজার জেলার সাবেক ডিসি আলী হোসেন জানিয়েছেন, নগদ টাকার বাইরেও সরকারের আরও খরচ রয়েছে। যা মূল খরচের তুলনায় অনেক বেশি। এসব খরচ কখনোই একত্র করে দেখা হয়নি। এই বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সুষ্ঠুভাবে বসবাসের জন্য সরকারের প্রশাসনিক ব্যয় রয়েছে। এ বিষয়টি সরকারের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রোহিঙ্গাদের থাকা-খাওয়াসহ তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময় সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ দিতে হয়েছে অতিরিক্ত জনবল। এজন্য বাড়তি খরচ জুগিয়েছে সরকার। কখনোই এসব খরচ একত্র করে উপস্থাপন করা হয়নি বা সম্ভব নয় বলেও জানান সাবেক এই কর্মকর্তা।  

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের চিহ্নিতকরণ-সংক্রান্ত একটি কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার বসবাসের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় এক লাখ ৬৫ হাজার আশ্রয় ক্যাম্প। পাহাড় ও বন কেটে স্থাপন করা হয়েছে এসব আশ্রয়ক্যাম্পের অবকাঠামো। এ কারণে উজাড় হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি। এতে ৩৯৭ কোটি ১৮ লাখ ৩৭ হাজার ৩৯৩ টাকার সমপরিমাণ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়েছে বলেও মনে করে জাতিসংঘ।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, গত দুই বছরে রোহিঙ্গাদের পেছনে সরকার ও দাতা সংস্থাগুলোর ব্যয় কখনোই একত্র করে হিসাব করা হয়নি। যা সম্ভবও নয়। কারণ, এসব ব্যয় জেলা প্রশাসনের তদারকিতে হয়েছে, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সেনাবাহিনী। এক্ষেত্রে অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিতরণ করা হয়েছে, যার মূল্য নির্ধারণ করার প্রয়োজন পড়েনি। করাও হয়নি। সম্ভবও নয়। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকেও বিভিন্ন প্রয়োজনে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ স্বাস্থ্য, চিকিৎসা খাতে ব্যয়ের পরিমাণ বিপুল।’

এদিকে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২-এর ৪/১৪ (ক)-অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনওপ্রকার অবকাঠামো বা স্থাপনা নির্মাণ করার ক্ষেত্রে আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাংলাদেশ বন বিভাগের এই আইন উপেক্ষা করে কক্সবাজারের কুতুপালংয়ের ৪০১ দশমিক ৪০ একর, জামতলী ও বাঘঘোনার ৫১৬ একর, বালুখালীর ৮৩৯ একর, তাজনিমা খোলার ৪৫১ একর, উখিয়ার বালুখালী ঢালা ও ময়নারঘোনার ৩১০ একর, শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ২০১ দশমিক ২০ একর, নয়াপাড়ার ২২৪ একর, টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের পুঁটিবুনিয়ার ৮৮ দশমিক ৬০ একর, কেরনতলী ও চাকমারকুল এলাকার ৭৯ দশমিক ৮০ একর এবং লেদারের ৪৫ একর সংরক্ষিত বনভূমি উজার করে রোহিঙ্গাদের জন্য আবাসন ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়েছে।

কক্সবাজার বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় হিসাবে এই পরিমাণ জমির দাম দাঁড়ায় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। যা সরকারের নিজস্ব সম্পত্তি। যা আর কোনওদিনই ফেরত পাওয়া যাবে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল জানিয়েছেন, সরকার ও দাতাদের সহায়তা মিলিয়ে ব্যয়ের এই পরিমাণ তো অনেক। ১১ লাখ মানুষের দুই বছরের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর ব্যয়, যা বাংলাদেশ সরকারসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে জোগান দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ বা সহায়তা বাবদ রোহিঙ্গাদের পেছনে দাতা গোষ্ঠী বা অন্য কোনও সূত্র থেকে পাওয়ার বাইরেও সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে অনেক টাকাই ব্যয় হয়েছে।

Monday, August 5, 2019

এবারের কোরবানির চামড়ার কী হবে by শফিকুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার চাহিদা কমে গেছে। কমপ্লায়েন্সের কারণে বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন অনেক ক্রেতা। গত বছর কেনা চামড়ার ৫০ শতাংশ এখনও অব্যবহৃত রয়ে গেছে। নতুন চামড়া কেনার জন্য ব্যাংক থেকে পাওয়া ঋণও পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সব মিলিয়ে এ বছর কোরবানির পশুর চামড়া কেনার বিষয়ে তেমন আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের। নতুন চামড়া কেনা হবে কি হবে না, এ ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে এবারের কোরবানির পশুর চামড়ার কী হবে?

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো—ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছর চামড়াজাত পণ্য রফতানি আয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল ১৩৮ কোটি ডলার। তা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছর চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ১০৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। এর আগের বছর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাতে আয় হয়েছিল ১২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নানা কারণে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনে চামড়ার বাজার পড়ে গেছে। এছাড়া সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর মালিকরা ঋণ পেতে নানামুখী সমস্যা মুখোমুখি হচ্ছেন। যেমন, সাভার চামড়া নগরীতে যেসব শিল্প মালিক প্লট পেয়েছেন অথচ মালিকানা বুঝে পাননি, তাদের ব্যাংক ঋণ পেতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে আসন্ন কোরবানির ঈদে চামড়া সংগ্রহে ব্যবসায়ীরা সংকটের আশঙ্কা করছেন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, আসলেই চামড়া খাতের অবস্থা ভালো নয়। সর্বত্র চামড়াজাত পণ্যের অর্ডার কমে গেছে। বাংলাদেশি চামড়াজাত পণ্যের বড় বাজার হিসেবে পরিচিত চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা কমে গেছে।

তিনি জানান, চামড়া কেনার জন্য গতবছর ব্যাংক থেকে যে ৪৭০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছিল, সেই টাকা তাদের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। চামড়া কেনার জন্য ব্যাংক যে প্রক্রিয়ায় ঋণ দেয় তা সহজ নয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে শাহীন আহমেদ বলেন, ‘গত বছর কিনেছি অথচ ব্যবহার করতে পারিনি, এমন চামড়ার পরিমাণ ৫০ শতাংশ। তাই এ বছর আমাদের চামড়ার চাহিদা তেমন নেই। অর্ডারও কম। কমপ্লায়েন্সের বিষয়ে ক্রেতারাও অসন্তুষ্ট।’ তাই এ বছর যদি কাঁচা চামড়া রফতানি হয় সেক্ষেত্রে কোনও আপত্তি নেই বলে জানান তিনি।

শাহীন আহমেদ বলেন, চামড়া খাতের এই বিপর্যয়ের মূল কারণ সাভারের ট্যানারি পল্লির কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারকে পুরোপুরি কার্যকর করতে না পারা। একদিকে সরকারের টাকাও নষ্ট হলো, অন্যদিকে পল্লির পাশে ধলেশ্বরী নদীও নষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘শুনেছি, এটিকে কার্যকর করতে কিছু মেশিনপত্র কেনা হয়েছে। তা যদি সঠিক হয় তাহলে এ বছরের শেষ দিকে এটিকে আংশিক চালু করা সম্ভব হবে বলে মনে হয়।’

জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মফিজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা চামড়া খাতের রফতানি বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা চামড়াজাত পণ্যের রফতানি বাড়াতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা যতই বলুক, চামড়া খাতের রফতানি বাড়বে। চীন বা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা বা অর্ডার কমে গেলেও সমস্যা হবে না। কারণ, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের চামড়াজাত পণ্যের বিশাল বাজার সম্ভাবনা রয়েছে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘এ বছর কোরবানির পশুর চামড়া কেনার বিষয়ে সব উদ্যোগই নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা যা লাগবে তা দেওয়া হবে। আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করছি। আরও আলোচনা করবো।’

তিনি জানান, কোরবানির পশুর চামড়া যাতে ভালোভাবে মান বাজায় রেখে সংগ্রহ করা হয়, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও গ্রহণ করা হচ্ছে।

বাণিজ্য সচিব বলেন, কাঁচা চামড়া রফতানি করা হবে কি হবে না, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

জানতে চাইলে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চামড়া শিল্পের উন্নয়নে সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং নেবো। সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আরও হবে। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের কাজ যেটুকু বাকি আছে তা অবিলম্বে শেষ হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী জানান, চামড়াজাত পণ্যের বাজার বিশ্বজুড়েই মন্দা। বাংলাদেশ এর বাইরে নয়। তবে বিশ্বে নতুন বাজার ও নতুন চাহিদা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া চামড়াজাত পণ্যের বহুমুখীকরণ হয়েছে, আরও হবে। এখন চামড়া দিয়ে শুধু জুতা বা ব্যাগ নয়, অনেক কিছুই তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্বে যার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

জানা গেছে, প্রতিবছর কোরবানির সময় গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মিলিয়ে মোট ৯০ থেকে ৯৫ লাখ পিস চামড়া পাওয়া যায়। যা সারাবছরের সরবরাহের প্রায় ৯০ শতাংশ। তাই চামড়া শিল্পের ব্যাবসায়ীরা কোরবানির সময় তাদের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সারাবিশ্বে চামড়াজাত পণ্যের বাজার ২২ হাজার কোটি ডলারের বেশি। এতে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব অবশ্য খুবই কম। এ খাতের উন্নয়নে সরকার ২০১৭ সালকে ‘চামড়া বছর’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

Tuesday, June 11, 2019

ইলিশ ধরার সময় কখন? by শফিকুল ইসলাম

বছরের অধিকাংশ সময়ই নদীতে ইলিশ ধরার ক্ষেত্রে সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকে। ডিম ছাড়ার সময় ২২দিন, জাটকা বড় হওয়ার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ২৪০ দিন এবং সাগরে মৎস্য সম্পদ রক্ষা করতে ৬৫দিন—এই তিন দফায় মোট ৩২৮ দিন সাগর বা নদীতে ইলিশ মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকে সরকারের। এছাড়া, দেশে ইালিশের অভায়শ্রমগুলোতে ইলিশ মাছ ধরার ক্ষেত্রে বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারের পক্ষ থেকে জেলেদের ভিজিএফ সহায়তা দিলেও কিছু জেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বছরের বেশিরভাগ সময়ই সাগর ও নদীতে মাছ ধরে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় প্রতি বছর অক্টোবর মাসের  (আশ্বিনের দ্বিতীয় পক্ষ ও কার্তিকের প্রথম পক্ষে) ২২ দিন দেশের সব নদ-নদীতে ইলিশ মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে মৎস্য মন্ত্রণালয়। আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমা ইলিশের ডিম ছাড়ার সময়। পরিণত ইলিশ এই সময় ডিম ছাড়ার জন্য সাগর থেকে মিঠাপানির নদীতে আসে। ডিম ছাড়ার সময়টিকে নির্বিঘ্ন করতেই সরকার ওই সময় সব ধরনের মাছ শিকারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তারিখের হেরফের হয় বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয় সূত্র। আগে এই সময় ৭দিন থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা ১৪দিন এবং বর্তমানে ২২ দিন করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় জাটকা (২৫ সেন্টিমিটার লম্বা ইলিশ) নামে পরিচিত, সেই জাটকা ইলিশকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে বছরের একটি বড় সময় নদীতে বা সাগরে ইলিশ ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞ জারি করে সরকার। এটি করা হয় ১ নভেম্বর থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এই ৮ মাস বা ২৪০ দিন। এই আট মাস জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এই আট মাস (২৪০দিন) জাটকা ধরা নিষেধ থাকলেও বড় সাইজের ইলিশ ধরার ক্ষেত্রে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। এই সময় জাটকা সংরক্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচিও গ্রহণ করে মৎস্য মন্ত্রণালয় বা মৎস্য অধিদফতর। জাটকা সংরক্ষণে নদীতে পরিচালিত হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বছরের তৃতীয় দফায় সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে প্রতিবছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত এই ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে বন্ধ থাকবে সব ধরনের মাছ ধরা। বাণিজ্যিক ট্রলারের পাশাপাশি সব ধরনের নৌযানের ক্ষেত্রেও এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য। বছরের মে মাসের শেষের দিক থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন প্রকারের মাছসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণির প্রজননকাল। এ কারণেই সাগরের প্রাণিজ সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি সরকারের মৎস্য ভাণ্ডারের পরিমাণ বাড়াতে  ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য মন্ত্রণালয়। এই তালিকায় সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি চিংড়ি, কাঁকড়ার মতো ক্রাস্টেশান আহরণেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে ইলিশ ধরা জেলেরাও বাদ যান না। যদিও ইলিশ ধরা জালের ফাঁস দুই ইঞ্চি। যদিও এই জালে সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি চিংড়ি, কাঁকড়ার মতো  ছোট প্রাণী আটকা পড়ে না।
এর বাইরেও ইলিশের প্রজনন মৌসুমের কারণে দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।  দীর্ঘ দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ৩০ এপ্রিল দিনগত রাত ১২টা থেকে নদীতে ইলিশ মাছ ধরা শুরু করেন জেলেরা। ইলিশের জন্য আগে মোট ৫টি অভয়াশ্রম থাকলেও সম্প্রতি বরিশালের আশপাশের ৮২ কিলোমিটার নদীপথকে নিয়ে নতুন অভায়শ্রম ঘোষণা করেছে সরকার। এই ৬টি অভয়াশ্রম হচ্ছে—পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আন্ধারমানিক নদীর ৪০ কিলোমিটার, চর ইলিশার মদনপুর থেকে ভোলার চরপিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার, ভোলার ভেদুরিয়া থেকে চররুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার, চাঁদপুরের ষাটনল থেকে চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনার ১০০ কিলোমিটার, শরীয়তপুরের নড়িয়া থেকে ভেদরগঞ্জ পর্যন্ত পদ্মার ২০ কিলোমিটার এবং বরিশাল সদরের কালাবদর নদীর হবিনগর পয়েন্ট থেকে মেহেন্দীগঞ্জের বামনীরচর পয়েন্ট পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার, মেহেন্দীগঞ্জের গজারিয়া নদীর হাটপয়েন্ট থেকে হিজলা লঞ্চঘাট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার এবং হিজলার মেঘনার মৌলভীরহাট পয়েন্ট থেকে মেহেন্দীগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনার দক্ষিণ-পশ্চিম জাঙ্গালিয়া পয়েন্ট পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার। এছাড়া আড়িয়াল খাঁ, নয়নভাংগুলী ও কীর্তনখোলা নদীর আংশিক অভয়াশ্রমটির অন্তর্ভুক্ত।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিনবছর মা-ইলিশ সংরক্ষণের সময় সরকারের পক্ষ থেকে জেলেদের ভিজিএফসহায়তা বাবদ ৩ লক্ষ ৯৫ হাজার ৭০৯টি জেলে পরিবারকে ২০ কেজি হারে মোট ৭৯১৪ মেট্রিকটন চাল দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০১৯’ পালনের সময় সরকার চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছর জাটকা আহরণ নিষিদ্ধকালে জেলেদের ভিজিএফ খাদ্য সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭৪টি জেলে পরিবারের জন্য ৪০ কেজি হারে মোট ৩৯ হাজার ৭৮৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। এ সময়ে জাটকার সম্প্রসারিত নদীতীরবর্তী ১৩টি জেলার ৫১ উপজেলায় মোট ৪৭ হাজার ৪৮০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, ‘ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। বর্তমানে দেশে ইলিশের উৎপাদন পাঁচ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি হচ্ছে। তাই ইলিশ রক্ষায় সরকার ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার  সবার সহযোগিতা চায়। বছরের যে সময়টিতে জেলেরা ইলিশ ধরতে নদীতে যেতে পারেন না, সেই সময়টিতে সরকার জেলেদের ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে নানা ধরনের সহযোগিতা করে আসছে। ইতোমধ্যেই দেশের সব জেলায় জেলেদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদের কার্ড দেওয়া হয়েছে।’ কার্ডধারী সব জেলে সরকারের সহযোগিতা পাচ্ছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

Friday, April 5, 2019

রোহিঙ্গাদের কারণে খাদ্য ঘাটতির কোনও আশঙ্কা নাই -ফাও-এর প্রতিবেদন প্রসঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয় by শফিকুল ইসলাম

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতির কোনও আশঙ্কা নাই। কারণ খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে রোহিঙ্গাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয় না। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর মাধ্যমে তাদের খাদ্য সরবরাহ করা হয়। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও)-এর একটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব তথ্য জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।
এর আগে একই দিনে ফাও-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গার চাপে দানাদার খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনকারী দেশ হয়েও খাদ্য নিরাপত্তাহীন দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনস্ট ফুড ক্রাইসিস-এর এক প্রতিবেদনে কক্সবাজারের ১৫ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, সেখানকার ১৩ লাখ মানুষই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করছেন।
এই প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদফতর জানায়, পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। তাই ঘাটতির কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে ফাও-এর প্রতিবেদন সরকার খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিবেদনের বিষয়টি আমরা এখনও জানি না। তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। আমরা খোঁজ-খবর নিয়ে দেখছি, বিষয়টি কী?’
তিনি আরও জানান, খাদ্যশস্যের মজুদ সন্তোষজনক। মাসিক চাহিদা ও বিতরণ পরিকল্পনার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। এই মুহূর্তে দেশে খাদ্যশস্যের কোনও ঘাটতি নাই বা ঘাটতির কোনও সম্ভাবনাও নাই।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘প্রতিবেদনটিতে যদি এমন মন্তব্য করে থাকে যে- রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে, তাহলে বিষয়টি সঠিক নয়। রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের খাদ্য ঝুঁকিতে পড়ার কোনও কারণ নাই। কেননা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের খাবারের ব্যবস্থা করছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার সহায়তায় রোহিঙ্গাদের সহায়তা করা হচ্ছে। এখানে সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয় যুক্ত নয়।’ 
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এটি পরিষ্কার যে, সরকার প্রতিবছর দেশের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে। যদি কোনও কারণে রোহিঙ্গাদের খাবারের ব্যবস্থা সরকারকে করতে হতো, তাহলে সরকার নিশ্চয়ই বাড়তি সংগ্রহ করতো। যেহেতু সরকার বাড়তি সংগ্রহ করছে না, সেহেতু প্রতিবেদনের বক্তব্য সঠিক নয়।’    
খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের আমন সংগ্রহ মৌসুমে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৯৬৬ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। চলতি বোরো সংগ্রহ মৌসুমে ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২ লাখ ২৯ হাজার ৫৭৮ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল, ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৪২ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ২৪ হাজার ৪৭১ মেট্রিক টন ধানসহ মোট ১৩ লাখ ৯৫ হাজার ৪২৬ মেট্রিক টন বোরো চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।
খাদ্য অধিদফতর সূত্র আরও জানায়, ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল পর্যন্ত খাদ্যশস্যের সরকারি গুদামজাতকৃত মোট মজুদ ১৪ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক  টন। এরমধ্যে চাল ১২ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন এবং গম ১ লাখ ৫৯ হাজার মেট্রিক টন। এই মজুদ সন্তোষজনক, ঘাটতির কোনও সম্ভাবনা নাই।
এদিকে কৃষি বিপণন অধিদফতরের তথ্য মতে, দেশের চালের বাজারদর ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি মোটা চালের পাইকারি মূল্য ২৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২৭ টাকা ৫০ পয়সা, যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা থেকে ৩৪ টাকা। প্রতি কেজি আটা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৭ টাকা থেকে ৩০ টাকা দরে।
খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও) এর ২০১৮ সালের খাদ্য উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধানের উৎপাদন প্রবৃদ্ধির হারে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে এখানে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আমন, আউশ ও বোরো মিলিয়ে বর্তমানে দেশে ধানের বার্ষিক ফলন ৩ কোটি ৬২ লাখ টনের বেশি। ভুট্টা উৎপাদন ছাড়িয়েছে ২৭ লাখ টন। আবহাওয়াগত কারণে গমের পাশাপাশি এক কোটি টনের বেশি আলু উৎপাদন হচ্ছে দেশে। সবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনেও সাফল্য এসেছে। সব মিলিয়ে দানাদার খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
তবে গত মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস: জয়েন্ট অ্যানালাইসিস ফর বেটার ডিসিশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চারটি দেশে প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ এর মধ্যে অন্যতম। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা এই অঞ্চলের বাকি তিনটি দেশ হলো- মিয়ানমার, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন শুরু হলে প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় রোহিঙ্গারা। এরপর থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। আগে থেকে উপস্থিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে এই সংখ্যা প্রায় দশ লাখে পৌঁছেছে।

Sunday, December 16, 2018

জাতীয় পতাকা ফেরি করাও মর্যাদার by শফিকুল ইসলাম

রাজধানীতে এক পতাকা বিক্রেতা
রাজধানীতে এক পতাকা বিক্রেতা
আবদুল মোতালেব রাজধানীতে ঘুরে ঘুরে পতাকা বিক্রি করেন। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পতাকা বিক্রি করে যা আয়  হয় তা দিয়েই চলে তার পাঁচ সদস্যের সংসার। বছরের অন্যান্য সময় হাড়ি-পাতিল, প্লাস্টিকের সামগ্রী ফেরি করে বিক্রি করলেও মার্চ ও ডিসেম্বরে তিনি বিক্রি করেন জাতীয় পতাকা।
আবদুল মোতালেব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  ‘স্বাধীনতার মাস মার্চ ও বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে জাতীয় পতাকার চাহিদা থাকে প্রচুর। তাই বিক্রিও হয় প্রচুর। আয় বেশি হওয়ায় এই দুই মাস পতাকা বিক্রি করি। এসময় জাতীয় পতাকা ফেরি করাটাও মর্যাদার।’
শুধু মোতালেব নয়, রাজধানীতে পতাকা বিক্রি করেন এমন আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারা বছর পতাকা বিক্রি না করলেও বছরে দুই মাস তারা পতাকা বিক্রি করেন। বিশেষ করে ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করেই পতাকার চাহিদা বাড়ে। ছোট বড় বিভিন্ন সাইজের পতাকা বিক্রি হয় এ সময়। সাইজ ও মানভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হয় পতাকা। অনেকেই আছেন যারা এই সময় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে রাজধানীতে ছুটে আসেন শুধু পতাকা বিক্রির জন্য।
আবদুল মোতালেব বলেন, ছোট বড় বিভিন্ন সাইজের জাতীয় পতাকা বিক্রি করেন তিনি। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার-বারোশ’ টাকা পর্যন্ত দামের পতাকা বিক্রি করেন তিনি। কেউ কেউ অর্ডার দেন বিশেষ সাইজের পতাকার। তাই ব্যবসা ভালো হয়।
মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে এম এ রশিদ নামের আরেক পতাকা বিক্রেতার সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়।  রাজবাড়ীর বাসিন্দা আবদুর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  ‘সারা বছর পতাকা বেচি না। তবে ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও  ডিসেম্বর এই তিন মাস পতাকা বিক্রি করি। পতাকা বিক্রির করে লাভ হয় দুই প্রকার। প্রথমত ভালো আয় হয়। দ্বিতীয়ত দেশপ্রেম।’
রাজধানীতে এক পতাকা বিক্রেতা
রাজধানীতে এক পতাকা বিক্রেতা
তিনি বলেন,  ‘সব ব্যবসায়ী কিন্তু পতাকা বেঁচে না। আমরা গরিব মানুষ, শুধু দেশপ্রেম দিয়ে তো আর পেট চলবে না। তাই মুনাফাটাও দেখতে হচ্ছে।’      
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বাঁশের সঙ্গে বিভিন্ন সাইজের পাতাকা লাগিয়ে  হকাররা ঘুরে বেড়ান। কাঁধে থাকে একটি ব্যাগ। এর মধ্যেই থাকে বিভিন্ন সাইজ ও মানের পতাকা। সাইজ ও মানভেদে এসব পতাকার দামেও রয়েছে ভিন্নতা। স্বাধীনতার মাস মার্চ ও বিজয়ের মাস ডিসেম্বর শুরু হলেই এরা রাজধানীতে চলে আসেন পতাকা বিক্রির জন্য।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরা কেউই বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার সঠিক সাইজ ও রঙ সম্পর্কে জানেন না। তবে যারা পতাকাটি তৈরি করেন তারা রং ও সাইজ জানেন। রাজধানীর ইসলামপুর ও কেরানীগঞ্জে বছরের এই সময় চলে জাতীয় পতাকা তৈরির কাজ। এখানকার কয়েক শ’ দোকান রয়েছে যারা এই সময় শুধু তৈরি পতাকাই বিক্রি করে।
এ বিষয়ে ইসলামপুরের পতাকা ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, খুব বেশি না, ছোটবড় প্রতিটি পতাকা তৈরিতে যে খরচ হয়, তার থেকে ৫-১০ টাকা মুনাফা যুক্ত করেই বিক্রি করি। এসময় দিনে ৪০০-৫০০ পতাকা বিক্রি হয়। কাজেই অনায়াসে বলা যায় মুনাফা ভালো। তাই এই সময় অন্য কিছু না বানিয়ে পতাকা বানিয়ে বিক্রি করি।
পতাকা বিক্রেতা নাটোরের রানা মোহম্মদ জানিয়েছেন, বছরের অন্য সময় হাড়ি পাতিলের ব্যবসা করলেও এ মাসে জাতীয় পতাকা বিক্রি করতে তার ভালো লাগে। স্ত্রী সন্তানসহ ৫ জনের পরিবারে মাকে নিয়ে তার সংসার। স্বাধীনতার মাস ও বিজয়ের মাসে জাতীয় পতাকা এবং মাথার ব্যান্ড, ব্যাজ নিয়ে চলে আসি রাজধানীতে।
রাজধানীতে এক পতাকা বিক্রেতা
রাজধানীতে এক পতাকা বিক্রেতা
রানা বলেন, ‘ছোট ছোট শিশু থেকে বড় মানুষরা যখন আমাকে পতাকা বিক্রেতা বলে ডাক দিয়ে কাছে ডেকে একটি পতাকা কেনেন তখন আমার খুব ভালো লাগে। নাটোর থেকে এখানে আসার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে জাতীয় পতাকা প্রতিটি মানুষের কাছে  পৌঁছে দেওয়া। এতে পতাকা বিক্রিতে আমার লাভই হয়। কখনও লোকসান হয়নি। মুনাফা হয়তো অন্য কিছু বিক্রি করলেও পেতাম। তবে পতাকা বিক্রি করার মর্যাদাটাই অন্যরকম।’ 
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  ‘যারা রাস্তায় ঘুরে ঘুরে পতাকা বিক্রি করেন তাদের মর্যাদাটাই আসলে ব্যতিক্রম। আমার মনে হয়, তারা মুনাফার চেয়ে দেশপ্রেমের কারণেই এই সময় পতাকা  বিক্রির কাজটি বেছে নেয়। যেহেতু তাদের বিক্রি করা পণ্যটি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, সেহেতু এই পতাকার সঠিক সাইজ ও সঠিক রঙয়ের ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এ দু’টি বিষয় ঠিক থাকলে আসলেই এসব পতাকা বিক্রেতারা পৃথক সম্মান পাওয়ার যোগ্য।’
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।

Tuesday, November 27, 2018

যে তিন কারণে মুনাফা কমছে গার্মেন্টস শিল্পে by শফিকুল ইসলাম

প্রতিনিয়ত উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, সে তুলনায় বাড়ছে না উৎপাদিত তৈরি পোশাকের দাম। সঙ্গে কমছে তৈরি পোশোকের চাহিদাও। এই তিন এ কারণে কমছে আয়। আর এই আয়ের সঙ্গে ব্যয় মেটাতে না পেরে ক্রমশ বন্ধ হচ্ছে দেশের ছোট ও মাঝারি তৈরি পোশাক কারখানা। এভাবে চলতে থাকলে তৈরি পোশাক খাতে একসময়  অন্ধকার নেমে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশের ছোট ও মাঝারি সাইজের তৈরি পোশাক কারখানার মালিকরা। তবে এসব মন্তব্য মানতে নারাজ তৈরি পোশাক খাতের সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, রানা প্লাজা ধসের পর অনেকেই মনে করেছিলেন যে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প আর টিকবে না। কিন্তু এখনও যেহেতু এ খাত টিকে আছে সেহেতু আর কোনও দুঃসংবাদ আসবে না। এ খাতের ভবিষ্যৎ ভালো বলেও জানান তারা।
বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, গত চার বছরে দেশের তৈরি পোশাক খাতের বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা কমেছে ৮ শতাংশ। পণ্য উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের দর কমেছে গড়ে প্রায় ৭ শতাংশ। এই তিন প্রতিকূলতায় বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের মুনাফা কমেছে।
সূত্র জানায়, গার্মেন্টস পণ্যের মুনাফা কমার এই তিন কারণে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পোশাকের রফতানি প্রবৃদ্ধি ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে আসে। গত অর্থবছরে তা আবার বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অথচ ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের বছরেও রফতানিতে প্রবৃদ্ধি এতটা কম ছিল না। ওই বছরের এপ্রিলের পর জুন পর্যন্ত তিন মাসের খারাপ সময় সত্ত্বেও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশের রফতানি আয়ের সবচেয়ে বড় খাত তৈরি পোশাকশিল্পে গত পাঁচ বছরে ১ হাজার ৯৬৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। চাকরি হারিয়েছেন কয়েক লাখ শ্রমিক। একই সময়ে সংকুচিত হয়েছে পোশাক খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শিল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগ। রানাপ্লাজা ধসের পর থেকে  কম্প্লায়েন্সসহ নানা ইস্যুতে ছোট ও মাঝারি আকারের এসব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর ওপর আন্তর্জাতিক বাজারে কমছে পণ্যের দাম।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রানাপ্লাজা ধসের পর বিদেশে বাংলাদেশের পোশাক খাতবিরোধী প্রচারণা, ক্রেতাদের বিভিন্ন শর্তা আরোপ, চুক্তিতে অন্য কারখানায় কাজ করানোর সুযোগ কমে যাওয়া ইত্যাদি কারণে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রমতে, বিজিএমইএর নিবন্ধিত তৈরি পোশাক কারখানার সংখ্যা ৬ হাজার ১৯৬টি। এর মধ্যে বিভিন্ন জটিলতায় বিজিএমইএ নিবন্ধন বাতিল করার কারণে ১ হাজার ৭৬৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এই সংখ্যা বাদ দিলে বিজিএমইএ’র নিবন্ধিত কারখানার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪৩১টি। অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের পরিদর্শনে চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়েছে আরও ২০০টি। সর্বোপরি বর্তমানে সক্রিয় কারখানার সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০টি।
সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রামে ২০১৩ সালে ১৪১টি, ২০১৪ সালে ২১২টি, ২০১৫ সালে ১৩৭টি, ২০১৬ সালে ১৩৫টি এবং ২০১৭ সালের চলতি এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৫৩টি কারখানার সদস্যপদ বাতিল করেছে বিজিএমইএ।
তৈরি পোশাক খাতের অপর একটি সূত্র জানায়, গত ৪ বছর ধরে পোশাক খাতের চলমান সংস্কার চাপে উৎপাদন থেকে ছিটকে পড়েছে তিন হাজারেরও বেশি কারখানা। এসব কারখানা এখন উৎপাদনে নেই। অনেক কারখানাই বন্ধ। এর মধ্যে বিজিএমইএ থেকে বাদ পড়েছে মোট এক হাজার ১৬৩টি কারখানা। বিকেএমইএ থেকে বাদ পড়া এবং সংস্কার চালাতে রাজি না হওয়া- এ দুই কারণে ৮০০ কারখানা এখন আর উৎপাদনে নেই। পোশাক খাতের সংস্কার বিষয়ক ইউরোপের ক্রেতাজোট অ্যাকর্ড থেকে বাদ পড়েছে ১৪৪টি। অপর ক্রেতাজোট উত্তর আমেরিকার অ্যালায়েন্স থেকে বাদ পড়েছে ১৫৭টি কারখানা। অর্থাৎ সংস্কারে অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় দুই জোটের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৩১১টি কারখানা। দুই ক্রেতা জোটের বাইরে অন্য ক্রেতাদের রফতানি আদেশ সরবরাহ করা হয় এ রকম এক হাজার ৮২৭টি কারখানার সংস্কার চলছে শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান কলকারখানা পরিদর্শন অধিদফতরের (ডিআইএফই) অধীনে।
ছোট ও মাঝারি সাইজের কারখানা বন্ধের পেছনে যেসব কারণ বিদ্যমান রয়েছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- কারখানা সংস্কারে অর্থ সহায়তা হিসেবে আইএফসি, জাইকাসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ঋণদানে পৃথক একটি তহবিল করেছে। তহবিলের সহায়তা উদ্যোক্তাদের হাতে এসে পৌঁছাতে সুদ বেড়ে তা ৯ থেকে ১০ শতাংশে দাঁড়ায়। এ কারণে উদ্যোক্তারা ঋণ নিচ্ছেন না। অন্যদিকে কারখানা সংস্কারে অ্যাকর্ড অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকেও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এসে নামেমাত্র অর্থ সহায়তা দিয়েছে অ্যাকর্ড। বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে কয়েকটি কারখানাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে। এর বাইরে সরাসরি আর কোনও অর্থ সহায়তা দেয়নি ক্রেতারা। তাই কারখানাগুলোকে শর্ত অনুযায়ী সংস্কার করতে পারেনি অনেক কারখানা মালিক। শর্ত অনুযায়ী কারখানা সংস্কার করতে ব্যর্থ হওয়ায় কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন তারা।
বিজিএমইএ নেতারা জানান, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে ঠিকই, তবে সার্বিকভাবে দেশে পোশাক কারখানার সংখ্যা কমছে। কারণ যে হারে কারখানা বন্ধ হচ্ছে, সেই হারে নতুন কারখানা গড়ে উঠছে না। একইভাবে সাভারের রানাপ্লাজা ধসের পর থেকে বিদেশি খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের বড় ক্রেতারা অংশীদারি ভবনে অবস্থিত কারখানা থেকে পোশাক নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আগে বড় কারখানাগুলো বিপুল পরিমাণ রফতানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করতে অনেক ছোট ও মাঝারি কারখানাকে দিয়ে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করিয়ে নিতো। এখন ক্রেতারা সাব-কন্ট্রাক্টে চলা এসব কারখানার কর্মপরিবেশও আন্তর্জাতিক মানের কিনা তা যাচাই করছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে তৈরি পোশাক খাতের ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো হয়তো কিছু সমস্যা মোকাবিলা করছে। তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প কারখানার ভবিষ্যৎ যতো বলা হয় ততোটা খারাপ নয়। বাংলাদেশে ক্রমশই গ্রিন ফ্যাক্টরির সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে কমপ্লায়েন্স কারখানা। সেইসঙ্গে শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধাও বাড়ছে। যদি পরিস্থিতি খারাপই হতো তাহলে বিশ্বমানের কারখানা বাংলাদেশে এতো বাড়তো না।’ তবে উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।

Saturday, October 6, 2018

প্রশাসনে ক্যাডার বৈষম্য, বাড়ছে ক্ষোভ by শফিকুল ইসলাম

পদোন্নতি ও আচরণ বৈষম্যের অভিযোগে সরকারি কর্মকর্তাদের সাধারণ ২৭ ক্যাডারের মধ্যে ‘প্রশাসন ক্যাডার’ ছাড়া বাকি ২৬ ক্যাডারের প্রায় ৪৬ হাজার কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। পেশাগত বৈষম্য দূর করতে প্রশাসন ক্যাডারের প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে অন্য ক্যাডার সদস্যদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এ সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ— সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে আদালতের রায় লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এছাড়া, এই মুহূর্তে জনপ্রশাসনে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সঠিকভাবে বিধি-বিধান ও রীতিনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, বিসিএস ১৯৮৫ ব্যাচের ক্ষেত্রে পদের অতিরিক্ত পদোন্নতির সুযোগটি এখন সাধারণ রীতিতে পরিণত হয়েছে। অথচ সরকারের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, পদের অতিরিক্ত পদোন্নতি দেওয়ার বিধান নেই।
প্রশাসনের অন্য ক্যাডারগুলোর ক্ষেত্রে এই বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করা হলেও ‘প্রশাসন ক্যাডার’ এর উপসচিব বা তদূর্ধ্ব পদের ক্ষেত্রে কোনও নিয়মনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। এছাড়া, প্রশাসনের শীর্ষ পদে অর্থাৎ সচিব বা সিনিয়র সচিব পদে ‘প্রশাসন ক্যাডার’ ছাড়া অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি পাওয়ার সুযোগ কম। চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সমান মর্যাদার পদে যোগদান করতে হয়। তবে শিক্ষা ক্যাডারের শীর্ষ পদের নাম অধ্যাপক হলেও তার পদমর্যাদা প্রশাসন ক্যাডারের যুগ্মসচিবের সমান।
শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালকের একটি মাত্র পদ দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় ছিল। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ পদটি সচিবের পদমর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে। একইভাবে তথ্য ক্যাডারের শীর্ষপদ হচ্ছে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা। এটিও অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার ছিল। সম্প্রতি এই পদটিকেও সচিব পদে উন্নীত করা হয়েছে। অথচ প্রশাসন ক্যাডারের সব মন্ত্রণালয় ও দফতরের শীর্ষ পদটি সবসময়ই সচিব পদমর্যাদার ছিল।
উল্লেখ্য, সরকারের জনপ্রশাসনে ইকোনমিক ক্যাডারকে প্রশাসন ক্যাডারে একীভূত করার মধ্য দিয়ে বর্তমানে মোট ক্যাডারের সংখ্যা ২৭টি। এই মুহূর্তে জনপ্রশাসনে উপসচিব পদে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১ হাজার ৩২৪টি। যুগ্মসচিব পদে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৩৮৪টি। অতিরিক্ত সচিব পদে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১২০টি। সচিব ও সিনিয়র সচিব পদে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৮৯টি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে (বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর) সরকারের প্রশাসনে সচিব পদে ৭৮ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ৬২১ জন, যুগ্ম সচিব পদে ৭৬৪ জন, উপসচিব পদে ১ হাজার ৫৯৯ জন, সিনিয়র সহকারী সচিব পদে ১ হাজার ৪৬৪ জন কর্মকর্তা বিভিন্ন দফতরে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৭৫ সালে জাতীয় সংসদে অনুমোদিত ‘চাকরি পুনর্গঠন ও শর্তাবলী অ্যাক্ট ১৯৭৫’ অনুযায়ী একই গ্রেডে এবং স্কেলের কর্মকর্তাদের মধ্যে বেতন-ভাতা ও সুবিধার ক্ষেত্রে কোনও বৈষম্য করার সুযোগ নেই। কিন্তু উপসচিব বা তদূর্ধ্ব পদের কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকার ঋণ ও সেই গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার আদেশ জারি করে ওই আইনকে লঙ্ঘন করা হয়েছে বলেও অভিযাগ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোথাও কোনও আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে না। কোনও ক্যাডার বৈষম্য নাই।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘সরকারের সক্ষমতা বেড়েছে, তাই গাড়ির সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এটা নতুন কিছু নয়। পর্যায়ক্রমে অন্যরাও পাবেন।’
তবে ক্যাডার বৈষম্যের বিষয়ে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে বিসিএস ক্যাডারগুলোতে রয়েছে বিবিধ মাত্রার বৈষম্য। কখনও পদোন্নতি বৈষম্য, কখনও কর্তৃত্ব বৈষম্য।’
তিনি বলেন, ‘ক্যাডারভিত্তিক বৈষম্যের নানা ধরন রয়েছে। যেমন ধরা যাক, কোনও এক বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব ক্যাডারের সব শাখায় কর্মকর্তা নিয়োগ হলো। একই দিনে পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলো, আবার একই দিনে তাদের যোগদান হলো। তারা যদি তাদের পদোন্নতির শর্ত পূরণ করেন, তাহলে তাদের একই দিনে পদোন্নতি হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তা হচ্ছে না। পদোন্নতির ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা জটিলতা। যেমন স্বাস্থ্য ক্যাডারের পদোন্নতির জন্য তাদের অতিরিক্ত ডিগ্রি থাকা চাই। একই যোগ্যতা কিংবা চিকিৎসকদের চেয়ে কম যোগ্যতা নিয়ে পদোন্নতি পেয়ে হয়তো কেউ ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদে আসীন হচ্ছেন, আর চিকিৎসকদের হয়তো প্রবেশপদেই সারাজীবন থাকতে হচ্ছে। শিক্ষা ক্যাডারসহ অনেক ক্যাডারের জন্য শুধু বিভাগীয় পরীক্ষা, বুনিয়াদি কোর্স, সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই পদোন্নতি হয়। প্রশাসন ক্যাডার, পুলিশ ক্যাডারসহ কিছু কিছু ক্যাডারে কিছুদিন বেশি প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হয়। সব ক্যাডারের জন্য যদি আর কোনও উচ্চতর ডিগ্রির প্রয়োজন না হয়,তাহলে স্বাস্থ্য ক্যাডারের জন্য কী কারণে অতিরিক্ত ডিগ্রির প্রয়োজন হবে? একইভাবে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তার সমান অথবা বেশি যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা ক্যাডারদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, যা হওয়া উচিত নয়। ২৭টি ক্যাডারের মধ্যে স্বাস্থ্য ক্যাডার একমাত্র ক্যাডার, যেখানে প্রবেশকালীন যোগ্যতার চেয়ে আরও অনেক বেশি ডিগ্রি প্রয়োজন হয় পদোন্নতিতে। অন্য সব ক্যাডারে প্রবেশকালীন যোগ্যতাই তাকে সর্বোচ্চ পদে আসীন করার জন্য যথেষ্ট।’
অধ্যাপক তুহিন বলেন, ‘ক্যাডারগুলোতে পদ শূন্য সাপেক্ষে পদোন্নতি হয়। শুধু নির্দিষ্ট ক্যাডার ধরে নয়, যখন পদোন্নতি হবে তখন সেই বিসিএসের সব কর্মকর্তার পদোন্নতি হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতি না হওয়ার কারণে একই ক্যাডারেও চলছে বিশৃঙ্খলা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে উপজেলায় যে প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষি কর্মকর্তা থাকেন, তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধীনে থাকেন। প্রশাসন ক্যাডারের একজন তরুণ কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হন। অন্যদিকে সেই নির্বাহী কর্মকর্তার চেয়ে অনেক সিনিয়র এবং তার চেয়ে মেধায় ও যোগ্যতায় অনেক বেশি থাকা সত্ত্বেও একজন চিকিৎসক, কৃষিবিদ, প্রকৌশলী পদোন্নতি না পেয়ে প্রবেশ পদেই হয়তো থাকেন। জেলা পর্যায়েও একই অবস্থা। এতে করে প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করাটা সম্মানজনক হয় না। এ অবস্থার অবসান না হলে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর হবে না।’
তিনি বলেন, ‘সব ক্যাডারের কর্মকর্তাদের চাকরিজনিত যেকোনও সিদ্ধান্তের জন্য যেতে হয় সচিবালয়ে। সেখানে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা সব ক্যাডারের সিদ্ধান্ত দেন। এতে সব ক্যাডারের যে প্রধান কর্মকর্তা- মহাপরিচালকেরা রয়েছেন, তাদের ক্ষমতাকে ছোট করা হয়। সব মন্ত্রণালয়ের সচিব হওয়া প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের কর্মকর্তার। যেমন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব হবেন একজন কৃষিবিদ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হবেন একজন চিকিৎসক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব হবেন একজন শিক্ষাবিদ। এতে সরকারি চাকরির কাজে গতিশীলতা আসবে। একই সঙ্গে স্বাধীনভাবে সব ক্যাডার দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন।’
উল্লেখ্য, বিসিএস ১৩তম ব্যাচের তথ্যসহ অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা যেখানে উপসচিব পদমর্যাদার পদে কাজ করছেন সেখানে একই ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা যুগ্মসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন তাও এক বছরের বেশি আগে থেকে। অথচ অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির কোনও খবর এই মুহূর্তে নেই।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, ‘এগুলো নতুন কিছু নয়, দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসছে। তাছাড়া পদোন্নতি পাওয়ার সময় হলে তো তাকে পদোন্নতি দিতে হবে।’

Friday, August 3, 2018

প্রধানমন্ত্রীর শ্লেষ, কোথায় কখন হাসতে হয় তাও জানেন না? by শফিকুল ইসলাম

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুর্ঘটনায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় অনেকের মতো মর্মাহত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। এ দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি ও নৌমন্ত্রী শাজাহান খান সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায়  হেসে হেসে কথা বলায় সারাদেশে যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে তাতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রীও। দুর্ঘটনার দু’দিন পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এক নিহত শিক্ষার্থীর বাসায় সমবেদনা জানাতে পাঠানোর পাশাপাশি নৌপরিবহনমন্ত্রীকে ডেকে সংযত হয়ে কথা বলার নির্দেশ দিয়ে শ্লেষের সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘কোথায় কখন হাসতে হয় তাও জানেন না?’ সোমবার (৩০ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানকে ডেকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কালশী ফ্লাইওভারের অদূরে র‌্যাডিসন হোটেলের উল্টোদিকে সিএমএইচ স্টপেজে দাঁড়ানো অবস্থায় দ্রুতগামী বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত এবং আরও ১০/১২ জন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় দায়ী বাসচালক ও সহকারীর বিচার ও সড়কে নিরাপত্তার দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পরপর তিনদিন মহাসড়কে নেমে এলে সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। এ দুর্ঘটনায় আর সবার মতো মর্মাহত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। তিনি মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে নিহত দিয়া খানমের বাসায় পাঠিয়ে তার পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং এই ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির বিষয়ে পরিবারটিকে আশ্বাস দেন। 
তবে এর আগে গতকাল সোমবার (৩০ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে শাজাহান খানকে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী। একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, শাজাহান খানকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বিব্রত হয় –এমন যে কোনও মন্তব্য পরিহার করতে হবে। কথা বলার সময় আরও সতর্ক থাকতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ না করে এর কাউন্টার হিসেবে মহারাষ্ট্রের সড়ক দুর্ঘটনার রেফারেন্স দেওয়া ঠিক হয়নি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক সূত্রের দাবি, এসময় শাজাহান খানের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোথায় কখন হাসতে হয়, তাও জানেন না!’
উল্লেখ্য, রবিবার (২৯ জুলাই) দুপুরে বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি হিসেবে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি হেসে হেসে এ বিষয়ে দায়ীদের শাস্তির কথা জানানোর পাশাপাশি এ দুর্ঘটনার সঙ্গে ভারতের মহারাষ্ট্রে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত হওয়ার তুলনা করেন। পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের নেতা হিসেবে নৌ-মন্ত্রীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বাসের চালক ও হেলপাররা স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠছে –এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার শাজাহান খান হেসে হেসে বলেন, ‘আজকের বিষয়ের সঙ্গে এটি রিলেটেড নয়। মহারাষ্ট্রে এক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত হলেও কোনও হৈ চৈ হয় না। অথচ বাংলাদেশে সামান্য কিছুতেই হৈ চৈ হয়।’
হেসে হেসে নৌমন্ত্রীর এমন মন্তব্য করা দেখে খোদ সরকারের অনেকেই আশ্চর্য হন; অনেকে এ নিয়ে সমালোচনাও করেন। কেউ কেউ বলেন, তিনি দুঃখ প্রকাশ করতে পারতেন। এ দুর্ঘটনায় মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ করার কথা। অথচ তিনি উল্টো হাসেন। এ কি করে সম্ভব! তিনি কি সুস্থ আছেন?
আওয়ামী লীগ ও সরকারের অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এটাও বলেন যে, অন্য দল থেকে আসা শাজাহান খান আওয়ামী লীগের সুনাম নষ্ট করছেন। সামনে নির্বাচন –এমন সময় তার এমন আচরণ দলকে নানা প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন সিনিয়র মন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দাঁত বের করে হাসলেই হয় না। হাসার স্থান-কাল-পাত্র বুঝতে হয়।’
শাজাহান খানের হাসি ও মন্তব্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ফেসবুকে সাংবাদিক মিলটন আনোয়ার এক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘একটি হাসি সারা জাতির অপমান।’
মো. মাহবুব আলম সরকার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘আমি বড় পুকুরিয়ার কয়লা দিয়ে দাঁত মাজি। তাই তো আমার এত সুন্দর হাসি।’
মিলন খান নামে অন্য এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেন, ‘দুই শিক্ষার্থীর প্রাণ গেলো, আর এক মন্ত্রী দাঁত কেলিয়ে বিবৃতি দিলো! জনগণ কেন এদের ভোট দেয়?’
সাংবাদিক আজাদ সুমন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা পিষ্ট হয় বাসের চাপায়, আর শাজাহান কাকায় হাসে।’
রাজিউর রহমান রুমি লিখেন, ‘অন্যের কষ্টে যাদের মুখে হাসি, তারা দেশি না প্রবাসী?’
এ ব্যাপারে সোমবার (৩০ জুলাই) শাজাহান খান নিজে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সবসময়ই হাসি, আমার কালো মুখ কেউ দেখেনি। এটা কি দোষের?’
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও দেশজুড়ে শুরু হওয়া সমালোচনায় নরম সুরে কথা বলতে শুরু করেন শাজাহান খান। হাসি-মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চান। প্রতিশ্রুতি দেন, এই দুর্ঘটনার বিচারে বাসচালকের শাস্তি হলে তিনি সাংগঠনিকভাবে কোনও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন না। মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত বিবৃতিও পাঠানো হয় সংবাদ মাধ্যম অফিসগুলোয়।
এদিকে, বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর নিহতের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়কে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন করেন। একইসঙ্গে তারা গাড়িচাপায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচার ও শাজাহান খানের পদত্যাগ দাবি করেন। এর জবাবও নরম সুরে দেন শাজাহান খান। সোমবার (৩০ জুলাই) নিজ দফতরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পদত্যাগ সমস্যার সমাধান নয়। মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করলেই তো আর সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে না। পদত্যাগ করলে যদি সব সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে আমার পদত্যাগ করতে কোনও অসুবিধা নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে আমাদের মালিক-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিবাদ আমরা করতে রাজি নই। এসবের দায়-দায়িত্ব আমরা নেবো না।’ এসময় দুই ছাত্র নিহত হওয়ার বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক এবং দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আজ মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল নিহত শিক্ষার্থী মিমের বাসায় যান। আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক, আমরা মর্মাহত। প্রধানমন্ত্রীও দুঃখ পেয়েছেন, কষ্ট পেয়েছেন। সে কারণে তিনি আমাকে পরিবারটির খোঁজখবর নেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন। এ বিষয়ে তিনি খুবই কঠোর।’
রাস্তায় ছাত্রদের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘ছাত্ররা বিক্ষোভ করছে, এটি তারা করতেই পারে। কারণ, তারা তাদের সহপাঠীকে হারিয়েছে, বন্ধুকে হারিয়েছে। তাদের আবেগ আছে, তাই তারা বিক্ষোভ করছে। আমি ছাত্রদের এই বিক্ষোভকে সমর্থন করি।

Wednesday, July 18, 2018

যেসব কারণে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ by শফিকুল ইসলাম

একসময় দেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছে গ্রাম-গঞ্জের হাটবাজারগুলো সয়লাব হয়ে যেত। এখন আর সেসব মাছ দেখা যায় না। জেলেদের জালেও ধরা পড়ে না। দেশীয় এসব মাছের মধ্যে রয়েছে— কৈ, মাগুর, শিং, পাবদা, টেংরা, পুঁটি, ডারকা, মলা, ঢেলা, চেলা, শাল চোপরা, শৌল, বোয়াল, আইড়, ভ্যাদা, বুড়াল, বাইম, খলিসা, ফলি, চিংড়ি, মালান্দা, খরকাটি, গজার, শবেদা, চেং, টাকি, চিতল, গতা, পোয়া, বালিয়া, উপর চকুয়া, কাকিলা, গুত্তুম, বৌরানীসহ প্রায় ৫০টিরও বেশি মিঠা পানির বিভিন্ন ধরনের মাছ।এসব মাছ হারিয়ে যাওয়ার পেছনে অন্তত ১৪টি কারণকে চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ।
গ্রাম বাংলায় পৌষ-মাঘ মাসে পুকুর, খাল, ডোবা, ঘেরের পানি কমতে থাকলে দেশি মাছ ধরার ধুম পড়ে যেত। এখন সেসব দেখা যায় না। বর্ষাকালে ধানের জমিতে কইয়া জাল, বড়শি ও চাই পেতে মাছ ধরার রীতিও হারিয়ে গেছে অনেক এলাকা থেকে। যারা একসময় পুকুর, খাল-বিল, ডোবা, নালায় মাছ ধরে পরিবারের চাহিদা পূরণ করতেন, তাদের অনেকেই এখন বাজার থেকে চাষের মাছ কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,দেশীয় মাছ ক্রমশ হারিয়ে যাওয়ার জন্য মূলত অনেকগুলো কারণই দায়ী। এরমধ্যে মধ্যে জলবায়ুর প্রভাব, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, কারেন্ট জালের অবৈধ ব্যবহার, ফসলি জমিতে অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহার, জলাশয় দূষণ, নদ-নদীর নব্যতা হ্রাস, উজানে বাঁধ নির্মাণ, নদী সংশ্লিষ্ট খাল-বিলের গভীরতা কমে যাওয়া, ডোবা ও জলাশয় ভরাট করা, মা মাছের আবাসস্থলের অভাব, ডিম ছাড়ার আগেই মা মাছ ধরে ফেলা, ডোবা-নালা- পুকুর ছেঁকে মাছ ধরা, বিদেশি রাক্ষুসে মাছের চাষ  ও মাছের প্রজননে ব্যাঘাত ঘটানো। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই ১৪টি কারণে  ৫০ টির  বেশি দেশি প্রজাতির মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে।
মৎস্য অধিদফতরের সূত্র বলছে, হারিয়ে যাওয়া দেশি প্রজাতির মাছের সংখ্যা আড়াইশ’র বেশি। হাটবাজার, পুকুর, খাল, বিল কোথায়ও এখন আর মিঠাপানির সুস্বাদু সেসব মাছ মিলছে না। দেশি মাছের বদলে এখন বাজারে জায়গা দখল করে নিয়েছে চাষের পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, ক্রস ও কার্প জাতীয় মাছ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষি ও চাষাবাদ ব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির  মাছ। একই সঙ্গে পোনা আহরণ, নেটজাল ও মশারি জাল ব্যবহার করে খালে-বিলে -সাগরে মাছ ধরার কারণেও দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। মৎস্য অধিদফতর সূত্রও বলছে, দুই দশক আগে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে প্রায় আড়াইশ’ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ পাওয়া যেত।
রাজধানীর শান্তিনগর বাজারের মাছ ব্যবসায়ী বরগুনা জেলার আমতলীর বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৫-১৬ বছর আগেও আমাদের এলাকায় মাছ কিনে খাওয়ার তেমন রেওয়াজ ছিল না। কেনার মধ্যে শুধু ইলিশ মাছ কেনার কথাই মনে পড়ে। মাছের প্রয়োজন হলে সবাই বাড়ির সামনে খালে বা নদীতে চলে যেত। খালে, পুকুরে তখন এত মাছ ছিল যে, পানিতে নেমে খালি হাতেও মাছ ধরতে পারতো।’
এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৎস্য খামারি সালাউদ্দিন মুফতির সঙ্গে কথা হয় মোবাইল ফোনে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বাড়িতে দু’টি পুকুর আছে। জন্মের পর থেকেই এই পুকুর দু’টি দেখছি। ২০ বছর আগেও সারাবছর ধরে বাড়ির সবাই পুকুর থেকে  মাছ ধরত। শীতের মৌসুমে পুকুর ‘আউড়ান’ (অনেক মানুষ একসঙ্গে পুকুরে নেমে পানি ঘোলা করা, যেন ঘোলা পানি খেয়ে মাছ দুর্বল হয়ে ওপরে ভেসে উঠে এবং সহজে সেগুলো ধরা যায়) হতো। এরপর জাল, ডালা, খুচন নিয়ে মাছ ধরতে নেমে যেত ছোট-বড় সবাই। কেউ কেউ খালি হাতেও মাছ ধরত। শোল, গজার, টাকি, চিংড়ি, শিং, কই, টেংরা, পাবদা, ফলিসহ বিভিন্ন জাতের মাছ ধরা পড়ত। তবে এখন ওই দুই পুকুরে চেলা, পুঁটি, বেলে ছাড়া কোনও মাছ নেই।’’
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরের কলার দোয়ানিয়া গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আসলাম মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘স্থানীয় কলার দোয়ানিয়া বাজারেও হাটের দিন দেশি প্রজাতির অনেক মাছ উঠত। এখন আর সেসব মাছ ওঠে না। বাজার ভরা থাকে চাষের পাঙ্গাস আর তেলাপিয়ায়। মাঝে-মধ্যে সিজনে জাটকাও ওঠে।’
দেশি মাছ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি ইরি ধান ও অন্যান্য সবজিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারকে দায়ী করেন।
গতবছর মার্চ মাসে নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাওর এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠেছিল। সংশ্লিষ্ট জেলার মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, ধান পঁচে হাওরের পানিতে অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হয়ে অক্সিজেন কমে যাওয়ার কারণেই মাছ মরে গেছে। তবে হাওর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্ভিদ পঁচে অ্যামোনিয়া তৈরি হয় না। অন্য কোনও কারণ আছে। সেগুলোকে খুঁজে বের করতে খুব দ্রুত বৈজ্ঞানিক গবেষণা করতে হবে বলা হলেও তা এখনও করা হয়নি। জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে কোনও গবেষণার পরিকল্পনাও  নেই।
এ প্রসঙ্গে মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহম্মদ গোলজার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে আমরা বিষয়টি গভীরভাবে মনিটর করছি। বিভিন্ন কারণেই দেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। যে মাছগুলো হারিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে অনেক প্রজাতির মাছ রক্ষায় গবেষণা চলছে। পাবদা, টেংরা, বোয়াল, আইড় মাছ এখন চাষ হচ্ছে। পাঙ্গাসের চাষ হচ্ছে আগে থেকেই। কৈ মাছেরও চাষ হচ্ছে। আরও গবেষণা হবে। দেশি প্রজাতির মাছ রক্ষায় মৎস্য অধিদফতর প্রতিবছরই মৎস্য মেলার আয়োজন করে। একই কর্মসূচি জেলা, উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’
পিরোজপুরের কয়েকজন প্রবীণ জানান, একসময় এলাকার বলেশ্বর, সন্ধ্যা ও পায়রা নদীতে দুই কেজি ওজনের ইলিশ পাওয়া যেত। পাওয়া যেত পাঁচ থেকে ছয় কেজি ওজনের বোয়াল ও আইড় মাছ। এমন কোনও মাছ ছিল না যা এ অঞ্চলের বিলে পাওয়া যেত না। এলাকার নলামারা বিলে তারা জাল দিয়ে ১২ কেজি ওজনের কালবাউশ মাছ ধরেছেন। এক সময় ছিল বেলে, ডগরি, কাজলি, ভাঙ্গান, ভোলা প্রভৃতি মাছ খাওয়ার অযোগ্য মনে করে ধরার পর ফেলে দিতেন। এখন আর সেদিন নেই বলে জানান তারা।
দেশি প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিভিন্ন কারণেই দেশি প্রজাতির মাছ হারিয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে মানুষের সচেতনতার অভাবও রয়েছে। হারিয়ে যাওয়া দেশি মাছ রক্ষায়  ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এখন পাবদা, টেংরা, বোয়াল, আইড়, পাঙ্গাস ও কৈ মাছের চাষ হচ্ছে।’

Friday, July 6, 2018

দেশকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে নতুন উদ্যোগ by শফিকুল ইসলাম

রাজধানীর ফুটপাতে বসে আছেন এক নারী ভিক্ষুক
দেশকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তৃণমূলের ভিক্ষুক জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করা, তাদের সঞ্চয়ে উৎসাহ দেওয়া, সদস্য সঞ্চয়ের বিপরীতে সরকারের পক্ষ থেকে সমপরিমাণ অর্থ বোনাস দেওয়া এবং ভিক্ষুকদের নিয়ে গঠিত সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য পুঁজি গঠনে সহায়তা করা ও আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করাসহ বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রথমেই দেশের প্রতিটি এলাকায় যারা ভিক্ষাবৃত্তি করছে তাদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজ নিজ এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িতদের তালিকা তৈরি করবেন। এরপর তালিকা যাচাইবাছাই শেষে তাদের পুর্নবাসনের আওতায় আনা হবে। তাদের ঋণ দেওয়া হবে। এই ঋণ নিয়ে তারা কেউ ক্ষুদ্র ব্যবসা করবেন, কেউ পশু পালন করবেন, কেউ শাকসবজি চাষ করবেন বা কেউ গরু ছাগল পালন করবেন।
সরকারের তালিকাভুক্ত ভিক্ষুকদের এই পেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের বহুল প্রচারিত এবং প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের ১০ প্রকল্পের মধ্যে শীর্ষে থাকা ‘একটি বাড়ি, একটি খামার’ প্রকল্পকে আরও প্রসারিত করা হবে। এমন তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৬০ লাখ পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে দেশব্যাপী ‘একটি বাড়ি, একটি খামার’ প্রকল্প চলছে। সামাজিক নিরাপত্তা বলয় বাড়ানোর উদ্যোগ বাস্তবায়নে এ বছর এমনিতেই এসব খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। তাই সুবিধাভোগীর সংখ্যাও বাড়বে। এ ছাড়াও স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠেছে। তাই এমন একটি মর্যাদাসম্পন্ন দেশের নাগরিকদের কারো কারো ভিক্ষাবৃত্তি করার বিষয়টি অপমানজনক। তাই যেকোনও মূল্যে ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করতে চায় সরকার।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকাভিত্তিক তালিকা পাওয়া গেলে সেই তালিকা অনুযায়ী ভিক্ষুকদের ১০ থকে ১২ জনের গ্রুপে ভাগ করা হবে। তাদের নিয়ে গঠিত হবে পৃথক সমিতি। সেই সমিতি ধরে ধরেই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে তাদের।
জানতে চাইলে ‘একটি বাড়ি, একটি খামার’ প্রকল্পের পরিচালক আকবর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশের দারিদ্রতা নিরসনে এ উদ্যোগ বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও রাখবে। তাই এ প্রকল্পটিকে ঘিরে সরকারের নানামুখী উদ্যোগ রয়েছে। তাই এ প্রকল্পের সম্প্রসারণ হতে পারে।’
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দেশে এখন আর কেউ অভাবের তাড়নায় ভিক্ষা করে না। দেশে এখন আর সেই অভাব নেই। এরপরও কিছু লোক ভিক্ষাবৃত্তি করছে। তারা মৌসুম ধরে ধরে দল বেঁধে ঢাকায় আসছে এবং ভিক্ষাবৃত্তি করছে। তাদের ঠেকাতে না পারলে সরকারের দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে দেশ থেকে ভিক্ষাবৃত্তি দূর করা খুবই জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মোতাবেক একটি মানুষও ঘরহীন বা আশ্রয়হীন থাকবে না বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের নতুন উদ্যোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ১০ উদ্যোগের ‘একটি বাড়ি, একটি খামার’ প্রকল্পটির আওতা বাড়ানো। প্রকল্পটি সম্প্রসারিত হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জনা গেছে, এরই মধ্যে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করা গেছে। এই প্রকল্পের আওতায় দারিদ্রের আধিক্য অনুসারে বিশেষ করে দেশের নদীভাঙন এলাকা, পাহাড়ি এলাকা ও দেশের উত্তরাঞ্চলের ভিক্ষুকদের এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ‘একটি বাড়ি, একটি খামার প্রকল্প’ হাতে নেয়। পরে ২০০১ সালে বিএনপি সরকার প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে প্রকল্পটি ফের চালু করা হয়। বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলায় ৪৮৫টি উপজেলায় ৪ হাজার ৫০৩টি ইউনিয়নের ৪০ হাজার ৫২৭টি ওয়ার্ডে প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে।
২৫ লাখ দরিদ্র পরিবার এ প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ প্রকল্পের আওতায় ঋণ দিয়ে ২০১৮ সালের মে পর্যন্ত ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার পরিবারকে স্বাবলম্বী করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পটি ২০২০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

Thursday, May 31, 2018

ঢাকার চার নদীর তীরে অবকাঠামো নির্মাণের চার কারণ by শফিকুল ইসলাম

বুড়িগঙ্গর তীরে অবৈধ স্থাপনা
ঢাকার চারপাশে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা— এই চার নদীর তীরে অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মূলত চার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র। কারণ চারটি হলো নদীগুলোর তীরভূমির অবৈধ দখল রোধ করা, দখলমুক্ত তীরের সৌন্দর্য বর্ধন করা,  নদীর উভয় তীরের পরিবেশগত উন্নয়ন সাধন করা এবং দখলমুক্ত তীরভূমিতে অবকাঠামো নির্মাণ করে তা ব্যবহার করা।
জানা গেছে, এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ,গাজীপুর ও ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বিস্তৃত ‘বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে পিলার স্থাপন, তীররক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ (২য় পর্যায়)’ প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। প্রকল্পের পুরো অর্থই সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) থেকে যোগান দেওয়া হবে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর বাস্তবায়ন করবে। আগামী জুলাইয়ে শুরু হয়ে ২০২২ সালের ৩০ জুন শেষ হবে এর কাজ।
জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় মোট ৫২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের ৩৫ দশমিক ৫১ কিলোমিটারই নির্মিত হবে নদীর নিচু তীরভূমিতে । ১০ দশমিক ২৭ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে নদীর উঁচু তীরভূমিতে। ৫ দশমিক ৯২ কিলোমিটার নদীর তীরভূমিতে কলামের উপর ওয়াকওয়ে (হাঁটার রাস্তা)  নির্মাণ করা হবে। দশমিক ৩০ কিলোমিটার পায়ে হাঁটার সেতু নির্মাণ করা হবে। ৪৪ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার তীররক্ষা কাজ করা হবে। ১ কিলোমিটার ওয়াল নির্মাণ করা হবে। ১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার বেড়াসহ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে। ৩টি ইকো-পার্ক নির্মাণ করা হবে।  ১৯টি জেটি নির্মাণ করা হবে এবং ১ হাজার ৮২০টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে এ চার নদীর তীরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গীতে ৩টি অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর রয়েছে। কিন্তু এসব নদীর তীরভূমির বিভিন্ন জায়গা অবৈধ দখলদারদের কবলে রয়েছে। অবৈধ দখলদাররা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যবসা পরিচালনার জন্য নদীর তীরে আরসিসি কাঠামো তৈরি করেছে। ফলে নদীগুলোর প্রশস্ততা এবং নৌচলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় গভীরতা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অননুমোদিত ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। বিআইডব্লিউটিএ বিভিন্ন সময় নদীর তীরভূমির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে এবং এখনও করছে। কিন্তু দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা তীরভূমি সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে ওঠে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগরীর চারদিকে নদীর তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে ২০১৫ সালের ৯ এপ্রিল একটি সভাও হয়। এ সভায় সিদ্ধান্ত হয় ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দুপাশ অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে তীরভূমিতে ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজ চলমান রাখতে হবে। পাশাপাশি তীরের জায়গায় জনগণের জন্য বসার বেঞ্চ, ইকো পার্ক, বৃক্ষরোপন ইত্যাদি কাজ হাতে নেওয়া যেতে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা শহরের চারদিকে বৃত্তাকার নৌপথের মোট ১২০ কিলোমিটার তীরভূমির মধ্যে ১ম পর্যায়ে ২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ২য় পর্যায়ে ৫২ কিলোমিটার অংশ অন্তর্ভুক্ত করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এ প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অংশেও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে।
৮৫০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন মাসে শেষ করার লক্ষ্যে প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হলে ২০১৭ সালের ৫ আগস্ট প্রস্তাবটির ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৭ সলের ৫ ডিসেম্বর পুনর্গঠিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে গৃহীত হয়। পুনর্গঠিত ডিপিপি-তে কিছু অসংগতি থাকায় তা সংশোধন করে গত ১৩ মার্চ পুনর্গঠিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে গৃহীত হয়। বর্তমান পুনর্গঠিত ডিপিপি অনুসারে প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
জানতে চাইলে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা শহরের চেহারা বদলে যাবে। এই শহরের মানুষের জীবনমান বদলে যাবে।’

Monday, May 14, 2018

তিন কারণে বাংলাদেশের ডেনিম এখন বিশ্বের বিস্ময় by শফিকুল ইসলাম

বাংলাদেশি ডেনিম জিনস
বিশ্ববাজারে ডেনিম কাপড়ে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন ব্রান্ড। প্রধানত সাশ্রয়ী দাম আর গুণগত মানে সেরা হওয়ায় বাংলাদেশের ডেনিম পোশাকের জনপ্রিয়তা বিশ্বব্যাপী তুঙ্গে। তবে এ দুটি কারণের পাশাপাশি রয়েছে ডেনিম তৈরিতে ‘বাংলাদেশি নৈপুণ্য’।
তুলা এবং বুননের বিশেষত্বের কারণে বিশ্বব্যাপী কাপড়টি ‘ডেনিম’ নামে পরিচিত। তবে জনপ্রিয়তার বিচারে এখন জিন্স নামেই বেশি চেনেন ব্যবহারকারীরা। ইউরোপের বাজারে ডেনিম পোশাক এখন এক নম্বরে। আর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এর অবস্থান তৃতীয় বলে জানা গেছে।
উন্নতমানের ডেনিম রফতানি, বিশ্বমানের কারখানা এবং শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের ফলে এই অবস্থানে উন্নীত হওয়া গেছে। ডেনিমে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী এখন চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ইউরো স্টেটের তথ্যমতে, ২০১৫ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৪ হাজার ৬৫১ মিলিয়ন ইউরোর ডেনিম পণ্য আমদানি করে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ১ হাজার ১৭৬ মিলিয়ন ইউরোর ডেনিম পণ্য রফতানি হয়েছে। তথ্যমতে, ইউরোপের বাজারে ২০১০ সালে ৪৪৪ মিলিয়ন, ২০১১ সালে ৫৯১ মিলিয়ন, ২০১২ সালে ৭২৫ মিলিয়ন, ২০১৩ সালে ৮০৮ মিলিয়ন, ২০১৪ সালে ৯৩৯ মিলিয়ন, ২০১৫ সালে ১ হাজার ৩৫ মিলিয়ন, ২০১৬ সালে ১ হাজার ২২৭ মিলিয়ন এবং ২০১৭ সালে ১ হাজার ৩২০ মিলিয়ন ইউরোর ডেনিম পণ্য রফতানি হয়েছে ইউরোপে।
বাংলাদেশি ডেনিম জিনসবাংলাদেশি ডেনিম জিনস
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন কারণে বাংলাদেশের ডেনিম পণ্য এখন বিশ্বসেরা। এর প্রথম কারণ হচ্ছে ডেনিম ফেব্রিক্সের কাঁচামাল বাংলাদেশে উৎপাদন হয়। ফলে দাম কম। দ্বিতীয় কারণ হলো অভিনব ডিজাইন এবং সৃজনশীল ডেনিম পোশাক প্রস্তুত করতে বাংলাদেশের নৈপুণ্য। এবং তৃতীয় কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের ডেনিমের কারখানাগুলো অত্যাধুনিক এবং ওয়াশিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উৎকৃষ্ট। ফলে উৎপাদিত পণ্যের ফিনিশিং হয় আকর্ষণীয়। মূলত এ তিন কারণেই বাংলাদেশে ডেনিম এখন বিশ্বের বিস্ময়।
জানা গেছে, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট পাট ও তুলা এবং একই রকম আঁশ জাতীয় দ্রব্যের সংমিশ্রণে সাশ্রয়ী মূল্যে সুতা উৎপাদনের পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে উন্নতমানের ডেনিম কাপড় তৈরি করা যাবে। বাংলাদেশের পাট ও তুলার মিশ্রণে সুতা তৈরি করা হবে। সেই সুতা থেকে বানানো হবে ডেনিম কাপড়। উৎপাদিত কাপড় থেকে প্যান্ট, জ্যাকেট ও শার্টের মতো পোশাক বানিয়ে রফতানি করা হবে। পাশাপাশি দেশের বেসরকারি খাতে কাপড় সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের পাটের উৎপাদন বাড়াতে পাটের বহুমুখী ব্যবহার এবং ডেনিমের বিশ্ববাজার ধরতেই এ উদ্যোগ নিয়েছে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশি ডেনিম এর প্রদর্শনীবাংলাদেশি ডেনিম এর প্রদর্শনী
ডেনিম খাতকে এগিয়ে নিতে পারলে ২০২১ সালের মধ্যে ৭০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব। দেশে ডেনিম পণ্য তৈরি করছে এমন কারখানার সংখ্যা সোয়া ৫শ’। এসব কারখানার বেশিরভাগই আমদানিকৃত কাঁচমালের (ফেব্রিক) ওপর নির্ভরশীল। তবে বাংলাদেশে এখন ৩১টি বড় ডেনিম কারখানা কাজ করছে। এই খাতে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগের পরিমাণ ৮৩৪ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ থেকে ব্লু ডেনিম ট্রাউজার্স, স্কার্ট, জ্যাকেট, স্যুট-কোট, প্লে স্যুট রফতানি হয়। এইচঅ্যান্ডএম, ইউনিকলো, টেস্কো, লেভিস, ডিসেল, ওয়াংলার, জি-স্টার, এস অলিভার, হুগো বস ও গ্যাপ এখন বাংলাদেশের ডেনিমের ক্রেতা।
বিজিএমইএ সূত্রমতে, উচ্চমান ও সাশ্রয়ী মূল্যের পাশাপাশি ফ্যাশনেবল ডেনিমের উৎপাদনকে গুরুত্ব দিয়ে ২০২১ সালে ৫০ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছেন এ শিল্পখাতের উদ্যোক্তারা। নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিবছরই ডেনিম কারখানাগুলো তাদের উৎপাদন বাড়াচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ডেনিম বিশ্বে এখন অলরাউন্ডার। চীন ও তুরস্কের ডেনিমের বাজার বাংলাদেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা ব্যাপক। এ সুযোগ কাজে লাগাতে উদ্যোক্তারা কাজ করছেন।’
ক্রেতাদের ডেনিম জিনসের পণ্য দেখাচ্ছেন একজন বাংলাদেশি উদ্যোক্তাক্রেতাদের ডেনিম জিনসের পণ্য দেখাচ্ছেন একজন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা
জানা গেছে, বিশ্বে ডেনিমের বাজার প্রায় ৫ হাজার ৬২০ কোটি ডলারের। বিশ্বাজারে বাংলাদেশ ডেনিম পণ্য রফতানি করছে ৩৫০ কোটি ডলারের। বছরে ডেনিম পণ্য রফতানির প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশের ওপরে। দেশে প্রতিবছর ডেনিম কাপড়ের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৬০-৬৫ কোটি গজ। কিন্তু উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ৩৬ কোটি গজের। অর্থাৎ চাহিদার অর্ধেক কাপড় উৎপাদিত হচ্ছে দেশে। ২০২১ সালের মধ্যে এ চাহিদা ১২০ কোটি গজে দাঁড়াবে। সুতরাং এ খাতে বিনিয়োগের ব্যাপক জায়গা রয়েছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশে স্কয়ার ডেনিম দীর্ঘদিন ধরেই সুতা উৎপাদন করছে।
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুরে প্রায় ৩০০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে স্কয়ার ডেনিম লিমিটেডের ডেনিম ফেব্রিকস উৎপাদনের বিশাল কারখানা। এ ছাড়াও দেশের বৃহত্তম পারটেক্স ডেনিমের উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি ও এনভয় ডেনিমের কর্ণধার আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘ডেনিম পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ব্যাপক। বিশ্ববাজারে ডেনিমের চাহিদার কোনও শেষ নেই। প্রবৃদ্ধিও ভালো। এটিকে এগিয়ে নিতে পারলে রফতানিতে বিশাল ভূমিকা পালন করবে ডেনিম।’  
বাংলাদেশি ডেনিম প্যান্ট দেখছেন একজন বিদেশি ক্রেতাবাংলাদেশি ডেনিম প্যান্ট দেখছেন একজন বিদেশি ক্রেতা
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ইউরো স্টেটের তথ্যমতে, বাংলাদেশি ডেনিমের সবচেয়ে বড় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। যুক্তরাষ্ট্রের ৭০ শতাংশ মানুষ নিয়মিত ডেনিম পণ্য ব্যবহার করে। ইউরোপে সবচেয়ে বড় বাজারগুলোর একটি হলো যুক্তরাজ্য। সেখানে জনপ্রতি গড়ে ১৭টি ডেনিম পণ্য ব্যবহার করে।
বিশ্বব্যাপী ডেনিমের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৮৯ সালে প্রথম ফিলিপাইন ও হংকংয়ের দুটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বাংলাদেশে ডেনিম পোশাক তৈরির দুটি কারখানা স্থাপন করে। ১৯৯২ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ বিশ্বের ১১তম ডেনিম সরবরাহকারী দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এর আগের বছরের তুলনায় সরবরাহ ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় মেলে এ স্বীকৃতি। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সাল থেকে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশীয় ডেনিম কাপড়ের ওপর নির্ভরতা শুরু করে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে ১৭ কোটি পিসের কিছু বেশি ডেনিম পোশাক বিক্রি করে প্রায় ৯৪ কোটি ডলার আয় করে। একই সময়ে চীন ইউরোপের বাজারে বিক্রি করে মাত্র সাড়ে ১১ কোটি পিস।
রাজধানীতে ডেনিম জিনসের প্রদর্শনীরাজধানীতে ডেনিম জিনসের প্রদর্শনী
আশা করা হচ্ছে ডেনিম শিল্পের অভিযাত্রা সফল হলে এ দশকেই বছরে লাখো কোটি টাকা আয় করতে পারবে বাংলাদেশ।

Friday, May 11, 2018

‘বন্ধ হয়ে যেতে পারে পাট থেকে পলিথিন উৎপাদন প্রকল্প’ by শফিকুল ইসলাম

মোবারক আহমেদ খানের উদ্ভাবিত জুটপলি
পাট থেকে পলিথিনের উদ্ভাবক বিজ্ঞানী ড.মোবারক আহমেদ খান বলেছেন, পাট থেকে পলিথিন উদ্ভাবনের বিষয়টি যেভাবে প্রচার পেয়েছে, সেভাবে প্রসারিত হয়নি। এর জন্য প্রয়োজন পৃথক বাজেট, পৃথক পরিচয় ও পৃথক ইনস্টিটিউশন। এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। এসব না পেলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে পাট থেকে পলিথিন উৎপাদন প্রকল্প।
বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বিজ্ঞানী ড.মোবারক আহমেদ খান বলেন, ‘১৭০ কোটি টাকার অভাবে মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে পাট থেকে পলিথিন উৎপাদন প্রকল্পের। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয় হয়ে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরশন (বিজেএমসি), তারপর লতিফ বাওয়ানী জুট মিল হয়ে সেই টাকা বরাদ্দ পাওয়া এক বিরাট আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। এত জটিলতা কাটিয়ে কবে টাকা পাওয়া যাবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। আদৌ বরাদ্দ পাওয়া যাবে কিনা তাও পরিষ্কার নয়।’ এসব কারণে বিব্রত ও হতাশ বিজেএমসির বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ড. মোবারক আহমেদ খান।
তিনি বলেন, ‘এর জন্য প্রয়োজন পৃথক বাজেট। প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে পৃথক বাজেট, পৃথক পরিচয় ও পৃথক ইনস্টিটিউশনও প্রয়োজন। এই তিনটি বিষয় ছাড়া এ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’ ড. খান বলেন, ‘মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে দিয়ে দেশে এসে কেন একাজে হাত দিয়েছিলাম, এর জন্য এখনও আমার স্ত্রীর সঙ্গে কোল্ড ওয়ার (ঠান্ডা যুদ্ধ) হয়। তার পরও কাজটি চালিয়ে নিতে চাই।’
তিনি জানান, প্রকল্পটি শতভাগ বাস্তবায়নে হয়তো প্রয়োজন হতে পারে ১৭০ কোটি টাকা। সরকারের কাছে এই টাকা চাওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি (৩ মে) রাজধানীর ডেমরায় অবস্থিত সরকারি মালিকানাধীন লতিফ বাওয়ানী জুট মিল প্রাঙ্গণে প্রকল্পের অফিসে বাংলা ট্রিবিউনের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ক্ষোভের সঙ্গে এসব কথা বলেন পাট থেকে পলিথিনের উদ্ভাবক ড. মোবারক আহমেদ খান।
জুটপলি হাতে ড. মোবারক আহমেদ খানজুটপলি হাতে ড. মোবারক আহমেদ খান
তিনি বলেন, ‘প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে নিতে পারিনি। এটার  জন্য যে অর্থের দরকার, তা আমার কাছে নাই। পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, বিজেএমসি, সর্বোপরি লতিফ বাওয়ানী জুটমিল কর্তৃপক্ষ সবাই এ ব্যাপারে আন্তরিক। কিন্তু সরকার যেভাবে চাচ্ছে, তা অনেক লম্বা প্রসেস। টাকা চাইলে তাৎক্ষণিক পাওয়া যায় না। সরকারের নিয়মনীতি অনুসরণ করে টাকা পেতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। যেমন ধরুন— এখন এ কাজের জন্য প্রয়োজন হলো ২০ কোটি টাকা। কিন্তু কে দেবে সেই টাকা? বিজেএমসি নাকি মন্ত্রণালয়, নাকি লতিফ বাওয়ানী। সরকারের লম্বা প্রসেসের কারণেই কেউ ঠাকা দিতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যেভাবে কাজটা আগাচ্ছিলাম, তাতে দেশ- বিদেশে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। দেশে-বিদেশে পাট থেকে তৈরি  পলিথিনের এত চাহিদা, তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে চাহিদা আমরা পেয়েছি, তার চেয়ে অনেকগুণ বেশি পেয়েছি ইউরোপ,  স্ট্রেলিয়া, ইউকে ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। অস্ট্রেলিয়ার সরকার গত পহেলা এপ্রিল থেকে সেদেশে পলিব্যাগ নিষিদ্ধ করেছে। তারা এখন বিকল্প খুঁজছেন। বিকল্প খুঁজতে অস্ট্রেলিয়ার একটি টিম আমার এই প্রকল্প পর্যন্ত এসেছে। শুনেছি, তারা মন্ত্রীর সঙ্গেও নাকি কথা বলেছেন। জাপানিদের সঙ্গেও এ বিষয়ে মন্ত্রীর  বৈঠক হয়েছে। তারা প্রতিদিন ১০০ টনের চাহিদা দিয়েছে বলে শুনেছি।’
ড. মোবারক আহমেদ খান বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি কোম্পানি থেকেও আমরা এ পলিথিনের চাহিদা পেয়েছি। সেটি হচ্ছে এসিআই কোম্পানি। এসিআই প্রতিদিন ২৫ টন করে পলিথিনের প্যাকেজিং প্যাকেট বানায়। তারা এ পণ্যটি নিতে বেশ আগ্রহী। তারা প্রস্তাব দিয়েছে। এসিআই প্রতিদিন আমাদের কাছ থেকে ১৫শ’ মিটার পাট থেকে উদ্ভাবিত পলিথিন নেবে। আমরা তাতে সম্মতি দিয়েছি। তারা আমার এই পেপার নিয়ে তাদের মেশিনে দিয়ে দেখবে যে, সব ঠিক আছে কিনা। এছাড়া, বাংলাদেশের সুপার সপ অ্যাসোসিয়েশন থেকেও এই পলিথিন নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।  অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিসহ একটি প্রতিনিধিদল আমাদের কারখানা পরিদর্শন করে গেছেন। বাংলাদেশের অনেক গার্মেন্টস কারখানাও এই পণ্যটি নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার টেকনোলজি নিয়ে কোনও সন্দেহ নাই। আমার টেকনোলজি নিয়ে আমি  খুবই সন্তুষ্ট। এই মুহূর্তে যে কেউ অর্থাৎ সরকারি-বেসরকারি যে কোনও প্রতিষ্ঠান যদি বিনিয়োগ করতে চায়, তাহলে আমি আমার টেকনোলজি ট্রান্সফার করতে পারবো। প্রতিদিন ১০০ টন, ২০০ টন, ৫০০ টন, হাজার টন যেভাবেই ডিমান্ড দিক না কেন, সমস্যা নাই। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে আমারা এই জুটপলি করেছি। এর মেশিনপত্র বিশ্বের কোথাও তৈরি হয় নাই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাকে এর মেশিনপত্র খুঁজতে হচ্ছে। বর্তমানে যা দেখছেন, তা  একান্তই আমার নিজের তৈরি। নিজেকেই এগেুলো তৈরি করতে হয়েছে। বলতে পারেন এটি একটি মাইলস্টোন। তবে এর একটি ভালো দিক হলো যে, এখন এর একটি রেপ্লিকা তৈরি হয়ে গেছে।  ফলে  আরও বড় ও আধুনিক করে এর মেশিনপত্র বানাতে পারবেন। যদি কেউ এগিয়ে আসেন, তাহলে আমি তাকে সাহায্য করবো।’
ড. মোবারক বলেন, ‘এখন আমি বিজ্ঞানী হিসেবে বলবো— এই প্রজেক্ট এগিয়ে নিতে আমার প্রয়োজন সেপারেট বাজেট, সেপারেট আইডেনটিটি অ্যান্ড সেপারেট ইনস্টিটিউশন। এই তিনটি জিনিস পেলেই হবে। এই প্রকল্পের জন্য যদি টাকা চাই, তাহলে মন্ত্রী বলেন, টাকা দেবেন বিজেএমসিকে, বিজেএমসি বলে দেবে লতিফ বাওয়ানীকে। এভাবে টাকা পাওয়া একটি লম্বা প্রসেস। এছাড়া ব্যাগের দাম কত পড়বে? আয় কত হবে? কত ব্যয় হবে, এগুলো লোকসান হবে কিনা, তার হিসাব-নিকাশ আমার কাজ নয়।’
ড. মোবারক আহমেদ খানড. মোবারক আহমেদ খান
তিনি বলেন, ‘আমার কাজ হচ্ছে— উৎপাদিত পণ্যটি কীভাবে আরও  একটু ভালো করা যায়। কীভাবে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো যায় ইত্যাদি। টাকা খরচ করবে সরকার। আমি তো কোনও টাকা খরচ করি না। আমি শুধু ডিমান্ড দেই যে, এ কাজটুকু করে দাও, সরকার সেটুকু করে দেবে। আমি তো এর বেশি চাই না।’
পৃথক বাজেট, পৃথক আইডেনটিটি ও পৃথক ইনস্টিটিউশন পেতে সমস্যা কোথায়, জানতে চাইলে ড. মোবারক আহমেদ খান বলেন, ‘এগুলো পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হচ্ছে— সরকারের আগ্রহ। বিষয়টি সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। আগে কখনও এসব কথা বলিনি। এখন দেখছি না বললে হবে না। হয় সরকার আমার প্রত্যাশা অনুযায়ী সহযোগিতা দেবে, নতুবা সরকার বলে দেবে— তুমি তোমার টেকনোলজি দিয়ে চলে যাও, আমি চলে যাবো।’        
বাংলাদেশ অটোমিক এনার্জি রিসার্চ এস্টাবলিশমেন্টের সাবেক ডিজি ড. মোবারক আহমেদ খান এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এই প্রকল্প যদি মুখ থুবড়ে পড়ে, তাহলে তা পড়বে আর্থিক কারণে। কারণ, আমি এ প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য ১৭০ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছি। এই টাকা পাওয়া যাবে কিনা জানি না। সরকারের কত টাকা কত খাতে ব্যয় হচ্ছে।’
অনেকটা দুঃখ করেই তিনি বলেন, ‘লতিফ বাওয়ানীর যে ইউনিটে  প্রকল্পের কাজ চলছে, সেখানকার একটি রুমে আমি বসি। কিন্তু সেই রুমে এসি নাই। লতিফ বাওয়ানী কর্তৃপক্ষকে বলেছিলাম, একটি এসির ব্যবস্থা করতে। কিন্তু তারা দেয়নি।’
তিনি বলেন, ‘মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে এসেছি বলে আমার স্ত্রীর সঙ্গে এখনও ঝগড়া হয়। জীবনভর গবেষণা করেছি। সংসারের দিকে তো মনোযোগ দেইনি। আমার স্ত্রী একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে চাকরি করছেন। ছেলে কানাডায় পিএইচডি করছে। মেয়ে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। ছেলে-মেয়ে, সংসার, সবকিছু আমার স্ত্রী-ই সামলে নিচ্ছেন। সবকিছু ছেড়ে দিয়ে আমি শুধুই গবেষণা করেছি।’  
ছবি: নাসিরুল ইসলাম

Sunday, May 6, 2018

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার রূপরেখায় যা থাকতে পারে by শফিকুল ইসলাম

উন্নত বিশ্বের মতো সবার জন্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এ ঘোষণা দিয়েছিলেন। আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার একটি রূপরেখা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এ লক্ষ্যে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় বলেছিলেন, সরকারি পেনশনারগণ দেশের সমগ্র জনগণের একটি ক্ষুদ্রাংশ মাত্র। তাই সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি সবার জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় অংশগ্রহণমূলক সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে আমরা কাজ করছি। আমাদের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে অন্তর্নিহিত লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করা।
অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর কাজ শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। নতুন অর্থবছরের বাজেটে এর একটি নির্দেশনাও থাকবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এ ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে না। যে বছর থেকে এটি কার্যকর হবে,তারপর যোগদানকারীদের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে।
সূত্র আরও জানায়,সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতির আওতায় বেসরকারি পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে বড় বড় কর্পোরেট হাউস, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে কমর্ররত চাকরিজীবীদের আনার প্রস্তাব করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্য খাতের প্রতিষ্ঠানকেও আনা হবে বলে জানা গেছে।
এজন্য পেনশন তহবিল জেনারেট করতে হবে। এ তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য অভিজ্ঞ লোকবল প্রয়োজন হবে। ইউনিভার্সল পেনশন সিস্টেমের জন্য ইনস্টিটিউশন তৈরি করতে হবে। ফরমাল ও ইনফরমাল পেনশনের জন্য রেগুলেটরি অথরিটি লাগবে। অর্থমন্ত্রী আগামী বাজেটে এটার রূপরেখা দেবেন। তার ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় কাজ করবে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান অর্থ সচিব মুসলিম চৌধুরী।
রূপরেখার আলোকেই কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। যতদূর জানা গেছে, প্রস্তাবিত সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় পেনশন তহবিল হবে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। অর্থাৎ চাকরিজীবী ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ তহবিলে অর্থ দেবে। এর পরিমাণ হতে পারে চাকরিজীবীর মূল বেতনের শতকরা ১০ ভাগ। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষও সমপরিমাণ অর্থ দেবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতে একই নিয়মে তহবিল গঠন করা হবে। পেনশনের এ তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য একটি রেগুলেটরি অথরিটি থাকবে। এ অথরিটির মাধ্যমেই পেনশনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
জানা গেছে, প্রস্তাবিত পেনশন স্কিমের আওতায় সরকারি চাকরিজীবীদের বয়স হবে ৬০ বছর। বেসরকারি খাতের জন্য ৬৫ বছর। নির্ধারিত সময়ে চাকরি শেষে অর্ধেক পেনশনের টাকা এককালীন তুলতে পারবেন। বাকি টাকা তহবিলে থাকবে। সে অর্থ পরবর্তীতে প্রতি মাসে ধাপে ধাপে ওঠাতে পারবেন।
তহবিল পরিচালনার জন্য আলাদা রেগুলেটরি অথরিটি গঠন করা হবে। তারা লাভজনক খাতে তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করবেন। বিনিয়োগ সুরক্ষাও দেওয়া হবে। এ থেকে যে মুনাফা আসবে, তার অংশ মাসে মাসে পাবেন সুবিধাভোগীরা। পেনশনভোগীদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে। প্রস্তাবিত পেনশন স্কিমে ৫ থেকে ১০ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের সুবিধা থাকবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু আছে। এতে সবাই উপকার পাবেন। তবে বেসরকারি খাতে এটির বাস্তবায়ন কঠিন হবে বলে মনে করেন মির্জ্জা আজিজ।
কারণ,ব্যাখ্যা করে মির্জ্জা আজিজ বলেন, এতে সরকারকে বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। বেসরকারি কোম্পানি রাজি না হলে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে পেনশন তহবিল পরিচালনা করাও কঠিন হবে বলেও জানান মির্জ্জা আজিজ।
এ প্রসঙ্গে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ একটি প্রবন্ধে লিখেছেন, জাতীয় নাগরিক পেনশন-ব্যবস্থা হিসেবে একটি ব্যবস্থা চালু করতে হলে প্রথম অগ্রাধিকার হবে একটি ‘জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ’ গঠন। দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হবে ‘জাতীয় পেনশন তহবিল গঠন’।
এই তহবিলের বহুমুখী উৎস থাকতে পারে। প্রধান উৎস হবে ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর প্রদানকারীদের আয়করের একটি অংশ। অর্থাৎ প্রতিবছর যাঁরা আয়কর দিয়ে থাকেন, তাঁদের আয়করের নির্দিষ্ট একটি অংশ ২ থেকে ৩ শতাংশ জাতীয় পেনশন তহবিলে হস্তান্তর। দ্বিতীয় উৎস হিসেবে সরকার প্রতিবছর বাজেট থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ স্থানান্তর করবে। তৃতীয় উৎস হবে কর্মকর্তা-কর্মচারী (সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে) চাকরিজীবীর নিজের এবং সংগঠনের প্রদেয় অংশ। এভাবে যে অর্থ প্রতিবছর জাতীয় পেনশন তহবিলে জমা হবে, তা সরকার বিভিন্ন লাভজনক কাজে বিনিয়োগ করে ওই তহবিলের আকার ও পরিমাপ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ, এ পরিমাণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র ৫ শতাংশ। যারা সরকারের পেনশন সুবিধা পাচ্ছেন। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের ৯৫ শতাংশের মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত । তাদের কোনো পেনশন সুবিধা নেই। দেশে গড় আয়ু ও প্রবীণদের সংখ্যা বাড়ার কারণে সামাজিকভাবে নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি বেড়েছে। এ ঝুঁকি মোকাবিলা ও সমতা বিধান করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্যই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, বাজেটের কাজ চলছে। সবার মতামত নিচ্ছি। নিজেও ভাবছি। যেহেতু গত বাজেট বক্তৃতায় কথা দিয়েছি, সেহেতু কিছু একটা তো করতেই হবে। আর তা হতে হবে সবার জন্য মঙ্গলময়। তবে কাজটি কিছুটা জটিল। সময় তো লাগবে। রূপরেখা তৈরি করতে পারলে কাজটি সহজ হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।